শুক্রবার, ১৩ মার্চ ২০২৬
২৯ ফাল্গুন ১৪৩২

টেকনাফ-সেন্ট মার্টিন রুটে জাহাজ চলাচল বন্ধ

টেকনাফের দমদমিয়া ঘাট থেকে যাত্রী নিয়ে মিয়ানমার সীমান্তঘেঁষে সেন্ট মার্টিন যাতায়াত করে জাহাজ। ছবি: দৈনিক বাংলা
কক্সবাজার প্রতিনিধি
প্রকাশিত
কক্সবাজার প্রতিনিধি
প্রকাশিত : ২ অক্টোবর, ২০২২ ২০:৪৬

টেকনাফ-সেন্ট মার্টিন নৌরুটে পর্যটকবাহী জাহাজ চলাচল বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। প্রতিবেশী মিয়ানমারের রাখাইনে জান্তা বাহিনীর সঙ্গে বিদ্রোহীদের সংঘাত চলছে অনেক দিন ধরেই। গত দুই মাসে এই সংঘর্ষ আরও বেড়েছে। এর প্রভাব পড়েছে সীমান্তের এ-পারে বাংলাদেশেও। মিয়ানমার বাহিনী একাধিকবার আকাশসীমা লঙ্ঘন করেছে, গোলাগুলিতে প্রাণ ঝরেছে। এই অবস্থার মধ্যে এমন সিদ্ধান্ত এল।

যদিও জেলা প্রশাসন বলছে নাফ নদীতে নাব্যতা সংকট দেখা দেয়ায় এমন সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে। এর পরিবর্তে কক্সবাজার ও চট্টগ্রাম থেকে জাহাজ পরিচালনার সিদ্ধান্ত হয়েছে।

সংশ্লিষ্ট একাধিক সূত্র বলেছে, সাগর উত্তাল থাকার পাশাপাশি কালবৈশাখীর শঙ্কা থাকায় দুর্ঘটনা এড়াতে প্রতি বছর এপ্রিল থেকে সেপেটম্বরের শেষ সপ্তাহ পর্যন্ত টেকনাফ-সেন্ট মার্টিন ও সেন্ট মার্টিন-কক্সবাজার রুটে পর্যটকবাহী জাহাজ চলাচল বন্ধ রাখা হয়। এবার টেকনাফ-সেন্ট মার্টিন রুটে জাহাজ চলাচল বন্ধের এই সময়কাল বৃদ্ধির পেছনে সীমান্তের ওপারে মিয়ানমারে সংঘর্ষ একটি বড় কারণ। নাফ নদীর নাব্যতা সংকটও আরেকটি কারণ।

টেকনাফের দমদমিয়া ঘাট থেকে যাত্রী নিয়ে মিয়ানমার সীমান্তঘেঁষে সেন্ট মার্টিন যাতায়াত করে আটটি জাহাজ। এর মধ্যে দুটি এসি ও অত্যাধুনিক প্রযুক্তিসম্পন্ন। দুই ঘণ্টায় টেকনাফ থেকে সেন্ট মার্টিন পৌঁছায় এসব জাহাজ। এ ছাড়া কক্সবাজার থেকে কর্ণফুলী এক্সপ্রেস ও চট্টগ্রাম থেকে এমভি বে-ওয়ান সেন্ট মার্টিন যাতায়াত করে। বিলাসবহুল এসব জাহাজে স্বস্তি থাকলেও টানা ৮-১০ ঘণ্টা থাকতে হয় সাগরে।

প্রায় দুই মাস ধরে নাইক্ষ্যংছড়ির তুমব্রু সীমান্তে উত্তেজনা চলছে। সীমান্তের ওপারে মিয়ানমার থেকে মর্টার শেল, গোলাগুলিসহ নানা ভারী অস্ত্রের আওয়াজে এ-পারে বান্দরবানের ঘুমধুম ইউনিয়নের তুমব্রু ও বাইশপারী এলাকার মানুষ দিন কাটাচ্ছেন আতঙ্কে। গোলার আওয়াজ উখিয়া-টেকনাফের সীমান্ত এলাকায়ও শোনা যায়।

মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যের পাহাড় থেকে ছোড়া মর্টার শেল বেশ কয়েকবার বাংলাদেশের ভূখণ্ডে এসে পড়েছে। দেশটির সামরিক বাহিনীর হেলিকপ্টার বেশ কয়েকবার আকাশসীমাও লঙ্ঘন করেছে। সর্বশেষ গত ১৬ সেপ্টেম্বর রাতে তুমব্রুর কোনারপাড়া সীমান্তে শূন্যরেখায় মিয়ানমার থেকে ছোড়া মর্টার শেলের আঘাতে এক রোহিঙ্গা যুবক নিহত হন। আহত হন রোহিঙ্গা শিশুসহ পাঁচজন। একই দিন দুপুরে এই সীমান্তের হেডম্যানপাড়ায় মিয়ানমার সীমান্তের ভেতরে মাইন বিস্ফোরণে আহত হন বাংলাদেশি এক যুবক।

এর আগে গত ২৮ আগস্ট তুমব্রু উত্তরপাড়ায় একটি অবিস্ফোরিত মর্টার শেল এসে পড়ে। সে দিনই সীমান্তে মিয়ানমার সেনাবাহিনীর হেলিকপ্টার ও যুদ্ধবিমানকে চক্কর দিতে দেখা যায়। এরপর ৩ সেপ্টেম্বর মিয়ানমারের দুটি যুদ্ধবিমান ও ফাইটিং হেলিকপ্টার থেকে ছোড়া দুটি গোলা ঘুমধুম ইউনিয়নের ৮ নম্বর ওয়ার্ড এলাকায় এসে পড়ে। সেগুলো অবিস্ফোরিত থাকায় হতাহতের ঘটনা ঘটেনি। এর তিন দিন পর পুনরায় ওই সীমান্তে ভারী অস্ত্র থেকে গোলা ছোড়ার শব্দ ভেসে আসে। এসব ঘটনায় চারবার ঢাকায় মিয়ানমারের কূটনীতিককে তলব করে প্রতিবাদ জানিয়েছে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। এ ছাড়া বিদেশি কূটনীতিকদের সঙ্গে বৈঠকেও বিষয়টি তুলেছে মন্ত্রণালয়। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে যোগ দিতে যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কে গিয়ে বিভিন্ন বৈঠকেও রোহিঙ্গা ইস্যুটি তুলেছেন। এর পরও পরিস্থিতির উন্নতি হয়নি। যদিও গত কয়েক দিন সীমান্তের ওপারে গোলাগুলির আওয়াজ অনেকখানি কমে গেছে। তবে স্থানীয়দের আশঙ্কা, যেকোনো সময় বেড়ে যেতে পারে সীমান্তের ওপারের সংঘর্ষ।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে স্থানীয় প্রশাসনের একাধিক সূত্র বলেছে, টেকনাফ থেকে সেন্ট মার্টিন নৌরুটে জাহাজগুলো নাফ নদী দিয়ে মিয়ানমার সীমান্তঘেঁষে যাতায়াত করে। সীমান্তের ওপারে সংঘাত চলায় কর্তৃপক্ষ অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে এমন সিদ্ধান্ত নিয়েছে। পাশাপাশি নাফ নদীর নাব্যতা সংকটের বিষয়টিও আছে।

