মঙ্গলবার, ৩ মার্চ ২০২৬
১৯ ফাল্গুন ১৪৩২

লালমনিরহাটে জমির বিরোধে যুবককে পিটিয়ে হত্যা

নিহত তাইজুদ্দিন। ছবি: দৈনিক বাংলা
প্রতিনিধি, লালমনিরহাট
প্রকাশিত
প্রতিনিধি, লালমনিরহাট
প্রকাশিত : ২ আগস্ট, ২০২৩ ১০:৩৪

লালমনিরহাটের কালীগঞ্জের পূর্ব দুহুলি এলাকায় জমি নিয়ে বিরোধের জেরে এক যুবকে পিটিয়ে হত্যার অভিযোগ উঠেছে। এসময় আরও পাঁচজন আহত হয়েছেন। গত মঙ্গলবার পিটুনিতে আহত যুবক রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন মারা যান।

নিহত তাইজুদ্দিনের ওই এলাকার রিয়াজুদ্দিনের ছেলে।

স্থানীয়রা জানান, উপজেলার পূর্ব দুহুলি এলাকায় দীর্ঘদিন ধরে মৃত নজর আলীর ছেলে করিম মিয়ার সঙ্গে গিয়াস উদ্দিনের ছেলে রিয়াজুদ্দিনের জমি সংক্রান্ত বিরোধ চলে আসছিল। তারই ধারাবাহিকতায় গত মঙ্গলবার দুপুরে রিয়াজুদ্দিনের ছোট ভাই তাইজুদ্দিন টিসিবির পণ্য কিনতে দুহুলি বাজারে যান। এসময় করিম মিয়াসহ তার ছেলে আল আমিন, জুয়েলসহ কয়েকজন অতর্কিত তাইজুদ্দিনের ওপর হামলা করে। এ সময় তাকে ঘটনাস্থলে বেধড়ক পিটিয়ে গুরুতর অবস্থায় রেখে পালিয়ে যায়। পরে স্থানীয়রা তাইজুদ্দিনকে উদ্ধার করে প্রথমে আদিতমারী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স পাঠায়। সেখান থেকে পরবর্তীতে রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তাইজুদ্দিনের মৃত্যু হয়। এ ঘটনায় আরও ৫ জন আহত হয়েছেন। তারা আদিতমারী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসাধীন। খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পুলিশ গিয়ে পরিস্থিতি স্বাভাবিক করে।

কালীগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. ইমতিয়াজ কবির দৈনিক বাংলাকে বলেন, জমি নিয়ে বিরোধের জেরে মারামারিতে এক যুবক নিহত হয়। মরদেহ রংপুর মেডিকেলে ময়নাতদন্ত শেষে কালীগঞ্জে আনা হবে। এ ঘটনায় কাউকে আটক করা যায়নি।


কোটালীপাড়ায় আগুনে পুড়ল মাদ্রাসা

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
কোটালীপাড়া (গোপালগঞ্জ) প্রতিনিধি

গোপালগঞ্জের কোটালীপাড়া উপজেলায় ভয়াবহ অগ্নিকান্ডে তালিমুল কোরআন নূরানি মহিলা মাদ্রাসা পুড়ে ছাই হয়েছে। ঘটনাটি ঘটেছে সোমবার গভীর রাতে উপজেলার আমতলী ইউনিয়নের উনশিয়া গ্রামে। এ ঘটনায় মাদ্রাসাটির পাঠদান চরম ভাবে ব্যহত হচ্ছে।

কোটালীপাড়া ফায়ারসার্ভিস স্টেশন অফিসার ইনচার্জ মোঃ সিরাজুল ইসলাম ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, সোমবার রাত আড়াইটার দিকে অগ্নিকাণ্ডের খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে যাই এবং সেখানে গিয়ে একঘন্টার চেস্টায় আগুন নিয়ন্ত্রণে আনতে সক্ষম হই। ততক্ষণে উনশিয়া তালিমুল কোরআন নুরানি মহিলা মাদ্রাটির একটি টিনের ঘর পুড়ে ছাই হয়ে যায়।

তিনি আরো বলেন, মাদ্রাসাটি যেহেতু অনাবাসিক সেক্ষেত্রে জানমালের ক্ষয়ক্ষতি হয়নি। প্রাথমিক পর্যায় বিদ্যুতের সর্টসার্কিট থেকে আগুনের সুত্রপাত বলে ধারণা করা হচ্ছে।


নীলফামারীতে দারিদ্র্য বিমোচনে যাকাতের ভূমিকা শীর্ষক সেমিনার

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নীলফামারী প্রতিনিধি

নীলফামারীতে দারিদ্র্য বিমোচনে যাকাতের ভূমিকা ও তাৎপর্য শীর্ষক সেমিনার হয়েছে। মঙ্গলবার (৩ মার্চ) সকালে জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে এ সেমিনার হয়। এতে প্রধান অতিথি ছিলেন জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ নায়িরুজ্জামান।

ইসলামিক ফাউন্ডেশন নীলফামারীর উপ-পরিচালক মোছাদ্দিকুল আলমের সভাপতিত্বে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন পুলিশ সুপার শেখ জাহিদুল ইসলাম এবং অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) জ্যোতি বিকাশ চন্দ্র। প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় মসজিদের খতিব ড. হাফেজ মাওলানা রকিব উদ্দিন আহাম্মেদ।

