বুধবার, ১১ মার্চ ২০২৬
২৭ ফাল্গুন ১৪৩২

বঙ্গবন্ধু হত্যার কুশীলবদের চিহ্নিত করতে কমিশন হবে: আইনমন্ত্রী

আইনমন্ত্রী আনিসুল হক মঙ্গলবার সকালে জাতীয় শোক দিবস উপলক্ষে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আখাউড়ায় উপজেলা আওয়ামী লীগ আয়োজিত আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্য দেন। ছবি: দৈনিক বাংলা
প্রতিনিধি, ব্রাহ্মণবাড়িয়া
প্রকাশিত
প্রতিনিধি, ব্রাহ্মণবাড়িয়া
প্রকাশিত : ১৫ আগস্ট, ২০২৩ ১৭:৩৭

জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে সপরিবার হত্যার নেপথ্যের কুশীলবদের চিহ্নিত করতে তদন্ত কমিশন গঠন করা হবে বলে জানিয়েছেন আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রী আনিসুল হক। এজন্য প্রয়োজনীয় আইনের খসড়া তৈরি করা হয়েছে বলেও জানিয়েছেন তিনি।

বঙ্গবন্ধুর শাহাদতবার্ষিকী ও জাতীয় শোক দিবস উপলক্ষে মঙ্গলবার সকালে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আখাউড়া রেলওয়ে স্টেশনের সামনে উপজেলা আওয়ামী লীগ আয়োজিত আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা জানান।

আইনমন্ত্রী বলেন, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান বাংলাদেশের আনাচে-কানাচে গিয়ে বুঝিয়েছিলেন স্বাধিকার কী। তিনি বুঝিয়েছিলেন যদি বাংলাদেশের মানুষ অধিকার চায় তাহলে আন্দোলন করতে হবে এবং সেই সংগ্রাম, সেই আন্দোলনের নেতৃত্ব তিনি দিয়েছিলেন। বঙ্গবন্ধু কখনই পাকিস্তানের স্বৈরশাসকদের সঙ্গে আপস করেননি। তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তানের অনেক নেতা আইয়ুব খানের সঙ্গে আপস করেছেন।

বঙ্গবন্ধু বাংলাদেশের মানুষের জন্য ছয় দফা দাবি তুলেছেন জানিয়ে মন্ত্রী বলেন, এই ছয় দফার আন্দোলনকে বেগবান করতে গিয়ে বঙ্গবন্ধুকে আগরতলা ষড়যন্ত্র মামলা এক নম্বর আসামি হতে হয়েছিল। তখন বাংলার জনগণ ও ছাত্রদের আন্দোলনের কারণে আইয়ুব খান পূর্ব পাকিস্তান আওয়ামী লীগের সভাপতি শেখ মুজিবুর রহমানকে মুক্তি দিতে বাধ্য হন। মুক্তিলাভের পর যখন বঙ্গবন্ধু রেসকোর্স ময়দানে বক্তব্য দিতে আসেন, তখন বাংলার মানুষ বুঝতে পারে তিনি আমাদের প্রকৃত বন্ধু। সেদিন থেকে তিনি পরিচিত হন বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান নামে।

আনিসুল হক বলেন, পূর্ব পাকিস্তানে সরকার গঠনের নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠের সমর্থন থাকার পরও বঙ্গবন্ধুকে সরকার গঠন করতে দেওয়া হয়নি। কেননা তার সরকার বাংলার মানুষের কথা বলবে, বাঙালির কথা সংবিধানে লিখে রাখবে। তখন মুক্তিযুদ্ধের ডাক দিলে বঙ্গবন্ধুকে পাকিস্তানের কারাগারে নিয়ে যাওয়া হয়, তখনো কিন্তু পাকিস্তান সাহস পায়নি তাকে হত্যা করার। সারা বিশ্বের জনগণের চাপে বঙ্গবন্ধুকে মুক্তি দিতে বাধ্য হয়েছে। কিন্তু দুঃখের বিষয় বাংলাদেশেই কিছু বেইমান, মীরজাফর ও কুলাঙ্গাররা হত্যা করে বঙ্গবন্ধুকে।

‘বঙ্গবন্ধু যখন সোনার বাংলা গড়ার স্বপ্ন দেখছিলেন, তখনই তাকে হত্যা করা হয়। শুধু বঙ্গবন্ধুকে নয়, তার পরিবারকেও হত্যা করা হয়, উদ্দেশ্য ছিল বাংলাদেশ হত্যা করা। বাংলাদেশকে স্বাধীন করতে যারা চায়নি, সেই পরাজিত শক্তিই কিন্তু হত্যাকাণ্ডে জড়িত ছিল।’

আইনমন্ত্রী বলেন, ২০০১ সালের ষড়যন্ত্রমূলক এক নির্বাচনে বিএনপি ক্ষমতায় এলে বঙ্গবন্ধু হত্যার বিচার বন্ধ করে দেয়া হয়। ২০০২ সালের ২৭ মার্চ বিএনপির আইনমন্ত্রীকে ২-৩ জন জজ সুপ্রিম কোর্টে নিয়োগ দেয়ার কথা বলা হয়েছিল। এতে বঙ্গবন্ধু হত্যার বিচার শুরু করা যেত। কিন্তু ওই আইনমন্ত্রী ‘আচ্ছা’ বলে ক্ষমতার সময় পার করে দিয়েছেন। ২০০৯ সালে আওয়ামী লীগ সরকার যখন ক্ষমতায় আসে, তখনই বঙ্গবন্ধু হত্যাকাণ্ডের বিচার শেষ করা সম্ভব হয়েছে। বঙ্গবন্ধু হত্যাকাণ্ডে জড়িত যারা বাংলাদেশে ছিল এবং বিদেশ থেকে কয়েকজনকে ফিরিয়ে এনে রায় কার্যকর করা হয়েছে।

বঙ্গবন্ধুর দুই খুনি এখনো বিদেশে অবস্থান করছে উল্লেখ করে মন্ত্রী বলেন, বঙ্গবন্ধুর খুনিদের দুজন বিদেশে অবস্থান করছে। একজন আমেরিকায়, একজন কানাডায়। আমরা চেষ্টা করছি তাদের আনতে। যতক্ষণ আমরা আছি ততক্ষণ বঙ্গবন্ধুর খুনিদের এ পৃথিবীতে থাকতে দেবো না। বঙ্গবন্ধু হত্যার প্রতিশোধ নিতে হবে। তবে হত্যা করে নয়, যারা খুনি তাদের বিচারের কাঠগড়ায় দাঁড় করিয়ে। প্রতিশোধ নেওয়াটা হবে যারা বঙ্গবন্ধুকে হত্যা করে বাংলাদেশ বিলীন করতে চেয়েছিল, বাংলাদেশকে সোনার বাংলা বানিয়ে দেখিয়ে দিতে হবে, বঙ্গবন্ধু কখনই বাংলাদেশে মরবেন না।

বঙ্গবন্ধু হত্যার নেপথ্যের কুশীলবদের খুঁজে বের করতে তদন্ত কমিশন গঠনের কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, আমরা কমিশন গঠন করবো। আমরা সেই আইনের ড্রাফট (খসড়া) করে ফেলেছি। আপনারা হয়তো বলবেন, অনেকেই তো মারা গেছেন, তাহলে এখন কেন এটা করা হবে? আমি বলতে চাই, কোনো প্রতিহিংসার কারণে নয়; জাতিকে সঠিক ইতিহাস জানানোর জন্য এটা আমরা করবো।

আখাউড়া উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি মোহাম্মদ আলী চৌধুরী সভায় সভাপতিত্ব করেন। সঞ্চালনা করেন সাধারণ সম্পাদক তাকজিল খলিফা কাজল। উপজেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম-আহ্বায়ক মো. মনির হোসেন বাবুল ও একেএম আতাউড় রহমান নাজিম, ছাত্রলীগ সভাপতি শাহাব উদ্দিন বেগ শাপলুসহ আওয়ামী লীগ ও এর অঙ্গসংগঠনের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতা বঙ্গবন্ধুর জীবনাদর্শ, দর্শন ও কর্ম নিয়ে আলোচনা করেন।

এর আগে আইনমন্ত্রী রেলপথে ঢাকা থেকে আখাউড়ায় আসেন। পরে কসবায় এক শোক দিবসের কর্মসূচিতে অংশ নেন তিনি।


বিএমইউ এর ল্যাবরেটরি সার্ভিস অটোমেশন কার্যক্রম উদ্বোধন

আপডেটেড ১০ মার্চ, ২০২৬ ১৭:৪৩
অনলাইন ডেস্ক

বাংলাদেশ মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয় (বিএমইউ) হাসপাতালে স্বাস্থ্যসেবাকে আরও আধুনিক, দ্রুত ও নির্ভুল করতে ল্যাবরেটরি সার্ভিস অটোমেশন কার্যক্রমের উদ্বোধন করা হয়েছে।

আজ মঙ্গলবার ১০ মার্চ ২০২৬ইং তারিখে শহীদ ডা. মিলন হলে প্রধান অতিথি হিসেবে এই কার্যক্রমের শুভ উদ্বোধন করেন বিএমইউর মাননীয় ভাইস-চ্যান্সেলর অধ্যাপক ডা. মোঃ শাহিনুল আলম। অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন সম্মানিত প্রো-ভাইস চ্যান্সেলর (গবেষণা ও উন্নয়ন) অধ্যাপক ডা. মোঃ মুজিবুর রহমান হাওলাদার, সম্মানিত কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক ডা. নাহরীন আখতার, রেজিস্ট্রার অধ্যাপক ডা. মোঃ নজরুল ইসলাম, আইটি সেলের সম্মানিত পরিচালক অধ্যাপক ডা. এ কে এম আখতারুজ্জামান, পূবালী ব্যাংক পিএলসির সম্মানিত এমডি এন্ড সিইও জনাব মোহাম্মদ আলী।

সভাপতিত্ব করেন বিএমইউর বেসিক সাইন্স ও প্যারাক্লিনিক্যাল সায়েন্স অনুষদের সম্মানিত ডীন ও ল্যাবরেটরি সার্ভিস পরিচালনা কমিটির সভাপতি অধ্যাপক ডা. সাইফ উল্লাহ মুন্সী। শুভেচ্ছা বক্তব্য রাখেন ও অটোমেশন কার্যক্রমের উপর প্রেজেনটেশন করেন বিএমইউর ল্যাবরেটরি সার্ভিস অটোমেশন কমিটির সভাপতি ও হেমাটোলজি বিভাগের অধ্যাপক ডা. আমীন লুৎফুল কবীর। অনুষ্ঠানে বিএমইউ এর মেডিসিন অনুষদের ডীন অধ্যাপক ডা. শামীম আহমেদ, সার্জারি অনুষদের ডীন অধ্যাপক ডা. মোঃ ইব্রাহীম সিদ্দিক, মেডিক্যাল টেকনোলজি অনুষদের ডীন অধ্যাপক ডা. এম আবু হেনা চৌধুরী, এ্যানেসথেশিয়া, এ্যানালজেশিয়া এন্ড ইনটেসসিভ কেয়ার মেডিসিন বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ডা. মোঃ মোস্তফা কামাল, ল্যাবরেটরি মেডিসিন বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ডা. মোঃ সাইফুল ইসলাম, পরিচালক (অর্থ ও হিসাব) জনাব খন্দকার শফিকুল হাসান রতন, পরিচালক (মানবসম্পদ ব্যবস্থাপনা বিভাগ) মোঃ মাসুদ রানা প্রমুখসহ বিভিন্ন বিভাগের সম্মানিত শিক্ষকবৃন্দ, বিভাগীয় চেয়ারম্যানবৃন্দ ও অফিস প্রধানগণ উপস্থিত ছিলেন। সঞ্চালনা করেন বিএমইউর ল্যাবরেটরি সার্ভিস অটোমেশন কমিটির সদস্য সচিব ডা. এ এস এম নওরোজ। শহীদ ডা. মিলন হলে অনুষ্ঠান শেষে মাননীয় ভাইস-চ্যান্সেলর অধ্যাপক ডা. মোঃ শাহিনুল আলম, ওপিডি-২ এ ফিতা কেটে এই কার্যক্রমের শুভ উদ্বোধন করেন।

ল্যাবরেটরি সার্ভিস অটোমেশন হওয়ায় রোগীরা একই স্থানে তার প্রয়োজনীয় টেস্ট এর টাকা জমা দিয়ে নিকটবর্তী কাউন্টারে স্যাম্পল দিতে পারবেন। এতে করে রোগীদের ভোগান্তি দূর হবে, দ্রুততম সময়ে রিপোর্ট প্রদান করা সম্ভব হবে এবং রোগীরা অনলাইনে তার রিপোর্ট দেখতে পাবেন।

ভাইস-চ্যান্সেলর অধ্যাপক ডা. মোঃ শাহিনুল আলম বলেন, পৃথিবী অনেক দূর এগিয়েছে। সেভাবেই এগিয়ে যেতে হবে। সেবার গুণগত মান বৃদ্ধি করতে হবে। ল্যাবরেটরি সার্ভিস অটোমেশন একটি অপরিহার্য বিষয়। এটা ল্যাব এক্রেডিটেশনে অবদান রাখবে। একই সাথে টেস্ট করাতে গিয়ে রোগীরা যে নানা ধরণের ভোগান্তির শিকার হয় তা দূর হবে। রোগীরা সহজেই টেস্টের টাকা জমা দিয়ে দ্রুত স্যাম্পল দিয়ে দ্রুত রিপোর্ট পাবেন রোগীদের জন্য এই যে অতি প্রয়োজনীয় কার্যক্রম তা অনেকটাই এগিয়ে গেল। তিনি আরো বলেন, এগিয়ে যাওয়ার এই যুগে মেডিক্যাল সেক্টরের প্রতিটি স্তরে ‘এ আই’ এর ব্যবহারও অপরিহার্য। তাই ‘এই আই’ বিষয়েও এখনই প্রয়োজনীয় জ্ঞান ও দক্ষতা অর্জনে সংশ্লিষ্টদের অধিক মনোযোগী হতে হবে।

