শনিবার, ১৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬
৩ আশ্বিন ১৪৩৩

কারাগারে পাপিয়া-কাণ্ডে ছয় কারারক্ষী বদলি

আপডেটেড
৩১ জুলাই, ২০২৩ ১৯:৩৪
প্রতিনিধি, গাজীপুর
প্রকাশিত
প্রতিনিধি, গাজীপুর
প্রকাশিত : ৩১ জুলাই, ২০২৩ ১৯:৩৩

গাজীপুরের কাশিমপুর কেন্দ্রীয় মহিলা কারাগারের ছয় কারারক্ষীকে বদলি করা হয়েছে। অতিরিক্ত কারা মহাপরিদর্শকের পক্ষে কারা মহাপরিদর্শক কর্নেল সুজাউর রহমান স্বাক্ষরিত এক আদেশে বদলির এ তথ্য জানানো হয়।

সোমবার বদলির বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন কাশিমপুর মহিলা কেন্দ্রীয় কারাগারের জ্যেষ্ঠ জেল সুপার মো. ওবায়দুর রহমান।

বদলি মহিলা কারারক্ষীদের মধ্যে আলেয়া চৌধুরীকে লক্ষ্মীপুর জেলা কারাগারে, শাম্মী আক্তারকে সুনামগঞ্জ জেলা কারাগারে, সোহেলা আক্তারকে ঝালকাঠি জেলা কারাগারে, সেলিনা আক্তারকে শেরপুর জেলা কারাগারে, ঝর্ণা আক্তারকে চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলা কারাগারে এবং লাকী খাতুনকে কুড়িগ্রাম জেলা কারাগারে বদলি করা হয়েছে।

কাশিমপুর মহিলা কেন্দ্রীয় কারাগারের সিনিয়র জেল সুপার মো. ওবায়দুর রহমান বলেন, ‘গতকাল রাতে কারারক্ষী বদলি আদেশের কপি হাতে পেয়েছি। তবে কী কারণে তাদের বদলি করা হয়েছে, সে বিষয়ে তাৎক্ষণিকভাবে আমাদের জানানো হয়নি। আদেশে দ্রুত কার্যকর করার নির্দেশ থাকায় সোমবার সকালেই তাদের কাশিমপুর মহিলা কারাগার থেকে বদলি করা হয়েছে।’

গত ১৯ জুলাই কাশিমপুর কেন্দ্রীয় মহিলা কারাগারে রুনা লায়লা নামে এক হাজতিকে যুব মহিলা লীগের বহিষ্কৃত নেত্রী শামীমা নুর পাপিয়াসহ তার সহযোগীরা অমানবিক নির্যাতন করেন। নির্যাতনে পাপিয়ার সঙ্গে মহিলা কারাগারের মেট্রন (কারারক্ষীদের প্রধান) ফাতেমা আক্তারসহ কয়েকজন কারারক্ষী অংশ নেন বলে অভিযোগ ওঠে। এ ঘটনার পর মেট্রন ফাতেমা আক্তারকে প্রাথমিকভাবে ২০ জুন শোকজ করা হয়। ২৮ জুন শোকজের জবাব দেন তিনি। শোকজের জবাব সন্তোষজনক না হওয়ায় ১ জুলাই তাকে দায়িত্ব থেকে প্রত্যাহার করে রিজার্ভ হিসেবে রাখা হয়। ৩ জুলাই কারা অধিদপ্তর বরাবর মেট্রন ফাতেমার বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য সুপারিশ করা হয়। আর অংশগ্রহণকারী অন্য কারারক্ষীদের বদলি করা হয়।


রাজশাহীতে ফ্ল্যাট থেকে নারীসহ সাবেক ওসি আটক

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১৮ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ১৮:২৬
রাজশাহী ব্যুরো

রাজশাহী নগরীর নাদের হাজির মোড় এলাকার একটি ফ্ল্যাটের দরজা ভেঙে সাবেক এক পুলিশ কর্মকর্তাসহ এক নারীকে উদ্ধার করে থানায় নিয়ে গেছে পুলিশ। শুক্রবার সকালে দুই ঘণ্টারও বেশি সময় ভেতর থেকে ছিটকিনি আটকে রাখার পর জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯ নম্বরের সংবাদের ভিত্তিতে ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা দরজা ভেঙে তাঁদের উদ্ধার করেন। উদ্ধার হওয়া পুলিশ কর্মকর্তার নাম মাহবুব আলম, যিনি পূর্বে চন্দ্রিমা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) হিসেবে কর্মরত ছিলেন।

ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে নিজেকে মাহবুব আলমের ষষ্ঠ স্ত্রী হিসেবে পরিচয় দেন নওগাঁর নারী উদ্যোক্তা ও কনটেন্ট নির্মাতা আন্নি আক্তার। তাঁর অভিযোগ, চলতি বছরের শুরুতে মাহবুবের সঙ্গে তাঁর বিয়ে হলেও বিভিন্ন জেলায় বদলি হয়ে একাধিক নারীর সঙ্গে সম্পর্ক গড়ার প্রবণতা রয়েছে ওই কর্মকর্তার। বৃহস্পতিবার রাতে কথিত পালিত মেয়ের ফ্ল্যাটে মাহবুব অন্য এক নারীকে নিয়ে অবস্থান করছেন জানতে পেরে সকালে তিনি সেখানে গিয়ে দরজা খোলার অনুরোধ জানান। দীর্ঘক্ষণ সাড়া না পেয়ে জরুরি সেবার সহায়তায় দরজা ভাঙা হলে ভেতরে সানজিদা মৌ নামের এক নারীকে পাওয়া যায়। মাহবুব আলম ওই নারীকে নিজের বর্তমান স্ত্রী দাবি করলেও কোনো বৈধ কাবিননামা দেখাতে পারেননি। বিপরীতে চার দিন আগে আন্নিকে তালাক দেওয়ার দাবি করে পুলিশের কাছে একটি কাগজ দাখিল করলেও আন্নি জানান তিনি এমন কোনো আনুষ্ঠানিক তালাকনামা পাননি।

অভিযুক্ত পুলিশ কর্মকর্তার অতীত কর্মজীবনের বিষয়ে জানা গেছে, ২০২৪ সালে চন্দ্রিমা থানার ওসি থাকাকালে ঘুষ নেওয়ার ভিডিও ছড়িয়ে পড়লে তাঁকে প্রত্যাহার করা হয়েছিল। পরবর্তীতে নওগাঁয় কর্মরত অবস্থায় তাঁর বিরুদ্ধে বিভাগীয় মামলা হলে তাঁকে সিরাজগঞ্জ ইন-সার্ভিস ট্রেনিং সেন্টারে সংযুক্ত করা হয়। সিরাজগঞ্জ ইন-সার্ভিস ট্রেনিং সেন্টারের কমান্ড্যান্ট মোস্তাক আহমেদ নিশ্চিত করেছেন যে, কোনো প্রকার সরকারি ছুটি বা অনুমতি না নিয়েই কর্মস্থল ত্যাগ করে রাজশাহীতে অবস্থান করছিলেন মাহবুব আলম। অনুমতিহীন এই অবস্থানের বিষয়টি নওগাঁ জেলা পুলিশকে জানানো হয়েছে এবং তারাই তাঁর বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় বিভাগীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করবে।

