বুধবার, ৫ আগস্ট ২০২৬
২০ শ্রাবণ ১৪৩৩

ওয়েটার থেকে অবৈধ বারের মালিক মুক্তার শত কোটি টাকার মালিক

ছবি: দৈনিক বাংলা
প্রতিবেদক,
প্রকাশিত
প্রতিবেদক,
প্রকাশিত : ৭ অক্টোবর, ২০২২ ১৬:৩৮

২০০৮ সালেও বারিধারায় এভিলিয়ন নামে একটি রেস্টুরেন্টে ওয়েটার হিসেবে কাজ শুরু করেন। এক বছর পর গুলশান-২ লেকভিউ নামের আরেকটি রেস্টুরেন্টেও একই কাজ করেছেন। তারপর কৌশলে বাগিয়ে নিয়েছেন মদের বারের লাইসেন্স। আর সেই লাইসেন্সের আড়ালে আবারও পাঁচটি অবৈধ বার চালিয়ে শত শত কোটি টাকা হাতিয়ে নিয়েছেন মুক্তার আলীর নামের এক ব্যক্তি।

ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা বলছেন, সেই টাকা দিয়ে দেশে বাড়িগাড়ি ছাড়াও যুক্তরাষ্ট্রে করেছেন অঢেল সম্পদ। সেখানে রেখেছেন স্ত্রী সন্তানকেও। সেই মুক্তার আলীকেই খুঁজছেন তারা।

গতকাল বৃহস্পতিবার রাতভর রাজধানীর উত্তরা ১৩ নম্বর সেক্টরের গরিবে নেওয়াজ রোডে অবস্থিত একটি ভবনে অভিযান চালায় গোয়েন্দা পুলিশ। পরে সেখান থেকে ৫০০ বোতল মদ এবং ছয় হাজার ক্যান বিয়ার জব্দ করে। ওই ভবনে কিংফিশার রেস্টুরেন্টের নামে একটি অবৈধ ‘বার’ চালিয়ে আসছিলেন প্রতিষ্ঠানটির মালিক মুক্তার হোসেন। মুক্তারকে না পেলেও সেখান থেকে ৩৫ জনকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। তবে পুলিশ বলছে, কিংফিশার রেস্টুরেন্টের বারের লাইসেন্স আছে।

শুক্রবার ডিএমপির মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে কথা বলেন ডিএমপির অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার (গোয়েন্দা) মোহাম্মদ হারুন অর রশীদ। তিনি বলেন, বৃহস্পতিবার রাতে তাদের কাছে তথ্য আসে, উত্তরার ওই বাসাতে শত শত ছেলেমেয়ে গানবাজনার নামে ডিজে পার্টি করছে। সেখানে প্রচুর পরিমাণে মদ বিক্রি হচ্ছে।

ডিবি প্রধান বলেন, প্রথমে বাড়িটির সাততলায় গিয়ে তারা দেখেন, অনেক ছেলেমেয়ে দৌড়াদৌড়ি করছে। পরে ভেতরে গিয়ে দেখেন, সেখানে প্রচুর পরিমাণে বিদেশি মদ ও বিয়ার মজুত রয়েছে। পঞ্চম ও ষষ্ঠতলায় গিয়েও একই অবস্থা দেখতে পান। সব বিদেশি মদ ও বিয়ার একত্রিত করে কর্তৃপক্ষের কাছে জানতে চায় যে, এগুলো তারা কীভাবে দেশে নিয়ে এসেছেন? কিন্তু তারা বৈধ কোনো কাগজপত্র দেখাতে পারেনি।

ডিএমপির অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার (গোয়েন্দা) মোহাম্মদ হারুন অর রশীদ বলেন, বৈধ কাগজপত্র দেখাতে না পারায় সেখান থেকে ৩৫ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়। তাদের বিরুদ্ধে উত্তরা পশ্চিম থানায় একটি মামলা দায়ের করা হয়েছে। ওই মামলায় তাদের আদালতে পাঠিয়ে রিমান্ড আবেদন করা হবে।

ভবনটিতে বারের কার্যক্রম কীভাবে চলত জানতে চাইলে ডিএমপির ডিবিপ্রধান বলেন, কিংফিশার রেস্টুরেন্টের নামে ওই ভবনের এসব কার্যক্রম (বার) চলত। তাদের মিরপুর, গুলশান ও নারায়ণগঞ্জসহ আরও পাঁচটি এমন বার রয়েছে।

মামলায় প্রতিষ্ঠানটির কাকে অভিযুক্ত করা হয়েছে জানতে চাইলে ডিবিপ্রধান বলেন, মালিক ও ম্যানেজারসহ অনেককে মামলায় আসামি করা হয়েছে। মুক্তার পলাতক। তাকে খোঁজা হচ্ছে।

বার চালানোর সঙ্গে বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত কোনো কোরিয়ান নাগরিক জড়িত কি না প্রশ্ন করা হলে তিনি বলেন, এ বিষয়ে আমরা যাচাই-বাছাই করছি। বারে কারা যাতায়াত করত সেটাও তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।


দুই তরুণীকে তুলে নিয়ে ধর্ষণের দায়ে ৬ যুবককে আমৃত্যু কারাদণ্ড

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

ঢাকার দক্ষিণ কেরানীগঞ্জের শুভাঢ্যা এলাকায় দুই তরুণীকে তুলে নিয়ে ধর্ষণের দায়ে ছয় যুবককে আমৃত্যু কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। ঢাকার নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল-৪ এর বিচারক মুন্সী মো. মশিয়ার রহমান মঙ্গলবার (৪ আগস্ট) এ রায় ঘোষণা করেছেন। রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী মো. এরশাদ আলম (জর্জ) বলেন, আমৃত্যু কারাদণ্ড হলো সাজাপ্রাপ্ত আসামিদের বাকি জীবন কারাগারে কাটাতে হবে।

কারাদণ্ডপ্রাপ্ত আসামিরা হলেন রাহুল মো. ডায়মন্ড, আফসার উদ্দিন অনিম, পারভেজ হক পলাশ, মিনহাজ ওরফে মিনহাজ আবেদীন এবং মিনহাজ ওরফে বাবু ওরফে মিনহাজ বাবু। তাদের সবার বয়স ২৫ এর নিচে।

দণ্ডের পাশাপাশি প্রত্যেক আসামিকে এক লাখ টাকা করে অর্থদণ্ড করা হয়েছে। দণ্ডপ্রাপ্তদের স্থাবর/অস্থাবর সম্পত্তি বিক্রি করে অর্থদণ্ডের টাকা আদায় করে ভুক্তভোগী বা তার পরিবারকে দেওয়ার জন্য ঢাকার জেলা ম্যাজিস্ট্রেট বা কালেক্টরকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

ট্রাইব্যুনাল রায়ে বলেন, রাষ্ট্রপক্ষের সাক্ষীরা আসামিদের বিরুদ্ধে অভিযোগ সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণ করতে সক্ষম হয়েছেন। মামলার সাক্ষ্য প্রমাণ ও অপরাধের ধরন বিবেচনায় আসামিদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি হওয়া প্রয়োজন। এ কারণে তাদের আমৃত্যু কারাদণ্ডে দণ্ডিত করা হলো।

