শুক্রবার, ১৬ অক্টোবর ২০২৬
১ কার্তিক ১৪৩৩

লাভের মুখ না দেখা রাবার বাগান এখন ‘পর্যটনকেন্দ্র’

ফেনীর পরশুরামের মির্জানগর ইউনিয়নে গড়ে তোলা হয়েছে রাবার গাছের বাগান। গাছ থেকে কষ সংগ্রহের জন্য বাঁধা হয়েছে পাত্র। ছবি: দৈনিক বাংলা
দৈনিক বাংলা ডেস্ক
প্রকাশিত
দৈনিক বাংলা ডেস্ক
প্রকাশিত : ৩০ সেপ্টেম্বর, ২০২২ ১০:২৮

আরিফুর রহমান, ফেনী

ফেনীর পরশুরামে বাণিজ্যিকভাবে রাবার গাছের চাষ শুরু হয়েছে প্রায় ১২ বছর আগে। তবে বাগান মালিকের ব্যবসায়িক লাভের চেয়ে জায়গাটি বেশি পরিচিতি পেয়েছে পর্যটকদের কাছে। এমন অবস্থায় লাভ পেতে রাবার গাছ চাষের পাশাপাশি স্থানটিকে পর্যটনকেন্দ্র করার কথা ভাবছেন বাগান মালিক।

বাংলাদেশ-ভারত সীমান্তবর্তী পরশুরাম উপজেলার মির্জানগর ইউনিয়নের জয়ন্তীনগর গ্রামের বিশাল এলাকাজুড়ে রাবার বাগান গড়ে ওঠে ২০০৯ সালে। গত তিন বছর ধরে এ বাগান থেকে রাবার সংগ্রহ করে বাজারজাত করা হচ্ছে।

বাগান মালিক মো. মোস্তাফা বলেন, চট্টগ্রামের মেসার্স আরিফ এন্টারপ্রাইজ ইতিমধ্যে বাগান থেকে রাবার কিনছে। তবে এখনো লাভের মুখ দেখেননি। মাসিক দেড় লাখ টাকা খরচ হলেও তেমন লাভ হচ্ছে না। পুরোদমে রাবার সংগ্রহ শুরু হলে একটি ভালো অবস্থানে যাওয়ার আশা করছেন।

মো. মোস্তাফা বলেন, ২০০৯ সালে ২০ একর জমিতে ১০ হাজার রাবার চারা রোপণ করেন। বর্তমানে বাগানের চার হাজার গাছ থেকে বাণিজ্যিকভাবে রাবার উৎপাদন কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে। রাবার সংগ্রহের জন্য গাছ পরিপক্ব হতে সময় লেগেছে ১০ বছর। আরও কয়েক বছর পর বাকি গাছগুলো থেকেও রাবার উৎপাদন শুরু হবে।

এদিকে রাবার উৎপাদনের সঙ্গে সংশ্লিষ্টরা বলছেন, পুরোদমে রাবার উৎপাদন শুরু হলে তা দেশের অর্থনীতিতে ভূমিকা রাখবে।

পরশুরাম উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো. কামরুজ্জামান বলেন, এ অঞ্চল রাবার শিল্পের জন্য উপযোগী। সাধারণত রাবার উৎপাদনের উপযুক্ত পরিবেশ বিবেচনায় পাহাড় বা উচুঁ স্থান যেখান থেকে বৃষ্টির পানি সহজে নেমে যেতে পারে তা বেশি উপযোগী। সে হিসেবে জয়ন্তীনগর গ্রামও রাবার উৎপাদনের উপযুক্ত। এ উপজেলায় এমন আরও অনেক এলাকা আছে। সেখানেও রাবার বাগান হতে পারে।

জয়ন্তীনগর গ্রামের রাবার বাগান মালিক ও কর্মচারীদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, একটি গাছ থেকে দৈনিক ৩০০-৪৫০ গ্রাম রাবার পাওয়া যায়। বাজার দর অনুযায়ী প্রতি লিটার রাবার ১৫০ থেকে ২০০ টাকায় বিক্রি করা হয়। কিন্তু বর্তমানে দাম কমে প্রতি লিটার রাবার ১২০ থেকে ১৭০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। একটি গাছ থেকে ৩৫ বছর পর্যন্ত রাবার উৎপাদন করা যায়।

বাগান পরিচর্যাকারী চায়ং মারমা বলেন, তিনিসহ এখানে ১২ জন শ্রমিক কাজ করেন। বর্তমানে ৪ হাজার গাছ থেকে রাবারের কষ সংগ্রহ করা হচ্ছে। পর্যায়ক্রমে সব গাছ থেকে রাবার সংগ্রহ শুরু হবে। বিশেষ করে শীত মৌসুমের চার মাস রাবার উৎপাদন বেশ ভালো হয়।

রাবার প্রক্রিয়াজাতকরণ কাজে নিয়োজিত রনু রানী বড়ুয়া বলেন, প্রতি দুই থেকে তিন মাস পরপর বাণিজ্যিকভাবে রাবার বিক্রি হয়। প্রতি লটে দেড় থেকে দুই লাখ টাকার রাবার বিক্রি হয়। তবে এ বাগান থেকে এখনো লাভ দেখা যাচ্ছে না। আগামী কিছুদিন পর সব গাছ থেকে কষ সংগ্রহ করলে লাভ হতে পারে।

স্থানীয় বাসিন্দা আবু ইউসুফ বলেন, ‘শুরুতে বাইরের লোকজন এ বাগানে কাজ করত। এখন স্থানীয়রা এসব কাজ শিখে নিজেরাই করছেন। এতে গ্রামের বেকার জনগোষ্ঠীর কর্মসংস্থানের সম্ভাবনাও সৃষ্টি হয়েছে।’

পর্যটনকেন্দ্র

রাবার বাগানটির প্রাকৃতিক সৌন্দর্য ও প্রক্রিয়াজাতকরণের দৃশ্য দেখতে প্রতিদিনই এখানে ভিড় জমান দর্শনার্থীরা। এরই মধ্যে ফেনী জেলার অন্যতম পর্যটন এলাকা হিসেবে পরিচিতি লাভ করেছে স্থানটি। এক বাগান পরিচর্যাকারী জানান, গত কয়েক বছরে বাগানটি পিকনিক স্পট হিসেবে জেলা ও জেলার বাইরের অনেক মানুষের কাছে বেশ জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে।

রাবার বাগান দেখতে আসা দুলাল তালুকদার বলেন, ফেনীতে পর্যটন স্পট নেই বললেই চলে। বাগানটি সবার জন্য উন্মুক্ত। তবে শর্ত একটাই- কোনো প্রকার ম্যাচ বক্স বা আগুন উৎপন্নকারী দ্রব্য নিয়ে বাগানের ভেতরে প্রবেশ করা যাবে না।

আরেক দর্শনার্থী সোলায়মান হাজারী বলেন, ‘এখানে এলে প্রাণ জুড়িয়ে যায়। এখানে সারিবদ্ধ গাছ, রাবার প্রক্রিয়াজাতকরণের দৃশ্য, কাছ থেকে ভারত সীমান্তের দৃশ্য ও প্রাকৃতিক সজীবতা মুগ্ধ করে।’

এ বিষয়ে বাগান মালিক মো. মোস্তাফা বলেন, ভবিষ্যতে এখানে শিশুদের জন্য একটি পার্ক করার পরিকল্পনা আছে। বর্তমানে এখানে যাতায়াত সুবিধাসহ পর্যটকদের নিরাপত্তা নিশ্চিতে কর্মচারীদের সার্বক্ষণিক নজরদারি আছে।


নির্বাচিত

শারদীয় দুর্গা পূজার নিরাপত্তায় দায়িত্বপূর্ণ এলাকায় প্রায় সাড়ে ৩ হাজার সদস্য মোতায়েন কোস্ট গার্ডের

