শহীদুল ইসলাম
সরকারি চাকরিজীবীদের যাবতীয় তথ্য-উপাত্ত একটি প্ল্যাটফর্মে আনার প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। এ জন্য গভর্নমেন্ট এমপ্লয়ি ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম (জিইএমএস) বাস্তবায়নে পরামর্শক নিয়োগ দেয়া হয়েছে। জিইএমএস বাস্তবায়নের একটি মডিউল হিসেবে সরকারি কর্মচারীদের মূল্যায়নের বার্ষিক গোপনীয় অনুবেদন বা এসিআর পদ্ধতির বদলে বার্ষিক কর্মকৃতি মূল্যায়ন প্রতিবেদন বা এপিএআর করতে যাচ্ছে সরকার।
প্রজাতন্ত্রের কর্মচারীদের মূল্যায়নে অনুশাসনমালা জারি করে এপিএআর বাস্তবায়নের কথা থাকলেও সিদ্ধান্ত বদলে এখন বিধিমালা করতে যাচ্ছে সরকার। এই বিধিমালা জারি হলে সরকারি কর্মচারির মূল্যায়ন পদ্ধতি খোল-নলচে পাল্টে যাবে। বর্তমানে ২৪টি পয়েন্টের ভিত্তিতে এসিআরে কর্মচারীদের ব্যক্তিগত গুণাগুণ মূল্যায়ন করা হলেও কাজের মূল্যায়ন হয় না। নতুন পদ্ধতিতে কাজের জন্য ৬০ নম্বর এবং ব্যক্তিগত গুণাবলি ৪০ নম্বরে মূল্যায়ন করা হবে। কোনো কর্মচারী এক বছরে যেসব কাজ করবেন, তার আলোকে নিজের নম্বর নিজেই দেবেন।
জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের ক্যারিয়ার প্ল্যানিং ও প্রশিক্ষণ অনুবিভাগের অতিরিক্ত সচিব মো. সহিদউল্যাহ গতকাল বৃহস্পতিবার দৈনিক বাংলাকে বলেন, ‘অনুশাসন জারি করে এপিএআর বাস্তবায়নের কথা ছিল। কিন্তু প্রশাসনিক উন্নয়নসংক্রান্ত সচিব কমিটির সিদ্ধান্তের আলোকে এখন বিধিমালা করা হবে। এ জন্য এপিএআরের খসড়া সংশ্লিষ্ট অনুবিভাগে পাঠানো হয়েছে।’
জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের বিধি অনুবিভাগের কর্মকর্তারা জানান, আন্তমন্ত্রণালয় সভা করে এপিএআরের খসড়া চূড়ান্ত করা হবে। অনুশাসনমালা না হয়ে বিধিমালা হওয়ায় এতে আইনি কিছু বিষয় নতুন করে যোগ করা হবে। এরপর প্রশাসনিক উন্নয়নসংক্রান্ত সচিব কমিটির অনুমোদনের পর আইন মন্ত্রণালয়ের মতামত নিয়ে বিধিমালা জারি করা হবে।
একজন কর্মকর্তা বলেন, ‘এপিএআর অনুশাসনমালার খসড়া নিয়ে প্রশাসনিক উন্নয়নসংক্রান্ত সচিব কমিটিতে বিস্তারিত আলোচনা হয়। আইন সচিব এটির আইনি ভিত্তি মজবুত করতে অনুশাসনমালা না করে বিধিমালা করার পরামর্শ দেন।’ তার পরামর্শে নতুন সিদ্ধান্তে আসে সচিব কমিটি।
নিজের মূল্যায়ন নিজেই
এপিএআর বিধিমালা জারি হলে বর্তমানের এসিআর পদ্ধতি পুরো বদলে যাবে। এসিআর পদ্ধতিতে ঊর্ধ্বতনরা অধীনস্ত কর্মচারীদের শুধুমাত্র পেশাগত গুণাবলির মূল্যায়ন করেন। তবে এই মূল্যায়নে কে কত নম্বর পান তা জানার কোনো সুযোগ নেই। এপিএআর চালু হলে কর্মচারীদের কাজের জন্য ৬০ নম্বর এবং বাকি ৪০ নম্বরে ব্যক্তিগত ও পেশাগত মূল্যায়ন করা হবে। অর্থবছরের সঙ্গে মিল রেখে এপিএআর করা হবে। এ জন্য কে কী কাজ করবেন তার কমপক্ষে ১২টি তালিকা অর্থবছরের শুরুর মাসেই দিতে হবে।
একটি কাজের জন্য সর্বোচ্চ ৮ এবং সর্বনিম্ন ২ নম্বর ধরা যাবে। কাজের পরিমাণ বেশি হলে সর্বোচ্চ ১০০ নম্বর পর্যন্ত ধরা যাবে। সে ক্ষেত্রে ১০০ নম্বরকে ৬০ নম্বরে রূপান্তর করা হবে। কোনো কর্মচারী তালিকা অনুযায়ী নির্ধারিত সময়ে সব কাজ শেষ করলে ৬০ নম্বরের পুরোটাই পাবেন। এপিএআরে কাজের মূল্যায়নে নিজের নম্বর নিজেই দেবেন। এরপর অনুস্বাক্ষরকারী তা অনুমোদন করলে, প্রতিস্বাক্ষরকারীর কাছে যাবে। কোনো কারণে অনুস্বাক্ষরকারী নম্বর কমিয়ে দিতে চাইলে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তার সঙ্গে আলোচনা করতে হবে। দুজনের আলোচনার পর নম্বর চূড়ান্ত করতে হবে। ৬০ নম্বরের কাজের দক্ষতা মূল্যায়নের পর বাকি ২০ নম্বর ব্যক্তিগত ও ২০ নম্বর পেশাগত মূল্যায়ন করবেন অনুস্বাক্ষরকারী।
একজন কর্মকর্তা বলেন, ‘আগে এসিআরে কোনো কর্মকর্তাকে ইচ্ছাকৃতভাবে নম্বর কম দেয়ার সুযোগ ছিল। কিন্তু এপিএআরে সেই সুযোগ অনেক কমে আসবে। কারণ কাজের মূল্যায়নের ওপর কর্মচারীরা কত নম্বর পেয়েছেন তা তারা জানতে পারবেন।’
কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা খুঁজে দেবে যোগ্য কর্মকর্তা
বর্তমানে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের নিয়োগ, পদোন্নতি ও প্রেষণ অনুবিভাগ কর্মকর্তাদের ইচ্ছামতো বদলি করে। বদলির আদেশ জারির পর তা বাতিল করতে অনেকে তদবির করেন। এ ছাড়া ভালো দপ্তরে বদলি হতে সরকারি চাকরিজীবীরা প্রভাবশালী রাজনৈতিক ব্যক্তি, সরকারের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাসহ সংশ্লিষ্ট দপ্তরে নানাভাবে যোগাযোগ করেন।
একজন কর্মকর্তা বলেন, ‘নতুন পদ্ধতিতে অনলাইনে সব কর্মকর্তা-কর্মচারীর আলাদা প্রোফাইল তৈরি করা হবে। সেখানে পেশাগত পরিচিতিমূলক সব তথ্যের বাইরে কর্মজীবনে এর আগে কী কী কাজ করেছেন সে সবেরও তালিকা থাকবে। বিশ্ববিদ্যালয়ে পঠিত বিষয়, বিদেশ ভ্রমণ; ছুটি, শিক্ষার জন্য প্রেষণ ও লিয়েনের তথ্য থাকবে। ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ ভালো কোনো মন্তব্য করলে সে সবের বাইরে গবেষণা, প্রশিক্ষণ, কোন কোন বিষয়ে বেশি পারদর্শী এবং স্বাস্থ্যগত তথ্যও প্রোফাইলে আপলোড করা থাকবে। এ ছাড়া সবার ডোপ টেস্টের ফলাফলও এপিএআর অধিশাখা প্রোফাইলে যুক্ত করে দেবে। এর বাইরে বিভাগীয় মামলা বা চাকরিতে নেতিবাচক হিসেবে দেখা হয়েছে এমন খতিয়ানও প্রোফাইলে যুক্ত থাকবে।’
অতিরিক্ত সচিব সহিদউল্যাহ বলেন, ‘কোন ধরনের কর্মকর্তা প্রয়োজন, তা জানালে অনলাইন থেকে তথ্য নিয়ে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা সেই ধরনের কর্মকর্তাদের তালিকা হাজির করে দেবে। সেখান থেকে সহজেই যোগ্য কর্মকর্তাকে তার যোগ্য জায়গায় পদায়ন বা বদলি করা যাবে। এ জন্য জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় একটি সফটওয়্যার তৈরির কাজ করছে।’
