শাহরিয়ার হাসান ও মুহিবুল্লাহ মুহিব
নিরাপদ যাত্রা ও স্থায়ী কাজের প্রলোভনে রোহিঙ্গা নারীদের পাচার করে দেয়া হচ্ছে ভারত ও সৌদি আরবে। পাচারের জন্য নতুন রুট হিসেবে দেশের বিভিন্ন সীমান্ত ব্যবহার করা হচ্ছে। তবে সমুদ্রপথেও এ যাত্রা কমেনি। রোহিঙ্গা নারী-পুরুষরা সমুদ্রপথেও পাড়ি দিচ্ছেন মালয়েশিয়া ও থাইল্যান্ডে। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, সমুদ্র আর সীমান্ত দিয়ে যাওয়ার মাঝখানে পার্থক্য শুধু টাকার।
সমুদ্র হোক আর সীমান্ত, দুভাবে বিদেশ যাওয়া কেউই ভালো নেই। ঘর ছাড়ার পরই তারা টের পান দালালদের হাতবদলে বিক্রি হয়ে গেছেন। এসব ভুক্তভোগীর অনেকেই স্বজনদের কাছে নিজেদের দুর্ভোগের কথা জানিয়ে দেশে ফেরার আকুতি জানিয়েছেন। তারা বলেছেন, প্রতিনিয়তই সইতে হচ্ছে নৃশংস নির্যাতন। সেখানে বেঁচে থাকা আর মরে যাওয়া একই হয়ে দাঁড়িয়েছে।
দেশের আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর একাধিক ইউনিট, বিমানবন্দর থেকে উদ্ধার হওয়া নারীদের দেয়া তথ্য এবং দালাল চক্রের ধরা পড়া সদস্যদের দেয়া আদালতে জবানবন্দি থেকে রোহিঙ্গা নারী-পুরুষ বিক্রি হওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত হওয়া গেছে। জানা গেছে, রোহিঙ্গা পাচারের নতুন রুট সম্পর্কেও।
সংশ্লিষ্ট পুলিশ কর্মকর্তারা বলছেন, দালাল চক্রের এ নেটওয়ার্ক এতটাই বিস্তৃত যে তালিকাভুক্ত আন্তর্জাতিক মানব পাচারকারী সদস্যদের সঙ্গেও স্থানীয় রোহিঙ্গা চক্রের যোগসাজশ আছে। কক্সবাজারের উখিয়া ও টেকনাফের রোহিঙ্গা ক্যাম্পে আস্তানা গেড়ে পাচারকারী চক্রের অন্তত ১১টি গ্রুপ কাজ করছে। প্রত্যেক গ্রপে আছে ৫০ জনের বেশি সদস্য। কিন্তু ভুক্তভোগী রোহিঙ্গা নারী-পুরুষরা ক্যাম্প ছেড়ে চক্রের খপ্পরে পড়ার আগ পর্যন্ত ঘুণাক্ষরেও সেটা টের পাচ্ছেন না।
পুলিশের চট্টগ্রাম রেঞ্জের উপমহাপরিদর্শক (ডিআইজি) আনোয়ার হোসেন দৈনিক বাংলাকে বলেন, রোহিঙ্গা ক্যাম্পে এ ধরনের মানব পাচারকারীরা সক্রিয়। তবে তারা যতই শক্তিশালী হোক না কেন, সুবিধা করতে পারছে না।
চলতি বছরের আগস্টে ঢাকায় আসার জন্য কক্সবাজার বিমানবন্দরে একটি বিমান সংস্থার কাউন্টারের সামনে দাঁড়িয়েছিলেন ১১ রোহিঙ্গা নারী-পুরুষ। বোর্ডিং পাস নিতে পারলেই কক্সবাজার ছেড়ে আসতে পারতেন তারা। কিন্তু তাদের কথাবার্তা ও আচরণে সন্দেহ হলে কাউন্টারের সামনে থেকে সবাইকে আটক করে পুলিশ। তাদের কাছ থেকে নগদ ৩ লাখ টাকারও বেশি জব্দ করা হয়। তারা সবাই রোহিঙ্গা ক্যাম্প ১৭, ৮ ও ২৬-এর বাসিন্দা।
এদের জিজ্ঞাসাবাদে পুলিশ জেনেছে, ভারতের উদ্দেশেই তারা ক্যাম্প ছেড়েছিলেন। উন্নত জীবনের আশায় দালালকে ১ লাখ টাকা দিয়ে নারীরা আর ২ লাখ টাকা দিয়ে পুরুষরা ভারতে যাওয়ার পথ ধরেছিলেন। উদ্ধার হওয়া এসব নারী-পুরুষকে জিজ্ঞাসাবাদের মাধ্যমে আরেকটি চক্রের সন্ধান বিমানবন্দর আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়ন ও কক্সবাজার জেলা পুলিশ।
পরে ওই চক্রের এক সদস্য মতিউরকে ঢাকা থেকে গ্রেপ্তার করে ঢাকা মহানগর পুলিশ। গত তিন বছরে তার মাধ্যমে অন্তত দুই শতাধিক রোহিঙ্গা নারী ভারতে পাচার হয়েছে বলে জবানবন্দিতে মতিউর স্বীকার করেছে। মতিউর জানিয়েছে, ভারত থেকেই অনেকের গন্তব্য হয়েছে সৌদি আরব।
উখিয়ার ১৫ নম্বর ক্যাম্পের সি ব্লকের দীল মোহাম্মদের মেয়ে ভুক্তভোগী সুরাইয়া দৈনিক বাংলাকে জানান, তিনি ক্যাম্প থেকে বেরিয়ে সীমান্তবর্তী এক জেলায় দুই মাস থেকেছেন। প্রথমে ভারত ও সেখান থেকে সৌদি আরব যাওয়ার কথা ছিল তার। কিন্তু যে রাতে সীমান্ত পার হবেন ঠিক সেদিনই পাচারকারী দলের এক সদস্য বিজিবির হাতে ধরে পড়ে। ফলে তিনিসহ ক্যাম্প থেকে আসা আরও ১০ জন মেয়ে অন্য আরেকটি চক্রের কাছে হাতবদল হন। ওই চক্র ভারতে পাঠানোর জন্য আরও ৫০ হাজার টাকা দাবি করে। সেটা না দিতে পারায় সেখানে রেখে দুই মাস ধরে নির্যাতন করা হয় তাদের। পরে ক্যাম্পে যাওয়া-আসা আছে এমন এক যুবকের সঙ্গে পালিয়ে ক্যাম্পে ফেরেন।
কুতুপালং ক্যাম্পের মাঝি জহুরুল হোসেন বলেন, ভারত পাঠানোর কথা বলে রোহিঙ্গা ক্যাম্পের মেয়েদের পাচার করা হচ্ছে। ব্লকে ব্লকে দালালরা প্রকাশ্যে ঘুরে বেড়াচ্ছে। প্রলোভনে পড়ে কখনো ৫০ হাজার, কখনো ১ লাখ টাকায় তাদের নিয়ে যাচ্ছে। তবে সমুদ্রপথে যেতে খরচ অনেক কম।
উখিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ আলী দৈনিক বাংলাকে বলেন, রোহিঙ্গা শিবির থেকে মালয়েশিয়া পাঠানোর সময় গত দুই মাসে অন্তত শতাধিক রোহিঙ্গা নারীকে উদ্ধার করেছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। বেশ কয়েকজন মানব পাচারকারীকেও ধরা হয়েছে। তবে তারা শুধু মালয়েশিয়ায় যাচ্ছেন না, পাচার হচ্ছেন অন্য দেশেও।
সীমান্ত দিয়ে যেভাবে নারী পাচার
সিআইডির মানব পাচার নিয়ে কাজ করা অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আক্তারুজ্জামান দৈনিক বাংলাকে বলেন, দেশে থেকে মোট যত নারী পাচার হয়, তার অর্ধেকের বেশি পাচার হয় ভারতে। ভারতে নারী পাচারের জন্য পাচারকারী চক্র সাতক্ষীরা, যশোর, মেহেরপুর সীমান্ত অঞ্চলকে বেছে নেয়। পাসপোর্ট-ভিসা ছাড়াই অবৈধভাবে পাচার হয় নারী-শিশু।
সাধারণত গ্রামাঞ্চলে তালাকের শিকার নারী, অসচ্ছল পরিবারের মেয়ে, পোশাক কারখানায় কাজ করা নারীরা পাচারকারীদের প্রধান টার্গেট। এর সঙ্গে নতুন যোগ হয়েছে রোহিঙ্গা নারী। তাদের খুব সহজেই প্রলোভনে ফেলে পাচার করা যায়। পাচার করার পর এসব মেয়েকে বিক্রি করে দেয়া হয় ভারতের বিভিন্ন রাজ্যের হোটেল কিংবা যৌনপল্লিতে।
পরিচয় গোপন রাখার শর্তে ভারতফেরত এক ভুক্তভোগী তরুণী বলেন, ‘একবার ফুসলিয়ে সীমান্ত পার করতে পারলে আর কিছু করার থাকে না। অনেকে ভাবেন নিজের ইচ্ছাতেই আমরা যাই। আসলে ভালো কাজ আর উন্নত জীবনের লোভ দেখিয়ে কিছু বুঝে ওঠার আগেই আমাদের পাচার করা হয়। সব বুঝে গেলে তখন আর উপায় থাকে না। তখন পালাতে চাইলেও পথ খুঁজে পাওয়া যায় না।’
জানা গেছে, সারা দেশের দালাল চক্রের নজর এখন রোহিঙ্গা ক্যাম্পে। তারা নানাভাবে সব রোহিঙ্গা ক্যাম্পে তাদের অপতৎপরতা চালাচ্ছে। প্রতিটি চক্রই সেখানে এজেন্ট নিয়োগ দিয়ে নারীদের পাচারের নিশানা করেছে।
সিআইডির তথ্য বলছে, সীমান্ত পার করে দেয়ার জন্য দালালরা ২০ থেকে ২৫ হাজার টাকা করে পায়। একই সঙ্গে প্রতি মাসে কমিশনও পায়, যেটা নির্ধারণ হয় পাচার হওয়া মেয়েদের কাজের ওপর।
১৫ হাজার মানব পাচারকারী সম্পর্কে তথ্য নেই
দেশ থেকে কত নারী পাচার হচ্ছে আর এর বিপরীতে কত দালাল চক্র কাজ করছে তার সুনির্দিষ্ট কোনো হিসাব নেই। তবে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ-সিআইডি বলছে, ২০০৪ সাল থেকে এখন পর্যন্ত দেশ থেকে ১২ হাজার ৩২৪ জন নারী পাচার হয়েছে। এসব পাচারে জড়িত ২৭ হাজার ৩৬৩ জনের বিরুদ্ধে অভিযোগ আছে। ১২ হাজার ২৮২ জন বিভিন্ন সময়ে আইনের আওতায় এলেও বাকি ১৫ হাজার ৮২ জন পাচারকারীর সম্পর্কে কোনো তথ্য নেই কারও কাছেই। এরা দেশে না বিদেশে আছে সেটাও জানে না কেউ। এদের সম্পর্কে তথ্য সংগ্রহ করে ধরতে অভিযান চালানোর প্রস্তুতি নিচ্ছেন আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা।
আইন ও সালিশ কেন্দ্রের নির্বাহী পরিচালক নীনা গোস্বামী মনে করেন, বাংলাদেশে মানব পাচার ঠেকানো বেশ কঠিন হয়ে পড়ছে। আইন প্রয়োগে অস্বচ্ছতা ও অদক্ষতা ছাড়াও দারিদ্র্যের সুযোগ নিচ্ছে পাচারকারীরা।
ট্রলারভর্তি রোহিঙ্গা পুরুষ যাচ্ছে মালয়েশিয়া-থাইল্যান্ড
সাগরপথে রোহিঙ্গা মানব পাচার কোনোভাবেই থামছে না। সর্বশেষ দুই দিন আগে মঙ্গলবার ট্রলারে চড়ে সাগরপথে মালয়েশিয়া যাওয়ার সময় ট্রলারডুবিতে প্রাণ হারিয়েছেন তিন রোহিঙ্গা নারী। এ সময় জীবিত উদ্ধার করা হয়েছে চার বাংলাদেশিসহ ৪৮ রোহিঙ্গাকে।
টেকনাফ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) হাফিজুর রহমান জানান, জীবিত উদ্ধার হওয়া ব্যক্তিরা উখিয়ার বালুখালী, কুতুপালং, হাকিমপাড়াসহ বিভিন্ন রোহিঙ্গা ক্যাম্পে থাকেন। এদের মধ্যে আটজন নারী। যে চার বাংলাদেশি উদ্ধার হয়েছেন তারাই দালাল চক্রের সদস্য। এ ঘটনায় রোহিঙ্গাসহ ২৪ জনকে আসামি করে মামলা হয়েছে।
কক্সবাজার জেলা পুলিশ ও কোস্টগার্ডের একাধিক সূত্র বলছে, তাদের নজরদারির বাইরেও কমবেশি প্রতি সপ্তাহেই ট্রলারভর্তি রোহিঙ্গা মালয়েশিয়ায় পাড়ি দিচ্ছেন। কেউ কেউ একইভাবে থাইল্যান্ডেও চলে যান।
কক্সবাজারের কুতুবজোম ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো. শেখ কামাল দৈনিক বাংলাকে বলেন, মালয়েশিয়া পৌঁছে দেয়ার কথা বলে দালাল চক্র রোহিঙ্গাদের কাছ থেকে মাথাপিছু ২০-৩০ হাজার টাকা হাতিয়ে নেয়।
পুলিশ ও স্থানীয় জনপ্রতিনিধিরা বলছেন, কয়েক বছর সমুদ্রপথে মানব পাচার বন্ধ থাকলেও আবার তৎপর হয়ে উঠেছে দালাল চক্র। সমুদ্র শান্ত থাকলে মানব পাচার বেড়ে যায়।
