হোসেন রায়হান
পঞ্চগড়ের বোদা উপজেলায় করতোয়া নদীতে নৌকাডুবির ঘটনায় এখন পর্যন্ত নারী ও শিশুসহ ৪০ জনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। নিখোঁজ রয়েছেন আরও অনেকেই। নিখোঁজদের লাশের অপেক্ষায় করতোয়ার পাড়ে অবস্থান করছেন স্বজনেরা।
মরদেহ উদ্ধারের খবর জানতে পারলেই নদীর পাড় থেকে স্বজনরা ছুটে আসছেন ইউনিয়ন পরিষদে। হাজার হাজার মানুষের ঢল নেমেছে মাড়েয়া ইউনিয়নে।
আজ সোমবার সকালে আউলিয়ার ঘাট এলাকায় দেখা যায়, ফায়ার সার্ভিস এবং ডুবুরি দলের তিনটি ইউনিট উদ্ধার কার্যক্রম চালাচ্ছে। সেখানে ভিড় করছে নিখোঁজদের স্বজনেরা।
ষাটোর্ধ্ব কৃষ্ণ চন্দ্র রায় ভাই এবং ভাতিজার খোঁজে এসেছেন আউলিয়া ঘাটে। তিনি জানান, নদীর অপর পাড়ে বদেশ্বরী মন্দিরে মহালয়া পুজায় যোগ দিতে তার ভাই নরেশ ও ভাতিজা সিন্টু বাড়ি থেকে বের হয়ে আর ফিরেননি। নৌকাডুবির খবরে কাল থেকেই এখানে লাশের অপেক্ষা করছেন তিনি।
নাতির খোঁজে উপজেলার পাঁচপীর এলাকা থেকে এসেছেন বৃদ্ধ সুমল চন্দ্র। তিনি বলেন, নাতির মরদেহটা পেলে অন্তত নিজেরা সৎকারের কাজটা করতে পারতাম।
মাড়েয়া বটতলি এলাকার ধীরেন বাবুর দুই প্রতিবেশিসহ ৭ জন নিকটাত্মীয় এখনও নিখোঁজ। কাল থেকে তিনি নদীর পাড়ে অপেক্ষা করছেন। তিনি বলেন, বদেশ্বরী মন্দিরে মহালয়া পুজায় যোগ দিতে ভাতিজা, ভাতিজার বউ, ভাতিজার শ্বশুর, শ্যালিকা এবং আমার ভাতিজি নৌকায় ওঠে দুর্ঘটনায় পড়েন। এখন পর্যন্ত কারও খোঁজ পাইনি। এখন তাদের লাশের জন্য অপেক্ষা করছি।
এর আগে গতকাল রোববার দুপুরে শতাধিক যাত্রী নিয়ে নৌকা ডুবির ঘটনা ঘটে। রাত ১১টা পর্যন্ত উদ্ধার অভিযান পরিচালনা করে ২৫ জনের মরদেহ উদ্ধার করে ডুবুরিদল। ভোর থেকে পুনরায় উদ্ধার অভিযান শুরু হয়। উদ্ধার হওয়া মোট ৩২টি মরদেহের মধ্যে নিহতদের মধ্যে বেশির ভাগই শিশু ও নারী।
এদিকে ঘটনা তদন্তে অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেটকে আহ্বায়ক করে পাঁচ সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে।
জেলা প্রশাসক জহুরুল ইসলাম জানান, খবর পেয়ে আমরা সঙ্গে সঙ্গে ঘটনাস্থলে যাই। গভীর রাত পর্যন্ত উদ্ধার কাজ চলে। ঘটনা তদন্তে ৫ সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। এ ছাড়া নিহত প্রত্যেক পরিবারকে ২০ হাজার টাকা করে দেওয়া হচ্ছে। এ ঘটনায় একটি তথ্যকেন্দ্র খোলা হয়েছে।
গাজীপুরের কাপাসিয়া থানার এলাকায় ডাকাতির প্রস্তুতিকালে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে ৪ জনকে আটক করেছে পুলিশ। গত শনিবার (২৮ মার্চ) গভীর রাতে উপজেলার চাঁদপুর ইউনিয়নের পাপলা চামুরখী মোড় থেকে একটি প্রাইভেটকার, খেলনা অস্ত্র, চাপাতিসহ বিভিন্ন জিনিস উদ্ধার করেছে।
থানার প্রেস রিলিজ মারফত জানা যায়, গত শনিবার (২৮ মার্চ) দিবাগত রাত ২টার দিকে কাপাসিয়া থানার এএসআই নজরুল ইসলামের নেতৃত্বে থানা পুলিশ সদর ইউনিয়নের বলখেলা বাজার এলাকায় টহলরত ছিলেন। ওই সময় গোপন সংবাদের ভিত্তিতে ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তার পরামর্শে পার্শ্ববর্তী টহলরত এসআই মো. মিলন মিয়ার সহযোগিতা কামনা করেন। পরে একযোগে অতর্কিত অভিযান চালিয়ে তারা উল্লিখিত স্থান থেকে ৪ জনকে আটক করতে সক্ষম হয়।
আটককৃতরা হলেন- শেরপুর জেলার ঝিনাইগাতী উপজেলার প্রতাপনগর গ্রামের মানিক মিয়ার পুত্র মো. সাগর (২৪), টাঙ্গাইল জেলার বাসাইল থানার আইসড়া গ্রামের মৃত আ. আজিজ তালুকদারের পুত্র মশিউর রহমান জুয়েল (৩৫), জয়দেবপুর সদরের বরুদা এলাকার মৃত শহীদ জালাল উদ্দিনের পুত্র নওয়াব আলী (৬০), ময়মনসিংহ জেলার নান্দাইল উপজেলার রহিমপুর গ্রামের নুরুল ইসলামের পুত্র মো. সাব্বির (১৫)। তারা সবাই বর্তমানে গাজীপুর সদরের বিভিন্ন স্থানে বসবাস করে।
আটককৃতদের নিকট থেকে একটি পিস্তল সাদৃশ্য খেলনা পিস্তল, একটি শর্টগান সাদৃশ্য খেলনা শর্টগান, একটি চাপাতি, একটি কালো রঙের এক্সারসাইজ স্টিক, একটি মাস্টার চাবি, দুটি অ্যান্ড্রয়েড ও তিনটি মোবাইল ফোন, একটি ধূসর রঙের প্রাইভেট গাড়ি (নম্বর: ঢাকা মেট্রো- গ-১২-৬৪০২. জব্দ করা হয়।
থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. শাহীনুর রহমান জানান, ডাকাতির প্রস্তুতিকালে আটককৃতরা স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছে। তাদের বিরুদ্ধে থানায় সাধারণ ডায়রি নং- ১৩৬৫ মোতাবেক আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। গতকাল রোববার সকালে তাদের গাজীপুর আদালতের মাধ্যমে জেলহাজতে প্রেরণ করা হয়েছে।
নওগাঁর মহাদেবপুরে স্বামীর ছুরিকাঘাতে গুরুতর আহত স্ত্রী আফসানা মিমি (২৮) চিকিৎসাধীন অবস্থায় মৃত্যু হয়েছে। গত শুক্রবার (২৭ মার্চ) রাতে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে মারা যায়। এ ঘটনায় রাতেই উপজেলার বকাপুর এলাকা থেকে অভিযুক্ত স্বামী সাদ্দাম হোসেন সাগরকে (৩০) আটক করেছে পুলিশ।
আটক সাদ্দাম হোসেন উপজেলা সদর মধ্যবাজার গ্রামের জান মোহাম্মদের ছেলে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, মহাদেবপুরে মধ্য বাজার এলাকার সাদ্দাম হোসেন তার স্ত্রীকে একটি বাড়িতে ভাড়া থাকতেন। গত ১৬ মার্চ পারিবারিক বিরোধের জের ধরে সাদ্দাম তার স্ত্রীকে ছুরিকাঘাত করেন। পরে গুরুতর জখম অবস্থায় স্থানীয়রা মিমিকে উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করায়। সেখানে তার শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে উন্নত চিকিৎসার জন্য রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করান স্বজনরা। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় গত শুক্রবার রাতে তার মৃত্যু হয়।
এ বিষয়ে মহাদেবপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ওমর ফারুক বলেন, ‘এ ঘটনায় শুক্রবার রাতেই নিহত গৃহবধূর স্বামী সাদ্দাম হোসেনকে আটক করে থানা হেফাজতে নেওয়া হয়। তাকে আদালতের মাধ্যমে জেল হাজতে পাঠানো হয়েছে।
গোপালগঞ্জের পাঁচুড়িয়ায় ১৫০০ লিটার পেট্রোল অবৈধভাবে মজুদ করার অপরাধে ‘গঙ্গা মটরস’ নামক একটি প্রতিষ্ঠানকে ৯ হাজার টাকা জরিমানা করেছে ভ্রাম্যমাণ আদালত। আজ ২৮ মার্চ শনিবার দুপুর ১২:৩০ ঘটিকায় গোপন সংবাদের ভিত্তিতে এই বিশেষ অভিযান পরিচালনা করা হয়। অভিযানে নেতৃত্ব দেন জেলা প্রশাসনের সহকারী কমিশনার ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ফারদিন খান প্রিন্স।
জানা গেছে, পাঁচুড়িয়া বাজারে অবস্থিত গঙ্গা মটরস নামের ওই প্রতিষ্ঠানে জননিরাপত্তা বিঘ্নিত করে এবং অধিক মুনাফার আশায় বিপুল পরিমাণ জ্বালানি তেল মজুদ করে রাখা হয়েছিল। খবর পেয়ে ভ্রাম্যমাণ আদালত সেখানে হানা দেয় এবং অবৈধভাবে রাখা ১৫০০ লিটার পেট্রোল জব্দ করে। আইন অমান্য করে এই বিপুল পরিমাণ তেল মজুদের দায়ে প্রতিষ্ঠানটিকে তাৎক্ষণিকভাবে ৯ হাজার টাকা অর্থদণ্ড প্রদান করা হয়।
জরিমানা করার পাশাপাশি জনস্বার্থ বিবেচনায় নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট জব্দকৃত পেট্রোল সরকার নির্ধারিত মূল্যে উপস্থিত সাধারণ গ্রাহকদের মাঝে বিক্রির নির্দেশ দেন। এই খবর দ্রুত ছড়িয়ে পড়লে সেখানে মোটরসাইকেল চালকদের দীর্ঘ লাইন পড়ে যায়। সাধারণ মানুষ সাশ্রয়ী মূল্যে তেল পাওয়ার সুযোগ পেয়ে প্রশাসনের এই পদক্ষেপকে সাধুবাদ জানিয়েছেন। জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, জ্বালানি তেলের কৃত্রিম সংকট রোধ এবং বাজার স্থিতিশীল রাখতে এ ধরনের ঝটিকা অভিযান আগামীতেও অব্যাহত থাকবে। গঙ্গা মটরস মালিক অর্ণব শর্মা (৫৬) জানান তিনি অসুস্থ থাকার কারনে এক সপ্তাহ দোকান খুলতে পারেননি তাই তার দোকানে এ অবিক্রীত পেট্রোল মজুদ রয়েছে। তিনি অসৎ উদ্দেশ্য বা অধিক মুনাফার আশায় মজুদ করেন নি।
তেল পরিবহনের কাজে নিয়োজিত ট্যাংকলরি চালকসহ তিন শ্রমিককে ভ্রাম্যমাণ আদালতে জেল-জরিমানার প্রতিবাদে রংপুর বিভাগের ৮ জেলায় অনির্দিষ্টকালের জন্য কর্মবিরতি শুরু করেছে শ্রমিক ইউনিয়ন। এতে উত্তরের ৮টি জেলায় জ্বালানি তেল সরবরাহ বন্ধ হয়ে গেছে।
