বৃহস্পতিবার, ২ জুলাই ২০২৬
১৮ আষাঢ় ১৪৩৩

কোনো প্রার্থীকে হারানো-জেতানো ইসির দায়িত্ব নয়: সিইসি

সিইসি কাজী হাবিবুল আউয়াল বুধবার খুলনা সিটি করপোরেশন নির্বাচনের ভোটগ্রহণকারী কর্মকর্তাদের সঙ্গে ব্রিফিংয়ে বক্তব্য রাখেন। ছবি: দৈনিক বাংলা
খুলনা ব্যুরো
প্রকাশিত
খুলনা ব্যুরো
প্রকাশিত : ৩১ মে, ২০২৩ ১৮:১২

কোনো প্রার্থীকে হারানো বা জেতানো নির্বাচন কমিশনের দায়িত্ব নয় বলে মন্তব্য করেছেন প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) কাজী হাবিবুল আউয়াল।

তিনি বলেছেন, ‘নির্বাচন কমিশনকে একটা দায়িত্ব দেয়া হয়েছে, সেটা হচ্ছে যারা ভোটার, তাদের ভোট প্রদানের অধিকার, সেই অধিকারকে কোনোভাবে বিঘ্নিত করা যাবে না। সেই অধিকারকে কোনোভাবে প্রতিহত করা যাবে না। কোনো বাধা-বিপত্তি যেন না হয়। নির্বাচন কমিশনের দায়িত্ব কোনো প্রার্থীকে জিতিয়ে দেয়া বা হারিয়ে দেয়া নয়।’

বুধবার দুপুরে খুলনা সরকারি মহিলা কলেজ অডিটোরিয়ামে সিটি করপোরেশন নির্বাচনের ভোটগ্রহণকারী কর্মকর্তাদের সঙ্গে ব্রিফিংয়ে সিইসি এসব কথা বলেন।

অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হাবিবুল আউয়াল বলেন, ‘কোনোরকম অনাস্থা যেন মানুষের মধ্যে না থাকে, মানুষের মধ্যে আস্থা থাকতে হবে। নির্বাচন অবাধ, নিরপেক্ষ ও সুষ্ঠু হবে। আমাদের মূল সাবজেক্ট হচ্ছে ভোটাররা, তারা যেন সুষ্ঠুভাবে ভোটপ্রয়োগ করতে পারেন।’

তিনি বলেন, ‘নির্বাচনের সবচেয়ে বড় দায়িত্ব প্রিজাইডিং অফিসারদের। কেন্দ্রের ভেতরে শৃঙ্খলা অতি প্রয়োজন। কেন্দ্রের ভেতরে শৃঙ্খলা রক্ষার দায়িত্ব আপনাদের। দায়িত্ব হালকাভাবে নেবেন না। দায়িত্বপালনকালে কর্তৃত্ব প্রয়োগ করতে হলে করুন। প্রিজাইডিং কর্মকর্তা চাইলে ভোটগ্রহণ বন্ধ করতে পারেন। ভোটকেন্দ্রের ভেতরে শৃঙ্খলা রক্ষার দায়িত্ব আপনাদের।’

ব্রিফিংয়ে বিশেষ অতিথি ছিলেন নির্বাচন কমিশনার ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) মো. আহসান হাবিব খান ও নির্বাচন কমিশন সচিব মো. জাহাংগীর আলম। সভায় সভাপতিত্ব করেন খুলনা বিভাগীয় কমিশনার মো. জিল্লুর রহমান চৌধুরী।

এসময় উপস্থিত ছিলেন জেলা প্রশাসক খন্দকার ইয়াসির আরেফীন, রিটার্নিং কর্মকর্তা মো. আলাউদ্দিন, খুলনা মেট্রোপলিটন পুলিশ কমিশনার মো. মাসুদুর রহমান ভূঁঞা, খুলনা রেঞ্জ পুলিশের ডিআইজি মো. মঈনুল হক ও খুলনার পুলিশ সুপার মো. মাহবুব হাসান প্রমুখ।


বাকৃবির উদ্ভাবিত মুরগির জাত বাণিজ্যিকভাবে উৎপাদনের পথে

ছবি: দৈনিক বাংলা
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
বাকৃবি প্রতিনিধি

বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের (বাকৃবি) পোলট্রি বিজ্ঞান বিভাগের গবেষকরা দীর্ঘ ১৫ বছরের নিরলস গবেষণায় সফলভাবে একটি নতুন রঙিন মাংস উৎপাদনকারী মুরগির জাত উদ্ভাবন করেছেন।

এই নতুন জাত উন্নয়নের মূল নেতৃত্ব দিয়েছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের পোলট্রি বিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক ড. মো. বজলুর রহমান মোল্যা। তিনি জানান, ভোক্তার চাহিদা ও খামারিদের অর্থনৈতিক লাভের কথা মাথায় রেখে দীর্ঘ প্রায় দেড় দশক ধরে বিভিন্ন প্যারেন্ট লাইন সংরক্ষণ, নির্বাচন ও সংকরায়ণের মাধ্যমে এই নতুন লাইন উন্নয়ন করা হয়েছে।

গবেষণা প্রকল্পটি প্রাণিসম্পদ ও ডেইরি উন্নয়ন প্রকল্প (এলডিডিপি)-এর অর্থায়নে পরিচালিত হয়েছে।

অধ্যাপক মোল্যা বলেন, ‘গবেষণায় সেক্স-লিংক হোয়াইট লাইনকে সর্বাধিক গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। বর্তমানে এর সমজাতীয়তা বা হোমোজাইগোসিটি ৮৯ থেকে ৯৩.১১ শতাংশে উন্নীত হয়েছে, যা একটি স্থায়ী জাত হিসেবে বাণিজ্যিক উৎপাদনের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এ ছাড়া মুরগির পালকের রঙ নির্ধারণকারী এসওএক্স-১০ জিনের ডিলিশন শনাক্তে একটি সহজ পিসিআর পদ্ধতি উদ্ভাবন করা হয়েছে, যা ভবিষ্যৎ প্রজনন কর্মসূচিতে বড় ভূমিকা রাখবে।’

তিনি বলেন, ‘জাতটির কিছু প্যারেন্ট লাইন ৬২ সপ্তাহে প্রায় ২০৫টি পর্যন্ত ডিম উৎপাদনে সক্ষম হয়েছে। এ ছাড়া প্রচলিত সোনালি মুরগির একদিন বয়সি বাচ্চার ওজন যেখানে সাধারণত ২৬-২৮ গ্রাম হয়, সেখানে নতুন উদ্ভাবিত সংকর লাইনে বাচ্চার ওজন পাওয়া গেছে প্রায় ৩৮ গ্রাম। একদিন বয়সি বাচ্চার ওজনে প্রতি এক গ্রাম বৃদ্ধির ইতিবাচক প্রভাব বাজারজাতকরণের সময় প্রায় ৫০ গ্রাম অতিরিক্ত চূড়ান্ত ওজনে প্রতিফলিত হয়, যা খামারিদের বাড়তি মুনাফা নিশ্চিত করবে।’

এই গবেষণা প্রকল্পের অন্যতম অনন্য বৈশিষ্ট্য ছিল সরাসরি মাঠপর্যায়ে প্রযুক্তি হস্তান্তর। প্রথাগত প্রশিক্ষণ কেন্দ্রের সীমাবদ্ধতা দূর করতে গবেষণা দল সরাসরি গ্রামে গিয়ে ১৫-২৫ জনের ক্লাস্টারভিত্তিক নারী খামারিদের হাতে-কলমে প্রশিক্ষণ দিয়েছেন। মাঠপর্যায়ের ফলাফলে দেখা গেছে, যেসব খামারিকে বাচ্চার পাশাপাশি নিয়মিত কারিগরি সহায়তা, সঠিক সময়ে টিকা প্রদান এবং স্বাস্থ্য পর্যবেক্ষণ নিশ্চিত করা হয়েছে, তাদের খামারে মুরগির বৃদ্ধি উল্লেখযোগ্য হারে বেড়েছে, খাদ্য রূপান্তর দক্ষতা উন্নত হয়েছে এবং মৃত্যুহার হ্রাস পেয়েছে। বাজার চাহিদার কারণে অনেক খামারি নির্ধারিত ৫০ দিনের পরিবর্তে ১০-১২ সপ্তাহ পর্যন্ত এই মুরগি পালন করছেন এবং প্রতি কেজি ৭০০ টাকা পর্যন্ত উচ্চ মূল্যে বিক্রি করে লাভবান হচ্ছেন।

