বর্জ্য থেকে বিদ্যুৎ উৎপাদনের মাধ্যমে দেশে বর্জ্য ব্যবস্থাপনায় বৈপ্লবিক পরিবর্তন আসবে বলে জানিয়েছেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রী তাজুল ইসলাম। শনিবার রাজধানীর বনানীর একটি হোটেলে আয়োজিত সেমিনারে অংশ নিয়ে মন্ত্রী এ কথা বলেন।
এফবিসিসিআই আয়োজিত ‘টেকসই প্লাস্টিক বর্জ্য ব্যবস্থাপনার জন্য নীতিমালা সক্রিকরণ’ শীর্ষক সেমিনারে প্রধান অতিথি ছিলেন মন্ত্রী। বক্তব্যে তিনি বলেন, দেশে উৎপন্ন সকল ধরনের বর্জ্য পুড়িয়ে বিদ্যুৎ উৎপাদনের উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। ঢাকাসহ কয়েকটি সিটি করপোরেশনে কার্যক্রম শেষ পর্যায়ে আছে। আশা করা হচ্ছে খুব শিগগিরই বর্জ্য থেকে বিদ্যুৎ উৎপাদন শুরু হবে। আর এ প্রক্রিয়া শুরু হলে দেশে বর্জ্য সমস্যা অনেকটাই সমাধান করা সম্ভব।
সেমিনারে মন্ত্রী বলেন, মানুষের আয় বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে ভোগ বেড়েছে। এর ফলে আগের তুলনায় অধিক পরিমাণে ময়লা-আবর্জনা উৎপন্ন হচ্ছে। আর এসব বর্জ্য শুধু শহরে নয় গ্রামেও উৎপন্ন হচ্ছে। আগের তুলনায় অধিক মাত্রায় বর্জ্য উৎপন্ন হওয়ায় সুষ্ঠু ব্যবস্থাপনার মধ্যে নিয়ে আসা একটি বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
সমবায় মন্ত্রী বলেন, পৃথিবীর অনেক দেশে বর্জ্য থেকে বিদ্যুৎ উৎপাদন করা হচ্ছে। উন্নত দেশের মতো বাংলাদেশেও বর্জ্য থেকে বিদ্যুৎ উৎপাদনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। পরিবেশ রক্ষা এবং মানুষের স্বাস্থ্যের কথা মাথায় রেখেই কার্যকর ব্যবস্থা বাস্তবায়ন করা হচ্ছে।
সাধারণত বাজার থেকে কোনো পণ্য কিনলে প্রতিটির জন্য পলিথিন বা আলাদা ব্যাগ দেয়া হয়। এ জন্য গৃহস্থালীর বর্জ্য বেশি উৎপন্ন হচ্ছে। সেমিনারে তাজুল ইসলাম বলেন, পলিথিন চাইলেই একদিনে বন্ধ করা যাবে না। আবার পাটের ব্যাগও মানুষের হাতে হাতে ধরিয়ে দেয়া যাবে না। প্লাস্টিকের ব্যবহার অনেক গুণ বৃদ্ধি পেয়েছে। এটাকেও হঠাৎ করে নিষিদ্ধ করা যাবে না। বিকল্প কী তা নিয়ে কাজ করতে হবে।
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বন ও পরিবেশ মন্ত্রী শাহাব উদ্দিন ও প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের জ্যেষ্ঠ সচিব তোফাজ্জল হোসেন মিয়া। এফবিসিসিআইয়ের সভাপতি জসিম উদ্দিনসহ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা, ইউনিলিভার বাংলাদেশের ব্যবস্থাপনা পরিচালক জাভেদ আখতার, বাংলাদেশ প্লাস্টিক গুডস অ্যান্ড ম্যানুফেকচার্স এক্সপোর্টার অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি শামীম আহমেদ প্রমুখ।
পিরোজপুরে নারী ও কন্যাশিশুর প্রতি সহিংসতা প্রতিরোধে সরকারি ও বেসরকারি অংশীদারিত্ব জোরদার করার লক্ষ্যে ব্র্যাকের জেন্ডার জাস্টিস অ্যান্ড ডাইভারসিটি কর্মসূচির উদ্যোগে একটি ‘অ্যাডভোকেসি ডায়ালগ’ অনুষ্ঠিত হয়েছে। পিরোজপুর সদর উপজেলা নির্বাহী অফিসারের সভাকক্ষে গত বুধবার (১৭ জুন) আয়োজিত এই অনুষ্ঠানে নারী ও শিশু সুরক্ষায় সমন্বিত উদ্যোগের ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন পিরোজপুর সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. মামুনুর রশীদ। তিনি বলেন, “নারীর প্রতি সহিংসতা কেবল একটি আইনি সমস্যা নয়, এটি একটি সামাজিক ব্যাধি। সমাজ থেকে এই অন্ধকার দূর করতে হলে শুধু আইন প্রয়োগ যথেষ্ট নয়; প্রয়োজন তৃণমূল পর্যায় থেকে ব্যাপক সামাজিক সচেতনতা। উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে আমরা নারী ও শিশু নির্যাতন রোধে ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি গ্রহণ করেছি।”
তিনি আরও বলেন, ভুক্তভোগী নারীরা যাতে দ্রুত আইনি সহায়তা পেতে পারেন, সেজন্য সরকারি হেল্পলাইন নম্বর—১০৯, ৯৯৯ এবং ১০৯৮-এর প্রচার কার্যক্রম আরও বিস্তৃত করা হবে। একইসঙ্গে তিনি ভুক্তভোগীদের সর্বোচ্চ গোপনীয়তা ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করার ওপর বিশেষ গুরুত্বারোপ করেন।
ব্র্যাক জেন্ডার জাস্টিস অ্যান্ড ডাইভারসিটি কর্মসূচির আঞ্চলিক ব্যবস্থাপক উর্মি ভাদুড়ীর সঞ্চালনায় এবং ব্র্যাক ডিস্ট্রিক্ট কোর্ডিনেটর জাহিদুল ইসলামের সভাপতিত্বে ডায়ালগটিতে সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন দপ্তরের উর্ধ্বতন কর্মকর্তাবৃন্দ অংশগ্রহণ করেন।
অনুষ্ঠানে অন্যান্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন মহিলা বিষয়ক অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক নাজমুন নাহার, উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা মো. মতিউর রহমান ,সাব ইন্সপেক্টর রাশিদা আক্তারসহ বিভিন্ন সরকারি-বেসরকারি সংস্থার প্রতিনিধি, সাংবাদিক এবং সুশীল সমাজের বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ।
স্মার্ট কৃষি ও নিরাপদ খাদ্য উৎপাদন নিশ্চিত করার লক্ষ্যে নীলফামারীতে প্রোগ্রাম অন এগ্রিকালচারাল অ্যান্ড রুরাল ট্রান্সফরমেশন অব নিউট্রিশন, এন্টারপ্রেনরশিপ অ্যান্ড রেজিলিয়েন্স ইন বাংলাদেশ (পার্টনার) প্রোগ্রামের আওতায় পার্টনার কংগ্রেস অনুষ্ঠিত হয়েছে। বৃহস্পতিবার (১৮ জুন) সদর উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের আয়োজনে উপজেলা পরিষদ চত্বরে এ কংগ্রেস অনুষ্ঠিত হয়। এতে কৃষক, উদ্যোক্তা, বিভিন্ন সরকারি দপ্তরের কর্মকর্তা অংশ নেন।
অনুষ্ঠানে কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক মোছা. হোমায়রা মণ্ডলের সভাপতিত্বে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ নায়িরুজ্জামান। স্বাগত বক্তব্য রাখেন সদর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ আতিক আহমেদ।
বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর সার্কেল) ফারুক আহমেদ, জেলা মৎস্য কর্মকর্তা বরুন কুমার মণ্ডল, সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোবাশ্বিরা আমাতুল্লাহ এবং জেলা বিএনপির জ্যেষ্ঠ যুগ্ম আহ্বায়ক সোহেল পারভেজ। অনুষ্ঠানে সঞ্চালনা করেন উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা রাকিব আবেদীন।
এসময় বক্তারা বলেন, প্রযুক্তিনির্ভর চাষাবাদ, পুষ্টিসমৃদ্ধ খাদ্য উৎপাদন ও কৃষি উদ্যোক্তা সৃষ্টি দেশের কৃষিকে আধুনিক ও টেকসই করতে গুরুত্বপূর্ণ। তারা জানান, পার্টনার ফিল্ড স্কুলের (পিএফএস) প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত কৃষকদের জ্ঞান ও অভিজ্ঞতা অন্যান্য কৃষকদের মধ্যেও ছড়িয়ে পড়ছে, যা কৃষির আধুনিকায়নে ভূমিকা রাখছে।
শেষে আরেকটি অনুষ্ঠানে জাতীয় ফল মেলা উপলক্ষে ফল বাগান সৃজনে বিশেষ ভুমিকা রাখায় উদ্যোক্তাদের সম্মাননা প্রদান করা হয়। এরপর ২০২৫-২৬ অর্থ বছরে ক্ষুদ্র ও প্রান্তিক কৃষকদের মাঝে কৃষি পূর্ণবাসন ও প্রণোদনা কর্মসূচির আওতায় রোপা আমনের বীজ, মরিচ বীজ, ফলজ, বনজ ও ঔষধি গাছের চারা এবং বিনামূল্যে সার বিতরণ করা হয়। এর আগে ফল মেলা পরিদর্শন করেন জেলা প্রশাসক ও অন্যান্য অতিথিরা।
ঠাকুরগাঁওয়ে এখনো বড় পরিসরে দুগ্ধ শিল্প গড়ে না উঠলেও স্থানীয় পর্যায়ে দুধ ও দুগ্ধজাত খাবার উৎপাদনে পিছিয়ে নেই এ জেলা। প্রত্যন্ত গ্রামাঞ্চলে পুরুষের পাশাপাশি দুগ্ধ খামার গড়ে তুলছে নারীরা। গবাদিপশু পালনে পারদর্শী হাজারো নারী-পুরুষ-যুবক। গ্রামীন অর্থনীতিকে মজবুত করতে প্রস্তুত তারা। প্রয়োজন শুধু সরকারি-বেসরকারি উদ্যোগে পরিকল্পিত বিনিয়োগ আর দুধের নিশ্চিত বাজার।
একসময় দেশের গম উৎপাদনের শীর্ষ জেলা ছিলো ঠাকুরগাঁও। কিন্তু সময় বদলেছে। গমের মাঠ এখন দখল করেছে ভুট্টা। ভুট্টা মানেই সহজ পশুখাদ্য। ঘাস ও খড়ের পাশাপাশি ভুট্টা থেকে উৎপাদিত সাইলেজ গরু পালন আরও সহজ করে তুলছে।
জেলার গ্রামগুলোতে এখন বাড়ছে ছোট-বড় গরুর খামার। অনেক পরিবার কৃষির পাশাপাশি বেছে নিচ্ছে দুগ্ধ খামারকে। বিশেষ করে গ্রামের নারীরা হয়ে উঠছেন এই পরিবর্তনের মূল শক্তি।
গৃহস্থালির কাজ সামলিয়ে, গরু পালন করে, দুধ উৎপাদনে ভূমিকা রাখছে নারীরা। সেই দুধ পরিবারের প্রধানগণ বাজারে বিক্রি করতে আনেন। কিন্তু এত শ্রমের বিনিময়ে উৎপাদিত দুধের বাজার না পাওয়ায় হতাশ হন দুধ উৎপাদন কারীরা। কখনো কখনো দুধ অবিক্রিত থেকে যায়।
সদর উপজেলার আকচা মুন্সিপাড়া গ্রামের নারী খামারি ও উদ্যোক্তা মাসুমা আক্তার বলেন, ছোট পরিসরে শুরু করেছিলাম গবাদি পশুর খামার। এখন ৭ টি গরু আছে। ভালো দুধ উৎপাদন করি। কিন্তু দুধ কখনো বিক্রি হয় কখনো হয়না। আমাদের এখানে ভালো কারখানা হলে আমরা দুধ দিতে পারবো।
খামারি রফবকুল ইসলাম বলেন, এত এত শ্রম দিয়ে দুধ পানির দামে বিক্রি করতে হয়। আমাদের এখানে এমন একটি কারখানা বা কোম্পানি নেই যারা ন্যায্য মূল্যে আমাদের থেকে দুধ নিবে।
শুধু তরল দুধ নয়—ঠাকুরগাঁওয়ে দক্ষ নারী ও পুরুষ কারিগর রয়েছে। যারা দুধ থেকে তৈরি করছে পনির, চিজ, ঘি, দই, মিষ্টিসহ নানা ধরনের খাবার। ছোট পরিসরে স্থানীয়ভাবে এসব প্রতিষ্ঠান গড়ে উঠায় জেলাতে দুগ্ধজাত খাবারের অপার সম্ভাবনা দেখা দিয়েছে। এই জেলায় দুগ্ধজাত খাবারের সম্ভাবনাকে আরাও তরান্বিত করতে বিনিয়োগ বাড়ালে এ অঞ্চলে খুলতে পারে নতুন অর্থনীতির সমৃদ্ধির দার।
খামারিদের প্রত্যাশা ঠাকুরগাঁওয়ে যেহেতু বড় পরিসরে খাদ্য পক্রিয়াজাত করণ শিল্পনগরীর জন্য ইতিমধ্যে ভূমি অধিগ্রহণ করছে সরকার। নিশ্চয় দেশের বড় বড় বিনিয়োগকারীরা কারখানা নির্মানে এখানে বিনিয়োগ করবে, জেলাতে উন্নতমানের দুগ্ধজাত খাবারের কারখানা তৈরি হবে খামারি আরও বাড়বে। নারীরা আরও গরুপালনে উৎসাহী হবে। বেকারত্ব কমে আসবে।
জেলার জেলার প্রাণী সম্পদ কর্মকর্তা, ঠাকুরগাঁও, ডা: ইজহার আহমেদ খান বলেন, কৃষি প্রধান জেলা হওয়ায় ঠাকুরগাঁওয়ে গাভী পালনে সহজে করা যায় এবং প্রচুর দুধ উৎপাদন হয়। এ জেলায় নিবন্ধিত অনিবন্ধিত প্রায় তিন হাজার খামার রয়েছে। যা থেকে প্রতিমাসে ৬০ হাজার মে:টন দুধ উৎপাদন হয়। দুগ্ধজাত খাবার উৎপাদনের জন্য এখানে কারখানা গড়ে উঠার ব্যপক সম্ভাবনা দেখছেন এই প্রাণী সম্পদ কর্মকর্তা।
উন্নত জাতের গাভী, সহজ ঋণ এবং দুধের বাজার সুবিধা নিশ্চিত করা গেলে নতুন অর্থনীতির দুয়ার খুলতে পারে এই জেলা। ধান-গম ও ভুট্টার পরে যেন এবার সাদা বিপ্লবের প্রতিক্ষায় উত্তর জনপদের এ অঞ্চল।
নওগাঁয় তিনদিন ব্যাপী জাতীয় ফল ও আম মেলার উদ্বোধন করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার (১৮ জুন) বেলা ১১টার দিকে প্রধান অতিথি হিসেবে মেলার উদ্বোধন করেন জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ সাইফুল ইসলাম।
জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর চত্বরে মেলায় প্রায় ১০টি স্টলে শতাধিক বিভিন্ন জাতের ফল প্রদর্শন করা হয়।
পরে জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সম্মেলন কক্ষে রপ্তানিযোগ্য আম উৎপাদন শীর্ষক আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভায় জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক মনজুর রহমানের সভাপতিত্ব করেন।
এসময় সিভিল সার্জন ডা: আমিনুল ইসলাম, অতিরিক্ত উপপরিচালক (শস্য) খলিলুর রহমান, অতিরিক্ত উপপরিচালক (উদ্যান) রেজাউল করিম, অতিরিক্ত উপপরিচালক (উদ্ভিদ সংরক্ষণ) মেহেদুল ইসলাম, স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের (এলজিইডি) নির্বাহী প্রকৌশলী মো. বদরুদ্দোজা, জেলা বীজ প্রত্যয়ন অফিসার বিষ্ণু পদ সাহাসহ কৃষি অফিসের কর্মকর্তাসহ কৃষক ও কৃষাণীরা উপস্থিত ছিলেন।
আয়োজকরা জানান, এ মেলার উদ্দেশ্য হলো দেশীয় ফল সবার কাছে পরিচিত করা এবং পাশাপাশি উন্নত জাতের ফল চাষাবাদে কৃষকরা উপকৃত হবে। মেলায় হর্টিকালচার থেকে উৎপাদিত বিভিন্ন ফলের চারা ও আচার প্রদর্শন করা হয়েছে।
প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী বর্তমান সরকার সারাদেশের যোগাযোগ ব্যবস্থা উন্নতি করবে বলে জানিয়েছেন সড়ক পরিবহন ও সেতু এবং রেলপথ মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী হাবিবুর রশিদ হাবিব।
বৃহস্পতিবার (১৮ জুন) দুপুরে উপজেলার ইছাপুরা ও নগরপাড়া বালু সেতু পরিদর্শন উপলক্ষে আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।
এ সময় প্রতিমন্ত্রী আরো বলেন, কায়েতপাড়া ও নগরপাড়ার মানুষের দীর্ঘদিনের প্রত্যাশা এই সেতু।
একটি মহল এই সেতুর কাজটি বন্ধ করে রেখেছেন যাতে করে রূপগঞ্জের উন্নয়ন না হয়। প্রধানমন্ত্রী যেহেতু জনগণের ভোটে নির্বাচিত সরকার । তিনি চান সারা বাংলাদেশের যেন উন্নয়ন হয়। সেজন্য এই এলাকায় আসা আমাদের। এলাকার মানুষের দীর্ঘদিন ধরে দাবি এই ব্রিজটি কাজ সম্পন্ন করা।সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আলোচনা করে দ্রুত সময়ের মধ্যে কাজ সম্পন্নের বিষয়ে প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নেওয়া হবে।
বিশেষ অতিথির বক্তব্যে, নারায়ণগঞ্জ ১ রূপগঞ্জ আসনের সংসদ সদস্য মুস্তাফিজুর রহমান ভুইয়া দিপু বলেন, সেতু দুটি চালু হলে এলাকার হাজারো মানুষের যাতায়াত সহজ হবে, কমবে সময় ও ব্যয়। পাশাপাশি কৃষি ও ব্যবসা-বাণিজ্যেও ইতিবাচক প্রভাব পড়বে। এবং ঢাকা থেকে রূপগঞ্জে আমরা অল্প সময়ে আসতে পারবো। এখন ঢাকা থেকে সিলেট যাবে এই নগরপাড়ার সেতু ব্যবহার করে।
রূপগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোঃ সাইফুল ইসলাম জয়ের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে আরো উপস্থিত ছিলেন, নৌ পরিবহন মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী রাজীব আহসান, রূপগঞ্জ উপজেলা বিএনপির সভাপতি অ্যাডভোকেট মাহফুজুর রহমান হুমায়ুন, এড গোলজার হোসেন, মামুন মিয়া, ফরিদ াহমেদ যুবরাজ, আওলাদ, শিপলু জাহানসহ আরো অনেকে।
পরে প্রতিমন্ত্রীসহ অতিথিবৃন্দ তারাবো পৌর অডিটোরিয়ামে উপকার ভোগীদের মাঝে ভ্যান ও ছাগল বিতরণ করেন।
গৃহপরিচারিকা মিলন চন্দ্র দাশের ওপর শারীরিক নির্যাতনের ঘটনায় মা বাদী হয়ে মামলা দায়ের করেছেন। এতে সোনাডাঙ্গা থানার এএসআই সঞ্জয় মিত্র ও তার স্ত্রী পপি মিত্রকে আসামি করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার (১৮ জুন) মামলাটি দায়ের করা হয়।
এরআগে গত বুধবার (১৭ জুন) বিকেলে এএসআই সঞ্জয় মিত্র ও তার স্ত্রী পপি মিত্রকে থানা হেফাজতে নেয় পুলিশ। বৃহস্পতিবার (১৮ জুন) সকালে মিলনের মা বাদী হয়ে মামলা দায়ের করলে তাদের দু’জনকে গ্রেপ্তার করা হয়।
এর আগে বুধবার দুপুরে তরকারি পুড়ে যাওয়ার কারণে গৃহকর্মী মিলনকে মারধর করে সোনাডাঙ্গা থানার এএসআই সঞ্জয় মিত্রের স্ত্রী পপি মিত্র। তার শরীরে গরম কড়াইয়ের ছেক্যাও দেন তিনি।
সোনাডাঙ্গা থানার অফিসার ইনচার্জ মো: রফিকুল ইসলাম জানান, নরসিংদী জেলার মনোহরদী উপজেলার নিশ্চিন্তপুর এলাকার বাসিন্দা উকিল চন্দ্রের মেয়ে মিলন চন্দ্র দাশ। গত ৫ বছর যাবত সোনাডাঙ্গা থানার এএসআই সঞ্জয় মিত্রের বাড়িতে গৃহপরিচারিকার কাজ করে আসছেন।
গত বুধবার (১৭ জুন) তরকারি পুড়ে যাওয়ার ঘটনাকে কেন্দ্র করে তাকে অমানুষিক নিযাতন করা হয়।
বিষয়টি জানাজানি হলে ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠিয়ে গৃহকর্মী মিলনকে উদ্ধার করে ভিকটিম সাপোর্ট সেন্টার আনা হয়। বিকেলে ওই পুলিশ কর্মকর্তাদের থানা হেফাজতে নেওয়া হয়।
রাতে গৃহকর্মী মিলনের পরিবারকে খবর দেওয়া হয়। তারা সকালে খুলনার সোনাডাঙ্গা থানায় আসেন এবং ভিকটিমের মা মিনতি রানী বাদী হয়ে থানায় মামলা দায়ের করেন।
তিনি আরও জানান, খুলনায় গৃহকর্মীর ওপর নির্যাতনের ঘটনার ভিডিও চিত্র সারদেশে আলোচনায় স্থান পায় এবং বিষয়টি দেখে মেয়েটি মা খুলনায় আসার উদ্যোগ নেয়।
তিনি আরও জানান, বুধবার (১৭ জুন) থেকে পুলিশ দম্পত্তি গৃহকর্মী সম্পর্কে আমাদের ভুল তথ্য দিয়ে বিভ্রান্তির মধ্যে ফেলতে থাকে। থানায় মামলা হয়েছে। তাদের দু’জনকে দুপুরের মধ্যে আদালতে প্রেরণ করা হয়েছে।
