চায়না প্রতিষ্ঠানের মামলায় মোংলা বন্দরে অবস্থানরত রামপাল তাপ বিদ্যুৎকেন্দ্রের কয়লাবাহী লাইবেরিয়ার একটি জাহাজকে বন্দর ত্যাগে নিষেধাজ্ঞা দিয়েছেন আদালত। পরবর্তী নির্দেশ না দেয়া পর্যন্ত মোংলা বন্দর কর্তৃপক্ষকে জাহাজটির এনওসি প্রদানে নিষেধাজ্ঞা দেন আদালত।
হাইকোর্টের আটকাদেশের প্রেক্ষিতে জানা গেছে, ইন্দোনেশিয়া থেকে রামপাল তাপ বিদ্যুৎকেন্দ্রের জন্য ৩১ হাজার মেট্রিক টন কয়লা নিয়ে গত বৃহস্পতিবার সকাল ১০টায় মোংলা বন্দরের হাড়বাড়িয়ার ১১ নম্বর অ্যাংকোরেজে নোঙর করে লাইবেরিয়ার পতাকাবাহী জাহাজ এমভি পানাগিয়া কানালা। এ জাহাজটি মোংলা বন্দরে নোঙরের আগের দিন বুধবার সুপ্রিম কোর্টের হাইকোর্ট ডিভিশনের অ্যাডমিরালটি জুরিডিকশন জাহাজটিকে আটকাদেশ দেন। সেই সঙ্গে পরবর্তী নির্দেশ না দেয়া পর্যন্ত মোংলা বন্দর কর্তৃপক্ষকে জাহাজটির এনওসি প্রদানে নিষেধাজ্ঞা প্রদান করেছেন উচ্চ আদালত। বিদেশি এ জাহাজটির বিরুদ্ধে প্রায় ৩ কোটি টাকার ক্ষতিপূরণ দাবিতে চায়নার সাংহাইয়ের সিসিএক্স শিপিং কোম্পানি লিমিটেডের পক্ষে মো. আবুল হাসান গত ১২ জুলাই উচ্চ আদালতে এ মামলাটি দায়ের করেন।
এ মামলায় হাইকোর্টের বিচারপতি খিজির আহমেদ চৌধুরী বিদেশি ওই জাহাজটি আটকাদেশ প্রদান করেন। সুপ্রিম কোর্টের রেজিস্ট্রার জেনারেল গোলাম রাব্বানী মোংলা বন্দর কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান রিয়ার অ্যাডমিরাল মীর এরশাদ আলীর বরাবর এ আদেশ প্রেরণ করেছেন। এ আদেশের প্রেক্ষিতে মোংলা বন্দর কর্তৃপক্ষ ইতোমধ্যেই প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে।
এ ব্যাপারে শুক্রবার বিকেলে মোংলা বন্দর কর্তৃপক্ষের ভারপ্রাপ্ত হারবার মাস্টার ক্যাপ্টেন আমিনুর রহমান বলেন, পরবর্তী আদেশ না আসা পর্যন্ত জাহাজটি যেন মোংলা বন্দর ত্যাগ করতে না পারে সে বিষয়ে সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলোকে নির্দেশনা দেয়া হয়েছে।
ঢাকার কেরানীগঞ্জে আরও দুইটি ইয়াবা তৈরির কারখানার সন্ধান পেয়েছে র্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র্যাব)। কারখানা দুটি থেকে বিপুল পরিমাণ ইয়াবা তৈরির কাঁচামাল ও যন্ত্রপাতি জব্দের পাশাপাশি এক ক্যামিস্ট ও এক ডিলারকে গ্রেপ্তার করেছে বাহিনীটি। গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন ডিলার ফয়সাল ইসলাম মিঠু (৪২) এবং ডিলার-কাম-ক্যামিস্ট নাছির (৪৫)।
সোমবার (৩ আগস্ট) কেরানীগঞ্জের মদিনা মার্কেটে একটি কারখানার সামনে আয়োজিত ব্রিফিংয়ে এ তথ্য জানান র্যাব-২-এর অধিনায়ক অতিরিক্ত ডিআইজি নয়মুল হাসান।
তিনি বলেন, গতকাল নিজস্ব গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে র্যাব-২ জানতে পারে, রাজধানীর মোহাম্মদপুর থানাধীন বসিলা হাউজিং এলাকায় একজন ইয়াবা ডিলার মোটরসাইকেলযোগে বিপুল পরিমাণ ইয়াবা পরিবহনের উদ্দেশে অবস্থান করছে। পরে র্যাব-২-এর একটি আভিযানিক দল ওই এলাকায় অভিযান চালিয়ে ইয়াবা ডিলার ফয়সাল ইসলাম মিঠুকে তার ব্যবহৃত মোটরসাইকেলসহ আটক করে এবং তার কাছ থেকে ১১ হাজার ৭৫৯ পিস ইয়াবা উদ্ধার করে।
তিনি যোগ করেন, পরবর্তীতে তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে কেরানীগঞ্জে তার নিজ বাড়িতে অভিযান চালিয়ে একটি ইয়াবা তৈরির কারখানার সন্ধান পাওয়া যায়। সেখান থেকে ইয়াবা তৈরির একটি মেশিন উদ্ধার করা হয়।
