শুক্রবার, ১৭ এপ্রিল ২০২৬
৪ বৈশাখ ১৪৩৩

বেড়াতে নিয়ে প্রেমিকাকে সংঘবদ্ধ ধর্ষণ, মূল আসামি কারাগারে

পুলিশের হাতে গ্রেপ্তার ফারুক হোসেন। ছবি: দৈনিক বাংলা
প্রতিনিধি, লালমনিরহাট
প্রকাশিত
প্রতিনিধি, লালমনিরহাট
প্রকাশিত : ২৯ জুলাই, ২০২৩ ২৩:২৬

লালমনিরহাট এয়ারপোর্ট এলাকায় এক কলেজছাত্রীকে সংঘবদ্ধ ধর্ষণের ঘটনায় দায়ের হওয়া মামলার মূল আসামি ফারুক হোসেনকে নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লা এলাকা থেকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।

শনিবার দুপুরে আসামিকে আদালতে তোলা হলে তিনি ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন। পরে তাকে কারাগারে পাঠান আদালত।

পুলিশ জানায়, গত ১৭ জুন বিকেলে ওই কলেজছাত্রী তার প্রেমিক ফারুকের সঙ্গে ঘুরতে লালমনিরহাট এয়ারপোর্টের রানওয়ে এলাকায় যান। ঘোরাঘুরির এক পর্যায়ে সন্ধ্যা নামলে তিন সহযোগীর সহায়তায় পাশের ভুট্টাক্ষেতে নিয়ে গিয়ে ফারুক তাকে ধর্ষণ করেন। পরে তার দুই সহযোগীও ওই ছাত্রীকে ধর্ষণ করে। ওই অবস্থায় সেই ছাত্রী তার মোবাইল ফোন থেকে বড় বোনকে কল দিলে ধর্ষকরা বিষয়টি টের পেয়ে যায়। তারা ওই কলেজছাত্রীর মোবাইল ফোন কেড়ে নিয়ে ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যায়।

পরে গুরুতর অবস্থায় পার্শ্ববর্তী এভিয়েশন অ্যান্ড এরোস্পেস বিশ্ববিদ্যালয়ের সামনের মহাসড়কে এসে এক পথচারীর মোবাইল ফোন থেকে ছাত্রীটি তার পরিবারের কাছে ফোন করেন। খবর পেয়ে পরিবারের সদস্য ও কয়েকজন সংবাদকর্মী ঘটনাস্থলে গিয়ে ওই ছাত্রীটিকে উদ্ধার করে লালমনিরহাট সদর হাসপাতালে ভর্তি করেন।

পরদিন ১৮ জুন ওই কলেজছাত্রীর বোন বাদী হয়ে লালমনিরহাট সদর থানায় একটি ধর্ষণ মামলা দায়ের করেন। সেই মামলায় ফারুক ও তার সহযোগীদের আসামি করা হয়।

আসামিদের মধ্যে প্রথমে সোয়াইব সরকার সজীব (১৯), আনছার আলী ওরফে গাঠু আনছার ওরফে সোহাগ (৫০) ও মাসুদ (৩০) নামে তিনজনকে গ্রেপ্তার করা হয়। এরপর লালমনিরহাট সদর থানার ওসি (তদন্ত) স্বপন কুমার সরকার তথ্যপ্রযুক্তির মাধ্যমে নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লা থেকে ফারুক হোসেনকে গ্রেপ্তার করেন।

এ বিষয়ে লালমনিরহাট সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. ওমর ফারুক দৈনিক বাংলাকে বলেন, ‘কলেজছাত্রী গণধর্ষণের ঘটনায় আমরা মূল আসামি ফারুকসহ সব আসামিকে গ্রেপ্তার করে জেলহাজতে পাঠিয়েছি। দুই-চার দিনের মধ্যে আমরা এ মামলায় চার্জশিটও আদালতে দাখিল করব।’


৭০ টাকার বিদ্যুতে ৬৫ কিলোমিটার চলবে ফারহানের এই গাড়ি!

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নাটোর প্রতিনিধি

নাটোরের বড়াইগ্রামের তরুণ প্রকৌশলী কাসমিম আহমেদ ফারহান ‘মার্সেনারি’ নামে একটি সাশ্রয়ী ও পরিবেশবান্ধব ইলেকট্রিক কার তৈরি করেছেন। মাত্র ৭০ টাকার বিদ্যুৎ খরচে ৬০-৬৫ কি.মি. পথ পাড়ি দিতে সক্ষম এই গাড়িটির গতি ঘণ্টায় ৭০ কি.মি. এবং এটি ৬ জন যাত্রী ধারণ করতে পারে।

জানা যায়, নাটোরের বড়াইগ্রামের মাঝগ্রামের তরুণ কাসমিম আহমেদ ফারহান মেকানিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিংয়ে স্নাতক শেষ করে নিজ উদ্যোগে মার্সেনারি নামে একটি ইলেকট্রিক ক্রস ওভার কার তৈরি করেছেন। এখন গ্রামের মেঠোপথ ধরে ছুটে চলতে দেখা যায় গাড়িটিকে। গাড়িটির আবিস্কারক ফারহান তার তৈরি করা গাড়িটির নানা বৈশিষ্ট্য তুলে ধরেন।

সাশ্রয়ী প্রযুক্তি: গাড়িটি মাত্র ৭০ টাকার বিদ্যুৎ খরচে ৬৫-৭০ কিলোমিটার চলতে পারে, যা বর্তমান জ্বালানি সংকটের সময়ে একটি বিশাল সাফল্য।

উন্নত গিয়ার সিস্টেম: এটি দেশে প্রচলিত সাধারণ ই-কারের চেয়ে আধুনিক। এতে ‘ডুয়েল পাত ফোর স্পিড গিয়ার বক্স’ রয়েছে, যার মাধ্যমে ম্যানুয়াল ট্রান্সমিশন এবং ডিরেক্ট ড্রাইভ—উভয় মোডেই চালানো সম্ভব।

গতি ও ক্ষমতা: গাড়িটির সর্বোচ্চ গতিবেগ ঘণ্টায় ৭০ কিলোমিটার এবং এতে ৬ জন যাত্রী বসার সুবিধা রয়েছে।

মেকানিক্যাল দক্ষতা: ফারহান মেকানিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের ছাত্র হওয়ায় তার কারিগরি জ্ঞানকে বাস্তবে রূপ দিতে সক্ষম হয়েছেন।

ফারহানের দাবি, মাত্র ৭০ টাকার বিদ্যুত খরচে গাড়িটি ৬৫ থেকে ৭০ কিলোমিটার চলতে পারে-যা বর্তমান জ্বালানি সংকটে সাশ্রয়ী সমাধান হিসেবে বিবেচিত হতে পারে। ভবিষ্যতে তিনি অটোমোবাইল সেক্টরে কাজ করে নিজের প্রকল্পকে আরও উন্নত করতে চান তিনি। এক্ষেত্রে সরকারি পৃষ্ঠপোষকতার দাবি তার। স্থানীয়রা বলছেন, ফারহানের তৈরি এই বৈদ্যুতিক গাড়িটি বর্তমান জ্বালানি সংকটের সময়ে অল্প বিদ্যুৎ খরচে চলতে সক্ষম। কম খরচে তৈরি এমন একটি গাড়ি যদি সরকারি উদ্যোগে বাণিজ্যিকভাবে বাজারজাত করা যায়। তবে তা দেশের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক হয়ে দাঁড়াবে। ফারহানের তৈরি ইলেকট্রিক ক্রস ওভার কার বিষয়ে উর্দ্ধতন কর্তৃপক্ষের সাথে কথা বলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করবেন বলে জানান বড়াইগ্রাম উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা লায়লা জান্নাতুল ফেরদৌস।

