রোববার, ২৮ জুন ২০২৬
১৪ আষাঢ় ১৪৩৩

পাচারকারীদের টার্গেটে রোহিঙ্গা নারী-পুরুষ

কাজের প্রলোভনে রোহিঙ্গা নারী-পুরুষকে ভারত ও সৌদি আরবে পাচার করা হয়।
প্রতিবেদক, দৈনিক বাংলা
প্রকাশিত
প্রতিবেদক, দৈনিক বাংলা
প্রকাশিত : ৬ অক্টোবর, ২০২২ ০৮:০৫

শাহরিয়ার হাসান ও মুহিবুল্লাহ মুহিব

নিরাপদ যাত্রা ও স্থায়ী কাজের প্রলোভনে রোহিঙ্গা নারীদের পাচার করে দেয়া হচ্ছে ভারত ও সৌদি আরবে। পাচারের জন্য নতুন রুট হিসেবে দেশের বিভিন্ন সীমান্ত ব্যবহার করা হচ্ছে। তবে সমুদ্রপথেও এ যাত্রা কমেনি। রোহিঙ্গা নারী-পুরুষরা সমুদ্রপথেও পাড়ি দিচ্ছেন মালয়েশিয়া ও থাইল্যান্ডে। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, সমুদ্র আর সীমান্ত দিয়ে যাওয়ার মাঝখানে পার্থক্য শুধু টাকার।

সমুদ্র হোক আর সীমান্ত, দুভাবে বিদেশ যাওয়া কেউই ভালো নেই। ঘর ছাড়ার পরই তারা টের পান দালালদের হাতবদলে বিক্রি হয়ে গেছেন। এসব ভুক্তভোগীর অনেকেই স্বজনদের কাছে নিজেদের দুর্ভোগের কথা জানিয়ে দেশে ফেরার আকুতি জানিয়েছেন। তারা বলেছেন, প্রতিনিয়তই সইতে হচ্ছে নৃশংস নির্যাতন। সেখানে বেঁচে থাকা আর মরে যাওয়া একই হয়ে দাঁড়িয়েছে।

দেশের আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর একাধিক ইউনিট, বিমানবন্দর থেকে উদ্ধার হওয়া নারীদের দেয়া তথ্য এবং দালাল চক্রের ধরা পড়া সদস্যদের দেয়া আদালতে জবানবন্দি থেকে রোহিঙ্গা নারী-পুরুষ বিক্রি হওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত হওয়া গেছে। জানা গেছে, রোহিঙ্গা পাচারের নতুন রুট সম্পর্কেও।

সংশ্লিষ্ট পুলিশ কর্মকর্তারা বলছেন, দালাল চক্রের এ নেটওয়ার্ক এতটাই বিস্তৃত যে তালিকাভুক্ত আন্তর্জাতিক মানব পাচারকারী সদস্যদের সঙ্গেও স্থানীয় রোহিঙ্গা চক্রের যোগসাজশ আছে। কক্সবাজারের উখিয়া ও টেকনাফের রোহিঙ্গা ক্যাম্পে আস্তানা গেড়ে পাচারকারী চক্রের অন্তত ১১টি গ্রুপ কাজ করছে। প্রত্যেক গ্রপে আছে ৫০ জনের বেশি সদস্য। কিন্তু ভুক্তভোগী রোহিঙ্গা নারী-পুরুষরা ক্যাম্প ছেড়ে চক্রের খপ্পরে পড়ার আগ পর্যন্ত ঘুণাক্ষরেও সেটা টের পাচ্ছেন না।

পুলিশের চট্টগ্রাম রেঞ্জের উপমহাপরিদর্শক (ডিআইজি) আনোয়ার হোসেন দৈনিক বাংলাকে বলেন, রোহিঙ্গা ক্যাম্পে এ ধরনের মানব পাচারকারীরা সক্রিয়। তবে তারা যতই শক্তিশালী হোক না কেন, সুবিধা করতে পারছে না।

চলতি বছরের আগস্টে ঢাকায় আসার জন্য কক্সবাজার বিমানবন্দরে একটি বিমান সংস্থার কাউন্টারের সামনে দাঁড়িয়েছিলেন ১১ রোহিঙ্গা নারী-পুরুষ। বোর্ডিং পাস নিতে পারলেই কক্সবাজার ছেড়ে আসতে পারতেন তারা। কিন্তু তাদের কথাবার্তা ও আচরণে সন্দেহ হলে কাউন্টারের সামনে থেকে সবাইকে আটক করে পুলিশ। তাদের কাছ থেকে নগদ ৩ লাখ টাকারও বেশি জব্দ করা হয়। তারা সবাই রোহিঙ্গা ক্যাম্প ১৭, ৮ ও ২৬-এর বাসিন্দা।

এদের জিজ্ঞাসাবাদে পুলিশ জেনেছে, ভারতের উদ্দেশেই তারা ক্যাম্প ছেড়েছিলেন। উন্নত জীবনের আশায় দালালকে ১ লাখ টাকা দিয়ে নারীরা আর ২ লাখ টাকা দিয়ে পুরুষরা ভারতে যাওয়ার পথ ধরেছিলেন। উদ্ধার হওয়া এসব নারী-পুরুষকে জিজ্ঞাসাবাদের মাধ্যমে আরেকটি চক্রের সন্ধান বিমানবন্দর আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়ন ও কক্সবাজার জেলা পুলিশ।

পরে ওই চক্রের এক সদস্য মতিউরকে ঢাকা থেকে গ্রেপ্তার করে ঢাকা মহানগর পুলিশ। গত তিন বছরে তার মাধ্যমে অন্তত দুই শতাধিক রোহিঙ্গা নারী ভারতে পাচার হয়েছে বলে জবানবন্দিতে মতিউর স্বীকার করেছে। মতিউর জানিয়েছে, ভারত থেকেই অনেকের গন্তব্য হয়েছে সৌদি আরব।

উখিয়ার ১৫ নম্বর ক্যাম্পের সি ব্লকের দীল মোহাম্মদের মেয়ে ভুক্তভোগী সুরাইয়া দৈনিক বাংলাকে জানান, তিনি ক্যাম্প থেকে বেরিয়ে সীমান্তবর্তী এক জেলায় দুই মাস থেকেছেন। প্রথমে ভারত ও সেখান থেকে সৌদি আরব যাওয়ার কথা ছিল তার। কিন্তু যে রাতে সীমান্ত পার হবেন ঠিক সেদিনই পাচারকারী দলের এক সদস্য বিজিবির হাতে ধরে পড়ে। ফলে তিনিসহ ক্যাম্প থেকে আসা আরও ১০ জন মেয়ে অন্য আরেকটি চক্রের কাছে হাতবদল হন। ওই চক্র ভারতে পাঠানোর জন্য আরও ৫০ হাজার টাকা দাবি করে। সেটা না দিতে পারায় সেখানে রেখে দুই মাস ধরে নির্যাতন করা হয় তাদের। পরে ক্যাম্পে যাওয়া-আসা আছে এমন এক যুবকের সঙ্গে পালিয়ে ক্যাম্পে ফেরেন।

