শিক্ষার্থীদের শিক্ষাজীবন জিম্মি করে কোনো রাজনৈতিক দল যেন ফায়দা লোটার অপচেষ্টা না করে, সে বিষয়ে সতর্ক করেছেন শিক্ষামন্ত্রী ডা. দীপু মনি। রাজনৈতিক অরাজকতা হলে দেশে শিক্ষা কার্যক্রম আবারও ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন তিনি।
শনিবার দুপুরে চাঁদপুরের শিল্পকলা একাডেমি মিলনায়তনে সাংবাদিকদের মাঝে কল্যাণ অনুদান ও আর্থিক সহায়তার চেক বিতরণ অনুষ্ঠান শেষে তিনি এ কথা বলেন।
শিক্ষামন্ত্রী বলেন, ‘করোনার কারণে শিক্ষার্থীদের অনেক অসুবিধা হয়েছে। এখন আমরা এসব অসুবিধা কাটিয়ে উঠছি। নভেম্বরের মধ্যে এ বছরের শিক্ষা কার্যক্রম ও পাঠ্যসূচি- সব শেষ করতে চেষ্টা করছি। এই সময়ে দেশব্যাপী অরাজকতা সৃষ্টি করলে শিক্ষা কার্যক্রম আবারও ব্যাহত হবে।’
তিনি বলেন, ‘রাজনীতির মাঠে রাজনীতি থাকবে, রাজনীতি মানে অরাজকতা-ধ্বংসলীলা নয়। নির্বাচনে সবাই অংশগ্রহণ করুক গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ার মাধ্যমে। এতে সব প্রশ্নের মীমাংসা করা সম্ভব।’
অনুষ্ঠানে সাংবাদিক কল্যাণ ট্রাস্টের মাধ্যমে ৮২ জন সাংবাদিকের মাঝে ১৭ লাখ টাকার চেক বিতরণ করা হয়।
এ সময় উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ সাংবাদিক কল্যাণ ট্রাস্টের ব্যবস্থাপনা পরিচালক সুভাষ চন্দ বাদল, চাঁদপুর পৌরসভার মেয়র জিল্লুর রহমান জুয়েল, চাঁদপুর প্রেসক্লাবের সভাপতি এএইচএম আহসান উল্লাহসহ অনেকে।
মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গলে আবৃত্তি ও অভিনয় প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠান ‘শব্দশৈলী’-এর দ্বিতীয় প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উৎসবমুখর পরিবেশে উদযাপিত হয়েছে। এ উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে ভাষা, সাহিত্য ও সংস্কৃতিচর্চার গুরুত্ব তুলে ধরে বক্তারা বলেন, শিশু-কিশোরদের সৃজনশীল ও মানবিক মানুষ হিসেবে গড়ে তুলতে সাংস্কৃতিক শিক্ষার বিকল্প নেই।
গত শুক্রবার (১৭ জুলাই) রাতে শহরের ভিক্টোরিয়া উচ্চ বিদ্যালয় অডিটোরিয়ামে অনুষ্ঠিত অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন শিক্ষক দ্বীপেন্দ্র ভট্টাচার্য। অনুষ্ঠানের উদ্বোধন করেন প্রফেসর নৃপেন্দ্র লাল দাশ। প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন শ্রীমঙ্গল উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা জিয়াউর রহমান।
বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন উদীচী মৌলভীবাজার জেলা শাখার সাবেক সভাপতি ডাডলি ডেরিক প্রেন্টিস, দশরথ স্কুল অ্যান্ড কলেজের অধ্যক্ষ জহর চক্রবর্তী, সমাজসেবক আমিনুর রশিদ মুরাদ এবং কুঞ্জবন সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক একরামুল কবির।
অনুষ্ঠিটি শেষে প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে কেক কাটা এবং উপস্থিত অতিথি, অভিভাবক ও শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণে আনন্দঘন পরিবেশে অনুষ্ঠানের সমাপ্তি হয়।
যশোরের বেনাপোল স্থলবন্দরে খোলা আকাশের নিচে পড়ে আছে আমদানি করা ভারী পণ্য। চাহিদার তুলনায় প্রয়োজনীয় যন্ত্রপাতি না থাকায় ব্যাহত হচ্ছে আমদানি বাণিজ্য। এতে পণ্য খালাসে দীর্ঘসূত্রতা ও ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন ব্যবসায়ীরা, পাশাপাশি স্থবির হয়ে পড়ছে বিভিন্ন শিল্প-কলকারখানা স্থাপন ও উন্নয়নমূলক কর্মকাণ্ড।
বন্দর সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, বেনাপোল বন্দর দিয়ে ভারত থেকে আমদানি হওয়া পণ্যের প্রায় ৩০ শতাংশই ভারী পণ্য রয়েছে। এসব পণ্য দ্রুত ও নিরাপদে খালাসের জন্য কমপক্ষে ১২টি ক্রেন এবং ২০টি ফর্কলিফট প্রয়োজন। কিন্তু বর্তমানে দায়িত্বপ্রাপ্ত ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান ‘গ্রেড বেঙ্গল এন্টারপ্রাইজ’-এর কাছে রয়েছে মাত্র ৭টি ক্রেন ও ৮টি ফর্কলিফট। এর মধ্যে যান্ত্রিক ত্রুটির কারণে প্রায় অর্ধেক সময় এসব যন্ত্র অচল থাকে। ফলে জরুরি পণ্য খালাসের জন্য ব্যবসায়ীদের দিনের পর দিন অপেক্ষা করতে হচ্ছে।
বেনাপোল আমদানি-রপ্তানি সমিতির সহসভাপতি আমিনুল হক জানান, বাণিজ্যিক সংগঠনগুলোর পক্ষ থেকে একাধিকবার লিখিত অভিযোগ দেয়া হলেও বন্দর কর্তৃপক্ষ কার্যকর কোনো পদক্ষেপ নেয়নি। ফলে লোকসান এড়াতে অনেক আমদানিকারক বেনাপোল ছেড়ে অন্য বন্দরের দিকে ঝুঁকছেন। এতে বেনাপোল বন্দরের রাজস্ব আয়ে বড় ধরনের নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে।
ভারত-বাংলা ল্যান্ডপোর্ট চেম্বার অব কমার্সের পরিচালক মতিয়ার রহমানও একই হতাশার কথা জানান। তিনি বলেন, ‘বন্দরের বর্তমান পরিস্থিতিতে ব্যবসায়ীরা চরম ক্ষতির মুখে পড়ছেন।’