তিনি আরও জানান, আটককৃত ফয়সাল ইসলাম মিঠুর দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে র্যাব-২-এর আভিযানিক দল কেরানীগঞ্জের মদিনা মার্কেটে অভিযান চালিয়ে আরেকটি ইয়াবা তৈরির কারখানার সন্ধান পায়। সেখান থেকে ইয়াবা তৈরির কারখানার মালিক এবং ইয়াবা ডিলার-কাম-কেমিস্ট নাছিরকে আটক করা হয়। এ সময় তার কাছ থেকে একটি ইয়াবা তৈরির মেশিন, ১৭ কেজি ইয়াবা তৈরির কাঁচামাল এবং ১৯ হাজার ৫২০ পিস ইয়াবা জব্দ করা হয়।
এক প্রশ্নের জবাবে র্যাবের এই কর্মকর্তা আরও জানান, আটককৃত নাছির নিজেই ইয়াবা তৈরি করে নিজেই ডিলার হিসেবে দেশের বিভিন্ন স্থানে বাজারজাত করে আসছিলেন। তিনি ১০ বছর ধরে এই কারখানা পরিচালনা করে আসছিলেন। ইয়াবা তৈরির কাঁচামাল তিনি চট্টগ্রাম থেকে সংগ্রহ করতেন।
আরেক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, জিজ্ঞাসাবাদে নাসির অনেকের নাম বলেছেন। তবে তদন্তের স্বার্থে তা এখনই প্রকাশ করা হচ্ছে না। ঢাকায় তাদের নেটওয়ার্ক অনেক বিস্তৃত।
এর আগে গত বৃহস্পতিবার রাতে ঢাকার কেরানীগঞ্জ মডেল থানাধীন মধ্যচর দক্ষিণ বালুচর এলাকায় একটি ইয়াবা তৈরির কারখানার সন্ধান পায় র্যাব-১০। পরে অভিযান চালিয়ে ১ হাজার ৯৬৮ পিস ইয়াবা, বিভিন্ন ধরনের পাউডারসদৃশ কাঁচামাল, যন্ত্রপাতি, পাঁচটি মোবাইল ফোন এবং একটি ওজন পরিমাপক যন্ত্রসহ চারজনকে গ্রেপ্তার করে র্যাব।
রাজশাহীর পবা উপজেলায় নয় বছর বয়সী এক শিশুকন্যাকে যৌন হয়রানির দায়ে গ্রেপ্তার হয়ে কারাবন্দি জামায়াতে ইসলামীর এক রুকনকে দল থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে। সোমবার (৩ আগস্ট) সকালে বহিষ্কারের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন বড়গাছি ইউনিয়ন জামায়াতের আমির আব্দুর রহমান মিলন। অভিযোগের প্রাথমিক সত্যতা পাওয়ায় ‘নৈতিক স্খলনের’ দায়ে তার বিরুদ্ধে এ সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছে তিনি।
তিনি আরও বলেন, অভিযোগ ওঠার পর দলীয়ভাবে ভুক্তভোগী শিশুর পরিবারের সঙ্গে কথা বলা হয়েছে। প্রাথমিকভাবে অভিযোগের সত্যতা পাওয়ায় তা দল থেকে বহিষ্কারের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। গত রোববার উপজেলা জামায়াতের সভায় ইউনিয়ন পর্যায়ের নেতারাও উপস্থিত ছিলেন। ওই সভায় সর্বসম্মতিক্রমে ওমর ফারুককে বহিষ্কারের সিদ্ধান্ত হয়।
উল্লেখ্য, বহিষ্কৃত ওই ব্যক্তির নাম ওমর ফারুক (৩৫)। তিনি উপজেলার পাকারমাথা গ্রামের বাসিন্দা এবং বড়গাছি ইউনিয়নের ৪ নম্বর ওয়ার্ড জামায়াতের রুকন ছিলেন। পেশায় তিনি গ্রাম্য চিকিৎসক। একটি ফার্মেসি পরিচালনার পাশাপাশি স্ত্রীকে নিয়ে নিজ বাড়িতে শিশুদের প্রাইভেট পড়াতেন। তার ভাই আবু বকর একই ওয়ার্ড জামায়াতের সেক্রেটারি। বর্তমানে ওমর ফারুক নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে করা মামলায় রাজশাহী কেন্দ্রীয় কারাগারে রয়েছেন।
মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, গত ১২ জুলাই প্রতিদিনের মতো ওই শিশুকন্যা প্রাইভেট পড়তে যায়। অভিযোগ, একপর্যায়ে ওমর ফারুক কৌশলে অন্য শিক্ষার্থীদের বিদায় করে শিশুটিকে একা রেখে যৌন হয়রানি করেন। বাড়ি ফিরে শিশুটি কান্নাকাটি করতে করতে মায়ের কাছে ঘটনার বর্ণনা দেয়। পরে পরিবারের সদস্যরা বিষয়টি নিয়ে আইনি পদক্ষেপ নেওয়ার সিদ্ধান্ত নেন। এ ঘটনায় গত শুক্রবার সন্ধ্যায় ওমর ফারুককে তার বাড়ি থেকে আটক করে পুলিশ। পরে রাতে ভুক্তভোগী শিশুর মা বাদী হয়ে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে পবা থানায় মামলা করেন। পরদিন শনিবার সকালে তাকে আদালতে পাঠানো হলে আদালত রাজশাহী কেন্দ্রীয় কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।