এছাড়া অন্য বক্তারা তাদের বক্তব্যে বলেন, ল্যাবরেটরি সার্ভিস অটোমেশন হওয়ায় দুই যুগেরও বেশি সময়ের একটি প্রত্যাশা পূরণ হলো। নির্ভুল চিকিৎসার জন্য উন্নত ল্যাবরেটরি সার্ভিস এর বিকল্প নাই। ইতিমধ্যে অটোমেশন কার্যক্রমের আওতায় বিএমইউ এর বহির্বিভাগে টিকেট অনলাইনে রোগীরা অ্যাপয়েন্টমেন্ট নিতে পারছেন। ইতিমধ্যে লক্ষাধিক রোগী অনলাইনে অ্যাপয়েন্টমেন্ট নিয়েছেন। ধাপে ধাপে বিএমইউ এর প্রয়োজনীয় সকল কার্যক্রম অটোমেশন এর আওতায় নিয়ে তা বাস্তবায়ন করা হবে।


ব্রাহ্মণপাড়ায় মাছ ভাগাভাগি নিয়ে সংঘর্ষে এক ব্যক্তি গুরুতর আহত

আপডেটেড ১০ মার্চ, ২০২৬ ১৫:২৭
তরিকুল ইসলাম তরুন, কুমিল্লা প্রতিনিধি

কুমিল্লার ব্রাহ্মণপাড়া উপজেলার শশিদল ইউনিয়নের মানরা গ্রামে মাছ ভাগাভাগিকে কেন্দ্র করে সংঘর্ষে এক ব্যক্তি গুরুতর আহত হয়েছেন। শুক্রবার (৬ মার্চ) সকাল ১০টার দিকে মানরা গ্রামের সাবেক চেয়ারম্যান নজরুল ইসলাম চেয়ারম্যানের বাড়ির পুকুরঘাটে এ ঘটনা ঘটে।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, পুকুর থেকে মাছ ধরার পর অংশীদারদের মধ্যে মাছ বণ্টন নিয়ে বিরোধের সৃষ্টি হয়। এ সময় ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের বর্তমান সভাপতি ও সাবেক চেয়ারম্যান নজরুল ইসলাম এবং তার ভাতিজা সিলেট জেলা আদালতের নাজির আবুল কালাম আজাদের সঙ্গে অপর অংশীদার হাফিজুল ইসলামের কথা কাটাকাটি হয়। একপর্যায়ে আবুল কালাম আজাদ লাঠি দিয়ে তার আপন চাচা হাফিজুল ইসলামকে পিটিয়ে রক্তাক্ত জখম করেন। এতে তার চোখ, গাল, পিঠ ও হাঁটুতে গুরুতর আঘাত লাগে।

হাফিজুল ইসলামের চিৎকারে স্থানীয়রা এগিয়ে এসে তাকে উদ্ধার করে ব্রাহ্মণপাড়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। সেখানে জরুরি বিভাগে চিকিৎসকরা রক্তপাত বন্ধ করে কাটা স্থানে সেলাই দিয়ে প্রাথমিক চিকিৎসা দেন। পরে উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে কুমিল্লা শহরে পাঠানো হয়।

এ ঘটনায় আহত হাফিজুল ইসলাম বাদী হয়ে ব্রাহ্মণপাড়া থানায় একটি অভিযোগ দায়ের করেছেন। অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে শনিবার (৭ মার্চ) সকাল ১১টার দিকে থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) সুজন ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন।

এসআই সুজন গণমাধ্যমকে জানান, মাছ বণ্টনকে কেন্দ্র করে পারিবারিক বিরোধের জেরে মারধরের ঘটনা ঘটেছে বলে প্রাথমিকভাবে সত্যতা পাওয়া গেছে। বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

এ বিষয়ে ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি ও সাবেক চেয়ারম্যান নজরুল ইসলাম বলেন, তিনি মারধরের সঙ্গে জড়িত নন। বরং ঘটনার সময় তিনি দু’পক্ষকে থামানোর চেষ্টা করেছেন।

অন্যদিকে ভুক্তভোগী হাফিজুল ইসলাম ও তার ছেলে অভিযোগ করেন, নজরুল ইসলাম চেয়ারম্যান দীর্ঘদিন ধরে তাদের সম্পত্তি জোরপূর্বক দখল করে রেখেছেন এবং বাড়িতে প্রবেশের রাস্তার ওপর মুরগির ঘর নির্মাণ করে চলাচল বন্ধ করে দিয়েছেন। সম্পত্তির ভাগবাটোয়ারার কথা বললে তাদের হুমকি ও মারধর করা হয়।

তারা দ্রুত নজরুল ইসলাম ও আবুল কালাম আজাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য প্রশাসনের কাছে দাবি জানিয়ছেন।


১০৬৪ কোটি টাকার প্রকল্প: প্রশস্ত হচ্ছে রাঙামাটি–খাগড়াছড়ি মহাসড়ক, কমবে দুর্ঘটনার আতঙ্ক

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
রাঙামাটি জেলা প্রতিনিধি

পার্বত্য অঞ্চলের গুরুত্বপূর্ণ সড়ক যোগাযোগে বড় পরিবর্তন আনতে যাচ্ছে সরকার। দীর্ঘদিনের দাবি পূরণ করে জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটি (একনেক) ‘রাঙামাটি (মানিকছড়ি)–মহালছড়ি–খাগড়াছড়ি আঞ্চলিক মহাসড়ক প্রশস্তকরণ ও যথাযথমানে উন্নীতকরণ’ প্রকল্প অনুমোদন দিয়েছে। প্রায় ১ হাজার ৬৪ কোটি ২৬ লাখ টাকা ব্যয়ে বাস্তবায়িত হতে যাওয়া এই প্রকল্পের মাধ্যমে দীর্ঘদিনের ঝুঁকিপূর্ণ ও দুর্ঘটনাপ্রবণ সড়কটি আধুনিক ও নিরাপদ মহাসড়কে রূপ নিতে যাচ্ছে।

সড়ক ও জনপথ (সওজ) বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, বর্তমানে মাত্র ১২ ফুট প্রশস্ত এক লেনের এই সড়ককে ১৮ ফুট প্রশস্ত দুই লেনে উন্নীত করা হবে। প্রকল্পের আওতায় ৬১ দশমিক ৫ কিলোমিটার দীর্ঘ এই আঞ্চলিক মহাসড়কটি প্রশস্ত ও আধুনিকায়ন করা হবে। একই সঙ্গে নতুন করে ৮৫টি কালভার্ট নির্মাণ এবং বিদ্যমান ১৩টি কালভার্ট সম্প্রসারণ করা হবে। এছাড়া প্রায় ৮০ হাজার বৃক্ষরোপণের সংস্কার কার্যক্রমও থাকবে।

সরকারি অর্থায়নে বাস্তবায়িত এই প্রকল্পের কাজ ২০২৬ সালের জানুয়ারি থেকে শুরু হয়ে ২০২৯ সালের ডিসেম্বরের মধ্যে শেষ করার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রণালয়ের উদ্যোগে সড়ক ও জনপথ অধিদপ্তর প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করবে।

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, সড়কটি প্রশস্ত ও উন্নত হলে দুর্ঘটনার ঝুঁকি অনেকটাই কমে আসবে। পাশাপাশি পাহাড়ি দুই জেলা রাঙামাটি ও খাগড়াছড়ির মধ্যে যোগাযোগ হবে দ্রুত ও নিরাপদ। এতে কৃষি, ক্ষুদ্র শিল্প এবং পর্যটন শিল্পের বিকাশ ঘটবে। বিশেষ করে সাজেকসহ পার্বত্য অঞ্চলের বিভিন্ন পর্যটন কেন্দ্রে যাতায়াত আরও সহজ ও আরামদায়ক হবে।

এই সড়কে নিয়মিত চলাচলকারী ট্রাক ও অটোরিকশা চালক অজয় আসাম ও মো. মিজান বলেন, “সড়কটি বড় হলে আমরা নিরাপদে গাড়ি চালাতে পারব। দুর্ঘটনাও কমবে। যোগাযোগ ব্যবস্থা ভালো হলে এলাকার সার্বিক উন্নয়নও হবে।”

রাঙামাটির মানিকছড়ি এলাকার বাসিন্দা ও সচেতন নাগরিক আবু বক্কর সিদ্দিক জানান, প্রায় সাড়ে ৬১ কিলোমিটার দীর্ঘ এই সড়কটি বর্তমানে অত্যন্ত সরু এবং অসংখ্য তীক্ষ্ণ বাঁক ও পাহাড়ি ঢালে ভরা। দীর্ঘদিন ধরে ভারী যানবাহন চলাচলের কারণে প্রায়ই দুর্ঘটনা ঘটে আসছিল। বিশেষ করে রাঙামাটি সদর, নানিয়ারচর ও মহালছড়ি উপজেলার মানুষের জন্য এই সড়কটি ছিল আতঙ্কের নাম।

নানিয়ারচর এলাকার বাসিন্দা মোহাম্মদ নুরুজ্জামান বলেন, “চার দশক ধরে সড়কটি অনেকটা অবহেলিত ছিল। ঝুঁকিপূর্ণ বাঁকের কারণে গাড়ি চালাতে ভয় লাগত। এখন সড়ক প্রশস্ত করার খবর আমাদের জন্য স্বস্তির।”

রাঙামাটি সড়ক ও জনপদ বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী সবুজ চাকমা জানান, রাঙামাটি–মহালছড়ি–খাগড়াছড়ি সড়কটি একটি গুরুত্বপূর্ণ আঞ্চলিক মহাসড়ক। এর বর্তমান প্রশস্ততা মাত্র ১২ ফুট হওয়ায় যান চলাচলে নানা ঝুঁকি ছিল। তিনি বলেন, “বর্তমান সরকার সড়কটি প্রশস্ত ও আধুনিক মানে উন্নীত করার উদ্যোগ নিয়েছে। গত ২৫ জানুয়ারি ২০২৬ সালে একনেক সভায় ১০৬৪ কোটি টাকা ব্যয়ে প্রকল্পটি অনুমোদন দেওয়া হয়েছে।”

তিনি আরও জানান, নির্ধারিত সময়ের মধ্যে প্রকল্পের কাজ শেষ হলে পার্বত্য অঞ্চলের যোগাযোগ ব্যবস্থায় নতুন দিগন্ত উন্মোচিত হবে। পাশাপাশি পর্যটন শিল্পের বিকাশ ঘটবে এবং সড়ক দুর্ঘটনা উল্লেখযোগ্যভাবে কমে আসবে।


মৌলভীবাজারে ১৫৫০ দরিদ্র পরিবার পেল খাদ্যসামগ্রী

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
মৌলভীবাজার প্রতিনিধি

পবিত্র মাহে রমজান উপলক্ষে মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গলে ১ হাজার ৫৫০ অসহায় ও দরিদ্র পরিবারের মধ্যে খাদ্যসামগ্রী বিতরণ করা হয়েছে।

সোমবার (৯ মার্চ) সকালে শহরের জেলা পরিষদ অডিটোরিয়ামে সামাজিক সংগঠন ‘হৃদয়ে শ্রীমঙ্গল’-এর উদ্যোগে এ খাদ্যসামগ্রী বিতরণ করা হয়। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন মৌলভীবাজার-৪ (শ্রীমঙ্গল-কমলগঞ্জ) আসনের সংসদ সদস্য মুজিবুর রহমান চৌধুরী।

সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক আব্দুল্লাহ আল মামুন টিটুর সভাপতিত্বে এবং নির্বাহী সদস্য দেলোয়ার হোসেনের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য দেন রমজানের খাদ্যসামগ্রী বিতরণ কার্যক্রমের প্রধান সমন্বয়ক হারুনুর রশিদ।

অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য দেন হৃদয়ে শ্রীমঙ্গলের সভাপতি আব্দুর রকিব রাজু, প্রধান নির্বাহী আজিজুল হক কায়েস, সাবেক সভাপতি জহির উদ্দিন চৌধুরী বাবলু, সরফরাজ আহমেদ সরফু, মো. মোবারক হোসেন, একরামুল কবীর, মসদ্দর আলী, মাওলানা নোমানী ও মকসুদ আলী।

সংগঠনের নির্বাহী সদস্য দেলোয়ার হোসেন জানান, ‘প্রতি বছরের মতো এবারও রমজান মাসে বিভিন্ন মানবিক কার্যক্রম পরিচালনা করা হচ্ছে। এ বছর উপজেলার ১ হাজার ৫৫০ জন অসহায় মানুষের মাঝে খাদ্যসামগ্রী বিতরণ করা হয়েছে। প্রতিটি প্যাকেটে ১০ কেজি চাল, ৩ কেজি আলু, ১ লিটার সয়াবিন তেল, ১ কেজি পেঁয়াজ, ১ কেজি লবণ, ১ প্যাকেট সেমাই ও ১ কেজি ডাল দেওয়া হয়।’

তিনি আরও বলেন, ‘হৃদয়ে শ্রীমঙ্গল’ গত আট বছর ধরে উপজেলাজুড়ে বিভিন্ন সমাজকল্যাণমূলক কর্মকাণ্ড পরিচালনা করে আসছে। এর মধ্যে রয়েছে অসুস্থদের চিকিৎসা সহায়তা, বেকার যুবকদের কর্মসংস্থানের লক্ষ্যে বিনামূল্যে কম্পিউটার ও আইটি প্রশিক্ষণ, রিকশা ও সেলাই মেশিন বিতরণ, বিশুদ্ধ পানির জন্য গভীর নলকূপ স্থাপন, বিভিন্ন ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানে আর্থিক সহায়তা প্রদান এবং প্রাকৃতিক দুর্যোগের সময় খাদ্যসামগ্রী বিতরণসহ নানা মানবিক উদ্যোগ।


ভাঙ্গুড়ায় আনসার-ভিডিপি সদস্যদের ইফতার মাহফিল

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
ভাঙ্গুড়া (পাবনা) প্রতিনিধি

বাংলাদেশ আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনী পাবনার ভাঙ্গুড়া উপজেলা আনসার ও ভিডিপি কার্যালয়ের উদ্যোগে উপজেলার ভাতাভোগী সদস্যদের সঙ্গে কর্মকর্তাদের ইফতার ও দোয়া মাহফিল হয়েছে। সোমবার (৯ মার্চ) ভাঙ্গুড়া উপজেলা আনসার ও ভিডিপি কার্যালয়ে এ ইফতার ও দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়। ইফতারের পূর্ব মুহূর্তে দেশ ও বাহিনীর সার্বিক কল্যাণ, অগ্রগতি এবং শান্তি কামনায় বিশেষ মোনাজাত পরিচালনা করা হয়।