কুতুপালং ক্যাম্পের মাঝি জহুরুল হোসেন বলেন, ভারত পাঠানোর কথা বলে রোহিঙ্গা ক্যাম্পের মেয়েদের পাচার করা হচ্ছে। ব্লকে ব্লকে দালালরা প্রকাশ্যে ঘুরে বেড়াচ্ছে। প্রলোভনে পড়ে কখনো ৫০ হাজার, কখনো ১ লাখ টাকায় তাদের নিয়ে যাচ্ছে। তবে সমুদ্রপথে যেতে খরচ অনেক কম।

উখিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ আলী দৈনিক বাংলাকে বলেন, রোহিঙ্গা শিবির থেকে মালয়েশিয়া পাঠানোর সময় গত দুই মাসে অন্তত শতাধিক রোহিঙ্গা নারীকে উদ্ধার করেছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। বেশ কয়েকজন মানব পাচারকারীকেও ধরা হয়েছে। তবে তারা শুধু মালয়েশিয়ায় যাচ্ছেন না, পাচার হচ্ছেন অন্য দেশেও।

সীমান্ত দিয়ে যেভাবে নারী পাচার

সিআইডির মানব পাচার নিয়ে কাজ করা অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আক্তারুজ্জামান দৈনিক বাংলাকে বলেন, দেশে থেকে মোট যত নারী পাচার হয়, তার অর্ধেকের বেশি পাচার হয় ভারতে। ভারতে নারী পাচারের জন্য পাচারকারী চক্র সাতক্ষীরা, যশোর, মেহেরপুর সীমান্ত অঞ্চলকে বেছে নেয়। পাসপোর্ট-ভিসা ছাড়াই অবৈধভাবে পাচার হয় নারী-শিশু।

সাধারণত গ্রামাঞ্চলে তালাকের শিকার নারী, অসচ্ছল পরিবারের মেয়ে, পোশাক কারখানায় কাজ করা নারীরা পাচারকারীদের প্রধান টার্গেট। এর সঙ্গে নতুন যোগ হয়েছে রোহিঙ্গা নারী। তাদের খুব সহজেই প্রলোভনে ফেলে পাচার করা যায়। পাচার করার পর এসব মেয়েকে বিক্রি করে দেয়া হয় ভারতের বিভিন্ন রাজ্যের হোটেল কিংবা যৌনপল্লিতে।

পরিচয় গোপন রাখার শর্তে ভারতফেরত এক ভুক্তভোগী তরুণী বলেন, ‘একবার ফুসলিয়ে সীমান্ত পার করতে পারলে আর কিছু করার থাকে না। অনেকে ভাবেন নিজের ইচ্ছাতেই আমরা যাই। আসলে ভালো কাজ আর উন্নত জীবনের লোভ দেখিয়ে কিছু বুঝে ওঠার আগেই আমাদের পাচার করা হয়। সব বুঝে গেলে তখন আর উপায় থাকে না। তখন পালাতে চাইলেও পথ খুঁজে পাওয়া যায় না।’

জানা গেছে, সারা দেশের দালাল চক্রের নজর এখন রোহিঙ্গা ক্যাম্পে। তারা নানাভাবে সব রোহিঙ্গা ক্যাম্পে তাদের অপতৎপরতা চালাচ্ছে। প্রতিটি চক্রই সেখানে এজেন্ট নিয়োগ দিয়ে নারীদের পাচারের নিশানা করেছে।

সিআইডির তথ্য বলছে, সীমান্ত পার করে দেয়ার জন্য দালালরা ২০ থেকে ২৫ হাজার টাকা করে পায়। একই সঙ্গে প্রতি মাসে কমিশনও পায়, যেটা নির্ধারণ হয় পাচার হওয়া মেয়েদের কাজের ওপর।

১৫ হাজার মানব পাচারকারী সম্পর্কে তথ্য নেই

দেশ থেকে কত নারী পাচার হচ্ছে আর এর বিপরীতে কত দালাল চক্র কাজ করছে তার সুনির্দিষ্ট কোনো হিসাব নেই। তবে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ-সিআইডি বলছে, ২০০৪ সাল থেকে এখন পর্যন্ত দেশ থেকে ১২ হাজার ৩২৪ জন নারী পাচার হয়েছে। এসব পাচারে জড়িত ২৭ হাজার ৩৬৩ জনের বিরুদ্ধে অভিযোগ আছে। ১২ হাজার ২৮২ জন বিভিন্ন সময়ে আইনের আওতায় এলেও বাকি ১৫ হাজার ৮২ জন পাচারকারীর সম্পর্কে কোনো তথ্য নেই কারও কাছেই। এরা দেশে না বিদেশে আছে সেটাও জানে না কেউ। এদের সম্পর্কে তথ্য সংগ্রহ করে ধরতে অভিযান চালানোর প্রস্তুতি নিচ্ছেন আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা।

আইন ও সালিশ কেন্দ্রের নির্বাহী পরিচালক নীনা গোস্বামী মনে করেন, বাংলাদেশে মানব পাচার ঠেকানো বেশ কঠিন হয়ে পড়ছে। আইন প্রয়োগে অস্বচ্ছতা ও অদক্ষতা ছাড়াও দারিদ্র্যের সুযোগ নিচ্ছে পাচারকারীরা।

ট্রলারভর্তি রোহিঙ্গা পুরুষ যাচ্ছে মালয়েশিয়া-থাইল্যান্ড

সাগরপথে রোহিঙ্গা মানব পাচার কোনোভাবেই থামছে না। সর্বশেষ দুই দিন আগে মঙ্গলবার ট্রলারে চড়ে সাগরপথে মালয়েশিয়া যাওয়ার সময় ট্রলারডুবিতে প্রাণ হারিয়েছেন তিন রোহিঙ্গা নারী। এ সময় জীবিত উদ্ধার করা হয়েছে চার বাংলাদেশিসহ ৪৮ রোহিঙ্গাকে।

টেকনাফ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) হাফিজুর রহমান জানান, জীবিত উদ্ধার হওয়া ব্যক্তিরা উখিয়ার বালুখালী, কুতুপালং, হাকিমপাড়াসহ বিভিন্ন রোহিঙ্গা ক্যাম্পে থাকেন। এদের মধ্যে আটজন নারী। যে চার বাংলাদেশি উদ্ধার হয়েছেন তারাই দালাল চক্রের সদস্য। এ ঘটনায় রোহিঙ্গাসহ ২৪ জনকে আসামি করে মামলা হয়েছে।

