রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের (রাবি) ২০২২-২৩ শিক্ষাবর্ষে জালিয়াতি করে ভর্তি হওয়া শিক্ষার্থী ও তাকে সহায়তাকারী ছাত্রলীগের নেতাসহ পাঁচজনের বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে।
বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির জন্য একটি জালিয়াতি চক্রের সঙ্গে ৪ লাখ ৮০ হাজার টাকায় চুক্তি করেন ভর্তিচ্ছু ওই শিক্ষার্থী। চুক্তির পুরো টাকা পরিশোধ না করায় চক্রের কয়েকজন সদস্য মিলে তাকে আটক করে চাঁদা দাবি করেন। এরপর গতকাল শুক্রবার সকালে ছাত্রলীগ নেতা মুশফিক তাহমিদ তন্ময়সহ পাঁচজনের নাম উল্লেখ করে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের পক্ষে রেজিস্ট্রার অধ্যাপক আবদুস সালাম এ মামলা করেন।
মুশফিক তাহমিদ তন্ময় রাবি শাখা ছাত্রলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক। এর আগে ২০২০-২১ শিক্ষাবর্ষের ভর্তি পরীক্ষায় প্রক্সি দিতে এসে আটক বায়েজিদ নামের এক প্রক্সিদাতা প্রক্সিকাণ্ডের ‘মূল হোতা’ হিসেবে তন্ময়ের নাম প্রকাশ করেন। ওই ঘটনার পর তাকে সংগঠন থেকেও বহিষ্কার করলেও বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন কোনো ব্যবস্থা নেয়নি। যদিও পরে সেই বহিষ্কারাদেশ প্রত্যাহার করে নেয় কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগ। এ বছরের ২০২২-২৩ সেশনের ভর্তি পরীক্ষায় তিনি প্রক্সি/জালিয়াতি ঠেকাতে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনকে নজরদারি বাড়ানোর জন্য দাবি জানিয়ে রাবি উপাচার্য, উপউপাচার্য, ছাত্র উপদেষ্টা ও প্রক্টরের বরাবর স্মারকলিপি দিয়েছেন।
ছাত্রলীগ নেতা তন্ময় ছাড়াও মামলার অন্য আসামিরা হলেন ২০২২-২৩ শিক্ষাবর্ষে জালিয়াতি করে বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হতে আসা শিক্ষার্থী মো. আহসান হাবিব (১৯), আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিভাগের দ্বিতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী মো. প্রাঙ্গণ (২২), বিশ্ববিদ্যালয়ের শের-ই- বাংলা হল শাখা ছাত্রলীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ও ম্যানেজমেন্ট স্টাডিজ বিভাগের ২০১৮-১৯ সেশনের শিক্ষার্থী রাজু আহমদ (২৩) ও মো. সাকিবসহ (২৪) অজ্ঞাতনামা ২-৩ জন।
মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, ২০২২-২৩ শিক্ষাবর্ষে অনার্স প্রথম বর্ষের ভর্তি পরীক্ষায় জালিয়াতি করে ভর্তি হতে আসেন মো. আহসান হাবিব নামের এক শিক্ষার্থী। তিনি পপুলেশন সায়েন্স অ্যান্ড হিউম্যান রিসোর্স বিষয়ে ভর্তি হওয়ার জন্য তার মায়ের সঙ্গে স্যার জগদীশ চন্দ্র বসু বিজ্ঞান ভবনে আসেন। প্রক্সি চক্রের একটি গ্রুপের সঙ্গে ৪ লাখ ৮০ হাজার টাকা চুক্তি হয় তার। এর পরিপ্রেক্ষিতে পরীক্ষায় পাস করার পর ওই দিন সকাল ১০টায় রাজশাহী রেলস্টেশনের সামনে রাস্তায় চুক্তির নগদ ৩ লাখ ৬০ হাজার টাকা ও ৬০ হাজার টাকার চেক প্রদান করেন। ভর্তি হওয়ার পর বাকি টাকা প্রদান করবেন মর্মে অঙ্গীকার করে ভর্তি হন। কিন্তু ভর্তি শেষে বাকি টাকা দিতে অস্বীকৃতি জানালে অভিযুক্তরা তাকে অপহরণ করে শের-ই-বাংলা হলে নিয়ে শারীরিকভাবে নির্যাতন করে এবং বাকি টাকা না দিলে আহত করার ভয় দেখান। এরপর অভিযুক্তরা মোবাইল ফোনের মাধ্যমে ওই শিক্ষার্থীর বাবার কাছে ফোন করে ৩ লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবি করেন।
আহসান হাবীবের মা খোঁজ না পেয়ে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের শরণাপন্ন হন। পরে প্রশাসন ওই শিক্ষার্থীর বাবার মাধ্যমে জানতে পারেন যে আহসান হাবীবকে শের-ই-বাংলা হলে আটকে রাখা হয়েছে। এরপর বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন তাকে উদ্ধার করে জিজ্ঞাসাবাদ করেন। সেখানে তিনি প্রক্সির মাধ্যমে পাস করেছেন বলে স্বীকার করেন। এরপর বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন ওই ভর্তিচ্ছু শিক্ষার্থীকে পুলিশে সোপর্দ করে।
আহসান হাবীবের মা বলেন, তাদের গ্রামের বাড়ি রংপুরের পীরগঞ্জ উপজেলায়। তিনি বলেন, ‘আমার ছেলে যদি অপরাধ করে থাকে, তাহলে তার শাস্তি হোক। কিন্তু যারা আমার ছেলেকে গুম করে আটকে রেখেছিল, তাদেরও শাস্তি দিতে হবে।’
