শনিবার, ১৬ মে ২০২৬
২ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩

পথ হারিয়ে ফেলা রেশম স্বপ্ন দেখাচ্ছে আবার

ছবি: সংগৃহীত
রাজশাহী ব্যুরো
প্রকাশিত
রাজশাহী ব্যুরো
প্রকাশিত : ২৬ সেপ্টেম্বর, ২০২২ ০৮:৩৭

এনায়েত করিম, রাজশাহী ব্যুরো

প্রাচীনকাল থেকেই রেশমের জন্য সুপরিচিত রাজশাহী। সেই সুখ্যাতি থেকেই রাজশাহীর প্রধান পরিচয় হয়ে ওঠে ‘সিল্কসিটি’। তবে মাঝে খেই হারিয়ে ফেলেছিল রেশমশিল্প। বাংলাদেশ রেশম গবেষণা ইনস্টিটিউটের হাত ধরে সেই রেশম আবার স্বপ্ন দেখাচ্ছে সুদিন ফেরানোর। রেশম নিয়ে গবেষণায় নিয়োজিত এই প্রতিষ্ঠানটি সম্প্রতি রেশমের ৩৫টি নতুন জাত উদ্ভাবন করেছে। এর মধ্যে ১৫টি মালবেরি (তুঁত) গাছ ও ২০টি রেশম কীট। নতুন এসব জাত রেশমশিল্পে সাড়া ফেলবে বলে মনে করছেন গবেষকরা। তারা বলছেন, আগের জাতের চেয়ে নতুন জাতে অন্তত ১২ থেকে ১৫ শতাংশ বেশি উৎপাদন আসবে। এতে চাষিদেরও সাশ্রয় হবে।

বাংলাদেশ রেশম গবেষণা ও প্রশিক্ষণ ইনস্টিটিউট রাজশাহীর তথ্য অনুযায়ী, রেশমশিল্পের উন্নয়নে পাঁচ বছর আগে ‘রেশম প্রযুক্তি উন্নয়ন বিস্তার ও দক্ষ জনশক্তি সৃষ্টির মাধ্যমে উৎপাদনশীলতা বৃদ্ধিকরণ’ নামে একটি প্রকল্প হাতে নেয় রেশম বোর্ড। চলতি বছরের জুনে শেষ হয়েছে প্রকল্পটি। ৩৫ কোটি ৬৬ লাখ টাকার এই প্রকল্পের মাধ্যমে নতুন করে রেশমে যুক্ত হয়েছে ১৫টি মালবেরি (তুঁত) জাতের গাছ ও ২০টি নতুন জাতের কীট। ফলে বর্তমানে মালবেরি জাতের গাছের সংখ্যা ৩৮টি ও রেশম কীটের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১১৪টিতে।

বাংলাদেশ রেশম গবেষণা ও প্রশিক্ষণ ইনস্টিটিউটের ঊর্ধ্বতন গবেষণা কর্মকর্তা ফারুক আহম্মেদ ও রুমানা ফেরদৌস বিনত-এ রহমানের যৌথ গবেষণায় নতুন এসব জাত উদ্ভাবন হয়। নতুন ৩৫টি জাত (১৫টি তুঁত ও ২০টি কীট) উদ্ভাবনের ফলে বর্তমানে বাংলাদেশ রেশম গবেষণা ও প্রশিক্ষণ ইনস্টিটিউট রাজশাহীতে জার্মপ্লাজম ব্যাংকে তুঁত জাতের গাছের সংখ্যা ৬০ থেকে ৮৪ ও রেশম কীট জাতের সংখ্যা ৮৫ থেকে ১১৪টিতে উন্নীত হয়েছে। এর মধ্যে ২৭টি উচ্চফলনশীল রেশম কীটের জাত রয়েছে।

নতুন ২০টি রেশম কীট উদ্ভাবনের ফলে প্রতি ১০০টি রোগমুক্ত ডিমে ৭০ থেকে ৭৫ কেজি রেশমগুটি উৎপাদন সম্ভব হচ্ছে। আগে এর পরিমাণ ছিল ৬০ থেকে ৬৫ কেজি। এ ছাড়া উচ্চফলনশীল ১৫টি তুঁতজাত উদ্ভাবনের ফলে বছরে হেক্টরপ্রতি তুঁতপাতার উৎপাদন ৪০ থেকে ৪৭ মেট্রিক টনে উন্নীত করা সম্ভব হয়েছে। এর আগে প্রতি হেক্টরে রেশমের সর্বোচ্চ উৎপাদন ছিল ৩০ থেকে ৩৭ মেট্রিক টন। ফলে স্বল্প সময়ে ও অল্প ব্যয়ে মানসম্পন্ন কাঁচা রেশম সুতা উৎপাদন সম্ভব হচ্ছে।

গবেষণা কর্মকর্তা ফারুক আহম্মেদ দৈনিক বাংলাকে বলেন, ‘একটি নতুন জাত তৈরি করতে অন্তত ১০ বছর সময় লেগে যায়। এই গবেষণার কাজ আগেই কিছুটা এগিয়ে রাখায় পাঁচ বছরের মধ্যেই শেষ করা সম্ভব হয়েছে। রাজশাহী রেশম গবেষণা ও প্রশিক্ষণ ইনস্টিটিউটে জার্মপ্লাজম থেকে গবেষণার মাধ্যমে নতুন এই ১৫টি জাতের মালবেরি (তুঁত) জাত উদ্ভাবন করা হয়েছে। এগুলোর মধ্যে বিএসআরএম-৬৪, বিএসআরএম-৬৫ ও বিএসআরএম ৭৪ জাতের ট্রায়াল শেষ হয়েছে। এগুলো রেশম সম্প্রসারণের মাধ্যমে চাষিদের মাঝে ছড়িয়ে দেয়া হবে। বাকি জাতগুলো ট্রায়ালের জন্য রাখা হয়েছে।’

এই গবেষক আরও বলেন, ‘প্রকল্পটি দ্বিতীয় পর্যায়ের জন্য আবেদন করা হয়েছে। অনুমোদন পেলে দ্বিতীয় পর্যায়ে এগুলোর ট্রায়াল শেষ করা হবে। এগুলো থেকে হেক্টরপ্রতি তুঁতপাতার উৎপাদন ৪০ থেকে ৪৭ মেট্রিক টনে উন্নীত করা সম্ভব হবে। তবে ট্রায়াল শেষ না হওয়া পর্যন্ত এগুলোর নামসহ বিস্তারিত বলা যাচ্ছে না।’

ঊর্ধ্বতন গবেষণা কর্মকর্তা রুমানা ফেরদৌস বিনত-এ রহমান বলেন, এই প্রকল্পের মাধ্যমে উদ্ভাবিত ২০টি নতুন রেশম কীটের জাতের সবগুলোই এখন ট্রায়াল পর্যায়ে আছে। এগুলো চাহিদা অনুযায়ী রেশম সম্প্রসারণের মাধ্যমে ক্রস হাইব্রিড জাত উৎপাদন করে সরবরাহ করা হবে।

বাংলাদেশ রেশম গবেষণা ও প্রশিক্ষণ ইনস্টিটিউট রাজশাহীর পরিচালক কাজী রফিকুল ইসলাম বলেন, প্রধান ফসল হিসেবে চাষিদের তুঁত চাষ করতে উৎসাহিত করা হচ্ছে। এখন বাড়ির আনাচকানাচে, রাস্তার ধারে পরিত্যক্ত জায়গায় বেশির ভাগ তুঁত চাষ হয়। রেশম গবেষণা ইনস্টিটিউটের পক্ষ থেকেও তুঁত চাষকে জনপ্রিয় করতে সাথি ফসল প্রবর্তন করা হয়েছে। চাষিরা এভাবে চাষাবাদ করলে লাভবান হবেন।

তিনি আরও বলেন, নতুন এসব জাত উদ্ভাবনের পর সেগুলো দিয়ে বিভিন্ন এলাকার কৃষক নিয়ে এখানে প্রশিক্ষণও দেয়া হয়েছে। এখন এগুলো ট্রায়ালে আছে। কিছু কিছু জাত রেশম সম্প্রসারণকে দেয়া হয়েছে। আর কিছু জাতের কাজ এখনো চলছে। সামান্য কিছু উন্নয়ন করতে হবে। এগুলো শেষ হলেই এই ৩৫টি নতুন জাত রেশম সম্প্রসারণ শাখার মাধ্যমে চাষিদের হাতে পৌঁছে দেয়া হবে।

