বুধবার, ৩ জুন ২০২৬
২০ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩

জনসমাবেশে যোগ দিতে রংপুরে প্রধানমন্ত্রী

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। ফাইল ছবি
আপডেটেড
২ আগস্ট, ২০২৩ ১৩:৫৭
প্রতিনিধি, রংপুর
প্রকাশিত
প্রতিনিধি, রংপুর
প্রকাশিত : ২ আগস্ট, ২০২৩ ১৩:৫০

জনসমাবেশে যোগ দিতে রংপুরে পৌঁছেছেন প্রধানমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনা। বুধবার দুপুর ১ টা ১৩ মিনিটে প্রধানমন্ত্রীকে বহনকারী হেলিকপ্টারটি রংপুর সেনানিবাস হ্যালিপ্যাডে অবতরণ করে। রংপুর জেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম আহ্বায়ক ও স্বেচ্ছাসেবক উপকমিটির আহ্বায়ক অ্যাডভোকেট আনোয়ারুল ইসলাম এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

প্রধানমন্ত্রীর সমাবেশ ঘিরে কঠোর অবস্থানে রয়েছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। সবাইকে তল্লাশি করে সমাবেশস্থলে ঢুকতে দেয়া হচ্ছে। সমাবেশ মঞ্চের পেছনে পুলিশ, র‌্যাবসহ আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর বাড়তি সদস্য মোতায়েন রয়েছে।

এর আগে, দুপুর সোয়া ১২টায় জাতীয় সংগীত পরিবেশনের মধ্য দিয়ে জনসভার কার্যক্রম শুরু হয়। পরে পবিত্র কোরআন থেকে তেলাওয়াত ও গীতাপাঠ করা হয়। বিকেল ৩টায় জনসভার মঞ্চে উঠবেন প্রধানমন্ত্রী।

রংপুরের ঐতিহাসিক জিলা স্কুল মাঠ নেতা-কর্মীদের উপস্থিতিতে কানায় কানায় ভরে গেছে। মাঠ ছাড়িয়ে প্রধান সড়কের দুই দিকে অবস্থান নিয়েছেন বিভাগের বিভিন্ন জেলা থেকে আসা নেতা-কর্মীরা। নানা রঙের পোশাক আর বাদ্যযন্ত্রের তালে তালে গান গেয়ে উচ্ছ্বাস প্রকাশ করছেন তারা।

জনসভায় প্রধান বক্তা হিসেবে উপস্থিত আছেন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক, সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের। এ ছাড়া আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য জাহাঙ্গীর কবির নানক, প্রেসিডিয়াম সদস্য ও রাজশাহী সিটি করপোরেশনের মেয়র এএইচএম খায়রুজ্জামান লিটন, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ও তথ্যমন্ত্রী ড. হাছান মাহমুদসহ অন্যরা উপস্থিত আছেন।

বিষয়:

জয়পুরহাটে গ্রামীণ অবকাঠামো উন্নয়নে ১ হাজার কোটি টাকার মেগা প্রকল্প অনুমোদন

আপডেটেড ৩ জুন, ২০২৬ ১০:৩৮
​জয়পুরহাট প্রতিনিধি

জয়পুরহাট জেলা সদর ও পাঁচবিবি উপজেলার গ্রামীণ রাস্তাঘাট এবং সামগ্রিক অবকাঠামোগত চেহারা বদলে দিতে অনুমোদন পেয়েছে ১ হাজার কোটি টাকার একটি বিশাল উন্নয়ন প্রকল্প।

গত সংসদ নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি পূরণের অংশ হিসেবে এই মেগা প্রকল্প অনুমোদন করিয়ে জয়পুরহাটবাসীকে দেওয়া কথা রাখলেন জয়পুরহাট জেলা পরিষদের প্রশাসক ও জেলা বিএনপির সিনিয়র যুগ্ন আহবায়ক মো. মাসুদ রানা প্রধান।

​প্রকল্পটি সুষ্ঠু ও স্বচ্ছতার সাথে বাস্তবায়নের লক্ষ্যে মঙ্গলবার ঢাকা থেকে আগত একটি বিশেষ তদন্ত টিমের সাথে জয়পুরহাট জেলা পরিষদের কার্যালয়ে এক গুরুত্বপূর্ণ মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়।

সভা শেষে অনুমোদিত প্রকল্পের প্রয়োজনীয় কাগজপত্র প্রকল্প বাস্তবায়নকারী সরকারি কর্মকর্তা ও ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিদের কাছে আনুষ্ঠানিকভাবে হস্তান্তর করেন জেলা পরিষদের প্রশাসক মাসুদ রানা প্রধান ।

​এসময় উপস্থিত ছিলেন গ্রামীণ অবকাঠামো উন্নয়ন প্রকল্পের পরিচালক ( পিডি ) ​মো. শফিকুল ইসলাম, জয়পুরহাট এলজিইডির

সহকারী সিনিয়র প্রকৌশলী মো. সুলতান মাহমুদ, এলজিইডির সদর উপজেলা প্রকৌশলী ​মো. মোস্তাফিজুর রহমান, এলজিইডির পাঁচবিবি উপজেলা প্রকৌশলী ​মো. মোবারক হোসেন, ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান লিটন ট্রেডার্সের স্বত্বাধিকারী আনিসুর রহমান লিটন।

জয়পুরহাট জেলা পরিষদের প্রশাসক ও জেলা বিএনপির সিনিয়র যুগ্ন আহবায়ক মাসুদ রানা প্রধান বলেন, ​বর্তমান বিএনপি সরকার গ্রামীণ জনগণের জীবনমান উন্নয়ন ও যোগাযোগ ব্যবস্থা সচল করতে গ্রামীণ রাস্তাঘাটের উন্নয়নকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিয়েছে। তারই ধারাবাহিকতায় জয়পুরহাট ও পাঁচবিবিতে এই বিশাল বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। খুব দ্রুতই মাঠ পর্যায়ে এই প্রকল্পের কাজ শুরু করা হবে।

​তিনি আরও বলেন, গত সংসদ নির্বাচনে জয়পুরহাট-১ (সদর-পাঁচবিবি) আসনের জনগণকে এলাকার সার্বিক উন্নয়ন করার যে প্রতিশ্রুতি আমি দিয়েছিলাম, এই প্রকল্পের মাধ্যমে সেই প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নের যাত্রা শুরু হলো। জয়পুরহাটবাসীকে এই উপহার দিয়ে উন্নয়ন থেকে বঞ্চিত করেননি মাননীয় প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান। আমি জয়পুরহাটের সর্বস্তরের জনগণের পক্ষ থেকে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের প্রতি গভীর কৃতজ্ঞতা ও ধন্যবাদ জ্ঞাপন করছি।

​সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, ১ হাজার কোটি টাকার এই বিশাল গ্রামীণ অবকাঠামো উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়িত হলে জয়পুরহাটের যোগাযোগ ব্যবস্থায় অভূতপূর্ব বিপ্লব ঘটবে, যা স্থানীয় গ্রামীণ অর্থনীতিকে আরও গতিশীল ও সমৃদ্ধ করবে।


বাগেরহাটে মাজারের দিঘিতে কুমিরের টেনে নেওয়া শিশুর মরদেহ উদ্ধার

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
বাগেরহাট প্রতিনিধি

খানজাহান আলী (রহ.) মাজারসংলগ্ন দিঘির পূর্ব পাশের নারীঘাটে গোসল করতে নামলে গত সোমবার ফাতেমা আক্তারকে মাজারে থাকা একমাত্র কুমিরটি টেনে নিয়ে যায়। ঘটনার পরপরই চারদিকে চিৎকার শুরু হয়। স্থানীয়রা নৌকা নামিয়ে উদ্ধার অভিযান চালান। পরে ফায়ার সার্ভিস, পুলিশ ও জেলা প্রশাসনের সদস্যরাও অভিযানে অংশ নেন।

বাগেরহাটের খান জাহান আলী (রহ.) মাজারসংলগ্ন দিঘিতে কুমিরের টেনে নেয়া শিশু ফাতেমা আক্তারের (৭) মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। মঙ্গলবার (০২ জুন) ভোরে দিঘির মহিলা ঘাটের পাশ থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়। পরে দুপুর ১২টায় জানাজা শেষে দিঘির পূর্ব ও দক্ষিণ পাশের কবরস্থানে তাকে দাফন করা হয়।

এর আগে মঙ্গলবার (০২ জুন) রাত সাড়ে ৮টার দিকে খান জাহান আলী (রহ.) মাজারসংলগ্ন দিঘির পূর্ব পাশের নারীঘাটে গোসল করতে নামলে ফাতেমা আক্তারকে মাজারে থাকা একমাত্র কুমিরটি টেনে নিয়ে যায়। ঘটনার পরপরই চারদিকে চিৎকার শুরু হয়। স্থানীয়রা নৌকা নামিয়ে উদ্ধার অভিযান চালান। পরে ফায়ার সার্ভিস, পুলিশ ও জেলা প্রশাসনের সদস্যরাও অভিযানে অংশ নেন।

মাজারসংশ্লিষ্টরা ও পুলিশ জানায়, ফাতেমা একজন মানসিক প্রতিবন্ধী নারীর মেয়ে। তারা মাজারেই বসবাস করতেন। এর বাইরে শিশুটির পরিচয় সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য জানা যায়নি।

প্রত্যক্ষদর্শী এক নারী জানান, রাতে ঘাটে অনেক মানুষ ছিল। শিশুটি গোসলে নামার পর কুমির তাকে টেনে নেয়। তখন সে ও আশপাশের লোকজন চিৎকার করতে থাকে। একপর্যায়ে কুমিরটি শিশুটিকে পানির নিচে টেনে নিয়ে যায়।

ঘাটসংলগ্ন এক দোকানি জানান, মরদেহ উদ্ধারের পর শরীরের কয়েকটি স্থানে কুমিরের কামড়ের চিহ্ন দেখা গেছে।

মাজারের প্রধান খাদেম ফকির তারিকুল ইসলাম বলেন, মরদেহ উদ্ধারের পর জেলা প্রশাসন ও পুলিশ প্রশাসনের সঙ্গে আলোচনা করে জানাজা শেষে দাফনের ব্যবস্থা করা হয়েছে।

বাগেরহাটের জেলা প্রশাসক গোলাম মোহাম্মদ বাতেন বলেন, সবার সঙ্গে আলোচনা ও সভা করে মাজারের দিঘির ঘাটগুলো সুরক্ষিত করতে উদ্যোগ ওনেয়া হবে যাতে ভবিষ্যতে কোনো ধরনের অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা না ঘটে।


মালয়েশিয়ায় পাঠানোর প্রলোভনে চকরিয়ার ৪ শিক্ষার্থীকে অপহরণ

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
চকরিয়া (কক্সবাজার) প্রতিনিধি 

কক্সবাজারের চকরিয়া উপজেলার চারজন স্কুলছাত্রকে অপহরণের অভিযোগ পাওয়া গেছে। গত রোববার (৩১ মে) উপজেলার সুরাজপুর-মানিকপুর ইউনিয়নের দক্ষিণ সুরাজপুর এলাকা থেকে তাদের অপহরণ করা হয় বলে পরিবারের দাবি। মঙ্গলবার (০২ জুন) পর্যন্ত তাদের উদ্ধার করা সম্ভব হয়নি। অপহরণকারীরা পরিবারের কাছে পাঁচ লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবি করেছে এবং টাকা না দিলে শিক্ষার্থীদের হত্যা করে লাশ গুম করার হুমকি দিচ্ছে বলেও অভিযোগ উঠেছে।

অপহৃত শিক্ষার্থীরা হলেন শাহারিয়ার কবির সোহাগ (১৪), মোহাম্মদ শহীদ হোসেন (১৪), মোহাম্মদ মাহিম (১৩) ও ইসাদুল হোছাইন ছামিম (১৫)। তারা সবাই কাকারা মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী। এর মধ্যে শহীদ হোসেন দশম শ্রেণির এবং বাকি তিনজন অষ্টম শ্রেণির ছাত্র।

অপহরণের ঘটনায় চার শিক্ষার্থীর বাবা মোসলেম উদ্দিন, সাবের আহমেদ, আব্দুল হামিদ ও মোহাম্মদ আবছার চকরিয়া থানায় অভিযোগ দায়ের করেছেন।

পুলিশ ও ভুক্তভোগী পরিবার সূত্রে জানা গেছে, বান্দরবানের আলীকদম উপজেলার চৈক্ষ্যং গ্রামের মোহাম্মদ ইউসুফ ও তার স্ত্রী তানিয়া বেগম দীর্ঘদিন ধরে চার শিক্ষার্থীকে স্বল্প খরচে মালয়েশিয়ায় পাঠানোর প্রলোভন দেখিয়ে আসছিলেন। এরই ধারাবাহিকতায় গত রোববার (৩১ মে) সকাল ৮টার দিকে তারা শিক্ষার্থীদের বাড়ি থেকে ডেকে একটি ব্যক্তিগত গাড়িতে তুলে নিয়ে যান।

পরিবারের দাবি, পরে অজ্ঞাত স্থান থেকে অপহরণকারীরা ফোন করে শিক্ষার্থীদের অপহরণের বিষয়টি জানায় এবং পাঁচ লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবি করে। মুক্তিপণের টাকা না দিলে শিক্ষার্থীদের হত্যা করে লাশ গুম করার হুমকিও দেওয়া হয়।

অপহৃত মোহাম্মদ মাহিমের বাবা সাবের আহমেদ বলেন, ‘প্রলোভন দেখিয়ে আমাদের সন্তানদের অপহরণ করা হয়েছে। এখন তাদের প্রাণনাশের হুমকি দেওয়া হচ্ছে। চক্রের এক সদস্য একটি নম্বর থেকে ফোন করে পাঁচ লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবি করেছে। চট্টগ্রামের খাতুনগঞ্জ এলাকার একটি ব্যাংক হিসাব নম্বরও দেওয়া হয়েছে। আমাদের সন্তানদের ছবি পাঠিয়ে নিশ্চিত করা হয়েছে যে তারা এখনো জীবিত আছে। দ্রুত তাদের উদ্ধার এবং অপহরণকারীদের গ্রেপ্তারের জন্য প্রশাসনের সহযোগিতা চাই।


জমি হাতিয়ে নিতে মিথ্যা ও হয়রানিমূলক মামলা দায়েরের অভিযোগ

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নওগাঁ প্রতিনিধি

নওগাঁ পৌর এলাকায় কম দামে জমি হাতিয়ে নিতে জমির মালিকদের বিরুদ্ধে মিথ্যা ও হয়রানিমূলক মামলা দেওয়ার অভিযাগ উঠেছে পিপলস সিটি নামের একটি আবাসন প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে।

মঙ্গলবার (২ জুন) বিকেলে নওগাঁর শহরের একটি রেস্টুরেন্ট মিলনায়তনে পিপলস সিটি কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা দিয়ে পৈত্রিক সম্পত্তি দখলের অপচেষ্টার অভিযোগ তুলে সংবাদ সম্মেলন করেন কয়েকজন ভুক্তভোগী।

সংবাদ সম্মেলনে প্রয়াত রিয়াজ উদ্দিনের ২২ জন ওয়ারিশের পক্ষে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন দেওয়ান মিজানুর রহমান নামের এক ব্যক্তি।

