মঙ্গলবার, ২২ সেপ্টেম্বর ২০২৬
৭ আশ্বিন ১৪৩৩

রাবি শিক্ষার্থীকে মারধরের অভিযোগ চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে

অভিযুক্ত চেয়ারম্যান তাহির তাহু
আপডেটেড
২৬ জুন, ২০২৩ ১৮:৫৯
প্রতিনিধি, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়
প্রকাশিত
প্রতিনিধি, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়
প্রকাশিত : ২৬ জুন, ২০২৩ ১৮:৫৩

অনিয়মের প্রতিবাদ করায় রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীকে মারধরের অভিযোগ উঠেছে এক ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে। গত রোববার বেলা ১২টার দিকে লালমনিরহাটের কালীগঞ্জ উপজেলার কাকিনা ইউনিয়ন পরিষদ কার্যালয়ে এ ঘটনা ঘটে। ঘটনার পর থেকে কোনো ধরনের অভিযোগ না করতে ভুক্তভোগী শিক্ষার্থী ও তার পরিবারকে নানাভাবে হুমকি দিচ্ছেন অভিযুক্ত চেয়ারম্যানের লোকজন।

ভুক্তভোগী শিক্ষার্থীর নাম মো. রজব আলী। তিনি বিশ্ববিদ্যালয়ের আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিভাগের ২০১৯-২০ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী। অপরদিকে অভিযুক্ত চেয়ারম্যান হলেন মো. তাহির তাহু। তিনি কাকিনা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ও ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি।

ভুক্তভোগীর অভিযোগ, গত রোববার কাকিনা ইউনিয়নের ৯ নম্বর ওয়ার্ডের ভিজিএফ কার্ডের চাল বিতরণ করা হয়। সেখানে চাল তুলতে যান রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী রজব আলী। তিনি দুই ঘণ্টা লাইনে দাঁড়িয়ে থেকে টোকেন জমা দিতে গেলে সেখানে কর্মরত গ্রাম পুলিশের সদস্যরা তাকে বলেন, ১ টোকেনে চাল দেয়া হয় না। ৩টা টোকেন একসঙ্গে করে লাইনের শেষে দাঁড়ান। তখন রজব লাইনের শেষে দাঁড়াতে না চাইলে তাদের সঙ্গে বাগবিতণ্ডা হয়। একপর্যায়ে গ্রাম পুলিশ সদস্যরা তাকে মারধর করেন। এরপর চাল বিতরণের সময় নারীদের সঙ্গে গ্রাম পুলিশ সদস্যদের অশালীন আচরণ, পুরুষদের ওপর লাঠিচার্জের ভিডিও করতে গেলে রজবের ফোন কেড়ে নেয়া হয় এবং মারধর করে চেয়ারম্যানের কক্ষে নেয়া হয়। পরে চেয়ারম্যান তাহির তাহু ‘তুই ছাত্রলীগের কত বড় নেতা হইছিস? ভিডিও করিস?’ বলে রজবকে চড়-থাপ্পড় মারেন। পরে তাকে একটি কক্ষে প্রায় তিন ঘণ্টা আটকে রাখা হয়।

রজব আলী বলেন, ‘ইউনিয়ন পরিষদের নানা অনিয়ম নিয়ে প্রতিবাদ করায় চেয়ারম্যান ও চৌকিদাররা আমাকে মারধর করে। পরে আমার পরিচিতরা আমাকে সেখান থেকে উদ্ধার করে। এ ঘটনার পর থেকেই চেয়ারম্যানের লোকজনেরা আমাকে নানাভাবে হুমকি দিয়ে আসছে। আমি বাড়ি থেকে বের হতে পারছি না। আমি ও আমার পরিবারের লোকজন চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগতেছি।’

তবে অভিযোগের বিষয়ে মোবাইলে ফোনে চেয়ারম্যান তাহির তাহুর সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি কথা বলতে অস্বীকৃতি জানান।

কালীগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) হাবিবুর রহমান বলেন, ‘ভুক্তভোগী শিক্ষার্থী আমাকে মৌখিকভাবে বিষয়টি জানিয়েছেন। আমি তাকে আশ্বস্ত করেছি। তবে লিখিত অভিযোগ পেলে অবশ্যই তদন্তসাপেক্ষে ব্যবস্থা নেয়া হবে।’


নির্বাচিত

বিরোধী দলের নেতারা সংসদে এক কথা, বাইরে আরেক কথা বলে: প্রতিমন্ত্রী ফরিদুল ইসলাম

ছবি: দৈনিক বাংলা
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
মাগুরা প্রতিনিধি

বিরোধী দল নেতারা সংসদে এক কথা বলে, বাইরে আরেক কথা বলে দ্বিচারিতা করছে বলে মন্তব্য করেছেন পরিবেশ বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী শেখ ফরিদুল ইসলাম।

তিনি আরো বলেন, বিরোধী দলের নেতারা গ্যাস দে, বিদ্যুৎ দে, নইলে গদি ছেড়ে দে- বলে দেশের স্বাভাবিক পরিস্থিতিকে স্থিতিশীল করার চেষ্টা করছে। মাগুরা জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে মঙ্গলবার (২২ সেপ্টেম্বর) এক মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

মাগুরা জেলার আইন-শৃঙ্খলা, দুর্নীতি ও মাদক নিয়ন্ত্রণ, সুশাসন, স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিতকরণ এবং জনকল্যাণমূলক ও উন্নয়ন কার্যক্রম সহ সার্বিক সরকারি কার্যাবলী তদারকি ও সমন্বয়ের লক্ষ্যে বিভিন্ন দপ্তর প্রধান ও গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গের সাথে পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী শেখ ফরিদুল ইসলাম এমপির সাথে এক মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।

মাগুরার জেলা প্রশাসক মোতাকাব্বীর আহমেদের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথী হিসেবে উপস্থিত ছিলেন, পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী শেখ ফরিদুল ইসলাম এমপি।

এ সময় অন্যান্যদের মধ্যে আরো উপস্থিত ছিলেন, সংরক্ষিত ৩০৫ আসনের এমপি নেওয়াজ হালিমা আরলী, পুলিশ সুপার মোল্লা আজাদ হোসেন, জেলা বিএনপির আহবায়ক ও জেলা পরিষদ প্রশাসক আলী আহমেদ, সিভিল সার্জন ডাক্তার মো. শামীম কবির, অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট শাশ্বতি শীল, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক সার্বিক আব্দুল কাদের, জেলা আইনজীবী সমিতির সভাপতির এডভোকেট মিজানুর রহমান, সাধারণ সম্পাদক এডভোকেট শাহেদ হাসান টগর, মাগুরা প্রেসক্লাবের সভাপতি অধ্যাপক সাইদুর রহমান, সাধারণ সম্পাদক শফিকুল ইসলাম শফিক সহ জেলার সরকারি সকল দপ্তরের বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তারা এ সময় উপস্থিত ছিলেন।

এ সময় জেলার আইনশৃঙ্খলা সহ জনকল্যাণমূলক ও উন্নয়ন কার্যক্রম সার্বিক তদারকি করেন মাগুরা জেলার দায়িত্বপ্রাপ্ত প্রতিমন্ত্রী শেখ ফরিদুল ইসলাম।


নির্বাচিত

নরসিংদীকে রোল মডেল হিসেবে গড়ে তুলব ইনশাল্লাহ: জেলা প্রশাসক

ছবি: দৈনিক বাংলা
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নরসিংদী প্রতিনিধি

নরসিংদী জেলা প্রশাসক ও জেলা ম্যাজিষ্ট্রেট ইসরাত জাহান কেয়া বলেছেন, সকলের আন্তরিক সহযোগিতা পেলে নরসিংদীকে সারাদেশের মধ্যে একটা সুন্দর ও রোল মডেল জেলা হিসেবে গড়ে তোলব ইনশাল্লাহ।

মঙ্গলবার (২২ সেপ্টেম্বর) সকালে নরসিংদী জেলা প্রশাসন ও সিভিল সার্জন কার্যালয় কর্তৃক আয়োজিত জেলা প্রশাসনের সম্মেলন কক্ষে নরসিংদী জেলায় সমন্বিত ডেঙ্গু প্রতিরোধ, চিকিৎসা ব্যবস্থাপণ্য-পরিস্কার পরিচ্ছন্নতা ও জনসচেনতামূলক কর্মপরিকল্পনা ২০২৬ উপলক্ষে এক আলোচনা সভায় সভাপতির বক্তব্য রাখতে গিয়ে একথা বলেন।

সবার আগে দেশ-সকলের চেষ্টায় ডেঙ্গু করব শেষ। এই প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে সভায় অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য রাখেন-নরসিংদীর সিভিল সার্জন ডা. মো. বুলবুল কবির, নরসিংদীর অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) আবু তাহের মো: সামসুজ্জামান, নরসিংদী জেলা প্রেসক্লাবের সভাপতি এম.এ আউয়াল, নরসিংদী জেলা হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা. মো. মিজানুর রহমান, নরসিংদী জেলা তথ্য কর্মকর্তা মো. ওবায়দুল কবির মোল্লা, অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিষ্ট্রেট মো. মোস্তাফিজুর রহমান, নরসিংদীর অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর সার্কেল) মো. সজীব শাহরীন, নরসিংদী জেলা ছাত্রদলের সভাপতি সিদ্দিকুর রহমান নাহিদ, নরসিংদী শহর বিএনপির সভাপতি একেএম গোলামা কবির কামাল, সাধারণ সম্পাদক মো. ফারুক উদ্দিন ভুঞা, ঘোড়াশাল পৌরসভা বিএনপির সভাপতি মো. আলম মোল্লা ও নরসিংদী সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আসমা জাহান সরকার প্রমুখ। এছাড়া সভায় বিভিন্ন দপ্তরের জনপ্রতিনিধিগণ উপস্থিত ছিলেন।

সভাপতির বক্তব্যে ইসরাত জাহান কেয়া আরো বলেন, আগামী এক মাসের মধ্যে ডেঙ্গু প্রতিরোধে একটি দৃশ্যমান পরিবর্তন নিয়ে আসবো ইনশাল্লাহ। আর সেই জন্য সকলের সহযোগিতা প্রয়োজন। তিনি উপস্থিত সাংবাদিকদের উদ্দেশ্য করে বলেন, আমাদের পরিকল্পনাগুলো মানুষের জানা দরকার, আর এ ব্যাপারে সাংবাদিকদের ভূমিকা অপরিসীম। তাই সাংবাদিকদের তাদের লিখনীর মাধ্যমে ডেঙ্গু প্রতিরোধে জনসচেতনতা গড়ে তোলার জন্য আহ্বান জানান।

অনুষ্ঠান সঞ্চালনায় ছিলেন স্থানীয় সরকার বিভাগের উপপরিচালক (উপসচিব) মো. সফিউল্লাহ।


নির্বাচিত

৬ ফুট গর্তে বস্তাবন্দী শিশুর লাশ, দিনাজপুরে মা’সহ গ্রেপ্তার ৩

ছবি: দৈনিক বাংলা
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
দিনাজপুর প্রতিনিধি

দিনাজপুরের জামতলী বাজার এলাকায় চার বছরের শিশু রাকিবা আক্তার রুহি হত্যা ও লাশ গুমের ঘটনায় শিশুটির মা জিন্নাতুন বেগমসহ তিনজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। আট ঘণ্টা অভিযান চালিয়ে শিশুর রুহির বস্তাবন্দী অর্ধ গলিত লাশ ও হাড় কঙ্কাল উদ্ধার করে পুলিশ।

গ্রেপ্তার অন্য দুজন হলেন—রিপন টুডু (৩৫) ও সুজন টুডু (২০)। এর মধ্যে রিপন টুডুকে এ ঘটনায় প্রধান অভিযুক্ত হিসেবে জিজ্ঞাসাবাদ শেষে আদালতে প্রেরণ করেছে পুলিশ।

গ্রেপ্তার রিপন টুডুর দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে দ্বিতীয় দফায় অভিযান চালিয়ে মঙ্গলবার (২২ সেপ্টেম্বর) সকালে জামতলী এলাকার একটি নারকেল বাহান থেকে শিশু রুহির মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। এর আগে সোমবার (২১ সেপ্টেম্বর) রাতে রিপন টুডুকে সঙ্গে নিয়ে বিভিন্ন স্থানে অভিযান চালিয়েও শিশুটির সন্ধান পায়নি পুলিশ। পরে তার দেওয়া তথ্য পুনরায় যাচাই করে মঙ্গলবার সকালে অভিযান চালিয়ে মরদেহের সন্ধান পাওয়া যায়।

মঙ্গলবার (২২ সেপ্টেম্বর) দুপুর ২টার দিকে দিনাজপুর পুলিশ সুপার কার্যালয়ের অডিটরিয়ামে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে বিষয়টি নিশ্চিত করেন অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম অ্যান্ড অপস) আনোয়ার হোসেন।

পুলিশ জানায়, গ্রেপ্তার রিপন টুডু দিনাজপুর সদর উপজেলার চেহেলগাজী ইউনিয়নের জামতলী বাজারসংলগ্ন এলাকার নেপাল টুডুর ছেলে। সুজন টুডু একই এলাকার বাসিন্দা এবং রিপন টুডুর ভাতিজির জামাতা বলে পুলিশ জানিয়েছে। শিশুটির মা জিন্নাতুন বেগম সদর উপজেলার নশিপুর গ্রামের জমশেদ আলীর মেয়ে।

তদন্তসংশ্লিষ্ট পুলিশ কর্মকর্তাদের প্রাথমিক তথ্য অনুযায়ী, জিন্নাতুন বেগমের সঙ্গে রিপন টুডুর ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক তৈরি হয়। জিন্নাতুনের আগের সংসারে চার বছর বয়সী মেয়ে রাকিবা আক্তার রুহি ছিল। আদিবাসী রিপন টুডুর সাথে জিন্নাতুন এর প্রেমের সম্পর্ক থাকায়। গত ছয় মাস পূর্বে জিন্নাতুন তার মেয়েকে নিয়ে রিপন টুডুর বাড়িতে বসবাস শুরু করে।

শিশু রুহিকে নিয়ে রিপন টুডু ও জিন্নাতুনের মধ্যে বিভিন্ন সময় বিরোধ সৃষ্টি হতো। গত ৫ জুন রাতে কোনো একটি বিষয়কে কেন্দ্র করে রিপন টুডুর সঙ্গে শিশু রুহির কথা-কাটাকাটি হয়। একপর্যায়ে শিশুটির ওপর নির্যাতন করে রিপন টুডু। সাথে যুক্ত হয় জিন্নাতুন বেগম। শিশু রুহি কান্নাকাটি শুরু করলে শিশুটির গলা ও মুখ ওড়না দিয়ে চিপে ধরে। একপর্যায়ে শিশুটি নিস্তেজ হয়ে গেলে এক পর্যায়ে মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়ে। পরে রাতেই রিপন টুডু মোবাইল ফোনের মাধ্যমে সুজন টুডুকে ডেকে আনে।

এরপর শিশুটির মরদেহ একটি বস্তায় ভরে বাড়ির পাশের নারকেল বাগানে ৬ ফুট গর্ত করে বস্তার মধ্যে ঢুকিয়ে মাটিচাপা দেয়া সুজন টুডু আর রিপন টুডু।

ঘটনাটি আড়াল করতে ওই স্থানের আশপাশে অন্য একটি গর্ত করে সেখানে একটি কুকুরের মরদেহ পুঁতে রাখে রিপন টুডু ।

রিপন টুডুকে গ্রেপ্তারের পর সোমবার (২১ সেপ্টেম্বর) রাতে তাকে সঙ্গে নিয়ে শিশুটির মরদেহ উদ্ধারে অভিযানে নামে দিনাজপুর জেলা গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)। জামতলী বাজারসংলগ্ন আমবাগান, হলুদখেত ও আশপাশের বিভিন্ন এলাকায় রাতভর তল্লাশি চালানো হয়।

অভিযানের একপর্যায়ে সন্দেহভাজন কয়েকটি স্থানে মাটি খুঁড়ে শিশুটির মরদেহ উদ্ধারের চেষ্টা করা হয়। কিন্তু রাত ১২টা পর্যন্ত অভিযান চালিয়েও মরদেহের সন্ধান পাওয়া যায়নি।

পরে গ্রেপ্তার রিপন টুডুর দেওয়া তথ্য পুনরায় যাচাই করে মঙ্গলবার সকালে দ্বিতীয় দফায় অভিযান শুরু করে পুলিশ।

একপর্যায়ে জামতলী এলাকার একটি নির্জন ও নারকেল বাগানের নির্দিষ্ট স্থান শনাক্ত করা হয়। সেখান থেকে শিশুটির অর্ধগলিত মরদেহ উদ্ধার করা হয়।

মরদেহ উদ্ধারের সময় মামলার তদন্ত কর্মকর্তা এসআই শাহাদাত হোসেন, দিনাজপুর সদর সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আব্দুল হালিমসহ সাদা পোশাক ও পোশাকধারী পুলিশের সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।

দিনাজপুর গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) অফিসার ইনচার্জ আলমগীর হোসেন বলেন, ‘গ্রেপ্তার রিপন টুডুর দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতেই দ্বিতীয় দফায় অভিযান চালিয়ে শিশু রুহির মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। এ ঘটনায় রিপন টুডু ও শিশুটির মা জিন্নাতুন বেগমকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। মঙ্গলবার সকালে সুজন টুডুকে গ্রেপ্তার করে গোয়েন্দা পুলিশ।

এদিকে শিশুটির মরদেহ উদ্ধারের খবর ছড়িয়ে পড়লে জামতলী এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়। স্বজনদের মধ্যে নেমে আসে শোকের ছায়া।

উল্লেখ্য যে, গ্রেপ্তারের দাবিতে মহাসড়ক অবরোধ এর আগে শিশু রুহির সন্ধান এবং হত্যার সঙ্গে জড়িতদের গ্রেপ্তারের দাবিতে গত রোববার (২০ সেপ্টেম্বর) জামতলী বাজার এলাকায় বিক্ষোভ করেন স্থানীয়রা।


নির্বাচিত

৩৯ দিন চিকিৎসাধীন থাকার পর গুলিবিদ্ধ মামুনের মৃত্যু

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
 খুলনা ব্যুরো

খুলনার পূর্ব রূপসায় দুর্বৃত্তের গুলিত আহত মামুন মীর (৩০) চিকিৎসা অবস্থায় মারা গেছেন। সোমবার (২১ সেপ্টেম্বর) সকালে ঢাকার একটি হাসপাতালে চিকিৎসা অবস্থায় তার মৃত্যু হয়। রাতে তাকে গ্রামের বাড়িতে নিয়ে আসেন পরিবারের সদস্যরা। তবে বিষয়টি না জানিয়ে দাফনের চেষ্টা করা হলে পুলিশ বাধা দেয়। সুরতহাল শেষে ময়নাতদন্তের জন্য খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে প্রেরণ করা হয়। নিহত মামুন মীর উপজেলার বাগমারা গ্রামের নেয়ামত মীরের ছেলে।

পুলিশ ও স্থানীয়রা জানায়, গত ১৮ আগস্ট রাতে মামুনকে গুলি করা হয়। আহত মামুন মীর ৩৯ দিন ঢাকায় একটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ছিল। তার শরীরের ক্ষতস্থানে ইনফেকশন সৃষ্টি হয়। গত সোমবার (২১ সেপ্টেম্বর) সকালে চিকিৎসা অবস্থায় তার মৃত্যু হয়।

এদিন রাতে মরদেহ খুলনার রূপসার বাড়িতে নিয়ে আসে পরিবারের সদস্যরা। মঙ্গলবার (২২ সেপ্টেম্বর) সকাল ১০টার দিকে পুলিশ ফাঁড়িসংলগ্ন মসজিদে আল আকসায় জানাজা সম্পন্ন হয়। পরে তাকে বাগমারা দারুস সালাম জামে মসজিদসংলগ্ন কবরস্থানে দাফনের প্রস্তুতি নিলে পুলিশ খবর পেয়ে সেখানে উপস্থিত হয়ে বাধা দেয়। পরে লাশের সুরতহাল সম্পন্ন শেষে ময়নাতদন্তের জন্য খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে প্রেরণ করা হয়।

স্থানীয়দের একটি সূত্র জানায়, নিহত মামুন খুলনা শীর্ষ সন্ত্রাসী ‘বি’ কোম্পানী বাহিনীর সক্রিয় সদস্য ছিল। তাকে বাড়ি থেকে তুলে নিয়ে দুর্বৃত্তরা গুলি করে। মৃত্যুর আগ পর্যন্ত তার আর কোনো জ্ঞান ফেরেনি।

রূপসা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আনোয়ার জাহিদ বলেন, ‘চিকিৎসা অবস্থায় মামুন মীরের মৃত্যু হয়েছে। গুলিবিদ্ধ হওয়ার ঘটনায় পরিবারের সদস্যরা থানায় কোনো অভিযোগ দায়ের করেনি। মৃত্যুর পরও কোনো অভিযোগ দায়ের করতে চাচ্ছেন না তারা। তারা কেউ মামলা না করলে পুলিশ বাদী হয়ে মামলা করবে।’

তিনি আরও বলেন, ‘আমরা তার দাফনের বিষয় জানতে পেরে বাধা দেই। সুরতহাল করার পর লাশ ময়নাতদন্তের জন্য খুমেকের মর্গে প্রেরণ করা হয়। প্রয়োজনীয় আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ শেষে মরদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হবে।’

উল্লেখ্য, ১৮ আগস্ট রাত সাড়ে ৯টার দিকে উপজেলার নৈহাটি ইউনিয়নের দেবীপুর গ্রামের আবু সালেহীন প্রতিবন্ধী স্কুলের সামনে দুজন যুবক মোটরসাইকেলে তুলে নিয়ে হত্যার উদ্দেশে গুলি করে।


নির্বাচিত

শ্যামনগরে এমপি গাজী নজরুলের দ্বিতীয় স্ত্রীর দাফন সম্পন্ন

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ২২ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ১৩:২০
সাতক্ষীরা প্রতিনিধি

সাতক্ষীরা-৪ আসনের সংসদ সদস্য গাজী নজরুল ইসলামের দ্বিতীয় স্ত্রী মরিয়ম খাতুনের মরদেহ দাফন সম্পন্ন হয়েছে। সোমবার দিবাগত রাত পৌনে ১টার দিকে সাতক্ষীরার শ্যামনগর উপজেলার গাবুরা ইউনিয়নের চৌদ্দরশি গ্রামে তাঁর বাবার পৈতৃক বাড়ির কবরস্থানে তাঁকে দাফন করা হয়। এর আগে ঢাকা থেকে রওয়ানা হওয়া মরদেহবাহী গাড়ি রাত ১১টার দিকে স্বজনদের বাড়িতে পৌঁছায়।

পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, ঢাকার শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ময়নাতদন্তের যাবতীয় আনুষ্ঠানিকতা শেষে সোমবার দুপুরে স্বজনরা মরদেহ নিয়ে সাতক্ষীরার উদ্দেশে যাত্রা করেন। রাত সাড়ে ১০টার দিকে অ্যাম্বুলেন্সটি শ্যামনগরের নীলডুমুর খেয়াঘাটে পৌঁছানোর পর নদীপথে ইঞ্জিনচালিত নৌকায় করে মরদেহ গ্রামে নিয়ে যাওয়া হয়।

দাফনের আগে অনুষ্ঠিত জানাজায় স্থানীয় মসজিদের ইমাম নুরুল হুদা ইমামতি করেন। মরিয়মের বাবা মাসুম বিল্লাহ, পরিবারের ঘনিষ্ঠ স্বজন ও স্থানীয় ২০-২৫ জন ব্যক্তি জানাজায় অংশ নেন। তবে এ সময় এমপি গাজী নজরুল ইসলামের পরিবারের পক্ষ থেকে কাউকে উপস্থিত থাকতে দেখা যায়নি। জানাজা ও দাফন চলাকালে নিরাপত্তা নিশ্চিতে শ্যামনগর থানার উপপরিদর্শক (এসআই) অনিরুদ্ধসহ পুলিশের সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।

উল্লেখ্য, গত রবিবার সন্ধ্যায় রাজধানীর শেরেবাংলা নগরস্থ ন্যাম ভবনের একটি ফ্ল্যাট থেকে ফ্যানের সঙ্গে ঝুলন্ত অবস্থায় মরিয়মের মরদেহ উদ্ধার করেছিল পুলিশ।


নির্বাচিত

রাজনৈতিক সম্পৃক্ততার অভিযোগ, গৌরীপুরের এসিল্যান্ড প্রত্যাহার

মোহাম্মদ নিয়ামত উল্ল্যা। ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
অনলাইন ডেস্ক

ময়মনসিংহের গৌরীপুর উপজেলায় দায়িত্ব গ্রহণের মাত্র ২০ দিনের মাথায় রাজনৈতিক সংশ্লিষ্টতার অভিযোগের মুখে সহকারী কমিশনার (ভূমি) মোহাম্মদ নিয়ামত উল্ল্যাকে প্রত্যাহার করা হয়েছে। প্রথমে তাঁকে ময়মনসিংহ বিভাগীয় কমিশনারের কার্যালয়ে সংযুক্ত করা হলেও পরবর্তীতে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ে ন্যস্ত করা হয়। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে তাঁর পূর্বের রাজনৈতিক সম্পৃক্ততা ও বিভিন্ন কর্মকাণ্ড নিয়ে বিতর্কিত তথ্য ছড়িয়ে পড়ার প্রেক্ষাপটে প্রশাসনিকভাবে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

প্রশাসনিক আদেশের বিষয়টি নিশ্চিত করে গৌরীপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আফিয়া আমিন বলেন, ‘রোববার সকালে মোহাম্মদ নিয়ামত উল্ল্যাকে তাৎক্ষণিক বদলি করা হয়েছে। আদেশে সরকারি জনস্বার্থের কথা বলা হয়েছে। প্রথম আদেশে তাকে বিভাগীয় কমিশনারের কার্যালয়ে সংযুক্ত করা হয়েছিল। পরে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ে ন্যস্ত করার আদেশ হয়েছে বলে জেনেছি। গতকাল সন্ধ্যায় এসিল্যান্ড কর্মস্থল ত্যাগ করেছেন।’ ইউএনও আরও জানান, সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া পোস্টের ব্যাপারে নিয়ামত উল্ল্যা দাবি করেছেন যে তিনি কর্মজীবনে নিরপেক্ষভাবে নির্বাচনি দায়িত্ব পালন করেছিলেন এবং তাঁর কর্ম এলাকায় বিএনপির প্রার্থী বিপুল ভোটে বিজয়ী হয়েছিলেন। এছাড়া টাঙ্গাইলে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের একটি রাষ্ট্রীয় সফরের সময়েও তিনি খাদ্য ব্যবস্থাপনার দায়িত্বে নিয়োজিত ছিলেন।

ঘটনার বিষয়ে ময়মনসিংহের জেলা প্রশাসক সাইফুর রহমান বলেন, ‘গৌরীপুর উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) মোহাম্মদ নিয়ামত উল্ল্যাকে নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে বিভিন্ন ধরনের তথ্য ও পোস্ট প্রকাশিত হয়েছে। এসব বিষয় কর্তৃপক্ষের নজরে আসার পর তাকে প্রত্যাহার করে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ে ন্যস্ত করা হয়েছে।’ তবে সুনির্দিষ্ট অভিযোগের মাত্রা সম্পর্কে তিনি বলেন, ‘বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সিদ্ধান্তের বিষয়। এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় সিদ্ধান্ত সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষই জানাবে।’

উল্লেখ্য, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে মোহাম্মদ নিয়ামত উল্ল্যার বিরুদ্ধে কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের সাথে সম্পৃক্ততা, ছাত্রজীবনের রাজনৈতিক সংশ্লিষ্টতা এবং অতীতে ছদ্মনামে ব্লগে লেখালেখি করার বিষয়ে বিভিন্ন পোস্ট দেওয়া হয়। জেলা প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, ২০২১ সালের ১৪ ফেব্রুয়ারি সরকারি চাকরিতে প্রবেশ করে খুলনা জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে কর্মজীবন শুরু করেন তিনি। পরবর্তীতে ২০২৪ সালের ১ মে টাঙ্গাইল জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে এবং চলতি ২০২৬ সালের ১ জুন ময়মনসিংহ বিভাগীয় কমিশনারের কার্যালয়ে বদলি হন। সর্বশেষ গত ১ সেপ্টেম্বর তিনি গৌরীপুর উপজেলায় এসিল্যান্ড হিসেবে যোগদান করেছিলেন।


নির্বাচিত

মাসিক ঝুঁকি ভাতা বাড়ছে দুদকের কর্মচারীদের

ফাইল ছবি
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) জাতীয় বেতনস্কেলের আওতাভুক্ত গ্রেড-১০ থেকে গ্রেড-২০ পর্যায়ের কর্মচারীদের মাসিক ঝুঁকি ভাতা বাড়িয়েছে সরকার। চাকরির বয়স ও গ্রেডভিত্তিক নতুন হারে এ ভাতা আগামী ১ জানুয়ারি ২০২৮ থেকে কার্যকর হবে।

অর্থ মন্ত্রণালয়ের অর্থ বিভাগের প্রবিধি অনুবিভাগের প্রবিধি-৩ শাখা থেকে গত ২ সেপ্টেম্বর এ সংক্রান্ত প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়। ১৭ সেপ্টেম্বর বাংলাদেশ গেজেটের অতিরিক্ত সংখ্যায় প্রজ্ঞাপনটি প্রকাশিত হয়েছে। প্রেসিডেন্ট আদেশক্রমে অর্থ মন্ত্রণালয়ের অর্থ বিভাগের যুগ্মসচিব ড. মো. ফেরদৌস আলম এ প্রজ্ঞাপনে স্বাক্ষর করেছেন।

নতুন প্রজ্ঞাপনের সঙ্গে ২০১৮ সালের ২০ আগস্ট জারি করা আগের আদেশের তুলনা করে দেখা যায়, বিদ্যমান ঝুঁকি ভাতার হার বাড়িয়ে নতুন হার নির্ধারণ করা হয়েছে। গ্রেড ও চাকরির বয়স অনুযায়ী এ বৃদ্ধির পরিমাণ ভিন্ন।

প্রজ্ঞাপনে আরও বলা হয়েছে, প্রেষণে নিয়োজিত কোনো কর্মচারী নতুন নির্ধারিত ঝুঁকি ভাতা গ্রহণ করলে তিনি স্ব-স্ব বাহিনীর জন্য নির্ধারিত ঝুঁকি ভাতা, বিশেষ ভাতা কিংবা প্রতিরক্ষা সার্ভিস ভাতা প্রযোজ্য ক্ষেত্রে পাবেন না।

নতুন হার অনুযায়ী, গ্রেড-১০-এর কর্মচারীরা চাকরির বয়স পাঁচ বছর বা তার কম হলে মাসিক ৩ হাজার ২৪০ টাকা ঝুঁকি ভাতা পাবেন। ২০১৮ সালের হারে এ ভাতা ছিল ২ হাজার ৭০০ টাকা। অর্থাৎ মাসে ৫৪০ টাকা বৃদ্ধি পেয়েছে। পাঁচ বছরের বেশি থেকে ১০ বছর পর্যন্ত চাকরির বয়সে ভাতা ৩ হাজার ২০০ টাকা থেকে বেড়ে ৩ হাজার ৮৪০ টাকা, ১০ বছরের বেশি থেকে ১৫ বছর পর্যন্ত ৩ হাজার ৮০০ টাকা থেকে বেড়ে ৪ হাজার ৫৮০ টাকা, ১৫ বছরের বেশি থেকে ২০ বছর পর্যন্ত ৪ হাজার ৫০০ টাকা থেকে বেড়ে ৫ হাজার ৪০০ টাকা ও ২০ বছরের বেশি চাকরির বয়সে ৫ হাজার ৪০০ টাকা থেকে বেড়ে ৬ হাজার ৪৮০ টাকা হয়েছে।

গ্রেড-১১-এর কর্মচারীদের ক্ষেত্রেও একইভাবে ভাতা বেড়েছে। পাঁচ বছর বা তার কম চাকরির বয়সে ভাতা ২ হাজার ২০০ টাকা থেকে বেড়ে ২ হাজার ৬৪০ টাকা হয়েছে। পাঁচ বছরের বেশি থেকে ১০ বছর পর্যন্ত ২ হাজার ৭০০ টাকা থেকে বেড়ে ৩ হাজার ২৪০ টাকা, ১০ বছরের বেশি থেকে ১৫ বছর পর্যন্ত ৩ হাজার ২০০ টাকা থেকে বেড়ে ৩ হাজার ৮৪০ টাকা, ১৫ বছরের বেশি থেকে ২০ বছর পর্যন্ত ৩ হাজার ৮০০ টাকা থেকে বেড়ে ৪ হাজার ৫৬০ টাকা এবং ২০ বছরের বেশি হলে ৪ হাজার ৬০০ টাকা থেকে বেড়ে ৫ হাজার ৫২০ টাকা হয়েছে।

গ্রেড-১২-এর কর্মচারীদের পাঁচ বছর বা তার কম চাকরির বয়সে ঝুঁকি ভাতা ২ হাজার ১০০ টাকা থেকে বেড়ে ২ হাজার ৫২০ টাকা হয়েছে। অন্য বয়স ধাপগুলোতে ২ হাজার ৫০০ টাকা থেকে ৩ হাজার টাকা, ৩ হাজার টাকা থেকে ৩ হাজার ৬০০ টাকা, ৩ হাজার ৬০০ টাকা থেকে ৪ হাজার ৩২০ টাকা ও ৪ হাজার ৪০০ টাকা থেকে ৫ হাজার ২৮০ টাকা করা হয়েছে।

গ্রেড-১৩-এর কর্মচারীদের ক্ষেত্রে চাকরির বয়সভেদে ভাতা ১ হাজার ৯০০ টাকা থেকে বেড়ে ২ হাজার ২৮০ টাকা, ২ হাজার ৩০০ টাকা থেকে ২ হাজার ৭৬০ টাকা, ২ হাজার ৮০০ টাকা থেকে ৩ হাজার ৩৬০ টাকা, ৩ হাজার ৪০০ টাকা থেকে ৪ হাজার ৮০ টাকা এবং ৪ হাজার টাকা থেকে ৪ হাজার ৮০০ টাকা হয়েছে।

গ্রেড-১৯-এর কর্মচারীদের পাঁচ বছর বা তার কম চাকরির বয়সে ভাতা ১ হাজার ৩০০ টাকা থেকে বেড়ে ১ হাজার ৫৬০ টাকা হয়েছে। পরবর্তী চার বয়স ধাপে তা যথাক্রমে ১ হাজার ৬০০ টাকা থেকে ১ হাজার ৯২০ টাকা, ১ হাজার ৯০০ টাকা থেকে ২ হাজার ২৮০ টাকা, ২ হাজার ৩০০ টাকা থেকে ২ হাজার ৭৬০ টাকা এবং ২ হাজার ৭০০ টাকা থেকে ৩ হাজার ২৪০ টাকা হয়েছে।

গ্রেড-২০-এর কর্মচারীদের ক্ষেত্রে পাঁচ বছর বা তার কম চাকরির বয়সে ভাতা ১ হাজার ২০০ টাকা থেকে বেড়ে ১ হাজার ৪৪০ টাকা হয়েছে। পাঁচ বছরের বেশি থেকে ১০ বছর পর্যন্ত ১ হাজার ৫০০ টাকা থেকে বেড়ে ১ হাজার ৮০০ টাকা, ১০ বছরের বেশি থেকে ১৫ বছর পর্যন্ত ১ হাজার ৮০০ টাকা থেকে বেড়ে ২ হাজার ১৬০ টাকা, ১৫ বছরের বেশি থেকে ২০ বছর পর্যন্ত ২ হাজার ২০০ টাকা থেকে বেড়ে ২ হাজার ৬৪০ টাকা এবং ২০ বছরের বেশি চাকরির বয়সে ২ হাজার ৬০০ টাকা থেকে বেড়ে ৩ হাজার ১২০ টাকা হয়েছে।

নতুন প্রজ্ঞাপনে গ্রেড-১৪ থেকে গ্রেড-১৮ পর্যন্ত কর্মচারীদের জন্যও চাকরির বয়সভিত্তিক ঝুঁকি ভাতা নির্ধারণ করা হয়েছে। এর মধ্যে গ্রেড-১৪-তে সর্বনিম্ন ২ হাজার ১৬০ টাকা ও সর্বোচ্চ ৪ হাজার ৫৬০ টাকা, গ্রেড-১৫-তে ২ হাজার ৪০ টাকা থেকে ৪ হাজার ৮০ টাকা, গ্রেড-১৬-তে ১ হাজার ৯২০ টাকা থেকে ৩ হাজার ৮৪০ টাকা, গ্রেড-১৭-তে ১ হাজার ৮০০ টাকা থেকে ৩ হাজার ৬০০ টাকা এবং গ্রেড-১৮-তে ১ হাজার ৬৮০ টাকা থেকে ৩ হাজার ৩৬০ টাকা পর্যন্ত ভাতা নির্ধারণ করা হয়েছে।

প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, চাকরির বয়সকে পাঁচটি ধাপে ভাগ করে ঝুঁকি ভাতা নির্ধারণ করা হয়েছে। ধাপগুলো হলো— পাঁচ বছর ও তদপেক্ষা কম, পাঁচ বছরের বেশি থেকে ১০ বছর, ১০ বছরের বেশি থেকে ১৫ বছর, ১৫ বছরের বেশি থেকে ২০ বছর এবং ২০ বছরের বেশি। তবে নতুন হার ১ জানুয়ারি ২০২৮ থেকে কার্যকর হবে। ৩১ ডিসেম্বর ২০২৭ পর্যন্ত দুদকের সংশ্লিষ্ট কর্মচারীরা ২০১৮ সালের ২০ আগস্টের অর্থ বিভাগের আদেশ অনুযায়ী ঝুঁকি ভাতা পাবেন।


নির্বাচিত

কেরানীগঞ্জে ব্যবসায়ীকে গুলি ও বোমা মেরে সোনা লুট, গুলিবিদ্ধ ২

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

ঢাকার কেরানীগঞ্জের হযরতপুরে অস্ত্রের মুখে এক স্বর্ণ ব্যবসায়ী ও তাঁর ভাইকে গুলি এবং হাতবোমা বিস্ফোরণ ঘটিয়ে প্রায় ২০ থেকে ২৫ ভরি স্বর্ণালংকার লুট করে নিয়ে গেছে একদল সশস্ত্র দুর্বৃত্ত। সোমবার সন্ধ্যায় ঘটে যাওয়া এই দুর্ধর্ষ হামলায় গুলিবিদ্ধ ব্যবসায়ী অন্তর সরকার (২৫) ও তাঁর ফুফাতো ভাই রাজিব সরকারকে (২০) রক্তাক্ত অবস্থায় উদ্ধার করে ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, আহত অন্তর সরকার কেরানীগঞ্জের হযরতপুর বাজারে দীর্ঘদিন ধরে জুয়েলারির ব্যবসা পরিচালনা করে আসছেন। প্রতিদিনের মতো সোমবার সন্ধ্যায় দোকান বন্ধ করে অন্তর সরকার, তাঁর বাবা মিতাই সরকার এবং ফুফাতো ভাই রাজিব সঙ্গে থাকা স্বর্ণালংকার ও নগদ টাকা নিয়ে একটি অটোরিকশায় ওঠেন। তাঁরা কেরানীগঞ্জ থেকে নিজেদের বাড়ি মানিকগঞ্জের সিঙ্গাইর উপজেলার আটিপাড়ার উদ্দেশ্যে রওনা দিয়েছিলেন।

পথিমধ্যে রাত আনুমানিক সাড়ে সাতটার দিকে অটোরিকশাটি হযরতপুর এলাকার নির্জন স্থানে পৌঁছালে তিনটি মোটরসাইকেলে আসা নয়জন এবং একটি সিএনজিচালিত অটোরিকশায় থাকা আরও কয়েকজন সশস্ত্র দুর্বৃত্ত তাঁদের গতিরোধ করে। কোনো কিছু বুঝে ওঠার আগেই দুর্বৃত্তরা এলোপাতাড়ি হামলা শুরু করে এবং অন্তর ও রাজিবের পায়ে লক্ষ্য করে গুলি ছোড়ে। এরপর তারা সঙ্গে থাকা স্বর্ণালংকারভর্তি টিফিনবক্সটি ছিনিয়ে নেয়। ছিনতাই শেষে এলাকায় চরম আতঙ্ক তৈরি করে নির্বিঘ্নে পালিয়ে যাওয়ার উদ্দেশ্যে দুর্বৃত্তরা ৫ থেকে ৬টি বোমার বিস্ফোরণ ঘটায়। ভুক্তভোগী অন্তর সরকার জানান, খোয়া যাওয়া ওই টিফিনবক্সে আনুমানিক ২০ থেকে ২৫ ভরি স্বর্ণালংকার ছিল।

গুলির শব্দ ও বোমার বিস্ফোরণে আশপাশের লোকজন এগিয়ে এসে আহতদের উদ্ধার করে দ্রুত ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের জরুরি বিভাগে নিয়ে যান। ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে ঢামেক হাসপাতাল পুলিশ ক্যাম্পের উপপরিদর্শক (এসআই) মো. সেলিম হোসেন জানান, পায়ে গুলিবিদ্ধ অবস্থায় দুজনকে হাসপাতালে আনা হয়েছে এবং বর্তমানে তাঁরা সেখানে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। তিনি আরও জানান, ছিনতাই ও হামলার এই ঘটনায় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য বিষয়টি ইতিমধ্যে সংশ্লিষ্ট থানাকে অবহিত করা হয়েছে।


নির্বাচিত

স্কুলছাত্রীকে ৫ দিন আটকে সংঘবদ্ধ ধর্ষণের অভিযোগ, গ্রেপ্তার ৩

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
দৈনিক বাংলা ডেস্ক

মৌলভীবাজারের কমলগঞ্জে ষষ্ঠ শ্রেণির এক শিক্ষার্থীকে (১৪) পাঁচ দিন আটকে রেখে সংঘবদ্ধ ধর্ষণের অভিযোগে তিনজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। এ ঘটনায় আরও এক আসামি পলাতক রয়েছেন।

সোমবার সকালে ভুক্তভোগী শিক্ষার্থীর বাবা নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে কমলগঞ্জ থানায় মামলা করেন। পরে অভিযান চালিয়ে তিনজনকে গ্রেপ্তার করা হয়।

গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা হলেন—মো. জাহেদ আহমেদ (২৪), রাজু আহমেদ (২২) ও জুবেল মিয়া (৩০)। মামলার অপর আসামি কবির (৩০) পলাতক রয়েছেন।

কমলগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) কমর উদ্দিন বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

মামলার তদন্ত কর্মকর্তা রুহুল আমীন এজাহারের বরাত দিয়ে জানান, গত ১২ সেপ্টেম্বর প্রধান অভিযুক্ত জাহেদ ওই শিক্ষার্থীকে তার বাড়ি থেকে নিয়ে যান। পরে তাকে জুবেলের বাসায় নেওয়া হয়। সেখানে আসামিরা তাকে ধর্ষণ করেন বলে মামলায় অভিযোগ করা হয়েছে।

এজাহারে আরও বলা হয়েছে, এরপর ১৩ থেকে ১৬ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত শিক্ষার্থীকে জাহেদের বাড়িতে আটকে রাখা হয়। ওই সময়ও তার ওপর নির্যাতন চালানো হয় বলে অভিযোগ রয়েছে।

তদন্ত কর্মকর্তা জানান, কয়েক দিন পর অসুস্থ হয়ে পড়লে ১৭ সেপ্টেম্বর সকালে কমলগঞ্জের রহিমপুর ইউনিয়নের একটি সড়কের পাশে শিক্ষার্থীকে ফেলে আসামিরা পালিয়ে যান বলে মামলায় উল্লেখ করা হয়েছে।

পরে স্থানীয়দের মাধ্যমে খবর পেয়ে পরিবারের সদস্যরা তাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে ভর্তি করেন। বর্তমানে সে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছে।

পুলিশ জানায়, মামলার পর অভিযানে নামে কমলগঞ্জ থানা পুলিশ। মৌলভীবাজার সদর উপজেলার কলিমাবাদ, গিয়াসনগর এবং রাজনগর উপজেলার গাঙপার এলাকায় অভিযান চালিয়ে জাহেদ, রাজু ও জুবেলকে গ্রেপ্তার করা হয়।

পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, গ্রেপ্তার তিনজনকে সোমবার আদালতে পাঠানো হয়েছে। মামলার অপর আসামি কবিরকে গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

পুলিশ জানিয়েছে, ঘটনার সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের বিষয়ে তদন্ত করা হচ্ছে এবং ভুক্তভোগী শিক্ষার্থীর চিকিৎসার পাশাপাশি আইনগত প্রক্রিয়াও এগিয়ে নেওয়া হচ্ছে।


নির্বাচিত

১০ কোটি টাকার সেতুতে রডের বদলে বাঁশ দিয়ে ঢালাই

বাসাইলে ১০ কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মাণাধীন একটি ব্রিজে রডের বদলে বাঁশ দিয়ে ঢালাই দেওয়ার ছবি।
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
টাঙ্গাইল প্রতিনিধি

টাঙ্গাইলের বাসাইলে ১০ কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মাণাধীন একটি ব্রিজে রডের বদলে বাঁশ দিয়ে ঢালাই দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে। রাতের আঁধারে করা এই অনিয়মের ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে স্থানীয়দের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও উদ্বেগের সৃষ্টি হয়েছে।

এ ঘটনায় সোমবার (২১ সেপ্টেম্বর) দুপুরে সরেজমিনে পরিদর্শন করেন বাসাইল উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) মো. ইকবাল হোসেন।

স্থানীয় সূত্রের তথ্যমতে, বাসাইল পৌরসভার মাইজখাড়া মরাগাঙ্গীতে ব্রিজটির নির্মাণকাজ শুরুর পর থেকেই বেশিরভাগ কাজ করা হচ্ছিল রাতের আঁধারে। এতে স্থানীয়দের মনে সন্দেহের সৃষ্টি হয়। একপর্যায়ে রাতের বেলায় নির্মাণকাজ পর্যবেক্ষণ করে তারা দেখতে পান, সেতুর ঢালাইয়ে রডের পরিবর্তে সরাসরি বাঁশ ব্যবহার করা হচ্ছে।

বাসাইল উপজেলা প্রকৌশলী অফিস সূত্রে জানা যায়, ‘বাসাইল জিসি-কাউলজানী ইউপি অফিস ভায়া মাইজখাড়া জিপিএস’ সড়কে ৯০ দশমিক ৬ মিটার দীর্ঘ এ গার্ডার ব্রিজটি পুনর্নির্মাণের কাজ পায় যৌথ ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান ‘মেসার্স ইউনুছ আল মামুন-মেসার্স জাকির’। ১০ কোটি ৯ লাখ ৯২ হাজার টাকা ব্যয়ে নির্মিত এই ব্রিজের কাজ ২০২২ সালের সেপ্টেম্বরে শুরু হয়ে ২০২৪ সালের ফেব্রুয়ারিতে শেষ হওয়ার কথা ছিল। পরে সময় বাড়ানো হলেও এ পর্যন্ত সেতুর ৮০ শতাংশ কাজ শেষ হয়েছে এবং ২০ শতাংশ কাজ এখনো বাকি।

স্থানীয় বাসিন্দা শিহাব খানশূর বলেন, আমাদের এই মাইজখাড়ার ভেতরে যে ব্রিজটি হচ্ছে, এই ব্রিজে বাঁশ দিয়ে ঢালাই করা হচ্ছে। সরকার যে টাকা দিল, সেই টাকাগুলো তাহলে কোথায় গেল? এই ব্রিজে এত বড় দুর্নীতির সুষ্ঠু তদন্ত করা হোক ও বিচার চাই।

স্থানীয় বাসিন্দা আজিজ মিয়া বলেন, ব্রিজটির কাজ দিনে না করে রাতে করেছে। রাতে এলাকার ছেলেরা ব্রিজে গিয়ে দেখে রডের বদলে বাঁশ দিয়ে ঢালাই দেওয়া হচ্ছে।

অভিযোগের বিষয়ে ঠিকাদার প্রতিষ্ঠানের সুপারভাইজার শরিফুল ইসলাম এশিয়া পোস্টকে বলেন, শাটারিং বের করার সুযোগ না থাকায় এবং কাঠামোগত ফাঁক সামাল দিতে বাঁশের স্ল্যাব বানিয়ে ঢালাই দেওয়া হয়েছে। আর এই বাঁশের স্লাবের ওপরে সিমেন্টের বস্তা দিয়ে খাঁচা বানিয়ে ঢালাই করেছি।

বাসাইল উপজেলা সহকারী প্রকৌশলী মনিরুজ্জামান বলেন, ব্রিজের নির্মাণকাজে রডের পরিবর্তে বাঁশ ব্যবহারের বিষয়টির সত্যতা পেয়েছি। তবে এ কাজের দায়ভার উপজেলা প্রকৌশল দপ্তর নেবে না। এটি জেলা প্রকৌশল দপ্তরের কাজ। বিষয়টি জেলা প্রকৌশলীকে অবহিত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের সুপারিশ করা হবে।

বাসাইল উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. ইকবাল হোসেন বলেন, বিষয়টি অবগত হয়ে সরেজমিনে ব্রিজটি পরিদর্শন করি। সেখানে রডের পরিবর্তে বাঁশের ব্যবহার করা হয়েছে বলে নিশ্চিত হয়েছি। এ বিষয়ে দ্রুত তদন্ত কমিটি গঠন করে সংশ্লিষ্ট দপ্তরের মাধ্যমে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।


নির্বাচিত

নাতিকে বাঁচাতে দাদির আকুতি, পাশে দাঁড়ালেন ডা. জুবাইদা

ছবি: দৈনিক বাংলা
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
খুলনা ব্যুরো    

বয়স মাত্র সাত মাস। পৃথিবীটা এখনো তার কাছে মায়ের বুক আর একটু দুধের উষ্ণতার মধ্যেই সীমাবদ্ধ। কিন্তু অসুস্থ মায়ের বুকের দুধ না পাওয়ায় সেই স্বাভাবিক অধিকারটুকুও যেন হারিয়ে ফেলেছে খুলনার কয়রা উপজেলার শ্রীফলতলা গ্রামের শিশু হুসাইন। ক্ষুধায় কাতর শিশুটির জন্য দুধ কেনার সামর্থ্য ছিল না পরিবারের। অসুস্থ শরীর নিয়ে শিশুটি যখন কাঁদছিল, তখন অসহায় দাদি শুধু চোখের পানি ফেলছিলেন।

সুন্দরবনের কাছাকাছি বাগালী ইউনিয়নের ৩ নম্বর ওয়ার্ডের এই পরিবারটির একমাত্র ভরসা বৃদ্ধ দাদি। ভিক্ষা করে কোনোভাবে সংসার চালান তিনি। পরিবারের সদস্যদের দুবেলা খাবার জোগাড় করাই যেখানে কঠিন, সেখানে নাতির দুধ ও চিকিৎসার খরচ বহন করা তার কাছে ছিল প্রায় অসম্ভব।

এই অসহায়ত্বের খবর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে বিষয়টি নজরে আসে জিয়াউর রহমান ফাউন্ডেশনের (জেডআরএফ) ভাইস প্রেসিডেন্ট ডা. জুবাইদা রহমানের। শিশুটির দুরবস্থার কথা জানতে পেরে তিনি হুসাইনের পাশে দাঁড়ানোর উদ্যোগ নেন। ফাউন্ডেশনের ডিরেক্টর (প্রোগ্রাম) অধ্যাপক ডা. শাহ মুহাম্মদ আমান উল্লাহকে শিশুটি ও তার পরিবারের প্রয়োজনীয় সহায়তার ব্যবস্থা করার নির্দেশনা দেন তিনি। জুবাইদা রহমান প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমানের স্ত্রী।

দুধের বদলে লবণ পানি: পরিবারের ভাষ্য, অসুস্থ মায়ের বুকের দুধ না পাওয়ায় শিশুটিকে একপর্যায়ে অনুপযুক্তভাবে লবণ পানি খাওয়ানো হচ্ছিল। পর্যাপ্ত পুষ্টি না পাওয়ায় ধীরে ধীরে দুর্বল হয়ে পড়ে হুসাইন। পরে তার শরীরে গুরুতর অপুষ্টির পাশাপাশি ত্বকের সমস্যা ও মুখে ক্যান্ডিডিয়াসিসের উপসর্গ দেখা দেয় বলে পরিবার জানায়।

হুসাইনের বাবা হারুণ ও মা দুজনই শারীরিকভাবে অসুস্থ। ফলে শিশুটির দেখভাল ও সংসারের দায়িত্ব কার্যত এসে পড়ে বৃদ্ধ দাদির ওপর। কিন্তু নিজের খাবারের নিশ্চয়তাই যেখানে নেই, সেখানে নাতির জন্য নিয়মিত দুধ ও ওষুধ কেনা ছিল তার কাছে দুঃসাধ্য।

হাসপাতালে চিকিৎসার ব্যবস্থা: হুসাইনের অসুস্থতার খবর পাওয়ার পর জিয়াউর রহমান ফাউন্ডেশনের উদ্যোগে এবং ফাউন্ডেশনের সদস্য ডা. এম. আর. হাসানের তত্ত্বাবধানে শিশুটিকে ও তার পরিবারকে কয়রা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়। সেখানে হুসাইনের চিকিৎসার পাশাপাশি প্রয়োজনীয় দুধের ব্যবস্থা করা হয়েছে। পরিবারের সদস্যদেরও প্রয়োজনীয় চিকিৎসাসেবা দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হয়।

শিশুটির দাদি কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন, আমি ভিক্ষা করে সংসার চালাই। নাতিটার দুধ কেনার সামর্থ্য আমার নেই। আমি আমার নাতিটাকে বাঁচাতে চাই। তার এই আকুতি যেন ছুঁয়ে যায় অনেকের হৃদয়। অসহায় পরিবারের পাশে দাঁড়ানোর জন্য প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ও ডা. জুবাইদা রহমানের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন তিনি।

সংশ্লিষ্টরা জানান, হুসাইনের শারীরিক অবস্থা ও পরিবারের পরিস্থিতির বিষয়টি কয়রা উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তাকেও অবহিত করা হয়েছে।

একটি অসহায় পরিবারের জন্য সামান্য সহায়তাই কখনো কখনো হয়ে ওঠে বেঁচে থাকার অবলম্বন। হুসাইনের ক্ষেত্রেও দুধ, চিকিৎসা ও প্রয়োজনীয় সহায়তা যেন নতুন করে আশার আলো দেখিয়েছে পরিবারটিকে।


নির্বাচিত

বিশ্ব শান্তি দিবসে ফেনীতে সম্প্রীতির মঞ্চ

ছবি: দৈনিক বাংলা
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
ফেনী প্রতিনিধি

‘শান্তিতে বিনিয়োগ করুন, সকলের জন্য, সর্বত্র ও প্রতিদিন’ এ প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে বিশ্ব শান্তি দিবসে ফেনীতে পিস ফ্যাসিলিটেটর গ্রুপ (পিএফজি) ফেনী সদরের আয়োজনে সোমবার (২১ সেপ্টেম্বর) বিকালে সম্প্রীতির মঞ্চে ঐক্যবদ্ধ হয়েছেন সকল রাজনৈতিক দল ও ধর্মীয় নেতারা। এ সময় শান্তির ফেনী গড়তে ঐক্যবদ্ধ থাকার অঙ্গীকার করেন সর্বদলীয় নেতারা।

শহরের কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে পিএফজি আঞ্চলিক কো-অর্ডিনেটর ও দৈনিক ফেনীর সময় সম্পাদক মোহাম্মদ শাহাদাত হোসেনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন, জেলা বিএনপির আহ্বায়ক শেখ ফরিদ বাহার, জেলা জামায়াতের আমীর মুফতি আবদুল হান্নান, এনসিপির সদস্য সচিব শাহ ওয়ালী উল্লাহ মানিক, ডায়াবেটিকস হাসপাতালের সহসভাপতি আ.ন.ম আবদুর রহিম, সমাজতান্ত্রিক দলের জেলা শাখার সাধারণ-সম্পাদক মালেক মনসুর, ভাসানী ন্যাপ জেলা সভাপতি গিয়াস উদ্দিন মাস্টার, এবি পার্টির নেত্রী জাহানারা আক্তার মনি, ফেনী প্রেসক্লাবের সাবেক সভাপতি মুহাম্মদ আবু তাহের ভূইয়া, নারী নেত্রী নূর তানজিলা রহমান, জেলা ছাত্রদলের সভাপতি সালাউদ্দিন মামুন, ও ছাত্রশিবিরের জেলা সভাপতি ইমাম হোসেন আরমান।

পিএফজি ফেনী সদর উপজেলা কো-অর্ডিনেটর মোরশেদ হোসেনের পরিচালনায় উপস্থিত ছিলেন, জেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক আনোয়ার হোসেন পাটোয়ারী, এবি পার্টির সদস্য সচিব ফজলুল হক, জেলা জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি ও প্রচার সম্পাদক অ্যাডভোকেট জামাল উদ্দিন, পৌর জামায়াতের আমির ইঞ্জিনিয়ার নজরুল ইসলাম, জেলা জাসদের সভাপতি অ্যাডভোকেট শামসুদ্দিন সাচ্চু, জেলা ইমাম সমিতির সাধারণ সম্পাদক হাফেজ জাকির হোসেন, পূজা উদযাপন পরিষদের সভাপতি অ্যাডভোকেট সমির কর ও হিন্দু, বৌদ্ধ, খ্রিষ্টান ঐক্য পরিষদের সভাপতি শুকদেব নাথ তপন, হিন্দুধর্মীয় পূরোহীত নারায়ন চক্রবর্তী ও খ্রিষ্টান ধর্মের প্রতিনিধি সুধির সরকার প্রমুখ।

বক্তারা বলেন, ‘এ জনপদকে শান্তির জনপদে রূপ দিতে চাই। আমরা সবাই যদি ঐক্যবদ্ধ থাকি তাহলে দেশের যে প্রান্তে যাই হোক না কেন ফেনীকে সন্ত্রাসমুক্ত রাখতে পারব, দুর্বৃত্তায়নমুক্ত রাখতে পারব, তাহলে আমরা সহিংসতা মুক্ত রাখতে পারব। মূলত রাজনীতিবিদদের তথা সরকারি দল ও বিরোধী দলের সদিচ্ছা থাকলে এ ফেনীতে শান্তি প্রতিষ্ঠা সম্ভব। সবার একটা শপথ হোক, আমরা একটা শান্তির ফেনী গড়তে চাই। সুন্দর একটা ফেনী গড়তে সব সময় ঐক্যবদ্ধ থাকতে চাই।’


নির্বাচিত

শীতের আগাম সবজি চাষে ব্যস্ত কৃষক

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
দিনাজপুর প্রতিনিধি

মাঠজুড়ে সবুজের সমারোহ। কোথাও ফুলকপি-বাঁধাকপি, কোথাও টমেটো, শিম, মুলা ও গাজরের চারা। ভোরের আলো ফুটতেই পরিচর্যায় ব্যস্ত হয়ে পড়ছেন কৃষকরা। কেউ জমিতে নিড়ানি দিচ্ছেন, কেউ দিচ্ছেন সেচ ও কীটনাশক। দিনাজপুরের ফুলবাড়ী উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় এখন আগাম শীতকালীন সবজির আবাদ ঘিরে কৃষকদের ব্যস্ততা বেড়েছে। মৌসুমের শুরুতেই বাজারে ভালো দাম পাওয়ার আশায় আগাম সবজি চাষে ঝুঁকেছেন তারা।

উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, চলতি মৌসুমে ফুলবাড়ীতে ১৫০ হেক্টর জমিতে আগাম শীতকালীন সবজি চাষের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। এসব জমি থেকে প্রায় ৩ হাজার ৩৭৫ টন সবজি উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা রয়েছে।

উপজেলার বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা গেছে, ফুলকপি, বাঁধাকপি, টমেটো, শিম, মুলা, শসা, গাজর, পালং, বরবটি ও বেগুনসহ বিভিন্ন ধরনের সবজির চাষ হয়েছে। অনেক জমিতে ইতোমধ্যে গাছ বেড়ে উঠেছে। আবার কোথাও চলছে চারা রোপণের কাজ।

কৃষকরা জানান, আগাম সবজি বাজারে তুলতে পারলে সাধারণ মৌসুমের তুলনায় দাম বেশি পাওয়া যায়। চাহিদাও থাকে বেশি। ফলে স্বল্প সময়ে ফসল বাজারজাত করে তুলনামূলক ভালো লাভ করা সম্ভব। আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে আগামী কয়েক সপ্তাহের মধ্যেই বিভিন্ন ধরনের সবজি বাজারে আসতে শুরু করবে।

শিবনগর ইউনিয়নের বুজরুক শমসেরনগর গ্রামের কৃষক রহিদুল ইসলাম দেড় বিঘা জমিতে ট্রপিক্যাল কুইন জাতের বাঁধাকপি এবং মাস্টার ৪৫ ও ক্যাপ্টেন জাতের ফুলকপি চাষ করেছেন। পাশাপাশি কিছু জমিতে শিমের আবাদও করেছেন। এতে তার প্রায় ১ লাখ ২০ হাজার টাকা খরচ হয়েছে। সবজি বিক্রি করে প্রায় ৩ লাখ টাকা লাভের আশা করছেন তিনি।

রহিদুল ইসলাম বলেন, ‘আগাম সবজি বাজারে তুলতে পারলে দাম ভালো পাওয়া যায়। আর ২০-২৫ দিনের মধ্যেই আমার জমির ফসল উঠতে শুরু করবে। আবহাওয়া ভালো থাকলে এবার ভালো লাভ হবে বলে আশা করছি।’

পৌর এলাকার উত্তর কৃষ্ণপুর গ্রামের কৃষক রহমত আলীও আগাম শীতকালীন সবজি চাষ করেছেন। তিনি বলেন, ‘সারা বছরই বিভিন্ন ধরনের সবজি উৎপাদন করেন। শীতকালীন আগাম জাতের মধ্যে ফুলকপি, বাঁধাকপি, শিম, মুলা, পালংশাক ও ধনেপাতা চাষ করেন। বাজারে এসব সবজির চাহিদা ও দাম দুটিই ভালো থাকায় তিনি প্রতি বছর আগাম সবজি চাষ করেন।’

কৃষকদের মতে, আগাম সবজি চাষে উৎপাদন খরচ তুলনামূলক বেশি হলেও বাজারে ভালো দাম পাওয়া গেলে তা সহজেই উঠে আসে। একই সঙ্গে দ্রুত ফসল বাজারজাত করা যায়। এ কারণে অনেক কৃষক ধান বা অন্যান্য প্রচলিত ফসলের পাশাপাশি আগাম সবজি চাষের দিকে ঝুঁকছেন।

উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা সাইফ আব্দুল্লাহ মোস্তাফিন বলেন, ‘আগাম জাতের শীতকালীন সবজি চাষ কৃষকদের জন্য লাভজনক হওয়ায় দিন দিন এর আবাদ বাড়ছে। আগাম সবজি উৎপাদনের মাধ্যমে কৃষকরা অর্থনৈতিকভাবে স্বাবলম্বী হচ্ছেন। উৎপাদন বাড়াতে কৃষি বিভাগের পক্ষ থেকে কৃষকদের প্রয়োজনীয় পরামর্শ ও সহযোগিতা দেওয়া হচ্ছে।’


নির্বাচিত

banner close