এনায়েত করিম, রাজশাহী ব্যুরো
প্রাচীনকাল থেকেই রেশমের জন্য সুপরিচিত রাজশাহী। সেই সুখ্যাতি থেকেই রাজশাহীর প্রধান পরিচয় হয়ে ওঠে ‘সিল্কসিটি’। তবে মাঝে খেই হারিয়ে ফেলেছিল রেশমশিল্প। বাংলাদেশ রেশম গবেষণা ইনস্টিটিউটের হাত ধরে সেই রেশম আবার স্বপ্ন দেখাচ্ছে সুদিন ফেরানোর। রেশম নিয়ে গবেষণায় নিয়োজিত এই প্রতিষ্ঠানটি সম্প্রতি রেশমের ৩৫টি নতুন জাত উদ্ভাবন করেছে। এর মধ্যে ১৫টি মালবেরি (তুঁত) গাছ ও ২০টি রেশম কীট। নতুন এসব জাত রেশমশিল্পে সাড়া ফেলবে বলে মনে করছেন গবেষকরা। তারা বলছেন, আগের জাতের চেয়ে নতুন জাতে অন্তত ১২ থেকে ১৫ শতাংশ বেশি উৎপাদন আসবে। এতে চাষিদেরও সাশ্রয় হবে।
বাংলাদেশ রেশম গবেষণা ও প্রশিক্ষণ ইনস্টিটিউট রাজশাহীর তথ্য অনুযায়ী, রেশমশিল্পের উন্নয়নে পাঁচ বছর আগে ‘রেশম প্রযুক্তি উন্নয়ন বিস্তার ও দক্ষ জনশক্তি সৃষ্টির মাধ্যমে উৎপাদনশীলতা বৃদ্ধিকরণ’ নামে একটি প্রকল্প হাতে নেয় রেশম বোর্ড। চলতি বছরের জুনে শেষ হয়েছে প্রকল্পটি। ৩৫ কোটি ৬৬ লাখ টাকার এই প্রকল্পের মাধ্যমে নতুন করে রেশমে যুক্ত হয়েছে ১৫টি মালবেরি (তুঁত) জাতের গাছ ও ২০টি নতুন জাতের কীট। ফলে বর্তমানে মালবেরি জাতের গাছের সংখ্যা ৩৮টি ও রেশম কীটের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১১৪টিতে।
বাংলাদেশ রেশম গবেষণা ও প্রশিক্ষণ ইনস্টিটিউটের ঊর্ধ্বতন গবেষণা কর্মকর্তা ফারুক আহম্মেদ ও রুমানা ফেরদৌস বিনত-এ রহমানের যৌথ গবেষণায় নতুন এসব জাত উদ্ভাবন হয়। নতুন ৩৫টি জাত (১৫টি তুঁত ও ২০টি কীট) উদ্ভাবনের ফলে বর্তমানে বাংলাদেশ রেশম গবেষণা ও প্রশিক্ষণ ইনস্টিটিউট রাজশাহীতে জার্মপ্লাজম ব্যাংকে তুঁত জাতের গাছের সংখ্যা ৬০ থেকে ৮৪ ও রেশম কীট জাতের সংখ্যা ৮৫ থেকে ১১৪টিতে উন্নীত হয়েছে। এর মধ্যে ২৭টি উচ্চফলনশীল রেশম কীটের জাত রয়েছে।
নতুন ২০টি রেশম কীট উদ্ভাবনের ফলে প্রতি ১০০টি রোগমুক্ত ডিমে ৭০ থেকে ৭৫ কেজি রেশমগুটি উৎপাদন সম্ভব হচ্ছে। আগে এর পরিমাণ ছিল ৬০ থেকে ৬৫ কেজি। এ ছাড়া উচ্চফলনশীল ১৫টি তুঁতজাত উদ্ভাবনের ফলে বছরে হেক্টরপ্রতি তুঁতপাতার উৎপাদন ৪০ থেকে ৪৭ মেট্রিক টনে উন্নীত করা সম্ভব হয়েছে। এর আগে প্রতি হেক্টরে রেশমের সর্বোচ্চ উৎপাদন ছিল ৩০ থেকে ৩৭ মেট্রিক টন। ফলে স্বল্প সময়ে ও অল্প ব্যয়ে মানসম্পন্ন কাঁচা রেশম সুতা উৎপাদন সম্ভব হচ্ছে।
গবেষণা কর্মকর্তা ফারুক আহম্মেদ দৈনিক বাংলাকে বলেন, ‘একটি নতুন জাত তৈরি করতে অন্তত ১০ বছর সময় লেগে যায়। এই গবেষণার কাজ আগেই কিছুটা এগিয়ে রাখায় পাঁচ বছরের মধ্যেই শেষ করা সম্ভব হয়েছে। রাজশাহী রেশম গবেষণা ও প্রশিক্ষণ ইনস্টিটিউটে জার্মপ্লাজম থেকে গবেষণার মাধ্যমে নতুন এই ১৫টি জাতের মালবেরি (তুঁত) জাত উদ্ভাবন করা হয়েছে। এগুলোর মধ্যে বিএসআরএম-৬৪, বিএসআরএম-৬৫ ও বিএসআরএম ৭৪ জাতের ট্রায়াল শেষ হয়েছে। এগুলো রেশম সম্প্রসারণের মাধ্যমে চাষিদের মাঝে ছড়িয়ে দেয়া হবে। বাকি জাতগুলো ট্রায়ালের জন্য রাখা হয়েছে।’
এই গবেষক আরও বলেন, ‘প্রকল্পটি দ্বিতীয় পর্যায়ের জন্য আবেদন করা হয়েছে। অনুমোদন পেলে দ্বিতীয় পর্যায়ে এগুলোর ট্রায়াল শেষ করা হবে। এগুলো থেকে হেক্টরপ্রতি তুঁতপাতার উৎপাদন ৪০ থেকে ৪৭ মেট্রিক টনে উন্নীত করা সম্ভব হবে। তবে ট্রায়াল শেষ না হওয়া পর্যন্ত এগুলোর নামসহ বিস্তারিত বলা যাচ্ছে না।’
ঊর্ধ্বতন গবেষণা কর্মকর্তা রুমানা ফেরদৌস বিনত-এ রহমান বলেন, এই প্রকল্পের মাধ্যমে উদ্ভাবিত ২০টি নতুন রেশম কীটের জাতের সবগুলোই এখন ট্রায়াল পর্যায়ে আছে। এগুলো চাহিদা অনুযায়ী রেশম সম্প্রসারণের মাধ্যমে ক্রস হাইব্রিড জাত উৎপাদন করে সরবরাহ করা হবে।