ভোক্তা অধিকার ও স্বাস্থ্য সুরক্ষার বিষয়ে ড. মোল্যা জানান, ঢাকার একটি উন্নত গবেষণাগারে এই মুরগির মাংস পরীক্ষা করে কোনো অ্যান্টিবায়োটিকের অবশিষ্টাংশ পাওয়া যায়নি। বাজারে দেশি মুরগির নামে চালিয়ে ক্রেতা প্রতারণার কোনো সুযোগ থাকবে কি না এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি স্পষ্ট করেন, দেশি মুরগির নাম ভাঙানো নয়, বরং উন্নত স্বাদ, পুষ্টিগুণ ও শতভাগ নিরাপদ মাংসের নিশ্চয়তা দিয়ে এটিকে বাজারে একটি স্বতন্ত্র রঙিন মাংসের ব্র্যান্ড হিসেবে প্রতিষ্ঠা করাই তাদের মূল লক্ষ্য।

উদ্ভাবনটির মাঠপর্যায়ে প্রসারের ওপর জোর দিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. এ. কে. ফজলুল হক ভূঁইয়া বলেন, ‘শুধু ল্যাবরেটরিতে জাত উদ্ভাবন করলেই হবে না, সেই প্রযুক্তি ও সুফল খামারিদের দোরগোড়ায় পৌঁছে দেওয়াই এই প্রকল্পের মূল দর্শন। এর মাধ্যমে খামারিরা লাভবান হবেন এবং দেশের নিরাপদ প্রাণিজ প্রোটিন উৎপাদন বৃদ্ধি পাবে।’ বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাণিসম্পদ অনুষদের বন্ধ থাকা বিক্রয় কেন্দ্রটি দ্রুত চালুর নির্দেশ দিয়ে তিনি বলেন, ‘ভবিষ্যতে বিশ্ববিদ্যালয়ের নিজস্ব গবেষণায় উৎপাদিত দুগ্ধ, মাংস ও পোলট্রিজাত সব পণ্য সরাসরি এই বিক্রয় কেন্দ্রের মাধ্যমে সাধারণ মানুষের কাছে সুলভ মূল্যে পৌঁছে দিতে হবে।’

মঙ্গলবার (৩০ জুন) বিশ্ববিদ্যালয়ের পোলট্রি বিজ্ঞান বিভাগের প্রধান অধ্যাপক ড. মো. শওকত আলীর সভাপতিত্বে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে গবেষণাটির চূড়ান্ত ফলাফল তুলে ধরা হয়। অনুষ্ঠানে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক, গবেষক ও পোলট্রি খাতের উদ্যোক্তারা উপস্থিত ছিলেন। শেষে নতুন উদ্ভাবিত এই মুরগির মাংস দিয়ে প্রস্তুত খাবার পরিবেশন করা হয়।


অবৈধ দখলে নীলফামারীর বড় মাঠ, সংকুচিত হচ্ছে ক্রীড়াঙ্গন

ছবি: দৈনিক বাংলা
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নাসির উদ্দিন শাহ মিলন, নীলফামারী

এক সময় জেলার ক্রীড়াচর্চার প্রাণকেন্দ্র ছিল নীলফামারী শহরের ঐতিহ্যবাহী বড় মাঠ। ভোর থেকে রাত পর্যন্ত এখানে হাঁটাহাঁটি, ক্রিকেট, ফুটবল, ভলিবল, কাবাডি ও বিভিন্ন ক্রীড়া আয়োজনের মধ্য দিয়ে মুখর থাকত পুরো এলাকা। কিন্তু এখন সেই মাঠের একাংশজুড়ে গড়ে উঠেছে শতাধিক অবৈধ দোকান। ফলে দিন দিন হারিয়ে যাচ্ছে মাঠের উন্মুক্ত পরিবেশ, সংকুচিত হচ্ছে খেলাধুলার পরিসর।

সরেজমিনে দেখা যায়, মাঠের একপাশজুড়ে সারিবদ্ধভাবে বসানো হয়েছে বিভিন্ন অস্থায়ী দোকান। চা, ফাস্টফুড, পান-সিগারেটসহ নানা ধরনের ব্যবসা চলছে সেখানে। দোকানগুলোর কারণে মাঠের উল্লেখযোগ্য অংশ দখল হয়ে গেছে। যেখানে একসময় ভলিবল ও কাবাডি খেলা হতো, সেখানে এখন আর খেলাধুলার সুযোগ নেই। দুটি ক্রিকেট মাঠের মধ্যে একটি কার্যত ব্যবহারের অযোগ্য হয়ে পড়েছে।

বিকেলে মাঠে অনুশীলনে আসা খেলোয়াড়দের মধ্যে দেখা যায় হতাশা। একটি মাত্র ক্রিকেট পিচে একাধিক দলকে অনুশীলন করতে হওয়ায় সৃষ্টি হচ্ছে ভিড় ও সময় সংকট। অনেকেই বাধ্য হয়ে অনুশীলন না করেই ফিরে যাচ্ছেন।

সাবেক ক্রিকেট খেলোয়াড় আব্দুস সালাম বাবলা বলেন, “এই মাঠ থেকেই জেলার অনেক খেলোয়াড় উঠে এসেছে। এখন মাঠের বড় একটি অংশ অবৈধ দোকানের দখলে। এতে খেলাধুলার পরিবেশ নষ্ট হয়েছে। ক্রীড়াঙ্গনের স্বার্থে দ্রুত এসব দোকান উচ্ছেদ করা দরকার।”

ক্রিকেট খেলোয়াড় সোহাগ আলী বলেন, “আগে দুটি ক্রিকেট পিচ ব্যবহার করা যেত। এখন একটি কার্যত দখলে চলে গেছে। কোনো টুর্নামেন্ট চললে অনুশীলনের জন্য আর জায়গা থাকে না। মাঠ দখলমুক্ত হলে খেলোয়াড়রা স্বাভাবিকভাবে অনুশীলন করতে পারবে।”

আরেক খেলোয়াড় বলেন, বড় মাঠ শুধু খেলোয়াড়দের নয়, পুরো জেলার মানুষের সম্পদ। অবৈধ দোকান উচ্ছেদ করা হলে মাঠের পরিবেশ ফিরে আসবে এবং নতুন প্রজন্ম খেলাধুলার সুযোগ পাবে।

এ নিয়ে জেলা ক্রীড়া সংস্থার সদস্য আবু মোহাম্মদ সোয়েম বলেন, “অবৈধ দোকান উচ্ছেদের বিষয়টি নিয়ে জেলা প্রশাসনের সঙ্গে আলোচনা হয়েছে। প্রথমে দোকানিদের নোটিশ দিয়ে স্বেচ্ছায় সরে যাওয়ার জন্য সময় দেওয়া হবে। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে তারা স্থান ত্যাগ না করলে আইনানুগ ব্যবস্থা নিয়ে উচ্ছেদ অভিযান পরিচালনা করা হবে।”


তিন শত বছরের কালের স্বাক্ষী নরসিংদীর বেলাবো মসজিদ

ছবি: দৈনিক বাংলা
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নরসিংদী প্রতিনিধি

ইসলামি সভ্যতা বিকাশে মধ্য এশিয়া থেকে দক্ষিণ ও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার অনেক অঞ্চলেই বিভিন্ন সময়ে শাসকদের হাত ধরে প্রচারিত হয়েছে ইসলাম ধর্ম। দেশের বিভিন্ন এলাকায় গড়ে উঠেছে নান্দনিক মসজিদ। ইসলামি স্থাপত্যকলা ও সৌন্দর্যময় মসজিদগুলোর মধ্যে বেলাবো বাজার কেন্দ্রীয় জামে মসজিদ অন্যতম।