শুক্রবার (১৬ অক্টোবর) সকালে মিরপুর কেন্দ্রীয় মন্দিরে দুর্গাপূজার নিরাপত্তা পরিদর্শনে যান কোস্ট গার্ডের মহাপরিচালক রিয়ার এডমিরাল মোঃ মঈনুল হাসান। ছবি: দৈনিক বাংলা
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

শুক্রবার (১৬ অক্টোবর) সকালে মিরপুর কেন্দ্রীয় মন্দিরে দুর্গাপূজার নিরাপত্তা পরিদর্শনে যান কোস্ট গার্ডের মহাপরিচালক রিয়ার এডমিরাল মোঃ মঈনুল হাসান। পরিদর্শনকালে কোস্ট গার্ড মহাপরিচালক এ তথ্য জানান।

তিনি বলেন, বাংলাদেশ কোস্ট গার্ড দেশের উপকূলীয় ও নদী তীরবর্তী এলাকার সার্বিক নিরাপত্তা নিশ্চিত ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় গুরত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে আসছে। পাশাপাশি বাংলাদেশ কোস্ট গার্ড বিভিন্ন সময়ে সরকারের নির্দেশনা মোতাবেক বিভিন্ন ধর্মীয় উৎসবে নিরাপত্তা প্রদান, ধর্মীয় উপাসনালয়সহ গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা এবং সর্বসাধারণের জান-মাল রক্ষায় কৃতিত্বপূর্ণ অবদান রেখে চলেছে।

এরই ধারাবাহিকতায় প্রতি বছরের ন্যায় বাংলাদেশ কোস্ট গার্ড আওতাধীন এলাকাসমূহে হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের মহা উৎসব শারদীয় দুর্গাপূজা উপলক্ষ্যে ধর্মীয় উপাসনালয়সহ পূজা মণ্ডপের সার্বিক নিরাপত্তা বজায় রাখতে নিয়োজিত রয়েছে। পূজা চলাকালীন সময়ে দায়িত্বপূর্ণ এলাকায় যেকোন অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি রোধে নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে আমাদের প্রায় সাড়ে ৩ হাজার সদস্য। আপনারা জেনে খুশি হবেন, উপকূলীয় এলাকাসমূহের মধ্যে আমাদের পূর্ব জোন ৬৩ টি, পশ্চিম জোন ১৪৪ টি ও দক্ষিণ জোন ৩৭১ টি এবং ঢাকা জোন ৩৭ টি সর্বমোট ৬১৫ টি মন্দির ও পূজা মণ্ডপের সার্বিক নিরাপত্তা নিশ্চিতের লক্ষ্যে কাজ করছে।

দুর্গাপূজাকে সামনে রেখে হিন্দু ধর্মাবলম্বীরা যেন তাদের ধর্মীয় উৎসবটি শান্তিপূর্ণ, প্রাণবন্ত ও নিরাপদে উৎসবমুখর পরিবেশে উদ্‌যাপন করতে পারেন, সে লক্ষ্যে আমরা আমাদের গোয়েন্দা নজরদারি বৃদ্ধি করেছি এবং অন্যান্য আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সাথে যৌথভাবে কাজ করে যাচ্ছি।

পূজা চলাকালীন সময়ে নৌ দুর্ঘটনা এড়াতে আমাদের জনসচেতনতামূলক কার্যক্রম এবং সার্বক্ষণিক টহল অব্যাহত রয়েছে। প্রতিমা বিসর্জনের স্থানগুলোতে সম্ভাব্য দুর্ঘটনা মোকাবেলায় আমাদের বিশেষ ডুবুরি দল সর্বদা প্রস্তুত থাকবে। পাশাপাশি আমি অনুরোধ করবো, যেকোনো অপ্রীতিকর পরিস্থিতিতে সহায়তা নিতে কোস্ট গার্ড জরুরি সেবা নম্বর ১৬১১১-এ যোগাযোগ করুন, আমরা দ্রুত পদক্ষেপ নিব।

আমাদের প্রত্যাশা, হিন্দু ধর্মাবলম্বীরা শান্তিপূর্ণ, নিরাপদ ও আনন্দঘন পরিবেশে তাদের ধর্মীয় উৎসবটি উদ্‌যাপন করবেন।

তিনি আরও বলেন, কোস্ট গার্ডের এধরনের জননিরাপত্তামূলক কার্যক্রম ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে।


নির্বাচিত

প্রাণপ্রকৃতি ও জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণে ৩৬ জন নারীকে বিশেষ সম্মাননা

ছবি: দৈনিক বাংলা
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
মানিকগঞ্জ প্রতিনিধি

মানিকগঞ্জে সাংসারিক কাজকর্ম করে পরিবেশ ও জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণে অবদান রাখায় জেলার ৩৬ জন গ্রামীণ নারীকে সম্মাননা ক্রেস্ট প্রদান করা হয়েছে। গত বৃহস্পতিবার (১৬ অক্টোবর) দিনব্যাপী মানিকগঞ্জ সদর উপজেলার পুটাইল ইউনিয়নের এগারশ্রী গ্রামের গুরুদাস মন্ডলের বাড়ির আঙিনায় আন্তর্জাতিক গ্রামীণ নারী দিবস উপলক্ষে এই অনুষ্ঠানের আয়োজন করে যৌথভাবে বেসরকারি উন্নয়ন গবেষণা প্রতিষ্ঠান বাংলাদেশ রিসোর্স সেন্টার ফর ইন্ডিজেনাস নলেজ (বারসিক) ও গ্রিন কোয়ালিশন, মানিকগঞ্জ।

গ্রামীণ নারী কৃষকদের অবদানকে স্বীকৃতি দেওয়া, তাদের জ্ঞান ও অভিজ্ঞতা জনসমক্ষে তুলে ধরা এবং পরিবেশবান্ধব কৃষি ও জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণে তাদের নেতৃত্বকে উৎসাহিত করতেই গ্রামীণ নারীদের এই সম্মাননা প্রদান করা হয়।

এ সময় মানিকগঞ্জের জেলা প্রশাসক নাজমুন আরা সুলতানা এবং বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন মানিকগঞ্জ সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মৌসুমী নাসরিন, মানিকগঞ্জ প্রেসক্লাবের সভাপতি জাহাঙ্গীর আলম বিশ্বাস, সদর উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা রুশিয়া আক্তার, গ্রিন কোয়ালিশন মানিকগঞ্জের সভাপতি আব্দুল খালেক, বারসিকের জেন্ডার অ্যাডভাইজার খাদিজা সুলতানা লোপা, গ্রীন কোয়ালিশনের সদর উপজেলা কমিটির সদস্য আসমা আক্তার, বারসিকের পরিচালক সৈয়দ আলী বিশ্বাস, আঞ্চলিক সমন্বয়কারী বিমল রায় ও কর্মসূচি সমন্বয়কারী রাশেদা আক্তার, স্টেপ টুয়ার্ডস ডেভেলপমেন্টের সমন্বয়ক খালেদা মাহবুব ছন্দা প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।

এবারের অনুষ্ঠানের প্রতিপাদ্য ‘নারীর জ্ঞান, সমৃদ্ধ বাঁচার পরিবেশের প্রাণ’। অনুষ্ঠানে গ্রামীণ নারী কৃষকদের সম্মাননা প্রদান, দেশীয় বীজ ও অপ্রচলিত উদ্ভিদের বৈচিত্র্য প্রদর্শন, গ্রামীণ খাদ্য ও পিঠার বৈচিত্র্য, কৃষি উপকরণ ও নারীদের উদ্ভাবিত কৃষিপ্রযুক্তি প্রদর্শনী এবং গ্রামীণ নারীদের অংশগ্রহণে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান হয়।

সভায় জেলা প্রশাসক নাজমুন আরা সুলতানা বলেন, ‘গ্রামীণ নারীদের জ্ঞান, শ্রম, অধিকার ও অবদানের যথাযথ স্বীকৃতি নিশ্চিত করতে এ ধরনের উদ্যোগ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। একই সঙ্গে কৃষি, পরিবেশ, জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণ ও টেকসই গ্রামীণ উন্নয়নে নারীদের নেতৃত্বকে আরও শক্তিশালী করবে।’