উদ্ধারের পর মাহবুব আলম ও সানজিদা মৌকে চন্দ্রিমা থানায় নিয়ে পৃথক কক্ষে রাখা হয়েছে। থানার পরিদর্শক (তদন্ত) মাহমুদ সিদ্দিকী জানিয়েছেন, ঊর্ধ্বতন পুলিশ কর্মকর্তাদের সঙ্গে আলোচনা করে সার্বিক বিষয়ে পরবর্তী আইনি পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে। অন্যদিকে অভিযুক্ত পুলিশ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে আইনি প্রতিকার ও কঠোর শাস্তির দাবি জানিয়ে থানায় লিখিত অভিযোগ দায়েরের প্রক্রিয়া শুরু করেছেন আন্নি আক্তার।


ডিসেম্বর নয়, কালকেই আসুন—হাতকড়া পরিয়ে গ্রহণ করা হবে: বিমানমন্ত্রী

বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রী এম. রশিদুজ্জামান মিল্লাত। ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
অনলাইন ডেস্ক

সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা দেশে ফিরে এলে তাঁকে দুইটি হাতকড়া পরিয়ে আইনের মুখোমুখি করা হবে বলে মন্তব্য করেছেন বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটনমন্ত্রী এম. রশিদুজ্জামান মিল্লাত। শুক্রবার সকালে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নবীনগর উপজেলার রতনপুর গ্রামে এক অসহায় প্রবীণ নারী গোলাপী বেগমের নিকট প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের পক্ষ থেকে উপহারের পাকা ঘর ও জমির দলিল হস্তান্তর অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ হুঁশিয়ারি দেন।

অনুষ্ঠানে বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের আর্থিক কেলেঙ্কারির তীব্র সমালোচনা করে বিমানমন্ত্রী উল্লেখ করেন, ক্ষমতাচ্যুত শক্তি রাষ্ট্রীয় সম্পদ লুটপাট করে দেশের অর্থনীতিকে ধ্বংসের দ্বারপ্রান্তে নিয়ে গেছে। আগামী ৩১ ডিসেম্বরের মধ্যে শেখ হাসিনার দেশে প্রত্যাবর্তনের যে বক্তব্য দেওয়া হচ্ছে, তা আত্মগোপনে থাকা দলীয় অনুসারীদের পুলকিত করা এবং অস্থিতিশীলতা সৃষ্টির চক্রান্ত ছাড়া কিছুই নয়। তিনি স্পষ্ট করে বলেন, কোনো নির্দিষ্ট দিনের অপেক্ষা না করে সাবেক সরকারপ্রধান যদি আগামীকালও দেশে আসেন, তবে বিমানবন্দর থেকেই তাঁকে আইনের কঠোর প্রয়োগের মাধ্যমে হাতকড়া পরিয়ে গ্রহণ করা হবে এবং বিচারের মুখোমুখি করা হবে।

বাংলাদেশের জনগণের ওপর চালানো মানবতাবিরোধী নিপীড়নের বিচার দেশের আইনি ব্যবস্থার মাধ্যমেই কার্যকর করা হবে জানিয়ে মন্ত্রী বলেন, ভারতে অবস্থানরত শেখ হাসিনাসহ পালিয়ে যাওয়া তাঁর দোসরদের অবিলম্বে বাংলাদেশে প্রত্যর্পণ করার জন্য পার্শ্ববর্তী দেশকে আনুষ্ঠানিক কূটনৈতিক আহ্বান জানানো হয়েছে। এই অনুষ্ঠানে ব্রাহ্মণবাড়িয়া-৩ আসনের সংসদ সদস্য খালেদ হোসেন মাহবুব, ব্রাহ্মণবাড়িয়া-৪ আসনের সংসদ সদস্য মো. আব্দুল মান্নান এবং জেলা পরিষদের প্রশাসক সিরাজুল ইসলামসহ স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ উপস্থিত ছিলেন।


প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিবের একান্ত সচিব হলেন রূপগঞ্জের ইউএনও

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
রূপগঞ্জ (নারায়ণগঞ্জ) প্রতিনিধি

নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. সাইফুল ইসলামকে প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিবের একান্ত সচিব হিসেবে পদায়ন করা হয়েছে। জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের উপসচিব ড. গোলাম মোরশেদের স্বাক্ষরিত এক প্রজ্ঞাপনে এ তথ্য জানানো হয়।

প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, সাইফুল ইসলামকে প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিবের একান্ত সচিব (সিনিয়র সহকারী সচিব) হিসেবে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে পদায়ন করা হয়েছে। একই আদেশে তাকে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ হিসেবে বদলির আদেশাধীন কর্মকর্তার পদ থেকে অবমুক্ত করা হয়। জনস্বার্থে জারি করা এ আদেশ অবিলম্বে কার্যকর হবে বলে প্রজ্ঞাপনে উল্লেখ করা হয়েছে। সাইফুল ইসলাম জয় বিসিএস (প্রশাসন) ক্যাডারের কর্মকর্তা। তিনি প্রায় দুই বছর ধরে রূপগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন।


জলাবদ্ধতায় নাকাল কুষ্টিয়াবাসী দ্রুত স্থায়ী সমাধানের দাবি

# এক ঘণ্টায় হয়েছে ৩০.৫ মিলিমিটার বৃষ্টি
ছবি: দৈনিকবাংলা
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নাব্বির আল নাফিজ, কুষ্টিয়া

মাত্র এক ঘণ্টার টানা বৃষ্টিতেই জলাবদ্ধ হয়ে পড়েছে কুষ্টিয়া শহরের অধিকাংশ সড়ক। প্রধান সড়ক থেকে শুরু করে বিভিন্ন অলিগলি ও গুরুত্বপূর্ণ মোড়ে কোথাও হাঁটুপানি, আবার কোথাও সড়কের ওপর জমে আছে পানি। এতে চরম দুর্ভোগে পড়েছেন পথচারী, শিক্ষার্থী, রিকশাচালকসহ নানা কাজে বের হওয়া মানুষ। জলাবদ্ধতার কারণে ব্যাহত হয়েছে যান চলাচলও। গতকাল বৃহস্পতিবার দুপুরের পর হঠাৎ বৃষ্টি শুরু হয়। কিছুক্ষণের মধ্যেই বৃষ্টির তীব্রতা বাড়তে থাকে। প্রায় এক ঘণ্টার বৃষ্টিতে শহরের বিভিন্ন নিচু এলাকা, সড়ক ও গুরুত্বপূর্ণ মোড় পানিতে তলিয়ে যায়। পানি নিষ্কাশনের ব্যবস্থা পর্যাপ্ত না থাকায় সড়কের ওপর জমে থাকে বৃষ্টির পানি।

সরেজমিনে দেখা যায়, শহরের এনএস রোড, কোর্টপাড়া, কলেজ মোড়, হাসপাতাল মোড়সহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সড়ক ও সংযোগ সড়কে জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়েছে। কোথাও হাঁটুসমান পানি জমে থাকায় স্বাভাবিক চলাচল ব্যাহত হচ্ছে। পানির নিচে সড়কের গর্ত থাকায় পথচারী ও যানবাহন চালকদেরও বাড়তি সতর্কতা নিয়ে চলতে হচ্ছে।

