বৃহস্পতিবার, ২ এপ্রিল ২০২৬
১৯ চৈত্র ১৪৩২

পদ্মা সেতুর হাওয়ায় বদলে গেছে মোংলা বন্দর

মোংলা বন্দর কর্তৃপক্ষ। ছবি: দৈনিক বাংলা
আবু হোসাইন সুমন, মোংলা (বাগেরহাট)
প্রকাশিত
আবু হোসাইন সুমন, মোংলা (বাগেরহাট)
প্রকাশিত : ২৫ জুন, ২০২৩ ১৩:৪৫

পদ্মা সেতু যেন আশীর্বাদ হয়ে উঠেছে দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের জন্য। এ সেতু চালু হওয়ার পর থেকে মোংলা সমুদ্র বন্দরসহ আশপাশ এলাকাজুড়ে নতুন করে শুরু হয়েছে উন্নয়নের এক মহাযজ্ঞ। এতে সেতুর ওপর যেমন বেড়েছে যান চলাচল, তেমনি এ বন্দরে বেড়েছে কর্মব্যস্ততাও। গতি এসেছে দেশের দ্বিতীয় বৃহত্তম সমুদ্রবন্দর মোংলার আমদানি-রপ্তানি কার্যক্রমে। সেতুর সুফলে এ বন্দর হয়ে পোশাকপণ্য যাচ্ছে ইউরোপসহ বিভিন্ন দেশে। এছাড়া বন্দরের আশপাশে এরই মধ্যে গড়ে উঠেছে নতুন নতুন শিল্প কারখানা। এতে মোংলা বন্দর ঘিরে খুলে গেছে সম্ভাবনার নতুন দিগন্ত।

চাপ সামলাতে মোংলা বন্দরের সক্ষমতা বাড়ানোর উদ্যোগ নিয়েছে কর্তৃপক্ষ। এর অংশ হিসেবে বন্দর ব্যবহারকারীদের জরুরি বার্তা সেবা বা ভেসেল ট্রাফিক ম্যানেজমেন্ট ইনফরমেশন সিস্টেমের উন্নয়ন, সারফেস ওয়াটার ট্রিটমেন্ট প্লান্ট স্থাপন, কন্টেইনার ইয়ার্ড সংস্কার, চ্যানেলের ২৩ কিলোমিটার ড্রেজিং ও বর্জ্য ব্যবস্থাপনা আধুনিকায়নসহ নানা ধরনের অবকাঠামোগত উন্নয়ন এগিয়ে চলছে।

গত বছরের ২৫ জুন ৬ দশমিক ১৫ কিলোমিটার দৈর্ঘ্যের পদ্মা সেতুর উদ্বোধন হয়। এরপর এ সেতু দিয়ে যান চলাচল শুরু হয় ২৬ জুন। সেতুটি চালুর মধ্য দিয়ে দেশের অর্থনীতিতে সূচনা হয় নতুন এক অধ্যায়ের। বিশেষ করে দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের জেলাগুলোতে খুলে যায় অর্থনীতির নতুন দুয়ার। পাল্টে যায় এই অঞ্চলের মানুষের জীবনমানও।

মোংলা বন্দর কর্তৃপক্ষের উপ-সচিব (বোর্ড ও জনসংযোগ বিভাগ) মো. মাকরুজ্জামান জানান, প্রতিবেশী ভারত, নেপাল ও ভুটানকে মোংলা বন্দর ব্যবহারের সুযোগ দেয়ায় দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার বৃহৎ বাণিজ্যিক কেন্দ্রে পরিণত হতে যাচ্ছে এ বন্দর। এছাড়া এশিয়া, ইউরোপ, মধ্যপ্রাচ্য, অস্ট্রেলিয়া ও যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বাণিজ্যিক সম্পর্ক জোরদার হয়েছে। পদ্মা সেতু চালুর পর থেকে মোংলা বন্দর দিয়ে পোশাকপণ্য রপ্তানিও শুরু হয়েছে। আগে স্বল্প পরিসরে পোশাকপণ্য রপ্তানি হলেও সেতু চালুর পর থেকে তার পরিমাণ অনেক বেড়ে গেছে।

তিনি বলেন, সেতুর চালুর পর মোংলা বন্দর থেকে প্রথম পোশাকপণ্য রপ্তানি হয় ইউরোপের দেশ পোল্যান্ডে। এরপর ৭ জুলাই দ্বিতীয় চালান, চলতি বছরের ৫ মে তৃতীয় চালান, ৬ জুন চতুর্থ চালানের পোশাকপণ্য রপ্তানি হয়েছে। এছাড়া ডেনমার্ক ও গ্রেট ব্রিটেনেও পোশাকপণ্য গেছে সেতু চালুর পর।

মোংলা বন্দর কর্তৃপক্ষের প্রধান পরিকল্পনা কর্মকর্তা মো. জহিরুল হক বলেন, পদ্মা সেতুকে ঘিরে মোংলা বন্দরের আধুনিকায়নের জন্য আরও নতুন নতুন অনেক প্রকল্প বাস্তবায়নের পরিকল্পনা নেয়া হয়েছে। এসব প্রকল্প বাস্তবায়নের কাজ দ্রুত এগিয়ে চলছে। বন্দরের ড্রেজিং ব্যবস্থা উন্নয়নে ৭৯৪ কোটি টাকা ব্যয়ে একটি প্রকল্প বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। এ প্রকল্পের আওতায় পশুর চ্যানেলের জয়মনিরঘোল থেকে বন্দর জেটি পর্যন্ত ২৩ কিলোমিটার ড্রেজিং করা হচ্ছে। চ্যানেলটির ড্রেজিংয়ের কাজ শেষ হলে ৯ দশমিক ৫০ মিটার থেকে ১০ মিটার গভীরতার কন্টেইনারবাহী জাহাজ সরাসরি জেটিতে ভিড়তে পারবে।

তিনি আরও বলেন, বন্দরের কন্টেইনার রাখার স্থান বাড়াতে প্রায় ১৪ কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত হচ্ছে কন্টেইনার ইয়ার্ড, যার ধারণক্ষমতা হবে এক হাজার ৫০টি কন্টেইনার। এছাড়া মোংলা বন্দরে আসা বিদেশি জাহাজে ও বন্দর শিল্পাঞ্চলের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের সুপেয় পানির চাহিদা মেটাতে ২৫ কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মাণ করা হয়েছে সারফেস ওয়াটার ট্রিটমেন্ট প্ল্যান্ট। পাশাপাশি বন্দর ব্যবহারকারীদের জন্য জরুরি বার্তা সেবা কার্যক্রমের উন্নয়ন করা হচ্ছে। এর মাধ্যমে বন্দর চ্যানেলে প্রবেশ করা প্রতিটি জাহাজ তদারকির পাশাপাশি গতিবিধি পর্যবেক্ষণ করা সহজ হবে।

বন্দরের এ কর্মকর্তা বলেন, ৪৩০ কোটি টাকা ব্যয়ে মোংলা বন্দরের বর্জ্য ব্যবস্থাপনা প্রকল্পের কাজও এগিয়ে চলছে। এ প্রকল্প বাস্তবায়িত হলে বন্দরে চলাচলকারী বিভিন্ন বাল্ক, কন্টেইনার, ট্যাংকার ও অন্যান্য জলযান থেকে নিঃসৃত তেল ও পেট্রোলিয়াম বর্জ্যসহ অন্যান্য আর্বজনা সংগ্রহ করা সহজ হবে এবং একই সঙ্গে পশুর চ্যানেল ও বন্দরের আশপাশের নদ-নদীতে বিভিন্ন জাহাজ থেকে নিঃসৃত তেল অপসারণ করাও সহজ হবে। এর ফলে মোংলা বন্দর এলাকায় সামুদ্রিক দূষণ কমানোসহ বন্দর ও চ্যানেল এলাকার পরিবেশের সুরক্ষা নিশ্চিত হবে।

মোংলা বন্দরে আসা বিলাসবহুল গাড়ি। ছবি: দৈনিক বাংলা

মোংলা বন্দর কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান রিয়ার অ্যাডমিরাল মীর এরশাদ আলী বলেন, পদ্মা সেতুকে কেন্দ্র করে মোংলা বন্দরের উন্নয়নে বেশ কিছু প্রকল্প বাস্তবায়নের উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। এরই মধ্যে বন্দর উন্নয়নে ছয় হাজার ২৫৬ কোটি টাকার প্রকল্প হাতে নেয়া হয়েছে।

