চাঁদপুর লঞ্চঘাট থেকে ১০ কেজি গাঁজাসহ একজনকে আটক করেছে কোস্টগার্ড। গত বুধবার সকালে গণমাধ্যমে পাঠানো কোস্টগার্ড সদর দপ্তরের মিডিয়া কর্মকর্তা লেফটেন্যান্ট কমান্ডার আব্দুর রহমান স্বাক্ষরিত এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।
জানা যায়, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে বাংলাদেশ কোস্টগার্ড স্টেশন চাঁদপুর কর্তৃক স্টেশন কমান্ডার লেফটেন্যান্ট মাশহাদ উদ্দিন নাহিয়ানের নেতৃত্বে চাঁদপুর লঞ্চঘাট এলাকায় একটি অভিযান পরিচালনা করা হয়।
অভিযান চলাকালীন লঞ্চঘাট থেকে ঢাকাগামী মিতালী লঞ্চে ব্যাগ হাতে জানু মিয়া নামের এক ব্যক্তির গতিবিধি সন্দেহজনক মনে হলে কোস্টগার্ড সদস্যরা তল্লাশি চালায়।
এ সময় তার কাছ থেকে ৫টি প্যাকেটে রাখা ১০ কেজি গাঁজা জব্দ করা হয়। চাঁদপুর কোস্টগার্ডের স্টেশন কমান্ডার লেফটেন্যান্ট মাশহাদ উদ্দিন নাহিয়ান জানান, আটক ব্যক্তি ও জব্দ মাদক চাঁদপুর মডেল থানায় হস্তান্তর করা হয়। বিজ্ঞপ্তি
মাদারীপুরে সোনালী আঁশ পাট ঘরে তোলাকে কেন্দ্র করে এখন কর্মব্যস্ত সময় পার করছেন পুরুষের পাশাপাশি সমান তালে গৃহিনী কৃষাণীরা। চারিদিকে কৃষকেরা এখন প্রায় সবাই সোনীল আঁশ খ্যাত পাট এর পঁচানোক্রিয়ায়, আঁশ ছাড়ানো ও পাটখড়ি ঘরে তোলার কাজে মহাব্যস্ত।
মাদারীপুর সদর সহ শিবচর, রাজৈর, কালকিনি, ডাসার সহ মোট ৫ টি উপেজলার বিভিন্ন এলাকা ঘুরে এমন দৃশ্য সচারাচর চোখে পড়ছে। দামী এই সোনালী আঁশকে ঘিরে কৃষাণ- কৃষাণীরা এখন নানান স্বপ্ন বুনছেন। পাট কাটা, পানিতে জাক দিয়ে পঁচানো-ধৌতের ক্ষেত্রে পুরুষেরা ও পাটের আঁশ ছাড়ানো-শুকানো, মূল্যবান পাটখড়ি আহরণের ক্ষেত্রে নারীরা রয়েছেন এগিয়ে।
আবহাওয়া অনুকূল থাকা ও পোকামাকড়ের আক্রমন কম হওয়ায় মাদারীপুরে ২০২৫-২০২৬ ইং অর্থ বছরে পাটের বাম্পার ফলন হয়েছে। তারপরও যেনো কৃষকের মুখে যেনো হাসি নেই, তাদের চোখে-মুখে দুশ্চিন্তার ভাজ। তারা বলছেন- গতবারে পাটের দাম মনপ্রতি ৪১/৪২ শত টাকায় বিক্রি হয়ে লাভের মুখ দেখলেও এবারে তা' ৩৭/৩৮ শত টাকায় প্রতিমন বিক্রি হওয়ায় উৎপাদন খরচ উঠিয়ে লোকসানের মুখে পড়ছেন, এছাড়াও পুরোদমে পাট উঠে গেলে দাম আরও কমার আশঙ্কাও রয়েছে তাদের।
তবে সামনে দাম বাড়বে- এই আশায় অনেকে তড়িঘড়ি করে আবার পাট বিক্রি করছেন না, শুকিয়ে স্টকও করে রাখছেন অনেকে।
মাদারীপুর কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের তথ্য থেকে জানা গেছে, ফলন ভালো হওয়ায় ২০২৫-২৬ অর্থবছরে পাট উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা গতবারকে ছাড়িয়ে যাবে।
নেত্রকোণার বারহাট্টা উপজেলার সাহতা ইউনিয়নের মধুপুর গ্রামের বাসিন্দা মোমিন খানকে (৫৫) বানোয়াট অভিযোগ তুলে প্রকাশ্যে মাথা ন্যাড়া করে অপমান এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে অপপ্রচার চালানোর অভিযোগে প্রতিবাদ জানিয়ে সংবাদ সম্মেলন করেছে ভুক্তভোগী পরিবার।
বৃহস্পতিবার (৬ আগস্ট) রাত ৮টার দিকে মোমিন খানের নিজ বাড়িতে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে পরিবারের সদস্যরা দাবি করেন, গত ২৯ জুলাই স্থানীয় একটি সালিশের নামে তাকে অপমানজনক শাস্তি দেওয়া হয়। এ ঘটনায় তিনি বারহাট্টা থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন।
লিখিত অভিযোগে উল্লেখ করা হয়, গত ২৬ জুলাই রাতে সাহতা ইউনিয়নের হেলোচিয়া বাজারের একটি চায়ের দোকানে স্থানীয় কয়েকজনের সঙ্গে আলাপচারিতার সময় মোমিন খান একটি মন্তব্য করেন। পরে ওই বক্তব্য বিকৃত করে তার বিরুদ্ধে ধর্ম অবমাননার অভিযোগ ছড়িয়ে দেওয়া হয়।
অভিযোগে আরও বলা হয়, ২৮ জুলাই সন্ধ্যায় অভিযুক্তরা মিছিল নিয়ে তার বাড়িতে গিয়ে তাকে না পেয়ে পরিবারের সদস্যদের পরদিন সালিশে উপস্থিত হওয়ার নির্দেশ দেন। উপস্থিত না হলে বাড়িঘরে আগুন দেওয়ার হুমকিও দেওয়া হয় বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।
পরদিন, ২৯ জুলাই সকাল ১১টার দিকে মধুপুর এলাকার আল-আরাফা মিফতাহুল উলুম মাদ্রাসা মাঠে অনুষ্ঠিত সালিশে মোমিন খান উপস্থিত হয়ে ক্ষমা প্রার্থনা করেন।
এরপর সালিশের সিদ্ধান্তের নামে তাকে প্রকাশ্যে মাথা ন্যাড়া করে দেওয়া হয় বলে অভিযোগে দাবি করা হয়েছে। এছাড়া বাড়িতে ফেরার পরও তাকে প্রাণনাশের হুমকি দেওয়া হয় বলেও অভিযোগে উল্লেখ রয়েছে।
এ ঘটনায় মোমিন খান বারহাট্টা থানায় ৬ জনের নাম উল্লেখ করে এবং আরও ১০-১২ জন অজ্ঞাত ব্যক্তিকে আসামি করে লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন। অভিযোগে তিনি অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।
এ বিষয়ে বারহাট্টা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) চম্পক দাম বলেন, দুই পক্ষ থেকেই অভিযোগ পাওয়া গেছে। বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
সংবাদ সম্মেলনে ভুক্তভোগী পরিবারের সদস্যরা বলেন, ঘটনার প্রকৃত তথ্য জনসম্মুখে তুলে ধরা এবং তাদের বিরুদ্ধে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে চালানো অপপ্রচারের প্রতিবাদ জানাতেই এ সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়েছে।
মাদক চোরাচালান প্রতিরোধ ও এর বিস্তার রোধকে বর্তমান সরকারের অন্যতম অগ্রাধিকার হিসেবে উল্লেখ করেছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। শুক্রবার রাতে কক্সবাজার হিল ডাউন সার্কিট হাউজে আয়োজিত জেলা মাদক প্রতিরোধ ও আইনশৃঙ্খলা উন্নয়নসংক্রান্ত একটি গুরুত্বপূর্ণ সভা শেষে তিনি গণমাধ্যমের সঙ্গে কথা বলেন। এ সময় তিনি স্পষ্ট করেন যে, মাদক নির্মূলে কোনো প্রকার আপস করা হবে না এবং একটি বিশেষ ট্রাস্কফোর্স কমিটির মাধ্যমে অপরাধীদের তালিকা প্রণয়ন করা হবে। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘ নির্মোহভাবে শীর্ষ মাদক কারবারিদের তালিকা আমরা প্রস্তুত করব। ট্রাস্কফোর্স কমিটি নির্মোহভাবে মাদক চোরাকারবারি ও ব্যবসায়িদের তালিকা তৈরি করবে। তার উপর ভিত্তি করে পরবর্তী পদক্ষেপ নেয়া হবে।’
মাদকের অনুপ্রবেশ বন্ধে বিভিন্ন রুটে নিরাপত্তা বাহিনীর ক্যাম্প স্থাপনের সিদ্ধান্তের কথা জানিয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘সমতলের পাশাপাশি নদীপথে বা সমুদ্রপথে মাদক চেরা চালান হচ্ছে, সে সমস্ত রুটে নৌবাহিনী ও কোস্টগার্ডের টহল জোরদারের জন্য নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। এছাড়া টেকনাফ-উখিয়ার জেলে ও নৌযান নিবন্ধনের সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে। তাতে করে মাদক চোরা চালানকারীদের চিহ্নিত করতে সুবিধা হবে।’ এছাড়া টেকনাফের পাহাড়ি এলাকায় অপহরণের ঘটনা প্রতিরোধে দুটি বিশেষ ক্যাম্প স্থাপনের বিষয়ে সেনাবাহিনীর সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের কাছে প্রস্তাবনা দেওয়া হয়েছে এবং এ নিয়ে প্রয়োজনীয় আলোচনা চলমান রয়েছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
কক্সবাজারের জেলা প্রশাসক মো. আ. মান্নানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এই সভায় স্থানীয় সংসদ সদস্যগণ, শরণার্থী ত্রাণ ও প্রত্যাবাসন কমিশনার এবং মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের মহাপরিচালকসহ বিজিবি, র্যাব, এপিবিএন ও পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। সভায় রাজনৈতিক ও সামাজিক সংগঠনের প্রতিনিধিরাও অংশগ্রহণ করেন। মন্ত্রী তার সফরের অংশ হিসেবে পরদিন সকালে কক্সবাজার উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ কার্যালয় পরিদর্শন করবেন এবং একটি ফ্ল্যাট উন্নয়ন প্রকল্পের উদ্বোধনসহ কক্সবাজার মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের নতুন ভবনের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করবেন। দিনব্যাপী বিভিন্ন কর্মসূচি পালন শেষে রাতেই তার রাজধানীতে ফেরার কথা রয়েছে।
নেত্রকোনায় ১৫ বছর বয়সী এক কিশোরীকে ধর্ষণের অভিযোগে আলোচিত এক কনটেন্ট ক্রিয়েটরকে গ্রেফতার করেছে র্যাব-১৪। বৃহস্পতিবার দিবাগত মধ্যরাতে ময়মনসিংহের গৌরীপুর উপজেলার মহিষারন এলাকা থেকে তাকে আটক করা হয়। মামলার পর থেকেই অভিযুক্ত ব্যক্তি পলাতক ছিলেন। তার অবস্থান নিশ্চিত হওয়ার পর র্যাবের একটি গোয়েন্দা দল বিশেষ অভিযান পরিচালনা করে তাকে গ্রেফতার করে। পরে তাকে আইনি কার্যক্রমের জন্য সংশ্লিষ্ট থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে।
এজাহার অনুযায়ী, অভিযুক্ত ব্যক্তি ভুক্তভোগী কিশোরীর প্রতিবেশী এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে কনটেন্ট নির্মাণের সুবাদে পরিচিত। তিনি ওই কিশোরীকে ভিডিওর মাধ্যমে ভাইরাল করার প্রলোভন দেখিয়ে বিভিন্ন সময় কুপ্রস্তাব দিতেন। গত ৩০ জুলাই রাতে প্রয়োজনীয় আলোচনার অজুহাতে তাকে বাড়ির পাশের একটি নির্জন স্থানে নিয়ে জোরপূর্বক ধর্ষণ করা হয়। এ ঘটনায় গত ৫ আগস্ট নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে একটি মামলা দায়ের করা হয়। সংশ্লিষ্ট থানার পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, অভিযুক্তকে গ্রেফতারের পর আদালতে পাঠানোর প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।
মূলত “হাই আই এম রিপন ভিডিও” এবং “আই লাভ ইউ, এটাই বাস্তব”—এর মতো সংলাপের মাধ্যমে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক পরিচিতি পেয়েছিলেন এই ব্যক্তি। ভুক্তভোগী পরিবারের দাবি, ভিডিও নির্মাণের কথা বলে তিনি আগে থেকেই কিশোরীকে উত্যক্ত করতেন। ঘটনার দিন বাড়িতে অভিভাবকদের অনুপস্থিতির সুযোগ নিয়ে কিশোরীকে জোরপূর্বক জঙ্গলে নিয়ে যাওয়া হয়। এই ঘটনা জানাজানি হওয়ার পর স্থানীয়ভাবে একটি সালিশি বৈঠকও অনুষ্ঠিত হয়েছিল। সেখানে তিনি উপস্থিত সবার সামনে দায় স্বীকার করে ক্ষমা প্রার্থনা করেন।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া একটি ভিডিওতে তাকে বলতে শোনা যায়, “ভুল করলেও করছি, না করলেও করছি। আমি, আপনেরার লগে থাহন লাগবো...! ভুল তো মানুষ করেই, আমি একটা ভুল কইরাইলছি।” ওই সালিশে তাকে আর্থিক জরিমানা ও এলাকা ত্যাগের নির্দেশ দেওয়া হলেও বিষয়টি নিয়ে ব্যাপক সমালোচনার সৃষ্টি হয়। আইন বিশেষজ্ঞদের মতে, ধর্ষণের মতো স্পর্শকাতর ফৌজদারি অপরাধের বিচার গ্রাম্য সালিশে করার কোনো আইনি ভিত্তি নেই। বর্তমানে বিষয়টি নিয়মিত আইনি প্রক্রিয়ায় প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।
সিলেটের ওসমানীনগরে ঢাকা-সিলেট মহাসড়কে দুই যাত্রীবাহী বাসের মুখোমুখি সংঘর্ষে এক শিশুসহ ৮ জন নিহত হয়েছে। এ ঘটনায় আহত হয়েছে আরও বেশ কয়েকজন যাত্রী।
