নুরুজ্জামান লাবু
পেশায় চক্ষু চিকিৎসক হলেও বিভিন্ন বয়সী তরুণ-তরুণীদের নিয়মিতভাবে ইসলামিক সাইকোলজিক্যাল কাউন্সিলিং বা ইসলামি মনস্তাত্ত্বিক পরামর্শ দিতেন ডা. শাকির বিন ওয়ালী। রিসার্স অ্যাকাডেমি ফর মেডিকেল ফিকাহ অ্যান্ড ইসলামিক ট্রিটমেন্ট (র্যামফিট) নামে একটি প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে কাউন্সিলিংয়ের আড়ালে তিনি ওইসব তরুণ-তরুণীকে লক্ষ্যবস্তু করে উদ্বুদ্ধ করতেন জঙ্গিবাদের ভাষায় ‘জিহাদে’।
সাম্প্রতিক সময়ে কুমিল্লা থেকে নিখোঁজ হওয়া সাত তরুণের মধ্যে তিনজন শাকিরের মাধ্যমে উদ্বুদ্ধ হয়ে ঘর ছেড়েছেন। আরেকজন ঘর ছাড়ার প্রস্তুতি নিলেও তার আগেই আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর একটি ইউনিট আটক করে তাকে। এভাবেই অন্তত ১০ থেকে ১২ জনকে জঙ্গিবাদে উদ্বুদ্ধ করে নিষিদ্ধঘোষিত জঙ্গি সংগঠন আনসার আল ইসলামের সদস্য বানিয়েছেন।
পুলিশের কাউন্টার টেররিজম অ্যান্ড ট্রান্সন্যাশনাল ক্রাইম (সিটিটিসি) কর্মকর্তারা বলছেন, বর্তমানে এই নতুন কৌশলে সবচেয়ে বেশি সক্রিয় জঙ্গি সংগঠন আনসার আল ইসলাম। তারা প্রকাশ্যে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে ইসলামি আলোচনার নামে তরুণদের জঙ্গিবাদে আকৃষ্ট করার চেষ্টা করছে।
এসব প্রতিষ্ঠানের মধ্যে র্যামফিট অন্যতম। প্রতিষ্ঠানটি রীতিমতো শুরা বোর্ডের মাধ্যমে পরিচালনা করা হয়। ভিন্ন ভিন্ন বিষয়ে দক্ষতাসম্পন্ন চিকিৎসকদের নিয়ে স্বেচ্ছাসেবী প্রতিষ্ঠান হিসেবে গড়ে তোলা হলেও এর মাধ্যমে হতাশাগ্রস্ত তরুণদের ইসলামিক সাইকোলজিক্যাল কাউন্সিলিং করানো হয়।
রাজধানীর মগবাজারের বিশাল সেন্টারের পাশেই ডমইনো ভবনের চতুর্থ তলায় র্যামফিটের কার্যালয়। রিসার্স অ্যাকাডেমি ফর মেডিকেল ফিকাহ অ্যান্ড ইসলামিক ট্রিটমেন্ট নামের এই প্রতিষ্ঠান যৌথ মূলধন কোম্পানি ও ফার্মসমূহের পরিদপ্তর থেকে গত বছর নিবন্ধন নিয়েছে। প্রচলিত চিকিৎসা পদ্ধতির বাইরে শরিয়াহ হসপিটাল, মেডিকেল ফিকাহর পাশাপাশি অথেনটিক ইসলামিক নলেজ প্রচারসহ বিভিন্ন ফতোয়া কোলাবরেশন করার বিষয়টি উল্লেখ আছে প্রতিষ্ঠানটির ওয়েবসাইটে। শায়খ আবুল হাসনাত কাশিম নামে একজন এই প্রতিষ্ঠানটির শরিয়াহ বোর্ডের প্রধান। এর শুরা সদস্যদের প্রায় সবাই মুফতি। প্রতিষ্ঠানটি ইসলামি প্রচারণার জন্য দেশ-বিদেশ থেকে অনুদান সংগ্রহের জন্যও আহ্বান জানিয়ে থাকে।
সিটিটিসির একজন কর্মকর্তা দৈনিক বাংলাকে জানান, ইতোমধ্যে র্যামফিটের বিষয়ে তারা খোঁজখবর নেয়া শুরু করেছেন। শাকির এবং র্যামফিটের সঙ্গে আন্তর্জাতিক একটি সংগঠনের যোগসূত্র পাওয়া গেছে। তারা জঙ্গিবাদে উদ্বুদ্ধ করার পাশাপাশি দেশ-বিদেশ থেকে অনুদানের নামে যে অর্থ সংগ্রহ করে তা জঙ্গিবাদে অর্থায়ন করছে কি না তাও খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
অবশ্য গত শনিবার র্যামফিটের প্রতিষ্ঠাতা পরিচালক ডা. শরীফুল ইসলাম শিশির এই প্রতিবেদকের কাছে দাবি করেন, তারা কোনো রাজনীতি বা জঙ্গিবাদের সঙ্গে জড়িত নন। শাকির বিন ওয়ালী তাদের প্রতিষ্ঠানে স্বেচ্ছসেবী হিসেবে কাজ করতেন। শাকিরের মতাদর্শকে তারা বিশ্বাস করেন না বলেও দাবি করেন শরীফুল।
তবে সুনির্দিষ্ট বিষয়ে দক্ষতা বা বৈজ্ঞানিক ভিত্তি ছাড়া ইসলামিক সাইকোলজিক্যাল কাউন্সিলিং করানোর বিষয়ে র্যামফিটের প্রতিষ্ঠাতা পরিচালক এই প্রতিবেদককে বলেন, তাদের একজন মনোরোগ চিকিৎসক আছেন। ওই চিকিৎসক ছাড়াও আরও কয়েকজন এই বিষয়ে লন্ডনের আল-বালাঘ একাডেমি থেকে অনলাইনে ডিপ্লোমা করেছেন।
তথ্য-উপাত্ত পর্যালোচনা করে দেখা যায়, আল-বালাঘ বিশ্বব্যাপী আল-কায়েদার প্রোপাগান্ডা প্রচারের একটি প্ল্যাটফর্ম। বাংলাদেশের আনসার আল ইসলামের মিডিয়া শাখা নিয়মিত আল-বালাঘ ম্যাগাজিনের বিভিন্ন কন্টেন্ট বাংলায় অনুবাদের পর নিজেদের ওয়েবসাইটসহ বিভিন্ন টেলিগ্রাম চ্যানেলে প্রকাশ করে। আনসার আল ইসলাম (এএআই) মূলত আন্তর্জাতিক জঙ্গি সংগঠন আল-কায়েদার অনুসারী। তারা নিজেদের আল-কায়েদা ইন ইন্ডিয়ান সাব-কন্টিনেন্ট বা একিউআইএস-এর সদস্য হিসেবে মনে করে। এএআই আগে এবিটি বা আনসারুল্লাহ বাংলা টিম নামে তাদের সাংগঠনিক কার্যক্রম চালিয়েছে। ২০১৫ সালের মে মাসে আনসারুল্লাহ বাংলা টিম ও ২০১৭ সালের মার্চে আনসার আল ইসলামকে নিষিদ্ধ ঘোষণা করে বাংলাদেশ সরকার।
হঠাৎ হিজরত, আশঙ্কা বাড়ছে
পুলিশের কাউন্টার টেররিজম শাখার কর্মকর্তারা বলছেন, ২০১৩ সালে ব্লগার রাজীবকে হত্যার মাধ্যমে আলোচনায় আসা আনসার আল ইসলাম গত কয়েক বছরে শুধু দাওয়াতি কার্যক্রম বা কর্মী সংগ্রহের দিকে মনোযোগী ছিল। ২০১৭ সালের এপ্রিলের পর তারা আর কোনো হত্যা মিশনে অংশ নেয়া বা হামলায় অংশ নেয়নি। গত কয়েক বছরে তারা সদস্যদের হিজরত করতেও পাঠিয়েছে বলে তথ্য পাওয়া যায়নি। কিন্তু সাম্প্রতিক সময়ে তারা আবার নতুন কৌশলে তৎপরতা শুরু করেছে। আগের মতো টার্গেটেড কিলিং বা হামলার জন্য সদস্যদের প্রস্তুত করা হচ্ছে।
আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কর্মকর্তারা বলছেন, হঠাৎ করেই কুমিল্লা থেকে একযোগে সাতজনের কথিত হিজরতের নামে ঘরছাড়ার বিষয়টি তাদের ভাবিয়ে তুলেছে। ওই ঘটনার পর আইনশৃঙ্খলা বাহিনীসহ একাধিক গোয়েন্দা সংস্থা বিষয়টি নিয়ে তদন্ত করতে গিয়ে জানতে পেরেছে, সাম্প্রাতিক সময়ে আরও অন্তত ২০ জন কথিত হিজরতের নামে ঘর ছাড়ে। এদের মধ্যে কয়েকজন নিজেরাই ফিরে আসার পর তাদের ব্যাপক জিজ্ঞাসাবাদের মাধ্যমে পুরো নেটওয়ার্কটি জানার চেষ্টা করছেন আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা।
সিটিটিসির প্রধান ও ডিএমপির অতিরিক্ত কমিশনার মো. আসাদুজ্জামান দৈনিক বাংলাকে বলেন, ‘আনসার আল ইসলাম একটু মাথাচাড়া দিয়ে ওঠার চেষ্টা করছে এটা সত্যি। সাম্প্রতিক সময়ে যারা হিজরত করেছে তারা সবাই অনলাইনের মাধ্যমে জঙ্গিবাদে র্যাডিক্যালাইজড হয়েছে। সাইবার স্পেসে তারা তৎপর আছে। সাম্প্রতিক সময়ে হিজরতের কারণে বড় ধরনের হুমকি আসার আশঙ্কা আছে বলে আমরা মনে করি না, তবে এটি অবশ্যই আমাদের জন্য একটা চ্যালেঞ্জ। আমরা তাদের খুঁজে বের করা এবং আস্তানাসহ পুরো নেটওয়ার্ক সম্পর্কে জানার চেষ্টা করছি ।’
‘এখন পর্যন্ত সুনির্দিষ্ট হামলার আশঙ্কা নেই। তবে এই আশঙ্কা আমরা উড়িয়েও দিই না।’- বলেন পুলিশের এই ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা।
সম্প্রতি অ্যান্টি টেররিজম ইউনিটের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর অনুষ্ঠানে পুলিশের মহাপরিদর্শক ড. বেনজীর আহমেদ বলেন, জঙ্গি সংগঠনগুলো যেকোনো সময় আমাদের ‘সারপ্রাইজ’ দিতে পারে।
নিরাপত্তা বিশ্লেষক মেজর জেনারেল (অব.) আব্দুর রশিদ বলেন, ‘হঠাৎ করেই তরুণদের ঘরছাড়ার মানে হলো জঙ্গিরা ভেতরে ভেতরে সংগঠিত হচ্ছে। এটাকে হালকা করে দেখার সুযোগ নেই। তারা কেন এবং কাদের মাধ্যমে ঘর ছেড়েছে তা গভীর তদন্তের মাধ্যমে বের করে আনতে হবে। একই সঙ্গে সামনে নির্বাচনকে কেন্দ্র করে তৃতীয় কোনো পক্ষ তাদের পৃষ্ঠপোষকতা করছে কি না তাও খতিয়ে দেখতে হবে।’
যেভাবে কার্যক্রম চালাচ্ছে এএআই
জঙ্গিবাদী সংগঠনের কার্যক্রম অনুসরণ করেন এমন বেশ কয়েকজন গবেষক ও বিশেষজ্ঞদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, হোলি আর্টিজানে হামলার পর আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ধারাবাহিক অভিযানে নব্য জেএমবির প্রায় সব শীর্ষ নেতারা হয় গ্রেপ্তার হয়েছে অথবা অভিযানে মারা গেছে। কিন্তু আনসার আল ইসলামের শীর্ষ নেতাদের বেশির ভাগই এখনো অধরা।
২০১১ সাল থেকে পালিয়ে থাকা সেনাবাহিনীর বহিষ্কৃত মেজর সৈয়দ জিয়াউল হক ওরফে মেজর জিয়া আনসার আল ইসলামের অন্যতম একজন শুরা সদস্য হিসেবে সামরিক শাখার দায়িত্বে আছেন। তথ্য-প্রযুক্তি সম্পর্কে বিশদ জ্ঞান থাকা সাবেক সেনা কর্মকর্তা জিয়া আনসার আল ইসলামের সদস্যদের জন্য একটি নিরাপত্তা কৌশল তৈরি করেছেন। কাট আউট ও সিপ্লার সেল পদ্ধতি অনুসরণ করার কারণে এই সংগঠনের কোনো সদস্যকে গ্রেপ্তার করা হলেও তার কাছ থেকে বিস্তারিত তথ্য সংগ্রহ করা যায় না।
সিটিটিসির একজন কর্মকর্তা জানান, বহিষ্কৃত মেজর জিয়ার নিরাপত্তা কৌশল অনুযায়ী সংগঠনের একটি তৈয়ফা বা সেলের সদস্যরা একে অন্যকেও চেনে না। প্রাথমিক প্রশিক্ষণেই তাদের কারও ব্যক্তিগত বিষয়ে প্রশ্ন না করা বা জানতে না চাওয়ার কঠোর নির্দেশনা দেয়া হয়। জিয়ার তৈরি করা কৌশলের কারণেই কুমিল্লায় নিখোঁজ হওয়া তরুণদের একজন ফিরে এলেও তার মাধ্যমে অন্যদের অবস্থান শনাক্ত করা যাচ্ছে না। এমনকি বিচ্ছিন্নভাবে আনসার আল ইসলামের মাশসুল পর্যায়ের কিছু সদস্যকে গ্রেপ্তার করা হলেও শীর্ষনেতাদের শনাক্ত বা গ্রেপ্তার করা যাচ্ছে না। আনসার আল ইসলামের সদস্যরা প্রত্যেকেই ‘কোড ল্যাঙ্গুয়েজ’ ব্যবহার করে। কাউকে গ্রেপ্তারের পর তার পিটি আইডি বা অ্যাপস আইডিতে ঢুকে যোগাযোগ করলেও প্রথম কথপোকথনেই শীর্ষ নেতারা গ্রেপ্তারের বিষয়টি বুঝে যায়।
সম্প্রতি নর্থ সাউথ বিশ্ববিদ্যালয়, ড্যাফোডিল ও বিইউবিটির কম্পিউটার সায়েন্স বিভাগের তিন শিক্ষার্থী সাজিদুল ইসলাম সাজিদ, সাজ্জাদুর রহমান শাওন ও ইফাজ আহমেদ চৌধুরীকে গ্রেপ্তার করে সিটিটিসি। এই সংস্থার কর্মকর্তারা বলছেন, গ্রেপ্তার তিনজনই আনসার আল ইসলামের মাসুল পর্যায়ের সদস্য। কিন্তু তাদের কাছ থেকে সহযোগী বা সংগঠন সম্পর্কিত বিস্তারিত তথ্যই পাওয়া যায়নি। তবে গ্রেপ্তারকৃতদের ইলেকট্রনিক ডিভাইস ফরেনসিক পরীক্ষার পর কিছু গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পাওয়া গেছে।
আনসার আল ইসলামের এই তিন সদস্যকে জিজ্ঞাসাবাদকারী সিটিটিসির অতিরিক্ত উপকমিশনার আহমেদুল ইসলাম জানান, তারা তাদের মোবাইলে যোগাযোগের অ্যাপসগুলো অন্য নামে রেখেছিল। কারও কারও মোবাইলের সিস্টেম থেকে যোগাযোগের অ্যাপস খুঁজে বের করে কিছু তথ্য বের করা হয়েছে। গুরুত্বপূর্ণ ওইসব তথ্য যাচাই-বাছাই করা হচ্ছে।
সংশ্লিষ্টরা আরও জানান, আনসার আল ইসলামের সদস্য সংগ্রহে নিয়োজিত আছে সংগঠনটির দাওয়াহ বিভাগ। তারা দুই ভাবে সদস্য সংগ্রহ করে। এর মধ্যে ইদরাতুল দাওয়াহ ওয়াল নুসরাহ বা আইডিএনের দায়িত্ব হলো সাধারণ শিক্ষায় শিক্ষিত মেধাবী শিক্ষার্থীদের টার্গেট করা। আর কিসমাতুল দাওয়াহ নেটওয়ার্কের কাজ হলো মাদ্রাসার শিক্ষার্থীদের নিজেদের মতাদর্শের দিকে আকৃষ্ট করা।
এখন শীর্ষ নেতৃত্বে কারা?