উল্লেখ্য, রাজশাহীর ঐতিহ্যবাহী রেশম কারখানা ২০০২ সালে বন্ধ করে দেয় তৎকালীন জোট সরকার। আওয়ামী লীগ সরকার ক্ষমতায় আসার পর ফের সচলের উদ্যোগ নিয়ে ২০১৮ সালে কারখানাটি চালু হয়। সে সময় রেশমের সুদিন ফেরাতে ১৫৩ কোটি টাকার চারটি প্রকল্প গ্রহণ করা হয়। এরপর ২০২১ সালে আন্তর্জাতিক ভৌগোলিক নির্দেশক (জিআই) স্বীকৃতি পায় রাজশাহীর ঐতিহ্য রেশম। স্বীকৃতি পাওয়ার পর রেশম কাপড়ের চাহিদা বেড়েছে। বর্তমানে রেশমচাষিদের উৎপাদিত রেশমগুটি থেকে কারখানার সামনের রেশম ডিসপ্লেতে মিলছে প্রিন্টেড শাড়ি, টু-পিস, থান কাপড়, ওড়না, স্কার্ফ, টাই ইত্যাদি খাঁটি রেশমপণ্য।


স্বামীকে হত্যার পর টুকরো ‍টুকরো, ফ্রিজে রাখতে গিয়ে ধরা

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
শরীয়তপুর প্রতিনিধি

শরীয়তপুরের চন্দ্রপুর এলাকায় স্বামীকে হত্যার পর মরদেহ ছুরি দিয়ে টুকরো টুকরো করে ড্রামে ভরে রাখার অভিযোগ উঠেছে আসমা আক্তার নামের এক নারীর বিরুদ্ধে। তিন দিন পর মরদেহের অংশ বিভিন্ন জায়গায় ফেলে দিয়ে মাংস ফ্রিজে সংরক্ষণ করতে গিয়ে দুর্গন্ধে স্থানীয়দের সন্দেহ জাগে। পরে পুলিশকে খবর দিলে গ্রেপ্তার হন তিনি। জিজ্ঞাসাবাদে সব কিছু স্বীকার করেছেন অভিযুক্ত আসমা।

জানা গেছে, পিরোজপুর জেলার বাসিন্দা আসমা আক্তারের সঙ্গে শরীয়তপুর সদর উপজেলার দক্ষিণ মাহমুদ এলাকার মালয়েশিয়া প্রবাসী জিয়া সরদারের পরিচয় হয়েছিল মোবাইল ফোনে। সেই পরিচয়ের সূত্র ধরে প্রায় আট বছর আগে তাদের বিয়ে হয়। এটি দুজনের জন্যই দ্বিতীয় বিয়ে ছিল। বিয়ের পর জিয়া সরদার আসমাকে শরীয়তপুর শহরের পালং এলাকায় একটি ভাড়া বাসায় রাখেন।

গত বছর জিয়া সরদার দেশে ফিরলে দুজনে মিলে চন্দ্রপুর এলাকায় একটি ভাড়া বাসায় ওঠেন। এরপর থেকেই দাম্পত্য কলহ বাড়তে থাকে। সেই কলহের জেরে চলতি মাসের ১২ মে রাতে কথা-কাটাকাটির এক পর্যায়ে আসমা স্বামী জিয়া সরদারের মাথায় রড দিয়ে আঘাত করেন। এতে জিয়া মাটিতে লুটিয়ে পড়েন এবং মারা যান। মরদেহ লুকানোর উদ্দেশে আসমা এরপর ছুরি দিয়ে দেহটি কয়েক টুকরো করেন এবং হাড় ও মাংস আলাদা করে ড্রামে ভরে রাখেন। তিন দিন পর, শুক্রবার (১৫ মে) সন্ধ্যায় অটোরিকশা ভাড়া করে ড্রাম থেকে মরদেহের একটি অংশ বস্তায় ভরে আটং এলাকার বৃক্ষতলায় ফেলে আসেন। নিহতের চার হাত-পা ফেলা হয় নড়িয়ার পদ্মা নদীর তীরে, যেগুলো পরে নড়িয়া থানা পুলিশ উদ্ধার করে। এরপর দেহের মাংসের অংশ নিয়ে আসমা যান শহরের পালং এলাকায় তার পুরনো ভাড়া বাসার এক ভাড়াটিয়ার ফ্রিজে রাখতে। কিন্তু তীব্র দুর্গন্ধ ছড়িয়ে পড়লে স্থানীয়রা জরুরি সেবা নম্বর ৯৯৯-এ ফোন করেন। পুলিশ এসে আসমাকে আটক করে জিজ্ঞাসাবাদ শুরু করলে তিনি সব কথা স্বীকার করেন। তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে রাত সাড়ে নয়টার দিকে বৃক্ষতলা এলাকার একটি পুকুর থেকে মাথাসহ হাড় উদ্ধার করা হয়।

অভিযুক্ত আসমা আক্তার বলেন, ‘আমার স্বামী প্রায়ই আমাকে মারধর করতো। ১২ মে রাতে কথা-কাটাকাটির এক পর্যায়ে তাকে মাথায় রড দিয়ে আঘাত করলে সে মাটিতে পড়ে যায়। আমি বুঝতে পারিনি এত জোরে আঘাত লাগবে। পরে চাকু দিয়ে মরদেহ টুকরো করে কয়েক জায়গায় ফেলে দেই। কিন্তু এই ঘটনা কীভাবে ঘটে গেল বুঝতে পারিনি।’

পালং মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শাহ আলম বলেন, ‘আসমা তার স্বামী জিয়া সরদারকে হত্যার পর মরদেহের হাত-পা টুকরো করে মাংস আলাদা করে ফেলে। পরে শুক্রবার (১৫ মে) সন্ধ্যায় ড্রামে ভরে অটোতে করে মরদেহের বিভিন্ন অংশ কয়েকটি জায়গায় ফেলে রাখেন। পরে মাংসগুলো তার সাবেক ভাড়াবাসায় ফ্রিজে রাখতে গেলে দুর্গন্ধ ছড়িয়ে পড়লে স্থানীয়রা জরুরি সেবা নম্বরে কল দেয়।’

তিনি আরও বলেন, ‘ড্রাম খুলে বিষয়টি নিশ্চিত হলে তাকে জিজ্ঞেস করলে সব কথা স্বীকার করেন। পরে তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে বৃক্ষতলা এলাকার একটি পুকুর থেকে মাথাসহ হাড় উদ্ধার করি। এ ঘটনায় তদন্ত চলছে। তার সঙ্গে আর কেউ জড়িত আছে কিনা, সে ব্যাপারে আইনি পদক্ষেপ প্রক্রিয়াধীন।’


সোনারগাঁয়ে বিস্ফোরণে আরও একজনের মৃত্যু

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁয়ের মেঘনাঘাটে বিদ্যুৎকেন্দ্রের ক্যান্টিনে বিস্ফোরণে আমির (২৫) নামে দগ্ধ আরো ১ জন মারা গেছেন। তার শরীরের প্রায় ৮০ শতাংশ দগ্ধ হয়েছিল।

এ নিয়ে মৃত্যুর সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ২ জনে। এর আগে চিকিৎসাধীন অবস্থায় শংকর (২৫) নামে আরো একজনের মৃত্যু হয়।

শনিবার (১৬ মে) সকাল ১০টায় মারা যান বলে জানিয়েছেন জাতীয় বার্ন অ্যান্ড প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটের আবাসিক সার্জন ডা. শাওন বিন রহমান।

জানা গেছে, বিস্ফোরণের ঘটনায় মোট ১২ জন দগ্ধ হন। তাদের মধ্যে ছয়জনকে প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে ছেড়ে দেওয়া হয়। বর্তমানে আরো চারজন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন।


দেশের চামড়া খাত অবহেলা আর অব্যবস্থাপনার কারণে কাঙ্ক্ষিত পথে এগোয়নি: শিল্পমন্ত্রী

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

বাণিজ্য, শিল্প এবং বস্ত্র ও পাটমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির বলেছেন, ২০১৭ সালে হাজারীবাগ থেকে ট্যানারিগুলো সাভারে স্থানান্তরের পর থেকে বিগত দিনে দেশের সম্ভাবনাময় এই শিল্প খাতের প্রতি যেভাবে অবহেলা করা হয়েছে বা সম্পূর্ণ প্রক্রিয়ার মধ্যে যে অব্যবস্থাপনা ছিল, সেই কারণে চামড়া শিল্প তার কাঙ্ক্ষিত পথে এগোয়নি।

শনিবার (১৬ মে) ঢাকার সাভারের হরিণধরা এলাকায় অবস্থিত বিসিক চামড়া শিল্পনগরীর কনফারেন্স রুমে বিভিন্ন ট্যানারি মালিক, বাংলাদেশ ট্যানার্স অ্যাসোসিয়েশন, বাংলাদেশ ফিনিশড লেদার, লেদারগুডস, ফুটওয়্যার অ্যান্ড এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনসহ বিভিন্ন ব্যবসায়ী নেতা ও খাত-সংশ্লিষ্ট অংশীজনদের সঙ্গে মতবিনিময় সভা শেষে তিনি এ কথা বলেন। মতবিনিময় সভা শেষে সংশ্লিষ্টদের নিয়ে চামড়া শিল্পনগরীর সেন্ট্রাল ইফ্লুয়েন্ট ট্রিটমেন্ট প্ল্যান্ট (সিইটিপি) পরিদর্শন করেন পাটমন্ত্রী।

মন্ত্রী জানান, কোরবানির ঈদের পর পিক সিজনে সিইটিপিতে ৪৫ হাজার কিউবিক মিটার বর্জ্য পরিশোধনের প্রয়োজন পড়ে। কিন্তু বাস্তবে এই সিইটিপির পরিশোধন সক্ষমতা ১৪ থেকে ১৮ হাজার কিউবিক মিটার এবং সেটি নির্ভর করে সিইটিপিতে বর্জ্য পৌঁছানোর আগে কারখানা পর্যায়ে এর প্রি-ট্রিটমেন্টের মানের ওপর।

এ সমস্যা সমাধানে আগামী দিনে সক্ষম ট্যানারিগুলোতে নিজস্ব সিইটিপি স্থাপনের পরিকল্পনা করা হচ্ছে জানিয়ে মন্ত্রী বলেন, ‘প্রয়োজনে সেখানে সরকারের পক্ষ থেকে সহায়তা দেওয়া হবে।’ এ ছাড়াও এই শিল্পকে অত্যন্ত সম্ভাবনাময় খাত উল্লেখ করে এটিকে পূর্ণ সক্ষমতায় নিয়ে যেতে সব ধরনের প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়ার কথাও জানান তিনি। সভায় ব্যবসায়ী নেতারা সিইটিপিসহ এই শিল্পের বিভিন্ন সমস্যার কথা মন্ত্রীকে জানান।

বিটিএ’র সহসভাপতি মো. সাখাওয়াত উল্লাহ ঈদ-পরবর্তী ৩ মাস শিল্পনগরীতে নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহের দাবি জানান। পাশাপাশি সরকার-নির্ধারিত মূল্যে চামড়া সংগ্রহের জন্য মাঠপর্যায়ে যথাযথ উপায়ে চামড়া সংরক্ষণের জন্য প্রয়োজনীয় উদ্যোগ গ্রহণের আহ্বান জানান তিনি।

চামড়া শিল্পনগরীতে বিভিন্ন সময় চুরির ঘটনায় নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ রয়েছে জানিয়ে বিটিএ’র সহসভাপতি আশিকুর রহমান সভায় সড়কবাতিসহ রাস্তাঘাট মেরামতের আহ্বান জানান। সভায় চামড়া শিল্পনগরীর প্রবেশমুখেই কাঁচা চামড়ার আড়তের কারণে ক্রেতারা চামড়ার উপযুক্ত মূল্য দিতে চান না বলে উল্লেখ করেন বাংলাদেশ ট্যানার্স অ্যাসোসিয়েশনের কার্যনির্বাহী সদস্য মো. ইমাম হোসাইন।

এ কারণে তিনি স্থানীয় বাজারমুখী বা ছোট সাইজের ট্যানারিগুলোর জন্য বিদ্যমান সিইটিপির কারেকশনের পাশাপাশি রপ্তানিমুখী কারখানাগুলোর জন্য নতুন করে একটি পূর্ণ সক্ষমতার সিইটিপি নির্মাণের দাবি জানান। একই সঙ্গে ঈদকে সামনে রেখে বিদ্যমান বিদ্যুৎ ও গ্যাস সংকট সমাধানে মন্ত্রীর হস্তক্ষেপ কামনা করেন তিনি।

সভায় ঢাকা ট্যানারি ইন্ডাস্ট্রিয়াল এস্টেট ওয়েস্টেজ ট্রিটমেন্ট প্ল্যান্ট কোম্পানির ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. গোলাম শাহনেওয়াজ সিইটিপির ডিজাইনে ত্রুটি, যার মধ্যে সেন্ট্রাল সেডিমেন্টেশন ব্যবস্থা, টারশিয়ারি ট্রিটমেন্ট, ক্রোম রিকভারি ব্যবস্থার অনুপস্থিতির কথা উল্লেখ করেন।

সেইসঙ্গে সিইটিপি নির্মাণকারী চীনা প্রতিষ্ঠানের সক্ষমতা ২৫ হাজার কিউবিক মিটার ঘোষণা করলেও যাচাই-বাছাইয়ে এর সক্ষমতা ১৪ থেকে ১৮ হাজার কিউবিক মিটার বলে জানান তিনি।

তিনি আরও জানান, সিইটিপির ব্যাকটেরিয়াল ট্রিটমেন্টের ফলাফল ভালো হওয়ার কথা জানালেও অন্য পদ্ধতি ঠিকভাবে ফাংশন করে না। সিইটিপির বিদ্যমান এই সমস্যা সমাধানে শিল্পনগরীতে বিদ্যমান ৫০ হাজার স্কয়ার ফুটের ৩১টি ট্যানারিতে সরকারি প্রণোদনার মাধ্যমে নিজস্ব সিইটিপি ইনস্টলের প্রস্তাব দেন তিনি।

পরে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে মন্ত্রী বলেন, ‘আমাদের যেসব রপ্তানি খাত রয়েছে, সেখানে একটি মাত্র খাত (তৈরি পোশাক) প্রায় ৮৫ শতাংশ মার্কেট দখল করে আছে। এর বাইরে সেভাবে আমাদের অন্য পণ্যগুলো রপ্তানি খাতে নিজেদের শেয়ার নিতে পারেনি।’

এ সময় চামড়া খাতকে অত্যন্ত সম্ভাবনাময় বলে উল্লেখ করে মন্ত্রী বলেন, ‘হাজারীবাগ থেকে যে উপায়ে এখানে স্থানান্তরিত হয়েছে, তারপর এই সেক্টরটির প্রতি যেভাবে অবহেলা করা হয়েছে বা সম্পূর্ণ প্রক্রিয়াটির মধ্যে যে অব্যবস্থাপনা ছিল, সে জন্য চামড়া তার কাঙ্ক্ষিত পথে আগায়নি। আমরা বিগত অনেক বছরে এটির সম্ভাবনাকে নষ্ট করেছি। আপনারা সবাই জানেন, যে পরিমাণ চামড়া বাংলাদেশে আহরিত হয়, সারা বছর যদি তার পুরোটা আমরা রপ্তানি খাতে নিতে পারতাম, তাহলে এই খাত অন্তত ১২ বিলিয়ন ডলারের একটি রপ্তানি খাতে পরিণত হতো।’

এ ছাড়াও ইউরোপীয় ইউনিয়নের সহায়তায় এই সিইটিপিকে কীভাবে আরও কার্যক্ষম এবং এর সক্ষমতা কীভাবে আরও বাড়ানো যায়, কীভাবে আরও বেশি ফাংশনাল করা যায়, সে বিষয়ে একটি স্টাডি চলছে জানিয়ে মন্ত্রী বলেন, ‘আগামী দুয়েক সপ্তাহের মধ্যে সেটি পাওয়া যাবে।’


সরকার টাকা ছাপাচ্ছে এটি গালগল্প : ড. রাশেদ আল মাহমুদ

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রধানমন্ত্রীর অর্থ ও পরিকল্পনা উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর বলেছেন, সরকার টাকা ছাপাচ্ছে বলে যে প্রচার হচ্ছে তা গালগল্প, এর সঙ্গে বাস্তবতার মিল নাই। শনিবার (১৬ মে) এফডিসিতে আসন্ন বাজেটে মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণের চ্যালেঞ্জ নিয়ে প্রাক-বাজেট ছায়া সংসদে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেছেন।

অধ্যাপক ড. রাশেদ আল মাহমুদ বলেন, বিনিয়োগ ও কর্মসংস্থানকে সরকার সর্বাধিক গুরুত্ব দিচ্ছে। বন্ধ কলকারখানা চালুর বিশেষ উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। বিগত সময়ে ঘরে, ব্যবসায় এবং সরকারে আয়ের টান পড়েছিলো। সেই টান এতটাই ব্যাপক ছিলো যে নিম্ন-মধ্যবিত্ত অনেকেই দারিদ্রসীমার নিচে চলে গিয়েছে, যা খুবই মমার্ন্তিক। এর ফলে নিম্ন-মধ্যবিত্ত ও মধ্যবিত্তসহ সমাজে ভাঙ্গন ধরেছে। সে সময় ব্যবসায়ি ব্যবসা করতে গিয়ে পুঁজি পায়নি।

পতিত সরকার প্রতি মুহূর্তে কেন্দ্রীয় ব্যাংকে হস্তক্ষেপ করতো। বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাত কয়েকটি কোম্পানির হাতে তুলে দেওয়া হয়েছিলো। বর্তমান সরকার এইরকম কোন সিন্ডিকেটের কাছে কোন খাতকেই ইজারা দিতে চায় না, বরং অর্থনীতির গণতন্ত্রায়নের মাধ্যমে জনগণকে সম্পৃক্ত করতে চায়।

অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন ডিবেট ফর ডেমোক্রেসির চেয়ারম্যান হাসান আহমেদ চৌধুরী কিরণ। প্রতিযোগিতাটি আয়োজন করে ডিবেট ফর ডেমোক্র্যাসি।


ঢাকা-ভাঙ্গা এক্সপ্রেসওয়েতে বাসচাপায় নিহত বাবা-ছেলে

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

ফরিদপুরের ভাঙ্গায় ঢাকা-ভাঙ্গা এক্সপ্রেসওয়েতে দাঁড়িয়ে থাকা একটি মালবাহী ট্রাকের চাকা মেরামতের সময় বাসচাপায় নিহত হয়েছেন বাবা ও ছেলে। শনিবার ভোর সাড়ে ৪টার দিকে এক্সপ্রেসওয়ের বগাইল টোলপ্লাজার সামনে এ দুর্ঘটনা ঘটে। নিহতরা হলেন যশোর সদর উপজেলার রুপদিয়া এলাকার বাসিন্দা ইউসুফ আলী (৫০) এবং তার ছেলে ইয়াকুব আলী (২৬)। ইয়াকুব মালবাহী ট্রাকটির চালক ছিলেন এবং তার বাবা ইউসুফ আলী হেলপার হিসেবে সঙ্গে কাজ করতেন।

এ ব্যাপারে শিবচর হাইওয়ে থানার সার্জেন্ট মোহাম্মদ শাহাদাত হোসেন বলেন, ‘ঢাকা থেকে ভাঙ্গাগামী একটি মালবাহী ট্রাক ভোর সাড়ে ৪টার দিকে বগাইল টোলপ্লাজা এলাকায় পৌঁছালে ট্রাকটির পেছনের একটি চাকা বিকল হয়ে যায়। পরে সড়কের উপর এক পাশে ট্রাকটি থামিয়ে চালক ইয়াকুব ও তার বাবা ইউসুফ আলী মিলে চাকা মেরামতের কাজ শুরু করছিলেন। এ সময় ভাঙ্গাগামী দ্রুতগতির একটি অজ্ঞাত বাস পেছন দিক থেকে এসে তাদের দুজনকে চাপা দেয়। এতে ঘটনাস্থলেই বাবা-ছেলের মৃত্যু হয়। এ সময় রাস্তার ওপর বাবা-ছেলের মরদেহ ক্ষতবিক্ষত মরদেহ ছড়িয়ে ছিটিয়ে পড়েছিল।’

তিনি আরও জানান, দুর্ঘটনার পর বাসটি দ্রুত ঘটনাস্থল ত্যাগ করে। পরে খবর পেয়ে হাইওয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে মরদেহ উদ্ধার করে এবং ট্রাকটি জব্দ করে থানায় নিয়ে আসে। ঘাতক বাসটি শনাক্ত করে আটকের চেষ্টা চলছে।

ভাঙ্গা হাইওয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) হেলাল উদ্দিন জানান, দুর্ঘটনায় দুজন নিহত হয়েছেন। ঘটনাটি শিবচর হাইওয়ে থানা পুলিশ তদন্ত করছে।

এ বিষয়ে শিবচর হাইওয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মিজানুর রহমান বলেন, খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে মরদেহ উদ্ধার করেছে। নিহতদের মধ্যে ছেলে ট্রাকের ড্রাইভার এবং বাবা হেলপার ছিলেন। দুর্ঘটনায় জড়িত বাসটিকে শনাক্তের চেষ্টা চলছে। এ ঘটনায় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।


জাবিতে ধর্ষণচেষ্টায় বিচারের দাবিতে প্রক্টর কার্যালয়ে তালা

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
জাবি প্রতিনিধি

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের এক ছাত্রীকে ধর্ষণচেষ্টার ঘটনার প্রতিবাদে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টরিয়াল টিমকে ‘অবাঞ্ছিত’ ঘোষণা করে কার্যালয়ে তালা ঝুলিয়ে দিয়েছেন শিক্ষার্থীরা। শনিবার উপাচার্যের বাসভবনের সামনে বিক্ষোভ কর্মসূচি শেষে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর কার্যালয়ের দুটি দরজার তালা ভেঙে নতুন তালা ঝুলিয়ে দেন। একই সঙ্গে আজ রোববার থেকে নতুন প্রশাসনিক ভবন অবরোধের কর্মসূচিও ঘোষণা দিয়েছেন। এদিকে, ধর্ষণচেষ্টার ঘটনায় সন্দেহভাজন অভিযুক্তকে ধরতে পুরস্কার ঘোষণা ঘোষণা করেছে পুলিশ।

আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীরা প্রেস ব্রিফিংয়ে জানান, গত ১৩ মে আমরা ৬ দফা দাবি উত্থাপন করে অপরাধীকে গ্রেপ্তারে ৪৮ ঘণ্টার আলটিমেটাম দিয়েছিলাম। গত শুক্রবার রাত ৩টায় সেই সময়সীমা শেষ হয়েছে। কিন্তু প্রশাসন চরম ব্যর্থতার পরিচয় দিয়েছে। অপরাধী এখনো গ্রেপ্তার হয়নি। প্রশাসন শিক্ষার্থীদের সঙ্গে প্রতারণা করেছে এবং দাবি অস্বীকার করছে। উপাচার্য স্বাক্ষরের মাধ্যমে দাবি মেনে নেওয়ার আশ্বাস দিয়েছিলেন।

শিক্ষার্থীরা অভিযোগ করেন, প্রশাসন ঘটনার গুরুত্বপূর্ণ তথ্য গোপন করেছে এবং ভুল ছবি প্রচার করে বিভ্রান্তি তৈরি করেছে। তারা বলেন, এই প্রক্টরের আমলে তরিকুল ধর্ষণকাণ্ড ও শারমিন হত্যা মামলা হয়েছে, অথচ উপাচার্য তাকে ‘সবচেয়ে এফিসিয়েন্ট প্রক্টর’ বলে অভিহিত করেছেন। প্রেস ব্রিফিংয়ের পর নারী শিক্ষার্থীরা প্রক্টর অফিসের তালা ভেঙে নতুন তালা লাগিয়ে দেন।

তারা জানান, আগামীকাল থেকে রেজিস্ট্রার ভবনে সব প্রশাসনিক কার্যক্রম অবরোধ করা হবে। প্রক্টরের পদত্যাগ, অপরাধী গ্রেপ্তার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত না হওয়া পর্যন্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের সব প্রশাসনিক কার্যক্রম বন্ধ থাকবে বলে ঘোষণা দেন।

নারী শিক্ষার্থীরা জানান, প্রক্টরিয়াল বডিকে অবাঞ্ছিত ঘোষণা করার পর থেকেই প্রক্টর অফিস তালাবদ্ধ করা হয়েছে। তালা ঝুলানোর পর প্রক্টর অফিসের দরজা, জানালা ও দেয়ালে ‘গেট লস্ট, অবাঞ্ছিত প্রক্টর, রাশেদ তুই ভাগ, তুমি ভুয়া-ব্যর্থ-বেহায়া’ গ্রাফিতি লেখা হয়েছে।

এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি অধ্যাপক মোহাম্মদ কামরুল আহসান বলেন, ‘৪৮ ঘণ্টার আলটিমেটাম শেষ হয়েছে। পুলিশ চেষ্টা করছে এবং কিছু অগ্রগতি আছে।’

তিনি বলেন, ‘বিশ্ববিদ্যালয়ের পক্ষ থেকে কোনো ব্যবস্থা নিতে হলে অভিযোগকারী ও যাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ, উভয় পক্ষের বক্তব্য শোনে তদন্ত কমিটির মাধ্যমে সিদ্ধান্ত নিতে হয়। বাসভবনের সামনে দাড়িয়ে প্রক্টরকে অব্যাহতি দেওয়ার সুযোগ নেই।’

উপাচার্য আরো বলেন, ‘ভুল ছবি প্রকাশের বিষয়টিও তদন্ত কমিটিতে দেখা হবে।’ তিনি আশা প্রকাশ করেন যে, শিক্ষার্থীরা তদন্তের জন্য কিছু সময় দেবেন।

এদিকে, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে (জাবি) ছাত্রীকে ধর্ষণচেষ্টার ঘটনায় সন্দেহভাজন ব্যক্তির পরিচয় শনাক্তে জনসাধারণের সহায়তা চেয়েছে পুলিশ। এ ঘটনায় সিসিটিভি ফুটেজে দেখা এক ব্যক্তির ছবি প্রকাশ করে তথ্য দেওয়ার অনুরোধ জানানো হয়েছে। গতকাল শনিবার পুলিশ সদরদপ্তর থেকে পাঠানো এক জরুরি জনসচেতনতামূলক বার্তায় এ অনুরোধ করা হয়।

পুলিশের বার্তায় বলা হয়েছে, বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্রীকে ধর্ষণচেষ্টার ঘটনায় সিসিটিভি ফুটেজে দেখা ওই ব্যক্তির পরিচয় শনাক্তে কাজ চলছে। কারও কাছে তার পরিচয়, অবস্থান বা সংশ্লিষ্ট কোনো তথ্য থাকলে ০১৩২০-০৮৯৩০৫ (হোয়াটস অ্যাপ) এই নম্বরে জানানোর অনুরোধ করা হচ্ছে। তথ্যদাতার পরিচয় সম্পূর্ণ গোপন রাখা হবে। নির্ভরযোগ্য তথ্য দিলে পুরস্কারেরও ঘোষণা দেওয়া হয়েছে।

প্রসঙ্গত, গত মঙ্গলবার রাত ১১টার দিকে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিত্যক্ত ফজিলাতুন্নেছা হল-সংলগ্ন রাস্তা থেকে এক ছাত্রীকে টেনেহিঁচড়ে অন্ধকারে নিয়ে ধর্ষণের চেষ্টা করে এক ব্যক্তি। পরদিন দুপুরে আশুলিয়া থানায় অজ্ঞাতনামা একজনকে আসামি করে মামলা করে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন।


গাজীপুরের আলোচিত ৫ খুনের আসামির মরদেহ উদ্ধার

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
মুন্সীগঞ্জ প্রতিনিধি

গাজীপুরের কাপাসিয়ায় স্ত্রী, শ্যালক ও তিন সন্তানসহ পাঁচজনকে জবাই করে হত্যার ঘটনার প্রধান অভিযুক্ত ফোরকান মোল্লার (৪০) মরদেহ মুন্সীগঞ্জের লৌহজংয়ের পদ্মা নদী থেকে উদ্ধার করা হয়েছে।

শনিবার বেলা আড়াইটার দিকে উপজেলার ঘোড়দৌড় বাজারসংলগ্ন পদ্মা নদী থেকে ভাসমান অবস্থায় মরদেহটি উদ্ধার করে নৌপুলিশ ও ফায়ার সার্ভিস।

বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন মুন্সীগঞ্জ ফায়ার সার্ভিসের উপসহকারী পরিচালক মুহাম্মদ শফিকুল ইসলাম ও লৌহজংয়ের মাওয়া নৌপুলিশ ফাঁড়ি (ইনচার্জ) মো. ইলিয়াস।

ফায়ার সার্ভিস জানায়, পদ্মা সেতু থেকে ৪ কিলোমিটার দূরে লৌহজং উপজেলা ভূমি অফিসসংলগ্ন বাজারের পাশে দুপুরে পদ্মায় একটি ভাসমান মরদেহ দেখে স্থানীয়রা নৌপুলিশকে খবর দেয়। পরে ফায়ার সার্ভিসের সহযোগিতায় মাওয়া নৌপুলিশ নিহতের মরদেহটি উদ্ধার করে। এরপর ফোরকান মোল্লার পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ করলে তার ভাই আব্দুল জব্বার ও কাপাশিয়া থানার পুলিশ পরিদর্শক তদন্ত জুবায়ের রহমান উদ্ধার হওয়া মরদেহটি অভিযুক্ত ফোরকানের বলে প্রাথমিকভাবে নিশ্চিত করেন। মরদেহটি উদ্ধার শেষে গাজীপুরের পুলিশের হেফাজতে তুলে দেওয়া হয়েছে।

মুন্সীগঞ্জ ফায়ার সার্ভিসের উপসহকারী পরিচালক মুহাম্মদ শফিকুল ইসলাম বলেন, পদ্মা সেতু থেকে লাফ দিয়ে আলোচিত হত্যা মামলার আসামি ফোরকানের নিখোঁজ হওয়ার তথ্য জানিয়ে ফায়ার সার্ভিসকে সরকারিভাবে চিঠি দেওয়া হয়েছিল। চিঠিতে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশনা আসলে আমরা বিষয়টি আমলে নিয়ে নদীজুড়ে উদ্ধার অভিযান শুরু করি।

মাওয়া নৌপুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ মো. ইলিয়াস জানান, গতকাল শনিবার দুপুরে স্থানীয় লোকজনের কাছ থেকে খবর পেয়ে নদী থেকে মরদেহটি উদ্ধার করা হয়। পরে গাজীপুরের কাপাসিয়ায় খবর পাঠানো হলে মামলার বাদী, ফোরকানের পরিবারের সদস্য ও তদন্ত কর্মকর্তা লাশটি প্রাথমিকভাবে ফোরকানের বলে ধারণা করেন।

নৌ-পুলিশের এ কর্মকর্তা আরও জানান, মরদেহটি বেশকিছু দিন পানিতে থাকায় অর্ধগলিত হয়ে গেছে। তাই পুরোপুরি পরিচয় নিশ্চিত হতে আঙুলের ছাপ (ফিঙ্গারপ্রিন্ট) নেওয়ার চেষ্টা চলছে। সেটি সম্ভব না হলে ডিএনএ পরীক্ষার মাধ্যমে পরিচয় নিশ্চিত করা হবে।

এর আগে গত বৃহস্পতিবার নিজ কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে গাজীপুরের পুলিশ সুপার মো. শরিফ উদ্দীন জানান, অভিযুক্ত ফোরকান মোল্লা পদ্মা সেতু থেকে নদীতে লাফ দিয়ে আত্মহত্যা করেছেন বলে পুলিশ প্রাথমিকভাবে ধারণা করছে।

পুলিশ জানায়, গত সোমবার মেহেরপুরে একটি যাত্রীবাহী বাসের হেলপারের কাছ থেকে ফোরকানের মোবাইল ফোনটি উদ্ধার করা হয়। জিজ্ঞাসাবাদে ওই হেলপার জানান, ফোনটি তিনি পদ্মা সেতুতে কুড়িয়ে পেয়েছিলেন। এই সূত্র ধরে পুলিশ পদ্মা সেতুর সিসিটিভি ফুটেজ পরীক্ষা করে।

ফুটেজে দেখা যায়, একটি প্রাইভেটকার থেকে এক ব্যক্তি নেমে তার মোবাইলটি ফুটপাতে রাখেন। এরপর দুই-তিন মিনিট অপেক্ষা করে তিনি রেলিং টপকে নদীতে লাফ দেন। ভিডিওটি দেখে মামলার বাদী ও ফোরকানের ভাই লাফ দেওয়া ব্যক্তিটি ফোরকান বলেই ধারণা করেন। তবে চেহারা স্পষ্ট না থাকায় তখন শতভাগ নিশ্চিত হওয়া যায়নি।

