পদ্মা সেতু যেন আশীর্বাদ হয়ে উঠেছে দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের জন্য। এ সেতু চালু হওয়ার পর থেকে মোংলা সমুদ্র বন্দরসহ আশপাশ এলাকাজুড়ে নতুন করে শুরু হয়েছে উন্নয়নের এক মহাযজ্ঞ। এতে সেতুর ওপর যেমন বেড়েছে যান চলাচল, তেমনি এ বন্দরে বেড়েছে কর্মব্যস্ততাও। গতি এসেছে দেশের দ্বিতীয় বৃহত্তম সমুদ্রবন্দর মোংলার আমদানি-রপ্তানি কার্যক্রমে। সেতুর সুফলে এ বন্দর হয়ে পোশাকপণ্য যাচ্ছে ইউরোপসহ বিভিন্ন দেশে। এছাড়া বন্দরের আশপাশে এরই মধ্যে গড়ে উঠেছে নতুন নতুন শিল্প কারখানা। এতে মোংলা বন্দর ঘিরে খুলে গেছে সম্ভাবনার নতুন দিগন্ত।
চাপ সামলাতে মোংলা বন্দরের সক্ষমতা বাড়ানোর উদ্যোগ নিয়েছে কর্তৃপক্ষ। এর অংশ হিসেবে বন্দর ব্যবহারকারীদের জরুরি বার্তা সেবা বা ভেসেল ট্রাফিক ম্যানেজমেন্ট ইনফরমেশন সিস্টেমের উন্নয়ন, সারফেস ওয়াটার ট্রিটমেন্ট প্লান্ট স্থাপন, কন্টেইনার ইয়ার্ড সংস্কার, চ্যানেলের ২৩ কিলোমিটার ড্রেজিং ও বর্জ্য ব্যবস্থাপনা আধুনিকায়নসহ নানা ধরনের অবকাঠামোগত উন্নয়ন এগিয়ে চলছে।
গত বছরের ২৫ জুন ৬ দশমিক ১৫ কিলোমিটার দৈর্ঘ্যের পদ্মা সেতুর উদ্বোধন হয়। এরপর এ সেতু দিয়ে যান চলাচল শুরু হয় ২৬ জুন। সেতুটি চালুর মধ্য দিয়ে দেশের অর্থনীতিতে সূচনা হয় নতুন এক অধ্যায়ের। বিশেষ করে দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের জেলাগুলোতে খুলে যায় অর্থনীতির নতুন দুয়ার। পাল্টে যায় এই অঞ্চলের মানুষের জীবনমানও।
মোংলা বন্দর কর্তৃপক্ষের উপ-সচিব (বোর্ড ও জনসংযোগ বিভাগ) মো. মাকরুজ্জামান জানান, প্রতিবেশী ভারত, নেপাল ও ভুটানকে মোংলা বন্দর ব্যবহারের সুযোগ দেয়ায় দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার বৃহৎ বাণিজ্যিক কেন্দ্রে পরিণত হতে যাচ্ছে এ বন্দর। এছাড়া এশিয়া, ইউরোপ, মধ্যপ্রাচ্য, অস্ট্রেলিয়া ও যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বাণিজ্যিক সম্পর্ক জোরদার হয়েছে। পদ্মা সেতু চালুর পর থেকে মোংলা বন্দর দিয়ে পোশাকপণ্য রপ্তানিও শুরু হয়েছে। আগে স্বল্প পরিসরে পোশাকপণ্য রপ্তানি হলেও সেতু চালুর পর থেকে তার পরিমাণ অনেক বেড়ে গেছে।
তিনি বলেন, সেতুর চালুর পর মোংলা বন্দর থেকে প্রথম পোশাকপণ্য রপ্তানি হয় ইউরোপের দেশ পোল্যান্ডে। এরপর ৭ জুলাই দ্বিতীয় চালান, চলতি বছরের ৫ মে তৃতীয় চালান, ৬ জুন চতুর্থ চালানের পোশাকপণ্য রপ্তানি হয়েছে। এছাড়া ডেনমার্ক ও গ্রেট ব্রিটেনেও পোশাকপণ্য গেছে সেতু চালুর পর।
মোংলা বন্দর কর্তৃপক্ষের প্রধান পরিকল্পনা কর্মকর্তা মো. জহিরুল হক বলেন, পদ্মা সেতুকে ঘিরে মোংলা বন্দরের আধুনিকায়নের জন্য আরও নতুন নতুন অনেক প্রকল্প বাস্তবায়নের পরিকল্পনা নেয়া হয়েছে। এসব প্রকল্প বাস্তবায়নের কাজ দ্রুত এগিয়ে চলছে। বন্দরের ড্রেজিং ব্যবস্থা উন্নয়নে ৭৯৪ কোটি টাকা ব্যয়ে একটি প্রকল্প বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। এ প্রকল্পের আওতায় পশুর চ্যানেলের জয়মনিরঘোল থেকে বন্দর জেটি পর্যন্ত ২৩ কিলোমিটার ড্রেজিং করা হচ্ছে। চ্যানেলটির ড্রেজিংয়ের কাজ শেষ হলে ৯ দশমিক ৫০ মিটার থেকে ১০ মিটার গভীরতার কন্টেইনারবাহী জাহাজ সরাসরি জেটিতে ভিড়তে পারবে।
তিনি আরও বলেন, বন্দরের কন্টেইনার রাখার স্থান বাড়াতে প্রায় ১৪ কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত হচ্ছে কন্টেইনার ইয়ার্ড, যার ধারণক্ষমতা হবে এক হাজার ৫০টি কন্টেইনার। এছাড়া মোংলা বন্দরে আসা বিদেশি জাহাজে ও বন্দর শিল্পাঞ্চলের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের সুপেয় পানির চাহিদা মেটাতে ২৫ কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মাণ করা হয়েছে সারফেস ওয়াটার ট্রিটমেন্ট প্ল্যান্ট। পাশাপাশি বন্দর ব্যবহারকারীদের জন্য জরুরি বার্তা সেবা কার্যক্রমের উন্নয়ন করা হচ্ছে। এর মাধ্যমে বন্দর চ্যানেলে প্রবেশ করা প্রতিটি জাহাজ তদারকির পাশাপাশি গতিবিধি পর্যবেক্ষণ করা সহজ হবে।
বন্দরের এ কর্মকর্তা বলেন, ৪৩০ কোটি টাকা ব্যয়ে মোংলা বন্দরের বর্জ্য ব্যবস্থাপনা প্রকল্পের কাজও এগিয়ে চলছে। এ প্রকল্প বাস্তবায়িত হলে বন্দরে চলাচলকারী বিভিন্ন বাল্ক, কন্টেইনার, ট্যাংকার ও অন্যান্য জলযান থেকে নিঃসৃত তেল ও পেট্রোলিয়াম বর্জ্যসহ অন্যান্য আর্বজনা সংগ্রহ করা সহজ হবে এবং একই সঙ্গে পশুর চ্যানেল ও বন্দরের আশপাশের নদ-নদীতে বিভিন্ন জাহাজ থেকে নিঃসৃত তেল অপসারণ করাও সহজ হবে। এর ফলে মোংলা বন্দর এলাকায় সামুদ্রিক দূষণ কমানোসহ বন্দর ও চ্যানেল এলাকার পরিবেশের সুরক্ষা নিশ্চিত হবে।
মোংলা বন্দর কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান রিয়ার অ্যাডমিরাল মীর এরশাদ আলী বলেন, পদ্মা সেতুকে কেন্দ্র করে মোংলা বন্দরের উন্নয়নে বেশ কিছু প্রকল্প বাস্তবায়নের উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। এরই মধ্যে বন্দর উন্নয়নে ছয় হাজার ২৫৬ কোটি টাকার প্রকল্প হাতে নেয়া হয়েছে।
তিনি বলেন, আলোচ্য প্রকল্পের আওতায় ১২টি কম্পোনেন্ট থাকবে। এগুলো হচ্ছে বন্দর জেটিতে ১ ও ২ নম্বর কন্টেইনার টার্মিনাল নির্মাণ, কন্টেইনার হ্যান্ডেলিং ইয়ার্ড নির্মাণ, কন্টেইনার ডেলিভারি ইয়ার্ড নির্মাণ, ইয়ার্ড শেড, নিরাপত্তা দেয়াল, অটোমেশন ও অন্যান্য অবকাঠামোসহ বন্দরের সংরক্ষিত এলাকা সম্প্রসারণ, সার্ভিস ভেসেল জেটি শেড ও অফিস নির্মাণ, বন্দর ভবন (প্রশাসনিক) সম্প্রসারণ, এমপিএ টাওয়ার, পোর্ট রেসিডেনশিয়াল কমপ্লেক্স কমিউনিটি সুবিধাদি নির্মাণ, ইকুইপমেন্ট ইয়ার্ড, ইকুইপমেন্ট শেড ও প্রয়োজনীয় যন্ত্রপাতিসহ একটি পুল নির্মাণ, সিগনাল রেড ক্রসিং ও ওভারপাস নির্মাণ, বিনোদন ব্যবস্থাসহ বাঁধ নির্মাণ এবং পাঁচটি হারবার ক্রাফট ক্রয়।