বাংলাদেশ রেশম গবেষণা ও প্রশিক্ষণ ইনস্টিটিউট রাজশাহীর পরিচালক কাজী রফিকুল ইসলাম বলেন, প্রধান ফসল হিসেবে চাষিদের তুঁত চাষ করতে উৎসাহিত করা হচ্ছে। এখন বাড়ির আনাচকানাচে, রাস্তার ধারে পরিত্যক্ত জায়গায় বেশির ভাগ তুঁত চাষ হয়। রেশম গবেষণা ইনস্টিটিউটের পক্ষ থেকেও তুঁত চাষকে জনপ্রিয় করতে সাথি ফসল প্রবর্তন করা হয়েছে। চাষিরা এভাবে চাষাবাদ করলে লাভবান হবেন।
তিনি আরও বলেন, নতুন এসব জাত উদ্ভাবনের পর সেগুলো দিয়ে বিভিন্ন এলাকার কৃষক নিয়ে এখানে প্রশিক্ষণও দেয়া হয়েছে। এখন এগুলো ট্রায়ালে আছে। কিছু কিছু জাত রেশম সম্প্রসারণকে দেয়া হয়েছে। আর কিছু জাতের কাজ এখনো চলছে। সামান্য কিছু উন্নয়ন করতে হবে। এগুলো শেষ হলেই এই ৩৫টি নতুন জাত রেশম সম্প্রসারণ শাখার মাধ্যমে চাষিদের হাতে পৌঁছে দেয়া হবে।
উল্লেখ্য, রাজশাহীর ঐতিহ্যবাহী রেশম কারখানা ২০০২ সালে বন্ধ করে দেয় তৎকালীন জোট সরকার। আওয়ামী লীগ সরকার ক্ষমতায় আসার পর ফের সচলের উদ্যোগ নিয়ে ২০১৮ সালে কারখানাটি চালু হয়। সে সময় রেশমের সুদিন ফেরাতে ১৫৩ কোটি টাকার চারটি প্রকল্প গ্রহণ করা হয়। এরপর ২০২১ সালে আন্তর্জাতিক ভৌগোলিক নির্দেশক (জিআই) স্বীকৃতি পায় রাজশাহীর ঐতিহ্য রেশম। স্বীকৃতি পাওয়ার পর রেশম কাপড়ের চাহিদা বেড়েছে। বর্তমানে রেশমচাষিদের উৎপাদিত রেশমগুটি থেকে কারখানার সামনের রেশম ডিসপ্লেতে মিলছে প্রিন্টেড শাড়ি, টু-পিস, থান কাপড়, ওড়না, স্কার্ফ, টাই ইত্যাদি খাঁটি রেশমপণ্য।
শেরপুরের নালিতাবাড়ীতে মাত্র দেড় থেকে দুই মিনিটের আকস্মিক টর্নেডোতে গাছচাপা পড়ে এক বৃদ্ধার মৃত্যু হয়েছে। ঝড়ের তাণ্ডবে উপজেলার কয়েকটি গ্রামের অর্ধশতাধিক কাঁচা ও টিনশেড ঘর ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। উপড়ে পড়েছে অসংখ্য গাছপালা, বিচ্ছিন্ন হয়েছে বিদ্যুৎ সংযোগ। গতকাল শনিবার সকাল পৌনে নয়টার দিকে উপজেলার নন্নী পশ্চিমপাড়া গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। নিহত বৃদ্ধার নাম বেগম (৬৫)।
স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, সকালে ঝড়ো হাওয়ার সঙ্গে বৃষ্টি হচ্ছিল। এ সময় হঠাৎ ঘূর্ণির মতো প্রবল বাতাস কয়েকটি গ্রামের ওপর দিয়ে বয়ে যায়। আকস্মিক এ টর্নেডোর সময় উপড়ে পড়া একটি গাছের নিচে চাপা পড়ে ঘটনাস্থলেই মারা যান বেগম।
ঝড়ে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয় নন্নী পশ্চিমপাড়া, নন্নী উত্তরবন্দ, যোগানিয়া, ছাইচাকুড়া ও হাতিপাগার এলাকার কয়েকটি গ্রাম। অনেক ঘরের টিনের চালা উড়ে গেছে। বিভিন্ন স্থানে বিদ্যুতের খুঁটি ভেঙে পড়ে ও তার ছিঁড়ে যাওয়ায় কয়েকটি এলাকায় বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ হয়ে যায়।
নালিতাবাড়ী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আব্দুল মালেক বলেন, 'ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ নিরূপণে কাজ চলছে। ক্ষতিগ্রস্ত এলাকাগুলোতে খোঁজখবর নেওয়া হচ্ছে।'
টাঙ্গাইল শহরের মাহমুদুল হাসান কলেজ মার্কেটের দুটি কসমেটিকস প্রতিষ্ঠানে অভিযান চালিয়ে মোট ২৫ হাজার টাকা জরিমানা করেছে জাতীয় ভোক্তা-অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর।
শনিবার (২৩ মে) দুপুরে এ অভিযান চালানো হয়। অভিযানে বিভিন্ন অনিয়মের প্রমাণ পাওয়ায় প্রতিষ্ঠান দুটিকে জরিমানা করা হয়। অভিযান পরিচালনা করেন জাতীয় ভোক্তা-অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর, টাঙ্গাইল জেলা কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক আসাদুজ্জামান রোমেল।
