পদ্মা সেতু যেন আশীর্বাদ হয়ে উঠেছে দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের জন্য। এ সেতু চালু হওয়ার পর থেকে মোংলা সমুদ্র বন্দরসহ আশপাশ এলাকাজুড়ে নতুন করে শুরু হয়েছে উন্নয়নের এক মহাযজ্ঞ। এতে সেতুর ওপর যেমন বেড়েছে যান চলাচল, তেমনি এ বন্দরে বেড়েছে কর্মব্যস্ততাও। গতি এসেছে দেশের দ্বিতীয় বৃহত্তম সমুদ্রবন্দর মোংলার আমদানি-রপ্তানি কার্যক্রমে। সেতুর সুফলে এ বন্দর হয়ে পোশাকপণ্য যাচ্ছে ইউরোপসহ বিভিন্ন দেশে। এছাড়া বন্দরের আশপাশে এরই মধ্যে গড়ে উঠেছে নতুন নতুন শিল্প কারখানা। এতে মোংলা বন্দর ঘিরে খুলে গেছে সম্ভাবনার নতুন দিগন্ত।
চাপ সামলাতে মোংলা বন্দরের সক্ষমতা বাড়ানোর উদ্যোগ নিয়েছে কর্তৃপক্ষ। এর অংশ হিসেবে বন্দর ব্যবহারকারীদের জরুরি বার্তা সেবা বা ভেসেল ট্রাফিক ম্যানেজমেন্ট ইনফরমেশন সিস্টেমের উন্নয়ন, সারফেস ওয়াটার ট্রিটমেন্ট প্লান্ট স্থাপন, কন্টেইনার ইয়ার্ড সংস্কার, চ্যানেলের ২৩ কিলোমিটার ড্রেজিং ও বর্জ্য ব্যবস্থাপনা আধুনিকায়নসহ নানা ধরনের অবকাঠামোগত উন্নয়ন এগিয়ে চলছে।
গত বছরের ২৫ জুন ৬ দশমিক ১৫ কিলোমিটার দৈর্ঘ্যের পদ্মা সেতুর উদ্বোধন হয়। এরপর এ সেতু দিয়ে যান চলাচল শুরু হয় ২৬ জুন। সেতুটি চালুর মধ্য দিয়ে দেশের অর্থনীতিতে সূচনা হয় নতুন এক অধ্যায়ের। বিশেষ করে দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের জেলাগুলোতে খুলে যায় অর্থনীতির নতুন দুয়ার। পাল্টে যায় এই অঞ্চলের মানুষের জীবনমানও।
মোংলা বন্দর কর্তৃপক্ষের উপ-সচিব (বোর্ড ও জনসংযোগ বিভাগ) মো. মাকরুজ্জামান জানান, প্রতিবেশী ভারত, নেপাল ও ভুটানকে মোংলা বন্দর ব্যবহারের সুযোগ দেয়ায় দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার বৃহৎ বাণিজ্যিক কেন্দ্রে পরিণত হতে যাচ্ছে এ বন্দর। এছাড়া এশিয়া, ইউরোপ, মধ্যপ্রাচ্য, অস্ট্রেলিয়া ও যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বাণিজ্যিক সম্পর্ক জোরদার হয়েছে। পদ্মা সেতু চালুর পর থেকে মোংলা বন্দর দিয়ে পোশাকপণ্য রপ্তানিও শুরু হয়েছে। আগে স্বল্প পরিসরে পোশাকপণ্য রপ্তানি হলেও সেতু চালুর পর থেকে তার পরিমাণ অনেক বেড়ে গেছে।
তিনি বলেন, সেতুর চালুর পর মোংলা বন্দর থেকে প্রথম পোশাকপণ্য রপ্তানি হয় ইউরোপের দেশ পোল্যান্ডে। এরপর ৭ জুলাই দ্বিতীয় চালান, চলতি বছরের ৫ মে তৃতীয় চালান, ৬ জুন চতুর্থ চালানের পোশাকপণ্য রপ্তানি হয়েছে। এছাড়া ডেনমার্ক ও গ্রেট ব্রিটেনেও পোশাকপণ্য গেছে সেতু চালুর পর।
মোংলা বন্দর কর্তৃপক্ষের প্রধান পরিকল্পনা কর্মকর্তা মো. জহিরুল হক বলেন, পদ্মা সেতুকে ঘিরে মোংলা বন্দরের আধুনিকায়নের জন্য আরও নতুন নতুন অনেক প্রকল্প বাস্তবায়নের পরিকল্পনা নেয়া হয়েছে। এসব প্রকল্প বাস্তবায়নের কাজ দ্রুত এগিয়ে চলছে। বন্দরের ড্রেজিং ব্যবস্থা উন্নয়নে ৭৯৪ কোটি টাকা ব্যয়ে একটি প্রকল্প বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। এ প্রকল্পের আওতায় পশুর চ্যানেলের জয়মনিরঘোল থেকে বন্দর জেটি পর্যন্ত ২৩ কিলোমিটার ড্রেজিং করা হচ্ছে। চ্যানেলটির ড্রেজিংয়ের কাজ শেষ হলে ৯ দশমিক ৫০ মিটার থেকে ১০ মিটার গভীরতার কন্টেইনারবাহী জাহাজ সরাসরি জেটিতে ভিড়তে পারবে।
তিনি আরও বলেন, বন্দরের কন্টেইনার রাখার স্থান বাড়াতে প্রায় ১৪ কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত হচ্ছে কন্টেইনার ইয়ার্ড, যার ধারণক্ষমতা হবে এক হাজার ৫০টি কন্টেইনার। এছাড়া মোংলা বন্দরে আসা বিদেশি জাহাজে ও বন্দর শিল্পাঞ্চলের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের সুপেয় পানির চাহিদা মেটাতে ২৫ কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মাণ করা হয়েছে সারফেস ওয়াটার ট্রিটমেন্ট প্ল্যান্ট। পাশাপাশি বন্দর ব্যবহারকারীদের জন্য জরুরি বার্তা সেবা কার্যক্রমের উন্নয়ন করা হচ্ছে। এর মাধ্যমে বন্দর চ্যানেলে প্রবেশ করা প্রতিটি জাহাজ তদারকির পাশাপাশি গতিবিধি পর্যবেক্ষণ করা সহজ হবে।
বন্দরের এ কর্মকর্তা বলেন, ৪৩০ কোটি টাকা ব্যয়ে মোংলা বন্দরের বর্জ্য ব্যবস্থাপনা প্রকল্পের কাজও এগিয়ে চলছে। এ প্রকল্প বাস্তবায়িত হলে বন্দরে চলাচলকারী বিভিন্ন বাল্ক, কন্টেইনার, ট্যাংকার ও অন্যান্য জলযান থেকে নিঃসৃত তেল ও পেট্রোলিয়াম বর্জ্যসহ অন্যান্য আর্বজনা সংগ্রহ করা সহজ হবে এবং একই সঙ্গে পশুর চ্যানেল ও বন্দরের আশপাশের নদ-নদীতে বিভিন্ন জাহাজ থেকে নিঃসৃত তেল অপসারণ করাও সহজ হবে। এর ফলে মোংলা বন্দর এলাকায় সামুদ্রিক দূষণ কমানোসহ বন্দর ও চ্যানেল এলাকার পরিবেশের সুরক্ষা নিশ্চিত হবে।
মোংলা বন্দর কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান রিয়ার অ্যাডমিরাল মীর এরশাদ আলী বলেন, পদ্মা সেতুকে কেন্দ্র করে মোংলা বন্দরের উন্নয়নে বেশ কিছু প্রকল্প বাস্তবায়নের উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। এরই মধ্যে বন্দর উন্নয়নে ছয় হাজার ২৫৬ কোটি টাকার প্রকল্প হাতে নেয়া হয়েছে।
তিনি বলেন, আলোচ্য প্রকল্পের আওতায় ১২টি কম্পোনেন্ট থাকবে। এগুলো হচ্ছে বন্দর জেটিতে ১ ও ২ নম্বর কন্টেইনার টার্মিনাল নির্মাণ, কন্টেইনার হ্যান্ডেলিং ইয়ার্ড নির্মাণ, কন্টেইনার ডেলিভারি ইয়ার্ড নির্মাণ, ইয়ার্ড শেড, নিরাপত্তা দেয়াল, অটোমেশন ও অন্যান্য অবকাঠামোসহ বন্দরের সংরক্ষিত এলাকা সম্প্রসারণ, সার্ভিস ভেসেল জেটি শেড ও অফিস নির্মাণ, বন্দর ভবন (প্রশাসনিক) সম্প্রসারণ, এমপিএ টাওয়ার, পোর্ট রেসিডেনশিয়াল কমপ্লেক্স কমিউনিটি সুবিধাদি নির্মাণ, ইকুইপমেন্ট ইয়ার্ড, ইকুইপমেন্ট শেড ও প্রয়োজনীয় যন্ত্রপাতিসহ একটি পুল নির্মাণ, সিগনাল রেড ক্রসিং ও ওভারপাস নির্মাণ, বিনোদন ব্যবস্থাসহ বাঁধ নির্মাণ এবং পাঁচটি হারবার ক্রাফট ক্রয়।
বন্দর কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান আরও বলেন, পদ্মা সেতু চালু হওয়ায় সময় সাশ্রয় ও যোগাযোগ ব্যবস্থা সহজ হয়েছে। এতে ব্যবসায়ীরা এখন মোংলা বন্দর ব্যবহারে অনেক বেশি আগ্রহ দেখাচ্ছেন। বর্তমানে মোংলা বন্দরের নিজস্ব জমিতে ১১টি এলপিজি কারখানা, পাঁচটি সিমেন্ট কারখানাসহ আরও ১০ টি শিল্প কলকারখানা রয়েছে। এছাড়া বন্দর এলাকায় ২৫৮ একর জমিতে বাংলাদেশ অর্থনৈতিক অঞ্চল (বেপজা) প্রতিষ্ঠিত রয়েছে। এসব শিল্প কারখানার কাঁচামাল মোংলা বন্দরের মাধ্যমে পরিবাহিত হয়ে আসছে। ফলে বাণিজ্যিক স্বার্থেই বন্দরের সক্ষমতা বাড়ানোর বিষয়টি সরকারের কাছে অগ্রাধিকার পাচ্ছে।
বন্দরের সুবিধাদি বাড়াতে ১০টি প্রকল্প বাস্তবায়িত হচ্ছে উল্লেখ করে মীর এরশাদ আলী বলেন, পদ্মা সেতু চালুর পর থেকে মোংলা-খুলনা রেললাইন, রেলসেতু ও রামপাল তাপ বিদ্যুৎ কেন্দ্রের দ্বিতীয় ইউনিটের নির্মাণ কাজও দ্রুতগতিতে এগিয়ে যাওয়ায় মোংলা বন্দরকেন্দ্রিক দেশের শিল্প-বাণিজ্যের অপার সম্ভাবনার নতুন দিগন্ত সূচিত হয়েছে। ইতোমধ্যে এ বন্দরকে কেন্দ্র করে গড়ে উঠতে শুরু করেছে নতুন নতুন শিল্প-কলকারখানা। দেশি-বিদেশি বিনিয়োগকারীদের আগ্রহ বেড়েছে মোংলা বন্দরের প্রতি। এতে কর্মচঞ্চল হয়ে উঠেছে গোটা বন্দর এলাকা।
মোংলা বন্দর উপদেষ্টা কমিটির সদস্য ও খুলনা সিটি করপোরেশনের মেয়র তালুকদার আব্দুল খালেক বলেন, মোংলা বন্দরকে ঘিরে বর্তমান সরকারের ব্যাপক উন্নয়ন পরিকল্পনা রয়েছে। পদ্মা সেতু থেকে মোংলা বন্দর পর্যন্ত ছয় লেনবিশিষ্ট সড়ক ও রেল যোগাযোগ স্থাপন, মোংলা ইপিজেড সম্প্রসারণ, স্পেশাল ইকোনমি জোন স্থাপন, রূপসা নদী ও মোংলা-ঘাষিয়াখালী চ্যানেলের নাব্যতা বাড়ানোর উদ্যোগ নেয়া হয়েছে।
তিনি বলেন, বিগত জোট সরকার এ বন্দরকে ধ্বংস করতে কোনো উন্নয়ন করেনি। জোট সরকার দুর্নীতি করে এ বন্দরকে শেষ করে দিয়েছিল। ওই সময় বন্দরে কোনো জাহাজ আসতো না। মোংলা মৃত বন্দরে পরিণত হয়েছিল। সেখান থেকে বর্তমান সরকার এ বন্দরকে টেনে তুলেছে। বন্দরকে ঘিরে এখন চারিদিকে শুধু উন্নয়নের ছোঁয়া।
মোংলা বন্দর ব্যবহারকারী ও মোংলা বন্দর বার্থ শিপ অপারেটর অ্যাসোসিয়েশন উপদেষ্টা মো. মোস্তাক আহম্মেদ মিঠু, সদস্য এইচ এম দুলাল, জিসান রহমান ভুট্টো, মো. মসিউর রহমান বলেন, পদ্মা সেতু এ অঞ্চলের ব্যবসায়ীদের জন্য আশীর্বাদ হয়ে উঠেছে। সেতু চালু হওয়ায় ঢাকা থেকে মোংলা বন্দরের দূরত্ব এখন ১৭০ কিলোমিটার। যেখানে ঢাকা থেকে চট্টগ্রাম বন্দরের দূরত্ব ২৬০ কিলোমিটার। এক্ষেত্রে সময় ও অর্থের সাশ্রয় হচ্ছে। এছাড়া মোংলা বন্দরে জাহাজ হ্যান্ডেলিং দ্রুত ও নিরাপদ হওয়ায় বিদেশি ব্যবসায়ীরাও এ বন্দর ব্যবহারে আগ্রহী হচ্ছেন।
‘সবার জন্য সুস্থ কিডনি-মানুষের যত্নে বাঁচাও ধনণী’ এই প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে ঝিনাইদহে পালিত হয়েছে বিশ্ব কিডনি দিবস। দিবসটি উপলক্ষে বৃহস্পতিবার (১২ মার্চ) সকালে শহরের কেন্দ্রীয় বাস টার্মিনাল এলাকা থেকে ক্যাম্পস কিডনি ও ডায়ালাইসিস সেন্টারের পক্ষ থেকে একটি র্যালি বের করা হয়। র্যালিটি শহরের প্রধান সড়ক ঘুরে একই স্থানে এসে শেষ হয়। পরে সেখানে অনুষ্ঠিত হয় সংক্ষিপ্ত সমাবেশে এতে সংস্থাটির মেডিকেল অফিসার ডা. রিফাত বিন শরিফ, ম্যানেজার রাকিবুল ইসলামসহ অন্যরা বক্তব্য দেন।
কিডনি রোগ সম্পর্কে সচেতনতা বাড়াতে নিয়মিত স্বাস্থ্য পরীক্ষা, পরিমিত খাদ্যাভ্যাস এবং সুস্থ জীবনযাপন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ উল্লেখকরে বক্তারা কিডনি রোগ প্রতিরোধে সবাইকে সচেতন হওয়ার আহ্বান জানান।
বগুড়ার নন্দীগ্রামে আইন অমান্য করায় ভেকু মেশিনের ব্যাটারিসহ অন্যান্য যন্ত্রাংশ জব্দ ও দুই দোকান মালিককে জরিমানা করেছে ভ্রাম্যমাণ আদালত।
বৃহস্পতিবার (১২ মার্চ) দুপুরে সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট রোহান সরকার ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করে নন্দীগ্রাম উপজেলার ভাটগ্রাম ইউনিয়নের কাথম দক্ষিণপাড়া এলাকায় কৃষিজমি থেকে অবৈধভাবে মাটি কাটার অপরাধে সংশ্লিষ্টদের ঘটনাস্থলে পাওয়া না যাওয়ায় ভেকু মেশিনের ব্যাটারিসহ অন্যান্য যন্ত্রাংশ জব্দ করেছেন।
পরবর্তীতে তিনি ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করে নন্দীগ্রাম বাসস্ট্যান্ড এলাকায় অপরিচ্ছন্ন পরিবেশে প্যাকেটজাতকরণ ব্যতীত খোলা অবস্থায় লাচ্ছা-সেমাই বিক্রয়ের অপরাধে ফটিক কনফেকশনারি ও সোহাগ ডিপার্টমেন্টাল স্টোরের মালিককে ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ আইনে ৩ হাজার টাকা করে মোট ৬ হাজার টাকা জরিমানা করেন। এই ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনায় প্রসিকিউটর ছিলেন উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের স্যানিটারি ইন্সপেক্টর জামিল উদ্দিন। সহযোগিতা করেন নন্দীগ্রাম থানা পুলিশ।
এ তথ্য নিশ্চিত করেন সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট রোহান সরকার। তিনি বলেন, ‘আইন অমান্যকারীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা অব্যাহত থাকবে।’
বান্দরবানে নির্ধারিত অফিস সময়েও স্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরের কার্যালয়ে দিনের পর দিন তালা ঝুলিয়ে রাখার অভিযোগ ওঠেছে। এতে সেবা নিতে আসা সাধারণ মানুষ চরম ভোগান্তিতে পড়ছেন বলে জানিয়েছেন স্থানীয়রা।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, স্বাস্থ্য খাত উন্নয়নমূলক কাজের বিষয়ে তথ্য ও সেবা নিতে প্রায়ই মানুষ স্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরের কার্যালয়ে আসেন। কিন্তু অধিকাংশ সময় অফিসে এসে গেইটে তালা ঝুলতে দেখে হতাশ হয়ে ফিরে যেতে হচ্ছে সেবাপ্রত্যাশীদের। জনসেবা নিশ্চিত করতে বিষয়টি তদন্ত করে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছেন।
স্থানীয় বাসিন্দা মো. সুমন ও হেলাল উদ্দীন বলেন, ‘প্রয়োজনীয় কাজ নিয়ে বান্দরবান স্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরে বেশ কয়েকবার গিয়েছিলাম। কিন্তু অফিস কার্যালয়ের মূল ফটকে প্রতিবারই তালাবদ্ধ ও যোগাযোগেরমাধ্যম না পেয়ে বাধ্য হয়ে ফিরে যেতে হয়েছে।’
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক পার্শ্ববর্তী অপর অফিসের এক কর্মকর্তা বলেন, ‘বান্দরবান স্বাস্থ্য প্রকৌশল অফিসের কর্মচারী -কর্মকর্তারা নিয়মিত অফিসে উপস্থিত না থাকায় তাদের দপ্তরের নামে আসা অধিকাংশ চিঠি এখানে দিয়ে যায় বাহকরা।’
বান্দরবান স্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরের সহকারী প্রকৌশলী মো. আব্দুর রৌফ কার্যালয়ের মুল ফটকে তালা বদ্ধ করে রাখার বিষয়টি স্বীকার করে বলেন, ‘তাদের কার্যালয়ে জনবল সংকটের কারণে এমনটা করেছেন।’
প্রশ্নের জবাবে জনবল বৃদ্ধির জন্য ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানিয়েছেন এবং মূলফটকে যোগাযোগের নম্বর স্থাপনের জন্য দোকানে প্রিন্ট করতে দিয়েছেন। তবে তার দালিলিক প্রমাণ দেখাতে পারেননি তিনি।
চা-বাগানের সবুজ ঢেউ, পাহাড়ের ভাঁজে ভাঁজে মেঘের ছোঁয়া আর ঝরনার গর্জন—প্রকৃতির এমন অপার সৌন্দর্যে ঘেরা মৌলভীবাজার এখন দেশের অন্যতম জনপ্রিয় পর্যটন গন্তব্য। চায়ের রাজধানী হিসেবে পরিচিত এই জেলায় প্রতি বছর দেশ-বিদেশের অসংখ্য পর্যটক ছুটে আসেন সবুজ প্রকৃতির কাছাকাছি কিছুটা সময় কাটাতে। পাহাড়, চা-বাগান, হাওর-বিল, জলপ্রপাত ও ঐতিহাসিক নিদর্শনের সমন্বয়ে মৌলভীবাজার হয়ে উঠেছে প্রকৃতিপ্রেমীদের এক অনন্য স্বর্গরাজ্য।
জেলার ৯২টি চা-বাগানের সবুজ সমারোহ, জীববৈচিত্র্যে ভরপুর লাউয়াছড়া জাতীয় উদ্যান, গর্জনধ্বনিময় মাধবকুণ্ড জলপ্রপাত, নয়নাভিরাম মাধবপুর লেকসহ অসংখ্য প্রাকৃতিক ও ঐতিহাসিক স্থাপনা মিলিয়ে মৌলভীবাজার এখন ভ্রমণপিপাসুদের অন্যতম আকর্ষণীয় গন্তব্যে পরিণত হয়েছে।
নৈসর্গিক সৌন্দর্যের লীলাভূমি এই চায়ের রাজ্যে একবার এলে মন চায় বারবার ফিরে আসতে। চারদিকে ছড়িয়ে থাকা সবুজ প্রকৃতি, পাহাড়-টিলা আর চা-বাগানের সতেজ সবুজ পাতার মায়া যেকোনো ভ্রমণপ্রেমীকে সহজেই আকৃষ্ট করে। এখানে এসে পর্যটকেরা খুঁজে পান মানসিক প্রশান্তি ও স্বস্তি।
জেলার শতাধিক পর্যটনস্থলের মধ্যে দেশ-বিদেশের পর্যটকদের প্রথম পছন্দ শ্রীমঙ্গল, কমলগঞ্জ ও বড়লেখা।
কুষ্টিয়ার দৌলতপুর সীমান্তে মাথাভাঙ্গা নদী থেকে মলেজান বেগম (৬৫) নামে এক মানসিক ভারসাম্যহীন বৃদ্ধার ভাসমান মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। নিহত মলেজান বেগম উপজেলার প্রাগপুর ইউনিয়নের বিলগাথুয়া গ্রামের মৃত এলাহী হোসেনের স্ত্রী।
স্থানীয় ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, মলেজান বেগম দীর্ঘদিন ধরে মানসিক ভারসাম্যহীনতায় ভুগছিলেন। তিনি প্রায়ই পরিবারের অগোচরে বাড়ির বাইরে ঘোরাফেরা করতেন। গত তিন দিন আগে তিনি হঠাৎ নিখোঁজ হন। পরিবারের সদস্যরা অনেক খোঁজাখুঁজি করেও তার সন্ধান পাননি। নিখোঁজের বিষয়টি জানিয়ে এলাকায় মাইকিংও করা হয়েছিল।
বৃহস্পতিবার (১২ মার্চ) দুপুরে বিলগাথুয়া এলাকার মাথাভাঙ্গা নদীতে একটি মরদেহ ভাসতে দেখে স্থানীয়রা পুলিশে খবর দেয়। পরে দৌলতপুর থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে নদী থেকে বৃদ্ধার মরদেহটি উদ্ধার করে। প্রাথমিক অবস্থায় ধারণা করা হচ্ছে, নদী পার হতে গিয়ে বা অসাবধানতাবশত পানিতে পড়ে ডুবে তার মৃত্যু হয়েছে।
এ বিষয়ে দৌলতপুর থানার ওসি আরিফুর রহমান জানান, স্থানীয়দের সংবাদের ভিত্তিতে পুলিশ নদী থেকে বৃদ্ধার মরদেহ উদ্ধার করেছে। প্রয়োজনীয় আইনগত প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা হয়েছে। আইনি আনুষ্ঠানিকতা শেষে মরদেহটি পরিবারের কাছে হস্তান্তরের প্রস্তুতি চলছে।
বরগুনার উপকূলীয় উপজেলা আমতলীতে শীতের বিদায়ের সঙ্গে সঙ্গেই জমে উঠেছে তরমুজের বাজার। প্রখর গরম আর মাহে রমজানের কারণে ইফতারির টেবিলে তরমুজের চাহিদা বেড়ে যাওয়ায় কৃষক ও ব্যবসায়ীদের মধ্যে দেখা দিয়েছে বাড়তি উচ্ছ্বাস। ভালো ফলন ও সন্তোষজনক দামের কারণে এবার লাভের আশা করছেন স্থানীয় চাষিরা।
উপজেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানা গেছে, চলতি মৌসুমে আমতলীতে প্রায় ৪ হাজার ৩০৯ হেক্টর জমিতে তরমুজ চাষ হয়েছে। এতে ১০ লাখ ৭ হাজার ৭২৫ টন উৎপাদনের লক্ষ্য ধরা হয়েছে। আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় এবং বড় ধরনের কোনো প্রাকৃতিক দুর্যোগ না থাকায় কৃষি বিভাগ মনে করছে, উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রা ছাড়িয়ে যেতে পারে। ইতোমধ্যে প্রতিদিন আমতলী থেকে ট্রাক ও ট্রলিভর্তি তরমুজ ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন জেলায় পাঠানো হচ্ছে।
মাঠপর্যায়ে ঘুরে দেখা গেছে, তরমুজের ভালো ফলনে কৃষকদের মুখে স্বস্তির হাসি। উপজেলার কুকুয়া এলাকার কৃষক মো. নাসির উদ্দিন জানান, কয়েকজন সঙ্গীকে নিয়ে তিনি প্রায় ৮০ বিঘা জমিতে আগাম তরমুজ চাষ করেছেন। এতে প্রায় ২০ লাখ টাকা ব্যয় হয়েছে। ইতোমধ্যে তিনি প্রায় ১৮ লাখ টাকার তরমুজ বিক্রি করেছেন। ক্ষেতে থাকা ফল বিক্রি হলে মোট বিক্রি ৫০ লাখ টাকার বেশি হতে পারে বলে আশা করছেন তিনি।
একই উপজেলার চাওড়া এলাকার কৃষক রফিকুল ইসলাম বলেন, তিনি ১২ বিঘা
জমিতে তরমুজ চাষ করেছেন। এখন পর্যন্ত বাজারে যে দাম রয়েছে, তাতে খরচ বাদ দিয়ে ৮-১০ লাখ টাকা লাভ হওয়ার আশা করছেন। আবার গুলিশাখালী ইউনিয়নের কৃষক আব্দুল করিম জানান, অল্প জমিতে তরমুজ চাষ করেও ভালো লাভের সম্ভাবনা দেখছেন তিনি।
আমতলীর নতুন বাজার ও চৌরাস্তা এলাকায় গিয়ে দেখা গেছে, দোকান ও আড়তজুড়ে তরমুজের স্তূপ। স্থানীয় আড়তদার মো. সাইফুল ইসলাম বলেন, আকারভেদে ছোট ও মাঝারি তরমুজ ১৮০ থেকে ২০০ টাকা এবং বড় তরমুজ ২৫০ থেকে ৩৫০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। ক্রেতাদের মধ্যেও তরমুজের চাহিদা চোখে পড়ার মতো।
দিনমজুর মিজানুর রহমান বলেন, রমজানে ইফতারে তরমুজ না থাকলে যেন তৃপ্তি আসে না। দামও মোটামুটি সহনীয়, তাই মাঝে মাঝে কিনে নিচ্ছি।
পুষ্টিবিদদের মতে, গরমের সময়ে তরমুজ শরীরের জন্য বেশ উপকারী। বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের পুষ্টিবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক ড. সামিয়া রহমান বলেন, তরমুজে প্রচুর পানি, ভিটামিন ও খনিজ উপাদান থাকে। রোজা রাখার পর শরীরের পানিশূন্যতা দ্রুত পূরণ করতে এ ফল বেশ কার্যকর।
আমতলী উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো. রাসেল বলেন, ধানের পর এই অঞ্চলে তরমুজ এখন গুরুত্বপূর্ণ ফসল হয়ে উঠেছে। রমজানের কারণে বাজারে চাহিদা বেশি থাকায় কৃষকরা ভালো দাম পাচ্ছেন। আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে কৃষকেরা এবার ভালো লাভ করবেন বলে আশা করছি।
রমজানের বাজারে তরমুজের এমন জমজমাট বেচাকেনা শুধু কৃষকের অর্থনীতিতেই নয়, স্থানীয় বাজার ব্যবস্থাতেও এনে দিয়েছে নতুন প্রাণচাঞ্চল্য।
টেকসই ও জলবায়ু সহনশীল জীবিকা উন্নয়নের লক্ষ্যে পাথরঘাটা উপজেলায় কাঁকড়া চাষিদের মাঝে উৎপাদন সহায়ক উপকরণ বিতরণ করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার (১২ মার্চ) বেলা ১১টার দিকে গ্রীন ক্লাইমেট ফান্ডের (জিসিএফ)- অর্থায়নে এবং পল্লী কর্ম-সহায়ক ফাউন্ডেশনের (পিকেএসএফ) সহযোগিতায় বাস্তবায়িত (আরএইচএল) প্রকল্পের আওতায় কমিউনিটি ডেভেলপমেন্ট সেন্টার (কোডেক) কাঁকড়া চাষিদের মধ্যে বিভিন্ন উৎপাদন সহায়ক উপকরণ বিতরণ করেছে।
প্রতি উপকারভোগী সদস্য ১৮০ হাত সুপারির গড়া, একটি ডিজিটাল মিটার স্কেল, একটি পিএইচ ও অ্যামোনিয়া টেস্ট কিট, ২০০ গজ বেষ্টনি জাল, ৬টি কাঁকড়ার খাঁচা, একটি ফিড ট্রেসহ ৯টি উপকরণ বিতরণ করা হয়েছে।
এই উপকরণগুলো কাঁকড়া চাষিদের টেকসই ও বিজ্ঞানভিত্তিক কাঁকড়া চাষে সহায়তা করবে। স্থানীয় জলবায়ুগত চ্যালেঞ্জ মোকাবেলায় কাঁকড়া চাষ একটি সম্ভাবনাময় বিকল্প জীবিকা হিসেবে কাজ করছে। এই সহায়তা উপকূলীয় জনগোষ্ঠীর আয় বৃদ্ধির পাশাপাশি জলবায়ু সহনশীল জীবিকা গড়ে তুলতে অবদান রাখবে যা আরএইচএল প্রকল্পের অন্যতম মূল লক্ষ্য।
এই উপকরণ বিতরণ অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন পাথরঘাটা উপজেলা উপ-সহকারী মৎস্য কর্মকর্তা নজরুল ইসলাম, প্রকল্প সমন্বয়কারী, কোডেক জিসিএফ-আরএইচএল প্রজেক্টের আবু বকর ছিদ্দিক, এরিয়া ম্যানেজার আসাদুজ্জামান শেখ, পাথরঘাটা প্রেসক্লাবের সাবেক সাধারণ সম্পাদক অমল তালুকদার ও শফিকুল ইসলাম খোকন।
২৫ মার্চ গণহত্যা দিবস, ২৬ মার্চ মহান স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবস যথাযোগ্য মর্যাদায় উদযাপন উপলক্ষে কাপাসিয়া উপজেলা প্রশাসনের আয়োজনে প্রস্তুতিমূলক সভা হয়েছে। বৃহস্পতিবার (১২ মার্চ) সকালে উপজেলা পরিষদ সভাকক্ষে আয়োজিত সভায় নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) তামান্না তাসনীম সভাপতিত্ব করেন ।
