শুক্রবার, ১৩ মার্চ ২০২৬
২৯ ফাল্গুন ১৪৩২

পাচারকারীদের টার্গেটে রোহিঙ্গা নারী-পুরুষ

কাজের প্রলোভনে রোহিঙ্গা নারী-পুরুষকে ভারত ও সৌদি আরবে পাচার করা হয়।
প্রতিবেদক, দৈনিক বাংলা
প্রকাশিত
প্রতিবেদক, দৈনিক বাংলা
প্রকাশিত : ৬ অক্টোবর, ২০২২ ০৮:০৫

শাহরিয়ার হাসান ও মুহিবুল্লাহ মুহিব

নিরাপদ যাত্রা ও স্থায়ী কাজের প্রলোভনে রোহিঙ্গা নারীদের পাচার করে দেয়া হচ্ছে ভারত ও সৌদি আরবে। পাচারের জন্য নতুন রুট হিসেবে দেশের বিভিন্ন সীমান্ত ব্যবহার করা হচ্ছে। তবে সমুদ্রপথেও এ যাত্রা কমেনি। রোহিঙ্গা নারী-পুরুষরা সমুদ্রপথেও পাড়ি দিচ্ছেন মালয়েশিয়া ও থাইল্যান্ডে। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, সমুদ্র আর সীমান্ত দিয়ে যাওয়ার মাঝখানে পার্থক্য শুধু টাকার।

সমুদ্র হোক আর সীমান্ত, দুভাবে বিদেশ যাওয়া কেউই ভালো নেই। ঘর ছাড়ার পরই তারা টের পান দালালদের হাতবদলে বিক্রি হয়ে গেছেন। এসব ভুক্তভোগীর অনেকেই স্বজনদের কাছে নিজেদের দুর্ভোগের কথা জানিয়ে দেশে ফেরার আকুতি জানিয়েছেন। তারা বলেছেন, প্রতিনিয়তই সইতে হচ্ছে নৃশংস নির্যাতন। সেখানে বেঁচে থাকা আর মরে যাওয়া একই হয়ে দাঁড়িয়েছে।

দেশের আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর একাধিক ইউনিট, বিমানবন্দর থেকে উদ্ধার হওয়া নারীদের দেয়া তথ্য এবং দালাল চক্রের ধরা পড়া সদস্যদের দেয়া আদালতে জবানবন্দি থেকে রোহিঙ্গা নারী-পুরুষ বিক্রি হওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত হওয়া গেছে। জানা গেছে, রোহিঙ্গা পাচারের নতুন রুট সম্পর্কেও।

সংশ্লিষ্ট পুলিশ কর্মকর্তারা বলছেন, দালাল চক্রের এ নেটওয়ার্ক এতটাই বিস্তৃত যে তালিকাভুক্ত আন্তর্জাতিক মানব পাচারকারী সদস্যদের সঙ্গেও স্থানীয় রোহিঙ্গা চক্রের যোগসাজশ আছে। কক্সবাজারের উখিয়া ও টেকনাফের রোহিঙ্গা ক্যাম্পে আস্তানা গেড়ে পাচারকারী চক্রের অন্তত ১১টি গ্রুপ কাজ করছে। প্রত্যেক গ্রপে আছে ৫০ জনের বেশি সদস্য। কিন্তু ভুক্তভোগী রোহিঙ্গা নারী-পুরুষরা ক্যাম্প ছেড়ে চক্রের খপ্পরে পড়ার আগ পর্যন্ত ঘুণাক্ষরেও সেটা টের পাচ্ছেন না।

পুলিশের চট্টগ্রাম রেঞ্জের উপমহাপরিদর্শক (ডিআইজি) আনোয়ার হোসেন দৈনিক বাংলাকে বলেন, রোহিঙ্গা ক্যাম্পে এ ধরনের মানব পাচারকারীরা সক্রিয়। তবে তারা যতই শক্তিশালী হোক না কেন, সুবিধা করতে পারছে না।

চলতি বছরের আগস্টে ঢাকায় আসার জন্য কক্সবাজার বিমানবন্দরে একটি বিমান সংস্থার কাউন্টারের সামনে দাঁড়িয়েছিলেন ১১ রোহিঙ্গা নারী-পুরুষ। বোর্ডিং পাস নিতে পারলেই কক্সবাজার ছেড়ে আসতে পারতেন তারা। কিন্তু তাদের কথাবার্তা ও আচরণে সন্দেহ হলে কাউন্টারের সামনে থেকে সবাইকে আটক করে পুলিশ। তাদের কাছ থেকে নগদ ৩ লাখ টাকারও বেশি জব্দ করা হয়। তারা সবাই রোহিঙ্গা ক্যাম্প ১৭, ৮ ও ২৬-এর বাসিন্দা।

এদের জিজ্ঞাসাবাদে পুলিশ জেনেছে, ভারতের উদ্দেশেই তারা ক্যাম্প ছেড়েছিলেন। উন্নত জীবনের আশায় দালালকে ১ লাখ টাকা দিয়ে নারীরা আর ২ লাখ টাকা দিয়ে পুরুষরা ভারতে যাওয়ার পথ ধরেছিলেন। উদ্ধার হওয়া এসব নারী-পুরুষকে জিজ্ঞাসাবাদের মাধ্যমে আরেকটি চক্রের সন্ধান বিমানবন্দর আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়ন ও কক্সবাজার জেলা পুলিশ।

পরে ওই চক্রের এক সদস্য মতিউরকে ঢাকা থেকে গ্রেপ্তার করে ঢাকা মহানগর পুলিশ। গত তিন বছরে তার মাধ্যমে অন্তত দুই শতাধিক রোহিঙ্গা নারী ভারতে পাচার হয়েছে বলে জবানবন্দিতে মতিউর স্বীকার করেছে। মতিউর জানিয়েছে, ভারত থেকেই অনেকের গন্তব্য হয়েছে সৌদি আরব।