পুলিশ আরও জানায়, ভিডিওতে দেখা যাওয়া প্রাইভেটকারটি ঢাকার পল্টনের একটি রেন্ট-এ-কার থেকে ভাড়া করেছিলেন ফোরকান। চালককে তিনি বলেছিলেন, এক আত্মীয় মারা যাওয়ায় তিনি সেখানে যাচ্ছেন।

সংবাদ সম্মেলনে পুলিশ সুপার জানান, ৯ মে হত্যাকাণ্ডের পর ফোরকানকে গ্রেফতারে পুলিশের তিনটি দল অভিযানে নামে। একটি দল গোপালগঞ্জে ফোরকানের গ্রামের বাড়ি এবং আরেকটি দল বেনাপোলে যায়, যাতে সে সীমান্ত পার হতে না পারে। তবে উদ্ধার হওয়া মোবাইলটি যে ফোরকানের, তা নিশ্চিত হওয়া গেছে। এই হত্যাকাণ্ডে ফোরকান ছাড়া দ্বিতীয় কোনো ব্যক্তির সংশ্লিষ্টতা এখন পর্যন্ত পাওয়া যায়নি।

প্রসঙ্গত, গত ৯ মে সকালে কাপাসিয়ার রাউৎকোনা গ্রামের একটি বহুতল বাড়ি থেকে একই পরিবারের পাঁচজনের গলাকাটা মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। নিহত ব্যক্তিরা হলেন—ফোরকানের স্ত্রী শারমিন খানম (৩০), তাদের তিন সন্তান মীম খানম (১৫), উম্মে হাবিবা (৮), ফারিয়া (দেড় বছর) এবং শারমিনের ছোট ভাই রসুল মোল্লা (২৩)। নৃশংস এই হত্যাকাণ্ডের পর থেকেই প্রধান অভিযুক্ত ফোরকান পলাতক ছিলেন।


হজের খরচ ৫ থেকে ৬ লাখ টাকায় নামিয়ে আনা সম্ভব: হাব সভাপতি

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

হজের মোট খরচ ৫ থেকে ৬ লাখ টাকায় নামিয়ে আনা সম্ভব বলে মন্তব্য করেছেন হজ এজেন্সিজ অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (হাব) সভাপতি সৈয়দ গোলাম সরওয়ার। শনিবার (১৬ মে) রাজধানীর আশকোনার হাজী ক্যাম্পে হজ যাত্রার সার্বিক পরিস্থিতি নিয়ে সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ মন্তব্য করেছেন।

হাবের সভাপতি বলেন, ২০২৭ সালে হজ যাত্রার বিমানের টিকিট মূল্য কমে ১ লাখে নেমে আসবে। মধ্যস্বত্বভোগীদের দৌরাত্ম্য কমানো গেলে হজের মোট খরচ কমে আসবে।

তিনি বলেন, দ্রুততম সময়ে মোয়াল্লেম চুক্তি, বাড়ি ভাড়া, ট্রান্সপোর্ট চুক্তি, তাবু নির্বাচনের কাজ করতে হলেও শেষ পর্যন্ত সফলভাবে সব কার্যক্রম সম্পন্ন করা গেছে। সব চ্যালেঞ্জ মাথায় নিয়েও মন্ত্রণালয়, হজ অফিস ও হাবের সহযোগিতায় এবারের হজ ব্যবস্থাপনা সুষ্ঠুভাবে হয়েছে।

এছাড়া সৌদি সরকারের নতুন নতুন সিদ্ধান্তের কারণে দেশের বিদ্যমান হজ ও ওমরাহ আইন সংস্কারের প্রয়োজনীয়তার কথাও জানিয়েছেন তিনি।


সিরাজগঞ্জ রোডে ভয়ংকর গরু ডাকাতি: রাজধানীর সুপারশপে পৌঁছায় লুটের মাংস

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
সিরাজগঞ্জ প্রতিনিধি

দীর্ঘ প্রায় এক বছর ধরে রহস্যে ঘেরা থাকা একটি ভয়ংকর গরু ডাকাতির ঘটনার অবশেষে গুরুত্বপূর্ণ রহস্য উদঘাটন করেছে বাংলাদেশ পুলিশের সলঙ্গা থানা পুলিশ। তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় পরিচালিত বিশেষ অভিযানে ওঠে এসেছে এক ভয়াবহ সংঘবদ্ধ ডাকাতচক্রের কার্যক্রম, যারা মহাসড়কে ফিল্মি কায়দায় গরুবাহী ট্রাক ছিনতাই করে সেই গরু জবাই করে রাজধানীর বিভিন্ন অভিজাত সুপারশপে মাংস সরবরাহ করত।

ঘটনাটি ঘটে গত বছরের ১৭ এপ্রিল মাসে। সময়টা ছিল ঠিক কোরবানির ঈদের পূর্ব মুহূর্তে। চট্টগ্রামের বাসিন্দা আমানুল্লাহ উত্তরবঙ্গের বিভিন্ন হাট থেকে ১৪টি ষাঁড় গরু ক্রয় করে ঢাকার উদ্দেশে রওনা হন। গরুগুলো একটি ট্রাকে করে বহন করা হচ্ছিল। গভীর রাতে সিরাজগঞ্জ-বগুড়া মহাসড়কের ওপর পৌঁছালে সংঘবদ্ধ ডাকাতদল তাদের পূর্বপরিকল্পিত হামলা চালায়।

ডাকাতরা নিজেদের ব্যবহৃত একটি পিকআপ দিয়ে গরুবাহী ট্রাকটিকে চাপ দিয়ে গতি নিয়ন্ত্রণে আনে। এরপর তারা ট্রাকের ড্রাইভার, হেল্পার ও গরুর রাখালকে অস্ত্রের মুখে জিম্মি করে হাত-পা বেঁধে ফেলে। পরে তাদের ডাকাতদের ব্যবহৃত গাড়িতে তুলে নিয়ে যায় এবং গরুসহ পুরো ট্রাকটি ছিনতাই করে পালিয়ে যায়। ঘটনাটি এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করলেও দীর্ঘদিন পর্যন্ত মামলার কোনো কূলকিনারা হয়নি।

এ ঘটনায় সে সময় সলঙ্গা থানায় মামলা দায়ের করা হয়। কিন্তু দীর্ঘ সময়েও আসামি গ্রেপ্তার কিংবা ডাকাতির রহস্য উদঘাটন না হওয়ায় ভুক্তভোগী পরিবারসহ স্থানীয়দের মধ্যে হতাশা তৈরি হয়। ন্যায়বিচার অনেকটাই অনিশ্চিত হয়ে পড়ে।

অবশেষে সম্প্রতি সালঙ্গা থানা পুলিশের বিশেষ অভিযানে ঢাকার আশুলিয়া এলাকা থেকে গ্রেপ্তার করা হয় মানিকগঞ্জের কুখ্যাত ডাকাত সদস্য হাসান ওরফে রিপনকে। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে সে এই ডাকাতির সঙ্গে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করে এবং পুরো ঘটনার ভয়াবহ চিত্র তুলে ধরে।

জিজ্ঞাসাবাদে বেরিয়ে আসে, ওই রাতে সংঘটিত ডাকাতির ঘটনায় মোট ১২ জন সদস্য অংশ নিয়েছিল। তারা দীর্ঘদিন ধরে মহাসড়কে সক্রিয় একটি সংঘবদ্ধ ডাকাতচক্রের সদস্য। পরিকল্পিতভাবে তারা গরুবাহী ট্রাক টার্গেট করত এবং সুযোগ বোঝে গভীর রাতে অভিযান চালাত।

গ্রেপ্তারকৃত ডাকাত সদস্যের দেওয়া তথ্যমতে, ডাকাতির পর গরুগুলো ঢাকার আশুলিয়া থানার এনায়েতপুর এলাকায় নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে লোকচক্ষুর আড়ালে পরিচালিত এক খামারে রাতের আঁধারে গরুগুলো বিক্রি করা হয়। খামারের মালিক জিয়া নামের ব্যক্তি যিনি রাজধানীর বিভিন্ন সুপারশপ ও অভিজাত শপিংমলে মাংস সরবরাহ করতেন।

পুলিশ জানায়, কৌশলী ওই ব্যবসায়ী জিয়া দ্রুত গরুগুলো জবাই করে মাংস হিসেবে বাজারজাত করে দেয়। ফলে ডাকাতির আলামতও দ্রুত মুছে ফেলা সম্ভব হয়। রাজধানীর বিভিন্ন অভিজাত সুপারশপে সেই মাংস সরবরাহ করা হয়েছে বলেও তদন্তে ওঠে এসেছে।