সাজাপ্রাপ্ত আসামিদের মধ্যে রাহুল পলাতক রয়েছেন। তার বিরুদ্ধে সাজা পরোয়ানাসহ গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করা হয়েছে। রায় শেষে অপর আসামিদের সাজা পরোয়ানা দিয়ে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।

মামলার বিবরণ থেকে জানা যায়, দুই তরুণীসহ তাদের কয়েকজন বন্ধু ২০২২ সালের ২৫ জুন বিকেলে এক বন্ধুর জন্মদিন উদ্‌যাপন করতে ঘুরতে বের হন। রাত পৌনে ১০টার দিকে কেরানীগঞ্জের পানকৌড়ি রেস্তোরাঁয় খাওয়া-দাওয়া শেষে বাসায় ফিরতে শুভাঢ্যা এলাকায় অটোরিকশা খুঁজছিলেন তারা। এ সময় একটি অটোমিশুক নিয়ে আসামিরা তাদের পথরোধ করে। আসামিরা তাদের মারতে মারতে রতনের খামার নামক স্থানে নিয়ে দুই তরুণীর বন্ধুদের মারধর করে টাকা-পয়সা, মোবাইল ফোন কেড়ে নেন। এরপর ওই দুই তরুণীকে ধর্ষণ করে আসামিরা। ধর্ষণের ভিডিও ধারণ করে তারা। এদিকে দুই তরুণীর বন্ধুরা দক্ষিণ কেরানীগঞ্জ থানায় গিয়ে পুলিশকে বিষয়টি জানান। পুলিশ গিয়ে দুই তরুণীকে উদ্ধার করে। এ ঘটনায় এক তরুণীর বাবা ২০২২ সালের ২৯ জুন দক্ষিণ কেরানীগঞ্জ থানায় মামলা করেন। মামলার পর মিনহাজ আবেদীনকে গ্রেপ্তার করে র‌্যাব। তার কাছ থেকে এক তরুণীর মোবাইল ফোন উদ্ধার করা হয়। মোবাইলে ভুক্তভোগী দুই তরুণীর ধর্ষণের ভিডিও পাওয়া যায়।

মামলার তদন্ত শেষে দক্ষিণ কেরানীগঞ্জ থানার উপপরিদর্শক শরজিৎ কুমার ঘোষ ৬ যুবকের বিরুদ্ধে আদালতে অভিযোগপত্র জমা দেন। এরপর আসামিদের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করে বিচার শুরু হয়। মামলার বিচার চলাকালে ১২ জনের সাক্ষ্য গ্রহণ করেন ট্রাইব্যুনাল।


বাগেরহাটে একই পরিবারের ৩ জনের মরদেহ উদ্ধার

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
বাগেরহাট প্রতিনিধি

বাগেরহাটের কচুয়া উপজেলার রাড়িপাড়া ইউনিয়নের পশ্চিম চান্দেরখোলা গ্রামে নিজ বসতঘর থেকে একই পরিবারের তিনজনের গলিত মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। প্রাথমিকভাবে ঘটনাটি হত্যাকাণ্ড বলে ধারণা করছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। মঙ্গলবার (৪ আগস্ট) দুপুরে মরদেহ উদ্ধারের পর এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়। কচুয়া থানার ওসি হারুন আর রশিদ বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

নিহতরা হলেন- আহাত হাওলাদার (২২), তার মা মনিরা বেগম (৫৫) এবং নানি রাশিদা বেগম (৮৫)। আহাত কচুয়া উপজেলার বাসিন্দা আব্দার হাওলাদারের ছেলে। মনিরা বেগম মৃত রশিদ শেখের মেয়ে এবং রাশিদা বেগম মৃত রশিদ শেখের স্ত্রী।

স্থানীয় বাসিন্দা বুলু বেগম জানান, বাড়ি থেকে দুর্গন্ধ বের হতে দেখে তার সন্দেহ হয়। পরে বিষয়টি খোঁজ নিয়ে ঘরের ভেতরে গলিত মরদেহ দেখতে পেয়ে পুলিশকে খবর দেন। খবর পেয়ে কচুয়া থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে ঘরের ভেতর থেকে তিনজনের মরদেহ উদ্ধার করে।

ওসি হারুন আর রশিদ বলেন, মরদেহগুলোর মাথায় আঘাতের চিহ্ন রয়েছে। প্রাথমিকভাবে এটি হত্যাকাণ্ড বলে ধারণা করা হচ্ছে। ঘটনাটি দুই থেকে তিন দিন আগে ঘটেছে বলেও ধারণা করছি। বাড়িতে লোকজনের আনাগোনা না থাকায় বিষয়টি এতদিন কারও নজরে আসেনি।

তিনি আরও বলেন, মৃত্যুর প্রকৃত কারণ জানতে মরদেহগুলো ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানো হচ্ছে। একই সঙ্গে ঘটনার রহস্য উদ্ঘাটনে তদন্ত শুরু করেছে পুলিশ।


লাখ টাকার চাকরির প্রলোভনে কম্বোডিয়ায় মানবপাচার, গ্রেপ্তার ২

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

মাসে এক লাখ টাকা বেতনের চাকরির প্রলোভন দেখিয়ে কম্বোডিয়ায় মানবপাচারের অভিযোগে এক দম্পতিকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)। গত সোমবার (৩ আগস্ট) রাত সাড়ে ৩টার দিকে ঢাকার সাভারের হেমায়েতপুর এলাকা থেকে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়।

গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন- খুলনা মহানগরীর মহেশ্বরপাশা মধ্যপাড়ার মো. জিহাদ আলী লস্কর এবং তার স্ত্রী সুমাইয়া সুমি ওরফে সুমি আক্তার। মঙ্গলবার (৪ আগস্ট) তাদের আদালতে হাজির করা হলে তারা ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন।

পিবিআই জানায়, জিহাদ আলী লস্কর দীর্ঘদিন কম্বোডিয়ায় অবস্থান করে স্থানীয় কয়েকজনকে মাসে এক লাখ টাকা বেতনের চাকরির আশ্বাস দেন। তার কথায় বিশ্বাস করে প্রতিবেশী মোসতাকীম হাসান কাজী ও শেখ মনিরুল ইসলাম মুকুল জনপ্রতি ৬ লাখ ২০ হাজার টাকা করে মোট ১২ লাখ ৪০ হাজার টাকা জিহাদ ও তার স্ত্রীর কাছে দেন।

পরবর্তীতে তাদের কম্বোডিয়ায় নেওয়া হলেও প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী চাকরি দেওয়া হয়নি। অভিযোগ রয়েছে, সেখানে নিয়ে ভুক্তভোগীদের মেয়েদের পরিচয়ে কণ্ঠ পরিবর্তন করে বিদেশি নাগরিকদের সঙ্গে অনলাইনে প্রতারণামূলক কথোপকথনসহ বিভিন্ন অবৈধ কাজে বাধ্য করা হয়। এ সময় তাদের কোনো বেতন দেওয়া হয়নি এবং অমানবিক পরিবেশে রাখা হয়।