লিখিত বক্তব্যে মিজানুর রহমান দাবি করেন, তাঁর দাদা রিয়াজ উদ্দিন ১৯৭৩ সালে ফজলুর রহমান দেওয়ানের কাছ থেকে নওগাঁ পৌরসভার কোমাইগাড়ী মৌজায় আর এস ১৫৮ নম্বর খতিয়ানে ৪৫৪ দাগে ৮২ শতক সম্পত্তি ক্রয় করেন। তাঁর দাদা ওই সম্পত্তি জীবদ্দশায় কোনো প্রকার হস্তান্তর বা বিক্রি না করেই মারা যান। এ পরিস্থিতিতে বর্তমানে পৈত্রিক সূত্রে আমরা ২২ জন ওয়ারিশ ওই সম্পত্তির বৈধ মালিক। সমস্ত আইনি প্রক্রিয়া মেনে আবেদন করলে চলতি বছরের ৭ জানুয়ারি তাঁদের নামে নামজারি সম্পন্ন হয় এবং তাঁরা নিয়মিত খাজনা-কর পরিশোধ করে সম্পত্তি ভোগদখল করে আসছেন।

লিখিত বক্তব্য অভিযোগ করা হয়, তাঁদের জমির পাশে ‘পিপলস সিটি’ নামের একটি আবসন প্রতিষ্ঠান প্রতিষ্ঠিত হওয়ার পর থেকে ওই প্রতিষ্ঠানের ব্যবস্থাপনা পরিচালক কাজী মহিউদ্দিন আলমগীর দীর্ঘদিন ধরে সম্পত্তিটি কম মূল্যে কিনে নেওয়ার জন্য চাপ সৃষ্টি করে আসছিলেন। ওয়ারিশরা এতে রাজি না হওয়ায় তাদের বিরুদ্ধে নওগাঁ আমলী আদালতে একটি মিথ্যা ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত মামলা দায়ের করা হয়েছে। পিপলস সিটির চেয়ারম্যান ও নওগাঁ জজ কোর্টের আইনজীবী কাজী আতিকুর রহমান এই মামলার বাদী। মামলা দায়েরের পাশাপাশি কিছু অনলাইন নিউজ পোর্টালে যাচাই-বাছাই ছাড়া বিভ্রান্তিকর সংবাদ প্রকাশ করা হয়, যা তাঁদের সামাজিকভাবে হেয় প্রতিপন্ন করার অপচেষ্টা।

সংবাদ সম্মেলনে দেওয়ান মিজানুর রহমান বলেন, ‘আমরা নাকি জাল-জালিয়াতি করে ওই জমির মালিকানা দাবি করছি। এজন্য তাঁরা মামলা করেছে। আমরা আইনের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। আমাদের পক্ষে সকল বৈধ কাগজপত্র, দলিল, নামজারি ও সরকারি নথি রয়েছে। আমরা চাই প্রকৃত ঘটনা দেশবাসীর সামনে তুলে ধরা হোক এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ বিষয়টি তদন্তত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করুক। সুষ্ঠু তদন্তের জন্য ভূমি মন্ত্রণালয়, জেলা প্রশাসনসহ সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ কামনা করছি।’

অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে পিপলস সিটির চেয়ারম্যান কাজী আতিকুর রহমান বলেন, ‘যে ৪৫৪ দাগে তাঁরা জমির মালিকানা দাবি করছেন ওই দাগে আমি দেওয়ান রেজাউল করিমের কাছ থেকে ৩৩ শতক জমি কিনেছি। আর বায়নামা করা আছে ৪৮ শতক জমির জন্য। ওই দাগে যদি তাঁরা জমি পায় তাহলে আমিও সমস্যায় পড়ি। তাই তাঁরা যখন ওই জমির মালিকানা দাবি করে, তখন আমি জমির কাগজপত্র যাচাই-বাছাই করতে গিয়ে জানতে পারি, ওই জমির রেজিস্ট্রেশন ও খারিজে ঝামেলা আছে।’

সংবাদ সম্মেলনে অন্যদের মধ্যে প্রয়াত রিয়াজ উদ্দিনের ছেলে দেওয়ান আব্দুস সালাম, নাতি দেওয়ান মনোয়ার ও দেওয়ান শহীদ উপস্থিত ছিলেন।

তিনি আরও বলেন, ‘যেই দলিল মূলে ওই ২২ জন ওয়ারিশের নামে খারিজ হয়েছে, সেই দলিলটা ১৯৭৩ সালে রেজিস্ট্রেশন করা আর দলিল সম্পাদন করা হয়েছে ১৯৭২ সালে। দলিল সম্পাদনের ৮ মাস পর রেজিস্ট্রেশন সম্পন্ন হয়েছে। অথচ আইনে আছে দলিল সম্পাদনের ৩ মাসের মধ্যে রেজিস্ট্রেশন সম্পন্ন করতে হবে। এছাড়া ওই দলিলে সাব রেজিস্ট্রারের দুটা স্বাক্ষর আছে। দুইটা স্বাক্ষর দুই রকমের। যাচাই-বাছাইয়ে মনে হয়েছে, ওই দলিল জালিয়াতি করে সম্পাদন করা হয়েছে। এজন্য আমি বাদী হয়ে মামলাটি করেছি। তদন্তকারী কর্মকর্তা এক্সপার্ট দিয়ে তদন্ত করবেন। তদন্তে আমার অভিযোগ মিথ্যা বলে প্রমাণিত হলে আমার মামলা মিথ্যা হবে। তার আগে মিথ্যা বা হয়রানিমূলক মামলা বলার সুযোগ নাই।’


জিয়াউর রহমানের আদর্শে ঐক্যবদ্ধ হয়ে বৈষম্যহীন বাংলাদেশ গড়ার আহ্বান শফিকুল আলম মনার

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
খুলনা প্রতিনিধি

খুলনা মহানগর বিএনপির সভাপতি অ্যাডভোকেট এস এম শফিকুল আলম মনা বলেছেন, দেশের প্রতিটি সংকটময় মুহূর্তে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান দূরদর্শী নেতৃত্বের মাধ্যমে জাতিকে সঠিক পথের দিশা দেখিয়েছেন। তাঁর আদর্শ ও দর্শন অনুসরণ করে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের নেতৃত্বে একটি গণতান্ত্রিক, বৈষম্যহীন ও সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়ে তুলতে হবে।

মঙ্গলবার (২ জুন) সকাল ১১টায় খুলনা প্রেসক্লাবের লিয়াকত আলী মিলনায়তনে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল খুলনা মহানগর শাখার উদ্যোগে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান বীর উত্তমের ৪৫তম শাহাদাতবার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত দোয়া মাহফিল, রক্তদান কর্মসূচি ও আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

অ্যাডভোকেট মনা বলেন, ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধের সূচনালগ্নে পাকিস্তানি হানাদার বাহিনীর নির্মম আক্রমণে যখন সমগ্র জাতি অনিশ্চয়তার মধ্যে পড়েছিল, তখন কালুরঘাট বেতার কেন্দ্র থেকে স্বাধীনতার ঘোষণা দিয়ে মুক্তিযুদ্ধকে সুসংগঠিত করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন জিয়াউর রহমান। মুক্তিযুদ্ধে অসামান্য বীরত্ব ও অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ তিনি ‘বীর উত্তম’ খেতাবে ভূষিত হন।

তিনি আরও বলেন, স্বাধীনতা-পরবর্তী সময়ে রাষ্ট্রনায়ক হিসেবে জিয়াউর রহমান বাংলাদেশি জাতীয়তাবাদের দর্শন প্রতিষ্ঠা করেন এবং ধর্ম-বর্ণ-গোত্র নির্বিশেষে দেশের সব জনগোষ্ঠীকে একটি অভিন্ন জাতীয় পরিচয়ের বন্ধনে আবদ্ধ করেন। কৃষি, গ্রামীণ উন্নয়ন, উৎপাদন বৃদ্ধি এবং আত্মনির্ভরশীল অর্থনীতি গঠনে তাঁর অবদান আজও স্মরণীয় হয়ে আছে।

বর্তমান রাজনৈতিক বাস্তবতার প্রসঙ্গ টেনে মনা বলেন, জনগণের প্রত্যাশা পূরণ এবং গণতন্ত্রকে প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দিতে সব গণতান্ত্রিক শক্তিকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করতে হবে। একই সঙ্গে দেশবিরোধী অপতৎপরতা, ষড়যন্ত্র ও স্বৈরাচারী প্রবণতার বিরুদ্ধে সতর্ক ও সোচ্চার থাকার আহ্বান জানান তিনি।

