মাত্র নয় মাস আগে সৌদি আরবপ্রবাসী রুবেল হোসাইনের সঙ্গে মোবাইল ফোনে ভিডিও কনফারেন্সে বিয়ে হয় কলেজছাত্রী মরিয়ম বিবি রিপার। কিন্তু স্বামীর সঙ্গে সরাসরি সাক্ষাৎ ও সংসার হওয়ার আগেই বিধবা হলেন মরিয়ম। সৌদিতে নিজের কর্মস্থলে আগুনে পুড়ে মারা গেছেন সাত বছর ধরে সেখানে থাকা রাজশাহী জেলার বাগমারা উপজেলার ঝিকড়া ইউনিয়নের বাসিন্দা রুবেল। একবারের জন্যও দেখা না হওয়া স্বামীর মৃত্যু সংবাদে মরিয়মের আহাজারি থামছেই না।
গত শুক্রবার সৌদি আরবের আল আহসা শহরের হুফুফ শিল্পনগর এলাকায় একটি সোফার কারখানায় অগ্নিকাণ্ডে রাজশাহীর বাগমারা উপজেলার চারজন নিহত হন। তাদের মধ্যে ছিলেন ঝিকড়া ইউনিয়নের বারইহাটি গ্রামের জফির উদ্দিনের প্রবাসী ছেলে রুবেল হোসাইনও। পাশের গ্রাম বারিহাটির মরিয়ম বিবি রিপার সঙ্গে প্রেমের সম্পর্ককে মাত্র নয় মাস ছয় দিন আগে বিয়েতে গড়িয়ে তার এভাবে চলে যাওয়া শোকের সাগরে ভাসিয়েছে স্বজনদের।
সংসার করার আগেই স্বামী হারানোর ঘটনা মানতে পারছেন না নববধূ রিপা। তাই আহাজারি করতে করতে তিনি বলছিলেন, ‘স্বামীকে দেখলাম না। সংসারও হলো না। তার আগেই চলে গেলেন তিনি। আমি কীভাবে বাঁচব?’
শনিবার সন্ধ্যায় সরেজমিনে রুবেল হোসাইনের বাড়ি গিয়ে দেখা যায়, মরিয়ম মোবাইল ফোনে স্বামীর ছবি দেখে আহাজারি করছেন, ‘আমার স্বামীকে একটা বার হলেও দেখতে চাই রে...। স্বামীকে আমি কাছ থেকে দেখিনি রে...। আপনাদের পায়ে ধরি রে...; আমার স্বামীকে এনে দেন...রে ভাই। স্বামীকে কোনো দিন চোখের কাছ থেকে দেখিনি রে...।’
স্বামীর সঙ্গে গত বৃহস্পতিবার রাত ১২টার দিকে শেষ কথা হয় জানিয়ে মরিয়ম বলেন, ‘দেশে আসার জন্য শুক্রবার কাগজপত্র জমা দিয়ে কারখানায় যাবেন বলে জানিয়েছিলেন রুবেল। শুক্রবার রাতে আবার কথা বলবেন বলেছিলেন। তাই রাতে কয়েকবার কলও দিয়েছিলাম। কিন্তু ফোন বাজলেও কেউ রিসিভ করেনি। রাত ৯টা পর্যন্ত ফোন বেজেছে। এরপর ফোন আর বাজেনি। শনিবার সকালে তার মৃত্যুর খবর পাই।’
কাঁদতে কাঁদতে মরিয়ম বলেন, ‘রুবেল কাজের ফাঁকে যখনই সময় পেতেন ভিডিও কলে কথা বলতেন। দেশে আসার জন্য বারবার রাগারাগি করতাম। কিন্তু তিনি আমাকে সুন্দর ভবিষ্যতের স্বপ্ন দেখাতেন। বলতেন একটু ধৈর্য ধর। খুব তাড়াতাড়ে চলে আসব।’
এই তরুণী আরও বলেন, ‘বেঁচে থাকতে স্বামীকে দেখতেই পেলাম না, তার মরদেহটা যেন তাড়াতাড়ি দেশে আসে। শেষবারের মতো একবার তাকে দেখতে চাই।’
জানা যায়, তিন ভাইয়ের মধ্যে রুবেল সবার ছোট। স্থানীয় দালালকে ১৬ কাঠা জমি লিখে দেয়া ছাড়াও দেড় লাখ টাকা নগদ দিয়ে ২০১৬ সালে সৌদি আরব পাড়ি জমান রুবেল। তার বড় দুই ভাই আগে থেকেই প্রবাসী। বড়ভাই সৌদি আরব এবং মেজো ভাই সংযুক্ত আরব আমিরাতের দুবাইতে থাকেন।
২৬ বছর বয়সী সদ্য বিবাহিত ছেলেকে হারানোর বিষয়টি মানতে পারছেন না নিহত রুবেল হোসেনের বাবা জফির উদ্দিন। তিনি বলেন, ‘ঋণ করে ছেলেকে বিদেশে পাঠানো হয়। কয়েক মাস আগে মোবাইল ফোনে পাশের গ্রামের রিপা বিবির সঙ্গে তার বিয়ে হয়। স্ত্রীর সঙ্গে তার দেখাও হয়নি। কীভাবে মানব এই মৃত্যু?’