নির্বাচিত

রূপসায় ৭৬ পূজামণ্ডপের নেতাদের সঙ্গে এমপি হেলালের মতবিনিময়

ছবি: দৈনিক বাংলা
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
খুলনা ব্যুরো

শারদীয় দুর্গাপূজা শান্তিপূর্ণ, নিরাপদ ও উৎসবমুখর পরিবেশে উদ্‌যাপনের লক্ষ্যে খুলনার রূপসায় ৭৬টি পূজামণ্ডপের কমিটির নেতাদের সঙ্গে মতবিনিময় ও শারদীয় শুভেচ্ছা বিনিময় করেছেন বিএনপির কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির তথ্যবিষয়ক সম্পাদক ও খুলনা-৪ আসনের সংসদ সদস্য এস কে আজিজুল বারী হেলাল।

শুক্রবার (১৬ অক্টোবর) সকাল ১১টায় রূপসা উপজেলা অডিটোরিয়ামে এ মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে এস কে আজিজুল বারী হেলাল শারদীয় দুর্গোৎসব সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণভাবে সম্পন্ন করতে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখা এবং সংশ্লিষ্ট সবার দায়িত্বশীল ভূমিকার ওপর গুরুত্বারোপ করেন। ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে সবাই যেন নির্বিঘ্নে উৎসব উদ্‌যাপন করতে পারেন, সে লক্ষ্যে পারস্পরিক সহযোগিতা ও সম্প্রীতি বজায় রাখার আহ্বান জানান তিনি।

সভায় পূজামণ্ডপের নেতাদের সঙ্গে উৎসব আয়োজন ও সার্বিক পরিস্থিতি নিয়ে মতবিনিময় করা হয়। এ ধরনের উদ্যোগের মাধ্যমে পূজা উদ্‌যাপন কমিটি ও সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর মধ্যে সমন্বয় জোরদার এবং উৎসবকালীন নিরাপত্তা নিশ্চিত করার বিষয়টি গুরুত্ব পায়।

অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন খুলনা জেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক খান জুলফিকার আলী জুলু ও মোল্লা খায়রুল ইসলাম, রূপসা উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক মোল্লা সাইফুর রহমান এবং সদস্যসচিব জাবেদ হোসেন মল্লিক।

সভাপতিত্ব করেন জাতীয়তাবাদী দল রূপসা উপজেলা শাখার পূজা উদ্‌যাপন পর্যবেক্ষণ কমিটির আহ্বায়ক বিকাশ মিত্র।

মতবিনিময় সভা শেষে প্রধান অতিথি বিভিন্ন উন্মুক্ত জলাশয়ে মাছের পোনা অবমুক্ত করেন।

শারদীয় দুর্গোৎসবকে কেন্দ্র করে সম্প্রীতি, নিরাপত্তা ও শান্তিপূর্ণ পরিবেশ বজায় রাখতে এ মতবিনিময় সভা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে সংশ্লিষ্টরা আশা প্রকাশ করেন।


নির্বাচিত

কুড়িগ্রামে ৯০০ কোটি টাকার প্রকল্প নিয়ে বিভ্রান্তি, দ্রুত বাস্তবায়নের দাবি

* ১০ বিলিয়ন ডলার আয়ের সম্ভাবনা * ১৫ লাখ মানুষের কর্মসংস্থানের সম্ভাবনা * মন্ত্রণালয়-প্রশাসনের পাল্টাপাল্টি বক্তব্য
ছবি: দৈনিক বাংলা
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নাজমুল হোসাইন, কুড়িগ্রাম

বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয় এবং কুড়িগ্রাম প্রশাসনের পাল্টাপাল্টি মতামতের কারণে দেশের একমাত্র প্রস্তাবিত কুড়িগ্রাম বালু গবেষণা ও প্রক্রিয়াজাতকরণ কেন্দ্র স্থাপন নিয়ে সৃষ্টি হয়েছে বিভ্রান্তি। প্রকল্পটি বাস্তবায়ন হলে প্রায় ১৫ লাখ মানুষের কর্মসংস্থান তৈরি এবং এশিয়া মহাদেশের মধ্যে অন্যতম খনিজ সম্পদ আহরণের মাধ্যমে দেশের অর্থনীতি আমূল পরিবর্তন আনার অপার সম্ভাবনা রয়েছে। প্রকল্পটির সম্ভাব্য ব্যয় ধরা হয়েছে প্রায় ৯০০ কোটি টাকা।

ব্রহ্মপুত্র নদে এবং যমুনা নদীতে যেসব খনিজ সম্পদ রয়েছে তার মধ্যে উল্লেখযোগ্য, ইলমেনাইট-টাইটানিয়াম উৎপাদনের উৎস, ব্যবহৃত রং, প্লাস্টিক, ওষুধ, ওয়েল্ডিং রডে ব্যবহৃত হয়। জিরকন-সিরামিক, পারমাণবিক প্রযুক্তি, মহাকাশযান ও ইলেট্রনিক্সে ব্যবহৃত হয়ে থাকে।

ম্যাগনেটাইট-চৌম্বুকধর্মী খনিজ যা ইস্পাত ও খনি যন্ত্রে ব্যবহৃত হয়। রুটাইল-টাইটানিয়ামের পরিশোধিত রূপ ব্যবহৃত হয় প্রসাধনী ও ধাতু শিল্পে। গারনেট-অলংকার, জেট কাটিং ও পাইপ পরিষ্কারে ব্যবহৃত হয় এবং কোয়ার্টজ-ঘড়ি, কম্পিউটার ও চিকিৎসা যন্ত্রে ব্যবহৃত হয়ে থাকে।

তথ্যানুসন্ধানে জানা যায়, চলতি বছরের ১১ জুন বাংলাদেশ ভূতাত্ত্বিক জরিপ অধিদপ্তরের মোখলেসুর রহমান মিলনায়তনে ‘বালু গবেষণা ও প্রক্রিয়াজাতকরণ কেন্দ্র স্থাপন’ কুড়িগ্রাম, বাংলাদেশ শীর্ষক প্রস্তাবিত প্রকল্প বিষয়ে এক মতবিনিময় সভায় যমুনা-ব্রহ্মপুত্র নদ ব্যবস্থার নবায়নযোগ্য বালু সম্পদকে কাজে লাগিয়ে বাংলাদেশকে দক্ষিণ এশিয়ার অন্যতম খনিজ-প্রযুক্তি, গবেষণা ও শিল্পভিত্তিক অর্থনৈতিক শক্তিতে পরিণত করার লক্ষ্যে ২০২৬-২০৭৫ সময়কালের জন্য একটি ৫০ বছরের মহাপরিকল্পনা তুলে ধরা হয়। এরমধ্যে বাংলাদেশকে এশিয়ার অন্যতম খনিজ-প্রযুক্তি, গবেষণা, অর্থনীতি, প্রযুক্তি, শিল্পায়ন, সামাজিক উন্নয়নের লক্ষ্যে কুড়িগ্রামে বালু গবেষণা ও প্রক্রিয়াজাতকরণ কেন্দ্র স্থাপনের মাধ্যমে প্রায় ১৫ লাখ মানুষের কর্মসংস্থান সৃষ্টির উদ্যোগ নিয়েছে বাংলাদেশ ভূতাত্ত্বিক জরিপ অধিদপ্তর। এ কেন্দ্রের মাধ্যমে ব্রহ্মপুত্রসহ জেলার বিভিন্ন নদ-নদী থেকে প্রাপ্ত বালু ও খনিজ সম্পদের গবেষণা এবং প্রক্রিয়াজাতকরণ কার্যক্রম পরিচালিত হবে।