জলাবদ্ধতার কারণে সবচেয়ে বেশি বিপাকে পড়েছেন মোটরসাইকেল চালক ও পথচারীরা। পানির মধ্যে ধীরগতিতে মোটরসাইকেল চালাতে দেখা গেছে অনেককে। অন্যদিকে, যানবাহন চলাচলের সময় সড়কে জমে থাকা পানি ছিটকে পথচারীদের পোশাক ভিজে যাচ্ছে। অনেকে জুতা হাতে নিয়ে পানি পেরিয়ে গন্তব্যে পৌঁছানোর চেষ্টা করছেন।

সড়কে পানি জমে থাকায় যানবাহনের গতিও কমে গেছে। এতে কয়েকটি এলাকায় সাময়িক যানজটের সৃষ্টি হয়। বিভিন্ন দোকান ও ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানের সামনেও পানি জমে থাকায় ক্রেতা-বিক্রেতাদের স্বাভাবিক কার্যক্রম ব্যাহত হয়েছে। বিশেষ করে নিচু এলাকার সড়ক ও অলিগলিতে পানি দীর্ঘ সময় ধরে জমে থাকতে দেখা যায়।

স্থানীয়দের অভিযোগ, কুষ্টিয়া শহরে অল্প সময়ের বৃষ্টিতেই জলাবদ্ধতা তৈরি হওয়া নতুন কোনো ঘটনা নয়। পানি নিষ্কাশনের কার্যকর ব্যবস্থা না থাকায় বৃষ্টি থেমে যাওয়ার পরও অনেক এলাকায় দীর্ঘ সময় পানি জমে থাকে। এতে জনদুর্ভোগের পাশাপাশি সড়ক ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কাও বাড়ে।

এনএস রোডের পথচারী রফিকুল ইসলাম বলেন, সামান্য বৃষ্টি হলেই সড়কে পানি জমে যায়। আজ এক ঘণ্টার বৃষ্টিতেই রাস্তায় হাঁটা কঠিন হয়ে পড়েছে। দ্রুত পানি নিষ্কাশনের স্থায়ী ব্যবস্থা না করলে এই সমস্যা থেকে নগরবাসীর মুক্তি মিলবে না।

কলেজ শিক্ষার্থী সেলিম রহমান বলেন, বৃষ্টির মধ্যে বাইরে বের হয়ে দেখি সড়কে অনেক পানি জমে আছে। জুতা ও পোশাক ভিজে গেছে। যানবাহনও স্বাভাবিকভাবে চলাচল করতে পারছে না। অল্প সময়ের বৃষ্টিতেই যদি এমন পরিস্থিতি হয়, তাহলে টানা বৃষ্টিতে পরিস্থিতি আরও খারাপ হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

রিকশাচালক কুদ্দুস বলেন, পানির মধ্যে রিকশা চালাতে খুব সমস্যা হচ্ছে। কোথায় গর্ত আর কোথায় সমতল রাস্তা বোঝা যাচ্ছে না। এতে যাত্রীদেরও দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে।

শহরের বাসিন্দা মোস্তাক আহমেদ বলেন, দ্রুত পানি নামার ব্যবস্থা না থাকায় প্রতিবছর বৃষ্টির সময় একই চিত্র দেখা যায়। একটু ভারি বৃষ্টি হলেই শহরের বিভিন্ন সড়ক পানিতে ডুবে যায়।

এদিকে আবহাওয়া অধিদপ্তরের পূর্বাভাস অনুযায়ী, বৃহস্পতিবার দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে দমকা হাওয়াসহ হালকা থেকে মাঝারি ধরনের বৃষ্টি অথবা বজ্রবৃষ্টি হতে পারে। একই সঙ্গে কুষ্টিয়াসহ কয়েকটি জেলায় মৃদু তাপপ্রবাহ প্রশমিত হওয়ার পূর্বাভাস রয়েছে।

আবহাওয়া অধিদপ্তরের স্থানীয় পর্যবেক্ষণ অনুযায়ী, বৃহস্পতিবার দুপুর ১টা থেকে ৩টা পর্যন্ত কুষ্টিয়ায় ৩০ দশমিক ৫ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে।

আগামী দিনগুলোতেও দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে বৃষ্টির প্রবণতা অব্যাহত থাকার পূর্বাভাস রয়েছে। ফলে কুষ্টিয়া শহরের জলাবদ্ধতাপ্রবণ এলাকাগুলোতে আবারও একই ধরনের দুর্ভোগের আশঙ্কা করছেন স্থানীয়রা।

নগরবাসীর দাবি, প্রতিবছর বর্ষা মৌসুম ও ভারী বৃষ্টিতে শহরের বিভিন্ন এলাকায় জলাবদ্ধতা দেখা দিলেও এর স্থায়ী সমাধান হচ্ছে না। দ্রুত পানি নিষ্কাশনের ব্যবস্থা কার্যকর করার পাশাপাশি পুরোনো ড্রেনেজ ব্যবস্থার সংস্কার ও সক্ষমতা বাড়ানো জরুরি।

তবে কুষ্টিয়া পৌরসভার নির্বাহী কর্মকর্তা মেহেদি হাসান বলেন, পৌরসভার ড্রেনের কাজ চলমান রয়েছে। সড়ক থেকে পুরোপুরি পানি নেমে যেতে দুই থেকে তিন ঘণ্টা সময় লাগতে পারে। ড্রেনের কাজ শেষ হলে ভবিষ্যতে জলাবদ্ধতার সমস্যা থাকবে না।


মতিঝিলে ইসলামী ব্যাংকের চাকরিচ্যুতদের বিক্ষোভ

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

রাজধানীর মতিঝিলে মুষলধারার বৃষ্টি উপেক্ষা করে এক দফা এক দাবিতে পঞ্চম দিনের মতো বিক্ষোভ করেছেন ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশ পিএলসির চাকরিচ্যুত কর্মকর্তা-কর্মচারীরা।

বৃহস্পতিবার ১০টার দিকে বঞ্চনা ও অবমূল্যায়নের অভিযোগ তুলে পুনর্বহালের দাবিতে বাংলাদেশ ব্যাংকের সামনে অবস্থান নেন তারা। মুষলধারে বৃষ্টির মধ্যেই তারা স্লোগানে স্লোগানে আন্দোলন করতে থাকেন।

পরবর্তীতে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের গভর্নর মোস্তাকুর রহমানের সঙ্গে দুপুর ১২টায় সাক্ষাৎ করে নিজেদের দাবি-দাওয়া সম্বলিত একটি স্মারকলিপি দেয়ার কথা ছিল। কিন্তু গভর্নর না থাকায় তার প্রতিনিধিদের কাছে এই স্মারকলিপি দেওয়ার জন্য বলা হলেও চাকুরিচ্যুত কর্মকর্তা-কর্মচারীরা তা প্রত্যাখ্যান করেন। আগামী রোববার তারা গভর্নরের কাছে স্মারকলিপি জমা দেবেন বলে জানিয়েছেন।

