শিক্ষার্থীদের শিক্ষাজীবন জিম্মি করে কোনো রাজনৈতিক দল যেন ফায়দা লোটার অপচেষ্টা না করে, সে বিষয়ে সতর্ক করেছেন শিক্ষামন্ত্রী ডা. দীপু মনি। রাজনৈতিক অরাজকতা হলে দেশে শিক্ষা কার্যক্রম আবারও ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন তিনি।
শনিবার দুপুরে চাঁদপুরের শিল্পকলা একাডেমি মিলনায়তনে সাংবাদিকদের মাঝে কল্যাণ অনুদান ও আর্থিক সহায়তার চেক বিতরণ অনুষ্ঠান শেষে তিনি এ কথা বলেন।
শিক্ষামন্ত্রী বলেন, ‘করোনার কারণে শিক্ষার্থীদের অনেক অসুবিধা হয়েছে। এখন আমরা এসব অসুবিধা কাটিয়ে উঠছি। নভেম্বরের মধ্যে এ বছরের শিক্ষা কার্যক্রম ও পাঠ্যসূচি- সব শেষ করতে চেষ্টা করছি। এই সময়ে দেশব্যাপী অরাজকতা সৃষ্টি করলে শিক্ষা কার্যক্রম আবারও ব্যাহত হবে।’
তিনি বলেন, ‘রাজনীতির মাঠে রাজনীতি থাকবে, রাজনীতি মানে অরাজকতা-ধ্বংসলীলা নয়। নির্বাচনে সবাই অংশগ্রহণ করুক গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ার মাধ্যমে। এতে সব প্রশ্নের মীমাংসা করা সম্ভব।’
অনুষ্ঠানে সাংবাদিক কল্যাণ ট্রাস্টের মাধ্যমে ৮২ জন সাংবাদিকের মাঝে ১৭ লাখ টাকার চেক বিতরণ করা হয়।
এ সময় উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ সাংবাদিক কল্যাণ ট্রাস্টের ব্যবস্থাপনা পরিচালক সুভাষ চন্দ বাদল, চাঁদপুর পৌরসভার মেয়র জিল্লুর রহমান জুয়েল, চাঁদপুর প্রেসক্লাবের সভাপতি এএইচএম আহসান উল্লাহসহ অনেকে।
টাঙ্গাইলের গোপালপুর উপজেলার মির্জাপুর ইউনিয়নের পশ্চিম নুঠুরচর গ্রামের ইটের রাস্তা নির্মাণের এক বছর না পেরোতেই সেই রাস্তার ইট তুলে নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, এক ইউপি সদস্য সরকারি সড়কের ইট তুলে নিজ বাড়িতে পাকা বাথরুম নির্মাণ করেছেন। অভিযুক্ত ইউপি সদস্যের নাম আয়েশা বেগম। তিনি ওই ইউনিয়নের ১, ২ ও ৩ নম্বর ওয়ার্ডের সংরক্ষিত মহিলা সদস্য।
সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, গোপালপুর উপজেলা গ্রামীণ অবকাঠামো সংস্কার কর্মসূচি (কাবিটা) মোতাবেক (উপজেলা পরিষদ ওয়ারী) ২০২৪-২৫ অর্থবছরে (১ম ও ২য় পর্যায়) পশ্চিম নুঠুরচর গ্রামের জসিম মিয়ার বাড়ি থেকে আজমত হোসেনের বাড়ি পর্যন্ত প্রায় দুই লাখ বিশ হাজার টাকা ব্যয়ে ৬শ মিটার গ্রামীণ সড়ক বা হালটে মাটি ভরাট ও ইটের সলিং করা হয়।
গ্রামের মোড়ল আব্দুল হালিম অভিযোগ করেন, পাশেই প্যারাজানি বিল। সেখানে সহস্রাধিক একরে বোরো ও রোপা আবাদ হয়। বিলে হালচাষ এবং সেখান থেকে ফসল ঘরে আনার জন্য সড়কটি একমাত্র অবলম্বন। এলাকাবাসির দাবির পরিপ্রেক্ষিতে উপজেলা প্রশাসন গ্রামীণ সড়কটি মেরামত ও ইটের সলিং করে।
প্রকল্পের সভাপতি ছিলেন ইউপি সদস্য আয়েশা বেগম নিজেই। আর কাজের ঠিকাদারি পান তার স্বামী তোফাজ্জ্বল হোসেন। কিন্তু দুই মাস আগে ইউপি সদস্য ও তার স্বামী দুজনে মিলে দিন দুপুরে রাস্তার সকল ইট তুলে রিকশা-ভ্যানে করে বাড়ি নিয়ে যায়। গ্রামবাসীরা ইট তোলার কারণ জানতে চাইলে বলা হয়, রাস্তা পাকা হবে। তাই ইট তুলে খোয়া বানানো হবে। পরে সেই ইট দিয়ে তারা বাড়িতে পাকা বাথরুম বানায়। এদিকে ইট তুলে নেয়ায় চলতি বর্ষায় রাস্তার মাটি ধসে পড়ছে। ফলে মাঠ থেকে কৃষকরা বোরো ধান বাড়ি নিয়ে আসতে দুর্ভোগ পোহাচ্ছেন।
গ্রামের প্রবীণ আব্দুল জলিল জানান, স্বামী-স্ত্রী দুইজনে মিলা সরকারি টেহায় ইচ্ছামতো ইটের রাস্তা বানাইছে। আবার তারাই দিন দুপরে রাস্তার ইট তুইলা নিয়া বাড়িতে গোছলখানা আর পাকা পায়খানা দিছে। এরা প্রভাবশালী। কিছু কইতে গেলেই মাইরতে আসে। তাই সবাই চুপচাপ হইয়া আছে।’ গত রোববার ওই ইউপি সদস্যের বাড়ি গিয়ে দেখা যায়, রাস্তার কাজের সাইনবোর্ডটি বাথরুমের পাশে পড়ে রয়েছে।
এ ব্যাপারে ইউপি সদস্যের স্বামী এবং ঠিকাদার তোফাজ্জল হোসেন জানান, তিনি ওই অর্থবছরে ওই ইউনিয়নের ৪টি গ্রামীণ সড়ক সলিং করার কাজ পান। কাজ শেষে সাড়ে তিন হাজার ইট থেকে যায়। সেই ইট দিয়ে বাড়িতে পাকা বাথরুম বানিয়েছেন। বরাদ্দ দেওয়া বাড়তি সরকারি ইট ব্যক্তিগত কাজে ব্যবহার করা যায় কি না প্রশ্নে জানান, উপজেলা প্রশাসন তো কখনও ইট ফেরত চায়নি। এখানে সাংবাদিকদের কী সমস্যা?