মানবাধিকার বাস্তবায়ন সংস্থা খুলনার সমন্বয়কারী আইনজীবী মোমিনুল ইসলাম বলেন, তারা দু জনই আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্য। তারা যে এ ধরণের অপরাধ করবে তা কোনোভাবে মেনে নেওয়া যায় না। ক্ষতিগ্রস্থ পরিবারকে সার্বিক সহায়তা প্রদান করা হবে বলে তিনি এ প্রতিবেদককে জানান।
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছেন, ‘জনগণের অর্থ কোনোভাবেই বিদেশে পাচার হতে দেওয়া হবে না; বরং তা জনগণের কল্যাণ ও জীবনমান উন্নয়নে ব্যয় করা হবে। অনেকেই নানা কথা ও বিভ্রান্ত ছড়াতে চায়। এরা বলে ফ্যামিলি কার্ড, কৃষক কার্ডের টাকা কোথা থেকে আসবে? আপনাদের সবাইকে সাক্ষী রেখে তাদের উদ্দেশে আমি বলতে চাই, বিগত এক যুগ ধরে জনগণের অর্থ এই দেশ থেকে পাচার হয়ে গিয়েছিল। আমরা জনগণের টাকা আর পাচার হতে দেব না।’ বুধবার (১৭ জুন) দুপুরে মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গল উপজেলার ভিক্টোরিয়া উচ্চবিদ্যালয় মাঠে ‘ফ্যামিলি কার্ড’ বিতরণ শেষে প্রধান অতিথির বক্তব্যে প্রধানমন্ত্রী এসব কথা বলেন।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘জনগণের টাকা দিয়ে জনগণের জন্য কাজ করা হবে। জনগণের অর্থ দিয়ে দেশের জন্য কাজ করা হবে, দেশের ভাগ্যের পরিবর্তনের জন্য কাজ করা হবে। কাজেই ইনশাআল্লাহ টাকার কোনো অভাব হবে না।’
তিনি বলেন, ‘যারা এই দেশ থেকে টাকা পাচার করেছে, যারা এ দেশ থেকে জনগণের অর্থ বিদেশে পাঠাতে চায়, আমরা আজ থেকে তাদের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান গ্রহণ করব। আমরা যদি সকলে চোখ-কান খোলা রাখি, তাহলে এ দেশের অর্থ কেউ বিদেশে পাচার করতে পারবে না। আমরা সকলে মিলে পরিশ্রম করব এবং সেই অর্থ দিয়ে দেশের মানুষের ভাগ্য পরিবর্তন করব।’
দেশের মানুষের ভাগ্য বদলে সরকারের উদ্যোগের সাথে সকলে আছেন কি না জানতে চাইলে উপস্থিত হাজার হাজার চা-শ্রমিকসহ শ্রীমঙ্গলের নারী-পুরুষরা সমস্বরে ‘হ্যাঁ’ সূচক জবাব দেন।
বিএনপিকে গণমানুষের দল উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘বিএনপি সবসময় জনগণের কাতারে ছিল, সে জন্যই বিএনপির সবচেয়ে বড় শক্তি জনগণের শক্তি। সে জন্যই বিএনপি সবসময় বলে থাকে জনগণই আমাদের সকল ক্ষমতার উৎস। যতবার ভোট দেওয়ার সুযোগ এসেছে দেশের মানুষ বিএনপিকে ভোট দিয়ে রাষ্ট্র ক্ষমতায় এনেছে।’
বেগম খালেদা জিয়াকে স্মরণ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আমরা দেখেছি বিভিন্ন সময়ে যখন দেশের জনগণ যখন ফুঁসে উঠেছিল গণতন্ত্র রক্ষা করার জন্য, তখন অনেক বড় রাজনৈতিক নেতারা এ দেশ ছেড়ে বিদেশে চলে গিয়েছিলেন। কিন্তু বেগম খালেদা জিয়া দেশের জনগণকে রেখে কোথাও যাননি। খালেদা জিয়া বলেছিল বাংলাদেশই হচ্ছে আমার প্রথম ঠিকানা, বাংলাদেশই হচ্ছে আমাদের আমার শেষ ঠিকানা।’
প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আমাদের একটাই কাজ বাংলাদেশের মানুষের ভাগ্যের পরিবর্তন করা। কাজেই আসুন এই দেশ আমাদেরই গড়তে হবে। এই দেশে আমাদের ২০ কোটি মানুষের ৪০ কোটি হাতকে শ্রমিকের হাতে রূপান্তরিত করতে হবে, তাহলেই আমরা এই বাংলাদেশের ভাগ্যের পরিবর্তন করতে পারব।’
বক্তব্যের শুরুতে উপস্থিত জনগণের উদ্দেশে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আমার জন্য আজকে একটা খুব আনন্দের দিন। কেন জানেন? আজকে থেকে কয়েক মাস আগে যখন নির্বাচনের প্রথম প্রচার অভিযান শুরু হয়, আমি সিলেটের পবিত্র মাটি থেকে সেই প্রচার অভিযান কাজ শুরু করেছিলাম এবং সেই দিনই সিলেটের জনসভা মঞ্চ থেকে বলেছিলাম, বিএনপি যদি সরকার গঠন করতে সক্ষম হয়, তাহলে আমরা আমাদের চা-বাগানে শ্রমিক হিসেবে যে সকল মায়েরা কাজ করে তাদের জন্য ফ্যামিলি কার্ড দেব।’
তারেক রহমান বলেন, ‘আজকে আল্লাহর কাছে আমি হাজারো শুকরিয়া জানাই, লক্ষ শুকরিয়া জানাই যে, আল্লাহ আমাকে সেই তৌফিক দিয়েছেন। আমি আমার কথা রাখতে পেরেছি। আমার সরকার আজকে চা-বাগানের শ্রমিকদের মধ্যে যারা নারীশ্রমিক আছেন, তাদের কাছে ফ্যামিলি কার্ড পৌঁছে দিয়েছে।’
আগামী এক বছরের মধ্যে প্রায় সকল নারীশ্রমিকের কাছে, চা-বাগানের সকলের কাছে ফ্যামিলি কার্ড পৌঁছে দেওয়ার কথা জানান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেন, ‘দেশকে যদি সামনের দিকে এগিয়ে নিয়ে যেতে হয় তাহলে সকলকে একসাথে আমাদের সহযোগিতা করতে হবে। সকলকে একসাথে কাজ করতে হবে। সে জন্য পুরুষদের পাশাপাশি আমরা যদি নারীদের সাহায্য করতে না পারি স্বাবলম্বী হওয়ার জন্য, তাহলে দেশকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়া সম্ভব নয়।’
তিনি বলেন, ‘সে জন্যই নারীদের স্বাবলম্বী করে গড়ে তোলার জন্য আমরা এই ফ্যামিলি কার্ডের কথা বলেছিলাম। বাংলাদেশে প্রায় ৪ কোটির মতো পরিবার রয়েছে। আমরা বলেছিলাম, আমরা যদি সরকার গঠন করতে সক্ষম হই তাহলে পর্যায়ক্রমিকভাবে সকল পরিবারের কাছে ফ্যামিলি কার্ড পৌঁছে দেব, বিশেষ করে নারীপ্রধানদের কাছে। আমরা নির্বাচন হওয়ার সাথে সাথে এক মাসেরও কম সময়ের ভেতরে আমাদের এই প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নের কাজ শুরু করেছিলাম।’
প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আজকে ফ্যামিলি কার্ড দেওয়ার পাশাপাশি চা-বাগানের নারীশ্রমিকদের ঘর প্রদানের জন্য ২ লাখ টাকা করে দিয়েছি। এখানে স্টেজের মধ্যে তিনজনের হাতে সেই ২ লাখ টাকার চেক তুলে দিয়েছি আর প্রশাসনের মাধ্যমে বাকিদের কাছে ইনশাআল্লাহ আমরা সেই টাকা পৌঁছে দেব।’