ইতিহাসবিদদের মতে, তিনশ’ বছরের ঐতিহ্য বহন করছে মসজিদটি। বাংলার শাসক ঈশা খাঁর জমিদারী আমলে তার পরবর্তী অধস্তন পুরুষ যারা জমিদারি করেছেন, তাদের মধ্যে দেওয়ান আয়েশা খানম তিনি বেলাবতে খাজনা আদায় করতে আসতেন। তিনি এখানে জনসাধারণের পানি পান করার জন্য কুয়া নির্মাণ করেছিলেন। তিনিই এই মসজিদ নির্মাণ করেছিলেন। ৩ শত বছর আগে ৭টি গম্বুজের সমন্বয়ে মসজিদটি প্রতিষ্ঠা করা হয়েছিল। তবে কালের বিবর্তনে ফিকে হয়ে যায় সেই সৌন্দর্য। এরপর পুননির্মাণের উদ্যোগ নেয়া হয়। স্মৃতি ও শ্রুতির মিশেলে কালের স্বাক্ষী হয়ে আজো ইসলাম ধর্মের জ্যোতি ছড়াচ্ছে এই মসজিদটি।

লোকমুখে শোনা যায় এ মসজিদের ভেতর থেকে অলৌকিকভাবে পবিত্র কোরআন তেলাওয়াতের আওয়াজ শোনা যেত। এরপর থেকে এ মসজিদটি ফজিলতের মসজিদ হিসেবে এলাকায় পরিচিতি লাভ করে। উক্ত মসজিদে বেলাবো উপজেলা ছাড়াও পার্শ্ববর্তী উপজেলা কুলিয়াচর ও মনোহরদী হতে শত শত ধর্মপ্রাণ মুসল্লি নামাজ পড়তে আসে।

প্রতিষ্ঠালগ্ন থেকেই জুমার নামাজে মুসল্লির সংখ্যা ধারণ ক্ষমতার বাইরে চলে যেত। মসজিদটিকে নান্দনিক নতুনরূপে সাজানোর পরিকল্পনা করেন নরসিংদীর মনোহরদী উপজেলার কৃতী সন্তান আবদুল কাদির মোল্লা। দেশের দ্বিতীয় বৃহত্তর মসজিদটি ২০০৬ সালে প্রায় ৪০০ কোটি টাকা ব্যয়ে থার্মেক্স গ্রæপের প্রতিষ্ঠাতা চেয়ারম্যান আবদুল কাদির মোল্লার অর্থায়নে পুননির্মাণের কাজ শুরু হয় এবং ২০০৮ সালে মসজিদের পুননির্মাণ কাজটি শেষ হয়।

বর্তমানে মসজিদটিতে মুসল্লিদের ধারণ ক্ষমতা ১ হাজার ২শত জন হলেও জুমার দিন কিংবা রমজান মাসে তারাবি নামাজের সময় ধারণ ক্ষমতার চেয়ে তিনগুণ অর্থাৎ ২০ থেকে ২২ হাজার মুসল্লির সমাগম ঘটে। আধুনিক স্থাপত্যশৈলীতে নির্মিত এ মসজিদটিতে ইসলামিক স্থাপত্যের বিভিন্ন উপাদান ব্যবহার করা হয়েছে। বিশাল গম্বুজ, উঁচু মিনার, সুন্দর কারুকার্য এবং প্রশস্ত প্রাঙ্গণ মসজিদটিকে একটি অনন্য রূপ দান করেছে। সামনের অংশে পুকুর এবং দক্ষিণ পাশে এতিমখানা ও মাদরাসা মসজিদকে দিয়েছে পরিপূর্ণ।

সৌন্দর্য বেলাবো বাজার কেন্দ্রীয় জামে মসজিদটি শুধুমাত্র ধর্মীয় স্থাপনাই নয়, বরং এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ সামাজিক ও সাংস্কৃতিক কেন্দ্র হিসেবেও কাজ করে। এখানে নিয়মিত ধর্মীয় শিক্ষা ও ধর্ম প্রচার করা হয়। এ ছাড়াও, বিভিন্ন সামাজিক কর্মকান্ড, যেমন- দরিদ্রদের সাহায্য, অসহায়দের পুনর্বাসন ইত্যাদি কার্যক্রম এই মসজিদ থেকে পরিচালিত হয়ে থাকে।

মসজিদটির সৌন্দর্য এবং ঐতিহাসিক গুরুত্বের কারণে এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ পর্যটন আকর্ষণে পরিণত হয়েছে। দেশ-বিদেশ থেকে অসংখ্য পর্যটক এই মসজিদ দেখতে আসেন। এ ছাড়াও, মসজিদটি উয়ারী বটেশ্বরের মতো ঐতিহাসিক স্থানের নিকটবর্তী হওয়ায় পর্যটকদের জন্য এটি আরো আকর্ষণীয় হয়ে উঠেছে। এর নির্মাণশৈলী প্রাচীন ইসলামিক স্থাপত্যের চার খিলান কাঠামো মেনে তৈরি, যা এই মসজিদের বিশাল গম্বুজকে টিকে থাকার ব্যাপারে সুরক্ষা দিয়েছে।

মসজিদ পরিচালনা কমিটির সদস্যরা বলেন, ইসলামিক স্থাপত্যকলা ও সৌন্দর্যময় মসজিদগুলোর মধ্যে বেলাবো বাজার কেন্দ্রীয় জামে মসজিদটি দেশের দ্বিতীয় বৃহত্তম। এই মসজিদটি ফজিলতের মসজিদ হিসেবেও এলাকায় পরিচিতি লাভ করেছে। মসজিদের উন্নয়নে উপজেলা প্রশাসন এবং আমরা ব্যক্তিগতভাবে সর্বাত্মক সহযোগিতা করব।


হরিণাকুন্ডুতে ছাঁদ বাগানে আনারে বাজিমাত প্রবাস ফেরত যুবকের

ছবি: দৈনিক বাংলা
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
ঝিনাইদহ প্রতিনিধি

ঝিনাইদহের হরিণাকুন্ডু উপজেলার হিজলি গ্রামে ছাঁদ বাগানে আনার ফলের আবাদ করে বাজিমাত করেছে প্রবাস ফেরত যুবক মনোজিৎ বিশ্বাস। ফলন ভালো পাওয়ায় বাণিজ্যিক ভাবে আনার বাগান শুরু করেছেন তিনি।

জানা যায়, বিদেশে দীর্ঘদিন কর্মজীবন শেষে দেশে ফিরে শখের বশে বাড়ির ছাদে আনার চাষ শুরু করেন মনোজিত বিশ্বাস। ধীরে ধীরে সেই শখই পরিণত হয়েছে সফল একটি ছাদ বাগানে। বর্তমানে তার বাগানে অস্ট্রেলিয়ান বিগ, থাই, রিমন, মেক্সিকান, মৃদুলাসহ ১১টি জাতের মোট ৩৩টি আনার গাছ রয়েছে।

ঘুরে দেখা যায়, লালচে-গোলাপি আনারে নুয়ে পড়েছে গাছের ডাল। কোথাও পাকা ফলের ভার। কোথাও আবার ফুটে আছে টকটকে লাল ফুল। সবুজ পাতার ফাঁকে ঝুলে থাকা আনার আর লাল ফুলের মেলবন্ধনে পুরো ছাদজুড়ে সৃষ্টি হয়েছে এক মনোমুগ্ধকর পরিবেশ। যেন প্রকৃতি নিজেই এঁকেছে রঙিন এক ক্যানভাস। এবার গাছগুলোতে দ্বিতীয়বারের মতো ফল ধরেছে। প্রতিটি গাছে গড়ে ২০ থেকে ২৫টি করে আনার শোভা পাচ্ছে। ফলে ছাদ বাগানটি এখন লাল-সবুজের অপরূপ সৌন্দর্যে ভরে উঠেছে। প্রতিদিনই বিভিন্ন এলাকা থেকে মানুষ এই বাগান দেখতে আসছেন।

মনোজিত বিশ্বাস জানান, বিদেশে থাকাকালীন আধুনিক ফল চাষের বিভিন্ন পদ্ধতি দেখে দেশে ফিরে সেই অভিজ্ঞতা কাজে লাগানোর চেষ্টা করেন। শুরুতে অল্প কয়েকটি গাছ দিয়ে বাগান শুরু করলেও ভালো ফলন পাওয়ায় ধীরে ধীরে বিভিন্ন জাতের আনার সংগ্রহ করেন। নিয়মিত পরিচর্যা, সঠিক সার প্রয়োগ ও সময়মতো সেচ দেওয়ার ফলে এবারও ভালো ফলন পেয়েছেন। ভবিষ্যতে আরও বড় পরিসরে আনার চাষের পরিকল্পনা করছেন তিনি।