এ সময় বক্তারা বলেন, সমাজে দারিদ্র্য বিমোচনে যাকাত একটি গুরুত্বপূর্ণ অর্থনৈতিক ও সামাজিক ব্যবস্থা। সঠিকভাবে যাকাত আদায় ও বণ্টন নিশ্চিত করা গেলে অসচ্ছল মানুষের জীবনমান উন্নয়ন সম্ভব। তারা যাকাত ব্যবস্থাপনায় স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা বাড়ানোর ওপর গুরুত্বারোপ করেন। পাশাপাশি বিত্তবানদের যথাযথ হিসাব করে যাকাত প্রদান এবং প্রকৃত হকদারদের কাছে তা পৌঁছে দেওয়ার আহ্বান জানান।


সৈয়দপুরে সেমাই কারখানায় অভিযান, তিন প্রতিষ্ঠানে ১ লাখ ৩০ হাজার টাকা জরিমানা

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
সৈয়দপুর (নীলফামারী) প্রতিনিধি

ঈদুল ফিতরকে সামনে রেখে সেমাইয়ের বাড়তি চাহিদাকে ঘিরে ভেজাল ও অনিয়ম রোধে অভিযান জোরদার করেছে জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর। নীলফামারীর সৈয়দপুর উপজেলার বিভিন্ন সেমাই কারখানায় পরিচালিত এ অভিযানে তিনটি প্রতিষ্ঠানকে মোট ১ লাখ ৩০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে। মঙ্গলবার (৩ মার্চ) দুপুরে রংপুর বিভাগ ও নীলফামারী জেলা কার্যালয়ের কর্মকর্তাদের নেতৃত্বে পরিচালিত এ অভিযানে সহযোগিতা করে র‌্যাব-১৩ এবং আনসার সদস্যরা।অভিযানে অনুমোদনহীন রং ও কৃত্রিম ফ্লেভার ব্যবহার, খাদ্যপণ্যে ব্যবহার অনুপযোগী আয়োডিনযুক্ত লবণ মজুদ এবং অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে উৎপাদনের প্রমাণ পাওয়া যায়।

এছাড়া পণ্যের মোড়কে ঘোষিত উপাদানের সঙ্গে বাস্তব উপাদানের অসামঞ্জস্য এবং নিম্নমানের কাঁচামাল ব্যবহারের মতো গুরুতর অনিয়ম ধরা পড়ে। অভিযানে সৈয়দপুরের নিয়ামতপুর এলাকার রসনি সেমাই কারখানাকে ৩০ হাজার টাকা, তাজ ফুড প্রোডাক্টস সেমাই কারখানাকে ৬০ হাজার টাকা এবং নাজ ফুড প্রোডাক্টস সেমাই কারখানাকে ৪০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়।

জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর, রংপুর বিভাগের উপপরিচালক জাহাঙ্গীর আলম বলেন, “ঈদকে কেন্দ্র করে খাদ্যপণ্যের চাহিদা বৃদ্ধি পায়। কোনো অসাধু ব্যবসায়ী যাতে ভেজাল বা নিম্নমানের পণ্য বাজারজাত করতে না পারে, সে বিষয়ে আমরা কঠোর অবস্থানে আছি। জনস্বার্থে এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে।”

অভিযান শেষে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোকে ভবিষ্যতে আইন মেনে স্বাস্থ্যসম্মত পরিবেশে উৎপাদনের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি ভোক্তাদের পণ্য কেনার আগে মোড়কের তথ্য, উৎপাদন ও মেয়াদোত্তীর্ণের তারিখ যাচাই করার আহ্বান জানানো হয়েছে।ঈদকে ঘিরে যেন ভেজালমুক্ত ও নিরাপদ খাদ্য নিশ্চিত হয়, সেই লক্ষ্যেই চলছে এই নজরদারি। সচেতনতা আর কঠোর তদারকিই পারে ভোক্তার অধিকার সুরক্ষিত রাখতে।


নিখোঁজ শিশুর মরদেহ মিলল টয়লেটের ট্যাংকিতে

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
কিশোরগঞ্জ প্রতিনিধি

কিশোরগঞ্জের কুলিয়ারচরে নিখোঁজের ২৬ দিন পর চার মাস বয়সী এক শিশুর উদ্ধার করেছে পুলিশ। মঙ্গলবার (৩ মার্চ) সকালে উপজেলার ছয়সূতী ইউনিয়নের দাড়িয়াকান্দি (কাঁঠালতলা) এলাকায় বাড়ির পেছনের টয়লেটের ট্যাংকি পরিষ্কার করতে গিয়ে শিশুটির দাদা মরদেহটি দেখতে পান। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহ উদ্ধার করে। পানির ভেতরে থাকায় মরদেহটি পচাগলা অবস্থায় ছিল।

শিশুটির নাম আশরাফুল ইসলাম। তার বাবা মো. শাহীন উপজেলা সহকারী কমিশনারের (ভূমি) গাড়িচালক।

স্থানীয়সূত্রে জানা গেছে, গত ৫ ফেব্রুয়ারি সকাল সাড়ে ১০টার দিকে শিশুটির মা তাকে ঘরের ভেতরে দোলনায় শুইয়ে রেখে বাড়ির পাশেই ঝাড়ু দিতে যান। কিছুক্ষণ পর সাত বছর বয়সী বড় ছেলে এসে জানায়, দোলনায় ছোট ভাই নেই। পরিবারের সদস্যরা ঘর ও আশপাশে খোঁজ করেও শিশুটির সন্ধান পাননি।

নিখোঁজের পর এক প্রতিবেশী দাবি করেছিলেন, বোরকা পরা তিন নারীকে দ্রুত এলাকা ত্যাগ করতে দেখা গেছে এবং তাদের একজনের হাতে একটি শিশু ছিল। ওই বক্তব্যের পর এলাকায় শিশু চুরির আশঙ্কা জোরালো হয়।

কুলিয়ারচর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) কাজী আরিফ জানান, নিখোঁজের পর থেকেই তদন্ত চলছিল। মরদেহ উদ্ধারের পর ঘটনাটি গুরুত্বসহকারে তদন্ত করা হচ্ছে। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পাওয়ার পর মৃত্যুর কারণ সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়া যাবে।

এদিকে শিশুটির দাদী অভিযোগ করেছেন, তার ছোট ছেলের স্ত্রী দীর্ঘদিন ধরে পরিবারের সঙ্গে খারাপ ব্যবহার করতেন এবং বিভিন্ন সময় হুমকি দিতেন। তার দাবি, পারিবারিক বিরোধের জের ধরে এ ঘটনা ঘটতে পারে।


বিশ্ব বন্যপ্রাণী দিবস: পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষায় বন্যপ্রাণী সংরক্ষণের দাবি

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
পাথরঘাটা (বরগুনা) প্রতিনিধি

বরগুনার পাথরঘাটায় বিশ্ব বন্যপ্রাণী দিবস পালিত হয়েছে। এ উপলক্ষে মঙ্গলবার (৩ মার্চ) বেলা ১১ টার দিকে হরিনঘাটা বন কেন্দ্রের বিট কার্যালয়ে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। এর আগে হরিনঘাটা বন এলাকায় বন্যপ্রাণী সংরক্ষণে সচেতনতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে র্যালি ও মানবন্ধন করা হয়।

বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা সিএনআরএসের ফিসনেট প্রকল্পের উদ্যোগে আলোচনা সভায় হরিনঘাটা বিটের বিট কর্মকর্তা নারায়ন চন্দ্রের সভাপতিত্বে বক্তব্য রাখেন, পাথরঘাটা সদর ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) মো. সগির আলম, ইউপি সদস্য শাহ আলম, দুলল মিয়া, রেজাউল ইসলাম, ফিসনেট প্রকল্পের আরাফাত রহমান, অবসরপ্রাপ্ত পুলিশ কর্মকর্তা নজরুল ইসলাম, উপকূল অনুসন্ধানী সাংবাদিক ও গবেষক শফিকুল ইসলাম খোকন প্রমুখ।

বক্তারা বলেন, বন্যপ্রাণী সংরক্ষণ করতে হলে আগে মানুষকে সচেতনতার বিকল্প নেই। আগে আমাদের সচেতন হতে হবে , বনের ও বন্যপ্রাণীর বিষয়ে গুরুত্ব বুঝতে হবে। মানুষের জন্য, মানুষের জীবিকার জন্য এবং পরিবেশের ভারসাম্য বজায় আমাদের বন্যপ্রাণী হত্যা, নিধন থেকে বিরত থাকতে হবে।


নন্দীগ্রামে মূল্য তালিকা প্রদর্শন না করায় মুদির দোকান মালিককে জরিমানা

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নন্দীগ্রাম (বগুড়া) প্রতিনিধি

বগুড়ার নন্দীগ্রামে মূল্য তালিকা প্রদর্শন না করায় মুদির দোকান মালিককে জরিমানা করছে ভ্রাম্যমাণ আদালত। পবিত্র রমজান মাসে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের মূল্য স্থিতিশীল রাখার লক্ষ্যে মঙ্গলবার (৩ মার্চ) বেলা ১১ টার দিকে সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট রোহান সরকার নন্দীগ্রাম হাটে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করে নির্ধারিত মূল্যের অধিক দামে পণ্য বিক্রয় না করার বিষয়ে ব্যবসায়ীদের সতর্ক করে দেন।

সেসময় মূল্য তালিকা প্রদর্শন না করার অপরাধে নিউ ফকির স্টোরের মালিক শফিকুল ইসলাম (৪৯) কে ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ আইনে ২ হাজার টাকা জরিমানা করেন।

এই ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনায় প্রসিকিউটর ছিলেন খাদ্য পরিদর্শক আবু মুসা সরকার। সহযোগিতায় ছিলেন নন্দীগ্রাম থানা পুলিশ। দন্ডপ্রাপ্ত মুদির দোকানদার শফিকুল ইসলাম নন্দীগ্রাম পূর্বপাড়ার মৃত শাহজাহান আলীর ছেলে।

