আরিফুর রহমান, ফেনী
ফেনীর পরশুরামে বাণিজ্যিকভাবে রাবার গাছের চাষ শুরু হয়েছে প্রায় ১২ বছর আগে। তবে বাগান মালিকের ব্যবসায়িক লাভের চেয়ে জায়গাটি বেশি পরিচিতি পেয়েছে পর্যটকদের কাছে। এমন অবস্থায় লাভ পেতে রাবার গাছ চাষের পাশাপাশি স্থানটিকে পর্যটনকেন্দ্র করার কথা ভাবছেন বাগান মালিক।
বাংলাদেশ-ভারত সীমান্তবর্তী পরশুরাম উপজেলার মির্জানগর ইউনিয়নের জয়ন্তীনগর গ্রামের বিশাল এলাকাজুড়ে রাবার বাগান গড়ে ওঠে ২০০৯ সালে। গত তিন বছর ধরে এ বাগান থেকে রাবার সংগ্রহ করে বাজারজাত করা হচ্ছে।
বাগান মালিক মো. মোস্তাফা বলেন, চট্টগ্রামের মেসার্স আরিফ এন্টারপ্রাইজ ইতিমধ্যে বাগান থেকে রাবার কিনছে। তবে এখনো লাভের মুখ দেখেননি। মাসিক দেড় লাখ টাকা খরচ হলেও তেমন লাভ হচ্ছে না। পুরোদমে রাবার সংগ্রহ শুরু হলে একটি ভালো অবস্থানে যাওয়ার আশা করছেন।
মো. মোস্তাফা বলেন, ২০০৯ সালে ২০ একর জমিতে ১০ হাজার রাবার চারা রোপণ করেন। বর্তমানে বাগানের চার হাজার গাছ থেকে বাণিজ্যিকভাবে রাবার উৎপাদন কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে। রাবার সংগ্রহের জন্য গাছ পরিপক্ব হতে সময় লেগেছে ১০ বছর। আরও কয়েক বছর পর বাকি গাছগুলো থেকেও রাবার উৎপাদন শুরু হবে।
এদিকে রাবার উৎপাদনের সঙ্গে সংশ্লিষ্টরা বলছেন, পুরোদমে রাবার উৎপাদন শুরু হলে তা দেশের অর্থনীতিতে ভূমিকা রাখবে।
পরশুরাম উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো. কামরুজ্জামান বলেন, এ অঞ্চল রাবার শিল্পের জন্য উপযোগী। সাধারণত রাবার উৎপাদনের উপযুক্ত পরিবেশ বিবেচনায় পাহাড় বা উচুঁ স্থান যেখান থেকে বৃষ্টির পানি সহজে নেমে যেতে পারে তা বেশি উপযোগী। সে হিসেবে জয়ন্তীনগর গ্রামও রাবার উৎপাদনের উপযুক্ত। এ উপজেলায় এমন আরও অনেক এলাকা আছে। সেখানেও রাবার বাগান হতে পারে।
জয়ন্তীনগর গ্রামের রাবার বাগান মালিক ও কর্মচারীদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, একটি গাছ থেকে দৈনিক ৩০০-৪৫০ গ্রাম রাবার পাওয়া যায়। বাজার দর অনুযায়ী প্রতি লিটার রাবার ১৫০ থেকে ২০০ টাকায় বিক্রি করা হয়। কিন্তু বর্তমানে দাম কমে প্রতি লিটার রাবার ১২০ থেকে ১৭০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। একটি গাছ থেকে ৩৫ বছর পর্যন্ত রাবার উৎপাদন করা যায়।
বাগান পরিচর্যাকারী চায়ং মারমা বলেন, তিনিসহ এখানে ১২ জন শ্রমিক কাজ করেন। বর্তমানে ৪ হাজার গাছ থেকে রাবারের কষ সংগ্রহ করা হচ্ছে। পর্যায়ক্রমে সব গাছ থেকে রাবার সংগ্রহ শুরু হবে। বিশেষ করে শীত মৌসুমের চার মাস রাবার উৎপাদন বেশ ভালো হয়।
রাবার প্রক্রিয়াজাতকরণ কাজে নিয়োজিত রনু রানী বড়ুয়া বলেন, প্রতি দুই থেকে তিন মাস পরপর বাণিজ্যিকভাবে রাবার বিক্রি হয়। প্রতি লটে দেড় থেকে দুই লাখ টাকার রাবার বিক্রি হয়। তবে এ বাগান থেকে এখনো লাভ দেখা যাচ্ছে না। আগামী কিছুদিন পর সব গাছ থেকে কষ সংগ্রহ করলে লাভ হতে পারে।
স্থানীয় বাসিন্দা আবু ইউসুফ বলেন, ‘শুরুতে বাইরের লোকজন এ বাগানে কাজ করত। এখন স্থানীয়রা এসব কাজ শিখে নিজেরাই করছেন। এতে গ্রামের বেকার জনগোষ্ঠীর কর্মসংস্থানের সম্ভাবনাও সৃষ্টি হয়েছে।’
পর্যটনকেন্দ্র
রাবার বাগানটির প্রাকৃতিক সৌন্দর্য ও প্রক্রিয়াজাতকরণের দৃশ্য দেখতে প্রতিদিনই এখানে ভিড় জমান দর্শনার্থীরা। এরই মধ্যে ফেনী জেলার অন্যতম পর্যটন এলাকা হিসেবে পরিচিতি লাভ করেছে স্থানটি। এক বাগান পরিচর্যাকারী জানান, গত কয়েক বছরে বাগানটি পিকনিক স্পট হিসেবে জেলা ও জেলার বাইরের অনেক মানুষের কাছে বেশ জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে।
রাবার বাগান দেখতে আসা দুলাল তালুকদার বলেন, ফেনীতে পর্যটন স্পট নেই বললেই চলে। বাগানটি সবার জন্য উন্মুক্ত। তবে শর্ত একটাই- কোনো প্রকার ম্যাচ বক্স বা আগুন উৎপন্নকারী দ্রব্য নিয়ে বাগানের ভেতরে প্রবেশ করা যাবে না।
আরেক দর্শনার্থী সোলায়মান হাজারী বলেন, ‘এখানে এলে প্রাণ জুড়িয়ে যায়। এখানে সারিবদ্ধ গাছ, রাবার প্রক্রিয়াজাতকরণের দৃশ্য, কাছ থেকে ভারত সীমান্তের দৃশ্য ও প্রাকৃতিক সজীবতা মুগ্ধ করে।’
এ বিষয়ে বাগান মালিক মো. মোস্তাফা বলেন, ভবিষ্যতে এখানে শিশুদের জন্য একটি পার্ক করার পরিকল্পনা আছে। বর্তমানে এখানে যাতায়াত সুবিধাসহ পর্যটকদের নিরাপত্তা নিশ্চিতে কর্মচারীদের সার্বক্ষণিক নজরদারি আছে।
নির্বাচন কমিশনের ঘোষণা অনুযায়ী আগামী জানুয়ারি থেকে স্থানীয় সরকার নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে বলে জানিয়েছেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় (এলডিআরডি) প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম। তিনি বলেন, বর্তমান সরকার অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ স্থানীয় নির্বাচন উপহার দিতে চায়। নির্বাচনী কোনো কলঙ্ক বর্তমান সরকার ঘাড়ে নেবে না।
মঙ্গলবার (২৯ সেপ্টেম্বর) বিকেলে জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সভাকক্ষে অনুষ্ঠিত আইন-শৃঙ্খলা ও উন্নয়ন সমন্বয় কমিটির সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
রংপুর, গাইবান্ধা ও কুড়িগ্রাম জেলার উন্নয়ন সমন্বয়ের দায়িত্বপ্রাপ্ত মীর শাহে আলম প্রতিমন্ত্রী হিসেবে প্রথমবারের মতো রংপুর সফরে এসেছেন। সকালে রংপুরের পীরগঞ্জে শহীদ আবু সাঈদের কবর জিয়ারত শেষে তার পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে সাক্ষাত করে খোঁজখবর নেন তিনি। এ সময় প্রতিমন্ত্রী শহীদ আবু সাঈদের বাড়িতে নতুন ঘর নির্মাণ, তার বাবা-মায়ের থাকার ব্যবস্থা এবং কবরস্থানের সৌন্দর্যবর্ধনে এক কোটি টাকা দেওয়ার ঘোষণা দেন।