জেলা প্রশাসক শামীম আহমেদ বলেন, সৌদিতে যোগাযোগ করা হচ্ছে মরদেহ দেশে আনার বিষয়ে। প্রক্রিয়া অনুযায়ী কাজ চলছে। পুড়ে গেলেও মরদেহ শনাক্ত করা যাচ্ছে।
গত শুক্রবারের ওই ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে নিহত নয় বাংলাদেশির মধ্যে সাতজনের বাড়ি রাজশাহী বিভাগে। তাদের মধ্যে চারজনের বাড়ি রাজশাহী জেলার বাগমারা উপজেলায়। বাকিদের মধ্যে দুজন নওগাঁর ও একজনের বাড়ি নাটোরে।
রুবেল ছাড়াও রাজশাহী বিভাগের বাকি নিহতরা হলেন বাগমারা উপজেলার ঝিকড়া ইউনিয়নের যোগীপাড়া ইউনিয়নের বড় মাধাইমুরি কাতিলা গ্রামের আনিসুর রহমান সরদারের ছেলে ফিরুজ আলী সরদার (৩৯), বারইপাড়া গ্রামের মো. জমিরের ছেলে মোহাম্মদ সাজেদুল ইসলাম ও তার ভাতিজা একই গ্রামের শাহাদাত হোসাইনের ছেলে মো. আরিফ, নওগাঁর আত্রাই উপজেলার উদয়পুরের মণ্ডলপাড়ার মৃত রহমান সরদারের ছেলে বারেক সরদার (৪৫) ও একই উপজেলার শাহাগোলা ইউনিয়নের ঝনঝনিয়া গ্রামের মৃত আজিজার প্রামাণিকের ছেলে রমজান আলী (৩৩) এবং নাটোরের নলডাঙ্গা উপজেলার খাজুরা ইউনিয়নের চাঁদপুর গ্রামের মো. দবির উদ্দিনের ছেলে ওবাইদুল হক (৩৩)।
শহরের কাটিয়া লস্করপাড়া এলাকার গৃহবধূ ইনা পারভীন চন্দনা (৩৫) গুমের প্রধান আসামি তার স্বামী শীর্ষ মাদক চোরাকারবারি, সন্ত্রাসী রবিউল ইসলাম রবি ওরফে ভেন্ডার রবিকে আটক করেছে পুলিশ। গত
শুক্রবার (৪ সেপ্টেম্বর) ভোররাতে সদর থানা পুলিশ তাকে আটক করে আদালতে পাঠয়। গুমের শিকার গৃহবধু চন্দনা সাতক্ষীরা শহরের শীর্ষ মাদক চোরাকারবারি রবিউল ইসলাম রবি'র দ্বিতীয় স্ত্রী। ও তালার শিবপুর গ্রামের মহিউদ্দীন শেখের কন্যা।
উল্লেখ, গত দু'মাস পূর্বে সাতক্ষীরা শহরের কাটিয়া লস্কর পাড়া এলাকায় তার নিজ বাড়ি থেকে নিখোঁজ হন গৃহবধূ চন্দনা।
চন্দনার স্বজনদের দাবি তাকে গুম করেছে তারি মাদকাসক্ত স্বামী শীর্ষ মাদক চোরাকারবারি সন্ত্রাসী রবিউল ইসলাম রবি।
এবিষয়ে গুম হওয়া গৃহবধূর পিতা মহিউদ্দীন শেখ ওই সময় সাতক্ষীরা সদর থানায় একটি সাধারণ ডাইরি করেন। পরবর্তীতে চন্দনা গুমের অভিযোগ থেকে রক্ষা পেতে সদর থানার ততকালীন অফিসার ইনচার্জ ওসি মাসুদুর রহমানকে ম্যানেজ করে উল্টো গুমের শিকার গৃহবধু ও তার পিতা মহিউদ্দীন শেখ এর নামে প্রতারণা মামলা দেয় ভেন্ডার রবি। মামলার আসামি হওয়ায় থানায় মামলা করতে না পেরে ভেন্ডার রবি'কে প্রধান ও আরও কয়েক জনকে আসামি করে সাতক্ষীরা আদালতে অভিযোগ দায়ের করেব চন্দনার পিতা। অভিযোগ আমলে নিয়ে মামলাটি নথিভুক্ত করে আসামিদের আটকের আদেশ দেয় আদালত।
এবিষয়ে সাতক্ষীরা সদর থানার নবাগত ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ওসি মাহমুদুর রহমান জানান, আদালতের নির্দেশে গৃহবধূ চন্দনা গুম মামলার প্রধান আসামি আলোচিত রবিউল ইসলাম রবিকে আটক করাহয়। পরবর্তীতে আসামিকে আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে। রিমান্ডে এনে জিজ্ঞাসাবাদ করলে চন্দনা গুমের সাথে তার স্বামী রবিউল ইসলাম রবি জড়িত কিনা সেটা জানা যাবে।
নারায়ণগঞ্জে আব্দুল মান্নান নামে সদর নৌ থানার এক উপ-পরিদর্শকের (এসআই) মদ্যপ অবস্থায় অস্বাভাবিক আচরণের একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হয়েছে। শুক্রবার গভীর রাতে শহরের সেন্ট্রাল খেয়াঘাট এলাকায় এই অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনাটি ঘটে। ঘটনার সময় আব্দুল মান্নানের অসংলগ্ন আচরণ ও মাতলামি দেখে স্থানীয়দের মাঝে ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন সদর নৌ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রকিবুজ্জামান।
ভাইরাল হওয়া ভিডিওতে দেখা যায়, ওই পুলিশ কর্মকর্তা নেশাগ্রস্ত হয়ে মাটিতে বসে কখনো গান গাইছেন, আবার কখনো নাচছেন। এক পর্যায়ে তাঁকে বিলাপ করতেও দেখা যায়। উৎসুক জনতা তাঁর এই অবস্থার কারণ জানতে চাইলে তিনি অভিযোগ করেন যে, স্ত্রীর কাছে মার খেয়ে তিনি অতিরিক্ত মদ পান করেছেন। জনসমাগমের মধ্যে একজন পুলিশ কর্মকর্তার এমন কাণ্ডজ্ঞানহীন আচরণ বাহিনীর ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করেছে বলে মনে করছেন সচেতন নাগরিকরা।
তবে সদর নৌ থানার ওসি রকিবুজ্জামান দাবি করেছেন, এসআই আব্দুল মান্নান পারিবারিক কলহের জেরে দীর্ঘদিন ধরে মানসিক অস্থিরতায় ভুগছেন। তাঁর পরিবারের পক্ষ থেকে চিকিৎসার নথিপত্রও জমা দেওয়া হয়েছে বলে তিনি জানান। ওসি আরও যোগ করেন যে, ভিডিওটি ভাইরাল হওয়ার পর এবং বিষয়টি পুলিশের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাদের নজরে আসার পর আব্দুল মান্নানকে কর্মস্থল থেকে প্রত্যাহার (ক্লোজড) করা হয়েছে।
ভূগর্ভস্থ পানির ওপর নির্ভরশীলতা কমিয়ে পুকুর, জলাশয় ও বৃষ্টির পানি ব্যবহারে গুরুত্ব দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন প্রতিমন্ত্রী শেখ ফরিদুল ইসলাম। তিনি বলেছেন, ভূগর্ভস্থ পানি যত কম ব্যবহার করা যাবে, পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষায় তা ততই ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে।
গত শুক্রবার (৪ সেপ্টেম্বর) বিকেলে নওগাঁর নিয়ামতপুর উপজেলার রসুলপুর ইউনিয়নের পানিহারা গ্রামে অংশগ্রহণমূলক ওয়ার্ড বিপন্নতা বিশ্লেষণ বিষয়ক মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। ওয়ার্ড দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কমিটি ও ইএসডিও যৌথভাবে এ সভার আয়োজন করে।
প্রতিমন্ত্রী শেখ ফরিদুল ইসলাম বলেন, ভূগর্ভস্থ পানি যত কম ব্যবহার করা যায়, পরিবেশের জন্য ততই ভালো হবে। আমাদের আশপাশে থাকা পুকুর, জলাশয় এবং বৃষ্টির পানিকে কাজে লাগানোর চেষ্টা করতে হবে। এতে একদিকে যেমন ভূগর্ভস্থ পানির ওপর চাপ কমবে, অন্যদিকে পরিবেশের ভারসাম্যও রক্ষা হবে।
তিনি বলেন, পরিবেশ রক্ষায় শুধু সরকারি উদ্যোগ যথেষ্ট নয়। এর সঙ্গে সাধারণ মানুষের সচেতনতা ও অংশগ্রহণও জরুরি। পানি ব্যবহারে সাশ্রয়ী হতে হবে এবং স্থানীয়ভাবে যে পানির উৎসগুলো রয়েছে, সেগুলোর সংরক্ষণ ও যথাযথ ব্যবহার নিশ্চিত করতে হবে।
পরিবেশ দূষণের বিভিন্ন দিক তুলে ধরে প্রতিমন্ত্রী বলেন, প্লাস্টিক বর্জ্য বর্তমানে পরিবেশের জন্য বড় ধরনের হুমকি হয়ে দাঁড়িয়েছে। প্লাস্টিকের পাশাপাশি মাইক্রোপ্লাস্টিকও পরিবেশের বিভিন্ন স্তরে ছড়িয়ে পড়ছে। এসব দূষণ নিয়ন্ত্রণে সরকার কাজ করছে।
তিনি বলেন, প্লাস্টিক বর্জ্য ব্যবস্থাপনায় কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার পাশাপাশি জনগণকেও সচেতন হতে হবে। যত্রতত্র প্লাস্টিক ফেলা বন্ধ করতে হবে এবং বর্জ্য ব্যবস্থাপনায় শৃঙ্খলা আনতে হবে।
ইটভাটার ধোঁয়ার কারণে পরিবেশ দূষণের বিষয়টিও তুলে ধরেন পরিবেশ প্রতিমন্ত্রী। তিনি বলেন, ইটভাটা থেকে নির্গত ধোঁয়া ও দূষিত বায়ু মানুষের স্বাস্থ্যের জন্য মারাত্মক ঝুঁকি তৈরি করছে। এর প্রভাবে ক্যান্সারসহ বিভিন্ন রোগব্যাধির ঝুঁকি বাড়ছে।
মতবিনিময় সভায় নওগাঁ-১ আসনের সংসদ সদস্য মোস্তাফিজুর রহমান, নওগাঁর জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ সাইফুল ইসলাম, নিয়ামতপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মুরশিদা খাতুন, ইএসডিও ইনচার্জ কলি ইয়াসমিনসহ সরকারি কর্মকর্তা, স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, ওয়ার্ড দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কমিটির সদস্য এবং ইএসডিওর বিভিন্ন পর্যায়ের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।
টাঙ্গাইলের শতবর্ষের ঐতিহ্যবাহী চমচমকে বিদেশে রপ্তানির পদক্ষেপ নেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন স্থানীয় সংসদ সদস্য ও মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী সুলতান সালাউদ্দিন টুকু।
শুক্রবার (৪ সেপ্টেম্বর) বিকেলে টাঙ্গাইল শহরের শহীদ স্মৃতি পৌর উদ্যানে তিন দিনব্যাপী ‘মিষ্টি উৎসব-২০২৬’-এর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।
সুলতান সালাউদ্দিন টুকু বলেন, ‘টাঙ্গাইলের চমচম সারা বাংলাদেশ তথা বিশ্বের অনেক মানুষই কমবেশি চেনে। টাঙ্গাইলের শাড়ি যেমন বাংলাদেশের গর্ব ও ঐতিহ্য, তেমনি চমচমও আমাদের ঐতিহ্যের অংশ। এই পণ্যকে কীভাবে আরও এগিয়ে নেওয়া যায়, সেটি আমাদের দায়িত্ব ও কর্তব্যের মধ্যে পড়ে।’
তিনি বলেন, ‘আমাদের যে ঐতিহ্য রয়েছে, সেটিকে মানুষের মাঝে তুলে ধরার জন্যই এ আয়োজন। টাঙ্গাইলে যে ঐতিহ্য ও অর্জন রয়েছে, তা বাংলাদেশের মানুষের জন্যও গর্বের বিষয়। এই ঐতিহ্যকে ধারণ করে আগামী দিনে ঐতিহাসিক ও নিরাপদ টাঙ্গাইল গড়ে তুলতে চাই। এ ব্যাপারে সবার সার্বিক সহযোগিতা প্রয়োজন।’
মিষ্টি উৎসবের উদ্দেশ্য তুলে ধরে প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘এই ফেস্টিভ্যালের কয়েকটি উদ্দেশ্য রয়েছে। প্রথমত, টাঙ্গাইলের পণ্য মানুষের মাঝে তুলে ধরা এবং এগুলো নিয়ে মানুষকে অবহিত করা। একই সঙ্গে সারাদেশের মানুষের কাছে আমাদের ঐতিহ্যকে প্রতিষ্ঠিত করা।’