জ্বালানি তেল পরিবহনের সময় তিন শ্রমিককে ছয় মাসের কারাদণ্ড ও জরিমানা করার প্রতিবাদে এই অনির্দিষ্টকালের কর্মবিরতি শুরু হয়েছে। এতে পার্বতীপুরে রেলহেড অয়েল ডিপো থেকে জ্বালানি তেল সরবরাহসহ সব কার্যক্রম বন্ধ হয়ে গেছে। পেট্রোল পাম্প মালিকরা শ্রমিকদের কর্মসূচির সঙ্গে একাত্মতা প্রকাশ করেছেন।
শ্রমিকরা জানিয়েছেন, জ্বালানি তেল নিয়ে নীলফামারীর যাওয়ার পথে তেলবাহী একটি লরির যান্ত্রিক ত্রুটি দেখা দেয়। মেরামত করতে গাড়িটি দাড় করিয়ে শ্রমিকরা গাড়ির কেবিন খুলে কাজ করছিলেন। এ সময় নীলফামারী জেলার এনডিসি নিয়াজ ভূঁইয়া রাস্তায় ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করেন। তিনি লরি তল্লাশি করে কেবিনে দুটি জারকিনে ১০ লিটার পেট্রোল ও দুই লিটার ডিজেল পান। এ সময় অবৈধভাবে তেল পাচারের অভিযোগে একরামুল হক, চালক শ্রী কৃষ্ণচন্দ্র ও চালকের সহকারী রিফাতকে ছয় মাসের কারাদণ্ডাদেশ দেন। সেই সঙ্গে তিন জনকে মোট এক লাখ টাকা জরিমানা করেন।
এ ঘটনার প্রতিবাদে রবিবার সকাল থেকে অনির্দিষ্টকালের কর্মবিরতি শুরু করেন শ্রমিকরা। দুপুরে তারা পার্বতীপুর রেলহেড অয়েল ডিপোর সামনে একটি সমাবেশ ও পরে বিক্ষোভ মিছিল করেন।
শ্রমিকরা জানিয়েছেন, সড়কে মহাসড়কে পুলিশি হয়রানি ও অযৌক্তিকভাবে ট্যাংকলরি গাড়ির চালক, ম্যানেজার ও হেলপারকে জেল-জরিমানা করার প্রতিবাদে নিয়াজ ভূঁইয়াকে দ্রুত অপসারণ ও দণ্ডিত শ্রমিকদের নিঃশর্ত মুক্তির দাবিতে এই কর্মসূচি চলছে। দাবি বাস্তবায়ন বা পদক্ষেপ গ্রহণ না করা হলে এই কর্মসূচি অব্যাহত থাকবে।
এ বিষয়ে রংপুর বিভাগীয় ট্যাংকলরি শ্রমিক ইউনিয়নের সভাপতি আতাউর রহমান জানান, অবিলম্বে জেল হাজতে পাঠানো শ্রমিকদের মুক্তির পাশাপাশি অভিযুক্ত এনডিসি নিয়াজ ভূঁইয়াকে অপসারণ করা না হলে কর্মসূচি অব্যাহত থাকবে।
এ বিষয়ে রংপুর বিভাগীয় ট্যাংকলরি শ্রমিক ইউনিয়নের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মঞ্জুরুল ইসলাম বলেন, জেল-জরিমানায় হাজতে পাঠানো শ্রমিকদের মুক্তির দাবিতে ধর্মঘট চলছে। আমরা আল্টিমেটাম দিয়েছি শ্রমিক ভাইদের নিঃশর্ত মুক্তি ও ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে এনডিসির অপসারণ না হলে আমাদের ধর্মঘট অব্যাহত থাকবে। আমাদের সঙ্গে পাম্প মালিকরাও একাত্মতা ঘোষণা করেছেন।
নড়াইলে ট্রাকে তেল দিতে না পারায় তানভীর ফিলিং স্টেশনের ম্যানেজারকে ট্রাকচাপা দিয়ে হত্যার ঘটনায় জেলার সব ফিলিং স্টেশন বন্ধ ঘোষণা করেছে নড়াইল পেট্রোল পাম্প মালিক সমিতি।
রোববার (২৯ মার্চ) দুপুরে দিকে নড়াইল পেট্রোল পাম্প মালিক সমিতির যুগ্ম আহ্বায়ক সাইফুল ইসলাম হিট্রু পাম্প বন্ধ ঘোষনার বিষযটি নিশ্চিত করেছেন। তিনি মুঠো ফোনে বলেন, তুলরামপুরে মেসার্স তানভীর ফিলিং অ্যান্ড গ্যাস স্টেশনের ম্যানেজার নাহিদ সর্দার হত্যার ঘটনায় জেলার ১০টি পাম্প এক দিনের জন্য বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে। সেই সাথে প্রকৃত দোষের অতিদ্রুত আটকের ও দাবি জানান এই নেতা ৷
উলেখ্য, নড়াইলে ট্রাকে তেল দিতে না পারায় এক পেট্রোল পাম্প ম্যানেজারকে ট্রাক চাপা দিয়ে হত্যার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় আরেক জন গুরুত্ব আহত অবস্থায় ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসার জন্য পাঠানো হয়েছে।
রবিবার ( ২৯ মার্চ) দিবাগত রাত দুইটার দিকে সদর উপজেলার তুলারামপুর ইউনিয়নের তুলারামপুর রেল ব্রিজ এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। ট্রাক চাপায় নিহত নাহিদ সরদার(৩৩) উপজেলার তুলারামপুর ইউনিয়নের পেড়লী গ্রামের আকরাম সরদারের ছেলে। এবং আহত জিহাদ মোল্যা(২৭) একই ইউনিয়নের চামরুল গ্রামের জহুর আলীর ছেলে।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, নড়াইল সদর উপজেলার যশোর-নড়াইল মহাসড়কের পাশে তুলারামপুরে অবস্থিত মেসার্স তানভীর ফিলিং অ্যান্ড গ্যাস স্টেশনে শনিবার রাত ১২টার দিকে ট্রাকের ডিজেল নিতে আসেন পেড়লী গ্রামের ট্রাক চালক সুজাত মোল্যা। পাম্পে তেল না থাকায় তেল দিতে পারেননি পাম্প ম্যানেজার নাহিদ সরদার। তেল না পেয়ে ট্রাক চালকের সাথে বাগবিতণ্ডা হয়। বাগবিতণ্ডের এক পর্যায়ে ট্রাক চালক সুজাত ম্যানেজারকে ট্রাক চাপা দিয়ে হত্যা করার হুমকি দেন।