কোনো নোটিশ ছাড়াই সাড়ে ৫ হাজার কর্মকর্তা-কর্মচারীকে চাকরিচ্যুত করার অভিযোগে সম্প্রতি দেশে রাজনৈতিক পটপরিবর্তন এবং কেন্দ্রীয় ব্যাংকের মাধ্যমে ইসলামী ব্যাংক পুনর্গঠনের উদ্যোগ বাস্তবায়নের পর থেকেই বঞ্চিত কর্মীরা পুনর্নিয়োগের দাবিতে সোচ্চার হন।

গতকাল বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে রাজপথে তাদের এই উপস্থিতি কেন্দ্রীয় ব্যাংক এলাকায় তীব্র উত্তেজনার সৃষ্টি করে। সকাল থেকেই ঢাকার আকাশ মেঘলা থাকলেও সকাল ১০টার আগেই বঞ্চনার শিকার শত শত কর্মী ইসলামী ব্যাংকের প্রধান কার্যালয় ও বাংলাদেশ ব্যাংকসংলগ্ন এলাকায় জড়ো হন।


ডিবি পরিচয়ে ডাকাতির প্রস্তুতি ৬ আসামি দুই দিনের রিমান্ডে

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

রাজধানীর শাহবাগ এলাকায় ডিবি পুলিশের সদস্য পরিচয়ে ডাকাতির প্রস্তুতির অভিযোগে করা মামলায় গ্রেপ্তার ছয় আসামিকে দুই দিনের রিমান্ডে পাঠিয়েছেন আদালত।

আসামিরা হলেন জুয়েল মৃধা (৩৮), মো. রমিজ তালুকদার (৪৬), জসিম তালুকদার ওরফে রিয়াজ (৪৬), মো. রহমান হাওলাদার (৫৬), মো. বিল্লাল (৫২) ও মো. মারুফ (৩৮)।

বৃহস্পতিবার শুনানি শেষে ঢাকা অতিরিক্ত চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আওলাদ হোসেন মোহাম্মদ জোনাইদ এ আদেশ দেন। বিষয়টি নিশ্চিত করেন প্রসিকিউশন বিভাগের উপপরিদর্শক শাহ আলম মিয়া।

এর আগে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ডিবির উপপরিদর্শক মো. আনোয়ার হোসেন আসামিদের আদালতে হাজির করে প্রত্যেকের সাত দিনের রিমান্ড আবেদন করেন।

অভিযোগে বলা হয়, গত ১৫ সেপ্টেম্বর রাতে রাজধানী ও আশপাশের এলাকায় অভিযান পরিচালনার সময় ডিবির মিরপুর বিভাগের একটি দল গোপন সংবাদের ভিত্তিতে জানতে পারে, কয়েকজন দুষ্কৃতকারী শাহবাগ থানাধীন বাংলাদেশ বার কাউন্সিলের বিপরীত পাশের ফুটপাতে ডাকাতির প্রস্তুতি নিচ্ছে। পরে ডিবির দল সেখানে অভিযান চালিয়ে ছয়জনকে আটক করে। পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে তারা পালানোর চেষ্টা করছিলেন।

তাদের কাছ থেকে একটি খেলনা পিস্তল, একটি খালি খেলনা ম্যাগাজিন, একটি কালো রঙের খেলনা ওয়াকিটকি, একটি হ্যান্ডকাফ ও ‘ডিবি’ লেখা তিনটি জ্যাকেট উদ্ধার করা হয়। এ ঘটনায় শাহবাগ থানায় মামলা করা হয়।

পুলিশ জানায়, আসামিরা দীর্ঘদিন ধরে ডিবি সদস্য পরিচয়ে এবং আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পরিচয় ও পোশাক ব্যবহার করে ঢাকার বিভিন্ন এলাকায় ডাকাতি ও ছিনতাই করে আসছিলেন। চক্রটির বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য উদ্‌ঘাটন এবং পলাতক সহযোগীদের গ্রেপ্তারের জন্য আসামিদের হেফাজতে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা প্রয়োজন বলে রিমান্ড আবেদনে উল্লেখ করা হয়।


মানবিক নেতৃত্বে প্রশংসিত ইউএনও সম্রাট হোসেন

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১৬ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ২৩:০৩
মণিরামপুর (যশোর) প্রতিনিধি

জনসেবা শুধু দায়িত্ব নয়, মানুষের পাশে দাঁড়ানোও যে একজন প্রশাসনিক কর্মকর্তার কাজের গুরুত্বপূর্ণ অংশ মণিরামপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. সম্রাট হোসেনের কর্মকাণ্ডে তারই প্রতিফলন দেখা গেছে। প্রশাসনিক দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি মানবিকতা, জনসেবা, উন্নয়ন তদারকি ও আইন প্রয়োগে সক্রিয় ভূমিকা রেখে ইতোমধ্যে স্থানীয় মানুষের প্রশংসা কুড়িয়েছেন তিনি।

গত ২০২৫ সালের ২ ডিসেম্বর মণিরামপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকেই সরকারি দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি সাধারণ মানুষের সমস্যা ও প্রয়োজনকে গুরুত্ব দিয়ে কাজ করছেন তিনি। উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়ন ও প্রত্যন্ত এলাকায় সরেজমিনে গিয়ে মানুষের খোঁজখবর নেওয়া, উন্নয়ন প্রকল্প পরিদর্শন এবং প্রশাসনিক কার্যক্রম তদারকি তার নিয়মিত কর্মসূচির অংশ হয়ে উঠেছে। বিশেষ করে অসহায়, দরিদ্র, প্রতিবন্ধী ও সুবিধাবঞ্চিত মানুষের পাশে দাঁড়ানোর ক্ষেত্রে তার উদ্যোগ স্থানীয়ভাবে আলোচনায় এসেছে। শীতার্তদের শীতবস্ত্র, অসহায় রোগীদের চিকিৎসা সহায়তা, দরিদ্র ও মেধাবী শিক্ষার্থীদের শিক্ষা উপকরণ, প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের হুইলচেয়ার, অসহায় নারীদের সেলাই মেশিন এবং দরিদ্র কৃষকদের কৃষি উপকরণ দেওয়ার মতো বিভিন্ন মানবিক উদ্যোগ নিয়েছেন তিনি। কোনো কোনো ক্ষেত্রে নিজের সামর্থ্য অনুযায়ী ব্যক্তিগত অর্থও মানুষের কল্যাণে ব্যয় করেছেন বলে স্থানীয়ভাবে জানা যায়।

এ ছাড়া পৌর শহরের সড়ক ও যান চলাচলের বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে মুরগির দোকানগুলো স্থানান্তরের উদ্যোগও নেয় উপজেলা প্রশাসন। পৌরসভাসংলগ্ন এলাকা ও থানার উত্তর পাশের মুরগির দোকানগুলো নতুন স্থানে স্থানান্তরের ফলে দুর্গন্ধ, বর্জ্য ও জনস্বাস্থ্য নিয়ে দীর্ঘদিনের অভিযোগ কমার পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট এলাকার পরিবেশও আগের তুলনায় স্বস্তিদায়ক হয়েছে বলে স্থানীয়রা মনে করছেন। সম্প্রতি প্রশাসনের উদ্যোগে দীর্ঘদিন ধরে দখলে থাকা খাস জমি উদ্ধারের ঘটনাটিও স্থানীয়ভাবে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে। প্রায় তিন দশক পর সরকারি জমি উদ্ধারের উদ্যোগে প্রশাসনের দৃশ্যমান তৎপরতা সাধারণ মানুষের মধ্যে ইতিবাচক প্রতিক্রিয়া তৈরি করেছে। সরকারি সম্পত্তি রক্ষা ও জনস্বার্থে তা ব্যবহারের উদ্যোগকে স্থানীয়রা প্রশাসনের গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে দেখছেন।