তিনি বলেন, আলোচ্য প্রকল্পের আওতায় ১২টি কম্পোনেন্ট থাকবে। এগুলো হচ্ছে বন্দর জেটিতে ১ ও ২ নম্বর কন্টেইনার টার্মিনাল নির্মাণ, কন্টেইনার হ্যান্ডেলিং ইয়ার্ড নির্মাণ, কন্টেইনার ডেলিভারি ইয়ার্ড নির্মাণ, ইয়ার্ড শেড, নিরাপত্তা দেয়াল, অটোমেশন ও অন্যান্য অবকাঠামোসহ বন্দরের সংরক্ষিত এলাকা সম্প্রসারণ, সার্ভিস ভেসেল জেটি শেড ও অফিস নির্মাণ, বন্দর ভবন (প্রশাসনিক) সম্প্রসারণ, এমপিএ টাওয়ার, পোর্ট রেসিডেনশিয়াল কমপ্লেক্স কমিউনিটি সুবিধাদি নির্মাণ, ইকুইপমেন্ট ইয়ার্ড, ইকুইপমেন্ট শেড ও প্রয়োজনীয় যন্ত্রপাতিসহ একটি পুল নির্মাণ, সিগনাল রেড ক্রসিং ও ওভারপাস নির্মাণ, বিনোদন ব্যবস্থাসহ বাঁধ নির্মাণ এবং পাঁচটি হারবার ক্রাফট ক্রয়।

বন্দর কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান আরও বলেন, পদ্মা সেতু চালু হওয়ায় সময় সাশ্রয় ও যোগাযোগ ব্যবস্থা সহজ হয়েছে। এতে ব্যবসায়ীরা এখন মোংলা বন্দর ব্যবহারে অনেক বেশি আগ্রহ দেখাচ্ছেন। বর্তমানে মোংলা বন্দরের নিজস্ব জমিতে ১১টি এলপিজি কারখানা, পাঁচটি সিমেন্ট কারখানাসহ আরও ১০ টি শিল্প কলকারখানা রয়েছে। এছাড়া বন্দর এলাকায় ২৫৮ একর জমিতে বাংলাদেশ অর্থনৈতিক অঞ্চল (বেপজা) প্রতিষ্ঠিত রয়েছে। এসব শিল্প কারখানার কাঁচামাল মোংলা বন্দরের মাধ্যমে পরিবাহিত হয়ে আসছে। ফলে বাণিজ্যিক স্বার্থেই বন্দরের সক্ষমতা বাড়ানোর বিষয়টি সরকারের কাছে অগ্রাধিকার পাচ্ছে।

বন্দরের সুবিধাদি বাড়াতে ১০টি প্রকল্প বাস্তবায়িত হচ্ছে উল্লেখ করে মীর এরশাদ আলী বলেন, পদ্মা সেতু চালুর পর থেকে মোংলা-খুলনা রেললাইন, রেলসেতু ও রামপাল তাপ বিদ্যুৎ কেন্দ্রের দ্বিতীয় ইউনিটের নির্মাণ কাজও দ্রুতগতিতে এগিয়ে যাওয়ায় মোংলা বন্দরকেন্দ্রিক দেশের শিল্প-বাণিজ্যের অপার সম্ভাবনার নতুন দিগন্ত সূচিত হয়েছে। ইতোমধ্যে এ বন্দরকে কেন্দ্র করে গড়ে উঠতে শুরু করেছে নতুন নতুন শিল্প-কলকারখানা। দেশি-বিদেশি বিনিয়োগকারীদের আগ্রহ বেড়েছে মোংলা বন্দরের প্রতি। এতে কর্মচঞ্চল হয়ে উঠেছে গোটা বন্দর এলাকা।

মোংলা বন্দর উপদেষ্টা কমিটির সদস্য ও খুলনা সিটি করপোরেশনের মেয়র তালুকদার আব্দুল খালেক বলেন, মোংলা বন্দরকে ঘিরে বর্তমান সরকারের ব্যাপক উন্নয়ন পরিকল্পনা রয়েছে। পদ্মা সেতু থেকে মোংলা বন্দর পর্যন্ত ছয় লেনবিশিষ্ট সড়ক ও রেল যোগাযোগ স্থাপন, মোংলা ইপিজেড সম্প্রসারণ, স্পেশাল ইকোনমি জোন স্থাপন, রূপসা নদী ও মোংলা-ঘাষিয়াখালী চ্যানেলের নাব্যতা বাড়ানোর উদ্যোগ নেয়া হয়েছে।

তিনি বলেন, বিগত জোট সরকার এ বন্দরকে ধ্বংস করতে কোনো উন্নয়ন করেনি। জোট সরকার দুর্নীতি করে এ বন্দরকে শেষ করে দিয়েছিল। ওই সময় বন্দরে কোনো জাহাজ আসতো না। মোংলা মৃত বন্দরে পরিণত হয়েছিল। সেখান থেকে বর্তমান সরকার এ বন্দরকে টেনে তুলেছে। বন্দরকে ঘিরে এখন চারিদিকে শুধু উন্নয়নের ছোঁয়া।

মোংলা বন্দর ব্যবহারকারী ও মোংলা বন্দর বার্থ শিপ অপারেটর অ্যাসোসিয়েশন উপদেষ্টা মো. মোস্তাক আহম্মেদ মিঠু, সদস্য এইচ এম দুলাল, জিসান রহমান ভুট্টো, মো. মসিউর রহমান বলেন, পদ্মা সেতু এ অঞ্চলের ব্যবসায়ীদের জন্য আশীর্বাদ হয়ে উঠেছে। সেতু চালু হওয়ায় ঢাকা থেকে মোংলা বন্দরের দূরত্ব এখন ১৭০ কিলোমিটার। যেখানে ঢাকা থেকে চট্টগ্রাম বন্দরের দূরত্ব ২৬০ কিলোমিটার। এক্ষেত্রে সময় ও অর্থের সাশ্রয় হচ্ছে। এছাড়া মোংলা বন্দরে জাহাজ হ্যান্ডেলিং দ্রুত ও নিরাপদ হওয়ায় বিদেশি ব্যবসায়ীরাও এ বন্দর ব্যবহারে আগ্রহী হচ্ছেন।


ডোবায় শাবকের মরদেহ, তিন দিন পাশে দাঁড়িয়ে শোকাতুর হাতি দম্পতি

ডোবায় পড়ে থাকা শাবকের লাশের পাশে হাতি দম্পতি। বান্দরবানের নাইক্ষ্যংছড়ির সোনাইছড়ি ইউনিয়নের বটতলা মুসলিমপাড়া থেকে তোলা। ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
বান্দরবান প্রতিনিধি  

ঘোলা জলের একটা অগভীর ডোবা। সেখানে একটি হাতির শাবকের মরদেহ পড়ে আছে। মরদেহের বেশির ভাগ অংশই পানিতে ডুবে আছে। তার পাশেই ডোবার জলে অর্ধেক শরীর ডুবিয়ে দাঁড়িয়ে আছে মা হাতি। মা হাতির অল্প দূরে ডোবার কিনারে ঠায় দাঁড়িয়ে একটি পুরুষ হাতিও। তিন দিন ধরেই হাতি দম্পতি মৃত শাবকের জন্য এভাবে শোক জানাচ্ছে। দূরে দাঁড়িয়ে এই দৃশ্য দেখে অশ্রুসিক্ত হয়েছেন এলাকার সাধারণ মানুষ আর বন বিভাগের কর্মকর্তারা।

বান্দরবানের নাইক্ষ্যংছড়ি উপজেলার সোনাইছড়ি ইউনিয়নের বটতলা মুসলিমপাড়া এলাকায় এ ঘটনা ঘটেছে। গত মঙ্গলবার (৩১ মার্চ) থেকে এলাকার একটি টিলার পাদদেশের ডোবার মধ্যে হাতি দম্পতিকে এভাবে দাঁড়িয়ে থাকতে দেখছেন এলাকাবাসী। মৃত শাবকের পাশ থেকে নড়ছে না হাতি দুটি। পুরুষ হাতিটি রাতে খাবার খেতে জঙ্গলে ঢুকছে। ফিরে আসছে আবার। এরপর মা হাতিও খাবার খেয়ে সন্তানের পাশে এসে অপেক্ষা করছে। মঙ্গলবার থেকে তিন দিন ধরে একটিবারও হাতির দম্পতি মৃত শাবকটিকে একা রেখে যায়নি বলে জানিয়েছেন বন বিভাগের কর্মকর্তারা।

নাইক্ষ্যংছড়ি উপজেলা সদর থেকে প্রায় ২০ কিলোমিটার দূরে নাইক্ষ্যংছড়ি-ঘুমধুম সড়কে বটতলা মুসলিমপাড়ার অবস্থান। এলাকাটির অবস্থান বান্দরবানে হলেও এখানকার বনাঞ্চলটি কক্সবাজার দক্ষিণ বন বিভাগের রাজারকুল রেঞ্জের অধীনে।

