সোমবার, ২৪ আগস্ট ২০২৬
৯ ভাদ্র ১৪৩৩

টেকনাফ-সেন্ট মার্টিন রুটে জাহাজ চলাচল বন্ধ

টেকনাফের দমদমিয়া ঘাট থেকে যাত্রী নিয়ে মিয়ানমার সীমান্তঘেঁষে সেন্ট মার্টিন যাতায়াত করে জাহাজ। ছবি: দৈনিক বাংলা
কক্সবাজার প্রতিনিধি
প্রকাশিত
কক্সবাজার প্রতিনিধি
প্রকাশিত : ২ অক্টোবর, ২০২২ ২০:৪৬

টেকনাফ-সেন্ট মার্টিন নৌরুটে পর্যটকবাহী জাহাজ চলাচল বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। প্রতিবেশী মিয়ানমারের রাখাইনে জান্তা বাহিনীর সঙ্গে বিদ্রোহীদের সংঘাত চলছে অনেক দিন ধরেই। গত দুই মাসে এই সংঘর্ষ আরও বেড়েছে। এর প্রভাব পড়েছে সীমান্তের এ-পারে বাংলাদেশেও। মিয়ানমার বাহিনী একাধিকবার আকাশসীমা লঙ্ঘন করেছে, গোলাগুলিতে প্রাণ ঝরেছে। এই অবস্থার মধ্যে এমন সিদ্ধান্ত এল।

যদিও জেলা প্রশাসন বলছে নাফ নদীতে নাব্যতা সংকট দেখা দেয়ায় এমন সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে। এর পরিবর্তে কক্সবাজার ও চট্টগ্রাম থেকে জাহাজ পরিচালনার সিদ্ধান্ত হয়েছে।

সংশ্লিষ্ট একাধিক সূত্র বলেছে, সাগর উত্তাল থাকার পাশাপাশি কালবৈশাখীর শঙ্কা থাকায় দুর্ঘটনা এড়াতে প্রতি বছর এপ্রিল থেকে সেপেটম্বরের শেষ সপ্তাহ পর্যন্ত টেকনাফ-সেন্ট মার্টিন ও সেন্ট মার্টিন-কক্সবাজার রুটে পর্যটকবাহী জাহাজ চলাচল বন্ধ রাখা হয়। এবার টেকনাফ-সেন্ট মার্টিন রুটে জাহাজ চলাচল বন্ধের এই সময়কাল বৃদ্ধির পেছনে সীমান্তের ওপারে মিয়ানমারে সংঘর্ষ একটি বড় কারণ। নাফ নদীর নাব্যতা সংকটও আরেকটি কারণ।

টেকনাফের দমদমিয়া ঘাট থেকে যাত্রী নিয়ে মিয়ানমার সীমান্তঘেঁষে সেন্ট মার্টিন যাতায়াত করে আটটি জাহাজ। এর মধ্যে দুটি এসি ও অত্যাধুনিক প্রযুক্তিসম্পন্ন। দুই ঘণ্টায় টেকনাফ থেকে সেন্ট মার্টিন পৌঁছায় এসব জাহাজ। এ ছাড়া কক্সবাজার থেকে কর্ণফুলী এক্সপ্রেস ও চট্টগ্রাম থেকে এমভি বে-ওয়ান সেন্ট মার্টিন যাতায়াত করে। বিলাসবহুল এসব জাহাজে স্বস্তি থাকলেও টানা ৮-১০ ঘণ্টা থাকতে হয় সাগরে।

প্রায় দুই মাস ধরে নাইক্ষ্যংছড়ির তুমব্রু সীমান্তে উত্তেজনা চলছে। সীমান্তের ওপারে মিয়ানমার থেকে মর্টার শেল, গোলাগুলিসহ নানা ভারী অস্ত্রের আওয়াজে এ-পারে বান্দরবানের ঘুমধুম ইউনিয়নের তুমব্রু ও বাইশপারী এলাকার মানুষ দিন কাটাচ্ছেন আতঙ্কে। গোলার আওয়াজ উখিয়া-টেকনাফের সীমান্ত এলাকায়ও শোনা যায়।

মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যের পাহাড় থেকে ছোড়া মর্টার শেল বেশ কয়েকবার বাংলাদেশের ভূখণ্ডে এসে পড়েছে। দেশটির সামরিক বাহিনীর হেলিকপ্টার বেশ কয়েকবার আকাশসীমাও লঙ্ঘন করেছে। সর্বশেষ গত ১৬ সেপ্টেম্বর রাতে তুমব্রুর কোনারপাড়া সীমান্তে শূন্যরেখায় মিয়ানমার থেকে ছোড়া মর্টার শেলের আঘাতে এক রোহিঙ্গা যুবক নিহত হন। আহত হন রোহিঙ্গা শিশুসহ পাঁচজন। একই দিন দুপুরে এই সীমান্তের হেডম্যানপাড়ায় মিয়ানমার সীমান্তের ভেতরে মাইন বিস্ফোরণে আহত হন বাংলাদেশি এক যুবক।

এর আগে গত ২৮ আগস্ট তুমব্রু উত্তরপাড়ায় একটি অবিস্ফোরিত মর্টার শেল এসে পড়ে। সে দিনই সীমান্তে মিয়ানমার সেনাবাহিনীর হেলিকপ্টার ও যুদ্ধবিমানকে চক্কর দিতে দেখা যায়। এরপর ৩ সেপ্টেম্বর মিয়ানমারের দুটি যুদ্ধবিমান ও ফাইটিং হেলিকপ্টার থেকে ছোড়া দুটি গোলা ঘুমধুম ইউনিয়নের ৮ নম্বর ওয়ার্ড এলাকায় এসে পড়ে। সেগুলো অবিস্ফোরিত থাকায় হতাহতের ঘটনা ঘটেনি। এর তিন দিন পর পুনরায় ওই সীমান্তে ভারী অস্ত্র থেকে গোলা ছোড়ার শব্দ ভেসে আসে। এসব ঘটনায় চারবার ঢাকায় মিয়ানমারের কূটনীতিককে তলব করে প্রতিবাদ জানিয়েছে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। এ ছাড়া বিদেশি কূটনীতিকদের সঙ্গে বৈঠকেও বিষয়টি তুলেছে মন্ত্রণালয়। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে যোগ দিতে যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কে গিয়ে বিভিন্ন বৈঠকেও রোহিঙ্গা ইস্যুটি তুলেছেন। এর পরও পরিস্থিতির উন্নতি হয়নি। যদিও গত কয়েক দিন সীমান্তের ওপারে গোলাগুলির আওয়াজ অনেকখানি কমে গেছে। তবে স্থানীয়দের আশঙ্কা, যেকোনো সময় বেড়ে যেতে পারে সীমান্তের ওপারের সংঘর্ষ।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে স্থানীয় প্রশাসনের একাধিক সূত্র বলেছে, টেকনাফ থেকে সেন্ট মার্টিন নৌরুটে জাহাজগুলো নাফ নদী দিয়ে মিয়ানমার সীমান্তঘেঁষে যাতায়াত করে। সীমান্তের ওপারে সংঘাত চলায় কর্তৃপক্ষ অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে এমন সিদ্ধান্ত নিয়েছে। পাশাপাশি নাফ নদীর নাব্যতা সংকটের বিষয়টিও আছে।

তবে টেকনাফ উপজেলার ভারপ্রাপ্ত নির্বাহী কর্মকর্তা এরফানুর হক দৈনিক বাংলাকে বলেন, ‘সংশ্লিষ্টদের নির্দেশে টেকনাফ থেকে পর্যটকবাহী জাহাজ চলাচল বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত হয়েছে। নৌপথের সমস্যার কারণে পরবর্তী নির্দেশনা না আসা পর্যন্ত জাহাজ চলাচল বন্ধ থাকবে।’

আর কক্সবাজারের জেলা প্রশাসক মামুনুর রশীদ দৈনিক বাংলাকে বলেন, ‘নাফ নদীতে নাব্যতা সংকট তৈরি হয়েছে। এতে জাহাজ চলাচলের পথ প্রায় বন্ধ হয়ে গেছে। ডুবোচরে আটকা পড়লে পর্যটকদের ঝুঁকি থাকে। নাব্যতা কেটে গেল হয়তো আবার জাহাজ চলাচল শুরুর সিদ্ধান্ত হতে পারে।’

মিয়ানমার পরিস্থিতির কারণে এমন সিদ্ধান্ত কি না জানতে চাইলে জেলা প্রশাসক বলেন, ‘তাদের অভ্যন্তরে যা হচ্ছে, তার সঙ্গে তো এসবের সম্পৃক্ততা নেয়। আমরাও সজাগ আছি। নাব্যতার কারণে দুর্ঘটনা এড়াতে এমন সিদ্ধান্ত।’

অবশ্য বেসামরিক বিমান ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ের সচিব মোকাম্মেল হোসেন বলছেন অন্য কথা। গত শনিবার কক্সবাজারে পর্যটন মেলার অনুষ্ঠানে গিয়ে তিনি বলেন, সেন্ট মার্টিনে যে হারে অপরিকল্পিত স্থাপনা নির্মাণ হচ্ছে তা পর্যটনের সঙ্গে যায় না। এগুলো বন্ধের জন্য কাজ চলছে। সবকিছু বিবেচনায় রেখে আপাতত টেকনাফ ঘাট থেকে সেন্ট মার্টিনের উদ্দেশ্যে ছেড়ে যাওয়া জাহাজ বন্ধ রাখা হয়েছে। কবে নাগাদ টেকনাফ ঘাট থেকে জাহাজ ছাড়বে তা পরে জানানো হবে।