ব্যক্তিগত প্রোফাইলে সবার এনআইডিকে লিঙ্ক করা হবে জানিয়ে একজন কর্মকর্তা বলেন, ‘এর ফলে সরকারি অন্য কোনো সংস্থাও যদি ওই কর্মকর্তার সম্পর্কে তথ্য নিতে চায়, তা সহজেই পেয়ে যাবে। গভর্নমেন্ট এমপ্লয়ি ম্যানেজমেন্ট সিস্টেমও সরকারি অন্য সংস্থাগুলোর কাছ থেকে কারও এনআইডি নম্বর ব্যবহার করে সহজেই তথ্য পাবে।’
লাগবে না গোয়েন্দা প্রতিবেদন
এখন কর্মকর্তাদের পদোন্নতির আগে গোয়েন্দা সংস্থাগুলোকে দিয়ে একেক জনের বিস্তারিত খোঁজখবর নেয়া হয়। গোয়েন্দারা কারও বিরুদ্ধে নেতিবাচক কোনো প্রতিবেদন দিলে অনেক সময় তাদের পদোন্নতি আটকে যায়।
কর্মকর্তারা বলছেন, ‘এপিএআর বাস্তবায়ন হলে কোনো কর্মকর্তা সম্পর্কে তথ্য নিতে আর আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সহযোগিতা নিতে হবে না। তার প্রোফাইলে গেলেই সব জানা যাবে।’ একজন কর্মকর্তা বলেন, এপিএআর বাস্তবায়ন হলে আর গোয়েন্দা প্রতিবেদন সংগ্রহের দরকার হবে না। তবে সরকার প্রজ্ঞাপন জারি করে এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত দেবে।
তিনি বলেন, ‘গভর্মেন্ট এমপ্লয়ি ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম বাস্তবায়ন হলে সব মন্ত্রণালয় ও বিভাগের ওয়েবসাইট আরও হালনাগাদ করতে হবে। কোনো মন্ত্রণালয়ের অধীন শীর্ষ কর্মকর্তা থেকে শুরু করে একেবারে মাঠপর্যায়ের কর্মচারীদের তথ্যও সেখানে থাকবে।’
একজন কর্মকর্তা বলেন, এপিএআর বিধিমালা জারির পর জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় এপিএআর-বিষয়ক একটি লার্নিং কোর্স তৈরি করবে। এই কোর্সে উত্তীর্ণ না হলে কেউ এপিএআর দাখিল করতে পারবেন না।
এসিআরকে অনুসরণ করে আপাতত নবম থেকে দ্বিতীয় গ্রেডের কর্মচারীদের পাঁচটি গ্রেডে মূল্যায়ন করা হবে। ধাপে ধাপে সব কর্মচারীকে এপিএআরের আওতায় আনা হবে। ‘এ প্লাস’ ও ‘এ’ গ্রেডপ্রাপ্তদের প্রণোদনা হিসেবে বিদেশ সফর ও বিদেশে প্রশিক্ষণে পাঠানোর ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার দেয়া হবে। ‘এ প্লাস’ গ্রেডধারীদের মন্ত্রী-সচিবের যৌথ স্বাক্ষরে প্রশংসাপত্র, সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় বা বিভাগের ওয়েবসাইটে ছবি প্রকাশ এবং অভিজ্ঞতা নিয়ে মতবিনিময়ের জন্য সরকারি কর্মচারীদের প্রশিক্ষণ প্রদানকারী বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে পাঠানো হবে। আর ‘এ’ গ্রেডধারীদের প্রশংসাপত্র দেয়ার পাশাপাশি তাদের ছবি ওয়েবসাইটে প্রকাশ করা হবে। আর যারা খারাপ গ্রেড পাবেন দক্ষতা উন্নয়নের জন্য বাধ্যতামূলকভাবে তাদের প্রশিক্ষণ নেয়া, বই বা জার্নাল পড়া এবং অন্য কর্মচারীর অধীনে থেকে কাজ করতে হবে।
পরিবেশ রক্ষা ও জ্ঞানভিত্তিক সমাজ গড়তে কিশোরগঞ্জ জেলা পুলিশের এক অভিনব উদ্যোগ সর্বত্র ব্যপক সাড়া জাগিয়েছে। কিশোরগঞ্জের হাওর উপজেলা অষ্টগ্রামে পুলিশ সুপারের উদ্যোগে এবং অষ্টগ্রাম থানার পক্ষ থেকে ‘বৃক্ষ ও বই’ শীর্ষক এক ব্যতিক্রমী কর্মসূচিতে অংশগ্রহণকারী ছাত্র-ছাত্রীদের মাঝে পুরষ্কার হিসেবে বই বিতরণ করা হয়েছে।
সোমবার (০৮ জুন) দপুরে উপজেলার আব্দুল ওয়াদুদ উচ্চ বিদ্যালয়ের ১০ জন শিক্ষার্থীর মধ্যে এই কর্মসূচির আওতায় এ বই বিতরণ করা হয়।
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, এই কর্মসূচির মূল আকর্ষণ ছিল শিক্ষার্থীদের মাঝে পরিবেশ বিষয়ক সচেতনতা বৃদ্ধি। যে সকল ছাত্র-ছাত্রী নিজ উদ্যোগে অন্তত ৫টি করে গাছ রোপণ ও সেগুলোর পরিচর্যা করেছে, তাদের সেই পরিবেশবান্ধব কাজের উপহারস্বরূপ ২টি করে বই উপহার দেওয়া হয়।
শিক্ষার্থীদের হাতে তুলে দেওয়া বইগুলো ছিল পুলিশ সুপার, কিশোরগঞ্জ এর নিজের রচিত। তাঁর এই অনন্য উপহার পেয়ে শিক্ষার্থীরা অত্যন্ত আনন্দিত। পুলিশের এমন ব্যতিক্রমী ও মানবিক উদ্যোগ স্থানীয় ছাত্র-ছাত্রী এবং অভিভাবকদের মাঝে ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি করেছে।
শিক্ষার্থীরা জানান, গাছ লাগানোর মতো একটি ভালো কাজের জন্য সরাসরি পুলিশ সুপারের লেখা বই উপহার পাওয়া তাদের জন্য অত্যন্ত গৌরব ও অনুপ্রেরণার।
অভিভাবকরা বলেন, এই উদ্যোগ একদিকে যেমন নতুন প্রজন্মকে বৃক্ষরোপণে উদ্বুদ্ধ করে পরিবেশ রক্ষা করবে, অন্যদিকে বই পড়ার মাধ্যমে তাদের মেধার বিকাশ ঘটাবে। তারা বলেন, পুলিশের এই মানবিক ও সামাজিক কার্যক্রম সত্যিই প্রশংসনীয়।
এসময় থানা ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. রুকনুজ্জামান, অষ্টগ্রাম থানা পুলিশের কর্মকর্তাবৃন্দ, আব্দুল ওয়াদুদ উচ্চ বিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষিকা এবং স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ উপস্থিত ছিলেন। উপস্থিত সকলেই পুলিশ সুপারের এই ‘বৃক্ষ ও বই’ মডেলটি জেলার সর্বত্র ছড়িয়ে দেওয়ার আহ্বান জানান।
কুমিল্লা-টু-কোম্পানীগঞ্জ রুটে চলাচলকারী রয়েল ক্লাসিক পরিবহনের একটি যাত্রীবাহী বাসে সংঘবদ্ধ ডাকাতির ঘটনা ঘটেছে। গতকাল সন্ধ্যার পূর্বে কুমিল্লার বুড়িচং উপজেলার কংসনগর বাজার সংলগ্ন সড়কে এ ঘটনা ঘটে। ডাকাতদের হামলায় কয়েকজন যাত্রী আহত হন এবং নগদ টাকা, মানিব্যাগ ও গুরুত্বপূর্ণ কাগজপত্র লুটের অভিযোগ উঠেছে।