ফারহানের মতো তরুণ উদ্ভাবকদের যদি সরকারি বা বেসরকারি পৃষ্ঠপোষকতা দেওয়া যায়, তবে বাংলাদেশে পরিবেশবান্ধব ও সাশ্রয়ী পরিবহণ ব্যবস্থা গড়ে তোলা অনেক সহজ হবে।


 ‘কৃষক কার্ড’ কৃষি খাতকে স্বাবলম্বী ও স্বয়ংসম্পূর্ণ করে তুলবে: কৃষিমন্ত্রী

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
কুমিল্লা (দক্ষিণ) প্রতিনিধি  

কৃষি কার্ড দেশের কৃষি খাতকে স্বাবলম্বী ও স্বয়ংসম্পূর্ণ করে তুলবে বলে আশা প্রকাশ করেছেন কৃষিমন্ত্রী মোহাম্মদ আমিন উর রশিদ। তিনি বলেছেন, শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের সময়েই বাংলাদেশ খাদ্যে স্বয়ংসম্পূর্ণ হয়েছিল। বর্তমানে যিনি প্রধানমন্ত্রী আছেন, তিনিও মরহুম জিয়াউর রহমান এবং বেগম খালেদা জিয়ার সন্তান হিসেবে তাদের সেই আদর্শ ও বিশ্বাস ধারণ করেন যে- ‘কৃষক বাঁচলে দেশ বাঁচবে’। শুক্রবার (১৭ এপ্রিল) দুপুরে কুমিল্লা আদর্শ সদর উপজেলার বিবিরবাজার হাইস্কুল অ্যান্ড কলেজ মাঠে কৃষক কার্ড বিতরণ অনুষ্ঠানে তিনি এ কথা বলেন। অনুষ্ঠানে ১ হাজার ৪৫৮ কৃষকের মাঝে কৃষি কার্ড বিতরণ করা হয়।

অনুষ্ঠানে আমিন উর রশিদ বলেন, বর্তমান সরকার কৃষিপ্রেমী সরকার। যার সবচেয়ে বড় উদাহরণ এই কৃষি কার্ড। এই কার্ড দেশের কৃষি খাতকে আরও স্বাবলম্বী করে তুলবে এবং কৃষকের সম্মান ও অধিকার নিশ্চিত করবে। কার্ডের মাধ্যমে কৃষকেরা দ্রুত ও সরাসরি সরকারি সব সুযোগ-সুবিধা পাবেন। এই কার্ড দেশের কৃষি খাতকে স্বয়ংসম্পূর্ণ করে তুলবে।

কৃষিমন্ত্রী বলেন, এই কার্ডের মাধ্যমে ভূমিহীন, প্রান্তিক ও ক্ষুদ্র কৃষকদের ব্যাংক হিসাবে বছরে ২ হাজার ৫০০ টাকা করে সরাসরি প্রণোদনা পাঠানো হবে। মোট ৫টি শ্রেণিতে (ভূমিহীন, প্রান্তিক, ক্ষুদ্র, মাঝারি ও বড়) এই কার্ড দেওয়া হলেও নগদ প্রণোদনা বা টাকা পাচ্ছেন মূলত ভূমিহীন, প্রান্তিক ও ক্ষুদ্র কৃষকেরা। তবে কার্ডধারী কৃষকেরা ন্যায্যমূল্যে কৃষি উপকরণ, সেচসুবিধা, সহজ শর্তে কৃষিঋণ, কৃষি যন্ত্রপাতি, সরকারি ভর্তুকি ও বিমা সুবিধা পাবেন। পর্যায়ক্রমে তিন ধাপে প্রাক্‌-পাইলটিং, পাইলটিং ও দেশব্যাপী এই কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে।

নির্বাচনী প্রতিশ্রুতির কথা স্মরণ করিয়ে দিয়ে মন্ত্রী বলেন, ‘আমাদের ৩১ দফার মধ্যে কৃষি কার্ডের কথা ছিল। অনেকে সমালোচনা করেছিলেন যে নির্বাচনের পর এটি কার্যকর হবে না। কিন্তু ভোটের কালির দাগ মোছার আগেই সরকার ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত কৃষিঋণ মওকুফ এবং ফ্যামিলি কার্ডের প্রচলন শুরু করে। এখন কৃষি কার্ড বিতরণ করে নিজেদের প্রতিশ্রুতি রক্ষা করেছে সরকার।’ তিনি আরও বলেন, ‘বেগম খালেদা জিয়া কৃষিঋণ মওকুফ ও সারের ভর্তুকি দেওয়া শুরু করেছিলেন। বর্তমান প্রধানমন্ত্রীও ক্ষমতায় আসার পরপরই কৃষকদের স্বার্থে অভূতপূর্ব পদক্ষেপ নিয়েছেন। কারণ, আমরা বিশ্বাস করি, এ দেশের ৭০ শতাংশ মানুষ কৃষক, আর তাদের অর্থনীতি চাঙা হলেই দেশের অর্থনীতি চাঙা হবে। এই কার্ডের মাধ্যমে অনেক সুযোগ-সুবিধা পাবেন কৃষকেরা। তাই কার্ডটি যত্ন করে রাখবেন।’

মন্ত্রী হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, ‘কৃষকের ওপর অন্যায় করে এখন আর কেউ পার পাবে না। এ দেশ ১২ মাসের ফসলের দেশ; কৃষি শক্তিশালী হলে আমাদের আর কারও কাছে ভিক্ষা করার বা ঋণের জন্য হাত পাতার প্রয়োজন হবে না।’

অনুষ্ঠানে কৃষি কার্ড পেয়ে স্থানীয় গাজীপুর গ্রামের কৃষাণী সালমা আক্তার বলেন, ‘আমার ঘাম আর পরিশ্রমের একটা মূল্য আছে। আমি শুধু একজন গৃহিণী না, আমি দেশের খাদ্য উৎপাদনকারী একজন কৃষক। এই কার্ড যেন আমার পরিচয়পত্র হয়।’

অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেন কুমিল্লা-৫ আসনের সংসদ সদস্য জসিম উদ্দিন, কৃষি মন্ত্রণালয়ের সচিব রফিকুল ই মোহামেদ, মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. দেলোয়ার হোসেন, কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক আব্দুর রহিম, কুমিল্লা সিটি করপোরেশনের প্রশাসক ইউসুফ মোল্লা (টিপু), জেলা পরিষদের প্রশাসক মোস্তাক মিয়া প্রমুখ।


