‘সম্মান না দেখানোয়’ হুমকি। এরপর জুনিয়রদের মারধর করে সিনিয়ররা। পরে প্রতিশোধ নিতে জুনিয়ররাও পাল্টা হামলা চালায় সিনিয়র গ্রুপের সদস্য রাকিবের ওপর। এ হামলায় গুরুতর আহত হয়ে রাকিব হাসপাতালের বেডে মৃত্যুর সঙ্গে পাঞ্জা লড়ছে।
আজ শুক্রবার সকালে রাজধানীর কাওরান বাজারে র্যাবের মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানায় র্যাব-৪ এর অধিনায়ক ডিআইজি মোজাম্মেল হক।
তিনি বলেন, হামলায় গুরুতর আহত রাকিবের (১৬) অবস্থা সংকটাপন্ন। ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের সিসিইউ বিভাগে চিকিৎসাধীন সে। হামলার ঘটনায় গত বৃহস্পতিবার রাতে রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে অভিযান চালিয়ে কিশোর গ্যাংয়ের লিডার রমজান (২০) ও আল আমিনসহ (২০) পাঁচ সদস্যকে গ্রেপ্তার করা হয়।
বাকি গ্রেপ্তাররা হলেন, ইসমাইল হোসেন ওরফে পপকর্ন (১৮), বিজয় (১৭) ও ইয়াসিন আরাফাত ওরফে সাইমন (১৭)।
মোজ্জামেল হক বলেন, গত ২৩ সেপ্টেম্বর সন্ধ্যায় পল্লবীর সি-ব্লকে এসএসসি পরীক্ষার্থী রাকিবের ওপর এলাকার চিহ্নিত কিশোর গ্যাং জুনিয়র গ্রুপের প্রধান রমজান ও আল-আমিনসহ অন্য সহযোগীরা হামলা চালায়। তারা পেছন থেকে রাকিবের পিঠে চাকু দিয়ে উপর্যপুরি আঘাত করে। এতে গুরুতর আহত হয় রাকিব। এ সময় তার মোবাইল ও মানিব্যাগ নিয়ে পালিয়ে যায় হামলাকারীরা।
পরে রাকিবকে উদ্ধার করে এলাকাবাসী ও পরিবারের লোকজন ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেয়। হামলায় রাকিবের মেরুদণ্ড ক্ষতিগ্রস্ত হয়। এ ছাড়া তার শরীরের নিচের অংশ পুরোপুরি ‘অবশ’ হয়ে যায়।
ঘটনার পরদিন ২৪ সেপ্টেম্বর রাকিবের বাবা আব্দুল্লাহ বাদী হয়ে রমজান, আল আমিন, বিজয়, ছোট রমজান, পপকর্ন ও হাসিবসহ অজ্ঞাত আরও ১০-১২ জনের বিরুদ্ধে হত্যাচেষ্টা মামলা করেন। মামলা পর এ বিষয়ে ছায়া তদন্ত শুরু করে র্যাব।
ডিআইজি মোজ্জামেল হক বলেন, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে গ্রেপ্তাররা রাকিবের ওপর হামলার ঘটনায় জড়িত বলে স্বীকার করেছে।
জানা গেছে, গ্রেপ্তার ওই ৫ জন এবং রাকিব মিরপুর-১২ এলাকার বাসিন্দা। এলাকাটিতে সিনিয়র ও জুনিয়র গ্রুপ নামে দুটি গ্রুপ রয়েছে।
যাদের কাজ ইভটিজিং, ছিনতাইসহ মাদক সেবন ও এলাকায় আধিপত্য বিস্তার নিয়ে মারামারিতে জড়ানো।
র্যাবের এই কর্মকর্তা বলেন, ঘটনার কয়েকদিন আগে জুনিয়র গ্রুপের সদস্য রমজান, আল আমিন, বিজয়, ইয়াসিনসহ আরও ৫-৬ জন মিলে মিরপুর-১২ এর ডি ব্লকে ধুমপান করছিল। এ সময় পাশ দিয়ে সিনিয়র গ্রুপের কয়েকজন সদস্য গেলে জুনিয়র গ্রুপের সদস্যরা তাদেরকে কোনো প্রকার সম্মান প্রদর্শন করেনি। এতে ক্ষুব্ধ হয়ে সিনিয়র গ্রুপের সদস্যরা জুনিয়রদের বিভিন্ন প্রকার হুমকি দেয়। এ সময় তাদের সঙ্গে ধস্তাধস্তি ও চড়-থাপ্পড়ের ঘটনা ঘটে। এ ঘটনার প্রতিশোধ নিতেই রাকিবের ওপর হামলা চলানো হয়।
নীলফামারীতে মদিনা ডায়াগনস্টিক ক্লিনিক এন্ড কনসালটেশনের ১০ শয্যা বিশিষ্ট হাসপাতালের শুভ উদ্বোধন হয়েছে। রবিবার (২ আগষ্ট) নীলফামারী জেনারেল হাসপাতালের নিকটে নতুন এই হাসপাতালের উদ্বোধন করেন নীলফামারী-২ আসনের সংসদ সদস্য অ্যাড. আলফারুক আব্দুল লতিফ।
এসময় উপস্থিত ছিলেন হাসপাতালের ব্যবস্থাপনা পরিচালক শামিমা সুলতানা লিনা, অ্যানেস্থেসিওলজিস্ট ডা. আতিয়ার রহমান, স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক (অব.) ডা. মো. আব্দুল মজিদ, নীলফামারী জেনারেল হাসপাতালের সিনিয়র কনসালটেন্ট (গাইনি ও অবস্) ডা. মনিরুজ্জামান মনি, মদিনা ডায়াগনস্টিক ক্লিনিক এন্ড কনসালটেশনের মেডিকেল অফিসার ডা. জাইরিন তাবাচ্ছুমসহ আরো অনেকে।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে সংসদ সদস্য আলফারুক আব্দুল লতিফ বলেন, “নীলফামারীর মানুষের চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করতে সরকারি প্রতিষ্ঠানের পাশাপাশি বেসরকারি হাসপাতালগুলোকেও দায়িত্বশীল ভূমিকা রাখতে হবে। মদিনা ডায়াগনস্টিক ক্লিনিক অ্যান্ড কনসালটেশনের নতুন এ হাসপাতাল নীলফামারীর মানুষের চিকিৎসাসেবায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে আশা করি।”
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে হাসপাতালটির চিকিৎসাসেবা ও ভবিষ্যৎ কার্যক্রম নিয়ে আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়। এসময় সংসদ সদস্য নিজেই হাসপাতালটি সফলতা কামনায় দোয়া পরিচালনা করেন।
বান্দরবান জেলার লামা উপজেলার দুর্গম পাহাড়ি জনপদ ‘রুপসীপাড়া ইউনিয়ন’। এই ইউনিয়নে নিভৃতে দ্বীনি আলো ছড়াচ্ছে রুপসীপাড়া ইসলামিয়া এতিমখানা নামের একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান। বাইরে থেকে দেখলে মনে হয় এক জান্নাতি টুকরো, যেখান থেকে ভেসে আসে পবিত্র কুরআনের সুর। কিন্তু ভেতরের গল্পটা অনেক কষ্টের, বুক ফাটানো কান্না আর চরম অবহেলার। নিয়তির নির্মম পরিহাসে এখানে অসহায় ও নিরাশ্রয় শিশুরা সার্বক্ষণিক পড়ালেখা করছে। যাদের মাথার ওপর ছাদ বলতে এই জরাজীর্ণ টিনের ঘরটি। প্রতিদিন কেমলমতি ৪৫ জন চির-এতিম দরিদ্র শিশু শিক্ষার্থী লড়াই করছে বেঁচে থাকার ও মানুষ হওয়ার ন্যূনতম অধিকারের জন্য।
এছাড়া সীমানা প্রাচীর না থাকায় নিরাপত্তাহীন পড়ে আছে এসব কোমলমতি শিশুরা। গত ১৮ বছর স্থানীয় জনপ্রতিনিধিসহ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের শরণাপন্ন হয়েও সংকটের কোনো সমাধান পায়নি মাদরাসা কর্তৃপক্ষ। এই অবস্থায় এতিমদের শিক্ষার পরিবেশ নিশ্চিত করতে দ্রুত পাকা ভবনসহ অন্যান্য সংকট নিরসনে সরকারি-বেসরকারি সহযোগিতার আহবান জানিয়েছেন অভিভাবক ও এলাকাবাসী।
খোঁজ নিয়ে জানা যায়, রুপসীপাড়া ইউনিয়নের অধিকাংশ মানুষের দারিদ্র্যসীমার নিচে বসবাস। এ ইউনিয়নে দ্বীনি শিক্ষার আলো ছড়িয়ে দিতে উদ্যোগ নেন- পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান আবদুল জলিল, স্থানীয় মুরুব্বী আবু বক্কর ছিদ্দিক ও আব্দুস ছত্তার ফরাজী। তারা ১৯৯১ সালের দিকে টিনের ছাউনি-টিনের বেড়ার দুই কক্ষ বিশিষ্ট এই এতিমখানা স্থাপন করেন। ১৯৯৩ সালে এতিমখানা সমাজসেবা অধিদপ্তর কর্তৃক নিবন্ধনের পর ক্যাপিটেশন এন্ড গ্রান্ড প্রাপ্ত হয়। শুরুতে এতিমের সংখ্যা কম থাকলেও বর্তমানে ৪৫ জন শিশু অধ্যয়নরত আছে। এদের মধ্যে কারো মা নেই, কারো বাবা নেই, আবার কারো কারো মা-বাবা কেউ বেঁচে নেই।
এ এতিমখানায় ক্যাপিটেশন এন্ড গ্রান্ডর সুযোগ সুবিধা পায় মাত্র ১৮ জন, অন্যরা পাচ্ছে না এখনো কোন সরকারি সুবিধা। মাত্র ২ জন শিক্ষক নিয়ে চলছে হেফজ ও নূরানী শিক্ষা কার্যক্রম। সীমানা প্রাচীর না থাকায় এতিমখানাটি জায়গা বেদখলের পাশাপাশি নিরাপত্তাহীন হয়ে পড়েছে এতিমখানায় অধ্যয়নরত শিশুরা।
এ সময় শিক্ষার্থী হানজেলা, আলী হাছান ও সাইফুল এক সূরে বলেন, আমাদের এতিমখানাটির অবস্থা খুবই জরাজীর্ণ। টিনের বেড়া ছিদ্র হয়ে গেছে। রাতে ঘুমাতে ভয় লাগে, কারণ ছিদ্র দিয়ে সাপ ব্যাঙ ঢুকে পড়ে। আর বৃষ্টি হলে ত ঘুমাইতে পারি না। কখন সাপ ব্যাঙ বেশি ঢুকে আর। ছাউনির টিন ছিদ্র হওয়ায় বর্ষায় বৃষ্টির পানিও পড়ে। তাই আমরা সরকারের কাছে পাকা ভবন চাই, একটু নিশ্চিন্তে ঘুমাতে চাই।
৪৫ জনের মধ্যে মাত্র ১৮ জন ক্যাপিটেশন এন্ড গ্রান্ড সুবিধায় পেলেও বাকী ২৭ জনের দুই মুঠো অন্ন যোগাতে হিমশিম খেতে হচ্ছে। মাদরাসা পরিচালনা কমিটির। তাই পাঠদান স্বাভাবিক রাখতে একটি একাডেমিক ভবন ও বাকি ২৭ জন শিক্ষার্থীর ক্যাপিটেশন এন্ড গ্রান্ড খুবই প্রয়োজন হয়ে পড়েছে।
এতিমখানা পরিচালনা কমিটির আলী হোসেনসহ শিক্ষকরা জানান, আমরা বুক চাপা কষ্ট নিয়ে এই জরাজীর্ণ ঘরেই বাচ্চাদের দ্বীনি শিক্ষা দিয়ে যাচ্ছি। সরকারি বা বেসরকারি বড় কোনো অনুদান ছাড়া এই অসহায় শিশুদের মুখে একটু হাসি ফোটানো আমাদের পক্ষে কোনোভাবেই সম্ভব হচ্ছে না।