প্রতিষ্ঠার ৯০ বছর অতিবাহিত হলেও আয়তন বাড়েনি মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গল পৌরসভার। মেলেনি স্থায়ী ময়লার ডাম্পিং স্টেশনও। কাগজে-কলমে এটি ‘প্রথম শ্রেণির’ পৌরসভা হলেও চরম জনবল সংকট ও প্রশাসনিক স্থবিরতায় নাগরিক সেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন পৌরবাসী। ১৫৫টি অনুমোদিত পদের বিপরীতে বর্তমানে মাত্র ২ জন কর্মকর্তা ও ৯ জন কর্মচারী, মোট ১১ জন স্থায়ী জনবল দিয়ে হেলেদুলে চলছে পুরো পৌরসভার কার্যক্রম।
পৌরসভা কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, ১৯৩৫ সালে মাত্র ২.৫৮ বর্গকিলোমিটার আয়তন নিয়ে প্রতিষ্ঠিত হয় শ্রীমঙ্গল পৌরসভা। ২০০২ সালে এটি প্রথম শ্রেণির পৌরসভায় উন্নীত হলেও প্রায় শতবর্ষে এসেও সীমানা বাড়েনি এক ইঞ্চিও। পৌরসভা আইন অনুযায়ী একটি প্রথম শ্রেণির পৌরসভার ৩টি বিভাগে ১৫৫টি পদে জনবল থাকার কথা থাকলেও এখানে শূন্য রয়েছে ১৪৪টি পদই।
প্রকৌশল বিভাগের ৬৮টি পদের মধ্যে শূন্য ৫২টি, প্রশাসনিক বিভাগের ৫৪টি পদের মধ্যে শূন্য ৪৯টি, স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা বিভাগ ৩৩টি পদের সবকটিই শূন্য।
পৌরসভায় কোনো রিসাইক্লিং ব্যবস্থা বা স্থায়ী ডাম্পিং স্টেশন না থাকায় বাধ্য হয়ে শহরের কলেজ রোডের খোলা জায়গায় স্তূপ করে রাখা হচ্ছে বর্জ্য। এতে চারপাশের ১ থেকে দেড় কিলোমিটার এলাকায় তীব্র দুর্গন্ধ ছড়িয়ে পড়ছে। দুর্গন্ধ, মশা-মাছির উপদ্রব এবং পরিবেশ দূষণে হুমকির মুখে পড়েছে জনস্বাস্থ্য ও জীববৈচিত্র্য।
স্থানীয় বাসিন্দা শিমুল আহমেদ ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, ‘পৌরসভায় জনসংখ্যা ও ব্যবসা-বাণিজ্য বহুগুণ বাড়লেও বর্জ্য ব্যবস্থাপনার উন্নয়ন হয়নি। কলেজ রোডের বর্জ্যের কারণে আশপাশের পরিবারগুলোতে রোগবালাই লেগেই আছে।’
এদিকে শহরতলির মুসলিমবাগ এলাকার বাসিন্দা রুহেল আহমেদ জানান, দীর্ঘ ১৫ বছর ধরে সীমানা সম্প্রসারণের কথা শুনলেও কাজের কাজ কিছুই হয়নি।
টিআইবি ও সচেতন নাগরিক কমিটির সহযোগী সংগঠন এসিজির সদস্য আশিকুর রহমান চৌধুরী বলেন, ‘দুই যুগ আগে প্রথম শ্রেণির মর্যাদা পেলেও এখানকার নাগরিক সুবিধার মান এখনো সে পর্যায়ে পৌঁছায়নি।’
পৌরসভা সূত্র জানায়, ২০১৭ সালে জেটি রোড এলাকায় ডাম্পিং স্টেশনের জন্য ১ কোটি ৮৪ লাখ টাকায় ২.৪৩ একর জমি কেনা হলেও জায়গাটি নিয়ে আইনি জটিলতা তৈরি হয়। স্থানীয় এক ব্যক্তি মামলা করায় আদালতের নিষেধাজ্ঞার কারণে কলেজ রোড থেকে বর্জ্যের ভাগাড় সরানো সম্ভব হয়নি।
শ্রীমঙ্গল পৌরসভার নির্বাহী প্রকৌশলী মো. জহিরুল ইসলাম বলেন, ‘বর্তমানে এখানে তৃতীয় শ্রেণির পৌরসভার চেয়েও কম জনবল রয়েছে। মাত্রা ২ জন কর্মকর্তা ও ৯ জন কর্মচারী দিয়ে অত্যন্ত আন্তরিকতার সাথে সেবা দেওয়ার চেষ্টা করা হচ্ছে। নতুন জনবল নিয়োগের জন্য ইতোমধ্যে স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ে আবেদন জানানো হয়েছে।’
জনবল পদায়ন ও স্থায়ী বর্জ্য ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করে দ্রুত নাগরিক সুযোগ-সুবিধা সচল করার দাবি জানিয়েছেন ভুক্তভোগী পৌরবাসী।