কক্সবাজার জেলা পুলিশ ও কোস্টগার্ডের একাধিক সূত্র বলছে, তাদের নজরদারির বাইরেও কমবেশি প্রতি সপ্তাহেই ট্রলারভর্তি রোহিঙ্গা মালয়েশিয়ায় পাড়ি দিচ্ছেন। কেউ কেউ একইভাবে থাইল্যান্ডেও চলে যান।

কক্সবাজারের কুতুবজোম ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো. শেখ কামাল দৈনিক বাংলাকে বলেন, মালয়েশিয়া পৌঁছে দেয়ার কথা বলে দালাল চক্র রোহিঙ্গাদের কাছ থেকে মাথাপিছু ২০-৩০ হাজার টাকা হাতিয়ে নেয়।

পুলিশ ও স্থানীয় জনপ্রতিনিধিরা বলছেন, কয়েক বছর সমুদ্রপথে মানব পাচার বন্ধ থাকলেও আবার তৎপর হয়ে উঠেছে দালাল চক্র। সমুদ্র শান্ত থাকলে মানব পাচার বেড়ে যায়।

কক্সবাজারের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (প্রশাসন) মো. রফিকুল ইসলাম বলেন, রোহিঙ্গাদের মালয়েশিয়ায় পাচারের চক্রগুলো বেশ সক্রিয়। দালালদের তালিকা করা হয়েছে। মামলাও আছে দেড় শতাধিক। এগুলো তদন্ত করে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিচ্ছে পুলিশ।

২০১৭ সালের ২৫ আগস্টের পরবর্তী কয়েক মাসে মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্য থেকে পালিয়ে কক্সবাজারের বিভিন্ন আশ্রয়শিবিরে ঠাঁই নেয় আট লাখ রোহিঙ্গা। আগে থেকে থাকা রোহিঙ্গা মিলিয়ে সেখানে এখন রোহিঙ্গার সংখ্যা ১১ লাখেরও বেশি। এসব ক্যাম্প ঘিরে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর বিপুল সদস্য কাজ করছেন। তৎপর আছে গোয়েন্দা সংস্থাগুলোও। তার পরও বন্ধ হচ্ছে না পাচারের মতো ঘৃণ্য অপরাধ।


বিআইডব্লিউটিএ চেয়ারম্যানের নারায়ণগঞ্জ নদীবন্দর পরিদর্শন

ছবি: দৈনিক বাংলা
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
দৈনিক বাংলা ডেস্ক

বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহন কর্তৃপক্ষের (বিআইডব্লিউটিএ) চেয়ারম্যান অতিরিক্ত সচিব মো. মুহিদুল ইসলাম গত শনিবার (২৭ জুন) নারায়ণগঞ্জ নদীবন্দর পরিদর্শন করেছেন।

এ সময় তিনি নারায়ণগঞ্জ নদীবন্দর টার্মিনাল এলাকা, বিশ্বব্যাংক কর্তৃক নির্মাণাধীন নতুন টার্মিনাল ভবন, মাছ ঘাটের নির্মাণাধীন শেড, খানপুর অভ্যন্তরীণ কনটেইনারের নির্মাণাধীন টার্মিনাল, ড্রেজার বেইজ নারায়ণগঞ্জ, উদ্ধারকারী জাহাজ প্রত্যয়, ডিইপিটিসি এবং ড্রেজার বেইজ হতে শীতলক্ষ্যা নদীর শাহ্ সিমেন্ট ফ্যাক্টরির সম্মুখভাগ এলাকা হয়ে ধলেশ্বরী নদীর মুক্তারপুর ব্রিজ এলাকা পর্যন্ত নৌপথ পরিদর্শন করেন।

পরিদর্শনকালীন কর্তৃপক্ষের সদস্য (প্রকৌশল) রকিবুল ইসলাম তালুকদার, পরিচালক, প্রশাসন ও মানবসম্পদ এবং অতিরিক্ত দায়িত্ব (বন্দর ও পরিবহন বিভাগ) মো. সাইফুল ইসলাম, প্রধান প্রকৌশলী (পুর) এ এইচ মো. ফরহাদ উজ্জামান ও নৌসওপ বিভাগের পরিচালক ক্যাপ্টেন মো. শাহজাহানসহ নারায়ণগঞ্জ নদীবন্দরের সকল শাখার কর্মকর্তা ও কর্মচারীরা উপস্থিত ছিলেন।


কুলাউড়ায় পূজা উদযাপন পরিষদের সম্মেলন

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
কুলাউড়া প্রতিনিধি

বাংলাদেশ পূজা উদযাপন পরিষদ কুলাউড়া উপজেলা শাখার দ্বি-বার্ষিক সম্মেলন গত শনিবার (২৭ জুন) জেলা পরিষদ অডিটোরিয়ামে অনুষ্ঠিত হয়েছে। কুলাউড়া উপজেলা শাখার আহ্বায়ক ডা. অরুণাভ দে-এর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সম্মেলনে প্রধান অতিথি ছিলেন মৌলভীবাজার-২ কুলাউড়া আসনের সংসদ সদস্য মো. শওকতুল ইসলাম।

সংগঠনের সদস্য সচিব অজয় দাস ও সুজিত দে-এর যৌথ সঞ্চালনায় সম্মেলনের উদ্বোধক ছিলেন জেলা শাখার সভাপতি আশু রঞ্জন দাস। অতিথি ছিলেন কেন্দ্রীয় কমিটির সহ-সভাপতি অ্যাডভোকেট মৃত্যুঞ্জয় ধর ভোলা।

প্রধান বক্তা ছিলেন জেলা শাখার সাধারণ সম্পাদ মহিম দে। বিশেষ অতিথির বক্তব্য দেন বাংলাদেশ হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদ মৌলভীবাজার জেলা শাখার সাধারণ সম্পাদক নকুল চন্দ্র দাস, কুলাউড়া উপজেলা বিএনপির সভাপতি জয়নাল আবেদীন বাচ্চু, সাধারণ সম্পাদক বদরুজ্জামান সজল এবং বাংলাদেশ পূজা উদযাপন পরিষদ মৌলভীবাজার জেলা শাখার সহ-সভাপতি সৌম্য প্রদীপ ভট্টাচার্য, কুলাউড়া প্রেসক্লাবের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা সুশীল সেনগুপ্ত, সাংবাদিক নাজমুল বারী সোহেল প্রমুখ।


পদ্মার চরে লঞ্চে আটকা পড়া ৮৫ যাত্রীকে উদ্ধার 

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
দৌলতদিয়া (রাজবাড়ী) প্রতিনিধি

রাজবাড়ীর দৌলতদিয়া ও মানিকগঞ্জের পাটুরিয়াগামী নৌপথে ভুল বশত পদ্মার চরে আটকে পড়া ৯৯৯ ফোন পেয়ে লঞ্চে থাকা ৮৫ জন যাত্রী উদ্ধার করে নিরাপদে নিয়ে আসে দৌলতদিয়া নৌ পুলিশের একটি দল।

নৌপুলিশ জানায়, গত শনিবার (২৭ জুন) রাত পৌনে ৮টার দিকে দৌলতদিয়া লঞ্চ ঘাট থেকে ৮৫ জন যাত্রী নিয়ে এমভি বোয়ালি নামে একটি লঞ্চ পাটুরিয়ার উদ্দেশ্যে র‌ওয়ানা দিলে পথিমধ্যে পদ্মা নদীর মাঝখানে কুশাহাটা নামক স্থানে যাত্রীসহ আটকা পরে যায়।

পরে ৯৯৯ মাধ্যমে নৌপুলিশকে সংবাদ দিলে দৌলতদিয়া এবং পাটুরিয়া নৌপুলিশ উদ্ধার করে অন্য আরেকটি লঞ্চ এমভি চিশতিয়াতে স্থানান্তর করে।

এসময় নৌপুলিশের সহায়তায় রাত সাড়ে ১১ টার দিকে নিরাপদে পাটুরিয়া লঞ্চ ঘাটে পৌঁছে দেয় যাত্রীদের। তবে এসময় হতাহতের কোনো ঘটনা ঘটেনি।


শ্যামল চন্দ্র হত্যার বিচারের দাবিতে মানববন্ধন

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
জয়পুরহাট প্রতিনিধি

জয়পুরহাটের আক্কেলপুর উপজেলায় ধান কাটার কামলা সম্বোধন করে কথা বলাকে কেন্দ্র করে শ্যামল চন্দ্র মালী হত্যার ঘটনায় অভিযুক্তের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিতে মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়েছে।

রোববার (২৮ জুন) দুপুরে শহরের জিরো পয়েন্টে ঘন্টাব্যাপী এ মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়। এতে নিহত পরিবারের সদস্যসহ হিন্দু নেতারা অংশ নেয়।

এসময় বক্তব্য রাখেন, বাংলাদেশ দলিত ও বঞ্চিত অধিকার আন্দোলনের কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদক শিপন কুমার রবিদাস, আইনবিষয়ক সম্পাদক এ্যাড. বাবুল রবিবাস, জেলা শাখার সাধারণ সম্পাদক উজ্জল কুমার দাস ও জেলা পূজা উদযাপন পরিষদের উপদেষ্টা প্রহল্লাদ বাঁশফোর।

বক্তারা বলেন, গত ৬ জুন আক্কেলপুর উপজেলার কাশিড়া গ্রামের সড়কে ধান কাটার কামলা সম্বোধন করে কথা বলাকে কেন্দ্র করে শ্যামল চন্দ্র মালীর মাথায় গাছের ডাল দিয়ে আঘাত করেন ঢেকুঞ্চা বাউস্ত গ্রামের রেজাউল দেওয়ানের ছেলে হাসান আলী। পরে হাসপাতালে নিলে শ্যামল মারা যায়।

এ ঘটনায় অভিযুক্তকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। এদিকে, নিহতের পরিবার নিরাপত্তাসহ ঘটনার জড়িতদের দৃষ্টান্তমুলক শাস্তির দাবিতে পুলিশ সুপারের কাছে স্মারক লিপি দিয়েছে।


ইবিতে মাসব্যাপী ১০,০০০ বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি উদ্বোধন

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
ইবি প্রতিনিধি

ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন মাসব্যাপী ‘পরিচ্ছন্ন ক্যাম্পাস’ ও ‘বৃক্ষরোপণ ২০২৬’ কর্মসূচির উদ্বোধন করেছে। এই কর্মসূচির অংশ হিসেবে পরিবেশগত স্থিতিশীলতা বৃদ্ধি এবং সবুজায়ন বাড়ানোর লক্ষ্যে বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসজুড়ে ২০টি ভিন্ন প্রজাতির ১০ হাজার চারা বিতরণ ও রোপণ করবে।

রোববার (২৮ জুন) বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. এ. কে. এম. মতিনুর রহমান এই কর্মসূচির উদ্বোধন করেন।

এ সময় উপউপাচার্য ও কর্মসূচি বাস্তবায়ন কমিটির আহ্বায়ক অধ্যাপক ড. এম. ইয়াকুব আলী; বিশ্ববিদ্যালয়ের কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক ড. মো. জাহাঙ্গীর আলম; এবং জেলা বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) সদস্য সম্পাদক ও কর্মসূচির উপদেষ্টা ইঞ্জিনিয়ার জাকির হোসেনসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক সংগঠন, শিক্ষক ও শিক্ষার্থীরা উপস্থিত ছিলেন।

আয়োজকরা জানান, মাসব্যাপী এই কর্মসূচিতে এবার ২০ প্রজাতির ১০,০০০ গাছ বিতরণ ও রোপণ করা হবে। আম, ব্ল্যাককারেন্ট, আমলকী, হরিতকী, পেয়ারা, কাঁঠাল, আটা, সফেদা ও জামসহ বিভিন্ন প্রজাতির গাছ লাগানো হবে।


অবৈধভাবে সুন্দরবনে মাছ শিকার, আটক ৩

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
শরণখোলা (বাগেরহাট) প্রতিনিধি

সুন্দরবনে চলমান তিন মাসের মাছ ধরার নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে অবৈধভাবে মাছ শিকারের সময় ট্রলারসহ তিন জেলেকে আটক করেছে বনবিভাগ। এ সময় তাদের ব্যবহৃত ট্রলার, মাছ ধরার জাল ও অন্যান্য সরঞ্জাম জব্দ করা হয়। পরে আটক জেলেদের বাগেরহাট আদালতে পাঠানো হয়েছে।

বনবিভাগ জানায়, শনিবার (২৭ জুন) সুন্দরবন পূর্ব বনবিভাগের শরণখোলা রেঞ্জের স্মার্ট টিম কটকা অভয়ারণ্যের বদরউদ্দিন খালে নিয়মিত টহলকালে একটি ট্রলারে কয়েকজন জেলেকে মাছ ধরতে দেখে। পরে অভিযান চালিয়ে তিন জেলেকে হাতেনাতে আটক করা হয়।

আটক জেলেরা হলেন, শরণখোলা উপজেলার দক্ষিণ রাজাপুর গ্রামের বাচ্চু হাওলাদার, মো. সবুর হাওলাদার এবং মালিয়া রাজাপুর গ্রামের মো. বেল্লাল হাওলাদার।


ফরিদপুরে জাতীয় ভিটামিন ‘এ’ প্লাস ক্যাম্পেইনের উদ্বোধন

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
মাহবুব পিয়াল, ফরিদপুর

সারাদেশের ন্যায় ফরিদপুর সিভিল সার্জন অফিসের আয়োজনে জাতীয় ভিটামিন ‘এ’ প্লাস ক্যাম্পেইন-২০২৬ -এর উদ্বোধনী অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়েছে। রোববার (২৮ জুন) ফরিদপুর জেনারেল হাসপাতাল প্রাঙ্গণে এ অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে বেলুন ও ফেস্টুন উড়িয়ে ক্যাম্পেইনের উদ্বোধন করেন ফরিদপুরের জেলা প্রশাসক ও বিজ্ঞ জেলা ম্যাজিস্ট্রেট মাজহারুল ইসলাম।

