এনায়েত করিম, রাজশাহী ব্যুরো
প্রাচীনকাল থেকেই রেশমের জন্য সুপরিচিত রাজশাহী। সেই সুখ্যাতি থেকেই রাজশাহীর প্রধান পরিচয় হয়ে ওঠে ‘সিল্কসিটি’। তবে মাঝে খেই হারিয়ে ফেলেছিল রেশমশিল্প। বাংলাদেশ রেশম গবেষণা ইনস্টিটিউটের হাত ধরে সেই রেশম আবার স্বপ্ন দেখাচ্ছে সুদিন ফেরানোর। রেশম নিয়ে গবেষণায় নিয়োজিত এই প্রতিষ্ঠানটি সম্প্রতি রেশমের ৩৫টি নতুন জাত উদ্ভাবন করেছে। এর মধ্যে ১৫টি মালবেরি (তুঁত) গাছ ও ২০টি রেশম কীট। নতুন এসব জাত রেশমশিল্পে সাড়া ফেলবে বলে মনে করছেন গবেষকরা। তারা বলছেন, আগের জাতের চেয়ে নতুন জাতে অন্তত ১২ থেকে ১৫ শতাংশ বেশি উৎপাদন আসবে। এতে চাষিদেরও সাশ্রয় হবে।
বাংলাদেশ রেশম গবেষণা ও প্রশিক্ষণ ইনস্টিটিউট রাজশাহীর তথ্য অনুযায়ী, রেশমশিল্পের উন্নয়নে পাঁচ বছর আগে ‘রেশম প্রযুক্তি উন্নয়ন বিস্তার ও দক্ষ জনশক্তি সৃষ্টির মাধ্যমে উৎপাদনশীলতা বৃদ্ধিকরণ’ নামে একটি প্রকল্প হাতে নেয় রেশম বোর্ড। চলতি বছরের জুনে শেষ হয়েছে প্রকল্পটি। ৩৫ কোটি ৬৬ লাখ টাকার এই প্রকল্পের মাধ্যমে নতুন করে রেশমে যুক্ত হয়েছে ১৫টি মালবেরি (তুঁত) জাতের গাছ ও ২০টি নতুন জাতের কীট। ফলে বর্তমানে মালবেরি জাতের গাছের সংখ্যা ৩৮টি ও রেশম কীটের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১১৪টিতে।
বাংলাদেশ রেশম গবেষণা ও প্রশিক্ষণ ইনস্টিটিউটের ঊর্ধ্বতন গবেষণা কর্মকর্তা ফারুক আহম্মেদ ও রুমানা ফেরদৌস বিনত-এ রহমানের যৌথ গবেষণায় নতুন এসব জাত উদ্ভাবন হয়। নতুন ৩৫টি জাত (১৫টি তুঁত ও ২০টি কীট) উদ্ভাবনের ফলে বর্তমানে বাংলাদেশ রেশম গবেষণা ও প্রশিক্ষণ ইনস্টিটিউট রাজশাহীতে জার্মপ্লাজম ব্যাংকে তুঁত জাতের গাছের সংখ্যা ৬০ থেকে ৮৪ ও রেশম কীট জাতের সংখ্যা ৮৫ থেকে ১১৪টিতে উন্নীত হয়েছে। এর মধ্যে ২৭টি উচ্চফলনশীল রেশম কীটের জাত রয়েছে।
নতুন ২০টি রেশম কীট উদ্ভাবনের ফলে প্রতি ১০০টি রোগমুক্ত ডিমে ৭০ থেকে ৭৫ কেজি রেশমগুটি উৎপাদন সম্ভব হচ্ছে। আগে এর পরিমাণ ছিল ৬০ থেকে ৬৫ কেজি। এ ছাড়া উচ্চফলনশীল ১৫টি তুঁতজাত উদ্ভাবনের ফলে বছরে হেক্টরপ্রতি তুঁতপাতার উৎপাদন ৪০ থেকে ৪৭ মেট্রিক টনে উন্নীত করা সম্ভব হয়েছে। এর আগে প্রতি হেক্টরে রেশমের সর্বোচ্চ উৎপাদন ছিল ৩০ থেকে ৩৭ মেট্রিক টন। ফলে স্বল্প সময়ে ও অল্প ব্যয়ে মানসম্পন্ন কাঁচা রেশম সুতা উৎপাদন সম্ভব হচ্ছে।
গবেষণা কর্মকর্তা ফারুক আহম্মেদ দৈনিক বাংলাকে বলেন, ‘একটি নতুন জাত তৈরি করতে অন্তত ১০ বছর সময় লেগে যায়। এই গবেষণার কাজ আগেই কিছুটা এগিয়ে রাখায় পাঁচ বছরের মধ্যেই শেষ করা সম্ভব হয়েছে। রাজশাহী রেশম গবেষণা ও প্রশিক্ষণ ইনস্টিটিউটে জার্মপ্লাজম থেকে গবেষণার মাধ্যমে নতুন এই ১৫টি জাতের মালবেরি (তুঁত) জাত উদ্ভাবন করা হয়েছে। এগুলোর মধ্যে বিএসআরএম-৬৪, বিএসআরএম-৬৫ ও বিএসআরএম ৭৪ জাতের ট্রায়াল শেষ হয়েছে। এগুলো রেশম সম্প্রসারণের মাধ্যমে চাষিদের মাঝে ছড়িয়ে দেয়া হবে। বাকি জাতগুলো ট্রায়ালের জন্য রাখা হয়েছে।’
এই গবেষক আরও বলেন, ‘প্রকল্পটি দ্বিতীয় পর্যায়ের জন্য আবেদন করা হয়েছে। অনুমোদন পেলে দ্বিতীয় পর্যায়ে এগুলোর ট্রায়াল শেষ করা হবে। এগুলো থেকে হেক্টরপ্রতি তুঁতপাতার উৎপাদন ৪০ থেকে ৪৭ মেট্রিক টনে উন্নীত করা সম্ভব হবে। তবে ট্রায়াল শেষ না হওয়া পর্যন্ত এগুলোর নামসহ বিস্তারিত বলা যাচ্ছে না।’
ঊর্ধ্বতন গবেষণা কর্মকর্তা রুমানা ফেরদৌস বিনত-এ রহমান বলেন, এই প্রকল্পের মাধ্যমে উদ্ভাবিত ২০টি নতুন রেশম কীটের জাতের সবগুলোই এখন ট্রায়াল পর্যায়ে আছে। এগুলো চাহিদা অনুযায়ী রেশম সম্প্রসারণের মাধ্যমে ক্রস হাইব্রিড জাত উৎপাদন করে সরবরাহ করা হবে।
বাংলাদেশ রেশম গবেষণা ও প্রশিক্ষণ ইনস্টিটিউট রাজশাহীর পরিচালক কাজী রফিকুল ইসলাম বলেন, প্রধান ফসল হিসেবে চাষিদের তুঁত চাষ করতে উৎসাহিত করা হচ্ছে। এখন বাড়ির আনাচকানাচে, রাস্তার ধারে পরিত্যক্ত জায়গায় বেশির ভাগ তুঁত চাষ হয়। রেশম গবেষণা ইনস্টিটিউটের পক্ষ থেকেও তুঁত চাষকে জনপ্রিয় করতে সাথি ফসল প্রবর্তন করা হয়েছে। চাষিরা এভাবে চাষাবাদ করলে লাভবান হবেন।
তিনি আরও বলেন, নতুন এসব জাত উদ্ভাবনের পর সেগুলো দিয়ে বিভিন্ন এলাকার কৃষক নিয়ে এখানে প্রশিক্ষণও দেয়া হয়েছে। এখন এগুলো ট্রায়ালে আছে। কিছু কিছু জাত রেশম সম্প্রসারণকে দেয়া হয়েছে। আর কিছু জাতের কাজ এখনো চলছে। সামান্য কিছু উন্নয়ন করতে হবে। এগুলো শেষ হলেই এই ৩৫টি নতুন জাত রেশম সম্প্রসারণ শাখার মাধ্যমে চাষিদের হাতে পৌঁছে দেয়া হবে।