জন্মগত হৃদরোগে আক্রান্ত চার বছরের শিশু রাগীব ইশরাক রিহান অন্য দশটি সাধারণ শিশুর মতো স্বাভাবিকভাবে হেসে-খেলে বেঁচে থাকার আকুতি জানাচ্ছে। হৃদপিণ্ডে প্রকোষ্ঠে ছিদ্র ও ধমনীতে ব্লক নিয়ে জন্ম নেওয়া রিহানের জীবন বাঁচাতে পূর্বে ভারতে একটি শল্যচিকিৎসা করানো হলেও, বর্তমানে তার শারীরিক অবস্থার অবনতি হওয়ায় জরুরি ভিত্তিতে দ্বিতীয় শল্যচিকিৎসা প্রয়োজন। কিন্তু পূর্বের ব্যয়বহুল চিকিৎসায় সর্বস্ব হারিয়ে ঋণগ্রস্ত হয়ে পড়া বাবার পক্ষে প্রয়োজনীয় ১০ লাখ টাকা জোগাড় করা সম্ভব হচ্ছে না।
রিহানের বাবা ইখতিয়ার উদ্দিন আজাদ জানান, তার ছেলের চিকিৎসা করাতে গিয়ে ইতোমধ্যে তিনি ঋণগ্রস্থ হয়ে পড়েছেন। একবার বিদেশে গিয়ে ১০-১২ লাখ টাকা খরচ করে হার্টের অস্ত্রপচার করে এনেছেন। অস্ত্রপচার করে আনার পর কিছুদিন ভালো ছিল। কিন্তু আবার সমস্যা দেখা দিয়েছে।
ডাক্তাররা বলছেন, আবারও বিদেশে নিয়ে অস্ত্রপচার করাতে হবে। বিদেশে নিয়ে জটিল এই অস্ত্রপচার করাতে অন্তত ১০ লাখ টাকা প্রয়োজন। বর্তমানে তার পক্ষে ব্যয়বহুল এই চিকিৎসার খরচ বহন করা সম্ভব নয়। ছেলেকে বাঁচানোর জন্য সমাজের সচ্ছল মানুষদের সহায়তা কামনা করেন তিনি।
রিহানের চিকিৎসায় আর্থিক সাহায্যের জন্য বিকাশ (০১৭২৮৬৩৭৪৪০) করা যাবে। ব্যাংকে টাকা পাঠানোর ঠিকানা: মো. ইখতিয়ার উদ্দীন
আজাদ, হিসাব নং- ৪৮১৬০০২০৭৭০৮৬, সোনালী ব্যাংক পিএলসি, পত্নীতলা শাখা, নওগাঁ।
রাজধানীর ডেমরায় আবাসিক এলাকায় গড়ে ওঠা একটি পরিবেশদূষণকারী অবৈধ জিপসাম কারখানা বন্ধ করে দিয়েছে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) ভ্রাম্যমাণ আদালত। একই সাথে প্রতিষ্ঠানের মালিককে নগদ ২ লাখ টাকা জরিমানা এবং বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে কারখানাটি দ্রুত অন্যত্র স্থানান্তরের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ (ডিএমপি) সদর দপ্তরের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট আল-ইমরানের নেতৃত্বে সোমবার (৩ আগস্ট) ডেমরার নড়াইবাগ এলাকায় এ অভিযান পরিচালিত হয়।
‘ইজি পিবিসি ইন্ডাস্ট্রি’ নামের কারখানা কর্তৃপক্ষের কাছে বৈধ কাগজপত্র দেখতে চাওয়া হলে তারা তা প্রদর্শনে ব্যর্থ হয়।
অবৈধভাবে কারখানা পরিচালনার দায়ে পরিবেশ সংরক্ষণ আইন ১৯৯৫ (এর ৬/ক ও ১২/১ ধারা) অনুযায়ী ২ লাখ টাকা নগদ জরিমানা করা হয়। জনবহুল এলাকা থেকে অবিলম্বে এটি স্থানান্তরের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
রাজউক, সিটি কর্পোরেশন ও পরিবেশ অধিদপ্তরের পূর্ব নিষেধাজ্ঞা থাকা সত্ত্বেও উৎপাদন চালু রাখায় কারখানাটির বিদ্যুৎ সংযোগ কেটে দেওয়া হয়।
অভিযান শেষে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট আল-ইমরান জিপসাম উৎপাদনের ক্ষতিকর দিক তুলে ধরে জানান, বাতাসে ভেসে থাকা জিপসামের গুঁড়া নিঃশ্বাসের সাথে ফুসফুসে প্রবেশ করে দীর্ঘমেয়াদী শ্বাসকষ্ট, মারাত্মক কাশি ও ফুসফুসের জটিল ব্যাধি তৈরি করে। শুকনো পাউডার চোখে গেলে তীব্র জ্বালাপোড়া এবং ত্বকের স্পর্শে এলে শুষ্কতা তৈরি হয়। পাউডার প্রক্রিয়াজাতকরণের সময় প্রচুর ধূলিকণা বাতাসে ছড়িয়ে পড়ে বায়ুর গুণমান নষ্ট করে। এছাড়া সিন্থেটিক জিপসাম ব্যবহারে সিসা ও ক্যাডমিয়ামের মতো ক্ষতিকর ভারী ধাতু মাটিতে ছড়িয়ে পড়ার মারাত্মক ঝুঁকি থাকে।
রাজউকের মহাপরিকল্পনাভুক্ত আবাসিক এলাকায় নিয়ম-নীতির তোয়াক্কা না করে একতলা সেমিপাকা টিনশেড স্থাপনায় 'সৈয়দ তানভীর রায়হান' নামের এক ব্যক্তি বাণিজ্যিকভাবে এই শিল্প কার্যক্রম চালিয়ে আসছিলেন। এলাকাবাসীর অভিযোগের প্রেক্ষিতে পরিবেশ অধিদপ্তর তাদের ছাড়পত্র বাতিল করে কারখানা স্থানান্তরের নির্দেশ দিয়েছিল।