বাংলাদেশে আল-কায়েদার অনুসারী আনসার আল ইসলাম বা আনসারুল্লাহ বাংলা টিমের আধ্যাত্মিক গুরু ছিলেন শায়খ জসিম উদ্দীন রাহমানী। ২০১৩ সালে গ্রেপ্তার হওয়ার পর থেকে তিনি কারাগারে আছেন। এরপর থেকেই এই জঙ্গি সংগঠনটির শীর্ষ নেতা হিসেবে বহিষ্কৃত মেজর জিয়াকে গণ্য করা হয়।
তবে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কর্মকর্তারা বলছেন, জসিম উদ্দীন রাহমানীর পর এই সংগঠনের আধ্যাত্মিক নেতা হিসেবে গণ্য করা হতো নরসিংদীর একটি মাদ্রাসার শিক্ষক মাওলানা ওসমান গণিকে। ২০১৬ সাল থেকে এখন পর্যন্ত তার আর কোনো খবর পাওয়া যায়নি। জনশ্রুতি আছে, তিনি আত্মগোপনে আছেন। গত কয়েক বছর ধরে সংগঠনটির দাওয়াহ শাখার শুরা সদস্য হিসেবে আছেন শাইখ তামিম আল আদনানী, যদিও তার চেহারা সংগঠনের সদস্যরাই দেখেনি। অবশ্য আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর একটি সংস্থা তার সম্পর্কে কিছু তথ্য পেয়েছে।
সিটিটিসির একজন কর্মকর্তা দৈনিক বাংলাকে বলেন, এই সংগঠনের শুরা পর্যায়ে আছেন এমন অন্তত তিনজনের বিষয়ে তথ্য পাওয়া গেছে। এরা দেশের নামকরা একটি পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের মেধাবী শিক্ষার্থী ছিলেন। এ ছাড়াও আরেকজন গত চার বছর ধরে পাকিস্তান ও আফগানিস্তানের সীমান্তবর্তী ওয়াজারিস্তানে অবস্থান করছে।
জিয়াকে ধরাটাই চ্যালেঞ্জ
আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কর্মকর্তারা বলছেন, অন্যান্য জঙ্গি সংগঠনের শীর্ষ নেতাদের সহজে ধরতে পারলেও বহিষ্কৃত মেজর জিয়াকে ধরাই তাদের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ। তাকে না ধরা পর্যন্ত আনসার আল ইসলামকে নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব হবে না। আত্মগোপনে থাকা জিয়াকে ধরতে ২০ লাখ টাকা পুরস্কার ঘোষণা করা হলেও জিয়া নিজের নিরাপত্তা নিয়ে এতটাই সচেতন যে, তার অবস্থান সম্পর্কেই জানা যাচ্ছে না।
অবশ্য জঙ্গিবাদ প্রতিরোধে নিয়োজিত একজন কর্মকর্তা জানিয়েছেন, তারা অন্তত তিন বার জিয়ার অবস্থান শনাক্তের পর অভিযান চালিয়েছিলেন। এর মধ্যে রাজধানীর বাড্ডায় ১০ মিনিটের জন্য জিয়া তাদের হাতছাড়া হয়ে যায়। ২০১৮ সালের পর থেকে তার অবস্থান সম্পর্কে কোনো তথ্য পাচ্ছে না আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কর্মকর্তারা। তবে তাদের ধারণা, জিয়া এখনো দেশেই আছেন এবং পার্বত্য চট্টগ্রাম এলাকায় থাকার সম্ভাবনা বেশি।
নিরাপত্তা বিশ্লেষক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) এম সাখাওয়াত হোসেন। তিনি বলেন, ‘আনসার আল ইসলাম মূলত আল-কায়েদার অনুসারী। আল-কায়েদায় নতুন নেতৃত্ব এসেছে। এজন্য তারা কিছুটা মাথাচাড়া দিয়ে ওঠার চেষ্টা করছে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে সতর্ক থেকে এসব মোকাবিলা করতে হবে।’
বাংলাদেশের শিক্ষার বেহাল অবস্থার প্রতি শিক্ষার্থী, অভিভাবক, শিক্ষক এবং শিক্ষা বিশেষজ্ঞদের হতাশায় গোটা দেশের জনগণ উদ্বিগ্ন। ৫ আগস্টের ছাত্র-জনতার আন্দোলনের পর থেকে দেশের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোতে উচ্ছৃঙ্খলতা, অব্যবস্থা, অনিয়ম, মব ভায়োলেন্স, বিভিন্ন দাবি আদায়ের হুংকার, লেখাপড়ার প্রতি অনিচ্ছার প্রবণতা লক্ষণীয়। তারপর ধীরে ধীরে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলো নিয়মের পথে যাওয়ার চেষ্টা করলেও গুণগত শিক্ষার মান বাড়ানো যাচ্ছে না। আমরা জানি শিক্ষা হলো- এমন একটি পদ্ধতিগত প্রক্রিয়া, যার মাধ্যমে জ্ঞান, দক্ষতা এবং অভিজ্ঞতা অর্জন করা যায়। জন্মের পর থেকে একটি শিশুকে বড় হওয়া পর্যন্ত, তার সার্বিক বিকাশ থেকে শুরু করে সমাজের একজন সৃষ্টিশীল এবং প্রকৃত মানুষ হিসেবে গড়ে তোলার মাধ্যম হচ্ছে শিক্ষা। এ জন্যই সমাজ-বিজ্ঞানী থেকে শুরু করে সকল মহান ব্যক্তিরাই বলে গেছেন শিক্ষাজাতি গঠন করে এবং শিক্ষাই জাতির মেরুদণ্ড। শিক্ষা জাতির- চরিত্র গঠন করে। আর শিক্ষাঙ্গন হলো-সেই প্রতিষ্ঠান, যেখানে জ্ঞান, দক্ষতা এবং অভিজ্ঞতা অর্জন করার স্থান। শিক্ষাঙ্গন, যেখানে শিক্ষার্থীরা জ্ঞান অর্জনের মাধ্যমে নিজেদের ভবিষ্যৎ গড়ে তোলতে সক্ষম এবং চরিত্র গঠন ও সুশিক্ষায় শিক্ষিত হয়ে প্রকৃত মানুষ হিসেবে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করে থাকে। তাই শিক্ষা ও শিক্ষাঙ্গন একে অপরের পরিপূরক। একটিকে বাদ দিয়ে অন্যটিকে ভাবা অসম্ভব। ফলে শিক্ষার এবং শিক্ষাঙ্গনের পরিবেশ সব সময় থাকতে হবে সর্বাধিক উত্তম। অথচ ব্যাথিত হই যখন দেখি রাজধানীর ঢাকা কলেজ, সিটি কলেজ বা আইডিয়াল কলেজগুলোর শিক্ষার্থীদের মধ্যে অহরহ বিবেধ-সংঘর্ষ। যা কারও জন্য কাম্য নয়। জোড়পূর্বক সচিবালয়ে প্রবেশ করা- শিক্ষার্থীদের কাজ নয়। ইতোমধ্যে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোতে ভদ্রতা, শ্রদ্ধা, সম্মান, ভালোবাসা এবং মানবতার পরিবর্তে হিংসা, বিদ্ধেষ, অহংকার, অহমিকা, মবের দৌরাত্ম্য, অপমান, অপদস্ত, মারামারি, অভদ্রতা ইত্যাদির আর্বিভাবে দেশ ও দেশের মানুষ আতঙ্কিত ও হতাশ। কেউ কী বলতে পারবে আমাদের এই ছোট্ট বাংলাদেশে শিক্ষার এবং শিক্ষাঙ্গনের পরিবেশ সর্বাধিক উত্তম? না কখনোই না বরং দিন দিন খারাপের দিকে। সাম্প্রতিক সময়ে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের পরিবেশ বড় ধরনের প্রশ্নের মুখোমুখি হয়ে দাড়িয়েছে যা কখনোই কাম্য ছিল না। এতে করে মারাত্মকভাবে কলুষিত হচ্ছে শিক্ষা ও শিক্ষাঙ্গনের পরিবেশ। এতে সচেতন মহল আতঙ্কিত । শিক্ষাঙ্গনে যেভাবে লেখাপড়ার পরিবর্তে চাঁদাবাজি বা মব ভায়োলেন্স ঢোকেছে তাতে এক শ্রেণির ছাত্র সমাজ জড়িত হয়ে পড়েছে তাতে গোটা শিক্ষার্থীরা দেশের বাইরে যাওয়ার চিন্তা-ভাবনা করছে। তাদের বক্তব্য এদেশে উচ্চশিক্ষার তেমন পরিবেশ বা শিক্ষার গুণগত মানের অভাব দেখা দিয়েছে। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোতে এক প্রকার অনিয়ম ও দুর্নীতিতে জড়িয়ে পড়া, অনৈতিক অর্থ আদায়, শিক্ষাঙ্গনে হুমকি, তাণ্ডব কিছুই বাদ নেই। এমন কী শিক্ষাঙ্গনে পুলিশের প্রবেশ বা শিক্ষার্থীদের অযৌক্তিক দাবির বিরুদ্ধে পুলিশকে লাঠিপেটা করতে দেখা যায়। অনেক শিক্ষাঙ্গনে শিক্ষক-ছাত্রীর সঙ্গে এমন সব কর্মকাণ্ডে নিজেকে জড়িত করছে তাতে লজ্জায় অভিভাবক সমাজ ক্ষুব্ধ। দেশের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলো থেকে সকল প্রকার অনিয়ম ও উচ্ছৃঙ্খলতা দূর করে শিক্ষাঙ্গনে সুন্দর পরিবেশ গড়ে তোলতে সচেষ্ট হওয়ার জন্য দেশের শিক্ষক-শিক্ষার্থী, অভিভাবক ও সুশীল সমাজকে এগিয়ে আসার আহ্বান জানাই।
লেখক: গণমাধ্যমকর্মী
অনেকে ধরেই নিয়েছিলেন যে শাহিদ কাপুরকেই বিয়ে করবেন কারিনা কাপুর। যেভাবে তাদের প্রেমের গুঞ্জন ছড়িয়ে পড়েছিল গোটা বলিউডে, তা শুনে কারিনা ও শাহিদের পরিবারও এই বিয়ে নিয়ে মোটামুটি ভাবতে শুরু করেছিলেন। বিশেষ করে কারিনা ও শাহিদের চুমুর ভিডিও ভাইরাল হতেই তাদের প্রেম যেন আরও প্রকট হয়ে ওঠে।
কিন্তু হঠাৎই অঘটন। রাতারাতি শাহিদের সঙ্গে বিচ্ছেদ করেন কারিনা। তখন সবে দুজনে শুরু করেছেন, ‘জাব উই মেট’ সিনেমার শুটিং। আর তার মাঝেই এই বিচ্ছেদ কাণ্ড! কিন্তু ওই বিচ্ছেদের খবর সবাই জানলেও, এর নেপথ্যের কারণটা অজানা ছিল বহুদিন। তবে সম্প্রতি কারিনাই এক সাক্ষাৎকারে স্পষ্ট জানালেন, এই শাহিদের সঙ্গে বিচ্ছেদ করার কারণ।
সাইফ আলী খানের সঙ্গে বিয়ে হওয়ার পর পরই শাহিদের সঙ্গে প্রেম প্রসঙ্গে কারিনা জানিয়েছিলেন, তিনি অতীত নিয়ে কথা বলতে চান না। বিশেষ করে শাহিদ নিয়েই তো একেবারেই নয়। কারিনার এমন বক্তব্যে জল্পনা শুরু হয়। নিন্দুকদের মুখে নানান প্রশ্ন, কী এমন হয়েছে, যে কারিনা এই বিষয়ে মুখ খুলছেন না।
শেষমেশ সম্প্রতি নিজেই স্পষ্ট করলেন। কারিনা জানান, শাহিদ বন্ধু হিসেবে ভাল। কিন্তু ওর ইগো বড্ড বেশি, যা কিনা সমস্যা সৃষ্টি করেছিল। তবে শাহিদের এখন অনেক পরিবর্তন হয়েছে। ওরা ভাল থাকুক, সুখে থাকুক।
ফেনীর পাঁচগাছিয়ায় এক শিশুকে ধর্ষণের পর হত্যার অভিযোগ পাওয়া গেছে। ব্রিকফিল্ডের পরিত্যক্ত সেপটিক ট্যাংন্ক থেকে স্থানীয়রা পাঁচ বছরের শিশুটির মরদেহ উদ্ধার করেন। এ ঘটনায় রাসেল (১৮) নামে এক যুবককে আটক করেছে পুলিশ।
বুধবার (২৭ আগস্ট) দিবাগত রাত ১২টার দিকে ফেনী সদর উপজেলার পাঁচগাছিয়া ইউনিয়নের মাথিয়ারা গ্রামের সোনালী ব্রিকফিল্ড এলাকা থেকে শিশুটির মরদেহ উদ্ধার করা হয়।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্র জানায়, মাথিয়ারা এলাকার ওই মেয়ে শিশুটি বুধবার দুপুরের দিকে বাড়ি থেকে নিখোঁজ হয়। পরে আশপাশের এলাকায় স্বজনরা মাইকিং করে খোঁজ করলেও তার সন্ধান মেলেনি। রাত ১২টার দিকে স্থানীয়রা খোঁজাখুঁজির একপর্যায়ে সেখানকার সোনালী ব্রিকসের পরিত্যক্ত সেপটিক ট্যাংকের পাশে মেয়েটির জামা দেখতে পায়। পরে সেখানে পরিত্যক্ত একটি সেপটিক ট্যাংকের পানিতে ডুবন্ত অবস্থায় শিশুটির মরদেহ উদ্ধার করা হয়।
এ ঘটনায় ব্রিকফিল্ডে কর্মরত রাসেল নামে এক যুবককে সন্দেহজনকভাবে আটক করে স্থানীয়রা পুলিশে সোপর্দ করে। আটক রাসেল ময়মনসিংহ জেলার গৌরীপুর উপজেলার কলতাপাড়া গ্রামের নূর হোসেনের ছেলে।
শিশুর মা মুক্তা বেগম বলেন, আমার মেয়ে দুপুর বেলা হারিয়ে যায়। তাকে বিভিন্ন জায়গায় খোঁজাখুঁজি করি। না পাওয়ায় এলাকায় মাইকিং করা হয়েছে। রাত ১১টার সময় ব্রিক ফিল্ডের পাশে লোকজন তার সালোয়ার দেখতে পান। পরে আমার আত্মীয়-স্বজনরা খোঁজাখুঁজি করে। সেখানে সেফটি ট্যাংকের ভিতরে তার মরদেহ পাওয়া যায়। আমার মেয়েকে যেভাবে মারা হয়েছে, আমি তার দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি চাই, আমি তার ফাঁসি চাই। আমার মেয়ের ধর্ষকের বিচার চাই।
শিশুর বাবা সোলায়মান আলী বলেন, আমার পাঁচ বছরের মেয়েকে যে ধর্ষণ করেছে, নির্মমভাবে হত্যা জন্য তার ফাঁসি চাই। আমি বাংলাদেশের সবার কাছে আমার মেয়ের এই নির্মম ঘটনার বিচার চাই। এ ধরনের ক্ষতি যেন আর কারো না হয়।
স্থানীয় বাসিন্দারা বলেন, এটি অত্যন্ত মর্মান্তিক ঘটনা। শিশুটির মরদেহ উদ্ধারের সময় শরীরে কোনো কাপড় ছিল না। ধারণা করা হচ্ছে তাকে ধর্ষণের পর হত্যা করা হয়েছে।
স্থানীয় সাবেক ইউপি সদস্য নূর নবী বলেন, আটক ছেলেটি প্রায় দুই বছর ধরে ওই ব্রিকফিল্ডে কাজ করে। তার বাড়ি ময়মনসিংহে। মেয়েটির বাবার বাড়ি ভোলা ও মায়ের বাড়ি ময়মনসিংহ জেলার মুক্তাগাছার রসুলপুরে হলেও কাজের সুবাদে তারা মাথিয়ারায় একটি কলোনিতে বসবাস করেন। পূর্ব থেকে মেয়েটি রাসেলকে চিনত। রাসেল দুপুরে শিশুটিকে ব্রিকফিল্ডে এনে খাবার দেয়। পরে ধর্ষণ করে হত্যার পর মরদেহ সেপটিক ট্যাংকে ফেলে দিয়েছে বলে জিজ্ঞাসাবাদে স্বীকার করেছে।
ফেনীর অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর সার্কেল) মো: আরিফুল ইসলাম সিদ্দিকী বলেন, পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে শিশুটির মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য ফেনী ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালের মর্গে পাঠিয়েছে। এ ঘটনায় ইতোমধ্যে রাসেল নামে এক যুবককে আটক করা হয়। পুলিশের জিজ্ঞাসাবাদে আটককৃত রাসেল ঘটনার সাথে জড়িত বলে প্রাথমিকভাবে স্বীকার করেছে। আইনানুযায়ী পরবর্তী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের ও প্রক্রিয়া চলছে।
নেত্রকোনায় জেলা জামায়েত ইসলামীর ষাণ্মাসিক রুকন সম্মেলন ২০২৫ নেত্রকোনা মোক্তারপাড়াস্থ জেলা পাবলিক হল মিলনায়তনে বৃহষ্পতিবার (২৭ আগস্ট) দুপুরে অনুষ্ঠিত হয়। এতে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জামায়াতের কেন্দ্রীয় নায়েবে আমির সাবেক এমপি অধ্যাপক মজিবুর রহমান । প্রধান অতিথি তার বক্তব্যে বলেন, জীবন দিয়ে হলেও এদেশে কোরআনের আইন বাস্তবায়ন করবো। সকল সরকারই ইসলামের সাথে গাদ্দারী করেছে। এখন মানুষ জামায়াতে ইসলামীর দিকে তাকিয়ে আছে। আমরা চেষ্টা করছি ইসলামের পক্ষে একটি ভোট বাক্স দেওয়ার। নির্বাচনী তফসিল ঘোষণা হলে এটা বাস্তবে রূপ নিবে ইনশাআল্লাহ। পি আর পদ্ধতিতে নির্বাচন নিয়ে তিনি বলেন, এদেশের সকল মানুষের ভোটের মূল্যায়ন করার জন্য উত্তম পদ্ধতি হলো পি আর পদ্ধতি। আমরা চাই যে এক লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড নিশ্চিত করেই আমরা নির্বাচনে যাবো। কোন ভোট ডাকাতের হাতে দেশকে ছেড়ে দিবোনা। ভোট কেন্দ্র ও ভোট বাক্স পাহাড়া দিতে হবে। জামায়াত এদেশের মানুষকে একটি কল্যাণ রাষ্ট্র উপহার দিবে। এ সম্মেলনে জেলা জামায়াতের আমীর অধ্যাপক মাওলানা ছাদেক আহমাদ হারিছের সভাপতিত্বে ও সেক্রেটারী জেনারেল অধ্যাপক মাওলানা মাহবুবুর রহমানের সঞ্চালনায় রুকন সম্মেলনে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জামায়াতের কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সেক্রেটারী ড. ছামিউল হক ফারুকী, নেত্রকোণার ৪ আসনের জামায়াতের মনোনীত প্রার্থী ময়মনসিংহ মহানগরীর সাংগঠনিক সম্পাদক অধ্যাপক আল হেলাল তালুকদার, জেলা জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি নেত্রকোনা-৩ আসনের জামায়াতের মনোনীত প্রার্থী মো. দেলোয়ার হোসেন সাইফুল, সহকারী সেক্রেটারি ও নেত্রকোনা ৫ আসনের জামায়াতের মনোনীত প্রার্থী অধ্যাপক মাছুম মোস্তফা, জেলা কর্মপরিষদ সদস্য নেত্রকোনা-১ আসনের জামায়াতের মনোনীত প্রার্থী অধ্যাপক মাওলানা আবুল হাসিম, জেলা শ্রমিক বিভাগের সভাপতি, জামায়াতের জেলা শুরা ও কর্মপরিষদ সদস্যবৃন্দ, এসময় সারা জেলা থেকে প্রায় ৬ শতাধিক পুরুষ ও মহিলা রোকন সম্মেলনে অংশগ্রহণ করেন।
দেশের সর্ব বৃহত্তম যশোরের বেনাপোল স্থলবন্দর দিয়ে গত এক সপ্তাহে ভারত থেকে পাঁচটি চালানে মোট ১৪৬০ মেট্রিক টন চাল আমদানি হয়েছে। সপ্তাহের শেষ দিনে আজ বৃহস্পতিবার ১২ টি ট্রাকে ৪২০ মেট্রিক টন চাল আমদানি হয়েছে বেনাপোল বন্দর দিয়ে।
বৃহস্পতিবার (২৮ আগস্ট) দুপুরে বিষয়টি নিশ্চিত করেন বেনাপোল বন্দরের পরিচালক শামীম হোসেন।
তিনি জানান, গত শনিবার (২৩ আগস্ট) ৯টি ট্রাকে ৩১৫ মেট্রিক টন, রবিবার (২৪ আগস্ট) ৩টি ট্রাকে ১০৫ মেট্রিক টন, সোমবার (২৫ আগস্ট) দুটি চালানে ৬২০ মেট্রিক টন এবং আজ বৃহস্পতিবার (২৮ আগস্ট) সকালে ১২ ট্রাকে ৪২০ মেট্রিক টন চাল বেনাপোল বন্দরে প্রবেশ করেছে। গত এক সপ্তাহে সর্বমোট ১৪৬০ মেট্রিক টন চাল বেনাপোল বন্দরে প্রবেশ করেছে।
আমদানিকারকরা জানান, দেশের বাজার স্থিতিশীল রাখতে সরকার ভারত থেকে মোটা চাল আমদানির উদ্যোগ নিয়েছে। এতে অভ্যন্তরীণ বাজারে চালের দাম কমে আসবে বলে আশা করা হচ্ছে।
আমদানিকারক প্রতিষ্ঠান গনি এন্টারপ্রাইজ এর স্বত্বাধিকারী আব্দুস সামাদ বলেন, ‘গত শনিবার ৩১৫ মেট্রিক টন চাল বেনাপোল বন্দরে প্রবেশ করে। রবিবার তিনটি ট্রাকে ১০৫ মেট্রিক টন, সোমবার দুটি চালানে ৬২০ মেট্রিক টন চাল আমদানি করেছি। আজ বৃহস্পতিবার ৬২০ মেট্রিক টন চাল বেনাপোল বন্দরে প্রবেশ করেছে। পন্যচালান গুলির বন্দর থেকে ছাড় করনের কাজ করছেন ভূইয়া এন্টারপ্রাইজ এবং কাবেরী এন্টারপ্রাইজ নামে দুজন সিএন্ডএফ ব্যবসায়ী।
সিঅ্যান্ডএফ এজেন্টের প্রতিনিধি বাবলুর রহমান বলেন, ‘আমদানিকৃত চাল ছাড়করণের জন্য কাস্টমসে প্রয়োজনীয় ডকুমেন্টস জমা দেওয়া হয়েছে। বৃহস্পতিবার কাস্টমস ক্লিয়ারেন্সের মাধ্যমে চালগুলোর খালাস প্রক্রিয়া সম্পন্ন হবে।’
