লক্ষ্মীপুর-ঢাকা রুটে লঞ্চ চলাচল শুরুর এক দিন পর তা বন্ধ হয়ে যায়। এরপর আট মাসেও তা চালু হয়নি। মূলত, যাত্রীসংকটের কথা বলে লঞ্চ চলাচল বন্ধ করা হয়। নতুন করে আবার চালু হবে কি না, এ নিয়ে এখনো অনিশ্চয়তা আছে।
আট মাস মাস আগে যখন লঞ্চ চালু হয় তখন জেলার মজু চৌধুরীর হাট থেকে লঞ্চ চলে ঢাকার সদরঘাট পর্যন্ত। স্থানীয় ব্যবসায়ীরা বলছেন, মেঘনা নদী হয়ে দক্ষিণাঞ্চলের ২১ জেলার মানুষের সহজ যোগাযোগ মাধ্যম এটি। দীর্ঘদিন ধরে দাবি জানানোর পর ২০১৯ সালের ৩ মার্চ বিআইডব্লিউটিএ চিঠি দিয়ে ৩১ মার্চ পর্যন্ত এমভি বোগদাদিয়া-৮ লঞ্চ চালুর অনুমতি দেয়। তখন বলা হয়, পরীক্ষামূলকভাবে এটি চলবে। এর মধ্যে নাব্যতাসংকটসহ অন্য সমস্যাগুলো চিহ্নিত করার নির্দেশনা দিলেও তা আর হয়নি।
পরে ২০২১ সালের ১৫ নভেম্বর সদরঘাট লঞ্চ টার্মিনালে আনুষ্ঠানিকভাবে লক্ষ্মীপুর-ঢাকা লঞ্চ সার্ভিস চালুর উদ্বোধন করেন বিআইডব্লিউটির নৌ-ট্রাফিক বিভাগের পরিচালক রফিকুল ইসলাম। চালুর এক দিনের মাথায় লঞ্চ চলাচল বন্ধ করে দেন লঞ্চ মালিকরা। আট মাস পার হলেও এখনো চালু হয়নি এ রুটে লঞ্চ চলাচল।
লঞ্চ চালুর দাবিতে একটি পরিষদও গড়ে উঠেছে। ঢাকা-লক্ষ্মীপুর লঞ্চ চাই পরিষদের আহ্বায়ক আবদুস সাত্তার পালোয়ান বলেন, দাবি আদায়ে বিক্ষোভ, মানববন্ধনসহ নানা কর্মসূচি পালন করেছেন জেলার সর্বস্তরের মানুষ। কিন্তু চালুর পর কী কারণে তা আবার বন্ধ হয়ে গেল তা অজানা।
সাত্তার পালোয়ান বলনে, দ্রুত সময়ে লঞ্চ চালু না হলে তারা আবারও কর্মসূচি ঘোষণা করতে বাধ্য হবেন। এ বিষয়ে তিনি প্রধানমন্ত্রীর হস্তক্ষেপও কামনা করেন।
এ বিষয়ে লক্ষ্মীপুর জেলা প্রশাসক আনোয়ার হোসেন আকন্দ বলেন, চালুর পর মূলত নাব্যতাসংকটের কারণে লঞ্চ চলাচল বন্ধ করা হয়। এখন নাব্যতা দূর করতে নদীর ডুবোচরে জেগে ওঠা চরগুলো খননের উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। তিনি আশা করছেন, অল্প সময়ের মধ্যে লঞ্চ চলাচল শুরু করা হবে।
লক্ষ্মীপুর-২ আসনের সংসদ সদস্য ও জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক নুরউদ্দিন চৌধুরী বলেন, লঞ্চ চালু করা গেলে যাত্রীরা সড়কপথের তুলনায় কম সময়ে গন্তব্যে পৌঁছতে পারবেন। এই নৌপথ সচল থাকলে দক্ষিণাঞ্চলের সঙ্গে পূর্বাঞ্চল ও রাজধানীর যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নতির পাশাপাশি প্রসার ঘটবে বাণিজ্যের।
সংসদ সদস্য বলেন, শিগগিরই এ নৌপথ চালু হবে। এতে কোনো সন্দেহ নেই। পাশাপাশি খননের কাজ চলছে। সেটিও প্রায় শেষ পর্যায়ে আছে।
শেরপুর জেলার ঝিনাইগাতী উপজেলার হাতিবান্ধা ইউনিয়নে ফিতরা প্রদানের নাম করে ভোটারদের মাঝে টাকা বিলানোর অভিযোগে দুই জামায়াত কর্মীকে আটক করেছে স্থানীয় জনতা।
শনিবার সন্ধ্যায় ইউনিয়নের ঘাঘরা-দরগারপাড় এলাকায় এই ঘটনাটি ঘটে। স্থানীয়দের দাবি অনুযায়ী, নির্বাচনী আচরণবিধি লঙ্ঘন করে ভোটারদের প্রভাবিত করার উদ্দেশ্যে জনপ্রতি প্রায় ৩০০ টাকা করে বিতরণ করা হচ্ছিল।
ঘটনার সংবাদ পেয়ে উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) সংশ্লিষ্ট এলাকায় গিয়ে তদন্ত সম্পন্ন করেন। জিজ্ঞাসাবাদে অভিযুক্তরা অর্থ বিতরণের বিষয়টি স্বীকার করলেও তারা একে নির্বাচনের সাথে সংশ্লিষ্ট নয় বরং ফিতরার টাকা বলে দাবি করেন। তারা নিজেদের দোষ স্বীকার না করায় ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করা সম্ভব হয়নি, যার ফলে মুচলেকা প্রদানের পর স্থানীয় এক জামায়াত নেতার জিম্মায় তাদের ছেড়ে দেওয়া হয়।
এদিকে এই ঘটনায় তীব্র প্রতিবাদ জানিয়েছেন স্থানীয় বিএনপি নেতারা। তারা অভিযোগ করেছেন যে, সুষ্ঠু নির্বাচনের পরিবেশ বিনষ্ট করে প্রভাব খাটানোর লক্ষ্যেই এমন তৎপরতা চালানো হয়েছে। অন্যদিকে নির্বাচন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছেন যে, পুরো বিষয়টি বর্তমানে তদন্তাধীন রয়েছে এবং প্রাপ্ত তদন্ত প্রতিবেদনের ওপর ভিত্তি করেই পরবর্তী আইনি পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে।
রাজধানী ঢাকা ও আশপাশের আকাশ আজ যেন মেঘের হালকা চাদরে ঢাকা, তবে ভারী বৃষ্টির কোনো তাড়া নেই এখনই। আবহাওয়া অফিস বলছে, আগামী পাঁচ দিন বড় ধরনের বর্ষণের সম্ভাবনা কম থাকলেও কোথাও কোথাও হঠাৎ দমকা হাওয়া আর বজ্রসহ বৃষ্টির দেখা মিলতে পারে। আর এই স্বল্প বিরতির পর, পাঁচ দিনের শেষে বৃষ্টির প্রবণতা আবারও বাড়তে পারে।
রোববার (২২ মার্চ) সকালে ঢাকার বাতাসে ছিল শীতলতার ছোঁয়া, তাপমাত্রা নেমেছিল ২২ দশমিক ৩ ডিগ্রি সেলসিয়াসে। আগের দিনের সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ছিল ৩১ ডিগ্রি। আজ দিনের তাপমাত্রা আরও ২ থেকে ৩ ডিগ্রি পর্যন্ত বাড়তে পারে বলে জানিয়েছে আবহাওয়া অধিদপ্তর।
সকালের বাতাসে আর্দ্রতার মাত্রা ছিল ৯০ শতাংশ, যেন ভেজা অনুভূতির আবরণে ঢাকা শহর। তবে সময় গড়ানোর সঙ্গে সঙ্গে সেই আর্দ্রতা কমে গিয়ে আবহাওয়া কিছুটা শুষ্ক হবে, আর তাতে গরমের অস্বস্তিও ধীরে ধীরে বাড়তে পারে। আজ সূর্য ডুববে সন্ধ্যা ৬টা ১০ মিনিটে, আর আগামীকাল সূর্য উঠবে ভোর ৬টায়।
সারাদেশের আবহাওয়ার চিত্রে দেখা যাচ্ছে, পশ্চিমবঙ্গ ও তৎসংলগ্ন এলাকায় লঘুচাপের একটি বর্ধিতাংশ অবস্থান করছে, আর দক্ষিণ বঙ্গোপসাগরে রয়েছে মৌসুমের স্বাভাবিক লঘুচাপ। এর প্রভাবে আগামী ২৪ ঘণ্টায় দেশের কিছু অঞ্চলে দমকা কিংবা ঝড়ো হাওয়ার সঙ্গে বজ্রবৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। কোথাও কোথাও শিলাবৃষ্টিও হতে পারে, যদিও তা হবে বিচ্ছিন্নভাবে।
আগামী কয়েক দিনে বৃষ্টির প্রবণতা কিছুটা কমে এসে আকাশ আংশিক মেঘলা থাকলেও আবহাওয়া প্রধানত শুষ্কই থাকবে। রোববার ময়মনসিংহ, চট্টগ্রাম ও সিলেট বিভাগের দু-এক জায়গায় বৃষ্টি বা বজ্রবৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে, আর উত্তর ও উত্তর-পশ্চিম দিক থেকে ঘণ্টায় ৮ থেকে ১৫ কিলোমিটার বেগে বাতাস বইতে পারে। দেশের অন্যত্র মেঘ আর রোদের মিশেলে দিন কাটবে।
২৩ মার্চ পর্যন্ত দিন ও রাতের তাপমাত্রা ধীরে ধীরে কিছুটা বাড়তে পারে। এদিন রংপুর, ময়মনসিংহ ও সিলেটের কোথাও কোথাও হালকা বৃষ্টি হতে পারে, তবে অধিকাংশ এলাকায় আবহাওয়া শুষ্কই থাকবে। ২৪ ও ২৫ মার্চ তাপমাত্রা প্রায় অপরিবর্তিত থাকতে পারে, যদিও এসব দিনে দেশের বিভিন্ন বিভাগে বিচ্ছিন্নভাবে দমকা হাওয়া ও বজ্রসহ বৃষ্টির সম্ভাবনা থাকবে।
২৫ মার্চের পরের দিনগুলোতে আকাশ আবার নতুন করে ভিজে ওঠার ইঙ্গিত দিচ্ছে আবহাওয়া অফিস। মাসের শেষভাগে বৃষ্টির পরিমাণ বাড়তে পারে, যেন অপেক্ষার পর একদিন হঠাৎই মেঘ নামবে আরও গভীর হয়ে।
ঢাকা থেকে পর্যটক নিয়ে বান্দরবান যাওয়ার পথে সৌদিয়া পরিবহনের একটি বাস নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে পাহাড়ের গভীর খাদে পড়ে গেছে। রোববার ভোর সাড়ে ৪টার দিকে বান্দরবান সদর উপজেলার সুয়ালক ইউনিয়নের বান্দরবান বিশ্ববিদ্যালয়ের স্থানীয় ক্যাম্পাসের উত্তর পাশে এই দুর্ঘটনা ঘটে। এতে বাসের সুপারভাইজারসহ অন্তত ২০ জন যাত্রী আহত হয়েছেন, যাদের মধ্যে ৫ জনের অবস্থা গুরুতর বলে জানা গেছে।
দুর্ঘটনার পরপরই আহতদের দ্রুত উদ্ধারের জন্য স্থানীয় সুয়ালক কেন্দ্রীয় জামে মসজিদের মাইকে ঘোষণা দিয়ে এলাকাবাসীকে এগিয়ে আসার আহ্বান জানানো হয়। স্থানীয় বাসিন্দারা তাৎক্ষণিকভাবে ঘটনাস্থলে পৌঁছে আহতদের উদ্ধার করে বান্দরবান সদর হাসপাতালে প্রেরণের ব্যবস্থা করেন। পরবর্তীতে খবর পেয়ে বান্দরবান সদর থানা পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিসের একটি টিম উদ্ধার অভিযানে অংশ নেয়।
উদ্ধার তৎপরতা সম্পর্কে স্থানীয় এক বাসিন্দা বলেন, “দুর্ঘটনাকবলিত বাসটির ভেতর থেকে আমরা অনেক পর্যটককে উদ্ধার করে হাসপাতালে পাঠিয়েছি। বাসটিতে থাকা অধিকাংশ পর্যটক ছোটখাটো আহত হয়েছেন। তবে তাদের মধ্যে বাসের সুপারভাইজারসহ অন্তত ৫ জন গুরুতর আহত হন।”
ঘটনার বিষয়ে বান্দরবান জেলার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর সার্কেল) মান্না দে জানান, পুলিশ, ফায়ার সার্ভিস ও স্থানীয়দের সমন্বিত প্রচেষ্টায় আহতদের উদ্ধার করে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। তিনি আরও বলেন, “পুলিশ,ফায়ার সার্ভিস ও স্থানীয়রা মিলে আহত পর্যটকদের উদ্ধার করে বান্দরবান সদর হাসপাতালে আনা হয়। বাসটির চালক, সুপারভাইজার ও হেলপারসহ সর্বমোট ৪৩ জন যাত্রী ছিলেন এবং যাত্রীরা বান্দরবানে ভ্রমণের উদ্দেশ্যে গতরাতে ঢাকা থেকে রওনা হন। বাসটিতে থাকা অন্তত ১৫ থেকে ২০ জন পর্যটক ছোটখাটো আঘাতপ্রাপ্ত হয়েছে।”
কুমিল্লার পদুয়ার বাজার রেলক্রসিংয়ে ভয়াবহ ট্রেন দুর্ঘটনায় ১২ জন নিহতের ঘটনায় দায়ে দুই গেটম্যানকে বরখাস্ত করা হয়েছে। রোববার (২২ মার্চ) সকাল ৮টার দিকে রেলওয়ে চট্টগ্রাম বিভাগের ব্যবস্থাপক মোস্তাফিজুর রহমান বিষয়টি নিশ্চিত করেন।
দুর্ঘটনার প্রায় পাঁচ ঘণ্টা পর চট্টগ্রামের সঙ্গে সারাদেশের রেল যোগাযোগ স্বাভাবিক হয়। সকালে ঘটনাস্থলে রিলিফ ট্রেন পৌঁছে দুর্ঘটনাকবলিত ঢাকা মেইল ট্রেনটি উদ্ধার করে এবং রেললাইনে আটকে থাকা বাস সরিয়ে নেওয়ার পর ট্রেন চলাচল পুনরায় চালু করা হয়।
বরখাস্ত হওয়া গেটম্যানরা হলেন মেহেদী হাসান ও হেলাল উদ্দিন। এ বিষয়ে মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, “প্রাথমিক অনুসন্ধানে গেটম্যানের সঙ্গে ট্রেনের যোগাযোগ বিচ্ছিন্নতাকে কারণ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। তাই পদুয়ার বাজার রেলক্রসিংয়ে কর্মরত দুই গেটম্যানকে বরখাস্ত করা হয়েছে। সেখানে নতুন করে গেটম্যান দেওয়া হবে।”
তিনি আরও বলেন, “আমরা দুর্ঘটনার সঠিক কারণ বের করতে দুটি তদন্ত কমিটি গঠন করেছি। একটি বিভাগীয় এবং অপরটি আঞ্চলিক। এ ঘটনায় আইনি প্রক্রিয়া চলছে।” একই সঙ্গে জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকেও একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট মো. জাফর সাদিক চৌধুরীকে আহ্বায়ক করে গঠিত পাঁচ সদস্যের এ কমিটিতে আরও রয়েছেন কুমিল্লা বিআরটিএর সহকারী পরিচালক ফারুক আলম, ময়নামতি হাইওয়ে থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আ. মমিন, কুমিল্লা রেলওয়ে স্টেশন মাস্টার এবং ফায়ার সার্ভিসের সহকারী পরিচালক ইকবাল হোসেন।
এর আগে শনিবার (২১ মার্চ) দিবাগত রাত ৩টার দিকে পদুয়ার বাজার রেলক্রসিং এলাকায় চট্টগ্রাম থেকে ঢাকাগামী একটি মেইল ট্রেন মামুন পরিবহনের একটি যাত্রীবাহী বাসকে ধাক্কা দেয়। এতে বাসটি প্রায় আধা কিলোমিটার পর্যন্ত টেনে নিয়ে যায় ট্রেনটি। প্রথমে সাতজনের মরদেহ উদ্ধার করা হলেও পরে নিহতের সংখ্যা বেড়ে ১২ জনে দাঁড়ায়। দুর্ঘটনার পর সাময়িকভাবে চট্টগ্রামের সঙ্গে সারাদেশের রেল যোগাযোগ বন্ধ হয়ে যায় এবং কয়েক ঘণ্টা পর তা স্বাভাবিক হয়।
এ ঘটনায় নিহতদের পরিবারকে ২৫ হাজার টাকা করে আর্থিক সহায়তা দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছে কুমিল্লা জেলা প্রশাসন। রোববার সকালে পাঠানো এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানান জেলা প্রশাসক মু. রেজা হাসান।
পবিত্র ঈদুল ফিতরের দিনে চট্টগ্রাম-কক্সবাজার মহাসড়কের পটিয়া অংশে যাত্রীবাহী একটি বাস উল্টে গিয়ে পথচারীসহ দুইজন নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় নারী, পুরুষ ও শিশুসহ অন্তত ২০ জন আহত হয়েছেন।
শনিবার (২১ মার্চ) সকাল সাড়ে ১১টার দিকে পটিয়া বাইপাস সড়কের ভাটিখাইন রাস্তার মাথা এলাকায় দুর্ঘটনাটি ঘটে। পটিয়া হাইওয়ে পুলিশ সূত্রে জানা যায়, চট্টগ্রাম থেকে কক্সবাজারগামী হানিফ পরিবহনের একটি বাস বাইপাস সড়ক অতিক্রমের সময় এক পথচারীকে বাঁচাতে গিয়ে নিয়ন্ত্রণ হারায়। এতে বাসটি মহাসড়কের আইল্যান্ডে ধাক্কা খেয়ে উল্টে যায়।
খবর পেয়ে হাইওয়ে পুলিশ ও পটিয়া ফায়ার সার্ভিস দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে উদ্ধার কাজ শুরু করে। আহতদের মধ্যে ২১ জনকে উদ্ধার করে পটিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হলে সেখানে বাসের সহকারী সোলেমান (৪৫)কে মৃত ঘোষণা করা হয়। তার বাড়ি কক্সবাজার জেলার চকরিয়া উপজেলায়।
গুরুতর আহত চারজনকে আশঙ্কাজনক অবস্থায় চট্টগ্রাম মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় শনিবার বিকেলে পথচারী আবুল কাশেম (৬৫) মারা যান। তিনি পটিয়া উপজেলার ভাটিখাইন ইউনিয়নের বাসিন্দা।
পটিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের জরুরি বিভাগের চিকিৎসক ডা. অরুপ চৌধুরী জানান, “আহতদের মধ্যে একজন হাসপাতালে আনার আগেই মারা গেছেন। আরো কয়েকজনের অবস্থা গুরুতর হওয়ায় তাদের চট্টগ্রাম মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।”
হাসপাতালে চিকিৎসা নেওয়া আহতদের মধ্যে রয়েছেন মিনাক্ষি (৩৮), জান্নাতুল ফেরদৌস (৩৫), তাসপিয়া (৭), আবদুর রহিম (৯), মো. ইব্রাহীম (৫৫), প্রবীর শীল (৪২), শাওরিন সুলতানা (২৫), সুলতানা রাজিয়া (৫১), আকতার বেগম (৫৪), ওয়াজিদা (৯), সুবাইকা জান্নাত (২০), ইউনুস (৩৮), ইসলাম খাতুন (৭০), আবু হানিফ (৩৮), মিরাজুল হক (১৪), মাইমোনা (৭), প্রান্ত শীল (১৭), জাহান (৪০), আদিত্য বিশ্বাস (১৩) এবং একজন অজ্ঞাত ব্যক্তি।
পটিয়া হাইওয়ে পুলিশের উপ-পরিদর্শক মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, “চট্টগ্রাম থেকে ছেড়ে আসা হানিফ পরিবহনের একটি যাত্রীবাহী বাস কক্সবাজার যাওয়ার পথেই পটিয়া বাইপাস সড়ক অতিক্রম করার সময় এক পথচারীকে বাঁচাতে গিয়ে মহাসড়কের আইল্যান্ডের সঙ্গে ধাক্কা লেগে উল্টে যায়। এ ঘটনায় দুজন নিহত হয়েছেন। তাদের মধ্যে একজন পথচারী ও অপরজন বাসের সহকারী।”
দুর্ঘটনার পর বাসটি উদ্ধার করে হাইওয়ে থানায় নেওয়া হয়েছে। নিহতদের মরদেহ আইনি প্রক্রিয়া শেষে স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। একই সঙ্গে ঈদযাত্রাকে সামনে রেখে সড়কে নিরাপত্তা জোরদারের পাশাপাশি চালকদের অতিরিক্ত গতি ও অসতর্কতা এড়িয়ে চলার আহ্বান জানিয়েছে হাইওয়ে পুলিশ।
ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের ফেনীর রামপুর এলাকায় বাস, এম্বুলেন্স ও মোটরসাইকেলের সংঘর্ষে ঘটনাস্থলে তিনজনের মৃত্যু হয়েছেন, আহত হয়েছেন পাঁচ জন।
রোববার (২২ মার্চ) ভোর চারটার দিকে এই ঘটনা ঘটে।
মহিপাল হাইওয়ে থানা পুলিশের ইনচার্জ আসাদুল ইসলাম জানান, ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের ফেনী-রামপুর এলাকায় চট্টগ্রাম অভিমুখী একটি লেনের কাজ চলছিল। এসময় একটি অ্যাম্বুলেন্স ধীর গতিতে পার হচ্ছিল। এমতবস্থায় শ্যামলী পরিবহনের একটি বাস অ্যাম্বুলেন্সটিকে পেছন থেকে ধাক্কা দেয়। এঘটনায় বাস অ্যাম্বুলেন্স কথা কাটাকাটি শুরু হলে পেছনে মোটরসাইকেল ও আরও কিছু বাসের জট লেগে যায়। কিছুক্ষণ পর বেপরোয়া গতিতে আসা দোয়েল পরিবহনের একটি বাস জটলার মধ্যে ধাক্কা দেয়। এতে বাসা, এম্বুলেন্স মোটরসাইকেলের সংঘর্ষ হয়।
এ ঘটনায় একজন মোটরসাইকেল আরোহী, বাসের সুপারভাইজার, ও একজন যাত্রী নিহত হয়। ৫ জন আহত হয়। নিহতদের মরদেহ ফেনী ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট সদর হাসপাতালের মর্গে রয়েছে।
এখন পর্যন্ত কারো নাম পরিচয় জানা যায়নি।
কুমিল্লার সদর দক্ষিণ উপজেলায় যাত্রীবাহী বাস ও ট্রেনের মুখোমুখি সংঘর্ষে অন্তত ১২ জন নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় আহত হয়েছেন আরো অন্তত ১৫ জন। আহতদের কুমিল্লা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালসহ জেলার বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
শনিবার (২১ মার্চ) রাত ২টা ৫৫ মিনিটে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের পদুয়ারবাজার লেভেল ক্রসিং এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে। পদুয়ার বাজার রেলক্রসিংয়ে বাসটি উঠে পড়লে ট্রেনের সঙ্গে সংঘর্ষ হয়। বাসটি দুমড়েমুচড়ে যায়। এ অবস্থায় বাসটিকে হিঁচড়ে আধা কিলোমিটার দূর পর্যন্ত নিয়ে যায় ট্রেনটি।
ময়নামতি হাইওয়ে পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আব্দুল মোমিন বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
নিহতদের মধ্যে ৭ জন পুরুষ, ২ জন নারী ও ৩ জন শিশু রয়েছে। তারা সবাই বাসের যাত্রী। তাৎক্ষণিকভাবে নিহতদের পরিচয় জানা যায়নি।
পুলিশ জানায়, চাঁপাইনবাবগঞ্জ থেকে নোয়াখালীগামী একটি যাত্রীবাহী বাসের সঙ্গে চট্টগ্রাম থেকে ঢাকাগামী একটি মেইল ট্রেনের সংঘর্ষ হয়।
খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিস, রেলওয়ে ও হাইওয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে উদ্ধার অভিযান চালায়। নিহতদের মরদেহ উদ্ধার করে কুমিল্লা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।
কুমিল্লা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের জরুরি বিভাগের দায়িত্বরত নার্স জানান, হাসপাতালে ১২ জনের মরদেহ রাখা হয়েছে। এ ছাড়া ৪ জন আহত রোগী ভর্তি আছেন এবং আরো প্রায় ১৫ জন প্রাথমিক চিকিৎসা নিয়ে চলে গেছেন।
রেলওয়ে পুলিশ জানিয়েছে, প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, বাসটি লেভেল ক্রসিং অতিক্রম করার সময় রেললাইনে উঠে যাওয়ায় এ দুর্ঘটনা ঘটে।
দীর্ঘ নয় মাস বন্ধ থাকার পর দেশের অন্যতম বৃহৎ ঘোড়াশাল তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্র-এর ৩৬৫ মেগাওয়াট ক্ষমতাসম্পন্ন ৭ নম্বর ইউনিটে পুনরায় বিদ্যুৎ উৎপাদন শুরু হয়েছে। শুক্রবার রাত ২টা থেকে ইউনিটটি পূর্ণ সক্ষমতায় উৎপাদনে ফিরেছে বলে কেন্দ্রের প্রধান প্রকৌশলী মো. এনামুল হক গণমাধ্যমকে নিশ্চিত করেছেন।
গ্যাস সংকটের কারণে ২০২৫ সালের ১৪ জুন এই ইউনিটের উৎপাদন বন্ধ হয়ে যায়। তবে বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় পুনরায় গ্যাস সরবরাহ শুরু হলে শুক্রবার রাত থেকেই বিদ্যুৎ উৎপাদন চালু করা সম্ভব হয়।
কেন্দ্র সূত্রে জানা গেছে, গত দুই বছর ধরেই গ্যাস সংকটের কারণে একাধিক ইউনিট বন্ধ ছিল। ২০২৫ সালের ৯ জুন ২১০ মেগাওয়াট ক্ষমতাসম্পন্ন ৫ নম্বর ইউনিট, ১৩ জুন ৩৬০ মেগাওয়াট ক্ষমতার ৪ নম্বর ইউনিট এবং ১৪ জুন ৩৬০ মেগাওয়াট ক্ষমতার ৭ নম্বর ইউনিট উৎপাদন থেকে সম্পূর্ণ বন্ধ হয়ে যায়।
এদিকে, ২০১০ সালের জুনে ২১০ মেগাওয়াট ক্ষমতাসম্পন্ন ৬ নম্বর ইউনিটে অগ্নিকাণ্ডে টারবাইন ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার পর থেকে সেটি আর চালু করা সম্ভব হয়নি।
এই বিদ্যুৎ কেন্দ্রটির যাত্রা শুরু হয় ১৯৭৪ সালের জানুয়ারিতে, যখন ৫৫ মেগাওয়াট ক্ষমতার ১ নম্বর ইউনিট উৎপাদনে আসে। পরবর্তীতে ১৯৭৬ সালের ফেব্রুয়ারিতে একই ক্ষমতার ২ নম্বর ইউনিট চালু হয়। তবে যান্ত্রিক ত্রুটির কারণে এই দুটি ইউনিটও দীর্ঘ প্রায় নয় বছর ধরে বন্ধ রয়েছে।
জামালপুরের দেওয়ানগঞ্জ উপজেলায় ঈদের আনন্দ ভ্রমণে ব্রহ্মপুত্র নদের ওপর নির্মিত একটি ভাসমান সেতুতে অতিরিক্ত মানুষের চাপে এক মর্মান্তিক দুর্ঘটনা ঘটেছে। শনিবার (২১ মার্চ) বিকেল সাড়ে ৩টার দিকে দেওয়ানগঞ্জ মডেল থানার সামনের এলাকায় সেতুর ওপর মানুষের ভারে সেটি হঠাৎ উল্টে যায়।
এতে নদে ডুবে ভাইবোনসহ মোট চার জন মারা গেছেন। নিহতরা হলেন—উপজেলার ঝালুরচর এলাকার শের আলীর ১২ বছরের মেয়ে খাদিজা ও ৬ বছরের ছেলে আব্দুল মোতালেব, ডাকাতিয়াপাড়া এলাকার জয়নাল মিয়ার ১০ বছরের মেয়ে মায়ামনি এবং গামারিয়া এলাকার ১৬ বছরের কিশোর আবির।
জামালপুর ফায়ার সার্ভিসের টিম লিডার রবিউল ইসলাম সন্ধ্যায় চার জনের মৃত্যুর খবরটি নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, ঘটনার পরপরই স্থানীয়দের সহায়তায় ফায়ার সার্ভিস উদ্ধার অভিযান শুরু করে। এতে কয়েকজন আহতও হয়েছেন, যাদের দ্রুত উদ্ধার করে স্থানীয় হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। ঈদের দিন এমন দুর্ঘটনায় নিহতদের পরিবার এবং পুরো এলাকা জুড়ে গভীর শোকের ছায়া নেমে এসেছে।
প্রশাসন ও স্থানীয় সূত্র জানিয়েছে, ঈদ উপলক্ষে ভাসমান এই সেতুটিতে ধারণক্ষমতার অতিরিক্ত মানুষ উঠে পড়ায় ভারসাম্য হারিয়ে সেটি নদে উল্টে যায়।
পবিত্র ঈদ-উল-ফিতর এ সকালে তালামুক্ত হওয়ার পর থেকে বন্দীদের উৎসবমূখর পরিবেশে দেখা যায়, সকালের নাস্তা শুরু হয় সুস্বাদু পায়েস ও মুড়ি দিয়ে, সকাল ৯.৩০ মিনিটে আনন্দঘন পরিবেশে ঈদের নামাজ পরেন বন্দীরা, নামাজ শেষে কারা বিভাগ এবং দেশ ও জাতীর মঙ্গল কামনায় মোনাজাত করা হয়, তারপর বন্দীদের উদ্দেশ্যে কারা মহাপরিদর্শক সৈয়দ মো: মোতাহের হোসেন এর বিশেষ বাণী পড়ে শোনান অত্র কারাগারের জেলার মো: আখেরুল ইসলাম।
বেলা ১২.০০ টায় জেলা ম্যাজিস্ট্রেট/ডিসি কারাগারে আসলে তাকে রিসিভ করেন জেলার ও কারাগারের অন্যান্য কর্মকর্তা বৃন্দ।
দুপুরে বন্দীদের বিশেষ খাবার পরিবেশন করা হয়, অত্র কারাগারের জেলারের উপস্থিতিতে জেলা ম্যাজিস্ট্রেট নিজে কিছুক্ষণ বন্দীদের খাবার পরিবেশন করেন।
পোলাও, গরুর মাংস, খাসির মাংস, মুরগীর রোস্ট, ডাল, সালাদ, মিস্টি ও পান সুপারী খাবারের ম্যেনুতে ছিলো। রাতে মাছ, আলুর দম আর সাদা ভাত রাখা হয়েছে বলে জেলার জানান। সবমিলিয়ে চমৎকার পরিবেশে উৎসাহ ও উদ্দীপনার মধ্য দিয়ে সম্পন্ন হয়েছে বন্দীদের ঈদ-উল-ফিতর। সার্বিক ম্যানেজমেন্টে সন্তুষ্টি প্রকাশ করে জেলারকে ধন্যবাদ জানান জেলা ম্যাজিস্ট্রেট
স্বাস্থ্যমন্ত্রী সর্দার সাখাওয়াত হোসেন বকুল আকস্মিক ভাবে ঈদুল ফিতরের দিন শনিবার (২১ মার্চ) দুপুরে কাপাসিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের সার্বিক সেবার মান পরিদর্শনে আসেন। তিনি সরাসরি স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের রন্ধনশালায় যান এবং ঈদুল ফিতর উপলক্ষে তৈরি করা রোগীদের খাবার নিজেই খেয়ে মান যাচাই করেন। পরে হাসপাতালের বিভিন্ন ওয়ার্ড ঘুরে ঘুরে দেখেন এবং রোগীদের সাথে খোলামেলা কথা বলে খোঁজখবর নেন।
তিনি খুবই আন্তরিকতার সাথে কারো কোনো সমস্যা বা অসুবিধা আছে কি না, এব্যাপারে প্রত্যেকের সাথে কথা বলেন।পরিদর্শন কালে এক অসচ্ছল গ্যাস্ট্রো নারী রোগীর উন্নত চিকিৎসার প্রয়োজন হলে তাকে তাৎক্ষণিক ভাবে রাজধানীর বিশেষায়িত গ্যাস্ট্রো হাসপাতালে স্থানান্তরের ব্যবস্থা করার নির্দেশ দেন তিনি।
তিনি সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে বলেন, সার্বিক বিবেচনায় হাসপাতালের ব্যবস্থাপনা ভালো আছে। পরিস্কার পরিচ্ছন্নতা ও সেবার মান সন্তোষ জনক রয়েছে। জনবল কাঠামো সংকটের সমাধানে দীর্ঘদিন ডেপুটেশনে থাকা দশজন চিকিৎসকের অর্ডার আগামী এক মাসের মধ্যে বাতিল করবেন বলে তিনি জানান। কুকুর এবং বিড়ালের কামড়ের ভ্যাক্সিন এবং এক্স-রে ফিল্ম সংকটে দেয় বরাদ্দের খোঁজখবর নেন।
এসময় হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ, এলাকাবাসী, কাপাসিয়া প্রেসক্লাব ও স্থানীয় বিএনপি দলীয় নেতৃবৃন্দ স্বাস্থ্যমন্ত্রীকে শুভেচ্ছা ও অভ্যর্থনা জানান। পাশ্ববর্তী মনোহরদীর কৃতিসন্তান হিসাবে কাপাসিয়াকে বিশেষ বিবেচনায় রাখার জন্য মন্ত্রীর প্রতি দাবি জানান। ডিউটি চলাকালীন সময়ে বেসরকারি হাসপাতালে চিকিৎসকদের রোগী দেখার ব্যাপারে সতর্ক করে দেন এবং এসব বিষয়ে স্থানীয়দের সার্বিক সহযোগিতা করার আহ্বান জানান।
হাসপাতালের অনিয়ম ও দুর্নীতি প্রতিরোধে সংশ্লিষ্টদের সতর্ক করে স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, সরকারের নির্দেশনা বাস্তবায়নে সবাইকে আন্তরিকভাবে কাজ করতে হবে। দেশের স্বাস্থ্যখাতকে আরও উন্নত ও স্বচ্ছ করতে সম্মিলিত প্রচেষ্টার ওপর তিনি গুরুত্বারোপ করেন। তিনি আরও জানান, অল্প সময়ের মধ্যেই কাপাসিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সকে আরও আধুনিক ও উন্নত সেবাকেন্দ্রে পরিণত করার উদ্যোগ নেওয়া হবে।
স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, সাধারণ মানুষের স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করতে এবং দোরগোড়ায় পৌঁছে দিতে বিএনপি সরকার দৃঢ়প্রতিজ্ঞা বদ্ধ। আগামী এক মাসের মধ্যে দেশব্যাপী স্বাস্থ্য খাতের আমূল পরিবর্তন হবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
স্বাস্থ্যমন্ত্রীর হাসপাতাল পরিদর্শন কালে উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) ডাঃ তামান্না তাসনীম, উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডাঃ মোঃ হাবিবুর রহমান, থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মোঃ শাহীনুর আলম, কাপাসিয়া প্রেসক্লাবের সভাপতি ও উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক সদস্য এফ এম কামাল হোসেন, গাজীপুর জেলা মহিলা দলের সভাপতি জান্নাতুল ফেরদৌসী, তরগাঁও ইউনিয়ন বিএনপির সাবেক সভাপতি বদরুজ্জামান বেপারী, উপজেলা যুবদলের সাবেক সদস্য সচিব জুনায়েদ হোসেন লিয়নসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
হবিগঞ্জের নবীগঞ্জে পবিত্র ঈদুল ফিতরের নামাজের পরপরই দুই পক্ষের মধ্যে ভয়াবহ সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। শনিবার (২১ মার্চ) বেলা ১১টার দিকে উপজেলার পানিউমদা ইউনিয়নের নোয়াগাঁও গ্রামে দুই ঘণ্টাব্যাপী চলা এই সংঘাতের ঘটনায় উভয় পক্ষের অন্তত ৩০ জন আহত হয়েছেন।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, গ্রামের আব্দুর রবের কলেজপড়ুয়া মেয়ে ও ভাগনির ছবি এবং ভিডিও ধারণ করাকে কেন্দ্র করে ফিরোজ মিয়া পক্ষের কয়েকজন যুবকের সঙ্গে বিরোধের সূত্রপাত হয়। এই ঘটনার জেরে পূর্ব থেকেই উত্তেজনা বিরাজ করছিল, যা ঈদের নামাজ শেষে দেশীয় অস্ত্রশস্ত্রসহ রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষে রূপ নেয়।
খবর পেয়ে গোপলার বাজার পুলিশ ফাঁড়ির একটি দল দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। সংঘর্ষে আহতদের উদ্ধার করে তাৎক্ষণিকভাবে বাহুবল উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স এবং হবিগঞ্জ সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
নবীগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোনায়েম মিয়া ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান যে, বর্তমানে পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে। নারীর সম্মানহানি এবং দাঙ্গার এই ঘটনায় জড়িতদের চিহ্নিত করে দ্রুত আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
পাবনা সরকারি শিশু পরিবারের (বালিকা) পিতৃ-মাতৃহীন নিবাসীদের ঈদ এবার কাটল অন্যরকম এক আমেজে। উৎসবের দিনে বাবা-মায়ের অভাব ভুলিয়ে দিতে তাদের পাশে এসে দাঁড়িয়েছিলেন পাবনার জেলা প্রশাসক (ডিসি) ড. শাহেদ মোস্তফা। পরম মমতায় তিনি ভাগ করে নিলেন ঈদের আনন্দ, মেতে উঠলেন উৎসবের উচ্ছ্বাসে।
শনিবার (২১ মার্চ) দুপুরে পাবনা শহরের সরকারি শিশু পরিবার চত্বরে নিবাসীদের সঙ্গে ঈদ উদযাপন ও কুশল বিনিময় করেন জেলা প্রশাসক। এ সময় তার সহধর্মিণী ও পরিবারের সদস্যরা উপস্থিত থেকে শিশুদের সঙ্গে আনন্দ ভাগ করে নেন।
সরেজমিনে দেখা যায়, লাল-নীল রঙের নতুন পোশাকে সেজেছিল শিশু পরিবারের নিবাসীরা। ড. শাহেদ মোস্তফা প্রতিটি শিশুর কাছে গিয়ে তাদের খোঁজখবর নেন এবং পরম স্নেহে মাথায় হাত বুলিয়ে দেন। সারিবদ্ধভাবে দাঁড়িয়ে থাকা হাসিমুখের খুদে নিবাসীদের মাঝে জেলা প্রশাসক ও তার পরিবারের উপস্থিতিতে এক উৎসবমুখর পরিবেশ তৈরি হয়েছে। শিশুদের হাতে তুলে দেওয়া হয় বিশেষ ঈদ উপহার ও মিষ্টান্ন।
এ সময় ড. শাহেদ মোস্তফা বলেন, "এই শিশুরা আমাদেরই সন্তান। ঈদের আনন্দ যেন তাদের জীবন থেকে হারিয়ে না যায়, সে লক্ষ্যেই আমরা আজ তাদের মাঝে এসেছি। পরিবারহীন এই শিশুদের মুখে এক চিলতে হাসি ফোটাতে পারাই আমাদের ঈদের আসল সার্থকতা। তারা যেন সমাজ থেকে নিজেদের বিচ্ছিন্ন মনে না করে, সরকার ও প্রশাসন সবসময় তাদের পাশে আছে।"
অনুষ্ঠানে জেলা প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাবৃন্দ এবং শিশু পরিবারের সংশ্লিষ্ট দায়িত্বশীলরা উপস্থিত ছিলেন। উপহার বিতরণ শেষে নিবাসীদের সঙ্গে দুপুরের বিশেষ ভোজে অংশ নেন অতিথিরা। জেলা প্রশাসকের এমন মানবিক ও আন্তরিক উদ্যোগে শিশু পরিবারের নিবাসীদের মাঝে এক আবেগঘন ও আনন্দঘন পরিবেশের সৃষ্টি হয়।