তবে টেকনাফ উপজেলার ভারপ্রাপ্ত নির্বাহী কর্মকর্তা এরফানুর হক দৈনিক বাংলাকে বলেন, ‘সংশ্লিষ্টদের নির্দেশে টেকনাফ থেকে পর্যটকবাহী জাহাজ চলাচল বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত হয়েছে। নৌপথের সমস্যার কারণে পরবর্তী নির্দেশনা না আসা পর্যন্ত জাহাজ চলাচল বন্ধ থাকবে।’

আর কক্সবাজারের জেলা প্রশাসক মামুনুর রশীদ দৈনিক বাংলাকে বলেন, ‘নাফ নদীতে নাব্যতা সংকট তৈরি হয়েছে। এতে জাহাজ চলাচলের পথ প্রায় বন্ধ হয়ে গেছে। ডুবোচরে আটকা পড়লে পর্যটকদের ঝুঁকি থাকে। নাব্যতা কেটে গেল হয়তো আবার জাহাজ চলাচল শুরুর সিদ্ধান্ত হতে পারে।’

মিয়ানমার পরিস্থিতির কারণে এমন সিদ্ধান্ত কি না জানতে চাইলে জেলা প্রশাসক বলেন, ‘তাদের অভ্যন্তরে যা হচ্ছে, তার সঙ্গে তো এসবের সম্পৃক্ততা নেয়। আমরাও সজাগ আছি। নাব্যতার কারণে দুর্ঘটনা এড়াতে এমন সিদ্ধান্ত।’

অবশ্য বেসামরিক বিমান ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ের সচিব মোকাম্মেল হোসেন বলছেন অন্য কথা। গত শনিবার কক্সবাজারে পর্যটন মেলার অনুষ্ঠানে গিয়ে তিনি বলেন, সেন্ট মার্টিনে যে হারে অপরিকল্পিত স্থাপনা নির্মাণ হচ্ছে তা পর্যটনের সঙ্গে যায় না। এগুলো বন্ধের জন্য কাজ চলছে। সবকিছু বিবেচনায় রেখে আপাতত টেকনাফ ঘাট থেকে সেন্ট মার্টিনের উদ্দেশ্যে ছেড়ে যাওয়া জাহাজ বন্ধ রাখা হয়েছে। কবে নাগাদ টেকনাফ ঘাট থেকে জাহাজ ছাড়বে তা পরে জানানো হবে।

পর্যটন ব্যবসায় ধসের আশঙ্কা

এদিকে টেকনাফ- সেন্ট মার্টিন নৌরুটে জাহাজ চলাচল বন্ধের সিদ্ধান্তে লোকসানের আশঙ্কা করছেন ব্যবসায়ীরা। তারা বলছেন, নৌপথে টেকনাফ থেকে সেন্ট মার্টিন যেতে সময় লাগে দুই ঘণ্টা। আর কক্সবাজার কিংবা চট্টগ্রাম থেকে নৌপথে সেন্ট মার্টিন পৌঁছাতে সময় লাগে সাত থেকে আট ঘণ্টা। দীর্ঘসময় সমুদ্রভ্রমণে আগ্রহী নন অনেক পর্যটক। কাজেই সরকার যে সিদ্ধান্ত নিয়েছে, তাতে পর্যটকরা সেন্ট মার্টিন ভ্রমণে নিরুৎসাহিত হবেন। এতে পর্যটন ব্যবসা ক্ষতিগ্রস্ত হবে।

সেন্ট মার্টিনের হোটেল ব্যবসায়ী নেতা রিদুয়ানুল হক বলেন, ‘চট্টগ্রাম-কক্সবাজার থেকে দুটি জাহাজ চলে। এসব জাহাজে অনেকে আসতে চায় না। কারণ সাত ঘণ্টার বেশি সময় জাহাজে থাকতে হয়। সে জায়গায় টেকনাফ থেকে চলে সাত-আটটা জাহাজ। অনেক মানুষ এ রুটে চলাচল করতে স্বস্তিবোধ করে। সরকারের এমন সিদ্ধান্তের ফলে আগামী শীত মৌসুমে সেন্ট মার্টিন ভ্রমণে আগ্রহী পর্যটকরা হয়তো সিদ্ধান্ত পরিবর্তন করবে। ফলে ব্যবসায়ীরা লোকসানে পড়বে, সরকার রাজস্ব হারাবে।’

আরেক ব্যবসায়ী রফিকুল ইসলাম বলেন, ‘সামনের মৌসুমে ব্যবসার লক্ষ্যে প্রস্তুতি চলছে। এমন সময় জাহাজ চলাচল বন্ধের সিদ্ধান্ত নেয়া হলো। এতে ব্যবসা ক্ষতিগ্রস্ত হবে। যারা কক্সবাজার থেকে জাহাজ পরিচালনা করবেন, তারা এ সুযোগটা কাজে লাগিয়ে অতিরিক্ত মুনাফা করার চেষ্টা করবেন।’

সেন্ট মার্টিনের বাসিন্দা নাজিম উদ্দিন বলেন, ‘টেকনাফ থেকে জাহাজ না আসলে মালামল আনতে খরচ বেশি হবে। সে ক্ষেত্রে খাবার বা অন্যান্য জিনিসপত্রের দামও বাড়তে পারে। তা ছাড়া আমরা এ মৌসুমের ওপর নির্ভরশীল। বড় লোকসান হবে আমাদের।’

সেন্ট মার্টিন ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মুজিবুর রহমান দৈনিক বাংলাকে বলেন, ‘শীত মৌসুমে পর্যটনের ওপর নির্ভর করে বাকি দিন পার করে সেন্ট মার্টিনের মানুষ। টেকনাফ থেকে জাহাজ বন্ধ হলে বড় লোকসানে পড়বেন এ দ্বীপের বাসিন্দারা। যদিও এখনো চূড়ান্তভাবে আমাদের জানানো হয়নি। তার পরও প্রশাসনের সঙ্গে আমরা বিষয়টি নিয়ে আলোচনা করব।’


কুলাউড়ায় ৫১ মাদ্রাসায় খেজুর বিতরণ

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
কুলাউড়া (মৌলভীবাজার) প্রতিনিধি

মৌলভীবাজারের কুলাউড়ায় ৫১টি মাদ্রাসা ও এতিমখানায় মানবিক সহায়তার অংশ হিসেবে সৌদি সরকারের দেওয়া ২২৪ প্যাকেট খেজুর বিতরণ করা হয়েছে। গত বৃহস্পতিবার (১২ মার্চ) উপজেলা পরিষদ সভাকক্ষে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের প্রধানদের হাতে এসব খেজুর তুলে দেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. মহিউদ্দিন।

