চাঁদপুরের শাহরাস্তি উপজেলায় বসতঘরের আগুনে পুড়ে মারা গেছে সোহান (১০) নামে শারীরিক প্রতিবন্ধী এক শিশু।
শুক্রবার বিকেলে উপজেলার আলীপুর দক্ষিণ পাড়ার বেপারীতে দিনমজুর রবিউলের বসতঘরে এ আগুন লাগে।
খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিস আসার আগেই এলাকাবাসী আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে। তবে তার আগে ভস্মীভূত হয়ে যায় ঘরটি। পুড়ে অঙ্গার হয়ে যায় শারীরিক প্রতিবন্ধী সোহান।
দিনমজুর রবিউল আলম জানান, তার তিন ছেলের মধ্যে সোহান ছিল সবার ছোট। পরিবারের সবাই দাওয়াত খেতে যাওয়ায় ঘরে একা ছিল সোহান। আগুনে তার সব শেষ হয়ে গেল।
শাহরাস্তি ফায়ার সার্ভিসের কর্মকর্তা আলী আহমেদ জানান, প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে বৈদ্যুতিক শর্ট সার্কিটে অগ্নিকাণ্ড ঘটেছে।
চলতি বোরো মৌসুমে হাওরাঞ্চল থেকে আসা নতুন ধানের নায্য মূল্য পাচ্ছেন কৃষকরা। ভৈরবের মোকামে আধা পচা ভেজা ধান নিয়ে বিপাকে আড়ৎদার ও ধানের বেপারিরা।
ভৈরব বাজার মেঘনা নদীর পাড়ে সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, হাওর থেকে আসা নৌকা বোঝাই করা নতুন ধান শ্রমিকরা মাথায় করে নামাচ্ছেন। মোকামে পর্যাপ্ত ধানের ক্রেতা না থাকায় কয়েক হাজার ধানের বস্তা স্তুপে স্তুপে সাজিয়ে রাখা হয়েছে।
কয়েকদিনের টানা বৃষ্টি ও উজানের ঢলে তলিয়ে গেছে হাওরাঞ্চলে প্রায় ১৪ হাজার হেক্টর ধানের জমি। এসব ধানের জমি থেকে কৃষকরা ধান কাটার পর বিক্রির জন্য বন্দরনগরী ভৈরব বাজারে নিয়ে আসছে। বৈশাখের শুরুতেই নতুন ধানের দাম অর্ধেক কমে গেছে। দাম কমের কারণে কৃষক ও ধানের বেপারিরা হতাশ।
ভৈরবে প্রতিমণ নতুন ধান বিক্রি হয়েছে ৭৮০/৮০০ টাকায়। অথচ একমাস আগে এখানে প্রতিমণ পুরাতন ধান বিক্রি হয়েছে ১ হাজার ৪০০ টাকা। প্রতিবছর নতুন ধান বাজারে আমদানি হলে দাম কিছুটা কমে যায়। কিন্তু এবার অর্ধেক দাম কমে গেছে বলে জানান স্থানীয় আড়ৎদাররা।
জানা যায়, প্রতি বছর বোরো মৌসুমে হাওরে ধান কাটা শুরু হলে এসব ধান ভৈরব বাজারে আমদানী হয়। তবে গতবারের তুলনায় ভৈরবের আড়ৎতে ধানের আমদানি কমেছে। হাওরের কিশোরগঞ্জ, নেত্রকোনা, সিলেট, মৌলভীবাজার, হবিগঞ্জ, সুনামগঞ্জ জেলার ৩০টি উপজেলা এলাকা থেকে ট্রলারযোগে কৃষকরা ধান নিয়ে ভৈরবের আড়ৎগুলিতে আমদানী করে থাকে। আড়ৎদারা কৃষকের ধান ক্রেতাদের নিকট বিক্রি করে। বিগত বছর থেকে এবার ধানের দাম বেশী কমে গেছে বলে জানায় কৃষকরা। গত বছর বৈশাখের শুরুতে প্রতিমণ ধান ৯০০/১ হাজার টাকায় বিক্রি হয়েছে। কিস্ত এবার শুরুতেই ৭৮০/৮০০ টাকা। নতুন ধানের দাম এত কম হওয়ায় কৃষকদের মাথায় হাত। কৃষকরা বলছে এত কম দাম থাকায় ধানের উৎপাদন ব্যয় উঠে আসবে না।
অষ্টগ্রামের কদমচাইল এলাকা থেকে নৌকা বোঝাই করে ধান বিক্রির জন্য ভৈরব মোকামে আসছেন মনির মিয়া। তিনি বলেন, আমাদের নৌকায় দুই হাজার বস্তা নেয়া যায়। কিন্তু উজানের পানিতে নষ্ট হয়ে যাওয়ায় ধানের আমদানি কম। মাত্র এক হাজার বস্তা ধান নিয়ে ভৈরব মোকামে বিক্রি করতে আসছেন। কিন্তু বাজারে ধানের নায্য মূল্য পাচ্ছি না।
নেত্রকোনার খালিয়াজুরি উপজেলার কৃষক আবদুর রশিদ বলেন, আমি ধান কাটার পর ১০০ মণ ধান ট্রলারে ভৈরবে আমদানী করার পর ৭৫০ টাকা মণ দরে বিক্রি করেছি। এত কম দামে ধান বিক্রিতে উৎপাদন খরচও উঠবেনা। একই কথা বলেন সুনামগঞ্জ থেকে আসা কৃষক রফিক মিয়া। তিনি ২০০ মণ ধান আমদানী করে ৭৬০ টাকা মণ দরে বিক্রি করে এখন হতাশ।
ভৈরব বাজারের আড়ৎদার আলী হোসেন বলেন, হাওরে উজানের পানিতে ধানের জমি তলিয়ে যাওয়ায় মোকামে ধানের আমদানি কম। তবে সেসব ধান মোকামে আমদানী হচ্ছে তা বেশি ভাগই আধাপচা ও ভেজা ধান। কৃষকরা ধান কাটার পর আধা কাচা ধান নিয়ে আসে। মিলাররা কাচা ধান চাল করলে পরতা হয়না। এই কারণে ধানের দাম কম। তবে একমাস আগে পুরাতন ধানের দাম ১৪০০ টাকা মণ ছিল স্বীকার করেন তিনি। ভৈরবে প্রতিদিন ট্রলারে হাজার হাজার মণ ধান হাওর থেকে আমদানী হচ্ছে বলে তিনি জানান। এসব ধান আশুগঞ্জ, মিরকাদিম, নর্থবেঙ্গলসহ স্থানীয় রাইস মিল মালিকরা ক্রয় করছে।
ভৈরব চেম্বারের সভাপতি জাহিদুল হক জাভেদ বলেন, ধানের দাম বেশী কমে গেছে। তবে সরকার ধান ক্রয় শুরু করছে এবং শুকনা ধান আমদানী হলে কয়েকদিনের মধ্য দাম আরও বাড়তে পারে। তিনি আরো বলেন এবার শুরুতেই ধানের দাম কম, তাই কৃষকরা হতাশ হয়ে পড়েছে।
এবিষয়ে ভৈরব উপজেলা কৃষি অফিসার আকলিমা বেগম জানান, হাওরাঞ্চলের কৃষকরা ধান কেটে কাচা ধান বিক্রি করতে ভৈরবে নিয়ে আসে। তবে এবছর টানা বৃষ্টি ও উজানের পানিতে ধানের জমি নষ্ট হয়ে যাওয়ায় আধা পচা, আধা কাচা ধান বিক্রির জন্য নিয়ে আসছেন। তাই কৃষক দাম কম পাচ্ছে। শুকনা ধান হলে দাম আরও বেশী পেত। তবে একমণ ধান উৎপাদন করতে ৫০০/৬০০ টাকা কৃষকের খরচ হয়। সরকারি ভাবে কৃষকদের নায্য মূল্যে ধান কেনা শুরু হয়েছে সেখানে ধানের নায্য মূল্যে ধান বিক্রি করতে পারবেন। কাজেই কৃষকদের হতাশ হওয়ার কিছু নেই বলে জানান তিনি।
চুয়াডাঙ্গা দর্শনা থানাধীন বেগমপুর ইউনিয়ন পরিষদে দীর্ঘদিন ধরে গড়ে ওঠা ভুয়া জন্মনিবন্ধন তৈরির একটি সংঘবদ্ধ সিন্ডিকেটের চাঞ্চল্যকর তথ্য উদঘাটন করেছে প্রশাসন। অভিযানে ইউনিয়ন পরিষদের প্রশাসনিক কর্মকর্তা ও উদ্যোক্তাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তাদের বিরুদ্ধে সাইবার অপরাধের একাধিক ধারায় মামলা দায়ের হয়েছে।
তদন্ত সূত্রে জানা গেছে, বেগমপুর ইউনিয়ন পরিষদের প্রশাসনিক কর্মকর্তা মোঃ রায়হান মাহমুদ (৩৫) ও উদ্যোক্তা মোঃ আরিফুল ইসলাম (৩০) দীর্ঘদিন ধরে অনিয়মের মাধ্যমে দেশের বিভিন্ন জেলার নাগরিকদের ভুয়া ঠিকানায় জন্মনিবন্ধন সনদ তৈরি করে আসছিলেন। প্রয়োজনীয় কাগজপত্র ছাড়াই মৌলভীবাজার, কুমিল্লা, কক্সবাজারসহ বিভিন্ন জেলার লোকজনকে বেগমপুর ইউনিয়নের বাসিন্দা দেখিয়ে ডিজিটাল জন্মসনদ দেওয়া হতো।
ঘটনার সূত্রপাত ঘটে ৭ মে ২০২৬ তারিখে, যখন এক অজ্ঞাতনামা ব্যক্তি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার অফিসিয়াল নম্বরে অভিযোগ করেন। অভিযোগের ভিত্তিতে দ্রুত তদন্তে নামে উপজেলা প্রশাসন এবং সেখানেই বেরিয়ে আসে চাঞ্চল্যকর সব তথ্য।
সরেজমিন তদন্তে সহকারী কমিশনার (ভূমি) নিশ্চিত হন, যাদের নামে জন্মনিবন্ধন করা হয়েছে তারা কেউই বেগমপুর ইউনিয়নের বাসিন্দা নন, এমনকি স্থানীয়রাও তাদের চিনেন না। আরও জানা যায়, ইউনিয়ন পরিষদের নির্ধারিত নিবন্ধন আইডি অপব্যবহার করে উদ্যোক্তা আরিফুল ইসলাম নিজেই জন্মনিবন্ধন কার্যক্রম পরিচালনা করতেন, যা সম্পূর্ণ বেআইনি।
জিজ্ঞাসাবাদে অভিযুক্তরা দীর্ঘদিন ধরে অসদুপায়ে জন্মনিবন্ধন তৈরির বিষয়টি স্বীকার করেছেন বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে। প্রশাসনের ধারণা, এই চক্রের মাধ্যমে বিপুল সংখ্যক ভুয়া জন্মসনদ তৈরি হয়েছে, যা জাতীয় নিরাপত্তার জন্যও বড় ধরনের ঝুকি তৈরি করতে পারে।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার নির্দেশে সহকারী প্রশাসনিক কর্মকর্তা মোঃ আশরাফুল ইসলাম বাদী হয়ে দর্শনা থানায় এজাহার দায়ের করেছেন। মামলায় সাইবার সুরক্ষা অধ্যাদেশ, ২০২৫-এর একাধিক ধারায় অভিযোগ আনা হয়েছে।
এ বিষয়ে দর্শনা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি তদন্ত) হিমেল রানা বলেন, ইউএনও মহোদয়ের তদন্ত শেষে মামলা হয়েছে। গ্রেপ্তারকৃতরা বর্তমানে থানা হেফাজতে রয়েছে।
এ ঘটনায় এলাকায় তীব্র চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। সচেতন মহল বলছে, জন্মনিবন্ধনের মতো গুরুত্বপূর্ণ রাষ্ট্রীয় সেবায় এমন জালিয়াতি শুধু প্রশাসনিক দুর্বলতাই নয়, বরং ডিজিটাল নিরাপত্তার জন্য বড় হুমকি।
জেলা প্রশাসক লুৎফুন নাহার ইতোমধ্যে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশ দিয়েছেন। প্রশাসন জানিয়েছে, এই জালিয়াতি চক্রের সঙ্গে জড়িত অন্যদের শনাক্তে তদন্ত অব্যাহত রয়েছে এবং দ্রুতই পুরো নেটওয়ার্ককে আইনের আওতায় আনা হবে।
টাঙ্গাইলের বাসাইল উপজেলায় চার কোটি ৫৫ লাখ ৯৪ হাজার ৭১৮ টাকা ব্যয়ে নির্মিত সেতু উদ্বোধনের আগেই সংযোগ সড়কে ফাটল দেখা দিয়েছে।
সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়,বাসাইল উপজেলার কাঞ্চনপুর ইউনিয়নের সৈদামপুর বাজারে সেতু উদ্বোধনের আগেই সংযোগ সড়কে ফাটলের ঘটনা ঘটেছে।বৃষ্টির সঙ্গে পাল্লা দিয়ে বাড়ছে ফাটলের মাত্রাও।আরও কয়েকদিন যদি বৃষ্টিপাত হয় তাহলে সেতুর সংযোগ সড়ক ধসে পড়বে বলে জানিয়েছেন স্থানীয়রা।
বাসাইল উপজেলা (এলজিইডি) সূত্রে জানা যায়, ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান বাছেদ প্রকৌশলী বাসাইল উপজেলার সৈদামপুর বাজার-কুরাতলী ভায়া প্রাইমারী স্কুল সড়কে প্রায় ৭০ মিটার দৈর্ঘ্য আরসিসি গার্ডার ব্রীজ নির্মাণের দায়িত্বে রয়েছে।৭০ মিটার দৈর্ঘ্য এই সেতু বিগত ২০২১ সালের ১৩ এপ্রিল নির্মাণ কাজ শুরু হয়।প্রকল্পের চুক্তি অনুযায়ী সেতুটির নির্মান কাজ শেষ হওয়ার কথা ছিল ২০২২ সালের ১২ এপ্রিল।পরে সেতুর নির্মাণ কাজের মেয়াদ বাড়ানো হয়েছে।
স্থানীয় বাসিন্দা লুৎফর রহমান বলেন,এই রাস্তায় যখন মাটি ফেলা হয় তখন তেমন পেটানো হয় নাই।রোলার দিয়ে ভালো করে পেটানো হলে ফাটল ধরতো না।হালকা পেটানো দিয়েই কার্পেটিং করা হয়েছে।যার কারণেই ফাটল ধরেছে।
স্থানীয় আরেক বাসিন্দা শ্যামল সূত্রধর বলেন,সেতুর সংযোগ সড়কে বৃষ্টির ফলে ফাটল দেখা দিয়েছে।সড়কে ভালো মতো মাটি পেটানো হয়নি। ভালোভাবে রাস্তার কাজটি করা উচিত ছিল।ভালো মতো মাটি পেটানো হলে এমনটা হতো না।
স্থানীয় বাসিন্দা ননী গোপাল সরকার বলেন,রাস্তার কাজ দেড় থেকে দুই মাসেই ফাটল ধরেছে।রাস্তা দিয়ে কি চলাচল করা যাবে আরও কয়েকদিন গেলে।যদি বৃষ্টি হয় এই রাস্তা দিয়ে চলাচল করা যাবে না।রাস্তা ধসে যাবে।যদি ভালোভাবে কাজ করতো এমনটা হতো না।
ঠিকাদার প্রতিষ্ঠান বাছেদ প্রকৌশলীর ম্যানেজার নুর নবী বলেন, আমাদের রাস্তার পাশে ব্লক রাখা ছিল। ব্রীজের সংযোগ সড়কে ব্লকের কাজ চলমান ছিল।অতিরিক্ত বৃষ্টিপাতের কারণে আমরা ব্লক নিয়ে যেতে পারিনি।বৃষ্টির কারণে ব্লকের কাজ শেষ করতে পারিনি।ব্রীজের সংযোগ রাস্তায় ঈদের আগে কার্পেটিং করা হয়।নতুন মাটিতে কার্পেটিং করা হয়েছে।ব্রীজের অতিরিক্ত বৃষ্টি ও বোঝাই ট্যাফিক গাড়ি রাস্তা দিয়ে চলাচল করায় রাস্তার কিছু অংশ ফাটল দেখা দিয়েছে।যেখান দিয়ে ফাটল দেখা দিয়েছে তা মেরামত করে দেওয়া হবে।
উপজেলা প্রকৌশলী কাজী ফাত্তাউর রহমান বলেন,বাসাইলের সৈদামপুরে ৭০ মিটার দৈর্ঘ্য ব্রীজের কাজ চলমান রয়েছে।ব্রীজের সংযোগ সড়কে কিছু অংশ ব্লক বসানো হয়নি।অতিরিক্ত বৃষ্টি ও ভাড়ি যানবাহন চলাচল করায় কিছু কিছু জায়গায় মাটি সরে গেছে।যার জন্য ব্রীজের সংযোগ সড়কে ভাঙন দেখা গেছে।এই ব্রীজের কাজ করছে বাছেদ প্রকৌশলী। তাদের সাথে কথা হয়েছে,তারা ভাঙন জায়গা ঠিক করে দিবে।ব্রীজের সংযোগ সড়কের কাজের এখন পর্যন্ত টাকা প্রদান করা হয়নি।যে জায়গা গুলোতে সমস্যা হয়েছে,তারা মেরামত করে দিবে।
মুন্সিগঞ্জের টঙ্গীবাড়ী উপজেলার আড়িয়ল ইউনিয়নে বিএনপির উদ্যোগে ফ্রি মেডিকেল ক্যাম্প ও বিনামূল্যে ওষুধ বিতরণ কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়েছে। শনিবার (৯ মে) সকাল ৯টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত আড়িয়ল ইউনিয়ন বিএনপি কার্যালয় প্রাঙ্গণে এ কর্মসূচির আয়োজন করা হয়।
আড়িয়ল ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মঞ্জু শেখ ফারুকের উদ্যোগে আয়োজিত এ মেডিকেল ক্যাম্পে বিভিন্ন রোগে আক্রান্ত ৫ শতাধিক মানুষকে বিনামূল্যে চিকিৎসাসেবা ও প্রয়োজনীয় ওষুধ প্রদান করা হয়।
ক্যাম্পে রোগীদের চিকিৎসাসেবা দেন মেডিসিন, শিশু, ডায়াবেটিস, নাক-কান-গলা, চর্ম, যৌন ও এলার্জি রোগ বিশেষজ্ঞ ডা. মোঃ টুটুল ঢালী এবং গাইনি ও মেডিসিন রোগ বিশেষজ্ঞ ও সনোলজিস্ট ডা. ফেরদৌসী আউয়াল।
অনুষ্ঠানের সার্বিক পরিচালনায় ছিলেন আড়িয়ল ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি আব্দুল আলি নান্টু মাদবর। এসময় স্থানীয় বিএনপি নেতাকর্মী, গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ ও বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ উপস্থিত ছিলেন।
আয়োজকরা জানান, সাধারণ মানুষের স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করতে ভবিষ্যতেও এ ধরনের মানবিক কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে।
লবণাক্ততা, জলাবদ্ধতা ও প্রতিকূল আবহাওয়ার মতো নানা চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করে খুলনার পাইকগাছায় আঙুর চাষে সফলতা অর্জন করেছেন এক তরুণ কৃষক। তার এই উদ্যোগ উপকূলীয় অঞ্চলে আধুনিক কৃষির নতুন সম্ভাবনার দ্বার উন্মোচন করেছে।
পাইকগাছা উপজেলার কপিলমুনি ইউনিয়নের বিরাশি গ্রামের বাসিন্দা ৩২ বছর বয়সী তৈয়েবুর রহমান অল্প জমিতে জিও ব্যাগ ব্যবহার করে আঙুর চাষ করে এলাকায় ব্যাপক সাড়া ফেলেছেন। দেশের উপকূলীয় অঞ্চলে এ ধরনের চাষাবাদকে ব্যতিক্রমী উদ্যোগ হিসেবে দেখা হচ্ছে।
মাত্র তিন শতক জমিতে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর পদ্ধতিতে আঙুর চাষ করে তিনি দেখিয়েছেন, সঠিক পরিকল্পনা ও প্রযুক্তি ব্যবহার করলে প্রতিকূল পরিবেশেও লাভজনক কৃষিকাজ সম্ভব।
তৈয়েবুর রহমান জানান, গত বছর পরীক্ষামূলকভাবে মাত্র দুটি আঙুর গাছ লাগিয়েছিলেন। আশাতীত ফলন পাওয়ায় প্রায় আট মাস আগে আরও ২০টি গাছ জিও ব্যাগে রোপণ করেন। বর্তমানে প্রতিটি গাছে এক কেজি বা তারও বেশি ওজনের আঙুরের থোকা ধরেছে, যা স্থানীয় কৃষক ও সাধারণ মানুষের আগ্রহের কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছে।
জিও ব্যাগ ব্যবহারের ফলে গাছের শিকড় সুরক্ষা, মাটি ও সার ব্যবস্থাপনা এবং সেচ নিয়ন্ত্রণ সহজ হওয়ায় লবণাক্ত মাটির ক্ষতিকর প্রভাব কমেছে। এছাড়া ট্রেলিস পদ্ধতিতে গাছ চাষ করায় পর্যাপ্ত আলো-বাতাস নিশ্চিত হচ্ছে, যা ফলনের জন্য ইতিবাচক ভূমিকা রাখছে।
তৈয়েবুর বলেন, কৃষির প্রতি আগ্রহ থেকেই তিনি নতুন কিছু করার চেষ্টা করেছেন। ইউটিউব ও বিভিন্ন কৃষিভিত্তিক ওয়েবসাইট থেকে আঙুর চাষের বিষয়ে জ্ঞান নিয়ে পরীক্ষামূলকভাবে কাজ শুরু করেন। শুরুতে উপকূলীয় এলাকায় আঙুর চাষ সম্ভব হবে কি না তা নিয়ে সংশয় থাকলেও পরে সফলতা পান।
তিনি আরও জানান, এর আগে স্কোয়াশ চাষে উপজেলা পর্যায়ে শ্রেষ্ঠ কৃষকের স্বীকৃতি পেয়েছিলেন। বর্তমানে বাণিজ্যিকভাবে আঙুর চাষ সম্প্রসারণের পরিকল্পনা করছেন। আগ্রহী কৃষকদের পরামর্শ ও সহযোগিতা দিতেও প্রস্তুত রয়েছেন তিনি।
এই উদ্যোগে গত বছর জমির ভাড়া, জিও ব্যাগ, শ্রমিক খরচসহ প্রায় ২৫ থেকে ২৭ হাজার টাকা ব্যয় হয়েছে বলে জানান তৈয়েবুর। প্রথম বছর হওয়ায় তিনি আঙুর বিক্রি না করে স্থানীয়দের স্বাদ গ্রহণের সুযোগ দিয়েছেন। আগামী মৌসুম থেকে বাণিজ্যিক উৎপাদনে যাওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে তার।
এইচএসসি পাস করার পর তৈয়েবুর নিজ গ্রামের দেড় বিঘা জমিতে “তৈয়েবা নার্সারি” নামে একটি নার্সারি গড়ে তোলেন। পাশাপাশি ধান ও মৌসুমি ফসলও চাষ করেন। একসময় আর্থিক কষ্টে পরিবার চালাতে হলেও বর্তমানে তিনি সফল উদ্যোক্তা হিসেবে এলাকায় পরিচিতি পেয়েছেন।
এদিকে উপজেলার হরিঢালী ইউনিয়নের কৃষক তৌহিদুল ইসলামও তিন জাতের আঙুর চাষে সফলতা পেয়েছেন। তার বাগানও স্থানীয় কৃষকদের আগ্রহের কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছে।
পাইকগাছা উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো. একরামুল হোসেন বলেন, উপকূলীয় অঞ্চলে আঙুর চাষ একটি সম্ভাবনাময় ও উদ্ভাবনী উদ্যোগ। আধুনিক প্রযুক্তি ও সঠিক ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে তৈয়েবুর রহমান ও তৌহিদুল ইসলাম প্রচলিত ধারণা বদলে দিয়েছেন।
তিনি জানান, কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর এ ধরনের কৃষকদের প্রয়োজনীয় কারিগরি সহায়তা দিচ্ছে এবং ভবিষ্যতে আরও কৃষককে এ ধরনের উদ্যোগে উৎসাহিত করা হবে।
মেহেরপুরে বালিবাহী স্যালোইঞ্জিন চালিত লাটাহাম্বার চাকায় পিষ্ট হয়ে সানজিদা আক্তার (৫) নামে এক শিশুর মৃত্যু হয়েছে। শনিবার সকাল সাড়ে ১০টার দিকে করমদী গ্রাম-এ এ দুর্ঘটনা ঘটে।
ঘটনার পর দুর্ঘটনায় জড়িত লাটাহাম্বা ও এর চালককে আটক করে পুলিশ হেফাজতে নেওয়া হয়েছে।
স্থানীয়রা জানান, গাংনী উপজেলার করমদী গ্রামের ভ্রাম্যমাণ ছিট-কাপড় ব্যবসায়ী সাজেদুল ইসলামের মেয়ে সানজিদা আক্তার সকালে মায়ের কাছ থেকে টাকা নিয়ে বাড়ির পাশের একটি দোকানে বিস্কুট কিনতে যাচ্ছিল। এসময় পিছন দিক থেকে দ্রুতগতির একটি বালিবাহী স্যালোইঞ্জিন চালিত লাটাহাম্বা তাকে চাপা দিলে ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়।
পরে স্থানীয়রা চালক ও গাড়িটি আটক করে পুলিশের কাছে হস্তান্তর করেন।
গাংনী থানা-র ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) উত্তম কুমার দাস জানান, খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়েছে। নিহত শিশুর মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের প্রস্তুতি চলছে। দুর্ঘটনায় জড়িত গাড়ি ও চালককে পুলিশ হেফাজতে নেওয়া হয়েছে।
সাতক্ষীরার কালিগঞ্জ উপজেলার নলতা ইউনিয়নে দীর্ঘদিনের জনসাধারণের চলাচলের রাস্তা দখলকে কেন্দ্র করে তীব্র ক্ষোভ বিরাজ করছে এলাকাবাসীর মাঝে। স্থানীয়দের অভিযোগ, আওয়ামী লীগের দোসর ও নলতা ইউনিয়ন ৭ নং ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি আহম্মদ আলী ব্যক্তি স্বার্থে জনগণের বহু বছরের চলাচলের রাস্তার অংশ নিজের জায়গা দাবি করে দখলের চেষ্টা করছেন।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, প্রায় ৫০ বছর ধরে গ্রামের মানুষ ওই রাস্তা ব্যবহার করে আসছেন। পূর্বে সরকারি উদ্যোগে সেখানে ইটের সোলিং নির্মাণ করা হয়েছিল। পরে রাস্তা চলাচলের অনুপযোগী হয়ে পড়লে এলাকাবাসীর সুবিধার্থে নলতা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আজিজুর রহমান সরকারি বরাদ্দে ঢালাই রাস্তা নির্মাণের উদ্যোগ নেন।
এলাকাবাসীর অভিযোগ, মার্কেট নির্মাণের সময় রাস্তার কিছু অংশ দখল করে আহমদ আলী এতে দীর্ঘদিন ধরে সাধারণ মানুষের চলাচলে ভোগান্তি সৃষ্টি হয়। পরে রাস্তা নির্মাণ শুরু হলে নিজের স্বার্থ রক্ষায় তিনি এটিকে ব্যক্তিগত জমি দাবি করতে থাকেন।
সেলিম হোসেন বলেন, জনগণের জন্য রাস্তা তৈরি হয়েছে এতে আমাদের সবার সুবিধা। কিন্তু আহম্মদ মেম্বর ব্যক্তি স্বার্থে এটিকে নিজের জায়গা বলে দাবি করছেন।
মো. আসাদুল ইসলাম ও মো. কবির হোসেন বলেন, সে কখনো কারো ভালো চায় না। জনগণের সুবিধার কাজেও বাধা সৃষ্টি করছে।
নুরুজ্জামান বলেন, এ রাস্তা হলে জনগণের সুবিধা, আমাদের সবার সুবিধা। আমাদের চাওয়া ছিল রাস্তা হোক। ওনার নিজের জমির জায়গা তো আছেই, তারপরও রাস্তার জায়গা নিয়ে বিরোধ করছেন।
স্থানীয় এক হোটেল মালিক বলেন, এ রাস্তা হলে আমাদের সবার সুবিধা হবে। কিন্তু মেম্বরের কী সমস্যা তা আমার জানা নেই।
কাজলা গ্রামের ৭ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা আব্দুল জলিল অভিযোগ করে বলেন, আওয়ামী আমলে বিচার করার নামে বিভিন্ন মানুষের কাছ থেকে টাকা নিয়ে তাদের পক্ষে রায় দিতো। আমার কাছেও ৫ হাজার টাকা চেয়েছিল। টাকা না দেওয়ায় আমার শালিশ করেনি।
আরেক ভুক্তভোগী কাজলা গ্রামের নাজমুল বলেন, আমি রেশন কার্ডের জন্য আবেদন করেছিলাম। কিন্তু টাকা না দেওয়ায় আহম্মদ মেম্বর আমাকে কার্ড দেয়নি।
এ বিষয়ে নলতা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আজিজুর রহমান বলেন, এটি জনগণের বহু বছরের চলাচলের রাস্তা। রাস্তার জায়গা দখল করে উনি ঘর নির্মাণ করার চেষ্টা করছিল যাহা মানুষের সমস্যা হতো কিন্তু জনগণের স্বার্থে সরকারি অর্থায়নে রাস্তা নির্মাণ করা হয়েছে। এখন রাস্তার জায়গা দখল করতে না পেরে আমার বিরুদ্ধে অপপ্রচার চালানো হচ্ছে।
এ বিষয়ে আহম্মদ আলীর বক্তব্য নেওয়ার জন্য যোগাযোগ করার চেষ্টা করা হলেও তাকে পাওয়া যায়নি।
ময়মনসিংহের ত্রিশাল উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের চিকিৎসা সেবার মানোন্নয়ন ও সার্বিক পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণে আকস্মিক পরিদর্শন করেছেন স্থানীয় সংসদ সদস্য ডা. মাহবুবুর রহমান লিটন। আজ শনিবার সকালে তিনি হাসপাতাল পরিদর্শনে আসেন।
পরিদর্শনকালে সংসদ সদস্য হাসপাতালের সাধারণ চিকিৎসা সেবা, জরুরি বিভাগ এবং বিভিন্ন চিকিৎসায় ব্যবহৃত যন্ত্রপাতির বর্তমান অবস্থা ও কার্যকারিতার খোঁজখবর নেন। তিনি হাসপাতালের প্রতিটি বিভাগ ঘুরে দেখেন এবং সংশ্লিষ্ট চিকিৎসকদের সাথে কথা বলেন। পরে ডা. মাহবুবুর রহমান লিটন হাসপাতালের বিভিন্ন ওয়ার্ডে চিকিৎসাধীন রোগীদের শয্যাপাশে যান, তাদের চিকিৎসার খোঁজখবর নেন এবং সরকারি ওষুধ ও সুযোগ-সুবিধা সঠিকভাবে পাচ্ছেন কি না তা সরাসরি রোগীদের কাছ থেকে শোনেন।
ওয়ার্ড পরিদর্শন শেষে হাসপাতাল সভাকক্ষে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা ও চিকিৎসকদের সাথে মতবিনিময় করেন সংসদ সদস্য। এ সময় তিনি রোগীদের স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করতে এবং হাসপাতালের পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখতে বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ দিকনির্দেশনা প্রদান করেন। তিনি স্পষ্ট জানিয়ে দেন, চিকিৎসায় কোনো ধরনের অবহেলা বা অনিয়ম সহ্য করা হবে না।
পরিদর্শনকালে সংসদ সদস্যের সাথে আরও উপস্থিত ছিলেন ত্রিশাল উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আরাফাত সিদ্দিকী, ত্রিশাল থানার ওসি মুনসুর আহম্মদ, উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক এনামুল হক ভুঁইয়াসহ স্থানীয় প্রশাসনের কর্মকর্তা, রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ এবং হাসপাতালের চিকিৎসক ও স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ।
মৌলভীবাজারের কুলাউড়ায় একটি কালভার্টের নিচ থেকে প্রদীপ তেলি (৩০) নামে এক যুবকের লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ। শনিবার (৯ মে) সকালে উপজেলার জয়চণ্ডী ইউনিয়নের মীরবক্সপুর এলাকার একটি কালভার্টের নিচে তার লাশ পাওয়া যায়। নিহত প্রদীপ তেলি গাজীপুর চা বাগানের অনিল তেলীর পুত্র।
কুলাউড়া থানার উপপরিদর্শক (এসআই) ফরহাদ মাতব্বর বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, সকাল সাড়ে ৭টার দিকে মীরবক্সপুর এলাকায় মুফতি আব্দুর রহমানের বাড়ির সামনে একটি কালভার্টের নিচে লাশটি পড়ে থাকতে দেখে স্থানীয়রা পুলিশে খবর দেয়। পরে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে তার লাশ উদ্ধার করে।
তিনি আরও জানান, প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে- প্রদীপ তেলি মদ্যপ অবস্থায় কালভার্টের পাশে বসেছিলেন। এ সময় অসাবধানতাবশত নিচে পড়ে গিয়ে মাথা ও ঘাড়ে আঘাত পেয়ে তার মৃত্যু হয়।
সুন্দরবনে বনদস্যুদের কবলে ৭ দিন শিকলবন্দী হয়ে জিম্মী থাকার পরে ৭ লাখ টাকা মুক্তিপণ দিয়ে শুক্রবার সন্ধ্যায় বাড়ী ফিরেছেন ১১ জেলে। গত ৩ মে রাতে পূর্ব সুন্দরবনের আলোরকোল এলাকা থেকে বনদস্যু জাহাঙ্গীর বাহিনী ১১ জেলেকে অপহরণ করে। অপহরণের তিন দিনের মাথায় অপর বনদস্যু গ্রুপ শরীফ বাহিনী জাহাঙ্গীর বাহিনীর সাথে গুলি বিনিময় করে শরীফ বাহিনী এই ১১ জেলেকে তাদের কব্জায় নিয়ে সুন্দরবনের অজ্ঞাতস্থানে আটকে রাখে।
জিম্মী দশা থেকে মুক্তি পেয়ে ফিরে আসা শরণখোলার উত্তর রাজাপুর গ্রামের জেলে রুবেল হাওলাদার (৩০) শুক্রবার রাতে জানান, তিনিসহ অপর ১০ জেলেকে বনদস্যু জাহাঙ্গীর বাহিনী গত ৩ মে রাতে সুন্দরবনের আলোরকোল এলাকা থেকে মুক্তিপণের দাবীতে অপহরণ করে তাদের পায়ে শিকল পরিয়ে আটকে রাখে। ৫ মে শরীফ বহিনী জাহাঙ্গীর বাহিনীর সাথে গুলি বিনিময় করে জাহাঙ্গীর বাহিনীর কবল থেকে তাদের ছিনিয়ে সুন্দরবনের অজ্ঞাতস্থানে আটকে রাখে। অবশেষে মুক্তিপণ পেয়ে শরীফ বাহিনী তাদের ১১জনকে শুক্রবার ভোর রাতে নৌকায় করে এনে তাদের সুন্দরবনের ধানসাগর আড়য়াবের নদীর মোহনায় সুন্দরবনে নামিয়ে দিয়ে যায়। প্রায় ৩/৪ কিলোমিটার হেটে তারা বাড়ী পৌছায়। জাহাঙ্গীর বাহিনী তাদের বেদম মারধর করেছে বলে জেলে রুবেল জানান।
ফিরে আসা অপর জেলেরা হচ্ছে, উত্তর রাজাপুর গ্রামের ছগির (৩২),রাকিব (২৩) লুৎফর হাওলাদার (৩০), বাদল হাওলাদার (৩৫), সজিব হাওলাদার (২৭), , হাফিজুল (২২), আলমগীর ফরাজী (৫০), ইয়াসিন হাওলাদার (২৩) এবং পাথরঘাটার পদ্মাস্লুইস এলাকার রুবেল (২৫), ও খুলনার বটিয়াঘাটার দেব চন্দ্র (২৫)।
নিরাপত্তার স্বার্থে নামপ্রকাশে অনিচ্ছুক ঐ জেলেদের একজন মহাজন মৎস্য ব্যবসায়ী বলেন, দস্যুরা প্রথমে জেলেদের জনপ্রতি ১ লাখ টাকা দাবী করে। পরে দর কষাকষি করে জন প্রতি ৭০ হাজার মুক্তিপণের টাকা বিকাশের মাধ্যমে পরিশোধ করার পরে দস্যুরা জেলেদের ছেড়ে দিয়েছে । সুন্দরবনে মাছ ধরতে গিয়ে আবার বিপদে পড়বে এই ভয়ে কেউ মুখ খুলতে সাহস পায়না বলে ঐ জেলেদের মহাজনরা জানান।
শরণখোলা থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মোঃ শামিনুল হক বলেন, সুন্দরবনে মুক্তিপণ দিয়ে ১১ জেলে ফিরে আসার খবর তার জানা নেই। কেউ কোন অভিযোগ দেয়নি। অভিযোগ পেলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে তিনি জানান।
শান্ত ও নিবিড় সবুজে ঘেরা পরিবেশ, পাশে বয়ে চলা শান্ত জলধারা আর মাথার ওপর সুবিস্তৃত খোলা আকাশ—এমন এক নান্দনিক পরিবেশে গড়ে উঠেছে এক অনন্য রেস্টুরেন্ট। যেখানে সাধারণ রেস্টুরেন্টের মতো মাটিতে নয়, বরং বিশালাকার একটি বটগাছের ডালে বসেই চা, কফি ও মুখরোচক নানা খাবার উপভোগ করার সুযোগ পাচ্ছেন ভোজনরসিকরা।
ঝিনাইদহের হরিণাকুণ্ডু উপজেলার চারাতলা বাজার সংলগ্ন ঘোড়দহ গ্রামে এই ব্যতিক্রমী ‘বৃক্ষ বিলাস ক্যাফে এন্ড রেস্টুরেন্ট’ গড়ে তোলা হয়েছে। বিশাল একটি বটগাছের ওপর কাঠের মজবুত মাচা তৈরি করে নির্মিত এই রেস্টুরেন্টটি ইতোমধ্যে স্থানীয় ও দূর-দূরান্ত থেকে আসা মানুষের কাছে আকর্ষণের কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছে। শহরের যান্ত্রিক কোলাহল ছেড়ে একটু শান্তির খোঁজে আসা মানুষ এখানে এসে সহজেই প্রকৃতির মাঝে বিলীন হতে পারছেন।
এই অভিনব উদ্যোগটি নিয়েছেন এলাকার দুই কলেজপড়ুয়া তরুণ কনক হোসেন ও আবির হাসান। তাদের এই সৃষ্টিশীল চিন্তা ইতোমধ্যে ব্যাপক সাড়া ফেলেছে। প্রতিদিন শত শত মানুষ এই নতুন অভিজ্ঞতার স্বাদ নিতে ভিড় জমাচ্ছেন। রেস্টুরেন্টটিতে ওঠার জন্য গাছের সঙ্গে বিশেষ কাঠের সিঁড়ি যুক্ত করা হয়েছে। মাচায় বসে চারপাশের সবুজ প্রকৃতি, কোকিলের ডাক ও স্নিগ্ধ বাতাস গ্রাহকদের এক ভিন্ন জগৎ উপহার দিচ্ছে। দর্শনার্থীরা এই উদ্যোগের ভূয়সী প্রশংসা করছেন।
ঢাকা থেকে আগত পর্যটক রাকিব হাসান বলেন, “এমন অভিজ্ঞতা আগে কখনো পাইনি। গাছের ওপর বসে চা খাওয়া সত্যিই অসাধারণ। প্রকৃতির এত কাছাকাছি এসে মনে হচ্ছে সব ক্লান্তি দূর হয়ে গেছে।” উদ্যোক্তা কনক হোসেন জানান, মানুষকে ভিন্নধর্মী ও শান্তিময় অভিজ্ঞতা দেওয়ার লক্ষ্যেই তাঁরা এটি নির্মাণ করেছেন। অন্য উদ্যোক্তা আবির হাসান ভবিষ্যতে এখানে একটি মিনি পার্ক গড়ে তোলার স্বপ্নের কথা জানিয়েছেন। ঝিনাইদহ শহর থেকে প্রায় ১৩ কিলোমিটার দূরে হরিণাকুণ্ডু সড়কের পাশেই এই নান্দনিক স্থানটির অবস্থান।
ঝিনাইদহ সদর উপজেলা শিক্ষক কর্মচারী কো-অপারেটিভ ক্রেডিট ইউনিয়ন লিমিটেড (কাল্ব)-এর বার্ষিক সাধারণ সভা সম্পন্ন হয়েছে। শনিবার সকালে শহরের কুটুম কমিউনিটি সেন্টারে সংগঠনটির ১৪তম বার্ষিক সাধারণ সভা আয়োজন করা হয়।
সংগঠনটির সদর উপজেলা শাখার চেয়ারম্যান আলমগীর হোসেনের সভাপতিত্বে ও সেক্রেটারি খুরশিদ মোহাম্মদ সালেহ’র সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সদর উপজেলা বিএনপির সভাপতি অ্যাডভোকেট মুন্সী কামাল আজাদ পান্নু। সভায় প্রধান আলোচক হিসেবে বক্তব্য রাখেন কাল্ব-এর ট্রেজারার নরেশ চন্দ্র বিশ্বাস। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন কাল্ব-এর ‘গ’ অঞ্চলের ডিরেক্টর অধ্যক্ষ শেখ সহিদুল ইসলাম এবং মাগুরা-নড়াইল-ঝিনাইদহ জেলার শাখা ব্যবস্থাপক শাহরাজুল হক।
অনুষ্ঠানে ঝিনাইদহ সদর উপজেলার দুই শতাধিক শিক্ষক ও কর্মচারী অংশগ্রহণ করেন। সভায় বিগত বছরের আয়-ব্যয়ের হিসাব ও বার্ষিক বিবরণী পেশ করা হয়। এর পাশাপাশি সংগঠনের আগামী দিনের কর্মপরিকল্পনা এবং সদস্যদের সার্বিক কল্যাণে বিভিন্ন উন্নয়নমূলক উদ্যোগ নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করা হয়েছে।
বগুড়ার আদমদীঘি উপজেলায় জমি সংক্রান্ত বিরোধকে কেন্দ্র করে মাহবুব হোসেন (সকু) অপহরণ করে আটকে রেখে নির্মম নির্যাতনের অভিযোগে ৪ জনের নাম উল্লেখ করে অজ্ঞাত ১০ জনকে আসামি করে মামলা দায়ের করেছেন ভুক্তভোগী পরিবার। ভুক্তভোগীর পরিবারের দাবি, ঘটনার পর মামলা দায়ের হলেও অভিযুক্তরা এখনও প্রকাশ্যে ঘোরাফেরা করছে, ৪নং আসামি গ্রেফতার হলেও প্রধান আসামীরা ধরা ছোঁয়ার বাহিরে। পুলিশ তাদের গ্রেফতারে কার্যকর কোনো পদক্ষেপ নিচ্ছে না।
এজাহার সুত্রে জানা যায়, ভুক্তভোগী মোঃ মাহবুব হোসেন (৩৮), উপজেলার ছাতিয়ানগ্রাম এলাকার বাসিন্দা।তার ছোট ভাই পূর্বে ৬ শতক জমি বিক্রি করলেও পরবর্তীতে সেটি পুনরায় জোরপূর্বক লিখে নেওয়ার চেষ্টা করে। এ নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলছিল।
এজাহার উল্লেখ বলা হয়, গত (৮ এপ্রিল২৬) তারিখে রাত আনুমানিক ৯টা ৪৫ মিনিটে মাহবুব হোসেন বাড়ির সামনে রাস্তায় মোবাইলে কথা বলার সময় পূর্বপরিকল্পিতভাবে একদল লোক তাকে ঘিরে ফেলে। পরে তাকে জোর করে ১ নং অভিযুক্ত সাদ্দামের বাড়িতে নিয়ে হাত-পা বেঁধে রাখা হয়। সেখানে তাকে হত্যার উদ্দেশ্যে লোহার হাতুড়ি দিয়ে এলোপাতাড়ি মারধর করা হয়, ফলে তার দুই পায়ের হাঁটু ও বাম হাতের কনুইয়ের হাড় ভেঙে যায় বলে এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে।
এছাড়া, হামলাকারীরা তার কাছ থেকে জোরপূর্বক বাড়ির চাবি ও নগদ ৩০ হাজার টাকা নিয়ে নেয় বলেও অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে। ঘটনার সময় তাকে ভয় দেখিয়ে কিছু কাগজে স্বাক্ষর করানোর চেষ্টাও করা হয়।
পরিবারের সদস্যদের দাবি, মাহবুব হোসেনকে প্রায় ৬ ঘন্টা আটকে রাখা হয়। পরে তার স্ত্রীর খোঁজাখুঁজির একপর্যায়ে তার চিৎকার শুনে স্থানীয়রা এগিয়ে এসে তাকে উদ্ধার করে। পরে গুরুতর আহত অবস্থায় প্রথমে আদমদীঘি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে এবং পরে উন্নত চিকিৎসার জন্য নওগাঁ সদর হসপিতালে ভর্তি করা হয়।
ভুক্তভোগীর স্ত্রী ও প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, উদ্ধার করতে গেলে অভিযুক্তরা তাদের প্রাণনাশের হুমকি দেয়। ঘটনার পর থানায় এজাহার দায়ের করা হলেও এখন পর্যন্ত ৪নং আসামিকে গ্রেফতার করা হলেও রহস্য জনক ভাবে প্রধান আসামীদের গ্রেফতার করা হয়নি।
স্থানীয়দের অভিযোগ, অভিযুক্তরা দিবালোকে এলাকায় ঘোরাফেরা করলেও পুলিশ রহস্যজনক কারণে তাদের ধরছে না। এতে এলাকায় আতঙ্ক বিরাজ করছে এবং ভুক্তভোগী পরিবার নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছে।
এ বিষয়ে আদমদিঘী থানার অফিসার ইনচার্জ কামরুজ্জামান বলেন, একজন আসামীকে গ্রেফতার করে আদালতে পাঠানো হয়েছে বাকি আসামীদের গ্রেফতারে তৎপরতা চালানো হচ্ছে।