তিনি জানান, মাহমুদুল হাসান কলেজ মার্কেটের তুলি ও অন্তু বিউটি কনসেপ্ট নামের দুটি প্রতিষ্ঠানে অভিযান পরিচালনা করা হয়। অভিযানে পণ্যের মূল্যতালিকা সংরক্ষণ না করা, মেয়াদোত্তীর্ণ ও অনুমোদনবিহীন প্রসাধনী সামগ্রী বিক্রির অভিযোগসহ ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ আইন লঙ্ঘনের বিভিন্ন বিষয় পরিলক্ষিত হলে প্রতিষ্ঠান দুটিকে মোট ২৫ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়।
এছাড়াও শহরের রাবনা বাইপাস এলাকায় অতিরিক্ত বাস ভাড়া আদায়ের অভিযোগের প্রেক্ষিতে গণপরিবহনের চালক ও সংশ্লিষ্টদের সতর্ক করা হয়। যাত্রীদের কাছ থেকে নির্ধারিত ভাড়ার অতিরিক্ত অর্থ আদায় না করার জন্য কঠোরভাবে নির্দেশনা দেওয়া হয়।
তিনি আরও বলেন, ভোক্তাদের স্বার্থ সুরক্ষায় নিয়মিত বাজার তদারকি কার্যক্রম পরিচালনা করা হচ্ছে। কোনো ব্যবসায়ী ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ আইন লঙ্ঘন করলে তার বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। একই সঙ্গে পরিবহন খাতে অতিরিক্ত ভাড়া আদায়ের অভিযোগ পেলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও জানান তিনি।
নওগাঁ জেলা ও দায়রা জজ আদালত থেকে গুরুত্বপূর্ণ মামলার নথি চুরির ঘটনায় চারজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। এ সময় তাদের কাছ থেকে হারিয়ে যাওয়া মামলার নথিটি উদ্ধার করা হয়েছে। শনিবার ( ২৩ মে) দুপুর একটার দিকে জেলা পুলিশের মিডিয়া সেল গ্রুপে পুলিশ সুপার মোহাম্মদ তারিকুল ইসলাম বিষয়টি নিশ্চিত করেন। এর আগে গত বৃহস্পতিবার (২১ মে) নওগাঁ যুগ্ম জেলা ও দায়রা জজ আদালত থেকে মামলার নথিগুলো হারিয়ে যায়।
গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন, সদর উপজেলার শৈলগাছী ইউনিয়নের সিংবাচা বাজার এলাকার আনোয়ার হোসেনের ছেলে এস এম আকাশ (২৬), সদর উপজেলার খয়রা বাদ এলাকার করিম সরদারের ছেলে ও
জেলা যুগ্ম ও দায়রা জজ আদালত-২ এর পিয়ন পলাশ এবং তার ভাই সাপাহার সাব জজ আদালতের পিয়ন আরিফ এবং রানীনগর উপজেলার তেবাড়িয়া গ্রামের আমজাদের ছেলে সবুজ (৪০)।
পুলিশ সুপার মোহাম্মদ তারিকুল ইসলাম জানান, গত বৃহস্পতিবার (২১ মে) সন্ধ্যায় নওগাঁর জেলা ও দায়রা জজ আমাকে জানায় ৯০৪/২০২২ নং মামালার নথিগুলো হারিয়ে গেছে এবং একটি অজ্ঞাত নম্বর থেকে কল দিয়ে মামলার নথি ফিরিয়ে দিবে মর্মে আদালতের কর্মচারির নিকট ত্রিশ হাজার টাকা চাঁদা দাবি করা হচ্ছে। বিষয়টি জানার পর গোয়েন্দা পুলিশের একটি বিশেষ টিম গঠন করা হয়। বিশেষ এই টিমটি প্রথমে রাজশাহীর বাগমারা এলাকায় অভিযান চালায়। পরে মূল চোরকে সনাক্ত করে সদর উপজেলার সিংবাচা বাজার এলাকা থেকে এসএম আকাশ নামে একজনকে গ্রেপ্তার কর হয়। তাকে জিজ্ঞেসাবাদ করা হলে সে খড়ের একটি পালা থেকে মামলার নথিগুলো বের করে দেয়। আকাশ এই চক্রের সাথে জড়িত বাকিদের নাম জানালে অভিযান চালিয়ে তাদেরকেও গ্রেপ্তার করা হয়।
পুলিশ সুপার আরও জানান, এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ মামলা ছিলো। আর কিছুদিন পরেই মামলাটির রায় ঘোষণা করা হবে। নথি চুরির পিছনে কী উদ্দেশ্য রয়েছে তা উদঘাটন করা হচ্ছে। তাদের সকলের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করা হয়েছে। আদালতের মাধ্যমে তাদেরকে জেল হাজতে প্রেরণ করা হবে।
শিশু রামিসাকে ধর্ষণের পর গলা কেটে নির্মমভাবে হত্যার প্রতিবাদে এবং দেশব্যাপী নারী ও শিশু নির্যাতন, ধর্ষণ, সহিংসতা ও আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতির বিরুদ্ধে বরগুনার পাথরঘাটায় মানববন্ধন ও প্রতীকী ফাঁসি কর্মসূচি পালিত হয়েছে।
