শনিবার, ২১ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
৮ ফাল্গুন ১৪৩২

টেকনাফ-সেন্ট মার্টিন রুটে জাহাজ চলাচল বন্ধ

টেকনাফের দমদমিয়া ঘাট থেকে যাত্রী নিয়ে মিয়ানমার সীমান্তঘেঁষে সেন্ট মার্টিন যাতায়াত করে জাহাজ। ছবি: দৈনিক বাংলা
কক্সবাজার প্রতিনিধি
প্রকাশিত
কক্সবাজার প্রতিনিধি
প্রকাশিত : ২ অক্টোবর, ২০২২ ২০:৪৬

টেকনাফ-সেন্ট মার্টিন নৌরুটে পর্যটকবাহী জাহাজ চলাচল বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। প্রতিবেশী মিয়ানমারের রাখাইনে জান্তা বাহিনীর সঙ্গে বিদ্রোহীদের সংঘাত চলছে অনেক দিন ধরেই। গত দুই মাসে এই সংঘর্ষ আরও বেড়েছে। এর প্রভাব পড়েছে সীমান্তের এ-পারে বাংলাদেশেও। মিয়ানমার বাহিনী একাধিকবার আকাশসীমা লঙ্ঘন করেছে, গোলাগুলিতে প্রাণ ঝরেছে। এই অবস্থার মধ্যে এমন সিদ্ধান্ত এল।

যদিও জেলা প্রশাসন বলছে নাফ নদীতে নাব্যতা সংকট দেখা দেয়ায় এমন সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে। এর পরিবর্তে কক্সবাজার ও চট্টগ্রাম থেকে জাহাজ পরিচালনার সিদ্ধান্ত হয়েছে।

সংশ্লিষ্ট একাধিক সূত্র বলেছে, সাগর উত্তাল থাকার পাশাপাশি কালবৈশাখীর শঙ্কা থাকায় দুর্ঘটনা এড়াতে প্রতি বছর এপ্রিল থেকে সেপেটম্বরের শেষ সপ্তাহ পর্যন্ত টেকনাফ-সেন্ট মার্টিন ও সেন্ট মার্টিন-কক্সবাজার রুটে পর্যটকবাহী জাহাজ চলাচল বন্ধ রাখা হয়। এবার টেকনাফ-সেন্ট মার্টিন রুটে জাহাজ চলাচল বন্ধের এই সময়কাল বৃদ্ধির পেছনে সীমান্তের ওপারে মিয়ানমারে সংঘর্ষ একটি বড় কারণ। নাফ নদীর নাব্যতা সংকটও আরেকটি কারণ।

টেকনাফের দমদমিয়া ঘাট থেকে যাত্রী নিয়ে মিয়ানমার সীমান্তঘেঁষে সেন্ট মার্টিন যাতায়াত করে আটটি জাহাজ। এর মধ্যে দুটি এসি ও অত্যাধুনিক প্রযুক্তিসম্পন্ন। দুই ঘণ্টায় টেকনাফ থেকে সেন্ট মার্টিন পৌঁছায় এসব জাহাজ। এ ছাড়া কক্সবাজার থেকে কর্ণফুলী এক্সপ্রেস ও চট্টগ্রাম থেকে এমভি বে-ওয়ান সেন্ট মার্টিন যাতায়াত করে। বিলাসবহুল এসব জাহাজে স্বস্তি থাকলেও টানা ৮-১০ ঘণ্টা থাকতে হয় সাগরে।

প্রায় দুই মাস ধরে নাইক্ষ্যংছড়ির তুমব্রু সীমান্তে উত্তেজনা চলছে। সীমান্তের ওপারে মিয়ানমার থেকে মর্টার শেল, গোলাগুলিসহ নানা ভারী অস্ত্রের আওয়াজে এ-পারে বান্দরবানের ঘুমধুম ইউনিয়নের তুমব্রু ও বাইশপারী এলাকার মানুষ দিন কাটাচ্ছেন আতঙ্কে। গোলার আওয়াজ উখিয়া-টেকনাফের সীমান্ত এলাকায়ও শোনা যায়।

মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যের পাহাড় থেকে ছোড়া মর্টার শেল বেশ কয়েকবার বাংলাদেশের ভূখণ্ডে এসে পড়েছে। দেশটির সামরিক বাহিনীর হেলিকপ্টার বেশ কয়েকবার আকাশসীমাও লঙ্ঘন করেছে। সর্বশেষ গত ১৬ সেপ্টেম্বর রাতে তুমব্রুর কোনারপাড়া সীমান্তে শূন্যরেখায় মিয়ানমার থেকে ছোড়া মর্টার শেলের আঘাতে এক রোহিঙ্গা যুবক নিহত হন। আহত হন রোহিঙ্গা শিশুসহ পাঁচজন। একই দিন দুপুরে এই সীমান্তের হেডম্যানপাড়ায় মিয়ানমার সীমান্তের ভেতরে মাইন বিস্ফোরণে আহত হন বাংলাদেশি এক যুবক।

এর আগে গত ২৮ আগস্ট তুমব্রু উত্তরপাড়ায় একটি অবিস্ফোরিত মর্টার শেল এসে পড়ে। সে দিনই সীমান্তে মিয়ানমার সেনাবাহিনীর হেলিকপ্টার ও যুদ্ধবিমানকে চক্কর দিতে দেখা যায়। এরপর ৩ সেপ্টেম্বর মিয়ানমারের দুটি যুদ্ধবিমান ও ফাইটিং হেলিকপ্টার থেকে ছোড়া দুটি গোলা ঘুমধুম ইউনিয়নের ৮ নম্বর ওয়ার্ড এলাকায় এসে পড়ে। সেগুলো অবিস্ফোরিত থাকায় হতাহতের ঘটনা ঘটেনি। এর তিন দিন পর পুনরায় ওই সীমান্তে ভারী অস্ত্র থেকে গোলা ছোড়ার শব্দ ভেসে আসে। এসব ঘটনায় চারবার ঢাকায় মিয়ানমারের কূটনীতিককে তলব করে প্রতিবাদ জানিয়েছে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। এ ছাড়া বিদেশি কূটনীতিকদের সঙ্গে বৈঠকেও বিষয়টি তুলেছে মন্ত্রণালয়। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে যোগ দিতে যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কে গিয়ে বিভিন্ন বৈঠকেও রোহিঙ্গা ইস্যুটি তুলেছেন। এর পরও পরিস্থিতির উন্নতি হয়নি। যদিও গত কয়েক দিন সীমান্তের ওপারে গোলাগুলির আওয়াজ অনেকখানি কমে গেছে। তবে স্থানীয়দের আশঙ্কা, যেকোনো সময় বেড়ে যেতে পারে সীমান্তের ওপারের সংঘর্ষ।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে স্থানীয় প্রশাসনের একাধিক সূত্র বলেছে, টেকনাফ থেকে সেন্ট মার্টিন নৌরুটে জাহাজগুলো নাফ নদী দিয়ে মিয়ানমার সীমান্তঘেঁষে যাতায়াত করে। সীমান্তের ওপারে সংঘাত চলায় কর্তৃপক্ষ অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে এমন সিদ্ধান্ত নিয়েছে। পাশাপাশি নাফ নদীর নাব্যতা সংকটের বিষয়টিও আছে।