এ তথ্য নিশ্চিত করেন সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট রোহান সরকার। তিনি বলেন, প্রত্যেক দোকানে মূল্য তালিকা প্রদর্শন বাধ্যতামূলক। আর কোনোভাবেই নির্ধারিত মূল্যের চেয়ে বেশি দাম ক্রেতাদের নিকট থেকে নেওয়া যাবে না। এজন্য ব্যবসায়ীদের সতর্ক করা হয়েছে।


কমলগঞ্জে সমাজসেবা কার্যালয়ে সেবা নিয়ে অসন্তোষ, ৪ বছরেও মিলছে না বিধবা ভাতার বরাদ্দ

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
কমলগঞ্জ (মৌলভীবাজার) প্রতিনিধি

মৌলভীবাজারের কমলগঞ্জ উপজেলা সমাজসেবা কার্যালয়ের সেবা নিয়ে সাধারণ মানুষের মাঝে চরম ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। বিশেষ করে বিধবা ভাতার জন্য বছরের পর বছর অপেক্ষা করেও কোনো সহযোগিতা না পাওয়ার অভিযোগ তুলেছেন একাধিক ভুক্তভোগী।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, উপজেলার অনেক অসহায় নারী দীর্ঘ ৪ বছর আগে বিধবা ভাতার জন্য আবেদন করলেও আজ অবধি তাদের ভাগ্যে জোটেনি সরকারি এই সুবিধা। ভুক্তভোগীরা বারবার সমাজসেবা অফিসে যোগাযোগ করলে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা ‘বরাদ্দ নেই’ বলে তাদের ফিরিয়ে দিচ্ছেন। ফলে সরকারের এই মানবিক কর্মসূচি থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন প্রকৃত দুস্থরা।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক ভুক্তভোগী নারী বলেন, ‘স্বামী মারা যাওয়ার পর অনেক কষ্টে সংসার চালাচ্ছি। চার বছর আগে ভাতার কার্ডের জন্য আবেদন করেছি, কিন্তু প্রতিবার গেলে অফিস থেকে বলা হয় বরাদ্দ আসেনি। আমাদের মতো গরিবের খোঁজ নেওয়ার কেউ নেই।’ এছাড়া বয়স্কভাতার জন্য আরও এক ভোক্তভোগী জানান, গত বছরের ২০২৫সালে আবেদন করেছি। এখনো কোনো খবর হয়নি।

অভিযোগ রয়েছে, সমাজসেবা খাতের বিভিন্ন সেবা পেতে সাধারণ মানুষকে পোহাতে হচ্ছে চরম দুর্ভোগ। বরাদ্দ সংকটের দোহাই দিয়ে দিনের পর দিন তাদের ঘুরানো হচ্ছে। এই অচলাবস্থা কবে নিরসন হবে এবং কবে থেকে সাধারণ মানুষ কাঙ্ক্ষিত সহযোগিতা পাবে, তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন সচেতন মহল।

সংশ্লিষ্ট এলাকার একাধিক ভুক্তভোগী ও স্থানীয় সুশীল সমাজ এই সেক্টরের অনিয়ম ও গাফিলতি খতিয়ে দেখে দ্রুত প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য সরকারের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের প্রতি জোর অনুরোধ জানিয়েছেন। তাদের দাবি, যোগ্য ও প্রকৃত অসহায়দের অগ্রাধিকার ভিত্তিতে দ্রুত ভাতার আওতায় আনা হোক।

কমলগঞ্জ সমাজ সেবার দায়িত্বরত কর্মকর্তা ইউসুফ মিয়া জানান, বরাদ্দ না থাকার কারণে দেওয়া সম্ভব হচ্ছে না।

তবে এই বিষয়ে কমলগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আসাদুজ্জামান জানান, অভিযোগকারীদের বিষয়টি খতিয়ে দেখে দ্রুত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।


বেনাপোল বন্দরে মিথ্যা ঘোষনায় আমদানি করা রুই মাছের চালান আটক

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

বেনাপোল প্রতিনিধি। যশোরের বেনাপোল বন্দরে ভারতীয় ট্রাক থেকে মিথ্যা ঘোষনা দিয়ে আমদানি করা রুই মাছের একটি চালান আটক করেছে কাস্টমস সদস্যরা।

সোমবার (২ মার্চ) রাত ১০ টার দিকে বন্দরের ট্রান্সশিপমেন্ট ইয়ার্ড থেকে মাছের চালানটি আটক করা হয়। পরে মঙ্গলবার বিকালে মাছটি নিলামে বিক্রি করা হয়।

পণ্যচালানটির আমদানি কারক ঢাকার সাজ্জাত এন্টার প্রাইজ এবং বন্দর থেকে ছাড় করনের কাজে নিয়োজিত ছিল সিঅ্যান্ডএফ প্রতিষ্ঠান আলেয়া এন্টার প্রাইজ।