টাঙ্গাইলের পর্যটন সম্ভাবনা ও শতবর্ষের মিষ্টি তৈরির ঐতিহ্য দেশ-বিদেশে তুলে ধরতে এবং স্থানীয় পণ্যের প্রসারে প্রথমবারের মতো ৪ থেকে ৬ সেপ্টেম্বর তিন দিনব্যাপী ‘সুইট ফেস্টিভ্যাল-২০২৬’ আয়োজন করা হয়েছে। জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে এ উৎসবে জেলার ১২ উপজেলা থেকে ২৩টি স্টল অংশ নিয়েছে; এর মধ্যে ২০টি স্টলে ঐতিহ্যবাহী মিষ্টি এবং তিনটি স্টলে টাঙ্গাইলের তাঁতের শাড়ি প্রদর্শন করা হচ্ছে।
এর আগে বিকেলে ফিতা কেটে ও বেলুন উড়িয়ে ‘সুইট ফেস্টিভ্যাল-২০২৬’-এর আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন প্রতিমন্ত্রী সুলতান সালাউদ্দিন টুকু।
এ সময় উপস্থিত ছিলেন জেলা প্রশাসক শরীফা হক, পুলিশ সুপার মুহম্মদ শামসুল আলম সরকার, জেলা বিএনপির সাবেক সদস্যসচিব মাহমুদুল হক সানু, বিভিন্ন উপজেলার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) এবং সরকারি বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তারা।
জেলা প্রশাসক শরীফা হক বলেন, ‘টাঙ্গাইলের জিআই পণ্য শুধু টাঙ্গাইলের নয়, এগুলো বাংলাদেশের গর্ব’- এই বার্তা ছড়িয়ে দেওয়াই উৎসবের অন্যতম লক্ষ্য। এর মাধ্যমে স্থানীয় অর্থনীতি শক্তিশালী করার পাশাপাশি টাঙ্গাইলের পর্যটন সম্ভাবনাকেও এগিয়ে নেওয়া হবে।
দেশের পাঁচটি বিভাগের অধিকাংশ অঞ্চল এবং অন্য তিনটি বিভাগের কিছু এলাকায় দমকা হাওয়াসহ হালকা থেকে মাঝারি ধরনের বৃষ্টিপাতের সম্ভাবনা রয়েছে বলে জানিয়েছে আবহাওয়া অধিদপ্তর। আজ সকাল ৯টা থেকে পরবর্তী ২৪ ঘণ্টার পূর্বাভাসে বলা হয়েছে, রংপুর, রাজশাহী, ঢাকা, ময়মনসিংহ ও সিলেট বিভাগের অনেক স্থানে এবং খুলনা, বরিশাল ও চট্টগ্রাম বিভাগের কিছু কিছু জায়গায় অস্থায়ীভাবে দমকা হাওয়াসহ হালকা থেকে মাঝারি ধরনের বৃষ্টি অথবা বজ্রসহ বৃষ্টি হতে পারে। একই সাথে দেশের কোথাও কোথাও মাঝারি ধরনের ভারী বর্ষণের সম্ভাবনা রয়েছে। তবে এই সময়ে সারা দেশে দিন ও রাতের তাপমাত্রা প্রায় অপরিবর্তিত থাকতে পারে।
আবহাওয়ার সিনপটিক অবস্থা সম্পর্কে জানানো হয়েছে যে, বর্তমানে মধ্যপ্রদেশ ও এর আশপাশের এলাকায় একটি সুস্পষ্ট লঘুচাপ অবস্থান করছে। এটি ক্রমশ দুর্বল হয়ে মৌসুমি বায়ুর অক্ষের সাথে মিলিত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। মৌসুমি বায়ুর অক্ষের একটি অংশ রাজস্থান, উত্তর প্রদেশ, লঘুচাপের কেন্দ্রস্থল, বিহার, গাঙ্গেয় পশ্চিমবঙ্গ ও বাংলাদেশের দক্ষিণাঞ্চল হয়ে আসাম পর্যন্ত বিস্তৃত। এর একটি বর্ধিতাংশ উত্তর বঙ্গোপসাগর পর্যন্ত ছড়িয়ে আছে। বর্তমানে মৌসুমি বায়ু বাংলাদেশের ওপর মোটামুটি সক্রিয় এবং উত্তর বঙ্গোপসাগরে মাঝারি অবস্থায় রয়েছে।
গত ২৪ ঘণ্টায় আবহাওয়ার পরিসংখ্যান অনুযায়ী, দেশের সর্বোচ্চ তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে রাজশাহীতে ৩৪.৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস এবং সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ছিল সিলেটে ২৩.৭ ডিগ্রি সেলসিয়াস। একই সময়ে দেশের সর্বোচ্চ বৃষ্টিপাত নথিভুক্ত করা হয়েছে ফেনীতে ৬১ মিলিমিটার। আজ ভোর ৬টায় ঢাকায় বাতাসের আপেক্ষিক আর্দ্রতা ছিল ৮৯ শতাংশ এবং রাজধানীতে বাতাসের গতিবেগ দক্ষিণ ও দক্ষিণ-পূর্ব দিক থেকে ঘণ্টায় ১০ থেকে ১৫ কিলোমিটারের মধ্যে সীমাবদ্ধ ছিল। আজ ঢাকায় সূর্যাস্ত হবে সন্ধ্যা ৬টা ১৩ মিনিটে এবং আগামীকাল সূর্যোদয় হবে ভোর ৫টা ৪২ মিনিটে।
সাভারের আশুলিয়ায় একটি ভাড়া বাসা থেকে একই পরিবারের তিন সদস্যের পচাগলা মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। শুক্রবার (৫ সেপ্টেম্বর) দিবাগত গভীর রাতে আশুলিয়ার মধ্য জামগড়া এলাকার হযরত আলীর মালিকানাধীন একটি বাড়ি থেকে এই মরদেহগুলো উদ্ধার করা হয়। নিহতরা স্বামী-স্ত্রী ও তাঁদের শিশু সন্তান বলে প্রাথমিকভাবে নিশ্চিত হওয়া গেলেও তাঁদের পূর্ণাঙ্গ নাম-পরিচয় এখনো পাওয়া যায়নি।
স্থানীয় বাসিন্দারা জানিয়েছেন, ওই পরিবারের স্বামী-স্ত্রী পরিচয় দিয়ে মাসখানেক আগে বাসাটি ভাড়া নিয়েছিলেন। তবে বাসাটির দরজা-জানালা সবসময় বন্ধ থাকত। শুক্রবার রাতে ওই কক্ষ থেকে উৎকট পচা দুর্গন্ধ বের হতে থাকলে এলাকাবাসী আতঙ্কিত হয়ে পুলিশে খবর দেয়। পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে ঘরের ভেতর থেকে তিনটি মরদেহ উদ্ধার করে। খবর পেয়ে সিআইডির ফরেনসিক টিম ভোরে ঘটনাস্থলে এসে প্রয়োজনীয় আলামত সংগ্রহ করেছে।
