টেকনাফ-সেন্ট মার্টিন নৌরুটে পর্যটকবাহী জাহাজ চলাচল বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। প্রতিবেশী মিয়ানমারের রাখাইনে জান্তা বাহিনীর সঙ্গে বিদ্রোহীদের সংঘাত চলছে অনেক দিন ধরেই। গত দুই মাসে এই সংঘর্ষ আরও বেড়েছে। এর প্রভাব পড়েছে সীমান্তের এ-পারে বাংলাদেশেও। মিয়ানমার বাহিনী একাধিকবার আকাশসীমা লঙ্ঘন করেছে, গোলাগুলিতে প্রাণ ঝরেছে। এই অবস্থার মধ্যে এমন সিদ্ধান্ত এল।
যদিও জেলা প্রশাসন বলছে নাফ নদীতে নাব্যতা সংকট দেখা দেয়ায় এমন সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে। এর পরিবর্তে কক্সবাজার ও চট্টগ্রাম থেকে জাহাজ পরিচালনার সিদ্ধান্ত হয়েছে।
সংশ্লিষ্ট একাধিক সূত্র বলেছে, সাগর উত্তাল থাকার পাশাপাশি কালবৈশাখীর শঙ্কা থাকায় দুর্ঘটনা এড়াতে প্রতি বছর এপ্রিল থেকে সেপেটম্বরের শেষ সপ্তাহ পর্যন্ত টেকনাফ-সেন্ট মার্টিন ও সেন্ট মার্টিন-কক্সবাজার রুটে পর্যটকবাহী জাহাজ চলাচল বন্ধ রাখা হয়। এবার টেকনাফ-সেন্ট মার্টিন রুটে জাহাজ চলাচল বন্ধের এই সময়কাল বৃদ্ধির পেছনে সীমান্তের ওপারে মিয়ানমারে সংঘর্ষ একটি বড় কারণ। নাফ নদীর নাব্যতা সংকটও আরেকটি কারণ।
টেকনাফের দমদমিয়া ঘাট থেকে যাত্রী নিয়ে মিয়ানমার সীমান্তঘেঁষে সেন্ট মার্টিন যাতায়াত করে আটটি জাহাজ। এর মধ্যে দুটি এসি ও অত্যাধুনিক প্রযুক্তিসম্পন্ন। দুই ঘণ্টায় টেকনাফ থেকে সেন্ট মার্টিন পৌঁছায় এসব জাহাজ। এ ছাড়া কক্সবাজার থেকে কর্ণফুলী এক্সপ্রেস ও চট্টগ্রাম থেকে এমভি বে-ওয়ান সেন্ট মার্টিন যাতায়াত করে। বিলাসবহুল এসব জাহাজে স্বস্তি থাকলেও টানা ৮-১০ ঘণ্টা থাকতে হয় সাগরে।
প্রায় দুই মাস ধরে নাইক্ষ্যংছড়ির তুমব্রু সীমান্তে উত্তেজনা চলছে। সীমান্তের ওপারে মিয়ানমার থেকে মর্টার শেল, গোলাগুলিসহ নানা ভারী অস্ত্রের আওয়াজে এ-পারে বান্দরবানের ঘুমধুম ইউনিয়নের তুমব্রু ও বাইশপারী এলাকার মানুষ দিন কাটাচ্ছেন আতঙ্কে। গোলার আওয়াজ উখিয়া-টেকনাফের সীমান্ত এলাকায়ও শোনা যায়।
মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যের পাহাড় থেকে ছোড়া মর্টার শেল বেশ কয়েকবার বাংলাদেশের ভূখণ্ডে এসে পড়েছে। দেশটির সামরিক বাহিনীর হেলিকপ্টার বেশ কয়েকবার আকাশসীমাও লঙ্ঘন করেছে। সর্বশেষ গত ১৬ সেপ্টেম্বর রাতে তুমব্রুর কোনারপাড়া সীমান্তে শূন্যরেখায় মিয়ানমার থেকে ছোড়া মর্টার শেলের আঘাতে এক রোহিঙ্গা যুবক নিহত হন। আহত হন রোহিঙ্গা শিশুসহ পাঁচজন। একই দিন দুপুরে এই সীমান্তের হেডম্যানপাড়ায় মিয়ানমার সীমান্তের ভেতরে মাইন বিস্ফোরণে আহত হন বাংলাদেশি এক যুবক।
এর আগে গত ২৮ আগস্ট তুমব্রু উত্তরপাড়ায় একটি অবিস্ফোরিত মর্টার শেল এসে পড়ে। সে দিনই সীমান্তে মিয়ানমার সেনাবাহিনীর হেলিকপ্টার ও যুদ্ধবিমানকে চক্কর দিতে দেখা যায়। এরপর ৩ সেপ্টেম্বর মিয়ানমারের দুটি যুদ্ধবিমান ও ফাইটিং হেলিকপ্টার থেকে ছোড়া দুটি গোলা ঘুমধুম ইউনিয়নের ৮ নম্বর ওয়ার্ড এলাকায় এসে পড়ে। সেগুলো অবিস্ফোরিত থাকায় হতাহতের ঘটনা ঘটেনি। এর তিন দিন পর পুনরায় ওই সীমান্তে ভারী অস্ত্র থেকে গোলা ছোড়ার শব্দ ভেসে আসে। এসব ঘটনায় চারবার ঢাকায় মিয়ানমারের কূটনীতিককে তলব করে প্রতিবাদ জানিয়েছে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। এ ছাড়া বিদেশি কূটনীতিকদের সঙ্গে বৈঠকেও বিষয়টি তুলেছে মন্ত্রণালয়। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে যোগ দিতে যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কে গিয়ে বিভিন্ন বৈঠকেও রোহিঙ্গা ইস্যুটি তুলেছেন। এর পরও পরিস্থিতির উন্নতি হয়নি। যদিও গত কয়েক দিন সীমান্তের ওপারে গোলাগুলির আওয়াজ অনেকখানি কমে গেছে। তবে স্থানীয়দের আশঙ্কা, যেকোনো সময় বেড়ে যেতে পারে সীমান্তের ওপারের সংঘর্ষ।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে স্থানীয় প্রশাসনের একাধিক সূত্র বলেছে, টেকনাফ থেকে সেন্ট মার্টিন নৌরুটে জাহাজগুলো নাফ নদী দিয়ে মিয়ানমার সীমান্তঘেঁষে যাতায়াত করে। সীমান্তের ওপারে সংঘাত চলায় কর্তৃপক্ষ অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে এমন সিদ্ধান্ত নিয়েছে। পাশাপাশি নাফ নদীর নাব্যতা সংকটের বিষয়টিও আছে।