একপর্যায়ে কৌশলে সেখান থেকে পালিয়ে ভুক্তভোগীরা পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ করেন। পরে স্বজনদের সহায়তায় দেশে ফিরে এসে তারা পৃথকভাবে খুলনার দৌলতপুর থানায় মানবপাচার ও অভিবাসী চোরাচালান প্রতিরোধ ও দমন আইন, ২০২৬-এর ৭/২২ ধারায় দুটি মামলা দায়ের করেন। মামলাগুলোর তদন্তভার পায় পিবিআই খুলনা।

তথ্যপ্রযুক্তি ও গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে হেমায়েতপুর থেকে অভিযুক্ত দম্পতিকে গ্রেপ্তার করা হয়। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে তারা ঘটনার সঙ্গে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেন। পরে আদালতেও স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন।

পিবিআইয়ের তদন্তে আরও জানা গেছে, একই কৌশলে এলাকার আরও কয়েকজনকে কম্বোডিয়ায় পাঠিয়ে প্রতারণা করা হয়েছে। এ ঘটনায় একই এলাকার আরও দুই ব্যক্তি পৃথক দুটি মামলা করেছেন।

পিবিআই খুলনার বিশেষ পুলিশ সুপার রেশমা শারমিন বলেন, ‘বিদেশে উচ্চ বেতনের চাকরির প্রলোভন দেখিয়ে মানবপাচারে জড়িত চক্রের বিরুদ্ধে পিবিআই ‘‘জিরো টলারেন্স’’ নীতিতে কাজ করছে। এ ধরনের অপরাধে জড়িত সবাইকে আইনের আওতায় আনা হবে।’ তিনি জানান, মামলার অন্য সহযোগীদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারে অভিযান ও তদন্ত অব্যাহত রয়েছে।


বুড়িগঙ্গা থেকে দুই মরদেহ উদ্ধার

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

ঢাকার কেরানীগঞ্জে বুড়িগঙ্গা নদী থেকে দুটি মরদেহ উদ্ধার করেছে নৌপুলিশ। মঙ্গলবার (৪ আগস্ট) দুপুর ও বিকালে পৃথকভাবে মরদেহ দুটি উদ্ধার করা হয়। এর মধ্যে একজনের পরিচয় শনাক্ত হলেও অপরজনের পরিচয় এখনো জানা যায়নি।

নৌপুলিশ জানায়, মঙ্গলবার (৪ আগস্ট) দুপুরে কেরানীগঞ্জ মডেল থানার ওয়াশপুর ঝাউচর খেয়াঘাটসংলগ্ন এলাকা থেকে এক যুবকের মরদেহ উদ্ধার করে বসিলা নৌপুলিশ ফাঁড়ি। পরে তার পরিচয় শনাক্ত হয়। নিহতের নাম হৃদয (৩৪)। তিনি বসিলা উত্তর মোড়া এলাকার সিরাজুল ইসলামের ছেলে। হৃদয় স্টেট ফাস্ট কুরিয়ার প্রতিষ্ঠানে ডেলিভারি ম্যান হিসেবে কর্মরত ছিলেন।

বসিলা নৌপুলিশ ফাঁড়ির ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা পরিদর্শক ওমর আলী জানান, মরদেহটি প্রথমে অজ্ঞাত হিসেবে উদ্ধার করা হয়। পরে নিহতের পকেটে থাকা মোবাইল ফোনের সিম কার্ডের সূত্র ধরে পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তারা মর্গে এসে হৃদয়ের পরিচয় নিশ্চিত করেন।

মরদেহ উদ্ধারকারী বসিলা নৌপুলিশের এএসআই আজহার আলী জানান, নিহতের ছোট ভাই আকাশের ভাষ্য অনুযায়ী, হৃদয় দুই দিন আগে কাজের উদ্দেশে বাসা থেকে বের হয়ে নিখোঁজ হন। পরিবারের সদস্যরা অনেক খোঁজাখুঁজি করেও তার কোনো সন্ধান পাননি।

অন্যদিকে মঙ্গলবার (৪ আগস্ট) বিকেল ৪টার দিকে দক্ষিণ কেরানীগঞ্জ থানার কোন্ডা ইউনিয়নের কান্দাপাড়া খেয়াঘাটসংলগ্ন বুড়িগঙ্গা নদীর মাঝখান থেকে ভাসমান অবস্থায় এক অজ্ঞাত ব্যক্তির মরদেহ উদ্ধার করে পাগলা নৌপুলিশ ফাঁড়ি।

পাগলা নৌপুলিশ ফাঁড়ির ভারপ্রাপ্ত ইনচার্জ মালেক বিশ্বাস জানান, স্থানীয়দের খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহ উদ্ধার করা হয়। বয়স আনুমানিক ৩৫ বছর।

সুরতহাল প্রতিবেদনে দেখা যায়, নিহতের ডান পা বিচ্ছিন্ন, বাম পা ও ডান হাত ভাঙা ছিল। এ ছাড়া শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাতের চিহ্ন রয়েছে। উদ্ধারের সময় মরদেহে কোনো পোশাক ছিল না।

নৌপুলিশ জানায়, দুটি মরদেহই ময়নাতদন্তের জন্য স্যার সলিমুল্লাহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। এ ঘটনায় বসিলা ও পাগলা নৌপুলিশ বাদী হয়ে সংশ্লিষ্ট থানায় পৃথক মামলা দায়েরের প্রস্তুতি নিচ্ছে। মৃত্যুর প্রকৃত কারণ উদঘাটনে তদন্ত চলছে।


নদী দূষণ প্রতিরোধে নারায়ণগঞ্জ ও দক্ষিণ কেরাণীগঞ্জে পরিবেশ অধিদপ্তরের অভিযান

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
দৈনিক বাংলা ডেস্ক

ঢাকার চারপাশের নৌপথ সচলের মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনা বাস্তবায়নের অংশ হিসেবে নদী দূষণ প্রতিরোধ ও পরিবেশ সংরক্ষণে পরিবেশ অধিদপ্তর আজ নারায়ণগঞ্জ ও ঢাকার দক্ষিণ কেরাণীগঞ্জ এলাকায় শিল্পপ্রতিষ্ঠান পরিদর্শন এবং তরল বর্জ্যের নমুনা সংগ্রহ কার্যক্রম পরিচালনা করেছে।

মঙ্গলবার (৪ আগস্ট) পরিবেশ অধিদপ্তরের ঢাকা অঞ্চল কার্যালয়ের উদ্যোগে নারায়ণগঞ্জ জেলার ফতুল্লা, নামাপাড়া, সস্তাপুর ও কুতুবপুর এলাকায় অবস্থিত ছয়টি শিল্পপ্রতিষ্ঠান পরিদর্শন করা হয়।

প্রতিষ্ঠানগুলো হলো—ইউরোটেক্স নিটওয়্যার লিমিটেড, কর্ণফুলী টেক্সটাইল মিল, ঢাকা টেক্সটাইল মিলস, এম এম ডাইং, মেসার্স শাহীন টেক্সটাইল মিল এবং আই এফ এস টেক্সওয়্যার। পরিদর্শনকালে প্রতিষ্ঠানগুলোর নির্গত তরল বর্জ্যের নমুনা সংগ্রহ করা হয়। সংগৃহীত নমুনা পরীক্ষার জন্য পরিবেশ অধিদপ্তরের পরীক্ষাগারে পাঠানো হবে। পরীক্ষায় দূষণের প্রমাণ পাওয়া গেলে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে পরিবেশ সংরক্ষণ আইন ও বিধিমালা অনুযায়ী প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