কুষ্টিয়া সীমান্তে বিজিবির সাঁড়াশি অভিযান: ২৪ লাখ টাকার মাদক উদ্ধার

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
দৌলতপুর (কুষ্টিয়া) প্রতিনিধি

কুষ্টিয়া সীমান্ত এলাকায় পৃথক তিনটি অভিযানে প্রায় ২৪ লাখ টাকা মূল্যের বিপুল পরিমাণ মাদক ও নেশাজাতীয় ট্যাবলেট উদ্ধার করেছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)। ১৬ ও ১৭ এপ্রিল ২০২৬ তারিখে কুষ্টিয়া ব্যাটালিয়ন (৪৭ বিজিবি)-এর আওতাধীন বিভিন্ন বিওপি এলাকায় এসব অভিযান পরিচালিত হয়।

বিজিবি সূত্রে জানা যায়, সুনির্দিষ্ট গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে পরিচালিত এসব অভিযানে কোনো পাচারকারীকে আটক করা সম্ভব না হলেও মালিকবিহীন অবস্থায় বিপুল পরিমাণ মাদক জব্দ করা হয়।

শুক্রবার (১৭ এপ্রিল) দুপুরে বিজিবির পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, ১৬ এপ্রিল আনুমানিক দুপুর ১টা ২০ মিনিটে উদয়নগর বিওপির দায়িত্বপূর্ণ এলাকার আতারপাড়া খেয়াঘাটে অভিযান চালিয়ে ৪ হাজার ৮৮০ পিস ইয়াবা ট্যাবলেট উদ্ধার করা হয়। উদ্ধারকৃত ইয়াবার আনুমানিক সিজার মূল্য ১৪ লাখ ৬৪ হাজার টাকা।

এরপর ১৭ এপ্রিল দিবাগত রাত ১২টা ৩০ মিনিটে জামালপুর বিওপির শকুন্তলা মাঠ এলাকায় অভিযান চালিয়ে ১ দশমিক ৬০০ কেজি গাঁজা এবং ৩৪ বোতল ট্রিপোলিডাইন হাইড্রোক্লোরাইড ও কোডেইন ফসফেট সিরাপ উদ্ধার করা হয়, যার আনুমানিক মূল্য ১৯ হাজার ২০০ টাকা।

একই দিন ভোর ৬টা ৪০ মিনিটে চিলমারী বিওপির শান্তিপাড়া এলাকায় আরেকটি অভিযানে ২০ বোতল মদ, ১ হাজার ৫০০ পিস ডেক্সামেথাসন ট্যাবলেট এবং ১ হাজার ৪৯০ পিস সিপ্রোহেপ্টাডিন ট্যাবলেট জব্দ করা হয়। এসব মাদকের আনুমানিক মূল্য ৯ লাখ ২৭ হাজার টাকা।

কুষ্টিয়া ব্যাটালিয়ন (৪৭ বিজিবি)-এর অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল রাশেদ কামাল রনি জানান, উদ্ধারকৃত মাদকদ্রব্য বর্তমানে বিজিবির হেফাজতে রয়েছে এবং বিধি অনুযায়ী সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে হস্তান্তরের প্রক্রিয়া চলমান।

তিনি আরও বলেন, সীমান্ত দিয়ে মাদক প্রবেশ ও চোরাচালান রোধে বিজিবি ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি অনুসরণ করছে। জনস্বার্থে এবং তরুণ প্রজন্মকে মাদকের ক্ষতিকর প্রভাব থেকে রক্ষা করতে ভবিষ্যতেও এ ধরনের অভিযান আরও জোরদার করা হবে।


মৌলভীবাজারে ডাকাতির প্রস্তুতিকালে গুলিবিদ্ধসহ ৩ ডাকাত গ্রেফতার, আগ্নেয়াস্ত্র ও গুলি উদ্ধার

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
শ্রীমঙ্গল (মৌলভীবাজার) প্রতিনিধি

মৌলভীবাজার সদর উপজেলার বাউরবাগ এলাকায় ডাকাতির প্রস্তুতিকালে সংঘটিত ঘটনায় কুখ্যাত ডাকাত সর্দার রুবেল মিয়াসহ তিনজনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। এ সময় তাদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে আরও একটি আগ্নেয়াস্ত্র ও কার্তুজ উদ্ধার করা হয়েছে।

পুলিশ জানায়, গত ১৩ এপ্রিল রাত আনুমানিক সাড়ে ১০টার দিকে বাউরবাগ এলাকার একটি কবরস্থানে ৬-৭ সদস্যের একটি ডাকাত দল আগ্নেয়াস্ত্র ও গোলাবারুদসহ ডাকাতির প্রস্তুতি নিচ্ছিল। স্থানীয়রা বিষয়টি টের পেয়ে তাদের ধাওয়া করলে ডাকাতরা গুলি ছোঁড়ে। এতে তাদেরই সদস্য সৈয়দ শামসুর রহমান আতিক (৩০) গুলিবিদ্ধ হয়ে পড়ে এবং অন্যরা পালিয়ে যায়।

পরে স্থানীয়দের সহায়তায় আহত অবস্থায় আতিককে আটক করা হয়। এ সময় তার কাছ থেকে একটি পাইপগান ও ২১ রাউন্ড তাজা গুলি উদ্ধার করা হয়।

ঘটনার পর পুলিশ তদন্ত শুরু করে। আটক আতিকের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে ১৬ এপ্রিল সিলেটের সিলামসহ হবিগঞ্জ জেলার বিভিন্ন স্থানে অভিযান চালিয়ে ডাকাত সর্দার রুবেল মিয়া (৪০) ও আশরাফ হোসেন আশরাফুল ওরফে আশাই (২৯)-কে গ্রেফতার করা হয়।

একই দিন ভোরে তাদের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী সদর উপজেলার কামালপুর ইউনিয়নের উত্তর বাড়ন্তি এলাকার একটি কলা বাগান থেকে দেশীয় তৈরি আরও একটি পাইপগান ও একটি ব্যবহৃত কার্তুজের খোসা উদ্ধার করা হয়।

পুলিশ জানায়, এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত মোট দুটি পাইপগান, ২১ রাউন্ড তাজা গুলি এবং একটি খালি কার্তুজ উদ্ধার করা হয়েছে।

মৌলভীবাজারের পুলিশ সুপার মোহাম্মদ বিল্লাল হোসেনের নির্দেশনায় অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর সার্কেল) আবুল খায়েরের নেতৃত্বে এবং সদর মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ মো. সাইফুল ইসলামের তত্ত্বাবধানে একটি বিশেষ টিম অভিযানটি পরিচালনা করে।

সদর মডেল থানার ওসি মো. সাইফুল ইসলাম জানান, গ্রেফতারকৃতরা একটি আন্তঃজেলা ডাকাত দলের সক্রিয় সদস্য। তাদের মধ্যে রুবেল মিয়ার বিরুদ্ধে ডাকাতিসহ বিভিন্ন ঘটনায় ১১টি এবং আতিকের বিরুদ্ধে ৫টি মামলা রয়েছে। আহত আতিক বর্তমানে সিলেট ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন।