দীর্ঘদিন ধরে জিএসবি গবেষণা করে চিলমারী উপজেলায় ১৫ একর জমিতে একটি পাইলট রিসার্চ প্ল্যান্ট এবং রাজারহাট উপজেলার টগরাইহাট এলাকায় ১০ একর জমিতে একটি গবেষণা কেন্দ্র স্থাপনের পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছে। ইতোমধ্যে গণপূর্ত অধিদপ্তর প্রকল্পটির জরিপ ও সম্ভাব্যতা যাচাই প্রতিবেদন শেষ করে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ে পাঠিয়েছে।

এতে বছরে প্রায় ১০ বিলিয়ন ডলার পর্যন্ত রাজস্ব আয়ের সম্ভাবনার কথা তুলে ধরা হয়। আর দেশের অর্থনীতিতে কুড়িগ্রাম জেলা একটি হাব সেন্টারে পরিণত হবে। কিন্তু দেশের একমাত্র বালু গবেষণা ও প্রক্রিয়াজাতকরণ কেন্দ্র স্থাপন নিয়ে বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয় এবং কুড়িগ্রাম প্রশাসনের পাল্টাপাল্টি মতামতের কারণে সৃষ্টি হয়েছে বিভ্রান্তি।

গত ১৯ জুলাই জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগের সভায় ১০নং আলোচ্য বিষয়ে জানানো হয়, কুড়িগ্রাম জেলা প্রশাসক কর্তৃক প্রতিবেদনে ‘প্রকল্প বাস্তবায়নের সম্ভাব্য ব্যয়ের তুলনায় সরকারের প্রাপ্তি উল্লেখযোগ্য হবে না মর্মে অভিমত দেওয়া হয়।’ কিন্তু অনুসন্ধানে ও কুড়িগ্রাম জেলা প্রশাসক জানান, এমন কোনো প্রতিবেদন পাঠায়নি। প্রকল্প বাস্তবায়নের জন্য কুড়িগ্রাম সদর, চিলমারী এবং রাজারহাট উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তারা গত বছরের ৫ মার্চ সম্ভাব্য জমির তথ্য-উপাত্ত মন্ত্রণালয়ে প্রেরণ করেছে। আর খনিজ সম্পদে সমৃদ্ধ ব্রহ্মপুত্র-যমুনা নদীকে ঘিরে দ্রুত জেলায় প্রকল্পের কাজ শুরুর জোর দাবি জানিয়েছে জেলাবাসী।

জেলা উন্নয়ন ও বাস্তবায়ন পরিষদ সভাপতি শফিকুল ইসলাম বেবু বলেন, ‘সম্ভাবনাময় এই প্রকল্পটি এখনো শুরুই হলো না, সেখানে কীভাবে কর্তৃপক্ষ বলতে পারে লাভ হবে না লস হবে? সরকার তো দেশে বহু প্রকল্প নেয় এবং নিচ্ছে। সম্ভাবনাময় এই প্রকল্পটি শুরুর জন্য সরকার কার্যকরী ও দ্রুত ব্যবস্থা নিবে এমনটাই প্রত্যাশা করছি।’

জেলা বিএনপি যুগ্ম আহবায়ক অধ্যাপক হাসিবুর রহমান হাসিব দেশের পিছিয়ে পড়া জনগোষ্ঠীর কর্মসংস্থান সৃষ্টির সম্ভাবনা এবং খনিজ সম্পদ আহরণে বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনের সম্ভাবনাকে বাস্তবায়নের জন্য দল-মত সকলকে একসাথে কাজ করার আহবান জানান।

কুড়িগ্রাম গণপূর্ত বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী আব্দুল্লাহ আল ফারুক বলেন, ‘ব্রহ্মপুত্র নদের অববাহিকায় অত্যন্ত মূল্যবান ও বিরল খনিজ সম্পদ পাওয়া যায়, ভূতাত্ত্বিক জরিপ অধিদপ্তর কর্তৃক বালু গবেষণা ও প্রক্রিয়াজাত কেন্দ্র স্থাপনের প্রকল্পটির প্রস্তাব করা হয়েছে। এই প্রকল্পটি ইতোমধ্যে জমির সম্ভাবতা ও কার্যকারিতা শেষ করে সংশ্লিস্টদের দপ্তরে প্রেরণ করা হয়েছে।’

কুড়িগ্রাম জেলা প্রশাসক অন্নপূর্ণা দেবনাথ বলেন, ‘আমি যোগদানের আগে এই বিষয়ে সাবেক জেলা প্রশাসকদের সময় বালু গবেষণা কেন্দ্র স্থাপনের জন্য সম্ভাব্য জমির তথ্য কর্তৃপক্ষের নিকট প্রেরণ করেছিল।’

বাংলাদেশ ভূতাত্ত্বিক জরিপ অধিদপ্তর উপপরিচালক, (ভূতত্ত্ব) ড. সোহেল রানা বলেন, ‘ব্রহ্মপুত্র-যমুনা নদীর বালু পুনঃভরণযোগ্য। হিমালয় হতে কুড়িগ্রাম দিয়ে ব্রহ্মপুত্র-যমুনা নদীতে প্রতি বছর এক বিলিয়ন বালু আসছে। আমরা যদি এই বালু ব্যবহার করতে পারি তাহলে কোয়ার্টজ হেভি মিনারেল ও লাইট মিনারেল আছে। হেভি মিনারেলের মধ্যে রুটাইল, গারনেট, ইলমেনাইট, জিরকন, মুনাইজাইটের মতো মূল্যবান খনিজ সম্পদ। লাইট মিনারেলের মধ্যে কোয়ার্টজ রয়েছে।’

এ নিয়ে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রী আসাদুল হাবিব দুলু বলেন, ‘এ বিষয়টি আমার জানা নেই। বালু গবেষণা কেন্দ্র স্থাপন নিয়ে কোনো জটিলতা থাকলে সেটি নিরসনের ব্যবস্থা করা হবে।’


নির্বাচিত

অষ্টগ্রামের ধলেশ্বরী নদীতে দেশীয় জাতের মাছের পোনা অবমুক্ত

ছবি: দৈনিক বাংলা
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
অষ্টগ্রাম-মিঠামইন (কিশোরগঞ্জ) প্রতিনিধি

কিশোরগঞ্জের হাওর উপজেলা অষ্টগ্রামের ধলেশ্বরী নদীতে দেশীয় জাতের মাছের পোনা অবমুক্ত করা হয়েছে। শুক্রবার (১৬ অক্টোবর) দুপুরে উপজেলার ধলেশ্বরী নদীর কাস্তুল বাজার লঞ্চঘাট এলাকায় উপজেলা মৎস্য দপ্তরের উদ্যোগে ২৭০ কেজি মাছের পোনা অবমুক্তকরণ কার্যক্রম সম্পন্ন হয়।

​কর্মসূচিতে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে মাছের পোনা অবমুক্ত করেন অষ্টগ্রাম উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সাথী দাস।

​এ সময় উপস্থিত ছিলেন উপজেলা মৎস্য অফিসার (অতিরিক্ত দায়িত্ব) অমিত পণ্ডিত, উপজেলা বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক নিজামুল হক নজরুল, সাংগঠনিক সম্পাদক এস এম শাহীন, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক শাহ মোয়াজ্জেম হোসেন ইয়াকুব এবং উপজেলা প্রেসক্লাবের সভাপতি নজরুল ইসলাম সাগর প্রমুখ। ​

অনুষ্ঠানে বক্তারা বলেন, ‘মৎস্য সম্পদ বৃদ্ধি ও দেশীয় প্রজাতির মাছ রক্ষায় এ ধরনের উদ্যোগ অত্যন্ত প্রশংসনীয়। ধলেশ্বরী নদীতে অবমুক্তকৃত এসব পোনা মাছ মুক্ত জলাশয়ে প্রাকৃতিকভাবে বেড়ে উঠে স্থানীয় পুষ্টির চাহিদা মেটাতে এবং মৎস্যজীবীদের আর্থ-সামাজিক উন্নয়নে বিশেষ ভূমিকা রাখবে।