উল্লেখ্য, রাজশাহীর ঐতিহ্যবাহী রেশম কারখানা ২০০২ সালে বন্ধ করে দেয় তৎকালীন জোট সরকার। আওয়ামী লীগ সরকার ক্ষমতায় আসার পর ফের সচলের উদ্যোগ নিয়ে ২০১৮ সালে কারখানাটি চালু হয়। সে সময় রেশমের সুদিন ফেরাতে ১৫৩ কোটি টাকার চারটি প্রকল্প গ্রহণ করা হয়। এরপর ২০২১ সালে আন্তর্জাতিক ভৌগোলিক নির্দেশক (জিআই) স্বীকৃতি পায় রাজশাহীর ঐতিহ্য রেশম। স্বীকৃতি পাওয়ার পর রেশম কাপড়ের চাহিদা বেড়েছে। বর্তমানে রেশমচাষিদের উৎপাদিত রেশমগুটি থেকে কারখানার সামনের রেশম ডিসপ্লেতে মিলছে প্রিন্টেড শাড়ি, টু-পিস, থান কাপড়, ওড়না, স্কার্ফ, টাই ইত্যাদি খাঁটি রেশমপণ্য।
বেতন-ভাতা বৃদ্ধি ও চাকরি জাতীয়করণের দাবিতে পিরোজপুরে অনির্দিষ্টকালের ধর্মঘট ও বিক্ষোভ কর্মসূচি শুরু করেছেন শাখা ডাকঘরের কর্মচারীরা। 'বাংলাদেশ শাখা ডাকঘর কর্মচারী ইউনিয়ন (বি-২০৩১)' পিরোজপুর জেলা শাখার উদ্যোগে বৃহস্পতিবার (১৬ জুলাই) সকাল থেকে জেলার সর্বস্তরের এক্সট্রা ডিপার্টমেন্টাল (ইডি) বা অবিভাগীয় কর্মচারীরা এই কর্মসূচিতে অংশ নেন।
বৃহস্পতিবার (১৬ জুলাই) সকাল ১১টায় আন্দোলনরত কর্মচারীরা পিরোজপুর জেলা প্রশাসকের কার্যালয় চত্বরে সমবেত হয়ে বিক্ষোভ প্রদর্শন করেন। পরে তারা জেলা প্রশাসকের মাধ্যমে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী বরাবর একটি স্মারকলিপি পেশ করেন।
বিক্ষোভ সমাবেশে বক্তব্য রাখেন অবিভাগীয় (ইডি) ডাক কর্মচারীদের পক্ষে কেন্দ্রীয় কমিটির সাধারণ সম্পাদক সিরাজ উদ্দিন নিজাম, পিরোজপুর জেলা সভাপতি আব্দুল হাই , সাধারণ সম্পাদক জাফর হোসেন,এবং পিরোজপুর জেলা শাখার প্রধান অন্যতম নেতা মোঃ জাহাঙ্গীর হোসেন।
তিনি বলেন, "ডিজিটাল ও স্মার্ট ডাকসেবার মূল চালিকাশক্তি হওয়া সত্ত্বেও গ্রামীণ ও ইডি শাখার কর্মচারীরা যুগের পর যুগ চরম বৈষম্য ও অবহেলার শিকার। ডাক বিভাগ সবচেয়ে বেশি রাজস্ব বা রেভিনিউ দেওয়া সত্ত্বেও আমাদের অবিভাগীয় কর্মচারী হিসেবে গণ্য করা হচ্ছে। বর্তমান বাজারে মাত্র ৪,০০০ থেকে ৪,৪৬০ টাকা নামমাত্র সম্মানী ভাতায় আমাদের পরিবার নিয়ে সংসার চালানো সম্পূর্ণ অসম্ভব হয়ে পড়েছে।"
তিনি আরও জানান, কেন্দ্রীয় কর্মসূচির অংশ হিসেবে গত ৬ জুলাই থেকে শুরু হওয়া এই অনির্দিষ্টকালের ধর্মঘট ও ডাকঘর বন্ধের কর্মসূচি দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত অব্যাহত থাকবে।
স্মারকলিপিতে কর্মচারীরা উল্লেখ করেন, বর্তমানে দেশের প্রায় ৮,৫০০ শাখা ডাকঘরে কর্মরত ২৩,০২১টি পরিবার এই নামমাত্র সম্মানী ভাতায় চরম মানবেতর ও অর্ধাহার-অনাহারে দিন কাটাচ্ছে।
আন্দোলনকারীদের উত্থাপিত ৬ দফা দাবিসমূহ হলো:
১. জীবনযাত্রার ব্যয়ের সাথে সংগতি রেখে অনতিবিলম্বে সকল ইডি কর্মচারীদের মূল সম্মানী ও ভাতা ন্যূনতম ৩ গুণ বৃদ্ধি করে ১৫,০০০ টাকা করতে হবে।
২. চাকরি জাতীয়করণ ও স্থায়ীকরণ করে ২৩,০২১ জন অবিভাগীয় কর্মচারীকে স্থায়ী বিভাগীয় কর্মচারী হিসেবে স্বীকৃতি দিতে নীতিমালা প্রণয়ন করা।
৩. সাময়িক গ্রেড নির্ধারণসহ জাতীয়করণ প্রক্রিয়া সম্পন্ন না হওয়া পর্যন্ত অন্তর্বর্তীকালীন সময়ে সরকারি বেতন কাঠামোর ১৫তম থেকে ২০তম গ্রেড অনুসরণ করে ন্যায্য বেতন কাঠামো কার্যকর করা।
৪. উৎসব ও নববর্ষ ভাতা (বৈশাখী ভাতাসহ) রাষ্ট্রীয় সকল উৎসব ভাতা পূর্ণাঙ্গভাবে প্রদানের ব্যবস্থা নিশ্চিত করা।
৫. কল্যাণ তহবিল গঠন করে ইডি কর্মচারীদের আপদকালীন চিকিৎসা সুবিধা এবং অবসরের পর আর্থিক সুরক্ষায় 'ইডি কর্মচারী কল্যাণ তহবিল'-এ সরকারি বিশেষ অনুদান বরাদ্দ করা।
৬. কাজের আধুনিকায়ন ও পোশাকসহ ডিজিটাল ডাকসেবার স্বার্থে প্রয়োজনীয় কাজের পরিবেশ, স্মার্ট ডিভাইস এবং দায়িত্ব পালনের জন্য প্রাতিষ্ঠানিক পোশাক (ইউনিফর্ম) সরবরাহ করা।
অনতিবিলম্বে গ্রামীণ ডাক কর্মচারীদের এই মানবিক সংকট দূর করতে এবং ২৩,০২১টি পরিবারের মুখে হাসি ফোটাতে তারা মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর জরুরি ও সদয় হস্তক্ষেপ কামনা করেন।
স্মারকলিপিতে দেশের সর্বস্তরের ২৩,০২১ অবিভাগীয় (ইডি) ডাক কর্মচারীদের পক্ষে কেন্দ্রীয় কমিটির সাধারণ সম্পাদক সিরাজ উদ্দিন নিজাম, পিরোজপুর জেলা সভাপতি আব্দুল হাই এবং সাধারণ সম্পাদক জাফর হোসেন স্বাক্ষর করেন।
কুষ্টিয়ার ভেড়ামারায় প্রমত্তা পদ্মা নদীর তীব্র ভাঙনে নদীগর্ভে বিলীনের পথে উপজেলার বাহাদুরপুর ইউনিয়নের ফয়জুল্লাহপুর গ্রাম। নদীর প্রবল স্রোতে বসতভিটা, ফসলি জমি ও গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা ভেঙে পড়ায় স্থানীয় বাসিন্দারা চরম আতঙ্কের মধ্যে দিন কাটাচ্ছেন। পৈতৃক ভিটেমাটি হারিয়ে নিঃস্ব হচ্ছেন শত শত পরিবার। প্রতি বছর নদীভাঙনে পদ্মা নদীর তীরবর্তী অনেক মানুষ ভূমিহীন হয়ে এখন নিঃস্ব প্রায়। ইতোমধ্যে ওই এলাকায় নতুন করে নদীভাঙন শুরু হয়েছে।
পদ্মা নদীর তীব্র ভাঙনে বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ডের হার্ডিংঞ্জ ব্রিজ পয়েন্ট থেকে শুরু হয়ে ফয়জুল্লাহপুর এলাকার ওপর দিয়ে নির্মিত বেড়িবাঁধ নদীগর্ভে হারিয়ে গেছে।
ফয়জুল্লাহপুর গ্রামের প্রবীণ অধিবাসী ইয়ার কবিরাজ বলেন, ‘কয়েকদফায় নদীর ভয়াবহ ভাঙনে সব হারিয়ে গেছে। এখন বসতবাড়িটুকুই আমার শেষ সম্বল।’ তিনি আরও জানান, প্রায় ৬০-৭০ বছর আগে চাকলার চর থেকে এই এলাকায় তার বাপ-দাদারা এসে বসবাস শুরু করেছিলেন। শেষ সম্বল বাড়িটুকু হারিয়ে গেলে আর কিছুই অবশিষ্ট থাকবে না।’
তবে সেটিও আগামী কিছুদিনের মধ্যে মধ্যে নদীতে বিলিন হওয়ার শঙ্কায় কাটছে তার প্রতিটি নির্ঘুম রাত।
আফতাবুল সরদার (৭০) জানান, সবই চলে গেছে পানির নিচে। বেচাকেনা করলেও মানতে পারতাম। কিন্তু এখানে তো সবই গেছে পানির নিচে।
শুধু আফতাবুর সরদারই নন, ভিটেমাটি হারিয়ে এলাকা ছাড়তে বাধ্য হয়েছেন বহু সচ্ছল পরিবার।
স্থানীয়রা জানান, এলাকার মানুষ একদম নিঃস্ব হয়ে গেছে। সরকারের পক্ষ থেকে বিষয়টা আরও দেখভাল করলে ভালো হতো।
পদ্মা নদীতে অবৈধ বালু উত্তোলনকে এই ভাঙনের মূল কারণ বলে মনে করেন স্থানীয়রা।
গত কয়েক বছরে পানি উন্নয়ন বোর্ড বন্যা নিয়ন্ত্রণে কিছু জিওব্যাগ নদীতে ফেলে দিলেও তীব্র স্রোত ও ভৌগোলিক পরিবর্তনে সেসব বাঁধ টেকসই হচ্ছে না। ঝুঁকিপূর্ণ স্থানে বারবার প্রতিরক্ষা বাঁধ দেওয়ার পরও থামানো যায়নি ভাঙন। তাই বসতবাড়ি ও ফসলি জমি বাঁচাতে মজবুত বাঁধ নির্মাণের দাবি স্থানীয়দের।
তারা জানান, সবাই দিন এনে দিন খাওয়া মানুষ। অনেক চেষ্টা করা হয়েছে। অনেক জায়গায় কথা বলে হয়েছে; কিন্তু কোনো উপকার হচ্ছে না।
অনেক নেতাই বারবার এসে প্রতিশ্রুতি দেন; কিন্তু বাস্তবে কাজের কাজ কিছুই হয় না।
কুষ্টিয়া-২ আসনের সংসদ সদস্য আব্দুল গফুর বলেন, ‘আমি ইতোমধ্যে ওই এলাকা পরিদর্শন করেছি। সেখানে স্থায়ী বাঁধ নির্মাণ করা প্রয়োজন। তবে জরুরি ভিত্তিতে ভাঙন রোধে পানি উন্নয়ন বোর্ডকে জরুরি ভিত্তিতে ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য অনুরোধ জানাচ্ছি।’
যশোরের কেশবপুর উপজেলায় পরপর দ্বিতীয়বার কন্যাসন্তান জন্ম দেওয়ায় এক প্রসূতি নারী ও তার নবজাতক কন্যাশিশুকে হাসপাতালে ফেলে রেখে চলে যাওয়ার অভিযোগ উঠেছে স্বামী ও শ্বশুরবাড়ির লোকজনের বিরুদ্ধে। পরে বিষয়টি জানতে পেরে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রেকসোনা খাতুন তাদের পাশে দাঁড়ান এবং চিকিৎসার ব্যয়সহ প্রয়োজনীয় সহায়তার ব্যবস্থা করেন।
জানা গেছে, গত মঙ্গলবার (১৪ জুলাই) কেশবপুর উপজেলার একটি বেসরকারি ক্লিনিকে সিজারিয়ান অপারেশনের মাধ্যমে এক নারী কন্যাসন্তানের জন্ম দেন। এর আগে তার ঘরে আরও একটি কন্যাসন্তান রয়েছে। নবজাতক কন্যাশিশুর জন্মের খবর পেয়ে স্বামী ও শ্বশুরবাড়ির সদস্যরা প্রসূতি মা ও শিশুটিকে ক্লিনিকে রেখে চলে যান বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।
অসহায় ওই নারীর বাবা নেই। আর্থিক সংকটের কারণে তার মাও দীর্ঘ সময় হাসপাতালে থাকতে পারেননি। ফলে অপারেশনের পর প্রয়োজনীয় সেবা, পুষ্টিকর খাবার ও মানসিক সমর্থন ছাড়াই নবজাতককে নিয়ে হাসপাতালে মানবেতর অবস্থায় দিন কাটাতে হয় তাকে। এমনকি খাবার ও অর্থের অভাবে অন্যের সহায়তায় কোনোমতে দিন পার করছিলেন তিনি।
ঘটনার বিষয়টি ইউএনও রেকসোনা খাতুন জানতে দ্রুত পদক্ষেপ নেন। প্রসূতি নারীর মায়ের সঙ্গে যোগাযোগ করে তাকে কেশবপুরে আনার ব্যবস্থা করা হয়। পরে তাদের হাতে আর্থিক সহায়তা ও খাদ্যসামগ্রী তুলে দেওয়া হয়।
ইউএনওর অনুরোধে ক্লিনিক কর্তৃপক্ষ প্রসূতি নারীর সিজারিয়ান অপারেশনসহ চিকিৎসার সম্পূর্ণ খরচ মওকুফ করে। পরবর্তীতে মা ও নবজাতককে হাসপাতাল থেকে ছাড়পত্র দিয়ে তার মায়ের বাড়িতে পাঠানো হয়।
বর্তমানে মা ও নবজাতক শিশুটি তার মাতৃগৃহে অবস্থান করছে। তবে কন্যাসন্তান জন্মের কারণে স্বামী ও শ্বশুরবাড়ির লোকজন দীর্ঘ সময় তাদের কোনো খোঁজখবর নেয়নি বলে জানা গেছে।
এ বিষয়ে ইউএনও রেকসোনা খাতুন বলেন, ‘প্রসূতি মা ও নবজাতকের দুর্দশার কথা জানতে পেরে আমরা দ্রুত সহায়তার উদ্যোগ নিয়েছি। একজন মায়ের সবচেয়ে বেশি প্রয়োজনের সময়ে তাকে এভাবে পরিত্যাগ করা অত্যন্ত অমানবিক। সন্তানের লিঙ্গ নিয়ে বৈষম্যের কোনো সুযোগ নেই।’
তিনি আরও বলেন, ‘কেশবপুর থানার অফিসার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা সহযোগিতায় শ্বশুরবাড়ির লোকজনের সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়েছে। তারা এখন মা ও শিশুকে নিজেদের কাছে নিয়ে যেতে সম্মতি জানিয়েছে।’
রেকসোনা খাতুন বলেন, ‘বিজ্ঞান ও সভ্যতার এই যুগে দাঁড়িয়ে কন্যাসন্তান জন্মকে অপরাধ হিসেবে দেখা চরম মানসিক দেউলিয়াত্বের পরিচয়। ছেলে-মেয়ে নয়, প্রত্যেক সন্তানই সমান মর্যাদা ও ভালোবাসার দাবিদার। সমাজে কন্যাসন্তানের প্রতি ইতিবাচক দৃষ্টিভঙ্গি গড়ে উঠুক, সেটিই আমাদের প্রত্যাশা।’
