কোনো প্রার্থীকে হারানো বা জেতানো নির্বাচন কমিশনের দায়িত্ব নয় বলে মন্তব্য করেছেন প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) কাজী হাবিবুল আউয়াল।
তিনি বলেছেন, ‘নির্বাচন কমিশনকে একটা দায়িত্ব দেয়া হয়েছে, সেটা হচ্ছে যারা ভোটার, তাদের ভোট প্রদানের অধিকার, সেই অধিকারকে কোনোভাবে বিঘ্নিত করা যাবে না। সেই অধিকারকে কোনোভাবে প্রতিহত করা যাবে না। কোনো বাধা-বিপত্তি যেন না হয়। নির্বাচন কমিশনের দায়িত্ব কোনো প্রার্থীকে জিতিয়ে দেয়া বা হারিয়ে দেয়া নয়।’
বুধবার দুপুরে খুলনা সরকারি মহিলা কলেজ অডিটোরিয়ামে সিটি করপোরেশন নির্বাচনের ভোটগ্রহণকারী কর্মকর্তাদের সঙ্গে ব্রিফিংয়ে সিইসি এসব কথা বলেন।
অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হাবিবুল আউয়াল বলেন, ‘কোনোরকম অনাস্থা যেন মানুষের মধ্যে না থাকে, মানুষের মধ্যে আস্থা থাকতে হবে। নির্বাচন অবাধ, নিরপেক্ষ ও সুষ্ঠু হবে। আমাদের মূল সাবজেক্ট হচ্ছে ভোটাররা, তারা যেন সুষ্ঠুভাবে ভোটপ্রয়োগ করতে পারেন।’
তিনি বলেন, ‘নির্বাচনের সবচেয়ে বড় দায়িত্ব প্রিজাইডিং অফিসারদের। কেন্দ্রের ভেতরে শৃঙ্খলা অতি প্রয়োজন। কেন্দ্রের ভেতরে শৃঙ্খলা রক্ষার দায়িত্ব আপনাদের। দায়িত্ব হালকাভাবে নেবেন না। দায়িত্বপালনকালে কর্তৃত্ব প্রয়োগ করতে হলে করুন। প্রিজাইডিং কর্মকর্তা চাইলে ভোটগ্রহণ বন্ধ করতে পারেন। ভোটকেন্দ্রের ভেতরে শৃঙ্খলা রক্ষার দায়িত্ব আপনাদের।’
ব্রিফিংয়ে বিশেষ অতিথি ছিলেন নির্বাচন কমিশনার ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) মো. আহসান হাবিব খান ও নির্বাচন কমিশন সচিব মো. জাহাংগীর আলম। সভায় সভাপতিত্ব করেন খুলনা বিভাগীয় কমিশনার মো. জিল্লুর রহমান চৌধুরী।
এসময় উপস্থিত ছিলেন জেলা প্রশাসক খন্দকার ইয়াসির আরেফীন, রিটার্নিং কর্মকর্তা মো. আলাউদ্দিন, খুলনা মেট্রোপলিটন পুলিশ কমিশনার মো. মাসুদুর রহমান ভূঁঞা, খুলনা রেঞ্জ পুলিশের ডিআইজি মো. মঈনুল হক ও খুলনার পুলিশ সুপার মো. মাহবুব হাসান প্রমুখ।
নিষিদ্ধ জঙ্গি সংগঠন জামায়াতুল মুজাহিদীন বাংলাদেশ (জেএমবি) কর্তৃক দেশব্যাপী পরিচালিত সেই বর্বরোচিত ও সুপরিকল্পিত সিরিজ বোমা হামলার আজ এক ভয়াল দিন। ২০০৫ সালের ১৭ আগস্ট ঠিক এই দিনে মুন্সীগঞ্জ বাদে দেশের ৬৩টি জেলার প্রায় সাড়ে চারশ স্থানে একযোগে এই তণ্ডবলীলা চালানো হয়েছিল। আদালতের আঙিনা, বিমানবন্দর, মার্কিন দূতাবাসসহ জেলা প্রশাসক ও পুলিশ সুপারের কার্যালয়গুলোকে লক্ষ্য করে চালানো এই হামলায় সেদিন মুহূর্তেই কেঁপে উঠেছিল পুরো দেশ। নজিরবিহীন এই নাশকতায় সারা দেশে দুইজন প্রাণ হারান এবং অন্তত ১০৪ জন গুরুতর আহত হন।
আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ঘটনার পর সারা দেশে মোট ১৫৯টি মামলা দায়ের করা হয়েছিল। এর মধ্যে ঢাকা মহানগরীতে ১৮টি, চট্টগ্রামে ৮টি, রাজশাহীতে ৪টি এবং খুলনায় ৩টিসহ বিভিন্ন বিভাগ ও রেঞ্জে উল্লেখযোগ্য সংখ্যক মামলা রুজু হয়। তদন্ত শেষে ১৪২টি মামলায় পুলিশ আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করে। তবে বাকি ১৭টি মামলায় ঘটনার সত্যতা মিললেও সুনির্দিষ্ট অপরাধী শনাক্ত করতে না পারায় চূড়ান্ত প্রতিবেদন দাখিল করা হয়। এই দীর্ঘ আইনি প্রক্রিয়ায় এ পর্যন্ত মোট ৯৬১ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে এবং ১ হাজার ৭২ জনের বিরুদ্ধে আদালতে চার্জশিট দেওয়া হয়েছে।
সিরিজ বোমা হামলার এই ১৫৯টি মামলার মধ্যে এ পর্যন্ত ৯৪টির বিচারিক কার্যক্রম সফলভাবে সম্পন্ন হয়েছে। এসব রায়ে মোট ৩৩৪ জনকে বিভিন্ন মেয়াদে কারাদণ্ড প্রদান করা হয়েছে। বর্তমানে ৫৫টি মামলা দেশের বিভিন্ন আদালতে বিচারাধীন রয়েছে, যেখানে আসামির সংখ্যা ৩৮৬ জন। এখন পর্যন্ত ৩৪৯ জনকে মামলা থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে এবং খালাস পেয়েছেন ৩৫৮ জন। এছাড়া ২৭ জন জঙ্গিকে ফাঁসির দণ্ডাদেশ দেওয়া হলেও এ পর্যন্ত ৮ জনের মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হয়েছে। বর্তমানে ১৩৩ জন আসামি জামিনে রয়েছেন এবং ঢাকার কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ মামলা সাক্ষ্য গ্রহণের শেষ পর্যায়ে রয়েছে।
উল্লেখ্য যে, ঝালকাঠি জেলার দুই বিচারককে হত্যার দায়ে ২০০৭ সালের ৩০ মার্চ শীর্ষ ছয় জঙ্গি নেতা শায়খ আবদুর রহমান, সিদ্দিকুল ইসলাম বাংলা ভাই, আতাউর রহমান সানি, আব্দুল আউয়াল, খালেদ সাইফুল্লাহ এবং সালাউদ্দিনের ফাঁসি কার্যকর করা হয়েছিল। ১৭ আগস্টের সেই ঘটনার রেশ ধরে পরবর্তী কয়েক মাস দেশে ধারাবাহিক আরও কিছু আত্মঘাতী হামলা চালানো হয়। এসব ঘটনায় বিচারক, আইনজীবী ও উদীচীর কর্মীসহ প্রায় ৩০ জন নিহত এবং চার শতাধিক মানুষ আহত হন। বিশেষ করে ২০০৫ সালের ২৯ নভেম্বর গাজীপুর ও চট্টগ্রামে আদালত প্রাঙ্গণে এবং ৮ ডিসেম্বর নেত্রকোনায় উদীচী কার্যালয়ের সামনে ভয়াবহ বিস্ফোরণের ঘটনাগুলো ছিল অত্যন্ত রক্তক্ষয়ী।