পলাতক অন্যান্য সদস্যদের গ্রেফতারে পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।


দীর্ঘ ৫০ বছর পর পুনঃ খনন হতে যাচ্ছে শার্শা উপজেলার জিয়া খাল: প্রতিমন্ত্রী আজাদ

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
বেনাপোল প্রতিনিধি

দীর্ঘ ৫০ বছরপর পুনঃ খনন হতে যাচ্ছে জিয়া খাল। ২৭ এপ্রিল যশোরের শার্শা উপজেলার উলাশীতে জিয়া খাল পুনঃখননের উদ্বোধন করবেন শহীদ প্রসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের পুত্র প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। প্রধানমন্ত্রীর আগমন উপলক্ষে শুক্রবার (১৭ এপ্রিল) দুপুরে উলাাশি এলাকা পরিদর্শন করেছেন পানিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী আল ফরহাদ হোসেন আজাদ। এসময স্থানীয়দের সাথে কথা বলেন তিনি।

প্রতিমন্ত্রীর সফরসঙ্গী হিসাবে উপস্থিত ছিলেন, পানী সম্পদ মন্ত্রনালয়ের সচিব একে এম শাহাবুদ্দিন।

যশোর জেলা প্রশাসক আশোক হাসান,জেলা বিএনপি সভাপতি এ্যাডভোকোট সাবেরুল হক সাবু, সাধারণ সম্পাদক দেলোয়ার হোসেন খোকন, শার্শা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ফজলে ওয়াহিদ,, উপজেলা বিএনপির , সাধারন সম্পাদক নুরুজ্জামান লিটনসহ প্রশাসন ও বিএনপির বিভিন্ন পর্যায়ের নেতৃবৃন্দ।

প্রধান মন্ত্রী তারেক জিযাকে স্বাহত জানাতে ও উদ্বোধনের অপেক্ষায় খুশিতে পথচেয়ে বসে আছেন যশোরের শার্শায় দলীয় নেতা কর্মিরাসহ সর্বসাধারন। কৃষকদের মধ্যে উৎসাহ উদ্দিপনা ও আশার সঞ্চার হয়েছে।


জেলখানায় বসেই ডাকাতির পরিকল্পনা, মূল পরিকল্পনাকারীসহ গ্রেপ্তার ১৩

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নাটোর প্রতিনিধি

নাটোরে নির্মাণাধীন একটি পাওয়ার গ্রিড উপকেন্দ্রে প্রায় দুই কোটি টাকার মালামাল ডাকাতির ঘটনার রহস্য উন্মোচন করেছে পুলিশ। এই ঘটনায় মূল পরিকল্পনাকারীসহ ডাকাত দলের ১৩ সদস্যকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তাদের কাছ থেকে লুট হওয়া মালামালের একটি বড় অংশ এবং ডাকাতিতে ব্যবহৃত ট্রাক ও দেশীয় অস্ত্র উদ্ধার করা হয়েছে।

শুক্রবার (১৭ এপ্রিল) দুপুরে নাটোরের পুলিশ সুপার মুহম্মদ আব্দুল ওয়াহাব নিজ কার্যালয়ে আয়োজিত এক প্রেস ব্রিফিংয়ে এ তথ্য জানান।

পুলিশ সুপার জানান, গত ২৬ মে রাতে বড়াইগ্রাম উপজেলার খোর্দ্দ কাছুটিয়া এলাকায় নির্মাণাধীন পাওয়ার গ্রিড উপকেন্দ্রে ২০-২৫ জনের একটি সশস্ত্র ডাকাত দল হানা দেয়। তারা সেখানে কর্তব্যরত চারজন নিরাপত্তা প্রহরীকে মারধর করে হাত-পা ও চোখ বেঁধে ফেলে। এরপর প্রায় ১ কোটি ৯২ লাখ টাকা মূল্যের ইলেকট্রনিক সরঞ্জাম ও ব্যাটারি লুট করে একটি ট্রাকে করে পালিয়ে যায়।

এ ঘটনায় নির্মাণকারী প্রতিষ্ঠান সিগনি ইঞ্জিনিয়ারিং লিমিটেডের সহকারী ব্যবস্থাপক অনিক কুমার বিশ্বাস বাদী হয়ে বড়াইগ্রাম থানায় একটি মামলা দায়ের করেন। মামলার পর পুলিশ তদন্তে নেমে জানতে পারে, এই ডাকাতির মূল সমন্বয়ক রুহুল আমিন ও সৈকত। তারা দুজন জেলখানায় বসেই এই চাঞ্চল্যকর ডাকাতির পরিকল্পনা করেন এবং জামিনে বেরিয়ে এসে সহযোগীদের নিয়ে তা বাস্তবায়ন করেন।

তিনি আরও বলেন, নাটোর, রাজশাহী, পাবনা, সিরাজগঞ্জ, টাঙ্গাইল ও গাজীপুর জেলার বিভিন্ন স্থানে টানা অভিযান চালিয়ে এ ঘটনায় জড়িতদের গ্রেপ্তার করে জেলা গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি) ও বড়াইগ্রাম থানা পুলিশের একটি যৌথ দল।

অভিযানে গ্রেপ্তারকৃতদের কাছ থেকে লুট হওয়া ৩৫০টি ব্যাটারি সেল, ডাকাতিতে ব্যবহৃত একটি ট্রাক, ১০টি মোবাইল ফোন এবং বিভিন্ন দেশীয় অস্ত্র উদ্ধার করা হয়েছে।

গ্রেপ্তারকৃতরা সবাই পেশাদার ডাকাত এবং তাদের বিরুদ্ধে দেশের বিভিন্ন থানায় একাধিক মামলা রয়েছে। এই চক্রের বাকি সদস্যদের গ্রেপ্তার এবং লুট হওয়া অবশিষ্ট মালামাল উদ্ধারে পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে বলে প্রেস ব্রিফিংয়ে জানানো হয়।


হামে আরও ৮ শিশুর মৃত্যু

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

দেশে গত ২৪ ঘণ্টায় হাম ও হামের উপসর্গ নিয়ে আরও ৮ শিশুর মৃত্যু হয়েছে। এর মধ্যে ৬ শিশু হামের উপসর্গ নিয়ে ও দুই শিশুর হামে মৃত্যু হয়েছে বলে জানিয়েছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। বৃহস্পতিবার (১৬ এপ্রিল) সবশেষ তথ্যে এ মৃত্যুর খবর জানা যায়।

একই সময়ে সারাদেশের বিভিন্ন হাসপাতালে হামের মতো উপসর্গ নিয়ে এক হাজার ১৯১ জন নতুন রোগী ভর্তি হয়েছেন। এদের মধ্যে ৯২ জনের ক্ষেত্রে ল্যাবরেটরি পরীক্ষার মাধ্যমে নিশ্চিত হওয়া গেছে যে তারা হামে আক্রান্ত।

দেশব্যাপী এই রোগের প্রাদুর্ভাব তীব্রতর হওয়ার প্রেক্ষাপটে এই আশঙ্কাজনক তথ্য সামনে এলো।