ছাত্রদলের নেতাকর্মীদের উদ্দেশে তিনি বলেন, আগামী দিনের রাষ্ট্রনায়ক ও নেতৃত্ব তৈরির অন্যতম ক্ষেত্র হলো শিক্ষাঙ্গন। সে কারণে ছাত্রদলকে আরও সুসংগঠিত, আদর্শনিষ্ঠ ও জনমুখী সংগঠন হিসেবে গড়ে তুলতে হবে। মেধা, সততা ও দায়িত্ববোধসম্পন্ন নেতৃত্বই ভবিষ্যতে একটি শোষণমুক্ত, ন্যায়ভিত্তিক ও বৈষম্যহীন বাংলাদেশ বিনির্মাণে ভূমিকা রাখবে।

খুলনা মহানগর ছাত্রদলের আহবায়ক মোঃ তাজিম বিশ্বাসের সভাপতিত্বে এবং সদস্য সচিব হাবিবুর রহমান বিপ্লবের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন খুলনা মহানগর বিএনপির সাবেক যুগ্ম আহ্বায়ক বদরুল আনাম খান,মহানগর বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক শেখ সাদিকুল ইসলাম সাদী,মাসুদ পারভেজ বাবু এবং চৌধুরী হাসানুর রশিদ মিরাজ, মিডিয়া সেলের মিজানুর রহমান মিলটন, রকিবুল ইসলাম মতি, ২৮ নং ওয়ার্ড বিএনপির সাধারণ সম্পাদক,মন্জুরুল আলম, বিএনপি নেতা,সাদাত সায়েম,সাবেক ছাত্রনেতা মোমশেদুল সজীব।

মহানগর ছাত্রদলের সিনিয়র যুগ্ন আহবায়ক,আরিফুর রহমান আরিফ, যুগ্ন আহবায়ক সৈয়দ ইমরান, রিয়াজুল খান মুরাদ, শাকিল আহমেদ,সজল হোসেন, আব্দুল আহাদ শাহিন,এস এম ইউসুফ, আরিফুল ইসলাম, রবিউল ইসলাম, ইমরান সালেহ সিফাত,হিমি বিশ্বাস, হাসিবুর রহমান শোভন, মহানগর ছাত্রদলের আহবায়ক কমিটির সদস্য মেরাজ হোসেন মানিক, মিজানুর রহমান মৃদুল, রাকিবুল ইসলাম সাজিদ,শেখ সামসাদ হোসেন আবিদ,নাসিম রহমান নাহিদ, এনামুল হক মল্লিক, রিফাত ইসলাম,আবু ওবায়দা মাহিম,এম এম মুন্না,এস এম আলমগীর হোসেন, রাকিব হাসান, তরিকুল ইসলাম নকিব,আদনান আব্দুল মান্নান,ফয়সাল বাপ্পি, সাজ্জাদ হোসেন রিপ্পি, ইসমাইল হোসেন, রাকিব হোসেন,রকিবুল ইসলাম, ইসরাইল হোসেন টুটুল, মিথিলা আক্তার,ইমরান মল্লিক,আল আমিন হোসেন, মনিরুজ্জামান আবিদ, মোঃ সোহেল আহমেদ,তরিকুল ইসলাম নাহিদ প্রমুখ

আলোচনা সভা শেষে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান ও সাবেক তিনবারের প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার রুহের মাগফিরাত কামনা করে বিশেষ দোয়া অনুষ্ঠিত হয়।পরে ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা স্বেচ্ছায় রক্তদান কর্মসূচিতে অংশ নেন।


কে দেখবে সুন্দরবনের বনজীবিদের হা-হাকার, তিন মাসের প্রবেশ নিষেধাজ্ঞা 

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
সাতক্ষীরা প্রতিনিধি

সুন্দরবনে সোমবার (০১ জুন) থেকে সব ধরনের প্রবেশ নিষিদ্ধ করা হয়েছে। বনজ সম্পদ, মৎস্য ও জলজ প্রাণীর নিরাপদ প্রজনন, জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণ এবং বন্য প্রাণীর সুরক্ষার লক্ষ্যে ১ জুন থেকে ৩১ আগস্ট পর্যন্ত সুন্দরবনে মাছ ও কাঁকড়া আহরণ, মধু সংগ্রহ এবং পর্যটকদের প্রবেশ বন্ধ থাকবে।

এমন সিদ্ধান্তে দুশ্চিন্তায় পড়েছেন সুন্দরবননির্ভর হাজারো জেলে, মৌয়াল ও বনজীবী। তাদের দাবি, তিন মাস বন বন্ধ থাকায় আয়-রোজগারের পথ প্রায় বন্ধ হয়ে যায়। অনেককে ঋণ করে সংসার চালাতে হয় এবং মহাজনসহ বিভিন্ন ব্যক্তির কাছে ধারদেনায় জড়িয়ে পড়তে হয়।

নিষেধাজ্ঞার সময়ে সরকারি সহায়তা না পাওয়ায় তারা চরম দুর্ভোগের মুখে পড়েন।এ কারণে খাদ্য সহায়তা ও বিশেষ প্রণোদনার দাবি জানিয়েছেন কর্মহীন বনজীবীরা।বন বিভাগ জানিয়েছে, জুন থেকে আগস্ট সময়টি সুন্দরবনের মাছ, জলজ প্রাণী ও বিভিন্ন বন্য প্রাণীর প্রধান প্রজনন মৌসুম। এ সময় অধিকাংশ মাছ ও জলজ প্রাণী ডিম ছাড়ে।

একই সঙ্গে বনের উদ্ভিদরাজির স্বাভাবিক পুর্নজন্ম প্রক্রিয়াও চলতে থাকে।তাই বন ও বন্য প্রাণীর নিরাপদ বিচরণ নিশ্চিত করতে প্রতিবছরের মতো এবারও তিন মাসের জন্য এ নিষেধাজ্ঞা কার্যকর করা হচ্ছে।

নিষেধাজ্ঞা বাস্তবায়নের অংশ হিসেবে জেলে, মৌয়াল ও পর্যটকদের জন্য নতুন পাস বা অনুমতিপত্র দেওয়া ইতোমধ্যে বন্ধ করা হয়েছে। বন বিভাগ ১ জুন থেকে নিষেধাজ্ঞা কার্যকর হওয়ার আগে সবাইকে বন এলাকা ত্যাগের নির্দেশ দিয়েছে।


সংস্কৃতি ও বন্ধুত্বের বন্ধনে ভারত-বাংলাদেশ: ভারতের সহকারী হাইকমিশনার মনোজ কুমার

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
রাজশাহী প্রতিনিধি

ভারত ও বাংলাদেশের সম্পর্ক গভীর বন্ধুত্বের এবং দুই দেশের সংস্কৃতির মধ্যে একটি চমৎকার যোগসূত্র রয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন বাংলাদেশে নিযুক্ত ভারতীয় সহকারী হাইকমিশনার মনোজ কুমার। তিনি উল্লেখ করেন, দুই দেশ হাতে হাত রেখে এই বন্ধুত্বের সম্পর্ককে আগামীতে আরও এগিয়ে নিয়ে যাবে।

মঙ্গলবার (২ জুন) সকাল সাড়ে ১০টায় রাজশাহী চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রিজ ভবনে ভারতীয় সহকারী হাইকমিশনের উদ্যোগে আয়োজিত ১২তম আন্তর্জাতিক যোগ দিবস-২০২৬-এর অনুষ্ঠানে তিনি এ মন্তব্য করেন।

