জনসমাবেশে যোগ দিতে রংপুরে পৌঁছেছেন প্রধানমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনা। বুধবার দুপুর ১ টা ১৩ মিনিটে প্রধানমন্ত্রীকে বহনকারী হেলিকপ্টারটি রংপুর সেনানিবাস হ্যালিপ্যাডে অবতরণ করে। রংপুর জেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম আহ্বায়ক ও স্বেচ্ছাসেবক উপকমিটির আহ্বায়ক অ্যাডভোকেট আনোয়ারুল ইসলাম এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
প্রধানমন্ত্রীর সমাবেশ ঘিরে কঠোর অবস্থানে রয়েছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। সবাইকে তল্লাশি করে সমাবেশস্থলে ঢুকতে দেয়া হচ্ছে। সমাবেশ মঞ্চের পেছনে পুলিশ, র্যাবসহ আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর বাড়তি সদস্য মোতায়েন রয়েছে।
এর আগে, দুপুর সোয়া ১২টায় জাতীয় সংগীত পরিবেশনের মধ্য দিয়ে জনসভার কার্যক্রম শুরু হয়। পরে পবিত্র কোরআন থেকে তেলাওয়াত ও গীতাপাঠ করা হয়। বিকেল ৩টায় জনসভার মঞ্চে উঠবেন প্রধানমন্ত্রী।
রংপুরের ঐতিহাসিক জিলা স্কুল মাঠ নেতা-কর্মীদের উপস্থিতিতে কানায় কানায় ভরে গেছে। মাঠ ছাড়িয়ে প্রধান সড়কের দুই দিকে অবস্থান নিয়েছেন বিভাগের বিভিন্ন জেলা থেকে আসা নেতা-কর্মীরা। নানা রঙের পোশাক আর বাদ্যযন্ত্রের তালে তালে গান গেয়ে উচ্ছ্বাস প্রকাশ করছেন তারা।
জনসভায় প্রধান বক্তা হিসেবে উপস্থিত আছেন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক, সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের। এ ছাড়া আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য জাহাঙ্গীর কবির নানক, প্রেসিডিয়াম সদস্য ও রাজশাহী সিটি করপোরেশনের মেয়র এএইচএম খায়রুজ্জামান লিটন, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ও তথ্যমন্ত্রী ড. হাছান মাহমুদসহ অন্যরা উপস্থিত আছেন।
খুলনা উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (কেডিএ) চেয়ারম্যান হিসেবে মঙ্গলবার (১৬ জুন) আনুষ্ঠানিকভাবে দায়িত্ব গ্রহণ করেছেন খুলনা মহানগর বিএনপির সভাপতি অ্যাডভোকেট এস এম শফিকুল আলম মনা। দায়িত্ব গ্রহণের পর তিনি খুলনাকে একটি আধুনিক, পরিকল্পিত, বাসযোগ্য ও দৃষ্টিনন্দন নগরী হিসেবে গড়ে তোলার দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।
তিনি বলেন, ‘খুলনাকে এমনভাবে সাজানো হবে যেন এ শহরের মানুষ শান্তি ও স্বস্তির সঙ্গে বসবাস করতে পারে এবং একটি সুস্থ পরিবেশে বুক ভরে নিশ্বাস নিতে পারে।’
নবনিযুক্ত চেয়ারম্যান আরও জানান, নগর উন্নয়ন, পরিবেশ সংরক্ষণ, আধুনিক অবকাঠামো নির্মাণ এবং জনকল্যাণমূলক পরিকল্পনার মাধ্যমে খুলনাকে একটি মডেল নগরীতে পরিণত করার লক্ষ্যে তিনি কাজ করবেন।
তিনি বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)-এর চেয়ারম্যান ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান প্রদত্ত এ গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব যথাযথভাবে পালনের জন্য খুলনাবাসীর আন্তরিক সহযোগিতা, মূল্যবান পরামর্শ ও দোয়া কামনা করেন।
সাতক্ষীরায় হারিয়ে যাওয়া ২৪টি মোবাইল ফোন ও বিকাশের মাধ্যমে প্রতারিত হওয়া ৩৮ হাজার টাকা প্রকৃত মালিকদের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। সাতক্ষীরা জেলা পুলিশের সম্মেলন কক্ষে গত সোমবার (১৫ জুন) সকালে এসব ফোন ও টাকা হস্তান্তর করেন পুলিশ সুপার আবু সালেহ মো. আশরাফুল আলম।
এ সময় পুলিশ সুপার বলেন, ‘সাতক্ষীরা সাইবার ক্রাইম ইনভেস্টিগেশন সেলের চৌকস টিম চলতি বছরের জুন মাসের আগে হারিয়ে যাওয়া ২৪টি বিভিন্ন ব্র্যান্ডের মোবাইল ফোন তথ্য প্রযুক্তির সাহায্যে দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে উদ্ধার করে। এ ছাড়া বিকাশের মাধ্যমে প্রতারিত হওয়া ৩৮ হাজার টাকা উদ্ধার করে ৩ জন ভুক্তভোগীর হাতে প্রদান করা হয়।’
পুলিশ সুপার আরও বলেন, ‘সাতক্ষীরায় সাইবার ক্রাইম ইনভেস্টিগেশন সেল চালু হওয়ার পর থেকে খোয়া যাওয়া ১ হাজার ৭০৩টি মোবাইল ফোন প্রকৃত মালিকদের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। এ ছাড়া প্রতারিত হওয়া প্রায় অর্ধকোটি টাকা ভুক্তভোগীদের কাছে ফেরত দেওয়া হয়েছে।’
মোবাইল ফোন হস্তান্তর অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আমিনূর রহমান, মিথুন সরকার প্রমুখ।
গাজীপুরের টঙ্গীতে ১০ হাজার পিস ইয়াবা ট্যাবলেট ও নগদ ৫৮ লাখ টাকাসহ দুই মাদক কারবারিকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। গত সোমবার (১৫ জুন) রাত ৯টার দিকে টঙ্গী আউচপাড়া আক্কেল আলী সড়কের বাবর গাজীর বাড়িতে অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়।
গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন, নরসিংদী জেলার বাধবদী থানার চর দিঘলদী গ্রামের মৃত আব্দুল মতিনের ছেলে আনোয়ার হোসেন (৩৬) ও নরসিংদী জেলার রায়পুরা থানার মৃত আমির হোসেনের ছেলে শাওন (২৬)। এ সময় তাদের হেফাজত থেকে ১০ হাজার পিস ইয়াবা ট্যাবলেট, নগদ ৫৮ লাখ টাকা, ও মোবাইল উদ্ধার করা হয়।
পুলিশ জানায়, ওই এলাকার বাবর গাজীর বাড়িতে বিপুল পরিমাণ ইয়াবা ট্যাবলেট ক্রয়-বিক্রয় হচ্ছে। এমন গোপন সংবাদের ভিত্তিতে রাত ৯টার দিকে টঙ্গী পশ্চিম থানার এসআই এসএম মেহেদী হাসানের নেতৃত্বে একদল পুলিশ ওই বাড়িতে অভিযান চালিয়ে আনোয়ার ও শাওনকে গ্রেপ্তার করে।
এ ব্যাপারে টঙ্গী পশ্চিম থানার ওসি মো. আরিফুর রহমান বলেন, ‘এ ঘটনায় থানায় আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।’
মৌলভীবাজারের কুলাউড়ায় অবৈধ দখল ও যানজট নিরসনে উচ্ছেদ অভিযান পরিচালনা করেছে প্রশাসন। অভিযানে অবৈধভাবে স্থাপিত ১২টি দোকান উচ্ছেদ করা হয়। একই সঙ্গে অবৈধ পার্কিংয়ের দায়ে ৩টি মামলায় ২ হাজার টাকা জরিমানা আদায় করা হয়েছে।
গত সোমবার (১৫ জুন) কুলাউড়া থানা পুলিশ ও পৌরসভার সহযোগিতায় এ অভিযান পরিচালনা করেন উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মো. আনিসুল ইসলাম।
অভিযানকালে রেলস্টেশন রোডের বিভিন্ন স্থানে সড়ক ও সরকারি জায়গা দখল করে গড়ে তোলা অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ করা হয়। পাশাপাশি সড়কে অবৈধভাবে যানবাহন পার্কিং করে জনদুর্ভোগ সৃষ্টি করার অভিযোগে ৩টি মামলা দায়ের করে মোট ২ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়।
কুলাউড়া পৌরসভার প্রশাসক ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সানজিদা আক্তার বলেন, ‘অবৈধ স্থাপনা সরিয়ে নিতে কয়েকদিন থেকেই মাইকিংয়ের মাধ্যমে সতর্ক করা হয়েছিল। নির্দেশনা না মানায় জনস্বার্থে উচ্ছেদ অভিযান পরিচালনা করা হয়েছে। সড়ক ও সরকারি জায়গা দখলমুক্ত রাখতে এ ধরনের অভিযান ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে।’
জামালপুরের দেওয়ানগঞ্জ উপজেলার পার রামরামপুর ইউনিয়নের মধ্যেরচর সীমান্তে এক যুবককে পুশইনের চেষ্টা করেছে ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী (বিএসএফ)। তবে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) ও স্থানীয় জনতার বাধায় সেই চেষ্টা ব্যর্থ হয়েছে। বর্তমানে ওই যুবক আন্তর্জাতিক শূন্যরেখায় অবস্থান করছেন।
গত সোমবার (১৫ জুন) দিবাগত রাতে উপজেলার পার রামরামপুর ইউনিয়নের ঝাউডাংগা বিওপির ১০৭৮ নম্বর পিলারের কাছে এই ঘটনা ঘটে।
সীমান্তবর্তী এলাকার বাসিন্দা ও বিজিবি সূত্রে জানা গেছে, গত সোমবার (১৫ জুন) রাতে মধ্যেরচর এলাকায় আন্তর্জাতিক শূন্যরেখা অতিক্রম করে আনুমানিক ৩৫ বছর বয়সি এক ব্যক্তি বাংলাদেশে প্রবেশের চেষ্টা চালান। বিষয়টি টের পেয়ে বিজিবি সদস্য এবং স্থানীয়রা দ্রুত সেখানে উপস্থিত হয়ে তাকে আটকে দেন এবং জিজ্ঞাসাবাদ করেন।
জিজ্ঞাসাবাদে ওই ব্যক্তি প্রথমে নিজেকে বাংলাদেশি বলে দাবি করলেও নিজের কোনো সঠিক নাম-ঠিকানা বা পরিচয় দিতে পারেননি। পরে বিজিবি ও স্থানীয়রা তাকে পুনরায় শূন্যরেখায় পাঠিয়ে দেয়।
স্থানীয় বাসিন্দা মকবুল হোসেন ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, ‘এক ব্যক্তি বাংলাদেশে ঢোকার চেষ্টা করার সময় বিজিবি ও আমরা টের পেয়ে বাধা দিই। সে প্রথমে নিজেকে বাংলাদেশি দাবি করলেও পরে কোনো সঠিক ঠিকানা বলতে পারেনি। যার কারণে তাকে সীমান্ত পার হতে না দিয়ে ফিরিয়ে দেওয়া হয়েছে।’
এ বিষয়ে জামালপুর ৩৫ বিজিবির অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল হাসানুর রহমান জানান, বিএসএফ এখন কৌশল বদলে দুর্গম ও পাহাড়ি অঞ্চলগুলো দিয়ে বাংলাদেশে পুশইনের চেষ্টা চালাচ্ছে।
এরই ধারাবাহিকতায় রাতে ওই এলাকায় একজনকে পুশইনের চেষ্টা করেছিল বিএসএফ। তবে বিজিবি ও স্থানীয় জনগণের কড়া নজরদারি ও বাধার মুখে তা সফল হয়নি। অনুপ্রবেশের চেষ্টা চালানো ওই ব্যক্তি বর্তমানে আন্তর্জাতিক শূন্যরেখায় অবস্থান করছেন এবং সীমান্তে বিজিবির সর্তক নজরদারি বজায় রয়েছে।
একসময় দারিদ্র্য ও বেকারত্বে জর্জরিত ছিল সিরাজগঞ্জের তাড়াশ উপজেলার নওগাঁ ইউনিয়নের মহেশরৌহালী গ্রাম। জীবিকার সন্ধানে অনেককেই অন্যত্র ছুটতে হতো। তবে সময়ের ব্যবধানে সেই গ্রামই আজ দেশের হাঁসশিল্পের এক সফল মডেলে পরিণত হয়েছে। এখন ‘হাঁসের গ্রাম’ হিসেবে পরিচিত মহেশরৌহালী থেকে প্রতিদিন লাখ লাখ হাঁসের বাচ্চা দেশের বিভিন্ন জেলায় সরবরাহ করা হচ্ছে। এই শিল্প ঘিরেই বদলে গেছে গ্রামের অর্থনীতি ও মানুষের জীবনযাত্রা।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ১৯৯৫ সালে গ্রামের বাসিন্দা শাহ আলম একটি হারিকেন ও ধানের তুষ ব্যবহার করে কৃত্রিম উপায়ে হাঁসের ডিম ফুটানোর পরীক্ষামূলক উদ্যোগ নেন। শুরুতে অনেকেই বিষয়টিকে অবিশ্বাসের চোখে দেখলেও দীর্ঘ গবেষণা, পরিশ্রম ও অধ্যবসায়ের মাধ্যমে তিনি সফলতা অর্জন করেন। তার সেই উদ্যোগই পরবর্তীতে পুরো গ্রামের অর্থনৈতিক রূপান্তরের ভিত্তি তৈরি করে।
প্রযুক্তির উন্নয়নের সঙ্গে সঙ্গে হারিকেন ও তুষের জায়গা দখল করেছে আধুনিক বৈদ্যুতিক ইনকিউবেটর। বর্তমানে মহেশরৌহালী গ্রামে ছোট-বড় মিলিয়ে প্রায় ১২০টি হ্যাচারি গড়ে উঠেছে। খামারিদের দাবি, এসব হ্যাচারিতে প্রতিদিন ১০ থেকে ১২ লাখ হাঁসের বাচ্চা উৎপাদিত হচ্ছে।
গ্রামের প্রায় প্রতিটি পরিবার এখন কোনো না কোনোভাবে হাঁসের বাচ্চা উৎপাদন, পরিচর্যা ও বিপণনের সঙ্গে জড়িত। পুরুষদের পাশাপাশি নারীরাও ডিম সংগ্রহ, বাছাই, ইনকিউবেটর পরিচালনা, বাচ্চা পরিচর্যা এবং বাজারজাতকরণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছেন। ফলে এলাকায় সৃষ্টি হয়েছে ব্যাপক কর্মসংস্থান।
খামারিদের তথ্য অনুযায়ী, উৎপাদনকারীরা সাধারণত একদিন বয়সি হাঁসের বাচ্চা প্রতি পিস ৩৫-৪০ টাকায় বড় খামারিদের কাছে বিক্রি করেন। তবে খুচরা বাজারে একই বাচ্চার দাম ৮০-৯০ টাকা পর্যন্ত হয়ে থাকে।
ডিম উৎপাদনের জন্য জনপ্রিয় খাকি ক্যাম্পবেল ও ইন্ডিয়ান রানার জাতের হাঁসের বাচ্চার চাহিদা বেশি থাকায় এসব জাতের দাম তুলনামূলক বেশি। এ ছাড়া বর্ষাকাল ও শীত মৌসুমের শুরুতে চাহিদা বাড়ার কারণে বাজারে দামও কিছুটা বৃদ্ধি পায়।
স্থানীয় বাসিন্দা আব্দুস সালাম বলেন, ‘একসময় গ্রামের মানুষের নুন আনতে পান্তা ফুরাত। এখন প্রায় প্রতিটি পরিবার হাঁসের বাচ্চা উৎপাদনের ব্যবসার সঙ্গে জড়িত। সকাল থেকে রাত পর্যন্ত সবাই উৎপাদন ও সরবরাহের কাজে ব্যস্ত থাকে।’
উদ্যোক্তা শাহ আলম বলেন, ‘শুরুটা ছিল খুবই কঠিন। মানুষ বিশ্বাসই করত না যে, কৃত্রিম উপায়ে হাঁসের ডিম ফুটিয়ে বাণিজ্যিকভাবে সফল হওয়া সম্ভব। কিন্তু চেষ্টা ও পরিশ্রমের ফলেই আজ এই অবস্থানে পৌঁছানো গেছে।
এই গ্রামের উৎপাদিত খাকি ক্যাম্পবেল, বেইজিং ও ইন্ডিয়ান রানার জাতের হাঁসের বাচ্চার ব্যাপক চাহিদা রয়েছে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে। প্রতিদিন কিশোরগঞ্জের হাওরাঞ্চল, নেত্রকোনা, সুনামগঞ্জ, সিলেট, বরিশাল, কুষ্টিয়া ও ঝিনাইদহসহ বিভিন্ন জেলা থেকে পাইকাররা এখানে আসেন। বিশেষ খাঁচায় প্যাকেটজাত করে দেশের প্রায় সব জেলায় সরবরাহ করা হয় এসব হাঁসের বাচ্চা।’
সফল উদ্যোক্তাদের একজন জামাল উদ্দিন জানান, মাত্র ৫০ হাজার টাকা বিনিয়োগ করে ছোট একটি ইনকিউবেটর দিয়ে ব্যবসা শুরু করেছিলেন। বর্তমানে প্রায় ৫ লাখ টাকা বিনিয়োগ করে দুটি বড় ইনকিউবেটর পরিচালনা করছেন। মাসে প্রায় ৩০ হাজার হাঁসের বাচ্চা উৎপাদন করে তিনি সাড়ে তিন লাখ টাকারও বেশি আয় করছেন।
আরেক উদ্যোক্তা আলম ফকির বলেন, ‘একসঙ্গে ২০-২৫ হাজার ডিম ইনকিউবেটরে রাখা হয়। পাবনা, নাটোর, রাজশাহী, ফরিদপুর ও সিরাজগঞ্জের বিভিন্ন এলাকা থেকে ডিম সংগ্রহ করে বাণিজ্যিকভাবে হাঁসের বাচ্চা উৎপাদন করছি।’
জেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. এ.কে.এম. আনোয়ারুল হক বলেন, ‘মহেশরৌহালীসহ উপজেলার বিভিন্ন গ্রামে প্রায় ৬০০ খামার গড়ে উঠেছে। অধিকাংশ মানুষ এখন হাঁসের বাচ্চা উৎপাদনের সঙ্গে সম্পৃক্ত। প্রাণিসম্পদ বিভাগ নিয়মিত প্রশিক্ষণ, প্রযুক্তিগত পরামর্শ এবং ভ্যাকসিনসহ বিভিন্ন সহায়তা প্রদান করছে।’ তিনি বলেন, ‘স্বল্পসুদে ঋণ ও সরকারি পৃষ্ঠপোষকতা আরও বাড়ানো গেলে এই শিল্পের সম্প্রসারণ ঘটবে এবং জাতীয় অর্থনীতিতেও গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখা সম্ভব হবে।’
একজন মানুষের উদ্ভাবনী চিন্তা, সাহস ও নিরলস পরিশ্রম কীভাবে একটি গ্রামের ভাগ্য বদলে দিতে পারে, তার উজ্জ্বল উদাহরণ মহেশরৌহালী। হারিকেনের ক্ষীণ আলো আর ধানের তুষের উষ্ণতায় শুরু হওয়া সেই যাত্রা আজ লাখ লাখ হাঁসের বাচ্চা উৎপাদনের বিশাল শিল্পে রূপ নিয়েছে। কর্মসংস্থান, অর্থনৈতিক স্বচ্ছলতা এবং নতুন উদ্যোক্তা তৈরির এক অনন্য মডেল হিসেবে দেশের সামনে নতুন দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে সিরাজগঞ্জের এই গ্রাম।
বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয় (বাউবি) ক্যাম্পাসে দীর্ঘমেয়াদি ‘বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি ২০২৬-২০৩০’ সালের আনুষ্ঠানিক শুভ উদ্বোধন করা হয়েছে। মঙ্গলবার (১৬ জুন) সকাল দুপুরে বিশ্ববিদ্যালয় চত্বরে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে কর্মসূচির উদ্বোধন করেন গাজীপুর-২ সংসদীয় আসনের সংসদ সদস্য এম. মঞ্জুরুল করিম রনি।
এ সময় একটি নিম গাছের চারা রোপণ করে এ কর্মসূচির উদ্বোধন করেন তিনি। বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ ছিদ্দিকুর রহমান খান একটি বারোমাসি আমড়া গাছের চারা রোপণ করেন। এ ছাড়াও বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রোউপাচার্য অধ্যাপক ড. আনিসুর রহমান এবং প্রোউপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. সিরাজুল ইসলামও একটি করে গাছের চারা রোপণ করেন।
উদ্বোধন শেষে দুপুর ১টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় কনফারেন্স হলে ‘প্রতিটি চারা হোক গ্রিন ক্যাম্পাসের নতুন স্বপ্নের সূচনা’ স্লোগানকে সামনে রেখে এক আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন এম. মঞ্জুরুল করিম রনি। তিনি বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রীর পাঁচ বছরে ২৫ কোটি বৃক্ষরোপণের মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়নে সবাইকে নিয়ে কাজ করা হচ্ছে।’
সেই লক্ষ্যেই বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের মূল ক্যাম্পাসে বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির উদ্বোধন করা হয়েছে এবং একই সঙ্গে বিশ্ববিদ্যালয়ের ১২টি আঞ্চলিক কেন্দ্র ও ৬৩ টি উপআঞ্চলিক কেন্দ্রে একযোগে এ কর্মসূচি পরিচালিত হচ্ছে। তিনি বলেন, ‘পরিবেশ সুরক্ষা ও প্রধানমন্ত্রীর ঘোষিত ‘গ্রিন ক্যাম্পাস’ গড়ার আহ্বান বাস্তবায়নে এ উদ্যোগ আগামী পাঁচ বছর অব্যাহত থাকবে।’ এ সময় তিনি কর্মসূচিতে অংশগ্রহণকারী সকলকে ধন্যবাদ জানান এবং বৃক্ষরোপণ কার্যক্রমকে একটি চলমান সামাজিক আন্দোলনে পরিণত করার আহ্বান জানান।
আলোচনা অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ ছিদ্দিকুর রহমান খান।
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রোউপাচার্য অধ্যাপক ড. আনিসুর রহমান এবং প্রোউপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. সিরাজুল ইসলাম। অনুষ্ঠানে উপাচার্যের সহধর্মিণী ড. আলো আরজুমান বানু পরিবেশ দিবসের ওপর সময়োপযোগী একটি কবিতা আবৃত্তি করে উপস্থিত দর্শক ও শ্রোতাদের মনোযোগ আকর্ষণ করেন। স্বাগত বক্তব্য রাখেন বৃক্ষরোপণ কমিটির আহ্বায়ক এবং কৃষি ও পল্লী উন্নয়ন স্কুলের ডিন। আলোচনা অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন বাউবির রেজিস্ট্রার (ভারপ্রাপ্ত) টি.এম আহমেদ হুসেইন।
প্রেমের কোনো সীমানা নেই, নেই ভাষা, সংস্কৃতি কিংবা ভৌগোলিক দূরত্বের বাধা। ভালোবাসার এমনই এক ব্যতিক্রমী দৃষ্টান্ত স্থাপিত হয়েছে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নবীনগরে। প্রেমিকার টানে সুদূর চীন থেকে নবীনগরে ছুটে এসেছেন এক চীনা যুবক।
জানা গেছে, নবীনগর উপজেলার জিনদপুর ইউনিয়নের কাঠালিয়া গ্রামের মরহুম রিয়াজ উদ্দিনের মেয়ে স্বপ্না আক্তারের(২০)সঙ্গে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পরিচয় হয় চীনের সিচুয়ান প্রদেশের লুজোউ শহরের লুজিয়ান এলাকার বাসিন্দা জিয়াঐলির। মাত্র তিন মাসের পরিচয়ে তাদের মধ্যে গভীর প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে। ভাষা ও সংস্কৃতির ভিন্নতা থাকলেও ভালোবাসার টানে একে অপরের কাছাকাছি চলে আসেন তারা।
গত সোমবার (১৫ জুন) রাতে প্রেমিকা স্বপ্নার টানে বাংলাদেশে আসেন জিয়াঐলি। বর্তমানে স্বপ্না নবীনগরের নীলনগর এলাকায় তার মামার বাড়িতে অবস্থান করছেন। সেখানে পৌঁছান চীনা যুবকও। বিষয়টি জানাজানি হলে এলাকায় ব্যাপক কৌতূহলের সৃষ্টি হয়। শত শত মানুষ ওই বাড়িতে ভিড় জমিয়ে চীনা যুবককে একনজর দেখতে আসছেন। ইতোমধ্যে তাদের ছবি ও ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়েছে।
স্বপ্না আক্তার ও তার পরিবারের সদস্যরা জানান, জিয়াঐলি স্বপ্নাকে বিয়ে করার উদ্দেশ্যেই বাংলাদেশে এসেছেন। প্রয়োজনীয় আইনি প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে তারা ব্রাহ্মণবাড়িয়া আদালতে যাবেন। ইসলাম ধর্ম গ্রহণের পর মুসলিম রীতি অনুযায়ী তাদের বিয়ে সম্পন্ন হবে বলেও জানান তারা।
স্বপ্না আক্তার বলেন, “প্রায় তিন মাস ধরে আমাদের যোগাযোগ চলছে। গত ২ জুন তিনি বাংলাদেশে এসে ঢাকার উত্তরায় অবস্থান করেন। পরে আমার সঙ্গে যোগাযোগ করে নবীনগরে আসার ইচ্ছা প্রকাশ করেন। সোমবার আমি তাকে আলীয়াবাদ গোলচত্বর থেকে নিয়ে আসি। আমার পরিবারের আর্থিক ও পারিবারিক পরিস্থিতি সম্পর্কে জানালে তিনি তাতে কোনো আপত্তি করেননি। পরে পরিবারের সদস্যদের সম্মতিতে বিয়ের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।”
স্থানীয়দের মধ্যে প্রথমদিকে জিয়াঐলির পরিচয় নিয়ে কিছু সংশয় দেখা দিলেও তিনি তার চীনা পাসপোর্ট ও অন্যান্য প্রয়োজনীয় কাগজপত্র প্রদর্শন করেন। এরপর বিষয়টি নিয়ে মানুষের আগ্রহ আরও বেড়ে যায়।
স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, প্রেমের টানে বিদেশ থেকে এভাবে কোনো যুবকের নবীনগরে আসার ঘটনা এই প্রথম। সামাজিক, সাংস্কৃতিক ও ভৌগোলিক সীমারেখা অতিক্রম করে দুই দেশের দুই তরুণ-তরুণীর এই ভালোবাসার গল্প এলাকায় ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে।
সব ধরনের আইনি আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন করে মুসলিম রীতি অনুযায়ী তাদের বিয়ের কার্যক্রম সম্পন্ন হওয়ার কথা রয়েছে বলে পরিবার সূত্রে জানা গেছে।
ময়মনসিংহের ত্রিশালে এক ভয়াবহ বজ্রপাতের ঘটনায় একটি বসতবাড়ির বৈদ্যুতিক সামগ্রী পুড়ে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। তবে অলৌকিকভাবে প্রাণে বেঁচে গেছেন ঘরে থাকা একই পরিবারের ছয় সদস্য।
মঙ্গলবার (১৬ জুন) সকাল সাড়ে ছয়টার দিকে ত্রিশাল পৌরসভার ৫ নম্বর ওয়ার্ডের ত্রিশাল ভাটিপাড়া এলাকার আলতু সরদার বাড়িতে এই দুর্ঘটনা ঘটে। স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, সকালে বৃষ্টির সাথে হঠাৎ বিকট শব্দে আতাউর রহমান সুরুজ মিয়ার একতলা ফাউন্ডেশন ঘরের ছাদের ওপর একটি বজ্রপাত পতিত হয়। বজ্রপাতের তীব্র আঘাতে মুহূর্তের মধ্যে ঘরের ভেতরের বৈদ্যুতিক মিটার, একটি ফ্রিজ এবং চারটি সিলিং ফ্যান পুড়ে নষ্ট হয়ে যায়।
এছাড়া দেয়ালের ভেতরে থাকা ওয়্যারিংয়ের যাবতীয় তার পুড়ে ছিটকে পড়ে এবং ছাদের ওপর থাকা কাপড়-চোপড় পুড়ে ভস্মীভূত হয়। ভুক্তভোগী আতাউর রহমান সুরুজ বর্তমানে ৫ নং ওয়ার্ড বিএনপির সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।
সুরুজ মিয়া আতঙ্কের মুহূর্ত বর্ণনা করে বলেন, “সকালে হঠাৎ বৃষ্টি আর বজ্রপাত শুরু হলে আমরা চরম আতঙ্কের মধ্যে পড়ে যাই। চোখের পলকেই বিকট শব্দে আমাদের ঘরের বৈদ্যুতিক লাইট ও তারগুলো পুড়ে ওপর থেকে ছিটকে পড়তে থাকে। এতে আমাদের ঘরে থাকা ফ্রিজ, বিদ্যুতিক মিটার, ফ্যান ও আসবাবপত্র পুড়ে ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। তবে ছাদের কোনো ক্ষতি হয়নি এবং ঘরে আমরা ছয়জন সদস্য থাকা সত্ত্বেও কেউ হতাহত হইনি।”
তিনি আরও জানান, এই আকস্মিক দুর্ঘটনায় তাদের প্রায় দুই লক্ষ টাকার আর্থিক ক্ষতি হয়েছে।এদিকে প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, বজ্রপাতের বিকট শব্দে পুরো বাড়ির আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।
ঢাকা-সিলেট মহাসড়কের হবিগঞ্জের মাধবপুর উপজেলার বাখরনগর এলাকা থেকে শায়েস্তাগঞ্জের অলিপুর গেইট পর্যন্ত সড়কের উভয় পাশে প্রায় ৫ কিলোমিটার করে মোট ১০ কিলোমিটার দীর্ঘ যানজটের সৃষ্টি হয়েছে। সোমবার (১৫ জুন) সকাল থেকে শুরু হওয়া এ যানজট সন্ধ্যা পর্যন্ত অব্যাহত থাকায় চরম দুর্ভোগে পড়েছেন হাজারো যাত্রী।
হাইওয়ে পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, অলিপুরে অবস্থিত শিল্পাঞ্চলের বিভিন্ন কারখানার শ্রমিকবাহী যানবাহনের প্রবেশ ও বের হওয়া এবং চলমান ছয় লেন সড়ক নির্মাণকাজের কারণে মহাসড়কে ধীরগতির সৃষ্টি হয়। এক পর্যায়ে দীর্ঘ যানজটের সৃষ্টি হয়ে শত শত বাস, ট্রাক, কাভার্ডভ্যান, মাইক্রোবাস ও ব্যক্তিগত গাড়ি আটকা পড়ে।
যানজটে আটকে থাকা যাত্রী শাহিনা আক্তার বলেন, “সকাল থেকে রাস্তায় আছি। ছোট শিশু নিয়ে বাসে বসে থাকতে খুব কষ্ট হচ্ছে। যানজটের কারণে নির্ধারিত সময়ে গন্তব্যে পৌঁছাতে পারছি না।”
বিদেশগামী যাত্রী মোহাম্মদ রফিকুল ইসলাম বলেন, "আমার আজ রাতের ফ্লাইট। সময়মতো বিমানবন্দরে পৌঁছাতে পারব কি না তা নিয়ে দুশ্চিন্তায় আছি। মহাসড়কের এই যানজট আমাদের জন্য বড় ভোগান্তির কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।"
ঢাকাগামী বাসচালক আব্দুল মালেক বলেন, "সকাল থেকে কয়েক কিলোমিটার পথ অতিক্রম করতে কয়েক ঘণ্টা লেগে যাচ্ছে। সড়ক নির্মাণকাজ ও শিল্পাঞ্চলের গাড়ির চাপ একসঙ্গে পড়ায় যানবাহন চলাচল প্রায় স্থবির হয়ে পড়েছে।"
এ বিষয়ে শায়েস্তাগঞ্জ হাইওয়ে থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) শুভ রঞ্জন চাকমা বলেন, "অলিপুর শিল্পাঞ্চলে শ্রমিক পরিবহনকারী যানবাহনের অতিরিক্ত চাপ এবং চলমান ছয় লেন সড়ক নির্মাণকাজের কারণে যানজটের সৃষ্টি হয়েছে। হাইওয়ে পুলিশের একাধিক টিম ঘটনাস্থলে কাজ করছে। যানবাহন স্বাভাবিক করতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। পরিস্থিতি ধীরে ধীরে স্বাভাবিক হচ্ছে।"
এদিকে দীর্ঘ যানজটের কারণে মহাসড়কে আটকে থাকা যাত্রীদের মধ্যে ক্ষোভ ও উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। বিশেষ করে অসুস্থ, নারী, শিশু ও জরুরি কাজে যাতায়াতকারী যাত্রীরা সবচেয়ে বেশি দুর্ভোগে পড়েছেন। পরিস্থিতি স্বাভাবিক করতে দ্রুত কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন ভুক্তভোগীরা।
কৃষি নির্ভর মেহেরপুরের গাংনী উপজেলার বিভিন্ন এলাকার সড়কের পাশে, বাড়ির আঙিনায়, ফসলি জমির আইল কিংবা পুকুর পাড়,কিংবা পতিত জমিতে সারি সারি দেশি খেজুর গাছের দেখা মেলে।
এসব গাছে থোকায় থোকায় খেজুর ধরলেও বর্তমানে মানুষের আগ্রহ কমে যাওয়ায় অধিকাংশ খেজুর গাছেই পেকে নষ্ট হচ্ছে। এক সময় এই দেশিই খেজুর হাটে বাজারে বিক্রি হতো। তবে বতর্মানে সময়ে দেশিই খেজুরে ক্রেতাদের আগ্রহ না থাকাই থোকায় থোকায় গাছেই পেকে নষ্ট হচ্ছে দেশিই খেজুর।
স্থানীয়দের মতে, প্রায় এক দশক আগেও দেশি খেজুরের আলাদা কদর ছিল। বাজারে এসব খেজুর বিক্রি হতো এবং অনেকেই লবণ মিশিয়ে কয়েক দিন রেখে পাকিয়ে খেতেন। সুস্বাদু এই ফলটি তখন গ্রামাঞ্চলের মানুষের কাছে বেশ জনপ্রিয় ছিল। তবে সময়ের পরিবর্তনে সেই চিত্র এখন অনেকটাই অতীত। তবে এখন এসব খেজুর বতর্মানে পাখির খাদ্য হিসেবেই বিবেচিত।
স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, খেজুর গাছে থোকায় থোকায় ফল ঝুলতে দেখতে খুবই সুন্দর লাগে। অথচ বর্তমানে অধিকাংশ খেজুর গাছেই নষ্ট হচ্ছে। একসময় মানুষ আগ্রহ নিয়ে এসব খেজুর সংগ্রহ করে তারা খেতেন। এ ছাড়া এসব গাছে কোনো কীটনাশক প্রয়োগের প্রয়োজন হয় না এবং বিশেষ যত্ন ছাড়াই ভালো ফলন পাওয়া যায়।
মালশাদহ গ্রামের কৃষক মিন্টু বলেন,বর্তমানে দেশি খেজুর মূলত পশুপাখির খাবারে পরিণত হয়েছে। মানুষ এখন খুব একটা খায় না। অথচ এই খেজুর এক সময় আমি বাজার থেকে কিনে এনে খেয়েছি। তবে সময়ের ব্যাবধানে আজ তা হারাতে বসেছে। সৃষ্টিকর্তার সৃষ্টির প্রতিটি ফলের কোন না,কোন গুন রয়েছে।
তাই এ ফল খাওয়ার অভ্যাস বাড়ানো উচিত।
অবসরপ্রাপ্ত পুলিশ সদস্য আঃ হান্নান বলেন,আমরা বাল্যকালে যে সকল ফল দেখেছি,খেয়েছি তার মধ্যে অনেক ফলই এখন আর দেখা মেলেনা। ছোটবেলায় গাছ থেকে পেড়ে অনেক খেজুর খেয়েছি। তখন লবণ মিশ্রিত পানিতে দুই-তিন দিন রেখে খেজুর পাকিয়ে খাওয়ার প্রচলন ছিল। কিন্তু এখনকার প্রজন্মের মধ্যে সেই আগ্রহ আর দেখা যায় না। আমরা আমাদের অনেক দেশিই ফল খাওয়া ভুলে গিয়েছি। যার ফলে আমরা শারীরিক ভাবেই অনেক দুর্বল হয়ে পড়ছি।
প্রবাসী জাহাঙ্গীর আলম বলেন, আমি দেখেছি আগে ছোট-বড় সবাই দেশি খেজুর খেত। এখন আর তেমন কাউকে খেতে দেখা যায় না। কারন এখন হাতের নাগালেই বিভিন্ন ধরনের বিদেশি খেজুর পাওয়া যায়। আবার সেগুলো দেশি খেজুরের চেয়ে স্বাদও বেশি। আর দেশি খেজুরের আঁটি বড় হওয়ায় শাঁস তুলনামূলক কম। তবে এর স্বাদ ও পুষ্টিগুণের কারণে একসময় এর বেশ কদর ছিল।
খেজুরের গুড় বিক্রেতা আব্দুল খালেক বলেন, আমি প্রায় তিন শতাধিক গাছ থেকে শীতের মৌসুমে রস সংগ্রহ করে গুড় বানাই। আর বতর্মান সময়ে প্রতিটি গাছেই থোকায় থোকায় কাচা পাকা খেজুর ঝুলছে। অথচ আমি এই খেজুর একটাও পাড়ি না। সব আমি পাখির খাদ্য হিসেবে রেখে দিয়েছি। প্রতিদিন শতশত পাখি এই খেজুর খেতে আসে। বিশেষ করে শালিক,বুলবুলিসহ অনেক পাখি। তাদের কিচিরমিচির শুনতে খুব ভালো লাগে।
মো: মতিয়র রহমান বলেন, খেজুরসহ দেশি মৌসুমি ফলগুলো খাওয়া স্বাস্থ্যের জন্য বেশ উপকারী। এসব ফলে প্রচুর পুষ্টিগুণ রয়েছে এবং ক্ষতিকর কোনো দিক নেই। তাই দেশি ফল খাওয়ার অভ্যাস গড়ে তোলা উচিত। আমি মনে করি প্রতিটি মৌসুমী ফলই এক একটি ভিটামিনের ভান্ডার।
কক্সবাজারের নবগঠিত উপজেলা মাতামুহুরীতে নিখোঁজের প্রায় ৪৫ ঘণ্টা পর ওয়াহিদুল ইসলাম (৭) নামে এক শিশুর মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। এ ঘটনায় এলাকায় শোক ও ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। শিশুটিকে যৌন নির্যাতনের পর হত্যা করা হয়েছে বলে প্রাথমিক তদন্তে ধারণা জানা গেছে। ঘটনায় জড়িত সন্দেহে তিনজনকে আটক করেছে পুলিশ।
মঙ্গলবার (১৬ জুন) সকালে উপজেলার পূর্ব বড়ভেওলা ইউনিয়নের মাইজপাড়া এলাকার একটি পরিত্যক্ত জলাশয় থেকে শিশুটির মরদেহ উদ্ধার করা হয়।
নিহত ওয়াহিদুল ইসলাম পূর্ব বড়ভেওলা ইউনিয়নের ৫ নম্বর ওয়ার্ডের মাইজপাড়া গ্রামের মো. তৌহিদুল ইসলাম লিটনের ছেলে।
পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, গত রোববার (১৪ জুন) সন্ধ্যার পর থেকে ওয়াহিদ নিখোঁজ ছিল। পরিবারের সদস্যরা সম্ভাব্য বিভিন্ন স্থানে খোঁজাখুঁজি করেও তার কোনো সন্ধান পাননি। পরবর্তীতে স্থানীয় লোকজন একটি পরিত্যক্ত জলাশয়ে মরদেহ দেখতে পেয়ে পরিবার ও পুলিশকে খবর দেয়।
পূর্ব বড়ভেওলা ইউনিয়ন পরিষদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান হারুনুর রশিদ বলেন, 'সকালে ফজুমিয়াজিরচর এলাকার একটি ছোট খালে শিশুটির মরদেহ দেখতে পেয়ে স্থানীয়রা পুলিশকে খবর দেয়। পরে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য কক্সবাজার জেলা সদর হাসপাতালের মর্গে পাঠায়।' তিনি ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও জড়িতদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান।
মাতামুহুরী পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রের ইনচার্জ পরিদর্শক মোহাম্মদ মাসুদ বলেন, 'প্রাথমিক তদন্তে শিশুটিকে যৌন নির্যাতনের পর হত্যা করা হয়েছে বলে তথ্য পাওয়া গেছে। এ ঘটনায় জড়িত সন্দেহে আটক তিন ব্যক্তি পুলিশের জিজ্ঞাসাবাদে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য দিয়েছে। বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা হচ্ছে।'
পুলিশ জানান, ঘটনার প্রকৃত কারণ উদঘাটন এবং জড়িতদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণে তদন্ত অব্যাহত রয়েছে।
উত্তরাঞ্চলের অন্যতম বৃহৎ আমের বাজার রাজশাহীর পুঠিয়া উপজেলার বানেশ্বর আম হাট পরিদর্শন করেছেন বাংলাদেশে নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত ব্রেন্ট টি. ক্রিস্টেনসেন।
আজ মঙ্গলবার (১৬ জুন) সকাল ৯টার দিকে তিনি হাটে এসে বিভিন্ন আমের আড়ত ও দোকান ঘুরে দেখেন। এ সময় তার সঙ্গে পলিটিক্যাল কাউন্সেলর এরিক গিলান ও পলিটিক্যাল অফিসার চার্লস বেসনার্ড সহ দূতাবাসের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
পরিদর্শনকালে রাষ্ট্রদূত হাটে বিক্রি হওয়া বিভিন্ন জাতের আম সম্পর্কে খোঁজখবর নেন। তিনি ব্যবসায়ী ও চাষিদের সঙ্গে কথা বলেন এবং স্থানীয়ভাবে উৎপাদিত বিভিন্ন জাতের আমের স্বাদ গ্রহণ করেন।
হাটে উপস্থিত ব্যবসায়ীরা জানান, মার্কিন রাষ্ট্রদূতের এমন সফরে তারা আনন্দিত। এতে রাজশাহীর আম আন্তর্জাতিক অঙ্গনে আরও পরিচিতি পাবে বলে তারা আশা প্রকাশ করেন।
স্থানীয় কৃষকরা বলেন, রাজশাহীর আমের গুণগত মান ও স্বাদ বিশ্বব্যাপী পরিচিত। বিদেশি কূটনীতিকদের এ ধরনের পরিদর্শন দেশের কৃষিপণ্য রপ্তানির সম্ভাবনাকে আরও এগিয়ে নিতে সহায়ক হবে।
পরিদর্শন শেষে রাষ্ট্রদূত ব্রেন্ট টি. ক্রিস্টেনসেন সাংবাদিকদের বলেন, রাজশাহীতে রাষ্ট্রদূত হিসেবে এটি আমার প্রথম সফর। ২০২০ সালে একবার এসেছিলাম, তবে এবার বিশেষভাবে আমের মৌসুমে এসেছি কারণ আমি রাজশাহীর আমের স্বাদ নিতে চেয়েছিলাম। আমি এখানে আসতে পেরে সত্যিই আনন্দিত। আমি যুক্তরাষ্ট্রের একটি কৃষিপ্রধান অঙ্গরাজ্য থেকে এসেছি। পণ্য যেখানে উৎপাদিত হয় সেখানে যাওয়ার মতো সেরা অভিজ্ঞতা আর নেই—সবচেয়ে তাজা, সবচেয়ে বৈচিত্র্যময় এবং সেরা জিনিসটি দেখার সুযোগ সেখানে পাওয়া যায়। সেই অভিজ্ঞতার কোনো তুলনা হয় না।
তিনি আরও বলেন, আমেরিকানরা আম খুব পছন্দ করে। যদিও আমরা সাধারণত সেগুলো হিমায়িত অবস্থায় পাই এবং শেক তৈরিতে ব্যবহার করি। যুক্তরাষ্ট্রে আম পাওয়া যায়, তবে আমি মনে করি না সেখানে এখানকার মতো এত তাজা আম পাওয়া সম্ভব।
বাংলাদেশের আম রপ্তানির সম্ভাবনা বাড়াতে পরামর্শ দিয়ে মার্কিন রাষ্ট্রদূত বলেন, আমি মনে করি বাংলাদেশের আরও কোল্ড চেইন (হিমাগার ব্যবস্থা) প্রয়োজন। কারণ সারা বছর আমের সহজলভ্যতার জন্য হিমায়িত আম রপ্তানির জন্য সবচেয়ে উপযোগী। তাই সারা বছর আমের উন্নত উৎপাদন ও রপ্তানির জন্য বাংলাদেশের কোল্ড চেইন ব্যবস্থার উন্নয়ন প্রয়োজন।