এ সময় ভাঙ্গুড়া উপজেলা আনসার ও ভিডিপি‍র উপজেলা প্রশিক্ষক (টিআই) নিখিল চন্দ্র, প্রশিক্ষিকা মোছা. আফরোজা খাতুন, ভাঙ্গুড়া উপজেলা আনসার কোম্পানি কমান্ডার সাখাওয়াত হোসেন, উপজেলার মন্ডতোষ ইউনিয়ন দলনেতা মো. সবুজ হোসেন, দিলপাশার ইউনিয়ন দলনেত্রী আজমিনা খাতুন, ওয়ার্ড দলনেতা আছাদুল হক, ওয়ার্ড দলনেত্রী রেশমা খাতুন, ভাঙ্গুড়া ইউনিয়ন আনসার প্লাটুন কমান্ডার আলতাব হোসেন, অষ্টমনিষা ইউনিয়ন সহকারী আনসার প্লাটুন কমান্ডার হাফিজুর রহমান, বিভিন্ন ইউনিয়ন দলনেতা-দলনেত্রী, ওয়ার্ড দলনেতা-দলনেত্রী, ইউনিয়ন আনসার প্লাটুন কমান্ডার ও সহকারী আনসার প্লাটুন কমান্ডাররা উপস্থিত ছিলেন।

ভাঙ্গুড়া উপজেলা আনসার ও ভিডিপি কর্মকর্তা আব্দুর রউফ জানান, দেশের বিভিন্ন ক্রান্তিকালে আনসার-ভিডিপির সদস্যরা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। পাশাপাশি তারা দেশের মানবকল্যাণেও নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে। ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্যের আবহে আয়োজিত এই ইফতার মাহফিল বাহিনীর সদস্যদের মধ্যে পারস্পরিক সম্প্রীতি এবং ঐক্য আরও জোরদার করবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।


ভোলায় মাদকবিরোধী র‍্যালি ও সচেতনতামূলক সভা অনুষ্ঠিত

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
ভোলা প্রতিনিধি

ভোলার বোরহানউদ্দিন উপজেলায় স্কুল ও কলেজের শিক্ষার্থীদের মাঝে মাদকের কুফল ও সচেতনতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে উপজেলা প্রশাসনের আয়োজনে মাদক বিরোধী সচেতনতামূলক সভা ও র‍্যালি হয়েছে। ‎সোমবার (৯ মার্চ) বেলা সাড়ে ১১টায় বোরহানউদ্দিন উপজেলা প্রশাসনের সভাকক্ষে এ সচেতনতামূলক সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভা শেষে মাদক বিরোধী গণস্বাক্ষর ও র‍্যালি হয়। র‍্যালিটি উপজেলা প্রশাসন চত্বর থেকে শুরু হয়ে কুতুবা মাধ্যমিক বিদ্যালয় এলাকা গুরে একই স্থানে এসে শেষ হয়। সচেতনতার বার্তা নিয়ে বের করা র‍্যালিতে ফেস্টুনের মাধ্যমে মাদককে ‘না’ বলার বিভিন্ন বার্তা লিখে আহ্বান জানানো হয়।

‎সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে স্কুল ও কলেজের শিক্ষার্থী ও যুবদের উদ্দেশ্যে মাদকের কুফলতা তুলে ধরে বক্তব্য দেন উপজেলা নির্বাহী অফিসার মনোরঞ্জন বর্মন।

‎তিনি বলেন, মাদকের নীল দংশন থেকে বাঁচতে হলে সবার প্রথমে নিজেকে সচেতন হতে হবে। আপনারা এখানে যারা উপস্থিত আছেন এখান থেকে যাওয়ার পর আপনারা মাদকের বিরুদ্ধে এম্বাসেডর হিসেবে কাজ করবেন, মাদকের কুফলতা সম্পর্কে শিক্ষার্থীদের জানাবেন তাদের সচেতন করবেন। স্কুল কলেজ পাড়া মহল্লায় মাদকের বিরুদ্ধে জনসচেতনতামূলক প্রচার প্রচারনা বাড়াতে হবে। বোরহানউদ্দিন উপজেলা প্রশাসন মাদকের বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স নীতিতে রয়েছে। মাদক গ্রহীতা মাদক বিক্রেতা ও মাদকসেবীদের কোনো তথ্য থাকলে আপনারা আমাদের তথ্য দিয়ে সহযোগিতা করবেন।

‎‎বোরহানউদ্দিন থানার ওসি মো. মনিরুজ্জামান মাদকের ভয়াবহতা সম্পর্কে শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে আইনি বক্তব্য প্রদান করেন এছাড়া তার যোগদানের পর মাদক উদ্ধার ও আইনশৃংখলা পরিস্থিতির চিত্র তুলে ধরেন।

‎‎এই সময় উপস্থিত ছিলেন, হাফিজ ইব্রাহিম কলেজের অধ্যক্ষ জাকারিয়া আজম, যুব উন্নয়ন অধিদপ্তরের উপপরিচালক রোকন উদ্দিন ভূঞা, উপজেলা যুব উন্নয়ন কর্মকর্তা খবির হোসেন চৌধুরী, উপজেলা স্বাস্থ কমপ্লেক্সের আবাসিক মেডিকেল অফিসার, রিজওয়ানুল ইসলাম, বিভিন্ন যুব সংগনের প্রতিনিধি, হাফিজ ইব্রাহিম কলেজের শিক্ষার্থী, উপজেলা প্রশাসনের বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তা, স্থানীয় সামাজিক সংগঠন ও সাংবাদিকবৃন্দ।


বাঁধের অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ হয়নি ৯ মাসেও

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
পাবনা প্রতিনিধি

পাবনার ফরিদপুর উপজেলায় বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধ দখল করে গড়ে ওঠা অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদে দেওয়া ‘সাত দিনের’ আলটিমেটাম নয় মাসেও কার্যকর হয়নি। উচ্ছেদের চূড়ান্ত নোটিশ জারি করে কর্তৃপক্ষ নীরব হয়ে যাওয়ায় দখলদাররা আরও বেপরোয়া হয়ে ওঠেছে। বর্তমানে বাঁধের ওপর সারিবদ্ধ পাকা ও আধাপাকা দোকানঘর নির্মাণ করে স্থায়ীভাবে ব্যবসা পরিচালনা করা হচ্ছে, যা বাঁধের স্থায়িত্ব ও জননিরাপত্তাকে চরম ঝুঁকিতে ফেলেছে।

পাউবোর ডেমরা পানি উন্নয়ন শাখা থেকে গত বছরের ২৯ মে একটি দাপ্তরিক নোটিশ (স্মারক নং- ডি/এসএই/১০২/১(৩) জারি করা হয়েছিল। ওই নোটিশে রাউত মিরধাপাড়া এলাকার ১৫ জন দখলদারকে সাত দিনের মধ্যে তাদের স্থাপনা সরিয়ে নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়। ১৯৭০ সালের ভূমি ও ইমারত (দখল পুনরুদ্ধার) অধ্যাদেশ অনুযায়ী জারিকৃত ওই নোটিশে বলা হয়েছিল, বাঁধের ওপর অবৈধ ঘরবাড়ির কারণে বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধটি অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়েছে। গতকাল সোমবার ফরিদপুর উপজেলার ওই এলাকায় গিয়ে দেখা যায়, পাউবোর নির্দেশ অমান্য করে দখলদাররা আরও জাকিয়ে বসেছে। ছবিগুলোতে দেখা যায়, বাঁধের ওপর অত্যন্ত সুপরিকল্পিতভাবে পাকা দেওয়াল ও স্টিলের শাটল গেট লাগিয়ে সারিবদ্ধ দোকানঘর তৈরি করা হয়েছে। কোথাও কোথাও মুদি দোকান ও ফ্ল্যাক্সিলোডের দোকানের পাশাপাশি রাস্তার ওপরই রাখা হয়েছে বিপুল পরিমাণ কাঠ ও নির্মাণসামগ্রী।

