বুধবার, ৩০ সেপ্টেম্বর ২০২৬
১৫ আশ্বিন ১৪৩৩

টেকনাফ-সেন্ট মার্টিন রুটে জাহাজ চলাচল বন্ধ

টেকনাফের দমদমিয়া ঘাট থেকে যাত্রী নিয়ে মিয়ানমার সীমান্তঘেঁষে সেন্ট মার্টিন যাতায়াত করে জাহাজ। ছবি: দৈনিক বাংলা
কক্সবাজার প্রতিনিধি
প্রকাশিত
কক্সবাজার প্রতিনিধি
প্রকাশিত : ২ অক্টোবর, ২০২২ ২০:৪৬

টেকনাফ-সেন্ট মার্টিন নৌরুটে পর্যটকবাহী জাহাজ চলাচল বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। প্রতিবেশী মিয়ানমারের রাখাইনে জান্তা বাহিনীর সঙ্গে বিদ্রোহীদের সংঘাত চলছে অনেক দিন ধরেই। গত দুই মাসে এই সংঘর্ষ আরও বেড়েছে। এর প্রভাব পড়েছে সীমান্তের এ-পারে বাংলাদেশেও। মিয়ানমার বাহিনী একাধিকবার আকাশসীমা লঙ্ঘন করেছে, গোলাগুলিতে প্রাণ ঝরেছে। এই অবস্থার মধ্যে এমন সিদ্ধান্ত এল।

যদিও জেলা প্রশাসন বলছে নাফ নদীতে নাব্যতা সংকট দেখা দেয়ায় এমন সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে। এর পরিবর্তে কক্সবাজার ও চট্টগ্রাম থেকে জাহাজ পরিচালনার সিদ্ধান্ত হয়েছে।

সংশ্লিষ্ট একাধিক সূত্র বলেছে, সাগর উত্তাল থাকার পাশাপাশি কালবৈশাখীর শঙ্কা থাকায় দুর্ঘটনা এড়াতে প্রতি বছর এপ্রিল থেকে সেপেটম্বরের শেষ সপ্তাহ পর্যন্ত টেকনাফ-সেন্ট মার্টিন ও সেন্ট মার্টিন-কক্সবাজার রুটে পর্যটকবাহী জাহাজ চলাচল বন্ধ রাখা হয়। এবার টেকনাফ-সেন্ট মার্টিন রুটে জাহাজ চলাচল বন্ধের এই সময়কাল বৃদ্ধির পেছনে সীমান্তের ওপারে মিয়ানমারে সংঘর্ষ একটি বড় কারণ। নাফ নদীর নাব্যতা সংকটও আরেকটি কারণ।

টেকনাফের দমদমিয়া ঘাট থেকে যাত্রী নিয়ে মিয়ানমার সীমান্তঘেঁষে সেন্ট মার্টিন যাতায়াত করে আটটি জাহাজ। এর মধ্যে দুটি এসি ও অত্যাধুনিক প্রযুক্তিসম্পন্ন। দুই ঘণ্টায় টেকনাফ থেকে সেন্ট মার্টিন পৌঁছায় এসব জাহাজ। এ ছাড়া কক্সবাজার থেকে কর্ণফুলী এক্সপ্রেস ও চট্টগ্রাম থেকে এমভি বে-ওয়ান সেন্ট মার্টিন যাতায়াত করে। বিলাসবহুল এসব জাহাজে স্বস্তি থাকলেও টানা ৮-১০ ঘণ্টা থাকতে হয় সাগরে।

প্রায় দুই মাস ধরে নাইক্ষ্যংছড়ির তুমব্রু সীমান্তে উত্তেজনা চলছে। সীমান্তের ওপারে মিয়ানমার থেকে মর্টার শেল, গোলাগুলিসহ নানা ভারী অস্ত্রের আওয়াজে এ-পারে বান্দরবানের ঘুমধুম ইউনিয়নের তুমব্রু ও বাইশপারী এলাকার মানুষ দিন কাটাচ্ছেন আতঙ্কে। গোলার আওয়াজ উখিয়া-টেকনাফের সীমান্ত এলাকায়ও শোনা যায়।

মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যের পাহাড় থেকে ছোড়া মর্টার শেল বেশ কয়েকবার বাংলাদেশের ভূখণ্ডে এসে পড়েছে। দেশটির সামরিক বাহিনীর হেলিকপ্টার বেশ কয়েকবার আকাশসীমাও লঙ্ঘন করেছে। সর্বশেষ গত ১৬ সেপ্টেম্বর রাতে তুমব্রুর কোনারপাড়া সীমান্তে শূন্যরেখায় মিয়ানমার থেকে ছোড়া মর্টার শেলের আঘাতে এক রোহিঙ্গা যুবক নিহত হন। আহত হন রোহিঙ্গা শিশুসহ পাঁচজন। একই দিন দুপুরে এই সীমান্তের হেডম্যানপাড়ায় মিয়ানমার সীমান্তের ভেতরে মাইন বিস্ফোরণে আহত হন বাংলাদেশি এক যুবক।

এর আগে গত ২৮ আগস্ট তুমব্রু উত্তরপাড়ায় একটি অবিস্ফোরিত মর্টার শেল এসে পড়ে। সে দিনই সীমান্তে মিয়ানমার সেনাবাহিনীর হেলিকপ্টার ও যুদ্ধবিমানকে চক্কর দিতে দেখা যায়। এরপর ৩ সেপ্টেম্বর মিয়ানমারের দুটি যুদ্ধবিমান ও ফাইটিং হেলিকপ্টার থেকে ছোড়া দুটি গোলা ঘুমধুম ইউনিয়নের ৮ নম্বর ওয়ার্ড এলাকায় এসে পড়ে। সেগুলো অবিস্ফোরিত থাকায় হতাহতের ঘটনা ঘটেনি। এর তিন দিন পর পুনরায় ওই সীমান্তে ভারী অস্ত্র থেকে গোলা ছোড়ার শব্দ ভেসে আসে। এসব ঘটনায় চারবার ঢাকায় মিয়ানমারের কূটনীতিককে তলব করে প্রতিবাদ জানিয়েছে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। এ ছাড়া বিদেশি কূটনীতিকদের সঙ্গে বৈঠকেও বিষয়টি তুলেছে মন্ত্রণালয়। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে যোগ দিতে যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কে গিয়ে বিভিন্ন বৈঠকেও রোহিঙ্গা ইস্যুটি তুলেছেন। এর পরও পরিস্থিতির উন্নতি হয়নি। যদিও গত কয়েক দিন সীমান্তের ওপারে গোলাগুলির আওয়াজ অনেকখানি কমে গেছে। তবে স্থানীয়দের আশঙ্কা, যেকোনো সময় বেড়ে যেতে পারে সীমান্তের ওপারের সংঘর্ষ।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে স্থানীয় প্রশাসনের একাধিক সূত্র বলেছে, টেকনাফ থেকে সেন্ট মার্টিন নৌরুটে জাহাজগুলো নাফ নদী দিয়ে মিয়ানমার সীমান্তঘেঁষে যাতায়াত করে। সীমান্তের ওপারে সংঘাত চলায় কর্তৃপক্ষ অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে এমন সিদ্ধান্ত নিয়েছে। পাশাপাশি নাফ নদীর নাব্যতা সংকটের বিষয়টিও আছে।

তবে টেকনাফ উপজেলার ভারপ্রাপ্ত নির্বাহী কর্মকর্তা এরফানুর হক দৈনিক বাংলাকে বলেন, ‘সংশ্লিষ্টদের নির্দেশে টেকনাফ থেকে পর্যটকবাহী জাহাজ চলাচল বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত হয়েছে। নৌপথের সমস্যার কারণে পরবর্তী নির্দেশনা না আসা পর্যন্ত জাহাজ চলাচল বন্ধ থাকবে।’