কক্সবাজারের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (প্রশাসন) মো. রফিকুল ইসলাম বলেন, রোহিঙ্গাদের মালয়েশিয়ায় পাচারের চক্রগুলো বেশ সক্রিয়। দালালদের তালিকা করা হয়েছে। মামলাও আছে দেড় শতাধিক। এগুলো তদন্ত করে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিচ্ছে পুলিশ।
২০১৭ সালের ২৫ আগস্টের পরবর্তী কয়েক মাসে মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্য থেকে পালিয়ে কক্সবাজারের বিভিন্ন আশ্রয়শিবিরে ঠাঁই নেয় আট লাখ রোহিঙ্গা। আগে থেকে থাকা রোহিঙ্গা মিলিয়ে সেখানে এখন রোহিঙ্গার সংখ্যা ১১ লাখেরও বেশি। এসব ক্যাম্প ঘিরে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর বিপুল সদস্য কাজ করছেন। তৎপর আছে গোয়েন্দা সংস্থাগুলোও। তার পরও বন্ধ হচ্ছে না পাচারের মতো ঘৃণ্য অপরাধ।
ঝিনাইদহ সদর উপজেলার নারিকেলবাড়িয়া বাজার থেকে কুশাবাড়িয়া বাজার পর্যন্ত প্রায় ২ কিলোমিটার সড়ক দীর্ঘদিন ধরে বেহাল অবস্থায় পড়ে ছিল। খানাখন্দে ভরা সড়কটিতে যানবাহন চলাচল প্রায় বন্ধ হওয়ার উপক্রম হয়েছিল। চরম দুর্ভোগে পড়েছিলেন আশপাশের প্রায় ২০ গ্রামের হাজার হাজার মানুষ। অবশেষে স্থানীয় এক প্রবাসীর মানবিক উদ্যোগে শুরু হয়েছে সড়ক সংস্কার কাজ। এতে স্বস্তি ফিরেছে এলাকাবাসীর মাঝে।
সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, গ্রামের তরুণ থেকে শুরু করে বয়স্ক মানুষ পর্যন্ত সবাই অংশ নিয়েছেন সড়ক সংস্কারের কাজে। কেউ মাথায় করে ইট বহন করছেন, কেউ হাতুড়ি দিয়ে ইট ভাঙছেন, আবার কেউ গর্ত ভরাট করছেন। স্বেচ্ছাশ্রমের মাধ্যমে ভাঙা অংশগুলো মেরামত করা হচ্ছে। পুরো এলাকায় যেন তৈরি হয়েছে এক ব্যতিক্রমী মানবিকতার চিত্র।
স্থানীয়রা জানান,দীর্ঘদিন ধরে সড়কটির বিভিন্ন স্থানে বড় বড় গর্ত সৃষ্টি হয়। সামান্য বৃষ্টিতেই সেগুলো পানিতে ডুবে ছোট ছোট পুকুরে পরিণত হতো। ফলে ভ্যান, অটোরিকশা, মোটরসাইকেল এমনকি অ্যাম্বুলেন্স চলাচলও হয়ে উঠেছিল ঝুঁকিপূর্ণ। অনেক সময় যানবাহন উল্টে দুর্ঘটনাও ঘটেছে। বিশেষ করে কৃষকদের দুর্ভোগ ছিল সবচেয়ে বেশি। মাঠ থেকে ধান, পাট,শাকসবজি ও অন্যান্য কৃষিপণ্য বাজারে নিতে অতিরিক্ত খরচ গুনতে হতো তাদের।
কুশাবাড়িয়া গ্রামের বাসিন্দা আব্দুল জলিল বলেন,'এই রাস্তাটার কারণে আমরা বছরের পর বছর কষ্ট করেছি। বৃষ্টির দিনে হাঁটাও কষ্টকর হয়ে যেত। এখন রাস্তা সংস্কার হওয়ায় মানুষের মধ্যে স্বস্তি ফিরেছে।'
স্থানীয় ব্যবসায়ী শহিদুল ইসলাম বলেন,'নারিকেলবাড়িয়া ও কুশাবাড়িয়া বাজারের ব্যবসা-বাণিজ্যের জন্য এই সড়ক খুব গুরুত্বপূর্ণ। রাস্তার কারণে ক্রেতা ও যানবাহন আসতে চাইত না। এখন অন্তত চলাচলের পরিবেশ তৈরি হচ্ছে।'
অটোরিকশা চালক সোহেল রানা বলেন'আগে এই রাস্তায় গাড়ি চালাতে গেলে প্রায়ই গাড়ির স্প্রিং ও চাকা নষ্ট হতো। যাত্রীরাও ভয় পেত। এখন রাস্তা ঠিক হওয়ায় আমরা অনেক স্বস্তিতে আছি।'
স্থানীয় কৃষক রহিম উদ্দিন বলেন,'আমাদের ফসল বাজারে নিতে খুব সমস্যা হতো। গাড়ি ঢুকতে চাইত না। এখন রাস্তা কিছুটা ভালো হওয়ায় কৃষকরাও উপকৃত হবে।'
জানা গেছে, মানুষের এই দীর্ঘদিনের দুর্ভোগের কথা জানতে পেরে সড়কটি সংস্কারের উদ্যোগ নেন মালয়েশিয়া প্রবাসী সমাজসেবক আজিম হোসাইন। তিনি কুয়ালালামপুর শাখা যুবদলের নেতা এবং কুশাবাড়িয়া গ্রামের গোলাম নবী বিশ্বাসের ছেলে। নিজ অর্থায়নে রাস্তার জন্য ইট ও প্রয়োজনীয় উপকরণ সরবরাহ করেন তিনি। পরে স্থানীয়দের সহযোগিতায় শুরু হয় সংস্কার কাজ।
মুঠোফোনে প্রবাসী আজিম হোসাইন বলেন,'বিদেশে থাকলেও গ্রামের মানুষের কষ্টের কথা শুনে খুব খারাপ লেগেছে। তাই নিজের সামর্থ্য অনুযায়ী রাস্তাটি সংস্কারের উদ্যোগ নিয়েছি। গ্রামের মানুষের উপকার হলেই আমি আনন্দ পাই।'
এলাকাবাসী জানান,দীর্ঘদিন ধরে জনপ্রতিনিধিদের কাছে রাস্তা সংস্কারের দাবি জানানো হলেও কার্যকর কোনো উদ্যোগ দেখা যায়নি। সেখানে একজন প্রবাসীর ব্যক্তিগত উদ্যোগে সড়ক সংস্কার হওয়ায় এলাকায় ব্যাপক প্রশংসা তৈরি হয়েছে।
স্থানীয়দের দাবি,সাময়িক সংস্কারের পাশাপাশি দ্রুত সময়ের মধ্যে সড়কটি স্থায়ীভাবে পাকাকরণ করা হোক। কারণ এই সড়ক দিয়েই কুশাবাড়িয়া, মিয়াকুন্ডু, মাড়ুন্দী, মুক্তারামপুর, ধনঞ্জয়পুর, টিকারি ও দহকোলাসহ আশপাশের প্রায় ২০ গ্রামের হাজার হাজার মানুষ প্রতিদিন যাতায়াত করেন।
দীর্ঘ ২২ বছর পর এবং সরকার গঠনের পর প্রথম চাঁদপুর সফরকে কেন্দ্র করে আজ শনিবার (১৬ মে) উৎসবের নগরীতে পরিণত হয়েছে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের মুন্সীগঞ্জের গজারিয়া অংশ। প্রিয় নেতা তথা প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে একনজর দেখতে এবং স্বাগত জানাতে সকাল থেকেই মহাসড়কের দুই পাশে ঢল নামে বিএনপি ও এর অঙ্গ সংগঠনের হাজার হাজার নেতাকর্মী ও সাধারণ মানুষের।
