লালমনিরহাট সদর উপজেলার হারাটিতে পুকুরের পানিতে ডুবে রহমাতুল্লাহ (৭) ও আব্দুল্লাহ (১২) নামে শিশুর মৃত্যু হয়েছে। শুক্রবার বিকেল বাড়ির পাশে খেলতে গিয়ে পুকুরের পানিতে ডুবে যায়। নিহরা দুজনে চাচাতো ভাই।
লালমনিরহাট সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. ওমর ফারুক ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন।
স্থানীয়রা জানান, রহমাতুল্লাহ ও আব্দুল্লাহ বিকেলে বৃষ্টির সময় বাড়ির উঠানে খেলছিল। খেলতে খেলতে তারা পুকুরের পানিতে পড়ে ডুবে যায়। পরে বাড়ির লোকজন তাদের খোঁজাখুঁজি করে শুরু করে। খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিসের একটি দল গিয়ে পুকুর থেকে শিশু দুটির মরদেহ উদ্ধার করে।
ওসি ওমর ফারুক বলেন, ঘটনা শোনার পরপরই উপপরিদর্শক (এসআই) নাজমুলকে ঘটনাস্থলে পাঠানো হয়। শিশু দুটি সাঁতার জানত না। তাই তারা পানিতে ডুবে যায়। পরে লালামনিরহাট ফায়ার সার্ভিসের একটি দল গিয়ে ওই শিশুদের মরদেহ উদ্ধার করে। মরদেহ দুটি দাফনের অনুমতি দেয়া হয়েছে।
দিনাজপুরের বিরামপুর উপজেলার একটি ভুট্টা খেত থেকে স্বাধীন বাবু (১৬) নামে এক কিশোরের মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। সোমবার (১৬ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে উপজেলার দিওড় ইউনিয়নের ধানঘরা (কাউয়াভাসা) গ্রামের একটি ভুট্টা খেত থেকে মরদেহটি উদ্ধার করা হয়।
নিহত স্বাধীন বাবু পার্শ্ববর্তী নবাবগঞ্জ উপজেলার নরহরিপুর গ্রামের ওবায়দুল হকের ছেলে।
স্থানীয়রা ভুট্টা খেতে মরদেহ পড়ে থাকতে দেখে সংশ্লিষ্ট ইউপি চেয়ারম্যান আব্দুল মালেককে খবর দেন। পরে তার মাধ্যমে পুলিশকে জানানো হলে বিরামপুর থানা থেকে পুলিশ এসে মরদেহ উদ্ধার করে।
বিরামপুর থানার ওসি সাইফুল ইসলাম সরকার জানান, স্বাধীন মানসিক ভারসাম্যহীন ছিলেন। তিনি বাড়ি থেকে বেরিয়ে এলাকার বিভিন্ন কবরস্থান, ভুট্টা খেত, রাস্তা, ঈদগাহ ও উঁচু স্থানে রাত যাপন করতেন এবং তিন-চার দিন পর বাড়ি ফিরতেন। গত রোববার বাড়ি থেকে বের হওয়ার পর সোমবার (১৬ ফেব্রুয়ারি) ভুট্টা খেত থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়।
টাঙ্গাইলে ধর্ষণ মামলায় মো. সাঈদ হাসান সেতু (২৬) নামের এক যুবককে গ্রেপ্তার করেছে র্যাব। গত রোববার (১৫ ফেব্রুয়ারি) সন্ধ্যায় টাঙ্গাইলের সখীপুর থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
র্যাব-১৪ এর ৩নং কোম্পানি কমান্ডার মেজর কাওছার বাঁধন জানান, অভিযুক্ত সাঈদ হাসান সেতু ধর্ষণের শিকার নারীর পূর্ব পরিচিত ও সম্পর্কে চাচাতো বোনের স্বামী। সেই সুবাদে ভুক্তভোগী নারীর বাড়িতে আসা-যাওয়া করত ও কুপ্রস্তাব দিত।
অনৈতিক প্রস্তাবে রাজি না হলে অভিযুক্ত সেতু গত ২৫ মার্চ রাতে ওই নারীর শোয়ার ঘরে প্রবেশ করে তাকে জোরপূর্বক ধর্ষণ করে। পরবর্তীতে বিভিন্ন পন্থায় একাধিকবার তাকে ধর্ষণ করলে আট মাসের অন্তঃসত্ত্বা হয়। এই ঘটনায় ওই নারীর বাবা বাদী হয়ে ময়মনসিংহের ফুলপুর থানায় অভিযুক্ত দুলাভাইয়ের বিরুদ্ধে ধর্ষণ মামলা দায়ের করেন। গত রোববার (১৫ ফেব্রুয়ারি) রাতে অভিযুক্তকে গেপ্তারের পর ফুলপুর থানা পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয়।
মহান মুক্তিযুদ্ধের সর্বাধিনায়ক জেনারেল (অব.) এম এ জি ওসমানীর ৪২তম মৃত্যুবার্ষিকী পালিত হয়েছে। সোমবার (১৬ ফেব্রুয়ারি) বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর পক্ষ থেকে হযরত শাহজালাল (রহ.) মাজার কবরস্থানে ওসমানীর সমাধিতে পুষ্পস্তবক অর্পণ করেন ১৭ পদাতিক ডিভিশনের এরিয়া কমান্ডার মেজর জেনারেল মো. আলীমুল আমীন।
এ সময় বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর একটি দল গার্ড অব অনার প্রদান করে।
অনুষ্ঠান শেষে তার রুহের মাগফিরাত এবং দেশ ও জাতির মঙ্গল কামনা করে মোনাজাত করা হয়। অনুষ্ঠানে সিলেট এরিয়ার ঊর্ধ্বতন সামরিক কর্মকর্তাসহ স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তি উপস্থিত ছিলেন।
বাংলাদেশ সেনাবাহিনী গৌরব ও মর্যাদার সঙ্গে প্রতি বছর এ দিনটি পালন করে থাকে।
পটুয়াখালীর বাউফল উপজেলায় একটি পুকুর থেকে হাত-পা বাঁধা অবস্থায় মো. শাকিল মৃধা (২২) নামে এক যুবকের লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ। সোমবার (১৬ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে উপজেলার আদাবাড়িয়া ইউনিয়ন পরিষদ ভবন-সংলগ্ন একটি পুকুর থেকে ভাসমান অবস্থায় লাশটি উদ্ধার করা হয়।
নিহত শাকিল মৃধা আদাবাড়িয়া ইউনিয়নের আব্দুস সোবাহান মৃধার ছেলে। তিনি ঢাকা–বাউফল–দশমিনা রুটে চলাচলকারী পরিবহনের আদাবাড়িয়া কাউন্টারের দায়িত্বে কর্মরত ছিলেন বলে জানা গেছে।
স্থানীয় দফাদার মো. রফিকুল ইসলাম জানান, গত রোববার (১৫ ফেব্রুয়ারি) বাড়ি থেকে বের হওয়ার পর রাতে আর ফেরেননি শাকিল। সোমবার (১৬ ফেব্রয়ারি) বেলা ১১টার দিকে স্থানীয়রা ইউনিয়ন পরিষদ ভবনের পাশের একটি পুকুরে লাশ ভাসতে দেখে পুলিশে খবর দেন। পরে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে হাত-পা বাঁধা ও শীতের পোশাক পরিহিত অবস্থায় লাশটি উদ্ধার করে। স্বজনরা এসে মরদেহের পরিচয় নিশ্চিত করেন।
নাটোরের গুরুদাসপুরে পূর্ব বিরোধের জেরে হালিমা বেগম নামে এক নারীকে এসিড নিক্ষেপে শরীর ঝলসে দেওয়ার অভিযোগ পাওয়া গেছে। দগ্ধ হালিমা বেগম উপজেলার নাজিরপুরের মৃত শুকুন আলীর স্ত্রী। ভুক্তভোগী নাটোর সদর হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
ভুক্তভোগী পরিবার জানায়, গুরুদাসপুর উপজেলার নাজিরপুর গ্রামের নজরুল ইসলামের সঙ্গে এক তরুণীকে কেন্দ্র করে স্থানীয় ইউপি সদস্য চামেলি বেগমের বিরোধ চলছিল।
এ ঘটনার জেরে নজরুল ও তার সহযোগীরা প্রতিশোধের হুমকি দিয়ে আসছিল বলে অভিযোগ পরিবারের। সোমবার (১৬ ফেব্রুয়ারি) শেষরাতে চামেলি বেগমের মা হালিমা বেওয়া (৬০) বিশেষ প্রয়োজনে ঘর থেকে বের হলে নজরুল ও তার সহযোগীরা ওই তরুণী মনে করে তাকে লক্ষ্য করে এসিড নিক্ষেপ করে পালিয়ে যায়। পরে তার চিৎকার শোনে স্বজনরা তাকে উদ্ধার করে নাটোর সদর হাসপাতালে ভর্তি করেন।
সীতাকুণ্ডের ভাটিয়ারী এলাকায় একটি কাভার্ড ভ্যান তল্লাশি চালিয়ে প্রায় ৯ কোটি টাকার ভারতীয় শাড়ি ও সিগারেট আটক করেছে বাংলাদেশ কোস্ট গার্ড।
কোস্ট গার্ডের মুখপাত্র লেফটেন্যান্ট কমান্ডার সিয়াম উল হক সাংবাদিকদের জানান, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে গত রোববার (১৫ ফেব্রুয়ারি) রাতে ভাটিয়ারী স্টেশন রোড এলাকায় অবস্থান নেন তাদের একটি টিম। একটি কাভার্ড ভ্যান দাঁড় করিয়ে তল্লাশি চালালে এর ভেতর থেকে বিপুল পরিমাণ ভারতীয় দামি থ্রি-পিচ, শাড়ি ও ১ হাজার ২৯৮ কাটুন ব্র্যান্ড সিগারেট উদ্ধার করেন তারা।
উদ্ধারকৃত মালপত্রের মূল্য অনুমানিক প্রায় ৯ কোটি টাকা বলে কোস্ট গার্ডের দায়িত্বশীল এই কর্মকর্তা জানান। তিনি বলেন, ‘কাভার্ড ভ্যানচালককে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে তবে গাড়ি ও মালপত্র জব্দ করে কাস্টমসে জমা দেওয়া হয়েছে। তবে এই বিষয়ে সীতাকুণ্ড থানায় কোনো মামলা হয়নি বলে ডিউটি অফিসার জানিয়েছেন।
ফুলবাড়িয়া উপজেলার আন্ধারিয়াপাড়া গ্রামে এক ফিসারিতে জেলেরা মাছ ধারার সময় জালে ওঠে এক শিশুর মরদেহ। সোমবার (১৬ ফেব্রুয়ারি) সকাল দশটা থেকে শিশু আব্দুল্লাহ হেল ফুয়াদ (৯) কে পাওয়া যাচ্ছিল না। দুপুরে বাড়ির দক্ষিণ পাশে ফিসারিতে মাঝ ধরার সময় জালে উঠে আসে শিশুটির মরদেহ। পরিবারের ধারণা খেলা করার সময় ফিসারির পানিতে ডুবে শিশুর মৃত্যু হয়েছে। একমাত্র ছেলে হারিয়ে শিশুটির পরিবার প্রায় পাগল। হৃদয়বিধারক এ ঘটনায় এলাকায়ও শোকের ছায়া নেমে আসে।
ফুলবাড়িয়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান জয়নাল আবেদিনের ছোট ভাই হুমায়ন কবিরের ছেলে আব্দুল্লাহ হেল ফুয়াদ। মাদ্রাসায় লেখাপড়ার সুবাদে ময়মনসিংহ শহরে পরিবারের সাথে বসবাস করে। গত দুই দিন আগে আন্ধারিয়াপাড়া গ্রামে নিজ বাড়িতে আসে। সোমবার (১৬ ফেব্রুয়ারি) সকাল থেকে তাকে পাওয়া যাচ্ছিল না। বিভিন্ন জায়গায় খুঁজাখুজি করেন পরিবারের লোকজন। দুপুর প্রায় সাড়ে ১২ টায় বাড়ির পাশে তাদের ফিসারিতে জেলেরা জাল দিয়ে মাছ ধারার সময় জালে উঠে আসে শিশু ফুয়াদের লাশ। দুপুর ১ টা ১০ মিনিটে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স হাসপাতালে নিয়ে গেলে জরুরি বিভাগের দায়িত্বরত চিকিৎসক শিশুটিকে মৃত ঘোষণা করেন।
পরিবার সূত্রে জানা গেছে, হুমায়ন কবিরের তিন মেয়ে এক ছেলে। সবার ছোট ফুয়াদ। অনেকটা চঞ্চল প্রকৃতির ছিল। গত দুই দিন আগে ময়মনসিংহ থেকে বাবা-মায়ের সাথে বাড়িতে আসে। বাড়িতে আসার পর থেকে গ্রামের শিশুদের সাথে খেলাধুলায় মত্ত ছিল। সোমবার (১৬ ফেব্রুয়ারি) বিকালে ফুয়াদসহ পরিবারের সবাই ময়মনসিংহ চলে যাওয়ার কথা ছিল। কিন্তু সকাল ১০ টা থেকে তাকে পাওয়া যাচ্ছিল না। আশেপাশের বাড়িতে খোঁজাখুজি করেন। না পেয়ে পরিবারের ধারণা ছিল শিশুদের সাথে কোথাও খেলা করছে না হয় বাড়ির পাশে একটি মোড়ের দোকানে গিয়েছে। দুপুরে জেলেরা মাছ ধরার সময় জালে উঠে আসে ফুয়াদের মরদেহ।
নিহত শিশুর চাচা সাবেক উপজেলা পরিষদের ভাইস চেয়ারম্যান মো. রফিকুল ইসলাম রাকিব বলেন, পরিবারের সবাই গত দুদিন আগে ময়মনসিংহ থেকে বাড়িতে আসে, গতকাল সোমবার চলে যাওয়ার কথা ছিল। দুপুরে বাড়ির পাশে ফিসারিতে মাছ ধারার জালে মরদেহ উঠে আসে। ধারনা করা হচ্ছে খেলা করতে করতে কোন এক সময় পানিতে পরে তলিয়ে মৃত্যু হয়।
ফুলবাড়িয়া উপজেলা স্বাস্থ্য পরিবার ও পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. হাসানুল হোসাইন বলেন, দুপুর ১ টা ১০ মিনিটে মৃত অবস্থায় এক শিশুকে হাসপাতালে নিয়ে আসা হয়। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে পানিতে ডুবে শিশুর মৃত্যু হয়েছে।
ফুলবাড়িয়া থানার ওসি সাইফুল্লাহ সাইফ বলেন, পানিতে ডুবে শিশুর মৃত্যু হয়েছে বলে জানতে পারছি, ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়েছে। পরিবারের কোন অভিযোগ না থাকলে বিনা ময়না তদন্তে লাশ দিয়ে দেওয়া হবে।
নেত্রকোনা আধুনিক সদর হাসপাতালে কুকুর, বিড়াল বা বানরের কামড়ে আক্রান্ত রোগীদের জীবন রক্ষাকারী জলাতঙ্ক প্রতিরোধী ভ্যাকসিনের (এআরভি) তীব্র সংকট দেখা দিয়েছে। গত বেশ কিছুদিন ধরে হাসপাতালে সরকারি সরবরাহের কোনো ভ্যাকসিন না থাকায় বিপাকে পড়েছেন জেলা ও দূর-দূরান্ত থেকে আসা শত শত ভুক্তভোগী। এমনকি হাসপাতালের বাইরে ফার্মেসিগুলোতেও চড়া দাম দিয়ে এই ভ্যাকসিন পাওয়া যাচ্ছে না বলে অভিযোগ করেছেন রোগীরা। সরকারি সেবা নেই, অজুহাত ‘সাপ্লাই সংকট’ নিয়ম অনুযায়ী সরকারি হাসপাতালে এই ভ্যাকসিন বিনামূল্যে বা নামমাত্র মূল্যে পাওয়ার কথা থাকলেও বাস্তবে চিত্র উল্টো।
ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, হাসপাতালে গেলেই দায়িত্বরতরা সরাসরি জানিয়ে দিচ্ছেন যে সরকারি সরবরাহ নেই। ফলে অসহায় রোগীরা ফিরে যাচ্ছেন অথবা দালালের খপ্পরে পড়ে হয়রানির শিকার হচ্ছেন। হাসপাতালের সংশ্লিষ্ট শাখা থেকে বারবার ‘সাপ্লাই নেই’ এমন গতানুগতিক অজুহাত দেওয়া হচ্ছে বলে অভিযোগ সাধারণ মানুষের। বাইরের ফার্মেসিতেও হাহাকার হাসপাতালে ভ্যাকসিন না পেয়ে রোগীরা যখন বাইরের ওষুধের দোকানে ছুটছেন, সেখানেও মিলছে না সমাধান। শহরের বড় বড় ফার্মেসিগুলো ঘুরেও মিলছে না ইনজেকশন। অনেক রোগী অভিযোগ করেছেন, কিছু দোকানে গোপনে এই ভ্যাকসিন থাকলেও তা কয়েকগুণ বেশি দামে বিক্রি করা হচ্ছে। দরিদ্র রোগীদের পক্ষে এই চড়া দাম দিয়ে জীবন রক্ষাকারী ওষুধ কেনা অসম্ভব হয়ে দাঁড়িয়েছে।
ভুক্তভোগীদের আর্তনাদ হাসপাতালের বারান্দায় অপেক্ষায় থাকা সদর উপজেলার এক ভুক্তভোগী বলেন, ‘কুকুরে কামড়ানোর পর দৌড়ে হাসপাতালে আসলাম। ডাক্তার বলল সরকারি ভ্যাকসিন নাই। বাইরে কিনতে গেলাম, সেখানেও নাই। এখন বিষ শরীরে ছড়িয়ে পড়লে এর দায় কে নেবে? আমরা গরিব মানুষ বলেই কি আমাদের কোনো মূল্য নেই?’ কর্তৃপক্ষের বক্তব্য ভ্যাকসিন সংকটের বিষয়ে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের সাথে যোগাযোগ করা হলে তারা জানান, চাহিদার তুলনায় বরাদ্দ অনেক কম এবং সেন্ট্রাল ড্রাগ স্টোর (সিএমএসডি) থেকে সরবরাহ বন্ধ থাকায় এই পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে।
সরবরাহ পাওয়ার সাথে সাথেই সেবা চালু করা হবে বলে তারা আশ্বস্ত করেন। জনস্বাস্থ্য ঝুঁকি বিশেষজ্ঞদের মতে, জলাতঙ্ক একটি প্রাণঘাতী রোগ। সময়মতো ভ্যাকসিন না নিলে মৃত্যু নিশ্চিত। নেত্রকোনা জেলায় ইদানীং বেওয়ারিশ কুকুরের উপদ্রব বাড়ায় কামড়ে আক্রান্তের সংখ্যাও বেড়েছে। এমন পরিস্থিতিতে ভ্যাকসিনের এই ভয়াবহ সংকট পুরো জেলার জনস্বাস্থ্যকে ঝুঁকির মুখে ঠেলে দিচ্ছে। এলাকাবাসীর দাবি, দ্রুততম সময়ের মধ্যে সরকারি উদ্যোগে জেলা সদর হাসপাতালে জলাতঙ্কের ভ্যাকসিন সরবরাহ নিশ্চিত করা হোক এবং বাজার নিয়ন্ত্রণে মনিটরিং বাড়ানো হোক।
বগুড়ায় অসাধু উপায়ে জ্ঞাত আয় বহির্ভূতভাবে ৭৮ লক্ষাধিক টাকার সম্পদ অর্জনের অভিযোগে নাজিয়া জাহান (৪০) নামে গৃহবধূর বিরুদ্ধে দুর্নীতি দমন কমিশনে (দুদক) মামলা করা হয়েছে। দুদক জেলা কার্যালয়ের উপ-সহকারী পরিচালক রোকনুজ্জামান সম্প্রতি এ মামলা করেন। গতকাল সোমবার বিকালে দুদক কর্মকর্তা এ তথ্য দিয়েছেন।
এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে, নাজিয়া জাহান যমুনা ব্যাংক লিমিটেড বগুড়া শাখার বরখাস্ত সাবেক ব্যবস্থাপক সাওগাত আরমানের স্ত্রী। তার বিরুদ্ধে জ্ঞাত আয় বহির্ভূত সম্পদ অর্জনের অভিযোগ ওঠে। এর পরিপ্রেক্ষিতে তার বিরুদ্ধে জ্ঞাত আয় বহির্ভূত সম্পদ অর্জনের অভিযোগ প্রাথমিক অনুসন্ধানে প্রধান কার্যালয় নির্দেশ দেয়। নাজিয়া জাহান গত ২০২৪ সালের ১৮ আগস্ট দুদক বগুড়া জেলা কার্যালয়ে সম্পদ বিবরণী জমা দেন।
সম্পদ বিবরণী যাচাই/ অনুসন্ধানকালে নাজিয়া জাহানের নামে ৩৬ লাখ ৩৪ হাজার ৮০০ টাকা মূল্যমানের স্থাবর সম্পদ এবং ৭৩ লাখ ৫৬ হাজার ৪৬১ টাকা মূল্যমানের অস্থাবর সম্পদসহ মোট ১ কোটি ৯ লাখ ৯১ হাজার ২৬১ টাকা মূল্যমানের স্থাবর ও অস্থাবর সম্পদ অর্জনের তথ্য পাওয়া যায়। এক্ষেত্রে নাজিয়া জাহান দুদকে দেওয়া সম্পদ বিবরণীতে ৩৫ লাখ ৪৬ হাজার ২৬১ টাকা মূল্যমানের স্থাবর ও অস্থাবর সম্পদ অর্জনের তথ্য গোপন করেন।