যোগব্যায়াম অনুষ্ঠানের শুরুতে স্বাগত বক্তব্যে সহকারী হাইকমিশনার মনোজ কুমার দুই দেশের বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্কের নানা দিক তুলে ধরেন। তিনি বলেন, "ভারত ও বাংলাদেশের সম্পর্ক অত্যন্ত নিবিড়। দুই দেশের সংস্কৃতির সাথে একটি ঐতিহাসিক যোগসূত্র রয়েছে।"
বক্তব্যের শুরুতে তিনি যোগব্যায়ামের ইতিহাস এবং বর্তমান বিশ্বে এর ব্যাপক প্রসারের বিভিন্ন দিক নিয়ে আলোচনা করেন। একই সাথে আন্তর্জাতিক যোগ দিবসের এই আয়োজনে উপস্থিত হওয়ার জন্য তিনি সবাইকে আন্তরিক ধন্যবাদ জানান।

অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন, (পবা-মোহনপুর) এর সংসদ সদস্য এ্যাডভোকেট শফিকুল হক মিলন, বাঘা-চারঘাট (রাজশাহী-৬) সংসদ সদস্য আবু সাইদ চাঁদ, রাজশাহী সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসক মাহফুজুর রহমান রিটন, অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার গাজিউর রহমান সহ প্রশাসনের বিভিন্ন স্তরের কর্মকর্তা ও রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ অনুষ্ঠানে অংশ নেন।

উৎসবমুখর এই আয়োজনে বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ অত্যন্ত স্বতঃস্ফূর্তভাবে যোগব্যায়াম অনুশীলনে অংশগ্রহণ করেন।


চুয়াডাঙ্গায় এমপি আমির হামজার শ্যালক ও চালককে মারধরের ঘটনায় মামলা

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
জীবননগর (চুয়াডাঙ্গা) প্রতিনিধি 

চুয়াডাঙ্গার জীবননগর উপজেলার হাসাদাহ বাজার এলাকায় তুচ্ছ ঘটনাকে কেন্দ্র করে কুষ্টিয়া-৩ আসনের সংসদ সদস্য আমির হামজার শ্যালক ও গাড়িচালকের ওপর হামলার ঘটনায় মামলা দায়ের করা হয়েছে। সোমবার (১ জুন) রাতে তিনজনের নাম উল্লেখসহ আরও ১-২ জন অজ্ঞাত ব্যক্তিকে আসামি করে জীবননগর থানায় একটি এজাহার দায়ের করা হয়েছে।

অভিযোগে হামলা, মারধর, গালিগালাজ এবং প্রাণনাশের হুমকির বিষয় উল্লেখ করা হয়। আজ মঙ্গলবার (২ জুন) দুপুরে জীবননগর থানা পুলিশের পরিদর্শক (ওসি) সোলাইমান শেখ মামলার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

এজাহার সূত্রে জানা যায়, মামলার বাদী মো. আবু বক্কর সিদ্দিক (২৬)। তিনি কুষ্টিয়া-৩ আসনের সংসদ সদস্য মো. আমির হামজার ব্যক্তিগত সহকারী (এপিএস) এবং তার শ্যালক।

মামলায় জীবননগর উপজেলার হাসাদাহ বাজারপাড়ার মোস্তাক হোসেন, হাসাদাহ গ্রামের রিমন হোসেন এবং পুরন্দরপুর গ্রামের মাশরুল মুহিবের নাম উল্লেখ করা হয়েছে। পাশাপাশি আরও ১ থেকে ২ জন অজ্ঞাত ব্যক্তিকেও আসামি করা হয়েছে।

এজাহার সূত্রে জানা যায়, সংসদ সদস্য আমির হামজা পৃথক একটি গাড়িতে ছিলেন। অন্যদিকে তার স্ত্রী, দুই সন্তান এবং শ্যালক আবু বক্কর সিদ্দিক একই গাড়িতে করে ঝিনাইদহের মহেশপুর থেকে কর্মসূচি শেষে জীবননগরের দিকে যাচ্ছিলেন। পথিমধ্যে জীবননগর উপজেলার হাসাদাহ বাজারের প্রধান সড়কে ওঠার সংযোগস্থলে একটি ইজিবাইক রাস্তার মুখে দাঁড়িয়ে থাকায় তাদের গাড়ির গতি থেমে যায়।

এ সময় বারবার হর্ন দেওয়ার পরও ইজিবাইকটি সরানো হয়নি। পরে গাড়িচালক সাদ্দাম হোসেন নিচে নেমে ইজিবাইক চালককে গাড়ি সরিয়ে নিতে অনুরোধ করলে উভয়ের মধ্যে কথাকাটাকাটি শুরু হয়। পরিস্থিতি শান্ত করতে আবু বক্কর সিদ্দিক গাড়ি থেকে নেমে ইজিবাইক চালককে চলে যেতে অনুরোধ করেন। এ সময় হঠাৎ করে কয়েকজন ব্যক্তি সেখানে জড়ো হয়ে তাদের পথরোধ করে বলে অভিযোগ করা হয়েছে।

এজাহারে উল্লেখ করা হয়, অভিযুক্ত মোস্তাক হোসেন প্রথমে বাদীর সঙ্গে ধস্তাধস্তি শুরু করেন। পরে রিমন হোসেন তাঁর বাম চোখের নিচে ঘুষি মারেন এবং মাশরুল মুহিব নাকের ওপর আঘাত করেন। এক পর্যায়ে অভিযুক্তরা দলবদ্ধভাবে আবু বক্কর সিদ্দিক ও গাড়িচালক সাদ্দাম হোসেনকে কিল, ঘুষি ও লাথি মেরে আহত করেন বলে অভিযোগে বলা হয়েছে।

আরও উল্লেখ করা হয়েছে, ঘটনার সময় গাড়িতে থাকা সংসদ সদস্য আমির হামজার স্ত্রী নিজের পরিচয় দিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করলে অভিযুক্তরা তাকেও অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করেন এবং খুন-জখমের হুমকি দেন।

অভিযোগ অনুযায়ী, কিছুক্ষণ পর পেছনে থাকা সংসদ সদস্য আমির হামজার গাড়ি ঘটনাস্থলে পৌঁছালে অভিযুক্তরা দ্রুত সেখান থেকে চলে যায়। ঘটনার পর আহতরা জীবননগর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসা নেন।

ঘটনার সাক্ষী হিসেবে সংসদ সদস্যের স্ত্রী তামান্না সুলতানা তানি, মনিরা সুলতানা সনি এবং ইমরান হোসেনের নাম উল্লেখ করা হয়েছে। এছাড়া ঘটনাটি অনেক স্থানীয় ব্যক্তি প্রত্যক্ষ করেছেন বলেও দাবি করা হয়েছে।

জীবননগর থানা পুলিশের পরিদর্শক (ওসি) সোলাইমান শেখ বলেন, এ ঘটনায় তিনজনকে আসামি করে একটি মামলা দায়ের করেছেন। আসামিদের গ্রেপ্তারে পুলিশ অভিযান চালাচ্ছে।


প্রতাপপুরে কাবিখা প্রকল্পের ইটের রাস্তা: গ্রামীণ উন্নয়নের নতুন সম্ভাবনা

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
কেশবপুর (যশোর) প্রতিনিধি

কেশবপুর উপজেলার প্রতাপপুর উত্তর পাড়ায় কাবিখা (কাজের বিনিময়ে খাদ্য) প্রকল্পের আওতায় নতুন ইটের রাস্তার নির্মাণকাজ শুরু হওয়ায় এলাকাজুড়ে স্বস্তি ও আনন্দের পরিবেশ সৃষ্টি হয়েছে। দীর্ঘদিন ধরে অবহেলিত এই সড়কটি নির্মিত হলে স্থানীয় মানুষের দুর্ভোগ কমবে এবং যোগাযোগ ব্যবস্থায় নতুন গতি সঞ্চার হবে বলে আশা করছেন এলাকাবাসী।

মঙ্গলবার (২ জুন) মজিবার মাস্টারের বাড়ির দক্ষিণ পাশ থেকে ফিরোজের বাড়ি পর্যন্ত প্রায় ২৩০ ফুট দীর্ঘ ও ৭ ফুট প্রশস্ত ইটের রাস্তার নির্মাণকাজ আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হয়। স্থানীয়দের মতে, বর্ষাকালে কাদামাটি ও জলাবদ্ধতার কারণে এ পথে চলাচল অত্যন্ত কষ্টসাধ্য ছিল। বিশেষ করে শিক্ষার্থী, কৃষক, ব্যবসায়ী ও সাধারণ মানুষের জন্য এটি দীর্ঘদিনের ভোগান্তির কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছিল।

স্থানীয়রা জানান, মাননীয় সংসদ সদস্য অধ্যাপক মোক্তার আলীর উদ্যোগে বাস্তবায়নাধীন এ উন্নয়ন প্রকল্প তাদের দীর্ঘদিনের দাবির বাস্তব প্রতিফলন। রাস্তার কাজ সম্পন্ন হলে এলাকার যোগাযোগ ব্যবস্থা আরও সহজ ও নিরাপদ হবে।

এ সময় উপস্থিত ছিলেন ৩ নম্বর ইউনিয়নের জামায়াতে ইসলামীর মনোনীত চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী মাওলানা আব্দুল মোমিন, ৬ নম্বর ওয়ার্ড সভাপতি মাওলানা হাবিবুর রহমান, ইউনিয়ন সেক্রেটারি মোঃ ইউনুস আলীসহ স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ। এছাড়া উপজেলা যুব বিভাগের সভাপতি মোঃ আয়াতুল্লাহ আলখোমেনি সার্বক্ষণিকভাবে নির্মাণকাজের তদারকি করছেন।

এ বিষয়ে চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী মাওলানা আব্দুল মোমিন বলেন, গ্রামীণ জনপদের উন্নয়নের মূল ভিত্তি হলো যোগাযোগ ব্যবস্থা। প্রতাপপুরের এই গুরুত্বপূর্ণ রাস্তাটি দীর্ঘদিন মানুষের দুর্ভোগের কারণ ছিল। আজ নির্মাণকাজ শুরু হওয়ায় এলাকাবাসীর বহুদিনের প্রত্যাশা পূরণের পথে এগিয়েছে। আমরা চাই উন্নয়নের সুফল সমাজের প্রতিটি মানুষের কাছে পৌঁছে যাক। রাস্তার কাজ যেন সঠিক মান বজায় রেখে দ্রুত সম্পন্ন হয়, সে বিষয়েও আমরা সচেতন রয়েছি।

তিনি আরও বলেন, জনগণের কল্যাণে যেকোনো ইতিবাচক উন্নয়ন কর্মকাণ্ডকে আমরা স্বাগত জানাই। এলাকার সার্বিক উন্নয়ন ও মানুষের জীবনমান উন্নয়নে সবাইকে একসঙ্গে কাজ করতে হবে।

স্থানীয় বাসিন্দাদের মতে, এ ধরনের উন্নয়নমূলক কর্মকাণ্ড গ্রামীণ অর্থনীতি ও সামাজিক জীবনযাত্রায় ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে। প্রতাপপুরে শুরু হওয়া এই রাস্তা নির্মাণ প্রকল্প এখন শুধু একটি অবকাঠামোগত উন্নয়ন নয়, বরং এলাকার মানুষের কাছে নতুন আশা ও সম্ভাবনার প্রতীক হয়ে উঠেছে।

গ্রামীণ উন্নয়নের ধারাবাহিকতায় প্রতাপপুরে শুরু হওয়া এই উদ্যোগ স্থানীয় জনগণের মাঝে ব্যাপক আশাবাদ সৃষ্টি করেছে। এলাকাবাসীর প্রত্যাশা, নির্ধারিত সময়ের মধ্যেই কাজ সম্পন্ন হয়ে তাদের দীর্ঘদিনের ভোগান্তির অবসান ঘটাবে।


বরিশালে ফুটপাত দখলমুক্তে অভিযান, জরিমানা ৪ প্রতিষ্ঠানের

আপডেটেড ২ জুন, ২০২৬ ১৭:৩৫
বরিশাল প্রতিনিধি

বরিশাল নগরীতে অবৈধভাবে ব্যবহার করা ফুটপাত দখলমুক্ত করতে এবং জনসাধারণের চলাচল নির্বিঘ্ন রাখতে ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযান পরিচালনা করা হয়েছে। অভিযানে ফুটপাত দখলের অভিযোগে একটি প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার পাশাপাশি অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে ব্যবসা পরিচালনার দায়ে চারটি প্রতিষ্ঠানকে জরিমানা করা হয়।

মঙ্গলবার (২ জুন) শের-ই-বাংলা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল সংলগ্ন বান্দরোড ও কেডিসি রোড এলাকায় এ অভিযান পরিচালনা করা হয়।

অভিযান সূত্রে জানা যায়, জনসাধারণের চলাচলের জন্য নির্ধারিত ফুটপাত ও প্রবেশপথ অবৈধভাবে দখল করে রাখার অভিযোগে একটি ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়। একই সঙ্গে দখলকৃত ফুটপাত উচ্ছেদ করে পথচারীদের জন্য উন্মুক্ত করা হয়। ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করেন বরিশাল সিটি করপোরেশনের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মো. রায়হান উজ জামান।

এ সময় নগরীর বিভিন্ন এলাকায় পরিচালিত অভিযানে অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে ব্যবসা পরিচালনার অভিযোগে চারটি ব্যবসা প্রতিষ্ঠানকে ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ আইন, ২০০৯ অনুযায়ী অর্থদণ্ড প্রদান করা হয়।

অভিযান চলাকালে মোট পাঁচটি মামলায় ১২ হাজার টাকা জরিমানা আদায় করা হয়েছে। পাশাপাশি ব্যবসা প্রতিষ্ঠানগুলোর মালিকদের স্বাস্থ্যবিধি মেনে ব্যবসা পরিচালনা এবং নগরীর ফুটপাত ও জনসাধারণের চলাচলের স্থান দখল না করার জন্য সতর্ক করা হয়।

সংশ্লিষ্টরা জানান, নগরীর শৃঙ্খলা বজায় রাখা, পথচারীদের নিরাপদ চলাচল নিশ্চিত করা এবং ভোক্তাদের স্বার্থ রক্ষায় এ ধরনের অভিযান ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে।


মায়ের কবরের পাশে চিরনিদ্রায় শায়িত তোফায়েল আহমেদ

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
ইউসুফ হোসেন অনিক, ভোলা

আওয়ামী লীগের বর্ষীয়ান রাজনীতিবিদ ও মুক্তিযুদ্ধের অন্যতম সংগঠক তোফায়েল আহমেদ-কে মঙ্গলবার নিজ জেলা ভোলায় রাষ্ট্রীয় সম্মান 'গার্ড অফ অনার' শেষে পারিবারিক কবরস্থানে চিরনিদ্রায় শায়িত করা হয়েছে। ভোলা সদর উপজেলার কোরালিয়া গ্রামে নিজ বাড়িতে তৃতীয় জানাজা শেষে মায়ের কবরের পাশে তাকে চিরনিদ্রায় শায়িত করা হয়। তার মৃত্যুতে ভোলাসহ দেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে শোকের ছায়া নেমে এসেছে।

‎পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, সোমবার (০১ জুন) বিকেল সাড়ে তিনটার দিকে ঢাকার স্কয়ার হসপিটালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ৮১ বছর বয়সে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন তোফায়েল আহমেদ। দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনে তিনি দেশের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ আন্দোলন-সংগ্রামে নেতৃত্ব দিয়েছেন এবং স্বাধীনতা-উত্তর বাংলাদেশের রাজনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছেন।

‎মঙ্গলবার (০২ জুন) দুপুর পৌনে ১২টার দিকে তার মরদেহ হেলিকপ্টারযোগে ঢাকা থেকে ভোলায় আনা হয়। মরদেহ ভোলায় পৌঁছালে সর্বস্তরের মানুষ শেষ শ্রদ্ধা জানাতে ভিড় করেন। পরে দুপুর আড়াইটায় ভোলা সরকারি বালক উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে দ্বিতীয় জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। জানাজায় বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতা কর্মী, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠনের প্রতিনিধিসহ হাজারো মানুষ অংশ নেন।