চলতি বছরে এ পর্যন্ত বাংলাদেশে অন্তত ৩৪ জন শিশু ল্যাবরেটরিতে পরীক্ষার মাধ্যমে শনাক্ত হাম সংক্রমণে মৃত্যুবরণ করেছে। এছাড়া আরও ১৭২ জন শিশু এই রোগের সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ উপসর্গ নিয়ে মারা গেছে।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্যমতে, গত ১৫ মার্চ থেকে ১৩ এপ্রিলের মধ্যে মোট দুই হাজার ৭২১ জনের শরীরে হাম শনাক্ত হয়েছিল।

পরবর্তীতে ১৫ মার্চ থেকে ১৬ এপ্রিল পর্যন্ত পাওয়া হালনাগাদ তথ্যে দেখা যায়, এই সংখ্যা বেড়ে তিন হাজার ৬৫ জনে দাঁড়িয়েছে।

সর্বশেষ স্বাস্থ্য বুলেটিন অনুসারে, সারাদেশে এখন পর্যন্ত ২০ হাজার ৩৫২ জন সম্ভাব্য হাম রোগী শনাক্ত করা হয়েছে। তাদের মধ্যে ১০ হাজার ৪৯৬ জন রোগী চিকিৎসা গ্রহণ শেষে হাসপাতাল থেকে ছাড়পত্র নিয়ে বাড়ি ফিরে গেছেন।


একটি বাঁধেই বদলে যেতে পারে গঙ্গাচড়ার লক্ষাধিক মানুষের ভাগ্য

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
গঙ্গাচড়া (রংপুর) প্রতিনিধি

রংপুরের গঙ্গাচড়া উপজেলার বিস্তীর্ণ চরাঞ্চল দীর্ঘদিন ধরে বিপর্যস্ত উত্তরাঞ্চলের অন্যতম প্রধান নদী তিস্তার দুই বিপরীত রূপে। শুষ্ক মৌসুমে নদী যেখানে পরিণত হয় ধূধূ বালুচরে, সেখানে বর্ষা মৌসুম এলেই তা ভয়াবহ বন্যা ও তীব্র নদীভাঙনের রূপ নেয়। এই দুই চরম অবস্থার মাঝখানে আটকে পড়ে সারা বছর দুর্ভোগ পোহাচ্ছেন তিস্তা তীরবর্তী লক্ষাধিক মানুষ। নদীর স্বাভাবিক প্রবাহ ব্যাহত হওয়া, ভাঙনে বসতভিটা হারানো এবং জীবিকার অনিশ্চয়তায় এই জনপদের মানুষ এখন চরম সংকটে দিন কাটাচ্ছেন।

বিশেষ করে নোহালী ইউনিয়নের মিনার বাজার থেকে লক্ষ্মীটারী ইউনিয়নের মহিপুর পর্যন্ত প্রায় ১০ কিলোমিটার এলাকাজুড়ে নদীতীরবর্তী গ্রামগুলো আনন্দবাজার, বাগডহরা, মটুকপুর, বিনবিনা, ইচলি, শংকরদহ ও কাশিয়াবাড়ি, চরছালাপাক চরম ঝুঁকিতে রয়েছে।

শুষ্ক মৌসুম এলেই তিস্তার পানি আশঙ্কাজনকভাবে কমে যায়। অনেক স্থানে নদী শুকিয়ে গিয়ে বালুচরে পরিণত হয়। এতে নদীর স্বাভাবিক প্রবাহ ব্যাহত হয় এবং পরিবেশগত ভারসাম্য নষ্ট হচ্ছে। নদীতে পানি না থাকায় নৌযান চলাচল বন্ধ হয়ে যায়, মাছের উৎপাদন কমে যায় এবং জেলে সম্প্রদায়ের মানুষ কাজ হারিয়ে ফেলেন। কৃষকরাও সেচের পানির সংকটে পড়ে উৎপাদন কমে যাওয়ার আশঙ্কায় থাকেন।

স্থানীয় কৃষক আব্দুল মান্নান বলেন,শুকনো মৌসুমে পানি থাকে না, জমিতে সেচ দেওয়া যায় না। এতে ফসল উৎপাদন কমে যায়।

অন্যদিকে বর্ষা এলেই তিস্তা নদী হয়ে ওঠে ভয়ঙ্কর। হঠাৎ পানি বৃদ্ধি পেয়ে নদীর তীর ভেঙে পড়ে ঘরবাড়ি, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, রাস্তাঘাট এবং ফসলি জমি নদীগর্ভে বিলীন হয়ে যায়। প্রতি বছর শত শত পরিবার বাস্তুচ্যুত হচ্ছে। কেউ হারাচ্ছেন বসতভিটা, কেউ বা হারাচ্ছেন জীবিকার শেষ সম্বল।

৭০ বছর বয়সি প্রবীণ আলতাফ হোসেন বলেন, আমার জীবনের সত্তর বছর তিস্তার ভাঙন আর বন্যা দেখে কেটে গেছে। ছোটবেলা থেকে আজ পর্যন্ত একই চিত্র শুকনো মৌসুমে পানি নেই, আর বর্ষায় সব ভাসিয়ে নিয়ে যায়। বহু সরকার এসেছে, অনেক প্রতিশ্রুতি শুনেছি, কিন্তু বাস্তবে কোনো স্থায়ী কাজ হয়নি। এখন বয়স হয়ে গেছে, আর বেশি কিছু চাই না। শুধু চাই,একটা বাঁধ নির্মাণ হোক, যেন আমাদের পরবর্তী প্রজন্ম অন্তত শান্তিতে থাকতে পারে।

আউলীয়ার হাট এলাকার শফিকুল (৪৫) বলেন,আমি ছোটবেলা থেকে দেখে আসছি তিস্তার ভাঙন। আমার বাবাকে নিজের হাতে নয়বার বাড়ি সরাতে হয়েছে। প্রতিবার নতুন করে ঘর বানিয়েছি, আবার নদী এসে তা নিয়ে গেছে। আমাদের জীবনে কোনো স্থায়িত্ব নেই। কখন যে ঘর ভেঙে যাবে, সেই আতঙ্কে থাকতে হয়। অনেক প্রতিবেশী এলাকা ছেড়ে চলে গেছে, কেউ শহরে, কেউ অন্য জেলায়। আমরা এখনো এখানে টিকে আছি কষ্ট করে। একটা বাঁধ হলে আমরা অন্তত নিরাপদে থাকতে পারতাম।

নোহালী চর আনন্দবাজার এলাকার স্নাতক শিক্ষার্থী আল-আমিন বলেন, শুকনো মৌসুমে নদী হেঁটে পার হওয়া যায়, কিন্তু বর্ষায় নৌকা ছাড়া চলাচল সম্ভব নয়। এতে নিয়মিত ক্লাস করা কঠিন হয়ে যায়।

ইচলি গ্রামের স্কুলছাত্রী রিমা আক্তার জানায়, আমাদের স্কুল নদীতে ভেঙে গেছে। এখন অনেক দূরে গিয়ে পড়তে হয়। বর্ষায় রাস্তা ভেঙে গেলে স্কুলে যাওয়া বন্ধ হয়ে যায়।

