মঙ্গলবার, ১৪ এপ্রিল ২০২৬
৩০ চৈত্র ১৪৩২

পথ হারিয়ে ফেলা রেশম স্বপ্ন দেখাচ্ছে আবার

ছবি: সংগৃহীত
রাজশাহী ব্যুরো
প্রকাশিত
রাজশাহী ব্যুরো
প্রকাশিত : ২৬ সেপ্টেম্বর, ২০২২ ০৮:৩৭

এনায়েত করিম, রাজশাহী ব্যুরো

প্রাচীনকাল থেকেই রেশমের জন্য সুপরিচিত রাজশাহী। সেই সুখ্যাতি থেকেই রাজশাহীর প্রধান পরিচয় হয়ে ওঠে ‘সিল্কসিটি’। তবে মাঝে খেই হারিয়ে ফেলেছিল রেশমশিল্প। বাংলাদেশ রেশম গবেষণা ইনস্টিটিউটের হাত ধরে সেই রেশম আবার স্বপ্ন দেখাচ্ছে সুদিন ফেরানোর। রেশম নিয়ে গবেষণায় নিয়োজিত এই প্রতিষ্ঠানটি সম্প্রতি রেশমের ৩৫টি নতুন জাত উদ্ভাবন করেছে। এর মধ্যে ১৫টি মালবেরি (তুঁত) গাছ ও ২০টি রেশম কীট। নতুন এসব জাত রেশমশিল্পে সাড়া ফেলবে বলে মনে করছেন গবেষকরা। তারা বলছেন, আগের জাতের চেয়ে নতুন জাতে অন্তত ১২ থেকে ১৫ শতাংশ বেশি উৎপাদন আসবে। এতে চাষিদেরও সাশ্রয় হবে।

বাংলাদেশ রেশম গবেষণা ও প্রশিক্ষণ ইনস্টিটিউট রাজশাহীর তথ্য অনুযায়ী, রেশমশিল্পের উন্নয়নে পাঁচ বছর আগে ‘রেশম প্রযুক্তি উন্নয়ন বিস্তার ও দক্ষ জনশক্তি সৃষ্টির মাধ্যমে উৎপাদনশীলতা বৃদ্ধিকরণ’ নামে একটি প্রকল্প হাতে নেয় রেশম বোর্ড। চলতি বছরের জুনে শেষ হয়েছে প্রকল্পটি। ৩৫ কোটি ৬৬ লাখ টাকার এই প্রকল্পের মাধ্যমে নতুন করে রেশমে যুক্ত হয়েছে ১৫টি মালবেরি (তুঁত) জাতের গাছ ও ২০টি নতুন জাতের কীট। ফলে বর্তমানে মালবেরি জাতের গাছের সংখ্যা ৩৮টি ও রেশম কীটের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১১৪টিতে।

বাংলাদেশ রেশম গবেষণা ও প্রশিক্ষণ ইনস্টিটিউটের ঊর্ধ্বতন গবেষণা কর্মকর্তা ফারুক আহম্মেদ ও রুমানা ফেরদৌস বিনত-এ রহমানের যৌথ গবেষণায় নতুন এসব জাত উদ্ভাবন হয়। নতুন ৩৫টি জাত (১৫টি তুঁত ও ২০টি কীট) উদ্ভাবনের ফলে বর্তমানে বাংলাদেশ রেশম গবেষণা ও প্রশিক্ষণ ইনস্টিটিউট রাজশাহীতে জার্মপ্লাজম ব্যাংকে তুঁত জাতের গাছের সংখ্যা ৬০ থেকে ৮৪ ও রেশম কীট জাতের সংখ্যা ৮৫ থেকে ১১৪টিতে উন্নীত হয়েছে। এর মধ্যে ২৭টি উচ্চফলনশীল রেশম কীটের জাত রয়েছে।

নতুন ২০টি রেশম কীট উদ্ভাবনের ফলে প্রতি ১০০টি রোগমুক্ত ডিমে ৭০ থেকে ৭৫ কেজি রেশমগুটি উৎপাদন সম্ভব হচ্ছে। আগে এর পরিমাণ ছিল ৬০ থেকে ৬৫ কেজি। এ ছাড়া উচ্চফলনশীল ১৫টি তুঁতজাত উদ্ভাবনের ফলে বছরে হেক্টরপ্রতি তুঁতপাতার উৎপাদন ৪০ থেকে ৪৭ মেট্রিক টনে উন্নীত করা সম্ভব হয়েছে। এর আগে প্রতি হেক্টরে রেশমের সর্বোচ্চ উৎপাদন ছিল ৩০ থেকে ৩৭ মেট্রিক টন। ফলে স্বল্প সময়ে ও অল্প ব্যয়ে মানসম্পন্ন কাঁচা রেশম সুতা উৎপাদন সম্ভব হচ্ছে।

গবেষণা কর্মকর্তা ফারুক আহম্মেদ দৈনিক বাংলাকে বলেন, ‘একটি নতুন জাত তৈরি করতে অন্তত ১০ বছর সময় লেগে যায়। এই গবেষণার কাজ আগেই কিছুটা এগিয়ে রাখায় পাঁচ বছরের মধ্যেই শেষ করা সম্ভব হয়েছে। রাজশাহী রেশম গবেষণা ও প্রশিক্ষণ ইনস্টিটিউটে জার্মপ্লাজম থেকে গবেষণার মাধ্যমে নতুন এই ১৫টি জাতের মালবেরি (তুঁত) জাত উদ্ভাবন করা হয়েছে। এগুলোর মধ্যে বিএসআরএম-৬৪, বিএসআরএম-৬৫ ও বিএসআরএম ৭৪ জাতের ট্রায়াল শেষ হয়েছে। এগুলো রেশম সম্প্রসারণের মাধ্যমে চাষিদের মাঝে ছড়িয়ে দেয়া হবে। বাকি জাতগুলো ট্রায়ালের জন্য রাখা হয়েছে।’

এই গবেষক আরও বলেন, ‘প্রকল্পটি দ্বিতীয় পর্যায়ের জন্য আবেদন করা হয়েছে। অনুমোদন পেলে দ্বিতীয় পর্যায়ে এগুলোর ট্রায়াল শেষ করা হবে। এগুলো থেকে হেক্টরপ্রতি তুঁতপাতার উৎপাদন ৪০ থেকে ৪৭ মেট্রিক টনে উন্নীত করা সম্ভব হবে। তবে ট্রায়াল শেষ না হওয়া পর্যন্ত এগুলোর নামসহ বিস্তারিত বলা যাচ্ছে না।’

ঊর্ধ্বতন গবেষণা কর্মকর্তা রুমানা ফেরদৌস বিনত-এ রহমান বলেন, এই প্রকল্পের মাধ্যমে উদ্ভাবিত ২০টি নতুন রেশম কীটের জাতের সবগুলোই এখন ট্রায়াল পর্যায়ে আছে। এগুলো চাহিদা অনুযায়ী রেশম সম্প্রসারণের মাধ্যমে ক্রস হাইব্রিড জাত উৎপাদন করে সরবরাহ করা হবে।