ইউপি সদস্য আয়েশা বেগম জানান, গ্রামের কিছু দুষ্টু লোক রাতের আধাঁরে রাস্তার ইট চুরি করে নিয়ে গেছে। তাই রাস্তার ইট দিয়ে বাথরুম বানানোর প্রশ্নই আসে না। ইট চুরির ঘটনা প্রশাসনকে কেন জানানো হয়নি প্রশ্নে জানান, রাস্তাটি পুনঃসংস্কার করার জন্য নতুন প্রকল্প দাখিল করা হয়েছে। তাই হারিয়ে যাওয়া ইট নিয়ে ভাবা হচ্ছে না। গোপালপুর উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন অফিস ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, ইউপি সদস্যকে মাত্র তিন দিন সময় দেওয়া হয়েছে। এ সময়ের মধ্যে নিজের টাকায় ইট কিনে রাস্তা চলাচলের উপযোগী না করলে তার বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
গ্রীষ্মের আবহে উপকূলীয় উপজেলা শরণখোলার বিভিন্ন সড়ক ও বেড়িবাঁধজুড়ে ফুটতে শুরু করেছে আকন্দ ফুল। সাদা ও হালকা বেগুনি রঙের এই বুনো ফুল এখন প্রকৃতিপ্রেমীদের দৃষ্টি কাড়ছে। বিশেষ করে বলেশ্বর নদীর তীরবর্তী বেড়িবাঁধে জন্ম নেওয়া আকন্দ গাছগুলো যেন প্রকৃতিকে নতুন সাজে সাজিয়ে তুলেছে।
স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, বছরের এই সময়টাতে আকন্দ গাছে বেশি ফুল ফুটে। কোনো ধরনের বিশেষ পরিচর্যা ছাড়াই বেড়ে ওঠা এই গাছ উপকূলীয় প্রকৃতিতে যোগ করেছে ভিন্ন মাত্রার সৌন্দর্য। সকাল কিংবা বিকালে চলাচলের সময় পথচারীরা আকন্দ ফুলের সৌন্দর্য উপভোগ করছেন।
চালরায়েন্দার বাসিন্দা খোকন হাওলাদার বলেন, ‘আগে এই ফুলকে তেমন গুরুত্ব দিতাম না। এখন রাস্তার ধারে এত ফুল ফুটতে দেখে খুব ভালো লাগে। মনে হয় প্রকৃতি নিজেই উপকূলকে সাজিয়ে তুলেছে।’
উদ্ভিদপ্রেমী ও স্থানীয় শিক্ষক ইলিয়াস মিলন বলেন, ‘আকন্দ শুধু সৌন্দর্যের জন্য নয়, এটি একটি ভেষজ গাছ হিসেবেও পরিচিত। গ্রামীণ এলাকায় বিভিন্ন কাজে এর ব্যবহার রয়েছে। প্রকৃতির ভারসাম্য রক্ষায় এসব দেশীয় উদ্ভিদের গুরুত্ব অনেক।’
প্রকৃতির আপন নিয়মে বেড়ে ওঠা আকন্দ ফুল এখন উপকূলের পথঘাটে ছড়িয়ে দিচ্ছে নীরব সৌন্দর্য। গ্রীষ্মের এই সময়টাতে ফুলে ফুলে ভরে ওঠা আকন্দ গাছ যেন প্রকৃতিপ্রেমী মানুষের মনে এনে দিচ্ছে এক প্রশান্ত অনুভূতি।
লক্ষ্মীপুরের কমলনগর উপজেলা স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরে (এলজিইডি) জনবল সংকট দেখা দিয়েছে। প্রয়োজনীয় কর্মকর্তা-কর্মচারী না থাকায় অফিসের প্রশাসনিক কার্যক্রম ও চলমান উন্নয়ন প্রকল্পের তদারকি মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে। একজন প্রকৌশলী ও ৯ জন কর্মচারী জোড়াতালি দিয়ে অফিসের কার্যক্রম চালিয়ে নিচ্ছেন। গুরুত্বপূর্ণ বেশ কয়েকটি পদ শূন্য থাকায় ব্যাহত হচ্ছে উন্নয়ন প্রকল্পের বাস্তবায়ন, তদারকি ও প্রশাসনিক কার্যক্রম। এতে ভোগান্তিতে পড়েছেন সেবাপ্রত্যাশী সাধারণ মানুষ, ঠিকাদার ও সংশ্লিষ্ট জনপ্রতিনিধিরা। ফলে সীমিত জনবল দিয়ে বিপুল পরিমাণ কাজ সামাল দিতে হিমশিম খেতে হচ্ছে সংশ্লিষ্টদের।
একদিকে চলমান উন্নয়ন প্রকল্পের তদারকি, অন্যদিকে নতুন প্রকল্পের পরিকল্পনা ও বাস্তবায়নসহ সব মিলিয়ে কার্যক্রমে ধীরগতি দেখা দিয়েছে। বিশেষ করে গ্রামীণ সড়ক, সেতু, কালভার্ট নির্মাণ ও সংস্কার কাজের মান নিয়ন্ত্রণ এবং নির্ধারিত সময়ে প্রকল্প শেষ করতে নানা জটিলতা সৃষ্টি হচ্ছে। অনেক ক্ষেত্রে মাঠপর্যায়ে নিয়মিত তদারকির অভাবে কাজের গুণগত মান নিয়েও প্রশ্ন ওঠেছে।
জানা যায়, কার্যালয়টিতে অনুমোদিত পদের সংখ্যা ২১টি হলেও বর্তমানে কর্মরত আছেন মাত্র ৯ জন। এরমধ্যে অফিস প্রধান উপজেলা প্রকৌশলী আব্দুল কাদের মুজাহিদের বদলির আদেশ হওয়ায় সংকট আরো বেড়ে গেছে। বর্তমানে অর্ধেক জনবল দিয়ে খুড়িয়ে খুড়িয়ে চলছে উপজেলার গুরুত্বপূর্ণ অফিসটি।