অনুষ্ঠিত সভায় অন্যান্যের মাঝে বক্তব্য রাখেন, সহকারী কমিশনার (ভূমি) নাহিদুল হক, থানার ইন্সপেক্টর (তদন্ত) যোবায়ের হোসেন, উপজেলা বিএনপির সদস্য সচিব বীর মুক্তিযোদ্ধা আলহাজ্ব খন্দকার আজিজুর রহমান পেরা, বীর মুক্তিযোদ্ধা কামাল উদ্দিন আহমেদ নান্নু, মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডের আহ্বায়ক মো. সামসুদ্দীন খান, বীর মুক্তিযোদ্ধা এম এ গণি, উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডের সদস্য সচিব মো. মফিজ উদ্দিন, উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. মো. হাবিবুর রহমান, উপজেলা কৃষি অফিসার কৃষিবিদ আউলিয়া খাতুন, উপজেলা প্রকৌশলী (এলজিইডি) বেলাল হোসেন সরকার, উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা একেএম আতিকুর রহমান, উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার আব্দুল আরিফ সরকার, উপজেলা শিক্ষা অফিসার রমিতা ইসলাম প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।
বাগেরহাটের রামপালে এক মর্মান্তিক সড়ক দুর্ঘটনায় একই পরিবারের ১১ সদস্যসহ মোট ১২ জনের প্রাণহানি ঘটেছে। বৃহস্পতিবার (১২ মার্চ) বিকেলে রামপাল উপজেলার বেলাই ব্রিজ এলাকায় নৌবাহিনীর একটি বাস এবং যাত্রীবাহী মাইক্রোবাসের মধ্যে মুখোমুখি সংঘর্ষে এই ভয়াবহ বিপর্যয় ঘটে। প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, নৌবাহিনীর বাসটি মোংলা থেকে আসছিল এবং মাইক্রোবাসটি খুলনা থেকে মোংলার দিকে যাচ্ছিল। প্রত্যক্ষদর্শী ও পুলিশ জানায়, সংঘর্ষের তীব্রতা এতটাই বেশি ছিল যে ঘটনাস্থলেই তিন নারীসহ চারজন প্রাণ হারান।
দুর্ঘটনার খবর পাওয়া মাত্রই পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা দ্রুত উদ্ধার অভিযান শুরু করেন এবং স্থানীয়দের সহায়তায় আহতদের হাসপাতালে পাঠানোর ব্যবস্থা করেন। রামপাল উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ৪ জনের মরদেহ রাখা হয়েছে এবং খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ৮ জনের মরদেহ নেওয়া হয়েছে। খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের জরুরি বিভাগ নিশ্চিত করেছে, নিহতদের মধ্যে ৩ জন শিশু, ৩ জন নারী এবং ২ জন পুরুষ রয়েছেন। এছাড়া হাসপাতালে চিকিৎসাধীন আরও একজনের অবস্থা বর্তমানে অত্যন্ত আশঙ্কাজনক।
কাটাখালী হাইওয়ে থানার ওসি মো. জাফর আহমেদ এবং স্বাস্থ্য কর্মকর্তারা দুর্ঘটনার বিষয়টি নিশ্চিত করে জানিয়েছেন, উদ্ধার কাজ শেষে বর্তমানে হতাহতদের পরিবারকে সহায়তার প্রক্রিয়া চলছে। এই হৃদয়বিদারক ঘটনায় পুরো এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে।
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ভোটের ফল চ্যালেঞ্জ করে হাইকোর্টে আবেদন করেছেন পাবনা-৩ (ভাঙ্গুড়া,ফরিদপুর ও চাটমোহর) আসনের ধানের শীষ প্রতীকের পরাজিত প্রার্থী ও কৃষক দলের কেন্দ্রীয় কমিটির সভাপতি হাসান জাফির তুহিন। গত বুধবার (১১ মার্চ) তিনি সুপ্রিম কোর্টের হাইকোর্ট বিভাগের নির্বাচনী স্পেশাল বেঞ্চে ফলাফল বাতিল এবং ভোট পুনর্গণনার দাবিতে আবেদন করেন।
নির্বাচনে জামায়াতে ইসলামী মনোনীত প্রার্থী ও জেলা জামায়াতের (তরবিয়াত) সহকারী সেক্রেটারি মাওলানা আলী আছগারের নিকট ৩ হাজার ২৬৯ ভোটে পরাজিত হন ওই কৃষকদল নেতা।
নির্বাচনী স্পেশাল বেঞ্চের একক বিচারক বিচারপতি মো. জাকির হোসেন শুনানি শেষে আবেদনটি গ্রহণ করেন।
আদালত আগামী ১৪ জুন পরবর্তী শুনানির দিন ধার্য করেছেন। একই সঙ্গে সংশ্লিষ্ট আসনের ব্যালট পেপারসহ প্রয়োজনীয় সকল নির্বাচন সামগ্রী সংরক্ষণ করার নির্দেশ দিয়েছেন।
আসন্ন ঈদকে সামনে রেখে ঢাকা–চট্টগ্রাম মহাসড়ক ধরে বাড়ি ফিরবেন লাখো মানুষ। কিন্তু এই মহাসড়কে যানজটমুক্ত চলাচল নিশ্চিত করা, শৃঙ্খলা বজায় রাখা এবং নিরাপত্তা ব্যবস্থায় প্রশাসনের প্রস্তুতি কতটা—তা নিয়ে চালকদের মধ্যে প্রশ্ন উঠেছে।
যানজট কমাতে কেউ সড়কে চলমান সংস্কার কাজ সাময়িকভাবে বন্ধ রাখার দাবি জানাচ্ছেন, আবার কেউ প্রশাসনের নজরদারি বাড়ানোর আহ্বান জানিয়েছেন। তাদের প্রত্যাশা, ঈদের আগে নির্বিঘ্নে বাড়ি পৌঁছানো এবং ঈদ শেষে স্বস্তিতে কর্মস্থলে ফিরতে কার্যকর উদ্যোগ নেবে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।
ঢাকা–চট্টগ্রাম মহাসড়কের প্রায় ১০০ কিলোমিটার অংশ কুমিল্লা জেলার ওপর দিয়ে গেছে। মহাসড়কের কুমিল্লা সেনানিবাস সংলগ্ন এলাকা, কুমিল্লা–সিলেট আঞ্চলিক মহাসড়কের দেবিদ্বারসহ বেশ কয়েকটি স্থানে চলছে সংস্কার কাজ। চালকদের আশঙ্কা, ঈদের আগে এসব কাজ বন্ধ না রাখলে সড়কে তীব্র যানজটের সৃষ্টি হতে পারে।
দাউদকান্দি উপজেলার গৌরিপুর এলাকায় দুই লেনের মহাসড়কের ওপরই প্রায়ই গাড়ি পার্কিং করা হয়। একই চিত্র দেখা যায় দাউদকান্দির ইলিয়গঞ্জ, চান্দিনার মাধাইয়া, কুটুম্বপুর, চান্দিনা সদর, বুড়িচংয়ের নিমসার, সদর দক্ষিণের পদুয়ার বাজার, সুয়াগাজী, চৌদ্দগ্রামের মিয়াবাজার ও চৌদ্দগ্রাম সদরে।
পদুয়ার বাজার, মিয়াবাজার ও চৌদ্দগ্রাম সদরে ফুটপাত দখল করে দোকানপাট বসানো হয়েছে। নিমসার, মিয়াবাজার ও চৌদ্দগ্রাম সদরে মহাসড়কের ওপরই বসে বাজার। এতে যান চলাচল মারাত্মকভাবে ব্যাহত হয়।
এর মধ্যে পদুয়ার বাজার একটি গুরুত্বপূর্ণ সংযোগস্থল। এখানে মহাসড়কের ওপর দিয়ে ক্রস করেছে কুমিল্লা–নোয়াখালী আঞ্চলিক মহাসড়ক। এই সড়ক দিয়ে লক্ষ্মীপুর ও চাঁদপুরগামী পরিবহন চলাচল করে। কিন্তু চট্টগ্রামমুখী লেনে ফুটওভারব্রিজের নিচে এলোপাতাড়িভাবে বাস পার্কিং করায় যানজট তীব্র আকার ধারণ করে। এর প্রভাব পড়ে সামনের ইউ-টার্ন পর্যন্ত।
এছাড়া ফুটপাত ও সড়কে বসা ভ্রাম্যমাণ হকারদের কারণেও যানজট বাড়ছে। নোয়াখালী সড়কের মাথায় ফুটওভারব্রিজের নিচে বাস দাঁড় করিয়ে যাত্রী তোলা হয়। পাশেই মসজিদের সামনে একটি বাস কাউন্টার থাকায় প্রায়ই বাস সড়কে দাঁড়িয়ে থাকে। ফলে এই এলাকায় প্রায় সময়ই যানজট লেগে থাকে।
চালকরা বলছেন, মহাসড়কে শৃঙ্খলা ফেরাতে থ্রি-হুইলার চলাচল বন্ধ করা এবং নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পুলিশি টহল জোরদার করা জরুরি।
চট্টগ্রাম থেকে তেলবাহী লরি চালক আসাদ উল্লাহ বলেন, শুধু কুমিল্লা অংশেই চার-পাঁচটা বাজার আছে। এসব বাজারের ভেতর দিয়ে যেতে হলে অনেক সময় লাগে। এখন আবার রাস্তার সংস্কার কাজও চলছে। এগুলো পরিষ্কার না করলে বা কাজ শেষ না হলে এবারের ঈদ আমাদের রাস্তার মধ্যেই কাটাতে হবে।
বাস চালক আবদুল মজিদ বলেন, “এখন আর সড়কে সংস্কার দরকার নেই। বরং রাতে বেশি পুলিশ দরকার, যাতে ছিনতাই বা ডাকাতির ঘটনা না ঘটে।
মাইক্রোবাস চালক অপু হোসেন বলেন, “ঈদের সময় বাড়ি যাওয়া এবং আবার কর্মস্থলে ফেরার সময় পুলিশি টহল বাড়ানো দরকার। টহল বাড়লে চুরি-ডাকাতির ভয় কমবে।
কুমিল্লা সড়ক ও জনপথ বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী খন্দকার গোলাম মোস্তফা জানিয়েছেন, ঈদের আগে মহাসড়কে চলমান সংস্কার কাজ সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হবে। পাশাপাশি যানজট এড়াতে মহাসড়ক দখল করে গড়ে ওঠা অবৈধ বাজার উচ্ছেদের প্রস্তুতিও নেওয়া হচ্ছে।
অন্যদিকে ঈদকে সামনে রেখে মহাসড়কে যানজট নিয়ন্ত্রণ ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে অতিরিক্ত ২০০ পুলিশ সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন ঢাকা–চট্টগ্রাম হাইওয়ে পুলিশের পুলিশ সুপার শাহিনুর আলম খান।
ঈদে ঘরমুখো মানুষের চাপ সামাল দিতে প্রশাসনের নানা উদ্যোগের কথা জানানো হলেও চালকদের প্রত্যাশা—সংস্কার কাজের সঠিক সমন্বয়, কঠোর নজরদারি এবং কার্যকর ট্রাফিক ব্যবস্থাপনার মাধ্যমেই নিশ্চিত হবে ঢাকা চট্টগ্রাম মহাসড়কে স্বস্তির যাত্রা।
বগুড়ার আদমদীঘিতে পরিবেশবিধি লঙ্ঘনের অভিযোগে চারটি ইটভাটাকে মোট ৯ লাখ টাকা জরিমানা করা হয়েছে। গত বুধবার (১১ মার্চ) দুপুরে ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে এ জরিমানা করেন উপজেলা নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ও উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) মাহমুদা সুলতানা।
ভ্রাম্যমাণ আদালত সূত্রে জানা যায়, পরিবেশ অধিদপ্তরের অনুমোদন ও প্রয়োজনীয় ছাড়পত্র ছাড়া ইটভাটা পরিচালনার অভিযোগে এসব প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে অভিযান পরিচালনা করা হয়। অভিযানে মেসার্স ডিজিএম ব্রিকসকে ৩ লাখ টাকা, মেসার্স ডলার ব্রিকসকে ২ লাখ টাকা, মেসার্স আরোয়া ব্রিকসকে ২ লাখ টাকা এবং মেসার্স এন অ্যান্ড এস ব্রিকসকে ২ লাখ টাকা জরিমানা করা হয়। এ সময় সংশ্লিষ্ট ইটভাটা মালিকদের দ্রুত পরিবেশ অধিদপ্তরের প্রয়োজনীয় ছাড়পত্র গ্রহণের নির্দেশ দেওয়া হয়। পরিবেশ রক্ষা এবং অবৈধ ইটভাটা নিয়ন্ত্রণে এ ধরনের অভিযান ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে বলে জানিয়েছে প্রশাসন। অভিযানের সময় জেলা পরিবেশ অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক মাহথীর বিন মোহাম্মদ উপস্থিত ছিলেন।
উল্লেখ্য, বগুড়া জেলার আদমদীঘি উপজেলার সান্তাহার–তিলোকপুর আঞ্চলিক সড়কের পাশে দীর্ঘ কয়েক বছর ধরে প্রকাশ্যে পরিবেশ আইন লঙ্ঘন করে অবৈধভাবে পরিচালিত হচ্ছে আরোয়া, বাবলু ও ডিজিএমসহ পাঁচটি ইটভাটা। সম্পূর্ণ গ্রামীণ পরিবেশ ও ফসলি জমির একেবারে সন্নিকটে এসব ভাটা স্থাপন ও পরিচালনা করা হয়েছে।
জেলা পরিবেশ অধিদপ্তর সূত্রে নিশ্চিত হওয়া গেছে, সংশ্লিষ্ট ইটভাটাগুলোর কোনো বৈধ অনুমোদন, লাইসেন্স কিংবা পরিবেশগত ছাড়পত্র নেই। অর্থাৎ পরিবেশ সংরক্ষণ আইনকে প্রকাশ্যে উপেক্ষা করেই চলছে এসব ভাটার কার্যক্রম। ইটভাটা থেকে নির্গত ঘন ও বিষাক্ত ধোঁয়ায় মারাত্মকভাবে বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে আশপাশের পরিবেশ। শুধু তাই নয় ধোঁয়ার কারণে পথচারীদের চোখে তীব্র জ্বালা-পোড়া, শ্বাসকষ্টসহ নানা জটিল রোগ দেখা দিচ্ছে। বিশেষ করে শিশু ও বয়স্করা সবচেয়ে বেশি ঝুঁকির মধ্যে রয়েছেন। ফলে এলাকাবাসীর স্বাভাবিক জীবনযাত্রা কার্যত জিম্মি হয়ে পড়েছে। এ সংক্রান্ত অভিযোগের ভিত্তিতে গত ৯ ফেব্রুয়ারি বিভিন্ন জাতীয়, আঞ্চলিক ও অনলাইন গণমাধ্যমে সংবাদ প্রকাশিত হয়। সংবাদ প্রকাশের ১ মাস পর বুধবার প্রশাসনের উদ্যোগে ওইসব ইটভাটায় অভিযান পরিচালনা করা হয়। অভিযানে অবৈধভাবে পরিচালিত ভাটাগুলোকে জরিমানা করা হয় এবং ভবিষ্যতে আইন মেনে চলার জন্য কঠোরভাবে সতর্ক করা হয়েছে।
বরগুনার আমতলী উপজেলার গাজীপুর বন্দরের বাঁধঘাট এলাকায় আগুনে পুড়ে ৭টি দোকান ছাই হয়ে গেছে। এতে প্রায় ২০ লাখ টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে বলে জানা গেছে। বুধবার (১১ মার্চ) সন্ধ্যায় এ ঘটনা ঘটে। ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসায়ীরা শেষ সম্বল হারিয়ে দিশেহারা হয়ে পড়েছেন। ক্ষতি পুষিয়ে নিতে তারা সরকারি আর্থিক সহায়তা দাবি করেছেন।
জানা গেছে, বুধবার (১১ মার্চ) সন্ধ্যায় গাজীপুর বন্দরের বাঁধঘাট এলাকায় একটি চায়ের দোকান থেকে আগুনের সূত্রপাত হয়। মুহূর্তের মধ্যে আগুন আশপাশের দোকানে ছড়িয়ে পড়ে। খবর পেয়ে আমতলী ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা ঘটনাস্থলে পৌঁছে স্থানীয়দের সহায়তায় প্রায় এক ঘণ্টা চেষ্টা চালিয়ে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনেন। এ ঘটনায় হাসান, দুলাল, আমির, আব্দুর রাজ্জাক, হালিম ও হানিফের দোকানসহ মোট ৭টি দোকান পুড়ে ছাই হয়ে যায় এবং আরও চারটি দোকান আংশিক ক্ষতিগ্রস্ত হয়। এতে অন্তত ২০ লাখ টাকার ক্ষতি হয়েছে বলে ক্ষতিগ্রস্তরা জানিয়েছেন।
প্রত্যক্ষদর্শী নুরুজ্জামান মিয়া বলেন, চায়ের দোকান থেকে আগুনের সূত্রপাত হয়। মুহূর্তের মধ্যে আগুন চারদিকে ছড়িয়ে পড়ে। পরে ফায়ার সার্ভিস ও স্থানীয় লোকজন মিলে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে। ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসায়ীরা এই দোকানের আয়ের ওপর নির্ভর করে সংসার চালাতেন। এখন তারা নিঃস্ব হয়ে পড়েছেন।
ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসায়ী ফোরকান বলেন, মোর আর কিছুই রইল না। মুই এহন কেমনে সংসার চালামু, হেইডা কইতে পারি না। আল্লায় মোর এমন ক্ষতি ক্যান করল।
আমতলী ফায়ার সার্ভিসের ওয়্যারহাউস ইন্সপেক্টর মো. হানিফ মিয়া বলেন, খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে গিয়ে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনা হয়েছে। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে বৈদ্যুতিক শর্ট সার্কিট থেকে আগুনের সূত্রপাত হয়েছে।
আমতলী থানার ওসি মোহাম্মদ জাহাঙ্গীর হোসেন বলেন, পুলিশ ফায়ার সার্ভিস ও স্থানীয়দের সঙ্গে আগুন নেভাতে সহায়তা করেছে।
আমতলী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মুহাম্মদ জাফর আরিফ চৌধুরী বলেন, ক্ষতিগ্রস্তদের তালিকা প্রস্তুত করা হয়েছে। তারা আবেদন করলে সরকারি সহায়তা দেওয়া হবে।
বরগুনা-১ আসনের সংসদ সদস্য মাহমুদুল হোসাইন অলী উল্লাহ বলেন, ঢাকায় থাকায় ঘটনাস্থলে যেতে পারিনি। ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসায়ীদের সহায়তা করা হবে।