রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের (রাবি) ২০২২-২৩ শিক্ষাবর্ষে জালিয়াতি করে ভর্তি হওয়া শিক্ষার্থী ও তাকে সহায়তাকারী ছাত্রলীগের নেতাসহ পাঁচজনের বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে।
বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির জন্য একটি জালিয়াতি চক্রের সঙ্গে ৪ লাখ ৮০ হাজার টাকায় চুক্তি করেন ভর্তিচ্ছু ওই শিক্ষার্থী। চুক্তির পুরো টাকা পরিশোধ না করায় চক্রের কয়েকজন সদস্য মিলে তাকে আটক করে চাঁদা দাবি করেন। এরপর গতকাল শুক্রবার সকালে ছাত্রলীগ নেতা মুশফিক তাহমিদ তন্ময়সহ পাঁচজনের নাম উল্লেখ করে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের পক্ষে রেজিস্ট্রার অধ্যাপক আবদুস সালাম এ মামলা করেন।
মুশফিক তাহমিদ তন্ময় রাবি শাখা ছাত্রলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক। এর আগে ২০২০-২১ শিক্ষাবর্ষের ভর্তি পরীক্ষায় প্রক্সি দিতে এসে আটক বায়েজিদ নামের এক প্রক্সিদাতা প্রক্সিকাণ্ডের ‘মূল হোতা’ হিসেবে তন্ময়ের নাম প্রকাশ করেন। ওই ঘটনার পর তাকে সংগঠন থেকেও বহিষ্কার করলেও বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন কোনো ব্যবস্থা নেয়নি। যদিও পরে সেই বহিষ্কারাদেশ প্রত্যাহার করে নেয় কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগ। এ বছরের ২০২২-২৩ সেশনের ভর্তি পরীক্ষায় তিনি প্রক্সি/জালিয়াতি ঠেকাতে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনকে নজরদারি বাড়ানোর জন্য দাবি জানিয়ে রাবি উপাচার্য, উপউপাচার্য, ছাত্র উপদেষ্টা ও প্রক্টরের বরাবর স্মারকলিপি দিয়েছেন।
ছাত্রলীগ নেতা তন্ময় ছাড়াও মামলার অন্য আসামিরা হলেন ২০২২-২৩ শিক্ষাবর্ষে জালিয়াতি করে বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হতে আসা শিক্ষার্থী মো. আহসান হাবিব (১৯), আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিভাগের দ্বিতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী মো. প্রাঙ্গণ (২২), বিশ্ববিদ্যালয়ের শের-ই- বাংলা হল শাখা ছাত্রলীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ও ম্যানেজমেন্ট স্টাডিজ বিভাগের ২০১৮-১৯ সেশনের শিক্ষার্থী রাজু আহমদ (২৩) ও মো. সাকিবসহ (২৪) অজ্ঞাতনামা ২-৩ জন।
মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, ২০২২-২৩ শিক্ষাবর্ষে অনার্স প্রথম বর্ষের ভর্তি পরীক্ষায় জালিয়াতি করে ভর্তি হতে আসেন মো. আহসান হাবিব নামের এক শিক্ষার্থী। তিনি পপুলেশন সায়েন্স অ্যান্ড হিউম্যান রিসোর্স বিষয়ে ভর্তি হওয়ার জন্য তার মায়ের সঙ্গে স্যার জগদীশ চন্দ্র বসু বিজ্ঞান ভবনে আসেন। প্রক্সি চক্রের একটি গ্রুপের সঙ্গে ৪ লাখ ৮০ হাজার টাকা চুক্তি হয় তার। এর পরিপ্রেক্ষিতে পরীক্ষায় পাস করার পর ওই দিন সকাল ১০টায় রাজশাহী রেলস্টেশনের সামনে রাস্তায় চুক্তির নগদ ৩ লাখ ৬০ হাজার টাকা ও ৬০ হাজার টাকার চেক প্রদান করেন। ভর্তি হওয়ার পর বাকি টাকা প্রদান করবেন মর্মে অঙ্গীকার করে ভর্তি হন। কিন্তু ভর্তি শেষে বাকি টাকা দিতে অস্বীকৃতি জানালে অভিযুক্তরা তাকে অপহরণ করে শের-ই-বাংলা হলে নিয়ে শারীরিকভাবে নির্যাতন করে এবং বাকি টাকা না দিলে আহত করার ভয় দেখান। এরপর অভিযুক্তরা মোবাইল ফোনের মাধ্যমে ওই শিক্ষার্থীর বাবার কাছে ফোন করে ৩ লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবি করেন।
আহসান হাবীবের মা খোঁজ না পেয়ে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের শরণাপন্ন হন। পরে প্রশাসন ওই শিক্ষার্থীর বাবার মাধ্যমে জানতে পারেন যে আহসান হাবীবকে শের-ই-বাংলা হলে আটকে রাখা হয়েছে। এরপর বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন তাকে উদ্ধার করে জিজ্ঞাসাবাদ করেন। সেখানে তিনি প্রক্সির মাধ্যমে পাস করেছেন বলে স্বীকার করেন। এরপর বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন ওই ভর্তিচ্ছু শিক্ষার্থীকে পুলিশে সোপর্দ করে।
আহসান হাবীবের মা বলেন, তাদের গ্রামের বাড়ি রংপুরের পীরগঞ্জ উপজেলায়। তিনি বলেন, ‘আমার ছেলে যদি অপরাধ করে থাকে, তাহলে তার শাস্তি হোক। কিন্তু যারা আমার ছেলেকে গুম করে আটকে রেখেছিল, তাদেরও শাস্তি দিতে হবে।’
জানতে চাইলে আহসান হাবীবের বাবা সাইফুল ইসলাম মোবাইল ফোনে দৈনিক বাংলাকে বলেন, ‘আমার ছেলে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হতে গেলে তাকে আটকে রেখে মুশফিক তাহমিদ তন্ময় ও প্রাঙ্গণ নাম বলে দুজন আমার কাছে ৪ লাখ টাকা দাবি করে। আমি টাকা দিতে রাজি হইনি।’
এসব বিষয়ে জানতে মুশফিক তাহমিদ তন্ময় দৈনিক বাংলাকে বলেন, ‘আমি আজ (শুক্রবার) সকালে এক সাংবাদিকের মাধ্যমে মামলার বিষয় জানতে পারি। আমাকে রাজনৈতিকভাবে হেয় করার জন্য এই উদ্দেশ্যমূলক নাটক সাজানো হয়েছে।’
এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যায় শাখা ছাত্রলীগের সভাপতি গোলাম কিবরিয়া বলেন, ‘মামলা করেছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন ও ভুক্তভোগীর মা। এখানে আমাদের তাকে রাজনৈতিকভাবে হয়রানির কোনো মানে হয় না। এ ধরনের কথা সম্পূর্ণ অযৌক্তিক ও ভিত্তিহীন।’
এ বিষয়ে কোনো সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেয়া হবে কি না, এমন প্রশ্নের জবাবে গোলাম কিবরিয়া বলেন, ‘বিষয়টি আমরা তদন্ত করব। এতে তার সম্পৃক্ততা পাওয়া গেলে তাদের বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ব্যবস্থা গ্রহণ করব।’
আরেক অভিযুক্ত শের-ই-বাংলা হল শাখা ছাত্রলীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক রাজু আহমেদ এই ঘটনার সঙ্গে ‘জড়িত নন’ বলে দাবি করেছেন।
মতিহার থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রুহুল আমিন গতকাল জানান, এই ঘটনায় আটক আহসান হাবীবকে আদালতে পাঠানো হবে।
বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক আসাবুল হক গতকাল বলেন, ‘ভর্তি হতে আসা শিক্ষার্থী আহসান হাবীবের স্বীকারোক্তির ভিত্তিতে গতকাল রাতেই আমরা পাঁচজনের বিরুদ্ধে মতিহার থানায় এজাহার দায়ের করেছি। এখানে আমাদের বিশ্ববিদ্যালয়েরও কয়েকজন শিক্ষার্থী আছেন। শুক্র ও শনিবার বিশ্ববিদ্যালয় বন্ধ থাকায় রোববার হয়তো আমরা তাদের বিরুদ্ধে একাডেমিক সিদ্ধান্ত গ্রহণ করব।’
শুক্রবার (৪ সেপ্টেম্বর) ছিল সনাতন ধর্মাবলম্বীদের অন্যতম প্রধান ধর্মীয় উৎসব শুভ জন্মাষ্টমী। হিন্দুধর্মাবলম্বীদের বিশ্বাস অনুযায়ী, অন্যায়-অত্যাচার ও অশুভ শক্তির বিনাশ এবং সত্য ও ন্যায় প্রতিষ্ঠার জন্য দ্বাপর যুগে এই পবিত্র তিথিতে ভগবান শ্রীকৃষ্ণ পৃথিবীতে আবির্ভূত হন।
হিন্দুধর্মীয় বিশ্বাস অনুযায়ী, দ্বাপর যুগের শেষদিকে মথুরার অত্যাচারী রাজা কংসের কারাগারে জন্মগ্রহণ করেন শ্রীকৃষ্ণ। তার জন্মতিথিকে কেন্দ্র করে প্রতি বছর ভক্তরা নানা ধর্মীয় আচার-অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে জন্মাষ্টমী পালন করেন।
জন্মাষ্টমী উপলক্ষে রাজধানী ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন স্থানের মন্দিরে শুক্রবার (৪ সেপ্টেম্বর) পূজা-অর্চনা, হরিনাম সংকীর্তন, নামযজ্ঞ ও ধর্মীয় আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়েছে। অনেক ভক্ত উপবাস থেকে শ্রীকৃষ্ণের আরাধনায় অংশ নেন। দৈনিক বাংলার ব্যুরো, জেলা ও উপজেলা প্রতিনিধিদের পাঠানো খবর তুলে ধরা হলো;
ইউসুফ হোসেন অনিক, ভোলা:
ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্য, উৎসবমুখর পরিবেশ ও ব্যাপক উৎসাহ-উদ্দীপনার মধ্য দিয়ে ভোলার বোরহানউদ্দিন উপজেলায় হিন্দু সম্প্রদায়ের অন্যতম প্রধান ধর্মীয় উৎসব শ্রীকৃষ্ণের জন্মাষ্টমী উদযাপিত হয়েছে।
এ উপলক্ষে শুক্রবার দিনব্যাপী গীতাপাঠ, পূজা-অর্চনা, আরতি, কীর্তন, আলোচনা সভা, শোভাযাত্রা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। সকাল ১০টায় বোরহানউদ্দিন উপজেলা কেন্দ্রীয় মন্দির প্রাঙ্গণে আয়োজিত উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মনোরঞ্জন বর্মন।
উদ্বোধন শেষে বোরহানউদ্দিন উপজেলা পূজা উদযাপন ফ্রন্টের উদ্যোগে একটি বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রা বের করা হয়। উপজেলা পূজা উদযাপন ফ্রন্টের সভাপতি লিটন চন্দ্র রক্ষিত ও সাধারণ সম্পাদক বিল্টু চন্দ্র দাসের নেতৃত্বে শোভাযাত্রাটি পৌর শহরের প্রধান প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ করে পৌরসভার ৫ নম্বর ওয়ার্ডে অবস্থিত শ্রী শ্রী গৌর-নিতাই আশ্রম মন্দিরে গিয়ে শেষ হয়।
অনুষ্ঠানে উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা গোবিন্দ মণ্ডল, উপজেলা কেন্দ্রীয় মন্দির কমিটির সভাপতি নারায়ণ কর্মকার, সহ-সভাপতি গোপাল ঘোষ, সাধারণ সম্পাদক নীল রতন দে-সহ বিভিন্ন মন্দির কমিটির নেতৃবৃন্দ, সনাতন ধর্মাবলম্বী ভক্তবৃন্দ এবং স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিরা অংশ নেন।
আলোচনা সভায় বক্তারা বলেন, শ্রীকৃষ্ণের জীবনাদর্শ মানবকল্যাণ, সত্য, ন্যায় ও শান্তির শিক্ষা দেয়। সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি, সামাজিক সৌহার্দ্য এবং মানবিক মূল্যবোধ প্রতিষ্ঠায় তাঁর আদর্শ অনুসরণের ওপর গুরুত্বারোপ করেন তারা।
উৎসবকে ঘিরে উপজেলার বিভিন্ন মন্দির ও পূজামণ্ডপে ভক্তদের ব্যাপক উপস্থিতি লক্ষ্য করা যায়। শান্তিপূর্ণ পরিবেশে ধর্মীয় আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন হওয়ায় আয়োজকরা সন্তোষ প্রকাশ করেন।
মাগুরা প্রতিনিধি: মাগুরায় বর্ণাঢ্য আয়োজনের মধ্য দিয়ে শুভ জন্মাষ্টমী উদযাপিত হয়েছে। শুক্রবার (৪ সেপ্টেম্বর) সকালে নিজনান্দয়ালী নিতাই গৌড় গোপাল সেবাশ্রমে গীতা পাঠ দিয়ে শুরু হয় দিনের কার্যক্রম। দুপুর ৩ টায় মঙ্গল প্রদীপ প্রজ্জলন অন্তে নিতাই গৌড় গোপাল সেবাশ্রম থেকে শুরু হয়ে মঙ্গল শোভাযাত্রাটি শহরের প্রধান প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ করে সাত দোহা ন্যাংটা বাবার আশ্রম প্রাঙ্গনে গিয়ে শেষ হয়।
শোভাযাত্রায় শতাধিক মতুয়া সংঘ ঢোল বাদ্যযন্ত্রের তালে তালে নেচে শহর মাতিয়ে তোলে। এরপর অনুষ্ঠিত হয় ধর্মীয় আলোচনা সভা। আলোচনা সভায় জন্মাষ্টমী উদযাপন কমিটির সভাপতি অ্যাড কুমুদ রঞ্জন বিশ্বাসের সভাপতিত্বে প্রধান অতিথি ছিলেন সংস্কৃতি মন্ত্রী এডভোকেট নিতাই রায় চৌধুরী। প্রধান বক্তা ছিলেন মাগুরা-১ আসনের সংসদ সদস্য মনোয়ার হোসেন খান। বিশেষ অতিথি ছিলেন জেলা প্রশাসক মোতাকাব্বীর আহমেদ, মাগুরা পুলিশ সুপার মোল্লা আজাদ হোসেন, জেলা পরিষদ প্রশাসক আলী আহমেদ,মাগুরা কেন্দ্রীয় কালীবাড়ির সাধারণ সম্পাদক বাবু মোহন লাল রায়, জন্মাষ্টমীর উদযাপন কমিটির উপদেষ্টা অ্যাড প্রদ্যুৎ কুমার সিংহ,মাগুরা জেলা মতুয়া মিশনের সভাপতি চারণ কবি শ্রী গোরাচাঁদ সরকার , হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদের কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য শ্রী মনোরঞ্জন সরকার ও শ্রী শ্রী ন্যাংটা বাবার আশ্রমের সভাপতি লিপিকা দত্ত। ধর্মীয় আলোচনায় অংশ নেন নিতাই গৌর গোপাল সেবাশ্রমের মঠাধ্যক্ষ শ্রী চিন্ময়ানন্দ দাস বাবাজি মহারাজ চঞ্চল গোসাই, বাটিকা ডাঙ্গা রাধা বিনোদ সেবাশ্রমের মঠাধ্যক্ষ শ্রী ভবানন্দ দাস বাবাজি মহারাজ ও সাহাপাড়া শ্রী শ্রী জগন্নাথ মন্দিরের অধ্যক্ষ অচ্যুত অদ্বৈত দাস ব্রহ্মচারী। এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করে জন্মাষ্টমী উদযাপন কমিটি মাগুরা। বিকাল সাড়ে তিনটায় ভক্তদের মাঝে প্রসাদ বিতরণ করা হয়। বিকাল পাঁচটায় শুরু হয় সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান।
নীলফামারী প্রতিনিধি : নীলফামারী জেলায় নানা আয়োজনে পালিত হচ্ছে সনাতন ধর্মাবলম্বীদের অন্যতম ধর্মীয় উৎসব ভগবান শ্রীকৃষ্ণের জন্মাষ্টমী।
এ উপলক্ষে শুক্রবার (৪ সেপ্টেম্বর) বেলা ১১টায় জেলা শহরের কেন্দ্রীয় শ্রী শ্রী কালিমাতা মন্দির চত্বর থেকে একটি মঙ্গল শোভাযাত্রা বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ করে।
শোভাযাত্রা শেষে শ্রী শ্রী কালিমাতা মন্দিরে শ্রীকৃষ্ণের মহানাম কীর্তন অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। শেষে সেখানে ভক্তদের মধ্যে প্রসাদ বিতরণ করা হয়।
এসব অনুষ্ঠানে অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (শিক্ষা ও আইসিটি) মো. মেহেদী মোর্শেদ, জেলা বিএনপির আহ্বায়ক মীর সেলিম ফারুক, সিনিয়র যুগ্ম-আহাবায়ক মো. সোহেল পারভেজ, নীলফামারী চেম্বার অব কমার্স এণ্ড ইণ্ডাস্ট্রিজের সভাপতি মো. মাহবুব উর রহমান, শ্রী শ্রী আনন্দময়ী কালিবাড়ি মন্দিরের সভাপতি অক্ষয় কুমার রায়, সাধারণ সম্পাদক তাপস সাহা প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন। গতকাল শুক্রবারের কর্মসূচিতে শহরের শ্রী শ্রী শিব মন্দির, মিলনপল্লী, বাড়াইপাড়া মন্দির, যোগমায়া এবং সনাতন গীতা সংঘ, শারদাঞ্জলি ফোরাম, জেলা পূজা উদযাপন ফ্রণ্ট, হিন্দু মহাজোট, হিন্দু বৌদ্ধ খৃষ্টান ঐক্য ফ্রণ্টসহ বিভিন্ন হিন্দু ধর্মীয় সংগঠনের নেতৃবৃন্দ ও সদস্য এবং সাধারণ ভক্তবৃন্দ অংশগ্রহন করেন।
শ্রী শ্রী আনন্দময়ী কালিবাড়ি মন্দিরের সাধারণ সম্পাদক তাপস সাহা জানান, মন্দির কমিটির আয়োজনে ভগবান শ্রীকৃষ্ণের জন্মাষ্টমী উপলক্ষে বিভিন্ন কর্মসূচি পালিত হচ্ছে। শনিবার সকালে কর্মসূচির সমাপ্তি হবে।
লালমনিরহাট প্রতিনিধি : দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রী আসাদুল হাবিব দুলু বলেছেন, বাংলাদেশে ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে সব মানুষের সমান অধিকার নিশ্চিত করতে হবে।
তিনি বলেন, সব ধর্মের মানুষ যেন নিরাপদে নিজ ধর্মীয় ও সামাজিক কর্মকাণ্ড পালন করতে পারেন, রাষ্ট্রকে সে পরিবেশ নিশ্চিত করতে হবে।
শুক্রবার (৪ সেপ্টেম্বর) লালমনিরহাট পৌরসভা এলাকায় শ্রী শ্রী গৌরী শংকর সোসাইটির আয়োজনে শুভ জন্মাষ্টমী উপলক্ষে আলোচনা সভা ও মঙ্গল শোভাযাত্রায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
দুলু বলেন, রাষ্ট্রের দায়িত্ব হলো সংখ্যালঘু জনগোষ্ঠীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা। সংখ্যায় কম হওয়ার কারণে কোনো সম্প্রদায় যেন নিজেদের দুর্বল মনে না করে, সেজন্য তাদের ধর্মীয়, ব্যক্তিগত ও সামাজিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হবে।
গৌরী শংকর সোসাইটির উন্নয়ন প্রসঙ্গে মন্ত্রী বলেন, সোসাইটির সম্পত্তি সংরক্ষণ ও যথাযথ ব্যবহারে কার্যকর উদ্যোগ নিতে হবে। এত বড় সম্পত্তি ফেলে রাখলে তা দখল হয়ে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। এজন্য নতুন কমিটিকে একটি মাস্টারপ্ল্যান প্রণয়নের আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, পরিকল্পনা অনুযায়ী উন্নয়নমূলক কাজ বাস্তবায়নে প্রয়োজনীয় সহযোগিতা করা হবে।
লালমনিরহাটের বিভিন্ন তীর্থস্থান ও ধর্মীয় স্থাপনার উন্নয়নের কথা উল্লেখ করে মন্ত্রী বলেন, দীর্ঘদিন অযত্ন-অবহেলায় পড়ে থাকা ঐতিহ্যবাহী সিন্ধুমতী দিঘিকে ঘিরে একটি মহাপরিকল্পনা নেয়া হয়েছে। সেখানে দুর্গা, কালী ও শিব মন্দিরসহ বিভিন্ন ধর্মীয় স্থাপনার উন্নয়নকাজ চলমান রয়েছে।
অনুষ্ঠানে লালমনিরহাট জেলা পরিষদের প্রশাসক এ কে এম মমিনুল হক, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক রাসেল মিয়া, সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মনোনীতা দাস, জেলা বিএনপির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক এ বি এম ফারুক সিদ্দিক, পৌর বিএনপির সভাপতি আফজাল হোসেন, বাংলাদেশ পূজা উদযাপন পরিষদের সভাপতি শ্রী হীরালাল রায়, বাংলাদেশ হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদের সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা শ্রী শৈলেন্দ্র কুমার রায় এবং হিন্দু বৌদ্ধ কল্যাণ ফ্রন্টের সভাপতি শ্রী গুরু চরণ রায়সহ সনাতন ধর্মাবলম্বী নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।
সুনামগঞ্জ প্রতিনিধি : জেলায় ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্য ও উৎসবমুখর পরিবেশে শ্রীকৃষ্ণের শুভ জন্মাষ্টমী উদযাপন করা হয়েছে।
এ উপলক্ষে শুক্রবার (৪ সেপ্টেম্বর) সকাল ১০টায় সুনামগঞ্জ পৌর শহরে বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রার আয়োজন করে বাংলাদেশ জন্মাষ্টমী উদযাপন পরিষদ।
পৌর শহরের কালিবাড়ি মন্দির থেকে শোভাযাত্রাটি বের হয়ে শহরের প্রধান প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ করে শ্রীশ্রী জগন্নাথ মন্দির প্রাঙ্গণে গিয়ে শেষ হয়।
শোভাযাত্রায় বিভিন্ন মন্দির ও ধর্মীয় সংগঠনের নেতৃবৃন্দের পাশাপাশি বিপুলসংখ্যক সনাতন ধর্মাবলম্বী অংশ নেন। ধর্মীয় সংগীত, কীর্তন ও ভক্তদের নানা আয়োজনে শোভাযাত্রাটি মিলন মেলায় পরিনত হয়।
এ সময় বাংলাদেশ জন্মাষ্টমী উদযাপন পরিষদের সুনামগঞ্জ জেলা শাখার সভাপতি পরিমল তালুকদার ও সাধারণ সম্পাদক অ্যাড. কুশল রাজ পাল, সুনামগঞ্জ সরকারি কলেজের সাবেক অধ্যক্ষ পরিমল কান্তি দে, বাংলাদেশ হিন্দু-বৌদ্ব-খ্রিস্ট্রান কল্যাণ ফ্রন্টের আহ্বায়ক অশোক তালুকদার, বাংলাদেশ হিন্দু বৌদ্ধ ও খ্রিষ্টান ঐক্য পরিষদের কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য অ্যাড. মলয় চক্রবর্তী রাজু এবং জেলা শাখার সভাপতি দীপক রঞ্জন ঘোষ ও সাধারণ সম্পাদক অ্যাড. বিশ্বজিৎ চক্রবর্তী, জেলা পূজা উদযাপন পরিষদের সাধারণ সম্পাদক বিমল বণিক, অ্যাড. গৌরাঙ্গ পদ দাস, চন্দন কুমার দাস প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।
টাঙ্গাইল প্রতিনিধি: শুক্রবার (৪ সেপ্টেম্বর) সকালে টাঙ্গাইল শহরের বড় কালীবাড়ি প্রাঙ্গণ থেকে শোভাযাত্রাটি বের হয়ে শহরের বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ করে। শোভাযাত্রায় প্রধান অতিথি প্রতিমন্ত্রী সুলতান সালাউদ্দিন টুকুও অংশ নেন। এ সময় তিনি সনাতন ধর্মাবলম্বীদের সঙ্গে শোভাযাত্রায় অংশ নিয়ে জন্মাষ্টমীর আনন্দ-উৎসবে সামিল হন।
শোভাযাত্রায় সনাতন ধর্মাবলম্বী সকল বয়সী নারী-পুরুষ অংশ নেন। ঢাক-ঢোল, বাদ্যযন্ত্র ও ধর্মীয় নানা আয়োজনের মধ্য দিয়ে শোভাযাত্রাটি উৎসবমুখর হয়ে ওঠে। বিপুলসংখ্যক সনাতন ধর্মাবলম্বী নারী-পুরুষের অংশগ্রহণে শোভাযাত্রাটি পরিণত হয় এক মিলনমেলায়। টাঙ্গাইল শ্রীশ্রী কালীবাড়ির আয়োজনে দিনব্যাপী নানা কর্মসূচির অংশ হিসেবে এ শোভাযাত্রার আয়োজন করা হয়।
এর আগে সকালে শ্রীশ্রী কালীবাড়ি প্রাঙ্গণে আয়োজিত উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন টাঙ্গাইল সদর আসনের সংসদ সদস্য ও মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী সুলতান সালাউদ্দিন টুকু। অনুষ্ঠান উদ্বোধন করেন হিন্দু ধর্মীয় কল্যাণ ট্রাস্টের ট্রাস্টি বাবু শ্যামল হোড়।
এ সময় উপস্থিত ছিলেন সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) শাহীন মিয়া ও অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর সার্কেল) এইচ.এম. মাহবুব রেজওয়ান সিদ্দিকী, জেলা বিএনপির সাবেক সদস্যসচিব মাহমুদুল হক সানু, সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক শফিকুর রহমান খান শফিক ও টাঙ্গাইল সদর উপজেলা বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম সম্পাদক আজিম উদ্দিন বিপ্লব।
এছাড়াও অনুষ্ঠানে শ্রীশ্রী কালীবাড়ির ভারপ্রাপ্ত সভাপতি স্বপন ঘোষ, সাধারণ সম্পাদক বীর মুক্তিযোদ্ধা জীবন কৃষ্ণ চৌধুরীসহ বিএনপি ও সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মী এবং শ্রীশ্রী কালীবাড়ি কমিটির নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।
ব্রাহ্মণবাড়িয়া প্রতিনিধি: সারাদেশের মতো ব্রাহ্মণবাড়িয়াতেও সনাতন হিন্দু সম্প্রদায়ের অন্যতম ধর্মীয় উৎসব শ্রীকৃষ্ণের জন্মাষ্টমী উদযাপন করা হয়েছে। শুক্রবার (৪ সেপ্টেম্বর) সকালে ব্রাহ্মণবাড়িয়া শহরের প্রধান কেন্দ্রীয় আনন্দময়ী কালীবাড়ি মন্দির থেকে জন্মাষ্টমী উপলক্ষে একটি বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রা বের হয়।
শোভাযাত্রাটি শহরের প্রধান প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ করে পুনরায় আনন্দময়ী কালীবাড়ি মন্দিরে এসে শেষ হয়। শোভাযাত্রার উদ্বোধন করেন ব্রাহ্মণবাড়িয়া-৩ আসনের সংসদ সদস্য ও বাণিজ্য মন্ত্রণালয় সর্ম্পকিত সংসদীয় কমিটির সভাপতি প্রকৌশলী খালেদ হোসেন মাহবুব শ্যামল।
এ সময় উপস্থিত ছিলেন ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক ও জেলা পরিষদের প্রশাসক সিরাজুল ইসলাম সিরাজ, জেলা বিএনপি সাবেক সভাপতি হাফিজুর রহমান মোল্লা কচিসহ জেলা বিএনপির নেতৃবৃন্দ এবং প্রশাসনের বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তারা।
শোভাযাত্রায় সনাতন ধর্মাবলম্বীরা ধর্মীয় সাজসজ্জা ও বিভিন্ন প্রতীক নিয়ে অংশ নেন। এ সময় পুরো শহরে উৎসবমুখর পরিবেশের সৃষ্টি হয়।
বরগুনা প্রতিনিধি : জেলায় সনাতন হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের শ্রীকৃষ্ণের জন্মাষ্টমী উপলক্ষে আলোচনা সভা ও বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রার আয়োজন করা হয়েছে।
শুক্রবার (৪ সেপ্টেম্বর) বেলা ১১টায় সার্বজনীন শ্রীশ্রী মদন মোহন জিউর মন্দির ও আখড়াবাড়ী মন্দিরে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। পরে শোভাযাত্রা বের হয়।
আলোচনা সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন, বরগুনার অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) অনিমেষ বিশ্বাস।
সার্বজনীন আখড়াবাড়ী কমিটির সভাপতি শ্রী দিলীপ কর্মকারের সভাপতিত্বে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর সার্কেল) ইশতিয়াক আহমেদ, জেলা বিএনপির সদস্য সচিব হুমায়ুন হাসান শাহিন, বরগুনা প্রেসক্লাবের সভাপতি মো. হাফিজুর রহমান, জেলা বিএনপির সাবেক সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক এ জেড এম সালেহ ফারুক, বরগুনা চেম্বার অব কমার্স এর সিনিয়র সহ-সভাপতি কামাল হোসেন নাইব, সাবেক পৌর কাউন্সিলর আতাউর রহমান বাবুল।
সভা পরিচালনা করেন, সার্বজনীন শ্রীশ্রী মদন মোহন জিউর মন্দিরের সাধারণ সম্পাদক উত্তম কর্মকার।
এ অনুষ্ঠানে বক্তারা শ্রীকৃষ্ণের জীবন দর্শন নিয়ে আলোচনা করেন। তারা বলেন, আমরা এমন একটা দেশ গড়বো যেখানে সব মানুষ ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে শান্তিতে বসবাস করতে পারবে।
আলোচনা সভা শেষে বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রা বের করা হয়। শোভাযাত্রাটি শহরের বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ করে পুনরায় আখড়াবাড়ি মন্দিরে এসে শেষ হয়।
টঙ্গী (গাজীপুর) প্রতিনিধি: সনাতন সম্প্রদায়ের ভগবান শ্রীকৃষ্ণের আবির্ভাব তিথি উপলক্ষে গাজীপুরের টঙ্গীতে মঙ্গল শোভাযাত্রা অনুষ্ঠিত হয়েছে। শুক্রবার (৪ সেপ্টেম্বর) বিকেলে টঙ্গী বাজার কেন্দ্রীয় সার্বজনীন শ্রী শ্রী দূর্গা মন্দির পরিচালনা কমিটির উদ্যোগে মঙ্গল শোভাযাত্রাটি শুরু হয়ে টঙ্গীর বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ স্থান প্রদক্ষিণ করে পুনরায় মন্দিরে গিয়ে শেষ হয়। মঙ্গল শুভযাত্রায় উপস্থিত ছিলেন, টঙ্গী বাজার সার্বজনীন শ্রী শ্রী কেন্দ্রীয় দুর্গা মন্দিরের সভাপতি রঞ্জিত কুমার দাস, সাধারণ সম্পাদক অমল চন্দ্র ঘোষ, সহ-সাধারণ সম্পাদক অমল রায়, জনকল্যাণ কমিটির সভাপতি দেবেন্দর দত্ত, যুব কমিটির সভাপতি বিক্রম রায়, সাধারন সম্পাদক লিটন দাস ও সাংগঠনিক সম্পাদক বিপুল দেবনাথ, বাংলাদেশ পূজা উদযাপন পরিষদ টঙ্গী পূর্ব থানা সভাপতি শ্রী নারায়ণ রায় বাবুসহ থানা ও বিভিন্ন ওয়ার্ড কমিটির নেতৃবৃন্দ।
তেঁতুলিয়া (পঞ্চগড়) প্রতিনিধি : পঞ্চগড়ের তেঁতুলিয়ায় যথাযথ ভাবগাম্ভীর্য ও আনন্দ উৎসবের মধ্যে দিয়ে শ্রী কৃষ্ণের জন্মাষ্টমী উদযাপন করা হয়েছে।
তেঁতুলিয়া সার্বজনীন শীব মন্দিরে পুজা উদযাপন পরিষদ কমিটির এর আয়োজনে শুক্রবার (৪ সেপ্টেম্বর) সকাল ১০ টায় এলাকার সনাতনী হিন্দু ধর্মালম্বীরা একত্রিত হয়ে মাঙ্গলিক বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রাটি বেড় করেন ।
বর্ণাঢ্য র্যালীটি তেতুলিয়া চৌরাস্তা বাজারসহ শহরের প্রধান প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ করে র্যালী টি সার্বজনীন শীব মন্দির গিয়ে শেষ হয়।
র্যালি, আলোচনা সভায় অংশ নেন তেঁতুলিয়া উপজেলা বিএনপির সভাপতি শাহাদত হোসেন রঞ্জু তেঁতুলিয়া বিএনপি
যুগ্ম সম্পাদক ও সাবেক উপজেলা পরিষদের মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান সুলতানা রাজিয়া তেঁতুলিয়া পুজা, উদযাপন পরিষদ কমিটির সভাপতি.হিরা কান্ত রায়, পুজা উদযাপন পরিষদ কমিটির
সাধারণ সম্পাদক হরিশ চন্দ্র, পুজা উদযাপন পরিষদ কমিটির সদস্য বিধান চন্দ্র রায় শ্রী কাঞ্চনদেব অন্যান্যরা।এ সময় সনাতনী ধর্মালম্বীরা নেচে,গেয়ে অনুষ্ঠানটি উদযাপন করেন। প্রতি বছরের ন্যায় সনাতন হিন্দু সম্প্রদায় যথাযথ ভাবগাম্ভীর্য ও আনন্দ উৎসবের মধ্যে দিয়ে পালন করে আরাধ্য ভগবান শ্রী কৃষ্ণের জন্মাষ্টমী। হিন্দু পুরাণ মতে, ভাদ্র্র মাসের কৃষ্ণপরে অষ্টমি তিথিতে ভগবান শ্রী কৃষ্ণ জন্ম গ্রহণ করেন।
সনাতন ধমালম্বীদের বিশ্বাস, পাশবিক শক্তি যখন ন্যায়নীতি, সত্য ও সুন্দরকে গ্রাস করতে উদ্যত্ত হয়েছিল-তখন সেই শক্তিকে দমন করে মানব কল্যাণ এবং ন্যায়নীতি প্রতিষ্ঠাতার জন্য মহাবতার ভগবান শ্র্রী কৃষ্ণের আর্বিভাব ঘটেছিল। আর সে কারণে যুগে যুগে তিনি পৃথিবীতে আর্বিভাব হয়ে দুষ্টের দমন করে ছিলেন।
ইবি প্রতিনিধি: কুষ্টিয়ার ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ে (ইবি) সনাতন ধর্মাবলম্বীদের পরমেশ্বর ভগবান শ্রীকৃষ্ণের ৫২৫৩তম জন্মাষ্টমী উপলক্ষে মঙ্গলাচরণ, পূজার্চনা, প্রার্থনা, শোভাযাত্রা, ধর্মালোচনা সভা ও বর্ণাঢ্য ধর্মীয় সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়েছে। শুক্রবার (৪ সেপ্টেম্বর) বিশ্ববিদ্যালয়ের পূজা উদযাপন পরিষদের উদ্যোগে এসব অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। সকাল ৯টায় শ্রীকৃষ্ণের বিগ্রহ স্থাপনের মাধ্যমে দিনের কর্মসূচি শুরু হয়। এরপর পূজা, প্রার্থনা ও বর্ণাঢ্য জন্মাষ্টমী শোভাযাত্রা শেষে বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় মিলনায়তনে ধর্মালোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভা শেষে প্রসাদ বিতরণ এবং বিকেলে শিক্ষার্থীদের পরিবেশনায় সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়।
পূজা উদযাপন পরিষদের সভাপতি অধ্যাপক ড. অরবিন্দ সাহার সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. এ কে এম মতিনুর রহমান। অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য প্রদান করেন সংগঠনটির সাধারণ সম্পাদক তপন কুমার পাল।
বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. এমতাজ হোসেন, কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক ড. মো. ইদ্রিস আলী, কুষ্টিয়া জেলা পরিষদের প্রশাসক অধ্যক্ষ সোহরাব উদ্দিন, ঝিনাইদহ জেলা পরিষদের প্রশাসক অ্যাডভোকেট এম এ মজিদ এবং বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদলের সাবেক সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট হুমায়ূন বাবর। প্রধান আলোচক হিসেবে রাধা মদন গোপাল মন্দিরের অধ্যক্ষ শ্রীমৎ বৈষ্ণবাচার্য অদ্বৈতবংশোদ্ভূত নন্দলাল গোস্বামী, বিশেষ আলোচক হিসেবে বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগের অধ্যাপক ড. গৌতম কুমার দাস, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের পূজা উদযাপন পরিষদের শ্রী গৌতম চন্দ্র সরকার উপস্থিত ছিলেন। এছাড়াও অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন শাখা ছাত্রদলের সাবেক আহ্বায়ক শাহেদ আহমেদ, বর্তমান কমিটির আহ্বায়ক মাসুদ রুমি মিথুন, সদস্য সচিব রাফিজ আহমেদসহ অন্যান্য নেতৃবৃন্দ।
বিশেষ অতিথির বক্তব্যে কুষ্টিয়া জেলা পরিষদের প্রশাসক অধ্যক্ষ সোহরাব উদ্দিন বলেন, আমাদের দেশ ও সমাজ হিন্দু-মুসলমান সকলের সম্মিলিত প্রচেষ্টায় গড়ে উঠেছে। ইসলাম ধর্মে কোনো গোঁড়ামির স্থান নেই, বরং অন্যায়ের প্রতিবাদ ও অসাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির শিক্ষাই দেওয়া হয়েছে। হযরত ওমর (রা.) এবং শ্রীকৃষ্ণের আদর্শ আমাদের অন্যায় ও অন্যায্যতার বিরুদ্ধে দাঁড়াতে শেখায়। বিশ্ববিদ্যালয়ে কোনো শিক্ষার্থী অন্যায় বা হয়রানির শিকার হলে আমরা সর্বাত্মকভাবে তাদের পাশে দাঁড়াব। সুন্দর ও নিরাপদ ক্যাম্পাস গঠনে সবাইকে ঐক্যবদ্ধ হয়ে কাজ করার আহ্বান জানাচ্ছি।
বিশেষ অতিথির বক্তব্যে উপ-উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. এমতাজ হোসেন বলেন, শ্রীকৃষ্ণের জন্ম ও আদর্শ আমাদের অন্যায়ের বিরুদ্ধে দাঁড়িয়ে শুভ শক্তির জয়গান গাইতে শেখায়। মথুরায় মন্দির ও মসজিদের সহাবস্থান প্রমাণ করে ধর্মীয় বিশ্বাস আলাদা হলেও মানুষের আসল সৌন্দর্য নিহিত ভ্রাতৃত্ববোধ ও সম্প্রীতিতে। 'ধর্ম যার যার, দেশ সবার'—এই মূলমন্ত্রকে হৃদয়ে ধারণ করে আমাদের মেধা ও শ্রম দিয়ে দেশকে এগিয়ে নিতে হবে। অসাম্প্রদায়িক চেতনা বজায় রেখে সম্মিলিত প্রচেষ্টায় দেশের সার্বভৌমত্ব রক্ষা ও উন্নয়নে সবাইকে একযোগে কাজ করার আহ্বান জানাচ্ছি।
ঝিনাইদহ জেলা পরিষদের প্রশাসক অ্যাডভোকেট এম এ মজিদ বলেন, অনিয়ম, জুলুম ও বৈষম্যের বিরুদ্ধে শ্রীকৃষ্ণের আবির্ভাব ঘটেছিল। 'ধর্ম যার যার, রাষ্ট্র সবার'—এই নীতিতে প্রতিটি নাগরিকের নিজ নিজ ধর্ম পালন ও চর্চা করার পূর্ণ স্বাধীনতা ও অধিকার রয়েছে। আমাদের সাংবিধানিক নীতি অনুযায়ী সকল ধর্মের মানুষের সহাবস্থান নিশ্চিত করা জরুরি। ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা যাতে ভবিষ্যতেও তাদের সকল ধর্মীয় উৎসব নির্বিঘ্নে ও সুন্দরভাবে পালন করতে পারে এবং কেউ যেন কোনো ন্যায্য অধিকার থেকে বঞ্চিত না হয়, বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনকে সেই সার্বিক সহায়তা বজায় রাখার আহ্বান জানাচ্ছি।
সভাপতির বক্তব্যে পূজা উদযাপন পরিষদের সভাপতি অধ্যাপক ড. অরবিন্দ সাহা বলেন, ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ে আবহমান কাল ধরে বিভিন্ন ধর্মের শিক্ষক-শিক্ষার্থী ও কর্মকর্তা-কর্মচারীরা পারস্পরিক সম্প্রীতি ও সৌহার্দ্যের মধ্য দিয়ে বসবাস করে আসছেন। আজকের এই বর্ণাঢ্য আয়োজন আমাদের অসাম্প্রদায়িক চেতনা ও ভ্রাতৃত্ববোধের বন্ধনকে আরও সুদৃঢ় করবে।
উপাচার্য অধ্যাপক ড. এ কে এম মতিনুর রহমান বলেন, শ্রীকৃষ্ণের অবতারের মূল উদ্দেশ্য ছিল দুষ্টের দমন এবং শ্রেষ্ঠ ও পুণ্যবানদের রক্ষা করা। ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধে যেভাবে সব ধর্মের মানুষ একসাথে অংশ নিয়েছিল, তেমনি ২৪-এর গণঅভ্যুত্থানেও স্বৈরাচার উৎখাতে সকলে ঐক্যবদ্ধ ছিল। শ্রীকৃষ্ণের বাণী এবং অসাম্প্রদায়িক চেতনাকে ধারণ করে আমাদের সামনের দিকে এগিয়ে যেতে হবে। এই বিশ্ববিদ্যালয়কে একটি সম্প্রীতি ও সৌহার্দ্যের কেন্দ্র হিসেবে গড়ে তুলতে প্রশাসন সব সময় অসাম্প্রদায়িক চেতনায় সর্বোচ্চ শ্রদ্ধা ও সমর্থন বজায় রাখবে।
বগুড়া প্রতিনিধি: নানা আয়োজনের মধ্য দিয়ে বগুড়ায় শ্রীকৃষ্ণের জন্মাষ্টমী উদযাপন করা হয়েছে। শুক্রবার (৪ সেপ্টেম্বর) সকাল সাড়ে ৯টার দিকে জেলা পূজা উদযাপন পরিষদের আয়োজনে মঙ্গল শোভাযাত্রা বের করা হয়। শোভাযাত্রাটি মহানগরের বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ করে জেলা পরিষদ প্রাঙ্গনে এসে শেষ হয়। এতে বগুড়া সদর ও পৌর এলাকার কয়েক হাজার সনাতন ধর্মাবলম্বী অংশগ্রহণ করেন। এসময় সনাতন ধর্মাবলম্বী নারী পুরুষ নানা সাজে সজ্জিত হয়ে বিভিন্ন ভাবে আনন্দ প্রকাশ করে।
শোভাযাত্রা শেষে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্য রাখেন বগুড়া-৬ আসনের সংসদ সদস্য রেজাউল করিম বাদশা। প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি বলেন, বাংলাদেশ হবে মানবিকতা, সাম্য ও সম্প্রীতির দেশ।
ধর্ম, বর্ণ নির্বিশেষে আমরা সবাই একসঙ্গে কাজ করতে চাই।
বগুড়া জেলা পূজা উদযাপন পরিষদের সভাপতি পরিমল চন্দ্র দাসের সভাপতিত্বে এতে আরও বক্তব্য রাখেন জেলা পুলিশ সুপার মীর্জা সায়েম মাহমুদ, বাংলাদেশ পূজা উদযাপন পরিষদ বগুড়া জেলা শাখার সাধারণ সম্পাদক নির্মল কুমার রায়, বগুড়া জেলা ছাত্রদলের সভাপতি হাবিবুর রশিদ সন্ধান, সাধারণ সম্পাদক এম আর হাসান পলাশ, বগুড়া মহানগর পূজা উদযাপন পরিষদের সভাপতি পরিমল প্রসাদ রাজ, সাধারণ সম্পাদক সুজিত জয়সোয়াল। অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন অলোক রায়।
দৌলতপুর (কুষ্টিয়া) প্রতিনিধি: কুষ্টিয়ার দৌলতপুরে নানা ধর্মীয় আচার-অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে ও উৎসবমুখর পরিবেশে ভগবান শ্রীকৃষ্ণের জন্মতিথি শুভ জন্মাষ্টমী উদযাপন করা হয়েছে। এ উপলক্ষে শুক্রবার (৪ সেপ্টেম্বর) সকালে বর্ণাঢ্য মঙ্গল শোভাযাত্রা ও আলোচনা সভার আয়োজন করা হয়। সকাল সাড়ে ১০টার দিকে দৌলতপুর উপজেলা পরিষদ মিলনায়তন (অডিটোরিয়াম) প্রাঙ্গণ থেকে মঙ্গল শোভাযাত্রাটি বের হয়। শোভাযাত্রাটি উপজেলার প্রধান প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ করে একই স্থানে এসে শেষ হয়। এতে নারী, পুরুষ ও শিশুসহ সনাতন ধর্মাবলম্বীদের শত শত মানুষ অংশ নেন। অনেকে নানা ঐতিহ্যবাহী সাজে সেজে শোভাযাত্রায় অংশ নেন। এ সময় ভক্তদের আনন্দ-উচ্ছ্বাস ও ভক্তিমূলক স্লোগানে মুখর হয়ে ওঠে পুরো এলাকা।
শোভাযাত্রা শেষে উপজেলা পরিষদ মিলনায়তনে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। বাংলাদেশ হিন্দু-বৌদ্ধ-খ্রিষ্টান কল্যাণ ফ্রন্টের সভাপতি ও জন্মাষ্টমী উদযাপন কমিটির আহ্বায়ক নব কুমার দেবনাথের সভাপতিত্বে সভায় প্রধান অতিথি ছিলেন দৌলতপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) অনিন্দ্য গুহ। বিশেষ অতিথি ছিলেন উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) প্রদীপ কুমার দাশ। এর আগে অনুষ্ঠানের উদ্বোধন করেন দৌলতপুর উপজেলা বিএনপির সাবেক সহসভাপতি শামীম রেজা মোল্লা।
আলোচনা সভায় বক্তারা বলেন, শ্রীকৃষ্ণের জীবন ও দর্শনের মূল শিক্ষা হলো সত্য, ন্যায়, মানবতা ও শান্তির প্রতিষ্ঠা। তাঁর আদর্শ অনুসরণ করে সমাজ থেকে অন্যায়, অবিচার ও অসহিষ্ণুতা দূর করে পারস্পরিক সম্প্রীতি ও ভ্রাতৃত্ববোধ গড়ে তুলতে হবে।
অনুষ্ঠানের সভাপতি ও জন্মাষ্টমী উদযাপন কমিটির আহ্বায়ক নব কুমার দেবনাথ বলেন, শ্রীকৃষ্ণের আদর্শ ও মানবিক শিক্ষা অনুসরণ করে সমাজে শান্তি, সম্প্রীতি ও সহাবস্থান নিশ্চিত করতে হবে। ধর্মীয় উৎসবের মাধ্যমে সব সম্প্রদায়ের মানুষের মধ্যে সৌহার্দ্য ও ভ্রাতৃত্বের বন্ধন আরও দৃঢ় হবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।
সনাতন ধর্মাবলম্বীদের বিশ্বাস, অন্যায়, অবিচার ও অশুভ শক্তির বিনাশ এবং সত্য ও ন্যায় প্রতিষ্ঠার জন্যই ধরাধামে শ্রীকৃষ্ণের আবির্ভাব ঘটেছিল। হিন্দু পঞ্জিকা অনুযায়ী, ভাদ্র মাসের কৃষ্ণপক্ষের অষ্টমী তিথিতে জন্মাষ্টমী পালিত হয়।
অনুষ্ঠানে উপজেলা প্রশাসনের কর্মকর্তা, স্থানীয় সনাতন সম্প্রদায়ের নেতৃবৃন্দ, বিভিন্ন সামাজিক ও ধর্মীয় সংগঠনের প্রতিনিধিসহ গণ্যমান্য ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন।
শ্রীমঙ্গল (মৌলভীবাজার) প্রতিনিধি : বিপুল উৎসাহ-উদ্দীপনা ও আনন্দঘন পরিবেশের মধ্য দিয়ে মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গলে হিন্দু সম্প্রদায়ের অন্যতম ধর্মীয় উৎসব শ্রীকৃষ্ণের জন্মাষ্টমী উদযাপন করা হয়েছে। এ উপলক্ষে বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রা ও আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। শুক্রবার (৪ সেপ্টেম্বর) সকালে শহরের হবিগঞ্জ সড়কের শ্রীশ্রী জগন্নাথ দেবের আখড়া প্রাঙ্গণ থেকে বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রাটি বের হয়।
শ্রীমঙ্গল সার্বজনীন শ্রীকৃষ্ণ জন্মাষ্টমী উদযাপন পরিষদের আয়োজনে অনুষ্ঠিত কর্মসূচিতে পরিষদের সভাপতি শংকর বণিক সভাপতিত্ব করেন। এতে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে শোভাযাত্রার উদ্বোধন করেন মৌলভীবাজার-৪ আসনের সংসদ সদস্য মুজিবুর রহমান চৌধুরী (হাজী মুজিব)।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে সংসদ সদস্য মুজিবুর রহমান চৌধুরী হিন্দু সম্প্রদায়ের সবাইকে জন্মাষ্টমীর শুভেচ্ছা জানান।
পরে শ্রীশ্রী জগন্নাথ দেবের আখড়া প্রাঙ্গণ থেকে বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রা বের হয়। এতে নারী, পুরুষ ও শিশুসহ বিভিন্ন বয়সী ভক্তরা অংশ নেন। ঢাক-ঢোল, শঙ্খ, কাঁসর-ঘণ্টাসহ বিভিন্ন বাদ্যযন্ত্রের তালে এবং উলুধ্বনি ও শঙ্খধ্বনিতে শোভাযাত্রাটি উৎসবমুখর হয়ে ওঠে। অংশগ্রহণকারীদের অনেকে ধর্মীয় ও ঐতিহ্যবাহী সাজে সজ্জিত ছিলেন।
শোভাযাত্রাটি শহরের বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ করে পুনরায় শ্রীশ্রী জগন্নাথ দেবের আখড়া প্রাঙ্গণে এসে শেষ হয়। পরে বিশ্বশান্তি, সম্প্রীতি ও সবার মঙ্গল কামনায় সমবেত প্রার্থনা অনুষ্ঠিত হয়।
এদিকে, জন্মাষ্টমী উপলক্ষে শ্রীমঙ্গল উপজেলার বিভিন্ন চা-বাগানেও নানা কর্মসূচি পালন করা হচ্ছে। রাজঘাট ও ফুলছড়া চা-বাগানে পাঁচ দিনব্যাপী মেলা, কীর্তনসহ বিভিন্ন ধর্মীয় ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছে। এসব আয়োজনে চা-বাগানের শ্রমিকসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ অংশ নিচ্ছেন।
ভাঙ্গুড়া (পাবনা) প্রতিনিধি: পাবনার ভাঙ্গুড়ায় ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্য, আনন্দ-উৎসব ও বিপুলসংখ্যক ভক্তের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণের মধ্য দিয়ে পরমেশ্বর ভগবান শ্রীকৃষ্ণের শুভ জন্মাষ্টমী উদযাপন করা হয়েছে। শুক্রবার (৪ সেপ্টেম্বর) উপজেলার মেদা কালীবাড়ী মন্দির প্রাঙ্গণে বাংলাদেশ পূজা উদযাপন পরিষদ, ভাঙ্গুড়া উপজেলা ও পৌর কমিটির উদ্যোগে দিনব্যাপী নানা ধর্মীয় আয়োজনের মধ্য দিয়ে জন্মাষ্টমী পালন করা হয়। এ উপলক্ষে পূজা-অর্চনা, প্রার্থনা, ধর্মীয় আলোচনা ও বিভিন্ন ঐতিহ্যবাহী আনুষ্ঠানিকতার আয়োজন করা হয়।
সকাল থেকেই উপজেলার বিভিন্ন এলাকা থেকে ভক্তরা মেদা কালীবাড়ী মন্দির প্রাঙ্গণে আসতে শুরু করেন। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে বাড়তে থাকে ভক্তদের উপস্থিতি। একপর্যায়ে বিপুলসংখ্যক মানুষের সমাগমে মন্দির প্রাঙ্গণ পরিণত হয় এক মিলনমেলায়।
জন্মাষ্টমীর ধর্মীয় আলোচনা অনুষ্ঠানে বক্তারা ভগবান শ্রীকৃষ্ণের জীবনাদর্শ, ন্যায়, সত্য, মানবতা ও ধর্ম প্রতিষ্ঠার শিক্ষা তুলে ধরেন। তারা বলেন, শ্রীকৃষ্ণের জীবন ও কর্ম শুধু ধর্মীয় বিশ্বাসের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়; তাঁর আদর্শ থেকে মানবসমাজ শান্তি, ন্যায়, ভ্রাতৃত্ব, সম্প্রীতি ও মানবিকতার শিক্ষা নিতে পারে।
সনাতন ধর্মীয় বিশ্বাস অনুযায়ী, অধর্ম ও অন্যায়ের বিনাশ এবং ধর্ম প্রতিষ্ঠার বার্তা নিয়ে ভগবান শ্রীকৃষ্ণের আবির্ভাব ঘটে। তাই প্রতিবছর সনাতন ধর্মাবলম্বীরা গভীর শ্রদ্ধা, ভালোবাসা ও ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্যের মধ্য দিয়ে তাঁর জন্মতিথি জন্মাষ্টমী পালন করে থাকেন।
অনুষ্ঠানে ভাঙ্গুড়া উপজেলা পূজা উদযাপন পরিষদের সভাপতি বাবু সংগীত কুমার পাল, সাধারণ সম্পাদক সমরজিৎ গুন, পৌর পূজা উদযাপন পরিষদের সভাপতি পরিমল কুমার সরকার, সাধারণ সম্পাদক প্রলয় কুমার বিশ্বাস, হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদের সভাপতি অধ্যাপক ভাবেশ চন্দ্র দে, সাধারণ সম্পাদক বাবু মলয় কুমার দেবসহ বিভিন্ন মন্দিরের সভাপতি-সম্পাদক ও বিভিন্ন এলাকার ভক্তরা উপস্থিত ছিলেন।
এ সময় উপস্থিত ছিলেন ভাঙ্গুড়া উপজেলা যুবদলের যুগ্ম আহ্বায়ক মোঃ শাহিনুর রহমান (শাহিন)। তিনি জন্মাষ্টমী উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে অংশ নিয়ে উৎসবকে শান্তিপূর্ণ ও সুন্দরভাবে সম্পন্ন করতে সহযোগিতা করায় উপজেলা প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যদের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন। পাশাপাশি ধর্মীয় সম্প্রীতি ও সৌহার্দ্য বজায় রাখার আহ্বান জানান।
আয়োজকরা জানান, শান্তি, সম্প্রীতি, ভ্রাতৃত্ব ও মানবকল্যাণের বার্তা সমাজে ছড়িয়ে দেওয়াই জন্মাষ্টমীর এ আয়োজনের অন্যতম উদ্দেশ্য। ধর্মীয় আনুষ্ঠানিকতার পাশাপাশি পারস্পরিক সৌহার্দ্য ও সম্প্রীতি আরও সুদৃঢ় করার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন তারা।
অনুষ্ঠান শেষে উপস্থিত ভক্তদের মধ্যে প্রসাদ বিতরণ করা হয়। প্রসাদ গ্রহণের মধ্য দিয়ে দিনব্যাপী এ ধর্মীয় আয়োজনের সমাপ্তি ঘটে।
জন্মাষ্টমীর অনুষ্ঠানে উপস্থিত হয়ে উৎসবকে আনন্দমুখর ও সার্থক করে তোলায় সকল ধর্মপ্রাণ মানুষকে আন্তরিক ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা জানান ভাঙ্গুড়া উপজেলা পূজা উদযাপন পরিষদের সভাপতি বাবু সংগীত কুমার পাল।
