উন্নয়ন প্রকল্পে বদলে যাচ্ছে ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়ক। তবে রাজধানীর বিমানবন্দর থেকে গাজীপুরের টঙ্গী পর্যন্ত অংশে চলমান এসব প্রকল্পই যেন বিষফোঁড়া হয়ে উঠেছে সাধারণ মানুষের জন্য। প্রকল্পের কাজের কারণে এমনিতেই এই সড়ক সরু হয়ে গেছে। যানজট লেগেই থাকে। তার ওপর বৃষ্টি যেন মড়ার উপর খাঁড়ার ঘা হয়ে আসে। আকাশে মেঘ জমতেই বিমানবন্দর সড়কে হাঁটুপানি জমে যায়। গতকাল রোববার ছিল সপ্তাহের প্রথম কর্মদিবস। একদিকে সড়কে যানবাহন ছিল বেশি, অন্যদিকে তার সঙ্গে যোগ হয়েছিল ভোরের বৃষ্টি। ফলে সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত প্রায় পাঁচ ঘণ্টা এই সড়কে ছিল অসহনীয় যানজট। গাজীপুরে যানজট ভুগিয়েছে সন্ধ্যা পর্যন্ত।
ট্রাফিক পুলিশের কর্মকর্তারা বলছেন, তারা নিরুপায়। বাধ্য হয়ে সড়কের খানাখন্দ ও গর্তের পানি সেচে গাড়ির জট ছাড়ানোর চেষ্টা করেছেন। আর ভুক্তভোগীরা বলছেন, এই দুভোর্গ এক দিন-দুই দিনের না। দীর্ঘদিনের সমন্বিত গাফিলতিতে এই সড়কের বেহাল দশা। যার দায় বাস র্যাপিড ট্রানজিট (বিআরটি) কর্তৃপক্ষকেও দিচ্ছেন অনেকে।
গতকাল ভোরের বৃষ্টিতে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর বাসস্ট্যান্ডের গোলচত্বর এলাকায় প্রায় হাঁটুপানি জমে যায়। এরপর সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত বনানী থেকে বিমানবন্দর এলাকায় কেউ তিন ঘণ্টা, কেউবা চার ঘণ্টা যানজটে আটকা পড়েন। ঢাকার ভেতরে প্রবেশ এবং বের হওয়ার দুই পথেই ছিল তীব্র যানজট। সেই সঙ্গে সড়কের মোড়গুলোয় ছিল কাজে বের হওয়া মানুষের ভিড়। যারা কেউই সময়মতো গন্তব্যে পৌঁছাতে পারেননি। যানজটে আটকে থাকা অনেক যাত্রী সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ক্ষোভ ঝেড়েছেন।
খোঁজ নিয়ে জানা যায়, মহাখালী থেকে গাজীপুর চৌরাস্তা পর্যন্ত বেশ কয়েকটি উন্নয়ন প্রকল্পের কাজ চলছে। এর মধ্যে আছে ঢাকা এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে, বিমানবন্দরে থার্ড টার্মিনাল এবং বাস র্যাপিড ট্রানজিট নির্মাণ প্রকল্প। এসব প্রকল্পের কাজের জন্য সড়কের চলার রাস্তা হয়ে গেছে ছোট। ফলে যানবাহনের চাপ পড়লে লাগে যানজট। তা ছাড়া প্রকল্পের কাজের জন্য রাস্তা খুঁড়তে হচ্ছে নিয়মিত। এতে উত্তরা-গাজীপুর সড়কের বেহাল দশা হয়েছে। ফলে গাড়ি চলে ধীরগতিতে। এর সঙ্গে বৃষ্টি হলে সড়কে তৈরি হওয়া গর্তে পানি যায়। ফলে থেমে যায় গাড়ির চাকা।
ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের ট্রাফিক উত্তরা বিভাগের উপকমিশনার (ডিসি) নাবিদ কামাল শৈবাল বলেন, বৃষ্টি হলে এয়ারপোর্ট, খিলক্ষেত, বিশ্ব রোড, বনানী, কুড়িল এলাকা ডুবে যায়। সড়কের খানাখন্দ আর গর্তে পানি জমে পরিস্থিতি আরও নাজুক হয়ে যায়। রোববার পরিস্থিতি স্বাভাবিক করতে বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষের সহযোগিতায় মোটর বসিয়ে পানি সেচ করা হয়। ট্রাফিক পুলিশের সদস্যরা রাস্তায় গর্তের সামনে অবস্থান নিয়ে যথাসম্ভব যান চলাচল স্বাভাবিক রাখার চেষ্টা করেছেন।
আর বিআরটির ব্যবস্থাপনা পরিচালক সফিকুল ইসলাম বলেন, গাজীপুর রুটে যানজট কমাতে এ মাসেই বিআরটি প্রকল্পের ফ্লাইওভারের ২ দশমিক ২ কিলোমিটার খুলে দেয়া হবে। সব প্রস্তুতি নেয়া হয়ে গেছে। টঙ্গী স্টেশন রোড থেকে উত্তরা হাউস বিল্ডিং পর্যন্ত ফ্লাইওভার খুলে দিতে গাজীপুর মেট্রোপলিটন ও ডিএমপি ট্রাফিক বিভাগকে চিঠি দেয়া হয়েছে। আর পুরো প্রকল্পের কাজ আগামী বছরে শেষ হবে। তখন সব ঠিক হয়ে যাবে।
উত্তরা থেকে বনানীতে এসে প্রতিদিন অফিস করেন বেসরকারি চাকরিজীবী আব্দুল মালেক। তিনি বলেন, ‘১০টায় আমার অফিস শুরু হয়। সে হিসেবে আমি সাড়ে ৮টায় বাসে উঠি। বাস বিমানবন্দরে এসে যানজটে আটকা পড়ে। টানা ১ ঘণ্টা অপেক্ষার পর হাঁটা শুরু করি।’
বারিধারা থেকে ৪ ঘণ্টায় বিমানবন্দরে পৌঁছেছেন বলে ফেসবুকে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন আজমির আহমেদ নামের এক ব্যক্তি। তিনি বলেন, যদি হেঁটেই যেতে হয়, সড়ক থেকে সব বাস উঠিয়ে দিচ্ছে না কেন?
রাজধানীর যানজটের প্রভাব গাজীপুরেও
রাজধানীর বিমানবন্দর সড়কের যানজট গতকাল টঙ্গী পর্যন্ত ছাড়িয়ে যায়। এতে সীমাহীন দুর্ভোগে পড়েন যাত্রী ও চালকরা। দীর্ঘ সময় যানজটে নাকাল হয়ে অনেক যাত্রীকে হেঁটে গন্তব্যে রওনা হতে দেখা গেছে। রাজধানীর ভেতরে এ যানজট দুপুরে স্বাভাবিক হলেও গাজীপুরে তা সন্ধ্যা পর্যন্ত ভুগিয়েছে।
গাজীপুর মেট্রোপলিটন পুলিশের উপকমিশনার (ট্রাফিক) মো. আলমগীর হোসেন বলেন, রাজধানীর বিমানবন্দর সড়কে পানি জমে থাকায় ঢাকাগামী লেনে দিনভর গাড়ি টানতে পারেনি। সেখানে ছয় লেনের সড়ক সংকুচিত হয়ে দুই বা তিন লেনে যানবাহন চলাচল করে। এ ছাড়া টঙ্গীর মিলগেট থেকে হাউস বিল্ডিং পর্যন্ত সড়কে অসংখ্য খানাখন্দ তৈরি হয়েছে। মহাসড়কের খানাখন্দগুলো সংস্কারের জন্য বিআরটি কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে।
বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) অ্যাকসিডেন্ট রিসার্চ ইনস্টিটিউটের পরিচালক অধ্যাপক মো. হাদিউজ্জামান দৈনিক বাংলাকে বলেন, একটা সড়কে এত প্রকল্প চলছে, যার একটার সঙ্গে আরেকটার কোনো সমন্বয় নেই। এ জন্য সড়কে এত ভোগান্তি। উন্নয়ন প্রকল্পগুলো নির্দিষ্ট সময়ে শেষ হচ্ছে না। এতে ব্যয় যেমন বাড়ছে, তেমনি যানজটজনিত যন্ত্রণা দীর্ঘায়িত হচ্ছে। এসব আসলে দেখার দায়িত্ব যাদের, তারা দেখেও না দেখার ভান করে থাকে।
শীতের আগমনী বার্তা নিয়ে বাজারে আসতে শুরু করেছে নতুন মৌসুমের সবজি। ফুলকপি, বাঁধাকপি, শিম ও বিভিন্ন ধরনের শাকের সরবরাহ বাড়ায় কিছু পণ্যের দাম কমেছে। ব্রয়লার মুরগি ও ডিমের বাজারেও রয়েছে মোটামুটি স্থিতিশীলতা। তবে এই স্বস্তি পুরো বাজারে ছড়িয়ে পড়েনি। মাছ-মাংসের উচ্চমূল্য, পেঁয়াজের দামের ওঠানামা এবং চাল, তেল ও ডালের ব্যয় মিলিয়ে নিত্যপণ্যের বাজারে এখনো চাপের মুখে সাধারণ ক্রেতা। শুক্রবার (৬ নভেম্বর) রাজধানীর বিভিন্ন বাজারের পরিস্থিতি পর্যালোচনায় দেখা গেছে, শীতকালীন সবজির সরবরাহ বাড়লেও সব পণ্যের দাম সমানভাবে কমেনি। বিশেষ করে মাছ ও মাংস কিনতে গিয়ে ক্রেতাদের বাড়তি অর্থ ব্যয় করতে হচ্ছে। ফলে বাজারে পণ্যের প্রাপ্যতা থাকলেও স্বস্তিতে কেনাকাটা করতে পারছেন না অনেক পরিবার।