ছয় দিন নিখোঁজের পর মরদেহ উদ্ধার, মারিয়া মাহির মৃত্যু নিয়ে রহস্য

# ৯ আসামির ৮ জনই জামিনে #সুরতহাল, সিসিটিভি ও পোস্টমর্টেমে ভিন্ন প্রশ্ন
ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১৬ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ২৩:০৮
মোস্তাক আহমেদ, সিংগাইর (মানিকগঞ্জ)

মানিকগঞ্জের সিংগাইরে সাহরাইল উচ্চবিদ্যালয়ের অষ্টম শ্রেণির শিক্ষার্থী মারিয়া মাহি (১৪) মৃত্যু রহস্য নিয়ে ধূম্রজাল কাটছে না। ৯ জন গ্রেপ্তারের পর ৮ জন জামিনে মুক্তি পেলেও ঘটনাটি হত্যা নাকি আত্মহত্যা তা নিয়ে তৈরি হয়েছে নানা প্রশ্ন?

জানা গেছে, মারিয়া মাহি গত ১৫ জুন স্কুল থেকে বের হওয়ার পর নিখোঁজ হয়। ছয় দিন পর ২১ জুন চন্দননগর এলাকার একটি কবরস্থানসংলগ্ন ঝোপ থেকে গাছের ডালে ঝুলন্ত অবস্থায় তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়। মরদেহের নিচের অংশ বিচ্ছিন্ন অবস্থায় পাওয়ায় ঘটনাটি দ্রুত হত্যাকাণ্ড হিসেবে আলোচনায় আসে। পরদিন তার মা কামরুন্নাহার বাদী হয়ে হত্যা মামলা দায়ের করেন। মামলার পর প্রধান শিক্ষকসহ আটজনকে গ্রেপ্তার করা হয়। পরে ওই মামলায় এজাহারভুক্ত আরও একজনকে গ্রেপ্তার করা হয়।

সংশ্লিষ্ট একটি সূত্রের দাবি, ময়নাতদন্ত প্রতিবেদনে মারিয়ার মৃত্যুর কারণ আত্মহত্যা হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। তবে পুলিশ আনুষ্ঠানিকভাবে বিষয়টি এখনো প্রকাশ করেনি। সিংগাইর থানার ওসি মো. মাজহারুল ইসলাম জানান, ময়নাতদন্তের রিপোর্টে আত্মহত্যা এসেছে। তবে ‘ময়নাতদন্তে আত্মহত্যা’—এই তথ্যটি এখনো পুলিশ তদন্তের স্বার্থে আনুষ্ঠানিক বক্তব্য দিতে নারাজ। একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন ওঠেছে মরদেহের সুরতহাল প্রতিবেদন ঘিরে।

সংশ্লিষ্ট সূত্রের ভাষ্য, সুরতহাল প্রতিবেদনে মরদেহে দৃশ্যমান আঘাতের চিহ্ন বা হত্যার স্পষ্ট কোনো আলামতের উল্লেখ পাওয়া যায়নি। বিপরীতে পরিবারের পক্ষ থেকে মরদেহের নিচের অংশ বিচ্ছিন্ন থাকার বিষয়টিকে হত্যার প্রমাণ হিসেবে তুলে ধরা হয়। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে, মরদেহটি কয়েক দিন ঝুলন্ত থাকায় টানা বৃষ্টিতে ছিন্নবিচ্ছিন্ন হয়েছে। এই দুই ভিন্ন ব্যাখ্যার মধ্যে কোনটি সঠিক, তার উত্তর মিলতে পারে ফরেনসিক ও ময়নাতদন্ত প্রতিবেদনের পূর্ণাঙ্গ বিশ্লেষণেই।

ছায়া তদন্তকারী সংস্থা পিবিআইয়ের এক কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানিয়েছেন, আশপাশের বিভিন্ন সিসিটিভি ফুটেজ পর্যালোচনায় এমন তথ্য পাওয়া গেছে যে, মারিয়া ঘটনাস্থলের দিকে একাই গিয়েছিল। সেখানে আর অন্য কারো যাওয়ার তথ্য মেলেনি।

১০ জুন সাহরাইল উচ্চবিদ্যালয়ের একটি কক্ষে মারিয়া ও দশম শ্রেণির ছাত্র আলিফের সাথে ‘ঘনিষ্ঠ অবস্থায়’ দেখার অভিযোগ ওঠে। বিষয়টি কয়েক দিন স্কুলে আলোচনার পর শিক্ষার্থীদের পক্ষ থেকে ১৫ জুন প্রধান শিক্ষকের কাছে অভিযোগ যায়। স্কুল কর্তৃপক্ষ সিসিটিভি ফুটেজ পর্যালোচনা করে দুই শিক্ষার্থীর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার সিদ্ধান্ত নেয়। অভিভাবকদের ডেকে মুচলেকা নেওয়া হয় এবং তাদের টিসি দেওয়া হয়। এরপরই স্কুল থেকে বেরিয়ে নিখোঁজ হয় মারিয়া মাহি। ছয় দিন পর তার মরদেহ উদ্ধার হয়।

আইসিটি শিক্ষক ও সাংবাদিক ইয়াকুবের দাবি, ২১ জুন রাতে তিনি সিংগাইর প্রেসক্লাবের সভাপতি মো. সোহরাব হোসেন, সাধারণ সম্পাদক রকিবুল হাসান বিশ্বাসসহ কয়েকজন সাংবাদিককে নিয়ে আশুরা উপলক্ষে তার বাড়ির বার্ষিক আয়োজনের বিষয় থানার ওসিকে অবগত করার পর অন্য সাংবাদিকরা বেরিয়ে যান। মোটরসাইকেল বের করতে কিছুটা সময় লাগায় আরেক সহকর্মী সাংবাদিক হাবিবুর রহমানকে নিয়ে ইয়াকুব থানায় ছিলেন। তার অভিযোগ, এ সময় তদন্ত কর্মকর্তা এসআই মো. আব্দুল মোমিন তাকে ‘কথা আছে’ বলে বসিয়ে রাখেন। পরে তাকে মামলায় হত্যার নির্দেশদাতা হিসেবে আসামি করা হয় এবং রিমান্ড চাওয়া হয়।

মামলা হওয়ার আগের রাতে ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক সিরাজুল ইসলামকেও থানায় নিয়ে রাতভর জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছিল বলে তিনি অভিযোগ করেন।

ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক সিরাজুল দাবি করেন, বিদ্যালয়ে তার নেওয়া প্রতিটি পদক্ষেপ ছিল ম্যানেজিং কমিটির সিদ্ধান্ত অনুযায়ী। গণ্যমান্যদের উপস্থিতিতে অভিভাবকদের কাছ থেকে মুচলেকা নেওয়া হয়েছিল এবং নিয়ম অনুযায়ী টিসি দেওয়া হয়েছিল। তার অভিযোগ, পরবর্তীতে তাকে থানায় ডেকে এনে হত্যা মামলায় জড়ানো হয়েছে।