আর কক্সবাজারের জেলা প্রশাসক মামুনুর রশীদ দৈনিক বাংলাকে বলেন, ‘নাফ নদীতে নাব্যতা সংকট তৈরি হয়েছে। এতে জাহাজ চলাচলের পথ প্রায় বন্ধ হয়ে গেছে। ডুবোচরে আটকা পড়লে পর্যটকদের ঝুঁকি থাকে। নাব্যতা কেটে গেল হয়তো আবার জাহাজ চলাচল শুরুর সিদ্ধান্ত হতে পারে।’

মিয়ানমার পরিস্থিতির কারণে এমন সিদ্ধান্ত কি না জানতে চাইলে জেলা প্রশাসক বলেন, ‘তাদের অভ্যন্তরে যা হচ্ছে, তার সঙ্গে তো এসবের সম্পৃক্ততা নেয়। আমরাও সজাগ আছি। নাব্যতার কারণে দুর্ঘটনা এড়াতে এমন সিদ্ধান্ত।’

অবশ্য বেসামরিক বিমান ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ের সচিব মোকাম্মেল হোসেন বলছেন অন্য কথা। গত শনিবার কক্সবাজারে পর্যটন মেলার অনুষ্ঠানে গিয়ে তিনি বলেন, সেন্ট মার্টিনে যে হারে অপরিকল্পিত স্থাপনা নির্মাণ হচ্ছে তা পর্যটনের সঙ্গে যায় না। এগুলো বন্ধের জন্য কাজ চলছে। সবকিছু বিবেচনায় রেখে আপাতত টেকনাফ ঘাট থেকে সেন্ট মার্টিনের উদ্দেশ্যে ছেড়ে যাওয়া জাহাজ বন্ধ রাখা হয়েছে। কবে নাগাদ টেকনাফ ঘাট থেকে জাহাজ ছাড়বে তা পরে জানানো হবে।

পর্যটন ব্যবসায় ধসের আশঙ্কা

এদিকে টেকনাফ- সেন্ট মার্টিন নৌরুটে জাহাজ চলাচল বন্ধের সিদ্ধান্তে লোকসানের আশঙ্কা করছেন ব্যবসায়ীরা। তারা বলছেন, নৌপথে টেকনাফ থেকে সেন্ট মার্টিন যেতে সময় লাগে দুই ঘণ্টা। আর কক্সবাজার কিংবা চট্টগ্রাম থেকে নৌপথে সেন্ট মার্টিন পৌঁছাতে সময় লাগে সাত থেকে আট ঘণ্টা। দীর্ঘসময় সমুদ্রভ্রমণে আগ্রহী নন অনেক পর্যটক। কাজেই সরকার যে সিদ্ধান্ত নিয়েছে, তাতে পর্যটকরা সেন্ট মার্টিন ভ্রমণে নিরুৎসাহিত হবেন। এতে পর্যটন ব্যবসা ক্ষতিগ্রস্ত হবে।

সেন্ট মার্টিনের হোটেল ব্যবসায়ী নেতা রিদুয়ানুল হক বলেন, ‘চট্টগ্রাম-কক্সবাজার থেকে দুটি জাহাজ চলে। এসব জাহাজে অনেকে আসতে চায় না। কারণ সাত ঘণ্টার বেশি সময় জাহাজে থাকতে হয়। সে জায়গায় টেকনাফ থেকে চলে সাত-আটটা জাহাজ। অনেক মানুষ এ রুটে চলাচল করতে স্বস্তিবোধ করে। সরকারের এমন সিদ্ধান্তের ফলে আগামী শীত মৌসুমে সেন্ট মার্টিন ভ্রমণে আগ্রহী পর্যটকরা হয়তো সিদ্ধান্ত পরিবর্তন করবে। ফলে ব্যবসায়ীরা লোকসানে পড়বে, সরকার রাজস্ব হারাবে।’

আরেক ব্যবসায়ী রফিকুল ইসলাম বলেন, ‘সামনের মৌসুমে ব্যবসার লক্ষ্যে প্রস্তুতি চলছে। এমন সময় জাহাজ চলাচল বন্ধের সিদ্ধান্ত নেয়া হলো। এতে ব্যবসা ক্ষতিগ্রস্ত হবে। যারা কক্সবাজার থেকে জাহাজ পরিচালনা করবেন, তারা এ সুযোগটা কাজে লাগিয়ে অতিরিক্ত মুনাফা করার চেষ্টা করবেন।’

সেন্ট মার্টিনের বাসিন্দা নাজিম উদ্দিন বলেন, ‘টেকনাফ থেকে জাহাজ না আসলে মালামল আনতে খরচ বেশি হবে। সে ক্ষেত্রে খাবার বা অন্যান্য জিনিসপত্রের দামও বাড়তে পারে। তা ছাড়া আমরা এ মৌসুমের ওপর নির্ভরশীল। বড় লোকসান হবে আমাদের।’

সেন্ট মার্টিন ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মুজিবুর রহমান দৈনিক বাংলাকে বলেন, ‘শীত মৌসুমে পর্যটনের ওপর নির্ভর করে বাকি দিন পার করে সেন্ট মার্টিনের মানুষ। টেকনাফ থেকে জাহাজ বন্ধ হলে বড় লোকসানে পড়বেন এ দ্বীপের বাসিন্দারা। যদিও এখনো চূড়ান্তভাবে আমাদের জানানো হয়নি। তার পরও প্রশাসনের সঙ্গে আমরা বিষয়টি নিয়ে আলোচনা করব।’


নির্বাচিত

১২ দেশ থেকে ঠাকুরগাঁও-১ উপনির্বাচনে পোস্টাল ভোট দেবেন ২৯ জন

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

ঠাকুরগাঁও-১ আসনের আসন্ন উপনির্বাচনে পোস্টাল ব্যালটের মাধ্যমে ভোট দেবেন ১২টি দেশে বসবাসরত ২৯ জন প্রবাসী বাংলাদেশি ভোটার। গতকাল বুধবার নির্বাচন কমিশনের (ইসি) নির্বাচন পরিচালনা শাখার কর্মকর্তারা এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

ইসির তথ্য অনুযায়ী, গত ১২ থেকে ২০ সেপ্টেম্বরের মধ্যে ‘পোস্টাল ভোট বিডি’ অ্যাপের মাধ্যমে এসব প্রবাসী ভোটার নিবন্ধন সম্পন্ন করেন। তাদের বর্তমান ঠিকানায় পোস্টাল ব্যালট পাঠানোর প্রক্রিয়া ইতোমধ্যে শুরু হয়েছে।

প্রবাসী ভোটার নিবন্ধনের তথ্যে দেখা যায়, সর্বোচ্চ পাঁচজন ভোটার যুক্তরাষ্ট্র থেকে নিবন্ধন করেছেন। মালয়েশিয়া, যুক্তরাজ্য ও কানাডা থেকে চারজন করে নিবন্ধন করেছেন। সংযুক্ত আরব আমিরাত, সৌদি আরব, দক্ষিণ কোরিয়া ও অস্ট্রেলিয়া থেকে দুজন করে এবং জার্মানি, ইতালি, পর্তুগাল ও অস্ট্রিয়া থেকে একজন করে ভোটার পোস্টাল ব্যালটের জন্য নিবন্ধিত হয়েছেন।

এদিকে প্রবাসীদের পাশাপাশি নিজ নির্বাচনি এলাকার বাইরে অবস্থানরত সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারী ও নির্বাচনী দায়িত্বে নিয়োজিত ব্যক্তিদেরও পোস্টাল ব্যালটে ভোট দেওয়ার সুযোগ রয়েছে। দেশের অভ্যন্তরের পোস্টাল ভোটের নিবন্ধন কার্যক্রম গত ২৭ সেপ্টেম্বর শুরু হয়েছে, চলবে ৮ অক্টোবর পর্যন্ত।