সবজিতে মৌসুমি স্বস্তি, দাম এখনো চড়া: যাত্রাবাড়ী ও কাপ্তানবাজারের পাইকারি ও খুচরা বাজারে শুক্রবার (৬ নভেম্বর) শিম বিক্রি হয়েছে কেজিপ্রতি ৬০ থেকে ৮০ টাকা, বেগুন ৬০ থেকে ৮০ টাকা। ফুলকপি প্রতি পিস ৩০ থেকে ৫০ টাকা এবং বাঁধাকপি ৩০ থেকে ৪০ টাকায় বিক্রি হয়েছে।
নতুন আলু কেজিপ্রতি ৭০ থেকে ৯০ টাকা হলেও পুরোনো আলুর দাম ছিল ২০ থেকে ৩০ টাকা। দেশি পেঁয়াজ বিক্রি হয়েছে ৫০ থেকে ৬০ টাকা এবং কাঁচামরিচ ৭০ থেকে ৮০ টাকা কেজি।
লালশাকের আঁটি ১৫ টাকা এবং লাউ ৪০ থেকে ৮০ টাকা দরে বিক্রি হয়েছে। বাজারে শীতকালীন সবজির সরবরাহ বাড়লেও সব পণ্যের দাম এখনো ক্রেতাদের প্রত্যাশার তুলনায় বেশি।
ব্যবসায়ীদের মতে, শীতের সবজির সরবরাহ আরও বাড়লে বাজারে দাম কমার সুযোগ তৈরি হবে। তবে উৎপাদন এলাকা থেকে সরবরাহ, পরিবহন ব্যয় এবং চাহিদার ওপর নির্ভর করে প্রতিদিন দামের পরিবর্তন হচ্ছে।
পেঁয়াজে বাড়তি চাপ, চালের বাজারে মিশ্র পরিস্থিতি: নিত্যপণ্যের বাজারে পেঁয়াজের দাম নিয়ে ক্রেতাদের উদ্বেগ রয়েছে। সাম্প্রতিক বাজার প্রতিবেদনে রাজধানীতে পেঁয়াজের দাম দুই সপ্তাহে কেজিপ্রতি প্রায় ৩০ টাকা বেড়ে ১০০ থেকে ১২০ টাকায় বিক্রির তথ্য উঠে এসেছে। স্থানীয় পেঁয়াজের মজুত কমে আসা এবং আমদানি সরবরাহ সীমিত থাকাকে এর প্রধান কারণ হিসেবে উল্লেখ করেছেন ব্যবসায়ীরা।
তবে বাজারভেদে পেঁয়াজের দাম উল্লেখযোগ্যভাবে আলাদা। শুক্রবার (৬ নভেম্বর) যাত্রাবাড়ীর বাজারে দেশি পেঁয়াজ ৫০ থেকে ৬০ টাকা কেজি দরে বিক্রির তথ্য পাওয়া গেছে। ফলে একই দিনে বিভিন্ন বাজারে দামের ব্যবধান থাকায় ক্রেতাদের একাধিক দোকানে খোঁজ নিতে হচ্ছে।
চালের বাজারে মোটা চাল কেজিপ্রতি ৫০ থেকে ৫৫ টাকা, মাঝারি চাল ৫৬ থেকে ৬৫ টাকা এবং সরু চাল ৭০ থেকে ৯০ টাকায় বিক্রির তথ্য পাওয়া গেছে। গত সপ্তাহের তুলনায় এসব চালের দামে বড় পরিবর্তন নেই। তবে সুগন্ধি চালের খোলা বাজারে কিছুটা দরপতন দেখা গেছে।
মসুর ডাল, মুগ ডাল ও অন্যান্য ডালের দামও বেশির ভাগ ক্ষেত্রে স্থিতিশীল রয়েছে। ফলে চাল-ডালের বাজারে বড় ধরনের স্বস্তি না থাকলেও সাম্প্রতিক সময়ে ব্যাপক মূল্যবৃদ্ধির প্রবণতা দেখা যাচ্ছে না।
মুরগি ও ডিমে স্থিতিশীলতা, মাছ-মাংসে বাড়তি ব্যয়: প্রাণিজ আমিষের বাজারে মুরগি ও ডিমের দাম তুলনামূলক স্থিতিশীল থাকলেও মাছ-মাংসের বাজারে ক্রেতাদের বাড়তি ব্যয় করতে হচ্ছে।
শুক্রবার (৬ নভেম্বর) কাপ্তানবাজারে ব্রয়লার মুরগি কেজিপ্রতি ১৭০ থেকে ১৮০ টাকা এবং সোনালি মুরগি ৩২০ থেকে ৩৩০ টাকায় বিক্রি হয়েছে। যাত্রাবাড়ীতে ব্রয়লারের দাম ছিল ১৮০ থেকে ১৮৫ টাকা এবং সোনালি মুরগি ৩৩০ থেকে ৩৪০ টাকা।
কাপ্তানবাজারে লাল ডিমের ডজন ১৪৫ থেকে ১৫০ টাকা এবং সাদা ডিম ১৩৫ থেকে ১৪০ টাকায় বিক্রি হয়েছে। হাঁসের ডিমের ডজন ছিল ১৮০ থেকে ১৮৫ টাকা।
অন্যদিকে মাছের বাজারে রুই কেজিপ্রতি ৩৫০ থেকে ৪৫০ টাকা, কাতলা ৩০০ থেকে ৫৫০ টাকা এবং তেলাপিয়া ২২০ থেকে ২৫০ টাকায় বিক্রি হয়েছে। পাবদা ও শিং মাছের দাম ছিল ৪০০ থেকে ৬০০ টাকা।
গরুর মাংস কেজিপ্রতি ৭৮০ থেকে ৮১০ টাকা এবং খাসির মাংস ১ হাজার ২০০ থেকে ১ হাজার ৩০০ টাকায় বিক্রি হয়েছে। ফলে মাছ-মাংসের বাজারে পরিবারের প্রয়োজন অনুযায়ী কেনাকাটা করতে গিয়ে ক্রেতাদের হিসাব কষতে হচ্ছে।
আয়-ব্যয়ের হিসাব মেলাতে হিমশিম পরিবার: বাজারে কিছু পণ্যের দাম স্থিতিশীল থাকলেও সামগ্রিক ব্যয়ের চাপ কমছে না। শীতকালীন সবজির সরবরাহ বাড়ায় ক্রেতারা কিছুটা সুবিধা পাচ্ছেন। কিন্তু মাছ, মাংস, পেঁয়াজ ও অন্য প্রয়োজনীয় পণ্যের ব্যয় সেই সুবিধার বড় অংশ কমিয়ে দিচ্ছে।
নিম্ন ও মধ্যম আয়ের পরিবারগুলোর জন্য প্রতিদিনের বাজার এখন শুধু পণ্য কেনার বিষয় নয়, বরং কোন পণ্য কতটুকু কেনা যাবে, তা নির্ধারণের হিসাব। মাছ-মাংসের পরিমাণ কমিয়ে সবজি দিয়ে খাবারের ব্যবস্থা করছেন অনেকে। আবার প্রয়োজনীয় পণ্য কিনতে গিয়ে অন্য খাতে ব্যয় কমাতে হচ্ছে।
বাজার সংশ্লিষ্টদের মতে, শীতকালীন সবজির সরবরাহ বাড়লে আগামী দিনগুলোতে কিছু পণ্যের দাম আরও কমতে পারে। তবে পেঁয়াজের ক্ষেত্রে নতুন উৎপাদন বাজারে আসা এবং আমদানি সরবরাহের পরিস্থিতি গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। একইভাবে মাছ-মাংসের বাজারে চাহিদা ও সরবরাহের ভারসাম্য না ফিরলে ক্রেতাদের ব্যয় কমার সম্ভাবনা সীমিত থাকবে।
সব মিলিয়ে শুক্রবারের বাজারে স্বস্তি ও চাপ—দুই পরিস্থিতিই পাশাপাশি দেখা গেছে। সবজি, মুরগি ও ডিমের বাজারে কিছুটা স্থিতিশীলতা থাকলেও মাছ-মাংস এবং পেঁয়াজের উচ্চমূল্য সাধারণ মানুষের ক্রয়ক্ষমতাকে চাপে রাখছে।
মৌসুমি সবজির সরবরাহ বাড়ার ইতিবাচক প্রভাব পুরো বাজারে ছড়িয়ে পড়লে এবং প্রয়োজনীয় পণ্যের দাম আরও স্থিতিশীল হলে তবেই সাধারণ ক্রেতারা প্রকৃত স্বস্তি পাবেন।
নিরাপত্তাব্যবস্থা জোরদার করে রাশিয়া থেকে আনা ইউরেনিয়ামের পঞ্চম চালান পৌঁছেছে পাবনার রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রে। গাজীপুরে পোশাকশ্রমিকদের চলমান আন্দোলন ও সম্ভাব্য সংঘাত এড়াতে এবার প্রচলিত পথের পরিবর্তে সম্পূর্ণ বিকল্প রুট ব্যবহার করা হয়েছে। ঢাকা-মাওয়া এক্সপ্রেসওয়ে, পদ্মা সেতু, ফরিদপুর, রাজবাড়ী ও কুষ্টিয়া হয়ে শুক্রবার (৬ নভেম্বর) সকাল সাড়ে ৭টায় পারমাণবিক জ্বালানিবাহী তিনটি লরি প্রকল্প এলাকায় পৌঁছায়।
সেনাবাহিনীর বিশেষ নিরাপত্তা ব্যবস্থায় পরিচালিত এই পরিবহনে পুলিশ, স্পেশাল রেসপন্স ব্যাটালিয়ন (এসআরবি) ও বিভিন্ন গোয়েন্দা সংস্থার সদস্যরা যুক্ত ছিলেন। ঢাকা থেকে ঈশ্বরদী পর্যন্ত পুরো সড়কপথে বহরের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হয়।
প্রথমবারের মতো ইউরেনিয়াম পরিবহনে এই বিকল্প রুট ব্যবহার করা হয়েছে। এর আগে প্রতিটি চালান ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়ক, বঙ্গবন্ধু সেতু, নাটোরের বনপাড়া ও পাবনার ঈশ্বরদীর দাশুড়িয়া হয়ে রূপপুর প্রকল্পে নেওয়া হতো।