তবে টেকনাফ উপজেলার ভারপ্রাপ্ত নির্বাহী কর্মকর্তা এরফানুর হক দৈনিক বাংলাকে বলেন, ‘সংশ্লিষ্টদের নির্দেশে টেকনাফ থেকে পর্যটকবাহী জাহাজ চলাচল বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত হয়েছে। নৌপথের সমস্যার কারণে পরবর্তী নির্দেশনা না আসা পর্যন্ত জাহাজ চলাচল বন্ধ থাকবে।’

আর কক্সবাজারের জেলা প্রশাসক মামুনুর রশীদ দৈনিক বাংলাকে বলেন, ‘নাফ নদীতে নাব্যতা সংকট তৈরি হয়েছে। এতে জাহাজ চলাচলের পথ প্রায় বন্ধ হয়ে গেছে। ডুবোচরে আটকা পড়লে পর্যটকদের ঝুঁকি থাকে। নাব্যতা কেটে গেল হয়তো আবার জাহাজ চলাচল শুরুর সিদ্ধান্ত হতে পারে।’

মিয়ানমার পরিস্থিতির কারণে এমন সিদ্ধান্ত কি না জানতে চাইলে জেলা প্রশাসক বলেন, ‘তাদের অভ্যন্তরে যা হচ্ছে, তার সঙ্গে তো এসবের সম্পৃক্ততা নেয়। আমরাও সজাগ আছি। নাব্যতার কারণে দুর্ঘটনা এড়াতে এমন সিদ্ধান্ত।’

অবশ্য বেসামরিক বিমান ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ের সচিব মোকাম্মেল হোসেন বলছেন অন্য কথা। গত শনিবার কক্সবাজারে পর্যটন মেলার অনুষ্ঠানে গিয়ে তিনি বলেন, সেন্ট মার্টিনে যে হারে অপরিকল্পিত স্থাপনা নির্মাণ হচ্ছে তা পর্যটনের সঙ্গে যায় না। এগুলো বন্ধের জন্য কাজ চলছে। সবকিছু বিবেচনায় রেখে আপাতত টেকনাফ ঘাট থেকে সেন্ট মার্টিনের উদ্দেশ্যে ছেড়ে যাওয়া জাহাজ বন্ধ রাখা হয়েছে। কবে নাগাদ টেকনাফ ঘাট থেকে জাহাজ ছাড়বে তা পরে জানানো হবে।

পর্যটন ব্যবসায় ধসের আশঙ্কা

এদিকে টেকনাফ- সেন্ট মার্টিন নৌরুটে জাহাজ চলাচল বন্ধের সিদ্ধান্তে লোকসানের আশঙ্কা করছেন ব্যবসায়ীরা। তারা বলছেন, নৌপথে টেকনাফ থেকে সেন্ট মার্টিন যেতে সময় লাগে দুই ঘণ্টা। আর কক্সবাজার কিংবা চট্টগ্রাম থেকে নৌপথে সেন্ট মার্টিন পৌঁছাতে সময় লাগে সাত থেকে আট ঘণ্টা। দীর্ঘসময় সমুদ্রভ্রমণে আগ্রহী নন অনেক পর্যটক। কাজেই সরকার যে সিদ্ধান্ত নিয়েছে, তাতে পর্যটকরা সেন্ট মার্টিন ভ্রমণে নিরুৎসাহিত হবেন। এতে পর্যটন ব্যবসা ক্ষতিগ্রস্ত হবে।

সেন্ট মার্টিনের হোটেল ব্যবসায়ী নেতা রিদুয়ানুল হক বলেন, ‘চট্টগ্রাম-কক্সবাজার থেকে দুটি জাহাজ চলে। এসব জাহাজে অনেকে আসতে চায় না। কারণ সাত ঘণ্টার বেশি সময় জাহাজে থাকতে হয়। সে জায়গায় টেকনাফ থেকে চলে সাত-আটটা জাহাজ। অনেক মানুষ এ রুটে চলাচল করতে স্বস্তিবোধ করে। সরকারের এমন সিদ্ধান্তের ফলে আগামী শীত মৌসুমে সেন্ট মার্টিন ভ্রমণে আগ্রহী পর্যটকরা হয়তো সিদ্ধান্ত পরিবর্তন করবে। ফলে ব্যবসায়ীরা লোকসানে পড়বে, সরকার রাজস্ব হারাবে।’

আরেক ব্যবসায়ী রফিকুল ইসলাম বলেন, ‘সামনের মৌসুমে ব্যবসার লক্ষ্যে প্রস্তুতি চলছে। এমন সময় জাহাজ চলাচল বন্ধের সিদ্ধান্ত নেয়া হলো। এতে ব্যবসা ক্ষতিগ্রস্ত হবে। যারা কক্সবাজার থেকে জাহাজ পরিচালনা করবেন, তারা এ সুযোগটা কাজে লাগিয়ে অতিরিক্ত মুনাফা করার চেষ্টা করবেন।’

সেন্ট মার্টিনের বাসিন্দা নাজিম উদ্দিন বলেন, ‘টেকনাফ থেকে জাহাজ না আসলে মালামল আনতে খরচ বেশি হবে। সে ক্ষেত্রে খাবার বা অন্যান্য জিনিসপত্রের দামও বাড়তে পারে। তা ছাড়া আমরা এ মৌসুমের ওপর নির্ভরশীল। বড় লোকসান হবে আমাদের।’

সেন্ট মার্টিন ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মুজিবুর রহমান দৈনিক বাংলাকে বলেন, ‘শীত মৌসুমে পর্যটনের ওপর নির্ভর করে বাকি দিন পার করে সেন্ট মার্টিনের মানুষ। টেকনাফ থেকে জাহাজ বন্ধ হলে বড় লোকসানে পড়বেন এ দ্বীপের বাসিন্দারা। যদিও এখনো চূড়ান্তভাবে আমাদের জানানো হয়নি। তার পরও প্রশাসনের সঙ্গে আমরা বিষয়টি নিয়ে আলোচনা করব।’


শার্শায় পল্লী চিকিৎসককে কুপিয়ে হত্যা

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
বেনাপোল (যশোর) সংবাদদাতা

যশোরের শার্শায় আল আমিন হোসেন নামে এক পল্লী চিকিৎসককে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুর্বৃত্তরা। গত বৃহস্পতিবার (১৯ ফেব্রুয়ারি) রাত সাড়ে ৯টার দিকে শার্শা উপজেলার গাতিপাড়া গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। নিহত আল আমিন হোসেন একই গ্রামের রফিকুল ইসলামের ছেলে।