বেনাপোল সিঅ্যান্ডএফ এজেন্ট অ্যাসোসিয়েশনের বন্দরবিষয়ক সম্পাদক মো. মেহেরুল্লাহ বলেন, ‘ক্রেন অচল থাকায় পণ্য সরবরাহে বিঘ্ন ঘটছে। চাহিদার তুলনায় অর্ধেক যন্ত্রপাতি দিয়ে কোনোভাবেই স্বাভাবিক কার্যক্রম চালানো সম্ভব নয়। এতে আমদানি কার্যক্রমে ধীরগতি দেখা দিয়েছে।’
গত এক যুগ ধরে বন্দরে এই সমস্যা বিদ্যমান থাকলেও সমাধানে কর্তৃপক্ষের দৃশ্যমান কোনো উদ্যোগ নেই বলে অভিযোগ ব্যবসায়ীদের। তবে বেনাপোল বন্দর হ্যান্ডলিং শ্রমিক ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক শহীদ আলী জানান, অদক্ষ ঠিকাদার পরিবর্তনের জন্য এরইমধ্যে বন্দর কর্তৃপক্ষকে চিঠি দেয়া হয়েছে।
এ বিষয়ে বেনাপোল স্থলবন্দরের উপপরিচালক রুহুল আমিন বলেন, ‘সমস্যা সমাধানে নতুন ঠিকাদার নিয়োগের প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে। দ্রুতই নতুন ঠিকাদার নিয়োগের মাধ্যমে এই সংকট নিরসন করা হবে।’
নিখোঁজের ১৪ দিন পর মানিকগঞ্জের সাটুরিয়ায় মহিলা মাদ্রাসার শিক্ষার্থী অনিকা আক্তার (১৬) ও মাহমুদা আক্তার মীম (১৬) সাভার থেকে উদ্ধার করা হয়। শনিবার (১৮ জুলাই) সকালে ঢাকার সাভার পৌরসভা ভবনের একটি ভাড়াবাসা থেকে নিখোঁজ দুই ছাত্রীকে উদ্ধার করে থানা পুলিশ। এর আগে গত ৩ জুলাই দুপুরে ওই দুই ছাত্রী সাটুরিয়া জামিয়া জয়নব বিনতে জাহাশ (রা.) সৈয়দ গুলজান বেগম মহিলা মাদ্রাসা থেকে বের হয়ে নিখোঁজ হয়।
উদ্ধারকৃত ছাত্রীরা হলেন, অনিকা আক্তার (১৬) বাড়ি ঢাকার ধামরাইয়ের বোরাইল এলাকায় এবং মাহমুদা আক্তার মীম (১৬) বাড়ি টাঙ্গাইলের নাগরপুরের কাশতড় এলাকায়।
তারা দুজনেই সাটুরিয়া জামিয়া জয়নব বিনতে জাহাশ (রা.) সৈয়দ গুলজান বেগম মহিলা মাদ্রাসার হেফজ ও মাওলানা বিভাগের আবাসিক ছাত্রী।
পুলিশ জানান, গত ৩ জুলাই দুপুরে পরিচয় গোপন করে কৌশলে মাদ্রাসা থেকে বের হয় শিক্ষার্থী অনিকা আক্তার ও মাহমুদা আক্তার মীম। এরপর দীর্ঘ ৬ দিন মাদ্রাসায় না ফেরায় অনিকা আক্তার ও মাহমুদা আক্তার মীমের পরিবারের সাথে যোগাযোগ করা হয় এবং গত ৯ জুলাই সাটুরিয়া থানায় একটি নিখোঁজের বিষয়ে সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেন তাদের পরিবার। এরপর তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় ও গোপন সংবাদের ভিত্তিতে শনিবার (১৮ জুলাই) সকালে ঢাকা সাভার পৌরসভা ভবনের একটি ভাড়াবাসা থেকে নিখোঁজ দুই ছাত্রীকে উদ্ধার করে সাটুরিয়া থানা পুলিশ।
এ বিষয়ে সাটুরিয়া থানার ওসি মোহাম্মদ মোশাররফ হোসেন জানান, থানায় সাধারণ ডায়েরির পর নিখোঁজ দুই ছাত্রীর বিষয়ে কাজ শুরু করেন। পরে তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় ঢাকার সাভার পৌরসভা ভবনের একটি ভাড়াবাসা থেকে ওই দুই ছাত্রীকে উদ্ধার করা হয়। তারপর থানায় তাদের অভিভাবকদের এনে তাদের সন্তানকে বুঝিয়ে দেওয়া হয়।
সিরাজগঞ্জের তাড়াশ পৌর শহরের ৫ নম্বর ওয়ার্ডের ভাদাশ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়সংলগ্ন এলাকায় এক দুঃসাহসিক চুরির ঘটনা ঘটেছে। গত শুক্রবার (১৭ জুলাই) দিবাগত রাতে ওই এলাকার বাসিন্দা সিদ্দিকুর রহমান রাজুর বাড়িতে এ ঘটনা ঘটে। চোরচক্র ঘরের আলমারি ভেঙে নগদ টাকা ও বিপুল পরিমাণ স্বর্ণালংকারসহ প্রায় ১৮ লাখ টাকার মালামাল লুট করে নিয়ে গেছে।
সূত্রে জানা গেছে, প্রতিদিনের মতো রাতের খাবার শেষে পরিবারের সদস্যরা ঘুমিয়ে পড়েন। গভীর রাতের কোনো এক সময় চোরচক্র ঘরের ভেতরে প্রবেশ করে। এরপর তারা আলমারি ভেঙে ভেতরে থাকা নগদ প্রায় ২ লাখ টাকা এবং সাড়ে ৬ ভরি স্বর্ণালংকার লুট করে নির্বিঘ্নে পালিয়ে যায়। গতকাল শনিবার সকালে ঘুম থেকে উঠে ঘরের জিনিসপত্র এলোমেলো অবস্থায় দেখতে পেয়ে পরিবারের সদস্যরা চুরির বিষয়টি টের পান।
ক্ষতিগ্রস্ত সিদ্দিকুর রহমান রাজু বলেন, ‘চোরেরা রাতের আঁধারে ঘরে ঢুকে আলমারি ভেঙে নগদ প্রায় ২ লাখ টাকা ও আমার স্ত্রীর সাড়ে ৬ ভরি স্বর্ণালংকার নিয়ে গেছে। যার বর্তমান বাজারমূল্য প্রায় ১৮ লাখ টাকা। সকালে উঠে ঘরের সবকিছু ওলটপালট দেখে আমরা স্তব্ধ হয়ে যাই। আমরা এখন চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছি এবং প্রশাসনের কাছে দ্রুত আইনি পদক্ষেপ ও মালামাল উদ্ধারের দাবি জানাচ্ছি।’
খবর পেয়ে তাড়াশ থানা পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে এবং প্রাথমিক তদন্ত সম্পন্ন করেছে।
এ প্রসঙ্গে তাড়াশ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. হাবিবুর রহমান বলেন, ‘চুরির খবর পেয়েই পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। আমরা বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্বের সাথে দেখছি। ঘটনার প্রকৃত রহস্য উদঘাটন, চুরি হওয়া মালামাল উদ্ধার এবং এই চক্রের সাথে জড়িতদের শনাক্ত করে গ্রেপ্তারের জন্য আমাদের তদন্ত ও অভিযান চলছে।’
এ ঘটনায় ভুক্তভোগী পরিবারের পক্ষ থেকে থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়েরের প্রস্তুতি চলছে বলে জানা গেছে। পৌর এলাকার ভেতরে এমন চুরির ঘটনায় স্থানীয় বাসিন্দাদের মাঝে চরম আতঙ্ক ও ক্ষোভ বিরাজ করছে।
