এনায়েত করিম, রাজশাহী ব্যুরো
প্রাচীনকাল থেকেই রেশমের জন্য সুপরিচিত রাজশাহী। সেই সুখ্যাতি থেকেই রাজশাহীর প্রধান পরিচয় হয়ে ওঠে ‘সিল্কসিটি’। তবে মাঝে খেই হারিয়ে ফেলেছিল রেশমশিল্প। বাংলাদেশ রেশম গবেষণা ইনস্টিটিউটের হাত ধরে সেই রেশম আবার স্বপ্ন দেখাচ্ছে সুদিন ফেরানোর। রেশম নিয়ে গবেষণায় নিয়োজিত এই প্রতিষ্ঠানটি সম্প্রতি রেশমের ৩৫টি নতুন জাত উদ্ভাবন করেছে। এর মধ্যে ১৫টি মালবেরি (তুঁত) গাছ ও ২০টি রেশম কীট। নতুন এসব জাত রেশমশিল্পে সাড়া ফেলবে বলে মনে করছেন গবেষকরা। তারা বলছেন, আগের জাতের চেয়ে নতুন জাতে অন্তত ১২ থেকে ১৫ শতাংশ বেশি উৎপাদন আসবে। এতে চাষিদেরও সাশ্রয় হবে।
বাংলাদেশ রেশম গবেষণা ও প্রশিক্ষণ ইনস্টিটিউট রাজশাহীর তথ্য অনুযায়ী, রেশমশিল্পের উন্নয়নে পাঁচ বছর আগে ‘রেশম প্রযুক্তি উন্নয়ন বিস্তার ও দক্ষ জনশক্তি সৃষ্টির মাধ্যমে উৎপাদনশীলতা বৃদ্ধিকরণ’ নামে একটি প্রকল্প হাতে নেয় রেশম বোর্ড। চলতি বছরের জুনে শেষ হয়েছে প্রকল্পটি। ৩৫ কোটি ৬৬ লাখ টাকার এই প্রকল্পের মাধ্যমে নতুন করে রেশমে যুক্ত হয়েছে ১৫টি মালবেরি (তুঁত) জাতের গাছ ও ২০টি নতুন জাতের কীট। ফলে বর্তমানে মালবেরি জাতের গাছের সংখ্যা ৩৮টি ও রেশম কীটের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১১৪টিতে।
বাংলাদেশ রেশম গবেষণা ও প্রশিক্ষণ ইনস্টিটিউটের ঊর্ধ্বতন গবেষণা কর্মকর্তা ফারুক আহম্মেদ ও রুমানা ফেরদৌস বিনত-এ রহমানের যৌথ গবেষণায় নতুন এসব জাত উদ্ভাবন হয়। নতুন ৩৫টি জাত (১৫টি তুঁত ও ২০টি কীট) উদ্ভাবনের ফলে বর্তমানে বাংলাদেশ রেশম গবেষণা ও প্রশিক্ষণ ইনস্টিটিউট রাজশাহীতে জার্মপ্লাজম ব্যাংকে তুঁত জাতের গাছের সংখ্যা ৬০ থেকে ৮৪ ও রেশম কীট জাতের সংখ্যা ৮৫ থেকে ১১৪টিতে উন্নীত হয়েছে। এর মধ্যে ২৭টি উচ্চফলনশীল রেশম কীটের জাত রয়েছে।
নতুন ২০টি রেশম কীট উদ্ভাবনের ফলে প্রতি ১০০টি রোগমুক্ত ডিমে ৭০ থেকে ৭৫ কেজি রেশমগুটি উৎপাদন সম্ভব হচ্ছে। আগে এর পরিমাণ ছিল ৬০ থেকে ৬৫ কেজি। এ ছাড়া উচ্চফলনশীল ১৫টি তুঁতজাত উদ্ভাবনের ফলে বছরে হেক্টরপ্রতি তুঁতপাতার উৎপাদন ৪০ থেকে ৪৭ মেট্রিক টনে উন্নীত করা সম্ভব হয়েছে। এর আগে প্রতি হেক্টরে রেশমের সর্বোচ্চ উৎপাদন ছিল ৩০ থেকে ৩৭ মেট্রিক টন। ফলে স্বল্প সময়ে ও অল্প ব্যয়ে মানসম্পন্ন কাঁচা রেশম সুতা উৎপাদন সম্ভব হচ্ছে।
গবেষণা কর্মকর্তা ফারুক আহম্মেদ দৈনিক বাংলাকে বলেন, ‘একটি নতুন জাত তৈরি করতে অন্তত ১০ বছর সময় লেগে যায়। এই গবেষণার কাজ আগেই কিছুটা এগিয়ে রাখায় পাঁচ বছরের মধ্যেই শেষ করা সম্ভব হয়েছে। রাজশাহী রেশম গবেষণা ও প্রশিক্ষণ ইনস্টিটিউটে জার্মপ্লাজম থেকে গবেষণার মাধ্যমে নতুন এই ১৫টি জাতের মালবেরি (তুঁত) জাত উদ্ভাবন করা হয়েছে। এগুলোর মধ্যে বিএসআরএম-৬৪, বিএসআরএম-৬৫ ও বিএসআরএম ৭৪ জাতের ট্রায়াল শেষ হয়েছে। এগুলো রেশম সম্প্রসারণের মাধ্যমে চাষিদের মাঝে ছড়িয়ে দেয়া হবে। বাকি জাতগুলো ট্রায়ালের জন্য রাখা হয়েছে।’
এই গবেষক আরও বলেন, ‘প্রকল্পটি দ্বিতীয় পর্যায়ের জন্য আবেদন করা হয়েছে। অনুমোদন পেলে দ্বিতীয় পর্যায়ে এগুলোর ট্রায়াল শেষ করা হবে। এগুলো থেকে হেক্টরপ্রতি তুঁতপাতার উৎপাদন ৪০ থেকে ৪৭ মেট্রিক টনে উন্নীত করা সম্ভব হবে। তবে ট্রায়াল শেষ না হওয়া পর্যন্ত এগুলোর নামসহ বিস্তারিত বলা যাচ্ছে না।’
ঊর্ধ্বতন গবেষণা কর্মকর্তা রুমানা ফেরদৌস বিনত-এ রহমান বলেন, এই প্রকল্পের মাধ্যমে উদ্ভাবিত ২০টি নতুন রেশম কীটের জাতের সবগুলোই এখন ট্রায়াল পর্যায়ে আছে। এগুলো চাহিদা অনুযায়ী রেশম সম্প্রসারণের মাধ্যমে ক্রস হাইব্রিড জাত উৎপাদন করে সরবরাহ করা হবে।