তবে টেকনাফ উপজেলার ভারপ্রাপ্ত নির্বাহী কর্মকর্তা এরফানুর হক দৈনিক বাংলাকে বলেন, ‘সংশ্লিষ্টদের নির্দেশে টেকনাফ থেকে পর্যটকবাহী জাহাজ চলাচল বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত হয়েছে। নৌপথের সমস্যার কারণে পরবর্তী নির্দেশনা না আসা পর্যন্ত জাহাজ চলাচল বন্ধ থাকবে।’
আর কক্সবাজারের জেলা প্রশাসক মামুনুর রশীদ দৈনিক বাংলাকে বলেন, ‘নাফ নদীতে নাব্যতা সংকট তৈরি হয়েছে। এতে জাহাজ চলাচলের পথ প্রায় বন্ধ হয়ে গেছে। ডুবোচরে আটকা পড়লে পর্যটকদের ঝুঁকি থাকে। নাব্যতা কেটে গেল হয়তো আবার জাহাজ চলাচল শুরুর সিদ্ধান্ত হতে পারে।’
মিয়ানমার পরিস্থিতির কারণে এমন সিদ্ধান্ত কি না জানতে চাইলে জেলা প্রশাসক বলেন, ‘তাদের অভ্যন্তরে যা হচ্ছে, তার সঙ্গে তো এসবের সম্পৃক্ততা নেয়। আমরাও সজাগ আছি। নাব্যতার কারণে দুর্ঘটনা এড়াতে এমন সিদ্ধান্ত।’
অবশ্য বেসামরিক বিমান ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ের সচিব মোকাম্মেল হোসেন বলছেন অন্য কথা। গত শনিবার কক্সবাজারে পর্যটন মেলার অনুষ্ঠানে গিয়ে তিনি বলেন, সেন্ট মার্টিনে যে হারে অপরিকল্পিত স্থাপনা নির্মাণ হচ্ছে তা পর্যটনের সঙ্গে যায় না। এগুলো বন্ধের জন্য কাজ চলছে। সবকিছু বিবেচনায় রেখে আপাতত টেকনাফ ঘাট থেকে সেন্ট মার্টিনের উদ্দেশ্যে ছেড়ে যাওয়া জাহাজ বন্ধ রাখা হয়েছে। কবে নাগাদ টেকনাফ ঘাট থেকে জাহাজ ছাড়বে তা পরে জানানো হবে।
পর্যটন ব্যবসায় ধসের আশঙ্কা
এদিকে টেকনাফ- সেন্ট মার্টিন নৌরুটে জাহাজ চলাচল বন্ধের সিদ্ধান্তে লোকসানের আশঙ্কা করছেন ব্যবসায়ীরা। তারা বলছেন, নৌপথে টেকনাফ থেকে সেন্ট মার্টিন যেতে সময় লাগে দুই ঘণ্টা। আর কক্সবাজার কিংবা চট্টগ্রাম থেকে নৌপথে সেন্ট মার্টিন পৌঁছাতে সময় লাগে সাত থেকে আট ঘণ্টা। দীর্ঘসময় সমুদ্রভ্রমণে আগ্রহী নন অনেক পর্যটক। কাজেই সরকার যে সিদ্ধান্ত নিয়েছে, তাতে পর্যটকরা সেন্ট মার্টিন ভ্রমণে নিরুৎসাহিত হবেন। এতে পর্যটন ব্যবসা ক্ষতিগ্রস্ত হবে।
সেন্ট মার্টিনের হোটেল ব্যবসায়ী নেতা রিদুয়ানুল হক বলেন, ‘চট্টগ্রাম-কক্সবাজার থেকে দুটি জাহাজ চলে। এসব জাহাজে অনেকে আসতে চায় না। কারণ সাত ঘণ্টার বেশি সময় জাহাজে থাকতে হয়। সে জায়গায় টেকনাফ থেকে চলে সাত-আটটা জাহাজ। অনেক মানুষ এ রুটে চলাচল করতে স্বস্তিবোধ করে। সরকারের এমন সিদ্ধান্তের ফলে আগামী শীত মৌসুমে সেন্ট মার্টিন ভ্রমণে আগ্রহী পর্যটকরা হয়তো সিদ্ধান্ত পরিবর্তন করবে। ফলে ব্যবসায়ীরা লোকসানে পড়বে, সরকার রাজস্ব হারাবে।’
আরেক ব্যবসায়ী রফিকুল ইসলাম বলেন, ‘সামনের মৌসুমে ব্যবসার লক্ষ্যে প্রস্তুতি চলছে। এমন সময় জাহাজ চলাচল বন্ধের সিদ্ধান্ত নেয়া হলো। এতে ব্যবসা ক্ষতিগ্রস্ত হবে। যারা কক্সবাজার থেকে জাহাজ পরিচালনা করবেন, তারা এ সুযোগটা কাজে লাগিয়ে অতিরিক্ত মুনাফা করার চেষ্টা করবেন।’
সেন্ট মার্টিনের বাসিন্দা নাজিম উদ্দিন বলেন, ‘টেকনাফ থেকে জাহাজ না আসলে মালামল আনতে খরচ বেশি হবে। সে ক্ষেত্রে খাবার বা অন্যান্য জিনিসপত্রের দামও বাড়তে পারে। তা ছাড়া আমরা এ মৌসুমের ওপর নির্ভরশীল। বড় লোকসান হবে আমাদের।’
সেন্ট মার্টিন ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মুজিবুর রহমান দৈনিক বাংলাকে বলেন, ‘শীত মৌসুমে পর্যটনের ওপর নির্ভর করে বাকি দিন পার করে সেন্ট মার্টিনের মানুষ। টেকনাফ থেকে জাহাজ বন্ধ হলে বড় লোকসানে পড়বেন এ দ্বীপের বাসিন্দারা। যদিও এখনো চূড়ান্তভাবে আমাদের জানানো হয়নি। তার পরও প্রশাসনের সঙ্গে আমরা বিষয়টি নিয়ে আলোচনা করব।’
কিশোরগঞ্জ জেলার মিঠামইন উপজেলার গোপদীঘি ইউনিয়নের সাবেক ইউপি সদস্য মোঃ মুক্তার মিয়ার ঝুলন্ত লাশ উদ্ধার করা হয়েছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, গোপদীঘি ইউনিয়নের নতুন চাঁদপুর গ্রামের বাসিন্দা এবং মৃত কালা মিঞার ছেলে মোঃ মুক্তার মিয়া গত মঙ্গলবার (২৫ আগস্ট) দিবাগত রাতে তার আত্মীয়ের ঘরে ঘুমাতে যান। কিন্তু ভোররাতে তার ঝুলন্ত মৃতদেহ দেখতে পান স্বজনরা।
আত্মীয়-স্বজনদের ডাক-চিৎকার শুনে আশপাশের লোকজন ছুটে এসে দ্রুত ঝুলন্ত অবস্থা থেকে লাশটি নামিয়ে ফেলেন।
খবর পেয়ে বুধবার (২৬ আগস্ট) সকাল ১১টার দিকে মিঠামইন থানার পুলিশের উপ পরিদর্শক রিয়াজ হোসেন ঘটনাস্থল পরিদর্শক করে লাশের সুরতহাল রিপোর্ট তৈরির পর ময়নাতদন্তের জন্য মরদেহ কিশোরগঞ্জ জেলা সদর হাসপাতালের মর্গে প্রেরণ করেন।
মুক্তার মিয়ার মৃত্যুর প্রকৃত কারণ নিয়ে এলাকায় নানা আলোচনা চলছে। অনেকে এটিকে আত্মহত্যা বলে মনে করছেন না। তাদের দাবি, মুক্তার মিয়াকে পরিকল্পিতভাবে হত্যা করে পরে লাশ দড়ি দিয়ে ঝুলিয়ে আত্মহত্যা হিসেবে চালিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করা হয়েছে।
তবে পুলিশের পক্ষ থেকে এখনো মৃত্যুর কারণ সম্পর্কে আনুষ্ঠানিকভাবে কিছু জানানো হয়নি। ময়নাতদন্তের রিপোর্ট হাতে পাওয়ার পর বিস্তারিত জানা যাবে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।
দিনাজপুর সদর উপজেলার পুলহাট বিসিক এলাকায় একটি রাইস মিলের গুদামে অভিযান চালিয়ে অবৈধভাবে মজুদ করা ২১৭ বস্তা রাসায়নিক সার জব্দ করেছে উপজেলা প্রশাসন। গোপন সংবাদের ভিত্তিতে বুধবার (২৬ আগস্ট) দুপুরে মেসার্স ফুয়াদ ইন্ডাস্ট্রিজ রাইস মিলে এই অভিযান চালানো হয়।
জব্দ করা সারের মধ্যে রয়েছে ১৭০ বস্তা ইউরিয়া ও ৪৭ বস্তা ডিএপি, যার আনুমানিক বাজারমূল্য প্রায় ২ লাখ ২৯ হাজার ৫০০ টাকা।
অভিযান চলাকালে সারের কোনো বৈধ কাগজপত্র দেখাতে না পেরে গুদাম মালিক মনোহর আলম (৬৫) অবৈধ সারের বিষয়টি স্বীকার করেন। এর প্রেক্ষিতে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করে তাঁকে ১ মাস ১৫ দিনের বিনাশ্রম কারাদণ্ড ও ৩০ হাজার টাকা অর্থদণ্ড প্রদান করা হয়। অনাদায়ে তাঁকে আরও ১৫ দিনের কারাদণ্ড ভোগ করতে হবে।
ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করেন দিনাজপুর সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রুহুল আমিন শরীফ। তিনি জানান, জব্দ করা সার সদর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তার জিম্মায় রাখা হয়েছে এবং কৃষকদের স্বার্থে নির্ধারিত সরকারি মূল্যে তা বিক্রি করে প্রাপ্ত অর্থ সরকারি কোষাগারে জমা করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
অভিযানে স্থানীয় কৃষি কর্মকর্তা, কোতোয়ালি থানার পুলিশ সদস্যসহ অন্যান্য প্রশাসনিক কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
জ্বালানি সংকট, বিদ্যুৎকেন্দ্রের কারিগরি ত্রুটি ও রক্ষণাবেক্ষণ, জাতীয় গ্রিডের সীমাবদ্ধতা এবং চাহিদা বাড়ায় দেশে বিদ্যুৎ ঘাটতি ও লোডশেডিং বেড়েছে। একারনে ঢাকায় লোডশেডিং সমন্বয় করে সাশ্রয় হওয়া বিদ্যুৎ দেশের অন্যান্য অঞ্চলে সরবরাহের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার।
বিদ্যুৎ বিভাগ জানিয়েছে, ঢাকার দুই বিতরণ সংস্থা ডিপিডিসি ও ডেসকোর আওতায় প্রয়োজন অনুযায়ী লোডশেডিং সমন্বয় করা হচ্ছে। এতে সাশ্রয় হওয়া বিদ্যুৎ গ্রামাঞ্চলসহ দেশের অন্যান্য এলাকায় পুনর্বণ্টন করা হচ্ছে। ফলে ঢাকার বাইরের শিল্প-কারখানা ও গুরুত্বপূর্ণ গ্রাহকদের বিদ্যুৎ সরবরাহ কিছুটা উন্নত হচ্ছে এবং গ্রামাঞ্চলে দীর্ঘসময় লোডশেডিংয়ের চাপও কমছে।
পিজিসিবি সূত্রে জানা গেছে, মঙ্গলবার (২৫ আগস্ট) বিকাল ৩টার দিকে জাতীয় পর্যায়ে বিদ্যুতের চাহিদা ছিল ১৬ হাজার ১৭৬ মেগাওয়াট। এর বিপরীতে উৎপাদন হয় ১৩ হাজার ৯১৭ মেগাওয়াট। ফলে ঘাটতি দাঁড়ায় ২ হাজার ২৫৯ মেগাওয়াট।
সরকারের লক্ষ্য, দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে লোডশেডিংয়ের চাপ তুলনামূলকভাবে সুষমভাবে বণ্টন করা। জ্বালানি সরবরাহ ও বিদ্যুৎকেন্দ্রের উৎপাদন পরিস্থিতির উন্নতি হলে সংকট আরও কমবে বলে আশা করছে বিদ্যুৎ বিভাগ।
কাস্টমসের সিপাহী আবু রায়হান তালুকদারকে নিজ ঘরে নৃশংস ভাবে হত্যার করে ঘুমিয়ে পড়ে ঘাতক কেয়ারটেকার। পরের দিন মরদেহটি ১৫ টুকরো করে তিনটি ট্রাভেল ব্যাগে ভরে রাতে বাড়ির পাশে থাকা পরিত্যাক্ত পুকুরে ফেলে রাখে। লাশ উদ্ধারের ২৩ দিন পর বাড়ির কেয়ারটেকার রাজু ও তার বন্ধু জিতুলকে মঙ্গলবার (২৫ আগস্ট) রাতে মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গল উপজেলা থেকে গ্রেপ্তার করেছে মামলা তদন্তকারী কর্মকর্তা শুভ্র।
বুধবার (২৬ আগস্ট) দুপুরে সহকারী পুলিশ সুপার এস,এম হাসান ইস্রাফীল, পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) মশিউর রহমান আসামীদের নিয়ে ফুলবাড়িয়া উপজেলার সোয়াইতপুর গ্রামে অভিযান চালিয়ে তাদের দেওয়া তথ্যে হত্যাকান্ডে ব্যবহৃত একটি ধারালো চাপাতি, দুটি চাকু, একটি লোহার রড, রক্তমাখা পাঞ্জাবি, বালিশ, কাভার তোলা ও একটি কাঠের গুড়ি উদ্ধার করেছে।
ময়মনসিংহের ফুলবাড়িয়া উপজেলার এনায়েতপুর ইউনিয়নের সোয়াইতপুর গ্রমের মৃত আবু বকর সিদ্দিকের কনিষ্ঠ ছেলে আবু রায়হান তালুকদার (৪৫)। বাংলদেশ কাস্টমস এক্সাইজ ও ভ্যাট দপ্তর কমলাপুরে সিপাহী পদে কর্মরত ছিল। গত ২৩ জুলাই রাতে বাড়িতে আসেন। ২৬ জুলাই কর্মস্থলে না যাওয়া তার এক সহকর্মী নাজমুন্নাহার বিউটি বাড়িতে ফোন করে জানায় সে অফিসে আসেনি। পরের দিন তার বড় ভাই মো. নুরুল ইসলাম ফুলবাড়িয়া থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি করেন। এরপর বাড়ির কেয়ারটেকার পাশ্ববর্তী অনন্তপুর গ্রামে ফজলু মির্জার ছেলে রাজু (১৮) ও একই গ্রামের তার বন্ধু জিতুল (১৯) গ্রাম ছেড়ে পালিয়েছিল। লাশ উদ্ধার দুই দিন পর নিহতের বড় ভাই বাদী হয়ে রাজু ও জিতুলের নাম উল্লেখ করে ফুলবাড়িয়া থানায় হত্যা মামলা দায়ের করেন।
পুলিশ সূত্রে জানাযায়, আবু রায়হান তালুকদার কর্মস্থল থেকে বাড়িতে আসার পরের দিন তার নিজ ঘরে হত্যা করে ঘুমিয়ে পড়ে ঘাতক। পরে ঘরেই চাপাতি ও চাকু দিয়ে মরদেহটি হাত,পা মস্তকসহ ১৫ টুকরো করে। এসয় অতিরিক্ত সাউন্ড দিয়ে গান বাজায়। পরে তিনটি ট্রাভেল ব্যাগে ভরে বাড়ির পাশে পুকুরে ফেলে রাখে। এরপর দুইদিন এলাকায় ছিল। পরে কক্সবাজার চলে যায়। সেখান থেকে ঢাকা আসে। পরে তারা মৌলভী বাজার জেলার শ্রীমঙ্গল রেলস্টেশন সংলগ্ন একটি বাসা ভাড়া নিয়ে থাকেন। একটি হোটেলে চাকুরিও ঠিক করেন।
ত্রিশাল সার্কেলের সহকারী পুলিশ সুপার এস,এম হাসান ইস্রাফীল জানিয়েছেন, রায়হান তালুকদারকে নিজ ঘরে হত্যা করে ১৫ টুকরো করা হয়। পরে ট্রাভেল ব্যাগে ভরে বাড়ির পাশে পুকুরে ফেলে রেখে ঘাতকরা। গত চারদিন টানা অভিযান চালিয়ে শ্রীমঙ্গল উপজেলা থেকে তাদেরকে গ্রেপ্তার করা হয়। আসামীদের নিয়ে অভিযান চালিয়ে তাদের দেওয়া তথ্যমতে হত্যাকান্ডে ব্যবহৃত চাপাতি, চাকুসহ বিভিন্ন আলমত সংগ্রহ করা হয়েছে।
যথাযোগ্য মর্যাদা ও ভাবগাম্ভীর্যের মধ্য দিয়ে বুধবার (২৬ আগস্ট) পবিত্র ঈদ-ই-মিলাদুন্নবী (সা.) উদযাপন করা হয়।
এ উপলক্ষ্যে দুপুরে খুলনা সিটি কর্পোরেশনের (কেসিসি) নগর ভবন চত্বরে মহানবী (সা.) এর জীবন ও আদর্শের ওপর আলোচনা সভা, হামদ ও নাত প্রতিযোগিতার পুরস্কার বিতরণ ও দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়। এতে প্রধান অতিথি ছিলেন কেসিসি প্রশাসক নজরুল ইসলাম মঞ্জু।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি বলেন, মহানবী (সা.) এর আদর্শ ধারণ, অনুসরণ ও অনুকরণ করা প্রয়োজন। তিনি ইসলাম ধর্ম প্রতিষ্ঠার জন্য লড়াই করেছেন, দ্বীন প্রতিষ্ঠার জন্য কাজ করেছেন এবং আমাদের ধর্ম পালন শিখিয়েছেন। মহানবী (সা.) কখনও মিথ্যা কথা বলেননি এবং ন্যায়ের পক্ষে লড়াই করেছেন।
তিনি বলেন, মহানবী (সা.) এর আদর্শ ধারণ করতে পারলে সারা বিশ্বের মানুষের জন্য কল্যাণ বয়ে আনবে। আমাদের কাজ হলো মহানবীর (সা.) জীবন আদর্শ প্রজন্ম থেকে প্রজন্মে ছড়িয়ে দেওয়া। প্রশাসক সন্তানদের কোরআন শিক্ষা দেয়ার পাশাপাশি প্রিয় নবীর আদর্শের মানুষ হিসেবে গড়ে তুলতে অভিভাবকদের প্রতি আহবান জানান।
খুলনা সিটি কর্পোরেশন আয়োজিত আলোচনা সভায় কেসিসি প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা রাজিব আহমেদের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে প্রধান প্রকৌশলী মশিউজ্জামান খান, সচিব মো: রেজা রশীদ, ওয়ার্ডের ক্ষমতাপ্রাপ্ত কর্মকর্তাসহ কেসিসির কর্মকর্তা-কর্মচারীরা উপস্থিত ছিলেন।
মহানবী (সা.) এর জীবন ও আদর্শের ওপর আলোচনা করেন ইসলামিক ফাউন্ডেশনের উপপরিচালক মোঃ আবদুল্লাহ, কেসিসির শিক্ষক সমিতির সভাপতি নাসির উদ্দিন কাশেমী, ইমাম পরিষদের সাধারণ সম্পাদক মাওলানা মোঃ গোলাম কিবরিয়া ও মাওলানা মোঃ মুসফিকুর রহমান। অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন কেসিসির সিনিয়র লাইসেন্স অফিসার মোঃ মনিরুজ্জামান রহিম।
অনুষ্ঠান শেষে প্রধান অতিথি হামদ-নাত প্রতিযোগিতায় বিজয়ী শিক্ষার্থীদের মাঝে পুরস্কার বিতরণ করেন।
এছাড়া পবিত্র ঈদ-ই-মিলাদুন্নবী (সা.) উদযাপন উপলক্ষ্যে জেলা প্রশাসন ও বাংলাদেশ শিশু একাডেমি খুলনার যৌথ আয়োজনে শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণে রচনা, হামদ ও নাত প্রতিযোগিতা, আলোচনা সভা, পুরস্কার বিতরণ ও দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়।