অন্যদিকে, পরিবেশ অধিদপ্তরের ঢাকা অঞ্চলের অধীন ঢাকা জেলা কার্যালয়ের একটি পরিদর্শন দল দক্ষিণ কেরাণীগঞ্জে অবস্থিত আজান ওয়াশিং ও আল আমিন ওয়াশিং নামের দুটি কারখানা পরিদর্শন করে। পরিদর্শনে দেখা যায়, প্রতিষ্ঠান দুটি পরিবেশগত ছাড়পত্র গ্রহণ এবং ইটিপি স্থাপন ছাড়াই ওয়াশিং কার্যক্রম পরিচালনা করে আসছে। প্রতিষ্ঠান দুটি থেকে তরল বর্জ্যের নমুনা সংগ্রহ করা হয়েছে। একই এলাকার অন্যান্য ওয়াশিং কারখানা পরিদর্শনের সময় বন্ধ পাওয়া যায়।

পরিবেশ অধিদপ্তর জানিয়েছে, নদী ও জলাশয় দূষণ রোধ, পরিবেশ সংরক্ষণ এবং জনস্বাস্থ্য সুরক্ষায় এ ধরনের পরিদর্শন, নজরদারি ও আইনগত কার্যক্রম নিয়মিতভাবে অব্যাহত থাকবে।


শহিদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান-খালেদা জিয়ার কবরে অ্যাটর্নি জেনারেলের শ্রদ্ধা

ছবি: দৈনিক বাংলা
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

সুপ্রিম কোর্টে সরকার বা রাষ্ট্রের পক্ষে মামলা লড়তে নতুন নিয়োগ দেওয়া আইন কর্মকর্তাদের সঙ্গে নিয়ে সাবেক রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার কবর জিয়ারত করে ফুলেল শ্রদ্ধা নিবেদন করেছেন অ্যাটর্নি জেনারেল মো. রুহুল কুদ্দুস কাজল। মঙ্গলবার (৪ আগস্ট) রাজধানীর শেরে বাংলা নগরের সমাধি কমপ্লেক্সে গিয়ে এই কর্মসূচি পালন করেন রাষ্ট্রের সর্বোচ্চ আইন কর্মকর্তা। কবর জিয়ারত, ফুলেল শ্রদ্ধা নিবেদনের পাশাপাশি তারা দোয়া-মোনাজাতও করেন।

এ সময় অ্যাটর্নি জেনারেলের সঙ্গে ছিলেন অতিরিক্ত অ্যাটর্নি জেনারেল মোহাম্মদ আরশাদুর রউফ ও মোহাম্মদ অনীক রুশদ হকও।

দোয়া-মোনাজাত শেষে অ্যাটর্নি জেনারেল মো. রুহুল কুদ্দুস কাজল সাংবাদিকদের বলেন, ‘আইন, সংবিধান, দেশের গণতন্ত্র ও মানবাধিকারকে এগিয়ে নেওয়ার ক্ষেত্রে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার যে ভূমিকা, সেটি আমরা যারা আইনজীবী তারা প্রতিদিন লক্ষ্য করি। স্বাধীন বিচার বিভাগ প্রতিষ্ঠার ক্ষেত্রে বেগম খালেদা জিয়ার অবদান সবচেয়ে বেশি।

তিনি বলেন, ‘তারা যে নীতি-আদর্শ মেনে জীবন কাটিয়ে গেছেন, আমরা আমাদের দায়িত্ব পালনের ক্ষেত্রে সেই নীতি-আদর্শ অনুসরণ করে গণতন্ত্র, মানবাধিকার ও ন্যায়বিচারের প্রতি অঙ্গীকার ও পেশাদারি বজায় রাখব। দেশের প্রত্যেকটা নাগরিক যেন তার আইনানুগ অধিকার পান, সেটি প্রতিষ্ঠা করা আমাদের দায়িত্ব।’অপতথ্য মোকাবেলায় গণমাধ্যম ও সাংবাদিকদের ভূমিকা তুলে ধরে রাষ্ট্রের সর্বোচ্চ এই আইন কর্মকর্তা বলেন, ‘গণতন্ত্রের পথে নানামুখী ষড়যন্ত্র মোকাবেলার ক্ষেত্রে সাংবাদিক ও গণমাধ্যমের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা আছে। সুতরাং, যে কোনো ঠুনকো অপতথ্য, মিথ্যা তথ্য বা খণ্ডিত তথ্য দিয়ে যেন আগামী দিনের বাংলাদেশের অগ্রযাত্রা ব্যাহত করতে না পারে, সে ব্যাপারে গণমাধ্যমের প্রতি আমার আহ্বান থাকবে।

এর আগে, আগের সব নিয়োগ বাতিল করে গত ৩০ জুলাই পৃথক দুটি প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে সুপ্রিম কোর্টের ৮৬ জন আইনজীবীকে ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল (ডিএজি) পদে এবং ১৭৯ জন আইনজীবীকে সহকারী অ্যাটর্নি জেনারেল (এএজি) পদে নিয়োগ দেয় সরকার। নিয়োগপ্রাপ্ত এসব কর্মকর্তাদের নিয়ে গতকাল সমাধি কমপ্লেক্সে ফুলেল শ্রদ্ধা নিবেদন করতে যান অ্যাটর্নি জেনারেল।


নাগরিকদের মৌলিক সেবা নিশ্চিত করতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ সরকার: ডিএনসিসি প্রশাসক

ডিএনসিসি প্রশাসক মো. শফিকুল ইসলাম খান।
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

নাগরিকদের মৌলিক সেবা নিশ্চিত করতে সরকার প্রতিশ্রুতিবদ্ধ বলে জানিয়েছেন ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের (ডিএনসিসি) প্রশাসক মো. শফিকুল ইসলাম খান। তিনি বলেছেন, গ্যাস, বিদ্যুৎ, পানি সরবরাহ, জলাবদ্ধতা নিরসন, মশক নিয়ন্ত্রণ এবং সড়ক অবকাঠামোর সার্বিক উন্নয়নে সেবা সংস্থাগুলোর মধ্যে সমন্বয় রেখে কাজ করা হচ্ছে।

মঙ্গলবার (৪ আগস্ট) বিকেলে রাজধানীর ঢাকা-১৫ নম্বর ওয়ার্ডের পূর্ব মানিকদি ও উত্তর মানিকদি এলাকায় বিভিন্ন সড়কসহ সার্বিক উন্নয়নকাজের উদ্বোধনকালে ডিএনসিসি প্রশাসক এ কথা বলেন।

অনুষ্ঠানে ডিএনসিসি প্রশাসক বলেন, ‘দেশে পরিবর্তনের ধারা শুরু হয়েছে এবং এই ধারা অব্যাহত থাকবে। জনগণের ভোটে নির্বাচিত সরকার হিসেবে আমাদের দায়বদ্ধতা রয়েছে। নগরবাসীর দোরগোড়ায় সঠিক সেবা পৌঁছে দিতে ডিএনসিসি নিরবচ্ছিন্নভাবে কাজ করে যাচ্ছে।’