উখিয়ার ১৫ নম্বর ক্যাম্পের সি ব্লকের দীল মোহাম্মদের মেয়ে ভুক্তভোগী সুরাইয়া দৈনিক বাংলাকে জানান, তিনি ক্যাম্প থেকে বেরিয়ে সীমান্তবর্তী এক জেলায় দুই মাস থেকেছেন। প্রথমে ভারত ও সেখান থেকে সৌদি আরব যাওয়ার কথা ছিল তার। কিন্তু যে রাতে সীমান্ত পার হবেন ঠিক সেদিনই পাচারকারী দলের এক সদস্য বিজিবির হাতে ধরে পড়ে। ফলে তিনিসহ ক্যাম্প থেকে আসা আরও ১০ জন মেয়ে অন্য আরেকটি চক্রের কাছে হাতবদল হন। ওই চক্র ভারতে পাঠানোর জন্য আরও ৫০ হাজার টাকা দাবি করে। সেটা না দিতে পারায় সেখানে রেখে দুই মাস ধরে নির্যাতন করা হয় তাদের। পরে ক্যাম্পে যাওয়া-আসা আছে এমন এক যুবকের সঙ্গে পালিয়ে ক্যাম্পে ফেরেন।

কুতুপালং ক্যাম্পের মাঝি জহুরুল হোসেন বলেন, ভারত পাঠানোর কথা বলে রোহিঙ্গা ক্যাম্পের মেয়েদের পাচার করা হচ্ছে। ব্লকে ব্লকে দালালরা প্রকাশ্যে ঘুরে বেড়াচ্ছে। প্রলোভনে পড়ে কখনো ৫০ হাজার, কখনো ১ লাখ টাকায় তাদের নিয়ে যাচ্ছে। তবে সমুদ্রপথে যেতে খরচ অনেক কম।

উখিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ আলী দৈনিক বাংলাকে বলেন, রোহিঙ্গা শিবির থেকে মালয়েশিয়া পাঠানোর সময় গত দুই মাসে অন্তত শতাধিক রোহিঙ্গা নারীকে উদ্ধার করেছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। বেশ কয়েকজন মানব পাচারকারীকেও ধরা হয়েছে। তবে তারা শুধু মালয়েশিয়ায় যাচ্ছেন না, পাচার হচ্ছেন অন্য দেশেও।

সীমান্ত দিয়ে যেভাবে নারী পাচার

সিআইডির মানব পাচার নিয়ে কাজ করা অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আক্তারুজ্জামান দৈনিক বাংলাকে বলেন, দেশে থেকে মোট যত নারী পাচার হয়, তার অর্ধেকের বেশি পাচার হয় ভারতে। ভারতে নারী পাচারের জন্য পাচারকারী চক্র সাতক্ষীরা, যশোর, মেহেরপুর সীমান্ত অঞ্চলকে বেছে নেয়। পাসপোর্ট-ভিসা ছাড়াই অবৈধভাবে পাচার হয় নারী-শিশু।

সাধারণত গ্রামাঞ্চলে তালাকের শিকার নারী, অসচ্ছল পরিবারের মেয়ে, পোশাক কারখানায় কাজ করা নারীরা পাচারকারীদের প্রধান টার্গেট। এর সঙ্গে নতুন যোগ হয়েছে রোহিঙ্গা নারী। তাদের খুব সহজেই প্রলোভনে ফেলে পাচার করা যায়। পাচার করার পর এসব মেয়েকে বিক্রি করে দেয়া হয় ভারতের বিভিন্ন রাজ্যের হোটেল কিংবা যৌনপল্লিতে।

পরিচয় গোপন রাখার শর্তে ভারতফেরত এক ভুক্তভোগী তরুণী বলেন, ‘একবার ফুসলিয়ে সীমান্ত পার করতে পারলে আর কিছু করার থাকে না। অনেকে ভাবেন নিজের ইচ্ছাতেই আমরা যাই। আসলে ভালো কাজ আর উন্নত জীবনের লোভ দেখিয়ে কিছু বুঝে ওঠার আগেই আমাদের পাচার করা হয়। সব বুঝে গেলে তখন আর উপায় থাকে না। তখন পালাতে চাইলেও পথ খুঁজে পাওয়া যায় না।’

জানা গেছে, সারা দেশের দালাল চক্রের নজর এখন রোহিঙ্গা ক্যাম্পে। তারা নানাভাবে সব রোহিঙ্গা ক্যাম্পে তাদের অপতৎপরতা চালাচ্ছে। প্রতিটি চক্রই সেখানে এজেন্ট নিয়োগ দিয়ে নারীদের পাচারের নিশানা করেছে।

সিআইডির তথ্য বলছে, সীমান্ত পার করে দেয়ার জন্য দালালরা ২০ থেকে ২৫ হাজার টাকা করে পায়। একই সঙ্গে প্রতি মাসে কমিশনও পায়, যেটা নির্ধারণ হয় পাচার হওয়া মেয়েদের কাজের ওপর।

১৫ হাজার মানব পাচারকারী সম্পর্কে তথ্য নেই

দেশ থেকে কত নারী পাচার হচ্ছে আর এর বিপরীতে কত দালাল চক্র কাজ করছে তার সুনির্দিষ্ট কোনো হিসাব নেই। তবে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ-সিআইডি বলছে, ২০০৪ সাল থেকে এখন পর্যন্ত দেশ থেকে ১২ হাজার ৩২৪ জন নারী পাচার হয়েছে। এসব পাচারে জড়িত ২৭ হাজার ৩৬৩ জনের বিরুদ্ধে অভিযোগ আছে। ১২ হাজার ২৮২ জন বিভিন্ন সময়ে আইনের আওতায় এলেও বাকি ১৫ হাজার ৮২ জন পাচারকারীর সম্পর্কে কোনো তথ্য নেই কারও কাছেই। এরা দেশে না বিদেশে আছে সেটাও জানে না কেউ। এদের সম্পর্কে তথ্য সংগ্রহ করে ধরতে অভিযান চালানোর প্রস্তুতি নিচ্ছেন আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা।

আইন ও সালিশ কেন্দ্রের নির্বাহী পরিচালক নীনা গোস্বামী মনে করেন, বাংলাদেশে মানব পাচার ঠেকানো বেশ কঠিন হয়ে পড়ছে। আইন প্রয়োগে অস্বচ্ছতা ও অদক্ষতা ছাড়াও দারিদ্র্যের সুযোগ নিচ্ছে পাচারকারীরা।

