শনিবার, ১০ অক্টোবর ২০২৬
২৫ আশ্বিন ১৪৩৩

আছে জরা, সঙ্গী নিঃসঙ্গতা

আলাপচারিতায় ব্যস্ত দুই প্রবীণ আমজাদ হোসেন ও গোলাম মোস্তফা। গত বৃহস্পতিবার নওগাঁ শহরের গোশতহাটির মোড় এলাকায়। ছবি: দৈনিক বাংলা
নওগাঁ প্রতিনিধি
প্রকাশিত
নওগাঁ প্রতিনিধি
প্রকাশিত : ১ অক্টোবর, ২০২২ ১০:১৪

সবুজ হোসেন, নওগাঁ

নওগাঁ শহরের তাজের মোড়ের বাসিন্দা ৬৮ বছর বয়সী বীর মুক্তিযোদ্ধা এ বি এম রফিকুল ইসলাম। প্রতিদিন তিনি বেশির ভাগ সময় কাটান বই পড়ে। পরিবার-পরিজনের সঙ্গে মন চাইলেও জমিয়ে সময় কাটাতে পারেন না। বয়সের ফারাকের কারণে পরিবারের অন্য সদস্যদের নিজের ইচ্ছার কথাগুলো বলতে পারেন না।

রফিকুল ইসলাম বলেন, ‘শারীরিকভাবে প্রবীণ হয়ে গেছি। মন চায় সারাক্ষণ কথা বলি, গল্প করি। হাসি-খুশিতে কাটিয়ে দেই সারাবেলা। কিন্তু শারীরিক ও বয়সের কারণে অন্যরা সেভাবে সাড়া দেন না।’

সর্বশেষ জনশুমারি অনুযায়ী নওগাঁয় ২৭ লাখ ৮৪ হাজার ৫৯৮ জনের বসবাস। জেলায় ষাটোর্ধ্ব বা প্রবীণদের সংখ্যা ২ লাখ ২৫ হাজার ৮৫৬ জন।

কেমন আছেন নওগাঁর প্রবীণরা, কীভাবে কাটছে তাদের সময় তা নিয়ে সম্প্রতি কয়েকজনের সঙ্গে কথা হয়। তারা জানান, অনেকটা নিঃসঙ্গ আছেন। মন চাইলেই পরমানন্দে কারও সঙ্গে কথা বলতে পারেন না। মনের অভিব্যক্তিগুলো প্রকাশ করতে হয় সীমিত পরিসরে।

শহরের তাজের মোড়ের এ বি এম রফিকুল ইসলাম বলেন, ‘যুদ্ধ করে দেশকে স্বাধীন করতে ভূমিকা রেখেছি। শারীরিকভাবে সেই তেজ এখন নেই। মনকে বশে এনে অনেকটা নিভৃতে সময় কাটাতে হয়।’

শহরের গোশতহাটির মোড়ের আমজাদ হোসেন (৬৫) বসে ছিলেন একটি দোকানের সামনে। কথা হয় তার সঙ্গে। আলাপে জানা যায়, ছেলে-মেয়ে ও পরিবারের সবাই যে যার মতো ব্যস্ত থাকেন। রিকশা চালিয়ে নিজের রোজগার নিজেই করেন আমজাদ হোসেন। থাকেন একটি কুঠরির মতো ভাড়া বাসায়। আমজাদ হোসেন বলেন, ‘এবার বুঝে নাও তাহলে কেমন আছি।’

শহরের কাঁচাবাজার দিয়ে একা একা হেঁটে যাচ্ছিলেন শ্রমতী কান্তি রায়। কোথায় যাচ্ছেন? জানতে চাইলে শ্রমতী কান্তি বলেন, ‘মেয়ের বাড়িতে গিয়েছিলাম এখন শহরের কালীতলায় নিজের বাড়িতে যাচ্ছি।’ একা কেন, সঙ্গে কেউ নেই? এমন প্রশ্নের উত্তরে বলেন, ‘আমি বুড়ি (বৃদ্ধা) হয়ে গিয়েছি তো, চাইলেই কি ছেলে, ছেলের বউ বা নাতি-নাতনি সঙ্গে যাবে নাকি।’

উকিলপাড়া এলাকায় নিজ বাড়ির সামনে বসে ছিলেন গোলাম মোস্তফা (৬২)। কেমন কাটছে পরিবার-পরিজন নিয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘পরিবারে কোনো অভাব-অনটন নেই কিন্তু মনে তৃপ্তি পাই না। পরিবারের সবাই যে যার মতো থাকে। তেমন করে কথাও হয় না। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে বন্ধুরাও হারিয়ে গেছে।

প্রবীণদের নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে কাজ করছেন বরেন্দ্র সমাজ উন্নয়ন সংস্থার (বিএসডিও) কর্মসূচি সমন্বয়কারী আতাউর রহমান। তিনি দৈনিক বাংলাকে বলেন, ‘অধিকাংশ প্রবীণ নানাভাবে অবহেলিত ও নিঃসঙ্গতার মধ্যে দিয়ে সময় অতিবাহিত করছেন। ২০১৪ সালে রাষ্ট্রপতি প্রবীণদের সিনিয়র সিটিজেন হিসেবে ঘোষণা করে সন্মানিত করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে প্রবীণদের জন্য নিরাপদ বিশ্ব গড়ে তোলার জন্য শুধু রাষ্ট্রীয় পদক্ষেপ যথেষ্ট নয়। এ ক্ষেত্রে সাধারণ মানুষের সংবেদনশীলতা বাড়াতে হবে।’

জেলা সমাজসেবা কার্যালয়ের উপপরিচালক নূর মুহাম্মদ দৈনিক বাংলাকে বলেন, ‘প্রবীণদের নিয়ে তাদের তেমন কোনো কার্যক্রম নেই। তবে কোনো প্রবীণ ব্যক্তি যদি থাকা বা খাবারের মতো সমস্যায় পড়েন সে ক্ষেত্রে তাদের সহায়তা করা হয়।’


নির্বাচিত

সম্প্রীতির বন্ধন বজায় রেখে পূজা উদযাপনের আহ্বান তথ্য প্রতিমন্ত্রীর

ময়মনসিংহের নান্দাইল উপজেলা পরিষদ মিলনায়তনে দুর্গাপূজা সুষ্ঠু ও আনন্দমুখর পরিবেশে উদযাপনের লক্ষ্যে প্রস্তুতিমূলক সভায় তথ্য ও সম্প্রচার প্রতিমন্ত্রী ইয়াসের খান চৌধুরী, এমপি। ছবি: দৈনিক বাংলা
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

পূজামণ্ডপগুলোর সার্বিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করা, আইনশৃঙ্খলা বজায় রাখা এবং সামাজিক সম্প্রীতির বন্ধন বজায় রেখে শারদীয় উৎসব উদযাপনের জন্য সংশ্লিষ্ট সকলকে আহ্বান জানিয়েছেন তথ্য ও সম্প্রচার প্রতিমন্ত্রী ইয়াসের খান চৌধুরী, এমপি।

শনিবার (১০ অক্টোবর) ময়মনসিংহের নান্দাইল উপজেলা পরিষদ মিলনায়তনে দুর্গাপূজা সুষ্ঠু ও আনন্দমুখর পরিবেশে উদযাপনের লক্ষ্যে প্রস্তুতিমূলক সভায় এ আহ্বান জানিয়েছেন তথ্য প্রতিমন্ত্রী।

সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তথ্য প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘বাংলাদেশ সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির দেশ। আবহমানকাল ধরে সব ধর্মের মানুষ এখানে নিজ নিজ উৎসব বিপুল উৎসাহ-উদ্দীপনার মধ্য দিয়ে উদযাপন করে আসছে। শারদীয় দুর্গাপূজাও যেন সর্বজনীন ও উৎসবমুখর পরিবেশে পালিত হতে পারে, সে জন্য সরকার সব ধরনের পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে।’

তিনি পূজামণ্ডপগুলোর সার্বিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করা, আইনশৃঙ্খলা বজায় রাখা এবং সামাজিক সম্প্রীতির বন্ধন আরও দৃঢ় করে উৎসব উদযাপনের জন্য সংশ্লিষ্ট সকলকে গুরুত্বপূর্ণ দিকনির্দেশনা প্রদান করেন।

প্রতিমন্ত্রী যেকোনো ধরনের অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে স্থানীয় প্রশাসন, আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ও পূজা উদযাপন পরিষদের নেতাদের সমন্বয়ে সতর্ক থাকার আহ্বান জানান।

উপজেলা প্রশাসনের উদ্যোগে আয়োজিত প্রস্তুতিমূলক সভায় স্থানীয় প্রশাসনের বিভিন্ন কর্মকর্তা, আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর প্রতিনিধি, বিভিন্ন পূজামণ্ডপ পরিচালনা কমিটির নেতা ও স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন।