সকাল ১০টা ২৫ মিনিটে প্রধানমন্ত্রীর গাড়িবহর গজারিয়ার তেতৈতলা হাস পয়েন্ট এলাকায় পৌঁছালে সৃষ্টি হয় এক আবেগঘন পরিবেশ। এ সময় বাসের ভেতর থেকে হাত নেড়ে নেতাকর্মীদের অভিবাদন ও ভালোবাসার জবাব দেন প্রধানমন্ত্রী।
এর আগে পূর্বঘোষিত কর্মসূচি অনুযায়ী সকাল সাতটা থেকেই গজারিয়া উপজেলা বিএনপি ও অঙ্গ সংগঠনের নেতাকর্মীরা খণ্ড খণ্ড মিছিল নিয়ে তেতৈতলা হাস পয়েন্ট এলাকায় জড়ো হতে থাকেন। প্রধানমন্ত্রীর আগমনকে কেন্দ্র করে নেতাকর্মীদের মাঝে ছিল অভিনব ও ব্যতিক্রমী উচ্ছ্বাস। কাউকে দেখা গেছে মাথায় মাথাল দিয়ে এবং হাতে ধানের শীষ নিয়ে কৃষকের বেশে আবার কেউ এসেছেন আবহমান বাংলার চিরায়িত ঐতিহ্য ফুটিয়ে তুলতে জেলের বেশ ধরে। সকাল সাড়ে আটটার মধ্যেই রাস্তার দু-পাশে নেতাকর্মীদের উপচে পড়া ভিড় লক্ষ্য করা যায়। সকাল নয়টায় অনুষ্ঠানস্থলে এসে উপস্থিত হন মুন্সীগঞ্জ-৩ আসনের সংসদ সদস্য কামরুজ্জামান রতন।
সকাল ১০টা ২৫ মিনিটে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের গাড়িবহর মহাসড়কের গজারিয়া অংশে এসে পৌঁছালে অপেক্ষমাণ জনতা সমস্বরে স্লোগান দিতে শুরু করেন। স্লোগানে স্লোগানে মুখরিত হয়ে ওঠে পুরো এলাকা। নেতাকর্মী ও সাধারণ মানুষের এই বাঁধভাঙা উচ্ছ্বাস দেখে প্রধানমন্ত্রী গাড়ির ভেতর থেকেই হাত নেড়ে তাদের প্রতি কৃতজ্ঞতা ও শুভেচ্ছা জানান।
প্রধানমন্ত্রীর এই গুরুত্বপূর্ণ সফরকে নির্বিঘ্ন করতে গজারিয়া অংশে নেওয়া হয়েছে নিশ্ছিদ্র ও নজিরবিহীন নিরাপত্তা ব্যবস্থা। জেলা পুলিশ ও প্রশাসনের পক্ষ থেকে ব্যাপক তৎপরতা চালানো হয়। এর আগে স্পেশাল সিকিউরিটি ফোর্স (এসএসএফ), স্থানীয় সংসদ সদস্য এবং জেলা প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা যাতায়াতের রুট পরিদর্শন করেন। এ উপলক্ষে মহাসড়কের গজারিয়া অংশে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর বিপুল পরিমাণ সদস্য মোতায়েন থাকতে দেখা গেছে।
কিশোরগঞ্জের কটিয়াদীতে জমিজমা-সংক্রান্ত বিরোধের জেরে চাচার বিরুদ্ধে আপন ভাতিজাকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগ উঠেছে। শুক্রবার (১৫ মে) দুপুরে উপজেলার লোহাজুরী ইউনিয়নের পূর্বচর পাড়াতলা এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।
নিহত আনোয়ার হোসেন (৩৫) পূর্বচর পাড়াতলা এলাকার সাফি উদ্দিনের ছেলে। অভিযুক্ত মরম আলী একই এলাকার আব্দুল হেকিমের ছেলে। সম্পর্কে তারা চাচা- ভাতিজা।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, দীর্ঘদিন ধরে জমিজমা নিয়ে দুই পক্ষের মধ্যে বিরোধ চলছিল। এ নিয়ে এলাকায় একাধিকবার সালিস হলেও বিরোধের নিষ্পত্তি হয়নি। শুক্রবার দুপুরে তুচ্ছ ঘটনাকে কেন্দ্র করে আবারও দুই পক্ষের মধ্যে উত্তেজনা তৈরি হয়। পরে বিকেলে স্থানীয় চটান পূর্বচর পাড়াতলা উচ্চবিদ্যালয়ের সিঁড়িতে আনোয়ার হোসেনকে রক্তাক্ত অবস্থায় পড়ে থাকতে দেখেন স্থানীয় লোকজন।
স্থানীয়দের অভিযোগ, এ সময় অভিযুক্ত মরম আলী কাউকে তার কাছে যেতে দেননি এবং ভয়ভীতি দেখিয়ে সময়ক্ষেপণ করেন। পরে খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে আনোয়ার হোসেনকে উদ্ধার করে। সন্ধ্যার দিকে তাকে মৃত ঘোষণা করা হয়। ঘটনার পর অভিযুক্ত মরম আলী ও তাঁর সহযোগীরা আত্মগোপনে চলে গেছেন।
নিহতের মা শিরিনা আক্তার অভিযোগ করেন, দুপুরে বাড়ি ফাঁকা থাকার সুযোগে মরম আলী ও তার লোকজন বাড়িতে ঢুকে আনোয়ার হোসেনকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে গুরুতর আহত করেন। পরে তাঁকে অবরুদ্ধ করে রাখা হয় এবং স্কুলের বারান্দায় ফেলে রাখা হয়। দীর্ঘ সময় কাউকে কাছে যেতে না দেওয়ায় চিকিৎসা না পেয়ে তাঁর মৃত্যু হয়েছে বলে দাবি করেন তিনি।
নিহতের বোন সালমা আক্তার বলেন, পরিকল্পিতভাবে তার ভাইকে হত্যা করা হয়েছে। তিনি এ ঘটনার বিচার দাবি করেন।
কটিয়াদী মডেল থানার পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) শ্যামল মিয়া বলেন, খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে আনোয়ার হোসেনের মরদেহ উদ্ধার করেছে। তার শরীরে আঘাতের চিহ্ন রয়েছে। ময়নাতদন্তের জন্য মরদেহ কিশোরগঞ্জ জেলা সদর হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হবে। অভিযুক্ত ব্যক্তিরা পলাতক রয়েছেন। এ ঘটনায় আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে বলেও জানান তিনি।
সুন্দরবন সংলগ্ন শরণখোলার বলেশ্বর নদীর তীরে গড়ে ওঠা বেড়িবাঁধ এখন প্রকৃতিপ্রেমী মানুষের কাছে এক শান্তির ঠিকানায় পরিণত হয়েছে। বিকেলের শেষ আলো নদীর জলে পড়তেই পুরো এলাকা যেন প্রকৃতির নিজ হাতে আঁকা এক জীবন্ত ছবিতে রূপ নেয়। নদীর ঢেউ, শীতল বাতাস আর সবুজে ঘেরা পরিবেশ প্রতিদিনই টানছে স্থানীয় মানুষসহ দূরদূরান্তের দর্শনার্থীদের।
রায়েন্দা গ্রামের স্থানীয় বাসিন্দা নাঈম ইসলাম বলেন, “আগে এই বেড়িবাঁধ শুধু নদীর ভাঙন আর জোয়ারের পানি ঠেকানোর জন্য পরিচিত ছিল। এখন বিকেল হলেই মানুষ এখানে এসে হাঁটে, আড্ডা দেয় আর প্রকৃতির সৌন্দর্য উপভোগ করে। জায়গাটা আমাদের মানসিক প্রশান্তির অংশ হয়ে উঠেছে।"
কলেজ শিক্ষার্থী রিয়া মনি বলেন, “সূর্য ডোবার সময় বলেশ্বর নদীর দৃশ্য সত্যিই অসাধারণ লাগে। এখানে এলে শহরের কোলাহল ভুলে থাকা যায়।"
বেড়িবাঁধজুড়ে সবুজ ঘাস, পাখির ডাক আর নদীর ছন্দ মিলিয়ে এক মনোমুগ্ধকর পরিবেশ সৃষ্টি হয়েছে। স্থানীয়রা মনে করেন, পরিকল্পিত উদ্যোগ নিলে এই এলাকা ভবিষ্যতে উপকূলীয় পর্যটনের অন্যতম আকর্ষণ হয়ে উঠতে পারে।
বাবা মারা গেছেন ছোটবেলায়, চার মাস আগে হারিয়েছে মাকেও—নানীর অন্যের বাড়িতে কাজের টাকায় কোনো রকমে চলছে এতিম দুই শিশুর জীবন। গণমাধ্যমে প্রকাশিত হলে বিষয়টি প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের দৃষ্টিগোচর হয়। অতঃপর তিনি শিশু দুটির খোঁজখবর ও প্রয়োজনীয় সহায়তা নিশ্চিত করার নির্দেশ দেন তার অতিরিক্ত প্রেস সচিব আতিকুর রহমান রুমনকে।
শুক্রবার (১৫ মে) বিকেলে সিরাজগঞ্জের সদর উপজেলার রতন কান্দি ইউনিয়নের একডালা গ্রামে ‘আমরা বিএনপি পরিবার’- এর সদস্য সচিব কৃষিবিদ মোকছেদুল মোমিন মিথুনের নেতৃত্বে ও সংগঠনটির উপদেষ্টা আবুল কাশেমের উপস্থিতিতে একটি প্রতিনিধি দল রায়হান ও রোহানের বাড়ি পরিদর্শন করেন। পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে কথা বলে প্রধানমন্ত্রীর পক্ষ থেকে সহমর্মিতার বার্তা পৌঁছিয়ে দেন।
প্রতিনিধি দলটি শিশু দুটির জন্য খাদ্য, শিক্ষা, চিকিৎসা ও নিরাপদ আবাসনের বিষয়ে প্রয়োজনীয় সহায়তার উদ্যোগ গ্রহণ করে। পাশাপাশি প্রধানমন্ত্রীর পক্ষে তাদের লেখাপড়ার জন্য এককালীন শিক্ষা বৃত্তিসহ মাসিক শিক্ষা বৃত্তিও ঘোষণা করেন।
এ সময় উপস্থিত ছিলেন সিরাজগঞ্জ-১ আসনের সংসদ সদস্য সেলিম রেজা, কাজিপুর পৌরসভার সাবেক মেয়র আব্দুস সালাম, বিএনপি নেতা হাসান, সিরাজগঞ্জ জেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের আহবায়ক আব্দুল্লাহ আল কায়েস, ‘আমরা বিএনপি পরিবার’- এর সদস্য মাসুদ রানা লিটন, মুস্তাকিম বিল্লাহ, বুয়েট ছাত্রদলের সাবেক সাধারন সম্পাদক ইঞ্জিনিয়ার আবু হানিফ, ছাত্রদল নেতা মশিউর রহমান মহান, আব্দুল্লাহ আল মিসবাহসহ স্থানীয় নেতৃবৃন্দ।
প্রসঙ্গত, ৯ বছর বয়সি রায়হান ও ৭ বছর বয়সি রোহান ছোটবেলাতেই বাবাকে হারায়। চার মাস আগে মায়ের মৃত্যুর পর তারা বর্তমানে নানা বৃদ্ধ আজিজুর রহমান ও নানি মালেকা বেগমের সাথে কষ্টে জীবনযাপন করছে। অর্থাভাবে তাদের লেখাপড়া বন্ধ হয়ে গেছে এবং জরাজীর্ণ টিনের ঘরে দিন কাটছে।
মিরপুরে শাহ আলী মাজারে সংঘটিত মব হামলায় তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছে বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টি (সিপিবি)। একই সঙ্গে ঘটনার সাথে জড়িতদের অবিলম্বে গ্রেপ্তার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিতের দাবি করেছে দলটি।
শুক্রবার (১৫ মে) সিপিবি সভাপতি কাজী সাজ্জাদ জহির চন্দন ও সাধারণ সম্পাদক আবদুল্লাহ ক্বাফী রতন এক বিবৃতিতে এ প্রতিবাদ জানিয়েছেন।
বিবৃতিতে নেতারা বলেন, ‘বর্তমানে একটি নির্বাচিত সরকার ক্ষমতায় আসীন। কিন্তু এখনও দেশে মব এবং পরিকল্পিত হামলা বন্ধ হয়নি। এগুলো প্রমাণ করে দেশে আইনের শাসন অনুপস্থিত। তারই সুযোগ নিয়ে দেশে ভিন্নমতের কণ্ঠরোধ করা হচ্ছে। ইন্টেরিমের আমলে একের পর এক মাজারে মব হামলা হয়েছে। উগ্র ডানপন্থি মতাদর্শ প্রতিষ্ঠার চেষ্টা করছে। বিভিন্ন মাজারে সহিংস হামলার ঘটনা ঘটছে। যারা একের পর এক হত্যাকাণ্ডসহ এ ধরনের দুষ্কর্ম করে যাচ্ছে, মাজার ভাঙছে, মন্দির ভাঙছে, বাউলের আখড়ায় অগ্নিসংযোগ করছে, বাউলদের শারীরিকভাবে নির্যাতন করছে, তাদেরকে আইনের আওতায় আনা হচ্ছে না। ফলে এসব ঘটনার কোনো বিচার তো হয়ই না বরং অনেক সময় ভুক্তভোগীকেই উল্টো জেল-জুলুম ভোগ করতে হচ্ছে।’
