বুধবার, ১৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
৬ ফাল্গুন ১৪৩২

পদ্মা সেতুর হাওয়ায় বদলে গেছে মোংলা বন্দর

মোংলা বন্দর কর্তৃপক্ষ। ছবি: দৈনিক বাংলা
আবু হোসাইন সুমন, মোংলা (বাগেরহাট)
প্রকাশিত
আবু হোসাইন সুমন, মোংলা (বাগেরহাট)
প্রকাশিত : ২৫ জুন, ২০২৩ ১৩:৪৫

পদ্মা সেতু যেন আশীর্বাদ হয়ে উঠেছে দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের জন্য। এ সেতু চালু হওয়ার পর থেকে মোংলা সমুদ্র বন্দরসহ আশপাশ এলাকাজুড়ে নতুন করে শুরু হয়েছে উন্নয়নের এক মহাযজ্ঞ। এতে সেতুর ওপর যেমন বেড়েছে যান চলাচল, তেমনি এ বন্দরে বেড়েছে কর্মব্যস্ততাও। গতি এসেছে দেশের দ্বিতীয় বৃহত্তম সমুদ্রবন্দর মোংলার আমদানি-রপ্তানি কার্যক্রমে। সেতুর সুফলে এ বন্দর হয়ে পোশাকপণ্য যাচ্ছে ইউরোপসহ বিভিন্ন দেশে। এছাড়া বন্দরের আশপাশে এরই মধ্যে গড়ে উঠেছে নতুন নতুন শিল্প কারখানা। এতে মোংলা বন্দর ঘিরে খুলে গেছে সম্ভাবনার নতুন দিগন্ত।

চাপ সামলাতে মোংলা বন্দরের সক্ষমতা বাড়ানোর উদ্যোগ নিয়েছে কর্তৃপক্ষ। এর অংশ হিসেবে বন্দর ব্যবহারকারীদের জরুরি বার্তা সেবা বা ভেসেল ট্রাফিক ম্যানেজমেন্ট ইনফরমেশন সিস্টেমের উন্নয়ন, সারফেস ওয়াটার ট্রিটমেন্ট প্লান্ট স্থাপন, কন্টেইনার ইয়ার্ড সংস্কার, চ্যানেলের ২৩ কিলোমিটার ড্রেজিং ও বর্জ্য ব্যবস্থাপনা আধুনিকায়নসহ নানা ধরনের অবকাঠামোগত উন্নয়ন এগিয়ে চলছে।

গত বছরের ২৫ জুন ৬ দশমিক ১৫ কিলোমিটার দৈর্ঘ্যের পদ্মা সেতুর উদ্বোধন হয়। এরপর এ সেতু দিয়ে যান চলাচল শুরু হয় ২৬ জুন। সেতুটি চালুর মধ্য দিয়ে দেশের অর্থনীতিতে সূচনা হয় নতুন এক অধ্যায়ের। বিশেষ করে দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের জেলাগুলোতে খুলে যায় অর্থনীতির নতুন দুয়ার। পাল্টে যায় এই অঞ্চলের মানুষের জীবনমানও।

মোংলা বন্দর কর্তৃপক্ষের উপ-সচিব (বোর্ড ও জনসংযোগ বিভাগ) মো. মাকরুজ্জামান জানান, প্রতিবেশী ভারত, নেপাল ও ভুটানকে মোংলা বন্দর ব্যবহারের সুযোগ দেয়ায় দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার বৃহৎ বাণিজ্যিক কেন্দ্রে পরিণত হতে যাচ্ছে এ বন্দর। এছাড়া এশিয়া, ইউরোপ, মধ্যপ্রাচ্য, অস্ট্রেলিয়া ও যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বাণিজ্যিক সম্পর্ক জোরদার হয়েছে। পদ্মা সেতু চালুর পর থেকে মোংলা বন্দর দিয়ে পোশাকপণ্য রপ্তানিও শুরু হয়েছে। আগে স্বল্প পরিসরে পোশাকপণ্য রপ্তানি হলেও সেতু চালুর পর থেকে তার পরিমাণ অনেক বেড়ে গেছে।

তিনি বলেন, সেতুর চালুর পর মোংলা বন্দর থেকে প্রথম পোশাকপণ্য রপ্তানি হয় ইউরোপের দেশ পোল্যান্ডে। এরপর ৭ জুলাই দ্বিতীয় চালান, চলতি বছরের ৫ মে তৃতীয় চালান, ৬ জুন চতুর্থ চালানের পোশাকপণ্য রপ্তানি হয়েছে। এছাড়া ডেনমার্ক ও গ্রেট ব্রিটেনেও পোশাকপণ্য গেছে সেতু চালুর পর।

মোংলা বন্দর কর্তৃপক্ষের প্রধান পরিকল্পনা কর্মকর্তা মো. জহিরুল হক বলেন, পদ্মা সেতুকে ঘিরে মোংলা বন্দরের আধুনিকায়নের জন্য আরও নতুন নতুন অনেক প্রকল্প বাস্তবায়নের পরিকল্পনা নেয়া হয়েছে। এসব প্রকল্প বাস্তবায়নের কাজ দ্রুত এগিয়ে চলছে। বন্দরের ড্রেজিং ব্যবস্থা উন্নয়নে ৭৯৪ কোটি টাকা ব্যয়ে একটি প্রকল্প বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। এ প্রকল্পের আওতায় পশুর চ্যানেলের জয়মনিরঘোল থেকে বন্দর জেটি পর্যন্ত ২৩ কিলোমিটার ড্রেজিং করা হচ্ছে। চ্যানেলটির ড্রেজিংয়ের কাজ শেষ হলে ৯ দশমিক ৫০ মিটার থেকে ১০ মিটার গভীরতার কন্টেইনারবাহী জাহাজ সরাসরি জেটিতে ভিড়তে পারবে।

তিনি আরও বলেন, বন্দরের কন্টেইনার রাখার স্থান বাড়াতে প্রায় ১৪ কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত হচ্ছে কন্টেইনার ইয়ার্ড, যার ধারণক্ষমতা হবে এক হাজার ৫০টি কন্টেইনার। এছাড়া মোংলা বন্দরে আসা বিদেশি জাহাজে ও বন্দর শিল্পাঞ্চলের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের সুপেয় পানির চাহিদা মেটাতে ২৫ কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মাণ করা হয়েছে সারফেস ওয়াটার ট্রিটমেন্ট প্ল্যান্ট। পাশাপাশি বন্দর ব্যবহারকারীদের জন্য জরুরি বার্তা সেবা কার্যক্রমের উন্নয়ন করা হচ্ছে। এর মাধ্যমে বন্দর চ্যানেলে প্রবেশ করা প্রতিটি জাহাজ তদারকির পাশাপাশি গতিবিধি পর্যবেক্ষণ করা সহজ হবে।

বন্দরের এ কর্মকর্তা বলেন, ৪৩০ কোটি টাকা ব্যয়ে মোংলা বন্দরের বর্জ্য ব্যবস্থাপনা প্রকল্পের কাজও এগিয়ে চলছে। এ প্রকল্প বাস্তবায়িত হলে বন্দরে চলাচলকারী বিভিন্ন বাল্ক, কন্টেইনার, ট্যাংকার ও অন্যান্য জলযান থেকে নিঃসৃত তেল ও পেট্রোলিয়াম বর্জ্যসহ অন্যান্য আর্বজনা সংগ্রহ করা সহজ হবে এবং একই সঙ্গে পশুর চ্যানেল ও বন্দরের আশপাশের নদ-নদীতে বিভিন্ন জাহাজ থেকে নিঃসৃত তেল অপসারণ করাও সহজ হবে। এর ফলে মোংলা বন্দর এলাকায় সামুদ্রিক দূষণ কমানোসহ বন্দর ও চ্যানেল এলাকার পরিবেশের সুরক্ষা নিশ্চিত হবে।

মোংলা বন্দরে আসা বিলাসবহুল গাড়ি। ছবি: দৈনিক বাংলা

মোংলা বন্দর কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান রিয়ার অ্যাডমিরাল মীর এরশাদ আলী বলেন, পদ্মা সেতুকে কেন্দ্র করে মোংলা বন্দরের উন্নয়নে বেশ কিছু প্রকল্প বাস্তবায়নের উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। এরই মধ্যে বন্দর উন্নয়নে ছয় হাজার ২৫৬ কোটি টাকার প্রকল্প হাতে নেয়া হয়েছে।

তিনি বলেন, আলোচ্য প্রকল্পের আওতায় ১২টি কম্পোনেন্ট থাকবে। এগুলো হচ্ছে বন্দর জেটিতে ১ ও ২ নম্বর কন্টেইনার টার্মিনাল নির্মাণ, কন্টেইনার হ্যান্ডেলিং ইয়ার্ড নির্মাণ, কন্টেইনার ডেলিভারি ইয়ার্ড নির্মাণ, ইয়ার্ড শেড, নিরাপত্তা দেয়াল, অটোমেশন ও অন্যান্য অবকাঠামোসহ বন্দরের সংরক্ষিত এলাকা সম্প্রসারণ, সার্ভিস ভেসেল জেটি শেড ও অফিস নির্মাণ, বন্দর ভবন (প্রশাসনিক) সম্প্রসারণ, এমপিএ টাওয়ার, পোর্ট রেসিডেনশিয়াল কমপ্লেক্স কমিউনিটি সুবিধাদি নির্মাণ, ইকুইপমেন্ট ইয়ার্ড, ইকুইপমেন্ট শেড ও প্রয়োজনীয় যন্ত্রপাতিসহ একটি পুল নির্মাণ, সিগনাল রেড ক্রসিং ও ওভারপাস নির্মাণ, বিনোদন ব্যবস্থাসহ বাঁধ নির্মাণ এবং পাঁচটি হারবার ক্রাফট ক্রয়।

বন্দর কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান আরও বলেন, পদ্মা সেতু চালু হওয়ায় সময় সাশ্রয় ও যোগাযোগ ব্যবস্থা সহজ হয়েছে। এতে ব্যবসায়ীরা এখন মোংলা বন্দর ব্যবহারে অনেক বেশি আগ্রহ দেখাচ্ছেন। বর্তমানে মোংলা বন্দরের নিজস্ব জমিতে ১১টি এলপিজি কারখানা, পাঁচটি সিমেন্ট কারখানাসহ আরও ১০ টি শিল্প কলকারখানা রয়েছে। এছাড়া বন্দর এলাকায় ২৫৮ একর জমিতে বাংলাদেশ অর্থনৈতিক অঞ্চল (বেপজা) প্রতিষ্ঠিত রয়েছে। এসব শিল্প কারখানার কাঁচামাল মোংলা বন্দরের মাধ্যমে পরিবাহিত হয়ে আসছে। ফলে বাণিজ্যিক স্বার্থেই বন্দরের সক্ষমতা বাড়ানোর বিষয়টি সরকারের কাছে অগ্রাধিকার পাচ্ছে।

বন্দরের সুবিধাদি বাড়াতে ১০টি প্রকল্প বাস্তবায়িত হচ্ছে উল্লেখ করে মীর এরশাদ আলী বলেন, পদ্মা সেতু চালুর পর থেকে মোংলা-খুলনা রেললাইন, রেলসেতু ও রামপাল তাপ বিদ্যুৎ কেন্দ্রের দ্বিতীয় ইউনিটের নির্মাণ কাজও দ্রুতগতিতে এগিয়ে যাওয়ায় মোংলা বন্দরকেন্দ্রিক দেশের শিল্প-বাণিজ্যের অপার সম্ভাবনার নতুন দিগন্ত সূচিত হয়েছে। ইতোমধ্যে এ বন্দরকে কেন্দ্র করে গড়ে উঠতে শুরু করেছে নতুন নতুন শিল্প-কলকারখানা। দেশি-বিদেশি বিনিয়োগকারীদের আগ্রহ বেড়েছে মোংলা বন্দরের প্রতি। এতে কর্মচঞ্চল হয়ে উঠেছে গোটা বন্দর এলাকা।

মোংলা বন্দর উপদেষ্টা কমিটির সদস্য ও খুলনা সিটি করপোরেশনের মেয়র তালুকদার আব্দুল খালেক বলেন, মোংলা বন্দরকে ঘিরে বর্তমান সরকারের ব্যাপক উন্নয়ন পরিকল্পনা রয়েছে। পদ্মা সেতু থেকে মোংলা বন্দর পর্যন্ত ছয় লেনবিশিষ্ট সড়ক ও রেল যোগাযোগ স্থাপন, মোংলা ইপিজেড সম্প্রসারণ, স্পেশাল ইকোনমি জোন স্থাপন, রূপসা নদী ও মোংলা-ঘাষিয়াখালী চ্যানেলের নাব্যতা বাড়ানোর উদ্যোগ নেয়া হয়েছে।

তিনি বলেন, বিগত জোট সরকার এ বন্দরকে ধ্বংস করতে কোনো উন্নয়ন করেনি। জোট সরকার দুর্নীতি করে এ বন্দরকে শেষ করে দিয়েছিল। ওই সময় বন্দরে কোনো জাহাজ আসতো না। মোংলা মৃত বন্দরে পরিণত হয়েছিল। সেখান থেকে বর্তমান সরকার এ বন্দরকে টেনে তুলেছে। বন্দরকে ঘিরে এখন চারিদিকে শুধু উন্নয়নের ছোঁয়া।

মোংলা বন্দর ব্যবহারকারী ও মোংলা বন্দর বার্থ শিপ অপারেটর অ্যাসোসিয়েশন উপদেষ্টা মো. মোস্তাক আহম্মেদ মিঠু, সদস্য এইচ এম দুলাল, জিসান রহমান ভুট্টো, মো. মসিউর রহমান বলেন, পদ্মা সেতু এ অঞ্চলের ব্যবসায়ীদের জন্য আশীর্বাদ হয়ে উঠেছে। সেতু চালু হওয়ায় ঢাকা থেকে মোংলা বন্দরের দূরত্ব এখন ১৭০ কিলোমিটার। যেখানে ঢাকা থেকে চট্টগ্রাম বন্দরের দূরত্ব ২৬০ কিলোমিটার। এক্ষেত্রে সময় ও অর্থের সাশ্রয় হচ্ছে। এছাড়া মোংলা বন্দরে জাহাজ হ্যান্ডেলিং দ্রুত ও নিরাপদ হওয়ায় বিদেশি ব্যবসায়ীরাও এ বন্দর ব্যবহারে আগ্রহী হচ্ছেন।


সখীপুরে টাকা না পেয়ে নানিকে কুপিয়ে হত্যা, নাতি গ্রেপ্তার

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
সখীপুর (টাঙ্গাইল) প্রতিনিধি

টাঙ্গাইলের সখীপুরে টাকা-পয়সা নিয়ে বিরোধের জেরে নানিকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগ ওঠেছে নাতির বিরুদ্ধে। গত মঙ্গলবার (১৭ ফেব্রুয়ারি) রাত সাড়ে ৮টার দিকে উপজেলার কালিদাস পানাউল্লাহপাড়া এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।

নিহত বেদেনা সুন্দরির মৃত্যুতে বুধবার (১৮ ফেব্রুয়ারি) সকালে অভিযুক্ত নাতি নয়ন চন্দ্র কোচকে (১৭) গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। এ ঘটনায় নিহতের স্বামী পরেশ চন্দ্র কোচ বাদী হয়ে সখীপুর থানায় হত্যা মামলা দায়ের করেছেন।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, নয়ন চন্দ্র কোচ তার নানির বাড়িতে বেড়াতে এসেছিলেন। রাত সাড়ে ৮টার দিকে কথা-কাটাকাটির একপর্যায়ে বঁটি দিয়ে নানিকে আঘাত করলে ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়।

পুলিশ জানিয়েছে, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে নয়ন অভিযোগ করেছেন, অন্য নাতিদের তুলনায় কম স্নেহ পাওয়া এবং টাকা-পয়সা না দেওয়াকে কেন্দ্র করেই এ ঘটনা ঘটেছে।

স্থানীয় ইউপি সদস্য শহীদুল ইসলাম বলেন, ‘নয়ন ছোটবেলা থেকেই মাঝে মধ্যে নানির বাড়িতে থাকত। এলাকাবাসীর ধারণা, সে নেশায় জড়িত। নেশার টাকার জন্যই এমন ঘটনা ঘটতে পারে বলে সবাই মনে করছে।’

সখীপুর থানার ওসি হেলাল উদ্দিন বলেন, ‘বেদেনা সুন্দরি হত্যার ঘটনায় অভিযুক্ত নাতিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। বিষয়টি তদন্তাধীন।’


কুলাউড়ায় মাতৃভাষা দিবস উদযাপনে উপজেলা প্রশাসনের প্রস্তুতি সভা

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
কুলাউড়া (মৌলভীবাজার) প্রতিনিধি

কুলাউড়া উপজেলা প্রশাসনের উদ্যোগে ২১ ফেব্রুয়ারী শহিদ দিবস ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস যথাযথ মর্যাদায় উদযাপনের লক্ষে বুধবার (১৮ ফেব্রুয়ারি) পরিষদ সভাকক্ষে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. মহিউদ্দিনের সভাপতিত্বে এক প্রস্তুতি সভা অনুষ্ঠিত হয় ।

সভায় ভাষা দিবসের শুরুতে রাত ১২ টা ০১ মিনিটে শহরস্থ শহীদ মিনারে পুস্পার্ঘ অর্পন, সূর্যোদয়ের সাথে সাথে জাতীয় পতাকা অর্ধনমিত করে উত্তোলন, বেলা সাড়ে ১১ টায় পরিষদ সভাকক্ষে আলোচনা সভা ও পুরস্কার বিতরণীর কর্মসূচি নেয়া হয়।

সভায় উপস্থিত ছিলেন উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভুমি) মো. আনিসুল ইসলাম, উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা নিবাস চন্দ্র পাল, উপজেলা স্বাস্থ্য ও প.প.কর্মকর্তা ডা,

জাকির হোসেন, কুলাউড়া থানার এসআই প্রদ্যুৎ চৌধুরী, উপজেলা বিএনপির সাবেক আহবায়ক রেদওয়ান খান, কুলাউড়া প্রেসক্লাব সভাপতি এম শাকিল রশীদ চৌধুরীসহ বিভিন্ন সরকারী কর্মকর্তাবৃন্দ।


ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে দিনব্যাপী তীব্র যানজট, ভোগান্তিতে যাত্রী সাধারণ

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
সিদ্ধিরগঞ্জ প্রতিনিধি

নারায়ণগঞ্জে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে দিনব্যাপী তীব্র যানজটের সৃষ্টি হয়েছে। বুধবার (১৮ ফেব্রুয়ারী) সকাল ৮টার পর থেকে যানজট শুরু হয় এবং বেলা সাড়ে ১১টা থেকে দুপুর ২ টা পর্যন্ত যানজট আরো তীব্র হয়। পরে বিকাল ৩ টা থেকে ধীরগতিতে যানবাহন চলাচল শুরু করে।

খবর নিয়ে জানা যায়, এশিয়ান হাইওয়েতে ক্ষতিগ্রস্থ সড়ক, গাড়ি নষ্ট হওয়া এবং যানবাহনের ধীরগতিসহ একাধিক কারণে এ যানজট সৃষ্টি হয়েছে বলে জানা গেছে। ফলে মহাসড়কের সিদ্ধিরগঞ্জের সাইনবোর্ড থেকে বন্দরের মদনপুর পর্যন্ত চট্টগ্রামমুখী লেনে ৭ কিলোমিটার দীর্ঘ যানজটের সৃষ্টি হয়। তীব্র যানজটে আটকা পড়ে যাত্রীদের চরম দুর্ভোগ পোহাতে হয়। এসময় পায়ে হেটে যাত্রী সাধারণকে পায়ে হেটে গন্তব্যে যেতে দেখা গেছে।

নোয়াখালীর সোনাপুরগামী একুশে পরিবহনের যাত্রী আয়েশা আক্তার মনি ও আব্দুল মান্নান বলেন, ‘সকাল সাড়ে ৮টায় সিদ্ধিরগঞ্জের শিমরাইল থেকে গ্রামের বাড়িতে যাওয়ার জন্য বাসে উঠে ২ ঘন্টা সময় লেগেছে ৩ কিলোমিটার অতিক্রম করতে।’

স্টার লাইন পরিবহনের যাত্রী আবুল হোসেন বলেন, ‘সিদ্ধিরগঞ্জের শিমরাইল থেকে ৩ মিনিটের রাস্তা কাঁচপুর যেতে সময় লেগেছে ১ ঘণ্টা। মহাসড়কে যাতায়াতকারী যাত্রী এবং পরিবহন চালকদের চরম ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে যানজটে পড়ে।’

হানিফ পরিবহনের বাস চালক মনির বলেন, ‘সড়কে তুলনামূলক গাড়ির বেশি চাপ রয়েছে এবং মদনপুরের এশিয়ান হাইওয়েতে যানজট থাকায় এ ভোগান্তি সৃষ্টি হয়।’

কাঁচপুর হাইওয়ে থানার টিআই (ইনচার্জ) বিষ্ণু চন্দ্র বলেন, ‘যানবাহনের অতিরিক্ত চাপের কারণে এমন অবস্থা সৃষ্টি হয়েছে। মূলত, মদনপুর হয়ে যাওয়া এশিয়ান হাইওয়েতে সড়কের সংস্কার কাজ চলমান থাকায় ওই সড়ক দিয়ে ধীর গতিতে গাড়ি চলাচল করছে। এর কারণে এই ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে।’

হাইওয়ে পুলিশের শিমরাইল পুলিশ ক্যাম্পের টিআই মো. জুলহাস উদ্দিন বলেন, এশিয়ান হাইওয়েতে অতিরিক্ত গাড়ির চাপ এবং ধীরগতি ও গাড়ি বিকল হওয়াসহ একাধিক কারণে যানজট সৃষ্টি হয়েছে। তবে আমরা মহাসড়কে যানজট নিরসনে সবাই কাজ করছি।


টঙ্গীতে বিক্রমপুর আবাসিক হোটেল থেকে যুবকের লাশ উদ্ধার

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
টঙ্গী (গাজীপুর) প্রতিনিধি

গাজীপুরের টঙ্গীতে আবাসিক হোটেল থেকে রাসেল (৪১) নামে এক যুবকের লাশ উদ্ধার করেছে টঙ্গী পূর্ব থানা পুলিশ।

বুধবার (১৮ ফেব্রুয়ারী) বিকেল চারটার দিকে টঙ্গী রেলওয়ে স্টেশন এলাকার হোটেল বিক্রমপুর (আবাসিক) থেকে লাশটি উদ্ধার করা হয়।

মৃত রাসেল কিশোরগঞ্জ জেলার করিমগঞ্জ থানার নায়কান্দি ভুঁইয়া পাড়া গ্রামের রাজা মিয়ার ছেলে। তিনি পেশায় একজন বাবুর্চী।

হোটেল ম্যানেজার জাহিদ হোসেন কাজল বলেন, গতকাল রাত সাড়ে দশটার দিকে হোটেলে এসে ২য় তলার ২৪ নম্বর কক্ষে উঠেন মৃত রাসেল। পরে বুধবার বেলা সাড়ে এগারোটার দিকে হোটেলের পরিচ্ছন্নতা কর্মী রুম পরিস্কার করতে গেলে কোন সারা শব্দ না পেয়ে কতৃপক্ষকে খবর দেন। পরে হোটেল কর্তৃপক্ষ তার রুম থেকে কোন সাড়া না পেয়ে পুলিশের খবর দেয়। পরে পুলিশ রুমের দরজা ভেঙ্গে রাসেলকে মৃত অবস্থায় বিছানার উপর করে থাকতে দেখে।

টঙ্গী পূর্ব থানার অফিসার ইনচার্জ মেহেদী হাসান বলেন, মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ মৃতের স্বজনদের খবর দেওয়া হয়েছে। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে মারা গেছেন তিনি। এ ঘটনায় আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন আছে।


রূপগঞ্জে ধর্ষণ মামলায় যুবক গ্রেফতার

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
রূপগঞ্জ প্রতিনিধি

নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জে ধর্ষণ মামলায় সোলাইমান (৪০) নামের এক যুবককে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।

বুধবার (১৮ ফেব্রুয়ারি) ভোরে উপজেলার তারাবো পৌরসভার বোচারবাগ এলাকা থেকে তাকে গ্রেফতার করা হয়।

গ্রেপ্তারকৃত সুলাইমান বোচারবাগ এলাকার মৃত আব্দুল সাত্তারের ছেলে।

রুপগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ ওসি সাবজেল হোসেন জানান, ২০২৫ সালের ১৫ সেপ্টেম্বর সকালে ইচ্ছার বিরুদ্ধে জোরপূর্বক এক কিশোরীকে ধর্ষণ করে সোলাইমান। পরে এই ঘটনায় ওই কিশোরীর বাবা বাদী হয়ে রূপগঞ্জ থানায় নারী ও শিশু নির্যাতন আইনে মামলা দায়ের করেন। ওই মামলায় সোলায়মানকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ।

ওসি আরো জানান, গ্রেপ্তারকৃত সুলাইমানকে নারায়ণগঞ্জ বিজ্ঞ চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আমলী আদালত ৩ এ পাঠানো হয়েছে।


বড়াইগ্রামে শিক্ষা ও জনসেবা উন্নয়ন কার্যক্রম পরিদর্শনে জেলা প্রশাসক

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
বড়াইগ্রাম প্রতিনিধি

নাটোরের বড়াইগ্রাম উপজেলার শিক্ষা, আইন-শৃঙ্খলা ও অবকাঠামোগত উন্নয়ন কার্যক্রমে সরেজমিন তদারকি করেছেন নাটোরের জেলা প্রশাসক আসমা শাহীন। এ সময় উপস্থিত ছিলেন বড়াইগ্রাম উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) লায়লা জান্নাতুল ফেরদৌস। মঙ্গলবার (১৭ ফেব্রুয়ারি) দিনব্যাপী বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠান ও এলাকা পরিদর্শন করা হয়।

কর্মসূচির শুরুতে জেলা প্রশাসক আহমেদপুর মোজাম্মেল হক উচ্চ বিদ্যালয় এবং দিয়ারপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় পরিদর্শন করেন। এ সময় শিক্ষার গুণগত মানোন্নয়ন, শ্রেণিকক্ষে নিয়মিত ও কার্যকর পাঠদান নিশ্চিতকরণ এবং অবকাঠামোগত উন্নয়ন বিষয়ে প্রয়োজনীয় দিকনির্দেশনা প্রদান করা হয়।

জেলা প্রশাসক আসমা শাহীন বলেন, সরকার শিক্ষাকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিয়েছে। একটি শিক্ষিত ও দক্ষ প্রজন্ম গড়ে তুলতে হলে বিদ্যালয়ে পাঠদানের মান নিশ্চিত করতে হবে। অবহেলা বা গাফিলতির কোনো সুযোগ নেই। শিক্ষার পরিবেশ উন্নত করতে যা যা প্রয়োজন, প্রশাসন তা নিশ্চিত করবে।

পরবর্তীতে জাতীয় শিক্ষা সপ্তাহ ২০২৬ উপলক্ষে আয়োজিত পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানে কৃতী শিক্ষার্থী ও শিক্ষকদের মাঝে পুরস্কার বিতরণ করা হয়। এ সময় তিনি বলেন, মেধাবীদের স্বীকৃতি দেওয়া মানে ভবিষ্যৎ বাংলাদেশকে শক্ত ভিত্তির ওপর দাঁড় করানো। শিক্ষার্থীদের সৃজনশীলতা ও নৈতিক শিক্ষা সমানভাবে গুরুত্ব পেতে হবে।

এরপর বড়াইগ্রাম থানা পরিদর্শন করে সার্বিক আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি সম্পর্কে খোঁজখবর নেওয়া হয়। জেলা প্রশাসক বলেন, জনগণের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা প্রশাসনের প্রধান দায়িত্ব। সেবাপ্রার্থীরা যেন দ্রুত ও হয়রানিমুক্ত সেবা পান, তা নিশ্চিত করতে হবে।

দিনব্যাপী কর্মসূচির অংশ হিসেবে বড়াইগ্রাম পৌরসভা এবং মাঝগাও ইউনিয়ন পরিষদ পরিদর্শন করা হয়। উন্নয়ন প্রকল্পের অগ্রগতি, প্রশাসনিক স্বচ্ছতা এবং জনসেবার মানোন্নয়নে গুরুত্বারোপ করা হয়।

সবশেষে বড়াইগ্রাম উপশহরের জলাবদ্ধতা নিরসনে চলমান পরিস্থিতি সরেজমিনে পরিদর্শন করে সংশ্লিষ্টদের দ্রুত কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশ দেন জেলা প্রশাসক। তিনি বলেন, জলাবদ্ধতা জনদুর্ভোগের অন্যতম কারণ। সমন্বিত উদ্যোগে দ্রুত টেকসই সমাধান নিশ্চিত করতে হবে।

ইউএনও লায়লা জান্নাতুল ফেরদৌস স্থানীয় সমস্যাগুলো তুলে ধরে জানান, উপজেলা প্রশাসন ইতোমধ্যে প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি গ্রহণ করেছে এবং জেলা প্রশাসনের নির্দেশনা অনুযায়ী কার্যক্রম এগিয়ে নেওয়া হবে।


দৌলতদিয়ায় মহাসড়কে পাশে অবৈধভাবে গড়ে উঠেছে বালুর চাতাল, ভোগান্তিতে মানুষ 

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
রাজবাড়ী প্রতিনিধি

রাজবাড়ীর গোয়ালন্দ উপজেলার দৌলতদিয়া ইউনিয়নের সাত্তার মেম্বার পাড়ায় বালুর চাতালে পানিতে জলাবদ্ধতায় ভোগান্তিতে প্রায় ১৮ থেকে ২০টি পরিবারের শতাধিক মানুষ। বসতবাড়ির আঙিনা থেকে শুরু করে চলাচলের রাস্তাঘাট, এমনকি টয়লেট ও রান্নাঘর পর্যন্ত পানিতে ডুবে আছে। এছাড়া মহাসড়কের পাশে গড়ে উঠেছে অবৈধ এসব বালুর চাতাল।

স্থানীয়দের অভিযোগ, কিছু প্রভাবশালী ব্যাক্তির দলের নাম ভাঙ্গিয়ে এসব চাতাল তৈরি করে বালুর ব্যবসা করে আসছে। বালু আনলোডের ফলে বর্ষার শুরুতেই এলাকায় স্থায়ী জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়েছে।

এদিকে বাইপাস সড়কসহ দৌলতদিয়ার বিভিন্ন স্থানে অবৈধ বালু ব্যবসা জমজমাট ব্যবসা চলছে। দীর্ঘদিন ধরে প্রভাবশালীরা মহাসড়কের পাশে বালুর চাতাল তৈরি করে অবৈধ বালুর ব্যবসা করে আসছে। ফলে ফেরিতে উঠা ও নামার যানবাহন চলাচল ব্যহত হচ্ছে। পদ্মা নদী থেকে বালুবাহী বাল্কহেডে ভর্তি করে ড্রেজার মেশিন দিয়ে মহাসড়কের পাশে এসব বালুর স্তূপ গড়ে উঠেছে। উক্ত চাতাল থেকে বালু নেওয়ার জন্য প্রতিদিন শত শত ড্রাম ট্রাক ব্যবহৃত হচ্ছে। ড্রাম ট্রাকের চাকায় সড়ক ও জনপদ বিভাগের কোটি টাকা ব্যয়ে তৈরি ড্রেন লাইন ভেঙে চুরমার হয়ে যাচ্ছে। ফলে বৃষ্টির পানি সড়ক থেকে ড্রেন দিয়ে নদীতে বের করার পথ বন্ধ হয়ে গেছে। অপরদিকে লাইসেন্স বিহীন অপ্রাপ্ত চালক দিয়ে চালানো হচ্ছে ড্রামট্রাকগুলো।

তবে বিআইডব্লিউটিএ সূত্র থেকে জানা যায়, এ সমস্ত বালুর চাতাল স্থানীয় প্রভাবশালীদের ছত্রছায়ায় পরিচালিত হয় এগুলো কোন জমিই লিজ নেওয়া হয়নি।

স্থানীয় ভুক্তভোগীরা জানান, রাজনৈতিক পরিচয়সম্পন্ন ব্যক্তিদের চাতাল হওয়ায় সরাসরি প্রতিবাদ করার সাহস পান না অনেকেই। দিনের পর দিন পানিবন্দি অবস্থায় থেকে স্বাস্থ্যঝুঁকি ও দৈনন্দিন জীবনযাত্রায় নেমে এসেছে নাভিশ্বাসে।

শ্রমিক দলের সভাপতি ও চাতালের বালু ব্যবসায়ী সরোয়ার হোসেন মোল্লা বলেন, “আমার চাতালে মাঝে মাঝে বালু রাখা হয়। সেখান থেকে পানি জমে না বা সেখান থেকে পানি ঐ সমস্ত বাড়িতে যাওয়ার সুযোগ নেই। বরং জগোদিশ সরকার প্রতিদিন ৫-৭টি বলগেট বালু নামায়। তার চাতালের পানিতেই এই জলাবদ্ধতা তৈরি হয়েছে।

গোয়ালন্দ ঘাট থানার অফিসার ইনচার্জ মো. মমিনুল ইসলাম বলেন, কোন অবৈধ ব্যবসা চলতে দেয়া যাবেনা৷ ইতিমধ্যে আমরা মৌখিক অভিযোগ পেয়েছি, আমরা দ্রুত এ বিষয়ে ব্যবস্থা নিবো।

বিআইডব্লিউটিএর বন্দর ও পরিবহন কর্মকর্তা আরিচা অঞ্চল সুব্রত রায় বলেন, নদীর আশেপাশে কোন অবস্থায় বালুর চাতাল করা যাবে না এবং আমরা কোন রকম অনুমতি দেইনি। গতবছর উপজেলা নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের সাথে করে অভিযান পরিচালনা করা হয়েছিল এবারও খুব শীঘ্রই অভিযান পরিচালনা করা হবে। বিষয়টি নিয়ে আমি গোয়ালন্দ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার সাথে কথা বলবো।

গোয়ালন্দ উপজেলা নির্বাহী অফিসার সাথী দাস বলেন, কয়েকদিন আগে আমরা কয়েকটি গাড়ি আটক করে ভ্রাম্যমাণ আদালতে জরিমানা করেছি এবং তারা মুচলেকা দিয়েছে বলেছে খোলা ট্রাকে বালু পরিবহন করবেনা। এছাড়াও গাড়ি চলাচলের নিয়ম, লোড-আনলোডের বিষয়ে সতর্ক করেছিলাম। তিনি আরও বলেন, আজকেও আমি দেখে আসছি সড়কের পাশে ট্রাকগুলো দাঁড়িয়ে ভেকুর সাহায্যে বালু লোড করছে। আমরা খুব দ্রুত তাদেরকে ডেকে বসবো এবং সতর্ক করবো, না শুনলো কঠোর অবস্থানে প্রশাসন ব্যবস্থা গ্রহণ করবে।


ব্যবসায়ীকে হত্যায় যুবকের মৃত্যুদণ্ড

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নারায়ণগঞ্জ প্রতিনিধি

নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জে হেকমত আলী (৪০) নামের এক ব্যবসায়ীকে হত্যার ঘটনায় এক যুবককে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন আদালত। একই সঙ্গে আরও একজনকে ৫ বছরের সশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। মঙ্গলবার (১৭ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে নারায়ণগঞ্জ জেলা ও দায়রা জজ মো. আবু শামীম আজাদ এই রায় ঘোষণা করেন। দণ্ডপ্রাপ্ত হলেন রূপগঞ্জের মোল্লাবাড়ি ইয়াকুব হোসাইনের ছেলে রফিকুল ইসলাম সবুজ (৩০)।

তাকে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়েছে। রায় ঘোষণার সময় সে পলাতক ছিল। তার ভাই মাহফুজুর রহমানকে (২৬) ৫ বছরের সশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। রায় ঘোষণার সময় সে উপস্থিত ছিল।

কোর্ট পুলিশ পরিদর্শক মো. আব্দুস সামাদ (পিপিএম) বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

মামলার নথিসূত্রে জানা যায়, হেকমত আলী রূপগঞ্জের কালাদি এলাকার মৃত কদম আলীর ছেলে। তিনি ভুলতা নুর ম্যানশন মার্কেটে মোটর পার্টসের দোকান হাসান এন্টারপ্রাইজের মালিক ছিলেন। ২০২০ সালের ৪ এপ্রিল থেকে নিখোঁজ ছিলেন হেকমত আলী।

পরে ১৪ এপ্রিল তার দোকানের কর্মচারী রফিকুল ইসলাম সবুজ, তার ভাই মাহফুজুর রহমান, মামুন মিয়া ও বাবা ইয়াকুব মোল্লাকে আসামি করে অপহরণ ও গুমের অভিযোগে মামলা করেন হেকমতের স্ত্রী রোকসানা বেগম।

আসামিদের মধ্যে রফিকুল ইসলাম সবুজকে গ্রেপ্তারের পর নিবিড় জিজ্ঞাসাবাদে হত্যার কথা স্বীকার করেন। সবুজ জানায়, শ্বাসরোধ করে হত্যার পর বস্তাবন্দি লাশ ড্রামের ভেতরে ঢুকিয়ে সিমেন্ট দিয়ে ঢালাই করে বন্ধ করে দেওয়া হয়। পরে সেটি মাছের খামারে ফেলে দেওয়া হয়। তিন মাস পর লাশ উদ্ধার করা হয়।

এই ঘটনায় আদালত সাক্ষী প্রমাণের ভিত্তিতে এ রায় ঘোষণা করা হয়।


কুষ্টিয়ায় ইউটিউব ভিলেজ থেকে মহাবিপন্ন ঘড়িয়াল উদ্ধার

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
কুষ্টিয়া প্রতিনিধি

কুষ্টিয়ার খোকসা উপজেলার শিমুলিয়া ইউটিউব ভিলেজ পার্কের চৌবাচ্চা থেকে মহাবিপন্ন প্রাণি ঘড়িয়াল উদ্ধার করা হয়েছে। এটির দৈর্ঘ্য দুই ফুট ৬ ইঞ্চি। মঙ্গলবার (১৭ ফেব্রুয়ারি) বিকেল ৩টার দিকে এক সংবাদকর্মীর দেওয়া তথ্যানুযায়ী ঘড়িয়ালটি উদ্ধার করেন বনবিভাগের কর্মকর্তারা। এছাড়াই একস্থান থেকে তিনটি কাছিম উদ্ধার করা হয়। এ সময় উপস্থিত ছিলেন কুষ্টিয়ার জগতি বনবিভাগের ডেপুটি রেঞ্জার (ভারপ্রাপ্ত) মো. আবু বকর সিদ্দিক, খোকসা উপজেলা বনববিভাগের কর্মকর্তা গোলাম কাজী, সাংবাদিক, পার্কের কর্মকর্তা–কর্মচারী।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, বিগত বছরের অক্টোবর মাসে শিমুলিয়ার একটি বিল থেকে এক জেলের মাছ ধরা জালে ঘড়িয়ালটি ধরা পড়ে। এরপর ওই জেলেরা নামমাত্র টাকায় এটিকে খোকসার শিমুলিয়া ইউটিউব ভিলেজ পার্ক মালিক দেলোয়ার হোসেনের কাছে বিক্রি করে দেন। পার্কের মালিক ঘড়িয়ালটিকে পার্কের ভেতরের একটি চৌবাচ্চায় জরাজীর্ণ অবস্থায় রেখে দেন। সম্প্রতি এক দর্শনার্থী ওই পার্কের চৌবাচ্চায় ঘড়িয়ালটিকে দেখে এনটিভি অনলাইনের কুমারখালী ও খোকসা প্রতিনিধি এম আর নয়নকে জানান। খবর পেয়ে নয়ন খোকসা ও কুষ্টিয়া বনবিভাগ কর্মকর্তাদের অবহিত করেন। মঙ্গলবার (১৭ ফেব্রুয়ারি) বিকেলে পার্কটিতে অভিযান চালিয়ে মহাবিপন্ন প্রাণি ঘড়িয়াল ও তিনটি কাছিম উদ্ধার করে বনবিভাগ।

কুষ্টিয়া বনবিভাগ সূত্রে জানা গেছে, ১৯৭০ দশক থেকে মহাবিপন্ন প্রায় মিঠাপানির প্রাণি ঘড়িয়াল। বর্তমানে বাংলাদেশে চারটির মতো বড় ঘড়িয়াল নদীতে থাকার সম্ভাবণা রয়েছে।

এ বিষয়ে শিমুলিয়া ইউটিউব ভিলেজ পার্কের মালিক দেলোয়ার হোসেন বলেন, অক্টোবর মাসে জেলের জালে ধরা পড়েছিল ঘড়িয়ালটি। ওই জেলেকে সামন্য কিছু টাকা দিয়ে ঘড়িয়ালটি কিনে পার্কে রেখেছিলাম। তবে এভাবে প্রাণিটিকে রাখা অবৈধ তা জানা ছিলনা।

সাংবাদিক নয়ন বলেন, একজন দর্শনার্থীর দেওয়া তথ্যমতে ঘড়িয়ালটি নিরাপত্তার সার্থে সংবাদ প্রকাশের আগেই বিষয়টি বনবিভাগকে জানানো হয়েছিল। নির্বাচনের কারনে ঘড়িয়ালটি উদ্ধারে কালক্ষেপন হয়েছে। মঙ্গলবার (১৭ ফেব্রুয়ারি) বিকেলে ঘড়িয়ালটিকে উদ্ধার করেছে বনবিভাগ।

এ তথ্য নিশ্চিত করে ডেপুটি রেঞ্জার (ভারপ্রাপ্ত) মো. আবু বকর সিদ্দিক বলেন, সাংবাদিকদের সহযোগীতায় ইউটিউব ভিলেজ পার্ক থেকে মহাবিপন্ন একটি ঘড়িয়াল ও তিনটি কাছিম উদ্ধার করা হয়েছে। এগুলো প্রকৃতিতে অবমুক্ত করা হবে। তাঁতা ভাষ্য, বন্যপ্রাণী সংরক্ষণ ও নিরাপত্তা আইন ২০১২ অনুযায়ী ঘড়িয়াল ও কাছিম ধরা, মারা ও সংরক্ষণ করা বেআইনি। পরবর্তীতে বিধিমতে পার্ক কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।


নেত্রকোনায় পুলিশের মাসিক অপরাধ পর্যালোচনা সভা

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নেত্রকোনা প্রতিনিধি

নেত্রকোনা জেলা পুলিশের মাসিক অপরাধ পর্যালোচনা হয়েছে। মঙ্গলবার (১৭ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে পুলিশ সুপারের কার্যালয়ের সম্মেলন কক্ষে এ সভা হয়। এতে সভাপতিত্ব করেন পুলিশ সুপার মো. তরিকুল ইসলাম।

সভায় লার প্রতিটি থানার অপরাধচিত্র বিশ্লেষণ ও মামলা নিষ্পত্তির অগ্রগতি নিয়ে আলোচনা করাসহ থানা এলাকায় মাদক উদ্ধার, পরোয়ানা তামিল এবং চুরি-ছিনতাই রোধে পুলিশি তৎপরতা বাড়ানোর ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়। পুলিশ সুপার সাধারণ মানুষের দোরগোড়ায় সেবা পৌছে দিতে থানা এলাকায় পুলিশিং কার্যক্রমকে আরও গতিশীল করার নির্দেশ প্রদানসহ আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে নিষ্ঠা, পেশাদারিত্ব ও সততার সাথে দায়িত্ব পালনের জন্য উপস্থিত সবার প্রতি আহ্বান জানান।

সভায় উপস্থিত ছিলেন অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (প্রশাসন ও অর্থ) রেজওয়ান আহমেদ, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ডিএসবি) হাফিজুল ইসলাম, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার সদর সার্কেল স্বজল কুমার সরকার, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার খালিয়াজুরী সার্কেল সাহিদুর রহমান, সহকারী পুলিশ সুপার দূর্গাপুর সার্কেল, আল ইমরানুল আলম, সহকারী পুলিশ সুপার কেন্দুয়া সার্কেল মো. গোলাম মোস্তফা, সহকারী পুলিশ সুপার (শিক্ষানবিশ) ফাইয়াজ সার্জিল, নেত্রকোনা সদর মডেল থানার ওসি মো. আল মামুন সরকার প্রমুখ।


কালীগঞ্জ বাজারে অভিযান, ৪ মামলায় ১৭ হাজার টাকা জরিমানা

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
প্রতিবেদক, দৈনিক বাংলা

গাজীপুরের কালীগঞ্জ বাজারে নিত্যপণ্যের মূল্য নিয়ন্ত্রণ ও বাজার ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করতে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করা হয়েছে। মঙ্গলবার (১৭ ফেব্রুয়ারি) অভিযান পরিচালনা করেন কালীগঞ্জ উপজেলার সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট জাকিয়া সরওয়ার লিমা।

অভিযানে সর্বমোট ৪টি মামলা করা হয় এবং মোট ১৭,০০০ টাকা অর্থদণ্ড আদায় করা হয়।

ভ্রাম্যমাণ আদালত সূত্রে জানা যায়, অধিক মূল্যে পণ্য বিক্রি ও মূল্য তালিকা প্রদর্শন না করার অপরাধে ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ আইন ২০০৯ এর ৩৮ ও ৪০ ধারায় ৩টি মামলায় মোট ১৫,০০০ টাকা জরিমানা করা হয়। এ ছাড়া লাইসেন্স নবায়ন না থাকায় স্থানীয় সরকার (পৌরসভা) আইন ২০০৯-এর ১০৯ ধারা মোতাবেক ১টি মামলায় ২,০০০ টাকা জরিমানা করা হয়।

রমজানকে সামনে রেখে বাজারে অস্থিরতা রোধ ও নিত্যপণ্যের দাম সহনীয় পর্যায়ে রাখতে এ বাজার মনিটরিং কার্যক্রম পরিচালিত হয়। অভিযানে প্রসিকিউটর হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন রাষ্ট্রপক্ষ এবং বেঞ্চ সহকারী হিসেবে উপস্থিত ছিলেন মাহবুবুল ইসলাম।

স্থানীয় ক্রেতারা বাজার মনিটরিং কার্যক্রমকে স্বাগত জানিয়ে বলেন, ‘নিয়মিত তদারকি অব্যাহত থাকলে দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণে থাকবে এবং সাধারণ মানুষ স্বস্তি পাবে।’


নওগাঁয় সাংবাদিককে মারধর করে মোটরসাইকেল ছিনতাই

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নওগাঁ প্রতিনিধি

নওগাঁয় এক সাংবাদিককে মারধর করে মোটরসাইকেল ছিনিয়ে নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। হামলাকারীরা সাংবাদিককে তার পত্রিকা অফিসে আটকে রেখে বাইরে তালা মেরে দেয়। পরে পুলিশ এসে ওই সাংবাদিককে উদ্ধার করে।

মঙ্গলবার (১৭ ফেব্রুয়ারি) বেলা পৌনে ১১টার দিকে নওগাঁ শহরের তাজের মোড় এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। ছিনতাইয়ের শিকার সাংবাদিক আরিফুল ইসলাম রনক (৩২) নওগাঁ জেনারেল হাসপাতালে চিকিৎসাধীন।

আরিফুল ইসলাম দেশ রূপান্তর পত্রিকার রাণীনগর উপজেলা প্রতিনিধি এবং নওগাঁ থেকে প্রকাশিত দৈনিক বরেন্দ্রকণ্ঠ পত্রিকার সহ-সম্পাদক হিসেবে কর্মরত। তার বাড়ি নওগাঁ শহরের চকরামপুর এলাকায়।

আরিফুল ইসলাম বলেন, নওগাঁ শহরের তাজের মোড়ে আকন্দ মার্কেটে একটি দোকানের সামনে মোটরসাইকেল রাখাকে কেন্দ্র করে মঙ্গলবার (১৭ ফেব্রুয়ারি) সকাল ৯টার দিকে রায়হান রানা নামের এক দোকানদারের সঙ্গে শুভ (৪০) নামের এক ব্যক্তির কথা কাটাকাটি শুরু হয়। কথা কাটাকাটি হতে দুজনের মধ্যে হাতাহাতি হয়। এ সময় আরিফুল ইসলাম আকন্দ মার্কেটে বরেন্দ্র কন্ঠ পত্রিকা অফিসে অবস্থান করছিলেন। গণ্ডগোল শুনে বাইরে এসে গণ্ডগোলের ভিডিও ধারন করে। এ সময় শুভ ও সেতু তার মোবাইল কেড়ে নেয় ও হুমকি-ধামকি দিয়ে চলে যায়। পরবর্তীতে ওই মোটরসাইকেলের মালিক শুভ ও স্থানীয় বাসিন্দা সেতুর নেতৃত্বে ১৫-১৬ জন যুবক সন্ত্রাসী কায়দায় আরিফুল ইসলামের ওপর হামলা চালায়। তারা আরিফুলকে এলোপাতাড়িভাবে কিল-ঘুষি মারে। প্রাণ বাঁচাতে আরিফুল দৌঁড়িয়ে বরেন্দ্রকণ্ঠ পত্রিকা অফিসে ঢুকে পড়লে হামলাকারিরা বাইরে থেকে পত্রিকা অফিসটি তালা মেরে দেয়। পরে হামলাকারীরা পত্রিকা অফিসের সামনে থাকা আরিফুলের পালসার ব্র্যান্ডের মোটরসাইকেল ছিনতাই করে নিয়ে যায়।

এ বিষয়ে দৈনিক বরেন্দ্রকণ্ঠ পত্রিকার সম্পাদক ও নওগাঁ জেলা প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক বেলায়েত হোসেন বলেন, দোকানের সামনে মোটরসাইকেল রাখাকে কেন্দ্র করে দোকানদারের সঙ্গে এক যুবকের হাতাহাতি হয়। হাতাহাতির এই ঘটনা থামাতে গিয়েছিল আমার সহকর্মী আরিফুল ইসলাম রনক। হাতাহাতির এই ঘটনা থেমে যাওয়ার পর ওই দোকানদার দোকান বন্ধ করে চলে যায়। কিন্তু ওই মোটরসাইকেলের মালিক সন্ত্রাসীবাহিনী নিয়ে এসে সংঘবদ্ধভাবে আমার সহকর্মী আরিফুলের ওপর হামলা চালায় এবং তালা ভেঙে তার মোটরসাইকেলটি ছিনিয়ে নিয়ে যায়। শুধু তাই নয়, তারা আমার সংবাদকর্মীকে ভেতরে আটকে রেখে সংবাদপত্র অফিসে তালা মেরে দেয়। আমার জানা মতে, এ ঘটনায় থানায় অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে। এ ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত করে প্রকৃত দোষী ব্যক্তির শাস্তি নিশ্চিত করার দাবি জানাচ্ছি।’

এ বিষয়ে নওগাঁ সদর থানার ওসি নিয়ামুল হক বলেন, দোকানের সামনে মোটরসাইকেল রাখাকে কেন্দ্র করে তাজের মোড় আকন্দ মার্কেটে দুপক্ষের মধ্যে মারামারি ঘটনা ঘটে। সেখানে আরিফুল ইসলাম ও শুভ নামের দুই ব্যক্তি আহত হয়েছেন। এ ঘটনায় উভয়পক্ষ থানায় অভিযোগ দায়ের করেছে। বিষয়টি নিয়ে তদন্ত চলছে। তদন্ত করে প্রকৃত দোষী ব্যক্তিকে আইনের আওতায় আনা হবে।


মাগুরায় গাছের ডালে ঝুলছিল প্রবাসীর মরদেহ

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
মাগুরা প্রতিনিধি

মাগুরা সদর উপজেলার রাঘবদাইড় ইউনিয়নে গলায় গামছার ফাঁস দেওয়া অবস্থায় মো. নজির মন্ডল (৫৫) নামে এক প্রবাসীর ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। নাজির মন্ডল দীর্ঘদিন প্রবাসে ছিলেন। তিনি দক্ষিণ মির্জাপুর বাল্য গ্রামের বাসিন্দা এবং ফটিক মন্ডলের ছেলে।

মঙ্গলবার (১৭ ফেব্রুয়ারি) সকালে বাল্যবাজার সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের পেছনে একটি লিচু বাগান থেকে মরদেহটি উদ্ধার করা হয়। স্থানীয়রা প্রথমে গাছের সঙ্গে ঝুলন্ত অবস্থায় মরদেহ দেখতে পেয়ে পুলিশে খবর দেন।

জানা গেছে, গত সোমবার (১৬ ফেব্রুয়ারি) দুপুর ২টার পর থেকে তিনি নিখোঁজ ছিলেন। পরিবারের সদস্যরা অনেক খোঁজাখুঁজির পরও তার সন্ধান পাননি। সকালে এলাকাবাসীর মাধ্যমে ঝুলন্ত মরদেহের খবর পাওয়া যায়।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, একজন গ্রামবাসী প্রথমে লিচু বাগানে গলায় গামছার ফাঁস দেওয়া অবস্থায় তাকে দেখতে পান। পরে তিনি চিৎকার করে লোকজন জড়ো করেন।

এ ঘটনায় এলাকায় নানা আলোচনা চলছে। কেউ এটিকে আত্মহত্যা বলছেন, আবার কেউ হত্যাকাণ্ডের আশঙ্কা করছেন। খবর পেয়ে রাঘবদাইড় লক্ষীপুর পুলিশ ক্যাম্পের সদস্যরা ঘটনাস্থলে পৌছে মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য মাগুরা সদর হাসপাতালে পাঠান।

রাঘবদাইড় পুলিশ ক্যাম্পের এসআই মোক্তার বলেন, এখনই কোনো কিছু বলা যাচ্ছে না। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পেলে মৃত্যুর প্রকৃত কারণ জানা যাবে। তবে লাশের বর্তমান অবস্থা দেখে মনে হচ্ছে ঘটনা ভিন্ন কিছু।


banner close