মূল সড়কের একদম গাঘেঁষে এসব স্থাপনা গড়ে ওঠায় গুরুত্বপূর্ণ এই আঞ্চলিক সড়কটি অত্যন্ত সরু হয়ে গেছে। ফলে যানবাহন চলাচলে বিঘ্ন ঘটছে এবং যেকোনো সময় বড় ধরনের দুর্ঘটনার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। অথচ নোটিশ অনুযায়ী, এসব স্থাপনা অনেক আগেই গুঁড়িয়ে দেওয়ার কথা ছিল।

স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, প্রশাসনের রহস্যজনক ঢিলেঢালা ভাবের কারণে উচ্ছেদ প্রক্রিয়া থমকে আছে। নাম প্রকাশ না করার শর্তে একজন বাসিন্দা বলেন, ‘কর্তৃপক্ষ শুধু কাগজে-কলমে নোটিশ দিয়ে দায় সারে। দখলদাররা প্রভাবশালী হওয়ায় ৯ মাসেও কেউ তাদের স্পর্শ করার সাহস পায়নি।’

উচ্ছেদ অভিযান বিলম্বিত হওয়ার বিষয়ে জানতে পাবনা পানি উন্নয়ন বোর্ডের সংশ্লিষ্ট দপ্তরে যোগাযোগ করা হলে কর্মকর্তারা জানান, উচ্ছেদ অভিযান প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। তবে কেন নয় মাসেও তা বাস্তবায়ন করা সম্ভব হয়নি, সে বিষয়ে তারা কোনো সদুত্তর দিতে পারেননি।

সংশ্লিষ্ট মহলের দাবি, বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এবং সরকারি সম্পত্তি রক্ষায় কোনো প্রকার কালক্ষেপণ না করে দ্রুত উচ্ছেদ অভিযান পরিচালনা করা জরুরি।


সিংগাইরে তিন কালভার্টের নির্মাণকাজ বন্ধ, ঠিকাদার উধাও

* ভোগান্তিতে স্থানীয় বাসিন্দারা * দ্রুত কাজ শেষ করার দাবি
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
সিংগাইর (মানিকগঞ্জ) প্রতিনিধি

মানিকগঞ্জের সিংগাইর উপজেলায় দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা অধিদপ্তরের আওতাধীন তিনটি কালভার্ট নির্মাণ প্রকল্পের কাজ অসম্পূর্ণ রেখে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান উধাও হয়ে যাওয়ার অভিযোগ উঠেছে। ফলে ভোগান্তিতে পড়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। দ্রুত কাজ শেষ করার দাবি জানিয়েছেন ভুক্তভোগীরা।

উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন অফিস সূত্রে জানা গেছে, ধল্লা ইউনিয়নের ফোর্ডনগর মোল্লাপাড়া, জয়মন্টপ ইউনিয়নের নীলটেক বেপারীপাড়া এবং চান্দহর ইউনিয়নের রিফায়েতপুর চকে—এই তিনটি কালভার্ট নির্মাণের কাজ পায় ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান আনিস এন্টারপ্রাইজ।

সরেজমিন দেখা গেছে, ধল্লা ইউনিয়নের ফোর্ডনগর মোল্লাপাড়ায় ১১ মিটার দীর্ঘ একটি কালভার্টের নির্মাণ ব্যয় ধরা হয় ৪০ লাখ ৫০ হাজার টাকা। ২০২৪ সালের ১৬ মে কাজ শুরু হয়ে একই বছরের ১৬ নভেম্বর শেষ হওয়ার কথা থাকলেও ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান কেবল বেইজ ঢালাই করে কাজ বন্ধ করে দেয়।

স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, প্রায় এক বছর আগে কাজ বন্ধ হয়ে যাওয়ার পর আর কোনো অগ্রগতি হয়নি। ফলে চলাচলে চরম দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে এলাকাবাসীকে। গ্রামের বাসিন্দা ও দলিল লেখক আইয়ুব মোল্লা বলেন, ‘দ্রুত কালভার্টের কাজ শেষ না হলে আগামী বর্ষা মৌসুমে মানুষের ভোগান্তি চরমে পৌঁছাবে।’

জয়মন্টপ ইউনিয়নের নীলটেক বেপারীপাড়ায় ২৩ লাখ ৬৪ হাজার টাকা ব্যয়ে নির্মিত ৬ মিটার দীর্ঘ একটি কালভার্ট প্রায় এক বছর আগে সম্পন্ন হলেও দুই পাশের সংযোগস্থলে মাটি ভরাট না করায় সেটি ব্যবহারের অনুপযোগী হয়ে আছে। ফলে পূর্ব ও পশ্চিম পাশের গ্রামবাসী যাতায়াতে চরম দুর্ভোগে পড়েছেন। স্থানীয়রা দ্রুত সংযোগ সড়ক ভরাটের দাবি জানিয়েছেন।

চান্দহর ইউনিয়নের রিফায়েতপুর চকে ডালিপাড়া–রিফায়েতপুর সড়কে ১১ মিটার দীর্ঘ আরেকটি কালভার্ট নির্মাণে ব্যয় ধরা হয় ৪০ লাখ ৫০ হাজার টাকা। প্রকল্পের মেয়াদ শেষ হয়েছে এক বছর আগে। অভিযোগ রয়েছে, ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান ইতোমধ্যে প্রায় ২০ লাখ টাকার বিল উত্তোলন করেছে। অথচ কালভার্টের দুই পাশের সংযোগস্থলে মাটি ভরাট না করায় এটি কার্যত অচল হয়ে রয়েছে।

রিফায়েতপুর গ্রামের বাসিন্দা ও ৫ নম্বর ওয়ার্ডের সদস্য কলিমুদ্দিন সিকদার অভিযোগ করে বলেন, ‘ঠিকাদার আমাদের কোনো গুরুত্ব দিচ্ছে না। দ্রুত কালভার্টের দুই পাশে মাটি ভরাট করে চলাচলের উপযোগী করার দাবি জানাচ্ছি।’

তিন কালভার্টের ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান আনিস এন্টারপ্রাইজের স্বত্বাধিকারী অভিযুক্ত আনিসুর রহমান বলেন, জনবল সংকটের কারণে কাজগুলো সাময়িকভাবে বন্ধ রয়েছে। আগামী সপ্তাহ থেকে পুরোদমে কাজ চলবে। আশা করি আগামী জুনের মধ্যে সম্পূর্ণ কাজ শেষ হবে।

সিংগাইর উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা মো. আহাদী হোসেন বলেন, ঠিকাদারকে বারবার তাগিদ দেওয়া হয়েছে। লিখিতভাবে কারণ দর্শানোর নোটিশও দেওয়া হয়েছে। কাজ সম্পনের আগেই বিল দাবি করা নিয়মবহির্ভূত। দ্রুত কাজ শেষ না করলে তার লাইসেন্স বাতিলের সুপারিশ করা হবে।