পরে রাত দুইটার দিকে মোটরসাইকেল যোগে নিজ গ্রাম পেড়লী যাচ্ছিলেন ম্যানেজার নাহিদ ও কর্মচারী জিহাদ। পাম্প থেকে ১০০ গজ দূরে গেলে পিছন দিয়ে এসে ট্রাক চালক সুজাত তার গাড়ি লক্ষ্য করে চাপা দেয়। এতে ঘটনাস্থলে পাম্প ম্যানেজার নাহিদ সরদার মারা যান। মারাত্মক আহত অবস্থায় জিহাদ মোল্যাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়।
তানভীর ফিলিং স্টেশনের সহকারী ম্যানেজার জসীম উদ্দিন বলেন,"গতকাল রাতে সুজাত নামের এক ট্রাকচালক স্টেশনে তেল নিতে আসেন।
এ সময় তেল নেওয়ার ঘটনাকে কেন্দ্র করে ম্যানেজার নাহিদ সরদারের সঙ্গে ট্রাকচালকের বাগ্বিতণ্ডা হয়। তেল না পেয়ে ক্ষুব্ধ হয়ে চালক প্রকাশ্যে ব্যবস্থাপককে ট্রাকচাপা দিয়ে হত্যার হুমকি দেন। পাম্পের কাজ শেষ করে নাহিদ তার সহযোগীকে নিয়ে যখন বাড়ি যাচ্ছিলেন, তখন পিছন দিয়ে গিয়ে তাকে ট্রাক চাপা দেয়।"
পাম্পের আরেক কর্মচারী সোহান হোসেন জানান, ম্যানেজার নাহিদ যখন মোটরসাইকেল যোগে বাড়ি যাচ্ছিলেন তখন ট্রাক ড্রাইভার ও পাম্প থেকে গাড়ি চালিয়ে তার পিছন দিকে যাচ্ছিলেন। আমাদের মনে সন্দেহ হলে আমরা দ্রুত সামনের দিকে যাই। গিয়ে দেখি তাকে চাপা দিয়ে গাড়ি দ্রুত চলে যাচ্ছে।'
এ ঘটনায় নিহতের বাড়িতে গিয়ে দেখা যায় স্বজনের হাহাজারি আর শোকোর মাতম। হত্যাকারীকে দ্রুত আটক করে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি পরিবারের সদস্যরা। নিহতের নাহিদের ভাই আকতার সরদার বলেন, একই গ্রামে বাড়ি হলে ও হত্যাকারীদের সাথে আমাদের কোনো পূর্ব বিরোধ নেই। পাম্পে তেল নাই। সে কীভাবে দেবে। তেল দিতে না পারায় আমার ভাইকে সুজাত ট্রাক চাপা দিয়ে হত্যা করেছে। আমি এ ঘটনায় সুষ্ঠু বিচার চাই।
এ বিষয়ে জানতে অভিযুক্তের বাড়িতে গিয়ে তাকে পাওয়া যায়নি। এমনকি বাড়িতে তার কোনো পরিবারের সদস্য না থাকায় অভিযুক্তের বক্তব্য নেওয়া সম্ভব হয়নি। এ বিষয়ে তুলারামপুর হাইওয়ে পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা সেকেন্দর আলী মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, আমরা সংবাদ পেয়ে ঘটনাস্থলে যাই৷ সেখানে গিয়ে দেখি নাহিদ নামে একজন মৃত অবস্থায় রাস্তার উপর পড়ে আছে। জিহাদ মোল্যাকে অসুস্থ অবস্থায় হাসপাতালে পাঠানো হয়। পাম্প কর্তৃপক্ষের দাবি, পাম্পে তেল না পেয়ে তাকে ট্রাকে চাপা দেওয়া হয়েছে। বিষয়টি আমরা তদন্ত করে দেখছি। এবং ট্রাক চালক ও ট্রাক আটক করার জন্য আমাদের চেষ্টা অব্যাহত আছে।
যশোরের মণিরামপুরে একটি ধানের আড়ত ও গুদামে অবৈধভাবে মজুত করা প্রায় ৭০০ লিটার জ্বালানি তেল জব্দ করেছেন ভ্রাম্যমাণ আদালত। শনিবার (২৮ মার্চ) সন্ধ্যায় উপজেলার খেদাপাড়া বাজারে ভ্রাম্যমাণ আদালতের বিচারক ও সহকারী কমিশনার (ভূমি) মাহির দায়ান আমিনের নেতৃত্বে এই অভিযান পরিচালিত হয়।
ভ্রাম্যমাণ আদালত সূত্রে জানা গেছে, খেদাপাড়া বাজারের জ্বালানি তেল বিক্রেতা তবিবর রহমান ও পাশের ধান ব্যবসায়ী গোবিন্দ দাসের গুদামে প্লাস্টিকের চারটি ড্রামে এই বিপুল পরিমাণ তেল লুকিয়ে রাখা হয়েছিল। গোপন সংবাদের ভিত্তিতে বিকালে অভিযান চালানো হলে প্রথমে গোবিন্দের আড়তে ধানের স্তূপের নিচ থেকে এক ড্রাম তেল উদ্ধার করা হয়। পরে স্থানীয়দের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে তবিবরের নিজস্ব গুদাম থেকে আরও তিন ড্রাম তেল জব্দ করা হয়। তবে অভিযানের খবর পেয়ে মূল অভিযুক্ত তবিবর রহমান সটকে পড়েন।
নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মাহির দায়ান আমিন জানান, জব্দ করা তেলের মধ্যে ডিজেল, পেট্রল ও অকটেন রয়েছে। প্রাথমিকভাবে পরিমাপ না করা গেলেও ড্রামগুলোর ধারণক্ষমতা অনুযায়ী তেলের পরিমাণ আনুমানিক ৭০০ লিটার। জব্দ করা এই তেল মণিরামপুর বাজারের একটি ফিলিং স্টেশনের মাধ্যমে সরকারি নির্ধারিত মূল্যে বিক্রি করে প্রাপ্ত অর্থ রাষ্ট্রীয় কোষাগারে জমা দেওয়া হবে।
