বিলকিস বেগম (৫৫) ঢাকায় সন্তানদের সঙ্গে থাকতেন। ঈদের আগে বরগুনার বেতাগী উপজেলার মোকামিয়া ইউনিয়নের মাছুয়াখালী গ্রামের বাড়িতে আসেন। বাড়িটি দেখাশোনার দায়িত্বে ছিলেন ভাড়াটিয়া এবং স্থানীয় একটি মাদ্রাসার শিক্ষক আ. রহমান জুয়েল (৩৩)। তিনি সপরিবারেই ওই বাড়িতেই থাকছিলেন।
বিলকিস বাড়ি এসে ঘরদোর নোংরা দেখে জুয়েলকে বকাবকি করেন। এ নিয়ে দুজনের ঝগড়া হয়। জুয়েল বিষয়টিতে ক্ষুব্ধ হন এবং তার ঘনিষ্ঠ দুজনের সঙ্গে আলাপ করেন। তাদের মধ্যে একজন জুয়েলকে পরামর্শ দেন, ওই নারীকে হত্যা করে বাড়িটি দখলে নিতে। জুয়েলকে ওই ব্যক্তি বলেন, বিলকিসের ছেলেরা ঢাকা থেকে এই বাড়িতে আসবেন না। মেরে ফেললে তিনিই সহায়-সম্পত্তির মালিক হবেন। জুয়েল সেই পরামর্শ ধরে ওই দুজনেরই সহায়তায় বিলকিসকে হত্যা করেন। এমনকি তারা চলে যাওয়ার পর তিনি মৃতদেহ ধর্ষণও করেন। পরে সাজান ডাকাতির নাটক। নিজেরাই খবর দেন বিলকিস বেগমের সন্তান-স্বজনদের।
উল্লেখযোগ্য কোনো ক্লু (আলামত) না থাকা সত্ত্বেও এই নারকীয় হত্যা ও ধর্ষণের ঘটনার রহস্য উন্মোচন করেছে বরগুনা জেলা পুলিশের গোয়েন্দা শাখা (ডিবি)। শুক্রবার জেলা ডিবির ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. শহিদুল ইসলাম খান দৈনিক বাংলাকে লোমহর্ষক হত্যাকাণ্ডটির বিস্তারিত জানিয়েছেন।
তিনি জানান, গত ২৩ জুন রাতে ওই হত্যা ও ধর্ষণের ঘটনায় ডাকাতির নাটক সাজিয়ে জুয়েল এলাকাবাসী ও বিলকিসের স্বজনদের কাছে দাবি করেন, তিনি ও তার পরিবার ঘুমিয়ে ছিলেন। তারা কিছুই জানেন না। পরে জুয়েলের স্ত্রীকে ডিবির কার্যালয়ে এনে জিজ্ঞাসাবাদ করলে এক পর্যায়ে তিনিই সব ঘটনা বলে দেন।
শহিদুল ইসলাম খান বলেন, বিলকিস বেগম ঈদ উদযাপন করার জন্য ঘটনার দুই দিন আগে ঢাকা থেকে গ্রামে আসেন। তার স্বামী আ. মান্নান ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনে চাকরিরত অবস্থায় ২০২০ সালে করোনায় মারা যান। তার দুই ছেলেও সিটি করপোরেশনে চাকরি করেন। ছেলে ও তাদের স্ত্রী এবং নাতিরা ঈদ করতে গ্রামের বাড়িতে আসবেন বলে বাড়িঘর গোছাতে বিলকিস আগেই চলে আসেন।
বাড়ি এসে ঘর নোংরা দেখে ভাড়াটিয়া ও দেখাশোনার দায়িত্বে থাকা জুয়েলকে (৩৩) বকাবকি করেন। এ নিয়ে দুজনের কথা কাটাকাটি ও ঝগড়া হয়। জুয়েল তখন জানান, তার স্ত্রী অসুস্থ থাকায় বাড়িঘর নোংরা হয়েছে। পরে ঝগড়ার বিষয়টি জুয়েল তার ঘনিষ্ঠ নির্মাণশ্রমিক হিরুকে (৩৮) জানান। তাকে বলেন, ‘প্রতিবার ঢাকা থেকে এসে ঝগড়াঝাটি করবে, তা আর ভালো লাগে না।’ তখন হিরু বলেন, ‘ওপরে পাঠিয়ে দাও। মহিলা মরলে জমিজমা তোমার হয়ে যাবে। তার ছেলেরা ঢাকায় থাকে, ঢাকায় চাকরি করে। চাকরি ছেড়ে তারা আর জমিজমা খেতে গ্রামে আসবে না। এই জমিজমা তোমার হয়ে যাবে।’
ডিবির ওসি বলেন, হিরুর ওই পরামর্শে তখনই বিলকিস বেগমকে হত্যার পরিকল্পনা নেন জুয়েল। ছক কষেন, হত্যা শেষে বাড়িতে ডাকাতি হয়েছে বলে প্রচার করে দেবেন, যাতে তারা ধরাছোঁয়ার বাইরে থাকতে পারেন। কিলিং মিশন সফল করতে তারা তাদের আরেক ঘনিষ্ঠ স্থানীয় মুদি দোকানদার মাসুদ মিয়ার সঙ্গে কথা বলেন। তাকেও মিশনে জড়িত করেন। কিন্তু ওই বাড়িতে ঢোকার আগে কেউ কাউকে মোবাইলে কল করা এড়িয়ে যান, এ সতর্কতা তারা নেন মোবাইল ট্র্যাকিং এড়াতে। তবে যোগাযোগের জন্য তারা বেছে নেন বিলকিস বেগমের বাড়ির উঠোনে থাকা টিউবওয়েল। সেটিতে কয়েকটি চাপ দিলে একে-অপরের উপস্থিতি সংকেত বোঝার সিদ্ধান্তে আসেন।
এরপর পরিকল্পনা অনুসারে ২৩ জুন রাতে জুয়েল তার অসুস্থ স্ত্রীকে জ্বরের ওষুধের পাশাপাশি লম্বা সময় ঘুম পাড়িয়ে রাখতে আরেক ওষুধ খাইয়ে দেন এবং জোরে সিলিং ফ্যান ও চার্জার ফ্যান ছেড়ে দেন। মধ্যরাতে হিরু এসে টিউবওয়েলে জোরে জোরে কয়েকটি চাপ দিলে জুয়েল দরজা খুলে হিরুকে নিয়ে বাড়িতে ঢোকেন। বাইরে পাহারায় থাকেন মাসুদ। ঘরে ঢুকে জুয়েল বিলকিস বেগমের বুকের ওপরে উঠে গলাটিপে ধরেন আর হিরু পা চেপে ধরেন। এসময় ধস্তাধস্তির শব্দ যেন না হয় সেজন্য বিলকিস বেগমের মুখে তোয়ালে পেঁচিয়ে শ্বাসরোধে হত্যা নিশ্চিত করেন।
ডিবির এই কর্মকর্তা জানান, জুয়েল ও হিরু কিলিং মিশন শেষে ঘরের মালপত্র তছনছ করে ছড়িয়ে-ছিটিয়ে রাখেন। একই সঙ্গে জানালার গ্রিল কেটে মেঝেতে রাখেন, যেন সবাই মনে করে বাড়িতে ডাকাতি হয়েছে। ঘটনা শেষে জুয়েল বিলকিস বেগমের স্বর্ণালঙ্কার হিরুকে দিয়ে দেন। হিরু চলে যাওয়ার পর জুয়েল ঘরে ঢুকে বিলকিসের মৃতদেহকে ধর্ষণ করেন। ধর্ষণ করার পর বিলকিসের মরদেহে আঘাত করেন, যেন সবাই মনে করে ডাকাতরা বিলকিসকে মারধর ও ধর্ষণ করেছে।