পরে পীরগঞ্জ উপজেলার কয়েকটি স্কুল-কলেজ পরিদর্শন ও শিক্ষার্থীদের মতবিনিময় শেষে বড়দরগাহ থেকে ভেন্ডাবাড়ি জিসি সড়কের উন্নয়নমূলক কাজ পরিদর্শন করে রংপুরের কর্মসূচিতে অংশ নেন।
জেলা প্রশাসন আয়োজিত সভায় প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম বলেন, অবহেলিত রংপুরের উন্নয়নে সরকার কাজ করছে। জেলার বিভিন্ন সমস্যা চিহ্নিত করে পর্যায়ক্রমে সব সমস্যার সমাধান করা হবে।
আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি নিয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, আজকের সভা থেকে আমরা প্রয়োজনীয় দিকনির্দেশনা দিয়ে যাব। আগামী মাসের সভায় যদি পরিস্থিতির উন্নতি না হয়, তাহলে দায়ী কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
সারা দেশে সুষম উন্নয়ন প্রসঙ্গে প্রতিমন্ত্রী বলেন, সারা দেশে সুষম উন্নয়নের ধারায় রংপুরেও উন্নয়ন করা হবে। ইতোমধ্যে রংপুর জেলার ছয়টি আসনে ১২৭ কোটি টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। এছাড়াও রংপুর বিভাগের জন্য প্রায় ৩ হাজার ৬০০ কোটি টাকার উন্নয়ন প্রকল্পের প্রস্তাব একনেকে পাঠানো হয়েছে।
সভায় জেলা প্রশাসক ইসরাত জাহানের সভাপতিত্বে আরও বক্তব্য দেন রংপুর-৩ আসনের সংসদ সদস্য মাহবুবুর রহমান বেলাল, রংপুর-৫ আসনের সংসদ সদস্য গোলাম রব্বানী, সংরক্ষিত আসনের সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট রেজেকা সুলতানা ফেন্সী, রংপুর উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান সামসুজ্জামান সামু, রংপুর সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসক অ্যাডভোকেট মাহফুজ উন নবী চৌধুরী ডন, জেলা পরিষদ প্রশাসক সাইফুল ইসলাম প্রমুখ।
এছাড়াও জেলার সরকারি বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তা, আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী কর্মকর্তাসহ রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ ও সুশীল সমাজের প্রতিনিধিগণ সভায় উপস্থিত ছিলেন।
ট্রাক্টর ও পাওয়ার টিলারের দাপটে কৃষিকাজ থেকে গরু-মহিষের হাল প্রায় হারিয়ে গেছে। ঘোড়া দিয়ে জমি চাষ ও মই দেওয়ার দৃশ্যও এখন খুব একটা চোখে পড়ে না। তবে সিরাজগঞ্জের তাড়াশ উপজেলার কয়েকটি গ্রামে ভিন্ন চিত্র দেখা যাচ্ছে। সেখানে ঘোড়া দিয়ে জমি চাষ ও মই দেওয়াকে পেশা হিসেবে বেছে নিয়েছেন কয়েকজন। বাড়তি জ্বালানি খরচ এড়াতে স্থানীয় কৃষকদের মধ্যেও ঘোড়ার হাল ও মইয়ের চাহিদা তৈরি হয়েছে।
গত রোববার (২৭ সেপ্টেম্বর) তাড়াশ উপজেলার তালম ইউনিয়নের গোন্তা গ্রামের পাশের মাঠে দেখা যায়, ঘোড়া দিয়ে জমিতে মই দিচ্ছেন কৃষক শফিকুল ইসলাম। কাদামাটির জমিতে ঘোড়াটিকে নিয়ন্ত্রণ করে জমির উঁচু-নিচু অংশ সমান করছিলেন তিনি।
শফিকুল ইসলাম বলেন, প্রায় পাঁচ বছর আগে ২৪ হাজার টাকা দিয়ে ঘোড়াটি কিনেছিলেন। এরপর থেকে বিভিন্ন কৃষকের জমি চাষ ও মই দেওয়ার কাজে ঘোড়াটি ব্যবহার করছেন। বর্তমানে এটিই তার আয়ের অন্যতম মাধ্যম।
তিনি জানান, প্রতি বিঘা জমিতে মই দেওয়ার জন্য ২৫০ টাকা নেন। দিনে প্রায় পাঁচ বিঘা জমিতে মই দিতে পারেন। এতে দৈনিক আয় হয় প্রায় ১ হাজার ২৫০ টাকা। আমন ও বোরো দুই মৌসুমে ঘোড়া দিয়ে প্রায় ৫০-৬০ হাজার টাকা আয় হয়। বীজতলা তৈরির কাজেও ঘোড়াটি ব্যবহার করেন তিনি।
স্থানীয় কৃষকরা জানান, তাড়াশে গরুর জোয়াল-মই এখন প্রায় নেই। কোথাও কোথাও মহিষ দিয়ে মই দেওয়া হলেও প্রয়োজনের সময় ট্রাক্টর বা পাওয়ার টিলার পাওয়া যায় না। আবার আধুনিক যন্ত্রে চাষের খরচও তুলনামূলক বেশি। এ কারণে কম খরচে ঘোড়ার হাল ও মইয়ের দিকে ঝুঁকছেন কেউ কেউ।
কৃষকদের ভাষ্য, ঘোড়ার মই দিয়ে জমির মাটি ভালোভাবে সমান করা যায়। প্রয়োজন অনুযায়ী একই জায়গায় কয়েকবার ঘোরানো সম্ভব হওয়ায় জমির উঁচু-নিচু অংশও ঠিকভাবে সমান হয়। এতে সেচের পানি জমিতে সমভাবে ছড়িয়ে পড়ে।
তালম ইউনিয়নের জন্তিপুর গ্রামের আয়জদ্দি ফকির আগে ঘোড়ার গাড়িতে ধান ও বিভিন্ন মালামাল পরিবহন করতেন। পরে ঘোড়া দিয়ে জমিতে মই দেওয়ার কাজ শুরু করেন। এখন তার নাতি আশরাফুল ইসলামও এ কাজ করছেন।
আরিফুল ইসলাম বলেন, প্রায় চার বছর আগে বোরো মৌসুমে তার নানা তাড়াশে ঘোড়ার জোয়াল-মইয়ের কাজ শুরু করেন। পরে আরও কয়েকজন এ কাজকে পেশা হিসেবে নেন। তিনিও আমন ও বোরো মৌসুমে ঘোড়া দিয়ে মই দেন। দিনে কমপক্ষে ১০ বিঘা জমিতে মই দেওয়া যায়। প্রতি বিঘায় ২০০ টাকা করে পাওয়া যায়।
তাড়াশের পাশাপাশি পার্শ্ববর্তী সিংড়া ও গুরুদাসপুর উপজেলাতেও কয়েকজন ঘোড়া দিয়ে জমিতে মই ও হাল দিয়ে জীবিকা নির্বাহ করছেন।
সিংড়ার মোখলেছুর রহমান বলেন, শুরুতে ঘোড়ার গাড়িতে মালামাল পরিবহন করতেন। পরে আরও একটি ঘোড়া কিনে প্রশিক্ষণ দিয়ে জমি চাষ শুরু করেন। এখন প্রতিদিন তিন থেকে সাড়ে তিন বিঘা জমি চাষ করতে পারেন। এতে আয় হয় ১ হাজার থেকে দেড় হাজার টাকা। তবে দুটি ঘোড়ার খাবার বাবদ প্রতিদিন প্রায় ৪০০-৫০০ টাকা খরচ হয়।’
মোখলেছুর রহমানের দাবি, ঘোড়ার হালে জমি তুলনামূলক ভালোভাবে চাষ হয়। ইরি-বোরো মৌসুমে এ কাজের চাহিদা আরও বাড়ে। অনেক কৃষক এখন পাওয়ার টিলারের পরিবর্তে ঘোড়ার হাল দিয়ে জমি চাষ করাচ্ছেন।
কৃষক হযরত আলী বলেন, এলাকায় গরুর হাল নেই। আবার প্রয়োজনের সময় পাওয়ার টিলারও পাওয়া যায় না। তাই কম খরচে ঘোড়ার হাল দিয়ে জমি চাষ করাচ্ছেন তারা।
ট্রাক্টরচালক সেরাজুল বলেন, তেলের দাম বেড়ে যাওয়ায় জমি চাষের খরচও আগের তুলনায় বেড়েছে। এতে বিঘাপ্রতি চাষাবাদে কৃষকদের বাড়তি টাকা গুনতে হচ্ছে। ফলে খরচ কমাতে অনেক কৃষক ট্রাক্টরের পরিবর্তে ঘোড়া দিয়ে জমি চাষ করছেন। ঘোড়া দিয়ে চাষে জ্বালানি খরচ না থাকায় ব্যয় তুলনামূলক কম পড়ে।
তাড়াশ উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা শর্মিষ্ঠা সেন গুপ্তা বলেন, ‘আধুনিক কৃষিযন্ত্রের ব্যবহারের কারণে বর্তমানে ঘোড়া দিয়ে জমি চাষের ঘটনা সচরাচর দেখা যায় না। তবে প্রয়োজন ও বাড়তি আয়ের জন্য উপজেলার কিছু কৃষক ঘোড়া দিয়ে জমি চাষ ও মই দেওয়ার কাজ করছেন। কৃষি বিভাগ কৃষকদের আধুনিক ও উন্নত কৃষিযন্ত্র ব্যবহারের পরামর্শ দিয়ে থাকে।
ট্রাক্টর-পাওয়ার টিলারের যুগে তাড়াশের মাঠে ঘোড়ার হাল যেন পুরোনো কৃষিচিত্রেরই এক ঝলক। তবে সেই পুরোনো পদ্ধতিই এখন কয়েকজনের জীবিকার পাশাপাশি কম খরচে চাষাবাদের বিকল্প হয়ে উঠেছে।
কিশোরগঞ্জের হাওর উপজেলা অষ্টগ্রামে অভিযান চালিয়ে ৬ কেজি গাঁজাসহ তিন মাদক কারবারিকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। মঙ্গলবার (২৯ সেপ্টেম্বর) দুপুরে অষ্টগ্রাম থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রুকুনুজ্জামান সাংবাদিকদের এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন; ঢাকার মিরপুরের বদরুজ্জামানের ছেলে মো. লিমন মিয়া (২২), নাটোরের সিংধার সাইদুল ইসলামের ছেলে মো. শাওন ইসলাম (২২) এবং হবিগঞ্জের মরুড়ার মনু মিয়ার ছেলে মো. রূপন মিয়া (২৩)।
পুলিশ জানায়, গত সোমবার (২৮ সেপ্টেম্বর) অস্টগ্রাম থানার এসআই (নিঃ) অনিক কুমার সাহা সঙ্গীয় ফোর্সসহ সরকারি গাড়ীযোগে ডিউটি করার সময় পারেন, অস্টগ্রাম থানাধীন পূর্বঅস্টগ্রাম ইউনিয়নের ইকরদিয়া ঘাট সংলগ্ন আনফর আলীর চায়ের দোকানের সামনে পাকা রাস্তার উপর কতিপয় ব্যক্তি মাদকদ্রব্য কেনাবেচা করছে। প্রাপ্ত সংবাদের ভিত্তিতে তাৎক্ষণিকভাবে ঘটনাস্থলে উপস্থিত হলে পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে তিনজন ব্যক্তি পালানোর চেষ্টা করেন এবং পরবর্তীতে পুলিশ সদস্যদের সহায়তায় তাদের আটক করা হয়।
আটককৃতদের দেহ তল্লাশি করে লিমন মিয়ার কাছ থেকে ৪ কেজি, শাওন ইসলামের কাছ থেকে ১ কেজি এবং রূপন মিয়ার কাছ থেকে ১ কেজি— সর্বমোট ৬ কেজি গাঁজা উদ্ধার করা হয়, যার আনুমানিক বাজার মূল্য ১ লক্ষ ৮০ হাজার টাকা। এ ঘটনায় ধৃত আসামিদের বিরুদ্ধে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে অস্টগ্রাম থানায় একটি নিয়মিত মামলা রুজু করা হয়েছে।
ডিজিটাল ডিভাইস হোয়াটসঅ্যাপ এর মাধ্যমে সাইবার স্পেস ব্যবহার করে জাতীয় সংসদের হুইপ ও বিএনপির কেন্দ্রীয় ছাত্রবিষয়ক সম্পাদক রকিবুল ইসলাম বকুলের কণ্ঠ নকল করে ব্যবসায়ির কাছ থেকে সাড়ে ৩ কোটি টাকা হাতিয়ে নেওয়ার মামলায় চারজনকে আটক করা হয়েছে। এরমধ্যে মামলার প্রধান আসামি এজাজ আহমেদ রাজা আদালতে ১৬৪ ধারায় সীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন। এছাড়া উদ্ধার হয়েছে ১২ লাখ টাকা। হুইপের কণ্ঠ নকল করে এমন জালিয়াতি ঘটনায় পুলিশ প্রশাসনসহ সর্বত্র তোলপাড় শুরু হয়েছে। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে এ নিয়ে চলছে নানা আলোচনা।
নগরীর পশ্চিম টুটপাড়া এলাকার ব্যবসায়ি জি,এম আজিজুর রহমানের কাছ থেকে প্রতারণা করে দুই দফায় সাড়ে তিন কোটি টাকা হাতিয়ে নেওয়ার ঘটনায় গত ১৮ সেপ্টেম্বর সাইবার সুরক্ষা আইনে খুলনা সদর থানায় মামলা দায়ের করেন ওই ব্যবসায়ি। মামলাটি ডিবির কাছে হস্তান্তর হওয়ার পর এ পর্যন্ত ৪ জনকে আটক করা হয়েছে।
মামলায় দেবেন বাবু রোডের এজাজ আহমেদ রাজা (৪৬), একই এলাকার শেখ মাহাবুবুর রহমান মামুনের (৪৯) নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাতনামা ৫/৬ জনকে আসামি করা হয়।
এজাহারে জি,এম আজিজুর রহমান উল্লেখ করেন যে- আমার বড় ভাই জিএম মফিজুর রহমান টিকু বর্তমানে আমেরিকা প্রবাসী। আমার বড় ভাইকে সাবেক খুলনা মহানগর ছাত্র দলের সভাপতি আরিফ জানান হুইপ বকুল ভাই আপনার সাথে কথা বলতে চাচ্ছে, এবং সে প্রেক্ষিতে আমার বড় ভাইকে +১(৯২৯)২২৩-০৪২৭ নম্বরটি বকুল সাহেবের নাম্বার বলে প্রদান করেন এবং বকুল সাহেবের সাথে ওই নাম্বারে হোয়াটসঅ্যাপে কথা বলেন। +১(৯২৯)২২৩-০৪২৭ নম্বরের হোয়াটসঅ্যাপে তিনি নিজেকে বকুল সাহেব বলে পরিচয় দেন।
এই পরিপ্রেক্ষিতে গত ২৯ জুলাই খুলনা সদর থানাধীন পশ্চিম টুটপাড়া আমার বাসায় অবস্থান করাকালে আমার ভাই আমাকে বকুল সাহেবের সাথে গ্রুপ কলে যুক্ত করেন। উক্ত গ্রুপ কলে প্লাটিনাম জুট মিলের পুরাতন যন্ত্রাংশ ক্রয়-বিক্রয় সংক্রান্ত বিষয়ে আলোচনা হয়।
একপর্যায়ে বকুল মালামাল ক্রয়ের পূর্বে অগ্রিম পেমেন্ট ক্লিয়ার করার বিষয়ে বলেন এবং আমাকে বলেন যে সকালে পেমেন্ট করতে পারবে কিনা। আমি বকুল সাহেবের কথায় সকালে পেমেন্ট করতে পারব বলে জানাই এবং বলে সকালে একজন লোক তোমার সাথে দেখা করবে।
এই ধারাবাহিকতায় গত ২৯ জুলাই শেখ মাহাবুবুর রহমান মামুন (৪৯) এর মোবাইল নম্বর -০১৭১১-০৬৬০৫৯ আমার নিকট আসার কথা থাকলেও ২নং আসামি নিজে না এসে ১নং আসামি এজাজ আহমেদ রাজাসহ অজ্ঞাত আর একজন আসামিকে খুলনা সদর থানাধীন ২৫ স্যার ইকবাল রোডস্থ আলফি ট্রেড ইন্টারন্যাশনাল আমার অফিসে পাঠান।