তিন দিন ধরে বন বিভাগের কর্মকর্তারা হাতি দম্পতির বিষয়টিতে নজর রাখছেন। নাইক্ষ্যংছড়ি রেঞ্জ কর্মকর্তা মোজাম্মেল হক গতকাল বৃহস্পতিবার বলেন, আপাতত হাতি দম্পতিকে বিরক্ত করা হবে না। তারা শোকে কাতর। শোকের ধকল না কমা পর্যন্ত কিছুই করা যাবে না।

সোনাইছড়ি ইউনিয়নের ৪ নম্বর ওয়ার্ডের সদস্য মিলন তঞ্চঙ্গ্যা বলেন, মঙ্গলবার বিকেল থেকে হঠাৎ হাতি দম্পতির এই করুণ দশা দেখতে পাই। হাতির শাবকটি অসুস্থ হয়ে মায়ের দুধ পান করতে না পেরে মারা গেছে বলে এলাকাবাসীর ধারণা।

কক্সবাজার দক্ষিণ বন বিভাগের সহকারী বন সংরক্ষক মনিরুল ইসলাম জানান, নাইক্ষ্যংছড়ির সোনাইছড়ি হয়ে মিয়ানমারে চলাচলের হাতির একটি রুট আছে। ওই রুটে মিয়ানমার থেকে আসার অথবা এদিক থেকে যাওয়ার সময় হাতির শাবকটি টিলা থেকে ডোবায় পড়ে মারা গেছে ধারণা করা হচ্ছে। বাচ্চাটির বয়স ছয়-সাত মাস হতে পারে। শোকাহত হাতির দম্পতির পাশে বন বিভাগের লোকজন সার্বক্ষণিকভাবে পর্যবেক্ষণে রয়েছেন। শোকে কাতর মা হাতিটি কোনোমতে বাচ্চার মরদেহ ছেড়ে যেতে চাইছে না। তাড়িয়ে দেওয়াও যাচ্ছে না। মানসিক অভিঘাত কাটিয়ে চলে গেলে শাবকের মরদেহ উদ্ধার করা হবে। অসুস্থ হয়ে নাকি পাহাড় থেকে পড়ে শাবকের মৃত্যু তা হয়েছে, ময়নাতদন্তের মাধ্যমে জানার চেষ্টা করা হবে।


মাকে হত্যার মামলায় ১০ মাস পালিয়ে থেকে গ্রেপ্তার ছেলে ও পুত্রবধূ

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক, চট্টগ্রাম

চট্টগ্রামের বাঁশখালীতে এক নারীকে গলা কেটে হত্যা মামলায় দুই আসামিকে গ্রেপ্তার করেছে র‌্যাব। গত বুধবার (১ এপ্রিল) সন্ধ্যায় কক্সবাজারের চকরিয়া উপজেলার লক্ষ্যারচর ইউনিয়ন থেকে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়। গ্রেপ্তার দুজনের একজন ওই নারীর ছেলে, আরেকজন পুত্রবধূ। এরা হলেন বাঁশখালী উপজেলার পূর্ব বৈলছড়ি এলাকার মোজাফফর আহমেদের ছেলে মো. কাশেম (২৮) ও তার স্ত্রী নারগিছ আক্তার(২৫। নিহত রেহেনা বেগম (৬২) কাশেমের মা।

র‍্যাব জানায়, রেহেনা বেগম বড় ছেলে প্রবাসী মো. বেলাল, ছোট ছেলে কাশেম ও তার স্ত্রীর সঙ্গে বসবাস করতেন। প্রবাসী ছেলে বেলাল মায়ের চিকিৎসা ও ওষুধের জন্য স্ত্রীর মাধ্যমে কাশেমের কাছে টাকা পাঠাতেন। তবে কাশেম সেই টাকা মায়ের কাছে না দিয়ে নিজেই রেখে দিতেন। এ নিয়ে প্রায়ই তাদের মধ্যে পারিবারিক বিরোধ লেগে থাকত।

এর জেরে গত বছরের ৫ জুন কাশেম ও তার স্ত্রী নারগিছ মিলে রেহেনা বেগমকে গলা কেটে হত্যা করেন। ঘটনার পর থেকে তারা আত্মগোপনে ছিলেন। এ ঘটনায় নিহত রেহেনার ভাই মো. মোক্তার আহমদ বাঁশখালী থানায় মামলা করেন। পরে র‌্যাবের একটি দল অভিযান চালিয়ে চকরিয়া থেকে তাদের গ্রেপ্তার করে।

র‌্যাব-৭–এর সহকারী পরিচালক (গণমাধ্যম) এ আর এম মোজাফ্ফর হোসেন বলেন, গ্রেপ্তার দুজনকে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা নিতে বাঁশখালী থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে।


নেত্রকোনায় দুর্যোগপূর্ণ পরিস্থিতিতে ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের পাশে ডেপুটি স্পিকার

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নেত্রকোনা প্রতিনিধি

নেত্রকোনার হাওর অঞ্চলে তলিয়ে যাচ্ছে কৃষকের স্বপ্নের ফসল আকস্মিক পাহাড়ি ঢল ও বন্যায় । বাংলাদেশ জাতীয় সংসদের নবনিযুক্ত ডেপুটি স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামাল এমন দুর্যোগপূর্ণ পরিস্থিতিতে কৃষকদের পাশে দাঁড়িয়েছেন । বৃহস্পতিবার (২ এপ্রিল) বিকেলে নেত্রকোনার কলমাকান্দা উপজেলার বড়খাপন ইউনিয়নের কাউয়ার বাড়ি খাল ও তৎসংলগ্ন প্লাবিত এলাকা আকস্মিক পরিদর্শনকালে তিনি এসব কথা বলেন।

তিনি ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের প্রতি গভীর সমবেদনা জানিয়েছেন এবং হাওর অঞ্চলের পানিবদ্ধতা নিরসনে বিগত সরকারের অনিয়ম ও দুর্নীতিকে দায়ী করেছেন। পরিদর্শনকালে অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন, কলমাকান্দা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) এস এম মিকাইল ইসলাম, সহকারি কমিশনার (ভূমি) মাহমুদুল হাসান, কলমাকান্দা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. সিদ্দিক হোসেন, ডেপুটি স্পিকারের একান্ত সচিব সাইফুল ইসলাম, উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মো. সাইদুর রহমান ভূইয়া, বড়খাপন ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো. শফিকুল ইসলাম শফিক, কলমাকান্দা প্রেসক্লাব সভাপতি শেখ শামীমসহ স্থানীয় প্রশাসন ও বিএনপি এবং এর অঙ্গ সংগঠনের বিপুল সংখ্যক নেতাকর্মী। এসময় সাধারণ কৃষকরা তাদের দুর্দশার কথা ডেপুটি স্পিকারের কাছে তুলে ধরেন।

ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের উদ্দেশ্যে ব্যারিস্টার কায়সার কামাল বলেন, “এখানকার জনবসতির একমাত্র উপার্জন হচ্ছে কৃষি। হঠাৎ পানিতে তলিয়ে যাচ্ছে তাদের জমির ফসল। কেউ হয়তো কিছু ফসল পাবে, কেউ পাবে না- এটি অত্যন্ত দুঃখজনক। আমরা নতুন দায়িত্ব নিয়েছি। আপাতত প্রশাসনের পক্ষ থেকে বাঁধের ব্যবস্থা করা হয়েছে এবং কৃষকদের জন্য অনুদান দেওয়া হয়েছে। আমি নিজেও একজন কৃষকের সন্তান। কৃষকের সুবিধার্থে এবং তাদের উৎপাদিত ফসল যেন ঘরে তুলতে পারে, তার জন্য যা করণীয় আমরা তা করবো ইনশাআল্লাহ।”হাওরের করুণ এই অবস্থার জন্য পূর্ববর্তী সরকারের অব্যবস্থাপনাকে কঠোরভাবে সমালোচনা করেন ডেপুটি স্পিকার।

তিনি ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “গত ১৫-২৫ বছর ধরে এ অঞ্চলে কোনো নদী বা খাল খনন হয়নি। উল্টো বিভিন্ন জায়গায় বাঁধ দিয়ে বিগত সরকারের দলীয় নেতাকর্মীরা মাছ চাষ করে অর্থ উপার্জন করেছে। নদীর সাথে খালের সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে ফেলা হয়েছিল। আমরা নতুন বাংলাদেশে এমন অনিয়মের ন্যায়বিচার চাই।”