আজ শুক্রবার (৭ আগস্ট) সকাল ৭টা থেকে ৭টা ১০ মিনিটের মধ্যে ওসমানীনগর থানাধীন কাশিকাপন এলাকার এ দুর্ঘটনা ঘটে।
ওসমানীনগর থানার পরিদর্শক (তদন্ত) জয়নাল আবেদিন জানান, সকালের দিকে ঢাকাগামী ইউনিক পরিবহণের একটি বাস এবং সিলেটগামী বেঙ্গল স্লিপার কোচের মধ্যে মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়। সংঘর্ষের তীব্রতায় ইউনিক পরিবহণের বাসটি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে সড়কের পাশে খাদে পড়ে যায়। এতে ঘটনাস্থলেই ইউনিক পরিবহণের ৭ যাত্রী প্রাণ হারান।
দুর্ঘটনার পর উদ্ধার অভিযান চালিয়ে আহতদের দ্রুত উদ্ধার করা হয়। গুরুতর আহত ৩ বছরের এক শিশুকে সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। নিহতদের সবাই ইউনিক পরিবহণের যাত্রী ছিলেন বলে জানা গেছে।
ঘটনার খবর পেয়ে তাৎক্ষণিকভাবে শেরপুর হাইওয়ে পুলিশ, ওসমানীনগর থানা পুলিশ এবং ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা ঘটনাস্থলে পৌঁছে উদ্ধার অভিযান শুরু করেন। নিহতদের লাশ উদ্ধার করে শেরপুর হাইওয়ে পুলিশ নিজেদের হেফাজতে নিয়েছে।
বর্তমানে দুর্ঘটনা এলাকার ঢাকা-সিলেট মহাসড়কে যানবাহন চলাচল স্বাভাবিক রয়েছে বলে পুলিশ জানিয়েছে।
গণমাধ্যমে প্রকাশিত জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের (জবি) ৬৮ জন শিক্ষক রাষ্ট্রবিরোধী গোপন তৎপরতায় জড়িত থাকার অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে চার সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করেছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। বৃহস্পতিবার (৬ আগস্ট) বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার অধ্যাপক মো. শেখ গিয়াস উদ্দিন স্বাক্ষরিত এক অফিস আদেশে এ তথ্য জানানো হয়।
অফিস আদেশে বলা হয়, ইতিহাস বিভাগের অধ্যাপক ড. নাছির আহমদকে আহ্বায়ক এবং রেজিস্ট্রার দপ্তরের সেকশন অফিসার (গ্রেড-২) আবুল মালেককে সদস্য সচিব করে চার সদস্যের কমিটি গঠন করা হয়েছে। কমিটির অন্য সদস্যরা হলেন- রসায়ন বিভাগের অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ জামির হোসেন এবং রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক মেজবাহ-উল আলম সওদাগর।
অফিস আদেশে আরও বলা হয়েছে, আগামী ১৩ আগস্টের মধ্যে কমিটিকে অভিযোগে উল্লিখিত শিক্ষকদের রাষ্ট্রবিরোধী কর্মকাণ্ডে সম্পৃক্ততার অভিযোগ যাচাই, সংশ্লিষ্টদের চিহ্নিতকরণ, করণীয় নির্ধারণ এবং প্রয়োজনীয় সুপারিশসহ প্রতিবেদন জমা দিতে হবে। এ ছাড়া গণমাধ্যমে প্রকাশিত ছবিতে উল্লিখিত শিক্ষকদের বিরুদ্ধে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সময় আন্দোলন দমন এবং শিক্ষার্থীদের হুমকি দেওয়ার অভিযোগও তদন্তের আওতায় আনার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন জানিয়েছে, উপাচার্যের নির্দেশক্রমে এ তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে।
প্রসঙ্গত, এ তদন্ত কমিটি অভিযোগের সত্যতা যাচাইয়ের উদ্দেশ্যে গঠন করা হয়েছে। তদন্ত শেষ হওয়ার আগে অভিযোগগুলো প্রমাণিত বা অপ্রমাণিত- কোনোটিই চূড়ান্তভাবে প্রতিষ্ঠিত নয়।
একদিকে পিরোজপুরের ডুবি গ্রামের মেঠোপথে পরম যত্নে মাটি থেকে ‘নুন’ ছেঁকে আনার অর্ধশতকের ঐতিহ্যবাহী জীবনসংগ্রাম; অন্যদিকে কক্সবাজারের নীল জলরাশি ঘেঁষে আধুনিক প্রযুক্তির মেগা রিফাইনারি স্থাপনের কর্মযজ্ঞ। উপকূলীয় লবণ চাষিদের মাথার ঘাম পায়ে ফেলা পরিশ্রমে গত বছর দেশে রেকর্ড ২৪ লাখ মেট্রিক টনেরও বেশি লবণ উৎপাদিত হয়েছে। অথচ মধ্যস্বত্বভোগী, ফড়িয়া ও সুবিধাভোগী আমদানিকারক সিন্ডিকেটের রক্তচক্ষুতে এই বিপুল সম্ভাবনা এতদিন থমকে ছিল। অবশেষে সেই কালো ছায়া সরিয়ে দেশের মাঠে উৎপাদিত রুপালি লবণেই নতুন করে আঁকা হচ্ছে জাতীয় অর্থনীতির মানচিত্র।
সমুদ্রের লোনা পানি শুকিয়ে লবণ তৈরির গল্প বাংলায় নতুন নয়। কিন্তু এই শিল্পকে ঘিরে অদৃশ্য সিন্ডিকেটের কারসাজি, ঐতিহ্যবাহী মাটি-লবণের অস্তিত্ব রক্ষার লড়াই এবং বৈজ্ঞানিক উদ্ভাবনের সুবাতাস কোনো রূপকথার চেয়ে কম নয়। কক্সবাজার থেকে পিরোজপুর, আর লাওসের পটাশিয়াম খনি থেকে উপকূলীয় টেকসই প্রযুক্তি—লবণ খাতে বয়ে আনছে অভাবনীয় পরিবর্তনের হাওয়া।
পিরোজপুরের মাটি-লবণের ইতিহাস :
সমুদ্রের পানি ছাড়াও যে ভেজা মাটি থেকে খাঁটি লবণ ছেঁকে আনা সম্ভব, পিরোজপুরের ডুবি গ্রামে না গেলে তা বিশ্বাস করা কঠিন। এই অভিনব পদ্ধতির উদ্ভাবন কোনো বাণিজ্যিক চিন্তা থেকে হয়নি; এর নেপথ্যে রয়েছে ক্ষুধা ও দুর্ভিক্ষের এক করুণ ইতিহাস।
১৯৭৪ সালের ভয়াবহ দুর্ভিক্ষের সময় চারদিকে যখন হাহাকার, ঠিক তখনই দেশজুড়ে দেখা দেয় লবণের তীব্র সংকট। সেই সংকটকালে ছারছীনার একটি লবণ পরিশোধন কারখানার আশপাশে পড়ে থাকা লবণমিশ্রিত মাটি কুড়িয়ে এনে প্রথম লবণ ছেঁকে বের করার চেষ্টা করেন স্থানীয় এক বাসিন্দা। নিছক বেঁচে থাকার সেই তাগিদ আজ পাঁচ দশক পর রূপ নিয়েছে আস্ত একটি গ্রামের মূল জীবিকায়।
বর্তমানে চট্টগ্রাম ও কক্সবাজার অঞ্চল থেকে লবণমিশ্রিত মাটি কিনে এনে পিরোজপুরের ঘরে ঘরে গড়ে উঠেছে ছোট ছোট উৎপাদন কেন্দ্র। কঠোর শারীরিক পরিশ্রম ও রসায়নের মূলনীতির এক অনন্য মিশ্রণ এই উৎপাদন প্রক্রিয়া।
মাটি-পানির দ্রবণ: চট্টগ্রাম থেকে আনা লবণাক্ত মাটি প্রথমে বড় চৌবাচ্চা বা ট্যাংকে পানির সাথে মেশানো হয়।