স্থানীয়দের অভিযোগ, ভাঙন ও বন্যার কারণে এই অঞ্চলে কোনো স্থায়ী উন্নয়ন গড়ে ওঠেনি। প্রতি বছর বরাদ্দ এলেও তা টেকসই সমাধান দিতে পারছে না। বর্ষার পানিতে অনেক উন্নয়ন কাজই ভেসে যায়।মিনার বাজার থেকে মহিপুর পর্যন্ত একটি স্থায়ী নদীতীর রক্ষা বাঁধ নির্মাণই হতে পারে এই দীর্ঘদিনের সমস্যার একমাত্র সমাধান।

কৃষক আব্দুল মান্নান বলেন, আমরা ত্রাণ চাই না, আমরা চাই একটি বাঁধ। এতে আমরা নিজেরাই চলতে পারব।

গঙ্গাচড়া উপজেলার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) জেসমিন আক্তার বলেন, গঙ্গাচড়া উপজেলার তিস্তা তীরবর্তী চরাঞ্চলের মানুষের জীবন-জীবিকা ও নিরাপত্তা আমাদের কাছে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি বিষয়। আমরা মাঠপর্যায়ে পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করেছি এবং স্থানীয় জনগণের ভোগান্তি ও দীর্ঘদিনের সমস্যাগুলো গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনায় নিয়েছি।

এই অঞ্চলের মানুষের দুর্ভোগ লাঘবের জন্য স্বল্পমেয়াদি উদ্যোগের পাশাপাশি একটি টেকসই ও বাস্তবসম্মত সমাধানের প্রয়োজন রয়েছে। বিশেষ করে নদীতীর রক্ষা, যোগাযোগ ব্যবস্থা উন্নয়ন এবং ভাঙনপ্রবণ এলাকাগুলো চিহ্নিত করে সমন্বিত পরিকল্পনা গ্রহণের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলোর সঙ্গে আলোচনা চলছে।

তিস্তার শুকনো মৌসুমের পানি শূন্যতা এবং বর্ষার ভয়াবহ বন্যায় এই দুই বিপরীত চিত্রে দিশেহারা গঙ্গাচড়ার মানুষ এখন একটি স্থায়ী সমাধানের অপেক্ষায়। তাদের বিশ্বাস, একটি শক্তিশালী বাঁধ নির্মাণ করা হলে বদলে যাবে এই জনপদের চিত্র, ফিরবে স্বস্তি ও নিরাপদ জীবন।


প্রভিডেন্ট ফান্ডের শত কোটি টাকা বকেয়া, অনিশ্চিত গন্তব্যে হাজারো চা শ্রমিক

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
মৌলভীবাজার প্রতিনিধি

দেশের চা-শিল্পের প্রাণ ভোমরা চা-শ্রমিকদের ভবিষ্যৎ আর্থিক নিরাপত্তার প্রধান অবলম্বন প্রভিডেন্ট ফান্ড (পিএফ) এখন চরম সংকটে। ১৬৭টি চা-বাগানের মধ্যে ৫৮টি বাগানে শ্রমিকদের সঞ্চিত পিএফ-এর বিপুল পরিমাণ টাকা বকেয়া পড়ে আছে। ফলে অবসরের পর বা জরুরি প্রয়োজনে নিজেদের কষ্টার্জিত অর্থ পাওয়া নিয়ে গভীর দুশ্চিন্তায় দিন কাটাচ্ছেন হাজার হাজার শ্রমিক।

নিয়ম অনুযায়ী, প্রতি মাসে চা-শ্রমিকদের মূল বেতনের ৭.৫% টাকা প্রভিডেন্ট ফান্ডের জন্য কেটে নেওয়া হয়। বাগান কর্তৃপক্ষ সমপরিমাণ অর্থাৎ আরও ৭.৫% অর্থ যোগ করে মোট ১৫% টাকা এই তহবিলে জমা দেওয়ার কথা। এ ছাড়া প্রশাসনিক ব্যয় বাবদ এই মোট অর্থের ওপর আরও ১৫% অর্থ বাগান কর্তৃপক্ষকে জমা দিতে হয়। কিন্তু অভিযোগ উঠেছে, শ্রমিকদের অংশ ঠিকই কেটে নেওয়া হচ্ছে, অথচ মালিকপক্ষ সেই টাকা সময়মতো তহবিলে জমা দিচ্ছে না।

বাংলাদেশ চা-শ্রমিক ইউনিয়নের সাবেক সাধারণ সম্পাদক রামভজন কৈরি ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, শ্রমিকের টাকা কেটে নিয়ে বাগান কর্তৃপক্ষ তা দিয়ে ব্যবসা করছে। সময়মতো টাকা জমা না হওয়ায় শ্রমিকরা কেবল দুশ্চিন্তায় নেই, বরং তাদের প্রাপ্য সুদের অংকও কমছে।

ভবিষ্যত তহবিল নিয়ন্ত্রক কার্যালয়ের ২৮ ফেব্রুয়ারির হালনাগাদ তথ্য অনুযায়ী ৫৮টি চা-বাগানে পিএফ-এর টাকা বকেয়া রয়েছে। বকেয়ার মেয়াদ বাগানভেদে ৩ মাস থেকে ২ বছর পর্যন্ত। শ্রমিক নেতাদের মতে, বকেয়া অর্থের পরিমাণ শত কোটি টাকা ছাড়িয়ে যাবে। তবে সাম্প্রতিক তৎপরতায় প্রায় ১০ কোটি টাকা আদায় সম্ভব হয়েছে।

আলীনগর চা-বাগানের শ্রমিক সত্য নারায়ন জানান, নিয়ম অনুযায়ী অবসরের ৩ মাসের মধ্যে টাকা পাওয়ার কথা থাকলেও তাকে ১ বছর অপেক্ষা করতে হয়েছে। চা-শ্রমিক ইউনিয়নের সহসভাপতি পঙ্কজ কুন্দ বলেন, স্বল্প আয়ের শ্রমিকদের জন্য এই সঞ্চয়টুকুই শেষ ভরসা। সেটি অনিশ্চিত হয়ে পড়লে বড় ধরনের জীবন সংকট তৈরি হবে।

বাগান মালিকদের পক্ষ থেকে সাতগাঁও চা-বাগানের ব্যবস্থাপক সিদ্দিকুর রহমান জানান, দীর্ঘদিনের লোকসান এবং উৎপাদন খরচের তুলনায় চায়ের দাম কম হওয়ায় এই জটিলতা তৈরি হয়েছে। তবে দ্রুত বকেয়া পরিশোধের পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে বলে তিনি দাবি করেন।

বিভাগীয় শ্রম দপ্তরের উপপরিচালক (নিয়ন্ত্রক প্রভিডেন্ট) মহব্বত হোসাইন জানান, বকেয়া আদায়ে কঠোর অবস্থানে রয়েছে প্রশাসন। তিনি বলেন, আমরা ৬টি বাগানের বিরুদ্ধে শ্রম আইনে মামলা করেছি এবং ৫৮টি বাগানকে বকেয়া পরিশোধের জন্য চিঠি দেওয়া হয়েছে। ট্রাস্টি বোর্ডের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী নিয়মিত পরিদর্শন ও তদারকি চলছে।