স্থানীয় সচেতন মহল এ ঘটনাকে অত্যন্ত দুঃখজনক ও নিন্দনীয় উল্লেখ করে কন্যাসন্তান নিয়ে সামাজিক কুসংস্কার ও বৈষম্যমূলক মানসিকতা দূর করতে সবাইকে এগিয়ে আসার আহ্বান জানিয়েছেন।
পটুয়াখালীর কলাপাড়ায় আন্দারমানিক নদীর পানির প্রবল স্রেতে সদরপুর স্লুইস বেরিবাঁধ ভেঙে পড়ায় চরম দুর্ভোগে পড়েছেন কয়েক হাজার মানুষ। স্লুইসটি ক্ষতিগ্রস্থ হওয়ায় প্রায় সাতশ একর ফসলি জমি পানিতে তলিয়ে গেছে। সষ্টি হয়েছে জলাবদ্ধতা। পানিবন্দি হয়ে পড়েছে সাত গ্রামের প্রায় চার হাজার পরিবার।
সরেজমিনে জানা যায়, এই এলাকায় বন্ধ হয়ে গেছে সরাসরি সড়ক যোগাযোগ। এতে বিপাকে পড়েছেন শিক্ষার্থীসহ সাধারণ মানুষ। হাজীপুর এলাকায় সোনাতলা ও আন্ধারমানিক নদীর সংযোগস্থল এবং সাগর মোহনা ঘেঁষা জনপদের মানুষকে জলোচ্ছ্বাস থেকে রক্ষায় হাজীপুর সেতু থেকে জালালপুর পর্যন্ত নির্মাণ করা হয় বেড়িবাঁধ। ওই বেড়িবাঁধের অভ্যন্তরের পানি নিষ্কাশনের জন্য নির্মাণ করা হয় সদরপুর তিন ভেন্টের স্লুইস । দীর্ঘদিন সংস্কার না হওয়ায় এবার পানির তীব্র চাপে স্লুইসটি বেরিবাঁধসহ ভেঙে পড়ে।
স্থানীয়রা জানান, স্লুইসটি ভেঙে যাওয়ার পর পানি নিষ্কাশনের পথ বন্ধ হয়ে গেছে। ফলে সোনাতলা নদীর জোয়ারের পানি ঢুকে আশপাশের সাতটি গ্রাম প্লাবিত হয়েছে। বসতঘর, রাস্তাঘাট, ফসলি জমি ও মাছের ঘের পানিতে তলিয়ে গেছে। অনেকের পুকুর ও ঘেরের মাছ ভেসে গেছে। পানিবন্দি অবস্থায় দিন কাটাচ্ছে পরিবারগুলো।
গ্রামবাসীর অভিযোগ, গত বছর থেকেই স্লুইসে ভাঙনের লক্ষণ দেখা দিয়েছিল। তখন প্রয়োজনীয় মেরামত করা হলে বর্তমান পরিস্থিতির সষ্টি হতো না। কয়েকদিন ধরে হাজার হাজার মানুষ পানিবন্দি থাকলেও স্লুইস দিয়ে পানি নামানোর কার্যকর কোনো উদ্যোগ নেওয়া হয়নি বলে অভিযোগ তাদের।
সদরপুর গ্রামের বাসিন্দারা বলেন, গত বছর থেকেই স্লুইসটি ঝুঁকিপূর্ণ ছিল। তখন সংস্কার করলে আজ আমাদের এমন সমস্যায় পড়তে হতো না।
এবিষয় পানি উন্নয়ন বোর্ডের অফিস সূত্রে জানাজায়, উপজেলার অনেক স্লুইস ও জলকপাট দীর্ঘদিন ধরে জরাজীর্ণ অবস্থায় রয়েছে। সংস্কারের জন্য প্রস্তবনা পাঠানো হয়েছে।
কলাপাড়া পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. শাহ আলম বলেন, ভেঙে যাওয়া স্লুইস ও জলকপাটগুলো পুননি©মা©ণের জন্য প্রস্তাবনা পাঠানো হয়েছে। বরাদ্দ পাওয়া গেলে দ্রুত সংস্কারের উদ্যোগ নেওয়া হবে।
নওগাঁর পত্নীতলায় হানিট্রাপ এর ফাঁদে ফেলে এবং ওয়েব পেজ ব্যবহার করে মুক্তিপণ আদায়কারী চক্রের দুই তরুণীসহ ৪ সদস্যকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। বুধবার সন্ধ্যায় বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন পুলিশ সুপার মোহাম্মদ তারিকুল ইসলাম। এর আগে গত মঙ্গলবার (১৪ জুলাই) রাতে পত্নীতলার উপজেলার সরদারপাড়া এলাকায় এ অভিযান পরিচালনা করা হয়।
গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন, জেলার পত্নীতলা উপজেলার পুঁইয়া এলকার মৃত আল হেলালের ছেলে মাহফুজুর রহমান বাঁধন (২৬), একই উপজেলার শিবপুর সরদার পাড়ার মৃত কামরুজ্জামানের ছেলে মমিনুর ইসলাম (২২), পোরশা উপজেলার সুতরইল এলাকার মারুফ হাসান মুন্নার স্ত্রী মোছা. সাদিয়া আক্তার মায়া (১৯) এবং পাশের জয়পুরহাট জেলার সদর উপজেলার হালাট্টী এলাকার মো. শান্তর স্ত্রী রুমা খাতুন (২০)।
জানা যায়, গ্রেপ্তারকৃত সংঘবদ্ধ চক্রটি সর্দারপাড়া এলাকায় একটি বাসা ভাড়া নিয়ে এ অপরাধ সংঘটিত করে আসছিল। ফেসবুক পেজ ও ইমো অ্যাপ ব্যবহার করে তারা ভিকটিমদের সাথে যোগাযোগ স্থাপন করত এবং তাদের বাসায় নিয়ে এসে মারধর করে মোবাইলে তাদের নগ্ন ছবি ও ভিডিও ধারণ করত। এ সকল ছবি ও ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে দেয়ার ভয় দেখিয়ে ভিকটিমের কাছে মোটা অঙ্কের টাকা আদায় করত।
এ সংক্রান্ত তথ্য পেয়ে পুলিশ সুপারের নির্দেশে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (পত্নীতলা সার্কেল) ও ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ওসি এর নেতৃত্বে একটি আভিযানিক দল ও-ই বাসায় অভিযান চালিয়ে এ অপরাধের সাথে জড়িত দুইজন নারী ও দুইজন পুরুষ সদস্যকে গ্রেপ্তার করে।
প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে তারা এই অপরাধের সাথে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করে। তারা বেশ কিছুদিন যাবত বিভিন্ন জায়গায় বাসা ভাড়া করে এ ধরনের কাজ করে বেড়াচ্ছেন। চক্রের অন্যান্য পলাতক সদস্যদের শনাক্ত করে গ্রেপ্তার করার জন্য অভিযান চলমান আছে।