এভাবে মিথ্যা ও ভিত্তিহীন ঘোষণা দিয়ে তিনি দুদক আইন, ২০০৪ এর ২৬(২) ধারায় শাস্তিযোগ্য অপরাধ করেছেন।
অপরদিকে সম্পদ বিবরণী যাচাই/ অনুসন্ধানকালে নাজিয়া জাহানের নামে মোট ১ কোটি ৯ লাখ ৯১ হাজার ২৬১ টাকা মূল্যমানের স্থাবর ও অস্থাবর সম্পদের তথ্য পাওয়া যায়। তিনি ঋণ/দায়ের স্বপক্ষে কোনও রেকর্ডপত্র দেখাতে পারেননি। ঋণ/দায় ব্যাংকিং চ্যানেল কর্তৃক সমর্থিত না হওয়ায় তার নিট সম্পদের মূল্য দাঁড়ায় ১ কোটি ৯ লাখ ৯১ হাজার ২৬১ টাকা।
এ ছাড়া যাচাই/ অনুসন্ধানকালে নাজিয়া জাহানের পারিবারিক ব্যয় পাওয়া যায় মোট ৫ লাখ ৭০ হাজার টাকা। ফলে পারিবারিক ব্যয়সহ অর্জিত সম্পদের মোট মূল্য দাঁড়ায় ১ কোটি ১৫ লাখ ৬১ হাজার ২৬১ টাকা। আয়কর নথি পর্যালোচনায় তার গ্রহণযোগ্য আয় পাওয়া যায় ৩৭ লাখ ৪৩ হাজার ১২৪ টাকা।
তাই নাজিয়া জাহান জ্ঞাত আয়ের উৎস বহির্ভূত ৭৮ লাখ ১৮ হাজার ১৩৭ টাকা মূল্যমানের সম্পদ অর্জন করে তা নিজ ভোগ-দখলে রেখে দুর্নীতি দমন কমিশন আইন, ২০০৪ এর ২৭(১) ধারায় শাস্তিযোগ্য অপরাধ করেছেন।
দুদক জেলা কার্যালয়ের উপ-সহকারী পরিচালক রোকনুজ্জামান গতকাল সোমবার বিকালে জানান, প্রধান কার্যালয়ের অনুমোদন পাওয়ার পর সম্প্রতি তিনি নিজ কার্যালয়ে ওই আসামির বিরদ্ধে মামলা করেছেন। তদন্তকারী কর্মকর্তা নিয়োগ করার পর তদন্ত শেষে চার্জশিট ও বিচার কার্যক্রম শুরু হবে।
রোজার আগেই কুড়িগ্রাম ও হিলির বাজারে লাগামহীন হয়ে ওঠেছে বিভিন্ন পণ্যের দাম। গত দুই দিনে লেবু, রসুন, শসা, গাজর, বেগুন ও আদাসহ প্রায় সব নিত্যপণ্যের দাম বেড়েছে। তবে আলুর দাম রয়েছে নাগালের মধ্যে। জেলা শহরের খুচরা ও পাইকারি বাজার ঘুরে এসব তথ্য জানা গেছে।
বাজার ঘুরে জানা যায়, রোজার আগেই লেবুর দাম বেড়ে প্রতি পিস বিক্রি হচ্ছে ১২ থেকে ২০ টাকা পর্যন্ত। গত দুই দিনের ব্যবধানে শুকনা মরিচ, রসুন, আদা এবং সয়াবিন তেলের দাম অস্বাভাবিক হারে বেড়েছে। আলুর স্বল্পমূল্যে কিছুটা স্বস্তি থাকলেও বেড়েছে বেগুন, গাজর ও শসার দাম। পেঁয়াজের দামও কিছুটা বেড়েছে।
ব্যবসায়ীরা বলছেন, সরবরাহ স্বাভাবিক রয়েছে। তবে মোকামে দাম বেশি হওয়ায় তারা বাধ্য হয়ে বেশি দামে বিক্রি করছেন। ফলে ভোক্তাদের চাপে পড়তে হচ্ছে। রমজানে বাজার মূল্য নিয়ন্ত্রণে রাখতে মোকামগুলোতে সরকারের নজরদারি বাড়ানোর পরামর্শ পাইকারি ও খুচরা ব্যবসায়ীদের।
শহরের জিয়া বাজারের পাইকারি আড়তগুলোতে খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, গত দুই দিনে শুকনা মরিচের দাম কেজি প্রতি ৫০ টাকা বেড়েছে। রসুনের দাম কেজি প্রতি ৪০ থেকে ৫০ টাকা বেড়ে সোমবার (১৬ ফেব্রুয়ারি) ১৪০ টাকা কেজি বিক্রি হয়েছে। দুই দিনের ব্যবধানে পেঁয়াজের দাম কেজি প্রতি ১০ টাকা বেড়ে ৫২ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।
জেলা শহরের জিয়া বাজারের সবজি ব্যবসায়ী জাহাঙ্গীর জানান, রসুন, শুকনা মরিচ, আদা, বেগুন, গাজরসহ বেশ কিছু সবজির দাম বেড়েছে। দাম বড়লেও খুচরা ব্যবসায়ীদের লাভ বাড়েনি। তারা বেশি দামে কিনছেন বলে বেশি দামেই বিক্রি করছেন। কিন্তু তাদের ক্রয় মূল্য ও বিক্রয় মূল্যের ব্যবধান আগের মতোই আছে।
পৌর বাজারের ব্যবসায়ী ওলিল বলেন, ‘এক সপ্তাহ আগে যে লেবু প্রতি পিস কিনেছিলাম ৫ টাকা, এখন সেই লেবুর পিস হইছে ১২ টাকা। দুই দিন আগে রসুন ৯০ টাকা কেজি কিনছি। এখন কিনছি ১৬০ টাকা। বেগুন ছিল ২৫ টাকা, এখন ৫০ টাকা কিনতে হচ্ছে। শসার কেজি ছিল ৪০ টাকা, এখন ৫০ টাকা। গাজর ছিল ২০ টাকা, এখন কিনতে হচ্ছে ৩২ টাকা। করলাসহ আরও কয়েকটা শবজির দামও বেড়েছে। রোজার জন্য লেবুসহ সব জিনিসের দাম বাড়ছে। আমরাও বেশি দামে বিক্রি করছি। কয়েক রোজা গেলে হয়তো দাম আবার কমতে পারে।’
এদিকে খোলা সয়াবিন তেলের দামও বেড়েছে লিটার প্রতি পাঁচ টাকা। বোতলজাত তেলের দাম বাড়ারও গুঞ্জন চলছে। সবমিলে এবারের রমজানেও নিত্যপণ্য নিয়ে ভোক্তাদের স্বস্তির কোনো লক্ষণ মিলছে না।
তবে রমজান ঘিরে নিত্যপণ্যের দাম নিয়ন্ত্রণ ও নিরাপদ খাদ্য নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নিয়েছে জেলা প্রশাসন। এ উপলক্ষে নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষ, ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর ও ব্যবসায়ী প্রতিনিধিসহ সংশ্লিষ্টদের নিয়ে সভা করে বাজার মনিটরিংয়ের জন্য উপকমিটি করেছে জেলা প্রশাসন। সভায় বাজারগুলোতে দৃশ্যমান স্থানে পণ্যের দামের তালিকা টানিয়ে দেওয়াসহ ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
জেলা প্রশাসক অন্নপূর্ণা দেবনাথ বলেন, ‘রমজান উপলক্ষে নিত্যপণ্যের দাম নিয়ন্ত্রণে রাখতে নিয়মিত বাজার মনিটরিং ও ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। বিক্রির সময় খাদ্যদ্রব্য নিরাপদ রাখতে সুরক্ষা ব্যবস্থা নিশ্চিত করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এ ছাড়া ইউএনওরা বাজারগুলোতে মূল্য তালিকা প্রদর্শন নিশ্চিত করতে ব্যবস্থা নেবেন।’
সরবরাহ কমের অজুহাতে রমজান শুরুর আগেই দিনাজপুরের হিলিতে লেবু ও শসার দাম বেড়ে দ্বিগুণ হয়েছে। হঠাৎ দাম বাড়াই বিপাকে পড়েছেন নিম্ন আয়ের মানুষ।
হিলি বাজার ঘুরে দেখা গেছে, বেশিরভাগ সবজির দোকানেই লেবুর দেখা মিলছে না। দু’একটি দোকানে থাকলেও দাম বাড়তি। একইভাবে সব দোকানেই শসার দাম বেশি। দুদিন আগে যে লেবুর হালি ২০-৩০ টাকা বিক্রি হয়েছিল, তা এখন বেড়ে ৬০ টাকা বিক্রি হচ্ছে। আকারে বড় লেবুর দাম কেউ কেউ ৭০-৮০ টাকা হালি বিক্রি করছেন। শসা ৩০ থেকে ৪০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হলেও এখন ৬০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। তবে বেগুন আগের মতোই ৪০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। ফুলকপি ২০ টাকা কেজি, বাঁধাকপি ২০ টাকা কেজি, শিম ২০ টাকা কেজি, টমেটো ৪০ টাকা কেজি, আলু ১৫-১৭ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে।
হিলি বাজারে আসা নির্মল কুমার বলেন, ‘বাড়িতে অনুষ্ঠান থাকায় লেবু লাগবে। কিন্তু বাজারে এসে দাম শোনে অবাক হয়েছি। এক হালি লেবু চাচ্ছে ১০০ টাকা। এটি কী মেনে নেওয়ার মতো। জীবনে এত দাম দিয়ে লেবু কিনে খাইনি। তারপরও এখন যেহেতু লাগবেই সেহেতু ১২০ টাকায় দুই হালি নিয়েছি।’
আরেক ক্রেতা আসলাম হোসেন বলেন, ‘দুদিন আগেই বাজার থেকে লেবু কিনে নিয়ে গেলাম ২০ টাকা হালি। অথচ সেই লেবু আজ কিনতে এসে দাম শুনি ৬০ টাকা হালি। আরেকটু বড়গুলোর দাম আরও বেশি। রমজান শুরু না হতেই বাজার অস্থির। কমবেশি সব পণ্যের দাম বেড়েছে। এটা তো চিন্তার বিষয়।’
জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর দিনাজপুরের সহকারী পরিচালক বোরহান উদ্দিন বলেন, ‘কেউ যেন কোনো পণ্যের কৃত্রিম সংকট সৃষ্টি করে দাম বাড়াতে না পারে, সে লক্ষ্যে আমরা নিয়মিত বাজার মনিটরিং করছি। বিশেষ করে রমজানকেন্দ্রিক যেসব পণ্যের চাহিদা থাকে সেগুলোর দাম বাড়াতে যাতে না পারে, সেদিকে লক্ষ্য রাখছি। এরপরও কারও বিরুদ্ধে এই ধরনের অভিযোগ পাওয়া গেলে জরিমানাসহ আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’
সিলেটের জকিগঞ্জ উপজেলা থেকে ১৫ পাওয়ার জেল এবং ১৭ ইলেকট্রিক ডেটোনেটর উদ্ধার করা হয়েছে। সোমবার (১৬ ফেব্রুয়ারি) বিকালে এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বিষয়টি জানিয়েছেন জকিগঞ্জ ব্যাটালিয়নের (১৯ বিজিবি) অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল জুবায়ের আনোয়ার।
বিজিবি জানায়, গত রোববার (১৫ ফেব্রুয়ারি) রাতে জকিগঞ্জ ব্যাটালিয়ন (১৯ বিজিবি) ও র্যাব-৯ এর সমন্বয়ে সিলেট জেলার জকিগঞ্জ উপজেলাধীন কাজলসার ইউনিয়নের রায়গঞ্জ এলাকার আটগ্রাম পেট্রোবাংলা পয়েন্টের রায়গ্রাম যাত্রী ছাউনির পেছনে পলিথিন দিয়ে মোড়ানো পরিত্যক্ত অবস্থায় ১৫ পাওয়ার জেল এবং ১৭ ইলেকট্রিক ডেটোনেটর উদ্ধার করা হয়। উদ্ধার পাওয়ার জেল ও ইলেকট্রিক ডেটোনেটরগুলোর সঙ্গে সংশ্লিষ্ট কাউকে খুঁজে পাওয়া যায়নি। এ বিষয়ে বিজিবি ও র্যাব-৯ এর তদন্ত কার্যক্রম চলমান রয়েছে।
লেফটেন্যান্ট কর্নেল জুবায়ের আনোয়ার জানান, পরবর্তী আইনি ব্যবস্থা গ্রহণের লক্ষ্যে উদ্ধার পাওয়ার জেল ও ইলেকট্রিক ডেটোনেটরগুলো জিডি মূলে সিলেট জেলার জকিগঞ্জ থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে। এ ছাড়াও দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে জকিগঞ্জ ব্যাটালিয়নের (১৯ বিজিবি) গোয়েন্দা তৎপরতা এবং সীমান্ত সুরক্ষায় বিজিবির এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে।
টেকনাফের বাহারছড়ায় কোস্টগার্ড ও র্যাবের যৌথ অভিযানে মালয়েশিয়ায় পাচারের উদ্দেশে আটক করে রাখা নারী, পুরুষ ও শিশুসহ ১৫ জনকে উদ্ধার করা হয়েছে। সোমবার (১৬ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে বাংলাদেশ কোস্টগার্ডের মিডিয়া কর্মকর্তা লেফটেন্যান্ট কমান্ডার সিয়াম-উল-হক স্বাক্ষরিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে জানা যায়- টেকনাফ থানাধীন বাহারছড়া কচ্ছপিয়া এলাকার কুখ্যাত মানব পাচারকারী মো. আব্দুল আলী তার নিজ বাড়ির একটি গুদাম ঘরে কয়েকজন নারী, পুরুষ ও শিশুকে সাগর পথে মালয়েশিয়ায় পাচারের উদ্দেশে আটকে রেখেছে।
এ তথ্যের ভিত্তিতে গত রোববার (১৫ ফেব্রুয়ারি) বিকেল ৪টার দিকে কোস্টগার্ড স্টেশন টেকনাফ, আউটপোস্ট বাহারছড়া এবং র্যাবের সমন্বয়ে ওই বাড়িতে যৌথ অভিযান পরিচালনা করা হয়।
অভিযান চলাকালে বাড়ির গুদামঘরে তল্লাশি চালিয়ে পাচারের উদ্দেশে বন্দি থাকা ১৫ জন ভুক্তভোগীকে উদ্ধার করা হয়।
তবে অভিযানের সময় যৌথবাহিনীর উপস্থিতি টের পেয়ে পাচারকারীরা পালিয়ে যায়। ফলে কাউকে আটক করা সম্ভব হয়নি।
উদ্ধারকৃতদের প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে জানা যায়, সংঘবদ্ধ মানব পাচারকারী চক্র বিদেশে উন্নত জীবনযাপনের স্বপ্ন, উচ্চ বেতনের চাকরি এবং কম খরচে বিদেশ পাঠানোর প্রলোভন দেখিয়ে কক্সবাজারসহ দেশের বিভিন্ন এলাকা থেকে বাংলাদেশি ও রোহিঙ্গা নাগরিকদের মালয়েশিয়ায় পাঠানোর পরিকল্পনা করছিল।
উদ্ধার হওয়া ব্যক্তিদের পরবর্তী আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য টেকনাফ মডেল থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে।
সারাবিশ্বে সূর্যমুখী তেলের দাম বৃদ্ধি পাওয়ায় দেশের অনেক এলাকায় বাণিজ্যিক ভাবে চাষাবাদ হচ্ছে সূর্যমুখী ফুল। এরই ধারাবাহিকতায় যশোর জেলার কেশবপুর উপজেলাতেও এ ফসলের চাষ শুরু হয়েছে। উপজেলায় এবার সূর্যমুখী চাষ যেন হয়ে উঠেছে আলোচিত সাফল্যের গল্প। চলতি মৌসুমে উপজেলা কৃষি অফিসের প্রণোদনা কর্মসূচির আওতায় মোট ১০৬ হেক্টর জমিতে সূর্যমুখী ফুলের আবাদ করে আশাতীত ফলনের স্বপ্ন দেখছেন স্থানীয় কৃষকরা।
