শুক্রবার, ২৮ আগস্ট ২০২৬
১৩ ভাদ্র ১৪৩৩

রাবিতে ভর্তি জালিয়াতি: ছাত্রলীগ নেতা তন্ময়সহ পাঁচজনের বিরুদ্ধে মামলা

প্রতিনিধি, রাবি
প্রকাশিত
প্রতিনিধি, রাবি
প্রকাশিত : ১৮ আগস্ট, ২০২৩ ২৩:১৮

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের (রাবি) ২০২২-২৩ শিক্ষাবর্ষে জালিয়াতি করে ভর্তি হওয়া শিক্ষার্থী ও তাকে সহায়তাকারী ছাত্রলীগের নেতাসহ পাঁচজনের বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে।

বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির জন্য একটি জালিয়াতি চক্রের সঙ্গে ৪ লাখ ৮০ হাজার টাকায় চুক্তি করেন ভর্তিচ্ছু ওই শিক্ষার্থী। চুক্তির পুরো টাকা পরিশোধ না করায় চক্রের কয়েকজন সদস্য মিলে তাকে আটক করে চাঁদা দাবি করেন। এরপর গতকাল শুক্রবার সকালে ছাত্রলীগ নেতা মুশফিক তাহমিদ তন্ময়সহ পাঁচজনের নাম উল্লেখ করে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের পক্ষে রেজিস্ট্রার অধ্যাপক আবদুস সালাম এ মামলা করেন।

মুশফিক তাহমিদ তন্ময় রাবি শাখা ছাত্রলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক। এর আগে ২০২০-২১ শিক্ষাবর্ষের ভর্তি পরীক্ষায় প্রক্সি দিতে এসে আটক বায়েজিদ নামের এক প্রক্সিদাতা প্রক্সিকাণ্ডের ‘মূল হোতা’ হিসেবে তন্ময়ের নাম প্রকাশ করেন। ওই ঘটনার পর তাকে সংগঠন থেকেও বহিষ্কার করলেও বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন কোনো ব্যবস্থা নেয়নি। যদিও পরে সেই বহিষ্কারাদেশ প্রত্যাহার করে নেয় কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগ। এ বছরের ২০২২-২৩ সেশনের ভর্তি পরীক্ষায় তিনি প্রক্সি/জালিয়াতি ঠেকাতে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনকে নজরদারি বাড়ানোর জন্য দাবি জানিয়ে রাবি উপাচার্য, উপউপাচার্য, ছাত্র উপদেষ্টা ও প্রক্টরের বরাবর স্মারকলিপি দিয়েছেন।

ছাত্রলীগ নেতা তন্ময় ছাড়াও মামলার অন্য আসামিরা হলেন ২০২২-২৩ শিক্ষাবর্ষে জালিয়াতি করে বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হতে আসা শিক্ষার্থী মো. আহসান হাবিব (১৯), আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিভাগের দ্বিতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী মো. প্রাঙ্গণ (২২), বিশ্ববিদ্যালয়ের শের-ই- বাংলা হল শাখা ছাত্রলীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ও ম্যানেজমেন্ট স্টাডিজ বিভাগের ২০১৮-১৯ সেশনের শিক্ষার্থী রাজু আহমদ (২৩) ও মো. সাকিবসহ (২৪) অজ্ঞাতনামা ২-৩ জন।

মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, ২০২২-২৩ শিক্ষাবর্ষে অনার্স প্রথম বর্ষের ভর্তি পরীক্ষায় জালিয়াতি করে ভর্তি হতে আসেন মো. আহসান হাবিব নামের এক শিক্ষার্থী। তিনি পপুলেশন সায়েন্স অ্যান্ড হিউম্যান রিসোর্স বিষয়ে ভর্তি হওয়ার জন্য তার মায়ের সঙ্গে স্যার জগদীশ চন্দ্র বসু বিজ্ঞান ভবনে আসেন। প্রক্সি চক্রের একটি গ্রুপের সঙ্গে ৪ লাখ ৮০ হাজার টাকা চুক্তি হয় তার। এর পরিপ্রেক্ষিতে পরীক্ষায় পাস করার পর ওই দিন সকাল ১০টায় রাজশাহী রেলস্টেশনের সামনে রাস্তায় চুক্তির নগদ ৩ লাখ ৬০ হাজার টাকা ও ৬০ হাজার টাকার চেক প্রদান করেন। ভর্তি হওয়ার পর বাকি টাকা প্রদান করবেন মর্মে অঙ্গীকার করে ভর্তি হন। কিন্তু ভর্তি শেষে বাকি টাকা দিতে অস্বীকৃতি জানালে অভিযুক্তরা তাকে অপহরণ করে শের-ই-বাংলা হলে নিয়ে শারীরিকভাবে নির্যাতন করে এবং বাকি টাকা না দিলে আহত করার ভয় দেখান। এরপর অভিযুক্তরা মোবাইল ফোনের মাধ্যমে ওই শিক্ষার্থীর বাবার কাছে ফোন করে ৩ লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবি করেন।

আহসান হাবীবের মা খোঁজ না পেয়ে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের শরণাপন্ন হন। পরে প্রশাসন ওই শিক্ষার্থীর বাবার মাধ্যমে জানতে পারেন যে আহসান হাবীবকে শের-ই-বাংলা হলে আটকে রাখা হয়েছে। এরপর বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন তাকে উদ্ধার করে জিজ্ঞাসাবাদ করেন। সেখানে তিনি প্রক্সির মাধ্যমে পাস করেছেন বলে স্বীকার করেন। এরপর বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন ওই ভর্তিচ্ছু শিক্ষার্থীকে পুলিশে সোপর্দ করে।

আহসান হাবীবের মা বলেন, তাদের গ্রামের বাড়ি রংপুরের পীরগঞ্জ উপজেলায়। তিনি বলেন, ‘আমার ছেলে যদি অপরাধ করে থাকে, তাহলে তার শাস্তি হোক। কিন্তু যারা আমার ছেলেকে গুম করে আটকে রেখেছিল, তাদেরও শাস্তি দিতে হবে।’

জানতে চাইলে আহসান হাবীবের বাবা সাইফুল ইসলাম মোবাইল ফোনে দৈনিক বাংলাকে বলেন, ‘আমার ছেলে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হতে গেলে তাকে আটকে রেখে মুশফিক তাহমিদ তন্ময় ও প্রাঙ্গণ নাম বলে দুজন আমার কাছে ৪ লাখ টাকা দাবি করে। আমি টাকা দিতে রাজি হইনি।’

এসব বিষয়ে জানতে মুশফিক তাহমিদ তন্ময় দৈনিক বাংলাকে বলেন, ‘আমি আজ (শুক্রবার) সকালে এক সাংবাদিকের মাধ্যমে মামলার বিষয় জানতে পারি। আমাকে রাজনৈতিকভাবে হেয় করার জন্য এই উদ্দেশ্যমূলক নাটক সাজানো হয়েছে।’

এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যায় শাখা ছাত্রলীগের সভাপতি গোলাম কিবরিয়া বলেন, ‘মামলা করেছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন ও ভুক্তভোগীর মা। এখানে আমাদের তাকে রাজনৈতিকভাবে হয়রানির কোনো মানে হয় না। এ ধরনের কথা সম্পূর্ণ অযৌক্তিক ও ভিত্তিহীন।’

এ বিষয়ে কোনো সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেয়া হবে কি না, এমন প্রশ্নের জবাবে গোলাম কিবরিয়া বলেন, ‘বিষয়টি আমরা তদন্ত করব। এতে তার সম্পৃক্ততা পাওয়া গেলে তাদের বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ব্যবস্থা গ্রহণ করব।’

আরেক অভিযুক্ত শের-ই-বাংলা হল শাখা ছাত্রলীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক রাজু আহমেদ এই ঘটনার সঙ্গে ‘জড়িত নন’ বলে দাবি করেছেন।

মতিহার থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রুহুল আমিন গতকাল জানান, এই ঘটনায় আটক আহসান হাবীবকে আদালতে পাঠানো হবে।

বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক আসাবুল হক গতকাল বলেন, ‘ভর্তি হতে আসা শিক্ষার্থী আহসান হাবীবের স্বীকারোক্তির ভিত্তিতে গতকাল রাতেই আমরা পাঁচজনের বিরুদ্ধে মতিহার থানায় এজাহার দায়ের করেছি। এখানে আমাদের বিশ্ববিদ্যালয়েরও কয়েকজন শিক্ষার্থী আছেন। শুক্র ও শনিবার বিশ্ববিদ্যালয় বন্ধ থাকায় রোববার হয়তো আমরা তাদের বিরুদ্ধে একাডেমিক সিদ্ধান্ত গ্রহণ করব।’


নির্বাচিত

গ্যাস-বিদ্যুৎ সংকট সমাধানে স্বল্প, মধ্য ও দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে: পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী

ছবি: পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী জুনায়েদ সাকি।
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
কুমিল্লা প্রতিনিধি

গ্যাস ও বিদ্যুৎ সংকট মোকাবিলায় সরকার স্বল্প, মধ্য ও দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে বলে জানিয়েছেন পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী জুনায়েদ সাকি। তিনি বলেন, বর্তমান সরকার এই সংকট সৃষ্টি করেনি। বিগত সরকারের ভুলনীতি, দুর্নীতি ও অতিমাত্রায় আমদানিনির্ভর জ্বালানিনীতির কারণে এ সংকট তৈরি হয়েছে। এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে বর্তমান আন্তর্জাতিক পরিস্থিতি।

শুক্রবার (২৮ আগস্ট) বিকেলে কুমিল্লা টাউন হল মাঠে ঢাকা-কুমিল্লা মহাসড়কের বিকল্প প্রস্তাবিত সড়কের ধারণাপত্র উপস্থাপন অনুষ্ঠান শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে এসব কথা বলেন তিনি।

পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী বলেন, যুদ্ধ পরিস্থিতি এবং হরমুজ প্রণালীতে জ্বালানি সরবরাহে বাধাগ্রস্ততার কারণে আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি সংগ্রহ কঠিন হয়ে পড়েছে। একই সঙ্গে জ্বালানির মূল্যও বেড়েছে। ফলে সরকারকে প্রায় ৪ বিলিয়ন ডলার বা ৪০ হাজার কোটি টাকার বেশি বাড়তি ব্যয় করতে হচ্ছে। বাংলাদেশি মুদ্রায় এ ব্যয়ের পরিমাণ প্রায় ৫০ হাজার কোটি টাকার কাছাকাছি। এতে সরকারের ওপর বড় ধরনের আর্থিক চাপ তৈরি হয়েছে। অন্যদিকে প্রয়োজন অনুযায়ী গ্যাসও পাওয়া যাচ্ছে না।