নিরাপত্তা বিবেচনায় বিকল্প রুট: রূপপুর প্রকল্পের সাইট ইনচার্জ কে. বি. এম. রুহুল কুদ্দুস জানান, গাজীপুরে পোশাকশ্রমিকদের চলমান আন্দোলন এবং সম্ভাব্য সংঘাতের পরিস্থিতি বিবেচনায় নিরাপত্তাজনিত কারণে এবার বিকল্প পথে পারমাণবিক জ্বালানি পরিবহন করা হয়েছে।
নতুন রুটে রাজধানী থেকে ঢাকা-মাওয়া এক্সপ্রেসওয়ে হয়ে পদ্মা সেতু পার হয় গাড়িবহর। এরপর ফরিদপুরের ভাঙ্গা, রাজবাড়ী, কুষ্টিয়া ও পাকশীর লালন শাহ সেতু হয়ে রূপপুর প্রকল্পে পৌঁছায় ইউরেনিয়ামবাহী লরিগুলো।
পরিবহনের পুরো সময়জুড়ে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা সতর্ক অবস্থানে ছিলেন। বিশেষ নিরাপত্তা ব্যবস্থার মধ্য দিয়ে পারমাণবিক জ্বালানির চালান প্রকল্প এলাকায় পৌঁছানো হয়।
পাঁচ চালানে পৌঁছাল পারমাণবিক জ্বালানি: এ পর্যন্ত রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের প্রথম ইউনিটের জন্য অতিরিক্ত ইউরেনিয়ামের একটি এবং দ্বিতীয় ইউনিটের জন্য চারটি চালানসহ মোট পাঁচটি চালান প্রকল্প এলাকায় পৌঁছেছে।
রাশিয়া থেকে আনা এসব পারমাণবিক জ্বালানি বিদ্যুৎকেন্দ্রের কার্যক্রম এগিয়ে নেওয়ার গুরুত্বপূর্ণ অংশ। নির্ধারিত নিরাপত্তা ও কারিগরি প্রক্রিয়া অনুসরণ করে জ্বালানি পরিবহন ও প্রকল্পের কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে।
জাতীয় গ্রিডে বিদ্যুৎ যুক্ত করার প্রস্তুতি: প্রকল্প কর্মকর্তাদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের প্রথম ইউনিটে ইতোমধ্যে ‘পাওয়ার স্টার্টআপ স্টেজ-সি’ কার্যক্রম শুরু হয়েছে।
সবকিছু পরিকল্পনা অনুযায়ী এগোলে নভেম্বরের শেষ দিকে অথবা ডিসেম্বরের প্রথম সপ্তাহে পরীক্ষামূলকভাবে প্রায় ৩০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ জাতীয় গ্রিডে যুক্ত করার লক্ষ্য রয়েছে।
এ লক্ষ্যে প্রথম ইউনিটের কার্যক্রম এগিয়ে নেওয়া হচ্ছে। পরীক্ষামূলক বিদ্যুৎ উৎপাদনের মধ্য দিয়ে জাতীয় গ্রিডে রূপপুরের বিদ্যুৎ যুক্ত করার প্রস্তুতি আরও এক ধাপ এগোবে।
প্রকল্পসংশ্লিষ্টদের আশা, নির্ধারিত পরিকল্পনা অনুযায়ী কার্যক্রম এগিয়ে গেলে চলতি বছরের শেষ দিকে পরীক্ষামূলক বিদ্যুৎ উৎপাদনের লক্ষ্য অর্জন সম্ভব হবে।
মাদক কারবারের বিস্তার ও পরিবহনে রাজনৈতিক পৃষ্ঠপোষকতা এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কিছু সদস্যের সংশ্লিষ্টতা রয়েছে বলে দাবি করেছেন ঢাকা-৬ আসনের সংসদ সদস্য ইশরাক হোসেন। তিনি বলেছেন, ‘মাদক একটি সমাজ ও জাতিকে ধ্বংস করে দিতে পারে। তাই মাদক কারবারে জড়িত রাজনীতিবিদদের রাজনীতি করার কোনো অধিকার নেই। মাদকের বিরুদ্ধে সামাজিক প্রতিরোধ গড়ে তুলতে জনপ্রতিনিধি, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী, শিক্ষক, অভিভাবক ও ধর্মীয় নেতাদের একসঙ্গে কাজ করতে হবে।’ শুক্রবার (৬ নভেম্বর) রাজধানীর সিরডাপ মিলনায়তনে ডিবেট ফর ডেমোক্রেসি আয়োজিত ‘মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ: চ্যালেঞ্জ ও করণীয়’ শীর্ষক সেমিনারে প্রধান অতিথির বক্তব্যে ইশরাক হোসেন এসব কথা বলেন।
ইশরাক হোসেন বলেন, ‘মাদক পরিবহন ও বিস্তারের ক্ষেত্রে রাজনৈতিক পৃষ্ঠপোষকতা ছাড়া কোনোভাবেই এটি সম্ভব নয়। সীমান্ত দিয়ে মাদক প্রবেশের পর তা দেশের বিভিন্ন স্থানে ছড়িয়ে দিতে একাধিক সিন্ডিকেট কাজ করে। এ ক্ষেত্রে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কিছু সদস্যও জড়িত হয়ে পড়েন।’ তবে কোনো একটি সংস্থার সবাই জড়িত, এমনটা তিনি বলছেন না।
তিনি বলেন, ‘মাদক অন্য অপরাধের মতো নয়। এটি সমাজ ও জাতিকে ধ্বংস করে দেওয়ার ভূমিকা রাখে। রাজনীতিবিদরা জনগণের বিশ্বাস নিয়ে রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্ব পান। সেই রাজনীতিবিদদের কেউ মাদক কারবারের সঙ্গে যুক্ত হলে তাদের রাজনীতি করার কোনো অধিকার নেই।’
মাদক নিয়ন্ত্রণে শুধু আলোচনা ও সভা-সেমিনারে সীমাবদ্ধ না থেকে বাস্তবমুখী পদক্ষেপ নেওয়ার ওপর গুরুত্ব দেন সংসদ সদস্য ইশরাক। তিনি বলেন, ‘২০২৬ সালের জানুয়ারিতে প্রকাশিত একটি জাতীয় গবেষণার ফলাফল অনুযায়ী, দেশে আনুমানিক ৮২ লাখ অবৈধ মাদক ব্যবহারকারী রয়েছেন, যা জনসংখ্যার প্রায় ৫ শতাংশ। উল্লেখযোগ্য একটি অংশ ২৫ বছর বয়সের আগেই মাদকের সঙ্গে যুক্ত হয়ে যাচ্ছে। দেশের তরুণ প্রজন্মকে রক্ষা করতে এখনই কার্যকর উদ্যোগ নিতে হবে।’
মাদক সরবরাহের উৎস ও পরিবহনব্যবস্থার ওপর নজরদারি বাড়ানোর তাগিদ দিয়ে ইশরাক বলেন, ‘মাদকের চাহিদা থাকলে সরবরাহও থাকবে। পৃথিবীর কোনো দেশেই শতভাগ মাদক নির্মূল করা সম্ভব হয়নি। তবে সরবরাহব্যবস্থা নিয়ন্ত্রণে এনে মাদকের বিস্তার ঠেকাতে হবে।’
মাদকাসক্ত ব্যক্তিদের পুনর্বাসনের ওপর গুরুত্ব দিয়ে ইশরাক বলেন, ‘ছিন্নমূল ও ঠিকানাহীন মাদকাসক্ত ব্যক্তিদের পুনর্বাসন একটি বড় চ্যালেঞ্জ। এ ক্ষেত্রে রাষ্ট্র ও সমাজকে কার্যকর ভূমিকা নিতে হবে। মাদক নিয়ন্ত্রণে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী, রাজনৈতিক নেতা ও সামাজিক নেতাদের একসঙ্গে কাজ করতে হবে।’
ইশরাক জানান, ডিবেট ফর ডেমোক্রেসির চেয়ারম্যান হাসান আহমেদ চৌধুরী কিরণের সঙ্গে মিলে তারা একটি অলাভজনক সংগঠন গড়ে তোলার উদ্যোগ নিয়েছেন। সংগঠনটির নাম এখনো চূড়ান্ত হয়নি। এ সংগঠনের মাধ্যমে সারা দেশে আলোচনা সভা ও জনসচেতনতামূলক কার্যক্রম পরিচালনা করে মাদকের বিরুদ্ধে সামাজিক প্রতিরোধ গড়ে তোলার পরিকল্পনা রয়েছে তাদের।
গোপাল হাজরার (৭৫) বাড়ি নড়াইল সদর উপজেলার মুলিয়া ইউনিয়নের বালিয়াডাঙ্গা গ্রামে। দারিদ্র্যের কষাঘাতে বেড়ে ওঠা এই মানুষটি ছিলেন তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তান আমলে দক্ষিণবঙ্গের একজন নাম করা ফুটবল খেলোয়াড়। খেলার মাঠে তার পজিশন ছিল ব্যাক। অর্থাৎ তিনি ছিলেন ডিফেন্সের খেলোয়াড়। তখন এবং বর্তমান সময়ে ক্রীড়াঙ্গনে তার সমকক্ষ খেলোয়াড় দেখা পাওয়া ভার। খেলায় প্রতিপক্ষ দলের আক্রমণগুলো ঠাণ্ডা মাথায় প্রতিহত করতে সিদ্ধহস্ত ছিলেন তিনি। তার দুই পা, মাথা চলত বিদ্যুৎগতিতে।
৫ ফুট ৬ ইঞ্চি উচ্চতার এই মানুষটি পায়ে কখনো বুট, হুজ, অ্যাংক্লেট, সেফগার্ড পড়তেন না। খালি পায়েই ফুটবল খেলতে বেশি স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করতেন। তবে তিনি শাড়ি কাপড়ের দুই পাশের পাইর কেটে তৈরি করতেন ব্যান্ডেজ। সেই ব্যান্ডেজ দুই পায়ের পাতা ও গিড়ায় পেঁচিয়ে মাঠে নামতেন। আজব এবং সাহসী এই ফুটবলারের বাবা ছিলেন বিহারী লাল হাজরা, মা কাঞ্চন বালা। দুজনেই বেশ আগে গঙ্গা পেয়েছেন।