নেত্রকোনায় শহীদ জিয়ার স্মৃতিবিজড়িত খাল খনন উদ্বোধন

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নেত্রকোনা প্রতিনিধি

নেত্রকোনায় শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের স্মৃতিবিজড়িত তিলকখালি খালের খনন কাজের উদ্বোধন করা হয়েছে। নেত্রকোনা-২ (সদর-বারহাট্টা) আসনের সংসদ সদস্য অধ্যাপক ডা. মো. আনোয়ারুল হক এই খনন কাজের উদ্বোধন করেন।

সদর উপজেলার মেদনি ইউনিয়নের কৃষ্ণাখালিতে স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি) ‘সারাদেশে পুকুর ও খাল উন্নয়ন (২য় সংশোধিত) প্রকল্পের’ আওতায় খালটি খনন করা হচ্ছে।

খালটি পুনঃখননের ফলে এলাকার কৃষিজমি সেচ সুবিধা পাবে এবং জলাবদ্ধতা দূর হবে।

উদ্বোধন শেষে বিশেষ মোনাজাত পরিচালনা করেন নেত্রকোনা জেলা জাতীয় ইমাম সমিতির সভাপতি মাওলানা মো. আলাউদ্দিন।

এ উপলক্ষে আলোচনায় সভা হয়। এতে সভাপতিত্ব করেন সদর উপজেলা বিএনপির সভাপতি মো. মজিবুর রহমান খান। সঞ্চলনা করেন সাধারণ সম্পাদক তাজ উদ্দিন ফারাস সেন্টু। প্রধান অতিথির বক্তব্য দেন সংসদ সদস্য মো. আনোয়ারুল হক।

উপস্থিত ছিলেন এলজিইডির নির্বাহী প্রকৌশলী ওয়াহিদুজ্জামান, জেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি নুরুজ্জামান নুরু, সাবেক সাধারণ সম্পাদক মাহফুজুল হক, সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক এস এম শফিকুল কাদের সুজা, নেত্রকোনা জেলা ছাত্রদলের সভাপতি অনীক মাহবুব চৌধুরী, জেলা বিএনপির সাবেক যুগ্ম আহ্বায়ক বজলুর রহমান পাঠান, মনিরুজ্জামান দুদু এবং পৌর বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক গাজী তোফায়েল হোসেন প্রমুখ।

এলজিইডির নির্বাহী প্রকৌশলী ওয়াহিদুজ্জামান জানান, ১ কোটি ৩৬ লাখ ৮৬ হাজার টাকা ব্যয়ে ৪ হাজার ২০ মিটার দৈর্ঘ্যের এই খালটি খনন করা হচ্ছে। আশা করা যাচ্ছে, চলতি বছরের মধ্যেই খনন কাজ সম্পন্ন হবে।


লিচুর মুকুলে সেজেছে প্রকৃতি, ভালো ফলনের আশা

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
শরণখোলা (বাগেরহাট) প্রতিনিধি

উপকূলীয় জনপদ বাগেরহাটের শরণখোলায় বিভিন্ন বাড়ির আঙিনায় লিচু গাছজুড়ে দেখা যাচ্ছে হলদে রঙের মুকুল। এতে প্রকৃতির সৌন্দর্য যেমন বেড়েছে, তেমনি ভালো ফলনের আশা করছেন চাষিরা।

স্থানীয়রা জানান, প্রতি বছরের মতো এ সময় লিচু গাছে মুকুল আসে। তবে আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে এবং ঝড়-বৃষ্টি না হলে এ বছরও ভালো ফলনের সম্ভাবনা রয়েছে। ইতোমধ্যে মুকুলে ভরে ওঠেছে উপজেলার অনেক লিচু গাছ। মুকুলের মিষ্টি গন্ধে বাগানে মৌমাছির আনাগোনাও বেড়েছে।

উপজেলার কয়েকজন লিচু চাষি বলেন, ‘গাছে মুকুল ভালো এসেছে। এখন যদি আবহাওয়া ভালো থাকে এবং পোকামাকড়ের আক্রমণ কম হয়, তাহলে এ বছর লিচুর ফলন ভালো হওয়ার আশা করছি।’

উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা দেবব্রত সরকার বলেন, ‘মুকুলের সময় গাছের বিশেষ যত্ন নেওয়া প্রয়োজন। প্রয়োজন অনুযায়ী সঠিক পরিচর্যা ও কীটনাশক ব্যবহারের মাধ্যমে ভালো ফলন পাওয়া সম্ভব।’


তাহিরপুরে বিয়ে বাড়ির বৈদ্যুতিক তারে প্রাণ গেল শিশুর

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
তাহিরপুর (সুনামগঞ্জ) প্রতিনিধি

সুনামগঞ্জের তাহিরপুর উপজেলায় বিয়ে বাড়ির আলোকসজ্জার বৈদ্যুতিক তারে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে সুজিত বর্মন (৭) নামে এক শিশুর মর্মান্তিক মৃত্যু হয়েছে। সোমবার (৯ মার্চ) সকাল আনুমানিক ৭টার দিকে উপজেলার তাহিরপুর সদর ইউনিয়নের মধ্য তাহিরপুর গ্রামে এ দুর্ঘটনা ঘটে। নিহত সুজিত বর্মন ওই গ্রামের সত্যময় বর্মনের ছেলে।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, মধ্য তাহিরপুর গ্রামের অনিল বর্মনের বাড়িতে তার শ্যালিকা প্রিয়া বর্মনের বিয়ে উপলক্ষে গত রোববার (৮ মার্চ) রাতে গায়ে হলুদের অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়। অনুষ্ঠানকে কেন্দ্র করে বাড়ির চারপাশে বৈদ্যুতিক আলোকসজ্জা করা হয়েছিল।

সোমবার (৯ মার্চ) সকালে বাড়ির আঙিনায় টানানো আলোকসজ্জার একটি বৈদ্যুতিক তারে অসাবধানতাবশত স্পর্শ করলে সুজিত বর্মন বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়। এতে ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়। এ সময় বিদ্যুতের শকে তার শরীরের কিছু অংশ পুড়ে যায় বলেও জানা গেছে।

এই মর্মান্তিক ঘটনায় বিয়ে বাড়িসহ পুরো এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে। আনন্দের আয়োজন মুহূর্তেই পরিণত হয়েছে শোকে।

তাহিরপুর থানার উপপরিদর্শক (এসআই) নাজমুল হক জানান, বিয়ে বাড়ির আলোকসজ্জার বৈদ্যুতিক তারে স্পৃষ্ট হয়ে শিশুটির মৃত্যুর ঘটনা প্রাথমিকভাবে জানা গেছে। বিষয়টি খতিয়ে দেখা হচ্ছে এবং এ ঘটনায় প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।


কুমিল্লায় মন্দিরে রাখা বোমা নিষ্ক্রিয়, থানায় মামলা

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
কুমিল্লা প্রতিনিধি

কুমিল্লা নগরীর ঠাকুরপাড়া কালীগাছতলা মন্দির থেকে উদ্ধার করা বোমা নিরাপদে নিষ্ক্রিয় করেছে বোম্ব ডিসপোজাল ইউনিট। গত রোববার (৮ মার্চ) রাত ১১টার দিকে লালমাই পাহাড় এলাকায় নিয়ন্ত্রিত বিস্ফোরণের মাধ্যমে বোমাটি ধ্বংস করা হয়।