এক তরুণ উদ্যোক্তার চোখেমুখে ফুটে ওঠে তৃপ্তির হাসি। সেই হাসির আড়ালে লুকিয়ে আছে এক চিলতে বিষাদ আর মায়ের প্রতি গভীর টান।তিনি মায়ের জন্যই আনার চাষ শুরু করেন। তার মা যখন ২০২৩ সালে ক্যান্সারে আক্রান্ত হন।ক্যান্সারে আক্রান্ত মাকে চিকিৎসক পরামর্শ দেন নিয়মিত আনার খাওয়াতে। নিজ বাসার ছাদে কয়েকটি আনার গাছ রোপন করেন। তার মা তাকে ছেড়ে চলে গেলেও সে এখন সফল উদ্যোক্তা। বলছিলাম টাঙ্গাইলের বাসাইল উপজেলার তরুণ উদ্যোক্তা আল আমিনের কথা। আল আমিন (২৮) উপজেলার হাবলা ইউনিয়নের পাটখাগুড়ি গ্রামের বজলুর রহমানের ছেলে।
জানা যায়, ২০২৩ সাল আল আমিনের কাছে সময়টা ছিল জীবন-মরণের সন্ধিক্ষণ। আল আমিনের মা ক্যান্সারে আক্রান্ত হয়। চিকিৎসকরা পরামর্শ দেন নিয়মিত ‘আনার’ বা ডালিম খাওয়ানোর জন্য। বাজারের ফলগুলোতে কেমিক্যাল থাকে। ক্যান্সার আক্রান্ত মায়ের জন্য নিরাপদ ফলের অভাব থেকেই আল আমিন সিদ্ধান্ত নেয় আনার চাষের। উঠোনের কোণে ছোট কয়েকটি চারা রোপণ করেন। প্রথমে বাড়ির উঠানে আনার গাছ রোপন করেন। পরে বাসার ছাদে ড্রামে আনার গাছ রোপণ করেন। ২০২৫ সালে মে মাসে আল আমিনের মায়ের মৃত্যু হয়। তার মায়ের মৃত্যু হলেও তার আনার বাগানের পরিধি বেড়েছে। তার নিজ হাতের কলম করা চারা সারাদেশে মানুষের ছাদ বাগানে চলে যাচ্ছে। প্রতি মাসে শুধুমাত্র চারা বিক্রি করে ৬০ থেকে ৮০ হাজার টাকা।
তরুণ উদ্যোক্তা আল আমিন বলেন, ২০২৩ সালে মা ক্যান্সারে আক্রান্ত হয়। ওই সময় আমি গার্মেন্টসে চাকরি করতাম। মাকে চিকিৎসক আনার ফল খাওয়ানোর কথা বলেন। বাজারে আনার গুলোতে কেমিক্যাল থাকে। ওই সময় বাজারে আনার ফল ক্রয় করতে ৫০০ থেকে ৬০০ টাকা লাগতো। এই টাকা দিয়ে আনার ক্রয় করা আমার জন্য কষ্টকর হতো। মাকে ভালো আনার ফল খাওয়ানোর জন্য বাড়ির উঠানে আনার চারা রোপন করি। আমার প্রথমে ছাদে আনার বাগান করার কোন পরিকল্পনা ছিল না। পরে ইউটিউবে ছাদে আনার বাগান করার ভিডিও দেখি। ইউটিউবে দেখে গাজীপুর টঙ্গী থেকে কয়েকটি ছোট চারা ক্রয় করে আমার নিজে ছাদে ড্রামের মধ্যে আনার গাছ রোপণ করি। তখন ছাদে আমার সিঁড়িও ছিল না। সেই চারা থেকেই আমার ছাদে আনার বাগান গড়ে ওঠে। যখন দেখতে পাই, মায়ের শরীর বেশি ভালো তখন চাকরি বাদ দিয়ে দেয়। আমার চাকরি বাদ দেওয়ার এক সপ্তাহ পর আমার মায়ের মৃত্যু হয়। মায়ের জন্যই আনার বাগান গড়ে তুলে ছিলাম। মা আমার জন্য অনুপ্রেরণা ছিল। ২০২৫ সালে মে মাসে আমার মায়ের মৃত্যু হয়।
তিনি বলেন, আমার বাসার ছাদ ও মাটিতে এখন প্রায় দেড় হাজার থেকে দুই হাজার আনার চারা রয়েছে। যে আনার গাছে ফল ধরে আছে সেই গাছ গুলো ছাদে রয়েছে। আনার গাছ যারা ক্রয় করেন তাদেরকে আমি ছাদে কিভাবে বাগান করতে হয় তা দেখায়। তাদের আমি বোঝায় কিভাবে ছাদে আনার বাগান করতে হয়। আমার ছাদে ড্রামে প্রায় ৭০ থেকে ৮০টি বড় আনার গাছ রয়েছে। যে আনার গাছগুলোতে ফল ধরে আছে। এছাড়াও এখন আমি ছাদে আঙ্গুর, কমলা ও মালটা করছি। আমি নিজে গাছগুলো কলম করি ও চারা উৎপাদন করে বিক্রি করছি। দেশের বিভিন্ন এলাকার মানুষ আমার কাছ থেকে চারা সংগ্রহ করছেন। তারা নিজেরাই ছাদে বাগান করছেন।
তিনি বলেন, আমার কাছে ভারতের মহারাষ্ট্রের সুপার ভাগোয়া, মৃদুলা, গুজরাটি আনার, থাইল্যান্ডের থাই আনার, অস্ট্রেলিয়ার আনার, পাকিস্তানী আনার সহ ২৬ জাত রয়েছে। প্রতি মাসে খরচ বাদে ৬০ হাজার থেকে ৮০ হাজার টাকা আয় করতে পারি। কোনো কোনো মাসে বেশি চারা ব্রিক্রি করতে পারি।
আমার বাগানে ২০০ টাকা থেকে শুরু করে ২০০০ হাজার টাকা মূল্যের চারা রয়েছে। আমি নিজেই আমার কাজ করি। যখন দরকার হয় তখন শ্রমিক নিয়ে কাজ করি। মায়ের জন্য আনার গাছ লাগিয়ে ছিলাম। মায়ের জন্যই আমার ভাগ্য বদল হয়েছে। আমাকে দেখে অনেক তরুণ এগিয়ে আসছে।ছাদে আনার বাগান করার জন্য উৎসাহ পাচ্ছে।
স্থানীয় মিজানুর রহমান বলেন, আল আমিন ছাদে আনার বাগান করে সফল হয়েছে। সে আনারে কলম করে চারা বিক্রি করছে। তার মা যখন অসুস্থ তখন থেকেই বাসার ছাদে আনার বাগান করে। তখন অল্প পরিসরে করলেও এখন বাগানের পরিধি বেড়েছে। দেশের বিভিন্ন এলাকার মানুষ আসেন। তার কাছে থেকে চারা নিয়ে বাগান করছে।আমারও ইচ্ছে আছে তার মতো ছাদে আকারের বাগান করার।
বাসাইল উপজেলা উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা মুহাম্মদ আবু ইলিয়াস তালুকদার বলেন, আমাদের উপজেলার সফল তরুণ উদ্যোক্তা আল আমিন। সে তার বাসার ছাদে আনার বাগান করেছে। ছাদে আনার বাগান ও চারা কলম করে বিক্রি করছে। তার বাগানের চারা দেশের বিভিন্ন এলাকায় যাচ্ছে।প্রতি মাসে ভালো আয় করতে পারছে। আমাদের পক্ষ থেকে বিভিন্ন সময় তাকে পরামর্শ দেয়ার চেষ্টা করছি।
জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের স্মরণে ঘোষিত ‘নজরুল বর্ষ’ উপলক্ষে রাজশাহী জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে নবনির্মিত ‘নজরুল ভিলেজ’-এর শুভ উদ্বোধন করা হয়েছে। শনিবার (১৮ জুলাই) কেন্দ্রীয় বোটানিক্যাল গার্ডেন ও চিড়িয়াখানার বিপরীতে এক জমকালো অনুষ্ঠানের মাধ্যমে এর ফলক উন্মোচন করেন গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের ভূমি মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী মিজানুর রহমান মিনু, এমপি।
এ সময় ফলক উন্মোচনের পর মোনাজাত শেষে বৃক্ষরোপণ করেন মন্ত্রী।
ভূমি মন্ত্রী বলেন আজ আমরা নজরুল ভিলেজের ফলক উন্মোচন করেছি, কাজ সম্পন্ন হয়ে যাওয়ার পর এটিকে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে রাজশাহীতে নিয়ে এসে এর উদ্বোধন করানো হবে।
জেলা প্রশাসক তার বক্তব্যে বলেন, জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের সাহিত্য, কবিতা ও গান নতুন প্রজন্মের মাঝে ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে দেওয়ার লক্ষ্যে একটি নতুন উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে। এই উদ্যোগের কেন্দ্রবিন্দু হিসেবে নির্মিত হচ্ছে ‘নজরুল মঞ্চ’ এবং ‘নজরুল কর্নার’। সম্পূর্ণ উন্মুক্ত পরিবেশে এবং বৃক্ষশোভিত ছায়ায় সাধারণ মানুষের জন্য এই প্রাঙ্গণটি তৈরি করা হচ্ছে, যেখানে বছরব্যাপী চলবে নজরুল সাহিত্য ও শিল্পের চর্চা।
তিনি বলেন প্রস্তাবিত স্থানে কোনো বহুতল ভবন নির্মাণ করা হচ্ছে না। এটি সর্বসাধারণের জন্য সম্পূর্ণ উন্মুক্ত থাকবে। যেকোনো দল বা গোষ্ঠী যেকোনো সময় এখানে এসে নজরুলের নাটক, পালাগান এবং সাহিত্যের বিভিন্ন শাখার চর্চা করতে পারবেন।
তিনি আরও বলেন প্রকল্পটির জন্য প্রাথমিকভাবে বিভিন্ন উৎস থেকে ২৫ লক্ষ টাকার একটি তহবিল সংগ্রহ করা হয়েছে। এর মধ্যে মূল 'নজরুল মঞ্চ' নির্মাণের জন্য ১০ থেকে ১২ লক্ষ টাকা ব্যয় নির্ধারণ করা হয়েছে।
নজরুল চর্চাকে একটি কাঠামোর মধ্যে আনতে ইতোমধ্যে একটি ‘নজরুল ক্যালেন্ডার’ ঘোষণা করা হয়েছে। এই ক্যালেন্ডার অনুযায়ী সারা বছর জুড়েই এখানে নিয়মিত নানা অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হবে।
পুরো প্রকল্পটি ধাপে ধাপে বাস্তবায়িত হবে। তবে আগামী মাসের নির্ধারিত অনুষ্ঠানগুলো যাতে এই প্রাঙ্গণেই আয়োজন করা যায়, সে লক্ষ্যে আপাতত ‘নজরুল মঞ্চ’-এর কাজ দ্রুত সম্পন্ন করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।জেলা প্রশাসক কাজী শহিদুল ইসলামের সভাপতিত্বে উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাবৃন্দ ও বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ উপস্থিত ছিলেন।
খুলনা-সাতক্ষীরা মহাসড়কে সংস্কারের কিছুদিন যেতে না যেতেই আবারো দেখা দিয়েছে ছোট-বড় অসংখ্য খানাখন্দ। এতে চরম ঝুঁকিতে পড়েছে যানবাহন চলাচল, আর প্রতিদিন যাতায়াতে পোহাতে হচ্ছে অবর্ণনীয় দুর্ভোগ। বিশেষ করে মহাসড়কের বালিয়াখালী ব্রিজের আশপাশের অংশ এখন পথচারীদের জন্য এক প্রকার ফাঁদে পরিণত হয়েছে।
শনিবার (১৮ জুলাই) সকাল ৬টার দিকে বালিয়াখালী ব্রিজের পাশে প্রাতঃভ্রমণে বের হয়ে এক চরম বিব্রতকর ও নোংরা অভিজ্ঞতার মুখোমুখি হন স্থানীয় প্রবীণ ব্যক্তি শেখ মাহতাব হোসেন এবং সরকারি চাকরিজীবী খান জাহান আলী।
ভুক্তভোগী শেখ মাহতাব হোসেন ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, ‘সকাল ৬টার দিকে আমরা বালিয়াখালী ব্রিজের পাশ দিয়ে হাঁটছিলাম। এমন সময় খুলনাগামী একটি দ্রুতগতির যাত্রীবাহী বাস সড়কের একটি বড় গর্তে পপাত খায়। সঙ্গে সঙ্গে গর্তে জমে থাকা কর্দমাক্ত নোংরা পানি ছিটকে এসে আমাদের কাপড়ে পড়ে। সেকেন্ডের মধ্যে আমাদের পুরো শরীর ও পোশাক নোংরা পানিতে নষ্ট হয়ে যায়। এটা কোনো বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়, প্রতিদিন এই সড়কের কারণে হাজারো মানুষকে এমন ভোগান্তির শিকার হতে হচ্ছে।’
স্থানীয়রা জানান, খুলনা-সাতক্ষীরা মহাসড়কের ডুমুরিয়া অংশের বালিয়াখালী ব্রিজসহ বেশ কয়েকটি স্থানে বিটুমিন ও পিচ উঠে গিয়ে বড় বড় গর্তের সৃষ্টি হয়েছে। সামান্য বৃষ্টি হলেই এসব গর্তে পানি জমে ডোবার মতো আকার ধারণ করে। চালকরা গর্তের গভীরতা বুঝতে না পেরে হুট করে ব্রেক কষায় প্রায়ই ঘটছে ছোট-বড় দুর্ঘটনা। আর পাশ দিয়ে হেঁটে যাওয়া পথচারীদের ওপর নোংরা পানি ছিটকে আসা নিত্যদিনের ব্যাপার হয়ে দাঁড়িয়েছে।
মহাসড়কের এই বেহাল দশা এবং জনগণের চলমান ভোগান্তি নিয়ে কথা বলা হয়। খুলনা সড়ক ও জনপথ (সওজ) বিভাগের বর্তমান নির্বাহী প্রকৌশলীর মো. আনিসুজ্জামান মাসুদ।
খুলনা-সাতক্ষীরা মহাসড়কের বালিয়াখালী ব্রিজ এলাকাসহ বিভিন্ন স্থানে আবারো বড় বড় খানাখন্দের সৃষ্টি হয়েছে। কর্দমাক্ত পানির কারণে পথচারীদের কাপড় নষ্ট হচ্ছে, গাড়ি উল্টে যাওয়ার ঝুঁকি তৈরি হচ্ছে। এ বিষয়ে আপনাদের পদক্ষেপ কী?