পরে জুয়েল এসে অসুস্থ স্ত্রীর পাশে ঘুমিয়ে পড়েন। সকাল সাড়ে ৭টায় ঘুম থেকে উঠে জুয়েল তার স্ত্রী বিলকিস বেগমকে ডাকাডাকি করেন এবং হিরুকে ফোন দেন। হিরু এলে তারা প্রথমে বিলকিস বেগমের মেয়ে জামাই বেতাগী স্বাস্থ্য বিভাগের কর্মকর্তাকে তাকে খবর দেন। পরে ঢাকায় তার ছেলেদের খবর দেয়া হয়। সবাইকে বলা হয়, বাড়িতে ডাকাতি হয়েছে এবং বিলকিস বেগমকে হত্যা করা হয়েছে।
শহিদুল ইসলাম খান বলেন, বরগুনা ডিবির ওপর ক্লুলেস এই হত্যা মামলা তদন্তের নির্দেশ এলে ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই ঘটনার রহস্য উন্মোচন করতে সক্ষম হই। জুয়েলের স্ত্রীর তথ্য ধরে জুয়েলকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হলে তিনিও স্বীকারোক্তি দেন।
ডিবির ওসি জানান, হত্যা মামলায় জুয়েলকে গ্রেপ্তার দেখিয়ে বরগুনা চিফ জুডিসিয়াল আদালতে সোপর্দ করা হয়। সেখানে ১৬৪ ধারায় তিনি জবানবন্দি দিলে আদালত জেলহাজতে পাঠান।
অন্যদিকে দুদিনের মাথায় ২৫ জুন রাতেই অভিযান চালিয়ে মামলার অন্যতম সহযোগী হিরুকে গ্রেপ্তার করে ডিবি। হিরুর তথ্য মতে, ২৭ জুন রাতে অভিযান চালিয়ে মাসুদকে গ্রেপ্তার করা হয়। মাসুদের ট্রাংক থেকে বিলকিস বেগমের কানের দুল জব্দ করা হয়। হিরু ও মাসুদও চিফ জুডিসিয়াল আদালতে ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি দিয়েছেন। পরে তাদের জেলহাজতে পাঠান আদালত।
কিশোরগঞ্জের ভৈরবের ফিলিং স্টেশনগুলিতে গ্রাহকরা দুইশ টাকার বেশি জ্বালানি পাচ্ছে না। এতে ভোগান্তিতে পড়েছেন মোটরসাইকেল আরোহীসহ বিভিন্ন যানবাহনের চালকরা।
মঙ্গলবার (২৪ মার্চ) দুপুরে সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, ভৈরব শহরের মোল্লা ফিলিং স্টেশনে সীমিত পরিসরে গ্রাহকদের জ্বালানি দিচ্ছে। উপজেলার শিবপুর ইউনিয়নের পান্নাউল্লাহচর এলাকার ভাই ভাই ফিলিং স্টেশনে অকটেন, পেট্রোল না থাকায় গ্রাহকদের তেল সরবারাহ বন্ধ রয়েছে। এছাড়া ঢাকা-সিলেট মহাসড়কের পাশে মিন্টু মিয়া ফিলিং স্টেশনে মোটরসাইকেল চালকদের দীর্ঘ লাইন। তবে গ্রাহকরা অভিযোগ করে বলেন, চাহিদা অনুয়ায়ী জ্বালানি পাচ্ছে না। পাম্প থেকে প্রত্যক বাইকরাদের ২-৩ শত টাকার জ্বালানি দেয়া হচ্ছে।
মোটরসাইকেল চালক সালেহ আহমেদ বলেন, ঢাকা থেকে ভৈরব পর্যন্ত প্রত্যক পাম্পে তেলের যথেষ্ট সরবরাহ আছে কিন্তু তারা সিন্ডিকেট করে বাইকরাদের চাহিদা অনুযায়ী দিচ্ছে না। এতে আমরা যারা বাইকরা তারা খুবই ভোগান্তিতে পড়েছি। বর্তমান সরকার যেন দ্রুত জ্বালানি সমস্যা সমাধানে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করেন।
ঔষধ কোম্পানি প্রতিনিধি জিল্লুর রহমান বলেন, আমাদের কর্মের প্রয়োজনে মাঠ পর্যায়ে থাকতে হয়। সেজন্যই বাইকে বেশি তেল রাখতে হয়। কিন্তু আমরা আমাদের চাহিদা মত জ্বালানি পাচ্ছি না। এতে অনেক দুর্ভোগের স্বীকার হচ্ছি। এতে আমাদের কাজে বিঘ্ন ঘটছে।
মোল্লা ফিলিং স্টেশনের ম্যানেজার বলেন, গত দুই দিন ধরে আমাদের পাম্পে অকটেন, পেট্রোল শেষ হয়ে যাওয়ায় গ্রাহকদের তেল দেয়া বন্ধ রয়েছে। আজকে ডিপো থেকে তেল আনতে লোক পাঠিয়েছি। আশা করছি কাল থেকে গ্রাহকরা তাদের চাহিদা অনুয়ায়ী জ্বালানি পাবে।
ভৈরব ভাই ভাই ফিলিং স্টেশন মালিক আব্দুল হাই বলেন, ঈদের লম্বা ছুটি থাকায় ব্যাংকে পেঅর্ডার করতে পারি নি সেজন্যই পাম্পে পর্যাপ্ত তেলের সরবরাহ কম রয়েছে। সেজন্যই আমরা গ্রাহকদের চাহিদা অনুযায়ী তেল নিতে পারছি না। তবে রাত থেকে তেলের সরবরাহ পর্যাপ্ত থাকবে বলে তিনি জানান।
মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধাবস্থার কারণে চট্টগ্রাম শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে ফ্লাইট চলাচল স্থবির হয়ে পড়েছে। আজ মঙ্গলবার মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন রুটে সাতটি আন্তর্জাতিক ফ্লাইট বাতিল হয়েছে। এ নিয়ে গত ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে এখন পর্যন্ত চট্টগ্রাম শাহ আমানত বিমানবন্দর থেকে ১৭৪টি আন্তর্জাতিক ফ্লাইট বাতিল হয়েছে।
বিমানবন্দর সূত্র জানায়, বাতিল হওয়া ফ্লাইটগুলোর মধ্যে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের মধ্যপ্রাচ্য থেকে আগত তিনটি ফ্লাইট রয়েছে। এছাড়া ইউএস-বাংলা এয়ারলাইনসের দুটি প্রস্থান ফ্লাইট বাতিল করা হয়েছে। একইভাবে এয়ার আরাবিয়ার একটি আগমন ও একটি প্রস্থান ফ্লাইট বাতিল হয়েছে। তবে সব ফ্লাইট বন্ধ ছিল না। বিভিন্ন এয়ারলাইনসের মধ্যপ্রাচ্য থেকে আগত ছয়টি ফ্লাইট চট্টগ্রামে অবতরণ করেছে এবং পাঁচটি ফ্লাইট নির্ধারিত গন্তব্যে ছেড়ে গেছে।
বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষ জানায়, শারজাহ, দুবাই ও আবুধাবি রুটে সালাম এয়ার, এয়ার আরাবিয়া ও ইউএস-বাংলা এয়ারলাইনসের ফ্লাইট স্থবিরতা এখনো কাটেনি।
শাহ আমানত বিমানবন্দরের প্রকৌশলী মোহাম্মদ ইব্রাহীম খলিল (জনসংযোগ) জানান,পরিস্থিতির উন্নতি না হওয়া পর্যন্ত ফ্লাইট চলাচল স্বাভাবিক হওয়ার সম্ভাবনা কম। যাত্রীদের ভ্রমণের আগে সংশ্লিষ্ট এয়ারলাইনসের সঙ্গে যোগাযোগ করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
মৌলভীবাজারের কমলগঞ্জে অবস্থিত লাউয়াছড়া জাতীয় উদ্যান। চিরসবুজ এই বনের বুক চিরে চলে গেছে আঁকাবাঁকা রেললাইন। দুপাশে ঘন অরণ্য আর ছায়াঘেরা পরিবেশের এই মনোরম দৃশ্য পর্যটকদের কাছে দারুণ আকর্ষণীয়। কিন্তু এই অপার সৌন্দর্যের আড়ালেই লুকিয়ে আছে এক ভয়ংকর ‘মৃত্যুফাঁদ’। মূলত সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে লাইক-ভিউ পাওয়ার নেশায় জীবনের ঝুঁকি নিয়ে রেললাইনে ছবি ও ভিডিও তুলতে গিয়ে প্রায়ই ঘটছে প্রাণহানির মতো ঘটনা।
সাম্প্রতিক সময়ে পর্যটকদের মধ্যে রেললাইনে দাঁড়িয়ে বা বসে ছবি তোলার এক বিপজ্জনক প্রবণতা লক্ষ্য করা গেছে। গত বছরের ১৯ ডিসেম্বর শ্রীমঙ্গল-কমলগঞ্জ রুটের লাউয়াছড়া বনাঞ্চলে সেলফি তুলতে গিয়ে ট্রেনের ধাক্কায় প্রাণ হারান এক শিক্ষার্থী। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, নিখুঁত একটি ফ্রেমের খোঁজে মগ্ন থাকা ওই শিক্ষার্থী বুঝতেও পারেননি কখন ইঞ্জিনটি তাকে আঘাত করেছে।
শ্রীমঙ্গল রেলওয়ে স্টেশন মাস্টার মো. সাখাওয়াত হোসেন উদ্বেগের সাথে জানান, "রেললাইনের ওপর দাঁড়িয়ে ছবি তোলা এখন অনেকের কাছে সাধারণ বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। এটি কোনো বিচ্ছিন্ন দুর্ঘটনা নয়, বরং একটি নিয়মিত ঝুঁকিপূর্ণ প্রবণতা।"
লাউয়াছড়ার প্রাকৃতিক বৈশিষ্ট্যই এখানে বিপদের মাত্রা বাড়িয়ে দেয়। বনটি ঘন বৃক্ষরাজিতে ঘেরা এবং এর ভেতর দিয়ে যাওয়া রেললাইনটি বেশ আঁকাবাঁকা। ফলে অনেক সময় খুব কাছ থেকে ট্রেন না আসা পর্যন্ত দেখা বা শব্দ শোনা যায় না। বনের শান্ত পরিবেশে ট্রেনের গতিবেগ অনেক সময় বিভ্রান্তি তৈরি করে, ফলে পর্যটকরা সরে যাওয়ার পর্যাপ্ত সময় পান না।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ঘুরতে আসা আব্দুল্লা আল কাফি এর বক্তব্যে উঠে এল এক রূঢ় বাস্তবতা। তিনি বলেন, "অনলাইনে লাইক-ভিউ পাওয়ার আকাঙ্ক্ষা অনেক সময় নিরাপত্তার বিষয়টিকে আড়াল করে দেয়। এই ভিউ এত সুন্দর যে ছবি না তুললে মনে হয় ভ্রমণটাই অসম্পূর্ণ।" একই সুর শোনা গেল রাজশাহী থেকে আসা পর্যটক শেখ মুন্নার কণ্ঠে। তিনি জানান, সবাই ছবি তুলছে দেখে তিনিও পিছিয়ে থাকতে চাননি।
স্থানীয় ট্যুর গাইড সাজু মারছিয়াং জানান, পর্যটকরা প্রায়ই রেলকর্মীদের বা গাইডের সতর্কবার্তাকে তোয়াক্কা করেন না। এমনকি উঁচুতে থাকা রেল সেতুতে উঠে ছবি তুলতে গিয়েও অতীতে দুর্ঘটনার নজির রয়েছে।
মেট্রোপলিটন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য ড. মোহাম্মদ জহিরুল হকের মতে, সচেতনতার অভাব, নিরাপত্তা ব্যবস্থার ঘাটতি এবং সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের নেতিবাচক প্রভাবই এই সংকটের মূল কারণ। তিনি পরিবার ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানকে সচেতনতা বৃদ্ধিতে এগিয়ে আসার আহ্বান জানান।
সাংবাদিক সালাউদ্দিন শুভ বলেন, "কয়েক সেকেন্ডের রোমাঞ্চ বা একটি ছবির মূল্য কি জীবনের চেয়ে বড়? প্রকৃতির সৌন্দর্য উপভোগের অধিকার সবার আছে, কিন্তু তা যেন প্রাণ কেড়ে না নেয়।"
মৌলভীবাজারের পুলিশ সুপার মোহাম্মদ বিল্লাল হোসেন জানিয়েছেন, পর্যটন মৌসুমে বিশেষ নজরদারি বাড়ানো হয়েছে। রেললাইনে যাতে কেউ ঝুঁকিপূর্ণভাবে অবস্থান করতে না পারে, সেজন্য পুলিশ ও বন বিভাগ কাজ করছে।
রেললাইন কোনো বিনোদন কেন্দ্র নয়, এটি একটি সক্রিয় পথ। আপনার একটি অসতর্ক মুহূর্ত কেড়ে নিতে পারে আপনার জীবন এবং স্তব্ধ করে দিতে পারে একটি পরিবারের স্বপ্ন।
নাটোরের লালপুরে বালু বোঝাই ট্রাক ও ইজিবাইকের মুখোমুখি সংঘর্ষে তিনজন নিহত হয়েছেন। এঘটনায় আরও চারজন গুরুতর আহত হয়েছেন।
মঙ্গলবার (২৪ মার্চ) সকাল পৌনে ৭টার দিকে লালপুর-ঈশ্বরদী আঞ্চলিক মহাসড়কের নবীনগর এলাকায় এঘটনা ঘটে। নিহতরা হলেন, ছোটবাদকয়া গ্রামের জাহিদুল ইসলাম (৫০), মনির হোসেন (২৭) ও বাবুল (৫০)।