সিভিল সার্জন ডা. মাহমুদুল হাসানের সভাপতিত্বে বিশেষ অতিথি ছিলেন অতিরিক্ত পুলিশ সুপার ফাতেমা ইসলাম।

এ সময় জেলা স্যানিটারি ইন্সপেক্টর মো. বজলুর রশিদ খান, মেডিকেল টেকনোলজিস্ট মো. আশিকুর রহমান, জেলা ইপিআই সুপারভাইজার মামুনুর রশিদ, স্বাস্থ্য পরিদর্শক (ইনচার্জ) এম. শামিম আজাদ, এমওডিসি সদর ডা. অনন্যা সাহা উপস্থিত ছিলেন।

প্রধান অতিথি বলেন, অভিভাবকদের নির্ধারিত কেন্দ্রে নিয়ে গিয়ে ৬ থেকে ৫৯ মাস বয়সী সকল শিশুকে ভিটামিন ‘এ’ ক্যাপসুল খাওয়ানোর আহ্বান জানান।


মাদারীপুরে চীনা বাদামের বাম্পার ফলনে কৃষকের মুখে হাসি

ছবি: দৈনিক বাংলা
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
মাদারীপুর প্রতিনিধি 

পদ্মা নদীর অববাহিকায় মাদারীপুরের শিবচর উপজেলার চরাঞ্চলে চলতি মৌসুমে চীনা বাদাম চাষে বাম্পার ফলন হওয়ায় কৃষকের মুখে হাসি ফুটেছে।

সরেজমিনে শিবচরের চরজানাজাত, কাঠালবাড়ী, মাদবরেরচর, হেরাতলা, সন্ন্যাসীরচর, নিলখী, শিরুয়াইল এলাকা সহ বেশ কয়েকটি চরাঞ্চল ঘুরে দেখা গেছে বিস্তীর্ণ এলাকা জুড়ে চীনা বাদাম চাষ হয়েছে।

বাদাম চাষিরা বলছেন, গতবার বন্যা-খড়া ও প্রতিকূল আবহাওয়ায় বাদামের উৎপাদন ভালো না হওয়ায় লোকসানে পড়লেও এবার লোকসান কাটিয়ে তারা লাভের মুখ দেখতে পাবেন, সংসারে ফিরে আসবে স্বচ্ছলতা।

এদিকে ফসলের মাঠ থেকে বাদাম উত্তোলনে চলছে ধুমধাম, নারী-পুরুষ কৃষাণ-কৃষাণিরা রোদ-বৃষ্টির মাঝেও এখন তাদের উৎপাদিত ফসল ঘরে তুলতে ব্যস্ত, শেষ পর্যায়ে রয়েছে বাদাম ঘরে তোলা পালা। কৃষিবিভাগ ও স্থানীয় সূত্র থেকে জানা গেছে পদ্মার চরের উর্বর বেলে-দো’আঁশ মাটি ও পলিমাটি বাদাম চাষের জন্য বেশ উপযোগী এবং আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় এই মৌসুমে বাদামের বাম্পার ফলন হয়েছে। গত বছরের তুলনায় এবছর বাদামের ফলন দ্বিগুণের কাছাকাছি হয়েছে।

শিবচর উপজেলা কৃষি কর্মকতা মোঃ আলিমুজ্জামান জানান, চরাঞ্চলের উপযোগী মাটি, অনুকূল আবহাওয়া, পোকামাকড়ের আক্রমণ কম হওয়া, সঠিক পরিচর্যা, আধুনিক কৃষি প্রযুক্তির যথাযথ ব্যবহার ও কৃষকদের কঠোর পরিশ্রমের কারণে চলতি মৌসুমে বাম্পার ফলনের মুখ দেখলো কৃষকেরা। তিনি আরও বলেন, প্রতিবছরই এই অঞ্চলে চীনা বাদাম চাষের জনপ্রিয়তা ও পরিধি বৃদ্ধি পাচ্ছে। চরজানাজাত এলাকার কৃষক মো. জালালউদ্দিন জানান, আমাদের পদ্মার চরের বাদামের গুণগত মান,স্বাদ, আকার যে কোনও এলাকার চাইতে উন্নত ও অনেক ভালো। তাই মাঠ থেকেই অনেক পাইকার ও ক্রেতারা তা খরিদ করে দেশের বিভিন্ন জায়গায় নিয়ে যাচ্ছেন।

শিবচর উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সূত্র জানায়, চলতি অর্থ বছরে ৬৯০ হেক্টর জমিতে বাদাম চাষ হয়েছে এবং এর মধ্যে শুধু চরজানাজাত ইউনিয়নেই ১২০ হেক্টর জমি এর আওতায় ছিল। উৎপাদিত বাদামের বিক্রয় মূল্য সম্পর্কে কৃষক আ. হামিদ খাঁ বলেন, মানভেদে প্রতিমণ বাদাম ৬ হাজার থেকে ৮ হাজার টাকা পর্যন্ত বিক্রি হচ্ছে, তবে সামনে দাম কিছুটা কমার সম্ভাবনা রয়েছে।


নীলফামারী জেলা পরিষদের ৮৪ কোটি ৮৬ লাখ টাকার বাজেট ঘোষণা

ছবি: দৈনিক বাংলা
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নীলফামারী প্রতিনিধি

নীলফামারী জেলা পরিষদের ২০২৬-২০২৭ অর্থবছরের জন্য ৮৪ কোটি ৮৫ লাখ ৯০ হাজার টাকার জনবান্ধব ও উন্নয়নমুখী বাজেট ঘোষণা করা হয়েছে। জেলার অবকাঠামো উন্নয়ন, শিক্ষা, স্বাস্থ্য, যোগাযোগ ব্যবস্থা এবং জনকল্যাণমূলক কার্যক্রমকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে এ বাজেট প্রণয়ন করা হয়েছে।

রোববার (২৮ জুন) দুপুরে জেলা পরিষদের হলরুমে অনুষ্ঠিত বাজেট ঘোষণা অনুষ্ঠানে জেলা পরিষদের প্রশাসক অ্যাড. মিজানুর রহমান চৌধুরী শামীম আনুষ্ঠানিকভাবে বাজেট উপস্থাপন করেন।

অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন জেলা পরিষদের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (ভারপ্রাপ্ত) আক্তার হোসেন শাহিন, সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোবাশ্বিরা আমাতুল্লাহ, সৈয়দপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ফারাহ ফাতেহা তাকমিলা, জেলা জজ কোর্টের জিপি আবু মোহাম্মদ সোয়েম, জেলা এলজিইডির নির্বাহী প্রকৌশলী মো. ফিরোজ হাসান, জেলা পরিষদের সহকারী প্রকৌশলী মামুন উর রশিদসহ বিভিন্ন সরকারি দপ্তরের কর্মকর্তা ও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিবর্গ।