সেখানে প্লাটিনাম জুট মিলের পুরাতন যন্ত্রাংশ ক্রয়ের পেমেন্ট বাবদ আমি ১নং আসামি এজাজ আহমেদ রাজাকে নগদ ২ কোটি টাকা প্রদান করি। পরবর্তীতে আবারও +১(৯২৯)২২৩-০৪২৭ নম্বরের হোয়াটসঅ্যাপে বকুল সাহেবের সাথে কথা হয় এবং আমাকে জানান যে, হার্ডবোর্ড মিল নিতে পারব কিনা।
আমি জানাই এই মুহূর্তে এত টাকা অ্যারেঞ্জ করতে পারব না এবং মিলটা আগে আমার দেখা লাগবে। এক পর্যায়ে অ্যাডভোকেট মোহাম্মদ আলী বাবু নাম্বার প্রদান করে এবং অ্যাডভোকেট মোহাম্মদ আলী বাবু ভাইকে আমার নাম্বার প্রদান করেন।
অ্যাডভোকেট মোহাম্মদ আলী বাবু ভাই আমাকে গত ৩০ জুলাই ভোরে হোয়াটসঅ্যাপে একটি মেসেজ প্রদান করে এবং জানান যে বকুল ভাই আপনার নাম্বার দিয়েছে হার্ডবোর্ড মিল ও প্লাটিনাম মিল কখন দেখবেন।
এই ধারাবাহিকতায় গত ৩০ জুলাই দুপুরের মধ্যে অ্যাডভোকেট মোহাম্মদ আলী বাবু আমাকে সঙ্গে নিয়ে প্লাটিনাম জুট মিলে যাই এবং সেখানে পুরাতন মেশিনারী ও লোহার যন্ত্রাংশ সরেজমিনে দেখি।
হার্ডবোর্ড মিলে জিএম না থাকায় আমি প্লাটিনাম জুট মিল সরেজমিনে পরিদর্শন করি এবং সেখানকার পুরাতন যন্ত্রাংশ পছন্দ হওয়ায় পরবর্তীতে গত ২ আগষ্ট আরও ১ কোটি ৫০ লাখ টাকা ১নং আসামি এজাজ আহমেদ রাজা ও তার সঙ্গে থাকা ব্যক্তিকে প্রদান করি। এভাবে সর্বমোট ৩ কোটি ৫০ লাখ টাকা প্রদান করার পরও আমি সংশ্লিষ্ট বিষয়টি বাস্তবায়নের জন্য নিয়মিত যোগাযোগ করতে থাকি।
কিন্তু বকুল সাহেব আমাকে আজ বা কাল দেখা করবে বা কথা বলবে বলে জানাই। পরবর্তীতে গত ২৯ আগষ্ট কথা বলার কথা থাকলেও বকুল সাহেব আমার সাথে কথা বলেনি। গত ১ সেপ্টেম্বর বিএনপি প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে হুইপ বকুল সাহেব খুলনায় আসলে আমি তার সঙ্গে সরাসরি সাক্ষাৎ করি এবং সংশ্লিষ্ট বিষয়গুলো জানাই।
তখন তিনি আমাকে জানান যে, উক্ত বিষয় সম্পর্কে তিনি কিছুই জানেন না এবং এ ঘটনা সম্পর্কে তিনি অবগত নন।
এদিকে প্রতারণার অভিযোগে মামলা দায়েরের পর পুলিশ প্রশাসন নড়েচড়ে বসে। মামলার তদন্ত কর্মকর্তা মহানগর গোয়েন্দা (ডিবি) পুলিশের এস আই সাইদুর রহমান বলেন, ৪ জনকে আটক করা হয়েছে ও গত রোববার বয়রা রায়েরমহল এলাকা থেকে জাকিয়া সুলতানাসহ দুইজনকে আটক করা হয়। এদিকে গত সোমবার বিকালে মামলার প্রধান আসামি এজাজ আহমেদ রাজাকে খুলনা মেট্রেপলিটন ম্যাজিষ্ট্রেট-(১) মো. আসাদুরজামানের আদালতে হাজির করা হলে সে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন।
খুলনার ডিবি উপপুলিশ কমিশনার মোহাম্মদ আহাদুজ্জামান মিয়া বলেন, মামলাটি খুবই স্পর্শ কাতর মামলা। তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত বিস্তারিত বলা যাচ্ছে না।
মৎস ও প্রাণিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী সুলতান সালাউদ্দিন টুকু বলেছেন, ‘হত্যা, গুম, খুনের পরও শেখ হাসিনার অনুশোচনা নেই। উল্টো আবার হুমকি দিচ্ছে। বিগত সরকার ফ্যাসিস্ট ও জালেম হওয়ার কারণে দেশের জনগণ তাদের বিতাড়িত করেছে। আপনি দেশে আসেন, দেশের জনগণ আপনার ফাঁসি কার্যকর করতে চায়। হুমকিধমকি দিয়ে বাংলাদেশের জনগণকে রোধ করা যাবে না।’
মঙ্গলবার (২৯ সেপ্টেম্বর) দুপুরে মানিকগঞ্জের দৌলতপুর উপজেলা পরিষদ প্রাঙ্গণে মানিকগঞ্জ, ঢাকা, মুন্সিগঞ্জ, রাজবাড়ী, ফরিদপুর, মাদারীপুর ও শরীয়তপুর জেলার নদী বিধৌত চরাঞ্চলে সমন্বিত প্রাণিসম্পদ উন্নয়ন প্রকল্পের আওতায় চরাঞ্চলের প্রান্তিক ২৫ জন নারী ও পুরুষ জনগোষ্ঠীর মাঝে বকনা বাছুর ও পশুখাদ্য বিতরণ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
প্রতিমন্ত্রী আরও বলেন, ‘শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের স্বাধীনতার ঘোষণার মধ্য দিয়ে বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। দেশের গণতন্ত্র যতবার হোঁচট খেয়েছে, গণতন্ত্র রক্ষায় বিএনপি ততবার আন্দোলন করেছে। বিএনপি জনবান্ধব দল এবং সুষ্ঠু নির্বাচনের মাধ্যমে সরকার গঠন করেছে। বিএনপি যখন ক্ষমতায় এলে দেশের জনগণ ভালো থাকে। আমরা জনগণকে ভালো রাখার চেষ্টা করি। আপনারা যদি সঠিকভাবে হাঁস-মুগরি ও পশু লালনপালন করেন। তাহলে একসময় খামারিতে রূপান্তরিত হতে পারবেন এবং নিজেরাই অর্থনৈতিকভাবে স্বাবলম্বী হবেন।’
প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘শহীদ জিয়াউর রহমান ও বেগম খালেদা জিয়া প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর জন্য কাজ করেছেন। তাদেরই যোগ্য উত্তরসূরি হিসেবে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর উন্নতির জন্য কাজ করছেন। দেশের প্রান্তিক জনগণকে অর্থনৈতিকভাবে শক্তিশালী করতে, সরকার বিভিন্ন কর্মসূচি নিয়েছে। ইতোমধ্যে প্রান্তিক খামারিদের জন্য খাল খননের পাশাপাশি মৎস্য খামার গড়ে তোলার উদ্যোগও নেওয়া হয়েছে।’
সভায় উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সিলভিয়া স্নিগ্ধার সভাপতিত্বে এবং উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা জহুরুল ইসলামের সঞ্চালনায় মানিকগঞ্জ-১ আসনের সংসদ সদস্য এসএ.জিন্নাহ কবীর, মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব মো. ইমাম উদ্দীন কবীর এবং প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক মো. শাহজামান খান, কেন্দ্রীয় যুবদলের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক শফিকুল ইসলাম, জেলা যুবদলের আহ্বায়ক কাজী মোস্তাক হোসেনসহ জেলা ও উপজেলা বিএনপির অঙ্গসহযোগী সংগঠনের নেতা-কর্মী উপস্থিত ছিলেন।
সাতক্ষীরার আশাশুনি উপজেলার প্রতাপনগর ইউনিয়নের শ্রীপুর-কুড়িকাহুনিয়া এলাকায় পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) বেড়িবাঁধে ভয়াবহ ভাঙন দেখা দিয়েছে। সোমবার (২৮ সেপ্টেম্বর) রাত আনুমানিক ৩টার দিকে ভাঙনের সূত্রপাত হয়। পরে সকাল ৭টার দিকে ভাঙন বড় আকার ধারণ করে। এতে প্রায় ৫০ মিটার বেড়িবাঁধ ধসে নদী-খালের দিকে চলে গেছে। দ্রুত ভাঙন রোধ করা না গেলে প্রতাপনগর ও পার্শ্ববর্তী এলাকার ১০ থেকে ১২টি গ্রাম প্লাবিত হওয়ার আশঙ্কা করছেন স্থানীয়রা।
ভাঙনস্থলটি কুড়িকাহুনিয়া লঞ্চঘাটের দক্ষিণ পাশে। বেড়িবাঁধের পাশাপাশি ওয়াবদা সড়কের একটি অংশও ধসে পড়ায় ওই পথে চলাচল ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়েছে। ভাঙন দেখা দেওয়ার পর সকাল থেকেই স্থানীয় বাসিন্দারা ঘটনাস্থলে ছুটে এসে স্বতঃস্ফূর্তভাবে প্রতিরোধ কাজ শুরু করেন। বালি ও মাটি ফেলে ক্ষতিগ্রস্ত অংশ রক্ষার চেষ্টা করছেন তারা।
স্থানীয় বাসিন্দা আব্দুল খালেক বলেন, সারা বছর আমাদের নদীর সঙ্গে যুদ্ধ করে বাঁচতে হয়। মনের মধ্যে সবসময় ভয় কাজ করে কখন ঘরবাড়ি সব প্লাবিত হয়ে যায়। পানি উন্নয়ন বোর্ডের অবহেলার কারণে আমরা একটু শান্তিতে বসবাস করতে পারি না। সবে মাত্র এলাকায় গাছপালা ও ফসল হচ্ছে। আবার যদি প্লাবিত হয়ে যায়, তাহলে সব শেষ হয়ে যাবে। হাজার হাজার মৎস্যঘের পানিতে ভেসে যাবে।
স্থানীয় বাসিন্দা নূরে আলম সিদ্দিকী বলেন, সকাল থেকে স্থানীয় জনগণকে নিয়ে স্বতঃস্ফূর্তভাবে আমরা ভাঙন মোকাবিলায় কাজ করে যাচ্ছি। দ্রুত বালি ভরাট করে ভাঙনস্থল মেরামত করা না গেলে ভাঙন আরও বিস্তৃত হয়ে বড় ধরনের ক্ষয়ক্ষতি হতে পারে।
পানি উন্নয়ন বোর্ডের বিরুদ্ধে অভিযোগ করে তিনি বলেন, ভাঙনের পরই সাধারণত পানি উন্নয়ন বোর্ড কাজ শুরু করে। আগে থেকে কোনো কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হয় না। এ কারণে আমাদের সবসময় ভোগান্তি পোহাতে হয়। যে জায়গায় ভাঙন দেখা দিয়েছে, তার সামনেই খাল। বেড়িবাঁধটি পুরোপুরি ভেঙে গেলে প্রতাপনগর ইউনিয়নসহ পার্শ্ববর্তী আনুলিয়া ইউনিয়নও প্লাবিত হয়ে যেতে পারে। আমরা দ্রুত পানি উন্নয়ন বোর্ডের পদক্ষেপ চাই।
স্থানীয়দের আশঙ্কা, ভাঙন দ্রুত রোধ করা না গেলে নদীর পানি লোকালয়ে ঢুকে পড়তে পারে। এতে বসতবাড়ি, ফসলি জমি ও মৎস্যঘেরসহ ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হতে পারে। তাদের দাবি, জরুরি ভিত্তিতে বালি ও মাটি ফেলে ভাঙন ঠেকানোর পাশাপাশি ঝুঁকিপূর্ণ বেড়িবাঁধ স্থায়ীভাবে সংস্কার করতে হবে।
এ বিষয়ে আশাশুনি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) শ্যামানন্দ কুণ্ডু বলেন, খবর পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে স্থানীয় চেয়ারম্যানকে প্রাথমিকভাবে কাজ শুরু করার জন্য জানিয়েছি। পাশাপাশি পানি উন্নয়ন বোর্ডকেও বিষয়টি অবহিত করা হয়েছে। তারা দ্রুত কাজ শুরু করবে।
সাতক্ষীরা পানি উন্নয়ন বিভাগ-২ এর নির্বাহী প্রকৌশলী আব্দুর রহমান তাযকিয়া বলেন, আমরা ইতোমধ্যে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে প্রয়োজনীয় ব্যাবস্থা নিয়েছি। আনুমানিক ৫০ মিটারের মতো বেড়িবাঁধে ভাঙন দেখা দিয়েছে। খুব দ্রুত কাজ শুরু করেছি ।
এদিকে ভাঙন ঠেকাতে স্থানীয়দের স্বেচ্ছাশ্রমে কাজ অব্যাহত রয়েছে। তবে তাদের আশঙ্কা, দ্রুত কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া না হলে ভাঙন আরও বিস্তৃত হয়ে বড় ধরনের বিপর্যয় সৃষ্টি করতে পারে।
লালমনিরহাটের পাটগ্রাম ও নীলফামারীর ডিমলা সীমান্তে পৃথক অভিযান চালিয়ে ভারতীয় ১০ সিএফটি গোল কাঠ ও ২ হাজার ৩৯০ কেজি চুইঝাল জব্দ করেছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)। জব্দ করা এসব পণ্যের আনুমানিক মূল্য ১৬ লাখ ৮৩ হাজার টাকা।
বিজিবি জানায়, গত সোমবার (২৮ সেপ্টেম্বর) রাতে রংপুর ব্যাটালিয়ন (৫১ বিজিবি)-এর কালিগঞ্জ বিওপির একটি টহল দল নায়েব সুবেদার মো. রফিকুল ইসলামের নেতৃত্বে সীমান্ত পিলার ৭৯৪/৬-এস থেকে প্রায় ১ হাজার গজ বাংলাদেশের অভ্যন্তরে ঝাড়সিংহেশ্বর কাঁচা রাস্তা এলাকায় অভিযান চালায়। এ সময় বিজিবির উপস্থিতি টের পেয়ে চোরাচালানের সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিরা বহন করা গোল কাঠ ফেলে পালিয়ে যায়। পরে ঘটনাস্থলে তল্লাশি চালিয়ে ১০ সিএফটি ভারতীয় গোল কাঠ উদ্ধার করা হয়। যার আনুমানিক মূল্য ১০ হাজার টাকা।
অন্যদিকে, মঙ্গলবার (২৯ সেপ্টেম্বর) ভোরে কুচলিবাড়ী বিওপির একটি টহল দল সুবেদার মো. সলেমান আলীর নেতৃত্বে সীমান্ত পিলার ৮০২/১৭-আর থেকে প্রায় ১০০ গজ বাংলাদেশের অভ্যন্তরে জুম্মারপাড় এলাকায় অভিযান পরিচালনা করে। বিজিবির উপস্থিতি টের পেয়ে চোরাচালানকারীরা বিপুল পরিমাণ চুইঝাল ফেলে পালিয়ে যায়। পরে তল্লাশি চালিয়ে ২ হাজার ৩৯০ কেজি ভারতীয় চুইঝাল উদ্ধার করা হয়। জব্দ করা চুইঝালের আনুমানিক মূল্য ১৬ লাখ ৭৩ হাজার টাকা।
বিজিবি জানিয়েছে, পৃথক দুই অভিযানে জব্দ করা মালামালের মোট মূল্য ১৬ লাখ ৮৩ হাজার টাকা। উদ্ধার করা পণ্যের আইনানুগ প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা হয়েছে।
রংপুর ব্যাটালিয়ন (৫১ বিজিবি) জানিয়েছে, সীমান্ত এলাকায় চোরাচালান, অবৈধ অনুপ্রবেশ ও আন্তঃসীমান্ত অপরাধ প্রতিরোধে গোয়েন্দা তৎপরতা ও নিয়মিত টহল কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে। সীমান্ত সুরক্ষা ও চোরাচালান প্রতিরোধে ভবিষ্যতেও এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে।
অপরাধীর কোনো দলীয় পরিচয় বিবেচনার সুযোগ নেই। অপরাধীর একমাত্র পরিচয় সে অপরাধী মন্তব্য করে পুলিশের মহাপরিদর্শক (আইজিপি) মো. আলী হোসেন ফকির মাদক কারবারি, সন্ত্রাসী ও চাঁদাবাজদের কঠোরভাবে আইনের আওতায় আনার নির্দেশ দিয়েছেন । একই সঙ্গে তিনি কিশোর অপরাধীদের বিরুদ্ধেও যথাযথ আইনি ব্যবস্থা নিতে মাঠপর্যায়ের পুলিশ কর্মকর্তাদের নির্দেশ দিয়েছেন।
মঙ্গলবার (২৯ সেপ্টেম্বর) সকালে পুলিশ সদর দপ্তরে অনুষ্ঠিত আগস্ট ২০২৬ মাসের মাসিক অপরাধ পর্যালোচনা সভায় তিনি এসব নির্দেশ দেন।
সভায় আইজিপি বলেন, মাদকের বিরুদ্ধে পুলিশের ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি অব্যাহত থাকবে। মাদক কারবার ও মাদকদ্রব্যের বিস্তার রোধে কঠোর ব্যবস্থা নিতে হবে। এ ক্ষেত্রে কমিউনিটি পুলিশিংয়ের মাধ্যমে সাধারণ মানুষের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করার ওপরও গুরুত্ব দেন তিনি।
আসন্ন দুর্গাপূজা শান্তিপূর্ণ, নিরাপদ ও নির্বিঘ্নে উদযাপনের জন্য মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তাদের সার্বিক নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিশ্চিত করার নির্দেশ দেন আইজিপি। একই সঙ্গে গুজব ও অপপ্রচার রোধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে বলেন তিনি।
সভায় সভাপতিত্ব করেন অতিরিক্ত আইজি (ক্রাইম অ্যান্ড অপারেশনস) মো. সায়েদুর রহমান। তিনি কিশোর গ্যাংয়ের বিষয়ে তথ্য সংগ্রহের পাশাপাশি তাদের পেছনে কোনো প্রভাবশালী ব্যক্তি রয়েছে কি না, তা খুঁজে বের করে ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেন।
আসন্ন দুর্গাপূজাকে কেন্দ্র করে প্রতিটি ইউনিটকে নিজস্ব নিরাপত্তা পরিকল্পনা প্রণয়নের নির্দেশ দেন অতিরিক্ত আইজি। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সম্ভাব্য অপপ্রচারের বিষয়ে সতর্ক থাকার পাশাপাশি দায়িত্ব পালনের সময় পুলিশ সদস্যদের যথাযথভাবে বডি ওর্ন ক্যামেরা ব্যবহারের নির্দেশনাও দেন তিনি।
মো. সায়েদুর রহমান বলেন, আইনশৃঙ্খলা রক্ষা ও অপরাধ নিয়ন্ত্রণে কমিউনিটি পুলিশিং কার্যকরভাবে কাজে লাগাতে হবে। দায়িত্ব পালনে পুলিশ সদস্যদের পেশাদারিত্ব বজায় রাখার আহ্বান জানান তিনি।
সভায় আগস্ট মাসের গুরুত্বপূর্ণ ঘটনাসহ দেশের সার্বিক অপরাধ পরিস্থিতি পর্যালোচনা করা হয়। এ সময় ডাকাতি, দস্যুতা, হত্যা, ধর্ষণ, পুলিশ আক্রান্ত ও অপহরণ মামলার পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনা হয়। পাশাপাশি মুলতবি, গ্রেপ্তারি পরোয়ানা, মামলার তদন্ত ও বিচারের অগ্রগতি এবং সাজার হার নিয়েও বিস্তারিত পর্যালোচনা করা হয়।
সভায় মহানগর পুলিশ কমিশনার, রেঞ্জ ডিআইজি ও জেলার পুলিশ সুপাররা ভার্চুয়ালি যুক্ত ছিলেন। পুলিশ সদর দপ্তর প্রান্তে ডিআইজি (ক্রাইম ম্যানেজমেন্ট) মোহাম্মদ আবু সুফিয়ানসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
দেশের প্রতিটি ওয়ার্ড ও ইউনিয়নে নতুন করে একাধিক নিকাহ্ রেজিস্টার নিয়োগ না দেওয়ার দাবিতে প্রধানমন্ত্রী বরাবর স্মারক লিপি দিয়েছে ঝিনাইদহের কাজীরা। মঙ্গলবার (২৯ সেপ্টেম্বর) সকালে ঝিনাইদহ জেলা প্রশাসকের মাধ্যমে প্রধানমন্ত্রী বরাবর স্মারকলিপি পেশ করেন তারা।
সেসময় বাংলাদেশ মুসলিম নিকাহ্ রেজিস্টার ও নিকাহ্ রেজিস্টার কল্যাণ ঐক্য পরিষদ জেলা শাখার সভাপতি আব্দুস সুবহান, সহ-সভাপতি সাইদুর রহমান, সেক্রেটারী মোস্তাফিজুর, কালীগঞ্জ থানার সভাপতি ইসরাইল হোসেন, সদস্য সাইদুর রহমান, উমর ফারুকহসহ অন্যান্যরা উপস্থিত ছিলেন।
স্মারকলিপি প্রদাণ শেষে তারা বলেন, বর্তমানে একটি নিকাহ্ রেজিস্টার মাসে গড়ে ৫ থেকে ৭টি বিবাহ রেজিস্টি করেন। এই সীমিত উপার্জনে দ্রব্যমুল্যের উর্দ্ধগতির সাথে পাল্লা দিয়ে পরিবার-পরিজন নিয়ে সংসারের খরচ মেটানো কষ্টসাধ্য হয়ে পড়েছে।
এর মাঝে যদি আবারো প্রতিটি ইউনিয়নে নতুন করে একাধিক নিকাহ্ রেজিস্টার নিয়োগ দেওয়া হয় তাহলে বর্তমান নিকাহ রেজিস্টাররা আর্থিক অনটনে পড়বেন। তাই সরকারের এই সিন্ধান্ত না নেওয়ার দাবি জানান তারা।
জামালপুরে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক পদে সুপারিশপ্রাপ্ত ৫১ জন নিয়োগ বঞ্চিতরা নিয়োগ পত্রের দাবিতে আমরণ অনশন শুরু করেছে। মঙ্গলবার (২৯ সেপ্টেম্বর) সকালে জেলা প্রাথমিক শিক্ষা ভবনের দ্বিতীয় তলায় মেঝেতে বসে পড়ে অনশন করেন তারা।
নিয়োগ প্রত্যাশিরা জানায়, জেলায় প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক পদে ১৩৬ জন চূড়ান্তভাবে সুপারিশপ্রাপ্ত হয়। ১ম ধাপে গত ২৪ সেপ্টেম্বর ৮৪ জন ও ২য় ধাপে সোমবার (২৮ সেপ্টেম্বর) ১জনসহ মোট ৮৫ জন নিয়োগপত্র পেয়েছেন। কিন্তু কোন আইনগত জটিলতা না থাকার পরও বাকি ৫১ জন সুপারিশপ্রাপ্ত হয়েও নিয়োগ বঞ্চিত রয়েছে। বৈধ কাগজপত্র থাকার পরও অজানা কারণে তাদের নিয়োগপত্র প্রদান করা হচ্ছে না। আজকের মধ্যে নিয়োগপত্র প্রদান করা না হলে জেলা প্রাথমিক শিক্ষা ভবনে অবস্থান নিয়ে আমরণ অনশন কর্মসূচি চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দেন নিয়োগ প্রত্যাশিরা।
এ বিষয়ে মাদারগঞ্জ উপজেলার কোয়ালিকান্দি গ্রামের মুনতাজিল বিল্লাহ জানান, আমি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে অনার্স-মাষ্টার্স শেষ করে প্রাথমিকে সহকারী শিক্ষক পদে সুপারিশপ্রাপ্ত হই। দীর্ঘ আট মাস যাবত আমাদের নিয়োগ আটকে আছে। জেলায় ১৩৬ জনের মধ্যে মাত্র ৫১ জন নিয়োগপত্র হাতে পায়নি। এর কোনো সুনির্দিষ্ট কারণ এখনো জানতে পারিনি। নিয়োগ পত্র না পাওয়া পর্যন্ত আমরা এই স্থান ত্যাগ করব না।
অপর দিকে দেওয়ানগঞ্জ উপজেলার শরিফপাড়া গ্রামের নিয়োগ বঞ্চিত শামীমা ইয়াসমীন সুমি বলেন, আমার পরিবারে কোনো কর্মক্ষম মানুষ নেই। আমার বাবার বয়স্ক হয়েছে তাই ইনকাম নাই। আমার ছোট ভাইটাও বেকার। আমার ছোট বোন মেডিকেলে পড়ে। আমার একটা ছোট বাচ্চা আছে। আমার মা আমার বাচ্চাকে সামলায়, আমি লেখাপড়া করি। আমার একটা চাকরি হবে, সংসারের দায়িত্ব নিতে হবে। কিন্তু আমি বঞ্চিত হয়েছি। কেন বঞ্চিত হয়েছি তাও জানা নাই। আমাকে যদি এখন নিয়োগপত্র না দেয় তাহলে আমার মরা ছাড়া আর কোনো উপায় নাই।
ভুয়া ডিবি পুলিশ পরিচয়ে গ্রেপ্তারের ভয় দেখিয়ে টাকা আদায়ের অভিযোগে দুই যুবককে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। স্থানীয়রা আটকের পর ৯৯৯ নম্বরে খবর দিলে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে তাদের গ্রেপ্তার করে। গত সোমবার (২৮ সেপ্টেম্বর) রাত ১০টায় বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন নওগাঁর পুলিশ সুপার মোহাম্মদ তারিকুল ইসলাম। এর আগে, রোববার (২৭ সেপ্টেম্বর) রাত ১১টার দিকে সদর উপজেলার কীর্তিপুর ইউনিয়নে কাদিমপুর গ্রাম থেকে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়।
গ্রেপ্তাররা হলেন, জেলার বদলগাছী উপজেলার বাসিন্দা মো. সারোয়ার হোসেন অপু (৩২) ও মো. শামীম হোসেন (৩১)।
পুলিশ জানায়, রোববার (২৭ সেপ্টেম্বর) রাতে গ্রেপ্তার ওই দুই যুবক নিজেদের ডিবি পুলিশ পরিচয় দেন। এ সময় তাদের সাথে থাকা একটি সোনালি রঙের মেডেল (পদক) ও হ্যান্ডকাফসদৃশ বস্তু দেখিয়ে স্থানীয়দের গ্রেপ্তারের ভয়ভীতি প্রদর্শন করে টাকা দাবি করেন। বিষয়টি সন্দেহজনক মনে হলে স্থানীয় লোকজন তাদের আটক করেন। পরে ৯৯৯ নম্বরে ফোন করে বিষয়টি জানানো হলে সদর থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে তাদের থানায় নিয়ে আসে। এ ঘটনায় কাদিমপুর গ্রামের জলিল সরদার বাদী হয়ে তাদের বিরুদ্ধে থানায় মামলা করেন।
পুলিশ সুপার তারিকুল ইসলাম বলেন, গত এক মাস ধরে ওই দুই ব্যক্তি বিভিন্ন সময়ে ডিবি পুলিশ পরিচয়ে কাদিমপুর গ্রামের একাধিক ব্যক্তির কাছ থেকে টাকা হাতিয়ে নিয়েছেন। জিজ্ঞাসাবাদে তারা দুজনও ঘটনার সঙ্গে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেছেন। পরে তাদের আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, ভুয়া পুলিশ পরিচয়ে প্রতারণা, ভয়ভীতি প্রদর্শন কিংবা অর্থ আদায়ের সঙ্গে জড়িত যেকোনো ব্যক্তির বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
ঢাকার আদালতে হাজিরা শেষে গাজীপুরের কাশিমপুর কারাগারে নেওয়ার পথে একাধিক মামলার আসামি শীর্ষ সন্ত্রাসী রাজা ওরফে পিচ্চি রাজা পালানোর ঘটনায় পাঁচ পুলিশ সদস্যকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এদিকে এ ঘটনায় পাঁচ সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে।
সোমবার (২৮ সেপ্টেম্বর) সকালে গাজীপুর মেট্রোপলিটন পুলিশের কমিশনার (ভারপ্রাপ্ত) মোহাম্মদ তাহেরুল হক চৌহান গণমাধ্যমকে এ তথ্য নিশ্চিত করেন।
তিনি বলেন, ‘আসামি পলায়নের পরে পুলিশের বিভিন্ন স্তরের কর্মকর্তাসহ পাঁচজনকে সাসপেন্ড করেছি। গাড়ির ড্রাইভারসহ পাঁচজনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া পাঁচ সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি করা হয়েছে। ডিসি হেডকোয়ার্টারের নেতৃত্বে ওই তদন্ত কমিটি কাজ করবে।’
এর আগে গত রোববার (২৭ সেপ্টেম্বর) সকালে ঢাকা মেট্রোপলিটন আদালতে হাজিরার জন্য পিচ্চি রাজাকে প্রিজন ভ্যানে করে ঢাকায় নেওয়া হয়। আদালতে হাজিরা শেষে তাকে কাশিমপুর কেন্দ্রীয় কারাগার-১ এ ফিরিয়ে নেওয়া হচ্ছিল।
প্রিজনভ্যানটি গাজীপুরের নাওজোড় এলাকায় পৌঁছালে পিচ্চি রাজা প্রাকৃতিক কাজ সারার জন্য শৌচাগারে যাওয়ার কথা বলে। পরে দায়িত্বে থাকা পুলিশ সদস্যরা তাকে একটি শৌচাগারে নিয়ে যান। সেখানে সুযোগ পেয়ে কৌশলে পালিয়ে যায় সে।
চলতি বছরের ১৯ মে মোহাম্মদপুর এলাকার শীর্ষ মাদককারবারি হিসেবে পরিচিত রাজা ওরফে পিচ্চি রাজাকে গ্রেপ্তার করা হয়। পিচ্চি রাজা, তার স্ত্রী ও শ্যালক নেপাল থেকে দেশে ফেরার খবরে পুলিশ বিমানবন্দরে অবস্থান নেয়। পরে ইমিগ্রেশন পুলিশের সহায়তায় তাদের হেফাজতে নেওয়া হয়।
পিচ্চি রাজার বিরুদ্ধে মাদক ও অস্ত্রসহ একাধিক মামলা রয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
নির্মাণের এক দিন পরই হাতের ঘষায় উঠে আসছে পিচের আস্তরণ। কোথাও পা দিয়ে চাপ দিলেই আলগা হয়ে যাচ্ছে কার্পেটিং। প্রয়োজনীয় বালি, ইটের খোয়া ও পাথরের স্তর যথাযথভাবে না দিয়েই মাটির ওপর কার্পেটিং করার অভিযোগ উঠেছে প্রায় ২ কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মাণাধীন একটি সড়কে। এমন চিত্র সামনে আসার পর প্রকল্পের কাজের মান, তদারকি এবং সরকারি অর্থ ব্যয়ের স্বচ্ছতা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে নরসিংদীর মনোহরদীতে।
উপজেলার খিদিরপুর ইউনিয়নের ১ নম্বর ওয়ার্ডের বৈরাগীরচর, কালিরচর, ভাওয়ালিয়াপাড়া হয়ে মনতলা বাজার পর্যন্ত ১ হাজার ৪০০ মিটার সড়কটি স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের (এলজিইডি) গ্রামীণ সড়ক প্রকল্পের আওতায় নির্মাণ করা হচ্ছে। সড়কটির নির্মাণ ও সংস্কারকাজে ব্যয় ধরা হয়েছে ১ কোটি ৯৩ লাখ টাকা।
স্থানীয়দের অভিযোগ, প্রকল্পের প্রায় এক হাজার মিটার অংশের কার্পেটিং ২৪ সেপ্টেম্বর রাতে করা হয়। পরদিন সকালে সড়কে গিয়ে তারা দেখতে পান, বিভিন্ন স্থানে হাত দিয়ে ঘষা দিলেই পিচ উঠে আসছে। পা দিয়ে চাপ দিলে কোনো কোনো অংশের কার্পেটিংও আলগা হয়ে যাচ্ছে। পরে স্থানীয়রা নিজেরাই হাত দিয়ে সড়কের বিভিন্ন অংশের পিচ তুলে ফেলেন।
মাটির ওপরই কার্পেটিং: স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, সড়কের মাটির লেভেল করার পর প্রয়োজনীয় ইটের খোয়া, বালু ও পাথরের স্তর যথাযথভাবে প্রস্তুত করা হয়নি। এসব উপকরণ ব্যবহারের পরিবর্তে সরাসরি মাটির ওপর কার্পেটিং করা হয়েছে। ফলে সড়কের ভিত্তির সঙ্গে কার্পেটিংয়ের যথাযথ বন্ধন তৈরি হয়নি। নির্মাণের পরপরই কার্পেটিং উঠে যাওয়ায় তাদের এ অভিযোগ আরও জোরালো হয়েছে বলে দাবি স্থানীয়দের।
গত শুক্রবার (২৫ সেপ্টেম্বর) সকালে কালিরচর এলাকায় গিয়ে স্থানীয়দের এমন অভিযোগের সত্যতাও সরেজমিনে দেখা যায়। সদ্য কার্পেটিং করা সড়কের বিভিন্ন স্থানে হাত দিয়ে ঘষা দিলে পিচের স্তর উঠে আসতে দেখা যায়। বিষয়টি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর সংশ্লিষ্ট বিভাগের কর্মকর্তারা ঘটনাস্থলে যান।
তদারকি নিয়ে প্রশ্ন: সড়ক নির্মাণকাজে সংশ্লিষ্ট প্রকৌশলী ও মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তাদের নিয়মিত তদারকি ছিল কি না—এ নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন স্থানীয়রা। তাদের ভাষ্য, সরকারি অর্থে নির্মিত একটি সড়কের কাজ যদি নির্মাণের পরদিনই এভাবে নষ্ট হতে শুরু করে, তাহলে প্রকল্প বাস্তবায়নের সময় মান নিয়ন্ত্রণ কতটা কার্যকর ছিল, তা খতিয়ে দেখা প্রয়োজন।
স্থানীয়দের কেউ কেউ প্রকল্পের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে ঠিকাদারের সঙ্গে যোগসাজশ করে অনিয়মের সুযোগ দেওয়ার অভিযোগ করেছেন। তবে এসব অভিযোগের পক্ষে কোনো স্বাধীন প্রমাণ বা তদন্তের চূড়ান্ত প্রতিবেদন এখনো পাওয়া যায়নি।
স্থানীয়রা সংশ্লিষ্ট নির্বাহী প্রকৌশলী মো. ফুলকাম বাদশা ও উপজেলা প্রকৌশলী হরষিত কুমার সাহার ভূমিকা তদন্তের দাবি জানিয়েছেন। তাদের অভিযোগ, প্রকৌশলীদের যথাযথ তদারকি থাকলে নিম্নমানের কাজ করার সুযোগ তৈরি হতো না।
ঠিকাদারের বক্তব্যেও উঠল প্রকৌশলীদের প্রসঙ্গ: অভিযোগের বিষয়ে মেসার্স মরিয়ম এন্টারপ্রাইজের স্বত্বাধিকারী মো. হাসান মিয়া বলেন, নির্বাহী প্রকৌশলী ও উপজেলা প্রকৌশলী যেভাবে নির্দেশ দিয়েছেন, তিনি সেভাবেই কাজ করেছেন। কার্পেটিং উঠে গেলে তার কী করার আছে—এমন প্রশ্নও তোলেন তিনি।
তবে একই সঙ্গে তিনি বলেন, নির্মাণাধীন সড়কে যে সমস্যা সৃষ্টি হয়েছে, তা সমাধানের জন্য এলাকাবাসীকে তিনি কথা দিয়েছেন। নিজের ক্ষতি হলেও সমস্যার সমাধান করবেন।
ঠিকাদারের এমন বক্তব্যের পর প্রকল্পের কারিগরি নির্দেশনা কে দিয়েছেন, কী উপকরণ ও কী পদ্ধতিতে কাজ করার কথা ছিল এবং বাস্তবে তা অনুসরণ করা হয়েছে কি না—এসব প্রশ্নের উত্তর খোঁজা জরুরি হয়ে উঠেছে।
কর্মকর্তারা জানেন, তদন্তও হয়েছে: মনোহরদী উপজেলা প্রকৌশলী হরষিত কুমার সাহা বলেন, সড়কের অনিয়মের বিষয়ে তিনি অবগত হয়েছেন। সরেজমিনে তদন্তও করা হয়েছে। ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আলোচনা করে বিষয়টির সমাধান করা হবে।
নরসিংদী স্থানীয় সরকার বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. ফুলকাম বাদশা বলেন, বিষয়টি তার নজরে এসেছে। দ্রুত এর সমাধান করা হবে।
পরে মনোহরদী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. মাহমুদুল হাসান সংশ্লিষ্ট বিভাগের কর্মকর্তাদের সঙ্গে নিয়ে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন। তিনি সড়কের কাজ নিয়ম অনুযায়ী সম্পন্ন করার নির্দেশ দেন।
সরকারি অর্থের অপচয়ের আশঙ্কা: প্রায় ২ কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মাণাধীন একটি সড়কের কার্পেটিং যদি নির্মাণের পরপরই উঠে যায়, তাহলে সড়কটির স্থায়িত্ব নিয়ে বড় প্রশ্ন তৈরি হয়। একই সঙ্গে নিম্নমানের কাজের কারণে ভবিষ্যতে পুনরায় সংস্কারের প্রয়োজন হলে সরকারি অর্থের ওপর বাড়তি চাপ পড়তে পারে বলে আশঙ্কা স্থানীয়দের।
এ কারণে শুধু উঠে যাওয়া কার্পেটিং পুনরায় করে দিলেই সমস্যার সমাধান হবে না বলে মনে করছেন এলাকাবাসী। তাদের দাবি, সড়কের নিচের স্তর থেকে শুরু করে কার্পেটিং পর্যন্ত প্রতিটি ধাপের কারিগরি পরীক্ষা করতে হবে। প্রকল্পের নকশা, প্রাক্কলন ও কার্যাদেশ অনুযায়ী কাজ হয়েছে কি না, ব্যবহৃত বালু, খোয়া, পাথর ও বিটুমিনের মান কী ছিল—এসবও পরীক্ষা করা প্রয়োজন।
তাদের আরও দাবি, তদন্তে কোনো ধরনের অনিয়ম বা সরকারি অর্থের অপব্যবহারের প্রমাণ পাওয়া গেলে সংশ্লিষ্ট ঠিকাদার, তদারকির দায়িত্বে থাকা কর্মকর্তা এবং দায়ী ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে বিধি অনুযায়ী ব্যবস্থা নিতে হবে।