বেনাপোল কাস্টমসের সহকারি কমিশনার রাহাত হোসেন জানান, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে জানা যায় একটি সিঅ্যান্ডএফ এজেন্ট সামুদ্রিক মাছ ঘোষণা দিয়ে রুই মাছ আমদানি করা হয়েছে। পরে মাছবাহী ট্রাকে অভিযান চালিয়ে ১০ প্যাকেজে ৬০০ কেজি রুই মাছ আটক করা হয়েছে। শুল্ক ফাঁকি বাজদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেয়া হবে। প্রেরক: রাশেদ রহমান, বেনাপোল যশোর।


উপনির্বাচনের কারণে বগুড়া সফরে যাচ্ছেন না তারেক রহমান

আপডেটেড ৩ মার্চ, ২০২৬ ১২:১৪
বগুড়া জেলা প্রতিনিধি

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ‘ফ্যামিলি কার্ড’ বিতরণের কর্মসূচিতে অংশগ্রহণের জন্য ১০ মার্চ বগুড়া সফরের কথা থাকলেও সেটি বাতিল করা হয়েছে।

বগুড়ার জেলা প্রশাসক তৌফিকুর রহমান সোমবার (২ মার্চ) রাতে বলেন, প্রধানমন্ত্রীর ‘ফ্যামিলি কার্ড’ বিতরণের ১০ মার্চের কর্মসূচি বাতিল হয়েছে। পরে কর্মসূচি দেয়া হবে।

তিনি বলেন, ‘যেহেতু বগুড়া-৬ (সদর) আসনে উপনির্বাচন; সে কারণে প্রধানমন্ত্রী ভোটের আগে কর্মসূচি নেননি। পরে প্রধানমন্ত্রীর কর্মসূচি পাব।’

এর আগে, ‘ফ্যামিলি কার্ড’ এর পাইলট প্রকল্পের অংশ হিসেবে বগুড়া সদর উপজেলার শাখারিয়া ইউনিয়নের ৩ নম্বর ওয়ার্ড নির্বাচন করা হয়েছিল। সুফলভোগী পরিবার বাছাইয়ের জন্য মাঠপর্যায়ে তথ্য সংগ্রহও শুরু হয়। কর্মসূচি সুষ্ঠুভাবে বাস্তবায়নে জেলা প্রশাসক এবং সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) নেতৃত্বে জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে পৃথক কমিটি গঠন করা হয়েছে। পাশাপাশি ইউনিয়নের ওই ওয়ার্ডেও কমিটি করা হয়েছে।

প্রশাসন থেকে জানানো হয়েছে, ফ্যামিলি কার্ডধারী প্রতিটি পরিবার মাসে আড়াই হাজার টাকা করে সহায়তা পাবে। দেশের হতদরিদ্র, দরিদ্র ও নিম্নবিত্ত পরিবারের নারীরা এই সুবিধার আওতায় আসবেন।

‘ফ্যামিলি কার্ডের’ জন্য প্রতি পরিবারের একজন নারী নিবন্ধিত হবেন। একটি ওয়ার্ডে যত পরিবার যোগ্য বিবেচিত হবে, তাদের সবাইকে ‘ফ্যামিলি কার্ড’ দেয়ার কথা রয়েছে।

পরীক্ষামূলকভাবে চার মাস ‘পাইলটিং’ কার্যক্রম চলবে। পরবর্তীতে ধাপে ধাপে এটি প্রতিটি উপজেলায় সম্প্রসারণের পরিকল্পনা রয়েছে বলে সরকারের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে। ‘ফ্যামিলি কার্ড’ বিএনপির নির্বাচনী ইশতেহারের প্রতিশ্রতিও।


সীতাকুণ্ডে গলাকাটা অবস্থায় উদ্ধার হওয়া সেই শিশু ইরার মৃত্যু

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
সীতাকুণ্ড (চট্টগ্রাম) প্রতিনিধি

চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডে বোটানিক্যাল গার্ডেন ও ইকোপার্কের জঙ্গল থেকে গলাকাটা অবস্থায় উদ্ধার হওয়া সাত বছরের শিশু ইরা আর নেই। সোমবার (২ মার্চ) রাত সাড়ে ৩টার দিকে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ (চমেক) হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়। মৃত্যুর আগে কয়েক ঘণ্টা যমে-মানুষে লড়াই করে শেষ পর্যন্ত হার মানল দ্বিতীয় শ্রেণির এই ছোট্ট শিক্ষার্থী।

এর আগে গত রবিবার দুপুর ২টার দিকে সীতাকুণ্ড ইকোপার্কের গহীন জঙ্গলে এক বীভৎস দৃশ্য প্রত্যক্ষ করেন স্থানীয় কয়েকজন শ্রমিক। তাঁরা দেখেন, একটি ছোট শিশু জঙ্গল থেকে গলাকাটা ও রক্তাক্ত অবস্থায় টলমল পায়ে হেঁটে রাস্তার দিকে আসছে। শিশুটির এমন অবস্থা দেখে তৎক্ষণাৎ সেখানে কর্মরত এক্সক্যাভেটর চালক ও স্থানীয় দুই যুবক রবিউল ও আরিফ তাকে উদ্ধার করেন। তাঁরা দ্রুত নিজেদের একটি ট্রাকে করে শিশুটিকে সীতাকুণ্ড উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। সেখান থেকে অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় চিকিৎসকরা তাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য চমেক হাসপাতালের ওয়ানস্টপ ক্রাইসিস সেন্টারে (ওসিসি) পাঠিয়েছিলেন।

হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় শিশুটি ক্ষীণ কণ্ঠে নিজের পরিচয় দিয়েছিল। সে জানিয়েছিল, তার নাম ইরা (৭), সে কুমিরা ইউনিয়নের মাস্টারপাড়া এলাকার মনিরুল ইসলামের মেয়ে এবং মসজিদ্দা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের দ্বিতীয় শ্রেণির ছাত্রী। ইরা আরও জানিয়েছিল, তার নিজের এলাকারই এক পরিচিত ব্যক্তি তাকে ফুসলিয়ে ইকোপার্কের গহীন জঙ্গলে নিয়ে গিয়েছিল। ওই ব্যক্তিকে দেখলে সে চিনতে পারবে বলেও ইশারায় নিশ্চিত করেছিল। তবে ঘাতকের নাম বলার আগেই তার শারীরিক অবস্থার অবনতি ঘটে।

সীতাকুণ্ড মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মহিনুল ইসলাম ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, শিশুটিকে কুমিরা থেকে অপহরণ করে বা অন্য কোনোভাবে সেখানে নিয়ে আসা হয়েছিল বলে ধারণা করা হচ্ছে। পুলিশ ইতিমধেই ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে এবং এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের রহস্য উদ্ঘাটনে তদন্ত শুরু করেছে। ঘাতককে শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনতে পুলিশের বিশেষ দল কাজ করছে। বোটানিক্যাল গার্ডেনের মতো একটি সংরক্ষিত এলাকায় এমন অপরাধের ঘটনায় স্থানীয়দের মাঝে চরম ক্ষোভ ও আতঙ্ক বিরাজ করছে। নিস্পাপ এই শিশুর মৃত্যুতে এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে।


কুমিল্লা সিটি করপোরেশনে মশার উপদ্রব বৃদ্ধি, অতিষ্ঠ নগরবাসী

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
কুমিল্লা প্রতিনিধি

কুমিল্লা সিটি করপোরেশন এলাকায় মশার উপদ্রব আশঙ্কাজনক হারে বেড়ে যাওয়ায় চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন নগরবাসী। বিশেষ করে সন্ধ্যার পর বিভিন্ন ওয়ার্ডে মশার আক্রমণ অসহনীয় হয়ে উঠেছে। বাসা-বাড়ি, দোকানপাট এমনকি মসজিদেও স্বস্তিতে থাকা যাচ্ছে না বলে অভিযোগ স্থানীয়দের।

নগরীর ১০ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দারা জানান, নিয়মিত মশকনিধন কার্যক্রম চোখে পড়ছে না। অনেক এলাকায় দীর্ঘদিন ধরে ফগার মেশিনের দেখা নেই। নালা-নর্দমা ও ড্রেনে জমে থাকা ময়লা-আবর্জনা পরিষ্কার না করায় মশার বংশবিস্তার বাড়ছে বলে অভিযোগ তাদের।

এই ওয়ার্ডে অবস্থিত নগরীর ‘ফুসফুস’খ্যাত ধর্মসাগর দীঘি। সন্ধ্যার পর কর্মজীবী মানুষ বিশ্রাম নিতে দীঘির পাড়ে এলেও মশার যন্ত্রনায় বেশিক্ষণ বসে থাকতে পারছেন না। ব্যাংকার ইনজামামুল হক সৈকত বলেন, “সারা দিনের ধকল শেষে একটু প্রশান্তির জন্য ধর্মসাগরপাড়ে আসি। কিন্তু গত এক মাস ধরে শুধু এখানে নয়, নগরীর কোথাও বসা যায় না। প্রতি মিনিটে অসংখ্য মশা কামড় দেয়।

৫ নম্বর ওয়ার্ডের পুরাতন চৌধুরীপাড়া এলাকার বাসিন্দা বদিউল আলম জানান, এক মাসের বেশি সময় ধরে কার্যকর মশা নিধন কার্যক্রম দেখেননি। ৩ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা কামাল খান বলেন, ‘ড্রেন পরিষ্কারের কাজ নেই, মশা তাড়ানোরও দৃশ্যমান উদ্যোগ নেই। মহা যন্ত্রণায় আছি আমরা।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে সিটি কর্পোরেশনের দুই কর্মকর্তা জানান, ফগার মেশিনে মূলত কেরোসিন স্প্রে করা হচ্ছে; কার্যকর কীটনাশক ব্যবহার না করায় কাঙ্ক্ষিত ফল মিলছে না। এতে প্রতিদিনই মশা বাড়ছে বলে তারা মন্তব্য করেন।

এ বিষয়ে কুমিল্লা জেলা সিভিল সার্জন আলী নূর মোহাম্মদ বশির আহমেদ বলেন, এভাবে মশার বিস্তার অব্যাহত থাকলে ডেঙ্গু, চিকুনগুনিয়া ও ম্যালেরিয়ার ঝুঁকি বাড়বে। গত বছর যে হারে ডেঙ্গু সংক্রমণ বৃদ্ধি পেয়েছে, এ বছর মশা নিধন কার্যক্রম জোরদার না হলে পরিস্থিতি ভয়াবহ হতে পারে।

অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে সিটি করপোরেশনের প্রধান নির্বাহী (ভারপ্রাপ্ত) মো. মামুন বলেন, মশা নিধনে কোনো কার্যক্রম নেই, এটি সঠিক নয়। বিভিন্ন ওয়ার্ডে স্প্রে কার্যক্রম চলমান রয়েছে। তবে লোকবলের অভাব রয়েছে, এটাও সত্য।

স্প্রেতে ভেজাল বা নিম্নমানের ওষুধ ব্যবহারের অভিযোগ প্রসঙ্গে তিনি জানান, বর্তমানে ব্যবহৃত ওষুধ পরীক্ষা-নিরীক্ষার জন্য ল্যাবে পাঠানো হয়েছে। রিপোর্ট পাওয়ার পর প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।


নরসিংদীতে জিয়াউর রহমান ফাউন্ডেশনের ঈদসামগ্রী বিতরণ

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নরসিংদী প্রতিনিধি

নরসিংদীর বিভিন্ন বয়সি দেড়শত প্রতিবন্ধী ব্যক্তির পরিবারের মাঝে ঈদসামগ্রী বিতরণ করেছে জিয়াউর রহমান ফাউন্ডেশন। সোমবার (২ মার্চ) দুপুরে নরসিংদী জেলা শিশু একাডেমি মিলনায়তনে এসব ঈদসামগ্রী বিতরণ করা হয়।

ডক্টরস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ ড্যাবের আয়োজনে নরসিংদী জেলার বিভিন্ন উপজেলার দেড়শত প্রতিবন্ধী ব্যক্তি ও পরিবারের মাঝে বিতরণকৃত উপহার সামগ্রীর মধ্যে ছিল তেল, সেমাই, দুধ, চিনি, পোলাও চাল-ডালসহ নিত্যপ্রয়োজনীয় ৯ প্রকারের খাদ্যসামগ্রী। ঈদসামগ্রী বিতরণ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ড্যাবের প্রধান উপদেষ্টা ও জিয়াউর রহমান ফাউন্ডেশনের নির্বাহী পরিচালক ডা. ফরহাদ হালিম ডোনার।

অনুষ্ঠানে উদ্বোধক হিসেবে উপস্থিত ছিলেন নরসিংদী সদর-১ আসনের সংসদ সদস্য ও বিএনপির কেন্দ্রীয় কমিটির যুগ্ম মহাসচিব খায়রুল কবির খোকন। অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন নরসিংদী সিভিল সার্জন ডা. সৈয়দ মো. আমিরুল হক, জেলা ড্যাবেরসহ সভাপতি ডা. এ.কিউ.এম. মোবিন, সদর উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকতা ডা. মোহাম্মদ আবু কাউসার সুমন, চিনিশপুর ইউনিয়ন বিএনপির আহ্বায়ক আওলাদ হোসেন মোল্লা, জেলা বিএনপির গণবিষয়ক সম্পাদক আব্দুর রউফ ফকির রনি, জেলা ছাত্রদলের সভাপতি সিদ্দিকুর রহমান নাহিদ এবং নরসিংদী জেলা ড্যাবের সাধারণ সম্পাদক ডা. নূরুল্লাহ আল মাসুদের সঞ্চালনায় জিয়াউর রহমান ফাউন্ডেশন ও ড্যাবের অন্যান্য নেতারা অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন।


সাঁথিয়ায় হাট ইজারায় অনিয়মের অভিযোগ

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
পাবনা প্রতিনিধি

পাবনার সাঁথিয়া উপজেলার পৌর সদরের বোয়াইলমারী হাটের ইজারা প্রক্রিয়া নিয়ে ব্যাপক অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। প্রচলিত দরপত্র বিধিমালা লঙ্ঘন করে বাজারমূল্যের চেয়ে অনেক কম দামে হাট ইজারা দেওয়া হয়েছে। এছাড়া আরও দুটি হাট কমমূল্যে ইজারা দেওয়ার পাঁয়তারা চলছে বলে স্থানীয়দের দাবি। এতে সরকার বড় অঙ্কের রাজস্ব হারাচ্ছে।

স্থানীয়রা জানান, চলতি বছর সাঁথিয়া উপজেলার কাশিনাথপুর ও রসুলপুর (বনগ্রাম) হাট কমমূল্যে নিলাম করা হয়েছে। কাশিনাথপুর হাটে মাত্র দুটি টেন্ডার সিডিউল জমা পড়েছে। রসুলপুর (বনগ্রাম) হাটে তিনটি। টেন্ডার দাতারা সমঝোতা করে এবং দায়িত্বশীল সরকারি কর্মকর্তাদের ম্যানেজ করে কম মূল্যে নিলাম বিট করেছে। এতে দুটি হাটে সরকার রাজস্ব বঞ্চিত হয়েছে কমপক্ষে ৫০ লাখ টাকা।