এ সময় উপস্থিত ছিলেন উপজেলা বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক শামীম আহমদ চৌধুরী, সাবেক সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক বদরুল হোসেন খান, সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক দেলোয়ার হোসেন, সাংবাদিক মোক্তাদির হোসেন, ময়নুল হক পবন, প্রকল্প বাস্তবায়ন অফিসের কর্মকর্তা কামরুল হাসান, শাহিন আহমদ ও ফেরদৌস আহমদসহ সংশ্লিষ্টরা।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. মহিউদ্দিন জানান, পবিত্র রমজান মাস উপলক্ষে মানবিক সহায়তার অংশ হিসেবে সৌদি সরকারের পক্ষ থেকে এসব খেজুর প্রদান করা হয়েছে।


হরিণাকুন্ডুতে বৃদ্ধাশ্রমের মায়েরা পেলেন ঈদ উপহার

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
ঝিনাইদহ প্রতিনিধি

পবিত্র ঈদুল ফিতর উপলক্ষে ঝিনাইদহের হরিণাকুন্ডুতে একটি বৃদ্ধাশ্রমের মায়েদের মাঝে ঈদ উপহার বিতরণ করা হয়েছে। শুক্রবার (১৩ মার্চ) সকালে উপজেলার জোড়াপুকুরিয়া বৃদ্ধাশ্রমে সংযোগ ফাউন্ডেশন এর উদ্যোগে এ উপহার সামগ্রী বিতরণ করা হয়।

এ সময় উপস্থিত ছিলেন সংগঠনটির জেলা কো-অর্ডিনেটর মুন্সী মো. আবু হাসান, উপদেষ্টা কে এম সালেহ, শাহানুর আলম, কাজী আলী আহম্মেদ লিকু, জোড়াপুকুরিয়া বৃদ্ধাশ্রমের প্রতিষ্ঠাতা ও পরিচালক ইসমত আরাসহ স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিরা।

অনুষ্ঠানে বৃদ্ধাশ্রমে বসবাসরত ২৪ জন মায়ের হাতে ঈদ উপহার হিসেবে নতুন শাড়ি তুলে দেওয়া হয়। উপহার পেয়ে বৃদ্ধাশ্রমের মায়েরা আনন্দ ও কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।

সংগঠনটির পক্ষ থেকে জানানো হয়, রমজান মাসজুড়ে বৃদ্ধাশ্রমের মায়েদের জন্য প্রতিদিন ইফতারের ব্যবস্থাও করা হয়েছে। এছাড়াও সমাজে আত্মকর্মসংস্থান তৈরির লক্ষ্যে হরিণাকুন্ডু উপজেলার দুটি মাদ্রাসায় প্রশিক্ষণের জন্য সেলাই মেশিন প্রদান করা হয়েছে।

আয়োজকরা বলেন, সমাজের অবহেলিত ও বয়স্ক মানুষের পাশে দাঁড়ানো এবং তাদের মুখে হাসি ফোটানোই তাদের মূল লক্ষ্য। ভবিষ্যতেও এ ধরনের মানবিক ও সামাজিক কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে বলে তারা জানান।


নড়াইলে ট্রেনে কাটা পড়ে কৃষক নিহত

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নড়াইল প্রতিনিধি

বাড়ির পাশেই রেল লাইন। পোষা ছাগল ছুটে রেলনাইনের ওপর উঠে পড়ে। ছাগল ধরে আনতে গিয়ে রেলে কাটা পড়েন আমিনুর রহমান ওরফে চান মিয়া(৫৫) নামে এক কৃষক।

শুক্রবার (১৩ মার্চ) সকাল সাড়ে ৭টার দিকে নড়াইলের লোহাগড়া উপজেলার সারুলিয়া গ্রামে এই দুর্ঘটনা ঘটে। নিহত আমিনুর সারুলিয়া গ্রামের তামজেল হোসেনের ছেলে।

পুলিশ এবং স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, শুক্রবার (১৩ মার্চ) সকাল ৭টার দিকে চান মিয়ার বাড়িসংলগ্ন রেল লাইনের পাশে ছাগল বাধতে যান। ছাগলটি দৌড়ে রেল লাইনের ওপর উঠে পড়ে। দড়ি ধরে টেনে আনতে যান। প্রতিদিনের মতো এ সময় খুলনা থেকে ছেড়ে আসা ঢাকাগামী জাহানাবাদ এক্সপ্রেস ট্রেনের নিচে তিনি কাটা পড়েন।

প্রত্যক্ষদর্শী একই গ্রামের হোসেন আলী ও ইদ্রিস মোল্যা বলেন,আমরা রেল লাইনের বিপরীত পাশের জমিতেই কাজ করছিলাম। ট্রেন আসছে চিৎকার করে চান মিয়াকে দুই তিনবার বলেছি। মনে হয় ট্রেনের বিকট শব্দে তিনি তা শুনতে পাননি। ফলে চান মিয়া ট্রেনে কাটা পড়ে। তারা বলেন চান মিয়া কৃষি কাজ করে। আমাদের চিৎকারে গ্রামের লোকজন ঘটনা স্থলে ছুটে আসে। মরদেহ উদ্ধার করে বাড়িতে নিয়ে আসে। খবর পেয়ে থানা পুলিশ বাড়িতে

আসে।

লোহাগড়া থানার ওসি আব্দুর রহমান বলেন,খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়। ঘটনাস্থল রেলের জায়গায় হওয়ায় রেলওয়ে পুলিশকে খবর দেওয়া হয়েছে।


দুর্নীতির দায়ে পদ হারালেন মণিপুরী ললিতকলা একাডেমির উপপরিচালক

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
মৌলভীবাজার প্রতিনিধি

মৌলভীবাজারের কমলগঞ্জ উপজেলায় অবস্থিত মণিপুরী ললিতকলা একাডেমির উপপরিচালক (অতিরিক্ত দায়িত্ব) প্রভাস চন্দ্র সিংহকে অনিয়ম ও অর্থ আত্মসাতের অভিযোগে তার পদ থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে। গত বুধবার (১১ মার্চ) মৌলভীবাজার জেলা প্রশাসক তৌহিদুজ্জামান পাভেল স্বাক্ষরিত এক অফিস আদেশের মাধ্যমে তাকে অব্যাহতি দিয়ে একাডেমির প্রশাসনিক কার্যক্রম পরিচালনার দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে কমলগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. আসাদুজ্জামানকে।

একাডেমি সূত্রে জানা গেছে, গত জুলাই মাসে প্রভাস চন্দ্র সিংহের বিরুদ্ধে শিল্পীদের সম্মানী ভাতা আত্মসাতের অভিযোগ ওঠে। বিষয়টি গুরুত্বের সাথে নিয়ে জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়। অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক আসমা সুলতানা নাসরীন এই তদন্তের দায়িত্ব পালন করেন। দীর্ঘ তদন্ত শেষে গত ৫ জানুয়ারি প্রকাশিত প্রতিবেদনে জানানো হয়, অভিযুক্ত ও অভিযোগকারীদের লিখিত জবানবন্দি এবং সংশ্লিষ্ট নথিপত্র পর্যালোচনায় অভিযোগটি সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণিত হয়েছে।

২০২৪ সালের ২৮ নভেম্বর সংস্কৃতিবিষয়ক মন্ত্রণালয় থেকে প্রভাস চন্দ্র সিংহকে উপপরিচালক ও ভিডিও বিভাগের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছিল। তবে তার নিয়োগের পরপরই একাডেমির নৃত্য, বাদ্যযন্ত্র, নাট্য ও সংগীত প্রশিক্ষকসহ অফিস সহায়করা একযোগে তার দায়িত্ব প্রাপ্তির বিরোধিতা করেন। সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান ও উৎসবের প্রশিক্ষণ বিল নিজ নামে উত্তোলন, শিল্পীদের নামে-বেনামে ভুয়া ভাউচারে টাকা তুলে আত্মসাৎ, শিল্পীদের প্রাপ্য সম্মানী সঠিকভাবে প্রদান না করাসহ নানা অভিযোগ উল্লেখ করে ১ ডিসেম্বর তারা জেলা প্রশাসকের মাধ্যমে মন্ত্রণালয়ে একটি লিখিত অভিযোগ জমা দেন।

গত সোমবার সংস্কৃতিবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সহকারী সচিব শিউলী হরি স্বাক্ষরিত এক পত্রে তাকে উপপরিচালকের পদ থেকে সরিয়ে দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়। এরপরই জেলা প্রশাসন নতুন দায়িত্বের বিষয়ে আদেশ জারি করা হয়।

এ বিষয়ে প্রভাস চন্দ্র সিংহ জানান, বর্তমানে তাকে একাডেমির তার পূর্বের পদ ‘গবেষণা বিষয়ক কর্মকর্তা’ হিসেবে দায়িত্ব পালন করতে বলা হয়েছে।

অন্যদিকে, একাডেমির নবনিযুক্ত পরিচালক (অতিরিক্ত দায়িত্ব) ও কমলগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. আসাদুজ্জামান বলেন, ‘মন্ত্রণালয়ের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী নিয়মিত পরিচালক নিয়োগ না হওয়া পর্যন্ত আমাকে এই একাডেমির অতিরিক্ত দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। প্রতিষ্ঠানের স্বচ্ছতা বজায় রাখাই আমাদের লক্ষ্য।’

দীর্ঘদিন ধরে চলা এই অস্থিরতার অবসান ঘটিয়ে একাডেমির প্রশাসনিক কার্যক্রমে স্বচ্ছতা ফিরে আসবে বলে আশা করছেন স্থানীয় শিল্পী ও কলাকুশলীরা।


সুন্দরবনে বিচ জবা ফুলের রঙে রঙিন উপকূল

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
শরণখোলা (বাগেরহাট) প্রতিনিধি

উপকূলীয় এলাকায় প্রকৃতির নান্দনিক সৌন্দর্য আরও বেড়েছে বিচ জবা ফুলের (স্থানীয় ভাষায় বলই) সৌন্দর্যে। নদীর ধার এবং খালের পাড় ঘেঁষে এই গাছের হলুদ ফুলের মধ্যে গাঢ় মেরুন রঙের কেন্দ্র বিশেষভাবে চোখে পড়ে।

স্থানীয়রা জানান, এই গাছ মূলত উপকূলীয় মাটি ও লবণাক্ত পরিবেশে ভালো জন্মে। এ কারণে সুন্দরবনের আশেপাশের এলাকায় বিচ জবা প্রচুর দেখা যায়। ফুল ফোটার সময় গাছের সৌন্দর্য পুরো এলাকায় ছড়িয়ে পড়ে, যা স্থানীয় পর্যটক ও প্রকৃতি প্রেমীদের আকর্ষণ করছে।

স্থানীয় বাসিন্দা রুবেল মীর বলেন, ‘এই গাছের ছায়া ও পাতা স্থানীয় জীববৈচিত্র্যের জন্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ, কারণ পাখি ও কীটপতঙ্গরা এখানে বাস করে।’ এছাড়া বিচ জবার কাঠ ও ছাল স্থানীয়ভাবে ব্যবহার হয় গৃহস্থালি কাজে।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, উপকূলীয় অঞ্চলে বিচ জবার সংরক্ষণ ও পরিচর্যা করা প্রয়োজন, যাতে এই প্রাকৃতিক সৌন্দর্য ও পরিবেশের ভারসাম্য বজায় থাকে।

ফলে বলা যায়, বিচ জবা কেবল ফুল নয়, বরং উপকূলীয় অঞ্চলের এক প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের আধার।


রাজশাহী বার নির্বাচন: ২১ পদের মধ্যে ২০টিতেই জয়ী বিএনপিপন্থি আইনজীবী

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
রাজশাহী প্রতিনিধি

রাজশাহী বার সমিতির বার্ষিক নির্বাচনে ২১টি পদের মধ্যে ২০টিতেই বিজয়ী হয়েছেন বিএনপিপন্থি আইনজীবীরা। তারা জাতীয়তাবাদী আইনজীবী ঐক্য পরিষদ থেকে নির্বাচনে অংশ নেন। সভাপতি পদে এই প্যানেল থেকেই আবুল কাসেম ও সাধারণ সম্পাদক পদে পারভেজ তৌফিক জাহেদী নির্বাচিত হয়েছেন।

গত বৃহস্পতিবার (১২ মার্চ) সকাল ৯টা থেকে দুপুর ১টা পর্যন্ত এবং আধা ঘণ্টা বিরতির পর বেলা দেড়টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত ১ নম্বর বার ভবনের দ্বিতীয় তলায় ভোট গ্রহণ চলে। নির্বাচনে মোট ৬৯৩ জন ভোটারের মধ্যে ৬২৬ জন ভোট দেন। গণনা শেষে রাতে ফল ঘোষণা করা হয়।

নির্বাচন কমিশনার শেখ মো. জাহাঙ্গীর আলম সেলিম জানান, নির্বাচনে বার সমিতির সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকসহ মোট ২১টি পদের মধ্যে ২০টিতেই জয় পেয়েছে জাতীয়তাবাদী আইনজীবী ঐক্য পরিষদের প্যানেল। তবে শুধু সহ-সভাপতি পদে গণতান্ত্রিক আইনজীবী সমিতি মনোনীত প্যানেলের প্রার্থী এ কে এম মিজানুর রহমান বিজয়ী হয়েছেন।

জাতীয়তাবাদী আইনজীবী ঐক্য পরিষদ মনোনীত প্যানেল থেকে নির্বাচিত অন্যান্যরা হলেন- সহ-সভাপতি মাহাবুবুল ইসলাম, সহ-সভাপতি মজিজুল হক, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক (সাধারণ) ইমতিয়ার মাসরুর আল আমিন, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক (কল্যাণ) নুর-এ কামরুজ্জামান ইরান, হিসাব সম্পাদক শাখাওয়াত হোসেন শামীম, লাইব্রেরি সম্পাদক সেলিম রেজা মাসুম, অডিট সম্পাদক তানভীর আহমেদ জুলেট, প্রেস অ্যান্ড ইনফরমেশন সম্পাদক শাহজামাল, ম্যাগাজিন অ্যান্ড কালচার সম্পাদক জানিজ ফাতেমা কাজল এবং সদস্য ইয়াসিন আলী, শামীম আহমেদ, মাঈনুর রহমান, হাফিজুল ইসলাম, জাকির হোসেন (২), শাহীন আলম মাহমুদ, রেশমা খাতুন, হুমায়ুন কবির শাম্মী এবং রহিমা খাতুন।