জানতে চাইলে আহসান হাবীবের বাবা সাইফুল ইসলাম মোবাইল ফোনে দৈনিক বাংলাকে বলেন, ‘আমার ছেলে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হতে গেলে তাকে আটকে রেখে মুশফিক তাহমিদ তন্ময় ও প্রাঙ্গণ নাম বলে দুজন আমার কাছে ৪ লাখ টাকা দাবি করে। আমি টাকা দিতে রাজি হইনি।’
এসব বিষয়ে জানতে মুশফিক তাহমিদ তন্ময় দৈনিক বাংলাকে বলেন, ‘আমি আজ (শুক্রবার) সকালে এক সাংবাদিকের মাধ্যমে মামলার বিষয় জানতে পারি। আমাকে রাজনৈতিকভাবে হেয় করার জন্য এই উদ্দেশ্যমূলক নাটক সাজানো হয়েছে।’
এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যায় শাখা ছাত্রলীগের সভাপতি গোলাম কিবরিয়া বলেন, ‘মামলা করেছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন ও ভুক্তভোগীর মা। এখানে আমাদের তাকে রাজনৈতিকভাবে হয়রানির কোনো মানে হয় না। এ ধরনের কথা সম্পূর্ণ অযৌক্তিক ও ভিত্তিহীন।’
এ বিষয়ে কোনো সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেয়া হবে কি না, এমন প্রশ্নের জবাবে গোলাম কিবরিয়া বলেন, ‘বিষয়টি আমরা তদন্ত করব। এতে তার সম্পৃক্ততা পাওয়া গেলে তাদের বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ব্যবস্থা গ্রহণ করব।’
আরেক অভিযুক্ত শের-ই-বাংলা হল শাখা ছাত্রলীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক রাজু আহমেদ এই ঘটনার সঙ্গে ‘জড়িত নন’ বলে দাবি করেছেন।
মতিহার থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রুহুল আমিন গতকাল জানান, এই ঘটনায় আটক আহসান হাবীবকে আদালতে পাঠানো হবে।
বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক আসাবুল হক গতকাল বলেন, ‘ভর্তি হতে আসা শিক্ষার্থী আহসান হাবীবের স্বীকারোক্তির ভিত্তিতে গতকাল রাতেই আমরা পাঁচজনের বিরুদ্ধে মতিহার থানায় এজাহার দায়ের করেছি। এখানে আমাদের বিশ্ববিদ্যালয়েরও কয়েকজন শিক্ষার্থী আছেন। শুক্র ও শনিবার বিশ্ববিদ্যালয় বন্ধ থাকায় রোববার হয়তো আমরা তাদের বিরুদ্ধে একাডেমিক সিদ্ধান্ত গ্রহণ করব।’
সাতক্ষীরা সদর উপজেলার গড়িয়াডাঙ্গা গ্রামের কৃষক জিতেন মণ্ডল (৫৮)-কে পিটিয়ে ও কুপিয়ে হত্যা করে ভারতে পালিয়ে যাওয়ার পর বিএসএফের হাতে আটক হয়েছে নিহতের দুই চাচাতো ভাই।
গত শনিবার (২২ আগস্ট) ভোরে ভারতের বসিরহাট মহকুমার স্বরূপনগর থানার আমুদিয়া ক্যাম্পের বিএসএফের টহলদল তাদের আটক করে বলে সীমান্তের একাধিক সূত্র থেকে নিশ্চিত হওয়া গেছে। আটকৃতরা হলেন, গড়িয়াডাঙ্গা গ্রামের পাঁচু মণ্ডলের ছেলে তপন মণ্ডল (৩০) ও ভগেন মণ্ডল (৩৫)। জমিসংক্রান্ত বিরোধকে কেন্দ্র করে জিতেন মণ্ডলকে পিটিয়ে ও কুপিয়ে হত্যা করা হয় বলে নিহতের পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে।
পুলিশ ও স্থানীয়দের ভাষ্য, গত শুক্রবার (২১ আগস্ট) সকালে জমিসংক্রান্ত বিরোধের জের ধরে জিতেন মণ্ডলকে পিটিয়ে ও কুপিয়ে মারাত্মক জখম করে তার চাচাতো দুই ভাই তপন ও ভগেন। ওই সময় গুরতর আহত অবস্থায় তাকে খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করলে ওই রাতেই তার মৃত্যু হয়।
এ বিষয়ে সাতক্ষীরা সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মাহমুদুর রহমান জানান, নিজেদের মধ্যে জমিজমাসংক্রান্ত সহিংসতায় কৃষক জিতেন মণ্ডল চিকিৎসাধীন অবস্থায় খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে মারা যান। তার হত্যাকারী তপন ও ভগেন ভারতে পালানোর সময় বিএসএফের হাতে আটক হয়েছে বলে তিনি শুনেছেন। তবে এখন পর্যন্ত এ ঘটনায় থানায় কোনো মামলা হয়নি বলে জানান তিনি।
সাতক্ষীরা-৩৩ বিজিবির অধিনায়ক লে. কর্নেল কাজী আশিকুর রহমান জানান, বিএসএফের হাতে আটক হত্যা মামলার দুই আসামিকে ফেরত দেওয়ার জন্য বিজিবি ও বিএসএফের কোম্পানি কমান্ডার পর্যায়ে পতাকা বৈঠকের প্রস্তাব দিয়ে চিঠি পাঠানো হয়েছে। আটকৃতদের ফেরত পাঠানো হলে তাদের পুলিশের কাছে সোপর্দ করা হবে।
হারিয়ে যাওয়ার পর অনেকেই ধরে নিয়েছিলেন প্রিয় মোবাইল ফোনটি আর হয়তো ফিরে পাওয়া সম্ভব নয়। কারও মোবাইলে ছিল গুরুত্বপূর্ণ ছবি ও স্মৃতি, কারও ছিল প্রয়োজনীয় তথ্য, আবার কারও কাছে ফোনটিই ছিল প্রতিদিনের কাজের অন্যতম ভরসা। সেই হতাশার মাঝেই সিরাজগঞ্জ জেলা পুলিশের তৎপরতায় ফিরে এলো ৫৩টি হারানো মোবাইল ফোন। স্বজন হারানোর মতো কষ্টের পর প্রিয় ফোন ফিরে পেয়ে মালিকদের মুখে ফুটেছে স্বস্তি ও আনন্দের হাসি।