এদিকে নিহতের মরদেহ উদ্ধারের পর থেকে হত্যার বিচারের দাবিতে সাহরাইল উচ্চবিদ্যালয়ের সামনে মানববন্ধনও হয়। ঘেরাও করা হয় থানা। পরিস্থিতি সামাল দিতে হিমশিম খেতে হয় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে।

ইতোমধ্যে গ্রেপ্তার হওয়া নয়জনের মধ্যে আটজন জামিনে মুক্তি পেয়ে হত্যার অভিযোগ অস্বীকার করেছেন।

অন্যদিকে মারিয়ার পরিবার শুরু থেকেই হত্যার অভিযোগ করে আসছে। সে অনুযায়ী তার মা বাদী হয়ে মামলা করেছেন। নিহত স্কুলছাত্রী মারিয়া মাহির বাবা মিজানুর রহমান দেওয়ান বলেন, ‘পুলিশ বলেছে ডাক্তারি রিপোর্ট অনুযায়ী আমার মেয়ে আত্মহত্যা করেছেন। আমি বিশ্বাস করি না। কারণ আমার মেয়ে নিখোঁজ হওয়ার পর কয়েকজন আমার পরিবারের কাছে টাকা ও দাবি করেছে।’ শিক্ষকদের মামলায় জড়ানো প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘ঘটনাটি প্রকাশ না করতে আমার মেয়ে প্রধান শিক্ষকের পা পর্যন্ত ধরেছিল শুনেছি। প্রধান শিক্ষক ঘটনাটি সামনে না আনলে হয়তো আমার মেয়ের ক্ষেত্রে এমন ঘটনা ঘটত না।’

জেলা পুলিশ সুপার মোহাম্মদ সারওয়ার আলম বলেন, ‘মারিয়া মাহি হত্যা মামলার পোস্টমর্টেম রিপোর্টে আত্মহত্যা করে মৃত্যুর কথা বলা হয়েছে। আমরা বিষয়টি নিয়ে স্টাডি করছি।’ মামলা তদন্তে শতভাগ ইনসাফ হবে বলেও পুলিশ সুপার জানান।


পাবনায় নিখোঁজের ৭ দিন পর শিশুর খণ্ডবিখণ্ড লাশ উদ্ধার

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
পাবনা প্রতিনিধি

পাবনা সদর উপজেলায় নিখোঁজের সাত দিন পর কামরুন্নাহার কলি (১০) নামে এক শিশুর বস্তাবন্দি টুকরো করা মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। বুধবার সকালে উপজেলার দোগাছী কুলোনিয়া গ্রামের বাড়ির পাশের একটি ডোবা থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়।

নিহত কলি কুলোনিয়া গ্রামের কামাল প্রামাণিকের মেয়ে। মর্মান্তিক এই ঘটনার খবর ছড়িয়ে পড়লে এলাকায় শোকের ছায়া নেমে আসে এবং ঘাতকদের বিচারের দাবিতে হাজারো উৎসুক জনতা সেখানে ভিড় জমান।

পরিবার ও স্থানীয় সূত্র জানায়, গত ৯ সেপ্টেম্বর সন্ধ্যায় বাবার সঙ্গে স্থানীয় শ্রীপুর বাজারে যায় কলি। বাজার থেকে ফিরে কেনাকাটার ব্যাগ মায়ের কাছে পৌঁছে দিয়ে বাড়ির বাইরে বের হয় সে। এরপর আর বাড়ি ফেরেনি। স্বজনরা অনেক খোঁজাখুঁজি করে বাড়ি থেকে মাত্র ২০০ গজ দূরে তার ব্যবহৃত স্যান্ডেল দেখতে পান। পরে সম্ভাব্য সব জায়গায় সন্ধান না পেয়ে পাবনা সদর থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেন শিশুটির বাবা।

কলির সন্ধানে গত এক সপ্তাহ ধরে স্বজন ও স্থানীয়রা বিভিন্নভাবে আকুতি জানিয়ে আসছিলেন। এমনকি গত মঙ্গলবারও পাবনা জেলা শহরে বিক্ষোভ মিছিল ও মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করে শিশুটির সহপাঠী ও স্বজনরা।

নিহত শিশুর বাবা কামাল প্রামাণিক কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন, ‘আমার নিষ্পাপ মেয়েটাকে কারা এভাবে হত্যা করল? আমাদের এত বড় সর্বনাশ যারা করেছে, তাদের দ্রুত গ্রেপ্তার করে ফাঁসির দাবি জানাচ্ছি।’

পাবনা সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. তরিকুল ইসলাম জানান, স্থানীয়দের খবরের ভিত্তিতে ডোবা থেকে বস্তাবন্দি খণ্ডবিখণ্ড মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। হত্যাকাণ্ডের রহস্য উন্মোচন ও ঘটনায় জড়িতদের শনাক্ত করে গ্রেপ্তারে কাজ করছে পুলিশ। মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য পাবনা জেনারেল হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়েছে।


নালা বানিয়ে ৩০ কোটি টাকা খরচ দুই বছরেই আবারও নকশা বদল

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
‎জয়পুরহাট প্রতিনিধি

৩০ কোটি টাকা ব্যয়ে প্রায় পাঁচ কিলোমিটার নালা নির্মাণ করা হয়েছিল। শুরুতে নালাগুলো ছিল তুলনামূলক উঁচু। পরে সড়ক উঁচু করায় নালার উচ্চতা কিছুটা কমে যায়। তাতেও জয়পুরহাট শহরের কেন্দ্রীয় মসজিদ মার্কেটের সামনে মানুষের চলাচলের সমস্যা কাটেনি। নির্মাণের দুই বছর না যেতেই এখন ওই অংশের প্রায় ৩০ মিটার নালা ভেঙে আরও নিচু করা হয়েছে। একই নালার বিভিন্ন স্থানে সড়কের পানি ঢোকাতে দেয়াল কেটে ছিদ্রও করা হয়েছে। এতে নালাটির পরিকল্পনা ও নকশা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।

‎‎জয়পুরহাট শহরের রেলগেট থেকে হাড়াইল পর্যন্ত প্রায় আড়াই কিলোমিটার সড়ক চার লেনে উন্নীত করার প্রকল্পের অংশ হিসেবে সড়কের দুই পাশে প্রায় পাঁচ কিলোমিটার নালা নির্মাণ করা হয়। কাজ শেষ হয় ২০২৪ সালের জুনে। নওগাঁর ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান আমিনুল হক ট্রেডার্স নালা নির্মাণের কাজ করে। এ কাজের বরাদ্দ ছিল ৩০ কোটি টাকা।

‎নালা নির্মাণের সময় বিভিন্ন স্থানে এর উচ্চতা ছিল প্রায় তিন থেকে সাড়ে তিন ফুট। পরে সড়ক প্রশস্ত ও উঁচু করার কাজ হলে নালার তুলনামূলক উচ্চতা কমে যায়। ২০২৫ সালের শুরুর দিকে সড়ক উন্নয়নের কাজ শেষ হলেও পাঁচুর মোড়ের কেন্দ্রীয় মসজিদ ও মসজিদ মার্কেটের সামনে চলাচলের সমস্যা থেকে যায়।