এতিমখানা পরিচালনা কমিটির সভাপতি শাখাওয়াতুল ইসলাম বলেন, ১৯৯১ সালের দিকে ইউনিয়ন সদরের তিন কিলোমিটারের মধ্যে কোনো মাদরাসা ছিল না। এ কারণে এলাকার স্বার্থে আমার বাবা আব্দুল জলিলসহ অন্য মুরুব্বীরা এই এতিমখানাটি গড়ে তুলেছিলেন। মাত্র ২ কক্ষের একটি টিনশেড ঘর দিয়ে যাত্রা শুরু হয়। প্রথম দিকে সমস্যা না হলেও মাদরাসা উন্নীত হওয়ার পর থেকে শিক্ষার্থী বৃদ্ধি পাওয়ায় আসনের চাহিদা বেড়েছে। গত ১৮ বছর ধরে সরকারি বিভিন্ন দপ্তরের দ্বারে দ্বারে গিয়েও এতিমখানার জন্য একটি পাকা ভবন বরাদ্দ পাইনি। তাই এতিমখানার ভবন, সীমানা প্রাচীর ও ২৭ শিশুর জন্য সমাজ সেবা অধিদপ্তর কর্তৃক ক্যাপিটেশন এন্ড গ্রান্ড লাভে এমপি রাজপুত্র সাচিংপ্রু জেরী, জেলা প্রশাসক, উপজেলা নির্বাহী অফিসার ও উপজেলাসহ সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের আশু সহযোগিতা প্রত্যাশা করছি।
এ বিষয়ে রুপসীপাড়া ইউনিয়ন পরিষদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান শাহা আলম জানান, এতিমখানায় দিন দিন শিক্ষার্থী বাড়লেও সুযোগ-সুবিধা বাড়ছে না। বরং দিন দিন নানামুখী সমস্যার সম্মুখীন হচ্ছে এটি। বিশেষ করে স্বল্প জায়গায় গাদাগাদি করে বসে ক্লাস করতে হচ্ছে শিক্ষার্থীদের। টিনের ছাউনি ও বেড়া জরাজীর্ণ হয়ে পড়েছে। যে কোনো মুহূর্তে ভেঙে পড়ে দুর্ঘটনা ঘটতে পারে। তাই জরুরিভাবে এতিমখানাটির সীমানা প্রাচীরসহ একটি পাকা ভবন দরকার।
পবিত্র হজ ও উমরার নতুন মৌসুমকে স্বাগত জানাতে লালমনিরহাটে উৎসবমুখর ও ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্যপূর্ণ পরিবেশে অনুষ্ঠিত হলো এক অনন্য ‘হাজি সমাবেশ’। সোহেল রানা ট্যুরস অ্যান্ড ট্রাভেল্স এবং সানফাইন ট্রাভেল্স ইন্টারন্যাশনাল (লাইসেন্স নং- ১২৪৩)-এর যৌথ উদ্যোগে রোববার (২ আগস্ট) আয়োজিত সমাবেশ থেকে হজ ও উমরাহ গমনেচ্ছু ধর্মপ্রাণ মুসলমানদের জন্য শুভ বুকিং কার্যক্রমেরও আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন ঘোষণা করা হয়।
লালমনিরহাট জেলা পরিষদের পুরাতন মিলনায়তনে আয়োজিত এই জমকালো সমাবেশে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন লালমনিরহাট জেলা পরিষদের প্রশাসক ও জেলা বিএনপির ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক এ. কে. এম. মমিনুল হক।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে এ. কে. এম. মমিনুল হক বলেন, ‘আল্লাহর ঘর তওয়াফ ও প্রিয় নবী হজরত মুহাম্মদ (সা.)-এর রওজা মোবারক জিয়ারত করা প্রতিটি সামর্থ্যবান মুসলমানের আজীবনের লালিত স্বপ্ন। পবিত্র এই সফর যেন হাজিদের জন্য সম্পূর্ণ নিরাপদ ও স্বাচ্ছন্দ্যময় হয়, সেদিকে ট্রাভেল এজেন্সিগুলোকে সর্বোচ্চ আন্তরিকতার সাথে সতর্ক দৃষ্টি রাখতে হবে।’
সভাপতির বক্তব্যে সোহেল রানা ট্যুরস অ্যান্ড ট্রাভেলসের ব্যবস্থাপনা পরিচালক আলহাজ মো. সোহেল রানা বলেন, ‘পবিত্র হজ ও উমরাহ পালন কোনো সাধারণ ভ্রমণ নয়, এটি এক পরম ইবাদত। আল্লাহর মেহমানদের সেবা দেওয়া আমাদের কাছে অত্যন্ত পবিত্র দায়িত্ব। সুন্নাহ অনুযায়ী সঠিক নিয়ম-কানুন মেনে এবং হজযাত্রীদের সর্বোচ্চ আবাসন, যাতায়াত ও সার্বিক সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিত করতে আমাদের প্রতিষ্ঠান সর্বদা প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। হাজিদের মুখে হাঁসি ও সন্তুষ্টিই আমাদের সেরা অর্জন।’
সমাবেশে স্বাগত বক্তব্য রাখেন, সোহেল রানা ট্যুরস অ্যান্ড ট্রাভেল্স লালমনিরহাট জেলার প্রতিনিধি ও কর্মসূচির আহ্বায়ক মো. আব্দুল আউয়াল (রফিক)। এ ছাড়া বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন আনসার ও ভিডিপি ব্যাংক, লালমনিরহাট শাখার ব্যবস্থাপক খন্দকার সমু।
অনুষ্ঠানের শেষ পর্যায়ে উপস্থিত হজ ও উমরাহ গমনেচ্ছুদের মাঝে প্রয়োজনীয় দিকনির্দেশনা প্রদান করা হয় এবং স্বতঃস্ফূর্তভাবে নতুন মৌসুমের বুকিং গ্রহণ করা হয়। পরিশেষে দেশ, জাতি এবং সমগ্র মুসলিম উম্মাহর শান্তি, সমৃদ্ধি ও কল্যাণ কামনা করে এক আবেগঘন বিশেষ দোয়া ও মোনাজাতের মাধ্যমে অনুষ্ঠানের সমাপ্তি ঘটে।
বগুড়া সদর উপজেলার ঠেঙ্গামারা ও মাটিডালী এলাকার সীমান্তবর্তী করতোয়া নদীর তীরের জঙ্গলঘেরা একটি দুর্গম এলাকায় গত শনিবার (১ আগস্ট) রাতে জেলা ডিবি পুলিশ অভিযান চালিয়ে কথিত সন্ত্রাসী চক্রের গোপন আস্তানা উচ্ছেদ করেছে। এ সময় চক্রের প্রধানসহ তিনজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এ সময় একটি বিদেশি রিভলবার, দেশীয় অস্ত্র, মাদক, নগদ টাকা এবং নির্যাতনে ব্যবহারের অভিযোগ থাকা একটি উচ্চক্ষমতাসম্পন্ন বৈদ্যুতিক শকার উদ্ধার করা হয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
ডিবি পুলিশ জানায়, দীর্ঘদিন ধরে করতোয়া নদীর তীরে একটি কারখানার পেছনের নির্জন এলাকায় তাঁবু ও পলিথিন দিয়ে তৈরি অস্থায়ী আস্তানায় অবস্থান করে একটি চক্র বিভিন্ন অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড চালিয়ে আসছিল। চক্রটি মাদক কারবারির পাশাপাশি অপহরণ করে ভয়ভীতি ও নির্যাতনের মাধ্যমে অর্থ আদায় করত বলে পুলিশের দাবি।
গোপন সংবাদের ভিত্তিতে পুলিশ সুপার মির্জা সায়েম মাহমুদের নির্দেশনা ও তত্ত্বাবধানে ডিবি পুলিশের একটি দল সেখানে অভিযান চালায়। অভিযানের সময় চক্রের কথিত প্রধান রকি, তার সহযোগী রাকিবসহ তিনজনকে গ্রেপ্তার করা হয়। তবে অভিযানের বিষয়টি টের পেয়ে আরও পাঁচ থেকে সাতজন সদস্য করতোয়া নদী সাঁতরে পালিয়ে যান বলে দাবি পুলিশের।
ঘটনাস্থল থেকে একটি বিদেশি রিভলবার, তিনটি চায়নিজ কুড়াল, একটি ধারালো চাপাতি, কয়েকটি দেশীয় অস্ত্র, মাদক ও মাদক বিক্রির নগদ টাকা উদ্ধার করা হয়েছে। এ ছাড়া ২৫ হাজার ভোল্ট ক্ষমতাসম্পন্ন একটি বৈদ্যুতিক শকারও জব্দ করা হয়েছে।
ডিবি পুলিশের ওসি ইকবাল বাহার বলেন, ‘গ্রেপ্তার হওয়া রকি ও রাকিবের বিরুদ্ধে অস্ত্র, মাদক ও ফেনসিডিলসংক্রান্ত একাধিক মামলা রয়েছে। তারা এর আগে গ্রেপ্তার হয়ে জামিনে মুক্তি পান। গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। ’
সৌদি আরবের নেতৃত্বাধীন প্রতিরক্ষা জোটে বাংলাদেশের যোগদানকে ইরানবিরোধী পদক্ষেপ হিসেবে দেখার সুযোগ নেই বলে স্পষ্ট করেছেন প্রধানমন্ত্রীর পররাষ্ট্রবিষয়ক উপদেষ্টা হুমায়ুন কবির।
রোববার (২ আগস্ট) পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি জানান, এই জোটে বাংলাদেশের অংশগ্রহণের মূল উদ্দেশ্য হচ্ছে হুতিদের থেকে আসা নিরাপত্তা চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করা, ইরানের বিরুদ্ধে অবস্থান নেওয়া নয়।
উপদেষ্টা উল্লেখ করেন, সৌদি আরবের সাথে বাংলাদেশের সম্পর্ক অত্যন্ত গভীর এবং এই সম্পর্ককে কেবল হজের মতো ধর্মীয় কাঠামোর মধ্যে সীমাবদ্ধ রাখা ঠিক হবে না।
ঢাকা ও রিয়াদের এই যৌথ সম্পর্ক বর্তমানে একটি বড় কৌশলগত সম্পর্কে রূপ নিয়েছে। ফলে বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ মুসলিম দেশ হিসেবে সৌদি আরবের নিরাপত্তা রক্ষায় যেকোনো প্রয়োজনে নৈতিক ও আত্মিক অবস্থান থেকে সাড়া দিতে বাংলাদেশ সবসময় প্রস্তুত রয়েছে।
তিনি আরও জোর দিয়ে বলেন, বাংলাদেশ একই সাথে ইরানের সাথেও নিয়মিত কূটনৈক আলোচনা বজায় রাখছে। তাই হুতিদের সংকট মোকাবেলায় গঠিত জোটে যুক্ত হওয়া মানেই ইরানকে বাদ দেওয়া বা আক্রান্ত করা—এমন ভাবার কোনো যুক্তিযুক্ত কারণ নেই।
কুমিল্লার দাউদকান্দিতে খামারপাড়ায় খিরাই নদের ওপর নির্মিত বেইলি সেতু ভেঙে ইটবোঝাই বাল্কহেডের ওপর পড়েছে। এ ঘটনায় বাল্কহেডের চালক, সুকানি, সহকারী ও ১৭ জন শ্রমিক সাঁতরে তীরে উঠে প্রাণে রক্ষা পান। রোববার (২ আগস্ট) শ্রমিক কাশেম মিয়া বলেন, ‘বাল্কহেড থেকে সাঁতরে তীরে উঠে প্রাণে রক্ষা পেলেও মুঠোফোন, টাকা, ব্যাগে থাকা পোশাক, ঘুমানোর চাদরসহ বিভিন্ন সামগ্রীর কিছুই রক্ষা করতে পারেননি।’
বাল্কহেডের মালিক ও সুকানি জুয়েল পাটোয়ারী বলেন, ‘তিনি ৫০ হাজার টাকা ভাড়ায় ৪০ হাজার ইটবোঝাই করে ঢাকার জিঞ্জিরা থেকে শনিবার ভোরে রওনা দেন। সন্ধ্যায় খিরাই নদ দিয়ে দাউদকান্দি উপজেলার খামারপাড়া বেইলি সেতুর নিচে পৌঁছালে বিকট শব্দে সেতুটি ভেঙে বাল্কহেডের ওপর পড়ে। এ সময় বাল্কহেডে থাকা সবাই সাঁতরে তীরে উঠে প্রাণে রক্ষা পান। তবে ২৫ লাখ টাকায় কেনা বাল্কহেডের ওপর সেতু ভেঙে পড়ায় অনেক ক্ষতি হয়েছে।’