নওগাঁ পুলিশ সুপার মোহাম্মদ তারিকুল ইসলাম বলেন, এ চক্রের আরো সদস্য যারা জড়িত রয়েছে, তাদের বিষয়টি পুলিশ খতিয়ে দেখছে। তিনি এ ধরনের হানিট্রাপের ফাঁদ থেকে তরুণদেরকে সচেতন হওয়ার আহ্বান জানান।
বিশ্ব সাপ দিবসের দিনে মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গল উপজেলায় লোকালয় থেকে একটি অজগর সাপ অক্ষত অবস্থায় উদ্ধার করা হয়েছে। পরে সাপটিকে বন্যপ্রাণী ব্যবস্থাপনা ও প্রকৃতি সংরক্ষণ বিভাগের কাছে হস্তান্তর করা হলে সেটি লাউয়াছড়া জাতীয় উদ্যানে অবমুক্ত করা হয়।
বৃহস্পতিবার (১৬ জুলাই) বেলা সাড়ে ১১টার দিকে শ্রীমঙ্গল উপজেলার ৫ নম্বর পুল উত্তর ভাড়াউড়া এলাকার বাসিন্দা যোবায়ের আহমেদের বাড়ি থেকে সাপটি উদ্ধার করা হয়।
স্থানীয় ও পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, গত কয়েকদিন ধরে যোবায়ের আহমেদের বাড়ির বেশ কয়েকটি হাঁস ও মুরগির বাচ্চা রহস্যজনকভাবে নিখোঁজ হচ্ছিল। বৃহস্পতিবার (১৬ জুলাই) সকালে পরিবারের সদস্যরা বাড়ির দেয়ালের ওপর একটি বড় অজগর সাপকে পাশের গাছের দিকে যেতে দেখেন। এতেই তাদের দীর্ঘদিনের রহস্য কাটতি শুরু হয় এবং তারা বুঝতে পারেন যে, নিখোঁজ হওয়া হাঁস-মুরগির বাচ্চাগুলো এই অজগরটিই খেয়ে আসছিল।
বাড়িতে অজগর দেখার পর আতঙ্কিত না হয়ে বাড়ির মালিক বিষয়টি বাংলাদেশ বন্যপ্রাণী সেবা ফাউন্ডেশনকে জানান। খবর পেয়ে প্রতিষ্ঠানের পরিচালক স্বপন দেব সজল, পরিবেশকর্মী রাজদীপ দেব দীপ এবং রিদন গৌড় দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছান। তারা অত্যন্ত সতর্কতার সাথে অজগর সাপটিকে কোনো ধরনের আঘাত না করে অক্ষত অবস্থায় উদ্ধার করতে সক্ষম হন।
উদ্ধার অভিযান শেষে সাপটিকে প্রয়োজনীয় প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে শ্রীমঙ্গল বন বিভাগের রেঞ্জ কার্যালয়ে হস্তান্তর করা হয়।
বন্যপ্রাণী ব্যবস্থাপনা ও প্রকৃতি সংরক্ষণ বিভাগের শ্রীমঙ্গল রেঞ্জের রেঞ্জ কর্মকর্তা কাজী নাজমুল হক জানান, উদ্ধারকৃত অজগর সাপটি আমাদের কাছে হস্তান্তর করার পর আমরা সেটিকে নিরাপদ প্রাকৃতিক আবাসস্থল লাউয়াছড়া জাতীয় উদ্যানে অবমুক্ত করেছি।
তিনি আরও বলেন, অজগর সাপ বিষধর নয় এবং পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষায় এরা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। তাই লোকালয়ে কখনো সাপ দেখা গেলে আতঙ্কিত হয়ে সেটিকে হত্যা না করে, বন বিভাগ বা বন্যপ্রাণী উদ্ধারকারী সংস্থাকে খবর দেওয়ার জন্য তিনি সর্বসাধারণের প্রতি আহ্বান জানান।
সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, বিশ্ব সাপ দিবসের দিন এই ধরনের উদ্ধার অভিযান ও সচেতনতা বন্যপ্রাণী সংরক্ষণে সাধারণ মানুষের ভূমিকা ও সচেতনতাকে আরও এক ধাপ বাড়িয়ে দেবে।
কিশোরগঞ্জের মিঠামইন উপজেলা বিএনপির সভাপতি (পদ স্থগিত) জাহেদুল আলম জাহাঙ্গীরকে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুর্বৃত্তরা।
বুধবার রাত সাড়ে ৯ টার দিকে ঘটনাটি ঘটেছে তার নিজ বাড়ি মিঠামইন উপজেলা সদরের বেড়িবাঁধ এলাকার বাগানবাড়ির সামনে।
মিঠামইন উপজেলা বিএনপির প্রচার সম্পাদক আব্দুল আওয়াল জানান, মিঠামইন বাজার থেকে ফেরার পথে জাহাঙ্গীরকে নিজ বাড়ির সামনে অজ্ঞাত ৩/৪ জন দেশীয় অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে গুরুতর জখম করে। এ সময় তার সঙ্গে থাকা বিএনপি কর্মী হাদিস মিয়াকে কোপায় তারা।
আশঙ্কাজনক অবস্থায় তাদেরকে কিশোরগঞ্জ শহীদ সৈয়দ নজরুল ইসলাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হলে জাহেদুল আলম জাহাঙ্গীরকে মৃত ঘোষণা করেন চিকিৎসক।
শহীদ সৈয়দ নজরুল ইসলাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের জরুরি বিভাগে দায়িত্বে থাকা চিকিৎসা অনন্ত বসাক বলেন, রাত সাড়ে ১১ টার দিকে জাহেদুল আলম জাহাঙ্গীরকে হাসপাতালে আনা হয়েছে। হাসপাতালে আসার আগেই তার মৃত্যু হয়েছে বলে জানান তিনি।
ছয় মাসে দেশে ৪০৪টি ধর্ষণের ঘটনা ঘটেছে। এর মধ্যে ২৩৮ শিশু ও কিশোরীকে ধর্ষণ করা হয়েছে। এছাড়া, ধর্ষণের পর হত্যা করা হয়েছে ১৭ জনকে।
বুধবার (১৫ জুলাই) হিউম্যান রাইটস সাপোর্ট সোসাইটির (এইচআরএসএস) প্রকাশ করা দেশের মানবাধিকার পরিস্থিতির অর্ধবার্ষিক প্রতিবেদনে (জানুয়ারি-জুন) এ তথ্য জানানো হয়েছে।
এতে বলা হয়, গত ছয় মাসে ১ হাজার ৬২১ জন নারী ও কন্যাশিশু নির্যাতনের শিকার হয়েছেন, যা আগের সালের একইসময়ে ছিল ১ হাজার ৪২ জন। অর্থাৎ, এক বছরে নির্যাতনের ঘটনা প্রায় ৫৬ শতাংশ বেড়েছে।
প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, গত ছয় মাসে ৮৮ নারী ও শিশুকে সংঘবদ্ধ ধর্ষণ করা হয়েছে। ৪৭৬ নারী ও শিশুকে যৌন নিপীড়ন করা হয়েছে।
এছাড়া, যৌতুকের জন্য নির্যাতনের ঘটনায় ১৯ নারী নিহত হয়েছেন, ৮ জন আহত হয়েছেন এবং ৩ নারী আত্মহত্যা করেছেন।
পারিবারিক সহিংসতায় নিহত হয়েছেন ৩২০ নারী, আহত হয়েছেন ২১১ জন এবং আত্মহত্যা করেছেন ১৪৭ জন। এসিড সহিংসতায় আহত হয়েছেন ৪ জন নারী।
এইচআরএসএস জানায়, ছয় মাসে ১ হাজার ৭৭ শিশু নির্যাতনের শিকার হয়েছে। তাদের মধ্যে ৩০৫ জন মারা গেছে। ৭৭২ শিশু শারীরিক ও মানসিক নির্যাতনের শিকার হয়েছেন। ২০২৫ সালে এ সংখ্যা ছিল ৬৭৩। এর মধ্যে নিহত হয় ১৩২ জন।
প্রতিবেদনে বলা হয়, দেশের মূলধারার ১৬টি জাতীয় গণমাধ্যমে প্রকাশিত সংবাদ, এইচআরএসএসের সংগৃহীত তথ্য ও ফ্যাক্ট-ফাইন্ডিং রিপোর্টের ভিত্তিতে ছয় মাসের মানবাধিকার পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করার পর এসব তথ্য পাওয়া গেছে।
এইচআরএসএসের নির্বাহী পরিচালক ইজাজুল ইসলাম বলেন, সাম্প্রতিক সময়ে রাজনৈতিক ও নির্বাচনী সহিংসতা, মব সহিংসতা, কারাগার ও হেফাজতে মৃত্যু, নারী ও শিশু নির্যাতন, সাংবাদিক ও শ্রমিক নির্যাতনের বিষয়গুলো সমাধান করা না হলে মানবাধিকার পরিস্থিতি আরও অবনতির দিকে যেতে পারে। দেশে আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা, গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়া শক্তিশালী করা এবং মানবাধিকার সুরক্ষার জন্য রাষ্ট্র ও সমাজের সব স্তরে সমন্বিত উদ্যোগ প্রয়োজন।
বর্তমান সরকার কোনোভাবেই চরমপন্থা ও উগ্রবাদকে প্রশ্রয় দেবে না বলে দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। একই সঙ্গে দুর্নীতি নিয়ন্ত্রণেও সরকারের কঠোর অবস্থানের কথা তুলে ধরেছেন তিনি।
বুধবার (১৫ জুলাই) জাতীয় সংসদের বাজেট অধিবেশনের সমাপনী বক্তব্যে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেন, বর্তমান সরকার কোনোভাবেই কোনো চরমপন্থা বা উগ্রবাদকে প্রশ্রয় দেবে না। সরকারের এই অবস্থানের পক্ষে বিরোধী দল পুরোপুরি সহযোগিতা করবে বলেও বিশ্বাস করেন প্রধানমন্ত্রী।
সমাপনী অধিবেশনে সভাপতিত্ব করেন জাতীয় সংসদের ডেপুটি স্পিকার কায়সার কামাল। অধিবেশনের শুরুতে প্রশ্নোত্তর পর্বে বিভিন্ন প্রশ্নের জবাব দেন প্রধানমন্ত্রী।
সমাপনী বক্তব্যে দুর্নীতি নিয়ন্ত্রণের ব্যাপারে তারেক রহমান বলেন, দুর্নীতির মাধ্যমে স্বৈরাচারের সময়ে প্রতিবছর এ দেশ থেকে ১৬ বিলিয়ন মার্কিন ডলার পাচার করে দেওয়া হয়েছে। সব সমস্যার অন্যতম কারণ হচ্ছে এই দুর্নীতি। হাত বেঁধে হোক, টুঁটি চেপেই হোক, দুর্নীতিকে নিয়ন্ত্রণ করতে বর্তমান সরকার বদ্ধপরিকর। জনগণের জানমালের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এ সময় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে পেশাদার বাহিনীতে পরিণত করার কথাও জানান প্রধানমন্ত্রী।
যেকোনো মূল্যে জাতীয় ঐক্য বজায় রাখার বিষয়ে জোর দিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘মতভিন্নতা থাকবে, তবে অবশ্যই শত্রুতা নয়। প্রতিহিংসা-প্রতিশোধের পরিবর্তে থাকবে ন্যায়পরায়ণতা। এই বাংলাদেশ যাতে আর কখনোই ফ্যাসিবাদ, স্বৈরাচারের কবলে না পড়ে, এই প্রশ্নে সংসদের বিরোধী দল এবং সরকারি দল...আমরা দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করতে চাই... আমাদের মধ্যে যে জাতীয় ঐক্য, সেই ঐক্য বজায় থাকবে।’
দেশে গত ১৫ বছরে এক হাজার ৩৩৪টি রেল দুর্ঘটনা ঘটেছে বলে জানিয়েছেন রেলপথ মন্ত্রী শেখ রবিউল ইসলাম। এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি পূর্বাঞ্চলে ঘটেছে এক হাজার ৫১টি এবং পশ্চিমাঞ্চলে ঘটেছে ২৮৩টি। বুধবার (১৫ জুলাই) জাতীয় সংসদের প্রশ্নোত্তরে কুমিল্লা-৯ আসনের এমপি আবুল কালামের প্রশ্নের জবাবে এ তথ্য জানান রেলমন্ত্রী। ডেপুটি স্পিকার কায়সার কামালের সভাপতিত্বে প্রশ্নোত্তর টেবিলে উপস্থাপিত হয়।
রেলপথ মন্ত্রী বলেন, ‘দুর্ঘটনা প্রধানত রেললাইন, পয়েন্টস অ্যান্ড ক্রসিংয়ের ত্রুটির কারণে হয়। এছাড়া চাকার শার্পফ্রেঞ্জ, গেজের অসামঞ্জস্যতা, প্রাকৃতিক কারণে রেললাইন বেঁকে বা ডেবে গিয়ে বগি লাইনচ্যুত হতে পারে।’
ঢাকা-১৮ আসনের সংসদ সদস্য এস এম জাহাঙ্গীর হোসেনের প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী বলেন, ‘মেট্রোরেল প্রকল্প নির্মাণে অনিয়ম বা দুর্নীতির কোনো অভিযোগ এখনো পাওয়া যায়নি। পাওয়া গেলে তাৎক্ষণিক বিধি মোতাবেক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’
তিনি বলেন, ‘মেট্রোরেল এমআরটি-৬ (উত্তর উত্তর-কমলাপুর) প্রকল্পে ডিপিপি তিনবার সংশোধন করা হয়েছে। প্রথমে প্রাক্কলিত ব্যয় ধরা হয়েছিল ২১ হাজার ৯৮৫ কোটি সাত লাখ টাকা। দ্বিতীয় সংশোধনীতে প্রাক্কলিত ব্যয় ধরা হয় ৩৩ হাজার ৪৭১ কোটি ৯৯ লাখ টাকা। সর্বশেষ তৃতীয় সংশোধনীতে প্রাক্কলিত ব্যয় ধরা হয় ৩২ হাজার ৭১৭ কোটি ৭৩ লাখ টাকা।’
স্বতন্ত্র সংসদ সদস্য রুমিন ফারহানার প্রশ্নের জবাবে রেলপথ মন্ত্রী বলেন, ‘বিগত ১৫ বছরে (২০১১-২৬) বাংলাদেশ রেলওয়ের বহরে ৬৬টি ব্রডগেজ লোকোমোটিভ, ৪১টি মিটারগেজ লোকোমোটিভ, ৩২০টি ব্রডগেজ প্যাসেঞ্জার ক্যারেজ, ৪৮২টি মিটারগেজ প্যাসেঞ্জার ক্যারেজ সংগ্রহ করা হয়েছে। যাতে ব্যয় হয়েছে ছয় হাজার ৭৭০ কোটি ৪৩ লাখ টাকা।’
কুমিল্লা-৯ আসনের সংসদ সদস্য আবুল কালামের প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘গত দেড় দশকে ছোট-বড় মিলিয়ে পূর্বাঞ্চল ও পশ্চিমাঞ্চলে ১৩৩৪টি ট্রেন দুর্ঘটনা ঘটেছে। এর মধ্যে পূর্বাঞ্চলে ১০৫১ ও পশ্চিমাঞ্চলে ২৮৩টি।’
মন্ত্রী বলেন, ‘দুর্ঘটনা প্রতিরোধে রেললাইন রক্ষণাবেক্ষণ করাসহ নতুন রেললাইন নির্মাণের কাজ চলমান রয়েছে। তাছাড়া দুর্ঘটনার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট দায়ী ব্যক্তি বা বিভাগের বিরুদ্ধে বিভাগীয় ও আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়ে থাকে।’
কুমিল্লা-১০ আসনের এমপির প্রশ্নের জবাবে রবিউল আলম বলেন, ‘মহাসড়কে সেচ ইঞ্জিন দিয়ে পরিচালিত অবৈধ যান আটক করে ডাম্পিং স্টেশনে পাঠানোর উদ্যোগ নেওয়া হবে।’
গাজীপুর-৫ আসনের এমপি ফজলুল হক মিলনের প্রশ্নের জবাবে মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রী এ জেড এম জাহিদ হোসেন বলেন, ‘সারাদেশে ২০২৪ সালে জেলা ও উপজেলা মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তাদের মাধ্যমে এক হাজার ৪১৭টি, ২০২৫ সালে এক হাজার ১২৩টি এবং ২০২৬ সালে ৩৬৪টি বাল্যবিবাহ বন্ধ করা হয়েছে।’
সংরক্ষিত নারী আসনের এমপি সাবিকুন্নাহারের প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘নির্যাতনের শিকার নারী ও শিশুকে সেবা দেওয়ার জন্য সরকারি মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ৩৭টি ওয়ানস্টপ ক্রাইসিস সেন্টার (ওসিসি) স্থাপন করার সিদ্ধান্ত হয়েছে।’
তিনি আরও জানান, কিউআরটি প্রকল্পের আওতায় বিদ্যমান ১৪টি ওয়ান স্টপ ক্রাইসিস সেন্টারের কার্যক্রম জোরদারকরণসহ ২৩টি সরকারি মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নতুন ওসিসি সেন্টার স্থাপন প্রক্রিয়াধীন আছে। এছাড়া ৬৪ জেলায় ওসিসি স্থাপনের পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছে।
দেশের ছয়টি প্রধান শহরে সূক্ষ্ম ধূলিকণা (PM2.5) দূষণের কারণে বছরে প্রায় ৮৮ হাজার ২৪০ জনের অকালমৃত্যু হচ্ছে। অর্থাৎ প্রতিদিন গড়ে প্রায় ২৪২ জন মানুষ বায়ুদূষণজনিত কারণে প্রাণ হারাচ্ছেন। একই সঙ্গে এ দূষণের কারণে বছরে প্রায় ২৩ বিলিয়ন মার্কিন ডলার (প্রায় ২ লাখ ৮০ হাজার কোটি টাকা) অর্থনৈতিক ক্ষতি হচ্ছে, যা দেশের মোট দেশজ উৎপাদনের (জিডিপি) প্রায় ৫ শতাংশের সমান।
বুধবার (১৫ জুলাই) দুপুরে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের পাবলিক হেলথ অ্যান্ড ইনফরমেটিক্স বিভাগে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে গবেষণার ফলাফল তুলে ধরেন বিভাগের চেয়ারম্যান ও সহযোগী অধ্যাপক ড. মো. সাখাওয়াত হোসেন।
বিশ্ববিদ্যালয়ের পাবলিক হেলথ অ্যান্ড ইনফরমেটিক্স বিভাগের ক্লাইমেট চেঞ্জ, এয়ার কোয়ালিটি অ্যান্ড হেলথ রিসার্চ (C2AHR) ইউনিট পরিচালিত গবেষণাটি সম্প্রতি আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত Pollution সাময়িকীতে প্রকাশিত হয়েছে। ড. সাখাওয়াত হোসেনের নেতৃত্বে পরিচালিত এ গবেষণায় ঢাকা, চট্টগ্রাম, রাজশাহী, খুলনা, সিলেট ও বরিশাল—এই ছয়টি প্রধান শহরের তথ্য বিশ্লেষণ করা হয়েছে।
গবেষণায় দেখা গেছে, বায়ুদূষণজনিত মোট মৃত্যুর মধ্যে বছরে ৩৭ হাজার ৫১৯ জন হৃদ্রোগে, ৮ হাজার ৩৪৪ জন দীর্ঘমেয়াদি শ্বাসতন্ত্রের রোগে এবং ৮১১ জন ফুসফুসের ক্যান্সারে মারা গেছেন।
শহরভিত্তিক বিশ্লেষণে সবচেয়ে বেশি অকালমৃত্যু হয়েছে ঢাকায়। সেখানে PM2.5 দূষণের সঙ্গে সম্পর্কিত মৃত্যুর সংখ্যা প্রায় ৬৮ হাজার ৭০৩। এরপর রয়েছে চট্টগ্রাম (১১ হাজার ২০২), রাজশাহী (২ হাজার ৮২৭), খুলনা (২ হাজার ৬২৫), সিলেট (১ হাজার ৪৮৮) এবং বরিশাল (১ হাজার ৩৯৫)।
গবেষণায় আরও দেখা গেছে, ২০১৩ থেকে ২০২১ সালের মধ্যে ছয়টি শহরেই বায়ুদূষণজনিত অকালমৃত্যুর সংখ্যা ধারাবাহিকভাবে বেড়েছে। এর মধ্যে ঢাকায় প্রতি বছর গড়ে প্রায় ৩ হাজার ৪৮৪ জন অতিরিক্ত মানুষের মৃত্যু PM2.5 দূষণের সঙ্গে সম্পর্কিত হয়েছে। গবেষকদের মতে, এটি নগরাঞ্চলে বায়ুদূষণের ক্রমাবনতিশীল পরিস্থিতির ইঙ্গিত দেয়।
সংবাদ সম্মেলনে ড. মো. সাখাওয়াত হোসেন বলেন, আমরা প্রায়ই বায়ুদূষণকে শুধু পরিবেশগত সমস্যা হিসেবে দেখি। কিন্তু আমাদের গবেষণা বলছে, এর ফলে বছরে প্রায় ৮৮ হাজার অকালমৃত্যু এবং জিডিপির প্রায় ৫ শতাংশ সমপরিমাণ অর্থনৈতিক ক্ষতি হচ্ছে। এখনই কার্যকর পদক্ষেপ না নিলে ভবিষ্যতে স্বাস্থ্যগত ও অর্থনৈতিক ক্ষতি আরও বাড়বে।
তিনি বলেন, বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (ডব্লিউএইচও) বায়ুর গুণগত মানসংক্রান্ত নির্দেশিকা কঠোরভাবে বাস্তবায়ন, PM2.5 নির্গমন কমানো, নগরাঞ্চলে সমন্বিত বায়ুমান ব্যবস্থাপনা জোরদার এবং প্রমাণভিত্তিক নীতি গ্রহণের মাধ্যমে উল্লেখযোগ্য সংখ্যক অকালমৃত্যু ও অর্থনৈতিক ক্ষতি এড়ানো সম্ভব।
গোপালগঞ্জে ১৬ জুলাইকে কেন্দ্র করে নিরাপত্তা জোরদার করতে ৫ প্লাটুন বিজিবি মোতায়েন করা হয়েছে। বুধবার সকাল থেকেই শহরের গুরুত্বপূর্ণ এলাকায় বিজিবির সদস্যরা টহল শুরু করেন। তাদের সঙ্গে যৌথ টহলে রয়েছে পুলিশ ও র্যাব।
শহরের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টে পুলিশি চেকপোস্ট বসানো হয়েছে। পাশাপাশি সাদা পোশাকেও দায়িত্ব পালন করছেন আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা।
গোপালগঞ্জের পুলিশ সুপার মো. হাবীবুল্লাহ জানান, নিরাপত্তা নিশ্চিতে প্রায় ৫ প্লাটুন বিজিবি মোতায়েন করা হয়েছে। লাইভ মিছিল থেকে কাশিয়ানীতে ১৫ জন এবং গোপালগঞ্জ সদরের ৪ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। বুধবার তাদের আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়।
পুলিশের নিয়মিত টহলের সঙ্গে বিজিবি টহল দিবে জানিয়ে পুলিশ সুপার বলেন, গোপালগঞ্জকে অন্য জেলার থেকে আলাদাভাবে দেখা হচ্ছে না। গোপালগঞ্জের মানুষ শান্তিপ্রিয়, তাই ১৬ জুলাইকে সামনে রেখে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক আছে।
উল্লেখ্য, ২০২৫ সালের ১৬ জুলাই এনসিপির পথযাত্রাকে কেন্দ্র করে গোপালগঞ্জে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ও আওয়ামী লীগ নেতা-কর্মীদের মধ্যে দফায় দফায় সংঘর্ষে পাঁচজন নিহত হন। সেই ঘটনার প্রেক্ষাপটে এ বছরও সম্ভাব্য নাশকতা ও অপ্রীতিকর পরিস্থিতি এড়াতে জেলার নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে বলে জানিয়েছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী।
পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তনমন্ত্রী আবদুল আউয়াল মিন্টু বলেছেন, ‘ইটভাটায় জ্বালানি হিসেবে কোনোভাবেই কাঠ পোড়ানো যাবে না। বুধবার (১৫ জুলাই) সচিবালয়ের মন্ত্রণালয়ে সভাকক্ষে পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের উদ্যোগে বাংলাদেশ ব্রিকস ম্যানুফ্যাকচারিং ওনার্স অ্যাসোসিয়েশনের (বিবিএমওএ) সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের সাথে এক গুরুত্বপূর্ণ মতবিনিময় সভায় মন্ত্রী এ মন্তব্য করেন।
ইটভাটা শিল্পের পরিবেশগত প্রভাব, বায়ুমান ব্যবস্থাপনা এবং দূষণ নিয়ন্ত্রণসংক্রান্ত বিভিন্ন বিষয়ে দ্বিপক্ষীয় আলোচনার উদ্দেশ্যে এই সভার আয়োজন করা হয়।
মন্ত্রী বলেন, ‘ইটের বিকল্প এখনো পুরোপুরি তৈরি হয়নি। তাই ইটভাটা বন্ধ না করে, কীভাবে ইটভাটা থেকে সৃষ্ট দূষণ কমানো যায়, সেদিকে দৃষ্টি দিতে হবে। নতুন নতুন প্রযুক্তি ব্যবহারের মাধ্যমে দূষণ কমাতে হবে।’
মন্ত্রী আরও বলেন, ‘ইট বানাতে জমির উপরিভাগের মাটি ব্যবহার করা হলে জমির উর্বরতা নষ্ট হয়। এর ফলে আবাদযোগ্য জমির পরিমাণ দিন দিন কমছে। এর বিকল্প ব্যবস্থা নিয়ে আমাদের ভাবতে হবে।’
পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী শেখ ফরিদুল ইসলাম বলেন, ‘অবৈধ ইটভাটার বিষয়ে কোনো ছাড় দেওয়া হবে না। উচ্চ মাত্রার সালফার সমৃদ্ধ কয়লা ইটভাটায় ব্যবহারের ফলে পরিবেশ দূষিত করে।’ তাই কয়লা ব্যবহারের ক্ষেত্রে এর গুণগত মানের নীতিমালা করা জরুরি বলে মন্তব্য করেন পরিবেশ প্রতিমন্ত্রী।
বাংলাদেশ ব্রিকস ম্যানুফ্যাকচারিং ওনার্স অ্যাসোসিয়েশনের কেন্দ্রীয় সভাপতি ফিরোজ হায়দার খান এবং মহাসচিব মমিন উল্লা খানের নেতৃত্বে দেশের বিভিন্ন জেলার উপদেষ্টা ও সহসভাপতিসহ একটি প্রতিনিধিদল সভায় অংশগ্রহণ করেন।
সভায় টেকসই ও পরিবেশবান্ধব প্রযুক্তির মাধ্যমে ইট উৎপাদন এবং পরিবেশ দূষণ কমিয়ে আনার ওপর বিশেষ জোর দেওয়া হয়, পাশাপাশি অ্যাসোসিয়েশনের নেতারাও তাদের বিভিন্ন দাবি ও প্রস্তাবনা তুলে ধরেন। তাদের যৌক্তিক দাবি বিবেচনা করা হবে বলে সভায় সিদ্ধান্ত হয়।
সভায় সভাপতিত্ব করেন পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের ভারপ্রাপ্ত সচিব ড. ফাহমিদা খানম।
সভায় পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের পরিবেশ দূষণ নিয়ন্ত্রণ ও আইন অনুবিভাগের অতিরিক্ত সচিব ড. মো. সাইদুর রহমান, পরিবেশ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক ড. মো. লুৎফর রহমান, অতিরিক্ত মহাপরিচালকসহ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।