উপজেলা প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি) সুত্রে জানা যায়, একজন প্রকৌশলী, একজন সহকারী প্রকৌশলী, ৪ জন উপসহকারী প্রকৌশলীর স্থলে রয়েছে মাত্র ১ জন। একজন করে হিসাব রক্ষক, হিসাব সহকারী, কম্পিউটার অপারেটর ও সার্ভেয়ার পদ থাকলেও একজনও নেই। কার্যসহকারী ৫ জনের স্থলে রয়েছে ২ জন। ১ জন করে অফিস সহায়ক ও অফিস সহকারীর স্থলে কেউ নেই। নেই নিরাপত্তাকর্মীও। সবমিলিয়ে এ অফিসে ২১ টি পদের স্থলে আছে মাত্র ৯ জন। এর মধ্যে সম্প্রতি উপজেলা প্রকৌশলীকে ফেনীতে বদলি করা হয়েছে। তিনি চলে গেলে অফিসের দৈনন্দিন কার্যক্রম একেবারে স্থবির হয়ে পড়বে।
স্থানীয় ৪ জনপ্রতিনিধি জানান, এলজিইডি অফিসে পর্যাপ্ত জনবল না থাকায় উন্নয়ন কার্যক্রম কাঙ্ক্ষিত গতিতে এগোচ্ছে না। এতে সরকারের উন্নয়ন পরিকল্পনা বাস্তবায়নেও নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে।
২ জন সেবাপ্রত্যাশী বলেন, ছোটখাটো কাজেও দিনের পর দিন অফিসে ঘুরতে হচ্ছে। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের ওপর অতিরিক্ত কাজের চাপ থাকায় অনেক আবেদন ও ফাইল নিষ্পত্তিতে বিলম্ব হচ্ছে।
অফিসটির ২ জন কর্মচারী জানান, জনবল সংকটের কারণে অফিসের কার্যক্রম প্রায় স্থবির হয়ে পড়েছে। ঠিকাদাররা কাজের বিল নিতে দিনের পর দিন অফিসে ঘুরছেন। গণমাধ্যম কর্মীরাও বিজ্ঞাপন বিলের জন্য বিড়ম্বনার শিকার হচ্ছেন। এতে পর্যাপ্ত জনবল না থাকায় চলমান উন্নয়ন প্রকল্প, কালভার্ট, সড়ক নির্মাণসহ মাঠপর্যায়ের বিভিন্ন কাজ সঠিকভাবে মনিটরিং করা সম্ভব হচ্ছে না।
উপজেলার ৩ জন ঠিকাদার জানান, জনবল সংকটের কারণে বিল নিষ্পত্তিতে দেরি হওয়ায় কাজ সমাপ্ত করতে দেরী হচ্ছে। এতে তাদের দুর্ভোগ বাড়ছে। সরকারের উন্নয়নের সঙ্গে জনগণের দূরত্ব সৃষ্টি হচ্ছে। কাজের গতি একেবারে স্লো। তারা দ্রুত শূন্যপদগুলোতে জনবল নিয়োগের দাবি জানান।
কমলনগর উপজেলা প্রকৌশলী আব্দুল কাদের মুজাহিদ বলেন, দীর্ঘদিন ধরে জনবল সংকট রয়েছে। বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে একাধিকবার জানানো হয়েছে। শূন্যপদে জনবল নিয়োগ হলে অফিসের কার্যক্রমে গতিশীল ফিরে পাবে।
স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর লক্ষ্মীপুর জেলা নির্বাহী প্রকৌশলী উজ্জ্বল চৌধুরী বলেন, জনবল সংকটের বিষয়টি তিনি অধিদপ্তরকে। অবহিত করেছেন। তারা এসমস্যা সমাধানের আশ্বাসও দিয়েছেন।
সামাজিক আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে মাগুরার শ্রীপুরে প্রতিপক্ষের হামলায় এক কৃষকের নিহত হয়েছে। সোমবার (১৮ মে) সকালে উপজেলার মাশালিয়া গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।
শ্রীপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ওলি মিয়া জানান, মাশালিয়া গ্রামের আব্দুর রশিদ ও আকবর মণ্ডলের মধ্যে সামাজিক আধিপত্য বিস্তার নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলছিল।
তিনি জানান, ঘটনার দিন সকালে আকবর মণ্ডল গ্রামের মাঠে পাঠ নিড়াতে গেলে প্রতিপক্ষের লোকজন তার ওপর অতর্কিত হামলা চালায়। হামলাকারীরা তাকে কুপিয়ে ও পিটিয়ে গুরুতর আহত অবস্থায় ফেলে রেখে যায়।
পরে স্থানীয়রা ও স্বজনরা তাকে উদ্ধার করে শ্রীপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
ঘটনাস্খলে পুলিশ মোতায়েন রয়েছে বলে শ্রীপুর পুলিশ জানিয়েছে।
ইসলামিক ফাউন্ডেশন পরিচালিত মসজিদভিত্তিক শিশু ও গণশিক্ষা কার্যক্রম প্রকল্পের শিক্ষকদের রাজস্বখাতে অন্তর্ভুক্তি, সরকারি গ্রেড অনুযায়ী বেতন-ভাতা প্রদান এবং চাকরির স্থায়িত্ব নিশ্চিত করার দাবিতে সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়েছে।