সার্বিকভাবে ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্য, উৎসবমুখর পরিবেশ, ভক্তদের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণ এবং শান্তি ও সম্প্রীতির বার্তায় ভাঙ্গুড়ার মেদা কালীবাড়ী মন্দিরে উদযাপিত শ্রীকৃষ্ণের জন্মাষ্টমী উৎসবটি পরিণত হয় এক আনন্দঘন ও স্মরণীয় আয়োজনে।
খাগড়াছড়ি প্রতিনিধি : খাগড়াছড়িতে সনাতন ধর্মাবলম্বীদের আরাধ্য দেবতা ভগবান শ্রীকৃষ্ণের ৫২৫২তম আবির্ভাব তিথি উপলক্ষ্যে র্যালি ও আলোচনা সভা সহ নানা আনুষ্ঠানিকতার মধ্য দিনটি পালিত হয়েছে। শুক্রবার (৪ সেপ্টেম্বর) সকালে দিনটি উপলক্ষ্যে বাংলাদেশ শ্রী শ্রী জন্মাষ্টমী উদযাপন পরিষদ ধর্মীয় পতাকা এবং বেলুন উড়িয়ে খাগড়াছড়িতে বর্ণাঢ্য আনন্দ র্যালি ও আলোচনার উদ্ধোধন করেন, খাগড়াছড়ি জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান ম্রাসা থোকাই মারমা। উদ্ধোধন শেষে আনন্দ র্যালিটি খাগড়াছড়ি জেলা শহরের গুরুত্বপূর্ণ সড়ক প্রদক্ষিণ করে খাগড়াছড়ি লক্ষ্মী নারায়ণ মন্দিরে এসে শেষ করে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়।
এতে শ্রীশ্রী জন্মাষ্টমী উদযাপন পরিষদ-বাংলাদেশ, খাগড়াছড়ি শাখার সভাপতি ধনা চন্দ্র সেন এর সভাপতিত্বে বক্তব্য রাখেন, খাগড়াছড়ি অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক হাসান মারুফ, খাগড়াছড়ি জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক ও জেলা পরিষদের সদস্য এম এন আবছার সহ শ্রীশ্রী জন্মাষ্টমী উদ্যাপন পরিষদ-বাংলাদেশ খাগড়াছড়ি শাখার সিনিয়র সদস্য বৃন্দ।
সভায় বক্তারা বলেন, সনাতন ধর্ম একটি প্রাচীন ধর্ম। দুষ্টের দমন ও সৃষ্টের পালনের জন্য প্রায় ৫ হাজার ২৫২ বছর আগে দ্বাপরযুগে ভাদ্র মাসের কৃষ্ণপক্ষের অষ্টমী তিথিতে এক যুগ সন্ধিক্ষণে বসুদেবের স্ত্রী দেবকীর গর্ভে কংসের কারাগারে আবির্ভূত হন ভগবান শ্রীকৃষ্ণ। এবং অত্যাচারী কংসের হাত থেকে শান্তিপ্রিয় ধর্মপ্রাণ মানুষদের বাঁচাতে ও তাদের অধিকার প্রতিষ্ঠায় ভগবান শ্রীকৃষ্ণ ধরাধামে আবির্ভূত হন। শুধু সনাতন ধর্ম নয়, জগতের সবার কল্যাণে তিনি কাজ করে গেছেন। পরবর্তীতে অত্যাচারী কংস'কে শ্রীকৃষ্ণ হত্যা করেন।
এছাড়াও জন্মাষ্টমী উপলক্ষ্যে খাগড়াছড়ির সদর ও বিভিন্ন উপজেলার মন্দির থেকে ব্যানারে আনন্দ র্যালি প্রদর্শনীতে ধর্মপ্রাণ সনাতন ধর্মাবলম্বীরা অংশ নেন।
চুয়াডাঙ্গা ও আলমডাঙ্গা প্রতিনিধি: চুয়াডাঙ্গা ও আলমডাঙ্গায় নানা আয়োজনের মধ্য দিয়ে জন্মাষ্টমী উদ্যাপিত হয়েছে। সকালে শহরের বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ করে বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রা। এতে শিশু-কিশোররা রাধা, কৃষ্ণ, কংস ও বসুদেবসহ বিভিন্ন চরিত্রে সাজে সজ্জিত হয়ে অংশ নেয়, যা উৎসবে বিশেষ মাত্রা যোগ করে। এ ছাড়া বিশ্বমানবের মঙ্গল কামনায় বিশেষ প্রার্থনা ও বিভিন্ন ক্ষেত্রে অবদান রাখা ব্যক্তিদের সম্মাননা প্রদান করা হয়। পুরো আয়োজনে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী সতর্ক অবস্থানে ছিল।
বাগেরহাট প্রতিনিধি: বাগেরহাটে মঙ্গল প্রদীপ প্রজ্বালনের মধ্য দিয়ে গতকাল জন্মাষ্টমীর আনুষ্ঠানিকতা শুরু হয়। শহরের শালতলা শ্রী শ্রী হরিসভা মন্দিরে আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন জেলা প্রশাসক গোলাম মোহাম্মদ বাতেন। তিনি বলেন, ‘আপনারা নির্ভয়ে ও নির্বিঘ্নে ধর্ম পালন করবেন, প্রশাসন আপনাদের পাশে আছে।’ অনুষ্ঠানে রামকৃষ্ণ আশ্রমের অধ্যক্ষ গুরুসেবানন্দ ও জেলা বিএনপির আহ্বায়ক এটিএম আকরাম হোসেন তালিমসহ পূজা উদ্যাপন পরিষদের নেতারা উপস্থিত ছিলেন।
সাপাহার (নওগাঁ) প্রতিনিধি: নওগাঁর সাপাহারে বাংলাদেশ পূজা উদ্যাপন ফ্রন্টের উদ্যোগে বর্ণাঢ্য মঙ্গল শোভাযাত্রা অনুষ্ঠিত হয়েছে। সকালে কেন্দ্রীয় কালী মন্দির থেকে শোভাযাত্রাটি শুরু হয়ে উপজেলার প্রধান প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ করে। এতে অংশ নেন উপজেলা বিএনপির সভাপতি রফিকুল ইসলাম চৌধুরী, সাধারণ সম্পাদক সারোয়ার জাহান চৌধুরী ও পূজা উদ্যাপন ফ্রন্টের আহ্বায়ক দীলিপ সাহাসহ কয়েক হাজার ভক্ত।
বাংলাদেশ ধান গবেষণা ইনস্টিটিউটের (ব্রি) স্যাটেলাইট স্টেশন, পঞ্চগড়ে স্থানভিত্তিক ধানের জাত ও প্রযুক্তি উদ্ভাবন এবং বিদ্যমান গবেষণাগার উন্নয়ন (এলএসটিডি) প্রকল্পের আওতায় বাস্তবায়িত প্রযুক্তি গ্রাম ও কৃষক প্রশিক্ষণ কার্যক্রম পরিদর্শন করেছেন কৃষি মন্ত্রণালয়ের পরিকল্পনা-৩ শাখার উপসচিব মোঃ মনিরুজ্জামান। এ সময় তাঁর সঙ্গে ছিলেন এলএসটিডি প্রকল্পের প্রকল্প পরিচালক ড. মোঃ আনোয়ার হোসেন এবং কৃষি মন্ত্রণালয়ের পরিকল্পনা-৩ শাখার গবেষণা অনুসন্ধানী মোহাম্মদ শফিকুল আলম।
শুক্রবার (৪ সেপ্টেম্বর) অতিথিরা এলএসটিডি প্রকল্পের অর্থায়নে বাস্তবায়িত পঞ্চগড় সদর উপজেলার ঘাটিয়ারপাড়া প্রযুক্তি গ্রাম পরিদর্শন করেন।
পরবর্তীতে প্রযুক্তি গ্রামের আওতায় এলএসটিডি প্রকল্পের অর্থায়নে আয়োজিত কৃষক প্রশিক্ষণ কর্মসূচিতে অতিথিরা অংশগ্রহণ করেন। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন কৃষি মন্ত্রণালয়ের পরিকল্পনা-৩ শাখার উপসচিব মোঃ মনিরুজ্জামান। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর, পঞ্চগড়ের উপপরিচালক মোঃ আব্দুল মতিন। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন এলএসটিডি প্রকল্পের প্রকল্প পরিচালক ড. মোঃ আনোয়ার হোসেন।
এছাড়া উপস্থিত ছিলেন কৃষি মন্ত্রণালয়ের পরিকল্পনা-৩ শাখার গবেষণা অনুসন্ধানী মোহাম্মদ শফিকুল আলম, পঞ্চগড় সদর উপজেলার ৪নং কামাত কাজলদিঘী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মোঃ তোফায়েল প্রধান, ব্রি স্যাটেলাইট স্টেশন, পঞ্চগড়ের বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ও প্রধান মোঃ মাসুদ রানা।
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তব্যে কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর, পঞ্চগড়ের উপপরিচালক মোঃ আব্দুল মতিন কৃষকদের আধুনিক কৃষি প্রযুক্তি গ্রহণ, উন্নত উৎপাদন ব্যবস্থাপনা অনুসরণ এবং কৃষি উৎপাদন বৃদ্ধির লক্ষ্যে বিভিন্ন দিকনির্দেশনা প্রদান করেন।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে উপসচিব মোঃ মনিরুজ্জামান কৃষকদের বিভিন্ন সমস্যা ও চাহিদার কথা মনোযোগ দিয়ে শোনেন এবং এসব সমস্যা সমাধানে প্রয়োজনীয় উদ্যোগ গ্রহণের আশ্বাস দেন।
অনুষ্ঠানের সভাপতির বক্তব্যে এলএসটিডি প্রকল্পের প্রকল্প পরিচালক ড. মোঃ আনোয়ার হোসেন পঞ্চগড় অঞ্চলের কৃষি-জলবায়ু, মাটি ও স্থানীয় কৃষি ব্যবস্থার বৈশিষ্ট্য বিবেচনায় নিয়ে কৃষকদের সমস্যাভিত্তিক গবেষণা কার্যক্রম গ্রহণের ওপর গুরুত্বারোপ করেন। একই সঙ্গে কৃষকদের মাঠ পর্যায়ের অভিজ্ঞতা, সমস্যা ও চাহিদাকে গবেষণা পরিকল্পনায় যথাযথ গুরুত্ব দেওয়ার আহ্বান জানান।
কাজিম উদ্দিন মাস্টার। আদর্শ শিক্ষক হিসেবে গ্রামে পরিচিত। শিক্ষকতার পাশাপাশি সে এখন সফল ফলচাষি। বাড়ির আঙিনায় গড়ে তুলেছেন দেশী বিদেশী বাহারি ফলের সমরোহ। ফল গাছের নতুন নতুন জাত সংগ্রহ ও সংরক্ষণ করাই তাঁর নেশা। তাঁর বাড়ির আঙিনা যেনো ‘কৃষির জার্মপ্লাজম’।
বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক ও শিক্ষার্থীরা তাঁর ফল বাগান মাঝে মধ্যে পরিদর্শনে আসেন ও গবেষণা করেন। নিজেকে সুস্থ্য রাখতে সৃজনশীল চিন্তায় তিনি বাড়ির আঙিনায় ফুল ও ফলের বাগান গড়ে তোলেন। বাগানে শতাধিক দেশী-বিদেশী ফলদ গাছের সবুজ আবরনে সেজেছে পরিপূর্ণ নৈপুণ্যতায়। গ্রামের ভিতরে এ যেনো এক ব্যতিক্রমী ফলের উদ্যান।
ময়মনসিংহের ফুলবাড়িয়া উপজেলা সদর থেকে প্রায় ২০ কিলোমিটার দূরে রাঙ্গামাটিয়া ইউনিয়নের পাহার অনন্তপুর গ্রামে মো. কাজিম উদ্দিন মাস্টারের বাড়ি। বাড়ির আঙিনায় তার ফুল ও ফলের বাগানের নাম ‘মাস্টার বাড়ি মিশ্র ফল বাগান’। বাবুগঞ্জ বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের সহকারি শিক্ষক মো. কাজিম উদ্দিন। ২০০০ সালে হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে মৃত্যুশয্যায় চলে যায়। দীর্ঘ চিকিৎসা শেষে সুস্থ্য হয় হেলও বিষন্নতায় ভোগছিলেন। বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের পরামর্শে নিজেকে সুস্থ্য রাখতে তিনি প্রথমে বাড়ির আঙ্গিনায় পতিত ১৭ শতাংশ জমিতে বাগান করে ফুল ও ফলের সাথে নিবীড় সম্পর্ক গড়ে তোলেন।
এরপর থেকে দেশের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে দেশী বিদেশী ফল গাছের চারা সংগ্রহ করে রোপন করতে থাকেন বাগানে। বাড়ির আঙিনায় শখের ফল বাগানে সাফল্যতায় তিনে বাড়ির আশপাশে প্রায় ৫ একর জমিতে গড়ে তোলেছের বাণিজ্যিক ভাবে মাল্টা, লেবু ও বারি জাতের কাঠালসহ বিভিন্ন ফলের বাগান। গ্রামের মানুষের কাছে এখন কাজিম উদ্দিন মাস্টার শিক্ষকের পাশাপাশি ‘আর্দশ কৃষক’ হিসেবে বেশ পরিচিত।
২০২১ সালে বাড়ির আঙিনায় মাল্টা গাছের বাগান করার মাধ্যমে তার ফলগাছে প্রেম হয়ে উঠে। এরপর থেকে শুরু। বর্তমানে তার বাড়ির আঙিনায় ফল বাগানে রয়েছে থাইল্যান্ডের বারমাসি আঠা বিহীন কাঁঠাল, অষ্ট্রোলিয়ার বারমাসি হলুদ মাল্টা, সাদা জাম,রামবুটান, মিষ্টি তেতুল, সৌদি খেজুর, রুবি লঙ্গান, ভ্যালেজ, মুন্ড্রপ, গ্রীন লং ডিক্সন,দাসোনিয়া, মার্সেল ফোর্স, চয়ন, কারডিনাল, আল ফনস, দোবস্কি, বাই কুনুর আঙ্গুর, আনার- ই শাহী, বিদেশী থার্টি ওয়ান, ট্রান্সফিগারেশনসহ ৩০ এর অধিক জাতের আঙ্গুর, চেঙ্মাই, মিয়াজাকি, কিউজাকি, কিংঅফ চাকাপাত, বারি ৪, আম্রপালি, হাড়িভাঙ্গা, ব্যানেনা, কাটিমনসহ ২০ এর অধিক জাতের আম রয়েছে।
এছাড়াও এভকাডো, কাট বাদাম, শরিফা, অস্ট্রেলিয়ান মাল্টা, মিশরীয় মাল্টা, বারি-১, ভিয়েতনামি১২ মাসি মাল্টা, করমচা, বারোমাসি কদবেল, বারোমাসি আমড়া, মিশরিয় আনার, পাকিস্তানি আনার রয়েছে। ফিলিপাইনি লাল ও কালো আখ, চেরি ফলের গাছও রয়েছে। এছাড়াও বাড়ির পাশে বাণিজ্যিক ভাবে ১ একর জমিতে কলম্বো ও সিডলেস লেবু, প্রায় ৩ একর জমিতে মাল্টা ও ১৫ শতক জমিতে ভিয়েতনামি ও বারি ৪ জাতের কাঠাল বাগান গড়ে তুলেছেন।
সরেজমিনে দেখা গেছে, পাকাসড়কের পাশে পাহাড়ি লাল মাটিতে সুন্দর একটি টিনসেট বাড়ি। বাড়িটির নাম মাস্টারবাড়ি। কাজিমুদ্দিন মাস্টারের বাড়ি গ্রামের যে কাউকে বললেই দেখিয়ে দেয়। স্ত্রী, দুই মেয়ে ও এক ছেলেকে নিয়ে বসবাস করেন।
রাঙ্গামাটিয়া ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য মির্জা মো. মিনহাজ উদ্দিন জানিয়েছেন, কাজিম উদ্দিন মাস্টার একজন আদর্শ শিক্ষকই নয়, আদর্শ ফলচাষি। তিনি আত্মীয় স্বজনদের উপহার হিসেবে ফল ও ফলের চারা উপহার দেয়। তার পরামর্শে অনেকে বাণিজ্যিক ফলের বাগান করেছেন। বাড়ির আঙিনায় তার বাগনটি যেন এক ফলের উদ্যান।
মো. কাজিম উদ্দিন মাস্টারের ভাষ্য, হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে মৃত্যুশয্যায় চলে গিয়েছিলাম। দীর্ঘ চিকিৎসা শেষে সুস্থ্য হওয়ার পরও বিষন্নতায় ভোগছিলাম। বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকে পরামর্শে নিজেকে সুস্থ্য রাখতে বাড়ির আঙিনায় ফুল ও ফলের বাগান করে নিজেই পরিচর্যা করি।
ফুলবাড়িয়া উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ নূর মোহাম্মদ দৈনিক বাংলাকে জানিয়েছেন, কাজিম উদ্দিন মাস্টার একজন শিক্ষিত সৌখিন কৃষক। কৃষির প্রতি তার অনেক আগ্রহ। নতুন ধরণের জাত সংগ্রহ ও সংরক্ষণ করেন। তার বাড়ির আঙিনা যেন ‘কৃষির জার্মপ্লাজম’।
খাদ্যমন্ত্রী আফরোজা খানম রিতা বলেছেন, ধর্ম বর্ণ নির্বিশেষে কাজ করতে করে দেশকে এগিয়ে নিতে হবে। আমরা ধর্ম বর্ণের উর্দ্ধে এক সাথে থাকবো এবং দেশকে এগিয়ে নিতে কাজ করবো। এজন্য আপনাদের (হিন্দু ধর্মাবলম্বী) সবাইকে আমার প্রয়োজন।
শুক্রবার (৪ সেপ্টেম্বর) দুপুরে মানিকগঞ্জ শহরের শ্রী শ্রী আনন্দময়ী কালীবাড়ি নাটমন্দিরে সনাতন ধর্মাবলম্বীদের ভগবান শ্রী কৃষ্ণের জন্মাষ্টমী উপলক্ষে আয়োজিত আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
তিনি বলেন, আমাদের একে অপরের পাশে থেকে একটি সৌহার্দপূর্ণ সম্পর্ক গড়ে তুলতে হবে। আমরা কোন অন্যায় মেনে নিবনা এবং কোন অন্যায়কে প্রশ্রয় দিবনা। শ্রী কৃষ্ণের জন্মাষ্টমীতে একটা হবে আমাদের প্রতিজ্ঞা এবং অন্যায়ের বিরুদ্ধে রুখে দাড়ানোর শক্তি ও অনুপ্রেরণা।
খাদ্যমন্ত্রী আরও বলেন, আপনার সকলের ভালোবাসায় ও সহযোগীতায় সংসদে যেতে পেরেছি এবং মন্ত্রীর দায়িত্ব পেয়েছি। আপনাদের ভালোবাসার কাছে আমি ঋণী। কাজের মাধ্যমে আমার সেই ঋণের বোঝা কমাতে চাই। আমরা মানিকগঞ্জে ধর্ম বর্ণ নির্বিশেষে মিলন মেলার মতো বসবাস করছি। সবাইকে এই মিলন মেলা ধরে রাখতে হবে। মনে রাখতে হবে, ধর্ম বর্ণ নির্বিশেষে আমরা সবাই বাংলাদেশী। আমাদের মুসলমান, হিন্দু, বৌদ্ধ, খ্রিস্টানদের যে ঐক্য আছে, শক্ত হাতে সেটা ধরে রাখতে হবে। যাতে কোন অশুভ শক্তি আমাদের মধ্যে বিভেদ সৃষ্টি করতে না পারে।
এসময় জেলা প্রশাসক নাজমুন আরা সুলতানা, হিন্দু মহাজোটের সভাপতি তাপস পাল, জেলা পূজা উদযাপন পরিষদের সভাপতি প্রনব শিকদার দুলাল, সহ-সভাপতি অর্নিবান পাল, জেলা হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদের সভাপতি কালিপদ ঘোষ, হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিস্টান কল্যাণ ফ্রন্টের সভাপতি রঞ্জিত দে ও হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিস্টান কল্যাণ ফ্রন্টের সাধারণ সম্পাদক গৌরাঙ্গ সরকার।
এরপর শহরের শহীদ রফিক সড়কে শ্রী কৃষ্ণের জন্মাষ্টমী উপলক্ষে বনার্ঢ্য শোভাযাত্রা বের করা হয় এবং শোভাযাত্রা শেষে ভক্তদের মাঝে প্রসাদ বিতরণ করা হয়।
মাসের নির্দিষ্ট একটি দিন। সকাল থেকেই নওগাঁর মহাদেবপুর উপজেলার সারতা সারাশন বাজারে মানুষের ভিড়। কেউ এসেছেন চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে, কেউ এসেছেন বিনামূল্যে চিকিৎসাসেবা পাওয়ার আশায়। কারও প্রয়োজন আর্থিক সহায়তা, কেউ আবার এসেছেন মসজিদ-মাদ্রাসার উন্নয়ন নিয়ে কথা বলতে। বয়সে কেউ প্রবীণ, কেউ মধ্যবয়সি, আবার কারও কোলে শিশু।
সাধারণ একটি বাজার হলেও সেদিন সেখানে তৈরি হয় ভিন্ন এক পরিবেশ। অসহায় মানুষের মুখে প্রত্যাশা, আর সেবাদানকারীদের ব্যস্ততায় ফুটে ওঠে মানবিকতার এক অন্যরকম চিত্র। চিকিৎসাসেবার পাশাপাশি প্রয়োজন অনুযায়ী আর্থিক ও খাদ্য সহায়তাও দেওয়া হচ্ছে। আর এসব কর্মকাণ্ডের কেন্দ্রে রয়েছেন একজন চিকিৎসক ডা. এস এম রাহিদুজ্জামান রানা।
পেশাগত জীবনে তিনি ঢাকার স্যার সলিমুল্লাহ মেডিকেল কলেজ ও মিটফোর্ড হাসপাতালের কার্ডিওলজি (হৃদরোগ) বিভাগের চিকিৎসক। কিন্তু নিজ এলাকার মানুষের কাছে তার আরেকটি পরিচয় তিনি একজন মানবিক চিকিৎসক, যিনি পেশার বাইরেও মানুষের পাশে দাঁড়াতে চান। প্রায় দেড় বছর ধরে নিয়মিতভাবে নিজ এলাকা মহাদেবপুরের অসহায়, দরিদ্র ও সুবিধাবঞ্চিত মানুষের জন্য বিনামূল্যে চিকিৎসাসেবা ও মানবিক সহায়তা কার্যক্রম পরিচালনা করে আসছেন তিনি।
নিজের দাদা-দাদির স্মৃতিকে ধরে রাখতে তাদের নামে কাশেম আলী সরদার-জয়নুর বিবি বহুমুখী কল্যাণ ফাউন্ডেশন প্রতিষ্ঠা করেন ডা. এস এম রাহিদুজ্জামান রানা। সেই ফাউন্ডেশনের মাধ্যমেই শুরু হয় নিয়মিত সেবামূলক কার্যক্রম।
প্রায় ৬০ জনের অধিক সদস্যের একটি টিম নিয়ে পরিচালিত হচ্ছে ফাউন্ডেশনটির কার্যক্রম। শুরু থেকেই ফ্রি মেডিকেল ক্যাম্প, অসচ্ছল পরিবারকে আর্থিক সহায়তা, শিক্ষার্থীদের সহযোগিতা, মেধাবী শিক্ষার্থীদের উৎসাহিত করা, মসজিদ-মাদ্রাসার উন্নয়নে সহায়তা এবং বিভিন্ন মানবিক কর্মকাণ্ড পরিচালনা করে আসছে সংগঠনটি। ফাউন্ডেশনের মূলমন্ত্রও সেবার দর্শনকে স্পষ্ট করে ‘মানুষের পাশে, মানবতার বিকাশে, সৃষ্টির সেবায়, স্রষ্টার সন্তুষ্টি।’
এই সেবার পরিধি ক্রমেই বাড়ছে। মাসের নির্দিষ্ট দিনে এলাকায় মাইকিং করে বিনামূল্যে চিকিৎসাসেবার কথা জানানো হয়। ফলে দূর-দূরান্ত থেকেও অসহায় মানুষ এসে হাজির হন সেবাকেন্দ্রে।
সম্প্রতি সরেজমিনে সারতা সারাশন বাজারে ফাউন্ডেশনের সেবামূলক কার্যক্রমে গিয়ে দেখা যায়, সকাল থেকেই বিভিন্ন বয়সি মানুষের উপস্থিতি। কেউ চিকিৎসকের সামনে বসে নিজের অসুস্থতার কথা বলছেন। কেউ চিকিৎসা নিচ্ছেন। আবার কেউ নিজের পরিবারের আর্থিক সংকটের কথা তুলে ধরছেন।
শুধু চিকিৎসা নয়, মানুষের প্রয়োজনকে গুরুত্ব দিয়ে সহায়তার ধরনও নির্ধারণ করা হচ্ছে। কোনো পরিবার আর্থিক সংকটে থাকলে দেওয়া হচ্ছে অর্থ সহায়তা। কারও প্রয়োজন হলে খাদ্য সহায়তাও করা হচ্ছে। পাশাপাশি মসজিদ-মাদ্রাসার উন্নয়ন নিয়েও আলোচনা ও সহযোগিতা করা হচ্ছে। অর্থাৎ একটি নির্দিষ্ট চিকিৎসা ক্যাম্পকে কেন্দ্র করে সেখানে যেন তৈরি হয়েছে মানুষের প্রয়োজনের কথা বলার একটি জায়গা।
সারতা গ্রামের ইতি আরা বেগমের কথাই ধরা যাক। সংসারে অভাব নিত্যসঙ্গী। স্বামী-সন্তান দিনমজুর। মেয়ের বিয়ের বয়স হয়েছে। কিন্তু মেয়েকে বিয়ে দেওয়ার মতো সামর্থ্য নেই পরিবারের। এই দুশ্চিন্তা নিয়েই তিনি এসেছিলেন ডা. রাহিদুজ্জামানের কাছে। চিকিৎসা নিতে নয়, এসেছিলেন আর্থিক সহায়তার প্রত্যাশায়।
ইতি আরা বেগম বলেন, ‘আমরা খুবই অসহায় একটা পরিবার। আমার মেয়েকে বিয়ে দিতে চাই। স্বামী-সন্তান দিনমজুর। মেয়েকে বিয়ে দেওয়ার মতো সামর্থ্য নেই। তাই ডা. রাহিদুজ্জামানের কাছে এসেছি। তিনি আমাদের যথেষ্ট আর্থিকভাবে সাহায্য করেছেন। তার এমন মহৎ কাজের জন্য দোয়া করি।’ ইতি আরা বেগমের মতো অনেক পরিবারের কাছেই এই সহায়তা হয়তো বড় কোনো অঙ্ক নয়, কিন্তু প্রয়োজনের মুহূর্তে সেটিই হয়ে ওঠে বড় ভরসা।
স্থানীয় সারতা পশ্চিম পাড়ার অবসরপ্রাপ্ত মাদ্রাসা শিক্ষক ওয়াজেদ আলীও ডা. রাহিদুজ্জামানের উদ্যোগের প্রশংসা করেন।
ফাউন্ডেশনের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, দেড় বছরের এই পথচলায় প্রান্তিক পর্যায়ের ১ হাজার ৫৭ জন মানুষ চিকিৎসাসেবা পেয়েছেন। চলতি মাসেও মহাদেবপুরে দিনব্যাপী আয়োজন করা হয় বিনামূল্যে চিকিৎসাসেবার। এতে বিভিন্ন বয়সি শতাধিক অসহায় ও দরিদ্র মানুষ চিকিৎসকের পরামর্শ ও প্রয়োজনীয় চিকিৎসাসেবা পান। একই সঙ্গে ১০টি অসচ্ছল পরিবারকে দেওয়া হয় আর্থিক সহায়তা। এর বাইরে বিভিন্ন সময়ে অসচ্ছল পরিবারকে আর্থিক সহযোগিতা, প্রয়োজনীয় খাদ্য সহায়তা, মসজিদ-মাদ্রাসার উন্নয়নে সহায়তা এবং মাদ্রাসার শিক্ষার্থীদের সহযোগিতা করা হয়েছে। স্বাস্থ্য ও আর্থিক সহায়তার পাশাপাশি শিক্ষাক্ষেত্রেও রয়েছে ফাউন্ডেশনের কার্যক্রম। মেধাবী শিক্ষার্থীদের উৎসাহিত করতে এসএসসি পরীক্ষায় জিপিএ-৫ পাওয়া প্রায় দুই শতাধিক শিক্ষার্থীকে দেওয়া হয়েছে সংবর্ধনা।
ডা. এস এম রাহিদুজ্জামান রানা বলেন, ‘দীর্ঘদিন ধরে বিনামূল্যে চিকিৎসাসেবা, অসচ্ছল পরিবারকে আর্থিক সহায়তা, মসজিদ-মাদ্রাসায় আর্থিক সহায়তা প্রদান, মেধাবী শিক্ষার্থীদের উৎসাহিত করতে কৃতি শিক্ষার্থীদের সংবর্ধনা দেওয়াসহ বিভিন্ন সেবামূলক কার্যক্রম পরিচালনা করে আসছি।’
তিনি আরও বলেন, ‘পথচলার দেড় বছরে আমরা প্রান্তিক পর্যায়ের মানুষদের চিকিৎসাসেবা দিয়েছি ১ হাজার ৫৭ জনকে।’
আরও বলেন, ‘আমি ও আমার স্ত্রী দুজনই চিকিৎসক। আল্লাহর রহমতে পারিবারিকভাবে স্বচ্ছল আমরা। মানুষের সেবা করে বাকি জীবনটা পার করতে চাই।’
মহাদেবপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মানজুরা মুশাররফ বলেন, ‘কাশেম আলী সরদার-জয়নুর বিবি বহুমুখী কল্যাণ ফাউন্ডেশনের প্রতিষ্ঠাতা ডা. এস এম রাহিদুজ্জামান রানার এমন উদ্যোগ অনেকের জন্য অনুকরণীয় হবে বলে আশা করছি।’
বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)’র ৪৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে কেন্দ্রীয় কর্মসূচির অংশ হিসেবে টাঙ্গাইলে বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি ও গাছের চারা বিতরণ করা হয়েছে। শুক্রবার (সেপ্টেম্বর) দুপুরে টাঙ্গাইল শহরের পশ্চিম আকুর টাকুর এলাকার হাউজিং মাঠে জেলা বিএনপির উদ্যোগে আয়োজিত এ কর্মসূচির উদ্বোধন করেন বিএনপির কেন্দ্রীয় প্রচার সম্পাদক, টাঙ্গাইল সদর আসনের সংসদ সদস্য ও মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী সুলতান সালাউদ্দিন টুকু।
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন টাঙ্গাইল জেলা বিএনপির সভাপতি হাসানুজ্জামিল শাহীন ও জেলা বিএনপির সাবেক সদস্যসচিব মাহমুদুল হক সানু।