আশুলিয়া থানার ডিউটি অফিসার উপ-পরিদর্শক (এসআই) রাসেল হোসেন ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান যে, স্থানীয়দের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে তল্লাশি চালায়। মরদেহগুলোর অবস্থা দেখে ধারণা করা হচ্ছে বেশ কিছুদিন আগে তাঁদের মৃত্যু হয়েছে। তিনি আরও জানান, নিহত ব্যক্তির গলায় গামছা প্যাঁচানো ছিল, যা মৃত্যুর পেছনে কোনো রহস্যের ইঙ্গিত দিচ্ছে। ঘটনার প্রকৃত কারণ উদ্ঘাটনে পুলিশি তদন্ত চলছে এবং মরদেহগুলো ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানোর প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।
কিশোরগঞ্জের করিমগঞ্জে বরযাত্রীর গাড়ি আটকে মিষ্টি খাওয়ার জন্য টাকা দাবি করাকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের সংঘর্ষে বরসহ অন্তত অর্ধশতাধিক আহত হয়েছেন। আহতদের মধ্যে দুজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় তাদের উন্নত চিকিৎসার জন্য মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।
গতকাল শুক্রবার বিকেল পাঁচটার দিকে উপজেলার বারঘড়িয়া ইউনিয়নের গাবতলী বাজারে এ ঘটনা ঘটে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, নোয়াবাদ ইউনিয়নের ঝাউতলা এলাকায় কনের বাড়ির উদ্দেশে বরযাত্রী নিয়ে একটি গাড়ি যাচ্ছিল। গাবতলী বাজারে পৌঁছালে ধীতপুর বড়বাড়ি এলাকার কয়েকজন যুবক গাড়ি থামিয়ে মিষ্টির টাকা দাবি করেন বলে অভিযোগ ওঠে। এ নিয়ে বরপক্ষের সঙ্গে তাদের কথা-কাটাকাটি শুরু হয়। একপর্যায়ে উভয় পক্ষ সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে।
সংঘর্ষের সময় ইট-পাটকেল ও ঢিল ছোড়াছুড়িতে বর মো. হানিফ, তার বাবা হবি মিয়াসহ অন্তত ৫০ জন আহত হন। স্থানীয় লোকজন তাদের উদ্ধার করে করিমগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করেন। পরে দুজনকে আশঙ্কাজনক অবস্থায় মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়। তবে সংঘর্ষের কারণ নিয়ে দুই পক্ষের ভিন্ন বক্তব্য পাওয়া গেছে।
ধীতপুর বড়বাড়ি এলাকার মোহাম্মদ কাজল বলেন, বরযাত্রীর গাড়ির কারণে বাজারে যানজট সৃষ্টি হয়। পরে একটি অটোরিকশার চালকের সঙ্গে বরপক্ষের কথা-কাটাকাটি হলে তাদের লোকজন ঝগড়া থামাতে গেলে মারামারি বাধে। এতে তাদের পক্ষের ১৫/১৬ জন আহত হয়েছেন।
অন্যদিকে বরপক্ষের হেলাল উদ্দিন বলেন, কাজলের ভাই-ভাতিজারা বরযাত্রীর গাড়ি আটকে মিষ্টির টাকা দাবি করেছিলেন। এ নিয়েই প্রথমে বাগ্বিতণ্ডা, পরে সংঘর্ষ হয়। তাদের পক্ষের অন্তত ৩৫ জন আহত হয়েছেন।
করিমগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. সোহেব খান বলেন, খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। বর্তমানে পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে। এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত কোনো পক্ষ লিখিত অভিযোগ দেয়নি। অভিযোগ পেলে তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
একদিকে বাজারে পণ্যের অভাব অন্যদিকে বাড়তি দাম। বোতলজাত সয়াবিন তেলের দাম লিটারে ৫ টাকা বাড়িয়ে ২০৪ টাকা নির্ধারণের পরও রাজধানীর খুচরা বাজারে সংকট কাটেনি। অনেক দোকানে এক লিটারের বোতল মিলছে না; কোথাও আবার পুরোনো দামের তেলও নির্ধারিত মূল্যের চেয়ে বেশি দামে বিক্রির অভিযোগ রয়েছে। একই সঙ্গে ডিম, মুরগি, মাছ-মাংস, চিনি, আটা ও ময়দার চড়া দামে সংসারের হিসাব মেলাতে হিমশিম খাচ্ছেন নিম্ন ও মধ্যম আয়ের মানুষ।
শুক্রবার (৪ সেপ্টেম্বর) রাজধানীর রামপুরা, বাড্ডা, সেগুনবাগিচা, শান্তিনগর, কারওয়ান বাজার, মিরপুর, মহাখালী, খিলক্ষেত ও আশপাশের বাজারের চিত্রে এমন অস্বস্তিই উঠে এসেছে। বাজারে সবজির কিছুটা সরবরাহ বাড়ায় কয়েকটি পণ্যের দাম কমলেও নিত্যপণ্যের সামগ্রিক চাপে সেই স্বস্তি যেন চাপা পড়ে গেছে।
দাম বাড়ল, তবু তেলের দেখা নেই: ভোজ্যতেলের বাজারই এখন সবচেয়ে বেশি আলোচনায়। আন্তর্জাতিক বাজারে মূল্যবৃদ্ধি ও আমদানি ব্যয়ের কথা বিবেচনায় নিয়ে বোতলজাত সয়াবিন তেলের দাম লিটারে ১৯৯ টাকা থেকে বাড়িয়ে ২০৪ টাকা করা হয়েছে। খোলা সয়াবিন ও পাম তেলের দাম অবশ্য অপরিবর্তিত রাখা হয়েছে। কিন্তু নতুন দাম নির্ধারণের পরও সরবরাহ স্বাভাবিক হয়নি। রাজধানীর বিভিন্ন বাজারে অধিকাংশ দোকানে এক লিটারের বোতলজাত তেল পাওয়া যাচ্ছে না। দুই ও পাঁচ লিটারের বোতল তুলনামূলকভাবে মিললেও ছোট বোতলের সংকট বেশি।
ব্যবসায়ীদের ভাষ্য, প্রায় দুই সপ্তাহ ধরে চাহিদা অনুযায়ী তেল সরবরাহ করা হচ্ছে না। একাধিকবার অর্ডার দিয়েও অল্প পরিমাণ পণ্য পাওয়া যাচ্ছে। নতুন দামের তেল বাজারে পর্যাপ্ত না আসায় কোম্পানিগুলোও স্বাভাবিকভাবে অর্ডার নিচ্ছে না বলে অভিযোগ খুচরা ব্যবসায়ীদের।
ফলে ভোক্তার প্রশ্ন—দাম বাড়ানোর পর যদি পণ্যই না মেলে, তাহলে বাজার ব্যবস্থাপনায় সমস্যাটা কোথায়?