থিতানো ও ছাঁকন: থিতিয়ে আসা লবণাক্ত পানি আলাদা করে নেওয়া হয়।
বাষ্পীভবন: আলাদা করা দ্রবণ টানা ৬-৭ ঘণ্টা বড় উনুনে জ্বাল দেওয়া হয়, যতক্ষণ না পানি উবে গিয়ে পাত্রের নিচে স্ফটিক লবণের স্তর জমে।
প্রক্রিয়াজাতকরণ: ঝুড়িতে রেখে পানি ঝরানোর পর
আয়োডিন মিশিয়ে তা বাজারে বিক্রির উপযোগী করা হয়।
ভোর ৪টা থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত আগুনের উত্তাপে এই হাড়ভাঙা খাটুনি চললেও প্রাপ্তির খাতাটি বড়ই করুণ। প্রতি কেজি লবণ উৎপাদনে একজন শ্রমিক পান মাত্র দেড় টাকা (১.৫০ টাকা) মজুরি। জীবনযাত্রার ব্যয় আকাশচুম্বী হলেও এই গ্রামের মানুষগুলো আঁকড়ে ধরে আছেন অভাবের দিনে জন্ম নেওয়া এই শিল্পকে।
সিন্ডিকেটের কালো থাবা ও কক্সবাজারের রিফাইনারি হাব:
পিরোজপুরের প্রান্তিক শ্রমিকরা যখন দেড় টাকার মজুরিতে ঘাম ঝরাচ্ছেন, তখন জাতীয় পর্যায়ে লবণ খাতকে গ্রাস করে রেখেছিল এক শক্তিশালী সিন্ডিকেট। প্রান্তিক চাষিদের শ্রমে রেকর্ড ২৪.৩৭ লাখ মেট্রিক টন ভোজ্য লবণ উৎপাদন হলেও সংকট তৈরি করা হতো ‘শিল্প লবণ’ নিয়ে।
ওষুধ, টেক্সটাইল ও চামড়া শিল্পের জন্য প্রয়োজন উচ্চমানের বিশুদ্ধ পরিশোধিত শিল্প লবণ। দেশে আধুনিক রিফাইনারি হাব না থাকার সুযোগে একশ্রেণির অসাধু আমদানিকারক ‘বন্ডেড ওয়্যারহাউস’ সুবিধার অপব্যবহার করে শিল্প লবণের নামে শুল্কমুক্ত সুবিধায় ভোজ্য লবণ এনে খোলা বাজারে বিক্রি করত। এতে রাষ্ট্র যেমন হাজার কোটি টাকার রাজস্ব হারাত, তেমনি ন্যায্যমূল্য থেকে বঞ্চিত হতেন দেশি চাষিরা।
২৮ বছরের অবসান ও বিসিকের মেগা প্রকল্প:
এই শোষণের অবসান ঘটাতে বাংলাদেশ ক্ষুদ্র ও কুটির শিল্প করপোরেশন (বিসিক) হাতে নিয়েছে এক যুগান্তকারী পদক্ষেপ। কক্সবাজারের চৌফলদণ্ডীতে ১৫৪ থেকে ১৯৪ কোটি টাকা ব্যয়ে প্রায় ৩০ একর জমির ওপর নির্মিত হচ্ছে একটি আধুনিক লবণ রিফাইনারি হাব ও গবেষণা ইনস্টিটিউট।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই মেগা রিফাইনারি চালু হলে লবণ খাতে সরাসরি দালালমুক্ত পরিবেশে কেনাবেচার সুযোগ তৈরি হবে, যেখানে চাষিরা প্রতি মণে অন্তত ৩৩৭ টাকা পর্যন্ত অতিরিক্ত ন্যায্যমূল্য পাবেন। শিল্প লবণের জন্য বিদেশ নির্ভরতা শূন্যে নামবে, ফলে বছরে হাজার কোটি টাকার বৈদেশিক মুদ্রা বা ডলার সাশ্রয় হবে। অভ্যন্তরীণ চাহিদা মিটিয়ে অতিরিক্ত উচ্চমানের পরিশোধিত লবণ বৈশ্বিক বাজারে রপ্তানির পথ খুলবে। আধুনিক অবকাঠামোকে ঘিরে ১০ হাজার চাষিকে প্রশিক্ষণ দেওয়া হবে এবং প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে প্রায় ৫০ হাজার মানুষের নতুন কর্মসংস্থান তৈরি হবে।
ব্লু ইকোনমিতে চমক: একই মাঠে লবণ ও ‘আর্টিমিয়া’ চাষ
কক্সবাজারের উপকূলে শুধুই রিফাইনারি হাব নয়, সমুদ্রভিত্তিক অর্থনীতি বা ‘ব্লু ইকোনমি’তে এক বৈজ্ঞানিক বিপ্লব ঘটিয়েছেন চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের (চবি) ইনস্টিটিউট অব মেরিন সায়েন্সেসের গবেষকরা। অধ্যাপক ড. মো. শফিকুল ইসলামের নেতৃত্বে এবং মৎস্য অধিদপ্তরের ‘সাসটেইনেবল কোস্টাল অ্যান্ড মেরিন ফিশারিজ প্রজেক্ট’-এর অর্থায়নে একদল গবেষক দেশে প্রথমবারের মতো উদ্ভাবন করেছেন আর্টিমিয়া ও লবণের সমন্বিত চাষ পদ্ধতি।
আর্টিমিয়া কী ও কেন এটি সোনালী সুযোগ?
আর্টিমিয়া হলো অতি ক্ষুদ্র শৈবালভোজী এক প্রকার জলজ প্রাণী, যা সামুদ্রিক হ্যাচারিতে মাছ ও চিংড়ির পোনার জন্য ‘উচ্চমানের জীবন্ত খাবার’ (Live Feed) হিসেবে ব্যবহৃত হয়। বাংলাদেশে প্রতি বছর প্রায় ৫০ কোটি টাকা ব্যয় করে ৪০-৫০ টন আর্টিমিয়া আমদানি করতে হতো।
চবির গবেষকরা কক্সবাজারের চৌফলদণ্ডীতে গবেষণা চালিয়ে দেখিয়েছেন, একই মাঠে সঠিক লবণাক্ততা বজায় রেখে একই সাথে লবণ ও আর্টিমিয়া চাষ সম্ভব।
এর চমকপ্রদ সুবিধাগুলো হলো- আর্টিমিয়া প্রাকৃতিক ‘ফিল্টার ফিডার’ হিসেবে পানির বর্জ্য খেয়ে ফেলে। ফলে এই পানি থেকে উৎপাদিত লবণের স্ফটিক হয় অনেক বেশি পরিষ্কার ও বিশুদ্ধ।
কৃষকরা লবণ বিক্রির পাশাপাশি দামি আর্টিমিয়া ও এর ডিম (সিস্ট) বিক্রি করে দ্বিগুণ আয় করতে পারবেন। উপকূলীয় নারীরা সহজেই এটি সংগ্রহ ও প্রক্রিয়াজাতকরণে অংশ নিতে পারছেন। দেশের ৭০০ কিলোমিটার দীর্ঘ উপকূলীয় অঞ্চলের লবণমাঠে এই প্রযুক্তি ছড়িয়ে দিলে মৎস্য খাতের আর্টিমিয়া আমদানিনির্ভরতা পুরোপুরি দূর হবে।
বৈশ্বিক শিক্ষা: লাওস-ভিয়েতনাম পটাশিয়াম প্রকল্প
ভোজ্য ও শিল্প লবণের পাশাপাশি কৃষিতে ব্যবহৃত রাসায়নিক সারের জন্য ‘পটাশিয়াম লবণ’ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এ ক্ষেত্রে আন্তর্জাতিক সহযোগিতার বড় উদাহরণ তৈরি করেছে ভিয়েতনাম ও লাওস। ভিয়েতনামের রাষ্ট্রীয় সংস্থা ‘ভিনাকেম’ লাওসের খাম্মুয়ান প্রদেশে বিশাল পটাশিয়াম খনি ও প্রক্রিয়াজাতকরণ প্রকল্প চালু করতে যাচ্ছে। এই উদ্যোগ আমাদের শেখায়—লবণ কেবল উপকূলীয় মেঠোপথের বাণিজ্য নয়; আন্তর্জাতিক কূটনীতি ও প্রযুক্তির মেলবন্ধন ঘটানো গেলে এটি বৈশ্বিক অর্থনীতির পরাক্রমশালী নিয়ামক হতে পারে।
পিরোজপুরের ডুবি গ্রামের মাটি থেকে বাঁচার তাগিদে শুরু হওয়া আদিম লড়াই, কক্সবাজারের আধুনিক বিসিক রিফাইনারি হাব আর সমুদ্রের জলে ভেসে থাকা চবি গবেষকদের আর্টিমিয়া—সবগুলো বিন্দু এক সুতোয় গাঁথলে এটি স্পষ্ট যে, বাংলাদেশ লবণ খাতে আর পিছিয়ে নেই।
