পবিত্র ঈদুল আজহা উপলক্ষে গরিব ও দরিদ্র মানুষের জন্য সরকারি বরাদ্দের ভিজিএফ চাল বিতরণে অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে ইউনিয়ন পরিষদ (ইউপি) চেয়ারম্যানদের বিরুদ্ধে। এছাড়া প্রতিটি ইউনিয়নে দায়িত্বে থাকা ট্যাগ কর্মকর্তাদের ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে।
১০ কেজি করে চাল বিতরণের কথা থাকলেও চেয়ারম্যানরা ৭ কেজি ৭৩০ গ্রাম থেকে সাড়ে ৮ কেজি দিচ্ছেন। পরিমাণে কম দেয়ায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন উপকারভোগীরা।
বৃহস্পতিবার ও শুক্রবার সরেজমিনে কিশোরগঞ্জের সদর উপজেলার মাইজখাপন, মহিনন্দ, লতিবাবাদ ও রশিদাবাদ ইউপি কার্যালয়ে গিয়ে দেখা যায়, গরিব ও অসহায় মানুষের মাঝে ভিজিএফের চাল বিতরণ করা হচ্ছে। ট্যাগ কর্মকর্তার উপস্থিতিতে চাল বিতরণের কথা থাকলেও সেখানে তাদের কারও দেখা মেলেনি।
ডিজিটাল মেশিনে বা কাটাতে ওজন করে চাল দেয়ার কথা থাকলেও দেয়া হচ্ছে প্লাস্টিকের বালতিতে করে। কয়েকজনের চাল আবার ডিজিটাল মেশিনে মেপে দেখা গেছে, কোনোটিতে ৭ কেজি ৭৭০ গ্রাম, কোনোটিতে ৮ কেজি ১০০ গ্রাম, সর্বোচ্চ যেটি পাওয়া গেছে সেটির ওজন ৮ কেজি ৬৫০ গ্রাম।
জনপ্রতিনিধিরা বলছেন, তারা চেষ্টা করছেন ১০ কেজির যেন কম না হয়। এত মানুষের মধ্যে চাল বিতরণ করা হচ্ছে, দুই-একটা বিচ্ছিন্ন ঘটনা ঘটতেই পারে। ৮ কেজি বা সাড়ে ৮ কেজি হওয়ার সুযোগ নেই। হয়তো দুই-এক শ গ্রাম চাল কমবেশি থাকতে পারে।
জনপ্রতিনিধিদেরই কেউ কেউ বলছেন, যাদেরটা আপনারা ওজন করেছেন তারা হয়তো নেয়ার পথে অসাবধানতাবশত রাস্তায় কিছুটা ফেলে দিয়েছেন।
সরকারি নির্দেশনা অনুযায়ী, প্রতিটি ভিজিএফ কার্ডধারী ১০ কেজি করে চাল পাবেন। অথচ সদর উপজেলার এই চার ইউনিয়নের কোনোটিতেই কার্ডধারী একজন ব্যক্তি পাওয়া যায়নি। এমনকি তাদের কারও কাছেই জাতীয় পরিচয়পত্রও দেখা যায়নি। চাল নিতে আসা প্রত্যেকের হাতেই আছে ইউপি সদস্য বা চেয়ারম্যানদের দেয়া বিশেষ টোকেন। চাল বুঝে পাওয়া ব্যক্তিদের কারও স্বাক্ষরও নেয়া হচ্ছে না সেখানে। পরিষদের ভেতরে বসে আছেন চেয়ারম্যান, বাইরে বসে উপকারভোগীদের টিপসই নিচ্ছেন ইউপি সচিব। তারা কত স্লিপ দিয়েছেন তার কোনো হিসেব নেই। এর ফলে প্রকৃত কার্ডধারীদের চাল না পাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
এ বিষয়ে যোগাযোগ করলে ব্যবস্থা নেয়ার আশ্বাস দিয়েছেন কিশোরগঞ্জ সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মোহাম্মদ আলী সিদ্দিকী।
কী বলছেন উপকারভোগীরা?
মাইজখাপন ইউনিয়নের কাচারিপাড়া এলাকার বাসিন্দা হারুন মিয়া। তিনি ও তার এক আত্মীয়ের চাল নিয়ে যাচ্ছেন বাড়ির দিকে। এমন সময় ইউনিয়ন পরিষদের সামনের দোকানে তারা চালের ব্যাগটি ওজন করে দেখেন, সেটিতে রয়েছে ১৫ কেজি ৬৭০ গ্রাম। ব্যাগে ২০ কেজি হওয়ার কথা শুনে হারুন মিয়া বললেন, ‘যেটুকু পেয়েছি সেটা নিয়েই বাড়ি যেতে হবে। প্রতিবাদ করলে পরেরবার নাম বাদ যেতে পারে।’
একই ইউনিয়নের বেত্রাহাটি গ্রামের বাসিন্দা চুন্নু মিয়ার চালের ব্যাগের ওজন করে দেখা গেছে ৮ কেজি ১৭০ গ্রাম। তিনি জানান, ভেতরে ওজন মাপার কোনো যন্ত্র নেই। চাল দেয়া হচ্ছে প্লাস্টিকের বালতিতে করে। অনুমানে যতটুকু হয় সেটুকু দিচ্ছেন। কম-বেশি নিয়ে কথা বলার কোনো সুযোগই নেই।
মহিনন্দ ইউনিয়নের বাদে শোলাকিয়া এলাকার বাসিন্দা উবাইদুল হক বলেন, ‘সরকার আমাদের জন্য ১০ কেজি করে চাল বরাদ্দ দিয়েছে। আর তারা আট কেজি করে চাল দিচ্ছে। আমরা দুই কেজি করে চাল কম নেব কেন? আমাদের ১০ কেজি করে চাল বুঝিয়ে দিক।’
এই ইউনিয়নের দরিয়াবাদ এলাকার বাসিন্দা আছমা খাতুন বলেন, ‘চাল আনতে ভেতরে গিয়ে দেখি ওজন না মেপে অনুমানের ওপর বালতিতে করে চাল দিচ্ছে। কম-বেশি বুঝার সুযোগ নেই। বাইরে এসে মেপে দেখি দেড় কেজি কম।’
রশিদাবাদ ইউনিয়নের নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ৪নং ওয়ার্ডের এক বাসিন্দা বলেন, ‘শুক্রবার সকালে আমার ও আমার চাচার দুটি কার্ডের চাল নিতে ইউনিয়ন পরিষদে আসি। পরে চাল তুলে বাইরে গিয়ে ওজন করে দেখি ১০ কেজি করে দেয়ার কথা থাকলেও ৮ কেজি ১০০ গ্রাম করে সর্বমোট ১৬ কেজি ২০০ গ্রাম হয়েছে। তারা চাল ওজন না করে বালতিতে করে চাল দিচ্ছেন।’
যা বলছেন ইউপি চেয়ারম্যান ও ট্যাগ কর্মকর্তারা
বৃহস্পতিবার বেলা ১১টায় উপজেলার মাইজখাপন ইউনিয়ন পরিষদে গিয়ে দেখা যায়, ইউপি সচিব রেজাউল করিমের উপস্থিতিতে প্লাস্টিকের বালতিতে করে চাল মেপে দিচ্ছেন সুলতান আহমেদ নামে এক গ্রামপুলিশ সদস্য। তাকে এ কাজে সহযোগিতা করছেন চেয়ারম্যান আবুল কালাম আজাদ ওরফে তারু মিয়ার ঘনিষ্ঠ কর্মী ফুল মিয়া। এ সময় চাল পাওয়া কয়েকজনের ব্যাগ ওজন করে দেখা গেছে, সাড়ে ৭ কেজি থেকে শুরু করে ৮ কেজি বা সাড়ে ৮ কেজি রয়েছে এগুলোতে।
ওজনে কম দেওয়া হচ্ছে কেন? এমন প্রশ্ন করতেই তিনি বললেন, ‘এই কথা আমাকে না বলে চেয়ারম্যানকে জিজ্ঞেস করেন।’ এক পর্যায়ে কৌশলে পালিয়ে যান তিনি। পরে চেয়ারম্যানকে ফোন করা হলে তিনি এসে জানান, শারীরিকভাবে অসুস্থ থাকায় সচিবকে দায়িত্ব দিয়ে বাড়িতে বিশ্রামে ছিলেন। তার ভাষ্য, দায়িত্বে থাকা ব্যক্তিরা এমন করবেন সেটা তিনি আশা করেননি। এই ইউনিয়নের দায়িত্বে থাকা ট্যাগ কর্মকর্তারা কোথায়, এমন প্রশ্নের কোনো উত্তর দেননি তিনি।