অভিযান চলাকালে স্থানীয় বাসিন্দারা জড়ো হয়ে কারখানাটি চিরতরে বন্ধের আবেদন জানান। এর আগে গত ২৬ জুলাই একই দাবিতে তারা বিক্ষোভ ও মানববন্ধন করেছিলেন।
এলাকায় উত্তেজনা তৈরি হলে ডেমরা থানার ওসি মির্জা তাইফুর রহমানের নেতৃত্বে পুলিশ সদস্যরা দ্রুত পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনেন।
সুন্দরবন পশ্চিম বন বিভাগ খুলনা রেঞ্জের আওতাধীন কাশিয়াবাদ ফরেস্ট স্টেশনের অধীনস্থ শাকবাড়িয়া নদী থেকে ৭০ কেজি হরিণের মাংস, ২টি মাথা ও একটি নৌকাসহ সরঞ্জাম জব্দ করেছে বন বিভাগ। এ সময় বন বিভাগের উপস্থিতি টের পেয়ে পালিয়ে যায় চোরাকারবারিরা।
গত রোববার (২ আগস্ট) রাত ৮টার দিকে ওই অভিযান চালানো হয়। অভিযানে নেতৃত্ব দেন কাশিয়াবাদ ফরেস্ট স্টেশন কর্মকর্তা ডেপুটি রেঞ্জার নাসির উদ্দীন। এ সময় নৌকায় তল্লাশি করে ৭০ কেজি হরিণের মাংস, ২টি হরিণের মাথা, একটি নৌকা, একটি দা ও ১০ ফুট লম্বা পলিথিন জব্দ করা হয়।
কাশিয়াবাদ ফরেস্ট স্টেশন কর্মকর্তা নাসির উদ্দীন জানান, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে অভিযান পরিচালনা করি। আমাদের উপস্থিতি টের পেয়ে চোরাকারবারিরা পালিয়ে যায়। আদালতের নির্দেশে জব্দ হরিণের মাংস মাটিতে পুঁতে বিনষ্ট করা হয়েছে। এবং এ বিষয়ে বন আইনে মামলা করা হয়েছে।
‘কৃষি সমৃদ্ধি’ প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে সরকারের নির্বাচনী অঙ্গীকার বাস্তবায়নের অংশ হিসেবে সুনামগঞ্জ তাহিরপুর ২০২৫-২৬ অর্থবছরের কৃষি পুনর্বাসন সহায়তা কর্মসূচির আওতায় কৃষকদের মাঝে গাছের চারা, জৈব সার ও খুঁটি বিতরণ করা হয়েছে।
সোমবার (৩ আগস্ট) দুপুরে উপজেলা কৃষি অফিস সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের আয়োজনে এ কর্মসূচিতে উপজেলার ১৫০ জন কৃষকের হাতে বিভিন্ন প্রজাতির গাছের চারা, জৈব সার ও প্রয়োজনীয় খুঁটি তুলে দেন উপজেলা সহকারী কমিশনার ভূমি শাহরুখ আলম শান্তনু।
উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ মো. শরিফুল ইসলাম উপসহকারী উদ্ভিদ সংরক্ষণ কর্মকর্তা আসাদুজ্জামান, উপসহকারী আমিনুল ইসলামসহ স্থানীয় কৃষক প্রতিনিধি ও গণ্যমান্য ব্যক্তিরা ছিলেন এ সময়।
পাবনার সাঁথিয়ায় এক বুদ্ধি প্রতিবন্ধী গৃহবধূকে (২৩) ধর্ষণের অভিযোগ উঠেছে। উপজেলার ধোপাদহ ইউনিয়নের হলুদঘর গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। অভিযুক্ত ব্যক্তির নাম মিলন সরদার (৪০)। তিনি ওই গ্রামের মৃত খোরশেদ সরদারের ছেলে। এ ঘটনায় সাঁথিয়া থানায় একটি মামলা করা হয়েছে।
মামলার এজাহার ও ভুক্তভোগীর পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, গত বৃহস্পতিবার (৩০ জুলাই) বিকেলে ভুক্তভোগী নারী তার বাবার বাড়িতে অবস্থান করছিলেন। এ সময় প্রতিবেশী মিলন সরদার তাকে পেয়ারা দেওয়ার কথা বলে নিজ বাড়িতে ডেকে নিয়ে যান। বাড়িতে কেউ না থাকার সুযোগে মিলন জোরপূর্বক ওই নারীকে ধর্ষণ করেন। পরবর্তীতে এ ঘটনা কাউকে জানালে তাকে প্রাণনাশের হুমকিও দেওয়া হয়।
গত শুক্রবার (৩১ জুলাই) ভুক্তভোগী নারী বিষয়টি তার স্বামীকে জানান। এর পরদিন, শনিবার ভুক্তভোগীর স্বামী বাদী হয়ে সাঁথিয়া থানায় একটি ধর্ষণ মামলা করেন।
এ বিষয়ে থানার ওসি আনিসুর রহমান জানান, ঘটনার বিবরণ অনুযায়ী ভুক্তভোগীর স্বামী বাদী হয়ে থানায় মামলা দায়ের করেছেন। অভিযুক্ত মিলন সরদার পলাতক রয়েছেন। তাকে গ্রেপ্তারে পুলিশের অভিযান অব্যাহত আছে।
টানা ছয় সপ্তাহ ধরে সাপ্তাহিক মজুরি (তলব) বন্ধ থাকার প্রতিবাদে মৌলভীবাজারের কমলগঞ্জ উপজেলার রহিমপুর ইউনিয়নের দেওরাছড়া চা বাগানে উত্তপ্ত পরিস্থিতি বিরাজ করছে। পাওনা মজুরির দাবিতে সোমবার (৩ আগস্ট) সকাল থেকে দিনব্যাপী চা কারখানার সামনে অবস্থান করেন বাগানটির শত শত ক্ষুব্ধ শ্রমিক।
অবস্থান কর্মসূচিতে অংশ নেওয়া চা-শ্রমিকরা জানান, গত দেড় মাস ধরে মজুরি না পাওয়ায় তারা পরিবার-পরিজন নিয়ে চরম খাদ্যসংকটে দিন কাটাচ্ছেন। বর্তমানে নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসপত্রের আকাশছোঁয়া দামের কারণে ঘরে চাল-ডাল কেনার মতো টাকাও তাদের কাছে নেই। জীবনধারণের মৌলিক তাগিদে বাধ্য হয়ে অনেকেই চড়া সুদে ঋণ নিয়েছেন। মজুরি না মেলায় একদিকে পাওনাদারদের চাপ, অন্যদিকে সন্তানদের লেখাপড়ার খরচ ও অসুস্থ স্বজনদের চিকিৎসার ব্যয় মেটাতে না পেরে শ্রমিকদের পিঠ এখন দেওয়ালে ঠেকে গেছে।
আন্দোলনরত শ্রমিকরা আফসোস প্রকাশ করে বলেন, ‘বাইরে থেকে আমাদের চা-শ্রমিকদের জীবন দেখতে ফ্রেমে বাঁধাই করা ছবির মতো সুন্দর মনে হলেও, বাস্তবে আমরা শতাব্দীর পর শতাব্দী ধরে এক অদৃশ্য ‘দাসত্বের শিকলে’ বন্দি হয়ে আছি।’ তারা দ্রুত সময়ের মধ্যে বকেয়া সব পাওনা পরিশোধের জোর দাবি জানান।
পরিস্থিতির ভয়াবহতা উল্লেখ করে রহিমপুর ইউনিয়ন পরিষদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান সিতাংশু কর্মকার বলেন, ‘শ্রমিকরা চরম মানবিক সংকটের মুখোমুখি। দ্রুত সমাধান না হলে তারা আরও কঠোর ও লাগাতার কর্মসূচিতে যেতে বাধ্য হবেন। এই সংকটময় মুহূর্তে সাধারণ চা-শ্রমিকদের জন্য জরুরি ভিত্তিতে সরকারি মানবিক সহায়তা দেওয়া প্রয়োজন।’
মজুরির সংকট ও শ্রমিকদের অসন্তোষের বিষয়টি স্বীকার করে দেওড়াছড়া চা-বাগানের ব্যবস্থাপক আবদুল্লাহ আল নোমান বলেন, ‘চা বোর্ডের সাথে বাগান কর্তৃপক্ষের কিছু অভ্যন্তরীণ বিষয়ের কারণে এই সমস্যা তৈরি হয়েছে। আমরা আলোচনার মাধ্যমে খুব দ্রুত সমস্যাটি সমাধান করার চেষ্টা করছি। শ্রমিকদের পাওনা মজুরি যেন অতিসত্বর পরিশোধ করা যায়, সে বিষয়ে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।’
তবে আশ্বাস নয়, অবিলম্বে বকেয়া পরিশোধের বাস্তব পদক্ষেপ না দেখলে রাজপথ ছাড়বেন না বলে স্পষ্ট হুঁশিয়ারি দিয়েছেন আন্দোলনরত চা-শ্রমিকরা।
পাবনার সুজানগরে জেলা গোয়েন্দা শাখার (ডিবি) একটি চৌকস দল অভিযান চালিয়ে ৮০ পিস ইয়াবাসহ দুই মাদক কারবারিকে গ্রেপ্তার করেছে। এ সময় তাদের কাছ থেকে ইয়াবা বিক্রির নগদ ৩ হাজার ৩৮০ টাকা উদ্ধার করা হয়। গত রোববার (২ আগস্ট) রাত সাড়ে ৩টার দিকে সুজানগর থানাধীন চিনাখড়া কারিগরপাড়া এলাকা থেকে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়।
গ্রেপ্তারকৃত ব্যক্তিরা হলেন- পাবনার সাঁথিয়া উপজেলার বাবুপাড়া (কাশিনাথপুর) এলাকার মৃত শুকুর শেখের ছেলে মো. শাজাহান শেখ (৫০) এবং একই এলাকার মৃত সোরহাব শেখের ছেলে মো. রুহুল আমিন শেখ (৩৭)। বর্তমানে শাজাহান শেখ সুজানগরের চিনাখড়া কারিগরপাড়া এলাকায় বসবাস করছিলেন।
ডিবি পুলিশ সূত্রে জানা যায়, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে চিনাখড়া কারিগরপাড়া এলাকায় বিশেষ মাদকবিরোধী অভিযান পরিচালনা করে ডিবি পুলিশের একটি টিম। পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে পালানোর চেষ্টাকালে ধাওয়া দিয়ে দুইজনকে আটক করা হয়। পরে তল্লাশি চালিয়ে শাজাহান শেখের কাছ থেকে ৪০ পিস ও রুহুল আমিনের কাছ থেকে ৪০ পিসসহ মোট ৮০ পিস ইয়াবা এবং নগদ টাকা জব্দ করা হয়।
