কোনো প্রার্থীকে হারানো বা জেতানো নির্বাচন কমিশনের দায়িত্ব নয় বলে মন্তব্য করেছেন প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) কাজী হাবিবুল আউয়াল।
তিনি বলেছেন, ‘নির্বাচন কমিশনকে একটা দায়িত্ব দেয়া হয়েছে, সেটা হচ্ছে যারা ভোটার, তাদের ভোট প্রদানের অধিকার, সেই অধিকারকে কোনোভাবে বিঘ্নিত করা যাবে না। সেই অধিকারকে কোনোভাবে প্রতিহত করা যাবে না। কোনো বাধা-বিপত্তি যেন না হয়। নির্বাচন কমিশনের দায়িত্ব কোনো প্রার্থীকে জিতিয়ে দেয়া বা হারিয়ে দেয়া নয়।’
বুধবার দুপুরে খুলনা সরকারি মহিলা কলেজ অডিটোরিয়ামে সিটি করপোরেশন নির্বাচনের ভোটগ্রহণকারী কর্মকর্তাদের সঙ্গে ব্রিফিংয়ে সিইসি এসব কথা বলেন।
অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হাবিবুল আউয়াল বলেন, ‘কোনোরকম অনাস্থা যেন মানুষের মধ্যে না থাকে, মানুষের মধ্যে আস্থা থাকতে হবে। নির্বাচন অবাধ, নিরপেক্ষ ও সুষ্ঠু হবে। আমাদের মূল সাবজেক্ট হচ্ছে ভোটাররা, তারা যেন সুষ্ঠুভাবে ভোটপ্রয়োগ করতে পারেন।’
তিনি বলেন, ‘নির্বাচনের সবচেয়ে বড় দায়িত্ব প্রিজাইডিং অফিসারদের। কেন্দ্রের ভেতরে শৃঙ্খলা অতি প্রয়োজন। কেন্দ্রের ভেতরে শৃঙ্খলা রক্ষার দায়িত্ব আপনাদের। দায়িত্ব হালকাভাবে নেবেন না। দায়িত্বপালনকালে কর্তৃত্ব প্রয়োগ করতে হলে করুন। প্রিজাইডিং কর্মকর্তা চাইলে ভোটগ্রহণ বন্ধ করতে পারেন। ভোটকেন্দ্রের ভেতরে শৃঙ্খলা রক্ষার দায়িত্ব আপনাদের।’
ব্রিফিংয়ে বিশেষ অতিথি ছিলেন নির্বাচন কমিশনার ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) মো. আহসান হাবিব খান ও নির্বাচন কমিশন সচিব মো. জাহাংগীর আলম। সভায় সভাপতিত্ব করেন খুলনা বিভাগীয় কমিশনার মো. জিল্লুর রহমান চৌধুরী।
এসময় উপস্থিত ছিলেন জেলা প্রশাসক খন্দকার ইয়াসির আরেফীন, রিটার্নিং কর্মকর্তা মো. আলাউদ্দিন, খুলনা মেট্রোপলিটন পুলিশ কমিশনার মো. মাসুদুর রহমান ভূঁঞা, খুলনা রেঞ্জ পুলিশের ডিআইজি মো. মঈনুল হক ও খুলনার পুলিশ সুপার মো. মাহবুব হাসান প্রমুখ।
প্রথম শ্রেণির মাদারীপুর পৌরসভার ২০২৬-২৭ ইরেজী অর্থবছরে ১১০ কোটি ৬৭ লাখ ১৬ হাজার ৩৬০ টাকার চ্যালেঞ্জিং খসড়া বাজেট প্রণয়ন করে নাগরিক মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। মঙ্গলবার (১৬ জুন) সকালে পৌরসভার সম্মেলন কক্ষে পৌর প্রশাসক (উপসচিব) জেসমিন আক্তার বানুর সভাপতিত্বে ও উপস্থানায় উক্ত খসড়া বাজেট প্রণয়ন এবং এর বাস্তবায়নের বিভিন্ন খুঁটিনাটি বিষয় নিয়ে নাগরিক মতবিনিময় সভায় বিস্তারিত আলোচনা করা হয়।
এ সময় জেসমিন আক্তার বানু বলেন, ‘উন্নত পৌর নাগরিক সেবা প্রদানই তাদের মূল লক্ষ্য। বাজেটে পানি সরবরাহ ও পয়ঃনিষ্কাশন, গুরুত্বপূর্ণ টেকসই অবকাঠামো এবং সড়ক উন্নয়ন প্রকল্প, জলবায়ু পরিবর্তন ট্রাষ্ট ফান্ড প্রকল্প (সিসিটিএফপি), আয়-ব্যয় খাতের হিসাব, মূলধন হিসাব, ২০২৪-২৫, ২০২৫-২৬ অর্থবছরের প্রকৃত ও সংশোধিত বাজেটের পর্যালোচনা, বিশেষ প্রকল্প বাস্তবায়নে সরকার হতে প্রাপ্ত অর্থের বিবরণী, বিভিন্ন দাতা সংস্থা হতে প্রাপ্ত উন্নয়ন প্রকল্পের আয়-ব্যয়, পৌরসভার পরিচ্ছন্নতাকর্মীদের জন্য আবাসিক ভবন নির্মাণ প্রকল্প, স্যানিটেশন-ড্রেনেজ ব্যবস্থার উন্নয়ন, সৌন্দর্য বর্ধন প্রকল্প, রাস্তাঘাট ও খেলাধুলার মাঠের উন্নয়ন, ধর্মীয় ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের উন্নয়ন, শিশুপার্ক, ঈদগাহ, কবরস্থান, ওয়াকওয়ে, অডিটোরিয়াম, কমিউনিটি সেন্টারের উন্নয়নসহ বিদ্যুৎ সঞ্চালন, বৃক্ষরোপণ, প্রাথমিক স্বাস্থ্য সেবা, টিকাদান কর্মসূচি, ডেঙ্গু-চিকুনগুনিয়া, হাম-রুবেলা প্রতিরোধ, মশক নিধন, সুপেয় পানি সরবরাহ, সৌরবিদ্যুৎ বাতির উন্নয়ন, আধুনিক বর্জ্য ব্যবস্থাপনা, রক্ষণাবেক্ষণ প্রকল্প, নিরাপদ ও যানজটমুক্ত সড়ক ব্যবস্থা, পুকুর-জলাশয় সংরক্ষণ ইত্যাদি বিষয়ের ওপর বাজেটের আয়-ব্যয়ের পর্যালোচনা, লক্ষ্যমাত্রা ও ট্যাক্স আদায়সংক্রান্ত উপস্থাপনা করা হয়।
এ সময় উপস্থিত ছিলেন প্রধান নিবাহী কর্মকর্তা মো. আসমত হোসেন, নির্বাহী কর্মকর্তা খন্দকার আবু আহমদ ফিরোজ ইলিয়াসসহ অন্য কর্মকর্তা ও কর্মচারীরা। এতে বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী পরিষদে সদস্য প্রবীণ রাজনীতিবিদ কাজী হুমায়ুন কবীর, সাবেক সিভিল সার্জন ও নিরাময় হাসপাতাল (প্রা.) লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ডাক্তার মো. সরোয়ার হোসেন, জেলা বিএনপির সাবেক ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক নজরুল ইসলাম লিটু, ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল (টিআইবি)-এর জেলা শাখার সভাপতি খান মো. শহীদ, সুশাসনের জন্য নাগরিক (সুজন)-এর সভাপতি এনায়েত নান্নু, দৈনিক বাংলার সাংবাদিক শরীফ ফায়েজুল কবীর প্রমুখ।
প্রস্তাবিত খসড়া বাজেট উপস্থাপনের পর এর ওপর মতবিনিয়কালে বক্তারা বলেন, ‘বাজেটের আকার বড় হলেও এর বাস্তবায়নে প্রয়োজন হবে সঠিক কর্মপরিকল্পনা, নতুন-নতুন খাত তৈরি, ট্যাক্স হোল্ডার বৃদ্ধি করা ইত্যাদি।’
তারা আরও বলেন, ‘পৌর নাগরিক সুযোগ-সুবিধা নেন অথচ ট্যাক্স প্রদান করেন না এমন নতুন-নতুন খাত চিহ্নিত করে পৌর ট্যাক্সের আওতায় আনা উচিত।’
বরগুনা জেলায় অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডের এক বিশাল অংশজুড়েই রয়েছে গ্রামীণ অর্থনীতি। জেলার মোট অর্থনৈতিক ইউনিটের প্রায় ৭০ দশমিক ৮৯ শতাংশই এখন গ্রামীণ এলাকায় অবস্থিত। এ ছাড়া ক্ষুদ্র উদ্যোক্তা ও পারিবারিক ব্যবসার শক্তিশালী উপস্থিতির কারণে জেলায় অর্থনৈতিক পরিবারের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৩৩ হাজার ৭৮৭টিতে।
মঙ্গলবার (১৬ জুন) বেলা সাড়ে ১১টায় বরগুনা জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে অনুষ্ঠিত ‘অর্থনৈতিক শুমারি ২০২৪: ফলাফল, পরিকল্পনা ও প্রত্যাশা’ শীর্ষক সেমিনারে এই তথ্য প্রকাশ করা হয়। বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরো (বিবিএস) এই শুমারির আয়োজন করে।
জেলা পরিসংখ্যান উপপরিচালক মোহাম্মদ হাফিজুর রহমানের সঞ্চালনায় সেমিনারে সভাপতিত্ব করেন বরগুনার অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) অনিমেষ বিশ্বাস এবং অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জেলা পরিষদ প্রশাসক মো. নজরুল ইসলাম মোল্লা। এ ছাড়া জেলা পর্যায়ের বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তা ও গণমাধ্যম ব্যক্তিত্ব।
সেমিনারে জানানো হয়, অর্থনৈতিক শুমারি ২০২৪-এর আওতায় বরগুনা জেলার অর্থনৈতিক ইউনিটগুলোর হালনাগাদ তথ্য নিয়ে একটি ‘স্ট্যাটিস্টিক্যাল বিজনেস রেজিস্টার’ তৈরি করা হয়েছে। এই তথ্যভাণ্ডার জেলার ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান ও অর্থনৈতিক কার্যক্রমের প্রকৃত চিত্র তুলে ধরার পাশাপাশি ভবিষ্যৎ অর্থনৈতিক জরিপ ও পরিকল্পনার ক্ষেত্রে নির্ভরযোগ্য ভিত্তি হিসেবে কাজ করবে।
শুমারির চূড়ান্ত ফলাফল অনুযায়ী, বরগুনা জেলায় মোট অর্থনৈতিক ইউনিটের সংখ্যা ৭৪ হাজার ৬৭০টি। এর মধ্যে গ্রামীণ এলাকায় রয়েছে ৫২ হাজার ৯৩৩টি এবং শহরাঞ্চলে রয়েছে ২১ হাজার ৭৩৭টি ইউনিট। অন্যদিকে ধরনভিত্তিক বিন্যাসে দেখা গেছে, জেলায় স্থায়ী অর্থনৈতিক ইউনিটের সংখ্যা ৩৯ হাজার ২৪০টি এবং অস্থায়ী ইউনিটের সংখ্যা ১ হাজার ৬৪৩টি।
সেমিনারে বক্তারা উল্লেখ করেন, বরগুনা মূলত কৃষি, মৎস্য, পর্যটন এবং ক্ষুদ্র উদ্যোক্তানির্ভর অর্থনীতির জেলা। শুমারির তথ্যানুযায়ী গ্রামীণ এলাকায় অর্থনৈতিক ইউনিটের এই আধিক্য জেলার সামগ্রিক উন্নয়নের এক বিশাল সম্ভাবনা নির্দেশ করে।
সভাপতির বক্তব্যে অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) অনিমেষ বিশ্বাস জানান, এই শুমারির মাধ্যমে প্রাপ্ত তথ্য বরগুনার অর্থনৈতিক বাস্তবতা ও সম্ভাবনার একটি স্পষ্ট চিত্র তুলে ধরেছে।
গ্রামীণ ও ক্ষুদ্র উদ্যোক্তাদের উন্নয়ন, প্রশিক্ষণ, সহজ শর্তে ঋণপ্রাপ্তি এবং অবকাঠামোগত সুবিধা বৃদ্ধি করা গেলে জেলার অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড আরও গতিশীল হবে। এই তথ্যভিত্তিক ডেটা ব্যবহার করে পরিকল্পিত উদ্যোগ ও বিনিয়োগ বৃদ্ধির মাধ্যমে বরগুনার অর্থনৈতিক উন্নয়ন আরও ত্বরান্বিত করা সম্ভব বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
খুলনার ডুমুরিয়া উপজেলায় কৃষির আধুনিকায়ন, মৎস্য চাষের সম্প্রসারণ এবং দীর্ঘদিনের অভিশাপ ‘জলাবদ্ধতা’ নিরসনে ব্যাপকভাবে শুরু হয়েছে খাল খনন কর্মসূচি। ডুমুরিয়া উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নের পলি পড়ে ভরাট হয়ে যাওয়া গুরুত্বপূর্ণ খালগুলো পুনঃখননের মাধ্যমে হাজার হাজার একর ফসলি জমি আবাদের আওতায় আনার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। মাঠপর্যায়ে এই প্রকল্পের কাজ এখন পুরোদমে এগিয়ে চলছে।
সূত্রে জানা গেছে, গ্রামীণ অবকাঠামো রক্ষণাবেক্ষণ (টিআর), কাজের বিনিময়ে খাদ্য (কাবিখা/কাবিটা) এবং এডিপিসহ সরকারের বিশেষ উন্নয়ন তহবিলের আওতায় এই বৃহৎ কর্মযজ্ঞ পরিচালিত হচ্ছে। চলতি অর্থবছরে উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নের গুরুত্বপূর্ণ ও মৃতপ্রায় প্রায় ৪৫ কিলোমিটার খাল পুনঃখননের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে।
এ লক্ষ্যে সরকারের দূরদর্শী পরিকল্পনার অংশ হিসেবে প্রাথমিক ধাপে মোট ৩ কোটি ৫০ লাখ টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। প্রকল্পগুলোকে স্বচ্ছ ও জবাবদিহিমূলক করতে প্রতিটি খালের দৈর্ঘ্য ও পরিমাপ অনুযায়ী স্থানীয় উপকারভোগীদের সমন্বয়ে ‘প্রকল্প বাস্তবায়ন কমিটি’ (PIC) গঠন করে বরাদ্দ বণ্টন করা হয়েছে।
সরেজমিনে জানা গেছে, উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নে একাধিক মৃতপ্রায় খাল পুনঃখনন করা হচ্ছে। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হচ্ছে রুদ্রঘরা ও খর্ণিয়া ইউনিয়ন: এই অঞ্চলের জলবদ্ধতা দূর করতে প্রধান নিষ্কাশন খালগুলোর একটি বড় অংশের খনন কাজ ইতোমধ্যে প্রায় ৭০ শতাংশ শেষ হয়েছে।
শোভনা ও গুটুদিয়া ইউনিয়ন: কৃষি জমিতে সেচ সুবিধা দিতে এবং বর্ষায় পানি নিষ্কাশনের জন্য নকশা অনুযায়ী খালের গভীরতা ও প্রশস্থতা বাড়ানো হচ্ছে। এখানে অগ্রগতি প্রায় ৬০ শতাংশ।
ডুমুরিয়া সদর ও ধামালিয়া ইউনিয়ন: মৎস্য চাষি ও সাধারণ কৃষকদের সুবিধার্থে খালের তলদেশের পলি অপসারণের কাজ দ্রুত গতিতে এগিয়ে চলছে।
সামগ্রিকভাবে উপজেলার চলতি মৌসুমের খাল খনন প্রকল্পের অর্ধেকের বেশি কাজ সম্পন্ন হয়েছে এবং বর্ষা মৌসুম পুরোদমে শুরু হওয়ার আগেই কাজ শেষ করতে শ্রমিক ও এস্কেভেটর (ভেকু) দিনরাত কাজ করছে।
খুলনা-৫ আসনের সংসদ সদস্য মোহাম্মদ আলী আজগার লবী বলেন, ‘ডুমুরিয়া ও ফুলতলা উপজেলার মানুষের প্রধান অর্থনৈতিক চালিকাশক্তি কৃষি ও মৎস্য। দীর্ঘদিন ধরে পলি পড়ে খালগুলো ভরাট থাকায় কৃষকরা সময় মতো সেচ পেতেন না, আবার বর্ষায় জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হতো। এই জনদুর্ভোগ দূর করতেই আমরা সরকারি বিশেষ তহবিল থেকে সাড়ে ৩ কোটি টাকার মহাপরিকল্পনা হাতে নিয়েছি। আমি নিজে কাজের তদারকি করছি। কাজে কোনো ধরনের অনিয়ম বা ধীরগতি সহ্য করা হবে না। নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে টেকসইভাবে খাল খনন শেষ করে কৃষকের মুখে হাসি ফোটানোই আমাদের মূল লক্ষ্য।’
ডুমুরিয়া উপজেলা নির্বাহী অফিসার মিজ সবিতা সরকার বলেন, ‘সরকারি বরাদ্দ সঠিক নিয়মে এবং শতভাগ স্বচ্ছতা বজায় রেখে খাল খনন নিশ্চিত করতে উপজেলা প্রশাসন কঠোর অবস্থানে রয়েছে। আমরা নিয়মিত বিভিন্ন স্পটে গিয়ে কাজের পরিমাপ ও গভীরতা যাচাই করছি। যেখানেই নকশাবহির্ভূত কাজের অভিযোগ উঠছে, সেখানেই তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। আশা করছি, এই খনন কাজ শেষ হলে ডুমুরিয়ার কৃষি ও পরিবেশগত ক্ষেত্রে এক যুগান্তকারী পরিবর্তন আসবে।’
উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা (পিআইও) মো. রফিকুল ইসলাম বলেন, ‘ডুমুরিয়া উপজেলার গ্রামীণ অবকাঠামো উন্নয়ন এবং জলবদ্ধতা নিরসনে এই খাল খনন প্রকল্পগুলো অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। আমরা টেকনিক্যাল গাইডলাইন এবং প্রাক্কলন (এস্টিমেট) অনুযায়ী প্রতিটি খালের দৈর্ঘ্য, প্রস্থ ও গভীরতা শতভাগ বজায় রেখে কাজ সম্পন্ন করার জন্য দিনরাত কাজ করে যাচ্ছি। কাজের গুণগত মান নিশ্চিত করতে পিআইসি কমিটিকে সার্বক্ষণিক দিকনির্দেশনা দেওয়া হচ্ছে এবং মাঠপর্যায়ে আমাদের উপসহকারী প্রকৌশলী নিয়মিত তদারকি করছেন। বরাদ্দের প্রতিটি টাকার সঠিক ব্যবহার নিশ্চিত করে নির্ধারিত সময়ের মধ্যেই প্রকল্পের কাজ শেষ করতে আমরা বদ্ধপরিকর।’
স্থানীয় ইউনিয়নের চেয়ারম্যান বলেন, ‘এই খালগুলো ছিল আমাদের এলাকার কৃষকদের প্রাণ। দীর্ঘদিন খনন না করায় এগুলো মরা খালে পরিণত হয়েছিল। বর্তমান সরকারের এই বিপুল পরিমাণ আর্থিক বরাদ্দের ফলে আমাদের এলাকার হাজার হাজার কৃষক ও ঘের ব্যবসায়ী সরাসরি উপকৃত হবেন। ইউনিয়ন পরিষদের পক্ষ থেকে আমরা সার্বক্ষণিক কাজের মান তদারকি করছি, যেন সাধারণ মানুষ এর দীর্ঘমেয়াদি সুফল পায়।’
খাল খনন প্রকল্পের পিআইসি (প্রজেক্ট ইমপ্লিমেন্টেশন কমিটি) বলেন, ‘আমরা শতভাগ নিয়ম মেনে শিডিউল ও বরাদ্দ অনুযায়ী কাজ করছি। মাটির গভীরতা এবং খালের দুই পাড়ের বাঁধ টেকসই করার দিকে বিশেষ নজর দেওয়া হচ্ছে। স্থানীয় জনগণের সহযোগিতা পাওয়ায় কাজ দ্রুত এগিয়ে নেওয়া সম্ভব হচ্ছে। আশা করছি, সরকারি বেঁধে দেওয়া সময়ের আগেই আমরা সমস্ত কাজ সম্পন্ন করে উপজেলা প্রশাসনের কাছে বুঝিয়ে দিতে পারব।’
স্থানীয় কৃষকরা জানায়, সরকারি অর্থায়নে খালগুলো খনন করার ফলে বর্ষা মৌসুমে যেমন অতিবৃষ্টির পানি সহজে নেমে যাবে, তেমনি শুষ্ক মৌসুমে সেচ কাজের জন্য পর্যাপ্ত পানি ধরে রাখা সম্ভব হবে। এতে ফসল উৎপাদন দ্বিগুণ হওয়ার সম্ভাবনা দেখা দিয়েছে। উপজেলাজুড়ে এই মহাপরিকল্পনা সফলভাবে সম্পন্ন হলে ডুমুরিয়ার অর্থনীতিতে এক নতুন দিগন্তের সূচনা হবে বলে মনে করছেন সচেতন মহল।
রাজধানীর মোহাম্মদপুরে এক মর্মান্তিক সড়ক দুর্ঘটনায় মানারাত ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির আইন বিভাগের মেধাবী শিক্ষার্থী এবং জুলাই আন্দোলনের সক্রিয় অংশগ্রহণকারী মো. আবু জোবায়ের নিহত হয়েছেন। সোমবার (১৫ জুন) রাত ১১টার দিকে মোহাম্মদপুর বেড়িবাঁধ এলাকায় বাংলাদেশ ইউনিভার্সিটির কাছে এই দুর্ঘটনা ঘটে।
পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, জোবায়ের তাঁর অপর দুই বন্ধুকে সঙ্গে নিয়ে মোটরসাইকেলে করে এক বন্ধুর বাসায় যাচ্ছিলেন। এ সময় একটি দ্রুতগামী ট্রাক পেছন থেকে তাদের মোটরসাইকেলটিকে ধাক্কা দিলে জোবায়ের গুরুতর আহত হন।
পরে স্থানীয়রা তাঁকে উদ্ধার করে শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন।
মো. আবু জোবায়ের মানারাত ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির আইন বিভাগের ৪৬তম ব্যাচের শিক্ষার্থী ছিলেন। পড়াশোনার পাশাপাশি তিনি বিশ্ববিদ্যালয়ের বিতর্ক সংগঠন ‘মানারাত ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি ডিবেট ক্লাব’-এর সাংগঠনিক সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছিলেন এবং জাতীয় পর্যায়ের বিভিন্ন বিতর্ক প্রতিযোগিতায় অংশ নিয়ে সাফল্য অর্জন করেন। একজন সুপরিচিত সোশ্যাল ইনফ্লুয়েন্সার হিসেবে বিভিন্ন সামাজিক ও শিক্ষামূলক কর্মকাণ্ডের পাশাপাশি তিনি চব্বিশের জুলাই গণঅভ্যুত্থানে অত্যন্ত সক্রিয়ভাবে অংশ নিয়েছিলেন। মেধা, ভদ্রতা ও আন্তরিকতার জন্য শিক্ষক ও সহপাঠী সবার কাছেই তিনি অত্যন্ত প্রিয় ছিলেন।
জোবায়েরের অকাল মৃত্যুতে গভীর শোক প্রকাশ করেছেন মানারাত ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির উপাচার্য প্রফেসর ড. মোহাম্মদ আবদুর রব। এক শোকবার্তায় তিনি মরহুমের রুহের মাগফিরাত কামনা করেন এবং শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনা জানান।
তাঁর রুহের মাগফিরাত কামনা করে মঙ্গলবার (১৬ জুন) বাদ জোহর বিশ্ববিদ্যালয়ের স্থায়ী ক্যাম্পাসে আইন বিভাগের উদ্যোগে এক দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়। আইন বিভাগের প্রধান আবদুল্লাহ হিল গনির সভাপতিত্বে এই মাহফিলে বিশ্ববিদ্যালয়ের ট্রেজারার মো. মনিরুল ইসলাম, বিভিন্ন অনুষদের ডিন, রেজিস্ট্রার, বিভাগীয় প্রধানগণসহ বিপুল সংখ্যক শিক্ষক, শিক্ষার্থী, কর্মকর্তা ও কর্মচারী অংশগ্রহণ করেন।
দিনাজপুরের বীরগঞ্জ উপজেলার ভোগীরপাড়া গ্রামের বাসিন্দা জোবায়েরের পিতা মো. আবুল কালাম আজাদ একজন কৃষক এবং মাতা জহুরা বেগম গৃহিণী।
পরিবারে তাঁর একমাত্র ছোট ভাই রয়েছে, যিনি বর্তমানে সপ্তম শ্রেণিতে পড়ছে। এর আগে ২০১৪ সালে জোবায়েরের বড় ভাইয়ের মৃত্যুর পর এখন আবার জোবায়েরের এই অকাল মৃত্যুতে পরিবারটিতে গভীর শোকের ছায়া নেমে এসেছে।
হাসপাতাল থেকে মরদেহ তাঁর নিজ গ্রামের বাড়িতে নেওয়া হলে মঙ্গলবার বাদ আসর জানাজা শেষে পারিবারিক কবরস্থানে তাঁকে দাফন করা হয়।
দেশে প্রথমবারের মতো তৈরি হচ্ছে আন্তর্জাতিক মানের সামুদ্রিক গবেষণা জাহাজ স্মল রিচার্জ ভেসেল। এটি সমুদ্রের গভীরতা নিরূপণ, সমুদ্রতলের মানচিত্রায়ন, বৈজ্ঞানিক জরিপ কার্যক্রমে ব্যবহৃত হবে।
এছাড়া তেল-গ্যাস অনুসন্ধান, মেরিন স্যাম্পল কালেকশন, হাইড্রোগ্রাফিক সার্ভে, মৎস্য ও পরিবেশ গবেষণায় নিয়োজিত থাকবে। বাংলাদেশ নৌবাহিনী পরিচালিত খুলনা শিপইয়ার্ড এই সামুদ্রিক গবেষণা জাহাজ তৈরি করছে।
মঙ্গলবার (১৬ জুন) দুপুরে বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিষয়ক মন্ত্রী ফকির মাহবুব আনাম কিল লেয়িং অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে জাহাজ নির্মাণ কাজের উদ্বোধন করেন।
এ সময় মন্ত্রী বলেন, স্মল রিসার্চ ভেসেল সমুদ্রে খনিজ সম্পদ, মৎস্য সম্পদ গবেষণা ও সুনীল অর্থনীতিতে ভূমিকা রাখবে।
তিনি আরও বলেন, সমুদ্রের মধ্যে খনিজ সম্পদ, মৎস্য সম্পদ সুনীল অর্থনীতি ভূমিকা পালন করবেন এই জাহাজের গবেষণায়। এমন সব উদ্ভাবনের মধ্য দিয়ে এই দেশে নতুন দিগন্তের দ্বার উন্মোচিত হবে।
খুলনা শিপইয়ার্ড লিমিটেড ও বাংলাদেশ ওশানোগ্রাফিক রিসার্চ ইনস্টিটিউটের এর মধ্যে সরাসরি ক্রয় পদ্ধতির চুক্তির আওতায় ১টি স্মল রিসার্চ ভেসেল ফর স্যাম্পল কালেকশন, ১টি সেলফ সাসটেইন্ড পল্টুন, ২টি হাইস্পিড কেবিন বোট ও ২৫০ মিটার দৈর্ঘ্য বিশিষ্ট জেটি ও গ্যাংওয়ে নির্মাণ করা হবে।
অনুষ্ঠানে নৌবাহিনী, খুলনা শিপইয়ার্ড ও ওশানোগ্রাফিক রিসার্চ ইনস্টিটিউটের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
মাদকদ্রব্যের ভয়াবহ ছোবল থেকে তরুণ প্রজন্মকে রক্ষা এবং একটি মাদকমুক্ত সমাজ গড়ার লক্ষ্যে পিরোজপুরে আয়োজিত এক মাদকবিরোধী কর্মশালায় মাদকের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান গ্রহণের আহ্বান জানানো হয়েছে। মঙ্গলবার (১৬ জুন) সকাল ১১টায় সদর উপজেলা অডিটোরিয়ামে উপজেলা প্রশাসন ও মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর, পিরোজপুর জেলা কার্যালয়ের যৌথ আয়োজনে এই কর্মশালা অনুষ্ঠিত হয়।
কর্মশালায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন পিরোজপুর সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মামুনুর রশীদ। তিনি তার বক্তব্যে মাদকের বিস্তার রোধে কঠোর নির্দেশনা প্রদান করে বলেন, “মাদক কেবল একজন ব্যক্তির ক্ষতি করে না, এটি পুরো পরিবার ও সমাজকে ধ্বংস করে দেয়। আমাদের লক্ষ্য হতে হবে কোনো অবস্থাতেই যেন কোনো জায়গায় মাদকের অস্তিত্ব না থাকে।”
ইউএনও মামুনুর রশীদ আরও বলেন, “আমাদের প্রত্যেকের নিজ নিজ অবস্থান থেকে মাদকের বিরুদ্ধে ‘জিরো টলারেন্স’নীতি গ্রহণ করতে হবে। বিশেষ করে ১৮ বছরের কম বয়সী শিক্ষার্থীদের কাছে কোনো দোকান বা প্রতিষ্ঠান থেকে সিগারেট বা মাদকদ্রব্য বিক্রি করা হলে তা কঠোরভাবে আইনত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। মাদকের ব্যবসায়ীদের চিহ্নিত করতে প্রশাসন সর্বদা সচেষ্ট।” তিনি তরুণদের খেলাধুলা ও সৃজনশীল কাজে সম্পৃক্ত করার মাধ্যমে মাদক থেকে দূরে রাখার ওপর বিশেষ গুরুত্বারোপ করেন।
অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন জেলা মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক মো. নজরুল ইসলাম। বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন জেলা জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি অধ্যক্ষ জহিরুল হক, পিরোজপুর সদর উপজেলা পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. ইশতিয়াক আহমেদ এবং পিরোজপুর সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (তদন্ত) রাধেশ্যাম সরকার। কর্মশালাটি সঞ্চালনা করেন মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের পরিদর্শক বাপন সেন।
অনুষ্ঠানে বক্তারা মাদককে সমাজের জন্য ‘ভয়াবহ ব্যাধি’ হিসেবে চিহ্নিত করে বলেন, পরিবার, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান এবং গণমাধ্যমকে সমন্বিতভাবে এই অশুভ শক্তির বিরুদ্ধে কাজ করতে হবে।
কর্মশালায় জনপ্রতিনিধি, শিক্ষক, গণমাধ্যমকর্মীসহ বিভিন্ন সামাজিক, সাংস্কৃতিক ও স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনের নেতৃবৃন্দ অংশগ্রহণ করেন।
উক্ত কর্মশালায় মাদকদ্রব্যের ক্ষতিকর প্রভাব ও মাদকমুক্ত সমাজ গঠনে সামাজিক সচেতনতা ও প্রতিরোধের বিভিন্ন দিক নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করা হয়
বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান ও দেশনায়ক তারেক রহমান ঘোষিত ২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রস্তাবিত ‘জনবান্ধব’বাজেটকে স্বাগত জানিয়ে পিরোজপুরে বর্ণাঢ্য আনন্দ মিছিল ও সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়েছে। মঙ্গলবার (১৬ জুন) বিকেল ৫টায় পিরোজপুর জেলা ব্যবসায়ী সমিতি এবং পিরোজপুর চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির যৌথ উদ্যোগে আয়োজিত এই কর্মসূচিতে ব্যবসায়ীদের ঢল নামে।
আনন্দ মিছিলটি পিরোজপুর শহরের প্রধান প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ করে। এ সময় মিছিল থেকে বাজেটের বিভিন্ন ইতিবাচক দিক তুলে ধরে স্লোগান দেওয়া হয়। মিছিল শেষে শহরের গুরুত্বপূর্ণ স্থানে আয়োজিত সংক্ষিপ্ত সমাবেশে বক্তারা প্রস্তাবিত এই বাজেটকে দেশের ইতিহাসে একটি অনন্য ও ‘জনবান্ধব বাজেট’ হিসেবে অভিহিত করেন।
সমাবেশে পিরোজপুর চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির সভাপতি গাজী ওয়াহিদুজ্জামান লাভলু বলেন, "এরকম জনবান্ধব বাজেট এর আগে কোনো সরকার দেয়নি। ব্যবসায়ীবান্ধব এই বাজেট দেশের অর্থনীতিতে নতুন গতির সঞ্চার করবে।"
তিনি তার বক্তব্যে দেশনায়ক তারেক রহমানকে 'প্রাণপ্রিয় নেতা' হিসেবে উল্লেখ করে বলেন, ব্যবসায়ীরা তারেক রহমানের দূরদর্শী নেতৃত্বে এই বাজেটের প্রতি পূর্ণ সমর্থন ও সংহতি প্রকাশ করছেন। বক্তব্য শেষে তিনি ব্যবসায়ীদের পক্ষ থেকে তারেক রহমানের প্রতি গভীর কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন এবং দেশের প্রয়োজনে সবসময় তার পাশে থাকার দৃঢ় অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন।
অনুষ্ঠানে পিরোজপুর চেম্বার অব কমার্সের নেতৃবৃন্দসহ স্থানীয় ব্যবসায়ী নেতারা উপস্থিত ছিলেন। অংশগ্রহণকারীদের মধ্যে উল্লেখযোগ্যদের মধ্যে ছিলেন—সিনিয়র সহ-সভাপতি আহসানুল কবির, সহ-সভাপতি মেহেদী হাসান, পরিচালক হারুন আর রশিদ, এমদাদুল হক মাসুদ, গাজী কামরুজ্জামান শুভ্র, মোঃ সোহাগ ফকির, মোঃ আরিফুর রহমান ও মোঃ মিজান শরীফসহ জেলা ব্যবসায়ী সমিতির অন্যান্য নেতৃবৃন্দ।
ব্যবসায়ীদের এই স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণ ও আনন্দ মিছিলটি স্থানীয় অঙ্গনে বেশ সাড়া ফেলেছে।
খুলনা উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (কেডিএ) চেয়ারম্যান হিসেবে মঙ্গলবার (১৬ জুন) আনুষ্ঠানিকভাবে দায়িত্ব গ্রহণ করেছেন খুলনা মহানগর বিএনপির সভাপতি অ্যাডভোকেট এস এম শফিকুল আলম মনা। দায়িত্ব গ্রহণের পর তিনি খুলনাকে একটি আধুনিক, পরিকল্পিত, বাসযোগ্য ও দৃষ্টিনন্দন নগরী হিসেবে গড়ে তোলার দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।
তিনি বলেন, ‘খুলনাকে এমনভাবে সাজানো হবে যেন এ শহরের মানুষ শান্তি ও স্বস্তির সঙ্গে বসবাস করতে পারে এবং একটি সুস্থ পরিবেশে বুক ভরে নিশ্বাস নিতে পারে।’
নবনিযুক্ত চেয়ারম্যান আরও জানান, নগর উন্নয়ন, পরিবেশ সংরক্ষণ, আধুনিক অবকাঠামো নির্মাণ এবং জনকল্যাণমূলক পরিকল্পনার মাধ্যমে খুলনাকে একটি মডেল নগরীতে পরিণত করার লক্ষ্যে তিনি কাজ করবেন।
তিনি বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)-এর চেয়ারম্যান ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান প্রদত্ত এ গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব যথাযথভাবে পালনের জন্য খুলনাবাসীর আন্তরিক সহযোগিতা, মূল্যবান পরামর্শ ও দোয়া কামনা করেন।
সাতক্ষীরায় হারিয়ে যাওয়া ২৪টি মোবাইল ফোন ও বিকাশের মাধ্যমে প্রতারিত হওয়া ৩৮ হাজার টাকা প্রকৃত মালিকদের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। সাতক্ষীরা জেলা পুলিশের সম্মেলন কক্ষে গত সোমবার (১৫ জুন) সকালে এসব ফোন ও টাকা হস্তান্তর করেন পুলিশ সুপার আবু সালেহ মো. আশরাফুল আলম।
এ সময় পুলিশ সুপার বলেন, ‘সাতক্ষীরা সাইবার ক্রাইম ইনভেস্টিগেশন সেলের চৌকস টিম চলতি বছরের জুন মাসের আগে হারিয়ে যাওয়া ২৪টি বিভিন্ন ব্র্যান্ডের মোবাইল ফোন তথ্য প্রযুক্তির সাহায্যে দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে উদ্ধার করে। এ ছাড়া বিকাশের মাধ্যমে প্রতারিত হওয়া ৩৮ হাজার টাকা উদ্ধার করে ৩ জন ভুক্তভোগীর হাতে প্রদান করা হয়।’
পুলিশ সুপার আরও বলেন, ‘সাতক্ষীরায় সাইবার ক্রাইম ইনভেস্টিগেশন সেল চালু হওয়ার পর থেকে খোয়া যাওয়া ১ হাজার ৭০৩টি মোবাইল ফোন প্রকৃত মালিকদের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। এ ছাড়া প্রতারিত হওয়া প্রায় অর্ধকোটি টাকা ভুক্তভোগীদের কাছে ফেরত দেওয়া হয়েছে।’
মোবাইল ফোন হস্তান্তর অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আমিনূর রহমান, মিথুন সরকার প্রমুখ।
গাজীপুরের টঙ্গীতে ১০ হাজার পিস ইয়াবা ট্যাবলেট ও নগদ ৫৮ লাখ টাকাসহ দুই মাদক কারবারিকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। গত সোমবার (১৫ জুন) রাত ৯টার দিকে টঙ্গী আউচপাড়া আক্কেল আলী সড়কের বাবর গাজীর বাড়িতে অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়।
গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন, নরসিংদী জেলার বাধবদী থানার চর দিঘলদী গ্রামের মৃত আব্দুল মতিনের ছেলে আনোয়ার হোসেন (৩৬) ও নরসিংদী জেলার রায়পুরা থানার মৃত আমির হোসেনের ছেলে শাওন (২৬)। এ সময় তাদের হেফাজত থেকে ১০ হাজার পিস ইয়াবা ট্যাবলেট, নগদ ৫৮ লাখ টাকা, ও মোবাইল উদ্ধার করা হয়।
পুলিশ জানায়, ওই এলাকার বাবর গাজীর বাড়িতে বিপুল পরিমাণ ইয়াবা ট্যাবলেট ক্রয়-বিক্রয় হচ্ছে। এমন গোপন সংবাদের ভিত্তিতে রাত ৯টার দিকে টঙ্গী পশ্চিম থানার এসআই এসএম মেহেদী হাসানের নেতৃত্বে একদল পুলিশ ওই বাড়িতে অভিযান চালিয়ে আনোয়ার ও শাওনকে গ্রেপ্তার করে।
এ ব্যাপারে টঙ্গী পশ্চিম থানার ওসি মো. আরিফুর রহমান বলেন, ‘এ ঘটনায় থানায় আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।’
মৌলভীবাজারের কুলাউড়ায় অবৈধ দখল ও যানজট নিরসনে উচ্ছেদ অভিযান পরিচালনা করেছে প্রশাসন। অভিযানে অবৈধভাবে স্থাপিত ১২টি দোকান উচ্ছেদ করা হয়। একই সঙ্গে অবৈধ পার্কিংয়ের দায়ে ৩টি মামলায় ২ হাজার টাকা জরিমানা আদায় করা হয়েছে।
গত সোমবার (১৫ জুন) কুলাউড়া থানা পুলিশ ও পৌরসভার সহযোগিতায় এ অভিযান পরিচালনা করেন উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মো. আনিসুল ইসলাম।
অভিযানকালে রেলস্টেশন রোডের বিভিন্ন স্থানে সড়ক ও সরকারি জায়গা দখল করে গড়ে তোলা অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ করা হয়। পাশাপাশি সড়কে অবৈধভাবে যানবাহন পার্কিং করে জনদুর্ভোগ সৃষ্টি করার অভিযোগে ৩টি মামলা দায়ের করে মোট ২ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়।
কুলাউড়া পৌরসভার প্রশাসক ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সানজিদা আক্তার বলেন, ‘অবৈধ স্থাপনা সরিয়ে নিতে কয়েকদিন থেকেই মাইকিংয়ের মাধ্যমে সতর্ক করা হয়েছিল। নির্দেশনা না মানায় জনস্বার্থে উচ্ছেদ অভিযান পরিচালনা করা হয়েছে। সড়ক ও সরকারি জায়গা দখলমুক্ত রাখতে এ ধরনের অভিযান ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে।’
জামালপুরের দেওয়ানগঞ্জ উপজেলার পার রামরামপুর ইউনিয়নের মধ্যেরচর সীমান্তে এক যুবককে পুশইনের চেষ্টা করেছে ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী (বিএসএফ)। তবে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) ও স্থানীয় জনতার বাধায় সেই চেষ্টা ব্যর্থ হয়েছে। বর্তমানে ওই যুবক আন্তর্জাতিক শূন্যরেখায় অবস্থান করছেন।
গত সোমবার (১৫ জুন) দিবাগত রাতে উপজেলার পার রামরামপুর ইউনিয়নের ঝাউডাংগা বিওপির ১০৭৮ নম্বর পিলারের কাছে এই ঘটনা ঘটে।
সীমান্তবর্তী এলাকার বাসিন্দা ও বিজিবি সূত্রে জানা গেছে, গত সোমবার (১৫ জুন) রাতে মধ্যেরচর এলাকায় আন্তর্জাতিক শূন্যরেখা অতিক্রম করে আনুমানিক ৩৫ বছর বয়সি এক ব্যক্তি বাংলাদেশে প্রবেশের চেষ্টা চালান। বিষয়টি টের পেয়ে বিজিবি সদস্য এবং স্থানীয়রা দ্রুত সেখানে উপস্থিত হয়ে তাকে আটকে দেন এবং জিজ্ঞাসাবাদ করেন।
জিজ্ঞাসাবাদে ওই ব্যক্তি প্রথমে নিজেকে বাংলাদেশি বলে দাবি করলেও নিজের কোনো সঠিক নাম-ঠিকানা বা পরিচয় দিতে পারেননি। পরে বিজিবি ও স্থানীয়রা তাকে পুনরায় শূন্যরেখায় পাঠিয়ে দেয়।
স্থানীয় বাসিন্দা মকবুল হোসেন ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, ‘এক ব্যক্তি বাংলাদেশে ঢোকার চেষ্টা করার সময় বিজিবি ও আমরা টের পেয়ে বাধা দিই। সে প্রথমে নিজেকে বাংলাদেশি দাবি করলেও পরে কোনো সঠিক ঠিকানা বলতে পারেনি। যার কারণে তাকে সীমান্ত পার হতে না দিয়ে ফিরিয়ে দেওয়া হয়েছে।’
এ বিষয়ে জামালপুর ৩৫ বিজিবির অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল হাসানুর রহমান জানান, বিএসএফ এখন কৌশল বদলে দুর্গম ও পাহাড়ি অঞ্চলগুলো দিয়ে বাংলাদেশে পুশইনের চেষ্টা চালাচ্ছে।
এরই ধারাবাহিকতায় রাতে ওই এলাকায় একজনকে পুশইনের চেষ্টা করেছিল বিএসএফ। তবে বিজিবি ও স্থানীয় জনগণের কড়া নজরদারি ও বাধার মুখে তা সফল হয়নি। অনুপ্রবেশের চেষ্টা চালানো ওই ব্যক্তি বর্তমানে আন্তর্জাতিক শূন্যরেখায় অবস্থান করছেন এবং সীমান্তে বিজিবির সর্তক নজরদারি বজায় রয়েছে।
একসময় দারিদ্র্য ও বেকারত্বে জর্জরিত ছিল সিরাজগঞ্জের তাড়াশ উপজেলার নওগাঁ ইউনিয়নের মহেশরৌহালী গ্রাম। জীবিকার সন্ধানে অনেককেই অন্যত্র ছুটতে হতো। তবে সময়ের ব্যবধানে সেই গ্রামই আজ দেশের হাঁসশিল্পের এক সফল মডেলে পরিণত হয়েছে। এখন ‘হাঁসের গ্রাম’ হিসেবে পরিচিত মহেশরৌহালী থেকে প্রতিদিন লাখ লাখ হাঁসের বাচ্চা দেশের বিভিন্ন জেলায় সরবরাহ করা হচ্ছে। এই শিল্প ঘিরেই বদলে গেছে গ্রামের অর্থনীতি ও মানুষের জীবনযাত্রা।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ১৯৯৫ সালে গ্রামের বাসিন্দা শাহ আলম একটি হারিকেন ও ধানের তুষ ব্যবহার করে কৃত্রিম উপায়ে হাঁসের ডিম ফুটানোর পরীক্ষামূলক উদ্যোগ নেন। শুরুতে অনেকেই বিষয়টিকে অবিশ্বাসের চোখে দেখলেও দীর্ঘ গবেষণা, পরিশ্রম ও অধ্যবসায়ের মাধ্যমে তিনি সফলতা অর্জন করেন। তার সেই উদ্যোগই পরবর্তীতে পুরো গ্রামের অর্থনৈতিক রূপান্তরের ভিত্তি তৈরি করে।
প্রযুক্তির উন্নয়নের সঙ্গে সঙ্গে হারিকেন ও তুষের জায়গা দখল করেছে আধুনিক বৈদ্যুতিক ইনকিউবেটর। বর্তমানে মহেশরৌহালী গ্রামে ছোট-বড় মিলিয়ে প্রায় ১২০টি হ্যাচারি গড়ে উঠেছে। খামারিদের দাবি, এসব হ্যাচারিতে প্রতিদিন ১০ থেকে ১২ লাখ হাঁসের বাচ্চা উৎপাদিত হচ্ছে।
গ্রামের প্রায় প্রতিটি পরিবার এখন কোনো না কোনোভাবে হাঁসের বাচ্চা উৎপাদন, পরিচর্যা ও বিপণনের সঙ্গে জড়িত। পুরুষদের পাশাপাশি নারীরাও ডিম সংগ্রহ, বাছাই, ইনকিউবেটর পরিচালনা, বাচ্চা পরিচর্যা এবং বাজারজাতকরণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছেন। ফলে এলাকায় সৃষ্টি হয়েছে ব্যাপক কর্মসংস্থান।
খামারিদের তথ্য অনুযায়ী, উৎপাদনকারীরা সাধারণত একদিন বয়সি হাঁসের বাচ্চা প্রতি পিস ৩৫-৪০ টাকায় বড় খামারিদের কাছে বিক্রি করেন। তবে খুচরা বাজারে একই বাচ্চার দাম ৮০-৯০ টাকা পর্যন্ত হয়ে থাকে।
ডিম উৎপাদনের জন্য জনপ্রিয় খাকি ক্যাম্পবেল ও ইন্ডিয়ান রানার জাতের হাঁসের বাচ্চার চাহিদা বেশি থাকায় এসব জাতের দাম তুলনামূলক বেশি। এ ছাড়া বর্ষাকাল ও শীত মৌসুমের শুরুতে চাহিদা বাড়ার কারণে বাজারে দামও কিছুটা বৃদ্ধি পায়।
স্থানীয় বাসিন্দা আব্দুস সালাম বলেন, ‘একসময় গ্রামের মানুষের নুন আনতে পান্তা ফুরাত। এখন প্রায় প্রতিটি পরিবার হাঁসের বাচ্চা উৎপাদনের ব্যবসার সঙ্গে জড়িত। সকাল থেকে রাত পর্যন্ত সবাই উৎপাদন ও সরবরাহের কাজে ব্যস্ত থাকে।’
উদ্যোক্তা শাহ আলম বলেন, ‘শুরুটা ছিল খুবই কঠিন। মানুষ বিশ্বাসই করত না যে, কৃত্রিম উপায়ে হাঁসের ডিম ফুটিয়ে বাণিজ্যিকভাবে সফল হওয়া সম্ভব। কিন্তু চেষ্টা ও পরিশ্রমের ফলেই আজ এই অবস্থানে পৌঁছানো গেছে।
এই গ্রামের উৎপাদিত খাকি ক্যাম্পবেল, বেইজিং ও ইন্ডিয়ান রানার জাতের হাঁসের বাচ্চার ব্যাপক চাহিদা রয়েছে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে। প্রতিদিন কিশোরগঞ্জের হাওরাঞ্চল, নেত্রকোনা, সুনামগঞ্জ, সিলেট, বরিশাল, কুষ্টিয়া ও ঝিনাইদহসহ বিভিন্ন জেলা থেকে পাইকাররা এখানে আসেন। বিশেষ খাঁচায় প্যাকেটজাত করে দেশের প্রায় সব জেলায় সরবরাহ করা হয় এসব হাঁসের বাচ্চা।’
সফল উদ্যোক্তাদের একজন জামাল উদ্দিন জানান, মাত্র ৫০ হাজার টাকা বিনিয়োগ করে ছোট একটি ইনকিউবেটর দিয়ে ব্যবসা শুরু করেছিলেন। বর্তমানে প্রায় ৫ লাখ টাকা বিনিয়োগ করে দুটি বড় ইনকিউবেটর পরিচালনা করছেন। মাসে প্রায় ৩০ হাজার হাঁসের বাচ্চা উৎপাদন করে তিনি সাড়ে তিন লাখ টাকারও বেশি আয় করছেন।
আরেক উদ্যোক্তা আলম ফকির বলেন, ‘একসঙ্গে ২০-২৫ হাজার ডিম ইনকিউবেটরে রাখা হয়। পাবনা, নাটোর, রাজশাহী, ফরিদপুর ও সিরাজগঞ্জের বিভিন্ন এলাকা থেকে ডিম সংগ্রহ করে বাণিজ্যিকভাবে হাঁসের বাচ্চা উৎপাদন করছি।’
জেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. এ.কে.এম. আনোয়ারুল হক বলেন, ‘মহেশরৌহালীসহ উপজেলার বিভিন্ন গ্রামে প্রায় ৬০০ খামার গড়ে উঠেছে। অধিকাংশ মানুষ এখন হাঁসের বাচ্চা উৎপাদনের সঙ্গে সম্পৃক্ত। প্রাণিসম্পদ বিভাগ নিয়মিত প্রশিক্ষণ, প্রযুক্তিগত পরামর্শ এবং ভ্যাকসিনসহ বিভিন্ন সহায়তা প্রদান করছে।’ তিনি বলেন, ‘স্বল্পসুদে ঋণ ও সরকারি পৃষ্ঠপোষকতা আরও বাড়ানো গেলে এই শিল্পের সম্প্রসারণ ঘটবে এবং জাতীয় অর্থনীতিতেও গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখা সম্ভব হবে।’
একজন মানুষের উদ্ভাবনী চিন্তা, সাহস ও নিরলস পরিশ্রম কীভাবে একটি গ্রামের ভাগ্য বদলে দিতে পারে, তার উজ্জ্বল উদাহরণ মহেশরৌহালী। হারিকেনের ক্ষীণ আলো আর ধানের তুষের উষ্ণতায় শুরু হওয়া সেই যাত্রা আজ লাখ লাখ হাঁসের বাচ্চা উৎপাদনের বিশাল শিল্পে রূপ নিয়েছে। কর্মসংস্থান, অর্থনৈতিক স্বচ্ছলতা এবং নতুন উদ্যোক্তা তৈরির এক অনন্য মডেল হিসেবে দেশের সামনে নতুন দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে সিরাজগঞ্জের এই গ্রাম।