স্থানীয় বাসিন্দা মজনু মিয়া বলেন, ‘দীর্ঘদিনের বর্ষা ও বৃষ্টিতে বেইলি সেতুর পাটাতনগুলো মরিচা পড়ে নষ্ট হয়ে গিয়েছিল। প্রায়ই নষ্ট হওয়া পাটাতন দেবে গিয়ে দুর্ঘটনা ঘটত।’
সেতু ভেঙে যাওয়ার পর এই সড়কে সরাসরি যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে গেছে। যানবাহন চলাচল বন্ধ থাকায় দাউদকান্দি উপজেলা ছাড়াও চাঁদপুরের মতলব দক্ষিণ, কচুয়া, হাজীগঞ্জ, ফরিদগঞ্জ ও চাঁদপুর সদর উপজেলার একাধিক গ্রামের মানুষ দুর্ভোগে পড়েছেন।
স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের (এলজিইডি) দাউদকান্দি উপজেলা প্রকৌশলী মো. জাহিদুল ইসলামের বক্তব্য জানতে একাধিকবার কল করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।
নীলফামারী জেলা পুলিশের উদ্যোগে বর্ণাঢ্য মাস্টার প্যারেড অনুষ্ঠিত হয়েছে। রোববার (২ আগস্ট) সকাল ৮টায় নীলফামারী পুলিশ লাইন্স মাঠে জেলার বিভিন্ন পদমর্যাদায় পুলিশ কর্মকর্তা ও সদস্যদের অংশগ্রহণে এ প্যারেড অনুষ্ঠিত হয়। মাস্টার প্যারেড পরিদর্শন ও অভিবাদন গ্রহণ করেন নীলফামারী জেলার পুলিশ সুপার মো. ফরহাদ হোসেন খাঁন।
প্যারেড পরিদর্শন শেষে পুলিশ সুপার অংশগ্রহণকারী কর্মকর্তা ও পুলিশ সদস্যদের উদ্দেশে দিকনির্দেশনামূলক বক্তব্য দেন। তিনি পেশাদারিত্ব, শৃঙ্খলা, জনসেবার মানোন্নয়ন এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় সর্বোচ্চ আন্তরিকতা ও দায়িত্বশীলতার সঙ্গে কাজ করার আহ্বান জানান।
মাস্টার প্যারেডে প্যারেড কমান্ডারের দায়িত্ব পালন করেন পুলিশ লাইন্স নীলফামারীর রিজার্ভ ইন্সপেক্টর (আরআই) মো. মোফাজ্জল হোসেন সরকার।
এ সময় উপস্থিত ছিলেন অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (প্রশাসন ও অর্থ) মোহসিন, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম অ্যান্ড অপস) এ বি এম ফয়জুল ইসলাম, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (নীলফামারী সার্কেল) মো. ফারুক আহমেদ, পিপিএম-সেবা, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সৈয়দপুর সার্কেল) এ কে এম ওহিদুন্নবী, সিনিয়র সহকারী পুলিশ সুপার (প্রবি) জ্যোতির্ময় ঘোষ, সিনিয়র সহকারী পুলিশ সুপার (প্রবি) মো. আব্দুল্লাহ আল মাহমুদ খানসহ জেলা পুলিশের বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তা ও সদস্যরা।
প্যারেড শেষে পুলিশ সুপার পুলিশ লাইন্সের মোটরযান শাখা ও অস্ত্রাগার পরিদর্শন করেন এবং সংশ্লিষ্টদের প্রয়োজনীয় দিকনির্দেশনা প্রদান করেন।
বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশনের (বিইআরসি) নতুন আদেশ অনুযায়ী চলতি বছরের জুন মাসের বিদ্যুৎ বিল থেকে নতুন দাম কার্যকর হয়েছে, যা পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত বহাল থাকবে। এর ফলে প্রিপেইড মিটার ব্যবহারকারী গ্রাহকদের রিচার্জের খরচ উল্লেখযোগ্য হারে বেড়ে গেছে, যা নিয়ে সাধারণ মানুষের মধ্যে ক্ষোভ ও উদ্বেগ দেখা দিয়েছে।
এই মূল্যবৃদ্ধির প্রস্তাব নিয়ে গত ২০ ও ২১ এপ্রিল দুই দিনব্যাপী বিইআরসি গণশুনানি অনুষ্ঠিত হয়েছিল, যেখানে দেশের ছয়টি বিদ্যুৎ বিতরণ কোম্পানি—পিডিবি, আরইবি, ডিপিডিসি, ডেসকো, ওজোপাডিকো ও নেসকো—প্রতি ইউনিটে ৮৫ পয়সা থেকে ২ টাকা ৫ পয়সা পর্যন্ত দাম বাড়ানোর আবেদন করেছিল।
এ ছাড়া সঞ্চালন খাতেও ব্যয় বেড়েছে। পাওয়ার গ্রিড বাংলাদেশ পিএলসি (পিজিসিবি)-এর সঞ্চালন ব্যয় বিবেচনায় হুইলিং চার্জ ভারিত গড়ে প্রতি ইউনিট ৩১.৩৫ পয়সা থেকে বাড়িয়ে ৩৮.৮৬ পয়সা করা হয়েছে, অর্থাৎ প্রতি ইউনিটে সঞ্চালন খরচ বেড়েছে প্রায় ২৪ শতাংশ।