হরিণাকুন্ডু উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা শরীফ মোহাম্মদ তিতুমীর বলেন, কৃষি বিভাগের পক্ষ থেকে মনোজিত বিশ্বাসকে নিয়মিত কারিগরি পরামর্শ ও প্রয়োজনীয় সহযোগিতা দেওয়া হচ্ছে। কৃষি বিভাগ এ ধরনের উদ্যোগকে আরও ছড়িয়ে দিতে কাজ করছে।


ময়লার ভাগাড় থেকে কাপড়ে মোড়ানো নবজাতকের মরদেহ উদ্ধার

ছবি: দৈনিক বাংলা
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
মইনুল হক মৃধা, রাজবাড়ী প্রতিনিধি 

রাজবাড়ী সদর খাদ্য গুদামের সামনে একটি ময়লার ভাগাড় থেকে কাপড়ে মোড়ানো অবস্থায় এক নবজাতকের মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ।

বৃহস্পতিবার (২ জুলাই) সকাল সাড়ে ৯ টার দিকে পৌরসভার বিনোদপুর ৩ নম্বর ওয়ার্ডের সদর খাদ্য গুদামের সামনের ময়লার ভাগাড় থেকে প্লাস্টিকের ব্যাগের ভেতরে থাকা নবজাতকের মরদেহটি উদ্ধার করা হয়।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, সকালে এক টোকাই ময়লার ভাগাড়ে বিভিন্ন জিনিস সংগ্রহ করতে গিয়ে একটি প্লাস্টিকের ব্যাগ দেখতে পান। ব্যাগটি খুলে ভেতরে কাপড়ে মোড়ানো একটি নবজাতকের মরদেহ দেখতে পেয়ে তিনি স্থানীয়দের বিষয়টি জানান। পরে স্থানীয়রা পুলিশকে খবর দেন।

টোকাই হাবিবুর রহমান বলেন, “আমি প্রতিদিনের মতো সকালে এখানে বিভিন্ন জিনিস কুড়াতে আসি। একটি প্লাস্টিকের ব্যাগ দেখে সেটি খুলতেই কাপড়ে মোড়ানো একটি বাচ্চার মরদেহ দেখতে পাই। প্রথমে ভয় পেয়ে যাই। পরে স্থানীয়দের জানাই। তারা এসে দেখে পুলিশকে খবর দেয়।”

স্থানীয় বাসিন্দা মোবারক শেখ বলেন, ঘটনাটি যে ঘটিয়েছে সে একজন নরপশু। এমন একটি হৃদয়বিদারক ঘটনা রাজবাড়ী ঘটলো, মানুষ এতো নিচে নামতে পারে !

রাজবাড়ী সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) উত্তম কুমার ঘোষ বলেন, “সকালে খবর পাওয়ার পর ঘটনাস্থলে পুলিশ গিয়ে মরদেহ উদ্ধার করেছে। বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের জানানো হয়েছে। ঘটনার রহস্য উদ্ঘাটনে আশপাশের সিসিটিভি ফুটেজ সংগ্রহ ও পর্যালোচনার কাজ চলছে।” তিনি আরও বলেন, এ ঘটনা যেন ঘটিয়েছে তদন্ত সাপেক্ষে তার বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেয়া হবে।


নারায়ণগঞ্জে তোষকে মোড়ানো ব্যবসায়ীর মরদেহ উদ্ধার

ছবি: দৈনিক বাংলা
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নারায়ণগঞ্জ প্রতিনিধি

নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লায় তোষক ও কসটেপে মোড়ানো অবস্থায় এক বৃদ্ধের মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, দুর্বৃত্তরা তাকে হত্যা করে মরদেহটি রাস্তার পাশে ফেলে রেখে যায়।

বৃহস্পতিবার সকালে ফতুল্লা মডেল থানাধীন জামতলা এলাকার প্যারিসবাগের সামনে প্রধান সড়কের পাশ থেকে মরদেহটি উদ্ধার করা হয়। নিহত ব্যক্তি মো. মোতালেব হোসেন (৬১)। তিনি লক্ষ্মীপুর জেলার রামগঞ্জ উপজেলার শিবপুর গ্রামের মৃত ছলেমান মিয়ার ছেলে। বর্তমানে তিনি ফতুল্লার পশ্চিম মাসদাইর এলাকায় সুমন গার্মেন্টসের পূর্ব পাশে অবস্থিত সাজেদা মঞ্জিলে বসবাস করতেন।

পুলিশ জানায়, বুধবার (১ জুলাই) সকাল আনুমানিক ৮টা ২০ মিনিট থেকে বৃহস্পতিবার (২ জুলাই) সকাল ৬টা ১৫ মিনিটের মধ্যে যেকোনো সময় এ হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়ে থাকতে পারে। অজ্ঞাতনামা দুর্বৃত্তরা মোতালেব হোসেনকে হত্যা করে তার মরদেহ তোষক ও কসটেপ দিয়ে মুড়িয়ে জামতলা প্যারিসবাগের সামনে প্রধান সড়কের পাশে ফেলে রেখে যায় বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে।

খবর পেয়ে ফতুল্লা মডেল থানার এসআই মো. ওয়াসিম খাঁন সঙ্গীয় ফোর্স নিয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছে মরদেহে উদ্ধার করেন। পরে ময়নাতদন্তের জন্য মরদেহটি নারায়ণগঞ্জ ভিক্টোরিয়া জেনারেল হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়।

ফতুল্লা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ( ওসি ) মাহাবুব আলম জানান, হত্যাকাণ্ডের রহস্য উদ্ঘাটন এবং জড়িতদের শনাক্তে প্রক্রিয়া চলছে। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন ও তদন্তের অগ্রগতির ভিত্তিতে হত্যার প্রকৃত কারণ জানা যাবে।


পাটক্ষেতের আড়ালে গাঁজা চাষ, অভিযানে গ্রেফতার ১

ছবি: দৈনিক বাংলা
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
টাঙ্গাইল প্রতিনিধি

টাঙ্গাইলের ভূঞাপুরে পাট ক্ষেতের আড়ালে গাঁজা চাষের অভিযোগে আল আমিন (৩৮) নামে এক ব্যক্তিকে ১১টি বড় গাঁজার গাছসহ গ্রেফতার করেছে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর।

​আজ বৃহস্পতিবার সকালে ভূঞাপুর উপজেলার অর্জুনা ইউনিয়নের বলরামপুর পশ্চিম পাড়া গ্রামে এ অভিযান চালানো হয়। গ্রেফতারকৃত আল আমিন ওই গ্রামের মৃত বাদশাহ মিয়ার ছেলে।

এ বিষয়ে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের উপ-পরিদর্শক (এসআই) মোহাম্মদ রাশিদুল ইসলাম জানান, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে আল আমিনের পাট ক্ষেতে অভিযান চালিয়ে গাঁজার গাছগুলো উদ্ধার এবং তাকে হাতেনাতে গ্রেফতার করা হয়।

এসময় তিনি আরও জানান, আমি বাদী হয়ে গ্রেফতারকৃত আসামির বিরুদ্ধে ভূঞাপুর থানায় একটি নিয়মিত মাদক মামলা দায়ের করেছি।


ফেনীকে বন্যামুক্ত করতে ১,৫৪২ কোটি টাকার প্রকল্প অনুমোদন, টেকসই বাঁধের প্রত্যাশা

ফেনীর ফুলগাজী ও পরশুরাম উপজেলায় বন্যা কবলিত মানুষ। ফাইল ছবি।
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
মুহাম্মদ আবু তাহের ভূঁইয়া, ফেনী জেলা প্রতিনিধি 

ফেনীর মুহুরী -কহুয়া বন্যা নিয়ন্ত্রণ নিষ্কাশন ও সেচ প্রকল্পের পুনর্বাসন (প্রথম পর্যায়) প্রকল্প অনুমোদন দিয়েছে সরকার। সম্প্রতি বাংলাদেশ সচিবালয়ের সভাকক্ষে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সভাপতিত্বে আয়োজিত একনেক সভায় এক হাজার ৫৪২ কোটি ১৬ লাখ টাকা ব্যয়ে প্রকল্পটি অনুমোদন দেয়া হয়। প্রকল্প সঠিকভাবে বাস্তবায়িত হলে ভারতের উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলের পানিতে সৃষ্ট বন্যা থেকে মুক্তি পাবেন ফেনীর মানুষ ।