বাজারের স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, তবিবর রহমান দীর্ঘদিন ধরে সাধারণ ক্রেতাদের কাছে তেল নেই বলে ফিরিয়ে দিতেন। অথচ তিনি গোপনে ১৮০ থেকে ২০০ টাকা লিটার দরে পেট্রল ও অকটেন বিক্রি করতেন। ধানের আড়তদার গোবিন্দের সাথে সখ্যের সুবাদে তবিবর তার গুদামকে অবৈধ মজুতের নিরাপদ স্থান হিসেবে ব্যবহার করে আসছিলেন। শনিবার সকালে আড়তে ধানের নিচে ড্রাম দেখতে পেয়ে স্থানীয়রাই প্রশাসনকে খবর দেয়।
ফরিদপুর সদর উপজেলার দুটি পাম্পে অভিযান চালিয়ে ২৮ হাজার লিটার তেল উদ্ধার করা হয়েছে। এদের মধ্যে হোসেন ফিলিং স্টেশনে ‘তেল নাই’ লেখা প্লাকার্ড লাগিয়ে জ্বালানি তেল সরবরাহ বন্ধ রাখা হয়েছিল। এ অপরাধে হোসেন ফিলিং স্টেশনকে ৫০ হাজার টাকা জরিমানা করেন ভ্রাম্যমাণ আদালত।
প্রশাসন সূত্রে জানা যায়, শনিবার (২৮ মার্চ) বিকালে ফরিদপুর -খুলনা মহাসড়কের পার্শ্ববর্তী কানাইপুর বাজারে হোসেন ফিলিং স্টেশনে জ্বালানি তেল সরবরাহ না করার অভিযোগ পাওয়া যায়। এ অভিযোগে অভিযান পরিচালনা করা হয়। ওই পাম্পেই ৭০০০ লিটার পেট্রোল, ৬৫০০ লিটার অকটেন ও ১৪৫০০ লিটার ডিজেল মজুত পাওয়া যায়।
ভ্রাম্যমাণ আদালত হোসেন ফিলিং স্টেশনের ম্যানেজার সাবির চৌধুরীকে ৫০ হাজার টাকা অর্থদণ্ডে দণ্ডিত করেন। তাৎক্ষণিকভাবে ভোক্তাদের জন্য পাম্প চালু করে বাস, ট্রাক, কৃষক, প্রাইভেট কার ও মোটরসাইকেলে প্রয়োজনীয় পেট্রোলিয়াম প্রদান করার ব্যবস্থা করা হয়। এ সময় পেট্রোল পাম্প কর্তৃপক্ষ ভুল স্বীকার করে প্রার্থনা করে।
প্রশাসন জানায়, একই দিন জেলা সদরের কানাইপুর এলাকায় রয়েল ফিলিং স্টেশন থেকে ভোক্তাদের শুধু ডিজেল বিক্রি করে পেট্রোল ও অকটেন বিক্রি বন্ধ ছিল। এসময় যাচাই করে দেখা যায়, পাম্পে ৩৫০০ লিটার পেট্রোল, ৩৪০০ লিটার অকটেন ও ১৯০০০ লিটার ডিজেল রয়েছে। এ সময় পাম্পের মালিক ও ম্যানেজার মেশিনের সমস্যা উল্লেখ করে ক্ষমা প্রার্থনা করায় তাৎক্ষণিকভাবে পেট্রোল ও অকটেন সরবরাহ চালু করে ভোক্তাদের সরবরাহের ব্যবস্থা করা হয়।
ফরিদপুর সদর উপজেলা নির্বাহী অফিসার ও এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট মেশকাতুল জান্নাত রাবেয়ার নেতৃত্বে ফরিদপুর সদর উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট মো. শফিকুল ইসলাম, দীপ্ত চক্রবর্তী এবং সাকিব রহমান আকাশ এ অভিযান পরিচালনা করেন।
সদর উপজেলার সহকারী কমিশনার (ভূমি) মো. শফিকুল ইসলাম বলেন, উপজেলার বিভিন্ন পেট্রোল পাম্পে অভিযান পরিচালনা করে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে।
দিনাজপুরের বোচাগঞ্জ উপজেলার সেতাবগঞ্জ রেলস্টেশনে দোলনচাঁপা এক্সপ্রেস ট্রেনের একটি বগি লাইনচ্যুত হয়েছে। ১ নম্বর লাইনে এই দুর্ঘটনা ঘটার কারণে অন্যান্য ট্রেনগুলো স্টেশনের ২ নম্বর লাইনে চলাচল করে স্বাভাবিক রয়েছে।
রোববার (২৯ মার্চ) সকাল ৮টা ১৩ মিনিটে সেতাবগঞ্জ রেলস্টেশনে এই ঘটনা ঘটে।
সেতাবগঞ্জ স্টেশন মাস্টার মজনুর রহমান জানান, পঞ্চগড় থেকে সান্তাহারগামী দোলনচাঁপা এক্সপ্রেস ট্রেনটি ১ নম্বর লাইনে প্রবেশের সময় ‘গ’ নম্বর বগির দুটি চাকা লাইনচ্যুত হয়। বর্তমানে উদ্ধার কাজ চলমান রয়েছে।
তিনি আরও বলেন, যাত্রীদের সেবার কথা বিবেচনায় রেখে যে বগিটি লাইনচ্যুত হয়েছে, সেটি রেখে অন্যান্য বগি নিয়ে ট্রেনটি সান্তাহারে যাত্রা শুরু করবে।
দিনাজপুর স্টেশন সুপার এবিএম জিয়াউর রহমান বলেন, সেতাবগঞ্জ রেলস্টেশনে দোলনচাঁপা এক্সপ্রেস ট্রেনটি ১ নম্বর লাইনে লাইনচ্যুত হয়েছে। তবে ২ নম্বর লাইনে অন্যান্য ট্রেনের চলাচল স্বাভাবিক রয়েছে। সকালেই পঞ্চগড় থেকে একতা এক্সপ্রেস ট্রেনটি সঠিক সময় অনুযায়ী ঠাকুরগাঁও, পীরগঞ্জ, সেতাবগঞ্জ ও দিনাজপুর স্টেশন অতিক্রম করে ঢাকা অভিমুখে রওনা দিয়েছে।
উত্তরাঞ্চলের জেলাগুলোতে জ্বালানি তেলের নিরবচ্ছিন্ন সরবরাহ নিশ্চিত করতে ভারত-বাংলাদেশ ফ্রেন্ডশিপ পাইপলাইনের মাধ্যমে চলতি বছরে চতুর্থ দফায় ডিজেল সরবরাহের পাম্পিং কার্যক্রম শুরু হয়েছে। শনিবার (২৮ মার্চ) সন্ধ্যা থেকে ভারতের আসামের নুমালিগড় রিফাইনারি লিমিটেড (এনআরএল) থেকে দিনাজপুরের পার্বতীপুর রেলহেড অয়েল ডিপোর অভিমুখে এই পাম্পিং কার্যক্রম শুরু হয়।