সর্বশেষ শুল্ক হার অনুযায়ী, বিদ্যুতের দাম ইউনিট প্রতি সর্বনিম্ন ৬৯ পয়সা থেকে সর্বোচ্চ ৩ টাকা ৬৪ পয়সা পর্যন্ত বৃদ্ধি পেয়েছে, তবে এই বৃদ্ধির হার গ্রাহকের ব্যবহারের ধরন ও ক্যাটাগরির ওপর নির্ভরশীল—অর্থাৎ আবাসিক, শিল্প বা কৃষি খাতের গ্রাহক এবং মাসিক ইউনিট ব্যবহারের পরিমাণ অনুযায়ী বিলের বৃদ্ধি ভিন্ন হবে।
নতুন মূল্যহার কার্যকর হওয়ায় সাধারণ পরিবারের মাসিক ব্যয়ে বাড়তি চাপ তৈরি হতে পারে, বিশেষত গ্রীষ্মকালে যেসব পরিবার নিয়মিত এয়ার কন্ডিশনার, ফ্রিজ, গিজারসহ উচ্চক্ষমতার বৈদ্যুতিক যন্ত্র ব্যবহার করে, তাদের বিল তুলনামূলক বেশি বাড়বে। শুধু গৃহস্থালি খাতই নয়, ব্যবসা-বাণিজ্য ও উৎপাদন খরচেও এর প্রভাব পড়তে পারে, যার ফলে বিভিন্ন পণ্য ও সেবার মূল্যে পরোক্ষ প্রভাব দেখা দিতে পারে।
বিদ্যুৎ বিভাগের কর্মকর্তারা বলছেন, উৎপাদন ব্যয় বৃদ্ধি, জ্বালানি আমদানি খরচ এবং বিদ্যুৎ খাতের আর্থিক ভারসাম্য বজায় রাখার প্রয়োজনীয়তা বিবেচনা করেই নতুন মূল্য নির্ধারণ করা হয়েছে। এর আগে বিইআরসি চেয়ারম্যান জালাল আহমেদ এক প্রশ্নের জবাবে জানিয়েছিলেন যে মূল্যবৃদ্ধির পেছনে কোনো বাহ্যিক চাপ ছিল না এবং বাজেট বিবেচনায় রেখে দ্রুততার সঙ্গে সিদ্ধান্তটি নেওয়া হয়েছে; দাম বাড়ানোর ফলে মানুষের ব্যয় বাড়বে তা স্বীকার করলেও এ বিষয়ে পৃথক অর্থনৈতিক মূল্যায়ন করা হয়নি বলে তিনি জানান।
(নর্দান ইলেকট্রিসিটি সাপ্লাই পিএলসি) নেসকো পঞ্চগড়, নির্বাহী প্রকৌশলী সত্যজিৎ দেবশর্মা তিনি জানান, দাম বৃদ্ধি হওয়ার কারণে দ্রুত সময়ে টাকা শেষ হয়ে যাচ্ছে, আমরা প্রিপেইড মিটার নিয়মিত চেক করে দেখি বেশি টাকা কাটে না, প্রিপেইড মিটার গ্রাহকরা দাম বৃদ্ধি হওয়ার বিষয়ে অবগত নেই, তাই প্রিপেইড মিটারের প্রতি অভিযোগ রয়েছে।
নানা আয়োজনে মাগুরা স্বরলিপি সংগীত নিকেতনের ২২ তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী পালিত হয়েছে। গত শনিবার (১ আগস্ট) সন্ধ্যায় মাগুরা জেলা অডিটরিয়ামে প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে আলোচনা সভা, সনদপত্র বিতরণ ও মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করে সংগঠনটি।
আলোচনা সভায় সংগঠনের সহসভাপতি এম এ হাকিমের সভাপতিত্বে প্রধান অতিথি হিসেবে ছিলেন জেলা প্রশাসক মোতাকাব্বীর আহমেদের প্রতিনিধি এনডিসি মো. আমিনুল ইসলাম। বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন, জেলা কালচারাল অফিসার পার্থ প্রতিম দাশ, মাগুরা প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক শফিকুল ইসলাম শফিক, জেলা জাসাসের আহ্বায়ক অ্যাড. কাজী সিরাজ উদ্দিন মিহির। স্বাগত বক্তব্য রাখেন, স্বরলিপি সংগীত নিকেতনের প্রতিষ্ঠাতা ও অধ্যক্ষ সুকুমার পাল।
আলোচনা শেষে অতিথিরা ২০২৫ সেশনে সংগীত, চিত্রাঙ্কন ও নৃত্য বিভাগে উত্তীর্ণ ৮৫ জন শিক্ষার্থীদের মাঝে সনদপত্র বিতরণ করেন। পরে স্বরলিপি সংগীত নিকেতনের প্রতিশ্রুতিশীল শিল্পীরা গান ও নৃত্য পরিবেশন করে। অনুষ্ঠানে উল্লেখযোগ্যসংখ্যক দর্শক উপস্থিত ছিলেন ।
সুনামগঞ্জের জগন্নাথপুরে মইয়ার হাওরে নৌকা ডুবে নিখোঁজ চারজনেরই মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। রোববার (২ আগস্ট) সকালে হাওরের রোয়ারকারা এলাকায় ভেসে ওঠে দুইজনের মরদেহ। তারা হলেন, জগন্নাথপুর পৌরসভার পূর্ব ভবানীপুর এলাকার মৃত জগিন্দ্র দেবনাথের ছেলে হেমেন্দ্র দেব নাথ (৩৭) ও একই এলাকার মৃত অনিল দেব নাথের ছেলে অধীর দেবনাথ (৩৫)।
এর আগে শনিবার (১ আগস্ট) দিনভর অভিযানে পাওয়া যায় নিখোঁজ সত্যেন্দ্র নাথ সতী (৬৫) ও অরুণ দেবনাথের (৪৫) মরদেহ। এসব নিশ্চিত করেছেন জগন্নাথপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শফিকুল ইসলাম।
তিনি জানান, পরিবারের কোনো অভিযোগ না থাকায় মরদেহগুলো ময়নাতদন্ত ছাড়াই হস্তান্তর করা হয়েছে।
দুর্ঘটনাটি ঘটে গত শুক্রবার (৩১ জুলাই) রাত ৮টার দিকে। উপজেলার মইয়ার হাওর পাড়ের বালুচল এলাকায় হিন্দু সম্প্রদায়ের একটি ধর্মীয় অনুষ্ঠানে যান ৯ জন। তাদের বাড়ি পূর্ব ভবানীপুর এলাকায়। ভোররাত সাড়ে ৩টার সময় সেখান থেকে ফেরার পথে মইয়ার হাওরের বালুচর এলাকায় ডুবে যায় নৌকাটি। পাঁচজন সাঁতারে তীরে উঠলেও খোঁজ মেলেনি চারজনের।
শনিবার দিনভর সুনামগঞ্জ ও সিলেট ফায়ার সার্ভিসের ডুবুরি দলের অভিযানে পাওয়া যায় দুজনের মরদেহ। অন্য দুজনের দেহ ভেসে ওঠে রোববার (২ আগস্ট)। পরে থানা পুলিশ গিয়ে লাশটি উদ্ধার করে।
শিশুশ্রম ও বাল্যবিবাহ প্রতিরোধে গণমাধ্যমের দায়িত্বশীল ভূমিকা জোরদার এবং সাংবাদিকদের পেশাগত দক্ষতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে গাজীপুরে ‘মৌলিক সাংবাদিকতা ও নৈতিক প্রতিবেদন’বিষয়ক দিনব্যাপী কর্মশালা অনুষ্ঠিত হয়েছে। রোববার (২ আগস্ট) গাজীপুর জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের ভাওয়াল হল রুমে জেলা প্রশাসন, গাজীপুর ও ওয়ার্ল্ড ভিশন বাংলাদেশের যৌথ উদ্যোগে আয়োজিত এ কর্মশালায় গাজীপুরে কর্মরত প্রায় ৮০ জন প্রিন্ট, ইলেকট্রনিক ও অনলাইন গণমাধ্যমকর্মী অংশগ্রহণ করেন।
অনুষ্ঠানের শুরুতেই জাতীয় প্রেসক্লাবের সভাপতি হাসান হাফিজ গাজীপুরের জেলা প্রশাসক ও জেলা ম্যাজিস্ট্রেট মো. নূরুল করিম ভূঁইয়ার হাতে জাতীয় প্রেসক্লাবের সহযোগী সদস্যপদের সনদ তুলে দেন। এ সম্মাননা গ্রহণ করে আবেগাপ্লুত জেলা প্রশাসক বলেন, ‘এই স্বীকৃতি আমাকে আরও দায়িত্বশীলভাবে কাজ করার অনুপ্রেরণা জোগাবে। সাংবাদিক সমাজের এই সম্মান ও ভালোবাসা আমি আজীবন শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ রাখব। আপনারা আমাকে সত্যিই ঋণী করে ফেলেছেন।’
কর্মশালায় সভাপতিত্ব করেন গাজীপুরের জেলা প্রশাসক ও জেলা ম্যাজিস্ট্রেট মো. নূরুল করিম ভূঁইয়া। তিনি বলেন, ‘সমাজে ইতিবাচক পরিবর্তন আনতে গণমাধ্যমের ভূমিকা অপরিসীম। বিশেষ করে শিশু অধিকার, শিশুশ্রম, বাল্যবিবাহ প্রতিরোধ এবং সামাজিক সচেতনতা সৃষ্টিতে দায়িত্বশীল, বস্তুনিষ্ঠ ও তথ্যভিত্তিক সাংবাদিকতার কোনো বিকল্প নেই।’
প্রশিক্ষক হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ সংবাদ সংস্থার (বাসস)-এর ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও প্রধান সম্পাদক মো. কামাল উদ্দিন সবুজ, সরকারের প্রধান তথ্য কর্মকর্তা আবদাল আহমেদ, জাতীয় প্রেসক্লাবের সভাপতি হাসান হাফিজ, বাংলাদেশ ফেডারেল সাংবাদিক ইউনিয়নের (বিএফইউজে) মহাসচিব কাদের গণি চৌধুরী এবং ঢাকা সাংবাদিক ইউনিয়নের (ডিইউজে) সভাপতি মো. শহিদুল ইসলাম।
কর্মশালার প্রশিক্ষণ পর্ব পরিচালনা করেন জাতীয় প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক আইয়ুব ভূঁইয়া। এ ছাড়া ওয়ার্ল্ড ভিশন বাংলাদেশের দেবাশীষ রঞ্জন সরকার সাংবাদিকতার পেশাদারিত্ব, নৈতিকতা, সততা, বস্তুনিষ্ঠতা ও দায়িত্বশীলতার ওপর একটি প্রেজেন্টেশন উপস্থাপন করেন।
কর্মশালায় সাংবাদিকতার মৌলিক নীতিমালা, নৈতিক প্রতিবেদন তৈরির কৌশল, তথ্য যাচাই, শিশু সুরক্ষা, শিশুশ্রম ও বাল্যবিবাহবিষয়ক আইন এবং গণমাধ্যমের সামাজিক দায়বদ্ধতা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা ও মতবিনিময় অনুষ্ঠিত হয়। অংশগ্রহণকারী সাংবাদিকরা বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে প্রশ্ন করেন এবং জাতীয় পর্যায়ের সাংবাদিক নেতারা বাস্তব অভিজ্ঞতার আলোকে সেসব প্রশ্নের উত্তর দেন।
“বৃক্ষরোপণে সাজাই দেশ, সবার আগে বাংলাদেশ” এই প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে ফরিদপুরে শুরু হয়েছে বৃক্ষরোপণ অভিযান ও বৃক্ষমেলা-২০২৬। রোববার (২ আগস্ট) সকাল ১১টায় ফরিদপুর সিভিল সার্জন কার্যালয়ের সামনে জেলা প্রশাসন ও সামাজিক বন বিভাগ, ফরিদপুরের যৌথ উদ্যোগে আয়োজিত বৃক্ষমেলার উদ্বোধন করেন ফরিদপুর-৩ আসনের সংসদ সদস্য চৌধুরী নায়াব ইউসুফ।
ফরিদপুরের জেলা প্রশাসক মাজহারুল ইসলামের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি চৌধুরী নায়াব ইউসুফ বেলুন, পায়রা উড়িয়ে ফিতা কেটে মেলার আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন।
অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন ফরিদপুরের সিভিল সার্জন ডা. মাহমুদুল হাসান, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মিশকাতুল জান্নাত রাবেয়া, বিভাগীয় বন কর্মকর্তা তরিকুল ইসলাম, রেঞ্জ কর্মকর্তা তাওহীদ হোসেন, মহানগর যুবদলের সভাপতি বেনজীর আহমেদ তাবরিজ, সাধারণ সম্পাদক আলী রেজওয়ান বিশ্বাস তরুণ, কোতয়ালী থানা বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক নাজমুলঅ হাসান চৌধুরী রঞ্জন সহ বিএনপি ও বিভিন্ন সামাজিক-রাজনৈতিক সংগঠনের নেতৃবৃন্দ।
অনুষ্ঠানে বক্তারা বলেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের ঘোষিত ‘২৫ কোটি বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি’র অংশ হিসেবে আজ এই ফলদ ও বনজ বৃক্ষ মেলার আয়োজন করা হয়েছে। পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা এবং সবুজ বাংলাদেশ গড়ার লক্ষ্যে আমাদের এই উদ্যোগ চলমান থাকবে। পর্যায়ক্রমে আমরা প্রতিটি উপজেলায় এই বৃক্ষ মেলার আয়োজন করব। এর পাশাপাশি, প্রতিটি ইউনিয়নে তৃণমূল পর্যায়ে বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি সফলভাবে বাস্তবায়ন করা হবে।
পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা, জলবায়ু পরিবর্তনের বিরূপ প্রভাব মোকাবিলা এবং সবুজ বাংলাদেশ গড়তে ব্যাপকভাবে বৃক্ষ রোপণের কোনো বিকল্প নেই। তারা সবাইকে গাছ লাগানোর পাশাপাশি রোপণ করা গাছের যথাযথ পরিচর্যা করার আহ্বান জানান।
পরে অতিথিরা শিক্ষার্থীদের মাঝে ফলজ, বনজ ও ঔষধি গাছের চারা বিতরণ করেন। এছাড়া মেলায় অংশগ্রহণকারী বিভিন্ন স্টল পরিদর্শন করে স্টল মালিকদের সঙ্গে মতবিনিময় করেন।
মাদারীপুর পৌরসভার সার্বিক উন্নয়ন, সেবার মান বৃদ্ধি, পরিকল্পনা তৈরি এবং স্বনির্ভরতা অর্জনে রাজস্ব বৃদ্ধির উপায় চিহ্নিতকরণের লক্ষ্যে 'স্টেকহোল্ডার ওরিয়েন্টেশন প্রোগ্রাম' অনুষ্ঠিত হয়েছে।
রবিবার (২ আগস্ট) পৌরসভার সম্মেলন কক্ষে আয়োজিত উক্ত প্রোগ্রামে সভাপতিত্ব করেন পৌর প্রশাসক (উপ-সচিব) মোছাঃ জেসমিন আক্তার বানু। বিশ্ব ব্যাংক এবং স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি) এর সার্বিক সহযোগিতায় পরামর্শক প্রতিষ্ঠান 'এস,এফ আহমেদ অ্যান্ড কোং চার্টার্ড অ্যাকাউন্ট্যান্টস' এই কর্মশালার আয়োজন করে।
এতে প্রধান অতিথি ও বিশেষ আলোচক হিসেবে উপস্থিত থেকে আলোচনায় অংশগ্রহণ করেন স্থানীয় সরকার কারিগরি ও জলবায়ু সহনশীল অবকাঠামো সংস্কার (এলজিসিআরআরপি) প্রকল্পের প্রকল্প পরিচালক নাজমুস শাদাত, ডেপুটি টিম লিডার সায়মা আক্তার সহ অন্যান্য বিশেষজ্ঞ প্যানেল।
অনুষ্ঠানে পঞ্চবার্ষিক পরিকল্পনাকে সামনে রেখে দীর্ঘমেয়াদী মাস্টারপ্ল্যান, টেকসই উন্নয়ন এবং এজন্য করণীয় সম্পর্কে স্টেকহোল্ডারদের নিকট থেকে গুরুত্বপূর্ণ মতামত নেয়া হয়। পৌরসভার নির্বাহী কর্মকতা খন্দকার আবু আহম্মদ ফিরোজ ইলিয়াসের সঞ্চালনায় এসময় আরও উপস্থিত ছিলেন পৌরসভার প্রধান প্রকৌশলী শফিকুর রহমান সহ অন্যান্য কর্মকর্তাবৃন্দ।
উক্ত প্রোগ্রামে অংশগ্রহণারী সুশীল সমাজের প্রতিনিধি, গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ, গণমাধ্যম কর্মী, ব্যবসায়ী, বেসরকারী সামাজিক সংগঠনের প্রতিনিধি, চিকিৎসক এবং বিভিন্ন পেশাজীবী সংগঠনের নেতৃবৃন্দরা বলেন, একটি আধুনিক ও নাগরিকবান্ধব পৌরসভা গড়ে তুলতে সঠিক পরিকল্পনা এবং পর্যাপ্ত রাজস্ব আয়ের বিকল্প নেই।
এছাঠাড়াও, পৌরসভার অভ্যন্তরীণ আয় বৃদ্ধি নিশ্চিত করার পাশাপাশি নাগরিক সুবিধা সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছে দেওয়ার ওপর তারা বিশেষ গুরুত্বারোপ করে মাদারীপুরের জলাবদ্ধতা নিরসন, ড্রেনেজ ব্যবস্থার উন্নয়ন, বর্জ্য ব্যবস্থাপনা, যানজট নিরসন, মশক নিধন এবং পৌর কর আদায় সহজীকরণ বিষয়ে অত্যন্ত মূল্যবান ও গঠনমূলক মতামত প্রদান করেন।
পরে পরামর্শক দল উপস্থিত সকলের মতামত ও সুপারিশসমূহ নোট আকারে লিপিবদ্ধ করে তা' মূল উন্নয়ন পরিকল্পনায় অন্তর্ভুক্ত করার আশ্বাস দেন।