বাজেট ঘোষণা শেষে জেলা পরিষদের প্রশাসক অ্যাড. মিজানুর রহমান চৌধুরী শামীম বলেন, ‘এই বাজেট জেলার সার্বিক ও টেকসই উন্নয়নের লক্ষ্যে প্রণয়ন করা হয়েছে। শিক্ষা, স্বাস্থ্যসেবা, গ্রামীণ সড়ক ও অবকাঠামো উন্নয়ন, ধর্মীয় ও সামাজিক প্রতিষ্ঠানের উন্নয়ন এবং জনকল্যাণমূলক কর্মকাণ্ডে পর্যাপ্ত বরাদ্দ রাখা হয়েছে।’

তিনি আরও বলেন, ‘স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা ও সুশাসন নিশ্চিত করে উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়নের মাধ্যমে জেলার মানুষের প্রত্যাশা পূরণে জেলা পরিষদ কাজ করবে। পাশাপাশি স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানগুলোর সঙ্গে সমন্বয় করে টেকসই উন্নয়ন নিশ্চিত করাই এ বাজেটের অন্যতম লক্ষ্য।’

জেলা পরিষদের পক্ষ থেকে জানানো হয়, ঘোষিত বাজেট বাস্তবায়নের মাধ্যমে জেলার আর্থ-সামাজিক উন্নয়নের গতি আরও ত্বরান্বিত হবে এবং সাধারণ মানুষের জীবনমান উন্নয়নে কার্যকর ভূমিকা রাখবে বলে আশা করা হচ্ছে।


বোয়ালখালী থানায় নতুন ওসির দায়িত্ব গ্রহণ

ছবি: দৈনিক বাংলা
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
বোয়ালখালী (চট্টগ্রাম) প্রতিনিধি

চট্টগ্রামের বোয়ালখালী থানার নতুন ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেছেন মোহাম্মদ মোজাফফর হোসেন। দায়িত্ব গ্রহণ উপলক্ষে তাকে ফুল দিয়ে স্বাগত জানান থানার কর্মকর্তা ও সদস্যরা। একই অনুষ্ঠানে বিদায়ী ওসি মাহফুজুর রহমানকে ফুলেল শুভেচ্ছা ও বিদায় সংবর্ধনা দেওয়া হয়।

রোববার (২৮ জুন) বিকেলে বোয়ালখালী থানা ওসির কার্যালয়ে আয়োজিত সংক্ষিপ্ত অনুষ্ঠানে থানার বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তা ও সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।

পুলিশ সূত্রে জানা যায়, প্রশাসনিক বদলির অংশ হিসেবে ওসি মাহফুজুর রহমানকে অন্য কর্মস্থলে বদলি করা হয়েছে। তার স্থলাভিষিক্ত হয়ে দায়িত্ব গ্রহণ করেন মোহাম্মদ মোজাফফর হোসেন। অনুষ্ঠানে বিদায়ী ও নবাগত দুই কর্মকর্তার কর্মজীবনের সফলতা কামনা করা হয়।

উল্লেখ্য, মাহফুজুর রহমান গত বছরের ৭ ডিসেম্বর বোয়ালখালী থানায় যোগদান করেন এবং রোববার ছিল তার শেষ কর্মদিবস। প্রায় সাত মাস দায়িত্ব পালনের পর তিনি নতুন কর্মস্থলে যোগ দিচ্ছেন।

এ সময় উপস্থিত ছিলেন থানার সেকেন্ড অফিসার এসআই জুয়েল রানা, এসআই ফারুখ, এসআই আজম খানসহ অন্যান্য পুলিশ সদস্যরা।


টাঙ্গাইলের পাঁচ ছাত্রীর গবেষণায় অপুষ্টি মোকাবিলার নতুন আশা

* কলা হবে উচ্চ প্রোটিনসমৃদ্ধ খাবারর * ডিএনএ প্রযুক্তিতে নতুন সম্ভাবনা, বিজ্ঞান মেলায় ব্যাপক সাড়া
টাঙ্গাইলে কুরতুবী মাদরাসার খুদে বিজ্ঞানীদের চমক, মসুর ডালের জিনে হবে ‘সুপার ব্যানানা’ । ছবি: দৈনিক বাংলা
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
শামীম আল মামুন, টাঙ্গাইল

ইচ্ছা, শ্রম আর মেধার মেলবন্ধন ঘটলে অসম্ভবকেও জয় করা যায়। সেই অসাধ্য সাধন করে তাক লাগিয়ে দিয়েছে টাঙ্গাইলের পাঁচ তরুণী। প্রথাগত শিক্ষার গন্ডি পেরিয়ে আধুনিক জীবপ্রযুক্তির সাহায্যে তারা বুনেছে এক নতুন স্বপ্ন।

নিবিড় গবেষণায় তারা এমন এক তাত্ত্বিক মডেল দাঁড় করিয়েছে, যার মাধ্যমে স্বাদ অপরিবর্তিত রেখেই কলাকে করা যাবে উচ্চ প্রোটিনসমৃদ্ধ। দেশের অপুষ্টি দূরীকরণ ও টেকসই কৃষি অর্থনীতিতে এই উদ্ভাবন নতুন দিগন্তের সূচনা করতে পারে।

এই কৌতূহলী উদ্ভাবক দলের টিম হচ্ছে টাঙ্গাইলের কুরতুবী মাদরাসার আলিম প্রথম বর্ষের পাঁচ ছাত্রী-ফাতেমাতুজ জহুরা, অনামিকা আলফী আমরি, মিফতাহুল জান্নাত মায়া, মেঘলা আক্তার ও ফারজানা আক্তার।

চলতি বছরের মার্চ মাসের ঘটনা। জীববিজ্ঞানের ল্যাব ক্লাসে ডিএনএ প্রযুক্তি নিয়ে কাজ করার সময় ছাত্রীদের মাথায় একটি আইডিয়া আসে। পুষ্টিগুণে অনন্য হলেও সাধারণ কলায় একটি বড় ঘাটতি রয়েছে- এতে মানবদেহের জন্য অত্যাবশ্যকীয় ‘লাইসিন’ নামক অ্যামাইনো অ্যাসিডের পরিমাণ খুবই কম। যেই ভাবা সেই কাজ। শিক্ষক আরিফুল ইসলামের তত্ত্বাবধানে শুরু হয় তাদের গবেষণা। ল্যাবরেটরিই হয়ে ওঠে তাদের ধ্যানজ্ঞান। অবশেষে আসে সাফল্য। তারা এই প্রকল্পের নাম দেয়: ‘প্রোটিনসমৃদ্ধ কলা তৈরির জন্য কলার ডিএনএ নিষ্কাশন ও রিকম্বিন্যান্ট ডিএনএ মডেল।’