নেতারা অবিলম্বে মিরপুরের শাহ আলী মাজারে হামলাকারীদের সিসিফুটেজ এবং ভিডিও দেখে মব সৃষ্টিকারী গোষ্ঠী, ইন্ধনদাতা এবং হামলাকারী সকল দায়ী ব্যক্তিকে আইনের আওতায় আনা এবং দ্রুত বিচারের দাবি জানান। একই সঙ্গে সকল মাজার, দরবারসহ ঝুঁকিপূর্ণ ধর্মীয় ও অধ্যাত্মবাদী কেন্দ্রসমূহের নিরাপত্তা জোরদার করার দাবি জানিয়েছেন।
সরকারি চাকরির মেয়াদ পূর্ণ হওয়ায় অবসরে গেলেন ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) ভারপ্রাপ্ত কমিশনার মো. সরওয়ার। গত বৃহস্পতিবার (১৪ মে) ছিল তার শেষ কর্মদিবস।
এরই মধ্যে ডিএমপির অতিরিক্ত কমিশনার (ক্রাইম অ্যান্ড অপারেশনস) এস এন নজরুল ইসলামের কাছে দায়িত্ব হস্তান্তর করেছেন তিনি।
ডিএমপির অতিরিক্ত কমিশনার (ক্রাইম অ্যান্ড অপারেশনস) এস এন নজরুল ইসলাম ভারপ্রাপ্ত ডিএমপি কমিশনার সরওয়ারের অবসরে যাওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
এর আগে গত ২৬ ফেব্রুয়ারি পুলিশ হেডকোয়ার্টার্স থেকে এক প্রজ্ঞাপনে মো. সরওয়ারকে ডিএমপি কমিশনারের (ভারপ্রাপ্ত) দায়িত্ব দেয়া হয়েছিল।
হাওর এবং হাওর–নদীপারেই চিরহরিৎ, ঝাঁকড়া মাথায় ডালপালা মেলা এল চুলের হিজলগাছ বেশি দেখা পাওয়া যায়। হাওরের বিস্তীর্ণ বুকের নানা ভাঁজে হয়তো কোথাও নিঃসঙ্গ, একা—কোথাও দু–চারটার দলে পথিক ও হাওরবাসীর একটুকরো ছায়ার আশ্রয় হয়ে গাছটি দাঁড়িয়ে থাকে।
তবে মৌলভীবাজার শহর এবং শহরসংলগ্ন মনু নদের পাড়ে এখন বেশ কিছু হিজলের গাছে ফুল ফুটেছে। গ্রীষ্মের এই সময়ে গোলাপি ফুলে ভরে উঠেছে গাছগুলো। ভোরের বাতাসে ভাসছে হিজল ফুলের মৃদু ঘ্রাণ, আর ঝরা ফুলে রঙিন হয়ে উঠেছে পথঘাট।
শুক্রবার (১৫ মে) সকালে শহরের কোর্ট রোডে জেলা প্রশাসকের বাংলোর কাছে একটি হিজলগাছে দেখা যায় ঝুলন্ত লতায় ফুটে থাকা অসংখ্য ফুল। সবুজ পাতার ভেতর গোলাপি রঙের ফুলগুলো দূর থেকেই চোখে পড়ে। টুপটাপ করে ঝরে পড়া ফুলে ফুটপাতের টাইলস যেন নকশিকাঁথার মতো সাজানো। গাছের নিচে দাঁড়ালে টের পাওয়া যায় হালকা মিষ্টি ঘ্রাণ।
শহরের উত্তর পাশে বয়ে যাওয়া মনু নদের পাড়েও এবার অনেক হিজলগাছে ফুল ফুটেছে। চাঁদনীঘাট মনু সেতু এলাকা থেকে শান্তিবাগ পর্যন্ত নদের তীরে বিভিন্ন গাছে এখন ফুল দেখা যাচ্ছে। খুব সকালে না গেলে অবশ্য ফুলের পুরো সৌন্দর্য দেখা যায় না।
হিজলের ফুল খুব নীরবে ফোটে। কাছে না গেলে সহজে চোখে পড়ে না। আবার রাত পোহানোর সঙ্গে সঙ্গে অনেক ফুল ঝরেও যায়। ভোরের বাতাসে অনেকে গাছের পাশ দিয়ে হাঁটেন, দৌড়ান, থেমে দেখেন গোলাপি ফুলের সৌন্দর্য। খুব সকালে না গেলে গাছে বেশি ফুল দেখার সুযোগও মেলে না। আলো ফোটার আগেই ফুল ঝরতে শুরু করে। তখন ঘাসে, কচুর পাতায় কিংবা হিজলের পাতায় আটকে থাকে ঝরা গোলাপি ফুল। রোদ বাড়লে অনেক গাছেই আর ফুল দেখা যায় না। কোথাও ডালের ফাঁকে একটি–দুটি ফুল, কোথাও ঝুমকার মতো কিছু ফুলের লতা দুলতে থাকে। ফুল ঝরে গেলে লতাগুলোকে ফাঁকা লাগে। তবে নতুন গজানো হালকা সবুজ পাতাগুলোও কম মায়াবী নয়।
হিজল সাধারণত হাওর, জলাভূমি ও নদীপাড়ে জন্মে। বর্ষাকালে পানিতে ডুবে থাকলেও সহজে টিকে থাকতে পারে এ গাছ। পরিবেশগত দিক থেকেও হিজল গুরুত্বপূর্ণ। এর ফুল থেকে মৌমাছি প্রচুর মধু সংগ্রহ করে।
চিরহরিৎ এই গাছ ছায়াদানকারী হিসেবেও পরিচিত। কচি পাতার রং লালচে হলেও পরে তা গাঢ় সবুজ হয়ে ওঠে। হিজলের কাঠ নরম হলেও টেকসই। নৌকা, গরুর গাড়িসহ নানা সাধারণ কাজে এ কাঠ ব্যবহৃত হয়।
সিঁধ কেটে ঘরে ঢুকে সঞ্চয় করা অর্থ ও মূল্যবান জিনিসপত্র লুটে নেওয়ার পর বসতঘরে অগ্নিসংযোগ করে পালিয়ে যায় সংঘবদ্ধ চোর চক্র। মুহূর্তেই দাউদাউ করে জ্বলে ওঠে দোতলা কাঠের ঘরটি। আগুনের লেলিহান শিখায় রাতারাতি ছাই হয়ে যায় একটি পরিবারের আজীবনের সব স্বপ্ন, সম্পদ। গত বৃহস্পতিবার (১৪ মে) রাত আনুমানিক ২টার দিকে বরগুনা সদর উপজেলার গৌরীচন্না ইউনিয়নের আমতলী গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। আগুনে ভস্মীভূত হওয়া বাড়ির মালিক আব্দুল লতিফ রাঢ়ি পেশায় একজন এতিমখানার সেবক।
পরিবারের সদস্যরা জানান, রাত আনুমানিক ২ টার দিকে হঠাৎ আগুনের তাপ আর ধোঁয়ার গন্ধে ঘুম ভাঙে তাদের। এসময় তড়িঘড়ি করে পরিবারের সব সদস্য বাইরে বেরিয়ে আসতে পারলেও ঘরের ভেতরে থাকা আসবাবপত্র, ফ্রিজ, টিভি, কাপড়চোপড়, চাল-ডাল, কিছুই রক্ষা করা সম্ভব হয়নি। মুহূর্তের মধ্যে দোতলা কাঠের ঘরটি সম্পূর্ণ ভস্মীভূত হয়ে যায়।
