শনিবার, ৩১ অক্টোবর ২০২৬
১৬ কার্তিক ১৪৩৩

গ্রিডে বারবার বিপর্যয়, অজানাই থাকছে কারণ

ছবি: সংগৃহীত
আরিফুজ্জামান তুহিন
প্রকাশিত
আরিফুজ্জামান তুহিন
প্রকাশিত : ৬ অক্টোবর, ২০২২ ০৭:৫৬

আরিফুজ্জামান তুহিন

গত দেড় দশকে পাঁচটি বড় ধরনের গ্রিড বিপর্যয় ঘটেছে। এর মধ্যে দুটি হয়েছে প্রাকৃতিক কারণ ঝড়ের কবলে পড়ে। বাকি তিনটি বিপর্যয়ের সুনির্দিষ্ট কারণ ও উৎস জানতে পারেনি সঞ্চালন লাইনের দায়িত্বে থাকা পিজিসিবি, বিদ্যুৎ বিভাগ, বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড (পিডিবি), পাওয়ার সেল ও এ-সংক্রান্ত গঠিত তদন্ত কমিটি।

এর মধ্যে জাতীয় গ্রিড সবচেয়ে বড় বিপর্যয়ের মুখে পড়ে ২০১৪ সালের ১ নভেম্বর। তখন এ বিষয়ে গঠিত কমিটি ৩২টি সুপারিশ দেয়। এর আগে ২০০৭ সালের সিডরের কবলে পড়ে বিপর্যয় ঘটে, সেবারও কমিটি সুপারিশ দেয়। তবে কোনো কমিটির সুপারিশ বাস্তবায়ন করা যায়নি। ফলে ঝুঁকিমুক্ত করা যাচ্ছে না জাতীয় গ্রিডকে। পাওয়ার গ্রিড কোম্পানি অব বাংলাদেশ (পিজিসিবি), পিডিবি ও পাওয়ার সেলের সাবেক এবং বর্তমান প্রকৌশলীদের সঙ্গে কথা বলে এসব তথ্য জানা গেছে।

গত মঙ্গলবার বেলা ২টা ৫ মিনিটে জাতীয় গ্রিডের ইস্টার্ন গ্রিড ট্রিপ করে বা বিপর্যয়ের মুখে পড়ে। এতে চট্টগ্রাম, ঢাকা, সিলেট, ময়মনসিংহ ও কুমিল্লা অঞ্চল বিদ্যুৎহীন হয়ে পড়ে। বিকেল সাড়ে ৫টা থেকে বিদ্যুৎ সরবরাহ শুরু হয়। বিপর্যয়ের ১০ ঘণ্টা পর পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়। এ ঘটনায় তিনটি পৃথক তদন্ত কমিটি গঠনের কথা সরকারের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে। একটি বিদ্যুৎ বিভাগের সমন্বয়ে, দ্বিতীয়টি পিজিসিবির পক্ষ থেকে আর তৃতীয়টি কোনো পরামর্শক প্রতিষ্ঠানকে দিয়ে ঘটনার প্রকৃত কারণ উদ্ঘাটন করা হবে। এর একটি পিজিসিবির ছয় সদস্যের কমিটি গতকাল গ্রিডে বিপর্যয়ের কারণ খুঁজতে নরসিংদীর পলাশ উপজেলার ঘোড়াশাল তাপ বিদ্যুৎকেন্দ্র পরিদর্শনে যায়।

পিজিসিবির প্রকৌশলীরা জাতীয় গ্রিডের কোথায় বিপর্যয় হয়েছে তার উৎস সম্পর্কে প্রকাশ্যে কিছু না বললেও দৈনিক বাংলাকে পরিচয় গোপন রাখার শর্তে দুজন প্রকৌশলী বলেছেন, নিয়মিত বিদ্যুৎ উপকেন্দ্র ও সঞ্চালন লাইনের সংস্কারকাজ না করায় এসব উপকেন্দ্র ও গ্রিড এখন ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়েছে বলেও তাদের মত।

এদিকে বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বাংলাদেশে যেভাবে দ্রুত বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণ করা হয়েছে, সেভাবে বিদ্যুতের সঞ্চালন ও বিতরণ ব্যবস্থা ঢেলে সাজানো হয়নি। ফলে বিদ্যুৎকেন্দ্রের সব তথ্য ন্যাশনাল লোড ডেসপাস সেন্টারের (এনএলডিসি) কাছে থাকে না। অনেকটা অ্যানালগ পদ্ধতিতে ফোন করে বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলোর কাছ থেকে তথ্য নিতে হয়। ফলে কোন এলাকায় কতখানি বিদ্যুতের প্রয়োজন, সেই অনুযায়ী ওই অঞ্চলের বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলোকে স্বয়ংক্রিয়ভাবে নির্দেশ দেয়া সম্ভব হয় না। ফোনে অনেকটা আন্দাজনির্ভর হয়ে বিদ্যুতের উৎপাদন বাড়ানো বা কমানোর নির্দেশ দেয়া হয়। এই পদ্ধতি গোটা বিদ্যুৎ ব্যবস্থাকে যেকোনো সময় বিপদে ফেলতে পারে বলে মনে করেন বিশেষজ্ঞরা। বিদ্যুতের উৎপাদন, সঞ্চালন, বিতরণ ও গ্রাহক পর্যায় আধুনিক নেটওয়ার্কে আনা না গেলে ফের বিপর্যয় ঘটতে পারে। বিদ্যুতের এই আধুনিকায়নকেই স্মার্ট সিস্টেম বা আধুনিক বিদ্যুৎ ব্যবস্থা বলা হচ্ছে।

প্রকৌশলীরা আরও বলছেন, আধুনিক বিদ্যুৎ ব্যবস্থার মধ্যে বিদ্যুৎকেন্দ্র, জাতীয় গ্রিড, বিদ্যুতের বিতরণ ব্যবস্থা ও গ্রাহক পর্যায়ের ব্যবহারের পদ্ধতি বোঝানো হয়। গোটা ব্যবস্থাকে আধুনিকায়ন করতে ৪০ বিলিয়ন ডলার বিনিয়োগ দরকার। তবে সরকার ইতোমধ্যে পিজিসিবি ও ঢাকার একাংশে বিদ্যুৎ সরবরাহ প্রতিষ্ঠান ঢাকা পাওয়ার ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানিকে (ডিপিডিসি) স্মার্ট ব্যবস্থা আনার জন্য একটি করে আলাদা প্রকল্প নেয়া হয়েছে। এগুলোর কাজ চলছে।

বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ প্রতিমন্ত্রী নসরুল হামিদ টেলিফোনে দৈনিক বাংলাকে বলেন, আধুনিক বিদ্যুৎ সঞ্চালন, উৎপাদন ও বিতরণ ব্যবস্থা গড়ে তুলতে না পারলে প্রাকৃতিক কারণেও গ্রিড বিপর্যয়ের মধ্যে পড়তে পারে। এ জন্য বড় ধরনের বিনিয়োগ দরকার। ইতোমধ্যে পিজিসিবি ও ডিপিডিসির আধুনিকায়নে কাজ চলছে।

১৫ বছরে ৫টি বড় বিপর্যয়, কোনো সুপারিশ আমলে নেয়নি!

২০০৭ সালের ১৫ নভেম্বর ঘূর্ণিঝড় সিডরের কারণে উপকূলীয় অঞ্চল ছাড়াও দেশের বড় অংশের গ্রিড বিপর্যয়ের মধ্যে পড়ে। এই সময় একটি তদন্ত কমিটি গঠিত হয়। সরকারের ওই তদন্ত কমিটি বুয়েটের ইলেকট্রনিকস ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের শিক্ষকদের কাছে বিপর্যয় রোধে পরামর্শ চেয়েছিল। বুয়েটের শিক্ষকরা তখন বিদ্যমান গ্রিডকে দুর্বল বলে জানিয়েছিলেন। পরামর্শে সরকারকে তারা বলেছিলেন, দেশজুড়ে বিস্তৃত গ্রিডকে বিচ্ছিন্ন করে কয়েকটি এলাকায় ভাগ করার কথা। সম্ভব। এটাকে বলা হয় আইল্যান্ডিং, যার অর্থ গ্রিডকে খণ্ডিত করে কয়েকটি দ্বীপের মতো করে রক্ষা করা। এতে দেশের কোথাও জাতীয় গ্রিডে বিপর্যয় হলে অন্য এলাকায় বিদ্যুৎ যাবে না। সে ক্ষেত্রে জাতীয় গ্রিডকে ছয়টি ভাগে ভাগ করার পরামর্শ দিয়েছিলেন।

তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সময় দেয়া ওই পরামর্শ অনুযায়ী দেশের গ্রিডকে ঢেলে সাজানো যায়নি। এরপরের বিপর্যয়টা আসে ২০১৪ সালের ১ নভেম্বর। ওই দিন সকালে কুষ্টিয়ার ভেড়ামারার উচ্চক্ষমতার গ্রিড উপকেন্দ্র (এইচভিডিসি) বিপর্যয়ের মধ্যে পড়ে। সে ঘটনার পর দেশের একটি অংশে বিদ্যুৎ চালু করতে এক দিন লেগেছিল। পুরোপুরি স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরতে সময় লেগেছিল প্রায় ৩৮ ঘণ্টা।

প্রথমে এইচভিডিসির পরিচালনার দায়িত্বশীলরা জানিয়েছিলেন, ভারত থেকে আসা বিদ্যুৎ কয়েক সেকেন্ডের জন্য বন্ধ হয়ে যায়, এতে আশুগঞ্জ-ভোড়ামারা গ্রিড ট্রিপ করে, তার পরই সারা বাংলাদেশের বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলো বন্ধ হয়ে যায়। পরে অবশ্য সরকারের গঠিত কমিটি তাদের প্রতিবেদনে গ্রিড বিপর্যয়ে কারণ বের করতে পারেনি।

ওই কমিটির দুজন সদস্য দৈনিক বাংলাকে গতকাল বলেন, আমরা কারণ বের করতে না পারলেও ৩২টি সুপারিশ দিয়েছিলাম এর মধ্যে স্বল্পমেয়াদি সুপারিশ ২২টি এবং মধ্য ও দীর্ঘমেয়াদি সুপারিশ ছিল ১০টি।