তিনি বলেন, গ্যাসের সরবরাহ বাড়াতে এলএনজি অবকাঠামো ও টার্মিনাল নির্মাণসহ প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নিতে হবে। তবে এ পরিস্থিতি যাতে আরও খারাপের দিকে না যায় এবং উৎপাদনশীল খাত ক্ষতিগ্রস্ত না হয়, সে জন্য সরকার সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে কাজ করছে।

এর আগে কুমিল্লা টাউন হল মাঠে আয়োজিত সেমিনারে বক্তব্য দেন পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী জুনায়েদ সাকি। সেমিনারে ঢাকা-কুমিল্লা মহাসড়কের বিকল্প প্রস্তাবিত সড়কের ধারণাপত্র উপস্থাপন করেন কুমিল্লা সদর আসনের সংসদ সদস্য মনিরুল হক চৌধুরী। এতে সভাপতিত্ব করেন কুমিল্লা উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান উদবাতুল বারী আবু।

সেমিনারে সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রণালয়, স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়, গৃহায়ণ ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয় এবং পানি উন্নয়ন বোর্ডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা বক্তব্য দেন।


নির্বাচিত

পদ্মা সেতুতে চার বছরে ৫৪৮ দুর্ঘটনা, নিহত ১৪৭

ফাইল ছবি
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

পদ্মা সেতু চালুর পর দেশের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের সঙ্গে রাজধানীর যোগাযোগে বৈপ্লবিক পরিবর্তন এসেছে। কমেছে যাত্রার সময়, বেড়েছে যানবাহনের চলাচল। তবে যোগাযোগের এই গতি একই সঙ্গে বাড়িয়েছে সড়ক দুর্ঘটনার ঝুঁকিও। পদ্মা সেতু উদ্বোধনের পর গত চার বছরের বেশি সময়ে ঢাকা-মাওয়া এক্সপ্রেসওয়ের মাওয়া টোল প্লাজা থেকে ধলেশ্বরী টোল প্লাজা পর্যন্ত অংশে ঘটেছে ৫৪৮টি সড়ক দুর্ঘটনা। এসব দুর্ঘটনায় প্রাণ হারিয়েছেন ১৪৭ জন এবং আহত হয়েছেন ৮৭৪ জন।

ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের তথ্য বলছে, ২০২২ সালের ২৫ জুন পদ্মা সেতু উদ্বোধনের দিন থেকে ২০২৬ সালের ২৭ আগস্ট পর্যন্ত ঢাকা-মাওয়া এক্সপ্রেসওয়ের উল্লিখিত অংশে এসব দুর্ঘটনা ঘটে। অর্থাৎ চার বছর দুই মাসের কিছু বেশি সময়ে গড়ে প্রতি তিন দিনে প্রায় একটি দুর্ঘটনার ঘটনা ঘটেছে। প্রাণহানি ও আহতের সংখ্যা বিবেচনায় নিলে এই এক্সপ্রেসওয়ের নিরাপত্তা ব্যবস্থাপনা নিয়ে নতুন করে ভাবার প্রয়োজনীয়তাও স্পষ্ট হয়ে উঠছে।

পদ্মা সেতু চালুর পর দক্ষিণাঞ্চলের সঙ্গে ঢাকার যোগাযোগ অনেক সহজ হয়েছে। দেশের বিভিন্ন জেলা থেকে আসা দূরপাল্লার বাস, পণ্যবাহী ট্রাক, কাভার্ডভ্যান, ব্যক্তিগত গাড়ি ও অন্যান্য যানবাহনের চাপ বেড়েছে ঢাকা-মাওয়া এক্সপ্রেসওয়েতে। দ্রুতগতিতে চলাচলের সুযোগ থাকায় অনেক চালক নির্ধারিত গতিসীমার তোয়াক্কা না করে গাড়ি চালান। এর সঙ্গে যুক্ত হয় ঝুঁকিপূর্ণ ওভারটেক, অসতর্কতা এবং ট্রাফিক আইন না মানার প্রবণতা।

সড়কটি তুলনামূলক প্রশস্ত ও আধুনিক হওয়ায় অনেক সময় চালকদের মধ্যে অতিরিক্ত আত্মবিশ্বাসও কাজ করে। ফলে নির্ধারিত গতিসীমা অতিক্রম করে গাড়ি চালানো কিংবা সামনে থাকা গাড়িকে ঝুঁকিপূর্ণভাবে অতিক্রম করার প্রবণতা দেখা যায়। উচ্চগতির যানবাহনের ক্ষেত্রে সামান্য ভুলও বড় দুর্ঘটনার কারণ হয়ে উঠতে পারে। বিশেষ করে সামনে থাকা গাড়ির সঙ্গে নিরাপদ দূরত্ব বজায় না রাখলে আকস্মিক ব্রেকের সময় নিয়ন্ত্রণ হারানোর ঝুঁকি বেড়ে যায়।

ফায়ার সার্ভিসের দেওয়া পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ৫৪৮টি দুর্ঘটনায় ১৪৭ জনের মৃত্যু হয়েছে। আহত হয়েছেন ৮৭৪ জন। অর্থাৎ প্রতিটি দুর্ঘটনায় গড়ে একাধিক মানুষ হতাহত হয়েছেন। নিহতদের পাশাপাশি আহতদের একটি অংশ দীর্ঘমেয়াদি শারীরিক ক্ষতির শিকার হন। দুর্ঘটনার আর্থিক ক্ষতির হিসাবও কম নয়। একটি দুর্ঘটনায় শুধু একটি বা একাধিক প্রাণহানিই ঘটে না; ক্ষতিগ্রস্ত হয় যানবাহন, নষ্ট হয় পণ্য, তৈরি হয় চিকিৎসা ব্যয় এবং পরিবারগুলোকে বহন করতে হয় দীর্ঘমেয়াদি আর্থিক ও সামাজিক চাপ।

এই পরিসংখ্যান শুধু দুর্ঘটনার সংখ্যা নয়, এক্সপ্রেসওয়ের নিরাপত্তা ব্যবস্থাপনার জন্যও একটি গুরুত্বপূর্ণ সতর্কবার্তা। যানবাহনের চাপ আরও বাড়লে দুর্ঘটনার ঝুঁকি নিয়ন্ত্রণে এখন থেকেই কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া জরুরি বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

দুর্ঘটনার পর সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ কাজগুলোর একটি হলো দ্রুত উদ্ধার তৎপরতা। ঢাকা-মাওয়া এক্সপ্রেসওয়েতে দুর্ঘটনার খবর পাওয়ার পর ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা ঘটনাস্থলে ছুটে যান। অনেক ক্ষেত্রে দুর্ঘটনাকবলিত যানবাহন দুমড়েমুচড়ে যায় কিংবা ভেতরে আটকে পড়েন যাত্রী ও চালক। তখন ফায়ার ফাইটারদের নিজেদের নিরাপত্তা ঝুঁকিতে রেখে উদ্ধারকাজ চালাতে হয়।

মুন্সিগঞ্জ ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের উপসহকারী পরিচালক মুহাম্মদ সফিকুল ইসলাম জানান, দুর্ঘটনার পর ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা অত্যন্ত ঝুঁকি নিয়ে উদ্ধার কার্যক্রম পরিচালনা করেন। দ্রুত আহত ব্যক্তিদের উদ্ধার করে হাসপাতালে পাঠানোর পাশাপাশি নিহতদের মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয়।

দুর্ঘটনার পর প্রথম কয়েক মিনিটকে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে দেখা হয়। দ্রুত উদ্ধার ও চিকিৎসার ব্যবস্থা করা গেলে অনেক আহত ব্যক্তির জীবন রক্ষা করা সম্ভব। তাই এক্সপ্রেসওয়ের মতো গুরুত্বপূর্ণ সড়কে জরুরি উদ্ধারব্যবস্থা আরও শক্তিশালী রাখা প্রয়োজন।

সড়ক দুর্ঘটনা কমাতে শুধু অবকাঠামো উন্নয়ন যথেষ্ট নয়; চালকের আচরণেও পরিবর্তন প্রয়োজন। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কর্মকর্তারা চালকদের ঝুঁকিপূর্ণ ওভারটেক থেকে বিরত থাকার পরামর্শ দিয়েছেন। পাশাপাশি সড়কের নির্দেশনা, ট্রাফিক সিগন্যাল ও নির্ধারিত গতিসীমা মেনে চলার ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন তারা।

বিশেষ করে দ্রুতগতির এক্সপ্রেসওয়েতে নিরাপদ দূরত্ব বজায় রাখা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। সামনে থাকা গাড়ি হঠাৎ থেমে গেলে বা গতি কমালে পেছনের গাড়ির চালকের হাতে পর্যাপ্ত সময় থাকতে হবে। কিন্তু খুব কাছাকাছি থেকে গাড়ি চালালে সেই সময় পাওয়া যায় না। ফলে ছোট একটি ভুল মুহূর্তের মধ্যে বড় দুর্ঘটনায় রূপ নিতে পারে।

ঢাকা-মাওয়া এক্সপ্রেসওয়ে দেশের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ যোগাযোগপথ। পদ্মা সেতু চালুর পর এই সড়কের গুরুত্ব আরও বেড়েছে। ভবিষ্যতে যানবাহনের চাপ আরও বাড়বে—এটাই স্বাভাবিক। তাই এখনই দুর্ঘটনার কারণগুলো বিশ্লেষণ করে কার্যকর প্রতিরোধ ব্যবস্থা নেওয়া প্রয়োজন।

চালকদের পাশাপাশি যাত্রী ও সাধারণ পথচারীদেরও দায়িত্বশীল হতে হবে। বেপরোয়া গাড়ি চালানো, ঝুঁকিপূর্ণ ওভারটেক, অতিরিক্ত গতি এবং ট্রাফিক আইন অমান্য করার প্রবণতা বন্ধ করতে নিয়মিত নজরদারি জরুরি। একই সঙ্গে দুর্ঘটনাপ্রবণ স্থানগুলো চিহ্নিত করে প্রয়োজনীয় নিরাপত্তাব্যবস্থা, পর্যাপ্ত সাইনেজ ও কার্যকর ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করা দরকার।

পদ্মা সেতু দেশের যোগাযোগব্যবস্থায় নতুন দিগন্ত খুলেছে। সেই সেতুর সঙ্গে যুক্ত ঢাকা-মাওয়া এক্সপ্রেসওয়ে যেন মানুষের জন্য দ্রুত যোগাযোগের পথ হওয়ার পাশাপাশি মৃত্যুফাঁদে পরিণত না হয়, সে জন্য প্রয়োজন চালক, যাত্রী, সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সমন্বিত উদ্যোগ। ৫৪৮ দুর্ঘটনায় ১৪৭ প্রাণহানির পরিসংখ্যান তাই কেবল একটি সংখ্যা নয়; এটি নিরাপদ সড়ক নিশ্চিত করার জন্য একটি বড় সতর্কসংকেত।


নির্বাচিত

সবজিতে কিছুটা স্বস্তি, ভোগাচ্ছে নিত্যপণ্য 

* সরবরাহ বাড়ায় কমেছে সবজির দাম, তবে ডিম-তেল-চিনি-আটার চড়া দামে চাপে ক্রেতা
ছবি: দৈনিক বাংলা
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