স্থানীয়রা জানান, রাতে তারাবির নামাজ শেষে বাড়ি ফেরার পথে একদল দুর্বৃত্ত তার পথরোধ করে। একপর্যায়ে ধারালো অস্ত্র দিয়ে এলোপাতাড়ি কুপিয়ে তাকে গুরুতর আহত করে পালিয়ে যায়। পরে আশপাশের লোকজন ছুটে উদ্ধারের চেষ্টা করলেও ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়।

ঘটনার খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে এবং মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য যশোর জেনারেল হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়েছে।

শার্শা থানার ওসি শাহ-আলম বলেন, হত্যার কারণ এখনও নিশ্চিত হওয়া যায়নি। পূর্ব শত্রুতার জের ধরে এ হত্যাকাণ্ড ঘটতে পারে বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে। জড়িতদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারের জন্য অভিযান চলছে।


বগুড়ায় ছুরিকাঘাতে কিশোর নিহত

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
বগুড়া প্রতিনিধি

বগুড়ার নন্দীগ্রাম উপজেলায় দুর্বৃত্তের ছুরিকাঘাতে মিলন রহমান (১৬) নামে এক স্কুল শিক্ষার্থী নিহত হয়েছে। গত বৃহস্পতিবার (১৯ ফেব্রুয়ারি) রাত ১১টার দিকে উপজেলার বুড়ইল গ্রামে এ হত্যার ঘটনা ঘটে। নিহত মিলন একই গ্রামের দিলবরের ছেলে। লাশ ময়নাতদন্তের জন্য শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে রাখা হয়েছে।

স্থানীয় সূত্র জানায়, গত বৃহস্পতিবার (১৯ ফেব্রুয়ারি) রাতে মিলন স্থানীয় মসজিদে তারাবির নামাজ আদায় শেষে দাঁড়িয়ে ছিল। এ সময় ৫ থেকে ৭টি মোটরসাইকেলে ১০ থেকে ১৫ জন দুর্বৃত্ত এসে তাকে ছরিকাঘাত করে পালিয়ে যায়। স্থানীয়রা মিলনকে উদ্ধার করে শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যান। সেখানকার চিকিৎসক মিলনকে মৃত ঘোষণা করেন।

নন্দীগ্রাম থানার ওসি মিজানুর রহমান জানান, কী ঘটনায় মিলনকে হত্যা করা হয়েছে তা এখনই বলতে পারছি না। এই ঘটনায় জড়িতদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারে পুলিশের অভিযান চলছে।


জীবননগরে ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় চলছে ট্রেন

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
জীবননগর (চুয়াডাঙ্গা) প্রতিনিধি

চুয়াডাঙ্গা জীবননগর উপজেলার উথলী ফার্মগেটের কাছে রেললাইনের ৬ ইঞ্চি অংশ ভেঙে ছিটকে পড়েছে। এ অবস্থায় ঝুঁকিপূর্ণভাবে ট্রেন চলাচল করলে যেকোনো সময় ঘটতে পারে বড় ধরনের দুর্ঘটনা। শুক্রবার (২০ ফেব্রুয়ারি) সকালে খুলনা থেকে ছেড়ে আসা রূপসা এক্সপ্রেস ট্রেনটি উথলী ফার্মগেট অতিক্রম করার সময় লাইনের ৬ ইঞ্চি অংশ ভেঙে দূরে ছিটকে পড়ে।

ওই সময় দায়িত্বরত গেইটম্যান অচিন্ত্য সাহা জানান, বিষয়টি উর্দ্ধতন কর্মকর্তাকে অবগত করা হয়েছে। তারা দ্রুতই এসে মেরামত করবে।

খবর পেয়ে মোবারকগঞ্জ প্রকৌশলী বিভাগ থেকে উপ-সহকারী প্রকৌশলী মো. সাইফুল ইসলামের নেতৃত্বে ৪ সদস্যের একটি দল দুপুর সাড়ে ১২ টার সময় ঘটনাস্থলে এসে রেললাইনের মেরামত কাজ শুরু করেছে।

স্থানীয় গেইটম্যান মনিস কুমার শর্মা বলেন, সকাল পৌনে ১০ টার সময় খুলনা থেকে ছেড়ে আসা রূপসা এক্সপ্রেস ট্রেন অতিক্রম করার পর রেল লাইনের কিছু অংশ ভেঙে দূরে চলে যায়। ট্রেন লাইনের ৬ ইঞ্চি অংশ ভেঙে যাওয়ার বিষয়টি তৎক্ষণাৎ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাকে জানানো হয়।


ফুলবাড়িয়ায় ইজিবাইকের ধাক্কায় শিশুর মৃত্যু

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
ফুলবাড়িয়া (ময়মনসিংহ) প্রতিনিধি

ময়মনসিংহের ফুলবাড়িয়ায় ইজিবাইকের ধাক্কায় তৃতীয় শ্রেণি পড়ুয়া মুবিন (৯) নামে এক শিক্ষার্থীর মৃত্যু হয়েছে। গত বৃহস্পতিবার (১৯ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে উপজেলার কালাদহ ইউনিয়নের আয়েশার মোড় এলাকায় এ মর্মান্তিক দুর্ঘটনা ঘটে।

নিহত ওই শিশু কালাদহ গ্রামের বড়িল পাড়া এলাকার হায়দার আলীর ছেলে এবং স্থানীয় ক্বওমী মাদ্রাসার তৃতীয় শ্রেণির ছাত্র।

প্রতিবেশী শিমুল সরকার জানান, গত বৃহস্পতিবার (১৯ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে বাড়ির পাশেই কেশরগঞ্জ টু পাটিরা সড়কে বাই সাইকেল চালানো শিখছিলেন শিশু মুবিন। হঠাৎ করে কেশরগঞ্জগামী একটি ইজিবাইকের সাথে দুর্ঘটনা শিকার হয়। এ সময় শিশুটির মাথার ওপর দিয়ে ইজিবাইকের চাকা উঠে পড়লে শিশুটি মারাত্মক আহত হয়। পরে স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স নিলে কর্তব্যরত চিকিৎসক শিশুটিকে মৃত ঘোষণা করে।

ফুলবাড়িয়া থানার ওসি সাইফুল্লাহ সাইফ বলেন, শিশু মৃত্যুর ঘটনায় (ইউডি) অপমৃত্যু থানায় মামলা হয়েছে।


২০টি ট্যাবলেট একসঙ্গে খেয়ে হাসপাতালে ভর্তি মেঘমল্লার বসু

ছবি: কোলাজ
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিবেদক

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্র ইউনিয়নের সভাপতি মেঘমল্লার বসু বৃহস্পতিবার রাতেই উদ্বেগনাশক বা দুশ্চিন্তা কমানোর ২০টি ট্যাবলেট একসঙ্গে খেয়ে অসুস্থ হয়ে রাজধানীর শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি হন।

আজ শুক্রবার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন ছাত্র ইউনিয়ন ঢাবি শাখার সাধারণ সম্পাদক মাঈন আহমেদ। তিনি জানান, মেঘমল্লার বসু আপাতত রিকভার করছেন এবং অবস্থার তুলনায় ক্রিটিক্যাল। এর আগে তার বড় ধরনের একটি অস্ত্রোপচারও হয়েছিল।

মেঘমল্লার বসুর প্রেসক্রিপশনে দেখা যায়, বৃহস্পতিবার রাত ১২টা ২০ মিনিটের দিকে তাকে রাজধানীর শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, প্রেসক্রিপশনে পুলিশ কেস লেখা রয়েছে। তিনি ব্রোমাজেপাম গ্রুপের উদ্বেগনাশক ২০টি ট্যাবলেট সেবন করেন এবং তার পেট পরিস্কার করার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছিল।


ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানে কেউ উচ্ছৃঙ্খলা করলে সাথে সাথে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে: ধর্মমন্ত্রী

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
কুমিল্লা প্রতিনিধি

সকল ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানের নিরাপত্তা বিধান করা দায়িত্ব উল্লেখ করে ধর্মমন্ত্রী কাজী শাহ মোফাজ্জল হোসেন কায়কোবাদ বলেছেন, ‘আমরা দায়িত্ব পালন করার জন্য একশতভাগ চেষ্টা করব। উচ্ছৃঙ্খলতা সৃষ্টি করার চেষ্টা করবে তাদেরকে সাথে সাথে আইনের আওতায় নেওয়ার চেষ্টা হবে। তাদের বিরুদ্ধে সাথে সাথে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

ধর্মমন্ত্রী শুক্রবার (২০ ফেব্রুয়ারি) সকালে কুমিল্লার মুরাদনগরে তার নিজ বাড়িতে সাংবাদিকদের সাথে এসব কথা বলেন। ধর্ম মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব পাবার পর তিনি এই প্রথম কুমিল্লায় তার নিজের সংসদীয় আসনে এসেছেন এবং তার নেতাকর্মীদের এবং ভোটারদের সাথে কুশল বিনিময় করেন।

রমজানে নিত্য পণ্যের দাম বাড়বে না এমন দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করে ধর্মমন্ত্রী আরো বলেন, মাননীয় প্রধানমন্ত্রী ইতোমধ্যে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়কে নির্দেশ প্রদান করেছেন দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণের রাখার জন্য। আমরা দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণে বদ্ধপরিকর। সাধারণ মানুষ যেন কোন কষ্ট না পড়ে সেজন্য প্রধানমন্ত্রী খুবই সচেতন। আমার বিশ্বাস দ্রব্য মূল্য নিয়ন্ত্রণের বাইরে যাবে না।

বিগত সময়গুলোতে হজের ব্যয় বৃদ্ধি প্রসঙ্গে ধর্মমন্ত্রী কায়কোবাদ বলেন, আমরা প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে সকলে কাজ করে যাব যেন মানুষ সকল সুবিধা ভোগ করতে পারে। তারা যেন এটা বলে যে আল্লাহর রহমতে আমরা অতীতের চেয়ে ভালো সুযোগ সুবিধা পাচ্ছি। অবশ্যই অবশ্যই করব।


চারণকবি বিজয় সরকারের ৮২তম জন্মদিনে নড়াইলে নানা আয়োজন

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নড়াইল প্রতিনিধি

ভারত উপ-মহাদেশের প্রখ্যাত কবিয়াল চারণ কবি বিজয় সরকার শুক্রবার (২০ ফেব্রুয়ারি) ছিল এই বিখ্যাত কবির জন্মদিন। বেচে থাকলে তার বয়স হতো ৮২ বছর। ১০০৩ সালের ২০ ফেব্রুয়ারি নড়াইল সদর উপজেলার বাশগ্রাম ইউনিয়নের ডুমদি গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। বাবা নবকৃঞ্চ অধিকারী মা হিমালয় দেবী।

বিজয় সরকার অষ্টম শ্রেণি পর্যন্ত লেখাপড়া করেছেন। মতান্তরে মেট্রিক। সংসার জীবনে তার দুই স্ত্রীর ছিলেন। তাদের নাম ছিল বীণাপানি অধিকারী ও প্রমোদা অধিকারী। দুই ছেলে কাজল অধিকারী ও বাদল অধিকারী। তারা ভারতের কেউটিয়ায় বসবাস করেন।

প্রখ্যাত এই চারণকবি ছিলেন একাধারে গীতিকার, সুরকার এবং গায়ক ছিলেন। আসরের প্রয়োজনে তিনি মঞ্চে বসেই গান রচনাসহ সুর সংযোজন করে গাইতেন। অবিস্মরণীয় প্রতিভার অধিকারী এই শিল্পীর প্রকৃত নাম বিজয় অধিকারী। নিজের লেখা গানের কথা, সুর এবং অসাধারণ ঢংয়ে গান পরিবেশনের জন্য তাকে সরকার উপাধি দেওয়া হয়। তবে গ্রামবাংলার কৃষকসহ আমজনতার কাছে তিনি পাগল বিজয় বলে সমধিক পরিচিত।

মরমী এই শিল্পী বার্ধাক্যজনিত কারণে ১৯৮৫ সালের ৪ ডিসেম্বর ভারতে মারা যান। পশ্চিমবঙ্গের কেউটিয়ায় তাকে সমাহিত করা হয়। চারণকবি বিজয় সরকার ফাউন্ডেশনের সাধারণ সম্পাদক আকরাম উদ্দীন শাহীদ বলেন, কবির জন্মদিন উপলেক্ষে কবির সমাধিতে পুষ্পমাল্য অর্পণ, বিজয়গীতি পরিবেশন, স্মরণসভাসহ নানা অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।


কৃষক-প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর উন্নয়ন, সরকারের অন্যতম অঙ্গীকার: মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রী

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
কুমিল্লা প্রতিনিধি

মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ, কৃষি এবং খাদ্য মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী মোহাম্মদ আমিন উর রশীদ বলেছেন, বর্তমান সরকারের নির্বাচনে অন্যতম প্রধান অঙ্গীকার কৃষক পর্যায়ে প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর কল্যাণ নিশ্চিত করা। যার মাধ্যমে দেশের সর্বাধিক জনগোষ্ঠীর জীবনমানের উন্নয়ন সাধন করা সম্ভব। শুক্রবার (২০ ফেব্রুয়ারি) সকালে কুমিল্লা সার্কিট হাউস সম্মেলন কক্ষে কুমিল্লা অঞ্চলের মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ, খাদ্য এবং কৃষি মন্তণালয়ের আওতাধীন দপ্তর /সংস্থার কর্মকর্তাদের সাথে মতবিনিময় সভায় মন্ত্রী এসব কথা বলেন।

মন্ত্রী বলেন, জনগণ বিশ্বাস করে বর্তমান সরকার দেশ ও জাতির সার্বিক কল্যাণে কাজ করবে। বিশেষ করে খেটে খাওয়া মানুষ ও কৃষকদের কল্যাণে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে। তিনি বলেন, কৃষি উন্নয়নকে সরকার সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিচ্ছে, কারণ দেশের প্রায় ৭০ শতাংশ মানুষ প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে কৃষির সঙ্গে সম্পৃক্ত। তিনি আরো বলেন, কৃষি খাতের উন্নয়ন হলে দেশের বৃহৎ জনগোষ্ঠীর আর্থিক ভিত্তি শক্তিশালী হবে, আর সেই সঙ্গে জাতীয় অর্থনীতির ভিত্তিও স্থায়ীভাবে মজবুত হবে।

মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তাদের উদ্দেশে মন্ত্রী বলেন, কৃষকদের মাঝে মাটির স্বাস্থ্য, পিএইচ মাত্রা, সার ব্যবহারের দক্ষতা ও আধুনিক প্রযুক্তি সম্পর্কে সচেতনতা বাড়াতে হবে। তিনি উল্লেখ করেন, মাটির সঠিক পিএইচ মাত্রা নিশ্চিত করা গেলে সারের ব্যবহার উল্লেখযোগ্যভাবে কমানো সম্ভব এবং উৎপাদন ব্যয় হ্রাস পাবে। এ বিষয়ে কৃষকদের সরাসরি পরামর্শ ও দিকনির্দেশনা প্রদানে মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তাদের সক্রিয় ভূমিকার ওপর তিনি গুরুত্বারোপ করেন।

তিনি বলেন, মন্ত্রী হিসেবে সম্প্রতি শপথ গ্রহণ করলেও দীর্ঘদিন ধরে তিনি কৃষির সঙ্গে প্রত্যক্ষভাবে সম্পৃক্ত একজন কৃষক। কৃষির বাস্তব সমস্যা ও সম্ভাবনা সম্পর্কে তার প্রত্যক্ষ অভিজ্ঞতা রয়েছে। তিনি বলেন, কৃষি উৎপাদন, সংরক্ষণ, খাদ্য ব্যবস্থাপনা, মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ খাত পূর্বে পৃথকভাবে পরিচালিত হওয়ায় সমন্বয়ের ঘাটতি ছিল। বর্তমানে সংশ্লিষ্ট খাতগুলোকে সমন্বিত কাঠামোর আওতায় এনে কার্যক্রম পরিচালনার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে, যা সরকারের সর্বশেষ নীতিগত দিকনির্দেশনার অংশ।

মন্ত্রী বলেন, সরকারের মেয়াদ নির্দষ্ট সময় পর্যন্ত হলেও মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা দীর্ঘ সময় দায়িত্বে থাকেন। তাই টেকসই উন্নয়নের ধারাবাহিকতা রক্ষায় তাদের দায়িত্বশীলতা ও আন্তরিক সহযোগিতা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তিনি আশা প্রকাশ করেন, সমন্বিত প্রচেষ্টার মাধ্যমে কৃষি খাতকে শক্তিশালী করা সম্ভব হবে এবং এর ফলে দেশের বৃহৎ জনগোষ্ঠীর জীবনমান উন্নত হবে।

এক প্রশ্নের উত্তরে মন্ত্রী বলেন, দায়িত্বে থাকা অবস্থায় কুমিল্লা বিভাগ প্রতিষ্ঠা এবং গোমতী নদী থেকে অবৈধ মাটি কাটা বন্ধ করা তার অগ্রাধিকার। গোমতী থেকে মাটি কাটার বিষয়ে সরকার ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি গ্রহণ করবে। অবৈধভাবে এক ফোঁটা মাটিও কাটতে দেওয়া হবে না। এ বিষয়ে প্রশাসনকে কঠোর ভূমিকা পালনের আহ্বান জানিয়ে তিনি সবার সহযোগিতা কামনা করেন।

কুমিল্লা জেলা প্রশাসক মু. রেজা হাসানের সভাপতিত্বে এ সময় উপস্থিত ছিলেন মৎস্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক ড. আবদুর রউফ, প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক ড. আবু সুফিয়ান, পুলিশ সুপার মো. আনিসুজ্জামান সহ মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ, কৃষি এবং খাদ্য অধিদপ্তরের উর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।


৩ বছরেও সংযোগ সড়ক নির্মাণ না হওয়ায় ভোগান্তিতে লাখো মানুষ

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
গাংনী (মেহেরপুর) প্রতিনিধি

দীর্ঘ ভোগান্তির পর নতুন সেতু নির্মাণ হওয়াই জনমণে একটু স্বস্তি ফিরে এসেছিলো। তবে সে আশার গুড়ে বালি ঢেলে দিয়েছে সংযোগ সড়ক না থাকা। সংযোগ সড়ক না থাকায় কোনো কাজেই আসছে না মেহেরপুরের সাড়ে ৭ কোটি টাকার সেতু। ফলে দুর্ভোগ কাটছে না স্থানীয়দের।

এ কারণে মেহেরপুর ও দৌলতপুর দুই উপজেলার লক্ষাধিক মানুষকে ৮ থেকে ৯ কিলোমিটার ঘুরে যাতায়াত করতে হচ্ছে। সেতুর আশপাশ এলাকার বাসিন্দারা বলছেন, দীর্ঘদিন ভোগান্তির পর তারা সেতু পেয়েছেন ঠিকই,তবে তাতে ভোগান্তি কমেনি।

তাঁদের অভিযোগ, সংশ্লিষ্টদের গাফিলতির কারণে দুর্ভোগ কমছে না এলাকার মানুষের। স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি) বলছে, জমি অধিগ্রহণ জটিলতায় আটকে আছে সংযোগ সড়কের কাজ।

গাংনী উপজেলা এলজিইডি কার্যালয় সূত্রে জানা যায়, ২০১৯-২০২০ অর্থবছরে গাংনী উপজেলার বেতবাড়ীয়া ও কুষ্টিয়া জেলার দৌলতপুর উপজেলার মধুগাড়ি গ্রামের মধ্যবর্তী মাথাভাঙ্গা নদীর ওপর ৭৫ মিটার গার্ডার ব্রিজ নির্মাণ প্রকল্প নেওয়া হয়েছিল। নির্মাণ কাজ শুরু হয় ২০২০ সালের ২ ফেব্রুয়ারি। ২০২৩ সালের জানুয়ারি মাসে ব্রিজটির নির্মাণকাজ শেষ হয়। কাজের ব্যয় ধরা হয়েছিল ৭ কোটি ২৯ লাখ ৩২ হাজার ৯৭৯ টাকা।

তবে স্থানীয় ভুক্তভোগীরা আরো বলছেন, বিগত তিন বছর ধরে নির্মাণ হওয়া সেতুটি পড়ে আছে। যদিও দৌলতপুর অংশে নামমাত্র সংযোগ সড়ক নির্মাণ হলেও তা অনেকটা ভেঙে গেছে। এ জন্য সেতুটি ব্যবহার করতে পারছেন না তারা। পণ্য পরিবহনে ঘুরতে হয় অনেক পথ।

এলজিইডি বলছে, আগে স্থানীয় দুই বীর মুক্তিযোদ্ধা সিরাজুল ইসলাম ও আমিরুল ইসলাম সংযোগ সড়কের জন্য বিনামূল্যে তাদের জমি দিতে চেয়েছিলেন। কিন্তু নির্মাণের পরে অভ‍্যন্তির কিছু সমস‍্যায় বেঁকে বসেছেন। এখন তারা জমির বর্তমান বাজারমূল্য বেশি দাবি করায় বন্ধ হয়ে গেছে সংযোগ সড়কের কাজ।

ভূমি অধিগ্রহণ জটিলতায় আটকে আছে সংযোগ সড়ক নির্মাণের কাজ। এ বিষয়ে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষর সাথে আলোচনা চলছে বলে জানান এই প্রকৌশলী।

সেতুর পাশে থাকা জমি মালিকদের কথা বলে জানাগেছে,এই সেতুর পাশে থাকা জমির যে বতর্মান বাজার মূল‍্য চলছে। সেই ন‍্যায‍্য দাম না পাওয়াই তারা জমি অধিগ্রহণ করতে দেননি। তাছাড়া সরকারের পক্ষ থেকেও জমি নেয়ার ক্ষেত্রে তেমন কোন উদ্যোগ নেয়া হয়নি।

দৌলতপুর উপজেলার বাসিন্দা রনি আহমেদ বলেন, মাথাভাঙা নদীর সেতু থেকে নেমে যাওয়ার কোনো সড়ক নেই। তবে তাদের দিকের সংযোগ সড়ক বেশ আগেই হয়ে গেছে। একপাশের সংযোগ সড়ক আছে, আরেক পাশের নেই। বিধাই সেতুটির কাজও নেই।

আরেক ভুক্তভোগী সন্ধ্যা খাতুন বলেন, গাংনী উপজেলায় আমার বিয়ে হয়েছে। সেহেতু ওই উপজেলায় বসবাস করি। মায়ের বাড়ি বছরে একবার দুবার আসি। সেতু হওয়ার আগে নৌকায় আসতেন। তবে এখন সেতু হওয়ায় উল্টো বিপদে পড়েছেন। সেতুর উঁচুতে ভ‍্যান উঠতে পারে না। তাই এদিকে আসার সময় আট মাইল ঘুরে আসতে হয়। দশ থেকে পনের মিনিটের পথ, অথচ আসতে সময় লাগল এক ঘণ্টার বেশি।

গাংনী উপজেলার কাজিপুর ইউনিয়ন চেয়ারম্যান আলম হুসাইন দৈনিক বাংলাকে বলেন, মাথাভাঙা নদীর উপরে নির্মিত এই সেতুটি দুই জেলার মানুষকে এক করেছে। এক সময় এই দুই অঞ্চলের মানুষ নৌকা ও বাশের তৈরি সাঁকো দিয়ে পারাপার হতো। এই সেতুটি এঅঞ্চলের মানুষের দির্ঘদিন অপেক্ষার ফল। অথচ সংযোগ সড়ক না থাকাই অপেক্ষার অবসান ঘটছে না। এমন অবস্থা বতর্মানে চলাচলের একেবারে অনউপযোগি হয়ে পড়ে আছে। এটির খুব দ্রুত সমাধানের প্রয়োজন।

মেহেরপুরের গাংনী উপজেলা প্রকৌশলী রোকুনজ্জামান বলেন, গাংনী উপজেলাধীন বেতবাড়িয়া মধুগাড়ি মাথাভাঙ্গা নদীর ওপর ৭৫ মিটারের ব্রিজ নির্মাণ করা হয়েছিল বেশ কয়েক বছর আগে। জমি সংক্রান্ত জটিলতার কারণে আমরা যোগাযোগ রক্ষা করতে পারি নাই। এ বিষয়ে আমরা যথাযথ কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার চেষ্টা করছি।


মাদারীপুরে এমপির সাথে সড়ক পরিবহন মালিক সমিতির নেতাদের মতবিনিময়

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
মাদারীপুর প্রতিনিধি

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে মাদারীপুর সদর-২ (রাজৈর-মাদারীপুর) সংসদীয় আসনে ধানের শীষ প্রতীকে ১ম বারের মতো নির্বাচিত সংসদ সদস্য জেলা বিএনপির সদস্য সচিব জাহান্দার আলী মিয়ার সাথে সৌজন্য সাক্ষাৎ ও ফুলের শুভেচ্ছা বিনিময় করল বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন মালিক সমিতি, মাদারীপুর জেলা শাখা। শুক্রবার (২০ ফেব্রুয়ারি) সকালে অনুষ্ঠিত ওই অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন মালিক সমিতির কেন্দ্রীয় কমিটির নবনির্বাচিত সহসভাপতি ও মাদারীপুর জেলা শাখার সভাপতি কে, এম তোফাজ্জেল হোসেন সান্টু খান, জেলা শাখার সাধারণ সম্পাদক মো. রাসেল মিয়া, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক হাবিব মাসুদসহ অন্যান্য নেতারা ও পরিবহন ব্যবসায়ী সাধারণ বাস মালিকরা। সাক্ষাতকালে সড়ক পরিবহন মালিক সমিতির নেতারা নবনির্বাচিত সংসদ সদস্য জাহান্দার আলী মিয়াকে ফুলেল শুভেচ্ছায় সিক্ত করে মাদারীপুরের আইনশৃঙ্খলা সহ অবকাঠামো উন্নয়ন ও পরিবহন সেক্টরে সাবেক সরকারের রেখে যাওয়া অনিয়ম-বিশৃঙ্খলা দূর করে এই সেবাখাতকে শৃঙ্খলাপূর্ণ, নিরপাদ, চাঁদাবাজমুক্ত ও গণমুখী করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।

এ সময় নবনির্বাচিত সংসদ সদস্য জাহান্দার আলী মিয়া জেলার সড়ক পরিবহন খাতের সার্বিক পরিস্থিতি, চলমান উন্নয়ন কার্যক্রম, পরিবহন ব্যবস্থার শৃঙ্খলা রক্ষা এবং মালিক-শ্রমিকদের স্বার্থ সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন বিষয়ে খোঁজ-খবর নিয়ে ধন্যবাদ জানিয়ে বলেন, জেলার মানোন্নেনয়নে তিনি সংশ্লিষ্ট সকলের সাথে সমন্বয় করে কাজ করতে আগ্রহী। নেতারা আশা প্রকাশ করেন, নব-নির্বাচিত এমপির সার্বিক সহযোগিতায় মাদারীপুর জেলার সড়ক পরিবহন খাত আরও গতিশীল ও সুশৃঙ্খল হবে।


নওগাঁয় প্রাণিসম্পদের উদ্যোগে সুলভ মূল্যে দুধ ও ডিম বিক্রি

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নওগাঁ প্রতিনিধি

পবিত্র মাহে রমজান উপলক্ষে নওগাঁয় সুলভ মূল্যে দুধ ও ডিম বিক্রি কার্যক্রম শুরু হয়েছে। শুক্রবার (২০ ফেব্রুয়ারি) বেলা ১১ টায় জেলা প্রাণিসম্পদ দপ্তরের আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন- নওগাঁ-৫ (সদর) আসনের সাংসদ জাহিদুল ইসলাম ধলু। শহরের পার-নওগাঁ প্রাণিসম্পদ চত্বরে এ কার্যক্রম শুরু হয়।

রমজানের দুদিন আগে থেকেই নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের বাজার ঊর্ধ্বগতি। দাম বেড়ে যাওয়ায় নিম্ন ও মধ্যবিত্ত আয়ের মানুষের নাভিশ্বাস উঠেছে। চাহিদামতো পণ্য কিনতে হিমসিম খেতে হচ্ছে। খোলা বাজারে ডিম বিক্রি হচ্ছে ৩২ টাকা হালি এবং দুধ প্রায় ১০০ টাকা লিটার। এছাড়া সবধরণের মুরগিতে প্রকারভেদে ২০-৪০ টাকা বেড়েছে। দাম বেড়ে পোল্ট্রি মুরগি বিক্রি হচ্ছে ১৯০ টাকা কেজি। গরুর মাংস ৭৫০ টাকা কেজি। সবজিতেও বেড়েছে কেজিতে ৫-১০ টাকা পর্যন্ত। তবে প্রাণিসম্পদ দপ্তরের উদ্যোগে চালু হওয়ায় সুলভ মুল্যে দুধ, ডিম ও মাংস বিক্রি কার্যক্রম নিম্ন ও মধ্যবিত্তদের জন্য অনেকটা সুবিধা হবে।

শহরের পার-নওগাঁর রিকশাচালক আফসার আলী বলেন- রোজার আগে থেকেই নিত্যপ্রয়োজনীয় সবধরণের জিনিসপত্রের দাম বেড়েছে। কয়েকদিন আগেও দুধ ৫০-৬০ টাকা লিটার বিক্রি হতো। এখন তা ১০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। তবে ডিমের দাম তুলনামূলক কম মনে হচ্ছে। তারপরও প্রাণিসম্পদ দপ্তর থেকে বাজার তুলনায় একটু কম দামে ২ হালি ডিম কিনতে পারলাম। এটা দিয়ে দুদিন চলে যাবে। অন্তত রমজান মাসে যদি সবধরণের পণ্যের দাম কম থাকতো তাহলে সব শ্রেণি-পেশার মানুষের জন্য সুবিধা হতো।

নওগাঁ জেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. মাহফুজার রহমান বলেন- রমজানের প্রথম দিন ২০০ লিটার দুধ ও ১ হাজার ৫০০ পিচ ডিম বিক্রি হয়েছে। তবে আনুষ্ঠানিকভাবে দ্বিতীয় দিন বিক্রি শুরু হলো। প্রান্তিক পর্যায়ে নিম্নবৃত্ত একজন ক্রেতা সুলভ মূল্যে দুই হালি ডিম ২৮ টাকা ও ১ লিটার দুধ ৭০ টাকায় কিনতে পারবেন। আগামী ২৫ শে রমজান পর্যন্ত প্রতিদিন সকাল ১০ টা থেকে জেলা প্রাণিসম্পদ চত্বরে ২০০ লিটার দুধ ও ১ হাজার ৫০০ পিচ ডিম বিক্রি করা হবে। এছাড়াও আজ শনিবার থেকে সপ্তাহে দুদিন সুলভ মূল্যে গরুর মাংস বিক্রি করা হবে। যেসব খামারি রয়েছে তারা মূলত দুধ, ডিম ও মাংস সরবরাহ করবেন। পর্যায়ক্রমে পুরো জেলায় চালু করার উদ্যোগ গ্রহণ করা হবে।

নওগাঁ-৫ (সদর) আসনের সাংসদ জাহিদুল ইসলাম ধলু বলেন- তৃনমূল ও প্রান্তিক পর্যায়ে জনগোষ্ঠীর আমিষের ঘাটতি রয়েছে। সুলভ মূল্যে পাওয়া পণ্য তাদের জন্য অনেকটা সহজ হবে এবং তাদের জন্য আমিষের চাহিদা পূরণ হবে। গ্রাম পর্যায়ে চালু করা উদ্যোগ নেওয়া হবে বলে জানান তিনি।

অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন জেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. মাহফুজার রহমান। এ সময় বক্তব্য রাখেন- নওগাঁ অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম) জয়ব্রত পাল ও সদর উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. আমিনুল ইসলাম। পরে প্রধান অতিথি দুধ ও ডিম বিক্রির কার্যক্রমের উদ্বোধন করেন।


প্রথমবার বরিশালে আসছেন তথ্যমন্ত্রী

তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী এম জহির উদ্দিন স্বপন । ফাইল ছবি
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
বরিশাল প্রতিনিধি

মন্ত্রী হিসেবে শপথ ও দায়িত্ব গ্রহনের পর প্রথমবার নিজ নির্বাচনী এলাকায় আসছেন তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী এম জহির উদ্দিন স্বপন। সুত্রমতে, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বরিশাল-১ (গৌরনদী-আগৈলঝাড়া) আসন থেকে তৃতীয়বার সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়ে তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পেয়েছেন বিএনপির চেয়ারম্যানের উপদেষ্টা জহির উদ্দিন স্বপন। প্রথমবার তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পেয়ে শুক্রবার (২০ ফেব্রুয়ারি) সরকারি সফরে তথ্যমন্ত্রী বরিশাল শহর ও নিজ নির্বাচিত এলাকায় সফরে আসেন।