‎জানাজা শেষে মরদেহ তার গ্রামের বাড়ি কোরালিয়ায় নেওয়া হয়। সেখানে অনুষ্ঠিত হয় তৃতীয় ও শেষ জানাজা। আত্মীয়-স্বজন, শুভাকাঙ্ক্ষী এবং স্থানীয় জনগণের উপস্থিতিতে জানাজা শেষে মায়ের কবরের পাশে তাকে দাফন করা হয়। এ সময় শোকাহত পরিবেশে উপস্থিত অনেকেই অশ্রুসিক্ত হয়ে পড়েন।

‎বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে তোফায়েল আহমেদের নাম বিশেষ গুরুত্বের সঙ্গে স্মরণ করা হবে। ষাটের দশকের উত্তাল ছাত্ররাজনীতির সময় তিনি আন্দোলন-সংগ্রামের মধ্য দিয়ে নেতৃত্বের গুণাবলি প্রকাশ করেন। বিশেষ করে ১৯৬৯ সালের গণ-অভ্যুত্থান-এ তিনি অন্যতম প্রধান নেতা হিসেবে জাতীয় পর্যায়ে পরিচিতি লাভ করেন। পরবর্তীতে দেশের স্বাধীনতা সংগ্রামে সক্রিয় ভূমিকা পালন করে মুক্তিযুদ্ধের অন্যতম সংগঠক হিসেবে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করেন।

‎স্বাধীনতার পর তিনি বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ-এর একজন প্রভাবশালী নেতা হিসেবে দীর্ঘ সময় রাজনীতিতে সক্রিয় ছিলেন। বিভিন্ন সময়ে তিনি মন্ত্রী, সংসদ সদস্য এবং দলের গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করেন। রাজনৈতিক দূরদর্শিতা, সাংগঠনিক দক্ষতা এবং জনসম্পৃক্ততার কারণে তিনি দেশের রাজনীতিতে একটি স্বতন্ত্র অবস্থান গড়ে তুলেছিলেন।

‎তোফায়েল আহমেদের মৃত্যুতে রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ, বিভিন্ন সামাজিক সংগঠন এবং সর্বস্তরের মানুষ গভীর শোক প্রকাশ করেছেন। তারা তার বিদেহী আত্মার মাগফিরাত কামনা করেন এবং শোকসন্তপ্ত পরিবারের সদস্যদের প্রতি সমবেদনা জানান। তার দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবন, গণতান্ত্রিক আন্দোলনে অবদান এবং মুক্তিযুদ্ধের সংগঠক হিসেবে ভূমিকা দেশের ইতিহাসে স্মরণীয় হয়ে থাকবে বলে মন্তব্য করেছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষক ও সহকর্মীরা।


ভ্যাপসা গরমে হাঁস-ফাঁস, স্বস্তির খুঁজে সুইমিং পুলে মানুষের ভীড়

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
কালিয়াকৈর (গাজীপুর) প্রতিনিধি

গাজীপুরের কালিয়াকৈরে তীব্র রোদ আর ভ্যাপসা গরমে হাঁস-ফাঁস অবস্থায় অতিষ্ঠ জনজীবন। ভ্যাপসা গরমে কিছুটা আরাম ও স্বস্তির খুঁজে বিনোদন পার্কগুলোর সুইমিং পুলে ছুটছেন শিশু, কিশোর-কিশোরী, তরুণ-তরুণী ও বয়স্কসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ। আর এসব সুইমিং পুলে মানুষের উপচে পড়া ভীড়ের সুযোগে অতিরিক্ত অর্থ আদায়ের মাধ্যমে রমরমা ব্যবসা-বাণিজ্য চালাচ্ছেন বিনোদন পার্কের মালিকরা। তবে সুইমিং পুলে অতিরিক্ত ভীড়ে গোসল করলে স্বাস্থ্যঝুঁকি বাড়ার আশঙ্কা চিকিৎসকদের।

এলাকাবাসী, দর্শনার্থী ও বিনোদন কেন্দ্র সূত্রে জানা গেছে, গত কয়েকদিন ধরে গাজীপুরের কালিয়াকৈরে তীব্র রোদ আর ভ্যাপসা গরমে হাঁস-ফাঁস বিরাজ করছে। আর এই ভ্যাপসা গরমে কিছুটা আরাম ও স্বস্তির খুঁজে বিনোদন পার্কগুলোর সুইমিং পুলে ছুটছেন শিশু, কিশোর-কিশোরী, তরুণ-তরুণী ও বয়স্কসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ। ফলে কালিয়াকৈর উপজেলার বাড়ইপাড়া এলাকার নন্দন পার্ক, সিনাবহ এলাকার সোহাগপল্লী, কাঁচারস এলাকার রাঙ্গামাটি ওয়াটারফ্রন্ট, বারেক মার্কেট এলাকার গোলবাগিচা ও শাহিনবাগসহ বিভিন্ন বিনোদন কেন্দ্রে সৃষ্টি হচ্ছে মানুষের ঢল।

এসব বিনোদন কেন্দ্রের কৃত্রিম সুইমিং পুলগুলোতে কয়েকদিন ধরেই সকাল ১০টা থেকে প্রায় বিকেল ৫টা পর্যন্ত গোছলের ব্যবস্থা রয়েছে। আর তীব্র গরমের কারণে সকাল সকাল অনেকেই পরিবার, পরিজন নিয়ে সরাসরি সুইমিং পুলের উদ্দেশ্যে বাসা থেকে বের হন। স্বস্তির খুঁজে কেউ পোশাকসহ, কেউ আবার গামছা, লুঙ্গি পড়ে সুইমিং পুলের পানিতে নেমে পড়ছেন। তারা ঘন্টার পর ঘন্টা মনের আনন্দে গোসল করছেন। কিন্তু দুপুর গড়ানোর সঙ্গে সঙ্গে সুইমিং পুলগুলোতে পানিতে সবচেয়ে বেশি দেখা গেছে দর্শনার্থীদের। অনেক পুলে ধারণ ক্ষমতার তুলনায় কয়েকগুণ বেশি একসঙ্গে গোসল করছেন দর্শনার্থীরা। আর হঠাৎ করে দর্শনার্থীর চাপ বেড়ে যাওয়ায় বিনোদন কেন্দ্রগুলোর ব্যবস্থাপনা পরিচালনায় হিমশিম খাচ্ছে সংশ্লিষ্ট পার্ক কর্তৃপক্ষ।

এদিকে সুইমিং পুলগুলোতে মানুষের উপচে পরা ভীড়ের সুযোগে অতিরিক্ত অর্থ আদায়ের মাধ্যমে রমরমা ব্যবসা-বাণিজ্য চালিয়ে যাচ্ছেন এসব বিনোদন পার্কের মালিকরা। দর্শনার্থীদের অভিযোগ, অধিকাংশ সুইমিং পুলে নির্ধারিত ধারণ ক্ষমতার চেয়ে কয়েক গুণ বেশি মানুষ গোসল করছেন। এতে পানির গুণগতমান নষ্ট হওয়ার পাশাপাশি দুর্ঘটনার ঝুঁকি বাড়ছে। অভিভাবকদের অভিযোগ, সুইমিং পুলগুলোতে লাইফগার্ডের সংখ্যা খুবই কম। সুইমিং পুলে ১৫০ থেকে ২০০ মানুষের জন্য মাত্র ১ বা ২ জন লাইফগার্ড দায়িত্বে থাকছেন। শিশু, কিশোর-কিশোরীরা সাঁতার না জানলেও গভীর পানিতে নেমে যাচ্ছে। এতে যে কোনো সময় বড় দুর্ঘটনা ঘটতে পারে বলেও আশঙ্কা তাদের।

অপরদিকে অতিরিক্ত ভীড়ের পুলে গোসল করলে চর্মরোগ, ফাঙ্গাস ইনফেকশন ও চোখের কনজাংটিভাইটিস হওয়ার আশঙ্কা থাকে। এছাড়াও অনেকে পানিতে প্রস্রাব, থুথু ফেলেন, যা সংক্রমণের ঝুঁকি আরো বাড়ায় বলেও জানিয়েছেন চিকিৎসকরা।

স্থানীয় বরাব এলাকার বাসিন্দা রনি আহম্মেদ বলেন, তীব্র তাপদাহে ঘরে থাকাই মশকিল হয়ে দাড়িয়েছে। বৈদ্যুতিক পাখা চললেও গরম লাগে, তারপরেও ঘরে থাকা দায়। তাই পরিবার-পরিজন নিয়ে সুইমিং পুলে আসছি। সুইমিং পুলে পানিতে ১ থেকে দেড় ঘন্টা থাকার পর একটু স্বস্তি লাগছে। বড়ইবাড়ী এলাকার কয়েকজন বাসিন্দা বলেন, ভ্যাপসা গরমে বাচ্চারাও কান্নাকাটি করতেছিল। তাই ১৫০ টাকা করে টিকিট কেটে সুইমিং পুলে নিয়ে আসলাম। এখানে গোসলের পর বাচ্চারাসহ আমরাও একটু স্বস্তি পাইলাম।

রায়হান হোসেন জানান, অতিরিক্ত গরমের কারণে সুইমিং পুলগুলোতে হঠাৎ করে উপচে পড়া মানুষের ভীড় সৃষ্টি হচ্ছে। আর সুযোগে অতিরিক্ত অর্থ আদায়ের মাধ্যমে রমরমা ব্যবসা চালাচ্ছেন বিনোদন পার্কের মালিকরা। তবে সুইমিং পুলে অতিরিক্ত ভীড় থাকায় নিরাপত্তা নিয়ে কিছুটা উদ্বেগ থাকায় সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষদের নজরদারি বাড়ানোর দাবী জানিয়েছেন দর্শনার্থীরা।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক রিসোর্টের কর্মী জানান, হঠাৎ গরমের কারণে এখন সুইমিং পুলে অতিরিক্ত মানুষ আসছে। আমরা নিয়মিত পুলের পানি নিয়মিত পরিষ্কার ও জীবাণুমুক্ত করার ব্যবস্থা গ্রহণ করেছি। কিন্তু আমাদের লাইফগার্ড ও কর্মী সংখ্যা বাড়ানোর সুযোগ নাই। মাইকিং করে সতর্ক করি, কিন্তু কেউ শোনে না। তবে অতিরিক্ত অর্থ আদায়ের অভিযোগে বিষয়ে কথা বলতে নারাজ এসব বিনোদন কেন্দ্রের সংশ্লিষ্টরা।

উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডা. সাদিয়া তাসনিম জানান, ভ্যাপসা গরমে আর হিটস্ট্রোক এড়াতে প্রতি ২০ মিনিট পরপর ছায়ায় বসে বিশুদ্ধ পানি ও স্যালাইন খেতে হবে। শিশু ও বয়স্কদের প্রতি বিশেষ খেয়াল রাখার পরামর্শ দেন এই কর্মকর্তা। তিনি আরো বলেন অতিরিক্ত ভীড়যুক্ত সুইমিং পুলে গোসল করলে চর্মরোগ, ফাঙ্গাল সংক্রমণ ও চোখের বিভিন্ন রোগের ঝুঁকি বাড়ায়। তাই স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলতে হবে। গোসলের আগে ও পড়ে সাবান ব্যবহার এবং পর্যাপ্ত বিশুদ্ধ পানি পান করা জরুরি। তবে সুইমিং পুলের পানি যদি ক্লোরিনযুক্ত না থাকে, সেক্ষেত্রে সেখানে না নামাই ভালো।

এব্যাপারে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) এ এইচ এম ফখরুল হোসাইন জানান, হঠাৎ ভ্যাপসা গরমে সুইমিং পুলগুলোতে দর্শনার্থীদের ভীড় লক্ষ্য করা যাচ্ছে। কিন্তু বিনোদন কেন্দ্রগুলোতে দর্শনার্থীদের নিরাপত্তা, স্বাস্থ্যবিধি ও শৃঙ্খলা বজায় রাখতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। তবে নিরাপত্তা ব্যবস্থার ঘাটতি হলে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।


ফরিদপুরে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের ৪৫’তম শাহাদাৎ বার্ষিকী উপলক্ষে দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
মাহবুব পিয়াল, ফরিদপুর

আধুনিক বাংলাদেশের রূপকার, বাঙালির রাখাল রাজা, মহান স্বাধীনতার ঘোষক শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের ৪৫ তম শাহাদাৎ বার্ষিকী উপলক্ষে ফরিদপুরে এক বিশাল বড় পরিসরে মিলাদ ও দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়েছে। ফরিদপুর -৩ সদর আসনের সংসদ সদস্য চৌধুরী নায়াব ইউসুফ আহমেদের আয়োজনে দোয়া অনুষ্টানে বিভিন্ন শ্রেনী পেশার প্রায় দশ সহস্রাধিক মানুষ অংশ নেয়।পরে তাদের মাঝে দুপুরে উন্নতমানের খাবার পরিবেশন করা হয়।

মঙ্গলবার (০২ জুন) দুপুর ১টায় ফরিদপুর শহরের কমলাপুর হালিমা গার্লস স্কুল এন্ড কলেজ মাঠে এ দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়। দোয়া ও মোনাজাত পরিচালনা করেন ফরিদপুরের ঐতিহ্যবাহী পুরাতন কোর্ট জামে মসজিদের ইমাম ও খতিব হাফেজ মাওলানা মুফতি মো:ইমরান হুসাইন সিদ্দিকী।

দোয়া মাহফিলের ফরিদপুর-৩ সদর আসনের সংসদ সদস্য চৌধুরী নায়াব ইউসুফ আহমেদ। এ সময় ফরিদপুর জেলা পরিষদের প্রশাসক আফজাল হোসেন খান পলাশ, ফরিদপুরের পুলিশ সুপার মোঃ নজরুল ইসলাম, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক সোহরাব হোসেন, অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট মিন্টু বিশ্বাস, বিশিষ্ট শিল্পপতি ও সমাজসেবক চৌধুরী ফারিয়া ইউসুফ, ফরিদপুর জেলা বিএনপির সদস্য সচিব একে কিবরিয়া স্বপন, ফরিদপুর মহানগর বিএনপির আহবায়ক এএফএম কাইয়ুম জঙ্গি, মহানগর বিএনপির সিনিয়র যুগ্ন আহবায়ক এবি সিদ্দিকী মিতুল, তানভীর চৌধুরী রুবেল, কোতয়ালী থানা বিএনপির সেক্রেটারি চৌধুরী নাজমুল হাসান রঞ্জন, মহানগর বিএনপির সদস্য সচিব গোলাম মোস্তফা মিরাজ, মহানগর যুব দলের সভাপতি বেনজির আহমেদ তাবরীজ, মহানগর যুবদলের সাধারণ সম্পাদক রেজওয়ান বিশ্বাস তরুণ,জেলা কৃষক দলের সভাপতি রেজাউল ইসলাম,ফরিদপুর প্রেসক্লাবের সভাপতি কবিরুল ইসলাম সিদ্দিকী,সাধারন সম্পাদক মাহবুব হোসেন পিয়াল উপস্থিত ছিলেন।

অনুষ্ঠানে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান, দেশনেত্রী মরহুম বেগম খালেদা জিয়া, আরাফাত রহমান কোকো, ফরিদপুরের সাবেক এমপি ও মন্ত্রী মরহুম চৌধুরী কামাল ইবনে ইউসুফিএর রুহের মাগফেরাত কামনায় বিশেষ দোয়া ও মোনাজাত করা হয়।


banner close