বেনাপোল সিঅ্যান্ডএফ এজেন্ট স্টাফ অ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক সাজেদুর রহমান জানান, চার মাস বন্ধ থাকার পর গত বৃহস্পতিবার থেকে বেনাপোল বন্দর দিয়ে ভারত থেকে চাল আমদানি শুরু হয়েছে। বন্দর দিয়ে চাল আমদানি পুনরায় চালু হওয়ায় কর্মচঞ্চলতা ফিরে এসেছে বেনাপোল বন্দরে।
বেনাপোল বন্দরের পরিচালক শামীম হোসেন বলেন, ‘আমদানিকৃত চাল দ্রুত ছাড়করণের জন্য কর্মকর্তাদের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। এর আগে, সর্বশেষ চলতি বছরের ১৫ এপ্রিল এই বন্দর দিয়ে চাল আমদানি হয়েছিল।’
হাত পাততে ইচ্ছুক নন তিনি। তার নিজের সম্পত্তি ফেরত চান। তিনি ইমরান হোসেন এমরান। বয়স ৫১ বছর। বাসা কুমিল্লা নগরীর তেলিকোনা গোবিন্দ পুকুর পাড়ে। মাথার অংশ ছাড়া শরীরের প্রায় পুরোটা অচল। হাত কিছুটা নাড়াতে পারেন, তবে তেমন নিয়ন্ত্রণ নেই। ৪বছর বয়সে মা জাহানারা বেগম ও ১৬ বছর বয়সে বাবা তোফাজ্জল হোসেন ওরফে গোলাম হায়দারকে হারিয়েছেন। না পারছেন খাবার জোগাতে, না চিকিৎসা করাতে। নানার বাড়িতে তার মায়ের ক্রয় করা সম্পত্তি মামা ও মামাতো ভাইয়েরা দখল করে রেখেছেন বলে তিনি দাবি করেন। তিনি চান সম্পত্তিগুলো দখলমুক্ত করতে। জমির আয় থেকে চিকিৎসা ও ভরণপোষণ মেটাতে।
ইমরান জানান,তার নানার বাড়ি চাঁদপুর হাজীগঞ্জ পৌর এলাকার মুকিমাবাদে। নানা আবদুল লতিফ। নানার বাড়িতে তার মা জাহানারা বেগম সেখানে প্রায় ৪শতক জায়গা ক্রয় করেন ৬ দশক আগে। এছাড়া নানার সম্পত্তির অংশ পাবেন প্রায় আধা শতক। এ সম্পত্তির বর্তমান বাজার মূল্য কোটি টাকার বেশি। সম্পত্তি উদ্ধারে তিনি মামার পরিবারের বিরুদ্ধে চাঁদপুর আদালতে মামলা দায়ের করেছেন।
ইমরান হোসেনের বাসায় দেখা যায়, তিনি হুইল চেয়ারে বসা। ভরাট চেহারা। হাসিমাখা মুখ। দেখলে মনে হবে সুস্থ মানুষ। সামনে একটি ট্রাইপডে মোবাইল ফোন লাগানো। ফোনে কল দিয়ে তিনি স্বজনদের ঢেকে এনে তার চাহিদা পূরণ করেন। তিনি কারো সাহায্য ছাড়া বিছানায়ও উঠতে পারেন না। স্বজনের সহযোগিতায় বিছানায় গেলেও শরীর নাড়াতে পারেন না। তার পায়খানা প্রশ্রাবেরও কোন নিয়ন্ত্রণ নেই।
ইমরান হোসেন বলেন, ২০১০ সালে দক্ষিণ কুরিয়ার ইয়াংজুসি শহরে কাজ করতেন। ঘাড়ে ব্যথা পাওয়ার পর তনদুচন শহরের একটি হাসপাতালে ভর্তি হন। ৬ বছর বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি ছিলেন। সেখানে টাকা বকেয়ার জন্য হাসপাতাল থেকে রোগী নামিয়ে দেয় না, তবে কম খরচের হাসপাতালে পাঠিয়ে দেয়। দূতাবাস,বিদেশি কমিউনিটির সহযোগিতায় অর্ধমৃত ইমরান ২০১৭ সালে দেশে ফিরে আসেন।
দুই বোন তাহমিনা বেগম ও শামীমা আক্তার বলেন,আমার মামা ও মামাতো ভাইয়েরা মায়ের ক্রয় করা সম্পত্তি ও ওয়ারিশ অংশ দখল করে রেখেছে। সম্পত্তি ফিরে পেলে আমার ভাই ও আমাদের উপকার হতো। বিশেষ করে আমার ভাইয়ের অবস্থা খুব খারাপ। তাকে ভালো চিকিৎসার জন্য টাকার প্রয়োজন। এছাড়া তার পরিবারের ব্যয় বহন করাও কঠিন হয়ে পড়েছে।
স্থানীয় সমাজ সেবক মাজেদুল হক চৌধুরী বলেন,ইমরান আমাদের প্রতিবেশী। তার অল্প বয়সে বাবা-মা মারা যান। সে বিদেশে গিয়ে পঙ্গু হয়ে দেশে আসে। তার খাবার ও চিকিৎসার অনেক কষ্ট হচ্ছে। তার মায়ের ক্রয় করা সম্পত্তি ফিরে পেলে অনেক উপকার হবে।
ইমরানের ৫ মামার মধ্যে বেঁচে আছেন দুধ মিয়া। তাকে ফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করে পাওয়া যায়নি।
মামাতো ভাই মো. শাহ আলম বলেন, সম্পত্তি নিয়ে তাদের পরিবারের বিরুদ্ধে মামলার বিষয়ে তিনি জানেন না। ইমরান তাদের ফুপাতো ভাই। তার কাগজপত্র থাকলে সে সম্পত্তি পাবে এতে কোন সমস্যা নেই। এ নিয়ে তিনি আর বিস্তারিত কিছু বলতে চাননি।
আবাসিক এলাকায় মিল কারখানা বন্ধ ও ভারী যানবাহন চলাচল বন্ধের দাবিতে মানববন্ধন করেছে মাগুরা পৌরসভার ৫ নং ওয়ার্ডের পারনান্দুয়ালী গুলশানপাড়ার এলাকাবাসী।
বৃহস্পতিবার সকালে মাগুরা পৌর বাস টার্মিনাল সংলগ্ন গুলশানপাড়া এলাকায় এই মানববন্ধন ও বিক্ষোভ অনুষ্ঠিত হয়।
মানববন্ধন ও বিক্ষোভ সমাবেশে বক্তব্য রাখেন, হাবিবুর রহমান, মো. দেলোয়ার হোসেন, গোলেবার হোসেন, আব্দুল মান্নান, ইসরাফিল হোসেন, জোসনা বেগম, শিউলি বেগম, ইউসুফ আলী সহ এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ ও স্থানীয় বাসিন্দারা।
এসময় বক্তারা বলেন, তাদের বসবাসের এই আবাসিক এলাকায় একটি পলিথিন কারখানা রয়েছে যা পরিবেশ ও এলাকাবাসীর স্বাস্থ্যের জন্য অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠেছে। এছাড়া এলাকায় নতুন করে একটি বৃহৎ আকারের বিস্কিট কারখানা অবৈধভাবে সরকারি জমির কিছু অংশ দখল করে নির্মাণাধীন রয়েছে। এতে করে পরিবেশ দূষণ ও স্বাস্থ্য ঝুঁকির মধ্যে রয়েছে এলাকার মানুষ। নির্মাণাধীন বিস্কুট কারখানাটি চালু হলে এর থেকে নির্গত ধোয়া, বর্জ্য ও শব্দ দূষণের ফলে এলাকাটি বসবাসের অযোগ্য হয়ে যাবে।
এর পাশাপাশি মহাসড়ক থেকে এলাকায় প্রবেশের পথটি কারখানার মালামাল পরিবহনের জন্য ভারী যানবাহন চলাচল করায় রাস্তাটি ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এই সড়কটি প্রায় চলাচলের অযোগ্য হয়ে পড়েছে।
তারা আরো বলেন ,আমরা এ বিষয়ে স্থানীয় প্রশাসন ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষণ করছি। সরজমিনে তদন্ত সাপেক্ষে কলকারখানা বন্ধ ও ভারি যানবাহন চলাচল বন্ধের ব্যবস্থা গ্রহণ করতে কর্তৃপক্ষের কাছে দাবি জানাচ্ছি।
অবশেষে নড়াইলের সুমন মোল্যা(১৫)হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত শাহাদাৎ হোসেন নামে একজনকে গ্রেপ্তার করেছে যশোর পিবিআই পুলিশ । বুধবার (২৭ আগস্ট) রাত দেড়টার দিকে লোহাগড়া উপজেলার রঘুনাথপুর গ্রামের শ্বশুরবাড়ি থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।
যশোর পিবিআই ইউনিটের দায়িত্বপ্রাপ্ত পুলিশ সুপার রেশমা পারভীন (পিপিএম) বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
পুলিশ ও এলাকার মানুষের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে,সুমন মোল্যা নড়াইলের লোহাগড়া উপজেলার লাহুড়িয়া ইউনিয়নের ডহরপাড়া গ্রামের বিল্লাল মোল্যার ছেলে। সুমনের বাবা একজন আইসক্রিম বিক্রেতা। বাবা অসুস্থ হয়ে পড়ায় সংসার খরচ যোগাতে সে ২১ আগস্ট সকালে বাবার ভ্যানগাড়ি নিয়ে রাস্তায় বের হয়। ছেলে বাড়ি ফিরে না আসায় নানা চিন্তায় মা সামেলা বেগমের নির্ঘুম রাত কাটে। পরিশেষে সামেলা বেগম ২২ আগস্ট লোহাগড়া থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি করেন।
ব্যাপক খোঁজ নেওয়ার এক পর্যায়ে ভ্যানটি গোপালগঞ্জ জেলার কাশিয়ানী উপজেলার গোপালপুর বাজারের পাশ থেকে উদ্ধার করা হয়। আর নিখোঁজের চার দিন পর (গত ২৪ আগস্ট) হাত=পা বাধা অবস্থায় সুমনের মরদেহ লোহাগড়া উপজেলার কামঠানা গ্রামের পানি উন্নয়ন বোর্ডের খাল থেকে উদ্ধার করা হয়।
জানতে চাইলে পিবিআই যশোর ইউনিটের পুলিশ সুপার রেশমা পারভীন বলেন, ঘটনাটি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে নজরে আসে এবং ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নির্দেশে মামলাটির তদন্তভার গ্রহণ করা হয়। তিনি বলেন,তদন্তকালে তথ্য প্রযুক্তির সহায়তায় পিবিআই প্রধান মো.মোস্তফা কামাল (অ্যাডিশনাল আইজিপি)র দিক নির্দেশনায় কাজটি সহজতর হয়। তিনি বলেন, পিবিআই যশোর ইউনিটের পরিদর্শক রিপন কুমার সরকার, এ, এস, আই রতন মিয়া, এ, এস, আই মো. মাসুদের নেতৃত্বে একটি চৌকস দল মামলার আসামি লাহুড়িয়া তালুকপাড়ার রমজান শেখের ছেলে শাহাদাৎ হোসেনকে (১৯) রাত দেড়টার দিকে তার শ্বশুরবাড়ি লোহাগড়া উপজেলার রঘুনাথপুর গ্রাম থেকে গ্রেপ্তার করা হয়।
এক প্রশ্নের উত্তরে তিনি আরো বলেন,প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে জানা যায়, শাহাদাৎ হোসেন টাকার প্রয়োজনে ভ্যান চুরির মিশনে বাড়ি থেকে বের হয় । সুমনকে হত্যা করে তার ভ্যান নিয়ে গোপালগঞ্জ জেলার কাশিয়ানূ উপজেলার গোপালপুর বাজারে পৌঁছালে ভ্যানের ব্যাটারির চার্জ ফুরিয়ে যায় এবং সেখানে ফেলে সে পালিয়ে যায় । আসামিকে আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে।
কুমিল্লা সদর উপজেলার কাটাবিল এলাকায় বৃহস্পতিবার ভোররাতে সেনা অভিযানে মাদক ও দেশীয় অস্ত্রসহ একজনকে আটক করেছে সেনাবাহিনী।
আটককৃত হানিফ মিয়া ওরফে আনু মিয়া কুমিল্লা নগরীর ১৫ নম্বর ওয়ার্ড কাটাবিল এলাকার মৃত কালা মিয়ার ছেলে।
অভিযানের সময় তার কাছ থেকে ১ হাজার ৮৯৭ পিস ইয়াবা, ২০ গ্রাম গাঁজা, ১ বোতল ফেনসিডিল ২ টি চাইনিজ কুড়াল, ১ টি রামদা ২ টি চাপাতি ও একটি সিজার জব্দ করা হয়।
কোতয়ালী মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ওসি মহিনুল ইসলাম জানান, সেনা অভিযানে মাদক ও দেশীয় অস্ত্রসহ আটক একজনকে থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে। তার বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ শেষে আদালতে প্রেরণ করা হয়।
নারায়ণগঞ্জ জেনারেল (ভিক্টোরিয়া) হাসপাতালের একটি অ্যাম্বুলেন্সে আগুন লাগার ঘটনা ঘটেছে । এতে অ্যাম্বুলেন্স চালক বিজয় দগ্ধ হয়েছে। বৃহস্পতিবার (২৮ আগস্ট) রাতে শহরের এই হাসপাতালে এ ঘটনা ঘটে। পরে খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা গিয়ে আগুন নিয়ন্ত্রণ করে।
দগ্ধ অ্যাম্বুলেন্স চালক বিজয় শহরের জল্লারপাড় এলাকার বাসিন্দা। তাকে উদ্ধার করে রাজধানীর জাতীয় বার্ণ ইনিস্টিটিউটে নেওয়া হয়েছে।
ঘটনার বর্ণনা দিয়ে অ্যাম্বুলেন্সের মালিক ইকবাল খান তিনি বলেন, রোগি উঠানোর উদ্দেশ্যে অ্যাম্বুলেন্সটি হাসপাতালের সামনে রাখা হয়েছিল। গাড়ির দরজা খোলার সাথে সাথে হঠাৎ বিকট শব্দে বিস্ফোরণ হয়ে অ্যাম্বুলেন্সে আগুন লেগে যায়। এ সময় অ্যাম্বুলেন্স চালক বিজয় আগুনে দগ্ধ হয়েছেন। তার হাত পুড়ে গেছে। তাকে উদ্ধার করে ঢাকার বার্ণ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।
বিষয়টি নিশ্চিত করে নারায়ণগঞ্জ ফায়ার সার্ভিসের উপ সহকারী পরিচালক আব্দুল্লাহ আল আরেফিন বলেন, রাত ৮ টা ৫ মিনিটে হঠাৎ করে অ্যাম্বুলেন্সে আগুন লাগে। অ্যাম্বুলেন্সটি ঢাকার উদ্দেশ্যে রোগি নিয়ে যাওয়ার জন্য (স্টার্ট) চালু দিলে আগুন ধরে যায়। এ সময় অ্যাম্বুলেন্সের ভেতরে কোন রোগি ছিলনা। তবে অ্যাম্বুলেন্সের চালক দগ্ধ হয়েছেন। তাকে উদ্ধার করে রাজধানীর জাতীয় বার্ণ ইনিস্টিটিউটে নিয়ে গেছে। এছাড়া আর কেউ দগ্ধ বা আহত হওয়ার খবর পাওয়া যায়নি। তবে এ ঘটনায় হাসপাতালের অনেক রোগির মধ্যে প্যানিক সৃষ্টি হয়েছিল। এ খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা গিয়ে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে ও রোগিদের শান্ত করে।
তিনি আরও বলেন, অ্যাম্বুলেন্সের ভেতরে দুটি সিলিন্ডার থেকে গ্যাস বের হচ্ছিল। আগুনের ব্যাপকতা অনেক বেশি ছিল। ধারণা করা হচ্ছে সেই গ্যাস থেকে আগুনের সূত্রপাত হয়েছে।
'শিক্ষককে সময়মতো ক্লাসে আসতে বলায় ৩৩ শিক্ষার্থীকে পেটালেন সহকারী শিক্ষক' শিরোনামে গত ২৬ আগস্ট দৈনিক বাংলা ও নিউজ বাংলা২৪. কম অনলাইনে সংবাদ প্রকাশের জেরে দৈনিক বাংলা ও নিউজবাংলা২৪.কম এর জয়পুরহাট জেলা প্রতিনিধি রাব্বিউল হাসান রমিকে গত বুধবার রাতে প্রাণ নাশের হুমকি দিয়েছেন সহকারী শিক্ষক নাফসি তালুকদার। এ ঘটনায় ভুক্তভোগী সাংবাদিক কালাই থানায় সাধারণ ডায়েরি ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা বরাবর একটি লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন।
স্থানীয় সাংবাদিকরা জানান, কালাই ময়েন উদ্দিন সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক নাফসি তালুকদার নবম শ্রেণির ৩৩ জন শিক্ষার্থীকে বেত্রাঘাত করার ঘটনাটি সংবাদমাধ্যমে প্রকাশ হওয়ার পর থেকে ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠেন। এরপর বিভিন্ন মাধ্যমে তিনি সংশ্লিষ্ট সংবাদ প্রকাশকারী কয়েকজন সাংবাদিককে ফোন করে এবং লোক পাঠিয়ে হুমকি দেন।
সাংবাদিক মহল বলছে, শিক্ষার্থীদের নির্যাতন ও অন্যায় কর্মকাণ্ড ধামাচাপা দিতে গিয়ে এখন সংবাদকর্মীদের ভয় দেখানো হচ্ছে। তারা অভিযুক্ত শিক্ষকের বিরুদ্ধে দ্রুত দৃষ্টান্তমূলক ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন। এছাড়াও বিষয়টি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে ব্যাপক ছড়িয়ে যাওয়ায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন।
হুমকি পাওয়া নাগরিক টেলিভিশন ও দৈনিক শিক্ষাডটকমের জেলা প্রতিনিধি মাহফুজার রহমান বলেন, সংবাদ প্রকাশের পর অভিযুক্ত শিক্ষক নাফসি তালুকদার আমাকেও ফোন দিয়ে হুমকি দিয়েছে। সত্য সংবাদ প্রকাশ করতে গিয়ে এ ধরনের হুমকি মুক্ত সাংবাদিকতাকে প্রশ্নবিদ্ধ করছে।
জয়পুরহাট প্রেসক্লাবের কয়েকজন জ্যেষ্ঠ সাংবাদিক জানান, শিক্ষক নাফসি তালুকদারের হুমকি দেওয়ার বিষয়টি তারা গুরুত্বের সঙ্গে দেখছেন। সাংবাদিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রশাসনের প্রতি আহ্বান জানান তারা।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শামিমা আক্তার জাহান বলেন, সাংবাদিক রাব্বিউল হাসান রমি লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন। আমরা তার আগের অভিযোগগুলোর সঙ্গে এটিও আমলে নিয়েছি।
কালাই থানার ওসি জাহিদ হোসেন বলেন, সাংবাদিক রাব্বিউল হাসান রমি থানায় সাধারণ ডায়েরি করেছেন। তদন্ত সাপেক্ষে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
এর আগে গত মঙ্গলবার শিক্ষার্থীদের বেত্রাঘাত করার অভিযোগে ওই শিক্ষককে শোকজ করে বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ। একইসঙ্গে তার বিরুদ্ধে সরকারি জায়গা দখল করে দলীয় অফিস খোলা, সহকর্মী শিক্ষক ও ডাক্তার-নার্সদের সঙ্গে খারাপ ব্যবহারসহ একাধিক অভিযোগ তদন্তাধীন রয়েছে।
শিশুদের টাইফয়েড প্রতিরোধে “টাইফয়েড টিকাদান ক্যাম্পেইন ২০২৫” সফল বাস্তবায়নে সিটি কর্পোরেশন পর্যায়ে অ্যাডভোকেসী সভা আজ বৃহস্পতিবার ঢাকায় নগরভবন অডিটোরিয়ামে অনুষ্ঠিত হয়েছে। ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা জনাব মোঃ জহিরুল ইসলাম উপর্যুক্ত সভায় সভাপতি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন। দেশব্যাপী ৯ মাস হতে ১৫ বছর কম বয়সী সকল শিশুদের এক ডোজ টাইফয়েড কনজুগেট ভ্যাকসিন (টিসিবি) টিকা প্রদানের অংশ হিসেবে ডিএসসিসি এলাকায় ১২ অক্টোবর থেকে এই টিকা প্রদান শুরু হবে।
চট্টগ্রামের বোয়ালখালী উপজেলার ৩২টি প্রাতিষ্ঠানিক পুকুরে ২৫০ কেজি পোনা মাছ অবমুক্ত করা হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (২৮ আগস্ট) সকালে প্রতিষ্ঠানগুলোর প্রতিনিধিদের হাতে রুই জাতীয় মাছের (রুই, কাতলা, মৃগেল ও কালিবাউশ) পোনা বিতরণ করা হয়।
চলতি অর্থ বছরের রাজস্ব বাজেটের আওতায় উপজেলা পরিষদ চত্বরে পোনা মাছ বিতরণ ও অবমুক্তকরণে প্রধান অতিথি ছিলেন উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) মোহাম্মদ রহমত উল্লাহ।
এসময় উপস্থিত ছিলেন উপজেলা কৃষি অফিসার মো.আতিক উল্লাহ, উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা.জাফরিন জাহেদ জিতি, প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা.রুমন তালুকদার, উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা মোহাম্মদ নাঈম হাসানসহ বিভিন্ন সরকারি দপ্তরের কর্মকর্তা-কর্মচারীবৃন্দ।