‘বিষয়টি আমাদের নজরে এসেছে। বর্ষা মৌসুম এবং অতিরিক্ত মালবোঝাই গাড়ি চলাচলের কারণে মহাসড়কের কিছু কিছু অংশের পিচ দ্রুত নষ্ট হয়ে গর্তের সৃষ্টি হয়েছে। জনগণের এই সাময়িক দুর্ভোগের জন্য আমরা আন্তরিকভাবে দুঃখিত।’
বালিয়াখালী ব্রিজসংলগ্ন অংশের মতো গুরুত্বপূর্ণ জায়গায় জরুরি ভিত্তিতে কোনো সংস্কার কাজ করা হবে কি না? ‘অবশ্যই। আমরা বসে নেই। মহাসড়কের ডুমুরিয়া ও বালিয়াখালী অংশের গর্তগুলো দ্রুত ভরাট করার জন্য আমাদের একটি টেকনিক্যাল টিমকে আজই (শনিবার) স্পট পরিদর্শনে পাঠানো হচ্ছে। বর্ষার কারণে এখন স্থায়ী কার্পেটিং করা সম্ভব না হলেও, ইট-খোয়া এবং কোল্ড মিক্সড দিয়ে জরুরি ভিত্তিতে গর্তগুলো ভরাট করা হবে, যাতে আজ-কালের মধ্যেই যানবাহন ও পথচারীরা স্বস্তিতে চলাচল করতে পারেন। আর বর্ষা কমলেই স্থায়ীভাবে পুরো সড়কটি পুনরায় সংস্কার করা হবে।’
স্থানীয় ভুক্তভোগী ও সচেতন মহল মনে করছেন, জোড়াতালির সংস্কার না করে সওজ বিভাগের উচিত বালিয়াখালী ব্রিজ ও সংলগ্ন মহাসড়কের টেকসই উন্নয়ন করা। দ্রুত এই দুর্ভোগের স্থায়ী সমাধান না হলে যেকোনো সময় বড় ধরনের সড়ক দুর্ঘটনার আশঙ্কা করছেন চালক ও পথচারীরা।
‘হাতে ও ঘরে কোনো টাকা নেই। বাজার করা দূরের কথা, এক খিলি পান খাওয়ার টাকাও শেষ। কৃষিই ছিল একমাত্র আয়ের উৎস। সাঙ্গু নদীর বন্যার পানি সবকিছু শেষ করে দিয়েছে আমাকে। এখন আমি ঋণের বোঝা হয়ে গেছি।
কথাগুলো বলছিলেন বান্দরবানের রুমা উপজেলার সদর ইউনিয়নের ৫ নম্বর ওয়ার্ডের নামিপাড়া এলাকার কৃষাণী গোলাপ্রু মার্মা (৪৭)। গত মঙ্গলবার (১৪ জুলাই) বিকেলে রুমা সদরঘাট এলাকার একটি দোকানে এই প্রতিবেদকের সঙ্গে আলাপকালে তিনি সাম্প্রতিক বন্যায় নিজের ক্ষয়ক্ষতির বর্ণনা দেন।
গোলাপ্রু মার্মার সংসারে দুই মেয়ে ও এক ছেলে। গত ৩০ বছর ধরে কৃষিকাজ ও সবজি চাষের মাধ্যমে সংসার চালিয়ে আসছেন তিনি। তাঁর দাবি, এত দীর্ঘ কৃষিজীবনে কখনো এমন বিপর্যয়ের মুখে পড়তে হয়নি। একই এলাকায় আরও ১২ থেকে ১৪টি পরিবার কৃষিকাজ করলেও তাঁর মতো এত বড় ক্ষতির শিকার আর কেউ হননি।
গোলাপ্রু মার্মা জানান, প্রবল বর্ষণে সৃষ্ট বন্যায় তাঁর মাছের পুকুর, পেঁপে বাগান, ধান ও বিভিন্ন সবজির ক্ষেত পানিতে তলিয়ে যায়। সব মিলিয়ে তাঁর প্রায় সাত লাখ টাকার ক্ষতি হয়েছে।
তিনি বলেন, উপজেলা প্রশাসনের কাছ থেকে লিজ নেওয়া একটি পুকুরে গত বছর ৭৫ হাজার টাকা ব্যয়ে চিংড়ি ও মাছের পোনা অবমুক্ত করেছিলেন। মাছ ও চিংড়িগুলো বিক্রির উপযোগী হয়ে উঠেছিল। বন্যার পানিতে সব ভেসে যাওয়ায় বছর শেষে সম্ভাব্য সাড়ে চার লাখ টাকার আয়ের আশা শেষ হয়ে গেছে।
শুধু মাছের খামারই নয়, তাঁর ৪২০টি হাইব্রিড পেঁপে গাছেও ভালো ফলন এসেছিল। এক সপ্তাহ পর থেকে বিক্রি শুরুর কথা ভাবছিলেন তিনি । প্রতি সপ্তাহে প্রায় ১০ মণ পেঁপে ২৫ থেকে ৩০ টাকা কেজি দরে বিক্রি করবেন। তাঁর হিসাবে, বন্যা না হলে এ বাগান থেকে বছরে প্রায় চার লাখ টাকা আয় হতে পারত। তাও বোন নেই শেষ হয়ে গেল।
এ ছাড়া ওলকচু চাষে প্রায় ৫০ হাজার টাকা বিনিয়োগ করেছিলেন। কিন্তু বন্যার পানিতে ক্ষেত তলিয়ে যাওয়ায় সব পচে নষ্ট হয়েছে। হাইব্রিড ধানের চারা রোপণে আরও প্রায় ২৫ হাজার টাকা খরচ করেছিলেন। তাঁর আশা ছিল, মৌসুম শেষে অন্তত ৩০০ আড়ি ধান ঘরে তুলতে পারবেন। কিন্তু বন্যার পানিতে ধানের চারাগুলো কাদার সঙ্গে মিশে গেছে।
আধা কানি জমিতে শশা এবং আধা কানি জমিতে বরবটির চাষ করেছিলেন। এসব সবজি বিক্রি করে প্রতি হাটে তিন থেকে চার হাজার টাকা আয় হতো। বন্যার আগে প্রায় এক মাস ধরে সেই আয়েই সংসারের সব খরচ চলছিল। কিন্তু প্রবল বর্ষণে সৃষ্ট বন্যায় সেই আয়ের পথও বন্ধ হয়ে গেছে।
কৃষিকাজে বিনিয়োগ করতে বিভিন্ন উৎস থেকে ঋণ নিয়েছিলেন গোলাপ্রু মার্মা। বর্তমানে কৃষি ব্যাংক থেকে নেওয়া ১ লাখ ২০ হাজার টাকা, বেসরকারি সংস্থা আইডিএফের ১ লাখ টাকা এবং প্রতিবেশীদের কাছ থেকে ধার নেওয়া ৫০ হাজার, ৩০ হাজার ও ১৫ হাজার টাকাসহ মোট কয়েক লাখ টাকার ঋণের বোঝা তাঁকে দুশ্চিন্তায় ফেলেছে।
তিনি বলেন, ‘ঋণের কিস্তির কথা চিন্তা করে মাথায় কিছুই কাজ করছে না। কীভাবে এই ঋণ শোধ করব, বুঝতে পারছি না।’