তারা বলেন, সুপারিশগুলো হলো গ্রিড নির্ভরশীল অক্সিলারি পাওয়ার নির্ভরশীলতা কমিয়ে বড় বড় বিদ্যুৎকেন্দ্রকে সেলফ অক্সিলারি পাওয়ারে চালু করার প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ, সমগ্র গ্রিড নেটওয়ার্ককে ৯ ভাগে ভাগ করে পরিচালনা করা এবং প্রতিটি এলাকায় ন্যূনতম একটি সেলফ অক্সিলারি পাওয়ার স্টার্টিংয়ের ব্যবস্থা করা, ভবিষ্যতে বিদ্যুৎ উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রা বিবেচনায় নিয়ে স্বয়ংক্রিয়ভাবে ফ্রিকোয়েন্সি এবং ভোল্টেজ নিয়ন্ত্রণের ব্যবস্থা রাখা এবং পিডিবি ও পিজিসিবিতে যৌথভাবে বিদ্যুৎকেন্দ্র শনাক্তের ব্যবস্থা করে কার্যক্রম বাস্তবায়নের পদক্ষেপ নেয়া।

অক্সিলারি পাওয়ার হলো, গ্রিড বিপর্যয়ের ফলে বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলো বন্ধ হয়ে যায়। ফের কেন্দ্রগুলোকে চালু করতে গেলে বিদ্যুৎকেন্দ্রের বাইরে থেকে বা অক্সিলারি বিদ্যুতের দরকার হয়। পরামর্শে বলা হচ্ছে, বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলো নিজে চলতে পারে এমন বিদ্যুৎ উৎপাদনের ব্যবস্থা বা সক্ষমতা সেখানেই থাকতে হবে।

এ ছাড়া সুপারিশের মধ্যে ছিল বিদ্যুৎ সিস্টেমকে পূর্ণাঙ্গ আইসিটিভিত্তিক আধুনিক যোগাযোগ প্রযুক্তি ব্যবস্থার আওতায় নিয়ে আসার।

আট বছর আগে হওয়া ওই বিপর্যয়ে গঠিত তদন্ত কমিটির সুপারিশ বাস্তবায়ন করা গেলে মঙ্গলবারের মতো বড় বিপর্যয়ে পড়তে হতো না বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। তারা বলছেন, বাংলাদেশের পুরোনো বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলোর প্রতি সেকেন্ডের তথ্য এনএলডিসির কাছে থাকে না। এ ছাড়া নতুন করে স্থাপিত রেন্টাল, কুইক রেন্টাল ও এমনকি কিছু আইপিপি (ইনডিপেনডেন্ট পাওয়ার প্রডিউসার) কেন্দ্রের মানও ভা্লো না। ফলে এসব কেন্দ্রের তথ্য সব এনএলডিসির কাছে যেতে সময় নেয়, এটা অ্যানালগ পদ্ধতিতে টেলিফোনে জানতে হয়। সে কারণে কোনো একটি বিদ্যুৎকেন্দ্র, উপকেন্দ্র বা জাতীয় গ্রিডে ভোল্টেজ কমে গেলে বা বেড়ে গেলে অথবা সম্পূর্ণরূপে বন্ধ হয়ে গেলে তা গোটা গ্রিডকে বিপর্যয়ের মধ্যে ফেলে দেয়।

২০১৭ সালের ১ মে ঝড়ে কিশোরগঞ্জের ভৈরবে আশুগঞ্জ-সিরাজগঞ্জ জাতীয় গ্রিড লাইনের টাওয়ার ভেঙে পড়ে। এতে গ্রিড বিপর্যয় ঘটে। এর পরের দিন ২ মে ফের গ্রিড বিপর্যয় ঘটে, তবে ঝড়ে নয়, এটি যান্ত্রিক ত্রুটিতে। রাজশাহী, রংপুর, খুলনা ও বরিশাল বিভাগের ৩৮টি জেলার অনেক এলাকা বিদ্যুৎহীন হয়ে পড়ে। ওই অঞ্চলের প্রায় ২৫টি বিদ্যুৎকেন্দ্র বন্ধ হয়ে যায়। পুরোপুরি স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরতে ১০ ঘণ্টার বেশি সময় লেগেছিল।

এ তো গেল প্রাকৃতিক বিপর্যয়, গত ৬ সেপ্টেম্বর ভেড়ামার একটি বিদ্যুৎ উপকেন্দ্রে নিয়মিত সংস্কারের অভাবে ব্রেকার পুড়ে ট্রিপ করে জাতীয় গ্রিড। এতে খুলনা, যশোরসহ দক্ষিণ-পশ্চিমের জেলাগুলো দেড় ঘণ্টা বিদ্যুৎহীন ছিল।

‍বিদ্যুৎ বিভাগের নীতি প্রতিষ্ঠান পাওয়ার সেলের মহাপরিচালক প্রকৌশলী মোহাম্মদ হোসাইন গতকাল টেলিফোনে দৈনিক বাংলাকে বলেন, অতীতে জাতীয় গ্রিডে যেসব বিপর্যয় হয়েছে তার কারণ আমরা জানতে পেরেছি, কিন্তু ঠিক কোথায় কী কারণে হয়েছে সেটা জানা সম্ভব হয়নি। জাতীয় গ্রিডের বিপর্যয় নির্দিষ্টভাবে জানতে গেলে বিদ্যুতের উৎপাদন, সঞ্চালন, পরিবহন ও গ্রাহক পর্যায়ে স্মার্ট ব্যবস্থায় রূপান্তর করতে হবে।

তিনি বলেন, প্রতি সেকেন্ডে সারা দেশের বিদ্যুৎকেন্দ্রের ভোল্টেজ এনএলডিসিকে স্বয়ংক্রিয়ভাবে জানতে হবে। কোথাও কোনো ফল্ট বা চ্যুতি দেখা দিলে সেটা মনিটরে রেড লাইট জ্বলে উঠবে। সেটা ভোল্টেজ কমে যাক বা বেড়ে যাক কিংবা বিদ্যুৎ সঞ্চালন সম্পূর্ণ বন্ধ হয়ে যাক। এটি প্রতি সেকেন্ডে জানতে পারলে সেই অংশটুকুকে গোটা গ্রিড থেকে আলাদা করে ফেলা যাবে। তবে এসব করতে গেলে আমাদের গ্রিড ব্যবস্থাকে স্মার্ট গ্রিড করতে হবে।

এক প্রশ্নের উত্তরে বলেন, পিজিসিবির সব সঞ্চালন ব্যবস্থা বা দেশের সব জাতীয় গ্রিড একসঙ্গে স্মার্ট গ্রিডে নিতে গেলে অনেক টাকার প্রয়োজন। সেটার দরকারও নেই। এটা ধাপে ধাপে করতে হবে। পিজিসিবি ও ডেসকোর একটি অংশে এ রকম দুটি কাজ চলছে। আগামী তিন বছরের মধ্যে দেশের একটি উল্লেখযোগ্য অংশ স্মার্ট বিদ্যুৎ সঞ্চালন ও পরিবেশনের আওতায় আসবে।

ছোট বিপর্যয় অসংখ্য!

পিজিসিবির দুজন প্রকৌশলী দৈনিক বাংলাকে বলেছেন, বড় বিপর্যয়েরই শুধু খবর আসে, কারণ তাতে সারা বাংলাদেশ বিদ্যুৎহীন হয়ে পড়ে। কিন্তু এনএলডিসি সব সময় বিপর্যয়ের আতঙ্কে থাকে। সেখানে কর্মরত প্রকৌশলীরা তাদের ৮ ঘণ্টা কর্মসময়ে এক সেকেন্ডের জন্যও অমনোযোগী থাকার সুযোগ থাকে না। এনএলডিসিতে দিন-রাত পালা করে ৮ ঘণ্টা করে তিন শিফটে কাজ করেন প্রকৌশলীরা। পুরোনো বিদ্যুৎকেন্দ্র, রেন্টাল, কুইক রেন্টাল ও কিছু আইপিপি কেন্দ্রে তারা অনবরত ফোন করে ভোল্টেজ সমস্যা ঠিক রাখেন। এর পরও জাতীয় গ্রিডে ট্রিপ বা বিপর্যয় পুরোপুরি রোধ করা যায় না।

পিজিসিবির হিসাবে ২০১৭ সালে মোট ১৪ বার বিপর্যয় হয়েছিল, এতে মোট ২০ ঘণ্টা ১০ মিনিট বিদ্যুৎ ছিল না। ২০১৮ সালে ১৪ বার ট্রিপ হয়, এতে ১৬ ঘণ্টা ৩২ মিনিট বিদ্যুৎ ছিল না, ২০১৯ সালে ১৯ বার ট্রিপ হয়, এতে ৩২ ঘণ্টা ৫১ মিনিট বিদ্যুৎ ছিল না। ২০২০ সালে ১৩ বার ট্রিপ হয়, এতে ১৫ ঘণ্টা ২৭ মিনিট বিদ্যুৎ ছিল না। আর ২০২১ সালে ১১ বার ট্রিপ, তাতে ১১ ঘণ্টা ৩০ মিনিট বিদ্যুৎ ছিল না।

প্রকৌশলীরা বলছেন, গড়ে এসব ট্রিপে সামান্য সময় নির্দিষ্ট এলাকার মধ্যে বিদ্যুৎ বিপর্যয়কে সীমাবদ্ধ রাখা সম্ভব হয়েছিল সে কারণে দেশজুড়ে বিদ্যুৎ বিপর্যয় হয়নি। সে কারণে মানুষ এসব জানতেও পারেনি।

পাওয়ার সেলের সাবেক মহাপরিচালক বিডি রহমাত উল্লাহ গতকাল রাতে দৈনিক বাংলাকে বলেন, বেসরকারি এমন কিছু বিদ্যুৎকেন্দ্র আছে যা অত্যন্ত নিম্নমানের। এসব কেন্দ্রের তথ্য এনএলডিসি কোনোভাবেই প্রতিক্ষণে পায় না। এসব কারণে গ্রিড ঝুঁকিপূর্ণ। তাছাড়া সবাই ঝাঁপিয়ে পড়েছে বিদ্যুৎকেন্দ্রের দিকে। কারণ ওখানে প্রচুর টাকা। নিয়মিত যে উপকেন্দ্র ও সঞ্চালন লাইন সংস্কার করতে হবে তাতে নজর নেই, কারণ ওখানে টাকা নেই তেমন। ট্রিপ হবেই, সেটাকে প্রতিরোধ করা এবং নির্দিষ্ট এলাকার মধ্যে ঠেকিয়ে রাখাই হলো মূল কথা। এনএলডিসিকে আধুনিককরণ করার পাশাপাশি পিজিসিবির অসাধু কর্মকর্তাদের বড় রকম শাস্তি না দিলে আগামীতেও এসব ঘটতেই থাকবে।


নির্বাচিত

মিঠামইনে নববধূকে নিয়ে ফেরার পথে হামলা, পুলিশ সদস্যসহ আহত ১৫

ছবি: দৈনিক বাংলা
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
কিশোরগঞ্জ প্রতিনিধি

কিশোরগঞ্জের মিঠামইনে নববধূকে নিয়ে বিয়েবাড়ি থেকে ফেরার পথে অটোরিকশাচালকদের হামলায় এক পুলিশ সদস্যসহ ১৫ জন আহত হয়েছেন।

শনিবার (৩১ অক্টোবর) সন্ধ্যায় উপজেলার কাটখাল গরুর হাট এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।

আহত পুলিশ সদস্যের নাম মো. কাউসার মিয়া। তিনি কাটখাল পুলিশ ফাঁড়িতে কর্মরত। তবে প্রাথমিকভাবে অন্যান্য আহতদের নাম-পরিচয় জানা যায়নি। এ সময় কনের পরিবারের সদস্য ও স্বজনদের মারধরের পাশাপাশি টাকা-পয়সা ও স্বর্ণালঙ্কার লুটের অভিযোগও উঠেছে।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, বৃহস্পতিবার (২৯ অক্টোবর) মিঠামইন উপজেলার কেওয়ারজোড় ইউনিয়নের রানীগঞ্জ এলাকায় স্বপন মিয়ার সঙ্গে বিয়ে হয় বৈরাটি ইউনিয়নের মাইজচর গ্রামের জোনাকি আক্তারের। শনিবার দুপুরে বিয়েবাড়িতে খাওয়া-দাওয়া শেষে নবদম্পতিকে নিয়ে কনের স্বজনেরা বাড়ি ফিরছিলেন। পথে সন্ধ্যা পৌনে ৬টার দিকে কাটখাল গরুর হাট এলাকায় পৌঁছালে পেছন থেকে চরকাটখাল এলাকার অটোরিকশাচালক দয়াল মিয়া তাদের সঙ্গে থাকা এক স্বজনকে ধাক্কা দেন। এ নিয়ে প্রতিবাদ করলে দয়াল মিয়া ও তার সঙ্গে থাকা কয়েকজন অটোরিকশাচালক তাদের ওপর হামলা চালান। এতে কনের পরিবারের ১৪ জন আহত হন বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।

খবর পেয়ে কাটখাল পুলিশ ফাঁড়ির সদস্যরা ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করেন। এ সময় হামলাকারীরা পুলিশের ওপরও হামলা চালালে কাউসার মিয়া নামে এক পুলিশ সদস্য আহত হন।

বৈরাটি ইউনিয়নের মাইজচর গ্রামের বাচ্চু মিয়া অভিযোগ করে বলেন, অটোরিকশাচালক দয়াল মিয়া মূলত গরুর হাট এলাকার অটোরিকশা স্ট্যান্ড নিয়ন্ত্রণ করেন। এ কারণে এলাকায় প্রভাব খাটান তিনি। তার নেতৃত্বেই তাদের স্বজনদের ওপর হামলা চালানো হয়েছে।

এ সময় স্বজনদের টাকা-পয়সা ও স্বর্ণালঙ্কারও লুট করে নেওয়া হয়েছে। আহত ১৪ স্বজনকে মিঠামইন উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হচ্ছে।

তবে অভিযোগ অস্বীকার করে পাল্টা দাবি করেছেন অভিযুক্ত দয়াল মিয়ার স্ত্রী রূপ নাহার। দয়াল মিয়ার মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি ফোন রিসিভ করেন। রূপ নাহার বলেন, মাইজচরের লোকজন বিয়েবাড়ি থেকে ফেরার পথে সাইড দেওয়ার জন্য তার স্বামী অটোরিকশার হর্ন বাজান। এতে ক্ষিপ্ত হয়ে তারা তার স্বামীর ওপর হামলা চালান। বর্তমানে তার স্বামীকেও হাসপাতালে নেওয়া হচ্ছে।

কাটখাল পুলিশ ফাঁড়ির সহকারী উপপরিদর্শক (এএসআই) আবদুল গাফফার মুঠোফোনে বলেন, দুই পক্ষের মধ্যে মারামারির খবর পেয়ে পুলিশের একটি দল ঘটনাস্থলে যায়। একপর্যায়ে দয়াল মিয়া ও তার লোকজন পুলিশের ওপরও হামলা করেন। বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের জানানো হয়েছে। তদন্ত সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।


নির্বাচিত

দুই উৎসের বর্জ্য নিয়ন্ত্রণে কমতে পারে হালদার ৮০ শতাংশ দূষণ

* গত প্রজনন মৌসুমে ডিম সংগ্রহ কমেছে ৮ হাজার কেজি * ৪৮টি মাছের নমুনার শতভাগে মিলেছে মাইক্রোপ্লাস্টিক
ছবি: দৈনিক বাংলা
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
রাউজান (চট্টগ্রাম) প্রতিনিধি

বিষাক্ত শিল্পবর্জ্য, অপরিশোধিত গৃহস্থালি বর্জ্য, কৃষিতে ব্যবহৃত রাসায়নিক এবং বিভিন্ন উৎসের দূষণে ক্রমেই বিপন্ন হয়ে পড়ছে দেশের একমাত্র প্রাকৃতিক কার্পজাতীয় মাছের প্রজননক্ষেত্র হালদা নদী। নদীটির বিভিন্ন শাখা খাল দিয়ে চট্টগ্রাম নগরী ও আশপাশের এলাকার বর্জ্য সরাসরি মিশছে পানিতে। এর প্রভাবে হুমকির মুখে পড়েছে মা-মাছের প্রজনন, নদীর জীববৈচিত্র্য ও স্থানীয় মানুষের জীবিকা।

পরিস্থিতি মোকাবিলায় এবার দূষণের দুটি বড় উৎস- নগরীর অনন্যা আবাসিক এলাকা হয়ে আসা চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন এলাকার বর্জ্য এবং বাহির সিগন্যাল শিল্প এলাকার বর্জ্য ব্যবস্থাপনার ওপর গুরুত্ব দিচ্ছেন গবেষকরা। তাদের ধারণা, এই দুই উৎসের বর্জ্যপ্রবাহের কার্যকর সমাধান করা গেলে হালদার প্রায় ৮০ শতাংশ দূষণ কমানো সম্ভব। তবে দূষণমুক্তির সুনির্দিষ্ট সময়সীমা এখনো নির্ধারিত হয়নি। ফলে সম্ভাব্য সমাধানের পাশাপাশি নদী রক্ষায় কার্যকর বাস্তবায়ন, নজরদারি ও বিভিন্ন সরকারি সংস্থার সমন্বিত উদ্যোগই এখন বড় চ্যালেঞ্জ।

হালদা নদীর দূষণের উৎস চিহ্নিত করার লক্ষ্যে পরিবেশ অধিদপ্তর, চট্টগ্রাম এবং চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের হালদা রিভার রিসার্চ ল্যাবরেটরির যৌথ মাঠ পরিদর্শন শেষে সংশ্লিষ্টরা এসব তথ্য জানান।

হালদা গবেষক অধ্যাপক ড. মঞ্জুরুল কিবরিয়া বলেন, ‘নদীটির দূষণের অন্যতম প্রধান উৎস অনন্যা আবাসিক এলাকা হয়ে আসা চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন এলাকার বর্জ্য এবং বাহির সিগন্যাল শিল্প এলাকার বর্জ্য। এই দুটি উৎসের বর্জ্য ব্যবস্থাপনার কার্যকর সমাধান করা গেলে হালদার প্রায় ৮০ শতাংশ দূষণ কমানো সম্ভব হবে। দূষণের উৎস চিহ্নিত এবং সমাধানের পথ বের করতেই পরিবেশ অধিদপ্তর ও চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষণাগারের পক্ষ থেকে যৌথ মাঠ পরিদর্শন করা হয়েছে।’

তিনি জানান, এর আগে নেওয়া বিভিন্ন পদক্ষেপের ফলে হালদার প্রায় ৬০ শতাংশ দূষণ প্রতিরোধ করা সম্ভব হয়েছে বলে তাদের মূল্যায়ন। দূষণের উৎসকে নির্দিষ্ট ও অনির্দিষ্ট-এই দুই ভাগে ভাগ করা হয়েছে। নির্দিষ্ট উৎসের মধ্যে এশিয়ান পেপার মিল ও হাটহাজারী পিকিং পাওয়ার প্ল্যান্টের কার্যক্রম পুরোপুরি বন্ধ করা গেছে। সংশ্লিষ্ট এলাকায় তামাক চাষও প্রতিরোধ করা হয়েছে। পাশাপাশি জনসচেতনতা বাড়ানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। তবে নদীটির প্রায় ৩০ থেকে ৪০ শতাংশ দূষণ এখনো রয়ে গেছে বলে জানান তিনি।

তার মতে, এর বড় অংশের জন্য দায়ী অনির্দিষ্ট ও দূরবর্তী উৎস থেকে আসা বর্জ্য। চট্টগ্রাম নগরী ও আশপাশের বিভিন্ন এলাকার বর্জ্য একাধিক শাখা খাল দিয়ে হালদায় গিয়ে পড়ছে। কৃষ্ণখালী, খন্দকিয়া, কাটাখালী, মাদারী ও বোয়ালিয়া খালসহ বিভিন্ন জলপথ দিয়ে শিল্পকারখানা, আবাসিক এলাকা ও বাজারের বর্জ্য নদীতে মিশছে। এ ছাড়া বামনশাহী ও কুয়েশ খালসহ বিভিন্ন খালের মাধ্যমে ক্যান্টনমেন্ট, চৌধুরী হাট ও বড়দীঘির পাড় এলাকার বর্জ্যও নদীতে যাচ্ছে বলে জানিয়েছেন গবেষকরা। অক্সিজেন থেকে কুলগাঁও পর্যন্ত বিস্তৃত শিল্পপ্রতিষ্ঠান এবং বহুতল ভবনের অপরিশোধিত বর্জ্যও ড্রেন ও খাল দিয়ে নদীতে মিশছে। এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে রাউজানের মায়াবী হালদা নামে একটি বিনোদনকেন্দ্রের বর্জ্য, ফটিকছড়ির বিভিন্ন এলাকার বর্জ্য এবং উজানে তামাক চাষে ব্যবহৃত কীটনাশক ও রাসায়নিক পদার্থের দূষণ।

গবেষকদের মতে, এসব বর্জ্যপ্রবাহ নিয়ন্ত্রণ এবং দূষিত পানি নদীতে প্রবেশ বন্ধ করা গেলে হালদার পানির গুণগত মান উন্নয়নের সুযোগ তৈরি হবে। তবে শুধু দুটি উৎসের বর্জ্য ব্যবস্থাপনা নয়, অন্য উৎসগুলো থেকেও দূষণ কমাতে হবে। এ জন্য বর্জ্যের উৎপত্তিস্থল শনাক্ত, বর্জ্য শোধন এবং নদীতে দূষিত পানি প্রবেশের পথ বন্ধ করার মতো পদক্ষেপ জরুরি।

দূষণ ও জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে হালদায় কার্পজাতীয় মাছের প্রজনন নিয়েও উদ্বেগ বাড়ছে। নদীটিতে রুই, কাতলা, মৃগেল ও কালিবাউশ মাছের প্রজনন মৌসুম সাধারণত এপ্রিল থেকে জুলাই পর্যন্ত। এ সময়ে পাহাড়ি ঢল, বজ্রসহ বৃষ্টি ও নদীতে অনুকূল স্রোত তৈরি হলে মা-মাছ ডিম ছাড়ে। কিন্তু সময়মতো বৃষ্টি না হওয়া এবং পরিবেশগত সংকটের কারণে সর্বশেষ মৌসুমে প্রত্যাশিত ডিম পাওয়া যায়নি বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।

সংশ্লিষ্ট তথ্যানুযায়ী, ২০২০ সালে হালদা থেকে রেকর্ড প্রায় ২৫ হাজার ৫৩৬ কেজি ডিম সংগ্রহ করা হয়েছিল। ২০২১ সালে সংগ্রহ হয় প্রায় ৮ হাজার ৫০০ কেজি। ২০২২ সালে এ পরিমাণ ছিল প্রায় ৬ হাজার ৫০০ কেজি; কিছু হিসাবে ৭ হাজার ২০০ কেজি। ২০২৩ সালে সংগ্রহ হয় প্রায় ১৪ হাজার ৬৬৪ কেজি এবং ২০২৪ সালে প্রায় ১ হাজার ৬৮০ কেজি। ২০২৫ সালে সংগ্রহের পরিমাণ ছিল প্রায় ১৪ হাজার কেজি। সর্বশেষ প্রজনন মৌসুমে তা কমে দাঁড়িয়েছে প্রায় ৬ হাজার কেজিতে।


নির্বাচিত

বাড়িতে ডিজে পার্টি, পুলিশের অভিযান: সেই অতিরিক্ত ডিআইজি বরখাস্ত

বরখাস্ত হওয়া অতিরিক্ত ডিআইজি আব্দুল্লাহ আল জহির। ফাইল ছবি
আপডেটেড ৩১ অক্টোবর, ২০২৬ ২০:৫৪
নিজস্ব প্রতিবেদক

রাজধানীর খিলক্ষেতে নিজের ভাড়া দেওয়া বাড়িতে ডিজে পার্টির অভিযোগের ভিত্তিতে চালানো অভিযানে মাদক উদ্ধার ও ৮৪ জনকে আটকের ঘটনায় সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে অতিরিক্ত ডিআইজি আব্দুল্লাহ আল জহিরকে।

শনিবার (৩১ অক্টোবর) স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের প্রজ্ঞাপনে ‘পুলিশ সম্পর্কে নেতিবাচক ধারণা সৃষ্টি হওয়া এবং জনসম্মুখে পুলিশের ভাবমূর্তি চরমভাবে ক্ষুণ্ণ’ হওয়ায় তার বিরুদ্ধে এ ব্যবস্থা নেওয়ার কথা বলা হয়েছে। এ আদেশ ২৫ অক্টোবর থেকে কার্যকর হওয়ার কথা বলা হয়েছে।

একইসঙ্গে সাময়িক বরখাস্ত হওয়ার সময়কালে পুলিশের এই কর্মকর্তাকে রাঙামাটির বেতবুনিয়ায় পুলিশ স্পেশাল ট্রেনিং স্কুলে (পিএসটিএস) সংযুক্ত করা হয়েছে।

এর আগে ১৯ অক্টোবর ভোর রাতে খিলক্ষেতে পুলিশ হাউজিং আবাসিক এলাকায় ওই কর্মকর্তার ভাড়া দেওয়া বাড়িতে অভিযান চালায় ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) একটি দল।

পরদিন পুলিশ সদর দপ্তরের রিঅ্যার অ্যান্ড মেইনটেন্যান্স শাখায় কর্মরত জহিরকে সদর দপ্তরে সংযুক্ত করার আদেশ দেওয়া হয়।

আলোচনায় আসা এ অভিযানের পর ডিবি বাড়িটিতে মাদক সেবন ও ডিজে পার্টি চলছিল বলে জানায়। অভিযানে গাঁজা, ইয়াবা, মদ ও ইয়াবা সেবনের সরঞ্জাম জব্দ এবং ২৬ জন নারীসহ মোট ৮৪ জনকে আটকের তথ্যও দেয় ডিবি।

এমন প্রেক্ষাপট তুলে ধরে অতিরিক্তি এ ডিআইজিকে সাময়িক বরখাস্তের আদেশে শনিবার (৩১ অক্টোবর) বলা হয়, ‘যার (অভিযান ও খবর প্রকাশিত হওয়ার পর) ফলে জনমনে পুলিশ সম্পর্কে নেতিবাচক ধারণা সৃষ্টি হয়েছে এবং জনসম্মুখে পুলিশের ভাবমূর্তি ‘‘চরমভাবে ক্ষুণ্ণ হয়েছে’’।’

অতিরিক্ত ডিআইজি জহিরের এ কর্মকাণ্ডকে ‘শিষ্টাচারবহির্ভূত, অকর্মকর্তাসুলভ এবং বিভাগীয় নিয়ম-শৃঙ্খলা পরিপন্থি’ বলে প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে।

এসব কারণে সরকারি কর্মচারী (শৃঙ্খলা ও আপিল) বিধিমালা অনুযায়ী ‘অসদাচরণের’ শাস্তিযোগ্য অপরাধে তাকে সরকারি চাকরি থেকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে বলে প্রজ্ঞাপনে তুলে ধরা হয়।

সাময়িক বরখাস্তকালীন ওই কর্মকর্তা বিধি অনুযায়ী এ সময়ে খোরপোষ ভাতা পাবেন বলে একই প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে। পুলিশের ওই কর্মকর্তা এয়ারবিএনবির মাধ্যমে বাড়িটি ভাড়া দিয়েছিলেন। এ নিয়ে আলোচনার মধ্যে সেদিন বিকালে পুলিশ সদর দপ্তরের রিঅ্যার অ্যান্ড মেইনটেন্যান্স শাখায় কর্মরত অতিরিক্ত ডিআইজি জহিরকে সদর দপ্তরে সংযুক্ত করা হয়েছিল। এর ৫ দিনের মাথায় সাময়িক বরখাস্ত করল মন্ত্রণালয়।


নির্বাচিত

আগামী বছর প্রতিটি ইউনিয়নে খেলার মাঠ, জেলা-উপজেলায় আধুনিক স্টেডিয়াম গড়ে তোলা হবে: আমিনুল হক

শনিবার (৩১ অক্টোবর) দুপুরে রংপুর স্টেডিয়াম পরিদর্শন শেষে সংবাদ সম্মেলনে যুব ও ক্রীড়ামন্ত্রী আমিনুল হক। ছবি: দৈনিক বাংলা
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

আগামী বছর দেশের প্রতিটি ইউনিয়নে একটি করে খেলার মাঠ এবং জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে স্টেডিয়াম গড়ে তোলা হবে বলে জানিয়েছেন যুব ও ক্রীড়ামন্ত্রী আমিনুল হক। একই সঙ্গে দেশের বিদ্যমান স্টেডিয়ামগুলো সংস্কার ও আধুনিকায়নের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলেও জানান তিনি। শনিবার (৩১ অক্টোবর) দুপুরে রংপুর স্টেডিয়াম পরিদর্শনে এসে এসব কথা বলেন যুব ও ক্রীড়ামন্ত্রী।

এ সময় আমিনুল হক বলেন, ‘বর্তমান সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর খেলাধুলাকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়েছে। সমাজব্যবস্থাকে এগিয়ে নিতে এবং রাষ্ট্রীয় পরিবর্তনের ধারায় খেলাধুলাকে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা হিসেবে বিবেচনা করছে সরকার। খেলাধুলাকে পেশাদারত্বের পর্যায়ে নিয়ে যেতে পরিকল্পিতভাবে কাজ করা হচ্ছে।’

মন্ত্রী বলেন, ‘ইতোমধ্যে ‘‘নতুন কুঁড়ি স্পোর্টস’’-এর প্রথম আসর সফলভাবে সম্পন্ন হয়েছে।’ আগামী ৫ নভেম্বর খুলনা থেকে দেশের ৫০৩টি উপজেলায় একযোগে অনলাইনের মাধ্যমে দ্বিতীয় আসরের উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী। এ আয়োজনে সবাইকে অংশগ্রহণের আমন্ত্রণ জানান তিনি।

প্রথম আসরে নতুন কুঁড়ির ৩০৬ জন প্রতিযোগীর মধ্য থেকে ৪০ জনকে বাছাই করা হয়েছে। তাদের খেলাধুলার মাধ্যমে গ্র্যাজুয়েশন পর্যায় পর্যন্ত সম্পন্ন করার পরিকল্পনা রয়েছে। এভাবেই খেলাধুলাকে আরও সুসংগঠিত ও পেশাদার হিসেবে গড়ে তোলার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।

দেশের ক্রীড়াঙ্গনের অবকাঠামো উন্নয়ন প্রসঙ্গে মন্ত্রী বলেন, ‘প্রতিটি জেলা ও বিভাগীয় স্টেডিয়াম সংস্কার এবং আধুনিকায়নের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। রংপুরের আবু সাঈদ স্টেডিয়াম, সুইমিং পুল ও অন্যান্য ক্রীড়া সরঞ্জামের প্রয়োজনীয়তা নিয়েও আলোচনা হয়েছে। বিভাগীয় স্টেডিয়ামগুলোকে সর্বোচ্চ আধুনিকায়নের মাধ্যমে খেলাধুলার মান উন্নয়নে এসব পরিকল্পনা যথাসময়ে বাস্তবায়ন করা হবে।’

তিনি আরও বলেন, ‘দেশের প্রতিটি ক্রীড়া সংস্থার মাধ্যমে খেলাধুলার কার্যক্রম পরিচালনা করা হবে। নতুন কুঁড়িসহ হকি, শুটিং ও অন্যান্য খেলায় জেলা ক্রীড়া সংস্থার কমিটি গঠনের পর সাধারণ সম্পাদকদের মাধ্যমে বার্ষিক ক্রীড়া ক্যালেন্ডার তৈরি করে তা বাস্তবায়ন করা হবে।

