রোববার, ১৯ জুলাই ২০২৬
৪ শ্রাবণ ১৪৩৩

সাজেদা চৌধুরীর আসনে উপনির্বাচন ৫ নভেম্বর

সোমবার নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করে নির্বাচন কমিশন। ছবি : সংগৃহীত
প্রতিবেদক,
প্রকাশিত
প্রতিবেদক,
প্রকাশিত : ২৬ সেপ্টেম্বর, ২০২২ ১৬:০৮

আওয়ামী লীগের সভাপতিমন্ডলীর প্রয়াত সদস্য ও সংসদ উপনেতা সৈয়দা সাজেদা চৌধুরীর নির্বাচনী এলাকা ফরিদপুর-২ শূন্য আসনে উপনির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে আগামী ৫ নভেম্বর।

নির্বাচন কমিশন (ইসি) আজ সোমবার এই তফসিল ঘোষণা করেছে।

ইসি ঘোষিত তফসিল অনুযায়ী মনোনয়নপত্র দাখিলের শেষ সময় ১০ অক্টোবর, মনোনয়নপত্র বাছাই ১২ অক্টোবর ও প্রার্থিতা প্রত্যাহারের শেষ সময় ১৯ অক্টোবর। মনোনয়নপত্র বাছাইয়ের সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে আপিল দায়ের ১৩ থেকে ১৫ অক্টোবর এবং আপিল নিষ্পত্তি ১৬ থেকে ১৮ অক্টোবর।

ইলেকট্রনিক ভোটিং মেশিনের (ইভিএম) মাধ্যমে সকাল ৮টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত এই আসনে উপনির্বাচনে ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে বলে নির্বাচন কমিশন সূত্র জানিয়েছে।

ফরিদপুর-২ আসনের সংসদ সদস্য জাতীয় সংসদের উপনেতা সৈয়দা সাজেদা চৌধুরী গত ১২ সেপ্টেম্বর রাতে ঢাকার সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালে মারা গেছেন।


বিলুপ্তপ্রায় ‘রেংমিটচ্য’ ভাষাভাষী ৬ জনের মধ্যে একজনের মৃত্যু

ছবি: দৈনিক বাংলা
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
দৈনিক বাংলা ডেস্ক

বান্দরবানের বিলুপ্তপ্রায় রেংমিটচ্য ভাষা জানা ছয়জনের একজন মারা গেছেন। বর্তমানে এ ভাষায় কথা বলতে পারেন মাত্র পাঁচজন। তাদের মধ্যে ষাটোর্ধ্ব বয়সী দুজনও অসুস্থ বলে জানিয়েছেন ভাষাটির গবেষক আফসানা ফেরদৌস আশা।

মারা যাওয়া রেংমিটচ্যভাষী হলেন মাওয়াই ম্রো (৬৪)। তিনি বান্দরবানের নাইক্ষ্যংছড়ি উপজেলার দুর্গম সাংপ্লং পাড়ার বাসিন্দা ছিলেন। তার অন্য দুই ভাই হলেন মাংপুং ম্রো (৭৪) ও রেংপুং ম্রো (৭০)। বর্তমানে এই দুই ভাইও অসুস্থ। তিনজনই আলাদা জায়গায় বসবাস করতেন।

বান্দরবানের আলীকদমের দুর্গম এলাকায় ম্রো জনগোষ্ঠীর একটি গোত্রের মাতৃভাষা রেংমিটচ্য। ছড়িয়ে-ছিটিয়ে আরও কিছু মানুষ এ ভাষা বুঝতে পারলেও সাবলীলভাবে কথা বলতে পারেন মাত্র পাঁচজন। তারা হলেন— আলীকদম সদর ইউনিয়নের ক্রাংসি পাড়ার বাসিন্দা মাংপুং ম্রো (৭৪), কুনরাও ম্রো (৬১), আরেক কুনরাও ম্রো (৭৪), নয়াপাড়া ইউনিয়নের মেনসিং পাড়ার বাসিন্দা থোয়াই লক ম্রো (৬০) এবং নাইক্ষ্যংছড়ি ইউনিয়নের ওয়াইবট পাড়ার বাসিন্দা রেংপুং ম্রো (৭০)। এর মধ্যে কুনরাও ম্রো নামে দুজনই নারী, বাকিরা পুরুষ। ভাষা বিশেষজ্ঞদের আশঙ্কা, অবশিষ্ট বক্তারাও মারা গেলে পৃথিবী থেকে চিরতরে হারিয়ে যাবে রেংমিটচ্য ভাষা।

বর্তমানে আয়ারল্যান্ডের ট্রিনিটি কলেজ ডাবলিনে রেংমিটচ্য ভাষার তথ্যচিত্র (ডকুমেন্টেশন) নিয়ে পিএইচডি গবেষণা করছেন আফসানা ফেরদৌস আশা। তিনি জানান, আলীকদম উপজেলার তৈনখালের ক্রাংসি পাড়ার কয়েকজন ম্রো বাসিন্দা সম্প্রতি তাকে ফোন করে মাওয়াই ম্রোর মৃত্যুর খবর জানান।

তিনি আরও জানান, গত ৫ মে দুপুর ১২টার দিকে মাওয়াই ম্রো মারা যান। সে সময় মোবাইল নেটওয়ার্ক দুর্বল থাকায় তিনি বিষয়টি বিস্তারিত জানতে পারেননি।

গবেষণার কাজে গত বছর টানা সাত মাস আলীকদমে ছিলেন আফসানা ফেরদৌস আশা। সে সময় ছড়িয়ে-ছিটিয়ে থাকা ছয়জন রেংমিটচ্যভাষীকে নতুন করে খুঁজে বের করে তাদের ভাষার তথ্যচিত্র সংগ্রহ করেন তিনি।

তাদের সঙ্গে কাজের অভিজ্ঞতা তুলে ধরে আফসানা ফেরদৌস আশা গণমাধ্যমকে বলেন, মাংওয়াই ম্রো অনেক দিন ধরে অসুস্থ ছিলেন। তার লিভারের সমস্যা ছিল। গত বছর টাইফয়েডও হয়েছিল। পেইন কিলার ঔষধ খেয়ে থাকতেন তিনি। অবশেষে মারা যাওয়ার খবর পেলাম। খবরটা পাওয়ার পর থেকে ছুটি কাটাই না। দিন-রাত কাজ করি। আরেকজন চলে গেলে মানতে কষ্ট হবে।

তিনি আরও বলেন, গত বছর মাংওয়াই ম্রোকে অনেক কষ্ট করে নাইক্ষ্যংছড়ি থেকে আলীকদমের তৈনখালের ক্রাংসি পাড়ায় নিয়ে এসেছিলাম। তিন ভাইকে এক জায়গায় জড়ো করেছিলাম। তারা খুব খুশি হয়েছিলেন। অনেক বছর পর আমার জন্য দেখা হয়েছে তাদের। মাংওয়াই ম্রো তখন তিন-চারদিন ছিলেন ক্রাংসি পাড়ায়। পরে নাইক্ষ্যংছড়িতে তার পাড়ায় পৌঁছে দেওয়ার ব্যবস্থা করেছিলাম।

আফসানা জানান, রেংমিটচ্য ভাষা নিয়ে একটি বই প্রকাশের কাজও চলছে। তিনি বলেন, আমি যতটুকু পারি কাজ করে যাচ্ছি। রেংমিটচ্য ভাষা নিয়ে ১৫০০ শব্দের একটি বইয়ের ড্রাফট তৈরি হয়েছে। জীবিত যে কজন আছেন, তাদের সঙ্গে বসে আরেকবার সংশোধন করা বাকি আছে শুধু।

এর আগে, বিলুপ্তপ্রায় রেংমিটচ্য ভাষা সংরক্ষণের উদ্যোগ হিসেবে ওই ভাষার দৈনন্দিন কথোপকথন নিয়ে ‘মিটচ্য তখক’ নামে একটি বই প্রকাশ করেন ম্রো ভাষার লেখক ও গবেষক ইয়াংঙান ম্রো। রেংমিটচ্য ভাষার নিজস্ব লিপি না থাকায় বইটি ম্রো ও বাংলা ভাষায় প্রকাশ করা হয়। ২৮ পৃষ্ঠার বইটিতে তিন হাজারের বেশি শব্দ সংকলিত হয়েছে।

বইটি প্রকাশের সময় ইয়াংঙান ম্রো বলেছিলেন, সবার একটা আশঙ্কা, এই ভাষার ছয়জন মানুষ মারা গেলে চিরতরের জন্য বিলুপ্ত হয়ে যাবে রেংমিটচ্য ভাষাটি। এই ভাষায় কথা বলা ও চর্চা করা মানুষ আর কেউ থাকবে না। হয়ত চিরতরে হারিয়ে যাওয়ার আগে স্মৃতিস্মারক হিসেবে এই বইগুলো বেঁচে থাকবে।

তিনি আরও বলেন, বিভিন্ন সময় এই ভাষা নিয়ে কাজ করার সময় তাদের দৈনন্দিন জীবনের কথোপকথনগুলো সংগ্রহ করে রেখেছি। মূলত এই বইয়ে সেগুলোই তুলে ধরা হয়েছে।

তবে আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা ইনস্টিটিউট জানিয়েছে, বিপন্নপ্রায় এ ভাষার তথ্যচিত্র (ডকুমেন্টেশন) সংরক্ষণের মাধ্যমে ভাষাটিকে ভবিষ্যৎ গবেষণার জন্য টিকিয়ে রাখার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। এছাড়া কয়েকজন গবেষকের ধারণা, রেংমিটচ্যভাষীরা মূলত একটি স্বতন্ত্র জনগোষ্ঠী। পরে ম্রো ভাষার সঙ্গে কিছুটা মিল থাকায় তারা ম্রোদের সঙ্গে মিশে তাদের পদবি গ্রহণ করেছেন।


গণপরিবহন আধুনিকায়নে ১,৪০০ বৈদ্যুতিক বাস চালুর পরিকল্পনা

ফাইল ছবি
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
দৈনিক বাংলা ডেস্ক

দেশের গণপরিবহন ব্যবস্থাকে আরও আধুনিক, পরিবেশবান্ধব ও টেকসই করতে প্রায় ১ হাজার ৪০০টি বৈদ্যুতিক (ইভি) বাস চালুর পরিকল্পনা নিয়েছে সরকার। এ পরিকল্পনার আওতায় সারাদেশে সার্বজনীন ইভি চার্জিং অবকাঠামো গড়ে তোলা এবং মনোরেলসহ নতুন গণপরিবহন ব্যবস্থা চালুর উদ্যোগও নেওয়া হচ্ছে।

গণমাধ্যমকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগের সচিব ড. মোহাম্মদ জিয়াউল হক বলেন, জীবাশ্ম জ্বালানির ওপর নির্ভরশীলতা কমিয়ে দেশের পরিবহন ব্যবস্থাকে আরো পরিচ্ছন্ন, নিরাপদ ও কার্যকর করে তুলতেই এসব উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

তিনি বলেন, দেশের ইতিহাসে সবচেয়ে বড় বৈদ্যুতিক বাস বহর গড়ে তুলতে সরকার একাধিক প্রকল্প বাস্তবায়ন করছে।

তিনি জানান, ৫০০টি বৈদ্যুতিক বাস কেনার একটি প্রস্তাব অর্থায়নের জন্য প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। এছাড়া, দক্ষিণ কোরিয়ার সহায়তায় বাস্তবায়নাধীন ৩০০টি বৈদ্যুতিক বাসের কর্মসূচিতে বাসের সংখ্যা বাড়ানোর লক্ষ্যে প্রকল্পটি সংশোধনের কাজ চলছে।

এ ছাড়া, বিশ্বব্যাংকের সহায়তায় ৪০০টি বৈদ্যুতিক বাস কেনার একটি প্রকল্প অনুমোদনের অপেক্ষায় রয়েছে।

বৈদ্যুতিক বাস ক্রয়ের প্রক্রিয়াকে আরো গতিশীল করতে সরকার ৪০০ কোটি টাকা করে দুটি পৃথক ক্রয় প্যাকেজও যুক্ত করেছে। এ কর্মসূচির আওতায় নারী যাত্রীদের জন্য একটি বিশেষ বাস বহর থাকবে, যেখানে বাসের সংখ্যা প্রাথমিক লক্ষ্যমাত্রা ১০০টিরও বেশি হবে।

সচিব বলেন, ‘সব মিলিয়ে এই উদ্যোগগুলো বাস্তবায়িত হলে দেশের গণপরিবহন ব্যবস্থায় প্রায় ১ হাজার ৪০০টি বৈদ্যুতিক বাস যুক্ত করা সম্ভব হবে।’

তিনি জানান, চলতি বছরের ডিসেম্বর অথবা আগামী বছরের শুরুর দিকে নির্বাচিত কিছু রুটে এর দৃশ্যমান প্রভাব দেখা যাবে বলে সরকার আশা করছে। প্রাথমিকভাবে অন্তত ২০০টি বৈদ্যুতিক বাস চালুর লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে।

এই রূপান্তরকে সফল করতে সরকার একই সঙ্গে সারাদেশে কারিগরি মানদণ্ডের ভিত্তিতে একটি সার্বজনীন চার্জিং অবকাঠামো গড়ে তুলছে।

সচিব বলেন, চার্জিং স্টেশনগুলো কোনো একটি নির্দিষ্ট প্রতিষ্ঠানের জন্য সীমাবদ্ধ থাকবে না, যার ফলে একটি সাধারণ চার্জিং ব্যবস্থার আওতায় বেসরকারি অপারেটররাও এসব সুবিধা ব্যবহার করতে পারবেন।

বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন করপোরেশন (বিআরটিসি) দেশের ৬৪টি জেলায় তাদের নিজস্ব জমিতে চার্জিং স্টেশন স্থাপনের পরিকল্পনা করেছে। অতিরিক্ত সক্ষমতা থাকলে এসব স্টেশন বাণিজ্যিক ভিত্তিতে বেসরকারি অপারেটরদের জন্যও উন্মুক্ত করা হবে।

বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয় (বুয়েট) এবং মিলিটারি ইনস্টিটিউট অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি (এমআইএসটি)-এর বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে গঠিত একটি কারিগরি কমিটি বৈদ্যুতিক বাসের জন্য অভিন্ন কারিগরি মানদণ্ড প্রণয়ন করছে। এতে ব্যাটারি ব্যবস্থা, চার্জিং প্রযুক্তি এবং যান্ত্রিক সহায়তার বিষয়গুলো অন্তর্ভুক্ত থাকবে, যাতে বিভিন্ন নির্মাতা ও পরিচালকের যানবাহনের মধ্যে সামঞ্জস্য বজায় থাকে।

প্রাথমিকভাবে এসব মানদণ্ড বাসের জন্য প্রযোজ্য হলেও পরবর্তীতে তা বৈদ্যুতিক মিনিবাস ও ট্রাকের ক্ষেত্রেও সম্প্রসারণ করা হবে, যা সরকারের বৃহত্তর পরিবহন বিদ্যুতায়ন কর্মসূচির অংশ। বৈদ্যুতিক বাসের পাশাপাশি যেসব রুটে মেট্রোরেল সবচেয়ে উপযুক্ত বিকল্প নয়, সেখানে বিকল্প গণপরিবহন হিসেবে মনোরেল চালুর সম্ভাবনাও যাচাই করছে সরকার।

সচিব বলেন, সম্ভাব্য মনোরেল রুট এবং এর কারিগরি সম্ভাব্যতা মূল্যায়নের দায়িত্ব বুয়েট-কে দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি পরিবহন বিশেষজ্ঞ ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সঙ্গে আলোচনা শেষে বাস র‌্যাপিড ট্রানজিট (বিআরটি) ব্যবস্থা নিয়ে একটি সমন্বিত উপস্থাপনা প্রস্তুত করা হচ্ছে।

তিনি বলেন, বাংলাদেশ এখনো বৈদ্যুতিক যানবাহন প্রযুক্তি গ্রহণের প্রাথমিক পর্যায়ে রয়েছে এবং এ খাতে পর্যাপ্ত দেশীয় দক্ষতা এখনো গড়ে ওঠেনি।

বেসরকারি বাস মালিকদের বৈদ্যুতিক বাসে বিনিয়োগে উৎসাহিত করতে সরকার নির্দিষ্ট ক্ষেত্রে কর ছাড়সহ বিভিন্ন আর্থিক প্রণোদনা দেওয়ার পরিকল্পনা করছে। তবে, অনেক বেসরকারি পরিবহন অপারেটর বিনিয়োগের আগে বিআরটিসির প্রাথমিক বৈদ্যুতিক বাস বহরের কার্যকারিতা পর্যবেক্ষণ করতে চাইছেন।

এছাড়া, বৈদ্যুতিক বাস প্রযুক্তির তুলনামূলক বেশি ব্যয় এবং যাত্রীদের জন্য সাশ্রয়ী ভাড়া-এই দুইয়ের মধ্যে ভারসাম্য বজায় রাখতে ভর্তুকি ব্যবস্থা ও ভাড়ার কাঠামো নিয়ে অর্থ মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে আলোচনা চলছে।

ড. জিয়াউল হক বলেন, আধুনিক, পরিবেশবান্ধব ও যাত্রীবান্ধব গণপরিবহণ ব্যবস্থা গড়ে তোলার দীর্ঘমেয়াদি কৌশলের অংশ হিসেবে সরকার ব্যাটারিচালিত থ্রি-হুইলার নিয়ন্ত্রণ এবং মহাসড়ক ব্যবস্থাপনার উন্নয়নসহ পরিবহনের অন্যান্য বৃহত্তর সমস্যাগুলো সমাধানের কাজ অব্যাহত রাখবে।


ট্রল-অপবাদ দিয়ে দায়িত্ব থেকে বিচ্যুত করা যাবে না: শিক্ষামন্ত্রী

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নওগাঁ প্রতিনিধি

শিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন বলেছেন, ট্রল বা অপবাদ দিয়ে সরকারকে দায়িত্ব থেকে বিচ্যুত করা যাবে না। তিনি বলেন, ‘যে যত ট্রলই করুন, যে যত অপবাদই দিন না কেন, আমাদের সঠিক দায়িত্ব থেকে বিচ্যুত করতে পারবেন না। আমরা এ জাতিকে সুশিক্ষিত করার দায়িত্ব নিয়ে এসেছি।’

শনিবার (১৮ জুলাই) দুপুরে নওগাঁ সদর উপজেলা অডিটরিয়ামে নওগাঁ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষা কার্যক্রমের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে শিক্ষামন্ত্রী এসব কথা বলেন। এর আগে শহরের বরুনকান্দি এলাকায় বিশ্ববিদ্যালয়ের অস্থায়ী ক্যাম্পাসে ফলক উন্মোচনের মাধ্যমে শিক্ষা কার্যক্রমের উদ্বোধন করেন তিনি।