ফুটবল জীবনের স্মৃতিকথা বলতে গিয়ে গোপাল হাজরা বলেন, ‘ছোটবেলায় ছোলম লেবু দিয়ে বল খেলা শিখেছি। খাটি দুপুরের সময় পরের গাছ থেকে ছোলম লেবু চুরি করে পাড়তাম। নড়াইল ভিক্টোরিয়া কলেজিয়েট স্কুলে ক্লাস সিক্সে পড়ার সময় চামড়ার বলে খেলার সুযোগ হয়।’ তিনি বলেন, ‘ক্লাস সিক্স থেকেই আমি ইন্টার স্কুলে ফুটবল খেলতে থাকি। ১৯৬৯ সালে তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তান আমলে বৃহত্তর যশোর জেলার অন্তর্গত নড়াইল মহকুমা (বর্তমানে জেলা) ইন্টার স্কুল ফুটবল প্রতিযোগিতায় এবং ঢাকায় অনুষ্ঠিত জাতীয় পর্যায়ে নড়াইল ভিক্টোরিয়া স্কুল চ্যাম্পিয়ন হলে দেশব্যাপী সাড়া পড়ে যায়।’
তিনি বলেন, ‘ওই দলের সদস্য হয়ে ফুটবল খেলেছিলেন গোলকিপার আব্দুস ছাত্তার, ডিফেন্সে গোপাল হাজরা, নকুল সরকার, আব্দুল হামিদ, রকিব, আক্রমণভাগে যশোরের সাচ্চু, কায়জার, খুলনার রঘুরাম, মুনছুরসহ অনেকে। এদের মধ্যে বেশিরভাগ খেলোয়াড় পৃথিবী থেকে বিদায় নিয়েছেন।’
এর আগে ১৯৬৮ সালে নড়াইল মডেল স্কুল (বর্তমানে সরকারি বালক উচ্চ বিদ্যালয়) ইন্টার স্কুল ফুটবল প্রতিযোগিতায় অংশ নিয়ে প্রথমে মহকুমা চ্যাম্পিয়ন, পরে বৃহত্তর যশোর জেলা চ্যাম্পিয়ন, তারপরে তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তান চ্যাম্পিয়ন হওয়ার গৌরব অর্জন করে। তখন ভিক্টোরিয়া কলেজিয়েট স্কুলের প্রধান শিক্ষক ছিলেন মো. মোসলেম উদ্দীন।
ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের (ইবি) গণিত বিভাগের আয়োজনে বাংলাদেশ গণিত সমিতি এবং এ এফ মুজিবুর রহমান ফাউন্ডেশনের তত্ত্বাবধানে খুলনা অঞ্চলের স্নাতক পর্যায়ের শিক্ষার্থীদের নিয়ে ‘১৭তম জাতীয় স্নাতক গণিত অলিম্পিয়াড-২০২৬’ অনুষ্ঠিত হয়েছে। শুক্রবার (৬ নভেম্বর) সকালে বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় ফুটবল মাঠে খুলনা অঞ্চলের ৪টি বিশ্ববিদ্যালয় ও ১১টি কলেজের শিক্ষার্থীদের নিয়ে এই গণিত অলিম্পিয়াড অনুষ্ঠিত হয়।
অলিম্পিয়াডে অংশ নেয় খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়, খুলনা বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়, যশোর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়, রবীন্দ্র মৈত্রী বিশ্ববিদ্যালয় এবং ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের ৭টি বিভাগের শিক্ষার্থীসহ খুলনা অঞ্চলের বিভিন্ন কলেজের শিক্ষার্থীরা।
অলিম্পিয়াডের আহ্বায়ক ইবি’র বিজ্ঞান অনুষদের ডিন অধ্যাপক ড. মো. আসাদুজ্জামানের নেতৃত্বে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ইবি উপাচার্য অধ্যাপক ড. এ কে এম মতিনুর রহমান। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন উপউপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. এমতাজ হোসেন এবং কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক ড. ইদ্রিস আলী। আমন্ত্রিত অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) অধ্যাপক এবং জাতীয় গণিত অলিম্পিয়াড কমিটির সদস্য অধ্যাপক ড. মো. মনিরুল আলম সরকার।
আয়োজকরা জানান, সকল প্রতিযোগীর জন্য থাকছে টি-শার্ট ও সনদপত্র। বিজয়ীদের জন্য থাকছে ক্রেস্ট ও সনদপত্র। এ ছাড়াও, চূড়ান্ত পর্বে সেরা ১০ জন প্রতিযোগীর জন্য রয়েছে আকর্ষণীয় অর্থ পুরস্কার। সুযোগ পাবে দেশের সেরা ৩ জন প্রতিযোগী। তাদের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতে এ এফ মুজিবুর রহমান ফাউন্ডেশন আর্থিক সহযোগিতা এবং বাংলাদেশ গণিত সমিতি সার্বিক সহযোগিতা প্রদান করবে।
উপউপাচার্য অধ্যাপক ড. এমতাজ হোসেন বলেন, ‘১৯৯৪ সালে কায়কোবাদের হাত দিয়ে গণিত অলিম্পিয়াডের যে যাত্রা শুরু হয়েছিল, সেটা আজকে আমাদের দেশের সাধারণ ছাত্র-ছাত্রীদের মধ্যে অনেকটাই জনপ্রিয়তা অর্জন করেছে। গণিতকে উপস্থাপন করা হতো পিচ্ছিল বাঁশের উপরে বানরকে উঠানো আর নামানোর মতো, এটাকে সহজভাবেই উপস্থাপন করা যেত। সেই জায়গা থেকে গণিতকে আমাদের শিক্ষার্থীদের মাঝে সহজ বোধগম্য করে তোলার জন্যই গণিত অলিম্পিয়াডের আয়োজন করা হয়েছে।’
উপাচার্য অধ্যাপক ড. এ কে এম মতিনুর রহমান বলেন, ‘ডিজিটালাইজেশন ও এআই’র যুগে আজকের এই সেশনে বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয় থেকে আপনাদের উপস্থিতি সত্যিই চমৎকার ও গুরুত্বপূর্ণ। গণিত কেবল একটি একাডেমিক বিষয় বা ক্যালকুলাস নয়; এটি বিজ্ঞান, প্রযুক্তি ও যৌক্তিক যুক্তির মূল ভিত্তি। একটি জ্ঞানভিত্তিক সমাজ গড়তে গণিতের প্রতি ভালোবাসা তৈরি করা জরুরি।’
চট্টগ্রামকে নান্দনিক, পরিচ্ছন্ন, সবুজ, স্বাস্থ্যকর, নিরাপদ ও স্মার্ট নগর হিসেবে গড়ে তুলতে নগর সরকার প্রতিষ্ঠার বিকল্প নেই বলে মন্তব্য করেছেন চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের (চসিক) প্রশাসক ডা. শাহাদাত হোসেন।
তিনি বলেন, ‘নগরের উন্নয়নে সম্পৃক্ত বিভিন্ন সরকারি সংস্থার মধ্যে সমন্বয়হীনতা ও সিদ্ধান্ত গ্রহণের দীর্ঘসূত্রতার কারণে অনেক সম্ভাবনাময় প্রকল্প বাস্তবায়ন বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। পরিকল্পনা, অবকাঠামো, ভূমি ব্যবস্থাপনা, পরিবহন, পরিবেশ সংরক্ষণ ও নাগরিক সেবা একই কাঠামোর আওতায় পরিচালনা করতে নগর সরকার প্রতিষ্ঠা এখন সময়ের দাবি।’
শুক্রবার (৬ নভেম্বর) চট্টগ্রামের ওয়ার্ল্ড ট্রেড সেন্টার হলে কমনওয়েলথ জার্নালিস্টস অ্যাসোসিয়েশন, বাংলাদেশ চ্যাপ্টার আয়োজিত ‘চট্টগ্রাম: ইকোনমিক গেটওয়ে অ্যান্ড লাইফলাইন অব বাংলাদেশ’ শীর্ষক সেমিনারে তিনি এসব কথা বলেন।
সংগঠনের সভাপতি পারভিন এফ চৌধুরীর সভাপতিত্বে সেমিনারে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন চিটাগং চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির সভাপতি আমীরুল হক। আলোচনায় অংশ নেন চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (সিডিএ) চেয়ারম্যান প্রকৌশলী বেলায়েত হোসেনসহ সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা।
ডা. শাহাদাত হোসেন বলেন, ‘চট্টগ্রাম বাংলাদেশের অর্থনীতির প্রাণকেন্দ্র। দেশের প্রধান সমুদ্রবন্দর, শিল্পকারখানা, ব্যবসা-বাণিজ্য, পর্যটন ও আন্তর্জাতিক যোগাযোগের বিপুল সম্ভাবনা এ নগরকে ঘিরে গড়ে উঠেছে। কিন্তু বিভিন্ন সেবাদানকারী প্রতিষ্ঠানের মধ্যে সমন্বয়হীনতা এবং প্রকল্প অনুমোদন ও বাস্তবায়নের দীর্ঘ প্রশাসনিক প্রক্রিয়ার কারণে সেই সম্ভাবনা পুরোপুরি কাজে লাগানো যাচ্ছে না।’
তিনি বলেন, ‘চসিক, সিডিএ, চট্টগ্রাম ওয়াসা, পানি উন্নয়ন বোর্ড, জেলা প্রশাসন ও পুলিশ প্রশাসনসহ নগরের উন্নয়ন এবং নাগরিক সেবার সঙ্গে যুক্ত প্রতিষ্ঠানগুলোকে সমন্বিত প্রশাসনিক কাঠামোর আওতায় আনতে হবে। প্রতিটি প্রতিষ্ঠানের নিজস্ব আইনগত দায়িত্ব বজায় রেখেই সমন্বিত পরিকল্পনা, সিদ্ধান্ত গ্রহণ ও জবাবদিহি নিশ্চিত করা সম্ভব।’
প্রশাসক বলেন, ‘নগরের সড়ক নির্মাণ, পানি নিষ্কাশন, ভূমি ব্যবস্থাপনা ও যানবাহন নিয়ন্ত্রণের দায়িত্ব বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের হাতে। এভাবে বিচ্ছিন্ন পরিকল্পনায় আধুনিক নগর গড়ে তোলা সম্ভব নয়। উন্নয়নের প্রতিটি ক্ষেত্রে সমন্বয় থাকতে হবে।’
জলাবদ্ধতা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘চট্টগ্রামের অন্যতম প্রধান সমস্যা জলাবদ্ধতা নিরসনে সিডিএ ও সিটি করপোরেশন বিভিন্ন প্রকল্প বাস্তবায়ন করছে। খাল খনন, নালা সংস্কার, পানি নিষ্কাশন ব্যবস্থার উন্নয়ন ও অবকাঠামো নির্মাণের কাজ চলছে। তবে জলাবদ্ধতার স্থায়ী সমাধানের জন্য খাল, নালা, ড্রেন, জলাধার ও পানি নিষ্কাশনের প্রাকৃতিক পথগুলো সমন্বিতভাবে ব্যবস্থাপনা করতে হবে। প্রকল্প বাস্তবায়নের পাশাপাশি নিয়মিত রক্ষণাবেক্ষণ এবং দায়িত্বের সুনির্দিষ্ট বণ্টনও নিশ্চিত করতে হবে।’
চট্টগ্রামের অর্থনৈতিক সম্ভাবনা তুলে ধরে ডা. শাহাদাত বলেন, ‘তৈরি পোশাকশিল্প, কৃষি ও মানবসম্পদের পাশাপাশি পর্যটন, বাণিজ্যিক শিল্প, চামড়াশিল্প এবং সেমিকন্ডাক্টর প্রযুক্তির মতো নতুন খাতকে গুরুত্ব দিতে হবে। নগরটির ভৌগোলিক অবস্থান, সমুদ্রবন্দর ও যোগাযোগব্যবস্থা এসব খাতে বিনিয়োগ আকর্ষণের সুযোগ তৈরি করেছে। কিন্তু প্রয়োজনীয় অবকাঠামো, নীতিগত সহায়তা ও দ্রুত প্রশাসনিক সিদ্ধান্তের অভাবে সম্ভাবনার পুরোটা কাজে লাগানো যাচ্ছে না।’
কর্ণফুলী নদীর অপর পাড়ে পরিবেশবান্ধব নগর ও সৌরবিদ্যুৎ প্রকল্পের পরিকল্পনার কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, “গত প্রায় দেড় বছর ধরে সেখানে সৌরবিদ্যুৎভিত্তিক শিল্প ও পরিবেশবান্ধব নগর গড়ে তোলার চেষ্টা করছি। ‘ওয়ান সিটি টু টাউন’ ধারণায় পরিকল্পিত উন্নয়নের পাশাপাশি সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদনের সুযোগ তৈরি করা সম্ভব। নগর সরকার থাকলে এ ধরনের পরিকল্পনা বাস্তবায়নের সিদ্ধান্ত গ্রহণ আরও সমন্বিত ও কার্যকর হতো।”
চসিক প্রশাসক আরও বলেন, ‘নগরের উন্নয়নে শুধু অর্থ বরাদ্দ যথেষ্ট নয়; সময়মতো প্রকল্প অনুমোদন ও কার্যকর প্রশাসনিক সিদ্ধান্তও জরুরি। কোথায় সড়ক হবে, কোথায় শিল্পকারখানা গড়ে উঠবে, কোথায় হকার পুনর্বাসন করা হবে কিংবা কোথায় নতুন বিনিয়োগের সুযোগ তৈরি হবে- এসব বিষয়ে সমন্বিত সিদ্ধান্ত গ্রহণের ব্যবস্থা প্রয়োজন।’
প্রশাসক বলেন, ‘সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার সময়ে চট্টগ্রামকে বাণিজ্যিক রাজধানী হিসেবে গড়ে তোলার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল। ওয়ার্ল্ড ট্রেড সেন্টারের মতো অবকাঠামো প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে আন্তর্জাতিক বাণিজ্যে চট্টগ্রামের অবস্থান শক্তিশালী করার পরিকল্পনা এগিয়ে নেওয়া হয়। ২০০৪ সালেও এ বিষয়ে গুরুত্বপূর্ণ আলোচনা ও সিদ্ধান্ত হয়েছিল। কিন্তু পরবর্তী সময়ে পরিকল্পনাগুলো প্রত্যাশিত গতিতে বাস্তবায়িত হয়নি।’
ডা. শাহাদাত বলেন, ‘চট্টগ্রামকে বাণিজ্যিক রাজধানী বলা হলেও দেশের অধিকাংশ আর্থিক ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত রাজধানীকেন্দ্রিক থাকলে প্রকৃত অর্থে বাণিজ্যিক রাজধানী গড়ে তোলা সম্ভব নয়। ব্যাংক, বিমা, আন্তর্জাতিক বাণিজ্যসংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠান ও গুরুত্বপূর্ণ অর্থনৈতিক সেবার কার্যক্রম চট্টগ্রামে সম্প্রসারণ করতে হবে। এতে ব্যবসা-বাণিজ্যের গতি বাড়বে এবং কর্মসংস্থান সৃষ্টি হবে।’
তিনি বলেন, ‘চট্টগ্রামের দীর্ঘমেয়াদি উন্নয়ন পরিকল্পনা ও নগর সরকারের প্রয়োজনীয়তার বিষয়টি প্রধানমন্ত্রীর কাছেও তুলে ধরেছি। নগরের নাগরিক সেবা, অবকাঠামো, বিনিয়োগ, শিল্পায়ন ও পরিবেশ ব্যবস্থাপনা একটি সমন্বিত পরিকল্পনার অধীনে পরিচালিত হওয়া প্রয়োজন।’
সেমিনারে বক্তারা চট্টগ্রামের অর্থনৈতিক সম্ভাবনা কাজে লাগাতে দেশের প্রধান শহরগুলোর মধ্যে উন্নত ও দ্রুত যোগাযোগব্যবস্থা গড়ে তোলার ওপর গুরুত্ব দেন। ঢাকা-চট্টগ্রাম যাতায়াতের সময় প্রায় দুই ঘণ্টায় নামিয়ে আনার লক্ষ্যে আধুনিক পরিবহন অবকাঠামো উন্নয়ন, গুরুত্বপূর্ণ আর্থিক ও সেবাপ্রতিষ্ঠানের কার্যক্রম রাজধানীর বাইরে সম্প্রসারণ এবং শিল্প-বাণিজ্যবান্ধব পরিকল্পিত নগরায়ণের প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরেন।
জাতীয় চার নেতার নামে থাকা চারটি জাহাজসহ বাংলাদেশ কোস্ট গার্ডের মোট পাঁচটি জাহাজের নাম পরিবর্তন করেছে সরকার। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সীমান্ত-৩ শাখা থেকে এ সংক্রান্ত প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়।
প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, বাংলাদেশ কোস্ট গার্ডের পাঁচটি জাহাজের আগের নাম পরিবর্তন করে নতুন নাম নির্ধারণ করা হয়েছে। জাহাজগুলোর মধ্যে বিসিজিএস জয় বাংলার নতুন নাম রাখা হয়েছে ‘বিসিজিএস অদম্য বাংলা’, বিসিজিএস সৈয়দ নজরুলের নাম পরিবর্তন করে বিসিজিএস ফিরোজ কবীর, বিসিজিএস তাজউদ্দীনের নাম বিসিজিএস নুরুল ইসলাম, বিসিজিএস মনসুর আলীর নাম বিসিজিএস এম হুমায়ুন কবীর এবং বিসিজিএস কামারুজ্জামানের নতুন নাম রাখা হয়েছে বিসিজিএস আশরাফ সিদ্দিকী। এর আগে এই জাহাজগুলোর একটি জয় বাংলা ও বাকি চারটি চার নেতার নামে নামকরণ করা হয়েছিল।
প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, যথাযথ কর্তৃপক্ষের অনুমোদনক্রমে জাহাজগুলোর নাম পরিবর্তনের এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। নতুন নামগুলো অবিলম্বে কার্যকর হবে।
অনেক দিন ধরে কারাগারে বেশ কয়েকটি পরিবর্তনের কথা ভাবছিল কারা কর্তৃপক্ষ। দেশের কারাগারগুলোতে নিরাপত্তাব্যবস্থা জোরদার, শৃঙ্খলা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিতে করতে তারা বদ্ধপরিকর। এরই লক্ষ্যে সাত দফা নির্দেশনার একাধিক পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে কারা অধিদপ্তর।
পদক্ষেপগুলোর মধ্যে রয়েছে লকআপের পরবর্তী কার্যক্রমের ওপর কঠোর নিয়ন্ত্রণ, সার্বক্ষণিক সিসিটিভি নজরদারি, দায়িত্বে অননুমোদিত অনুপস্থিতির বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ, তত্ত্বাবধায়ক কর্মকর্তাদের জবাবদিহিতা নিশ্চিত করা, দায়িত্ব পালনে অবহেলাকারী কর্মীদের পুনঃপ্রশিক্ষণ, প্রতিকূল আবহাওয়ায় বিশেষ নিরাপত্তাব্যবস্থা গ্রহণ ও আকস্মিক পরিদর্শনের মাধ্যমে নিয়মিত তদারকি করা। কারাগারে কর্তব্যে পালনে অবহেলা, শৃঙ্খলাহীনতা ও বিদ্যমান নিয়মকানুন সঠিকভাবে অনুসরণ না করার কারণে নিরাপত্তা ঝুঁকি তৈরি এবং সংশোধনাগারগুলোর সার্বিক ব্যবস্থাপনা ব্যাহত হতে পারে এমন আশঙ্কা থেকে এ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
কারা অধিদপ্তরের অতিরিক্ত মহাপরিচালক কর্নেল মেসবাহুল আলম সেলিম বলেন, ‘নির্দেশনাগুলোর কার্যকর বাস্তবায়ন নিশ্চিত করতে কারা অধিদপ্তর ইতোমধ্যেই পর্যবেক্ষণ ব্যবস্থা জোরদার করেছে। এই উদ্যোগের অংশ হিসেবে, সারা দেশের প্রতিটি কারাগারে প্রতিদিন তদারকি করা হচ্ছে এবং সকল কারাগারকে কারা কর্তৃপক্ষের কাছে নিয়মিতভাবে মতামত জমা দিতে হবে।’
তিনি আরও বলেন, ‘নির্দেশনাগুলো কতটা মানা হচ্ছে, তা পর্যবেক্ষণের জন্য অধিদপ্তরের অপারেশনাল শাখাকে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। অধিদপ্তর ডেপুটি জেলারসহ অতিরিক্ত জনবল নিয়োগের উদ্যোগও নিয়েছে, যাদের সারা দেশের কারাগারগুলো পর্যবেক্ষণের জন্য নিযুক্ত করা হবে।’ মেসবাহুল আলম সেলিম বলেন, ‘অধিদপ্তরটি নির্দেশনাগুলোর অন্তত ৯০ শতাংশ বাস্তবায়ন নিশ্চিত করেছে এবং আগামী তিন থেকে চার মাসের মধ্যেই এই পদক্ষেপগুলোর সুফল দৃশ্যমান হবে বলে আশা করা যাচ্ছে।’ তিনি আরও বলেন, ‘দায়িত্ব পালনে অবহেলার জন্য দোষী সাব্যস্ত কারাকর্মীদের আন্তঃকারাগারে বদলির নির্দেশ দিয়েছে কর্তৃপক্ষ।’
নির্দেশিকা অনুযায়ী, উপযুক্ত কর্তৃপক্ষের অনুমোদিত জরুরি ক্ষেত্র ব্যতীত লক-আপের পরবর্তী কার্যক্রম কঠোরভাবে নিয়ন্ত্রণ ও নিরুৎসাহিত করতে হবে। যেকোনো ব্যতিক্রমী ব্যবস্থার জন্য জেলার লিখিত অনুমোদন, একটি নির্দিষ্ট সময়সীমা ও সংশ্লিষ্ট রেজিস্টারে বাধ্যতামূলক নথিভুক্তিকরণ থাকতে হবে। এই নির্দেশিকায় প্রতিটি কারাগারে ২৪-ঘণ্টা সিসিটিভি নজরদারি বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। যেখানে সম্ভব, সেখানে পৃথক পর্যবেক্ষণ কক্ষ স্থাপন করতে হবে এবং সার্বক্ষণিক নজরদারি বজায় রাখার জন্য প্রশিক্ষিত ও তথ্যপ্রযুক্তি-দক্ষ কারারক্ষীদের নিযুক্ত করতে হবে। আর যেখানে নির্দিষ্ট কক্ষ নেই, সেখানে নিরবচ্ছিন্ন পর্যবেক্ষণ নিশ্চিত করার জন্য উপযুক্ত স্থানে মনিটর স্থাপন করতে হবে।
মেসবাহুল আলম সেলিম বলেন, ‘নিরাপত্তাজনিত ত্রুটি রোধ করতে অধিদপ্তরটি দায়িত্বের স্থান থেকে অননুমোদিত অনুপস্থিতির ক্ষেত্রে শূন্য-সহনশীলতার নীতি গ্রহণ করেছে। কোনো প্রহরী বা অন্য কোনো পাহারাদারকর্মীকে অনুমতি ছাড়া নির্ধারিত স্থান ত্যাগ করতে দেখা গেলে, অবিলম্বে লিখিতভাবে জানাতে হবে এবং বিদ্যমান নিয়ম অনুযায়ী বিভাগীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে।’ অবহেলা বা অননুমোদিত অনুপস্থিতির ঘটনা গোপন করা, রিপোর্ট করতে বিলম্ব বা এড়িয়ে যাওয়া অথবা দায়ীদের বিরুদ্ধে যথাযথ ব্যবস্থা নিতে ব্যর্থ হওয়ার জন্য তত্ত্বাবধায়ক কর্মকর্তাদেরও জবাবদিহি করতে হবে বলে মহাপরিচালক জানান।
এই নির্দেশিকায় অবহেলার জন্য বারবার রিপোর্ট করা পাহারাদারকর্মীদের জন্য পুনঃপ্রশিক্ষণ, কাউন্সেলিং ও অনুপ্রেরণামূলক ব্যবস্থারও বিধান রাখা হয়েছে। পরিস্থিতি অনুযায়ী ও প্রশাসনিক স্বার্থে এই ধরনের কর্মীদের বদলি করা হতে পারে অথবা বিদ্যমান প্রবিধান অনুসারে তারা বিভাগীয় কার্যক্রমের সম্মুখীন হতে পারেন। মেসবাহুল আলম সেলিম বলেন, ‘বৃষ্টি ও বজ্রপাতসহ প্রতিকূল আবহাওয়ার জন্য বিশেষ নিরাপত্তাব্যবস্থা নির্ধারণ করা হয়েছে। প্রহরীকর্মীদের অবশ্যই তাদের নির্ধারিত স্থানে থাকতে হবে এবং দায়িত্ব পালনের সময় সর্বোচ্চ সতর্কতা বজায় রাখতে হবে। অধিদপ্তর কারাগারের সুপারিনটেনডেন্ট, জেলার ও অন্যান্য দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তাদের নিয়মিত তত্ত্বাবধান ও আকস্মিক পরিদর্শন পরিচালনার নির্দেশ দিয়েছে। তারা নিরাপত্তা চৌকি, সিসিটিভি পর্যবেক্ষণ ব্যবস্থা, প্রহরীদের দায়িত্ব ও নিরাপত্তাব্যবস্থার সামগ্রিক কার্যকারিতা পরীক্ষা করবেন এবং যেকোনো ত্রুটি দূর করার জন্য প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করবেন।’
আগস্টে জারি করা সাত দফা নির্দেশনায় সতর্ক করা হয়েছিল যে কারাগারের অভ্যন্তরে যেকোনো অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা পুরো কারাগার প্রশাসনের ভাবমূর্তি নষ্ট করতে পারে এবং বিরূপ জনমত সৃষ্টি করতে পারে। অধিদপ্তর নিরাপত্তা ত্রুটি প্রতিরোধ, প্রাতিষ্ঠানিক শৃঙ্খলা বজায় রাখা এবং কারাগার প্রশাসনের প্রতিটি স্তরে বৃহত্তর জবাবদিহিতা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে সংশ্লিষ্ট সকল কর্মকর্তাকে অবিলম্বে এই ব্যবস্থাগুলো বাস্তবায়নের নির্দেশ দিয়েছে।
রাজধানীর গভর্নমেন্ট কলেজ অব অ্যাপ্লাইড হিউম্যান সায়েন্সের অধ্যক্ষ ড. মেহেরুন নেছাকে ক্যাম্পাসে অবাঞ্ছিত ঘোষণা করেছেন শিক্ষার্থীরা। একই সঙ্গে মধ্যরাতে পুলিশের হামলার অভিযোগের তদন্ত ও বিচারের দাবিতে ৭২ ঘণ্টার আল্টিমেটাম দিয়েছেন শিক্ষার্থীরা।