সোমবার (১৮ মে) সকাল ১১টায় পাথরঘাটা প্রেসক্লাব কার্যালয়ে আয়োজিত এ সংবাদ সম্মেলনে উপজেলার বিভিন্ন এলাকার শিক্ষকরা অংশ নেন। এসময় তারা দীর্ঘদিনের পেশাগত অনিশ্চয়তা, স্বল্প ভাতা এবং সামাজিক নিরাপত্তাহীনতার বিষয়গুলো তুলে ধরেন।
সংবাদ সম্মেলনে বক্তব্য রাখেন মসজিদভিত্তিক শিশু ও গণশিক্ষা কার্যক্রমের পাথরঘাটা উপজেলা সভাপতি মাওলানা আসাদুল্লাহ। তিনি বলেন, “সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার উদ্যোগে ১৯৯৩ সালে চালু হওয়া এ প্রকল্পটি দেশের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ধর্মীয় ও সামাজিক উন্নয়নমূলক কর্মসূচি। দীর্ঘ তিন দশকেরও বেশি সময় ধরে এ কার্যক্রমের মাধ্যমে শিশুদের ধর্মীয় শিক্ষা, নৈতিকতা চর্চা এবং সামাজিক সচেতনতা বৃদ্ধিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখা হচ্ছে।”
তিনি আরও বলেন, “শিক্ষকরা অত্যন্ত স্বল্প ভাতায় দীর্ঘদিন ধরে নিষ্ঠার সঙ্গে পাঠদান চালিয়ে যাচ্ছেন। পাশাপাশি যাকাত উদ্বুদ্ধকরণ, মাদকবিরোধী প্রচারণা, বাল্যবিবাহ প্রতিরোধ এবং বিভিন্ন সামাজিক সচেতনতামূলক কর্মকাণ্ডেও তারা সক্রিয় ভূমিকা পালন করছেন। অথচ প্রকল্পভিত্তিক হওয়ায় তাদের চাকরির কোনো স্থায়িত্ব নেই। ফলে পরিবার-পরিজন নিয়ে মানবেতর জীবনযাপন করতে হচ্ছে।”
সংবাদ সম্মেলনে শিক্ষকরা অবিলম্বে মসজিদভিত্তিক শিশু ও গণশিক্ষা কার্যক্রম প্রকল্পকে রাজস্বখাতে স্থানান্তর, সরকারি বেতন কাঠামোর আওতায় আনা এবং চাকরির নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জন্য সরকারের সংশ্লিষ্ট মহলের প্রতি জোর দাবি জানান।
টাঙ্গাইলের বাসাইলে গত ২৪ ঘন্টায় থানা পুলিশের বিশেষ অভিযানে ১০ পিস ইয়াবাসহ তিনজন মাদক ব্যবসায়ীকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
রোববার (১৭ মে) রাত পৌনে আটটার দিকে উপজেলার কাঞ্চনপুর ইউনিয়নের পূর্ব পৌলী এলাকা থেকে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়।
আটককৃতরা হলেন– কুড়িগ্রাম জেলার রৌমারী থানার বাবচার চর এলাকার মৃত আব্দুল আজিজের ছেলে শহিদুল ইসলাম(৩৫), বাসাইলের কাঞ্চনপুর ইউনিয়নের পূর্ব পৌলী এলাকার আবু সাঈদ মিয়ার ছেলে দেলোয়ার হোসেন সাঈদী (৩৪) ও আলেক মিয়ার ছেলে সিয়াম মিয়া (২০)।
পুলিশ সূত্রে জানা যায়, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে বাসাইল থানা পুলিশের একটি আভিজানিক দল কাঞ্চনপুর ইউনিয়নের পূর্ব পৌলী গ্রামের জনৈক সোলায়মানের বাড়ীর সামনে পাকা রাস্তায় অভিযান চালিয়ে তাদের আটক করা হয়। এসময় তল্লাশিকালে তাদের হেফাজত থেকে ১০ পিস ইয়াবা ট্যাবলেট উদ্ধার করা হয়। তাদের বিরুদ্ধে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে মামলা দায়ের করে যথাযথ পুলিশ স্কটের মাধ্যমে আজ সোমবার আদালতে প্রেরণ করা হয়েছে।
বাসাইল থানা অফিসার ইনচার্জ (ওসি) আলমগীর কবির বলেন, মাদকের বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স নীতি ও নিয়মিত অভিযানের অংশ হিসেবে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়েছে। অপরাধ দমনে পুলিশের এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে।
কুষ্টিয়ার দৌলতপুরে কোরআন অবমাননার অভিযোগ এনে পীর পরিচিতি পাওয়া আব্দুর রহমান শামিম (৬৫) হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় দায়ের হওয়া মামলার পর এবার গ্রেপ্তার আতঙ্কে এক স্কুলছাত্র আত্মহত্যা করেছে বলে অভিযোগ উঠেছে। নিহত ওই স্কুল শিক্ষার্থী স্থানীয় পিএসএস মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের ৮ম শ্রেনীর ছাত্র ও ওই এলাকার রবিউল ইসলামের ছেলে।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গত ১১ এপ্রিল উপজেলার ফিলিপনগরে শামিমের আস্তানায় হামলা, ভাঙচুর, লুটপাট ও অগ্নিসংযোগের পর তাকে পিটিয়ে ও কুপিয়ে হত্যা করা হয়। ওই ঘটনায় দায়ের হওয়া মামলায় এখন পর্যন্ত চারজনকে গ্রেপ্তার করেছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী।