মেঘনা পেট্রোলিয়াম লিমিটেডের ম্যানেজার (অপারেশনস) কাজী মো. রবিউল আলম জানিয়েছেন, এবারের চালানে ৭ হাজার মেট্রিক টন ডিজেল আসবে। পাম্পিং শুরু হওয়ার পর পাইপলাইনের মাধ্যমে এই তেল গন্তব্যে পৌঁছাতে ৪৮ থেকে ৭২ ঘণ্টা সময় লাগে। আশা করা হচ্ছে, আগামী ৩১ মার্চের মধ্যে পুরো ৭ হাজার মেট্রিক টন ডিজেল পার্বতীপুর রিসিপ্ট টার্মিনালে জমা হবে।
পার্বতীপুর রেলহেড অয়েল ডিপোর ইনচার্জ আহসান হাবিব জানান, এর আগে গত শুক্রবার ৫ হাজার মেট্রিক টন ডিজেল আসার প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয়েছে। এ নিয়ে চলতি বছরে চার দফায় মোট ২২ হাজার মেট্রিক টন ডিজেল এই পাইপলাইনের মাধ্যমে দেশে এলো। ভারত থেকে আসা এই জ্বালানি তেল ডিপোর পদ্মা, মেঘনা ও যমুনা— এই তিন রাষ্ট্রীয় তেল বিপণন কোম্পানির মাধ্যমে উত্তরাঞ্চলে সরবরাহ করা হচ্ছে।
উল্লেখ্য, ২০১৮ সালের ১৮ সেপ্টেম্বর ১৩১ দশমিক ৫৭ কিলোমিটার দীর্ঘ এই ভূ-গর্ভস্থ পাইপলাইন প্রকল্পের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপিত হয়। ২০২৩ সালের ১৮ মার্চ আনুষ্ঠানিকভাবে এই পাইপলাইনের মাধ্যমে ডিজেল আমদানি শুরু হয়। আগে খুলনা ও চট্টগ্রাম থেকে রেল ওয়াগনের মাধ্যমে উত্তরাঞ্চলে তেল আসতে ৬ থেকে ৭ দিন সময় লাগতো, যা এখন মাত্র কয়েক ঘণ্টায় সম্ভব হচ্ছে।
দুই দেশের চুক্তি অনুযায়ী, ভারত আগামী ১৫ বছর এই পাইপলাইনের মাধ্যমে ডিজেল সরবরাহ করবে। বর্তমানে বছরে ২ থেকে ৩ লাখ টন জ্বালানি আমদানির লক্ষ্যমাত্রা থাকলেও ভবিষ্যতে এর পরিমাণ ১০ লাখ মেট্রিক টন পর্যন্ত বৃদ্ধি করা সম্ভব বলে জানিয়েছে বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম কর্পোরেশন (বিপিসি)।
নড়াইলে ট্রাকে তেল দিতে না পারায় তানভীর ফিলিং স্টেশনের ব্যবস্থাপক নাহিদ সরদারকে (৩৩) ট্রাকচাপা দিয়ে হত্যার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় ওই ফিলিং স্টেশনের কর্মচারী জিহাদ মোল্লা (২৭) গুরুতর আহত হয়েছেন। তাকে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। শনিবার দিবাগত রাত ২টার দিকে নড়াইল সদর উপজেলার তুলারামপুর ইউনিয়নের নড়াইল-যশোর সড়কের তুলারামপুর রেল ব্রিজের কাছে এ ঘটনা ঘটে।
নিহত নাহিদ সরদার সদর উপজেলার তুলারামপুর ইউনিয়নের পেড়লী গ্রামের আকরাম সরদারের ছেলে। আহত জিহাদ একই ইউনিয়নের চামরুল গ্রামের জহুর আলীর ছেলে।
ফিলিং স্টেশনের কর্মচারী আখের আলী ও ইসরাফিল জানান, শনিবার রাত সাড়ে ১১টার দিকে নড়াইল সদর উপজেলার তুলারামপুরে নড়াইল-যশোর সড়কের পাশে অবস্থিত মেসার্স তানভীর ফিলিং অ্যান্ড গ্যাস স্টেশনে ট্রাকের জন্য ডিজেল নিতে আসেন পেড়লী গ্রামের ট্রাকচালক সুজাত মোল্লা। ফিলিং স্টেশনে তেল না থাকায় তেল দিতে অপারগতা প্রকাশ করেন ব্যবস্থাপক নাহিদ সরদার। তেল না দেওয়ায় ট্রাকচালক সুজাতের সঙ্গে বাগবিতণ্ডা হয় ব্যবস্থাপক নাহিদের। এক পর্যায়ে ট্রাকচালক সুজাত ফিলিং স্টেশনের ব্যবস্থাপককে ট্রাকচাপা দিয়ে হত্যার হুমকি দেন।
পরে রাত ২টার দিকে মোটরসাইকেলে নিজ গ্রাম পেড়লী যাচ্ছিলেন ব্যবস্থাপক নাহিদ ও কর্মচারী জিহাদ। ফিলিং স্টেশন থেকে ১০০ গজ দূরে গেলে ট্রাকচালক সুজাত মোটরসাইকেলের পেছন দিক দিয়ে এসে চাপা দেন। এতে ঘটনাস্থলে ব্যবস্থাপক নাহিদ সরদার মারা যান। মারাত্মক আহত অবস্থায় জিহাদ মোল্লাকে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। ঘটনার পর ট্রাকচালক সুজাত ট্রাক নিয়ে পালিয়ে যান।
তুলারামপুর হাইওয়ে পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা সেকেন্দার আলী বলেন, ‘বিষয়টি তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হচ্ছে। ঘটনার সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিকে আটকের জোর চেষ্টা চালানো হচ্ছে।‘
দিনাজপুর বিরামপুরে মহাসড়কের পাশে দাঁড়িয়ে থাকা বালুবাহী ট্রাকের পেছনে ঢাকাগামী স্লিপার বাসের ধাক্কায় দুইজন নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় আরও অন্তত ছয়জন যাত্রী আহত হয়েছে।
রোববার (২৯ মার্চ) সকাল ৬ টার দিকে দিনাজপুর-গোবিন্দগঞ্জ মহাসড়কের বিরামপুর চন্ডিপুর এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে।