এদিকে রাতে আগুন লাগার সঙ্গে সঙ্গে চুরির ঘটনাটি পরিবারের সদস্য ও স্থানীয়রা বুঝতে না পারলেও রাতের আঁধার কেটে গেলে দেখা যায় ঘরের সিঁধ কাটা।
স্থানীয় বাসিন্দা অপূর্ব মাঝি বলেন, আগুনে পরিবারটির সহায় সম্বল ও মাথাগোজার ঠাঁই সবকিছু ভস্মীভূত হয়েছে। সবার ধারণা, চোর চক্র চুরি করার পরে ঘরটিতে পরিকল্পিতভাবে আগুন ধরিয়ে দিয়েছে। এই ন্যক্কারজনক ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত হওয়া দরকার।
বাড়ির মালিক লতিফ রাঢ়ি বলেন, আমি দিন আনি দিন খাই। একটি এতিমখানায় বাচ্চাদের দেখাশোনার কাজ করে যা পাই তাই দিয়ে তিলে তিলে জমি, ঘর তৈরি করেছি। ঘরে যা ছিল, সবই শেষ। এখন পরিবার নিয়ে কোথায় থাকব, কী খাব কিছুই বুঝতে পারছি না।
আমতলী গ্রামের ইউপি সদস্য মানিক রায় বলেন, আমরা রাতে খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে গিয়েছিলাম। তবে তখন চুরির ঘটনাটি সামনে আসেনি। সকালে আমরা সিঁধকাটা দেখে ধারণা করছি, চোর চুরি করার পরে ঘরটিতে আগুন ধরিয়ে দিয়ে পালিয়ে যায়। অগ্নিকাণ্ডে লতিফ রাঢ়ি নিঃস্ব হয়ে গেছেন। ঘরের কিছুই রক্ষা করতে পারেননি।
বরগুনা সদর থানার ওসি মোহাম্মদ আব্দুল আলীম বলেন, এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত পরিবারের পক্ষে কেউ থানায় অভিযোগ দেয়নি। অভিযোগ দিলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
সাতক্ষীরার হিমসাগর আম বাজারে উঠতে শুরু করেছে। সরকারি আম সংগ্রহ ক্যালেন্ডার অনুযায়ী শুক্রবার (১৫ মে) জেলায় শুরু হয়েছে হিমসাগর আম সংগ্রহ ও বাজারজাতকরণ। প্রথম দিনেই জেলার সবচেয়ে বড় আমের মোকাম সুলতানপুর বড় বাজার ভরে গেছে হিমসাগর আমে।
সকাল আটটার দিকে সুলতানপুর বাজারে গিয়ে দেখা যায়, শত শত ইঞ্জিনচালিত ভ্যানে আমভর্তি ক্রেট নিয়ে দীর্ঘ সারি। বাজারের ভেতরে ঢোকারও যেন জায়গা নেই। পাইকারি ক্রেতাদের পাশাপাশি স্থানীয় ক্রেতাদের ভিড়ও ছিল চোখে পড়ার মতো। কেউ পরিবারের জন্য, কেউ দূরের আত্মীয়স্বজনের কাছে পাঠানোর জন্য মৌসুমের প্রথম হিমসাগর কিনতে ব্যস্ত।
সাতক্ষীরা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, চাষিদের সঙ্গে মতবিনিময় করে গত ২৬ এপ্রিল জেলা প্রশাসন ও কৃষি বিভাগ যৌথভাবে আম সংগ্রহের সময়সূচি নির্ধারণ করে। সেই ক্যালেন্ডার অনুযায়ী গত ৫ মে গোপালভোগ, গোবিন্দভোগ, বোম্বাই, গোলাপখাসসহ দেশি জাতের আম সংগ্রহ শুরু হয়। শুক্রবার (১৫ মে) শুরু হলো সবচেয়ে প্রতীক্ষিত হিমসাগর আম সংগ্রহ।
গাজীপুর থেকে আসা পাইকার লুৎফর রহমান বলেন, ‘সাতক্ষীরার হিমসাগর আমের আলাদা কদর আছে। রং, ঘ্রাণ আর স্বাদের জন্য ঢাকায় এই আমের চাহিদা অনেক বেশি। প্রথম দিনেই ভালো মানের আম পাওয়া যাচ্ছে, তাই বেশি করে কিনছি।’ তিনি জানান, আগে বাজারে আসা গোবিন্দভোগ, গোপালভোগ ও গোলাপখাস আম তুলনামূলক কম দামে বিক্রি হয়েছে। তবে হিমসাগরের চাহিদা সব সময়ই বেশি। এবার প্রথম দিনেই বাজারে প্রচুর আম উঠেছে। প্রতি মণ হিমসাগর বিক্রি হচ্ছে ২ হাজার ৪০০ থেকে ৩ হাজার টাকায়। কয়েক দিনের মধ্যে দাম আরও কিছুটা কমতে পারে বলেও ধারণা তার।
নাটোর থেকে আসা আরেক পাইকার আবদুর রহমান মিয়া বলেন, ‘এক যুগ ধরে সাতক্ষীরার আম কিনছি। বিশেষ করে হিমসাগরের জন্যই এখানে আসা। এখানকার আমের স্বাদ আলাদা।’
স্থানীয় ক্রেতা দিলীপ মণ্ডল বলেন, ‘বাজারে হিমসাগর উঠলেই বোঝা যায়, গ্রীষ্মকাল সত্যিই এসে গেছে। এই আমের স্বাদ আর ঘ্রাণ অন্য আমের মতো নয়।’ জেলার বাইরের আত্মীয়স্বজনের জন্য আম পাঠাতে তিনি বাজারে এসেছেন।
সাতক্ষীরা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সূত্রে জানা যায়, এ বছর জেলায় ৪ হাজার ১৪০ হেক্টর জমিতে ৫ হাজার ২৯৯টি বাগানে প্রায় ৪৫ হাজার ৭৫০ জন কৃষক আম চাষ করেছেন। চলতি মৌসুমে জেলায় প্রায় ৭০ হাজার ৯০০ মেট্রিক টন আম উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে। এর মধ্যে প্রায় ৩৮ শতাংশই হিমসাগর। বিদেশে রপ্তানি হওয়া আমের বড় অংশও এই জাতের। চলতি মৌসুমে ১০০ মেট্রিক টন আম রপ্তানির লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। সব মিলিয়ে প্রায় ৩৫০ কোটি টাকার আম বিক্রি হতে পারে।
অধিদপ্তরের উপপরিচালক সাইফুল ইসলাম বলেন, ‘আমের গুণগত মান ঠিক রাখতে এবং অপরিপক্ব আম বাজারে আসা ঠেকাতে ধাপে ধাপে আম সংগ্রহের সময় নির্ধারণ করা হয়েছে। আজ (গতকাল) হিমসাগর আম সংগ্রহ ও বাজারজাত শুরু হলো। ল্যাংড়া আম সংগ্রহ শুরু হবে আগামী ২৭ মে। আর ৫ জুন থেকে বাজারে আসবে আম্রপালি ও মল্লিকা।