শনিবার (২৩ মে) সকাল ১০টায় পাথরঘাটা পৌর শহরের গোলচত্বরে জেন্ডার ইকুয়ালিটি অ্যান্ড ক্লাইমেট এলায়েন্সের উদ্যোগে এ কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়। মানববন্ধনের পাশাপাশি একটি প্রতীকী ফাঁসির মঞ্চ তৈরি করে প্রতিবাদ জানানো হয়।
কর্মসূচিতে অংশ নেয় বিভিন্ন সামাজিক, সাংস্কৃতিক ও স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন। এর মধ্যে ছিল বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা এনএসএস, সিসিডিবি, প্রত্যয়, পাথরঘাটা উপকূল সুরক্ষা আন্দোলন, ধ্রুবতারা ইউথ ডেভেলপমেন্ট ফাউন্ডেশন, তারুণ্যের বাংলাদেশ যুব সংস্থা, দৃষ্টি মানবকল্যাণ সংস্থা, লোক মোর্চা, অ্যাকশনএইড বাংলাদেশ, সোনার বাংলা ব্লাড ফাউন্ডেশন ও এক্টিভিস্টা বরগুনাসহ বিভিন্ন সংগঠনের প্রতিনিধিরা।
জেন্ডার ইকুয়ালিটি অ্যান্ড ক্লাইমেট এলায়েন্সের সভাপতি সাংবাদিক ও গবেষক শফিকুল ইসলাম খোকনের সভাপতিত্বে মানববন্ধনে বক্তব্য দেন সমাজকর্মী মেহেদী সিকদার, উপজেলা পানি কমিটির সাধারণ সম্পাদক মহিউদ্দিন এসমে, উপজেলা বিএনপির সাবেক যুগ্ম আহ্বায়ক আব্দুল্লাহ আল মামুন, সাংবাদিক জাহাঙ্গীর কবির মৃধা, জাকির হোসেন মিরাজ, চিত্ত রঞ্জন শীল এবং পাথরঘাটা উপজেলা প্রেসক্লাবের সভাপতি আবু সালেহ জসিমসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ।
বক্তারা বলেন, শিশু রামিসার ওপর সংঘটিত নৃশংস হত্যাকাণ্ড পুরো সমাজকে নাড়া দিয়েছে। এ ধরনের বর্বরোচিত ঘটনা দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি ও সামাজিক নিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে। তারা দ্রুত বিচারের মাধ্যমে দোষীদের সর্বোচ্চ শাস্তি নিশ্চিত করার দাবি জানান।
বক্তারা আরও বলেন, নারী ও শিশুদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হলে শুধু প্রশাসনের উদ্যোগই যথেষ্ট নয়, সমাজের সর্বস্তরের মানুষকে সচেতন ও সোচ্চার হতে হবে। পরিবার, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও সামাজিক সংগঠনগুলোকে মানবিক মূল্যবোধ জাগ্রত করতে কার্যকর ভূমিকা রাখতে হবে। একইসঙ্গে নারী ও শিশু নির্যাতনের বিরুদ্ধে সামাজিক প্রতিরোধ গড়ে তোলার ওপরও গুরুত্বারোপ করা হয়।
ময়মনসিংহ জেলার উত্তর প্রান্তে এবং ভারতের মেঘালয় রাজ্যের সীমান্তবর্তী এলাকা হালুয়াঘাটে শখের বসে শুরু হওয়া আঙুর চাষ এখন রীতিমতো আলোচনার জন্ম দিয়েছে। উপজেলার উত্তর খয়রাকুড়ি গ্রামের বাসিন্দা তরুণ উদ্দ্যোক্তা মনোয়ার হোসেন সোহাগ শখের বশবর্তী হয়ে আঙুর চাষে ব্যাপক সফলতা অর্জন করেছেন। তার এই উদ্দ্যোগ সীমান্তবর্তী অঞ্চলে আধুনিক কৃষির নতুন সম্ভাবনার দ্বার উন্মোচন করেছে। এই আঙুর বাগান দেখতে প্রতিদিনই দূর দূরান্ত হতে নানা শ্রেনী-পেশার কৌতূহলী মানুষের আগমন ঘটছে।
সরেজমিনে দেখা যায় সৌখিন কৃষি গার্ডেন নামে তরুণ এই উদ্দ্যোক্তার পরিপাটি বাগানে সবুজ পাতার ফাঁকে ফাঁকে ঝুলছে নজরকাড়া থোকায় থোকায় আঙুর। মাত্র ১৫ শতক জমিতে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর আঙুর চাষ করে সোহাগ দেখিয়েছেন সঠিক পরিকল্পনা ও প্রযুক্তি ব্যবহারের ফলে প্রতিকুল পরিবেশেও লাভজনক কৃষিকাজ সম্ভব।
বাজারে আঙুরের চাহিদা থাকায় দেশীয়ভাবে উৎপাদিত আঙুরের ভালো সম্ভাবনা রয়েছে। এখানকার সুস্বাদু আঙুর আমদানিকৃত আঙুরের তুলনায় মানের দিক থেকেও বেশ সুস্বাদু ও উৎকৃষ্ট। এই বাগানের আঙুর স্বাদে অনন্য। সবুজ ও বেগুনি রঙের আঙুরগুলো যেন নতুন সম্ভাবনার বার্তা দিচ্ছে। আধুনিক কৃষির প্রতি আগ্রহ থেকেই স্বল্প পরিসরে আঙুরের চারা রোপণ করেন মনোয়ার হোসেন সোহাগ।