নির্বাচনে ২১টি পদের বিপরীতে পৃথক দুটি প্যানেলে ৪২ জন প্রার্থী এবং স্বতন্ত্রভাবে সভাপতি পদে একজন ও সাধারণ সম্পাদক পদে তিনজন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন।


গাংনীতে ড্রামট্রাক বিদ্যুতায়িত হয়ে চালকের মৃত্যু

আপডেটেড ১৩ মার্চ, ২০২৬ ১৯:১৩
গাংনী (মেহেরপুর) প্রতিনিধি

গাংনী উপজেলার পোড়াপাড়া গ্রামে একটি ইটভাটায় মাটি বহনকারি ড্রামট্রাক বিদ্যুতায়িত হয়ে গাড়িতে থাকা জহিরুল ইসলাম (৪৫) মৃত্যু হয়েছে। এ ঘটনায় তার সহকারী সজীব (৩০) গুরুতর আহত হয়ে চিকিৎসাধীন অবস্থায় রয়েছে। গত বৃহস্পতিবার (১২ মার্চ) মধ্যরাতে এ দুর্ঘটনা ঘটে।

নিহত জহিরুল ইসলাম গাংনী উপজেলার বামন্দী ইউনিয়নের তেরাইল গ্রামের মৃত আব্দুল মাজিদের ছেলে। আহত সজীব একই উপজেলার মটমুড়া ইউনিয়নের ছাতিয়ান গ্রামের লাল্টু মিয়ার ছেলে।

স্থানীয়রা জানান, পোড়াপাড়া গ্রামের ময়নালের থ্রি-স্টার ইটভাটায় মাটি ফেলে ফেরার সময় ড্রামট্রাকটি অসাবধানতাবশত ইটভাটার বৈদ্যুতিক সংযোগের মেন তারের সাথে জড়িয়ে পড়ে। এতে মুহূর্তেই ট্রাকটি বিদ্যুতায়িত হয়ে ঘটনাস্থলেই চালক জহিরুল ইসলামের মৃত্যু হয়।

এ সময় গুরুতর আহত অবস্থায় সহকারী সজীবকে স্থানীয়রা উদ্ধার করে গাংনী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করেন। পরে তার শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে কুষ্টিয়া জেনারেল হাসপাতালে রেফার্ড করেন।

ড্রামট্রাকের মালিক কাফিরুল ইসলাম জানান, নিহত জহিরুল ইসলাম প্রায় ৫ বছর ধরে তার ড্রামট্রাকটি চালাচ্ছিলেন।

রাতে ইটভাটায় মাটি রেখে ফেরার সময় অসাবধানতাবশত ট্রাকের ড্রাম পুরোপুরি নামানো না থাকায় সেটি বৈদ্যুতিক খুঁটির মেন তারের সাথে স্পর্শ করে বিদ্যুতায়িত হয়।

গাংনী থানার ওসি উত্তম কুমার দাস জানান, খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহ উদ্ধার করে থানায় নিয়ে আসে। পরে পরিবারের পক্ষ থেকে কোনো অভিযোগ না থাকায় নিহতের মরদেহ স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।


নারীদের জন্য ওয়াশ ব্লক তৈরি করল পঞ্চগড় জেলা পরিষদ

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
পঞ্চগড় প্রতিনিধি

ঐতিহ্যবাহী পঞ্চগড় বাজার পূর্বে এটি ছিল হাঁট-কালের বিবর্তনে বর্তমানে বাজারে পরিণত হয়েছে। পঞ্চগড় জেলার ৫টি উপজেলার মধ্যে সবচেয়ে বড় বাজার এটি। বাজার তৈরি হওয়ার পর থেকে নারীদের জন্য কোন প্রকার ওয়াশ ব্লক ছিল না। ওয়াশ ব্লক না থাকায় নারীদের বিভিন্ন ধরনের সমস্যার সম্মুখীন হতে হয়। অনেক নারীরা তাদের আত্মীয়দের বাসায় যান। যাদের কোন নিকটতম আত্মীয় নেই সে সব নারীদের বাধ্য হয়ে কেনাকাটা বাদ দিয়ে বাড়ির পথে হাটতে হয়।

সে সব বিষয় বিবেচনা করে পঞ্চগড় জেলা পরিষদ ২টি ওয়াশ ব্লক তৈরি করেন। পঞ্চগড় পৌরসভা স্থাপিত হওয়ার কয়েক বছর পরেই পুরুষদের ওয়াশ ব্লক তৈরি হয় কিন্তু ৩ যুগ পরেই নারীদের ওয়াশ ব্লক তৈরি করেন পঞ্চগড় জেলা পরিষদ।

একজন ভোক্তভোগী , মোছাঃ ফাতেমা বেগম ৯নং মাগুরা ইউনিয়নের বাসিন্দা তিনি জানান, বাজার করতে এসে ওয়াশ ব্লকের প্রয়োজন হলে তখন আমাদেরকে এদিক ওদিক ছোটাছুটি করতে হয়। তিনি আরও জানান যে ২টি ওয়াশ ব্লক তৈরি হয়েছে সেই ওয়াশ ব্লক খোলা হলে আমাদের নারীদের জন্য অনেক উপকার হবে বলে আশা করি।

পঞ্চগড় বাজার ও বাসস্ট্যান্ড এ মহিলাদের জন্য ২টি ওয়াশ ব্লক নির্মাণ করেন জেলা পরিষদ পঞ্চগড় অর্থবছর ২০২৪-২৫খ্রি.।

প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (ভা:) জেলা পরিষদ পঞ্চগড়, অঞ্জন কুমার সরকার জানান যে, ঠিকাদার প্রতিষ্ঠানের কাছ থেকে চাবি নেওয়া হয়েছে, পূর্বে থেকে পুরুষের ওয়াশ ব্লক রয়েছে, সেই স্থানেই বর্তমানে নারীদের ওয়াশ ব্লক স্থাপন করা হয়েছে, আগামীকাল খোলার পর পরিষ্কার পরি”ছন্নতার পরে ব্যবহারের জন্য অনুমতি দেওয়া হবে, এবং নারীদের দীর্ঘদিনের সমস্যা সমাধান হবে।


সোনামসজিদ বন্দরে ভারতগামী যাত্রীর কাছে মিলল স্বর্ণের বার

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
চাঁপাইনবাবগঞ্জ প্রতিনিধি

চাঁপাইনবাবগঞ্জের সোনামসজিদ স্থলবন্দর দিয়ে ভারতে যাওয়ার সময় দুটি স্বর্ণের বারসহ মো. সানি নামে একজনকে আটক করেছে বিজিবি। সনি ময়মনসিংহ জেলার গফরগাঁও উপজেলার বড় বড়াই কাউরাইদ গ্রামের রফিকুল ইসলামের ছেলে। গত বৃহস্পতিবার (১২ মার্চ) বিকেলে ভারত যাওয়ার সময় তাকে আটক করা হয়। শুক্রবার (১৩ মার্চ) সকালে চাঁপাইনবাবগঞ্জের ৫৯ বিজিবির পাঠানো সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য গণমাধ্যমকে জানানো হয়।