নির্বাচিত

ঢাকা ক্যান্টনমেন্ট এলাকায় ট্রেনের ধাক্কায় প্রাণ গেল যুবকের

ফাইল ছবি
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

ঢাকা ক্যান্টনমেন্ট এলাকায় ট্রেনের ধাক্কায় অজ্ঞাতপরিচয় এক যুবকের (২৫) মৃত্যু হয়েছে। শনিবার (১০ অক্টোবর) সকাল সাড়ে ৭টার দিকে এ ঘটনা ঘটে। পরে বিকেল ৫টার দিকে মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে।

ঢাকা রেলওয়ে থানার উপপরিদর্শক (এসআই) মুহাম্মদ আব্দুর রাজ্জাক জানান, শনিবার (১০ অক্টোবর) সকাল সাড়ে ৭টার দিকে ঢাকা ক্যান্টনমেন্টের পূর্ব পাশে রেললাইন ধরে হাঁটার সময় দেওয়ানগঞ্জ কমিউটার ট্রেনের ধাক্কায় ঘটনাস্থলেই মারা যান এক যুবক। খবর পেয়ে আইনি প্রক্রিয়া শেষে মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য ঢাকা মেডিকেলের মর্গে পাঠানো হয়েছে।

এসআই আব্দুর রাজ্জাক আরও জানান, নিহতের পরনে ব্রাউন কালারের টি-শার্ট ও মেশ কালারের প্যান্ট ছিল। তবে তার নাম-পরিচয় জানা যায়নি। পরিচয় শনাক্তে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগের (সিআইডি) ক্রাইম সিনকে খবর দেওয়া হয়েছে।


নির্বাচিত

লালন আখড়াবাড়ির দানবাক্সে মিলল ৬ লাখ ৪৯ হাজার টাকা

# প্রথমবার গণমাধ্যমকর্মীদের উপস্থিতিতে খুলল দানবাক্স
ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
কুষ্টিয়া প্রতিনিধি

কুষ্টিয়ার কুমারখালীর ছেঁউড়িয়ায় বাউল সম্রাট ফকির লালন শাহের আখড়াবাড়ির দানবাক্স খুলে পাওয়া গেছে ৬ লাখ ৪৯ হাজার ৩৪৮ টাকা। শনিবার সকাল সাড়ে ১০টার দিকে মাজারের ভেতরে ও বারান্দায় থাকা দুটি সিন্দুক খুলে গননা শেষে দুপুরে এসব টাকা পাওয়া যায়।


এবার সাধারণ মানুষ ও গণমাধ্যমকর্মীদের উপস্থিতিতে দানবাক্স খোলা ও টাকা গণনার কার্যক্রম পরিচালনা করা হয়েছে। এর আগে স্থানীয় প্রশাসন ও লালন একাডেমি কর্তৃপক্ষের তত্ত্বাবধানে দানবাক্স খোলা হলেও এবার গণমাধ্যমকর্মীদের সামনে পুরো প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা হয়।


সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, লালন আখড়াবাড়ির দানবাক্স সাধারণত বছরে দুইবার খোলা হয়। প্রথমবার অক্টোবর মাসে এবং দ্বিতীয়বার লালন সাঁইজির তিরোধান দিবসের পর। ভক্তদের দেওয়া মানত ও দানের টাকা গণনা শেষে লালন একাডেমির নির্ধারিত তহবিলে জমা রাখা হয়।


এর আগে গত বছরের অক্টোবরে দানবাক্স খুলে পাওয়া যায় ৪ লাখ ৯২ হাজার ২৬৪ টাকা। পরে লালন স্মরণোৎসবের পর দানবাক্স খুলে পাওয়া যায় ৯ লাখ ২২ হাজার ২৪২ টাকা। সে হিসাবে আগের বছরের অক্টোবরের তুলনায় এবার দানবাক্সে ১ লাখ ৫৭ হাজার ৮৪ টাকা বেশি পাওয়া গেছে। গতকাল শনিবার দানবাক্স খোলার সময় উপস্থিত ছিলেন অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) ও লালন স্মরণোৎসবের অর্থ উপকমিটির আহ্বায়ক জাকির হোসেন, সহকারী কমিশনার ও এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট মেহেদী হাসান রিফাত, কুমারখালীর সহকারী কমিশনার (ভূমি) নাভিদ সারওয়ারসহ প্রশাসনের বিভিন্ন কর্মকর্তা ও লালন একাডেমির সদস্যরা।


কুমারখালীর সহকারী কমিশনার (ভূমি) নাভিদ সারওয়ার বলেন, ‘এখন থেকে গণমাধ্যমকর্মীদের উপস্থিতিতে লালন আখড়াবাড়ির দানবাক্স খোলা হয়েছে। সাধারণত বছরে দুইবার দানবাক্স খোলা হয়। গতবারের তুলনায় এবার বেশি টাকা পাওয়া গেছে। টাকা গণনা শেষে প্রশাসনের পক্ষ থেকে তা বুঝে নেওয়া হয়েছে। আজ রোববার এসব টাকা লালন একাডেমির তহবিলে জমা দেওয়া হবে।’


নির্বাচিত

ত্রিশালে গ্রামীণ যোগাযোগ উন্নয়নে নতুন উদ্যোগ

# সাপখালী বাজার থেকে জাকির ফকিরের ঘাট সড়ক হচ্ছে পাকা # উদ্বোধন করলেন এমপি লিটন
ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
সারোয়ার জাহান জুয়েল, ময়মনসিংহ ব্যুরো

ময়মনসিংহের ত্রিশাল উপজেলার মোক্ষপুর ইউনিয়নের সাপখালী বাজার থেকে জাকির ফকিরের ঘাট পর্যন্ত সড়ক পাকাকরণ কাজের শুভ উদ্বোধন করা হয়েছে। শনিবার ময়মনসিংহ-৭ (ত্রিশাল) আসনের সংসদ সদস্য ডা. মাহবুবুর রহমান লিটন আনুষ্ঠানিকভাবে এ সড়কের পাকাকরণ কাজের উদ্বোধন করেন। সড়কটি পাকাকরণের উদ্যোগকে স্থানীয় যোগাযোগব্যবস্থার উন্নয়ন এবং গ্রামীণ জনপদের মানুষের দীর্ঘদিনের প্রত্যাশা পূরণের পথে একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে।

সড়ক যোগাযোগ একটি এলাকার অর্থনৈতিক, সামাজিক ও সামগ্রিক উন্নয়নের অন্যতম প্রধান চালিকাশক্তি। বিশেষ করে গ্রামীণ জনপদে মানুষের দৈনন্দিন চলাচল, কৃষিপণ্য পরিবহন, শিক্ষার্থীদের বিদ্যালয়ে যাতায়াত এবং ব্যবসা-বাণিজ্যের প্রসারে উন্নত সড়কব্যবস্থার গুরুত্ব অপরিসীম। সেই বিবেচনায় মোক্ষপুর ইউনিয়নের সাপখালী বাজার থেকে জাকির ফকিরের ঘাট পর্যন্ত সড়ক পাকাকরণ কাজের উদ্বোধন এলাকাবাসীর জন্য আশাব্যঞ্জক উদ্যোগ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

স্থানীয় পর্যায়ে একটি সড়ক পাকা হলে শুধু যাতায়াতের সুবিধাই বাড়ে না, বরং এর সঙ্গে যুক্ত হয় মানুষের জীবনযাত্রার মানোন্নয়ন, পণ্য পরিবহনে গতি এবং স্থানীয় অর্থনীতির বিকাশের সম্ভাবনা। সাপখালী বাজার থেকে জাকির ফকিরের ঘাট পর্যন্ত সড়কটি পাকাকরণ সম্পন্ন হলে এ অঞ্চলের মানুষের চলাচল আরও সহজ হবে বলে আশা করা হচ্ছে। পাশাপাশি সড়কটি ব্যবহার করে বিভিন্ন প্রয়োজনে যাতায়াতকারী সাধারণ মানুষকে আগের তুলনায় স্বাচ্ছন্দ্যে চলাচলের সুযোগ করে দেবে।

কৃষি ও ব্যবসা-বাণিজ্যে ইতিবাচক প্রভাবের প্রত্যাশা:

ত্রিশাল উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নের মতো মোক্ষপুর ইউনিয়নেও গ্রামীণ সড়ক যোগাযোগের উন্নয়ন স্থানীয় মানুষের জীবনযাত্রার সঙ্গে সরাসরি সম্পৃক্ত। কৃষিনির্ভর এলাকার মানুষের জন্য উৎপাদিত ফসল ও অন্যান্য কৃষিপণ্য বাজারে নেওয়ার ক্ষেত্রে ভালো সড়ক অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। সড়কটি পাকা হলে কৃষিপণ্য পরিবহন সহজ হওয়ার পাশাপাশি ব্যবসায়ী ও ক্রেতাদের যাতায়াতেও সুবিধা সৃষ্টি হবে বলে প্রত্যাশা করা হচ্ছে।

এ ছাড়া স্থানীয় বাজারকেন্দ্রিক ব্যবসা-বাণিজ্যের প্রসারেও উন্নত যোগাযোগব্যবস্থা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। পাকা সড়কের মাধ্যমে যানবাহন চলাচল সহজ হলে পণ্য আনা-নেওয়ার সময় ও ভোগান্তি কমার সম্ভাবনা থাকে। ফলে স্থানীয় ব্যবসায়িক কার্যক্রম আরও গতিশীল হওয়ার সুযোগ তৈরি হবে।

জনদুর্ভোগ কমাতে গুরুত্বপূর্ণ উদ্যোগ: গ্রামীণ এলাকার কাঁচা বা অপর্যাপ্তভাবে উন্নত সড়কে বর্ষা মৌসুমে কাদা-পানি জমে থাকা এবং যানবাহন চলাচলে অসুবিধার মতো সমস্যা দেখা দিতে পারে। এসব কারণে সাধারণ মানুষকে প্রায়ই অতিরিক্ত সময় ও শ্রম ব্যয় করতে হয়। বিশেষ করে শিক্ষার্থী, বয়স্ক ব্যক্তি, অসুস্থ রোগী এবং জরুরি প্রয়োজনে যাতায়াতকারী মানুষের জন্য ভালো সড়ক যোগাযোগ অত্যন্ত প্রয়োজনীয়।

সাপখালী বাজার থেকে জাকির ফকিরের ঘাট পর্যন্ত সড়ক পাকাকরণ কাজ বাস্তবায়িত হলে এ অঞ্চলের মানুষের যাতায়াতব্যবস্থায় ইতিবাচক পরিবর্তন আসবে বলে আশা করা হচ্ছে। উন্নত সড়ক যোগাযোগের ফলে জরুরি প্রয়োজনে চলাচল সহজ হওয়ার পাশাপাশি ইউনিয়নের বিভিন্ন এলাকার মানুষের পারস্পরিক যোগাযোগও আরও সুদৃঢ় হবে।

উন্নয়ন কার্যক্রমে বাড়ছে প্রত্যাশা:

মোক্ষপুর ইউনিয়নের গুরুত্বপূর্ণ এ সড়কের পাকাকরণ কাজের উদ্বোধনের মধ্য দিয়ে স্থানীয় অবকাঠামো উন্নয়নে নতুন প্রত্যাশা তৈরি হয়েছে। সংসদ সদস্য ডা. মাহবুবুর রহমান লিটনের মাধ্যমে এ উন্নয়নকাজের উদ্বোধনকে কেন্দ্র করে সড়কটির নির্মাণকাজ যথাযথভাবে সম্পন্ন হওয়ার প্রত্যাশা করছেন সংশ্লিষ্ট এলাকার মানুষ।

তবে শুধু উদ্বোধনের মধ্যেই উন্নয়ন কার্যক্রম সীমাবদ্ধ না রেখে নির্ধারিত মান বজায় রেখে কাজ সম্পন্ন করা এবং সড়কটির স্থায়িত্ব নিশ্চিত করাও গুরুত্বপূর্ণ। নির্মাণকাজে গুণগত মান বজায় থাকলে দীর্ঘদিন ধরে মানুষ এর সুফল ভোগ করতে পারবেন। একই সঙ্গে নিয়মিত রক্ষণাবেক্ষণ নিশ্চিত করা গেলে সড়কটি স্থানীয় যোগাযোগব্যবস্থায় দীর্ঘমেয়াদি ভূমিকা রাখতে সক্ষম হবে।

যোগাযোগব্যবস্থার উন্নয়নে নতুন অধ্যায়:

ত্রিশাল উপজেলার গ্রামীণ অবকাঠামো উন্নয়নের ধারাবাহিকতায় মোক্ষপুর ইউনিয়নের সাপখালী বাজার থেকে জাকির ফকিরের ঘাট পর্যন্ত সড়ক পাকাকরণ কাজের উদ্বোধন একটি গুরুত্বপূর্ণ উদ্যোগ। সড়কটি নির্মাণকাজ সম্পন্ন হলে স্থানীয় বাসিন্দাদের দৈনন্দিন যাতায়াত, কৃষিপণ্য পরিবহন, শিক্ষা কার্যক্রম এবং ব্যবসা-বাণিজ্যে ইতিবাচক প্রভাব পড়বে বলে প্রত্যাশা করা হচ্ছে।

এলাকার মানুষের জীবনযাত্রার মানোন্নয়ন এবং গ্রামীণ অর্থনীতিকে আরও গতিশীল করতে উন্নত সড়ক যোগাযোগের বিকল্প নেই। তাই সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের তদারকিতে কাজটি যথাযথ মানে ও নির্ধারিত সময়ের মধ্যে সম্পন্ন হবে—এমন প্রত্যাশা স্থানীয়দের। সড়কটির উন্নয়ন কার্যক্রম বাস্তবায়িত হলে মোক্ষপুর ইউনিয়নের যোগাযোগব্যবস্থায় নতুন গতি সঞ্চারিত হবে এবং এলাকার সামগ্রিক উন্নয়নের পথ আরও সুগম হবে বলে আশা করা হচ্ছে।


নির্বাচিত

মিঠামইনে বিএনপি নেতা জাহাঙ্গীর হত্যা: ছাত্রদল নেতা খোকাসহ গ্রেপ্তার ২

ঢাকার মিরপুর-১০ নম্বর এলাকা থেকে মোকাররম হোসেন খোকাকে এবং নেত্রকোনা শহরের বাসস্ট্যান্ড এলাকা থেকে তার ভাতিজা মো. রিয়াজকে গ্রেপ্তার করা হয়। ছবি: দৈনিক বাংলা
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
রাকিবুল হাসান রোকেল, কিশোরগঞ্জ

কিশোরগঞ্জের মিঠামইন উপজেলা বিএনপির সভাপতি জাহেদুল আলম জাহাঙ্গীর হত্যা মামলায় উপজেলা ছাত্রদলের বহিষ্কৃত আহ্বায়ক মোকাররম হোসেন খোকা ও তার ভাতিজা মো. রিয়াজকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।

গতকাল রাতে ঢাকার মিরপুর-১০ নম্বর এলাকা থেকে মোকাররম হোসেন খোকাকে এবং নেত্রকোনা শহরের বাসস্ট্যান্ড এলাকা থেকে তার ভাতিজা মো. রিয়াজকে গ্রেপ্তার করা হয়। এ নিয়ে এ মামলায় মোট ১৫ জনকে গ্রেপ্তারের কথা জানিয়েছে পুলিশ।

মিঠামইন থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মনোয়ার মোহাম্মদ এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

তিনি জানান, গ্রেপ্তারকৃতদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার প্রক্রিয়া চলছে।

এর আগে গত ১৫ জুলাই রাত ৯টার দিকে মিঠামইন বাজার থেকে মোটরসাইকেলে করে বাড়ি ফিরছিলেন জাহেদুল আলম জাহাঙ্গীর। মিঠামইন সদরের বেড়িবাঁধ এলাকায় নিজ বাসভবনের সামনে পৌঁছালে আগে থেকে ওত পেতে থাকা দুর্বৃত্তরা তাকে কুপিয়ে জখম করে। এ সময় তার সঙ্গে থাকা বিএনপি কর্মী হাদিস মিয়াকেও কুপিয়ে আহত করা হয়।

পরে স্বজনেরা তাদের উদ্ধার করে মিঠামইন উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। সেখানে প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে তাদের শহীদ সৈয়দ নজরুল ইসলাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়। রাত ১১টার দিকে হাসপাতালের কর্তব্যরত চিকিৎসক জাহেদুল আলম জাহাঙ্গীরকে মৃত ঘোষণা করেন।

এ ঘটনায় ১৮ জুলাই নিহতের স্ত্রী তাসলিমা আক্তার চৌধুরী বাদী হয়ে মিঠামইন থানায় মামলা করেন। মামলায় তিনজনের নাম উল্লেখ করে অজ্ঞাতনামা ১০ থেকে ১২ জনকে আসামি করা হয়।

হত্যাকাণ্ডের পর থেকেই জড়িতদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারে তদন্ত শুরু করে পুলিশ। মামলার তদন্তে বিভিন্ন তথ্যের ভিত্তিতে সন্দেহভাজনদের শনাক্ত করে অভিযান চালিয়ে এর আগে এ মামলায় ১৩ জনকে গ্রেপ্তারের জানিয়েছিল পুলিশ। সর্বশেষ মোকাররম হোসেন খোকা ও তার ভাতিজা রিয়াদকে গ্রেপ্তারের মধ্য দিয়ে মামলায় গ্রেপ্তারের সংখ্যা ১৫ জনে দাঁড়িয়েছে।