ইসির ঘোষিত তফসিল অনুযায়ী, ঠাকুরগাঁও-১ আসনের উপনির্বাচনে ভোটগ্রহণ হবে আগামী ২৯ অক্টোবর। ওই দিন সকাল ৮টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত একটানা ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে।

তফসিল অনুযায়ী, রিটার্নিং কর্মকর্তার মনোনয়নপত্র বাছাইয়ের সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে আপিলের শেষ সময় ৪ অক্টোবর। আপিল নিষ্পত্তি হবে ৬ অক্টোবর। প্রার্থিতা প্রত্যাহারের শেষ দিন ৭ অক্টোবর এবং ৮ অক্টোবর প্রতীক বরাদ্দ দেওয়া হবে। গত মঙ্গলবার মনোনয়নপত্র যাচাই-বাছাই শেষে ছয় প্রার্থীর মনোনয়ন বৈধ ঘোষণা করা হয়েছে।


নির্বাচিত

৩৪ বছর পর ঘোড়ার গাড়িতে বিদায় ‘শেফালি খালা’

ছবি: দৈনিক বাংলা
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নওগাঁ প্রতিনিধি

একদিকে শিক্ষকদের প্রয়োজনীয় কাজের তাড়া, অন্যদিকে শত শত চঞ্চল শিক্ষার্থীর হইচই। সবকিছুর মাঝে এক চিলতে শান্তির ছায়া হয়ে যিনি দাঁড়িয়ে থাকতেন, তিনি শেফালি বেগম। পদমর্যাদায় তিনি হয়তো একটি বিদ্যালয়ের ‘আয়া’ ছিলেন; কিন্তু দীর্ঘ ৩৪ বছরের একনিষ্ঠ সেবায় তিনি হয়ে উঠেছিলেন সবার প্রিয় ‘শেফালি খালা’, পরম মমতাময়ী।

নওগাঁ সদর উপজেলার ফতেপুর (১ম) উচ্চবিদ্যালয়ে দীর্ঘ ৩৪ বছর ধরে অত্যন্ত নিষ্ঠার সাথে দায়িত্ব পালন শেষে অবশেষে বুধবার (৩০ সেপ্টেম্বর) অবসরে গেলেন। তার এই বিদায়লগ্নে ফতেপুর উচ্চবিদ্যালয় চত্বরে নেমে এসেছিল এক অভূতপূর্ব আবেগঘন পরিবেশ, যা সচরাচর কোনো বড় কর্মকর্তার বিদায়বেলায়ও দেখা যায় না।

সংসারহীন জীবনে বিদ্যালয়ই ছিল শেফালির পরিবার। ব্যক্তিগত জীবনে তিনি অবিবাহিত। নিজের কোনো ঘর-সংসার কিংবা সন্তান নেই। কিন্তু এই নিঃসঙ্গতা তাকে কখনো গ্রাস করতে পারেনি। কারণ, বিদ্যালয়ের প্রতিটি শিক্ষার্থীকেই তিনি নিজের সন্তান মনে করতেন। পরম স্নেহে শিক্ষার্থীদের টিফিনের খোঁজ নেওয়া, মায়ায় জড়িয়ে তাদের ভুলত্রুটি শুধরে দেওয়া আর কেউ অসুস্থ হলে মায়ের মতো পরম যত্নে আগলে রাখার কারণে তিনি ছিলেন সবার নয়নের মণি। শিক্ষকদের ফরমায়েশ খাটতে গিয়ে নিজের ক্লান্তিকেও কখনো প্রশ্রয় দেননি তিনি।

শেফালি বেগমের অবসরের দিনে পুরো বিদ্যালয়জুড়ে এক শোকাতুর পরিবেশের সৃষ্টি হয়। শিক্ষক ও শিক্ষার্থী সবাই অশ্রুসজল। যে মানুষটি এতগুলো বছর ধরে আড়ালে থেকে নিঃশব্দে বিদ্যালয়ের চাকা সচল রেখেছিলেন, তার ত্যাগের যথাযথ মূল্যায়ন করেছে বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ। বিদায় অনুষ্ঠানে তাকে বিশেষ সম্মাননায় ভূষিত করা হয়। শ্রদ্ধার স্মারক হিসেবে তার হাতে তুলে দেওয়া হয় সংবর্ধনা উত্তরীয়, নগদ অর্থ ও বিভিন্ন উপহারসামগ্রী।

দুপুরে বিদ্যালয়ের আঙিনায় আরম্বরভাবে তার বিদায়ী অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন নওগাঁ জেলা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক ও ফতেপুর উচ্চবিদ্যালয় পরিচালনা কমিটির সভাপতি-নূর-ই আলম মিঠু।

অনুষ্ঠানে বক্তব্য প্রদান করেন বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক সাজ্জাদুল ইসলাম, বিদ্যালয় পরিচালানা কমিটির সদস্য লিটন হোসেন, অন্যান্য অতিথি, শিক্ষক ও শিক্ষার্থী বক্তব্য প্রদান করেন।

বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটির সভাপতি নূর-ই-আলম মিঠু বলেন, ‘শেফালি বেগম আমাদের বিদ্যালয়ের শুধু একজন কর্মচারী ছিলেন না, তিনি ছিলেন এই প্রতিষ্ঠানের অন্যতম এক স্তম্ভ। দীর্ঘ ৩৪ বছর ধরে তিনি যেভাবে প্রতিটি শিক্ষককে সম্মান করেছেন এবং প্রতিটি শিক্ষার্থীকে সন্তানের মতো ভালোবেসে আগলে রেখেছেন, তা আমাদের সবার জন্য এক অনন্য অনুপ্রেরণা। পদের দিক থেকে কেউ বড় বা ছোট হতে পারে; কিন্তু তার কর্তব্যপরায়ণতা এবং মমত্ববোধ আমাদের সবার চেয়ে অনেক উঁচুতে। তার এই নিঃস্বার্থ সেবার ঋণ ফতেপুর উচ্চবিদ্যালয় কোনোদিন শোধ করতে পারবে না। আমরা তার সুস্বাস্থ্য ও দীর্ঘায়ু কামনা করি।’ বিদায়ী শেফালি বেগম তার বক্তব্যে সকলের নিকট দোয়া কামনা করেন।

অনুষ্ঠানের সবচেয়ে মানবিক ও চোখজোড়ানো দৃশ্যটি তৈরি হয় বিদায়ের ঠিক পর। সাধারণত সমাজের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা বা প্রধান শিক্ষকদের বিদায়বেলায় বিশেষ সম্মান জানানো হয়। তবে গুণী নারী শেফালির ক্ষেত্রে ফতেপুর উচ্চবিদ্যালয় সৃষ্টি করল এক অনন্য দৃষ্টান্ত। তাকে অত্যন্ত মর্যাদা ও ভালোবাসার সাথে একটি সুসজ্জিত ঘোড়ার গাড়িতে করে পৌঁছে দেওয়া হয় বাড়িতে। যাওয়ার বেলায় শিক্ষার্থীরা ফুলের পাপড়ি ছিটিয়ে সম্মান জানান।

বিদ্যালয়ের শিক্ষক ও শত শত শিক্ষার্থীর অশ্রুসিক্ত ভালোবাসায় সিক্ত হয়ে, সেই রাজকীয় ঘোড়ার গাড়িতে চড়েই তিনি ফিরে যান নিজের বাড়িতে। যাওয়ার সময় শিক্ষার্থীদের কান্না আর ভালোবাসায় আবেগাপ্লুত হন সবাই।