পর্যটন ব্যবসায় ধসের আশঙ্কা

এদিকে টেকনাফ- সেন্ট মার্টিন নৌরুটে জাহাজ চলাচল বন্ধের সিদ্ধান্তে লোকসানের আশঙ্কা করছেন ব্যবসায়ীরা। তারা বলছেন, নৌপথে টেকনাফ থেকে সেন্ট মার্টিন যেতে সময় লাগে দুই ঘণ্টা। আর কক্সবাজার কিংবা চট্টগ্রাম থেকে নৌপথে সেন্ট মার্টিন পৌঁছাতে সময় লাগে সাত থেকে আট ঘণ্টা। দীর্ঘসময় সমুদ্রভ্রমণে আগ্রহী নন অনেক পর্যটক। কাজেই সরকার যে সিদ্ধান্ত নিয়েছে, তাতে পর্যটকরা সেন্ট মার্টিন ভ্রমণে নিরুৎসাহিত হবেন। এতে পর্যটন ব্যবসা ক্ষতিগ্রস্ত হবে।

সেন্ট মার্টিনের হোটেল ব্যবসায়ী নেতা রিদুয়ানুল হক বলেন, ‘চট্টগ্রাম-কক্সবাজার থেকে দুটি জাহাজ চলে। এসব জাহাজে অনেকে আসতে চায় না। কারণ সাত ঘণ্টার বেশি সময় জাহাজে থাকতে হয়। সে জায়গায় টেকনাফ থেকে চলে সাত-আটটা জাহাজ। অনেক মানুষ এ রুটে চলাচল করতে স্বস্তিবোধ করে। সরকারের এমন সিদ্ধান্তের ফলে আগামী শীত মৌসুমে সেন্ট মার্টিন ভ্রমণে আগ্রহী পর্যটকরা হয়তো সিদ্ধান্ত পরিবর্তন করবে। ফলে ব্যবসায়ীরা লোকসানে পড়বে, সরকার রাজস্ব হারাবে।’

আরেক ব্যবসায়ী রফিকুল ইসলাম বলেন, ‘সামনের মৌসুমে ব্যবসার লক্ষ্যে প্রস্তুতি চলছে। এমন সময় জাহাজ চলাচল বন্ধের সিদ্ধান্ত নেয়া হলো। এতে ব্যবসা ক্ষতিগ্রস্ত হবে। যারা কক্সবাজার থেকে জাহাজ পরিচালনা করবেন, তারা এ সুযোগটা কাজে লাগিয়ে অতিরিক্ত মুনাফা করার চেষ্টা করবেন।’

সেন্ট মার্টিনের বাসিন্দা নাজিম উদ্দিন বলেন, ‘টেকনাফ থেকে জাহাজ না আসলে মালামল আনতে খরচ বেশি হবে। সে ক্ষেত্রে খাবার বা অন্যান্য জিনিসপত্রের দামও বাড়তে পারে। তা ছাড়া আমরা এ মৌসুমের ওপর নির্ভরশীল। বড় লোকসান হবে আমাদের।’

সেন্ট মার্টিন ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মুজিবুর রহমান দৈনিক বাংলাকে বলেন, ‘শীত মৌসুমে পর্যটনের ওপর নির্ভর করে বাকি দিন পার করে সেন্ট মার্টিনের মানুষ। টেকনাফ থেকে জাহাজ বন্ধ হলে বড় লোকসানে পড়বেন এ দ্বীপের বাসিন্দারা। যদিও এখনো চূড়ান্তভাবে আমাদের জানানো হয়নি। তার পরও প্রশাসনের সঙ্গে আমরা বিষয়টি নিয়ে আলোচনা করব।’


নির্বাচিত

ময়নাতদন্তের রিপোর্টের সঙ্গে পুলিশের বক্তব্যের কিছু অংশ অমিল: ময়নাতদন্তকারী চিকিৎসক

ছবি: হত্যাকাণ্ডের শিকার রংপুর জিলা স্কুলের শিক্ষক গণপতি চক্রবর্তী, তার স্ত্রী প্রীতিলতা চক্রবর্তী, মেয়ে আগামী চক্রবর্তী ও ১২ বছরের শিশুসন্তান প্রিয়ম চক্রবর্তী।
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

রংপুরে মাদকসেবনে বাধা দেয়ায় অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক গণপতি চক্রবর্তী ও স্ত্রী-সন্তানসহ ৪ জনকে হত্যার ঘটনায় পুলিশের বক্তব্য ও ময়নাতদন্তের রিপোর্টের কিছু অংশ মিলছে না।

সোমবার (২৪ আগস্ট) সাংবাদিকদের এ হত্যাকাণ্ড নিয়ে ময়নাতদন্তকারী ডা. বাবলু কিশোর বিশ্বাস জানিয়েছেন বিভিন্ন তথ্য।

তিনি বলেন, ‘ভিকটিম চারজনকেই শ্বাসরোধ করে হত্যা করা হয়। তবে চোয়াল ভাঙার কোনো প্রমাণ ময়নাতদন্তে পাওয়া যায়নি। অনেকেই গুজব রটিয়েছে যে এসিড ব্যবহার করে লাশগুলোর চেহারা নষ্ট করা হয়েছে। তবে এর প্রমাণ ময়নাতদন্তে পাওয়া যায়নি। মূলত লাশগুলোর কয়েকদিন ধরে পড়ে থাকার কারণে চেহারাগুলো ঝলসে যাওয়ার মতো হয়েছে।’

বাবলু কিশোর বিশ্বাস আরও বলেন, ‘ময়নাতদন্তে বিভিন্ন স্যাম্পল সংগ্রহ করা হয়েছে, সেগুলো সিআইডি ল্যাবে পাঠানো হবে।’

এদিকে গতকাল সংবাদ সম্মেলন করে রংপুর মেট্রোপলিটন পুলিশ কমিশনার মোহাম্মদ আব্দুল মাবুদ জানিয়েছিলেন, হত্যাকাণ্ডের শিকার আগামী চক্রবর্তীর গলা ও মুখে রশি পেঁচিয়ে এমনভাবে টানা হয়েছিল যে, আগামীর চোখগুলো বেরিয়ে আসে এবং দাঁতের চোয়াল ভেঙে যায়।

উল্লেখ্য, রংপুর নগরীর মাছুয়াপাড়ার বাসিন্দা রংপুর জিলা স্কুলের অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক গণপতি চক্রবর্তীর বাড়িতে তার স্বজনরা সাড়াশব্দ না পাওয়ায় শনিবার সন্ধ্যায় পুলিশে খবর দেয়। রাত সাড়ে ১০টার দিকে পুলিশ ঘটনাস্থলে এসে বাড়ির তালা ভেঙ্গে চিলেকোঠায় গণপতি চক্রবর্তী (৬৫), সিঁড়িতে স্ত্রী প্রীতিলতা চক্রবর্তী (৫২) ও মেয়ে আগামী চক্রবর্তী (২৫) এবং দোতলায় শোবার ঘরে রংপুর জিলা স্কুলে পঞ্চম শ্রেণিতে পড়ুয়া প্রিয়ম চক্রবর্তীর (১২) লাশ দেখতে পায় পুলিশ। এমন মর্মান্তিক হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় রংপুরসহ দেশজুড়ে তোলপাড় শুরু হয়েছে।

গ্রেপ্তারকৃত নগরীর মাছুয়াপাড়া এলাকার কানুদাসের ছেলে মুগ্ধ দাস (২৩) সিটি বাজারে মাছে দোকানের কর্মচারী এবং সিদ্ধার্থ দাস (১৯) স্বর্ণের দোকানে কারিগর হিসেবে কাজ করতো। তারা সম্পর্কে মামাতো ভাই।


নির্বাচিত

নরসিংদীতে বিধবার জমি দখলের চেষ্টা, বাড়িতে হামলা

নরসিংদীর একটি রেস্তোরাঁয় ভুক্তভোগী পরিবারের সংবাদ সম্মেলন। ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নরসিংদী প্রতিনিধি

নরসিংদীর রায়পুরায় জোহরা বেগম নামে এক বিধবার বসতবাড়িতে হামলা এবং সম্পত্তি জোরপূর্বক দখলের অপচেষ্টার প্রতিবাদে সংবাদ সম্মেলন হয়েছে। সোমবার (২৪ আগস্ট) সকালে নরসিংদী শহরের একটি রেস্তোরাঁয় ভুক্তভোগী পরিবারের পক্ষ থেকে এ সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়।

সংবাদ সম্মেলনে ভুক্তভোগী জোহরা বেগমের মেয়ে আরিফা আক্তার মুন্নি লিখিত বক্তব্যে জানান, তাদের নিজ গ্রাম বাঙালীনগরের মৌজা আর.এস ৩২৯ খতিয়ানে এস.এ-৪১৩ ও আর.এস-২১০৫ দাগের ১১ শতাংশ জমি তার মা দীর্ঘদিন ধরে ভোগদখল করে আসছেন।

অভিযোগ করা হয়, ওই জমির ওপর নজর পড়ে একই গ্রামের মৃত ফজলুর রহমানের ছেলে সানজারুল কবির জহির, আশরাফুল ইসলাম আসাদুল, হুমায়ুন কবির, ছাত্তার মিয়ার ছেলে নাজমুল আলম পারভেজ, টুটুল মিয়ার ছেলে সাজেদুল ইসলাম অনন এবং ফজলুর রহমানের মেয়ে পারভীন বেগমের।

মুন্নি জানান, জমিটি কবজা করতে ব্যক্তিরা নানা ষড়যন্ত্র চালিয়ে আসছিল। এরই ধারাবাহিকতায় গত বৃহস্পতিবার (২০ আগস্ট) সকাল আনুমানিক ৯টার দিকে আসামিরা জোরপূর্বক জমি দখলের চেষ্টা চালায়। এতে জোহরা বেগমের বাড়ির লোকজন বাধা দিলে আসামিরা দেশীয় অস্ত্রশস্ত্রে সজ্জিত হয়ে বসতবাড়িতে হামলা চালায়। এ সময় জমি না ছাড়লে তাদের পরিবারকে জীবননাশের হুমকিও দেওয়া হয়। বর্তমানে আসামিদের ভয়ভীতি ও হুমকির মুখে জোহরা বেগম ও তার পরিবারের সদস্যরা তীব্র নিরাপত্তাহীনতায় দিন কাটাচ্ছেন।

এ ঘটনায় বিচার চেয়ে গত রোববার (২৩ আগস্ট) জোহরা বেগম বাদী হয়ে সানজারুল কবির জহিরসহ ৬ জনকে আসামি করে নরসিংদী জেলা ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে একটি মামলা দায়ের করেন। মামলা দায়েরের খবর ছড়িয়ে পড়লে আসামিরা আরও ক্ষিপ্ত হয়ে তাদের পুনরায় প্রাণনাশের হুমকি দিচ্ছে বলে সম্মেলনে অভিযোগ করা হয়।

এ বিষয়ে আইন প্রয়োগকারী সংস্থার জরুরি হস্তক্ষেপ দাবি করেছেন ভুক্তভোগী পরিবার ও সুশীল সমাজ।


নির্বাচিত

লোডশেডিং নিরসনে দীর্ঘমেয়াদী পরিকল্পনা ইবি প্রশাসনের

কুষ্টিয়ার ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ে (ইবি) চলমান তীব্র লোডশেডিংয়ে চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন সাধারণ শিক্ষার্থীরা। ছবি: দৈনিক বাংলা
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
ইবি প্রতিনিধি

কুষ্টিয়ার ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ে (ইবি) চলমান তীব্র লোডশেডিংয়ে চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন সাধারণ শিক্ষার্থীরা। ল্যাব, লাইব্রেরি এবং আবাসিক হলগুলোর পাশাপাশি ক্যাম্পাস সংলগ্ন মেস এলাকাগুলোতে বিদ্যুৎ সংকটে স্বাভাবিক পড়াশোনা ও দৈনন্দিন জীবনযাত্রা ব্যাহত হচ্ছে। এই পরিস্থিতি নিরসনে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন ও বিদ্যুৎ কর্তৃপক্ষ স্বল্পমেয়াদী আশ্বাসের পাশাপাশি দীর্ঘমেয়াদী কিছু বিকল্প পরিকল্পনার কথা জানিয়েছে।

সম্প্রতিকালে জাতীয় গ্রিডে বিদ্যুৎ উৎপাদনে ঘাটতির কারণে চাহিদার তুলনায় তিনভাগের একভাগ বিদ্যুৎ পাচ্ছে বলে জানা যায় বিদ্যুৎ কতৃপক্ষের বরাতে। লোডশেডিংয়ের মূল কারণ জানতে চাইলে পল্লী বিদ্যুতের স্বস্তিপুর জোনাল অফিসের ডিজিএম খালিদ মোহাম্মদ সালাউদ্দিন জানান, স্থানীয় সাব-স্টেশন বা লাইনে কোনো যান্ত্রিক ত্রুটি কিংবা ওভারলোড সমস্যা নেই।

তিনি বলেন, জাতীয় গ্রিডে প্রায় ৪ হাজার মেগাওয়াট উৎপাদন কমে যাওয়ায় এই সংকট তৈরি হয়েছে। ফলে আমাদের উপকেন্দ্রে প্রকৃত ২০ মেগাওয়াট চাহিদার বিপরীতে গড়ে মাত্র ৮ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ পাচ্ছি। তবে ঘন ঘন লোডশেডিংয়ের কারণে চাহিদা আরও বেড়ে গেছে।

ক্যাম্পাসের তুলনায় ক্যাম্পাস সংলগ্ন এলাকায় লোডশেডিং ভয়াবহ আকার ধারণ করেছে। এ সংকটের ব্যাখ্যা দিয়ে ডিজিএম জানান, ক্যাম্পাস সংলগ্ন আবাসিক ও মেস এলাকাগুলো সাধারণ গ্রামীণ ফিডারের আওতাভুক্ত। ফলে মেস এলাকাগুলোতে আলাদা অগ্রাধিকার বা বিশেষ সুবিধা দেওয়ার কারিগরি সুযোগ নেই। তবে, ক্যাম্পাসে আলাদা 'এক্সপ্রেস ফিডারে' বিদ্যুৎ সরবরাহ করা হয় বলে জানান তিনি।

বিশ্ববিদ্যালয়ে চলমান সংকট নিরসনে গৃহীত পদক্ষেপ সম্পর্কে জানতে চাইলে ইবির প্রধান প্রকৌশলী আব্দুল মালেক জানান, বিদ্যুৎ সরবরাহের মূল নিয়ন্ত্রণ বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের হাতে নেই। তবে উপ-উপাচার্য'সহ প্রশাসন সংশ্লিষ্ট বিদ্যুৎ বিভাগের সাথে সার্বক্ষণিক যোগাযোগ ও সমন্বয় রাখছে।

চলমান এই সংকট নিরসনের জন্য দীর্ঘমেয়াদী বিকল্প উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে এবং কিছু পরিকল্পনা বাস্তবায়নের লক্ষ্যে কাজ করছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। প্রকৌশল দপ্তর সূত্রে জানা যায়, বিশ্ববিদ্যালয়ের অভ্যন্তরে ইনডোর টাইপ ১০/১৪ এমভিএ ৩৩/১১ কেভি বৈদ্যুতিক উপকেন্দ্র নির্মাণে কুষ্টিয়া পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির সঙ্গে ২০২৫ সালে মে মাসে বিগত প্রশাসন চুক্তি স্বাক্ষর করেন।

চুক্তি মোতাবেক, বিশ্ববিদ্যালয়ের চাহিদা অনুযায়ী অগ্রাধিকার ভিত্তিতে নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহ নিশ্চিত করা হবে। অতিরিক্ত বিদ্যুৎ পার্শ্ববর্তী এলাকায় জনস্বার্থে সরবরাহ করতে পারবে পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে ইবি প্রধান প্রকৌশলী তিনি বলেন, বিশ্ববিদ্যালয় এলাকায় চলমান ইনডোর সাব-স্টেশনের কাজও দ্রুত এগিয়ে চলছে। আগামী ডিসেম্বরের মধ্যেই ইনডোর সাব-স্টেশনের কাজ শেষ হবে বলে আশা করা যায়। সম্প্রতি পরিবেশ মন্ত্রণালয় পরিদর্শনের পর এ বিষয়ে ইতিবাচক মতামত দিয়েছে।

এ বিষয়ে প্রধান প্রকৌশলী বলেন, সাধারণত দূরবর্তী লাইন থেকে বিদ্যুৎ আনার কারণে যে কারিগরি ত্রুটি ও ঘন ঘন বিদ্যুৎ বিভ্রাট হয়, এটি চালু হলে তা আর থাকবে না। সাব-স্টেশনটি চালু হলে কারিগরি সমস্যাজনিত লোডশেডিং বন্ধ হবে এবং বিশ্ববিদ্যালয় শতভাগ অগ্রাধিকার পাবে। জাতীয় গ্রিডে সরবরাহ পর্যাপ্ত থাকা সাপেক্ষে এটি পুরোপুরি কার্যকর হবে।

এই প্রকল্পের অগ্রগতি সম্পর্কে ডিজিএম খালিদ মোহাম্মদ সালাউদ্দিন জানান, বিশ্ববিদ্যালয়ের বিদ্যুৎ ব্যবস্থার উন্নয়ন ও নিরবচ্ছিন্ন সরবরাহ নিশ্চিত করতে এই চুক্তি গুরুত্বপূর্ণ। ইনডোর সাব-স্টেশনের কাজ চলমান এবং কাজের অগ্রগতি দৃশ্যমান। আশা করি, আগামী জুনের মধ্যে এটি চালু হতে পারে। এতে বিশ্ববিদ্যালয়'সহ সংশ্লিষ্ট এলাকায় বিদ্যুৎ ব্যবস্থা উন্নত হবে।

এ বিষয়ে জানতে চাইলেন ইবি প্রধান প্রকৌশলী বলেন, প্রতিবছর তৈরি হওয়া এই সংকট নিরসনে দীর্ঘমেয়াদী পদক্ষেপ হিসেবে সোলার প্যানেল স্থাপনের উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। একটি সরকারি প্রকল্পের অধীনে সোলার প্যানেল স্থাপনের পরিকল্পনা করা হচ্ছে। এ বিষয়ে শিক্ষক প্রতিনিধি'সহ একটি দল খুব শীঘ্রই উপাচার্য স্যারের সাথে বৈঠকে বসবেন। উপাচার্যের অনুমোদন মিললে দ্রুতই প্রকল্পটি তৈরি করে চূড়ান্ত সাবমিট করা হবে।

বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. একেএম মতিনুর রহমান বলেন, ইউজিসি ও সরকারের উদ্যোগে পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে সোলার প্যানেল চালুর পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। ক্যাম্পাসে টেকসই স্থানে সোলার প্যানেল বসানোর জন্য ইউজিসির প্রতিনিধি দলকে সরজমিনে পরিদর্শনের আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে এবং প্রয়োজনীয় লজিস্টিক সহায়তার আশ্বাস দেওয়া হয়েছে। একইসাথে জাতীয় বিদ্যুৎ সংকট মোকাবিলা ও ক্যাম্পাসে অপচয় রোধে অপ্রয়োজনীয় এসি, ফ্যান এবং হলের হিটার ব্যবহার বন্ধে জরুরি নোটিশ জারি করা হয়েছে।