নিহত লামের বড় ভাই আলিফ ইসলাম (২৩) এই মামলায় গ্রেপ্তার হওয়ার পর থেকেই আতঙ্কে ছিল পরিবার। পরিবারের সদস্যরা জানান, ঘটনার দিন লাম ঘটনাস্থলে উপস্থিত ছিল এবং বিক্ষুব্ধ জনতার সঙ্গে দরবারে উললাশের অংশ নেয়। পরে গ্রেপ্তার এড়াতে তাকে ঢাকার আশুলিয়ায় খালার বাসায় পাঠানো হয়।
শনিবার (১৬ মে) দুপুরে আশুলিয়া থানা এলাকার খালার ভাড়া বাসায় গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা করে লাম। রোববার (১৭ মে) ময়নাতদন্ত শেষে রাত ১১টার দিকে ফিলিপনগরে পারিবারিক কবরস্থানে তাকে দাফন করা হয়।
নিহতের পিতা রবিউল ইসলাম বলেন, “আমার ছেলে আলিফ পীর হত্যার ঘটনায় জড়িত না, তবুও ভিডিও ফুটেজের কথা বলে তাকে পুলিশ গ্রেপ্তার করেছে। লাম ছোট মানুষ, ঘটনার দিন সবার সঙ্গে দেখতে গিয়েছিল। ভাই গ্রেপ্তার হওয়ার পর থেকেই সে মানসিকভাবে ভেঙে পড়ে। ভয় ও দুশ্চিন্তা থেকেই হয়তো আত্মহত্যা করেছে।”
তিনি আরও বলেন, “আমি তো এক ছেলে হারিয়েছি। আরেক ছেলেকে যদি প্রশাসন নির্দোষ বিবেচনায় ছেড়ে দিত, তাহলে কৃতজ্ঞ থাকতাম। জন্মনিবন্ধন অনুযায়ী আলিফের বয়স ১৮ বছর হলেও তাকে ২৩ বছর দেখানো হয়েছে সে বাজারে সবজি বিক্রিকরতো ।”
এদিকে মামলায় গ্রেপ্তার চার আসামির মধ্যে এজাহারভুক্ত আসামি রাজীব মিস্ত্রিকে দুই দিনের এবং বিপ্লব হোসেন (২৬) ও আলিফ ইসলামকে একদিন করে রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করেছে পুলিশ। তদন্ত সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, রিমান্ডে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পাওয়া গেছে।
তদন্ত কর্মকর্তাদের ভাষ্য, হামলার মূল উদ্দেশ্য ছিল ফিলিপনগর এলাকায় শামিমের আস্তানা উচ্ছেদ ও তার কার্যক্রম বন্ধ করা। তবে হামলায় অংশ নেওয়া একটি পক্ষ শুধু ভাঙচুর ও উচ্ছেদে জড়িত থাকলেও, আরেকটি পক্ষ সরাসরি হত্যাকাণ্ডে অংশ নেয়।
পুলিশের দাবি, ঘটনার অন্তত এক সপ্তাহ আগে থেকেই হামলার পরিকল্পনা করা হয়। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একটি পুরোনো ভিডিওর অংশ ছড়িয়ে জনসাধারণকে উসকে দেওয়া হয়েছিল। এরপর উত্তেজিত জনতা শামিমের আস্তানায় হামলা চালায়। এসময় তাকে পিটিয়ে ও কুপিয়ে হত্যা করা হয়। পাশাপাশি চলে লুটপাট ও অগ্নিসংযোগ।
তদন্তের স্বার্থে অনেক তথ্য গোপন রাখা হলেও হামলায় নেতৃত্বদানকারী ও জড়িত অন্তত ৩৫ জনের তালিকা প্রস্তুত করা হয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ। তাদের গ্রেপ্তার করা গেলে ঘটনার নেপথ্যের কারণ আরও স্পষ্ট হবে বলে মনে করছেন তদন্ত সংশ্লিষ্টরা।
এ বিষয়ে ভেড়ামারা সার্কেলে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার দেলোয়ার হোসেন বলেন, “আলিফের ছোট ভাই লামের আত্মহত্যার বিষয়টি শুনেছি। কেউ ভয় থেকে আত্মহত্যা করলে সেখানে পুলিশের কিছু করার থাকে না। তবে হামলা ও ভাঙচুরের ঘটনায় লামের সংশ্লিষ্টতা ছিল। ভিডিও ফুটেজ দেখে আলিফকেও শনাক্ত করা হয়েছে। ঘটনার সঙ্গে জড়িত অন্যদেরও দ্রুত আইনের আওতায় আনা হবে।”
উল্লেখ্য, গত ১৩ এপ্রিল নিহত শামিমের বড় ভাই ও অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক ফজলুর রহমান বাদী হয়ে দৌলতপুর থানা হত্যা মামলা দায়ের করেন। মামলায় জেলা শিবিরের সাবেক সভাপতি খাজা আহম্মেদ ও খেলাফত মজলিসের উপজেলা সভাপতি আসাদুজ্জামানসহ চারজনের নাম উল্লেখ করে অজ্ঞাতনামা আরও ১৮০ থেকে ২০০ জনকে আসামি করা হয়।