উপজেলার মঙ্গলকোট ইউনিয়নএ পাঁচজন কৃষক প্রত্যেকে ১ কেজি করে উন্নত জাতের সূর্যমুখী বীজ নিয়ে মোট ২ বিঘা জমিতে আবাদ শুরু করেন। আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় এবং জমি প্রস্তুত ভালো হওয়ায় মাঠজুড়ে এখন হলুদ ফুলে ছেয়ে গেছে সূর্যমুখীর বাগান।
সরেজমিনে দেখা যায়, সূর্যের দিকে মুখ তুলে থাকা সারি সারি সূর্যমুখী ফুল যেন কেশবপুরের কৃষিজমিকে রূপ দিয়েছে এক অনন্য সৌন্দর্যের উদ্যানে। চারদিকে সবুজ গাছ আর হলুদ ফুলের মেলবন্ধনে তৈরি হয়েছে অপরূপ দৃশ্য। আকর্ষণীয় এই ফুলের মাঠ দেখতে আশপাশের বিভিন্ন এলাকা থেকে দর্শনার্থীরাও ভিড় করছেন। অনেকে আবার স্মৃতি ধরে রাখতে সূর্যমুখীর সঙ্গে দাঁড়িয়ে ছবি তুলছেন।
কৃষকের মুখে আশার কথা কৃষক ইব্রাহিম স্থানীয় একটি ক্লিনিকে চাকরি করার পাশাপাশি কৃষি কাজে যুক্ত আছেন। তিনি উপজেলা কৃষি অফিস থেকে প্রণোদনার আওতায় পাওয়া ১ কেজি সূর্যমুখী বীজ দিয়ে বাড়ির পাশে ১ বিঘা জমিতে চাষ করেছেন।
তিনি বলেন, মঙ্গলকোট ইউনিয়নের উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা কিশোর কুমার আমাকে সূর্যমুখী চাষে উদ্বুদ্ধ করেন। এখন আমার জমির প্রায় সব গাছে ফুল ফুটেছে। বাজারদর ভালো থাকলে এ ফসল থেকে ভালো লাভ হবে।
আরেক কৃষক সুমন জোয়ারদার জানান, আগে বিভিন্ন ধরনের সবজি চাষ করেছি কিন্তু সূর্যমুখী করিনি। এবার উপজেলা কৃষি অফিসের সহায়তায় শুরু করেছি। বর্তমানে প্রতিটি গাছে ফুল ধরেছে। এক একটি ফুলের ওজন প্রায় ৩০০ থেকে ৫০০ গ্রাম হবে বলে ধারণা করছি। আগামী মৌসুমে আরও বেশি জমিতে সূর্যমুখী চাষ করব।
মাঠ পর্যায়ে উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তার তদারকি মজিদপুর ইউনিয়ন এর দায়িত্বপ্রাপ্ত উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা নাজমুল আলম জানান, আমি সবসময় কৃষকদের নতুন নতুন লাভজনক ফসল চাষে উদ্বুদ্ধ করি। এ বছর আমার কর্মএলাকায় পাঁচজন কৃষক সূর্যমুখী চাষ করেছেন। নিয়মিত তাদের মাঠ পরিদর্শন করছি এবং প্রয়োজনীয় পরামর্শ দিচ্ছি।
কেশবপুর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা আব্দুল্লাহ আল মামুন বলেন, ফসলের নিবিড়তা বৃদ্ধিকরণ প্রকল্পের আওতায় প্রণোদনা কর্মসূচির অংশ হিসেবে কৃষকদের সূর্যমুখীর বীজ দেওয়া হয়েছে। মূল উদ্দেশ্য হলো এই ফসলের বাজারে চাহিদা ও মূল্য ভালো হওয়ায় কৃষকরা যেন লাভবান হন এবং ভবিষ্যতে নিজেরাই বীজ কিনে আবাদে আগ্রহী হন।
তিনি আরও বলেন, উপজেলা কৃষি অফিসের মাধ্যমে কৃষকদের রোগবালাই ও পোকামাকড়ের আক্রমণ থেকে ফসল রক্ষায় নিয়মিত পরামর্শ ও মাঠ পর্যায়ের সহায়তা দেওয়া হচ্ছে। এই কার্যক্রম বাস্তবায়ন করছে দেশের কৃষি উন্নয়নের অন্যতম সংস্থা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর।
কৃষি অফিস সূত্রে জানা গেছে, সূর্যমুখী একটি স্বল্প মেয়াদি ও তুলনামূলক কম খরচের ফসল। তেলের জন্য এই ফসলের চাহিদা দিন দিন বাড়ছে। ফলে বাজারে এর দামও কৃষকের অনুকূলে থাকছে। চলতি মৌসুমে কেশবপুরে ফলন প্রত্যাশা অনুযায়ী হলে আগামী মৌসুমে আরও বেশি কৃষক সূর্যমুখী চাষে যুক্ত হবেন বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
মাঠজুড়ে হলুদ ফুলের হাসি আর কৃষকের চোখে নতুন স্বপ্ন সব মিলিয়ে কেশবপুরে সূর্যমুখী চাষ এখন শুধু একটি ফসল নয়, হয়ে উঠেছে লাভজনক কৃষির নতুন সম্ভাবনার নাম।