প্রত্যক্ষদর্শী ও ভুক্তভোগীদের অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, বিকেলে আশু ফকিরের বাড়ি সংলগ্ন এলাকায় কালো রঙের একটি হাইএস (Hiace) মাইক্রোবাস বিপরীত দিক থেকে এসে রয়েল ক্লাসিক পরিবহনের বাসটির গতিরোধ করে। এ সময় বাসের চালক সুজন ও হেলপার সাওন গাড়ি সরিয়ে নেওয়ার অনুরোধ করলে তাদের ওপর হামলা চালানো হয়। যাত্রীরা চালককে রক্ষা করতে এগিয়ে এলে হামলাকারীরা তাদের ভয়ভীতি দেখিয়ে বলে, “কংসনগর বাজারে আয়।”
পরে সন্ধ্যার আগ মুহূর্তে বাসটি কংসনগর বাজারে পৌঁছালে হাইএস মাইক্রোবাসে থাকা ১০ থেকে ১২ জনের একটি সংঘবদ্ধ দল লাঠিসোঁটা ও দেশীয় অস্ত্র নিয়ে জোরপূর্বক বাসে উঠে যাত্রীদের ওপর হামলা চালায়। হামলাকারীরা যাত্রীদের মারধর করে এবং তাদের কাছ থেকে নগদ অর্থ ও মূল্যবান মালামাল ছিনিয়ে নেয়।
ভুক্তভোগীদের দাবি, ডাকাতরা মোট ৫১ হাজার ৩০০ টাকা লুট করে নিয়ে যায়। এর মধ্যে একজন সংবাদকর্মীর কাছ থেকে ৫০ হাজার টাকা এবং জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী আফসারের কাছ থেকে ১ হাজার ৩০০ টাকা, মানিব্যাগ ও গুরুত্বপূর্ণ কাগজপত্র ছিনিয়ে নেওয়া হয়। বাধা দিতে গেলে তাকে মারধর করা হয় এবং তার পরনের জামাকাপড় টানাহেঁচড়া করা হয়। ঘটনার পর ডাকাতরা দ্রুত স্থান ত্যাগ করে।
এ ঘটনায় ভুক্তভোগীদের একজন বাদী হয়ে বুড়িচং থানায় মামলা দায়ের করেছেন বলে জানা গেছে।
ঘটনার বিষয়ে বুড়িচং থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) বলেন, “ঘটনার সময় আমরা হাইওয়ে ডিউটির কাজে দেবপুর ফাঁড়িতে ছিলাম। অভিযোগ বা মামলা পেলে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।”
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ডাকাত দলের নেতৃত্বে ছিলেন বলে অভিযোগ উঠেছে বুড়িচং উপজেলার উত্তর ভারেল্লা ইউনিয়নের পশ্চিম সিং গ্রামের আব্দুল মতিনের ছেলে সাকিল মিয়ার বিরুদ্ধে। এলাকাবাসীর অভিযোগ, তার নেতৃত্বে পরিচালিত একটি মাদক ব্যবসায়ী চক্র এ ঘটনার সঙ্গে জড়িত থাকতে পারে। তবে এ বিষয়ে পুলিশের পক্ষ থেকে এখনো আনুষ্ঠানিক কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
বিষয়টি সম্পর্কে জানতে চাইলে বুড়িচং উপজেলা বিএনপির সভাপতি মিজানুর রহমান বলেন, “ঘটনাটি আমার জানা নেই। খোঁজ নিয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।”
এলাকার সংসদ সদস্য জসিম উদ্দিন বলেন, “ভুক্তভোগীরা মামলা করেছেন। তদন্তের মাধ্যমে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
ডাকাতির ঘটনায় যাত্রীদের মধ্যে আতঙ্ক বিরাজ করছে। আহত যাত্রীরা রয়েল ক্লাসিক পরিবহনের শাসনগাছা কাউন্টারে বিষয়টি বিস্তারিতভাবে জানালেও সংবাদ লেখা পর্যন্ত কোম্পানির পক্ষ থেকে কোনো দৃশ্যমান পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি। এ বিষয়ে রয়েল ক্লাসিক পরিবহনের ব্যবস্থাপনা পরিচালক জহির উদ্দিনের সঙ্গে একাধিকবার মোবাইল ফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তার বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
ভুক্তভোগী যাত্রীদের দাবি, ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের দ্রুত শনাক্ত করে গ্রেপ্তার এবং দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির ব্যবস্থা করা হোক। একই সঙ্গে যাত্রীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রশাসন ও বাস মালিক সমিতির কার্যকর উদ্যোগ গ্রহণের আহ্বান জানান তারা।
পর্যটন নগরী কক্সবাজারে উচ্চক্ষমতাসম্পন্ন নতুন একটি পাওয়ার ট্রান্সফরমার আনুষ্ঠানিকভাবে চালু হওয়ার পর বিদ্যুৎ পরিস্থিতির উল্লেখযোগ্য উন্নতি হয়েছে। গত ২৮ মে ঈদুল আজহার দিন শহরের প্রধান একটি উপকেন্দ্রের ট্রান্সফরমার বিকল হয়ে যাওয়ায় টানা আট দিন পুরো শহরজুড়ে তীব্র লোডশেডিং চলছিল। বর্তমানে নতুন ট্রান্সফরমারটি সচল হওয়ায় দীর্ঘদিনের বিদ্যুৎ বিভ্রাট অনেকটা কমে এসেছে। এতে পর্যটন সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ী, সাধারণ গ্রাহক এবং ছুটিতে আসা দর্শনার্থীদের মধ্যে স্বস্তি ফিরতে শুরু করেছে।
বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড (পিডিবি) সূত্রে জানা গেছে, কলাতলী বাইপাস সড়কের উপকেন্দ্রে ১০/১৩ এমভিএ ক্ষমতার একটি ট্রান্সফরমার নষ্ট হওয়ার পর শহরের বিভিন্ন এলাকায় প্রতিদিন ৮ থেকে ১০ ঘণ্টা পর্যন্ত বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ রাখতে হচ্ছিল। উদ্ভূত পরিস্থিতি সামাল দিতে ওই একই উপকেন্দ্রে ১৬/২০ এমভিএ ক্ষমতার অধিক শক্তিশালী একটি নতুন ট্রান্সফরমার স্থাপন করা হয়েছে। সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, নতুন এই ইউনিটটি পুরোদমে চালু হওয়ায় শহরের বিদ্যুৎ ঘাটতি এখন প্রায় শূন্যের কোঠায় নেমে এসেছে এবং বিতরণ ব্যবস্থা আগের চেয়ে অনেক বেশি স্থিতিশীল হয়েছে।
ঈদের দীর্ঘ ছুটিতে এমন ভয়াবহ বিদ্যুৎ সংকটের কারণে কক্সবাজারের পর্যটন খাতে বড় ধরনের নেতিবাচক প্রভাব পড়েছিল। তীব্র গরমের মধ্যে এসি ও লিফট বন্ধ থাকায় হোটেলে অবস্থানরত পর্যটকেরা চরম ভোগান্তির শিকার হন। হোটেল-রিসোর্ট মালিকদের দাবি অনুযায়ী, নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ না থাকায় এবং সেবার মান বিঘ্নিত হওয়ায় অন্তত ৩০ হাজার পর্যটক নির্ধারিত সময়ের আগেই কক্সবাজার ছেড়ে চলে গিয়েছিলেন। তবে নতুন ব্যবস্থা চালু হওয়ার পর বর্তমানে লোডশেডিং প্রায় ৭০ শতাংশ হ্রাস পেয়েছে এবং তা এখন দিনে এক থেকে তিন ঘণ্টার মধ্যে সীমাবদ্ধ রয়েছে।