নির্বাচিত

মাদারীপুরে মাকে ধর্ষণের পর হত্যা, বাঁচলনা অবুঝ শিশু আবিরও

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
মাদারীপুর প্রতিনিধি

নদীর পানি বইছিল আপন গতিতেই। আর সেই ভাসমান জলের বুকেই ভেসে ছিল এক বছরের এক নিষ্পাপ প্রাণের নিথর শরীর। সোমবার (২৪ আগস্ট) সকালে মাদারীপুরের শিবচরের আড়িয়াল খাঁ নদীর নিলখী মাদ্রাসা ঘাটে যখন ছোট্ট আবিরের অর্ধগলিত মরদেহটি তীরে আনা হলো, তখন সেখানে উপস্থিত কোনো মানুষের চোখই শুকনো ছিল না। শিশু-তরুণ থেকে শুরু করে বৃদ্ধ—পুরো জনপদ কেঁদে উঠেছে এক অবুঝ সন্তানের এই করুণ পরিণতিতে।

ধর্ষণের শিকার হয়ে পাঁচ দিন আগে প্রাণ হারিয়েছিলেন মা শম্পা খাতুন। আর সেদিনই মায়ের কোল কেড়ে নিয়ে ব্রিজ থেকে নদীতে ফেলে দেওয়া হয়েছিল ফুটফুটে শিশু আবিরকে। জল্লাদের নিষ্ঠুরতার কাছে হেরে যাওয়া এই মায়ের আকুতি আর সন্তানের শেষ অবুঝ আর্তনাদ হয়তো মিশে গিয়েছিল নদীর তীব্র স্রোতে।

গত ১৯ আগস্ট শিবচরের এক ঝোপের পাশ থেকে অজ্ঞাত হিসেবে শম্পা খাতুনের মরদেহ উদ্ধার করেছিল পুলিশ। পরে জানা যায়, লালপুরের ছামরুল ইসলামের মেয়ে শম্পা নিজের সন্তানের এক উজ্জ্বল ভবিষ্যতের আশায় হয়তো লড়ছিলেন। কিন্তু লম্পট ফারুকের নজরে পড়ে শেষ হয়ে যায় তাঁর জীবনের সব স্বপ্ন।

আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর হাতে গ্রেপ্তারের পর ফারুক নিজেই স্বীকার করে সেই লোমহর্ষক কাহিনি। শম্পাকে ধর্ষণের পর হত্যা করার পর, তার এক বছরের অবুঝ শিশু আবিরকে ব্রিজের ওপর থেকে স্রেফ ছুঁড়ে ফেলে দিয়েছিল আড়িয়াল খাঁ নদীতে।

ঘাতকের স্বীকারোক্তির পর সবাই মনে মনে হয়তো একটা অলৌকিক কিছুর আশায় ছিলেন—যদি আবির বেঁচে থাকে! কিন্তু নিষ্ঠুর বাস্তবতা সামনে এলো পাঁচ দিন পর। নদীর পানিতে ভেসে উঠলো শিশুটির নিথর দেহ।

মরদেহ উদ্ধারের পর নিলখী এলাকার বাতাস ভারী হয়ে ওঠে সাধারণ মানুষের কান্না ও ক্ষোভে। উপস্থিত এক বৃদ্ধ শিউরে উঠে বললেন, মায়ের লাশ তো পেলাম, এখন এই দুধের শিশুর গলিত লাশও দেখতে হলো? একটা মানুষ কতটা পৈশাচিক হলে এমন দুধের শিশুকে ব্রিজের ওপর থেকে নদীতে ফেলে দিতে পারে?

আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী দ্রুততম সময়ে এই ক্লুলেস হত্যাকাণ্ডের রহস্য উন্মোচন করলেও, এলাকার মানুষের মনে জমেছে গভীর ক্ষত। শম্পা ও আবিরের এই নিঃশব্দ প্রস্থান কেবল দুটি প্রাণের মৃত্যু নয়, যেন পুরো মানবতা ও বিবেকের পরাজয়।

এখন মাদারীপুরবাসী একটাই দাবি নিয়ে তাকিয়ে আছেন সুবিচারের দিকে—পাষণ্ড ফারুকের যেন এমন দৃষ্টান্তমূলক সর্বোচ্চ শাস্তি হয়, যাতে আর কোনো মায়ের কোল এভাবে খালি না হয়, কোনো অবুঝ শিশুকে আড়িয়াল খাঁ নদীর ঠাণ্ডা পানিতে অকালে প্রাণ দিতে না হয়।


নির্বাচিত

দুবৃর্ত্তদের হামলায় প্রাণ গেল সাবেক কাউন্সিলরের

ছবি: ভৈরব পৌরসভার ১নং ওয়ার্ডের সাবেক কাউন্সিলর ও পৌর যুবলীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক আল আমিন সৈকত।
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
ভৈরব (কিশোরগঞ্জ) প্রতিনিধি

কিশোরগঞ্জের ভৈরব পৌরসভার ১নং ওয়ার্ডের সাবেক কাউন্সিলর ও পৌর যুবলীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক আল আমিন সৈকত (৪০) দুর্বৃত্তদের ধারালো অস্ত্রের আঘাতে নৃশংসভাবে খুন হয়েছে। গত রোববার (২৩ আগস্ট) রাত পৌনে ১২টার দিকে ভৈরব বাজার ট্রিনপট্রি রমজান মিয়ার হাউলি এলাকায় ঘটনাটি ঘটেছে।

তিনি ভৈরব বাজারে ব্যবসাও করত। পৌর শহরের ভৈরবপুর উত্তরপাড়া এলাকার আড়াই বেপারীর বংশের মৃত জসীম উদ্দিনের ছেলে।

পরিবার সুত্রে জানা যায়, প্রতিদিনের মতই আল আমিন সৈকত তার ব্যবসা প্রতিষ্ঠান আবাসিক হোটেলের অফিস থেকে মোটরসাইকেলযোগে বাসায় যাওয়ার পথে টিনপট্রির সোস্যাল ইসলামী ব্যাংকের নিকটে রমজান মিয়া হাউলির সড়কে কয়েকজন দুবৃর্ত্তরা তার মোটরসাইকেল থামিয়ে প্রথমে মাথায়, চোখ, হাত ও পায়ে ধারালো অস্ত্র দিয়ে একাধিক আঘাত করে। এসময় খবর পেয়ে স্বজনরা তাকে গুরুতর আহত অবস্থায় উদ্ধার করে প্রথমে স্থানীয় একটি বেসরকারী হাসপাতালে চিকিৎসার জন্য নেয়া হলে কর্তব্যরত ডাক্তার তার অবস্থা খারাপ দেখে তাকে ঢাকায় রেফার্ড করে। তারপর ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসার জন্য নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসকরা তাকে মৃত্যু ঘোষণা করে৷

নিহতের স্ত্রী তানিয়া খানম বলেন, রাত সাড়ে ১১টার দিকে আমার স্বামীকে কল দিলে তিনি আমাকে জানান কাজ শেষ করে বাসায় ফিরবে৷ এর কিছুক্ষণ পরে আবার ফোন দিলে তিনি বলেন আমি বের হচ্ছি তুমি ভাত রেডি কর। এর কিছুক্ষণ পরেই দৌড়ে এসে বললো ভাইকে তো কে জানি কুপিয়ে মেরে ফেলেছে। দৌড়ে গিয়ে দেখি রাস্তায় রক্তাক্ত অবস্থায় পড়ে আছে। পরে তাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে গেলে সেখানে মৃত্যুবরণ করে। আমার স্বামীর হত্যার বিচার চাই। এইভাবে যেন কেউ আমার মত স্বামী হারা না হয়।

তার বন্ধু তমাল আহমেদ জানান, রোববার (২৩ আগস্ট) রাত সাড়ে ১১ টা পর্যন্ত আমরা একসাথে বসে তার আবাসিক হোটেলে আড্ডা গল্প দিচ্ছিলাম। পরে আমি বাসায় চলে যায় এবং সে তার বাসায় মোটরসাইকেলে চলে যায়। বাসায় গিয়েই আমি দূর্ঘটনার খবর পায়।

নিহতের চাচাত ভাই আরাফাত জানান, আমরা কয়েকজনে মিলে ঢাকায় নেয়ার পথেই সে গাড়ীতে মারা যায়। পরে তাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হলে কর্তব্যরত ডাক্তার তাকে মৃত ঘোষণা করে।

এবিষয়ে ভৈরব শহর ফাঁড়ির ইনচার্জ নুরুল হুদা জানান, আল আমিন সৈকতের ঘটনাটি খবর পেয়ে তাৎক্ষণিক ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছি। এই ঘটনার সাথে জড়িতদের সনাক্ত করতে পুলিশ কাজ করছে। তবে নিহতের মরদেহ তার এখনও ভৈরবে পৌঁছেনি জানতে পারি। তার পরিবারের সাথে কথা বলে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।


নির্বাচিত

নবনির্বাচিত রাষ্ট্রপতিকে বাকৃবি উপাচার্যের অভিনন্দন

ছবি: রাষ্ট্রপতি এবং বাকৃবির চ্যান্সেলর মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর ও বাকৃবির উপাচার্য অধ্যাপক ড. এ. কে. ফজলুল হক ভূঁইয়া।
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
বাকৃবি প্রতিনিধি