প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা জানান, তারা জেলার বিভিন্ন স্থান থেকে ইয়াবা সংগ্রহ করে স্থানীয় মাদকসেবীদের কাছে বিক্রি করে আসছিলেন।
পাবনা জেলা গোয়েন্দা শাখার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা রাশিদুল ইসলাম জানান, গ্রেপ্তার আসামিদের বিরুদ্ধে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে সুজানগর থানায় মামলা দায়েরের পর বিজ্ঞ আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে। মাদকের বিরুদ্ধে এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে।
কুষ্টিয়ার ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ে (ইবি) ‘পুঁজিবাজারে বিনিয়োগ’ বিষয়ক কর্মশালা অনুষ্ঠিত হয়েছে। এ কর্মশালায় শিক্ষার্থীদের ব্যাংকিং সেক্টরসহ পুঁজিবাজারে বিনিয়োগের পদ্ধতি, সুযোগ ও বাজারে প্রবেশ পদ্ধতি, সমন্বিত মূলধন, বাজারে শেয়ার ক্রয় ও বিক্রি পদ্ধতি এবং ঢাকা ও চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জ প্রতিষ্ঠান সম্পর্কে পূর্ণাঙ্গ ধারণা দেওয়া হয়।
সোমবার (৩ আগস্ট) দুপুরে অর্থনীতি বিভাগে বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অফ ক্যাপিটাল মার্কেট ও বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি ক্লাবের যৌথ আয়োজনে এই কর্মশালা সম্পন্ন হয়।
কর্মশালায় অধ্যাপক ড. পার্থ সারথি লস্করের সভাপতিত্বে প্রধান অতিথি হিসেবে সামাজিক বিজ্ঞান অনুষদের ডিন অধ্যাপক ড. বেগম রোকসানা মিলি এবং বিশেষ অতিথি হিসেবে অর্থনীতি ক্লাবের সভাপতি অধ্যাপক ড. আব্দুল জলিল পাঠান ও বিআইসিএমের সহকারী অধ্যাপক মো. হাবিবুল্লাহ উপস্থিত ছিলেন।
অর্থনীতি বিভাগের শিক্ষার্থী মেহেদী হাসান বলেন, ‘আমাদের ব্যাংকিং সেক্টর সম্পর্কে ধারণা থাকলেও শেয়ার মার্কেট সম্পর্কে ধারণা নেই বললেই চলে। সেকেন্ডারি মার্কেটের কীভাবে শেয়ার কিনব বা বিক্রি করব তার বিস্তর ধারণা পেয়েছি। ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ, চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জ সম্পর্কে ধারণা পেয়েছি। আমি একজন নতুন সদস্য হিসেবে বিনিয়োগ করতে চাইলে আমাকে কী কী ধাপ অবলম্বন করতে হবে তার বিস্তর ধারণা পেয়েছি।
অর্থনীতি বিভাগের সভাপতি অধ্যাপক ড. পার্থ সারথি লস্কর বলেন, ‘আজকে (গতকাল সোমবার) বিনিয়োগ শীর্ষক কর্মশালা অনুষ্ঠিত হয়েছে। এখানে ক্যাপিটাল মার্কেট এবং শেয়ার বাজার নিয়ে শিক্ষার্থীদের ধারণা দেওয়া হয়েছে। শেয়ার বাজার দুই ধরনের। প্রাইমারি এবং সেকেন্ডারি মার্কেট। এখানে ইনভেস্ট করার সিস্টেম, কীভাবে মার্কেটে প্রবেশ করতে হবে এসব তুলে ধরা হয়েছে। এ ছাড়া ক্যাপিটাল মার্কেটের ইনভেস্টমেন্ট সিস্টেম এবং এখানে কিছু জব অপরচুনিটি আছে সেগুলোতে কীভাবে শিক্ষার্থীদের ইনভলব করা যায় সেই ধারণা দেওয়া হয়।’
অধ্যাপক ড. বেগম রোকসানা মিলি বলেন, ‘এই কর্মশালায় বাংলাদেশ সিকিউরিটি অব একচেঞ্জ কমিশন সম্পর্কে পূর্ণাঙ্গ ধারণা দেওয়া হয়েছে। একজন বিনিয়োগকারী হিসেবে কীভাবে পুঁজিবাজারে বিনিয়োগ করবে এ সম্পর্কে স্পষ্টত ধারণা দেওয়া হয়েছে। সমন্বিত মূলধন, বাজারে শেয়ার ক্রয় বা বিক্রি পদ্ধতি এবং ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ প্রতিষ্ঠান সম্পর্কে শিক্ষার্থীদের পূর্ণাঙ্গ ধারণা হয়েছে।’