তিনি আরও জানান, বর্তমান সরকার সারা বাংলাদেশেই খাল ও নদী খননের বৃহৎ প্রকল্প হাতে নিয়েছে। এই প্রকল্পের আওতায় হাওর অঞ্চলের খালগুলোও খনন করা হবে বলে তিনি কৃষকদের আশ্বস্ত করেন। নেত্রকোনার হাওর অঞ্চলের ৪২ হাজার হেক্টর জমির ফসল বর্তমানে ঝুঁকির মুখে রয়েছে উল্লেখ করে ব্যারিস্টার কায়সার কামাল পানি সম্পদ মন্ত্রণালয়ের জরুরি দৃষ্টি আকর্ষণ করেন।

তিনি বলেন, “পানি উন্নয়ন বোর্ডের অনেক গাফিলতি ও স্বজনপ্রীতি রয়েছে। আমি এখান থেকেই পানি সম্পদ মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বপ্রাপ্ত মন্ত্রী, সচিব এবং সংশ্লিষ্ট ইঞ্জিনিয়ারদের প্রতি আহ্বান জানাচ্ছি, তারা যেন অনতিবিলম্বে হাওর অঞ্চলে এসে কৃষকদের সাথে কথা বলে কার্যকর ও স্থায়ী পদক্ষেপ গ্রহণ করেন। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী ও সরকার যে নতুন বাংলাদেশের স্বপ্ন দেখাচ্ছেন, সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়গুলো একটু সক্রিয় হলেই আমরা সেই দিকে এগিয়ে যেতে পারবো।”


চিকিৎসা সহায়তা না পেয়ে অন্তঃসত্ত্বা চা শ্রমিকের মৃত্যু: কমলগঞ্জে চা বাগানে কর্মবিরতি

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
কমলগঞ্জ (মৌলভীবাজার) প্রতিনিধি

মৌলভীবাজারের কমলগঞ্জ উপজেলার রহিমপুর ইউনিয়নের দেওড়াছড়া চা বাগানে অন্তঃসত্ত্বা এক নারী শ্রমিকের মৃত্যুকে কেন্দ্র করে উত্তেজনা বিরাজ করছে। চিকিৎসা সহায়তা না পাওয়ার অভিযোগ তুলে বৃহস্পতিবার (২ এপ্রিল) সকাল থেকে বাগানের শ্রমিকরা কর্মবিরতি পালন করে বিক্ষোভ করেন।

নিহত রিয়া বেগম (২২) দেওড়াছড়া চা বাগানের স্থায়ী শ্রমিক ছাব্বির মিয়ার স্ত্রী। শ্রমিকদের অভিযোগ, অন্তঃসত্ত্বা অবস্থায় অসুস্থ হয়ে পড়লে রিয়ার পরিবারের পক্ষ থেকে বাগান ব্যবস্থাপকের কাছে চিকিৎসা সহায়তা চাওয়া হয়। কিন্তু কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে কোনো সহযোগিতা পাওয়া যায়নি। পরবর্তীতে দীর্ঘ চিকিৎসার পর বুধবার (১ এপ্রিল) মধ্যরাতে সিলেটের একটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়।

এ ঘটনায় ক্ষোভে ফেটে পড়েন বাগানের শ্রমিকরা। তারা দাবি করেন, অর্থের অভাবে ও সময়মতো চিকিৎসা না পাওয়ায় রিয়া বেগমের মৃত্যু হয়েছে। এ দায় এড়াতে পারে না বাগান কর্তৃপক্ষ। এর প্রতিবাদে শ্রমিকরা কর্মবিরতি পালন করে বাগান ব্যবস্থাপকের পদত্যাগ দাবি করেন।

বিক্ষোভে উপস্থিত ছিলেন বাগান পঞ্চায়েত কমিটির সভাপতি সুবোধ কুর্মি, নাজির আহমদ, সঞ্জয় কানু, পলাশ কর্মকার, ছালু মিয়া, লক্ষী নারায়ন, ইব্রাহিম মিয়া, সুভাষ ভৌমিজ, বাবুলাল ভৌমিজ, অজয় ভৌমিক, সেলিম মিয়া, জসিম মিয়া, বায়না মিয়া, শুকুর মিয়াসহ অনেকে।

কর্মবিরতির খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে যান কমলগঞ্জ থানার এসআই আমির হোসেন, বাংলাদেশ চা শ্রমিক ইউনিয়নের মনু-দলই ভ্যালির সভাপতি ধনা বাউরী এবং রহিমপুর ইউনিয়নের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান সিতাংশু কর্মকার।

ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান সিতাংশু কর্মকার বলেন, ‘ঘটনার সত্যতা পাওয়া গেছে। বিষয়টি নিয়ে সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে আলোচনা চলছে। আলোচনা শেষে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে শ্রমিকরা কাজে ফিরবেন, নাকি আন্দোলন অব্যাহত রাখবেন।’

এ বিষয়ে দেওড়াছড়া চা বাগানের ভারপ্রাপ্ত ব্যবস্থাপক জহিরুল হকের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।


বান্দরবানে কাজ না করেই প্রকল্পের টাকা লুটপাটের অভিযোগ পিআইও―র বিরুদ্ধে

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
বান্দরবান প্রতিনিধি

বান্দরবানের আলীকদমে কাজ না করেই টিআর, কাবিখা ও কাবিটাসহ বিভিন্ন প্রকল্পের টাকা আত্নসাতের অভিযোগ উঠেছে প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা নজরুল ইসলামের বিরুদ্ধে।

স্থানীয় সুত্রে জানা যায়, ১নম্বর আলীকদম সদর ইউনিয়নের কলার ঝিরি পাকা রাস্তা থেকে চৈক্ষ্যং খালমুখী সড়ক সংস্কার নামে একটি প্রকল্পের অনুকুলে ১০.২৫ মেট্রিক টন খাদ্যশস্য বরাদ্দ দেখানো হয়।যা

অনেক আগেই কাঠ ব্যবসায়ীদের প্রয়োজনে নিজেদের টাকায় সংস্কার করা হয়েছিল। অপরদিকে ২ নম্বর চৈক্ষ্যং ইউপির ১৫ কিলো এলাকায় বরই গাছ থেকে তুলা পাড়া পর্যন্ত রাস্তা সংস্কার প্রকল্পেও পুরাতন রাস্তাকে নতুন প্রকল্পের আওতায় দেখানো হয়েছে। যা বাস্তবে করেননি। বরং এরুপ একাধিক সড়ককে নতুন প্রকল্পের আওতায় দেখিয়ে কাজ না করেই সরকারি টাকা আত্নসাৎ করেছেন তিনি।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক ইউপি সদস্য জানান, ইউনিয়ন পর্যায়ে সরকারি কাজের প্রতিটি বিল উত্তোলনের সময় ১০ থেকে ১৫ শতাংশ কমিশন দিতে হয় তাকে। কমিশন না দিলে বিল হয়রানির শিকার হতে হয়।

এমনকি এক নারী ইউপি সদস্যকে প্রকল্পের সভাপতি বানিয়ে ওই প্রকল্পের কাজ নিজেই করেছেন বলে অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে।

স্থানীয় সংবাদকর্মীরা জানান, অনিয়মের তথ্য পেয়ে এবিষয়ে পিআইও কার্যালয়ে গেলে নোটিশ বোর্ডে প্রকল্পের সঙ্গে অসামঞ্জস্যপূর্ণ টাঙানো তালিকা দেখা যায়। প্রকল্পের পূর্ণাঙ্গ তালিকা চাইলে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা তা দিতে অস্বীকৃতি জানান।

অফিস সুত্রে জানা যায়, ২০২৫–২৬ অর্থবছরে গ্রামীণ অবকাঠামো সংস্কার প্রকল্পের আওতায় দুর্যোগ ও ত্রাণ ব্যবস্থাপনা মন্ত্রণালয় থেকে মোট ২ কোটি ৪৫ লাখ টাকা, ৯৫.৩৯ মেট্রিক টন চাল এবং ৯৫.৩৯ মেট্রিক টন গম বরাদ্দ দেওয়া হয়। এর মধ্যে গ্রামীণ অবকাঠামো রক্ষণাবেক্ষণ (টিআর) খাতে ৮৭ লাখ ৬২ হাজার টাকা এবং কাবিটা খাতে ১ কোটি ৫৭ লাখ ৫ হাজার টাকা বরাদ্দ দেয়া হয়েছিল।

এবিষয়ে জানতে আলীকদম উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা (পিআইও) কে এম নজরুল ইসলামের মুঠোফোনে একাধিক বার কল দিলেও বন্ধ পাওয়া যায়।

আলীকদম উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মনজুর আলম বলেন, অভিযোগ প্রাপ্ত প্রকল্প গুলোর মধ্যে প্রথম ধাপের ৩টি প্রকল্পের অনুকুলে ৭০ শতাংশ বিল দেয়া হয়েছে।তবে অভিযোগ প্রাপ্ত সকল প্রকল্প গুলো তদন্ত স্বাপেক্ষে আইনানুগ ব্যাবস্থা গ্রহন করা হবে বলে জানান তিনি।


নীলফামারী জেলা পরিষদের বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি শুরু

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নীলফামারী জেলা প্রতিনিধি

নীলফামারী জেলা পরিষদের উদ্যোগে বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি শুরু হয়েছে। বৃহস্পতিবার (২ এপ্রিল) জেলা পরিষদ চত্বরে এ কর্মসূচির উদ্বোধন করেন জেলা পরিষদের প্রশাসক অ্যাড. মিজানুর রহমান চৌধুরী ।

এসময় তিনি বলেন, পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা ও জলবায়ু পরিবর্তনের বিরূপ প্রভাব মোকাবিলায় বৃক্ষরোপণের কোনো বিকল্প নেই। একটি সবুজ, বাসযোগ্য জেলা গড়তে সকলকে এগিয়ে আসতে হবে।

তিনি আরও বলেন, মাননীয় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নির্দেশনা বাস্তবায়নে জেলা পরিষদ বিভিন্ন জনকল্যাণমূলক কার্যক্রমের অংশ হিসেবে এই বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি শুরু করা হয়েছে।

এ সময় উপস্থিত ছিলেন জেলা বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক সোহেল পারভেজ, শিক্ষক-কর্মচারী ঐক্য জোটের সভাপতি প্রফেসর ড. সৈয়দ খলিলুর রহমান, সদর উপজেলা বিএনপির সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক মশগুল ইসলাম এবং যুবদলের সহ-সভাপতি শফিকুল ইসলাম মুকুলসহ অন্যান্য নেতৃবৃন্দ।


ফুলবাড়িয়ায় ভুয়া ভূমি উন্নয়ন দাখিলায় হচ্ছে দলিল

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
ফুলবাড়িয়া (ময়মনসিংহ) প্রতিনিধি

ময়মনসিংহের ফুলবাড়িয়া উপজেলা সাব-রেজিস্ট্রি অফিসে ভুয়া ভূমি উন্নয়ন করের রসিদ (দাখিলা) তৈরি করে জমি রেজিস্ট্রি সম্পন্ন করছে জালিয়াত চক্র। সম্প্রতি দলিল লেখক ও সাব-রেজিস্ট্রারের যোগসাজশে মোটা অংকের টাকার বিনিময়ে এমন কাজ চলছে বলে অভিযোগ উঠেছে।

এ নিয়ে ভুক্তভোগী মো. রিয়াদুল ইসলাম ময়মনসিংহ জেলা রেজিস্ট্রার বরাবরে একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন। অভিযোগ সুত্রে জানা গেছে, উপজেলার কান্দানিয়া মৌজার ৯৯৮ বিআরএস খতিয়ানের ৭৮১০ হাল দাগ এ ৬ জনের যৌথ মালিকানাধীন ৯০ শতক ভূমির উপর গত ২৬ আগস্ট স্থানীয় ইউনিয়ন ভূমি অফিসে ভুক্তভোগীরা একটি নালিশী অভিযোগ দেয়। প্রেক্ষিতে দাখিলা না পেয়ে জাল জালিয়াতির আশ্রয়ে জাল দাখিলা সৃজন করে ফুলবাড়িয়া সাব-রেজিস্ট্রি অফিসে গত ৮ ফেব্রুয়ারি ৮৬৯ নং সাফ কবলা দলিল মূলে যৌথ মালিকানাধীন ৯০শতাংশ ভূমির মধ্যে ১৩ শতাংশ ভূমি হস্তান্তর করেন দাতা আসাদুজ্জামান। একই কায়দায় এর আগেও কান্দানিয়া মৌজার হাল দাগের ৩০৩৭ দাগে আরও একটি দলিল সম্পাদনের তথ্য পাওয়া গেছে। যার দলিল নম্বর - ৮৬৮।

অভিযোগকারী মো. রিয়াদুল ইসলাম জানান, খাজনার রসিদের সঠিকতা যাচাইয়ের জন্য সরকারি ওয়েবসাইটে প্রবেশ ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সাথে কথা বলে নিশ্চিত হয়েছি উক্ত ভূমির উপর হাল সনের কোন রসিদ দেওয়া হয়নি। এ চক্রের সাথে জড়িতদের তিনি দৃষ্টান্ত মূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।

দলিলটি সম্পাদনে যুক্ত ফুলবাড়িয়া সাব-রেজিস্ট্রি অফিসের দলিল লেখক সোলাইমান জানান, কান্দানিয়া এলাকার জহির মহুরি এসে আমাকে বলেন তার এলাকার দলিল সে করলে বিতর্কিত হবে, তাই আমাকে স্বাক্ষর দিতে বলার কারণে আমি শুধু স্বাক্ষর করি। দলিলটি আমার নয়। আর ওই দাখিলা সম্পর্কে আমি কিছুই জানতাম না।

অপরদিকে জাল ভূমি উন্নয়ন করের রসিদ তৈরি করার ঘটনায় ব্যবস্থা নেওয়ার কথা জানিয়েছেন সহকারী কমিশনার (ভূমি )ও ভারপ্রাপ্ত উপজেলা নির্বাহী অফিসার শেখ তাকী তাজওয়ার।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে কয়েকজন দলিল লেখক জানান, সাব-রেজিস্ট্রি অফিসের কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের সঙ্গে স্থানীয় দলিল লেখকদের অদৃশ্য কমিশন বাণিজ্যের সিন্ডিকেট গড়ে উঠেছে। যেই সুবাদে সাব-রেজিস্ট্রার দলিল লেখকদের মাধ্যমে হেবা দলিলে ১% ,বনের মৌজার এন ও সি (অনাপত্তিপত্র) যাচাইয়ের নামে দলিল প্রতি সর্বনিম্ন ৮ হাজার টাকা, সেরেস্তার নামে প্রথম লাখে দেড় হাজার ও পরবর্তী প্রতি লাখে ৫০০ টাকা করে নেন। এছাড়াও হিস্যার ১০ হাজার, ভুল সংক্রান্তে ১০ হাজার ও যৌথ দলি প্রতি ৫ হাজার করে টাকা নেয়। যা ঈদের আগমুহূর্তের কর্মদিবস পর্যন্ত বলববৎ ছিল।

শাহজাহান সাজু নামে এক কৃষক বলেন, আমি দীর্ঘদিন ঘুরে একটি দলিল করেছি। সামান্য সমস্যায় নির্ধারিত ফিসের বাহিরে অতিরিক্ত টাকা দিতে হয়েছে।

কুশমাইল পানেভিটা গ্রামের আকবর হোসেন জানান, যে সকল গ্রহীতা উৎকোচ দিতে অনিচ্ছুক তারা দিনের পর দিন হয়রানির শিকার হচ্ছেন। অতিরিক্ত টাকা না দেওয়ায় তিনি নিজেই কয়েক মাস ধরে ঘুরছেন বলেও জানান।

ফুলবাড়িয়া উপজেলা সাব-রেজিস্ট্রার রাফায়েল ফাতেমী ইমন দলিলের নামে অতিরিক্ত ফি নেওয়ার বিষয়টি অস্বীকার করে দৈনিক বাংলাকে জানান, ভুয়া দাখিলায় রেজিস্ট্রি করার অভিযোগটি নিয়ে সংশ্লিষ্ট দলিল লেখক ও অভিযোগকারীকে আপাতত নোটিশ দেওয়া হবে। যাচাইয়ে দাখিলা ভুয়া প্রমানিত হলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

ময়মনসিংহ জেলা রেজিস্ট্রার পথিক কুমার সাহা বলেন, ভুয়া দাখিলা দিয়ে রেজিস্ট্রি সংক্রান্ত অভিযোগের বিষয়ে ব্যবস্থা নিতে বলা হয়েছে। এছাড়া আরো যেসব অনিয়ম রয়েছে সেগুলোর বিষয়ে অভিযোগ দিলো ইনকোয়ারি করে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।


চুয়াডাঙ্গায় তাপমাত্রা ৩৮.৫ ডিগ্রি, গলে যাচ্ছে রাস্তার পিচ

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
চুয়াডাঙ্গা জেলা প্রতিনিধি

তাপমাত্রার ঊর্ধ্বগতি চুয়াডাঙ্গার জনজীবনকে অস্থির করে তুলেছে। এক লাফে তাপমাত্রা বেড়ে মৃদু থেকে মাঝারি তাপপ্রবাহ শুরু হওয়ায় জেলার বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ পড়েছেন চরম ভোগান্তিতে।

বৃহস্পতিবার (২ এপ্রিল) বিকেল ৩টায় চুয়াডাঙ্গায় সর্বোচ্চ তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে ৩৮ দশমিক ৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস। এ সময় বাতাসের আর্দ্রতা ছিল ৩৪ শতাংশ, যা গরমের তীব্রতা আরও বাড়িয়ে দিয়েছে।

এর আগে গতকাল বুধবার (১ এপ্রিল) বিকেল ৩টায় চুয়াডাঙ্গায় সর্বোচ্চ তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে ৩৬ দশমিক ৩ ডিগ্রি সেলসিয়াস।

হঠাৎ এই তাপমাত্রা বৃদ্ধিতে সবচেয়ে বেশি বিপাকে পড়েছেন খেটে খাওয়া মানুষ ও মোটরসাইকেল চালকরা। বিশেষ করে জেলার বিভিন্ন তেল পাম্পে দীর্ঘ লাইনে দাঁড়িয়ে থাকা চালকদের দুর্ভোগ চরমে পৌঁছেছে।

এদিকে তীব্র গরমে সড়কের পিচ গলে উঠে যেতে দেখা গেছে। শহরে পৌরসভার সামনে এই চিত্র দেখা গেছে।

চুয়াডাঙ্গা শহরের মোটরসাইকেল চালক রবিউল ইসলাম বলেন, এই গরমে লাইনে দাঁড়িয়ে থাকা খুব কষ্টকর। মাথা ঘুরে যায়। তেল নিতেই ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা করতে হচ্ছে, এর মধ্যে গরমে শরীর একেবারে ক্লান্ত হয়ে যাচ্ছে।

আরেক চালক সুমন হোসেন বলেন, সকাল থেকে লাইনে দাঁড়িয়ে আছি। রোদে দাঁড়িয়ে থাকতে থাকতে শরীর খারাপ হয়ে যাচ্ছে। তেলের জন্য যেমন কষ্ট, তার ওপর এই গরম— দুটো মিলে অবস্থা খুব খারাপ।

শুধু চালকরাই নয়, দিনমজুরদের অবস্থাও করুণ হয়ে উঠেছে। তীব্র রোদে কাজ করতে গিয়ে অনেকেই অসুস্থ হয়ে পড়ছেন।

দিনমজুর আব্দুল মালেক বলেন, রোদ এত বেশি যে কাজ করতে পারি না ঠিকমতো। তবুও পেটের দায়ে কাজ করতে হচ্ছে। দুপুরের রোদে শরীর জ্বলতে থাকে।

আরেক দিনমজুর হাবিবুর রহমান বলেন, এই গরমে কাজ করা খুব কষ্ট। একটু পরপরই বিশ্রাম নিতে হয়। কিন্তু বেশি বিশ্রাম নিলে আয় কমে যায়, তাই বাধ্য হয়ে কাজ চালিয়ে যাচ্ছি।

চুয়াডাঙ্গা প্রথম শ্রেণির আবহাওয়া পর্যবেক্ষণাগারের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা জামিনুর রহমান বলেন, চলতি মৌসুমে প্রথমবারের মতো তাপমাত্রা ৩৮.৫ ডিগ্রি অতিক্রম করেছে। জেলার ওপর দিয়ে বর্তমানে মাঝারি তাপপ্রবাহ বয়ে যাচ্ছে, যা আগামী কয়েকদিন অব্যাহত থাকতে পারে।


৫০ কোটি টাকা ঘুষ অফারকারীদের নাম বলতে আমির হামজাকে আইনি নোটিশ

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
কুস্টিয়া জেলা প্রতিনিধি

৫০ কোটি টাকা ঘুষের প্রস্তাবদাতাদের নাম প্রকাশের দাবিতে কুষ্টিয়া-৩ (সদর) আসনের সংসদ সদস্য আমির হামজাকে আইনি নোটিশ পাঠিয়েছেন এক ব্যক্তি। নোটিশদাতা হৃদয় হাসান কুষ্টিয়া সদর উপজেলার সোনাপুর নওয়াপাড়া এলাকার বাসিন্দা এবং জেলা ছাত্রদলের আহ্বায়ক কমিটির সদস্য।

বুধবার (১ এপ্রিল) হৃদয় হাসানের পক্ষে কুষ্টিয়া আদালতের আইনজীবী আব্দুল মজিদ নোটিশটি পাঠান। এতে বলা হয়েছে, নোটিশ পাওয়ার সাত দিনের মধ্যে ঘুষ প্রস্তাবকারীদের নাম জনসমক্ষে প্রকাশ অথবা তাদের আইনের হাতে সোপর্দ করতে হবে।

হৃদয় হাসান বলেন, ‘বুধবার দুপুরের পর লিগ্যাল (আইনি) নোটিশটি এমপি সাহেব বরাবর পাঠানো হয়েছে। নোটিশে সাত দিনের মধ্যে ঘুষ প্রস্তাবকারীর পরিচয় অথবা আইনি ব্যবস্থা নিতে আহ্বান জানানো হয়েছে। যদি তা না করেন, তাহলে পরবর্তী ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।’

জানা গেছে, গত ২৬ ফেব্রুয়ারি কুষ্টিয়া শহরে একটি ইফতার মাহফিলে বক্তব্যকালে আমির হামজা বলেন, ‘প্রায় সবমিলিয়ে শুধু মেডিকেল কলেজের জন্য ৫০ কোটি টাকার ওপরে অফার হয়েছে এই তিন দিনে। তা-ও কেউ জানবে না, শুধু আল্লাহ বাদে। আমি বলেছি, ৫০ কোটি কেন, ১০০ কোটি, পুরা কুষ্টিয়া লিখে দিলেও আমি আমার জায়গা থেকে একচুল নড়ব না।’

তিনি আরও বলেন, ‘এই পাঁচ বছর যদি দায়িত্বে থাকি, পাঁচটা টাকা যেন না বাড়ে, সেই রকমভাবে চলতে চাই।’

পরদিন আমির হামজার এই বক্তব্যের ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। এতে অনেকে কুষ্টিয়া মেডিক্যাল কলেজ বন্ধ রাখতে ঘুষ দিতে চাওয়া ব্যক্তিদের নাম-পরিচয় প্রকাশের দাবি জানান।

এর প্রায় এক মাস পর গতকাল বুধবার ছাত্রদলের এই নেতা আইনি নোটিশ পাঠান। নোটিশে উল্লেখ করা হয়েছে, ‘আমির হামজা সংসদ সদস্য নির্বাচিত হওয়ার পর বিভিন্ন সময় জনসমক্ষে দেওয়া বক্তব্যে দাবি করেছেন, কুষ্টিয়া মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল বন্ধ রাখার জন্য তিনি ৩ দিনে ৫০ কোটি টাকা ঘুষের প্রস্তাব পেয়েছেন। কিন্তু তিনি তা গ্রহণ করেননি। উপরন্তু বলেছেন, কুষ্টিয়া লিখে দিলেও তার অবস্থান বদলানো যাবে না।’

নোটিশে আরও বলা হয়, ‘গণমাধ্যম ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিভিন্ন সময়ে ছবিসহ আপনার (সংসদ সদস্য) বক্তব্যের অংশ ফলাও করে প্রকাশিত হয়েছে। এখন প্রশ্ন হলো শরিয়াহ আইন ও রাষ্ট্রীয় আইনে ঘুষদাতা ও ঘুষগ্রহীতা উভয়েই সমান অপরাধী। আপনাকে যারা ঘুষ প্রদান করতে চেয়েছেন, তাদের নাম প্রকাশ না করে আপনি শুধু ভালো মানুষ সাজার জন্য ৫০ কোটি টাকা ঘুষ গ্রহণ করেননি বলে প্রচার করেছেন। ঘুষ প্রস্তাবকারীদের নাম প্রকাশ না করা এবং আইনের হাতে তুলে না দেওয়ার অর্থ হলো আইনের দৃষ্টিতে অপরাধীকে আশ্রয়-প্রশ্রয় দেওয়া।’

এ বিষয়ে হৃদয় হাসান বলেন, ‘দুর্নীতিমুক্ত বাংলাদেশ গঠনের লক্ষ্যে এই লিগ্যাল নোটিশ পাঠিয়েছি। কুষ্টিয়া মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল পূর্ণাঙ্গভাবে চালু না হওয়ায় জনগণ ভোগান্তি পোহাচ্ছে। কারা এর পেছনে কলকাঠি নাড়ছে, আমরা জানতে চাই। প্রয়োজনে আন্দোলন গড়ে তোলা হবে।’

কুষ্টিয়া জেলা বিএনপির সদস্যসচিব জাকির হোসেন সরকার বলেন, ‘আমির হামজা মেডিক্যাল কলেজ চালু নিয়ে বললেন, তিন দিনে ৫০ কোটি টাকার অফার পেয়েছেন। অথচ তাকে কারা টাকার অফার করেছে, তাদের নাম বলছেন না। এটা একটা ক্রিমিনাল অফেনস। তিনি জনসমক্ষে ঘুষ প্রস্তাবকারীদের নাম প্রকাশ করুক।’


সংবাদ প্রকাশের জেরে চাঁদাবাজির মামলায় কারাগারে সাংবাদিক, মুক্তি চায় পরিবার

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
কিশোরগঞ্জ প্রতিনিধি

কিশোরগঞ্জের হোসেনপুরে জমিসংক্রান্ত বিরোধ নিয়ে মারামারির খবর প্রকাশের জেরে চাঁদাবাজির মামলায় এক সাংবাদিককে হয়রানির অভিযোগ উঠেছে।

পরিবারের দাবি, সংবাদ প্রকাশে ক্ষুব্ধ হয়ে প্রতিপক্ষের প্রভাবশালী একটি মহল সাংবাদিক খায়রুল ইসলাম ফকিরকে (৪০) উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে মামলায় জড়িয়েছে। তিনি গত ২৪ দিন ধরে কারাগারে আছেন।

এ ঘটনায় বুধবার সকালে কিশোরগঞ্জ সেন্ট্রাল প্রেস ক্লাব কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলন করে তাঁর মুক্তি ও মামলার সুষ্ঠু তদন্তের দাবি জানিয়েছে পরিবার।

সংবাদ সম্মেলনে সাংবাদিক খায়রুল ইসলাম ফকিরের মা নূরজাহান (৭০), স্ত্রী খোশনাহার আক্তার (৩৩), মেয়ে জান্নাত আক্তার নিপু (১৪), ছেলে নাঈম হাসান দুর্জয় (১০) ও মো. হুমায়ুন (৫) এবং স্বজনেরা উপস্থিত ছিলেন।

পরিবারের ভাষ্য, খায়রুল ইসলাম ফকির হোসেনপুর উপজেলার গোবিন্দপুর ইউনিয়নের দক্ষিণ গোবিন্দপুর গ্রামের বাসিন্দা। তিনি একটি স্থানীয় দৈনিক ও অনলাইন নিউজ পোর্টাল ‘নয়া সংবাদ’–এর হোসেনপুর উপজেলা প্রতিনিধি হিসেবে কাজ করেন। পরিবারের একমাত্র উপার্জনক্ষম ব্যক্তি কারাগারে থাকায় তারা চরম দুর্ভোগে পড়েছে।

সংবাদ সম্মেলনে বলা হয়, দক্ষিণ গোবিন্দপুর গ্রামের আসাদুজ্জামান কিরণ, যিনি পোল্যান্ডপ্রবাসী, তাঁর সঙ্গে একই গ্রামের নজরুল ইসলামের জমি নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলছিল। এর জেরে গত ২৬ ফেব্রুয়ারি সন্ধ্যার পর দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ, হামলা-পাল্টা হামলা ও বাড়িঘর ভাঙচুরের ঘটনা ঘটে। এতে উভয় পক্ষের কয়েকজন আহত হন।

পরদিন ২৭ ফেব্রুয়ারি সকালে ওই ঘটনার সংবাদ প্রকাশ করেন সাংবাদিক খায়রুল ইসলাম ফকির। পরিবারের দাবি, এই সংবাদ প্রকাশের পর তাঁর ওপর ক্ষুব্ধ হন আসাদুজ্জামান কিরণ।

পরে গত ২ মার্চ হোসেনপুর থানায় নজরুল ইসলাম বাদী হয়ে কিরণসহ আটজনের বিরুদ্ধে মামলা করেন। এর তিন দিন পর, ৫ মার্চ, কিরণের বোন আনুরা (৫৩) বাদী হয়ে ভাঙচুর, লুটপাট, মারামারি ও চাঁদাবাজির অভিযোগ এনে পাল্টা মামলা করেন। সেই মামলায় প্রধান আসামি করা হয় সাংবাদিক খায়রুল ইসলাম ফকিরকে।

পরিবারের অভিযোগ, সংঘর্ষের ঘটনায় খায়রুল ইসলাম ফকিরের কোনো সম্পৃক্ততা ছিল না। কেবল সংবাদ প্রকাশ করায় তাঁকে প্রতিহিংসাবশত মামলায় জড়ানো হয়েছে।

পরিবারের সদস্যরা জানান, মামলায় আসামি হওয়ার পর খায়রুল ইসলাম ফকির গত ৯ মার্চ আদালতে আত্মসমর্পণ করে জামিন আবেদন করেন। আদালত জামিন নামঞ্জুর করে তাঁকে কারাগারে পাঠান। এরপর থেকে তিনি কারাগারেই আছেন।

সংবাদ সম্মেলনে বক্তব্য দিতে গিয়ে কান্নায় ভেঙে পড়েন পরিবারের সদস্যরা। তারা বলেন, দ্রুত তদন্ত করে সাংবাদিক খায়রুল ইসলাম ফকিরকে মিথ্যা মামলা থেকে অব্যাহতি ও মুক্তি দেওয়া হোক।


অশ্লীলতার অভিযোগে ‘সোলেমান লেংটার’ মেলা বন্ধ ঘোষণা

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
চাঁদপুর জেলা প্রতিনিধি

চাঁদপুরের মতলব উত্তর উপজেলার বদরপুর এলাকায় সাত দিনব্যাপী সোলেমান লেংটার মেলা শুরুর দুই দিন পর বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে। বুধবার (১ এপ্রিল) সন্ধ্যায় উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে মেলা বন্ধ ঘোষণা করে মাইকিং করা হয়।

এর আগে মঙ্গলবার (৩১ মার্চ) বিকেলে প্রশাসনের অনুমতি ছাড়াই ১০৭তম লেংটার ওরস ও মেলা শুরু হয়। অভিযোগ রয়েছে, মেলায় মাদক কেনাবেচা, সেবন ও অশ্লীল নৃত্যের আসর বসানো হয়।

স্থানীয়রা বলছেন, এ মেলার কারণে যুবক ও কিশোরেরা বিপথগামী হচ্ছে। নষ্ট হচ্ছে এলাকার পরিবেশ।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, উপজেলার বদরপুর এলাকায় সোলায়মান লেংটা বাবা বাংলা ১৩২৫ সালের চৈত্র মাসে মারা যান। এর পরই কিছু বখাটে মাদকসেবী প্রতিবছর ওই এলাকায় চৈত্র মাসের ১৭ তারিখে মেলার আয়োজন করে।

স্থানীয়ভাবে মেলাটি ‘লেংটার মেলা’ নামে পরিচিত। অন্যান্য বছরের হিসেব অনুযায়ী ৭ দিনের এ মেলায় লাখো লোকের সমাগম হতো। এ বছর মেলায় অন্তত ২ সহস্রাধিক গাঁজার দোকান ও অর্ধশতাধিক নারীদের অশ্লীল নৃত্যের জমজমাট আসর বসে।

বুধবার (১ এপ্রিল) দুপুরে মেলায় ঘুরে দেখা গেছে, হাজারো মানুষের ভিড়।

তিন কিলোমিটার এলাকাজুড়ে চলছে মেলাটির নানা কার্যক্রম। বিভিন্ন জিনিসের পসরা সাজিয়ে বসে আছেন বিক্রেতারা। ভণ্ড লেংটার মাজার এলাকায় মাদকসেবী আশেকান-ভক্তের উপচে পড়া ভিড়। মাজারটির পশ্চিম দিকে পুকুরের পাড়, বাগান ও বেড়িবাঁধ এলাকায় গাঁজা-মদ সেবন ও বিক্রির জমজমাট আসর চলছে। পুলিশ ও প্রশাসনের চোখের সামনে সেখানে প্রকাশ্যে গাঁজা, ইয়াবা ও আফিমসহ বিভিন্ন মাদকের পসরা সাজিয়েছেন বিক্রেতারা।

বিভিন্ন জেলার নেশাখোরেরা সেখানে এসে আড্ডা দিচ্ছেন। এদিন সন্ধ্যায় বন্ধ ঘোষণা করা হলেও রাতে তাদের কার্যক্রম চলমান ছিল।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে বদরপুর এলাকার একাধিক প্রবীণ ব্যক্তি অভিযোগ করেন, লেংটার মেলার নামে এখানে যেভাবে দিনরাত মাদক ও অশ্লীল নাচগানের আসর বসছে, তা মেনে নেওয়া যায় না। মেলা এলাকার দুই শতাধিক স্থানে মাদক কেনাবেচা ও সেবনের জমজমাট আড্ডা চলছে। এতে মেলা ও আশপাশের এলাকার পরিবেশ নষ্ট হচ্ছে। নেশাগ্রস্ত ও বিপথগামী হয়ে পড়ছে কিশোর ও তরুণরা। নষ্ট হচ্ছে সামাজিক পরিবেশ। ওপরে মেলা আর ভেতরে ভেতরে প্রতিদিন বিক্রি হচ্ছে লাখ লাখ টাকার মাদক। প্রশাসনের নজরদারির অভাবেই এসব অপকর্ম হচ্ছে বলে তারা মনে করেন।

পুলিশ জানায়, মেলায় আইন-শৃঙ্খলা স্বাভাবিক রাখতে পোশাকধারী অর্ধশত পুলিশ সদস্য এবং সিভিল পোশাকে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর অনেক সদস্য কাজ করছে।

মতলব উত্তর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি তদন্ত) প্রদীপ মণ্ডল বলেন, ‘আজ সন্ধ্যায় বন্ধ করার জন্য মাইকিং করা হয়।’

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মাহমুদা কুলসুম মনি বলেন, ‘মতলবের সোলেমান লেংটার মেলা অনেক বড় মেলা। জেলা প্রশাসন থেকে মেলার অনুমোদন দেওয়া হয়নি। তাই আগামীকাল থেকে মেলা বন্ধ হবে। আজ সন্ধ্যা এ ঘোষণা করা হয়।’

এর আগে মঙ্গলবার (৩১ মার্চ) বিকেলে ১০৭তম লেংটার ওরস ও মেলার প্রথম দিনে মাজারের প্রধান খাদেম মতিউর রহমান লাল মিয়াকে কুপিয়ে জখম করেছে দুর্বৃত্তরা। মেলায় মাদক সেবন ও জুয়ার অর্থ ভাগাভাগিকে কেন্দ্র করে কয়েকজন জুয়াড়ির মধ্যে বিরোধ সৃষ্টি হয়।


সিলেটে পেট্রলপাম্প মালিক-শ্রমিকদের ধর্মঘট প্রত্যাহার

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
সিলেট প্রতিনিধি

সিলেট বিভাগের সব পেট্রলপাম্প ও সিএনজি রিফুয়েলিং স্টেশনে মালিক-শ্রমিকরা অনির্দিষ্টকালের ধর্মঘট প্রত্যাহার করেছেন। এর আগে বুধবার দিবাগত রাত রাত সাড়ে ১১টায় ধর্মঘটের ঘোষণা দিয়েছিলেন তারা। রাত পৌনে তিনটার দিকে এ কর্মসূচি প্রত্যাহার করা হয়।

বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম ডিলার, ডিস্ট্রিবিউটর, এজেন্ট ও পেট্রলপাম্প ওনার্স অ্যাসোসিয়েশনের সিলেট বিভাগীয় কমিটির মুখপাত্র ব্যারিস্টার রিয়াশাদ আজিম হক আদনান জানান, সিলেট বিভাগে সিএনজি ফিলিং স্টেশন ধর্মঘট আনুষ্ঠানিকভাবে প্রত্যাহার করা হয়েছে। তবে গভীর রাতে সিদ্ধান্ত হওয়ায় সব পাম্পে তাৎক্ষণিকভাবে বার্তা পৌঁছায়নি। এজন্য পাম্পগুলো চালু হতে কিছুটা সময় লাগছে। দ্রুততম সময়ের মধ্যে সব পাম্পে বার্তা পৌঁছে কার্যক্রম স্বাভাবিক হবে।

প্রসঙ্গত ভ্রাম্যমাণ আদালতের জরিমানা এবং চাঁদাবাজির অভিযোগের প্রতিবাদে এ কর্মসূচি দিয়েছিলেন পেট্রলপাম্প মালিকরা।


রাজমিস্ত্রি থেকে ইউরোপের স্বপ্ন, ভূমধ্যসাগরে অনাহারে প্রাণ গেল যুবকের

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
সুনামগঞ্জ জেলা প্রতিনিধি

দেশে থাকতে ছিলেন রাজমিস্ত্রি। তার আয়েই চলত পুরো সংসার। একটি সুন্দর ও সচ্ছল জীবনের স্বপ্ন বুকে নিয়ে লিবিয়া থেকে সাগরপথে গ্রিসে যাওয়ার উদ্দেশ্যে পাড়ি দিয়েছিলেন সুনামগঞ্জের ছাতক উপজেলার যুবক মুহিবুর রহমান। কিন্তু সেই স্বপ্ন আর পূরণ হলো না। ভূমধ্যসাগরের মাঝেই অনাহার ও তৃষ্ণায় তার মৃত্যু হয়েছে বলে জানা গেছে।

মুহিবুর রহমান ছাতক উপজেলার ভাতগাঁও ইউনিয়নের গাগলাজুর গ্রামের বাসিন্দা মো. নুরুল আমিনের ছেলে। তিন ছেলে, দুই মেয়ের মধ্যে মহিবুর ছিলেন সবার বড়।

গত শনিবার ভূমধ্যসাগরে প্রাণ হারানো সুনামগঞ্জের ১২ জনের খবর দেশে আসার পর থেকেই মহিবুর রহমানের পরিবার বারবার দালালের সঙ্গে যোগাযোগ করে। কিন্তু দালাল তাঁর ‘ভালো–মন্দ’ খবর নিশ্চিত করেনি।

পরে সোমবার (৩০ মার্চ) একই বোটে থাকা সুনামগঞ্জের আরেক যুবক মারুফ আহমদ গ্রিস থেকে মহিবুর রহমানের মৃত্যুর বিষয়টি তার পরিবারকে নিশ্চিত করে। দেশ থেকে মহিবুর ও মারুফ আহমদ নামের ওই যুবক একই সঙ্গে গিয়েছিলেন। উদ্ধারের পর মারুফ আহমদ এখন গ্রিসের একটি ক্যাম্পে আছেন। মারুফ আহমদের ভাষ্য, বোটে অনাহারে দুর্বল হয়ে প্রথমেই মারা যান মহিবুর। এরপর একে একে অন্যদের মৃত্যু হয়। মরদেহগুলো পচে দুর্গন্ধ ছড়াতে শুরু করলে সেগুলো মাঝ সমুদ্রেই ফেলে দিতে বাধ্য হন জীবিতরা।

পরিবারের সদস্যরা জানান, পরিবাবারে হাল ধরতে ও ভবিষ্যত সুন্দর করার আশায় দালালচক্রের প্রলোভনে পড়ে প্রায় ১৩ লাখ টাকার বিনিময়ে সুনামগঞ্জের শান্তিগঞ্জ উপজেলার পশ্চিম পাগলা গ্রামের দালাল নবীর হোসেনের সঙ্গে চুক্তিতে মুহিবুর সহ কয়েকজন যুবক এই ঝুঁকিপূর্ণ পথে পাড়ি জমান।পরে ঐ চক্র লিবিয়া হয়ে অবৈধভাবে গ্রিসে পাঠানোর সিদ্ধান্ত নেন। তার সঙ্গে আরও কয়েকজন যুবক একই পথে রওনা দেন।

মুহিবুরের বাড়িতে চলছে শোকের মাতম, পরিবারের সদস্যরা শোকে ভেঙে পড়েছেন। ছোট ভাই হাফিজুর রহমান অসুস্থ হয়ে হাসপাতালে ভর্তি রয়েছেন। মা মহিমা বেগম শয্যাশায়ী ও বারবার অজ্ঞান হয়ে পড়ছেন। বাবা নুরুল আমিন দিশেহারা ছেলের এমন নির্মম পরিণতি কিছুতেই মেনে নিতে পারছেন না।

এ ঘটনায় স্থানীয়দের মধ্যে শোকের পাশাপাশি ক্ষোভও দেখা দিয়েছে। তারা দালালচক্রের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন। একই সঙ্গে এমন ঝুঁকিপূর্ণ পথে বিদেশযাত্রা থেকে যুবসমাজকে বিরত থাকার আহ্বান জানিয়েছেন সচেতন মহল।

ছাতক উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ডিপ্লোমেসি চাকমা বলেন, আমি কিছুক্ষণ আগেই এই মর্মান্তিক খবরটা শুনলাম। আমি খোঁজ নিচ্ছি এবং তার পরিবারের সঙ্গে কথা বলার চেষ্টা করছি।


banner close