এই বিশেষ ট্রান্সফরমারটি স্থাপনের প্রক্রিয়াটি ছিল বেশ সময়সাপেক্ষ ও চ্যালেঞ্জিং। পর্যটন শহরের গুরুত্ব বিবেচনা করে গত ২৯ মে গাজীপুরের টঙ্গী থেকে ৪০ মেট্রিক টন ওজনের এই বিশালাকার ট্রান্সফরমারটি আনা হয়। এটি উপকেন্দ্রে নিতে সড়ক বিভাগের সহায়তায় ডিভাইডারের অংশ অপসারণ করতে হয়েছিল। এরপর প্রকৌশলী ও কারিগরি দলের কয়েক দিনের নিরলস পরিশ্রমে ওয়েল সেন্ট্রিফিউজিং, কমিশনিং ও সুরক্ষা পরীক্ষা শেষে গত শুক্রবার বিকেলে এটি চালু করা হয়। ওই সময় প্রচণ্ড তাপদাহ ও পর্যটকের আধিক্যের কারণে বিদ্যুতের চাহিদা ৪৫ মেগাওয়াট থেকে বেড়ে ৫০ মেগাওয়াটে পৌঁছেছিল, যা সামাল দিতে হিমশিম খেতে হয়েছে কর্তৃপক্ষকে।
কক্সবাজার বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী আবদুল কাদের গণী জানিয়েছেন, বর্তমানে শহরে বিদ্যুতের কোনো সুনির্দিষ্ট ঘাটতি নেই। তবে জেলা শহরে মাত্র একটি গ্রিড উপকেন্দ্র থাকায় সঞ্চালন লাইনে কোনো কারিগরি ত্রুটি দেখা দিলে নিরাপত্তার স্বার্থে সাময়িকভাবে বিদ্যুৎ বন্ধ রাখতে হয়। পর্যটকদের সুবিধার্থে এবং নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ প্রবাহ নিশ্চিত করতে বর্তমানে সর্বোচ্চ সতর্কতা অবলম্বন করা হচ্ছে। বিদ্যুৎ বিভাগ আশা করছে, নতুন এই ট্রান্সফরমার স্থাপনের ফলে নিকট ভবিষ্যতে শহরে বড় ধরনের কোনো লোডশেডিং হওয়ার সম্ভাবনা নেই।
দামুড়হুদা সীমান্ত এলাকায় বিশেষ অভিযান চালিয়ে ৯ লাখ ২ হাজার ৬৫০ টাকা মূল্যের বিপুল পরিমাণ মাদকদ্রব্য ও চোরাচালানী মালামাল জব্দ করেছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)। গত ৬ ও ৭ জুন চুয়াডাঙ্গা ব্যাটালিয়নের (৬ বিজিবি) অধীনস্থ দামুড়হুদার বড়বলদিয়া, সুলতানপুর ও বারাদী বিওপির টহল দল সীমান্তবর্তী বিভিন্ন এলাকায় অভিযান পরিচালনা করে এসব মালামাল আটক করে।
রবিবার (৭ জুন) দুপুরে বিজিবির পাঠানো এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, আটককৃত অবৈধ মালামালের মধ্যে রয়েছে ৯ দশমিক ৯ কেজি ভারতীয় গাঁজা, ১৯ বোতল ভারতীয় মদ, ৪০৫ পিস ভারতীয় সিলডেনাফিল ট্যাবলেট, ১ হাজার ৮০০ পিস ভারতীয় ডেক্সামেথাসন ট্যাবলেট, ১৪ পিস ভারতীয় শাড়ি এবং ১টি ব্যাটারিচালিত ইজিবাইক।
চুয়াডাঙ্গা-৬ বিজিবির অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল নাজমুল হাসান জানান, দেশের সীমান্ত নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ এবং মাদক ও চোরাচালান প্রতিরোধে বিজিবি সর্বদা সতর্ক ও তৎপর রয়েছে। সীমান্ত এলাকায় সকল ধরনের অবৈধ কার্যক্রম দমনে গোয়েন্দা নজরদারি, নিয়মিত টহল এবং বিশেষ অভিযান ভবিষ্যতেও আরও জোরদারভাবে অব্যাহত থাকবে।
তিনি আরও জানান, বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) সীমান্ত এলাকায় মাদক, চোরাচালান এবং অন্যান্য অবৈধ কর্মকাণ্ড প্রতিরোধে সর্বোচ্চ পেশাদারিত্ব, দায়িত্বশীলতা ও আন্তরিকতার সঙ্গে নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে।
কেএমপি উত্তর ও দক্ষিণ এবং গোয়েন্দা বিভাগ(ডিবি) পরিচালিত বিশেষ যৌথ অভিযানে সন্ত্রাসী পলাশ গ্রুপের সদস্য চিৎড়ি বাবুর সহযোগি কাজী রাফসান মাহমুদ পার্থসহ বিভিন্ন অপরাধে ৩৯ জন গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
কাজী রাফসান মাহমুদ চিহ্নিত সন্ত্রাসী, চাঁদাবাজী, হত্যা মামলাসহ একাধিক মামলার আসামি।
আজ রোববার বেলা সাড়ে ১১টায় খুলনা মেট্রোপলিটন পুলিশের এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
এতে বলা হয়েছে- খুলনা মহানগর এলাকায় অপরাধ নিয়ন্ত্রণ, আইন-শৃঙ্খলা রক্ষা এবং জননিরাপত্তা নিশ্চিতকরণে খুলনা মেট্রোপলিটন পুলিশ কমিশনারের সার্বিক নির্দেশনায় মহানগরীর বিভিন্ন থানা ও গোয়েন্দা বিভাগ কর্তৃক বিশেষ অভিযান পরিচালিত হচ্ছে।
এরই ধারাবাহিকতায় ৬ জুন সন্ধ্যা ৬ টা হতে আজ রোববার (৭ জুন) সকাল ১০টা পর্যন্ত পরিচালিত বিশেষ অভিযানে বিভিন্ন অপরাধে মোট ৩৯ জন কে গ্রেপ্তার করা হয়।
গ্রেপ্তারকৃতদের মধ্যে খুলনা থানা ৯ জন, সোনাডাঙ্গা মডেল থানা ৫ জন, লবণচরা থানা ১ জন, হরিণটানা থানা ৬ জন, খালিশপুর থানা ৪ জন, দৌলতপুর থানা ২ জন, আড়ংঘাটা থানা ৭ জন এবং খানজাহান আলী থানা ৫ জন রয়েছেন।
উল্লেখ্য, অভিযানে সন্ত্রাসী পলাশ গ্রুপের চিৎড়ি বাবুর সহযোগি এবং খুলনা সদর থানা এলাকার চিহ্নিত সন্ত্রাসী, চাঁদাবাজী, হত্যা মামলা সহ একাধিক মামলার আসামি কাজী রাফসান মাহমুদ পার্থ(৩০), ১০ জন মাদক কারবারি এবং ১ জন চোরকে গ্রেফতার করতে সক্ষম হয় কেএমপি।
গ্রেফতাকৃত আসামিদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।
খুলনা মেট্রোপলিটন পুলিশ কর্তৃক মহানগরবাসীর নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণে সন্ত্রাস,চাঁদাবাজি, মাদক, ছিনতাইসহ সকল প্রকার অপরাধ দমন এবং শান্তিপূর্ণ আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি বজায় রাখতে এ ধরনের বিশেষ অভিযান অব্যাহত থাকবে বলে জানানো হয়।
বিশ্বকাপ ফুটবলের মহাযুদ্ধ শুরু হতে আর মাত্র কয়েকটা দিন বাকি। মাঠের লড়াই শুরুর আগেই গ্যালারির পারদ চড়তে শুরু করেছে বাংলাদেশে। আর এই ফুটবল উন্মাদনার মধ্যেই মৌলভীবাজারের রাজনগরে ঘটে গেল এক নজিরবিহীন ও চটকদার ঘটনা! চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী ব্রাজিলের 'আঁঁতুড়ঘর' ছেড়ে চিরশত্রু আর্জেন্টিনার শিবিরে যোগ দিয়েছেন ইমরান খান নামের এক যুবক। আর এই ঐতিহাসিক দলবদলকে স্মরণীয় করে রাখতে তাকে দুধ দিয়ে গোসল করিয়ে বরণ করে নিয়েছে আলবিসেলেস্তেরা!