বন্দর কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান আরও বলেন, পদ্মা সেতু চালু হওয়ায় সময় সাশ্রয় ও যোগাযোগ ব্যবস্থা সহজ হয়েছে। এতে ব্যবসায়ীরা এখন মোংলা বন্দর ব্যবহারে অনেক বেশি আগ্রহ দেখাচ্ছেন। বর্তমানে মোংলা বন্দরের নিজস্ব জমিতে ১১টি এলপিজি কারখানা, পাঁচটি সিমেন্ট কারখানাসহ আরও ১০ টি শিল্প কলকারখানা রয়েছে। এছাড়া বন্দর এলাকায় ২৫৮ একর জমিতে বাংলাদেশ অর্থনৈতিক অঞ্চল (বেপজা) প্রতিষ্ঠিত রয়েছে। এসব শিল্প কারখানার কাঁচামাল মোংলা বন্দরের মাধ্যমে পরিবাহিত হয়ে আসছে। ফলে বাণিজ্যিক স্বার্থেই বন্দরের সক্ষমতা বাড়ানোর বিষয়টি সরকারের কাছে অগ্রাধিকার পাচ্ছে।
বন্দরের সুবিধাদি বাড়াতে ১০টি প্রকল্প বাস্তবায়িত হচ্ছে উল্লেখ করে মীর এরশাদ আলী বলেন, পদ্মা সেতু চালুর পর থেকে মোংলা-খুলনা রেললাইন, রেলসেতু ও রামপাল তাপ বিদ্যুৎ কেন্দ্রের দ্বিতীয় ইউনিটের নির্মাণ কাজও দ্রুতগতিতে এগিয়ে যাওয়ায় মোংলা বন্দরকেন্দ্রিক দেশের শিল্প-বাণিজ্যের অপার সম্ভাবনার নতুন দিগন্ত সূচিত হয়েছে। ইতোমধ্যে এ বন্দরকে কেন্দ্র করে গড়ে উঠতে শুরু করেছে নতুন নতুন শিল্প-কলকারখানা। দেশি-বিদেশি বিনিয়োগকারীদের আগ্রহ বেড়েছে মোংলা বন্দরের প্রতি। এতে কর্মচঞ্চল হয়ে উঠেছে গোটা বন্দর এলাকা।
মোংলা বন্দর উপদেষ্টা কমিটির সদস্য ও খুলনা সিটি করপোরেশনের মেয়র তালুকদার আব্দুল খালেক বলেন, মোংলা বন্দরকে ঘিরে বর্তমান সরকারের ব্যাপক উন্নয়ন পরিকল্পনা রয়েছে। পদ্মা সেতু থেকে মোংলা বন্দর পর্যন্ত ছয় লেনবিশিষ্ট সড়ক ও রেল যোগাযোগ স্থাপন, মোংলা ইপিজেড সম্প্রসারণ, স্পেশাল ইকোনমি জোন স্থাপন, রূপসা নদী ও মোংলা-ঘাষিয়াখালী চ্যানেলের নাব্যতা বাড়ানোর উদ্যোগ নেয়া হয়েছে।
তিনি বলেন, বিগত জোট সরকার এ বন্দরকে ধ্বংস করতে কোনো উন্নয়ন করেনি। জোট সরকার দুর্নীতি করে এ বন্দরকে শেষ করে দিয়েছিল। ওই সময় বন্দরে কোনো জাহাজ আসতো না। মোংলা মৃত বন্দরে পরিণত হয়েছিল। সেখান থেকে বর্তমান সরকার এ বন্দরকে টেনে তুলেছে। বন্দরকে ঘিরে এখন চারিদিকে শুধু উন্নয়নের ছোঁয়া।
মোংলা বন্দর ব্যবহারকারী ও মোংলা বন্দর বার্থ শিপ অপারেটর অ্যাসোসিয়েশন উপদেষ্টা মো. মোস্তাক আহম্মেদ মিঠু, সদস্য এইচ এম দুলাল, জিসান রহমান ভুট্টো, মো. মসিউর রহমান বলেন, পদ্মা সেতু এ অঞ্চলের ব্যবসায়ীদের জন্য আশীর্বাদ হয়ে উঠেছে। সেতু চালু হওয়ায় ঢাকা থেকে মোংলা বন্দরের দূরত্ব এখন ১৭০ কিলোমিটার। যেখানে ঢাকা থেকে চট্টগ্রাম বন্দরের দূরত্ব ২৬০ কিলোমিটার। এক্ষেত্রে সময় ও অর্থের সাশ্রয় হচ্ছে। এছাড়া মোংলা বন্দরে জাহাজ হ্যান্ডেলিং দ্রুত ও নিরাপদ হওয়ায় বিদেশি ব্যবসায়ীরাও এ বন্দর ব্যবহারে আগ্রহী হচ্ছেন।
‘সমঅধিকার ও সমমর্যাদাসহ নারীমুক্তির আন্দোলনকে সমাজব্যবস্থার সামগ্রিক বৈপ্লবিক পরিবর্তনের লক্ষ্যে অগ্রসর করুন’—এই আহ্বানে মৌলভীবাজারে পালিত হয়েছে আন্তর্জাতিক নারী দিবস ও গণতান্ত্রিক মহিলা সমিতির ৩২তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী।
রোববার (৮ মার্চ) সকাল সাড়ে ১১টায় কমলগঞ্জ উপজেলার শমসেরনগরস্থ চা-শ্রমিক সংঘের কার্যালয়ে গণতান্ত্রিক মহিলা সমিতি মৌলভীবাজার জেলা শাখার উদ্যোগে এই আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। ১১৬তম আন্তর্জাতিক নারী দিবস উপলক্ষে আয়োজিত এই সভায় সভাপতিত্ব করেন নারী চা-শ্রমিক নেত্রী লক্ষীমনি বাক্তি।
আলোচনা সভায় বক্তারা বর্তমান সমাজে নারী শ্রমিকদের বঞ্চনার চিত্র তুলে ধরে বলেন, উৎপাদন ও অর্থনীতির প্রতিটি ক্ষেত্রে নারীরা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখলেও তারা আজও ন্যায্য অধিকার ও সামাজিক মর্যাদা থেকে বঞ্চিত। বিশেষ করে চা-বাগান, গার্মেন্টস, নির্মাণ ও কৃষিখাতে নিয়োজিত নারী শ্রমিকরা কঠোর পরিশ্রমের বিনিময়ে সমমজুরি পাচ্ছেন না।
সভায় বক্তব্য রাখেন জাতীয় গণতান্ত্রিক ফ্রন্ট, মৌলভীবাজার জেলা শাখার সাধারণ সম্পাদক রজত বিশ্বাস, বাংলাদেশ ট্রেড ইউনিয়ন সংঘ, মৌলভীবাজার জেলা শাখার সভাপতি, মো. নুরুল মোহাইমীন, চা-শ্রমিক সংঘ, মৌলভীবাজার জেলা শাখার সাধারণ সম্পাদক হরিনারায় হাজারা।
এছাড়াও বক্তব্য দেন নারী নেত্রী স্বপ্না গোয়ালা, কাজলী হাজরা, শেফালী রেলী এবং চা-শ্রমিক নেতা সুভাষ গৌড় ও সমীরণ রবিদাসসহ আরও অনেকে।
বক্তারা দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি, পরিবহন ও বাড়িভাড়া বৃদ্ধিতে সাধারণ মানুষের নাভিশ্বাস ওঠার বিষয়টি উল্লেখ করে বলেন, এর ফলে শ্রমজীবী নারীরা চরম জীবন সংকটে পড়েছেন। একইসাথে ক্রমবর্ধমান নারী নির্যাতন, ধর্ষণ ও পাচারের ঘটনায় উদ্বেগ প্রকাশ করে তারা কর্মক্ষেত্রে নিরাপত্তা ও মজুরি বৈষম্য দূর করার দাবি জানান।
পরিশেষে, বক্তারা নারী-পুরুষের ঐক্যবদ্ধ আন্দোলনের মাধ্যমে একটি শোষণমুক্ত সমাজ প্রতিষ্ঠার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
নারায়ণগঞ্জের সিদ্ধিরগঞ্জে ছিনতাইয়ের চেষ্টার সময় গণপিটুনিতে এক অজ্ঞাতপরিচয় তরুণ (২৬) নিহত হয়েছেন। রোববার (৮ মার্চ) সকাল ৬টার দিকে নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশনের ৯ নম্বর ওয়ার্ডের জালকুড়ি কড়ইতলা এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। এ সময় ছিনতাইকারীদের ব্যবহৃত একটি মোটরসাইকেলও আগুন দিয়ে পুড়িয়ে দিয়েছে বিক্ষুব্ধ জনতা। তবে নিহত তরুণের সঙ্গে থাকা আরও দুই সহযোগী পালিয়ে যেতে সক্ষম হয়েছে।
প্রত্যক্ষদর্শী ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, একটি মোটরসাইকেলে করে তিনজন ছিনতাইকারী এসে এক পথচারীর গতিরোধ করে এবং তাঁর মূল্যবান জিনিসপত্র ছিনিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করে। ওই পথচারীর চিৎকারে আশপাশের লোকজন ছুটে এসে ছিনতাইকারীদের ধরার চেষ্টা করে। এ সময় ছিনতাইকারী দলের দুজন দৌড়ে পালিয়ে যেতে পারলেও একজন জনতার হাতে ধরা পড়েন। উত্তেজিত জনতা তাঁকে গণধোলাই দিলে ঘটনাস্থলেই তাঁর মৃত্যু হয়। এরপর জনতা ছিনতাইকারীদের ব্যবহৃত মোটরসাইকেলটিতে আগুন ধরিয়ে দেয়।
সিদ্ধিরগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মহম্মদ আব্দুল বারিক ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানিয়েছেন, খবর পাওয়ার পর পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছায়। তবে পুলিশ পৌঁছানোর আগেই গণপিটুনিতে ওই যুবকের মৃত্যু হয়। নিহত তরুণের নাম-পরিচয় এখনও জানা যায়নি; তাঁর পরিচয় শনাক্তের চেষ্টা চালাচ্ছে পুলিশ। বর্তমানে পুলিশ ঘটনাস্থলে অবস্থান করছে এবং মরদেহটি উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানোর প্রক্রিয়া চলছে। পালিয়ে যাওয়া অন্য দুই ছিনতাইকারীকে শনাক্ত ও গ্রেপ্তারে অভিযান চালানো হবে বলেও তিনি জানান।
আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম বাড়ার আশঙ্কাকে কেন্দ্র করে হঠাৎ করেই সংকট সৃস্টি করে অতিরিক্ত দাম নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে ব্যবসায়িদের বিরুদ্ধে। এজন্য অনেকেই প্রয়োজনের তুলনায় অতিরিক্ত তেল কিনে মজুদ করে তেলের কৃত্রিম সংকট তৈরি করছেন। এই অবস্থা চলছে দেশজুড়েই। এতে বিপাকে পড়েছেন বিভিন্ন যানবাহরেন চালক, কৃষক, শ্রমিক, ইঞ্জিনচালিত নৌকা মালিক ও সাধারণ ভোক্তারা।
কুমিল্লা প্রতিনিধি জানান, নগরীর কয়েকটি ফিলিং স্টেশন ঘুরে দেখা গেছে, কোথাও কোথাও পেট্রোল ও অকটেনের সংকট দেখা দিয়েছে। তেল নিতে এসে অনেক গাড়ি ও মোটরসাইকেল চালককে দীর্ঘ সময় লাইনে দাঁড়িয়ে থাকতে হচ্ছে। কেউ কেউ তেল না পেয়ে ফিরে যাওয়ার অভিযোগও করেছেন।
নগরীর চকবাজার এলাকার নুরুল হুদা পাম্পের ম্যানেজার ইকবাল হোসেন বলেন, সরকারি নীতি অনেক চালকই মানছেন না। মোটরসাইকেলে ২ লিটার পর্যন্ত তেল দেওয়ার কথা থাকলেও অনেকে তার চেয়ে বেশি নিতে চান। তারা একবার তেল নিয়ে আবার ঘুরে এসে লাইনে দাঁড়ান। এভাবে চলতে পারে না।
অন্যদিকে চালকদের অভিযোগ, নির্ধারিত সীমা মেনে তেল বিক্রি না করে অনেক পাম্পে সিন্ডিকেটের মাধ্যমে তেল সরবরাহ নিয়ন্ত্রণ করা হচ্ছে। এতে সাধারণ গ্রাহকদের ভোগান্তি বাড়ছে।
বাহনচালক আবদুল আওয়াল বলেন, পর্যাপ্ত থাকলেও পাম্প মালিক ও অসাধু সিন্ডিকেট কৃত্রিম সংকট তৈরি করছে।
তবে পাম্প মালিকরা দাবি করছেন, হঠাৎ করে বেশি পরিমাণ তেল নেওয়ার প্রবণতা বেড়ে যাওয়ায় সরবরাহে চাপ তৈরি হয়েছে। তাদের মতে, সীমান্তে বিজিবির কড়া নজরদারির ফলে তেল পাচার বন্ধ রাখা সম্ভব হবে।
হরিরামপুর(মানিকগঞ্জ) প্রতিনিধি জানান, হরিরামপুর একটি কৃষিপ্রধান উপজেলা। এখানকার অধিকাংশ কৃষক সেচের কাজে ডিজেল নির্ভর সেচযন্ত্র ব্যবহার করেন। আর চরাঞ্চলে পারাপারের জন্য ইঞ্জিন চালিত নৌকা ব্যবহার করে থাকে, ফলে হঠাৎ তেলের সংকট দেখা দেওয়ায় কৃষিকাজ আর পদ্মানদী পারাপার নিয়ে অতিরিক্ত খরচ নিয়ে দুশ্চিন্তায় পড়েছেন তারা। তবে হরিরামপুরের বিভিন্ন বাজারে সরেজমিনে দেখা গেছে, অতিরিক্ত দাম দিলেই মিলছে ডিজেল, অকটেন, পেট্রোল, সিলিন্ডার গ্যাস। খুচরা ব্যবসায়ীরা বলছেন পাইকারী ব্যবসায়ীরা সংকটের দোহাই আর দাম বেশি নেওয়ায় দাম বৃদ্ধি করতে বাধ্য হচ্ছেন। ফলে গত কয়েকদিনে পাইকার ও খুচরা বিক্রেতারা মিলে কোটি টাকা হাতিয়ে নিয়েছে সাধারণ মানুষের কাছ থেকে।
উপজেলার ঝিটকা,চালা, দিয়াবাড়ি, লেছরাগঞ্জ, আন্ধারমানিক, হরিরামপুর উপজেলা, কান্ঠাপাড়া, বলড়াসহ বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা যায়, সকাল থেকেই ভোক্তারা তেলের খোঁজে এক দোকান থেকে আরেক দোকানে ঘুরছেন। অনেককে খালি গ্যালন হাতে ঘুরতে দেখা গেছে।
রামকৃষ্ণপুর ইউনিয়নের রাকিব জানান, ঝিটকা বাজারে জয়নাল আর মতির দোকানে মজুদ থাকা সত্ত্বেও তেল দিচ্ছে না। আবার গোপনে অতিরিক্ত দাম দিলেই মিলছে তেল।
ঝিটকা নাজারের মেসার্স ওয়াজিহা ট্রেডার্সের দোকানে তেল নিতে এসে ফিরে যান মোটরসাইকেল চালক সামসুল হক মিলন। তিনি বলেন, গাড়িতে তেল নেই। তেল নিতে এসে দেখি দোকান বন্ধ। এখন কীভাবে চলবো বুঝতে পারছি না।
বাল্লা ইউনিয়নের ভাদিয়াখোলা গ্রামের কৃষক কাশেদ আলী বলেন, ডিজেল নিতে এসেছিলাম। দোকান বন্ধ থাকায় ফিরে যেতে হচ্ছে। ডিজেল ছাড়া সেচ দিতে পারবো না। পানি দিতে না পারলে ধানের চারা নষ্ট হয়ে যাবে।
ঝিটকা এলাকার মেসার্স ওয়াজিহা ট্রেডার্সের মালিক মো. সুজন মিয়া বলেন, আমার দোকানে আধা লিটার তেলও নেই। তেলের গাড়ি আসার কথা ছিল, কিন্তু আসেনি।
এ বিষয়ে মানিকগঞ্জ জেলা ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক আসাদুজ্জামান রুমেল বলেন, বিষয়টি আমাদের নজরে এসেছে। কেউ কৃত্রিম সংকট তৈরি করে তেল মজুত করলে তাদের বিরুদ্ধে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
অতিরিক্ত তেল মজুত, মেহেরপুরের বেশিরভাগ তেল পাম্প বন্ধ: মেহেরপুর প্রতিনিধি জানান, জ্বালানি তেলের সংকট হবে এমন আশংকায় অতিরিক্ত তেল মজুদের চেষ্টা করছেন সাধারণ ক্রেতারা। ফলে আমদানির তুলনায় তেলের চাহিদার বেশি হওয়াতে হিমশিম খাচ্ছে পাম্পগুলো। যে কারণে অধিকাংশ তেল পাম্প বন্ধ করে রেখেছেন মালিকরা। ফলে যেখানে পাম্প খোলার খবর পাওয়া যাচ্ছে সেখানেই ছুটছে ক্রেতারা। এ অবস্থা চলতে থাকলে এবার বোরো চাষ বিঘ্ন হবে বলে আশঙ্কা করছেন চাষিরা।
গাংনী উপজেলার নিশিপুর গ্রামের কৃষক ফয়সাল উদ্দিন জানান, তিনি ১০ বিঘা জমিতে বোরো ধান রোপণ করেছেন। তার শ্যালো মেশিনের অধীনে আড়াইশ বিঘা জমিতে সেচ দেওয়া হয়। ৩-৪ দিন ধরে পাম্পগুলো ঘুরে অল্প অল্প করে ডিজেল পেলেও দুদিন ধরে ডিজেল কিনতে পারেননি। ফলে জমিতে সেচ দেওয়া অনিশ্চিত হয়ে গেছে।
আরেক চাষি কাওছার আলী বলেন, তেল পাম্পে তেল কিনতে গেলে এক ঘন্টা লাইন দিয়ে দাড়িয়ে থাকা লাগছে। এক ঘন্টা যদি তেল নিতে গিয়েই ফুরিয়ে যায়। তাহলে অন্য কাজ করবো কখন।
ট্রাকচালক আমিরুল ইসলাম বলেন, আমি সিলেট যাবো। সেজন্য রাতে বামন্দী তেল পাম্পে তেল নিতে গিয়েছিলাম। আমাকে তেল পাম্প মালিক ৩০ লিটারের বেশি তেল দেবেন না। অথচ পুরো পথ যেতে তিনশ লিটার তেলের প্রয়োজন হবে। এভাবে চলতে থাকলে দুরপাল্লার গাড়ি সব বন্ধ হয়ে যাবে।
আরেক ট্রাক চালক শাহারুল ইসলাম বলেন, আমাদের মেহেরপুর থেকে সবজি লোড হয়ে ঢাকা কাওরান বাজারে যায়। কয়েকদিন ঠিকভাবে তেল পাচ্ছি না। ফলে ঢাকার ট্রিপ বাতিল করতে হচ্ছে। এতে এলাকার সবজি চাষিরা লোকশানে পড়বে। ঢাকায় সবজি না পৌছলেও দাম বেড়ে দিগুন হয়ে যাবে।
জেলা তেল পাম্প মালিক সমিতির সভাপতি নুর হোসেন আঙ্গুর বলেন, তেলের দাম বাড়ার কোনো খবর আমাদের কাছে নেই। মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধের খবরে মানুষ আতঙ্কে পাম্পে ভিড় করছে। আমরা মজুত অনুযায়ী নির্ধারিত মূলেই তেল বিক্রি করছি। তবে কোনো কোনো পাম্পের মজুত শেষ হয়ে গেলে ক্রেতারা তা মানতে না চাওয়ায় বাধ্য হয়ে পাম্প বন্ধ করে রাখতে হচ্ছে।
জেলা তেল পাম্প মালিক সমিতির সভাপতি নুর হোসেন আঙ্গুর বলেন, তেলের দাম বাড়ার কোনো খবর আমাদের কাছে নেই। আমরা মজুত অনুযায়ী নির্ধারিত মূলেই তেল বিক্রি করছি। তবে তেলের মজুত শেষ হয়ে গেলে পাম্প বন্ধ করে রাখতে হচ্ছে।
মেহেরপুরের জেলা প্রশাসক ড. সৈয়দ এনামুল কবির বলেন, কৃত্রিম সংকট সৃষ্টি করার চেষ্টা করলে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। অনেকেই আতঙ্কে তেল কিনছে। তবে বিক্রেতাদের বিরুদ্ধে কোনো অভিযোগ নেই। পাম্প মালিকরা প্রাপ্যতা অনুযায়ী তেল বিক্রি করছেন। জেলা প্রশাসন থেকে খোঁজ নেওয়া হচ্ছে।
জীবননগর (চুয়াডাঙ্গা) প্রতিনিধি জানান, জীবননগর ফিলিং স্টেশন, পেয়ারাতলায় মেসার্স উৎসব ফিলিং স্টেশন, সন্তোষপুরে মেসার্স অংগন ফিলিং স্টেশন ও দেহাটিতে মেসার্স পিয়াস ফিলিং স্টেশনে ঘুরে জ্বালানি তেল কেনার জন্য যানবাহনের দীর্ঘ লাইন দেখা গেছে। বিশেষ করে মোটরসাইকেল আরোহীরা তেল কেনার জন্য লাইন দিয়ে দাঁড়িয়ে আছে। অনেকেই আবার বড় কন্টিনার ও প্লাস্টিকের পাত্রে করে তেল নিয়ে যাচ্ছে। এদিকে খুচরা বাজারে তেল বিক্রি বন্ধ হয়ে গেছে। শুধু মাত্র পেট্রোলপাম্প গুলোতে তেল পাওয়া যাচ্ছে। মেসার্স অংগন ফিলিং স্টেশনের ম্যানেজার ফরহাদ হোসেন জানান, গত কয়েকদিন ধরে তেল বিক্রি অস্বাভাবিক হারে বেড়ে গেছে। গাড়ির ট্যাঙ্কি খালি না হলেও সবাই ট্যাঙ্কি ফুল করে তেল নিয়ে যাচ্ছে। গাড়ির ট্যাঙ্কিতে ছাড়াও অনেকেই বিভিন্ন পাত্রে তেল নিচ্ছে। তেল বিক্রি নিয়ে বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশন যে নির্দেশনা দিয়েছে সেই নিয়ম মেনেই তেল বিক্রি করা হবে।
তেল নিতে আসা মোটরসাইকেল চালক ওয়ালিউল্লাহ বলেন, মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধ শুরু হয়েছে। অনেকেই বলছেন তেলের সংকট দেখা দেবে। সামনে ঈদ। ঈদের সময় ঘোরাঘুরির জন্য দেড় হাজার টাকার পেট্রোল কিনে রেখে দিলাম।
পাম্পে তেল কিনতে আসা মোবারক হোসেন বলেন, দেড় বিঘা জমিতে ইরি ধান চাষ করেছি। এখন নিয়মিত জমিতে সেচ দেওয়া লাগছে। শুনছি বিদেশে যুদ্ধ লেগে গেছে যার কারনে বেশি করে ডিজেল তেল কিনে রেখে দিচ্ছি।
রাজবাড়ীর গোয়ালন্দ পৌরসভা কাগজে-কলমে প্রথম শ্রেণির হলেও মহাসড়ক থেকে গোয়ালন্দ বাজার প্রবেশের প্রধান সড়ক খানাখন্দে ভরা। দীর্ঘদিন ধরে সংস্কার না করায় সড়কের বেহাল দশা এ বিষয়ে দৈনিক বাংলায় প্রকাশিত সংবাদ প্রকাশের পর পৌর কর্তৃপক্ষের নজরে আসলে ঈদের আগে জরুরি ভিত্তিতে রাস্তাটি সাময়িক মেরামতের উদ্যোগ নিয়েছে পৌর প্রশাসক ও উপজেলা নির্বাহী অফিসার সাথী দাস। তবে ঈদের পর রাস্তাটি নতুন করে কার্পেটিং এর কাজ শুরু হবে বলে নিশ্চিত করেছেন তিনি।
বেশ কয়েক মাস রাস্তাটি খারাপ থাকায় অটোরিকশা, ভ্যান, মোটরসাইকেলসহ বিভিন্ন যানবাহনের চলাচলে জনদুর্ভোগ দিন দিন বেড়েই চলছিল। এ ছাড়া এই সড়কে একজন তরুণের মর্মান্তিক মৃত্যুসহ ছোট-বড় দুর্ঘটনা ঘটেই চলছিল। সচেতন নাগরিকরা মনে করেন দীর্ঘ দিন গোয়ালন্দ পৌরসভায় জনপ্রতিনিধি না থাকায় এমন কাঙ্ক্ষিত সেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে নগরবাসী।
সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, গোয়ালন্দ বাসস্ট্যান্ড থেকে বাজারের তোড়াইড় মোড় পর্যন্ত প্রায় ১ কিলোমিটার প্রধান সড়কে অনেক খানাখন্দে ভরা স্থানে, মেরামতের কাজ চলছে।
স্থানীয় বেশ কয়েকজন বাসিন্দা জানান, বাসস্ট্যান্ড থেকে বাজার বড় মসজিদ পর্যন্ত সড়কের বিভিন্ন স্থানে খানাখন্দে বেহাল দশা তৈরি হয়েছিল। এতে দুর্ভোগে ওয়ার্ডবাসী ও চলাচলকারী জনসাধারণকে ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছিল। ভাঙা রাস্তায় যান চলাচলেও দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছিল এবং রাস্তাটি ভাঙা থাকার কারণে সিথিল বিশ্বাস সেতু নামে একজন তরুণ অটোরিকশা ও মোটরসাইকেল মুখোমুখি সংঘর্ষে মৃত্যুবরণ করেন। জনসাধারণের দুর্ভোগের বিষয়টি পৌর কর্তৃপক্ষের নজরে আসলে রাস্তাটির মেরামত চলছে। এ জন্য আমরা পৌরবাসী পৌর কর্তৃপক্ষের কাছে কৃতজ্ঞ।
গোয়ালন্দ পৌরসভার প্রকৌশলী মো. ফেরদৌস আলম খান বলেন, ‘পৌরবাসীর দুর্ভোগের কথা চিন্তা করে বাসস্ট্যান্ড থেকে তোড়াইড় মোড় পর্যন্ত প্রায় ১ কিলোমিটার সড়ক জরুরি ভিত্তিতে সাময়িকভাবে মেরামতের কাজ শুরু করা হয়েছে।’
গোয়ালন্দ পৌর প্রশাসক ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সাথী দাস বলেন, ‘গোয়ালন্দ পৌরসভার বাসস্ট্যান্ড থেকে গোয়ালন্দ বাজারমুখী প্রধান সড়কটি খানাখন্দে ভরা ছিল। এতে করে যানবাহনসহ এলাকাবাসীর চলাচলে অসুবিধা হচ্ছিল। জনদুর্ভোগের কথা চিন্তা করে জরুরি ভিত্তিতে ঈদের আগে রাস্তাটি মেরামত করা হচ্ছে। ইতোমধ্যে রাস্তাটির টেন্ডার হয়েছে, ঈদের পরপরই নতুনভাবে কার্পেটিংয়ের কাজ শুরু হবে, তখন আর যানবাহন চলাচলে কোনো ভোগান্তি হবে না।’
বগুড়ায় জমিজমা বিরোধের জের ধরে প্রতিপক্ষের ছুরিকাঘাতে চয়ন রাজভর (৪০) নামে এক যুবক নিহত হয়েছেন। গত শুক্রবার রাত ১০টার দিকে জেলার সারিয়াকান্দি উপজেলার ফুলবাড়ী এলাকায় এ হত্যাকাণ্ড ঘটে। চয়ন রাজভর ফুলবাড়ী এলাকার তুলা রাম রাজভরের ছেলে। তিনি স্থানীয় ফুলবাড়ী দ্য নিউ কনটেস্ট কোচিং সেন্টারের পরিচালক ছিলেন।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, চয়ন রাজভরের পরিবারের সঙ্গে প্রতিবেশীদের জমি নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলছিল। গত শুক্রবার ওই বিরোধকে কেন্দ্র করে উভয় পক্ষের মধ্যে কথা কাটাকাটি শুরু হয়। একপর্যায়ে প্রতিপক্ষের লোকজন উত্তেজিত হয়ে ধারালো অস্ত্র দিয়ে চয়ন রাজভরকে আঘাত করে। গুরুতর আহত অবস্থায় স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে দ্রুত হাসপাতালে নেওয়ার চেষ্টা করলে পথেই তার মৃত্যু হয়।
সারিয়াকান্দি থানার ওসি আসাদুজ্জামান বলেন, ‘জমি নিয়ে পূর্ব বিরোধের জেরে এই হত্যাকাণ্ড হতে পারে বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে। জড়িতদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারে পুলিশ অভিযান শুরু করেছে। নিহতের মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য বগুড়া শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।’
গাজীপুরের কালীগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে আকস্মিক পরিদর্শনে গিয়ে চিকিৎসকদের অনুপস্থিতি, আউটডোর টিকিটে অতিরিক্ত টাকা আদায় এবং প্রেসক্রিপশন অনুযায়ী ওষুধ না দেওয়ার মতো নানা অনিয়মের চিত্র দেখতে পান স্বাস্থ্যমন্ত্রী। এসব ঘটনায় অসন্তোষ প্রকাশ করেন তিনি। শনিবার সকাল ১০টার দিকে স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বপ্রাপ্ত মন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন বকুল হঠাৎ করেই কালীগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে উপস্থিত হন। পরিদর্শনকালে তিনি প্রায় এক ঘণ্টা হাসপাতালে অবস্থান করে পুরুষ ওয়ার্ড, মহিলা ওয়ার্ড, অপারেশন থিয়েটার, আউটডোর বিভাগ এবং ওষুধ বিতরণ কার্যক্রমসহ বিভিন্ন সেবা কার্যক্রম ঘুরে দেখেন।
এ সময় তিনি হাসপাতালে কয়েকজন চিকিৎসক ও কর্মচারীকে অনুপস্থিত দেখতে পান। বিশেষ করে উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. রেজওয়ানা রশিদকে প্রথমে কর্মস্থলে পাওয়া যায়নি। পরে তিনি বাসা থেকে দ্রুত হাসপাতালে এসে উপস্থিত হন। এ সময় মন্ত্রী তার অনুপস্থিতির কারণ জানতে চাইলে তিনি ছুটিতে থাকার কথা জানান। তবে ছুটির কোনো অনুমোদিত কাগজপত্র দেখাতে পারেননি।
পরিদর্শনের সময় চিকিৎসা নিতে আসা কয়েকজন নারী রোগী অভিযোগ করেন, অনেক সময় চিকিৎসকরা সময়মতো হাসপাতালে আসেন না এবং রোগী দেখার পরিবর্তে নিজেদের কক্ষে বসে আলাপ-আলোচনায় ব্যস্ত থাকেন।
এছাড়া আউটডোরে চিকিৎসা নিতে সরকারি নির্ধারিত টিকিট মূল্য ৩ টাকা হলেও খুচরা টাকার অজুহাতে রোগীদের কাছ থেকে ৫ থেকে ১০ টাকা পর্যন্ত আদায়ের অভিযোগ ওঠে।
সরকারি বরাদ্দকৃত ওষুধ বিতরণ নিয়েও অসন্তোষের বিষয়টি সামনে আসে। এক রোগীর হাতে থাকা প্রেসক্রিপশন দেখে স্বাস্থ্যমন্ত্রী লক্ষ্য করেন, প্রেসক্রিপশন অনুযায়ী সব ওষুধ দেওয়া হয়নি। এ বিষয়ে জানতে চাইলে সংশ্লিষ্টরা জানান, পরে বাকি ওষুধ দেওয়া হবে বলে রোগীকে বিদায় করা হয়েছে। তবে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ এ বিষয়ে সন্তোষজনক ব্যাখ্যা দিতে পারেনি।
তবে হাসপাতালের পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা মোটামুটি সন্তোষজনক বলে মন্তব্য করেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী। পাশাপাশি বিভিন্ন অনিয়ম ও ত্রুটি নোট করে দ্রুত প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দেন তিনি।
হাসপাতালে রোগীর অতিরিক্ত চাপের বিষয়টি তুলে ধরে গণমাধ্যমকর্মীরা হাসপাতালটি ৩০০ শয্যায় উন্নীত করার বিষয়ে জানতে চাইলে মন্ত্রী বলেন, এ বিষয়ে স্থানীয় সংসদ সদস্যের পক্ষ থেকে একটি ডিও (D.O.) লেটার প্রয়োজন। ডিও লেটার পাওয়া গেলে বিষয়টি বিবেচনা করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
অনুপস্থিত চিকিৎসক ও কর্মচারীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার বিষয়ে জানতে চাইলে স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, তাদের বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
পরিদর্শনকালে কালীগঞ্জ উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) জাকিয়া সরোয়ার লিমা এবং কালীগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জাকির হোসেনসহ স্থানীয় প্রশাসনের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
স্থানীয়রা মনে করছেন, স্বাস্থ্যসেবার মানোন্নয়নে এ ধরনের আকস্মিক পরিদর্শন গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
নাটোরের সিংড়ায় বাঁশের ঝাড়ে মাটির নিচে পানির ট্যাংকিতে ১০ হাজার লিটার ডিজেল উদ্ধার করেছে উপজেলা প্রশাসন। শনিবার দুপুরে উপজেলার নিংগইন এলাকায় অভিযান চালানো হয়। এ সময় জ্বালানি তেল মজুত রেখে কৃত্রিম সংকট সৃষ্টির অভিযোগে রুবেল হোসন নামে এক ব্যবসায়ীকে ৫ হাজার টাকা জড়িমানা করে ভ্রাম্যমাণ আদালত।
সিংড়া উপজেলা নির্বাহী অফিসার আব্দুল্লাহ আল রিফাত জানান, নিংগইন ভাটোপাড়া মসজিদের দক্ষিণ পাশে বাঁশের ঝাঁড়ের মধ্যে মাটির নিচে পানির ট্যাংকিতে ১০ হাজার লিটার ডিজেল মজুত করে সততা ট্রেডার্সের স্বত্বাধিকারী রুবেল হোসেন। পরে সুনির্দিষ্ট তথ্যের ভিত্তিতে ওই এলাকায় অভিযান চালিয়ে ঘটনার সত্যতা মেলে। পরে বিপুল পরিমাণ তেল অবৈধভাবে মজুত করে কৃত্রিম সংকট সৃষ্টির অপরাধে ব্যবসায়ী রুবেল হোসেনকে ৫ হাজার টাকা জড়িমানা করা হয়। সেই সাথে এই তেল দোকানে স্থানান্তর করে স্বাভাবিক প্রক্রিয়ায় বিক্রির নির্দেশ প্রদান করা হয়।
অভিযানে উপস্থিত ছিলেন, সিনিয়র উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা শাহাদত হোসেন, উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা খন্দকার ফরিদ, উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা মো. তাশরিফুল ইসলাম প্রমুখ।
বসন্তের আগমনে প্রকৃতি যেন নতুন রঙে সেজে ওঠে। চারদিকে যখন পলাশ, শিমুল আর নানা বুনো ফুলের রঙিন সমারোহ, তখন চট্টগ্রামের বোয়ালখালীর জ্যৈষ্ঠপুরা গ্রামে সূর্যব্রত বিলের পাশ দিয়ে যাওয়া একটি গ্রামীণ সড়কের দুই পাশে ফুটে থাকা ভাঁটফুল যেন প্রকৃতির এক অপূর্ব সাজ।
শীতের শেষ আর বসন্তের শুরুতেই গ্রামীণ বাংলার আনাচে-কানাচে, রাস্তার ধারে কিংবা ঝোঁপঝাড়ের মাঝে অযত্নে-অবহেলায় ফুটে ওঠে এই ফুল। দূর থেকে দেখলে মনে হয়, প্রকৃতি যেন নিজ হাতে সাজিয়ে দিয়েছে সাদা-বেগুনি রঙের বিশাল এক ফুলের তোড়া।
স্থানভেদে এ ফুলের নাম ভাঁটফুল, ভাঁটফুল, ঘেটুফুল, বা ঘণ্টাকর্ণ। তবে চট্টগ্রামের বোয়ালখালীসহ পাহাড়ি অঞ্চলে এটি ‘ভাটিফুল’ নামেই বেশি পরিচিত। সাধারণত ফাল্গুনের শেষ থেকে চৈত্রের শুরুতেই এ ফুল ফোটতে শুরু করে এবং বসন্ত থেকে গ্রীষ্ম পর্যন্ত এর সৌন্দর্য ছড়িয়ে থাকে।
ভাঁটগাছের প্রধান কাণ্ড সোজাভাবে দাঁড়িয়ে থাকে এবং সাধারণত ২ থেকে ৪ মিটার পর্যন্ত লম্বা হয়। এর পাতা দেখতে কিছুটা পানপাতার মতো, আকারে ৪ থেকে ৭ ইঞ্চি লম্বা এবং কিছুটা খসখসে। ডালের শীর্ষে পুষ্পদণ্ডে ফোটে সাদা রঙের ফুল, যার পাপড়িতে থাকে বেগুনি রঙের আভা। ফুলগুলো থেকে ছড়িয়ে পড়ে মিষ্টি সৌরভ, যা সহজেই পথচারীদের দৃষ্টি আকর্ষণ করে। মৌমাছিরাও এই ফুল থেকে মধু সংগ্রহ করে।
গ্রামের মেঠোপথের ধারে, পতিত জমিতে, পাহাড়ি বন কিংবা ছড়ার পাশে প্রাকৃতিকভাবেই জন্মায় এই বুনোফুল। ইংরেজিতে একে বলা হয় Hill Glory Bower এবং এর বৈজ্ঞানিক নাম Clerodendrum viscosum। এটি ল্যামিয়াসি (Lamiaceae) পরিবারের একটি উদ্ভিদ এবং বাংলাদেশের পরিচিত বুনোফুলগুলোর অন্যতম।
স্থানীয় সাংবাদিক দেবাশীষ বড়ুয়া রাজু বলেন, ‘ভাঁটফুলের সঙ্গে আমার ছোটবেলার অনেক স্মৃতি জড়িয়ে আছে। ছোটবেলায় আমরা এই ফুলের পাপড়ি ছিঁড়ে পানিতে ফেলতাম, তখন পাপড়িগুলো ঘুরতে থাকত—দেখতে খুব ভালো লাগত।’
স্কুলছাত্র ইনাম হোসেন জানায়, ফাল্গুন মাস এলেই প্রকৃতিতে ভাঁটফুল ফুটে ওঠে। এতে পরিবেশে নতুন এক মাত্রা যোগ হয়। বসন্তের আগমনে পলাশ-শিমুলের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে এই ফুল ফোটে। বিশেষ করে রাস্তার দুপাশ, পরিত্যক্ত মাঠ, বন কিংবা জলাশয়ের পাশে এই ফুল বেশি দেখা যায়।
তবে স্থানীয়দের মতে, আগের তুলনায় বর্তমানে ভাঁটফুলের সংখ্যা কিছুটা কমে গেছে। তবুও বনে-বাদাড়ে অযত্নে ফুটে থাকা এই ফুলের সৌন্দর্যে মুগ্ধ না হয়ে পারা যায় না। বসন্ত এলেই তাই প্রকৃতির নীরব সৌন্দর্যের বার্তা নিয়ে ফুটে ওঠে বুনো ভাঁটফুল।
কক্সবাজার জেলা সদর হাসপাতালে শিশুসন্তানের চিকিৎসা করতে এসে নিখোঁজ নারীর মরদেহ পাওয়া গেছে একই হাসপাতালের লিফটের নিচের গর্তে!
শনিবার দুপুর ১টায় পঁচা গন্ধের উৎস সন্ধান করে এই মরদেহের সন্ধান পাওয়া যায়।
নিহত নারীর নাম কোহিনূর আকতার। তিনি উখিয়া উপজেলার রাজাপালং ইউনিয়ন ৭নং ওয়ার্ড দক্ষিণ ডেইলপাড়া এলাকার কাতার প্রবাসী নুরুল ইসলামের স্ত্রী।
সত্যতা নিশ্চিত করে কক্সবাজার সদর হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা মং টিং নিও জানান, হাসপাতালের সর্বসাধারণের ব্যবহৃত লিফটের নিচ থেকে গন্ধ বের হলে তার উৎস সন্ধানের পর লিফটের নিচের গর্তে মরদেহটির সন্ধান পাওয়া যায়।
তিনি বলেন, ‘মরদেহের সন্ধান পেয়ে স্বজনদের তথ্যটা জানানো হয়। তারপর স্বজন, পুলিশ ও হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের উপস্থিতিতে উদ্ধার করা হয়। তবে কীভাবে নারীটি সেখানে পড়েছে তার কোনো ক্লু মিলছে না।
এ ব্যাপারে কক্সবাজার সদর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ছমিউদ্দীন জানান, কহিনুর আকতার গত ৩ মার্চ তার বড় মেয়ে মরিয়ম আক্তার (৫) অসুস্থ হওয়ায় কক্সবাজার সদর হাসপাতালে ভর্তি করান। শিশুটিকে হাসপাতালের ৫ম তলার শিশু ওয়ার্ডের ২নং ইউনিটে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছিল। ওই সময় মা ও মেয়ে উভয়েই হাসপাতালে অবস্থান করছিলেন। পরদিন ৪ মার্চ দুপুর আনুমানিক সাড়ে ১২টার দিকে কহিনুর আকতার ওষুধ আনার কথা বলে হাসপাতালের ৫ম তলা থেকে নিচে নামেন। এরপর থেকে তিনি নিখোঁজ ছিলেন।
এ ঘটনায় নিখোঁজ নারীর শ্বশুর আলী আকবর থানায় একটি নিখোঁজ ডায়রি করেন।
ওসি বলেন, ‘নিখোঁজের পর থেকে পুলিশ কোহিনূর আকতারকে বিভিন্ন স্থানে খোঁজ করা অব্যাহত রাখে। এর মধ্যে হাসপাতালে কর্তৃপক্ষ জানায় লিফটের নিচে একটি মরদেহ পাওয়া গেছে। খবর পেয়ে পুলিশের একটি দল ঘটনাস্থলে গেছে। কীভাবে নারীটি গর্তে পড়ে গেছে তার কোনো ক্লু পাওয়া যায়নি। অনুসন্ধান চলছে। বিস্তারিত পরে জানা যাবে।’
ট্রেডিং করপোরেশন অব বাংলাদেশের (টিসিবি) চেয়ারম্যান ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মোহাম্মদ ফয়সাল আজাদ বলেছেন, ব্যবসা নয় জনসেবা। টিসিবির পণ্য সবার জন্য। ব্যবসার পরিবর্তে মানবসেবা ও সবার জন্য সাশ্রয়ী মূল্যে পণ্য বিক্রয় নিশ্চিত করতে হবে। তিনি বলেন, ‘বগুড়ার অবস্থান ভালো। তবে কিছু জায়গায় ডিলারের সংখ্যা কম আছে। এটা আগামী জুন-জুলাই পর্যন্ত থাকবে। আগামী মাসের মধ্যেই সারাদেশে নতুন ডিলার নিয়োগের বিষয়ে সার্কুলার দেওয়া হবে। এ ছাড়া নতুন পণ্য আপনারা এ মাসে না পেলেও আগামী মাসে পাবেন। এটা সবচেয়ে জরুরি। এসব পণ্য ভোক্তারা কিনবেন অনেক কম মূল্যে।’
শনিবার বেলা ১১টার দিকে বগুড়া জেলা প্রশাসক সভাকক্ষে জেলা প্রশাসন ও টিসিবি ক্যাম্প অফিসের আয়োজনে জেলার টিসিবি ডিলারদের সাথে মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।
রাইস ব্রান তেলের কথা উল্লেখ করে ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মোহাম্মদ ফয়সাল আজাদ বলেন, ‘রাইস ব্রান তেল এটি সম্পন্ন দেশীয় পণ্য। চালের তুষ থেকে উৎপাদিত একটি স্বাস্থ্যকর ভোজ্য তেল। এটি অনেক ভালো মানের তেল। যা স্বাস্থ্যের জন্য ভালো। রাইস ব্রানের পাশাপাশি ক্যানোলা তেল যুক্ত করা হচ্ছে। এটি পুষ্টিগুণ এবং স্বাস্থ্য উপকারিতা।’
তিনি বলেন, ‘কয়েকটি জেলার মধ্যে ট্রাকসেল নিয়ে এখন পর্যন্ত কোনো সমস্যা হয়নি বগুড়ায়। ভালো টিবিসি অফিস সেটিও বগুড়া। সবচেয়ে ভালো কাজ হয়েছে এই বগুড়াতেই।’
বগুড়া জেলা প্রশাসক তৌফিকুর রহমানের সভাপতিত্বে সভায় আরও বক্তব্য দেন অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) মেজাবাউল করিম, টিসিবি ক্যাম্প অফিস বগুড়ার সহকারী পরিচালক (অফিস প্রধান) সাদ্দাম হোসাইন। সভায় সরকারি কর্মকর্তাসহ জেলার বিভিন্ন এলাকার ডিলাররা উপস্থিত ছিলেন।
দৈনিক বাংলায় সংবাদ প্রকাশের পর খালাস পেলেন সেই মা-ও মেয়ে। গত বৃহস্পতিবার থানায় ইউএনওর অভিযান, বিচারপ্রার্থী মা-মেয়েকে ১ মাসের সাজা শিরোনামে সংবাদ প্রকাশ করা হয় ওই সংবাদের পর শনিবার কক্সবাজারের অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট শহিদুল আলমের বিশেষ বেঞ্চে মা-মেয়েকে বেকসুর খালাসের রায় দেন।
কক্সবাজারের পেকুয়া থানায় গত বুধবার পৈতৃক জমি নিয়ে বিরোধের জেরে বিচারপ্রার্থী মা-মেয়েকে থানা পুলিশ কর্তৃক বেধড়ক মারধর করে। এ ঘটনায় জুবাইদা জন্নাত (২৩) ও তার মা রেহেনা মোস্তফা রানু (৩৮) কারাগারে প্রেরণ করেন পেকুয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মাহবুব আলম।
পেকুয়া থানার এসআই পল্লব কোমার ঘুষের কাছে একটি পারিবারিক জায়গা জমির মামলার তদন্ত দেন চকরিয়া সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিসট্রেট আদালত। মামলার তদন্তের দায়িত্বে থাকায় প্রতিবেদন পক্ষে দেওয়ার নামে জুবাইদা ও তার মায়ের কাছ থেকে ২০ হাজার টাকা ঘুষ নেওয়ার অভিযোগ করেন মামলার বাদি জুবাইদা ও তার মা রেহেনা বেগম রানু।
ঘুষ নেওয়ার পর আরও বেশি টাকার বিনিময়ে বিবাদীর পক্ষে তদন্ত প্রতিবেদন দাখিল করেন পেকুয়া থানার এসআই পল্লব কোমার ঘোষ। তারই পরিপ্রেক্ষিতে গিয়ে মা-মেয়ে ঘুষের টাকা ফেরত চান সেই এসআই পল্লবের কাছে। এতেই বাধে হট্টগোল। পল্লব কোমার ঘুষের সাথে কথা-কাটাকাটি হলে বেধড়ক পেটানো হয় সেই মা-মেয়েকে। পরবর্তীতে পেকুয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মাহবুব আলমকে খবর দিয়ে মা-মেয়েকে এক মাসের সাজা দেওয়া হয়।
ঘটনার খবর জানতে পেরে ভুক্তভোগী পরিবার এই প্রতিবেদকের সঙ্গে যোগাযোগ করে ঘটনার বর্ণনা তুলে ধরলে গত ৫ মার্চ ‘থানায় ইউএনওর অভিযান, বিচারপ্রার্থী মা-মেয়েকে ১ মাসের সাজা’ শিরোনামে একটি সংবাদ প্রকাশ হয়। এই সংবাদ ছড়িয়ে পড়লে সচেতন মহলে নানা-আলোচনা সমালোচনা সৃষ্টি হয়।
গাজীপুরের কালীগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে আকস্মিক ঝটিকা পরিদর্শন করেছেন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন বকুল। শনিবার (৭ মার্চ) সকাল ১০টায় তিনি কোনো পূর্ব ঘোষণা ছাড়াই হাসপাতালে পৌঁছালে সেখানে এক হট্টগোলের সৃষ্টি হয়। পরিদর্শনের শুরুতেই মন্ত্রী দেখেন যে, উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. রেজওয়ানা রশিদ তাঁর কর্মস্থলে উপস্থিত নেই। স্বাস্থ্যমন্ত্রীর উপস্থিতির খবর পেয়ে তিনি তড়িঘড়ি করে পরে হাসপাতালে আসেন। মন্ত্রী দীর্ঘ সময় নিয়ে হাসপাতালের বিভিন্ন ওয়ার্ড ও জরুরি বিভাগ পরিদর্শন করেন এবং সেখানে ভর্তি থাকা রোগীদের সাথে কথা বলে তাঁদের খোঁজখবর নেন।
পরিদর্শন শেষে আয়োজিত এক প্রেস ব্রিফিংয়ে স্বাস্থ্যমন্ত্রী তাঁর অসন্তোষ প্রকাশ করে জানান, পরিদর্শনের সময় চারজন চিকিৎসককে ডিউটিতে পাওয়া যায়নি। এর মধ্যে একজন চিকিৎসক নিয়মবহির্ভূতভাবে দীর্ঘ দিন ধরে কর্মস্থলে অনুপস্থিত রয়েছেন বলে তথ্য পাওয়া গেছে। মন্ত্রী হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, চিকিৎসকদের এই ধরণের দায়িত্বহীনতা কোনোভাবেই মেনে নেওয়া হবে না এবং তাঁদের বিরুদ্ধে দ্রুত কঠোর প্রশাসনিক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। তিনি হাসপাতালের পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা ও চিকিৎসা সেবার মান বাড়াতে সংশ্লিষ্টদের প্রয়োজনীয় দিকনির্দেশনা দেন।
পরিদর্শনকালে স্বাস্থ্যমন্ত্রীকে হাতের কাছে পেয়ে নিজেদের ক্ষোভ উগড়ে দেন চিকিৎসা নিতে আসা সাধারণ রোগীরা। তাঁদের অভিযোগের পাহাড় ছিল দীর্ঘ। রোগীরা জানান, হাসপাতালে সময়মতো কোনো ডাক্তার পাওয়া যায় না। ডাক্তাররা এলেও ১-২ ঘণ্টা নিজেদের রুমের ভেতর গল্পগুজব করে সময় কাটান এবং রোগী দেখতে বসেন না। এমনকি রোগীরা তাঁদের সমস্যার কথা বলতে চাইলে ডাক্তাররা তা মন দিয়ে শোনেন না বরং দ্রুত প্রেসক্রিপশন লিখে দিয়ে বাইরের প্রাইভেট ক্লিনিক থেকে বিভিন্ন পরীক্ষা-নিরীক্ষা করিয়ে আনতে বাধ্য করেন। সরকারি এই হাসপাতালে শিশু, মেডিসিন ও গাইনি বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকদের প্রায়ই অনুপস্থিত থাকতে দেখা যায় বলে রোগীরা অভিযোগ করেন।
রোগীদের আরও অভিযোগ রয়েছে ওষুধের সংকট নিয়ে। তাঁরা জানান, হাসপাতাল থেকে পর্যাপ্ত ওষুধ দেওয়া হয় না এবং অধিকাংশ ওষুধ বাইরের ফার্মেসি থেকে কিনতে বলা হয়। সবচেয়ে চাঞ্চল্যকর তথ্য হলো, কিছু কিছু চিকিৎসক সরকারি হাসপাতালে হাজিরা দেওয়ার পরপরই স্থানীয় বেসরকারি ক্লিনিকে অপারেশন করতে বা রোগী দেখতে চলে যান। এর ফলে প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর এই সরকারি চিকিৎসাকেন্দ্রটি কার্যত সেবাবঞ্চিত হয়ে পড়েছে। মন্ত্রী রোগীদের প্রতিটি অভিযোগ গুরুত্বের সাথে শোনেন এবং এগুলোকে অনতিবিলম্বে সংশোধনের আশ্বাস দেন।
পরিদর্শনকালে স্বাস্থ্যমন্ত্রীর সঙ্গে কালীগঞ্জ উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) জাকিয়া সারোয়ার লিমা, কালীগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জাকির হোসেনসহ উপজেলার বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। স্বাস্থ্যমন্ত্রীর এই ঝটিকা সফরের পর কালীগঞ্জ স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে কর্মরতদের মধ্যে এক ধরণের আতঙ্ক ও উৎকণ্ঠা বিরাজ করছে। সাধারণ মানুষের প্রত্যাশা, মন্ত্রীর এই হস্তক্ষেপের ফলে দীর্ঘদিনের পুঞ্জীভূত অনিয়ম দূর হয়ে হাসপাতালটিতে শিক্ষার পরিবেশ ও সেবার মান ফিরে আসবে।
দিনাজপুরের বিরল উপজেলায় পৃথক দুটি অভিযানে ২৫ কেজি ৬৭০ গ্রাম ওজনের মূল্যবান দুটি কষ্টিপাথরের মূর্তিসহ একজনকে আটক করেছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)। শনিবার (৭ মার্চ) বিকেলে ২০ বিজিবি জয়পুরহাট ব্যাটালিয়নের সদর দপ্তরে আয়োজিত এক প্রেস ব্রিফিংয়ে এই তথ্য নিশ্চিত করেন ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মোহাম্মদ লতিফুল বারী। আটক ব্যক্তির নাম রাসেল ইসলাম (৩৩), তিনি বিরল উপজেলার ধনগ্রাম এলাকার মকবুল হোসেনের ছেলে।
বিজিবি সূত্রে জানা গেছে, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে শুক্রবার দিবাগত রাত ৩টার দিকে ২০ বিজিবি জয়পুরহাট ব্যাটালিয়নের একটি বিশেষ টহল দল বিরল উপজেলার ধনগ্রাম এলাকায় রাসেলের বাড়িতে হানা দেয়। তল্লাশিকালে তাঁর বসতঘর থেকে ১৫ কেজি ৬২০ গ্রাম ওজনের একটি প্রাচীন কষ্টিপাথরের মূর্তি উদ্ধার করা হয় এবং রাসেলকে আটক করা হয়। পরবর্তীতে তাঁকে প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদ করা হলে তিনি ফরক্কাবাদ এলাকায় আরও একটি মূর্তি লুকিয়ে রাখার কথা স্বীকার করেন।
রাসেলের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে ভোররাতেই ফরক্কাবাদ গ্রামে দ্বিতীয় দফায় অভিযান চালায় বিজিবি। সেই অভিযানে ১০ কেজি ৫০ গ্রাম ওজনের আরও একটি কষ্টিপাথরের মূর্তি উদ্ধার করা সম্ভব হয়। বিজিবি কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, উদ্ধারকৃত দুটি মূর্তির মোট আনুমানিক বাজার মূল্য প্রায় ২৫ লাখ ৭২ হাজার ৬০০ টাকা। মূর্তি দুটির ঐতিহাসিক গুরুত্ব ও পুরাতাত্ত্বিক মূল্য যাচাই করার জন্য ইতিমধ্যে জেলা প্রত্নতত্ত্ব বিভাগের সাথে যোগাযোগ করা হয়েছে।
লেফটেন্যান্ট কর্নেল মোহাম্মদ লতিফুল বারী জানান, উদ্ধারকৃত কষ্টিপাথরের মূর্তিগুলো পাচারের উদ্দেশ্যে সংগ্রহ করা হয়েছিল কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। আটক রাসেলের বিরুদ্ধে বিরল থানায় একটি মামলা দায়ের করা হয়েছে এবং প্রয়োজনীয় আইনি প্রক্রিয়া শেষে তাঁকে পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হবে। বিজিবির এমন তৎপরতা সীমান্তে চোরাচালান রোধে এবং জাতীয় ঐতিহ্য রক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।