গ্রীষ্মের দাবদাহ আর তীব্র তাপপ্রবাহের মধ্যেও যশোরের কেশবপুর উপজেলা যেন প্রকৃতির এক রঙিন ক্যানভাসে পরিণত হয়েছে। উপজেলার বিভিন্ন গ্রামীণ জনপদ, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, সড়কের ধারে এবং বসতবাড়ির আশপাশজুড়ে রক্তিম কৃষ্ণচূড়ার অপরূপ সৌন্দর্য মুগ্ধ করছে পথচারী ও প্রকৃতিপ্রেমীদের। টুকটুকে লাল, কমলা ও হলুদ আভায় ভরা কৃষ্ণচূড়ার ফুলে চারদিক যেন আগুনরঙা সাজে সেজে উঠেছে।
দূর থেকে তাকালেই মনে হয়, সবুজের বুক চিরে আগুন জ্বলে উঠেছে প্রকৃতির বুকে। গ্রীষ্মের খরতাপ উপেক্ষা করেও কৃষ্ণচূড়ার এই অপরূপ রূপ যেন মানুষকে কিছুক্ষণের জন্য থমকে দাঁড়াতে বাধ্য করছে। বিশেষ করে কেশবপুর সরকারি ডিগ্রি কলেজ চত্বরের বিশাল কৃষ্ণচূড়া গাছগুলো এখন সৌন্দর্যপিপাসু মানুষের অন্যতম আকর্ষণ। ফুলে ফুলে ভরা গাছগুলোতে পাতার উপস্থিতি যেন খুঁজেই পাওয়া যায় না।
উপজেলার বিভিন্ন গ্রামের রাস্তার দু’পাশে সারিবদ্ধ কৃষ্ণচূড়া গাছ প্রকৃতিকে দিয়েছে নতুন মাত্রা। গ্রামের মেঠোপথ, খোলা মাঠ কিংবা শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের প্রাঙ্গণে দাঁড়িয়ে থাকা এই বৃক্ষগুলো শুধু সৌন্দর্যই ছড়াচ্ছে না, দিচ্ছে প্রশান্তির ছায়াও। তীব্র রোদের মধ্যে কৃষ্ণচূড়ার নিচে দাঁড়ালে যেন এক অন্যরকম শীতলতার অনুভূতি জাগে।
কবিগুরু রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর থেকে শুরু করে অসংখ্য কবি-সাহিত্যিক তাঁদের কবিতা ও গানে কৃষ্ণচূড়াকে প্রেম, সৌন্দর্য ও আবেগের প্রতীক হিসেবে তুলে ধরেছেন। বাংলার প্রকৃতির সঙ্গে মিশে থাকা এই ফুল যেন ঋতুবৈচিত্র্যের এক অনন্য ভাষা। গ্রীষ্ম এলেই কৃষ্ণচূড়ার রক্তিম আভা জানান দেয় ঋতুর আগমনী বার্তা।
কেশবপুর কৃষি অফিসার আব্দুল্ল্যাহ আল মামুন বলেন, প্রচণ্ড গরমের মধ্যেও কৃষ্ণচূড়া গাছের নিচে এক ধরনের শীতলতা অনুভূত হয়। ক্লান্ত পথচারীরা এই গাছের ছায়ায় কিছুটা স্বস্তি খুঁজে পান। পাশাপাশি প্রকৃতির সৌন্দর্যও বহুগুণে বৃদ্ধি পায়।
জানা গেছে, কৃষ্ণচূড়া তুলনামূলকভাবে মাঝারি উচ্চতার বৃক্ষ হলেও এর শাখা-প্রশাখা অনেক দূর পর্যন্ত বিস্তৃত হয়। গ্রীষ্মকালে পত্রঝরা এই গাছে যখন ফুল ফোটে, তখন পুরো গাছজুড়ে সৃষ্টি হয় লাল রঙের বিশাল এক ছাউনি। প্রতিটি ফুলের চারটি বড় পাপড়ি থাকে এবং এর উজ্জ্বল লাল রঙ সহজেই মানুষের নজর কাড়ে। কৃষ্ণচূড়ার পাতাগুলো উজ্জ্বল সবুজ এবং জটিল গঠনের হওয়ায় গাছটি আরও দৃষ্টিনন্দন হয়ে ওঠে। কেশবপুর উপজেলা নির্বাহী অফিসার রেকসোনা খাতুন বলেন, কৃষ্ণচূড়া শুধু একটি সৌন্দর্যবর্ধক বৃক্ষ নয়, এটি পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষাতেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। প্রকৃতির এই অপার সৌন্দর্য রক্ষায় সবাইকে এগিয়ে আসতে হবে। নির্বিচারে গাছ কাটার প্রবণতা বন্ধ না হলে ভবিষ্যতে প্রকৃতির ভারসাম্য মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হবে।
প্রকৃতির রাণীখ্যাত কৃষ্ণচূড়া এখন কেশবপুরের গ্রামবাংলাকে রাঙিয়ে তুলেছে এক অপার্থিব সৌন্দর্যে। শহরের ব্যস্ততা আর যান্ত্রিক জীবনের ক্লান্তি ভুলে মানুষ খুঁজে নিচ্ছে প্রকৃতির নির্মল প্রশান্তি। রক্তিম কৃষ্ণচূড়ার এই সৌন্দর্য যেন জানান দিচ্ছে প্রকৃতি এখনো তার আপন রূপে বেঁচে আছে বাংলার গ্রামে-গঞ্জে।
কুষ্টিয়ার দৌলতপুর সিমান্তের রামকৃষ্ণপুর ইউনিয়নের চড়ুইকুড়ি (মরার পাড়া) গ্রামের মানুষিক ভারসাম্যহীন যুবক বকুল মন্ডল (৩৫) বাড়ি থেকে নিখোঁজ হওয়ার ১৩ দিন পর ভারত থেকে দেশে ফিরেছেন। মানসিক ভারসাম্যহীন হওয়ায় তিনি ভুলবশত সীমান্ত অতিক্রম করে ভারতের কলকাতায় চলে যান। তিনি ওই এলাকার লুৎফর রহমান মন্ডলের ছেলে।
