টেকনাফ-সেন্ট মার্টিন নৌরুটে পর্যটকবাহী জাহাজ চলাচল বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। প্রতিবেশী মিয়ানমারের রাখাইনে জান্তা বাহিনীর সঙ্গে বিদ্রোহীদের সংঘাত চলছে অনেক দিন ধরেই। গত দুই মাসে এই সংঘর্ষ আরও বেড়েছে। এর প্রভাব পড়েছে সীমান্তের এ-পারে বাংলাদেশেও। মিয়ানমার বাহিনী একাধিকবার আকাশসীমা লঙ্ঘন করেছে, গোলাগুলিতে প্রাণ ঝরেছে। এই অবস্থার মধ্যে এমন সিদ্ধান্ত এল।
যদিও জেলা প্রশাসন বলছে নাফ নদীতে নাব্যতা সংকট দেখা দেয়ায় এমন সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে। এর পরিবর্তে কক্সবাজার ও চট্টগ্রাম থেকে জাহাজ পরিচালনার সিদ্ধান্ত হয়েছে।
সংশ্লিষ্ট একাধিক সূত্র বলেছে, সাগর উত্তাল থাকার পাশাপাশি কালবৈশাখীর শঙ্কা থাকায় দুর্ঘটনা এড়াতে প্রতি বছর এপ্রিল থেকে সেপেটম্বরের শেষ সপ্তাহ পর্যন্ত টেকনাফ-সেন্ট মার্টিন ও সেন্ট মার্টিন-কক্সবাজার রুটে পর্যটকবাহী জাহাজ চলাচল বন্ধ রাখা হয়। এবার টেকনাফ-সেন্ট মার্টিন রুটে জাহাজ চলাচল বন্ধের এই সময়কাল বৃদ্ধির পেছনে সীমান্তের ওপারে মিয়ানমারে সংঘর্ষ একটি বড় কারণ। নাফ নদীর নাব্যতা সংকটও আরেকটি কারণ।
টেকনাফের দমদমিয়া ঘাট থেকে যাত্রী নিয়ে মিয়ানমার সীমান্তঘেঁষে সেন্ট মার্টিন যাতায়াত করে আটটি জাহাজ। এর মধ্যে দুটি এসি ও অত্যাধুনিক প্রযুক্তিসম্পন্ন। দুই ঘণ্টায় টেকনাফ থেকে সেন্ট মার্টিন পৌঁছায় এসব জাহাজ। এ ছাড়া কক্সবাজার থেকে কর্ণফুলী এক্সপ্রেস ও চট্টগ্রাম থেকে এমভি বে-ওয়ান সেন্ট মার্টিন যাতায়াত করে। বিলাসবহুল এসব জাহাজে স্বস্তি থাকলেও টানা ৮-১০ ঘণ্টা থাকতে হয় সাগরে।
প্রায় দুই মাস ধরে নাইক্ষ্যংছড়ির তুমব্রু সীমান্তে উত্তেজনা চলছে। সীমান্তের ওপারে মিয়ানমার থেকে মর্টার শেল, গোলাগুলিসহ নানা ভারী অস্ত্রের আওয়াজে এ-পারে বান্দরবানের ঘুমধুম ইউনিয়নের তুমব্রু ও বাইশপারী এলাকার মানুষ দিন কাটাচ্ছেন আতঙ্কে। গোলার আওয়াজ উখিয়া-টেকনাফের সীমান্ত এলাকায়ও শোনা যায়।
মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যের পাহাড় থেকে ছোড়া মর্টার শেল বেশ কয়েকবার বাংলাদেশের ভূখণ্ডে এসে পড়েছে। দেশটির সামরিক বাহিনীর হেলিকপ্টার বেশ কয়েকবার আকাশসীমাও লঙ্ঘন করেছে। সর্বশেষ গত ১৬ সেপ্টেম্বর রাতে তুমব্রুর কোনারপাড়া সীমান্তে শূন্যরেখায় মিয়ানমার থেকে ছোড়া মর্টার শেলের আঘাতে এক রোহিঙ্গা যুবক নিহত হন। আহত হন রোহিঙ্গা শিশুসহ পাঁচজন। একই দিন দুপুরে এই সীমান্তের হেডম্যানপাড়ায় মিয়ানমার সীমান্তের ভেতরে মাইন বিস্ফোরণে আহত হন বাংলাদেশি এক যুবক।
এর আগে গত ২৮ আগস্ট তুমব্রু উত্তরপাড়ায় একটি অবিস্ফোরিত মর্টার শেল এসে পড়ে। সে দিনই সীমান্তে মিয়ানমার সেনাবাহিনীর হেলিকপ্টার ও যুদ্ধবিমানকে চক্কর দিতে দেখা যায়। এরপর ৩ সেপ্টেম্বর মিয়ানমারের দুটি যুদ্ধবিমান ও ফাইটিং হেলিকপ্টার থেকে ছোড়া দুটি গোলা ঘুমধুম ইউনিয়নের ৮ নম্বর ওয়ার্ড এলাকায় এসে পড়ে। সেগুলো অবিস্ফোরিত থাকায় হতাহতের ঘটনা ঘটেনি। এর তিন দিন পর পুনরায় ওই সীমান্তে ভারী অস্ত্র থেকে গোলা ছোড়ার শব্দ ভেসে আসে। এসব ঘটনায় চারবার ঢাকায় মিয়ানমারের কূটনীতিককে তলব করে প্রতিবাদ জানিয়েছে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। এ ছাড়া বিদেশি কূটনীতিকদের সঙ্গে বৈঠকেও বিষয়টি তুলেছে মন্ত্রণালয়। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে যোগ দিতে যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কে গিয়ে বিভিন্ন বৈঠকেও রোহিঙ্গা ইস্যুটি তুলেছেন। এর পরও পরিস্থিতির উন্নতি হয়নি। যদিও গত কয়েক দিন সীমান্তের ওপারে গোলাগুলির আওয়াজ অনেকখানি কমে গেছে। তবে স্থানীয়দের আশঙ্কা, যেকোনো সময় বেড়ে যেতে পারে সীমান্তের ওপারের সংঘর্ষ।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে স্থানীয় প্রশাসনের একাধিক সূত্র বলেছে, টেকনাফ থেকে সেন্ট মার্টিন নৌরুটে জাহাজগুলো নাফ নদী দিয়ে মিয়ানমার সীমান্তঘেঁষে যাতায়াত করে। সীমান্তের ওপারে সংঘাত চলায় কর্তৃপক্ষ অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে এমন সিদ্ধান্ত নিয়েছে। পাশাপাশি নাফ নদীর নাব্যতা সংকটের বিষয়টিও আছে।
তবে টেকনাফ উপজেলার ভারপ্রাপ্ত নির্বাহী কর্মকর্তা এরফানুর হক দৈনিক বাংলাকে বলেন, ‘সংশ্লিষ্টদের নির্দেশে টেকনাফ থেকে পর্যটকবাহী জাহাজ চলাচল বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত হয়েছে। নৌপথের সমস্যার কারণে পরবর্তী নির্দেশনা না আসা পর্যন্ত জাহাজ চলাচল বন্ধ থাকবে।’
আর কক্সবাজারের জেলা প্রশাসক মামুনুর রশীদ দৈনিক বাংলাকে বলেন, ‘নাফ নদীতে নাব্যতা সংকট তৈরি হয়েছে। এতে জাহাজ চলাচলের পথ প্রায় বন্ধ হয়ে গেছে। ডুবোচরে আটকা পড়লে পর্যটকদের ঝুঁকি থাকে। নাব্যতা কেটে গেল হয়তো আবার জাহাজ চলাচল শুরুর সিদ্ধান্ত হতে পারে।’
মিয়ানমার পরিস্থিতির কারণে এমন সিদ্ধান্ত কি না জানতে চাইলে জেলা প্রশাসক বলেন, ‘তাদের অভ্যন্তরে যা হচ্ছে, তার সঙ্গে তো এসবের সম্পৃক্ততা নেয়। আমরাও সজাগ আছি। নাব্যতার কারণে দুর্ঘটনা এড়াতে এমন সিদ্ধান্ত।’
অবশ্য বেসামরিক বিমান ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ের সচিব মোকাম্মেল হোসেন বলছেন অন্য কথা। গত শনিবার কক্সবাজারে পর্যটন মেলার অনুষ্ঠানে গিয়ে তিনি বলেন, সেন্ট মার্টিনে যে হারে অপরিকল্পিত স্থাপনা নির্মাণ হচ্ছে তা পর্যটনের সঙ্গে যায় না। এগুলো বন্ধের জন্য কাজ চলছে। সবকিছু বিবেচনায় রেখে আপাতত টেকনাফ ঘাট থেকে সেন্ট মার্টিনের উদ্দেশ্যে ছেড়ে যাওয়া জাহাজ বন্ধ রাখা হয়েছে। কবে নাগাদ টেকনাফ ঘাট থেকে জাহাজ ছাড়বে তা পরে জানানো হবে।
পর্যটন ব্যবসায় ধসের আশঙ্কা
এদিকে টেকনাফ- সেন্ট মার্টিন নৌরুটে জাহাজ চলাচল বন্ধের সিদ্ধান্তে লোকসানের আশঙ্কা করছেন ব্যবসায়ীরা। তারা বলছেন, নৌপথে টেকনাফ থেকে সেন্ট মার্টিন যেতে সময় লাগে দুই ঘণ্টা। আর কক্সবাজার কিংবা চট্টগ্রাম থেকে নৌপথে সেন্ট মার্টিন পৌঁছাতে সময় লাগে সাত থেকে আট ঘণ্টা। দীর্ঘসময় সমুদ্রভ্রমণে আগ্রহী নন অনেক পর্যটক। কাজেই সরকার যে সিদ্ধান্ত নিয়েছে, তাতে পর্যটকরা সেন্ট মার্টিন ভ্রমণে নিরুৎসাহিত হবেন। এতে পর্যটন ব্যবসা ক্ষতিগ্রস্ত হবে।
সেন্ট মার্টিনের হোটেল ব্যবসায়ী নেতা রিদুয়ানুল হক বলেন, ‘চট্টগ্রাম-কক্সবাজার থেকে দুটি জাহাজ চলে। এসব জাহাজে অনেকে আসতে চায় না। কারণ সাত ঘণ্টার বেশি সময় জাহাজে থাকতে হয়। সে জায়গায় টেকনাফ থেকে চলে সাত-আটটা জাহাজ। অনেক মানুষ এ রুটে চলাচল করতে স্বস্তিবোধ করে। সরকারের এমন সিদ্ধান্তের ফলে আগামী শীত মৌসুমে সেন্ট মার্টিন ভ্রমণে আগ্রহী পর্যটকরা হয়তো সিদ্ধান্ত পরিবর্তন করবে। ফলে ব্যবসায়ীরা লোকসানে পড়বে, সরকার রাজস্ব হারাবে।’
আরেক ব্যবসায়ী রফিকুল ইসলাম বলেন, ‘সামনের মৌসুমে ব্যবসার লক্ষ্যে প্রস্তুতি চলছে। এমন সময় জাহাজ চলাচল বন্ধের সিদ্ধান্ত নেয়া হলো। এতে ব্যবসা ক্ষতিগ্রস্ত হবে। যারা কক্সবাজার থেকে জাহাজ পরিচালনা করবেন, তারা এ সুযোগটা কাজে লাগিয়ে অতিরিক্ত মুনাফা করার চেষ্টা করবেন।’
সেন্ট মার্টিনের বাসিন্দা নাজিম উদ্দিন বলেন, ‘টেকনাফ থেকে জাহাজ না আসলে মালামল আনতে খরচ বেশি হবে। সে ক্ষেত্রে খাবার বা অন্যান্য জিনিসপত্রের দামও বাড়তে পারে। তা ছাড়া আমরা এ মৌসুমের ওপর নির্ভরশীল। বড় লোকসান হবে আমাদের।’
সেন্ট মার্টিন ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মুজিবুর রহমান দৈনিক বাংলাকে বলেন, ‘শীত মৌসুমে পর্যটনের ওপর নির্ভর করে বাকি দিন পার করে সেন্ট মার্টিনের মানুষ। টেকনাফ থেকে জাহাজ বন্ধ হলে বড় লোকসানে পড়বেন এ দ্বীপের বাসিন্দারা। যদিও এখনো চূড়ান্তভাবে আমাদের জানানো হয়নি। তার পরও প্রশাসনের সঙ্গে আমরা বিষয়টি নিয়ে আলোচনা করব।’
কিশোরগঞ্জের হাওরবেষ্টিত মিঠামইন থানায় যোগদানের পর থেকেই আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ, অপরাধ দমন এবং মাদকের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থানের কারণে প্রশংসিত হচ্ছেন অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মনোয়ার মোহাম্মদ। সম্প্রতি মিঠামইন থানায় দেওয়া এক বিশেষ সাক্ষাৎকারে তিনি কথা বলেছেন চাঞ্চল্যকর জাহাঙ্গীর হত্যা মামলার অগ্রগতি, হাওরের ডাকাতি ও মাদক নির্মূল এবং নিজের নেওয়া নানা জনকল্যাণমূলক পদক্ষেপ নিয়ে। সাক্ষাৎকারটি দৈনিক বাংলার পাঠকদের জন্য হুবহু তুলে ধরা হলো
সাংবাদিক: গত জুলাই মাসে মিঠামইন উপজেলার বিএনপি সভাপতি জাহিদুল ইসলাম জাহাঙ্গীরকে নির্মমভাবে হত্যা করা হয়েছে। এ হত্যা মামলার তদন্তে এ পর্যন্ত কতটুকু অগ্রগতি হয়েছে?
ওসি মনোয়ার মোহাম্মদ: কিশোরগঞ্জ জেলার মাননীয় পুলিশ সুপার মহোদয়ের নির্দেশে আমি এর আগে একটা ব্রিফিং দিয়েছি। আজকেও আমি সেই ব্রিফিংয়ের সূত্র ধরে বলতে চাই, জনাব জাহাঙ্গীর হত্যা মামলার তদন্ত অনেক দূর এগিয়ে নিতে সক্ষম হয়েছি। আমরা ইতিমধ্যে প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে জড়িত ১২ জন ব্যক্তিকে শনাক্ত ও গ্রেফতার করতে সক্ষম হয়েছি। কিলিং মিশনে যারা ছিল, সেই তিনজনের মধ্যে দুজনকে গ্রেফতার করতে পেরেছি। তাদের মধ্যে ছয়জন আদালতে ১৬৪ ধারায় তাদের দায় স্বীকার করে জবানবন্দি দিয়েছে। বর্তমানে আমরা মামলার তদন্তের শেষ অংশে রয়েছি। নেপথ্যে যারা আছে, তাদের ৯০-৯৫ ভাগ শনাক্ত করতে সক্ষম হয়েছি। অতি শীঘ্রই তাদের আইনের আওতায় আনা হবে।
সাংবাদিক: আপনি এখানে যোগদানের পূর্ব থেকেই মিঠামইন হাওরে ডাকাতি বেড়ে গিয়েছিল, ইতিপূর্বে একটি লাশবাহী ট্রলারেও ডাকাতি হয়েছিল। আপনি যোগদানের পর ডাকাতি নির্মূলে কী ভূমিকা নিয়েছেন?
ওসি মনোয়ার মোহাম্মদ: এটা আসলে আমার জন্য একটা চ্যালেঞ্জিং বিষয় ছিল। আমি এর আগে পাশের উপজেলা ইটনা থানায় অফিসার ইনচার্জ হিসেবে কাজ করার সুযোগ পেয়েছি। সেখান থেকে আমার পোস্টিং হলো গোপালগঞ্জ জেলায়। আমি সেখান থেকে জানতে পারলাম যে লাশবাহী নৌকাতেও ডাকাতি হয়েছে। ইটনা-মিঠামইন-অষ্টগ্রাম এই হাওর এলাকার অভিভাবক অ্যাডভোকেট ফজলুর রহমান এমপি মহোদয় একদিন বিষয়টি নিয়ে আমার সাথে দুঃখ প্রকাশ করে বললেন, "এটা একটা পর্যটন এলাকা, এখানে অনেক পর্যটক আসে। এখানে যদি এমন ন্যাক্কারজনক ঘটনা ঘটে, তবে পর্যটকেরা আসতে নিরুৎসাহিত হবে। তাছাড়া এলাকার মানুষেরও তো জানমালের নিরাপত্তার প্রয়োজন আছে।"
আমি ওনাকে সেদিন এ ডাকাতি বন্ধের আশ্বাস দিয়েছিলাম। পরবর্তীতে বাংলাদেশ পুলিশ আমাকে আবার এ এলাকায় কাজ করার সুযোগ করে দেয়। মিঠামইন থানার ওসি হিসেবে আমি গত ১২ জুলাই যোগদান করি। আপনারা জেনে খুশি হবেন যে, আমি যেদিন মিঠামইনে যোগদান করেছি, সেদিনই তিনজন ডাকাত গ্রেফতার করতে সক্ষম হয়েছি। পরে আরও দুজন এবং গত দুই-তিন দিন আগে আরও দুজন—মোট সাতজন ডাকাত গ্রেফতার করে আদালতে সোপর্দ করেছি। আমি আসার পর অষ্টগ্রাম, ইটনা ও মিঠামইনের কোথাও কোনো ডাকাতের ঘটনা ঘটেনি।
সাংবাদিক: মিঠামইন উপজেলায় মাদক নির্মূলে আপনার ভূমিকা কী?
ওসি মনোয়ার মোহাম্মদ: মাদক আসলে আমাদের একটা সামাজিক ব্যাধিতে রূপ নিয়েছে। মাদক নিয়ে পুলিশের যেমন কাজ করার সুযোগ আছে, তেমনি এর জন্য মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর রয়েছে। আমাদের পাশাপাশি তাদেরও এখানে ভূমিকা রাখতে হবে। এছাড়া সমাজপতি ও সমাজের সর্বস্তরের জনগণ এ বিষয়ে ভালো ভূমিকা রাখতে পারেন। সবাই মিলে কাজ করলে ও সামাজিক আন্দোলন গড়ে তুললে অবশ্যই মাদক নির্মূল করা সম্ভব।
আমি এখানে যোগদান করার পর প্রতিটি এলাকায় গিয়ে মাদকবিরোধী সমাবেশ ও উঠান বৈঠক করেছি, মাদকের ভয়াল রূপ সম্পর্কে সচেতন করার চেষ্টা করেছি। তারপর যারা মাদক ব্যবসায়ী আছে, তাদের গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে তাদের বিরুদ্ধে সাঁড়াশি অভিযান অব্যাহত রেখেছি। মাদক ব্যবসায়ীদের বিরুদ্ধে বেশ কয়েকটি মাদক মামলাও হয়েছে। আজকেও—অর্থাৎ ২ সেপ্টেম্বর, রোজ বুধবার—আজকের দিনেও একজনের বিরুদ্ধে একটি মাদক মামলা রুজু করেছি। এ এলাকার মাদক নির্মূলে কতটুকু করতে পারব, কতটুকু ভূমিকা রাখতে পারব জানি না; তবে এ এলাকায় শীঘ্রই মাদকের বিস্তার রোধ করতে সক্ষম হব, ইনশাআল্লাহ।
সাংবাদিক: আপনি জানেন হাওরের অষ্টগ্রাম-ইটনা-মিঠামইন সীমান্তের কাছাকাছি হওয়ায় মাদক কারবারিরা হাওরের এই স্থল ও জলপথকে মাদক পাচারের জন্য নিরাপদ রুট হিসেবে বেছে নিয়েছে। এটা বন্ধে আপনি কী পদক্ষেপ নিয়েছেন?
ওসি মনোয়ার মোহাম্মদ: আমি আপনার সাথে একমত। এ বিষয়টি আমি তখন বলতে চাইনি, গোপন রাখতে চেয়েছিলাম। মাদক পরিবহন বন্ধে হাওরে আমার তিনটি নৌকা কাজ করছে। যারা ওয়ারেন্ট তামিলে যায়, তারাও এ বিষয়ে কাজ করে যাচ্ছে। তাছাড়া নৌ টহল পার্টিও আছে। সাদা পোশাকে জেলেদের বেশেও আমার পুলিশ অফিসারগণ কাজ করছে। আশা করি এভাবে কাজ করলে দ্রুত মাদক পরিবহন বন্ধ করতে সক্ষম হব।
সাংবাদিক: আপনি দায়িত্ব নেওয়ার পর জনকল্যাণমূলক কী কী পদক্ষেপ নিয়েছেন?
ওসি মনোয়ার মোহাম্মদ: জনকল্যাণে আমি তো অনেক কাজই করছি, তবে তা আমার ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ ও এলাকার যারা সুধী সমাজ আছেন, এটা তাদের মূল্যায়নের বিষয়। আমি এখানে যোগদানের পর চুরি শতভাগ বন্ধ করতে সক্ষম হয়েছি। ডাকাতি ও মাদক নির্মূলে কাজ করেছি, কাজ করছি। এছাড়া প্রায় প্রতিদিন রাতে হাওরে আটকে পড়া পর্যটকদের জড়ো করে তাদের পুলিশ প্রহরায় বালিখোলা ঘাটে নিরাপদে প্রেরণের ব্যবস্থা করছি। থানায় সাধারণ মানুষ যেন কোনো হয়রানি ছাড়াই দ্রুত সেবা পান, সেদিকেও আমাদের নজর রয়েছে।
সাংবাদিক: আমাকে আপনার মূল্যবান সময় দেওয়ার জন্য ধন্যবাদ।
ওসি মনোয়ার মোহাম্মদ: ধন্যবাদ আপনাকেও, ভালো থাকবেন।
রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন এলাকায় ছিনতাই, চুরি, ডাকাতি ও চাঁদাবাজি বেড়েছে অভিযোগ করে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নয়নে যৌথ অভিযান চালানোর দাবি উঠেছে জাতীয় সংসদে।
বুধবার (২ সেপ্টেম্বর) সংসদে কার্যপ্রণালী বিধির ৭১ ধারায় জরুরি জনগুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে বক্তব্য দিতে গিয়ে জামায়াতের সংসদ সদস্য সালাহ উদ্দিন এবং সংরক্ষিত নারী আসনের জামায়াতের সদস্য সাবিকুন্নাহার আলোচনা করেন।
সালাহ উদ্দিন বলেন, দেশের বিভিন্ন এলাকায় আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতিতে মানুষের মধ্যে উদ্বেগ ও আতঙ্ক তৈরি হয়েছে।
সাম্প্রতিক কয়েকটি ঘটনার উদাহরণ দিয়ে তিনি বলেন, ‘সংসদ ভবনের সামনে ছিনতাইকারীর হামলায় নারী শিক্ষিকার মৃত্যু, বিমানবন্দরে ছাত্রদল নেতা কর্তৃক স্বর্ণালংকার ছিনতাই, ধানমন্ডিতে প্রকাশ্য দিবালোকে ৩৯ লক্ষ টাকা ছিনতাই, মুগদা হাসপাতালে প্রকাশ্য দিবালোকে ছিনতাই, যাত্রাবাড়ীতে ছুরিকাঘাতে নিহত।’
গ্রামাঞ্চলেও চুরি ও ডাকাতি বাড়ছে দাবি করে এই সংসদ সদস্য বলেন, অতিরিক্ত লোডশেডিংয়ের সুযোগে গাড়ি চুরি, সিঁধেল চুরি এবং অন্যান্য অপরাধ ঘটছে। অপরাধীদের গ্রেপ্তার না করে কোনো কোনো ক্ষেত্রে ভুক্তভোগী পরিবারকে হয়রানি করা হচ্ছে। সেই সঙ্গে মাদক কারবারি ও অস্ত্রধারী সন্ত্রাসীদের প্রকাশ্যে চলাফেরার অভিযোগও তোলেন তিনি।
জামায়াতের এমপি সালাহ উদ্দিন বলেন, ‘পুলিশের নিষ্ক্রিয়তা, নির্লিপ্ততা এবং অক্ষমতার কারণে মানুষের মধ্যে চরম আতঙ্ক বিরাজ করছে।’
জনগণের জানমালের নিরাপত্তায় পুলিশ, র্যাব ও বিজিবির সমন্বয়ে যৌথ অভিযান চালানোর দাবি জানান এই সংসদ সদস্য।
প্রয়োজনে বিশেষ অভিযান চালানোর আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, ‘অপারেশন ক্লিন হার্টের মতো বিশেষ অভিযান পরিচালনা করে বাংলাদেশের মানুষকে নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জন্য উদ্যোগ গ্রহণ করবেন।’
সংরক্ষিত নারী আসনের সদস্য সাবিকুন্নাহার রাজধানীসহ বিভিন্ন শহরের ফুটপাত দখল ও চাঁদাবাজির বিষয়টি তোলেন। তিনি বলেন, পথচারীদের জন্য তৈরি ফুটপাত অনেক জায়গায় দোকান, ভাসমান ব্যবসা ও স্থায়ী বাণিজ্যিক স্থাপনার দখলে চলে গেছে। ফলে মানুষ ফুটপাত ছেড়ে সড়কে হাঁটতে বাধ্য হচ্ছে এবং দুর্ঘটনার ঝুঁকিতে পড়ছে বলে মন্তব্য করেন তিনি।
ফুটপাতে দোকান বসানোকে কেন্দ্র করে সংগঠিত চাঁদাবাজির অভিযোগ তুলে সাবিকুন্নাহার বলেন, ‘এটা আজ ওপেন সিক্রেট যে ফুটপাতে দোকান বসানোকে কেন্দ্র করে একটি প্রাতিষ্ঠানিক চাঁদাবাজি চক্র গড়ে উঠেছে।’
এ নারী সংসদ সদস্য বলেন, বিভিন্ন এলাকায় দৈনিক, সাপ্তাহিক ও মাসিক ভিত্তিতে টাকা আদায় করে ফুটপাতে ব্যবসা চালানোর সুযোগ দেওয়া হচ্ছে।
একটি সংবাদ প্রতিবেদনের প্রসঙ্গ টেনে তিনি দাবি করেন, কোনো কোনো জায়গায় চায়ের দোকান বসাতে ২০ হাজার টাকা এবং অন্য দোকানের জন্য ৩০ হাজার টাকা পর্যন্ত দাবি করা হচ্ছে।
সাবিকুন্নাহার বলেন, চাঁদাবাজি যেন আজ সরকারি দলের এক কমিউনিকেবল ডিজিজে পরিণত হয়েছে। চাঁদাবাজির সঙ্গে জড়িতদের শনাক্ত করে বিচারের আওতায় আনতে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের পদক্ষেপ চান তিনি।
দেশের বাজারে একসঙ্গে দুই ধরনের জ্বালানি ও নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দরে পরিবর্তন এসেছে। সরকার বোতলজাত সয়াবিন তেলের দাম প্রতি লিটারে ৫ টাকা বাড়িয়েছে। একই দিনে বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন (বিইআরসি) বেসরকারি খাতের তরলীকৃত পেট্রোলিয়াম গ্যাস (এলপিজি) সিলিন্ডারের দাম ১৩ টাকা কমিয়েছে।
নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, এখন থেকে বোতলজাত প্রতি লিটার সয়াবিন তেল সর্বোচ্চ ২০৪ টাকায় বিক্রি হবে। এর আগে এই তেলের নির্ধারিত দাম ছিল ১৯৯ টাকা। তবে পামওয়েলের দাম অপরিবর্তিত রাখা হয়েছে। বুধবার (২ সেপ্টেম্বর) বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ে ব্যবসায়ীদের সঙ্গে বৈঠকের পর সয়াবিন তেলের নতুন দাম নির্ধারণ করা হয়। বাংলাদেশ ভেজিটেবল অয়েল রিফাইনার্স অ্যান্ড বনস্পতি ম্যানুফ্যাকচারার্স অ্যাসোসিয়েশন বিষয়টি নিশ্চিত করেছে।
বাণিজ্য মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম, আমদানি ব্যয় এবং দেশের বাজারের সামগ্রিক মূল্য পরিস্থিতি পর্যালোচনা করে নতুন দাম নির্ধারণ করা হয়েছে। গত ২৯ এপ্রিল প্রতি লিটার বোতলজাত সয়াবিন তেলের দাম ৪ টাকা বাড়িয়ে ১৯৯ টাকা করা হয়েছিল। এর আগে দাম ছিল ১৯৫ টাকা। এবার আবারও লিটারে ৫ টাকা বাড়ানো হলো।
অন্যদিকে, ভোক্তা পর্যায়ে বেসরকারি খাতের ১২ কেজি এলপিজি সিলিন্ডারের দাম ১৩ টাকা কমিয়েছে বিইআরসি। নতুন নির্ধারিত দাম ১ হাজার ৫৮৫ টাকা। গত মাসে এই সিলিন্ডারের দাম ছিল ১ হাজার ৫৯৮ টাকা। অর্থাৎ এক মাসের ব্যবধানে দাম কমেছে ১৩ টাকা।
একই সঙ্গে অন্য ওজনের এলপিজির দামও সমন্বয় করা হয়েছে। যানবাহনে ব্যবহৃত অটোগ্যাসের দামও কমেছে। প্রতি লিটার অটোগ্যাসের দাম ৭৩ টাকা ৬৭ পয়সা থেকে কমিয়ে ৭৩ টাকা ৯ পয়সা নির্ধারণ করা হয়েছে।
তবে সরকারি কোম্পানির সরবরাহ করা সাড়ে ১২ কেজি এলপিজি সিলিন্ডারের দাম অপরিবর্তিত রয়েছে। এই সিলিন্ডারের দাম ৮২৫ টাকা। বাজারে সরকারি এলপিজির সরবরাহ সীমিত হওয়ায় সাধারণ ভোক্তাদের বড় অংশ বেসরকারি কোম্পানির সিলিন্ডারের ওপর নির্ভরশীল।
বিইআরসি জানিয়েছে, আন্তর্জাতিক বাজারে এলপিজির মূল্য এবং আমদানি ও সংশ্লিষ্ট অন্য ব্যয়ের ওপর ভিত্তি করে প্রতি মাসে এলপিজি ও অটোগ্যাসের দাম সমন্বয় করা হয়। ২০২১ সালের এপ্রিল থেকে আন্তর্জাতিক বাজারের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে মাসভিত্তিক এই মূল্য নির্ধারণ করে আসছে কমিশন।
এলপিজির প্রধান উপাদান প্রোপেন ও বিউটেন বিভিন্ন দেশ থেকে আমদানি করা হয়। আন্তর্জাতিক বাজারে এসব উপাদানের দাম নির্ধারণে সৌদি আরবের রাষ্ট্রীয় তেল কোম্পানি সৌদি আরামকোর প্রকাশিত কনট্রাক্ট প্রাইস বা সৌদি সিপি গুরুত্বপূর্ণ ভিত্তি হিসেবে ব্যবহৃত হয়। আমদানি ব্যয়, ডলারের বিনিময় হার ও অন্যান্য খরচ বিবেচনায় নিয়ে দেশের বাজারে এলপিজির দাম নির্ধারণ করে বিইআরসি।
তবে নির্ধারিত দামে বাজারে এলপিজি বিক্রি না হওয়ার অভিযোগ দীর্ঘদিনের। ফলে বিইআরসির ঘোষিত দাম কমলেও এর পুরো সুবিধা ভোক্তারা পাবেন কি না, তা নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে।
এদিকে সয়াবিন তেলের দাম নতুন করে বাড়ায় সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন বাজার খরচে চাপ বাড়ার আশঙ্কা রয়েছে। বিশেষ করে রান্নার কাজে নিয়মিত ভোজ্যতেল ব্যবহারকারী পরিবারগুলোর মাসিক ব্যয় বাড়তে পারে। অন্যদিকে এলপিজির দাম কমায় সিলিন্ডার ব্যবহারকারীরা কিছুটা আর্থিক স্বস্তি পাওয়ার সুযোগ তৈরি হয়েছে।
একদিকে নিত্যপ্রয়োজনীয় ভোজ্য তেলের দাম বাড়ানো এবং অন্যদিকে রান্নার অন্যতম জ্বালানি এলপিজির দাম কমানোর ফলে বাজারে ভোক্তাদের ওপর এর সামগ্রিক প্রভাব কতটা পড়ে, সেটিই এখন গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। বিশেষ করে নতুন নির্ধারিত দাম বাস্তবে বাজারে কতটা কার্যকর হয়, তা নির্ভর করবে ব্যবসায়ীদের মূল্য বাস্তবায়ন এবং বাজার তদারকির ওপর।
জাতীয় মানবাধিকার কমিশনকে গ্রেপ্তারের ক্ষমতা দেওয়ার সুপারিশ করেছে আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটি। জাতীয় মানবাধিকার কমিশন বিল, ২০২৬–এর খসড়া যাচাই-বাছাই শেষে পাঁচটি জায়গায় সংশোধন এনে বিলটি সংসদে পাসের সুপারিশ করেছে কমিটি। বুধবার (২ সেপ্টেম্বর) জাতীয় সংসদে এ–সংক্রান্ত প্রতিবেদন উপস্থাপন করা হয়।
সংসদীয় কমিটির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, কমিশন তদন্তকালে কোনো আমলযোগ্য অপরাধের ঘটনা দেখতে পেলে এবং ওই ঘটনায় থানায় মামলা থাকলে আসামিকে গ্রেপ্তার করে থানায় সোপর্দ করতে পারবে। এ ছাড়া কমিশন চাইলে যেকোনো ঘটনার তদন্ত করতে পারবে। ওই তদন্ত প্রতিবেদন আদালতে সাক্ষ্য হিসেবে বিবেচিত হবে।
বিলটিতে আরও বলা হয়েছে, জাতিসংঘের নির্যাতনবিরোধী প্রটোকলের আলোকে জাতীয় প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থাপনা ইউনিট (এনপিএম) প্রতিষ্ঠা করা হবে। এই ইউনিট ইচ্ছেমতো যেকোনো স্থানে, বিশেষ করে আটককেন্দ্র, হাজতখানা ও সেইফ হোম পরিদর্শন করতে পারবে। এ জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের পূর্বানুমতি নিতে হবে না।
খসড়া বিলে এসব স্থানে পরিদর্শনের আগে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের অনুমতি নেওয়ার বিধান রাখা হয়েছিল। এ নিয়ে সমালোচনা উঠেছিল। এ ছাড়া জাতীয় মানবাধিকার কমিশনের নিয়োগের ক্ষেত্রে একজন নারী ও একজন নৃগোষ্ঠীর প্রতিনিধিকে রাখার বিষয়টি বাধ্যতামূলক করার সুপারিশ করেছে সংসদীয় কমিটি।
এর আগে গত ২৭ আগস্ট আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান জাতীয় মানবাধিকার কমিশন বিল, ২০২৬ সংসদে উত্থাপন করেন। পরে বিলটি পরীক্ষা-নিরীক্ষার জন্য সংশ্লিষ্ট সংসদীয় স্থায়ী কমিটিতে পাঠানো হয়। ডেপুটি স্পিকার কমিটিকে দুই কার্যদিবসের মধ্যে প্রতিবেদন দিতে নির্দেশ দেন।
গত ৩০ আগস্ট সংসদীয় কমিটির বৈঠকে বিলটি নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা ও যাচাই-বাছাই করা হয়। বৈঠক শেষে প্রয়োজনীয় সংশোধনসহ বিলটি সংসদে পাসের সুপারিশ করা হয়।
জাতীয় মানবাধিকার কমিশন আইন, ২০০৯ রহিত করে নতুন আইনি কাঠামো তৈরির লক্ষ্যে জাতীয় মানবাধিকার কমিশন বিল, ২০২৬ আনা হয়েছে। সরকারের বক্তব্য, নতুন আইনের মাধ্যমে কমিশনকে আরও কার্যকর ও স্বাধীন প্রতিষ্ঠান হিসেবে গড়ে তোলা এবং মানবাধিকার লঙ্ঘন প্রতিরোধ ও প্রতিকারের কাঠামো শক্তিশালী করা হবে।
দেশে আসন্ন স্থানীয় সরকার নির্বাচন ঘিরে প্রস্তুতি জোরদার করছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। ভোটার তালিকা হালনাগাদ, আবাসস্থল পরিবর্তনের কারণে ভোটার এলাকা স্থানান্তর, নির্বাচনী এলাকার তথ্য যাচাই, আচরণবিধি প্রস্তুত, ভোটকেন্দ্র ব্যবস্থাপনা এবং মাঠপর্যায়ের প্রশাসনিক কার্যক্রম—সব মিলিয়ে নির্বাচনী প্রস্তুতির গুরুত্বপূর্ণ ধাপগুলো এগিয়ে নেওয়া হচ্ছে। এরই অংশ হিসেবে আবাসস্থল পরিবর্তনের কারণে ভোটার এলাকা পরিবর্তনের আবেদন গ্রহণের সময়সীমা বেঁধে দিয়েছে কমিশন।
ইসির সর্বশেষ নির্দেশনা অনুযায়ী, স্থানীয় সরকার নির্বাচন সামনে রেখে আবাসস্থল পরিবর্তনের কারণে ভোটার এলাকা পরিবর্তনের আবেদন করা যাবে আগামী ৭ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত। দাখিল করা আবেদন ইস্যুর শেষ তারিখ ৯ সেপ্টেম্বর এবং আবেদন নিষ্পত্তির শেষ সময় ১০ সেপ্টেম্বর। বুধবার (২ সেপ্টেম্বর) ইসির সিনিয়র সহকারী সচিব মো. নাসির উদ্দিন চৌধুরী স্বাক্ষরিত চিঠিতে এ সময়সূচি জানানো হয়েছে।
দেশের সব উপজেলা, থানা ও রেজিস্ট্রেশন কর্মকর্তাদের এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
ভোটার এলাকা পরিবর্তনের এই উদ্যোগকে স্থানীয় নির্বাচন আয়োজনের প্রস্তুতির একটি গুরুত্বপূর্ণ ধাপ হিসেবে দেখা হচ্ছে। কারণ আবাসস্থল পরিবর্তনের পরও পুরোনো ঠিকানায় ভোটার হিসেবে থাকলে সংশ্লিষ্ট ভোটারের নতুন এলাকায় ভোট দেওয়া বা প্রার্থী হওয়ার ক্ষেত্রে জটিলতা তৈরি হতে পারে। স্থানীয় নির্বাচনে প্রার্থী হতে হলে সংশ্লিষ্ট এলাকার ভোটার হওয়ার বাধ্যবাধকতাও রয়েছে। ইসির তথ্য অনুযায়ী, ভোটার স্থানান্তরের জন্য নির্ধারিত ফরম-১৩ ব্যবহার করতে হয় এবং বর্তমানে এ জন্য কোনো ফি দিতে হয় না।
সেপ্টেম্বরে তফসিলের আভাস: স্থানীয় নির্বাচন নিয়ে ইসির প্রস্তুতির সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ইঙ্গিত এসেছে প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) এ এম এম নাসির উদ্দিনের বক্তব্যে। গত ২৭ আগস্ট তিনি জানিয়েছেন, স্থানীয় সরকার নির্বাচন আয়োজনের জন্য কমিশনের প্রস্তুতিতে বড় কোনো ঘাটতি নেই এবং সেপ্টেম্বরের মধ্যেই নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করা সম্ভব হতে পারে। একই সঙ্গে চলতি বছরের শেষ দিকে প্রথম ধাপের ভোট শুরু করার লক্ষ্য থাকার কথাও জানিয়েছেন তিনি।
সিইসির বক্তব্য অনুযায়ী, সবকিছু অনুকূলে থাকলে নভেম্বরের শেষ দিকে ভোটগ্রহণ শুরু করার পরিকল্পনা রয়েছে। তবে ভোটের সময় নির্ধারণের ক্ষেত্রে স্কুলের বার্ষিক পরীক্ষা, দুর্গাপূজা, আবহাওয়া, বন্যাসহ বাস্তব পরিস্থিতি বিবেচনায় নেওয়া হবে। ফলে তফসিল সেপ্টেম্বরের মধ্যে দেওয়া হলেও সব স্থানীয় সরকারের নির্বাচন একসঙ্গে অনুষ্ঠিত হবে—এমন কোনো সিদ্ধান্ত এখনো স্পষ্ট নয়। ধাপে ধাপে নির্বাচন আয়োজনের সম্ভাবনাই সামনে রয়েছে।
স্থানীয় সরকার নির্বাচন নিয়ে কমিশনের অবস্থান হলো, জাতীয় নির্বাচনের মতো স্থানীয় নির্বাচনও পেশাদারিত্ব, গ্রহণযোগ্যতা ও নিরপেক্ষতার সঙ্গে পরিচালনা করা। সিইসি বলেছেন, কমিশন ‘ভোটার সার্বভৌমত্ব’ প্রতিষ্ঠা করতে চায়—অর্থাৎ ভোটাররা যাতে স্বাধীনভাবে নিজেদের পছন্দের প্রতিনিধি নির্বাচন করতে পারেন, সেটিই হবে নির্বাচনী ব্যবস্থাপনার অন্যতম লক্ষ্য।
কমিশনের প্রস্তুতির বিষয়ে সিইসি জানিয়েছেন, নির্বাচনের আচরণবিধি-সংক্রান্ত নথি আইন মন্ত্রণালয় থেকে ভেটিং শেষে কমিশনে ফিরে এসেছে। সংশ্লিষ্ট ম্যানুয়াল তৈরিসহ কিছু প্রস্তুতিমূলক কাজ চলমান রয়েছে। প্রয়োজনীয় সব প্রস্তুতি সম্পন্ন রাখার জন্য কমিশন সচিবালয়কে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। নির্বাচনের জন্য প্রয়োজনীয় অনুমোদন ও সময়সূচি চূড়ান্ত হলে কার্যক্রম শুরু করার প্রস্তুতিও রয়েছে বলে জানিয়েছেন তিনি।
এদিকে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়েও কমিশনের প্রস্তুতি রয়েছে। স্থানীয় নির্বাচনকে কেন্দ্র করে মাঠপর্যায়ে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী সংস্থাগুলোর সঙ্গে সমন্বয় সভা করার পরিকল্পনার কথা জানিয়েছে কমিশন। প্রয়োজন অনুযায়ী আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি মূল্যায়ন করে নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেওয়ার বিষয়টিও বিবেচনায় থাকবে।
ভোটার তালিকাই বড় ভিত্তি: স্থানীয় নির্বাচনের আগে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ কাজগুলোর একটি হলো ভোটার তালিকা নির্ভুল রাখা। ইসির তথ্য অনুযায়ী, সর্বশেষ চূড়ান্ত ভোটার তালিকায় দেশে মোট ভোটার ১২ কোটি ৮৭ লাখ ৭৭ হাজার ৬৪৩ জন। ভোটার তালিকা মুদ্রণের আগে আবাসস্থল পরিবর্তনের কারণে ভোটার স্থানান্তরের প্রক্রিয়া সম্পন্ন করার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।
ভোটার এলাকা পরিবর্তনের আবেদন গ্রহণের শেষ তারিখ ৭ সেপ্টেম্বর হওয়ায় সংশ্লিষ্ট ভোটারদের নির্ধারিত সময়ের মধ্যেই আবেদন করতে হবে। এরপর ৯ সেপ্টেম্বরের মধ্যে আবেদন ইস্যু এবং ১০ সেপ্টেম্বরের মধ্যে তা নিষ্পত্তির সময়সীমা রয়েছে।
এ ক্ষেত্রে শুধু আবেদন গ্রহণ করাই যথেষ্ট নয়; আবেদন যাচাই, সংশ্লিষ্ট তথ্যের সত্যতা নিশ্চিত করা এবং সময়মতো নিষ্পত্তিও গুরুত্বপূর্ণ। ভুল তথ্যের ভিত্তিতে ভোটার স্থানান্তর হলে পরবর্তী সময়ে ভোটার তালিকা ও নির্বাচনী ব্যবস্থাপনায় নতুন সমস্যা তৈরি হতে পারে।
স্থানীয় সরকার নির্বাচন কোনো একক নির্বাচন নয়। ইউনিয়ন পরিষদ, পৌরসভা, উপজেলা পরিষদ ও সিটি করপোরেশন—বিভিন্ন স্তরের স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানে নির্বাচন আয়োজন করতে হয়। প্রতিটি প্রতিষ্ঠানের নির্বাচনী এলাকা, ভোটারসংখ্যা, কেন্দ্র এবং প্রশাসনিক কাঠামো ভিন্ন হওয়ায় কমিশনের সামনে রয়েছে বড় ধরনের ব্যবস্থাপনার কাজ।
ভোটের তারিখ ঘোষণার আগে ভোটার তালিকা, ভোটকেন্দ্র, নির্বাচনী এলাকার তথ্য, জনবল, প্রশিক্ষণ, নির্বাচনী সামগ্রী, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি এবং আচরণবিধি—এসব বিষয় সমন্বয় করতে হবে। ফলে তফসিল ঘোষণার সঙ্গে সঙ্গে মাঠপর্যায়ে নির্বাচনী কার্যক্রম আরও দৃশ্যমান হয়ে উঠবে।
স্থানীয় নির্বাচন যত এগিয়ে আসবে, সম্ভাব্য প্রার্থী ও বিভিন্ন পক্ষের তৎপরতাও বাড়বে। এ অবস্থায় নির্বাচনী আচরণবিধি বাস্তবায়ন কমিশনের জন্য বড় পরীক্ষা হয়ে উঠতে পারে। প্রার্থীদের জন্য সমান সুযোগ নিশ্চিত করা, সরকারি সুযোগ-সুবিধার অপব্যবহার ঠেকানো, প্রচারে বিধি মানা এবং নির্বাচনী পরিবেশে প্রভাব বিস্তারের চেষ্টা বন্ধ করা—এসব বিষয়ে মাঠপর্যায়ে নজরদারি প্রয়োজন হবে।
কোনো পক্ষের অভিযোগ বা পাল্টা অভিযোগকে রাজনৈতিক বিবেচনায় না দেখে বিধিবিধান ও প্রমাণের ভিত্তিতে নিষ্পত্তি করাও গুরুত্বপূর্ণ। স্থানীয় পর্যায়ে প্রার্থী ও ভোটারদের পারস্পরিক সম্পর্ক ঘনিষ্ঠ হওয়ায় নির্বাচনী বিরোধ অনেক সময় দ্রুত উত্তেজনায় রূপ নিতে পারে। তাই আগাম ঝুঁকি চিহ্নিত করে ব্যবস্থা নেওয়া প্রয়োজন।
স্থানীয় নির্বাচন জাতীয় নির্বাচনের তুলনায় ছোট পরিসরের হলেও প্রতিদ্বন্দ্বিতা অনেক এলাকায় তীব্র হতে পারে। একই এলাকার প্রার্থী, স্থানীয় প্রভাব এবং ব্যক্তিগত বা সামাজিক বিরোধ নির্বাচনী উত্তেজনায় প্রভাব ফেলতে পারে।
তাই ভোটকেন্দ্রের নিরাপত্তা, ভোটারদের নির্বিঘ্নে কেন্দ্রে যাওয়া, নির্বাচনী সামগ্রী পরিবহন এবং ভোটগ্রহণ শেষে ফলাফল ঘোষণার সময় শৃঙ্খলা বজায় রাখা গুরুত্বপূর্ণ। প্রয়োজন অনুযায়ী ঝুঁকিপূর্ণ কেন্দ্র চিহ্নিত করে নিরাপত্তা পরিকল্পনা করাও কমিশন ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর অন্যতম দায়িত্ব হবে।
একটি গ্রহণযোগ্য নির্বাচনের জন্য শুধু ভোট আয়োজন করাই যথেষ্ট নয়; ভোটারদের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণও প্রয়োজন। ভোটাররা যদি ভোটকেন্দ্রের পরিবেশ নিয়ে আস্থাশীল থাকেন এবং নিজের পছন্দের প্রার্থীকে ভোট দেওয়ার সুযোগ পান, তাহলে নির্বাচনের প্রতি মানুষের আগ্রহ বাড়বে।
এ কারণে ভোটারদের তথ্য সঠিক রাখা, ভোটকেন্দ্রের অবস্থান ও ব্যবস্থাপনা পরিষ্কার করা এবং ভোটের দিন নিরাপদ পরিবেশ নিশ্চিত করা জরুরি। পাশাপাশি ভোটারদের নিজেদের তথ্য যাচাই ও প্রয়োজনীয় সংশোধনের বিষয়ে সচেতন করাও গুরুত্বপূর্ণ।
আসন্ন স্থানীয় সরকার নির্বাচন আয়োজন করতে গিয়ে ইসির সামনে প্রধান চ্যালেঞ্জ হবে নির্ভুল ভোটার তালিকা, সময়মতো নির্বাচনী প্রস্তুতি, আচরণবিধির কার্যকর প্রয়োগ, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ এবং সবার জন্য সমান নির্বাচনী পরিবেশ নিশ্চিত করা।
এরই মধ্যে ভোটার এলাকা পরিবর্তনের সময়সীমা নির্ধারণ এবং সেপ্টেম্বরের মধ্যে তফসিল দেওয়ার সম্ভাবনার কথা জানিয়েছে কমিশন। ফলে স্থানীয় নির্বাচন এখন প্রস্তুতির পর্যায় থেকে ধীরে ধীরে আনুষ্ঠানিক নির্বাচনী প্রক্রিয়ার দিকে এগোচ্ছে।
শেষ পর্যন্ত স্থানীয় নির্বাচনের সাফল্য নির্ভর করবে শুধু ভোটের তারিখ ঘোষণার ওপর নয়। ভোটার তালিকা থেকে শুরু করে ভোটকেন্দ্রের পরিবেশ, প্রার্থীদের আচরণ, প্রশাসনের ভূমিকা, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি এবং ভোটারদের স্বাধীনভাবে ভোট দেওয়ার সুযোগ—প্রতিটি ধাপের ওপরই এর গ্রহণযোগ্যতা নির্ভর করবে।
কোনো দল বা পক্ষের জয়-পরাজয়ের দৃষ্টিকোণের বাইরে স্থানীয় নির্বাচনের মূল লক্ষ্য হওয়া উচিত স্থানীয় জনগণের প্রতিনিধিত্ব নিশ্চিত করা। নির্বাচন কমিশনের নিরপেক্ষতা ও সক্ষমতা, মাঠ প্রশাসনের দায়িত্বশীলতা এবং ভোটারদের স্বাধীন অংশগ্রহণ—এই তিনটির সমন্বয়েই আসন্ন স্থানীয় নির্বাচন কতটা বিশ্বাসযোগ্য ও গ্রহণযোগ্য হবে, সেটিই এখন সবচেয়ে বড় প্রশ্ন।
র্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়নের (র্যাব) ১১ তলা সদর দপ্তর নির্মাণের সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। এতে ব্যয় হবে ১৭১ কোটি ৯০ লাখ ৭ হাজার ৭৬৪ টাকা। এ অর্থ ব্যয়ের অনুমোদন দিয়েছে সরকারি ক্রয় সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটি। বুধবার (২ সেপ্টেম্বর) সচিবালয়ে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সরকারি ক্রয় সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটির বৈঠকে এ অনুমোদন দেওয়া হয়।
বৈঠক সূত্রে জানা গেছে, গৃহায়ণ ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয় এ সংক্রান্ত প্রস্তাব উত্থাপন করে। ‘র্যাব ফোর্সেস সদর দপ্তর নির্মাণ’ প্রকল্পের আওতায় ভবনটি নির্মাণ করা হবে। প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করছে গণপূর্ত অধিদপ্তর।
দরপত্রের সব প্রক্রিয়া শেষে দরপত্র মূল্যায়ন কমিটির সুপারিশের ভিত্তিতে সর্বনিম্ন গ্রহণযোগ্য দরদাতা প্রতিষ্ঠান এম জামাল অ্যান্ড কোম্পানি লিমিটেডের কাছ থেকে ১৭১ কোটি ৯০ লাখ ৭ হাজার ৭৬৪ টাকায় কাজটি দেওয়ার প্রস্তাব করা হয়। বৈঠকে সেই প্রস্তাবই অনুমোদন দেওয়া হয়েছে।
প্রকল্পটির প্রথম সংশোধিত প্রস্তাব ২০১৯ সালের ১৫ অক্টোবর জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) সভায় অনুমোদিত হয়। প্রকল্পটির বাস্তবায়নকাল ২০১৯ সালের ১ জুলাই থেকে ২০২৮ সালের ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত নির্ধারণ করা হয়েছে।
প্রকল্পের আওতায় ১৫ তলা ভিত্তির ওপর ১১ তলা র্যাব সদর দপ্তর ভবন নির্মাণ করা হবে। ভবনটিতে মহাপরিচালকের কার্যালয়সহ তিনটি ভূগর্ভস্থ তলা, নিচতলায় গাড়ি পার্কিং এবং প্রয়োজনীয় অন্যান্য সুবিধা থাকবে।
এ ছাড়া প্রকল্পের আওতায় তিন তলা ম্যাগাজিন ও কোট ভবন, তিন তলা উপকেন্দ্র ভবন, গুদাম, পাম্প ও জলাধার, গভীর নলকূপ, পানি সরবরাহ ও বিতরণ ব্যবস্থা, অভ্যন্তরীণ সড়ক, গাড়ি ধোয়ার ব্যবস্থা, বৃষ্টির পানি সংরক্ষণ ব্যবস্থা, সালামি মঞ্চ, বৈদ্যুতিক ও যান্ত্রিক ব্যবস্থা, বহির্বৈদ্যুতিক সংযোগ, লিফট, শীতাতপ নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা এবং স্থানীয় নেটওয়ার্কসহ বিভিন্ন অবকাঠামো নির্মাণ করা হবে।
সরকারি অর্থায়নে বাস্তবায়নাধীন এ প্রকল্পের মাধ্যমে র্যাব সদর দপ্তরের জন্য প্রয়োজনীয় আধুনিক ও সমন্বিত অবকাঠামো গড়ে তোলার পরিকল্পনা রয়েছে।
সাংবাদিক ফারজানা রুপা অসুস্থ হয়ে বাংলাদেশ মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ে (বিএমইউ) ভর্তি হয়েছেন। তিনি বর্তমানে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
মুন্সীগঞ্জ জেলা কারাগারের জেল সুপার মো. জান্নাত-উল ফরহাদ সংবাদমাধ্যমকে বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, ‘গত রোববার (৩০ আগস্ট) সন্ধ্যায় শারীরিক অসুস্থতা দেখা দেওয়ায় ফারজানা রুপাকে বিএমইউতে ভর্তি করা হয়। তিনি সেখানে চিকিৎসাধীন আছেন।’
২০২৪ সালের ২১ আগস্ট হজরত শাহজালাল বিমানবন্দর থেকে শাকিল আহমেদ ও ফারজানা রুপাকে আটক করা হয়।
পরদিন ২২ আগস্ট উত্তরা পূর্ব থানার ফজলুল করিম হত্যা মামলায় তাদের চার দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন আদালত। পরে তাদের জুলাই আন্দোলনসংক্রান্ত বিভিন্ন মামলায় গ্রেপ্তার দেখিয়ে একাধিকবার রিমান্ডে পাঠানো হয়।
সবশেষ ফারজানা রুপা ও আরেক সাংবাদিক মোজাম্মেল হক বাবুকে শাপলা চত্বর হত্যা মামলায় গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে।
রাজধানীর মধুবাগের ছোট্ট একটি খুপরি ঘরে পরিবারের সঙ্গে বসবাস উম্মে সালমার। বাবা মিরাজ আলী চা বিক্রি করেন, মা নাজমা বেগম কাজ করেন মানুষের বাসাবাড়িতে।
সংসারে অভাব থাকলেও পড়াশোনা থামেনি সালমার। এবার এসএসসি পরীক্ষায় পেয়েছেন এ প্লাস। তার স্বপ্ন চিকিৎসক হওয়া। তবে কলেজে ভর্তি ও পড়াশোনার খরচ নিয়ে অনিশ্চয়তায় পড়েছিলেন তিনি।
সালমার এই পরিস্থিতির কথা জানতে পেরে তার পাশে দাঁড়িয়েছেন ঢাকার জেলা প্রশাসক মিজ ফরিদা খানম। বুধবার (২ সেপ্টেম্বর) জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে সালমার হাতে আর্থিক সহায়তা তুলে দেন তিনি। একই সঙ্গে কলেজে ভর্তি ও পড়াশোনা চালিয়ে যেতে প্রয়োজনীয় সহযোগিতার আশ্বাস দেওয়া হয়েছে। সম্প্রতি উম্মে সালমার ভালো ফলাফল ও আর্থিক সংকটের বিষয়টি গণমাধ্যমে প্রকাশিত হয়।
প্রতিবেদনে বলা হয়, এসএসসিতে এ প্লাস পেলেও অর্থের অভাবে কলেজে ভর্তি নিয়ে অনিশ্চয়তায় পড়েছেন এই শিক্ষার্থী। বিষয়টি জেলা প্রশাসকের নজরে এলে তার পাশে দাঁড়ানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়।
উম্মে সালমার বাবা মিরাজ আলী চা বিক্রি করে সংসার চালান। তার স্ত্রী নাজমা বেগম মানুষের বাসাবাড়িতে কাজ করেন। দুজনের সামান্য আয় দিয়ে সংসারের খরচ মেটাতেই তাদের হিমশিম খেতে হয়। এর মধ্যেই মেয়ের পড়াশোনার খরচ চালিয়ে আসছিলেন তারা।
মিরাজ আলী বলেন, ‘চা বিক্রি করে যে আয় হয়, তা দিয়ে সংসার চালানোই কঠিন।’ মেয়ের পড়াশোনার খরচ চালাতে তাকে অনেক কষ্ট করতে হয়েছে। মেয়ে এসএসসিতে এ প্লাস পাওয়ায় তিনি খুব খুশি। তবে কলেজে ভর্তি ও পরবর্তী পড়াশোনার খরচ কীভাবে চালাবেন, তা নিয়ে দুশ্চিন্তায় ছিলেন। জেলা প্রশাসক সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দেওয়ায় তিনি কৃতজ্ঞ।
নাজমা বেগম বলেন, ‘তার মেয়ে ছোটবেলা থেকেই পড়াশোনায় মনোযোগী। সালমার স্বপ্ন চিকিৎসক হওয়া।’ তারা চান, কোনোভাবেই যেন মেয়ের পড়াশোনা বন্ধ না হয়। জেলা প্রশাসক পাশে দাঁড়ানোয় তারা এখন অনেকটা আশ্বস্ত।
জেলা প্রশাসক ফরিদা খানম বলেন, ‘অদম্য মেধা ও ইচ্ছাশক্তি থাকলে আর্থিক সংকট কোনো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন পূরণের পথে বাধা হতে পারে না। উম্মে সালমা প্রতিকূলতার মধ্যেও এসএসসিতে এ প্লাস পেয়েছেন, যা তার মেধা ও পরিশ্রমের প্রমাণ। তার চিকিৎসক হওয়ার স্বপ্নের কথা জেনে জেলা প্রশাসন পাশে দাঁড়িয়েছে।’
ফরিদা খানম আরও বলেন, ‘কলেজে ভর্তি থেকে শুরু করে পড়াশোনা চালিয়ে যাওয়ার ক্ষেত্রে জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে প্রয়োজনীয় সহযোগিতা অব্যাহত থাকবে। সমাজের কোনো মেধাবী ও অসচ্ছল শিক্ষার্থী যেন অর্থের অভাবে ঝরে না পড়ে, সে বিষয়ে নজর রাখা হচ্ছে।’
তিনি বলেন, ‘উম্মে সালমার মতো শিক্ষার্থীদের স্বপ্ন পূরণে সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠান ও সমাজের বিত্তবানদের এগিয়ে আসা উচিত।’ তিনি আশা করেন, সালমা একদিন তার স্বপ্ন পূরণ করে একজন ভালো চিকিৎসক হয়ে মানুষের সেবা করবেন।
এক দিনে আরও ৫ জনের মৃত্যুর মধ্য দিয়ে চলতি বছর দেশে ডেঙ্গুতে মৃতের সংখ্যা একশ ছাড়াল। ১ জানুয়ারি থেকে বুধবার (২ সেপ্টেম্বর) পর্যন্ত মোট ৩৭ হাজার ১৭০ জন ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। তাদের মধ্যে ১০২ জনের মৃত্যু হয়েছে। সর্বোচ্চ ৩৬ জনের মৃত্যু হয়েছে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন এলাকায়। এছাড়া খুলনা বিভাগে ১৮, ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন এলাকায় ১৩, ময়মনসিং বিভাগে ১০, বরিশালে ৯, চট্টগ্রামে ৭, রাজশাহীতে ৪, ঢাকার দুই সিটির বাইরে বিভাগের অন্য এলাকায় ৩ এবং রংপুর ও সিলেটে একজন করে মারা গেছে ডেঙ্গুতে।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তর জানিয়েছে, মশাবাহিত এ রোগে আক্রান্ত হয়ে নতুন করে ১,৩২৪ জন হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। এক দিনে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন এলাকার হাসপাতালগুলোতে ১৪১ জন, দক্ষিণ সিটি করপোরেশন এলাকার হাসপাতালগুলোতে ১৩৮ জন ডেঙ্গু রোগী ভর্তি হয়েছেন। দুই সিটি করপোরেশনের বাইরে ঢাকা জেলার অন্য এলাকায় আরও ২৯৮ জন ডেঙ্গু রোগী হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে।
এছাড়া বরিশাল বিভাগে ১২১ জন, চট্টগ্রাম বিভাগে ১৩৯ জন, খুলনায় ২৪৬ জন ও ময়মনসিংহে ৮৭ জন, রাজশাহী ১১৪, রংপুরে ৩৪ এবং সিলেটে ৫ জন ডেঙ্গুরোগী হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন।
এ বছর মাসের হিসেবে অগাস্টে সবচেয়ে বেশি ২০ হাজার ৫৩৬ জন ডেঙ্গুরোগী হাসপাতালে চিকিৎসা নিয়েছেন। এ মাসেই সবচেয়ে বেশি ৪৩ জন ডেঙ্গু রোগীর মৃত্যু হয়েছে।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তর ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি ও মৃত্যুর তথ্য রাখে ২০০০ সাল থেকে। এর মধ্যে ২০২৩ সালে এ রোগ নিয়ে সবচেয়ে বেশি ৩ লাখ ২১ হাজার ১৭৯ জন হাসপাতালে ভর্তি হয়। ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে সবচেয়ে বেশি ১ হাজার ৭০৫ জনের মৃত্যুও হয় ওই বছর।
গেল বছর ডেঙ্গুতে মৃত্যু হয় চার শতাধিক মানুষের, শনাক্ত রোগীর সংখ্যা ছিল ১ লাখ ২ হাজারের মতো।
জমি রেজিস্ট্রি বিষয়ে একই ব্যক্তিসংক্রান্ত এফিডেভিটে গাইবান্ধার চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আলাদত-১-এর জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট মো. সাব্বিরর আহম্মেদের নামের সিল ও স্বাক্ষর জালিয়াতির ঘটনা ঘটেছে। একই ব্যক্তির জাতীয় পরিচয়পত্র সংশোধনসংক্রান্ত এফিডেভিট করতে গিয়ে এই জালিয়াতির ঘটনাটি ধরে পরে। এর আগে স্বাক্ষর জাল করে একই আদালতে ‘একই ব্যক্তি মর্মে’ একটি এফিডেভিট সম্পাদন করা হয়েছিল। এ ঘটনায় বাবা-ছেলেসহ অজ্ঞাতপরিচয়ে আসামিদের বিরুদ্ধে মামলা করা হয়েছে।
বুধবার (২ সেপ্টেম্বর) গাইবান্ধার জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আলাদতের বেঞ্চ সহকারী ও মামলার বাদী নাজমুল হুদা বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। বুধবার (২ সেপ্টেম্বর) সদর আমলী আদালতে এই মামলা দায়ের করা হয়। যার মামলা নম্বর সিআর-১৩৫/২৬। মামলার আসামিরা হলেন- পলাশবাড়ি উপজেলার পূর্বপাড়া মহেশপুর গ্রামের মানিকুল্ল্যার ছেলে সাকোয়াত ও তার ছেলে আসাদুজ্জামান।
জানা যায়, গত ২৭ আগস্ট সকালে অভিযুক্ত সাকোয়াত হোসেন ও তার ছেলে আসাদুজ্জামান অত্রাদালতের এজলাসে বেঞ্চ সহকারীর কাছে একটি জাতীয় পরিচয়পত্র এফিডেভিট করতে কিছু কাগজপত্র উপস্থাপন করেন। বেঞ্চ সহকারী তাদের উপস্থাপন করা কাগজপত্র পর্যালোচনা করে দেখতে পান একই বিষয়ে তারা (একই ব্যক্তি মর্মে) একই ম্যাজিস্ট্রেট কর্তৃক সম্পাদিত আরও একটি এফিডেভিটের ফটোকপিও দাখিল করেছেন।
পরবর্তীতে ২নং আসামি আসাদুজ্জামান বেঞ্চ সহকারীর কাছে সাকোয়াত হোসেনের একই ব্যক্তি মর্মে সম্পাদিত এফিডেভিটের মূলকপি দাখিল করেন। পরে সার্বিক পর্যবেক্ষণে দেখা যায় ওই সম্পাদিত এফিডেভিটে জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট সাব্বির আহম্মেদের যে স্বাক্ষর ও সিল ব্যবহার করা হয়েছে তা ম্যাজিস্ট্রেট সাব্বির আহম্মেদের নয়।
এজাহারে আরও বলা হয়, শুধু তাই নয় এফিডেভিটে সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালত-৩ গাইবান্ধার সিল ব্যবহার করা হয়েছে। কিন্তু চিফ জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেটের কার্যালয়ে জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট সাব্বির আহম্মেদ গত ১৫ জুলাইয়ের আগে কখনো পলাশবাড়ী উপজেলার এফিডেভিট সম্পাদনের দায়িত্বে ছিলেন না।
অথচ তাদের সম্পাদিত এফিডেভিটটি গত ১৬ জুন ২০২৬ তারিখের সম্পাদিত এফিডেভিটে সাব্বির আহম্মেদের স্বাক্ষর দেখানো হয়েছে।
এ ছাড়া সেখানে গত ১৬ জুনের ৬২৩/২নং স্মারক হিসেবে এফিডেভিটটি এন্ট্রি করা হয়েছে। কিন্তু তৎক্ষণাৎ ওই আদালতের এফিডেভিটের প্রকৃত রেজিস্ট্রার যাচাই করে দেখা যায় রেজিস্ট্রারে এখনো ৬২৩/২৬নং স্মারক এখনো এন্ট্রিই হয় নাই। প্রকৃত রেজিস্ট্রারে সর্বশেষ ৫ মের স্মারক পাওয়া যায় ৪৫০/২৬।
ফলে ওই এভিডেভিটটি জাল ও সৃজিত করা হয়েছে মর্মে প্রাথমিকভাবে প্রতীয়মান হয়। পরে সকল বিষয়গুলো যাচাই করে বোঝা যায় অজ্ঞাতপরিচয়ে আসামিদের সহযোগিতায় ১নং ও ২নং অভিযুক্ত পরস্পর যোগসাজসে প্রতারণামূলকভাবে বিজ্ঞ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট সাব্বির আহম্মেদের স্বাক্ষর জাল করেছেন এবং আদালতের সিলমোহর জালিয়াতির মাধ্যমে একটি মিথ্যা ও জাল এফিডেভিট প্রস্তুত করেছেন।
এ ছাড়া এজাহারে আরও উল্লেখ করা হয়, এফিডেভিটে যে ইংরেজি শব্দের সিল ব্যবহার করা হয়েছে তা তৈরি করা। কারণ অত্র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালত ১নং এ এফিডেভিটে যে সিল ব্যবহার করা হয় সে সিলটি বাংলায়।
জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আলাদতের বেঞ্চ সহকারী নাজমুল হুদা বলেন, ‘জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট সাব্বির স্যারের সিল ও স্বাক্ষর জালিয়াতির ঘটনায় এভিডেভিট করতে আসা বাব ও ছেলের নামে সদর আমলী আদালতে মামলা করা হয়েছে। আশা করি পুলিশি তদন্তে জড়িতরা শনাক্ত হবে এবং আইনানুগ তাদের বিচার হবে।’
দীর্ঘ ২৩ বছর পর মাগুরা জেলা বণিক সমিতির দ্বিবার্ষিক নির্বাচন হতে যাচ্ছে আগামী ২৫ সেপ্টেম্বর। নির্বাচন উপলক্ষে বুধবার (২ সেপ্টেম্বর) দুপুরে মাগুরা প্রেসক্লাব মিলনায়তনে নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করা হয়েছে। নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করেন নির্বাচন কমিশনার ও মাগুরা প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক শফিকুল ইসলাম শফিক। এ সময় জেলা বণিক সমিতির সাধারণ ব্যবসায়িকসহ সবাই উপস্থিত ছিলেন।
নির্বাচন কমিশনার শফিকুল ইসলাম শফিক বলেন, ‘দীর্ঘ ২৩ বছর পর এই নির্বাচন সম্পন্ন হচ্ছে। আগামী ২৫ সেপ্টেম্বর এ নির্বাচনের ভোট গ্রহণ চলবে। সকাল ৮টা থেকে বিকাল ৫টা পর্যন্ত স্বচ্ছ ব্যালটের মাধ্যমে গোপন কক্ষে ১ হাজার ৯২৩ জন ভোটার তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করবেন।’
নির্বাচনের চূড়ান্ত ভোটার তালিকা প্রকাশ ও মনোনয়নপত্র বিতরণ শুরু হয়েছে ২ সেপ্টেম্বর, মনোনয়নপত্র জমার শেষ তারিখ আগামী ৫ সেপ্টেম্বর বিকাল ৫টা পর্যন্ত, মনোনয়নপত্র যাচাই-বাছাই আগামী ৬ সেপ্টেম্বর দুপুর ১২টা পর্যন্ত, বৈধ প্রার্থী তালিকা প্রকাশ ৬ সেপ্টেম্বর বিকাল ৫টা, আপিল আবেদন নিষ্পতির শেষ সময় ৮ সেপ্টেম্বর, প্রার্থিতা প্রত্যাহারের শেষ তারিখ ৯ সেপ্টেম্বর দুপুর ৩টা, চূড়ান্ত প্রার্থী তালিকা প্রকাশ ৯ সেপ্টেম্বর বিকাল ৫ টা, চূড়ান্ত প্রার্থীদের মধ্যে প্রতীক বরাদ্দ ১০ সেপ্টেম্বর সকাল ১০টা। নির্বাচনের প্রচারণা শুরু ১০ সেপ্টেম্বর থেকে ২৩ সেপ্টেম্বর রাত ১২টা। ২৫ সেপ্টেম্বর ভোট গ্রহণ শেষে ফলাফল ঘোষণা।
শেষে নির্বাচন কমিশনার, নির্বাচনের আচরণবিধি সকলের মাঝে পড়ে শুনান। নির্বাচন সুষ্ঠু ও সুন্দরভাবে পরিচালনার জন্য সবার সার্বিক সহযোগিতা কামনা করেন।
শহরের ব্যবসায়ী আলাউদ্দিন জানান, দীর্ঘ ২৩ বছর পর মাগুরা জেলা বণিক সমিতির নির্বাচন হচ্ছে। দীর্ঘদিন পর নির্বাচন হওয়াতে ব্যবসায়ীদের মধ্যে প্রাণচাঞ্চল্য ফিরে এসেছে। আমরা চাই একটি গ্রহণযোগ্য অবাধ, সুন্দর নির্বাচন। যার মাধ্যমে তৈরি হবে একটি পরিচ্ছন্ন নির্বাচিত কমিটি। যে কমিটি ব্যবসায়ীদের উন্নয়নে কাজ করবে।
মাদারীপুর সিভিল সার্জন কার্যালয়, জেলা পরিবার-পরিকল্পনা কার্যালয় ও সচেতন নাগরিক কমিটির যৌথ উদ্যোগে ‘স্বাস্থ্য ও পরিবার-পরিকল্পনা খাতে চাই সুশাসন’- এ প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে গণশুনানি অনুষ্ঠিত হয়েছে।
ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল টিআইবি’র সহযোগিতায় সচেতন নাগরিক কমিটি (সনাক), মাদারীপুর জেলা শাখার সভাপতি খান মো. শহীদের সভাপতিত্বে ও ‘সনাক’ (ইয়েসগ্রুপ) এর আহ্বায়ক সাংবাদিক আঞ্জুমান আরা জুলিয়ার সঞ্চালনায় বুধবার (২ সেপ্টম্বর) সদর ২৫০ শয্যার হাসপাতালের ৩য় তলার হলরুমে অনুষ্ঠিত গণশুনানিতে জেলার বিভিন্ন এলাকা থেকে আগত স্টেকহোল্ডার, সামাজিক সংগঠন, এনজিওকর্মী, গণমাধ্যমকর্মীসহ অংশগ্রহণকারী সর্বস্তরের নাগরিকের সমন্বয়ে উন্মুক্ত আলোচনা সভা, প্রশ্নপর্ব, মতামত ও প্রশ্নোত্তর পর্বের আয়োজন করা হয়।
এতে প্রধান অতিথি ছিলেন সিভিল সার্জন ডা. মোহাম্মদ শরীফুল আবেদীন কমল, বিশেষ অতিথি ছিলেন (আরএমও) ডা. অখিল চন্দ্র সরকার, ড্যাবের নেতা ডা. মো. লুৎফর রহমান, পরিবার-পরিকল্পনা অফিস মাদারীপুরের উপপরিচালক ডা. মতিউর রহমান, ‘সনাক’ এর জেলা কমিটির সহসভাপতি এনায়েত নান্নু, প্রফেসর (অব.) মকবুল হোসেন, আন্না আক্তার, সদস্য (স্বাস্থ্য বিভাগ, সনাক) ফরিদা ইয়াসমিন লাকি, কুমার লাভলু, টিআইবি’র এরিয়া কো-অর্ডিনেটর মো. এনায়েতুল্লাহ, জাতীয় সাংবাদিক সংস্থার মাদারীপুর জেলা শাখার সভাপতি ও দৈনিক বাংলা প্রতিনিধি শরীফ ফায়েজুল কবীর, সাংবাদিক অজয় কুন্ড, সাগর হোসেন তামিম, শাহাদাত হোসেন জুয়েলসহ অন্যান্য সাংবাদিক ও সুধীরা।
অনুষ্ঠানে মাদারীপুর সদর ২৫০ শয্যার হাসপাতালের বিভিন্ন ইউনিটের সেবার মান নিয়ে কিছু সন্তোষ ও অসন্তোষ বিষয়াদির আলোকপাত হয় এবং সেবার মান আরও বৃদ্ধির উপর গুরুত্বারোপ করা হয়। যার মধ্যে অ্যাম্বুলেন্স সেবা, এক্সরে ইউনিট, শিশু ফিডিং কর্নার, গাইনি বিভাগ, হাম ও ডেঙ্গু কর্নার, ডায়রিয়া ইউনিট, আইসিইউ বিভাগ, মাতৃমঙ্গল বিভাগ, নার্স পরিষেবাসহ অন্যান্য বিষয়াদি প্রাধান্য পায়।
সভাপতি সমাপনী বক্তব্যে বলেন, “টিআইবি’র প্রতিবেদনে দেশের স্বাস্থ্য খাতকে ভালো বলেনি, এই খাতের উন্নতি দরকার, আমরা মাদারীপুর সদর ২৫০ শয্যার হাসপাতালটিকে সম্পূর্ণ দুর্নীতিমুক্ত ও শতভাগ সেবার প্রতিষ্ঠান হিসেবে দেখতে চাই। এ ক্ষেত্রে তিনি ডাক্তার, নার্স, হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ ও সর্বস্তরের নাগরিকদের সচেতন হবার আহ্বান করেন।
শিক্ষা, সংস্কৃতি ও ঐতিহ্যের শহর কুমিল্লায় জনসংখ্যা বৃদ্ধি ও লাগামহীন নগরায়ণের চাপে একের পর এক হারিয়ে যাচ্ছে খেলার মাঠ। ফলে শিশু-কিশোরদের মাঠে দৌড়ঝাঁপের সুযোগ কমছে। এ অবস্থায় বিকল্প হিসেবে জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে কৃত্রিম টার্ফের মাঠ। গত দুই বছরে কুমিল্লা নগরী ও আশপাশের এলাকায় গড়ে উঠেছে অন্তত ৯টি টার্ফ। এসব মাঠে শিশু-কিশোর থেকে শুরু করে বিভিন্ন পেশার মানুষের ভিড় লেগেই থাকে। এতে নিয়মিত খেলাধুলার পাশাপাশি মাদক ও বাজে আড্ডা থেকে দূরে থাকছে তরুণ প্রজন্ম। বিষয়টিকে ইতিবাচক হিসেবেই দেখছেন সংশ্লিষ্টরা।
নগরীর নুরপুর এলাকার কিংস এরিনা টার্ফের অন্যতম স্বত্বাধিকারী নুর হোসেন নোমান জানান, ৬-৭ জন মিলে প্রায় কোটি টাকা বিনিয়োগ করে টার্ফটি গড়ে তুলেছেন। প্রতি মাসে আয় হয় প্রায় ৩ থেকে সাড়ে ৩ লাখ টাকা। বিভিন্ন খরচ বাদ দিয়ে মাসে প্রায় এক লাখ টাকা লাভ থাকে।
শহরতলির চানপুর এলাকার খন্দকার এসএ স্পোর্টস টার্ফের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মেহেদী হাসান বলেন, ‘শিক্ষার্থীসহ বিভিন্ন পেশার মানুষ নিয়মিত এখানে খেলতে আসেন। প্রতিটি ম্যাচের সময় এক ঘণ্টা। দিনে প্রতি ম্যাচের জন্য ১ হাজার ২০০ থেকে ১ হাজার ৫০০ টাকা এবং রাতে ২ হাজার টাকা পর্যন্ত ফি নেওয়া হয়।’
নগরীর রেসকোর্স এলাকায় প্রায় তিন বছর আগে প্রথম টার্ফ নির্মাণ করা হয়। শুরু থেকেই সেখানে খেলোয়াড়দের ভিড় রয়েছে। টার্ফটির ব্যবস্থাপনা পরিচালক সাইফুল ইসলাম জানান, প্রায় কোটি টাকা বিনিয়োগ করে এটি গড়ে তোলা হয়েছে। বিভিন্ন শ্রেণিপেশার মানুষ এখানে খেলতে আসেন। খেলাধুলার মধ্য দিয়ে পারস্পরিক সৌহার্দ্যও বাড়ছে।
খোলা মাঠের সংকটের মাঝেই বিকল্প হয়ে উঠেছে কৃত্রিম টার্ফ। অল্প জায়গায় সিনথেটিক ঘাস বসিয়ে তৈরি করা হচ্ছে ছোট পরিসরের মাঠ। সেখানে ফুটবলসহ নানা ধরনের খেলায় মেতে উঠছেন বিভিন্ন বয়সি মানুষ। দিন দিন জনপ্রিয় হয়ে উঠছে বিনোদন ও শরীর চর্চার এ নতুন ব্যবস্থা।
ইতিহাস গবেষক আহসানুল কবীর বলেন, ‘কুমিল্লা নগরীতে আগের তুলনায় প্রায় ৮০ শতাংশ খেলার মাঠ হারিয়ে গেছে। একসময় প্রায় প্রতিটি বাড়ির সামনে খোলা জায়গা ছিল। নগরীর বিভিন্ন পাড়া-মহল্লায় মাঠ ছিল, যেখানে সকাল-বিকেল খেলাধুলা হতো। কিন্তু নগরায়ণের চাপে সেসব জায়গা ভরাট করে গড়ে উঠেছে সুউচ্চ ভবন।
ব্যাংকার ইনজামামুল হক সৈকত ও তার সহকর্মী অর্নিবান দে জানান, অফিস শেষে সপ্তাহে এক-দুদিন তারা টার্ফে খেলেন। এতে কর্মব্যস্ততার ক্লান্তি দূর হওয়ার পাশাপাশি মানসিক ও শারীরিকভাবে সতেজ হওয়া যায়।
আইনজীবী কালিপদ দেবনাথ ও তার বন্ধু ওমর ফারুক জানায়, খেলার মাঠের বিকল্প হিসেবে গড়ে ওঠা টার্ফের জনপ্রিয়তা দিন দিন বাড়ছে। বন্ধু ও সহকর্মীদের সঙ্গে খেলাধুলার পাশাপাশি ভালো সময় কাটানোর সুযোগও হচ্ছে।
শহরতলির নোয়াপাড়া এলাকার একটি টার্ফে খেলতে আসা দুই বন্ধু বিজয় মণ্ডল ও রুদ্রদেব চন্দন জানায়, নিয়মিত খেলাধুলা করলে শরীর ভালো থাকে এবং কাজে গতি আসে। তাই সপ্তাহে অন্তত একদিন তারা টার্ফে খেলেন। সুযোগ হলে সন্তানদেরও সঙ্গে নিয়ে আসেন।
কুমিল্লায় গত দুই বছরে গড়ে ওঠা ৯টি টার্ফে উদ্যোক্তাদের বিনিয়োগ ছাড়িয়েছে প্রায় ১০ কোটি টাকা। ঘণ্টা হিসেবে ভাড়া দিয়ে এসব মাঠে খেলছেন শিশু-কিশোর থেকে শুরু করে বিভিন্ন বয়সি মানুষ। উদ্যোক্তারা বলছেন, দিন দিন এই খাতে আগ্রহ বাড়ছে। প্রতিটি টার্ফে প্রতিদিন গড়ে ৮ থেকে ১০টি ম্যাচ অনুষ্ঠিত হয়। প্রতি ঘণ্টার জন্য ১ হাজার ২০০ থেকে আড়াই হাজার টাকা পর্যন্ত ভাড়া নেওয়া হয়। নিয়মিত বুকিং থাকায় ব্যবসাও ভালো হচ্ছে।
কুমিল্লা জেলা ক্রীড়া সংস্থার সদস্য সচিব মো. এমদাদুল হক এমদু বলেন, ‘টার্ফে খেলেই হয়তো জাতীয় মানের খেলোয়াড় তৈরি হবে না। তবে টার্ফের জনপ্রিয়তা শিশু-কিশোরদের মাদক থেকে দূরে রাখছে। নিয়মিত খেলাধুলার মাধ্যমে শরীর চর্চাও হচ্ছে। একটি সুন্দর ও সুস্থ সমাজ বিনির্মাণে এ ধরনের খেলাধুলা ইতিবাচক ভূমিকা রাখছে।’