বাংলাদেশ রেশম গবেষণা ও প্রশিক্ষণ ইনস্টিটিউট রাজশাহীর পরিচালক কাজী রফিকুল ইসলাম বলেন, প্রধান ফসল হিসেবে চাষিদের তুঁত চাষ করতে উৎসাহিত করা হচ্ছে। এখন বাড়ির আনাচকানাচে, রাস্তার ধারে পরিত্যক্ত জায়গায় বেশির ভাগ তুঁত চাষ হয়। রেশম গবেষণা ইনস্টিটিউটের পক্ষ থেকেও তুঁত চাষকে জনপ্রিয় করতে সাথি ফসল প্রবর্তন করা হয়েছে। চাষিরা এভাবে চাষাবাদ করলে লাভবান হবেন।

তিনি আরও বলেন, নতুন এসব জাত উদ্ভাবনের পর সেগুলো দিয়ে বিভিন্ন এলাকার কৃষক নিয়ে এখানে প্রশিক্ষণও দেয়া হয়েছে। এখন এগুলো ট্রায়ালে আছে। কিছু কিছু জাত রেশম সম্প্রসারণকে দেয়া হয়েছে। আর কিছু জাতের কাজ এখনো চলছে। সামান্য কিছু উন্নয়ন করতে হবে। এগুলো শেষ হলেই এই ৩৫টি নতুন জাত রেশম সম্প্রসারণ শাখার মাধ্যমে চাষিদের হাতে পৌঁছে দেয়া হবে।

উল্লেখ্য, রাজশাহীর ঐতিহ্যবাহী রেশম কারখানা ২০০২ সালে বন্ধ করে দেয় তৎকালীন জোট সরকার। আওয়ামী লীগ সরকার ক্ষমতায় আসার পর ফের সচলের উদ্যোগ নিয়ে ২০১৮ সালে কারখানাটি চালু হয়। সে সময় রেশমের সুদিন ফেরাতে ১৫৩ কোটি টাকার চারটি প্রকল্প গ্রহণ করা হয়। এরপর ২০২১ সালে আন্তর্জাতিক ভৌগোলিক নির্দেশক (জিআই) স্বীকৃতি পায় রাজশাহীর ঐতিহ্য রেশম। স্বীকৃতি পাওয়ার পর রেশম কাপড়ের চাহিদা বেড়েছে। বর্তমানে রেশমচাষিদের উৎপাদিত রেশমগুটি থেকে কারখানার সামনের রেশম ডিসপ্লেতে মিলছে প্রিন্টেড শাড়ি, টু-পিস, থান কাপড়, ওড়না, স্কার্ফ, টাই ইত্যাদি খাঁটি রেশমপণ্য।


ঘুমন্ত ছেলেসহ ৩ জনকে কুপিয়ে বাবার আত্মহত্যা

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
লক্ষ্মীপুর প্রতিনিধি

লক্ষ্মীপুর পৌর শহরে ঘুমন্ত ছেলেসহ ৩ জনকে কুপিয়ে ছাদ থেকে লাফ দিয়ে নাছির আহমদ নামে এক ব্যক্তির মৃত্যু হয়েছে। সোমবার (১৩ এপ্রিল) সকালে পৌর শহরের বাঞ্চানগর এলাকার পেশকার বাড়িতে এ ঘটনা ঘটে। পুলিশ বলছে, অভিযুক্ত বাবা মানসিক ভারসাম্যহীন ছিলেন।

নাসির অবসরপ্রাপ্ত ট্রাফিক পুলিশ কনস্টেবল ছিলেন। তিনি চাঁদপুরের ফরিদগঞ্জ উপজেলার পূর্ব এখলাসপুর গ্রামের আরশাদ আলীর ছেলে। সপরিবারে তিনি প্রায় ৭ বছর ধরে ওই বাড়িতে ভাড়া বাসায় থাকেন।

আহতদের স্বজন ও স্থানীয়রা জানায়, নাছির ট্রাফিক পুলিশ কনস্টেবল ছিলেন। গেল বছর আগস্টে তিনি চাকরি থেকে অবসরে যান। তার বড় ছেলে প্রতিবন্ধী। বড় ছেলেকে নিয়ে নাছিরের স্ত্রী বেড়াতে যান। গত রাতে তার ছেলে কলেজছাত্র ইমরান ও তার বাবা বাসায় ছিলেন। এরমধ্যে নাছির অসুস্থ হয়ে পড়েন। রাতে ছেলে তাকে ওষুধ এনে খাওয়ায়। এরপর সকালে ঘুমন্ত অবস্থায় ইমরানকে দা দিয়ে এলোপাতাড়ি কোপায় নাছির। একপর্যায়ে ইমরান রক্তাক্ত অবস্থায় বাসা থেকে বের হয়ে আসলে প্রতিবেশী স্বপন তাকে লুঙ্গি পরিয়ে দিতে যায়। এ সময় নাছির দা দিয়ে স্বপনকেও এলোপাতাড়ি কুপিয়ে আহত করেন। ঘটনাটি দেখতে পেয়ে নাছির নামে আরেকজন তাদেরকে বাঁচাতে যান। কনস্টেবল নাছির তাকেও কুপিয়ে আহত করেন। পরে অবসরপ্রাপ্ত কনস্টেবল ৩ তলা ভবন থেকে লাফিয়ে আহত হন। পরে তাকেসহ আহতদের উদ্ধার করে সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় অবসরপ্রাপ্ত কনস্টেবল নাছির মারা যান।

আহত স্বপন বাঞ্চানগর এলাকার পেশকার বাড়ির মৃত গোলাম রহমানের ছেলে এবং অপর আহত নাছির ওই একই বাড়িতে ভাড়া থাকতেন। তার বাবার নাম আব্দুল মান্নান।

আহত স্বপন ও ইমরানকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকায় পাঠানো হয়েছে। অপর আহত নাছিরকে সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। সদর হাসপাতালের আবাসিক মেডিকেল অফিসার (আরএমও) অরুপ পাল বলেন, ‘আহত অবস্থায় ৪ জনকে হাসপাতাল আনা হয়। এরমধ্যে অবসরপ্রাপ্ত কনস্টেবল নাছির চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান। আহত অন্যদের মধ্যে ২ জনকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।’

লক্ষ্মীপুরের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (প্রশাসন ও অর্থ) হোসাইন মোহাম্মদ রায়হান কাজেমী বলেন, ‘প্রাথমিকভাবে জানা গেছে অভিযুক্ত ব্যক্তি মানসিক ভারসাম্যহীন ছিলেন। বিষয়টি তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।’


সীতাকুণ্ডে আনসারদের বীরত্বে ডাকাতি নস্যাৎ, আটক ৩

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
সীতাকুণ্ড (চট্টগ্রাম) প্রতিনিধি

চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডে আবুল খায়ের রোলিং মিলসে একটি পরিকল্পিত ডাকাতির প্রচেষ্টা নস্যাৎ হয়েছে। বাংলাদেশ আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনীর সদস্যদের অসীম সাহসিকতা ও পেশাদারিত্বের ফলে ডাকাতরা কোনো ক্ষতিই করতে পারেনি। সোমবার (১৩ এপ্রিল) ভোরে ১৫ থেকে ২০ জনের একটি সুসংগঠিত ডাকাত দল কারখানাটিতে অনুপ্রবেশ করে উৎপাদন কার্যক্রম ব্যাহত করার উদ্দেশে বৈদ্যুতিক ক্যাবল কাটতে শুরু করে। এ সময় কারখানায় নিয়োজিত আনসার সদস্যরা তাদের বাধা দেয় এবং দেশীয় অস্ত্রশস্ত্রে সজ্জিত ডাকাত দলের অতর্কিত হামলা সাহসিকতার সঙ্গে প্রতিহত করে।

প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, উদ্ভূত পরিস্থিতিতে প্রতিষ্ঠানের সম্পদ রক্ষার্থে আনসার সদস্যরা প্রথমে ০১ রাউন্ড রাবার কার্তুজ নিক্ষেপ করেন। তবে ডাকাত দল পিছু না হটে আরও সহিংস হয়ে উঠলে আত্মরক্ষার্থে সদস্যরা ০৩ রাউন্ড সিসা কার্তুজ নিক্ষেপ করতে বাধ্য হন। আনসার সদস্যদের এই অনমনীয় ও সাহসী প্রতিরোধের মুখে ডাকাতরা ছত্রভঙ্গ হয়ে পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করে। এ সময় আনসার সদস্যরা ধাওয়া করে ঘটনাস্থল থেকে ০৩ জন ডাকাতকে হাতেনাতে আটক করতে সক্ষম হন। আটককৃতদের কাছ থেকে আনুমানিক ৩২০ কেজি বৈদ্যুতিক ক্যাবল, রামদা এবং বিভিন্ন দেশীয় অস্ত্র উদ্ধার করা হয়েছে।

আটক ব্যক্তিরা হলেন- সীতাকুণ্ড থানার শীতলপুর গ্রামের সিরাজের ছেলে জাবেদ (২৭)।একই থানার ফুলতলা গ্রামের আবুল কালামের ছেলে শরিফুর রহমান(২৮) এবং নোয়াখালী জেলার বেগমগঞ্জ এলাকার শাহজাহানের ছেলে মো. রাসেল (২৯)।

ঘটনার পরপরই উপজেলা আনসার ও ভিডিপি কর্মকর্তা দ্রুত ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে সার্বিক পরিস্থিতি তদারকি করেন। পরবর্তীতে আটক ডাকাতদের উদ্ধার মালামালসহ আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য স্থানীয় থানা পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয়।

সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ মনে করেন, আনসার সদস্যদের এই তাৎক্ষণিক, সুসংগঠিত ও দায়িত্বশীল ভূমিকার কারণে কারখানাটি একটি বড় ধরনের নাশকতা এবং বিপুল আর্থিক ক্ষতির হাত থেকে রক্ষা পেয়েছে; পাশাপাশি অভিযানে বাহিনীর কোনো সদস্যের ক্ষয়ক্ষতি না হওয়াও অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। এই ঘটনা প্রমাণ করে যে, সংকটময় পরিস্থিতিতে বাংলাদেশ আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনীর সদস্যরা অত্যন্ত দক্ষতা, সাহসিকতা ও পেশাদারিত্বের সঙ্গে দায়িত্ব পালন করতে সক্ষম।

দেশের শিল্প-কারখানার নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ, জননিরাপত্তা বজায় রাখা এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় বাহিনীটির এমন তাৎপর্যপূর্ণ ভূমিকা ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে বলে সংশ্লিষ্টরা আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন। একই সঙ্গে, বাহিনীর এই অনুকরণীয় সাফল্য দেশের নিরাপত্তা ব্যবস্থাকে আরও সুদৃঢ় করতে সহায়ক ভূমিকা রাখবে বলেও মনে করা হচ্ছে।


বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল: এক ওয়ার্ডেই নারী-পুরুষের চিকিৎসা 

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
বরিশাল প্রতিনিধি

দক্ষিণাঞ্চলের প্রধান চিকিৎসা কেন্দ্র শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল প্রতিষ্ঠার ৫৬ বছর পার হলেও এখনো পৃথক কোনো ডায়রিয়া ওয়ার্ড না থাকায় চরম ভোগান্তিতে পড়ছেন রোগীরা। বাধ্য হয়ে বরিশাল জেনারেল হাসপাতালের মাত্র একটি ছোট ওয়ার্ডেই নারী-পুরুষ একসঙ্গে চিকিৎসা নিতে হচ্ছে, যেখানে শয্যা সংকট ও অব্যবস্থাপনা এখন নিয়মিত চিত্রে পরিণত হয়েছে।

সরেজমিনে দেখা যায়, হাসপাতালটির কম্পাউন্ডের টিনশেড ভবনে মাত্র ৪ শয্যার একটি ডায়রিয়া ওয়ার্ড রয়েছে। অথচ প্রতিদিন সেখানে ২০ থেকে ২৫ জন রোগী ভর্তি হচ্ছেন, যাদের মধ্যে ৮ থেকে ১০ জন নারী। পর্যাপ্ত শয্যা না থাকায় অনেক রোগীকেই মেঝেতে চিকিৎসা নিতে হচ্ছে।

নারী রোগীদের অভিযোগ, পুরুষ রোগীদের সঙ্গে একই ওয়ার্ডে থাকতে হওয়ায় চরম অস্বস্তির মধ্যে চিকিৎসা নিতে হচ্ছে। অনেক সময় বাধ্য হয়ে শয্যার চারপাশে কাপড় টাঙিয়ে পর্দা তৈরি করতে হচ্ছে।

বরিশাল সদর উপজেলার কাশিপুর ইউনিয়নের ৩৫ বছর বয়সী নার্গিস আক্তার বলেন, অনেকটা বাধ্য হয়েই হাসপাতালে ভর্তি হয়েছি। কারণ শয্যার দুই পাশে পুরুষ রোগী, যা খুবই অস্বস্তিকর।

সালমা নামের আরেক রোগী বলেন, নারীদের জন্য আলাদা ওয়ার্ড থাকা উচিত। এভাবে চিকিৎসা নেওয়া পর্দারও পরিপন্থী হয়ে যাচ্ছে।

হাসপাতাল সূত্র জানায়, ১৯১০ সালে প্রতিষ্ঠিত বরিশাল জেনারেল হাসপাতালটি ২০০ শয্যায় উন্নীত করার কথা থাকলেও তা এখনও কাগজে-কলমেই সীমাবদ্ধ। হাসপাতালের পূর্বপাশে ১২ তলা ভবন নির্মাণের কাজও দীর্ঘদিন ধরে আটকে আছে।