বিজিবি ও পরিবার সূত্রে জানাযায়, গত ৩ মে বাড়ি থেকে নিখোঁজ হন বকুল। পরে বিভিন্ন স্থানে খোঁজাখুঁজি করেও তার কোনো সন্ধান পাওয়া যায়নি। ১২ মে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে কলকাতায় এক বাংলাদেশি যুবক অসুস্থ অবস্থায় পড়ে থাকার ছবি ও তথ্য ছড়িয়ে পড়ে। পরিবারের সদস্যরা সেই ছবি দেখে বকুলকে শনাক্ত করেন।
পরে শনিবার (১৬ মে) সন্ধ্যা ৭টার দিকে বিএসএফ তাকে আটক করে রাত ১০টা ২০ মিনিট থেকে ১০টা ৩০ মিনিট পর্যন্ত মেইন পিলার ১৫৭/২-এস এর নিকট বিজিবি ও বিএসএফের কোম্পানি কমান্ডার পর্যায়ে অনুষ্ঠিত পতাকা বৈঠকের মাধ্যমে তাকে বিজিবির কাছে হস্তান্তর করা হয়।
বাংলাদেশের পক্ষে পতাকা বৈঠকে নেতৃত্ব দেন বিজিবির ৪৭ ব্যাটালিয়নের চরচিলমারী কোম্পানি কমান্ডার সুবেদার মোশারফ হোসেন।
অন্যদিকে ভারতের পক্ষে উপস্থিত ছিলেন ১৪৬ বিএসএফ ব্যাটালিয়নের চরভদ্রা ক্যাম্পের কোম্পানি কমান্ডার এসআই নিতিন কুমার। পরে আজ রোববার (১৭ মে) বেলা ১১ টায় বিজিবি তাকে পরিবারের সদস্যদের হাতে তুলে দেয়।
ছেলের ফিরে আসা প্রসঙ্গে বকুলের বাবা লুৎফর রহমান মন্ডল বলেন, বকুল মানসিক প্রতিবন্ধী। ছেলেটা নিখোঁজ হওয়ার পর আমরা আশা ছেড়ে দিয়েছিলাম। ভেবেছিলাম ওকে আর ফিরে পাব না। ফেসবুকে ওর ছবি দেখে চিনতে পারি। বিজিবি ও স্থানীয় মেম্বারের সহায়তায় আমার কলিজার টুকরোকে ফিরে পেয়েছি। আমি সবার কাছে কৃতজ্ঞ।
রামকৃষ্ণপুর ইউনিয়নের ১নং ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য আবুল কালাম আজাদ জানান, বকুল মানসিক প্রতিবন্ধী হওয়ায় অসাবধানতাবশত সীমান্ত পার হয়ে গিয়েছিল। বিষয়টি জানার পর থেকেই বিজিবির সাথে যোগাযোগ রক্ষা করা হয়। সঠিক সমন্বয়ের মাধ্যমে তাকে দ্রুত উদ্ধার করা সম্ভব হয়েছে।
বিজিবি'র চরচিলমারি কোম্পানি কমান্ডার সুবেদার মোশারফ হোসেন বলেন, দুই দেশের সীমান্ত রক্ষী বাহিনীর সমঝোতার মাধ্যমে তাকে ফিরিয়ে আনা হয়েছে। আইনি প্রক্রিয়া শেষে তাকে পরিবারের জিম্মায় হস্তান্তর করা হয়েছে।
চট্টগ্রামের বোয়ালখালীতে ইউনিয়ন পর্যায়ে মৎস্যচাষ প্রযুক্তি সেবা সম্প্রসারণ প্রকল্পের (৩য় পর্যায়) আওতায় প্রদর্শনী পুকুরের উপকরণ বিতরণ করা হয়েছে।
সোমবার (১৮ মে) দুপুরে উপজেলা পরিষদ চত্বরে উপজেলা মৎস্য দপ্তরের উদ্যোগে এসব উপকরণ বিতরণ করা হয়।
প্রকল্পের আওতায় ৪টি বড় পুকুর ও ২টি গৃহস্থালি পুকুরের জন্য বিভিন্ন প্রদর্শনী উপকরণ দেওয়া হয়। এছাড়া রাজস্ব বাজেটের আওতায় আরও একটি পুকুরে উপকরণ সরবরাহ করা হয়েছে। বিতরণ করা উপকরণের মধ্যে ছিল ৪টি পুকুরের জন্য প্যাডেল হুইল এয়ারেটর এবং ২টি গৃহস্থালি পুকুরের জন্য মাছের খাদ্য, পোনা ও বীজ।
উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা নাঈম হাসানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন বোয়ালখালী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মেহেদী হাসান ফারুক।
বিশেষ অতিথি ছিলেন সহকারী কমিশনার (ভূমি) কানিজ ফাতেমা, উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা রুমন তালুকদার, ফায়ার সার্ভিস স্টেশন কর্মকর্তা অলক চাকমা এবং উপজেলা আনসার ও ভিডিপি কর্মকর্তা শফিকুল ইসলাম।
এসময় চেয়ারম্যান হামিদুল হক মন্নান, প্যানেল চেয়ারম্যান মো. হাসানসহ স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও উপকারভোগীরা উপস্থিত ছিলেন।
জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের স্মৃতিবিজড়িত ময়মনসিংহের ত্রিশালে দীর্ঘ কয়েক বছর পর এবার জাতীয় পর্যায়ে কবির ১২৭তম জন্মজয়ন্তী উদযাপিত হতে যাচ্ছে। আগামী ২৫ মে (১১ জ্যৈষ্ঠ) কবি নজরুলের জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত মূল অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।
দীর্ঘ কয়েক বছর পর ত্রিশালে জাতীয় পর্যায়ের এই অনুষ্ঠান আয়োজনের পেছনে রয়েছে স্থানীয় সংসদ সদস্য ডা. মাহবুবুর রহমান লিটনের নিরলস প্রচেষ্টা। জাতীয় সংসদে তাঁর জোরালো দাবির প্রেক্ষিতেই সরকার এবার ত্রিশালে কবির জন্মবার্ষিকী জাতীয় পর্যায়ে উদযাপনের সিদ্ধান্ত নেয়।
এদিকে, ২৫ মে কবির মূল জন্মজয়ন্তী হলেও মে মাসের শেষের দিকে ঈদুল আজহার ছুটির কারণে এবার অনুষ্ঠানসূচিতে কিছুটা সমন্বয় আনা হয়েছে। আগামী ২১ মে থেকেই শুরু হতে যাচ্ছে পাঁচ দিনব্যাপী বর্ণাঢ্য অনুষ্ঠানমালা। এরপর ২৫ মে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে এই জমকালো আয়োজনের আনুষ্ঠানিক মূল দিবসের উদ্বোধন ঘোষণা করবেন এবং সরকারি নজরুল একাডেমি মাঠের ঐতিহ্যবাহী নজরুল মঞ্চে বক্তব্য রাখবেন।
প্রধানমন্ত্রীর আগমন ও জাতীয় পর্যায়ের এই উৎসবকে কেন্দ্র করে বর্তমানে ত্রিশালজুড়ে উৎসবের আমেজ বিরাজ করছে। সরকারি নজরুল একাডেমি মাঠে বিশাল প্যান্ডেল নির্মাণ ও মঞ্চ সাজানোর কাজ এখন পুরোদমে চলছে।
সার্বিক প্রস্তুতি প্রসঙ্গে ত্রিশাল উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক এনামুল হক ভূঁইয়া বলেন, "বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) ত্রিশাল উপজেলা শাখা ও এর সকল অঙ্গসংগঠনসহ বিভিন্ন সামাজিক-সাংস্কৃতিক সংগঠন অনুষ্ঠানটি সফল করতে প্রশাসনের সাথে সমন্বয় করে কাজ করে যাচ্ছে।"
উৎসবের সার্বিক প্রস্তুতি নিয়ে ত্রিশাল আসনের সংসদ সদস্য ডা, মাহবুবুর রহমান লিটনও ব্যস্ত সময় পার করছে। সার্বক্ষণিকভাবে মাঠপর্যায়ে তদারকি করছেন ত্রিশাল উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আরাফাত সিদ্দিকী ও সহকারী কমিশনার (ভূমি) মাহবুবুর রহমানসহ জেলা প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাবৃন্দ।
জেলা মটর শ্রমিক ইউনিয়নের নবকট ঘোষিত কমিটি নিয়ে দ্বন্দ্বে রাজশাহী থেকে সকল রুটের বাস চলাচল বন্ধ রয়েছে। আজ সোমবার সকাল থেকে বাস চলাচল বন্ধ করে দেয় ক্ষুব্ধ শ্রমিকরা। এতে দুর্ভোগে পড়েছেন যাত্রীরা।
শ্রমিকরা জানিয়েছেন গতকাল রোববার কেন্দ্র থেকে রফিকুল ইসলাম পাখিকে সভাপতি এবং মমিনুল ইসলামকে সাধারণ সম্পাদক করে ২১ সদস্যের রাজশাহী জেলা মোটর শ্রমিক ইউনিয়নের কমিটি ঘোষণা করা হয়। কিন্তু এই কমিটিকে প্রত্যাখ্যান করে শ্রমিকদের একাংশ। এ নিয়ে আজ সকাল থেকে তারা সকল রুটের বাস চলাচলে বন্ধের ঘোষণা দেয়।
রাজশাহী সড়ক পরিবহন গ্রুপের সাধারণ সম্পাদক নজরুল ইসলাম হেলাল জানিয়েছেন, এই কমিটির অধীনে আমরা বাস চালাতে চাই না। এজন্য সকাল থেকে বাস চলাচল বন্ধ রয়েছে।
তবে রাজশাহী জেলা মোটর শ্রমিক ইউনিয়নের নতুন কমিটির সাধারণ সম্পাদক মমিনুল ইসলাম জানিয়েছেন, স্থানীয় মন্ত্রী এবং এমপিদের সঙ্গে সমন্বয় করে কেন্দ্রীয় ফেডারেশন এই কমিটি ঘোষণা করেছে। কমিটিতে কিছু শ্রমিক বাদ পড়েছে। তারাই মূলত বাস চলাচল বন্ধ করে দিয়েছে। তবে শীঘ্রই বিষয়টি সমঝোতা করা হবে।
একটাই লক্ষ্য হতে হবে দক্ষ কর্মে হবো যুক্ত এইস্লোগানকে সামনে রেখে বেকার সমস্যা নিরসনে ঠাকুরগাঁওয়ে চাকরি মেলা-২০২৬ উদ্বোধন হয়েছে।
সোমবার ১৮ মে সাড়ে ১২ টায় ঠাকুরগাঁও পলিটেকনিক ইন্সটিটিউট ক্যাম্পাসে এসেট প্রকল্পের আওতায় জেলা প্রশাসকের পক্ষে বেলুন উড়িয়ে এ চাকরি মেলার আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন অতিরিক্ত জেলা মেজিস্ট্রেট গোলাম ফেরদৌস।
মেলাতে ১৯ টি স্টলে জেলার বিভিন্ন কোম্পানি ও উদ্যোক্তারা এবং শত শত চাকরি প্রত্যাশী নারী পুরুষ অংশ গ্রহণ করে।
পরে চতুর্থ শিল্প বিপ্লব মোকাবেলায় কারিগরি শিক্ষা ভূমিকা অন্যতম এ বিষয়কে সামনে রেখে ঠাকুরগাঁও পলিটেকনিক ইন্সটিটিউট এর হলরুমে প্রতিষ্ঠানটির অধ্যক্ষ প্রকৌশলী মো: সহিদুল ইসলামের সভাপতিত্বে চাকরি মেলার গুরত্ব তাৎপর্য তুলে ধরে এক সেমিনার অনুষ্ঠিত হয়।