সুনামগঞ্জের দোয়ারাবাজারে জমি লিখে না দেওয়ার জেরে মোহাম্মদ আলী (৭৫) নামে এক বৃদ্ধকে ৫০ হাজার টাকার চুক্তিতে শ্বাসরোধে হত্যার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় নিহতের পুত্রবধূসহ তিনজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। সর্বশেষ রোববার তাদের আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। একইদিন ভোরে তাদের গ্রেপ্তার করা হয় বলে জানিয়েছে পুলিশ।
এর আগে গত ১৪ আগস্ট রাতে উপজেলার নরসিংপুর ইউনিয়নের সোনাপুর গ্রামে নিজ শয়নকক্ষে ঘুমন্ত অবস্থায় মোহাম্মদ আলীকে হত্যা করা হয় বলে মামলার এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে। এ ঘটনায় নিহতের নাতনি মোছা. আছমা বেগম বাদী হয়ে দোয়ারাবাজার থানায় মামলা করেন।
মামলার এজাহার ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, জমির মালিকানা পুত্রবধূ হোসনা বেগম ও সৌদি প্রবাসী ছেলে ইসমাইল মিয়ার নামে লিখে না দেওয়াকে কেন্দ্র করে বৃদ্ধের সঙ্গে পারিবারিক বিরোধ চলছিল। অভিযোগ রয়েছে, প্রবাসীর ছেলের ইন্ধনে একপর্যায়ে তার স্ত্রী হোসনা বেগম ৫০ হাজার টাকার বিনিময়ে রুহুল আমিনকে শ্বশুরকে হত্যার দায়িত্ব দেন।
অভিযোগ অনুযায়ী, ঘটনার রাতে হোসনা বেগম ঘরের পেছনের দরজা খুলে দিলে রুহুল আমিন, নজরুল ইসলাম ও জিয়াউর রহমান ঘরে প্রবেশ করেন। পরে ঘুমন্ত মোহাম্মদ আলীর গলায় গামছা পেঁচিয়ে শ্বাসরোধে হত্যা করা হয় বলে এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে। পরদিন ঘটনাটি স্বাভাবিক মৃত্যু হিসেবে প্রচার করে দাফনের প্রস্তুতি নেওয়া হলেও বৃদ্ধের মুখে রক্ত ও গলায় কালো দাগ দেখে স্থানীয়দের সন্দেহ হয়। খবর পেয়ে পুলিশ মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য পাঠায়।
পরে দোয়ারাবাজার থানার এসআই আমির হোসেনের নেতৃত্বে পুলিশের একটি দল রোববার ভোর রাতে অভিযান চালিয়ে হোসনা বেগম (৩৮), রুহুল আমিন (২২) ও নজরুল ইসলামকে (২০) গ্রেপ্তার করে।
এদের মধ্যে হোসনা বেগম হত্যার শিকার বৃদ্ধার ছেলে ইসমাইল মিয়ার স্ত্রী এবং রুহুল আমিন ও নজরুল ইসলাম ৫০ হাজার টাকার বিনিময়ে হত্যার ঘটনায় জড়িত ছিলেন বলে অভিযোগ রয়েছে।
দোয়ারাবাজার থানার ওসি তরিকুল ইসলাম তালুকদার বলেন, গ্রেপ্তার তিন আসামিকে আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে। মামলার পলাতক আসামিদের গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে। তদন্ত ও ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন অনুযায়ী পরবর্তী আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
রাঙামাটির মানিকছড়িতে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে যাত্রীবাহী একটি পিকআপ উল্টে চারজন নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় আরও দুইজন আহত হয়েছেন। রোববার সকাল ৬টার দিকে রাঙামাটি-কুতুকছড়ি সড়কের মানিকছড়ি আর্মি ক্যাম্পের সামনে এ দুর্ঘটনা ঘটে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, যাত্রীবাহী পিকআপটি রাঙামাটি শহর থেকে কুতুকছড়ি বাজারের দিকে যাচ্ছিল। মানিকছড়ি এলাকায় পৌঁছালে চালক নিয়ন্ত্রণ হারালে গাড়িটি সড়কের ওপর উল্টে যায়। এতে কয়েকজন যাত্রী গুরুতর আহত হন। পরে স্থানীয়রা আহতদের উদ্ধার করে রাঙামাটি জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে যান।
নিহতরা হলেন—মেঘরানী চাকমা, শান্তনা চাকমা, শোভা চাকমা ও শান্তি রঞ্জন চাকমা। তাদের মধ্যে তিনজনের মরদেহ রাঙামাটি জেনারেল হাসপাতালের জরুরি বিভাগে রাখা হয়েছে।
আহতদের মধ্যে পিকআপচালক জ্ঞান বিকাশ চাকমা ও সুমন চাকমা রাঙামাটি জেনারেল হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। আশঙ্কাজনক অবস্থায় শোভা চাকমাকে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়ার পথে তার মৃত্যু হয়।
রাঙামাটি কোতোয়ালি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা জসিম উদ্দিন ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন।
রাঙামাটি জেনারেল হাসপাতালের আবাসিক চিকিৎসক ডা. শওকত আকবর জানান, দুর্ঘটনায় মোট ছয়জনকে হাসপাতালে আনা হয়। তাদের মধ্যে তিনজনকে মৃত অবস্থায় পাওয়া যায়। একজন গুরুতর আহতকে চট্টগ্রামে রেফার করা হয়েছে এবং অপর দুইজন হাসপাতালে ভর্তি রয়েছেন।
রাঙামাটি কোতোয়ালি থানার উপপরিদর্শক মো. তোফাজ্জল হোসেন জানান, দুর্ঘটনায় নিহত ও আহতদের হাসপাতালে আনা হয়েছে। মরদেহের সুরতহাল প্রতিবেদন প্রস্তুতের কাজ চলছে। প্রতিবেদন শেষে মরদেহ স্বজনদের কাছে হস্তান্তরের প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা হবে।
ভোলার চরফ্যাশনে বিপুল পরিমাণ নিষিদ্ধ পলিথিন জব্দ করেছে কোস্ট গার্ড। রোববার কোস্ট গার্ড মিডিয়া কর্মকর্তা লেফটেন্যান্ট কমান্ডার সাব্বির আলম সুজন এ তথ্য জানান।
তিনি বলেন, ভোলার চরফ্যাশন বাজার সংলগ্ন এলাকায় গত শনিবার বিকাল ৪টায় কোস্ট গার্ড আউটপোস্ট লালমোহন কর্তৃক গোপন সংবাদের ভিত্তিতে একটি বিশেষ অভিযান পরিচালনা করা হয়। অভিযান চলাকালীন উক্ত এলাকায় ৪টি দোকানে তল্লাশি করে প্রায় ৮ লক্ষ টাকা মূল্যের ২ হাজার কেজি নিষিদ্ধ পলিথিন জব্দ করা হয়।