বিদ্যালয়ের এই অনন্য উদ্যোগটি সমাজকে এক বড় বার্তা দিয়ে গেল—কাজের ছোট-বড় দিয়ে মানুষের প্রকৃত মূল্যায়ন হয় না। সততা, নিষ্ঠা ও নিঃস্বার্থ ভালোবাসা দিয়ে মানুষের হৃদয় জয় করতে পারলে প্রাতিষ্ঠানিক পদের গণ্ডি পেরিয়ে এমন রাজকীয় সম্মান পাওয়া সম্ভব। ফতেপুর উচ্চবিদ্যালয়ের ইতিহাসে শেফালি বেগম চিরকাল মায়াবী এক মায়ের প্রতিচ্ছবি এবং এক সুমহান অনুপ্রেরণার প্রতীক হয়ে থাকবেন।


নির্বাচিত

মন্ত্রীর নির্দেশের পরই মৌলভীবাজারের সিভিল সার্জন ওএসডি

সিভিল সার্জন ডা. মো. মামুনুর রহমান (ওএসডি)। ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
মৌলভীবাজার প্রতিনিধি

প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান এবং শ্রম ও কর্মসংস্থান উপদেষ্টা-মন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরীর কঠোর নির্দেশনার পর অবশেষে মৌলভীবাজারের বিতর্কিত সিভিল সার্জন ডা. মো. মামুনুর রহমানকে বিশেষ ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওএসডি) করা হয়েছে। তাকে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরে ন্যস্ত করা হয়েছে। একই সাথে মৌলভীবাজার সদর উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. মো. জাকির হোসেনকে জেলার নতুন সিভিল সার্জন হিসেবে অতিরিক্ত দায়িত্ব প্রদান করা হয়েছে।

গত মঙ্গলবার (২৯ সেপ্টেম্বর) রাষ্ট্রপতির আদেশক্রমে স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের যুগ্ম সচিব সাইফুল ইসলাম স্বাক্ষরিত এক প্রজ্ঞাপনে এই প্রশাসনিক রদবদলের আদেশ জারি করা হয়। প্রজ্ঞাপনে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের ৩০ সেপ্টেম্বরের মধ্যে নিজ নিজ নতুন কর্মস্থলে আবশ্যিকভাবে যোগদানের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

প্রশাসনিক সূত্রে জানা গেছে, বিদায়ী সিভিল সার্জন ডা. মো. মামুনুর রহমানের বিরুদ্ধে দীর্ঘদিন ধরেই দায়িত্বে চরম অবহেলা, প্রশাসনিক গাফিলতি এবং নানা অনিয়ম-স্বেচ্ছাচারিতার অভিযোগ ছিল। এমনকি সম্প্রতি সাবেক প্রধানমন্ত্রীর মৌলভীবাজার সফরকালীন সময়েও তিনি গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব ফেলে কর্মস্থলে অনুপস্থিত ছিলেন।

সর্বশেষ গত রোববার (২৭ সেপ্টেম্বর) মৌলভীবাজার জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে জেলার সার্বিক আইনশৃঙ্খলা ও উন্নয়ন সমন্বয়বিষয়ক একটি উচ্চপর্যায়ের মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়। জেলার দায়িত্বপ্রাপ্ত মন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরীর উপস্থিতিতে আয়োজিত ওই সভায়ও যথারীতি অনুপস্থিত থাকেন সিভিল সার্জন মামুনুর রহমান।


নির্বাচিত

র‍্যাগিংয়ের অপরাধে ববির চার বিভাগের ৪৮ শিক্ষার্থীর শাস্তি

ছবি: বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
ববি প্রতিনিধি

নবীন শিক্ষার্থীদের র‍্যাগিংয়ের অপরাধে বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের চার বিভাগের ৪৮ শিক্ষার্থীকে এক বছর একাডেমিক বহিষ্কার অথবা অর্থদণ্ড দিয়েছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। গত মঙ্গলবার (২৯ সেপ্টেম্বর) বিশ্ববিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত রেজিস্ট্রার ড. আবদুল আলিম বছির স্বাক্ষরিত আলাদা আলাদা চিঠিতে শাস্তির বিষয়টি জানানো হয়েছে। গত ২০ সেপ্টেম্বর বিশ্ববিদ্যালয়ের শৃঙ্খলা বোর্ডের সভার সিদ্ধান্ত মোতাবেক অপরাধের মাত্রানুযায়ী এই শাস্তি আরোপ করা হয়েছে বলে চিঠিতে জানানো হয়েছে।

আইন বিভাগের ৫ জন, মার্কেটিং বিভাগের ১৯ জন, কম্পিউটার সাইন্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের ১৪ জন, রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের ১০ জনসহ চার বিভাগের ৪৮ শিক্ষার্থীকে শাস্তির আওতায় নিয়ে আসা হয়েছে।

অপরাধের মাত্রা অনুযায়ী ৪৮ শিক্ষার্থীকে তিন ক্যাটাগরিতে শাস্তি দেওয়া হয়েছে। কাউকে ১ বছরের বহিষ্কার বা ২০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে, কাউকে ৬ মাসের বহিষ্কার অথবা ১৫ হাজার টাকা জরিমানা। বাকিদের শুধু ১০ হাজার টাকা জরিমানার শাস্তি দেওয়া হয়েছে।

চিঠিতে জানানো হয়েছে, জরিমানা পরিশোধের সময়সীমাপত্র ইস্যুর তারিখ থেকে ১ মাস। এবং নির্দিষ্ট সময়সীমার মধ্যে জরিমানা পরিশোধ করতে ব্যর্থ হলে দ্বিগুনহারে জরিমানা প্রযোজ্য হবে বলে পত্রতে উল্লেখ করা হয়।

কম্পিউটার সাইন্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. রাহাত হোসাইন ফয়সাল বলেন, ‘তিনটি ক্যাটাগরিতে শাস্তি নির্ধারণ করা হয়েছে—বহিষ্কার অথবা নির্দিষ্ট পরিমাণ জরিমানা। শিক্ষার্থীরা যেন ভুল শুধরে নেওয়ার সুযোগ পায়, সে জন্য প্রথমবার জরিমানের বিকল্প রাখা হয়েছে। তবে ভবিষ্যতে এমন অপরাধের ক্ষেত্রে সরাসরি বহিষ্কারাদেশ কার্যকর হবে।’

বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর মো. মেহেদী হাসান সোহাগ বলেন, ‘মোট ৪৮ জন শিক্ষার্থীকে র‍্যাগিংয়ের বিষয়ে শাস্তি দেওয়া হয়েছে। র‍্যাগিংয়ের বিষয় বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয় জিরো টলারেন্স নীতি ঘোষণা করেছে। প্রাথমিকভাবে চারটি ডিপার্টমেন্টে তদন্ত রিপোর্ট দিয়েছে, ওই চারটি ডিপার্টমেন্টের স্টুডেন্টদের আমরা শাস্তির আওতাভুক্ত করেছি। আর অন্য একটি ডিপার্টমেন্ট তদন্ত রিপোর্টটে স্টুডেন্টের নাম উল্লেখ না করায় আমরা তাদের পুনরায় তদন্ত করার জন্য বলেছি। এবং পুনরায় তদন্ত রিপোর্ট নামসহ জমা দিলে আমরা তাদের আইনের আওতায় আনব।’


নির্বাচিত

হুমকি-ধমকি দিয়ে বিএনপিকে দমিয়ে রাখা যাবে না: মীর শাহে আলম

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
শিবগঞ্জ প্রতিনিধি

গুপ্ত ও নিষিদ্ধ সংগঠনের অপতৎপরতা, পরিকল্পিত সন্ত্রাস ও নৈরাজ্য সৃষ্টির প্রতিবাদে বগুড়ার শিবগঞ্জে মশাল মিছিল ও সমাবেশ করেছে বিএনপি। কর্মসূচিতে স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম অভিযোগ করে বলেছেন, শেখ হাসিনাকে দেশে ফিরিয়ে আনার পথ সুগম করতে একটি গুপ্ত সংগঠন বিভিন্নভাবে অস্থিরতা সৃষ্টির চেষ্টা করছে। তাঁর দাবি, দেশের মানুষ এ বিষয়ে সচেতন এবং যেকোনো ষড়যন্ত্র মোকাবিলায় বিএনপি প্রস্তুত।

মঙ্গলবার (২৯ সেপ্টেম্বর) রাতে শিবগঞ্জ উপজেলা ও পৌর বিএনপির উদ্যোগে উপজেলা চত্বরে আয়োজিত মশাল মিছিল ও সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। প্রকাশিত প্রতিবেদনগুলোতেও কর্মসূচিটি শিবগঞ্জে অনুষ্ঠিত হওয়ার তথ্য পাওয়া গেছে।

সমাবেশে মীর শাহে আলম সাম্প্রতিক লংমার্চের সমালোচনা করে বলেন, যে মহাসড়ক দিয়ে কর্মসূচির অংশগ্রহণকারীরা গেছেন, সেখানে সাধারণ মানুষের মধ্যে তেমন আগ্রহ দেখা যায়নি। তাঁর দাবি, লংমার্চের নামে পায়ে হেঁটে যাওয়ার কথা থাকলেও কয়েকশ গাড়ি ব্যবহার করা হয়েছে।

তিনি আরও বলেন, একদিকে তেল-গ্যাস না পাওয়ার অভিযোগ করা হচ্ছে, অন্যদিকে কর্মসূচিতে বিপুল পরিমাণ তেল-গ্যাস ব্যয় করা হয়েছে। সংসদের ভেতরে ও বাইরে ভিন্ন ধরনের বক্তব্য দেওয়া হচ্ছে বলেও তিনি অভিযোগ করেন।

মীর শাহে আলম বলেন, একটি গুপ্ত সংগঠন ১১ দলের ফুটবল টিম গঠন করে শেখ হাসিনাকে দেশে ফিরিয়ে আনার পথ তৈরি করতে অস্থিরতা সৃষ্টির চেষ্টা করছে। তবে দেশের মানুষ সজাগ ও সচেতন উল্লেখ করে তিনি বলেন, যেকোনো ষড়যন্ত্র ও অপতৎপরতা মোকাবিলার সক্ষমতা বিএনপির রয়েছে।

তিনি বিএনপির দীর্ঘ আন্দোলন-সংগ্রামের ইতিহাস তুলে ধরে বলেন, নানা নির্যাতন-নিপীড়ন সহ্য করেও দলটি দীর্ঘদিন আন্দোলন চালিয়ে গেছে। জনগণের সমর্থনে বিএনপি সরকার গঠন করেছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, হুমকি-ধমকিতে দলটি ভীত হওয়ার নয়। জনগণকে সঙ্গে নিয়ে সব ধরনের ষড়যন্ত্রের জবাব দেওয়া হবে।

প্রকাশিত অন্যান্য প্রতিবেদনে প্রতিমন্ত্রীর বক্তব্যের সঙ্গে একই কর্মসূচিতে দেশের শান্তি-শৃঙ্খলা বজায় রাখা এবং সন্ত্রাস-নৈরাজ্যের বিরুদ্ধে অবস্থানের কথাও উঠে এসেছে।

উন্নয়ন প্রসঙ্গে মীর শাহে আলম বলেন, বর্তমান সরকার শিবগঞ্জসহ দেশের বিভিন্ন অঞ্চলের উন্নয়নে কাজ করছে। একই সঙ্গে দেশের সব অঞ্চলে সুষম উন্নয়ন নিশ্চিত করতে বিভিন্ন উদ্যোগ বাস্তবায়ন করা হচ্ছে, যাতে উন্নয়নের সুফল প্রতিটি এলাকার মানুষ সমানভাবে ভোগ করতে পারেন।

এর আগে উপজেলা চত্বর থেকে মশাল মিছিল বের করেন বিএনপির নেতাকর্মী ও সমর্থকেরা। মিছিলটি বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ করে পুনরায় উপজেলা চত্বরে এসে শেষ হয়। পরে সেখানে সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। কর্মসূচিতে বিএনপির বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মী ও স্থানীয় সমর্থকেরা অংশ নেন।


নির্বাচিত

কেশবপুরে ‘পাটা বাঁধ’ অপসারণে জলাবদ্ধতা থেকে রক্ষা পেল ৬০০ বিঘা জমির ধান

ছবি: দৈনিক বাংলা
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
কেশবপুর (যশোর) প্রতিনিধি

যশোরের কেশবপুরের পদ্মবিল ও মার্সিনা বিলে ৪ হাজার মিটার অবৈধ চায়না দুয়ারি জাল জব্দ করে গত মঙ্গলবার (২৯ সেপ্টেম্বর) পুড়িয়ে ধ্বংস করা হয়েছে। উপজেলার ১০ নম্বর সাতবাড়িয়া ইউনিয়নের পদ্মবিলে জলাবদ্ধতার কারণে প্রায় ৫৫০ থেকে ৬০০ বিঘা জমির ধান পানিতে ডুবে যাওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছিল।

পদ্মবিল ও মার্সিনা বিলের মধ্যবর্তী সংযোগস্থলে দুটি পাটা বাঁধ ও জাল দিয়ে পানির স্বাভাবিক প্রবাহ বন্ধ করে রাখায় এ পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আনোয়ার হোসেনের দিকনির্দেশনায় সিনিয়র উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তার কার্যালয়ের পরিচালিত অভিযানে দুটি পাটা বাঁধ অপসারণ করে পানির স্বাভাবিক প্রবাহ ফিরিয়ে আনা হয়েছে। এতে বিস্তীর্ণ ফসলি জমির ধান জলমগ্নতা থেকে রক্ষা পেয়েছে।

একই অভিযানে পদ্মবিল ও মার্সিনা বিলের প্রায় আটটি স্থান থেকে আনুমানিক ৪ হাজার মিটার অবৈধ চায়না দুয়ারি জাল জব্দ করা হয়। পরে জব্দ করা জাল জনসম্মুখে পুড়িয়ে ধ্বংস করা হয়।

সিনিয়র উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা সুদীপ বিশ্বাসের নেতৃত্বে পরিচালিত এ অভিযানে উপস্থিত ছিলেন উপজেলা আনসার ও ভিডিপি কর্মকর্তা মো. মিয়াজান আলী, ভাল্লুকঘর পুলিশ ফাঁড়ির এএসআই নারদ কুমার বিশ্বাস, ভিডিপি দলনেতা মো. আলী হোসেন, দলনেতা তালিব হোসাইন, আনসার কমান্ডার মো. ইয়াসিন আলী, দলনেতা শেখ রাজিকুল ইসলাম ও মো. আমানত আলী গাজী। অভিযানের মাধ্যমে একদিকে যেমন কৃষিজমির জলাবদ্ধতা নিরসনে পানির স্বাভাবিক প্রবাহ ফিরিয়ে আনা হয়েছে, অন্যদিকে অবৈধ চায়না দুয়ারি জাল জব্দ ও ধ্বংসের মাধ্যমে মৎস্যসম্পদ রক্ষায়ও পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।


নির্বাচিত

টেকনাফে ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানের সম্পত্তি দখলের অভিযোগে সাংবাদ সম্মেলন

ছবি: দৈনিক বাংলা
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
টেকনাফ (কক্সবাজার) প্রতিনিধি

কক্সবাজারের টেকনাফে ১৯৭০ সালে প্রতিষ্ঠিত কাটাখালী হাফেজিয়া দারুল কোরআন ফুরকানিয়া মাদ্রাসা ও খানাকাহের সম্পত্তি দখল ও লুটপাটের অভিযোগ উঠেছে। প্রতিষ্ঠাতা মরহুম শাহ সুফি আব্দুল কাদের ফকিরের একমাত্র ছেলে হাফেজ জালাল আহম্মদ বুধবার (৩০ সেপ্টেম্বর) বেলা ১১টায় সাংবাদিক সম্মেলনে এ অভিযোগ করেন।

লিখিত বক্তব্যে তিনি দাবি করেন, ২০০৬ সালে তার বাবার মৃত্যুর পর কয়েকজন ব্যক্তি মাদ্রাসার জায়গা-জমি, মার্কেট ও অন্যান্য সম্পত্তি দখলে নেন। এতে নগদ অর্থ ও সম্পদসহ এক কোটি ২০ লাখ টাকার বেশি ক্ষতি হয়েছে। পাশাপাশি জমি ও মার্কেটের আয়-ব্যয়েরও কোনো যথাযথ হিসাব দেওয়া হয়নি বলে অভিযোগ করেন তিনি।

জালাল আহম্মদ বলেন, বাংলাদেশ ওয়াক্ফ প্রশাসক গত ২৩ জুন তাকে তিন বছরের জন্য মোতাওয়াল্লি নিয়োগ দিয়েছেন। তবে দখলদাররা ওই আদেশ মানছেন না। তিনি প্রতিষ্ঠানটির সম্পত্তি, মালিকানা ও আয়-ব্যয়ের বিষয়ে নিরপেক্ষ তদন্ত দাবি করেন।

এদিকে হাফেজ জালাল আহমেদের ছেলে নুরুল আফসার বলেন, মাদ্রাসাটি দখল করে রাতে সেখানে মাদকসেবীদের আড্ডা বসে। এখানে মাদক কেনাবেচাও হয়। এ জায়গা থেকে মাদকসহ একজনকে আটকের ঘটনায় মামলা রয়েছে, যার প্রমাণ আমাদের কাছে আছে। মাদক ব্যবসায়ীদের আশ্রয়-প্রশ্রয় দেওয়ার কারণে তারা আরও বেপরোয়া হয়ে উঠেছে।

অভিযোগের বিষয়ে নুরুল আমিন বলেন, মাদ্রাসা পরিচালনার দায়িত্ব ফরাজ খাতুন ছৈয়দ আমিনকে বুঝিয়ে দিয়েছিলেন। জায়গাটির মালিক ফকির সাহেব নন, ফরাজ খাতুন। মৃত্যুর আগে তিনি তাদের নামে জায়গাটি লিখে দিয়েছেন। ধর্ম মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনা ও আদালতের রায় ভুয়া বলেও দাবি করেন তিনি।

টেকনাফ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) এস এম অনীক চৌধুরী বলেন, ধর্মবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের অনুমোদিত ওয়াক্ফ মোতাওয়াল্লি নিয়োগ দেওয়া হলে প্রতিষ্ঠানের দেখভাল ও পরিচালনার দায়িত্ব তার ওপর বর্তায়। কেউ এ নিয়ম অমান্য করলে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।


নির্বাচিত

ফ্যান সংকটে গোয়ালন্দ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স, বিপাকে রোগীরা

ছবি: দৈনিক বাংলা
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
মইনুল হক মৃধা, রাজবাড়ী

তীব্র দাবদাহ আর ভ্যাপসা গরমে দুর্বিষহ হয়ে উঠেছে জনজীবন। হাসফাঁস অবস্থা বিরাজ করছে প্রাণিকুলে। এরই মধ্যে বেড়েই চলেছে সর্দি-জ্বরসহ বিভিন্ন রোগে আক্রান্তদের সংখ্যা। তাই সেবা নিতে প্রতিদিনই রাজবাড়ীর গোয়ালন্দে ৫০ শয্যা বিশিষ্ট উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স হাসপাতালে ভিড় বাড়ছে। কিন্তু ফ্যান সংকটের কারণে ভর্তিকৃত রোগীদের দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে।

পেটের ব্যথা নিয়ে হাসপাতালের নারী ওয়ার্ডে ভর্তিকৃত এক রোগী বলেন, ‘প্রচণ্ড গরমে ফ্যানের বাতাস না থাকায় দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে তাকে।’ অনেকটা আক্ষেপ নিয়েই তিনি বলেন, ‘পেটের ব্যাথার চেয়েও যেন বেশি অসহনীয় এই গরম। অথচ, বারান্দায় বেড আছে কিন্তু সিলিংফ্যান নেই। সারা দিন ছটফট করে পার করেছি। রাতটা কীভাবে কাটাব ভেবে পাচ্ছি না।’

বুধবার (৩০ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যায় সরেজমিনে হাসপাতালে গিয়ে দেখা যায়, মহিলা ও পুরুষ ওযার্ডের বারান্দায় বেড থাকলেও সব স্থানে রোগীর মাথার উপরে ফ্যান নেই। ফলে অনেক রোগীকেই টেবিলফ্যান অথবা হাতপাখা ব্যবহার করতে দেখা গেছে।

হাসপাতালের পুরুষ ওয়ার্ডের এক রোগী বলেন, ‘ফ্যান না থাকায় রোগীদের পাশাপাশি তাদের স্বজনরাও কষ্ট পাচ্ছে। তাই বাধ্য হয়ে বাড়ি থেকে টেবিল ফ্যান নিয়ে এসেছি। যাতে কষ্ট একটু হলেও কম হয়।’

উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. মো. মারুফ হাসান জানান, পুরুষ ও মহিলা ওয়ার্ডের বারান্দায় সব বেডের উপরে সিলিংফ্যান নেই। হাসপাতালে বাড়তি রোগী থাকায় ওয়ার্ডের বাইরে বেডে আগত রোগীদের সেবা দেওয়া হচ্ছে। তা ছাড়া ওয়ার্ডে প্রতিটি বেডের উপরে ফ্যান রয়েছে। ফ্যান সংকটের বিষয়টি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে জানানো হয়েছে, খুব শীঘ্রই তিনি ফ্যানের ব্যবস্থা করবেন বলে আশ্বস্ত করেছেন।


নির্বাচিত

ডেঙ্গু প্রতিরোধে গাজীপুরে রেড ক্রিসেন্টের পরিচ্ছন্নতা অভিযান

ছবি: দৈনিক বাংলা
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
আবিদ হোসেন বুলবুল, গাজীপুর

ডেঙ্গুর প্রকোপ প্রতিরোধে জনসচেতনতা বৃদ্ধি এবং মশার প্রজননস্থল ধ্বংসের লক্ষ্যে গাজীপুরে বিশেষ পরিচ্ছন্নতা অভিযান শুরু করেছে বাংলাদেশ রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটি গাজীপুর ইউনিট। বুধবার (৩০ সেপ্টেম্বর) সকালে গাজীপুর জেলা প্রশাসকের কার্যালয় প্রাঙ্গণে যুব রেড ক্রিসেন্টের সদস্যদের অংশগ্রহণে এ কার্যক্রমের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন গাজীপুরের জেলা প্রশাসক ও জেলা ম্যাজিস্ট্রেট মো. নূরুল করিম ভূঁইয়া।

এ সময় গাজীপুর রেড ক্রিসেন্ট ইউনিটের সেক্রেটারি এ এম আশরাফ হোসেন টুলুসহ জেলা প্রশাসন ও রেড ক্রিসেন্টের বিভিন্ন স্তরের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। অভিযানের প্রথম দিনে রেড ক্রিসেন্টের প্রায় ২০ জন যুব স্বেচ্ছাসেবক স্বতঃস্ফূর্তভাবে পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রমে অংশ নেন।

এ সময় জেলা প্রশাসক বলেন, ডেঙ্গু প্রতিরোধে কেবল চিকিৎসাধীন থাকার ওপর নির্ভর করলেই চলবে না, বরং এর মূল উৎপত্তিস্থল বা মশার প্রজননস্থল ধ্বংস এবং পরিচ্ছন্ন পরিবেশ নিশ্চিত করতে হবে। বাড়ির আঙিনা, ছাদ, নির্মাণাধীন ভবন, অফিস-আদালত ও আশপাশের কোথাও যেন কোনোভাবেই পানি জমে না থাকে, সেদিকে সবাইকে নিয়মিত নজর রাখতে হবে।

এ সময় পরিচ্ছন্নতা অভিযানের জন্য প্রয়োজনীয় বিভিন্ন সরঞ্জাম দিয়ে সার্বিক সহযোগিতা করায় গাজীপুর সিটি করপোরেশনের প্রশাসক মো. শওকত হোসেন সরকারকে বিশেষ ধন্যবাদ জানান। তিনি আশা প্রকাশ করেন, প্রশাসনের সঙ্গে সমন্বিতভাবে কাজ করার মাধ্যমেই ডেঙ্গুর ঝুঁকি কমিয়ে একটি নিরাপদ ও পরিচ্ছন্ন গাজীপুর গড়ে তোলা সম্ভব।

জেলা প্রশাসক মো. নূরুল করিম ভূঁইয়া চত্বরে উপস্থিত এক অসহায় পঙ্গু নারীর খোঁজখবর নেন। তার কথা শুনে জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিকভাবে তাকে ২০ হাজার টাকা সহায়তা প্রদান করা হয়। এ ছাড়া একটি ছোট ব্যবসা শুরু করে তার স্বাবলম্বী হওয়ার উদ্যোগে সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দেন জেলা প্রশাসক। পরবর্তীতে তার ব্যবসা কেমন চলছে এবং নিয়মিত আয় হচ্ছে কি না, সে বিষয়েও তিনি আন্তরিক খোঁজখবর নেন।

উদ্বোধনের পর রেড ক্রিসেন্টের যুব স্বেচ্ছাসেবকরা জেলা প্রশাসকের কার্যালয় প্রাঙ্গণ ও আশপাশের বিভিন্ন এলাকায় জমে থাকা ময়লা-আবর্জনা অপসারণ করেন এবং ডেঙ্গুর সম্ভাব্য মশার প্রজননস্থলগুলো পরিষ্কার করেন।


নির্বাচিত

জামায়াত জনগণের কাছে গুপ্ত হিসেবে প্রতিষ্ঠিত: প্রতিমন্ত্রী আমিনুল হক

ছবি: যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী মোঃ আমিনুল হক
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
ব্রাহ্মণবাড়িয়া প্রতিনিধি

যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী মোঃ আমিনুল হক বলেছেন, দায়িত্বভার গ্রহনের পর প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান দেশের উন্নয়নে যে পরিকল্পনা নিয়েছিলেন তা সাত মাসের মধ্যেই জনগণের সামনে দৃশ্যমান । আজ যখন জনগণের আস্থা ও বিশ্বাস অর্জনে, মানুষের অধিকার প্রতিষ্ঠার জন্য আমরা ধাবিত হচ্ছি তখন বিরোধী দল সংসদে সমর্থন দেয়ার কথা বললেও বাইরে তাদের ভিন্ন রূপ দেখা যায়। মূলত মহান মুক্তিযুদ্ধের সময় তাদের ভূমিকায় যে চরিত্র ছিল সংসদের বাইরে এসে তারা তা ফুঁটিয়ে তুলে। তারা মুখে বলে এক অন্তরে আরেক।

তিনি বুধবার (৩০ সেপ্টেম্বর) দুপুরে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নাসিরনগরে বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ক্রীড়া সামগ্রী বিতরণ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন।

বাক স্বাধীনতার নামে বিরোধী মহল বিভিন্ন অপপ্রচার চালাচ্ছে জানিয়ে তিনি বলেন, আজ দেশে অস্থিতিশীল পরিবেশ তৈরি করার জন্য যারা আওয়ামী সন্ত্রাসীদের সাথে গুপ্তভাবে সহযোগিতা করছে তারাই আবার বলছে দেশের অস্তিতিশীল পরিস্থিতির জন্য সরকার দায়ী। অর্থাৎ জামায়াতে ইসলামের সেক্রেটারি বিএনপি'র উপর দায় চাপাতে চাচ্ছে। এর চেয়ে বড় মিথ্যাচার আর কি হতে পারে। মূলত জামায়াতে ইসলাম তাদের আচার আচরণে গুপ্ত হিসেবে জনগনের কাছে প্রতিষ্ঠিত হয়ে গেছে। জনগণের কাছে জান্নাতের টিকিট বিক্রি করতে না পেরে তারা এখন ভিন্ন পথ অবলম্বন করছে।

নাসিরনগর উপজেলা পরিষদ মিলনায়তনে উপজেলা প্রশাসন আয়োজিত অনুষ্ঠানের উদ্বোধন করেন স্থানীয় সংসদ সদস্য এম, এ হান্নান। এতে জেলা প্রশাসক মোঃ আবু সাঈদের সভাপতিত্বে বিশেষ অতিথি ছিলেন সংরক্ষিত সংসদ সদস্য নাদিয়া পাঠান পাপন, তথ্য অধিদপ্তরের প্রধান তথ্য কর্মকর্তা সৈয়দ আবদাল আহমেদ, জেলা পরিষদ প্রশাসক মোঃ সিরাজুল ইসলাম সিরাজ, অর্থ মন্ত্রণালয়েরর সাবেক অতিরিক্ত সচিব মফিজ উদ্দিন প্রমূখ। পরে স্কুল, মাদ্রাসা, কলেজসহ ১২৭ টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ক্রীড়া সামগ্রী বিতরণ করা হয়।


নির্বাচিত

সীমান্তে বিজিবির অভিযানে ৯৩১ কোটি টাকার মালামাল জব্দ

ছবি: দৈনিক বাংলা
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
সুনামগঞ্জ প্রতিনিধি

চলতি বছরের ৯ মাসে কুমিল্লা, সিলেট, ময়মনসিংহ শ্রীমঙ্গল ৪টি সেক্টর নিয়ে গঠিত সরাইল রিজিয়নের আওতাধীন সীমান্তে অভিযান চালিয়ে ২৩টি আগ্নেয়াস্ত্র, ১৯ কেজি বিস্ফোরক, মাদক, বালু-পাথরসহ ৯৩১ কোটি ২৭ লাখ টাকার বিভিন্ন অবৈধ মালামাল জব্দ করা হয়েছে।

বুধবার (৩০ সেপ্টেম্বর) উত্তর-পূর্ব সরাইল রিজিয়নের পক্ষে সংবাদ সম্মেলন করে এসব তথ্য জানান ২৮ ব্যাটালিয়ন সুনামগঞ্জের অধিনায়ক লে কর্নেল একেএম জাকারিয়া কাদির।

ব্রিফিংয়ে জানানো হয়, সরাইল রিজিয়নের দায়িত্বপূর্ণ প্রায় ১,২০৪ কিলোমিটারে ৪টি সেক্টরের ১৩টি ব্যাটালিয়নের ২১১টি বিওপি ক্যাম্প জানুয়ারি থেকে সেপ্টেম্বর পর্যন্ত ১১টি পিস্তল, ৭টি এয়ার গান, ৫টি পাইপ গান, ৬২ রাউন্ড কার্তুজের পাশাপাশি ১৯ কেজি উচ্চবিস্ফোরক, ১১৭টি ডেটোনেটর এবং ৩০ মিটার ডেটোনেটর তার উদ্ধার করেছে।

৩ লাখ ১ হাজার পিস ইয়াবা, ১৩ হাজার কেজি গাঁজা, ৬২ হাজার ৬০০ বোতল বিদেশি মদ এবং বিয়ার, ১৫ হাজার পাঁচশত ৮১ বোতল ফেনসিডিল ও ইস্কাফ সিরাপ, ৩ লাক ৭৩ হাজার ৫০০ পিস বিভিন্ন প্রকার যৌন উত্তেজক ট্যাবলেট এবং ১৬৯ লিটার চোলাই মদ জব্দ হয়েছে। এসব অভিযানে মোট ৩০৫ জন আসামিকে আটক হয়। এ ছাড়া প্রাকৃতিক সুরক্ষায় ১৫ হাজার ৯০০ ঘনফুট পাথর ও ৭ হাজার ৩০০ ঘনফুট বালু জব্দ করা হয়েছে।


নির্বাচিত

পঞ্চগড়ে নিখোঁজ ব্যবসায়ীর মরদেহ উদ্ধার

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
মিজানুর রহমান, পঞ্চগড়

পঞ্চগড় পৌর শহরের তুলারডাঙ্গা এলাকায় রাস্তার পাশের একটি খাল থেকে রেজাউল করিম রেজা (৪০) নামে এক কম্পিউটার কম্পোজ দোকান মালিকের মরদেহ উদ্ধার করেছে পঞ্চগড় সদর থানা পুলিশ।

নিহত রেজাউল করিম রেজা ঠাকুরগাঁও জেলার ভেলাজান এলাকার মোস্তফা কামালের ছেলে। তিনি দীর্ঘদিন ধরে পঞ্চগড় পৌরসভার রাজনগর এলাকায় পরিবার নিয়ে বসবাস করছিলেন। পঞ্চগড় সদর থানার সামনে তাঁর একটি কম্পিউটার কম্পোজের দোকান রয়েছে।

পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, গত মঙ্গলবার (২৯ সেপ্টেম্বর) রাতে দোকান বন্ধ করে বাড়িতে ফেরেন রেজাউল করিম রেজা। রাত ১২টার দিকে পারিবারিক কোনো বিষয় নিয়ে ক্ষুব্ধ হয়ে তিনি আবার বাড়ি থেকে বের হয়ে যান। এরপর আর বাড়িতে ফিরে আসেননি তিনি।

বুধবার (৩০ সেপ্টেম্বর) সকালে তুলারডাঙ্গা এলাকায় রাস্তার পাশের একটি খালে স্থানীয় বাসিন্দারা তাঁর মরদেহ পড়ে থাকতে দেখে পুলিশে খবর দেন। খবর পেয়ে পঞ্চগড় সদর থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহ উদ্ধার করে।

পরে অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি) সদস্যরাও ঘটনাস্থলে গিয়ে প্রয়োজনীয় আলামত সংগ্রহ করেন।

পুলিশ সুরতহাল প্রতিবেদন প্রস্তুত শেষে মরদেহটি ময়নাতদন্তের জন্য পঞ্চগড় আধুনিক সদর হাসপাতালের মর্গে পাঠায়।

পঞ্চগড় সদর সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার শইমী ইমতিয়াজ জানান, খবর পাওয়ার পর পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহ উদ্ধার করে। প্রাথমিকভাবে সুরতহাল প্রতিবেদন প্রস্তুত করে ময়নাতদন্তের জন্য মরদেহ মর্গে পাঠানো হয়েছে। মৃত্যুর প্রকৃত কারণ উদ্ঘাটনে তদন্ত চলছে। তদন্ত শেষে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

এদিকে নিখোঁজের পর ব্যবসায়ী রেজাউল করিম রেজার মরদেহ উদ্ধারের ঘটনায় এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। মৃত্যুর কারণ নিয়ে নানা প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। তবে ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন ও তদন্তের পরই মৃত্যুর প্রকৃত কারণ সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়া যাবে।


নির্বাচিত

ফরিদপুরে সব ক্যামেরা সচলের নির্দেশ, নজরদারিতে থাকবে ৭৬৫ পূজা মণ্ডপ

ছবি: দৈনিক বাংলা
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
মাহবুব পিয়াল, ফরিদপুর

আসন্ন শারদীয় দুর্গাপূজা উপলক্ষে ফরিদপুরের ৭৬৫টি পূজামণ্ডপে শতভাগ সিসিটিভি ক্যামেরা নিশ্চিত করার নির্দেশ দিয়েছে জেলা পুলিশ। আগামী ১০ অক্টোবরের মধ্যে অচল ক্যামেরা সচল করা এবং যেসব মণ্ডপে ক্যামেরা নেই, সেখানে প্রয়োজন হলে ভাড়ায় হলেও সিসিটিভি স্থাপনের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

বুধবার (৩০ সেপ্টেম্বর) ফরিদপুর জেলা পুলিশ সুপার কার্যালয়ের সম্মেলন কক্ষে পূজা উদযাপন কমিটির নেতৃবৃন্দের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় পুলিশ সুপার শাহরিয়ার মোহাম্মদ মিয়াজী এই নির্দেশনা দেন। সভায় পূজাকেন্দ্রিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি, নিরাপত্তা ব্যবস্থা, সাইবার নজরদারি ও গুজব প্রতিরোধ নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়।

জেলা পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, গত বছর ফরিদপুরে পূজামণ্ডপ ছিল ৭৫৭টি। এবার তা বেড়ে হয়েছে ৭৬৫টি। এর মধ্যে কোতোয়ালী থানায় ১৯২টি, মধুখালীতে ১৫৯টি, বোয়ালমারীতে ১৩০টি, ভাঙ্গায় ৮৮টি, নগরকান্দায় ৬১টি, আলফাডাঙ্গায় ৪৩টি, সালথায় ৪৩টি, সদরপুরে ৩৫টি এবং চরভদ্রাসনে ১৪টি মণ্ডপ রয়েছে।

বর্তমানে ৬৪৪টি মণ্ডপে সিসিটিভি থাকলেও সচল রয়েছে ৫০৪টির ক্যামেরা। অর্থাৎ ১৪০টি ক্যামেরা অচল। পাশাপাশি ১২১টি মণ্ডপে এখনও কোনো সিসিটিভি স্থাপন করা হয়নি।

পুলিশ সুপার বলেন, মণ্ডপের নিরাপত্তা ও নজরদারিতে কোনো ধরনের শিথিলতা গ্রহণ করা হবে না। ১০ অক্টোবরের মধ্যে সব মণ্ডপে কার্যকর সিসিটিভি নিশ্চিত করতে হবে। প্রয়োজন হলে ভাড়া করে ক্যামেরা স্থাপনের পাশাপাশি আর্থিক ও প্রযুক্তিগত সহায়তার জন্য জেলা প্রশাসন, উপজেলা প্রশাসন ও জেলা পরিষদের সঙ্গে যোগাযোগের পরামর্শ দেন তিনি।

পূজামণ্ডপের নিরাপত্তায় আগামী ১৫ থেকে ২১ অক্টোবর পর্যন্ত আনসার সদস্য মোতায়েন থাকবে। অধিক গুরুত্বপূর্ণ মণ্ডপে ছয়জন এবং অন্যান্য মণ্ডপে চারজন করে আনসার সদস্য দায়িত্ব পালন করবেন।

এর পাশাপাশি পূজাকালীন পুলিশের টহল জোরদার, বিসর্জন ঘাটে বিশেষ নিরাপত্তা, স্বেচ্ছাসেবকদের কার্যক্রম মনিটরিং এবং শহরের যানজট নিয়ন্ত্রণে ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা জোরদারের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। নির্বিঘ্ন পূজা উদযাপনে নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহ নিয়েও সভায় আলোচনা করা হয়।

পূজাকে কেন্দ্র করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে গুজব, অপপ্রচার, উসকানিমূলক বক্তব্য বা বিভ্রান্তিকর ছবি ছড়িয়ে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি নষ্টের চেষ্টা ঠেকাতে সাইবার মনিটরিং জোরদার করা হবে। এ জন্য সাইবার মনিটরিং টিম কাজ করবে এবং প্রয়োজন অনুযায়ী দ্রুত ফ্যাক্ট চেক করা হবে। অপপ্রচারকারীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার কথাও জানানো হয়েছে।


নির্বাচিত

banner close