পুলিশ জানায়, এর আগে গত শনিবার (৭ মার্চ) রাতে নগরীর বাগানবাড়ি এলাকায় দুর্বৃত্তরা তিনটি ককটেল বিস্ফোরণ ঘটায়। এতে মন্দিরের পূজারী কেশব চক্রবর্তীসহ তিনজন আহত হন। তবে বর্তমানে আহতরা আশঙ্কামুক্ত আছেন বলে জানা গেছে।

ঘটনার সময় দুর্বৃত্তরা একটি ব্যাগ ফেলে রেখে যায়। পরে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা ব্যাগটি উদ্ধার করে কোতোয়ালি থানায় বিশেষ নিরাপত্তায় সংরক্ষণ করেন। গত রোববার (৮ মার্চ) সন্ধ্যায় ঢাকা থেকে আসা বোম্ব ডিসপোজাল টিম ব্যাগটি নিজেদের হেফাজতে নিয়ে লালমাই পাহাড়ে নিয়ে যায় এবং সেখানে নিয়ন্ত্রিত বিস্ফোরণের মাধ্যমে সেটি নিষ্ক্রিয় করে। বোম্ব ডিসপোজাল টিম জানিয়েছে, উদ্ধার করা বোমাটি শক্তিশালী ছিল।

এ ঘটনায় কুমিল্লার ঠাকুরপাড়া কালীগাছতলা মন্দির ও বাগানবাড়ি জামে মসজিদের সামনে মুসল্লিদের ওপর ককটেল নিক্ষেপে তিনজন আহত হওয়ার ঘটনায় মামলা করা হয়েছে।

গত রোববার (৮ মার্চ) রাতে মন্দিরের পুরোহিত কেশব চক্রবর্তী বাদী হয়ে পরিচয় না জানা ব্যক্তিদের আসামি করে মামলাটি করেন। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন কোতোয়ালি মডেল থানার ওসি মো. তৌহিদুল আনোয়ার।

তিনি জানান, ঠাকুরপাড়া মন্দির থেকে উদ্ধার হওয়া ব্যাগে একটি ককটেল বোমা ছিল। ঢাকা থেকে আসা বোম্ব ডিসপোজাল ইউনিট সেটি লালমাই পাহাড়ের পুলিশের ফায়ারিং স্কোয়াড এলাকায় নিয়ে নিয়ন্ত্রিত বিস্ফোরণের মাধ্যমে নিষ্ক্রিয় করেছে।


পাম্প ভাঙচুর-বাসে আগুনের অভিযোগে বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনের ৭ নেতা গ্রেফতার

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
ঝিনাইদহ জেলা প্রতিনিধি

ঝিনাইদহে একটি তেলের পাম্পে ভাঙচুর এবং তিনটি যাত্রীবাহী বাসে অগ্নিসংযোগের অভিযোগে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের জেলা শাখার সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকসহ সাত নেতাকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। সোমবার (৯ মার্চ) দুপুরে ঝিনাইদহ সদর থানায় বাস মালিক পক্ষ এবং ক্ষতিগ্রস্ত ফিলিং স্টেশন কর্তৃপক্ষের দায়ের করা পৃথক দুটি মামলায় তাঁদের গ্রেফতার দেখানো হয়। জেলা পুলিশ সুপার মাহফুজ আফজাল এক প্রেসনোটের মাধ্যমে এই গ্রেফতারের তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

গ্রেফতারকৃতদের মধ্যে রয়েছেন বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের ঝিনাইদহ জেলা সভাপতি সাইদুর রহমান এবং সাধারণ সম্পাদক আশিকুর রহমান জীবন। এছাড়া এই তালিকায় আছেন সংগঠনের যুগ্ম আহ্বায়ক এজাজ হাসান অন্তর মাহমুদ, ‘দ্য রেড জুলাই’-এর আহ্বায়ক আবু হাসনাত তানাঈম এবং জেলা কমিটির সাবেক নেতা হুমায়ন কবির, তাশদিদ হাসান ও রাসেল। পুলিশের দাবি, সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণ, মোবাইল ট্র্যাকিং এবং উন্নত তথ্যপ্রযুক্তির ব্যবহারের মাধ্যমে নাশকতায় জড়িতদের শনাক্ত করার পর এই অভিযান পরিচালনা করা হয়েছে।

পুরো ঘটনার প্রেক্ষাপট বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, গত ৭ মার্চ ঝিনাইদহ শহরের কেন্দ্রীয় বাস টার্মিনাল সংলগ্ন তাজ ফিলিং স্টেশনে তেল নেওয়াকে কেন্দ্র করে বিতণ্ডার জেরে পাম্পকর্মীদের পিটুনিতে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের কর্মী ফারদিন আহম্মেদ নীরব নিহত হন। এই হত্যাকাণ্ডের ঘটনার পর আন্দোলনকারীরা বিক্ষুব্ধ হয়ে ওঠেন। পুলিশের প্রেসনোটে উল্লেখ করা হয়েছে, ছাত্ররা প্রথমে আওয়ামী লীগ নেতা হারুন অর রশিদের মালিকানাধীন তাজ ফিলিং স্টেশনে হামলার চেষ্টা চালিয়ে ব্যর্থ হন। পরবর্তীতে তারা শহরের আরাপপুর এলাকার সৃজনী ফিলিং স্টেশনে ব্যাপক ভাঙচুর চালান এবং গভীর রাতে বাস টার্মিনালে থাকা রয়েল পরিবহন ও জে-লাইন পরিবহনের তিনটি বাসে আগুন ধরিয়ে দেন।

নীরব হত্যাকাণ্ডের পর থেকেই ঝিনাইদহে চরম উত্তেজনা বিরাজ করছিল। বাসে আগুনের ঘটনার প্রতিবাদে বাস শ্রমিকরা ঢাকা-খুলনা মহাসড়ক অবরোধ করলেও জড়িতদের গ্রেফতারের আশ্বাসে তারা অবরোধ তুলে নেয়। হত্যাকাণ্ডের মূল মামলার প্রধান আসামি ও আওয়ামী লীগ নেতা হারুন অর রশিদ বর্তমানে পলাতক থাকলেও তাঁর তিন কর্মচারীকে ইতিমধেই গ্রেফতার করেছে র‍্যাব ও পুলিশ।

ছাত্র আন্দোলনের বর্তমান পরিস্থিতির বিষয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন সংগঠনের সাবেক কেন্দ্রীয় সমন্বয়ক তারেক রেজা। তিনি বলেন, প্রতিটি অপরাধেরই বিচার হওয়া উচিত, তবে একটি হত্যাকাণ্ডের প্রতিক্রিয়ায় সৃষ্ট পরিস্থিতির জন্য নির্বিচারে গণগ্রেফতার কাম্য নয়। তিনি দাবি করেন, গ্রেফতারকৃতদের মধ্যে অনেকে নিরপরাধ থাকতে পারেন। অন্যদিকে, পলাতক পাম্প মালিক হারুন অর রশিদ ফোনে খুনের ঘটনার নিন্দা জানালেও তাঁর ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠানে হামলার বিষয়টি ঠিক হয়নি বলে মন্তব্য করেছেন। বর্তমানে শহরে পরিস্থিতি শান্ত রাখতে এবং যেকোনো ধরণের অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টগুলোতে অতিরিক্ত পুলিশ ও নিরাপত্তা বাহিনী মোতায়েন করা হয়েছে।


banner close