গত শনিবার (২২ আগস্ট) বিকালে সিরাজগঞ্জ জেলা পুলিশ সুপারের কার্যালয়ের সম্মেলন কক্ষে উদ্ধার হওয়া ৫৩টি মোবাইল ফোন প্রকৃত মালিকদের হাতে তুলে দেওয়া হয়।
মোবাইল ফোন ফিরে পেয়ে মালিকদের অনেকেই পুলিশের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন। তাদের ভাষায়, হারানো মোবাইল ফিরে পাওয়া শুধু একটি মূল্যবান জিনিস ফিরে পাওয়া নয়, এর সঙ্গে ফিরে এসেছে প্রয়োজনীয় তথ্য, ব্যক্তিগত ছবি, যোগাযোগের গুরুত্বপূর্ণ মাধ্যম এবং অনেক স্মৃতি।
মোবাইল হাতে পেয়ে হানিফ বাবু বলেন, ‘হারানোর পর মোবাইলটি ফিরে পাবেন এমনটা ভাবেননি।’ পুলিশের আন্তরিক প্রচেষ্টায় সেটি ফিরে পাওয়ায় তিনি জেলা পুলিশের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানান।
সিরাজগঞ্জ জেলা পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম অ্যান্ড অপস) মো. নাজরান রউফ জানান, পুলিশ সুপারের সার্বিক দিকনির্দেশনায় জেলা পুলিশের সাইবার ইউনিট ও থানা পুলিশের সহযোগিতায় জেলার বিভিন্ন থানা এলাকা থেকে হারিয়ে যাওয়া মোবাইল ফোনগুলো উদ্ধার করা হয়।
পরে প্রয়োজনীয় যাচাই-বাছাই ও মালিকানা নিশ্চিত করে ৫৩টি মোবাইল ফোন প্রকৃত মালিকদের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।
হারানো মোবাইল উদ্ধারের এই উদ্যোগ সাধারণ মানুষের মধ্যে জেলা পুলিশের প্রতি আস্থা আরও বাড়াবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
প্রযুক্তির সহায়তায় হারানো সম্পদ উদ্ধারে পুলিশের এমন তৎপরতা সাধারণ মানুষের জন্য ইতিবাচক বার্তা বহন করছে।
এ সময় অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম অ্যান্ড অপস) মো. হাফিজুর রহমান, শিক্ষানবিস সহকারী পুলিশ সুপার, সদর থানার অফিসার ইনচার্জসহ সংশ্লিষ্ট পুলিশ কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
সিরাজগঞ্জ জেলা পুলিশ জানান, একটি হারানো ফোন যখন ফিরে আসে, তখন শুধু একটি ডিভাইস নয়—ফিরে আসে মানুষের আস্থা। ৫৩টি ফোন উদ্ধারের এই উদ্যোগে সেই আস্থারই প্রতিফলন ঘটেছে।
আইনমন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান বলেছেন, দেশের সার্বভৌমত্ব রক্ষায় রোহিঙ্গা ইস্যুতে জাতীয় ঐক্যের বিকল্প নেই। এটি সমাধানে আন্তর্জাতিক আইন ও সংবিধান মেনে কাজ করছে সরকার।
তিনি বলেন, রোহিঙ্গা সংকট মিয়ানমারের অভ্যন্তরীণ ইস্যু, সেজন্য এটির সমাধানের দায়িত্ব তাদেরই।
রোববার (২৩ আগস্ট) জাতীয় প্রেসক্লাবে রোহিঙ্গা সংকট সমাধান বিষয়ক এক আলোচনা সভায় তিনি এ কথা বলেন।
আইনমন্ত্রী বলেন, সরকার মিয়ানমারের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে হস্তক্ষেপ করার পক্ষে নয়। বলতে চাই, রোহিঙ্গারা বাংলাদেশি নয়, তারা এই ভূখণ্ডের জনগোষ্ঠী নয়। রোহিঙ্গাদের আন্তর্জাতিকভাবে যেভাবে দেখা হচ্ছে, আমরাও ঠিক একইভাবে দেখছি যে, এটি মিয়ানমারের অভ্যন্তরীণ সমস্যা।
তিনি আরও বলেন, বাংলাদেশ সরকার বিষয়টিকে মানবিক দৃষ্টিকোণ থেকে দেখছে। রোহিঙ্গারা যখন বাংলাদেশে আশ্রয় নিয়েছে, তখন বিষয়টি আর শুধু মিয়ানমারের অভ্যন্তরীণ সংকটের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকেনি; এটি আন্তর্জাতিক ইস্যুতে পরিণত হয়েছে। বাংলাদেশ সরকার মানবিক মূল্যবোধের জায়গা থেকে রোহিঙ্গাদের আশ্রয় দিয়েছে এবং তাদের পাশে দাঁড়িয়েছে।
আইনমন্ত্রী বলেন, আন্তর্জাতিক ও মানবাধিকার আইন মেনে রোহিঙ্গা ইস্যুতে বাংলাদেশের সরকার আন্তর্জাতিকভাবে যে পদক্ষেপ নিতে চায়, সেই পদক্ষেপের পক্ষে দেশের সাধারণ মানুষের সমর্থন আছে—এমন জনমত তৈরি করতে হবে।
স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় (এলজিআরডি) মন্ত্রী ড. আবদুল মঈন খান জানিয়েছেন সাংবিধানিক প্রক্রিয়ার নিয়মকানুন মেনে বিএনপি সরকার যথাসময়ে স্থানীয় সরকার নির্বাচন সম্পন্ন করবে। রবিবার (২৩ আগস্ট) সচিবালয়ে নিজ মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তাদের সঙ্গে এক সভায় তিনি এ কথা বলেন।
ড. আবদুল মঈন খান বলেন, আমাদের এই মন্ত্রণালয় একটি ব্যতিক্রমধর্মী মন্ত্রণালয়। জনগণকে সরাসরি সেবা দেওয়ার ক্ষেত্রে এ মন্ত্রণালয়ের ভূমিকা অগ্রগণ্য। স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয় সঠিকভাবে কাজ করলে পুরো দেশ সঠিকভাবে পরিচালিত হবে। কারণ, এ মন্ত্রণালয় সরাসরি তৃণমূলের মানুষের সঙ্গে কাজ করে। মন্ত্রণালয় সফল হলে সরকারও সফল হবে।
তিনি বলেন, সরকার সব মানুষের সেবা করবে। তবে দরিদ্র মানুষের সেবাকে অগ্রাধিকার দিতে হবে। বিগত ১৭ বছরে ধনিক শ্রেণিকে সেবা দিতে গিয়ে দরিদ্র মানুষের অধিকার হরণ করা হয়েছিল। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান দরিদ্র মানুষের জন্য ফ্যামিলি কার্ড ও কৃষক কার্ড চালু করেছেন। অতীতের মতো ভবিষ্যতেও দরিদ্র মানুষের প্রয়োজন মেটানোর লক্ষ্য নিয়ে কাজ করা হবে। দেশের জনগণই তার অগ্রাধিকার।
স্থানীয় সরকার নির্বাচন প্রসঙ্গে মন্ত্রী বলেন, বিএনপি জনগণের ম্যান্ডেট নিয়ে সরকার গঠন করেছে। ২০০৮ থেকে ২০২৪ সাল পর্যন্ত চারটি নির্বাচনে জনগণের ইচ্ছার প্রতিফলন হয়নি। দীর্ঘদিন পর ২০২৬ সালের নির্বাচনের মাধ্যমে সত্যিকার অর্থে জনগণের প্রতিনিধিত্বকারী সরকার কাজ করছে।
তিনি বলেন, এক বছর দীর্ঘ সময়। সংবিধানের নিয়মকানুন মেনে, সরকারের নীতির সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে এবং জনগণের ইচ্ছার প্রতিফলন ঘটাতে স্থানীয় সরকারের প্রতিটি স্তরে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। এসব নির্বাচনে সত্যিকার অর্থে জনগণের প্রতিনিধিরাই নির্বাচিত হবেন।
ড. আবদুল মঈন খান আরও বলেন, শুধু স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয় নয়, সরকারের সব পর্যায়ে অনিয়ম ও দুর্নীতির জন্য সংশ্লিষ্ট প্রত্যেককে জবাবদিহির আওতায় আসতে হবে। বিএনপি প্রতিশোধের রাজনীতিতে বিশ্বাস করে না; তারা আইনের শাসনের রাজনীতিতে বিশ্বাস করে। সরকার সত্যিকার অর্থে গণতান্ত্রিক ব্যবস্থা ফিরিয়ে আনার পথে এগিয়ে যাচ্ছে।
সভায় স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম বলেন, বিগত সরকারের সময়ে স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়কে ঘিরে লুটপাট ও দুর্নীতির যে অভিযোগ উঠেছিল, তা থেকে বেরিয়ে আসতে তারা কাজ করছেন।
স্বাস্থ্যমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন বলেছেন, প্রত্যেকটা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল আমরা ৫০ এবং জেলা সদর হাসপাতালের জন্য ১০ শয্যা করে ডায়ালাইসিস প্রতিস্থাপন করতে যাচ্ছি। যাতে করে টারশিয়ারি লেভেলে রোগীদের ঢাকায় যেতে না হয়। ডিস্ট্রিক্ট লেভেলে ৬০টি ডায়ালাইসিস মেশিন থাকবে। আমরা আশা করি ৬০টি ডায়ালাইসিস মেশিন ডেইলি যদি ৩ রাউন্ডও করে, ১৮০টা রোগীকে ডায়ালাইসিস করতে পারবে। এটি স্থাপন করতে আমাদের আর ৩ মাসও সময় লাগবে না ইনশাল্লাহ, আমাদের মেশিন টেন্ডার হয়ে গেছে।
রোববার (২৩ আগস্ট) বেলা ১২ টার দিকে নওগাঁ ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতাল পরিদর্শন শেষে তিনি সাংবাদিকদের এসব কথা বলেন। এর আগে সকাল ১০টার দিকে মন্ত্রী হাসপাতালটিতে আকস্মিক পরিদর্শনে আসেন এবং বিভিন্ন ওয়ার্ড ঘুরে দেখেন ও রোগীদের সঙ্গে কথা বলেন।
সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন বলেন, আমরা আগামী দুই বছরের মধ্যে উপজেলা লেভেলে ১০টি করে ডায়ালাইসিস বেড স্থাপন করবো। বিল্ডিংয়ের কাজ অলরেডি ডিপিপি হয়ে গেছে, টেন্ডারে চলে যাবে, বিল্ডিং হবে। শুধু ডায়ালাইসিস না, দোয়া করবেন আমাদের জন্য, আমরা ৫০ থেকে প্রথম ১০১ শয্যা ঘোষণা করেছি। গত সপ্তাহে আমাদের মাননীয় প্রধানমন্ত্রী বলেছেন, আমাদের সামনে আরও ভিশনকে বৃদ্ধি করতে হবে, ৫০ বছরের চিন্তা করে করব। ১০১ থেকে ১৫১ শয্যাবিশিষ্ট করে করতেছি আমরা এখন। নতুনভাবে আবার ডিপিপি করে এটা একেবারেই টেন্ডার হয়ে যাবে। ১৫১ শয্যার ভেতরে ২৫টা সিট থাকবে মহিলাদের জন্য, মায়ের সেবার জন্য, যাতে আমাদের মেয়েদের কষ্ট না হয়। ২০টা সিট আমাদের শিশুদের জন্য আলাদা থাকবে। ফিজিওথেরাপির জন্য একটা মহিলা ওয়ার্ড থাকবে, একটা পুরুষ ওয়ার্ড থাকবে। দুইজন ডাক্তার থাকবে, মহিলাদের মহিলারা ফিজিওথেরাপি দেবে, পুরুষদের পুরুষরা ফিজিওথেরাপি দেবে।
মন্ত্রী বলেন, অত্যাধুনিক প্যাথলজি ল্যাব তৈরি করা হবে, অত্যাধুনিক প্যাথলজি সেবা দেওয়া হবে। আল্ট্রাসাউন্ড মেশিন থেকে সকল মেশিন দিয়ে এগুলিকরা হবে, ৯ তলা বিল্ডিং হবে যেটা খালি জায়গায় হবে। আর যেটা আগে থেকে আছে যদি ফাউন্ডেশন থাকে ভার্টিক্যালি উপরে উঠবে। এভাবে আমরা স্বাস্থ্যসেবাটাকে উপজেলা লেভেলে নিয়ে যাচ্ছি।
সারাদেশের হাসপাতালগুলোর জনবল সংকট নিয়ে মন্ত্রী বলেন, গত ১৭ বছরে কোনো নতুন ডাক্তার নিয়োগ হয়নি, যেই পরিমাণ আমাদের দরকার। ২০ কোটি মানুষ! ডাক্তার আছে আমাদের কয়জন? কয়জন ডাক্তার নেওয়া হয়েছে? এখন আমরা ৫ হাজার ডাক্তার নিতে যাচ্ছি, সকল ফরমালিটিজ শেষ হয়ে গেছে। আড়াইহাজার নার্স এবং আড়াইহাজার ফার্মাসিস্ট নিতে যাচ্ছি। পিএসসিতে আরও ডাক্তারদের ইন্টারভিউ চলছে। আমরা আশা করি আগামী এক বছরের ভেতরে উই উইল হ্যাভ আ ভেরি গুড বাঞ্চ অফ ডক্টরস। আমরা অনেক ডাক্তার পেয়ে যাব ইনশাল্লাহ। তখন ডাক্তারের অসুবিধাটা থাকবে না।
মন্ত্রী আরও বলেন, দেশে ব্যাঙের ছাতার মতন প্রাইভেট ক্লিনিক-হাসপাতাল উঠেছে। গত ১৭ বছর এদের কোনো অ্যাকাউন্টেবিলিটি সৃষ্টি করা হয়নি, তারা কারও কাছে জবাবদিহি না। আমি যতখানি যাচ্ছি, দুই-একটা করে দেখতেছি, বন্ধ করতেছি, লাইসেন্স না থাকলে বন্ধ করতেছি। আমাদের ডিসি সাহেবরা সিভিল সার্জনদের নিয়ে মোবাইল কোর্ট করতেছে, জরিমানা করতেছে, চেষ্টা করতেছে। এখন অবশ্য তারা অনেকে হুঁশিয়ার। আমাদের তো মাত্র ৬টা মাস হলো, আরেকটু সময় দেন। কারণ ১৮-২০টা বছর তো এ দেশে কোনো অ্যাকাউন্টেবিলিটি ছিল না। আপনারাও কথা বলতে পারতেন না। আজকে যেভাবে আমাকে প্রশ্ন করতে পারেন, আগে কিন্তু পারতেন না। আগে এমপি সাহেবরা আইসা এইভাবে বইসা দেখত না, মন্ত্রী সাহেবরা আসত না। এমন একটা সিচুয়েশন গেছে যেখানে কারও কাছে জবাবদিহিতা ছিল না। আমরা শুরু করেছি, আমাদের মাননীয় প্রধানমন্ত্রীও অত্যন্ত সিরিয়াস। দোয়া করবেন, আশা করি আমরা এই স্বাস্থ্য খাতকে অনেক উন্নত করব।
এ সময় নওগাঁ -৫ (সদর) আসনের সংসদ সদস্য জাহিদুল ইসলাম ধলু, নওগাঁর জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ সাইফুল ইসলাম, ২৫০ শয্যা নওগাঁ জেনারেল হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা.আ. ম. আখতারুজ্জামান, সিভিল সার্জন ডা. আমিনুল ইসলামসহ স্বাস্থ্য বিভাগের বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
রংপুর নগরীর মাছুয়াপাড়া এলাকায় এক অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষকের বাড়ি থেকে একই পরিবারের চার সদস্যের মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। শনিবার রাত ১০টার দিকে স্থানীয় বাসিন্দারা বাড়ির ভেতরে মরদেহ পড়ে থাকতে দেখে পুলিশে খবর দেন। নিহতরা হলেন—রংপুর জিলা স্কুলের অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক গণপতি চক্রবর্তী, তাঁর স্ত্রী প্রীতিলতা চক্রবর্তী, তাঁদের মাস্টার্স সম্পন্ন করা কন্যা আগামী চক্রবর্তী এবং কনিষ্ঠ পুত্র প্রিয়ম চক্রবর্তী, যে জিলা স্কুলের পঞ্চম শ্রেণির ছাত্র ছিল।
ঘটনাস্থলে উপস্থিত প্রত্যক্ষদর্শী ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, চারজনকেই অত্যন্ত নৃশংসভাবে ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে হত্যা করা হয়েছে। বাড়ির বিভিন্ন স্থানে মরদেহগুলো ছড়িয়ে ছিটিয়ে ছিল। গণপতি চক্রবর্তীর দোতলা বাড়ির ছাদে স্ত্রী প্রীতিলতা ও মেয়ে আগামী'র মরদেহ পড়ে থাকতে দেখা যায়। অন্যদিকে, ছাদের ভিন্ন এক প্রান্তে পাওয়া যায় গণপতি চক্রবর্তীর নিথর দেহ। সবার ছোট সন্তান প্রিয়মের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে ঘরের খাটের নিচ থেকে।
এই চাঞ্চল্যকর গণহত্যাকাণ্ডের ঘটনায় মাছুয়াপাড়া এলাকা জুড়ে তীব্র আতঙ্ক ও শোকের ছায়া নেমে এসেছে। স্থানীয়দের বরাত দিয়ে জানা গেছে, ঘটনার সময় কয়েকজন যুবককে ওই বাড়ি থেকে তড়িঘড়ি করে বের হয়ে যেতে দেখা গেছে। ধারণা করা হচ্ছে, পূর্বপরিকল্পিতভাবে এই হত্যাকাণ্ড ঘটানো হয়েছে।
রংপুর মেট্রোপলিটন পুলিশ এবং গোয়েন্দা সংস্থার উচ্চপদস্থ কর্মকর্তারা ইতোমধ্যেই ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন এবং আলামত সংগ্রহ শুরু করেছেন। হত্যাকাণ্ডের প্রকৃত কারণ এবং এর নেপথ্যে থাকা খুনিদের শনাক্ত করতে নিবিড় তদন্ত শুরু হয়েছে। তবে শেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত এ বিষয়ে রংপুর মেট্রোপলিটন কোতোয়ালী থানার আনুষ্ঠানিক কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি। নৃশংস এই ঘটনার সুষ্ঠু বিচার দাবি করেছেন এলাকাবাসী।
সিলেটের ওসমানীনগরে তেলবাহী ট্রাক ও অটোরিকশার মুখোমুখি সংঘর্ষে শিশু ও নারীসহ ৪ জনের প্রাণহানির ঘটেছে। এতে আহত তিনজনকে ওসমানী মেডিকেল হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। শনিবার বেলা আড়াইটার দিকে ঢাকা-সিলেট মহাসড়কের ওসমানীনগর ব্রাহ্মণগ্রাম এলাকায় সিএনজি চালিত অটোরিকশা ও তেলবাহী ট্রাকের মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়।
নিহতদের নাম পরিচয় এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি। তবে, একজন শিশু এবং একজন নারী, দুইজন পুরুষ বলে জানা গেছে।
সিলেটের ওসমানীনগর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) গোলাম মোস্তফা এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
জানা গেছে, সিলেট থেকে ঢাকাগামী তেলবাহী ট্রাক ওসমানীনগরের ব্রাক্ষ্মণগ্রাম (কসরতল) পৌঁছালে বিপরীত দিক থেকে আসা একটি যাত্রীবাহী সিএনজি চালিত অটোরিকশার সঙ্গে মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়।
দুর্ঘটনায় সিএনজি চালিত অটোরিকশার ৫ জন গুরুতর আহত হন। স্থানীয়রা আহতদের উদ্ধার করে সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেলে প্রেরণ করেন। হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসক চারজনকে মৃত ঘোষণা করেন।
এর আগে গত ৭ আগস্ট শুক্রবার সকালে সিলেট-ঢাকা মহাসড়কের ওসমানীনগরে ইউনিক পরিবহন ও বেঙ্গল পরিবহনের দুটি বাসের সংঘর্ষে ৯ জনের প্রাণহানি ঘটে।
সিলেটের ওসমানীনগরে তেলবাহী ট্রাক এবং সিএনজিচালিত অটোরিকশার মধ্যে ভয়াবহ সংঘর্ষের ঘটনায় ৪ জন নিহত হয়েছেন। আজ শনিবার (২২ আগস্ট) দুপুর ২টার দিকে সিলেট-ঢাকা মহাসড়কের উপজেলার গোয়ালাবাজার ইউনিয়নের ব্রাহ্মণগ্রাম নামক স্থানে এই মর্মান্তিক দুর্ঘটনা ঘটে। ওসমানীনগর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) গোলাম মোস্তফা গণমাধ্যমকে এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
পুলিশ ও স্থানীয় প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, সিলেট থেকে ঢাকাগামী একটি দ্রুতগতির তেলবাহী ট্রাক ব্রাহ্মণগ্রাম এলাকায় পৌঁছালে বিপরীত দিক থেকে আসা যাত্রী বোঝাই একটি অটোরিকশার সাথে মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়। এতে অটোরিকশার ভেতরে থাকা সাতজন যাত্রীই গুরুতরভাবে আহত হন। স্থানীয় বাসিন্দারা দ্রুত তাঁদের উদ্ধার করে সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠালে সেখানে পৌঁছানোর পূর্বেই ২ জন মারা যান। পরবর্তীতে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় আরও ২ জনের মৃত্যু হয়। নিহতদের মধ্যে ২ জন পুরুষ এবং ২ জন নারী রয়েছেন, তবে তাৎক্ষণিকভাবে তাঁদের নাম-পরিচয় নিশ্চিত করা সম্ভব হয়নি।
হাইওয়ে পুলিশের শেরপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আনিসুর রহমান জানিয়েছেন, দুর্ঘটনায় আহত আরও ৩ জন বর্তমানে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন আছেন, যাঁদের মধ্যে একজনের অবস্থা অত্যন্ত আশঙ্কাজনক। পুলিশ ইতোমধ্যেই ঘাতক তেলবাহী ট্রাক ও দুমড়ে-মুচড়ে যাওয়া অটোরিকশাটি নিজেদের হেফাজতে নিয়েছে।
উল্লেখ্য, মাত্র ১৫ দিন আগেই গত ৭ আগস্ট এই একই মহাসড়কের ওসমানীনগর এলাকায় দুটি বাসের মুখোমুখি সংঘর্ষে ৯ জন প্রাণ হারিয়েছিলেন। সেই রেশ কাটতে না কাটতেই পুনরায় একই অঞ্চলে সড়ক দুর্ঘটনায় ৪ জনের প্রাণহানির ঘটনায় স্থানীয়দের মধ্যে গভীর শোক ও উদ্বেগের সৃষ্টি হয়েছে। মহাসড়কে বেপরোয়া গতি নিয়ন্ত্রণে আরও কঠোর ব্যবস্থার দাবি তুলেছেন এলাকাবাসী।
জয়পুরহাটের পুরানাপুল এলাকায় চিলাহাটি থেকে রাজশাহীগামী ‘বরেন্দ্র এক্সপ্রেস’ ট্রেনের কয়েল স্প্রিং ভেঙে বিকল হয়ে পড়ার ঘটনা ঘটেছে। এর ফলে উত্তরাঞ্চলের সাথে রাজশাহী ও ঢাকাগামী ট্রেন যোগাযোগ সাময়িকভাবে বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে। তবে চালক ও পরিচালকের দ্রুত তৎপরতায় একটি ভয়াবহ দুর্ঘটনা থেকে রক্ষা পেয়েছেন ট্রেনে থাকা শত শত যাত্রী।
স্থানীয় ও রেলওয়ে সূত্রে জানা গেছে, আজ শনিবার (২২ আগস্ট) সকালে বরেন্দ্র এক্সপ্রেস (৭৩২ নম্বর) ট্রেনটি জয়পুরহাটের পুরানাপুল রেলগেট অতিক্রম করার পরপরই একটি বগির কয়েল স্প্রিং ভেঙে নিচে পড়ে যায়। এর ফলে ট্রেনটি রেললাইনের ওপর স্থবির হয়ে পড়ে। ট্রেনের পরিচালক আনোয়ার হোসেন গণমাধ্যমকে জানিয়েছেন যে, স্প্রিং ভেঙে যাওয়ার বিষয়টি দ্রুত তাদের নজরে আসায় ট্রেনটি থামিয়ে দেওয়া সম্ভব হয়েছে, অন্যথায় বড় ধরনের বিপর্যয়ের আশঙ্কা ছিল।
এই যান্ত্রিক ত্রুটির কারণে বর্তমানে পার্বতীপুর, সান্তাহার, রাজশাহী ও ঢাকা রুটে ট্রেন চলাচল সম্পূর্ণ বন্ধ রয়েছে। আকস্মিক এই ট্রেন বিভ্রাটের ফলে আশপাশের বিভিন্ন স্টেশনে বেশ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ ট্রেন আটকা পড়েছে, যার ফলে চরম দুর্ভোগে পড়েছেন সাধারণ যাত্রীরা।
রেল কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, ঘটনার পরপরই পার্বতীপুর ও সান্তাহার জংশন থেকে রিলিফ বা উদ্ধারকারী ট্রেনের জন্য বার্তা পাঠানো হয়েছে। উদ্ধারকারী দল ইতোমধ্যেই ঘটনাস্থলের উদ্দেশ্যে রওনা দিয়েছে। তবে উদ্ধার কাজ সম্পন্ন করে রেল যোগাযোগ পুনরায় কখন স্বাভাবিক হবে, সে বিষয়ে নিশ্চিত করে কিছু জানাতে পারেনি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ। রেল যোগাযোগ সচল করতে দ্রুততম সময়ে কাজ চলছে বলে জানানো হয়েছে।
কলকাতার নিউ মার্কেট এলাকার একটি হোটেলে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে প্রাণ হারানো কুষ্টিয়ার চারজন এবং সাভারের একজনসহ মোট পাঁচজন বাংলাদেশির মরদেহ আজ দেশে ফেরার কথা রয়েছে। বেনাপোল আন্তর্জাতিক চেকপোস্ট ইমিগ্রেশনের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ফেরদৌস হোসেন খান জানিয়েছেন, আজ শনিবার দুপুর ২টার দিকে মরদেহগুলো ভারতীয় সীমান্ত পার হয়ে বাংলাদেশে আসার সম্ভাবনা রয়েছে।
অগ্নিকাণ্ডে নিহত ব্যক্তিদের মধ্যে রয়েছেন কুষ্টিয়ার আড়ুয়াপাড়ার সাংবাদিক দেবাশীষ দত্ত (৪০), তাঁর স্ত্রী আফসানা শারমীন (২৫), তাঁদের তিন বছরের শিশু স্বর্ণশীষ দত্ত এবং দেবাশীষের শ্বশুর মো. আকরাম আলী (৬৪)। এছাড়া অন্যজন হলেন সাভারের আমিনবাজারের বেগুনবাড়ি এলাকার বাসিন্দা আহম্মেদ বাবু (৩৭)।
নিহত আহম্মেদ বাবুর মরদেহ সংগ্রহের জন্য গতকাল শুক্রবার বিকেল থেকেই বেনাপোল সীমান্তে অপেক্ষা করছেন তাঁর স্বজনরা। বাবুর মেজো ভাই মনির হোসেন গণমাধ্যমকে জানান, তাঁর ভাই গত সোমবার ব্যবসায়িক কাজে কলকাতায় গিয়েছিলেন। দুর্ঘটনার পর থেকে বাবুর সাথে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যায় এবং পরবর্তীতে ভারতীয় হাইকমিশন থেকে পাঠানো ছবির মাধ্যমে তাঁর পরিচয় নিশ্চিত হওয়া যায়।
এদিকে সাংবাদিক দেবাশীষ দত্ত এবং তাঁর পরিবারের সদস্যদের মরদেহ গ্রহণ করতে কুষ্টিয়া থেকে স্বজন ও সাংবাদিকরা বেনাপোল অভিমুখে রওনা হয়েছেন। উল্লেখ্য, কলকাতার মির্জা গালিব স্ট্রিটের ওই হোটেলে মধ্যরাতে আগুন লাগার ফলে ধোঁয়ায় দম বন্ধ হয়ে অনেক পর্যটক হতাহত হন। মরদেহগুলো দেশে আসার পর যথাযথ আইনি প্রক্রিয়া শেষে পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হবে। এই মর্মান্তিক ঘটনায় কুষ্টিয়া ও সাভার এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে।
বগুড়ার মোকামতলায় রাস্তা পার হতে গিয়ে ট্রাকের ধাক্কায় রফিকুল ইসলাম (৪৮) নামের এক বিজিবি সদস্য নিহত হয়েছেন। শনিবার সকাল সাড়ে ৯টার দিকে রংপুর-বগুড়া মহাসড়কের মোকামতলা বাসস্ট্যান্ড এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে।
নিহত রফিকুল ইসলাম কুড়িগ্রামের রাজারহাট উপজেলার পান্থাপাড়া ফরকের হাট এলাকার বাসিন্দা। তিনি নওগাঁর পত্নীতলা বিজিবি ক্যাম্পে হাবিলদার হিসেবে কর্মরত ছিলেন।
স্থানীয়রা জানান, মোকামতলা ইউনিয়ন পরিষদের সামনে মহাসড়ক পার হচ্ছিলেন রফিকুল ইসলাম। এসময় দ্রুতগতির একটি ট্রাক তাকে চাপা দিয়ে চলে যায়। এতে ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়।
কুন্দারহাট হাইওয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রইচউদ্দিন জানান, দুর্ঘটনার পর মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। ট্রাকটি শনাক্ত এবং চালককে আটকের চেষ্টা চলছে। এ ঘটনায় আইনগত নেওয়া হবে।
ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের মুন্সীগঞ্জের গজারিয়া অংশে দাঁড়িয়ে থাকা একটি পণ্যবাহী ট্রাকের পেছনে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে পিকআপের ধাক্কায় তোতা মিয়া (৩২) নামের এক ব্যক্তি নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় পিকআপের চালক ও হেলপার গুরুতর আহত হয়েছেন।
শনিবার (২২ আগস্ট) রাত আনুমানিক আড়াইটার দিকে গজারিয়া থানাধীন জামালদী ফুটওভার ব্রিজের সামনে চট্টগ্রামগামী লেনে এ দুর্ঘটনাটি ঘটে।
নিহত তোতা মিয়া নওগাঁ জেলার রানীনগর উপজেলার পারুল ভূসিয়া গ্রামের আমজাদ মিয়ার ছেলে। আহতরা হলেন: পিকআপ চালক বগুড়া জেলার আদমদীঘি উপজেলার ছাতিয়ান গ্রামের নুরুজ্জামানের ছেলে রুমান আলী রনি (২৫) এবং চালকের সহকারী নিহত তোতা মিয়ার ভাই সোহাগ (৩৫)।
পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিস সূত্রে জানা গেছে, চট্টগ্রামগামী একটি পণ্যবাহী ট্রাক মহাসড়কের পাশে দাঁড়ানো ছিল। এ সময় পেছন থেকে আসা একটি দ্রুতগতির পিকআপ ট্রাকটির পেছনে সজোরে ধাক্কা দেয়। এতে পিকআপের সামনের অংশ দুমড়েমুচড়ে দাঁড়িয়ে থাকা ট্রাকের নিচে ঢুকে যায়। তীব্র ধাক্কায় পিকআপে থাকা এক যাত্রী ছিটকে নিচে পড়ে মাথায় গুরুতর আঘাত পান এবং ভেতরে আটকে পড়েন চালক ও সহকারী। খবর পেয়ে ভবেরচর হাইওয়ে থানার টহল পুলিশ ও গজারিয়া ফায়ার সার্ভিসের টিম দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে আহতদের উদ্ধার করে গজারিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যায়। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক তোতা মিয়াকে মৃত ঘোষণা করেন। প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে আহত অপর দুজনকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।
ভবেরচর হাইওয়ে থানার অফিসার ইনচার্জ শাহ কামাল আখন্দ বলেন, 'দুর্ঘটনায় কবলিত ট্রাক ও পিকআপ দুটি জব্দ করে থানা হেফাজতে নেওয়া হয়েছে। বর্তমানে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে যান চলাচল সম্পূর্ণ স্বাভাবিক রয়েছে। এ ঘটনায় আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ প্রক্রিয়াধীন।'
কক্সবাজার থেকে ঢাকাগামী ‘আইকন পরিবহণ’-এর একটি শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত (এসি) বাসে চলন্ত অবস্থায় ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। গত শুক্রবার (২১ আগস্ট) রাত ১টার দিকে রামু উপজেলার কলঘর বাজারের পশ্চিমে এন আলম ফিলিং স্টেশনের সামনে এই দুর্ঘটনা ঘটে। বাসের ভেতর দ্রুত আগুন ও ধোঁয়া ছড়িয়ে পড়লেও স্থানীয়দের তৎপরতায় বড় ধরনের প্রাণহানি থেকে রক্ষা পেয়েছেন বাসে থাকা প্রায় ২৫ থেকে ৩০ জন যাত্রী।
প্রত্যক্ষদর্শী ও বাসযাত্রীদের দেওয়া তথ্যানুযায়ী, চলন্ত অবস্থায় হঠাৎ বাসের ভেতরে ধোঁয়া দেখা দিলে যাত্রীদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। বাসের স্বয়ংক্রিয় দরজা ও জানালাগুলো বন্ধ থাকায় যাত্রীরা ভেতরে আটকা পড়েন। এই সময় বিকট শব্দ ও ধোঁয়া দেখে স্থানীয় বাসিন্দারা দ্রুত এগিয়ে আসেন এবং বাসের জানালার কাচ ভেঙে ভেতরে আটকে পড়া যাত্রীদের একে একে নিরাপদে বের করে আনেন। বাসের এক যাত্রী মোহাম্মদ রানা জানান, সাত সদস্যের পরিবার নিয়ে তিনি কক্সবাজার ভ্রমণে গিয়েছিলেন। বাসের ভেতরে প্রচণ্ড ধোঁয়ায় তাঁদের শ্বাস নিতে কষ্ট হচ্ছিল এবং আগুন লাগার সময় বাসের চালক বা সহকারী কাউকে তাঁরা কাছে পাননি।
ঘটনার খবর পাওয়ার ১০ মিনিটের মধ্যেই রামু হাইওয়ে থানা পুলিশের একটি দল সেখানে পৌঁছে উদ্ধারকাজে সহায়তা করে। রামু হাইওয়ে থানার সার্জেন্ট পারভেজ গণমাধ্যমকে জানান, তাঁরা দ্রুত ঘটনাস্থলে গিয়ে বাসের যাত্রীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করেন। ফায়ার সার্ভিসের গাড়ি আসার আগেই স্থানীয়রা আগুন নিয়ন্ত্রণে আনার চেষ্টা চালান।
রামু ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের স্টেশন অফিসার মো. আবদুল কাদের চৌধুরী বলেন, প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে যে যান্ত্রিক ত্রুটি অথবা ইঞ্জিনের অতিরিক্ত তাপ উৎপাদন থেকে আগুনের সূত্রপাত হয়েছে। তবে প্রকৃত কারণ নির্ণয়ে তদন্ত চলছে। এই ঘটনায় এখন পর্যন্ত কোনো গুরুতর হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি।