শনিবার, ২০ এপ্রিল ২০২৪

প্রতিবাদ সমাবেশে যাওয়ার পথে দুই গ্রুপে সংঘর্ষ, যুবলীগ কর্মী নিহত

দুই গ্রুপের সংঘর্ষের পর ঘটনাস্থলে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। ছবি: দৈনিক বাংলা
প্রতিনিধি, চাঁদপুর
প্রকাশিত
প্রতিনিধি, চাঁদপুর
প্রকাশিত : ১৭ জুন, ২০২৩ ১৯:৪৫

চাঁদপুরের মতলব উত্তরে প্রতিবাদ সমাবেশে যাওয়ার পথে আওয়ামী লীগের দুই গ্রুপের মধ্যে সংঘর্ষ হয়েছে। এসময় গুলিবিদ্ধ হয়ে মোবারক হোসেন বাবু (৪৮) নামে এক যুবলীগ কর্মী নিহত হয়েছেন। গুলিবিদ্ধসহ আহত হয়েছেন আরও ১৫ জন।

শনিবার বিকেলে উপজেলার বাহাদুরপুর চরে এ সংঘর্ষ হয়। গুলিতে নিহত মোবারক আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য মোফাজ্জল হোসেন চৌধুরী মায়ার অনুসারী ছিলেন।

নেতা-কর্মীদের অভিযোগ, উপজেলার মোহনপুর ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) চেয়ারম্যান কাজী মিজান গ্রুপের লোকজন মায়ার অনুসারীদের ওপর হামলা চালায়। এতে সংঘর্ষ বাঁধে।

সংঘর্ষে গুলিবিদ্ধ জহির (২০) ও ইমন (১৮) নামের আরও দুজনকে ঢাকায় পাঠানো হয়েছে। আহত জহির (৩২) ও বিলকিছ (৩৫) নামে আরও দুজন মতলব উত্তর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসাধীন।

আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য মোফাজ্জল হোসেন মায়া চৌধুরী বলেন, সমাবেশে আসার সময় মোহনপুর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান কাজী মিজানের ভাই মতিন ও হাবিবসহ ৩০-৪০ জন হামলা করেন। এ ঘটনায় একজন মারা যান এবং অসংখ্য নেতা-কর্মী আহত হন।

মতলব উত্তর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মহিউদ্দিন জানান, এ ঘটনায় মুসা নামের একজনকে আটক করা হয়েছে। উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে গুলিবিদ্ধ বাবুর মরদেহ রয়েছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে ঘটনাস্থলে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।


কমলগঞ্জে কালবৈশাখীতে বিধ্বস্ত বাড়িঘর

ছবি: দৈনিক বাংলা
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
সালাহউদ্দিন শুভ, মৌলভীবাজার

মৌলভীবাজারের কমলগঞ্জ উপজেলার ওপর বয়ে যাওয়া কালবৈশাখীতে উপজেলার আদমপুর, কমলগঞ্জ সদর, পতনউষার ও মাধবপুর ইউনিয়নের কয়েকশ ঘরবাড়ি বিধ্বস্ত হয়েছে। উপড়ে পড়েছে হাজারো গাছপালা। ১১ কেভির প্রায় ৪টি খুঁটি ভেঙে ১০০ স্থানে বিদ্যুৎ ব্যবস্থা লণ্ডভণ্ড হয়ে পড়েছে। গত বৃহস্পতিবার রাত ১২টায় প্রচণ্ড কালবৈশাখীর সঙ্গে বজ্রপাতের শব্দে এলাকাবাসী আতংকিত হয়ে পড়ে।

রাতে ১২টা দিকে ঝড়ে কমলগঞ্জ-আদমপুর সড়কে গাছ পড়ে সড়ক যোগাযোগ বন্ধ হয়ে যায়। ভোর সাড়ে ৫টার দিকে যোগাযোগ চালু হয়। বিদ্যুৎ লাইন লণ্ডভণ্ড হয়ে যাওয়ার কারণে রাত থেকে এখনো পর্যন্ত ৪টি ইউনিয়নের কয়েকে হাজার মানুষ, এখনো অন্ধকারে নিমজ্জিতে আছে। কালবৈশাখী, ভারী বর্ষণ ও শিলাবৃষ্টিতে সম্পূর্ণ ও আংশিক শতাধিক বাড়িঘর বিধ্বস্ত, বিদ্যুৎ ব্যবস্থা লণ্ডভণ্ড, চা বাগানে কারখানায় উৎপাদন ব্যাহত, ১০-১২ হেক্টর জমির বোরো ফসল ও সবজি খেত বিনষ্ট হয়েছে।

বৃহস্পতিবার রাত ১২টা থেকে শুক্রবার বিকাল পর্যন্ত এ উপজেলার আদমপুর, কমলগঞ্জ সদর, পতনঊষার ও মাধবপুর ইউনিয়নের তিলকপুর, জামিরকোনা, রানীবাজার ও ভাসানিগাঁও সহ ৪টা গ্রামের বিদ্যুৎ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে। সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত উপজেলার বিভিন্ন এলাকা ঘুরে এ চিত্র পাওয়া যায়।

জানা যায়, বৃহস্পতিবার রাত ১২টা থেকে কমলগঞ্জ উপজেলার আদমপুর, কমলগঞ্জ সদর, পতনঊষার ও মাধবপুর ইউনিয়নের তিলকপুর, জামিরকোনা, রানীবাজার ও ভাসানিগাঁওসহ ৪টি গ্রামে ব্যাপক বাড়িঘর ক্ষতিগ্রস্ত হয়। রাস্তার পাশে থাকা গাছপালা উপড়ে পড়ে। বিভিন্ন এলাকায় পল্লী বিদ্যুতের খুঁটি ভেঙে পড়েছে।

এ ছাড়া জামিরকোনা গ্রামের জমির মিয়া, শাহজাহান, মাহমুদ আলী, হবিব, ময়না বেগম, খলিল মিয়া, বশির মিয়া, আয়ুব, আলফা, শফিক, জলিল, করিম, মিলাদ, সিরাজুল ইসলামের ঘর সম্পূর্ণ বিধ্বস্ত হয়।

কমলগঞ্জ সদর ইউনিয়নের জামিরকোনা গ্রামের কৃষক কাশেম মিয়া জানান, ‘আমার ৪ কিয়ার (১২০শতক) জায়গায় টমেটো, লাউ, সিম, রামাই, জিঙ্গা ও করলা চাষ করেছিলাম। কিন্তু রাতে ঝড় ও ভারী বর্ষণে কারনে আমার সব শেষ হয়ে গেছে। প্রায় আড়াই লাখ টাকার ক্ষতি হয়েছে।’

ঘর ভেঙে যাওয়া জমির মিয়া জানান, ‘রাতে বৌ বাচ্চা নিয়ে ঘুমিয়ে ছিলাম। হঠাৎ ১২টার দিকে ঝড় তুফান আসে। মুহূর্তে আমার ঘরটি মুরচা মেরে ভেঙে উপড়ে পড়ে যায়। আমি পরিবারের সবাইকে নিয়ে বাহিরে চলে আসি। তাদের কারো ক্ষতি হয়নি; কিন্তু এখন থাকব কোথায়। আমি প্রসাশনের কাছে সহযোগিতা চাইছি’

কমলগঞ্জ সদর ইউপি চেয়ারম্যান আব্দুল হান্নান জানান, ‘কালবৈশাখী ঝড় ও ভারী বর্ষণে কারনে আমার ইউনিয়নের ঘরবাড়ি, রাস্তাঘাটসহ ফসলেরও ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। আমি এসব বিষয় স্থানীয় প্রশাসনকে অবগত করেছি।’

উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা জয়ন্ত কুমার রায় বলেন, ‘আমরা সকাল থেকে অফিসের সব কর্মকর্তা ও কর্মচারীরা সরেজমিনে ক্ষয়ক্ষতির পরিমান দেখার জন্য বের হয়। কৃষকদের প্রায় ১০-১২ হেক্টর কৃষি জমির ফসলের ক্ষতি হয়েছে। সেসব কৃষকদের নামগুলো তালিকা করছি। তাদের সহযোগিতা করা হবে।’

মৌলভীবাজার পল্লি বিদ্যুৎ সমিতির কমলগঞ্জ জোনাল অফিসের ডিজিএম গোলাম ফারুক মীর জানান, ‘ঝড়ে ব্যাপক ক্ষতি সাধিত হয়েছে। প্রায় ৪টি খুঁটি ও ১ শতাধিক স্থানে তার ছিঁড়ে গেছে। এসব জায়গায় বিদ্যুৎ ব্যবস্থা স্বাভাবিক করতে সময় লাগবে।’

কমলগঞ্জ উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা মোহাম্মদ আছাদুজ্জামান বলেন, ‘ক্ষতিগ্রস্ত ঘরবাড়ির তালিকা দেওয়ার জন্য ইউপি চেয়ারম্যানদের বলা হয়েছে।’

কমলগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা জয়নাল আবেদীন বলেন, ‘ঘটনাস্থলে গিয়ে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারদের খুঁজ খবর নিয়েছি। স্থানীয় চেয়ারম্যানদের সঙ্গে কথা হয়েছে। তাদের বলেছি তালিকা করে দিতে। ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারদের সহযোগিতা করা হবে।’

বিষয়:

পাগলা মসজিদের দানবাক্সে ২৭ বস্তা টাকা, চলছে গণনা

পগলা মসজিদের দনবাক্সের টাকা গণনা করা হচ্ছে। ছবি: দৈনিক বাংলা
আপডেটেড ২০ এপ্রিল, ২০২৪ ১০:৪৯
কিশোরগঞ্জ প্রতিনিধি

কিশোরগঞ্জের আলোচিত পাগলা মসজিদের দানবাক্স খুলে এবার ২৭ বস্তা টাকা পাওয়া গেছে, যেগুলোর গণনা চলছে এ মুহূর্তে। জেলা শহরের ঐতিহাসিক মসজিদটিতে ৯টি দানবাক্স আছে, যেগুলো প্রতি তিন মাস পরপর খোলা হয়। রমজানের কারণে এবার এবার খোলা হয়েছে চার মাস ১০ দিন পর।

অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট ও দানবাক্স খোলা কমিটির আহ্বায়ক কাজী মহুয়া মমতাজের তত্ত্বাবধানে জেলা প্রশাসক (ডিসি) মোহাম্মদ আবুল কালাম আজাদ ও পুলিশ সুপার (এসপি) মোহাম্মদ রাসেল শেখের উপস্থিতিতে সকাল সাড়ে ৭টার দিকে দানবাক্সগুলো খোলা হয়। এবার ৯টি দানবাক্স খুলে ২৭ বস্তা টাকা পাওয়া গেছে।

ডিসি মোহাম্মদ আবুল কালাম আজাদ বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, সকাল সাড়ে ৭টার দিকে মসজিদ পরিচালনা কমিটির সদস্যদের উপস্থিতিতে ৯টি দানবাক্স খোলা হয়েছে। এসব দানবাক্সে ২৭ বস্তা টাকা পাওয়া গেছে।

এসপি মোহাম্মদ রাসেল শেখ জানান, কঠোর নিরাপত্তার মধ্য দিয়ে পাগলা মসজিদের দানবাক্সগুলো খোলা হয়েছে। টাকা গণনা শেষে ব্যাংকে পৌঁছে দেয়া পর্যন্ত পুলিশ সদস্যরা নিরাপত্তায় নিয়োজিত থাকবেন।

টাকা গণনার কাজে জেলা প্রশাসনের কর্মকর্তা, কর্মচারীরা ছাড়াও মাদ্রাসার ১১২ ছাত্র, ব্যাংকের ৫০ কর্মী, মসজিদ কমিটির ৩৪ ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ১০ জন সদস্য অংশ নিয়েছেন।

দানবাক্সগুলো খোলার পর গণনা দেখতে মসজিদের আশপাশে ভিড় করছেন উৎসুক মানুষ। তাদের মধ্যে অনেকে এসেছেন দূরদুরান্ত থেকে।

এর আগে ২০২৩ সালের ৯ ডিসেম্বর তিন মাস ২০ দিন পর দানবাক্সগুলো খোলা হয়েছিল। তখন ২৩টি বস্তায় ছয় কোটি ৩২ লাখ ৫১ হাজার ৪২৩ টাকা পাওয়া গিয়েছিল।

ঐতিহাসিক এ মসজিদের দানবাক্সে একসঙ্গে এত টাকা পাওয়াটা তখন ছিল নতুন রেকর্ড। এবার সে রেকর্ড ছাড়িয়ে যাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

জেলা শহরের হারুয়া এলাকায় নরসুন্দা নদীর তীরে প্রায় ১০ শতাংশ জমিতে পাগলা মসজিদ গড়ে ওঠে। সম্প্রসারণের পর মসজিদের আওতাভুক্ত জমির পরিমাণ দাঁড়িয়েছে তিন একর ৮৮ শতাংশে।


রাজশাহীতে ট্রাকচাপায় মোটরসাইকেলের ৩ আরোহী নিহত

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
রাজশাহী প্রতিনিধি

রাজশাহীর পবায় ট্রাকচাপায় তিন মোটরসাইকেল আরোহী নিহত হয়েছেন। শুক্রবার বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে উপজেলার মুরাদীপুর এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।

নিহতরা হলেন আসিফ ইকবাল (১৯), সুইট (৩১) ও তাজুল ইসলাম (২৫)। এদের মধ্যে আসিফ দামকুড়া উপজেলার নতুন কশবা এলাকার লাল মোহাম্মদের ছেলে, সুইট সুত্রাবন এলাকার আলমগীরের ছেলে ও তাজুল ইসলাম তাজুল লালমনিরহাট সদর উপজেলার বড়বাড়ি এলাকার মো. জহুরুল ইসলামের ছেলে।

আর আহতরা হলেন মো. জুলহাস উদ্দিন (৩২) ও মো. রিমন হোসেন (৩৫)। জুলহাস জেলার দামকুড় উপজেলার আলীগঞ্জ এলাকার মো. রবিউল ইসলামের ছেলে ও রিমন একই উপজেলার নতুন কশবা এলাকার মো. মানিক মিয়ার ছেলে।

দামকুড়া থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) আলী আকবর বলেন, বিকেলে উপজেলার মুরাদীপুর এলাকায় বালুবাহী একটি ডাম্পট্রাক দুটি মোটরসাইকেলকে চাপা দেয়। এসময় পাঁচ আরোহীর মধ্যে দুজন ঘটনাস্থলে মারা যান। আহত তিনজনকে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ (রামেক) হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে আরও একজনের মৃত্যু হয়।

তিনি আরও বলেন, এ ঘটনায় আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন। আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের পর মরদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হবে।


কৃষকরা যাতে ধানের সঠিক মূল্য পায় সেই চেষ্টা করব: কৃষিমন্ত্রী

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

কৃষিমন্ত্রী ড. মো. আব্দুস শহীদ বলেছেন, ‘লক্ষ্যমাত্রা অনুযায়ী দুই কোটি ২২ লাখ টন খাদ্য উৎপাদনের জন্য আমরা চেষ্টা করছি, কৃষকরা যাতে ধানের দাম বা চালের দাম সঠিকভাবে পায়। কৃষকের বাঁচার জন্য যে প্রয়োজন, সেটুকু বিবেচনা করে মূল্য নির্ধারণের চেষ্টা করব। আমরা চাই কৃষকরা যেন সঠিক মূল্যে তাদের উৎপাদিত পণ্য বিক্রি করতে পারেন। এ জন্য তাদের কীভাবে সহযোগিতা করা যায় সেটা নিশ্চিত করা হবে।’

আজ শুক্রবার দুপুরে সুনামগঞ্জের দেখার হাওরে কৃষকদের সঙ্গে বোরো ধান কর্তনে অংশগ্রহণ শেষে সাংবাদিকদের তিনি এসব কথা বলেন।
কৃষিমন্ত্রী বলেন, ‘সুনামগঞ্জ জেলা অত্যন্ত একটি ঝুঁকিপূর্ণ জেলা। এখানে বন্যা হয় বেশি, খরার সময়ও মাঠ-ঘাট ফেটে যায়। আমরা চেষ্টা করব কৃষকরা যাতে ধানের সঠিক মূল্য পায়। মধ্যস্বত্বভোগীরা যেন মুনাফা না নিতে পারে। মধ্যস্বত্বভোগীরা যেন কোনো সিন্ডিকেট তৈরি করে কৃষকদের গলায় ফাঁসি না দেয়। সবাই সজাগ থাকলে কৃষকরা বঞ্চিত হবেন না।’

মন্ত্রী বলেন, ‘কৃষকের উৎপাদিত ফসলের সঠিক মূল্য দিতে চায় সরকার। সরকারের সীমাবদ্ধতা রয়েছে। সুনামগঞ্জ ঝুঁকিপূর্ণ এলাকা। এখানে বন্যা-দুর্যোগ বেশি হয়। খরাও হয়। জেলা প্রশাসনকে বলেছি, কৃষকদের ফসলের ন্যায্য মূল্য নিশ্চিত করতে ব্যবস্থা নিতে।’
তিনি আরও বলেন, ‘কৃষিকে সরকার সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিয়ে কাজ করছে। কৃষকের ধানের মূল্য নির্ধারণ করতে আগামী পরশু মিটিং করব। দাম নির্ধারণ করে সরকারের কাছে প্রস্তাবনা পাঠাব।’

সুনামগঞ্জের জেলা প্রশাসক রাশেদ ইকবাল চৌধুরীর সভাপতিত্বে বোরো ধান কর্তন অনুষ্ঠানে সাবেক পরিকল্পনামন্ত্রী এম এ মান্নান, সংসদ সদস্য ড. মোহাম্মদ সাদিক, অ্যাডভোকেট রণজিত চন্দ্র সরকার, পানিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের সচিব নাজমুল হাসান, কৃষি মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব ড. মলয় চৌধুরী, জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক বিমল চন্দ্র সোমসহ সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়, দপ্তর, জেলা প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

বোরো ধান কর্তনের পর কৃষিমন্ত্রী ধান কাটার জন্য কৃষকদের মাঝে ভর্তুকিতে হারভেস্টার মেশিন বিতরণ করেন এবং কৃষকদের সঙ্গে আলোচনা সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে যোগ দেন।


দেলোয়ারকে দেখতে গিয়ে পলক বললেন ‘লজ্জিত, দুঃখিত’

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নাটোর ও রাজশাহী প্রতিনিধি

নাটোরের সিংড়া উপজেলায় অপহরণ ও মারধরের শিকার চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী দেলোয়ার হোসেনকে হাসপাতালে দেখতে গিয়ে দুঃখ প্রকাশ করে ক্ষমা চেয়েছেন তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহমেদ পলক। তিনি বলেছেন, ‘এ ঘটনায় আমি লজ্জিত, দুঃখিত ও ক্ষমাপ্রার্থী।’

যার বিরুদ্ধে দেলোয়ারকে অপহরণ ও মারধরের অভিযোগ উঠেছে, সেই লুৎফুল হাবিব রুবেলও সিংড়া উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান পদে নির্বাচন করছেন। তিনি স্থানীয় সংসদ সদস্য ও প্রতিমন্ত্রী পলকের শ্যালক।

মারধরে গুরুতর আহত দেলোয়ার বর্তমানে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। তাকে দেখতে শুক্রবার সকালে উড়োজাহাজে করে রাজশাহী বিমানবন্দরে পৌঁছান প্রতিমন্ত্রী পলক। সেখান থেকে যান রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে। সিংড়া উপজেলা আওয়ামী লীগের কয়েকজন নেতাও তার সঙ্গে ছিলেন।

প্রতিমন্ত্রী অসুস্থ দেলোয়ার এবং তার দুই ভাইয়ের সঙ্গে কথা বলেন। এ ছাড়া দায়িত্বরত চিকিৎসকের কাছে দেলোয়ারের চিকিৎসার খোঁজখবর নেন এবং সর্বোত্তম চিকিৎসা দেওয়ার অনুরোধ জানান। পরে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে পলক বলেন, ‘আমি বিদেশে ছিলাম। গতকাল রাত ১টায় দেশে ফিরেছি। তবে বিদেশে থেকেও সবসময় খোঁজখবর নিয়েছি। আমি ভাবতেও পারিনি, নাটোরের মাটিতে এ ধরনের ঘটনা ঘটবে।

তিনি আরও বলেন, বিবেকের তাড়নায় আমার মনে হয়েছে এখানে আসা দরকার এবং স্পষ্ট বার্তা সবার কাছে জানিয়ে দেওয়া দরকার। এ ঘটনায় জড়িত আমার আত্মীয় কিংবা যেই হোক এটা ব্যবহার করে কোনো বাড়তি সুবিধা পাওয়ার সুযোগ নেই।

পলক বলেন, ‘হামলার ঘটনাকে কেন্দ্র করে যারা দোষী তাদের বিরুদ্ধে প্রশাসনিক, আইনগত ও সাংগঠনিক কঠোর সিদ্ধান্ত নেওয়ার জন্যই আমরা কঠোর অবস্থানে আছি। সে ক্ষেত্রে কার কী পরিচয়, কে আমার ভাই, কে আমার শ্বশুর কিংবা শ্যালক এটা কোনো বিবেচনার বিষয় নয়। এটা নিয়ে আমি আসলেই বিব্রত, লজ্জিত, দুঃখিত এবং ক্ষমাপ্রার্থী। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী এ ঘটনার খোঁজখবর রাখছেন। এ ঘটনায় যারা জড়িত, তাদের সুষ্ঠু বিচার হবে। কেউ ছাড়া পাবে না।’

প্রসঙ্গত, মনোনয়নপত্র দাখিলের শেষ দিন গত সোমবার (১৫ এপ্রিল) বিকেলে সিংড়া উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান প্রার্থী দেলোয়ার হোসেন অনলাইনে আবেদনের পর জেলা নির্বাচন কার্যালয়ে মনোনয়নপত্রের প্রতিলিপি জমা দিতে আসেন। সেখানে আগে থেকে ওত পেতে থাকা দুর্বৃত্তরা তাকে মারধর করে কালো মাইক্রোবাসে তুলে নিয়ে যায়। পরে তাকে আবারও বেধড়ক মারধর করে বাড়িতে পৌঁছে দেয়। সেখান থেকে পরিবারের লোকজন নাটোর আধুনিক সদর হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে রেফার্ড করেন।

এ ঘটনার জন্য আরেক প্রার্থী লুৎফুল হাবিব রুবেল ও তার সমর্থকদের দায়ী করেছে দেলোয়ারের পরিবার। ওই প্রার্থীকে মারধরের ঘটনায় ইতোমধ্যে দুইজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।

রুবেল সিংড়া উপজেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক। তিনি সিংড়ার শেরকোল ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ছিলেন। সম্প্রতি সেই পদ ছেড়ে উপজেলা চেয়ারম্যান পদের লড়াইয়ে নেমেছেন। দেলোয়ারকে অপহরণ ও মারধরের অভিযোগ অস্বীকার করে আসছেন তিনি। এ ঘটনায় রুবেলকে নির্বাচন কমিশনে তলব করা হয়েছে। তার প্রার্থিতা কেন বাতিল করা হবে না, সোমবার কমিশনে হাজির হয়ে সে বিষয়ে তাকে ব্যাখ্যা দিতে বলা হয়েছে। ওই ঘটনায় দেলোয়ারের ভাই অজ্ঞাতপরিচয় ব্যক্তিদের আসামি করে থানায় মামলা করেছেন। পুলিশের হাতে গ্রেপ্তার দুজনের মধ্যে একজন আদালতে দোষ স্বীকার করে জবানবন্দি দিয়েছেন। ওই জবানন্দিতে তিনি বলেছেন, নির্বাচনের প্রার্থী লুৎফুল হাবিব রুবেলের পক্ষে তারা ওই ঘটনা ঘটিয়েছেন।

সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে জুনাইদ আহমেদ পলক বলেন, ‘লুৎফুল হাবিব আমার আত্মীয় তা অস্বীকার করব না। তবে আত্মীয়তার সুবাদে বা রাজনৈতিক কারণে সে বা অন্য কেউ বাড়তি সুবিধা পাবেন না। বরং এমন ব্যবস্থা নেওয়া হবে, যা এমপি-মন্ত্রীর স্বজনদের জন্য দৃষ্টান্ত হয়ে থাকবে।’ যাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ উঠেছে দলের পক্ষ থেকেও তাদের ব্যাপারে দ্রুত সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়ার প্রতিশ্রুতি দেন তিনি।


আশ্রয় নিল আরও ১৩ জন

বর্ডার গার্ড বাংলাদেশের (বিজিবি) সদস্যদের হেফাজতে মিয়ানমার থেকে পালিয়ে আসা বিজিপির সদস্যরা। ফাইল ছবি
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
দৈনিক বাংলা ডেস্ক

মিয়ানমারের অভ্যন্তরে চলা সংঘাতের জেরে প্রতিবেশী দেশটির সীমান্তরক্ষী বাহিনীর (বিজিপি) আরও ১৩ জন সদস্য বাংলাদেশে আশ্রয় নিয়েছে। বৃহস্পতিবার টেকনাফের নাফ নদীতে বাংলাদেশ কোস্টগার্ডের কাছে আত্মসমর্পণ করে বলে জানান বর্ডার গার্ড বাংলাদেশের (বিজিবির) জনসংযোগ কর্মকর্তা শরিফুল ইসলাম।

তিনি জানান, পরবর্তীতে কোস্টগার্ড উক্ত বিজিপি সদস্যদেরকে বিজিবির নাইক্ষ্যংছড়ি ব্যাটালিয়নের (১১ বিজিবি) কাছে হস্তান্তর করে। বর্তমানে বিজিপির মোট ২৭৪ জন সদস্য বাংলাদেশে আশ্রয় নিয়েছে। তাদের মধ্যে বুধবার একজন ও আগের দিন আসা ৪৬ জন রয়েছে।

অভ্যন্তরীণ সংঘাতের মুখে বুধবার বান্দরবানের নাইক্ষ্যংছড়ি সীমান্তপথে বিজিপির এক সদস্য বাংলাদেশে আশ্রয় নেন। মঙ্গলবার সীমান্ত পাড়ি দিয়ে এপারে চলে আসেন আরও ৪৬ জন বিজিপি সদস্য। বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ-বিজিবি তাদের সবাইকে হেফাজতে নিয়েছে।

আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী ও স্থানীয়রা জানায়, মিয়ানমারের অভ্যন্তরে জান্তা বাহিনীর সঙ্গে আরাকান বিদ্রোহীদের গোলাযোগ চলছে৷ মঙ্গলবার রাতেও সীমান্তের ওপারে ব্যাপক গোলাগুলির শব্দ শোনা গেছে। সংঘাতে আরাকান বিদ্রোহীদের সঙ্গে টিকতে না পেরে প্রাণ বাঁচাতে পালিয়ে বাংলাদেশ আশ্রয় নিচ্ছে মিয়ানমারের সীমান্তরক্ষীরা।

বিষয়:

কাপ্তাই হ্রদে ৩ মাস মাছ শিকারে নিষেধাজ্ঞা

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
রাঙামাটি প্রতিনিধি

রাঙামাটির কাপ্তাই হ্রদে মাছের বংশবিস্তার ও প্রাকৃতিক প্রজনন নিশ্চিতকরণে এ বছরও ২৫ এপ্রিল থেকে ২৪ জুলাই পর্যন্ত আগামী ৩ মাস হ্রদে সব ধরনের মাছ ধরা, বাজারজাতকরণ এবং পরিবহনের ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়েছে।

আজ বৃহস্পতিবার বিকেলে জেলা প্রশাসনের কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত কাপ্তাই হ্রদে মৎস্য আহরণ, নিষেধাজ্ঞা আরোপ সংক্রান্ত সভায় এ সিদ্ধান্ত জানান জেলা প্রশাসক মো. মোশারফ হোসেন খান।

সভায় জেলা প্রশাসক বলেন, হ্রদে কার্পজাতীয় মাছ অবমুক্ত করা ও মৎস্য সম্পদ বৃদ্ধি করতে এ নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়েছে ।

জেলা প্রশাসক আরও বলেন, বন্ধকালীন সময়ে অবৈধ উপায়ে মাছ ধরা, পরিবহন ও বাজারজাতকরণ বন্ধ করতে মোবাইল কোর্ট পরিচালনার পাশাপাশি হ্রদের বিভিন্ন স্থানে নৌ পুলিশ মোতায়েন করা হবে। হ্রদে অবৈধ উপায়ে মাছ শিকারে জড়িতদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। নিষেধাজ্ঞাকালীন সময়ে স্থানীয় বরফকল বন্ধ থাকবে। পাশাপাশি স্থানীয় বাজারসমূহ ও কাপ্তাই হ্রদ মনিটরিং করা হবে।

সভায় বাংলাদেশ মৎস্য উন্নয়ন করপোরেশনের রাঙামাটির ব্যবস্থাপক কমান্ডার আশরাফুল আলম ভূঁইয়া জানান, এ বছর বৃষ্টিপাত কম হওয়ায় হ্রদের পানি দ্রুত শুকিয়ে গেছে। এর ফলে ছোট মাছ আহরণ কম হয়েছে। আবার এই সময়ে মাছের প্রজনন শুরু হয়। তাই মাছের প্রাকৃতিক প্রজনন নিশ্চিত করতে মাছে আহরণে নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়েছে।

এ সময় বাংলাদেশ মৎস্য গবেষণা ইনস্টিটিউট রাঙামাটি নদী-উপকেন্দ্রের প্রধান মো. ইশতিয়াক হায়দার, অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট জোবায়দা আক্তার, মৎস্য ব্যবসায়ী নেতৃবৃন্দসহ সংশ্লিষ্টরা উপস্থিত ছিলেন।


কেএনএফের ১৭ নারীসহ ৫২ জনের ৪ দিনের রিমান্ড

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
দৈনিক বাংলা ডেস্ক

বান্দরবানের রুমা ও থানচিতে ব্যাংকে সন্ত্রাসী হামলা, ব্যাংক ম্যানেজারকে অপহরণ এবং অস্ত্র ও টাকা লুটের দুটি মামলায় ‘কুকি-চিন ন্যাশনাল ফ্রন্ট (কেএনএফ)’ সংশ্লিষ্টতায় জড়িত থাকার অভিযোগে গ্রেপ্তার করা ৫৭ জনকে আজ বৃহস্পতিবার আদালতে তোলা হয়। এর মধ্যে ১৭ জন নারীসহ ৫২ জনের চারদিন করে রিমান্ড মঞ্জুর করেছেন আদালত। এছাড়া চারজনকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। বৃহস্পতিবার দুপুর সোয়া ১২টায় আসামিদের বান্দরবান চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট মোহাম্মদ নাজমুল হোসাইনের এজলাসে হাজির করা হয়।

এসময় কোর্ট ইন্সপেক্টর বিশ্বজিৎ সিংহ রিমান্ডের আবেদন এবং আসামিপক্ষের আইনজীবী অ্যাডভোকেট কাজী মহতুল হোসেন যত্ন জামিন আবেদন করেন। আদালত জামিন আবেদন নামমঞ্জুর করে রিমান্ডের আবেদনের ওপর শুনানি শেষে তাদের চারদিন করে রিমান্ড মঞ্জুর করেন।

আদালত সূত্র জানায়, রিমান্ডে পাঠানো হয়েছে ৫২ জনকে। এছাড়া এক নারী আসামিকে জেল গেটে জিজ্ঞাসাবাদের শর্ত আরোপ করা হয়েছে।

গত ৮ এপ্রিল যৌথবাহিনী বিশেষ অভিযান চালিয়ে রুমা উপজেলার বেথেলপাড়া থেকে ১৮ নারীসহ ৪৯ জনকে গ্রেপ্তার করে।

বাকিদের বিভিন্ন সময়ে গ্রেপ্তার করা হয়।

গত ২ এপ্রিল রাতে রুমা উপজেলা সদরের সোনালী ব্যাংকে ডাকাতি করে কেএনএফ। ওই সময় তারা পুলিশের ১০টি অস্ত্র এবং আনসারের চারটি অস্ত্র লুট করে নেয়। যাওয়ার সময় তারা ব্যাংক ম্যানেজার নিজাম উদ্দিনকে অপহরণ করে নিয়ে যায়। এর পরদিন ৩ এপ্রিল দুপুরে পার্শ্ববর্তী উপজেলা থানচির সোনালী ব্যাংক ও কৃষি ব্যাংকে ডাকাতি করে তারা। ওই সময় সন্ত্রাসীরা দুটি ব্যাংকের ক্যাশ কাউন্টার থেকে নগদ টাকা লুট করে। এ ঘটনার পর বান্দরবান জেলার রুমা, রোয়াংছড়ি ও থানচি উপজেলায় সেনাবাহিনীর নেতৃত্বে যৌথবাহিনীর বিশেষ চিরুনি অভিযান চলছে। এসব অভিযানে এ পর্যন্ত ৬৬ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।


সড়কে প্রাণ হারালেন সঙ্গিতশিল্পী পাগল হাসান

ছবি: দৈনিক বাংলা
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
সুনামগঞ্জ প্রতিনিধি

সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত হয়েছেন ‘আসমানে যাইওনারে বন্ধু ধরতে পারব না তোমায়’সহ অনেক জনপ্রিয় গানের গীতিকার, সুরকার শিল্পী মতিউর রহমান হাসান ওরফে পাগল হাসান। বৃহস্পতিবার সকালে সুনামগঞ্জের ছাতকের সুরমা ব্রিজ এলাকায় সিএনজিচালিত অটোরিকশায় বাসের ধাক্কায় প্রাণ হারান তিনি।

ছাতক থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শাহ আলম বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

দুর্ঘটনায় অটোরিকশার চালকসহ তিনজন গুরুতর আহত হন। পাগল হাসান অটোরিকশার যাত্রী ছিলেন। ওই সময় তার সঙ্গে থাকা ছাত্তার নামের একজনের মৃত্যু হয়।

প্রাণ হারানো পাগল হাসানের বাড়ি সুনামগঞ্জের ছাতকের শিমুলতলা গ্রামে।

পুলিশে জানায়, দোয়ারবাজার থেকে যাত্রী নিয়ে গন্তব্যে যাচ্ছিল অটোরিকশাটি। খালি বাসটি গোবিন্দগঞ্জ থেকে ছাতক যাচ্ছিল। পথে সুরমা ব্রিজ এলাকায় অটোরিকশায় ধাক্কা দেয় বাসটি। ওই সময় পাগল হাসান ও ছাত্তার ঘটনাস্থলেই নিহত হন। অন্য তিন যাত্রী গুরুতর আহত হন।

ছাতক ফায়ার সার্ভিসের স্টেশন অফিসার জালাল আহমদ বলেন, ‘ঘটনাস্থলেই পাগল হাসানসহ আরেকজন মারা যান। আমরা পুলিশের কাছে মরদেহ হস্তান্তর করেছি। আহত তিনজনের মধ্যে একজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক।’

বিষয়:

শ্রীমঙ্গলে ময়লায় সয়লাব পুকুর

সাঁতার শিখতে পারছে না শিশুরা
শ্রীমঙ্গল পৌরসভা সংলগ্ন সরকারি পুকুর ময়লা-আবর্জনায় ভরা। ছবি: দৈনিক বাংলা
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
মুজিবুর রহমান রঞ্জু, শ্রীমঙ্গল ও কমলগঞ্জ (মৌলভীবাজার)

মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গলের পুর্বাশা এলাকায় একটি বাড়িতে ভাড়াটে সুইটি আক্তার। তার ছয় বছরের একটি ছেলে। সুইটি আক্তারের বয়স যখন ছয় বছর ছিল তখনই তিনি বাবার সঙ্গে পুকুরে নেমে সাঁতার শিখেছেন। নিজে সাঁতার জানলেও সাঁতার শেখানোর উপযোগী পুকুর না পাওয়ায় ছেলেকে সাঁতার শেখানোর সুযোগ পাচ্ছেন না তিনি। এ অবস্থা শুধু সুইটি আক্তারেরই নয়; পুকুর, জলাশয় ভরাট হয়ে যাওয়া ও নোংরা আবর্জনায় পুকুরের পানি অপরিষ্কার থাকায় শ্রীমঙ্গলে শিশুদের সাঁতার শিখাতে পারছে না অভিভাবকরা। শিশুকালে সাঁতার না শেখার কারণে বড় হয়ে আর সাঁতার শিখতে পারছে শিশুরা। সুইটি আক্তার বলেন, ‘শিশুদের সাঁতার শেখানো অতন্ত জরুরি। শহরের পুকুরগুলো এত নোংরা যে সেখানে পা ধুতেই ঘেন্না লাগে। সেখানে কীভাবে আমার ছেলেকে সাঁতার শেখাব; কিন্তু আমার শিশুকে সাঁতার শিখাতে চাই, সুইমিংপুলগুলোতে সাঁতার শেখানোর জন্য অনেক টাকা খরচ করতে হয়। অন্য শিশুরাও যেন সাঁতার শিখতে পারে সেটা চাই।’

সরেজমিন শ্রীমঙ্গল ঘুরে দেখা গেছে, ১০ বছর আগেও যেখানে পুকুর ছিল সেগুলোর অনেকটাই মাটিতে ভরাট হয়ে গেছে। এ ছাড়া শহরের ডাকবাংলা পুকুর, সাগরদিঘি পুকুর সাধারণ মানুষের জন্য উন্মুক্ত থাকলেও ময়লা-আবর্জনায় এই পুকুরগুলোর পানি খুবই নোংরা। ময়লা পলিথিন পুকুরের চারপাশে ভেসে থাকে। এই নোংরা পানিতেই শ্রমজীবী অনেক মানুষ গোসল করে। তবে উপজেলা প্রশাসনের একটি বড় পুকুর রয়েছে। সেখানে সাধারণ মানুষ তেমন একটা যান না। শ্রীমঙ্গলের দ্বারিকা পাল মহিলা কলেজের প্রভাষক ও নাগরদোলা থিয়েটারের সভাপতি অনিরুদ্ধ সেনগুপ্ত বলেন, ‘আমাদের ছোট বেলায় আমাদের আশপাশে অনেক পুকুর ছিল, দিঘি ছিল। এসবের বেশিরভাগই এখন ভরাট হয়ে গেছে। যেগুলো এখনো আছে সেগুলো নোংরা-আবর্জনায় ভরা, পানি অপরিষ্কার। এসব পানিতে শিখতে গেলে উলটো পানিবাহিত রোগে আক্রান্ত হবে। সরকারের কাছে আমাদের অনুরোধ থাকবে এসব পুকুরের পানি পরিষ্কার করে শিশুদের সাঁতার শেখার ব্যবস্থা করার। প্রতি বছর সাঁতার না জানার কারণে অনেক শিশুই ডুবে মারা যায়। ছোট বেলায়ই যদি শিশুরা সাঁতার শিখে ফেলে তাহলে পানিতে ডুবে শিশু মৃত্যুর হার অনেক কমবে।

কবি ও লেখক সজল দাশ বলেন, সাঁতার তো একটা খেলা। আমরা খেলার ছলেই সাঁতার শিখেছি। এখন শিশুরা সাঁতার শেখার জায়গা পায় না। আমার ছেলেকে সুইমিংপুলে নিয়ে গিয়ে সাঁতার শিখিয়েছি। সুইমিং পুলে সাঁতার শেখা ব্যয় বহুল পাশাপাশি সাঁতার শেখার জন্য উপযুক্ত নয়। সরকার যদি প্রাথমিক শিক্ষা ব্যবস্থায় সাঁতার শেখার একটা অধ্যায় রাখে এবং উপজেলা পর্যায়ে শিশুদের সাঁতার শেখার জন্য সরকারিভাবে পুকুর তৈরি করে সাঁতার প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা রাখে তাহলে সবার জন্য ভালো হবে।’ শ্রীমঙ্গল উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আবু তালেব বলেন, আমরাও বিভিন্ন সময়ে অভিভাবক সমাবেশে শিশুদের সাঁতার শেখানোর কথা বলি। শিশুরা সাঁতার শিখে রাখলে ভালো। আমাদের উপজেলা প্রশাসনের একটি পুকুর রয়েছে এখানে চাইলে শিশুরা সাঁতার শিখতে পারে। পাশাপাশি আমি উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তাকে বলে দেব, যেন উপজেলার সরকারি পুকুরগুলোর পানি পরিষ্কার রাখার ব্যবস্থা রাখেন।

বিষয়:

আড়াই শ বছরের ঐতিহ্য ধরে রেখে এখনো জনপ্রিয় বগুড়ার দই

ছবি: দৈনিক বাংলা
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
প্রবীর মোহন্ত, বগুড়া 

বগুড়া এলাকাটির নাম মুখে এলেই আরেকটি শব্দ চলে আসে, তা হলো দই। দীর্ঘদিনের ঐতিহ্য, স্বাদ আর জনপ্রিয়তার কারণে এখন বগুড়ার সমার্থক হয়ে দাঁড়িয়েছে এই দই। বগুড়াকে দেশের আনাচে-কানাচে পরিচিত করে তুলেছে দই।

জানা গেছে, দেশ বিভাগের সময় ১৯৪৭ সালে গৌর গোপাল ভারত থেকে বগুড়া আসেন পরিবার নিয়ে। বগুড়া থেকে প্রায় ২৫ কিলোমিটার দক্ষিণে বর্তমানে শেরপুর উপজেলা সদরে তার আত্মীয়-স্বজনের কাছে আশ্রয় নেন। দই বানানোর পদ্ধতি তার জানা ছিল। শেরপুর থেকে দই বানিয়ে হেঁটে ভাঁড়ে করে আনতেন বগুড়া শহরের বনানী এলাকায়। মূলত দই তৈরি প্রথমে শুরু হয় শেরপুর থেকেই। এখনও দই তৈরিকে কেন্দ্র করে শেরপুরে একটি মহল্লার নামকরণ হয়েছে ‘ঘোষপাড়া’।

একসময় ঘোষ পরিবারকে বলা হতো দই তৈরির কারিগর। তবে এখন আর ঘোষদের হাতে সেই দইয়ের বাজার নেই। এটি এখন চলে গেছে মুসলিম সম্প্রদায়সহ অন্য প্রতিষ্ঠিত ব্যবসায়ীদের হাতে। এদের মধ্যে রফাত দই ঘর, মহররম আলী দই ঘর, বগুড়া দই ঘর, আকবরিয়ার দই, রুচিতা দইসহ আরও কয়েকটি প্রতিষ্ঠানে নিয়মিত দই তৈরি হচ্ছে।

প্রায় আড়াইশ বছরের পুরোনো ইতিহাস হলেও বগুড়ার দইয়ের প্রস্তুত প্রণালী ছিল অতি গোপনীয়। তবে সেটিকে আর তারা ধরে রাখতে পারেনি। এখন শেরপুরেই প্রায় শতাধিক ব্যবসায়ী দই তৈরি করে। এদের মধ্যে মাত্র ৯-১০ জন ঘোষ পরিবারের লোক।

জানা যায়, ব্রিটেনের রানি এলিজাবেথ থেকে শুরু করে মার্কিন মুল্লুকেও গিয়েছে বগুড়ার দই। এ দই প্রথমবারের মতো বিদেশে যায় ১৯৩৮ সালে। ওই বছরের গোড়ার দিকে তৎকালীন ব্রিটিশ গভর্নর স্যার জন এন্ডারসন বগুড়ায় এলে দইয়ের স্বাদে এতটাই অভিভূত হন যে, তিনি সুদূর ইংল্যান্ডে নিয়ে যান সেই দই।

বগুড়া ও শেরপুরের বেশ কয়েকজন দই ব্যবসায়ীর সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, এখানকার আবহাওয়া, পানি ও মাটি- তা পুরোটাই দই তৈরির উপযোগী। দই তৈরিতে এ জেলায় প্রতিদিন প্রায় ১৫শ মণ দুধের প্রয়োজন হয়। পার্শ্ববর্তী কয়েকটি জেলা ও উপজেলা থেকে দুধ সংগ্রহ করে এর চাহিদা মেটাতে হয়। প্রতিদিন ৫০ লাখ টাকার দই বিকিকিনি হয় এ জেলায়। কাপ দই বিক্রি হয় ১৫ থেকে ২০ টাকা, সরার দই বিক্রি হয় ১৫০ থেকে ২০০ টাকা, পাতিল ২০০ থেকে ২৫০ টাকা, ডুঙ্গি ১০০ থেকে ৩০০ টাকা, খাদা ১৫০ থেকে ২০০ টাকা, স্পেশাল সরার দই ২০০ টাকায় বিক্রি হয়।

দই প্রোটিন, ক্যালসিয়াম, বিবোফ্লাভিন, ভিটামিন ই ১৬, ভিটামিন ই ১২ সমৃদ্ধ। দই খেলে মানব দেহের পাকস্থলীর উপকারীর ব্যাকটেরিয়া বৃদ্ধি পায়। যার ফলে বিষাক্ত রাসায়নিকের ক্ষতিকর প্রভাব থেকে শরীর সুরক্ষিত থাকে। তাই দই শিল্পের সম্ভাবনা খুবই আশাব্যঞ্জক।

তবে অনেক অসাধু ব্যবসায়ী রয়েছেন, যারা দইয়ের মান ঠিক রাখছেন না। উপরি টাকার লোভে তারা ভেজাল দিচ্ছেন। ফলে বগুড়ার দইয়ের সুনাম ক্ষুণ্ন হচ্ছে। তবে দেশীয় বাজারের সঙ্গে আন্তর্জাতিক বাজার সৃষ্টি করতে পারলে এর মাধ্যমে প্রতিদিন প্রচুর বৈদেশিক মুদ্রা অর্জিত হওয়া সম্ভব বলে মনে করেন সংশ্লিষ্টরা।

দই কারিগর সচীন বলেন, ৪০০ মণ দুধে দই হয় ৩০০ মণ। যা চুলার আগুনে কড়াইয়ের মধ্যে দুধ জাল দিয়ে কমাতে হয়। প্রতি সরায় দুধ লাগে ৭০০ গ্রাম, চিনি ১৮০ গ্রাম। শেরপুর উপজেলায় প্রায় ৩০ হাজার মানুষ এই দই তৈরি ও বিক্রির সঙ্গে যুক্ত থেকে জীবিকা নির্বাহ করে। প্রতিষ্ঠানও রয়েছে শতাধিক।

দই কারিগর টিপু বলেন, ‘দই তৈরি করতে আমার ভালো লাগে। কারণ এটি আমাদের শেরপুরের ঐতিহ্য।’

দুধ বিক্রেতা সুকুমার বলেন, ‘শেরপুরের দইয়ের নাম-ডাক সারাদেশে। আমরা দূর-দূরান্ত থেকে ভালো দুধ নিয়ে এখানে আসি। দইয়ের সুনাম যেন আরও ছড়িয়ে পড়তে পারে, সে জন্য সবকিছু ভালো দেওয়ার চেষ্টা করি।’

দই শো-রুমের ব্যবসায়ী বাসুদেব সরকার বলেন, ‘আমরা দীর্ঘ কয়েক যুগ ধরে এ পেশার সঙ্গে যুক্ত আছি। আমাদের পূর্ব পুরুষরাও এটা করেছেন। কিন্তু দই তৈরির পদ্ধতি অন্যদের হাতে চলে যাওয়ায় মান যেমন কমেছে, তেমনি লাভের মুখ দেখাও কমেছে।’

বিষয়:

তীব্র দাবদাহ বিরাজ করছে ছয় জেলায়

প্রতীকী ছবি
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
দৈনিক বাংলা ডেস্ক

দেশের ছয়টি জেলার ওপর দিয়ে তীব্র দাবদাহ বয়ে যাচ্ছে বলে জানিয়েছে বাংলাদেশ আবহাওয়া অধিদপ্তর। তারা বলেছে, এই অবস্থা আরও কিছুদিন চলতে পারে।

বুধবার সকাল ৯টা থেকে পরবর্তী ৭২ ঘণ্টার আবহাওয়ার পূর্বাভাসে এমন বার্তা দেওয়া হয়েছে আবহাওয়া অধিদপ্তর থেকে।

পূর্বাভাসে সিনপটিক অবস্থা নিয়ে বলা হয়, ‘পশ্চিমা লঘুচাপের বর্ধিতাংশ পশ্চিমবঙ্গ ও তৎসংলগ্ন এলাকায় অবস্থান করছে। মৌসুমের স্বাভাবিক লঘুচাপ দক্ষিণ বঙ্গোপসাগরে অবস্থান করছে।’

বৃষ্টিপাতের বিষয়ে পূর্বাভাসে বলা হয়, ‘রংপুর, রাজশাহী, ঢাকা, ময়মনসিংহ, বরিশাল, চট্টগ্রাম এবং সিলেট বিভাগের দুই-এক জায়গায় অস্থায়ীভাবে দমকা অথবা ঝোড়ো হাওয়াসহ বৃষ্টি অথবা বজ্রসহ বৃষ্টি হতে পারে। সেই সাথে কোথাও কোথাও বিক্ষিপ্তভাবে শিলা বৃষ্টি হতে পারে। এ ছাড়া দেশের অন্যত্র অস্থায়ীভাবে আংশিক মেঘলা আকাশসহ আবহাওয়া প্রধানত শুষ্ক থাকতে পারে।’

তাপপ্রবাহ বা দাবদাহ নিয়ে বলা হয়, ‘রাজশাহী, পাবনা, বাগেরহাট, যশোর, চুয়াডাঙ্গা ও কুষ্টিয়া জেলাসমূহের ওপর দিয়ে তীব্র তাপপ্রবাহ এবং মৌলভীবাজার জেলা, রাজশাহী ও খুলনা বিভাগের অবশিষ্টাংশ ও ঢাকা, রংপুর ও বরিশাল বিভাগের ওপর দিয়ে মৃদু থেকে মাঝারি ধরনের তাপপ্রবাহ বয়ে যাচ্ছে এবং তা অব্যাহত থাকতে পারে।’

তাপমাত্রার বিষয়ে বলা হয়, সারা দেশে দিন ও রাতের তাপমাত্রা প্রায় অপরিবর্তিত থাকতে পারে। জলীয় বাষ্পের আধিক্যের কারণ অস্বস্তি বৃদ্ধি পেতে পারে।


অনুপ্রবেশের সুযোগ খুঁজছে আরও দুই হাজার রোহিঙ্গা

সম্প্রতি অনুপ্রবেশ করে বেশ কিছু রোহিঙ্গাকে মিয়ানমারে ফেরত পাঠানো হয়। ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১৮ এপ্রিল, ২০২৪ ০৩:৪৩
রহমত উল্লাহ, টেকনাফ (কক্সবাজার)

মিয়ানমারে জান্তাবাহিনী ও সশস্ত্র বিদ্রোহী গোষ্ঠীর চলমান সংঘাতে কক্সবাজারের টেকনাফের ওপারে নাফ নদের তীরে কয়েকটি গ্রামে আশ্রয় নিয়েছে রোহিঙ্গারা। এ রোহিঙ্গাদের বাংলাদেশে অনুপ্রবেশ ঠেকাতে সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থান নিয়েছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী।

আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী রাতেও কড়া পাহারা বসিয়েছে, দিনেও চলছে কঠোর নজরদারি। স্থানীয়দের দাবি, এত কড়া পাহারার মধ্যেও ফাঁক গলিয়ে বেশ কিছু রোহিঙ্গা এরই মধ্যে গোপনে অনুপ্রবেশ করে বাংলাদেশে ঢুকে পড়েছে। সীমান্তের ওপারের বিভিন্ন চর ও দুর্গম এলাকা এবং ঝাউবনে লুকিয়ে থেকে অনুপ্রবেশের সুযোগ খুঁজছে আরও দুই হাজার রোহিঙ্গা। এরই মধ্যে নৌকা বোঝাই করে আসা কিছু রোহিঙ্গাকে আটকের পর পুশব্যাকও করা হয়েছে। বেশ কদিন ধরেই এমন পরিস্থিতি বিরাজ করছে সীমান্তে।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একটি সূত্র জানিয়েছে, ঈদের দিন ১১ এপ্রিল রাত থেকে বুধবার পর্যন্ত শাহপরীর দ্বীপের বিভিন্ন জায়গায় এসে আশ্রয় নিয়ে বেশ কিছু রোহিঙ্গা ক্যাম্পে আত্মীয়-স্বজনের কাছে চলে গেছেন।

পালিয়ে আসা রোহিঙ্গাদের দাবি, এবার মিয়ানমারের সেনাবাহিনীর পাশাপাশি মগদের সশস্ত্র বাহিনী আরাকান আর্মি (এএ) রাখাইনে মুসলিম সংখ্যালঘুদের ওপর চড়াও হয়েছে। সংঘর্ষ বেড়ে যাওয়ায় তারা এপারে চলে আসতে বাধ্য হচ্ছেন।

গত মঙ্গলবার রাত ১০টার দিকে শাহপরীর দ্বীপে নাফ নদী সংলগ্ন গোলাপাড়া ঝাউবন বরাবর অনুপ্রবেশের সময় একটি রোহিঙ্গাবোঝাই নৌকা আটক করে বাংলাদেশে কোস্টগার্ড। এ ইঞ্জিন চালিত বড় নৌকায় ২৬ জন রোহিঙ্গা অনুপ্রবেশের চেষ্টা করছিল বাংলদেশে। এর মধ্যে থাকা ১২ জন পুরুষ, ৯ জন নারী এবং ৫ জন শিশুসহ ৩ জন দালালকে আটক করা হয় এ সময়।

কোস্টগার্ডের নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক কর্মকর্তা এসব তথ্য নিশ্চিত করে বলেন, গোপনীয়তা বজায় রেখে অনুপ্রবেশ করা রোহিঙ্গাদের যাচাই-বাছাই করার পর তাদের পুশব্যাক করা হবে।

পালিয়ে আসা রোহিঙ্গা রোহিঙ্গাদের ভাষ্য, শাহপরীর দ্বীপ হয়ে বাংলাদেশে প্রবেশের চেষ্টায় বর্তমানে নাফ নদীর ওপারের মনডি পাড়া চরে কমপক্ষে ২ হাজার রোহিঙ্গা লুকিয়ে আছেন। সুযোগ বুঝে তারা অনুপ্রবেশের অপেক্ষায় রয়েছেন।

শাহপরীর দ্বীপ বেড়িবাঁধ সংলগ্ন লবণচাষি মো. করিম বলেন, গত সোমবার থেকে বুধবার পর্যন্ত গভীর রাতে টেকনাফ শাহপরীর দ্বীপ গোলার ঝাউ বাগান এবং কচুবনিয়া দুর্গম চরে সন্দেহভাজনদের আনাগোনা দেখতে পাই আমরা। দুর্গম ও খারাপ যোগাযোগ ব্যবস্থার কারণে সেখানে যেতে ভয় করে অনেকেরই। সহজে বিজিবির সদস্যদের সেখানে টহলে যেতে দেখা যায় না। এই দুর্গম পথকে বেছে নিয়ে বাংলাদেশে অনুপ্রবেশের চেষ্টা করছে রোহিঙ্গারা।

সরেজমিনে দেখা যায়, তিন-চার দিনের মধ্যে সীমান্ত দিয়ে অনুপ্রবেশ করে ২ শতাধিক রোহিঙ্গা। শাহপরীর দ্বীপে ৪ দালালদের মাধ্যমে তারা এপারে পৌঁছায়। জনপ্রতি ২০ থেকে ২৫ হাজার টাকা করে নিয়ে থাকে দালালচক্র।

পালিয়ে আসা রোহিঙ্গাদের সবাই রাখাইনের বুথেডং গ্রামের বাসিন্দা। মংডুর কয়েকটি গ্রামের রোহিঙ্গা তারা। তারা ওপারের নাফের তীরে আশ্রয় নিয়ে দুই একদিন পর নৌকা নিয়ে এপারের শাহপরীর দ্বীপ পৌঁছায়। পরে সেখান থেকে ক্যাম্পে আত্মীয়-স্বজনের কাছে চলে যায়।

অনুপ্রবেশকারী রোহিঙ্গা মো. তৈয়ব বলেছেন, আমরা ১৫ জন দলবদ্ধ হয়ে নদীর পাড়ে কেউ ঝাউবাগানে এক দিন কাটিয়েছি। এর পরদিন জনপ্রতি ২৫ হাজার টাকা করে নৌকা ভাড়া করে সীমান্তের পাহারা এড়িয়ে আমরা নাফ নদী পাড়ি দিয়ে টেকনাফের শাহপরীর দ্বীপে উঠেছি। শাহপরী দ্বীপ থেকেই আমরা বিভিন্ন জায়গায় আত্মীয়ের কাছে এসেছি।

শাহপরীরদ্বীপ বিওপির ক্যাম্প কমান্ডার আবু আহমেদ বলেন, গত রোববার শাহপরীর দ্বীপ পশ্চিম পাড়া ঝাউবাগান দিয়ে ২১ রোহিঙ্গা অনুপ্রবেশের চেষ্টা করলে তাদের আটকের পর রাতেই পুশব্যাক করা হয়।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক বিজিবির এক কর্মকর্তা বলেন, রোহিঙ্গারা এখন দলে দলে আসছে না। মাঝেমধ্যে দু-একটি পরিবারের অনুপ্রবেশ ঘটছে।

আগের তুলনায় এই সংখ্যা অনেক কম। জীবনের নিরাপত্তার জন্য বাংলাদেশে অনুপ্রবেশ করছে তারা। এ অনুপ্রবেশের বিরুদ্ধে অভিযান অব্যাহত রাখার কথাও বলেছে স্থানীয় প্রশাসন।

মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যে বিদ্রোহী আরাকান আর্মির সঙ্গে সে দেশের সেনাবাহিনীর সংঘাতের কারণে টেকনাফ সীমান্তের বিপরীতে নলবুনিয়া, পেরংপুর, নুরুল্লাপাড়া, আজিজের বিল, কাদির বিল, মেগিচং, মাংগালা, ফাদংচা ও হাস্যুরতা এলাকায় রোহিঙ্গারা অবস্থান নিয়ে আছে বলে এক রোহিঙ্গা নেতা বলেন।

টেকনাফ সাবরাং ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান নুর হোসেন বলেন, আমার ইউনিয়নের বেশ কয়েকটি এলাকা দিয়ে রোহিঙ্গা অনুপ্রবেশের চেষ্টা করছে। সুযোগ বুঝে অনুপ্রবেশ করবে তারা। তবে রোহিঙ্গা অনুপ্রবেশ ঠেকানো চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়াবে।

এ বিষয়ে টেকনাফ-২ বিজিবির অধিনায়ক লেফট্যানেন্ট কর্নেল মোহাম্মদ মহিউদ্দীন আহমেদ বলেন, মহাপরিচালকের নির্দেশনা মতো সীমান্তে সর্বোচ্চ সতর্কতায় বিজিবি দায়িত্ব পালন করছেন। সীমান্তে অনুপ্রবেশসহ যে কোনো ধরনের অপরাধ দমনে গোয়েন্দা তৎপরতা বৃদ্ধি করা হয়েছে।

২০১৭ সালের ২৫ আগস্ট মিয়ানমার সেনাবাহিনী রাখাইনে রোহিঙ্গাদের ওপর নির্বিচারে হত্যা ও নির্যাতন চালায়। সে সময় বাংলাদেশে রোহিঙ্গা অনুপ্রবেশের ঢল নামে। তখন সীমান্ত অতিক্রম করে সাত লাখের বেশি রোহিঙ্গা পালিয়ে বাংলাদেশের কক্সবাজারে আশ্রয় নেয়। আগে আসা রোহিঙ্গাসহ ১১ লাখের বেশি রোহিঙ্গার ঠাঁই হয় উখিয়া-টেকনাফের বিভিন্ন ক্যাম্পে।


banner close