পবিত্র ঈদ-ই-মিলাদুন্নবী (সা.) উপলক্ষ্যে জেলার সকল মসজিদে জেলা ও উপজেলা প্রশাসন এবং মসজিদ কমিটির সহযোগিতায় দোয়া মাহফিলের আয়োজন করা হয়। সকল শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, অন্যান্য সাংস্কৃতিক প্রতিষ্ঠান এবং ইসলামিক ফাউন্ডেশনসহ সকল ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান কর্তৃক মহানবী হযরত মুহম্মদ (সা.) এর জীবনী, কর্ম ও শিক্ষা, ইসলামে শান্তি, প্রগতি, সৌহার্দ্য, সহিষ্ণুতা, বিশ্বেভ্রাতৃত্ব, মানবাধিকার ও নারীর মর্যাদা ইত্যাদি বিষয়ের ওপর আলোচনা সভা, কেরাত, দোয়া মাহফিল, হামদ-নাত, কবিতা পাঠ, শিক্ষার্থীদের সাংস্কৃতিক প্রতিযোগিতা এবং মহানবী হযরত মুহম্মদ (সা.) এর জীবনীর ওপর কুইজ প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হয়। শিশুদের জন্য হামদ-নাত, মহানবীর জীবন ও কর্মভিত্তিক কবিতা, আলোচনা সভা ও রচনা প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হয়। এছাড়া, সকল সরকারি-বেসরকারি হাসপাতাল, সরকারি শিশু পরিবার, শিশু সদন, শিশু বিকাশ কেন্দ্র, বৃদ্ধ নিবাস, শিশু-কিশোর উন্নয়ন কেন্দ্র, এতিমখানা এবং মাদকাসক্তি নিরাময় কেন্দ্রে উন্নতমানের খাবার পরিবেশ করা হয়।
মাদারীপুরের রাজৈর উপজেলার মোল্লাকান্দি গ্রামে যমজ বোনের একজন পানিতে পড়ে মৃত্যুর ঘটনায় অপর যমজ বোনের শ্বাসকষ্ট শুরু হয় এবং কিছুক্ষণের মধ্যে দম বন্ধ হয়ে তারও মর্মান্তিকভাবে মৃত্যু হয়।
বুধবার (২৬ আগষ্ট) দুপুরে রাজৈর উপজেলার মজুমদার কান্দিতে এমন হৃদয়বিদারক ঘটনা ঘটে। ঘটনার বিবরণে জানা যায়, মোল্লাকান্দি গ্রামের ইউনুছ গাছির ৫ বছরে শিশুকন্যা তাবাচ্ছুম লোকচক্ষুর অগোচরে পুকুরের পানিতে পড়ে গিয়ে মৃত্যুবরণ করে।
তার লাশ দেখে একই বয়সী অপর যমজ বোন তাহমিনা তা সইতে না পেরে কিছুক্ষণের মধ্যে অসুস্থ্য ও দম বন্ধ হয়ে সে-ও মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়ে।
এমন মর্মান্তিক ঘটণায় মৃত্যুবরণ করা দুই যমজ বোনের পুরা পরিবার সহ এলাকার মানুষের মধ্যে গভীর শোকের ছাঁয়া নেমে আসে। নিস্তব্ধ হয়ে যায় পুরা এলাকা ।
উল্লেখ্য, কয়েক বছরের মধ্যে স্ত্রী-সন্তান সহ ওই পরিবারের বেশ কয়েকজন সদস্য মৃত্যুবরণ করে। এবার তাদের যমজ দুই নাতনিও মৃত্যুবরণ করলো।
জানা যায়, ইউনুছ গাছীর ছেলে ইয়াদ হোসেন প্রবাসে থেকে কর্ম করতো এবং সে সেখানেই মৃত্যুবরণ করে। এর কিছুদিন পর তার মেয়ে এবং তারও কিছুদিন পর স্ত্রীও মারা যায়। একে-একে স্ত্রী, পুত্র, মেয়ে এবং বর্তমানে দুই যমজ নাতনি হারিয়ে ইউনুছ গাছি এখন বাকরুদ্ধ প্রায়। এমন মৃত্যুর ঘটনা সবাই চোখের জলে ভাসিয়ে দিয়েছে। আকাশ- বাতাস ভারী হয়ে ওঠে নিষ্পাপ ওই যমজ শিশু দুইটির এমন মৃত্যুতে।
দেশের কোনো মাজার বা ধর্মীয় স্থান ভাঙচুর সহ্য করা হবে না এবং এ ধরনের অপতৎপরতা চললে কঠোর প্রতিরোধ গড়ে তোলা হবে বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছেন পানি সম্পদ মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন আজাদ। বুধবার (২৬ আগস্ট) পঞ্চগড়ের দেবীগঞ্জ পৌর সদরের বিজয় চত্বরে ঈদে মিলাদুন্নবী (সা.) উপলক্ষে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। প্রতিমন্ত্রী স্পষ্ট ভাষায় জানান, “পীর-তরিকতের মাজার বা কোনো ধর্মীয় স্থান ভাঙচুর করতে দেওয়া হবে না।”
বিগত সময়ের সাম্প্রদায়িক সহিংসতার ঘটনা উল্লেখ করে ফরহাদ হোসেন আজাদ বলেন, “গত অন্তর্বর্তী সরকারের আমলে দেশের ১২৭টি মাজার ধ্বংসের চেষ্টা করা হয়েছিল। একজন মুসলমান হয়ে আরেকজন মুসলমান মাজারের খাদেমকে পুড়িয়ে হত্যা করেছেন। ভবিষ্যতে কোনো মাজার ধ্বংস করা হলে আমরা আর ঘরে বসে থাকব না।” তিনি ধর্মীয় উগ্রবাদের বিপক্ষে অবস্থান নিয়ে বলেন, “আমরা ধর্ম নিয়ে বাড়াবাড়ি করতে চাই না। মহানবী হজরত মুহাম্মদ (সা.) আমাদের সঠিক দিকনির্দেশনা দেওয়ার জন্য পৃথিবীতে এসেছিলেন। আমরা তাঁর আদর্শ ও নীতি অনুসরণ করে ঐক্যবদ্ধ থাকব।”
জনগণের জীবনমান উন্নয়ন ও কৃষি খাতের সমস্যা সমাধানে আশ্বস্ত করে প্রতিমন্ত্রী জানান, সারের পর্যাপ্ত সরবরাহ নিশ্চিত করতে যেখানে ডিলার নেই সেখানে নতুন ডিলার নিয়োগ দেওয়া হবে এবং কৃষকরা যাতে সঠিক মূল্যে সার পান তা তদারকি করা হবে। এছাড়া বিদ্যুৎ ঘাটতি মেটাতে সোলার প্রকল্প গ্রহণ এবং নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী বয়স্ক ভাতা ও কৃষক কার্ডের মতো সামাজিক সুরক্ষা কার্যক্রম বাস্তবায়নের ঘোষণাও দেন তিনি। আহলে সুন্নত ওয়াল জামা’য়াতের দেবীগঞ্জ উপজেলা শাখার সভাপতি হামিদুল ইসলামের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এই সম্মেলনে জেলা ও উপজেলা পর্যায়ের বিএনপি ও সহযোগী সংগঠনের শীর্ষ নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।
প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ এমপি বলেছেন, প্রধানমন্ত্রী নির্দেশনা দিয়েছেন দেশের প্রতিটি শিশু বিদ্যালয়ে যাবে, কেউ বিদ্যালয়ের বাইরে থাকবে না। প্রতিটি শিশু মানসম্মত শিক্ষালাভ করবে। সকল শিক্ষার্থীকে সঠিক শিক্ষায় সুশিক্ষিত হতে হবে। দেশের প্রাথমিক শিক্ষার মান উন্নত দেশগুলোর মত হতে হবে। প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনায় সরকার এসব বাস্তবায়নেই কাজ করে যাচ্ছে।
বুধবার(২৬ আগষ্ট) দুপুরে চাঁপাইনবাবগঞ্জের শহীদ সাটু অডিটোরিয়ামে ‘সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ফিডিং কর্মসূচী’ শীর্ষক প্রকল্প সম্পর্কে প্রধান শিক্ষগণের ওরিয়েন্টেশন এবং প্রাথমিক শিক্ষার মানোন্নয়ন সংক্রান্ত মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে প্রতিমন্ত্রী হাজ্জাজ এ সব কথা বলেন।
প্রতিমন্ত্রী বলেন, কিভাবে প্রাথমিক শিক্ষার মানোন্নয়ন করা যায়, প্রতিটি বিদ্যালয়ের পরিবেশ উপযুক্ত করে শিক্ষার্থীদের চাহিদা পূরণ করা যায় তা নিয়ে কাজ করা হচ্ছে। ফিডিং কর্মসূচীতে সুফল পাওয়া গেছে জানিয়ে তিনি বলেন, আগামীতে দেশের সকল বিদ্যালয়ে এ কর্মসূচী চালু করা হবে। খাবার মান ঠিক রাখতে চলমান ঠিকাদরি প্রক্রিয়ার প্রতি কঠোর নজরদারি করা হচ্ছে জানিয়ে তিনি বলেন, ঠিকাদারি প্রক্রিয়া পরিবর্তনের বিষয়টিও ভেবে দেখা হচ্ছে। পাশের কয়েকটি দেশের উদহারণ টেনে তিনি বলেন, বিদ্যালয়ে অভিভাবকদের রান্না করা খাবার সরবরাহ করা যায় কিনা সেটিও ভেবে দেখা হচ্ছে।
হাজ্জাজ আরও বলেন, শিশুদের পাঠদানের সময়সূচী, বিদ্যালয় ভবনেই ওয়াশরুম,প্লে গ্রাউন্ড এবং খেলার মাঠ, সাংস্কৃতিক চর্চা, নদীভাঙ্গণ কবলিত বিদ্যালয়গুলো যেন সরিয়ে নেয়া যায় এমনভাবে নির্মাণ, বিদ্যালয়ে অফিস কর্মচারী ও নাইটগার্ড দেয়ার বিষয়গগুলো বিবেচনাধীণ।
জেলা প্রশাসক আবু ছালেহ মো. মূসা জঙ্গীর সভাপতিত্বে সভায় বিশেষ অতিথির বক্তব্য দেন সদর এমপি নুরুল ইসলাম বুলবুল, জেলা পরিষদের প্রশাসক ও সাবেক এমপি হারুনুর রশীদ, স্কুল ফিডিং কর্মসূচীর প্রকল্প পরিচালক আবুল আমিন প্রমুখ।
কক্সবাজার সমুদ্রসৈকতে গোসল করতে নেমে ঢেউয়ের প্রবল তোড়ে ভেসে গিয়ে প্রাণ হারিয়েছেন ইয়াছিন খান (২৫) নামের এক পর্যটক। বুধবার (২৬ আগস্ট) দুপুর আড়াইটার দিকে সৈকতের সুগন্ধা ও লাবণী পয়েন্টের মধ্যবর্তী সিগাল পয়েন্ট এলাকায় এই দুর্ঘটনা ঘটে। একই ঘটনায় মোহাম্মদ ইব্রাহিম খান (২৭) নামের আরও এক পর্যটক নিখোঁজ রয়েছেন বলে জানা গেছে। নিহত ইয়াছিন রাজধানীর আফতাবনগর এলাকার বাসিন্দা এবং নিখোঁজ ইব্রাহিমও তার সঙ্গে ঢাকা থেকে এসেছিলেন।
প্রত্যক্ষদর্শী ও উদ্ধারকর্মীরা জানান, দুপুরে কয়েকজন পর্যটক সিগাল পয়েন্টের নন-লাইফগার্ড এলাকায় সমুদ্রে নামলে স্রোতের টানে ইয়াছিন ও ইব্রাহিম হারিয়ে যান। খবর পেয়ে পার্শ্ববর্তী সুগন্ধা ও লাবণী পয়েন্টের লাইফগার্ড কর্মীরা দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে উদ্ধারকাজ শুরু করেন। সংকটাপন্ন অবস্থায় ইয়াছিনকে উদ্ধার করে কক্সবাজার সদর হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। তবে নিখোঁজ ইব্রাহিমকে উদ্ধারে তল্লাশি অব্যাহত রয়েছে।
উদ্ধার অভিযানের বিষয়ে সি সেইফ লাইফগার্ডের সুপারভাইজার সাইফুল্লাহ সিফাত বলেন, “দুপুর দুইটার পর পাঁচজন পর্যটক নন-লাইফগার্ড এলাকায় গোসলে নামেন। সেখানে দুজন ঢেউয়ের মধ্যে হারিয়ে যান। খবর পেয়ে সুগন্ধা ও লাবণী পয়েন্টে দায়িত্বপ্রাপ্ত লাইফগার্ড সদস্যরা ঘটনাস্থলে গিয়ে একজনকে উদ্ধার করেন। পরে তাকে কক্সবাজার সদর হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন। অপরজনকে উদ্ধারে অভিযান চলছে।”
দুর্ঘটনার বর্ণনা দিয়ে লাইফগার্ড সদস্য আব্দুস সালাম বলেন, “সমুদ্রে দুজন ডুবে যাওয়ার খবর পেয়ে কাছে হওয়ায় সুগন্ধা পয়েন্টে দায়িত্বে থাকা লাইফগার্ড সদস্যরা দ্রুত ঘটনাস্থলে গিয়ে উদ্ধার কার্যক্রম শুরু করেন। একই সঙ্গে লাবণী পয়েন্টে দায়িত্বপ্রাপ্ত আমাদের সদস্যদেরও খবর দেওয়া হয়। পরে একজনকে উদ্ধার করা সম্ভব হলেও অন্যজনকে এখনো পাওয়া যায়নি।”