শনিবার (৬ জুন) রাজনগর উপজেলায় ‘আর্জেন্টিনা ফ্যানস গ্রুপ অব মৌলভীবাজার’ আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে এই ব্যতিক্রমী দৃশ্যের অবতারণা হয়।
ছোটবেলা থেকেই হলুদ জার্সি আর সাম্বার জাদুতে মজেছিলেন ইমরান খান। কিন্তু সাম্প্রতিক বছরগুলোতে সেলেসাওদের একের পর এক ভরাডুবি আর নিতে পারছিলেন না তিনি। দল পরিবর্তনের পর আবেগাপ্লুত ইমরান জানান, "কোপা আমেরিকা থেকে বিশ্বকাপ কোথাও ব্রাজিল কাঙ্ক্ষিত সাফল্য পাচ্ছে না। প্রতিটি বড় টুর্নামেন্টে বুকভরা আশা নিয়ে বসি, আর দিনশেষে হতাশ হয়ে ফিরি। আর কত সহ্য করব? তাই এবার সব হতাশা ঝেড়ে ফেলে চ্যাম্পিয়নদের শিবিরে নাম লেখালাম।"
শনিবার সকাল থেকেই রাজনগরে ছিল উৎসবমুখর পরিবেশ। কেক কেটে আর্জেন্টিনা দলের শুভকামনা জানানোর পাশাপাশি চলে ইমরানকে বরণের প্রস্তুতি। শত শত সমর্থকের উপস্থিতিতে ড্রাম আর বাদ্যযন্ত্রের তালে ইমরানকে দুধ ঢেলে গোসল করানো হয়। আর্জেন্টিনার সমর্থকদের দাবি, "ব্রাজিল সমর্থন করার যে দুঃখ বা কষ্ট ছিল, দুধ দিয়ে গোসল করিয়ে তা ধুয়ে-মুছে তাকে খাঁটি আর্জেন্টাইন বানানো হলো।"
ব্যতিক্রমী এই আয়োজনে রাজনগরের ফুটবলপ্রেমীদের সাথে শামিল হয়েছিলেন স্থানীয় প্রশাসনের শীর্ষ ব্যক্তিরাও। অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন,
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) বিপুল শিকদার,
রাজনগর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. ফরিদ উদ্দিন আহমদ ভূঁইয়া, ইউপি চেয়ারম্যান জুবায়ের আহমদ চৌধুরী, স্থানীয় বিএনপি নেতা আব্দুল কাইয়ুম বকুল। আলোচনা সভা শেষে এক বর্ণাঢ্য র্যালি উপজেলার বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ করে। নাচ-গান, ভুভুজেলা আর রঙ-বেরঙের পতাকায় পুরো রাজনগর যেন রূপ নেয় এক টুকরো বুয়েনস আইরেসে।
‘আর্জেন্টিনা ফ্যানস গ্রুপ অব মৌলভীবাজার’-এর অ্যাডমিন ফুয়াদ আহমদ মুরাদ বলেন, "বিশ্বকাপের আগে আমাদের উন্মাদনা তো ছিলই, তবে একজন ব্রাজিল সমর্থকের আমাদের শিবিরে চলে আসা এবং তাকে দুধ দিয়ে গোসল করিয়ে বরণ করে নেওয়ার ঘটনাটি পুরো আয়োজনকে ভিন্ন মাত্রা দিয়েছে।"
আগামী ১১ জুন থেকে শুরু হচ্ছে ফুটবল বিশ্বকাপের মহারণ। কার হাতে উঠবে সোনালি ট্রফি, তা জানা যাবে ১৯ জুলাইয়ের ফাইনালে। তবে মাঠের খেলা শুরুর আগেই রাজনগরের এই দুধ-গোসলের গল্প যে এবারের বিশ্বকাপের অন্যতম সেরা 'টক অব দ্য কান্ট্রি' হতে যাচ্ছে, তা বলাই বাহুল্য!
চট্টগ্রামের সাতকানিয়া উপজেলার পুরানগড় ইউনিয়নের বৈতরণী ফরেস্ট অফিসসংলগ্ন এলাকায় একটি ব্রীজ কয়েক বছর ধরে হেলে পড়ে থাকলেও নতুন সেতু নির্মাণের উদ্যোগ দৃশ্যমান হয়নি। ফলে প্রতিদিন ঝুঁকি নিয়ে ব্রীজটি পারাপার করছেন কয়েক হাজার মানুষ ও যানবাহন। স্থানীয়দের আশঙ্কা, যেকোনো সময় বড় ধরনের দুর্ঘটনা ঘটতে পারে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, কয়েক বছর আগে প্রবল বর্ষণে ছড়া থেকে নেমে আসা পানির তীব্র স্রোতে পাশাপাশি থাকা দুটি ব্রীজ সাঙ্গু নদীর দিকে হেলে পড়ে। এরপর স্থানীয় লোকজন নিজ উদ্যোগে ব্রীজের উপর পশ্চিম পাশে ঢালায় করে অস্থায়ীভাবে ছোট যানবাহন চলাচলের উপযোগী করলেও ব্রীজটি এখনো ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় রয়েছে।
সরেজমিনে দেখা যায়, বাজালিয়া–পুরানগড়–শীলঘাটা সড়কের গুরুত্বপূর্ণ এই ব্রীজ দিয়ে প্রতিদিন অন্তত দুই শতাধিক যানবাহন চলাচল করে। পাশাপাশি সহস্রাধিক মানুষ ও শিক্ষার্থী এই সড়ক ব্যবহার করে। তবে ব্রীজটি হেলে পড়ায় দীর্ঘদিন ধরে ছোট আকারের ট্রাক চলাচল বন্ধ রয়েছে। এতে কৃষকদের উৎপাদিত সবজি বাজারজাত করতে অতিরিক্ত পরিবহন ব্যয় গুনতে হচ্ছে।
স্থানীয় কৃষক মুহাম্মদ জাহেদুল ইসলাম বলেন, “এলাকার কৃষকেরা সারা বছর বিভিন্ন ধরনের সবজি উৎপাদন করেন। আগে ট্রাকে করে সহজেই এসব পণ্য বাজারে পাঠানো যেত। কিন্তু ব্রীজ হেলে পড়ার কারণে ট্রাক চলাচল বন্ধ হয়ে গেছে। এখন ছোট যানবাহনে পণ্য পরিবহন করতে হচ্ছে, এতে খরচ বেড়েছে। দ্রুত নতুন ব্রীজ নির্মাণ না হলে কৃষকেরা আরও ক্ষতির মুখে পড়বেন।”
সিএনজিচালিত অটোরিকশার চালক মুহাম্মদ ফিরোজ আলম বলেন, “প্রতিদিন এই সড়ক দিয়ে ধোপাছড়ি ও শীলঘাটার দিকে বেকারির পণ্য পরিবহন করি। হেলে পড়া ব্রীজ পার হওয়ার সময় আতঙ্কে থাকতে হয়। মনে হয়, বুঝি ব্রীজসহ গাড়িটি সাঙ্গু নদীতে পড়ে যাবে। জীবনের ঝুঁকি নিয়েই চলাচল করতে হচ্ছে।”