এবং আহতরা হলেন, বড়বাদকয়া গ্রামের মিঠুন (৩০), ভেল্লাবাড়িয়া গ্রামের গোলাম রাব্বী, রাজিবুল ইসলাম (২৬), রামকৃষ্ণপুর গ্রামের মজনু (৩৫)।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, সকালে লালপুর থেকে ঈশ্বরদীর উদ্দেশ্যে যাত্রীবাহী একটি ইজিবাইক যাওয়ার পথে নবীনগর এলাকায় বিপরীত দিক থেকে আসা দ্রুতগামী বালু বোঝাই ট্রাকের মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়। এতে ঘটনাস্থলেই একজনের মৃত্যু হয় এবং চালকসহ আরও ছয়জন আহত হোন। আহতদের উদ্ধার করে প্রথমে লালপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হলে পাঁচজনের অবস্থা আশাঙ্কাজনক হওয়ায় তাদের রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়। পথেই মনির ও বাবুল নামে আরো দুইজন মারা যায়।
বিষয়টি নিশ্চিত করে লালপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মজিবর রহমান বলেন, দুর্ঘটনার পর ঘাতক ট্রাকের চালক ও সহকারী পালিয়ে যায়। খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিস ও পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে আহতদের উদ্ধার করে হাসপাতালে পাঠায় এবং নিহতদের মধ্যে একজনের মরদেহ থানায় রাখা হয়েছে এবং এ ঘটনায় পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।
সামাজিক আন্দোলনে মাধ্যমে মাদকমুক্ত সমাজ প্রতিষ্ঠা করতে হবে বলে মন্তব্য করেছেন পানিসম্পদমন্ত্রী ও বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব শহীদউদ্দিন চৌধুরী এ্যানি।
সোমবার (২৩ মার্চ) লক্ষ্মীপুর সদর উপজেলার জয়পুর ইউনিয়ন বিএনপি ও অঙ্গ সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীদের সঙ্গে ঈদুল ফিতরের শুভেচ্ছা বিনিময়কালে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।
তিনি বলেন, কিছু প্রভাবশালী ব্যক্তি ১৭ বছরের ট্রেন্ড এখনো মাদকের ব্যবসা করে, মাদক সেবন করে। ওই ব্যক্তিরা এ আমলে এত প্রভাব বিস্তার করার কথা না। তাহলে নিশ্চয়ই কেউ তাদেরকে আন্ডারগ্রাউন্ডে সহযোগিতা করছে। পুলিশ প্রশাসন ও এলাকাবাসি মিলে এই এলাকাকে মাদকমুক্ত করতেই হবে। এটা আমাদের চ্যালেঞ্জ। সামাজিক আন্দোলনের মাধ্যমেই আমরা মাদকমুক্ত সমাজ গড়ে তুলতে পারবো।
এ্যানি চৌধুরী জামায়াতকে ইঙ্গিত করে বলেন, তারা বলেছিলেন এটা ফ্যামিলি কার্ড নয়, এটা ভুয়া কার্ড। ইতোমধ্যে আমাদের প্রধানমন্ত্রী প্রমাণ করেছেন। আমরাও লক্ষ্মীপুরে প্রত্যেক পরিবারের কাছে পৌঁছে দিয়ে প্রমাণ করবো, ফ্যামিলি কার্ডটা ভুয়া নয়। এটার সুবিধা প্রত্যেকটা পরিবার পাবে। সবার জন্য শিক্ষা, সবার জন্য স্বাস্থ্য এটা আমাদের ৩১ দফার অনেকগুলো পয়েন্ট। প্রত্যেকটা পরিকল্পনা বাস্তবায়নে এখন থেকে আমরা কাজ করছি।
তিনি বলেন, মাত্র একটা মাস আমরা পার করেছি। এরমধ্যে আমাদের প্রধানমন্ত্রীর যে মহতী উদ্যোগ এটা দৃশ্যমান, লক্ষণীয়। ইতোমধ্যে ফ্যামিলি কার্ড, হেলথ কার্ড, ফার্মাস কার্ড একের পর এক তিনি দৃশ্যমান পাইলট প্রোগ্রাম হিসেবে নিয়ে এসেছেন। সহসায় আপনাদের কাছে সেগুলো পৌঁছে যাবে। ঢাকাতে শুরু করেছেন, এখনো লক্ষ্মীপুরে শুরু করেননি। এটার জন্য সময় দিতে হবে।
এসময় উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশনের (বাফুফে) সহ-সভাপতি ওয়াহিদ উদ্দিন চৌধুরী হ্যাপি, লক্ষ্মীপুর সদর উপজেলা বিআরডিবির চেয়ারম্যান নিজাম উদ্দিন ভূঁইয়া, চন্দ্রগঞ্জ থানা বিএনপির সভাপতি বেলাল হোসেন ও সাধারণ সম্পাদক ইউছুফ ভূঁইয়াসহ অনেকে।
পবিত্র ঈদুল ফিতরের ছুটির আমেজ শেষ হতে না হতেই সারাদেশে এক ভয়াবহ জ্বালানি সংকট দেখা দিয়েছে। দেশের বিভিন্ন জেলায় ফিলিং স্টেশনগুলোতে পেট্রল, অকটেন ও ডিজেলের পর্যাপ্ত সরবরাহ না থাকায় ঈদের পরদিন থেকেই চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন যানবাহনের চালক ও সাধারণ মানুষ। তেলের মজুদ ফুরিয়ে যাওয়ায় অধিকাংশ জেলার ফিলিং স্টেশনগুলোতে দড়ি টানিয়ে বা নোটিশ দিয়ে কার্যক্রম বন্ধ রাখা হয়েছে। বিশেষ করে উত্তরাঞ্চলের জেলাগুলোতে এই সংকট এখন চরমে পৌঁছেছে। ফিলিং স্টেশন সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, ডিপো থেকে চাহিদার তুলনায় অর্ধেকেরও কম জ্বালানি তেল পাওয়া যাচ্ছে, যার ফলে তারা গ্রাহকদের চাহিদা মেটাতে পারছেন না। অনেক ক্ষেত্রে তেল না পেয়ে ক্ষুব্ধ গ্রাহকদের সাথে পাম্প কর্মচারীদের বাগবিতণ্ডা ও ধস্তাধস্তির খবরও পাওয়া গেছে।
সবচেয়ে ভয়াবহ চিত্র লক্ষ্য করা গেছে পঞ্চগড়-দিনাজপুর আঞ্চলিক মহাসড়কে। এই রুটের ৯৩ কিলোমিটার এলাকার ৪৬টি ফিলিং স্টেশনের মধ্যে ৪৩টিই বর্তমানে বন্ধ রয়েছে। কুড়িগ্রাম জেলার ২০টি পাম্পের একটিতেও জ্বালানি তেল নেই, যার ফলে রবিবার থেকেই সবগুলো স্টেশন বন্ধ রাখা হয়েছে। রাজশাহীতে ৪৪টি স্টেশনের মধ্যে অর্ধেকেরও বেশি বন্ধ। রাজশাহী জেলা পেট্রল পাম্প মালিক সমিতি জানিয়েছে, ঈদের আগে মজুদ থাকা তেল শেষ হয়ে যাওয়ায় এবং বাঘাবাড়ি ডিপো থেকে পর্যাপ্ত সরবরাহ না পাওয়ায় এই পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। সরবরাহ এতটাই কম যে, সাড়ে ১৩ হাজার লিটার ধারণক্ষমতাসম্পন্ন লরিতে মাত্র তিন হাজার লিটার তেল পাওয়া যাচ্ছে। জনরোষ সামাল দিতে রাজশাহীর পাম্পগুলোতে সেনাবাহিনী মোতায়েনের দাবিও তুলেছেন মালিকরা।
দক্ষিণাঞ্চলেও পরিস্থিতির কোনো উন্নতি হয়নি। বরিশাল নগরীসহ ১০টি উপজেলার মহাসড়ক সংলগ্ন পাম্পগুলো দিনের অর্ধেকের বেশি সময় বন্ধ থাকছে। তেলের সংকটে বরিশাল ও খুলনার পাম্প মালিকরা জানিয়েছেন, তারা ২৪ ঘণ্টার মধ্যে ১২ ঘণ্টাও পাম্প চালু রাখতে পারছেন না। খুলনার ৩৬টি পাম্পই বর্তমানে সংকটের মুখে রয়েছে। অন্যদিকে, চট্টগ্রামের ৩৮৩টি পাম্পের অনেকগুলোতে অকটেন থাকলেও ডিজেল নেই, আবার কোথাও ডিজেল থাকলেও অকটেন মিলছে না। তবে চট্টগ্রাম বিভাগের পাম্প মালিক সমিতির নেতারা আশা প্রকাশ করেছেন যে, মঙ্গলবার ব্যাংক খোলার পর পে-অর্ডার জমা দেওয়া সম্ভব হলে বিকেলের মধ্যে পরিস্থিতির কিছুটা উন্নতি হতে পারে। মূলত ঈদের লম্বা ছুটিতে ব্যাংক বন্ধ থাকায় এবং ডিপোগুলোর সীমিত সরবরাহের কারণে এই সংকট প্রকট হয়েছে।
বগুড়া ও রংপুরের চিত্রও প্রায় একই। বগুড়ার ৭২টি পাম্পের মধ্যে ৩৫টি এবং রংপুরের ৪০টির মধ্যে ২০টিই বর্তমানে বন্ধ রয়েছে। ময়মনসিংহেও বেশিরভাগ পাম্প ঈদের দিন থেকেই বন্ধ রাখা হয়েছে। এই তীব্র সংকটের সুযোগে কিছু অসাধু চক্র ছোট ছোট বাজারে লিটারপ্রতি ২৫০ থেকে ৩০০ টাকায় তেল বিক্রি করছে বলে অভিযোগ উঠেছে। সাধারণ গ্রাহকদের অনেকের ধারণা, তেলের দাম বৃদ্ধির আশায় পাম্প মালিকরা সিন্ডিকেট করে মজুদ গড়ে তুলেছেন। যদিও মালিকরা এই অভিযোগ অস্বীকার করে সরবরাহ ঘাটতিকেই প্রধান কারণ হিসেবে দায়ী করছেন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে কুড়িগ্রামসহ কয়েকটি জেলায় জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে পাম্পগুলোতে বিশেষ অভিযান চালানো হলেও কোথাও পর্যাপ্ত তেলের সন্ধান মেলেনি।
বর্তমান এই জ্বালানি বিপর্যয়ের ফলে সাধারণ মানুষ ও যানবাহন চালকদের মধ্যে চরম অসন্তোষ বিরাজ করছে। অ্যাম্বুলেন্সসহ জরুরি সেবা প্রদানকারী যানবাহনগুলোও সময়মতো জ্বালানি না পেয়ে সংকটে পড়ছে। অনেক জায়গায় পাম্পে দীর্ঘ সারি এবং রেশনিং পদ্ধতিতে তেল দেওয়ার চেষ্টা করা হলেও তা পর্যাপ্ত নয়। ডিপো থেকে সরবরাহ স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত এই অচলাবস্থা কাটার সম্ভাবনা দেখছেন না সংশ্লিষ্টরা। সারাদেশে তেলশূন্য হয়ে পাম্পগুলো বন্ধ হয়ে যাওয়ায় স্থবিরতা নেমে এসেছে সড়ক যোগাযোগ ব্যবস্থায়, যা সাধারণ মানুষের ঈদ-পরবর্তী কর্মস্থলে ফেরার পথকে আরও কণ্টকাকীর্ণ করে তুলেছে।
চাঁদপুরের ফরিদগঞ্জে সহপাঠীর সঙ্গে ঘুরতে গিয়ে এক কলেজছাত্রী ধর্ষণের শিকার হয়েছেন। রোববার (২২ মার্চ) উপজেলার গুপ্টি পূর্ব ইউনিয়নে এই মর্মান্তিক ঘটনাটি ঘটে। অভিযোগ অনুযায়ী, অভিযুক্ত তুহিন হোসেন ওরফে সালমান কৌশলে তার সহপাঠীকে একটি নির্জন স্থানে নিয়ে গিয়ে জোরপূর্বক ধর্ষণ করে।
ঘটনার পর ভুক্তভোগী শিক্ষার্থী গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়লে এবং অতিরিক্ত রক্তক্ষরণ শুরু হলে, অভিযুক্ত তাকে সন্ধ্যার দিকে বাড়ির সামনে ফেলে রেখে পালিয়ে যায়।
পরিবারের সদস্যরা তাকে উদ্ধার করে প্রথমে চাঁদপুর সদর হাসপাতালে নিয়ে যান। তবে সেখানে তার শারীরিক অবস্থার অবনতি হওয়ায় কর্তব্যরত চিকিৎসকরা তাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠান। বর্তমানে তিনি সেখানে চিকিৎসাধীন রয়েছেন এবং তার অবস্থা আশঙ্কাজনক বলে জানা গেছে।
এই ঘটনায় ভুক্তভোগীর পরিবারের পক্ষ থেকে থানায় মামলা দায়েরের পর পুলিশ দ্রুত অভিযান চালিয়ে অভিযুক্ত তুহিন হোসেন ওরফে সালমানকে গ্রেফতার করেছে। গ্রেফতারকৃত তুহিন গল্লাক আদর্শ কলেজের শিক্ষার্থী এবং উপজেলার গুপ্টি পশ্চিম ইউনিয়নের হামছাপুর গ্রামের বাসিন্দা। ফরিদগঞ্জ থানার ওসি (তদন্ত) মোহাম্মদ এমদাদুল হক নিশ্চিত করেছেন যে, অভিযুক্তকে ইতিমধেই গ্রেফতার করে আদালতে পাঠানো হয়েছে।
চাঁপাইনবাবগঞ্জ সীমান্তে এক সফল অভিযান পরিচালনা করে বিপুল পরিমাণ ভারতীয় পাতার বিড়ি ও কারেন্ট জাল জব্দ করেছে নওগাঁ ব্যাটালিয়ন (বিজিবি ১৬)।
সোমবার (২৩ মার্চ ২০২৬) ভোররাত আনুমানিক ২টা ৪৫ মিনিটে গোমস্তাপুর উপজেলার রহনপুর ও রামদাসপুর বিওপির একটি যৌথ টহল দল এই অভিযান চালায়। টহল কমান্ডার নায়েব সুবেদার মোঃ আসাদুজ্জামানের নেতৃত্বে রামদাস বিল এলাকা থেকে মালিকবিহীন অবস্থায় এসব অবৈধ পণ্য উদ্ধার করা হয়।