মাটি নিংড়ানো শ্রমিকের ঘাম, আধুনিক রিফাইনারি অবকাঠামো আর সুনীল অর্থনীতির বৈজ্ঞানিক গবেষণার মেলবন্ধনে রচিত হচ্ছে এক স্বাবলম্বী বাংলাদেশের গল্প। সিন্ডিকেটের অশুভ ছায়া চিরতরে বিদায় করে সরকারি পৃষ্ঠপোষকতা বজায় রাখতে পারলে, বাংলাদেশ শুধু নিজের চাহিদা মেটাবে না; বরং বিশ্বে উচ্চমানের লবণ ও সামুদ্রিক উপাদান রপ্তানিকারক দেশ হিসেবে মাথা উঁচু করে দাঁড়াবে।
এ প্রসঙ্গে শিল্প মন্ত্রণালয়ের সাবেক জ্যেষ্ঠ সচিব মো. ওবায়দুল রহমান বলেছেন, বাংলাদেশ লবণ উৎপাদনে স্বয়ংসম্পূর্ণ। কোনো অজুহাতে খাবার লবণ আমদানি করতে দেওয়া হবে না। চাষিদের টিকিয়ে রাখাই এখন বড় চ্যালেঞ্জ। দেশের ভেতরে পর্যাপ্ত লবণ থাকা সত্ত্বেও অসাধু সিন্ডিকেটের আমদানি করার অপচেষ্টা রোধে এবং প্রান্তিক লবণচাষিদের ন্যায্য মূল্য নিশ্চিত করার কঠোর অবস্থানের কথাও জানান তিনি।
বাংলাদেশ ক্ষুদ্র ও কুটির শিল্প করপোরেশনের (বিসিক) সাবেক চেয়ারম্যান মো. সাইফুর রহমান মনে করেন, লবণ শুধু একটি কৃষিপণ্য নয়, এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ শিল্প উপাদান।
তিনি জানান, সরকারি-বেসরকারি সমন্বয়ে জাতীয় লবণনীতি চূড়ান্ত করার কাজ চলছে। পাশাপাশি লবণ উৎপাদনকে আধুনিকায়ন করা, অভ্যন্তরীণ বাজার ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করা এবং সড়ক পরিবহন দুর্ঘটনা রোধে লবণ পরিবহনে আধুনিক ঢাকনা ও প্যাকেজিং ব্যবস্থার ওপর গুরুত্ব দেন তিনি।
কক্সবাজারের জেলা প্রশাসক মো. আব্দুল মান্নান বলেন, ‘কক্সবাজারের পুরো অর্থনীতি লবণের সঙ্গে গভীরভাবে যুক্ত। চাষিদের টিকিয়ে রাখাই এখন বড় চ্যালেঞ্জ। প্রশাসন এ শিল্পে স্বচ্ছতা ও স্থিতিশীলতা আনতে সচেষ্ট।’
স্থানীয় পর্যায়ের অর্থনীতিতে লবণের অবদান তুলে ধরে মধ্যস্বত্বভোগীদের দৌরাত্ম্য থামিয়ে চাষিদের আর্থিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করার বিষয়েও পরামর্শ দেন তিনি।
সম্প্রতি ঢাকার গুলশানে আয়োজিত এক জাতীয় পরামর্শ সভায় বিশেষজ্ঞরা বলেন, ‘লবণের জাতীয় উৎপাদনশীলতা বাড়াতে হলে কৃষক ও শ্রমিকদের পেশাগত নিরাপত্তা ও চিকিৎসার সুব্যবস্থা নিশ্চিত করতে হবে। দেশে প্রায় ৪০ হাজার কৃষক পরিবার এবং ৫৫ হাজার দক্ষ শ্রমিক সরাসরি লবণ উৎপাদনে যুক্ত। এ ছাড়া ৫ লাখেরও বেশি শ্রমিক এই খাতের সাথে প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে সম্পৃক্ত। তাই এই খাতের পেশাগত স্বাস্থ্য, নিরাপত্তা ও কর্মপরিবেশের উন্নয়ন আবশ্যক।
চকরিয়ার প্রবীণ লবণচাষি নুরুল ইসলাম বলেন, ‘লবণ তুলি আমরা, কিন্তু দাম ঠিক করে শহরের অফিসে বসে থাকা মধ্যস্বত্বভোগীরা। নিজস্ব সংরক্ষণাগার ও সরকারি নজরদারি থাকলে আমরা ঘামের সঠিক দাম পাব।’
ছুটি, কর্মব্যস্ততা কিংবা প্রাত্যহিক যাতায়াত—সব মিলিয়ে দেশের সড়কগুলো যেন একেকটি মৃত্যুফাঁদে পরিণত হয়েছে। গেল জুলাই মাসে সারাদেশে ৪৫৮টি সড়ক দুর্ঘটনায় প্রাণ হারিয়েছেন ৪১৬ জন। এর মধ্যে ৫৪ জন নারী ও শিশু রয়েছে। একই সময়ে আহত হয়েছেন আরও ৬২৯ জন। বৃহস্পতিবার (৬ আগস্ট) সড়ক নিরাপত্তা নিয়ে কাজ করা বেসরকারি সংস্থা ‘রোড সেফটি ফাউন্ডেশন’ বিভিন্ন গণমাধ্যমের তথ্য বিশ্লেষণ করে এই মর্মান্তিক প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে।
জুলাই মাসে সারাদেশে ৪৫৮টি সড়ক দুর্ঘটনা ঘটে। এসব দুর্ঘটনায় প্রাণ হারিয়েছেন ৪১৬ জন এবং আহত হয়েছেন ৬২৯ জন। নিহতদের মধ্যে ৫৪ জন নারী ও শিশু রয়েছে। বিভাগের দিক থেকে সবচেয়ে বেশি ১৩৩টি দুর্ঘটনা ও ১২৫ জন নিহতের ঘটনা ঘটেছে ঢাকা বিভাগে (২৯.০৩শতাংশ)।
এছাড়া মহাসড়কে ৩৬.৮৯শতাংশ এবং আঞ্চলিক সড়কে ৩৩.৮৪শতাংশ দুর্ঘটনা সংঘটিত হয়েছে। যানবাহনের ধরন অনুযায়ী সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিপূর্ণ ছিল মোটরসাইকেল; ১৫৯টি মোটরসাইকেল দুর্ঘটনায় ১৩৮ জন প্রাণ হারিয়েছেন, যা মোট নিহতের এক-তৃতীয়াংশেরও বেশি। পাশাপাশি, রাস্তা পারাপার বা হাঁটার সময় ১০৬ জন পথচারী নিহত হয়েছেন।
প্রতিবেদনের তথ্য অনুযায়ী, জুলাই মাসের দুর্ঘটনায় সবচেয়ে বেশি প্রাণহানি ঘটেছে মোটরসাইকেলে। ১৫৯টি মোটরসাইকেল দুর্ঘটনায় ১৩৮ জন মারা গেছেন, যা মোট নিহতের প্রায় এক-তৃতীয়াংশ (৩৩.১৭শতাংশ)। বিশেষ করে তরুণদের বেপরোয়া গতি এবং ট্রাফিক আইন না মানার প্রবণতা এর অন্যতম বড় কারণ।
নিহতদের পেশাগত পরিচয়ে সমাজের বিভিন্ন স্তরের মানুষের নাম উঠে এসেছে। এর মধ্যে সবচেয়ে হৃদয়বিদারক হলো শিক্ষার্থীদের প্রাণহানি। জুলাই মাসে দেশের বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ৫৩ জন শিক্ষার্থী সড়ক দুর্ঘটনায় মারা গেছেন।
জুলাই মাসের এই সড়ক দুর্ঘটনায় সমাজের বিভিন্ন পেশা ও স্তরের মানুষ প্রাণ হারিয়েছেন। এর মধ্যে সবচেয়ে বড় ধাক্কা এসেছে শিক্ষার্থীদের ওপর; দেশের বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ৫৩ জন শিক্ষার্থী সড়ক দুর্ঘটনায় মারা গেছেন।
নিহতদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য সংখ্যায় রয়েছেন বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের ২৩ জন নেতাকর্মী, ১৬ জন এনজিওকর্মী, ১৭ জন বিক্রয় প্রতিনিধি (রিপ্রেজেন্টেটিভ), ১৪ জন ব্যাংক ও বীমা কর্মকর্তা-কর্মচারী এবং ২৭ জন স্থানীয় ব্যবসায়ী।
পেশাগত দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে প্রাণ হারিয়েছেন ৭ জন শিক্ষক, ৩ জন সাংবাদিক, ২ জন চিকিৎসক, ২ জন প্রকৌশলী, ৩ জন আইনজীবী, ১ জন পুলিশ সদস্য এবং ১ জন বিজিবি সদস্য। এর বাইরেও কৃষি শ্রমিক, পোশাক শ্রমিক, মসজিদের ইমাম-খাদেম এবং নানা বয়সের সাধারণ মানুষ এই মৃত্যুমিছিলে সামিল হয়েছেন। এছাড়া পুলিশ, বিজিবি, চিকিৎসক, প্রকৌশলী, আইনজীবী ও সংবাদকর্মীরাও সড়ক দুর্ঘটনায় প্রাণ হারিয়েছেন।
বিশ্লেষণে দেখা যায়, সবচেয়ে বেশি দুর্ঘটনা ঘটেছে জাতীয় মহাসড়কগুলোয় (৩৬.৮৯শতাংশ), এর পরেই রয়েছে আঞ্চলিক সড়ক (৩৩.৮৪শতাংশ)। দুর্ঘটনার প্রধান কারণগুলোর মধ্যে রয়েছে—বেপরোয়া গতি, ত্রুটিপূর্ণ যানবাহন, চালকদের বেপরোয়া মানসিকতা ও ক্লান্তি, মহাসড়কে স্বল্পগতির অবৈধ যানবাহন চলাচল এবং দুর্বল ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা।
সড়ক দুর্ঘটনা কমিয়ে আনতে সংস্থাটি ১২ দফা সুপারিশ পেশ করেছে। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো—জাতীয় সড়ক নিরাপত্তা কাউন্সিল পুনর্গঠন করে কঠোর নীতি প্রণয়ন ও বাস্তবায়ন। বিআরটিএ ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কার্যক্রমে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করা।
মহাসড়কে স্বল্পগতির যানবাহনের জন্য পৃথক সার্ভিস রোড নির্মাণ এবং ফিটনেসবিহীন ও মেয়াদোত্তীর্ণ যানবাহন পুরোপুরি বন্ধ করা এবং চালকদের নির্দিষ্ট কর্মঘণ্টা, পর্যাপ্ত বেতন ও সুচিকিৎসা নিশ্চিত করা।
সড়কের এই রক্তক্ষয়ী চিত্র কেবল কিছু সংখ্যা নয়; এর পেছনে রয়েছে শত শত ভেঙে পড়া পরিবার ও প্রিয়জন হারানোর আর্তনাদ। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, কেবল নিয়ম বা সুপারিশ কাগজে কলমে সীমাবদ্ধ না রেখে সরকারের কঠোর রাজনৈতিক সদিচ্ছা এবং সাধারণ মানুষের সচেতনতাই পারে এই মৃত্যুমিছিল রোধ করতে।
তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন বলেছেন, দেশে বারবার জনগণের অধিকার ও সৃষ্টিশীল ক্ষমতাকে শিকলবদ্ধ করার অপচেষ্টা রোধে একটি স্থায়ী প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামো তৈরি করতে চায় সরকার, যাতে ভবিষ্যতে আর কেউ কোনোদিন জাতিকে শিকল পরাতে না পারে। বৃহস্পতিবার (৬ আগস্ট) দুপুরে সচিবালয়ে তথ্য অধিদপ্তরের সম্মেলন কক্ষে আয়োজিত জুলাই গণঅভ্যুত্থানের দ্বিতীয় বর্ষপূর্তি উপলক্ষে ‘শিকল ভাঙার জুলাই’ প্রকাশনার মোড়ক উন্মোচন অনুষ্ঠানে তিনি এ কথা বলেন। তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের আওতাধীন তথ্য অধিদপ্তর (পিআইডি) এই প্রকাশনা প্রকাশ করে।
তথ্যমন্ত্রী বলেন, ‘আমাদের দেশের বয়স ৫৫ বছরের বেশি হয়ে গেলেও বারবার জনগণের কণ্ঠ ও অধিকারকে শিকলে বাঁধা হয়েছে। এই প্রতিবন্ধকতার শিকল ভাঙতে বারবার আমাদের রক্ত দিতে হয়েছে, প্রাণ বিসর্জন দিতে হয়েছে এবং দেশের স্বাভাবিক সমৃদ্ধির প্রক্রিয়া ব্যাহত হয়েছে। পৃথিবীর যে দেশগুলো ধারাবাহিক সমৃদ্ধি বজায় রাখতে পেরেছে, তারাই আজ বিশ্বে অন্যতম প্রধান শক্তিতে পরিণত হয়েছে।’
অতীতের আন্দোলনগুলোর সঙ্গে জুলাই গণঅভ্যুত্থানের গুণগত পার্থক্যের কথা তুলে ধরে জহির উদ্দিন স্বপন বলেন, ‘অতীতে বিভিন্ন আন্দোলন কেবল অন্যায়ের বিরুদ্ধে প্রতিক্রিয়া ও গণঅভ্যুত্থানেই শেষ হতো, পরে লক্ষ্যহীনভাবে হারিয়ে গিয়ে আবার নতুন কোনো ফ্যাসিবাদের পথ সুগম হতো। কিন্তু এবার আমরা যখন ফ্যাসিবাদের শিকল ভাঙার গান গেয়েছি, তখনই দেশ গড়ার পরিকল্পনা করেছি।’
তিনি আরও বলেন, ‘রক্ত ও প্রাণের বিনিময়ে অর্জিত এই অর্জনকে জনগণের দোরগোড়ায় পৌঁছাতে পুরোনো ব্যবস্থা দিয়ে সম্ভব নয়, সে কারণেই আমরা রাষ্ট্র কাঠামো ও রাজনীতি মেরামতের কথা বলেছি।’
তথ্যমন্ত্রী বলেন, ‘অতীতের কোনো রাজনৈতিক আন্দোলনে লড়াইয়ের আগেই সুনির্দিষ্ট রূপরেখা ছিল না। এমনকি ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধের সময়েও রাজনৈতিক সিদ্ধান্তহীনতার একপর্যায়ে পাকিস্তান সামরিক বাহিনীর বাঙালি অফিসার মেজর জিয়াউর রহমানকে এসে ঐতিহাসিক স্বাধীনতার ঘোষণা দিতে হয়েছিল। কিন্তু ২০২৪ সালের গণঅভ্যুত্থানের সবচেয়ে বড় বৈশিষ্ট্য হলো— শিকল ভাঙার পর আমরা কী করব, তা আমাদের নেতা তারেক রহমান ৩১ দফার মাধ্যমে আগেই নির্ধারণ করে দিয়েছিলেন এবং সরকার সেই লক্ষ্যেই এগিয়ে চলছে।
ফ্যাসিবাদের বিরুদ্ধে দীর্ঘ ১৭ বছরের লড়াইয়ের কথা স্মরণ করে অনুষ্ঠানে তথ্য ও সম্প্রচার প্রতিমন্ত্রী ইয়াসের খান চৌধুরী বলেন, ‘বিগত দেড় দশকের স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলন এবং জুলাই যোদ্ধাদের আত্মত্যাগের বিনিময়েই দেশ আজ গণতান্ত্রিক ধারায় ফিরেছে, অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচনের মাধ্যমে জনগণের ভোটে নির্বাচিত এই সরকার রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্ব গ্রহণ করতে পেরেছে। আমাদের নেতা প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের দূরদর্শী নেতৃত্বের কারণেই এই গণতান্ত্রিক অগ্রযাত্রা সম্ভব হয়েছে।’
তিনি জুলাই গণঅভ্যুত্থানের বীর শহীদদের আত্মার মাগফিরাত এবং আহতদের দ্রুত সুস্থতা কামনা করেন।
মন্ত্রণালয়ের ভারপ্রাপ্ত সচিব মো. শাহ আলম বলেন, ‘জুলাই গণঅভ্যুত্থানের দ্বিতীয় বর্ষপূর্তির প্রাক্কালে সেই স্মৃতির প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে এই স্মারকগ্রন্থ প্রকাশ করা হয়েছে। এতে ফ্যাসিবাদের সময় জেল-জুলুম, অত্যাচার ও আয়নাঘরের ভয় উপেক্ষা করে যারা রাজপথে ছিলেন, তাদের বাস্তব অভিজ্ঞতা তুলে ধরা হয়েছে। ফলে এই সংকলনটি সময়ের একটি স্বচ্ছ আয়না হিসেবে দীর্ঘকাল পাঠক ও গবেষকদের পথ দেখাবে।’
তথ্য অধিদপ্তরের প্রধান তথ্য কর্মকর্তা সৈয়দ আবদাল আহমদ জানান, বিগত ১৭ বছর ধরে গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারের সংগ্রামে যারা সক্রিয়ভাবে যুক্ত ছিলেন, একাধিক মামলা ও কারাবরণ করেছেন, মূলত তাদের প্রত্যক্ষ অভিজ্ঞতা ও স্মৃতি নিয়েই এই বিশেষ বইটি প্রকাশ করা হয়েছে। জুলাই গণঅভ্যুত্থানের দ্বিতীয় বার্ষিকীতে আন্দোলনকারী ও দায়িত্বশীলদের অবদানকে প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দিতেই তথ্য অধিদপ্তরের এই ক্ষুদ্র প্রয়াস।
মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী ইশরাক হোসেন বলেছেন, জুলাই শহীদদের কবর পাকা করতে দুই লাখ টাকা করে বরাদ্দ করেছিল অন্তর্বর্তী সরকার, তারা সেই টাকাও মেরে খেয়েছে। বৃহস্পতিবার (৬ আগস্ট) রাজধানীর জাতীয় প্রেসক্লাবে জুলাই গণঅভ্যুত্থানের দ্বিতীয় বর্ষপূর্তি উপলক্ষে আয়োজিত এক আলোচনা সভায় তিনি এ কথা বলেন।
ইশরাক হোসেন বলেন, অন্তর্বর্তী সরকার পরিকল্পিতভাবে জুলাই গণঅভ্যুত্থান অধিদপ্তর গঠন করেনি। ফলে বিএনপি সরকার আসার পর এই অধিদপ্তর গঠন করে কাজ করতে বেগ পেতে হচ্ছে। দলীয় পরিচয়ের কারণে অনেক জুলাই যোদ্ধাকে গেজেটভুক্ত করেনি অন্তর্বর্তী সরকার। আমরা তাদেরকে গেজেটভুক্ত করার জন্য কাজ করছি।
ইশরাক হোসেন বলেন, জুলাই শহীদদের কবর পাকা করতে দুই লাখ টাকা করে বরাদ্দ করেছিল অন্তর্বর্তী সরকার। কিন্তু আমি গিয়ে দেখি কবরের কোনো চিহ্নও নেই। তারা কবরের টাকা মেরে খেয়েছে। এমন অনেক তথ্য আমাদের কাছে আছে, যা প্রকাশ করলে তারা মুখ লুকানোর জায়গা পাবে না।
প্রতিমন্ত্রী ইশরাক বলেন, একমাত্র বিএনপির গণহত্যা বা দেশের বিরুদ্ধে অবস্থানের কোনো ইতিহাস নেই। বিরোধী দলের ইতিহাস কলঙ্কিত বলেই তারা মুছে ফেলতে চায়। কিন্তু বাংলাদেশের মানুষ তা কখনো ভুলবে না।
তিনি বলেন, গতকালের অনুষ্ঠান বানচাল করতে একজন সংসদ সদস্যের নেতৃত্বে মব চালানো হয়। দ্বিমত থাকলে রাষ্ট্রীয় অনুষ্ঠানে সভ্যভাবে তারা প্রতিবাদ জানাতে পারতেন। কিন্তু যেকোনো অজুহাতে তাদের কাল গোলযোগ করার পরিকল্পনা ছিল। তাদের এই আচরণে বিভিন্ন দেশের কূটনীতিকদের সামনে আমাদের সম্মানহানি হয়েছে।
শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান দেশে প্রথম সবুজ বিপ্লবের ডাক দিয়েছিলেন বলে মন্তব্য করেছেন পরিবেশমন্ত্রী আবদুল আউয়াল মিন্টু। তিনি বলেছেন, আধুনিক বাংলাদেশের রূপকার শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান গ্রামীণ অর্থনীতিকে শক্তিশালী করা, খাল খনন কর্মসূচি এবং ব্যাপক বৃক্ষরোপণ অভিযানের মাধ্যমে সাধারণ মানুষকে শিখিয়েছিলেন কীভাবে প্রকৃতিকে ভালোবেসে স্বনির্ভর দেশ গড়ে তোলা যায়।
বৃহস্পতিবার (৬ আগস্ট) রাজধানীর উত্তরার নওয়াব হাবিবউল্লাহ স্কুল অ্যান্ড কলেজ চত্বরে ঢাকা-১৮ আসনে মাসব্যাপী বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি-২০২৬ এর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন তিনি।
পরিবেশমন্ত্রী বলেন, ‘প্রয়াত প্রধানমন্ত্রী দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া ১৯৯১ সালে গাজীপুরের শালনায় নিজ হাতে মেহগনির চারা রোপণ করে রাষ্ট্রীয় পর্যায়ে জাতীয় বৃক্ষরোপণ অভিযানকে জনগণের দ্বারে দ্বারে পৌঁছে দিয়েছিলেন। তিনিই ১৯৯৪ সালে জাতীয় বৃক্ষমেলার সূচনা করেন।’ প্রতিটি পরিবার, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, তরুণ এবং যুব সংগঠনকে অন্তত একটি করে গাছ রোপণ ও নিয়মিত পরিচর্যার আহ্বান জানান তিনি।
সম্মিলিত উদ্যোগের মাধ্যমে ২০৩৫ সালের মধ্যে দেশের বৃক্ষাচ্ছাদন ২৭ শতাংশে উন্নীত করার লক্ষ্য নির্ধারিত সময়ের আগেই অর্জন করা সম্ভব হবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন মন্ত্রী।
অনুষ্ঠানে যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী মো. আমিনুল হক বলেন, ‘একটি গাছ শুধু অক্সিজেনই দেয় না, এটি আমাদের পরিবেশ রক্ষা, জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণ এবং প্রাকৃতিক দুর্যোগের ঝুঁকি কমাতেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। তাই বৃক্ষরোপণের পাশাপাশি প্রতিটি চারার যথাযথ পরিচর্যা নিশ্চিত করতে হবে।’ বর্তমান সরকারের নির্বাচনী ইশতেহার বাস্তবায়নে প্রধানমন্ত্রীর অঙ্গীকার ৫ বছরে ২৫ কোটি বৃক্ষরোপণের বিষয়ে সবাইকে গুরুত্ব দিতে আহ্বান জানান তিনি।
অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন ঢাকা-১৮ আসনের সংসদ সদস্য এস এম জাহাঙ্গীর হোসেন। তিনি বলেন, ‘আমরা যদি গাছ টিকিয়ে রাখতে না পারি, তবে আমাদের জীবনও হুমকির মুখে পড়ে যাবে।’ তাই ঢাকা-১৮ আসনের মাঠে-ঘাটে, আনাচে-কানাচে বৃক্ষরোপণ করা হবে বলে ঘোষণা দেন তিনি।
স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, বিভিন্ন সামাজিক ও স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনের প্রতিনিধি, বিএনপি ও এর অঙ্গসহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মী, প্রিন্ট, ইলেকট্রনিক ও অনলাইন গণমাধ্যমের সাংবাদিক এবং সাধারণ মানুষ এতে অংশগ্রহণ করেন।
জীবিত পাখির মধ্যে সবচেয়ে বড় ডিম দেয় উটপাখি এ তথ্য অনেকেরই জানা। তবে বাস্তবে সেই বিশাল ডিম কাছ থেকে দেখার সুযোগ খুব কম মানুষেরই হয়। একইভাবে অস্ট্রেলিয়ার উড়তে-অক্ষম পাখি এমুর সবুজাভ-নীল রঙের ডিমও সচরাচর চোখে পড়ে না। সম্প্রতি মৌলভীবাজারের একটি বার্ড পার্কে উটপাখি ও এমু—দুই প্রজাতির পাখির ডিম দর্শনার্থীদের জন্য প্রদর্শন করা হচ্ছে, যা দেখতে ভিড় করছেন নানা বয়সের মানুষ।
মৌলভীবাজার সদর উপজেলার মোস্তফাপুর ইউনিয়নের আজমেরু গ্রামে অবস্থিত বার্ড পার্ক অ্যান্ড ইকো ভিলেজে সম্প্রতি উটপাখির দুটি ও এমুর একটি ডিম সংগ্রহ করে সংরক্ষণ করা হয়েছে। দর্শনার্থীরা ডিমগুলো কাছ থেকে দেখার পাশাপাশি হাতে নিয়েও পর্যবেক্ষণের সুযোগ পাচ্ছেন। উটপাখির ধূসর রঙের একটি ডিমের ওজন প্রায় দেড় কেজি। অন্যদিকে এমুর সবুজাভ-নীলচে ডিমটিও আকারে বেশ বড় হওয়ায় সবার দৃষ্টি কাড়ছে।
পার্কে বর্তমানে দুটি উটপাখি ও দুটি এমু পৃথক খাঁচায় রাখা হয়েছে। দর্শনার্থীরা কাছে গেলে পাখিগুলো ধীরগতিতে চলাফেরা করে।
বিশেষজ্ঞদের তথ্য অনুযায়ী, উটপাখি পৃথিবীর সবচেয়ে বড় ও ভারী জীবিত পাখি। পূর্ণবয়স্ক একটি উটপাখির উচ্চতা প্রায় ৮-১০ ফুট এবং ওজন ৬৩-১৪৫ কেজি পর্যন্ত হতে পারে। তবে ঘণ্টায় প্রায় ৭০ কিলোমিটার বেগে দৌড়াতে সক্ষম। একটি উটপাখির ডিমের ওজন দেড় কেজিরও বেশি হতে পারে, যা প্রায় ২৪টি মুরগির ডিমের সমান।
অন্যদিকে এমু পৃথিবীর দ্বিতীয় বৃহত্তম জীবিত পাখি। অস্ট্রেলিয়ার এ উড়তে অক্ষম পাখির উচ্চতা সাধারণত ৫-৬ ফুট এবং ওজন ৪০-৬০ কেজি পর্যন্ত হয়। এমু ঘণ্টায় প্রায় ৫০ কিলোমিটার গতিতে দৌড়াতে পারে। স্ত্রী এমু গাঢ় সবুজ বা নীলাভ-সবুজ রঙের বড় আকারের ডিম পাড়ে, যার ওজন সাধারণত ৫০০-৬০০ গ্রাম। উটপাখির ক্ষেত্রে স্ত্রী ও পুরুষ উভয়েই ডিমে তা দিলেও এমুর ক্ষেত্রে ডিমে তা দেওয়া এবং বাচ্চা লালনের দায়িত্ব মূলত পুরুষ পাখিই পালন করে।
বার্ড পার্ক অ্যান্ড ইকো ভিলেজ কর্তৃপক্ষ জানায়, তাদের উদ্যানে উটপাখি ও এমু ছাড়াও দেশি-বিদেশি নানা প্রজাতির পাখি, ময়ূর, টার্কি, ব্ল্যাক সোয়ান, চিত্রা হরিণ, রাজহাঁস, চীনাহাঁস, রঙিন মাছ, কৃত্রিম ঝরনা, বার্ড লার্নিং সেন্টার, কিডস জোন ও ইলিউশন মিউজিয়াম রয়েছে। ফলে প্রকৃতি ও বন্যপ্রাণীপ্রেমীদের জন্য এটি একটি আকর্ষণীয় গন্তব্যে পরিণত হয়েছে।
প্রতিষ্ঠানটির ব্যবস্থাপনা পরিচালক জাহেদ আহমেদ চৌধুরী বলেন, ‘ভবিষ্যতে এসব ডিম থেকে বাচ্চা ফুটবে বলে তারা আশাবাদী। পাশাপাশি দর্শনার্থীদের জন্য ডিমগুলো সংরক্ষণ করে প্রদর্শনের ব্যবস্থাও রাখা হবে।’
নওগাঁ জেলা পুলিশের স্থাপন করা আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স (এআই) সংযুক্ত সিসিটিভি ক্যামেরার সহায়তায় আলোচিত স্বর্ণ ছিনতাই মামলার তদন্তে গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি হয়েছে।
প্রযুক্তিনির্ভর তদন্ত, সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণ এবং আন্তঃজেলা সমন্বিত অভিযানের মাধ্যমে যশোর থেকে ছিনতাই চক্রের এক সদস্যকে গ্রেপ্তার করেছে জেলা গোয়েন্দা (ডিবি) পুলিশ। একই সঙ্গে উদ্ধার করা হয়েছে ছিনতাইয়ে ব্যবহৃত কালো রঙের একটি মাইক্রোবাস। গত বুধবার (৫ আগস্ট) রাতে বিষয়টি নিশ্চিত করেন নওগাঁর পুলিশ সুপার মোহাম্মদ তারিকুল ইসলাম।
পুলিশ জানায়, গত ৩০ জুলাই রাতে নওগাঁ শহরের তাজের মোড়ে স্বর্ণ ব্যবসায়ী সুভাষ পালের পথরোধ করে সংঘবদ্ধ একটি চক্র তার কাছে থাকা স্বর্ণ ছিনিয়ে নেয়। ঘটনার খবর পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই নওগাঁর পুলিশ সুপার মোহাম্মদ তারিকুল ইসলাম সদর থানা ও জেলা গোয়েন্দা শাখাকে তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেন।
পাশাপাশি শহরের গুরুত্বপূর্ণ সড়ক ও বের হওয়ার পথগুলোতে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করে ব্যাপক যানবাহন তল্লাশি শুরু হয়।
এ ঘটনায় নওগাঁ সদর মডেল থানায় মামলা হওয়ার পর পুলিশ সুপারের সার্বিক তত্ত্বাবধানে জেলা গোয়েন্দা শাখার ইনচার্জ হাসিবের নেতৃত্বে শুরু হয় প্রযুক্তিনির্ভর তদন্ত। তদন্তে জেলা পুলিশের সদ্য স্থাপিত এআইসংযুক্ত সিসিটিভি ক্যামেরাগুলোর ফুটেজ, ডিজিটাল তথ্য বিশ্লেষণ এবং বিভিন্ন জেলার টোল প্লাজার তথ্য পর্যালোচনা করে ছিনতাইয়ে ব্যবহৃত মাইক্রোবাসটি শনাক্ত করা হয়। তদন্তকারীরা ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের চলাচলের রুটও নির্ধারণ করতে সক্ষম হন।
পুলিশ সুপার মোহাম্মদ তারিকুল ইসলাম বলেন, ‘তদন্তের সূত্র ধরে গত সোমবার থেকে টানা বিশেষ অভিযান পরিচালনা করা হয়। যশোর জেলা পুলিশের সহযোগিতায় যশোরের কোতোয়ালি এলাকা থেকে চক্রের অন্যতম সদস্য ও মাইক্রোবাসচালক জামাল হোসেন ফুলনকে গ্রেপ্তার করা হয়। একই অভিযানে জব্দ করা হয় ছিনতাইয়ে ব্যবহৃত কালো রঙের মাইক্রোবাসটি।’
পুলিশের জিজ্ঞাসাবাদে জামাল জানায়, চার সদস্যের একটি সংঘবদ্ধ চক্র পরিকল্পিতভাবে এ ছিনতাই সংঘটিত করে। তিনি জানান, স্বর্ণ ব্যবসায়ী সুভাষ পাল ঢাকা কল্যাণপুর থেকে শ্যামলী পরিবহনের একটি বাসে নওগাঁর উদ্দেশ্যে রওনা হওয়ার পর থেকেই তারা একটি কালো মাইক্রোবাসে করে বাসটিকে অনুসরণ করতে থাকে। বগুড়া হয়ে নওগাঁ পৌঁছানোর পর সুভাষ পাল বাস থেকে নামতেই তাজের মোড়ে তার হাতে থাকা ব্যাগ থেকে আনুমানিক ১৪ ভরি স্বর্ণ ছিনিয়ে নেয় চক্রটি।