রাজধানীকে বাসযোগ্য ও সবুজ নগরীতে পরিণত করার ওপর জোর দিয়ে শফিকুল ইসলাম খান বলেন, বৃক্ষরোপণ, জলাবদ্ধতা নিরসন ও মশক নিয়ন্ত্রণে একাধিক প্রকল্প বাস্তবায়িত হচ্ছে। তবে অতিরিক্ত জনসংখ্যার কারণে গ্যাস, বিদ্যুৎ ও পানির ওপর চাপ বেড়েছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, অতীতের অপরিকল্পিত নীতির কারণেই আজকের গ্যাস সংকট তৈরি হয়েছে। বর্তমান সরকার এই পরিস্থিতির টেকসই সমাধানে কাজ করছে, যেখানে নগরবাসীর সহযোগিতাও কাম্য।

ডেঙ্গু প্রতিরোধে সচেতনতার ওপর গুরুত্ব আরোপ করে প্রশাসক নির্দেশ দেন, বাসাবাড়ি বা ছাদবাগানে জমে থাকা পরিষ্কার পানি যেন নিয়মিত ফেলে দেওয়া হয়।

পাশাপাশি ডিএনসিসির আওতাধীন দখল হওয়া খালগুলো পর্যায়ক্রমে উদ্ধার করে খনন ও খালের দুই পাড়ে ওয়াকওয়ে নির্মাণের পরিকল্পনার কথা জানান তিনি। একই সঙ্গে ঠিকাদারদের নির্ধারিত সময়ের মধ্যে কাজের মান বজায় রেখে কাজ শেষ করার তাগিদ দেন এবং নাগরিকদের নিয়মিত হোল্ডিং ট্যাক্স পরিশোধের আহ্বান জানান।

ডিএনসিসির জোন-২-এর আঞ্চলিক নির্বাহী কর্মকর্তা জুলকারনাইনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এই অনুষ্ঠানে অন্যদের মধ্যে সংস্থার প্রধান প্রকৌশলী ব্রিগেডিয়ার জেনারেল সৈয়দ রাকিবুল হাসান, স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন।


ফুলবাড়িয়ায় থানায় দুইজনসহ অজ্ঞাত আসামি করে মামলা

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
ফুলবাড়িয়া (ময়মনসিংহ) প্রতিনিধি

বাংলাদেশ কাস্টম হাউস আইসিডি কমলাপুর শাখার সিপাহী আবু রায়হান তালুকদারকে নৃশংস হত্যা ঘটনায় এজাহার নামীয় দুইজনসহ অজ্ঞাত আসামি করে ফুলবাড়িয়া থানায় মামলা হয়েছে। মঙ্গলবার (৪ আগস্ট) সকালে তার বড় ভাই নুরুল ইসলাম তালুকদার বাদী হয়ে মামলাটি করেছেন।

ফুলবাড়িয়া উপজেলার এনায়েতপুর ইউনিয়নের সোয়াইতপুর গ্রামের মৃত আবু সিদ্দিকের কনিষ্ঠ ছেলে আবু রায়হান তালুকদার। বাংলদেশ কাস্টমস হাউস আইসিডি কমলাপুরে সিপাহী পদে কর্মরত ছিল। নিখোঁজের ১০ দিন পর গত রোববার (২ আগস্ট) বিকালে তার বাড়ির পাশে পুকুর থেকে তিনটি ট্রাভেল ব্যাগে ১৫ টুকরো মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। ঘাতকরা আবু রায়হানকে হত্যার পর দুই হাত ও দুই পা ১২ টুকরো, মস্তক ও বুক এবং পেট তিন টুকরো করে। নিখোঁজের পর তার বাড়ির কেয়ারটেকার পার্শ্ববর্তী অনন্তপুর গ্রামে গ্রামের ফজলু মির্জার ছেলে রাজু ও একই গ্রামের সুরুজ মির্জার ছেলে তার বন্ধু সোহেল মির্জা জিতুল গ্রাম ছেড়ে পালিয়েছে। তারা দুই বন্ধু সম্পর্কে চাচা-ভাতিজা। উভয়েই মাদকাসক্ত।

প্রায় ১০ বছর আগে উপজেলার আছিম পাটুলী ইউনিয়নের পাটুলী গ্রামে সুরাইয়া আক্তার সাথীকে বিয়ে করেন আবু রায়হান। এক কন্যাসন্তান থাকা অবস্থায় গত ৫ বছর আগে তাদের সংসার ভেঙে যায়। বৃদ্ধ মা রাহেলা খাতুন, বড় বোন হাসিনা খাতুনসহ বাড়ি ও জমিজমা দেখার জন্য পার্শ্ববর্তী অনন্তপুর গ্রামে রাজু নামের এক কিশোরকে বাড়ির কেয়ারটেকার রাখেন। গত ২৩ জুলাই রাতে আবু রায়হান কর্মস্থল থেকে গ্রামে আসেন। রাতে নিজ ঘরে অবস্থান করেন রায়হান ও রাজু। পরের দিন আবু রায়হানকে বাড়িতে দেখতে না পেয়ে বড় ভাই রাজুর কাছে তার সম্পর্কে জানতে চাইলে সে জানায় মোটরসাইকেলে করে কাহালগাঁও বাজারে দিয়ে আসছে, সেখান থেকে একটি গাড়িতে করে ঢাকায় চলেগেছে। ২৬ জুলাই অফিস থেকে এক সহকর্মী বেদেনা খাতুন তার বাড়িতে ফোন করে জানায় আবু রায়হান অফিসে আসেনি। তার নিখোঁজের খবর ছড়িয়ে পড়লে ওই দিন রাজু ও জিতুল গ্রাম ছেড়ে পালিয়ে যায়। লাশ উদ্ধারের তিন দিন অতিবাহিত হলেও পুলিশ এখানো কাউকে গ্রেপ্তার করতে পারেনি। নিখোঁজের পর চারবার আবু রায়হানের এটিএম কার্ড ব্যবহার করে তার অ্যাকাউন্ট থেকে ১ লাখ ২০ হাজার টাকা উত্তোলন করা হয়।

অনন্তপুর গ্রামের যুবক অপুর ভাষ্য, গত শনিবার সকালে বাজুয়া নদীসংলগ্ন জমিতে ৫ জন বেগুন উত্তোলন করার সময় দেখতে পায় জিতুল মির্জা একটি চাবির ছড়া নদীতে ছুড়ে ফেলে। এ ছাড়া দুটি এটিএম কার্ড ভেঙে টুকরো টুকরো করে বাজুয়া নদীতে ফেলে।

মামলার বাদী মো. নুরুল ইসলাম তালুকদার জানিয়েছেন, আবু রায়হান সহজ-সরল ও মা ভক্ত ছিল। বৃদ্ধ মা ও জমিজমা দেখাশোনা করার জন্য দশম শ্রেণির ছাত্র রাজুকে পরিচার্যক হিসেবে রেখেছিলেন। সেই রাজু ও তার বন্ধু জিতুলসহ অজ্ঞাত আসামিরা পরিকল্পিতভাবে ছোট ভাইকে নির্মমভাবে হত্যা করে টুকরো টুকরো করে। লাশ উদ্ধারের তিন হলেও এখনো কেউ গ্রেপ্তার হয়নি।

ফুলবাড়িয়া থানার ওসি রাশেদুল হাসান জানিয়েছেন, আবু রায়হান হত্যার ঘটনায় তার বড় ভাই থানায় মামলা করেছেন। বাড়ির কেয়ারটেকার, তার বন্ধুসহ অজ্ঞাত আসামি করা হয়েছে। কেয়ারটেকার ও তার বন্ধুকে গ্রেপ্তারের জন্য অভিযান চলছে।


নরসিংদীতে অস্ত্র ও গুলিসহ ২ ছিনতাইকারী গ্রেপ্তার

ছবি: দৈনিক বাংলা
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নরসিংদী প্রতিনিধি

মাধবদী থানা পুলিশ একটি বিদেশি পিস্তল ও ৩ রাউন্ড গুলিসহ দুই ছিনতাইকারীকে গ্রেপ্তার করতে সক্ষম হয়েছে। গত সোমবার (৩ আগস্ট) রাতে নরসিংদী সদর থানার পাঁচদোনাস্থ নলুয়া নামক স্থান থেকে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়।

মঙ্গলবার (৪ আগস্ট) মাধবদী থানায় এক সাংবাদিক সম্মেলনের মাধ্যমে নরসিংদীর অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম এন্ড অবস) মো. আশিকুর রহমান এ তথ্য নিশ্চিত করেন। মাধবদী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. কামাল হোসেন জানান, ঘটনার দিন রাত আনুমানিক আড়াইটার সময় উল্লেখিত স্থানে এক ট্রাক চালক ছিনতাইকারীদের কবলে পড়ে।

এ সময় ছিনতাইকারীরা পিস্তলের ভয় দেখিয়ে ট্রাক চালকের নিকট থেকে ১০ হাজার পাঁচশত টাকা ও একটি মোবাইল ফোন ছিনিয়ে নেয়।

খবর পেয়ে মাধবদী থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে যায় এবং ট্রাক চালকের নিকট থেকে বিস্তারিত জেনে বিষয়টি নরসিংদী পুলিশ সুপারকে অবহিত করলে পুলিশ সুপার মো. আব্দুল্লাহ-আল ফারুক এর দিকনির্দেশনায় মাধবদী থানার এসআই আবু ইউসুফের নেতৃত্বে একটি চৌকস পুলিশ দল এক বিশেষ অভিযান চালিয়ে শুভ (২২) পিতামৃত. মিজান ও ফাহিম (২৬) পিতা. হালিম মিয়া সর্ব সাং-পাঁচভাগ শ্রীনগর থানা মাধবদী জেলা নরসিংদীকে গ্রেপ্তার করে এবং তাদের নিকট থেকে একটি বিদেশি পিস্তল, ৩ রাউন্ড তাজা গুলি ও নগদ ২ হাজার টাকা উদ্ধার করে। এ ব্যাপারে মাধবদী থানায় পৃথক দুটি মামলা রুজু করা হয়েছে।


জাতীয় মৎস্য পক্ষ বাস্তবায়নে মাগুরায় প্রস্তুতিমূলক সভা

ছবি: দৈনিক বাংলা
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
মাগুরা প্রতিনিধি

জাতীয় মৎস্য পক্ষ ২০২৬ বাস্তবায়ন উপলক্ষে মাগুরা জেলা পর্যায়ে প্রস্তুতিমূলক সভা মঙ্গলবার (৪ আগস্ট) দুপুরে জেলা প্রশাসক সম্মেলনকক্ষে অনুষ্ঠিত হয়েছে। সভায় সভাপতিত্ব করেন মাগুরা জেলা প্রশাসক মো. মোতাকাব্বীর আহমেদ।

জেলা মৎস্য কর্মকর্তা মাধব চন্দ্র সরকার মূল বিষয় সভায় উপস্থাপন করেন। সভায় কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক তাজুল ইসলাম, মাগুরা প্রেসক্লাবের সভাপতি অধ্যাপক সাইদুর রহমান, মাগুরা পৌর বিএনপির সভাপতি মাসুদ হাসান খান কিজিল, যুব উন্নয়ন অধিদপ্তরের উপপরিচালক ফিরোজ আহমেদ, সহকারী পুলিশ সুপার নিশাত আল নাহিয়ান, মাগুরা সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মেহেরুন্নাহার বক্তব্য রাখেন। উপপরিচালক সমাজ সেবা অধিদপ্তর মহিলাবিষয়ক অধিদপ্তরের ভারপ্রাপ্ত উপপরিচালক আব্দুল আওয়ালসহ জেলা পর্যায়ের কর্মকর্তারা সভায় উপস্থিত ছিলেন।

সভায় জেলা প্রশাসক মোতাকাব্বীর আহমেদ বলেন, ‘মাছ চাষের সাথে সংশ্লিষ্ট জনগোষ্ঠীর উন্নয়নে সবাইকে এগিয়ে আসতে হবে এবং জাতীয় উন্নয়নে সবাইকে একসাথে কাজ করতে হবে।’


আউশ ধান চাষাবাদ সম্প্রসারণে বিনা’র মাঠ দিবস অনুষ্ঠিত

ছবি: দৈনিক বাংলা
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
সুনামগঞ্জ প্রতিনিধি 

আউশ ধানের উন্নত ও স্বল্পমেয়াদি জাত বিনাধান-১৯ ও বিনাধান-২১ এর চাষাবাদ সম্প্রসারণে মাঠ দিবস অনুষ্ঠিত হয়েছে। হাওরের কান্দা ও বোরো-পরবর্তী অনাবাদি জমিতে আউশ ধানের আবাদ বাড়াতে কৃষকদের উদ্বুদ্ধ করতে এ আয়োজন করা হয়। মঙ্গলবার (৪ আগস্ট) দুপুর ১২টায় সদর উপজেলার মোল্লাপাড়া ইউনিয়নের বাদে সাদকপুর এলাকায় এ মাঠ দিবস অনুষ্ঠিত হয়।

‘কৃষিই সমৃদ্ধি’ স্লোগানে সুনামগঞ্জ বিনা উপকেন্দ্র এর আয়োজনে এবং কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর, সদরের সহযোগিতায় অনুষ্ঠানটি আয়োজন করা হয়। বিসিসিটিএফের ‘পরমাণু কৌশলের মাধ্যমে হাওর ও চরাঞ্চল অভিযোজন’ শীর্ষক প্রকল্পের অর্থায়নে এ কার্যক্রম বাস্তবায়ন করা হয়।

মাঠ দিবসে কৃষকরা বিনাধান-১৯ ও বিনাধান-২১ এর চাষাবাদ, ফলন ও বিভিন্ন বৈশিষ্ট্য সম্পর্কে ধারণা নেন। এ সময় কৃষকদের চাষাবাদে উদ্বুদ্ধ করতে মাঠ পর্যায়ে উৎপাদনের অভিজ্ঞতাও তুলে ধরা হয়।

কৃষক আব্দুল আকলিস বলেন, ‘আমি ভাবিনি আউশ ধানের ফলন এত ভালো হবে। বোরো ধান ডুবার পরে বিনা অফিসে যোগাযোগ করলে তারা আমাকে বিনাধানের বীজ দেন। পরে তাদের পরামর্শ অনুযায়ী চাষ করি। আল্লাহর রহমতে ফলন ভালো হয়েছে।’

জেলা বিনা উপকেন্দ্রের বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ও ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. মাহমুদুল হাসান মানিক বলেন, ‘বিনাধান-১৯ ও বিনাধান-২১ আউশ মৌসুমের উপযোগী স্বল্পমেয়াদি জাত। সুনামগঞ্জে আউশের আবাদ কম হলেও হাওরের কান্দা এলাকার জমিতে এ বছর কৃষকদের উদ্বুদ্ধ করে জাত দুটি চাষ করানো হয়েছে। কৃষকদের বিনামূল্যে বীজ ও প্রয়োজনীয় উপকরণ দেওয়া হয়। এতে ভালো ফলন পাওয়া গেছে।’

জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক মোহাম্মদ ওমর ফারুক বলেন, ‘যেখানে ধান চাষের সুযোগ রয়েছে, সেখানে আবাদ বাড়াতে হবে। শুধু নিজেদের উৎপাদনের কথা না ভেবে দেশের খাদ্য চাহিদার কথাও বিবেচনা করতে হবে।’ কৃষকদের চাষাবাদে কোনো সমস্যা হলে কৃষি বিভাগের কর্মকর্তাদের জানানোর আহ্বান জানান তিনি।

সদর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো. শাহাদৎ হোসেন বলেন, ‘হাওরের যেসব জমিতে পানি ওঠেনি এবং বোরো ধান কাটার পর খালি থাকে, সেসব জমিতে আউশ ধান চাষের সুযোগ রয়েছে। স্বল্পমেয়াদি জাত হওয়ায় ১০০-১২০ দিনের মধ্যেই ফসল ঘরে তোলা সম্ভব।


সাতক্ষীরায় পার্টনার ফিল্ড স্কুল কংগ্রেস অনুষ্ঠিত

ছবি: দৈনিক বাংলা
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
সাতক্ষীরা প্রতিনিধি

কৃষি উৎপাদন বৃদ্ধি, পুষ্টি নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ, উদ্যোক্তা সৃষ্টি এবং জলবায়ু পরিবর্তনের বিরূপ প্রভাব মোকাবিলায় কৃষকদের সক্ষমতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে সাতক্ষীরা সদরে পার্টনার ফিল্ড স্কুল কংগ্রেস-২০২৬ অনুষ্ঠিত হয়েছে। মঙ্গলবার (৪ আগস্ট) বিকালে সদরের এল্লারচর চিংড়ি প্রদর্শনী খামারের হলরুমে ২০২৫-২৬ অর্থবছরের ‘প্রোগ্রাম অন এগ্রিকালচারাল অ্যান্ড রুরাল ট্রান্সফরমেশন ফর নিউট্রিশন, এন্টারপ্রেনরশিপ অ্যান্ড রেজিলিয়েন্স ইন বাংলাদেশ পার্টনার’ প্রকল্পের আওতায় কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর, সাতক্ষীরা সদর এ কংগ্রেসের আয়োজন করে।

সাতক্ষীরা সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা অর্ণব দত্ত-এর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন কৃষিবিদ মো. রফিকুল ইসলাম, অতিরিক্ত পরিচালক, কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর, খুলনা অঞ্চল। তিনি বলেন, ‘আধুনিক ও টেকসই কৃষি ব্যবস্থার প্রসারে মাঠপর্যায়ে কৃষকদের দক্ষতা বৃদ্ধি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। ফিল্ড স্কুল কার্যক্রমের মাধ্যমে কৃষকরা আধুনিক প্রযুক্তি, পুষ্টিসম্মত কৃষি চর্চা এবং উদ্যোক্তা উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছেন।’

বিশেষ অতিথির বক্তব্যে সাতক্ষীরা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক কৃষিবিদ মোহাম্মদ সাইফুল ইসলাম বলেন, ‘সারা দেশে প্রায় ২ কোটি ২৭ লাখ কৃষককে কৃষক কার্ড প্রদান করা হবে। এর মধ্যে সাতক্ষীরা জেলায় ২০ হাজার ১৮১ জন কৃষককে কৃষক কার্ড দেওয়া হয়েছে, যেখানে লক্ষ্যমাত্রা ছিল ১৯ হাজার ৫৪২ জন।’ পর্যায়ক্রমে কৃষক কার্ডের সংখ্যা আরও বৃদ্ধি করা হবে বলে তিনি জানান।

অনুষ্ঠানে উদ্বোধনী বক্তব্য দেন সাতক্ষীরা সদর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা প্লাবনি সরকার।

এ ছাড়া বক্তব্য দেন জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের অতিরিক্ত উপপরিচালক জামাল উদ্দীন, আকবর আলী ফাউন্ডেশনের পরিচালক আবু সাঈদ এবং পার্টনার প্রকল্পের পরিচালক মোছাদ্দেক।

অনুষ্ঠানে উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়ন থেকে আগত কৃষাণ-কৃষাণী, কৃষি কর্মকর্তা, উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা এবং সংশ্লিষ্ট প্রকল্পের প্রতিনিধিরা অংশগ্রহণ করেন। এ সময় কৃষকদের অভিজ্ঞতা বিনিময়, সফল উদ্যোগ উপস্থাপন এবং আধুনিক কৃষি প্রযুক্তির ব্যবহার নিয়ে আলোচনা করা হয়।

আয়োজকরা জানান, কৃষকদের দক্ষতা বৃদ্ধি, পুষ্টিনির্ভর কৃষি সম্প্রসারণ, উদ্যোক্তা সৃষ্টি এবং টেকসই কৃষি উন্নয়নে এ ধরনের কার্যক্রম ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে।


নাটোর পাসপোর্ট অফিসের দুর্নীতি খতিয়ে দেখতে তদন্ত শুরু

ছবি: দৈনিক বাংলা
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নাজমুল হাসান, নাটোর

নাটোর পাসপোর্ট অফিসের অনিয়ম, দুর্নীতি খতিয়ে দেখতে তদন্ত শুরু করেছে ইমিগ্রেশন ও পাসপোর্ট অধিদপ্তরের গঠিত তদন্ত কমিটি। গত ১১ জুলাই দৈনিক বাংলায় অনুসন্ধানী সংবাদ প্রকাশ হলে গত সোমবার (৩ আগস্ট) অধিদপ্তরটির প্রধান কার্যালয়ের অফিস পরিকল্পনা ও উন্নয়ন শাখার উপপরিচালক ড. মো. হাফিজুর রহমান তদন্ত কার্যক্রম শুরু করেছে।

তদন্তকারী কর্মকর্তা জানান, সংবাদটি নজরে আসার পর ইমিগ্রেশন ও পাসপোর্ট অধিদপ্তরের মহাপরিচালক মেজর জেনারেল মো. নূরুল আনোয়ারের নির্দেশে গত ৩০ জুলাই একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়। সেই মোতাবেক অফিসটির জেলা কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক জাহিদুল হক, সকল কর্মকর্তা, কম্পিউটারের দোকানদার, ভুক্তভোগীদের বক্তব্য নেওয়া হয়। যথাসময়ে তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেওয়া হবে বলে জানান তিনি। এর আগে তদন্তকারী কর্মকর্তা জেলা প্রশাসক আসমা শাহীনের সাথে তার কার্যালয়ে দেখা করেন।