শুক্রবার (৬ নভেম্বর) দুপুর ১২টা ১৫ মিনিটে প্রতিষ্ঠানটির মূল ফটকের সামনে সংবাদ সম্মেলন করেন তারা। এর আগে, প্রতিষ্ঠানটির সামনের সড়কের দু’পাশে অবস্থান নিয়ে বিক্ষোভ করেন শিক্ষার্থীরা। এ সময় নীলক্ষেত মোড় থেকে আজিমপুর বাসস্ট্যান্ডের সড়কের যান চলাচল বন্ধ হয়ে যায়।
সংবাদ সম্মেলনে শিক্ষার্থীরা দুই দফা দাবি তুলে ধরেন। দাবিগুলো হলো-
১. মধ্যরাতে শিক্ষার্থীদের ওপর পুলিশের হামলার ঘটনায় আগামী ৭২ ঘণ্টার মধ্যে নিরপেক্ষ তদন্ত কমিটি গঠন করতে হবে। পাশাপাশি ঘটনায় জড়িত পুলিশ সদস্য ও কর্মকর্তাদের চিহ্নিত করে তাদের বিরুদ্ধে দৃষ্টান্তমূলক বিভাগীয় ও আইনানুগ ব্যবস্থা নিতে হবে।’
২. কলেজের সব শিক্ষার্থীর পক্ষ থেকে অধ্যক্ষ ড. মেহেরুন নেছাকে অবাঞ্ছিত ঘোষণা করা হয়েছে। তার পদত্যাগের বিষয়ে মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তর (মাউশি) থেকে আনুষ্ঠানিক সরকারি প্রজ্ঞাপন জারি না হওয়া পর্যন্ত কলেজের সব প্রশাসনিক কার্যক্রম, ক্লাস ও পরীক্ষা অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ রাখার ঘোষণা দিয়েছেন শিক্ষার্থীরা।
সম্মেলনে দাবি আদায় না হলে পরবর্তীতে কঠোর কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে বলে জানান শিক্ষার্থীরা। এ ছাড়া দাবি পূরণে প্রশাসন থেকে কোনো আশ্বাস না পাওয়ার আগ পর্যন্ত আন্দোলন চালিয়ে যাবেন বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছেন তারা।
উল্লেখ্য, অধ্যক্ষের বিরুদ্ধে স্বেচ্ছাচারিতার অভিযোগ এনে গত বৃহস্পতিবার সকাল সাড়ে ১০টার দিকে তার পদত্যাগের দাবিতে আন্দোলন শুরু করেন গভর্নমেন্ট কলেজ অব অ্যাপ্লাইড হিউম্যান সায়েন্সের শিক্ষার্থীরা। একপর্যায়ে তাকে কার্যালয়ে অবরুদ্ধ করে রাখেন তারা। প্রায় ১৩ ঘণ্টা পর রাত সাড়ে ১১টার দিকে পুলিশ তাকে সেখান থেকে উদ্ধার করে। এ সময় পুলিশি অভিযানে শিক্ষার্থীদের ওপর লাঠিপেটার অভিযোগ ওঠে। আন্দোলনকারীদের দাবি, মধ্যরাতে পুলিশি হামলায় কয়েকজন শিক্ষার্থী আহত হয়েছেন। একইসঙ্গে পুলিশের বিরুদ্ধে হাতুড়িপেটা ও এক নারী শিক্ষার্থীর চুল এবং হিজাব ধরে টানাটানিরও অভিযোগ করেছেন শিক্ষার্থীরা।
প্রশাসনিক ও পরিবেশগত অনুমোদনসংক্রান্ত জটিলতা কাটিয়ে কক্সবাজার-সেন্টমার্টিন নৌপথে জাহাজ চলাচলের দ্বিতীয় দিনে আরও দুটি নৌযান যুক্ত হয়েছে। শুক্রবার (৬ নভেম্বর) সকালে কক্সবাজার শহরের নুনিয়ারছড়া বিআইডব্লিউটিএ ঘাট থেকে চলতি মৌসুমের প্রথমবারের মতো সেন্টমার্টিনের উদ্দেশে যাত্রা করে ‘এমভি কর্ণফুলী’ ও ‘এমভি টেকনাফ’। এর আগে বৃহস্পতিবার (৫ নভেম্বর) উদ্বোধনী দিনে ৮৩৬ জন পর্যটক নিয়ে যাত্রা করা ‘এমভি বারো আউলিয়া’ রাতেই ফিরে আসে। দ্বিতীয় দিনে এই তিনটি জাহাজে করে মোট ১ হাজার ৫৫৪ জন পর্যটক সেন্টমার্টিনের উদ্দেশে রওনা হন; যার মধ্যে এমভি বারো আউলিয়ায় ৬১৯ জন, এমভি কর্ণফুলীতে ৩৮৭ জন এবং এমভি টেকনাফে ৫৪৮ জন যাত্রী ছিলেন।
সি ক্রুজ অপারেটর ওনার্স অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (স্কোয়াব) সাধারণ সম্পাদক হোসাইন ইসলাম বাহাদুর জানিয়েছেন, অনুমোদিত এই তিনটি জাহাজ আগামী বছরের ১৫ মার্চ পর্যন্ত নিয়মিতভাবে পর্যটক পরিবহন করবে। জাহাজ তিনটির সম্মিলিত যাত্রী ধারণক্ষমতা ২ হাজার ৩০০ জন। সরকারের পক্ষ থেকে দ্বীপে দৈনিক সাড়ে ৩ হাজার পর্যটক গমনের অনুমতি থাকায় যাত্রীচাপ বিবেচনায় ভবিষ্যতে জাহাজের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে তিনি উল্লেখ করেন। উল্লেখ্য, সরকারি সিদ্ধান্ত অনুসারে ১ নভেম্বর থেকে সেন্টমার্টিন ভ্রমণের অনুমতি থাকলেও প্রশাসনিক ছাড়পত্র ও পরিবেশগত শর্ত পূরণের প্রক্রিয়ার কারণে নির্ধারিত সময়ের কয়েক দিন পর এই জাহাজ চলাচল শুরু হয়।
এদিকে ঘাটে জেলা প্রশাসন, বিআইডব্লিউটিএ, ট্যুরিস্ট পুলিশ ও কোস্টগার্ডসহ বিভিন্ন আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কঠোর নজরদারি ও নিরাপত্তা তৎপরতা লক্ষ্য করা গেছে। দীর্ঘ প্রতীক্ষার পর সমুদ্রযাত্রার সুযোগ পেয়ে ভ্রমণপিপাসুরা উচ্ছ্বাস প্রকাশ করেন এবং পরিবেশ রক্ষায় সরকারি নিয়ম মেনে চলার অঙ্গীকার করেন। তবে টিকিটের অতিরিক্ত দাম নিয়ে অনেক পর্যটক ক্ষোভ ও হতাশা জানিয়েছেন। সাধারণ মানুষের সাধ্যের কথা চিন্তা করে নৌভাড়া পুনরায় পর্যালোচনা করার দাবি জানিয়েছেন ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আসা ভ্রমণকারীরা।
সেন্টমার্টিনের ভঙ্গুর বাস্তুসংস্থান ও সামুদ্রিক জীববৈচিত্র্য রক্ষায় এবার একগুচ্ছ কঠোর শর্ত ও বিধিনিষেধ আরোপ করেছে কর্তৃপক্ষ। প্রতিটি পর্যটককে বাধ্যতামূলকভাবে ১০০ টাকা পরিবেশ সংরক্ষণ ফি দিতে হচ্ছে এবং পরিচয় নিশ্চিতের জন্য কিউআর কোডযুক্ত টিকিট ও ট্রাভেল পাস নেওয়া বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। এ ছাড়া রাতে সৈকত এলাকায় যেকোনো ধরনের আলো জ্বালানো, উচ্চ শব্দ করা ও বারবিকিউ পার্টি সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ করা হয়েছে। কেয়াবনে প্রবেশ, কেয়া ফল সংগ্রহ, সৈকতে মোটরসাইকেল বা সি-বাইক চালানো এবং প্রবাল, শামুক, ঝিনুক, তারামাছ, সামুদ্রিক কাছিম কিংবা ঘাস-শৈবালের ক্ষতি করার ওপর জারি রয়েছে কঠোর নিষেধাজ্ঞা। পরিবেশ বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, কেবল নিয়ম জারি করলেই হবে না, বরং দ্বীপের ভারসাম্য বজায় রাখতে এসব বিধিমালার নিয়মিত ও কঠোর তদারকি নিশ্চিত করতে হবে।
কক্সবাজারের টেকনাফ উপজেলায় ‘সশস্ত্র মানবপাচারকারীদের’ সঙ্গে যৌথ বাহিনীর গোলাগুলির সময় এক সেনা সদস্য নিহত হয়েছেন।
বৃহস্পতিবার রাতে আন্তঃবাহিনী সংযোগ পরিদপ্তর-আইএসপিআর এক বার্তায় বলেছে, উপজেলার রঙ্গীখালী এলাকার গহীন পাহাড়ে এ ঘটে।
নিহত মো. তিতাস শেখ (২৭) বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর একজন সৈনিক ছিলেন।
ঘটনার বর্ণনায় আইএসপিআর বলেছে, গহীন পাহাড়ে প্রায় ১২০ জন রোহিঙ্গা ও বাঙালি নাগরিককে ১৫-১৬ জনের একটি সশস্ত্র মানবপাচারকারী দল জিম্মি করে রেখেছে বলে গোয়েন্দা সূত্রে জানা যায়।
এ তথ্যের ভিত্তিতে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর ১০ পদাতিক ডিভিশন, বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) ও স্থানীয় পুলিশের সমন্বয়ে গঠিত একটি যৌথ আভিযানিক দল আনুমানিক বিকাল ৫টায় ঘটনাস্থলে পৌঁছায়।
এ সময় সশস্ত্র মানবপাচারকারীরা যৌথ বাহিনীর উপস্থিতি টের পেয়ে এলোপাতাড়ি গুলিবর্ষণ শুরু করলে উভয় পক্ষের মধ্যে গোলাগুলির ঘটনা ঘটে বলে আইএসপিআর জানিয়েছে।
এতে বলা হয়েছে- গোলাগুলির একপর্যায়ে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর সৈনিক মো. তিতাস শেখ (২৭) বাম কাঁধে গুলিবিদ্ধ হয়ে গুরুতর আহত হন এবং তার অতিরিক্ত রক্তক্ষরণ ঘটে।
তাৎক্ষণিকভাবে তাকে উদ্ধার করে নিকটস্থ হাসপাতালে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়ার পর উন্নত চিকিৎসার জন্য রামুর সম্মিলিত সামরিক হাসপাতাল (সিএমএইচ) নেওয়া হয়। সেখানে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
আইএসপিআর জানায়, অভিযানে ঘটনাস্থল থেকে একটি পিস্তল, একটি দেশীয় তৈরি বন্দুক ও চারটি গোলাবারুদ উদ্ধার করা হয়।
এ ছাড়া, মানবপাচারকারী চক্রের পাঁচ সদস্যকে আটক এবং জিম্মি অবস্থায় থাকা ৫৭ জনকে উদ্ধার করা হয়।
আইএসপিআর জানায়, তরুণ সেনাসদস্যের আত্মত্যাগ বাংলাদেশ সেনাবাহিনী গভীর শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করছে। একই সঙ্গে বাংলাদেশ সেনাবাহিনী তার বিদেহী আত্মার মাগফিরাত কামনা এবং শোকসন্তপ্ত পরিবারের সদস্যদের প্রতি গভীর সমবেদনা জ্ঞাপন করছে।
এ ঘটনার বিষয়ে ১৬ এপিবিএনের অধিনায়ক অতিরিক্ত ডিআইজি মো. কাওসার সিকদার বলেন, রোহিঙ্গা ক্যাম্পের এইচ ব্লকসংলগ্ন পাহাড়ে এ ঘটনা ঘটে। পাহাড়ে জেলা পুলিশের সঙ্গে যৌথ অভিযান চালানো হয়।
“এ সময় সন্ত্রাসীদের সঙ্গে গোলাগুলিতে সেনাবাহিনীর এক সদস্য আহত হন। অভিযানে অস্ত্র উদ্ধার ও কয়েকজনকে আটক করা হয়েছে।”
দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের উন্নয়ন, গণমানুষের অধিকার প্রতিষ্ঠা এবং অবহেলিত জনপদের অবকাঠামোগত অগ্রগতিতে সাবেক মন্ত্রী ও বিএনপির জাতীয় স্থায়ী কমিটির সদস্য প্রয়াত জননেতা তরিকুল ইসলামের অবদান গভীর শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করেছেন দলীয় নেতাকর্মীরা। তাঁকে দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের উন্নয়নের অন্যতম স্বপ্নদ্রষ্টা উল্লেখ করে বক্তারা বলেন, রাজনৈতিক প্রজ্ঞা, সাহসী নেতৃত্ব ও জনকল্যাণমূলক কর্মকাণ্ডের মধ্য দিয়ে তিনি মানুষের হৃদয়ে চিরস্মরণীয় হয়ে থাকবেন।
প্রয়াত এই জননেতার ৮ম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে গত বুধবার (৪ নভেম্বর) কেশবপুর উপজেলা ও পৌর বিএনপির উদ্যোগে দলীয় কার্যালয়ে স্মরণসভা ও দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়।
কেশবপুর পৌর বিএনপির সভাপতি ও সাবেক মেয়র আলহাজ্ব আব্দুস সামাদ বিশ্বাসের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্য রাখেন বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য ও কেশবপুর উপজেলা বিএনপির সভাপতি আলহাজ্ব আবুল হোসেন আজাদ।
পৌর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক শেখ শহীদুল ইসলাম শহীদের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক প্রভাষক আব্দুর রাজ্জাক, সহ-সভাপতি ও সাতবাড়িয়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান গোলাম মোস্তফা বাবু, পৌর বিএনপির সিনিয়র সহ-সভাপতি কুতুবউদ্দিন বিশ্বাস, সাংগঠনিক সম্পাদক নুরুজ্জামান চৌধুরী, উপজেলা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক আলমগীর কবীর বিশ্বাস ও হুমায়ূন কবির সুমন, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাস্টার মকবুল হোসেন মুকুল ও আলমগীর হোসেন, ত্রাণ ও পুনর্বাসন বিষয়ক সম্পাদক আবু নাঈম, যশোর জেলা মহিলা দলের সহ-সভানেত্রী নূর নাহার নুরী, ত্রিমোহিনী ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি আকরাম হোসেন, হাসানপুর ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি আলমগীর হোসেন, সাতবাড়িয়া ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক রফিকুল ইসলাম, পৌরসভার ৪ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সভাপতি উবাইদুল হক, ৫ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সভাপতি আনিসুজ্জামান আনিছ, উপজেলা কৃষকদলের সভাপতি নজরুল ইসলাম, উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের সদস্য সচিব বাবুল রানা বাবু, পৌর যুবদলের সদস্য সচিব মেহেদী বিশ্বাস, উপজেলা ছাত্রদলের আহ্বায়ক আজিজুর রহমান আজিজ ও পৌর ছাত্রদলের সদস্য সচিব মনিরুল ইসলাম। স্মরণসভা শেষে প্রয়াত জননেতা তরিকুল ইসলামের রুহের মাগফিরাত কামনা করে বিশেষ দোয়া ও মোনাজাত অনুষ্ঠিত হয়।
শেরেবাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের (শেকৃবি) পুরোনো গবেষণা মাঠ পুনরুদ্ধারের দাবিতে প্রশাসনিক ভবনের সামনে বিক্ষোভ করেছেন শিক্ষার্থীরা। এ সময় মাঠ ফিরে পেতে মামলা করার অগ্রগতি জানতে চান তারা। পাশাপাশি দ্রুত সিন্ডিকেট সভা আহ্বানের দাবি জানান।
বৃহস্পতিবার (৫ নভেম্বর) দুপুরে বিশ্ববিদ্যালয়ের পতাকা স্ট্যান্ডের সামনে অষ্টম দিনের মতো জড়ো হন শিক্ষার্থীরা। পরে মিছিল নিয়ে প্রশাসনিক ভবনের সামনে গিয়ে বিক্ষোভ করেন তারা। এ সময় সেখানে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য প্রফেসর ড. আব্দুল লতিফ, উপউপাচার্য প্রফেসর ড. বেলাল হোসেন, ট্রেজারার প্রফেসর আবুল বাশার, প্রক্টর প্রফেসর ড. আরফান আলী ও মাঠ সংক্রান্ত স্টিয়ারিং কমিটির আহ্বায়ক এবং পোস্ট গ্র্যাজুয়েট ডিন অধ্যাপক এম. সালাহউদ্দিন আহমদ চৌধুরী উপস্থিত হন।
শিক্ষার্থীরা মামলা করার অগ্রগতি জানতে চাইলে অধ্যাপক এম. সালাহউদ্দিন আহমদ চৌধুরী বলেন, ‘কাজ তো চলমান। আমরা ফার্মগুলোর সঙ্গে কথা বলেছি। জমিটি দ্য বেঙ্গল অ্যাগ্রিকালচারাল ইনস্টিটিউটের ছিল। আমাদের কনসার্ন ছাড়াই এটি গণপূর্তের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। তাই আগে মিস কেস করে রিট করতে হবে।’
এ সময় শিক্ষার্থীরা দ্রুত সিন্ডিকেট সভা আহ্বান করে মাঠ পুনরুদ্ধারে প্রয়োজনীয় আইনি পদক্ষেপ নেওয়ার দাবি জানান। তাদের দাবি, বিশ্ববিদ্যালয়ের পুরোনো গবেষণা মাঠে সচিবালয় নির্মাণের পরিকল্পনা বাতিল করে মাঠটি বিশ্ববিদ্যালয়ের কাছে ফিরিয়ে দিতে হবে।