ট্রলারভর্তি রোহিঙ্গা পুরুষ যাচ্ছে মালয়েশিয়া-থাইল্যান্ড

সাগরপথে রোহিঙ্গা মানব পাচার কোনোভাবেই থামছে না। সর্বশেষ দুই দিন আগে মঙ্গলবার ট্রলারে চড়ে সাগরপথে মালয়েশিয়া যাওয়ার সময় ট্রলারডুবিতে প্রাণ হারিয়েছেন তিন রোহিঙ্গা নারী। এ সময় জীবিত উদ্ধার করা হয়েছে চার বাংলাদেশিসহ ৪৮ রোহিঙ্গাকে।

টেকনাফ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) হাফিজুর রহমান জানান, জীবিত উদ্ধার হওয়া ব্যক্তিরা উখিয়ার বালুখালী, কুতুপালং, হাকিমপাড়াসহ বিভিন্ন রোহিঙ্গা ক্যাম্পে থাকেন। এদের মধ্যে আটজন নারী। যে চার বাংলাদেশি উদ্ধার হয়েছেন তারাই দালাল চক্রের সদস্য। এ ঘটনায় রোহিঙ্গাসহ ২৪ জনকে আসামি করে মামলা হয়েছে।

কক্সবাজার জেলা পুলিশ ও কোস্টগার্ডের একাধিক সূত্র বলছে, তাদের নজরদারির বাইরেও কমবেশি প্রতি সপ্তাহেই ট্রলারভর্তি রোহিঙ্গা মালয়েশিয়ায় পাড়ি দিচ্ছেন। কেউ কেউ একইভাবে থাইল্যান্ডেও চলে যান।

কক্সবাজারের কুতুবজোম ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো. শেখ কামাল দৈনিক বাংলাকে বলেন, মালয়েশিয়া পৌঁছে দেয়ার কথা বলে দালাল চক্র রোহিঙ্গাদের কাছ থেকে মাথাপিছু ২০-৩০ হাজার টাকা হাতিয়ে নেয়।

পুলিশ ও স্থানীয় জনপ্রতিনিধিরা বলছেন, কয়েক বছর সমুদ্রপথে মানব পাচার বন্ধ থাকলেও আবার তৎপর হয়ে উঠেছে দালাল চক্র। সমুদ্র শান্ত থাকলে মানব পাচার বেড়ে যায়।

কক্সবাজারের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (প্রশাসন) মো. রফিকুল ইসলাম বলেন, রোহিঙ্গাদের মালয়েশিয়ায় পাচারের চক্রগুলো বেশ সক্রিয়। দালালদের তালিকা করা হয়েছে। মামলাও আছে দেড় শতাধিক। এগুলো তদন্ত করে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিচ্ছে পুলিশ।

২০১৭ সালের ২৫ আগস্টের পরবর্তী কয়েক মাসে মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্য থেকে পালিয়ে কক্সবাজারের বিভিন্ন আশ্রয়শিবিরে ঠাঁই নেয় আট লাখ রোহিঙ্গা। আগে থেকে থাকা রোহিঙ্গা মিলিয়ে সেখানে এখন রোহিঙ্গার সংখ্যা ১১ লাখেরও বেশি। এসব ক্যাম্প ঘিরে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর বিপুল সদস্য কাজ করছেন। তৎপর আছে গোয়েন্দা সংস্থাগুলোও। তার পরও বন্ধ হচ্ছে না পাচারের মতো ঘৃণ্য অপরাধ।


বেড়ায় কোরআন তিলাওয়াত প্রতিযোগিতা ও পুরস্কার বিতরণ 

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
পাবনা প্রতিনিধি

পাবনার বেড়ায় মরহুম অ্যাডভোকেট আবদুর রহিম এবং বেগম নূরুন্নাহার স্মৃতি পরিষদের উদ্যোগে ‘কোরআন তিলাওয়াত প্রতিযোগিতা ও পুরস্কার বিতরণ হয়েছে। শুক্রবার (১৩ মার্চ) দুপুরে সিএন্ডবি বাসস্ট্যান্ড সংলগ্ন নূরুন্নাহার ডায়াগনস্টিক সেন্টারে এই অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন সাবেক সচিব ও জাতীয় মানবাধিকার কমিশনের সাবেক সার্বক্ষণিক সদস্য মো. সেলিম রেজা। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিশিষ্ট সমাজসেবক ও বেড়া পৌর বিএনপি’র সভাপতি আলহাজ ফজলুর রহমান ফকির এবং বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় মজলিসে শূরার সদস্য ও বিশিষ্ট চিকিৎসক আলহাজ ডা. আব্দুল বাসেত খান।

শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের ডেপুটি ডিরেক্টর (অব.) এ.টি.এম ফজলুর রহিমের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে প্রতিযোগিতায় বিজয়ীদের মাঝে ক্রেস্ট ও বিশেষ সম্মাননা তুলে দেওয়া হয়। বক্তারা তাদের বক্তব্যে পবিত্র কোরআনের আদর্শে জীবন গড়ার ওপর গুরুত্বারোপ করেন এবং এ ধরনের আয়োজনের প্রশংসা করেন।

পুরস্কার বিতরণ শেষে মরহুমদের আত্মার মাগফিরাত এবং দেশ ও জাতির কল্যাণ কামনায় বিশেষ দোয়া ও মোনাজাত করা হয়। অনুষ্ঠানে এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তিরা, শিক্ষার্থী এবং অভিভাবকরা উপস্থিত ছিলেন।


তারেক রহমানের নেতৃত্বে উন্নয়নে নতুন গতি এসেছে: স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
বগুড়া প্রতিনিধি

স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম এমপি বলেছেন, স্বল্প সময়ের মধ্যে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে দেশের উন্নয়ন ও জনকল্যাণমূলক কর্মকাণ্ডে নতুন গতি এসেছে। ইতোমধ্যে পুরো দেশের দৃশ্যপট তিনি বদলে দিয়েছেন। নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী ফ্যামিলি কার্ড, কৃষক কার্ড, ইমাম-মুয়াজ্জিনদের সম্মানিসহ নানা জনকল্যাণমূলক কর্মসূচি বাস্তবায়ন শুরু হয়েছে। শুক্রবার (১৩ মার্চ) সকাল ১১টায় জেলা পরিষদ অডিটোরিয়ামে বগুড়া পৌর ও সদর উপজেলার ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানে উন্নয়ন বরাদ্দ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।

