শনিবার, ২৪ অক্টোবর ২০২৬
৯ কার্তিক ১৪৩৩

ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় পশুর হাট: দরপত্র কিনতে গিয়ে ফিরে গেলেন ব্যবসায়ীরা

আপডেটেড
১ জুন, ২০২৩ ০৯:৩৯
মাজহারুল করিম অভি, ব্রাহ্মণবাড়িয়া
প্রকাশিত
মাজহারুল করিম অভি, ব্রাহ্মণবাড়িয়া
প্রকাশিত : ১ জুন, ২০২৩ ০৯:৩৯

আসন্ন ঈদুল আজহা সামনে রেখে ব্রাহ্মণবাড়িয়া পৌরসভায় কোরবানির পশুর হাট ইজারা দেয়া নিয়ে অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। ওই হাটের ইজারা নিতে আগ্রহী ব্যবসায়ীরা বলছেন, তিন ধাপে দরপত্র জমা ও ইজারা প্রক্রিয়া সম্পন্ন হওয়ার কথা থাকলেও তারা দ্বিতীয় ধাপের নির্ধারিত সময়ে গিয়ে দরপত্র কিনতে ও জমা দিতে পারেননি। প্রথম ধাপে দরপত্র জমা দেয়া একমাত্র ব্যবসায়ীকেই হাটটি স্বজনপ্রীতির মাধ্যমে ইজারা দেয়া হচ্ছে বলে অভিযোগ ব্যবসায়ীদের।

গতকাল বুধবার ব্রাহ্মণবাড়িয়া পৌরসভার পশুর হাট ইজারা নিতে আগ্রহী অন্তত ছয়জন দরপত্র কিনতে না পারার অভিযোগ জানিয়েছেন। তারা হলেন মোস্তাফিজুর রহমান, জাকির হোসেন, আব্দুল মতিন, আব্দুস সাত্তার, আব্দুল হাই ও জালাল মিয়া।

পৌরসভা সূত্রে জানা যায়, গত ১৬ মে সংস্থাটির অধীন ভাদুঘর বাস টার্মিনালের মাঠে (বর্তমানে বিজয় মেলার মাঠ) চার দিনব্যাপী অস্থায়ী কোরবানির পশুর হাটের ইজারা বিজ্ঞপ্তি দেয় পৌরসভা। বিজ্ঞপ্তিতে তিন পর্যায়ে দরপত্র প্রক্রিয়া সম্পন্ন হবে বলে উল্লেখ করা হয়। প্রথম পর্যায়ে দরপত্র বিক্রি ২৪ ও ২৫ মে এবং জমা ২৫ মে বেলা ১টা পর্যন্ত; দ্বিতীয় পর্যায়ে বিক্রি ৩১ মে ও ১ জুন এবং জমা ১ মে এবং তৃতীয় পর্যায়ে বিক্রি ৭ ও ৮ জুন এবং জমার শেষ সময় ছিল ৮ জুন। ইজারার সম্ভাব্য মূল্য ভ্যাট, আয়করসহ সর্বোচ্চ ১ কোটি টাকা ধরা হয়।

জেলা শহরের শিমরাইলকান্দি এলাকার আলমগীর মিয়া ৭০ লাখ টাকা দর উল্লেখ করে প্রথম পর্যায়ে একমাত্র ব্যক্তি হিসেবে দরপত্র জমা দেন। তিনি ১১ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর সাকিল মিয়ার নিকটাত্মীয়। ব্যবসায়ীদের অভিযোগ, তাকে হাট ইজারা দিতেই তাদের দরপত্র কিনতে দেয়া হয়নি।

হাট ইজারা নিতে আগ্রহী ব্যবসায়ী মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, ‘ব্যক্তিগত কারণে জেলার বাইরে থাকায় প্রথম পর্যায়ে দরপত্র সংগ্রহ ও জমা দিতে পারিনি। তবে তিন ধাপে দরপত্র বিক্রি ও জমার কথা ছিল। এখন তো দরপত্রই কিনতে দিচ্ছে না।’

আর কোনো ধাপে না গিয়েই আলমগীর মিয়াকে হাটের ইজারা দিয়ে দেয়া হবে জানতে পেরে মোস্তাফিজুর পৌরসভার মেয়র বরাবর একটি আবেদনও করেছিলেন। তবে কাজ হয়নি। গতকাল দরপত্র কিনতে পারেননি তিনি।

আরেক ঠিকাদার আব্দুল মতিন বলেন, ‘পশুর হাটের ইজারার সম্ভাব্য মূল্য ভ্যাট, আয়করসহ সর্বোচ্চ ১ কোটি টাকা ধরা হয়। সে বিষয়টি মাথায় রেখে দ্বিতীয় পর্যায়ে দরপত্র জমা দিতে চেয়েছিলাম। আজ (গতকাল) সেখানে দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করলেও দরপত্র কিনতে দেয়নি পৌর কর্তৃপক্ষ। প্রথম পর্যায়ের দরপত্র থেকেই ইজারার প্রক্রিয়া শেষ করে ফেলেছে বলে জানিয়ে দিয়েছে।’

এই দুই ব্যবসায়ীই জানান, আলমগীর মিয়ার দেয়া ৭০ লাখ টাকা দরের চেয়ে ১৫ থেকে ২০ শতাংশ বেশি দরে হাট ইজারা নিতে আগ্রহী তারা।

আরেক ব্যবসায়ী আব্দুল হাই বলেন, ‘পশুর হাট ইজারার দরপত্র নিতে গিয়েছিলাম। কিন্তু পৌর কর্তৃপক্ষ দেয়নি। যেখানে দরপত্র বিক্রি করা হচ্ছিল, সেখানে গিয়ে তালা ঝোলানো পাওয়া যায়। পরে পৌরসভার নির্বাহী কর্মকর্তা জানিয়ে দিয়েছেন, দরপত্র বিক্রি হবে না।’

দরপত্র বিক্রির দায়িত্বে থাকা সাঈফুল ইসলাম মোবাইল ফোনে বলেন, ‘প্রথম পর্যায়ের দরপত্র বিক্রির সময় আমার দায়িত্ব ছিল। এখন আমি ছুটিতে আছি। দরপত্র বিক্রির দায়িত্ব কাকে দেয়া হয়েছে, সেটি আমার জানা নেই।’

জানতে চাইলে পৌরসভার মেয়র নায়ার কবির বলেন, ‘ঠিকাদাররা শিডিউল কেন কিনতে পারেননি, সেটি আমি জানি না। পৌর নির্বাহী কর্মকর্তা, নির্বাহী প্রকৌশলী ও কাউন্সিলরা জানেন। তবে প্রথম ধাপে যিনি দরপত্র কিনেছেন, গত বছরের চেয়ে ৪ শতাংশ বেশি দর দিয়েছেন তিনি। কমিটি দরপত্রটি গ্রহণ করে তাকেই ইজারা দেয়ার পরিকল্পনা করছে। এর চেয়ে বেশি কিছু জানি না।’

যোগাযোগ করলে পৌরসভার নির্বাহী কর্মকর্তা আ. কূদদূস বলেন, সব নিয়ম ও আইন মেনেই ইজারার প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা হচ্ছে।


নির্বাচিত

ইলিশ ধরা বন্ধ, সরকারি চাল না পেয়ে দুর্ভোগে জেলেরা

ছবি: দৈনিক বাংলা
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
লালমোহন (ভোলা) প্রতিনিধি

নির্ধারিত সময়ের সতের দিন অতিবাহিত হলেও ভোলার লালমোহনের ৬টি ইউনিয়নের প্রায় ১৬ হাজার ৫৭৫ জন জেলেদের বরাদ্দকৃত মৎস্য ভিজিএফ চাল এখনো পায়নি। ৭ অক্টোবরের মধ্যে বরাদ্দকৃত জনপ্রতি ২৫ কেজি চাল বিতরণ করার কথা থাকলেও বিতরণ করেনি দায়িত্বপ্রাপ্তরা। বিভিন্ন ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যানরা জানান, তালিকা প্রস্তুত এবং সমন্বয়হীনতার কারণে এখনো চাল বিতরণ করা হয়নি, তবে দ্রুত সমেয়র মধ্যে চাল বিতরণ কার্যক্রম সম্পন্ন হবে।

৮ অক্টোবর থেকে ২৯ অক্টোবর পর্যন্ত ২২ দিনের জন্য ইলিশ প্রধান প্রজনন মৌসুম উপলক্ষে মেঘনা ও তেঁতুলিয়া নদীর মৎস্য অভয়ারণ্য এলাকায় সকল ধরনের মাছ ধরা নিষিদ্ধ রয়েছে। প্রতি বছর ইলিশসহ অন্যান্য মাছের প্রজনন ও বংশবৃদ্ধি নিশ্চিত করতে সরকার এই বাইশ দিন সকল প্রকার মাছ ধরা নিষিদ্ধ করে। এ সময় ইলিশ ধরা, বিক্রি, সংরক্ষণ ও বাজারজাতকরণ সম্পূর্ণভাবে বন্ধ থাকবে। মাছ আহরণ, পরিবহন ও বিক্রিও আইনত দণ্ডনীয়। মৎস্যসম্পদ রক্ষায় এই উদ্যোগকে প্রয়োজনীয় মনে করলেও জেলেদের জন্য সময়টি কঠিন মুহূর্ত।

জেলেরা এই বাইশ দিন জেলেরা কর্মহীন হয়ে পড়ে। এ সময় জেলেদের জন্য সরকার ২৫ কেজি চাল দিয়ে থাকেন। তবে এই বরাদ্দ নিয়ে জেলেদের মাঝে চরম ক্ষোভ থাকে। জেলেদের দাবি তালিকাভুক্ত হয়েও প্রকৃত জেলে হিসেবে চাল পান না তারা। লালমোহন উপজেলায় মোট ২৪ হাজারেরও বেশি জেলে তালিকাভুক্ত থাকলেও চাল বরাদ্দ হয়েছে ২১০০০ হাজার জেলের জনের জন্য।

উপজেলা মৎস্য অফিসার আলী আহমেদ আখন্দ জানান, চাল বিতরণের জন্য অফিস থেকে ইউনিয়ন পরিষদের দায়িত্বপ্রাপ্তদের বারবার তাগিদ দেওয়া হয়। তবে দু-একদিনের মধ্যে চাল বিতরণ সম্পন্ন হবে বলে জানান তিনি।

চাল বিতরণেও বরাবরই অসচ্ছতার অভিযোগ থাকে। তবুও নদীতে নিষিদ্ধ সমেয়র আগেই বরাদ্দকৃত চাল পাবেন এমনটাই আশা করেছিলেন জেলেরা। কিন্তু নির্ধারিত সময় শেষ প্রান্তে, তবুও জেলেদের হাতে এখনো চাল পৌঁছেনি। নির্ধারিত সময়ে চাল না পাওয়ায় চরম দুর্ভোগে পড়েন জেলেরা। পরিবার-পরিজন নিয়ে জীবিকা নির্বাহে হিমশিম খাচ্ছেন তারা। এ সময় ধারদেনা করে তাদের চলতে হয়। এতে করে ক্ষোভ ও হতাশা বাড়ছে তাদের মধ্যে।

উপজেলার মেঘনা পাড়ের জেলে কামরুল মাঝি, মাকসুদ মাঝি, আব্বাস মাঝি, রুবেল মাঝিসহ কয়েকজন মাঝি জানান, মাছ ধরায় নিষেধাজ্ঞার কারণে আয়ের প্রধান উৎস বন্ধ থাকে। এ সময় সরকারি সহায়তার চালই একমাত্র ভরসা আমাদের। সঠিক সময়ে চাল না পাওয়ার কারণে আমাদের ঋণ আরও বাড়ছে এবং অনেক কস্টের মধ্যে দিন কাটছে। সন্তানদের লেখাপড়ার খরচ মেটাতে পারছে না জেলে পরিবারগুলো। এদিকে এনজিও থেকে নেওয়া ঋণের কিস্তির টাকা ধারদেনা করে শোধ করতে হয়।

সূত্র জানা যায়, চেয়ারম্যান ও স্থানীয় সরকার দলীয় নেতাদের সমন্বয় এবং তালিকা প্রণয়ন ও যাচাই-বাছাইয়ে সমন্বয়হীনতার কারণে অনেক ইউনিয়নে জেলেরা এখনো সরকারি সহায়তার চাল থেকে বঞ্চিত রয়েছেন। তবে দু-একদিনের মধ্যে চাল বিতরণ করা হবে বলে জানান চেয়ারম্যানরা।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকতা মোহাম্মদ সিফাত বিন সাদেক জানান, মৎস্য অফিস থেকে তালিকাসম্পন্ন করে দ্রুততম সময়ের মধ্যে সকল ইউনিয়নের চাল বিতরণ সম্পন্ন করার জন্য বলেছি।


নির্বাচিত

স্বাধীনতার পর প্রথমবার প্রশস্ত হচ্ছে সিংড়ার ১৬ কিমি সড়ক

সিংড়া উপজেলার চৌগ্রাম থেকে কালীগঞ্জ পর্যন্ত ১৬ কিলোমিটার সড়ক উন্নয়ন ও প্রশস্তকরণের কাজ চলছে। ছবি: দৈনিক বাংলা
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
সিংড়া (নাটোর) প্রতিনিধি

নাটোরের সিংড়া উপজেলার চৌগ্রাম থেকে কালীগঞ্জ পর্যন্ত ১৬ কিলোমিটার সড়ক উন্নয়ন ও প্রশস্তকরণের কাজ চলছে। স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের (এলজিইডি) উদ্যোগে ২৪ কোটি টাকা ব্যয়ে এ প্রকল্প বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, স্বাধীনতার পর এই প্রথম সড়কটি প্রশস্ত করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

এলজিইডি সূত্রে জানা গেছে, ২০২৫-২৬ অর্থবছরে প্রকল্পটি হাতে নেওয়া হয়। কাজ বাস্তবায়ন করছে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান বরেন্দ্র কনস্ট্রাকশন লিমিটেড। সড়কটি প্রশস্ত ও উন্নত হলে স্থানীয় মানুষের যাতায়াতের দুর্ভোগ কমার পাশাপাশি কৃষিপণ্য পরিবহন ও ব্যবসা-বাণিজ্যে গতি আসবে বলে আশা করছেন এলাকাবাসী।

স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, দীর্ঘদিন ধরে সরু সড়ক দিয়ে চলাচলে তাদের ভোগান্তি পোহাতে হয়েছে। কৃষিপ্রধান এ অঞ্চলে উৎপাদিত ফসল বাজারজাত করা, শিক্ষার্থীদের বিদ্যালয়ে যাতায়াত এবং রোগীদের হাসপাতালে নেওয়ার ক্ষেত্রে সড়কটি গুরুত্বপূর্ণ। উন্নয়নকাজ শেষ হলে এসব ক্ষেত্রে দুর্ভোগ কমবে।

চৌগ্রাম ইউনিয়ন পরিষদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান মোজাফফর বলেন, ‘১৯৭১ সালের পর প্রথমবার সড়কটি প্রশস্ত হচ্ছে। কাজটি শেষ হলে মানুষের যাতায়াত সহজ হবে। পাশাপাশি কৃষিপণ্য পরিবহন ও স্থানীয় ব্যবসা-বাণিজ্যের প্রসার ঘটবে।’

সিংড়া উপজেলা প্রকৌশলী খলিলুর রহমান বলেন, ‘সড়কটির নির্মাণকাজে ওয়েট মিক্স ম্যাকাডাম (ডব্লিউএমএম) পদ্ধতি ব্যবহার করা হচ্ছে। এ পদ্ধতিতে নির্দিষ্ট অনুপাতে খোয়া, বালি ও পানি মিশিয়ে সড়কে বিছানো হয় এবং যন্ত্রের সাহায্যে চাপ দিয়ে শক্ত করা হয়। এতে কারিগরি মান বজায় রেখে কাজ সম্পন্ন করা হলে সড়কটি টেকসই হবে।’

ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের প্রজেক্ট ম্যানেজার মেহেদী হাসান বলেন, ‘অনুমোদিত নকশা ও কারিগরি নির্দেশনা অনুযায়ী কাজ করা হচ্ছে। নির্মাণের গুণগত মান নিশ্চিত করতে গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।’

নাটোর-৩ (সিংড়া) আসনের সংসদ সদস্য অধ্যক্ষ আনোয়ারুল ইসলাম আনু বলেন, ‘সড়কটির উন্নয়ন শেষ হলে মানুষের যাতায়াতের দুর্ভোগ কমবে। পাশাপাশি কৃষি ও ব্যবসা-বাণিজ্যের প্রসার ঘটবে।’


নির্বাচিত

ভূমিমন্ত্রী মিজানুর রহমান মিনুর শারীরিক অবস্থার উন্নতি

শারীরিকভাবে সুস্থ হয়ে ওঠেছেন ভূমিমন্ত্রী মো. মিজানুর রহমান মিনু। ছবি: দৈনিক বাংলা
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

বিএনপি চেয়ারম্যানের অন্যতম উপদেষ্টা ও ভূমিমন্ত্রী মো. মিজানুর রহমান মিনুর শারীরিক অবস্থা আগের চেয়ে উন্নতি হয়েছে। বর্তমানে তিনি কিছুটা সুস্থতাবোধ করছেন।

ভূমিমন্ত্রীর এপিএস নাজমুল হক জানান, ভূমিমন্ত্রী মহোদয় আগের চেয়ে কিছুটা সুস্থতাবোধ করছেন। রক্তশূন্যতার সমস্যাটা ঠিক হয়েছে। আরও কিছু পরীক্ষা-নিরীক্ষা আছে সেগুলো আজ করা হবে। আশা করছি দ্রুত তিনি সুস্থ হয়ে ওঠবেন। ওষুধের পার্শ্বপ্রতিক্রিয়ায় রক্তশূন্যতা দেখা দিয়েছিল, সেটি কেটে গেছে। এখন তিনি শারীরিকভাবে সুস্থ হয়েছেন ও কথা বলছেন।

এদিকে অসুস্থ ভূমিমন্ত্রী মো. মিজানুর রহমান মিনুর শারীরিক অবস্থার খোঁজখবর নিতে হাসপাতালে যান বিএনপির জাতীয় স্থায়ী কমিটির সদস্য ও প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা মির্জা আব্বাস উদ্দিন আহমেদ, জাতীয় সংসদের হুইপ অ্যাডভোকেট রুহুল কুদ্দুস তালুকদার দুলু, সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী ব্যারিস্টার ফারজানা শারমীন পুতুল, প্রধানমন্ত্রীর গবেষণা কর্মকর্তা মো. আব্দুস সাত্তার পাটোয়ারী, প্রধানমন্ত্রীর ব্যক্তিগত চিকিৎসক ডা. আ ন ম মনোয়ারুল কাদির বিটু ও বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় সংসদের সাংগঠনিক সম্পাদক আমান উল্লাহ আমানসহ বিভিন্ন শ্রেণিপেশার নেতারা ও বিশিষ্ট ব্যক্তিরা। এ সময় তারা ভূমিমন্ত্রীর আশু রোগমুক্তি কামনা করছেন।

এ ছাড়া বিভিন্ন রাজনৈতিক, সামাজিক ও পেশাজীবী সংগঠনের নেতা বিশিষ্ট ব্যক্তিরা তাকে দেখতে হাসপাতালে যান।


নির্বাচিত

শেখ হাসিনার বিচার দেখতে অপেক্ষা করছে দেশের মানুষ: মীর শাহে আলম

বগুড়ার এক সুধী সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম। ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

দেশের মানুষ শেখ হাসিনার বিচার দেখতে অপেক্ষা করছে বলে মন্তব্য করে স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম বলেছেন, জুলাই গণঅভ্যুত্থানের মধ্য দিয়ে ক্ষমতাচ্যুত সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বর্তমানে ভারতে অবস্থান করছেন। মাঝেমধ্যেই এমন হুমকি দেওয়া হয় যে শেখ হাসিনা দেশে ফিরে আসবেন। আমরাও চাই, তিনি দেশে ফিরে আসুন।

শনিবার (২৪ অক্টোবর) দুপুরে বগুড়ার মোকামতলা উপজেলার সৈয়দপুর ইউনিয়নের রাধাকান্তপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় মাঠে আয়োজিত এক সুধী সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এই মন্তব্য করেন তিনি।

মীর শাহে আলম বলেন, ‘ইতিহাস কখনো মুছে ফেলা সম্ভব নয়, সত্যকেও চিরদিন আড়াল করে রাখা যায় না। আওয়ামী লীগ যতই প্রচেষ্টা চালাক না কেন, শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান যে বাংলাদেশের স্বাধীনতার ঘোষক, এই ঐতিহাসিক সত্য কখনোই পরিবর্তন করা সম্ভব নয়।’

পাশাপাশি তিনি সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার কথা স্মরণ করে বলেন, ‘তিনি সারা জীবন আপসহীন থেকেছেন।’

শেখ হাসিনার প্রসঙ্গে প্রতিমন্ত্রী একটি তুলনা তুলে ধরে বলেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান যেদিন দেশে ফিরেছিলেন, সেদিন ঢাকায় অসংখ্য মানুষ স্বতঃস্ফূর্তভাবে সমবেত হয়েছিলেন তাকে স্বাগত জানাতে। অথচ উল্টো চিত্র দেখা গেছে শেখ হাসিনার ক্ষেত্রে, যাকে শেষ পর্যন্ত দেশ ছাড়তে বাধ্য হতে হয়েছিল।

তার মতে, এই দুটি ঘটনাই স্পষ্টভাবে প্রমাণ করে জনগণের প্রকৃত ভালোবাসা ও সমর্থন কোন দিকে রয়েছে।

বক্তব্যের একপর্যায়ে জামায়াতে ইসলামীর সমালোচনা করে প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম বলেন, ‘আমরা বেহেশতের নিশ্চয়তা দিতে না পারলেও উন্নয়নের নিশ্চয়তা দিতে চাই। আর জামায়াত পারে বেহেশতের লোভ দেখাতে।’

জামায়াতে ইসলামীর বিরুদ্ধে অভিযোগ তুলে তিনি বলেন, দলটি বড় বড় বুলি আওড়ালেও মসজিদের ইমাম, মুয়াজ্জিন ও খাদেমদের আর্থিক নিরাপত্তা নিশ্চিতে তারা কখনো বাস্তবসম্মত কোনো উদ্যোগ নেয়নি। বিপরীতে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান নিজেই এই ধর্মীয় কর্মীদের জন্য মাসিক সম্মানী ভাতার ব্যবস্থা করে দিয়েছেন।

মোকামতলা উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক মাহমুদ হাসান তৌফিকের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এই সমাবেশে আরও উপস্থিত থেকে বক্তব্য রাখেন শিবগঞ্জ উপজেলা বিএনপির সভাপতি এস এম তাজুল ইসলাম, সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট আবদুল ওহাব, মোকামতলা উপজেলা বিএনপির সদস্যসচিব রোকন-উদ-দৌলা রুবেল, শিবগঞ্জ উপজেলা বিএনপির ছাত্রবিষয়ক সম্পাদক মীর শাকরুল আলম সীমান্ত, পৌর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আবদুল করিম এবং শিবগঞ্জ উপজেলা যুবদলের সভাপতি খালিদ হাসান আরমানসহ দল ও অঙ্গসংগঠনের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতৃবৃন্দ।

এর আগে প্রধানমন্ত্রীর কন্যা জাইমা রহমানের জন্মদিন উপলক্ষে সৈয়দপুর উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে ২ হাজার মানুষকে চক্ষু চিকিৎসাসেবা প্রদান করে মীর শাহে আলম ফাউন্ডেশন।


নির্বাচিত

‘প্রেমিকের সঙ্গে কক্সবাজারের হোটেলে উঠতে পারবে না অপ্রাপ্তবয়স্ক মেয়েরা’

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
কক্সবাজার প্রতিনিধি

কক্সবাজারের আবাসিক হোটেলগুলোতে জাতীয় পরিচয় পত্র (এনআইডি) ছাড়া অপ্রাপ্তবয়স্ক মেয়েদের প্রেমিকের সঙ্গে অবস্থানের জন্য রুম ভাড়া দেওয়ার তথ্যপ্রমাণ পাওয়া গেলে সংশ্লিষ্ট হোটেলের মালিক-ম্যানেজারের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন সংরক্ষিত সংসদ সদস্য ও কক্সবাজার জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক শামীম আরা স্বপ্না।

শনিবার (২৪ অক্টোবর) দুপুরে কক্সবাজার জেলা প্রশাসন আয়োজিত জেলার নিরাপদ পর্যটন নিশ্চিতকরণের লক্ষ্যে হোটেল-মোটেল-রেস্তোরাঁ মালিক, পর্যটন সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ী ও অংশীজনের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় বক্তব্যকালে তিনি এ কথা জানান।

তিনি বলেন, কক্সবাজারে ইদানীং দেখা যায় ছোট ছোট মেয়েরা তাদের প্রেমিকদের হাত ধরে আপনাদের হোটেলে চলে আসে। তারা তো আন্ডার এজ (অপ্রাপ্ত বয়স্ক) তাদের এখনো একা হোটেলে থাকার বয়স হয়নি। আপনারা তাদেরকে এনআইডি ছাড়া অবস্থান করতে দেন, এটা আইনত অনেক বড় অপরাধ। এর ফলে নানা ধরনের অঘটন ঘটছে। কেউ পথে-ঘাটে প্রাণ হারাচ্ছেন, আবার কেউ আত্মহত্যার পথ বেছে নিচ্ছেন।

কক্সবাজারকে দেশের সবচেয়ে সুন্দর পর্যটন এলাকা উল্লেখ করে তিনি বলেন, এ ধরনের পরিস্থিতি কক্সবাজারে হতে দেওয়া যায় না। আপনাদের প্রতি অনুরোধ, কেউ মা-বাবার সঙ্গে এলে থাকতে পারবেন। তবে প্রেমিকের সঙ্গে এলে জাতীয় পরিচয়পত্র ছাড়া হোটেলে থাকার অনুমতি দেওয়া যাবে না। এরপরও এ ধরনের ঘটনা ধরা পড়লে সংশ্লিষ্ট হোটেল মালিক ও ম্যানেজারদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

প্রসঙ্গত, গত ৮ অক্টোবর কুমিল্লায় সপ্তম শ্রেণির স্কুলছাত্রী জান্নাতুল তাজমিনের মরদেহ উদ্ধার করা হলে দেশব্যাপী চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়। ১৩ বছর বয়সী এই শিক্ষার্থী হত্যার শিকার হওয়ার আগে কক্সবাজারে 'তানজু আক্তার' নামে তার কথিত প্রেমিক রাজুর সঙ্গে একটি হোটেলে অবস্থান করেন এবং যেখানকার নিবন্ধন খাতায় বয়স উল্লেখ করা হয় ১৮ বছর।


নির্বাচিত

বল প্রয়োগ করলে ফ্যাসিবাদী, না করলে পুলিশকে দুর্বল মনে করে মানুষ: আইজিপি

খুলনার বয়রা পুলিশ লাইনে পুলিশের মহাপরিদর্শক (আইজিপি) মো. আলী হোসেন ফকির। ছবি সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় বল প্রয়োগ করলে পুলিশকে ফ্যাসিবাদী বলা হয়, আর বল প্রয়োগ না করলে মানুষ দুর্বল মনে করে বলে মন্তব্য করেছেন, পুলিশের মহাপরিদর্শক (আইজিপি) মো. আলী হোসেন ফকির।

তিনি বলেন, গত ১৭ বছরে পুলিশ ও জনগণের মধ্যে দূরত্ব তৈরি হয়েছে। সমাজে মাদককে প্রতিষ্ঠিত করা হয়েছে। এ পরিস্থিতি থেকে উত্তরণে কাজ করছে পুলিশ।

শনিবার (২৪ অক্টোবর) খুলনার বয়রা পুলিশ লাইনে খুলনা বিভাগের কমিউনিটি পুলিশিং বিষয়ক সুধী সমাবেশ শেষে সাংবাদিকদের কাছে তিনি এই মন্তব্য করেন।

তিনি বলেন, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে আরও কার্যকর করতে স্বরাষ্ট্র ও অর্থ মন্ত্রণালয়ের অনুমোদনে একটি আইনি কাঠামো তৈরি করা হচ্ছে। এর মাধ্যমে কমিউনিটি পুলিশিং পুলিশের একটি শাখা হিসেবে কাজ করবে।

আইজিপি আরও বলেন, কিশোর গ্যাং, চাঁদাবাজি ও মাদক নিয়ন্ত্রণে দেশব্যাপী যৌথ অভিযান চলছে। পাশাপাশি চাঁদাবাজির অভিযোগে জনগণের অভিযোগ ছাড়াই পুলিশের স্বতঃপ্রণোদিত হয়ে মামলা করার ক্ষমতা দিতে নতুন আইন প্রণয়নের উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।


নির্বাচিত

ডেঙ্গু প্রতিরোধে সবাইকে সচেতন হতে হবে: রাজশাহী জেলা প্রশাসক

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
রাজশাহী ব্যুরো

ডেঙ্গু প্রতিরোধে জনসচেতনতা বৃদ্ধি এবং পরিচ্ছন্ন পরিবেশ নিশ্চিত করার আহ্বান জানিয়েছেন রাজশাহীর জেলা প্রশাসক কাজী শহিদুল ইসলাম। তিনি বলেন, ‘ডেঙ্গু প্রতিরোধে ব্যক্তি, পরিবার ও সমাজের প্রত্যেককে সচেতন হতে হবে। বাড়িঘর ও আশপাশের পরিবেশ পরিষ্কার রাখার পাশাপাশি কোথাও যেন পানি জমে মশার প্রজননক্ষেত্র তৈরি না হয়, সেদিকে সবাইকে বিশেষ নজর দিতে হবে।

শনিবার (২৪ অক্টোবর) সকাল ১০টায় রাজশাহী জেলা সুইমিং প্রাঙ্গণে রাজশাহী জেলা প্রশাসনের আয়োজনে জাতীয় ডেঙ্গু প্রতিরোধ ও পরিচ্ছন্নতা অভিযান-২০২৬ উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। এবারের প্রতিপাদ্য ছিল ‘ডেঙ্গু প্রতিরোধে সচেতন হোন, সুস্থ থাকুন’।

জেলা প্রশাসক আরও বলেন, ‘ডেঙ্গু প্রতিরোধে শুধু প্রশাসনের উদ্যোগ যথেষ্ট নয়; এ ক্ষেত্রে সাধারণ মানুষের সক্রিয় অংশগ্রহণ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। বাড়ির ছাদ, ফুলের টব, পরিত্যক্ত পাত্র, ড্রাম ও অন্যান্য স্থানে জমে থাকা পানি নিয়মিত পরিষ্কার করতে হবে। মশার বংশবিস্তার রোধে সবাইকে নিজ নিজ অবস্থান থেকে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে।’

পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখা এবং জনসচেতনতা বাড়ানোর মাধ্যমে ডেঙ্গুর ঝুঁকি অনেকাংশে কমানো সম্ভব। তাই ডেঙ্গু প্রতিরোধে সরকারি উদ্যোগের পাশাপাশি সামাজিক সচেতনতা ও সম্মিলিত প্রচেষ্টা জোরদার করতে হবে।

অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন স্থানীয় সরকারের উপপরিচালক (উপসচিব) নজরুল ইসলাম, সিনিয়র সহকারী কমিশনার (ভূমি অধিগ্রহণ শাখা) মো. আরিফ হোসেন, সহকারী কমিশনার ও এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট মো. বোরহান উদ্দিন অন্তর এবং জেলা ক্রীড়া কর্মকর্তা জাহাঙ্গীর হোসেনসহ জেলা প্রশাসনের বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তা ও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা।

অনুষ্ঠানে ডেঙ্গু প্রতিরোধে জনসচেতনতা বৃদ্ধি, নিয়মিত পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম পরিচালনা এবং মশার প্রজননস্থল ধ্বংসের ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়।


নির্বাচিত

দেড়শ বছরেও অটুট তাড়াশের ঐতিহাসিক তিন গম্বুজ মসজিদ

ছবি: দৈনিক বাংলা
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
গোলাম মোস্তফা রুবেল, সিরাজগঞ্জ

নদীর ঢেউয়ে ভেসে আসে সময়ের গল্প, সিরাজগঞ্জের তাড়াশে ভদ্রাবতী নদীর তীরে দাঁড়িয়ে আছে ইতিহাসের নীরব সাক্ষী। তিনটি গম্বুজ, চুন-সুরকির মজবুত গাঁথুনি, পুরু দেয়াল আর দেয়ালজুড়ে সূক্ষ্ম কারুকাজ। সব মিলিয়ে মসজিদটি যেন অতীতের স্থাপত্যশৈলীর এক জীবন্ত নিদর্শন। উপজেলার বারুহাঁস গ্রামের ঐতিহাসিক চৌধুরীবাড়ি জামে মসজিদটি দেড় শতাব্দীরও বেশি সময় ধরে বহন করে চলেছে স্থানীয় ইতিহাস, ধর্মীয় ঐতিহ্য ও জমিদারি আমলের স্মৃতি। প্রতিদিনই এখানে নামাজ আদায় করতে আসেন মুসল্লিরা। শুক্রবার দূর-দূরান্ত থেকেও ছুটে আসেন অনেকে। এই ঐতিহাসিক স্থাপনাটি সংরক্ষণে প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তরের সঙ্গে যোগাযোগের উদ্যোগ নেওয়ার কথা জানিয়েছে উপজেলা প্রশাসন।

স্থানীয়দের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, ১৮৭৫ সালে বারুহাঁসের জমিদার দেল মাহমুদ চৌধুরী মসজিদটি নির্মাণ করেন। তবে জমিদার পরিবারের সদস্যদের দেওয়া তথ্যে নির্মাতার নাম দেলোয়ার হোসেন খান চৌধুরী হিসেবে উল্লেখ রয়েছে। জমিদারবাড়ির সামনে নির্মিত মসজিদটির দক্ষিণ পাশে রয়েছে পরিবারের পুরোনো বাড়ি ও পারিবারিক কবরস্থান। চারপাশে ভদ্রাবতী নদী ও খালের পরিবেশ স্থাপনাটির সৌন্দর্যে যোগ করেছে ভিন্ন মাত্রা।

মসজিদটির বিশেষ আকর্ষণ তিনটি গম্বুজ, আটটি পিলারের ওপর নির্মিত তিনটি বড় মিনার এবং পাঁচটি ছোট মিনার। কাঠের তৈরি তিনটি দরজা পেরিয়ে ভেতরে ঢুকলে চোখে পড়ে দেয়ালের নান্দনিক অলংকরণ ও কারুকাজ। চুন-সুরকি দিয়ে নির্মিত পুরু দেয়াল এবং পুরোনো নির্মাণশৈলী মসজিদটিকে দিয়েছে স্বতন্ত্র বৈশিষ্ট্য।

প্রায় চার শতক জায়গার ওপর নির্মিত মসজিদটির ভেতরের আয়তন তুলনামূলক ছোট। তিন সারিতে প্রায় ৬০ জন মুসল্লি একসঙ্গে নামাজ আদায় করতে পারেন। বাইরে খোলা বারান্দায় রয়েছে আরও দুই সারিতে নামাজ পড়ার ব্যবস্থা। ইমামের জন্য আলাদা মেহরাব ও মিম্বার না থাকলেও মসজিদে সংরক্ষিত রয়েছে একটি কাঠের মিম্বার, যার ওপর দাঁড়িয়ে জুমার খুতবা দেন ইমাম। দেড় শতাব্দীর বেশি সময় পেরিয়ে গেলেও মূল কাঠামোয় বড় ধরনের পরিবর্তন হয়নি বলে জানান জমিদার পরিবারের সদস্যরা। তবে স্থাপনাটির সৌন্দর্য বাড়াতে বিভিন্ন সময়ে কিছু সংস্কারকাজ করা হয়েছে।

দীর্ঘদিন মসজিদটিতে ইমামতি করেছেন বারুহাস গ্রামের মো. খলিলুর রহমান। অসুস্থতার কারণে বর্তমানে তার ছেলে আবদুস সবুর ইমামতির দায়িত্ব পালন করছেন। তিনি বলেন, এই মসজিদ আমাদের এলাকার ইতিহাস ও ঐতিহ্যের সাক্ষী। এমন মসজিদে ইমামতি করতে পারা সৌভাগ্যের।

মসজিদের মুয়াজ্জিন ৮০ বছর বয়সি আবদুল লতিফ খন্দকার। তার বাবা দৈয়ম আলী খন্দকারও এ মসজিদে মুয়াজ্জিনের দায়িত্ব পালন করেছেন। প্রজন্মের পর প্রজন্ম ধরে ধর্মীয় কার্যক্রমের সঙ্গে যুক্ত থাকার মধ্য দিয়ে মসজিদটি স্থানীয় মানুষের জীবন ও ঐতিহ্যের অংশ হয়ে উঠেছে।

মসজিদের বর্তমান ইমাম ও খতিব হাফেজ মাওলানা মো. খবির উদ্দিন বলেন, ৩১ বছর ধরে এই মসজিদের ইমাম হিসেবে রয়েছি। জুমার নামাজের দিন মসজিদ কানায় কানায় পরিপূর্ণ হয়ে যায়। প্রায় দেড়শ বছরের পুরোনো এই মসজিদে ইমামতির দায়িত্ব পালন করতে আমি নিজেকে সৌভাগ্যবান মনে করি।

জমিদার দেলোয়ার হোসেন খান চৌধুরীর নাতি মো. শাহনেওয়াজ খান চৌধুরী নাটোরের গুরুদাসপুর উপজেলার একটি স্কুল অ্যান্ড কলেজের সহকারী অধ্যাপক। তিনি বলেন, মসজিদের মূল কাঠামো ঠিক রেখে পরবর্তী সময়ে সৌন্দর্য বৃদ্ধির জন্য কিছু কাজ করা হয়েছে। মসজিদটি জমিদার পরিবারের তত্ত্বাবধানে পরিচালিত হয়। ইমাম ও মুয়াজ্জিনের বেতনসহ অন্যান্য খরচ নির্বাহের জন্য জমিদার দেলোয়ার হোসেন খান চৌধুরী ১০ বিঘা জমি ওয়াক্ফ করে গেছেন।

কর্মসূত্রে পরিবারের অনেক সদস্য এলাকায় থাকেন না উল্লেখ করে তিনি বলেন, প্রয়োজন কিংবা বার্ষিক বিভিন্ন অনুষ্ঠানে যোগ দিতে তারা এলাকায় আসেন। তার মতে, মসজিদের স্থাপত্যশৈলীর সঙ্গে মোগল আমলে নির্মিত মসজিদগুলোর বেশ মিল রয়েছে।

জমিদার পরিবারের চতুর্থ প্রজন্মের সদস্য বিশাল খান চৌধুরী বলেন, ছোটবেলা থেকে মসজিদের ভবন যেভাবে দেখেছি, এখনো সেভাবেই আছে। টুকটাক সংস্কার হলেও দেড়শ বছর পরও মসজিদটির কাঠামোয় তেমন কোনো পরিবর্তন হয়নি। প্রতিদিনই অনেকে মসজিদটি দেখতে ও নামাজ আদায় করতে আসেন। বিশেষ করে শুক্রবার অনেক দূরের মানুষও এখানে নামাজ পড়তে আসেন।

গবেষক-লেখক ও খুলনার উচ্চমাধ্যমিক শিক্ষক প্রশিক্ষণ ইনস্টিটিউটের অতিরিক্ত পরিচালক খ ম রেজাউল করিম বলেন, দেড়শ বছরের পুরোনো মসজিদটি ইতিহাসের নীরব সাক্ষী হয়ে টিকে আছে। মোগল আমলে নির্মিত মসজিদগুলোর সঙ্গে এর স্থাপত্যশৈলীর বেশ মিল পাওয়া যায়। জমিদারবাড়ি ও মসজিদ ঘিরে প্রবহমান ভদ্রাবতী নদী স্থাপনাটির সৌন্দর্য আরও বাড়িয়ে দিয়েছে।

তাড়াশ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা নুসরাত জাহান বলেন, ঐতিহাসিক স্থাপনাগুলো শুধু ইট-পাথরের কাঠামো নয়, এগুলো পূর্বপুরুষদের শিল্পবোধ, স্থাপত্যশৈলী, সংস্কৃতি ও ঐতিহাসিক পরিচয়ের গুরুত্বপূর্ণ নিদর্শন। দীর্ঘদিন ধরে এসব স্থাপনা অতীতের ইতিহাস ও ঐতিহ্য বহন করে আসছে। তাই এগুলো সংরক্ষণ করা সবার দায়িত্ব।

ইউএনও আরও বলেন, বারুহাঁসের ঐতিহাসিক ইমামবাড়ী তথা তিন গম্বুজ মসজিদের গুরুত্ব বিবেচনায় নিয়ে প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তরের সঙ্গে যোগাযোগ করে সংরক্ষণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। সংশ্লিষ্ট দপ্তরের সঙ্গে আলোচনা করে মসজিদটির ইতিহাস, নির্মাণশৈলী ও প্রত্নতাত্ত্বিক গুরুত্ব সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য জানার চেষ্টা করা হবে।


নির্বাচিত

প্রধানমন্ত্রীর অতিরিক্ত প্রেসসচিবের পরিচয়ে প্রতারণা, নাটোরে গ্রেপ্তার ১

ছবি: দৈনিক বাংলা
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নাটোর প্রতিনিধি

প্রধানমন্ত্রীর অতিরিক্ত প্রেসসচিবের পরিচয় ব্যবহার করে ডিজিটাল মাধ্যমে প্রতারণা করে অর্থ আদায় করার অভিযোগে আবু হুরায়রা খালেদ নামে একজনকে গ্রেফতার করেছে নাটোর জেলা পুলিশ। শনিবার (২৪ অক্টোবর) দুপুরে পুলিশ সুপার কার্যালয়ের সামনে এক প্রেসব্রিফিংয়ে এই তথ্য জানান পুলিশ সুপার মোহাম্মদ শরীফুল হক। গ্রেফতারকৃত আবু হুরায়রা খালেদ নাটোরের সিংড়া উপজেলার বালুয়া-বাসুয়া গ্রামের জিয়াদুল ইসলের ছেলে।

পুলিশ সুপার জানান, দীর্ঘদিন ধরেই প্রধানমন্ত্রীর অতিরিক্ত প্রেসসচিব আতিকুর রহমান রুমনের অফিস স্টাফ পরিচয় দিয়ে আবু হুরায়রা খালেদ তার ব্যক্তিগত মোবাইল নম্বর ব্যবহার করে হোয়াটসঅ্যাপ, বিকাশ, নগদ ও রকেটসহ বিভিন্ন ডিজিটাল মাধ্যমে রাজনৈতিক প্রভাবশালী ব্যক্তিবর্গ, সরকারি চাকরিজীবী ও গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিদের সাথে যোগাযোগ করে আসছিল। এই ভুয়া পরিচয় ব্যবহার করে সে ও তার সহযোগী চক্র সরকারি সুযোগ-সুবিধা প্রদান এবং রাজনৈতিক পদে পদায়ন বা মনোনয়ন পাইয়ে দেওয়ার মিথ্যা আশ্বাস দিয়ে বিভিন্ন জনের কাছ থেকে বিপুল পরিমাণ অর্থ আদায় করতো। বিষয়টি প্রধানমন্ত্রীর অতিরিক্ত প্রেসসচিব আতিকুর রহমান রুমনের দৃষ্টিগোচর হয়। পরবর্তীতে উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নির্দেশে ডিবি পুলিশের একটি চৌকস টিম তথ্য-প্রযুক্তির সহায়তায় অভিযুক্তের অবস্থান শনাক্ত করে অভিযান চালায়। অভিযানে সিংড়া থানার বালুয়া বাসুয়া গ্রাম থেকে আবু হুরায়রা খালেদকে গ্রেফতার করা হয়। গ্রেপ্তারকৃত আসামির বিরুদ্ধে সিংড়া থানায় সাইবার নিরাপত্তা আইন ২০২৩ এর ধারায় মামলা মামলা দায়ের করা হয়েছে।

উল্লেখ্য, অভিযুক্ত রাশেদ ২০১৬ থেকে ২০১৯ সাল পর্যন্ত নাটোরের সিংড়া পৌর ছাত্রলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক ছিল এবং ২০১৮ থেকে ২০২৩ সাল পর্যন্ত বাংলাদেশ বেতার রংপুরের টেকনিশিয়ান হিসেবে কর্মরত ছিল। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভুয়া আইডি ব্যবহার ও প্রতারণার অভিযোগে তার বিরুদ্ধে পূর্বেও মামলা রয়েছে। প্রতারনার জন্য আবু হুরায়রা খালেদ একাধিকবার কারাবরণও করেছেন। প্রতারক চক্রের অন্যান্য সহযোগীদের গ্রেফতারে পুলিশি অভিযান অব্যাহত রয়েছে।


নির্বাচিত

ঢাকা-আরিচা মহাসড়কে দুর্ঘটনা প্রতিরোধে প্রশাসনের ৫ সিদ্ধান্ত

মানিকগঞ্জ জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে মতবিনিময় সভা। ছবি: দৈনিক বাংলা
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
মানিকগঞ্জ প্রতিনিধি

মানিকগঞ্জের ঢাকা-আরিচা মহাসড়কের অংশে দুর্ঘটনা প্রতিরোধে এবং সড়কে শৃঙ্খলা প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে বিশেষ মতবিনিময় সভা হয়েছে। শনিবার (২৪ অক্টোবর) সকালে মানিকগঞ্জ জেলা প্রশাসনের আয়োজনে জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সম্মেলন কক্ষে এই মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়।

সভায় জেলা প্রশাসক নাজমুন আরা সুলতানার সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত পুলিশ সুপার মোহাম্মদ সারওয়ার আলম, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক সার্বিক মো. খায়রুল ইসলাম, বিআরটিএ’র ঢাকা কার্যালয়ের উপ-পরিচালক প্রকৌশলী মোবারক হোসেন, জেলা কৃষকদলের সভাপতি গোলাম কিবরিয়া সাইদ, মানিকগঞ্জ প্রেসক্লাবের সভাপতি জাহাঙ্গীর আলম বিশ্বাস ও জেলা পরিবহন মালিক সমিতির সভাপতি আব্দুর রাজ্জাক লিটনসহ হাইওয়ে পুলিশ ও ট্রাফিক পুলিশের সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।

জেলা প্রশাসক নাজমুন আরা সুলতানা বলেন, তিন চাকার গাড়ী ও বাইক দুর্ঘটনার অন্যতমন কারন একারনে তিন চাকার গাড়ীগুলিকে মহাসড়ক ও আঞ্চলিক মহাসড়কে চলতে দেওয়া হবে না। রুট পারমিট ছাড়া কোন গাড়ীকে সড়কে চলতে দেওয়া হবে না। লাইসেন্সবিহীন চালককে গাড়ী দেওয়া যাবে না। হেল্পারগণ যাতে গাড়ী চালাতে না পারে সেটা নিশ্চিত করতে হবে। একইসাথে সড়কের ত্রুটি মুক্ত করতে সড়ক ও জনপথ বিভাগকে ব্যবস্থা নিতে হবে।


নির্বাচিত

ভাগ্নের ফেসবুক পোস্টকে কেন্দ্র করে হামলা, বৃদ্ধ মামার মৃত্যু

ফজলে আলী হাজারী। ছবি: দৈনিক বাংলা
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
কমলনগর (লক্ষ্মীপুর) প্রতিনিধি

লক্ষ্মীপুরের কমলনগরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে ভাগ্নের একটি পোস্টকে কেন্দ্র করে বিরোধের জেরে হামলায় বৃদ্ধ মামা ফজলে আলী হাজারীর (৬০) মৃত্যু হয়েছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। শুক্রবার (২৩ অক্টোবর) রাতে উপজেলার চরকাদিরা ইউনিয়নের বটতলী বাজারে এ ঘটনা ঘটে। নিহত ফজলে আলী চরকাদিরা ইউনিয়নের ছয় নম্বর ওয়ার্ড বটতলী এলাকার বাসিন্দা।

মেঘনা নদীর ভাঙনের শিকার হয়ে উপজেলার লুধুয়া ফলকন এলাকা থেকে স্থানান্তরিত হয়ে তিনি ওই এলাকায় বসতি স্থাপন করেন। খবর পেয়ে পুলিশ নিহতের মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে প্রেরণ করেছেন। ঘটনার পর হামলায় অভিযুক্তরা এলাকা ছেড়ে গা-ঢাকা দিয়েছেন।

জানা গেছে, প্রেমের সম্পর্কের সূত্রধরে প্রায় দুই বছর আগে ফজলে আলীর ভাগ্নে দেলোয়ার মাহমুদের সঙ্গে বটতলী এলাকার বাসিন্দা জামাল হোসেনের মেয়ে জেরিন আক্তারের বিয়ে হয়। কিন্তু কিছু দিন পর পারিবারিক বিভিন্ন বিষয় নিয়ে বিরোধ সৃষ্টি হলে তাদের বিবাহবিচ্ছেদ ঘটে। সম্প্রতি জেরিনের অন্যত্র বিয়ে হলে ফেনীতে কর্মরত সাবেক স্বামী দেলোয়ার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে তাকে (জেরিনকে) নিয়ে আবেগময় একটি পোস্ট দেয়। এ নিয়ে জেরিনের আত্মীয়স্বজনের মধ্যে অসন্তোষ দেখা দেয়।

শুক্রবার (২৩ অক্টোবর) রাতে জেরিনের স্বজনরা বটতলী বাজারে মামা ফজলে আলীর কাছে দেলোয়ারের ফেসবুক পোস্টের বিষয়ে অভিযোগ করেন। এ সময় ফজলে আলী বিষয়টি দেলোয়ার বাড়ি ফিরলে সমাধানের কথা জানান। কিন্তু এরই মধ্যে জেরিনের স্বজনরা ফজলে আলীর ওপর আকস্মিক হামলা করেন। তাদের এলোপাতাড়ি কিল-ঘুষির আঘাতে গুরুতর আহত হলে স্থানীয়রা ফজলে আলীকে উদ্ধার করে নোয়াখালী জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে যান। অবস্থার অবনতিতে সেখান থেকে ঢাকায় নেওয়ার পথে রাতেই তার মৃত্যু হয়।

নিহতের ছেলে মো. ফয়সাল জানান, সামান্য ফেসবুক পোস্টকে কেন্দ্র করে জেরিনের খালাতো ভাই মো. মাহফুজের নেতৃত্বে স্বজনরা হামলা চালিয়ে তার বাবাকে মেরে ফেলেছেন। ঘটনার পর হামলাকারীরা এলাকা ছেড়ে গা-ঢাকা দিয়েছেন। একটি প্রভাবশালী মহল বিষয়টি মীমাংসা করার অপচেষ্টা করছেন।

তিনি বলেন, আমি আমার বাবার হত্যার বিচার চাই। এজন্য আইনী পদক্ষেপের লক্ষ্যে পরিবারের পক্ষ থেকে থানায় মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে। ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের দ্রুত গ্রেপ্তার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি করছি।

এদিকে অভিযুক্ত মাহফুজসহ অন্যরা আত্মগোপনে থাকায় এ বিষয়ে তাদের বক্তব্য নেওয়া সম্ভব হয়নি।

কমলনগর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ফরিদুল আলম জানান, শনিবার সকালে নিহতের মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য লক্ষ্মীপুর সদর হাসপাতালে প্রেরণ করা হয়েছে। ভিকটিমের পরিবারের পক্ষ থেকে থানায় মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে। তদন্ত করে জড়িতদের গ্রেপ্তারসহ আইনী পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে।


নির্বাচিত

ফরিদপুরে বীর মুক্তিযোদ্ধা ইমারত হোসেন চৌধুরীর স্মরণসভা অনুষ্ঠিত

ছবি: দৈনিক বাংলা
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
মাহবুব পিয়াল, ফরিদপুর

ফুলসুতি কমিউনিটি অব ফরিদপুরের উদ্যোগে বিশিষ্ট সমাজসেবক ও বীর মুক্তিযোদ্ধা ইমারত হোসেন চৌধুরীর স্মরণসভা ও দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়েছে। গত শুক্রবার (২৩ অক্টোবর) বিকাল ৪টায় শহরের কোট পাড় ‘ল কেয়ার অ্যান্ড অ্যাসোসিয়েট’ কার্যালয়ের সম্মেলন কক্ষে এই সভা অনুষ্ঠিত হয়। পবিত্র কোরআন তেলাওয়াতের মাধ্যমে অনুষ্ঠানের সূচনা করা হয়। কোরআন তেলাওয়াত করেন মরহুম ইমারত হোসেন চৌধুরীর নাতি রাফিদ চৌধুরী।

স্মরণসভায় বক্তারা মরহুমের কর্মময় জীবনের ওপর আলোকপাত করে বলেন, ‘বীর মুক্তিযোদ্ধা ইমারত হোসেন চৌধুরী মহান স্বাধীনতা সংগ্রামে সম্মুখ সারিতে থেকে নেতৃত্ব দিয়েছেন। তিনি ১৯৭১ সালে ভারতে গিয়ে প্রশিক্ষণ গ্রহণ করেন এবং জীবন বাজি রেখে যুদ্ধ করে দেশ স্বাধীন করেন। ব্যক্তিগত জীবনে তিনি অত্যন্ত সদালাপী, হাসিমুখে কথা বলা ও বন্ধুসুলভ একজন মানুষ ছিলেন। ফুলসতি গ্রামের এক সম্ভ্রান্ত পরিবারে জন্ম নেওয়া এই কৃতী সন্তান আজীবন সমাজসেবায় নিজেকে নিয়োজিত রেখেছিলেন। তিনি অত্যন্ত ধার্মিক ছিলেন এবং শারীরিক অসুস্থতা সত্ত্বেও কখনো জামায়াতে নামাজ আদায় করা মিছ করতেন না।

অনুষ্ঠানে বীর মুক্তিযোদ্ধার স্মৃতিচারণ করে ফুলসুতি কমিউনিটি অব ফরিদপুরের প্রধান উপদেষ্টা বদিউজ্জামান ভাদু বলেন, ‘ইমারত হোসেন চৌধুরী কেবল একজন দেশপ্রেমিক যোদ্ধাই ছিলেন না, বরং তিনি ছিলেন সমাজ পরিবর্তনের একজন কারিগর। তার সততা এবং মানুষের প্রতি ভালোবাসা আমাদের চিরকাল অনুপ্রাণিত করবে।’

ফুলসুতি কমিউনিটির নেতারা ও স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিদের উপস্থিতিতে সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্য রাখেন লেখক, গবেষক প্রবীণ সাংবাদিক প্রধান উপদেষ্টা বদিউজ্জামান চৌধিুরী ভাদু। এ সময় মফিজ ইমাম মিলন, দেলোয়ার হোসেন চৌধুরী সাবু, আ. স. ম. জাহাঙ্গীর হোসেন চৌধুরী টিটো, জি. এইচ লাভলু পাটোয়ারী, নিয়াজুল ইসলাম চৌধুরী, রুমন চৌধুরী, মোহাম্মদ ওয়াসিম, চৌধুরী সাজেদুস, মোহাম্মদ লিটু চৌধুরী এবং চৌধুরী মোহাম্মদ হাসানসহ আরও অনেকে উপস্থিত ছিলেন।

আলোচনা সভা শেষে বীর মুক্তিযোদ্ধা ইমারত হোসেন চৌধুরীর রুহের মাগফিরাত ও শান্তি কামনা করে বিশেষ দোয়া ও মোনাজাত পরিচালনা করা হয়। দোয়া মাহফিলটি পরিচালনা করেন হাফেজ, মাওলানা তৈয়বুর রহমান।


নির্বাচিত

চাঁদাবাজি নির্মূলে শিগগিরই নতুন আইন আসছে: আইজিপি

অপরাধীদের বিচারের মুখোমুখি করতেই নতুন আইনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে
ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
খুলনা ব্যুরো 

দেশ থেকে চাঁদাবাজির দৌরাত্ম্য স্থায়ীভাবে বন্ধ করতে দ্রুততম সময়ের মধ্যে নতুন একটি আইন প্রণয়ন করা হচ্ছে বলে জানিয়েছেন পুলিশের মহাপরিদর্শক (আইজিপি) মো. আলী হোসেন ফকির। প্রস্তাবিত আইনটি পাস হলে ভুক্তভোগী সাধারণ মানুষের অভিযোগ ছাড়াই কেবল ডিজিটাল প্রমাণের ওপর ভিত্তি করে পুলিশ নিজেই বাদী হয়ে চাঁদাবাজদের বিরুদ্ধে সরাসরি আইনি ব্যবস্থা নিতে পারবে।

শনিবার খুলনা পুলিশ লাইন্সে ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সঙ্গে আয়োজিত এক বিশেষ সভায় আইজিপি এ তথ্য প্রকাশ করেন।

আইনের প্রয়োজনীয়তা ব্যাখ্যা করতে গিয়ে আইজিপি বলেন, চাঁদাবাজির সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিরা সমাজে রাজনৈতিক বা অন্য কোনো আধিপত্য বজায় রেখে প্রভাব বিস্তার করে। তাদের ভীতি ও ক্ষমতার দাপটে সাধারণ মানুষ থানায় গিয়ে অভিযোগ দায়ের কিংবা আদালতে সাক্ষ্য দিতে সাহস পান না। এই বাস্তবতায় অপরাধীদের বিচারের মুখোমুখি করতেই নতুন আইনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। আইনটি কার্যকর হলে পুলিশ স্বপ্রণোদিত হয়ে পদক্ষেপ গ্রহণ করতে পারবে এবং কোনো ঘটনার সুনির্দিষ্ট ডিজিটাল প্রমাণ মিললেই অভিযুক্তদের আইনের আওতায় আনা সম্ভব হবে।

দায়িত্ব পালনে পুলিশের সীমাবদ্ধতা ও চ্যালেঞ্জ তুলে ধরে তিনি বলেন, অনেক ক্ষেত্রে দেখা যাচ্ছে আইন প্রয়োগ করতে গিয়ে পুলিশ যদি বল প্রয়োগ করে, তবে বলা হয় ‘পুলিশ ফ্যাসিস্ট’। আর যদি বল প্রয়োগ না করে, তখন বলা হয় ‘পুলিশ দুর্বল’। এর কোনো অপবাদই বাহিনীর জন্য কাম্য নয় উল্লেখ করে তিনি জানান, সবার সমন্বয়ে একটি পেশাদার ও কার্যকর পুলিশ বাহিনী গড়ে তোলার কাজ চলছে, যা ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা ও দুর্নীতিমুক্ত সমাজ গঠনে ভূমিকা রাখবে।

বিগত দেড় দশকের শাসনব্যবস্থার সমালোচনা করে পুলিশপ্রধান দাবি করেন, বিগত ১৭ বছরে দেশে মাদককে অনেকটাই স্বাভাবিক বিষয় হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করা হয়েছিল। তবে বর্তমান প্রশাসন অপরাধ নিয়ন্ত্রণে আপসহীন অবস্থান নিয়েছে এবং কিশোর গ্যাং, চাঁদাবাজি এবং মাদকের বিরুদ্ধে ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি গ্রহণ করেছে।

এছাড়া কমিউনিটি পুলিশিং কার্যক্রমকে মাঠপর্যায়ে অর্থবহ করার সিদ্ধান্তের কথা জানিয়ে তিনি উল্লেখ করেন, অতীতে এই ব্যবস্থা মূলত ‘বুক প্র্যাকটিস’ হিসেবে কেবল কাগজেই সীমাবদ্ধ ছিল। তবে এবার স্বরাষ্ট্র ও স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের সমন্বিত উদ্যোগে আইনি কাঠামোর ভেতরেই পুলিশের সহযোগী শাখা হিসেবে একে রূপ দেওয়া হচ্ছে, যাতে নাগরিক সেবার পরিধি আরও গতিশীল হয়।

উক্ত মতবিনিময় সভায় খুলনা মেট্রোপলিটন পুলিশ কমিশনার মোহাম্মদ জাহিদুল হাসান এবং খুলনা রেঞ্জের ডিআইজি মো. রেজাউল করিমসহ জেলা ও মহানগর পুলিশের শীর্ষ কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

বিষয়:

নির্বাচিত

banner close