জব্দকৃত পণ্যের মধ্যে রয়েছে ৩ লাখ ৫৯ হাজার ৫০০ পিস ভারতীয় পাতার বিড়ি এবং ১৫৭ কেজি কারেন্ট জাল, যার আনুমানিক বাজারমূল্য ২০ লাখ ২০ হাজার ৫০০ টাকা। বিজিবি সূত্র নিশ্চিত করেছে যে, আটককৃত এই মালামাল রহনপুর শুল্ক কার্যালয়ে জমা দেওয়ার প্রক্রিয়া বর্তমানে চলমান রয়েছে।
নওগাঁ ব্যাটালিয়ন (১৬ বিজিবি)-এর অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মোহাম্মদ আরিফুল ইসলাম মাসুম জানান, সীমান্ত এলাকায় মাদক, গরু ও অবৈধ অনুপ্রবেশসহ সব ধরনের চোরাচালান বন্ধে বিজিবির এই কঠোর নজরদারি ও অভিযান ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে।
গাজীপুর সিটি করপোরেশনের কাশিমপুরের ধনঞ্জয়খালী এলাকায় তুরাগ নদের পাড়ঘেঁষা একটি নবনির্মিত সড়ক উদ্বোধনের আগেই ধসে পড়ার ঘটনায় কঠোর ব্যবস্থা নিয়েছেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম। সোমবার (২৩ মার্চ) দুপুরে দুর্ঘটনাস্থল পরিদর্শনকালে নির্মাণকাজে চরম গাফিলতি ও নিম্নমানের সামগ্রী ব্যবহারের প্রাথমিক প্রমাণ পাওয়ায় তিনি প্রকল্পের পরিচালক এবং সংশ্লিষ্ট প্রকৌশলীকে তাৎক্ষণিক বরখাস্তের নির্দেশ দেন।
বরখাস্তকৃত কর্মকর্তারা হলেন—সিটি করপোরেশনের তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী ও প্রকল্প পরিচালক এ কে এম হারুনুর রশীদ এবং প্রকৌশলী শামছুর রহমান। পরিদর্শন শেষে প্রতিমন্ত্রী নিজেই সিটি করপোরেশনের প্রশাসক শওকত হোসেন সরকারের কাছে তাদের বরখাস্তের আনুষ্ঠানিক চিঠি হস্তান্তর করেন।
তুরাগ নদের পশ্চিম তীরে বিটুমিনাস কার্পেটিংয়ের মাধ্যমে বাস্তবায়িত এই সড়কটি গত ১৫ ফেব্রুয়ারি হঠাৎ করেই ধসে যায়, যা স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে ব্যাপক ক্ষোভ ও উদ্বেগের সৃষ্টি করে। এই পরিপ্রেক্ষিতে প্রতিমন্ত্রী জানান যে জনগণের টাকায় নির্মিত উন্নয়নকাজে কোনো ধরনের অনিয়ম মেনে নেওয়া হবে না। ঘটনার সুষ্ঠু তদন্তের জন্য পূর্বের কমিটি বিলুপ্ত করে সাত সদস্যের একটি উচ্চপর্যায়ের নতুন তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে এবং তাদের আগামী ১৫ দিনের মধ্যে বিস্তারিত প্রতিবেদন জমা দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। প্রাথমিক তদন্তে উঠে এসেছে যে সড়ক নির্মাণে নিম্নমানের সামগ্রী ব্যবহারের পাশাপাশি প্রাকৃতিক দুর্যোগও এই ধসের একটি কারণ হতে পারে।
সিটি করপোরেশনের তথ্যমতে, এই সড়ক উন্নয়ন প্রকল্পটি দুটি প্যাকেজের আওতায় ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান ইউনাইটেড কমার্শিয়াল সেন্টার লিমিটেড (ইউসিসিএল) বাস্তবায়ন করছিল। প্রকল্প দুটির প্রাক্কলিত ব্যয়ের চেয়েও বেশি মূল্যে কার্যাদেশ দেওয়া হয়েছিল, যার মোট পরিমাণ ছিল প্রায় ২৫ কোটি টাকার উপরে। স্থানীয়দের অভিযোগ, শুরু থেকেই কাজের মান নিয়ে সন্দেহ থাকলেও যথাযথ তদারকির অভাবেই কোটি টাকার এই প্রকল্প উদ্বোধনের আগেই ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। বর্তমানে এলাকাবাসী স্বচ্ছ তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি এবং দ্রুত মানসম্মতভাবে সড়কটি পুনর্নির্মাণের দাবি জানিয়েছেন।
ঈদের ছুটিতে রাজধানীর গুলশানে একটি বাড়ি দখলের অভিযোগে বির্তকের মুখে পড়া সহকারী পুলিশ কমিশনার (এসি) আলী আহম্মেদ মাসুদকে অবশেষে বদলি করা হয়েছে। সোমবার (২৩ মার্চ) ডিএমপির ভারপ্রাপ্ত কমিশনার মো. সরওয়ার স্বাক্ষরিত এক অফিস আদেশের মাধ্যমে তাকে ডিএমপির মানবসম্পদ বিভাগে সহকারী পুলিশ কমিশনার (ট্রেনিং) হিসেবে বদলির বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়।
অভিযোগ রয়েছে যে, গত বৃহস্পতিবার (১৯ মার্চ) গুলশান ১ নম্বর এলাকার ১২৭ নম্বর রোডের ১৫ নম্বর বাড়িতে পুলিশের উপস্থিতিতেই ভাঙচুর, লুটপাট ও দখলের ঘটনা ঘটে। ভুক্তভোগী বাড়ির মালিকের দাবি অনুযায়ী, গুলশান জোনের এসি আলী আহম্মেদ মাসুদসহ বেশ কয়েকজন পুলিশ সদস্যের মদদেই এই অঘটন ঘটেছে এবং উল্টো ভুক্তভোগীদেরই নানাভাবে হয়রানির শিকার হতে হয়েছে।
বিষয়টি গণমাধ্যমে প্রকাশিত হওয়ার পর জনমনে ব্যাপক সমালোচনা সৃষ্টি হলে ডিএমপি কর্তৃপক্ষ এই শাস্তিমূলক বদলির সিদ্ধান্ত নেয়। তবে আলী আহম্মেদ মাসুদকে বদলি করা হলেও এই ঘটনায় অভিযুক্ত অন্যান্য পুলিশ সদস্যদের বিরুদ্ধে কী ব্যবস্থা নেওয়া হবে, তা নিয়ে সাধারণ মানুষের মধ্যে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।
ডিএমপি সূত্র জানিয়েছে, পুরো ঘটনাটি খতিয়ে দেখতে ইতিমধেই একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। তদন্তে অভিযোগের সত্যতা প্রমাণিত হলে এসি মাসুদসহ জড়িত অন্য সকল পুলিশ সদস্যের বিরুদ্ধে কঠোর বিভাগীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে বলে জানানো হয়েছে।
বান্দরবানের রুমা উপজেলায় শুরু হতে যাচ্ছে মারমা সম্প্রদায়ের অন্যতম প্রধান সামাজিক ও ধর্মীয় উৎসব “মাহা সাংগ্রাইং পোয়ে’ । ১৩ এপ্রিল নতুন বছরকে স্বাগত জানিয়ে পুরনো বছরকে বিদায় দেয়ার মধ্য দিয়ে এক বর্ণাঢ্য রেলি আয়োজন করা হবে। ১৪ এপ্রিল থেকে শুরু হওয়া এ উৎসবকে কেন্দ্র করে ইতোমধ্যে ব্যাপক প্রস্তুতি গ্রহণ করা হয়েছে। প্রতি বছরের মতো এবারও উৎসবের প্রধান আকর্ষণ হিসেবে থাকছে ঐতিহ্যবাহী “মৈত্রী পানি বর্ষণ” অনুষ্ঠান।
একে অপরের ওপর পানি ছিটানোর মাধ্যমে আনন্দ ভাগাভাগি করা। পুরনো বছরকে বিদায় দিয়ে এবং নতুন বছরকে শুভভাবে বরণ করা যায়। এ কারণে বাংলা নববর্ষকে ঘিরে প্রায় সপ্তাহব্যাপী নানা আয়োজনের মাধ্যমে উৎসবটি উদযাপন করা হয়ে থাকে।
কেন্দ্রীয় উৎসব উদযাপন কমিটির আহ্বায়ক উক্যসিং মারমা জানান, বিভিন্ন পাড়ার যুব-যুবতী রা তাদের নিজেদের মতো আলাদা আলাদা করে কর্মসূচি হাতে নেয়া হয়েছে। এ অবস্থায় পাড়ার যুবক-যুবতীদের সঙ্গে সমন্বয় সভা করে এ বছরের সময়সূচি নির্ধারণ করা হয়েছে। মৈত্রী পানি বর্ষণ অনুষ্ঠান নির্ধারিত সূচি অনুযায়ী—১৫ এপ্রিল: ছাইপো পাড়া, পান্তলা পাড়া ও বটতলী পাড়া।
১৬ এপ্রিল: ক্রাউদাং পাড়া ও রুমাচর পাড়া।
১৭ এপ্রিল: পলিকা পাড়া ও হাতিমাথা পাড়া।
১৮ এপ্রিল: বিকেল ৩টায় রুমা সদরের বালুচরে কেন্দ্রীয়ভাবে অনুষ্ঠিত হবে মাহা সাংগ্রাইং পোয়ে’র সমাপনী অনুষ্ঠান।
সোমবার (২৩ মার্চ) বেলা ১১ টায় (২৩ মার্চ) মারমা ওয়েলফেয়ার এসোসিয়েশন ভবনে কেন্দ্রীয় উৎসব উদযাপন কমিটির আয়োজিত যুবক যুবতীদের এক সমন্বয় সভায় এ সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে।
কেন্দ্রীয় উৎসব উদযাপন কমিটির আহবায়ক ওক্যসিং মারমা এতে সভাপতিত্ব করেন। প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন রমা প্রেসক্লাবের সভাপতি শৈহ্লাচিং মার্মা। আরো বক্তব্য দেন বিশিষ্ট ব্যবসায়ী উক্যমং মারমা, মংমিন মেম্বার, পিপলু মার্মা, উতিংওয়াং মতি ও উসাইমং মার্মা।
সভা পরিচালনা করেন কেন্দ্রীয় উৎসব উদযাপন কমিটির সদস্য সচিব অংচোওয়াং মার্মা। সংশ্লিষ্টরা জানায়, এ সমাপনির দিনে সকল পাড়া থেকে যুবসমাজকে কেন্দ্রীয় মৈত্রী পানি বর্ষণ অনুষ্ঠানে স্বতঃস্ফূর্তভাবে অংশগ্রহণের আহ্বান জানানো হয়েছে।
প্রতিবছরের মতো এবারও উৎসবকে ঘিরে রুমা উপজেলায় উৎসবমুখর পরিবেশ বিরাজ করছে। নানা বয়সের মানুষ, বিশেষ করে তরুণ-তরুণীরা দল বেঁধে অংশ নেবেন এই আনন্দঘন আয়োজনে। মূলত এ মৈত্রী পানি বর্ষণ উৎসব মারমা সম্প্রদায় হলেও অনুষ্ঠানটি আনন্দ উপভোগ্ ও অংশগ্রহণ করে সকল সম্প্রদায়ের। পরে সকল সম্প্রদায়ের মানুষের এক মিলন মেলায় পরিণত হয়ে থাকে।
তাই অনুষ্ঠানটির সুষ্ঠু ও সুন্দরভাবে উদযাপন করতে উপজেলা প্রশাসন, নিরাপত্তা বাহিনী ও আইন শৃঙ্খলা সহ স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও লোকজন সার্বিক সহযোগিতা প্রদানের জন্য আহ্বান জানিয়েছেন কমিটির সংশ্লিষ্টরা।
তীব্র জ্বালানি সংকটে স্থবির হয়ে পড়েছে গাইবান্ধা জেলার স্বাভাবিক জনজীবন এবং যান চলাচল। জেলার সাতটি উপজেলার মোট ১৭টি ফিলিং স্টেশনে পেট্রোল, অকটেন ও ডিজেলের সরবরাহ মারাত্মকভাবে কমে যাওয়ায় বর্তমানে সবকটি পাম্পই বন্ধ রয়েছে। সোমবার (২৩ মার্চ) দুপুরে গাইবান্ধা পেট্রোল পাম্প ওনার্স অ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক মশিউর রহমান উজ্জ্বল এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন। জেলাজুড়ে প্রতিদিন প্রায় ৭ হাজার লিটার পেট্রোল, ৪ হাজার লিটার অকটেন এবং ৩২ হাজার লিটার ডিজেলের চাহিদা থাকলেও চাহিদার অর্ধেকেরও কম সরবরাহ আসার কারণে এই নজিরবিহীন সংকট তৈরি হয়েছে।
সংকট নিরসনে জেলা প্রশাসন ও পাম্প মালিকরা সোমবার দুপুর তিনটার দিকে জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে একটি জরুরি বৈঠকে বসেছেন। সেখানে সংকটের মূল কারণ এবং দ্রুত সমাধানের পথ খুঁজে বের করার চেষ্টা চলছে। দীর্ঘ তিনদিন ধরে এস এ কাদির অ্যান্ড সন্স ও রহমান ফিলিং স্টেশনের মতো প্রধান পাম্পগুলো বন্ধ থাকায় সাধারণ মানুষ ও পরিবহন শ্রমিকদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ বিরাজ করছে। পর্যাপ্ত তেল না থাকায় কোনো কোনো পাম্পে শুরুতে জনপ্রতি ১০০-২০০ টাকার সীমিত তেল বিক্রি করা হলেও বর্তমানে মজুদ শূন্য হয়ে পড়ায় সেগুলো পুরোপুরি বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে।
জ্বালানি তেলের এই আকালকে কেন্দ্র করে জেলাজুড়ে উত্তেজনা ও সহিংসতার ঘটনাও লক্ষ্য করা গেছে। শহরের দাড়িয়াপুর রোডে তেল না পেয়ে বিক্ষুব্ধ গ্রাহকদের হামলায় দুই পাম্প কর্মচারী আহত হয়েছেন, যাদের মধ্যে একজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক। অনেক গ্রাহক অভিযোগ করেছেন যে পাম্পে তেল না থাকলেও খোলা বাজারে প্রতি লিটার জ্বালানি ২০০ থেকে ৩০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। অন্যদিকে পাম্প মালিকদের দাবি, বাইরের জেলা থেকে মোটরসাইকেলের চাপ এবং সাধারণ মানুষের মধ্যে আতঙ্কিত হয়ে তেল মজুদের প্রবণতা এই সংকটকে আরও ঘনীভূত করেছে।
ভুক্তভোগী চালক ও স্থানীয় বাসিন্দারা দীর্ঘ সময় লাইনে দাঁড়িয়েও তেল না পেয়ে চরম হতাশায় ভুগছেন। জেলাজুড়ে পরিবহন ব্যবস্থা ভেঙে পড়ার উপক্রম হওয়ায় দ্রুত জ্বালানি সরবরাহ স্বাভাবিক করার দাবি জানিয়েছেন তারা। পাম্প মালিকরা স্পষ্ট জানিয়েছেন যে, পর্যাপ্ত সরবরাহ নিশ্চিত না হওয়া পর্যন্ত নতুন করে পাম্প চালু করা সম্ভব নয়, কারণ সীমিত সরবরাহ নিয়ে তেল বিক্রি করতে গেলে পুনরায় জনরোষ ও সংঘর্ষের ঝুঁকি তৈরি হতে পারে।
ঈদুল ফিতরের টানা সাত দিনের লম্বা ছুটিতে পর্যটকদের পদচারণায় মুখর হয়ে উঠেছে চায়ের রাজধানী হিসেবে পরিচিত মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গল ও আশপাশের এলাকা। দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আসা ভ্রমণপিপাসু মানুষের ভিড়ে জেলার প্রধান পর্যটন কেন্দ্রগুলো এখন উৎসবমুখর। দীর্ঘ মন্দা কাটিয়ে পর্যটন খাতের এই চাঙ্গাভাব স্থানীয় ব্যবসায়ীদের মুখে হাসি ফুটিয়েছে।
শ্রীমঙ্গলের বিস্তৃত চা বাগান থেকে শুরু করে কমলগঞ্জের লাউয়াছড়া জাতীয় উদ্যান এবং বড়লেখার মাধবকুণ্ড জলপ্রপাত সবখানেই এখন তিল ধারণের ঠাঁই নেই। বিশেষ করে লাউয়াছড়া জাতীয় উদ্যান, বাইক্কা বিল, হাকালুকি হাওর এবং হামহাম জলপ্রপাতের মতো প্রাকৃতিক স্থানগুলোতে দর্শনার্থীদের উপচে পড়া ভিড় লক্ষ্য করা গেছে। পর্যটন ব্যবসায়ীরা জানিয়েছেন, স্থানীয় বাসিন্দা ও দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আসা পর্যটকদের সম্মিলিত উপস্থিতিতে এবারের ঈদ মৌসুম গত কয়েক বছরের রেকর্ড ছাড়িয়ে গেছে।
চট্টগ্রাম থেকে আসা পর্যটক জহির রায়হান বলেন, "এখানকার চা বাগানের সবুজ আর শান্ত পরিবেশই আমাদের বারবার টেনে আনে।" তবে ভিড় নিয়ে কিছুটা ভিন্ন অভিজ্ঞতার কথা জানিয়েছেন বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থী আল আমিন। লাউয়াছড়া উদ্যানে আলাপকালে তিনি বলেন, "সোশ্যাল মিডিয়ায় দেখা জায়গার সঙ্গে বাস্তবের মিল থাকলেও, অতিরিক্ত ভিড় ও কিছু ক্ষেত্রে দুর্বল ব্যবস্থাপনা চোখে পড়েছে।"
অন্যদিকে, প্রথমবারের মতো মণিপুরী পল্লী ভ্রমণে আসা আলী হোসেন ও নাসরিন আক্তার দম্পতি মুগ্ধতা প্রকাশ করে বলেন, "মণিপুরী সংস্কৃতি ও জীবনযাত্রা আমাদের দারুণ লেগেছে। এটি সাধারণ পর্যটন কেন্দ্র থেকে সম্পূর্ণ আলাদা এবং আমরা সবখানে বেশ নিরাপদ বোধ করেছি।"
শ্রীমঙ্গলের ছোট রিসোর্টগুলো শতভাগ বুকিং থাকলেও বড় মানের হোটেল-রিসোর্টগুলোতে প্রায় ৭০ শতাংশ বুকিং রেকর্ড করা হয়েছে। টিলাগাঁও ইকো ভিলেজ-এর ব্যবস্থাপক মো. সোহেল আহমেদ জানান, দীর্ঘ মন্দার পর এই পর্যটক সমাগম তাদের জন্য বড় স্বস্তি নিয়ে এসেছে।
চামুং রেস্টুরেন্ট অ্যান্ড ইকো ক্যাফের স্বত্বাধিকারী তাপস দাশ বলেন, "পর্যটকরা শুধু প্রধান স্পট নয়, বরং আদিবাসী গ্রাম এবং ব্যক্তিগত রিসোর্টগুলোর প্রতিও বেশ আগ্রহী।" তবে পর্যটন উদ্যোক্তা সেলিম আহমেদের মতে, রমজানের শেষে পর্যটক ফিরতে শুরু করলেও বড় রিসোর্টগুলোতে প্রত্যাশা অনুযায়ী শতভাগ বুকিং হয়নি।
ঈদের ছুটিতে শ্রীমঙ্গল শহরে তীব্র যানজট পর্যটকদের কিছুটা ভোগান্তিতে ফেলেছে। এ ছাড়া অনেক পর্যটক জেলায় সরকারি ব্যবস্থাপনায় আরও বেশি পর্যটন কেন্দ্র গড়ে তোলার দাবি জানিয়েছেন। তারা মনে করেন, সরকারি সুযোগ-সুবিধা বাড়লে পর্যটনের সার্বিক ব্যবস্থাপনায় আরও উন্নতি ঘটবে।
পর্যটকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে জেলা পুলিশের পাশাপাশি পর্যটন পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। মৌলভীবাজারের পুলিশ সুপার মোহাম্মদ বিল্লাল হোসেন জানিয়েছেন, ছুটির পুরো সময়জুড়ে পর্যটকদের নির্বিঘ্ন ভ্রমণ নিশ্চিত করতে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থানে রয়েছে।