এ সময় আরও উপস্থিত ছিলেন টাঙ্গাইল প্রেসক্লাবের সভাপতি জাফর আহমেদ, জেলা বিএনপির সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক আশরাফ পাহেল, সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক শফিকুর রহমান খান শফিক, টাঙ্গাইল জেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের সদস্যসচিব সালেহ মোহাম্মদ শাফী ইথেন, টাঙ্গাইল সদর উপজেলা বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম সম্পাদক আজিম উদ্দিন বিপ্লবসহ জেলা বিএনপি ও অঙ্গ-সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরা।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে সুলতান সালাউদ্দিন টুকু বলেন, বিএনপির ৪৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে কেন্দ্রীয় কর্মসূচির অংশ হিসেবে সারাদেশের মতো টাঙ্গাইলেও বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি নেওয়া হয়েছে। পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষায় গাছের গুরুত্ব অপরিসীম।
তিনি বলেন, বিগত সরকারের সময়ে দেশের বনভূমি ধ্বংস করা হয়েছে। এর ফলে পরিবেশের ভারসাম্য মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। দেশকে সবুজায়নের লক্ষ্যে বর্তমান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ইতোমধ্যে আগামী পাঁচ বছরে সারাদেশে পাঁচ কোটি বৃক্ষরোপণের ঘোষণা দিয়েছেন। এই কর্মসূচি বাস্তবায়নে সবাইকে সম্মিলিতভাবে এগিয়ে আসতে হবে।
তিনি দলীয় নেতাকর্মীসহ সর্বস্তরের মানুষকে বেশি বেশি গাছ লাগানোর পাশাপাশি বৃক্ষের পরিচর্যা ও সংরক্ষণে এগিয়ে আসার আহ্বান জানান।
পরে বিভিন্ন বয়সী মানুষের মাঝে বিভিন্ন প্রজাতির গাছের চারা বিতরণ করা হয়।
বাংলাদেশকে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি ও পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধের উজ্জ্বল উদাহরণ হিসেবে অভিহিত করে মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ এবং কৃষিমন্ত্রী মোহাম্মদ আমিন উর রশিদ বলেছেন, এ দেশে বসবাসরত সকল ধর্মের মানুষ সমান অধিকারের অংশীদার। তিনি জোর দিয়ে বলেন, একটি শান্তিময় ও সমৃদ্ধ রাষ্ট্র হিসেবে বাংলাদেশকে গড়ে তোলার দায়িত্ব আমাদের সবার। শুক্রবার সকালে কুমিল্লায় শ্রীকৃষ্ণের জন্মাষ্টমী উদযাপন-২০২৬ উপলক্ষে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে উদ্বোধনী বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
কৃষিমন্ত্রী তাঁর বক্তব্যে ধর্মের মূল চেতনার কথা স্মরণ করিয়ে দিয়ে বলেন, পৃথিবীর কোনো ধর্মই অন্যায় বা অশুভ শক্তিকে সমর্থন করে না। মানবকল্যাণ, ন্যায় এবং শান্তিপূণ সহাবস্থানই সব ধর্মের প্রকৃত শিক্ষা। তিনি উল্লেখ করেন যে, সমাজের মানুষের কল্যাণ নিশ্চিত করা সম্ভব হলেই রাষ্ট্র প্রকৃত উন্নতির দেখা পাবে। মন্ত্রী বর্তমান প্রজন্মের দায়িত্বের কথা উল্লেখ করে বলেন, “আমাদের পূর্বসূরিরা আমাদের জন্য একটি সুন্দর দেশ রেখে গেছেন। তাই আগামী প্রজন্মের জন্য আরও উন্নত, মানবিক ও নিরাপদ বাংলাদেশ গড়ে তোলা বর্তমান প্রজন্মের অন্যতম প্রধান দায়িত্ব।”
মন্ত্রী আরও বিশ্বাস করেন যে, দেশের বৃহত্তর জনগোষ্ঠী সবসময় ন্যায় ও কল্যাণের পক্ষেই অবস্থান করে। এই সচেতন নাগরিকরা ঐক্যবদ্ধ থাকলে কোনো অপশক্তিই সমাজে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করতে পারবে না। তাই তিনি অন্যায় ও অবিচারের বিরুদ্ধে দল-মত নির্বিশেষে সবাইকে এক কাতারে দাঁড়ানোর আহ্বান জানান।
শ্রীকৃষ্ণের জন্মাষ্টমী উদযাপন কমিটি, কুমিল্লার আহ্বায়ক শ্রী শ্যামল কৃষ্ণ সাহার সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এই সভায় বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন কুমিল্লা সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসক ইউসুফ মোল্লা টিপু এবং জেলা প্রশাসক রোজী আক্তার। অনুষ্ঠানে জন্মাষ্টমী উদযাপন কমিটির নেতৃবৃন্দসহ বিপুল সংখ্যক ভক্ত ও গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ উপস্থিত ছিলেন। আলোচনা সভার আনুষ্ঠানিকতা শেষে কৃষিমন্ত্রী শ্রীকৃষ্ণের জন্মাষ্টমী উপলক্ষে আয়োজিত বর্ণাঢ্য মঙ্গল শোভাযাত্রায় সরাসরি অংশগ্রহণ করেন।
ফেনীর মুহুরীগঞ্জে দাঁড়িয়ে থাকা কাভার্ড ভ্যানের পেছনে ইউনিক পরিবহনের বাসের ধাক্কায় চালক হেলপারসহ তিনজন নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় আহত হয়েছেন আরও একজন।
শুক্রবার (০৪ সেপ্টেম্বর) সকাল সাড়ে সাতটার দিকে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের ছাগলনাইয়া উপজেলার দৌলতপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সামনে এ দুর্ঘটনা ঘটে।
ফাজিলপুর হাইওয়ে থানার সেকেন্ড অফিসার এস আই আবু নোমান জানান, চট্টগ্রামমুখী লেনে একটি কাভার্ড ভ্যান বিকল হয়ে পড়ে। পরে একটি লং ভেহিক্যালের সঙ্গে কাভার্ড ভ্যানটি বেঁধে নেওয়ার চেষ্টা করা হচ্ছিল। এ সময় পেছন থেকে দ্রুতগতিতে আসা ইউনিক পরিবহনের একটি বাস কাভার্ড ভ্যানটিকে ধাক্কা দেয়।
এতে ঘটনাস্থলেই কাভার্ড ভ্যানের চালক ও হেলপার এবং ইউনিক বাসের চালক নিহত হন। তাৎক্ষণিকভাবে নিহতদের নাম-পরিচয় জানা যায়নি।
আহত একজনকে উদ্ধার করে ফেনী ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
ফাজিলপুর হাইওয়ে পুলিশ নিহতদের মরদেহ উদ্ধার করে হাসপাতালের মর্গে পাঠিয়েছে। দুর্ঘটনাকবলিত তিনটি গাড়ি জব্দ করা হয়েছে।
দেশে শিশু নিখোঁজের ঘটনা উদ্বেগজনকহারে বাড়ছে। চলতি বছরের প্রথম সাত মাসে ১৫ হাজার ৭১৭ শিশুর নিখোঁজের ঘটনায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) হয়েছে। এর মধ্যে ১৩ হাজার ৬৭৯ শিশুকে উদ্ধার করা হয়েছে কিংবা তারা নিজেরাই পরিবারের কাছে ফিরে এসেছে। তবে এখনো ২ হাজার ৩৮ শিশুর সন্ধান পাওয়া যায়নি। নিখোঁজ শিশুদের এই সংখ্যা মোট জিডির প্রায় ১৩ শতাংশ। বৃহস্পতিবার (৩ সেপ্টেম্বর) এক বিবৃতিতে এ তথ্য জানিয়েছে পুলিশ হেডকোয়ার্টার্স। সম্প্রতি বিভিন্ন গণমাধ্যমে জানুয়ারি থেকে জুলাই পর্যন্ত দেশে ১৫ হাজারের বেশি শিশু নিখোঁজ হওয়ার খবর প্রকাশের পরিপ্রেক্ষিতে পুলিশ এ বিবৃতি দেয়।
পুলিশ বলছে, শুধু নিখোঁজের সংখ্যা প্রকাশ করা হলে শিশু নিখোঁজের পুরো চিত্র সামনে আসে না। কারণ, নিখোঁজ হওয়ার পর কতজন উদ্ধার হয়েছে, কতজন পরিবারের কাছে ফিরে এসেছে এবং কতজন এখনো নিখোঁজ—এসব তথ্যও গুরুত্বপূর্ণ। গণমাধ্যমে প্রকাশিত কিছু প্রতিবেদনে পরবর্তী পরিস্থিতির তথ্য না থাকায় জনমনে বিভ্রান্তি তৈরির আশঙ্কা রয়েছে। বিষয়টি পরিষ্কার করতে সংশ্লিষ্ট থানাগুলোর মাধ্যমে তথ্য যাচাই-বাছাই করা হয়েছে।
পুলিশের যাচাই করা তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে জুলাই পর্যন্ত শূন্য থেকে ৯ বছর বয়সি শিশু নিখোঁজের ঘটনায় ৪৭৪টি জিডি হয়েছে। এসব ঘটনায় ৪০৬ শিশুকে উদ্ধার করা হয়েছে বা তারা পরিবারের কাছে ফিরে এসেছে। এখনো নিখোঁজ রয়েছে ৬৮ শিশু।
অন্যদিকে, ১০ থেকে ১৭ বছর বয়সি শিশু-কিশোরদের নিখোঁজের ঘটনা অনেক বেশি। এ বয়সি শিশুদের নিখোঁজের ঘটনায় সাত মাসে ১৫ হাজার ২৪৩টি জিডি হয়েছে। এর মধ্যে ১৩ হাজার ২৭৩ জনকে উদ্ধার করা হয়েছে কিংবা তারা পরিবারের কাছে ফিরেছে। এখনো সন্ধান পাওয়া যায়নি ১ হাজার ৯৭০ জনের।
ছোটদের হারিয়ে যাওয়ার কারণ ভিন্ন: পুলিশের তথ্য বিশ্লেষণে দেখা যায়, বয়সভেদে শিশু নিখোঁজের কারণেও পার্থক্য রয়েছে। শূন্য থেকে ৯ বছর বয়সি শিশুরা সাধারণত নিজের সিদ্ধান্তে বাড়ি থেকে চলে যাওয়ার চেয়ে বিভিন্ন পরিস্থিতিতে হারিয়ে যায়।
পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে অপরিচিত স্থানে ঘুরতে গিয়ে পথ হারানো তাদের নিখোঁজ হওয়ার অন্যতম কারণ। অনেক ছোট শিশু পরিবারের সদস্যদের নাম, ঠিকানা বা মোবাইল নম্বর বলতে পারে না। ফলে কোনো কারণে পরিবারের কাছ থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়লে তাদের খুঁজে বের করতে সময় লাগে। আবার একা বাড়ি ফেরার সময় পথ ভুল করে অন্যত্র চলে যাওয়ার ঘটনাও ঘটে।
এ ছাড়া জনবহুল এলাকা, বাজার, মেলা, পার্ক কিংবা ভ্রমণস্থলে শিশুদের ওপর পর্যাপ্ত নজরদারি না থাকলেও তারা হারিয়ে যেতে পারে। এসব ঘটনায় অনেক শিশুকে পরে বিভিন্ন স্থান থেকে উদ্ধার করে পরিবারের কাছে ফিরিয়ে দেওয়া হয়।
কিশোর-কিশোরীদের নিখোঁজের পেছনে অভিমান: ১০ থেকে ১৭ বছর বয়সি শিশু-কিশোরদের নিখোঁজের ঘটনা তুলনামূলকভাবে বেশি। পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, এ বয়সি শিশুদের নিখোঁজ হওয়ার পেছনে পারিবারিক ও ব্যক্তিগত নানা কারণ কাজ করে।
অভিমান, পড়ালেখার চাপ, পারিবারিক কলহ ও অশান্তি, স্বাধীনভাবে জীবনযাপনের আকাঙ্ক্ষা এবং বন্ধু বা সহপাঠীদের প্রভাব তাদের বাড়ি ছাড়ার অন্যতম কারণ। পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে কোনো বিষয়ে মনোমালিন্য বা বকাঝকার পর অনেক কিশোর-কিশোরী অভিমান করে বাড়ি থেকে বেরিয়ে যায়। পরে তারা পরিচিতজন, বন্ধু বা অন্য কারও সঙ্গে অবস্থান করে।
পুলিশ জানিয়েছে, অনৈতিক কাজে জড়িয়ে পড়ার পর লজ্জা বা ভয়ের কারণেও কেউ কেউ পরিবারের কাছ থেকে দূরে থাকে। আবার পরিবারের কাছ থেকে অর্থ বা অন্য কোনো সুবিধা নেওয়ার চেষ্টাও কিছু ক্ষেত্রে নিখোঁজের কারণ হয়ে দাঁড়ায়।
বিশেষজ্ঞদের মতে, কৈশোর এমন একটি সময় যখন সন্তানদের মধ্যে স্বাধীনভাবে সিদ্ধান্ত নেওয়ার প্রবণতা তৈরি হয়। একই সময়ে পরিবার ও সন্তানের মধ্যে যোগাযোগের ঘাটতি, অতিরিক্ত শাসন, পড়াশোনার চাপ কিংবা বন্ধুমহলের প্রভাব তাদের আচরণে পরিবর্তন আনতে পারে। ফলে কোনো সমস্যা তৈরি হলে অনেক কিশোর-কিশোরী পরিবারের সঙ্গে আলোচনা না করে হঠাৎ বাড়ি ছেড়ে চলে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেয়।
এখনো নিখোঁজ ২ হাজার ৩৮ শিশু: পুলিশের হিসাব অনুযায়ী, সাত মাসে নিখোঁজ হওয়া ১৫ হাজার ৭১৭ শিশুর মধ্যে ১৩ হাজার ৬৭৯ জনকে উদ্ধার করা হয়েছে বা তারা পরিবারের কাছে ফিরে এসেছে। তবে ২ হাজার ৩৮ শিশুর এখনো সন্ধান মেলেনি।
নিখোঁজদের মধ্যে শূন্য থেকে ৯ বছর বয়সি ৬৮ শিশু এবং ১০ থেকে ১৭ বছর বয়সী ১ হাজার ৯৭০ শিশু এখনো নিখোঁজ রয়েছে। অর্থাৎ এখনো সন্ধান না পাওয়া শিশুদের বড় অংশই কিশোর-কিশোরী।
পুলিশ বলছে, কোনো শিশু নিখোঁজ হওয়ার পর পরিবারের পক্ষ থেকে দ্রুত থানায় জিডি করা এবং শিশুটির ছবি, পোশাক, শারীরিক বর্ণনা, মোবাইল নম্বর, বন্ধু বা পরিচিতজনের তথ্যসহ প্রয়োজনীয় তথ্য দেওয়া হলে অনুসন্ধান কার্যক্রম সহজ হয়।