প্রকল্পটি পাস হওয়ায় ফেনীর জনগণের মাঝে উচ্ছ্বাস বিরাজ করছে। জনগণের দাবি আর দুর্নীতি নয়, আর ত্রাণ নয় যে, আমরা চাই টেকসই বাঁধ।

স্থানীয় জনগণ জানান, প্রতিবছর অতি ভারী বর্ষণ ও উজানে ভারতের ত্রিপুরা রাজ্য থেকে নেমে আসা পানিতে এ বন্যার সৃষ্টি হয়। বিশেষ করে ২০২৪ সালের আগস্ট মাসের ভয়াবহ বন্যায় ফেনীতে অন্তত ২৯ জনের প্রাণহানি, হাজার হাজার কোটির টাকার ক্ষয়ক্ষতিতে পড়েন ফেনীবাসী। এতে জেলার পরশুরাম, ফুলগাজী, ছাগলনাইয়া, সোনাগাজী ও ফেনী সদর উপজেলার লক্ষ লক্ষ মানুষ প্রাণীবন্দি হয়ে পড়েন। জেলা সদরের সাথে উপজেলা সদরের যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে। তলিয়ে যায় হাজার হাজার একর ফসলের জমি, ভেসে যায় পুকুরের মাছ ও মাছ চাষ প্রকল্প। ক্ষতিগ্রস্ত হয় গ্রামীণ সড়ক অবকাঠামো, রাস্তাঘাট । প্রতিবছরের বন্যায় নদীতে অতিরিক্ত পলি জমে স্বাভাবিক পানি প্রবাহ কমিয়ে দেয়, নদীর বাঁধ ও তীর ক্ষতিগ্রস্ত হয়।

জানা যায়, ফেনীর মুহুরী কুহুয়া ও সিলোনিয়া নদীর নাভ্যতা ফিরিয়ে আনা এবং পুনরুজ্জীবিত করতে এক হাজার ৫৪২ কোটি ১৬ পক্ষ টাকার প্রকল্প গ্রহণ করেছে সরকার । প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে সংশ্লিষ্ট এলাকায় সেচ সুবিধা, কৃষি ও মৎস্য উৎপাদন বাড়ার পাশাপাশি বন্যা নিয়ন্ত্রণ, নদীর তীর ভাঙ্গন, দখল ও দূষণ প্রতিরোধ সম্ভব হবে।

এলাকাবাসী জানান, মুহুরী -কহুয়া- সিলোনিয়া নদীর বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধ স্থায়ীভাবে মেরামত না করায় যুগ যুগ ধরে তারা বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে আসছেন, তারা আর ত্রান চান না। তাদের দাবি টেকসই ও মজবুত বাঁধ। বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত জনগণ মুহুরী -কহুয়া- সিলোনিয়া নদীর বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধের স্থায়ী মেরামত চান।

স্থানীয় জনগণ বলেন, দীর্ঘ এই বাঁধ সকলের সমন্বয়ে, সংশ্লিষ্ট বিভাগকে জড়িত করে মজবুত করে নির্মাণ করা হোক। যাতে কোন প্রকার দুর্নীতি হতে না পারে। অনেকে দাবি করেছেন, প্রয়োজনে সেনাবাহিনীর মাধ্যমে এ বাঁধ নির্মাণ করা হোক।

অভিজ্ঞ মহলের মতে, নদী পুনর্জীবিত হলে কৃষি উৎপাদন বৃদ্ধি, সেচ সুবিধার সম্প্রসারণ, ভূগর্ভস্থ পানির উপর নির্ভরতা কমানো এবং স্থানীয় অর্থনীতিতে নতুন গতি সৃষ্টি হবে। পাশাপাশি আকস্মিক বন্যার ঝুঁকি হ্রাস এবং জলবায়ু পরিবর্তনের বিরূপ প্রভাব মোকাবিলায় এ প্রকল্প গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।

একনেকে পাস হওয়া এক হাজার ৫৪২ কোটি ১৬ পক্ষ টাকার প্রকল্পটিতে ১১.৭৩ কিলোমিটার নদী তীর প্রতিরক্ষা (বাঁধের টো প্রোটেকশনসহ), ৬৭. ৯২ কিলোমিটার বাঁধ পুনর্বাসন, ৮৩.৫০ কিলোমিটার নদী ও জলাধার পুনঃখনন (ফেনী নদীর জলাধার এলাকায় বিদ্যমান পুকুরের পাড় অপসারণসহ), ২৭টি বিদ্যমান সেচ অবকাঠামো পুনর্বাসন, ৭৭টি ইনলেট, একটি হাইড্রোলিক এলিভেটেড ড্যাম নির্মাণসহ অন্যান্য নির্মাণ কাজ করা হবে।

প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে ফেনীর ফুলগাজী, পরশুরাম, ছাগলনাইয়া, সোনাগাজী ও সদর উপজেলার বেসরকারি অবকাঠামো কৃষি জমিসহ ১৪ হাজার ২০৯ কোটি টাকা মূল্যের সম্পদ সুরক্ষিত হবে, ৩ লাখ ৭১ হাজার ৭৩৫ টন কৃষি, ১৫ টন মৎস্য ও ২৫ টন পোল্ট্রিসহ বন্যার কবল থেকে লক্ষ লক্ষ মানুষ রক্ষা পাবেন।

প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করবে পানি উন্নয়ন বোর্ড। চলতি বছরের জুলাই থেকে শুরু হয় ২০৩১ সালের জুনে কাজ শেষ হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে ।

উল্লেখ্য, বর্তমান প্রধানমন্ত্রীর নিজেই একাধিক অঞ্চলে খাল খননের উদ্বোধন করেছেন। সেজন্য পানি উন্নয়ন বোর্ড প্রকল্পটি দিয়েছে । প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করা গেলে ভবিষ্যতে পানি সংরক্ষণ, বন্যা থেকে রক্ষা সেচ ও কৃষিতে বিশেষ অবদান রাখবে।

ফেনী পানি উন্নয়ন বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী মোহাম্মদ মনিরুল ইসলাম বলেন, ফেনীর মুহুরী-কহুয়া বন্যা নিয়ন্ত্রণ নিষ্কাশন ও সেচ প্রকল্পের পুনর্বাসন (প্রথম পর্যায়) প্রকল্প অনুমোদন দিয়েছে সরকার। গত মঙ্গলবার মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর সভাপতিত্বে আয়োজিত একনেক সভায় এক হাজার ৫৪২ কোটি ১৬ লাখ টাকা ব্যয়ে প্রকল্প অনুমোদন দেয়া হয়। প্রকল্পটি সুষ্ঠুভাবে বাস্তবায়িত হলে ফেনীর মানুষ হঠাৎ বন্যার কবল থেকে রক্ষা পাবেন। এতে ফেনীর অবকাঠামো কৃষি জমিসহ ১৪ হাজার ২০৯ কোটি টাকা মূল্যের সম্পদ সুরক্ষিত হবে। আমরা ফেনীবাসীকে স্থায়ীভাবে বন্যার কবল থেকে রক্ষা করতে যেন সততার সাথে কাজ করতে পারি।

ফেনী-১ আসনের সংসদ সদস্য মুন্সি রফিকুল আলম মজনু বলেন, ফেনী অঞ্চলের জনগণদের বন্যার কবল থেকে রক্ষার জন্য বর্তমান সরকারের ব্যাপক উদ্যোগ রয়েছে। উপরোক্ত বরাদ্দ পাওয়ায় আশা করা যায় একটি টেকসই বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধ নির্মিত হবে। এ অঞ্চলের মানুষ উপকৃত হবেন।


সপ্তাহে দুই দিনের সেবায় স্থবির কিশোরগঞ্জ সাব-রেজিস্ট্রি অফিস

* অতিরিক্ত দায়িত্ব পালন করছেন সাব-রেজিষ্টার মোর্শেদ মিলন * দুর্ভোগে জমির ক্রেতা-বিক্রেতা ও দলিল লেখকরা
ছবি: দৈনিক বাংলা
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
কিশোরগঞ্জ (নীলফামারী) প্রতিনিধি

নীলফামারীর কিশোরগঞ্জ উপজেলা সাব রেজিষ্ট্রি অফিসে নিয়মিত সাব রেজিষ্টার কর্মরত না থাকায় চরম ভোগান্তির পড়ছেন সেবাগ্রহীতারা। জমির দলিল করতে এসে দিনের পর দিন ঘুরেও কাঙিক্ষত সেবা মিলছে না বলে অভিযোগ ভুক্তভোগীদের। ফলে বড় অংকের রাজস্বও হারাচ্ছে সরকার।

জানা গেছে, সাব-রেজিষ্ট্রি মোর্শেদ মিলন গত ২০২৫ সালের ৩০ এপ্রিল সুনামগঞ্জ জেলায় বদলি হয়ে যাওয়ার পর অতিরিক্ত দায়িত্ব পালন করছেন ডিমলা উপজেলার সাবরেজিষ্টার কে এম সুজাউদ্দিন। তিনি ৫০ থেকে ৫৫ কিলোমিটার দুর থেকে এ উপজেলায় এসে সপ্তাহে দুই দিন দায়িত্ব পালন করেন। এর পর তিনি দুই মাসের প্রশিক্ষণে গেলে আবারো অতিরিক্ত দায়িত্ব পালন করেন জেলা সদরের সাব রেজিষ্টার মো. আবদুল্লাহ আল মাসুম। সর্বশেষ এ বছরের ১৬ জুন থেকে আবারো কেএম সুজাউদ্দিন অতিরিক্ত দায়িত্ব পালন করে যাচ্ছেন।

দলিল লেখকরা জানান, নিয়মিত অফিসার না থাকার কারণে সপ্তাহে দুইদিন জমি রেজিষ্ট্রি করতে গেলে নানা ভোগান্তিতে পড়তে হয়। ব্যাংক ড্রাফট, জমির কাগজপত্র ও প্রয়োজনীয় ডকুমেন্টস জোগাড় করতেই বেলা শেষ হয়ে যায়। ওইদিন কোন কারণে জমি রেজিষ্ট্রি না হলে পরের সপ্তাহের জন্য অপেক্ষা করতে হয়। আবার কাগজে কোন ত্রুটি ধরা পরলে পরের সপ্তাহেও দলিল হয় না। শুধু তাই নয় বেলা ১১টা নাগাদ কাগজপত্র জমা করলে বিকাল বা সন্ধ্যা নাগাদ ডাক পরে। এসব দুভোর্গের কারণে জমির মালিকরা জমি বেচাকেনায় আগ্রহ হারিয়ে ফেলছে।

বুধবার (১ জুলাই) জমি বিক্রি করতে আসা বড়ভিটা ইউনিয়নের খাদেমুল ইসলাম তিনি বলেন, গত তিন সপ্তাহ ধরে আসছি আর ফেরত যাচ্ছি। আজকেও এসে জানতে পারি আজ নাকি ব্যাংক বন্ধ এ কারণে জমির দলিল হবে না।

অতিরিক্ত দায়িত্বে থাকা সাব রেজিষ্টার কেএম সুজাউদ্দিন বলেন, প্রতিদিন শতাধিক জমি রেজিষ্ট্রি করা হতো। আমি অতিরিক্ত দায়িত্ব পালন করছি। দুইদিন দায়িত্ব পালনের নির্দেশনা রয়েছে। দুইদিনে ২শ থেকে আড়াইশ দলিল রেজিষ্ট্রি করা সম্ভব হচ্ছে না। তাছাড়া ডিমলা থেকে কিশোরগঞ্জ উপজেলার দুরত্ব বেশি হওয়ার কারনে আমি নিজেও ভোগান্তিতে পরেছি।

নীলফামারী জেলা রেজিষ্টার সোহেল রানা মিলন বলেন, ৬ উপজেলার মধ্যে ৭টি সাবরেজিষ্টার অফিস রয়েছে। সাব রেজিষ্টার কর্মরত রয়েছে চারজন। এর মধ্যে তিনজন ৭টি সাব রেজিষ্ট্রি অফিসে দায়িত্ব পালন করছে আর ডোমার উপজেলায় কর্মরত সাব রেজিষ্টার লালমনিরহাট জেলার হাতিবান্ধা উপজেলায় অতিরিক্ত দায়িত্ব পালন করছেন। এতে করে অফিসারদের ভোগান্তির পাশাপাশি জমির ক্রেতা বিক্রেতারা হয়রানির স্বীকার হচ্ছেন। অফিসার কম থাকায় তারা কাঙিক্ষত সেবা পাচ্ছেন না বলে স্বীকার করেছেন। সেই সাথে দলিল লেখক, ভেন্ডারসহ সকলেই তাদের পরিবার চালাতে হিমশিম খাচ্ছে।


আধুনিকতার ছোঁয়ায় হারিয়ে যাচ্ছে গাজীপুরের মৃৎশিল্প

* শতবর্ষের ঐতিহ্য পৈতৃক পেশা টিকে রাখতে করছেন লড়াই * বংশপরম্পরার মৃৎশিল্পে আর আগ্রহ নেই নতুন প্রজন্মের
ছবি: দৈনিক বাংলা
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
কামাল হোসেন বাবুল, গাজীপুর

গাজীপুরের মৃৎ শিল্প বিলুপ্তির পথে। সরকারি সাহায্য সহযোগিতা না পাবার কারনে দিনে দিনে মৃৎশিল্প বিলুপ্তির পথে চলে যাচ্ছে। প্রযুক্তি, রুচি, আধুনিকতা ও বাজার বিশ্বায়নের ফলে বাঙালির সংস্কৃতির অংশ মৃৎশিল্প এখন হারিয়ে যাচ্ছে। প্রতিযোগিতায় টিকতে না পেরে পূর্ব পুরুষের কাছ থেকে পাওয়া মৃৎ শিল্প পেশা থেকে অনেকেই পেশা ছেড়ে দিয়ে অন্য পেশায় চলে যাচ্ছেন ।

গাজীপুর জেলার সদর উপজেলার কাশিমপুর, ইছর, নারগানা, রয়েন, বইন্য, নাওয়ান, গোপিনপুর, বেগুন, কামরা, কারখানা, কাপাসিয়া উপজেলার নাওয়ান, করিহাতা, আড়াল, কুড়িহাটা, শ্রীপুর উপজেলার বরমী কালীগঞ্জ উপজেলার জামালপুর, কালিয়াকৈর উপজেলার পালপাড়া, রঘুনাথপুর, চাপাইর, বেনুপুর, উল্টা পাড়া, বলিয়াদি, বাসাকৈরসহ বিভিন্ন এলাকায় যারা এখনো এই পেশায় টিকে রয়েছেন সব মিলিয়ে ভালো নেই মৃৎ শিল্পীরা। তবুও শখ বংশগত ঐতিহ্য বা জীবিকার তাগিদে এই ক্ষুদ্র শিল্পকে ধরে রেখেছেন তারা। মাটির জিনিসপত্র কতটুকু কাটবে তা নিয়েও মৃৎশিল্পীরা বেশ শংকায় রয়েছেন।

রঘুনাথপুর পাল পাড়া গিয়ে দেখা যায়, বিভিন্ন স্থানের বিক্রির জন্য মৃৎশিল্পীরা তাদের নিজের হাতে নিপুণ কারুকাজে মাটি দিয়ে তৈরি করেছেন শিশুদের জন্য রকমারি পুতুল, ফুলদানি, রকমারি ফল, হাড়ি, কড়াই, ব্যাংক, বাসন, চায়ের কাপ থালা, বাটি, হাতি, ঘোড়া, বাঘ, টিয়া, ময়না, ময়ূর, মোরগ, খরগোশ, হাঁস, কলস, ঘটি, মুড়িভাজার ঝাঞ্জুর, চুলা ও ফুলের টবসহ বিভিন্ন মাটির জিনিসপত্র।

গাজীপুর জেলায় মৃৎশিল্পের সাথে জড়িত রয়েছে কয়েক হাজার পরিবার। তারা বিভিন্ন উৎসবে মাটির তৈরির জিনিসপত্র তৈরি করে জীবিকা নির্বাহ করেন।

রঘুনাথপুর পাল পাড়ার ভীম পাল, গোপাল পালসহ বিভিন্ন মৃৎশিল্পীদের সাথে আলাপ করে জানা যায়, পারিবারিকভাবেই তারা পৈতৃক পেশা হিসেবে এই মাটির কাজ ধরে রেখেছে। পণ্যের রং ও নকশার কাজ করে নিজেরাই করে থাকে। খেলনা তৈরির জন্য মাঠ থেকে মাটি আনা, মাটি নরম করা, সাঁচ বসানো, চুলায় পোড়ানো, রোদে শুকানো, রং করাসহ প্রায় সব কাজই এখানকার নারীরা করেন।

বোয়ালী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আফজাল হোসেন খান জানান, আমি উধ্ব©তন কতৃ©পক্ষের সাথে যোগাযোগ করে মৃৎশিল্পীদের জন্য বিশেষ অনুদানের ব্যবস্হা করার চেষ্টা করব।

বাঙালির ঐতিহ্যবাহী মৃৎশিল্পের একসময় বিপুল কদর থাকলেও দিনে দিনে মৃৎশিল্পীরা মানবেতর জীবন যাপন করছেন। শুধু মেলা এলেই কেবল কর্মমুখর হয়ে ওঠে চিরচেনা ঐতিহ্যময় প্রাচীন এই মৃৎ শিল্পীসমৃদ্ধ পাল পাড়া গ্রাম। পহেলা বৈশাখের, মেলা, পূজা আসলে খানিকটা সময়ের জন্য হলেও মৃৎশিল্প তার হৃতগৌরব ফিরে পায়। এ সময় মৃৎশিল্পীরাও ব্যস্ত হয়ে ওঠেন নানা সামগ্রী তৈরিতে। কিন্তু বছরের অন্যান্য দিন গুলো মানবেতর জীবন-যাপন করেন মৃৎশিল্পীরা।

এ সময় বেশি মূল্যে এসব জিনিস কিনতে আগ্রহ দেখান না ক্রেতারা। এতে মৃৎশিল্পীদের লোকসান গুনতে হয়। বাংলা নববর্ষ, পূজা, মেলায় বাঙালির ঐতিহ্যবাহী মৃৎশিল্পের বিপুল কদর থাকলেও বছরের অন্যান্য দিনে তারা বেশ দূর অবস্থায় মানবেতর জীবন-যাপন করেন।

রঘুনাথপুর পাল পাড়ার ভীম পাল, গোপাল পাল জানান, পারিবারিকভাবেই তারা পৈত্রিক পেশা হিসেবে এই মাটির কাজ ধরে রেখেছে। পণ্যের রং ও নকশার কাজ নিজেরাই করে থাকে। এখন আর আমাদের পরিবারের অন্য সদস্যরা মাটির কাজ শিখতে চায় না। তারা অনেকেই অন্য পেশায় ঝুঁকছেন। আবার অনেকেই অন্য কোনো কাজ না জানার কারণে এই পেশায় লেগে আছেন। বর্তমানে মৃৎশিল্পী রা অনেক কষ্টের মধ্যে দিয়ে দিন পার করতে হচ্ছে। এরপরও কেউ তাদের খোঁজ-খবর নেন না। সরকারি ও বেসরকারি সহায়তা পেলে মাটির জিনিসপত্র তৈরি করে এই শিল্পকে টিকিয়ে রাখা সম্ভব বলেও মনে করেন মৃৎশিল্পীরা।

অনগ্রসর মৃৎশিল্পীদের জনগোষ্ঠীদের সাহায্যের জন্য আজ পর্যন্ত কেউ এগিয়ে আসেন নি। মৃৎশিল্পীরা হারিয়ে যাওয়া শিল্পকে ধরে রাখার চেষ্টা করছেন। তাদের মাধ্যমেই অতিত ঐতিহ্য আজও টিকে রয়েছে। মৃৎশিল্পীদের উন্নয়নে সরকারের কাছে আর্থিক ও আধুনিক প্রযুক্তির সহযোগিতার আশাবাদ ব্যক্ত করেন করেন স্থানিয় মৃৎশিল্পীরা।


কুমিল্লায় স্কুলছাত্র ‘ইথান গুলিবিদ্ধ’ ঘটনার মূলহোতা অপু গ্রেপ্তার

বিদেশি পিস্তল ও গুলি উদ্ধার
ছবি: দৈনিক বাংলা
আপডেটেড ১ জুলাই, ২০২৬ ২০:৩২
মাহফুজ নান্টু, কুমিল্লা

কুমিল্লা নগরীর কাটাবিল এলাকায় মাদক ব্যবসাকে কেন্দ্র করে সংঘর্ষের সময় ষষ্ঠ শ্রেণির শিক্ষার্থী ইথান আহমেদ গুলিবিদ্ধ হওয়ার আলোচিত ঘটনায় অভিযুক্ত মূলহোতা আবু হানিফ ওরফে অপুকে গ্রেপ্তার করেছে কুমিল্লা জেলা গোয়েন্দা (ডিবি) পুলিশ।

বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন জেলা গোয়েন্দা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ওসি শামছুল আলম শাহ্। পুলিশ জানায়, গত ২৫ জুন কাটাবিল এলাকায় অপু গ্রুপ ও সাব্বির গ্রুপের মধ্যে প্রকাশ্যে সশস্ত্র সংঘর্ষ ও গুলিবিনিময়ের সময় রফিক উদ্দিন মেমোরিয়াল উচ্চ বিদ্যালয়ের ষষ্ঠ শ্রেণির শিক্ষার্থী ইথান আহমেদ গুলিবিদ্ধ হয়।

এ ঘটনায় দেশজুড়ে ব্যাপক আলোচনার সৃষ্টি হলে পুলিশ সুপারের নির্দেশনায় জেলা গোয়েন্দা শাখা ও সংশ্লিষ্ট থানা পুলিশ যৌথভাবে বিভিন্ন জেলায় সাঁড়াশি অভিযান পরিচালনা শুরু করে।

এরই ধারাবাহিকতায় বুধবার (১ জুলাই) ভোররাতে অভিযুক্ত আবু হানিফ ওরফে অপুকে গ্রেপ্তার করা হয়। পরে তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে কুমিল্লা নগরীর জগন্নাথপুর এলাকা থেকে সংঘর্ষে ব্যবহৃত একটি বিদেশি পিস্তল, দুটি ম্যাগাজিন এবং ছয় রাউন্ড তাজা গুলি উদ্ধার করা হয়।

পুলিশের দাবি, অপু সংঘবদ্ধ অপরাধচক্রটির নেতৃত্ব দিতেন। তার বিরুদ্ধে অস্ত্র, মাদকসহ বিভিন্ন অভিযোগে মোট ২৫টি মামলা রয়েছে। উদ্ধার হওয়া অস্ত্রের ঘটনায় তার বিরুদ্ধে আরও একটি অস্ত্র মামলা দায়েরের প্রক্রিয়া শেষে আদালতে প্রেরণ করা হয়।

এদিকে, ইথান গুলিবিদ্ধের ঘটনায় জড়িত অন্য আসামিদের গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।


আনসার-ভিডিপির জনসংযোগে নতুন যুগের সূচনা: তথ্যমন্ত্রী

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
দৈনিক বাংলা ডেস্ক

দেশের প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর জীবন সংগ্রাম, সাফল্য, উন্নয়ন কর্মকাণ্ড এবং বাংলাদেশ আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনীর বহুমাত্রিক অবদানকে জাতীয় পরিসরে তুলে ধরার লক্ষ্যে বাহিনীর নতুন মিডিয়া সেল ‘প্রান্তিক কণ্ঠস্বর’-এর আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন অনুষ্ঠিত হয়েছে।

বুধবার (১ জুলাই) বাংলাদেশ আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনীর সদর দপ্তরে আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন মিডিয়া সেলটির উদ্বোধন করেন। তিনি ‘প্রান্তিক কণ্ঠস্বর’-কে সরকারের উন্নয়ন এজেন্ডা বাস্তবায়ন এবং মাটি ও মানুষের কল্যাণে বাহিনীর কর্মকাণ্ড জনগণের কাছে পৌঁছে দেওয়ার একটি কার্যকর সেতুবন্ধন হিসেবে অভিহিত করেন।