বন্যার প্রভাব পড়েছে তাঁর সন্তানদের শিক্ষাজীবনেও। বড় মেয়ে সম্প্রতি মাস্টার্সে ভর্তি হয়েছেন এবং জাপানে উচ্চশিক্ষার প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন। ছোট মেয়ে বর্তমানে এইচএসসি পরীক্ষায় অংশ নিচ্ছেন। তাঁদের পড়াশোনার জন্য প্রতি মাসে প্রায় ১৮ হাজার টাকা পাঠাতে হতো। কিন্তু কৃষি থেকে আয়ের সব পথ বন্ধ হয়ে যাওয়ায় দুই মেয়েকেই বাড়ি ফিরে আসতে বলেছেন তিনি।
গত ৬ থেকে ১১ জুলাই পর্যন্ত টানা ছয় দিনের ভারী বর্ষণে রুমা উপজেলার ওপর দিয়ে প্রবাহিত সাঙ্গু নদীতে পাহাড়ি ঢল নামে। নদীর পানি বিপৎসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হওয়ায় বিস্তীর্ণ এলাকা প্লাবিত হয়। এতে নদীতীরবর্তী এলাকার মাছের খামার, ধান ও সবজির ক্ষেত ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়। তার সাথে পাহাড়ের বাগান ও পাহাড়ে জুম চাষের পাহাড় ধসে ব্যাপক হারে ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে।
রুমা উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মোহাম্মদ ফরিদুল হক বলেন, সাম্প্রতিক বন্যায় উপজেলার কৃষকরাই সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন। প্রাথমিকভাবে অন্তত ৩৫০ জন কৃষক ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে থাকতে পারেন বলে ধারণা করা হচ্ছে। তবে চূড়ান্ত তালিকা প্রস্তুত না হওয়া পর্যন্ত সঠিক সংখ্যা বলা সম্ভব নয়। ইতিমধ্যে মাঠপর্যায়ে সরেজমিন পরিদর্শনের পাশাপাশি স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও কৃষকদের সহযোগিতায় প্রকৃত ক্ষতিগ্রস্তদের তালিকা প্রস্তুতের কাজ চলছে।
রুমা সদর ইউনিয়ন পরিষদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান অংসিনু মার্মা বলেন, টানা বৃষ্টিতে সৃষ্ট বন্যা ও পাহাড়ধসে অন্তত এক হাজার পরিবার বিভিন্নভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলে প্রাথমিক ধারণা করা হচ্ছে। ইউনিয়নের নয়জন সদস্য ও তিনজন সংরক্ষিত নারী সদস্যের মাধ্যমে ক্ষতিগ্রস্তদের তালিকা প্রস্তুতের কাজ চলছে। দুই-এক দিনের মধ্যে চূড়ান্ত তালিকা প্রকাশ করা সম্ভব হবে।
অন্যদিকে গালেঙ্গ্যা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মেনরত ম্রো জানান, তার ইউনিয়নে প্রাথমিকভাবে ৮৩টি ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের তালিকা প্রস্তুত করা হয়েছে।
মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ এবং কৃষিমন্ত্রী মোহাম্মদ আমিন উর রশিদ বলেছেন, বন্যাকবলিত চট্টগ্রাম অঞ্চলে ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ অনেক বেশি। সরকারের পক্ষে একবারে সব ক্ষতি পূরণ করা সম্ভব না হলেও কৃষকদের দ্রুত ঘুরে দাঁড়ানোর জন্য বীজ, সার, গবাদিপশুর ভ্যাকসিন ও অন্যান্য প্রয়োজনীয় সহায়তা দেওয়া হচ্ছে। বীজ ও ভ্যাকসিন বিতরণে কোনো ধরনের অনিয়ম বা দুর্নীতি সহ্য করা হবে না। এ বিষয়ে সরকারের অবস্থান ‘জিরো টলারেন্স’।
শনিবার (১৮ জুলাই) মন্ত্রী চট্টগ্রাম সার্কিট হাউসে বিভাগীয় ও জেলা পর্যায়ের কর্মকর্তাদের সাথে মতবিনিময়কালে এসব কথা বলেন।
মন্ত্রী বলেন, প্রত্যেক মানুষের জীবনেই দুঃসময় আসে। সেই সময়ে সরকার ও সমাজ যদি ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের পাশে দাঁড়ায়, তবে তারা নতুন করে ঘুরে দাঁড়ানোর শক্তি পায়। বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত কৃষক ও খামারিদের পুনর্বাসনে সরকার সর্বোচ্চ আন্তরিকতার সঙ্গে কাজ করছে।
মন্ত্রী কর্মকর্তাদের উদ্দেশে বলেন, ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের কাছে যেন কোনো ধরনের অতিরিক্ত মূল্য নেওয়া না হয় এবং সরকারি সহায়তা যেন প্রকৃত উপকারভোগীদের হাতে পৌঁছে- তা নিশ্চিত করতে হবে। অতীতের মতো কোনো অনিয়ম বরদাশত করা হবে না।
গবাদিপশুর স্বাস্থ্য সুরক্ষার বিষয়ে মন্ত্রী বলেন, আগামী ১৫ দিনের মধ্যে বন্যাকবলিত এলাকায় শতভাগ গবাদিপশুকে এফএমডি (ক্ষুরা রোগ) প্রতিরোধী ভ্যাকসিনের আওতায় আনা হবে। ছয় মাস আগে যেসব পশুকে টিকা দেওয়া হয়েছে, নির্ধারিত সময় অনুযায়ী তাদেরও পুনরায় টিকা নিশ্চিত করতে হবে।
তিনি বলেন, একটি গবাদিপশু মারা গেলে একজন খামারির যে আর্থিক ও মানসিক ক্ষতি হয়, তা অনুধাবন করেই সরকার দ্রুত ভ্যাকসিন কার্যক্রম জোরদার করছে।