ডিম-মুরগিতে বাড়তি চাপ: নিম্ন ও মধ্যবিত্ত পরিবারের তুলনামূলক সাশ্রয়ী প্রোটিনের অন্যতম উৎস ডিম। কিন্তু এই পণ্যের দামও দীর্ঘদিন ধরে চড়া। রাজধানীর বাজারে প্রতি ডজন ডিম প্রায় ১৫০ টাকা, অর্থাৎ হালি ৫০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। কয়েক সপ্তাহ ধরেই এই দামে ডিম বিক্রির খবর পাওয়া যাচ্ছে।
মুরগির বাজারেও স্বস্তি নেই। ব্রয়লার মুরগি বাজারভেদে ১৮০ থেকে ২০০ টাকা কেজি পর্যন্ত বিক্রি হচ্ছে। কোথাও ফের কেজিতে ২০০ টাকার ঘরে উঠেছে দাম। সোনালি মুরগির দাম ৩০০ থেকে ৩৪০ টাকা পর্যন্ত। ফলে কম দামে পরিবারের আমিষের চাহিদা মেটানোর সুযোগও সীমিত হয়ে পড়ছে।
মাছ-মাংসও নাগালের বাইরে: মাছের বাজারেও বড় ধরনের পরিবর্তন নেই। তেলাপিয়া ২২০-২৬০ টাকা, পাঙাশ ২৩০–২৫০ টাকা এবং রুই-কাতল ৩৫০–৪২০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। চিংড়ির দাম আকার ও মানভেদে ১ হাজার থেকে ১ হাজার ৩০০ টাকা পর্যন্ত। ইলিশের দামও আকারভেদে ২ হাজার টাকার ওপরে উঠেছে।
মাংসের বাজারে গরুর মাংস ৭৫০–৮৫০ টাকা এবং খাসির মাংস ১ হাজার ১৫০–১ হাজার ৩০০ টাকা কেজি পর্যন্ত বিক্রি হচ্ছে। ফলে সীমিত আয়ের মানুষের খাবারের তালিকা থেকে মাছ-মাংস বাদ পড়ার ঝুঁকি বাড়ছে।
সবজিতে কিছুটা স্বস্তি, পুরো বাজারে নয়: সবজির বাজারে অবশ্য কিছুটা স্বস্তির খবর আছে। সরবরাহ বাড়ায় পটল, ঢেঁড়স, চিচিঙ্গা, ঝিঙে, পেঁপে, শসাসহ কয়েকটি সবজির দাম কমেছে। পেঁপে ৩০–৪০ টাকা, পটল ও ঢেঁড়স ৫০–৬০ টাকা, শসা ৫০–৬০ টাকা, ঝিঙে ৭০–৮০ টাকা এবং করলা প্রায় ৭০–৮০ টাকা কেজি দরে পাওয়া যাচ্ছে।
তবে সবজির বাজার পুরোপুরি স্বস্তিদায়ক নয়। বেগুন ৮০–১২০ টাকা, টমেটো ১০০–১৫০ টাকা এবং শিম ১৮০–২০০ টাকা পর্যন্ত বিক্রি হচ্ছে। কাঁচামরিচও মানভেদে ৮০–১৬০ টাকা কেজি। অর্থাৎ কয়েকটি সবজির দাম কমলেও বাজারের বড় অংশে এখনো বাড়তি চাপ রয়েছে।
চিনি-আটা-ময়দাতেও অস্বস্তি: শুধু কাঁচাবাজার নয়, মুদি পণ্যের বাজারেও চাপ বাড়ছে। প্যাকেটজাত আটা প্রতি কেজি প্রায় ৬৫ টাকা, যা কয়েক সপ্তাহ আগের তুলনায় বেশি। খোলা ময়দা ৬৫–৭০ টাকা এবং প্যাকেটজাত ময়দা ৭০–৭৫ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে।
চিনির দামও বেড়েছে। খুচরা বাজারে প্রতি কেজি চিনি ১২০–১২৫ টাকা। ব্যবসায়ীদের ভাষ্য, পাইকারি পর্যায়ে দাম বাড়ার প্রভাব খুচরা বাজারে পড়ছে। কিছু বাজারে সরবরাহ কমার কথাও জানিয়েছেন ব্যবসায়ীরা।
ক্রেতার বাজেটেই সবচেয়ে বড় ধাক্কা: বাজারে এসে ক্রেতাদের অনেকেই বলেন, ‘আয় না বাড়লেও নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের পেছনে ব্যয় বাড়ছে। চাল, ডাল, তেল, ডিম, সবজি—সব মিলিয়ে মাসের বাজেট ধরে রাখা কঠিন হয়ে পড়ছে। মাছ-মাংসের দাম বাড়তি থাকায় অনেক পরিবার এসব পণ্য কেনার পরিমাণ কমিয়ে দিচ্ছে।’
অন্যদিকে খুচরা ব্যবসায়ীদের দাবি, পাইকারি বাজার থেকেই বেশি দামে পণ্য কিনতে হচ্ছে। এর সঙ্গে পরিবহন ও অন্যান্য খরচ যোগ হওয়ায় কম দামে বিক্রি করা সম্ভব হচ্ছে না। আবার দাম বেশি হওয়ায় ক্রেতারা কেনাকাটা কমিয়ে দেওয়ায় বিক্রেতাদেরও বিক্রি ও মুনাফা কমছে।
সংকটের মূল জায়গায় নজরদারি: বাজারের এই মিশ্র চিত্র বলছে, শুধু কোনো একটি পণ্যের দাম কমলেই স্বস্তি ফিরবে না। কোথাও সরবরাহ সংকট, কোথাও আমদানি ব্যয়, কোথাও পাইকারি-খুচরা দামের ব্যবধান—সব মিলিয়ে বাজারে এক ধরনের চাপ তৈরি হয়েছে।
বিশেষ করে সয়াবিন তেলের ক্ষেত্রে দাম সমন্বয়ের পাশাপাশি সরবরাহ নিশ্চিত করা জরুরি। একই সঙ্গে পাইকারি থেকে খুচরা পর্যায়ে মূল্যতালিকা কার্যকর করা, অস্বাভাবিক মুনাফা ও কৃত্রিম সংকটের অভিযোগ তদন্ত করা এবং নিয়মিত বাজার তদারকি বাড়ানোর দাবি ক্রেতাদের। কারণ বাজারে এখন শুধু প্রশ্ন ‘দাম কত?’ নয়—আরও বড় প্রশ্ন, ‘দাম দিয়েও পণ্যটি পাওয়া যাবে তো?’
ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে যানজট কমাতে রাজধানীর যাত্রাবাড়ী থেকে চট্টগ্রাম সিটি গেট পর্যন্ত এক্সপ্রেসওয়ে নির্মাণ করা হবে বলে জানিয়েছেন অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী। শুক্রবার (৪ সেপ্টেম্বর) দুপুরে সীতাকুণ্ড নাগরিক সমাজের একটি প্রতিনিধিদলের সঙ্গে মন্ত্রীর মেহেদীবাগস্থ বাসভবনে সাক্ষাৎ ও মতবিনিময়কালে তিনি এ পরিকল্পনার কথা জানান।
সাক্ষাৎকালে সীতাকুণ্ড নাগরিক সমাজের নেতারা ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের যানজট নিরসনে বিকল্প ব্যবস্থা হিসেবে সীতাকুণ্ডের সমুদ্র উপকূলীয় বেড়িবাঁধের উপর মেরিন ড্রাইভ সড়ক নির্মাণের প্রস্তাব দেন। একই সঙ্গে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের বিশেষ করে সীতাকুণ্ড অংশে বড় দারোগারহাট থেকে ফৌজদারহাট পর্যন্ত এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে নির্মাণের দাবিও তুলে ধরেন তারা।
জবাবে অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী সরকারের পক্ষ থেকে যাত্রাবাড়ী থেকে চট্টগ্রাম সিটি গেট পর্যন্ত এক্সপ্রেসওয়ে নির্মাণের পরিকল্পনার কথা তুলে ধরেন।