জব্দকৃত পলিথিনের পরবর্তী আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য পরিবেশ অধিদপ্তর, ভোলা এর নিকট হস্তান্তর করা হয়।
তিনি আরও বলেন, পরিবেশ রক্ষায় কোস্ট গার্ড ভবিষ্যতেও এ ধরনের অভিযান অব্যাহত রাখবে।
রাঙামাটি শহরের মানিকছড়ি এলাকায় আজ রোববার ভোরে এক ভয়াবহ সড়ক দুর্ঘটনায় চারজন প্রাণ হারিয়েছেন। সকাল আনুমানিক ৬টার দিকে মানিকছড়ি আর্মি ক্যাম্পের সামনে একটি যাত্রীবাহী পিকআপ নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে উল্টে গেলে এই হতাহতের ঘটনা ঘটে। স্থানীয় সূত্রের বরাতে জানা গেছে, গাড়িটি রাঙামাটি শহর থেকে কুতুকছড়ি বাজারের অভিমুখে যাত্রা করছিল, কিন্তু মানিকছড়ি পৌঁছালে চালক নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ফেলেন এবং গাড়িটি সড়কের ওপর উল্টে যায়।
এই মর্মান্তিক দুর্ঘটনায় নিহতরা হলেন মেঘরানী চাকমা, শান্তনা চাকমা, শোভা চাকমা ও শান্তি রঞ্জন চাকমা। হাসপাতালের তথ্য অনুযায়ী, ঘটনাস্থল থেকে তিনজনকে মৃত অবস্থায় রাঙামাটি জেনারেল হাসপাতালে আনা হয়। এছাড়া গুরুতর আহত অবস্থায় শোভা চাকমাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়ার পথে তাঁর মৃত্যু হয়। বর্তমানে আহত অন্য দুজনের মধ্যে পিকআপ চালক জ্ঞান বিকাশ চাকমা ও সুমন চাকমা হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
হাসপাতালের সার্বিক পরিস্থিতির বিষয়ে রাঙামাটি জেনারেল হাসপাতালের আবাসিক চিকিৎসক ডা. শওকত আকবর বলেন, ‘সড়ক দুর্ঘটনায় মোট ৬ জনকে হাসপাতালে আনা হয় যাদের মধ্যে ৩ জন মৃত ছিলেন। ১ জন গুরুতর আহতকে চট্টগ্রামে রেফার করেছি আমরা অন্য ২ জন হাসপাতালে ভর্তি করে চিকিৎসা দেয়া হচ্ছে।’
দুর্ঘটনার খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতাল ও ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে আইনি প্রক্রিয়া শুরু করেছে। এ বিষয়ে রাঙ্গামাটি কোতোয়ালি থানার উপ পরিদর্শক মো. তোফাজ্জল হোসেন বলেন, ‘সড়ক দুর্ঘটনায় আহত এবং নিহতদেরকে রাঙ্গামাটি জেনারেল হাসপাতালে আনা হয়েছে। আমরা সুরতহাল প্রতিবেদন প্রস্তুত করছি। সুরতহাল প্রতিবেদন শেষে মরদেহ হস্তান্তর করার প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।’
ঢাকায় ভারতীয় হাইকমিশনে উদ্যাপিত হলো ভারতের ৮০তম স্বাধীনতা দিবস। অনুষ্ঠানে বাংলাদেশে নিযুক্ত ভারতীয় হাইকমিশনার দিনেশ ত্রিবেদী
দুই দেশের জনগণের মধ্যে সুসম্পর্কের গুরুত্বের ওপর জোর দিয়ে হাইকমিশনার বলেছেন, ‘ভাগাভাগি করা আকাঙ্ক্ষা ও পারস্পরিক সদিচ্ছার ওপর ভিত্তি করে গড়ে ওঠা মানুষের সঙ্গে মানুষের এই আত্মিক যোগাযোগই দুটি দেশের দীর্ঘস্থায়ী বন্ধুত্বের আসল শক্তি। ভারত ও বাংলাদেশের মানুষের মধ্যকার সুসম্পর্ক এবং পারস্পরিক সৌহার্দ্যই দুটি বন্ধুপ্রতিম দেশের সম্পর্কের ‘প্রকৃত প্রাণভোমরা’।
শনিবার (১৫ আগস্ট) ঢাকায় অবস্থিত ভারতীয় হাইকমিশন প্রাঙ্গণে এই উদ্যাপনের আয়োজন করা হয়। অনুষ্ঠানে বাংলাদেশে বসবাসরত ভারতীয় নাগরিক এবং বাংলাদেশের বিভিন্ন ক্ষেত্রের আমন্ত্রিত অতিথিরা অংশ নেন।
অনুষ্ঠানের শুরুতে হাইকমিশনার দিনেশ ত্রিবেদী জাতীয় পতাকা উত্তোলন করেন। পরে জাতীয় সংগীত এবং জাতীয় গান ‘বন্দে মাতরম’ পরিবেশন করা হয়। উপস্থিত অতিথিদের উদ্দেশে বক্তব্য দেওয়ার সময় হাইকমিশনার বলেন, ‘আজ আমরা কেবল আমাদের স্বাধীনতার শুভলক্ষণকেই স্মরণ করছি না, বরং আমাদের গণতান্ত্রিক ঐতিহ্যের দীর্ঘস্থায়ী শক্তি এবং আধুনিক ভারতের অভাবনীয় প্রবৃদ্ধির গল্পকেও উদ্যাপন করছি।’
ভারত-বাংলাদেশ সম্পর্কের ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট তুলে ধরে তিনি বলেন, দুই দেশের স্বাধীনতা সংগ্রামের মূল শেকড় অত্যন্ত নিবিড়ভাবে সম্পর্কিত। যৌথ ইতিহাস, পারস্পরিক শ্রদ্ধা ও সহযোগিতার শক্ত ভিত্তির ওপর দাঁড়িয়েই এই সম্পর্ক অব্যাহতভাবে সমৃদ্ধ হচ্ছে।
তিনি আরও উল্লেখ করেন, বাণিজ্য, আঞ্চলিক যোগাযোগ, নিরাপত্তা এবং স্বাস্থ্যসেবার মতো গুরুত্বপূর্ণ খাতে দুই দেশ যৌথ অংশীদারত্ব জোরদার করে এগিয়ে যাচ্ছে।
ভারতে উদীয়মান উদ্ভাবন ও অর্থনৈতিক প্রগতির কথা উল্লেখ করে তিনি বাংলাদেশে থাকা ভারতীয় প্রবাসী সম্প্রদায়কে ভারতের এই অগ্রযাত্রায় অংশীদার হয়ে থাকার আহ্বান জানান।
স্বাধীনতা দিবসের ঐতিহ্যবাহী রীতি অনুযায়ী হাইকমিশনার অনুষ্ঠানে ভারতের রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মুর জাতির উদ্দেশে দেওয়া বার্ষিক ভাষণের অংশবিশেষ পাঠ করে শোনান। রাষ্ট্রপতির বক্তব্য উদ্ধৃত করে দিনেশ ত্রিবেদী বলেন, ১৯৪৭ সালের ১৫ আগস্টের গুরুত্ব কেবল ঔপনিবেশিক শাসন থেকে স্বাধীন হওয়ার মধ্যেই সীমাবদ্ধ ছিল না; এর মূল উদ্দেশ্য ছিল স্বাধীন ভারতের ভাগ্য নির্ধারণে দেশের প্রতিটি নাগরিককে ক্ষমতায়িত করা।
তিনি আরও বলেন, স্বাধীনতার প্রকৃত অর্থ হলো প্রতিটি নাগরিক যেন নিজেদের স্বপ্ন ও আকাঙ্ক্ষা পূরণের সুযোগ পান এবং ভারতকে বিশ্বের শীর্ষস্থানে উন্নীত করার লক্ষ্যে অবদান রাখতে পারেন।