শ্রম অধিদপ্তরের অতিরিক্ত সচিবের নেতৃত্বে গঠিত একটি ট্রাস্টি বোর্ড এই তহবিল পরিচালনা করে। শ্রমিকদের দাবি, তদারকি আরও জোরদার করে প্রতি মাসের টাকা প্রতি মাসেই জমা নিশ্চিত করা হোক, যাতে তাদের শেষ বয়সের সম্বলটুকু রক্ষা পায়।


পদ্মায় ধরা পড়ল ২৫ কেজির কাতলা, বিক্রি অর্ধলক্ষ টাকায়

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
রাজবাড়ী প্রতিনিধি

রাজবাড়ীর দৌলতদিয়া পদ্মা নদীতে জেলের জালে ধরা পড়েছে সাড়ে ২৫ কেজি ওজনের বিশাল এক কাতলা মাছ। বৃহস্পতিবার (১৬ এপ্রিল) ভোররাতে দৌলতদিয়া পদ্মা নদীর গায়া ফ্যাশন জাল ফেলে এই বিশাল আকৃতির কাতলা মাছটি ধরা পরে জাফরগঞ্জের জেলে সুব্রত হলদারের জালে। পরে এই মাছটি সকালে দৌলতদিয়া ৫ নং ফেরি ঘাটে নিয়ে আসলে স্থানীয় মাছ ব্যবসায়ী চান্দু মোল্লা।

১৮’শত টাকা কেজি দরে ৪৫ হাজার ৯০০ টাকা দিয়ে উন্মুক্ত নিলামে কিনে নেন। এ সময় কাতল মাছটি একনজর দেখার জন্য উৎসুক জনতা ভিড় জমায়। পরে মাছটি ১৯’শত টাকা কেজি দরে ৪৮ হাজার ৪৫০ টাকায় ঢাকার এক ব্যবসায়ীর কাছে বিক্রি করেন চান্দু মোল্লা।

এ ব্যাপারে গোয়ালন্দ উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা আনোয়ারুল ইসলাম পাইলট বলেন, বর্তমানে নদীতে মাঝে মধ্যেই জেলেদের জালে বড় মাছ ধরা পড়ছে। এসব মাছ বেশিরভাগ ফ্যাশন জালে ধরা পরে। এ ধরণের পদ্মার মিঠা পানির মাছ খেতে খুবই সুস্বাদু।

চান্দু মোল্লা বলেন, এই মৌসুমে এত বড় কাতলা মাছ আগে দেখা যায়নি। এটি পদ্মা নদীর সবচেয়ে বড় কাতলা মাছ হতে পারে বলে তিনি মনে করেন। পরে মুঠোফোনে যোগাযোগের পর ঢাকার গুলশানের এক ব্যবসায়ী কেজিতে ১০০ টাকা লাভ দিয়ে ৪৮ হাজার ৫০০ টাকায় মাছটি কিনে নেন। দুপুরের দিকে মাছটি ঢাকায় পাঠিয়ে দেওয়া হয়।


কোটচাঁদপুরে পুকুরে ভাসছিল কিশোরীর লাশ

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
ঝিনাইদহ প্রতিনিধি

ঝিনাইদহের কোটচাঁদপুর পৌর কলেজ এলাকার একটি ইটভাটার পুকুর থেকে নাসিমা খাতুন (১৪) নামের এক কিশোরীর লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ। গতকাল বৃহস্পতিবার ওই এলাকার ইকো ব্রিকসের পুকুর থেকে ওই কিশোরীর লাশ উদ্ধার করা হয়। কিশোরী নাসিমা খাতুন উপজেলার সলেমানপুর গ্রামের মৃত নাজমুল মীরের মেয়ে।

স্থানীয়রা জানায়, কোটচাঁদপুর-কালীগঞ্জ সড়কের ইকো ব্রিকস’র পুকুরে এক কিশোরীর লাশ দেখে পুলিশে খবর দেয় স্থানীয়রা। খবর পেয়ে স্বজনরা এসে পরিচয় শনাক্ত করলে পুলিশ তার লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য সদর হাসপাতালের মর্গে পাঠায়।

স্বজনরা জানায়, গত বুধবার সকালে বান্ধবীদের সাথে ঘুরতে যাওয়ার কথা বলে বাড়ি থেকে বের হয়। এরপর আর বাড়ি ফেরেনি সে।

কোটচাঁদপুর থানার ওসি আসাদুজ্জামান বলেন, লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে পাঠানো হয়েছে। ময়নাতদন্তের রিপোর্ট পেলেই মৃত্যুর সঠিক কারণ জানা যাবে।


পিরোজপুরে বিদ্যালয় ভবনের পাইলিং কাজ উদ্বোধন

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
​পিরোজপুর প্রতিনিধি

পিরোজপুর শহরের ঐতিহ্যবাহী বিদ্যাপীঠ পিরোজপুর সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ে আধুনিক সুযোগ-সুবিধা সম্বলিত ৬ তলা বিশিষ্ট নতুন একাডেমিক ভবনের নির্মাণ কাজ শুরু হয়েছে। শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তরের তত্ত্বাবধানে বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে বৃহস্পতিবার (১৬ এপ্রিল) নতুন এই ভবনের পাইলিং স্থাপন কাজের শুভ উদ্বোধন করেন পিরোজপুরের জেলা প্রশাসক ও বিদ্যালয় পরিচালনা পর্ষদের সভাপতি আবু সাঈদ।

‎​দীর্ঘদিন ধরে শ্রেণিকক্ষ ও ল্যাবরেটরি সংকটে থাকা এই বিদ্যালয়ের অবকাঠামো উন্নয়নে ৬ তলা বিশিষ্ট এই মেগা প্রকল্প হাতে নেওয়ায় শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের মাঝে উৎসবের আমেজ বিরাজ করছে। বর্তমানে বিশালাকার হাইড্রোলিক মেশিনের সাহায্যে ভবনের ‘পাইল ফাউন্ডেশন’ স্থাপনের কাজ চলছে।

‎​উদ্বোধনকালে জেলা প্রশাসক আবু সাঈদ বলেন, ‘শিক্ষার গুণগত মান ও উপর্যুক্ত পরিবেশ নিশ্চিত করতে আমরা এই আধুনিক ভবনটি নির্মাণ করছি। এটি জেলার শিক্ষা প্রসারে যুগান্তকারী ভূমিকা রাখবে। নিয়মিত তদারকির মাধ্যমে আমরা কাজের সর্বোচ্চ গুণগত মান নিশ্চিত করছি।’

‎​উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন পিরোজপুর জেলা পরিষদের প্রশাসক অধ্যক্ষ আলমগীর হোসেন। তিনি জানান, বর্তমান সরকারের উন্নয়ন অগ্রযাত্রায় পিরোজপুর সরকারি উচ্চ বিদ্যালয় একটি আধুনিক রূপ পেতে যাচ্ছে। এই ভবনটি হবে জেলার অন্যতম নান্দনিক শিক্ষা কাঠামো।