মনোয়ার হোসেন সোহাগ জানান ২০২২ সালে ঝিনাইদহ থেকে ৬টি চারা এনে পরীক্ষামূলকভাবে আঙুর চাষ শুরু করেছিলেন তিনি। ইউটিউবে আঙুর চাষের ভিডিও দেখে তিনি উদ্ভুদ্ধ হন। জৈব ও রাসায়নিক সার প্রয়োগ, নিয়মিত পানি দেওয়া, নেট, বেষ্টনী ও রশির মাচা তৈরি করে দীর্ঘদিন যাবত চারাগুলোর নিবিড় পরিচর্যা করে। আঙুর ছাড়াও সোহাগের বাগানে রয়েছে আনার, লংগান, আম, জাম, কাঠাল, লিচু, মাল্টা, পেয়ারা, মাল্টা, কমলা, বড়েই, জামরুল, জলপাই, লিচু ও আমলকি।
অনেকেই বলছেন, এ অঞ্চলের মাটিতে আঙুর চাষ সম্ভব এ ধারণা আগে তাদের ছিল না। শুরুতে বাগান করার বিষয়টি উপজেলা কৃষি অধিদপ্তর অবগত ছিল না। পরে বিষয়টি জানার পর তারা সব ধরনের পরামর্শ ও সহায়তা দেওয়ার আগ্রহ প্রকাশ করেন। কৃষি বিভাগের সহযোগিতা ও পরামর্শ পেলে আরও বড় পরিসরে আঙুর চাষ সম্প্রসারণের আশা করছেন মনোয়ার হোসেন সোহাগ। শখের বসে শুরু হওয়া এই উদ্যোগ এখন এলাকার কৃষিতে নতুন স্বপ্ন ও সম্ভাবনার বার্তা দিচ্ছে।
সুন্দরবনের গহিনে পৃথক দুটি বিশেষ অভিযান চালিয়ে অস্ত্র ও গোলাবারুদসহ ২১ জন অপহৃত জেলেকে উদ্ধার করেছে বাংলাদেশ কোস্টগার্ড। শুক্রবার (২২ মে) দিনভর সুন্দরবনের বিভিন্ন এলাকায় কোস্টগার্ডের ‘অপারেশন ম্যানগ্রোভ শিল্ড’-এর আওতায় এই অভিযানগুলো পরিচালিত হয়।
শনিবার (২৩ মে) সকালে কোস্টগার্ডের মিডিয়া কর্মকর্তা লেফটেন্যান্ট কমান্ডার সাব্বির আলম সুজন গণমাধ্যমকে এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
কোস্টগার্ড জানায়, খুলনার কয়রা ও সাতক্ষীরার শ্যামনগর এলাকার একদল জেলে মাছ ও কাঁকড়া ধরতে সুন্দরবনে প্রবেশ করলে জলদস্যু ‘দয়াল বাহিনী’র সদস্যরা ফিরিঙ্গি খাল ও কুনচিরখাল সংলগ্ন এলাকা থেকে তাঁদের জিম্মি করে মুক্তিপণ দাবি করে।
গোপন খবরের ভিত্তিতে জানা যায়, অপহৃত জেলেদের নিয়ে দস্যুরা কয়রা থানার আন্দারমানিকের টোটা ও কেওড়াতলা খাল সংলগ্ন এলাকায় অবস্থান করছে। এমন তথ্যের ভিত্তিতে গতকাল ভোর ৪টায় কোস্টগার্ড স্টেশন কয়রা ওই এলাকায় বিশেষ অভিযান চালায়। কোস্টগার্ডের উপস্থিতি টের পেয়ে ডাকাতরা বনের গহিনে পালিয়ে গেলে সেখান থেকে জিম্মি থাকা ১০ জন জেলেকে উদ্ধার করা হয়।
অন্যদিকে, কোস্টগার্ড ও র্যাবের যৌথ গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে জানা যায়, সুন্দরবনের কুখ্যাত ‘বড় জাহাঙ্গীর বাহিনী’র সদস্যরা খুলনার দাকোপ থানার শিবসা নদীর বড় দুদমুখ খাল এলাকায় অবস্থান করছে। গতকাল বিকেল ৫টায় কোস্টগার্ড বেইস মোংলা ওই এলাকায় দ্বিতীয় অভিযানটি পরিচালনা করে।
এ সময় কোস্টগার্ডের উপস্থিতি টের পেয়ে ডাকাতরা গুলি ছুড়লে আত্মরক্ষার্থে কোস্টগার্ডও পাল্টা গুলি চালায়। একপর্যায়ে ডাকাত দল পিছু হটে বনের গহিনে পালিয়ে যায়। পরে ঘটনাস্থল তল্লাশি করে ১টি একনলা বন্দুক, ৫ রাউন্ড তাজা কার্তুজ, ১ রাউন্ড ফাঁকা কার্তুজ এবং জিম্মি থাকা ১১ জন জেলেকে নিরাপদে উদ্ধার করা হয়।
লেফটেন্যান্ট কমান্ডার সাব্বির আলম সুজন জানান, সুন্দরবন অঞ্চলে সক্রিয় বনদস্যু ও ডাকাতদের দমনে কোস্টগার্ডের ‘অপারেশন রিস্টোর পিস ইন সুন্দরবন’ এবং ‘অপারেশন ম্যানগ্রোভ শিল্ড’ কার্যক্রম চলমান রয়েছে। উদ্ধারকৃত জেলেদের পরিবারের কাছে হস্তান্তর এবং জব্দকৃত অস্ত্র-গোলাবারুদের বিষয়ে পরবর্তী আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া চলছে।