নির্বাচিত

কিশোর গ্যাংকে উল্টিয়ে ঝুলিয়ে দেবেন: ওসিকে চিফ হুইপ

পাথরঘাটায় আইনশৃঙ্খলা বিষয়ক সভায় বক্তব্য রাখেন চিফ হুইপ নূরুল ইসলাম মনি। ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

দুই মাসের সময়সীমা বেঁধে দিয়ে বরগুনার পাথরঘাটা থানার ওসিকে কিশোর গ্যাং নির্মূলে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশ দিয়েছেন জাতীয় সংসদের চিফ হুইপ ও বরগুনা-২ আসনের সংসদ সদস্য মো. নূরুল ইসলাম মনি।

তিনি বলেন, ‌‘আগামী দুই মাসের মধ্যে কিশোর গ্যাং যদি নির্মূল করতে না পারেন, আপনি থাকবেন না। আগামী দুই মাস টাইম, দুই মাস। কিশোরগ্যাং উল্টিয়ে ঝুলাইবেন গাছে। কোনও কিশোর গ্যাং থাকতে পারবে না।’

শুক্রবার (১৬ অক্টোবর) বেলা ১১টার দিকে পাথরঘাটা উপজেলা পরিষদের সম্মেলনকক্ষে আয়োজিত উন্নয়ন ও আইনশৃঙ্খলাবিষয়ক মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে এ হুঁশিয়ারি দেন চিফ হুইপ। সভায় পাথরঘাটা থানার ওসি মো. আব্দুল আলীম উপস্থিত ছিলেন।

চিফ হুইপ নূরুল ইসলাম মনি বলেন, ‘চাঁদাবাজি করে যারা খাবেন, চাঁদাবাজির কোনও জায়গা পাথরঘাটায় নেই। ওসি সাহেব, আপনাকে আমি এখানে বললাম, চাঁদাবাজির প্রশ্নে যদি কোনও সমস্যা থাকে, হয় আপনি থাকবেন, না হয় চাঁদাবাজ থাকবে। সন্ত্রাসী আর দখলবাজ পাথরঘাটায় থাকতে পারবে না।’

ওসিকে নির্দেশ দিয়ে তিনি বলেন, ‘আমার নাম নিয়ে আউয়াল নামের এক ব্যক্তি কোথায় কী করার কথা বলে চাঁদা খেয়েছে। আউয়ালসহ আরও একজন এখন পলাতক। আউয়ালকে আপনি ধরবেন এবং সেই মামলায় গ্রেফতার দেখাবেন। চাঁদাবাজ, সন্ত্রাসীদের কোনও জায়গা নেই। সন্ত্রাসীদের কোনও দল নেই।’

সভায় উপস্থিত সবার উদ্দেশে চিফ হুইপ বলেন, ‘আমার নাম নিয়ে যদি কেউ দখলবাজি করে, আমি টেলিফোন ধরতে পারি না, আপনারা আমাকে মেসেজ দিয়ে রাখবেন। আমি রাতে মেসেজ দেখি। কোস্টগার্ডের সোর্স যারা আছেন, তারা সাবধান হইয়েন। প্রয়োজন হলে আমি সবাইকে গ্রেফতার করাবো। তারা থানায়ও দালালি শুরু করেছে। থানায় দালালি বন্ধ কইরেন।’


নির্বাচিত

রাজশাহী সিল্কের ঐতিহ্য ফেরাতে উৎপাদন সক্ষমতা বাড়ানো হবে: ভূমিমন্ত্রী

ছবি: দৈনিক বাংলা
আপডেটেড ১৬ অক্টোবর, ২০২৬ ১৮:৫০
রাজশাহী ব্যুরো

ভূমিমন্ত্রী মো. মিজানুর রহমান মিনু বলেছেন, রাজশাহী রেশম কারখানার হারানো ঐতিহ্য ফিরিয়ে আনতে এর উৎপাদন সক্ষমতা বাড়ানো হবে। এর অংশ হিসেবে কারখানায় আরও বেশি পাওয়ার লুম চালুর পাশাপাশি নতুন কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি করা হবে। শুক্রবার (১৬ অক্টোবর) জাতীয় বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির আওতায় তুঁতচারা রোপণ ও রাজশাহী রেশম কারখানার পাওয়ার লুম চালুকরণ কার্যক্রমের উদ্বোধন অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।

তিনি আরও বলেন, ‘রাজশাহী সিল্কের সুনাম রয়েছে বিশ্বব্যাপী। অতীতে রাজশাহীর অর্থনীতির অন্যতম চালিকাশক্তি ছিল এটি। ধীরে ধীরে এই কারখানাটি তার ঐতিহ্য হারিয়ে ফেলেছিল।’

কর্মকর্তা-কর্মচারীদের উদ্দেশে তিনি বলেন, ‘আপনারা আন্তরিকতার মাধ্যমে এই কারখানায় কাজ করুন। এই কারখানাটি যাতে আবার পূর্বের রূপে ফিরে আসে এইভাবে কাজ করুন। কারখানাকে জিম্মি করে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের জিম্মি করে কোনো লাভ নেই। এ জন্য সবাইকে ভুগতে হবে।

আমি আপনাদের ভাই। সব সময় আপনাদের পাশে রয়েছি এবং থাকব। কারখানাটির ঐতিহ্য ফিরিয়ে আনতে যত সহযোগিতা লাগে করা হবে।’ এরপর রেশম কারখানায় পাওয়ার লুম চালু ও বৃক্ষরোপণ করা হয়।

এ সময় আরও বক্তব্য রাখেন, রাজশাহী-৩ আসনের সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট শফিকুল হক মিলন, রাজশাহী-৬ আসনের এমপি আবু সাইদ চাঁদ, রাজশাহী বিভাগীয় কমিশনার মো. ইউসুফ আলী, রাজশাহী সিটি করপোরেশনের প্রশাসক মো. মাহফুজুর রহমান রিটন, রাজশাহী জেলা পরিষদের প্রশাসক বীর মুক্তিযোদ্ধা অ্যাডভোকেট এরশাদ আলী ঈশা, বাংলাদেশ রেশম উন্নয়ন বোর্ডের মহাপরিচালক মো. তৌফিক আল মাহমুদ, পরিচালক (অর্থ ও পরিকল্পনা) ড. এম এ মান্নান, রাজশাহী মহানগর বিএনপির সহসভাপতি আসলাম সরকার প্রমুখ। এ ছাড়াও রাজশাহী রেশম কারখানার অন্যান্য কর্মকর্তা-কর্মচারীরা উপস্থিত ছিলেন।


নির্বাচিত

মানিকগঞ্জে সাব-ডিলারকে ২ লাখ টাকা জরিমানা

ছবি: দৈনিক বাংলা
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
মানিকগঞ্জ প্রতিনিধি

মানিকগঞ্জের দৌলতপুরে অন্য জেলার কৃষকের কাছে বেশি দামে সার বিক্রয়ের অপরাধে হাবিবুর রহমান নামের এক সাব-ডিলার দুই লাখ টাকা জরিমানা করেছেন ভ্রাম্যমাণ আদালত। শুক্রবার (১৬ অক্টোবর) সকালে দৌলতপুর বাজারে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনার মাধ্যমে উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও ভ্রাম্যমাণ আদালতের বিচারক প্রবীর বিশ্বাস তাকে দুই লাখ টাকা জরিমানা করেন। একই সঙ্গে ১১ বস্তা সার উদ্ধার করা হয়।

দণ্ডিত হাবিবুর রহমান দৌলতপুর বাজারের সার ব্যবসায়ী এবং তিনি মেসার্স দীপু ট্রেডার্সের সাব-ডিলার।

ভ্রাম্যমাণ আদালতের বিচারক প্রবীর বিশ্বাস জানান, গতকাল শুক্রবার সকালে দৌলতপুর বাজারের সার ব্যবসায়ী ও সাব-ডিলার হাবিবুর রহমানের দোকান থেকে পার্শ্ববর্তী টাঙ্গাইলের নাগরপুর উপজেলার এক কৃষক বেশি দামে ১১ বস্তা সার ক্রয় করেন এবং সার নিয়ে যাওয়ার পথে দৌলতপুরের সমেতপুর এলাকার কৃষকরা বিষয়টি টের পেয়ে গাড়িসহ সার আটক করেন। এরপর বিষয়টি উপজেলা প্রশাসনকে জানানো হয়।

খবর পেয়ে উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ঘটনাস্থলে এসে জিজ্ঞাসাবাদ করলে বেশি দামে অন্য জেলায় সার বিক্রয়ের কথা স্বীকার করেন সাব-ডিলার হাবিবুর রহমান।

পরবর্তীতে তাৎক্ষণিকভাবে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনার মাধ্যমে সাব-ডিলার হাবিবুর রহমানকে দুই লাখ টাকা জরিমানা করা হয়। একই সঙ্গে উদ্ধার হওয়া ১১ বস্তা সার উপজেলার স্থানীয় কৃষকদের মাঝে সরকারি দরে বিক্রি করা হয়। বেশি সার বিক্রয় বা সার কালোবাজারিদের বিরুদ্ধে প্রশাসন সোচ্চার আছে। কোনো অভিযোগ পেলে এবং তা সত্য হলে জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।


নির্বাচিত

চার বছর পর ইজিবাইকচালক হত্যা মামলার রহস্য উদ্‌ঘাটন

* পিবিআইয়ের জালে অজ্ঞান পার্টির ৩ সদস্য
ছবি: দৈনিক বাংলা
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
মাহবুব পিয়াল, ফরিদপুর

ফরিদপুরে চালককে চেতনানাশক দিয়ে অজ্ঞান করে হত্যা ও ইজিবাইক ছিনতাইয়ের ঘটনায় সংঘবদ্ধ পেশাদার অজ্ঞান পার্টির তিন সদস্যকে গ্রেপ্তার করেছে পিবিআই। শুক্রবার (১৬ অক্টোবর) সকাল ১১টায় পুলিশ ব্যুরো অফ ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই) ফরিদপুর জেলা কার্যালয়ের সম্মেলনকক্ষে পিবিআই পুলিশ সুপার মো. রবিউল ইসলাম সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে বিষয়টি নিশ্চিত করেন।

পুলিশ সুপার জানান, ২০২২ সালের ১৬ জুলাই রাত সাড়ে ৮টার দিকে ৫ সদস্যের সংঘবদ্ধ ছিনতাইকারী চক্র শহরের গোয়ালচামট পুরাতন বাসস্ট্যান্ড থেকে ২শ টাকা ভাড়ায় তালমা যাওয়ার কথা বলে ইজিবাইকটি ভাড়া করে। ফরিদপুর-বরিশাল মহাসড়কের বাখুন্ডা এলাকায় পৌছালে রুমালের মধ্যে চেতনানাশক দিয়ে চালক বিশ্বনাথ সরকারকে অজ্ঞান করে রাস্তার পাশে ফেলে দিয়ে ইজিবাইক নিয়ে পালিয়ে যায় ওই চক্র। স্থানীয়রা চালককে উদ্ধার করে ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করলে পরদিন সকালে মারা যায় সে। এই ঘটনায় নিহতের ছেলে রবি কুমার সরকার বাদী হয়ে কোতয়ালী থানায় হত্যা ও ছিনতাই মামলা দায়ের করে।

তিন মাস পরে মামলাটি পিবিআইয়ের কাছে তদন্তভার আসে। একটি গ্যারেজ থেকে ছিনতাই হওয়া ইজিবাইকের হুডের সূত্র ধরে দীর্ঘ অনুসন্ধান ও তদন্ত শেষে একে একে তিন জনকে গ্রেপ্তার করে পিবিআই পুলিশ।

গত বুধবার (১৪ অক্টোবর) রাতে শহরের ফলপট্টি থেকে মুরাদ শেখকে গ্রেপ্তার করে পরদিন আদালতে পাঠালে চালককে হত্যার বর্ণনা ও ইজিবাইক ছিনতাইয়ের কথা স্বীকার করে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেয় আসামি। এই চক্রের বাকিদের গ্রেপ্তারে কাজ চলছে বলেও জানান পুলিশ সুপার।

গ্রেপ্তারকৃত আসামি মুরাদ শেখ জেলার ভাঙ্গা উপজেলার মানিকদাহ ইউনিয়নের লক্ষ্মীপুর গ্রামের সিরাজ শেখের ছেলে। এ ছাড়াও ইতোপূর্বে গ্যারেজ মালিক কামাল ও ছিনতাইকারী সুমন আহমেদ নামে দুই আসামিকে গ্রেপ্তার করে কারাগারে পাঠানো হয়।

সংবাদ সম্মেলনে স্থানীয় প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক মিডিয়ার সাংবাদিকরা উপস্থিত ছিলেন।


নির্বাচিত

অপশক্তি প্রতিহত করে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বজায় রাখতে ঐক্যবদ্ধ হোন: এমপি ফাহমিদা হক

ছবি: দৈনিক বাংলা
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
খুলনা ব্যুরো

সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বাংলাদেশে একটি গোষ্ঠী বিভিন্ন ষড়যন্ত্রের মাধ্যমে বিনষ্টের চেষ্টা করছে। তাই শারদীয় দুর্গোৎসব শান্তিপূর্ণভাবে সম্পন্ন করতে সবাইকে সজাগ ও সতর্ক থাকতে হবে। কোনো অপশক্তি যেন উৎসবের আনন্দ নষ্ট করতে না পারে, সে জন্য মন্দির কমিটি, স্থানীয় প্রশাসন, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও রাজনৈতিক দলগুলো সমন্বিতভাবে কাজ করে পূজাকে উৎসবমুখরভাবে সম্পন্ন করবে এই প্রত্যাশার কথা বলেন সংরক্ষিত নারী আসনের সংসদ ফাহমিদা হক।

গত বৃহস্পতিবার (১৫ অক্টোবর) সন্ধ্যায় কয়রা উপজেলা অডিটোরিয়ামে দুর্গাপূজা উপলক্ষে মন্দিরগুলোর অনুকূলে আর্থিক সহায়তা প্রদান ও খুলনা জেলা পরিষদ কর্তৃক সামাজিক অবকাঠামো উন্নয়নসহ সংস্কার কাজের প্রকল্পের বরাদ্দের চিঠি হস্তান্তর অনুষ্ঠান উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. আব্দুল্লাহ আল বাকীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত হয়।

কয়রা উপজেলার ৫৯টি শারদীয় দুর্গাপূজা মন্দির কমিটির সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকদের হাতে ৭ হাজার টাকা করে মোট ৪ লাখ টাকা আর্থিক সহায়তা ও ৫৪টি আর্থ-সামাজিক অবকাঠামো উন্নয়ন প্রকল্পের বরাদ্দের চিঠি হস্তান্তর করা হয়। এ সময় উপস্থিত ছিলেন জেলা পরিষদ প্রশাসক, জেলা বিএনপির সদস্য সচিব, খুলনা জেলা রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটির চেয়ারম্যান এস এম মনিরুল হাসান বাপ্পী।

এ ছাড়া আরও উপস্থিত ছিলেন বিশেষ অতিথি খুলনা জেলা বিএনপির সাবেক যুগ্ম আহবায়ক, জেলা ক্রীড়া সংস্থার যুগ্ম সম্পাদক আশরাফুল আলম নান্নু, কয়রা থানার অফিসার্স ইনচার্জ মো. রাশেদুল আলম, উপজেলা বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক নূরুল আমিন বাবুল, জেলা বিএনপির সদস্য এম এ হাসান, মনিরুজ্জামান বেল্টু, প্রেসক্লাবের সভাপতি হারুনর রশীদ।

অন্যান্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন কয়রা উপজেলা পূজা উদযাপন কমিটির সভাপতি অম্বিকা চরণ সানা, সাধারণ সম্পাদক দিলীপ কুমার বৈরাগী, আবু সাঈদ বিশ্বাস, জি এম মাওলা বক্স, শরিফুল আলম, আব্দুস সামাদ, প্রফেসর আবুল কালাম, জিএম রফিকুল, শেখ সিরাজুল ইসলাম, হাবিবুর রহমান, নাজমুল হুদা, সালাউদ্দিন লিটন, সাইফুজ্জামান, আইয়ুব আলী, রওশন মোল্লা, গোলাম রসুল, জেলা যুবদলের সাবেক যুগ্ম আহবায়ক মোল্লা আইয়ুব হোসেন, রবিউল ইসলাম রবি, জিএম রাসেল ইসলাম, জাহিদুর রহমান শোভন, পীর আলী, মোহতাসিম বিল্লাহ প্রমুখ।


নির্বাচিত

কুমিল্লা সীমান্তে আটক দুই পুলিশ সদস্যকে ফেরত দিল বিএসএফ

ছবি: দৈনিক বাংলা
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
কুমিল্লা প্রতিনিধি

কুমিল্লার ব্রাহ্মণপাড়া সীমান্ত থেকে আটক দুই বাংলাদেশি পুলিশ সদস্যকে পতাকা বৈঠকের মাধ্যমে ফেরত দিয়েছে ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী বিএসএফ। ফেরত পাওয়া দুই পুলিশ সদস্য হলেন ব্রাহ্মণপাড়া থানার সহকারী উপপরিদর্শক (এএসআই) ইমরান হোসেন ও কনস্টেবল রোহিত দেওয়ান। শুক্রবার (১৬ অক্টোবর) দুপুর দেড়টায় ব্রাহ্মণপাড়া উপজেলার রামচন্দ্রপুর এলাকায় ২০৫৭ নম্বর সীমান্ত পিলারের কাছে দুই দেশের সীমান্তরক্ষী বাহিনীর মধ্যে পতাকা বৈঠক শুরু হয়। বৈঠক শেষে বিএসএফ দুই পুলিশ সদস্যকে বাংলাদেশের কাছে হস্তান্তর করে।

এ সময় উপস্থিত ছিলেন ৬০ বিজিবির অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল এস এম শরীফুল ইসলাম এবং কুমিল্লা জেলা পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা।

এর আগে গত বৃহস্পতিবার (১৫ অক্টোবর) রাত সাড়ে ১০টার দিকে ব্রাহ্মণপাড়া উপজেলার শশীদল ইউনিয়নের আশাবাড়ী সীমান্তের ২০৫৯ নম্বর পিলারসংলগ্ন এলাকায় মাদকবিরোধী অভিযান চালাতে গিয়ে আটক হন এএসআই ইমরান হোসেন ও কনস্টেবল রোহিত দেওয়ান।

পুলিশ সূত্রে জানা যায়, মাদককারবারিকে ধাওয়া করতে গিয়ে কনস্টেবল রোহিত দেওয়ান সীমান্ত অতিক্রম করে ভারতের অংশে চলে যান। পরে তাকে উদ্ধার করতে গিয়ে এএসআই ইমরান হোসেনও আটক হন। একপর্যায়ে ভারতীয় নাগরিকরা তাদের বিএসএফের কাছে হস্তান্তর করেন।

ঘটনার পর থেকে দুই পুলিশ সদস্যকে ফিরিয়ে আনতে বিজিবি ও বিএসএফের মধ্যে যোগাযোগ ও আলোচনা চলছিল।


নির্বাচিত

কটিয়াদীতে জমে উঠেছে ৫০০ বছরের ঐতিহ্যবাহী ঢাকের হাট

ছবি: দৈনিক বাংলা
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
রাকিবুল হাসান রোকেল, কিশোরগঞ্জ

শারদীয় দুর্গোৎসবকে ঘিরে কিশোরগঞ্জের কটিয়াদীতে জমে উঠেছে প্রায় ৫০০ বছরের ঐতিহ্যবাহী ঢাকের হাট। দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আসা ঢাকি ও বাদ্যযন্ত্রশিল্পীদের পদচারণায় মুখর হয়ে উঠেছে হাট প্রাঙ্গণ। ঢাক-ঢোল, কাঁশি-সানাই, করতাল ও বাঁশির সম্মিলিত সুরে সৃষ্টি হয়েছে উৎসবমুখর পরিবেশ।

বাদ্যযন্ত্রের তালে তালে নিজেদের দক্ষতা তুলে ধরছেন শিল্পীরা। তাদের পরিবেশনা শুনে পছন্দের বাদকদল বেছে নিচ্ছেন পূজা আয়োজকরা। দল ও বাদ্যযন্ত্রের ধরন অনুযায়ী ২০ হাজার টাকা থেকে শুরু করে লাখ টাকারও বেশি সম্মানিতে চলছে দরদাম ও চুক্তি।

প্রতি বছরের মতো এবারও কটিয়াদী সদরের পুরান বাজার এলাকায় বসেছে ঐতিহ্যবাহী এ হাট। গত বুধবার সকাল থেকে জমতে শুরু করা হাট চলে শুক্রবার (১৬ অক্টোবর) ষষ্ঠীর গভীর রাত পর্যন্ত। বাজার কমিটি-সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা জানিয়েছেন, এবার দেশের বিভিন্ন জেলা থেকে দুই শতাধিক বাদকদল হাটে এসেছেন। তবে হাটের সবচেয়ে বেশি জমজমাট অবস্থা দেখা যায় শেষের দিকে।

গত বৃহস্পতিবার বিকেলে হাটে গিয়ে দেখা যায়, ঢাকের গর্জন আর নানা বাদ্যযন্ত্রের সুরে মুখর পুরো এলাকা। একেকটি দল নিজেদের বাদ্যযন্ত্র ও বাজানোর দক্ষতা তুলে ধরছে। পূজা আয়োজকরা বিভিন্ন দলের পরিবেশনা শুনে পছন্দের দল নির্বাচন করছেন। এরপর চলছে দরদাম ও চুক্তি। যে দলের বাজনা আয়োজকদের মন কাড়ছে, নির্দিষ্ট সম্মানির বিনিময়ে সেই দলকেই দুর্গাপূজার মণ্ডপে বাজানোর জন্য চুক্তিবদ্ধ করা হচ্ছে।

নরসিংদীর শিবপুর থেকে হাটে আসা পূজা আয়োজক সুভাশিস সূত্রধর বলেন, ‘প্রতি বছর দুর্গাপূজার জন্য বাদ্যযন্ত্রশিল্পীদের দল নিতে এই ঐতিহ্যবাহী হাটে আসি। সকাল থেকে অনেকের বাজনা শুনেছি। এর মধ্যে একটি দলকে পছন্দ হয়েছে। তারা ভালো বাজায়। ৯০ হাজার টাকায় তাদের সঙ্গে চুক্তি হয়েছে।’

ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর থেকে আসা তাপস বিশ্বাস বলেন, ‘এবারই প্রথম এই হাটে এসেছি। এসে মুগ্ধ হয়েছি। দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে এখানে বাদকদল এসেছে। তাদের মধ্যে বিক্রমপুরের পাঁচ সদস্যের একটি দল পছন্দ করেছি। ৮৫ হাজার টাকায় তাদের সঙ্গে চুক্তি হয়েছে।’

বিক্রমপুর থেকে ১০ সদস্যের দল নিয়ে হাটে এসেছেন রণজিৎ মণি দাস। তার দলের সঙ্গে রয়েছে ঢাকসহ আধুনিক বিভিন্ন বাদ্যযন্ত্র। দলটির জন্য ১ লাখ ২০ হাজার টাকা সম্মানি চাইতে দেখা গেছে।

এদিকে, ঢাকের হাট এখন আর শুধু সনাতন ধর্মাবলম্বীদের আয়োজন নয়; এটি হয়ে উঠেছে বিভিন্ন ধর্মের মানুষের অংশগ্রহণে এক সর্বজনীন মিলনমেলা। বাদ্যযন্ত্রের সুর উপভোগ করতে স্থানীয় বাসিন্দাদের পাশাপাশি বিভিন্ন এলাকা থেকে ছুটে আসেন দর্শনার্থীরা। ঢাক-ঢোলের সম্মিলিত বাদ্য আর শিল্পীদের পরিবেশনায় পুরো হাট পরিণত হয় এক উৎসবের প্রাঙ্গণে।

পাঁচ শতাব্দীর ঐতিহ্যের পেছনের ইতিহাস: স্থানীয় জনশ্রুতি রয়েছে, প্রায় ৫০০ বছর আগে ষোড়শ শতাব্দীর প্রথম ভাগে সামন্ত রাজা নবরঙ্গ রায়ের সময় কটিয়াদীর ঢাকের হাটের সূচনা হয়। রাজা কটিয়াদীর চারিপাড়ায় তার রাজপ্রাসাদে দুর্গাপূজার আয়োজন করতেন। পূজায় ঢাক, ঢোল ও বাঁশি বাজানোর জন্য সেরা শিল্পীদের খুঁজতে বিক্রমপুর পরগনায় বার্তা পাঠানো হয়। সেই আহ্বানে বহু বাদ্যযন্ত্রশিল্পী নৌপথে কটিয়াদীতে আসেন। রাজা নিজে তাদের বাজনা শুনে সেরা দল বেছে নেন। সেই থেকেই দুর্গাপূজাকে কেন্দ্র করে কটিয়াদী পুরান বাজারে এই হাট বসার প্রচলন শুরু হয় বলে জনশ্রুতি রয়েছে।

স্থানীয় স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন শ্রীমা সংঘ হাটটির তত্ত্বাবধান করে। সংগঠনটির সাধারণ সম্পাদক জীবন কুমার সাহা বলেন, ‘রাজা নবরঙ্গ রায়ের আমল থেকেই এই ঐতিহ্যের যাত্রা। হাটে আসা বাদকদের থাকা-খাওয়া, নিরাপত্তা ও প্রয়োজনীয় সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিত করার চেষ্টা করে সংগঠনটি। কোনো বাদকদল ভাড়ায় যেতে না পারলে তাদের বাড়ি ফেরার ব্যবস্থাও করা হয়।’

মোবাইল ফোনে চুক্তি, কমছে ঢাকিদের আগমন: ঐতিহ্যবাহী এ হাটে আগের তুলনায় ঢাকিদের আগমন কমেছে বলে জানিয়েছেন আয়োজক, স্থানীয় বাসিন্দা ও দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আসা বাদ্যযন্ত্রশিল্পীরা। তাদের মতে, মোবাইল ফোনে যোগাযোগের সুযোগ বাড়ায় এ পরিবর্তন এসেছে।

হাটে এসে একবার চুক্তিবদ্ধ হওয়ার পর পূজা আয়োজক ও বাদকদলের মধ্যে মুঠোফোনে যোগাযোগের তথ্য বিনিময় হয়। পরবর্তী সময়ে কোনো দলের পরিবেশনা ভালো লাগলে আয়োজকরা সরাসরি ফোন করে সেই দলের সঙ্গে দরদাম ও চুক্তি করেন। ফলে উভয় পক্ষেরই পরের বছর হাটে আসার প্রয়োজন কমে যায়।

নাম ঢাকের হাট, কেনাবেচা হয় না বাদ্যযন্ত্র: নাম ঢাকের হাট হলেও এখানে ঢাক-ঢোল কিংবা অন্য কোনো বাদ্যযন্ত্র কেনাবেচা হয় না। বরং বাদ্যযন্ত্রশিল্পীরা তাদের দক্ষতা ও পরিবেশনা তুলে ধরেন, আর পূজা আয়োজকরা বাজনা শুনে নির্দিষ্ট সময়ের জন্য তাদের সঙ্গে চুক্তিবদ্ধ হন। দলের সদস্যসংখ্যা, বাদ্যযন্ত্রের ধরন ও শিল্পীদের দক্ষতার ওপর নির্ভর করে নির্ধারিত হয় সম্মানির পরিমাণ।

কটিয়াদী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শামীমা আফরোজ মারলিজ বলেন, ‘বিক্রমপুর, কুমিল্লা, নারায়ণগঞ্জ, মুন্সিগঞ্জ, কেরানীগঞ্জ, গাজীপুর ও নরসিংদী, হবিগঞ্জসহ দেশের বিভিন্ন এলাকা থেকে বাদকদল হাটে এসেছেন। ঢাক-ঢোলের পাশাপাশি বাঁশি, সানাই, করতাল, খঞ্জনি, মন্দিরা, ঝনঝনিসহ বিভিন্ন আধুনিক বাদ্যযন্ত্রও নিয়ে এসেছেন তারা।’

কিশোরগঞ্জ-২ আসনের সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট জালাল উদ্দিন বলেন, ‘শারদীয় দুর্গোৎসবকে কেন্দ্র করে এই ঐতিহ্যবাহী হাট এখন কেবল বাদ্যযন্ত্রশিল্পীদের চুক্তির জায়গা নয়, বরং দুর্গোৎসবের অবিচ্ছেদ্য অংশ।’


নির্বাচিত

সীমান্তে মাদক কারবারিকে ধরতে গিয়ে বিএসএফের হাতে আটক দুই পুলিশ

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
কুমিল্লা প্রতিনিধি

মাদকবিরোধী অভিযান পরিচালনার সময় কুমিল্লার ব্রাহ্মণপাড়া উপজেলার সীমান্তবর্তী এলাকা থেকে ভারতের সীমান্তরক্ষী বাহিনী বিএসএফের হাতে আটক হয়েছেন বাংলাদেশের দুই পুলিশ সদস্য। গত বৃহস্পতিবার গভীর রাতে উপজেলার শশীদল ইউনিয়নের আশাবাড়ি এলাকার আন্তর্জাতিক সীমান্তসংলগ্ন স্থানে এই অপ্রত্যাশিত ঘটনা ঘটে।

ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে ব্রাহ্মণপাড়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা জানান, দুই পুলিশ সদস্যকে নিরাপদে ফিরিয়ে আনতে সীমান্তরক্ষী বাহিনীগুলোর উচ্চপর্যায়ের কর্মকর্তাদের মধ্যে টেলিফোনে আলোচনা চলছে এবং খুব দ্রুত এর সুরাহা হবে বলে আশা করা যাচ্ছে।

পুলিশ প্রশাসনের অভ্যন্তরীণ তথ্য অনুযায়ী, গত বৃহস্পতিবার রাত সাড়ে ১০টার দিকে ব্রাহ্মণপাড়া থানার একজন সহকারী উপপরিদর্শক এবং একজন কনস্টেবল সিএনজিচালিত অটোরিকশায় চড়ে আশাবাড়ি এলাকার নির্দিষ্ট সীমান্ত পিলারসংলগ্ন অঞ্চলে মাদক উদ্ধারের বিশেষ দায়িত্বে গিয়েছিলেন।

দায়িত্বরত অবস্থায় পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে এক মাদক কারবারি দ্রুত পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করলে কনস্টেবল রোহিত দেওয়ান তার পেছনে ধাওয়া করেন এবং পথ চেনার ভুলে সীমান্ত পেরিয়ে ফেললে তাকে স্থানীয়রা আটক করে বিএসএফের কাছে সোপর্দ করে। পরবর্তীতে তাকে ছাড়াতে গিয়ে অপর পুলিশ কর্মকর্তাও আটক হন এবং তাদের ফিরিয়ে আনার প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।


নির্বাচিত

banner close