শিক্ষক সংকট মোকাবিলায় বিষয়ভিত্তিক খণ্ডকালীন শিক্ষক পুল গঠন করবে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়। অবসরপ্রাপ্ত যোগ্য ও অভিজ্ঞ শিক্ষক এবং সংশ্লিষ্ট বিষয়ে দক্ষ বিশেষজ্ঞদের নিয়ে এ শিক্ষক পুল গঠন করা হবে। শনিবার (১৫ আগস্ট) গাজীপুরে বিশ্ববিদ্যালয়ের মূল ক্যাম্পাসে অনুষ্ঠিত জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের একাডেমিক কাউন্সিলের ১০৩তম সভায় এ সংক্রান্ত নীতিমালা অনুমোদন করা হয়েছে।
বিশ্ববিদ্যালয় থেকে গণমাধ্যমে পাঠানো এক বার্তায় বিষয়টি জানানো হয়। এতে বলা হয়, ভাইস-চ্যান্সেলর প্রফেসর ড. এ এস এম আমানুল্লাহর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভায় বিশ্ববিদ্যালয়ের মিশন ও ভিশন অনুমোদনসহ শিক্ষার্থীদের শিক্ষা ও কর্মজীবনকে আরও কার্যকর ও সময়োপযোগী করতে বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নেয়া হয়। প্রতিষ্ঠার ৩৪ বছর পর জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের সুনির্দিষ্ট লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য নির্ধারণ করা হলো।
এতে আরও বলা হয়, সভায় স্নাতক (সম্মান) কোর্সের ২০১৩-১৪ থেকে ২০১৭-১৮ শিক্ষাবর্ষ পর্যন্ত এক বা একাধিক বিষয়ে অকৃতকার্য শিক্ষার্থীদের বিশেষ বিবেচনায় আরও একবার পরীক্ষায় অংশ নেয়ার সুযোগ দেয়ার সিদ্ধান্ত হয়েছে। এ ছাড়া স্কিল-বেইজড পিজিডি প্রোগ্রামে ফ্রিল্যান্সিংয়ের আওতায় গ্রাফিকস ডিজাইন, ভিডিও এডিটিং ও ওয়েব ডিজাইন, কালিনারি সায়েন্স (শেফ) এবং হিউম্যান রিসোর্স ম্যানেজমেন্ট বিষয় অন্তর্ভুক্তির অনুমোদন দেয়া হয়েছে। একই সঙ্গে স্নাতক (পাস) ও স্নাতক (সম্মান) প্রোগ্রামের দ্বিতীয় বর্ষে চার ক্রেডিটের অ্যাপ্লাইড আইসিটি এবং প্রথম বর্ষে ফাংশনাল ইংরেজি কোর্স চালুর সিদ্ধান্ত হয়েছে। এসব কোর্সের সিলেবাস ও রেগুলেশনও অনুমোদন করা হয়।
এতে আরও বলা হয়, সভায় ৩ বছর মেয়াদি ডিগ্রি (পাস) ও ১ বছর মেয়াদি মাস্টার্স (প্রিলিমিনারি) সম্পন্নকারীদের সনদকে চার বছর মেয়াদি ডিগ্রির সমতুল্য করার বিষয়েও নীতিগত সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে। বিসিএসসহ পাবলিক সার্ভিস কমিশনের পরীক্ষায় এসব শিক্ষার্থীর অংশগ্রহণের সুযোগ তৈরিতে চূড়ান্ত অনুমোদনের জন্য সরকারের সংশ্লিষ্ট দপ্তরের সঙ্গে যোগাযোগ করতে উচ্চপর্যায়ের কমিটি গঠনের সিদ্ধান্ত হয়।
এ ছাড়া সিজিপিএ ২ দশমিক ২৫-এর কম পাওয়া শিক্ষার্থীদের বিশেষ বিবেচনায় মানোন্নয়ন পরীক্ষায় অংশ নেয়ার সুযোগ দেয়ার প্রস্তাবও সভায় বিবেচনা করা হয়েছে। জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের অধিভুক্ত কলেজগুলোতে চার বছর মেয়াদি এলএলবি (সম্মান) কোর্সের অধিভুক্তি রেগুলেশনও অনুমোদন করা হয়েছে।
সভায় ভাইস-চ্যান্সেলর ড. আমানুল্লাহ বলেন, আমাদের প্রতিটি একাডেমিক সিদ্ধান্তের মূল লক্ষ্য শিক্ষার্থীর ভবিষ্যৎ। একজন শিক্ষার্থী যেন নিজের পড়াশোনা শেষ করে দক্ষতা নিয়ে কর্মজীবনে প্রবেশ করতে পারেন—আমরা সেই জায়গাটিকেই গুরুত্ব দিচ্ছি। অবসর নেয়া অভিজ্ঞ শিক্ষকদের জ্ঞান ও অভিজ্ঞতা কাজে লাগানোর সুযোগ রয়েছে। পাশাপাশি বিভিন্ন বিষয়ে দক্ষ বিশেষজ্ঞদের বাস্তব অভিজ্ঞতা থেকে শিক্ষার্থীদের শেখানোর সুযোগ তৈরি করতে বিষয়ভিত্তিক শিক্ষক পুল গঠন করা হচ্ছে।
তিনি বলেন, শুধু প্রচলিত ডিগ্রি যথেষ্ট নয়, শিক্ষার্থীদের কর্মক্ষেত্রে সরাসরি ব্যবহারযোগ্য দক্ষতা অর্জন করতে হবে। একাডেমিক শিক্ষার সঙ্গে দক্ষতা ও বাস্তবমুখী শিক্ষার সমন্বয়ের মাধ্যমে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের দেশের পাশাপাশি আন্তর্জাতিক কর্মবাজারের জন্য প্রস্তুত করার লক্ষ্য রয়েছে।
সভায় জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রো-ভাইস চ্যান্সেলর প্রফেসর মো. লুৎফর রহমান, প্রো-ভাইস চ্যান্সেলর প্রফেসর ড. মোহাম্মদ আলী জিন্নাহ, ট্রেজারার প্রফেসর ড. মো. নাজমুল হোসাইনসহ একাডেমিক কাউন্সিলের ৪৩ জন সদস্য, সরকারি-বেসরকারি কলেজের অধ্যক্ষ এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের সংশ্লিষ্ট দপ্তরের বিভাগীয় প্রধান ও কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। সভায় বিভিন্ন বর্ষের পরীক্ষার ফলাফল, শৃঙ্খলা কমিটির সুপারিশ ও সিদ্ধান্ত এবং নতুন কারিকুলাম অনুমোদন করা হয়।
স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী ড. এম এ মুহিত বলেছেন, বর্তমান সরকার স্বাস্থ্য খাতকে সর্বাধিক গুরুত্ব দিচ্ছে। আমরা দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকে প্রতিনিয়ত চেষ্টা করছি স্বাস্থ্য ব্যবস্থায় পরিবর্তন আনার, যাতে সাধারণ মানুষের দোরগোড়ায় স্বাস্থ্য সেবা পৌঁছে যায় এবং সেই অঙ্গীকার থেকেই বাংলাদেশের ইতিহাসে স্বাস্থ্য খাতে সর্বোচ্চ পরিমাণ বাজেট ঘোষণা করা হয়েছে। বাজেটটাকে যেন যথাযথভাবে ব্যবহার করা হয়- যাতে স্বাস্থ্য ব্যবস্থা প্রত্যেকটি উপজেলার প্রান্তিক মানুষের কাছে পৌঁছে যায়।
শনিবার (১৫ আগস্ট) দুপুরে ৫০ শয্যার সাভার উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স এবং উদ্বোধনের পর বন্ধ থাকা হেলথ ম্যানেজমেন্ট ইনস্টিটিউট পরিদর্শন শেষে তিনি এসব কথা বলেন।
এ সময় তিনি বলেন, স্বাস্থ্যসেবা মানুষের কাছে পৌঁছে দেওয়ার অংশ হিসেবে পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। আমাদের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ইতোমধ্যে ঘোষণা দিয়েছেন ৫০ শয্যা বা ৩০ শয্যাবিশিষ্ট উপজেলা পর্যায়ের হাসপাতালগুলোকে ১০১ শয্যায় উন্নীত করার। কিন্তু গতকাল একটি বৈঠক হয়েছে, সে বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ঘোষণা দিয়েছেন সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে প্রত্যেকটি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স অর্থাৎ সাভার উপজেলা কমপ্লেক্সসহ প্রত্যেকটি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স ১৫১ শয্যাবিশিষ্ট একটি পূর্ণাঙ্গ হাসপাতালে পরিণত হবে।
তিনি আরও বলেন, ১৫১ শয্যা বিশিষ্ট হাসপাতালগুলোতে মেডিসিন, গাইনি, শিশু রোগ- এগুলোর পাশাপাশি ধাপে ধাপে বিশেষায়িত সেবাগুলোও উপজেলা পর্যায়ে নিয়ে যেতে চাই। যাতে মানুষ তা নিজের উপজেলাতেই অধিকাংশ রোগব্যাধির চিকিৎসা পায়।
তিনি বলেন, বিগত সময়গুলোতে স্বাস্থ্য খাতে ব্যাপক দুর্নীতি হয়েছে, বিপুল পরিমাণ রাষ্ট্রীয় অর্থ অপচয় করা হয়েছে এবং ব্যবহার সঠিকভাবে হয়নি। ফলশ্রুতিতে আমরা সে অবস্থা থেকে বের করে আনতে গেলে হয়ত একটু সময় লাগবে, আমাদের সবাইকে ধৈর্য ধরে সহযোগিতা করতে হবে এবং সরকার, চিকিৎসক জনপ্রতিনিধিরা আমরা সবাই মিলে স্বাস্থ্যব্যবস্থা উন্নয়নে কাজ করছে। আগামী ৬ মাস থেকে ১ বছরের মধ্যে প্রান্তিক জনগোষ্ঠী তাদের নিজের এলাকায় উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে সার্বিক স্বাস্থ্য পরিস্থিতির ব্যাপক পরিবর্তন এবং অগ্রগতি দেখবেন বলে আমাদের বিশ্বাস।
উদ্বোধনের পর চালু না হওয়া হেলথ ম্যানেজমেন্ট ইনস্টিটিউট পরিদর্শন শেষে তিনি বলেন, ২০২২ সালে এই বিল্ডিংগুলো তৈরি হয়েছে, আজকে ২০২৬ সাল ৪টি বছর, এত সুন্দর করে রাষ্ট্রের অর্থে জনগনের অর্থে তৈরি করা হয়েছে কিন্তু এই বিল্ডিংটাকে কোনো কাজে লাগানো হচ্ছে না। আজকে আমি সরেজমিনে সেখানে দেখেছি সেখানে আমরা দ্রুত ব্যবস্থা নেব। এই হেলথ ম্যানেজমেন্ট ইনস্টিটিউট শুধু সাভারের জন্য নয়, সারা বাংলাদেশের সমস্ত উপজেলা হেলথ কমপ্লেক্স, সদর হাসপাতাল, সরকারি স্বাস্থ্যসেবা ব্যবস্থা যারা পরিচালনা করেন, ৬৪ জেলায় আমাদের সিভিল সার্জন, বিভাগীয় কর্মকর্তা এবং উপজেলায় দায়িত্বরত কর্মকর্তা ডাক্তারদেরকে ধাপে ধাপে ম্যানেজমেন্টের ওপরে এখানে প্রশিক্ষণ দেওয়া হবে- যাতে তারা প্রতিটি উপজেলায় সঠিকভাবে তাদের কাজ পরিচালনা করতে পারেন।
ডেঙ্গুর বিষয়ে প্রতিমন্ত্রী বলেন, আমরা এক দেড় মাস আগে ডেঙ্গুর বিষয়ে ব্যবস্থা নিয়েছি। আমরা ইতোমধ্যে মন্ত্রণালয়ে বিভিন্ন স্টেক হোল্ডারদের সাথে বৈঠক করার পাশাপাশি স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে সিটি করপোরেশন, পৌরসভাগুলোর সাথে কথা বলেছি। ডেঙ্গু প্রতিরোধ করতে হলে সবার আগে জনগণ ও স্থানীয় প্রশাসনের সহযোগিতা দরকার। ডেঙ্গু প্রতিরোধ শুধু ওষুধ দিয়ে সম্ভব না, এর জন্য ময়লা-আবর্জনা পরিষ্কার, মশা যেখানে গড়ে ওঠে সেটি বন্ধে কাজ করা শুরু হয়েছে। পাশাপাশি যাদের ডেঙ্গু হবে তারা যেন সঠিক সময়ে, সঠিক চিকিৎসা পায় সেজন্য একমাস আগেই হাসপাতালগুলোতে ডেঙ্গু ম্যানেজমেন্টের বিষয়ে ট্রেনিং দেওয়ার ব্যবস্থা করা হয়েছে। তবে সবার আগে নাগরিকদের সচেতন হতে হবে।
এ সময় ঢাকা-১৯ আসনের সংসদ সদস্য ডা. দেওয়ান মোহাম্মদ সালাউদ্দিন বাবু, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. সাইফুল ইসলাম, উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের কর্মকর্তা ডা. ফজলে বারীসহ সংশ্লিষ্টরা উপস্থিত ছিলেন।
চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডে ফেরদৌস স্টিল শিপব্রেকিং ইয়ার্ডের যে জাহাজে শুক্রবার (১৪ আগস্ট) গ্যাস লিক হয়ে ৯ জন শ্রমিক মারা গেছেন, ওই জাহাজের ভেতরে বিষাক্ত হাইড্রোজেন সালফাইড গ্যাসের উপস্থিতি পাওয়া গেছে। জাহাজ ও তার চারপাশের এলাকা বিষমুক্ত করতে যৌথভাবে কাজ শুরু করছে কর্তৃপক্ষ।
শনিবার (১৫ আগস্ট) ইয়ার্ড পরিদর্শনকালে বিস্ফোরক পরিদপ্তরের কর্মকর্তারা বলেন, দুর্ঘটনার প্রায় চার ঘণ্টা পর জাহাজের ভেতরে ১০.৮ পিপিএম (পার্টস পার মিলিয়ন) হাইড্রোজেন সালফাইডের উপস্থিতি মিলেছে।
কর্মকর্তাদের ধারণা, দুর্ঘটনার মুহূর্তে জাহাজটিতে অত্যন্ত বিষাক্ত এই গ্যাসের পরিমাণ ১০০ পিপিএমেরও বেশি ছিল। এ কারণেই সম্ভবত সংস্পর্শে আসার পর মাত্র এক থেকে তিন মিনিটের মধ্যেই আক্রান্ত শ্রমিকের মৃত্যু হয়েছে।