তিনি আরও বলেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান যা বলেন, তাই করে দেখান। ভোটের সময় দেয়া হাতের কালি শুকানোর আগেই তার নেতৃত্বে নির্বাচনী অঙ্গীকারগুলো দ্রুত বাস্তবায়ন হচ্ছে। দেশবাসীর কাছে তার সুফল দৃশ্যমান।

প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম বলেন, সরকার প্রধানের দায়িত্ব গ্রহণের পর মাত্র কয়েক দিনের ব্যবধানে তারেক রহমানের দৈনন্দিন কার্যক্রম ও বিভিন্ন পদক্ষেপ নজিরবিহীন। যা দেখে দেশের মানুষ অত্যন্ত আশাবাদী হয়ে উঠেছেন। বিএনপি যখনই ক্ষমতায় থাকে জনগণ স্বাচ্ছন্দ্যে থাকে। সরকার পরিচালনায় বিএনপির অভিজ্ঞতা, গৌরবোজ্জ্বল অতীত ও সুনাম রয়েছে। যা অন্য রাজনৈতিক দলের নেই। সেই জন্যই গত ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনে জনগণ বিপুল ভোটে বিএনপিকে দেশ পরিচালনার দায়িত্ব দিয়েছে। সরকার আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা এবং প্রশাসনের সর্বস্তরে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে বদ্ধপরিকর। বিএনপি দুর্নীতিমুক্ত, উন্নত ও সমৃদ্ধ নিরাপদ বাংলাদেশ গড়ে তুলতে চায়। যেখানে মানুষ জান-মালের নিরাপত্তা পাবে। শান্তিপূর্ণভাবে বসবাস করবে।

বগুড়া সদর উপজেলা বিএনপির সভাপতি মাফতুন আহমেদ খান রুবেলের সভাপতিত্বে সভায় আরও বক্তব্য দেন শহর বিএনপির সভাপতি হামিদুল হক চৌধুরী হিরু, সদর উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট জহুরুল ইসলাম, জেলা বিএনপির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক শেখ তাহা উদ্দিন নাহিন, জজকোর্টের জিপি অ্যাডভোকেট শফিকুল ইসলাম টুকু, জেলা মহিলা দলের সাধারণ সম্পাদক নাজমা বেগম প্রমুখ।


হাটহাজারীতে ৫ দোকানিকে জরিমানা

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
হাটহাজারী (চট্টগ্রাম) প্রতিনিধি

চট্টগ্রামের হাটহাজারীতে পাঁচ দোকানিকে ৭০ হাজার টাকা জরিমানা করেছে উপজেলা প্রশাসন। গত বৃহস্পতিবার (১২ মার্চ) রাত ১১টা থেকে ২টা পর্যন্ত হাটহাজারীর বিভিন্ন ঈদ বাজারে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করা হয়।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ও এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট মুহাম্মাদ আবদুল্লাহ আল মুমিন বলেন, ‘ঈদ বাজার মনিটরিং ও ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করার সময় অবৈধভাবে ফুটপাত দখল, কেনা-বেচার সঠিক রশিদ/ ডকুমেন্টস সংরক্ষণ না করে বেশি দামে বিক্রয়, যথাযথ লাইসেন্স না রাখা, অগ্নি নির্বাপণ ব্যবস্থা না রাখা ইত্যাদি অপরাধে জুয়েলকে ২০ হাজার, আবু তাহেরকে ১০ হাজার, লোকমানকে ১০ হাজার, মো. রায়হান রাজুকে ১০ হাজার ও মুশফিকুর রহমানকে ২০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে।’

তিনি বলেন, ‘পবিত্র রমজানের ঈদের শপিং যেন মানুষ নির্বিঘ্নে করতে পারে সেজন্য উপজেলা প্রশাসনের বাজার তদারকি ও ভ্রাম্যমাণ আদালত অব্যাহত থাকবে। কোথাও কোনো অনিয়মের অভিযোগ পেলে উপজেলা প্রশাসনকে অবহিত করার অনুরোধ করেন।


কেশবপুরে অনলাইন চিকিৎসায় শিশুর মৃত্যু, হাসপাতাল বন্ধের নির্দেশ

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
কেশবপুর (যশোর) প্রতিনিধি

যশোরের কেশবপুরে অনলাইন (ভিডিও কলে) চিকিৎসা দেওয়ার অভিযোগে ৮ মাস বয়সী শিশু আরিয়ানের মৃত্যুকে কেন্দ্র করে চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। অভিযোগ উঠেছে, হাসপাতালের মালিক বিদেশে অবস্থান করে অনলাইনের মাধ্যমে চিকিৎসা দেওয়া হয়। এ ঘটনায় ক্ষুব্ধ হয়ে প্রতিবাদ জানালে হাসপাতালের নার্স ও কর্মচারীরা মৃত শিশুর পরিবারের সদস্যদের মারধর করে বলেও অভিযোগ পাওয়া গেছে।

ঘটনাটি ঘটেছে গত বুধবার (১১ মার্চ) সকালে কেশবপুর শিশু ও জেনারেল হাসপাতালে। এ ঘটনায় এলাকায় ব্যাপক সমালোচনার সৃষ্টি হলে গত বৃহস্পতিবার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা রেক্সোনা খাতুন হাসপাতালটি পরিদর্শন করেন।

পরিদর্শনকালে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ প্রয়োজনীয় কাগজপত্র প্রদর্শনে ব্যর্থ হয় এবং সেখানে কোনো দায়িত্বপ্রাপ্ত চিকিৎসক উপস্থিত না থাকায় হাসপাতালের সব ধরনের কার্যক্রম বন্ধ রাখার নির্দেশ দেন ইউএনও। একই সঙ্গে হাসপাতালের বিলবোর্ড খুলে ফেলারও নির্দেশ দেওয়া হয়।

সেসময় উপস্থিত ছিলেন কেশবপুর উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. মো. রেহেনেওয়াজ এবং আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা।

স্থানীয়দের অভিযোগ, কেশবপুরে কিছু অসাধু ক্লিনিক ব্যবসায়ীর কারণে প্রায়ই ভুল চিকিৎসার ঘটনা ঘটছে। এতে অনেক মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন এবং অকালে প্রাণ হারাচ্ছেন। এ ধরনের অনিয়মের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন কেশবপুরবাসী।

প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।


কুলাউড়ায় ৫১ মাদ্রাসায় খেজুর বিতরণ

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
কুলাউড়া (মৌলভীবাজার) প্রতিনিধি

মৌলভীবাজারের কুলাউড়ায় ৫১টি মাদ্রাসা ও এতিমখানায় মানবিক সহায়তার অংশ হিসেবে সৌদি সরকারের দেওয়া ২২৪ প্যাকেট খেজুর বিতরণ করা হয়েছে। গত বৃহস্পতিবার (১২ মার্চ) উপজেলা পরিষদ সভাকক্ষে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের প্রধানদের হাতে এসব খেজুর তুলে দেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. মহিউদ্দিন।

এ সময় উপস্থিত ছিলেন উপজেলা বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক শামীম আহমদ চৌধুরী, সাবেক সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক বদরুল হোসেন খান, সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক দেলোয়ার হোসেন, সাংবাদিক মোক্তাদির হোসেন, ময়নুল হক পবন, প্রকল্প বাস্তবায়ন অফিসের কর্মকর্তা কামরুল হাসান, শাহিন আহমদ ও ফেরদৌস আহমদসহ সংশ্লিষ্টরা।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. মহিউদ্দিন জানান, পবিত্র রমজান মাস উপলক্ষে মানবিক সহায়তার অংশ হিসেবে সৌদি সরকারের পক্ষ থেকে এসব খেজুর প্রদান করা হয়েছে।


হরিণাকুন্ডুতে বৃদ্ধাশ্রমের মায়েরা পেলেন ঈদ উপহার

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
ঝিনাইদহ প্রতিনিধি

পবিত্র ঈদুল ফিতর উপলক্ষে ঝিনাইদহের হরিণাকুন্ডুতে একটি বৃদ্ধাশ্রমের মায়েদের মাঝে ঈদ উপহার বিতরণ করা হয়েছে। শুক্রবার (১৩ মার্চ) সকালে উপজেলার জোড়াপুকুরিয়া বৃদ্ধাশ্রমে সংযোগ ফাউন্ডেশন এর উদ্যোগে এ উপহার সামগ্রী বিতরণ করা হয়।

এ সময় উপস্থিত ছিলেন সংগঠনটির জেলা কো-অর্ডিনেটর মুন্সী মো. আবু হাসান, উপদেষ্টা কে এম সালেহ, শাহানুর আলম, কাজী আলী আহম্মেদ লিকু, জোড়াপুকুরিয়া বৃদ্ধাশ্রমের প্রতিষ্ঠাতা ও পরিচালক ইসমত আরাসহ স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিরা।

অনুষ্ঠানে বৃদ্ধাশ্রমে বসবাসরত ২৪ জন মায়ের হাতে ঈদ উপহার হিসেবে নতুন শাড়ি তুলে দেওয়া হয়। উপহার পেয়ে বৃদ্ধাশ্রমের মায়েরা আনন্দ ও কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।

সংগঠনটির পক্ষ থেকে জানানো হয়, রমজান মাসজুড়ে বৃদ্ধাশ্রমের মায়েদের জন্য প্রতিদিন ইফতারের ব্যবস্থাও করা হয়েছে। এছাড়াও সমাজে আত্মকর্মসংস্থান তৈরির লক্ষ্যে হরিণাকুন্ডু উপজেলার দুটি মাদ্রাসায় প্রশিক্ষণের জন্য সেলাই মেশিন প্রদান করা হয়েছে।

আয়োজকরা বলেন, সমাজের অবহেলিত ও বয়স্ক মানুষের পাশে দাঁড়ানো এবং তাদের মুখে হাসি ফোটানোই তাদের মূল লক্ষ্য। ভবিষ্যতেও এ ধরনের মানবিক ও সামাজিক কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে বলে তারা জানান।


নড়াইলে ট্রেনে কাটা পড়ে কৃষক নিহত

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নড়াইল প্রতিনিধি

বাড়ির পাশেই রেল লাইন। পোষা ছাগল ছুটে রেলনাইনের ওপর উঠে পড়ে। ছাগল ধরে আনতে গিয়ে রেলে কাটা পড়েন আমিনুর রহমান ওরফে চান মিয়া(৫৫) নামে এক কৃষক।

শুক্রবার (১৩ মার্চ) সকাল সাড়ে ৭টার দিকে নড়াইলের লোহাগড়া উপজেলার সারুলিয়া গ্রামে এই দুর্ঘটনা ঘটে। নিহত আমিনুর সারুলিয়া গ্রামের তামজেল হোসেনের ছেলে।

পুলিশ এবং স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, শুক্রবার (১৩ মার্চ) সকাল ৭টার দিকে চান মিয়ার বাড়িসংলগ্ন রেল লাইনের পাশে ছাগল বাধতে যান। ছাগলটি দৌড়ে রেল লাইনের ওপর উঠে পড়ে। দড়ি ধরে টেনে আনতে যান। প্রতিদিনের মতো এ সময় খুলনা থেকে ছেড়ে আসা ঢাকাগামী জাহানাবাদ এক্সপ্রেস ট্রেনের নিচে তিনি কাটা পড়েন।

প্রত্যক্ষদর্শী একই গ্রামের হোসেন আলী ও ইদ্রিস মোল্যা বলেন,আমরা রেল লাইনের বিপরীত পাশের জমিতেই কাজ করছিলাম। ট্রেন আসছে চিৎকার করে চান মিয়াকে দুই তিনবার বলেছি। মনে হয় ট্রেনের বিকট শব্দে তিনি তা শুনতে পাননি। ফলে চান মিয়া ট্রেনে কাটা পড়ে। তারা বলেন চান মিয়া কৃষি কাজ করে। আমাদের চিৎকারে গ্রামের লোকজন ঘটনা স্থলে ছুটে আসে। মরদেহ উদ্ধার করে বাড়িতে নিয়ে আসে। খবর পেয়ে থানা পুলিশ বাড়িতে