ক্রীড়া সংগঠনে দুর্নীতির অভিযোগ প্রসঙ্গে আমিনুল হক বলেন, ‘ইতোমধ্যে বেশ কয়েকটি কমিটি গঠন করা হয়েছে। ঢাকা ফুটবল ও ক্রিকেট বোর্ডসহ বিভিন্ন ফেডারেশনের বিরুদ্ধে বেশ কিছু অভিযোগ এসেছে। এসব অভিযোগ আমলে নিয়ে দুর্নীতি দমন কমিশন কাজ করছে। পাশাপাশি মন্ত্রণালয়ও তদন্ত করছে। যারা ক্রীড়া সংগঠনের সঙ্গে যুক্ত থেকে দুর্নীতি করেছেন, তাদের আইনের আওতায় আনা হবে।’

পরিদর্শনকালে বিভিন্ন স্কাউটের সদস্য, সরকারি-বেসরকারি কর্মকর্তা, রংপুর উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান শামসুজ্জামান সামু, রংপুর সিটি করপোরেশনের প্রশাসক মাহফুজ উন নবী ডন এবং দলের জেলা ও মহানগর পর্যায়ের নেতারা উপস্থিত ছিলেন।


নির্বাচিত

রাজধানীর ছয় রুটে রোববার থেকে চলবে ছয় কোম্পানির বাস

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

রাজধানীর গণপরিবহন ব্যবস্থায় শৃঙ্খলা ফেরাতে ‘এক রুট, এক কোম্পানি’ নীতিতে বাস পরিচালনার উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। এ পরিকল্পনার অংশ হিসেবে রোববার (০১ নভেম্বর) থেকে রাজধানীর ছয়টি প্রধান রুটে পরীক্ষামূলকভাবে ফ্র্যাঞ্চাইজিভিত্তিক বাস চলাচল শুরুর লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। ছয়টি রুটে পৃথক কোম্পানির অধীনে সমন্বিতভাবে বাস পরিচালনার পরিকল্পনা রয়েছে। প্রাথমিক পর্যায়ে পাঁচটি নন-এসি ও একটি এসি রুটে প্রায় ৮১৬টি বাস পরিচালনার প্রস্তাব করা হয়েছে।

নতুন ব্যবস্থায় একই সড়কে একাধিক পরিবহন কোম্পানির বাসের অসুস্থ প্রতিযোগিতা বন্ধ, নির্ধারিত স্টপেজে যাত্রী ওঠানামা, কাউন্টারভিত্তিক টিকিট ব্যবস্থা এবং বাস চলাচলে শৃঙ্খলা প্রতিষ্ঠার কথা বলা হয়েছে।

ঢাকা পরিবহন সমন্বয় কর্তৃপক্ষের (ডিটিসিএ) সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, প্রস্তাবিত ৩২টি প্রধান রুটের মধ্যে প্রথম পর্যায়ে ছয়টি রুটকে এ কার্যক্রমের আওতায় আনা হচ্ছে। গত ১৮ অক্টোবর ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত এক সভায় রুট, বাস পরিচালনাকারী প্রতিষ্ঠান, বাসের সংখ্যা ও স্টপেজ নিয়ে আলোচনা হয়।

ঢাকা পরিবহন সমন্বয় কর্তৃপক্ষের-ডিটিসিএ’র নির্বাহী পরিচালক মোহাম্মদ মসিউর রহমান বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে রাজধানীর গণপরিবহনের শৃঙ্খলা ফেরাতে ঢাকা মহানগরীতে ৩২ রুটে বাস রুট ফ্র্যাঞ্চাইজি পদ্ধতি ও ২৫ রুটে চক্রাকার বাস সার্ভিস চালুর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এরই অংশ হিসেবে আজ পহেলা নভেম্বর থেকে প্রাথমিকভাবে ৬ রুটে কোম্পানিভিত্তিক বাস চালুর পরিকল্পনা রয়েছে।

এ ছাড়া তিনটি রুটে চক্রাকার বাস সার্ভিস চালু করা হবে। একটি রুটে একটি কোম্পানির বাস চলাচল করবে। প্রতিটি রুটের বাসের রং পৃথক থাকবে। এ ছাড়া পলাশী-আজিমপুর, পলাশী-মোহাম্মদপুর-বসিলা ও দিয়াবাড়ী-পঞ্চবটি রুটে চক্রাকার বাস সার্ভিস চালু করা হবে।’ এ বাস সার্ভিসগুলো পরীক্ষামূলক চালানো হবে। পরে পর্যালোচনা করে স্থায়ীভাবে বাস রুট হিসেবে চালু করা হবে বলে জানান তিনি।

প্রাথমিক পর্যায়ে যেসব রুটে নতুন ব্যবস্থা চালুর পরিকল্পনা রয়েছে, সেগুলো হলো-

১. গাজীপুর চৌরাস্তা ঢাকেশ্বরী মন্দির: শিববাড়ী থেকে টঙ্গী, বিমানবন্দর, মহাখালী ও নিউমার্কেট হয়ে বাস চলাচল করবে। এ রুটে বিকাশ পরিবহন, বিকাশ সেবা ও ডিভাইস পরিবহনের কার্যক্রম সমন্বয়ের পরিকল্পনা রয়েছে। ২. গাবতলী ডেমরা : শ্যামলী, মহাখালী, গুলশান-১ ও রামপুরা হয়ে বাস চলবে। এ রুটে আলিফ এন্টারপ্রাইজ, বৈশাখ পরিবহন ও রয়েল পরিবহনের বাস সমন্বিতভাবে পরিচালনার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। ৩. দুয়ারীপাড়া সদরঘাট : শ্যামলী, সায়েন্স ল্যাব ও আজিমপুর হয়ে বাস চলাচল করবে। এ রুটে দিশারী পরিবহন, তানজিল পরিবহন, মেট্রো লিংক ও ট্রান্স সিলভা সংশ্লিষ্ট থাকবে।

৪. ঘাটারচর ডেমরা : মোহাম্মদপুর, শাহবাগ ও রামপুরা হয়ে বাস চলবে। এ রুটে রমজান, মালঞ্চ, মিডলাইন ও রজনীগন্ধা পরিবহনের কার্যক্রম সমন্বয়ের পরিকল্পনা রয়েছে।

৫. ঘাটারচর কাঁচপুর : শাহবাগ, পল্টন ও সাইনবোর্ড হয়ে বাস চলাচল করবে। এ রুটেও রমজান, মালঞ্চ, মিডলাইন ও রজনীগন্ধা পরিবহনের বাস সমন্বিতভাবে পরিচালিত হওয়ার কথা। ৬. মিরপুর-১২ মাওয়া : ফার্মগেট, শাহবাগ, গুলিস্তান ও কেরানীগঞ্জ হয়ে বাস চলবে। এ রুটে স্বাধীন পরিবহন, বিহঙ্গ পরিবহন, বিকল্প পরিবহন ও শিকড় পরিবহনের বাস সমন্বয়ের পরিকল্পনা রয়েছে। এসব রুটে বর্তমানে চলাচলকারী পরিবহন কোম্পানিগুলোকে একক পরিচালন কাঠামোর আওতায় আনার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। অর্থাৎ একাধিক কোম্পানির বাস থাকলেও পরিচালনা ও ব্যবস্থাপনা হবে রুটভিত্তিক সমন্বিত কোম্পানির মাধ্যমে। ডিটিসিএয়ের তথ্য অনুযায়ী, রাজধানীতে অনুমোদিত বাস রুটের সংখ্যা ৪১৮টি। তবে বাস্তবে বাস চলাচল করছে মাত্র ৯৮টি রুটে। এসব রুটে প্রায় ৭ হাজার ৫০০ বাস পরিচালনা করছে ৬৬টি পরিবহন কোম্পানি।

সরকারের পরিকল্পনা অনুযায়ী, বর্তমানে চালু থাকা ৯৮টি রুটকে পুনর্বিন্যাস করে ৩২টি প্রধান রুটে নিয়ে আসা হবে। প্রস্তাবিত রুটগুলোর প্রায় ৭০ শতাংশ বিদ্যমান সড়কপথ অনুসরণ করবে। ফলে কিছু যাত্রীকে গন্তব্যে পৌঁছাতে মাঝপথে বাস পরিবর্তন করতে হতে পারে। এ ছাড়া রাজধানীর গণপরিবহন ব্যবস্থায় শৃঙ্খলা আনতে ২৫টি চক্রাকার বা সার্কুলার রুটের পরিকল্পনা রয়েছে।


নির্বাচিত

এ বছরই চালু হচ্ছে পাঁচটি শিশু হাসপাতাল: প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ সহকারী

রাজশাহীতে প্রধানমন্ত্রীর স্বাস্থ্যবিষয়ক বিশেষ সহকারী ডা. এস এম জিয়াউদ্দিন হায়দার। ছবি: দৈনিক বাংলা
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
 নিজস্ব প্রতিবেদক

নির্মাণকাজ শেষ হওয়ার পরও প্রয়োজনীয় জনবল ও যন্ত্রপাতির অভাবে দীর্ঘদিন ধরে অব্যবহৃত পড়ে থাকা দেশের পাঁচটি শিশু হাসপাতাল এ বছরের শেষ নাগাদ চালু হবে। নভেম্বর-ডিসেম্বরের দিকে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান একযোগে হাসপাতালগুলোর উদ্বোধন করবেন।

শনিবার (৩১ অক্টোবর) দুপুরে রাজশাহীতে এ তথ্য জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর স্বাস্থ্যবিষয়ক বিশেষ সহকারী ডা. এস এম জিয়াউদ্দিন হায়দার। শনিবার (৩১ অক্টোবর) তিনি রাজশাহী মেডিকেল কলেজ (রামেক) হাসপাতাল পরিদর্শন করেন। পরে হাসপাতালের চিকিৎসক ও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের সঙ্গে মতবিনিময় শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন।

দীর্ঘদিন ধরে পড়ে থাকা রাজশাহী শিশু হাসপাতাল চালুর বিষয়ে জানতে চাইলে ডা. এস এম জিয়াউদ্দিন হায়দার বলেন, সারাদেশে ২০০ শয্যার পাঁচটি শিশু হাসপাতাল নির্মাণ করা হয়েছে। এসব হাসপাতালে প্রয়োজনীয় জনবল নিয়োগের জন্য নতুন পদ সৃষ্টির কাজ শেষ হয়েছে। যন্ত্রপাতি ও আসবাব কেনার প্রক্রিয়াও শেষ পর্যায়ে। আশা করা হচ্ছে, নভেম্বর-ডিসেম্বরের দিকে প্রধানমন্ত্রী ঢাকা থেকে একযোগে পাঁচটি হাসপাতালের উদ্বোধন করবেন।

রামেক হাসপাতালের জনবল ও অবকাঠামোগত সংকটের বিষয়ে বিশেষ সহকারী বলেন, এ হাসপাতালে চিকিৎসক, নার্সসহ অন্যান্য জনবলের সংকট রয়েছে। ২০১৩ সালে হাসপাতালটি ৫৫০ শয্যা থেকে ১ হাজার ২০০ শয্যায় উন্নীত করা হলেও সে অনুযায়ী জনবল, অবকাঠামো ও প্রয়োজনীয় যন্ত্রপাতি বাড়ানো হয়নি। ফলে এখনো হাসপাতালটি মূলত ৫৫০ শয্যার সক্ষমতা নিয়েই পরিচালিত হচ্ছে।

তিনি বলেন, বিগত সরকার জনগণকে ধোঁকা দিতেই ১ হাজার ২০০ শয্যার ঘোষণা দিয়েছিল। বর্তমান সরকার হাসপাতালটিতে ১ হাজার ২০০ সাধারণ শয্যার পাশাপাশি ১০০ শয্যার নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রের (আইসিইউ) সুবিধা নিশ্চিত করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে।

ডা. এস এম জিয়াউদ্দিন হায়দার আরও বলেন, রামেক হাসপাতালসহ আরও সাতটি পুরোনো মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের অবকাঠামোগত উন্নয়ন করা হবে। শয্যাসংখ্যার সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে জনবল, যন্ত্রপাতিসহ অন্যান্য সুযোগ-সুবিধাও বাড়ানো হবে। এ বছরের শেষ দিকে রামেক হাসপাতালের সম্প্রসারণকাজ শুরু হবে। এতে হাসপাতালের বর্তমান প্রতিকূল পরিস্থিতির উন্নতি হবে।

পদ্মা নদীর কারণে রাজশাহী অঞ্চলে সাপের উপদ্রব বেশি উল্লেখ করে ডা. জিয়াউদ্দিন হায়দার বলেন, এ অঞ্চলে সাপে কাটা রোগীর সংখ্যা অনেক বেশি। কিন্তু অনেক সময় তাদের প্রয়োজনীয় চিকিৎসা দেওয়ার মতো পরিস্থিতি হাসপাতালে থাকে না। খুব অল্প সময়ের মধ্যে হাসপাতালে প্রয়োজনীয় অ্যান্টিভেনম সরবরাহ করা হবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।

রামেক হাসপাতালের আইসিইউ ভবনের লিফট সরবরাহে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের জালিয়াতির অভিযোগ এবং এ কারণে লিফট স্থাপন না করায় রোগীদের দুর্ভোগের বিষয়ে জানতে চাইলে বিশেষ সহকারী বলেন, বিষয়টি তার জানা নেই।

হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল পিকেএম মাসুদ-উল-ইসলাম বলেন, ঘটনাটি ২০২৩ সালের। ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান যে লিফট সরবরাহ করেছিল, সেটি যথাযথ ছিল না বলে তদন্তে প্রমাণিত হয়েছে। এ বিষয়ে প্রতিবেদন মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়েছে। মন্ত্রণালয় থেকে ব্যবস্থা নেওয়ার প্রক্রিয়া চলছে। গণপূর্ত অধিদপ্তরের মাধ্যমেও পুনরায় তদন্ত হয়েছে। সেই প্রতিবেদন অনুযায়ীও ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।

এ সময় সংরক্ষিত নারী আসনের সংসদ সদস্য মাহমুদা হাবীবা, রাজশাহী মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ডা. জাওয়াদুল হকসহ হাসপাতালের চিকিৎসকেরা উপস্থিত ছিলেন।


নির্বাচিত

প্রেমে ব্যর্থ হয়ে ইয়াবা তৈরির কারখানা গড়ে তোলেন বাপ্পি

টঙ্গীতে আবাসিক ভবনে ইয়াবা তৈরির গোপন ল্যাব উদ্‌ঘাটন
ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
অনলাইন ডেস্ক

গাজীপুরের টঙ্গীতে একটি আবাসিক ভবনে গোপনে গড়ে তোলা কৃত্রিম ইয়াবা তৈরির কারখানার সন্ধান পেয়েছে পুলিশ। ওই আস্তানা থেকে মাদক উৎপাদনের বেশ কিছু রাসায়নিক উপাদান ও প্রয়োজনীয় যন্ত্রপাতি জব্দ করার পাশাপাশি নাজমুল ইসলাম বাপ্পি (৩২) নামের এক যুবককে আটক করা হয়েছে। শুক্রবার (৩০ অক্টোবর) দিবাগত রাত আনুমানিক দেড়টার দিকে টঙ্গী পূর্ব থানার পাগার (আলেকটেক) এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাকে নিজ বাড়ি থেকে গ্রেপ্তার করা হয়।

পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, পাগার এলাকার ওই বহুতল বাড়ির চতুর্থ তলায় অত্যন্ত কৌশলে একটি গোপন কক্ষ ও পরীক্ষাগার তৈরি করেছিলেন বাপ্পি। প্রকোষ্ঠটি এমনভাবে নকশা করা হয়েছিল, যাতে বাইরের কারও পক্ষে ভেতরে যাতায়াত বা সন্দেহ করা কঠিন হয়। টঙ্গী পূর্ব থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ মাকছুদুল আলম জানান, সুনির্দিষ্ট গোপন সংবাদের ভিত্তিতে পুলিশ বেশ কিছুদিন ধরে সন্দেহভাজন ওই বাড়িটির ওপর নজরদারি চালিয়ে আসছিল। এরপর শুক্রবার মধ্যরাতে সেখানে তল্লাশি চালিয়ে চতুর্থ তলার গোপন আস্তানায় সংরক্ষিত রাসায়নিক ও ইয়াবা তৈরির উপকরণের সত্যতা পায় পুলিশ। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে বাপ্পি নিজেই সেখানে মাদক প্রস্তুতের উদ্দেশে এসব সরঞ্জাম মজুত করার বিষয়টি স্বীকার করেছে।

জিজ্ঞাসাবাদে বাপ্পির বরাতে জানা যায়, কয়েক বছর আগে প্রবাস জীবন ত্যাগ করে দেশে ফেরেন তিনি। এরপর একটি সম্পর্কের টানাপোড়েনে মানসিকভাবে বিপর্যস্ত হয়ে একপর্যায়ে মাদকাসক্তিতে জড়িয়ে পড়েন। পরবর্তী সময়ে মাদক কেনাবেচার ব্যয় মেটানোর চিন্তা থেকে নিজেই কারখানা স্থাপনের দিকে ধাবিত হন তিনি। ইন্টারনেটের বিভিন্ন মাধ্যম ছাড়াও ফেসবুক ও ইউটিউব ঘেঁটে তথ্য ও কলাকৌশল রপ্ত করে বাড়ির ভেতর এই অননুমোদিত ল্যাবটি গড়ে তুলেছিলেন বলে দাবি করেছেন অভিযুক্ত যুবক।

বিষয়:

নির্বাচিত

পাবনায় মাছ ধরতে গিয়ে বজ্রপাতে শিশুসহ ৬ জনের মৃত্যু

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
পাবনা প্রতিনিধি

পাবনা সদর উপজেলায় বজ্রপাতে শিশুসহ ছয়জনের মৃত্যু হয়েছে। এ ঘটনা আরও দুইজন আহত হয়েছেন। তাদের উদ্ধার করে পাবনা জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

শুক্রবার (৩০ অক্টোবর) বিকেলে সদর উপজেলার মালঞ্চি ইউনিয়নের সোনাপাতির বিলে এ ঘটনা ঘটে। নিহতরা হলেন, সদর উপজেলারমালঞ্চি গজমতিকুন্ডা রবিউল ছেলে শাওন (২২), নলমুড়া ইসমাইলের ছেলে রব্বেল (২২), শাজাহানের ছেলে মিজান (১২), নাজিম উদ্দিনের ছেলে সাজিদ (১০), শাহাদুলের ছেলে আব্দুল্লাহ (১৮), ইবাদুলের ছেলে ইমন (১৪)।

স্থানীয় ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, দুপুরে বিভিন্ন অঞ্চল থেকে ওই বিলে মাছ ধরতে গিয়েছিলেন। এ সময় বিকেলে ৮ জন বৃষ্টির মধ্যে পড়ে বিলের একটি টঙ ঘরে আশ্রয় নেন। এ সময় বজ্রপাতে ঘটনাস্থলেই ছয়জনের মৃত্যু হয় এবং দুইজন গুরুতর আহত হন। তারা বেশ কিছুক্ষণ টঙ ঘরেই পড়েছিলেন। সন্ধ্যার দিকে আশপাশে এলাকার মানুষ টের পেয়ে আহতদের উদ্ধার করে হাসপাতালে ভর্তি করেন।

পাবনা সদর থানার ওসি তারিকুল ইসলাম জানান, ঘটনাস্থল দুর্গম এলাকা। পুলিশ পাঠানো হয়েছে।


নির্বাচিত

বাজারে শীতের সবজি, দামও চড়া

* নতুন আলু ১৬০, দেশি টমেটো ২২০ টাকা কেজি * মাছ-মুরগি-ডিমেও বাড়তি খরচ * চাপে সাধারণ ক্রেতা
শীতের সবজি। ছবি দৈনিক বাংলা
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

শীতের আগমনী বার্তা নিয়ে রাজধানীর বাজারে উঠতে শুরু করেছে মৌসুমি সবজি। বাজারে দেখা মিলছে ফুলকপি, বাঁধাকপি, শিম, মুলাসহ শীতকালীন নানা সবজির। তবে মৌসুমের শুরুতে সরবরাহ সীমিত থাকায় দাম এখনো বেশ চড়া। নতুন আলু বিক্রি হচ্ছে কেজিপ্রতি ১৬০ টাকা, আর দেশি টমেটোর দাম উঠেছে ২২০ টাকায়। বেশির ভাগ সবজির দাম ৬০ থেকে ১৪০ টাকার মধ্যে। ফলে শীতের সবজি বাজারে এলেও সাধারণ ক্রেতাদের জন্য তা এখনো স্বস্তির উপলক্ষ হয়ে উঠতে পারেনি।

শুধু সবজি নয়, মাছ, মুরগি ও ডিমের বাজারেও বাড়তি খরচ করতে হচ্ছে ক্রেতাদের। বিশেষ করে বড় আকারের মাছ, সামুদ্রিক মাছ ও ইলিশের দাম অনেকের নাগালের বাইরে। তুলনামূলক কম দামের মাছ ও সবজি কিনেও সংসারের বাজার খরচ সামলাতে হিমশিম খাচ্ছেন সাধারণ মানুষ। শুক্রবার (৩০ অক্টোবর) রাজধানীর বিভিন্ন বাজার ঘুরে এমন চিত্র দেখা গেছে।

আগাম শীতের সবজিতে চড়া দাম: বাজারে শীতের সবজির উপস্থিতি বাড়তে শুরু করলেও দাম এখনো উচ্চপর্যায়ে। প্রতি কেজি ফুলকপি ও বাঁধাকপি বিক্রি হচ্ছে ৬০ টাকা করে। ঝিঙা ১০০, লম্বা বেগুন ১০০, গোল বেগুন ১২০, কাঁকরোল ১০০ এবং শিম ১০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। এ ছাড়া কচুমুখী ৮০, মুলা ৭০, ঢ্যাঁড়স ৮০, গাজর ১৪০ এবং পটোল ৬০ টাকা কেজি দরে পাওয়া যাচ্ছে।

টমেটোর বাজারেও চড়া ভাব। সাধারণ টমেটো কেজিপ্রতি ১২০ টাকায় বিক্রি হলেও দেশি টমেটোর দাম ১৮০ থেকে ২২০ টাকা। নতুন আলু কিনতে ক্রেতাদের গুনতে হচ্ছে ১৬০ টাকা। কাঁচামরিচের দামও কম নয়, প্রতি কেজি ১৪০ টাকা। তবে কিছু সবজি তুলনামূলক কম দামে পাওয়া যাচ্ছে। প্রতি কেজি পেঁপে ৩০, মিষ্টিকুমড়া ৪০, লাউ ৬০ থেকে ৮০ এবং পটোল ৬০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।

সবজি কিনতে আসা সিদ্দিকুর রহমান বলেন, ‘টেলিভিশনে দেখি, পাঁচ টাকা দিয়েও কেউ লাউ কিনছে না। অথচ রাজধানীর বাজারে ৭০ থেকে ৮০ টাকার নিচে কোনো লাউ পাওয়া যাচ্ছে না। অধিকাংশ সবজির দামই ১০০ টাকার আশপাশে। শীত এলে সাধারণত সবজির দাম কমার কথা, কিন্তু এবার দেখছি উল্টো চিত্র।’

সবজি ব্যবসায়ী রমিজ উদ্দিন বলেন, বাজারে নতুন কোনো সবজি বা পণ্য উঠলে শুরুতে দাম কিছুটা বেশি থাকে। সরবরাহ বাড়লে দাম কমতে পারে।

মাছের বাজারে বড় মাছের দাম আকাশছোঁয়া: সবজির পর মাছের বাজারেও ক্রেতাদের বাড়তি অর্থ খরচ করতে হচ্ছে। তুলনামূলক কম দামের মাছের মধ্যে প্রতি কেজি পাঙাশ ২৩০ ও তেলাপিয়া ২৬০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। রুই মাছের দাম ৩৫০, পাবদা ৪০০, চাষের শিং ৪৫০ এবং বায়লা ৫৫০ টাকা।

অন্যদিকে বড় আকারের মাছ কিনতে গেলে খরচ আরও বেশি। কাতল মাছের দাম কেজিপ্রতি ৬০০ থেকে ৮০০ টাকা। ট্যাংরা ৭০০, আইড় ৭০০ থেকে ১ হাজার ২৫০ এবং বাইন মাছ ৯০০ থেকে ১ হাজার ২০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। দেশি শিং মাছের দাম ১ হাজার টাকা। বড় আকারের চিংড়ি বিক্রি হচ্ছে ১ হাজার ৪০০ টাকা কেজি দরে। সাগরের পাঙাশের দাম ১ হাজার ২০০ টাকা।

ইলিশের বাজারও বেশ চড়া। ৯০০ গ্রাম ওজনের ইলিশের কেজি ২ হাজার থেকে ২ হাজার ২০০ টাকা। আর এক কেজি ওজনের ইলিশ বিক্রি হচ্ছে ২ হাজার ৬০০ টাকায়।

মাছ ব্যবসায়ী মোজাম্মেল বলেন, সাগরের মাছের দাম সব সময়ই বেশি থাকে। হাজার টাকার নিচে অনেক মাছ বিক্রি করা যায় না। দেশি মাছের দামও বেশি। চাষের মাছের দামও ২০০ টাকার ওপরে। আজ আইড় মাছ ৭০০ থেকে ১ হাজার ২৫০ টাকা কেজি দরে বিক্রি করছি।

তবে ক্রেতা আজাদ রহমানের মতে, মোহাম্মদপুরের অন্যান্য বাজারের তুলনায় টাউন হল মার্কেটে মাছের দাম কিছুটা বেশি। তিনি বলেন, দাম বেশি হলেও এখানে তুলনামূলক তরতাজা মাছ পাওয়া যায়। এ কারণে অনেক ক্রেতা বাড়তি দাম দিয়েও এই বাজার থেকে মাছ কেনেন।

মুরগি ও ডিমেও বাড়তি খরচ: মাছের বিকল্প হিসেবে মুরগি কিনতে গেলেও খুব বেশি স্বস্তি নেই। বাজারে প্রতি কেজি ব্রয়লার মুরগি ১৯০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। সোনালি মুরগির দাম আরও বেশি, কেজিপ্রতি ৩১০ থেকে ৩২০ টাকা।

ডিমের বাজারেও দামের পার্থক্য রয়েছে। প্রতি ডজন বাদামি ডিম বিক্রি হচ্ছে ১৪০ টাকা এবং সাদা ডিম ১৩০ টাকায়। ফলে মাছের পরিবর্তে মুরগি বা ডিম দিয়ে খাবারের আয়োজন করলেও আগের তুলনায় বেশি খরচ হচ্ছে।

শীতের বাজারে স্বস্তির অপেক্ষা: বাজার বিশ্লেষণে দেখা যায়, সব ধরনের পণ্যের দাম সমানভাবে বেশি না হলেও নিত্যদিনের খাদ্যতালিকায় থাকা বেশ কয়েকটি সবজি, মাছ ও প্রাণিজ আমিষের দাম সাধারণ ক্রেতাদের ওপর বাড়তি চাপ তৈরি করছে। বিশেষ করে চার সদস্যের একটি পরিবারের দৈনন্দিন বাজারে সবজি, মাছ, মুরগি ও ডিম কিনতেই উল্লেখযোগ্য অর্থ ব্যয় করতে হচ্ছে।

শীতের মৌসুম পুরোপুরি শুরু হলে সাধারণত ফুলকপি, বাঁধাকপি, শিম, মুলা, গাজরসহ বিভিন্ন সবজির সরবরাহ বাড়ে। এতে বাজারে প্রতিযোগিতা তৈরি হওয়ার পাশাপাশি দাম কমার সুযোগ থাকে। তবে আগাম সবজির উচ্চ উৎপাদন ও পরিবহন ব্যয়, সরবরাহের পরিমাণ এবং বাজার ব্যবস্থাপনার বিষয়গুলোও দামের ওপর প্রভাব ফেলতে পারে।

ক্রেতাদের প্রত্যাশা, শীতের সবজির সরবরাহ দ্রুত বাড়বে এবং বাজারে তার ইতিবাচক প্রভাব পড়বে। শুধু মৌসুমি সবজির উপস্থিতি নয়, সেগুলো সাধারণ মানুষের ক্রয়ক্ষমতার মধ্যে আসাটাই এখন বড় প্রত্যাশা। কারণ বাজারে নতুন সবজি উঠলেও দাম কম না হলে মৌসুম পরিবর্তনের সুফল সাধারণ ভোক্তাদের কাছে পৌঁছাবে না।


নির্বাচিত

রেলবহরে যুক্ত হচ্ছে ২০০ নতুন কোচ, বাদ পড়বে জরাজীর্ণগুলো

* নতুন ট্রেন চালুর পাশাপাশি চাহিদা অনুযায়ী বাড়বে রেললাইন
শুক্রবার (৩০ অক্টোবর) দুপুরে পঞ্চগড় রেলওয়ে স্টেশন পরিদর্শন শেষে রেলওয়ের মহাপরিচালক আফজাল হোসেন। ছবি: দৈনিক বাংলা
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
পঞ্চগড় প্রতিনিধি  

বাংলাদেশ রেলওয়ের যাত্রীসেবা বাড়াতে বহরে পর্যায়ক্রমে যুক্ত হচ্ছে প্রায় ২০০টি নতুন কোচ। এসব কোচ দিয়ে নতুন ট্রেন চালুর পাশাপাশি পুরোনো ও জরাজীর্ণ কোচ প্রতিস্থাপন করা হবে। ইতোমধ্যে দেশে পৌঁছানো নতুন কোচের একটি অংশ দিয়ে প্রাথমিকভাবে নতুন ট্রেন চালুর পরিকল্পনা নিয়েছে রেলওয়ে। পর্যায়ক্রমে বাকি কোচ দেশে আসার সঙ্গে সঙ্গে যাত্রী চাহিদা বিবেচনায় নতুন ট্রেন চালু ও পুরোনো কোচ পরিবর্তনের কার্যক্রম এগিয়ে নেওয়া হবে।

শুক্রবার (৩০ অক্টোবর) দুপুরে পঞ্চগড় রেলওয়ে স্টেশন পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের এ তথ্য জানান বাংলাদেশ রেলওয়ের মহাপরিচালক আফজাল হোসেন।

তিনি বলেন, নতুন কোচ দিয়ে প্রাথমিক পর্যায়ে একটি নতুন ট্রেন চালুর পরিকল্পনা রয়েছে। পরবর্তী সময়ে আরও কোচ দেশে এলে প্রয়োজন অনুযায়ী নতুন ট্রেন চালু এবং পুরোনো কোচ প্রতিস্থাপন করা হবে। এর মাধ্যমে রেলসেবার মান উন্নয়নের পাশাপাশি যাত্রী পরিবহনের সক্ষমতাও বাড়বে।

রেলওয়ের অবকাঠামো উন্নয়ন ও যাত্রীসেবার পরিধি বাড়ানোর বিষয়ে মহাপরিচালক বলেন, বিভিন্ন স্টেশনে মালামাল ওঠানো-নামানোর সুবিধা এবং যাত্রীদের চাহিদা সরেজমিনে পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে। যেসব স্টেশনে যাত্রী ও পণ্য পরিবহনের চাপ বেশি, সেসব স্থানে প্রয়োজন অনুযায়ী রেললাইন সম্প্রসারণ, লুপ লাইন বৃদ্ধি এবং ট্রেনের কোচের সংখ্যা বাড়ানোর উদ্যোগ নেওয়া হবে।

পঞ্চগড় থেকে কক্সবাজার পর্যন্ত সরাসরি ট্রেন চালুর সম্ভাবনা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, এটি দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনার বিষয়। দেশের সব রেলপথ এখনো ব্রডগেজে রূপান্তরিত না হওয়ায় এ বিষয়ে এখনই চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া সম্ভব হচ্ছে না। রেলপথগুলো ব্রডগেজে রূপান্তরের পাশাপাশি প্রস্তাবিত রুটে পর্যাপ্ত যাত্রী পাওয়া যাবে কি না, সেটিও যাচাই করতে হবে।

এদিকে পঞ্চগড়ের বাংলাবান্ধা স্থলবন্দর পর্যন্ত রেলপথ সম্প্রসারণের বিষয়েও কথা বলেন রেলওয়ের মহাপরিচালক। তিনি জানান, আঞ্চলিক যোগাযোগ প্রতিষ্ঠার জন্য ভারতের অংশেও রেলপথের সংযোগ প্রয়োজন। শুধু বাংলাদেশের অংশে রেললাইন নির্মাণ করলে প্রত্যাশিত আঞ্চলিক যোগাযোগ সুবিধা পাওয়া যাবে না। এ ক্ষেত্রে দুই দেশের সম্মতি থাকলেই প্রকল্প বাস্তবায়নের উদ্যোগ নেওয়া সম্ভব।

রেলওয়ের কর্মকর্তারা মনে করছেন, নতুন কোচ সংযোজন এবং পুরোনো কোচ প্রতিস্থাপনের মাধ্যমে যাত্রী পরিবহনে সক্ষমতা বাড়ানোর সুযোগ তৈরি হবে। পাশাপাশি যাত্রী ও পণ্য পরিবহনের চাহিদা অনুযায়ী অবকাঠামো উন্নয়ন করা গেলে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে রেল যোগাযোগ আরও কার্যকর করা সম্ভব হবে।

পরিদর্শনকালে পঞ্চগড় রেলওয়ে স্টেশনের স্টেশনমাস্টার জাহিদ হাসানসহ রেলওয়ের বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তা-কর্মচারী, রাজনৈতিক নেতাকর্মী ও স্থানীয় ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন।


নির্বাচিত

ডেঙ্গুতে ৩ জনের মৃত্যু, হাসপাতালে ভর্তি ১২৬২

ফাইল ছবি
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

এডিস মশাবাহিত ডেঙ্গু জ্বরের প্রকোপ বেড়েই চলেছে। গত ২৪ ঘণ্টায় ডেঙ্গুতে আরও তিনজনের মৃত্যু হয়েছে। একই সময়ে ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন ১ হাজার ২৬২ জন।

শুক্রবার (৩০ অক্টোবর) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের ডেঙ্গুবিষয়ক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়। এতে বলা হয়, চলতি বছর দেশে ডেঙ্গুতে মোট মৃতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৪১৮ জনে।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, নতুন ভর্তি রোগীদের মধ্যে ঢাকা বিভাগে ৪৩৫ জন, ময়মনসিংহ বিভাগে ৭৫ জন, চট্টগ্রাম বিভাগে ২৬৮ জন, খুলনা বিভাগে ১৩১ জন, রাজশাহী বিভাগে ১১২ জন, রংপুর বিভাগে ৪৮ জন, বরিশাল বিভাগে ১৮২ জন এবং সিলেট বিভাগে ১১ জন রয়েছেন।

এ বছর এখন পর্যন্ত সারা দেশে ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে মোট ১ লাখ ৩৩ হাজার ৩৬৭ জন হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। তাঁদের মধ্যে ১ লাখ ২৬ হাজার ৭১৩ জন চিকিৎসা নিয়ে সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছেন।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য বিশ্লেষণে দেখা যায়, জানুয়ারি ও ফেব্রুয়ারিতে দুজন করে, মার্চ ও এপ্রিলে কেউ মারা যাননি। মে মাসে একজন এবং জুনে ১৩ জনের মৃত্যু হয়। এরপর পরিস্থিতির অবনতি হতে থাকে। জুলাইয়ে ৩৬ জন এবং আগস্টে ৪৩ জন মারা যান।

সেপ্টেম্বরে ডেঙ্গুতে প্রাণহানি আরও বেড়ে দাঁড়ায় ১৪৮ জনে। আর চলতি অক্টোবরের ৩০ তারিখ পর্যন্ত মৃত্যু হয়েছে ১৭৩ জনের।


নির্বাচিত

মিয়ানমারে পাচারকালে বিপুল পরিমাণ সিমেন্টসহ আটক ৮

ছবি: দৈনিক বাংলা
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

মিয়ানমারে পাচারকালে বিপুল পরিমাণ সিমেন্টসহ আটজনকে আটক করেছে কোস্ট গার্ড। শুক্রবার (৩০ অক্টোবর) কোস্ট গার্ড মিডিয়া কর্মকর্তা লেফটেন্যান্ট কমান্ডার সাব্বির আলম সুজন এই তথ্য জানান।

চট্টগ্রামের পতেঙ্গা থানাধীন কর্ণফুলী চ্যানেলের ১৫ নম্বর ঘাট সংলগ্ন এলাকায় শুক্রবার (৩০ অক্টোবর) কোস্ট গার্ড আউটপোস্ট পতেঙ্গা গোপন সংবাদের ভিত্তিতে একটি অভিযান চালায়। এ সময় সন্দেহজনক একটি কার্গো বোটে তল্লাশি চালিয়ে অবৈধভাবে মিয়ানমারে পাচারের উদ্দেশ্যে বহনকৃত প্রায় ৪ লাখ টাকা মূল্যের ৪০ হাজার কেজি সিমেন্ট ও পাচার কাজে ব্যবহৃত একটি বোটসহ আটজন পাচারকারীকে আটক করেছে।

জব্দকৃত সিমেন্ট, পাচারকাজে ব্যবহৃত বোট ও আটককৃত পাচারকারীদের পরবর্তী আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের কার্যক্রম প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।

তিনি আরও বলেন, ‘চোরাচালান রোধে কোস্ট গার্ড ভবিষ্যতেও এ ধরনের অভিযান অব্যাহত রাখবে।’


নির্বাচিত

খুলনা রেঞ্জের ২৮ পুলিশ কর্মকর্তা ও সদস্যকে একসঙ্গে প্রত্যাহার

ফাইল ছবি: দৈনিক বাংলা
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

খুলনা রেঞ্জের বিভিন্ন থানা ও ইউনিটে কর্মরত ২৮ পুলিশ সদস্যকে প্রত্যাহার (ক্লোজড) করা হয়েছে। এর মধ্যে পুলিশের বাবুর্চি থেকে শুরু করে এসআই পদ মর্যাদার সদস্যও রয়েছেন। শুদ্ধি অভিযান পুলিশের ভেতরে আগে শুরু করা হয়েছে। পর্যায়ক্রমে আরও কঠোর পদক্ষেপ নেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে।

শুক্রবার (৩০ অক্টোবর) খুলনা রেঞ্জ ডিআইজি কার্যালয় থেকে এ পদক্ষেপ নেওয়া হয়। খুলনা রেঞ্জের আওতাধীন বিভিন্ন জেলা ও ইউনিটে কর্মরত পুলিশ সদস্যদের বিরুদ্ধে অনিয়ম এবং অনৈতিক সুবিধা গ্রহণের অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে ২৮ জনকে প্রত্যাহার করা হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে খুলনার ৯, বাগেরহাটের ৯, যশোরের ২, ঝিনাইদহের ৩, কুষ্টিয়ার ৪ ও চুয়াডাঙ্গার একজন রয়েছেন। থানা ছাড়াও ট্রাফিক ও গোয়েন্দা শাখার সদস্যরা এ তালিকায় রয়েছেন।

খুলনা রেঞ্জের ডিআইজি মো. রেজাউল করিম বলেন, দুর্নীতি, মাদক ও সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে বর্তমান সরকারের জিরো টলারেন্স নীতি রয়েছে। এ কারণে প্রথমে বাহিনীর ভেতরে শুদ্ধি অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে। অনৈতিক সুবিধা গ্রহণের প্রবণতা আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নয়ন এবং পুলিশের প্রতি জনআস্থা তৈরিতে বাধা সৃষ্টি করে।

তিনি আরও বলেন, এ ধরনের অনৈতিক সুবিধা গ্রহণকারীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার বিষয়ে আইজিপিরও নির্দেশনা রয়েছে। সেই নির্দেশনার ধারাবাহিকতায় খুলনা বিভাগে শুদ্ধি অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে।

সূত্রে জানা গেছে, পুলিশের দায়িত্ব আইন প্রয়োগ, অপরাধ প্রতিরোধ এবং নাগরিকের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা। তবে দায়িত্ব পালনের সময় কোনও সদস্য ব্যক্তিগত স্বার্থে অনৈতিক সুবিধা নিলে তার প্রভাব পড়ে পুরো বাহিনীর ওপর। বিশেষ করে মামলা গ্রহণ, তদন্ত, অপরাধ নিয়ন্ত্রণ কিংবা অভিযান পরিচালনার মতো গুরুত্বপূর্ণ কাজে অর্থ বা অন্যকোনও সুবিধার বিনিময়ে পক্ষপাতের অভিযোগ উঠলে পুলিশের প্রতি মানুষের আস্থা ক্ষতিগ্রস্ত হয়। এতে অপরাধীরা সুযোগ পায়, পাশাপাশি সাধারণ মানুষও পুলিশের কাছ থেকে প্রত্যাশিত সেবা পাওয়া নিয়ে অনিশ্চয়তায় পড়ে।

সূত্রটি জানায়, পুলিশ সদস্যদের বেতন-ভাতা ও অন্যান্য সুযোগ-সুবিধা বাড়ানোর অন্যতম উদ্দেশ্য তাদের আর্থিক নিরাপত্তা নিশ্চিত এবং পেশাগত দায়িত্ব পালনে উৎসাহিত করা। কিন্তু এসব সুবিধা বাড়ানোর পরও কোনও সদস্য অনৈতিক উপায়ে বাড়তি সুবিধা নেওয়ার চেষ্টা করলে তা ব্যক্তিগত অসততার পাশাপাশি বাহিনীর শৃঙ্খলা ও জবাবদিহির দুর্বলতাকেও সামনে নিয়ে আসে।

সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের মতে, পুলিশের প্রতি জনআস্থা বজায় রাখতে বাহিনীর অভ্যন্তরীণ জবাবদিহি নিশ্চিত করা প্রয়োজন। কোনও সদস্যের বিরুদ্ধে অনৈতিক সুবিধা গ্রহণের অভিযোগ উঠলে দ্রুত তদন্তের মাধ্যমে এর সত্যতা নির্ধারণ করতে হবে। অভিযোগ প্রমাণিত হলে বিভাগীয় ব্যবস্থার পাশাপাশি প্রযোজ্য ক্ষেত্রে আইনি পদক্ষেপ নেওয়া জরুরি। একই সঙ্গে দায়িত্বশীল ও পেশাদার পুলিশ সদস্যদের কাজের পরিবেশ ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করাও প্রয়োজন।


নির্বাচিত

banner close