শিল্প মন্ত্রণালয়ের সচিব আব্দুন নাসের খান ও মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা সকালে দুর্ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন। এ সময় চট্টগ্রামের জেলা প্রশাসক, বাংলাদেশ শিপ ব্রেকার্স অ্যান্ড রিসাইক্লার্স অ্যাসোসিয়েশনের (বিএসবিআরএ) নেতৃবৃন্দ ও কর্মকর্তা এবং বিভিন্ন সরকারি সংস্থা ও পুলিশের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের আব্দুন নাসের খান বলেন, ‘জাহাজভাঙা খাত একটি সম্ভাবনাময় শিল্প। এ শিল্পকে সরকার সব ধরনের সহায়তা দিতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। এইচকেসি গাইডলাইন পুরোপুরি মেনে চলার পরও ফেরদৌস স্টিলে এই ধরনের ঘটনা অনাকাঙ্ক্ষিত। কর্তৃপক্ষ ও সরকার নিহত শ্রমিকদের পরিবারকে সর্বোচ্চ সহায়তা করার জন্য যা যা প্রয়োজন, তা-ই করবে।’
এইচকেসি হলো হংকং ইন্টারন্যাশনাল কনভেনশন ফর দ্য সেফ অ্যান্ড এনভায়রন্মেন্টালি সাউন্ড রিসাইক্লিং অভ শিপস। এ আন্তর্জাতিক চুক্তির মাধ্যমে টেকসই জাহাজভাঙা নিয়ন্ত্রণ করা হয়।
দুর্ঘটনার পর থেকেই ইয়ার্ডটি সেনাবাহিনী, পুলিশ ও অন্যান্য সরকারি সংস্থার নজরদারিতে রয়েছে।
বিস্ফোরক পরিদপ্তরের বিস্ফোরক পরিদর্শক শাখাওয়াত হোসেন জানান, জাহাজ ও এর আশপাশের এলাকা থেকে বিষাক্ত গ্যাস দূর করতে একটি যৌথ দল দ্রুত কাজ শুরু করবে।
এদিকে দুর্ঘটনার কারণ অনুসন্ধানে আরও দুটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। শিল্প মন্ত্রণালয় একজন অতিরিক্ত সচিবকে প্রধান করে ১১ সদস্যের একটি কমিটি ও চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসন অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেটকে প্রধান করে ৯ সদস্যের একটি কমিটি গঠন করেছে। এর আগে বাংলাদেশ শিপ ব্রেকারস অ্যান্ড রিসাইক্লারস অ্যাসোসিয়েশন (বিএসবিআরএ) পাঁচ সদস্যের একটি কমিটি গঠন করে।
এই কমিটিগুলো দুর্ঘটনার কারণ নিয়ে বিস্তারিত প্রতিবেদন জমা দেবে। কর্মকর্তারা জানান, তদন্তে শিপইয়ার্ড কর্তৃপক্ষের কোনো গাফিলতি পাওয়া গেলে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
বিএসবিআরএর সভাপতি মোহাম্মদ মহসিন চৌধুরী জানান, বাংলাদেশে জাহাজ ভাঙার জন্য আমদানিকৃত যেকোনো জাহাজকে ইয়ার্ডে প্রবেশের আগে আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত কোনো সংস্থা থেকে গ্যাস-মুক্তকরণ সনদ নেওয়া বাধ্যতামূলক। গত শুক্রবার যে জাহাজে দুর্ঘটনা ঘটেছে, সেটিরও এ সনদ ছিল বলে জানান তিনি।
মহসিন আরও বলেন, এ সনদ থাকা সত্ত্বেও কীভাবে জাহাজের ভেতরে বিষাক্ত গ্যাস রয়ে গেল, তদন্তে সেই বিষয়টি গুরুত্বের সাথে খতিয়ে দেখা হবে। পাশাপাশি এই কাজে কোনো অবহেলা প্রমাণ হলে যে আন্তর্জাতিক সংস্থা সনদ প্রদান করেছিল, তাদের বিরুদ্ধেও আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হতে পারে।
চট্টগ্রামের পুলিশ সুপার মাসুদ আলম জানান, নিহত শ্রমিকদের পরিবারের পক্ষ থেকে এখনো কোনো মামলা দায়ের করা হয়নি। মামলা করার পরেই প্রয়োজনীয় আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। নিহত নয়জন শ্রমিকের মধ্যে আটজনেরই ময়নাতদন্ত হয়নি।
গাজীপুরের কালিয়াকৈরে গরুবোঝাই ট্রাকের সঙ্গে শ্যামলী পরিবহনের যাত্রীবাহী বাসের সংঘর্ষে দুইজন নিহত হয়েছেন এবং গুরুতর আহত হয়েছেন আরও তিনজন। এ ছাড়া এ ঘটনায় পাঁচটি গরু ঘটনাস্থলেই মারা যায় ও মুমূর্ষু অবস্থায় চারটি গরু জবাই করা হয়েছে।
শনিবার (১৫ আগস্ট) বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে জেলার ঢাকার টাঙ্গাইল মহাসড়কের কালিয়াকৈর উপজেলার গোয়ালবাথান এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে। তাৎক্ষণিকভাবে নিহতদের পরিচয় শনাক্ত করতে পারেনি পুলিশ।
পুলিশ ও প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, শনিবার বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে কালিয়াকৈর উপজেলার গোয়াল বাথান এলাকায় ঢাকামুখী লেনে গরুবাহী ট্রাকের সঙ্গে একটি যাত্রীবাহী বাসের সংঘর্ষ হয়। এ সময় ট্রাকের সামনের অংশ দুমড়েমুচড়ে যায়। পরে স্থানীয় বাসিন্দাদের দেওয়া খবরে কালিয়াকৈর ফায়ার সার্ভিস ও পুলিশ গিয়ে ট্রাকের ভেতর থেকে দুজনকে মৃত অবস্থায় উদ্ধার করেন। এ ছাড়া বাকি তিনজনকে আহত অবস্থায় উদ্ধার করে হাসপাতালে নেওয়া হয়েছে। দুর্ঘটনায় ভ্যানে থাকা পাঁচটি গরু ঘটনাস্থলে মারা যায়। এ সময় স্থানীয় লোকজন আরও চারটি গরুকে মুমূর্ষু অবস্থায় জবাই করেন।
এ ঘটনায় মহাসড়কে কিছুক্ষণ যান চলাচলেও ব্যাঘাত ঘটে। পরে পুলিশ দুর্ঘটনাকবলিত যানদুটি উদ্ধার করলে মহাসড়কে যান চলাচল স্বাভাবিক হয়।
হাইওয়ে পুলিশ জানিয়েছে, নিহতদের পরিচয় শনাক্তের কাজ চলছে এবং এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।
নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লায় সন্ত্রাস ও মাদকবিরোধী অভিযানের সময় পুলিশের সঙ্গে অস্ত্রধারী মাদক ব্যবসায়ীদের গোলাগুলির ঘটনা ঘটেছে। এ ঘটনায় তিন পুলিশ সদস্য আহত হয়েছেন এবং পুলিশের পাল্টা গুলিতে এক মাদক ব্যবসায়ী গুলিবিদ্ধ হয়েছে। পরে ঘটনাস্থল থেকে একটি বিদেশি পিস্তল ও ম্যাগাজিনসহ দুইজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। শনিবার (১৫ আগস্ট) বিকেল সোয়া ৩টার দিকে ফতুল্লা থানার ইসদাইর এলাকায় আরবান স্কুলের সামনে এই ঘটনা ঘটে।
আহত পুলিশ সদস্যরা হলেন এসআই (নিঃ) মো. রফিক, এসআই (নিঃ) নন্দন চন্দ্র সরকার এবং কনস্টেবল রাশিদুল। অপরদিকে পুলিশের ছোড়া গুলিতে জসিম (২৪) নামে এক মাদক ব্যবসায়ী গুলিবিদ্ধ হয়ে আহত হয়েছেন। তিনি ওই এলাকার রেজ্জাক বেপারীর ছেলে। গ্রেপ্তার হওয়া অপর ব্যক্তি হলেন একই এলাকার আব্দুস সালামের ছেলে মোহন (২৩)।
পুলিশ জানায়, নিয়মিত সন্ত্রাস ও মাদকবিরোধী অভিযানের অংশ হিসেবে ফতুল্লার ইসদাইর এলাকায় অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছিল। এ সময় জসিম ও মোহনসহ ৭ থেকে ৮ জন মাদক ব্যবসায়ী পুলিশের আভিযানিক দলকে লক্ষ্য করে পিস্তল থেকে গুলি ছোড়ে এবং ইটপাটকেল নিক্ষেপ করে।
পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে ও আত্মরক্ষার্থে এসআই মো. রফিক ও এসআই নন্দন চন্দ্র সরকার তাদের সরকারি পিস্তল থেকে মোট আট রাউন্ড পাল্টা গুলি ছোড়েন। এতে জসিম উরুতে গুলিবিদ্ধ হন। মাদক ব্যবসায়ীদের হামলায় তিন পুলিশ সদস্যও আহত হন। ঘটনার পর পুলিশ একটি বিদেশি পিস্তল ও একটি ম্যাগাজিন উদ্ধার করে এবং দুই অস্ত্রধারীকে আটক করে। আহতদের দ্রুত উদ্ধার করে চিকিৎসার জন্য হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।
ফতুল্লা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ মাহবুব আলম বলেন, সন্ত্রাস বিরোধী অভিযানের সময় অস্ত্রধারীরা পুলিশের ওপর গুলি চালায়। তবে গুলি পুলিশের গায়ে লাগেনি। আত্মরক্ষার্থে পুলিশ পাল্টা গুলি ছুড়লে এক মাদক ব্যবসায়ী গুলিবিদ্ধ হয়। ঘটনাস্থল থেকে একটি বিদেশি পিস্তল ও ম্যাগাজিন উদ্ধার এবং দুইজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এ ঘটনায় জড়িত অন্যদের গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
রাজধানীর উত্তরা এলাকায় ব্যাংকে জমা দিতে যাওয়ার পথে ডিএল পেট্রোল পাম্পের ১ কোটি ২১ লাখ ২৫ হাজার টাকা ছিনতাইয়ের ঘটনায় সরাসরি আটজন জড়িত থাকার তথ্য দিয়েছে ডিএমপির গোয়েন্দা শাখা। তাদের মধ্যে তিনজনসহ ৫ জনকে গ্রেপ্তারের পর ডিবি পুলিশ বলছে, লুট হওয়া টাকার মধ্যে ১২ লাখ টাকা উদ্ধার সম্ভব হয়েছে। জড়িত বাকিদের গ্রেপ্তার ও টাকা উদ্ধারের চেষ্টা চলছে।
গত শুক্রবার (১৪ আগস্ট) নারায়ণগঞ্জ ও ঢাকার বিভিন্ন এলাকা থেকে এ পাঁচজনকে গ্রেপ্তার করা হয়। গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন- মো. ইলিয়াস শিকদার (৩৬), জাফর (৩৬), মো. রবিউল ইসলাম ওরফে রুবেল (৩৪), মিন্টু রাড়ী (২৩) ও সাগর বাড়ৈ (৪০)।
গ্রেপ্তারকৃতদের কাছ থেকে কাছ থেকে ৪টি ৭.৬৫ মি.মি. পিস্তল, ৬টি ম্যাগাজিন, ২১ রাউন্ড গুলি, লুণ্ঠিত নগদ ১২ লাখ টাকা, র্যাবের ভুয়া পরিচয়পত্র, ভেস্ট, ক্যাপ, ওয়াকিটকি, হাতকড়া, বিভিন্ন নম্বর প্লেট ও একটি মোটরসাইকেল উদ্ধার করেছে ডিবি।
গত রোববার সকালে বিমানবন্দর সড়কের ক্রাউন প্লাজার সামনে ডিএল পেট্রোল পাম্পের টাকা ছিনতাইয়ের ঘটনা ঘটে। পাম্পটির মালিক প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের খালাত ভাই তাসীন আক্তার হক। তার মা প্রয়াত খুরশীদ জাহান হক সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার বড় বোন।
ছিনতাইয়ের ঘটনায় পেট্রোল পাম্পের ম্যানেজার আব্দুল করিম অজ্ঞাত ছয়-সাতজনের বিরুদ্ধে বিমানবন্দর থানায় মামলা করেছিলেন।
ঘটনার এক সপ্তাহের মাথায় শনিবার (১৫ আগস্ট) ডিএমপি মিডিয়া সেন্টারে সংবাদ সম্মেলনে এসে ডিবির অতিরিক্ত কমিশনার শফিকুল ইসলাম বলেন, তদন্তের ধারাবাহিকতায় নারায়ণগঞ্জের সিদ্ধিরগঞ্জ থেকে ইলিয়াস ও জাফরকে গ্রেপ্তার করা হয়।
তাদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে মাতুয়াইল থেকে রুবেল ও যাত্রাবাড়ীর কাজলারপাড় এলাকা থেকে মিন্টুকে গ্রেপ্তার করা হয়। রুবেলের ভাড়া বাসা থেকে উদ্ধার করা হয় লুট হওয়া ৩ লাখ টাকা। পরে পোস্তগোলা এলাকা থেকে লুট হওয়া ৯ লাখ টাকাসহ গ্রেপ্তার করা হয় সাগরকে।
ঢাকার ডিবি প্রধান বলেন, ‘সাগরের নামে মোট ১৩টি মামলা রয়েছে, সে পেশাদার অপরাধী। সে ঢাকায় আগেও একই কায়দায় বাইকে এবং মাইক্রোবাসে করে বিভিন্ন আর্থিক প্রতিষ্ঠান থেকে নগদ টাকা নিয়ে যাওয়ার সময় ছিনতাই করেছে।’
এছাড়া রুবেলের বিরুদ্ধে ৪টি মামলা, মিন্টুর বিরুদ্ধে ৩টি, জাফরের বিরুদ্ধে ২টি এবং ইলিয়াসের বিরুদ্ধে একটি মামলার তথ্য দিয়েছেন তিনি।
তিনি বলেন, ‘আমরা এই ঘটনার সম্পূর্ণ তথ্য উদ্ঘাটন করেছি, ঘটনার সঙ্গে আরও প্রায় ৬-৭ জন আছে এবং আরও টাকা উদ্ধার করতে বাকি। সিসি ক্যামেরায় আমরা আটজনকে দেখেছি, তারা বলেছে আরও দুইজন ছিল।’
লুটের পর টাকাটা নিজেদের মধ্যে ভাগ করে নেয় জানিয়ে তিনি বলেন, ‘যারা প্রধান তারা বেশি অংশ নিয়ে গেছে, অন্যরা যারা বিভিন্ন সাপোর্ট দিয়েছে আনুপাতিক হারে ভাগ হয়েছে। আমরা যাদের নাম পেয়েছি তাদের আমরা অন্যান্য কিছু এনালাইসিস করে দেখলাম যে, ঢাকা শহরে একাধিক ঘটনার সঙ্গে জড়িত আছে। অন্যান্য যে আসামি আছে তাদের বিরুদ্ধেও একাধিক মামলা রয়েছে।’
এক প্রশ্নের জবাবে ডিবি কর্মকর্তা শফিকুল বলেন, ‘মূল হোতা যে এটা অর্গানাইজ করেছে, সে এখনো পলাতক রয়েছে। গ্রেপ্তারদের মধ্যে তিনজন একবারে সক্রিয়ভাবে অংশগ্রহণ করেছিল। আমরা এখনো প্রতিষ্ঠানের কারও জড়িত থাকার বিষয় পাইনি। যে মূলহোতা তাকে ধরা হলে আরও বিস্তারিত জানা যাবে।’