নিহতরা হলেন- মুন্সিগঞ্জ জেলার শ্রীনগর উপজেলার খবির উদ্দিনের ছেলে মোশাররফ হোসেন বাবু ও আরেকজনের নাম পরিচয় এখনো জানা যায় নি।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, দিনাজপুর শহর থেকে যাত্রী নিয়ে হেরিটেজ স্লিপার কোচ নামে একটি যাত্রীবাহী বাস ঢাকার দিকে যাচ্ছিল। এ সময়ে চন্ডিপুর এলাকায় পৌঁছালে রাস্তার পাশে দাঁড়িয়ে থাকা একটি বালুবাহী ট্রাকে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ধাক্কা দেয়। এতে ঘটনাস্থলেই বাসের চালকের সহকারী ও এক যাত্রীর মৃত্যু হয়। সেখানে অন্তত ছয়জন যাত্রী আহত হয়। পরে স্থানীয়রা তাদের উদ্ধার করে হাসপাতালে ভর্তি করান।
বিরামপুর থানার পরিদর্শক (তদন্ত) আতাউর রহমান বলেন, সকালে সড়ক দুর্ঘটনার খবর পেয়ে দ্রুত ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে দুইজনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। তাদের একজনের নাম পাওয়া গেছে আরেকজনের পরিচয় শনাক্তের কাজ চলছে। আহতরা বিরামপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসাধীন রয়েছে।
দেশের চার জেলায় বজ্রপাতে প্রাণ গেছে পাঁচ জনের। এদের মধ্যে ঝিনাইদহের শৈলকুপা, পাবনার ভাঙ্গুড়া ও নওগাঁর পত্নীতলায় ক্ষেতে কাজ করার সময় চারজন কৃষক এবং নোয়াখালীতে গোসল করতে যাওয়ার পথে এক কিশোরের মৃত্যু হয়েছে। সংশ্লিষ্ট জেলা থেকে এসংক্রান্ত খবর পাঠিয়েছেন দৈনিক বাংলার প্রতিনিধিরা।
ঝিনাইদহ: ঝিনাইদহের শৈলকুপা উপজেলার উমেদপুর ইউনিয়নের খড়িবাড়িয়া গ্রামে বজ্রপাতে সমির বিশ্বাস (৪০) ও অপু বিশ্বাস (২২) নামের দুই কৃষকের মৃত্যু হয়েছে। আহত হয়েছেন আরও ৪ কৃষক। শনিবার বেলা ১২ টার দিকে খড়িবাড়িয়া গ্রামের দক্ষিণ মাঠে এ ঘটনা ঘটে। মৃত সমির মৃত সমির ওই গ্রামের সুশিল বিশ্বাস ও অপু ওই এলাকার প্রকাশ বিশ্বাসের ছেলে।
স্থানীয়রা জানায়, সমির বিশ্বাস তার বাবার সঙ্গে মাঠে পেঁয়াজ তোলার কাজ করছিলেন। একই সময়ে পাশের ক্ষেতে কাজ করছিলেন প্রকাশ বিশ্বাসের ছেলে অপু বিশ্বাসসহ আরও কয়েকজন। হঠাৎ বজ্রপাত হলে তারা গুরুতর আহত হন।
আহতদের শৈলকূপা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিলে চিকিৎসক সমির বিশ্বাস ও অপু বিশ্বাসকে মৃত ঘোষণা করেন। আহতদের মধ্যে দুজনকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
শৈলকূপা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের চিকিৎসক ডা. এহেতাম শহীদ জানান, দুপুর ১২টা ১৫ মিনিটের দিকে আশঙ্কাজনক অবস্থায় আহতদের হাসপাতালে আনা হয়। চিকিৎসাধীন অবস্থায় দুপুর ১২টা ২০ মিনিটে সমির ও অপু মারা যান।
ভাঙ্গুড়া (পাবনা): পাবনার ভাঙ্গুড়ায় বজ্রপাতে সুরুজ(৩৫) নামে এক কৃষকের মৃত্যু হয়েছে। সুরুজ উপজেলার খানমরিচ ইউনিয়নের পরমান্দপুর গ্রামের মৃত গোলবারের ছেলে। শনিবার ভোরে মাগুরা জেলার ছাচলাপুর এলাকায় ভরে মাঠে পিয়াজ তুলতে গিয়ে ক্ষেতে এ ঘটনা ঘটে।
স্থানীয় ও পরিবার সূত্রে জানা যায় ভোরে সুরুজসহ আরো কয়েকজন কৃষক পিয়াজ তুলতে গিয়ে এ ঘটনা ঘটে অন্যরা সবাই সুস্থ আছেন বলে জানাযায়। সুরুজ কে হাসপাতালে নেওয়ার পথে মৃত্যু হয়। খানমরিচ ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মনোয়ার হোসেন খান মিঠু ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন ভোরে পিঁয়াজ তুলতে গিয়ে বজ্রপাতে সুরুজের মৃত্যু হয় বাকি সবাই সুস্থ আছে। তিনি আরো বলেন শোকার্ত পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনা জ্ঞাপন করেন।
নওগাঁ: শুক্রবার রাত থেকেই আকাশ মেঘাচ্ছন্ন ছিল। বৃষ্টিপাতের পাশাপাশি ঝড়ো হাওয়া বইছিল। ঝড়-বাতাসের মধ্যেই শিহারা ইউনিয়নের তেপুকুরিয়া ফসলের মাঠে নামেন আশরাফ আলীসহ ৫ কৃষক। ওই সময়ে আকস্মিক বজ্রপাতে ৫ জন আহত হন। স্থানীয়রা তাৎক্ষণিক তাদেরকে উদ্ধার করে জেলার সাপাহার উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়ার পথে আশরাফ আলীর মৃত্যু হয়।
পত্নীতলা থানার ওসি মোহাম্মদ আসাদুজ্জামান বলেন, মাঠে গম কাটতে গিয়ে বজ্রপাতে কৃষক আশরাফের মৃত্যু হয়েছে। আহত বাকি চারজন পার্শ্ববর্তী সাপাহার উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। আইনি প্রক্রিয়া শেষে মরদেহটি নিহতের স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।
নোয়াখালী: নোয়াখালীর বিচ্ছিন্ন দ্বীপ হাতিয়ায় বজ্রপাতে মো. জিহাদ উদ্দিন ওরফে রিয়াদ নামে (১৬) এক কিশোরের মৃত্যু হয়েছে। শনিবার বিকেলের দিকে উপজেলার হাতিয়া পৌরসভার ২ নম্বর ওয়ার্ডের চরকৈলাশ গ্রামের তাহের মিস্ত্রি বাড়িতে এ ঘটনা ঘটে।
নিহত জিহাদ উদ্দিন একই পৌরসভার ২ নম্বর ওয়ার্ডের তাহের মিস্ত্রি বাড়ির মো. বেলাল উদ্দিনের ছেলে। তিনি পেশায় একজন ইটভাটার শ্রমিক ছিলেন।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, দুপুর থেকে হাতিয়া পৌরসভা এলাকায় আকাশ কিছুটা মেঘলা ছিল। বিকেলের দিকে জিহাদ গোসল করার জন্য বসতঘর থেকে বের হয়। ওই সময় বসতঘরের পাশেরই একটি রাজকড়ই গাছের নিচে দাঁড়ানো ছিলেন তিনি। তখন আকস্মিক বজ্রপাতে তার মৃত্যু হয়।
তাৎক্ষণিক বাড়ির লোকজন তাকে উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
এ বিষয়ে হাতিয়া থানার উপপরিদর্শক (এসআই) প্রতীক পাল বলেন, খবর পেয়ে সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে। গোসল করতে যাওয়ার পথে বজ্রপাতে ওই কিশোরের মৃত্যু হয়।
মানিকগঞ্জে নেশার টাকা জোগাতে অটোবাইক ছিনতাইয়ের উদ্দেশে এক অটোচালককে গলা কেটে হত্যার ঘটনায় তিনজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)। তদন্তে জানা গেছে, নিহত ব্যক্তি নিজের পরিচিত বন্ধুদের হাতেই খুন হয়েছেন।
নিহত রফিক মিয়া (২৮) ঘিওর উপজেলার রাথুরিয়া গ্রামের বাসিন্দা ও পেশায় অটোচালক ছিলেন। তিনি ২৪ মার্চ অটোবাইক নিয়ে বাড়ি থেকে বের হওয়ার পর নিখোঁজ হন। পরদিন নদী থেকে মরদেহ উদ্ধারের পর পরিবারের সদস্যরা এসে তাকে শনাক্ত করেন। ঘটনার পরপরই পিবিআই ছায়া তদন্ত শুরু করে। প্রযুক্তির সহায়তায় জড়িতদের শনাক্ত করে প্রথমে রিপন মিয়াকে ধামরাইয়ের কালামপুর এলাকা থেকে গ্রেপ্তার করা হয়। পরে তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে আরমান হোসেন ও সজিব মিয়াকে গ্রেপ্তার করা হয়।
শনিবার সকালে পিবিআই কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানান পিবিআইয়ের পুলিশ সুপার জয়ীতা শিল্পী।
পুলিশ সুপার জয়িতা শিল্পী বলেন, নিহত রফিক ও নির্মাণশ্রমিক রিপন বন্ধু ছিলেন। ইজিবাইকটি ছিনিয়ে নিয়ে বিক্রি করার উদ্দেশে তাকে হত্যার পরিকল্পনা করেন রিপন। মঙ্গলবার সন্ধ্যার পর গাঁজা খাওয়ার কথা বলে রফিককে ইজিবাইকে করে পাছবারইল এলাকায় কালীগঙ্গা নদীর পাড়ে নিয়ে যান রিপন এবং তার সহযোগী সজীব ও আরমান। পরে আরমান রফিকের মাথায় হাতুড়ি দিয়ে আঘাত করলে তিনি মাটিতে লুটিয়ে পড়েন। এরপর রিপন দা দিয়ে তার গলা কেটে শরীর থেকে মাথা আলাদা করেন। এ সময় আরমান রফিকের দুই হাত এবং সজীব তার দুই পা ধরে রাখেন। হত্যার পর মাথা ও শরীর নদীতে ফেলে দেন তারা। মাথা পানিতে ডুবে গেলেও শরীর ভেসে ওঠে। পরে রফিকের পেট কেটে নদীতীরে মাটিচাপা দেওয়া হয়। পরদিন বুধবার ভোরে রফিকের ইজিবাইক নিয়ে রিপন সাভারে চলে যান। পরে বিকেলে নদীর তীর থেকে মাথাবিহীন লাশ উদ্ধার করে পুলিশ।
পুলিশ সুপার আরও বলেন, গত বৃহস্পতিবার দুপুরে প্রযুক্তির সহায়তায় ঢাকার ধামরাই উপজেলার কালামপুর বাজার এলাকা থেকে রিপনকে গ্রেপ্তার করে পিবিআইয়ের একটি দল। তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে আরমান ও সজীবকে গ্রেপ্তার করা হয়। তাদের তথ্য অনুযায়ী কালামপুরের একটি গ্যারেজ থেকে ইজিবাইকটি উদ্ধার করা হয়।
পুলিশ সুপার বলেন, নিহত যুবকের মাথা উদ্ধারে ডুবুরি দল দিয়ে ঘটনাস্থলে তল্লাশি চালানো হয়েছে। তবে এখনো মাথা উদ্ধার করা সম্ভব হয়নি এবং অভিযান অব্যাহত রয়েছে। গ্রেপ্তার আসামিরা হত্যাকাণ্ডে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেছেন। ইজিবাইক ছিনিয়ে নেওয়ার জন্যই এই মর্মান্তিক হত্যাকাণ্ড ঘটানো হয়েছে বলে তারা জানিয়েছেন।