রাজধানীর নিত্যপণ্যের বাজারে যেন দুই বিপরীত চিত্র ফুটে উঠেছে। একদিকে বাজারে সবজির জোগান বাড়ায় কিছুটা দাম কমে ক্রেতাদের মধ্যে স্বস্তির নিঃশ্বাস ফিরছে। অন্যদিকে ডিম, ভোজ্যতেল, চিনি ও আটার মতো জরুরি পণ্যের উর্ধ্বমুখী ও চড়া দাম সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন কেনাকাটায় চরম অস্বস্তি তৈরি করছে।

প্রতিদিনের সংসারের হিসাব মেলাতে গিয়ে হিমশিম খাচ্ছেন মধ্যবিত্ত ও নিম্নআয়ের ক্রেতারা। ফলে সবজি বাজারের সামান্য স্বস্তিটুকু তাদের মনে বড় কোনো স্বস্তি এনে দিতে পারছে না।

রাজধানীর বিভিন্ন খুচরা ও পাইকারি বাজার ঘুরে জানা যায়, প্যাকেটজাত ময়দা প্রতি কেজি ৮০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। ১৫ থেকে ২০ দিন আগেও এই ময়দা বিক্রি হয়েছে ৭০ টাকায়। অর্থাৎ কেজিতে দাম বেড়েছে ১০ টাকা। বাজারে দুই কেজি ময়দার প্যাকেটের গায়ে লেখা দাম এখন ১৬০ টাকা, যা ১৪০ টাকা ছিল।

এদিকে, তেল ও চিনির বাজারেও অস্থিরতা দেখা দিয়েছে। খুচরা বাজারে বর্তমানে প্রতি কেজি চিনি ১২০ থেকে ১২৫ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। এক সপ্তাহের ব্যবধানে দাম বেড়েছে প্রায় ১০ টাকা। প্যাকেটজাত চিনিরও গায়ে লেখা সর্বোচ্চ খুচরা মূল্য ১১০ টাকা থেকে বাড়িয়ে ১২০ টাকা করা হয়েছে।

মালিবাগ বাজারের বিক্রেতা চিশতি বলেন, কয়েক দিনের ব্যবধানে ৫০ কেজির এক বস্তা চিনির দাম ৯০০ থেকে ১ হাজার টাকা পর্যন্ত বাড়িয়েছেন ডিলাররা। প্যাকেটজাত চিনির দামও কেজিপ্রতি ১০ টাকা বেড়েছে।

তারপরও বাজারে অনেক দোকানে চিনি মিলছে না, সরবরাহ বেশ কমে গেছে। ক্রেতারা কয়েক দোকান ঘুরে তারপর প্যাকেটজাত চিনি কিনতে পারছেন।

বিক্রেতারা জানিয়েছেন, মূলত কোম্পানি (মিলগেট) ও পাইকারি পর্যায়ে চিনির মূল্যবৃদ্ধি পাওয়ায় খুচরা পর্যায়ে পণ্যটির দাম বেড়েছে। মিলগেট থেকে আগের চেয়ে চিনির সরবরাহও কমেছে।

এদিকে, বাজারে ভোজ্যতেলের সরবরাহও কমেছে। যদিও খোলা সয়াবিন তেলের দাম বাড়লেও এখনো বোতলজাত তেলের দাম বাড়েনি। খুচরা বিক্রেতাদের অভিযোগ, কোম্পানিগুলো দাম বাড়ানোর প্রস্তুতি হিসেবে সরবরাহ কমিয়ে দিয়েছে। ফলে অনেক দোকানেই চাহিদা অনুযায়ী বোতলজাত তেল পাওয়া যাচ্ছে না।

বাজারে খোলা সয়াবিন তেল প্রতি লিটার ১৮৫ থেকে ১৯০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। খোলা পাম তেলের দাম প্রতি লিটার ১৬৫ থেকে ১৭০ টাকা। আর সরকার নির্ধারিত বোতলজাত সয়াবিন তেলের দাম প্রতি লিটার ২০০ টাকা।

সম্প্রতি সবজির দাম কিছুটা কমেছে। কয়েক সপ্তাহ আগে সরবরাহের ঘাটতির কারণে অনেক সবজির দাম কেজিতে ১০০ টাকা ছাড়িয়ে গিয়েছিল। পরে সরবরাহ বাড়ায় কিছু সবজির দাম কমেছে। বর্তমানে বেশির ভাগ সবজি ৫০ থেকে ৬০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। পটোল, পেঁপে ও ঢ্যাঁড়সের দাম তুলনামূলক কম।

কাঁচামরিচের দাম স্বাভাবিক হয়েছে। রাজধানীর খুচরা বাজারে কাঁচামরিচ প্রতি কেজি ৮০ থেকে ১২০ টাকায় বিক্রি হতে দেখা গেছে। আর কারওয়ান বাজারে পাইকারিতে বিক্রি হচ্ছে ৬০ থেকে ৭০ টাকা কেজি।

খন্দকার আজিজুল নামের এক ব্যবসায়ী বলেন, মূলত ভারত থেকে কাঁচামরিচ আমদানির সুযোগ দেওয়ার পর সরবরাহ বেড়েছে। এ কারণে দামও অনেকটা কমেছে।

অন্যদিকে, কয়েক সপ্তাহ ধরে পেঁয়াজের দামে অবশ্য বড় কোনো পরিবর্তন নেই। মানভেদে প্রতি কেজি ৫৫ থেকে ৬০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। আলুর দামও দীর্ঘদিন ধরে প্রায় একই রয়েছে। প্রতি কেজি আলু ২৫ থেকে ৩০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। রাজধানীর বিভিন্ন রাস্তায় ভ্যানে পাঁচ কেজি আলু একসঙ্গে ১০০ টাকায় বিক্রি করতেও দেখা যাচ্ছে।

ডিমের দামও এখনো আগের উচ্চমূল্যেই রয়েছে। বাজারে প্রতি ডজন ডিম ১৫০ টাকা এবং চারটি ডিম ৫০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। কিছু পাড়া-মহল্লার খুচরা দোকানে এক ডজন ডিম ১৬০ টাকাও বিক্রি হতে দেখা গেছে।

এছাড়া বর্তমানে ব্রয়লার মুরগি প্রতি কেজি ১৮০ থেকে ২০০ টাকা এবং সোনালি মুরগি ৩০০ থেকে ৩২০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে।

খুচরা বাজারে কেনাকাটা করতে আসা একাধিক ক্রেতা ক্ষোভ ও হতাশা প্রকাশ করে জানান, সবজি দু-একটা কম দামে পাওয়া গেলেও মূল সদাই করতেই সিংহভাগ টাকা শেষ হয়ে যাচ্ছে। তেল, আটা ও ডিম না কিনে তো সংসার চালানো সম্ভব নয়, আর এগুলোতেই প্রতিদিন পকেট খালি হয়ে যাচ্ছে।

বাজারের এই ভারসাম্যহীন পরিস্থিতি প্রসঙ্গে খুচরা ব্যবসায়ীদের দাবি, তারা বাধ্য হয়েই বাড়তি দামে পণ্য বিক্রি করছেন। কারণ পাইকারি বাজার থেকেই তাদের বেশি দামে মালামাল কিনতে হচ্ছে। পাইকারিতে দাম না কমলে খুচরা বাজারে দাম কমানো সম্ভব নয় বলে তারা সাফ জানিয়ে দিয়েছেন। তবে সাধারণ ক্রেতাদের মতে, শুধু পাইকারি আর খুচড়ার অজুহাত দিয়ে পার পাওয়ার সুযোগ নেই; মূলত নিয়মিত মনিটরিং এবং শক্ত তদারকির অভাবেই একশ্রেণির অসাধু ব্যবসায়ী সুযোগ নিচ্ছেন।

বাজারের এমন অসম ও অস্থির পরিস্থিতি স্বাভাবিক করতে অবিলম্বে সরকারি সংস্থাগুলোর নিয়মিত তদারকি, অভিযান ও শক্তিশালী ট্র্যাকিং ব্যবস্থা জোরদার করার জোর দাবি জানিয়েছেন ভুক্তভোগী ক্রেতারা।


নির্বাচিত

সম্পত্তি সন্তানকে দিলেও আজীবন ভোগদখলে থাকবেন মা-বাবা

ফাইল ছবি
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

সন্তান বা নাতি-নাতনির নামে সম্পত্তি লিখে দেওয়ার পরও মা-বাবা ও প্রবীণ স্বজনদের জীবদ্দশায় ওই সম্পত্তি ভোগ ও ব্যবহারের অধিকার নিশ্চিত করতে নতুন আইনি উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এ লক্ষ্যে জাতীয় সংসদে ‘সম্পত্তি হস্তান্তর (সংশোধন) বিল, ২০২৬’ উত্থাপন করা হয়েছে। প্রস্তাবিত আইনে সম্পত্তির মালিকানা হস্তান্তর হলেও দাতার আজীবন ভোগদখলের অধিকার সংরক্ষণের বিধান রাখা হয়েছে।

গত বৃহস্পতিবার (২৭ আগস্ট) আইনমন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান ১৮৮২ সালের সম্পত্তি হস্তান্তর আইন সংশোধনের জন্য বিলটি সংসদে উত্থাপন করেন। পরে বিলটি পরীক্ষা করে দুই কার্যদিবসের মধ্যে প্রতিবেদন দেওয়ার জন্য সংশ্লিষ্ট সংসদীয় স্থায়ী কমিটিতে পাঠানো হয়। এতে ‘জীবনকালীন ভোগাধিকার সংরক্ষণপূর্বক দান’ নামে সম্পত্তি হস্তান্তরের নতুন একটি পদ্ধতি যুক্ত করার প্রস্তাব করা হয়েছে।

প্রস্তাবিত সংশোধনীতে নতুন ১২২এ ও ১২২বি ধারা যুক্ত করার কথা বলা হয়েছে। এর আওতায় মা-বাবা সন্তান বা নাতি-নাতনিকে সম্পত্তি দিতে পারবেন। একইভাবে দাদা-দাদি, নানা-নানি নাতি-নাতনিকে এবং সন্তান বা নাতি-নাতনিরাও বাবা-মা, দাদা-দাদি বা নানা-নানিকে সম্পত্তি দিতে পারবেন। স্বামী-স্ত্রীর মধ্যেও এই পদ্ধতিতে সম্পত্তি হস্তান্তর করা যাবে। স্থাবর সম্পত্তির ক্ষেত্রে নিবন্ধিত দলিল করতে হবে।

আইনের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো—মালিকানা ও ভোগদখলের অধিকার পৃথক থাকবে। যেমন, কোনো বাবা বাড়ি সন্তানের নামে নিবন্ধন করে দিলে বাড়িটির মালিকানা সন্তানের কাছে চলে যাবে। তবে দলিলে জীবনকালীন ভোগাধিকার সংরক্ষিত থাকলে বাবা জীবিত থাকা পর্যন্ত ওই বাড়ি ব্যবহার ও ভোগ করতে পারবেন। তার মৃত্যুর পর সেই অধিকার শেষ হবে।