বিজিবি জানায় নিয়মিত তল্লাসীর সময় আর্চওয়ে মেটাল ডিটেক্টরে ধাতব বস্তুর সংকেত পাওয়া গেলে সনি মাই নামে বাংলাদেশি পাসপোর্টধারী ভারতগামী ওই যাত্রীকে আটক করে বিজিবি সদস্যরা। পরে তাকে উপজেলা স্বাস্থ্যকমপ্লেক্সে নেওয়া হয়, সেখানে এক্স-রে করে পায়ু পথে থাকা দুটি স্বর্ণের বারের অস্তিত্ব পাওয়া যায়। উদ্ধার করা দুটি স্বর্ণের বারের ওজন ২৩১ দশমিক ৮১ গ্রাম। চাঁপাইনবাবগঞ্জ স্বর্ণ জুয়েলারি সমিতি পরীক্ষা করে এগুলো খাঁটি স্বর্ণ বলে নিশ্চিত করেছে। যার আনুমানিক বাজারমূল্য ৫৩ লাখ ৯৪ হাজার ৬০০ টাকা।

মহানন্দা ব্যাটালিয়ন (৫৯ বিজিবি) এর অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল গোলাম কিবরিয়া বলেন, রাজস্ব ফাঁকি দিতে চোরাকারবারীরা নানা কৌশল অবলম্বন করছে। তবে এসব অপকৌশল প্রতিরোধে বিজিবি সতর্ক রয়েছে।

তিনি আরও জানান, আটক ব্যক্তির বিরুদ্ধে মামলা করে তাকে শিবগঞ্জ থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে।


ইবি শিক্ষিকা রুনা হত্যার সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণ, ‘পরিকল্পিত হত্যা’ দাবি পরিবারের

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
ইবি প্রতিনিধি

ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের (ইবি) সমাজকল্যাণ বিভাগের সভাপতি সহকারী অধ্যাপক আসমা সাদিয়া রুনা হত্যাকাণ্ড ‘পরিকল্পিত’ বলে অভিযোগ করেছেন নিহতের পরিবার। সিসিটিভি ফুটেজে বিভাগের শিক্ষক সহ সকল স্টাফ আধা ঘণ্টার মধ্যে বিভাগ ত্যাগ করে হত্যাকাণ্ডের পূর্বমুহূর্তে ওই শিক্ষিকাকে একা রেখে প্রস্থান করছিলেন তারা। এতে তাদের প্রতি সন্দেহ আরও ঘনীভূত হয়েছে।

গত বুধবার (৪ মার্চ) বিকেল ৪ টার দিকে সমাজকল্যাণ বিভাগের সাবেক কর্মচারী ফজলুর রহমানের ছুরিকাঘাতে নিজ কক্ষে নির্মম হত্যাকাণ্ডের শিকার হন ওই শিক্ষিকা।

ক্যাম্পাস ও বিভাগ সূত্রে, ঘটনার দিন সমাজকল্যাণ বিভাগের ২১-২২ শিক্ষাবর্ষের পরীক্ষা শেষ করে শিক্ষিকা রুনা নিজ কক্ষে অবস্থান করছিলেন। ওইদিন বিভাগে ইফতার মাহফিলের আয়োজনের বিল উত্তোলনের জন্য নোট প্রস্তুত করতে বলেন বিভাগের সেমিনার লাইব্রেরিয়ান ফজলুল হককে। এ সময় বিভাগের সহকারী রেজিস্ট্রার মোজাম্মেল হক, কর্মচারী সোহাগ, নৈশপ্রহরী সুমন-সহ বিভাগের শিক্ষক হাবিবুর রহমান উপস্থিত ছিলেন। হত্যাকাণ্ডের পূর্বে একে একে বিভাগের শিক্ষক, কর্মকর্তা-কর্মচারীরা বিভাগ ত্যাগ করেন। বিভিন্ন কাজে বিভাগ ত্যাগ করায় ওই সময়ে শিক্ষিকা রুনা একবারেই নিঃসঙ্গ হয়ে পড়েছিলেন। এই সুযোগে ফজলুর রহমান শিক্ষিকার কক্ষে ঢুকে তাকে ছুরিকাঘাত করে। এ সময় বিভাগের আশেপাশের কক্ষগুলোতে কেউ না থাকায় তৎক্ষনাৎ কারও সাহায্য পান নাই নিহত শিক্ষিকা রুনা।

জানা যায়, হত্যাকাণ্ডের সপ্তাহখানেক আগে দাপ্তরিক কাজে অদক্ষ হওয়ায় ওই বিভাগের সহকারী রেজিস্ট্রার বিশ্বজিৎকে উম্মুল মুমিনীন আয়েশা সিদ্দিকা হল এবং অসদাচারণের কারণে মাসখানেক আগে ফজলুর রহমানকে (খুনি) রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগে বদলি করা হয়।

ইসলামিক স্টাডিজ অ্যান্ড থিওলজি অনুষদ ভবনের অভ্যন্তরের সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণে দেখা যায়, গত বুধবার (৪ মার্চ) ঘটনার দিন বিকেল ৩ টায় ৩৮ মিনিটে শিক্ষক হাবিবুর রহমান বিভাগ ত্যাগ করেন। পরে বিকেল ৩ টায় ৪১ মিনিটে বিভাগের কর্মকর্তা মোজাম্মেল এবং ফজলুল হক (লাইব্রেরিয়ান) ও সোহাগ বিপরীত পাশের গেট দিয়ে অনুষদ ভবন ত্যাগ করেন। এ সময় নতুন সহকারী রেজিস্ট্রার মোজাম্মেল কর্মচারী নৈশপ্রহরী সুমনকে বলেন, তারা যতক্ষণ না আসে ততক্ষণ চেয়ারম্যানের এখানে যেন থাকে এমনটা জানান ফজলু (লাইবেরিয়ান) ও কর্মচারী সোহাগ। অর্থাৎ নৈশপ্রহরী সুমনকে বিভাগের দেখভালের দায়িত্ব দিয়ে যান। তবে হত্যাকাণ্ড ঘটনার মাত্র তিন মিনিট আগে (৪ টায় ৯ মিনিট) সুমনও বিভাগ ছেড়ে একই গেইট দিয়ে বেরিয়ে যান। একই সময়ে ভবনের সম্মুখ গেইট দিয়ে রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের কর্মচারী মজিদকে ভবনে ঢুকে দোতলার ঘটনাস্থলের সামনে দিয়ে তৃতীয় তলার রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগে উঠতে দেখা যায়।