২৩তম রাষ্ট্রপতি এবং বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের (বাকৃবি) চ্যান্সেলর হিসেবে নির্বাচিত হওয়ায় মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরকে আন্তরিক অভিনন্দন ও শুভেচ্ছা জানিয়েছেন বাকৃবি উপাচার্য অধ্যাপক ড. এ. কে. ফজলুল হক ভূঁইয়া।

সোমবার (২৪ আগস্ট) বাকৃবি উপাচার্যের দপ্তর থেকে পাঠানো এক অভিনন্দন বার্তার মাধ্যমে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী, শিক্ষক, কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের পক্ষ থেকে এই শুভেচ্ছা জানানো হয়।

অভিনন্দন বার্তায় উপাচার্য অধ্যাপক ড. এ. কে. ফজলুল হক ভূঁইয়া বলেন, দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনের সততা, নিষ্ঠা, প্রজ্ঞা ও দেশপ্রেমের কারণেই তিনি দেশের সর্বোচ্চ সাংবিধানিক পদে আসীন হয়েছেন, যা অত্যন্ত যুগোপযোগী ও গৌরবময়। তাঁর আপসহীন পথচলা ও দীর্ঘ সংগ্রামের রাজনৈতিক জীবন নতুন প্রজন্মের জন্য অনুকরণীয় ও শিক্ষণীয়। মহামান্য রাষ্ট্রপতির সুদীর্ঘ কর্মজীবনের অভিজ্ঞতা ও প্রজ্ঞা দেশের গণতন্ত্র সুসংহতকরণ, আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা, জাতীয় ঐক্য এবং জনকল্যাণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে বাকৃবি পরিবার দৃঢ়ভাবে আশা প্রকাশ করে।

বার্তায় বাকৃবির অবদানের কথা তুলে ধরে উপাচার্য জানান, বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় দেশের কৃষি শিক্ষা, গবেষণা ও সম্প্রসারণের অন্যতম প্রধান চালিকাশক্তি। প্রতিষ্ঠার পর থেকে এই বিশ্ববিদ্যালয়ের ৬১ হাজার ৬৯৯ জন গ্র্যাজুয়েট দেশের খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ এবং কৃষি খাতের উন্নয়নে অগ্রণী ভূমিকা পালন করে আসছেন। রাষ্ট্রপতির সুদৃঢ় ও অভিভাবকসুলভ দিক-নির্দেশনায় ঐতিহ্যবাহী এই শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানটি কৃষি শিক্ষা, গবেষণা ও প্রযুক্তিগত উদ্ভাবনে আরও অনন্য উচ্চতায় পৌঁছাবে।

বার্তার শেষাংশে রাষ্ট্রপতি হিসেবে তার মেয়াদকালের সর্বাঙ্গীন সাফল্য, সুস্বাস্থ্য ও দীর্ঘায়ু কামনা করা হয়।


নির্বাচিত

যে ‘ওষুধের’ প্যাকেটেই প্রশ্ন, সেটিই ঢুকছে রোগীর প্রেসক্রিপশনে

ছবি: দৈনিক বাংলা
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নওগাঁ প্রতিনিধি

চিকিৎসকের কাছে মানুষ যায় সুস্থ হওয়ার আশায়। অসুস্থ শরীর নিয়ে চিকিৎসকের পরামর্শ, পরীক্ষা-নিরীক্ষা আর ওষুধের ওপরই ভরসা রাখেন রোগী ও স্বজনরা। কিন্তু সেই প্রেসক্রিপশনের ওষুধ যদি হয় অনুমোদনহীন। তাহলে চিকিৎসার নিরাপত্তা কোথায়।

নওগাঁ শহরের কাজীর মোড় এলাকার হলিপ্যাথ ডিজিটাল ল্যাব নামরর বেসরকারি ডায়াগনস্টিকে চিকিৎসা নিতে আসা রোগীদের প্রেসক্রিপশনে এমন কিছু ওষুধ লেখার অভিযোগ উঠেছে, যেগুলোর বিষয়ে নওগাঁ ঔষধ প্রশাসন বলছে, এসব ওষুধে তাদের অনুমোদন নেই। এর মধ্যে রয়েছে Chole CF-3L নামের একটি পণ্য, যা প্রেসক্রিপশনে Vitamin D-3 Injection IP হিসেবে উল্লেখ করা হচ্ছে। পণ্যটির প্যাকেটের গায়ে সর্বোচ্চ খুচরা মূল্য (MRP) ছাপানো না থেকে সাদা কাগজে হাতে লেখা রয়েছে ৪০০ টাকা।

শুধু তাই নয়, একইভাবে Cap. Zecap এবং Voligel Max নামের আরও দুটি পণ্যও প্রেসক্রিপশনে লেখার অভিযোগ রয়েছে। এসব পণ্যের গুণগত মান, বৈধতা, আমদানির উৎস এবং বাজারজাতকরণ প্রক্রিয়া নিয়েও উঠেছে নানা প্রশ্ন।

অনুসন্ধানে আরও উঠে এসেছে, চিকিৎসকের সহযোগী হিসেবে বসা মাহফুজ নামের এক ব্যক্তি রোগীদের প্রেসক্রিপশনে ওষুধ লিখে দিচ্ছেন। অনুসন্ধানে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির বক্তব্য অনুযায়ী, এসব পণ্য বাজারজাতকরণের সঙ্গেও তার সম্পৃক্ততা রয়েছে। ফলে চিকিৎসকের পরামর্শ, প্রেসক্রিপশন এবং ওষুধ সরবরাহ এই তিনটি বিষয়কে ঘিরে তৈরি হয়েছে স্বার্থের সংঘাতের প্রশ্নও।

সরেজমিনে জানা যায়, নওগাঁ শহরের কাজীর মোড়ের হলিপ্যাথ ডায়াগনস্টিক ল্যাবে প্রতি শুক্রবার রোগী দেখেন এমবিবিএস, বিসিএস (স্বাস্থ্য), এমডি (নিউরোমেডিসিন) বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক মোঃ মাহবুবুর রহমান। সহযোগী অধ্যাপক ও বিভাগীয় প্রধান সিরাজগঞ্জের

শহীদ এম. এ মনসুর আলী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের। তিনি মূলত একজন স্নায়ুরোগ, ব্রেন, স্পাইন, স্ট্রোক, প্যারালাইসিস, মৃগী রোগ এবং মাথা ব্যথা বিশেষজ্ঞ।

সেখানে চিকিৎসা নিতে আসা রোগীদের একটি অংশের প্রেসক্রিপশনে একই ধরনের কয়েকটি ওষুধ এবং একাধিক পরীক্ষা দেওয়ার অভিযোগ পাওয়া গেছে। এর মধ্যে বিশেষভাবে নজরে এসেছে Chole CF-3L। ওষুধটির প্যাকেটের গায়ে ভারতের একটি প্রতিষ্ঠানের ঠিকানা ও ওয়েবসাইটের তথ্য রয়েছে। তবে অনুসন্ধানে সংশ্লিষ্ট ওয়েবসাইটে পণ্যটির বিষয়ে সুস্পষ্ট তথ্য পাওয়া যায়নি। একই সঙ্গে বাংলাদেশে কোন আমদানিকারকের মাধ্যমে পণ্যটি এসেছে, তারও কোনো স্পষ্ট তথ্য পাওয়া যায়নি।

সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, প্যাকেটের গায়ে ঔষধ প্রশাসন অধিদপ্তরের অনুমোদনসংক্রান্ত কোনো নম্বর এনওসি (অনাপত্তি পত্র বা নো অবজেকশন সার্টিফিকেট) দেখা যায়নি। বাজারমূল্যও মুদ্রিত না থেকে সাদা কাগজে হাতে লেখা।

নওগাঁ ঔষধ প্রশাসনের পরিদর্শক রিতা রায় বিষয়টি সম্পর্কে বলেন, এসব ওষুধে তাদের অনুমতি নেই। তার ভাষ্য অনুযায়ী, ঔষধ প্রশাসনের অনুমোদন থাকলে পণ্যের গায়ে সংশ্লিষ্ট অনুমোদনসংক্রান্ত তথ্য থাকার কথা। একই সঙ্গে কোনো পণ্যের MRP সাদা কাগজে বা হাতে লিখে দেওয়ার নিয়ম নেই।

অনুসন্ধানে আরও একটি বিষয় সামনে এসেছে। মাহফুজ নামের এক ব্যক্তি চিকিৎসকের পাশে বসে রোগীদের প্রেসক্রিপশনে ওষুধ লিখে দিচ্ছেন বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। তার শিক্ষাগত যোগ্যতা উচ্চমাধ্যমিক পর্যন্ত বলে জানা গেছে। এবং তিনি নিজেও স্বীকার করেছেন।

সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, চিকিৎসক রোগী দেখে ওষুধের নাম বলে দিচ্ছেন এবং মাহফুজ তা প্রেসক্রিপশনে লিখছেন। কখনো কখনো মাহফুজ নিজেও কোনো ওষুধের নাম মনে করিয়ে দিচ্ছেন বলে অভিযোগ রয়েছে। চিকিৎসক পছন্দ করলে সেটি প্রেসক্রিপশনে যুক্ত হচ্ছে, আর পছন্দ না হলে অন্য ওষুধের নাম বলা হচ্ছে। এমন দৃশ্যেরও বর্ণনা পাওয়া গেছে।

প্রেসক্রিপশনে লেখা ওষুধগুলোর মধ্যে তার সম্পৃক্ততায় বাজারজাত হওয়া পণ্য রয়েছে কি না এ নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে।

মাহফুজের কাছে এসব ওষুধের অনুমোদন সম্পর্কে জানতে চাইলে তিনি বলেন, বাজারে এ ধরনের আরও অনেক পণ্য রয়েছে এবং হাজার হাজার পণ্য চলে। তিনি দাবি করেন, তারা শাহানুর নামের এক ব্যক্তির কাছ থেকে এসব পণ্য নেন।

Cap. Zecap প্রসঙ্গে তিনি এটিকে হারবাল পণ্য দাবি করে বলেন, তিনি প্রেসক্রিপশনে ওষুধ লিখে দেন। তবে চিকিৎসকের সিল তিনি দেন না।

এ বিষয়ে কথা বলতে শাহানুর নামের এক ব্যক্তি নিজেকে গুডলাইট কোম্পানির লোক হিসেবে পরিচয় দিয়ে ফোন করেন। তিনি বলেন, মাহফুজ কোম্পানির লোক এবং সে পণ্য সরবরাহ করতেই পারে। চিকিৎসক কোন পণ্য লিখেছেন, সে বিষয়ে চিকিৎসকের কাছেই জানতে হবে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

নিজের পরিচয় সম্পর্কে শাহানুর বলেন, মাহফুজ ও তিনি প্রতিবেশী ভাই। পাশাপাশি তিনি ওষুধ কোম্পানির নওগাঁ জেলা সমিতির সেক্রেটারি বলেও জানান।

চিকিৎসকের প্রেসক্রিপশনে দেওয়া Chole CF-3L সেবনের পর অসুস্থ হয়ে পড়ার অভিযোগ করেছেন নওগাঁর বাসিন্দা সুনিতা রাণী। গত ১০ জুলাই ঘাড়ের ব্যথার চিকিৎসা নিতে তিনি ওই চিকিৎসকের কাছে যান। ৮০০ টাকা দিয়ে সিরিয়াল নিয়ে চিকিৎসকের পরামর্শ নেন। প্রথমে তাকে এক্স-রে, সিবিসি ও ডায়াবেটিসের পরীক্ষা দেওয়া হয়। রিপোর্ট দেখানোর পর অন্যান্য ওষুধের সঙ্গে Chole CF-3L দেওয়া হয়। এক গ্লাস গরম দুধের সঙ্গে মিশিয়ে ওষুধটি খেতে বলা হয় এবং ২১ দিন পর একই নিয়মে আরও দুটি ওষুধ খাওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয় বলে জানান তিনি।

সুনিতা রাণীর অভিযোগ, ওষুধটি খাওয়ার পর তার তীব্র গ্যাসের সমস্যা ও বমির উপসর্গ দেখা দেয়। তিনি বলেন, এমন অবস্থায় তিনি গলায় হাত দিয়ে বমি করার চেষ্টা করেন এবং প্রায় এক সপ্তাহ স্বাভাবিকভাবে কিছু খেতে পারেননি।

তার মেয়ে শিল্পী সরকার বলেন, বাড়ি ফেরার পর তার মাকে অস্বাভাবিক ও নার্ভাস মনে হচ্ছিল। রাতে পরিস্থিতি আরও খারাপ হওয়ায় তারা ভয়ে ছিলেন এবং সারারাত ঘুমাতে পারেননি।

তবে ওই অসুস্থতার সঙ্গে নির্দিষ্ট ওষুধটির সরাসরি সম্পর্ক রয়েছে কি না, তা চিকিৎসাবিজ্ঞানের নিরপেক্ষ পরীক্ষা ছাড়া নিশ্চিতভাবে বলা সম্ভব নয়। কিন্তু রোগীর এমন অভিযোগ ওষুধটির নিরাপত্তা এবং অনুমোদনের বিষয়টি যথাযথভাবে যাচাইয়ের দাবি রাখে।

অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে ডা. মো. মাহবুবুর রহমান বলেন, কোনো ওষুধ বৈধ না অবৈধ তা দেখা তার বিষয় নয়। অনুমোদন না থাকলে ঔষধ প্রশাসন অধিদপ্তর কেন ব্যবস্থা নিচ্ছে না, সেই প্রশ্নও তোলেন তিনি।

একপর্যায়ে তিনি বলেন, অবৈধ ওষুধও আমি লিখতে পারব। প্রতিটি ওষুধেরই পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া থাকে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

প্রেসক্রিপশন লেখার ক্ষেত্রে মাহফুজের ভূমিকা সম্পর্কে জানতে চাইলে চিকিৎসক বলেন, মাহফুজ তার সহকারী। তিনি ওষুধের নাম বলে দেন এবং মাহফুজ তা লিখে দেন।

নওগাঁ ঔষধ প্রশাসনের পরিদর্শক রিতা রায় বলেন, সংশ্লিষ্ট ওষুধগুলোতে তাদের অনুমতি নেই। অনুমোদিত ওষুধের প্যাকেটে প্রয়োজনীয় অনুমোদনসংক্রান্ত তথ্য থাকার কথা উল্লেখ করে তিনি জানান, সাদা কাগজে বা হাতে লিখে কোনো পণ্যের MRP মূল্য দেওয়ার নিয়ম নেই।

নওগাঁর মানবাধিকার ও সমাজকর্মী নাইস পারভীন বলেন, একজন রোগী যখন চিকিৎসকের চেম্বারে প্রবেশ করেন, তখন তিনি চিকিৎসকের জ্ঞান, প্রেসক্রিপশন এবং ওষুধের নিরাপত্তার ওপর আস্থা রাখেন। তিনি সাধারণত জানেন না কোন ওষুধের অনুমোদন আছে, কোনটির নেই কোনটি নিবন্ধিত, কোনটি অনিবন্ধিত। কিংবা প্যাকেটে লেখা দামের সত্যতা কতটুকু। সেই অজ্ঞতার সুযোগে যদি কোনো অনুমোদনহীন পণ্য প্রেসক্রিপশনের মাধ্যমে রোগীর হাতে পৌঁছে যায়, তাহলে বিষয়টি কেবল একজন রোগীর পকেট কাটার অভিযোগে সীমাবদ্ধ থাকে না। এটি জনস্বাস্থ্য ও চিকিৎসা-নিরাপত্তার প্রশ্নে পরিণত হয়।

তিনি বলেন, বিশেষ করে কোনো ওষুধের অনুমোদন না থাকলে তার উপাদান, মান, সংরক্ষণ, আমদানি ও উৎপাদনপ্রক্রিয়া, কার্যকারিতা এবং সম্ভাব্য পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া সম্পর্কে নিয়ন্ত্রক সংস্থার যাচাই কতটা হয়েছে। সেই প্রশ্ন সামনে আসা স্বাভাবিক। একদিকে চিকিৎসকের প্রেসক্রিপশন, অন্যদিকে চিকিৎসকের সহকারী হিসেবে বসা ব্যক্তির মাধ্যমে ওষুধ লেখা এবং একই ব্যক্তির ওই ওষুধের বাজারজাতকরণের সঙ্গে সম্পৃক্ততার অভিযোগ। সব মিলিয়ে বিষয়টি আরও গভীর অনুসন্ধানের দাবি রাখে।

অন্যদিকে নওগাঁর সিভিল সার্জন ডা. আমিনুল ইসলাম বলেন, ঔষধ প্রশাসনের অনুমোদন ছাড়া কোনো ওষুধ প্রেসক্রাইব করা উচিত নয়। নির্দিষ্টভাবে বিষয়টি জানানো হলে তদন্ত করে দেখা হবে কেন ওই ওষুধ লেখা হয়েছে। তবুও আপনি যেতে অবগত করলেন আমরা তদন্ত করে দেখবো।


নির্বাচিত

ফরিদপুর থেকে অপহরণ, টঙ্গীতে লাশ উদ্ধার

নিহত আকাশ সরদার। ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
টঙ্গী (গাজীপুর) প্রতিনিধি

গাজীপুরের টঙ্গীর বিশ্ব ইজতেমা ময়দানের পরিত্যক্ত নালা থেকে আকাশ সরদার (২১) নামে এক যুবকের লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ। সোমবার (২৪ আগস্ট) সকাল দশটার দিকে অর্ধগলিত লাশটি উদ্ধার করা হয়। আকাশ সরদার ফরিদপুর জেলার কোতোয়ালি থানার রহমত বেপারীপাড়া গ্রামের করিম সরদারের ছেলে।

পুলিশ জানায়, গত ২৭ আগস্ট চাকরি দেওয়ার কথা বলে আকাশকে ফরিদপুর থেকে ঢাকা নিয়ে আসে তার দুই বন্ধু মাজহারুল ইসলাম মিঠু ও অপু মিয়া। পরে আসামিদের যোগসাজশে ওই দিন সন্ধ্যায় আকাশের পরিবারের কাছে অপহরণের বিষয়টি জানানো হয়।

এরপর ফরিদপুরের কোতোয়ালি থানায় মামলা দায়ের হলে র‍্যাবের সহযোগিতায় আসামি মিঠুকে গ্রেফতার করা হয়। পরে আসামি মিঠুর দেওয়া তথ্য মতে টঙ্গীর বিশ্ব ইজতেমা ময়দানের একটি পরিত্যাক্ত নালা থেকে ভুক্তভোগী আকাশের অর্ধগলিত মরদেহটি উদ্ধার করে পুলিশ।

এবিষয়ে টঙ্গী পশ্চিম থানার পরিদর্শক (তদন্ত) মো. ইয়ানুর রহমান বলেন, নিহতের লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তে জন্য গাজীপুর মর্গে পাঠানোয় হয়েছে। আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।


নির্বাচিত

জয়পুরহাটে চাঁদা না দেওয়ায় হামলা-লুটপাট, গ্রেপ্তার ১

ছবি: দৈনিক বাংলা
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
জয়পুরহাট প্রতিনিধি

জয়পুরহাটের আক্কেলপুরে চাঁদা না দেওয়ায় এক ব্যবসায়ীর ব্যবসা প্রতিষ্ঠান ও বাড়িতে হামলা, ভাঙচুর এবং লুটপাটের অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় ১৮ জনকে আসামি করে গত রোববার (২৩ আগস্ট) থানায় মামলা দায়ের করা হয়েছে। মামলা দায়েরের পর বিকেলে মামলার প্রধান আসামি রাজুকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। অন্য আসামিদের গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে বলে জানিয়েছেন পুলিশ।

গত শনিবার (২২ আগস্ট) দুপুরে আক্কেলপুর উপজেলার কৃষ্ণকোলা গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। হামলাকারীরা দোকানের মালামাল ও বাড়ি থেকে নগদ টাকা লুট চারটি ট্র্যাক্টর, শ্যালো মেশিনসহ বিভিন্ন যন্ত্রাংশ ভাঙচুর করে নিয়ে গেছে বলে অভিযোগ করেছেন ওই ব্যবসায়ী।

‎এ ঘটনায় রোববার (২৩ আগস্ট) আক্কেলপুর থানায় মামলা করেছেন ভুক্তভোগী ব্যবসায়ী আল-আমিন ও আজাদের বাবা কাশেম আলী। মামলার এজাহারে নগদ ৭ লাখ টাকা লুট ও ছয় লাখ ৯০ হাজার টাকা মালামাল নষ্ট করার কথা বলা হয়েছে।

সরেজমিনে গিয়ে জানা যায়, আক্কেলপুর উপজেলার বুড়াপুকুর- বিষ্ণপুর গ্রামের সাগর হোসেন কয়েক মাস আগে ৩ লাখ ১৫ হাজার টাকায় একটি ইজিবাইক কিনেছিলেন। গত ৯ আগস্ট রাতে তার বাড়ির তালা কেটে ইজিবাইকটি চুরি হয়। ইজিবাইকটি এখনো উদ্ধার হয়নি।

‎গত শুক্রবার (২১ আগস্ট) রাতে বুড়াপুকুর এলাকায় কয়েকজন লোক চারজনকে সন্দেহজনকভাবে ঘোরাঘুরি করতে দেখেন। পরে তাদের ধাওয়া করে তিনজনকে আটক করা হয়। একজন পালিয়ে যান। এসময় চাঁরদীঘি গ্রামের রাজু সেখানে গিয়ে আটক তিনজনকে রাতে মারধর করেন বলে অভিযোগ রয়েছে।‎ পরদিন শনিবার বুড়াপুকুর গ্রামের মসজিদের পাশে একটি ফাঁকা জায়গায় প্রকাশ্যে সালিস বসায় রাজু। এতে আটক তিন সন্দেহভাজনসহ প্রায় শতাধিক মানুষ উপস্থিত ছিলেন।

‎এরপর রাজুর নেতৃত্বে আটক তিন ব্যক্তিকে কৃষ্ণকোলা গ্রামের ভাই-ভাই ইঞ্জিনিয়ারিং ওয়ার্কশপ ও মেশিনারিজের দোকানে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে বুড়াপুকুর-বিষ্ণপুর ও চাঁরদীঘি গ্রামে প্রায় তিন শতাধিক মানুষ জড়ো হন। একপর্যায়ে রাজু নেতৃত্বে লোকজন উত্তেজিত হয়ে দোকান ও পাশের বাড়িতে হামলা চালান বলে অভিযোগ করা হয়েছে। এ সময় ওয়ার্কশপে ভাঙচুর লুটপাট ও পিছনেই তাদের বাড়িতে হামলা এবং লুটপাটের ঘটনাও ঘটে।

পরে পুলিশকে খবর দিলে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে আটক তিন চোর সন্দেহভাজনকে থানায় নিয়ে যায়। তাদের ১৫১ ধারায় গ্রেপ্তার দেখিয়ে আদালতে পাঠানো হয়। পরে ওই দিনই তারা জামিনে বের হয়ে আসেন।

‎ভুক্তভোগী ও মামলার বাদী ব্যবসায়ী আল-আমিন বলেন, প্রায় এক যুগ আগে তিনি ও তার ভাই আজাদ গ্রামে ওয়ার্কশপের ব্যবসা শুরু করেন। তারা সুনামের সঙ্গে ব্যবসা করে আসছেন। কয়েক দিন আগে তিলেকপুর ইউনিয়নের চাঁরদীঘি গ্রামের রাজু তার লোকজন নিয়ে পিকনিকে যাওয়ার কথা বলে তাদের কাছে ৫০ হাজার টাকা চাঁদা চান। চাঁদা দিতে অস্বীকৃতি জানালে রাজু তাকে দেখে নেওয়ার হুমকি দেন বলে অভিযোগ করেন আল আমিন।

ভুক্তভোগী ব্যবসায়ী মো. আজাদ হোসেন বলেন, চোরাই ইজিবাইকের কেনার অভিযোগ তুলে ও গুজব ছড়িয়া আমাদের দোকান ও বাড়িতে হামলা চালানো হয়। ভাঙচুরের পাশাপাশি বাড়ি থেকে নগদ প্রায় ১০ লাখ টাকা, স্বর্ণালংকার এবং দোকানের যন্ত্রাংশ মালামাল সহ প্রায় ১৪ লাখ টাকার মালামাল লুট করা হয়েছে। এ ঘটনায় আমি ও আমরা চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছি। তারা যেকোনো সময় আমার ও আমার পরিবারে ক্ষতি করতে পারে।

তিনি আরও বলেন দীর্ঘদিন থেকে বৈধভাবে ব্যবসা পরিচালনা করে আসছি, কয়েকদিন আগে রাজু ও তার দলবল আমার কাছ থেকে ৫০ হাজার টাকা চাঁদা চায়। আমি দিতে অস্বীকৃতি জানালে রাজু সহ তার দলবল এ হামলা ও লুটপাটের ঘটনা ঘটায়। আমি আর সুষ্ঠু বিচার চাই।

আক্কেলপুর থানার ওসি শাহীন রেজা বলেন, ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছি। চোরাই ইজিবাইকের মালামাল ক্রয়-বিক্রয়ের অভিযোগ মিথ্যা গুজব ছরিয়ে প্রধান আসামি রাজু সহ তার লোকজন তাদের ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে হামলা ও বাড়িতে হামলা-ভাঙচুর করেছে। এ ঘটনায় রোববার বিকেলে ১৮ জনের নামে থানায় মামলা হয়েছে। এরমধ্যে প্রধান আসামি রাজুকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। বাকি আসামিদের গ্রেপ্তারের জন্য অভিযান অব্যাহত রয়েছে।


নির্বাচিত

সরকারি কোষাগারে ফেরত গেল ১ কোটি ৩৬ লাখ টাকা

ডুমুরিয়া উপজেলা নির্বাহী অফিসার সবিতা সরকার
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
খুলনা ব্যুরো

খুলনার ডুমুরিয়া উপজেলার বিলডাকাতিয়াসহ পার্শ্ববর্তী এলাকার জলাবদ্ধতা নিরসনে গৃহীত খাল পুনঃখনন কার্যক্রমে প্রশাসনের কঠোর নজরদারি এবং স্বচ্ছতার এক অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করা হয়েছে। সঠিক তদারকি ও যাচাই-বাছাইয়ের মাধ্যমে কাজের প্রকৃত পরিমাণ নির্ধারণ করে অব্যয়িত ১ কোটি ৩৬ লাখ ৩১ হাজার ১৯ টাকা সরকারের রাষ্ট্রীয় কোষাগারে ফেরত পাঠানো হয়েছে। এটি প্রশাসনের সুশাসন ও জনস্বার্থ সুরক্ষার একটি বড় সাফল্য হিসেবে দেখছেন স্থানীয়রা।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, এলাকার দীর্ঘদিনের জলাবদ্ধতা দূর করতে সাহস ডোলডাঙ্গা খাল থেকে কাঠবুনিয়া বড় দোয়ানিয়া খাল হয়ে ভদ্রা নদী অভিমুখে খাল পুনঃখনন এবং সংলগ্ন আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ খাল পুনঃখনন প্রকল্প হাতে নেওয়া হয়। পরবর্তীতে প্রশাসনের সরেজমিন তদারকিতে কাজের বাস্তব চিত্র অনুযায়ী প্রাক্কলিত ব্যয়ের সম্পূর্ণ অর্থ না তুলে, কেবল সম্পন্ন কাজের প্রকৃত বিল পরিশোধ করা হয়। ফলে বেঁচে যাওয়া বড় অঙ্কের সরকারি অর্থ সম্পূর্ণ সুরক্ষিত থাকে।

সাহস ডোলডাঙ্গা থেকে ভদ্রা নদী প্রকল্পে প্রাক্কলিত ব্যয় ১ কোটি ২৮ লাখ ৭৮ হাজার ৫৩৭ টাকা থাকলেও, কাজের সঠিক মূল্যায়ন করে ব্যয় হয় ৯০ লাখ ৫৪ হাজার ৩৬১ টাকা। ফলে অব্যয়িত ৩৭ লাখ ২৪ হাজার ১৭৬ টাকা সরকারি কোষাগারে ফেরত যায়। অন্যদিকে কৃষ্ণনগর নিমতলা থেকে রংপুর সাড়াতলা প্রকল্পের প্রাক্কলিত ব্যয় ছিল ১ কোটি ৮০ লাখ ২৮ হাজার ২৩২ টাকা। এর মধ্যে প্রকৃত কাজের বিপরীতে ব্যয় হয়েছে ৮২ লাখ ২১ হাজার ৫৭৪ টাকা এবং অবশিষ্ট ৯৮ লাখ ৬০ হাজার ৬৫৮ টাকা নিরাপদে ফেরত দেওয়া হয়।

প্রশাসনের এই সময়োপযোগী পদক্ষেপে সন্তোষ প্রকাশ করে ডুমুরিয়া উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা মো. আরিফ হোসেন জানান, প্রকল্প দুটির অব্যয়িত ১ কোটি ৩৬ লাখ ৩১ হাজার ১৯ টাকা অত্যন্ত স্বচ্ছতার সাথে সরকারি কোষাগারে জমা দেওয়া হয়েছে।

ডুমুরিয়া উপজেলা নির্বাহী অফিসার সবিতা সরকার ১ কোটি ৩৬ লাখ টাকা রাষ্ট্রীয় কোষাগারে ফেরত দেওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, জনস্বার্থে এবং সরকারি অর্থের অপচয় রোধে স্থানীয় প্রশাসন সবসময় এমন সতর্ক ও দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে বদ্ধপরিকর।


নির্বাচিত

নওগাঁয় ‘ব্যাড টাচ’, যুবক গ্রেপ্তার

ছবি: দৈনিক বাংলা
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নওগাঁ প্রতিনিধি

নওগাঁ সরকারি কলেজের এক ছাত্রীকে ‘ব্যাড টাচ’ করার অভিযোগে কাজী আব্দুল্লাহ ওরফে ফুয়াদ (২২) নামে এক যুবককে গ্রেপ্তার করেছে জেলা গোয়েন্দা শাখা (ডিবি) পুলিশ। পুলিশ সুপারের নির্দেশে তথ্যপ্রযুক্তি ও এআই ক্যামেরার ডাটা বিশ্লেষণ করে অভিযুক্তকে শনাক্তের পর নওগাঁ ও বগুড়ার আদমদীঘি এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। এ সময় ঘটনার সময় ব্যবহৃত মোটরসাইকেলটিও জব্দ করা হয়েছে।

সোমবার (২৪ আগস্ট) সকালে বিষয়টি নিশ্চিত করেন পুলিশ সুপার মোহাম্মদ তারিকুল ইসলাম। গ্রেপ্তার কাজী আব্দুল্লাহ ওরফে ফুয়াদ বগুড়ার আদমদীঘি উপজেলার শান্তাহার জনকলোনি এলাকার নজরুল ইসলামের ছেলে।

পুলিশ সূত্রে জানা যায়, গত ১৬ আগস্ট নওগাঁ সরকারি কলেজের মাস্টার্সের এক ছাত্রী টিউশনে যাওয়ার উদ্দেশ্যে মেস থেকে বের হন। পথে এটিম মাঠের গলি দিয়ে জনৈক ইমরুল কায়েসের বাসার সামনে পৌঁছালে পেছন থেকে আসা একটি মোটরসাইকেলের অজ্ঞাতনামা আরোহী তাকে যৌন হয়রানি করে দ্রুত পালিয়ে যায়।

ঘটনার কয়েকদিন পর ভুক্তভোগী ছাত্রী নওগাঁ পুলিশ সুপারের কার্যালয়ে গিয়ে বিষয়টি জানান। পুলিশ সুপার তার অভিযোগ গুরুত্বের সঙ্গে শুনে দ্রুত অভিযুক্তকে শনাক্ত ও গ্রেপ্তারের জন্য জেলা গোয়েন্দা শাখাকে নির্দেশ দেন।

এরপর ডিবি পুলিশের একটি দল টানা পাঁচ দিন তথ্যপ্রযুক্তি ও এআই ক্যামেরার ডাটা বিশ্লেষণ করে অভিযুক্ত যুবক ও ঘটনার সময় ব্যবহৃত মোটরসাইকেলটি শনাক্ত করে। পরে নওগাঁ ও বগুড়ার আদমদীঘি এলাকায় অভিযান চালিয়ে শান্তাহার থেকে কাজী আব্দুল্লাহ ওরফে ফুয়াদকে গ্রেপ্তার করা হয়।

এ বিষয়ে নওগাঁর পুলিশ সুপার মোহাম্মদ তারিকুল ইসলাম বলেন, ‘সড়কে কিংবা যেকোনো স্থানে নারী ও শিশুর বিরুদ্ধে যেকোনো ধরনের সহিংসতা বা যৌন হয়রানি জেলা পুলিশ কঠোরভাবে আইন অনুযায়ী দমন করবে। এ ধরনের অপরাধে জড়িতদের কোনোভাবেই ছাড় দেওয়া হবে না।’


নির্বাচিত

ডেঙ্গু রোধে মশক নিধন কার্যক্রমের উদ্বোধন

ছবি: দৈনিক বাংলা
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
খুলনা ব্যুরো

জাতীয় সংসদের হুইপ রকিবুল ইসলাম বকুল এমপি’র নির্দেশনায় মহামারী ডেঙ্গু প্রতিরোধে জনসচেতনতা বৃদ্ধি ও নগরবাসীর পাশে দাঁড়ানোর অংশ হিসেবে খুলনায় মহানগর স্বেচ্ছাসেবক দলের উদ্যোগে মশক নিধন কার্যক্রমের উদ্বোধন হয়েছে।

গত রোববার (২৩ আগস্ট) বিকালে খুলনা নগরীর ২৬নং ওয়ার্ডের বিহারী কলোনী মোড় থেকে এ কার্যক্রমের উদ্বোধন করা হয়।

খুলনা মহানগর স্বেচ্ছাসেবক দলের আহ্বায়ক মিরাজুর রহমান মিরাজের সভাপতিত্বে ও সদস্য সচিব ইসতিয়াক আহমেদ ইস্তির সঞ্চালনায় প্রধান অতিথি হিসেবে মশক নিধন কার্যক্রমের উদ্বোধন করেন মহানগর বিএনপির সভাপতি ও কেডিএ চেয়ারম্যান এস এম শফিকুল আলম মনা।


নির্বাচিত

পর্যটন শিল্প বিকাশে কার্যকর উদ্যোগ নেয়া হবে: প্রতিমন্ত্রী হেলাল

ছবি: বাসস
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
দৈনিক বাংলা ডেস্ক

ভূমি ও পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী ব্যারিস্টার মীর মোহাম্মদ হেলাল উদ্দিন বলেছেন, পাহাড়ের পর্যটন শিল্প বিকাশে কার্যকর উদ্যোগ নেয়া হবে।

তিনি বলেন, পাহাড়ের প্রকৃতি ও পরিবেশের সাথে সামঞ্জস্য রেখে এই অঞ্চলে দৃষ্টিনন্দন স্থাপনা নির্মাণের পরিকল্পনা করতে হবে, যাতে পর্যটন শিল্প বিকাশের পাশাপাশি এখানকার প্রকৃতি ও পরিবেশের ভারসাম্য ঠিক থাকে।

তিনি বলেন, পার্বত্য অঞ্চলের পর্যটন শিল্পকে আরো বেগবান করতে আমাদের প্রচেষ্টা অব্যাহত থাকবে।

গতকাল রোববার বিকেলে জেলার পর্যটন শিল্প বিকাশসহ কাপ্তাই লেকের নৈসর্গিক অপরুপ সৌন্দর্য্য উপভোগ করতে শহরের রাঙ্গামাটি শিশু পার্কের ভিতরে দৃষ্টিনন্দন ওয়ার্চ টাওয়ারের উদ্বোধনকালে প্রতিমন্ত্রী এসব কথা বলেন।

এ সময় পার্বত্য চট্টগ্রাম উন্নয়ন বোর্ডের চেয়ারম্যান মেজর জেনারেল (অব.) অনুপ কুমার চাকমা, পার্বত্য চট্টগ্রাম উন্নয়ন বোর্ডের ভাইস চেয়ারম্যান শেখ ছালেহ আহাম্মদ, রাঙ্গামাটি জেলা প্রশাসক নাজমা আশরাফী, জেলা পুলিশ সুপার মুহম্মদ আব্দুর রকিব পার্বত্য চট্টগ্রাম উন্নয়ন বোর্ডের সদস্য (অর্থ) সুমন বড়ুয়া, সদস্য (পরিকল্পনা) জাহিদ ইকবাল, রাঙ্গামাটি নির্বাহী প্রকৌশলী তুষিত চাকমাসহ অন্যান্য কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

এ বিষয়ে পার্বত্য চট্টগ্রাম উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী তুষিত চাকমা বাসস’কে জানান, রাঙ্গামাটির পর্যটন শিল্পকে আকর্ষণীয় করে তুলতে পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের অর্থায়নে ১ কোটি ২০ লক্ষ টাকা ব্যয়ে পার্বত্য চট্টগ্রাম উন্নয়ন বোর্ড রাঙ্গামাটিতে দৃষ্টি নন্দন এই ওয়ার্চ টাওয়ার প্রকল্প বাস্তবায়ন করছে।

দৃষ্টি নন্দন এই ওয়ার্চ টাওয়ার উদ্বোধনের পর পার্বত্য প্রতিমন্ত্রীসহ অন্যান্য অতিথিরা নবনির্মিত ওয়ার্চ টাওয়ারটি ঘুরে দেখেন।

দৃষ্টি নন্দন এই ওয়ার্চ টাওয়ার রাঙ্গামাটিতে ঘুরতে আসা পর্যটকদের মাঝে বিনোদনের ক্ষেত্রে নতুন মাত্রা যোগ করবে।

সূত্র: বাসস


নির্বাচিত

banner close