দাতার আগে গ্রহীতা মারা গেলেও দান বাতিল হবে না। সে ক্ষেত্রে সম্পত্তি আইন অনুযায়ী গ্রহীতার উত্তরাধিকারীদের কাছে যাবে। তবে মূল দাতা জীবিত থাকা পর্যন্ত তার ভোগদখলের অধিকার বহাল থাকবে।

নিবন্ধনের পর এ ধরনের দান সাধারণভাবে একতরফাভাবে বাতিল করা যাবে না। দাতা ও গ্রহীতা উভয়ের সম্মতি থাকলে নতুন নিবন্ধিত দলিলের মাধ্যমে তা পরিবর্তন বা বাতিল করা যাবে। আর্থিক, চিকিৎসা, শিক্ষা, পারিবারিক বা অন্য কোনো প্রকৃত প্রয়োজনেও এ সুযোগ রাখা হয়েছে। কোনো পক্ষ অপ্রাপ্তবয়স্ক, নিখোঁজ, মানসিকভাবে সিদ্ধান্ত দিতে অক্ষম বা অন্য কোনো আইনি কারণে সম্মতি দিতে না পারলে জেলা জজের কাছে আবেদন করা যাবে। তবে আদালত আদেশ দেওয়ার আগে সংশ্লিষ্টদের নোটিশ দিয়ে প্রয়োজনীয় অনুসন্ধান করবে।

সরকারের ভাষ্য অনুযায়ী, নতুন বিধানটি প্রচলিত সাধারণ দান, মুসলিম আইনের হেবা বা সম্পত্তি হস্তান্তরের অন্যান্য স্বীকৃত পদ্ধতির ওপর প্রভাব ফেলবে না। বরং আজীবন ভোগের অধিকার সংরক্ষণকারী দানকে আলাদা একটি আইনি কাঠামো দেওয়া হবে এবং এটি সব ধর্মাবলম্বীর ক্ষেত্রে সমভাবে প্রযোজ্য হবে।

প্রস্তাবিত আইনকে সময়োপযোগী উদ্যোগ হিসেবে দেখছেন বিভিন্ন শ্রেণিপেশার মানুষ ও আইনজীবীরা। তাদের মতে, অনেক বাবা-মা সন্তানের ভবিষ্যতের কথা চিন্তা করে জীবনের শেষ সম্বল বাড়ি বা জমি সন্তানের নামে লিখে দেন। পরবর্তী সময়ে কোনো কোনো ক্ষেত্রে সেই সম্পত্তিকে কেন্দ্র করে মা-বাবার সঙ্গে সন্তানের বিরোধ সৃষ্টি হয়। এমনকি তাদের বসতভিটা থেকে উচ্ছেদ বা অবহেলার ঘটনাও ঘটে। নতুন আইন কার্যকর হলে সম্পত্তি দেওয়ার পরও মা-বাবার নিরাপত্তা ও ভোগদখলের অধিকার আইনি সুরক্ষা পাবে।

তবে আইনটি কার্যকর করার ক্ষেত্রে সচেতনতা ও মাঠপর্যায়ে প্রয়োগ নিশ্চিত করার ওপরও গুরুত্ব দিয়েছেন অনেকে। বিশেষ করে গ্রামাঞ্চলে অনেক মানুষ আইন সম্পর্কে সচেতন না হওয়ায় শুধু আইন প্রণয়ন যথেষ্ট নয় বলে মত এসেছে। আইনটি সহজভাবে প্রচার, প্রয়োজনীয় আইনি সহায়তা এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী সংস্থার কার্যকর ভূমিকা নিশ্চিত করার কথাও বলা হয়েছে।

আইনজীবীদের মতে, নতুন বিধানের ফলে সম্পত্তির মালিকানা, দখল ও পারিবারিক বণ্টন নিয়ে সৃষ্ট কিছু বিরোধের আইনি অবস্থান স্পষ্ট হতে পারে। এতে পারিবারিক কলহ ও দেওয়ানি মামলার সংখ্যা কমার সম্ভাবনাও রয়েছে। একই সঙ্গে বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, আইনের বাস্তব প্রয়োগ নির্ভর করবে পরিবার, সমাজ এবং সংশ্লিষ্ট বাস্তবায়নকারী সংস্থার ভূমিকার ওপর।

সব মিলিয়ে, সন্তানদের ভবিষ্যৎ নিশ্চিত করার পাশাপাশি শেষ বয়সে মা-বাবার বসতভিটা ও সম্পত্তির ওপর ভোগদখলের অধিকার সুরক্ষার লক্ষ্যেই প্রস্তাবিত সংশোধনীটি আনা হয়েছে। এখন বিলটি সংসদীয় স্থায়ী কমিটির পরীক্ষার পর চূড়ান্তভাবে পাস ও বাস্তবায়নের অপেক্ষায় রয়েছে।


নির্বাচিত

সংকট কাটাতে আমাদের ধৈর্য ধারণ করতে হবে: চীফ হুইপ

শিল্পকলা একাডেমিতে বাংলাদেশ ম্যাজিক ফেস্টিভ্যাল-২০২৬ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি জাতীয় সংসদের চীফ হুইপ মোঃ নূরুল ইসলাম। ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

সংকটের সময়ে আমাদের ধৈর্য ধারণ করতে হবে উল্লেখ করে বাংলাদেশ জাতীয় সংসদের চীফ হুইপ মোঃ নূরুল ইসলাম বলেছেন, বিগত সরকার দেশ থেকে ৩০ লক্ষ কোটি টাকা পাচার করেছে। ভঙ্গুর অর্থনীতিকে ঘুরে দাঁড় করাতে তারেক রহমান অক্লান্ত পরিশ্রম করছেন।

মঙ্গলবার (২৫ আগস্ট) রাজধানীর বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমিতে বাংলাদেশ ম্যাজিক ফেস্টিভ্যাল-২০২৬ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে চীফ হুইপ এসব কথা বলেন।

চীফ হুইপ মোঃ নূরুল ইসলাম বলেন, বিগত সরকারের একজন মন্ত্রী বিদেশে ৩৫৬টি বাড়ি করেছেন। আরেকজন একাই দুই লক্ষ কোটি টাকা লুট করেছেন। বিদ্যুৎ খাতে লক্ষাধিক কোটি টাকা লুট করে তাদের আবার ইনডেমনিটি দেওয়া হয়েছে।

তিনি বলেন, এমন একটি ভঙ্গুর অর্থনীতির দেশকে ঘুরে দাঁড় করানোর জন্য তারেক রহমান অক্লান্ত পরিশ্রম করছেন। অনাড়ম্বর জীবনযাপন করে তিনি সবার জন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করছেন। বাংলাদেশের স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করতে আমাদের অনর্থক সমালোচনা বন্ধ করে সরকারকে সহযোগিতা করা উচিত।

সম্মিলিত যাদুশিল্পী সংস্থার সভাপতি মিনহাজুর রহমান যুবরাজের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমির মহাপরিচালক শেখ রেজাউদ্দিন আহমেদ, ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের প্রধান প্রকৌশলী ইঞ্জি. নুর আজিজুর রহমান এবং ম্যাজিক আইকন আলী রাজ বক্তব্য রাখেন। অনুষ্ঠানে গণমাধ্যমকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।


নির্বাচিত

রূপগঞ্জের মুশরী-তেলিপাড়া-টানমুশরী সড়ক ধস, যাতায়াতে বাড়ছে দুর্ভোগ

ছবি: দৈনিক বাংলা
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
রূপগঞ্জ (নারায়ণগঞ্জ) প্রতিনিধি

নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জ উপজেলার মুশরী-তেলিপাড়া-টানমুশরী সড়ক ধসে গিয়ে চলাচলের অনুপযোগী হয়ে পড়েছে। তাতে শিক্ষার্থী, নারী, বৃদ্ধসহ স্থানীয় বাসিন্দাদের নিত্যদিনের যাতায়াতে চরম দুর্ভোগ সৃষ্টি হচ্ছে। সড়কের জলাশয় অংশে গাইডওয়াল নির্মাণ করে অবিলম্বে সড়কটি সংস্কার করার দাবি জানিয়েছেন এলাকাবাসী।

সরেজমিনে দেখা গেছে, ২০২২ সালে রূপগঞ্জ উপজেলা পরিষদের অর্থায়নে নির্মিত মুশরী-তেলিপাড়া-টানমুশরী সড়কের বিভিন্ন স্থানে গর্তের সৃষ্টি হয়েছে। একপাশের সম্পূর্ণ অংশজুড়ে জলাশয়। অপর পাশেও স্থানে স্থানে জলাশয় রয়েছে। পূর্ব পাশের গভীর জলাশয়ের পাড়সংলগ্ন স্থানে সড়কের মাটি সরে গিয়ে পাকা অংশ ধসে পড়ছে। এ সড়ক দিয়ে টানমুশরী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ও রূপগঞ্জ ইউনিয়ন ভূমি অফিসসহ গুরুত্বপূর্ণ স্থানে এলাকাবাসী আসা-যাওয়া করে থাকে। কিন্তু সড়কটি ধসে পড়ায় রিকশা, ভ্যান, অটো, প্রাইভেটকার চলাচল বন্ধ হয়ে পড়েছে। তাতে এলাকাবাসী চরম দুর্ভোগে পড়েছেন। মাঝেমধ্যে ঘটছে দুর্ঘটনা। সড়কের স্থানে স্থানে ফাটল দেখা দিয়েছে। কোথাও যেন অধিকাংশ রাস্তা ধসে গিয়েছে। সড়কের জলাশয় অংশে গাইডওয়াল নির্মাণ না করায় ও নিম্নমানের সামগ্রী ব্যবহার এবং সড়ক দিয়ে ভারী যানবাহন চলাচল করার কারণে সড়কের এ অবস্থার সৃষ্টি হয়েছে। তদারকি না থাকায় ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান সড়কটি নির্মাণে তেমন গুরুত্ব দেয়নি বলে অভিযোগ করেছে এলাকাবাসী।

তেলিপাড়া, বৈরাগবাড়ি, ছৈয়ালবাড়ি ও টানমুশরী এলাকার মানুষের দীর্ঘ পথ ঘুরে প্রতিনিয়ত যাতায়াত করতে হচ্ছে। সড়কটি এখন সরু আইলে পরিণত হয়েছে। সড়কটি সংস্কার না করায় দীর্ঘদিন ধরে কোমলমতি শিক্ষার্থীরা ঝুঁকি নিয়ে বিদ্যালয়ে যাতায়াত করছে।

তেলিপাড়া গ্রামের হাজী আব্দুর রফিক বলেন, ‘ওই এলাকার মানুষ দীর্ঘদিন ধরে চলাচলে দুর্ভোগে রয়েছেন। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন নিবেদন করেও কোনো সুফল পাওয়া যাচ্ছে না।’

রূপগঞ্জ ইউনিয়ন পরিষদের প্রশাসক নূর নবী ভুঁইয়া বলেন, ‘রক্ষণাবেক্ষণ প্রকল্পের আওতায় সড়কটি সংস্কারের জন্য তালিকা ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে পাঠানো হয়েছে।’ বরাদ্দ পেলে শিগগিরই এ সড়কের কাজ শুরু হবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।

রূপগঞ্জ উপজেলা প্রকৌশলী আকতার হোসেন বলেন, ‘সড়কটি সংস্কারের জন্য কর্তৃপক্ষকে অবহিত করা হয়েছে।’

রূপগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. সাইফুল ইসলাম বলেন, ‘সরেজমিন পরিদর্শন করে এলাকাবাসীর যাতায়াতের স্বার্থে সড়কটি দ্রুত সংস্কার করা হবে।’


নির্বাচিত

কলমাকান্দায় গাছের চারা উপড়ে ফেলায় জড়িতদের গ্রেপ্তারের নির্দেশ ডেপুটি স্পিকারের

ছবি: ডেপুটি স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামাল।
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

কলমাকান্দায় সড়কের পাশে রোপণ করা গাছের চারা ও সুরক্ষাবেষ্টনী উপড়ে ফেলার ঘটনায় জড়িতদের ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে গ্রেপ্তারের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। শুক্রবার (২৮ আগস্ট) বাবনি এলাকায় উপড়ে ফেলা গাছগুলো পরিদর্শন করে এই নির্দেশ দেন ডেপুটি স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামাল। একই সঙ্গে ঘটনার দুই দিন পার হলেও কার্যকর ব্যবস্থা না নেওয়ায় প্রশাসনের প্রতি ক্ষোভ প্রকাশ করেন তিনি।

ব্যারিস্টার কায়সার কামাল বলেন, ‘গাছ শুধু গাছ নয়, এটি একটি জীবন। আমি বলব, এই গাছগুলোকে হত্যা করা হয়েছে। যারা এই কাজ করেছে, আল্লাহ যেন তাদের হেদায়েত করেন।’ তিনি বলেন, গাছ পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষার পাশাপাশি মানুষকে অক্সিজেন দেয়। অনেক যত্ন ও সময়ের পর একটি চারা বড় গাছে পরিণত হয়। রাতের আঁধারে এভাবে গাছ উপড়ে ফেলা দুঃখজনক ও নিন্দনীয়।

প্রশাসনের প্রতি ক্ষোভ প্রকাশ করে ডেপুটি স্পিকার বলেন, প্রশাসনের দায়িত্ব ছিল কে বা কারা এই গাছগুলোকে হত্যা করেছে, তা খুঁজে বের করা। দুই দিন চলে গেলেও তারা কিছুই করতে পারেনি। আমি প্রশাসনের দিকে নির্দেশ করব, ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে যেন গাছ হত্যাকারীদের খুঁজে বের করে গ্রেপ্তার করা হয়।

দুর্বৃত্তদের এমন কর্মকাণ্ডে বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি বন্ধ হবে না জানিয়ে তিনি বলেন, একই এলাকায় নতুন করে আরও এক হাজার ২০০ গাছের চারা রোপণ করা হবে। পাশাপাশি রোপণ করা গাছের সুরক্ষা ও পরিচর্যার ব্যবস্থাও করা হবে।

শুক্রবার (২৮ আগস্ট) দুপুর ২টার দিকে কলমাকান্দা-নেত্রকোনা সড়কের বাবনি এলাকায় এক হাজার ২০০ চারা রোপণ কর্মসূচির উদ্বোধন করেন ডেপুটি স্পিকার। এর আগে তাঁর নির্দেশনায় উপজেলা যুবদল ও ছাত্রদলের তত্ত্বাবধানে গত ৫ আগস্ট ওই সড়কের পাশে পাঁচ শতাধিক ফলদ, বনজ ও ঔষধি গাছের চারা রোপণ করা হয়েছিল।

স্থানীয়দের উদ্দেশে ডেপুটি স্পিকার বলেন, এই গাছগুলো শুধু সরকারের নয়, এগুলো সবার সম্পদ। সবাইকে গাছ রক্ষায় এগিয়ে আসতে হবে। একটি গাছ রক্ষা করা মানে একটি জীবন রক্ষা করা।

কর্মসূচিতে উপস্থিত ছিলেন নেত্রকোনা জেলা পরিষদের প্রশাসক অ্যাডভোকেট নুরুজ্জামান নুরু, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (শিক্ষা) মুনমুন জাহান লিজা, কলমাকান্দা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা এন এম আব্দুল্লাহ আল মামুন, অতিরিক্ত জেলা পুলিশ সুপার সাব্বির হাসান, কলমাকান্দা থানার ওসি মোস্তাফিজুর রহমান, উপজেলা বিএনপির সভাপতি এম এ খায়ের প্রমুখ।

উল্লেখ্য, গত ২৫ আগস্ট রাতে বাবনি এলাকায় সড়কের পাশে রোপণ করা ৩৫টি গাছের চারা ও সুরক্ষাবেষ্টনী কে বা কারা উপড়ে ফেলে। গত বুধবার সকালে বিষয়টি জানাজানি হলে স্থানীয়দের মধ্যে ক্ষোভ দেখা দেয়। ঘটনার পর জড়িতদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনার দাবি ওঠে।


নির্বাচিত

ঘিওর খাদ্যগুদামে গরমিল, দুই কর্মকর্তা বরখাস্ত

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
দৌলতপুর (মানিকগঞ্জ) প্রতিনিধি

মানিকগঞ্জের ঘিওর উপজেলা খাদ্যগুদামে মজুত যাচাই করতে গিয়ে ১২০ টন চাল-গমের ঘাটতি ধরা পড়েছে। এর মধ্যে ১০০ টন চাল ও ২০ টন গম রয়েছে। একই সঙ্গে মজুদের চেয়ে ৪১ টন ধান বেশি পাওয়া গেছে। এছাড়া ৬ হাজার ৫০০টি খালি বস্তারও হিসাব পাওয়া যায়নি। সরকারি খাদ্যগুদামে ঘাটতি ও হিসাবের গরমিলের ঘটনায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।

শুক্রবার (২৮ আগস্ট) জেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক আইয়ুব রায়হান জানান, এ ঘটনায় উপজেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক ফারহানা আক্তার এবং খাদ্য পরিদর্শক ও ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা শ্রী বিপুল কুমারকে সাময়িক বরখাস্ত করেছে খাদ্য অধিদপ্তর। তাদের বিরুদ্ধে বিভাগীয় মামলার কার্যক্রমও প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। এছাড়া তাদের দুই জনকে বদলি করা হয়েছে।

জানা গেছে, চলতি মাসের ১৫ আগস্টের নিয়মিত পাক্ষিক প্রতিবেদনে ঘিওর খাদ্যগুদামের মজুত পরিস্থিতি ঠিকঠাক দেখানো হয়েছিল। কিন্তু এর মাত্র ১০ দিনের ব্যবধানে খাদ্য অধিদপ্তরের বিশেষ অডিটে বেরিয়ে আসে বড় ধরনের গরমিল। অডিটে ১২০ টন চাল-গমের ঘাটতি, ৬ হাজার ৫০০টি খালি বস্তার হিসাব না থাকা এবং মজুদের তুলনায় ৪১ টন ধান বেশি থাকার তথ্য পাওয়া যায়।

এতে প্রশ্ন উঠেছে, ১৫ আগস্টের প্রতিবেদনে মজুত স্বাভাবিক দেখানোর পর মাত্র ১০ দিনের মধ্যে এত বিপুল পরিমাণ খাদ্যশস্যের ঘাটতি কীভাবে হলো। নিয়মিত মজুত যাচাই ও গুদাম তদারকিতে কোনো ধরনের গাফিলতি ছিল কি না, তাও খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

জেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক মো. আইয়ুব রায়হান বলেন, খাদ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালকের সরাসরি তত্ত্বাবধানে দেশের প্রতিটি খাদ্যগুদামে বিশেষ অডিট পরিচালনা করা হচ্ছে। গরমিল পাওয়ায় সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে।

তিনি আরও জানান, মঙ্গলবার দুপুরে খাদ্য অধিদপ্তরের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা ও জেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রকের পরিদর্শনের পর ঘিওর উপজেলা খাদ্যগুদামটি সিলগালা করা হয়।

মজুতের এই অসঙ্গতি হিসাবের ভুল, দায়িত্বে অবহেলা নাকি অন্য কোনো অনিয়মের ফল তা বিভাগীয় তদন্তেই স্পষ্ট হবে বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।


নির্বাচিত

স্বচ্ছ প্রক্রিয়ায় শিগগিরই মালয়েশিয়ার শ্রমবাজার উন্মুক্ত হচ্ছে

ফাইল ছবি
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
দৈনিক বাংলা ডেস্ক

ফ্যাসিবাদী আমলের দুর্নীতি, দুঃশাসন, সিন্ডিকেট ও অনিয়মের কারণে বন্ধ থাকা মালয়েশিয়ার শ্রমবাজার স্বচ্ছ প্রক্রিয়ায় পুনরায় উন্মুক্ত হতে যাচ্ছে বলে জানিয়েছে প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়।

আজ এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে মন্ত্রণালয় জানায়, বিষয়টিকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে দুই দেশের মন্ত্রী পর্যায়ে একাধিক বৈঠকের পাশাপাশি প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান তাঁর প্রথম বিদেশ সফরে মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইব্রাহিম ও রাজা সুলতান ইব্রাহিম ইস্কান্দারের সঙ্গে আলোচনা করেন। এসব সরাসরি বৈঠক ও আলোচনার মাধ্যমে বাংলাদেশের স্বার্থকে প্রাধান্য দিয়ে বাংলাদেশি কর্মীদের জন্য মালয়েশিয়ার শ্রমবাজার উন্মুক্তকরণের সম্ভাবনার দ্বার উন্মোচিত হয়েছে।

মন্ত্রণালয় জানায়, ২০২২ সালের ১৮ ডিসেম্বর বাংলাদেশ ও মালয়েশিয়ার মধ্যে স্বাক্ষরিত সমঝোতা স্মারকে মালয়েশিয়ায় কর্মী প্রেরণকারী বাংলাদেশি রিক্রুটিং এজেন্সি বাছাইয়ের দায়িত্ব এককভাবে মালয়েশিয়া সরকারের ওপর ন্যস্ত করা হয়। ওই সমঝোতা স্মারকের মেয়াদ চলতি বছরের ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত বলবৎ থাকায়, মালয়েশিয়া সরকারের আরোপিত শর্ত পরিবর্তন করা বাংলাদেশের পক্ষে সহজ নয়।

তবে বর্তমান সরকার মালয়েশিয়া সরকারের সঙ্গে এ বিষয়ে সর্বোচ্চ পর্যায়ে আলোচনা ও নেগোসিয়েশন করেছে-উল্লেখ করে মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, মালয়েশিয়ার নিজস্ব আইনি শর্ত ও নীতিমালার সঙ্গে সর্বোচ্চ সমন্বয় রেখে বাংলাদেশের স্বার্থ এবং প্রবাসী কর্মীদের কল্যাণ ও সুবিধা নিশ্চিত করা সরকারের অন্যতম সাফল্য।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, সরকারের ধারাবাহিক প্রচেষ্টার ফলে শিগগিরই মালয়েশিয়ায় বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের দুয়ার খুলছে। এরই মধ্যে বাংলাদেশ সরকারের বিশেষ অনুরোধে মালয়েশিয়ার কর্তৃপক্ষ ১০ হাজার কর্মীকে সম্পূর্ণ বিনামূল্যে বা ‘জিরো কস্ট’-এ নেওয়ার বিষয়ে নীতিগতভাবে সম্মত হয়েছে। বিমান ভাড়াসহ সব ধরনের অভিবাসন ব্যয় ছাড়াই এসব কর্মীর প্রথম বহর সরকারি প্রতিষ্ঠান বাংলাদেশ ওভারসিজ এমপ্লয়মেন্ট অ্যান্ড সার্ভিসেস লিমিটেড (বোয়েসেল)-এর মাধ্যমে বিশেষ চার্টার্ড ফ্লাইটে মালয়েশিয়ায় পাঠানোর মধ্য দিয়ে শ্রমবাজারটি পুনরায় চালু হবে।

মন্ত্রণালয় জানায়, মালয়েশিয়া সরকারের মন্ত্রিসভার সিদ্ধান্ত অনুযায়ী কর্মী সরবরাহকারী প্রধান পাঁচটি দেশের মধ্যে নেপাল ও বাংলাদেশের জন্য ২৫টি করে এবং ভারত, পাকিস্তান ও মিয়ানমারের জন্য ১০টি করে রিক্রুটিং এজেন্সির অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। এটি মালয়েশিয়া সরকারের সার্বভৌম সিদ্ধান্ত।

বাংলাদেশের জন্য অনুমোদিত ২৫টি রিক্রুটিং এজেন্সি বিগত অন্তর্বর্তী সরকার প্রণীত ৪২৩টি রিক্রুটিং এজেন্সির তালিকায় রয়েছে। এ পরিপ্রেক্ষিতে বাংলাদেশ সরকার ৪২৩টি এজেন্সির মধ্যে ফ্যাসিবাদী সরকারের সময় বিভিন্নভাবে সুবিধাভোগী এবং সিন্ডিকেটের সঙ্গে জড়িতদের বাদ দিয়ে অবশিষ্ট এজেন্সিগুলোকে মালয়েশিয়ায় কর্মী প্রেরণের সুযোগ দেওয়ার অনুরোধ জানায়।

গত ছয় মাস ধরে বাংলাদেশের ধারাবাহিক অনুরোধের প্রেক্ষিতে মালয়েশিয়া বিশেষ বিবেচনায় বাংলাদেশকে এ সুযোগ দিয়েছে বলে জানায় মন্ত্রণালয়। এর আওতায় মালয়েশিয়া তাদের মন্ত্রিসভার সিদ্ধান্ত অনুযায়ী ২৫টি বাংলাদেশি রিক্রুটিং এজেন্সিকে সরাসরি নির্বাচিত করেছে এবং বাংলাদেশের অবস্থানকে সম্মান জানিয়ে আরও ৩১২টি রিক্রুটিং এজেন্সিকে ‘অ্যাসোসিয়েট রিক্রুটমেন্ট এজেন্সি’ হিসেবে কর্মী প্রেরণের সুযোগ দিচ্ছে।

এর পাশাপাশি, একমাত্র সরকারি রিক্রুটিং এজেন্সি বোয়েসেলও এ প্রক্রিয়ায় কাজ করার সুযোগ পাচ্ছে। ফলে বিদ্যমান বহুবিধ নিয়মতান্ত্রিক সীমাবদ্ধতার মধ্যেও একযোগে বাংলাদেশের ৩৩৮টি রিক্রুটিং এজেন্সির মালয়েশিয়ার শ্রমবাজারে কর্মী প্রেরণের সুযোগকে একটি ঐতিহাসিক অর্জন হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

এজেন্সি যাচাই-বাছাইয়ের কাজ মালয়েশিয়ার মানবসম্পদ মন্ত্রণালয়, পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, দুর্নীতি দমন কমিশন এবং আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সমন্বয়ে গঠিত উচ্চপর্যায়ের যৌথ কমিটি সম্পন্ন করেছে। মন্ত্রণালয়ের দাবি, অতীতে এ ধরনের স্বচ্ছ ও রাষ্ট্রীয় গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠানগুলোর মাধ্যমে যাচাই-বাছাইয়ের কোনো নজির ছিল না। এ বাছাই প্রক্রিয়ায় বাংলাদেশ সরকারের ন্যূনতম কোনো সংশ্লিষ্টতা নেই।

আগামী ৩১ ডিসেম্বর বর্তমান সমঝোতা স্মারকের মেয়াদ শেষ হলে নতুন সমঝোতা স্মারকের মাধ্যমে রিক্রুটিং এজেন্সি অনুমোদনের ক্ষেত্রে বাংলাদেশের স্বার্থ রক্ষা হবে বলেও মন্ত্রণালয় আশাবাদ ব্যক্ত করেছে।

মালয়েশিয়ার শ্রমবাজার দ্রুত উন্মুক্ত করতে বাংলাদেশ সরকার বিদ্যমান মেডিকেল সেন্টার পরিবর্তনের অনুরোধ জানিয়েছিল। তবে মালয়েশিয়ার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়, মানবসম্পদ মন্ত্রণালয় ও স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের যৌথ প্রতিনিধি দল বাংলাদেশে এসে প্রতিটি মেডিকেল সেন্টার সরেজমিনে পরিদর্শনের পর চূড়ান্ত অনুমোদন দেওয়ায় এ প্রক্রিয়ায় সময় প্রয়োজন হচ্ছে।

এ অবস্থায় মালয়েশিয়া সরকার অনুমোদিত বিদ্যমান তালিকা থেকে বাংলাদেশ সরকারের অনুরোধে ফ্যাসিবাদের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট বিতর্কিত মেডিকেল সেন্টারগুলো বাদ দিয়ে অবশিষ্ট ১৬টি মেডিকেল সেন্টারের মাধ্যমে কার্যক্রম শুরুর সিদ্ধান্ত নিয়েছে। পাশাপাশি, শ্রমবাজার চালুর সঙ্গে সঙ্গে যত দ্রুত সম্ভব মালয়েশিয়ার তিন মন্ত্রণালয়ের প্রতিনিধি দল বাংলাদেশে এসে নতুন নীতিমালার আলোকে যাচাই-বাছাই করে মেডিকেল সেন্টারের পূর্ণাঙ্গ তালিকা প্রণয়নের কাজ শুরু করবে।

কর্মীদের সার্বিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে বিমানবন্দরে অতীতের সব ধরনের হয়রানি বন্ধ, সরাসরি সংশ্লিষ্ট কোম্পানিতে কাজে যোগদান এবং মালয়েশিয়ার শ্রম আইন অনুযায়ী নিয়মিত বেতন-ভাতা, আবাসন ও চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করার ওপর সরকার গুরুত্ব দিচ্ছে।

এ ছাড়া, অভিবাসন সংক্রান্ত যেকোনো অভিযোগ দ্রুত নিষ্পত্তির লক্ষ্যে প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের উদ্যোগে ২৪ ঘণ্টার মনিটরিং সেল ও হেল্পডেস্ক স্থাপন করা হবে।

মন্ত্রণালয় জানায়, শ্রমবাজার উন্মুক্তকরণকে ঘিরে নানামুখী বিভ্রান্তিমূলক তথ্য পাওয়া যাচ্ছে, যা অনাকাক্সিক্ষত ও অনভিপ্রেত। বাংলাদেশের স্বার্থ রক্ষা করে যে প্রক্রিয়ায় মালয়েশিয়ায় জনশক্তি রপ্তানির কার্যক্রম শুরু হতে যাচ্ছে, তা দেশের জন্য একটি বড় অর্জন। এর মাধ্যমে বিপুলসংখ্যক মানুষের কর্মসংস্থান সৃষ্টি, অর্থনৈতিক পরিবর্তন, রেমিট্যান্স প্রবাহ বৃদ্ধি এবং জাতীয় অর্থনীতি আরও সুদৃঢ় হবে।

এ লক্ষ্যে রাষ্ট্রীয় স্বার্থকে অগ্রাধিকার দিয়ে পুরো প্রক্রিয়াকে আরও স্বচ্ছ এবং অভিবাসন ব্যয় উল্লেখযোগ্য হারে কমিয়ে আনতে সব অংশীজনকে ইতিবাচক ভূমিকা রাখার আহ্বান জানিয়েছে মন্ত্রণালয়।

একই সঙ্গে মধ্যস্বত্বভোগীদের দৌরাত্ম্য বন্ধে দালাল ও প্রতারক চক্র থেকে সবাইকে সতর্ক থাকার অনুরোধ জানানো হয়েছে।

মালয়েশিয়ায় কর্মী পাঠানোর সুনির্দিষ্ট প্রক্রিয়া এখনও প্রক্রিয়াধীন রয়েছে উল্লেখ করে মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, এ বিষয়ে যথাসময়ে বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে জানানো হবে। মন্ত্রণালয়ের বিজ্ঞপ্তি বা নির্দেশনা জারি না হওয়া পর্যন্ত কোনো ধরনের আর্থিক লেনদেন, মেডিকেল টেস্ট কিংবা পাসপোর্ট জমা না দেওয়ার জন্য সবাইকে আহ্বান জানানো হয়েছে।

সূত্র: বাসস


নির্বাচিত

খাদ্যের খোঁজে লোকালয়ে বানর, নষ্ট করছে ফসল

* তীব্র খাদ্যসংকটে ৭০০ বানর
ছবি: দৈনিক বাংলা
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
আল-আমিন, ফুলবাড়িয়া (ময়মনসিংহ)

অনেক বছর আগেই বনদস্যুরা ধ্বংস করেছে সন্তোষপুরের প্রাকৃতিক ও সামাজিক বনায়ন। বন ধ্বংসের কারনে হারিয়ে গেছে বন্যপ্রাণি। পাল্টে গেছে বনায়নের সেই চিরাচরিত পুরোনো অবয়ব। বনের শোভাবর্ধণ হিসেবে বিট অফিস সংলগ্ন শালবনকে ঘিরে রয়েছে অনন্ত ৭ শতাধিক বানর। সংরক্ষিত বনাঞ্চলে ফলদ গাছগাছালি না থাকায় এসব বানর রয়েছে চরম খাদ্য সংকটে । এরই মধ্যেই আরও অন্তঃত দুইশতাধিক মা বানর বাচ্চার জন্ম দিয়েছে। বাচ্চা গুলোর বয়স তিন থেকে চার মাস হবে। নতুন এসব অতিথির আগমনে বানরের খাদ্যসংকট তীব্র হওয়ায় বানর দল লোকালয়ে ছড়িয়ে ছিটিয়ে পড়েছে বলে স্থানীয়দের ভাষ্য।

টাংগাইল জেলার মধুপুর বনাঞ্চলের কুল ঘেষা ফুলবাড়িয়ার উপজেলার সন্তোষপুর বনভূমি। তিনটি মৌজায় তিন হাজার ৬৩৯ একর বনাঞ্চল ছিল। শাল, সেগুন, চাম্বলসহ নানা প্রজাতীর বৃক্ষরাজিতে ভরপুর ছিল। মেছোবাঘ, ভাল্লুক, হরিণ, সজারো, হনোমান, বাঘডাস, বানর, শিয়াল ও খরগোশসহ নানা প্রজাতির বন্যপ্রাণীর অভয়ারন্য ছিল। নব্বই দশকের শুরু থেকে বনদস্যুরা বনাঞ্চলের গাছ উজাড় করতে শুরু করে। প্রাকৃতিক বনায়ন ধ্বংস করায় হারিয়ে গেছে এসব বন্যপ্রাণী। সবুজ বনায়ন ফিরিয়ে আনতে বনে সামাজিক বানায়ন শুরু করে বন বিভাগ। শুরুটা ভালো হলেও পরবর্তীতে স্থানীয় প্রভাবশালীরা সামাজিক বনায়নের অসংখ্য গাছ কেটে কৃষি জমিতে রূপান্তরিত করে আনারস, কলা, হলুদসহ নানা ধরনের চাষাবাদ করছেন।

বিট অফিস জানায়, সন্তোষপুর বিটে তিনটি মৌজায় তিন হাজার ৬৩৯ একর বনাঞ্চলের মধ্যে সমাজিক বনায়ন ৩ হাজার ৮১.৫৪ একর। ২০১৯ সালে শেষে দিকে ৩২৫ হেক্টর জমিতে টেকসই বন ও জীবিকা (সুফল) বাগান করে বন বিভাগ। স্থানীয় প্রভাবশালীরা ১৭৩.২ একর জমি জবর দখল করে বাড়ি ঘর তৈরি করে বসবাস করছে। ২০২৪-২০২৫ অর্থ বছরে ৫০ একর ও ২০২৫-২০২৬ অর্থ বছরে বন বিভাগ ৭৫ একর জমি উদ্ধার করেন। উদ্ধারকৃত ৭৫ একর জমিতে বনায়ন করা হয়েছে, চলতি জুন মাসে আরও ৫০ একর জমিতে গাছের চারা লাগানো হবে।

সন্তোষপুর বিট অফিস সংলগ্ন ৫০ একর শালবন রয়েছে। শাল বাগান ঘিরে অনন্ত সাত শতাধিক বানরের বসবাস। বানর সংঘ্যবদ্ধ প্রাণি, দলবেঁধে চলাচল করে। চারটি দলে বিভক্ত এসব বানর। প্রতিটি দলে ১৫০ থেকে ২০০ বানর রয়েছে। শালবনের আশপাশেই বনের জমিতে প্রভাবশালীদের আনারস ও কলা গাছের বাগান করা। বানরের হাত থেকে এসব ফসল রক্ষা করতে শ্রমিকরা লাঠি ও বাটুল হতে নিয়ে পাহারায় বসে থাকেন। বানর গুলো আসতে দেখলেই তারা লাঠি ও বাটুল দিয়ে আক্রমণ করেন। যে কারনে শাল বনের বাহিরে যেতে পারেনা বানর গুলো। সন্তোষপুর গ্রামটিতে রয়েছে বনশিল্প উন্নয়ন কর্পোরেশন (বশিউক) ১০৩৬ একর জমিতে রাবার প্রকল্প।

উপজেলা প্রশাসন থেকে বছরের দুই বার বানরের খাবারের জন্য সরকারি ভাবে দুই টন করে চাল দেওয়া হয়। প্রতিদিন সকালে বিট কর্মকর্তা শাল বনে ৮ থেকে ১০ কেজি করে চাল বানরদের খাবারের জন্য ছিটিয়ে দেয়।

সম্প্রতি সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, বিট অফিসের দক্ষিণ পশ্চিম পাশে প্রায় শাল বন ও রাবার বাগানের পাশের রাস্তায় শত শত বানর ছুটাছুটি করছে। ৩০ থেকে ৩৫ টি বানরের বুকে পিঠে ছোট বাচ্চা আগলে ধরে লাফালাফি করছে। বানরের তুলনায় দর্শনার্থীদের দেওয়া খাবার অপ্রতুল্য হওয়ায় বনের পাশে থাকা মানুষের আনারসসহ রোপিত ফসল নষ্ট করছে।

সন্তোষপুর গ্রামের শিক্ষক রুস্তম আলী জানিয়েছেন, একসময় বনাঞ্চলে বন্যপ্রাণীদের অভয়ারণ্য ছিল। প্রকৃতিক বন ধ্বংস করায় এসব প্রাণি হারিয়েগেছে। বিট অফিস সংলগ্ন শত শত বানর রয়েছে। প্রতি বছর বানরের সংখ্য বাড়ছে। বনে খাদ্য না থাকায় এসব বানরের খাদ্যসংকট চরমে।

সন্তোষপুর গ্রামের সাইফুল ইসলাম বলেছেন, বানর গুলো আগে দল বেঁধে রাবার বাগানে গিয়ে গাছের বীজ খেয়েছে। পুরাতন বাগান কেটে নতুন বাগান করায় এখন বীজ নেই। বনের ভিতরে আনারস, কলা গাছের বাগান করা। বানরের দল যাতে বাগান নষ্ট না করতে পারে সে জন্য কৃষকেরা বাগান পাহারা দেওয়ার জন্য শ্রমিক রেখেছে।

সন্তোষপুর বিট কর্মকর্তা মোহাঃ এমদাদুল হক বলেছেন, বিট অফিসকে ঘিরে শত শত বানর রয়েছে। অসংখ্য বানর বাচ্চা দিয়েছে। বানরের খাবারের জন্য সরকারি ভাবে কোন অর্থ বরাদ্দ নেই। উপজেলা প্রশাসন বছরে দুই বার ৪ টন চাল দেয়। প্রতিদিন সকালে ৮ থেকে ১০ কেজি চাল বানরের খাবারের জন্য দেওয়া হয়। শেষ হয়ে গেলে আর দিতে পারিনা। বিট অফিসের আশপাশে ফলগাছ রয়েছে, এসব গাছের ফল খায়। তবে পর্যাপ্ত না। বানরের কিছুটা খাবার সংকট রয়েছে। তিনি বলেন, সম্প্রতি জবর দখলকারীদের কাছ থেকে ১২৫ একর বনের জমি উদ্ধার করা হয়েছে। ৭৫ একর জমিতে বনায়ন করা হয়েছে আরও ৫০ একর জমিতে বনায়ন করা হবে।


নির্বাচিত

জীবননগরে পাটের আঁশ সংগ্রহে ব্যস্ত কৃষক, ভালো ফলনে খুশি চাষিরা

ছবি: দৈনিক বাংলা
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
জীবননগর (চুয়াডাঙ্গা) প্রতিনিধি

পাট কেটে জাগ দেওয়ার পর এখন পাট থেকে সোনালী আঁশ ছাড়ানোর কাজে ব্যস্ত হয়ে পড়েছেন চুয়াডাঙ্গার জীবননগর উপজেলার চাষিরা। উপজেলার বিভিন্ন খালবিল, বাঁওড়, ডোবা, পুকুর ও জলাশয়ে কৃষকদের পাট জাগ দেওয়া ও পাটের আঁশ ছাড়ানোর দৃশ্য চোখে পড়ছে। এদিকে সময় মত বৃষ্টি ও আবহাওয়া ভালো থাকায় পাটের ভালো ফলন আশা করছেন চাষিরা। বাজারে পাটের বেশ চাহিদা ও দাম তুলনামূলক বেশি থাকায় কৃষকের মুখে ফুটেছে হাসি।

সরজমিনে দেখা যায়, জীবননগর উপজেলার খালবিলে গিয়ে কৃষকদের ব্যস্ততা দেখা গেছে। কেউ পাট কেটে জাগ দিচ্ছেন, কেউ পাট থেকে সোনালী আঁশ সংগ্রহ করছেন, কেউ আবার ধোঁয়া পাট ও পাটখড়ি রোদে শুকাতে দিচ্ছেন। পুরুষদের পাশাপাশি নারীরাও পাটের আঁশ রোদে শুকাতে অংশ নিয়েছে।

উপজেলার সীমান্ত ইউনিয়নের পাটচাষি মসলেম উদ্দিন বলেন, মাঠে আড়াই বিঘা জমিতে পাট রোপণ করেছিলাম। এবার সময়মত বৃষ্টি হওয়ার কারনে গাছগুলো বেশ ভালো হয়েছে। প্রতি বিঘা জমিতে ৮ থেকে ১০ মন পাট হওয়ার আশা করছি। তাছাড়াও গাঙে এবার পানিরও অভাব হয়নি। ভালোভাবে জাগ দেওয়া গেছে। বাজারে পাটের মোটামুটি ভালো দাম শুনছি। এমন দাম থাকলে কিছুটা লাভের মুখ দেখতে পাবো।

উথলী গ্রামের পাট চাষি আবু মিয়া বলেন, আল্লাহর রহমতে এবার পাট ভালো হয়েছে। এখন আঁশ ছাড়ানোর কাজ চলছে। পাট ছাড়াও পাটখড়ির চাহিদা রয়েছে অনেক। পাটখড়ি ৫০ টাকা আটি বিক্রি করা হচ্ছে। লোকজন বিল থেকেই নিজ খরচে পাট খড়ি নিয়ে যাচ্ছে। এটা বিক্রি করে খরচ-খরচার টাকা কিছুটা সাশ্রয় হবে। এখন আঁশগুলো বাড়িতে নিয়ে বাঁশ দিয়ে আড়া তৈরি করে রোদে শুকাতে হবে।

জানা গেছে, পাট ৩২০০ টাকা থেকে ৩৫০০ টাকা মন বিক্রি হচ্ছে। পাটের রং ভালো হলে দাম আরও বেশি পাওয়া যাচ্ছে। তাছাড়া পাটের আঁশ ছাড়ানোর পর যে পাটখড়ি পাওয়া যায় সেটারও রয়েছে বেশ চাহিদা। প্রতি আটি পাটখড়ি বিক্রি হচ্ছে ৪০-৫০ টাকায়। যেটা বিক্রি করে কৃষকদের উৎপাদন খরচ উঠে যাচ্ছে।

জীবননগর কৃষি কর্মকর্তা আলমগীর হোসেন বলেন, জীবননগরের মাটি পাট চাষের জন্য উপযুক্ত। চলতি বছরে এ উপজেলায় মোট ১৬২০ হেক্টর জমিতে পাট চাষ হয়েছে। এবার পাটের ফলন ভালো হয়েছে। পরিমাণ মত বৃষ্টি হওয়ার কারনে পাট জাগ দিতে কৃষকদের ঝামেলা পোহাতে হয়নি। তাছাড়া বর্তমান বাজারে পাটের দাম ভালো আছে। আশা করছি কৃষকরা পাটের ন্যায্য মূল্য পাবেন।


নির্বাচিত

রাষ্ট্রপতিকে উৎসর্গ করে ঠাকুরগাঁওয়ে হাফ ম্যারাথন প্রতিযোগিতা

ছবি: দৈনিক বাংলা
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
সোহেল রানা, ঠাকুরগাঁও

দৌড় শুধু শরীরকে সুস্থ রাখার জন্য নয়। কখনো কখনো দৌড় হয়ে ওঠে মানুষের সঙ্গে মানুষের বন্ধন তৈরির ভাষা। আর সেই দৌড়ের ছন্দেই এবার এক হলো দেশের ৩০ জেলার মানুষ। রাষ্ট্রপতির জেলা ঠাকুরগাঁওয়ে আয়োজিত হলো হাফ ম্যারাথন। যে আয়োজন উৎসর্গ করা হয়েছে বাংলাদেশের ২৩তম নব নির্বাচিত রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরকে।

স্বাস্থ্য, সম্প্রীতি আর বন্ধুত্বের বার্তা ছড়িয়ে দেওয়া এই আয়োজন ঘিরে ঠাকুরগাঁওয়ে ছিল উৎসবের আমেজ। শুক্রবার (২৮ আগস্ট) ভোরের আলো তখনও পুরোপুরি ছড়িয়ে পড়েনি। নীরব শহরটায় হঠাৎই যেন ছন্দের জন্ম হলো। আবুল হোসেন সরকার ডিগ্রি কলেজ থেকে কেউ ছুটছেন নিজের রেকর্ড ভাঙতে, কেউ ছুটছেন সুস্থ থাকার প্রত্যয়ে। আবার কারও কাছে—এই দৌড়, মানুষের সঙ্গে মানুষের বন্ধুত্বের এক নতুন গল্পের সূচনা।

ম্যারাথনে অংশ নেওয়া ঢাকা থেকে আসা কিশোরী জিন্নাত পারভীন বলেন, “এ ম্যারাথন শুধুই একটি প্রতিযোগিতা নয়, একটি জেলার সঙ্গে আরেকটি জেলার, একজন মানুষের সঙ্গে আরেকজন মানুষের হৃদয়ের সংযোগ। ‘সুস্থতা, সম্প্রীতি ও বন্ধুত্বের জয়গানে’—এই প্রত্যয়কে সামনে রেখে ঠাকুরগাঁও রানার্সের উদ্যোগে আয়োজিত হয়েছে ‘ঠাকুরগাঁও হাফ ম্যারাথন ২০২৬’। আর আয়োজনটির সার্বিক তত্ত্বাবধানে রয়েছে মেসার্স গার্ডেনিয়া। আমরা অত্যন্ত আনন্দিত।

এই আয়োজনের সঙ্গে যুক্ত হয়েছে আরও একটি আবেগের গল্প। রাষ্ট্রপতির জেলা ঠাকুরগাঁওয়ে আয়োজিত এই হাফ ম্যারাথন উৎসর্গ করা হয়েছে রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরকে। আয়োজকদের ভাষ্য— একজন অভিজ্ঞ রাজনীতিবিদ হিসেবে যেমন তিনি দীর্ঘ পথ পাড়ি দিয়েছেন, তেমনি খেলাধুলার সঙ্গেও রয়েছে তার নিবিড় সম্পর্ক। সাবেক খেলোয়াড় ও ক্রীড়ামোদী রাষ্ট্রপতির প্রতি সম্মান জানাতেই এই আয়োজনকে উৎসর্গ করা হয়েছে।”

তরুন রানার এলিন খান বলেন, ‘একজন দৌড়বিদের কাছে প্রতিটি কিলোমিটার মানে নতুন এক চ্যালেঞ্জ। শ্বাস ভারী হওয়া, পা ক্লান্ত হয়ে যাওয়া, কিন্তু থেমে যাওয়া না। কারণ গন্তব্য শুধু ফিনিশিং লাইন নয়— গন্তব্য নিজের সীমাবদ্ধতাকে জয় করা। আর সেই জয়কে উদযাপন করতেই যেন একসঙ্গে ছুটছি আমরা।’

তবে ঠাকুরগাঁওয়ের এই আয়োজনের গল্প শুধু দৌড়েই শেষ হয়নি। অতিথি ও দৌড়বিদদের মন প্রফুল্ল রাখতে তাদের সামনে তুলে ধরা হয়েছে ঠাকুরগাঁওয়ের ইতিহাস, ঐতিহ্য আর প্রকৃতির সৌন্দর্য। আয়োজক কমিটি দৌড়ের পাশাপাশি দৌড়বিদদের ঘুরে দেখিয়েছে ঠাকুরগাঁওয়ের ঐতিহ্যবাহী স্থানগুলো।

ঠাকুরগাঁও এবার শুধু একটি ম্যারাথনের আয়োজক নয়, ৩০ জেলার মানুষের মিলনমেলারও সাক্ষী।

ঠাকুরগাঁও রানারের পৃষ্ঠপোষক নুর ই শাহাদাত স্বজন বলেন, ‘আমরা চাই খেলাধুলার মাধ্যমে মানুষকে একত্রিত করতে। রাষ্ট্রপতির জেলা হিসেবে ঠাকুরগাঁওকে সামনে তুলে ধরতে এবং তরুণদের খেলাধুলায় উৎসাহিত করতেই আমাদের এই আয়োজন। আমরা এ ম্যারাথন রাষ্ট্রপতিকে উৎসর্গ করছি।’

দৌড় প্রতিযোগিতা শেষে বিজয়ীদের মাঝে পুরস্কার তুলে দেন প্রধান অতিথি ইকো সোশ্যাল ডেভেলপমেন্ট অর্গানাইজেশন (ইএসডিওর) নির্বাহী পরিচালক ড. মুহম্মদ শহীদ উজ জামান। এ সময় শহরের গণ্যমান্য ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন।


নির্বাচিত

বিরোধীদলের আন্দোলন দেশের জন্য ক্ষতিকর: পানিসম্পদমন্ত্রী

শুক্রবার দুপুরে লক্ষ্মীপুরের চন্দ্রগঞ্জ উপজেলায় এক মতবিনিময় সভায় পানিসম্পদমন্ত্রী মো. শহীদউদ্দীন চৌধুরী এ্যানি। ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

পানিসম্পদমন্ত্রী মো. শহীদউদ্দীন চৌধুরী এ্যানি বলেছেন, ‘বিরোধীদল লংমার্চ দিয়েছেন, আবার বলছেন আন্দোলন করবেন। দেশটা যদি আন্দোলনের ওপর থাকে তাহলে এলাকার উন্নয়ন হবে না। এ আন্দোলন এলাকার জন্য ক্ষতি, দেশের জন্য ক্ষতি।’

শুক্রবার (২৮ আগস্ট) দুপুরে লক্ষ্মীপুরের চন্দ্রগঞ্জ উপজেলার দিঘলী ইউনিয়নের দক্ষিণ দুর্গাপুর এলাকায় এসডিএফ-এর ‘বি স্ট্রং’ প্রকল্পের উপকারভোগীদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় তিনি এসব কথা বলেন।

পানিসম্পদমন্ত্রী বলেন, ‘জনগণ বিএনপিকে দেশ পরিচালনার দায়িত্ব দিয়েছে। আরেকটি পক্ষ আমাদের সঙ্গে নির্বাচনে অংশ নিয়েছে, তারা এখন বিরোধী দলে। আমরা যেদিন শপথ নিয়েছি, সেদিন তারা উপস্থিতও হয়নি এবং আমাদের সহযোগিতাও করেনি। এখন পর্যন্ত তারা আন্দোলনের কথা বলছে।'

তিনি আরও বলেন, ‘হাসিনার বিরুদ্ধে আমরা ১৭ বছর আন্দোলন করেছি। এতে আমরা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছি। তার সরকারের সময় দেশও ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। সবাই মিলে আন্দোলন করে দেশকে রক্ষা করেছি, দেশের গণতন্ত্রকে রক্ষা করেছি। এখন আমাদের কাজ হলো এই অর্জনকে সুরক্ষা করা এবং নতুনভাবে বাংলাদেশকে গড়ে তোলা। এ কাজে বিরোধীদলের সহযোগিতা প্রয়োজন।'

বিরোধীদলের আন্দোলন প্রসঙ্গে এ্যানি বলেন, 'বিরোধীদল আন্দোলনের মাধ্যমে বিএনপিকে জিম্মি করতে চাচ্ছে। অতীতে হাসিনা যেভাবে ১৭২ দিন হরতাল দিয়ে দেশের মানুষকে জিম্মি করে ক্ষমতায় এসেছিল। পরে দেশের ১২টা বাজিয়ে দিয়েছে ১৭ বছরে। এখন বিরোধীদল মনে করছে, আন্দোলন করলে বিএনপি দুর্বল হয়ে যাবে, তারেক রহমান দুর্বল হয়ে যাবেন, মন্ত্রী-এমপিরা দুর্বল হয়ে যাবেন। সেই সুযোগে জনগণ বাধ্য হয়ে তাদের ভোট দিয়ে ক্ষমতায় আনবে। সেই সুযোগ দেওয়া যাবে না।'

এ সময় তিনি সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে মাঠে থেকে দেশের উন্নয়ন ও গণতন্ত্রের সুরক্ষায় কাজ করার আহ্বান জানান।

পানিসম্পদমন্ত্রী বলেন, ‘দেশে আড়াই-তিন বছরের মধ্যে দৃশ্যমান উন্নয়ন দেখা যাবে। তারেক রহমানের পিতা জিয়াউর রহমান যেভাবে দেশকে স্বনির্ভর করেছেন। উনার মা বেগম খালেদা জিয়া গ্রামে গ্রামে ঘুরে ঘুরে জনগণের সঙ্গে কাজ করেছেন, দেশের উন্নয়ন করেছিলেন। তারেক রহমানের নেতৃত্বে আগামী ৫ বছরে এ ধরনের কাজ হলে, আমাদের মুখে হাসি ফোটার সম্ভাবনা রয়েছে।’

চন্দ্রগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা নিলুফা ইয়াসমিন এর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন চন্দ্রগঞ্জ থানার ওসি আব্দুর রব, উপজেলা বিএনপির সভাপতি আব্দুর রব, সাধারন সম্পাদক ইউছুফ ভুঁইয়াসহ অনেকে।


নির্বাচিত

banner close