সম্প্রতি এইচএসসি পরীক্ষা ঘিরে আন্দোলনের প্রসঙ্গ তুলে শিক্ষামন্ত্রী বলেন, ‘আমাকে নিয়ে যারা ট্রল করেছে, তারা কেউ পরীক্ষার্থী নয়। সিটি কলেজ, আইডিয়াল কলেজ, ভিকারুননিসার মতো প্রতিষ্ঠানের কাউকে দেখিনি আন্দোলন করতে।’ তিনি আরও বলেন, ‘স্পষ্টভাবে বলতে চাই, আমরা এসেছি, এই জাতিকে সুশিক্ষিত করার দায়িত্ব পেয়েছি। যে যত ট্রলই করেন না কেন, যে যত অপবাদই করেন না কেন, আমাদের সঠিক দায়িত্ব থেকে আপনারা বিচ্যুত করতে পারবেন না। শিক্ষা ভাবনাকে বাদ দিয়ে যারা উচ্ছৃঙ্খল কথা বলে সমাজকে উসকানি দিতে চায়, আমাদের এই তরুণ প্রজন্ম তাদের ব্যর্থ করে দেবে।’

শিক্ষামন্ত্রী বলেন, ‘২০০১ সাল থেকে ২০০৬ সাল। বেগম খালেদা জিয়ার নেতৃত্বে এই মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্ব পেয়েছিলাম। আজকে তারই জ্যেষ্ঠ সন্তান তারেক রহমানের অধীনে আমি দায়িত্ব পালন করছি। কী করে ভাবতে পারেন, অন্যায়কে প্রশ্রয় দিতে আমাকে নির্দেশ দেওয়া হবে? নিশ্চয়ই না। আপনারা আপনাদের দায়িত্বে অটল থাকুন। লেখাপড়া আমাদের করতেই হবে এবং তার মান আমাদের উন্নয়ন করতেই হবে।’ সম্প্রতি কুমিল্লায় এইচএসসি পরীক্ষা চলাকালে জলাবদ্ধতার কারণে পরীক্ষা এক ঘণ্টা পিছিয়ে দেওয়ার সিদ্ধান্তের ব্যাখ্যা দিয়ে শিক্ষামন্ত্রী বলেন, পরীক্ষার্থীদের স্বার্থেই মানবিক বিবেচনায় ওই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছিল।

একই সঙ্গে প্রশ্নফাঁসের গুজব ছড়ানোর বিষয়ে মন্ত্রী গণমাধ্যমকে আরও দায়িত্বশীল ভূমিকা পালনের আহ্বান জানান। পরীক্ষা পদ্ধতি নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিভ্রান্তিকর প্রচারণার সমালোচনা করে তিনি বলেন, পরীক্ষা ছাড়া মেধার মূল্যায়ন ও সনদ প্রদান সম্ভব নয়।

এহছানুল হক মিলন বলেন, পৃথিবীর বিভিন্ন প্রান্ত থেকে মানুষ পড়াশোনা করতে আসবে বাংলাদেশে সেভাবেই বিশ্ববিদ্যালয় তৈরি করা হচ্ছে। বাংলাদেশের শিক্ষার্থীরা অনেক মেধাবী। দক্ষ মানবসম্পদ গড়ে তুলতে আধুনিক ও কর্মমুখী শিক্ষাব্যবস্থার বিকল্প নেই। সেই লক্ষ্যেই সরকার উচ্চশিক্ষাকে নতুন কাঠামোয় এগিয়ে নিতে কাজ করছে।

শিক্ষামন্ত্রী আরও বলেন, অর্থনৈতিক সীমাবদ্ধতা এবং অতীতের নানা অনিয়মের প্রভাব থাকা সত্ত্বেও সরকার শিক্ষা খাতে বরাদ্দ উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি করেছে। শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের বাজেট ৮৭ হাজার কোটি টাকা থেকে ১ লাখ ৩৬ হাজার কোটি টাকায় উন্নীত করা হয়েছে। ভবিষ্যতে জাতীয় আয়ের (জিডিপি) ৫ শতাংশ শিক্ষা খাতে বরাদ্দ নিশ্চিত করার লক্ষ্য নিয়ে সরকার কাজ করছে।

নওগাঁ বিশ্ববিদ্যালয়ের যাত্রাকে উচ্চশিক্ষার নতুন সম্ভাবনা হিসেবে উল্লেখ করে শিক্ষামন্ত্রী বলেন, প্রাথমিকভাবে ৮০ শিক্ষার্থী নিয়ে শিক্ষা কার্যক্রম শুরু হলেও দ্রুত বিশ্ববিদ্যালয়টিকে নিজস্ব ক্যাম্পাসে স্থানান্তরের উদ্যোগ নেওয়া হবে। একই সঙ্গে স্থানীয় চাহিদা বিবেচনায় বিশ্ববিদ্যালয়ে আন্তর্জাতিক মানের ‘স্কুল অব এগ্রিকালচার’ প্রতিষ্ঠার প্রয়োজনীয়তার কথাও তুলে ধরেন তিনি। সেশনজট কমাতে ২০২৭ সাল থেকে জানুয়ারিতে এসএসসি এবং মার্চে এইচএসসি পরীক্ষা নেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে বলেও জানান মন্ত্রী।

নওগাঁ বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ হাছানাত আলীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম, বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের (ইউজিসি) চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. মামুন আহমেদ, ইউজিসির সদস্য অধ্যাপক ড. আব্দুল্লাহ আল মামুন, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. ফরিদুল ইসলাম, জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য ড. এ এস এম আমানুল্লাহ, মাধ্যমিক উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তরের পরিচালক অধ্যাপক ড. খান মঈনুদ্দিন আল মাহমুদ সোহেল, নওগাঁ-২ আসনের সংসদ সদস্য ইঞ্জিনিয়ার এনামুল হক, নওগাঁ-৩ আসনের সংসদ সদস্য ফজলে হুদা বাবুল, নওগাঁ-৪ আসনের সংসদ সদস্য ইকরামুল বারী টিপু, নওগাঁ-৫ আসনের সংসদ সদস্য জাহিদুল ইসলাম ধলু, নওগাঁ-৬ আসনের সংসদ সদস্য শেখ মোহাম্মদ রেজাউল ইসলাম, নওগাঁ জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ সাইফুল ইসলাম, পুলিশ সুপার মোহাম্মদ তারিকুল ইসলাম বক্তব্য দেন।

এ সময় প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, শিক্ষাবিদ, রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ, শিক্ষক-শিক্ষার্থী অতিথিরা উপস্থিত ছিলেন।

প্রসঙ্গত, ২০২৩ সালে প্রতিষ্ঠিত হওয়ার পর ২০২৫ সালের ৩ ডিসেম্বর বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের (ইউজিসি) এক সভায় নওগাঁ বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষকে দুটি বিভাগ খোলার অনুমোদন দেওয়া হয়। অনুমোদন পাওয়া বিভাগ দুটি হলো আইন অনুষদের অধীন আইন বিভাগ ও বিজনেস স্টাডিজ অনুষদের অধীন অ্যাকাউন্টিং অ্যান্ড ইনফরমেশন বিভাগ। ২০২৫-২৬ শিক্ষাবর্ষে ওই দুই বিভাগে ইতোমধ্যে শিক্ষার্থী ভর্তি কার্যক্রম সম্পন্ন হয়। আনুষ্ঠানিক উদ্বোধনের পর বিশ্ববিদ্যালয়টিতে পাঠদান কার্যক্রম শুরু হতে যাচ্ছে।


রাজধানীর ৫০ স্পটে অটোমেটিক ট্রাফিক লাইন ব্যবস্থা চালুর নির্দেশ

ফাইল ছবি
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

রাজধানীর আরও ৫০টি স্পটে অটোমেটিক ট্রাফিক লাইন ব্যবস্থা দ্রুত সময়ের মধ্যে চালুর নির্দেশ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। শনিবার (১৮ জুলাই) তেজগাঁওয়ে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে পরিবেশ দূষণবিষয়ক এক বৈঠকে তিনি এই নির্দেশনা দিয়েছেন বলে তথ্য দিয়েছে তার কার্যালয়ের প্রেস উইং।

বৈঠকে বায়ু ও শব্দ দূষণ প্রতিরোধে বিভিন্ন পদক্ষেপ, ইটভাটার সৃষ্ট বায়ুদূষণ রোধে পরিবেশ বান্ধব বিকল্প প্রযুক্তি ব্যবহার করে ইট উৎপাদন, ঢাকায় যানবাহনের হর্নের অতিরিক্ত ব্যবহার নিয়ন্ত্রণে ট্রাফিক ব্যবস্থাপনায় ব্যবহৃত এআই ক্যামেরার মতো হর্ন নিয়ন্ত্রণেও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) প্রযুক্তির ব্যবহার, সড়ক থেকে ফিটনেসবিহীন, মেয়াদোত্তীর্ণ এবং পরিবেশ দূষণকারী বাস, ট্রাক ও অন্যান্য যানবাহন দ্রুত অপসারণের বিষয়াদি নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে।

বৈঠকে পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তনবিষয়ক মন্ত্রী আবদুল আউয়াল মিন্টু, প্রতিমন্ত্রী শেখ ফরিদুল ইসলাম, পানিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন আজাদ, প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ সহকারী সাইমুম পারভেজ, ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের প্রশাসক আব্দুস সালাম, ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের প্রশাসক শফিকুল ইসলাম খান, ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ কমিশনার মোসলেহ্ উদ্দিন আহমেদ, অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার (ট্রাফিক) আনিসুর রহমানসহ বিভিন্ন মন্ত্রণালয় ও সংস্থার ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।