আরেক অটোরিকশাচালক আবদুল জলিল বলেন, “নিয়মিত এই সড়কে গাড়ি চালাই। ব্রীজের ওপর উঠলেই বুক কেঁপে ওঠে। দুর্ঘটনার আশঙ্কায় অনেক সময় যাত্রীদের নামিয়ে দিয়ে ব্রীজ পার হতে হয়। এটি আমাদের জন্য চরম দুর্ভোগ। দ্রুত নতুন ব্রীজ নির্মাণ করে চরম ভোগান্তি থেকে স্থানীয়দের মুক্তি দেওয়ার জন্য সরকারের কাছে দাবি জানাচ্ছি।”
স্থানীয়দের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করেও কার্যকর কোনো উদ্যোগ দেখা যায়নি। ফলে বাসিন্দাদের মধ্যে ক্ষোভ বাড়ছে। তারা হেলে পড়া ব্রীজটি অপসারণ করে দ্রুত নতুন সেতু নির্মাণের দাবি জানিয়েছেন।
এ বিষয়ে সাতকানিয়া উপজেলা প্রকৌশলী সবুজ কুমার দে বলেন, “গত বছর নির্বাহী প্রকৌশলী স্যারসহ ব্রীজটি পরিদর্শন করেছি এবং স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলেছি। সেখানে নতুন একটি সেতু নির্মাণের জন্য বিশ্বব্যাংকসহ দুটি প্রকল্পে বরাদ্দ চেয়ে প্রস্তাব পাঠানো হয়েছে। বরাদ্দ পাওয়া গেলে দ্রুত কাজ শুরু করা হবে।”
সিরাজগঞ্জের তাড়াশ উপজেলায় মাদকবিরোধী এক বিশেষ অভিযান চালিয়ে ২২০ গ্রাম গাঁজাসহ ৫ জন মাদক ব্যবসায়ীকে আটক করেছে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর (ডিএনসি)। গতকাল (৬ জুন) উপজেলার নওগাঁ ইউনিয়ন এলাকায় এই অভিযান পরিচালনা করা হয়।
মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর, জেলা কার্যালয় সিরাজগঞ্জের সহকারী পরিচালক মো: নজরুল ইসলাম-এর সার্বিক তত্ত্বাবধানে এই বিশেষ অভিযানটি পরিচালিত হয়।
আটককৃত ব্যক্তিরা হলেন, নওগাঁ গ্রামের সেরাজ প্রামাণিকের ছেলে শরিফুল ইসলাম খবির (৩৭), মৃত আবেদ আলীর ছেলে মামুন সরদার (৩৩), নজরুল প্রামাণিকের ছেলে এসার প্রামাণিক (২৪), রুহুল আমিনের ছেলে তুষার খন্দকার (২৫), ও উল্লাপাড়া উপজেলার আইলের উপর গ্রামের মৃত সাত্তার মোল্লার ছেলে জিয়াউর রহমান (৩৬),
অভিযান সূত্র জানায়, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে গতকাল নওগাঁ ইউনিয়ন এলাকায় অভিযান চালিয়ে মাদক কেনাবেচার সময় হাতেনাতে এই ৫ জনকে আটক করা হয়। এ সময় তাদের কাছ থেকে ২২০ গ্রাম গাঁজা উদ্ধার করা হয়।
এই ঘটনায় মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর, জেলা কার্যালয় সিরাজগঞ্জের "ক" সার্কেলের উপ-পরিদর্শক মো: আছাদুল হক বাদী হয়ে তাড়াশ থানায় একটি নিয়মিত মাদক মামলা রুজু করেছেন।
তাড়াশ থানা পুলিশ জানায়, আটককৃত আসামিদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ শেষে আদালতে সোপর্দ করার প্রক্রিয়া চলছে। মাদকের বিরুদ্ধে এমন অভিযান ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে বলে জেলা মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে।
মেহেরপুরের তেঁতুলবাড়ীয়া সীমান্তে ভারতীয় বিএসএফের ঠেলে দেওয়া ৬ জনের হদিস মিলছে না।
গেল রাতের কোন এক সময় তাদেরকে সীমান্ত থেকে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। তবে ভারতীয় বিএসএফ না বাংলাদেশের বিজিবি তাদেরকে সরিয়ে নিয়েছে তা নিয়ে তৈরী হয়েছে এক প্রকার ধুয়াশা।
জানা গেছে, শনিভার ভোরে তেঁতুলবাড়ীয়া সীমান্তে ভারত থেকে ঠেলে দেওয়া ৬ জনকে প্রতিরোধ করে বিজিবি। বিজিবি ও গ্রামবাসীর প্রতিরোধের মুখে ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনীর (বিএসএফ) পুশ ইন অপচেষ্ট ব্যর্থ হয়েছে। ভারত থেকে ঠেলে দেওয়া ৬ জন ভারতে ফিরে যেতে না পেরে অবস্থান নেয় কাটাতারের বেড়ার পাশে ভারতীয় ভূখণ্ডে।
দুই পরিবারের ৬ জনের মধ্যে ৩ জন পুরুষ, ২ জন নারী এবং ১ জন শিশু ছিল। সীমান্ত মাঠে পাট ক্ষেতের পাশে তারা শনিবার ভোর থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত অবস্থান করে। বিজিজি ও গ্রামবাসী তাদের জন্য শুকনো খাবার ও পানি সরবরাহ করে। কিন্তু ভারতীয় বিএসএফ কাটাতারের বেড়া পেরিয়ে তাদের কোন খোঁজ নেয়নি। এ নিয়ে বিজিবি-বিএসএফ পতাক বৈঠক হলেও সমাধান হয়নি। নিরুপায় হয়ে তারা মাঠের মধ্যেই রাত যাপনে বাধ্য হয়।
জানা গেছে, সন্ধ্যা থেকে মধ্য রাত পর্যন্ত বিজিবির সাথে পাহারা করে গ্রামের লোকজন। এর পরে রাত তিনটার দিকে ৬ জননে আরও পাওয়া যানি। তারা বাংলাদেশে প্রবেশ করেছে না ভারতে ফেরত গেছে তা নিশ্চিত করে কেউ বলতে পারছে না।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে ৪৭ বিজিবি কুষ্টিয়ার সহকারি পরিচালক নুরুল হুদা জানান, রাত ৩টার পর থেকে তাদেরকে আর সেখানে পাওয়া যাচ্ছে না। ধারণা করা হচ্ছে- বিএসএফ তাদেরকে ভারতে ফিরিয়ে নিয়েছে।
খুলনার ডুমুরিয়ায় উপজেলায় পারিবারিক কলহের জেরে স্ত্রীকে পেট্রোল ঢেলে পুড়িয়ে হত্যা মামলার প্রধান ও এজাহারনামীয় পলাতক আসামি জনি গাজী (২৯)-কে গ্রেফতার করেছে র্যাব-৬ এর স্পেশাল কোম্পানি।
গতকাল শনিবার (০৬ জুন ) রাত ৮টার দিকে খুলনা জেলার ডুমুরিয়া থানাধীন কাঁঠালতলা বাজার এলাকার একটি চায়ের দোকানে অভিযান পরিচালনা করে তাকে গ্রেফতার করা হয়। গ্রেফতারকৃত জনি গাজী ডুমুরিয়া থানার বাসিন্দা মো. আতিয়ার গাজীর ছেলে।
মামলার এজাহার ও র্যাব সূত্রে জানা যায়, গ্রেফতারকৃত জনি গাজী ও নিহত বিথি আক্তার সম্পর্কে স্বামী-স্ত্রী ছিলেন। গত (০৫ মে ২০২৬ ) পারিবারিক কলহের জেরে দুজনের মধ্যে তীব্র কথা কাটাকাটি হয়। এক পর্যায়ে জনি গাজী ক্ষিপ্ত হয়ে ঘরে থাকা পেট্রোল বিথি আক্তারের গায়ে ঢেলে আগুন ধরিয়ে দেয়। বিথির চিৎকার শুনে আশেপাশের লোকজন ছুটে এসে তাকে উদ্ধার করে প্রথমে ডুমুরিয়া উপজেলা হাসপাতালে নিয়ে যান। পরবর্তীতে সেখানে অবস্থার অবনতি হলে উন্নত চিকিৎসার জন্য খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল এবং পরে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়ার পথে বিথি আক্তার মৃত্যুবরণ করেন। এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় নিহতের বাবা অপুর গাজী বাদী হয়ে ডুমুরিয়া থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন।
হত্যাকাণ্ডের পর থেকেই ঘাতক স্বামী জনি গাজী লোকচক্ষুর অন্তরালে পালিয়ে ছিল। গতকাল শনিবার গোপন সংবাদের ভিত্তিতে র্যাব-৬ এর একটি চৌকস আভিযানিক দল কাঁঠালতলা বাজারে অভিযান চালিয়ে তাকে আইনের আওতায় আনতে সক্ষম হয়।
র্যাব জানিয়েছে, গ্রেফতারকৃত আসামির বিরুদ্ধে পরবর্তী আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য তাকে খুলনা জেলার ডুমুরিয়া থানা পুলিশের নিকট হস্তান্তর করা হয়েছে।
খুলনায় সন্ত্রাস, চাঁদাবাজ, মাদক কারবারিসহ বিভিন্ন অপরাধীদের গ্রেপ্তারে খুলনা মেট্রোপলিটন পুলিশের (কেএমপি) নেতৃত্বে বিশেষ যৌথ অভিযান শুরু হয়েছে। গত চার দিনে অভিযানে ১৮৪ জন অপরাধী আটক হলেও শীর্ষ সন্ত্রাসীরা এখনো রয়েছে ধরাছোঁয়ার বাইরে। অভিযোগ ওঠেছে, বিশেষ অভিযানের আগাম খবর কোনোভাবে বাইরে চলে যাওয়ায় শীর্ষ সন্ত্রাসীরা আত্মগোপনে চলে গেছে। ফলে তালিকাভুক্ত মূল অপরাধীদের গ্রেপ্তার করা অত্যন্ত কঠিন হয়ে পড়েছে। এদিকে মূল হোতারা গ্রেপ্তার না হওয়ায় খুলনার রাজনীতিবিদ ও নাগরিক নেতাদের মনে চরম উদ্বেগ দেখা দিয়েছে।
তালিকাবদ্ধ সন্ত্রাসীদের আত্মগোপন ও জনমনে প্রশ্ন: একাধিক সূত্রে জানা গেছে, যৌথবাহিনী কখন, কোথায়, কোন সময়ে অভিযান চালাবে তার আগাম তথ্য অপরাধীদের হাতে চলে যাচ্ছে। ফলে ব্যাপক ঢাকঢোল পিটিয়ে শুরু করা এই অভিযানের ফলাফল আশানুরূপ হচ্ছে না। সন্ত্রাসী, চাঁদাবাজ ও মাদক বিক্রেতারা বীরদর্পে তাদের অপরাধমূলক কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে।
কেএমপির সূত্র অনুযায়ী, গত ৩ জুন থেকে খুলনায় যৌথবাহিনীর বিশেষ অভিযান শুরু হওয়ার পর থেকে এ পর্যন্ত ১৮৪ জন অপরাধী গ্রেপ্তার হয়েছে। এর মধ্যে প্রথম দিনে ২৪ ঘণ্টায় খুলনার বিভিন্ন স্থান থেকে ৬২ জন, দ্বিতীয় দিনে ৫৯ জন এবং তৃতীয় দিন শুক্রবার (৫ জুন) সন্ধ্যা থেকে শনিবার (৬ জুন) দুপুর পর্যন্ত ৬৩ জন গ্রেপ্তার হয়েছে। অভিযানকালে মদ, গাঁজা, ইয়াবার মতো মাদক কারবারি, ছিঁচকে চোরসহ ছোটখাটো অপরাধীরা ধরা পড়েছে। এ ছাড়া তালিকাভুক্ত সন্ত্রাসী ‘কসাই লিটন’ ও ‘আজম খান’ ধরা পড়লেও তারা কোনো বড় বাহিনীর প্রধান নন। এদের বাইরে কোনো বড় অপরাধী বা অস্ত্রধারী শীর্ষ সন্ত্রাসীদের বড় অংশ এখনো ধরাছোঁয়ার বাইরে রয়েছে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, ঢাকঢোল পিটিয়ে বিশেষ অভিযান পরিচালনা করায় অভিযানের আগাম খবর সন্ত্রাসীদের হাতে চলে যাচ্ছে। ফলে তাদের আত্মগোপনে চলে যাওয়া খুবই সহজ হচ্ছে। নগরীর ময়লাপোতা এলাকার বাসিন্দা হুমায়ুন কবীর বলেন, ‘গত তিন দিন ধরে সন্ধ্যার পর বিভিন্ন মোড়ে মোড়ে অভিযান চালাচ্ছেন যৌথ বাহিনীর সদস্যরা। অভিযানে বড় ধরনের সন্ত্রাসী আটক হওয়ার খবর আমরা পাইনি। নগরের বিভিন্ন অলিগলিতে প্রতিদিন মাদকের হাট বসে। অভিযান শুরু হলে তাদের দেখা যায় না। কিন্তু অভিযান শেষ করে যৌথ বাহিনী চলে যাওয়ার সাথে সাথে তারা পুনরায় আবারও পয়েন্টগুলোতে এসে মাদক বিক্রি করে।’ তিনি প্রশ্ন তোলেন, কীভাবে তারা অভিযানের আগাম খবর পায় এবং গ্রেপ্তার হয় না কেন?