এদিকে, হত্যাকাণ্ডে সম্পৃক্ততার অভিযোগ ওঠার পর মোকাররম হোসেন খোকাকে উপজেলা ছাত্রদলের আহ্বায়কের পদ থেকে বহিষ্কার করা হয়। ঘটনার পর থেকে তিনি পলাতক ছিলেন। তবে গ্রেপ্তারের আগে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া একটি ভিডিওতে হত্যাকাণ্ডে জড়িত থাকার অভিযোগ অস্বীকার করেন মোকাররম হোসেন খোকা। ভিডিওতে তিনি দাবি করেন, একটি চক্র তাকে ফাঁসানোর উদ্দেশ্যে এ হত্যাকাণ্ডে তার নাম জড়িয়েছে।

চাঞ্চল্যকর এ হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ১৫ জনকে গ্রেপ্তার করা হলেও হত্যার নেপথ্যের কারণ এবং ঘটনায় কার কী ভূমিকা ছিল, তা এখনো পুরোপুরি স্পষ্ট হয়নি। গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের জিজ্ঞাসাবাদ ও তদন্তের মাধ্যমে হত্যাকাণ্ডের রহস্য উদ্‌ঘাটনের চেষ্টা করছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।


নির্বাচিত

সরকারি চাকরি বজায় রেখে এনসিপির কমিটিতে পদ

ছবি: সরকারি চাকরিতে কর্মরত সফিউল্ল্যাহ জগলু।
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
চরফ্যাশন (ভোলা) প্রতিনিধি

সরকারি চাকরিতে কর্মরত থাকা অবস্থাতেই রাজনৈতিক দলের সাংগঠনিক পদ পাওয়ার অভিযোগ উঠেছে ভোলার চরফ্যাশন উপজেলা প্রাণিসম্পদ দপ্তরের উপসহকারী প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা সফিউল্ল্যাহ জগলুর বিরুদ্ধে। তিনি সদ্য গঠিত জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) চরফ্যাশন উপজেলা আহ্বায়ক কমিটির সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক পদে রয়েছেন।

এ ঘটনায় সরকারি কর্মচারীদের রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডে সম্পৃক্ততার আইনি বিধিনিষেধ ও আচরণবিধি প্রতিপালন নিয়ে স্থানীয় বিভিন্ন মহলে নানা প্রশ্ন ও সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে।

দলীয় সূত্রে জানা গেছে, আগামী ছয় মাসের জন্য জাতীয় নাগরিক পার্টির চরফ্যাশন উপজেলা আহ্বায়ক কমিটির আংশিক অনুমোদন দেওয়া হয়। সাত সদস্যের এই কমিটিতে সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক হিসেবে সফিউল্ল্যাহ জগলুর নাম উল্লেখ রয়েছে। সরকারি চাকরিতে বহাল থেকে রাজনৈতিক দলের এমন গুরুত্বপূর্ণ পদে তার অন্তর্ভুক্তির বিষয়টি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমসহ স্থানীয় সচেতন মহলে আলোচনা-সমালোচনার জন্ম দিয়েছে।

সরকারি কর্মচারী (আচরণ) বিধিমালা, ১৯৭৯-এর ২৫(১) বিধি অনুযায়ী—কোনো সরকারি কর্মচারী কোনো রাজনৈতিক দল বা তার অঙ্গসংগঠনের সদস্য হতে পারবেন না। এমনকি দেশ বা বিদেশে কোনো ধরনের রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডে প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে অংশ নিতে কিংবা সহায়তা করতে পারবেন না।

এ বিষয়ে জাতীয় নাগরিক পার্টির ভোলা জেলা আহ্বায়ক অ্যাডভোকেট মো. জিয়াউর রহমান বলেন, ‘বিষয়টি আমি শুনেছি। আমাদের কাছে আসা তালিকার যাচাই-বাছাইয়ে ভুল ছিল। সরকারি চাকরিজীবীদের রাজনীতিতে যুক্ত হওয়ার কোনো সুযোগ নেই।’

অন্যদিকে এনসিপির চরফ্যাশন উপজেলা কমিটির আহ্বায়ক অহিদ ফয়সাল জানান, তিনি সরকারি চাকরিতে কর্মরত। আমাদের রাজনীতিতে তার মৌন সম্মতি রয়েছে। তবে ভুলবশত তার নাম ও ফোন নম্বর কমিটিতে উঠে এসেছে।

এ বিষয়ে সফিউল্ল্যাহ জগলুর মোবাইল ফোনে একাধিকবার কল করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।

এ বিষয়ে চরফ্যাশন উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. মো. রাজন আলী বলেন, ‘বিষয়টি আমাদের নজরে এসেছে। প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য জেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তাকে বিষয়টি জানানো হয়েছে।’

জেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা মো. রফিকুল ইসলাম বলেন, ‘বিষয়টি খতিয়ে দেখতে সরকারি বিধিমালা দেখা হবে এবং তার অবস্থান যাচাই করা হবে। তদন্তসাপেক্ষে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হবে।’


নির্বাচিত

ডুমুরিয়ায় ‘মা ইলিশ রক্ষা’ নিষেধাজ্ঞায় প্রথমবার সহায়তা পেল ৬৪৬ জেলে

ছবি: দৈনিক বাংলা
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
শেখ মাহতাব হোসেন, ডুমুরিয়া (খুলনা)

মা ইলিশ সংরক্ষণে মাছ ধরার নিষেধাজ্ঞার সময় অবশেষে সরকারি খাদ্যসহায়তার আওতায় এলেন খুলনার ডুমুরিয়া উপজেলার ৬৪৬ জন মৎস্যজীবী। দীর্ঘদিন ধরে এ ধরনের সহায়তার বাইরে থাকা জেলেদের জন্য এটি নতুন সম্ভাবনার দ্বার খুলেছে। নিষেধাজ্ঞার সময় মাছ ধরতে না পারায় আয় বন্ধ হয়ে যাওয়া পরিবারগুলোর খাদ্যসংকট মোকাবিলায় এ উদ্যোগ স্বস্তি এনে দিয়েছে।

উপজেলা মৎস্য বিভাগ জানায়, ডুমুরিয়ায় নিবন্ধিত মৎস্যজীবীর সংখ্যা ৫ হাজার ৪৯৮ জন। এর আগে সাগরে মাছ ধরার নিষেধাজ্ঞার সময় ৬৬৫ জন জেলে সরকারি বিশেষ ভিজিএফের চাল পেতেন। তবে মা ইলিশ ও জাটকা সংরক্ষণ এবং সুন্দরবনে মাছ ধরার নিষেধাজ্ঞার সময় ডুমুরিয়ার জেলেদের জন্য এ ধরনের খাদ্যসহায়তার সুযোগ ছিল না। ফলে মাছ ধরার ওপর নিষেধাজ্ঞা জারি হলে অনেক পরিবারকে চরম আর্থিক অনিশ্চয়তার মধ্যে পড়তে হতো।

বিশেষ করে সাগরের মোহনা ও সুন্দরবনসংলগ্ন এলাকায় মাছ ধরে জীবিকা নির্বাহ করা জেলেদের দুর্ভোগ ছিল বেশি। নিষেধাজ্ঞার সময় মাছ ধরার সুযোগ না থাকায় কেউ ভ্যান বা রিকশা চালিয়ে, আবার কেউ দিনমজুরের কাজ করে সংসার চালাতেন। অনেকের পক্ষে পরিবারের সদস্যদের নিত্যপ্রয়োজনীয় খাবার জোগাড় করাও কঠিন হয়ে পড়ত।

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, এ পরিস্থিতি পরিবর্তনে ডুমুরিয়া উপজেলা মৎস্য বিভাগের উদ্যোগে বোট নিবন্ধন ও সাগরে মাছ ধরার অনুমতিপত্র সংগ্রহের কার্যক্রম গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে। আগে উপজেলার বোটগুলোর নিবন্ধন ও অনুমতিপত্র না থাকায় সরকারি নথিতে সেগুলোর যথাযথ তথ্য সংরক্ষিত ছিল না। পরবর্তী সময়ে উপজেলা মৎস্য বিভাগের উদ্যোগে ২০২৫ সালে ৬৪টি বোটের অনুমতিপত্রের ব্যবস্থা করা হয়। প্রতিটি বোটে প্রায় ৮ থেকে ১৪ জন জেলে সাগরের মোহনা ও সুন্দরবনসংলগ্ন এলাকায় মাছ ধরতে যান।

বোটের নিবন্ধন ও অনুমতিপত্রের মাধ্যমে জেলেদের সরকারি নথিভুক্তি এবং সহায়তার আওতায় আসার সুযোগ তৈরি হয়। এরই ধারাবাহিকতায় এবার মা ইলিশ সংরক্ষণকালীন বিশেষ ভিজিএফের চাল পাচ্ছেন উপজেলার ৬৪৬ জন মৎস্যজীবী। দীর্ঘদিনের বঞ্চনা কাটিয়ে সরকারি সহায়তা পাওয়ায় তাদের মধ্যে স্বস্তি ও আশাবাদ তৈরি হয়েছে।

ডুমুরিয়ার জেলেদের প্রত্যাশা, মা ইলিশ সংরক্ষণকালীন এই সহায়তা ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে। পাশাপাশি জাটকা সংরক্ষণ ও সুন্দরবনে মাছ ধরার নিষেধাজ্ঞার সময়ও প্রকৃত জেলেদের জন্য সরকারি সহায়তার সুযোগ সম্প্রসারণ করা হবে। তাদের মতে, জেলেদের কল্যাণ নিশ্চিত করা এবং মৎস্যসম্পদ রক্ষা—দুটি লক্ষ্যকে সমন্বিতভাবে এগিয়ে নেওয়া গেলে দেশের মৎস্য খাত আরও সমৃদ্ধ হবে।

ডুমুরিয়া উপজেলার সিনিয়র উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা সোহেল মো. জিল্লুর রহমান রিগান বলেন, ‘জেলেদের জীবন-জীবিকার সুরক্ষা নিশ্চিত করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। সাগরে মাছ ধরার অনুমতিপত্র প্রদানের মাধ্যমে জেলেদের সরকারি নথিভুক্তির সুযোগ তৈরি হয়েছে। ফলে মা ইলিশ সংরক্ষণকালীন বিশেষ ভিজিএফের আওতায় ৬৪৬ জন মৎস্যজীবীকে অন্তর্ভুক্ত করা সম্ভব হয়েছে। ডুমুরিয়ার জেলে পরিবারে আজ খুশির বন্যা বইছে। দীর্ঘদিন তারা এই ভিজিএফ থেকে বঞ্চিত ছিল। আমরা ডুমুরিয়ার মৎস্য চাষি ও মৎস্যজীবীদের কল্যাণে সর্বাত্মক প্রচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি।’


নির্বাচিত

সরিষাবাড়ীতে ভাঙাচোরা কাঠের ব্রিজে ঝুঁকি নিয়ে চলাচল

* স্থায়ী ব্রিজের দাবি স্থানীয়দের
ছবি: দৈনিক বাংলা
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
সরিষাবাড়ী (জামালপুর) সংবাদদাতা

জামালপুরের সরিষাবাড়ীতে ভাঙাচোরা ও ঝুঁকিপূর্ণ কাঠের ব্রিজে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করছে ২ উপজেলার ১০ গ্রামের মানুষ। পোগলদিঘা ইউনিয়নের চর টাকুরিয়া জিয়া খালের ওপর ২৫ বছর আগে নির্মিত পুরোনো পিলারের ওপর নির্মিত কাঠের ব্রিজটি বর্তমানে সংস্কার না করার কারণে জরাজীর্ণ হয়ে পড়েছে কাঠের ব্রিজটি। ফলে চরম আতঙ্ক জীবনের ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করছে স্থানীয়রা। তৈরি পিলারের উপর স্থায়ীভাবে ব্রিজ নির্মাণের দাবি জানান স্থানীয়রা।

স্থানীয়রা জানান, উপজেলার পোগলদিঘা ইউনিয়নের টাকুরিয়া এলাকায়, জিয়া খালের ওপর ২০০১ সালের পর বিএনপির শাসনামলে একটি ব্রিজ নির্মাণের কাজ শুরু হয়। কিন্তু কোনো এক অজানা কারণে পিলার স্থাপনের পরপরই ব্রিজ নির্মাণকাজ বন্ধ হয়ে যায়। এতে করে জামালপুরের সরিষাবাড়ী উপজেলার টাকুরিয়া, মালিপাড়া, ব্রাহ্মনজানী, মানিক পটল, বিন্নাফৈর, চর সরিষাবাড়ী এবং সিরাজগঞ্জের কাজিপুর উপজেলার মনসুরনগর, শালগ্রাম, মাজনাবাড়ীসহ ১০ গ্রামের হাজারো মানুষের চলাচলে চরম দুর্ভোগ ও ভোগান্তি পোহাতে হয়।

বিশেষ করে শুকনো মৌসুমে পায়ে হেঁটে খালটি পার হলেও বর্ষায় দুর্ভোগ বেড়ে যেত তাদের। তখন নৌকা আর বাঁশের সাঁকোই একমাত্র ভরসা ছিল। বর্ষা মৌসুমে পানি বেড়ে গেলে ওই এলাকার মানুষকে প্রায় সাত কিলোমিটার পথ ঘুরে চলাচল করতে হতো। পরে ইউনিয়ন পরিষদের পক্ষ থেকে ওসব পিলারের ওপর লোহা ও কাঠ দিয়ে ব্রিজ নির্মাণ করে দেওয়া হয়। তবে কাঠের ব্রিজ নির্মাণের দীর্ঘদিন পার হলেও সংস্কারের অভাবে জরাজীর্ণ হয়ে বিভিন্ন স্থানে ভেঙে গেছে ব্রিজটি।

স্থানীয় বাবুল সরকার বলেন, বিভিন্ন স্কুল-মাদ্রাসায় পড়ুয়া শিক্ষার্থীদের জীবনের ঝুঁকি নিয়ে এই ভাঙাচোরা ব্রিজ ও খানাখন্দে ভরা রাস্তা দিয়ে পারাপার হতে হয়।

এ বিষয়ে পোগলদিঘা ইউনিয়ন পরিষদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান মোবারক আলী বলেন, ‘এলাকাবাসীর মাধ্যমে বিষয়টি জানতে পারি। স্থানীয়দের যাতায়াতের দুর্ভোগ কমাতে পরিষদের মাধ্যমে ব্রিজটির লোহার অ্যাঙ্গেল ও কাঠ পরিবর্তন করে সংস্কার করে দেওয়া হবে। পরবর্তীতে স্থানীয় সংসদ সদস্য ফরিদুল কবির তালুকদার শামীম এমপির সাথে কথা বলে এখানে যাতে স্থায়ী একটা ব্রিজ হয় সে বিষয়ে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হবে।’


নির্বাচিত

নড়াইলে বরেণ্য চিত্রশিল্পী এসএম সুলতানের ৩২তম মৃত্যুবার্ষিকী পালিত

ছবি: দৈনিক বাংলা
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নড়াইল প্রতিনিধি

বিভিন্ন আয়োজনের মধ্যদিয়ে আন্তর্জাতিক খ্যাতিসম্পন্ন চিত্রশিল্পী এসএম সুলতানের ৩২তম মৃত্যুবার্ষিকী পালিত হয়েছে। এ উপলক্ষে জেলা প্রশাসনের আয়োজনে শনিবার (১০ অক্টোবর) সকাল ৯টায় সুলতান সংগ্রহশালা চত্বরে জেলা প্রশাসন, এস এম সুলতান বেঙ্গল চারুকলা মহাবিদ্যালয়, এস এম সুলতান ফাউন্ডেশন, এস এম সুলতান স্মৃতি সংগ্রহশালা, নড়াইল প্রেসক্লাব, জেলা শিল্পকলা একাডেমি, এস এম সুলতান শিশু চারু ও কারুকলা ফাউন্ডেশন, মূর্ছনা সংগীত নিকেতনসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক এবং সামাজিক সংগঠন সুলতানের কবরে শ্রদ্ধাঞ্জলি নিবেদন করে।

এ ছাড়া কোরআন খতম, দোয়া মোনাজাত, শিশু-কিশোরদের চিত্রাঙ্কন প্রতিযোগিতা, আলোচনা সভা ও পুরস্কার বিতরণ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।

অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন জেলা প্রশাসক ড. মোহাম্মদ আবদুল ছালাম, জেলা পরিষদ প্রশাসক বীর মুক্তিযোদ্ধা মোস্তাফিজুর রহমান আলেক, নড়াইল জেলা হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক (ভারপ্রাপ্ত) ডা. আবুল ফজল মুহাম্মদ মশিউর রহমান বাবু, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) আহসান মাহমুদ রাসেল, সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) টি এম রাহসিন কবির, সুলতান ফাউন্ডেশনের সাবেক সদস্য সচিব অ্যাডভোকেট ইকবাল হোসেন সিকদার, এস এম সুলতান স্মৃতি সংগ্রহশালার কিউরেটর তন্দ্রা মুখার্জি, সহকারী কিউরেটর মেহেদী হাসান রানা, নড়াইল প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক মাহবুবুর রশিদ লাবলুসহ অনেকে।

আন্তর্জাতিক খ্যাতিসম্পন্ন চিত্রশিল্পী এসএম সুলতান ১৯৯৪ সালের ১০ অক্টোবর যশোর সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। এদিকে, ১৯২৪ সালের ১০ আগস্ট এসএম সুলতান নড়াইল পৌরসভার মাছিমদিয়া গ্রামে বাবা মেছের আলী ও মা মাজু বিবির ঘরে জন্মগ্রহণ করেন।

চিত্রশিল্পের মূল্যায়ন হিসেবে এস এম সুলতান ১৯৮২ সালে পেয়েছেন একুশে পদক, ১৯৯৩ সালে স্বাধীনতা পদক, ১৯৮৪ সালে রেসিডেন্ট আর্টিস্ট স্বীকৃতি, ১৯৮৬ সালে বাংলাদেশ চারুশিল্পী সংসদ সম্মাননা, ক্যামব্রিজ বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ‘ম্যান অব দ্য ইয়ার’, নিউইয়র্কের বায়োগ্রাফিক্যাল সেন্টার থেকে ‘ম্যান অব অ্যাচিভমেন্ট’ এবং এশিয়া উইক পত্রিকা থেকে ‘ম্যান অব এশিয়া’ পুরস্কারসহ বিভিন্ন সম্মাননা পেয়েছেন। এদিকে, ২০০১ সাল থেকে সুলতান ফাউন্ডেশনের পক্ষ থেকে একজন গুণী চিত্রশিল্পীকে সুলতান স্বর্ণ পদক দেওয়া হয়।


নির্বাচিত

রাজবাড়ীতে রোহান হত্যার রহস্য উদঘাটন, গ্রেপ্তার ৩

ছবি: দৈনিক বাংলা
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
মইনুল হক মৃধা, রাজবাড়ী

রাজবাড়ীতে চাঞ্চল্যকর চৌধুরী ফুয়াদ হাসান রোহান (২১) হত্যা মামলার রহস্য উদঘাটন করেছে পুলিশ। এ ঘটনায় তিনজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। গ্রেফতারর ব্যক্তিদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত ছুরি, গামছা, কালো টি-শার্ট ও নিহতের স্যান্ডেল উদ্ধার করেছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। শনিবার (১০ অক্টোবর) ভোরে রাজবাড়ী সদর থানা পুলিশ ও জেলা গোয়েন্দা শাখার (ডিবি) একটি বিশেষ দল দাদসী ইউনিয়ন ও আশপাশের এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাদেরকে গ্রেফতার করে।

গ্রেফতারকৃক ব্যক্তিরা হলেন দাদসী ইউনিয়নের বক্তারপুর এলাকার ফিরোজ সরদার বাবু (৩৪), মো. রিয়াজ সরদার (২৩) এবং একই ইউনিয়নের সমেসপুর এলাকার মো. শরীফ (২৭)।

প্রেস ব্রিফিংয়ে পুলিশ জানায়, গত ৫ অক্টোবর বিকেল ৪টার দিকে অজ্ঞাত এক ব্যক্তির ফোন পেয়ে নিজ বাড়ি থেকে বের হন চৌধুরী ফুয়াদ হাসান (রোহান)। এরপর তিনি আর বাড়িতে ফিরে আসেননি। এ ঘটনায় পরদিন ৬ অক্টোবর তাঁর পরিবার রাজবাড়ী সদর থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করে।

পরে গত ৮ অক্টোবর বিকেলে রাজবাড়ী সদর উপজেলার দাদসী ইউনিয়নের পাকুড়িকান্দা গ্রামের দিলীপ সেনের একটি পরিত্যক্ত ডোবা থেকে বস্তাবন্দী অবস্থায় রোহানের মরদেহ উদ্ধার করে। হয়।

এ ঘটনায় নিহতের বাবা ফরহাদ চৌধুরী রাজবাড়ী সদর থানায় হত্যা মামলা দায়ের করেন।

পুলিশ জানায়, রোহানের নিখোঁজের খবর পাওয়ার পর থেকেই সদর থানা পুলিশ ও জেলা গোয়েন্দা শাখা যৌথভাবে তদন্ত শুরু করে। তথ্যপ্রযুক্তি ও গোপন সংবাদের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে তিনজনকে গ্রেফতার করা হয়। জিজ্ঞাসাবাদে তাঁরা হত্যাকাণ্ড সম্পর্কে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য দিয়েছেন বলে জানিয়েছে পুলিশ।

পুলিশ আরো জানায়, জমিজমা সংক্রান্ত পূর্বশত্রুতা ও পরিকল্পনার জেরে রোহানকে ডেকে নিয়ে গামছা ও টি-শার্ট দিয়ে শ্বাসরোধ করে হত্যা করা হয়। পরে মরদেহ পানিতে ভেসে ওঠা ঠেকাতে ধারালো ছুরি দিয়ে পেট কেটে দেওয়া হয়। এরপর আলামত নষ্ট করা ও মরদেহ গুম করার উদ্দেশ্যে বস্তাবন্দী করে বালুভর্তি বস্তা বেঁধে পরিত্যক্ত ডোবায় ফেলে দেওয়া হয় বলে পুলিশের ভাষ্য।

গ্রেফতার ব্যক্তিদের দেখানো মতে, ফিরোজ সরদার বাবুর শয়নকক্ষ থেকে হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত ছুরি ও গামছা উদ্ধার করা হয়। মো. রিয়াজ সরদারের শয়নকক্ষ থেকে শ্বাসরোধের কাজে ব্যবহৃত কালো টি-শার্ট উদ্ধার করা হয়। এ ছাড়া দাদসী ইউনিয়নের বক্তারপুর এলাকায় বিনয় কুমার দাসের পুকুরের কচুরিপানার মধ্যে থেকে নিহতের পরিহিত স্যান্ডেল উদ্ধার করা হয়েছে।


নির্বাচিত

আলোকচিত্র ইতিহাসের সাক্ষী, সমাজ পরিবর্তনের শক্তিশালী হাতিয়ার : কাদের গনি চৌধুরী

বাংলাদেশ সংবাদ সংস্থার ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও প্রধান সম্পাদক কাদের গনি চৌধুরী বাংলাদেশ ফটোজার্নালিস্ট অ্যাসোসিয়েশনের কার্যালয়ে আয়োজিত মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্য দেন । ছবি: বাসস
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
দৈনিক বাংলা ডেস্ক

বাংলাদেশ সংবাদ সংস্থার (বাসস) ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও প্রধান সম্পাদক কাদের গনি চৌধুরী বলেছেন, আলোকচিত্র শুধু সময়ের দর্পণ নয়, এটি ইতিহাসের জীবন্ত সাক্ষী এবং সমাজ পরিবর্তনের শক্তিশালী হাতিয়ার।

তিনি বলেন, একটি ছবি কোনো কথা না বলেও মানুষের আবেগ, প্রতিবাদ, প্রতিরোধ ও মানবিকতার গভীর বার্তা তুলে ধরতে পারে। যুদ্ধ, দুর্ভিক্ষ, শোষণ ও মানুষের সংগ্রামের বাস্তব চিত্র বিশ্ববাসীর সামনে তুলে ধরতে ফটোসাংবাদিকদের ভূমিকা অনস্বীকার্য।

বাংলাদেশ ফটোজার্নালিস্ট অ্যাসোসিয়েশন আয়োজিত সারাদেশের ফটোসাংবাদিকদের সঙ্গে এক মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে বাসস প্রধান এসব কথা বলেন।

কাদের গনি চৌধুরী বলেন, ফটোগ্রাফি এমন একটি বড় উদ্ভাবন, যা বিশ্বকে দেখার দৃষ্টিভঙ্গি পাল্টে দিয়েছে। একটি আলোকচিত্র ঘটনার পেছনের গল্প তুলে ধরার পাশাপাশি মানুষের মনে গভীর আলোড়ন সৃষ্টি করতে পারে। কখনো একটি ছবি মানুষের বিবেককে জাগিয়ে তোলে, আবার কখনো তা অন্যায়ের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ ও সামনে এগিয়ে যাওয়ার প্রেরণা জোগায়।

তিনি জানান, ২০১৫ সালের ২ সেপ্টেম্বর তুরস্কের সমুদ্রসৈকতে পড়ে থাকা তিন বছরের সিরীয় শিশু আয়লান কুর্দির নিথর দেহের ছবি বিশ্ববিবেককে নাড়া দিয়েছিল। শরণার্থী সংকট ও যুদ্ধের নির্মমতা তুলে ধরা ওই ছবি বিশ্ববাসীকে নতুন করে ভাবতে বাধ্য করে। একইভাবে ১৯৯৩ সালে দক্ষিণ সুদানে দুর্ভিক্ষপীড়িত একটি শিশুর পেছনে শকুনের অপেক্ষারত থাকার ছবি তুলে ধরে ক্ষুধা ও মানবিক বিপর্যয়ের ভয়াবহতা। ছবিটি তুলে পুলিৎজার পুরস্কার পেয়েছিলেন কানাডীয় আলোকচিত্রী কেভিন কার্টার।

বাংলাদেশের ইতিহাসেও আলোকচিত্রের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকার কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, ১৯৭৪ সালের দুর্ভিক্ষের সময় বাসন্তী ও দুর্গা নামের দুই নারীর শরীরে মাছ ধরার জাল জড়ানো ছবি, ক্ষুধার্ত মানুষের দুর্দশা এবং খাদ্যের জন্য মানুষের হাহাকারের দৃশ্য দেশ-বিদেশে আলোড়ন সৃষ্টি করেছিল। সীমান্তে কাঁটাতারে ঝুলে থাকা ফেলানীর মরদেহের ছবিও সীমান্তে মানুষের জীবন ও নিরাপত্তার প্রশ্নটি বিশ্ববাসীর সামনে তুলে ধরেছিল।

বাংলাদেশের ইতিহাসে ফটোসাংবাদিকদের অবদানের কথা উল্লেখ করে কাদের গনি চৌধুরী বলেন, বাংলাদেশের স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্ব, অখণ্ডতা, জাতীয় ঐক্য ও সংহতি রক্ষায় ফটোসাংবাদিকদের অবদান অনস্বীকার্য। ১৯৫২ সালের ভাষা আন্দোলন, ১৯৬৯ সালের গণঅভ্যুত্থান, ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধ, ১৯৮২ থেকে ১৯৯০ সালের স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলন এবং সর্বশেষ চব্বিশের জুলাই-আগস্টের আন্দোলনের গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্তগুলো ক্যামেরার ফ্রেমে ধারণ করে ফটোসাংবাদিকরা ইতিহাসের জীবন্ত দলিল তৈরি করেছেন।

ভাষা আন্দোলনের ইতিহাস সংরক্ষণে আলোকচিত্রের ভূমিকা তুলে ধরে তিনি বলেন, পাকিস্তানি শাসকগোষ্ঠী ভাষা আন্দোলনে পুলিশের গুলিতে নিহত হওয়ার ঘটনাগুলো আড়াল করতে চেয়েছিল। কিন্তু আলোকচিত্রী আমানুল হকের ধারণ করা ছবি সেই অপচেষ্টা ব্যর্থ করে দেয়।

বাংলাদেশের আলোকচিত্রীদের আন্তর্জাতিক অর্জনের প্রশংসা করে কাদের গনি চৌধুরী বলেন, বিশ্বজুড়ে বিভিন্ন মর্যাদাপূর্ণ প্রতিযোগিতা ও পুরস্কারে বাংলাদেশের ফটোসাংবাদিকরা সাফল্য অর্জন করেছেন। ২০১৮ সালে রয়টার্সের ফটোসাংবাদিক মোহাম্মদ পনির হোসেন পুলিৎজার পুরস্কার লাভ করেন। বাংলাদেশের আলোকচিত্রীরা ওয়ার্ল্ড প্রেস ফটোসহ বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সম্মাননা অর্জন করেছেন। তাঁদের অর্জনের তালিকায় রয়েছে ইউজিন স্মিথ ফান্ড, মাদার জোনস, ন্যাশনাল জিওগ্রাফির অল রোডস, পাইওনিয়ার ফটোগ্রাফার অ্যাওয়ার্ড, এইচআইপিএ এবং টাইম ম্যাগাজিনের পারসন অব দ্য ইয়ার-সংক্রান্ত স্বীকৃতি।

দেশের আলোকচিত্রীদের রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতির প্রসঙ্গ তুলে ধরে কাদের গনি চৌধুরী বলেন, এখন পর্যন্ত কোনো আলোকচিত্রী স্বাধীনতা পদক পাননি। তবে একুশে পদক পেয়েছেন মো. কামরুজ্জামান, আফতাব আহমেদ, মনজুর আলম বেগ, মোহাম্মদ আলম, আমানুল হক, গোলাম মুস্তাফা, সাইদা খানম ও পাভেল রহমান। এ ছাড়া বাংলাদেশ শিল্পকলা পদক পেয়েছেন গোলাম মুস্তাফা, নাসির আলী মামুন, এমএ তাহের ও শফিকুল ইসলাম স্বপন।

বাংলাদেশ ফটোজার্নালিস্ট অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি একেএম মহসিনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভায় সঞ্চালনা করেন বাবুল তালুকদার। আলোচনায় অংশ নেন জ্যেষ্ঠ সাংবাদিক রফিকুর রহমান ও বুলবুল আহমেদ।

এ ছাড়া বক্তব্য দেন সিনিয়র ফটোজার্নালিস্ট ও সাবেক সভাপতি রফিকুর রহমান, সাবেক সভাপতি নূর আহমেদ নুরু, বুলবুল আহমেদ ও শফিউদ্দিন আহমেদ বিটু, বাংলাদেশ সাংবাদিক উন্নয়ন সংস্থার কেন্দ্রীয় চেয়ারম্যান মমিনুর রশীদ শাইন, বাংলাদেশ ফটো জার্নালিস্ট অ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক বাবুল তালুকদার, সহসভাপতি মশিউর রহমান এবং সাংগঠনিক সম্পাদক সালেকুজ্জামান চৌধুরী।

এ ছাড়া সংগঠনটির বগুড়া শাখার সভাপতি বজলুর রশীদ সুইট ও সাধারণ সম্পাদক আব্দুর রহিম, সিরাজগঞ্জ শাখার সভাপতি নওশাদ, রাজশাহী শাখার সভাপতি আসাদ, নোয়াখালী শাখার সভাপতি নাসিম শুভ, মৌলভীবাজার শাখার সভাপতি সামসাদ, নারায়ণগঞ্জ শাখার সাধারণ সম্পাদক শহীদ, খুলনা শাখার সভাপতি এম এ হাসান ও সাধারণ সম্পাদক উজ্জল, রংপুর শাখার সাধারণ সম্পাদক আফজাল, চট্টগ্রাম শাখার সভাপতি মোস্তাফিজুর রহমান এবং কক্সবাজার শাখার সভাপতি নুরুল ইসলাম হেলালীসহ সংগঠনের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতারা।

সূত্র: বাসস


নির্বাচিত

অভাবের দেয়াল ভেঙে ১৫৭ মেয়ের বিয়ের স্বপ্ন পূরণ

* অসহায় মেয়েদের পাশে থেকে বিয়ের ব্যবস্থা করছেন মামুন
ছবি: দৈনিক বাংলা
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
গোলাম মোস্তফা রুবেল, সিরাজগঞ্জ

রক্তের কোনো সম্পর্ক নেই। নেই আত্মীয়তার বন্ধনও। তবু ১৫৭টি মেয়ের জীবনের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ দিনে তিনি হয়ে উঠেছেন তাদের আপনজন, কখনো বাবা, কখনো বড় ভাই, কখনো বা অভিভাবক।

মাত্র ৩৮ বছর বয়সে এমন এক দায়িত্ব নিজের কাঁধে তুলে নিয়েছেন সিরাজগঞ্জের শাহজাদপুর উপজেলার আগনুকালি গ্রামের স্কুলশিক্ষক মাহবুবুল হোসেনের ছেলে সমাজকর্মী মামুন বিশ্বাস। অর্থের অভাবে যেসব মেয়ের বিয়ের স্বপ্ন বারবার ভেঙে গেছে, তাদের হাতে তিনি তুলে দিয়েছেন নতুন জীবনের দরজা। কনের বেনারসি, গহনা থেকে শুরু করে বিয়ের মঞ্চ, আলোকসজ্জা, খাবার—সবকিছুর আয়োজন করেছেন মানুষের সহযোগিতায়। তাই স্থানীয় মানুষের কাছে তার পরিচয় এখন একটাই ‘১৫৭ মেয়ের বাবা’।

অসহায় কোনো পরিবারের মেয়ের বিয়ে অর্থের অভাবে আটকে গেছে, এমন খবর পেলেই ছুটে যান মামুন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম, বিশেষ করে ফেসবুকে সহযোগিতার আবেদন জানান। দেশ-বিদেশের বন্ধু ও শুভাকাঙ্ক্ষীদের কাছ থেকে অর্থ সংগ্রহ করে সেই অর্থ পৌঁছে দেন প্রকৃত অসহায় পরিবারের হাতে। তারপর শুরু হয় আরেকটি গল্প—একটি মেয়ের চোখের জল মুছে গিয়ে সেখানে জায়গা নেয় স্বপ্নের আলো।

শুধু মুসলিম পরিবারের মেয়েদের নয়, হিন্দু সম্প্রদায়ের অসহায় পরিবার, বাকপ্রতিবন্ধী ছেলে-মেয়ে কিংবা সমাজের নানা শ্রেণি-পেশার মানুষের পাশেও দাঁড়িয়েছেন তিনি। যমুনার দুর্গম চর থেকে গ্রামের প্রত্যন্ত বাড়ি—মানুষের অসহায়ত্বের খবর পেলেই যেন সেখানে পৌঁছে যায় মামুনের মানবিকতার হাত।

জানা যায়, জেলার কামারখন্দ উপজেলার ঝাঐল ইউনিয়নের তেঘরি গ্রামের আতিয়া খাতুনের গল্পটিও ছিল এমনই এক দীর্ঘ অপেক্ষার। অর্থের অভাবে এর আগে দুইবার বিয়ে ঠিক হয়েও ভেঙে যায় তার। বাবা অসুস্থ, কর্মক্ষম নন। মা অন্যের বাড়িতে কাজ করে কোনোভাবে সংসার চালান। মেয়ের বিয়ের খরচ জোগাড় করা তাদের কাছে ছিল প্রায় অসম্ভব। আতিয়ার সেই অসহায়তার গল্প পৌঁছে যায় মামুন বিশ্বাসের কাছে। ফেসবুকে সহযোগিতার আবেদন জানান তিনি। মানুষের ভালোবাসায় মাত্র কয়েকদিনের মধ্যে প্রায় ৩ লাখ টাকা সংগ্রহ হয়। সেই অর্থে গত ২৫ সেপ্টেম্বর আয়োজন করা হয় আতিয়ার বিয়ে। যে মেয়েটির বিয়ের কার্ড বারবার থেমে গিয়েছিল, সেদিন তার হাতেই উঠেছিল মেহেদি। চোখে ছিল জল, তবে সেই জল ছিল দীর্ঘ অপেক্ষার শেষে পাওয়া আনন্দের।

বিয়ের পর আবেগাপ্লুত আতিয়া বলেন, ‘অর্থের অভাবে তার দুইবার বিয়ে ভেঙে গিয়েছিল। এবার মানুষের সহযোগিতা আর মামুন বিশ্বাসের উদ্যোগে তার বিয়ে সম্পন্ন হয়েছে।’

আতিয়ার বিয়ের আনন্দের রেশ কাটতে না কাটতেই একই উপজেলার জামতৈল গ্রামের আরেক অসহায় মেয়ের খবর আসে মামুনের কাছে। মেয়েটির নাম সুচিত্রা রানী দাস। পরিবারের কোনো নিজস্ব বাড়ি নেই। ভাড়া বাসায় বসবাস। সংসারে তিন বেলা খাবার জোগাড় করাই যখন কঠিন, তখন মেয়ের বিয়ের খরচ যেন ছিল আকাশছোঁয়া স্বপ্ন। অর্থের সংকটে সুচিত্রার বিয়েও তিনবার ভেঙে যায়।

মামুন বিশ্বাস জানতে পেরে আবারও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে মানুষের কাছে সহযোগিতার আহ্বান জানান। মাত্র পাঁচ দিনে সংগ্রহ হয় প্রায় ২ লাখ ৩২ হাজার টাকা। গত ১ অক্টোবর সেই অর্থে সুচিত্রা রানী দাসের সঙ্গে পলাশ কুমার ভৌমিকের বিয়ের আয়োজন করা হয়। শুধু বিয়ের আয়োজনই নয়, সুচিত্রার মায়ের হাতে নগদ ২১ হাজার টাকা তুলে দেন মামুন। সুচিত্রার মা কামনা রানী দাসের কাছে সেই দিনটি যেন ছিল দীর্ঘ অন্ধকারের শেষে ভোরের আলো।

উল্লাপাড়ার বড়হর ইউনিয়নের ধুনচি গ্রামের নন্দিনীর গল্প আরও কষ্টের। মাত্র ছয় বছর বয়সে বাবাকে হারিয়েছেন তিনি। অন্যের বাড়িতে কাজ করে মা দুই মেয়ের মুখে খাবার তুলে দিয়েছেন। প্রতিবেশীদের দেওয়া পুরোনো পোশাক পরে বড় হয়েছেন দুই বোন। দিনের পর দিন অভাবের সঙ্গে লড়াই করতে করতে মা-মেয়ে বাঁশ দিয়ে কুলা বানিয়ে বিক্রি করে সংসার চালান। এর মধ্যে নন্দিনীর বিয়ে ঠিক হয়েছে একবার, দু’বার নয়—ছয়বার। প্রতিবারই অর্থের সংকটে ভেঙে গেছে সেই সম্পর্ক।

নন্দিনীর কথা জানতে পেরে পাশে দাঁড়ান মামুন বিশ্বাস। ফেসবুকের মাধ্যমে প্রায় ২ লাখ ১২ হাজার টাকা সহযোগিতা সংগ্রহের ব্যবস্থা করেন তিনি।

মামুন বিশ্বাস বলেন, ‘১৫৭টি বিয়েসহ সব মানবিক এবং ভালো কাজের কৃতিত্ব ফেসবুক বন্ধুদের। আমি শুধু প্রচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি। মানবিক কাজে সহযোগিতা অব্যাহত থাকলে আগামীতে আরও ভালো ভালো কাজ করা হবে, ইনশাআল্লাহ।’

জাতীয় তাঁতী সমিতির সাবেক সভাপতি আব্দুস ছামাদ খান বলেন, ‘ইচ্ছা ও আন্তরিকতা থাকলে অসহায় ও অভিভাবকহীন সন্তানদের জন্য সুন্দরভাবে বিয়ের আয়োজন করা সম্ভব—মামুন বিশ্বাস তা সমাজের সামনে দেখিয়ে দিয়েছেন। তার মানবিক কর্মকাণ্ড প্রশংসনীয়।’

স্থানীয় পত্রিকার সম্পাদক ও ইতিহাস গবেষক মোহাম্মদ আব্দুল হামিদের বর্ণনা অনুযায়ী, ২০১৫ সালের শুরুর দিকে সিরাজগঞ্জের খুকনী গ্রামে এক চায়ের দোকানে ফেরদৌস নামের এক প্রতিবন্ধী শিশুকে অন্য শিশুদের নির্যাতনের শিকার হতে দেখেন মামুন বিশ্বাস। ঘটনাটি তার হৃদয়ে গভীরভাবে নাড়া দেয়। সেদিন রাতেই তিনি ফেসবুকে প্রতিবন্ধী শিশুদের সহায়তার আবেদন জানিয়ে একটি পোস্ট করেন। এভাবেই শুরু হয় তার মানবসেবার পথচলা। যমুনার দুর্গম চর থেকে শহরের অলিগলি কোথাও কোনো অসহায় মানুষের মুখে হতাশা দেখলে থেমে থাকতে চান না মামুন বিশ্বাস।


নির্বাচিত

ঝিনাইদহে বিশ্ব মৃত্যুদণ্ড বিলোপ দিবস উদযাপন

ওয়েলফেয়ার এফোর্টস (উই) ও নারীপক্ষের আয়োজনে ঝিনাইদহে বিশ্ব মৃত্যুদণ্ড বিলোপ দিবস উদযাপন। ছবি: দৈনিক বাংলা
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
ঝিনাইদহ প্রতিনিধি

‘মৃত্যুদণ্ড জীবনের অধিকার কেড়ে নেই’ এই প্রতিপাদ্যে ঝিনাইদহে বিশ্ব মৃত্যুদণ্ড বিলোপ দিবস উদযাপন করা হয়েছে। ওয়েলফেয়ার এফোর্টস (উই) ও নারীপক্ষের আয়োজনে শনিবার (১০ অক্টোবর) সকালে উইর সম্মেলনকক্ষে আলোচনা সভার আয়োজন করা হয়।

এতে মানবাধিকারকর্মী এন এস শাহজালাল, উইর পরিচালক শরিফা খাতুন, দবির হোসেন, সাংস্কৃতিককর্মী নাজিম উদ্দিন জুলিয়াস, আসাদুজ্জামানসহ অন্যান্যরা বক্তব্য রাখেন।

সে সময় বক্তারা বলেন, ‘২০২১ সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত বিশ্বের ১০৮টি দেশে মৃত্যুদণ্ডের বিধান বাতিল করা হয়েছে। তবে এখনও ৫৬টি দেশে মৃত্যুদণ্ডের সাজা বহাল রয়েছে। এ ছাড়া ২৮টি দেশে মৃত্যুদণ্ডের আইন থাকলেও তা কার্যকর করা হয় না।’

বক্তারা আরও বলেন, ‘মৃত্যুদণ্ড মানুষের বেঁচে থাকার মৌলিক অধিকারকে প্রশ্নবিদ্ধ করে। মানবাধিকার সুরক্ষা, ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা ও জীবনের অধিকার নিশ্চিত করতে বিশ্বব্যাপী মৃত্যুদণ্ড বিলোপে কার্যকর উদ্যোগ গ্রহণ করা প্রয়োজন।’

এ বিষয়ে জনসচেতনতা বৃদ্ধি এবং মানবিক মূল্যবোধ জাগ্রত করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন তারা।


নির্বাচিত

banner close