তাড়াইল উপজেলায় দুর্বৃত্তদের হামলায় এক শারীরিক ও বাকপ্রতিবন্ধী ব্যক্তির মৃত্যু হয়েছে। তিনি হুইলচেয়ারে চলাফেরা করতেন এবং তাড়াইল সিএনজি স্ট্যান্ডে ভিক্ষা করে জীবিকা নির্বাহ করতেন। হামলার পর তার সঙ্গে থাকা টাকা-পয়সা ছিনিয়ে নেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ করেছে পরিবার। সোমবার (৩ আগস্ট) দুপুর ২টার দিকে তার মৃত্যু হয়।
গত রোববার (২ আগস্ট) রাত আনুমানিক পৌনে ৩টার দিকে উপজেলার বরুহা (রাজঘাট) গ্রামের নিজ বাড়ির সামনের কাঁচা সড়কে এ হামলার ঘটনা ঘটে। গুরুতর আহত অবস্থায় তাকে উদ্ধার করে প্রথমে তাড়াইল উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হয়। পরে অবস্থার অবনতি হলে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়। পরে সোমবার (৩ আগস্ট) মারা যান তিনি।
নিহত প্রতিবন্ধী ভিক্ষুক হাবুল মিয়া (৫২) বরুহা গ্রামের মৃত মন্নাছ মিয়ার ছেলে। তার স্ত্রী, দুই মেয়ে ও এক ছেলে ঢাকায় থাকেন। তিনি গ্রামে একাই বসবাস করতেন।
স্থানীয় ও পারিবারিক সূত্র জানায়, গত রোববার (২ আগস্ট) গভীর রাতে বাড়ির সামনের সড়কে অবস্থানকালে ২-৩ জন দুর্বৃত্ত গাছের কাঠ দিয়ে তার মাথায় আঘাত করে। এতে তিনি গুরুতর আহত হন। পরে হামলাকারীরা তার কাছে থাকা টাকা-পয়সা নিয়ে পালিয়ে যায়।
বাকপ্রতিবন্ধী হওয়ায় তিনি চিৎকার করে কারও সাহায্য চাইতে পারেননি। পরে তার গোঙানির শব্দ শুনে আশপাশের লোকজন তাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে যান।
এ ঘটনায় বরুহা গ্রামসহ আশপাশের এলাকায় ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। স্থানীয় বাসিন্দারা দ্রুত হামলাকারীদের শনাক্ত করে গ্রেপ্তার এবং দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।
তাড়াইল থানার ওসি শেখ আবু সালেহ মাসুদ করিম বলেন, ‘নিহতের খালাতো ভাই আলমগীর হোসেন বাদী হয়ে গতকাল সোমবার সকালে নাম-পরিচয় জানা ৩ জনকে আসামি করে মামলা করেছেন। ঘটনাটি গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা হচ্ছে। জড়িত ব্যক্তিদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনতে অভিযান চলছে।’
কুমিল্লার দেবিদ্বারে মুক্তিযোদ্ধা ও মোহনপুর উচ্চ বিদ্যালয়ের সাবেক শিক্ষক রেয়াছত আলী মাস্টারকে রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় দাফন করা হয়েছে। সোমবার (৩ আগস্ট) দুপুরে উপজেলার মোহনপুর উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে জানাজা শেষে পারিবারিক কবরস্থানে চিরনিদ্রায় শায়িত করা হয় এই বীর সন্তানকে।
পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, দীর্ঘদিন শিক্ষকতা ও সামাজিক কর্মকাণ্ডে যুক্ত থাকা এই বীর মুক্তিযোদ্ধা গত রোববার (২ আগস্ট) রাত ৮টায় শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। তার মৃত্যুতে এলাকায় বীর মুক্তিযোদ্ধা, সাবেক ও বর্তমান শিক্ষার্থী এবং শিক্ষকসহ সর্বস্তরের মানুষের মাঝে গভীর শোকের ছায়া নেমে এসেছে।
জানাজার পূর্বে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) অশোক বিক্রম চাকমার নেতৃত্বে দেবিদ্বার থানা পুলিশের একটি চৌকস দল প্রথানুযায়ী ‘গার্ড অব অনার’ প্রদান করে। একই সঙ্গে মরদেহে পুষ্পস্তবক অর্পণ করে রাষ্ট্রের পক্ষ থেকে শেষ শ্রদ্ধা জানানো হয়।
শ্রদ্ধা নিবেদন ও জানাজায় দেবিদ্বারের স্থানীয় বীর মুক্তিযোদ্ধা, জনপ্রতিনিধি, বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ, শিক্ষার্থী এবং সহস্রাধিক ধর্মপ্রাণ এলাকাবাসী অংশ নেন। তাকে তাদের পারিবারিক কবরস্থানে দাফন করা হয়।