এ সময় কৃষি মন্ত্রণালয়ের যুগ্মসচিব মো: খোরশেদ আলম, চট্টগ্রাম বিভাগীয় মৎস্য অধিদপ্তরের পরিচালক মো: আনোয়ার হোসেন, চট্টগ্রাম বিভাগীয় প্রাণিসম্পদ দপ্তরের পরিচালক ডা. মো: আতিয়ার রহমান, কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর চট্টগ্রাম অঞ্চলের অতিরিক্ত পরিচালক মোহাম্মদ আলী জিন্নাহ, জেলা মৎস্য কর্মকর্তা সালমা বেগম, জেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা.মো: আলমগীর, চট্টগ্রাম অঞ্চলের উপ-পরিচালক আপ্রু মারমা, অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট সৈয়দ মাহবুবুল হক- সহ সংশ্লিষ্ট দপ্তরের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
রাঙামাটির কাপ্তাই লেকের পানির উচ্চতা বিপৎসীমার কাছাকাছি পৌঁছানোয় শনিবার (১৮ জুলাই) সকাল ১১টা ২০ মিনিট এ কাপ্তাই কর্ণফুলী পানি বিদ্যুৎ উৎপাদন কেন্দ্রের স্পিলওয়ের ১৬টি জলকপাট ৬ ইঞ্চি করে একযোগে খুলে দেওয়া হয়েছে। এর ফলে প্রতি সেকেন্ডে প্রায় ৯ হাজার কিউসেক পানি কর্ণফুলী নদীতে প্রবাহিত হচ্ছে।
কর্ণফুলী পানি বিদ্যুৎ উৎপাদন কেন্দ্রের ব্যবস্থাপক প্রকৌশলী মাহমুদ হাসান জানান, শনিবার সকাল ১০ টায় কাপ্তাই লেকের পানির উচ্চতা ১০৪.০৮ ফুট এমএসএলে পৌঁছায়। টানা বৃষ্টি ও উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলে লেকে পানির প্রবাহ বাড়তে থাকায় পানি নিয়ন্ত্রণে এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
তিনি বলেন, বর্তমানে বিদ্যুৎকেন্দ্রের পাঁচটি ইউনিট চালু রয়েছে। এসব ইউনিট থেকে গড়ে ২শত ২২ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদনের পাশাপাশি প্রতি সেকেন্ডে প্রায় ৩২ হাজার কিউসেক পানি টারবাইনের মাধ্যমে নিষ্কাশন করা হচ্ছে।
এর আগে গত বৃহস্পতিবার (১৬ জুলাই) বিদ্যুৎকেন্দ্র কর্তৃপক্ষ এক বিজ্ঞপ্তিতে স্পিলওয়ের জলকপাট খুলে পানি ছাড়ার প্রস্তুতির কথা জানায়। লেকের সর্বোচ্চ পানি ধারণক্ষমতা ১০৯ ফুট এমএসএল। পরিস্থিতি অনুযায়ী প্রয়োজনে পর্যায়ক্রমে গেট আরও খুলে পানি নিষ্কাশনের পরিমাণ বাড়ানো হতে পারে বলে জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ।
এদিকে কর্ণফুলী নদীর তীরবর্তী নিম্নাঞ্চলের বাসিন্দাদের সতর্ক থাকার পরামর্শ দিয়েছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ। পরিস্থিতি সার্বক্ষণিক পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে বলে জানানো হয়েছে।
এদিকে রাঙামাটি জেলা প্রশাসক নাজমা আশরাফী শনিবার কাপ্তাই পানি বিদ্যুৎ উৎপাদন কেন্দ্রের জলকপাট দিয়ে পানি ছাড়ার পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করেন। এসময় রাঙামাটি জেলা প্রশাসনের অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) মো: রুহুল আমিন, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (শিক্ষা ও আইসিটি) আলমগীর হোসেন, কাপ্তাই উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা রায়হানুল ইসলামসহ কাপ্তাই পিডিবি এবং রাঙামাটি জেলা প্রশাসনের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
চাঁপাইনবাবগঞ্জে বিনামূল্যে চক্ষু চিকিৎসা, ওষুধ বিতরণ, চশমা প্রদান ও ছানি রোগী বাছাই কার্যক্রম অনুষ্ঠিত হয়েছে। শনিবার (১৮ জুলাই) সকালে সদর উপজেলার পৌর এলাকার নামো শংকর বাটী ডিগ্রি কলেজে বগুড়ার গাক চক্ষু হাসপাতালের উদ্যোগে এ চক্ষু ক্যাম্পের আয়োজন করা হয়।
চক্ষু ক্যাম্প উপলক্ষে আয়োজিত আলোচনা সভায় গ্রামীণ উন্নয়ন কর্ম (গাক) এর জ্যেষ্ঠ পরিচালক ড. মাহবুব আলমের সভাপতিত্বে বক্তব্য রাখেন, সদর উপজেলা ভূমি কর্মকর্তা ইকরামুল হক, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের কৃষি সম্প্রসারণ অনুষদের শিক্ষক প্রফেসর ড মোস্তাফিজুর রহমান, গণ যোগাযোগ ও সাংবাদিক অনুষদের মশিহুর রহমানসহ অন্যান্যরা।
বক্তারা,গাক চক্ষু হাসপাতালের অসচ্ছল মানুষের দোরগোড়ায় চক্ষুসেবা পৌঁছে দেওয়ার এই ধরনের উদ্যোগের ভুয়সি প্রশংসা করেন। গাকে'র এ ধরনের কার্যক্রম ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে এমন প্রত্যাশার কথা জানান বক্তারা ।