বাংলাদেশ আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনীর মহাপরিচালক মেজর জেনারেল আবদুল মোতালেব সাজ্জাদ মাহমুদ-এর সভাপতিত্বে আয়োজিত অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন রেলপথ এবং সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগের প্রতিমন্ত্রী হাবিবুর রশিদ, এমপি।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশ আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনীর বিশাল সদস্যশক্তিকে প্রচলিত কর্মকাঠামোর মধ্যে সীমাবদ্ধ না রেখে পরিবর্তনশীল বাস্তবতার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ, প্রযুক্তিনির্ভর ও গতিশীল কর্মধারায় সম্পৃক্ত করতে হবে। তিনি উল্লেখ করেন, বাহিনীর প্রায় ৬০ লাখ সদস্যকে ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মের আওতায় আনার মাধ্যমে তাদের দক্ষতা, সক্ষমতা ও ইতিবাচক কর্মকাণ্ডকে আরও কার্যকরভাবে জাতীয় পর্যায়ে তুলে ধরা সম্ভব হবে।

তিনি আরও বলেন, আধুনিক প্রযুক্তি ও দক্ষতা অর্জনের মাধ্যমে আনসার ও ভিডিপি একটি আরও আধুনিক, দক্ষ ও যুগোপযোগী বাহিনী হিসেবে গড়ে উঠবে। এ লক্ষ্য অর্জনে ‘প্রান্তিক কণ্ঠস্বর’ একটি সময়োপযোগী ও দূরদর্শী উদ্যোগ, যা প্রান্তিক জনগোষ্ঠী এবং দেশ ও জাতির কল্যাণে নিরলসভাবে কাজ করে যাওয়া মানুষের অবদান তুলে ধরার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে।

বিশেষ অতিথির বক্তব্যে প্রতিমন্ত্রী হাবিবুর রশিদ বলেন, আজকের আয়োজন কেবল একটি মিডিয়া সেলের উদ্বোধন নয়; বরং বাংলাদেশ আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনীর তথ্য ও জনসংযোগ কার্যক্রমকে আরও আধুনিক, গতিশীল ও কার্যকর করার নতুন সূচনা। তিনি বলেন, এই উদ্যোগ সামাজিক নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণে বাহিনীর ভূমিকা আরও সুদৃঢ় করবে এবং সরকারের আস্থাশীল অংশীদার হিসেবে বাহিনীর কার্যক্রমকে নতুন মাত্রা প্রদান করবে।

তিনি আরও উল্লেখ করেন, ‘প্রান্তিক কণ্ঠস্বর’ সত্য, নির্ভুল ও যাচাইকৃত তথ্য প্রচারের একটি নির্ভরযোগ্য মাধ্যম হিসেবে কাজ করবে। একই সঙ্গে বাহিনীর সাফল্য, উদ্ভাবন এবং জনকল্যাণমূলক কর্মকাণ্ড জনগণের সামনে যথাযথভাবে তুলে ধরতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

সভাপতির বক্তব্যে মহাপরিচালক মেজর জেনারেল আবদুল মোতালেব সাজ্জাদ মাহমুদ বলেন, আনসার ও ভিডিপির বিশাল জনশক্তিকে কাজে লাগিয়ে সরকারের আর্থসামাজিক উন্নয়নমূলক কর্মকাণ্ড আরও সুসংগঠিত ও গতিশীলভাবে বাস্তবায়ন করা সম্ভব। নিরাপত্তা প্রদানের পাশাপাশি সমাজ বিনির্মাণে বাহিনীর সদস্যদের অবদান, প্রান্তিক মানুষের জীবনসংগ্রাম, সাফল্যের গল্প এবং বিভিন্ন ইতিবাচক উদ্যোগ এই অনলাইন প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে দেশবাসীর সামনে তুলে ধরা হবে।

তিনি আরও বলেন, প্রান্তিক পর্যায়ে এমন অনেক গুরুত্বপূর্ণ তথ্য ও বাস্তব চিত্র রয়েছে, যা মূলধারার সংবাদমাধ্যমে সবসময় স্থান পায় না। ‘প্রান্তিক কণ্ঠস্বর’ সেইসব তথ্য তুলে ধরার পাশাপাশি গুজব ও ভুয়া তথ্য প্রতিরোধে কার্যকর ভূমিকা পালন করবে। একই সঙ্গে বর্তমান সরকারের কর্মপরিকল্পনা বাস্তবায়নে জনসচেতনতা বৃদ্ধি, তথ্যভিত্তিক যোগাযোগ জোরদার এবং জনগণ ও রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানের মধ্যে আস্থার সম্পর্ক সুদৃঢ় করতেও এ প্ল্যাটফর্ম গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখবে।

অনুষ্ঠানে বাহিনীর অতিরিক্ত মহাপরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মামুনূর রশিদ, উপমহাপরিচালকবৃন্দ, ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাবৃন্দ এবং আমন্ত্রিত অতিথিরা উপস্থিত ছিলেন। তাদের সক্রিয় অংশগ্রহণে অনুষ্ঠানটি সাফল্যমণ্ডিত হয়। ‘প্রান্তিক কণ্ঠস্বর’-এর যাত্রা বাংলাদেশ আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনীর তথ্যপ্রবাহকে আরও আধুনিক, স্বচ্ছ ও জনমুখী করে তোলার পাশাপাশি প্রান্তিক মানুষের কণ্ঠস্বরকে জাতীয় পরিসরে পৌঁছে দেওয়ার একটি নতুন দিগন্ত উন্মোচন করবে বলে সংশ্লিষ্টরা আশা প্রকাশ করেন।


বিএনপিকে নিয়ে ষড়যন্ত্র হচ্ছে: দীপেন দেওয়ান

ছবি: দৈনিক বাংলা
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
বিজয় ধর, রাঙামাটি

পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সাবেক মন্ত্রী ও রাঙামাটি আসনের সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট দীপেন দেওয়ান পদত্যাগের প্রায় এক মাস পর নিজ নির্বাচনী এলাকা রাঙামাটিতে এসে দলীয় নেতাকর্মীদের সংবর্ধনায় সিক্ত হয়েছেন।

বুধবার (১ জুলাই) রাঙামাটিতে পৌঁছালে জেলার প্রবেশদ্বার বেতবুনিয়া থেকে শুরু করে বিভিন্ন স্থানে বিএনপির নেতাকর্মীরা মিছিল, স্লোগান ও ফুল দিয়ে তাকে স্বাগত জানান। পরে গাড়িবহরসহ তিনি শহরের কাঠালতলীস্থ জেলা বিএনপির কার্যালয়ে পৌঁছান। সেখানে আবেগঘন পরিবেশে নেতাকর্মীদের সংবর্ধনার জবাবে বক্তব্য রাখেন তিনি।

দীপেন দেওয়ান বলেন, "বিএনপিকে নিয়ে ষড়যন্ত্র হচ্ছে। আমি সেই ষড়যন্ত্রের মোকাবিলায় তৃণমূল নেতাকর্মীদের সঙ্গে আছি। আমাদের নেতা তারেক রহমান, তাঁর সিদ্ধান্তই চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত। তাঁর নেতৃত্বে তৃণমূল নেতাকর্মীদের সঙ্গে নিয়ে আমি এগিয়ে যেতে চাই।"

মন্ত্রী পদ থেকে পদত্যাগের ঘটনায় হতাশ না হওয়ার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, "আমি এখনো সংসদ সদস্য আছি। আপনাদের সুখ-দুঃখে পাশে থেকে এলাকার মানুষের সমস্যা সমাধানে আগের মতোই কাজ করে যাব।"

তিনি আরও বলেন, "বিএনপির বিরুদ্ধে কোনো ষড়যন্ত্র বরদাশত করা হবে না। দলের বিরুদ্ধে যেকোনো ষড়যন্ত্র ঐক্যবদ্ধভাবে প্রতিহত করতে হবে।" এ সময় তিনি নেতাকর্মীদের ঐক্যবদ্ধ থাকার আহ্বান জানান।

উল্লেখ্য, গত ১ জুন শারীরিক অসুস্থতার কারণ দেখিয়ে পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রীর পদ থেকে পদত্যাগ করেন অ্যাডভোকেট দীপেন দেওয়ান। এরপর তিনি ঢাকায় অবস্থান করলেও জাতীয় সংসদের বাজেট অধিবেশনে অংশ নেন।

সরকারের মন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণের প্রায় তিন মাসের মাথায় তাঁর পদত্যাগ দেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দেয়। পরে তাঁর পদত্যাগ প্রত্যাহার করে পুনর্বহালের দাবিতে দলীয় নেতাকর্মীদের পাশাপাশি বিভিন্ন সামাজিক ও নাগরিক সমাজের প্রতিনিধিরাও আন্দোলন ও মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করেন।


banner close