এর পূর্বে, বিকেল ৪ টা ১ মিনিটে ফজলুর রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের কিচেন রুম থেকে পকেটে করে পলিথিনে মোড়ানো ‘অজ্ঞাত বস্তু’ নিয়ে বের হয়ে আর সেখানে ফিরে নাই। তবে এর আগে ওই কক্ষে বস্তুটি নিয়ে তাকে বেশ কিছুক্ষণ লুকোচুরি ও পায়চারি করতে দেখা যায়। পরে ফজলুর ৪টা ৪ মিনিটে তৃতীয় তলা থেকে দ্বিতীয় তলার রুনার কক্ষের দিকে যান। সেখান থেকে আবার তিনি ৪ টা ৮ মিনিটে ফিরে আসেন। পরে ফজলুর ৪ টা ১০ মিনিটে তৃতীয় তলা থেকে সিড়ি দিয়ে নেমে ফের দ্বিতীয় তলায় রুনার কক্ষে যান। দুই মিনিট পরেই বিকেল ৪টা ১২ মিনিটে ‘আল্লাহ বাঁচাও বাঁচাও’ বলে চিৎকার করেন শিক্ষিকা রুনা।

পরবর্তীতে ভবনের নিচে থাকা দুই আনসার সদস্য ও দুই শিক্ষার্থী ঘটনাস্থলে পৌঁছালে হত্যাকারী ফজলু কক্ষের মধ্যেই আটকে পড়ে। এ সময় কক্ষটি আটকানো দেখে দরজার উপর দিয়ে কক্ষের মধ্যে শিক্ষিকা রুনাকে রক্তাক্ত অবস্থায় পড়ে থাকতে দেখেন তারা। এসময় ইফতারের আয়োজনের কাজ ব্যস্ত থাকা বিভাগটির তিন শিক্ষার্থীও সেখানে উপস্থিত হয়ে দরজা ভেঙে ফেলেন। তখন তারা ফজলুকে নিজের গলায় ছুরি চালানো অবস্থায় দেখেন। ফজলুর গণপিটুনি থেকে বাঁচার জন্য আত্মহত্যার নাটক করেন বলে দাবি করেন উপস্থিত শিক্ষার্থীরা। ঘটনার দিন দুপুর সাড়ে ১২ টায় বিভাগের শিক্ষক শ্যাম সুন্দরও বিভাগ ছাড়েন বলে জানান বিভাগের কর্মকর্তারা।

শিক্ষার্থীদের দাবি, ঘটনার দিন বিভাগের ইফতার মাহফিল ছিল। সেখানে সকল শিক্ষক, কর্মকর্তা-কর্মচারীর উপস্থিত থাকার কথা থাকলেও সবার একসঙ্গে বিভাগ ত্যাগের বিষয়টি রহস্যজনক। বিষয়টি তদন্ত হওয়া উচিত।

সেমিনার লাইব্রেরিয়ান ফজলুল হক বলেন, পরীক্ষা শেষ করে ইফতারের বিলের জন্য ম্যাম চেক দেয় এবং নোট প্রস্তুত করতে বলেন। এ কাজ শেষ করে আমার মেয়েকে স্কুল থেকে আনতে ম্যামকে বলে যাই। এসময় আমার সাথে সহকারী রেজিস্ট্রার মোজাম্মেল হকও ছিলেন।

কর্মচারী সোহাগ বলেন, টিসিবির মালামাল আনতে ফজলুল ভাবি আর সহকারী রেজিস্ট্রার এক সাথে বের হয়েছিলাম।

সহকারী রেজিস্ট্রার মোজাম্মেল হক জানান, আমি ম্যাম থেকে ছুটি নিয়ে শেখপাড়া বাজারে ফল কিনতে গিয়েছিলাম। আমার সঙ্গে ফজলুল এবং সোহাগ ছিল। এবং যাওয়ার সময় নৈশপ্রহরী সুমনের কাছে বিভাগের দায়িত্ব দিয়ে গিয়েছিলাম।

নৈশপ্রহরী সুমন বলেন, নিজের বাসায় দরকারি কাজ থাকায় ম্যামের থেকে ছুটি নিয়ে ঠিক ৪টায় বিভাগ ছেড়ে বাড়িতে গিয়েছিলাম। তবে সিসিটিভি ফুটেজে তাকে ৪টায় ৮ মিনিটেও (হত্যার ৪ মিনিট আগে) ওই ভবনে দেখা যাওয়ার জিজ্ঞেস করলে পরে তিনি থাকার বিষয়টি স্বীকার করেন। এর আগে নৈশপ্রহরী সুমন বিভাগে থাকাকালীন ফজলু দ্বিতীয় তলায় গেলেও তার সঙ্গে দেখা হয়নি বলে দাবি সুমনের। এছাড়া, বিভাগে দায়িত্ব পালনে চরম অবহেলার অভিযোগও রয়েছে নৈশপ্রহরী সুমনের বিরুদ্ধে।

হত্যাকাণ্ডের শিকার শিক্ষিকা রুনার পরিবার জানান, বিভাগে একজন শিক্ষককে কিভাবে একা রেখে সবাই চলে যায়। ফজলু কিভাবে জানল রুনা বিভাগে একা ছিল। আমাদের কাছে এটা পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড মনে হয়েছে। সুষ্ঠু তদন্ত করে হত্যাকারী ও হত্যার সাথে জড়িত সকলকে দ্রুত আইনের আওতায় এনে বিচার করতে হবে।


মাদক ও চোরাচালান বিরোধী অভিযানে সাতক্ষীরা সীমান্তে অবৈধ ভারতীয় মালামাল জব্দ

আপডেটেড ১৩ মার্চ, ২০২৬ ১৭:২৫
সাতক্ষীরা প্রতিনিধি 

সাতক্ষীরা ব্যাটালিয়ন (৩৩ বিজিবি) এর অধীনস্থ ভোমরা, কাকডাঙ্গা, মাদরা, সুলতানপুর ও হিজলদী বিওপির আভিযানিক দল দায়িত্বপ্রাপ্ত এলাকায় শুক্রবার (১৩ মার্চ) মাদক চোরাচালান বিরোধী বিশেষ অভিযান পরিচালনা করে ভারতীয় ২৩ বোতল মদ, ৭০ পিস ভায়াগ্রা ট্যাবলেট ও ৫৮৪ পিস মোবাইল ডিসপ্লেসহ ঔষধ, শাড়ি ও কমমেটিকস সামগ্রী আটক করে।

ভোমরা বিওপির পৃথক তিনটি বিশেষ দল মেইন পিলার ৩ হতে সাতক্ষীরা সদর থানাধীন শ্মশান ঘাট ও ফলমোড় নামক স্থান হতে ৩৮,৫৬০/-টাকা মূল্যের ভারতীয় মদ, ভায়াগ্রা ট্যাবলেট, জিরা ও ফুসকা আটক করে। মাদরা বিওপির বিশেষ আভিযানিক দল

কলারোয়া থানাধীন উত্তর ভাদিয়ালি নামক স্থান হতে ১ লক্ষ ৪০ হাজার -টাকা মূল্যের ভারতীয় ঔষধ আটক করে। কাকডাঙ্গা বিওপির কলারোয়া থানাধীন ভাদিয়ালি নামক স্থান হতে ৮০ হাজার টাকা মূল্যের ভারতীয় শার্টের পিস আটক করে। মাদরা বিওপির কলারোয়া থানাধীন তেঁতুলতলা মাঠ নামক স্থান হতে ৩৫ হাজার টাকা মূল্যের ভারতীয় শাড়ি আটক করে। সুলতানপুর বিওপির কলারোয়া থানাধীন আমবাগান নামক স্থান হতে ১ লক্ষ ৫ হাজার টাকা মূল্যের ভারতীয় ঔষধ আটক করে।