‎সরেজমিনে দেখা যায়, কেন্দ্রীয় মসজিদের সামনে প্রায় ৩০ মিটার নালা ভেঙে উচ্চতা কমানোর কাজ প্রায় শেষ। নালাটি এখন প্রায় এক ফুট উঁচু রাখা হয়েছে। তবে সড়কের সমতলে নামানো হয়নি। শ্রমিকরা জানান, তারা সড়ক ও জনপথ বিভাগের হয়ে কাজ করছেন।

‎পাঁচুর মোড়ের এ এলাকায় কেন্দ্রীয় মসজিদ, মসজিদ মার্কেটসহ বিভিন্ন ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান রয়েছে। স্থানীয় বাসিন্দাদের ভাষ্য, উঁচু নালার কারণে মসজিদ ও মার্কেটে যাতায়াতে সমস্যা হচ্ছিল। অনেকে নালা পার হওয়ার জন্য দোকানের সামনে কাঠের সিঁড়ি তৈরি করেছিলেন।

‎স্থানীয় বাসিন্দা রফিকুল ইসলাম বলেন, ‘মসজিদের সামনে মানুষের চলাচলের বিষয়টি নালা নির্মাণের সময়ই বিবেচনায় নেওয়া উচিত ছিল। এখন দুই বছর পর নালা ভেঙে আবার উচ্চতা কমাতে হচ্ছে। আগে পরিকল্পনায় বিষয়টি রাখা হলে এই ভাঙাগড়ার প্রয়োজন হতো না।’

‎মসজিদ মার্কেটের ব্যবসায়ী রাসেল আহম্মেদ বলেন, ‘উঁচু নালার কারণে দোকানে আসা-যাওয়া ও মুসল্লিদের চলাচলে সমস্যা হচ্ছিল। এখন উচ্চতা কমানোয় কিছুটা সুবিধা হবে। তবে নালা সড়কের সমতলে নামানো হলে আরও ভালো হতো।’

‎শহরের বাসিন্দা শরিফুল ইসলাম বলেন, ‘নালা এক ফুট উঁচু থাকায় আগের চেয়ে চলাচলে সুবিধা হবে। তবে পুরোপুরি সমান করা হলে মসজিদের সামনের জায়গা আরও প্রশস্ত হতো।’

‎সড়কের পানি নালায় যায় না, ‎নালাটি নির্মাণের পর পানি নিষ্কাশন নিয়েও সমস্যা দেখা দিয়েছে। স্থানীয় বাসিন্দাদের ভাষ্য, অনেক স্থানে সড়কের পানি নালায় নামছে না। এ কারণে নালার দেয়াল কেটে বিভিন্ন জায়গায় ছিদ্র করা হয়েছে।

‎স্থানীয়দের অভিযোগ, নালা নির্মাণের সময় পানি নিষ্কাশন ও ব্যস্ত এলাকাগুলোতে মানুষের চলাচলের বিষয়টি যথাযথভাবে বিবেচনায় নেওয়া হয়নি। এ কারণে নির্মাণের পর নালার বিভিন্ন স্থানে পরিবর্তন আনতে হয়েছে।

‎সড়ক ও জনপথ বিভাগ সূত্রে জানা যায়, রেলগেট থেকে হাড়াইল পর্যন্ত প্রায় আড়াই কিলোমিটার সড়ক উন্নয়নে ২৮ কোটি টাকা ব্যয় করা হয়। সড়ক প্রশস্ত কাজ শেষ হয় ২০২৫ সালের শুরুর দিকে।

‎কেন্দ্রীয় মসজিদ কমিটির পক্ষ থেকে নালার উচ্চতা কমানোর জন্য সড়ক ও জনপথ বিভাগে আবেদন করা হয়। এর পরিপ্রেক্ষিতেই মসজিদ মার্কেটের সামনে অংশটি ভেঙে নিচু করা হয়েছে।

‎জয়পুরহাট সড়ক ও জনপথ বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী রাজস খান বলেন, ‘কেন্দ্রীয় মসজিদ কমিটির আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে নালার উচ্চতা কমানো হয়েছে। সড়ক ও জনপথ বিভাগই কাজটি করছে। নকশা মেনেই নালা নির্মাণ করা হয়েছিল।’


একাদশ শ্রেণির ভর্তির প্রথম ধাপের ফল প্রকাশ

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
দৈনিক বাংলা ডেস্ক

২০২৬-২৭ শিক্ষাবর্ষে একাদশ শ্রেণিতে ভর্তির জন্য অনলাইনে আবেদন করা শিক্ষার্থীদের মধ্যে প্রথম ধাপে নির্বাচিতদের ফল প্রকাশ করা হয়েছে। বুধবার রাত পৌনে ৮টার দিকে একযোগে এ ফল প্রকাশ করা হয়।

শিক্ষার্থীরা নির্ধারিত ওয়েবসাইটের মাধ্যমে তাদের ফলাফল দেখতে পারবে। প্রথম ধাপে কোন শিক্ষার্থী কোন কলেজে ভর্তির জন্য নির্বাচিত হয়েছে, তা অনলাইনে প্রকাশিত ফলাফলে জানা যাবে।

এদিকে একাদশ শ্রেণিতে ভর্তি হওয়া শিক্ষার্থীদের ক্লাস শুরুর তারিখ এক দিন পিছিয়ে ২৪ সেপ্টেম্বর নির্ধারণ করা হয়েছে। বুধবার এ বিষয়ে বিজ্ঞপ্তি দিয়েছে ঢাকা শিক্ষা বোর্ড।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, পবিত্র ফাতেহা-ই-ইয়াজদাহম উপলক্ষে ২৩ সেপ্টেম্বর দেশের সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে এক দিনের ছুটি থাকবে। এ কারণে একাদশ শ্রেণিতে ভর্তি হওয়া শিক্ষার্থীদের ক্লাস শুরুর তারিখ এক দিন পিছিয়ে ২৪ সেপ্টেম্বর নির্ধারণ করা হয়েছে।

ফলে ভর্তির প্রথম ধাপে নির্বাচিত শিক্ষার্থীদের ভর্তি-সংক্রান্ত পরবর্তী কার্যক্রম শেষ করে নির্ধারিত তারিখে একাদশ শ্রেণির ক্লাসে অংশ নিতে হবে।

২০২৬-২৭ শিক্ষাবর্ষে একাদশ শ্রেণিতে ভর্তির পুরো কার্যক্রম অনলাইনের মাধ্যমে পরিচালিত হচ্ছে। প্রথম ধাপের ফল প্রকাশের মধ্য দিয়ে ভর্তি প্রক্রিয়ার গুরুত্বপূর্ণ একটি ধাপ সম্পন্ন হলো।


ডেঙ্গুর ছোবলে প্রাণ গেল অন্তঃসত্ত্বা কলেজছাত্রীর

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১৬ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ২০:৪১
দৈনিক বাংলা ডেস্ক