তার ভাষ্য, ‘এই গ্রুপটাকে যদি ডিসমেন্টাল করা যায় বা এই গ্রুপটাকে যদি ধরা যায়, আমি মনে করি এই ধরনের অপরাধের একটা মেজর অংশ কমে যাবে। সাগের নামে ১৩টা মামলা আছে এবং যে এটার অর্গানাইজার তার নামে আমার ধারণা যে ২০ এর বেশি হবে।’ তবে ‘তদন্ত ও গ্রেপ্তারের সুবিধার্থে’ মূলহোতা এবং জড়িত অন্যদের বিস্তারিত নাম-পরিচয় জানাননি তিনি।
খরা ও দাবদাহে দাবানলের তীব্র ঝুঁকিতে ব্রিটেন। এ পরিস্থিতিতে ডিসপোজেবল বা এককালীন ব্যবহারযোগ্য বারবিকিউ নিষিদ্ধ করেছে সরকার। যুক্তরাজ্যের ব্যবসা, উদ্ভাবন, বিজ্ঞান ও বাণিজ্য দপ্তর (ডিবিআইএসটি) জানিয়েছে, গ্রীষ্মের মাসগুলোতে দেশজুড়ে বেশ কয়েকটি ভয়াবহ দাবানলের কারণ হয়েছে এসব বারবিকিউ।
চলতি সপ্তাহে রেকর্ড তাপমাত্রার প্রেক্ষাপটে বৃহস্পতিবার প্রধানমন্ত্রী অ্যান্ডি বার্নহামের সভাপতিত্বে এক জরুরি বৈঠকে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। বৈঠকে জনসাধারণকে খোলা জায়গায় আগুন না জ্বালানোর এবং সিগারেট সতর্কতার সঙ্গে ফেলে দেওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে।
প্রধানমন্ত্রী বলেছেন, দেশ এখন ‘বারুদের স্তূপের মতো’ অবস্থায় রয়েছে আর ওয়েস্ট মিডল্যান্ডসে দমকল বাহিনীর কর্মীরা একের পর এক অগ্নিকাণ্ড মোকাবিলা চালিয়ে যাচ্ছেন। শুক্রবার ইংল্যান্ড ও ওয়েলসে একাধিক দাবানল মোকাবিলা করেছে অগ্নিনির্বাপণ দল। একই দিন লাখো মানুষের মোবাইল ফোনে জরুরি সতর্কবার্তাও পাঠানো হয়।
প্রয়োজন হলে দেশের অন্য এলাকাতেও আরও সামরিক সদস্য মোতায়েন করা হবে বলে জানিয়েছেন অ্যান্ডি বার্নহাম। দাবানল মোকাবিলায় জরুরি দলগুলোকে সহায়তা করতে এখন পর্যন্ত ২০০ জন সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে বলেও জানান তিনি।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম প্রতিষ্ঠান এক্সে (সাবেক টুইটার) দেওয়া এক ভিডিও বার্তায় প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘জলবায়ু পরিবর্তন বলতে এখন এখানে ঠিক এমনটাই বোঝায়।’ তিনি আরও বলেন, সাম্প্রতিক দিনগুলোতে যুক্তরাজ্যকে একাধিক দাবানলের সঙ্গে লড়াই করতে হয়েছে।
তিনি বলেন, ‘আমাদের এটিকে অনিবার্য বলে মেনে নেওয়া উচিত নয়, আর আমি তা মেনে নিচ্ছিও না।’এ ছাড়া বিবিসিকে দেওয়া আলাদা এক সাক্ষাৎকারে বার্নহাম বলেন, বর্তমানে ইংল্যান্ড ও ওয়েলসজুড়ে সক্রিয় দাবানলের সংখ্যা ৩৭টি, যার মধ্যে চারটিই বেশ বড়।
ন্যাশনাল ফায়ার চিফস কাউন্সিলের (এনএফসিসি) দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছর ইংল্যান্ড ও ওয়েলসে মোট ১ হাজার ১৭টি দাবানল নথিভুক্ত হয়েছে।
শুক্রবার সন্ধ্যায় ইংল্যান্ড ও ওয়েলসজুড়ে ‘দাবানলের ঝুঁকি খুব বেশি’—এমন সতর্কতা জানিয়ে মোবাইল ফোনে জরুরি বার্তা পাঠানো হয়। বার্তায় বাসিন্দা, জমির মালিক ও দর্শনার্থীদের এমন কোনো কর্মকাণ্ড না করার অনুরোধ জানানো হয়, যাতে আগুন লাগতে পারে। এর মধ্যে ডিসপোজেবল বারবিকিউ, ফায়ারপিট, বাগানের বর্জ্য পোড়ানোর চুল্লি ও আতশবাজিও রয়েছে।
ডিবিআইএসটি প্রকাশিত নির্দেশনায় বলা হয়েছে, বর্তমান পরিস্থিতিতে ডিসপোজেবল বারবিকিউকে ‘নিরাপদ পণ্য হিসেবে বিবেচনা করা যায় না’। তাই এ মুহূর্তে গ্রেট ব্রিটেনে দোকানে কিংবা অনলাইনে—কোথাও এসব পণ্য বিক্রির জন্য রাখা উচিত নয়।
নির্দেশনায় আরও বলা হয়, এই নিষেধাজ্ঞা ইংল্যান্ড, স্কটল্যান্ড ও ওয়েলসে কার্যকর হবে। তবে উত্তর আয়ারল্যান্ড এর আওতাভুক্ত নয়।
২০২৩ সালে অগ্নিনির্বাপণ বিভাগের প্রধানদের সঙ্গে ব্রিটিশ রিটেইল কনসোর্টিয়ামের সমঝোতার ভিত্তিতে এরই মধ্যে স্বেচ্ছায় এসব পণ্যের বিক্রি বন্ধ করে দিয়েছিল অনেক বড় খুচরা বিক্রেতা ও সুপারমার্কেট।
একবার ব্যবহারযোগ্য গ্রিল নিষিদ্ধ করার দাবিতে প্রচার চালানো ইয়র্ক ও নর্থ ইয়র্কশায়ারের নির্বাচিত লেবার মেয়র ডেভিড স্কেইথ প্রধানমন্ত্রীকে এই নিষেধাজ্ঞা স্থায়ী করার আহ্বান জানিয়েছেন।
তিনি বলেন, ‘আমরা জানি, ডিসপোজেবল বারবিকিউ কী ধরনের ঝুঁকি তৈরি করছে। এগুলো নিষিদ্ধ করা অত্যন্ত প্রয়োজনীয় এবং দীর্ঘদিনের দাবি। আমি আশা করি, এটি দীর্ঘমেয়াদি নিষেধাজ্ঞায় পরিণত হবে।’
দাবানল ছড়িয়ে পড়া মোকাবিলায় ইউরোপ ও যুক্তরাষ্ট্রে ব্যবহৃত অগ্নিনির্বাপণ বিমানের মতো বিমান ব্যবহারের পরিকল্পনা কমিশন করার কথাও জানিয়েছেন বার্নহাম। দাবানল ছড়িয়ে পড়ার বিরুদ্ধে লড়াই করা অগ্নিনির্বাপণ বাহিনীগুলোর জন্য জরুরি আর্থিক সহায়তার পরিকল্পনা করা হচ্ছে বলেও তিনি জানান।
বার্নহাম বলেন, ‘দেশজুড়ে আমাদের যে ফায়ার অ্যান্ড রেসকিউ সার্ভিস রয়েছে, এসব পরিস্থিতি মোকাবিলার জন্য সেটি যথাযথভাবে প্রস্তুত নয়। এসব আগুন নেভানোর জন্য আমাদের যে সক্ষমতা থাকা উচিত, তা নেই।’
২০২৫ সালে ইংল্যান্ড ও ওয়েলসে প্রায় ১ হাজার দাবানলের ঘটনা সামলাতে হয়েছে দমকলকর্মীদের। সে সময় সতর্কবার্তায় বলা হয়েছিল, জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে দাবানলের ঝুঁকি ও তীব্রতা বাড়ছে।