বর্তমানে নিখোঁজ পর্যটক মোহাম্মদ ইব্রাহিম খানকে খুঁজে পেতে ফায়ার সার্ভিস, লাইফগার্ড, বিচকর্মী ও ট্যুরিস্ট পুলিশের সদস্যরা যৌথ উদ্ধার অভিযান পরিচালনা করছেন। সৈকতের ঝুঁকিপূর্ণ ও নন-লাইফগার্ড এলাকায় গোসলে না নামতে প্রতিনিয়ত সতর্ক করা সত্ত্বেও অনেক পর্যটক তা উপেক্ষা করায় এমন প্রাণহানির ঘটনা ঘটছে।
সীতাকুণ্ডে একই দিনে দুই আত্মহত্যার ঘটনা ঘটেছে। মঙ্গলবার (২৫ আগস্ট) সীতাকুণ্ড উপজেলার পৌরসভার ইয়াকুব নগর ও বারআউলিয়া এলাকায় এ ঘটনা ঘটেছে ।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, মঙ্গলবার (২৫ আগস্ট) দুপুর ১২ টার দিকে উপজেলার সোনাইছড়ি ইউনিয়নের বার আউলিয়া এলাকায় চেয়ারম্যান বাড়ি সংলগ্ন জেলেপাড়ায় সঞ্জিতা জলদাশ (১৬) নামে এক কলেজ ছাত্রী গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা করেছে। সে ওই বাড়ির সন্তোষ জলদাসের কন্যা বলে জানাগেছে।
সোনাইছড়ি জেলেপাড়ার সর্দার ধনবাসী জলদাশ বলেন, সঞ্জিতা দাশ কুমিরা লতিফ সিদ্দিকী ডিগ্রি কলেজের শিক্ষার্থী । সকালে মায়ের সাথে রাগ করে গলায় ফাঁস দিলে তাকে উদ্ধার করে চমেক হাসপাতালে নেওয়ার পথে তার মৃত্যু হয়।
একই দিন সীতাকুণ্ড পৌরসভার ইয়াকুবনগর বটতল এলাকার একটি ভাড়া বাসা থেকে গলায় ফাঁস দেওয়া ঝুলন্ত অবস্থায় রোজেন হোসেন সিয়াম (১৭) নামে এক কিশোরের মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ ।
মঙ্গলবার (২৫ আগস্ট) রাত সাড়ে ৯টার দিকে তার মরদেহটি উদ্ধার করে সীতাকুণ্ড থানা পুলিশ। সিয়াম ওই এলাকায় মা-বাবার সাথে বসবাস করলেও তার প্রকৃত গ্রামের বাড়ি বরিশাল জেলায় । সে ওই জেলার বাসিন্দা মোহাম্মদ আলমগীর ফরাজির ছেলে।
সিয়াম সিলিং ফ্যানের সাথে গলায় ফাঁস দিয়ে কেন আত্মহত্যা করেছে সেটা অজানা রয়ে গেছে । পুলিশ তার রুম থেকে একটি চিরকুট উদ্ধার করে। তাতে লিখা ছিল, ” তোমরা আমাকে মাফ করে দিও। এই ছাড়া আমার উপায় নাই”।
সীতাকুণ্ড মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মাহিনুল ইসলাম দুই আত্মহত্যার বিষয় নিশ্চিত করে বলেন, সীতাকুণ্ডের বার আউলিয়ায় এক কিশোরী এবং পৌরসভার ইয়াকুব নগর এলাকায় এক কিশোরের লাশ উদ্ধার করা হয়েছে । লাশ দুটি হাসপাতালে প্রেরণ করা হয়েছে । এই বিষয়ে থানায় আইন গত ব্যবস্হা নেওয়া হচ্ছে ।
পবিত্র ঈদে মিলাদুন্নবী (সা.) ও ১২ই রবিউল আউয়াল উপলক্ষ্যে রাজধানী ঢাকায় বর্ণাঢ্য জশনে জুলুস ও আন্তর্জাতিক শান্তি মহাসমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়েছে। আজ বুধবার সকালে শাহসূফী ড. সৈয়দ সাইফুদ্দীন আহমদ আল হাসানী মাইজভাণ্ডারীর নেতৃত্বে হাজার হাজার ধর্মপ্রাণ মুসলিমের অংশগ্রহণে এই শোভাযাত্রাটি বের হয়। সাদা পোশাক, টুপি এবং কালেমা খচিত পতাকায় সুসজ্জিত জনস্রোতে রাজধানীর বিভিন্ন সড়ক উৎসবমুখর হয়ে ওঠে।
আঞ্জুমানে রহমানিয়া মইনীয়া মাইজভাণ্ডারীয়ার উদ্যোগে আয়োজিত এই কর্মসূচিতে যোগ দিতে ভোরের আলো ফোটার আগেই দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে সুফিবাদী জনতা সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে সমবেত হতে থাকেন। সকাল গড়িয়ে দুপুর হওয়ার আগেই পুরো উদ্যান লোকে লোকারণ্য হয়ে যায়। শোভাযাত্রাটি সোহরাওয়ার্দী উদ্যানের পশ্চিম গেট থেকে শুরু হয়ে দোয়েল চত্বর, শিক্ষা ভবন ও সচিবালয় সড়ক প্রদক্ষিণ করে পুনরায় উদ্যানে এসে সমাপ্ত হয়।
শোভাযাত্রার সম্মুখভাগে থাকা বিশাল ব্যানারে ‘ইয়া নবী সালামু আলাইকা’ স্লোগানটি শোভা পাচ্ছিল। অংশগ্রহণকারীদের হাতে ছিল জাতীয় পতাকা, বিচিত্র প্ল্যাকার্ড ও রঙিন ফেস্টুন। পুরো রাজপথজুড়ে ‘নারায়ে তাকবীর’ ও ‘নারায়ে রিসালাত’ ধ্বনি প্রতিধ্বনিত হয়। নবীপ্রেমের এই মহতী আয়োজনে নারী ও শিশুদের অংশগ্রহণ ছিল চোখে পড়ার মতো।
শোভাযাত্রা পরবর্তী আন্তর্জাতিক শান্তি মহাসমাবেশে শাহসূফী ড. সৈয়দ সাইফুদ্দীন আহমদ মাইজভাণ্ডারী বলেন, মহানবী হযরত মুহাম্মদ (সা.) হলেন সমগ্র বিশ্বের জন্য আল্লাহর পক্ষ থেকে শ্রেষ্ঠ রহমত। তাঁর আদর্শ ও শিক্ষা বর্তমানের সংঘাতময় বিশ্বে শান্তি প্রতিষ্ঠার একমাত্র উপায়। রাসুলুল্লাহ (সা.) মানবজাতিকে যে সম্প্রীতি, ভ্রাতৃত্ব ও সহনশীলতার শিক্ষা দিয়েছেন, তা ব্যক্তি ও রাষ্ট্রীয় জীবনে প্রতিফলিত করা জরুরি। তিনি আরও উল্লেখ করেন যে, ঈদে মিলাদুন্নবীর প্রকৃত সার্থকতা নিহিত রয়েছে মহানবীর জীবনাদর্শ অনুসরণ করে একটি ইনসাফভিত্তিক সমাজ বিনির্মাণে।
মহাসমাবেশে শাহজাদা সৈয়দ মেহেবুবে মইনুদ্দীন, প্রফেসর এমিরেটস ড. আনিসুজ্জামান, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপাচার্য আখতারুজ্জামানসহ আরও অনেক বিশিষ্ট ওলামা ও বুদ্ধিজীবী বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন। অনুষ্ঠান শেষে দেশ, জাতি এবং সমগ্র বিশ্বের মুসলিম উম্মাহর সুখ, সমৃদ্ধি ও শান্তি কামনা করে বিশেষ মোনাজাত পরিচালনা করেন শাহজাদা সৈয়দ সাইফুদ্দীন আহমদ মাইজভাণ্ডারী।
পবিত্র ঈদে মিলাদুন্নবী (সা.) উপলক্ষে নির্ধারিত সরকারি ছুটির কারণে দেশের বৃহত্তম স্থলবন্দর বেনাপোলে পণ্য আনা-নেওয়া কার্যক্রম সম্পূর্ণ বন্ধ রাখা হয়েছে। একটি গণমাধ্যম সূত্রে জানা গেছে যে, বুধবার (২৬ আগস্ট) কাস্টমস ও বন্দরের দাপ্তরিক সকল কাজও স্থগিত থাকবে, তবে দুই দেশের মধ্যে পাসপোর্টধারী যাত্রীদের যাতায়াত স্বাভাবিক রয়েছে।
বেনাপোল সিএন্ডএফ এজেন্টস স্টাফ অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি আব্দুর সবুর জানান, "সরকারি ছুটির কারণে বুধবার বন্দর দিয়ে বাণিজ্যিক কার্যক্রম বন্ধ রাখা হয়েছে। ছুটি শেষে বৃহস্পতিবার সকাল থেকে কাস্টমস ও বন্দরের স্বাভাবিক কার্যক্রম আবার শুরু হবে।" অন্যদিকে, পণ্যবাহী ট্রাক চলাচল বন্ধ থাকলেও বৈধ পাসপোর্টধারীদের যাতায়াত চালু থাকার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন বেনাপোল আন্তর্জাতিক চেকপোস্ট ইমিগ্রেশনের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ফেরদৌস হোসেন খান।
বন্দরের সার্বিক পরিস্থিতির বিষয়ে বেনাপোল স্থলবন্দরের ভারপ্রাপ্ত পরিচালক রুহুল আমিন জানান, "সরকারি ছুটির কারণে আমদানি-রপ্তানি, কাস্টমসসহ বন্দরের সব কার্যক্রম বন্ধ রয়েছে। বৃহস্পতিবার সকাল থেকে পুনরায় পণ্য আমদানি-রপ্তানি শুরু হবে।" তবে আগে আসা ট্রাকগুলো পণ্য খালাস করে ভারতে ফেরত যাওয়ার ক্ষেত্রে কোনো বাধা নেই বলে বন্দর কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।
উল্লেখ্য, প্রতিদিন এই বন্দর দিয়ে প্রায় ৫০০ ট্রাকে বিভিন্ন পণ্য আমদানি-রপ্তানি হয়ে থাকে, যা থেকে সরকারের প্রতিদিন গড়ে প্রায় ১০ কোটি টাকা রাজস্ব আয় হয়। এছাড়া চিকিৎসা ও ব্যবসার তাগিদে প্রতিদিন দেড় সহস্রাধিক যাত্রী এই চেকপোস্ট ব্যবহার করেন, যেখান থেকে দৈনিক আরও প্রায় ২০ লাখ টাকার রাজস্ব অর্জিত হয়।
ঝিনাইদহের শৈলকুপা উপজেলায় গবাদিপশুর ঘাস কাটার মেশিনে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে এক কৃষক দম্পতির করুণ মৃত্যু হয়েছে। আজ বুধবার (২৬ আগস্ট) ভোরে উপজেলার মাধবপুর গ্রামে এই মর্মান্তিক দুর্ঘটনা ঘটে। নিহতরা হলেন—মাধবপুর গ্রামের অমরেন্দ্র নাথ ভৌমিক (৭০) এবং তাঁর স্ত্রী মিনাক্ষি রানী ভৌমিক (৬৫)।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, বুধবার খুব ভোরে অমরেন্দ্র নাথ ভৌমিক গবাদিপশুর খাবারের জন্য বৈদ্যুতিক মেশিন দিয়ে ঘাস কাটতে শুরু করেন। কাজ করার একপর্যায়ে অসাবধানতাবশত মেশিনের বৈদ্যুতিক তারের সংস্পর্শে এসে তিনি বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হন। স্বামীকে ছটফট করতে দেখে তাঁকে বাঁচাতে মিনাক্ষি রানী দ্রুত এগিয়ে যান এবং স্পর্শ করা মাত্রই তিনিও বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে পড়েন। এতে ঘটনাস্থলেই তারা দুজন অচেতন হয়ে লুটিয়ে পড়েন।
তাঁদের উদ্ধারকারী প্রতিবেশী নব কুমার দাস ঘটনার বর্ণনা দিয়ে বলেন, “সকাল সাড়ে ৫টার দিকে ঘাস কাটার আওয়াজ শুনে গোয়ালঘরের দিকে গিয়ে দেখি অমরেন্দ্র নাথ মাটিতে পড়ে আছেন এবং তাঁর স্ত্রী মেশিনটি ধরে কাঁপছেন। তাৎক্ষণিক বিপদের গুরুত্ব বুঝে আমি চিৎকার করি এবং মেইন সুইচ বন্ধ করে দিই। এরপর প্রতিবেশীদের সহায়তায় তাঁদের উদ্ধার করে শৈলকুপা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যাওয়া হয়।” তবে হাসপাতালে পৌঁছানোর পর কর্তব্যরত চিকিৎসক তাঁদের মৃত ঘোষণা করেন।
শৈলকুপা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) হুমায়ুন কবির মোল্লা ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানিয়েছেন, খবর পাওয়ার সাথে সাথেই পুলিশ ঘটনাস্থলে পাঠানো হয়েছে। এই অনাকাঙ্ক্ষিত মৃত্যুর ঘটনায় পুরো গ্রামে শোকের ছায়া নেমে এসেছে। ঘটনার সঠিক কারণ অনুসন্ধানে তদন্ত সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে বলে গণমাধ্যমকে জানিয়েছেন এই পুলিশ কর্মকর্তা।