জানা গেছে, তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রী শুক্রবার (২০ ফেব্রুয়ারি) সন্ধ্যা সাড়ে ছয়টায় জাতীয় প্রেসক্লাব থেকে গৌরনদীর উদ্দেশ্যে সড়ক পথে যাত্রা শুরু করেন। রাত দশটায় গৌরনদী উপজেলার প্রবেশদ্বার ভুরঘাটা বাসষ্ট্যান্ডে বিএনপির নেতৃবৃন্দরা মন্ত্রীকে অভ্যর্থনা প্রদান করেন। রাত ১২ টা ১ মিনিটে তথ্যমন্ত্রী গৌরনদীর কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে পুষ্পস্তবক অর্পন করে রাত সাড়ে বারোটায় বরিশাল সার্কিট হাউজে রাত্রীযাপন করেন।

শনিবার (২১ ফেব্রুয়ারি) সকাল সাড়ে দশটায় মহান শহীদ দিবস উপলক্ষ্যে বরিশাল শিল্পকলা একাডেমীতে জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে আলোচনায় সভায় তথ্যমন্ত্রী প্রধান অতিথি হিসেবে যোগদান করবেন। আগামীকাল রবিবার বেলা এগারটায় গৌরনদী অডিটোরিয়ামে মন্ত্রীর পক্ষ থেকে ধন্যবাদ জ্ঞাপন অনুষ্ঠান এবং দুপুর বারোটায় উপজেলা প্রশাসনের সঙ্গে মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হবে।


গোয়ালন্দের অধিকাংশ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে নেই শহীদ মিনার

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
গোয়ালন্দ (রাজবাড়ী) প্রতিনিধি

ভাষা আন্দোলনের ৬৯ বছরেও রাজবাড়ীর গোয়ালন্দ উপজেলার অধিকাংশ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে কোনো শহীদ মিনার নির্মিত হয়নি। সংশ্লিষ্টরা জানান, উপজেলার ৫টি কলেজের মধ্যে ২টিতেই শহীদ মিনার নেই। প্রাথমিক, মাধ্যমিক ও কলেজ পর্যায়ে অধিকাংশ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের চিত্রও প্রায় একই। ফলে ওইসব প্রতিষ্ঠানে জাতীয় ও আন্তর্জাতিক বিশেষ দিবসগুলো যথাযোগ্য মর্যাদায় পালন হয় না বলে অভিযোগ রয়েছে।

জানা গেছে, সরকারিভাবে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোতে অমর একুশে ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস উদযাপন করার নির্দেশনা থাকলেও গোয়ালন্দ উপজেলার অধিকাংশ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা শহীদ মিনার না থাকায় ভাষা শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানানো নিয়ে অনিশ্চয়তার মধ্যে পড়েছেন। ওইসব প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরা আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবসসহ গুরুত্বপূর্ণ অন্যান্য দিবস পালন থেকে অনেকটা বঞ্চিত হচ্ছেন।

উপজেলা প্রাথমিক ও মাধ্যমিক শিক্ষা কার্যালয় সূত্র জানায়, গোয়ালন্দে ২৫টি কলেজ ও মাধ্যমিক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের মধ্যে ১৪টি প্রতিষ্ঠানে নেই শহীদ মিনার এবং প্রাথমিক ৫১টি বিদ্যালয়ের মধ্যে ২৯টিতে নেই শহীদ মিনার। ফলে এসব গুরুত্বপূর্ণ দিবস পালনে প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীদের নিয়ে যাওয়া হয় গোয়ালন্দ বাজার কেন্দ্রীয় শহীদ মহিউদ্দিন আনসার ক্লাবসহ অন্যান্য স্থানে।

এ বিষয়ে অভিভাবক, স্কুল ও কলেজের শিক্ষকরা জানান, এটা খুব দুঃখজনক। স্কুল, কলেজগুলোতে শহীদ মিনার না থাকার পেছনে ওই সকল প্রতিষ্ঠানের পরিচালনা পর্ষদের সদিচ্ছার অভাব রয়েছে, এখানে অর্থের সংকট কোনো বিষয় না।

গোয়ালন্দ প্রপার হাইস্কুলের প্রধান শিক্ষক মো. হাবিবুর রহমান বলেন, ‘সরকারিভাবে বরাদ্দ না থাকায় এখন পর্যন্ত আমরা শহীদ মিনার নির্মাণ করতে পারিনি। যার কারণে আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস, স্বাধীনতা, বিজয় দিবসসহ বছরের বিশেষ দিবস পালনে ক্ষুদে শিক্ষার্থীদের নিয়ে গোয়ালন্দ বাজার অথবা উপজেলা পরিষদ চত্বরে যেতে হয়।’

গোয়ালন্দ রাবেয়া ইদ্রিস মহিলা কলেজের অধ্যক্ষ আ. কাদের শেখ বলেন, ‘অর্থ সংকটে সৃষ্টিলগ্ন থেকে শহীদ মিনার নির্মাণ সম্ভব হয়নি। বিষয়টি নিয়ে দীর্ঘদিন আলোচনা হলেও কার্যকরী পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়নি। সরকারি কোনো বরাদ্দ না থাকায় এখানে শহীদ মিনার নির্মাণ হয়নি। উপজেলা প্রশাসন থেকে কিছুদিন আগে বাজেট চেয়ে আবেদন করা হয়েছে। বরাদ্দ পেলে শহীদ মিনারটি নির্মাণ করা হবে এবং যাতে দ্রুত শহীদ মিনার নির্মিত হয় আমার থেকে জোরালোভাবে চেষ্টা অব্যাহত থাকবে।’

উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা জয়ন্ত দাস বলেন, ‘প্রতিটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানেই শহীদ মিনার থাকা উচিত ছিল। বিষয়টি অত্যন্ত দুঃখজনক। তবে আমরা প্রস্তুতিমূলক সভায় প্রতিটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে যাতে দ্রুততার সাথে শহীদ মিনার হয় সে চেষ্টা করে যাব। আশা করি আগামী বছরের আগেই সব সম্পন্ন হবে।’

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সাথী দাস বলেন, ‘আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবসে পালনের প্রস্তুতিমূলক সভায় আলোচনা হয়েছে। বাজেট ঘাটতি রয়েছে যার কারণে এই মুহূর্তে এ বিষয়ে কোনো সিদ্ধান্ত নিতে পারিনি। উপজেলার প্রতিটি ইউনিয়ন পরিষদের সহযোগিতায় প্রয়োজনে ব্যক্তি উদ্যোগে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে শহীদ মিনার নির্মাণের ব্যাপারে জোর দেওয়া হয়েছে। এ ছাড়া সরকারি কোনো বরাদ্দ পেলে ধীরে ধীরে প্রতিটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে শহীদ মিনার তৈরি করা হবে।’


banner close