এছাড়া হিজলদী বিওপির বিশেষ আভিযানিক দল সীমান্ত পিলার ১৩/৩ এস এর ১৪ আরবি কলারোয়া থানাধীন বড়ালী নদীরপাড় নামক স্থান হতে ২০,৪৪,০০০/-টাকা মূল্যের ভারতীয় মোবাইল ডিসপ্লে আটক করে।

সর্বমোট তেইশ লক্ষ দুই হাজার টাকা মূল্যের মাদক চোরাচালানী মালামাল জব্দ করে। এবিষয়ে মাদক ও চোরাচালান আইনে মামলা হয়েছে বলে বিজিবি সুত্রে জানাযায়।


ফরিদপুরে যুবদল নেতাকে হাতুরী দিয়ে পিটিয়ে আহত

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
ফরিদপুর প্রতিনিধি

জমি সংক্রান্ত বিরোধের জেরে ইউনিয়ন যুবদলের সভাপতি মো. জাহাঙ্গীর হোসেনকে হাতুরী ও লোহার রড দিয়ে পিটিয়ে মারাত্বক ভাবে আহত করেছে সন্ত্রাসীরা। পরে তাকে উদ্ধার করে ফরিদপুর সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। ঘটনাটি ঘটেছে সদর উপজেলার ডিক্রিরচর ইউনিয়নের বেরিবাঁধ এলাকায়। এ ঘটনায় থানায় অভিযোগ দায়ের হলেও পুলিশ কাউকে গ্রেফতার করতে পারেনি।

অভিযোগ ও ভুক্তভোগী জাহাঙ্গীরের স্বজনেরা জানান, জমি নিয়ে বিরোধের জের ধরে পাঞ্জু মেম্বার, সজীব, সুজন গংদের সাথে বিরোধ চলছিল মো. বদর উদ্দিন বেপারীর। বিরোধের জেরে স্থানীয় ওয়ার্ড বিএনপির সাবেক সভাপতি বদর উদ্দিন বেপারীর ছেলে ওয়ার্ড যুবদলের সভাপতি মো. জাহাঙ্গীর হোসেন বুধবার (১১ মার্চ) রাতে ব্যবসা প্রতিষ্ঠান বন্ধ রেখে বাড়ী ফিলছিলেন। এসময় পাঞ্জু মেম্বারের নেতৃত্বে সজীব, তামীম, সোহানসহ অজ্ঞাত আরো ৪/৫ জন লোহার রড, হাতুরী, রামদা, ছ্যান নিয়ে জাহাঙ্গীরের উপর হামলা চালায়। এসময় হামলাকারীরা হাতুরী দিয়ে শরীরের বিভিন্ন স্থানে পিটিয়ে জাহাঙ্গীরকে গুরুতর আহত করে। হামলাকারীরা এসময় জাহাঙ্গীরের কাছে থাকা দোকানের সাড়ে ৫ লাখ টাকা ছিনিয়ে নেয়। রক্তাক্ত অবস্তায় জাহাঙ্গীরকে মৃত ভেবে হামলাকারীরা ফেলে রাখে। পরে স্থানীয়রা গুরুতর আহত অবস্থায় জাহাঙ্গীরকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে যায়। বর্তমানে জাহাঙ্গীর সদর হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছে। এ ঘটনায় কোতয়ালী থানায় একটি অভিযোগ দেওয়া হয়েছে।

বিএনপি নেতা বদর উদ্দিন বেপারী জানান, জমি নিয়ে পাঞ্জু মেম্বারের সাথে বিরোধ চলছিল। এরই জের ধরে আমার ছেলের উপর হামলা চালানো হয়। এছাড়া আমার ছেলের কাছে থাকা রড, সিমেন্ট বিক্রির সাড়ে ৫ লাখ টাকা ছিনিয়ে নিয়ে যায়।

হামলার শিকার যুবদল নেতা জাহাঙ্গীর হোসেন বলেন, রাতে বাড়ী ফেরার পথে পাঞ্জু মেম্বারের নেতৃত্বে আমার উপর হামলা হয়। হামলাকারীরা হাতুরী, লোহার রড দিয়ে পিটিয়ে আমাকে মারাত্বক ভাবে আহত করে।

পাঞ্জু বেপারীর ভাই হেলালুদ্দিন জানান, আমাদের জায়গা জোরপূবক দখলে নিতে গেলে তাদের বাঁধা প্রদান করা হয়। এ নিয়ে আমার ভাইকে মারপিট করলে পরবর্তীতে মারামারি হয়।

কোতয়ালী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শহিদুল ইসলাম জানান, এ বিষয়ে লিখিত অভিযোগ পাওয়া গেছে। তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহন করা হবে।


লামায় লাকড়ি বোঝাই গাড়ি খাদে পড়ে প্রাণ গেল ২ জনের

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
লামা ( বান্দরবান)  প্রতিনিধি 

বান্দরবান জেলার লামা উপজেলায় লাকড়ি বোঝাই একটি ট্রাক ২০০ ফুট পাহাড়ি খাদে পড়ে চালকসহ ২ জন নিহত হয়েছেন। বৃহস্পতিবার (১২ মার্চ) দিনগত রাতে উপজেলার ফাঁসিয়াখালী- লামা সড়কের ইয়াংছা টার্নিং পয়েন্টে এ দূর্ঘটনা ঘটে। নিহতরা হলেন- ইয়াংছা কালিরঝিরির বাসিন্দা আব্দুল কাদেরের ছেলে ট্রাক চালক মো. আলমগীর (৩৫) ও পোয়াংবাড়ীর বাসিন্দা মোহাম্মদ হোসেনের ছেলে আনোয়ার হোসেন(৪৫)।

স্থানীয় সূত্র জানায়, বৃহস্পতিবার (১২ মার্চ) দিনগত রাত ৮ টার দিকে লাকড়ি বোঝাই একটি ট্রাক উপজেলার ফাঁসিয়াখালী ইউনিয়নের বনপুর এলাকা থেকে লাকড়ি বোঝাই করে ইয়াংছার দিকে যাচ্ছিল। এ সময় ট্রাকটি সড়কের ইয়াংছা টার্নিং পয়েন্টে পৌঁছলে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে খাদে পড়ে যায়। এতে গাড়ির চালক মো. আলমগীর ও আনোয়ার হোসেন গুরুতর আহত হন। পরে স্থানীয়রা আহতদের উদ্ধার করে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে গেলে দায়িত্বরত চিকিৎসক মো. আলমগীর ও আনোয়ার হোসেনকে মৃত ঘোষণা করেন।

ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে লামা থানা পুলিশের অফিসার ইনচার্জ মুহাম্মদ শাহজাহান কামাল বলেন, এ ঘটনায় কারো কোন অভিযোগ না থাকায় লাশ স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা হয়। পাশাপাশি দুইটি অপমৃত্যু রুজু করা করা হয়েছে। যা পরবর্তীতে তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।


banner close