আসে।

লোহাগড়া থানার ওসি আব্দুর রহমান বলেন,খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়। ঘটনাস্থল রেলের জায়গায় হওয়ায় রেলওয়ে পুলিশকে খবর দেওয়া হয়েছে।


দুর্নীতির দায়ে পদ হারালেন মণিপুরী ললিতকলা একাডেমির উপপরিচালক

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
মৌলভীবাজার প্রতিনিধি

মৌলভীবাজারের কমলগঞ্জ উপজেলায় অবস্থিত মণিপুরী ললিতকলা একাডেমির উপপরিচালক (অতিরিক্ত দায়িত্ব) প্রভাস চন্দ্র সিংহকে অনিয়ম ও অর্থ আত্মসাতের অভিযোগে তার পদ থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে। গত বুধবার (১১ মার্চ) মৌলভীবাজার জেলা প্রশাসক তৌহিদুজ্জামান পাভেল স্বাক্ষরিত এক অফিস আদেশের মাধ্যমে তাকে অব্যাহতি দিয়ে একাডেমির প্রশাসনিক কার্যক্রম পরিচালনার দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে কমলগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. আসাদুজ্জামানকে।

একাডেমি সূত্রে জানা গেছে, গত জুলাই মাসে প্রভাস চন্দ্র সিংহের বিরুদ্ধে শিল্পীদের সম্মানী ভাতা আত্মসাতের অভিযোগ ওঠে। বিষয়টি গুরুত্বের সাথে নিয়ে জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়। অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক আসমা সুলতানা নাসরীন এই তদন্তের দায়িত্ব পালন করেন। দীর্ঘ তদন্ত শেষে গত ৫ জানুয়ারি প্রকাশিত প্রতিবেদনে জানানো হয়, অভিযুক্ত ও অভিযোগকারীদের লিখিত জবানবন্দি এবং সংশ্লিষ্ট নথিপত্র পর্যালোচনায় অভিযোগটি সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণিত হয়েছে।

২০২৪ সালের ২৮ নভেম্বর সংস্কৃতিবিষয়ক মন্ত্রণালয় থেকে প্রভাস চন্দ্র সিংহকে উপপরিচালক ও ভিডিও বিভাগের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছিল। তবে তার নিয়োগের পরপরই একাডেমির নৃত্য, বাদ্যযন্ত্র, নাট্য ও সংগীত প্রশিক্ষকসহ অফিস সহায়করা একযোগে তার দায়িত্ব প্রাপ্তির বিরোধিতা করেন। সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান ও উৎসবের প্রশিক্ষণ বিল নিজ নামে উত্তোলন, শিল্পীদের নামে-বেনামে ভুয়া ভাউচারে টাকা তুলে আত্মসাৎ, শিল্পীদের প্রাপ্য সম্মানী সঠিকভাবে প্রদান না করাসহ নানা অভিযোগ উল্লেখ করে ১ ডিসেম্বর তারা জেলা প্রশাসকের মাধ্যমে মন্ত্রণালয়ে একটি লিখিত অভিযোগ জমা দেন।

গত সোমবার সংস্কৃতিবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সহকারী সচিব শিউলী হরি স্বাক্ষরিত এক পত্রে তাকে উপপরিচালকের পদ থেকে সরিয়ে দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়। এরপরই জেলা প্রশাসন নতুন দায়িত্বের বিষয়ে আদেশ জারি করা হয়।

এ বিষয়ে প্রভাস চন্দ্র সিংহ জানান, বর্তমানে তাকে একাডেমির তার পূর্বের পদ ‘গবেষণা বিষয়ক কর্মকর্তা’ হিসেবে দায়িত্ব পালন করতে বলা হয়েছে।

অন্যদিকে, একাডেমির নবনিযুক্ত পরিচালক (অতিরিক্ত দায়িত্ব) ও কমলগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. আসাদুজ্জামান বলেন, ‘মন্ত্রণালয়ের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী নিয়মিত পরিচালক নিয়োগ না হওয়া পর্যন্ত আমাকে এই একাডেমির অতিরিক্ত দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। প্রতিষ্ঠানের স্বচ্ছতা বজায় রাখাই আমাদের লক্ষ্য।’

দীর্ঘদিন ধরে চলা এই অস্থিরতার অবসান ঘটিয়ে একাডেমির প্রশাসনিক কার্যক্রমে স্বচ্ছতা ফিরে আসবে বলে আশা করছেন স্থানীয় শিল্পী ও কলাকুশলীরা।


সুন্দরবনে বিচ জবা ফুলের রঙে রঙিন উপকূল

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
শরণখোলা (বাগেরহাট) প্রতিনিধি

উপকূলীয় এলাকায় প্রকৃতির নান্দনিক সৌন্দর্য আরও বেড়েছে বিচ জবা ফুলের (স্থানীয় ভাষায় বলই) সৌন্দর্যে। নদীর ধার এবং খালের পাড় ঘেঁষে এই গাছের হলুদ ফুলের মধ্যে গাঢ় মেরুন রঙের কেন্দ্র বিশেষভাবে চোখে পড়ে।

স্থানীয়রা জানান, এই গাছ মূলত উপকূলীয় মাটি ও লবণাক্ত পরিবেশে ভালো জন্মে। এ কারণে সুন্দরবনের আশেপাশের এলাকায় বিচ জবা প্রচুর দেখা যায়। ফুল ফোটার সময় গাছের সৌন্দর্য পুরো এলাকায় ছড়িয়ে পড়ে, যা স্থানীয় পর্যটক ও প্রকৃতি প্রেমীদের আকর্ষণ করছে।

স্থানীয় বাসিন্দা রুবেল মীর বলেন, ‘এই গাছের ছায়া ও পাতা স্থানীয় জীববৈচিত্র্যের জন্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ, কারণ পাখি ও কীটপতঙ্গরা এখানে বাস করে।’ এছাড়া বিচ জবার কাঠ ও ছাল স্থানীয়ভাবে ব্যবহার হয় গৃহস্থালি কাজে।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, উপকূলীয় অঞ্চলে বিচ জবার সংরক্ষণ ও পরিচর্যা করা প্রয়োজন, যাতে এই প্রাকৃতিক সৌন্দর্য ও পরিবেশের ভারসাম্য বজায় থাকে।

ফলে বলা যায়, বিচ জবা কেবল ফুল নয়, বরং উপকূলীয় অঞ্চলের এক প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের আধার।


রাজশাহী বার নির্বাচন: ২১ পদের মধ্যে ২০টিতেই জয়ী বিএনপিপন্থি আইনজীবী

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
রাজশাহী প্রতিনিধি

রাজশাহী বার সমিতির বার্ষিক নির্বাচনে ২১টি পদের মধ্যে ২০টিতেই বিজয়ী হয়েছেন বিএনপিপন্থি আইনজীবীরা। তারা জাতীয়তাবাদী আইনজীবী ঐক্য পরিষদ থেকে নির্বাচনে অংশ নেন। সভাপতি পদে এই প্যানেল থেকেই আবুল কাসেম ও সাধারণ সম্পাদক পদে পারভেজ তৌফিক জাহেদী নির্বাচিত হয়েছেন।

গত বৃহস্পতিবার (১২ মার্চ) সকাল ৯টা থেকে দুপুর ১টা পর্যন্ত এবং আধা ঘণ্টা বিরতির পর বেলা দেড়টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত ১ নম্বর বার ভবনের দ্বিতীয় তলায় ভোট গ্রহণ চলে। নির্বাচনে মোট ৬৯৩ জন ভোটারের মধ্যে ৬২৬ জন ভোট দেন। গণনা শেষে রাতে ফল ঘোষণা করা হয়।

নির্বাচন কমিশনার শেখ মো. জাহাঙ্গীর আলম সেলিম জানান, নির্বাচনে বার সমিতির সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকসহ মোট ২১টি পদের মধ্যে ২০টিতেই জয় পেয়েছে জাতীয়তাবাদী আইনজীবী ঐক্য পরিষদের প্যানেল। তবে শুধু সহ-সভাপতি পদে গণতান্ত্রিক আইনজীবী সমিতি মনোনীত প্যানেলের প্রার্থী এ কে এম মিজানুর রহমান বিজয়ী হয়েছেন।

জাতীয়তাবাদী আইনজীবী ঐক্য পরিষদ মনোনীত প্যানেল থেকে নির্বাচিত অন্যান্যরা হলেন- সহ-সভাপতি মাহাবুবুল ইসলাম, সহ-সভাপতি মজিজুল হক, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক (সাধারণ) ইমতিয়ার মাসরুর আল আমিন, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক (কল্যাণ) নুর-এ কামরুজ্জামান ইরান, হিসাব সম্পাদক শাখাওয়াত হোসেন শামীম, লাইব্রেরি সম্পাদক সেলিম রেজা মাসুম, অডিট সম্পাদক তানভীর আহমেদ জুলেট, প্রেস অ্যান্ড ইনফরমেশন সম্পাদক শাহজামাল, ম্যাগাজিন অ্যান্ড কালচার সম্পাদক জানিজ ফাতেমা কাজল এবং সদস্য ইয়াসিন আলী, শামীম আহমেদ, মাঈনুর রহমান, হাফিজুল ইসলাম, জাকির হোসেন (২), শাহীন আলম মাহমুদ, রেশমা খাতুন, হুমায়ুন কবির শাম্মী এবং রহিমা খাতুন।

নির্বাচনে ২১টি পদের বিপরীতে পৃথক দুটি প্যানেলে ৪২ জন প্রার্থী এবং স্বতন্ত্রভাবে সভাপতি পদে একজন ও সাধারণ সম্পাদক পদে তিনজন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন।


গাংনীতে ড্রামট্রাক বিদ্যুতায়িত হয়ে চালকের মৃত্যু

আপডেটেড ১৩ মার্চ, ২০২৬ ১৯:১৩
গাংনী (মেহেরপুর) প্রতিনিধি

গাংনী উপজেলার পোড়াপাড়া গ্রামে একটি ইটভাটায় মাটি বহনকারি ড্রামট্রাক বিদ্যুতায়িত হয়ে গাড়িতে থাকা জহিরুল ইসলাম (৪৫) মৃত্যু হয়েছে। এ ঘটনায় তার সহকারী সজীব (৩০) গুরুতর আহত হয়ে চিকিৎসাধীন অবস্থায় রয়েছে। গত বৃহস্পতিবার (১২ মার্চ) মধ্যরাতে এ দুর্ঘটনা ঘটে।

নিহত জহিরুল ইসলাম গাংনী উপজেলার বামন্দী ইউনিয়নের তেরাইল গ্রামের মৃত আব্দুল মাজিদের ছেলে। আহত সজীব একই উপজেলার মটমুড়া ইউনিয়নের ছাতিয়ান গ্রামের লাল্টু মিয়ার ছেলে।

স্থানীয়রা জানান, পোড়াপাড়া গ্রামের ময়নালের থ্রি-স্টার ইটভাটায় মাটি ফেলে ফেরার সময় ড্রামট্রাকটি অসাবধানতাবশত ইটভাটার বৈদ্যুতিক সংযোগের মেন তারের সাথে জড়িয়ে পড়ে। এতে মুহূর্তেই ট্রাকটি বিদ্যুতায়িত হয়ে ঘটনাস্থলেই চালক জহিরুল ইসলামের মৃত্যু হয়।

এ সময় গুরুতর আহত অবস্থায় সহকারী সজীবকে স্থানীয়রা উদ্ধার করে গাংনী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করেন। পরে তার শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে কুষ্টিয়া জেনারেল হাসপাতালে রেফার্ড করেন।

ড্রামট্রাকের মালিক কাফিরুল ইসলাম জানান, নিহত জহিরুল ইসলাম প্রায় ৫ বছর ধরে তার ড্রামট্রাকটি চালাচ্ছিলেন।

রাতে ইটভাটায় মাটি রেখে ফেরার সময় অসাবধানতাবশত ট্রাকের ড্রাম পুরোপুরি নামানো না থাকায় সেটি বৈদ্যুতিক খুঁটির মেন তারের সাথে স্পর্শ করে বিদ্যুতায়িত হয়।

গাংনী থানার ওসি উত্তম কুমার দাস জানান, খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহ উদ্ধার করে থানায় নিয়ে আসে। পরে পরিবারের পক্ষ থেকে কোনো অভিযোগ না থাকায় নিহতের মরদেহ স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।


নারীদের জন্য ওয়াশ ব্লক তৈরি করল পঞ্চগড় জেলা পরিষদ

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
পঞ্চগড় প্রতিনিধি

ঐতিহ্যবাহী পঞ্চগড় বাজার পূর্বে এটি ছিল হাঁট-কালের বিবর্তনে বর্তমানে বাজারে পরিণত হয়েছে। পঞ্চগড় জেলার ৫টি উপজেলার মধ্যে সবচেয়ে বড় বাজার এটি। বাজার তৈরি হওয়ার পর থেকে নারীদের জন্য কোন প্রকার ওয়াশ ব্লক ছিল না। ওয়াশ ব্লক না থাকায় নারীদের বিভিন্ন ধরনের সমস্যার সম্মুখীন হতে হয়। অনেক নারীরা তাদের আত্মীয়দের বাসায় যান। যাদের কোন নিকটতম আত্মীয় নেই সে সব নারীদের বাধ্য হয়ে কেনাকাটা বাদ দিয়ে বাড়ির পথে হাটতে হয়।

সে সব বিষয় বিবেচনা করে পঞ্চগড় জেলা পরিষদ ২টি ওয়াশ ব্লক তৈরি করেন। পঞ্চগড় পৌরসভা স্থাপিত হওয়ার কয়েক বছর পরেই পুরুষদের ওয়াশ ব্লক তৈরি হয় কিন্তু ৩ যুগ পরেই নারীদের ওয়াশ ব্লক তৈরি করেন পঞ্চগড় জেলা পরিষদ।

একজন ভোক্তভোগী , মোছাঃ ফাতেমা বেগম ৯নং মাগুরা ইউনিয়নের বাসিন্দা তিনি জানান, বাজার করতে এসে ওয়াশ ব্লকের প্রয়োজন হলে তখন আমাদেরকে এদিক ওদিক ছোটাছুটি করতে হয়। তিনি আরও জানান যে ২টি ওয়াশ ব্লক তৈরি হয়েছে সেই ওয়াশ ব্লক খোলা হলে আমাদের নারীদের জন্য অনেক উপকার হবে বলে আশা করি।

পঞ্চগড় বাজার ও বাসস্ট্যান্ড এ মহিলাদের জন্য ২টি ওয়াশ ব্লক নির্মাণ করেন জেলা পরিষদ পঞ্চগড় অর্থবছর ২০২৪-২৫খ্রি.।

প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (ভা:) জেলা পরিষদ পঞ্চগড়, অঞ্জন কুমার সরকার জানান যে, ঠিকাদার প্রতিষ্ঠানের কাছ থেকে চাবি নেওয়া হয়েছে, পূর্বে থেকে পুরুষের ওয়াশ ব্লক রয়েছে, সেই স্থানেই বর্তমানে নারীদের ওয়াশ ব্লক স্থাপন করা হয়েছে, আগামীকাল খোলার পর পরিষ্কার পরি”ছন্নতার পরে ব্যবহারের জন্য অনুমতি দেওয়া হবে, এবং নারীদের দীর্ঘদিনের সমস্যা সমাধান হবে।


সোনামসজিদ বন্দরে ভারতগামী যাত্রীর কাছে মিলল স্বর্ণের বার

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
চাঁপাইনবাবগঞ্জ প্রতিনিধি

চাঁপাইনবাবগঞ্জের সোনামসজিদ স্থলবন্দর দিয়ে ভারতে যাওয়ার সময় দুটি স্বর্ণের বারসহ মো. সানি নামে একজনকে আটক করেছে বিজিবি। সনি ময়মনসিংহ জেলার গফরগাঁও উপজেলার বড় বড়াই কাউরাইদ গ্রামের রফিকুল ইসলামের ছেলে। গত বৃহস্পতিবার (১২ মার্চ) বিকেলে ভারত যাওয়ার সময় তাকে আটক করা হয়। শুক্রবার (১৩ মার্চ) সকালে চাঁপাইনবাবগঞ্জের ৫৯ বিজিবির পাঠানো সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য গণমাধ্যমকে জানানো হয়।

বিজিবি জানায় নিয়মিত তল্লাসীর সময় আর্চওয়ে মেটাল ডিটেক্টরে ধাতব বস্তুর সংকেত পাওয়া গেলে সনি মাই নামে বাংলাদেশি পাসপোর্টধারী ভারতগামী ওই যাত্রীকে আটক করে বিজিবি সদস্যরা। পরে তাকে উপজেলা স্বাস্থ্যকমপ্লেক্সে নেওয়া হয়, সেখানে এক্স-রে করে পায়ু পথে থাকা দুটি স্বর্ণের বারের অস্তিত্ব পাওয়া যায়। উদ্ধার করা দুটি স্বর্ণের বারের ওজন ২৩১ দশমিক ৮১ গ্রাম। চাঁপাইনবাবগঞ্জ স্বর্ণ জুয়েলারি সমিতি পরীক্ষা করে এগুলো খাঁটি স্বর্ণ বলে নিশ্চিত করেছে। যার আনুমানিক বাজারমূল্য ৫৩ লাখ ৯৪ হাজার ৬০০ টাকা।

মহানন্দা ব্যাটালিয়ন (৫৯ বিজিবি) এর অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল গোলাম কিবরিয়া বলেন, রাজস্ব ফাঁকি দিতে চোরাকারবারীরা নানা কৌশল অবলম্বন করছে। তবে এসব অপকৌশল প্রতিরোধে বিজিবি সতর্ক রয়েছে।

তিনি আরও জানান, আটক ব্যক্তির বিরুদ্ধে মামলা করে তাকে শিবগঞ্জ থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে।


banner close