‎​শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তর, পিরোজপুরের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. জহিরুল ইসলাম জানান, নির্ধারিত ড্রয়িং ও ডিজাইন অনুযায়ী অত্যন্ত গুরুত্বের সাথে পাইলিং কাজ শুরু হয়েছে। দ্রুততম সময়ের মধ্যে ভবনের মূল কাঠামো দৃশ্যমান হবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।

‎​বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক মো. বাবর তালুকদার বলেন, ‘৬ তলা বিশিষ্ট ভবনটি নির্মিত হলে কয়েক হাজার শিক্ষার্থীর ডিজিটাল ক্লাসরুম, আধুনিক ল্যাব ও লাইব্রেরি সংকটের স্থায়ী সমাধান হবে।’

‎​সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে পিরোজপুর সরকারি উচ্চ বিদ্যালয় হবে দক্ষিণাঞ্চলের অন্যতম সেরা ও আধুনিক সুযোগ-সুবিধা সংবলিত একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান।


রূপগঞ্জে রাতের আঁধারে বেপরোয়া মাটিখেকোরা, জিম্মি কৃষকেরা

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
রূপগঞ্জ(নারায়ণগঞ্জ) প্রতিনিধি

রাতের আঁধারে রূপগঞ্জের কৃষি জমিতে চলে ভেকুর তান্ডব। দেড় বছর ধরে এই জনপদে উন্নয়নের সংজ্ঞা বদলে দিয়েছে একদল বালু ও মাটিখেকো চক্র। করটিয়া, আঙ্গারজোড়া, ইসলামপুর, রানীপুরা, বিরাব ও আতলাপুরে এই চক্র তৎপরতা চালিয়ে জিম্মি করে ফেলেছে কৃষকদের।

রূপগঞ্জের বাতাসে ভেসে বেড়ায় ভেকুর কর্কশ শব্দ আর অবৈধ ড্রাম ট্রাকের ধুলা। তিল তিল করে গড়ে ওঠা কৃষকের স্বপ্ন আর কোটি কোটি টাকা ব্যয়ে আবাসন প্রকল্পের ভরাট করা বালু-সবই এখন প্রভাবশালী রাক্ষুসে চক্রের দখলে।

সরেজমিনে গিয়ে দেখা গেছে, ভোলাবর দুটি আবাসন প্রকল্পের জন্য ফেলা কোটি কোটি টাকার বালু রাতারাতি গায়েব হয়েছে ড্রাম ট্রাকের মাধ্যমে| পাশাপাশি কৃষকের জমির মাটিও লুটে নেয়া হচ্ছে| সূত্র বলছে, সব মিলিয়ে প্রতিদিন ১০টি ভেকুতে কেটে প্রায় ৬০০ ড্রাম ট্রাক মাটি বালু লুট করা হচ্ছে। লুষ্ঠিত এসব মাটির মূল্য পাঁচ কোটি টাকার বেশি। স্থানীয় প্রশাসন মাঝমধ্যে লোক-দেখানো অভিযান চালালেও এই অপরাধকান্ডের মূল হোতারা থেকে যাচ্ছে ধরাছোঁয়ার বাইরে।

ভরাট করা বালু ভেকু দিয়ে তুলে বিক্রি করে দেওয়া হচ্ছে বাইরের ইটভাটায় ও স্থানীয় বালুর গদিগুলোতে। করটিয়া এলাকার চা-বিক্রেতা আলী হোসেন বলেন, ‘সন্ধ্যা অওনের পরে পরেই টেরাক (ট্রাক) টেরাক বালু নেয়। দিনো কম। রাইতো বেশি।’ স্থানীয়রা বলছেন, কৃষিজমিও রেহাই পাচ্ছে না লুটেরাদের হাত থেকে।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক স্থানীয় কয়েকজন শ্রমিক জানান, বর্তমানে প্রতি রাতে ৪৫০ থেকে ৬০০ ড্রাম ট্রাক বালু পাচার হয়। প্রতি ট্রাক বালুর দাম দুই হাজার ৫০০ থেকে তিন হাজার টাকা। সে হিসাবে মাসে পাচার করা হচ্ছে প্রায় পাঁচ কোটি টাকার বালু। এক ভেকুচালক বলেন, ‘আমরা নির্দেশ মাইনাই চলি।

রিকশাচালক আতাউর বলেন, ‘আমরা গরিব মানুষগো ভাই। তয় ধুলার লেইগ্যা গাড়ি চালান যায় না। সন্ধ্যা তাইলে বালু চুরির গাড়ির লাইন নামে।’ রাস্তাঘাটের বেহাল অবস্থা করে ফেলে।

জমির হোসেন নামে এক কৃষক ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, ‘আমাদের জমি থেকে মাটি নিয়া জমিই শেষ কইরা দিছে। এখন আমরা কই যামু? আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর কাছে বিচার দিয়াও প্রতিকার পাচ্ছি না।

অনুসন্ধানে জানা গেছে, পুরো কার্যক্রম নিয়ন্ত্রণ করছে স্থানীয় তিন প্রভাবশালী ‘মাটিখেকো’। তাদের অধীনে রয়েছে শক্তিশালী ক্যাডার বাহিনী। তারা রাতে পাহারা দিয়ে পুরো অপারেশন নির্বিঘ্ন রাখে| কটিয়াদি এলাকায় বসে এই চক্রের মূল হোতারা পুরো কাণ্ড পরিচালনা করে।

গত বছরের ২২ মে ভুক্তভোগী মোজাফফর হোসেন ভূইয়া রূপগঞ্জ থানায় মাটি চুরির অভিযোগে সংশ্লিষ্ট ধারায় মামলা করেন। সেখানে আসামি করা হয় করটিয়ার বাসিন্দা কবির মিয়া (৫৫), তারেক (২২), শামীম (৩৫) ও আরিফ (২৬): রানীপুরার বাচ্চু ওরফে চাল বাচ্চু (৫২), ইমন (২৮); কুরাইল আতলাপুরের সুমন (৩২), গুতুলিয়ার হুমায়ূন কবীর জুয়েল (৪৪), পূর্বের গাাঁওয়ের মুহিত মোয়া (৪২), সেলিম মোল্লা (৫২), কেরাব চৌধুরীপাড়ার আশ্রাফুল, ইসমাইল (৪০)।

বিশেষজ্ঞদের মতে, এভাবে নির্বিচারে বালু ও মাটি উত্তোলন চলতে থাকনে রূপগঞ্জের ভৌগোলিক গঠন মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হবে| সৃষ্টি হতে পারে বড় ধরনের ভূমিধস, জলাবদ্ধতা ও পরিবেশ বিপর্যয়| সব মিলিয়ে ‘উন্নয়নের’ নামে চলা এই লুটপাট রূপগঞ্জকে ঠেলে দিচ্ছে এক অন্ধকার ভবিষ্যতের দিকে।

রূপগঞ্জ থানার ওসি এ এইচ এম সালাউদ্দিন বলেন, আমি নতুন এসেছি। খোঁজখবর নিয়ে ব্যবস্থা নেব।


banner close