পরে সীতাকুণ্ড নাগরিক সমাজের নেতারা তাদের বিভিন্ন দাবি-দাওয়া সংবলিত একটি স্মারকলিপি মন্ত্রীর কাছে পেশ করেন। এতে চট্টগ্রাম ওয়াসার পানির লাইন সীতাকুণ্ড পর্যন্ত সম্প্রসারণসহ সীতাকুণ্ডের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সমস্যা ও দাবির বিষয়ে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণে অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরীর সহযোগিতা কামনা করা হয়।
কম্বোডিয়ার বিভিন্ন প্রতারণামূলক সাইবার স্ক্যাম কম্পাউন্ডে আটক থাকা ৩৮ বাংলাদেশি দেশে ফিরেছেন। গত বৃহস্পতিবার (৩ সেপ্টেম্বর) দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে থাই এয়ারওয়েজের ‘টিজি-৩২১’ ফ্লাইটে তারা ঢাকায় পৌঁছান।
দেশে ফেরা এসব বাংলাদেশির মধ্যে পাঁচজন মানবপাচারকারীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া ও মামলা করার ইচ্ছা প্রকাশ করেছেন। তাদের অভিযোগ, কম্বোডিয়ায় অবস্থানরত সক্রিয় একটি বাংলাদেশি পাচারকারী চক্র দেশে ফেরার পথে তাদের ভয়ভীতি দেখিয়েছে, বিভিন্নভাবে চাপ প্রয়োগ করেছে এবং দেশে ফেরার প্রক্রিয়া বাধাগ্রস্ত করার চেষ্টা করেছে।
ফেরত আসা ভুক্তভোগীরা জানান, চাকরির প্রলোভনসহ বিভিন্নভাবে তাদের কম্বোডিয়ায় নেওয়া হয়। সেখানে পৌঁছার পর তাদের বিভিন্ন সাইবার স্ক্যাম কম্পাউন্ডে জোরপূর্বক আটকে রাখা হতো। পরে অনৈতিক ও প্রতারণামূলক সাইবার কর্মকাণ্ডে যুক্ত হতে বাধ্য করা হতো। এতে রাজি না হলে শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন করা হয়েছে বলে অভিযোগ করেন তারা।
ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, কম্বোডিয়ায় অবস্থানরত একশ্রেণির বাংলাদেশি পাচারকারী দেশে ফেরার উদ্যোগ নেওয়ার পর তাদের ওপর চাপ সৃষ্টি করে। এমনকি দেশে ফেরার প্রক্রিয়া ঠেকাতে ভয়ভীতি প্রদর্শন ও নানা ধরনের হুমকি দেওয়া হয়।
এ কারণে দেশে ফিরে তারা সংশ্লিষ্ট পাচারকারীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন। পাঁচজন ভুক্তভোগী সরাসরি মামলা করার আগ্রহের কথাও জানিয়েছেন।
দেশে ফেরার পর সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, উদ্ধার হওয়া নাগরিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার পাশাপাশি তাদের প্রয়োজনীয় মানসিক পুনর্বাসন ও আইনি সহায়তা দেওয়া হবে।
একই সঙ্গে ভুক্তভোগীদের অভিযোগ যাচাই করে মানবপাচার ও সাইবার প্রতারণার সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের শনাক্ত করা হবে। অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
ভুক্তভোগীদের বর্ণনায় কম্বোডিয়ায় বাংলাদেশিদের একটি অংশকে জোরপূর্বক সাইবার প্রতারণায় যুক্ত করার অভিযোগ সামনে এসেছে। তাদের দেশে ফেরার পথে পাচারকারীদের বাধা ও হুমকির অভিযোগ বিষয়টিকে আরও গুরুতর করে তুলেছে।
সংশ্লিষ্টদের মতে, শুধু ভুক্তভোগীদের উদ্ধার ও দেশে ফেরানোই নয়, তাদের কম্বোডিয়ায় পাচারের সঙ্গে জড়িত দেশি-বিদেশি চক্র শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনা জরুরি।
প্রশাসনিক দক্ষতা বৃদ্ধি, আইনগত বিষয়াদি সঠিক পরিচালন এবং সরকারি বিধিবিধান পালনে কর্মকর্তাদের সচেতনতা সৃষ্টির লক্ষ্যে বাংলাদেশ চিনি ও খাদ্য শিল্প করপোরেশন (বিএসএফআইসি)-এর উদ্যোগে ‘মামলা পরিচালনা, বার্ষিক গোপনীয় অনুবেদন (এসিআর) লিখন, সরকারি কর্মচারী আচরণ বিধিমালা, সরকারি কর্মচারী (শৃঙ্খলা ও আপিল) বিধিমালা ২০১৮ (সংশোধিত) এবং অফিস ব্যবস্থাপনা’ শীর্ষক প্রশিক্ষণ কর্মশালার আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করা হয়েছে।
গত বৃহস্পতিবার (৩ সেপ্টেম্বর) বিএসএফআইসি-এর চিনিশিল্প ভবনের নবম তলায় আয়োজিত এই প্রশিক্ষণ কর্মশালাটি শুভ উদ্বোধন করেন অনুষ্ঠানের মুখ্য আলোচক ও বিএসএফআইসির সম্মানিত চেয়ারম্যান মো. শামছুজ্জামান সুরুজ।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে বিএসএফআইসির চেয়ারম্যান মো. শামছুজ্জামান সুরুজ বলেন, ‘প্রশাসনিক কাজে গতিশীলতা ও স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে প্রতিটি সরকারি ও সংবিধিবদ্ধ সংস্থার কর্মকর্তাদের জন্য সার্ভিস রুলস, শৃঙ্খলা বিধি ও অফিস ব্যবস্থাপনাসংক্রান্ত জ্ঞান অত্যন্ত জরুরি। বিশেষ করে সঠিক নিয়মে মামলা পরিচালনা ও বার্ষিক গোপনীয় অনুবেদন (এসিআর) মূল্যায়ন প্রশাসনিক শৃঙ্খলা ও স্বচ্ছতা বজায় রাখতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।’
তিনি আশা প্রকাশ করেন, এই প্রশিক্ষণের মাধ্যমে অর্জিত জ্ঞান কর্মকর্তারা তাদের কর্মক্ষেত্রে যথাযথভাবে প্রয়োগ করতে সক্ষম হবেন।
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন যুগ্মসচিব ও সংস্থার পরিচালক (ইক্ষু উন্নয়ন ও গবেষণা) ড. আব্দুল আলীম খান, যুগ্মসচিব ও সংস্থার পরিচালক (উৎপাদন ও প্রকৌশল) মোহাম্মদ সাঈদ-উর-রহমান, যুগ্মসচিব ও সংস্থার পরিচালক (অর্থ) তাহমিনা আক্তার, পরিচালক (বাণিজ্যিক) আজহারুল ইসলাম, সংস্থার সচিব মোহাম্মদ মুজিবুর রহমান এবং বিভিন্ন বিভাগীয় প্রধানসহ বিএসএফআইসির ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা।
দিনব্যাপী অনুষ্ঠিত এই প্রশিক্ষণ কর্মশালায় বিএসএফআইসির মোট ৩০ জন কর্মকর্তা অংশগ্রহণ করেন। কর্মশালায় উপস্থিত বিশেষজ্ঞ প্রশিক্ষকরা প্রশিক্ষণার্থীদের সরকারি কর্মচারী আচরণ বিধিমালা, সরকারি কর্মচারী (শৃঙ্খলা ও আপিল) বিধিমালা ২০১৮ (সংশোধিত)-এর হালনাগাদ প্রয়োগ, সরকারি নথি ব্যবস্থাপনা ও কেস হ্যান্ডলিংয়ের নানা গুরুত্বপূর্ণ ও ব্যবহারিক দিক তুলে ধরেন।
চট্টগ্রামের মীরসরাইয়ে পেশাগত দায়িত্ব পালনকালে গত ৫ জুলাই এক মর্মান্তিক সড়ক দুর্ঘটনায় প্রাণ হারান মীরসরাই উপজেলা আনসার ও ভিডিপি কর্মকর্তা মোহাম্মদ আলাউদ্দিন। তার এই অকালমৃত্যুতে এক মানবিক উদ্যোগ নিয়ে পাশে দাঁড়িয়েছে বাংলাদেশ আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনীর মহাপরিচালক (ডিজি) মেজর জেনারেল আবদুল মোতালেব সাজ্জাদ মাহমুদ। তৎকালীন সময়ে দাফন ও অ্যাম্বুলেন্স ভাড়া বাবদ তাৎক্ষণিক ৭৫,০০০ টাকা দেওয়ার পর এবার তার ব্যাংকের ঋণের বোঝা শোধ করা হলো।
গত বৃহস্পতিবার (৩ সেপ্টেম্বর) বাংলাদেশ আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনীর সদরদপ্তরে বাহিনীর মহাপরিচালক মহোদয় বাহিনীর ওয়েলফেয়ার শাখার পক্ষ থেকে নিহত উপজেলা কর্মকর্তার স্ত্রী ফারজানা ইয়াসমিন পলির হাতে ২,৫৮,০৭৪ টাকার আর্থিক সহায়তার একটি চেক তুলে দেন। এই অর্থ দিয়ে প্রয়াত মোহাম্মদ আলাউদ্দিনের আনসার-ভিডিপি উন্নয়ন ব্যাংকের বকেয়া থাকা ঋণ পরিশোধ করা হবে।
এ সময় উপস্থিত ছিলেন নিহতের বাবা ও বাহিনীর ওয়েলফেয়ার শাখার পরিচালক এনামুল খাঁন। মহাপরিচালক মহোদয় শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনা প্রকাশ করেন এবং তাদের আশ্বস্ত করে বলেন, ‘বিধি মোতাবেক প্রাপ্য সব সুবিধা দ্রুততম সময়ে নিশ্চিত করাসহ ভবিষ্যতেও বাহিনীর পক্ষ থেকে তাদের সবধরনের সহযোগিতা দেওয়া হবে।’
জনগণের কাছে সুপেয় ও নিরাপদ পানি পৌঁছানো সরকারের সেবা নয়, দায়িত্ব উল্লেখ করে অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেছেন, সরকারের একার পক্ষে সব সময় সব জনগণের পানির চাহিদা পূরণ করা কঠিন। তাই বেসরকারি প্রতিষ্ঠানকে এসব কাজে নিয়োজিত করা হয়।
তিনি বলেন, সরকার ও বেসরকারি প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে সহযোগিতামূলক মনোভাব গড়ে ওঠে, ফলে জনচাহিদা পূরণ ও উন্নয়নকাজ ত্বরান্বিত হয়।
শুক্রবার (৪ সেপ্টেম্বর) চট্টগ্রামের হোটেল রেডিসন ব্লুতে চট্টগ্রাম ওয়াসা, ম্যাক্স ফাউন্ডেশন ও ম্যাক্স সোশ্যাল এন্টারপ্রাইজের মধ্যে সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষর (এমওইউ) অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
অনুষ্ঠানে জানানো হয়, চট্টগ্রাম নগরীর সুবিধাবঞ্চিত জনগোষ্ঠীর মধ্যে পানি সরবরাহ সেবার মান বাড়াতে একটি নতুন সরকারি-বেসরকারি অংশীদারিত্ব (পিপিপি) মডেল প্রতিষ্ঠায় চট্টগ্রাম ওয়াসার সঙ্গে যৌথভাবে কাজ করবে বেসরকারি সংস্থা ম্যাক্স ফাউন্ডেশন ও ম্যাক্স সোশ্যাল এন্টারপ্রাইজ।
এ লক্ষ্যে চট্টগ্রাম ওয়াসার পক্ষে ব্যবস্থাপনা পরিচালক প্রকৌশলী সেলিম মো. জানে আলম, ম্যাক্স ফাউন্ডেশন বাংলাদেশের কান্ট্রি ডিরেক্টর ড. এটিএম তরিকুল ইসলাম, ম্যাক্স সোশ্যাল এন্টারপ্রাইজের এমডি ইয়ামিন ফারুক এক সমঝোতা স্মারকে সই করেন। এ উদ্যোগে আর্থিক ও কারিগরি সহায়তা প্রদান করছে নেদারল্যান্ডস দূতাবাস।
অনুষ্ঠানে অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেন, চট্টগ্রামের খাল ও জলপথকে শুধু পানি নিষ্কাশনের কাজে নয়, পণ্য পরিবহনের পথ হিসেবেও ব্যবহারের পরিকল্পনা করছে সরকার। নগরীর জলাবদ্ধতা নিরসন, ড্রেনেজ ব্যবস্থার উন্নয়ন ও বিশুদ্ধ পানি সরবরাহের পাশাপাশি জলপথের সম্ভাবনা কাজে লাগাতে নানা উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। এ উদ্যোগকে পাইলট প্রকল্প হিসেবে নেওয়া হয়েছে। প্রকল্প বাস্তবায়নে সরকারি অর্থের পাশাপাশি বেসরকারি খাত ও এনজিওগুলোর অংশগ্রহণ নিশ্চিত করা হচ্ছে।
অনুষ্ঠানে নেদারল্যান্ড দূতাবাসের ডেপুটি হেড অব মিশন এবং বাণিজ্য ও উন্নয়ন বিভাগের প্রধান ইয়ান ভ্যান ডার লিন্ডেন এবং ওয়াসাসহ সরকারি কয়েকটি সংস্থার ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
প্রকল্প সংশ্লিষ্টরা জানান, তিন বছর মেয়াদি সমঝোতা স্মারকের আওতায় তিনটি পক্ষ যৌথভাবে চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন এলাকার জন্য উদ্ভাবনী পানি সরবরাহ মডেল অনুসন্ধান ও পরীক্ষা করবে। নগরীর ঘনবসতিপূর্ণ ৪০ ও ৪১ নম্বর ওয়ার্ডকে এ কাজের পাইলটিং এলাকা হিসেবে ধরা হয়েছে। এ দুটি ওয়ার্ড অর্থমন্ত্রীর সংসদীয় এলাকার অধিভুক্ত। এ দুই ওয়ার্ডে বর্তমানে ওয়াসার পানি সরবরাহের পরিমাণ চাহিদার ২০ থেকে ৩০ শতাংশ।