একই চিত্র দেখা গেছে শেখপাড়া চামড়া পট্টিতেও। গত শুক্রবার সন্ধ্যায় সেখানে অভিযান চালায় পুলিশ। ওখানকার কয়েকজন বাসিন্দা জানান, তিন পুরিয়া গাঁজাসহ দু’জনকে আটক করা হয়েছে সেখান থেকে। কিন্তু যারা মূল সাপ্লাইয়ার এবং গডফাদার, তারা সবসময় অধরাই থেকে যায়। অভিযানের আগাম খবর পেয়ে মাদক কারবারিরা স্থান ত্যাগ করে অন্যত্র চলে যায় এবং রাত সাড়ে ৯টার কিছুক্ষণ পর ফিরে এসে তারা আবারও কার্যক্রম শুরু করে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক সাবেক একজন চেম্বার পরিচালক ও ব্যবসায়ী ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, ‘বিশেষ অভিযানের মধ্যেও শহরে খুন-খারাবি হচ্ছে। বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে চাঁদাবাজি অব্যাহত রয়েছে। বড় বড় অপরাধীরা অভিযানের আগাম খবর পেয়ে যাচ্ছে। সন্ত্রাসীদের আগাম খবর পাওয়া খুবই উদ্বেগের।’
পুলিশ প্রশাসন ও রাজনৈতিক নেতাদের বক্তব্য: সার্বিক বিষয়ে জানতে চাইলে কেএমপি পুলিশ কমিশনার মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম বলেন, ‘খুলনার আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে গত বুধবার থেকে পুলিশ, র্যাব ও এপিবিএনের সমন্বয়ে গঠিত যৌথ বাহিনী নগরীর বিভিন্ন স্থানে অভিযান চালিয়ে এ পর্যন্ত ১৮৪ জন সন্ত্রাসীকে গ্রেপ্তার করেছে। এদের মধ্যে সন্ত্রাসী লিটন, রিফাত, আজম খান, রাব্বিসহ আরও কয়েকজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। খুলনায় শান্তিশৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনার জন্য সর্বাত্মক প্রচেষ্টা চালানো হচ্ছে।’
তিনি আরও বলেন, ‘অনেক সময় বাইরে থেকে সন্ত্রাসীরা এসে খুলনায় অপরাধমূলক কার্যক্রম পরিচালনা করে চলে যাচ্ছে। সেগুলো প্রতিহত করার জন্য শহরের প্রবেশদ্বারগুলোতে চেকপোস্ট বাড়ানো হয়েছে। এ ছাড়া আইনের ফাঁকফোকর দিয়ে অনেক সন্ত্রাসী কারাগার থেকে বের হচ্ছে, তাদের ওপরও কড়া নজরদারি রাখা হয়েছে। কোনো ধরনের অভিযোগ পাওয়া গেলে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
তবে খুলনা সিটি করপোরেশনের প্রশাসক নজরুল ইসলাম মঞ্জু শহরের বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে বলেন, ‘প্রতিদিনই কোথাও না কোথাও থেকে গোলাগুলি, চাঁদাবাজি ও অপহরণের তথ্য আসে। খুলনা শহরটি এখন আতঙ্কের শহরে পরিণত হয়েছে। সন্ত্রাসীদের দমনে খুলনায় পুলিশের আরও বেশি তৎপর হওয়া প্রয়োজন।’
খুলনা নাগরিক সমাজের সদস্য সচিব বাবুল হাওলাদার তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, ‘শীর্ষ সন্ত্রাসীদের তালিকা পুলিশের কাছে আছে। তালিকাভুক্ত সন্ত্রাসী গ্রেপ্তারের নামে পুলিশ এখন চুনোপুঁটিদের ধরছে, যেটা এক ধরনের আইওয়াশ ছাড়া কিছুই নয়। রাঘববোয়ালদের ধরা এবং অস্ত্রবাজদের কাছ থেকে অস্ত্র উদ্ধারের চেষ্টা ব্যর্থ হলে এই সমস্যার স্থায়ী সমাধান সম্ভব নয়।’
খুলনা মহানগর পুলিশের অপরাধ শাখার তথ্য বলছে, ২০২৪ সালের আগস্ট থেকে গত মে মাস পর্যন্ত ২২ মাসে শুধু নগরের বিভিন্ন থানা এলাকায় ৮৮টি হত্যাকাণ্ড ঘটেছে। এর মধ্যে ৩৪টি হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে বিভিন্ন সন্ত্রাসী গোষ্ঠী সরাসরি জড়িত। এই প্রেক্ষাপটে থানাভিত্তিক সন্ত্রাসীদের নতুন তালিকা তৈরির কাজ শুরু হয়। মহানগরীর আটটি থানায় তৈরি করা এই নতুন তালিকায় বর্তমানে ১৮১ জন শীর্ষ সন্ত্রাসীর নাম রয়েছে বলে পুলিশ সূত্রে জানা গেছে।
হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের কার্গো ভিলেজ এলাকায় লাগা অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় রহস্যের আভাস পেয়েছেন তদন্তসংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা। তারা জানিয়েছেন, সন্দেহজনক কিছু বিষয় নজরে আসায় শনিবার (৬ জুন) কুরিয়ার সার্ভিস ডিএইচএলের কর্মীসহ কয়েকজনকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছে।
এর আগে গত শুক্রবার (৫ জুন) রাতে কার্গো ভিলেজের ৯ নম্বর গেটসংলগ্ন এলাকায় এই আগুন লাগে এবং কুরিয়ার সার্ভিসের বেশ কিছু মালপত্র পুড়ে যায়। যে কনটেইনারে আগুন লেগেছে, সেখানকার পণ্যগুলো রোববার (৭ জুন) নিলামে ওঠার কথা ছিল।
শাহজালাল বিমানবন্দরের নির্বাহী পরিচালক গ্রুপ ক্যাপ্টেন এস এম রাগীব সামাদ গণমাধ্যমকে বলেন, ‘আগুনের ঘটনা তদন্তে এভসেক পরিচালককে প্রধান করে পাঁচ সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। তারা এরই মধ্যে কাজ শুরু করেছে। তারা কয়েকজনকে জিজ্ঞাসাবাদ করেছে। তদন্তের প্রয়োজনে যখন যাকে প্রয়োজন তারা জিজ্ঞাসাবাদ করবে। কাল (রোববার) তাদের প্রাথমিক প্রতিবেদন দিতে বলা হয়েছে।’
তদন্তসংশ্লিষ্ট সূত্র বলছে, এর আগেও ডিএইচএলের মালপত্র রাখার স্থানে আগুন লেগেছিল। পরপর দুই বার তাদের মালপত্র পুড়ে যাওয়ার বিষয়টি গুরুত্বসহকারে দেখা হচ্ছে। সেই সঙ্গে বিমানবন্দরের অগ্নিনিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। সিসিটিভি ফুটেজে দেখা যায়, গত শুক্রবার রাত সাড়ে ১১টার দিকে ঘটনাস্থলের কাছে ডিএইচএলের একজন কর্মী অবস্থান করছিলেন। তিনি সেখানে মশারি টাঙিয়ে বিশ্রাম নিচ্ছিলেন। আগুন লাগার পরও প্রায় দেড় থেকে দুই মিনিট তিনি শান্তভাবে আগুনের দিকে তাকিয়ে ছিলেন। পরে ফোন করে বিষয়টি অন্যদের জানান, যা সন্দেহের সৃষ্টি করেছে।
এর আগে, গত বছরের ১৮ অক্টোবর দুপুর আড়াইটার দিকে শাহজালাল বিমানবন্দরের কার্গো ভিলেজ কমপ্লেক্সে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। ১৩টি ফায়ার স্টেশনের ৩৭টি ইউনিট প্রায় সাড়ে ছয় ঘণ্টার চেষ্টায় আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে। ওই সময় উড়োজাহাজ চলাচল বন্ধ থাকে। আগুন নেভাতে গিয়ে আহত হন আনসার বাহিনীর ২৫ সদস্যসহ মোট ৩৫ জন।
ইতালি ও জার্মানিসহ ইউরোপের বিভিন্ন দেশে উচ্চ বেতনের চাকরির প্রলোভন দেখিয়ে অর্থ আত্মসাতের অভিযোগে একটি মানবপাচারকারী চক্রের মূলহোতাসহ তিন সদস্যকে গ্রেপ্তার করেছে র্যাব-৪। এই চক্রটি এক ভুক্তভোগীর কাছ থেকেই কৌশলে ২০ লাখ টাকা হাতিয়ে নিয়েছে। শনিবার (৬ জুন) মিরপুরে র্যাব-৪ এর কার্যালয়ে আয়োজিত এক ব্রিফিংয়ে এসব তথ্য জানিয়েছেন কোম্পানি কমান্ডার কে. এন. রায় নিয়তি।
গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন মো. এজাজুল হক রতন (৬৩), মোছা. নার্গিস বেগম (৪০) ও মো. বাদল (৫৫)।
র্যাব জানায়, গাজীপুরের বাসিন্দা ইমরান হোসেন নামের এক ব্যক্তি র্যাবের কাছে অভিযোগ করেন যে, তিনি মানবপাচারকারী চক্রের মাধ্যমে বড় ধরনের আর্থিক প্রতারণার শিকার হয়েছেন।
এ ঘটনায় তিনি ডিএমপির শাহ আলী থানায় একটি মামলা দায়ের করেন। ওই মামলার পরিপ্রেক্ষিতে র্যাব-৪ এর একটি দল গত শুক্রবার (৫ জুন) রাজধানীর মিরপুর ও সাভারের আশুলিয়ায় অভিযান চালিয়ে ওই তিনজনকে গ্রেপ্তার করে।
র্যাবের কোম্পানি কমান্ডার কে. এন. রায় নিয়তি বলেন, ‘এই চক্রের কাছে টাকা দিয়ে প্রতারিত হয়েছেন এমন আরও কয়েকটি অভিযোগ আমাদের কাছে এসেছে। গ্রেপ্তারকৃতদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য সংশ্লিষ্ট থানায় পাঠানো হয়েছে।’