বরিশাল জেনারেল হাসপাতালের আবাসিক মেডিকেল কর্মকর্তা ডা. মলয় কৃষ্ণ বড়াল বলেন, প্রতিদিন ডায়রিয়া রোগীর সংখ্যা বাড়ছে। কিন্তু প্রয়োজনীয় শয্যা ও ওয়ার্ড না থাকায় নারী-পুরুষ একসঙ্গে চিকিৎসা নিতে বাধ্য হচ্ছেন। অনেক সময় মেঝেতেও চিকিৎসা দিতে হয়।


সুপ্রিম কোর্টে ব্যারিস্টার শফিক আহমেদের জানাজা অনুষ্ঠিত

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

সাবেক আইনমন্ত্রী ব্যারিস্টার শফিক আহমেদের জানাজা সুপ্রিম কোর্টে সম্পন্ন হয়েছে। সোমবার দুপুর ২ টায় সুপ্রিম কোর্টের ইনার গার্ডেনে ব্যারিস্টার শফিক আহমেদের জানাজা অনুষ্ঠিত হয়।

জানাজার নামাজ শুরুর আগে ব্যারিস্টার শফিক আহমেদের জীবনী তুলে ধরে বক্তব্য রাখেন আইনমন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান, আপিল বিভাগের বিচারপতি এস এম এমদাদুল হক, অ্যাটর্নি জেনারেল ব্যারিস্টার রুহুল কুদ্দুস কাজল, সুপ্রিম কোর্ট বার সভাপতি ব্যারিস্টার মাহবুব উদ্দিন খোকন, ব্যারিস্টার শফিক আহমেদের ছেলে ব্যারিস্টার মাহবুব শফিক। এ সময় আপিল ও হাইকোর্ট বিভাগের সাবেক ও বর্তমান বিচারপতি, বিপুল সংখ্যক আইনজীবী অংশগ্রহণ করেন।

এর আগে গত রোববার সন্ধা পৌনে ৬ টার দিকে সুপ্রিম কোর্টের সিনিয়র আইনজীবী ও সাবেক আইনমন্ত্রী ব্যারিস্টার শফিক আহমেদ মারা যান।

তিনি রাজধানীর বাংলাদেশ মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় হাসপাতালে শেষ নিশ্বাস ত্যাগ করেন। মৃত্যুকালে তার বয়স হয়েছিল ৮৯ বছর।

প্রসঙ্গত, ব্যারিস্টার শফিক আহমেদ ২০০৯ থেকে ২০১৪ সাল পর্যন্ত আওয়ামী লীগ সরকারের আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী ছিলেন। এ ছাড়া তিনি সুপ্রিমকোর্ট আইনজীবী সমিতির সাবেক সভাপতি এবং বাংলাদেশ বার কাউন্সিলের সাবেক ভাইস চেয়ারম্যান ছিলেন।


নবীনগরে আলীয়াবাদ খাল পরিষ্কার কার্যক্রম শুরু

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নবীনগর (ব্রাহ্মণবাড়িয়া) প্রতিনিধি

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নবীনগরে আলীয়াবাদ খালের পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম শুরু হয়েছে। সোমবার (১৩ এপ্রিল) সকালে খালের পূর্ব অংশে আলীয়াবাদ গোলচত্বর-সংলগ্ন সড়ক ও জনপথ (সওজ) বিভাগের ব্রিজের নিচ থেকে খননযন্ত্রের মাধ্যমে ময়লা-আবর্জনা অপসারণের কাজ শুরু করা হয়।

এ কার্যক্রমের উদ্বোধন করেন স্থানীয় সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট আবদুল মান্নান। এ সময় উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও পৌর প্রশাসক মাহমুদুল হাসানসহ সংশ্লিষ্ট দপ্তরের কর্মকর্তারা, বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতারা এবং স্থানীয় বাসিন্দারা উপস্থিত ছিলেন।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, আলীয়াবাদ খালটি বুড়ী নদী থেকে উৎপন্ন হয়ে ভাটা নদীতে গিয়ে মিলেছে। দীর্ঘদিন ধরে পচনশীল ও অপচনশীল বর্জ্য ফেলার কারণে খালটি প্রায় ভরাট হয়ে বিলীন হওয়ার পথে। এ ছাড়া অপরিকল্পিতভাবে খালের মুখ বন্ধ করে রাস্তা নির্মাণ করায় পানি নিষ্কাশন ও স্বাভাবিক প্রবাহ ব্যাহত হচ্ছে, যা পরিবেশের জন্য মারাত্মক ঝুঁকি তৈরি করেছে।

খালের জমে থাকা ময়লা-আবর্জনার কারণে পানির মান মারাত্মকভাবে দূষিত হয়ে পড়েছে। এতে দুর্গন্ধ ছড়ানোর পাশাপাশি পানিবাহিত রোগের ঝুঁকি বেড়েছে। দূষিত পানি কৃষিজমিতে গিয়ে ফসলের ক্ষতি করছে এবং খালটি মশার প্রজননস্থলে পরিণত হয়েছে। ফলে বর্ষা মৌসুমে জলাবদ্ধতা নিরসনেও খালটি কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারছিল না।

উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে অ্যাডভোকেট আবদুল মান্নান বলেন, ‘খালটি জনগুরুত্বপূর্ণ। এর অস্তিত্ব রক্ষায় সবাইকে সচেতন হতে হবে। খালে ময়লা-আবর্জনা ফেলা বন্ধ করতে পারলে এর সুফল জনগণ ভোগ করতে পারবে।’ তিনি খালের দুই পাশে রেলিং স্থাপন এবং রাস্তা সম্প্রসারণের পরিকল্পনার কথাও জানান।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মাহমুদুল হাসান বলেন, ‘আলীয়াবাদ খালের অস্তিত্ব রক্ষা এবং পানির স্বাভাবিক প্রবাহ নিশ্চিত করতে পৌরসভার পক্ষ থেকে প্রয়োজনীয় সব ধরনের পদক্ষেপ নেওয়া হবে।’


মাদারীপুরে ২৪ ঘণ্টায় ২১ আসামি গ্রেপ্তার

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
মাদারীপুর প্রতিনিধি 

মাদারীপুরের পুলিশের বিশেষ অভিযানে ২৪ ঘণ্টায় ২১ আসামি গ্রেপ্তার হয়েছে। সোমবার (১৩ এপ্রিল) জেলা পুলিশের মিডিয়া সেলের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বিষয়টি নিশ্চিত করেন অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম অ্যান্ড অবস্) জাহাঙ্গীর আলম।

তিনি বলেন, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ ও উন্নতিকল্পে পুলিশ সুপারের নির্দেশনায় সদর মডেল থানা ও কালকিনি থানা এলাকায় বিশেষ অভিযান পরিচালিত হয়।

মাদারীপুর সদর মডেল থানার ওসি আবুল কালাম আজাদ ও কালকিনি থানার ওসি এস,এম সোহেল রানার নেতৃত্বে ২৪ ঘণ্টায় পুলিশ বিশেষ অভিযান পরিচালনা করে বিভিন্ন অপরাধে জড়িত ২১ জনকে গ্রেপ্তার করতে সক্ষম হয়। তাদের মধ্যে সদর মডেল থানায় বিভিন্ন মামলায় ১১ জন ও কালকিনি থানায় ১০ মিলে মোট ২১ জন।

অতিরিক্ত পুলিশ সুপার বলেন, জেলার আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নয়নে পুলিশের জিরো টলারেন্স নীতিতে আমরা অটল। মাদক, কিশোর গ্যাং, সন্ত্রাসী, গোষ্ঠী সন্ত্রাসী, চাঁদাবাজসহ অন্য আসামিদের গ্রেপ্তারে পুলিশের সাঁড়াশি ও জোরালো অভিযান অব্যাহত থাকবে।


ডেমরায় ছেলের ছুরিকাঘাতে বাবা নিহত

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

রাজধানীর ডেমরায় বাবা-ছেলের ধস্তাধস্তির সময় ছুরিকাঘাতে বাবা মো. ইসরাফিল (৪৫) নিহত হয়েছেন। তিনি পেশায় নিরাপত্তাকর্মী ছিলেন। ঘটনার পর তার ছেলে (কিশোর হওয়ায় নাম দেওয়া হলো না) পলাতক রয়েছে। সোমবার ভোর সাড়ে পাঁচটার দিকে ডেমরা উত্তর বাজার এলাকায় একটি ভাড়া বাসায় এ ঘটনা

ডেমরা থানার পরিদর্শক (তদন্ত) মো. মুরাদ হোসেন পরিবারের বরাত দিয়ে বলেন, ভোরে বাসায় এসে ইসরাফিল নেশা করার জন্য তার স্ত্রীর কাছে টাকা দাবি করেন। তখন ছেলে পাশের কক্ষে ঘুমাচ্ছিলেন। বাবা-মায়ের ঝগড়া শুনে সে উঠে আসে। এরপর কথাকাটাকাটি থেকে এক পর্যায়ে বাবা-ছেলে ধস্তাধস্তি করে। এ সময় বাবার হাতে থাকা ছুরি কেড়ে নিয়ে ছেলে বাবার বুকে আঘাত করে। এতে ইসরাফিল মারা যান।

অন্যদিকে নিহত ব্যক্তির স্ত্রী সুরিয়া বেগম দাবি করেন, ধস্তাধস্তির সময় ইসরাফিলের নিজের ছুরিই তার বুকে লাগে।

পুলিশ জানায়, এ ঘটনায় এখনো পরিবারের পক্ষ থেকে কোনো অভিযোগ পাওয়া যায়নি। ইসরাফিলের বাড়ি নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁ উপজেলার সুতাপাড়া গ্রামে। বর্তমানে তিনি ডেমরার উত্তর বাজার এলাকায় পরিবারের সঙ্গে ভাড়া বাসায় থাকতেন।

ডেমরা থানার উপপরিদর্শক (এসআই) আবদুল মজিদ বলেন, সকালে খবর পেয়ে বেলা ১১টার দিকে ঘটনাস্থল থেকে ইসরাফিলের মরদেহ উদ্ধার করা হয়। আইনি প্রক্রিয়া শেষে বেলা পৌনে দুইটার দিকে মরদেহটি ময়নাতদন্তের জন্য ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে।


বাংলা নববর্ষ বরণ: রংরীতি আর ঐতিহ্যের উৎসবে মুখর বরিশাল

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
বরিশাল প্রতিনিধি

নতুন বছর ১৪৩৩ বঙ্গাব্দকে বরণ করতে বরিশালজুড়ে চলছে শেষ মুহূর্তের প্রস্তুতি। জীর্ণতাকে পেছনে ফেলে নতুনের আহ্বানে শিল্পীদের রং-তুলির আঁচড়ে রঙিন হয়ে ওঠছে বরিশাল চারুকলা প্রাঙ্গণ। বাঙালির হাজার বছরের লোকজ ঐতিহ্য ও সংস্কৃতির শেকড়কে ধারণ করে এবারও বর্ণাঢ্য আয়োজনে বাংলা নববর্ষ উদযাপনের প্রস্তুতি নিচ্ছে বিভিন্ন সাংস্কৃতিক সংগঠন।

সোমবার (১৩ এপ্রিল) দুপুরে বরিশাল চারুকলায় গিয়ে দেখা যায়, পহেলা বৈশাখের প্রধান আকর্ষণ বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রার প্রস্তুতিতে ব্যস্ত সময় পার করেন শিক্ষার্থী ও শিল্পীরা। বাঁশ, কাগজ, রং ও তুলির কাজে তারা তৈরি করেন বিভিন্ন শিল্পকর্ম ও মুখোশ, যা শোভাযাত্রাকে আরও আকর্ষণীয় করে তুলবে।

চারুকলা সূত্রে জানা গেছে, এবারের শোভাযাত্রার সম্মুখভাগে থাকবে বিশাল আকৃতির টিয়া পাখি এবং বাঙালির লোকজ ঐতিহ্যভিত্তিক নানা রঙিন মুখোশ। এসব উপকরণ নববর্ষ উদযাপনে ভিন্ন মাত্রা যোগ করবে বলে আশা করছেন আয়োজকরা।

শিল্পকর্ম তৈরিতে ব্যস্ত থাকা শিক্ষার্থী রনি বলেন, ‘পহেলা বৈশাখ আমাদের জন্য শুধু উৎসব নয়, এটি আমাদের পরিচয় ও সংস্কৃতির অংশ। প্রতি বছর আমরা পরিশ্রম করি এই আয়োজন সফল করতে।’

চারুকলা বরিশালের সমন্বয়ক সুশান্ত ঘোষ বলেন, ‘বাঙালির এই উৎসব ফসলের ঘ্রাণে মিশে আছে। হেমন্তে ধান কাটার পর নতুন বছরকে বরণ করার যে প্রথা ছিল, তা আজ সার্বজনীন উৎসবে রূপ নিয়েছে। এবারের শোভাযাত্রায় লোকজ ঐতিহ্যের নানা প্রতীক তুলে ধরা হবে।’

বরিশাল সাংস্কৃতিক সংগঠন সমন্বয় পরিষদের সভাপতি শুভঙ্কর চক্রবর্তী জানান, সকালে বিএম স্কুল প্রাঙ্গণ থেকে শোভাযাত্রা শুরু হবে। শোভাযাত্রার মাধ্যমে আমরা ঐক্য, সম্প্রীতি ও গণতন্ত্রের বার্তা দিতে চাই।

এদিকে বাংলা নববর্ষকে কেন্দ্র করে বরিশাল ব্রজমোহন (বিএম) স্কুল মাঠে উদীচী শিল্পীগোষ্ঠী আয়োজন করছে তিন দিনব্যাপী বৈশাখী মেলা। মেলায় প্রায় ৭০টি স্টল থাকবে এবং ইতোমধ্যে মাঠ প্রস্তুতের কাজ শেষ হয়েছে।

উদীচী শিল্পীগোষ্ঠী বরিশাল জেলা সংসদের কার্যনির্বাহী কমিটির সদস্য আবুল খায়ের সবুজ বলেন, ‘৪৪ বছর ধরে আমরা বিএম স্কুল মাঠে বৈশাখী মেলার আয়োজন করে আসছি। পহেলা বৈশাখের সকালে প্রভাতি অনুষ্ঠান শেষে গান, নৃত্য ও কবিতা আবৃত্তির মধ্য দিয়ে নতুন বছরকে স্বাগত জানানো হবে।’

তিনি আরও জানান, অনুষ্ঠান শেষে চারুকলার উদ্যোগে আনন্দ শোভাযাত্রা বের করা হবে, যা বিএম স্কুল থেকে শুরু হয়ে নগরীর সদর রোডে গিয়ে শেষ হবে। নিরাপত্তা ও শৃঙ্খলা নিশ্চিত করতে সব প্রস্তুতি সম্পন্ন করা হয়েছে।

শুধু চারুকলা ও উদীচী নয়, বরিশালের অন্তত ৩৫টি সাংস্কৃতিক সংগঠনও বাংলা নববর্ষ উদযাপনে নানা কর্মসূচি বাস্তবায়নে ব্যস্ত সময় পার করছে।


জীবননগরে তেলপাম্পে বিশৃঙ্খলা দায়ে যুবককে কারাদণ্ড, ৫ জনকে জরিমানা

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
জীবননগর (চুয়াডাঙ্গা) প্রতিনিধি

জীবননগরে তেলপাম্পে বিশৃঙ্খলার অভিযোগে এক যুবককে এক মাসের কারাদণ্ড দিয়েছে ভ্রাম্যমাণ আদালত। একই সাথে কাগজপত্র না থাকাসহ বিভিন্ন অপরাধে ৫ জনকে জরিমানা করা হয়েছে। সোমবার (১৩ এপ্রিল) বেলা ১১ টার দিকে জীবননগর ফিলিং স্টেশনে ওই অভিযান পরিচালনা করেন জেলা প্রশাসনের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট জমির উদ্দিন।

ভ্রাম্যমাণ আদালত সূত্রে জানা গেছে, সকালে জীবননগর ফিলিং স্টেশনে অভিযান চালানো হয়। এসময় বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির অভিযোগে সিফাত হোসেন নামে এক যুবককে এক মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড ও ৫০ টাকা জরিমানা করা করা হয়। এছাড়া একই অপরাধে ৪ জনকে ৪ হাজার টাকা ও সড়ক পরিবহন আইনে একজনকে ৫ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়। কারাদণ্ডপ্রাপ্ত সিফাত হোসেন ঝিনাইদহ জেলার মহেশপুর উপজেলার তৈলটুপি গ্রামের শফিকুল ইসলামের ছেলে। অর্থদণ্ডপ্রাপ্তরা হলেন- জীবননগর পৌরসভার সিকান্দার আলী, বিপ্লব কর্মকার, তেতুলিয়া গ্রামের ইয়াসিন আলী, হরিয়াননগর গ্রামের মোশারফ হোসেন ও বাঁকা গ্রামের শাহিন উদ্দিন।

চুয়াডাঙ্গা জেলা প্রশাসনের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট জমির উদ্দিন বলেন, নিয়মিত তদারকির অংশ হিসেবে সোমবার জীবননগর ফিলিং স্টেশনে অভিযান পরিচালনা করা হয়। এসময় তেল পাম্পে ফুয়েল কার্ড ব্যতীত লাইন ভঙ্গকরে জ্বালানি তেল সংগ্রহে চাপ সৃষ্টি করেন সিফাত। আইন প্রয়োগের বিষয়ে তাকে সতর্ক করে ফুয়েল কার্ডসহ লাইনে দাঁড়িয়ে জ্বালানি সংগ্রহের জন্য নির্দেশনা দেওয়া হয়। কিন্তু তিনি তা অমান্য করে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি ও জনমনে ভীতির সৃষ্টি করেন। ওই অপরাধে তাকে এক মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়। এছাড়া কাগজপত্র না থাকাসহ বিভিন্ন অপরাধে ৫ জনকে জরিমানা করা হয়। আইনশৃঙ্খলা রক্ষা ও জনস্বার্থে এ অভিযান অব্যাহত থাকবে বলে জানান নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট।


কৃষিনির্ভর মেহেরপুরেই সবজির দাম বেড়ে দ্বিগুন, হতাশ ক্রেতারা

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
মেহেরপুর প্রতিনিধি

কৃষিনির্ভর মেহেরপুরে হঠাৎ করে সবজির দামে নাভিশ্বাস অবস্থা হয়েছে ভোক্তাদের। বাজারে গিয়ে বাড়তি দামে হতাশ ক্রেতারা। ভোক্তাদের অভিযোগ, ব‍্যাবসায়ীরা কোনো অযুহাত পেলেই চলবে, তাহলেই দ্রব‍্য মূল‍্যের দাম বেড়ে যাবে। আর প্রশাসন শুধু নামেই বাজার মনিটরিংয়ের কথা বলে। এতে বাজারে দামে কোনো প্রভাব পড়ে না।

ব‍্যাবসায়ীদের দাবি কৃষকদের কাছ থেকে অধিক দামে সবজি কিনতে হচ্ছে তাদের। তাছাড়া তেল সংকটের কারনে পরিবহন খরচ বৃদ্ধির পাশাপাশি হাট ইজারা সব হিসেব করে তারা দাম বৃদ্ধিতে বাধ‍্য হচ্ছেন।

কৃষকরা বলছেন, সার বীজ থেকে শুরু করে সবকিছুর দাম বাড়তি। আর বতর্মানে চলছে তেল সংকট। সেচ দিতে গুনতে হচ্ছে বাড়তি টাকা। যার ফলে উৎপাদন খরচ বেড়েছে অনেক। তাই দাম বাড়াটাই স্বাভাবিক।

আর জেলা প্রশাসন বলছে, আমরা সর্বদা বাজার মনিটরিং করে যাচ্ছি। ব‍্যাবসায়ীরা যদি সিন্ডিকেট করে বাড়তি মুনাফা করতে চাই। তাদের আইনের আওতায় নিয়ে আসা হবে।

সোমবার (১৩ এপ্রিল) জেলার ঐতিহ্যবাহী বামন্দী বাজার ঘুরে দেখা যায়, ৬০ টাকা কেজির পটল আজ বিক্রি হচ্ছে ১০০টাকা করে, ৪০ টাকার বেগুন বিক্রি হচ্ছে বেগুন ১২০ টাকা করে,৪০ টাকা কেজি খিরা বিক্রি হচ্ছে ৮০ টাকা করে, ৪৫ টাকার গাজর বিক্রি হচ্ছে ৭০ টাকা করে, ৪৫ টাকার ঢেড়স বিক্রি হচ্ছে ১০০ টাকা করে, তরকারি খাওয়া কাচ কলা ২৫ টাকা বেড়ে আজ বিক্রি হচ্ছে ৪০টাকা করে, ৬৫ টাকার বরবটি বিক্রি হচ্ছে ১০০ টাকা করে, ৫০ টাকার কচুর লতি বিক্রি হচ্ছে ৮৫ টাকা করে, ৬০ টাকা কেজি দরের উস্তি বিক্রি হচ্ছে ৮০ টাকা করে, ৩০ টাকার পুইশাক বিক্রি হচ্ছে ৬০ টাকা করে, ৩০ টাকার টমেটো বিক্রি হচ্ছে ৭০ টাকা করে, ৪০ টাকার ঝিঙে বিক্রি হচ্ছে ৯০ টাকা করে, মুলা বিক্রি হচ্ছে ৫০ টাকা করে, আর আলতাপাটি আলু বিক্রি হচ্ছে ২৫০ টাকা করে। আর প্রতি কেজি কাঠাল বিক্রি হচ্ছে ১২০ টাকা করে।

সবজি ক্রেতা স্বপন আলী বলেন, বাজারে কোনো কিছু আর কেনার মতো নেই। যে বেগুন সপ্তাহ খানেক আগেও ৩০ থেকে ৪০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হয়েছে। আজ বিক্রি হচ্ছে ১২০ টাকা করে। আর পটলের অবস্থা একই গত হাটে কিনেছি ৩০ টাকায়, আজ কিনছি ১শ টাকা করে।

আরেক ক্রেতা রাসেল আহমেদ বলেন, পাম্পে তেল পাওয়া যাচ্ছে কম। আর তার অযুহাতে বাজারে বেড়েছে সব ধরনের সবজির দাম। বাজারে ৫০ টাকার নিচে কোন সবজি পাওয়া যাচ্ছে না। পুইশাক তা বিক্রি হচ্ছে ৫০ টাকায়। আমরা গরিব মানুষ খাব কি? এভাবে চলতে থাকলে মনে হচ্ছে না খেয়ে থাকতে হবে।

সবজি বিক্রেতা সামসুল হক বলেন, আমরা আড়তে গেলে দেখি সব সবজির দাম বাড়তি। তারা বলছে তেল সংকটের কারণে পরিবহন খরচ বেড়ে যাওয়ায় দাম বেড়েছে। এখন আমরা যেমন দামে কিনব, তেমন দামেইতো বিক্রি করব।

আরেক সবজি বিক্রেতা নবীর আলী বলেন, গত হাটে যে পঠল কিনেছি ৩৫ টাকা করে। আজ সেই পটল পাইকারি কিনছি ৮৫ টাকা করে। যে বেগুন সপ্তাহ খানেক আগে বিক্রি করেছি ৪০ টাকা করে,আজ সেই বেগুন কিনছি ৯০ টাকা করে।

গাংনী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আনোয়ার আলী বলেন, জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে সর্বদা বাজার মনিটরিং করা হচ্ছে। ব্যবসায়ীরা সিন্ডিকেট করে পণ্যের দাম বাড়িয়ে অনৈতিক সুবিধা নিলে তাদের বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।


আর্থিক সংকট: ৫ সন্তানের জন্ম হওয়ায় বিপাকে লামিয়া

আপডেটেড ১৩ এপ্রিল, ২০২৬ ২০:১৩
বাউফল (পটুয়াখালী) প্রতিনিধি  

আর্থিক সংকট থাকায় একসঙ্গে পাঁচটি শিশুর জন্ম হওয়ায় বিপাকে পড়েছেন পটুয়াখালীর বাউফল উপজেলার কালীশুরী ইউনিয়নের চাঁদকাঠি গ্রামের ২৩ বছর বয়সি লামিয়া বেগম। গত বছরের ৬ অক্টোবর বরিশালের একটি বেসরকারি হাসপাতালে জন্ম নেয় এই পাঁচ নবজাতক।

শুরুতে পরিবার ও এলাকায় আনন্দের ঢেউ বয়ে গেলেও সেই আনন্দ এখন রূপ নিয়েছে কষ্ট, অনিশ্চয়তা আর আর্থিক সংকটের ভারে চাপা এক সংগ্রামে।

শিশুদের কান্নায় প্রতিদিনই ঘুম ভাঙে লামিয়ার। ভোর হওয়ার আগেই শুরু হয় তার দিন। একে একে পাঁচ শিশুকে কোলে নেওয়া, খাওয়ানো, গোসল করানো, কাপড় বদলানো সবকিছু একসঙ্গে সামলাতে হয় তাকে। একজন চুপ করলে আরেকজন কাঁদে, একজন ঘুমালে অন্যজন জেগে ওঠে। যেন এই ঘরের সময় থেমে আছে শুধু মায়ের ক্লান্ত হাতের মধ্যে।

ক্লান্ত কণ্ঠে লামিয়া বেগম বলেন, ‘আমি আর নিজের জন্য কিছু ভাবতে পারি না। সারাদিন বাচ্চাদের নিয়েই থাকি। ঘুম-খাওয়ার সময়ও ঠিক নেই। কিন্তু সবচেয়ে বড় চিন্তা হলো খরচ। পাঁচটা বাচ্চাকে মানুষ করা খুব কঠিন হয়ে যাচ্ছে। যদি কেউ আমাদের পাশে দাঁড়াত, তাহলে হয়তো একটু স্বস্তিতে বাঁচতে পারতাম।’

শিশুদের বাবা মো. সোহেল হাওলাদার একজন ছোট মুদি দোকানদার। তার সীমিত আয়ে কোনোভাবে সংসার চললেও পাঁচ সন্তানের ভরণ-পোষণ এখন তাদের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

শিশুদের নানি শাহনাজ বেগম বলেন, ‘নাতি-নাতনি পাওয়ার আনন্দ আছে; কিন্তু সেই আনন্দ এখন কষ্টে পরিণত হয়েছে। ছোট দোকানের আয়ে কোনোভাবেই পাঁচ শিশুদের খরচ চালানো যাচ্ছে না। দুধ, কাপড়, ওষুধ সবকিছুতেই চাপ পড়ছে। আমরা সরকারের সহযোগিতা চাই।’

স্থানীয়রাও বলছেন, পরিবারটি এখন এক কঠিন বাস্তবতার মধ্যে দিন কাটাচ্ছে। প্রয়োজনীয় সহায়তা না পেলে শিশুদের ভবিষ্যৎ অনিশ্চিত হয়ে পড়তে পারে।