অনলাইন জিডিতে বাড়ছে নিখোঁজের তথ্য: পুলিশ হেডকোয়ার্টার্স জানিয়েছে, পুলিশি সেবা সহজীকরণের অংশ হিসেবে অনলাইন জিডি চালু হওয়ার পর নিখোঁজ সংক্রান্ত জিডির সংখ্যা উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। এখন থানায় সরাসরি যাওয়ার পাশাপাশি অনলাইনেও জিডি করার সুযোগ থাকায় নিখোঁজের তথ্য পুলিশের কাছে দ্রুত পৌঁছাচ্ছে।
পুলিশের পরিসংখ্যানেও এর প্রতিফলন দেখা যায়। ২০২৩ সালে নিখোঁজ সংক্রান্ত জিডি হয়েছিল ১৭ হাজার ৮০৮টি। ২০২৪ সালে এ সংখ্যা কিছুটা কমে দাঁড়ায় ১৬ হাজার ৪১৪টিতে। তবে ২০২৫ সালে নিখোঁজ সংক্রান্ত জিডি বেড়ে ২২ হাজার ৫৫০টিতে পৌঁছায়।
পুলিশের মতে, অনলাইন জিডির সুযোগ চালু হওয়ায় আগে যেসব ঘটনা থানায় নথিভুক্ত হতো না, সেগুলোরও অনেকগুলো এখন পুলিশের তথ্যভান্ডারে যুক্ত হচ্ছে। ফলে জিডির সংখ্যা বাড়ার একটি কারণ হিসেবে অনলাইন সেবার সম্প্রসারণকেও বিবেচনা করা হচ্ছে।
সচেতনতার ওপর জোর: শিশু নিখোঁজের ঘটনা কমাতে পরিবারের পাশাপাশি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও সমাজেরও ভূমিকা রয়েছে। ছোট শিশুদের বাইরে যাওয়ার সময় তাদের সঙ্গে পরিচয় ও যোগাযোগের তথ্য সংরক্ষণ করা, জনবহুল স্থানে অভিভাবকের সরাসরি নজরদারি রাখা এবং শিশুদের পরিবারের সদস্যদের নাম, ঠিকানা ও জরুরি যোগাযোগ নম্বর শেখানো জরুরি।
অন্যদিকে, কিশোর-কিশোরীদের ক্ষেত্রে শুধু শাসন নয়, তাদের সঙ্গে বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক তৈরি করা গুরুত্বপূর্ণ। পড়াশোনা, বন্ধু, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম কিংবা ব্যক্তিগত সমস্যা নিয়ে তারা যাতে পরিবারের সঙ্গে সহজে কথা বলতে পারে, সে পরিবেশ তৈরি করতে হবে। কোনো বিষয়ে অভিমান বা পারিবারিক বিরোধ তৈরি হলে তা দ্রুত সমাধানের উদ্যোগ নেওয়াও প্রয়োজন।
পুলিশের দেওয়া পরিসংখ্যান বলছে, নিখোঁজ শিশুদের বড় একটি অংশ শেষ পর্যন্ত উদ্ধার হয়ে পরিবারের কাছে ফিরে আসে। তবে এখনো দুই হাজারের বেশি শিশুর সন্ধান না পাওয়া উদ্বেগের বিষয়। তাই শিশু নিখোঁজ হওয়ার পর দেরি না করে দ্রুত আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে জানানো এবং প্রয়োজনীয় তথ্য সরবরাহের ওপর গুরুত্ব দিচ্ছে পুলিশ।
জয়পুরহাটে ট্যাপেন্টাডল ট্যাবলেটসহ স্ত্রীকে ও অনলাইনে জুয়া খেলার অভিযোগে স্বামীকে গ্রেপ্তার করেছে জয়পুরহাট জেলা গোয়েন্দা শাখা (ডিবি) পুলিশ। এ সময় স্বামীর কাছ থেকে একটি স্মার্টফোন জব্দ করা হয়।
গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন, জয়পুরহাট পৌরসভার পূর্ব ধানমন্ডি এলাকার রিনা আক্তার (২১) ও তার স্বামী মো. পাপ্পু (৩৫)। গত বুধবার (২ সেপ্টেম্বর) রাত ১১টার দিকে পূর্ব ধানমন্ডি এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়।
ডিবি পুলিশ সূত্রে জানা যায়, মাদকদ্রব্য উদ্ধার ও অনলাইন জুয়াবিরোধী বিশেষ অভিযানের অংশ হিসেবে ওই এলাকায় অভিযান পরিচালনা করে ডিবির একটি দল। এ সময় পাপ্পুর বসতবাড়ির সামনে থেকে মাদক বিক্রির অভিযোগে রিনা আক্তারকে আটক করা হয়। পরে তার কাছ থেকে ১০১ পিস ট্যাপেন্টাডল ট্যাবলেট জব্দ করা হয়।
অন্যদিকে একই অভিযানে অনলাইনে জুয়া খেলার অভিযোগে রিনা আক্তারের স্বামী পাপ্পুকে আটক করা হয়। তার কাছ থেকে একটি স্মার্টফোন জব্দ করা হয়েছে।
অভিযানে ডিবির এসআই মো. শাখাওয়াত হোসেন, এসআই মো. আব্দুল্লাহ আল নোমান, এএসআই মো. সাজেদুর রহমান, এএসআই মো. আসাদুজ্জামান, এএসআই মো. সোহেল রানা ও কনস্টেবল রাকিবুল ইসলাম এবং পারভেজ অংশ নেন।
জয়পুরহাট জেলা গোয়েন্দা শাখার (ডিবি) ভারপ্রাপ্ত (ওসি) মো. আসাদুজ্জামান বলেন, ‘গ্রেপ্তারকৃত দুইজনের বিরুদ্ধে পৃথক আইনে নিয়মিত মামলা দায়েরের প্রক্রিয়া চলছে।
বিশ্বব্যাংকের আর্থিক সহায়তায় লোকাল গভর্নমেন্ট কোভিড-১৯ রেসপন্স এন্ড রিকভারি প্রজেক্ট (এলজিসিআরআরপি) প্রকল্পের আওতায় গ্রীন বিল্ডিং এর ভিত্তি প্রস্তর স্থাপন করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার (৩ সেপ্টেম্বর) সকালে ১৮নং ওয়ার্ডের শহীদ জিয়া শিশু পার্ক এর সামনে রাজশাহী সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসক মোঃ মাহফুজুর রহমান রিটন প্রধান অতিথি হিসেবে গ্রীন বিল্ডিং এর ফলক উন্মেচন করে নির্মাণ কাজের শুভ উদ্বোধন করেন। ৩ হাজার ৭৫.৪২ বর্গফুট আয়তনে এ গ্রীন বিল্ডিংটি নির্মিত হচ্ছে। উদ্বোধন শেষে দোয়া ও মোনাজাত করা হয়।
দোয়া ও মোনাজাত পরিচালনা করেন সোনাদিঘী জামে মসজিদের পেশ ইমাম ক্বারী মোঃ মামুনুর রশীদ।
রাজশাহী সিটি কর্পোরেশনের বাস্তবায়নে এ ভবনটি নির্মাণে প্রাক্কলিত ব্যয় ধরা হয়েছে ৪ কোটি ১৯ লাখ ৫৪ হাজার ৩শ ৪৪টাকা। ৫ তলা ফাউন্ডেশনে ২য় তলা বিশিষ্ট গ্রীন বিল্ডিং এর নিচতলায় দোকান ঘর থাকবে। ২য় তলায় হলরুম/কমিউনিটি স্পেস ও ব্রেস্ট ফিডিং কর্ণার থাকবে।
প্রকৌশল বিভাগ হতে প্রাপ্ত তথ্য মতে, পরিবেশ বান্ধব হলোব্লক দিয়ে এ বিল্ডিংটি নির্মিত হবে। নিজস্ব সোলার প্যানেল ব্যবহৃত উৎপাদিত বিদ্যুৎ দিয়ে আলোকায়নের ব্যবস্থা করা হবে। উত্তরাঞ্চলে এটিই প্রথম বিল্ডিং। এ বিল্ডিংটিতে বিশেষায়িত গ্লাস ব্যবহৃত করা হবে যা তাপরোধী। বিল্ডিংটির রুফটফে তাপরোধী রংঙের কোটিং ব্যবহৃত হবে। যা বিল্ডিংটিকে শীতল রাখতে সহায়তা করবে। বিশেষ চাহিদাসম্পন্নদের জন্য টয়লেট ও লিফটের ব্যবস্থা রাখা হবে। এই ভবনের সম্মুখ অংশে ভার্টিক্যাল গার্ডেনিং করা হবে। যা বিল্ডিংটিকে পরিবেশ বান্ধব রাখতে সহায়তা করবে।
উদ্বোধনকালে রাসিকের তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী খায়রুল বাকের, তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী (ভারপ্রাপ্ত) আহমদ আল মঈন পরাগ, নির্বাহী প্রকৌশলী (উন্নয়ন) মোঃ মাহমুদুর রহমান, নির্বাহী প্রকৌশলী পরিকল্পনা জসীম উদ্দিন আরজু,
নির্বাহী প্রকৌশলী (বিদ্যুৎ) এবিএম আসাদুজ্জামান সুইট, সহকারী প্রকৌশলী মোঃ শাহেদুজ্জামান জীবন, শাহ মখদুম থানা বিএনপির সদস্য সচিব নাসিম খান, ১৭নং পূর্ব ওয়ার্ড বিএনপির সভাপতি মেহের আলী, ১৭নং ওয়ার্ড বিএনপির সভাপতি মোঃ বাবু, যুবনেতা তৌফিক আব্দুল্লাহ সহ এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ উপস্থিত ছিলেন।
জামালপুর জেলা প্রশাসনের সাথে টানা ২ ঘণ্টা বৈঠকের পর জেলা প্রশাসনের আশ্বাসে দীর্ঘ ৯ ঘণ্টা পরে বাস ধর্মঘট প্রত্যাহার করে নিয়েছে জামালপুর জেলা বাস-মিনিবাস মালিক সমিতি ও বিভিন্ন পরিবহন শ্রমিক সংগঠনের নেতা-কর্মীরা। ইতোমধ্যে জামালপুর থেকে সারাদেশের সাথে বাস চলাচল শুরু হয়েছে।
জানা যায়, গত ৩১ আগস্ট রাতে জামালপুর সদর উপজেলার লাহেরীকান্দা এলাকায় রাজিব পরিবহনের একটি বাসের সাথে ব্যাটারিচালিত অটোরিকশার সংঘর্ষে ঘটনাস্থলে ৪ জনের মৃত্যু হয় এ সময় আহত হয় অন্তত ১৬ জন। এ ছাড়া জামালপুর-ময়মনসিংহ-ঢাকা রুটে রাজিব পরিবহনের বেপোরোয়া গাড়ি চালানোর ফলে প্রায় সময়ই দুর্ঘটনা ঘটছে। বারবার প্রশাসনকে অভিযোগ করেও এর কোনো প্রতিকার না পেয়ে গত বুধবার (২ সেপ্টেম্বর) বিকালে জামালপুর সদর উপজেলার নান্দিনা এলাকায় রাজিব পরিবহনের রোড পারমিট বাতিল ও বাস চলাচল বন্ধের দাবিতে বিক্ষোভ মিছিল ও মানববন্ধন করে। এ সময় বিক্ষোভকারীরা ঢাকা ও জামালপুরগামী রাজিব পরিবহনের দুটি বাস থামিয়ে যাত্রীদের নামিয়ে দেন। পরে নান্দিনা পূর্ববাজার খেলার মাঠে নিয়ে বাস দুটিতে ভাঙচুর করা হয়।
ঘটনার পর ওই সড়কে রাজিব পরিবহনের শ্রমিকদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। এ ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে বৃহস্পতিবার (৩ সেপ্টেম্বর) সকাল ৬টা থেকে জামালপুর বাস পরিবহন মালিক সমিতি ও শ্রমিক সংগঠন জামালপুর থেকে ঢাকাসহ সারাদেশে বাস চলাচল বন্ধের ঘোষণা দেয়। এতে করে সাধারণ যাত্রীরা চরম দুর্ভোগে পড়েন।
এ ব্যাপারে জামালপুর বাস মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক সাখাওয়াত হোসেন শুভ জানান, সড়কে শৃঙ্খলা ফেরাতে ও বাস চলাচল নির্বিঘ্ন করতে পরিবহন মালিক শ্রমিকদের পক্ষ থেকে জেলা প্রশাসনকে ১১টি দাবি জানানো হয়েছে। দাবি পূরণের আশ্বাসে ধর্মঘট প্রত্যাহার করা হয়েছে। এখন থেকে বাস চলাচল স্বাভাবিক রয়েছে।
কুমিল্লার বরুড়ায় ধর্ষণের পর ৯ বছরের শিশু নাদিয়া সুলতানা ইমুকে হত্যার ঘটনায় আসামি মো. জসিম উদ্দিনকে (২২) যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিয়েছে আদালত। বৃহস্পতিবার (৩ সেপ্টেম্বর) কুমিল্লার শিশু সহিংসতা দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক মো. আব্দুল হান্নান এ রায় দেন। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন মামলার বাদী পক্ষের আইনজীবী জয়নাল আবেদীন মাজহারী।
দণ্ডপ্রাপ্ত জসিম কুমিল্লার বরুড়া উপজেলার ভাউকসার ইউনিয়নের গজারীয়া পূর্ব কলনীপাড়া গ্রামের মনোহর আলীর ছেলে। শিশু নাদিয়া সুলতানা ইমু একই গ্রামের মনজুমা বেগমের মেয়ে।
জানা গেছে, ইমু স্থানীয় একটি মাদ্রাসার তৃতীয় শ্রেণিতে পড়ত। পরীক্ষা শেষে সে পাশের গ্রামের খালার বাড়ি পূর্ব গজারিয়াতে বেড়াতে আসে। ২০২২ সালের ১৪ ডিসেম্বর বিকেল থেকে তাকে খুঁজে পাওয়া যাচ্ছিল না। সন্দেহ হওয়ায় প্রতিবেশী জসিমকে আটক করে স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদে নেওয়া হয়। পরে তার দেওয়া তথ্যমতে, পাশের বাঁশঝাড় থেকে শিশুটির মরদেহ উদ্ধার করা হয়।
আইনজীবী জয়নাল আবেদীন মাজহারী বলেন, শিশু ইমুকে বাড়ির পাশের নির্জন স্থানের বাঁশঝাড়ে নিয়ে যায় জসিম। এ সময় তাকে ধর্ষণের পর শিশু ইমু এ ঘটনা সবাইকে বলে দেওয়ার ভয় দেখালে জসিম গলায় ওড়না পেঁচিয়ে শিশুটিকে হত্যা করে মরদেহ বাঁশঝাড়ে ফেলে রাখেন। পরে বরুড়া থানা পুলিশ তাকে গ্রেপ্তার করে আদালতে প্রেরণ করলে জসিম আদালতে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন।’
শিশু নাদিয়া সুলতানা ইমুর মা মনজুমা বেগম বলেন, আমার মেয়েকে জসিম নিষ্ঠুরভাবে দম বন্ধ করিয়ে হত্যা করেছে। ইমু আমার দুই মেয়ের মধ্যে বড় ছিল। আমার কলিজার ধনকে ধর্ষণের পর হত্যার ঘটনায় আমরা আসামির মৃত্যুদণ্ড চেয়েছি। সে আমার মেয়েকে যেভাবে হত্যা করেছে আমিও তার মৃত্যু চাই। আদালত তাকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিয়েছে। তার সর্বোচ্চ সাজা মৃত্যুদণ্ড চেয়ে আমরা হাইকোর্টে আবেদন করব।