কোলজুড়ে সন্তান আসার অপেক্ষা ছিল। আর মাত্র কয়েক সপ্তাহ পরই প্রথম সন্তানের মুখ দেখার কথা ছিল নূর জাহানের। কিন্তু সেই অপেক্ষা আর শেষ হলো না। ডেঙ্গু জ্বরে আক্রান্ত হয়ে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা গেছেন কুমিল্লা ভিক্টোরিয়া সরকারি কলেজের বাংলা বিভাগের এই শিক্ষার্থী। মৃত্যুকালে তিনি ছিলেন ৯ মাসের অন্তঃসত্ত্বা। মায়ের মৃত্যুর সঙ্গে অনাগত সন্তানকেও বাঁচানো সম্ভব হয়নি।

বুধবার (১৬ সেপ্টেম্বর) ভোর ৫টার দিকে ঢাকার বাংলাদেশ মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় (পিজি হাসপাতাল) হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় নূর জাহান শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন।

নূর জাহানের বাড়ি কুমিল্লার মুরাদনগর উপজেলার কোম্পানিগঞ্জ মৌছাগাছা এলাকায়। পরিবার ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, প্রায় দেড় বছর আগে জোবায়ের হোসেনের সঙ্গে তার বিয়ে হয়। আগামী মাসেই তাদের প্রথম সন্তানের জন্ম হওয়ার কথা ছিল। সন্তানকে ঘিরে পরিবারের সদস্যদের মধ্যেও ছিল আনন্দের প্রস্তুতি।

নূর জাহানের স্বামী জোবায়ের হোসেন জানান, গত শুক্রবার মুরাদনগরের নিজ বাড়িতে অবস্থানকালে ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হন নূর জাহান। শুরুতে চিকিৎসা নেওয়া হলেও পরে তার শারীরিক অবস্থার দ্রুত অবনতি হতে থাকে।

পরিস্থিতি গুরুতর হয়ে উঠলে উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে ঢাকায় নেওয়া হয়। পরে বাংলাদেশ মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় বুধবার ভোরে তার মৃত্যু হয়।

নূর জাহান ছিলেন ৯ মাসের অন্তঃসত্ত্বা। ফলে তার শারীরিক অবস্থার অবনতির পাশাপাশি গর্ভের শিশুটিকেও নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছিল। শেষ পর্যন্ত মা ও অনাগত সন্তান—দুজনকেই হারাতে হলো পরিবারকে।

নূর জাহানের মৃত্যুতে পরিবার-স্বজনের পাশাপাশি শোক নেমে এসেছে কুমিল্লা ভিক্টোরিয়া সরকারি কলেজেও। সহপাঠী ও শিক্ষকদের কাছে তিনি ছিলেন মেধাবী, সৃজনশীল ও আন্তরিক একজন শিক্ষার্থী।

ভিক্টোরিয়া কলেজ সাংবাদিক সমিতির সভাপতি ও বাংলা বিভাগের শিক্ষার্থী আবদুল্লাহ আল মারুফ জানান, নূর জাহান ২০২৩-২৪ শিক্ষাবর্ষের ৬১তম আবর্তনের শিক্ষার্থী ছিলেন। তিনি বিভাগের বিভিন্ন কার্যক্রমে সক্রিয়ভাবে অংশ নিতেন।

তার অকালমৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়ার পর সহপাঠীদের মধ্যে নেমে আসে শোকের ছায়া। যে শিক্ষার্থীকে ঘিরে ছিল ভবিষ্যতের নানা স্বপ্ন, হঠাৎ করেই তার জীবন থেমে যাওয়ায় সহপাঠী ও পরিচিতজনদের মধ্যে তৈরি হয়েছে গভীর বেদনা।

নূর জাহানের মৃত্যুতে গভীর শোক ও সমবেদনা জানিয়েছেন কুমিল্লা ভিক্টোরিয়া সরকারি কলেজের বাংলা বিভাগের অধ্যাপক মো. মশিউর রহমান ভূঞা।

তিনি বলেন, নূর জাহান অত্যন্ত আন্তরিক ও মেধাবী একজন শিক্ষার্থী ছিলেন। বিভাগের বিভিন্ন অনুষ্ঠানে তার স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণ ছিল। তার এই মর্মান্তিক মৃত্যুতে আমরা গভীরভাবে শোকাহত এবং তার পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানাচ্ছি।

নূর জাহানের মৃত্যুর মধ্য দিয়ে একটি পরিবারের স্বপ্ন যেমন থেমে গেল, তেমনি সন্তান জন্মের অপেক্ষায় থাকা একটি দম্পতির জীবনেও নেমে এলো অপূরণীয় শূন্যতা। মা ও অনাগত সন্তানের একসঙ্গে চলে যাওয়ার এই ঘটনায় শোকাহত পরিবার, স্বজন, সহপাঠী ও শিক্ষকরা।


মুরাদনগরে বোন-ভাতিজা হত্যা মূল আসামিসহ ৩ জন গ্রেপ্তার

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
কুমিল্লা প্রতিনিধি

কুমিল্লার মুরাদনগরে জায়গাসংক্রান্ত বিরোধের জেরে বোন ও ভাতিজাকে কুপিয়ে হত্যার ঘটনায় মূল আসামি মোস্তাক আহমেদ আবু মিয়াসহ তিনজনকে গ্রেপ্তার করেছে গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)।

গ্রেপ্তার অন্য দুজন হলেন আবু মিয়ার স্ত্রী হনুফা বেগম ও পালিত কন্যা ইতি। বুধবার দুপুরে কুমিল্লা জেলা পুলিশের সম্মেলন কক্ষে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য নিশ্চিত করেন অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. লুৎফর রহমান।

পুলিশ জানায়, দীর্ঘদিন ধরে জায়গাসংক্রান্ত বিষয় নিয়ে নিহত খালেদা আক্তার ও তার ভাই মোস্তাক আহমেদ আবু মিয়ার পরিবারের মধ্যে বিরোধ চলছিল। এর জেরে সোমবার সন্ধ্যায় খালেদা আক্তার ও তার ভাতিজা মনজুরুল আলম তুতুর ওপর হামলা চালান আবু মিয়া। একপর্যায়ে দা দিয়ে কুপিয়ে তাদের হত্যা করা হয়।

এ ঘটনায় নিহতদের স্বজন নাসিম হায়দার সুজন বাদী হয়ে তিনজনকে আসামি করে মুরাদনগর থানায় হত্যা মামলা করেন।

মামলা দায়েরের পর মঙ্গলবার দুপুরে কুমিল্লা নগরীর বাদশা মিয়া বাজার এলাকা থেকে আবু মিয়ার স্ত্রী হনুফা বেগম ও পালিত কন্যা ইতিকে গ্রেপ্তার করে ডিবি পুলিশ।

পরে তাদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আখাউড়া রেলস্টেশন এলাকায় একটি ট্রেন থেকে মামলার মূল আসামি মোস্তাক আহমেদ আবু মিয়াকে গ্রেপ্তার করা হয়।

অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. লুৎফর রহমান জানান, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে গ্রেপ্তার আসামিরা হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেছেন। তাদের দেওয়া তথ্যানুযায়ী হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত অস্ত্রও উদ্ধার করা হয়েছে। পরে গ্রেপ্তার তিনজনকে কুমিল্লার আদালতে পাঠানো হয়েছে।


banner close