অনুসন্ধানী প্রতিবেদনটিতে ওঠে আসে, নাটোর শহরের বড় হরিশপুর এলাকায় অবস্থিত আঞ্চলিক পাসপোর্ট অফিস ঘিরে দালালদের সক্রিয় সিন্ডিকেট গড়ে উঠেছে। পাসপোর্ট অফিসের বাইরে ও বিভিন্ন স্থানে গড়ে উঠা অধিকাংশ কম্পিউটারের দোকান হয়ে উঠেছে দালালচক্রের প্রাণকেন্দ্র। সেবাগ্রহীতাদের অভিযোগ, পাসপোর্ট প্রতি পনেরশ টাকা ঘুষ না দিলে নানা অজুহাতে আবেদন ফর্ম ফেরত দেওয়া হয়।

তথ্যে আরও ওঠে আসে, নাটোরের সিংড়া উপজেলার বাসিন্দা বিষ্ণু কুমার সরকারের ছেলে ও তার বন্ধুর পাসপোর্ট করতে এসে জটিলতায় পড়েন। ডাকঘরসংক্রান্ত ভুল দেখিয়ে পাসপোর্ট আবেদন দুটি ফেরত দেওয়া হয়। পরে কোনো উপায় না পেয়ে দালালের স্মরণাপন্ন হন তিনি। পরে দুই পাসপোর্টের জন্য দালাল সুলতান আহমেদের কাছে তিন হাজার টাকা ঘুষ দিয়ে আবেদন জমা দেন।

বিষ্ণু কুমার সরকার জানান, তার ছেলে দীপ্ত সরকার কৌশিক ও তার বন্ধু শেফাত বিশ্বাসের পাসপোর্ট আবেদন নিয়ে গত ৫ জুলাই নাটোর পাসপোর্ট অফিসের জমা কাউন্টারে যান। সেখানে ডাটা এন্ট্রি অফিসার কাউসার ইসলাম তাদের আবেদন দুটি জমা না নিয়ে জানান, ন্যাশনাল আইডিতে ডাকঘর ভাগনাগরকান্দি থাকলেও আবেদনে সিংড়া লেখা আছে। অনলাইনে আবেদনে ভাগনাগরকান্দি আসে না বলার পরও তিনি আবেদন দুটি জমা নিতে অপারগতা প্রকাশ করেন। পরে তিনি পাসপোর্ট অফিসের পাশে সুলতান কম্পিউটারের প্রোপ্রাইটর সুলতান আহমেদের কাছে গেলে তিনি জানান, এক একটি আবেদনের জন্য পনেরশ টাকা করে অতিরিক্ত দিলে কোনো ভুল ধরবে না পাসপোর্টে অফিসের কর্মকর্তারা। পরে সুলতানের কাছে তিন হাজার টাকা দেওয়ার পর তিনি আবেদন দুটিতে গোপন সংকেত লেখে দেন। কিছুক্ষণ পর আবেদন ফিরিয়ে দেওয়া সেই ডাটা এন্ট্রি অফিসার কাউসার ইসলামই সেই আবেদন দুটি জমা নেন। পরে তারা ফিঙ্গার কার্যক্রম সম্পন্ন করেন।

সেবাগ্রহীতা সেজে এই প্রতিবেদক সুলতানকে ফোন দিয়ে পাসপোর্ট প্রতি কত টাকা করে দিতে হবে এমন প্রশ্নে কোনো রাখঢাক না রেখেই নির্দিষ্ট পরিমাণ অর্থাৎ পাসপোর্ট প্রতি ১৫০০ টাকা ঘুষের কথা বলেন তিনি। সেই সাথে জানান, অতিরিক্ত টাকা দিলে পাসপোর্ট করতে কোনো বাড়তি ঝামেলা হবে না।

অনুসন্ধানের একপর্যায়ে দেখা মেলে সদর উপজেলার গুনারী গ্রামের বাসিন্দা অহেদ আলীর সাথে। তিনি জানান, উমরা হজ করার জন্য পাসপোর্ট করতে গিয়ে তিনি মহা বিড়ম্বনায় পড়েছেন। আবেদনপত্রের সাথে কাবিননামা না থাকায় তার আবেদন জমা নেওয়া হচ্ছে না। ২৭ বছর আগে বিয়ে করেছেন তিনি। দীর্ঘদিন পর কাবিননামা জোগার করতে এক সপ্তাহ ধরে ইউনিয়ন পরিষদসহ বিভিন্ন স্থানে ঘুরে হয়রানির শিকার হচ্ছেন তিনি। এ রকম অসংখ্য অনিয়মের ঘটনা তদন্ত করছেন কমিটি।

এদিকে নাটোর পাসপোর্ট অফিসের ডাটা এন্ট্রি অফিসার কাউসার ইসলাম মুহূর্তেই সব অস্বীকার করে বলেন, ‘কাগজপত্র ঠিক না থাকলে কোনো আবেদন জমা হবে না।’ তিনি কোনো প্রকার দুর্নীতির সাথে জড়িত না। এমন প্রমাণ কেউ দিতে পারবেন না বলে জোর গলায় বলেন তিনি।

সহকারী হিসাব রক্ষক মোহাম্মদ আনসারুজ্জামান বলেন, ‘এখানে ইন্টারভিউ নিতে হলে স্যারের অনুমতি নিতে হবে।’ তার বিরুদ্ধে সব অভিযোগ অস্বীকার করেন তিনি।

সেবা কম্পিউটারের শফিকুল ইসলাম প্রথমে সব অস্বীকার করেন। পরে ঘুষ নেওয়ার ভিডিও দেখালে তিনি থমকে যান। একইভাবে দালাল সুলতান ঘুষ চাওয়ার অডিও শুনেও থমকে যান। একপর্যায়ে সুলতান স্বীকার করেন তিনি নিজে তিনশ টাকা রেখে অফিসের কর্মকর্তাদের পাসপোর্ট প্রতি ১২০০ টাকা দেন।

লাগামহীন দুর্নীতির বিষয়ে ব্যবস্থা নেওয়ার গৎবাঁধা আশ্বাস দেন পাসপোর্ট অফিসের সরকারী পরিচালক মোহাম্মদ জাহিদুল হক। তিনি বলেন, ‘সকল অনিয়ম খতিয়ে দেখবেন।’

জেলা প্রশাসক আসমা শাহীন জানান, পাসপোর্ট অফিসের অনিয়মের বিষয়টি তিনি অবগত হয়েছেন। বিষয় তদন্ত করে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে অবহিত করবেন।

বিষয়টি অবগত হয়ে নাটোর-২ আসনের সংসদ সদস্য ও সরকার দলীয় হুইপ রুহুল কুদ্দুস তালুকদার দুলু জানান, এই অনিয়ম বন্ধে কার্যকর প্রদক্ষেপ নেওয়ার ঘোষণা দেন তিনি।

২০১৪ সালে নাটোর শহরের চকরামপুর এলাকায় নাটোর আঞ্চলিক পাসপোর্ট অফিসের যাত্রা শুরু হয়। পরে ২০২৩ সালে তা বড় হরিশপুর এলাকায় নিজস্ব ভবনে স্থানান্তর করা হয়।


banner close