মানুষের প্রত্যাশা পূরণকে অগ্রাধিকার দিয়ে কাজ করছে সরকার:  মাহদী আমিন

প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের মুখপাত্র ড. মাহদী আমিন। ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের মুখপাত্র ড. মাহদী আমিন বলেছেন, ‘সরকার রাষ্ট্র পরিচালনায় স্বচ্ছতা, সুশাসন, জনকল্যাণ এবং মানুষের প্রত্যাশা পূরণকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিয়ে নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে।’

তিনি বলেছেন, ‘প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বাধীন সরকারের মাত্র ১৫০ দিন অর্থাৎ পাঁচ মাস পূর্ণ হয়েছে। সময়ের পরিমাপে এটা হয়তো খুব দীর্ঘ কোনো সময় নয়। কিন্তু, একটি গণতান্ত্রিক সরকারের জন্য প্রতিটি দিনই জনগণের প্রতি দেওয়া অঙ্গীকার বাস্তবায়নের জন্য। প্রতিটি মুহূর্তই দায়িত্ব ও জবাবদিহিতা পালনের পরীক্ষা। আর প্রতিটি পদক্ষেপই মানুষের আস্থা অর্জনের নতুন পরীক্ষা।’

প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের মুখপাত্র বলেন, ‘আমরা বিশ্বাস করি— জনগণের আস্থা ও বিশ্বাসই একটি সরকারের সবচেয়ে বড় শক্তি। তাই সরকারের প্রতিটি উদ্যোগ, প্রতিটি অর্জন, প্রতিটি সংস্কার এবং প্রতিটি চ্যালেঞ্জ সম্পর্কে জনগণকে অবহিত করাকে আমরা নৈতিক দায়িত্ব হিসেবে দেখি।’

শনিবার (১৮ জুলাই) বিকেল সাড়ে ৩টায় প্রধানমন্ত্রীর তেজগাঁও কার্যালয়ের ‘করবী’ হলে অনুষ্ঠিত এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব কথা বলেন। জনগণের ভোটে নির্বাচিত বাংলাদেশ সরকারের দায়িত্ব গ্রহণের পাঁচ মাস পূর্তি উপলক্ষ্যে এ সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করে প্রধানমন্ত্রী প্রেস উইং।

মাহদী আমিন বলেন, ‘জনগণের প্রত্যক্ষ ভোটে নির্বাচিত হয়ে দায়িত্ব গ্রহণের পর সরকার মূলত গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠানসমূহের পুনর্গঠন এবং অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা বজায় রাখাকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিয়েছে। দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণ, আর্থিক খাতের শৃঙ্খলা পুনরুদ্ধার, পাচারকৃত অর্থ ফেরত আনা এবং বিভিন্ন প্রকল্পের ব্যয়সাশ্রয় ও দুর্নীতিমুক্ত পর্যালোচনা নিশ্চিত করে সরকারের সুশাসনের দৃঢ়বার্তা। একই সাথে সাম্প্রতিক বন্যাদুর্গতদের পুনর্বাসন, বিপর্যস্ত ও লুণ্ঠিত স্বাস্থ্য ও শিক্ষাখাতের বিভিন্ন ধরনের বিনির্মাণ চলমান রয়েছে।’

তিনি বলেন, ‘পাঁচ মাসের সংক্ষিপ্ত সময়ে অর্জিত সাফল্যকে ভিত্তি করে একটি অন্তর্ভুক্তিমূলক, বৈষম্যহীন এবং সমৃদ্ধিশালী বাংলাদেশ বিনির্মাণে জনগণের প্রতি সরকার সম্পূর্ণ প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।’

জনগণকে সরকারের কাজের প্রকৃত মূল্যায়নকারী উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের এই মুখপাত্র বলেন, ‘জনগণের আস্থা, সমর্থন ও গঠনমূলক মতামতেই আগামী দিনের পথচলা সরকারের সবচেয়ে বড় প্রেরণা।’

তিনি বলেন, ‘দীর্ঘ ফ্যাসিবাদী শাসনের অবসান ঘটিয়ে বিগত দিনের ভেঙে পড়া রাষ্ট্র কাঠামোকে পুনরুদ্ধারে ম্যান্ডেট পেয়েছেন গণমানুষের নেতা বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান। দায়িত্ব হাতে নিয়ে অত্যন্ত স্বল্প সময়ের মাঝেই তিনি মানুষের আস্থার চূড়ায় অবস্থান করছেন।’

গত পাঁচ মাসে জনগণের আস্থা ভালোবাসা ও সমর্থন ইশতেহারের আলোকে সব শ্রেণিপেশার মানুষের স্বার্থ রক্ষায় স্বল্প সময়ের মধ্যে নানা চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় সফলতা অর্জনে বর্তমান সরকার দেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে এক নতুন দিগন্তের উন্মোচন করেছে।’

বক্তব্যের শুরুতে জুলাই আন্দোলনে শহীদদের স্মরণ করে মাহদী আমিন বলেন, ‘দুই বছর আগে আজকের এই সময়ে আমাদের প্রিয় মাতৃভূমি এক রক্তাক্ত অধ্যায়ের সাক্ষী হয়েছিল। ন্যায্য অধিকার আদায়ে শান্তিপূর্ণ আন্দোলনকারীদের কণ্ঠ স্তব্ধ করতে ফ্যাসিবাদী শাসকগোষ্ঠী গুলি করে হত্যার পথ বেছে নিয়েছিল। রংপুরে আবু সাঈদ, চট্টগ্রামে ওয়াসিম আকরাম, ঢাকায় ফারহানাসহ অসংখ্য নিরপরাধ শিক্ষার্থী ও সাধারণ মানুষের আত্মত্যাগে সে আন্দোলন পরিণত হয়েছিল।’

তিনি আরো বলেন, ‘সকল শ্রেণির, সকল পেশা, সকল গণতান্ত্রিক রাজনৈতিক দলের এক গণঅভুত্থানে যার প্রবল জনরোষে ফ্যাসিবাদী শক্তির পতন ঘটে, সেই পথ পরিক্রমায় গণআকাঙ্ক্ষার বহিঃপ্রকাশের মাধ্যমে অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচনের মাধ্যমে রাষ্ট্র পরিচালনায় এসেছে গণঅভ্যুত্থানে এবং গত ১৬ বছরে সবচাইতে বেশি গুম, খুন, হামলা, মামলা এবং মানবাধিকার লঙ্ঘনের শিকার দল বাংলাদেশ জাতীয় দল বিএনপির নেতৃত্বাধীন গণতান্ত্রিক সরকার। আমরা গভীর শ্রদ্ধাভরে স্মরণ করছি সকল শহীদকে এবং মহান আল্লাহর দরবারে তাদের আত্মার মাগফিরাত কামনা করছি।’

প্রধানমন্ত্রীর উপ-প্রেস সচিব জাহিদুল ইসলাম রনির সঞ্চালনায় সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন, প্রধানমন্ত্রীর প্রেস-সচিব আবু আবদুল্লাহ এম ছালেহ, অতিরিক্ত প্রেস-সচিব আতিকুর রহমান রুমন, প্রধানমন্ত্রীর স্পিচ রাইটার এস এ এম মাহফুজুর রহমান, ডেপুটি প্রেস সেক্রেটারি মো. সুজাউদ্দৌলা (সুজন মাহমুদ), শাহাদাৎ স্বাধীন, সহকারী প্রেস-সচিব কে এম নাজমুল হক, গাজী শাহরিয়ার পামির, আশরোফা ইমদাদ।


কাশিমপুর মহিলা কারাগার থেকে কয়েদি পালানোর ঘটনায় ৭ কারারক্ষী বরখাস্ত

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

গাজীপুরের কাশিমপুর কেন্দ্রীয় মহিলা কারাগারের সীমানা প্রাচীর টপকে সাজাপ্রাপ্ত এক নারী কয়েদি পালিয়ে গেছেন। এই নিরাপত্তা গাফিলতির ঘটনায় দায়িত্বে অবহেলার অভিযোগে একযোগে সাতজন কারা কর্মকর্তাকে সাময়িকভাবে বরখাস্ত করা হয়েছে। একই সঙ্গে কয়েদি পলায়নের ঘটনাটি খতিয়ে দেখতে একটি উচ্চপর্যায়ের তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে।

গত বৃহস্পতিবার (১৬ জুলাই) বিকেলে কঠোর নিরাপত্তার মধ্যে এই ঘটনা ঘটলেও গত শুক্রবার (১৭ জুলাই) বিষয়টি জানাজানি হয়। সিসিটিভি ফুটেজ দেখে কারা কর্তৃপক্ষ বন্দি পলায়নের বিষয়টি নিশ্চিত হয়েছে।

পালিয়ে যাওয়া কয়েদির নাম রিম্পা (২১)। তিনি মেহেরপুরের রায়পুর এলাকার মো. হাসানের মেয়ে। ঢাকার ধানমন্ডি থানায় দায়ের করা একটি সিআর মামলায় তিন মাসের সাজাপ্রাপ্ত আসামি হিসেবে তিনি এই মহিলা কারাগারে বন্দি ছিলেন।

কারাগার ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, প্রতিদিন বিকেল ৫টার মধ্যে বন্দিদের নিজ নিজ কক্ষে (লকআপ) প্রবেশ করানোর নিয়ম রয়েছে। বৃহস্পতিবার নির্দিষ্ট সময়ে গণনা করতে গিয়ে ওই নারী বন্দির অনুপস্থিতি ধরা পড়ে। তাৎক্ষণিকভাবে পুরো কারাগারে তল্লাশি চালিয়েও তার সন্ধান মেলেনি। পরবর্তীতে কারাগারের সিসিটিভি ফুটেজ পর্যালোচনা করে দেখা যায়, বন্দি রিম্পা কৌশলে দেয়াল টপকে পালিয়ে গেছেন।

অনুসন্ধানে জানা যায়, গত বৃহস্পতিবার (১৬ জুলাই) সন্ধ্যায় প্রায় ৪০ জন নারী বন্দিকে দিয়ে কারাগারের ভেতরে ইট বহনের কাজ করানো হচ্ছিল। ওই সময় দায়িত্বে থাকা মেট্রন ও কারারক্ষীদের নজরদারির ঘাটতি ছিল। এই সুযোগে রিম্পা কারাগারের অফিস ভবনের পাশের দেয়ালের কার্নিশ বেয়ে সীমানা প্রাচীর টপকে বাইরে চলে যান।

এ ঘটনায় নিরাপত্তা ত্রুটি ও দায়িত্বে অবহেলার প্রাথমিক প্রমাণ মেলায় সাতজনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। বরখাস্তকৃতরা হলেন, কারাগারের মেট্রন লায়লা আনজুমান সুমি, মেরিনা ও রেহেনা। এছাড়া কারাগারের নারী কারারক্ষী: শায়লা, শারমিন, জেমি ও আসমা।

সহকারী কারা মহাপরিদর্শক (এআইজি) মো. জান্নাতুল ফরহাদ টিবিএসকে বলেন, দায়িত্বে অবহেলার সুস্পষ্ট প্রমাণ পাওয়ায় রিপোর্টের ভিত্তিতে তাদের বরখাস্ত করা হয়েছে। একই সাথে এত কঠোর নিরাপত্তার মধ্যেও কীভাবে একজন বন্দি পালাতে সক্ষম হলো, তা খতিয়ে দেখতে উচ্চপর্যায়ের তদন্ত চলছে।

কাশিমপুর মহিলা কেন্দ্রীয় কারাগারের সিনিয়র জেল সুপার মোছা. কাওয়ালিন নাহার জানান, পলাতক বন্দির বিরুদ্ধে থানায় মামলা দায়ের করা হয়েছে এবং তাকে পুনরায় গ্রেপ্তারে পুলিশ তৎপর রয়েছে।

জিএমপির কোনাবাড়ী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. ইফতেখার হোসেন বলেন, মহিলা কারাগার থেকে বন্দি পালিয়ে যাওয়ার ঘটনায় কারা কর্তৃপক্ষ শুক্রবার (১৭ জুলাই) সকালে থানায় সাধারণ ডায়েরি ও মামলা করেছে। পুলিশ ও সংশ্লিষ্ট আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী পলাতক আসামিকে গ্রেপ্তারে চিরুনি অভিযান চালাচ্ছে।


মৃতের সংখ্যা বেড়ে ৫৯, ফের ৬ জেলায় বন্যার শঙ্কা

ছবি: দৈনিক বাংলা
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

দেশের সাত জেলায় চলমান বন্যা, অতিবৃষ্টি, পাহাড়ি ঢল ও পাহাড়ধসের ঘটনায় মৃতের সংখ্যা বেড়ে ৫৯ জনে পৌঁছেছে। বর্তমানে ৫৬টি উপজেলা এবং ৩৭৪টি ইউনিয়ন ও চারটি পৌরসভা বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত। ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের জন্য ৭৩টি আশ্রয়কেন্দ্র খোলা হয়েছে, যেখানে ২৯৮ জন আশ্রয় নিয়েছেন।

দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের শনিবার (১৮ জুলাই) প্রকাশিত হালনাগাদ প্রতিবেদনে এসব তথ্য জানানো হয়।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, বন্যাকবলিত জেলাগুলো হলো খাগড়াছড়ি, রাঙামাটি, বান্দরবান, কক্সবাজার, চট্টগ্রাম, মৌলভীবাজার ও হবিগঞ্জ।

এতে বলা হয়েছে, দুর্যোগে এখন পর্যন্ত রাঙামাটিতে তিনজন, বান্দরবানে সাতজন, কক্সবাজারে ৩২ জন (স্থানীয় ১৯ ও রোহিঙ্গা ১৩), চট্টগ্রামে ১৬ জন এবং মৌলভীবাজারে একজন মারা গেছেন। এছাড়া আহত হয়েছেন মোট ৪০ জন। এর মধ্যে খাগড়াছড়িতে একজন, বান্দরবানে দুজন, কক্সবাজারে ২৫ জন (স্থানীয় ২০ ও রোহিঙ্গা পাঁচ) এবং চট্টগ্রামে ১২ জন।

মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ক্ষতিগ্রস্ত জেলাগুলোতে নগদ অর্থ, চাল, শুকনো খাবার, শিশু খাদ্য, গোখাদ্য, ঢেউটিন ও গৃহ নির্মাণ অনুদানসহ ব্যাপক ত্রাণ সহায়তা বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। এসব ত্রাণের উল্লেখযোগ্য অংশ ইতোমধ্যে স্থানীয় প্রশাসনের মাধ্যমে বিতরণও করা হয়েছে।

কক্সবাজারে সর্বোচ্চ ৪০ লাখ টাকা নগদ, ৪৫০ মেট্রিক টন চাল, এক হাজার বান্ডিল টিন, শিশু খাদ্য ও গোখাদ্য বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। চট্টগ্রামে বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে ৭৫ লাখ টাকা নগদ, এক হাজার ২০০ মেট্রিক টন চাল, এক হাজার বান্ডিল টিন, শুকনো খাবার, শিশু খাদ্য ও গোখাদ্য। বান্দরবানে ২০ লাখ টাকা নগদ, ৪০০ মেট্রিক টন চাল, শিশু খাদ্য ও গোখাদ্য এবং প্রধানমন্ত্রীর ত্রাণ তহবিল থেকে অতিরিক্ত সহায়তা দেওয়া হয়েছে।

এছাড়া খাগড়াছড়ি, রাঙামাটি, মৌলভীবাজার ও হবিগঞ্জেও নগদ অর্থ, চাল, শুকনো খাবার, ঢেউটিন এবং গৃহ নির্মাণ অনুদান বরাদ্দ ও বিতরণ অব্যাহত রয়েছে।


বন্যাদুর্গতদের মাঝে আলজেরিয়ার রাষ্ট্রদূতের ত্রাণ বিতরণ

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

আলজেরিয়ার রাষ্ট্রদূত ড. আবদেলউহাব সাইদানি শনিবার (১৮ জুলাই) চট্টগ্রামের সাতকানিয়া এবং কক্সবাজারের মাতারবাড়ীতে বন্যাকবলিত ও ঝুঁকিপূর্ণ পরিবারের মধ্যে ত্রাণসামগ্রী বিতরণ করেছেন। সাম্প্রতিক বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত জনগোষ্ঠীর প্রতি সংহতি প্রকাশের অংশ হিসেবে তিনি এ কার্যক্রম পরিচালনা করেন।

ঢাকাস্থ আলজেরিয়ান দূতাবাসের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, সাতকানিয়ার কেওচিয়া ইউনিয়নের কেওচিয়া মুজহেরুল হক ইসলামিয়া দাখিল মাদ্রাসায় প্রাঙ্গণে ত্রাণ বিতরণ কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়। সেখানে সাম্প্রতিক বন্যায় চরম দুর্ভোগে পড়া পরিবারগুলোর মধ্যে সহায়তা প্রদান করা হয়।

রাষ্ট্রদূত সাইদানি ব্যক্তিগতভাবে, ক্ষতিগ্রস্ত বাসিন্দাদের হাতে প্রয়োজনীয় সামগ্রী সংবলিত ত্রাণের প্যাকেট তুলে দেন এবং ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের প্রতি সহানুভূতি ও সংহতি প্রকাশ করেন। তিনি প্রাকৃতিক দুর্যোগ ও মানবিক জরুরি পরিস্থিতিতে ঝুঁকিপূর্ণ জনগোষ্ঠীর পাশে দাঁড়ানোর ব্যাপারেও গুরুত্বারোপ করেন।

রাষ্ট্রদূত সাইদানি ছিলেন সাতকানিয়া সফরকারী প্রথম বিদেশি কূটনীতিক, যিনি নিজ হাতে বন্যাদুর্গত মানুষের মধ্যে মানবিক সহায়তা বিতরণ করেন। তিনি তার এ সফরকে স্থানীয় জনগণের প্রতি সংহতির একটি গুরুত্বপূর্ণ নিদর্শন হিসেবে উল্লেখ করেন।

চট্টগ্রামে ত্রাণ বিতরণ কর্মসূচি শেষে আলজেরিয়ার রাষ্ট্রদূত কক্সবাজারের মাতারবাড়িতে যান। সেখানে তিনি বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর মধ্যেও নিত্যপ্রয়োজনীয় সামগ্রী বিতরণ করেন। বন্যাকবলিত বাসিন্দারা আলজেরিয়ার রাষ্ট্রদূতের এই মানবিক উদ্যোগের প্রশংসা করে বলেন, ‘এই সহায়তা তাদের তাৎক্ষণিক প্রয়োজন মেটাতে এবং বন্যার দুর্ভোগ মোকাবিলায় সহায়ক হবে।’

আলজেরিয়ান দূতাবাস জানায়, এ উদ্যোগ বাংলাদেশ ও আলজেরিয়ার দীর্ঘদিনের বন্ধুত্বের পাশাপাশি বাংলাদেশের প্রাকৃতিক দুর্যোগে ক্ষতিগ্রস্ত জনগোষ্ঠীর প্রতি আলজেরিয়ার মানবিক সংহতিরও প্রতিফলন।


ক্ষুধামুক্ত সমাজ গড়তে শহীদ জিয়ার দূরদর্শী রাষ্ট্রচিন্তা গুরুত্বপূর্ণ: সড়ক প্রতিমন্ত্রী

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের দূরদর্শী রাষ্ট্রচিন্তা, বাংলাদেশি জাতীয়তাবাদের ও জনগণের ক্ষমতায়নের রাজনৈতিক দর্শন আজও ক্ষুধা, দারিদ্র্য এবং বৈষম্যমুক্ত সমাজ বিনির্মাণে গুরুত্বপূর্ণ অনুপ্রেরণা হিসেবে কাজ করছে বলে মন্তব্য করেছেন সড়ক পরিবহন ও সেতু প্রতিমন্ত্রী হাবিবুর রশিদ হাবিব।

শনিবার (১৮ জুলাই) ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ‘শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের রাষ্ট্রদর্শন’ গ্রন্থের মোড়ক উন্মোচন এবং সেন্টার ফর রিসার্চ অন ন্যাশনালিজম অ্যান্ড ডেমোক্রেসি (সিআরএনডি)’র আনুষ্ঠানিক যাত্রা উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

প্রতিমন্ত্রী বলেন, আজকের আয়োজন কেবল একটি গ্রন্থ প্রকাশের অনুষ্ঠান নয়, বরং বাংলাদেশের রাষ্ট্রচিন্তা, জাতীয়তাবাদ ও গবেষণার ইতিহাসে একটি নতুন অধ্যায়ের সূচনা। একই সঙ্গে একটি গুরুত্বপূর্ণ গবেষণা প্রতিষ্ঠানের যাত্রা শুরু হওয়ায় রাষ্ট্রচিন্তা নিয়ে একাডেমিক গবেষণার নতুন দ্বার উন্মোচিত হয়েছে।

বক্তব্যের শুরুতে তিনি গভীর শ্রদ্ধার সঙ্গে মহান স্বাধীনতার ঘোষক, বহুদলীয় গণতন্ত্রের প্রবক্তা, বাংলাদেশি জাতীয়তাবাদের রূপকার এবং আধুনিক বাংলাদেশের অন্যতম স্থপতি শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান বীর উত্তমকে স্মরণ করেন।

তিনি বলেন, জিয়াউর রহমানের আপসহীন দেশপ্রেম, বাস্তবমুখী রাষ্ট্রচিন্তা এবং জনগণের ক্ষমতায়নের দর্শন বাংলাদেশের রাষ্ট্র ও সমাজ বিনির্মাণে দীর্ঘদিন ধরেই গুরুত্বপূর্ণ প্রেরণার উৎস হয়ে রয়েছে।

তিনি একই সঙ্গে সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে বলেন, দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনে গণতন্ত্র, ভোটাধিকার ও জনগণের অধিকার প্রতিষ্ঠার আন্দোলনে তার ভূমিকা ইতিহাসে স্মরণীয় হয়ে থাকবে।

এ সময় তিনি মহান মুক্তিযুদ্ধে আত্মোৎসর্গকারী বীর মুক্তিযোদ্ধা, সম্ভ্রম হারানো মা-বোন এবং জুলাই গণঅভ্যুত্থানে নিহতদের প্রতিও গভীর শ্রদ্ধা জানান। আহতদের দ্রুত ও পূর্ণাঙ্গ সুস্থতা কামনা করেন।

প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের রাষ্ট্রদর্শন’ গ্রন্থটি বাংলাদেশি জাতীয়তাবাদের তাত্ত্বিক ভিত্তি নির্মাণের একটি ব্যতিক্রমধর্মী ও মৌলিক প্রয়াস। অতীতে বাংলাদেশি জাতীয়তাবাদ নিয়ে রাজনৈতিক ও ঐতিহাসিক আলোচনা হলেও, এটিকে একটি পূর্ণাঙ্গ রাষ্ট্রদর্শন হিসেবে বিশ্লেষণের এমন বিস্তৃত প্রচেষ্টা খুব কমই দেখা গেছে।’

তিনি বলেন, এই গ্রন্থে বাংলাদেশি জাতীয়তাবাদকে কেবল একটি রাজনৈতিক মতবাদ হিসেবে নয়, বরং গণতন্ত্র, সামাজিক ন্যায়বিচার, অর্থনৈতিক মুক্তি, জনগণের ক্ষমতায়ন, ধর্মীয় ও নৈতিক মূল্যবোধ, সাংস্কৃতিক স্বাতন্ত্র্য, রাষ্ট্রের সার্বভৌমত্ব এবং আন্তর্জাতিক বাস্তবতার সঙ্গে সমন্বিত একটি রাষ্ট্রদর্শন হিসেবে উপস্থাপন করা হয়েছে।

তার মতে, গ্রন্থটির অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো বাংলাদেশি জাতীয়তাবাদকে গবেষণাযোগ্য একটি তাত্ত্বিক কাঠামোর মধ্যে নিয়ে আসার চেষ্টা। এর ফলে বিষয়টি শুধু রাজনৈতিক বিতর্কের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকবে না; বরং রাষ্ট্রবিজ্ঞান, আন্তর্জাতিক সম্পর্ক, জনপ্রশাসন, অর্থনীতি, নিরাপত্তা অধ্যয়ন এবং উন্নয়ন গবেষণার গুরুত্বপূর্ণ আলোচ্য বিষয়ে পরিণত হতে পারে।

তিনি বলেন, গ্রন্থের বিভিন্ন প্রবন্ধে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের রাষ্ট্রচিন্তাকে রাজনৈতিক অর্থনীতি, পররাষ্ট্রনীতি, বহুদলীয় গণতন্ত্র, রাষ্ট্র পুনর্গঠন, শিক্ষা, পুলিশ সংস্কার, সামাজিক স্থিতিশীলতা এবং জনকল্যাণমূলক রাষ্ট্রব্যবস্থার সঙ্গে সংযুক্ত করে বিশ্লেষণ করা হয়েছে।

বিশেষ করে রাষ্ট্র ও নাগরিকের পারস্পরিক দায়বদ্ধতা, অংশগ্রহণমূলক উন্নয়ন এবং আত্মমর্যাদাশীল রাষ্ট্র গঠনের প্রশ্নগুলো গুরুত্বের সঙ্গে তুলে ধরা হয়েছে। তিনি বলেন, একটি গবেষণাধর্মী গ্রন্থ হিসেবে ভবিষ্যতে আরও সমৃদ্ধ হওয়ার সুযোগ রয়েছে। আগামী সংস্করণগুলোতে যদি আরও বেশি প্রাথমিক দলিল, আন্তর্জাতিক গবেষণার সূত্র, তুলনামূলক বিশ্লেষণ এবং ভিন্নমতের একাডেমিক মূল্যায়ন অন্তর্ভুক্ত করা হয়, তাহলে এর আন্তর্জাতিক গ্রহণযোগ্যতা আরও বাড়বে।

কারণ প্রকৃত গবেষণার সৌন্দর্য নিহিত থাকে মতের বহুমাত্রিকতা এবং অনুসন্ধানের সাহসের মধ্যে। সেন্টার ফর রিসার্চ অন ন্যাশনালিজম অ্যান্ড ডেমোক্রেসির (সিআরএনডি) কার্যক্রম প্রসঙ্গে প্রতিমন্ত্রী বলেন, একটি বই একটি সময়কে ধারণ করে, কিন্তু একটি গবেষণা প্রতিষ্ঠান ভবিষ্যৎ নির্মাণ করে। তাই এই প্রতিষ্ঠানের সামনে রয়েছে বিশাল সম্ভাবনা।

তিনি আশা প্রকাশ করে বলেন, সিআরএনডি ভবিষ্যতে জাতীয়তাবাদ, গণতন্ত্র, সুশাসন, জনপ্রশাসন, মানবাধিকার, পররাষ্ট্রনীতি, অর্থনীতি, নিরাপত্তা, জলবায়ু পরিবর্তন, প্রযুক্তিগত রূপান্তর এবং বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ রাষ্ট্রচিন্তা নিয়ে আন্তর্জাতিক মানের গবেষণা পরিচালনা করবে।

প্রতিমন্ত্রী আরও বলেন, শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান যে জাতীয়তাবাদের ভিত্তির ওপর একটি আত্মমর্যাদাশীল বাংলাদেশ গড়ে তুলতে চেয়েছিলেন, সেই আদর্শ ধারণ করতে পারলে দেশ আরও এগিয়ে যাবে।

প্রতিটি নাগরিক যদি দেশের প্রতি দায়বদ্ধতা, সততা এবং দায়িত্ববোধ নিয়ে কাজ করেন, তাহলে ঐক্যবদ্ধ প্রচেষ্টায় একটি উন্নত, সমৃদ্ধ ও বৈষম্যহীন বাংলাদেশ গড়ে তোলা সম্ভব হবে। তিনি বলেন, বর্তমানে প্রধানমন্ত্রী জনাব তারেক রহমান একটি বৈষম্যহীন, সমৃদ্ধ, মানবিক ও গণতান্ত্রিক বাংলাদেশ গঠারের লক্ষ্যে কাজ করে যাচ্ছেন। এ লক্ষ্যে দেশবাসীকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার আহ্বান জানান তিনি।

সড়ক প্রতিমন্ত্রী মহান আল্লাহর কাছে দেশ, জনগণ এবং জাতীয় নেতৃত্বের কল্যাণ কামনা করেন। এ সময় তিনি বলেন, বাংলাদেশের উন্নয়ন, স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষায় জাতীয় ঐক্যের কোনো বিকল্প নেই। ‘সবার আগে দেশ, গর্বের দেশ, সবার আগে বাংলাদেশ’ এই প্রত্যয় ব্যক্ত করে তিনি সবাইকে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানান।

অবসরপ্রাপ্ত জেলা জজ শরীফ উদ্দিন আহমদের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন, সংসদ সদস্য শামীম কায়সার লিংকন, সংসদ সদস্য মানসুরা আলম,ঢাকা বিশ্ব বিদ্যালয়ের ভিসি প্রফেসর ড.এ কে এম ওবায়দুর রহমান, যুবদলের কেন্দ্রীয় সহ-সভাপতি সাইদ ইকবাল মাহমুদ টিটু প্রমুখ।


রোববার জুলাই ছাত্র আন্দোলনে নিহত আসিফের দ্বিতীয় মৃত্যুবার্ষিকী

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নালিতাবাড়ী (শেরপুর) প্রতিনিধি

‘পোলা মরছে চোখের পলকে দুই বছর অইয়া গেছে। পোলা তো আর ফিরবে না বিচারের আশায় মামলা করছিলাম। আজও পোলা হত্যার বিচার পাইলাম না।’ অশ্রুভেজা চোখে কথাগুলো বলছিলেন শেরপুরের নালিতাবাড়ী উপজেলার কেরেঙ্গাপাড়া এলাকার আমজাদ হোসেন।

২০২৪ সালের ১৯ জুলাই (রোববার) এই দিনে কোটা সংস্কার আন্দোলনে মারা যায় তার ছেলে আসিফুর রহমান আসিফ। ছেলের রক্তেভেজা সেদিনের সেই শার্টটা দেখিয়ে তিনি বলেন, ‘এটাই আমার ছেলের শেষ স্মৃতি, আর্থিক সহায়তা পেয়েছি, সম্মান পেয়েছি; কিন্তু বিচার তো পাইলাম না। পোলার স্মৃতিগুলো মনে পড়ে; কিন্তু পোলারে তো আর দেখি না। ছেলে হত্যার দ্রুত বিচার দাবি করেন তিনি।

সূত্র জানায়, ২০২৪ সালের ১৯ জুলাই (রোববার) কোটা সংস্কার আন্দোলনে উত্তপ্ত রাজধানীর মিরপুরে মাথায় গুলিবিদ্ধ হয়ে নিহত হন গার্মেন্টসকর্মী আসিফুর রহমান আসিফ (১৯)। আসিফ শেরপুরের নালিতাবাড়ী উপজেলার রামচন্দ্রকুড়া ইউনিয়নের কেরেঙ্গাপাড়া গ্রামের আমজাদ হোসেন ও ফজিলা খাতুন দম্পতির ২য় ছেলে।

পরিবারের দেওয়া তথ্যমতে, ২০২৪ সালের ১৯ জুলাই (রোববার) বিকেলে বন্ধুদের সাথে দেখা করার জন্য বাড়ি থেকে বের হয় আসিফুর। পরে রাস্তাতেই কোটা সংস্কার আন্দোলন চলাকালে পুলিশের গুলি এসে তার মাথায় লাগে। সেখান থেকে স্থানীয়রা তাকে মিরপুর আলোক হাসপাতালে নিয়ে যায়। পরে তার বাবা আমজাদ আলী ফোনে ছেলের অ্যাক্সিডেন্টের খবর শোনে আলোক হাসপাতাল গিয়ে দেখে আসিফের মাথার ডানপাশে গুলি লেগেছে। সেখান থেকে ছেলেকে সোহরাওয়ার্দী হাসপাতালে নিয়ে ব্যান্ডেজ করিয়ে রিকশায় নিউরোসায়েন্স হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত ডাক্তার আসিফকে মৃত ঘোষণা করেন। পরে লাশ নিয়ে এসে গ্রামের কবরস্থানে দাফন করা হয়।

আসিফুরের মা ফজিলা খাতুন জানান, দুই ছেলে চার মেয়ের মধ্যে আসিফ ছিল দ্বিতীয়। বাবা আমজাদ হোসেন ছোটখাটো ব্যবসা করে যখন পরিবারের খরচ মেটাতে পারছিল না, তখন আসিফ ঢাকায় গিয়ে গার্মেন্টসে চাকরি নেয়। ১৩ হাজার টাকা বেতনের চাকরিতে ভালোই দিন চলছিল। স্মৃতিচারণের সময় আসিফের পরিবারের সদস্যদের চোখ থেকে পানি পড়ছিল।

পরবর্তীতে সরকার পতনের পর ওই বছরের ২ নভেম্বর সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাসহ ২০১ জনকে আসামি করে ঢাকার একটি আদালতে আসিফুরের বাবা আমজাদ হোসেন বাদী হয়ে একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন।

মামলা দায়েরের কিছুদিন পর আসিফের গ্রামের বাড়ি কেরেঙ্গাপাড়া কবরস্থান থেকে মরদেহ উত্তোলন করা হয় সুরতহাল ও ময়নাতদন্ত প্রতিবেদন সম্পন্নের জন্য।

নালিতাবাড়ী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আব্দুল মালেক বলেন, ‘আমরাও চাই জুলাই আন্দোলনে নিহত সকল শহীদদের হত্যার বিচার হোক।’


ঝালকাঠিতে ৩ তলা ভবনে দুর্ধর্ষ চুরি, নারীকে শ্বাসরোধে হত্যা

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
ঝালকাঠি প্রতিনিধি

ঝালকাঠি শহরের টিএনটি এলাকায় একটি তিনতলা আবাসিক ভবনের প্রতিটি ফ্লোরে একযোগে দুর্ধর্ষ চুরির ঘটনা ঘটেছে।

এ সময় ভবনের নিচতলায় একা থাকা এক নারীকে শ্বাসরোধ করে হত্যা করেছে দুর্বৃত্তরা। গত শুক্রবার (১৭ জুলাই) দুপুরের কোনো একসময় এ ঘটনা ঘটে বলে ধারণা করছে পুলিশ। ঘটনাটি বাড়ির মালিক টের পেয়েছে সন্ধ্যার পর।

নিহত চল্লিশোর্ধ্ব নারী মলিনা রায় ভবনটির নিচতলায় ভাড়া থেকে টেইলারিং কাজ করতেন। ভবনটির মালিক তপন হাওলাদার মাঝের তলায় এবং উপরতলায় ভাড়াটিয়ারা বসবাস করেন।

জানা গেছে, ঘটনার সময় ভবনের মালিক ও ভাড়াটিয়াসহ সবাই রথযাত্রায় অংশ নিতে বাইরে ছিলেন। এই সুযোগে দুর্বৃত্তরা ভবনের তিনটি ফ্লোরেই চুরি চালায়।

সন্ধ্যায় বাসায় ফিরে তারা ঘরের মালামাল এলোমেলো অবস্থায় দেখতে পান। নিচতলায় গিয়ে মলিনা রায়কে মৃত অবস্থায় পড়ে থাকতে দেখেন। পরে পুলিশকে খবর দিলে ঘটনাস্থলে পৌঁছে মরদেহ উদ্ধার করে।

প্রাথমিকভাবে চুরিতে কী পরিমাণ মালামাল খোয়া গেছে, তা এখনো নির্ধারণ করা সম্ভব হয়নি। পুলিশ, র‍্যাব ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে আলামত সংগ্রহ করেছে।

এ বিষয়ে সদর থানার ওসি মাহমুদ হাসান জানায়, প্রাথমিকভাবে এটি একটি চুরির ঘটনা বলেই মনে হচ্ছে। চুরির সময় মলিনা রায়কে শ্বাসরোধ করে হত্যা করা হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। ঘটনার প্রকৃত কারণ উদঘাটন এবং জড়িতদের শনাক্তে তদন্ত চলছে।

নিহতের মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য ঝালকাঠি সদর হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। ঘটনায় এলাকাজুড়ে চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। পুলিশ দ্রুত জড়িতদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারের জন্য কাজ করছে।


অবৈধ অনুপ্রবেশ আইনে মামলা, ভারতীয় নারী রেশমাকে পুলিশে সোপর্দ

ছবি: দৈনিক বাংলা
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
 বেনাপোল প্রতিনিধি

ভারতীয় নারী রেশমা ও তার সন্তানকে অবৈধ অনুপ্রবেশ আইনে মামলায় পুলিশে সোপর্দ করেছে বিজিবি। শনিবার (১৮ জুলাই) ভোর রাতে বর্ডার গার্ড বিজিবি সদস্যরা তাদের পুলিশে সোপর্দ করে বলে নিশ্চিত করেছেন বেনাপোল পোর্টথানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আশরাফ হোসেন।

ওসি জানান, ওই নারী ও তার শিশুসন্তান পুলিশ হেফাজতে আছে। শনিবার (১৮ জুলাই) দুপুরে তাদের যশোর আদালতে সোপর্দ করা হবে।

স্থানীয়রা মনে করছেন, এবার বৈধ প্রক্রিয়ার নিজ দেশে ফেরার পথ তৈরি হবে অসহায় নারী ও তার সন্তানের।

রেশমা খাতুনের দাবি ছিল তিনি ভারতের বাসিন্দা। তার ৩ সন্তান ও স্বামী আছে। তারা ভারতে আছে। মুম্বাইয়ের একটি কারখানায় কাজ করার সময় পুলিশ তাকে এবং আরও কয়েকজনকে আটক করে। তিনি বারবার নিজেকে ভারতীয় নাগরিক বলে পরিচয় দিলেও পুলিশ তা আমলে নেয়নি। পরে তাকে অন্যদের সঙ্গে বিমানে কলকাতায় নেওয়া হয়। সেখান থেকে গভীর রাতে চট্টগ্রাম সীমান্ত দিয়ে জোরপূর্বক বাংলাদেশে পাঠিয়ে দেওয়া হয় বলে তিনি অভিযোগ করেন।

বাংলাদেশে তার কোনো আত্মীয়-স্বজন বা পরিচিত না থাকায় তিনি চরম বিপাকে পড়েন। পরে স্থানীয় পথচারীরা তাকে সহায়তা করে বাসে তুলে বেনাপোলে পাঠিয়ে দেন।

উল্লেখ্য, ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী (বিএসএফ) কর্তৃক বাংলাদেশে পুশইন প্রক্রিয়া নিয়ে নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। অভিযোগ উঠেছে, শুধু ভারতে দির্ঘ বছর ধরে অবস্থানরত বাংলাদেশি নাগরিকই নয়, ভারতীয় বংশোদ্ভূত নাগরিকদেরও অনেককে বাংলাদেশি পরিচয় দিয়ে জোরপূর্বক সীমান্ত পার করে বাংলাদেশে পাঠানো হচ্ছে। এদের মধ্যে রেশমা ও তার সন্তান এমন অমানবিক ঘটনার শিকার।


এক বছরেও উন্মোচিত হয়নি ইবি শিক্ষার্থী সাজিদ হত্যার রহস্য

আন্দোলনের হুঁশিয়ারি শিক্ষার্থীদের
ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
ইবি প্রতিনিধি

কুষ্টিয়ার ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের (ইবি) মেধাবী শিক্ষার্থী সাজিদ আব্দুল্লাহ’র হত্যাকাণ্ড এক বছর পেরিয়ে গেলেও এখনও উন্মোচিত হয়নি হত্যার প্রকৃত রহস্য। বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসন ও তদন্ত কর্মকর্তাদের রহস্য উদঘাটনে তদন্ত কার্যক্রমে দীর্ঘসূত্রিতা ও বিলম্ব হওয়ায় ফুঁসে উঠছে সাধারণ শিক্ষার্থীসহ রাজনৈতিক ছাত্র সংগঠন।

গত বছরের ১৭ জুলাই বিশ্ববিদ্যালয়ের শাহ আজিজুর রহমান হল সংলগ্ন পুকুর থেকে সাজিদের ভাসমান লাশ উদ্ধার করা হয়েছিল। পরে উদ্ধার করে ময়নাতদন্তে পাঠানো হয় এবং ভিসেরা রিপোর্টে সাজিদকে শ্বাসরোধে হত্যা করা হয়েছিল বলে জানানো হয়। ক্যাম্পাসে এ তথ্য ছড়িয়ে পড়লে আন্দোলনে মাঠে নামে শিক্ষার্থীরা। সাজিদের বাবা অজ্ঞাত ব্যক্তির নামে ইবি থানায় মামলা রুজু করেন। সর্বশেষ সিআইডির কাছে মামলাটি তদন্তাধীন। সিআইডি তদন্তভার নেওয়ার পরেও দীর্ঘ ১ বছর পার হয়ে গেলেও আলোর মুখ দেখেনি সাজিদ হত্যার প্রকৃত রহস্য।

জানা গেছে, মামলার তদন্তাধীন থাকা অবস্থায় শুরুতে তৎকালীন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য পরিবর্তন হয়ে গেছে। এছাড়া মামলার শুরুর সিআইডির কর্মকর্তাও পরিবর্তন হয়ে গেছে। নতুন করে সব কিছু ইনস্টলেশন করে আগানো নতুন প্রশাসনের নতুন চ্যালেঞ্জ বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

এবিষয়ে জানতে চাইলে কুষ্টিয়া শাখা সিআইডি তদন্ত কর্মকর্তা মহব্বত হোসেন বলেন, মামলার ঘটনাস্থলে আমি গিয়েছি, ঘটনাস্থল আশপাশ তদন্ত করছি। আর বেশ কিছু সাক্ষীদের সাক্ষ্য নেওয়া হয়েছে, সাক্ষ্য গ্রহণ এখনো চলতেছে। এখনো মামলাটা কোর্টে টেকআপ করার মতো কোনো ফলাফল আসে নাই। আমি নতুন করে দায়িত্ব নিয়েছি, আর একটু সময় লাগবে, তবে রহস্য উন্মোচন অবশ্যই করা লাগবে।

এদিকে সাজিদ হত্যার বিচার দাবিতে বিশ্ববিদ্যালয়ের সাধারণ শিক্ষার্থীরা দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্ন আন্দোলন ও কর্মসূচি পালন করে আসছেন। বিচারহীনতার প্রতিবাদে শিক্ষার্থীরা ক্যাম্পাসে একাধিকবার ভিন্নধর্মী কর্মসূচি পালন করেছেন। কখনও শিক্ষার্থীরা ‘অন্ধের তদন্ত যাত্রা’ নামে প্রতীকী লাশ মিছিল বের করেন, কখনও উপাচার্যের কার্যালয়ের সামনে রক্তমাখা লাল কাফন পরে অবস্থান কর্মসূচি পালন করে আসছে।

বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের আহ্বায়ক এসএম সুইট বলেন, আমরা ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় পরিবার দীর্ঘ এক বছর ধরে শুনে আসছি তদন্তের কাজ এগোচ্ছে কিন্তু এখনো খুনিদের শনাক্ত করতে পারিনি সংশ্লিষ্ট তদন্তকারীরা। আমরা সর্বোচ্চ সহযোগিতা করেছি তবুও বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন এবং তদন্তকারী সংস্থার আন্তরিকতার ও কার্যক্রমের দীর্ঘসূত্রিতা আমাদের উদ্বিগ্ন করে তুলছে।

ইবি ছাত্রদলের সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক আনোয়ার পারভেজ বলেন, একটি বছর পার হয়ে গেল, কিন্তু আমাদের ভাইয়ের অকাল ও রহস্যজনক মৃত্যুর কোনো সুষ্ঠু তদন্ত বা জবাবদিহিতা আমরা এখনো পাইনি। প্রশাসনের এই উদাসীনতা আমাদের চরমভাবে হতাশ করেছে।

ইবি ছাত্রশিবির শাখার সভাপতি ইউসুফ আলী বলেন, ‘গত বছর ১৭ জুলাই শহীদ সাজিদ আবদুল্লাহর লাশ পুকুরে পাওয়া যাওয়ার পরে আজকে প্রায় এক বছর হয়ে গিয়েছে। কিন্তু আমরা এখন পর্যন্ত এই হত্যার কোনো রহস্য উন্মোচন করা দেখতে পাইনি। সাজিদ হত্যার পরে খুনিদের ধরতে এবং তদন্তে বিলম্ব হওয়ার কারণেই আমাদের একজন ম্যামকেও বলি হতে হয়েছে। তার খুনিকে গ্রেপ্তার করা হলেও বিচারের মধ্যে এখনো ধীরগতি দেখতে পাচ্ছি। অতি দ্রুত বিচার করে খুনিদেরকে ফাঁসির কাষ্টে ঝুলিয়ে দিতে হবে।’

একমাত্র ছেলে সন্তান হত্যার বিচার না পেয়ে এখনো দিশেহারা সাজিদের পরিবার। নিহত সাজিদের পিতা বলেন, ‘সিআইডি তদন্ত করতেছে যতটুকু জানি। তবে আমি কোনো আপডেট জানি না। বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের সাথে মাঝেমধ্যে যোগাযোগ হয়। তবে তাদের আপডেট কী তা জানি না।’

সার্বিক বিষয়ে কথা হয় সাজিদের বিভাগ আল কোরআন এন্ড ইসলামিক স্টাডিজ বিভাগের সভাপতি অধ্যাপক ড. মোহা. জালাল উদ্দীনের সঙ্গে। তিনি ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, প্রায় এক বছর পার হয়ে গেলেও এই অমানবিক ঘটনার কোনো বিচার বা দৃশ্যমান অগ্রগতি হয়নি, যা অত্যন্ত দুঃখজনক। এই হত্যাকাণ্ডের সুষ্ঠু তদন্ত ও বিচারের ব্যাপারে ডিপার্টমেন্টের পক্ষ থেকে কোনো রকম গাফিলতি করা হবে না এবং একে অত্যন্ত গুরুত্বের সাথে নেওয়া হয়েছে।

এবিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. এ কে এম মতিনুর রহমান বলেন, আমি তো যোগদান করেছি অল্প কিছু দিন। এটি তো এক বছর আগেকার ঘটনা। তখন এই সাজিদের ঘটনা নিয়ে আমি নিজেই দাবি তুলেছিলাম। আমি যোগদান করার পর বিষয়টি নিয়েছি। সংশ্লিষ্টদের সাথে অলরেডি কথা বলেছি এবং তারা বলছে যে কাজ এগোচ্ছে। আমাকে যে রিপোর্ট দেওয়ার কথা ছিল, সেই রিপোর্ট সম্পর্কে জানার জন্য তদন্ত কর্মকর্তাদের আহ্বান করেছি। তাদের কাছ থেকে বিস্তারিত জানার পর পরবর্তী পদক্ষেপ নেব।


banner close