সকলের প্রতি আহ্বান জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আসুন তাহলে আজকের এই আনন্দের দিনে আমাদের প্রতিজ্ঞা হবে আমাদের প্রতিশ্রুতি হবে একটাই করব কাজ গড়ব দেশ, সবার আগে বাংলাদেশ সবার জন্য বাংলাদেশ।’ বক্তব্য শেষে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান সেখানে একটি জাম ও কৃষ্ণচূড়া গাছের চারা রোপণ করেন।
অনুষ্ঠানে ১০ জন নারীর হাতে সরাসরি ফ্যামিলি কার্ড তুলে দেন প্রধানমন্ত্রী। পরে কম্পিউটারে বাটন চেপে ফ্যামিলি কার্ড তৃতীয় পর্যায় কর্মসূচির উদ্বোধন করেন তিনি। একই সঙ্গে চা-শ্রমিক আবাসন সমস্যা সমাধানে শ্রমিকদের দুই লাখ টাকা করে অনুদান, চা-শ্রমিকদের সন্তানদের জন্য বৃত্তি প্রদান, প্রতিবন্ধীদের জন্য আর্থিক অনুদানের চেকও প্রদান করেন প্রধানমন্ত্রী।
সমাজকল্যাণ এবং মহিলা ও শিশুবিষয়ক মন্ত্রী অধ্যাপক এজেডএম জাহিদ হোসেনের সভাপতিত্বে সমাজকল্যাণ প্রতিমন্ত্রী ফারজানা শারমীন, মৌলভীবাজার জেলা কমিটির আহ্বায়ক ফয়জুল করিম নয়ন, মৌলভীবাজার-৪ আসনের সংসদ সদস্য মজিবুর রহমান চৌধুরী, সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্তি সচিব কামাল উদ্দিন বিশ্বাস এবং ফ্যামিলি কার্ড পাওয়া নারীদের মধ্যে শিউলী রানি দাস ও ওয়াজেদা বেগম বক্তব্য রাখেন। ২০ বছরের অধিক সময় পরে তারেক রহমান শ্রীমঙ্গলে আসলেন।
একই দিনে মৌলভীবাজার সরকারি উচ্চবিদ্যালয় মাঠে ফ্যামিলি কার্ড বিতরণ অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছেন, ‘এই দেশের মালিক হচ্ছে জনগণ। দেশের মানুষ যদি সতর্ক থাকে তাহলে আমাদের আর কোনো চিন্তা করতে হবে না, দেশ এগিয়ে যাবে। তাই আজ আমি জনগণের হাতেই এই দেশের নিরাপত্তা, উন্নয়ন ও ভবিষ্যৎ সঁপে দিয়ে গেলাম।’ এই অনুষ্ঠান থেকে সারাদেশে একযোগে ফ্যামিলি কার্ড বিতরণ কর্মসূচির তৃতীয় পর্যায়ের উদ্বোধন করেন প্রধানমন্ত্রী।
তিনি বলেন, ‘বিগত এক যুগেরও বেশি সময় ধরে অবরুদ্ধ থাকা মানুষের ভোট, ভাত ও কথা বলার স্বাধীনতা পুনরুদ্ধারের পর বাংলাদেশ এখন এক নতুন অধ্যায়ে পদার্পণ করেছে। ২০২৪ সালের ছাত্র-জনতার অভূতপূর্ব রক্তক্ষয়ী গণঅভ্যুত্থান এবং বীর শহীদদের তাজা রক্তের বিনিময়ে অর্জিত হয়েছে এই দ্বিতীয় স্বাধীনতা। ৫ আগস্ট দেশের মানুষ বুক টান করে দাঁড়িয়ে স্বৈরাচারী শাসনকে চিরতরে বিদায় করেছে। স্বৈরাচারের সেই কালিমালিপ্ত অধ্যায় পেরিয়ে দেশের মানুষ এখন চায় স্থিতিশীলতা, শান্তি, কর্মসংস্থান, উন্নত চিকিৎসা এবং শিক্ষার সমান সুযোগ।’
তারেক রহমান বলেন, ‘দেশের ভাগ্য পরিবর্তন করতে হলে সবাইকে পরিশ্রম করতে হবে। সরকারের পাশাপাশি জনগণকেও দায়িত্ব পালন করতে হবে। কারণ জনগণকে নিয়েই বাংলাদেশ। ২০ কোটি মানুষের ৪০ কোটি হাত অলস হয়ে পড়ে থাকলে দেশ এগিয়ে নেওয়া যাবে না। দেশকে সামনে এগিয়ে নিতে হলে সকলকে হাতে হাত রেখে কাজ করতে হবে।’
দেশে বাক-স্বাধীনতা ফিরে এসেছে জানিয়ে তিনি বলেন, ‘আজকে যে কেউ সরকারের বিরুদ্ধেও নির্দিধায় বলতে পারে। সংবাদপত্র সরকারের বিরুদ্ধেও লেখতে পারে। আজকে গণতন্ত্র, বাক ও ব্যক্তির স্বাধীনতা প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। একারণেই আজ আমরা জনগণের জন্য কাজ করতে পারছি।’
সরকারের বিভিন্ন উদ্যোগের কথা উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমরা সরকার গঠনের এক সপ্তাহের মধ্যে ১২ লাখ কৃষকের ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত ঋণ মওকুফ করেছি। আগামী এক বছরে প্রতিটি উপজেলায় অন্তত ৮ হাজার নারীকে ফ্যামিলি কার্ড প্রদান করা হবে। এক বছরের মধ্যে ৪০ লাখ কৃষকদের মধ্যে কৃষক কার্ড প্রদান করা হবে। উপজেলা হাসপাতালে কিডনি ডায়ালেসিসের মেশিন নিয়ে আসা হবে। সব উপজেলা হাসপাতালকে ১০০ শয্যায় উন্নীত করা হবে। আজকে আমরা একসাথে ফ্যামিলি কার্ড বিতরণ, দুস্থদের ঘর নির্মাণের টাকা প্রদান, দরিদ্র শিক্ষার্থীদের শিক্ষা বৃত্তি ও অসুস্থদের চিকিৎসা সহায়তা প্রদান করেছি।’
তারেক রহমান বলেন, ‘১২ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত আমরা একটা দল ছিলাম। কিন্তু আমরা যখন সরকার গঠন করেছি তখন আমরা সব মানুষের সরকার। যারা ভোট দিয়েছে, যারা ভোট দেয়নি সবার সরকার। আমরা সব মানুষের জন্য কাজ রতে চাই। বিএনপি সরকার সব জনগণের কল্যাণে কাজ করতে চায়।’
বিরোধী দলের সমালোচনা করে তিনি বলেন, ‘অতীতে দেখেছি, যখন দেশ এগিয়ে চলে, অর্থনীতি ও শান্তিশৃঙ্খলা স্থিতিশীল থাকে তখনই দেশে অরাজকতা সৃষ্টি করা হয়েছে। অতীতে বিএনপির বিরুদ্ধে একত্র হয়ে যারা আন্দোলন খেলা করেছিল, তারা আজকে আবার বলছে, এই সরকারকে একদিনও সময় দেওয়া যাবে না।’
প্রধানমন্ত্রী প্রশ্ন রেখে বলেন, ‘যারা বলে সরকারকে সময় দেওয়া যাবে না, তারা কি জনগণের স্বার্থে কথা বলছে না নিজেদের স্বার্থে কথা বলছে? তারা নিজেদের স্বার্থে কথা বলছে।’
তিনি বলেন, ‘আমাদের শক্তির উৎস জনগণ। আমরা জনগণকে নিয়ে রাজনীতি করি। জনগণ সিদ্ধান্ত নিয়েছে বিএনপি আগামী ৫ বছর দেশ পরিচালনা করবে। যারা বলে বিএনপিকে সময় দেওয়া যাবে না, তাদের বিরুদ্ধে কী করা উচিত? মনে আছে তো একাত্তরে তারা কী করেছিল? ৮৬ সালে কী করেছিল? গত এক যুগ আন্দোলনেও তাদের পাওয়া যায়নি। এই সময়ে যারা শহীদ হয়েছে, জেল খেটেছে তারা সবাই বিএনপির কর্মী।’
সমাজকল্যাণমন্ত্রী ডা. এজেএমএম জাহিদ হোসেনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেন প্রবাসীকল্যাণমন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী ও স্থানীয় সংসদ সদস্য এম. নাসের রহমান প্রমুখ। ভিডিওকনফারেন্সে যুক্ত হয়ে বক্তব্য দেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায়।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ জানিয়েছেন, বর্তমানে দেশের ৭৫টি কারাগারে ধারণক্ষমতার ১ দশমিক ৭ গুণ বন্দি আটক রয়েছে।
সংসদে কুমিল্লা-৪ আসনের এনসিপি দলীয় সংসদ সদস্য হাসনাত আব্দুল্লাহর টেবিলে উত্থাপিত তারকা চিহ্নিত প্রশ্নের জবাবে বুধবার (১৭ জুন) এ তথ্য জানান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী।
মন্ত্রী বলেন, ‘৭ জুন পর্যন্ত প্রাপ্তি তথ্যানুযায়ী, বর্তমানে দেশের ৭৫টি কারাগারে সর্বমোট অনুমোদিত ধারণক্ষমতা ৪৫ হাজার ১৩৬ (পুরুষ ৪৩ হাজার ১০৭+ নারী ২ হাজার ২৯) জনের বিপরীতে বর্তমানে ৭৭ হাজার ৪০ জন (পুরুষ ৭৪ হাজার ৩৬+ নারী ২ হাজার ৭৭) জন বন্দি আটক আছে, যা ধারণক্ষমতার ১ দশমিক ৭ গুণ।’
তিনি বলেন, ‘ধারণক্ষমতার অতিরিক্ত বন্দি আটক থাকায় কিছু কিছু কারাগারে বন্দিদের আবাসন সমস্যা বিরাজ করছে। বন্দি আবাসন সমস্যা সমাধানের জন্য ইতোমধ্যে বিশেষ কেন্দ্রীয় কারাগার, কেরানীগঞ্জ, সিলেট কেন্দ্রীয় কারাগার-২, ফেনী জেলা কারাগার-২ এবং খুলনা জেলা কারাগার-২ চালু করা হয়েছে এবং কিশোরগঞ্জ জেলা কারাগার-২, মাদারীপুর জেলা কারাগার-২, পিরোজপুর জেলা কারাগার-২ শিগগিরই চালু করা হবে।’
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জানান, ময়মনসিংহ, কুমিল্লা, জামালপুর কারাগার পুনর্নির্মাণ এবং নরসিংদীতে নতুন কারাগার নির্মাণকাজ চলমান রয়েছে। উল্লিখিত চারটি কারাগারের নির্মাণ পুনর্নির্মাণ কাজ সম্পন্ন হলে বন্দি ধারণক্ষমতা আরও ২ হাজার ৯৫৫ জন বৃদ্ধি পেয়ে সর্বমোট ৪৮ হাজার ১৩১ জনে উন্নীত হবে।
এ ছাড়া রাজশাহী, রংপুর, নোয়াখালী, রাঙামাটি, খাগড়াছড়ি কারাগার পুনর্নির্মাণ প্রকল্প গ্রহণ করা হয়েছে; যা বাস্তবায়িত হলে ধারণক্ষমতা আরও বৃদ্ধি পাবে।
দেশের অন্যতম বৃহৎ আম উৎপাদনকারী জেলা নওগাঁয় চলতি মৌসুমে গত ২ মে থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে আম পাড়া শুরু হয়েছে। ইতোমধ্যে জেলার বিভিন্ন হাট-বাজারে উঠতে শুরু করেছে নানা জাতের সুস্বাদু আম। গুটি, নাগ ফজলি, হিমসাগর, আম্রপালি, ব্যানানা ম্যাংগোসহ বিভিন্ন জাতের আমে সরগরম হয়ে উঠেছে বাজার। ক্রেতারাও নিজেদের পছন্দ ও সামর্থ্য অনুযায়ী আম কিনছেন। তবে মৌসুমের শুরুতে বাজারে কিছুটা মন্দাভাব বিরাজ করায় আশানুরূপ দাম না পেয়ে হতাশ অনেক চাষি।
নওগাঁর বিস্তীর্ণ আমবাগান ঘিরে প্রতি বছরের মতো এবারও কৃষক, ব্যবসায়ী ও শ্রমিকদের মধ্যে প্রাণচাঞ্চল্য ফিরে এসেছে। তবে উৎপাদন ব্যয় বৃদ্ধি ও বাজারে দামের অস্থিরতা নিয়ে শঙ্কা রয়েই গেছে। সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, রপ্তানির পরিধি বাড়ানো এবং আম প্রক্রিয়াজাত শিল্প গড়ে তোলা গেলে দেশের এই বৃহৎ আম উৎপাদন অঞ্চলের কৃষকরা আরও ন্যায্যমূল্য পাবেন এবং আম অর্থনীতিতে নতুন সম্ভাবনার দুয়ার উন্মোচিত হবে।
আম ব্যবসায়ী ও চাষিদের আশা, আগামী কয়েক দিনের মধ্যে দেশের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে পাইকারি ব্যবসায়ীরা নওগাঁর মোকামগুলোতে আসতে শুরু করলে বাজারে চাহিদা বাড়বে এবং আমের দামও বৃদ্ধি পাবে।
জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের তথ্যানুযায়ী, ২০১৫ সালে নওগাঁ জেলায় আমের আবাদ ছিল মাত্র ৬ হাজার ২৬৮ হেক্টর জমিতে। এক দশকের ব্যবধানে সেই চিত্র বদলে গেছে। চলতি মৌসুমে জেলায় ৩০ হাজার ৩১০ হেক্টর জমিতে আমের বাগান রয়েছে। এসব বাগান থেকে প্রায় ৪ লাখ ২২ হাজার টন আম উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে।
এ ছাড়া রপ্তানিযোগ্য আম উৎপাদনের লক্ষ্যে জেলার ১৮৬ হেক্টর জমিতে আম্রপালি, ব্যানানা ম্যাংগো ও গৌড়মতি জাতের প্রায় ১ কোটি ১১ লাখ ৫১ হাজার ৫০০টি আমে ফ্রুট ব্যাগিং করা হয়েছে। গত বছর জেলার সাপাহার ও পোরশা উপজেলা থেকে বিভিন্ন রপ্তানিকারকের মাধ্যমে ২৮৪ টন আম্রপালি, খিরসাপাত ও ব্যানানা ম্যাংগো মধ্যপ্রাচ্য ও ইউরোপের বিভিন্ন দেশে রপ্তানি হয়েছিল।
চাষিদের হিসাবে, এক বিঘা মাঝারি আকারের বাগান থেকে সাধারণত ৪০ থেকে ৫০ মণ আম উৎপাদন হয়। বর্তমানে জমির ইজারা, সার, কীটনাশক, শ্রমিক, পরিবহন ও প্যাকেজিংসহ বিভিন্ন খরচ বেড়ে যাওয়ায় প্রতি কেজি আম মোকামে পৌঁছাতে গড়ে প্রায় ৩২ থেকে ৩৪ টাকা ব্যয় হচ্ছে। সে হিসেবে প্রতি মণ আম ১ হাজার ৫০০ টাকার নিচে বিক্রি হলে অনেক ক্ষেত্রেই চাষিদের লোকসানের মুখে পড়তে হয়।
নওগাঁর সাপাহারে দেশের অন্যতম বৃহৎ আমের হাটে বর্তমানে হিমসাগর আম প্রতি মণ ৯০০ থেকে ১ হাজার টাকা, নাগ ফজলি ১ হাজার ২০০ থেকে ১ হাজার ৫০০ টাকা, গুটি আম ১ হাজার ২০০ টাকা, আম্রপালি ১ হাজার থেকে ২ হাজার টাকা এবং ল্যাংড়া জাতের আম প্রায় ১ হাজার টাকা মণ দরে বিক্রি হচ্ছে। বর্তমান বাজারদরে অধিকাংশ চাষিই প্রত্যাশিত লাভ পাচ্ছেন না বলে জানিয়েছেন।
সাপাহার উপজেলার পাকুড়ডাঙ্গা গ্রামের আমচাষি মাহবুবুর রহমান বলেন, ‘দুই বিঘা জমিতে আম্রপালির বাগান করেছি। প্রতি বিঘায় সার, সেচ, কীটনাশক, শ্রমিক, পরিচর্যা ও আম সংগ্রহসহ প্রায় ৭০ থেকে ৮০ হাজার টাকা খরচ হয়েছে। প্রতি বিঘা থেকে ৫০ থেকে ৬০ মণ আম পাওয়ার আশা করছি। বর্তমান দরে বিক্রি করলে বিঘাপ্রতি ৫০ থেকে ৬০ হাজার টাকা লাভ হতে পারে।
একই উপজেলার সরদারপাড়া এলাকার চাষি আনিছুর রহমান বলেন, ‘এ বছর গাছে আমের পরিমাণ তুলনামূলক কম। গত বছর মৌসুমের শুরুতে আম্রপালি ১ হাজার ৫০০ থেকে সাড়ে ৩ হাজার টাকা মণ দরে বিক্রি করেছি। এ বছর দাম কিছুটা কম। ৩ হাজার টাকার নিচে আম্রপালি বিক্রি হলে উৎপাদন খরচ তুলতে কষ্ট হবে।’
বদলগাছী উপজেলার আমচাষি মোস্তাকিম বলেন, ‘তিন বিঘা জমিতে নাগ ফজলি চাষ করেছি। প্রতি বিঘায় ৬০ থেকে ৭০ হাজার টাকা খরচ হয়েছে। ৪০ থেকে ৫০ মণ আম পাওয়ার আশা করছি। বর্তমান বাজারদরে খুব বেশি লাভ নেই। তবে মৌসুমের শেষ দিকে দাম বাড়লে কিছুটা ভালো লাভ পাওয়া যাবে। রপ্তানি বাড়ানো গেলে চাষিরা আরও বেশি উপকৃত হবেন।’
সাপাহার উপজেলা আম আড়তদার সমিতির সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ ইমাম হোসেন বলেন, ‘সাপাহারের আমের হাটে প্রতি মৌসুমে প্রায় ৬ থেকে ৭ হাজার কোটি টাকার আম কেনাবেচা হয়। কিন্তু বর্তমানে সার, কীটনাশক, জমির ইজারা, শ্রমিক ও পরিবহন ব্যয় অনেক বেড়েছে। ফলে বর্তমান বাজারদরে চাষিরা কাঙ্ক্ষিত মুনাফা পাচ্ছেন না। কৃষকদের স্বার্থ রক্ষায় সরকারের আরও কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া প্রয়োজন।’
নওগাঁ কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক মোছা. হোমায়রা মণ্ডল বলেন, ‘আমের রপ্তানি বৃদ্ধি এবং আমভিত্তিক শিল্প গড়ে তোলা গেলে কৃষকরা আরও লাভবান হবেন। বর্তমানে সীমিত পরিসরে হলেও কিছু রপ্তানিকারক সরাসরি বাগানিদের সঙ্গে কাজ করছেন। ফ্রুট ব্যাগিং করা আম বিদেশে রপ্তানির ক্ষেত্রে বেশি গ্রহণযোগ্য হওয়ায় এসব আমের দামও ভালো পাওয়া যাচ্ছে। উত্তম কৃষি চর্চার মাধ্যমে নিরাপদ ও মানসম্পন্ন আম উৎপাদনে কৃষকদের আগ্রহ দিন দিন বাড়ছে।’
জামালপুরে স্ত্রীকে আগুনে পুড়িয়ে হত্যার দায়ে স্বামীকে মৃত্যুদণ্ড। অপর এক মাদ্রাসা শিক্ষার্থীকে ধর্ষণের অপরাধে একজনকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড প্রদান করেছে আদালত।
বুধবার (১৭ জুন) দুপুরে জামালপুর নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল-১ এর বিচারক মুহাম্মদ আব্দুর রহিম এ রায় ঘোষণা করেন।
মৃত্যুদণ্ডের আদেশপ্রাপ্তরা হলেন, আলাল সেক (৫৩) দেওয়ানগঞ্জ উপজেলার দক্ষিণ রহিমপুর গ্রামের মো. মজর উদ্দিনের ছেলে। অপর যাবজ্জীবন কারাদণ্ডপ্রাপ্ত রাজীব হোসেন (৩৮) একই উপজেলার বাঘারচর গ্রামের জসিজল হকের ছেলে।
রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী ফজলুল হক জানান, দেওয়ানগঞ্জ উপজেলার দক্ষিণ রহিমপুর গ্রামে ২০০৮ সালের ২৬ মে আলাল সেক তার স্ত্রী নাইফুল বেগমকে যৌতুকের দাবিতে মারধর করে পরে আগুনে পুড়িয়ে হত্যা করে।
এ ঘটনায় নিহতের বাবা আব্দুল খালেক আদালতে মামলা দায়ের করেন। মামলায় ৯ জন সাক্ষীর সাক্ষ্য গ্রহণ শেষে বুধবার (১৭ জুন) রায় ঘোষণা করেন বিচারক। আসামি আলাল সেক পলাতক থাকায় তার অনুপস্থিতিতেই রায় দেওয়া হয়। রায়ে আলাল সেককে মৃত্যুদণ্ড ও ৫ লাখ টাকা অর্থদণ্ড প্রদান করা হয়। তবে এ মামলায় আসামি পক্ষের কোনো আইনজীবী উপস্থিত ছিলেন না।
এদিকে দশম শ্রেণিতে পড়ুয়া মাদ্রাসা শিক্ষার্থীকে ধর্ষণ মামলায় রাজীব হোসেন নামে একজনকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড ও ৫ লাখ টাকা অর্থদণ্ড প্রদান করেছে একই আদালত।
মামলায় রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী ফজলুল হক জানান, ২০১৫ সালের ৭ জুন গভীর রাতে দেওয়ানগঞ্জ উপজেলার বাঘারচর গ্রামের এক মাদ্রাসা শিক্ষার্থীর মুখ চেপে ধরে জোরপূর্বক ধর্ষণ করে প্রতিবেশী রাজিব। ধর্ষণের শিকার শিক্ষার্থীর ডাক-চিৎকারে পরিবার ও স্বজনরা উপস্থিত হলে রাজীব হোসেন হাতেনাতে ধরা পরে। কিন্তু সে তাদের ধস্তাধস্তি করে পালিয়ে যায়।
এ ঘটনায় নির্যাতনের শিকার ওই শিক্ষার্থী দেওয়ানগঞ্জ থানায় মামলা দায়ের করেন। মামলায় ৬ জন সাক্ষীর সাক্ষ্য গ্রহণ শেষে গতকাল বুধবার আসামি রাজীব হোসেনের উপস্থিতিতেই রায় ঘোষণা করে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল-১ এর বিচারক মুহাম্মদ আব্দুর রহিম। রায়ে তাকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড ও ৫ লাখ টাকা অর্থদণ্ড প্রদান করা হয়।
ঢাকায় নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত ব্রেন্ট ক্রিস্টেনসেন চাঁপাইনবাবগঞ্জের শিবগঞ্জ উপজেলার ঐতিহাসিক ও প্রত্নতাত্ত্বিক নিদর্শন পরিদর্শন করেছেন।
বুধবার (১৭ জুন) সকালে তিনি প্রাচীন গৌড়ের বিভিন্ন প্রত্নস্থল ঘুরে দেখার পাশাপাশি ঐতিহ্যবাহী সোনামসজিদ ও সোনামসজিদ স্থলবন্দর পরিদর্শন করেন।
সফরকালে রাষ্ট্রদূত ব্রেন্ট ক্রিস্টেনসেন সোনামসজিদ স্থলবন্দর ও ইমিগ্রেশন কার্যক্রম পর্যবেক্ষণ করেন। এ ছাড়া সোনামসজিদ সীমান্ত ফাঁড়িতে (বিওপি) দায়িত্ব পালনরত বর্ডার গার্ড বাংলাদেশের (বিজিবি) সদস্যদের সঙ্গে মতবিনিময় করেন।
এ সময় তিনি সীমান্ত ব্যবস্থাপনা, নিরাপত্তা কার্যক্রম এবং স্থলবন্দরের কার্যক্রম সম্পর্কে খোঁজখবর নেন।
প্রাচীন গৌড়ের ঐতিহাসিক স্থাপনাগুলো পরিদর্শনের সময় রাষ্ট্রদূতকে বিভিন্ন স্থাপনার ছবি তুলতে দেখা যায়। তিনি এলাকার সমৃদ্ধ ইতিহাস ও সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য সম্পর্কে আগ্রহ প্রকাশ করেন বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।
সফরকালে রাজশাহী রেঞ্জের ডিআইজি মোহাম্মদ শাহজাহান, ৫৯ বিজিবি মহানন্দা ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মোহাম্মদ তাজুল ইসলাম চৌধুরী এবং শিবগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মাজহারুল ইসলামসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
সংবাদপত্রের স্বাধীনতা, গণতন্ত্র ও মুক্ত সাংবাদিকতার গুরুত্ব তুলে ধরে মাগুরায় ‘সংবাদপত্রের কালো দিবস’ উপলক্ষে এক আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। গত মঙ্গলবার (১৬ জুন) সন্ধ্যায় মাগুরা প্রেসক্লাবের উদ্যোগে প্রেসক্লাব মিলনায়তনে এ সভার আয়োজন করা হয়।
মাগুরা প্রেসক্লাবের সভাপতি অধ্যাপক সাইদুর রহমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভায় স্বাগত বক্তব্য দেন প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক শফিকুল ইসলাম শফিক। প্রেসক্লাবের দপ্তর সম্পাদক শেখ ইলিয়াস মিথুনের সঞ্চালনায় বক্তব্য রাখেন, সাংবাদিক সঞ্জয় রায় চৌধুরী, মাসুম বিল্লাহ কলিন্স, শাহিন আলম তুহিন, ইমরান হোসেন, শিউলি আফরোজ সাথী, আলিমুজ্জামান উজ্জ্বল, ফয়সাল পারভেজ, জয়ন্ত জোয়ার্দার, শরীফ স্বাধীন, নাঈমুর রহমান, সুজন মাহামুদ, শাহিনুর রহমান ও তৌহিদুল ইসলাম প্রমুখ।
আলোচনা সভায় বক্তারা বলেন, ‘১৯৭৫ সালের ১৬ জুন তৎকালীন সরকার মাত্র চারটি সংবাদপত্র রেখে সব সংবাদপত্র বন্ধ করে দেয়। ফলে বহু সাংবাদিক, কর্মকর্তা ও কর্মচারী কর্মহীন হয়ে পড়েন এবং সংবাদপত্রের স্বাধীনতা ও মতপ্রকাশের অধিকার মারাত্মকভাবে ক্ষুণ্ণ হয়। ইতিহাসের সেই ঘটনাকে স্মরণ করে দেশের সাংবাদিক সমাজ প্রতি বছর ১৬ জুনকে ‘সংবাদপত্রের কালো দিবস’ হিসেবে পালন করে আসছে।’
বক্তারা আরও বলেন, ‘একটি স্বাধীন ও দায়িত্বশীল গণমাধ্যম গণতন্ত্রের অন্যতম ভিত্তি। রাষ্ট্র ও সমাজের জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে সংবাদপত্রের স্বাধীনতা রক্ষা করা অত্যন্ত জরুরি।’ অতীতের সে দুঃখজনক ঘটনার শিক্ষা নিয়ে গণমাধ্যমের স্বাধীনতা ও পেশাগত নিরাপত্তা নিশ্চিত করার আহ্বান জানান বক্তারা।
সভায় মাগুরা প্রেসক্লাবের প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক মিডিয়ায় কর্মরত সাংবাদিকরা উপস্থিত ছিলেন।
অনুষ্ঠান শেষে সংবাদপত্রের স্বাধীনতা ও সাংবাদিকদের অধিকার রক্ষায় ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার প্রত্যয় ব্যক্ত করা হয়।
ধর্ষক ও মাদক ব্যবসায়ীদের কোনো রাজনৈতিক পরিচয় থাকতে পারে না উল্লেখ করে আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রী আসাদুজ্জামান জানিয়েছেন, এসব অপরাধীর পক্ষে কেউ সুপারিশ করতে এলে তাকেও আইনের আওতায় আনা হবে। বুধবার (১৭ জুন) দুপুরে ঝিনাইদহ জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে আয়োজিত এক মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কঠোর অবস্থান ব্যক্ত করেন।
মাদক ও ধর্ষণের বিষয়ে সরকারের ‘জিরো টলারেন্স’ নীতির কথা পুনর্ব্যক্ত করে মন্ত্রী বলেন, “ধর্ষক বা মাদক ব্যবসায়ীরা কোনো রাজনৈতিক দলের সম্পদ হতে পারে না।” রাজনৈতিক নেতাদের সতর্ক করে তিনি আরও যোগ করেন, “এদের দমনে যদি কোনো রাজনৈতিক নেতা তদবির করেন, তবে সেই নেতাসহ তাদের একই মামলায় জড়িয়ে হাজতে পাঠানো হবে। আমার নিজের দলের নেতা হলেও রেহাই পাবেন না।” দুর্নীতির বিরুদ্ধে সরকারের কঠোর নজরদারির কথা উল্লেখ করে তিনি জানান যে, রাষ্ট্রের শত চোখ ফাঁকি দিয়ে পার পাওয়া এখন অসম্ভব।
প্রশাসনের দক্ষতা ও স্বচ্ছতা বৃদ্ধির ওপর গুরুত্বারোপ করে মন্ত্রী বলেন, প্রধানমন্ত্রী নিজে সকাল ৯টায় অফিস করলেও অনেক জেলা-উপজেলায় কর্মকর্তারা সময়মতো উপস্থিত হন না, যা অনভিপ্রেত। তিনি স্পষ্ট জানান যে, শূন্যপদে নিয়োগের ক্ষেত্রে কেবল মেধাকেই প্রাধান্য দেওয়া হবে এবং কোনো রাজনৈতিক তদবির সেখানে গ্রাহ্য হবে না। বিগত সময়ের মেগা প্রজেক্টগুলোতে অর্থ লোপাটের উদাহরণ টেনে তিনি বলেন, পৌনে চার কিলোমিটার রাস্তা নির্মাণে অবিশ্বাস্যভাবে ব্যয় বাড়িয়ে দেখানোর মতো দুর্নীতির প্রমাণ মেলায় বর্তমান সরকার অনেক প্রকল্প স্থগিত করে নতুনভাবে মূল্যায়ন করছে।
মাদক চোরাচালানে ড্রোনের মতো আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার এবং আইনি ফাঁকফোকর গলিয়ে জামিন পাওয়ার প্রবণতা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেন মন্ত্রী। তিনি মাদক ব্যবসায়ীদের দমনে আরও কঠোর আইনি ব্যবস্থার ইঙ্গিত দেওয়ার পাশাপাশি ঝিনাইদহ জেলা প্রশাসনের সৌর বিদ্যুৎ ব্যবহারের মডেলটি সারা দেশে ছড়িয়ে দেওয়ার পরিকল্পনার কথা জানান। বাজেট নিয়ে বিরোধীদের সমালোচনার জবাবে তিনি মন্তব্য করেন যে, দেশ ও জনগণের স্বার্থ রক্ষাকারী এই বাজেটের বিরোধিতা কেবল বিরোধিতার খাতিরেই করা হচ্ছে। এর আগে মন্ত্রী ঝিনাইদহ পৌর এলাকায় নির্মিত একটি অত্যাধুনিক কসাইখানা এবং শৈলকূপায় ফ্যামিলি কার্ড বিতরণ কর্মসূচির আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন।