শুক্রবার, ২ অক্টোবর ২০২৬
১৭ আশ্বিন ১৪৩৩

ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় পশুর হাট: দরপত্র কিনতে গিয়ে ফিরে গেলেন ব্যবসায়ীরা

আপডেটেড
১ জুন, ২০২৩ ০৯:৩৯
মাজহারুল করিম অভি, ব্রাহ্মণবাড়িয়া
প্রকাশিত
মাজহারুল করিম অভি, ব্রাহ্মণবাড়িয়া
প্রকাশিত : ১ জুন, ২০২৩ ০৯:৩৯

আসন্ন ঈদুল আজহা সামনে রেখে ব্রাহ্মণবাড়িয়া পৌরসভায় কোরবানির পশুর হাট ইজারা দেয়া নিয়ে অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। ওই হাটের ইজারা নিতে আগ্রহী ব্যবসায়ীরা বলছেন, তিন ধাপে দরপত্র জমা ও ইজারা প্রক্রিয়া সম্পন্ন হওয়ার কথা থাকলেও তারা দ্বিতীয় ধাপের নির্ধারিত সময়ে গিয়ে দরপত্র কিনতে ও জমা দিতে পারেননি। প্রথম ধাপে দরপত্র জমা দেয়া একমাত্র ব্যবসায়ীকেই হাটটি স্বজনপ্রীতির মাধ্যমে ইজারা দেয়া হচ্ছে বলে অভিযোগ ব্যবসায়ীদের।

গতকাল বুধবার ব্রাহ্মণবাড়িয়া পৌরসভার পশুর হাট ইজারা নিতে আগ্রহী অন্তত ছয়জন দরপত্র কিনতে না পারার অভিযোগ জানিয়েছেন। তারা হলেন মোস্তাফিজুর রহমান, জাকির হোসেন, আব্দুল মতিন, আব্দুস সাত্তার, আব্দুল হাই ও জালাল মিয়া।

পৌরসভা সূত্রে জানা যায়, গত ১৬ মে সংস্থাটির অধীন ভাদুঘর বাস টার্মিনালের মাঠে (বর্তমানে বিজয় মেলার মাঠ) চার দিনব্যাপী অস্থায়ী কোরবানির পশুর হাটের ইজারা বিজ্ঞপ্তি দেয় পৌরসভা। বিজ্ঞপ্তিতে তিন পর্যায়ে দরপত্র প্রক্রিয়া সম্পন্ন হবে বলে উল্লেখ করা হয়। প্রথম পর্যায়ে দরপত্র বিক্রি ২৪ ও ২৫ মে এবং জমা ২৫ মে বেলা ১টা পর্যন্ত; দ্বিতীয় পর্যায়ে বিক্রি ৩১ মে ও ১ জুন এবং জমা ১ মে এবং তৃতীয় পর্যায়ে বিক্রি ৭ ও ৮ জুন এবং জমার শেষ সময় ছিল ৮ জুন। ইজারার সম্ভাব্য মূল্য ভ্যাট, আয়করসহ সর্বোচ্চ ১ কোটি টাকা ধরা হয়।

জেলা শহরের শিমরাইলকান্দি এলাকার আলমগীর মিয়া ৭০ লাখ টাকা দর উল্লেখ করে প্রথম পর্যায়ে একমাত্র ব্যক্তি হিসেবে দরপত্র জমা দেন। তিনি ১১ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর সাকিল মিয়ার নিকটাত্মীয়। ব্যবসায়ীদের অভিযোগ, তাকে হাট ইজারা দিতেই তাদের দরপত্র কিনতে দেয়া হয়নি।

হাট ইজারা নিতে আগ্রহী ব্যবসায়ী মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, ‘ব্যক্তিগত কারণে জেলার বাইরে থাকায় প্রথম পর্যায়ে দরপত্র সংগ্রহ ও জমা দিতে পারিনি। তবে তিন ধাপে দরপত্র বিক্রি ও জমার কথা ছিল। এখন তো দরপত্রই কিনতে দিচ্ছে না।’

আর কোনো ধাপে না গিয়েই আলমগীর মিয়াকে হাটের ইজারা দিয়ে দেয়া হবে জানতে পেরে মোস্তাফিজুর পৌরসভার মেয়র বরাবর একটি আবেদনও করেছিলেন। তবে কাজ হয়নি। গতকাল দরপত্র কিনতে পারেননি তিনি।

আরেক ঠিকাদার আব্দুল মতিন বলেন, ‘পশুর হাটের ইজারার সম্ভাব্য মূল্য ভ্যাট, আয়করসহ সর্বোচ্চ ১ কোটি টাকা ধরা হয়। সে বিষয়টি মাথায় রেখে দ্বিতীয় পর্যায়ে দরপত্র জমা দিতে চেয়েছিলাম। আজ (গতকাল) সেখানে দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করলেও দরপত্র কিনতে দেয়নি পৌর কর্তৃপক্ষ। প্রথম পর্যায়ের দরপত্র থেকেই ইজারার প্রক্রিয়া শেষ করে ফেলেছে বলে জানিয়ে দিয়েছে।’

এই দুই ব্যবসায়ীই জানান, আলমগীর মিয়ার দেয়া ৭০ লাখ টাকা দরের চেয়ে ১৫ থেকে ২০ শতাংশ বেশি দরে হাট ইজারা নিতে আগ্রহী তারা।

আরেক ব্যবসায়ী আব্দুল হাই বলেন, ‘পশুর হাট ইজারার দরপত্র নিতে গিয়েছিলাম। কিন্তু পৌর কর্তৃপক্ষ দেয়নি। যেখানে দরপত্র বিক্রি করা হচ্ছিল, সেখানে গিয়ে তালা ঝোলানো পাওয়া যায়। পরে পৌরসভার নির্বাহী কর্মকর্তা জানিয়ে দিয়েছেন, দরপত্র বিক্রি হবে না।’

দরপত্র বিক্রির দায়িত্বে থাকা সাঈফুল ইসলাম মোবাইল ফোনে বলেন, ‘প্রথম পর্যায়ের দরপত্র বিক্রির সময় আমার দায়িত্ব ছিল। এখন আমি ছুটিতে আছি। দরপত্র বিক্রির দায়িত্ব কাকে দেয়া হয়েছে, সেটি আমার জানা নেই।’

জানতে চাইলে পৌরসভার মেয়র নায়ার কবির বলেন, ‘ঠিকাদাররা শিডিউল কেন কিনতে পারেননি, সেটি আমি জানি না। পৌর নির্বাহী কর্মকর্তা, নির্বাহী প্রকৌশলী ও কাউন্সিলরা জানেন। তবে প্রথম ধাপে যিনি দরপত্র কিনেছেন, গত বছরের চেয়ে ৪ শতাংশ বেশি দর দিয়েছেন তিনি। কমিটি দরপত্রটি গ্রহণ করে তাকেই ইজারা দেয়ার পরিকল্পনা করছে। এর চেয়ে বেশি কিছু জানি না।’

যোগাযোগ করলে পৌরসভার নির্বাহী কর্মকর্তা আ. কূদদূস বলেন, সব নিয়ম ও আইন মেনেই ইজারার প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা হচ্ছে।


নির্বাচিত

দেশের হারানো ঐতিহ্যকে ফিরিয়ে আনতে হবে: সংস্কৃতিমন্ত্রী

মাগুরা জেলা পুলিশের আয়োজনে ১ম কমিউনিটি পুলিশ কাবাডি চ্যাম্পিয়নশিপ প্রতিযোগিতার উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি সংস্কৃতিবিষয়ক মন্ত্রী অ্যাডভোকেট নিতাই রায় চৌধুরী। ছবি: দৈনিক বাংলা
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
শিউলি আফরোজ সাথী, মাগুরা

সংস্কৃতিবিষয়ক মন্ত্রী অ্যাডভোকেট নিতাই রায় চৌধুরী বলেছেন, দেশের হারানো ঐতিহ্যকে ফিরিয়ে আনতে হবে। দেশ থেকে হারিয়ে যাওয়া নানা ঐতিহ্য আমাদের গর্ব অহংকার। ভাটিয়ালি, বাওয়ালি, জারি, সারি, মুর্শিদি, লালন গীতি, ভাওয়াইয়া সকল কিছু একসময় বাংলায় জনপ্রিয় ছিল। পাশাপাশি এ দেশ থেকে হারিয়ে যাচ্ছে লোকজ ঐতিহ্য, হারিয়ে যাচ্ছে প্রাচীন সব খেলা।

কাবাডি, লাঠিখেলা, নৌকাবাইচ, কুস্তি খেলা, দাঁড়িয়াবান্দা, গোল্লাছুট, সাপ খেলা, ঝাপান খেলা, গ্রামীণমেলা এগুলো একসময় খুব জনপ্রিয় ছিল। এই খেলাগুলো আমাদের মাঝ থেকে আজ হারিয়ে যেতে বসেছে। সরকার হারানো ঐতিহ্য ফেরাতে কাজ করছে। সংস্কৃতি মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে আমরা হারানো ঐতিহ্য ফেরাতে নানা কর্মসূচি হাতে নিয়েছি।

মন্ত্রী আরো বলেন, ‘আমাদের প্রাচীণ ঐতিহ্য খেলাগুলো ফেরাতে হবে। বেশি করে যুবসমাজের মাঝে এই খেলাগুলো প্রতিযোগিতার মাধ্যমে আয়োজন করতে হবে।’ মাগুরা জেলা পুলিশের আয়োজনে ১ম কমিউনিটি পুলিশ কাবাডি চ্যাম্পিয়নশিপ প্রতিযোগিতার উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে মন্ত্রী এ কথাগুলো বলেন।

ঐতিহ্যবাহী মাগুরা নোমানী ময়দানে শুক্রবার (২ অক্টোবর) সকালে মাগুরা পুলিশ সুপার মোল্লা আজাদ হোসেনের সভাপতিত্বে বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন, সংরক্ষিত নারী আসনের সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট নেওয়াজ হালিমা আরলী, মাগুরা জেলা প্রশাসক মোতাকাব্বীর আহমেদ, জেলা পরিষদ প্রশাসক আলী আহমেদ ও মাগুরা পৌর বিএনপির সভাপতি মাসুদ হাসান খান কিজিল।

আয়োজকরা জানান, নানা উৎসব উদ্দীপনার মধ্য দিয়ে ১ম কমিউনিটি পুলিশ কাবাডি চ্যাম্পিয়নশিপের উদ্বোধন হয়েছে। দিনব্যাপী এ খেলায় বালক -বালিকা গ্রুপে ৮টি দল অংশ নিয়েছে। উদ্বোধনী খেলায় শালিখা কাবাডি একাদশ ও মোহাম্মদপুর কাবাডি একাদশের মুখোমুখি হয়েছে। এর আগে মন্ত্রী নোমানী ময়দানের উত্তর পাশে মাগুরা কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারের ভিত্তিপ্রস্তরের উদ্বোধন করেন।


নির্বাচিত

শিবচরে প্রতিমন্ত্রী আহম্মদ সোহেল মনজুরকে বিএনপির সংবর্ধনা প্রদান

বিএনপির নেতা-কর্মীসহ সর্বস্তরের উৎসুক জনতা ব্যানার-ফেস্টুন নিয়ে গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী আহম্মদ সোহেল মনজুর (এমপি)-কে স্বাগত জানায়। ছবি: দৈনিক বাংলা
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
মাদারীপুর প্রতিনিধি

মাদারীপুরের শিবচরে গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী আহম্মদ সোহেল মনজুর (এমপি)-এর আগমন উপলক্ষে তাকে স্বাগত জানিয়ে সংবর্ধনা প্রদান করেছে শিবচর উপজেলা বিএনপি ও সহযোগী সংগঠনের নেতা-কর্মীসহ গণ্যমান্য ব্যক্তিরা এবং সুশীল সমাজের প্রতিনিধিরা।

শুক্রবার (২ অক্টোবর) সকালে তার আগমনকে ঘিরে শিবচরের ঢাকা-ভাঙ্গা এক্সপ্রেসওয়ের পাচ্চর বাসস্ট্যান্ড এলাকায় বিএনপির নেতা-কর্মীসহ সর্বস্তরের উৎসুক জনতা ব্যানার-ফেস্টুন নিয়ে তাকে শুভেচ্ছা জানান।

প্রতিমন্ত্রীর আগমনকে ঘিরে এ সময় উপস্থিত ছিলেন শিবচর উপজেলা বিএনপির সদস্য সচিব সোহেল রানা, আহ্বায়ক কমিটির সদস্য আজমল হুদা ইথু চৌধুরী, পাচ্চর ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে চেয়ারম্যান প্রার্থী ও বিএনপি নেতা আ. খালেক বেপারীসহ উপজেলা বিএনপি ও অঙ্গসহযোগী সংগঠনের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতা-কর্মীরা ছাড়াও উৎসুক জনতা।

এ ছাড়া উপস্থিত ছিলেন উপজেলা ও পুলিশ প্রশানের কর্মকর্তারা। দীর্ঘদিন পর শিবচরে একজন প্রতিমন্ত্রীর আগমনে বিএনপির নেতা-কর্মীদের মধ্যে আনন্দ-উল্লাস প্রতিফলিত হয়। তারা আশা প্রকাশ করে বলেন, ‘প্রতিমন্ত্রীর আগমনে বর্তমান সরকারপ্রধান তারেক রহমান কর্তৃক গৃহীত যেসব উন্নয়ন কর্মসূচি দেশব্যাপী হাতে নেওয়া হয়েছে- সে আলোকে শিবচরেও সেই উন্নয়ন কর্মসূচি আরও ত্বরান্বিত হবে।

এ সময় প্রতিমন্ত্রী বিএনপি ও এর অঙ্গসংগঠনের নেতা-কর্মীদের উদ্দেশে বিএনপির চেয়ারম্যান ও দেশের বর্তমান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান কর্তৃক দলীয় নেতা-কর্মীদের দেওয়া নির্দেশনাগুলো মেনে চলার ব্যাপারে যত্নশীল হওয়ার নির্দেশনা দেন। এ ছাড়া তিনি দলীয় ঐক্যবদ্ধতা, শৃঙ্খলা মেনে দেশি ও আন্তর্জাতিক চক্রান্ত-ষড়যন্ত্র রুখে দেওয়ার ব্যাপারে রাজপথে সক্রিয় থাকার আহ্বান জানান।


নির্বাচিত

প্রশিক্ষণ-অনুশীলনের অভাবে ঝরে পড়ছেন যশোরের ক্রীড়াবিদরা

ছবি: দৈনিক বাংলা
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
যশোর প্রতিনিধি

দেশের ক্রীড়া উন্নয়নে সরকারের পরিকল্পনা অংশ হিসেবে খেলাধুলা কার্যক্রম চালুর নির্দেশ, তৃণমূলেপ্রতিটি অঞ্চলে নতুন বাংলাদেশ গড়ার প্রত্যয়ে ক্রীড়া হলে পেশা, পরিবার পাবে ভরসা, স্বপ্নের পথে বিজয়ের সাথে। প্রধানমন্ত্রীর তারেক রহমানের ঘোষণা এবং যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয় এবং ক্রীড়া পরিদপ্তর খুদে ক্রীড়াবিদদের স্বপ্ন পূরণে বদ্ধপরিকর। খেলাধুলাকে পেশা হিসেবে প্রতিষ্ঠায় কাজ করছে সরকার, ক্রীড়া ভাতা, ক্রীড়া কার্ড প্রদান অব্যাহত এবং পেশাগত স্বীকৃতি জাতীয় ক্রীড়াবিদ।

দেশের ৬৪ জেলার ওয়ার্ড, ইউনিয়ন, পৌরসভা, উপজেলা, জেলা, বিভাগীয়, জাতীয় পর্যায়ে তৃণমূল হতে প্রতিভাবান ক্রীড়াবিদের সন্ধানে। সকাল বিকেল মাঠে ময়দানে ক্রীড়ামদী কিশোর কিশোরীরা অনুশীলনে ব্যস্ত অথচ এই আমাদের ঐতিহ্যের যশোর জেলা ক্রীড়া সংস্থার ব্যবস্থাপনা মুখ থুবড়ে পড়েছে।

স্ব স্ব ক্রীড়া অনুশীলনের নিয়মিত কোনো ব্যবস্থা নেই। কৃতি ক্রীড়াবিদ, প্রতিভাবান ক্রীড়াবিদ, বাছাইকৃত ক্রীড়াবিদেরা নিয়মিত অনুশীলন করতে নির্ধারিত স্থানের অভাবে নিরবে গুমড়ে কাঁদছে। দায়িত্বশীল কর্মকর্তাদের উদাসীনতার কারণে ঐতিহ্যবাহী যশোর জেলা ক্রীড়া সংস্থার সুনাম ক্রমেই ধ্বসে পরিণত হয়েছে। এখন আর যশোর জেলা ক্রীড়া সংস্থার থলিতে জাতীয় পর্যায়ে কোনো ক্রীড়ায় স্বর্ণপদকে চেহারা দেখেনা, নেই কোন প্রশিক্ষণের সুব্যবস্থা, নেই কোনো সুদক্ষ প্রশিক্ষক।

বিগত ১৭ বছর আওয়ামী সরকার আমলে কোনো রকম ভাবে চলে আসলেও বর্তমান সরকার ক্রীড়াক্ষেত্রে অন্যান্য সকল জেলা উন্নয়নের সাফল্য আনলেও যশোর জেলা ক্রীড়া সংস্থা একেবারেই ধ্বংসে পরিণত হয়েছে। জেলা ক্রীড়া সংস্থা নাম মাত্র কমিটির অজুহাতে দীর্ঘ সময় পার করতে কৌশলে ব্যস্ত থাকে, যেমন নির্বাচিত কমিটি আসুক, নির্বাচন কমিশন গঠন, এডহক কমিটি গঠন, সার্চ কমিটি গঠন, কার্যকারী কমিটি গঠন, এই করতেই তিন বছর পগার পার এবং সংস্কার কাজের বাজেট, আজ এই রিপেয়ারিং কাল ভবন নির্মাণ গ্যালারি নির্মাণের অর্থ বাণিজ্যে মেতে আছে একশ্রেণি অসাধু কমিটি ব্যক্তিদ্বয়, তাদের কু-ষড়যন্ত্রের শিকারে পড়েন পদাধিকারী সভাপতি মহোদয়। মাঠ পর্যায়ে ক্রীড়াবিদ উৎপাদন না করে অসাধু কমিটির লোকেরা ব্যস্ত থাকেন সংস্কারের নামে ক্রীড়াবাজেটের মাধ্যমে অর্থ বাণিজ্যে। যার কারণে ক্রীড়া বিদগণেরা পাইনা সঠিক প্রাপ্য। এই কারণে ঝরে পড়েছে অনেক কৃতি বা প্রতিভাবান খেলোয়াড়েরা।

যশোর জেলা ক্রীড়া সংস্থার নির্বাচিত সাবেক তিন সাধারণ সম্পাদকদের সাথে সরাসরি সাক্ষাতে বলেন শফিকুজ্জামান (শফিক) যশোর স্টেডিয়াম প্রতিষ্ঠাতা সদস্য শ্রদ্ধেয় শামস-উল-হুদা সাহেবের সাজানো স্বপ্ন সফল করতে এবং আমি দীর্ঘদিন দায়িত্ব থাকাকালীন জাতীয় ও আন্তর্জাতিক পর্যায়ে পদক আনার গৌরব চক্ষু দিয়েছি এই যশোর জেলা ক্রীড়া সংস্থাসহ গোটা বাংলাদেশকে যা পরবর্তী দায়িত্বে আসা কমিটি ধরে রাখতে ব্যর্থ হয়েছে।

সাবেক সাধারণ সম্পাদক মারুফুল ইসলাম বলেন রাজনৈতিক রোশানলের পক্ষপাতিত্ব অসাধু ব্যক্তিদের উপ কমিটিতে রাখার কারণে যোগ্য ব্যক্তিরা হারাতে বসেছে যার কারনে ক্রীড়া ক্ষেত্রে যশোর জেলা ক্রীড়া সংস্থা নিমজ্জিত। আমি দায়িত্বে থাকাকালীন আমি নিজ উদ্যোগে স্টেডিয়ামকে নিরাপদ রেখে উত্তর পাশে আব্দুর রাজ্জাক কলেজের সম্মুখে পৌরপার্ক সংলগ্ন কয়েক কোটি টাকা ব্যয়ে পৃথক ক্রিকেট গ্যালারি বিশিষ্ট মিনি স্টেডিয়াম নির্মাণ করে ছিলাম যা পরবর্তী ফ্যাসিষ্ট আওয়ামী সরকার আমলে বিচ্ছন্ন করে দিয়েছে।

সাবেক সাধারণ সম্পাদক ইয়াকুব কবির দৈনিক বাংলাকে বলেন, আমি দীর্ঘ ১৫ বছর আওয়ামী লীগ শাসনামলে ক্রিয়া সংস্থার উন্নয়নের ধারা বজায় রেখে উপজেলা পর্যায়ে শেখ রাসেল মিনি স্টেডিয়াম নির্মাণের পাশাপাশি বাণিজ্য ভিত্তিতে যশোর সুমিং পুল ও ক্রীড়া হোস্টেল বাণিজ্যিক ভিত্তিতে নিজের ব্যবস্থা চালু করেছি। তাই সুযোগ সন্ধানী অসাধু ব্যক্তিদের বাদ দিয়ে জেলা প্রশাসক মহোদয় সঠিকভাবে ক্রীড়া সংস্থার উন্নয়নের ভূমিকা রাখতে পারেন বোলে যশোরবাসীর দাবি।


নির্বাচিত

স্বল্প খরচে নিরাপদ পার্সেল সেবা, জনপ্রিয় হচ্ছে স্পিড পোস্ট

* নীলফামারীতে তিন মাসে পার্সেল পাঠানো হয়েছে ৩০৯টি
ছবি: দৈনিক বাংলা
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নাসির উদ্দিন শাহ মিলন, নীলফামারী

দিন দিন জনপ্রিয় হয়ে উঠছে সরকারি ডাক বিভাগের ‘স্পিড পোস্ট’ সেবা। গেল জুলাই থেকে নীলফামারী প্রধান ডাকঘর ছাড়াও উপজেলা পর্যায়ে ডাকঘরগুলোতে শুরু হয়েছে সরকারের বিশেষ এই ডাকসেবা কার্যক্রম।
সাধারণ ডকুমেন্টস, সঞ্চয় ব্যাংক, জিইপি ও রেজিস্ট্রিসেবার পাশাপাশি নতুন এই সেবা কার্যক্রম ইতোমধ্যে ব্যাপক সাড়া ফেলেছে গ্রাহকদের মধ্যে।
নীলফামারী প্রধান ডাকঘর সূত্র জানায়, জুলাই ২৬ থেকে গত ৩০ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত স্পিড পোস্টের মাধ্যমে ৩০৯টি পার্সেল পাঠানো হয়েছে দেশের বিভিন্ন প্রান্তে।

এ থেকে সরকারের রাজস্ব আদায় হয়েছে ২২ হাজার ৫৩৬ টাকা এ ছাড়া দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আসা ২৯৭টি পার্সেল ডেলিভারি দেওয়া হয়েছে গ্রাহকদের মধ্যে।

গত বৃহস্পতিবার (১ অক্টোবর) দুপুরে নীলফামারী প্রধান ডাকঘরে দ্রব্যাদি পাঠাতে আসা নীলফামারী মেডিক্যাল কলেজ থেকে এমবিবিএস সম্পন্ন করা ডা. সুমাইয়া সুলতানা জানান, পড়াশোনা শেষ হওয়ায় প্রয়োজনীয় আসবাব, বইপত্রসহ বিভিন্ন দ্রব্যাদি পাঠাব মৌলভীবাজারে। এ জন্য এখানে এসেছি।

আমার ১৭৩ কেজি দ্রব্যাদি পাঠাতে খরচ হয়েছে মাত্র দেড় হাজার টাকা। এসব দ্রব্যাদি কুরিয়ার যোগে পাঠাতে খরচ হতো ৫ হাজার টাকার মতো। সেখানে অত্যন্ত কম খরচে নিরাপদে পাঠাতে পারছি আমি।

চিকিৎসক সুমাইয়া জানান, আমার বন্ধুদের কাছে খবর নিয়ে আমি এখানে আসি এবং এই সেবা নিরাপদ মনে হয়েছে।
ডাকঘর সূত্র জানায়, প্রথম কেজি ১১ টাকা এবং পরের কেজি ৫ টাকা হারে চার্জ নেওয়া হয় স্পিড পোস্টে।

বিকেলে ও রাতে বুকিং হওয়া মালামাল প্রেরণ করা হয় পার্বতীপুরে। সেখান থেকে রাষ্ট্রীয় ডাকযোগে প্রেরণ করা হয় ঢাকায়।
তিতুমীর এক্সপ্রেস ও রুপসা এক্সপ্রেসযোগে পার্বতীপুরে পাঠানো হয় এসব মালামাল।

স্পিড পোস্টের সেবা নিয়ে খুশি শিক্ষার্থী আব্দুস সাত্তার বলেন, ‘এটা আমার কাছে অত্যন্ত নিরাপদ মনে হয়েছে কারণ এই সেবা সরকারি। কোনো নিরাপত্তার অভাব নেই, যথা সময়ে পৌঁছে যাচ্ছে এবং খরচও কম। এ ক্ষেত্রে কুরিয়ার সার্ভিসের চেয়েও সুবিধা বেশি।
নীলফামারী প্রধান ডাকঘরের পোস্ট মাস্টার মো. শামসুজ্জোহা বলেন, ‘আমরা সপ্তাহের সাত দিনই সেবা দিয়ে থাকি। শুক্রবারও যদি পার্সেল আসে সেটা আমরা ডেলিভারি দিয়ে থাকি।
আমাদের এখানে মূল সমস্যা হলো গাড়ি না থাকা। যদি নিজস্ব গাড়ি থাকত তাহলে তাহলে দুর্ভোগ কমে আসত।
পার্বতীপুরে গিয়ে আমাদের ডাক দিয়ে আসতে হতো না পাশাপাশি এখান থেকে সরাসরি বিভিন্ন উপজেলায় গিয়ে পার্সেল ডেলিভারি করা হতো।

ডাকঘর সূত্র জানায়, গত তিন মাসে ১২ হাজার ৮৭টি ডকুমেন্টস বুকিং করা হয়। এতে সরকারের আয় হয় ১ লাখ ৩২ হাজার ২২ টাকা। এর মধ্যে রেজিস্ট্রি চিঠি ছিল ১১ হাজার ৬০৫টি। প্রধান ডাকঘর কর্মকর্তা মো. শামসুজ্জোহা জানান, দ্রুত কাঁচা জিনিসপত্র শাক-সবজি পাঠানো যাবে এখান থেকে।


নির্বাচিত

করিমগঞ্জে অবৈধভাবে ড্রেজার চালানোয় যুবককে জরিমানা, ড্রেজার জব্দ

করিমগঞ্জে বালিখলা এলাকায় অভিযান চালিয়ে এ জরিমানা করা হয়। ছবি: দৈনিক বাংলা
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
করিমগঞ্জ-তাড়াউল (কিশোরগঞ্জ) প্রতিনিধি

কিশোরগঞ্জের করিমগঞ্জে অবৈধভাবে ড্রেজার পরিচালনার অভিযোগে মো. বায়জিদ হোসেন হৃদয় নামে এক যুবককে ১ লাখ ২০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে। একই সঙ্গে ড্রেজারটি জব্দ করেছে উপজেলা প্রশাসন।

শুক্রবার (২ অক্টোবর) দপুর ১২টার দিকে উপজেলার বালিখলা এলাকায় অভিযান চালিয়ে এ জরিমানা করা হয়। বায়জিদ হোসেন হৃদয় করিমগঞ্জ উপজেলা সদরের বকুল মিয়ার ছেলে।

অভিযান পরিচালনা করেন করিমগঞ্জ উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট অন্তরা সরকার অদ্রি।

তিনি জানান, বালুমহাল ও মাটি ব্যবস্থাপনা আইন, ২০১০ অনুযায়ী অবৈধভাবে ড্রেজার পরিচালনার অভিযোগে বায়জিদ হোসেন হৃদয়কে ১ লাখ ২০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে। পাশাপাশি ড্রেজারটি জব্দ করা হয়।

তিনি আরও বলেন, ‘ভবিষ্যতে এ ধরনের কর্মকাণ্ডে জড়াবেন না এ মর্মে মুচলেকা দিয়েছেন অভিযুক্ত যুবক। অবৈধভাবে ড্রেজার পরিচালনার বিরুদ্ধে এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে বলেও জানান তিনি কর্মকর্তা।


নির্বাচিত

অবৈধভাবে সার মজুদের দায়ে জামায়াত নেতাকে জরিমানা

ছবি: দৈনিক বাংলা
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
সিরাজগঞ্জ প্রতিনিধি

অবৈধভাবে ইউরিয়া সার মজুদের দায়ে সিরাজগঞ্জের কামারখন্দ উপজেলা জামায়াতে ইসলামীর নায়েবে আমির ও সার ডিলার মনিরুল ইসলাম (৪৫) কে ২৫ হাজার টাকা জরিমানা করেছেন ভ্রাম্যমাণ আদালত।

বৃহস্পতিবার (১ অক্টোবর) রাত ১১টার দিকে উপজেলার ভদ্রঘাট ইউনিয়নের ছোট ধোপাকান্দি গ্রামে এ অভিযান পরিচালনা করা হয়।

দণ্ডপ্রাপ্ত মনিরুল ইসলাম মনিরুল ইসলাম ওই গ্রামের আব্দুর রশিদের ছেলে এবং উপজেলা জামায়াতে ইসলামীর নায়েবে আমির।

স্থানীয়দের কাছ থেকে খবর পেয়ে সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট আব্দুল্লাহ আল মামুনের নেতৃত্বে অভিযান চালানো হয়। এ সময় জামায়াত নেতা মনিরুলের বাড়ি থেকে ১৮ বস্তা ইউরিয়া সার জব্দ করা হয়।

সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট আব্দুল্লাহ আল মামুন জানান, অবৈধভাবে সার মজুদের খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে গিয়ে এর সত্যতা পাওয়া যায়। সার ডিলার মনিরুল ইসলাম তার গুদাম থেকে বাড়িতে নিয়ে এসব সার মজুদ করছিলেন। এ ঘটনায় সার ব্যবস্থাপনা আইনে তাকে ২৫ হাজার টাকা অর্থদণ্ড করা হয়েছে।

অভিযানের সময় উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা ফরিদ হোসাইন ও কামারখন্দ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) হাশমত আলীসহ সংশ্লিষ্টরা উপস্থিত ছিলেন।


নির্বাচিত

চট্টগ্রামে কিশোর গ্যাংবিরোধী অভিযানে আটক ৩৯০

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

চট্টগ্রাম রেঞ্জের ১১টি জেলায় পুলিশ পরিচালিত এক বিশেষ অভিযানে মোট ৩৯০ জন কিশোর গ্যাং সদস্য ও জড়িত ব্যক্তিকে আটক করা হয়েছে। শুক্রবার (২ অক্টোবর) পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয় যে, গত বৃহস্পতিবার (১ অক্টোবর) ২৪ ঘণ্টাজুড়ে এই অভিযান পরিচালনা করা হয়।

চট্টগ্রাম রেঞ্জের ডিআইজি আবদুল কুদ্দুছ চৌধুরী জানিয়েন, অভিযানে নোয়াখালী থেকে সর্বোচ্চ ১৭৩ জন, লক্ষ্মীপুরে ৯৯, চট্টগ্রামে ৫১, কক্সবাজারে ৩৯, ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় ১৩, চাঁদপুরে নয় এবং রাঙামাটিতে ছয়জনকে আটক করা হয়।

আটককৃতদের বিষয়ে আইনি পদক্ষেপ প্রসঙ্গে পুলিশ জানায়, তাদের মধ্যে ৩৩৩ জনকে ভবিষ্যতের জন্য মুচলেকা রেখে নিজ নিজ অভিভাবকদের জিম্মায় ছেড়ে দেওয়া হয়েছে। বাকি ৫৭ জনের বিরুদ্ধে অপরাধের মাত্রা অনুযায়ী আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে।

কিশোর অপরাধ প্রতিরোধ, জনশৃঙ্খলা বজায় রাখা এবং সর্বসাধারণের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এ ধরনের গ্যাংবিরোধী বিশেষ অভিযান সামনেও অব্যাহত থাকবে বলে জানিয়েছে পুলিশ।


নির্বাচিত

বাবা-মাকে হারানো এতিম ৫ কন্যার পাশে দাঁড়ালেন প্রধানমন্ত্রী

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

এক মাসের ব্যবধানে মা-বাবার ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার এবং অভাবের সংসারে পাঁচ মেয়ের ভবিষ্যৎ অনিশ্চিত হয়ে পড়ার খবরে সাড়া দিয়ে এতিম কন্যাদের পাশে দাঁড়িয়েছেন প্রধানমন্ত্রী ও বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল-বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান। গণমাধ্যমে বিষয়টি প্রকাশিত হওয়ার পর তা প্রধানমন্ত্রীর দৃষ্টিগোচর হলে তিনি অবিলম্বে ওই পরিবারের পাশে দাঁড়ানোর নির্দেশনা দেন। প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনায় তাঁর অতিরিক্ত প্রেস সচিব আতিকুর রহমান রুমন একটি প্রতিনিধি দল প্রেরণের ব্যবস্থা করেন।

শুক্রবার (২ অক্টোবর) রাজধানীর দোহার উপজেলার বিলাশপুর ইউনিয়নের রাধানগর গ্রামে প্রয়াত কৃষক দম্পতি আবুল কালাম আজাদ ও ফরিদা বেগমের বাড়িতে যায় ‘আমরা বিএনপি পরিবার’-এর একটি প্রতিনিধি দল।

সংগঠনটির সদস্য সচিব কৃষিবিদ মোকছেদুল মোমিন মিথুনের নেতৃত্বে প্রতিনিধি দলটি এতিম পাঁচ কন্যার সঙ্গে সাক্ষাৎ করে তাদের খোঁজখবর নেন। এ সময় প্রধানমন্ত্রীর পক্ষ থেকে পরিবারটির হাতে আর্থিক সহায়তা ও উপহারসামগ্রী তুলে দেওয়া হয়।

সাক্ষাৎ শেষে কৃষিবিদ মোকছেদুল মোমিন মিথুন সাংবাদিকদের জানান, দল-মত নির্বিশেষে অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়ানোর লক্ষ্যেই প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ‘আমরা বিএনপি পরিবার’ সংগঠনটি গঠন করেছেন। সংবাদমাধ্যমে এই পরিবারের দুর্দশার খবর দেখে তিনি তাৎক্ষণিকভাবে সহায়তার নির্দেশ দেন এবং তাঁর সহমর্মিতার বার্তা নিয়েই প্রতিনিধি দল সেখানে গেছে।

তিনি আরও জানান, এ ধরনের অসহায় ও বিপদগ্রস্ত মানুষের পাশে দাঁড়ানোর এই ধারা ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে।

সহায়তা প্রদানকালে আরও উপস্থিত ছিলেন সংগঠনটির সদস্য মাসুদ রানা লিটন, মুস্তাকিম বিল্লাহ, দোহার উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মাসুদ পারভেজ, ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক হাসনাইন নাহিয়ান সজীব, বুয়েট ছাত্রদলের সাবেক সাধারণ সম্পাদক প্রকৌশলী আবু হানিফ ও ছাত্রদল নেতা মশিউর রহমান মহানসহ স্থানীয় নেতৃবৃন্দ। উল্লেখ্য, দীর্ঘদিনের অভাব-অনটন ও ঋণের বোঝার চাপে মাত্র ৩১ দিনের ব্যবধানে কৃষক আবুল কালাম আজাদ ও তাঁর স্ত্রী ফরিদা বেগম মৃত্যুবরণ করেন।


নির্বাচিত

হাসিনা আসুক, এটা আমরা চাই: সংস্কৃতিমন্ত্রী

ছবি: সংস্কৃতিমন্ত্রী অ্যাডভোকেট নিতাই রায় চৌধুরী।
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
মাগুরা প্রতিনিধি

কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের সভাপতি হাসিনা আসুক, এটা আমরা চাই মন্তব্য করে সংস্কৃতিমন্ত্রী অ্যাডভোকেট নিতাই রায় চৌধুরী বলেছেন, ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা দেশে ফিরলে কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার ইঙ্গিত দিয়েছেন। তিনি বলেন, তাকে প্রত্যর্পণের জন্য লিখিতভাবে জানানো হয়েছে। তার দু’একটি মামলায় ফাঁসি রায় হয়েছে এবং অনেকগুলো বিচারাধীন আছে। তিনি এলে আইন তার নিজস্ব গতিতে চলবে।

শুক্রবার (২ অক্টোবর) সকাল মাগুরায় ১ম কমিউনিটি পুলিশ কাবাডি চ্যাম্পিয়নশিপ ২০২৬ উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

তিনি আরও বলেন, গত ১৮ বছরে দেশ অন্ধকারে নিমজ্জিত ছিল। ফ্যাসিবাদী সরকার সব কিছু ধ্বংস করে লাখ লাখ, কোটি কোটি টাকা পাচার করেছে। ফ্যাসিবাদীদের নির্যাতনে বিএনপির নেতাকর্মীরা পালায় নি। আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা ব্যাংক লুটপাটের টাকা নিয়ে ভারতে পালিয়ে যায়। এরা পলাতক শক্তি। বিএনপি কখনও পালায় নি, বিএনপি পালাবার দল নয়। বিএনপি রাজপথে প্রস্তুত আছে।

পুলিশ সুপার মোল্লা আজাদ হোসেনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন সংরক্ষিত নারী আসনের এমপি অ্যাডভোকেট নেওয়াজ হালিমা আরলী, মাগুরার জেলা প্রশাসক মো. মোতাকাব্বীর আহমেদ, জেলা পরিষদের প্রশাসক ও মাগুরা কমিউনিটি পুলিশের সভাপতি মো. আলী আহমেদ, মাগুরা কমিউনিটি পুলিশের সাধারণ সম্পাদক ও পৌর বিএনপির সভাপতি মাসুদ হাসান খান কিজিল প্রমুখ।


নির্বাচিত

ময়মনসিংহে বাস-অটোরিকশার সংঘর্ষ, ৭ যাত্রী নিহত

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
ময়মনসিংহ প্রতিনিধি

ময়মনসিংহে বাস ও সিএনজিচালিত অটোরিকশার মুখোমুখি সংঘর্ষে অন্তত সাতজন নিহত হয়েছেন। শুক্রবার (২ অক্টোবর) দুপুর দেড়টার দিকে নগরীর আকুয়া বাইপাস সড়কের গন্দ্রপা এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে।

নিহতদের সবাই ঘটনাস্থলেই মারা গেছেন বলে কোতোয়ালি মডেল থানার ওসি মোহাম্মদ শিবিরুল ইসলাম নিশ্চিত করেছেন। আহত ও নিহতদের নাম-ঠিকানা এখন পর্যন্ত জানা যায়নি।

প্রাথমিকভাবে জানা গেছে, জামালপুর থেকে ঢাকাগামী রাজীব পরিবহনের একটি বাস বাইপাস সড়ক দিয়ে যাওয়ার সময় মুক্তাগাছাগামী একটি সিএনজিচালিত অটোরিকশার সঙ্গে মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়। এতে অটোরিকশাটি দুমড়েমুচড়ে যায় এবং ঘটনাস্থলেই অন্তত ছয়জন নিহত হন।

ওসি মোহাম্মদ শিবিরুল ইসলাম জানান, দুর্ঘটনার খবর পেয়ে তিনি ঘটনাস্থলের দিকে রওনা হয়েছেন। প্রাথমিকভাবে পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, অন্তত সাতজন নিহত হয়েছেন।


নির্বাচিত

করিমগঞ্জে অবৈধ ড্রেজার পরিচালনার অভিযোগে জরিমানা, ড্রেজার জব্দ

ছবি: দৈনিক বাংলা
আপডেটেড ২ অক্টোবর, ২০২৬ ১৫:২৮
মো: রোমান, কিশোরগঞ্জ (করিমগঞ্জ-তাড়াউল) প্রতিনিধি

কিশোরগঞ্জের করিমগঞ্জে অবৈধভাবে ড্রেজার পরিচালনার অভিযোগে মো. বায়জিদ হোসেন হৃদয় নামে এক যুবককে ১ লাখ ২০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে। একই সঙ্গে ড্রেজারটি জব্দ করেছে উপজেলা প্রশাসন।

বুধবার (২ অক্টোবর) বেলা ১২টার দিকে উপজেলার বালিখলা এলাকায় অভিযান চালিয়ে এ জরিমানা করা হয়। বায়জিদ হোসেন হৃদয় করিমগঞ্জ উপজেলা সদরের বকুল মিয়ার ছেলে।

অভিযান পরিচালনা করেন করিমগঞ্জ উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট অন্তরা সরকার অদ্রি।

তিনি জানান, বালুমহাল ও মাটি ব্যবস্থাপনা আইন, ২০১০ অনুযায়ী অবৈধভাবে ড্রেজার পরিচালনার অভিযোগে বায়জিদ হোসেন হৃদয়কে ১ লাখ ২০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে। পাশাপাশি ড্রেজারটি জব্দ করা হয়।

তিনি আরও বলেন, ভবিষ্যতে এ ধরনের কর্মকাণ্ডে জড়াবেন না এ মর্মে মুচলেকা দিয়েছেন অভিযুক্ত যুবক। অবৈধভাবে ড্রেজার পরিচালনার বিরুদ্ধে এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে বলেও জানান তিনি কর্মকর্তা।


নির্বাচিত

জাতীয় গ্রিড ব্যবহারে নির্ধারিত হলো সঞ্চালন মাশুল

* ইউনিটপ্রতি সর্বোচ্চ ৭ টাকা ১১ পয়সা দরে বিদ্যুৎ কিনবে  বিতরণ সংস্থা * চলতি মাস থেকেই নতুন দর ও মাশুল কার্যকর
ফাইল ছবি
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

বেসরকারি উদ্যোগে বাণিজ্যিক (মার্চেন্ট) সৌরবিদ্যুৎকেন্দ্র স্থাপনের অন্যতম বড় বাধা ছিল উৎপাদিত বিদ্যুতের মূল্য ও জাতীয় গ্রিড ব্যবহারের মাশুল নির্ধারণ। সেই জটিলতা কাটিয়ে এবার মার্চেন্ট সৌরবিদ্যুৎকেন্দ্রের উৎপাদিত বিদ্যুতের বিক্রয়মূল্য ও গ্রিড ব্যবহারের মাশুল নির্ধারণ করেছে বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন (বিইআরসি)। নতুন আদেশ অনুযায়ী, বিতরণ সংস্থাগুলো ইউনিটপ্রতি ৬ টাকা ৯৮ পয়সা থেকে সর্বোচ্চ ৭ টাকা ১১ পয়সা দরে বিদ্যুৎ কিনবে। চলতি 0 অক্টোবর থেকে এ দর কার্যকর হবে। গত বুধবার (৩০ সেপ্টেম্বর) প্রস্তাবের ওপর গণশুনানি শেষে এ আদেশ দেয় বিইআরসি। আদেশ অনুযায়ী, ৩৩ কিলোভোল্ট স্তরে বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড (পিডিবি) ইউনিটপ্রতি ৬ টাকা ৯৮ পয়সা এবং ১৩২ কিলোভোল্ট স্তরে ৭ টাকা ১১ পয়সা দরে বিদ্যুৎ কিনবে।

এ ছাড়া মার্চেন্ট সৌরবিদ্যুৎকেন্দ্র থেকে উৎপাদিত বিদ্যুৎ জাতীয় গ্রিডে সঞ্চালনের জন্য মাশুলও নির্ধারণ করা হয়েছে। ২৩০ কিলোভোল্ট স্তরে প্রতি ইউনিটে ৩৭ দশমিক ৮৯ পয়সা, ১৩২ কিলোভোল্টে ৩৮ দশমিক ২৫ পয়সা এবং ৩৩ কিলোভোল্টে ৩৮ দশমিক ৯৭ পয়সা হারে পাওয়ার গ্রিড বাংলাদেশকে এ মাশুল দিতে হবে।

নবায়নযোগ্য জ্বালানিভিত্তিক কেন্দ্রের বিদ্যুৎ কেন্দ্রীয়ভাবে সমন্বয় ও বিলিংয়ের জন্য একক ক্রেতা হিসেবে পিডিবির সমন্বয় ও নিষ্পত্তি মাশুল নির্ধারণ করা হয়েছে ইউনিটপ্রতি ৫ পয়সা। একই সঙ্গে পরিচালন পদ্ধতি, বিলিং, বিদ্যুতের হিসাব-নিকাশ ও নিষ্পত্তির বিভিন্ন শর্তও নির্ধারণ করেছে কমিশন।

বিইআরসি জানায়, গত ১ এপ্রিল পিডিবি এ বিষয়ে একটি সমন্বিত প্রস্তাব জমা দেয়। এরপর ৭ থেকে ৩০ জুলাইয়ের মধ্যে পাওয়ার গ্রিড বাংলাদেশ এবং ছয়টি বিতরণ সংস্থা পৃথক প্রস্তাব দেয়। এসব প্রস্তাব ও সংশ্লিষ্ট নথি পর্যালোচনার পর ২৩ আগস্ট গণশুনানি অনুষ্ঠিত হয়। শুনানিতে পাওয়া তথ্য ও সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর বক্তব্য বিশ্লেষণ করে কমিশন চূড়ান্ত আদেশ দেয়।

সরকার নবায়নযোগ্য জ্বালানির ব্যবহার বাড়াতে বাণিজ্যিক বিদ্যুৎকেন্দ্র স্থাপনের সুযোগ দিয়েছে। এ ব্যবস্থায় বড় শিল্প ও রপ্তানিমুখী প্রতিষ্ঠান বেসরকারি উৎপাদনকারীর কাছ থেকে সরাসরি বিদ্যুৎ কিনতে পারবে। ক্রেতা ও বিক্রেতা নিজেদের মধ্যে বিদ্যুতের দাম নির্ধারণ করতে পারবে। তবে বিতরণ সংস্থার কাছে বিক্রি করা বিদ্যুতের মূল্য এবং জাতীয় গ্রিড ব্যবহারের মাশুল নির্ধারণ করবে বিইআরসি।

নীতিমালা অনুযায়ী, বাণিজ্যিক কেন্দ্রের উৎপাদিত বিদ্যুতের সর্বোচ্চ ২০ শতাংশ বিতরণ সংস্থার কাছে বিক্রি করা যাবে। দেশের যেকোনো স্থানে সৌরবিদ্যুৎকেন্দ্র স্থাপন করে জাতীয় গ্রিডের মাধ্যমে অন্য এলাকায় বিদ্যুৎ সরবরাহেরও সুযোগ রয়েছে। এ ক্ষেত্রে নির্ধারিত সঞ্চালন ও বিতরণ মাশুল পরিশোধ করতে হবে।

গত বছরের অক্টোবরে ‘নবায়নযোগ্য জ্বালানিভিত্তিক বিদ্যুৎ উৎপাদনে বেসরকারি অংশগ্রহণ বাড়ানোর নীতি, ২০২৫’ গেজেট আকারে প্রকাশ করে সরকার। এতে প্রথমবারের মতো বাণিজ্যিক বিদ্যুৎকেন্দ্র, ক্রেতার সঙ্গে সরাসরি বিদ্যুৎ কেনাবেচার চুক্তি এবং জাতীয় গ্রিড ব্যবহারের আইনি স্বীকৃতি দেওয়া হয়। সৌর, বায়ু, জীবভর ও বর্জ্যসহ পরিচ্ছন্ন উৎসভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্রকে এ নীতিতে সবুজ বাণিজ্যিক কেন্দ্র হিসেবে বিবেচনা করা হয়েছে।

তবে বাণিজ্যিক বিদ্যুৎকেন্দ্র পরিচালনার জন্য বিইআরসির উৎপাদন লাইসেন্স নিতে হবে। আইন বা নীতি পরিবর্তনের কারণে বিনিয়োগকারীর ক্ষতি হলে সরকারি সুরক্ষার ব্যবস্থাও নীতিতে রাখা হয়েছে।


নির্বাচিত

নিউমুরিং কনটেইনার টার্মিনাল চালাবে বিদেশি অপারেটর

* মন্ত্রিসভা কমিটির খসড়া চুক্তির চূড়ান্ত অনুমোদন * মেয়াদ ১৫ বছর
ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

চট্টগ্রাম বন্দরের নিউমুরিং কনটেইনার টার্মিনাল (এনসিটি) পরিচালনা করবে বিদেশি অপারেটর। বৃহস্পতিবার (১ অক্টোবর) অর্থনৈতিক বিষয় সম্পর্কিত মন্ত্রিসভা কমিটির বৈঠকে এ সংক্রান্ত খসড়া চুক্তির চূড়ান্ত অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। এর মাধ্যমে বিদেশি অপারেটরের হাতে এনসিটি পরিচালনার প্রক্রিয়া আরও এক ধাপ এগোল।

অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত বৈঠকে চুক্তির খসড়া অনুমোদন দেওয়া হয়। তবে বৈঠকের পর প্রকাশিত তথ্যে অপারেটরের নাম সরাসরি উল্লেখ করা হয়নি। সরকারি-বেসরকারি অংশীদারত্ব কর্তৃপক্ষের প্রকল্প-সংক্রান্ত তথ্যে অবশ্য সংযুক্ত আরব আমিরাতের দুবাইভিত্তিক প্রতিষ্ঠান ডিপি ওয়ার্ল্ডকে প্রস্তাবিত অপারেটর হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।

সরকারি-বেসরকারি অংশীদারত্ব কাঠামোর আওতায় এনসিটি ও এর অতিরিক্ত কনটেইনার ইয়ার্ড পরিচালনা ও রক্ষণাবেক্ষণের দায়িত্ব বিদেশি অপারেটরকে দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করবে চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষ। সংশ্লিষ্টদের মতে, আন্তর্জাতিক মানের ব্যবস্থাপনা, আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার এবং কনটেইনার ওঠানামার সক্ষমতা বাড়ানোই এ উদ্যোগের অন্যতম উদ্দেশ্য।

ডিপি ওয়ার্ল্ডের সঙ্গে দীর্ঘ আলোচনা: এনসিটি পরিচালনার জন্য ডিপি ওয়ার্ল্ডের সঙ্গে সরকারের আলোচনা বেশ কিছুদিন ধরেই চলছিল। বিভিন্ন পর্যায়ে চুক্তির মেয়াদ, বিনিয়োগ, রাজস্ব ভাগাভাগি এবং পরিচালনাগত শর্ত নিয়ে আলোচনা হয়েছে। সরকারি-বেসরকারি অংশীদারত্ব কর্তৃপক্ষের তথ্য অনুযায়ী, প্রকল্পটির সম্ভাব্য ব্যয় প্রায় ২০ কোটি ৫০ লাখ মার্কিন ডলার।

আলোচনার সঙ্গে সংশ্লিষ্টদের বরাতে বিভিন্ন সময়ে প্রকাশিত প্রতিবেদনে জানা যায়, ডিপি ওয়ার্ল্ড দীর্ঘমেয়াদি পরিচালনার সুযোগ চেয়েছিল। তবে সরকারের পক্ষ থেকে চুক্তির শর্তে দেশের স্বার্থ, বন্দরের আয় এবং অর্থনৈতিক সুবিধাকে গুরুত্ব দেওয়ার কথা বলা হয়েছে।

নৌপরিবহনমন্ত্রী শেখ রবিউল আলম গত ১৮ এপ্রিল চট্টগ্রামে সাংবাদিকদের জানিয়েছিলেন, ডিপি ওয়ার্ল্ডের সঙ্গে সম্ভাব্য চুক্তিতে দেশের স্বার্থ ও জনগণের স্বার্থকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়া হবে। তার ভাষ্য অনুযায়ী, প্রস্তাবের কিছু দিক বাংলাদেশের জন্য ইতিবাচক হলেও কিছু ক্ষেত্রে আর্থিক ঝুঁকিও রয়েছে। তাই সব দিক বিবেচনা করেই সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।

চট্টগ্রাম বন্দরের কনটেইনার ব্যবস্থাপনায় নিউমুরিং কনটেইনার টার্মিনাল গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে। বন্দরের মোট কনটেইনার ওঠানামার বড় একটি অংশ এই টার্মিনালের মাধ্যমে সম্পন্ন হয়। ফলে এনসিটির পরিচালনা ব্যবস্থায় পরিবর্তনের সিদ্ধান্ত দেশের আমদানি-রপ্তানি বাণিজ্যের ওপরও প্রভাব ফেলতে পারে।

২০২৪ সালের জুলাইয়ে আগের পরিচালনাকারীর মেয়াদ শেষ হওয়ার পর বাংলাদেশ নৌবাহিনী নিয়ন্ত্রিত চট্টগ্রাম ড্রাইডক লিমিটেড এনসিটির পরিচালনার দায়িত্ব নেয়। এর আগে দীর্ঘ সময় দেশীয় প্রতিষ্ঠান সাইফ পাওয়ারটেক টার্মিনালটি পরিচালনা করে।

সরকারের পক্ষ থেকে বলা হচ্ছে, আন্তর্জাতিক অভিজ্ঞতাসম্পন্ন অপারেটর যুক্ত হলে টার্মিনালের দক্ষতা বাড়ানো, জাহাজের অপেক্ষার সময় কমানো এবং কনটেইনার ব্যবস্থাপনায় আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার বাড়ানোর সুযোগ তৈরি হতে পারে।

তবে এনসিটি বিদেশি অপারেটরের হাতে দেওয়ার উদ্যোগ নিয়ে বন্দরকেন্দ্রিক শ্রমিক সংগঠন ও বিভিন্ন পক্ষের মধ্যে উদ্বেগ রয়েছে। তাদের প্রধান প্রশ্ন—বিদেশি প্রতিষ্ঠান দায়িত্ব নিলে বর্তমানে কর্মরত শ্রমিকদের চাকরি, সুযোগ-সুবিধা ও ভবিষ্যৎ কর্মসংস্থানের কী হবে।

বন্দর রক্ষা কমিটিসহ বিভিন্ন সংগঠন দীর্ঘমেয়াদি চুক্তির আগে বন্দরের আয়, জাতীয় স্বার্থ, নিরাপত্তা এবং শ্রমিকদের ওপর সম্ভাব্য প্রভাব পর্যালোচনার দাবি জানিয়েছে। তাদের বক্তব্য, বিদেশি প্রতিষ্ঠানকে দায়িত্ব দেওয়ার আগে দেশের সক্ষমতা ও বিদ্যমান পরিচালনব্যবস্থার কার্যকারিতাও বিবেচনায় নেওয়া প্রয়োজন।

অন্যদিকে সরকারের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, চুক্তির শর্ত নির্ধারণের সময় দেশের স্বার্থ এবং সংশ্লিষ্ট সব পক্ষের বিষয় বিবেচনায় রাখা হবে।

এনসিটি পরিচালনার বিষয়ে দেশীয় প্রতিষ্ঠানগুলোর পক্ষ থেকেও প্রস্তাব দেওয়া হয়েছিল। সাইফ-কসমস-এভারেস্টের সমন্বিত একটি প্রতিষ্ঠানগোষ্ঠী ১৫ বছরের জন্য এনসিটি পরিচালনার প্রস্তাব দিয়েছিল। তাদের পক্ষ থেকে বলা হয়েছিল, টার্মিনালের মালিকানা ও নিয়ন্ত্রণ চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের কাছেই থাকবে।

এ ছাড়া মেঘনা গ্রুপও এনসিটি পরিচালনার বিষয়ে আগ্রহ দেখিয়েছিল। ফলে বিদেশি প্রতিষ্ঠানের পাশাপাশি দেশীয় প্রতিষ্ঠানের সক্ষমতা ও প্রস্তাব নিয়েও বিভিন্ন পর্যায়ে আলোচনা হয়েছে।

বৃহস্পতিবারের অনুমোদনের ফলে এনসিটি পরিচালনায় বিদেশি অপারেটর নিয়োগের প্রক্রিয়া গুরুত্বপূর্ণ পর্যায়ে পৌঁছেছে। তবে পূর্ণাঙ্গ চুক্তিতে বিনিয়োগের পরিমাণ, রাজস্ব ভাগাভাগি, পরিচালন ব্যয়, শ্রমিকদের চাকরির নিরাপত্তা, প্রযুক্তি ব্যবহারের শর্ত এবং চুক্তি শেষে সম্পদের ব্যবস্থাপনা কী হবে—এসব বিষয় বিস্তারিতভাবে নির্ধারিত থাকবে।

সরকারি-বেসরকারি অংশীদারত্ব কর্তৃপক্ষের প্রকাশিত তথ্যে ডিপি ওয়ার্ল্ডকে প্রস্তাবিত অপারেটর হিসেবে উল্লেখ করা হলেও বৃহস্পতিবারের অনুমোদনের পর প্রকাশিত সংক্ষিপ্ত তথ্যে প্রতিষ্ঠানের নাম সরাসরি উল্লেখ করা হয়নি। ফলে চূড়ান্ত চুক্তিপত্র প্রকাশের পরই বিদেশি অপারেটরের দায়িত্ব, আর্থিক কাঠামো ও অন্যান্য শর্ত সম্পর্কে পূর্ণাঙ্গ চিত্র পাওয়া যাবে।

চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের জন্য এনসিটি দেশের প্রধান কনটেইনার টার্মিনালগুলোর একটি হওয়ায় এর পরিচালনা পরিবর্তনের সিদ্ধান্তকে গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে দেখা হচ্ছে। সরকারের পক্ষ থেকে দক্ষতা ও সক্ষমতা বাড়ানোর কথা বলা হলেও চুক্তির আর্থিক ও শ্রমসংক্রান্ত শর্তগুলো প্রকাশের পরই এর পূর্ণাঙ্গ প্রভাব স্পষ্ট হবে।


নির্বাচিত

banner close