বাংলাদেশ রেশম গবেষণা ও প্রশিক্ষণ ইনস্টিটিউট রাজশাহীর পরিচালক কাজী রফিকুল ইসলাম বলেন, প্রধান ফসল হিসেবে চাষিদের তুঁত চাষ করতে উৎসাহিত করা হচ্ছে। এখন বাড়ির আনাচকানাচে, রাস্তার ধারে পরিত্যক্ত জায়গায় বেশির ভাগ তুঁত চাষ হয়। রেশম গবেষণা ইনস্টিটিউটের পক্ষ থেকেও তুঁত চাষকে জনপ্রিয় করতে সাথি ফসল প্রবর্তন করা হয়েছে। চাষিরা এভাবে চাষাবাদ করলে লাভবান হবেন।
তিনি আরও বলেন, নতুন এসব জাত উদ্ভাবনের পর সেগুলো দিয়ে বিভিন্ন এলাকার কৃষক নিয়ে এখানে প্রশিক্ষণও দেয়া হয়েছে। এখন এগুলো ট্রায়ালে আছে। কিছু কিছু জাত রেশম সম্প্রসারণকে দেয়া হয়েছে। আর কিছু জাতের কাজ এখনো চলছে। সামান্য কিছু উন্নয়ন করতে হবে। এগুলো শেষ হলেই এই ৩৫টি নতুন জাত রেশম সম্প্রসারণ শাখার মাধ্যমে চাষিদের হাতে পৌঁছে দেয়া হবে।
উল্লেখ্য, রাজশাহীর ঐতিহ্যবাহী রেশম কারখানা ২০০২ সালে বন্ধ করে দেয় তৎকালীন জোট সরকার। আওয়ামী লীগ সরকার ক্ষমতায় আসার পর ফের সচলের উদ্যোগ নিয়ে ২০১৮ সালে কারখানাটি চালু হয়। সে সময় রেশমের সুদিন ফেরাতে ১৫৩ কোটি টাকার চারটি প্রকল্প গ্রহণ করা হয়। এরপর ২০২১ সালে আন্তর্জাতিক ভৌগোলিক নির্দেশক (জিআই) স্বীকৃতি পায় রাজশাহীর ঐতিহ্য রেশম। স্বীকৃতি পাওয়ার পর রেশম কাপড়ের চাহিদা বেড়েছে। বর্তমানে রেশমচাষিদের উৎপাদিত রেশমগুটি থেকে কারখানার সামনের রেশম ডিসপ্লেতে মিলছে প্রিন্টেড শাড়ি, টু-পিস, থান কাপড়, ওড়না, স্কার্ফ, টাই ইত্যাদি খাঁটি রেশমপণ্য।
রংপুরের পীরগঞ্জে জামায়াতের এক এমপির (রংপুর-৬) বিরুদ্ধে টিআর, কাবিখা ও কাবিটার একাধিক প্রকল্পে ভাগনে-ভগ্নিপতি ও নিকট আত্মীয়কে সভাপতি বানিয়ে স্বজনপ্রীতির অভিযোগ উঠেছে।
জানা গেছে, চলতি অর্থবছরে টেস্ট রিলিফ (টিআর) ৩০ লক্ষ, কাবিটার ২৫ লক্ষ টাকা ও কাবিখার ৪০ মেট্রিক টন খাদ্যশস্য সরকারের বিশেষ বরাদ্দ পেয়েছেন সংসদ সদস্য মো. নুরুল আমীন। তার সংসদীয় আসনের বিভিন্ন এলাকায় টিআরের (নগদ অর্থ) ১৪টি, কাবিটার ১১টি ও কাবিখার ৫টিসহ মোট ৩০টি প্রকল্পের অনুকূলে বরাদ্দ বিভাজন করে তিনি প্রকল্প দাখিল করেন।
সরেজমিন ঘুরে দেখা গেছে, উপজেলার ৯ নং সদর ইউনিয়নের তুলারামপুর গ্রামে এমপির বিশেষ বরাদ্দের দুটি প্রকল্পের কাজ চলমান রয়েছে। কাবিখা প্রকল্পে-১০ টন খাদ্যশস্য বরাদ্দে বর্ণিত গ্রামে ইয়াকুব আলীর বাড়ির সামনে ওয়াক্তিয়া নামাজ ঘর উন্নয়ন ও মাঠে মাটি ভরাটকরণ প্রকল্প। এই প্রকল্পের সভাপতি করা হয়েছে এমপির চাচাতো বোনের স্বামী ভগ্নিপতি ইয়াকুব আলীকে।
অপর প্রকল্পটি একই গ্রামের উল্লেখিত ইয়াকুবের বাড়ি থেকে মুশফিকের বাড়ি যাওয়ার রাস্তা সলিংকরণ, ইয়াকুবের পুকুর পাড়ে গাইড ওয়াল নির্মাণ ও মাটি ভরাটকরণ। এ প্রকল্পের সভাপতি করা হয়েছে আগের প্রকল্পের সভাপতি ইয়াকুব আলীর ছেলে সালমান শরিফ শাওনকে। এই দুই প্রকল্পের সভাপতি পিতা-পুত্র। তারা দুজনই সম্পর্কে এমপির ভাগনে ও ভগ্নিপতি।
এছাড়া অন্যান্য প্রকল্পে নিকট আত্মীয়, দলীয় বিভিন্ন পদের নেতা-কর্মীদের সভাপতি করা হয়েছে। এ নিয়ে আলোচনা-সমালোচনা চলছে সর্বত্র।
তুলারামপুর গ্রামের বাসিন্দা মুকুল মিয়া প্রশ্ন করেন, ওয়াক্তিয়া ঘরের জন্য একাধিক প্রকল্পে এমপি তার বোনজামাই, ভাগনেকে প্রকল্প সভাপতি করায় এর সঠিক বাস্তবায়ন কতটুকু হবে।
ওই গ্রামের মঞ্জু মিয়া ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, তুলারামপুর গ্রামে পুরনো জামে মসজিদ রয়েছে। যেখানে নিয়মিত শতাধিক মুসল্লি নামাজ আদায় করেন। মসজিদটির উন্নয়নের জন্য বরাদ্দ চেয়ে আবেদন করা হলেও সেখানে কোনো বরাদ্দ না দিয়ে স্বজনপ্রীতি করে এমপি তার আত্মীয়-স্বজনদের প্রকল্প দিয়েছেন।