পরে সেখানকার ট্যাগ কর্মকর্তা সহকারী প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা জহিরুল ইসলামকে ফোন করা হলে তিনিও ট্রেনিংয়ে আছেন বলে জানান। তিনি আরও জানান, তার অনুপস্থিতিতে উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা নবী হোসেন ও দুইজন প্রাইমারি শিক্ষক দায়িত্ব পালন করার কথা। কিন্তু সরেজমিনে গিয়ে নবী হোসেন বা কোনো শিক্ষককে পাওয়া যায়নি।
একই চিত্র মহিনন্দ ইউনিয়ন পরিষদেরও। বেলা সাড়ে ১২ টায় সেখানে গিয়ে দেখা যায়, ইউনিয়ন পরিষদের একটি কক্ষে বসে বিভিন্ন ইউপি সদস্য ও গ্রামপুলিশ সদস্যদের নিয়ে প্লাস্টিকের বালতিতে করে চাল দিচ্ছেন চেয়ারম্যান লিয়াকত আলী। ৮ কেজি থেকে সর্বোচ্চ সাড়ে ৮ কেজি চাল দিচ্ছেন তিনিও। ওজনে কম দেয়া হচ্ছে কেন এমন প্রশ্নে তিনি বলেন, ‘আমরা ইচ্ছাকৃতভাবে কাউকেই কম দিচ্ছি না। হয়তো দুই-একটাতে সমস্যা হতে পারে।’ পরে তার উপস্থিতিতে কয়েকটা ব্যাগ ওজন করা হলে তিনি প্রতিবেদককে ‘ম্যানেজ’ করার চেষ্টা করেন।
এই ইউনিয়নের ট্যাগ কর্মকর্তা সহকারী প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা সাঈদা রুবাইয়াত জানান, আগের দিন যখন চাল বিতরণ করা হয়েছে তখন তাকে জানানো হয়নি। পরেরদিন তাকে জানানো হলেও সেদিন অফিসিয়াল কাজে ব্যস্ত ছিলেন তিনি। চাল বিতরণে অনিয়মের বিষয়টি তুলে ধরা হলে তিনি দাবি করেন, তার উপস্থিতিতে যেদিন চাল বিতরণ করা হয়েছে তখন কোনো অনিয়ম হয়নি।
শুক্রবার বেলা ১১টায় লতিবাবাদ ইউনিয়ন পরিষদেও দেখা মেলে একই চিত্র। ইউনিয়নটির চেয়ারম্যান আবদুর রাজ্জাক একটি কক্ষে বসে ইউপি সদস্য ও গ্রাম পুলিশ সদস্যদের নিয়ে প্লাস্টিকের বালতিতে করে চাল দিচ্ছেন। বারান্দায় একটি টেবিলে বসে চাল নিতে আসা ব্যক্তিদের টিপসই নিচ্ছিলেন ইউপি সচিব দিলুয়ারা বেগম। ওজনে কম দেয়ার অভিযোগের বিষয়ে প্রশ্ন তুলতেই চেয়ারম্যানের সঙ্গে কথা বলার পরামর্শ দেন তিনি। চেয়ারম্যান আবদুর রাজ্জাকের দাবি, পরিমাণে কম দেয়া হচ্ছে না, বরং তালিকার বাহিরেও বিভিন্ন অসহায়দের নিজের টাকায় সহযোগিতা করেন তিনি। ট্যাগ কর্মকর্তার অনুপস্থিতিতে চাল বিতরণের নিয়ম আছে কি না জানতে চাইলে কোনো সদুত্তর দেননি তিনি।
এই ইউনিয়নের ট্যাগ কর্মকর্তা মো.মোজাম্মেল হক। তিনি উপজেলা বিআরডিবির প্রজেক্ট কর্মকর্তা। সরেজমিনে গিয়ে তাকেও পাওয়া যায়নি। পরে তার মুঠোফোনে কল করা হলে ছুটে এসে বলেন, ‘আপনারা আসার খানিকটা আগেই বাসায় গিয়েছিলাম।’
আরও ভয়াবহ চিত্র রশিবাদাবাদ ইউনিয়ন পরিষদের। এই ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান জহিরুল ইসলাম জুয়েল। বেলা ১২টায় সরেজমিনে দেখা যায়, বালতিতে করে চাল দিচ্ছিলেন তিনিও। ওজনে কম দেওয়ার বিষয়ে প্রশ্ন তুলতেই তিনি বলেন, ‘ওজনে কম দেয়ার প্রশ্নই উঠে না। অত্যন্ত স্বচ্ছভাবে চাল বিতরণ করা হচ্ছে।’ ট্যাগ কর্মকর্তা কোথায় এমন প্রশ্নে তিনি বলেন, ‘তিনি সকালে এসে চলে গেছেন।’ ট্যাগ কর্মকর্তার নাম জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘ওনার পদবি মনে নেই তবে মোবাইল নাম্বারটা আছে।’
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক ইউপি সদস্য জানান, চাল বিতরণের প্রথম দিন ক্ষণিকের জন্য ট্যাগ কর্মকর্তা এসেছিলেন, পরে আর আসেননি। উপজেলা দারিদ্র্য বিমোচন কর্মকর্তা শফিকুল ইসলাম ভূইয়া এই ইউনিয়ন পরিষদের ট্যাগ কর্মকর্তা। তার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান, আজকে যে চাল বিতরণ করা হচ্ছে তিনি সেটা জানেনই না।
এ বিষয়ে কিশোরগঞ্জের স্থানীয় সরকার বিভাগের উপ-পরিচালক (ডিডিএলজি) মোহাম্মদ হাবিবুর রহমানের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, ‘তদন্তসাপেক্ষে আইনানুগ ব্যবস্থা নেয়া হবে।’
আমির হোসেন-রোকেয়া বেগম দম্পতির তিন ছেলে ও তিন মেয়ে। অভাবের সংসারে সচ্ছলতা ফেরাতে শিশুসন্তানদের স্ত্রীর কাছে রেখে আমির হোসেন পাড়ি জমান মালয়েশিয়ায়। প্রথম তিন বছর যোগাযোগ থাকলেও পরে ২৭ বছর ধরে ছিলেন নিখোঁজ। পরিবারের সদস্যরা কোনো খবর পাচ্ছিলেন না। ছয় মাস আগে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একটি ভিডিও দেখে রোকেয়া শনাক্ত করেন, এটি তার স্বামীর ছবি। এরপর ভিডিও পোস্ট করা ব্যক্তির সঙ্গে যোগাযোগ করে আমির হোসেনের পরিবার। দীর্ঘ ছয় মাসের প্রচেষ্টার পর গত মঙ্গলবার (২১ এপ্রিল) গভীর রাতে আমির হোসেন পা রাখেন বাংলাদেশের মাটিতে। ৩০ বছর পর আমির হোসেনকে কাছে পেয়ে তার স্ত্রী ও সন্তানরা আপ্লুত হয়ে পড়েছেন।
আমির হোসেনের বাড়ি শরীয়তপুরের নড়িয়া উপজেলার চামটা ইউনিয়নের দিনারা গ্রামে। পরিবারের সদস্যরা জানান, স্ত্রী ও ছয় সন্তান নিয়ে আমির হোসেনের সংসার। অভাব–অনটন লেগেই থাকত। সংসারের সচ্ছলতা ফেরাতে পারিবারিকভাবে পাওয়া কৃষিজমি বিক্রি করে ১৯৯৬ সালে দালালের মাধ্যমে মালয়েশিয়ায় পাড়ি জমান আমির হোসেন। সেখানে গিয়ে রংমিস্ত্রির কাজ শুরু করেন। মালয়েশিয়া যাওয়ার পর তিন বছর পরিবারের সঙ্গে তার যোগাযোগ ছিল। সংসার খরচের টাকাও পাঠাতেন প্রতি মাসে। তিন বছর পর হঠাৎ করেই পরিবারের সঙ্গে তার যোগাযোগ বন্ধ হয়ে যায়। পরিবারের সদস্যরাও তার কোনো সন্ধান পাচ্ছিল না। আমির হোসেন কোথায়, কীভাবে আছেন, আদৌ বেঁচে আছেন কি না; তাও জানতেন না পরিবারের সদস্যরা।
ছয় মাস আগে মালয়েশিয়ার পেনাংয়ের একটি জঙ্গলে গিয়ে একটা ছোট্ট টিনের ঘরে মানসিক ভারসাম্যহীন অবস্থায় আমির হোসেনকে দেখতে পান দীপু নামের এক প্রবাসী এবং প্রবাসী সংবাদকর্মী বাপ্পি কুমার দাস। সেখান থেকে তারা তাকে উদ্ধার করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছবি ও ভিডিও প্রকাশ করেন। ওই ভিডিও দেখে আমির হোসেনকে তার পরিবারের সদস্যরা শনাক্ত করেন। এরপর তারা ভিডিও পোস্টকারীর সঙ্গে যোগাযোগ করেন। তাদের মাধ্যমে পরিবারের সদস্যরা ভিডিও কলে আমির হোসেনের সঙ্গে কয়েক দফা কথা বলেন। এরপর তাকে দেশে ফেরানোর জন্য উদ্যোগ নেওয়া হয়।
মালয়েশিয়ায় বাংলাদেশ দূতাবাসের কর্মকর্তারা আমির হোসেনের ছবি ও তার দেওয়া তথ্য পাঠায় নড়িয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) কাছে। তার মাধ্যমে তথ্য যাচাই করা হয়। এরপর উপজেলা প্রশাসনের সহায়তায় চামটা ইউনিয়ন পরিষদ থেকে আমির হোসেনের জন্মনিবন্ধন করা হয়। ওই জন্মনিবন্ধন ও পরিবারের সদস্যদের বিভিন্ন ডকুমেন্ট পাঠানো হয় মালয়েশিয়ায় বাংলাদেশ দূতাবাসে। এরপর তাকে সেখান থেকে ট্রাভেল পাস প্রদান করে দেশে ফেরার ব্যবস্থা করে। গত মঙ্গলবার রাত ১২টা ২০ মিনিটে মালয়েশিয়া থেকে ঢাকায় পৌঁছান তিনি।
বিমানবন্দরে সিভিল অ্যাভিয়েশন সিকিউরিটি (এভসেক) ও প্রবাসীকল্যাণ ডেস্কের সহায়তায় ব্র্যাক মাইগ্রেশন প্রোগ্রাম ও পরিবারের সদস্যরা আমির হোসেনকে গ্রহণ করেন। বিমানবন্দরের কার্যক্রম শেষ করে পরিবারের সদস্যরা আমির হোসেনকে নিয়ে যান ঢাকার কেরানীগঞ্জে তার ছোট ছেলে শহীদুল ইসলামের বাসায়। সেখানে তিনি বর্তমানে বিশ্রামে রয়েছেন।
দীর্ঘ ৩০ বছর পর স্বামী ফিরছেন, এমন খবর পেয়ে ঢাকায় ছেলেদের কাছে ছুটে যান রোকেয়া বেগম। বিমানবন্দরে স্বামীকে কাছে পেয়ে আপ্লুত হয়ে পড়েন তিনি।
রোকেয়া বেগম বলেন, ‘ছয় শিশুসন্তান রেখে তিনি (আমির হোসেন) মালয়েশিয়ায় যান। তিন বছর পর্যন্ত প্রতি মাসে কমবেশি টাকা পাঠিয়েছেন সংসার খরচের জন্য। হঠাৎ করে তিনি যোগাযোগ বন্ধ করে দেন। ২৭ বছর ধরে তাকে বিভিন্নভাবে খোঁজার চেষ্টা করেছি। কোনো সন্ধান পাচ্ছিলাম না। মানুষটা বেঁচে আছেন, নাকি মারা গেছেন, তাও বুঝতে পারছিলাম না। ছোট ছোট ছেলে–মেয়েদের নিয়ে বিপাকে পড়ে যাই। আত্মীয়-স্বজন ও এলাকার মানুষের সহায়তায় খেয়ে না–খেয়ে ছেলে–মেয়েদের নিয়ে বেঁচে ছিলাম। ছয় মাস আগে আমার এক ভাই মোবাইলে একটি ভিডিও দেখান, ওই ভিডিও দেখে আমরা তাকে চিনতে পারি। এরপর তাকে ফিরে পাওয়ার জন্য আমাদের আকুতি বেড়ে যায়। আমার সন্তানরা বিভিন্ন জায়গায় যোগাযোগ করে তাকে দেশে ফিরিয়ে আনার চেষ্টা করে। এভাবে ফেসবুকে একটি ভিডিও দেখে তাকে ফিরে পাব, তা কখনো ভাবতে পারিনি। স্বামীকে এত বছর পর ফিরে পাওয়া আমার জীবনের একটি অবিস্মরণীয় ঘটনা।
আমির হোসেনের তিন ছেলে ও তিন মেয়ের মধ্যে বড় ছেলে তিন বছর আগে মারা গেছেন। তিন মেয়ের বিয়ে হয়ে গেছে, তারা শ্বশুরবাড়িতে থাকেন। আর বেঁচে থাকা দুই ছেলে ঢাকায় শ্রমিকের কাজ করেন। তারা ঢাকার কেরানীগঞ্জ এলাকায় ভাড়া করা একটি বাসায় থাকেন।
ব্র্যাকের সহযোগী পরিচালক (মাইগ্রেশন ও ইয়ুথ প্ল্যাটফর্ম) শরিফুল হাসান জানান, ৩০ বছর ধরে একজন প্রবাসে, পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে ২৭ বছর ধরে যোগাযোগ না থাকার ঘটনা ভীষণ বেদনাদায়ক। এমন একজনকে পরিবার খুঁজে পেতে প্রবাসী বাংলাদেশিরা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখলেন। এই ফিরে আসা শুধু একজন ব্যক্তির নয়, একটি পরিবারের দীর্ঘ অপেক্ষার সমাপ্তি।
শরিফুল হাসান বলেন, ‘এই ঘটনা প্রবাসজীবনের অনিশ্চয়তার এক জ্বলন্ত উদাহরণ। একজন মানসিক ভারসাম্যহী; কিন্তু কেউ তার খোঁজ জানেন না। অতীতেও আমরা এমন ঘটনা দেখেছি। এমন সংকটে আরও কতজন আছেন, তাও আমরা জানি না। অথচ প্রত্যেক প্রবাসীর খোঁজ রাখা জরুরি। এই প্রযুক্তির যুগে প্রত্যেক প্রবাসীর ডেটাবেজ করা অসম্ভব নয়, বরং জরুরি। কারণ, তারা এই দেশের মানুষ এবং আমাদের অর্থনীতি সচল রাখেন।’
নড়িয়ার ইউএনও আবদুল কাইয়ুম বলেন, ‘আমরা ওই ব্যক্তির পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ করে তথ্যগুলো যাচাই শেষে আবার মালয়েশিয়া দূতাবাসে পাঠিয়েছি। এখান থেকে তার কিছু ডকুমেন্ট পাঠানোর পরে দূতাবাস থেকে তাকে দেশে ফেরানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়। তিনি দেশে ফিরে এসেছেন, পরিবারের কাছে আছেন। ওই ব্যক্তির যেকোনো সমস্যায় উপজেলা প্রশাসন পাশে থাকবে।’
সম্পত্তির লোভেই নওগাঁর নিয়ামতপুরে একই পরিবারের চারজনকে গলাকেটে হত্যা করা হয়েছে। এ ঘটনায় নিহত হাবিবুরের আপন দুই ভাগনে ও দুলাভাইকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। বুধবার (২২ এপ্রিল) দুপুর ২টা ৩০মিনিটের দিকে পুলিশ সুপার কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলনে এ কথা জানান পুলিশ সুপার মোহাম্মদ তারিকুল ইসলাম। গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন- নিহত হাবিবুর রহমানের বোন শিরিন আক্তারের স্বামী শহিদুল ইসলাম (৩০), তার ছেলে শাহিন হোসেন ও ভাগনে সবুজ রানা (২০)। তিনজনেরই বাড়ি উপজেলার বাহাদুরপুর গ্রামে।
সংবাদ সম্মেলনে পুলিশ সুপার মোহাম্মদ তারিকুল ইসলাম বলেন, ‘নিয়ামতপুর উপজেলার বাহাদুরপুর গ্রামের নমির উদ্দিনের এক ছেলে ও পাঁচ মেয়ে। হাবিবুরের বাবা তার ছেলে-মেয়েদের মধ্যে তার সম্পত্তি লেখে দেন। তিনি তার ১৭ বিঘা সম্পত্তির মধ্যে বসতবাড়িসহ ১৩ বিঘা সম্পত্তি ছেলে হাবিবুর রহমানকে লেখে দেন। বাকি সম্পত্তি তার মেয়েদের লেখে দেন। হাবিবুরকে বেশি সম্পত্তি লেখে দেওয়ায় বোন, ভগনীপতি ও ভাগনেদের সাথে হাবিবুরের ঝামেলা শুরু হয়। কয়েক দিন ধরে তাদের মধ্যে বিরোধ চলছিল।’
পুলিশ সুপার আরও বলেন, ‘জমিজমা নিয়ে বিরোধের জেরে হাবিবুরের বোন শিরিন আক্তারের স্বামী শহিদুল ইসলাম, তার ছেলে শাহিন ও হাবিবুরের আরেক বোন হালিমা খাতুনের ছেলে সবুজ রানা হাবিবুরকে হত্যা করার পরিকল্পনা করে। গত সোমবার বিকেলে হাবিবুর তার ভাগনে সবুজ রানাকে নিয়ে উপজেলার ছাতড়া বাজারে গরু কিনতে যান। হাবিবুর ১ লাখ ৪০ হাজার টাকা নিয়ে গরু কিনতে গিয়েছিলেন। পরে গরু না কিনেই বাড়িতে ফিরে আসেন। বাজার থেকে ফিরে আসার পর গ্রামের একটি মাঠে গিয়ে সবুজ রানা, শহিদুল, শাহিনসহ এই হত্যাকাণ্ডে জড়িত ছয়জন পরিকল্পনা করে। পরিকল্পনা অনুযায়ী গত সোমবার রাত ৮টার দিকে হাবিবুরের বাড়িতে যায়। তিনি তার মামা-মামি ও মামাতো ভাই-বোনদের সঙ্গে একসাথে খাবার খায়। ওই সময় সবার অগোচরে হাবিবুরের আরেক ভাগনে বাড়িতে প্রবেশ করে বাড়ির একটি ঘরে লুকিয়ে থাকে। সবুজ খাবার খেয়ে বের হয়ে যায়। বাড়ির সবাই ঘুমিয়ে পড়লে শাহিন বাড়ির মূল দরজা খুলে দিলে সবুজ, শহিদুলসহ আরও পাঁচজন বাড়িতে প্রবেশ করে। তারা প্রথমে হাবিবুরের বাবা নমির উদ্দিনের ঘরে বাইরে থেকে শিকল তুলে দেয়। এরপর হাবিবুরের ঘরে ঢোকে ঘুমন্ত অবস্থায় ছুরি দিয়ে গলা কেটে তাকে হত্যা করে। হাবিবুরের স্ত্রী পপি সুলতানা দুই সন্তানকে নিয়ে পাশের ঘরে ছিল। হাবিবুরকে হত্যা করার সময় পপি বাথরুমে যাওয়ার জন্য ঘর থেকে বের হয়। বাড়ির আঙিনায় বের হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে পপির মাথায় হাসুয়া দিয়ে আঘাত করলে তিনি মাটিতে পড়ে যান। পরে তাকেও গলা কেটে হত্যা করে। পরে হাবিবুরের পুরো পরিবারকে শেষ করার উদ্দেশে তার দুই সন্তান পারভেজ রহমান ও সাদিয়াকে গলা কেটে হত্যা করে।’
এসপি তারিকুল ইসলাম আরও বলেন, ‘ঘটনার তদন্তে নেমে গত মঙ্গলবার নিহত হাবিবুরের ভাগনে সবুজ, তার বাবা নমির উদ্দিন, দুই বোন ডালিমা বেগম ও হালিমাসহ ছয়-সাতজনকে পুলিশ হেফাজতে নেওয়া হয়। জিজ্ঞাসাবাদের একপর্যায়ে সবুজ পুলিশের কাছে হত্যার কথা স্বীকার করেন। তার স্বীকারোক্তি অনুযায়ী গত মঙ্গলবার রাতে অভিযান চালিয়ে গ্রামের একটি খড়ের পালায় লুকানো অবস্থায় হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত হাসুয়া উদ্ধার করা হয়। এ ছাড়া গ্রামের একটি পুকুর থেকে গতকাল বুধবার আরও একটি ছুরি উদ্ধার করা হয়।
পরিবারের সবাইকে হত্যার কারণ হিসেবে শহিদুল ও সবুজ পুলিশের কাছে স্বীকারোক্তি দিয়েছে, তাদের সবাইকে হত্যা করলে হাবিবুরের নামে থাকা সম্পত্তির ভাগিদার তারা হবে। এই ভাবনা থেকেই তারা পরিবারের সবাইকে হত্যা করেছে।’
সংবাদ সম্মেলনে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মনিরুল ইসলাম ও জয়ব্রত পাল, সহকারী পুলিশ সুপার আব্দুল আল মামুন শাওন, পুলিশের জেলা গোয়েন্দা শাখার (ডিবি) ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) হাসিবুল্লাহ হাবিব, নিয়ামতপুর থানার ওসি মাহবুবুর রহমান উপস্থিত ছিলেন।
চট্টগ্রামের রাউজানে বেপরোয়া গতির মোটরসাইকেলের ধাক্কায় প্রাণ হারিয়েছেন মোহাম্মদ আজগর (৫৫) নামের এক পথচারী। গত মঙ্গলবার (২১ এপ্রিল) সন্ধ্যায় রাউজান পৌরসভার ৮ নম্বর ওয়ার্ডের হাফেজ বজলুর রহমান সড়কে এই দুর্ঘটনা ঘটে। নিহত আজগর ওই এলাকার হাজীপাড়া গ্রামের বাসিন্দা।
প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা যায়, আজগর বড় মৌলানা শাহ (রাহ.) মাজারের সামনে দিয়ে রাস্তা পার হচ্ছিলেন। এ সময় একটি দ্রুতগামী মোটরসাইকেল নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে তাকে সজোরে ধাক্কা দিলে তিনি সড়কে ছিটকে পড়েন। স্থানীয়রা উদ্ধার করে দ্রুত রাউজান উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
দুর্ঘটনায় মোটরসাইকেলে থাকা দুই আরোহীও আহত হয়েছেন। তাদের উদ্ধার করে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে। রাউজান থানা পুলিশ জানিয়েছে, ঘটনাস্থল পরিদর্শন করা হয়েছে এবং আইনগত প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।
কুমিল্লার দেবিদ্বারে পাওনা টাকা নিয়ে বিরোধের জেরে জহিরুল ইসলাম সরকার নামের এক জমি ব্যবসায়ীকে বাড়ি থেকে ডেকে নিয়ে পিটিয়ে হত্যার অভিযোগ উঠেছে। গত মঙ্গলবার (২১ এপ্রিল) রাতে দেবিদ্বার পৌর এলাকার বালিবাড়ী গ্রামে এই ঘটনা ঘটে। নিহত জহিরুল ইসলাম (৫০) মুরাদনগর উপজেলার ধামঘর গ্রামের আব্দুল আলিমের ছেলে। তিনি দীর্ঘদিন ধরে দেবিদ্বার পৌর এলাকার মোহনা আবাসিক এলাকায় জমি কেনা-বেচা করতেন।
নিহতের পরিবার ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, জমি কেনা-বেচার পাওনা টাকা নিয়ে বিরোধের জেরে মঙ্গলবার (২১ এপ্রিল) বিকেলে বালিবাড়ী গ্রামের মোবারক ও শাহীনসহ কয়েকজন যুবক জহিরুল ইসলামকে তার বাসা থেকে ডেকে নিয়ে যায়। প্রথমে তাকে ভিরাল্লা বাস স্টেশন এলাকায় নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে বিষয়টি সমাধান না হওয়ায় সন্ধ্যায় মোবারকের বাড়ি নিয়ে বেধড়ক মারধর করা হয় বলে অভিযোগ ওঠে। একপর্যায়ে তিনি অচেতন হয়ে পড়লে রাত ১০টার দিকে একটি অটোরিকশাযোগে তাকে দেবিদ্বার উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে আসা হয়। সেখানে দায়িত্বরত চিকিৎসক জহিরুলকে মৃত ঘোষণা করেন। এ সময় মরদেহ নিয়ে আসা তিন লোক পালানোর চেষ্টা করলে স্থানীয় জনতা তাদের আটক করে পুলিশে সোপর্দ করে।
নিহতের স্ত্রী মাহফুজা আক্তার বিলাপ করতে করতে বলেন, বিকেলে মোবাইল ফোনে কল পেয়ে তার স্বামী বাসা থেকে বের হয়েছিলেন। রাতে হাসপাতাল থেকে ফোন পেয়ে তিনি সেখানে গিয়ে স্বামীর মরদেহ দেখতে পান। পাওনা টাকার জন্য তাকে পরিকল্পিতভাবে পিটিয়ে হত্যা করা হয়েছে দাবি করে তিনি এই ঘটনার সুষ্ঠু বিচার ও জড়িতদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি কামনা করেন।
এদিকে স্থানীয়রা জানান, নিহত জহিরুল ইসলামের বিরুদ্ধে এলাকায় জাল দলিল ও জমি কেনা-বেচায় প্রতারণার একাধিক অভিযোগ ছিল। সম্প্রতি স্থানীয় সংসদ সদস্য হাসনাত আবদুল্লাহ আয়োজিত একটি নাগরিক সমাবেশেও তার বিরুদ্ধে ভুক্তভোগীরা অভিযোগ করেছিলেন। সে সময় সংসদ সদস্য অভিযুক্ত জহিরুলের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নিতে দেবিদ্বার থানার ওসিকে নির্দেশনা দিয়েছিলেন।
এ বিষয়ে দেবিদ্বার থানার ওসি মো. মনিরুজ্জামান জানান, খবর পেয়ে পুলিশ মরদেহ উদ্ধার করে গতকাল বুধবার সকালে ময়নাতদন্তের জন্য কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ (কুমেক) হাসপাতাল মর্গে পাঠিয়েছে। তিনি আরও জানান, প্রাথমিক সুরতহাল প্রতিবেদনে শরীরে কোনো আঘাতের চিহ্ন পাওয়া যায়নি। এটি হত্যাকাণ্ড নাকি অন্য কোনো কারণে মৃত্যু হয়েছে, তা ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন এলে নিশ্চিত হওয়া যাবে। ঘটনায় জড়িত সন্দেহে তিন জনকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে এবং নিহতের পরিবারের পক্ষ থেকে মামলার প্রস্তুতি চলছে।
নীলফামারী জেলায় যানবাহনে জ্বালানি সরবরাহে শৃঙ্খলা আনতে ফুয়েল কার্ড বিতরণ কার্যক্রম শুরু হয়েছে। উপজেলা প্রশাসনের তত্ত্বাবধানে সংশ্লিষ্ট উপজেলাগুলো থেকে যানবাহন মালিকদের মধ্যে এই কার্ড বিতরণ করা হচ্ছে। বুধবার (২২ এপ্রিল) বিকেলে সদর উপজেলা পরিষদের সম্মেলন কক্ষে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে ফুয়েল কার্ড বিতরণ কার্যক্রমের উদ্বোধন করেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মুবাশ্বিরা আমাতুল্লাহ।
এ সময় উপ-প্রশাসনিক কর্মকর্তা ইউসুফ আলীসহ অন্যান্য সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
উদ্বোধনী দিনে ২০ জন যানবাহন মালিকের হাতে ফুয়েল কার্ড তুলে দেওয়া হয়। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা জানান, গত ১৫ এপ্রিল থেকে কার্ডের জন্য আবেদন গ্রহণ শুরু হয়েছে। প্রথম পর্যায়ে ৫২৬ জন আবেদনকারীর মধ্যে পর্যায়ক্রমে কার্ড বিতরণ করা হবে।
তিনি আরও জানান, মোটরসাইকেলের জন্য মাসে ২০ লিটার এবং কার ও মাইক্রোবাসের জন্য মাসে ৫০ লিটার জ্বালানি বরাদ্দ নির্ধারণ করা হয়েছে।
জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ নায়িরুজ্জামান বলেন, ফিলিং স্টেশনগুলোতে শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনা এবং জ্বালানি মজুত রোধে এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। জেলার ৩৮টি পেট্রল পাম্পে ফুয়েল কার্ড ছাড়া জ্বালানি সরবরাহ করা হবে না বলেও তিনি জানান।
এ ছাড়া, ফিলিং স্টেশনগুলোতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর উপস্থিতিতে জ্বালানি সরবরাহ কার্যক্রম পরিচালিত হবে বলে জেলা প্রশাসন জানিয়েছে।
জ্বালানি তেলের দাম বৃদ্ধির পর রাজবাড়ীর ফিলিং স্টেশনগুলোতে ভিড় কিছুটা কমতে শুরু করেছে। কয়েকদিন আগেও যেখানে বিভিন্ন ফিলিং স্টেশনে তেল নিতে গিয়ে ভোগান্তির চিত্র ছিল চরমে-সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত দীর্ঘ লাইনে দাঁড়িয়ে থাকতে হয়েছে চালকদের। আগের দিনের তুলনায় অপেক্ষার সময় কমেছে এবং তুলনামূলক দ্রুত তেল পাচ্ছেন গ্রাহকরা।
এই পরিস্থিতির মধ্যেই গত শনিবার (১৮ এপ্রিল) রাতে সরকার সব ধরনের জ্বালানি তেলের দাম লিটারপ্রতি ১৫ থেকে ২০ টাকা পর্যন্ত বাড়ানোর ঘোষণা দেয়। দাম বৃদ্ধির পরপরই কিছুটা স্বস্তির খবর মিলছে রাজবাড়ীর বিভিন্ন পাম্পে।
সরজমিনে বুধবার (২২ এপ্রিল) বেলা ১২ টার দিকে রাজবাড়ী শ্রীপুর সংলগ্ন পলাশ ফিলিং স্টেশনে গিয়ে দেখা গেছে, আগের তুলনায় তেলের লাইনে ভিড় কমেছে এবং অপেক্ষার সময়ও কিছুটা কমে এসেছে। আগে যেখানে হাফ কিলোমিটার জুড়ে মোটরসাইকেলের লাইন তৈরি হতো সেখানে এখন ৩০-৪০ টি মোটরসাইকেল তেল নিতে দাঁড়িয়ে আছে।
কল্যাণপুর থেকে পলাশ ফিলিং স্টেশনে তেল নিতে আসা মোটরসাইকেল চালক সুমন শেখ জানান, আগে তেল পেতে প্রায় ৭-৮ ঘণ্টা অপেক্ষা করতে হতো, এখন দেড়-দুই ঘণ্টার মধ্যেই পাওয়া যাচ্ছে। দাম বাড়ানোর পর ভিড় কিছুটা কমেছে।
প্রাইভেটকার চালক বাচ্চু বলেন, আগের তুলনায় এখন অনেক কম সময় লাগছে। এখন অল্প সময়ের মধ্যেই লাইনে থেকে তেল পাচ্ছি।
সংশ্লিষ্টরা বলছেন, দাম বৃদ্ধির ফলে চাহিদা কিছুটা নিয়ন্ত্রণে আসায় লাইনের চাপ কমেছে।
পাম্প কর্তৃপক্ষ জানায়, বর্তমানে ডিজেলের সরবরাহ স্বাভাবিক থাকলেও অকটেনের একটু ঘাটতি রয়েছে। তবে মোটরসাইকেল চালকদের দীর্ঘক্ষণ অপেক্ষা করতে হচ্ছেনা।
সমন্বিত সুরক্ষা, জলবায়ু পরিবর্তনজনিত ও অভ্যন্তরীণ বাস্তুচ্যুত অভিবাসীদের জন্য সামাজিক সুরক্ষা বেষ্টনী শক্তিশালীকরণ, চ্যালেঞ্জ ও করণীয় শীর্ষক মিডিয়া অ্যাডভোকেসি সভা হয়েছে। বুধবার (২২ এপ্রিল) খুলনা প্রেসক্লাবের শহিদ হুমায়ুন কবির বালু মিলনায়তনে কারিতাস বাংলাদেশ খুলনা আয়োজিত এই সভায় প্রধান অতিথি ছিলেন খুলনা প্রেসক্লাবের আহ্বায়ক এনামুল হক।
সভায় অতিথিরা বলেন, জলবায়ু পরির্বতনের কারণে ভিটামাটি হারিয়ে শুধু একটি পরিবার নয় একটি সমাজ ধ্বংস হয়ে যায়। প্রাকৃতিক দুর্যোগ মানুষের জীবন-জীবিকাকে ক্রমাগতভাবে হুমকির মুখে ফেলছে। ফলে উপকূলীয় ও দুর্যোগপ্রবণ এলাকা থেকে মানুষ বাধ্য হয়ে শহরমুখী হচ্ছে বিশেষ করে খুলনার মতো শহরে।
বক্তারা বলেন, উপকূলীয় অঞ্চলের সুবিধাবঞ্চিত মানুষের মৌলিক চাহিদা পূরণের সুবিধা থাকলে তারা শহরে আসবে কম। যেহেতু গণমাধ্যম জনমত গঠন ও নীতিনির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে তাই গণমাধ্যম জলবায়ু অভিবাসীদের বাস্তবতা তুলে ধরে অন্তর্ভুক্তিমূলক সামাজিক সুরক্ষা নিশ্চিত করার পক্ষে জোরালো সমর্থন গড়ে তুলবে বক্তারা এ আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
সভায় মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ইনস্টিটিউটের (কুয়েট) সহকারী অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ ইসমাইল হোসেন। স্বাগত বক্তব্য দেন প্রকল্প সমন্বয়কারী পবিত্র কুমার মন্ডল।
সভায় সাংবাদিক শেখ দিদারুল আলম, গণমাধ্যমকর্মী ও খুলনা সিটি করপোরেশনের চারটি ওয়ার্ডের কমিউনিটি লিডাররা অংশ নেন।
সভার উদ্দেশ্য সম্পর্কে জানানো হয়, জলবায়ু অভিবাসীদের সমস্যা ও অধিকার সম্পর্কে গণমাধ্যমকর্মীদের সচেতনতা বৃদ্ধি করা, বিদ্যমান সামাজিক সুরক্ষা কর্মসূচির সীমাবদ্ধতা ও ঘাটতি তুলে ধরা, তথ্যভিত্তিক ও দায়িত্বশীল প্রতিবেদন তৈরিতে গণমাধ্যমকে উৎসাহিত করা এবং গণমাধ্যম, সরকার ও সুশীল সমাজের মধ্যে সংলাপের সুযোগ সৃষ্টি করা।
অবহেলিত ঝিনাইদহ জেলাকে উন্নয়নের শেখরে নিয়ে যাওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন নবাগত জেলা প্রশাসক মো. নোমান হোসেন। যোগদানের পর জেলার সুশিল সমাজ, রাজনীতিবিদ, সাংবাদিক, সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীসহ নানা শ্রেণি-পেশার মানুষের সাথে মতবিনিময়কালে তিনি এ প্রতিশ্রুতি দেন।
এরমধ্যে মাদকের বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স নীতি পালন করতে জেলার আইনশৃঙ্খলাবাহিনীসহ সংশ্লিষ্ট সংস্থাকে নির্দেশ দেন। মতবিনিময়কালে তিনি বলেন, মাদকের সাথে জড়িতরা যত শক্তিশালী হোক না কেন, তাদের আইনের আওতায় এনে কঠোর শাস্তির ব্যবস্থা করা হবে।
তিনি আরও বলেন, পর্যায়ক্রমে পায়রা চত্তর, আরাপপুর, হামদহ, মর্ডান মোড়, ট্রাক টার্মিনাল, বাস টার্মিনাল, শহীদ মিনার এলাকা, চুয়াডাঙ্গা বাসস্ট্যান্ড, ‘ট’ বাজারসহ শহরের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ স্থান ও অলিগলি দখলমুক্ত করা হবে। এ ছাড়াও শহরের গুরুত্বপূর্ণ স্থানে নারী ও পুরুষদের জন্য অবিলম্বে গণসৌচাগার নির্মাণ করে দুর্ভোগ লাঘব করা হবে।
এ ছাড়াও আদালত চত্বর, সদর হাসপাতাল, পাসপোর্ট অফিস, বিআরটিএ, ভূমি অফিস, সাব-রেজিস্টার কার্যালয় সহ বিভিন্ন সরকারি প্রতিষ্ঠানে দালালচক্র দমন ও দুর্নীতি নিয়ন্ত্রণে পদক্ষেপ নেওয়া হবে বলে তিনি হুশিয়ারি দেন।
তিনি আরও বলেন, অবৈধভাবে আবাদি জমির মাটি কেটে শ্রেণি পরিবর্তন রোধ, ইটভাটায় মাটি বিক্রি বন্ধ, সরকারি গাছ কর্তন প্রতিরোধ, সরকারি অফিসে দুর্নীতি কমানো এবং ইউনিয়ন পরিষদের কার্যক্রম গতিশীল করাসহ নানা পদক্ষেপ নেওয়া হবে। জেলাকে ঢেলে সাজাতে সব শ্রেণি-পেশার মানুষের সার্বিক সহযোগিতা কামনা করেছেন জেলা প্রশাসক মো. নোমান হোসেন।
স্থানীয়দের মতে,এসব উদ্যোগে গ্রহণ করা হলে ঝিনাইদহ শহর ধীরে ধীরে একটি পরিকল্পিত ও মডেল শহরের রূপ নেবে।
চুয়াডাঙ্গার জীবননগরে অবৈধভাবে পুরাতন ব্যাটারি গলিয়ে সিসা তৈরির একটি কারখানায় অভিযান চালিয়েছে ভ্রাম্যমাণ আদালত। এ সময় বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে কারখানাটি। একই সাথে ৫০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে কারখানার ম্যানেজারকে। জব্দ করা হয়েছে বিপুল পরিমাণ কাঁচামাল ও যন্ত্রপাতি। গত মঙ্গলবার (২১ এপ্রিল) বিকেলে জীবননগর উপজেলার খয়েরহুদা গ্রামের বয়ারগাড়ি মাঠ এলাকায় ওই অভিযান চালান জেলা প্রশাসনের এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট সাগর দে।
ভ্রাম্যমাণ আদালত সূত্রে জানা গেছে, পরিবেশ সংরক্ষণ আইন লঙ্ঘন করে ওই এলাকায় দীর্ঘদিন ধরে অবৈধভাবে সিসা উৎপাদন করা হচ্ছিল। এ প্রক্রিয়ায় সৃষ্ট ঝুঁকিপূর্ণ বর্জ্য পরিবেশ ও জনস্বাস্থ্যের জন্য মারাত্মক হুমকি তৈরি করছিল। ওই অপরাধে কারখানার ম্যানেজার আব্দুর রহমানকে ৫০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়। এ ছাড়া, কারখানায় ব্যবহৃত পুরাতন ব্যাটারি ও অন্যান্য যন্ত্রপাতি জব্দ করে স্থানীয় ইউপি সদস্যের জিম্মায় রাখা হয়েছে।
অভিযানে সার্বিক সহযোগিতা করেন পরিবেশ অধিদপ্তর, চুয়াডাঙ্গা জেলা কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক নরেশ চন্দ্র বিশ্বাস, পরিদর্শক নাইম হোসেন ও জীবননগর থানা পুলিশের একটি বিশেষ দল।
পরিবেশ অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক নরেশ চন্দ্র বিশ্বাস জানান, সুনির্দিষ্ট অভিযোগের ভিত্তিতে ওই অভিযান চালানো হয়েছে। অবৈধভাবে ব্যাটারি গলিয়ে সীসা উৎপাদন পরিবেশ ও মানুষের স্বাস্থ্যের জন্য অত্যন্ত ক্ষতিকর। পরিবেশ রক্ষায় এ ধরণের অভিযান অব্যাহত থাকবে।
কিশোরগঞ্জের ভৈরবে চলন্ত অটোরিকশায় আকস্মিক অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। তবে সেই আগুন নেভাতে গিয়েই বেরিয়ে এলো থলের বিড়াল। অটোরিকশাটির ভেতরে পাওয়া গেল ১০টি পোটলায় মোট ১৯ কেজি গাঁজা। বুধবার (২২ এপ্রিল) সকালে ভৈরব পৌর শহরের চন্ডিবের উত্তরপাড়া প্রাইমারি স্কুলের সামনে এই চাঞ্চল্যকর ঘটনা ঘটে। খবর পেয়ে ভৈরব থানা পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে মাদকসহ অটোরিকশাটি জব্দ করেছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, বুধবার (২২ এপ্রিল) সকালে একটি অটোরিকশা চন্ডিবের এলাকা দিয়ে যাওয়ার সময় হঠাৎ সেটিতে আগুন ধরে যায়। চালক তড়িঘড়ি করে গাড়িটি রাস্তার পাশের একটি পতিত জমিতে নামিয়ে আগুন নেভানোর চেষ্টা করেন। এ সময় স্থানীয়রা সহযোগিতার জন্য এগিয়ে গেলে চালক আতঙ্কিত হয়ে গাড়ি ফেলে দ্রুত পালিয়ে যান।
চালকের এমন রহস্যজনক পলায়নে স্থানীয়রা সিএনজিটির কাছে গেলে ইঞ্জিনের পাশে একটি ছেঁড়া প্যাকেটসহ মোট ১০টি প্যাকেটে বিপুল পরিমাণ গাঁজা দেখতে পান তারা। পরে স্থানীয়রা তাৎক্ষণিকভাবে ‘৯৯৯’-এ কল করে বিষয়টি পুলিশকে জানায়। খবর পেয়ে ভৈরব থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে গাঁজাসহ নম্বরবিহীন অটোরিকশাটি থানায় নিয়ে যায়।
এ বিষয়ে ভৈরব থানার পরিদর্শক (তদন্ত) লিমন বোস বলেন, আমরা ৯৯৯-এর মাধ্যমে খবর পেয়ে দ্রুত ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠাই। সেখান থেকে পরিত্যক্ত অবস্থায় ১০টি প্যাকেটে ১৯ কেজি গাঁজা উদ্ধার করা হয়েছে। অটোরিকশাটিতে কোনো নম্বর প্লেট ছিল না। তিনি আরও জানান, চালক পলাতক থাকলেও গাড়ির চেসিস নম্বর ব্যবহার করে মালিক ও চালককে শনাক্ত করার চেষ্টা চলছে। এই ঘটনায় মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে একটি মামলার প্রস্তুতি চলছে।
বান্দরবানের নাইক্ষ্যংছড়িতে তিন রাবার শ্রমীককে অপহরণের অভিযোগ উঠেছে। গত মঙ্গলবার (২১ এপ্রিল) রাতে উপজেলার বাইশারী ইউপির আলিক্ষ্যং এলাকার আব্দুল করিম বান্টুর রাবার বাগানে এ ঘটনা ঘটে। অপহৃত এনামুল হক(২৪), মোহাম্মদ হাসান (২৬) ও নুরুল ইসলাম (২৮) কক্সবাজারের টেকনাফ এলাকার বাসিন্দা।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, অপহৃত এনামুল হক, মোহাম্মদ হাসান ও নুরুল ইসলাম দীর্ঘদিন ধরে রাবার বাগানের কাজ করতেন। মঙ্গলবার রাত ৩ টার দিকে বাগানটির স্টাফ কোয়ার্টার থেকে তাদের অস্ত্রের মুখে তুলে নিয়ে যায় কয়েকজন।
নাইক্ষ্যংছড়ি থানার ওসি মোজাম্মেল হক বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, গত রাতের অপহরণের ঘটনায় তাদের উদ্ধারে যৌথভাবে অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে।
পঞ্চগড় দেবীগঞ্জ উপজেলার ৬নং মল্লিকাদহ সোনাহার ইউনিয়নের, সোনাহার জগন্নাথ হাট তোহা বাজারের ১৯টি দোকান অবৈধভাবে ভোগ দখলে আছেন| সরজমিনে গিয়ে দেখা যায়, অবৈধ দখলীয় জমির তফশীল, মৌজা ও জে.এল- সোনহার/৯৯, খতিয়ান নম্বর এস.এ - ০১, দাগ নম্বর -২৭২১, জমির পরিমাণ ০.২২ একর।
গত ১১ই নভেম্বর ২০২৫ইং তারিখে দেবীগঞ্জ উপজেলার নির্বাহী অফিসের কার্যালয়ে এর ৩১.৫৫.৭৭৩৪.০০০.৯৯.০২১.২৫.১১৪৩ নং স্মারক অনুযায়ী ৬নং মল্লিকাদহ সোনাহার ইউনিয়ন ভূমি অফিসের সহকারী কর্মকর্তা মোঃ মিজানু রহমান ৭ দিনের মধ্যে অবৈধ দখলীয় স্থাপনা অপসারণ করার জন্য নোটিশ প্রদান করেন|
নোটিশ পাওয়ার পরেও অবৈধ স্থাপনা অপসারণ করেননি মর্মে ইউনিয়ন ভূমি সহকারী কর্মকর্তা প্রতিবেদন দাখিল করেন|
বিষয়টি গত ২৩/১১/২০২৫ইং তারিখে অনুষ্ঠিত ভূ-সম্পত্তি জবর দখলের বিষয়ে অভিযোগ গ্রহণ এবং তদন্ত কার্যক্রম সংক্রান্ত জেলা মনিটরিং কমিটির সভায় উপস্থাপন করা হলে সভায় সর্বসম্মতিক্রমে অবৈধ দখলদারদের উচ্ছেদ সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়| এমতাবস্থায় নোটিশ প্রাপ্তির ০৭ (সাত) দিনের মধ্যে সরকারি সম্পত্তি হতে অবৈধ দখল ছেড়ে দেওয়ার জন্য বলা হলো| অন্যথায় সরকার ও কর্ত...পক্ষের জমি ও ভবন (দখল পুনরুদ্ধার) অধ্যাদেশ, ১৯৭০ এর ৫(২) ধারা মোতাবেক উচ্ছেদ কার্যক্রম পরিচালনা করা হবে|
গত ২৯ শে জানুয়ারী সাবেক জেলা প্রশাসক কাজী মোঃ সায়েমুজ্জামান স্বাক্ষরিত চিঠিতে উল্লেখ করা হয় ১৯ জন ব্যক্তি উক্ত জমিতে ¯অস্থায়ী অবকাঠামো নির্মাণ করে অবৈধ ভাবে দখল করে রেখেছেন|
উচ্ছেদ অভিযান পরিচালনার জন্য জেলা প্রশাসনের সহকারী কমিশনার ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট সারোয়ার আলমকে দায়িত্ব দেওয়া হয়| তবে নিয়োগের তিন মাস পেরিয়ে গেলেও অভিযান শুরু হয়নি বলা জানা গেছে|
এ বিষয়ে দেবীগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সবুজ কুমার বসাক তিনি জানান আপনার মাধ্যমে জানতে পারলাম এ বিষয়টি, আমি নতুন এসেছি, পর্যবেক্ষণ করে দেখবো বিষয়টি|
পঞ্চগড় জেলা প্রশাসক মোসাঃ শুকরিয়া পারভীন জানান আমার কাছে দেবীগঞ্জ সোনাহার জগন্নাথ হাটের তোহা বাজারে ১৯টি দোকান অবৈধভাবে স্থাপনা নির্মাণ করে ভোগ দখলে আছে, এ বিষয়টি আমি জানতে পেরেছি। কয়েকদিনের মধ্যে ব্যবস্থা নেব|
বান্দরবানের আলীকদম-থানচি সীমান্তবর্তী দুর্গম চৈক্ষ্যং এলাকায় প্রায় দুইশত একর জুড়ে চলছে বন উজাড়ের মহোৎসব। এতে চরম হুমকির শিকার হচ্ছে পরিবেশ ও জীববৈচিত্র।
স্থানীয়রা জানায়, গত কয়েক মাস ধরে উপজেলার চৈক্ষ্যং ইউপির ৯ নম্বর ওয়ার্ডের পামিয়া ম্রো পাড়া, তন্তুই পাড়া, নামচাক পাড়া,কাকই পাড়া ,আদুই পাড়াসহ আশপাশের বন এলাকার গর্জন, চাম্পা ফুল, কড়ই,বৈলাম, গুটগুটিয়া, লালি,চাপালিশসহ বিলুপ্ত প্রায় নানা প্রজাতির মাতৃ গাছসহ অন্তত দুইশ একর জুড়ে বন উজাড় করে চলেছে আলীকদম পান বাজার এলাকার ইসমাইল ওরোপে লাল ইসমাইল ও লংলেইন ম্রোসহ একাধীক বন খেকো চক্র।
এই কাটা গাছ গুলো পরিবহন করতে পাহাড় কেটে রাস্থা নির্মাণ ও ভরাট করা হয়েছে একাধিক ঝিরিও।আর এইসব গাছ গুলো লামা বনবিভিাগ কর্তৃক অনুমতিপত্র বা জোত পারমিটের কাগজ দেখিয়ে বৈধতার আড়ালে আইনশৃংখলাবাহিনীর চেকপোস্টকে পাশ কাটিয়ে কলার ঝিড়ি নামক বাইপাস রাস্তা ব্যবহার করে নিয়মিত পাচার করা হচ্ছে আলীকদমসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে। এবং কাঠের অবশিষ্ট অংশ আলীকদমের বিভিন্ন অবৈধ ইটভাটায় জ্বালানি হিসেবে বিক্রি করা হচ্ছে। এই বন উজাড়ের ফলে, প্রতিনিয়ত চোখে পড়া হরিণ,শুকর, ভাল্লুক,বনমোরকসহ সকল বন্য প্রানী আজ বিলুপ্তির পথে।
এমনকি, ব্যাঙ ঝিরিটি শুকিয়ে যাওয়ার ফলে ঝিরিটির ওপর নির্ভরশীল ওই এলাকার পামিয়া, তন্তুই, নামচাক, কাকই ও আদুই পাড়াসহ অন্তত ৫টি ম্রো পড়ার মানুষ তীব্র পানি সংকটের সম্মুখীন হচ্ছেন।
সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, পোলা ব্যাঙ ঝিরির স্বাভাবিক পানিপ্রবাহ বন্ধ করে পাহাড় কেটে ট্রাক চলাচলের উপযোগী রাস্তা তৈরি করা হয়েছে। রাস্তার দুই পাশে স্তূপ করে রাখা হয়েছে বিভিন্ন আকারের গাছের গুঁড়ি। এলাকা থেকে দুই বছর ধরে পাড়া প্রাকৃতিক বন থেকে ৩০জন শ্রমিক দিয়ে মাতৃগাছ কেটে নিয়ে যাচ্ছেন। গাছের মধ্যে গর্জন, চাম্পা ফুল গাছ, কড়ই,বৈলাম, গুটগুটিয়া, লালি গাছ,চাপালিশসহ নানা প্রজাতির গাছ। বেঙঝিড়ি শুকিয়ে গেছে, পাঁচটি পাড়ার ম্রো জনগোষ্ঠীর মানুষ তীব্র পানি সংকটে। দুবছর আগে বড় বড় গাছ ছিল, বন ছিল, বনের মধ্যে ভালুক, হরিণ,বন্যশুকরসহ নানা প্রজাতির বন্যপশুপাখি বরপুর ছিল এখন বনও নেই পশুপাখিও নেই বলে জানান স্থানীয়রা। এবং অনেক গাছ অর্ধেক কেটে ফেলে রাখা হয়েছে, যেগুলোর আনুমানিক দৈর্ঘ্য ৬০ থেকে ১০০ ফুট এবং প্রস্থ ১০ থেকে ১৫ ফুট পর্যন্ত।বন বিভাগের কিছু অসাধু কর্মকর্তার যোগসাজশে বনের এই ধ্বংসযজ্ঞ চলছে বলেও দাবি করেন এলাকাবাসী।
গাছ কাটায় নিয়োজিত শ্রমিক শামসুল আলম জানান, তিনি ১৯ দিন ধরে এই কাজে যুক্ত রয়েছেন। চকরিয়া থেকে আসা আরেক দল শ্রমিক দৈনিক ৫০০ টাকা মজুরিতে কয়েক মাস ধরে কাজ করছেন। শ্রমিকদের টিম লিডার মাঝি মোঃ ইসমাইল জানান, তারা আবুহান মোঃ ইসমাইল সওদাগরের অধীনে কাজ করছেন এবং প্রতিদিন একটি ট্রাক দিয়ে দুইবার কাঠ পরিবহন করা হয়।
আদুই পাড়ার কার্বারী কামপ্লাত ম্রো বলেন, এই ঝিরির পানির ওপর ৭-৮টি পাড়া নির্ভরশীল। এখন আমরা পানির জন্য হাহাকার করছি। অভিযোগ দিয়েও কোনো প্রতিকার পাইনি।
নামচাক পাড়ার মেন রাও ম্রো বলেন, দুই বছর আগেও এখানে হরিণ, ভালুক, বন্য শূকর ও বিভিন্ন প্রজাতির পাখির আবাস ছিল। এখন বনও নেই, প্রাণীও নেই।
পামিয়া পাড়ার মেন চং ম্রো বলেন, আগে ব্যাঙ ঝিরিতে প্রচুর পানি ও মাছ -কাকড়া ছিল। এখন পানি শুকিয়ে গেছে, আমরা এখন নিরাপদ পানির চরম সংকটে আছি।
লুংলেই ম্রো দাবি করেন, তার বাবা চাহ্লা ম্রো ৫০ একর বন ৪০ হাজার টাকায় ৫ বছরের জন্য ইসমাইল সওদাগরের প্রাকৃতিক বন বিক্রি করে দিয়েছেন । তবে মোঃ ইসমাইল সাংবাদিক,বনবিভাগ প্রশাসন সবকিছু মেনেজ করার প্রতিশ্রুতি দেন এবং মামলা মোকদ্দমার অভয় দিয়ে প্রায় ২০০ একর এলাকা থেকে গাছ কাটছেন বলে জানান তিনি।
অভিযুক্ত আবুহান মো. ইসমাইল অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, তিনি মুলত দোকান করেন,গাছ ব্যবসার সাথে জড়িতও নন তিনি।তবে ওই এলাকা থেকে কিছু লাকড়ি কিনেছেন যা তামাক চুল্লিতে সরবরাহ করেন।
লামা বন বিভাগের বিভাগীয় বন কর্মকর্তা মোস্তাফিজুর রহমান জানান, এই বিষয়ে তার কাছে কোন তথ্য নেই,তবে ঘটনাটি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে।