শনিবার, ১ আগস্ট ২০২৬
১৭ শ্রাবণ ১৪৩৩

কার্পেটিং তোলার ৪ বছর পর সংস্কার শুরু

নওগাঁর রানীনগর-আবাদপুকুর-কালীগঞ্জের ২২ কিলোমিটার সড়ক পাকাকরণ কাজের গতকাল উদ্বোধন করা হয়। ছবি:দৈনিক বাংলা
নওগাঁ প্রতিনিধি
প্রকাশিত
নওগাঁ প্রতিনিধি
প্রকাশিত : ৪ অক্টোবর, ২০২২ ১০:২৫

বর্ষায় কাদা-পানি আর গ্রীষ্মে ধুলায় ২২ কিলোমিটার রাস্তায় ভোগান্তি ছিল চরমে। পথচারী কিংবা রোগী আনা-নেয়ার জন্য পোহাতে হতো চরম দুর্ভোগ। প্রায় চার বছর ধরে এ রাস্তা ছিল চলাচলের অনুপযোগী। প্রথম টেন্ডারের পর চার বছর ধরে কার্পেটিং তুলে ফেলে রাখা হয় রাস্তাটির। এটি নওগাঁর রাণীনগর-আবাদপুকুর-কালীগঞ্জ ২২ কিলোমিটার রাস্তার চিত্র। অবশেষে এ এলাকার মানুষ ভোগান্তি থেকে মুক্তি পেতে যাচ্ছেন। নতুন করে টেন্ডারের পর গতকাল সোমবার বেলা ৩টায় আবাদপুকুর চারমাথার মোড়ে পাকাকরণ কাজের উদ্বোধন করেছেন সংসদ সদস্য আনোয়ার হোসেন হেলাল।

এ সময় বিশেষ অতিথি ছিলেন সড়ক ও জনপথ বিভাগ রাজশাহী সার্কেলের তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী হাফিজুর রহমান, সড়ক ও জনপথ বিভাগ নওগাঁর নির্বাহী প্রকৌশলী সাজেদুর রহমান, রাণীনগর উপজেলা চেয়ারম্যান বীর মুক্তিযোদ্ধা আব্দুর রউফ, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) শাহাদাত হুসেইন, থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবুল কালাম আজাদ প্রমুখ।

জেলা সড়ক ও জনপথ বিভাগ সূত্রে জানা যায়, রাণীনগর বাসস্ট্যান্ড থেকে আবাদপুকুর হয়ে নাটোরের সিংড়ার কালীগঞ্জ পর্যন্ত ২২ কিলোমিটার রাস্তা স্থানীয় প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি) থেকে পাকাকরণ কাজ করা হয় ২০১৮ সালের মার্চের শুরুর দিকে। এরপর এলজিইডি থেকে সড়ক ও জনপথ বিভাগে স্থানান্তর করা হয়। পরে ২০১৮ সালের শেষ দিকে সড়কটি আরও মজবুতকরণের জন্য নতুন করে পাকাকরণে টেন্ডার দেয়া হয়। ২২ কিলোমিটার রাস্তা, ৯টি সেতু ও ২০টি কালভার্ট নির্মাণে সে সময় ব্যয় ধরা হয় ১০৫ কোটি টাকা। তখন ২২ কিলোমিটার রাস্তার কার্পেটিং তুলে কোনো রকমে রোলার দিয়ে ফেলে রাখে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান।

এ ছাড়া সেতু-কালভার্ট নির্মাণকাজ অব্যাহত রাখা হয়। বেঁধে দেওয়া নির্দিষ্ট সময়ে কাজ না করে বারবার সময় চেয়ে আবেদন করতে থাকে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান। এরই একপর্যায়ে ২০২১ সালের মে মাসে রাস্তা পাকাকরণ কাজের কার্যাদেশ বাতিল করে সড়ক ও জনপথ বিভাগ। এরপর নতুন করে আবার টেন্ডার দেয়া হলে টেন্ডারের বিরুদ্ধে মামলা করেন আগের ঠিকাদার। আবার আটকে যায় রাস্তার পাকারকরণ কাজ। ২০২১ সালের নভেম্বরে মামলা নিষ্পত্তি হলে আবার টেন্ডারের প্রক্রিয়া শুরু হয়। ২২ কিলোমিটার রাস্তা পাকাকরণে ৩৮ কোটি ৩৪ লাখ ২০ হাজার ৫৮১ টাকা ব্যয় ধরে টেন্ডার করে ১০ আগস্ট কার্যাদেশ জারি করা হয়। রাস্তার কাজ শেষ করতে সময় বেঁধে দেয়া হয় ২০২৩ সালের ৯ এপ্রিল পর্যন্ত। এতে স্বস্তি ফিরেছে এলাকার মানুষের মাঝে।

সড়ক ও জনপথ বিভাগ নওগাঁর নির্বাহী প্রকৌশলী সাজেদুর রহমান বলেন, আশা করছি আর কোনো ত্রুটি থাকবে না। সঠিকভাবে কাজটি যেন হয়, সে ব্যাপারে আমরা তদারক করব।

সংসদ সদস্য আনোয়ার হোসেন হেলাল বলেন, প্রায় চার বছর পর রাস্তা পাকাকরণ কাজ শুরু হলো। কতটা স্বস্তি অনুভব করছি তা ভাষায় বোঝাতে পারব না। এলাকার মানুষের অনেক ভোগান্তি পোহাতে হয়েছে।


নির্বাচিত

৬ বছরে সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত ১৩৮৪, আহত ২ হাজার ৪৮৮ জন

ফাইল ছবি
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

রাজধানী ঢাকায় গত ছয় বছরে সড়ক দুর্ঘটনায় ১ হাজার ৩৮৪ জনের মৃত্যু হয়েছে এবং আহত হয়েছেন আরও ২ হাজার ৪৮৮ জন। সম্প্রতি প্রকাশিত রোড সেফটি ফাউন্ডেশনের এক গবেষণামূলক প্রতিবেদনে এই তথ্য জানানো হয়।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০২০ সাল থেকে ২০২৬ সালের জুলাই পর্যন্ত নগরীতে মোট এক হাজার ৮৪৯টি সড়ক দুর্ঘটনা ঘটে, যাতে প্রাণ হারানো ব্যক্তিদের মধ্যে ৫৯২ জনই ছিলেন পথচারী।

শনিবার (১ আগস্ট) প্রকাশিত সংস্থাটির এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, নিহতের তালিকায় নারী ও শিশুর সংখ্যা যথাক্রমে ২১৯ ও ১৩১ জন। দুর্ঘটনার ধরণ পর্যালোচনায় দেখা গেছে, মোটরসাইকেল আরোহী নিহত হয়েছেন ৫৩৬ জন, এবং বাকি ২৫৬ জন বিভিন্ন গণপরিবহন, রিকশা ও সিএনজির চালক ও যাত্রী। সময়ভিত্তিক বিশ্লেষণে দেখা যায়, দুর্ঘটনার জন্য সবচেয়ে ঝুঁকিপূর্ণ সময় রাত ও ভোরের ভাগ। মোট প্রাণহানির মধ্যে ৩৭ দশমিক ৫ শতাংশই ঘটেছে রাতের বেলা। বাইপাস সড়কের অভাব থাকায় রাত ১০টার পর শহরের রাস্তায় ভারী মালবাহী যানবাহনের বেপরোয়া গতিতে চলাচলাই পথচারীদের মৃত্যুর প্রধান কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

ফাউন্ডেশনের পর্যবেক্ষণে বলা হয়, রাজধানীতে ঘটমান দুর্ঘটনার জন্য ট্রাক, কাভার্ডভ্যান ও ময়লাবাহী গাড়িগুলো সবচেয়ে বেশি অর্থাৎ ৩৩ দশমিক ২৫ শতাংশ দায়ী। এর পরেই রয়েছে মোটরসাইকেল ও বাসের অবস্থান। পাশাপাশি দীর্ঘস্থায়ী যানজটের কারণে চালকদের মানসিক অধৈর্য ও অসহিষ্ণুতা তৈরি হওয়া, ফুটপাত দখল, প্রয়োজনের তুলনায় অপ্রতুল সড়ক এবং নিরাপদ ফুটওভার ব্রিজের অভাবকে দুর্ঘটনার মূল কারণ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে।

প্রতিবেদনে যাত্রাবাড়ী, ডেমরা, মোহাম্মদপুর, কুড়িল বিশ্বরোড ও বিমানবন্দর এলাকাকে ঢাকার প্রধান দুর্ঘটনাপ্রবণ বা ‘হটস্পট’ হিসেবে উল্লেখ করা হয়। দুর্ঘটনা হ্রাস ও নগরীর পরিবহন ব্যবস্থা সুশৃঙ্খল করতে কোম্পানিভিত্তিক বাস সার্ভিস চালুর পাশাপাশি বিআরটিএ, সিটি করপোরেশন ও ট্রাফিক পুলিশের সমন্বিত উদ্যোগ গ্রহণের তাগিদ দিয়েছে সংস্থাটি।


নির্বাচিত

আট বিভাগে বজ্রসহ বৃষ্টির পূর্বাভাস

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

সারা দেশের প্রায় সব বিভাগেই অস্থায়ী দমকা হাওয়াসহ হালকা থেকে মাঝারি ধরনের বৃষ্টি অথবা বজ্রসহ বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে বলে জানিয়েছে আবহাওয়া অধিদপ্তর। শনিবার সকাল ৯টা থেকে পরবর্তী ২৪ ঘণ্টার পূর্বাভাসে জানানো হয়েছে যে, দেশের কোথাও কোথাও মাঝারি ধরনের ভারি বৃষ্টিপাতও হতে পারে। তবে এই সময়ে দিন ও রাতের তাপমাত্রায় বড় কোনো পরিবর্তন হওয়ার সম্ভাবনা নেই।

পূর্বাভাস অনুযায়ী, দেশের রংপুর, ময়মনসিংহ ও সিলেট বিভাগের অধিকাংশ জায়গায় বৃষ্টির প্রবণতা বেশি থাকবে। এছাড়া রাজশাহী, ঢাকা, খুলনা, বরিশাল ও চট্টগ্রাম বিভাগের কিছু কিছু এলাকায় বজ্রসহ বৃষ্টি হতে পারে। গত ২৪ ঘণ্টায় দেশের সর্বোচ্চ বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে পর্যটন নগরী কক্সবাজারে, যার পরিমাণ ছিল ৫৯ মিলিমিটার।

আবহাওয়ার সার্বিক পরিস্থিতি সম্পর্কে বলা হয়েছে, ভারতের মধ্য প্রদেশ এলাকায় অবস্থানরত নিম্নচাপটি পশ্চিম ও উত্তর-পশ্চিম দিকে অগ্রসর হয়ে রাজস্থান এবং সংলগ্ন এলাকায় একটি সুস্পষ্ট লঘুচাপে পরিণত হয়েছে। এটি পরবর্তীতে মৌসুমি বায়ুর অক্ষের সঙ্গে মিলিত হয়েছে। বর্তমানে এই অক্ষের একটি বড় অংশ ভারতের রাজস্থান, উত্তর প্রদেশ, বিহার, গাঙ্গেয় পশ্চিমবঙ্গ এবং বাংলাদেশের দক্ষিণাঞ্চল হয়ে আসাম পর্যন্ত বিস্তৃত রয়েছে। মৌসুমি বায়ুটি বাংলাদেশের ওপর মোটামুটি সক্রিয় এবং উত্তর বঙ্গোপসাগরে মাঝারি অবস্থায় বিরাজ করছে।

গতকাল দেশের সর্বোচ্চ তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছিল নিকলীতে, যা ছিল ৩৫.৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস। অন্যদিকে সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ছিল কুমারখালীতে ২৩.৯ ডিগ্রি সেলসিয়াস। রাজধানী ঢাকায় বাতাসের গতিবেগ দক্ষিণ ও দক্ষিণ-পূর্ব দিক থেকে ঘণ্টায় ৮ থেকে ১২ কিলোমিটারের মধ্যে রয়েছে এবং সকালে বাতাসের আপেক্ষিক আর্দ্রতা ছিল ৮৭ শতাংশ। আজ ঢাকায় সূর্যাস্ত হবে সন্ধ্যা ৬টা ৪২ মিনিটে এবং আগামীকাল সূর্যোদয় হবে ভোর ৫টা ২৮ মিনিটে।


নির্বাচিত

বগুড়ায় পিকআপ-ট্রাক মুখোমুখি সংঘর্ষে নিহত ৪

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
বগুড়া প্রতিনিধি

বগুড়ার কাহালুতে পিকআপ ও ট্রাকের মধ্যে ভয়াবহ মুখোমুখি সংঘর্ষে চালক ও হেলপারসহ চারজন নিহত হয়েছেন। শনিবার সকালে উপজেলার কাজীপাড়া বউবাজার এলাকায় বগুড়া-নওগাঁ আঞ্চলিক সড়কে এই মর্মান্তিক দুর্ঘটনাটি ঘটে। নিহতদের মধ্যে লুৎফর রহমান নামে একজনের পরিচয় নিশ্চিত হওয়া গেলেও বাকি তিনজনের পরিচয় এখনো পাওয়া যায়নি।

পুলিশ ও প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা গেছে, নওগাঁয় মাছ বিক্রি শেষে একটি পিকআপ বগুড়ার দিকে ফিরছিল। সকাল আনুমানিক ১০টার দিকে পিকআপটি কাহালু উপজেলার কাজীপাড়া এলাকায় পৌঁছালে বিপরীত দিক থেকে আসা একটি ট্রাকের চালক নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে পিকআপটিকে সরাসরি ধাক্কা দেয়। এতে পিকআপটি দুমড়েমুচড়ে যায় এবং ঘটনাস্থলেই পিকআপের চালক, হেলপার ও দুই মাছ ব্যবসায়ীর মৃত্যু হয়। দুর্ঘটনার খবর পেয়ে কাহালু থানা পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে মরদেহগুলো উদ্ধার করেন।

কাহালু থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শফিকুল ইসলাম ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, দুর্ঘটনায় চারজন নিহত হয়েছেন। একজনের পরিচয় পাওয়া গেছে এবং বাকিদের নাম-পরিচয় শনাক্ত করার প্রক্রিয়া চলছে। পুলিশ দুর্ঘটনা কবলিত যান দুটি জব্দ করেছে।


নির্বাচিত

বাংলাদেশে বিভেদ-বিভাজনের কোনো চক্রান্ত বাস্তবায়ন হতে দেওয়া হবে না: তথ্যমন্ত্রী

তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন । ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
বরিশাল ব্যুরো

তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন বলেছেন, পাহাড়ি, সমতল কিংবা ভাষা, বর্ণ, লিঙ্গ ও ধর্মের ভিত্তিতে বাংলাদেশে মানুষের মধ্যে কোনো ধরনের বিভেদ-বিভাজন তৈরি করার প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষ কোনো চক্রান্ত বাস্তবায়ন হতে দেওয়া হবে না। কোনো ধর্মাবলম্বীকে যদি কেউ রাজনৈতিক বা স্বার্থসিদ্ধির উদ্দেশ্যে ব্যবহার করতে চায় কিংবা ধর্মের মাধ্যমে রাষ্ট্রকে গ্রাস করতে চায়, তাহলে বুঝতে হবে সে সৃষ্টিকর্তা, মানবতা এবং ধর্মের মূল মর্মবাণীর বিরোধিতা করছে।

শুক্রবার (৩১ জুলাই) বরিশাল জেলা শিল্পকলা একাডেমি মিলনায়তনে বাংলাদেশ পূজা উদযাপন পরিষদ বরিশাল জেলার দ্বি-বার্ষিক সম্মেলনে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

রাজনীতি ও ধর্মের ভিন্নতা ব্যাখ্যা করে জহির উদ্দিন স্বপন বলেন, ‘রাজনীতিতে দর্শন, চিন্তা ও আদর্শ কোনো ধর্মীয় বিষয় নয়। ধর্মীয় দর্শন আবর্তিত হয় সর্বশক্তিমান সৃষ্টিকর্তাকে ঘিরে, আর রাজনীতির চিন্তাভাবনা আবর্তিত হয় জনগণের কল্যাণ ও সামাজিক স্বার্থকে কেন্দ্র করে। রাজনীতির কোনো প্রতীক বা মার্কা দেবত্ব প্রদত্ত নয়; দল বা নেতা কোনো দেব-দেবী নন। তাদের বক্তব্য ও কর্মসূচি যতক্ষণ জনগণ নিজের কল্যাণ হিসেবে গ্রহণ করবে, ততক্ষণ তা থাকবে। অন্যথায় জনগণ তা বর্জন করবে।’

ধর্মীয় সম্প্রীতি রক্ষা ও সচেতনতার গুরুত্ব তুলে ধরে তিনি বলেন, ‘ধর্ম চর্চাকারীরা যখন ধর্মব্যবসায়ীদের চিনতে পারবেন, তখনই প্রকৃত ধর্মচর্চা সার্থক হবে। যে যার ধর্ম গভীরভাবে বিশ্বাস ও চর্চা করার মাধ্যমেই অন্য ধর্মকে সমানভাবে শ্রদ্ধা করার মানসিকতা তৈরি হয়। যখনই কোনো মহল ধর্মীয় অনুভূতিকে সূক্ষ্মভাবে সাম্প্রদায়িক পকেটে পরিণত করার ষড়যন্ত্র করবে, তখনই ধর্মপ্রাণ মানুষকে সোচ্চার হয়ে সেই ধর্মব্যবসায়ীদের চিহ্নিত করতে হবে।’

দেশের মানুষের সমান অধিকার নিশ্চিতে সরকারের অঙ্গীকার ব্যক্ত করে তথ্যমন্ত্রী বলেন, ‘আমরা যারা রাজনীতিতে সকল মানুষের সমান অধিকার নিয়ে কথা বলি, তাদের সবচেয়ে শক্তিশালী প্রতিনিধি হচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। আমরা ইতিহাসের শিক্ষা ভুলিনি। জনগণের কাছে দেওয়া ওয়াদা পূরণ না করলে ইতিহাস আবার নিজের পুনরাবৃত্তি ঘটাতে পারে। এ কারণেই প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান স্পষ্টভাবে বলেছেন— ধর্ম যার যার, রাষ্ট্র সবার।’

বরিশাল জেলা পূজা উদযাপন পরিষদের সভাপতি মানিক মুখার্জি কুডুর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বরিশাল সিটি করপোরেশনের প্রশাসক বিলকিস আক্তার জাহান শিরিন এবং জেলা পরিষদের প্রশাসক আকন কুদ্দুসুর রহমান। অনুষ্ঠানে প্রধান বক্তা হিসেবে বক্তব্য দেন বাংলাদেশ পূজা উদযাপন পরিষদের কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদক সাংবাদিক সন্তোষ শর্মা।

এর আগে জাতীয় সংগীতের মাধ্যমে জাতীয় পতাকা উত্তোলন করেন প্রধান অতিথি। পরে বেলুন ও শান্তির প্রতীক পায়রা উড়িয়ে দ্বি-বার্ষিক সম্মেলনের উদ্বোধন করা হয়। আলোচনা সভার শুরুতে পাঁচজন বীর মুক্তিযোদ্ধাকে বিশেষ সংবর্ধনা প্রদান করা হয়।


নির্বাচিত

ডিমের হালি ৫০, সবজি ৭০ টাকার ওপরে, কাঁচামরিচ ৪০০

ফাইল ছবি
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

রাজধানীর কাঁচাবাজারে নিত্যপণ্যের দাম আবারও ঊর্ধ্বমুখী। টানা বৃষ্টি ও দেশের কয়েকটি অঞ্চলের বন্যার প্রভাব এখনো কাটেনি কাঁচাবাজারে। সরবরাহ কিছুটা বাড়লেও দামে তার প্রতিফলন নেই। সপ্তাহের ব্যবধানে কাঁচামরিচ ও পেঁয়াজের দাম আরও বেড়েছে। একই সঙ্গে দুই সপ্তাহের বেশি সময় ধরে উচ্চমূল্যে আটকে আছে বেশিরভাগ সবজি।

রাজধানীর বিভিন্ন বাজারে অধিকাংশ সবজিই বিক্রি হচ্ছে ১০০ টাকা বা তার বেশি দরে, আর কাঁচামরিচের কেজি পৌঁছেছে ৪০০ টাকায়। ফলে মাসের শেষ সময়ে নিত্যপণ্যের বাড়তি ব্যয় সামলাতে হিমশিম খাচ্ছেন নিম্ন ও মধ্যবিত্ত পরিবারের ক্রেতারা। শুক্রবার (৩১ জুলাই) রাজধানীর যাত্রাবাড়ী, শান্তিনগর ও সেগুনবাগিচা বাজার ঘুরে এবং বিক্রেতা-ক্রেতাদের সঙ্গে কথা বলে এমন চিত্র দেখা গেছে।

মসলার বাজারে সবচেয়ে বেশি অস্থিরতা

বর্তমানে বাজারে প্রতি কেজি কাঁচামরিচ বিক্রি হচ্ছে ৩৪০ থেকে প্রায় ৪০০ টাকায়। খুচরা বিক্রেতারা প্রতি ১০০ গ্রাম ৪০ টাকা এবং ২৫০ গ্রাম ১০০ টাকা দরে বিক্রি করছেন। তবে আধা কেজি বা এক কেজি কিনলে কেজিপ্রতি ২০ থেকে ৩০ টাকা কম রাখা হচ্ছে। ট্রেডিং করপোরেশন অব বাংলাদেশের (টিসিবি) তথ্যানুযায়ী, গত সপ্তাহেও এর দাম ছিল ১৫০ থেকে ২২০ টাকা। অর্থাৎ মাত্র এক সপ্তাহের ব্যবধানে কাঁচামরিচের দাম প্রায় ১০০ শতাংশ বেড়েছে। অথচ গত বছরের একই সময়ে কাঁচামরিচের সর্বোচ্চ দাম ছিল ১২০ টাকা কেজি।

কাঁচামরিচের পাশাপাশি বেড়েছে দেশি পেঁয়াজের দামও। দেড় থেকে দুই সপ্তাহ আগে মানভেদে ৪০ থেকে ৪৫ টাকায় বিক্রি হওয়া পেঁয়াজ এখন ৫৫ থেকে ৬৫ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। মিরপুর ১১ নম্বর বাজারের মতো কয়েকটি দোকানে বাছাই করা পেঁয়াজের কেজি বিক্রি হয়েছে ৮০ টাকায়। শান্তিনগর বাজারের বিক্রেতা এমদাদুল বলেন, ‘পাইকারি বাজারেই পেঁয়াজের দাম বেড়েছে। ফলে খুচরা বাজারেও বেশি দামে বিক্রি করতে হচ্ছে।’

উচ্চমূল্যের দরবাড়িতে আটকা সবজি

বাজারে অধিকাংশ সবজির দাম আগের সপ্তাহের তুলনায় বেশি। প্রতি কেজি গোল কালো বেগুন বিক্রি হচ্ছে ১৮০ টাকায়, লম্বা বেগুন ১২০ থেকে ১৫০ টাকা এবং সাদা বেগুন ১৪০ টাকা। বরবটি ও করলা বিক্রি হচ্ছে ১১০ থেকে ১৪০ টাকা কেজি দরে। বর্ষা মৌসুমের সবজি কাঁকরোলও বিক্রি হচ্ছে ৮০ টাকা কেজিতে। এ ছাড়া শসার কেজি ১০০ টাকা।

তবে ধুন্দুল ও পটলের দামে কিছুটা স্বস্তি এসেছে—আগে ১০০ টাকার ওপরে থাকলেও এখন বাজারভেদে ৬০ থেকে ৮০ টাকায় নেমেছে। এ ছাড়া ঢ্যাঁড়স, চিচিঙ্গা ও কচুমুখী ৭০ থেকে ১০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। মাঝারি আকারের চালকুমড়া বিক্রি হচ্ছে ৭০ টাকায়। তুলনামূলক কম দামে মিলছে আলু (২৫ টাকা কেজি) ও কাঁচা পেঁপে (৩০ থেকে ৪০ টাকা কেজি)।

শাকের বাজারেও একই চিত্র। লাউশাকের আঁটি ৪০ টাকা, ডাঁটা ও পুঁইশাক ৩০ টাকা, লালশাক ও মুলাশাক ২০ টাকা এবং কলমিশাক বিক্রি হচ্ছে ১০ টাকায়।

ডজন পার হলো ১৪৫ টাকা, সেন্টিমেন্ট ডিম ও মুরগির বাজারেও ডিমের বাজারেও দেখা গেছে ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতা। পাড়া-মহল্লার মুদিদোকানে ফার্মের মুরগির ডিমের হালি বিক্রি হচ্ছে ৫০ টাকায়। একসঙ্গে এক ডজন কিনলে দাম রাখা হচ্ছে ১৪৫ টাকা। তবে পাইকারি ও খুচরা দোকানে হালিপ্রতি দাম ৪৮ টাকা। টিসিবির তথ্যনুযায়ী, এক বছর আগে একই সময়ে ডিমের হালির দাম ছিল ৩৮ থেকে ৪৫ টাকা—অর্থাৎ এক বছরে ডিমের দাম বেড়েছে ১৪ শতাংশের বেশি।

অন্যদিকে সোনালি মুরগি বিক্রি হচ্ছে ৩২০ থেকে ৩২৪ টাকায় এবং ব্রয়লার মুরগি ১৮০ থেকে ১৯০ টাকা কেজি দরে। চালের বাজারেও তেমন স্বস্তি নেই; বিআর-২৮ চাল ৬০ টাকা, মিনিকেট ৭২ টাকা ও নাজিরশাইল ৮৮ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। আর প্যাকেটের আঁটা-ময়দার দাম কেজিতে বেড়েছে পাঁচ টাকা।

ক্রেতা ও বিক্রেতাদের বক্তব্য

বাজার করতে আসা ক্রেতাদের অভিযোগ, সপ্তাহের পর সপ্তাহ দর এমন বাড়তি থাকায় সংসার চালানো দায় হয়ে দাঁড়িয়েছে। বাধ্য হয়ে অনেকেই কেনাকাটার পরিমাণ কমিয়ে সামাল দেওয়ার চেষ্টা করছেন।

সেগুনবাগিচায় বাজার করতে আসা এক ক্রেতা জানান, চাল, ডিম, মরিচ থেকে শুরু করে সব কিছুর দাম একযোগে বাড়ায় মাসের শেষে টানাপোড়েন চরম আকার ধারণ করেছে।

তবে বিক্রেতারা বলছেন ভিন্ন কথা। যাত্রাবাড়ীর আড়তদার আবুল কালাম ও সেগুনবাগিচার বিক্রেতা রাকিব হোসেন জানান, দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে টানা বৃষ্টি ও বন্যার কারণে সরবরাহ কমে যাওয়া এবং পাইকারিতে দর বেশি থাকায় খুচরা বাজারে দাম কমানোর সুযোগ থাকছে না। তবে আবহাওয়া স্বাভাবিক থাকলে আগামী কয়েক সপ্তাহের মধ্যে সরবরাহ বেড়ে বাজার কিছুটা শান্ত হতে পারে বলে আশা করছেন তারা।


নির্বাচিত

কেরানীগঞ্জে মিলল ইয়াবা তৈরির কারখানা, কাঁচামাল-যন্ত্রপাতিসহ গ্রেপ্তার ৪

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

ঢাকার কেরানীগঞ্জে একটি ইয়াবা তৈরির কারখানার সন্ধান পেয়েছে র‍্যাব-১০। পরে ওই কারখানায় অভিযান চালিয়ে ইয়াবা তৈরির কাঁচামাল ও যন্ত্রপাতিসহ চারজনকে গ্রেপ্তার করেছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী এ বাহিনী। গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন মো. আলমগীর ওরফে আন্ডে (৪০), মো. আলী আরমান (৩৬), মো. শাহজাহান (৪০) ও সোনিয়া (৩০)। গত বৃহস্পতিবার (৩০ জুলাই) রাত ১০টা ১০ মিনিটে ঢাকার কেরানীগঞ্জ মডেল থানাধীন মধ্যচর দক্ষিণ বালুচর এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়।

শুক্রবার (৩১ জুলাই) দুপুরে কারওয়ান বাজারে র‍্যাব মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত এক ব্রিফিংয়ে এসব তথ্য জানান র‍্যাব-১০ এর অধিনায়ক অতিরিক্ত ডিআইজি মোহা. আসাদুজ্জামান।

তিনি বলেন, ‘শুক্রবার (৩১ জুলাই) রাতে র‍্যাব-১০ এর আওতাধীন এলাকায় একটি ইয়াবা তৈরির চক্রের সন্ধান পাওয়া গেছে। পরে অভিযান চালিয়ে ১ হাজার ৯৬৮ পিস ইয়াবা, বিভিন্ন ধরনের পাউডার সদৃশ কাঁচামাল, যন্ত্রপাতি, পাঁচটি মোবাইল ফোন এবং একটি ওজন পরিমাপক যন্ত্র জব্দ করা হয়। এ সময় চারজন সক্রিয় মাদক কারবারিকে গ্রেপ্তার করা হয়।’

তিনি জানান, গ্রেপ্তারকৃত কারবারিদের মধ্যে আলমগীরের বিরুদ্ধে ঢাকার রামপুরা, কামরাঙ্গীরচর ও মোহাম্মদপুর থানায় মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে তিনটি মামলা রয়েছে। গ্রেপ্তারকৃতরা সবাই পেশাদার মাদক ব্যবসায়ী।

তিনি আরও জানান, গ্রেপ্তারকৃতরা দুই বছর ধরে এ কাজে যুক্ত বলে জানিয়েছে। এ ছাড়া তাদের জিজ্ঞাসাবাদে আরও কারখানা থাকার ইঙ্গিত পাওয়া গেছে।

র‍্যাবের এ কর্মকর্তা জানান, ইয়াবা তৈরিতে ব্যবহৃত কাঁচামালগুলো বৈধ এবং বিভিন্ন শিল্পে ব্যবহৃত হয়। তবে এ চক্র সেগুলো ব্যবহার করে ইয়াবা উৎপাদনের পদ্ধতি তৈরি করেছে। কাঁচামাল সংগ্রহ ও উৎপাদন প্রক্রিয়ার বিস্তারিত জানতে আসামিদের রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে।

তিনি জানান, চক্রটি কামরাঙ্গীরচর ও পুরান ঢাকাসহ বিভিন্ন এলাকায় তাদের ব্যবসার নেটওয়ার্ক পরিচালনা করত। তাদের বিরুদ্ধে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।


নির্বাচিত

দেশের সুগার মিলগুলোকে লাভজনক করার চিন্তা করছে সরকার: রুহুল কবির রিজভী

বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব ও শিল্প মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা রুহুল কবির রিজভী । ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নাটোর প্রতিনিধি

বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব ও শিল্প মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা রুহুল কবির রিজভী বলেছেন, দেশের সুগার মিলগুলো কয়েক মাস চালু থাকে, বেশির ভাগই বন্ধ থাকে। মিলগুলোকে সারা বছর উৎপাদনশীল করা যায় কি না, সরকার সেই চিন্তা ভাবনা করছে।

এ ছাড়া বাই প্রোডাক্ট তৈরি করে মিলগুলোকে লাভজনক করার পরিকল্পনা করছে সরকার। সে সাথে বিসিক সম্প্রসারণের স্থানীয় সংসদ সদস্যের পরামর্শের পাশাপাশি শিল্প স্থাপনে স্থানীয় উদ্যোক্তাদের গুরুত্ব দেওয়া হবে।

শুক্রবার (৩১ জুলাই) বিকালে নাটোর সুগারমিল পরিদর্শনে গিয়ে এ কথা বলেন তিনি।

এ সময় জাতীয় সংসদের হুইপ ও স্থানীয় সংসদ সদস্য রুহুল কুদ্দুস তালুকদার দুলু, বাংলাদেশ চিনিকল আখ চাষি কল্যাণ ফেডারেশনের সভাপতি মসলেম উদ্দিন, নাটোর সুগার মিলের শ্রমিক কর্মচারী ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক আবু সাইদসহ দলীয় নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।


নির্বাচিত

কুমিল্লা প্রেসক্লাবের নতুন সভাপতি ফারুক, সাধারণ সম্পাদক জিতু

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
তরিকুল ইসলাম তরুন, কুমিল্লা দক্ষিণ

উৎসবমুখর, শান্তিপূর্ণ ও সৌহার্দ্যপূর্ণ পরিবেশে কুমিল্লা প্রেসক্লাব কার্যনির্বাহী পরিষদের ২০২৬–২০২৮ মেয়াদের নির্বাচন গত বৃহস্পতিবার (৩০ জুলাই) দুপুর ২টা থেকে বিকাল ৫টা পর্যন্ত কুমিল্লা প্রেসক্লাব ভবনের দ্বিতীয় তলায় অনুষ্ঠিত হয়েছে।

নির্বাচনে ১৭টি পদের বিপরীতে ৭০ জন ভোটারের মধ্যে ৬৭ জন তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করেন। প্রধান নির্বাচন কমিশনার হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন শাহ মোহাম্মদ আলমগীর খান। নির্বাচন কমিশনার ছিলেন আবুল হাসানাত বাবুল ও বদরুল হুদা জেনু। ভোটগ্রহণ শেষে রাতেই আনুষ্ঠানিকভাবে ফলাফল ঘোষণা করা হয়।

এতে কাজী এনামুল হক ফারুক ২৯ ভোট পেয়ে সভাপতি ও ইমতিয়াজ আহমেদ জিতু ৩৩ ভোট পেয়ে সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হয়েছেন। নির্বাচিত অন্যান্যরা হলেন হুমায়ুন কবীর জীবন সাংগঠনিক সম্পাদক, দেলোয়ার হোসাইন আকাইদ যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক, শাহ আলম শফি অর্থ সম্পাদক, ওমর ফারুকী তাপস দপ্তর সম্পাদক, আসিফ হোসেন মান্না বিজ্ঞান ও তথ্যপ্রযুক্তি সম্পাদক, দিলীপ মজুমদার সাহিত্য-সাংস্কৃতিক ও ক্রীড়া সম্পাদক নির্বাচিত হয়েছেন।

আর নির্বাহী সদস্য পদে নির্বাচিতরা হলেন জাকারিয়া মানিক, রফিকুল ইসলাম খোকন, ইয়াসমিন রীমা, খালেদ সাইফুল্লাহ এবং আনোয়ার হোসেন।

এ ছাড়া সহসভাপতি পদগুলোর ফলাফলে তাওহীদ হোসেন মিঠু ও সাদিক হোসেন মামুন নির্বাচিত হয়েছেন বলে ফলাফলে উল্লেখ করা হয়েছে।

ফলাফল ঘোষণার পর প্রেসক্লাব প্রাঙ্গণে নবনির্বাচিত প্রার্থীদের ফুলেল শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন জানান সহকর্মী সাংবাদিকরা। এ সময় প্রেসক্লাবজুড়ে সৃষ্টি হয় আনন্দঘন ও উৎসবমুখর পরিবেশ।

নবনির্বাচিত নেতারা কুমিল্লা প্রেসক্লাবকে আরও ঐক্যবদ্ধ, গতিশীল, পেশাদার ও সাংবাদিকবান্ধব প্রতিষ্ঠানে পরিণত করার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন। একই সঙ্গে সাংবাদিকদের পেশাগত মর্যাদা ও অধিকার রক্ষা, প্রেসক্লাবের সার্বিক উন্নয়ন এবং সদস্যদের কল্যাণে সম্মিলিতভাবে কাজ করার আশাবাদ ব্যক্ত করেন।


নির্বাচিত

শিক্ষার মানোন্নয়নে অভিভাবক সমাবেশ ও পুরস্কার বিতরণ

ছবি: দৈনিক বাংলা
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
কেশবপুর (যশোর) প্রতিনিধি

শিক্ষার গুণগত মান উন্নয়ন, শিক্ষার্থীদের নিয়মিত পাঠাভ্যাস গড়ে তোলা এবং বিদ্যালয় ও অভিভাবকদের মধ্যে পারস্পরিক যোগাযোগ আরও সুদৃঢ় করার লক্ষ্যে যশোরের কেশবপুর উপজেলার মুক্তিযোদ্ধা কারিগরি মাধ্যমিক বিদ্যালয়, হাসানপুরে অভিভাবক সমাবেশ ও কৃতি শিক্ষার্থীদের পুরস্কার বিতরণ অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়েছে। গত বৃহস্পতিবার (৩০ জুলাই) বিদ্যালয়ের হলরুমে আয়োজিত অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন বিদ্যালয়ের সুপারিন্টেন্ডেন্ট সামছুন নাহার। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিদ্যালয়ের বিদ্যুৎসাহী সদস্য ও কেশবপুর নিউজ ক্লাবের সাধারণ সম্পাদক মো. হারুনার রশীদ বুলবুল।

সভাপতির বক্তব্যে সামছুন নাহার বলেন, ‘শিক্ষার্থীদের সুশিক্ষায় গড়ে তুলতে শিক্ষক ও অভিভাবকদের সম্মিলিত প্রচেষ্টার কোনো বিকল্প নেই। অভিভাবকদের সচেতনতা ও নিয়মিত তদারকি শিক্ষার্থীদের ভালো ফলাফল অর্জনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।’ বিশেষ অতিথির বক্তব্যে মো. হারুনার রশীদ বুলবুল বলেন, ‘বর্তমান প্রতিযোগিতামূলক বিশ্বে টিকে থাকতে হলে শিক্ষার্থীদের শুধু পাঠ্যবইয়ের জ্ঞান অর্জন করলেই হবে না, তাদের নৈতিক শিক্ষা ও প্রযুক্তিগত দক্ষতাও অর্জন করতে হবে।’

অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক মো. আশরাফুজ্জামান, শাহানা পারভীন, শুভাশীষ দত্ত ও গোবিন্দ দাম। এ ছাড়া উপস্থিত ছিলেন হাসানপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক মো. আজিজুর রহমান, বীর মুক্তিযোদ্ধা এস.এম. তহিদুজ্জামান, বিএনপি নেতা আব্দুল বারিক বিশ্বাস, অভিভাবক তরিকুল ইসলাম, সিদ্দিকুর রহমান, ঝর্না দাম, রেশমা খাতুন, ইরা রানী, রত্না খাতুনসহ এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তিরা।

সমাবেশে ষষ্ঠ থেকে দশম শ্রেণি পর্যন্ত প্রথম, দ্বিতীয় ও তৃতীয় স্থান অধিকারী শিক্ষার্থীদের হাতে পুরস্কার তুলে দেওয়া হয়।

ষষ্ঠ শ্রেণিতে প্রথম স্থান অর্জন করে বর্ণ দাম, দ্বিতীয় জিমিয়া খাতুন এবং তৃতীয় তাহসিন জামান সিয়াম। সপ্তম শ্রেণিতে প্রথম মোছা. মুসফিকা, দ্বিতীয় রিয়াদ হাসান এবং তৃতীয় জুয়েল রানা। অষ্টম শ্রেণিতে প্রথম মো. রিফাত হোসেন, দ্বিতীয় বনলতা দাস এবং তৃতীয় মো. ফাইম হোসেন। নবম শ্রেণিতে প্রথম মাহামুদুল হাছান, দ্বিতীয় এসএম তামিম ইসলাম এবং তৃতীয় তানমিন আক্তার মিম। দশম শ্রেণিতে প্রথম মোহনা জামান, দ্বিতীয় অপূর্ব পাল এবং তৃতীয় শাওন রেজা।


নির্বাচিত

তিস্তার ভাঙনে ক্ষতিগ্রস্ত ৩৫টি পরিবার পেল সরকারি সহায়তা

ছবি: দৈনিক বাংলা
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
গঙ্গাচড়া (রংপুর) প্রতিনিধি

তিস্তা নদীর ভয়াবহ ভাঙনে ক্ষতিগ্রস্ত রংপুরের গঙ্গাচড়া উপজেলার নোহালী ইউনিয়নের ৩৫টি পরিবারের মাঝে ঢেউটিন, নগদ অর্থ ও খাদ্যসামগ্রী বিতরণ করা হয়েছে। শুক্রবার (৩১ জুলাই) ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের হাতে এক বান্ডিল করে টিন ও ৫ হাজার টাকা এবং খাদ্য সামগ্রী তুলে দেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা জেসমিন আক্তার। একই সঙ্গে তাদের খাদ্যসামগ্রীও দেওয়া হয়।

ত্রাণ বিতরণকালে উপস্থিত ছিলেন জেলা ত্রাণ ও পুনর্বাসন কর্মকর্তা গোলাম কিবরিয়া, গঙ্গাচড়া থানার ওসি আব্দুস ছবুর, উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা মাঈদুল ইসলাম, উপজেলা বিএনপির সভাপতি চান সরকার, সাধারণ সম্পাদক আইয়ুব আলী এবং উপজেলা জামায়াতে ইসলামীর সাধারণ সম্পাদক সাইফুল ইসলাম, নোহালী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আশরাফ আলী।

এর আগে নোহালী ইউনিয়নের ২ নম্বর ওয়ার্ডের চর নোহালী কাচারীপাড়া, ৭ ও ৮ নম্বর ওয়ার্ডসহ বিভিন্ন এলাকায় তিস্তার ভাঙন তীব্র আকার ধারণ করে। নদীর পানি কমতে শুরু করার পর ভাঙনের তীব্রতা আরও বেড়ে যায়। প্রচণ্ড স্রোতে প্রতিদিনই নদীতীরের মাটি ধসে পড়ছে। বসতভিটা ও ঘরবাড়ি হারানোর আতঙ্কে অনেক পরিবার ঘরের টিন, কাঠ, দরজা-জানালা ও গৃহস্থালির মালামাল সরিয়ে নিয়েছেন। স্থানীয়দের তথ্যমতে, গত কয়েক দিনের ভাঙনে অন্তত ৩৬টি বসতবাড়ি নদীগর্ভে বিলীন হয়েছে। পাশাপাশি বিপুল পরিমাণ আবাদি জমিও নদীতে হারিয়ে গেছে। নদীতীরবর্তী শতাধিক পরিবার বর্তমানে চরম আতঙ্কের মধ্যে দিন কাটাচ্ছেন।

ক্ষতিগ্রস্ত এলাকা পরিদর্শন করে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা জেসমিন আক্তার ক্ষয়ক্ষতির তথ্য সংগ্রহ করেন এবং দুর্গত পরিবারের মাঝে সরকারি ত্রাণসামগ্রী বিতরণ করেন। ভাঙন পরিস্থিতি সম্পর্কে জেলা প্রশাসককে অবহিত করে ঝুঁকিপূর্ণ এলাকাগুলোতে জরুরি ভিত্তিতে ভাঙনরোধে ব্যবস্থা গ্রহণের সুপারিশ করেন তিনি। ইউএনওর পাঠানো প্রতিবেদন ও সুপারিশের ভিত্তিতে গত ২৩ জুলাই রংপুরের জেলা প্রশাসক বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ডের প্রধান প্রকৌশলীর কাছে চিঠি পাঠান। চিঠিতে নোহালী ইউনিয়নের ২ নম্বর ওয়ার্ডের চর নোহালী কাচারীপাড়ায় ২২টি এবং ৭ ও ৮ নম্বর ওয়ার্ডে আরও ১৪টি পরিবারের ঘরবাড়ি নদীগর্ভে বিলীন হওয়ার তথ্য উল্লেখ করা হয়।


নির্বাচিত

ওএমএসের আটা আত্মসাৎ ৩ খাদ্য কর্মকর্তা বরখাস্ত

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
জয়পুরহাট প্রতিনিধি

জয়পুরহাটের কালাই উপজেলায় খোলাবাজারে বিক্রির (ওএমএস) আটা আত্মসাতের অভিযোগে উপজেলা খাদ্য কর্মকর্তাসহ তিন কর্মকর্তাকে সাময়িক বরখাস্ত করেছে খাদ্য অধিদপ্তর। একই সঙ্গে তাদেরকে কালাই উপজেলা থেকে প্রত্যাহার করা হয়েছে এবং ঘটনার তদন্তে তিন সদস্যের একটি কমিটি গঠন করা হয়েছে। এর আগে উপজেলা খাদ্য কর্মকর্তার একটি গোপনে ধারণ করা ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে ভাইরাল হওয়ার পর বিষয়টি নিয়ে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনা শুরু হয়।

বরখাস্ত ব্যক্তিরা হলেন উপজেলা খাদ্য কর্মকর্তা হুমায়ুন আহম্মেদ, খাদ্য পরিদর্শক মো. মাহমুদুন্নবী সরকার এবং সহকারী উপখাদ্য পরিদর্শক আব্দুল মোমিন।

জানা যায়, কালাই উপজেলায় প্রতিদিন দুই টন আটা ও দুই টন চাল বরাদ্দ রয়েছে। একজন সুবিধাভোগী ২৭০ টাকায় পাঁচ কেজি আটা ও পাঁচ কেজি চাল কিনতে পারেন।

‎স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, প্রতিদিন দুই টন আটার বিপরীতে বিক্রয়কেন্দ্রে ৪০ বস্তা আটা থাকার কথা থাকলেও সেখানে রাখা হতো মাত্র ২০ বস্তা। ফলে অনেক সুবিধাভোগী চাল পেলেও আটা পেতেন না। বাকি ২০ বস্তা আটার কোনো হিসাব পাওয়া যাচ্ছে না বলে তাদের দাবি।

অভিযোগ রয়েছে, প্রতিদিন দুই টন আটার বিপরীতে বিক্রয়কেন্দ্রে ৪০ বস্তা আটা থাকার কথা থাকলেও সেখানে রাখা হয় মাত্র ২০ বস্তা। ফলে ঘণ্টার পর ঘণ্টা লাইনে দাঁড়িয়ে থেকেও অনেক সুবিধাভোগী আটা না পেয়ে খালি হাতে ফিরে যান। গত সোমবার বিষয়টি জানাজানি হয়।

‎এ নিয়ে উপজেলা খাদ্য কর্মকর্তা হুমায়ুন আহম্মেদের সঙ্গে কথা বলতে গেলে গোপনে ধারণ করা একটি ভিডিওতে তাকে বলতে শোনা যায়, ‘এত কথা কওয়া লাগবে ক্যা, কয় টন বরাদ্দ, এতদিন পর আচ্ছে। সবাই মিলেমিশে খাই। এখানে তেমন কিছু নাই। যা হবে ভাই-ব্রাদার মানুষ, সবাই মিলেমিশে খামু। আর আপনারা যদি কন বন্ধ করে দিতে, কালকে থেকে বন্ধ করে দিমু।’

জেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক কর্মকর্তা শাকিল আহমেদ বলেন, ‘অভিযোগ পেয়ে গত মঙ্গলবার তিন সদস্যের একটি উচ্চপর্যায়ের তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়। প্রাথমিক তদন্তেই আটা আত্মসাৎ এবং দায়িত্বে অবহেলার সত্যতা পাওয়া যায়। এরই ভিত্তিতে গত বুধবার মহাপরিচালকের নির্দেশে অভিযুক্ত তিনজনকে তাৎক্ষণিকভাবে উপজেলা থেকে প্রত্যাহার করা হয়।’


নির্বাচিত

ব্যস্ত মহাসড়কের সেতুতে বড় গর্ত, বাড়ছে দুর্ঘটনার শঙ্কা

* দ্রুত সংস্কারের দাবি এলাকাবাসীর
ছবি: দৈনিক বাংলা
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
সোনারগাঁ (নারায়ণগঞ্জ) প্রতিনিধি

ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁয়ে আষাঢ়িয়াচর ২ৎনং সেতুর ঢাকামুখী লেনে মাঝখানে বড় গর্ত তৈরি হয়েছে। যেন মরণফাঁদে তৈরি হয়েছে। প্রতিদিন এ সেতুর উপর দিয়ে ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করছে হাজারো যানবাহন। সেতুর ডেক স্ল্যাবের ওই গর্ত দিয়ে নিচের পানি পর্যন্ত দেখা যাচ্ছে। দেশের অন্যতম ব্যস্ত এ মহাসড়কের গুরুত্বপূর্ণ সেতুর এমন অবস্থা যেন দেখার কেউ নেই। দ্রুত স্থায়ী সংস্কার না হলে যেকোনো সময় বড় ধরনের দুর্ঘটনা ঘটতে পারে বলে আশঙ্কা করছে এ সড়কের পথচারী ও স্থানীয়রা।

এদিকে শুধু সেতুর অবস্থা নয়, এ সেতুর দু’পাশে পথচারীদের জন্য নির্মিত ওয়াকওয়ে রাস্তা দীর্ঘদিন ধরে বেহাল দশায় পরিণত হয়। এতে পথচারীদের ঝুঁকি নিয়ে চলতে হয় সেতুর রাস্তা দিয়ে ।

সরেজমিনে দেখা যায়, গত কয়েক দিন ধরে সেতুর মাঝামাঝি অংশের ডেক স্ল্যাব ভেঙে বড় গর্তের সৃষ্টি হয়েছে। গর্তটি এড়িয়ে চলতে গিয়ে বাস, ট্রাক, কাভার্ড ভ্যানসহ বিভিন্ন যানবাহনকে গতি কমিয়ে সতর্কতার সঙ্গে সেতু পার হতে হচ্ছে। স্থানীয়রা বলছে, ভারী যানবাহন চলাচলের সময় সেতুতে কম্পনও অনুভূত হয়। রাতের অন্ধকার বা বৃষ্টির সময় গর্তটি স্পষ্টভাবে দেখা না যাওয়ায় দুর্ঘটনার ঝুঁকি আরও বেড়ে যায়।

স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, কয়েক দিন ধরে ক্ষতিগ্রস্ত অংশের পরিধি ধীরে ধীরে বাড়ছে। তবে ঝুঁকি কমাতে এখনো দৃশ্যমান কোনো স্থায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। ফলে প্রতিদিন জীবনের ঝুঁকি নিয়েই সেতুটি ব্যবহার করছেন সাধারণ মানুষ।

এদিকে শুধু সেতুর মূল অংশই নয়, পথচারীদের জন্য নির্মিত ওয়াকওয়ে রাস্তা দীর্ঘদিন ধরে বেহাল দশায় পরিণত হয়। রাস্তার বিভিন্ন স্থানে স্ল্যাব ভেঙে গেছে, কংক্রিট উঠে গেছে এবং কোথাও কোথাও বড় ফাঁক তৈরি হয়েছে। দীর্ঘদিন সংস্কার না হওয়ায় আগাছায় ঢেকে পথটি প্রায় চলাচলের অনুপযোগী হয়ে পড়েছে। রাস্তার উপরে স্ল্যাব না থাকায় পথচারীরা ঝুঁকি নিয়ে সেতুর রাস্তা দিয়ে সোনারগাঁওয়ে অবস্থিত মেঘনা গ্রুপের ফ্রেশ কোম্পানি, বসুন্ধরা কোম্পানি, আল-মোস্তফা কোম্পানি, টাইগার পাওয়ার হাউসসহ আশপাশের বিভিন্ন শিল্পপ্রতিষ্ঠানের শ্রমিক, স্থানীয় বাসিন্দা ও শিক্ষার্থীরা প্রতিদিন হেটে চলাচল করছেন। সামান্য অসাবধানতায় দ্রুতগতির যানবাহনের নিচে পড়ে প্রাণহানির আশঙ্কা রয়েছে বলে জানান তারা।

ট্রাকচালক মহসিন মিয়া বলেন, ‘আষাঢ়িয়াচর দ্বিতীয় সেতুর বেহাল অবস্থার কারণে প্রতিদিন আতঙ্ক নিয়ে গাড়ি চালাতে হয়। সেতুর মাঝখানে বড় গর্ত তৈরি হওয়ায় যেকোনো সময় ভয়াবহ দুর্ঘটনা ঘটতে পারে। দ্রুত স্থায়ীভাবে সংস্কার না করলে বড় ধরনের প্রাণহানির আশঙ্কা রয়েছে।’

স্থানীয় আষাঢ়িয়াচর গ্রামের সুমন আলম বলেন, ‘কয়েক মাস আগেও একই স্থানে গর্ত হওয়ার পর নামমাত্র সংস্কার করা হয়েছিল। কিন্তু কাজটি টেকসই না হওয়ায় আবারও বড় গর্ত তৈরি হয়েছে। শুরু থেকেই মানসম্মতভাবে সংস্কার করা হলে আজ এ পরিস্থিতি তৈরি হতো না। বর্তমানে সেতুর বিভিন্ন স্থানে স্ল্যাব ভেঙে গেছে, কংক্রিট উঠে গেছে এবং প্রায়ই ছোট-বড় দুর্ঘটনা ঘটছে। আমরা দ্রুত ও স্থায়ীভাবে সেতুটি সংস্কারের দাবি জানাচ্ছি।’

উপজেলার পিরোজপুরের রতনপুর গ্রামের ব্যবসায়ী মো. সালাউদ্দিন মধু বলেন, ‘প্রতিদিন তার ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানে যায় এ সড়ক দিয়ে। আষারিয়ারচর ২য় সেতুর এ বেহাল অবস্থা মাঝখানে মরণফাঁদ যেন দেখার কেউ নেই। সেতুর সাইডে মানুষ যাতায়াতের রাস্তার স্ল্যাব কি হইছে তাও কর্তৃপক্ষ দেখে না। সেখানে এখন ঘাস হয়ে গেছে। এই রাস্তাটি দিয়ে সাধারণ নিম্ন আয়ের মানুষ ঝুঁকি নিয়ে চলাফেরা করে। একটু হোচট খেলেই গাড়ির তলে পড়বে।’

স্থানীয়দের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে সেতু ও পথচারীদের চলাচলের অংশ ঝুঁকিপূর্ণ থাকলেও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ কার্যকর কোনো উদ্যোগ নেয়নি। সম্ভাব্য দুর্ঘটনা এড়াতে তারা ক্ষতিগ্রস্ত অংশ দ্রুত মেরামত, ওয়াকওয়ে নিরাপদ করা এবং প্রয়োজনীয় সতর্কতামূলক ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।

সড়ক ও জনপথ অধিদপ্তরের (সওজ) নারায়ণগঞ্জ সড়ক বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী আব্দুর রহিম বলেন, ‘মহাসড়কের আষাঢ়িয়াচর ২ নম্বর সেতুর গর্তের বিষয়ে আমরা অবগত আছি। প্রাথমিকভাবে গর্তের ওপর স্টিলের প্লেট বসানো হয়েছে। পরে নিচ দিয়ে শাটারিং করে স্থায়ীভাবে কংক্রিট ঢালাইয়ের মাধ্যমে ক্ষতিগ্রস্ত অংশ সংস্কার করা হবে। বৃষ্টির কারণে রাস্তার কাজ শেষ করা যায়নি। আশা করছি, কয়েক দিনের মধ্যেই সংস্কারকাজ সম্পন্ন হবে।’


নির্বাচিত

মৌসুমের শেষে সাপাহারের আমের বাজারে কোটি টাকার বেচাকেনা

* ঊর্ধ্বমুখী দামে হাসি ফিরেছে আমচাষিদের মুখে
ছবি: দৈনিক বাংলা
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
সবুজ হোসেন, নওগাঁ

মৌসুম প্রায় শেষের পথে হলেও নওগাঁর সাপাহারের ঐতিহ্যবাহী আমের হাটে এখনো ক্রেতা-বিক্রেতাদের ভিড় কমেনি। বাজারে আমের সরবরাহ আগের তুলনায় কমে যাওয়ায় দাম বেড়েছে উল্লেখযোগ্য হারে। বর্তমানে প্রতিদিন এই বাজারে প্রায় ৫ থেকে ৭ কোটি টাকার আম কেনাবেচা হচ্ছে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।

সরেজমিনে দেখা যায়, ভোর থেকেই জেলার বিভিন্ন এলাকা থেকে চাষিরা ব্যাটারিচালিত ভ্যান ও শ্যালোচালিত যানবাহনে ক্যারেট ভর্তি আম নিয়ে বাজারে আসছেন। তবে মৌসুমের শেষ দিকে আমের পরিমাণ কমে যাওয়ায় প্রতিটি চালান ঘিরেই ক্রেতা ও ব্যবসায়ীদের মধ্যে চলছে দামের তীব্র দর-কষাকষি।

এখন বাজারে মূলত ব্যানানা ম্যাংগো, আশ্বিনা, গৌড়মতি, কাটিমন, বারি-৪ এবং অল্প পরিমাণ আম্রপালি পাওয়া যাচ্ছে। এর মধ্যে আম্রপালির চাহিদা সবচেয়ে বেশি। মানভেদে প্রতি মণ আম্রপালি ২০ থেকে ২৫ হাজার টাকায় বিক্রি হচ্ছে। এ ছাড়া ব্যানানা ম্যাংগোর দাম ১০ থেকে ১৫ হাজার টাকা, বারি-৪ চার থেকে আট হাজার টাকা, আশ্বিনা দুই থেকে তিন হাজার টাকা এবং গৌড়মতি ও কাটিমন তিন থেকে পাঁচ হাজার টাকা মণ দরে বিক্রি হচ্ছে।

স্থানীয় আমচাষিদের ভাষ্য, ‘মৌসুমের শুরুতে অতিরিক্ত গরমের কারণে অধিকাংশ আম নির্ধারিত সময়ের আগেই পেকে যায়। ফলে বাজারে একসঙ্গে প্রচুর আম ওঠায় দাম কমে যায় এবং অনেক কৃষক উৎপাদন খরচ তুলতেও হিমশিম খেয়েছেন। তবে এখন সরবরাহ কমে যাওয়ায় অবশিষ্ট আমের ভালো মূল্য মিলছে।’

আমচাষি জামাল হোসেন বলেন, ‘মৌসুমের শুরুতে বাজারমূল্য আশানুরূপ না থাকায় অনেক কৃষক ক্ষতির মুখে পড়েছিলেন। শেষ সময়ে এসে দাম বাড়লেও শুরুতে হওয়া লোকসান পুরোপুরি পুষিয়ে নেওয়া সম্ভব হয়নি।’

আরেক চাষি লতিফ হোসেন জানান, তার আড়াই বিঘা জমিতে বিভিন্ন জাতের আমের বাগান রয়েছে। মৌসুমের শুরুতে আম্রপালির ভালো দাম না পেলেও বর্তমানে বারি-৪ জাতের আম বিক্রি করে সন্তোষজনক মূল্য পাচ্ছেন।

সাপাহার আম ব্যবসায়ী সমবায় সমিতির সাধারণ সম্পাদক ইমাম হোসেন রিফাত বলেন, ‘বর্তমানে নওগাঁ ও চাঁপাইনবাবগঞ্জ ছাড়া দেশের অন্য কোথাও তেমন আম নেই। বাজারে আমের সরবরাহ আরও কমলে দাম বাড়ার সম্ভাবনা রয়েছে এবং এর সুফল পাচ্ছেন কৃষকরা।’

নওগাঁ কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক মো. মনজুর রহমান বলেন, ‘বরেন্দ্র অঞ্চলের মাটির বিশেষ বৈশিষ্ট্যের কারণে নওগাঁর আমের স্বাদ ও গুণগত মান আলাদা। তাই কৃষকদের লেট ভ্যারাইটি আমের চাষে উৎসাহিত করতে নিয়মিত প্রশিক্ষণ দেওয়া হচ্ছে, যাতে মৌসুমের শেষভাগেও তারা লাভজনক দামে আম বিক্রি করতে পারেন।’

কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের তথ্যানুযায়ী, চলতি মৌসুমে নওগাঁ জেলায় ৩০ হাজার ৩১০ হেক্টর জমিতে আমের আবাদ হয়েছে। উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে ৩ লাখ ৮৭ হাজার ২৩৫ টন। এ বছর আমকে কেন্দ্র করে জেলায় প্রায় ৪ হাজার কোটি টাকার বাণিজ্য হওয়ার আশা করছে সংশ্লিষ্টরা।


নির্বাচিত

banner close