এ বিষয়ে প্রকল্প সভাপতি ইয়াকুব আলী বলেন, ‘প্রকল্পে কত টাকা বা কী বরাদ্দ আছে, সেটা আমি জানি না। অফিস থেকে কাজ করতে বলা হয়েছে, তাই কাজ করছি।’
উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা (পিআইও) আব্দুল আজিজ বলেন, ‘অভিযোগ পেলে বিষয়টি খতিয়ে দেখা হবে। তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।’
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মাহমুদুল হাসান বলেন, ‘কাজ না করে টাকা তুলে নেওয়ার কোনো সুযোগ নেই। বিষয়টি তদন্ত করে যদি প্রমাণিত হয়, তাহলে যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’
এ ব্যাপারে জানতে মুঠোফোনে সংসদ সদস্য মো. নুরুল আমিনের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, ‘এ বিষয়ে আপনার সঙ্গে পরে কথা হবে।’ এ কথা বলেই তিনি সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেন।
বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহন কর্তৃপক্ষের (বিআইডব্লিউটিএ) চেয়ারম্যান অতিরিক্ত সচিব মো. মুহিদুল ইসলাম গত শনিবার (২৭ জুন) নারায়ণগঞ্জ নদীবন্দর পরিদর্শন করেছেন।
এ সময় তিনি নারায়ণগঞ্জ নদীবন্দর টার্মিনাল এলাকা, বিশ্বব্যাংক কর্তৃক নির্মাণাধীন নতুন টার্মিনাল ভবন, মাছ ঘাটের নির্মাণাধীন শেড, খানপুর অভ্যন্তরীণ কনটেইনারের নির্মাণাধীন টার্মিনাল, ড্রেজার বেইজ নারায়ণগঞ্জ, উদ্ধারকারী জাহাজ প্রত্যয়, ডিইপিটিসি এবং ড্রেজার বেইজ হতে শীতলক্ষ্যা নদীর শাহ্ সিমেন্ট ফ্যাক্টরির সম্মুখভাগ এলাকা হয়ে ধলেশ্বরী নদীর মুক্তারপুর ব্রিজ এলাকা পর্যন্ত নৌপথ পরিদর্শন করেন।
পরিদর্শনকালীন কর্তৃপক্ষের সদস্য (প্রকৌশল) রকিবুল ইসলাম তালুকদার, পরিচালক, প্রশাসন ও মানবসম্পদ এবং অতিরিক্ত দায়িত্ব (বন্দর ও পরিবহন বিভাগ) মো. সাইফুল ইসলাম, প্রধান প্রকৌশলী (পুর) এ এইচ মো. ফরহাদ উজ্জামান ও নৌসওপ বিভাগের পরিচালক ক্যাপ্টেন মো. শাহজাহানসহ নারায়ণগঞ্জ নদীবন্দরের সকল শাখার কর্মকর্তা ও কর্মচারীরা উপস্থিত ছিলেন।
বাংলাদেশ পূজা উদযাপন পরিষদ কুলাউড়া উপজেলা শাখার দ্বি-বার্ষিক সম্মেলন গত শনিবার (২৭ জুন) জেলা পরিষদ অডিটোরিয়ামে অনুষ্ঠিত হয়েছে। কুলাউড়া উপজেলা শাখার আহ্বায়ক ডা. অরুণাভ দে-এর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সম্মেলনে প্রধান অতিথি ছিলেন মৌলভীবাজার-২ কুলাউড়া আসনের সংসদ সদস্য মো. শওকতুল ইসলাম।
সংগঠনের সদস্য সচিব অজয় দাস ও সুজিত দে-এর যৌথ সঞ্চালনায় সম্মেলনের উদ্বোধক ছিলেন জেলা শাখার সভাপতি আশু রঞ্জন দাস। অতিথি ছিলেন কেন্দ্রীয় কমিটির সহ-সভাপতি অ্যাডভোকেট মৃত্যুঞ্জয় ধর ভোলা।
প্রধান বক্তা ছিলেন জেলা শাখার সাধারণ সম্পাদ মহিম দে। বিশেষ অতিথির বক্তব্য দেন বাংলাদেশ হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদ মৌলভীবাজার জেলা শাখার সাধারণ সম্পাদক নকুল চন্দ্র দাস, কুলাউড়া উপজেলা বিএনপির সভাপতি জয়নাল আবেদীন বাচ্চু, সাধারণ সম্পাদক বদরুজ্জামান সজল এবং বাংলাদেশ পূজা উদযাপন পরিষদ মৌলভীবাজার জেলা শাখার সহ-সভাপতি সৌম্য প্রদীপ ভট্টাচার্য, কুলাউড়া প্রেসক্লাবের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা সুশীল সেনগুপ্ত, সাংবাদিক নাজমুল বারী সোহেল প্রমুখ।
রাজবাড়ীর দৌলতদিয়া ও মানিকগঞ্জের পাটুরিয়াগামী নৌপথে ভুল বশত পদ্মার চরে আটকে পড়া ৯৯৯ ফোন পেয়ে লঞ্চে থাকা ৮৫ জন যাত্রী উদ্ধার করে নিরাপদে নিয়ে আসে দৌলতদিয়া নৌ পুলিশের একটি দল।
নৌপুলিশ জানায়, গত শনিবার (২৭ জুন) রাত পৌনে ৮টার দিকে দৌলতদিয়া লঞ্চ ঘাট থেকে ৮৫ জন যাত্রী নিয়ে এমভি বোয়ালি নামে একটি লঞ্চ পাটুরিয়ার উদ্দেশ্যে রওয়ানা দিলে পথিমধ্যে পদ্মা নদীর মাঝখানে কুশাহাটা নামক স্থানে যাত্রীসহ আটকা পরে যায়।
পরে ৯৯৯ মাধ্যমে নৌপুলিশকে সংবাদ দিলে দৌলতদিয়া এবং পাটুরিয়া নৌপুলিশ উদ্ধার করে অন্য আরেকটি লঞ্চ এমভি চিশতিয়াতে স্থানান্তর করে।
এসময় নৌপুলিশের সহায়তায় রাত সাড়ে ১১ টার দিকে নিরাপদে পাটুরিয়া লঞ্চ ঘাটে পৌঁছে দেয় যাত্রীদের। তবে এসময় হতাহতের কোনো ঘটনা ঘটেনি।
জয়পুরহাটের আক্কেলপুর উপজেলায় ধান কাটার কামলা সম্বোধন করে কথা বলাকে কেন্দ্র করে শ্যামল চন্দ্র মালী হত্যার ঘটনায় অভিযুক্তের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিতে মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়েছে।
রোববার (২৮ জুন) দুপুরে শহরের জিরো পয়েন্টে ঘন্টাব্যাপী এ মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়। এতে নিহত পরিবারের সদস্যসহ হিন্দু নেতারা অংশ নেয়।
এসময় বক্তব্য রাখেন, বাংলাদেশ দলিত ও বঞ্চিত অধিকার আন্দোলনের কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদক শিপন কুমার রবিদাস, আইনবিষয়ক সম্পাদক এ্যাড. বাবুল রবিবাস, জেলা শাখার সাধারণ সম্পাদক উজ্জল কুমার দাস ও জেলা পূজা উদযাপন পরিষদের উপদেষ্টা প্রহল্লাদ বাঁশফোর।
বক্তারা বলেন, গত ৬ জুন আক্কেলপুর উপজেলার কাশিড়া গ্রামের সড়কে ধান কাটার কামলা সম্বোধন করে কথা বলাকে কেন্দ্র করে শ্যামল চন্দ্র মালীর মাথায় গাছের ডাল দিয়ে আঘাত করেন ঢেকুঞ্চা বাউস্ত গ্রামের রেজাউল দেওয়ানের ছেলে হাসান আলী। পরে হাসপাতালে নিলে শ্যামল মারা যায়।
এ ঘটনায় অভিযুক্তকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। এদিকে, নিহতের পরিবার নিরাপত্তাসহ ঘটনার জড়িতদের দৃষ্টান্তমুলক শাস্তির দাবিতে পুলিশ সুপারের কাছে স্মারক লিপি দিয়েছে।
ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন মাসব্যাপী ‘পরিচ্ছন্ন ক্যাম্পাস’ ও ‘বৃক্ষরোপণ ২০২৬’ কর্মসূচির উদ্বোধন করেছে। এই কর্মসূচির অংশ হিসেবে পরিবেশগত স্থিতিশীলতা বৃদ্ধি এবং সবুজায়ন বাড়ানোর লক্ষ্যে বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসজুড়ে ২০টি ভিন্ন প্রজাতির ১০ হাজার চারা বিতরণ ও রোপণ করবে।
রোববার (২৮ জুন) বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. এ. কে. এম. মতিনুর রহমান এই কর্মসূচির উদ্বোধন করেন।
এ সময় উপউপাচার্য ও কর্মসূচি বাস্তবায়ন কমিটির আহ্বায়ক অধ্যাপক ড. এম. ইয়াকুব আলী; বিশ্ববিদ্যালয়ের কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক ড. মো. জাহাঙ্গীর আলম; এবং জেলা বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) সদস্য সম্পাদক ও কর্মসূচির উপদেষ্টা ইঞ্জিনিয়ার জাকির হোসেনসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক সংগঠন, শিক্ষক ও শিক্ষার্থীরা উপস্থিত ছিলেন।
আয়োজকরা জানান, মাসব্যাপী এই কর্মসূচিতে এবার ২০ প্রজাতির ১০,০০০ গাছ বিতরণ ও রোপণ করা হবে। আম, ব্ল্যাককারেন্ট, আমলকী, হরিতকী, পেয়ারা, কাঁঠাল, আটা, সফেদা ও জামসহ বিভিন্ন প্রজাতির গাছ লাগানো হবে।
সুন্দরবনে চলমান তিন মাসের মাছ ধরার নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে অবৈধভাবে মাছ শিকারের সময় ট্রলারসহ তিন জেলেকে আটক করেছে বনবিভাগ। এ সময় তাদের ব্যবহৃত ট্রলার, মাছ ধরার জাল ও অন্যান্য সরঞ্জাম জব্দ করা হয়। পরে আটক জেলেদের বাগেরহাট আদালতে পাঠানো হয়েছে।
বনবিভাগ জানায়, শনিবার (২৭ জুন) সুন্দরবন পূর্ব বনবিভাগের শরণখোলা রেঞ্জের স্মার্ট টিম কটকা অভয়ারণ্যের বদরউদ্দিন খালে নিয়মিত টহলকালে একটি ট্রলারে কয়েকজন জেলেকে মাছ ধরতে দেখে। পরে অভিযান চালিয়ে তিন জেলেকে হাতেনাতে আটক করা হয়।
আটক জেলেরা হলেন, শরণখোলা উপজেলার দক্ষিণ রাজাপুর গ্রামের বাচ্চু হাওলাদার, মো. সবুর হাওলাদার এবং মালিয়া রাজাপুর গ্রামের মো. বেল্লাল হাওলাদার।
সারাদেশের ন্যায় ফরিদপুর সিভিল সার্জন অফিসের আয়োজনে জাতীয় ভিটামিন ‘এ’ প্লাস ক্যাম্পেইন-২০২৬ -এর উদ্বোধনী অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়েছে। রোববার (২৮ জুন) ফরিদপুর জেনারেল হাসপাতাল প্রাঙ্গণে এ অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে বেলুন ও ফেস্টুন উড়িয়ে ক্যাম্পেইনের উদ্বোধন করেন ফরিদপুরের জেলা প্রশাসক ও বিজ্ঞ জেলা ম্যাজিস্ট্রেট মাজহারুল ইসলাম।
সিভিল সার্জন ডা. মাহমুদুল হাসানের সভাপতিত্বে বিশেষ অতিথি ছিলেন অতিরিক্ত পুলিশ সুপার ফাতেমা ইসলাম।
এ সময় জেলা স্যানিটারি ইন্সপেক্টর মো. বজলুর রশিদ খান, মেডিকেল টেকনোলজিস্ট মো. আশিকুর রহমান, জেলা ইপিআই সুপারভাইজার মামুনুর রশিদ, স্বাস্থ্য পরিদর্শক (ইনচার্জ) এম. শামিম আজাদ, এমওডিসি সদর ডা. অনন্যা সাহা উপস্থিত ছিলেন।
প্রধান অতিথি বলেন, অভিভাবকদের নির্ধারিত কেন্দ্রে নিয়ে গিয়ে ৬ থেকে ৫৯ মাস বয়সী সকল শিশুকে ভিটামিন ‘এ’ ক্যাপসুল খাওয়ানোর আহ্বান জানান।
পদ্মা নদীর অববাহিকায় মাদারীপুরের শিবচর উপজেলার চরাঞ্চলে চলতি মৌসুমে চীনা বাদাম চাষে বাম্পার ফলন হওয়ায় কৃষকের মুখে হাসি ফুটেছে।
সরেজমিনে শিবচরের চরজানাজাত, কাঠালবাড়ী, মাদবরেরচর, হেরাতলা, সন্ন্যাসীরচর, নিলখী, শিরুয়াইল এলাকা সহ বেশ কয়েকটি চরাঞ্চল ঘুরে দেখা গেছে বিস্তীর্ণ এলাকা জুড়ে চীনা বাদাম চাষ হয়েছে।
বাদাম চাষিরা বলছেন, গতবার বন্যা-খড়া ও প্রতিকূল আবহাওয়ায় বাদামের উৎপাদন ভালো না হওয়ায় লোকসানে পড়লেও এবার লোকসান কাটিয়ে তারা লাভের মুখ দেখতে পাবেন, সংসারে ফিরে আসবে স্বচ্ছলতা।
এদিকে ফসলের মাঠ থেকে বাদাম উত্তোলনে চলছে ধুমধাম, নারী-পুরুষ কৃষাণ-কৃষাণিরা রোদ-বৃষ্টির মাঝেও এখন তাদের উৎপাদিত ফসল ঘরে তুলতে ব্যস্ত, শেষ পর্যায়ে রয়েছে বাদাম ঘরে তোলা পালা। কৃষিবিভাগ ও স্থানীয় সূত্র থেকে জানা গেছে পদ্মার চরের উর্বর বেলে-দো’আঁশ মাটি ও পলিমাটি বাদাম চাষের জন্য বেশ উপযোগী এবং আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় এই মৌসুমে বাদামের বাম্পার ফলন হয়েছে। গত বছরের তুলনায় এবছর বাদামের ফলন দ্বিগুণের কাছাকাছি হয়েছে।
শিবচর উপজেলা কৃষি কর্মকতা মোঃ আলিমুজ্জামান জানান, চরাঞ্চলের উপযোগী মাটি, অনুকূল আবহাওয়া, পোকামাকড়ের আক্রমণ কম হওয়া, সঠিক পরিচর্যা, আধুনিক কৃষি প্রযুক্তির যথাযথ ব্যবহার ও কৃষকদের কঠোর পরিশ্রমের কারণে চলতি মৌসুমে বাম্পার ফলনের মুখ দেখলো কৃষকেরা। তিনি আরও বলেন, প্রতিবছরই এই অঞ্চলে চীনা বাদাম চাষের জনপ্রিয়তা ও পরিধি বৃদ্ধি পাচ্ছে। চরজানাজাত এলাকার কৃষক মো. জালালউদ্দিন জানান, আমাদের পদ্মার চরের বাদামের গুণগত মান,স্বাদ, আকার যে কোনও এলাকার চাইতে উন্নত ও অনেক ভালো। তাই মাঠ থেকেই অনেক পাইকার ও ক্রেতারা তা খরিদ করে দেশের বিভিন্ন জায়গায় নিয়ে যাচ্ছেন।
শিবচর উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সূত্র জানায়, চলতি অর্থ বছরে ৬৯০ হেক্টর জমিতে বাদাম চাষ হয়েছে এবং এর মধ্যে শুধু চরজানাজাত ইউনিয়নেই ১২০ হেক্টর জমি এর আওতায় ছিল। উৎপাদিত বাদামের বিক্রয় মূল্য সম্পর্কে কৃষক আ. হামিদ খাঁ বলেন, মানভেদে প্রতিমণ বাদাম ৬ হাজার থেকে ৮ হাজার টাকা পর্যন্ত বিক্রি হচ্ছে, তবে সামনে দাম কিছুটা কমার সম্ভাবনা রয়েছে।
নীলফামারী জেলা পরিষদের ২০২৬-২০২৭ অর্থবছরের জন্য ৮৪ কোটি ৮৫ লাখ ৯০ হাজার টাকার জনবান্ধব ও উন্নয়নমুখী বাজেট ঘোষণা করা হয়েছে। জেলার অবকাঠামো উন্নয়ন, শিক্ষা, স্বাস্থ্য, যোগাযোগ ব্যবস্থা এবং জনকল্যাণমূলক কার্যক্রমকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে এ বাজেট প্রণয়ন করা হয়েছে।
রোববার (২৮ জুন) দুপুরে জেলা পরিষদের হলরুমে অনুষ্ঠিত বাজেট ঘোষণা অনুষ্ঠানে জেলা পরিষদের প্রশাসক অ্যাড. মিজানুর রহমান চৌধুরী শামীম আনুষ্ঠানিকভাবে বাজেট উপস্থাপন করেন।
অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন জেলা পরিষদের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (ভারপ্রাপ্ত) আক্তার হোসেন শাহিন, সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোবাশ্বিরা আমাতুল্লাহ, সৈয়দপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ফারাহ ফাতেহা তাকমিলা, জেলা জজ কোর্টের জিপি আবু মোহাম্মদ সোয়েম, জেলা এলজিইডির নির্বাহী প্রকৌশলী মো. ফিরোজ হাসান, জেলা পরিষদের সহকারী প্রকৌশলী মামুন উর রশিদসহ বিভিন্ন সরকারি দপ্তরের কর্মকর্তা ও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিবর্গ।
বাজেট ঘোষণা শেষে জেলা পরিষদের প্রশাসক অ্যাড. মিজানুর রহমান চৌধুরী শামীম বলেন, ‘এই বাজেট জেলার সার্বিক ও টেকসই উন্নয়নের লক্ষ্যে প্রণয়ন করা হয়েছে। শিক্ষা, স্বাস্থ্যসেবা, গ্রামীণ সড়ক ও অবকাঠামো উন্নয়ন, ধর্মীয় ও সামাজিক প্রতিষ্ঠানের উন্নয়ন এবং জনকল্যাণমূলক কর্মকাণ্ডে পর্যাপ্ত বরাদ্দ রাখা হয়েছে।’
তিনি আরও বলেন, ‘স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা ও সুশাসন নিশ্চিত করে উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়নের মাধ্যমে জেলার মানুষের প্রত্যাশা পূরণে জেলা পরিষদ কাজ করবে। পাশাপাশি স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানগুলোর সঙ্গে সমন্বয় করে টেকসই উন্নয়ন নিশ্চিত করাই এ বাজেটের অন্যতম লক্ষ্য।’
জেলা পরিষদের পক্ষ থেকে জানানো হয়, ঘোষিত বাজেট বাস্তবায়নের মাধ্যমে জেলার আর্থ-সামাজিক উন্নয়নের গতি আরও ত্বরান্বিত হবে এবং সাধারণ মানুষের জীবনমান উন্নয়নে কার্যকর ভূমিকা রাখবে বলে আশা করা হচ্ছে।
চট্টগ্রামের বোয়ালখালী থানার নতুন ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেছেন মোহাম্মদ মোজাফফর হোসেন। দায়িত্ব গ্রহণ উপলক্ষে তাকে ফুল দিয়ে স্বাগত জানান থানার কর্মকর্তা ও সদস্যরা। একই অনুষ্ঠানে বিদায়ী ওসি মাহফুজুর রহমানকে ফুলেল শুভেচ্ছা ও বিদায় সংবর্ধনা দেওয়া হয়।
রোববার (২৮ জুন) বিকেলে বোয়ালখালী থানা ওসির কার্যালয়ে আয়োজিত সংক্ষিপ্ত অনুষ্ঠানে থানার বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তা ও সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।
পুলিশ সূত্রে জানা যায়, প্রশাসনিক বদলির অংশ হিসেবে ওসি মাহফুজুর রহমানকে অন্য কর্মস্থলে বদলি করা হয়েছে। তার স্থলাভিষিক্ত হয়ে দায়িত্ব গ্রহণ করেন মোহাম্মদ মোজাফফর হোসেন। অনুষ্ঠানে বিদায়ী ও নবাগত দুই কর্মকর্তার কর্মজীবনের সফলতা কামনা করা হয়।
উল্লেখ্য, মাহফুজুর রহমান গত বছরের ৭ ডিসেম্বর বোয়ালখালী থানায় যোগদান করেন এবং রোববার ছিল তার শেষ কর্মদিবস। প্রায় সাত মাস দায়িত্ব পালনের পর তিনি নতুন কর্মস্থলে যোগ দিচ্ছেন।
এ সময় উপস্থিত ছিলেন থানার সেকেন্ড অফিসার এসআই জুয়েল রানা, এসআই ফারুখ, এসআই আজম খানসহ অন্যান্য পুলিশ সদস্যরা।
ইচ্ছা, শ্রম আর মেধার মেলবন্ধন ঘটলে অসম্ভবকেও জয় করা যায়। সেই অসাধ্য সাধন করে তাক লাগিয়ে দিয়েছে টাঙ্গাইলের পাঁচ তরুণী। প্রথাগত শিক্ষার গন্ডি পেরিয়ে আধুনিক জীবপ্রযুক্তির সাহায্যে তারা বুনেছে এক নতুন স্বপ্ন।
নিবিড় গবেষণায় তারা এমন এক তাত্ত্বিক মডেল দাঁড় করিয়েছে, যার মাধ্যমে স্বাদ অপরিবর্তিত রেখেই কলাকে করা যাবে উচ্চ প্রোটিনসমৃদ্ধ। দেশের অপুষ্টি দূরীকরণ ও টেকসই কৃষি অর্থনীতিতে এই উদ্ভাবন নতুন দিগন্তের সূচনা করতে পারে।
এই কৌতূহলী উদ্ভাবক দলের টিম হচ্ছে টাঙ্গাইলের কুরতুবী মাদরাসার আলিম প্রথম বর্ষের পাঁচ ছাত্রী-ফাতেমাতুজ জহুরা, অনামিকা আলফী আমরি, মিফতাহুল জান্নাত মায়া, মেঘলা আক্তার ও ফারজানা আক্তার।
চলতি বছরের মার্চ মাসের ঘটনা। জীববিজ্ঞানের ল্যাব ক্লাসে ডিএনএ প্রযুক্তি নিয়ে কাজ করার সময় ছাত্রীদের মাথায় একটি আইডিয়া আসে। পুষ্টিগুণে অনন্য হলেও সাধারণ কলায় একটি বড় ঘাটতি রয়েছে- এতে মানবদেহের জন্য অত্যাবশ্যকীয় ‘লাইসিন’ নামক অ্যামাইনো অ্যাসিডের পরিমাণ খুবই কম। যেই ভাবা সেই কাজ। শিক্ষক আরিফুল ইসলামের তত্ত্বাবধানে শুরু হয় তাদের গবেষণা। ল্যাবরেটরিই হয়ে ওঠে তাদের ধ্যানজ্ঞান। অবশেষে আসে সাফল্য। তারা এই প্রকল্পের নাম দেয়: ‘প্রোটিনসমৃদ্ধ কলা তৈরির জন্য কলার ডিএনএ নিষ্কাশন ও রিকম্বিন্যান্ট ডিএনএ মডেল।’
আধুনিক জেনেটিক ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের ওপর ভিত্তি করে তৈরি এই মডেলে প্রোটিনের উৎস হিসেবে বেছে নেওয়া হয়েছে অতি পরিচিত মসুর ডালকে। এই ডাল থেকে ডিএইচডিপিএস জিন নির্বাচন করা হয়েছে, যা মানবদেহের বৃদ্ধি ও রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়াতে অত্যন্ত কার্যকর। অত্যন্ত সহজলভ্য কিছু উপাদান পাকা কলা, লবণ, গরম পানি, ডিশ ওয়াশিং লিকুইড, ব্লেন্ডার, কফি ফিল্টার ও ইথানল ব্যবহার করে প্রথমে কলার ডিএনএ নিষ্কাশন করা হয়। এরপর তাত্ত্বিক মডেলের সাহায্যে ডালের সেই বিশেষ জিনটি কলার ডিএনএতে সংযুক্ত করার রূপরেখা তৈরি করে শিক্ষার্থীরা।
এর ফলে সাধারণ কলা রূপান্তরিত হবে প্রোটিনসমৃদ্ধ ‘সুপার ফুডে’। টাঙ্গাইল সদর উপজেলা ও জেলা পর্যায়ের বিজ্ঞান মেলায় প্রকল্পটি প্রথম স্থান অধিকার করে। পরবর্তীতে বিভাগীয় পর্যায়ে দ্বিতীয় হয়ে তারা জাতীয় বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মেলায় অংশগ্রহণের গৌরব অর্জন করে ও বিজ্ঞানীদের ভূয়সী প্রশংসা কুড়ায়।
উদ্ভাবন নিয়ে অনামিকা আলফী আমরি বলেন, বাংলাদেশ এখনো পুষ্টিহীনতা, বিশেষ করে শিশু ও গর্ভবতী মায়েদের প্রোটিনের ঘাটতিজনিত সমস্যায় ভুগছে। এই উদ্ভাবন যদি মাঠপর্যায়ে সফল করা যায়, তবে তা দেশের জন্য এক আশীর্বাদ হয়ে দাঁড়াবে।
মিফতাহুল জান্নাত মায়া বলেন, ‘কলা অত্যন্ত সম্ভা এবং সব স্তরের মানুষের কাছে সহজলভ্য। প্রোটিনসমৃদ্ধ এই কলা দেশের দরিদ্র ও সুবিধাবঞ্চিত জনগোষ্ঠীর পুষ্টির চাহিদা মেটাতে ম্যাজিকের মতো কাজ করবে।’ ফাতেমাতুজ জহুরা বলেন, ‘কৃত্রিম সাপ্লিমেন্ট বা রাসায়নিকের ওপর নির্ভর না করে প্রাকৃতিকভাবেই ফল ও ফসলের পুষ্টিগুণ বাড়িয়ে নিরাপদ খাদ্য নিশ্চিত করা সম্ভব।
মেঘলা আক্তার বলেন, জেনেটিক্যালি মডিফাইড এই কলা বাণিজ্যিকভাবে চাষ করা সম্ভব হলে কৃষকরা লাভবান হবেন এবং পুষ্টিকর ফল হিসেবে এটি বিদেশে রপ্তানি করাও সম্ভব।
সফলতার পাশাপাশি উন্নত ল্যাবের অভাব ও জেনেটিক্যালি মডিফাইড খাদ্য নিয়ে সামাজিক বিতর্কের মতো সীমাবদ্ধতার কথাও জানিয়েছে এই তরুণীরা।
শিক্ষক আরিফুল ইসলাম বলেন, শিক্ষার্থীদের জানার আগ্রহ অনেক বেশি। ওদের একটু ধারণা দেয়া হলে ওরা ভালো কিছু করতে পারবে। ছাত্রীরা দেখিয়েছে, জিন ট্রান্সফারের মাধ্যমে কিভাবে অত্যাবশকীয় এমাইনো এসিড সমৃদ্ধ প্রোটিন উৎপাদন করা যায়।
কুরতুবী আলিম মাদরাসার অধ্যক্ষ মো. রেজাউল করিম বলেন, ‘আমরা দ্বীনি শিক্ষার পাশাপাশি বিজ্ঞানমনস্ক, দক্ষ ও দেশপ্রেমিক প্রজন্ম গড়ে তুলতে নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছি। ভবিষ্যতেও বিজ্ঞানচর্চা, গবেষণা ও উদ্ভাবনী কর্মকা্যেণ্ড শিক্ষার্থীদের সর্বাত্মক সহযোগিতা প্রদান করা হবে যাতে শিক্ষার্থীরা বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি গবেষণায় দেশ ও জাতির কল্যাণে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখতে পারে।’
কুরতুবী মাদরাসা টাঙ্গাইলের চেয়ারম্যান হারুনুর রশীদ খান বলেন, ‘এই আবিষ্কার দেশের জন্য একটি উজ্জ্বল ভূমিকা। তাদের এই সাফল্য তৃণমূল পর্যায়ে মানুষের দুয়ারে খুব সহজেই পুষ্টির চাহিদা পৌঁছে যাবে।’ ১৯৯৯ সালে টাঙ্গাইল শহরের সাবালিয়ায় প্রতিষ্ঠিত কুরতুবী মাদ্রাসা আধুনিক ও যুগোপযোগী বিজ্ঞান শিক্ষায় যে অনন্য, ছাত্রীদের এই অভাবনীয় সাফল্য তারই প্রমাণ। সুযোগ ও সঠিক দিকনির্দেশনা পেলে এ দেশের নারীরাও বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির হাত ধরে একটি নিরাপদ ভবিষ্যতের নেতৃত্ব দিতে পারে।
সাতক্ষীরা সীমান্ত এলাকায় উদ্ধার হওয়া প্রায় ৭৩ কোটি ৭৫ লাখ টাকা মূল্যের বিপুল পরিমাণ মাদকদ্রব্য ধ্বংস করেছে সাতক্ষীরা ব্যাটালিয়ন (৩৩ বিজিবি)। রোববার (২৮ জুন) বেলা ১১টায় সাতক্ষীরা ব্যাটালিয়ন সদর দপ্তরে আয়োজিত ‘মাদকদ্রব্য ধ্বংসকরণ অনুষ্ঠান ২০২৬’-এ আনুষ্ঠানিকভাবে এসব মাদকদ্রব্য ধ্বংস করা হয়।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) দক্ষিণ-পশ্চিম রিজিয়নের রিজিয়ন কমান্ডার ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মাহমুদুল হাসান।
অনুষ্ঠানের শুরুতে স্বাগত বক্তব্য দেন সাতক্ষীরা ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল কাজী আশিকুর রহমান, ওএসপি, পিএসসি। এ সময় অন্যদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন সাতক্ষীরা জেলা প্রশাসক কাউসার আজিজ, সেক্টর কমান্ডর ক: মোহা. মাসুদুর রহমান, পিএসসি, সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট মেহেদি হাসান, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার নুরুল্লাহ, সাতক্ষীরা মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর, মিজানুর রহমান শরিফ প্রমুখ।
বিজিবি সূত্র জানায়, ২০২৫ সালের ১ জানুয়ারি থেকে ২০২৬ সালের ৩০ এপ্রিল পর্যন্ত সাতক্ষীরা সদর ও কলারোয়া উপজেলার সীমান্তবর্তী বিভিন্ন বিওপি এবং ব্যাটালিয়ন সদর পরিচালিত অভিযানে ৪৮ জন আসামিসহ মোট ১২৬ কোটি ৬৬ লাখ ৩৬ হাজার ৮৫৬ টাকা মূল্যের বিভিন্ন চোরাচালান পণ্য জব্দ করা হয়। এর মধ্যে ৭৩ কোটি ৭৫ লাখ টাকার বিভিন্ন ধরনের মাদকদ্রব্য ছিল।
ধ্বংস করা মাদকদ্রব্যের মধ্যে ছিল ৩ হাজার ৭৯১ বোতল বিভিন্ন ধরনের মদ, ৪ হাজার ৫২৪ বোতল ফেনসিডিল ও সমজাতীয় মাদক, ৪৭ হাজার ২৭০ পিস ইয়াবা, ৬ লাখ ৭ হাজার ৭৬৯ পিস বিড়ি ও সিগারেট, ৩৩ দশমিক ৪০০ কেজি গাঁজা, ৬৩ লাখ ১৩ হাজার ১২০ পিস বিভিন্ন ধরনের অবৈধ ওষুধ, ৩৫ কেজি তামাকের গুঁড়া, ২ বোতল লিকুইড সীসা, ১০০ কেজি মাদক তৈরিতে ব্যবহৃত বট পাতা, ৭২ দশমিক ৫০ মিলিলিটার এলএসডি, ৮ দশমিক ৫৮৩ কেজি ক্রিস্টাল মেথ (আইস) এবং আফিম তৈরির ২০ বোতল কেমিক্যাল।
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে খুলনা সেক্টরের সেক্টর কমান্ডার, সাতক্ষীরার জেলা প্রশাসক, পুলিশ সুপার, সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট, কাস্টমস, এক্সাইজ ও ভ্যাট বিভাগের সহকারী রাজস্ব কর্মকর্তা, মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক, র্যাব-৬ এর কোম্পানি কমান্ডার এবং সাংবাদিকরা উপস্থিত ছিলেন।