চক্ষু ক্যাম্পে আগত বিভিন্ন বয়সী মানুষ বিনামূল্যে চক্ষু পরীক্ষা করান। আয়োজকরা জানান,'ক্যাম্পে প্রয়োজনীয় পরীক্ষা-নিরীক্ষার মাধ্যমে নির্বাচিত ছানি রোগীদের বিনামূল্যে অস্ত্রোপচারের জন্য বগুড়ার বনানীতে অবস্থিত গাক চক্ষু হাসপাতালে পাঠানোর ব্যবস্থা করা হয়। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ জানায়, নির্বাচিত রোগীদের যাতায়াত, অস্ত্রোপচার, ওষুধ, চশমা এবং থাকা-খাওয়ার সব ব্যয় বহন করবে গাক চক্ষু হাসপাতাল। এ ছাড়া চক্ষু ক্যাম্পে সেবা গ্রহীতা রোগীদের প্রয়োজন অনুযায়ী বিনামূল্যে ওষুধ এবং চশমা বিতরণ করা হয়।'
চক্ষু ক্যাম্প বাস্তবায়নে সার্বিক সহযোগিতা করে নামো শংকর বাটী ডিগ্রি কলেজ, চাঁপাইনবাবগঞ্জ।
কিশোরগঞ্জের মিঠামইন উপজেলা বিএনপির সভাপতি জাহিদুল আলম জাহাঙ্গীর হত্যার ঘটনায় তিনজনের নাম উল্লেখ করে এবং অজ্ঞাতনামা আরও ১০ থেকে ১২ জনকে আসামি করে হত্যা মামলা হয়েছে। গত শুক্রবার (১৭ জুলাই) দিবাগত রাত সাড়ে ১২টার দিকে নিহতের স্ত্রী তসলিমা আক্তার চৌধুরী বাদী হয়ে মিঠামইন থানায় মামলাটি করেন।
মামলার এজাহারে নাম উল্লেখ করা তিন আসামি হলেন বরগুনার বামনা উপজেলার চাকাতাসুনিয়া গ্রামের মৃত সুলতান মীরনের ছেলে মো. হেলাল (২৪), লক্ষ্মীপুরের রামগঞ্জ উপজেলার সুধামপুর গ্রামের নূর হোসেনের ছেলে মহিন উদ্দিন (৩২) এবং একই উপজেলার মধ্যপাড়া গ্রামের রহমত উল্লাহ খোকনের ছেলে মো. শাহিন আলম ওরফে শাকিল (২৭)।
পুলিশ জানিয়েছে, ঘটনার রাতে স্থানীয় লোকজন মো. হেলালকে আটক করেন। পরে অভিযান চালিয়ে একই রাতে মহিন উদ্দিন ও শাহিন আলম ওরফে শাকিলকে গ্রেপ্তার করা হয়।
এজাহারে বাদী উল্লেখ করেন, গত বুধবার (১৫ জুলাই) রাত পৌনে ১০টার দিকে মিঠামইন উপজেলা সদরের বেড়িবাঁধ এলাকায় নিজ বাসভবনে প্রবেশের সময় আগে থেকে ওত পেতে থাকা একদল সন্ত্রাসী পরিকল্পিতভাবে তার স্বামীর ওপর ধারালো চাপাতি, কিরিচ, কুড়াল ও রামদাসহ বিভিন্ন দেশীয় অস্ত্র নিয়ে অতর্কিত হামলা চালায়। এতে তিনি গুরুতর আহত হন।
পরে তাকে উদ্ধার করে কিশোরগঞ্জের শহীদ সৈয়দ নজরুল ইসলাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।
মিঠামইন থানার ওসি মনোয়ার হোসেন বলেন, মামলার লিখিত অভিযোগ গ্রহণ করা হয়েছে। গ্রেপ্তার তিন আসামি কারাগারে আছে। পাশাপাশি হত্যাকাণ্ডের মূল কারণ উদ্ঘাটন এবং জড়িত অন্যদের গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
এদিকে শুক্রবার (১৭ জুলাই) জুমার নামাজের পর স্থানীয় হেলিপ্যাড মাঠে জাহিদুল আলম জাহাঙ্গীরের জানাজার নামাজ অনুষ্ঠিত হয়। এতে জেলা বিএনপির সভাপতি ও পাট ও বস্ত্র প্রতিমন্ত্রী শরীফুল আলম, জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক ও কিশোরগঞ্জ-১ আসনের সংসদ সদস্য মাজহারুল ইসলাম, কিশোরগঞ্জ-৪ আসনের সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট ফজলুর রহমানসহ দলীয় নেতা-কর্মী এবং বিপুলসংখ্যক স্থানীয় মানুষ অংশ নেন।
জানাজা শেষে কাঠবাজার-সংলগ্ন পারিবারিক কবরস্থানে জাহিদুল আলম জাহাঙ্গীরকে দাফন করা হয়।
দীর্ঘ প্রতিক্ষার পর বর্ণাঢ্য আয়োজনের মধ্য দিয়ে শিক্ষা কার্যক্রমের শুভ উদ্বোধন করা হয়েছে নওগাঁ বিশ্ববিদ্যালয়ের। শনিবার (১৮ জুলাই) বেলা সাড়ে ১১ টার দিকে শহরের বরুনকান্দি মোড় এলাকায় অবস্থিত বিশ্ববিদ্যালয়ের অস্থায়ী ক্যাম্পাসে নামফলক উন্মোচনের মধ্য দিয়ে শিক্ষা কার্যক্রমের উদ্বোধন করেন প্রধান অতিথি শিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন।
এসময় মন্ত্রী বিশ্ববিদ্যালয়ের শ্রেণিকক্ষ, আধুনিক ল্যাইব্রেরি এবং কম্পিউটার ল্যাব ঘুরে দেখেন।
ফলক উন্মোচন অনুষ্ঠানে অন্যদের মধ্যে স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম, শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সচিব আব্দুল খালেক, বাংলাদেশ বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের (ইউজিসি) চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড.মামুন আহমেদ, ইউজিসির সদস্য অধ্যাপক ড.আব্দুল্লাহ আল মামুন, মাধ্যমিক উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তরের পরিচালক অধ্যাপক ড.খান মঈনুদ্দিন আল মাহমুদ সোহেল,বিশ্ববিদ্যালয়ের উপচার্য অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ হাছানাত আলীসহ নওগাঁর ৬টি সংসদীয় আসনের সংসদ সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।
পরে দুপুর সোয়া ১২টার দিকে সদর উপজেলা পরিষদ অডিটোরিয়ামে আয়োজিত সুধী সমাবেশ ও নবাগত শিক্ষার্থীদের বরণ অনুষ্ঠানে যোগ দেন প্রধান অতিথি।