এ বিষয়ে বাউফল উপজেলা সমাজসেবা কার্যালয়ের ফিল্ড সুপারভাইজার হুমায়ন কবির জানান, সমাজসেবা অধিদপ্তরের সরাসরি এমন কোনো নির্দিষ্ট সহায়তা নেই, তবে বাংলাদেশ জাতীয় সমাজকল্যাণ পরিষদের তহবিল থেকে অনুদান পাওয়া যেতে পারে। আবেদন করলে আমরা সহযোগিতা করব।


কুড়িগ্রাম সীমান্তে ২ বাংলাদেশীকে আটক করেছে বিএসএফ

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
কুড়িগ্রাম জেলা প্রতিনিধি

কুড়িগ্রাম-২২ বিজিবি বিষয়টি নিশ্চিত করে জানিয়েছে, আটক ব্যক্তিদের ফেরত আনার প্রক্রিয়া চলমান। এ বিষয়ে পতাকা বৈঠকের আহ্বান জানানো হয়েছে।

কুড়িগ্রামের নাগেশ্বরী উপজেলার উত্তর ঝাউকুটি সীমান্ত দিয়ে অনুপ্রবেশের অভিযোগে দুই বাংলাদেশী যুবককে আটক করেছে ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী (বিএসএফ)। রোববার (১২ এপ্রিল) রাতে এ ঘটনা ঘটে।

কুড়িগ্রাম-২২ বিজিবি বিষয়টি নিশ্চিত করে জানিয়েছে, আটক ব্যক্তিদের ফেরত আনার প্রক্রিয়া চলমান। এ বিষয়ে পতাকা বৈঠকের আহ্বান জানানো হয়েছে।

আটক দুজন হলেন— নাগেশ্বরী উপজেলার নারায়ণপুর ইউনিয়নের অষ্টমীর চর এলাকার বাগমারা গ্রামের সোলাইমান হোসেন এবং ভূরুঙ্গামারী উপজেলার দক্ষিণ বলদিয়া কুমারটারী গ্রামের মৃত আনোয়ার হোসেনের ছেলে সোহাগ মিয়া।

বিজিবি ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, রোববার রাতে উত্তর ঝাউকুটি সীমান্তের ১০৩৭ নম্বর আন্তর্জাতিক সীমানা পিলারের পাশ দিয়ে তারা ভারতের আসাম রাজ্যের ধুবরী জেলার টাকিমারী এলাকায় প্রবেশ করেন। পরে স্থানীয়দের সহায়তায় বিএসএফ সদস্যরা তাদের আটক করে।

নারায়ণপুর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান মোস্তাফিজুর রহমান দুই বাংলাদেশীকে আটকের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

এ বিষয়ে কুড়িগ্রাম-২২ বিজিবির অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মাহবুব উল হক জানান, বিষয়টি নিশ্চিত হওয়ার পর বিএসএফের সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়েছে এবং পতাকা বৈঠকের মাধ্যমে তাদের ফেরত আনার উদ্যোগ নেয়া হয়েছে।


পিরোজপুরে ক্ষুদ্র ও প্রান্তিক কৃষকদের মাঝে বিনামূল্যে বীজ ও সার বিতরণ

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
পিরোজপুর প্রতিনিধি

পিরোজপুর সদর উপজেলায় ২০২৫-২৬ অর্থবছরে খরিপ-১ মৌসুমে আউশ ধানের আবাদ ও উৎপাদন বৃদ্ধির লক্ষ্যে ক্ষুদ্র ও প্রান্তিক কৃষকদের মাঝে বিনামূল্যে বীজ ও রাসায়নিক সার বিতরণ কার্যক্রমের শুভ উদ্বোধন করা হয়েছে। সোমবার (১৩ এপ্রিল) সকালে সদর উপজেলা প্রশাসন ও কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের যৌথ আয়োজনে পিরোজপুর সদর উপজেলার শহীদ ওমর ফারুক মিলনায়তনে এই কার্যক্রমের উদ্বোধন করা হয়।

‎​উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন পিরোজপুরের জেলা প্রশাসক ও বিজ্ঞ জেলা ম্যাজিস্ট্রেট আবু সাঈদ। প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি বলেন, "বর্তমান সরকার কৃষি বান্ধব সরকার। এই সরকার কৃষিকে সবচেয়ে বেশি প্রাধান্য দিচ্ছে। বাংলাদেশ একটি ছোট দেশ হওয়া সত্ত্বেও খাদ্যে স্বয়ংসম্পূর্ণতা অর্জন করতে পেরেছে মূলত কৃষকদের নিষ্ঠা এবং সরকারের সঠিক পরিকল্পনার কারণে।" এছাড়া তিনি কৃষি উৎপাদন বৃদ্ধিতে কৃষক কার্ডসহ সরকারের নানামুখী পদক্ষেপের কথা উল্লেখ করেন এবং কৃষকদের আধুনিক কৃষি প্রযুক্তি ব্যবহারের আহ্বান জানান।

‎​পিরোজপুর সদর উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) মামুনুর রশীদের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে আরও উপস্থিত ছিলেন পিরোজপুর জেলা বিএনপির সদস্য সচিব এস এম সাইদুল ইসলাম কিসমত, সদর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো. শওকত হোসেন এবং জেলা জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি শেখ আব্দুর রাজ্জাক প্রমুখ।

‎​সভাপতির বক্তব্যে উপজেলা নির্বাহী অফিসার মামুনুর রশিদ বলেন, "পিরোজপুর সদর উপজেলাকে কৃষি খাতে একটি আদর্শ উপজেলা হিসেবে গড়ে তুলতে আপনাদের সহযোগিতা প্রয়োজন। কৃষকরা এই প্রণোদনাকে কাজে লাগিয়ে আরও নিষ্ঠার সাথে কাজ করবেন এবং আপনারা সবাই মিলে একটি সফল ও উন্নত কৃষি ব্যবস্থা গড়ে তুলবেন বলে আমার বিশ্বাস।"

‎​অনুষ্ঠানে আউশ ধানের আবাদ ও ফলন বৃদ্ধির লক্ষ্যে পিরোজপুর সদর উপজেলার তালিকাভুক্ত ক্ষুদ্র ও প্রান্তিক কৃষকদের মাঝে উচ্চফলনশীল আউশ ধানের বীজ এবং প্রয়োজনীয় রাসায়নিক সার বিতরণ করা হয়। উপস্থিত কৃষি কর্মকর্তারা জানান, সঠিক সময়ে এই বীজ ও সার বিতরণের ফলে কৃষকরা উৎসাহিত হবেন এবং জেলায় আউশ ধানের লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে এটি সহায়ক ভূমিকা পালন করবে। অনুষ্ঠানে কৃষি বিভাগের অন্যান্য কর্মকর্তা ও স্থানীয় কৃষক প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।


banner close