পবিত্র ঈদুল আজহা যতই ঘনিয়ে আসছে, ততই ঢাকা-টাঙ্গাইল-যমুনা সেতু মহাসড়কে যানবাহনের চাপ বাড়ছে। আগামী সোমবার থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে ঈদের সরকারি ছুটি শুরু হলেও দুই দিন আগেই উত্তরবঙ্গের প্রবেশদ্বারখ্যাত টাঙ্গাইলের যমুনা সেতু দিয়ে যানবাহন পারাপার বেড়েছে। ফলে সেতুতে স্বাভাবিকের চেয়ে প্রায় দ্বিগুণ যানবাহন চলাচল করছে। তবে এখন পর্যন্ত মহাসড়কে যান চলাচল স্বাভাবিক রয়েছে।
যমুনা সেতু কর্তৃপক্ষ সূত্রে জানা যায়, বৃহস্পতিবার (২১ মে) রাত ১২টা থেকে শুক্রবার (২২ মে) রাত ১২টা পর্যন্ত গত ২৪ ঘণ্টায় সেতু দিয়ে মোট ৩৪ হাজার ৯৬টি যানবাহন পারাপার হয়েছে। এর বিপরীতে টোল আদায় হয়েছে ৩ কোটি ২৪ লাখ ৩ হাজার ৪০ টাকা।
এর মধ্যে টাঙ্গাইলের যমুনা সেতু পূর্ব প্রান্তের টোল প্লাজা (উত্তরবঙ্গগামী লেন) দিয়ে পার হয়েছে ১৮ হাজার ৮৫৯টি যানবাহন। এতে টোল আদায় হয়েছে ১ কোটি ৭০ লাখ ২১ হাজার ৪৫০ টাকা।
অন্যদিকে, সিরাজগঞ্জের সেতু পশ্চিম প্রান্তের টোল প্লাজা (ঢাকাগামী লেন) দিয়ে পার হয়েছে ১৬ হাজার ১০৭টি যানবাহন। এখানে টোল আদায় হয়েছে ১ কোটি ৫৪ লাখ ১ হাজার ৯৫০ টাকা।
যমুনা সেতু সাইট অফিসের নির্বাহী প্রকৌশলী সৈয়দ রিয়াজ উদ্দিন জানান, ঈদকে সামনে রেখে কয়েক দিন ধরেই সেতু দিয়ে গণপরিবহনের চাপ বাড়ছে। ঈদযাত্রায় অতিরিক্ত চাপ সামলাতে এবং দ্রুত টোল আদায়ের জন্য মোটরসাইকেলের জন্য দুটি করে মোট ৪টি পৃথক বুথসহ মোট ১৮টি বুথের মাধ্যমে টোল আদায় করা হবে।
তিনি আরও জানান, ঈদে ঘরে ফেরা মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এবং মহাসড়কে যানজট নিরসনে সেতু কর্তৃপক্ষসহ কয়েক স্তরের আইনশৃঙ্খলা বাহিনী কাজ করছে। পাশাপাশি সেতুর উপর যানজটরোধ ও দুর্ঘটনার তথ্য প্রদানে ৩০০ মিটার পর পর সিগন্যালম্যান কাজ করবে।
আসন্ন ঈদুল আজহাকে সামনে রেখে মৌলভীবাজার জেলায় কোরবানির পশুর চাহিদার তুলনায় উদ্বৃত্ত সরবরাহ থাকলেও, খামারিদের কপালে চিন্তার ভাঁজ। গো-খাদ্যের অস্বাভাবিক মূল্যবৃদ্ধির কারণে উৎপাদন খরচ ২৫ থেকে ৩০ শতাংশ পর্যন্ত বেড়ে গেছে। ফলে পশুর পর্যাপ্ত মজুদ থাকার পরও এবার কাঙ্ক্ষিত লাভ করা নিয়ে চরম শঙ্কায় রয়েছেন স্থানীয় খামারি ও গৃহস্থরা।
জেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তার কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, এবার মৌলভীবাজারের সাতটি উপজেলায় প্রায় ৬ হাজার ২২৫টি খামার ও গৃহস্থ বাড়িতে মোট ৭৪ হাজার ৫৮৪টি গবাদিপশু কোরবানির জন্য প্রস্তুত করা হয়েছে। জেলায় এবার কোরবানির পশুর সার্বিক চাহিদার তুলনায় এই সংখ্যা প্রায় ২ হাজার ৮১২টি বেশি।
উপজেলা ভিত্তিক তথ্য অনুযায়ী, এবার সবচেয়ে বেশি পশু প্রস্তুত হয়েছে সদর উপজেলায় এবং সবচেয়ে কম কমলগঞ্জে। সদর উপজেলায় সবচেয়ে বেশি ১৬ হাজার ১৭৮টি পশু প্রস্তুত রয়েছে। এর বাইরে কুলাউড়া ১৪ হাজার ৯৬৪টি, বড়লেখা ১২ হাজার ২৩৯টি, শ্রীমঙ্গল ১০ হাজার ৪৯৪টি, রাজনগর ৮ হাজার ১৬৭টি, জুড়ী ৬ হাজার ৮২৮টি এবং কমলগঞ্জে ৫ হাজার ৭১৩টি পশু প্রস্তুত আছে।
সরেজমিনে জেলার বিভিন্ন খামার ঘুরে দেখা গেছে, কোরবানি ঈদকে সামনে রেখে পশু পরিচর্যায় দিনরাত ব্যস্ত সময় পার করছেন খামারিরা। সম্পূর্ণ প্রাকৃতিক উপায়ে খড়, ঘাস, ভুসি ও কুঁড়া খাইয়ে মোটাতাজা করা হয়েছে গরু, মহিষ, ছাগল ও ভেড়া। ক্রেতাদের আকৃষ্ট করতে অনেক খামারে পশুর নানা আকর্ষণীয় নামকরণও করা হয়েছে।
তবে এই ব্যস্ততার মাঝেও খামারিদের মুখে হাসির ঝিলিক নেই। সদর উপজেলার কালিয়ারগাঁও গ্রামের খামারি রহিম মিয়া বলেন, “এবার কোরবানির জন্য ১৫টি ষাঁড় প্রস্তুত করেছি। কিন্তু ভুসি, খৈল ও খড়ের দাম যেভাবে বেড়েছে, তাতে পশু পালনের খরচ ২৫ থেকে ৩০ শতাংশ বেড়ে গেছে। বাজারে ন্যায্য দাম না পেলে বড় লোকসানে পড়তে হবে।”
একই শঙ্কার কথা জানান কমলগঞ্জের খামারি আরিফ মিয়া। তিনি বলেন, “বড় তিনটি মহিষসহ ১০টি গবাদিপশু প্রস্তুত করেছি। খাবারের যে দাম, তাতে আসল উঠবে কি না তা নিয়েই চিন্তায় আছি।”
গত বছরের তিক্ত অভিজ্ঞতা থেকে এবার অনেক খামারি বড় আকৃতির গরু তৈরিতে অনীহা দেখিয়েছেন। শ্রীমঙ্গল অ্যাগ্রো খামারের ম্যানেজার আরিফ হোসেন জানান, গত বছর তাদের ১,১৫০ কেজি ওজনের ‘তুফান’ নামের বিশাল ষাঁড়টির দাম ১৩ লাখ টাকা পর্যন্ত উঠলেও শেষ মুহূর্তে অর্ধেক মূল্যে বিক্রি করতে হয়েছিল। সেই লোকসানের ধাক্কা সামলাতে এবার তারা বড় গরু প্রস্তুত করা থেকে বিরত থেকেছেন।
তবে কিছুটা আশার কথা হলো, হাটে ওঠার আগেই অনেক সচেতন ক্রেতা সরাসরি খামারে এসে পছন্দের পশু বুকিং দেওয়া শুরু করেছেন। এতে খামারিদের মনে কিছুটা স্বস্তি ফিরছে।
জেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা মো. আশরাফুল খান বলেন, “স্থানীয় খামারিদের উৎপাদিত পশু দিয়েই এবার জেলার কোরবানির চাহিদা সম্পূর্ণ পূরণ সম্ভব। আমরা খামারিদের নিয়মিত পরামর্শ ও কারিগরি সহায়তা দিয়ে আসছি। আশা করছি, তারা ন্যায্য মূল্য পাবেন। এছাড়া সীমান্ত দিয়ে ভারত থেকে যাতে অবৈধভাবে কোনো গরু প্রবেশ করতে না পারে, সে ব্যাপারে প্রশাসন কঠোর নজরদারি রাখছে।”
খামারিদের দাবি, পশুর হাটে যেন দালাল বা মধ্যস্বত্বভোগীদের দৌরাত্ম্য না থাকে এবং কৃত্রিম সংকট তৈরি করে খামারিদের লোকসানের মুখে ঠেলে দেওয়া না হয়, সে বিষয়ে প্রশাসনকে কঠোর পদক্ষেপ নিতে হবে।
চট্টগ্রাম বোয়ালখালী পৌরসভার পূর্ব কালুরঘাটে সিএনজি চালিত একটি অটোরিকশা থেকে প্রায় ৫৯ লাখ টাকার ইয়াবা উদ্ধার করেছে র্যাব-৭।
শুক্রবার (২২ মে) রাত ৮ টার দিকে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে বসানো র্যাবের অস্থায়ী চেকপোস্টে অটোরিকশাটি (চট্টগ্রাম-থ-১৪-৬৪৩৬) ধরা পড়ে।
এসময় তল্লাশী চালিয়ে গাড়ির যাত্রীদের পেছনে মালামাল রাখায় স্থানে ১টি সাদা রংয়ের প্লাষ্টিকের বাজারের ব্যাগে কালো রঙের স্কচটেপ মোড়ানো ১০টি নীল পলিজিপার প্যাকেটে ১৯ হাজার ৬০০ পিচ ইয়াবা ট্যাবলেট পাওয়া যায়।
এ ঘটনায় যাত্রী সিটে থাকা নগরীর চান্দগাঁও কে বি আমান আলী রোডের জালাল আহমদ সওদাগর বাড়ীর মৃত কালা মিয়ার ছেলে বাদশা মিয়া (৪৭) এবং কক্সবাজার জেলার উখিয়া বালুখালী রোহিঙ্গা শরণার্থী ক্যাম্পের বাসিন্দা মৃত আব্দুল শুক্করের মেয়ে তাহেরা বেগম শমসিদাকে (৩৫) গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
বোয়ালখালী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মাহফুজুর রহমান বলেন, র্যাবের অভিযানে গ্রেপ্তার দুইজন ও জব্দ করা ইয়াবা ট্যাবলেট থানায় সোপর্দ করলে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনের সংশ্লিষ্ট ধারায় মামলা দায়ের করা হয়েছে। তাদের আজ শনিবার আদালতে পাঠানো হয়েছে।
পবিত্র ঈদুল আজহা উপলক্ষে ঢাকার কোরবানির পশুর হাটে প্রথমবারের মতো সরাসরি মাঠপর্যায়ে ভেটেরিনারি চিকিৎসা সেবা দিচ্ছেন বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের (বাকৃবি) ভেটেরিনারি অনুষদের ১৫ শিক্ষার্থী।
শনিবার (২৩ মে) সকাল ৯টা থেকে থেকে স্বাস্থ্যসম্মত পশু বিক্রয় ও সেবার মান নিশ্চিত করতে ওই বিশেষ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে, যা চলবে আগামী মঙ্গলবার (২৬ মে) পর্যন্ত।
জানা গেছে, ঈদুল আজহা উপলক্ষে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের আওতায় স্থাপিত ১১টি ও উত্তর সিটি করপোরেশনের আওতায় স্থাপিত ১৬টি সহ মোট ২৭টি কোরবানির হাটে পশুর প্রাথমিক চিকিৎসা প্রদানের লক্ষ্যে বাকৃবি হতে ১৫ সদস্যবিশিষ্ট ৬টি ভেটেরিনারি মেডিকেল টিম পাঠানো হয়েছে।
রাজধানীর ঢাকা পলিটেকনিক ইনস্টিটিউট মাঠের গরুর হাটে ভেটেরিনারি চিকিৎসাসেবা দিতে আসা বাকৃবির শিক্ষার্থী ডা. আসিফ ইকবাল বলেন, “পবিত্র ঈদুল আজহাকে সামনে রেখে পশুর হাটগুলোতে বিপুল সংখ্যক গবাদিপশু আসছে, যার ফলে অনেক ক্ষেত্রে প্রাণীদের স্বাস্থ্যঝুঁকি তৈরি হয়। আমরা মাঠপর্যায়ে উপস্থিত থেকে অসুস্থ ও দুর্বল পশুগুলোকে প্রাথমিক চিকিৎসা দিচ্ছি এবং বিক্রেতা ও ক্রেতাদের সঠিক পরিচর্যা সম্পর্কে পরামর্শ প্রদান করছি। আমাদের মূল লক্ষ্য হচ্ছে সুস্থ পশু নিশ্চিত করা এবং কোরবানির জন্য উপযুক্ত প্রাণী নির্বাচন সম্পর্কে জনসচেতনতা বৃদ্ধি করা। পাশাপাশি, হাটের পরিবেশ স্বাস্থ্যসম্মত রাখা ও প্রাণিকল্যাণ নিশ্চিত করার বিষয়েও আমরা কাজ করছি।"
প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, এ বছর সারা দেশে ৩ হাজার ৬০০টির বেশি অস্থায়ী ও স্থায়ী পশুর হাট বসানো হবে। এবং এসব হাটে মোট দুই হাজার মোবাইল ভেটেরিনারি টিম দায়িত্ব পালন করবে।
উল্লেখ্য, ২১ মে সকালে ফার্মগেটে অবস্থিত কৃষিবিদ ইনস্টিটিউশন বাংলাদেশে (কেআইবি) কোরবানির পশুরহাটে গবাদিপশুর প্রাথমিক চিকিৎসাসেবাসহ হাটের সার্বিক ব্যবস্থাপনা কার্যক্রমের সাথে সম্পৃক্ত কর্মকর্তা-কর্মচারী এবং ইন্টার্ন চিকিৎসকগণের ওরিয়েন্টেশন অনুষ্ঠিত হয়। উক্ত সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ এবং কৃষিমন্ত্রী মোহাম্মদ আমিন উর রশিদ এবং মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী সুলতান সালাউদ্দিন টুকু।
‘নারীদের আত্মরক্ষার্থে কারাতে হোক অন্যতম হাতিয়ার’ এ শ্লোগানকে সামনে রেখে ঝিনাইদহে দিনব্যাপী কারাতে প্রশিক্ষণ ও ৪২ তম বেল্ট পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়েছে। শনিবার সকালে শহরের সোতোকান কারাতে দো স্কুলে এ সেমিনার অনুষ্ঠিত হয়।
সোতোকান কারাতে দো’র পরিচালক কাজী আলী আহম্মেদ লিকু’র সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন ঝিনাইদহ জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক জাহিদুজ্জামান মনা। বিশেষ অতিথি ছিলেন সোতোকান কারাতে দো’র প্রধান উপদেষ্টা মহব্বত হোসেন টিপু, প্রধান প্রশিক্ষক মুহাম্মদ জসিম উদ্দিন।
দিনব্যাপী সেমিনারে শহরের বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের ৪০ জন শিক্ষার্থীকে কারাতে প্রশিক্ষণ প্রদাণ করেন জাতীয় কারাতে প্রশিক্ষক জসিম উদ্দিন। পরে বিকেলে অনুষ্ঠিত হয় বেল পরীক্ষা।
ঈদুল আজহা উপলক্ষে ঝিনাইদহে ৪ হাজার ৬২৫ জন দুস্থ ও অসহায় মানুষের মাঝে চাল বিতরণ করা হয়েছে। ঝিনাইদহ পৌরসভার পক্ষ থেকে এসব চাল বিতরণ করা হয়। আজ শনিবার সকাল সাড়ে ৯টায় ঝিনাইদহ পৌরসভা চত্বরে চাল বিতরণ শুরু হয়।
বিতরণ অনুষ্ঠানের উদ্বোধন করেন জেলা পরিষদের প্রশাসক অ্যাডভোকেট এমএ মজিদ। এ সময় উপস্থিত ছিলেন ঝিনাইদহ পৌরসভার প্রশাসক ও স্থানীয় সরকার বিভাগের উপপরিচালক রথীন্দ্র নাথ রায়, জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক জাহিদুজ্জামান মনা, সিনিয়র যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আব্দুল মজিদ বিশ্বাস, সহ সম্পাদক এম শাহজাহান আলী।
এসময় পৌরসভার বিভিন্ন গ্রামের ৪ হাজার ৬২৫ জন দুস্থ ও অসহায় মানুষের মাঝে জনপ্রতি ১০ কেজি হারে চাল বিতরণ করা হয়। উপকারভোগীদের মাঝে মোট ৪৬ হাজার ৩২৫ কেজি চাল বিতরণ করা হয়।