এ ঘটনায় জিয়া ও তার সহযোগী আলিমকেও গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। ইতোমধ্যে কুখ্যাত ডাকাত হাসান ওরফে রিপন আদালতে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি প্রদান করেছে। তার জবানবন্দির ভিত্তিতে ডাকাতচক্রের অন্যান্য সদস্যদের পরিচয় ও অবস্থান সম্পর্কে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পেয়েছে তদন্ত সংশ্লিষ্টরা।

পুলিশ বলছে, এ ঘটনায় জড়িত অন্যান্য পলাতক ডাকাতদের গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে। একইসঙ্গে এই চক্রের সঙ্গে আর কেউ জড়িত আছে কি না, সেটিও খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

সলঙ্গা থানা পুলিশের এই সফল অভিযানে দীর্ঘদিনের রহস্য উন্মোচিত হওয়ায় ভুক্তভোগী পরিবারসহ স্থানীয়দের মাঝে স্বস্তি ফিরে এসেছে। তদন্ত সংশ্লিষ্টদের মতে, এই মামলার অগ্রগতি শুধু একটি ডাকাতি মামলার রহস্য উদঘাটন নয়, বরং মহাসড়ককেন্দ্রিক সংঘবদ্ধ অপরাধচক্রের ভয়ংকর নেটওয়ার্কও সামনে নিয়ে এসেছে।


পটুয়াখালীর বাউফলে পাশাপাশি কবরে শায়িত হলেন স্বামী-স্ত্রী ও তিন সন্তানসহ পাঁচজন

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
এইচ এম মোজাহিদুল ইসলাম নান্নু, পটুয়াখালী প্রতিনিধি:

পটুয়াখালীর বাউফলের একে একে নিভে গেল একটি পরিবারের সবকটি প্রাণ। নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লায় গ্যাস বিস্ফোরণের আগুনে দগ্ধ হয়ে হাসপাতালে চিকিৎসাধিন অবস্থায় পর্যায়ক্রমে মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন স্বামী, স্ত্রী ও তাদের তিন সন্তান।

শনিবার (১৬ মে) সকালে যখন মা সালমা বেগম (৪০), একমাত্র ছেলে মুন্না (১২), দুই মেয়ে মুন্নী (৯) ও শিশু কথা’র (৭) সাদা কফিনে মোড়ানো লাশ পটুয়াখালীর বাউফল উপজেলার কনকদিয়া ইউনিয়নের উত্তর কনকদিয়া গ্রামের কাড়াল বাড়িতে এসে পৌঁছায়, তখন পুরো এলাকায় শোকের ছায়া নেমে আসে।

এর আগে গত সোমবার সকালে দাফন করা হয়েছিল গৃহকর্তা কালাম মিয়াকে (৫০)। আজ নতুন বাড়ির পুকুরপাড়ে কামাল মিয়ার কবরের ঠিক পাশেই বাকি চারজনকে শায়িত করা হয়েছে। একই সারিতে পাশাপাশি পাঁচটি তাজা কবরের দিকে তাকিয়ে নির্বাক চোখে দাঁড়িয়ে ছিলেন শত শত মানুষ।

পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, কালাম মিয়া দীর্ঘ দিন ধরে নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লার সাইনবোর্ড এলাকায় কাঁচামালের ব্যবসা করতেন। স্ত্রী ও তিন সন্তানকে নিয়ে ভুইগড় এলাকার একটি ১০ তলা ভবনের নিচতলায় দুটি রুম নিয়ে ভাড়া থাকতেন তিনি। গত রবিবার (১০ মে) সকাল ৬টার দিকে কালাম মিয়া রান্নাঘরে গ্যাসের চুলায় তরকারি গরম করতে যান। তখন স্ত্রী ও সন্তানরা গভীর ঘুমে আচ্ছন্ন ছিলেন। ঘরটিতে আগে থেকেই জমে থাকা লিকেজ গ্যাস দেশলাইয়ের সংস্পর্শে আসতেই বিকট শব্দে বিস্ফোরিত হয়। মুহূর্তের মধ্যে আগুন পুরো ঘরে ছড়িয়ে পড়ে। জ্বলন্ত আগুনের মাঝেও বাবা কালাম মিয়া ঘরের দরজা খুলে দগ্ধ ছেলে মুন্নাকে বাইরে বের করে দিতে পেরেছিলেন। কিন্তু ততক্ষণে আগুনের লেলিহান শিখা কামালের স্ত্রী ও দুই কন্যাসন্তাসহ সবাইকে নির্মমভাবে গ্রাস করে নেয়। স্থানীয় বাসিন্দা ও ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা তাদের উদ্ধার করে দ্রুত ঢাকা জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটে ভর্তি করেন।

বার্ন ইউনিটের বিছানায় একে একে নিভে গেছে পাঁচটি প্রাণ। মৃত্যুর এই নির্মম মিছিলে প্রথমে বিদায় নেন পরিবারের একমাত্র উপার্জনক্ষম ব্যক্তি কালাম মিয়া। দুর্ঘটনার দিন রবিবারই চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মারা যান। স্বজনরা রাতেই তার মরদেহ নিয়ে আসেন গ্রামের বাড়িতে এবং সোমবার সকাল ১০টায় জানাজা শেষে দাফন করা হয়। তখনো কেউ জানত না, এই কবরের পাশে আরও চারটি কবর খুঁড়তে হবে।

বুধবার বিকেল মৃত্যুরকোলে ঢলে পড়ে ৭ বছরের শিশু কথা। মায়ের কোল খালি করে চলে যাওয়া কথার লাশ রাখা হয় হাসপাতালের হিমাগারে। বুধবার রাত ১১টা বোনকে হারানোর কয়েক ঘণ্টার মাথায় বৃহস্পতিবার সকালে মারা যায় একমাত্র ছেলে মুন্না (১২)। একইদিন বিকালে না ফেরার দেশে চলে যায় মেঝ মেয়ে মুন্নী (৯)। শুক্রবার সকাল ৮টা শেষ নিশ্বাস ত্যাগ করেন মা সালমা বেগম (৪০)।

শনিবার(১৬মে) সকালে যখন মা ও তিন সন্তানের লাশবাহী অ্যাম্বুলেন্সটি কাড়াল বাড়ির উঠানে এসে থামে, তখন উপস্থিত শত শত মানুষের চোখের পানি ধরে রাখা সম্ভব হয়নি। অ্যাম্বুলেন্সের দরজা খুলে যখন একে একে চারটি সাদা কফিন বের করা হচ্ছিল, তখন স্বজনদের আহাজারিতে বাতাস ভারী হয়ে ওঠে। শেষবারের মতো একনজর দেখতে আসা মানুষের ভিড়ে চারপাশ থমকে যায়। এরপর সকাল ১০টায় জানাজা শেষে কামাল মিয়ার কবরের পাশেই চিরনিদ্রায় শায়িত করা হয় তার স্ত্রী ও সন্তানদের।

কালাম মিয়ার চাচাতো ভাই সোহাগ বলেন, প্রায় ২০-২২ বছর আগে কামাল বাড়ি ছেড়ে ঢাকায় গিয়ে উজিরপুরে বিয়ে করেছিল। কত কষ্ট করে ফতুল্লার ব্যবসাটা দাঁড় করাল। মাত্র ২০-২৫ দিন আগেও ঢাকায় ওর সাথে আমার দেখা হয়েছিল। ভাবতেই পারছি না, ভাই-ভাবি আর পুলাপাইনডি এভাবে আমাদের ছেড়ে এক্কেরে চলে যাবে!

কালাম মিয়ার বোন রাসেদা বেগম বিলাপ করতে করতে বলছিলেন, ঈদের আগে ভাইয়ের সাথে শেষ দেখা হয়েছিল। বাড়িতে ভাইয়েরা মিলে একটা নতুন বিল্ডিংয়ের কাজ ধরছিল। ভাই বলছিল 'এবার কোরবানির ঈদে বাড়ি আইসা ঘরের কাজ শেষ করমু, বাকি জীবনটা স্ত্রী-সন্তান নিয়া দেশের বাড়িতেই থাকমু।' ভাই আমার বাড়ি ফিরল, কিন্তু লাশ হয়া!