অপরদিকে সাঁথিয়া সদরের বোয়াইলমারী হাট ইজারার জন্য ৬৪ লাখ ২০ হাজার টাকার একটি দরপ্রস্তাব নিয়ে আলোচনা চলছে। অথচ গত বছর একই হাটের ইজারা মূল্য ছিল ৯০ লাখ টাকা। এবার নিলাম মূল্য উঠেছে ৬৪ লাখ ২০ হাজার টাকা। সিডিউল বিক্রি হয়েছে ৭ টি কিন্তু জমা পড়েছে ৩ টি। অর্থাৎ সমঝোতা হয়েছে।

এখন দেন দরবার শুরু হয়েছে। কম দামে ইজারা দেওয়ার প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। স্থানীয় ব্যবসায়ী ও বাসিন্দারা একে ‘সাজানো নাটক’ আখ্যা দিয়ে বলছেন, ইজারা মূল্য অস্বাভাবিকভাবে কমিয়ে নির্দিষ্ট একটি পক্ষকে সুবিধা পাইয়ে দেওয়ার চেষ্টা চলছে।

জানা গেছে, ইজারা প্রক্রিয়ায় মাত্র তিনটি দরপত্র জমা পড়েছে। টেন্ডার বিধিমালা অনুযায়ী প্রতিটি দরপত্রের সঙ্গে নির্ধারিত পরিমাণ ব্যাংক ড্রাফট সংযুক্ত করা বাধ্যতামূলক। কিন্তু জমাকৃত তিনটির মধ্যে কেবল একটি দরপত্রের সঙ্গে ব্যাংক ড্রাফট রয়েছে। বাকি দুটি দরপত্রে কোনো ব্যাংক ড্রাফট সংযুক্ত করা হয়নি। নিয়ম অনুযায়ী, ব্যাংক ড্রাফটবিহীন দরপত্র বাতিল হওয়ার যোগ্য। ফলে একটি বৈধ দরপত্রকে একক দরদাতা হিসেবে বিবেচনা করে কম মূল্যে হাট ইজারা দেওয়ার পথ সুগম করা হচ্ছে এমন অভিযোগ তুলেছেন স্থানীয়রা।

সংশ্লিষ্টদের ধারণা, প্রতিদ্বন্দ্বিতা এড়াতে এবং একটি নির্দিষ্ট পক্ষকে সুবিধা দিতে ইচ্ছাকৃতভাবে ‘লোকদেখানো’ দরপত্র জমা দেওয়া হয়েছে। এতে প্রতিযোগিতামূলক দরপত্র প্রক্রিয়া কার্যত ভেস্তে গেছে বলে মনে করছেন ব্যবসায়ীরা। তাদের দাবি, প্রকৃত প্রতিযোগিতা নিশ্চিত হলে সরকার আরও বেশি রাজস্ব পেতে পারত। ত্রুটিপূর্ণ টেন্ডার প্রক্রিয়া নিয়ে স্থানীয় সচেতন মহল ও ব্যবসায়ীদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ বিরাজ করছে। এসব অপকর্মের সঙ্গে উপজেলা প্রশাসন, পৌর প্রশাসন জড়িত!

বিষয়টি তদন্ত হওয়া প্রয়োজন বলে দাবি করছেন এলাকাবাসী।

এ ব্যাপারে পাবনা জেলা প্রশাসক শাহেদ মোস্তফা বলেন, ‘বিগত তিন বছরের টেন্ডার দর গড় করে নিলাম মূল্য নির্ধারণ করা হয়েছে। সেই মোতাবেক যদি গড় মূল্যের চেয়ে নিলাম মূল্য বেশি হয় তখন সর্বোচ্চ দরদাতাকে কাজ দেয়া হয়ে থাকে।’ এক্ষেত্রে তাই হয়েছে।

এখানে উল্লেখ্য, বিগত বছরগুলোতে হাট-বাজার, সায়রাত মহাল, বালু মহাল ইত্যাদি নিলামে ব্যাপক নয়-ছয় হয়েছে। স্বৈরাচারী সরকারের এমপি, স্থানীয় মেয়র এবং চেয়ারম্যানদের সঙ্গে জেলা প্রশাসক, উপজেলা নির্বাহী অফিসারদের সমঝোতা নাটকের মাধ্যমে কম মূল্যে নিলাম সম্পন্ন হয়েছে। এতে বিগত তিন বছরের গড় মূল্য কমে রাজস্ব হ্রাস পেয়েছে।

এ ব্যাপারে রাজশাহী বিভাগীয় কমিশনার ডক্টর আ.ন.ম বজলুর রশিদের দৃষ্টি আকর্ষণ করা হলে তিনি বলেন, ‘সরকারি নীতিমালা অনুসারে হাট-বাজার, সায়রাত মহাল, বালু মহাল ইত্যাদি লিজ প্রদান করা হয়ে থাকে।’

তিনি আরও জানান, সরকারি নীতিমালা সংশোধন করা দরকার। কারণ টেন্ডার সমঝোতা (Negotiation) করে দুষ্ট চক্র রাজস্ব ফাঁকি দিয়ে নিজেদের পকেটে টাকা উঠাচ্ছে।

অভিজ্ঞজনরা মনে করেন, একটি কিংবা দুটি সিডিউল যখনই জমা পড়ে তখন পুনরায় টেন্ডার আহ্বান করে দর বাড়ানোর চেষ্টা করা।


banner close