আধুনিক জেনেটিক ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের ওপর ভিত্তি করে তৈরি এই মডেলে প্রোটিনের উৎস হিসেবে বেছে নেওয়া হয়েছে অতি পরিচিত মসুর ডালকে। এই ডাল থেকে ডিএইচডিপিএস জিন নির্বাচন করা হয়েছে, যা মানবদেহের বৃদ্ধি ও রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়াতে অত্যন্ত কার্যকর। অত্যন্ত সহজলভ্য কিছু উপাদান পাকা কলা, লবণ, গরম পানি, ডিশ ওয়াশিং লিকুইড, ব্লেন্ডার, কফি ফিল্টার ও ইথানল ব্যবহার করে প্রথমে কলার ডিএনএ নিষ্কাশন করা হয়। এরপর তাত্ত্বিক মডেলের সাহায্যে ডালের সেই বিশেষ জিনটি কলার ডিএনএতে সংযুক্ত করার রূপরেখা তৈরি করে শিক্ষার্থীরা।

এর ফলে সাধারণ কলা রূপান্তরিত হবে প্রোটিনসমৃদ্ধ ‘সুপার ফুডে’। টাঙ্গাইল সদর উপজেলা ও জেলা পর্যায়ের বিজ্ঞান মেলায় প্রকল্পটি প্রথম স্থান অধিকার করে। পরবর্তীতে বিভাগীয় পর্যায়ে দ্বিতীয় হয়ে তারা জাতীয় বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মেলায় অংশগ্রহণের গৌরব অর্জন করে ও বিজ্ঞানীদের ভূয়সী প্রশংসা কুড়ায়।

উদ্ভাবন নিয়ে অনামিকা আলফী আমরি বলেন, বাংলাদেশ এখনো পুষ্টিহীনতা, বিশেষ করে শিশু ও গর্ভবতী মায়েদের প্রোটিনের ঘাটতিজনিত সমস্যায় ভুগছে। এই উদ্ভাবন যদি মাঠপর্যায়ে সফল করা যায়, তবে তা দেশের জন্য এক আশীর্বাদ হয়ে দাঁড়াবে।

মিফতাহুল জান্নাত মায়া বলেন, ‘কলা অত্যন্ত সম্ভা এবং সব স্তরের মানুষের কাছে সহজলভ্য। প্রোটিনসমৃদ্ধ এই কলা দেশের দরিদ্র ও সুবিধাবঞ্চিত জনগোষ্ঠীর পুষ্টির চাহিদা মেটাতে ম্যাজিকের মতো কাজ করবে।’ ফাতেমাতুজ জহুরা বলেন, ‘কৃত্রিম সাপ্লিমেন্ট বা রাসায়নিকের ওপর নির্ভর না করে প্রাকৃতিকভাবেই ফল ও ফসলের পুষ্টিগুণ বাড়িয়ে নিরাপদ খাদ্য নিশ্চিত করা সম্ভব।

মেঘলা আক্তার বলেন, জেনেটিক্যালি মডিফাইড এই কলা বাণিজ্যিকভাবে চাষ করা সম্ভব হলে কৃষকরা লাভবান হবেন এবং পুষ্টিকর ফল হিসেবে এটি বিদেশে রপ্তানি করাও সম্ভব।

সফলতার পাশাপাশি উন্নত ল্যাবের অভাব ও জেনেটিক্যালি মডিফাইড খাদ্য নিয়ে সামাজিক বিতর্কের মতো সীমাবদ্ধতার কথাও জানিয়েছে এই তরুণীরা।

শিক্ষক আরিফুল ইসলাম বলেন, শিক্ষার্থীদের জানার আগ্রহ অনেক বেশি। ওদের একটু ধারণা দেয়া হলে ওরা ভালো কিছু করতে পারবে। ছাত্রীরা দেখিয়েছে, জিন ট্রান্সফারের মাধ্যমে কিভাবে অত্যাবশকীয় এমাইনো এসিড সমৃদ্ধ প্রোটিন উৎপাদন করা যায়।

কুরতুবী আলিম মাদরাসার অধ্যক্ষ মো. রেজাউল করিম বলেন, ‘আমরা দ্বীনি শিক্ষার পাশাপাশি বিজ্ঞানমনস্ক, দক্ষ ও দেশপ্রেমিক প্রজন্ম গড়ে তুলতে নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছি। ভবিষ্যতেও বিজ্ঞানচর্চা, গবেষণা ও উদ্ভাবনী কর্মকা্যেণ্ড শিক্ষার্থীদের সর্বাত্মক সহযোগিতা প্রদান করা হবে যাতে শিক্ষার্থীরা বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি গবেষণায় দেশ ও জাতির কল্যাণে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখতে পারে।’

কুরতুবী মাদরাসা টাঙ্গাইলের চেয়ারম্যান হারুনুর রশীদ খান বলেন, ‘এই আবিষ্কার দেশের জন্য একটি উজ্জ্বল ভূমিকা। তাদের এই সাফল্য তৃণমূল পর্যায়ে মানুষের দুয়ারে খুব সহজেই পুষ্টির চাহিদা পৌঁছে যাবে।’ ১৯৯৯ সালে টাঙ্গাইল শহরের সাবালিয়ায় প্রতিষ্ঠিত কুরতুবী মাদ্রাসা আধুনিক ও যুগোপযোগী বিজ্ঞান শিক্ষায় যে অনন্য, ছাত্রীদের এই অভাবনীয় সাফল্য তারই প্রমাণ। সুযোগ ও সঠিক দিকনির্দেশনা পেলে এ দেশের নারীরাও বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির হাত ধরে একটি নিরাপদ ভবিষ্যতের নেতৃত্ব দিতে পারে।


সাতক্ষীরায় ৭৩ কোটি ৭৫ লাখ টাকার মাদক ধ্বংস করল ৩৩ বিজিবি

ছবি: দৈনিক বাংলা
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
আবু সাঈদ, সাতক্ষীরা

সাতক্ষীরা সীমান্ত এলাকায় উদ্ধার হওয়া প্রায় ৭৩ কোটি ৭৫ লাখ টাকা মূল্যের বিপুল পরিমাণ মাদকদ্রব্য ধ্বংস করেছে সাতক্ষীরা ব্যাটালিয়ন (৩৩ বিজিবি)। রোববার (২৮ জুন) বেলা ১১টায় সাতক্ষীরা ব্যাটালিয়ন সদর দপ্তরে আয়োজিত ‘মাদকদ্রব্য ধ্বংসকরণ অনুষ্ঠান ২০২৬’-এ আনুষ্ঠানিকভাবে এসব মাদকদ্রব্য ধ্বংস করা হয়।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) দক্ষিণ-পশ্চিম রিজিয়নের রিজিয়ন কমান্ডার ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মাহমুদুল হাসান।

অনুষ্ঠানের শুরুতে স্বাগত বক্তব্য দেন সাতক্ষীরা ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল কাজী আশিকুর রহমান, ওএসপি, পিএসসি। এ সময় অন্যদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন সাতক্ষীরা জেলা প্রশাসক কাউসার আজিজ, সেক্টর কমান্ডর ক: মোহা. মাসুদুর রহমান, পিএসসি, সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট মেহেদি হাসান, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার নুরুল্লাহ, সাতক্ষীরা মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর, মিজানুর রহমান শরিফ প্রমুখ।

বিজিবি সূত্র জানায়, ২০২৫ সালের ১ জানুয়ারি থেকে ২০২৬ সালের ৩০ এপ্রিল পর্যন্ত সাতক্ষীরা সদর ও কলারোয়া উপজেলার সীমান্তবর্তী বিভিন্ন বিওপি এবং ব্যাটালিয়ন সদর পরিচালিত অভিযানে ৪৮ জন আসামিসহ মোট ১২৬ কোটি ৬৬ লাখ ৩৬ হাজার ৮৫৬ টাকা মূল্যের বিভিন্ন চোরাচালান পণ্য জব্দ করা হয়। এর মধ্যে ৭৩ কোটি ৭৫ লাখ টাকার বিভিন্ন ধরনের মাদকদ্রব্য ছিল।

ধ্বংস করা মাদকদ্রব্যের মধ্যে ছিল ৩ হাজার ৭৯১ বোতল বিভিন্ন ধরনের মদ, ৪ হাজার ৫২৪ বোতল ফেনসিডিল ও সমজাতীয় মাদক, ৪৭ হাজার ২৭০ পিস ইয়াবা, ৬ লাখ ৭ হাজার ৭৬৯ পিস বিড়ি ও সিগারেট, ৩৩ দশমিক ৪০০ কেজি গাঁজা, ৬৩ লাখ ১৩ হাজার ১২০ পিস বিভিন্ন ধরনের অবৈধ ওষুধ, ৩৫ কেজি তামাকের গুঁড়া, ২ বোতল লিকুইড সীসা, ১০০ কেজি মাদক তৈরিতে ব্যবহৃত বট পাতা, ৭২ দশমিক ৫০ মিলিলিটার এলএসডি, ৮ দশমিক ৫৮৩ কেজি ক্রিস্টাল মেথ (আইস) এবং আফিম তৈরির ২০ বোতল কেমিক্যাল।

অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে খুলনা সেক্টরের সেক্টর কমান্ডার, সাতক্ষীরার জেলা প্রশাসক, পুলিশ সুপার, সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট, কাস্টমস, এক্সাইজ ও ভ্যাট বিভাগের সহকারী রাজস্ব কর্মকর্তা, মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক, র‍্যাব-৬ এর কোম্পানি কমান্ডার এবং সাংবাদিকরা উপস্থিত ছিলেন।


নওগাঁর বাগান থেকে নিউইয়র্কের টেবিলে আম্রপালি আম

আম্রপালি আম। ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ২৮ জুন, ২০২৬ ১৯:৫২
নওগাঁ প্রতিনিধি

আমের বাণিজ্যিক রাজধানী খ্যাত নওগাঁর সাপাহারের আম এবার দেশের গন্ডি পেরিয়ে যাচ্ছে যুক্তরাষ্ট্রে। গত শুক্রবার (২৬ জুন) গ্রামীণ কৃষক এগ্রো নামে একটি প্রতিষ্ঠান Golden Bengal Mango ব্রান্ড নামে প্রাথমিকভাবে ১টন আম্রপালি আম যুক্তরাষ্ট্রের বার্কিং শহরে রপ্তানি করে৷

রপ্তানি কারী প্রতিষ্ঠান গ্রামীণ এগ্রো জানায়, প্রথমে প্রতিটি আমকে আন্তর্জাতিক মান বজায় রেখে VHT (Vapor Heat Treatment) করা হয়। এরপর স্বাস্থ্যসম্মত পরিবেশে প্যাকিজিং করা হয়েছে। সর্বশেষ বাংলাদেশ উদ্ভিদ সংনিরোধ (Plant Quarantine/BSTI/BS Officer) এর পরিদর্শন ও অনুমোদনের মাধ্যমে বিশ্ব বাজারে রপ্তানির জন্য প্রস্তুত করা হয়েছে। প্রাথমিক কন্টাক অনুযায়ী ১০ মেট্রিক টন আম যুক্তরাষ্ট্রে পাঠানো হবে। এছাড়াও জার্মানী ফ্রান্স এবং অন্যান্য দেশে আম পাঠানোর প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।

গ্রামীণ এগ্রোর স্বত্বাধিকারী আহমদ আলী বলেন, এটি শুধু একটি আমের চালান নয়, এটি বাংলাদেশের কৃষকের পরিশ্রম এবং বিশ্ববাজারে আমাদের সক্ষমতার একটি উজ্জ্বল প্রতীক। আমাদের লক্ষ্য শুধু মাত্র আম বিক্রি করা নয়, বিশ্বের প্রতিটি প্রান্তে বাংলার খাঁটি স্বাদ, আস্থা পৌঁছে দেওয়া। আমাদের বিশ্বাস নওগাঁর আমের গুনগত স্বাদ বিশ্ব বাসিকে আকৃষ্ট করবে। যুক্তরাষ্ট্রের পাশাপাশি অন্যান্য দেশেও আমরা আম রপ্তানির চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি।

নওগাঁ কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক মনজুর রহমান বলেন, গাছ থেকে আম নামানো শেষ হলেই আম বাজারজাতকরণের আগ পর্যন্ত কিভাবে মানসম্মত আম উৎপাদন করা যায় সে বিষয়ে কৃষি বিভাগ কৃষকদেরকে পরামর্শ দিয়ে থাকে। যে সমস্ত কৃষক মানসম্মত আম উৎপাদন করে বিদেশে রপ্তানি করতে চায় তাদের কৃষি বিভাগ থেকে সহযোগিতা করা হয়। আমরা এবার আশা করছি নওগাঁ থেকে ১১০০ মেট্রিক টন আম বাইরের বিভিন্ন দেশে রপ্তানি হবে।

প্রসঙ্গত, জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের তথ্য মতে,জেলায় চলতি মৌসুমে ৩০ হাজার ৩১০ হেক্টর জমিতে আমের চাষ হয়েছে। যা থেকে আম উৎপাদনের লক্ষ্য মাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে ৪ লাখ ৫০ হাজার মেট্রিক টন। গেল বছর জেলায় ৩০ হাজার ৩০০ হেক্টর জমিতে আমের চাষ হয়েছিল এবং যা থেকে উৎপাদন হয়েছিল ৩ লাখ ৭৫ হাজার মেট্রিক টন আম।


banner close