এদিকে এই মর্মান্তিক ট্র্যাজেডির পেছনে ভবন কর্তৃপক্ষের চরম গাফিলতির অভিযোগ তুলেছেন এক স্বজন। তিনি ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, বাসার গ্যাসের পাইপ লিকেজ হওয়ার বিষয়টি কালাম মিয়া আগের দিনই ভবনের দারোয়ানকে জানিয়েছিলেন। কিন্তু দারোয়ানের অলসতা করে বাড়ির মালিককে বিষয়টি জানায়নি। যদি সময়মতো ব্যবস্থা নেওয়া হতো, তবে আজ একটি পুরো পরিবার এভাবে শেষ হয়ে যেত না।


হলুদ বসন্তে রূপসী ক্যাম্পাস: সোনালু রঙে সেজেছে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়

গ্রীষ্মের তপ্ত রোদে যখন প্রকৃতির প্রাণ বের হয়ে যাওয়ার মতো অবস্থা, তখন চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় (চবি) ক্যাম্পাস সেজেছে এক ভিন্ন রূপে।

ক্যাম্পাসের সবুজ বুক চিরে এখন উঁকি দিচ্ছে সোনাঝরা রং। চারপাশ আলো করে ফুটেছে সোনালু ফুল। প্রকৃতির এক অনন্য উপহার।

সোনালু মূলত গ্রীষ্মের ফুল। বৈজ্ঞানিক নাম (Cassia fistula)। বাংলায় এটি ‘সোনালু’ বা ‘বানরলাঠি’ নামে পরিচিত। এর দীর্ঘ, নলাকার ফলগুলোর কারণেই গ্রামীণ মানুষ একে বানরলাঠি বলে ডাকে।

তবে এর ইংরেজি নাম ‘গোল্ডেন শাওয়ার’ যেন এর রূপকে সবচেয়ে ভালো ফুটিয়ে তোলে। দূর থেকে দেখলে মনে হয়, গাছ থেকে যেন হলুদের ঝর্ণাধারা নামছে।

চবি ক্যাম্পাসে হলুদের মেলা:

চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসের প্রায় প্রতিটি মোড়েই এখন সোনালুর দেখা মিলছে। বিশেষ করে রাস্তার পাশে, হলের সামনে এবং বিভিন্ন অনুষদের খোলা জায়গায় এই গাছগুলো দাঁড়িয়ে আছে।

পাতাঝরা এই গাছের ডাল থেকে লতানো থোকায় থোকায় ঝুলছে উজ্জ্বল হলুদ ফুল। হালকা বাতাসে যখন ফুলগুলো ঝরে পড়ে, তখন নিচের পিচঢালা রাস্তা যেন হলুদ গালিচায় রূপ নেয়। বিশ্ববিদ্যালয়ের চিরচেনা সবুজ পাহাড়ের মাঝে এই হলুদ রং এক অদ্ভুত বৈপরীত্য তৈরি করেছে।

ক্যাম্পাসের এই রূপ উপভোগ করছেন শিক্ষার্থী ও দর্শনার্থীরা। ক্লাস-পরীক্ষার ক্লান্তি শেষে সোনালু গাছের শীতল ছায়া আর এই নয়নকাড়া দৃশ্য শিক্ষার্থীদের মনে এনে দিচ্ছে প্রশান্তি।

অনেকেই থমকে দাঁড়াচ্ছেন ছবি তুলতে, কেউবা মেতে ওঠছেন আড্ডায়। তীব্র গরমের মাঝেও সোনালুর এই সোনাঝরা হাসি চবি ক্যাম্পাসকে করে তুলেছে এক জীবন্ত ক্যানভাস।


নীলফামারী জেলা পরিষদের উদ্যোগে শিক্ষার্থীদের মাঝে নানা সামগ্রী বিতরণ

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নীলফামারী প্রতিনিধি

নীলফামারীর জলঢাকায় বিভিন্ন ধর্মীয় ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের হতদরিদ্র শিক্ষার্থীদের মাঝে ফ্যান, বাই-সাইকেল, স্কুল ব্যাগ, টিফিন বক্স, পানির বোতল ও খেলার সামগ্রী বিতরণ করেছে জেলা পরিষদ।

শনিবার (১৬ মে) দুপুরে জলঢাকা ডাকবাংলো মাঠে নীলফামারী জেলা পরিষদের বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচির বিশেষ বরাদ্দের অর্থায়নে এসব সামগ্রী বিতরণ করা হয়।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে শিক্ষার্থীদের হাতে সামগ্রী তুলে দেন নীলফামারী জেলা পরিষদের প্রশাসক অ্যাডভোকেট মিজানুর রহমান চৌধুরী শামীম। এ সময় উপস্থিত ছিলেন জলঢাকা উপজেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান সৈয়দ আলী, জলঢাকা উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের নেতা আলমগীর হোসেন স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিরা ও বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে জেলা পরিষদের প্রশাসক অ্যাডভোকেট মিজানুর রহমান চৌধুরী শামীম বলেন, ‘শিক্ষার্থীদের শুধু পাঠ্যবইয়ের মধ্যেই সীমাবদ্ধ রাখা যাবে না। তাদের খেলাধুলা, সাংস্কৃতিক ও সহশিক্ষা কার্যক্রমে সম্পৃক্ত করতে হবে। জেলা পরিষদ পিছিয়ে পড়া ও হতদরিদ্র শিক্ষার্থীদের পাশে দাঁড়িয়ে তাদের শিক্ষাজীবন সহজ ও আনন্দময় করতে কাজ করে যাচ্ছে।’

তিনি আরও বলেন, ‘বর্তমান প্রজন্মকে মাদক ও সামাজিক অবক্ষয় থেকে দূরে রাখতে শিক্ষা ও খেলাধুলার বিকল্প নেই। তাই শিক্ষার্থীদের প্রয়োজনীয় শিক্ষা উপকরণ ও ক্রীড়া সামগ্রী বিতরণের এ কার্যক্রম ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে।’

অনুষ্ঠানে সামগ্রী পেয়ে শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের মাঝে আনন্দের পরিবেশ সৃষ্টি হয়। স্থানীয়রা এ ধরনের উদ্যোগকে শিক্ষাবান্ধব ও মানবিক কার্যক্রম হিসেবে অভিহিত করেন।


নিখোঁজের পাঁচদিন পর গলায় ইট -কোমরে বস্তা বাঁধা অবস্থায় কিশোরের মরদেহ উদ্ধার

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
কিশোরগঞ্জ প্রতিনিধি

নিখোঁজের পাঁচদিন পর কিশোরগঞ্জের ইটনা থেকে এক কিশোরের মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ।

শনিবার (১৬ মে) বিকেল ৫টার দিকে উপজেলার ধনপুর ইউনিয়নের কালিবাড়ি চরের একটি ডোবা থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়। এ সময় কিশোরটির গলায় ইট ও কোমরে বস্তা বাঁধা ছিল।

নিহত কিশোরের নাম আরিক মিয়া (১২)। সে নেত্রকোনার খালিয়াজুড়ি উপজেলার পাঁচহাট গ্রামের রেজেক মিয়ার ছেলে।

নিহতের পরিবার ও স্থানীয়রা জানান, গত ১১ মে রাত ১টার দিকে আরিক বাড়ি থেকে নিখোঁজ হয়। এরপর বিভিন্ন স্থানে খোঁজাখুঁজি করেও তার সন্ধান পাওয়া যায়নি। পরদিন খালিয়াজুড়ি থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেন তার পরিবার।

শনিবার দুপুরে পাশ্ববর্তী ইটনা উপজেলার ধনপুর ইউনিয়নের কালিবাড়ি চরে কয়েকজন যুবক ঘাস কাটতে গিয়ে একটি ডোবায় মরদেহটি দেখতে পান। খবর পেয়ে স্বজনরা ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহটি আরিকের বলে শনাক্ত করেন। পরে পুলিশকে খবর দিলে তারা ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহ উদ্ধার করে।

স্বজনদের দাবি, নিহতের শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাতের চিহ্ন ছিল। এছাড়াও তার গলায় ইট এবং কোমরে বালুর বস্তা বাঁধা অবস্থায় পাওয়া যায়।

ইটনা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সোহেব মিয়া জানান, ১১ মে নিজ বাড়ি থেকে ছেলেটি নিখোঁজ হয়। পরদিন তার পরিবার খালিয়াজুড়ি থানায় সাধারণ ডায়েরি করে। শনিবার ইটনার ধনপুর কালিবাড়ি চর এলাকা থেকে মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। এ ঘটনায় প্রয়োজনীয় আইনানুগ ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।


banner close