হামে আক্রান্ত পাঁচ মাসের শিশু জয়া দাসের চিকিৎসার বিল পরিশোধ করতে না পারায় তাকে বাড়ি নিতে পারছিলেন না বাবা সুমন জলদাস। এ নিয়ে গত বৃহস্পতিবার (১৪ মে) সংবাদ প্রকাশের পর এগিয়ে আসেন চট্টগ্রামের জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম মিঞা। শুক্রবার (১৫ মে) হাসপাতালের সব বকেয়া বিল মওকুফ করে শিশুটিকে পরিবারের কাছে ফিরিয়ে দেওয়া হয়েছে।
চট্টগ্রামের কাঠগড় এলাকার বাসিন্দা সুমন জলদাস ২০ দিন ধরে অসুস্থ কন্যা জয়াকে নিয়ে এক হাসপাতাল থেকে আরেক হাসপাতালে ছুটেছেন। অবস্থার অবনতি হলে গত ৩০ এপ্রিল নগরের জিইসি এলাকার একটি বেসরকারি হাসপাতালে নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে (আইসিইউ) ভর্তি করা হয় তাকে। দীর্ঘ চিকিৎসার পর সুস্থ হলেও বকেয়া বিল পরিশোধ করতে না পারায় মেয়েকে বাড়ি নিতে পারছিলেন না সুমন।
এ ঘটনায় গত বৃহস্পতিবার (১৪ মে) ‘আমরা গরিব মানুষ, ৮০ হাজার দিয়েছি, তবু হাসপাতাল থেকে মেয়েকে ছাড়ছে না’ শিরোনামে সংবাদ প্রকাশিত হয়। ওই সংবাদের পর রাতেই সুমন জলদাসের সঙ্গে যোগাযোগ করেন চট্টগ্রামের জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম মিঞা। গতকাল বেলা ১১টার দিকে হাসপাতালে গিয়ে তিনি সব বকেয়া বিল মওকুফের ব্যবস্থা করেন এবং শিশুটিকে পরিবারের কাছে তুলে দেন।
জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম মিঞা বলেন, ‘সংবাদটি দেখার পর রাতেই সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের চেয়ারম্যানের সঙ্গে যোগাযোগ করি। আমি প্রিন্ট মিডিয়াকে ধন্যবাদ জানাই, বিশেষ করে প্রথম আলোকে, যারা সচেতনতা বৃদ্ধির জন্য প্রতিবেদন করেছে। এই প্রতিবেদন না হলে অনেক কিছু অজ্ঞাত থেকে যেত। সবচেয়ে বড় কথা, জয়া দাসকে যথাযথ চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে এবং সে সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরছে।’
বান্দরবান জেলার লামা উপজেলায় একটি ইটভাটায় মাটি চাপায় মো. সাইফুল ইসলাম নামের এক শ্রমিকের মৃত্যু হয়েছে। শুক্রবার (১৫ মে) সকালে উপজেলার ফাইতং ইউনিয়নের দুর্গম পাহাড়ি রাম্যাখোলা এলাকার এসবিএম ইট ভাটায় ঘটনাটি ঘটে। মৃত সাইফুল ইসলাম রাম্যাখোলা গ্রামের বাসিন্দা মাহাবুব আলমের ছেলে।
স্থানীয় সূত্র জানায়, সাইফুল ইসলাম এসবিএম ইটভাটায় শ্রমিকের কাজ করতেন। প্রতিদিনের মত শুক্রবার (১৫ মে) সকালে সাইফুল ইসলাম ইটভাটার কাজে পাহাড়ের মাটি কেটে গাড়ি বোঝাই করছিলেন।
এ সময় আচমকা উপর থেকে ধেয়ে আসা মাটি চাপা পড়েন সাইফুল ইসলাম। পরে সঙ্গীয় শ্রমিকরা দ্রুত উদ্ধার করে কাছাকাছি চকরিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে দায়িত্বরত চিকিৎসক সাইফুল ইসলামকে মৃত ঘোষণা করেন।
লামা থানা পুলিশের অফিসার ইনচার্জ মুহাম্মদ শাহজাহান কামাল ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, এ ঘটনার তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
ফরিদপুরে অন্তর্বর্তী সরকারের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের কথিত অবৈধ চুক্তি বাতিলের দাবিতে বিক্ষোভ মিছিল ও প্রতিবাদ সমাবেশ করেছে জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম। শুক্রবার (১৫ মে) জুম্মার নামাজের পর ফরিদপুর প্রেসক্লাবের সামনে সংগঠনটির নেতাকর্মীরা সমাবেশ করেন। এর আগে একটি বিক্ষোভ মিছিল বের হয়ে শহরের বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ করে ফরিদপুর প্রেসক্লাবের সামনে এসে শেষ হয়।
বক্তারা বলেন, দেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ববিরোধী কোনো সিদ্ধান্ত জনগণ মেনে নেবে না। এ সময় তারা মুসলিম বিশ্বকে ঐক্যবদ্ধ হওয়ারও আহ্বান জানান।
সমাবেশে জমিয়তে উলামায়ে ইসলামের জেলা সভাপতি মুফতি কামরুজ্জামান, সাধারণ সম্পাদক মাওলানা ইসমাইল হুসাইন, ইমাম কল্যাণ ফাউন্ডেশনের সভাপতি মাওলানা মুনসুর আহমেদ, ছাত্র জমিয়তের জেলা শাখার সভাপতি মোহাম্মদ মাজহারুল ইসলাম এবং যুব জমিয়তের অর্থ সম্পাদক এনায়েত তালুকদার সহস্থানীয় নেতৃবৃন্দ ও বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।
পরে দোয়া ও মোনাজাত হয়। দোয়া ও মোনাজাত পরিচালনা করেন জমিয়তে উলামায়ে ইসলামের জেলা সভাপতি মুফতি কামরুজ্জামান।