আরিফুজ্জামান তুহিন
আন্তর্জাতিক বাজরে জ্বালানি তেল ও আমদানি করা এলএনজির দাম বেড়ে যাওয়ায় বিদ্যুৎ উপাদন কমিয়ে পরিকল্পিত লোডশেডিং শুরু করে বিদ্যুৎ বিভাগ। তখন সরকারের পক্ষ থেকে বলা হয়েছিল অক্টোবর মাস থেকে লোডশেডিং থাকবে না। অথচ গত টানা তিন দিন ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন এলাকা তীব্র লোডশেডিংয়ের মধ্যে পড়েছে। লোডশেডিংয়ের ক্ষেত্রে কোনো সময়সূচি মানা হচ্ছে না। রাত ৩টার দিকেও বিদ্যুৎ চলে যাচ্ছে।
বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের (পিডিবি) প্রকৌশলী ও সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, বিদ্যুতের চাহিদার তুলনায় সরবরাহ গড়ে ২৫ থেকে ৩০ শতাংশ কম। এটা খুব সহজে সমাধানের সম্ভাবনা কম। তাই তারা মনে করছেন, শীতের আগে লোডশেডিং যাবে না। কারণ, শীত শুরু হলে শীতাতপ নিয়ন্ত্রণ যন্ত্র (এসি) ও ফ্যানের ব্যবহার বন্ধ হবে, কমে যাবে লোডশেডিং।
রাজধানীর ধানমন্ডি এলাকায় দিন ও রাত মিলিয়ে গত তিন দিন অন্তত ছয়বার করে বিদ্যুৎ গেছে। মধ্যরাতেও বিদ্যুৎ যাওয়ার ঘটনা ঘটেছে। শুক্রবার রাত তিনটায় মিরপুর এলাকায় বিদ্যুৎ চলে যায়। আর তেজগাঁও এলাকায় দফায় দফায় বিদ্যুৎ থাকছে না। রাজধানীর বিভিন্ন এলাকার চিত্রও একই।
অন্যদিকে শিল্প এলাকাগুলোতে বিদ্যুতের জন্য হাহাকার শিল্প মালিকদের। বিদ্যুৎ রেশনিং প্রক্রিয়ার জন্য সপ্তাহে এক দিন বন্ধ রাখার পরও খোলার দিনে ৫ থেকে ৬ ঘণ্টা লোডশেডিং থাকছে। ফলে উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রা পূরণ কঠিন হয়ে পড়েছে তাদের জন্য।
গত ১৯ জুলাই থেকে পরিকল্পিত লোডশেডিং শুরুর সময় সরকারের পক্ষ থেকে বলা হয়েছিল, এতে অন্তত দেড় হাজার মেগাওয়াট বিদ্যুৎ সাশ্রয় হবে। আর সেটা সারা দেশে পরিকল্পনা করে ভাগ করে দেয়া হবে। কিন্তু এই পরিকল্পিত লোডশেডিং অক্টোবরে এসে একদমই ভেঙে পড়েছে।
বিদ্যুৎ বিতরণ কোম্পানির ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা দৈনিক বাংলাকে বলেছেন, ‘এখন লোডশেডিং হচ্ছে মোট চাহিদার গড়ে ২০ শতাংশ। দেশে বিদ্যুতের মোট উৎপাদন ক্ষমতা ২২ হাজার ৫১২ মেগাওয়াট। গড়ে দিনে ও রাতে প্রতি ঘণ্টায় উৎপাদন হচ্ছে ৮ থেকে সাড়ে ৮ হাজার মেগাওয়াট। এর এ সময় প্রকৃত চাহিদা গড়ে ১০ হাজার ৫০০ থেকে ১১ হাজার মেগাওয়াট।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে পিডিবির উৎপাদনের দায়িত্বে থাকা কোম্পানি অ্যাফেয়ার্স সদস্য মো. নাজমুল হক গতকাল শনিবার দৈনিক বাংলাকে বলেন, গত কয়েক দিনে বিদ্যুতের উৎপাদন কমেছে। একটি ট্রিপ বা বিপর্যয়ের পরে আমরা এখন বেশ সতর্ক। সে কারণে সব বিদ্যুৎকেন্দ্র চালানো যাচ্ছে না। আবার চাহিদাও গরমের কারণে বেড়েছে। সব মিলিয়ে চাহিদার সঙ্গে সরবরাহের একটা গ্যাপ তৈরি হয়েছে।
কবে নাগাদ লোডশেডিং কমবে এবং উৎপাদন বাড়বে সে ব্যাপারে তিনি কিছু বলতে পারেননি।
ঢাকার উত্তরাঞ্চলে বিদ্যুৎ সরবরাহ করে ঢাকা ইলেকট্রিক সাপ্লাই কোম্পানি লিমিটেড (ডেসকো)। এই অঞ্চলে চাহিদার তুলনায় ঘাটতি ২০ শতাংশের মতো। ঢাকার দক্ষিণাঞ্চল ও নারায়ণগঞ্জে বিদ্যুৎ সরবরাহ করে ঢাকা পাওয়ার ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানি লিমিটেড (ডিপিডিসি)। এই অঞ্চলে বিদ্যুতের ঘাটতি আছে ২৫ শতাংশের মতো।
অন্যদিকে উত্তরাঞ্চলের বড়পুকুরিয়া কয়লাভিত্তিক তাপ বিদ্যুৎকেন্দ্র সব থেকে বড় বিদ্যুৎকেন্দ্র। এটির সম্মিলিত ক্ষমতা ৫২৫ মেগাওয়াট। কয়লার অভাবে কেন্দ্রটিতে মাত্র ৮০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন হচ্ছে। ফলে উত্তরের জেলাগুলোতে বিদ্যুতের লোডশেডিং বেড়েছে। শুধু রংপুর বিতরণ অঞ্চলেই বিদ্যুতের চাহিদার তুলনায় ৩০ শতাংশ বিদ্যুৎ কম সরবরাহ করা হচ্ছে।
অপেক্ষাকৃত ভালো অবস্থায় আছে খুলনা ও বরিশাল জোন। পায়রা ১৩২০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎকেন্দ্র, ভোলার গ্যাসভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্র ছাড়াও ওই দুই অঞ্চলে অন্তত গড়ে ৩২০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ সরবরাহ হচ্ছে। ফলে সেখানকার মানুষ তীব্র গ্রীষ্মে অপেক্ষাকৃত ভালো আছেন।
ঢাকায় লোডশেডিং সূচি ভেঙে পড়েছে: ঢাকার ডিপিডিসি এলাকায় দিনরাতে গড়ে চাহিদা থাকে ১ হাজার ৬০০ মেগাওয়াট। গতকাল শনিবার বিকেল তিনটায় ডিপিডিসি এলাকায় বিদ্যুৎ সরবরাহ করা হয় ১০৮০ মেগাওয়াট। এর ফলে রাজধানীর ধানমন্ডি, মতিঝিল, মোহাম্মদপুর, শাহবাগ, কারওয়ান বাজার, হাতিরপুল, যাত্রাবাড়ী, লালবাগ থেকে নারায়ণগঞ্জ পর্যন্ত চার থেকে পাঁচবার পর্যন্ত, কোথাও কোথাও ছয়বার পর্যন্ত লোডশেডিং করা লাগছে। ডিপিডিসি এলাকায় রাত ১২টার দিকেও বিদ্যুৎ চলে যাওয়ার মতো ঘটনা ঘটছে।
এ বিষয়ে ডিপিডিসির ব্যবস্থাপনা পরিচালক বিকাশ দেওয়ান চাকমা টেলিফোনে দৈনিক বাংলাকে বলেন, ‘আমার অঞ্চলে চাহিদা থেকে সরবরাহের মধ্যে একটা বড় গ্যাপ তৈরি হয়েছে। আমরা বাধ্য হয়েই লোডশেডিং করছি। অক্টোবর মাসের এই সময় সাধারণত আবহাওয়া অপেক্ষাকৃত কম গরম থাকে, বৃষ্টিও থাকে। কিন্তু গত কয়েক দিনে গরম বেশি পড়েছে। এ কারণে বিদ্যুতের চাহিদাও এই সময় বেড়ে গেছে। সে কারণে দিন-রাত মিলিয়ে বেশ কয়েকবার লোডশেডিং করতে হচ্ছে।’
ঢাকার উত্তরাঞ্চের দায়িত্বে থাকা বিতরণ সংস্থা ডেসকোর গ্রাহকেরা প্রায় ২৫০ মেগাওয়াট লোডশেডিংয়ের কবলে পড়েছেন। ডেসকো এলাকায় চাহিদা প্রতি ঘণ্টায় ১১০০ মেগাওয়াট। সেখানে সরবরাহ করা হচ্ছে গড়ে ৮০০ থেকে ৮৫০ মেগাওয়াট। গড়ে এই অঞ্চলে বিদ্যুতের সরবরাহের সঙ্গে চাহিদার ঘাটতি আছে ২২ থেকে ২৫ শতাংশ। এর ফলে দিনে তিন থেকে চারবার লোডশেডিং করা লাগছে।
এই বিষয়ে জানতে চাইলে ডেসকোর ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. কাওসার আমীর আলী দৈনিক বাংলাকে বলেন, চাহিদার তুলনায় সরবরাহ কম। সে কারণে লোডশেডিং করতে হচ্ছে।
কয়লাখনি বন্ধ, তাপবিদ্যুৎকেন্দ্রের উৎপাদন তলানিতে!
গত ৩০ এপ্রিল ভূগর্ভের উন্নয়ন ও রক্ষণাবেক্ষণের জন্য দেশের একমাত্র দিনাজপুরের বড়পুকুরিয়া কয়লা খনির উৎপাদন বন্ধ হয়ে যায়। এই খনির ওপর নির্ভরশীল বড়পুকুরিয়া ৫২৫ মেগাওয়াট কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্রটিও সংকটে পড়ে। মজুত কয়লা থেকে কেন্দ্রটির আংশিক বিদ্যুৎ উৎপাদন সচল রেখেছিল। এর ফলে রংপুর বিভাগের জেলাগুলোতে তীব্র লোডশেডিং শুরু হয়। তিন মাস বন্ধ থাকার পর গত ২২ আগস্ট ফের চালু হয় বড়পুকুরিয়া কয়লা খনির উৎপাদন। গত সেপ্টেম্বরের মাঝামাঝি আবারও বন্ধ হয় খনির উৎপাদন। ফলে কয়লার অভাবে ৫২৫ মেগাওয়াট কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্রটির উৎপাদন নেমে আসে মাত্র ৮০ মেগাওয়াটে। যদিও ৫২৫ মেগাওয়াট কেন্দ্রটির ১২৫ মেগাওয়াটের একটি ইউনিট রক্ষণাবেক্ষণের জন্য বন্ধ রাখা হয়েছে। বাকি ৪২৫ মেগাওয়াট ক্ষমতার মাত্র ৮০ মেগাওয়াট উৎপাদন করা যাচ্ছে, বাকিটা কয়লার অভাবে বন্ধ আছে।
বড়পুকুরিয়া কয়লা খনির উৎপাদন শুরু না হলে উত্তরাঞ্চের সব থেকে বড় এই বিদ্যুৎকেন্দ্রটি সচল হবে না। আর তার ফলে রংপুর, দিনাজপুর, পঞ্চগড়, ঠাকুরগাঁওসহ উত্তরাঞ্চলের বেশ কিছু জেলাতে বিদ্যুতের লোডশেডিং কমছে না।
বড়পুকুরিয়া কয়লাভিত্তিক তাপ বিদ্যুৎকেন্দ্রের প্রধান প্রকৌশলী এস এম ওয়াজেদ আলী সরদার টেলিফোনে দৈনিক বাংলাকে বলেন, ১২৫ মেগাওয়াটের একটা ইউনিটের সংস্কার চলছে। ১২৫ ইউনিটের একটি কেন্দ্র সচল আছে, তবে পূর্ণসক্ষমতায় না। আশা করছি দ্রুতই খনি কর্তৃপক্ষ আমাদের কয়লা সরবরাহ করবে। তখন সবগুলো ইউনিট চালু করা হবে।
দৈনিক বাংলার রংপুর প্রতিনিধি মো. রফিকুল ইসলাম জানিয়েছেন, খোদ রংপুর শহরে তিন ঘণ্টার বেশি লোডশেডিং হচ্ছে। গ্রামের পরিস্থিতি আরও খারাপ।
কবে পরিস্থিতির উন্নতি হবে?
বিদ্যুৎ উৎপাদনে দৈনিক ১২৫ থেকে ১৩০ কোটি টাকার জ্বালানি ব্যয় হচ্ছে। বিদ্যুৎ পরিস্থিতির উন্নতি করতে হলে তেলভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্র আরও বেশি করে চালাতে হবে। এতে জ্বালানি ব্যয় আরও বেড়ে যাবে। পিক আওয়ার সকাল ১০টা থেকে দুপুর ২টা ও সন্ধ্যা ৬টা থেকে রাত ১১টা পর্যন্ত যেসব বিদ্যুৎকেন্দ্র চালানোর জন্য স্থাপন করা হয়েছে এসব পিকিং বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলো চাইলেও সারাদিন উৎপাদনে রাখা যায় না। এতে যে কোনো সময় বিদ্যুৎকেন্দ্রে যান্ত্রিক ত্রুটি দেখা দিয়ে গোটা গ্রিড বিপর্যয়ে পড়তে পারে। সরকারের মোট বিদ্যুৎকেন্দ্রের মধ্যে ২৫ শতাংশের বেশি হলো পিকিং বিদ্যুৎকেন্দ্র। এর পাশাপাশি এলএনজির ব্যয় বেড়ে যাওয়ায় গ্যাসভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্র প্রায় ৮০০ মেগাওয়াট বন্ধ রয়েছে। সব মিলিয়ে ভর্তুকি দিয়েও বিদ্যুতের উৎপাদন বাড়ানো এই মুহূর্তে বেশ ঝুঁকিপূর্ণ। সে কারণে সহজেই পরিস্থিতির উন্নয়ন ঘটবে বলে মনে করছেন না বিশেষজ্ঞরা। সেক্ষেত্রে শীতই একমাত্র উপায় হতে পারে। কেননা শীত এলে এসি ও ফ্যানের লোড বন্ধ হয়ে যায়। দেশের এসির লোড আছে ৩৫০০ মেগাওয়াটের বেশি। শীত আসা পর্যন্ত লোডশেডিং বিদায় নেবে না বলে মনে করেন বিশেষজ্ঞরা।
কনজুমারস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (ক্যাব) জ্বালানি উপদেষ্টা অধ্যাপক এম শামসুল আলম দৈনিক বাংলাকে বলেন, যেভাবে এখন লোডশেডিং হচ্ছে সেটা কোনোভাবেই পরিকল্পিত শোডশেডিং বলা যাবে না। লোডশেডিং যাতে বিশেষত সন্ধার পর থেকে রাত ১১টা পর্যন্ত না হয় সে জন্য পিকিং বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলো স্থাপন করা হয়েছিল, সেগুলোও ঠিকঠাকমতো কাজ করছে না। সব মিলিয়ে বিদ্যুৎ খাতের অব্যবস্থাপনাই ফুটে উঠছে।
দেশে হামের প্রকোপে উদ্বেগ কাটছে না। প্রতিদিনই নতুন করে আক্রান্ত হচ্ছে বহু মানুষ, যাদের বড় একটি অংশ শিশু। হামের উপসর্গ নিয়ে আরও আট শিশুর মৃত্যু হয়েছে। তবে এ সময়ে নিশ্চিত হামে আক্রান্ত হয়ে কোনো মৃত্যুর খবর পাওয়া যায়নি। একই সময়ে সন্দেহভাজন ও নিশ্চিত মিলিয়ে ১ হাজার ৮৬ জনের শরীরে হাম শনাক্ত হয়েছে। শনিবার (১০ অক্টোবর) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হামবিষয়ক নিয়মিত প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়। গত শুক্রবার (৯ অক্টোবর) সকাল ৮টা থেকে শনিবার (১০ অক্টোবর) সকাল ৮টা পর্যন্ত সময়ের পরিস্থিতি তুলে ধরা হয়েছে এতে।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছর দেশে হাম ও হামের উপসর্গ নিয়ে মৃত্যুর সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১ হাজার ১২২ জনে। এর মধ্যে নিশ্চিত হামে প্রাণ হারিয়েছে ১০২ জন। আর হামের উপসর্গ নিয়ে মারা গেছে ১ হাজার ২০ জন।
হামের উপসর্গ নিয়ে আটজনের মৃত্যুর সব ঘটনাই ঘটেছে ঢাকা বিভাগে। একই সময়ে নিশ্চিত হামে আক্রান্ত হয়েছে আরও ৪৩ জন। এ নিয়ে চলতি বছর দেশে নিশ্চিত হামে আক্রান্তের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ২১ হাজার ৬৬৬ জনে।
শুধু নিশ্চিত সংক্রমণ নয়, সন্দেহভাজন রোগীর সংখ্যাও বাড়ছে উদ্বেগজনক হারে। নতুন করে ১ হাজার ১০৯ জনের মধ্যে হামের উপসর্গ দেখা গেছে। ফলে চলতি বছর দেশে সন্দেহভাজন হাম সংক্রমণের মোট সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১ লাখ ৯৫ হাজার ১৯৭ জনে।
প্রতিদিন নতুন আক্রান্তের সংখ্যা বৃদ্ধি এবং হামের উপসর্গ নিয়ে মৃত্যুর ঘটনা জনস্বাস্থ্য পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ বাড়াচ্ছে। বিশেষ করে শিশুদের সুরক্ষা, দ্রুত রোগ শনাক্তকরণ এবং সময়মতো চিকিৎসা নিশ্চিত করা এখন আরও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।
আসন্ন ঈদের আগেই পদ্মা সেতুর জাজিরা প্রান্তে নির্মাণাধীন বাস-বে, যাত্রীছাউনি ও ফুটওভারব্রিজের কাজ শেষ করে জনসাধারণের জন্য উন্মুক্ত করার নির্দেশ দিয়েছেন সেতু বিভাগের সচিব ও বাংলাদেশ সেতু কর্তৃপক্ষের নির্বাহী পরিচালক মোহাম্মদ আবদুর রউফ। শনিবার (১০ অক্টোবর) পদ্মা সেতু এলাকা পরিদর্শনকালে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের তিনি এ নির্দেশ দেন। সেতু কর্তৃপক্ষের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
পরিদর্শনকালে মোহাম্মদ আবদুর রউফ নদীভাঙন প্রতিরোধে বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ডের চলমান কার্যক্রম সম্পর্কে খোঁজ নেন। নদীভাঙন প্রতিরোধের কাজ যথাযথভাবে বাস্তবায়নে সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলোর মধ্যে সমন্বয় বাড়ানোর নির্দেশ দেন তিনি।
এ ছাড়া প্রধানমন্ত্রীর ঘোষিত পাঁচ বছরে ২৫ কোটি বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির আওতায় পদ্মা সেতু এলাকায় রোপণ করা চারাগাছের পরিচর্যা ও রক্ষণাবেক্ষণ কার্যক্রম পরিদর্শন করেন সেতু বিভাগের সচিব। চারাগাছের সুষ্ঠু বৃদ্ধি নিশ্চিত করতে নিয়মিত পানি দেওয়া, পরিচর্যা ও সংরক্ষণের ওপর গুরুত্ব দেন তিনি।
পরিদর্শনের সময় পদ্মা সেতুর ইটিসি নিবন্ধন কার্যক্রম, জাদুঘর নির্মাণ এবং অন্যান্য উন্নয়নকাজের অগ্রগতিও পর্যালোচনা করেন মোহাম্মদ আবদুর রউফ। আধুনিক ও নির্বিঘ্ন টোল আদায় ব্যবস্থা সম্প্রসারণে ইটিসি কার্যক্রম আরও গতিশীল করার ওপর জোর দেন তিনি।
সেতুর সার্ভিস এলাকায় নির্মাণাধীন বাস-বে আলোকিত করতে সোলার প্যানেল স্থাপনের সম্ভাব্যতা যাচাইয়ের নির্দেশও দেন তিনি। বাস-বে এলাকায় স্থাপিত সৌরবাতির মাধ্যমে বিদ্যুতের চাহিদা পূরণ করা সম্ভব হবে বলে আশা প্রকাশ করেন সেতু বিভাগের সচিব।
পরিদর্শনকালে আবদুর রউফ চলমান উন্নয়নকাজের গুণগত মান বজায় রেখে নির্ধারিত সময়ে শেষ করার নির্দেশ দেন। পাশাপাশি পদ্মা সেতুর সার্বিক কার্যক্রম সুষ্ঠুভাবে পরিচালনা এবং সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলোর মধ্যে সমন্বয় বাড়িয়ে উন্নয়নকাজের গতি ত্বরান্বিত করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
সুন্দরবনে সক্রিয় জলদস্যু ‘আলিফ বাহিনীর’ অংশবিশেষ দুই গ্রুপের ১৫ জন সদস্য আত্মসমর্পন করেছে। আত্মসমর্পনকারীদের মধ্যে ওই বাহিনীর আব্দুল্লাহ গ্রুপের ৮ জন ও মজিদ গ্রুপের ৭ জন রয়েছেন। গত শুক্রবার (৯ অক্টোবর) বিকালে এসআরবি-৬ এর কোম্পানি কমান্ডার নিস্তার আহমেদের কাছে আত্মসমর্পন করেন।
নিস্তার আহমেদ জানান, আত্মসমর্পনকারীদের সরকারিভাবে পুনর্বাসন করা হবে। তাদেরকে স্বাভাবিক জীবনে ফিরে আসতে সব ধরনের সহযোগিতা করা হবে। এ ছাড়া যেসব বনদস্যু, জলদস্যু স্বাভাবিক জীবনে ফিরে আসতে চায় তাদেরকে এসআরবির পক্ষ থেকে সব ধরনের সহযোগিতা প্রদান অব্যাহত থাকবে।
এসআরবি-৬ সূত্র জানায়, সুন্দরবনের সার্বিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং জলদস্যু ও বনদস্যুদের অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড নিয়ন্ত্রণে এসআরবি-৬ এর গোয়েন্দা নজরদারি ও আভিযানিক কার্যক্রম জোরদার করে। এই ধারাবাহিক তৎপরতা, বনের প্রতিকূল পরিবেশ এবং অপরাধমূলক জীবনের অনিশ্চয়তার প্রেক্ষাপটে বিভিন্ন দস্যু বাহিনীর সদস্যরা অপরাধের পথ পরিহার করে স্বাভাবিক জীবনে ফিরে আসার প্রত্যয় ব্যক্ত করে এবং আত্মসমর্পণের আগ্রহ প্রকাশ করে।
এরই ধারাবাহিকতায় ওই ১৫ জন আত্মসমর্পণের আগ্রহ প্রকাশ করায় তাদেরকে স্বাভাবিক জীবনে ফিরে আসার সুযোগ দেয় এসআরবি।
এসআরবি-৬ এর কোম্পানি কমান্ডার নিস্তার আহমেদ জানান, ‘আলিফ বাহিনীর’ ১৫ জন সদস্যের আত্মসমর্পণ সুন্দরবনের নিরাপত্তা ও স্থিতিশীলতা বজায় রাখার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখার পাশাপাশি সুন্দরবনের ওপর নির্ভরশীল জেলে, বাওয়ালি, মৌয়াল ও অন্যান্য বনজীবীদের নিরাপদে জীবিকা নির্বাহের পরিবেশ আরও সুদৃঢ় হবে বলে আশা করা হচ্ছে।
তিনি বলেন, ‘আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর ধারাবাহিক অভিযান এবং সরকারের পুনর্বাসন উদ্যোগের ফলে পূর্ববর্তী সময়ে সুন্দরবনের বিভিন্ন জলদস্যু বাহিনীর উল্লেখযোগ্য সংখ্যক সদস্য ইতোপূর্বে আত্মসমর্পণ করেছিল। যদিও সাম্প্রতিক সময়ে নতুন দস্যুচক্রের তৎপরতা এবং পূর্বে আত্মসমর্পণকারী কতিপয় দস্যুর পুনরায় অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে সম্পৃক্ত হওয়ার তথ্য পাওয়া যায়। একই সঙ্গে জেলে ও বনজীবীদের অপহরণ ও মুক্তিপণ দাবি এবং অন্যান্য অপরাধমূলক তৎপরতার ঘটনাও সামনে আসে।’
সুন্দরবনকে জলদস্যু ও বনদস্যুদের অপতৎপরতা থেকে মুক্ত রাখা এবং বননির্ভর জনগোষ্ঠীর জীবন ও জীবিকার নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এসআরবি-৬ এর অন্যতম অগ্রাধিকার। সুন্দরবনে জলদস্যুতা, অপহরণ ও মুক্তিপণ আদায় এবং সংশ্লিষ্ট অন্যান্য সংঘবদ্ধ অপরাধ প্রতিরোধে এসআরবি-৬ এর আভিযানিক কার্যক্রম ও গোয়েন্দা নজরদারি অব্যাহত থাকবে বলে জানান এই কর্মকর্তা।
এসআরবি-৬ এর মিডিয়া সেলের পক্ষ থেকে জানানো হয়, আত্মসমর্পণকারী জলদস্যুদের বিষয়ে প্রচলিত আইন অনুযায়ী প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণপূর্বক বিজ্ঞ আদালতে সোপর্দ করা হবে।
নোয়াখালীর সোনাইমুড়ীতে একই বাড়ির দূর সম্পর্কের চাচাতো ভাইয়ের ঘরের আগুন নেভাতে গিয়ে দগ্ধ হওয়া মো. সোহাগ (৪৩) নামে এক যুবকের মৃত্যু হয়েছে। শনিবার (১০ অক্টোবর) ঢাকার বার্ন ইউনিট হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়। এর আগে, গত ৩ অক্টোবর সকাল সাড়ে ১০টার দিকে উপজেলার নদনা ইউনিয়নের ৮ নম্বর ওয়ার্ডের পূর্ব কালুয়াই গ্রামের সুলতান চকিদার বাড়িতে আগুন নেভাতে গিয়ে দগ্ধ হন সোহাগ।
নিহত সোহাগ ওই বাড়ির মুক্তিযোদ্ধা গোলাম মোস্তফার ছেলে। তিনি তিন ছেলে ও এক মেয়ের জনক ছিলেন।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, গত ৩ অক্টোবর সোহাগের দূরসম্পর্কের চাচাতো ভাই সালাউদ্দিনের বসতঘরে গ্যাস সিলিন্ডার বিস্ফোরণে আগুন লাগে। মুহূর্তের মধ্যে আগুন ছড়িয়ে পড়ে বাড়ির ছয়টি ঘর পুড়ে যায়। আগুন দেখে অন্যদের সঙ্গে সোহাগও তা নেভাতে এগিয়ে যান। একপর্যায়ে সালাউদ্দিনের ঘর থেকে গ্যাস সিলিন্ডার বের করার সময় তার শরীরের ৭০ শতাংশ পুড়ে যায়। গুরুতর আহত অবস্থায় স্থানীয় লোকজন তাকে উদ্ধার করে ঢাকার বার্ন ইউনিট হাসপাতালে ভর্তি করেন। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় সাত দিন পর তার মৃত্যু হয়।
স্থানীয় ইউপি সদস্য মো. আজগর হোসেন সহেল বলেন, ‘সোহাগ বেকার ছিলেন। তিনি খুব অসহায় ছিলেন। তার মৃত্যুতে এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে।’
সোনাইমুড়ী ফায়ার সার্ভিস স্টেশনের ডিউটি অফিসার ফায়ার ফাইটার নোমান হোসেন বলেন, ‘গ্যাস সিলিন্ডার বিস্ফোরণে ওই দিন ছয়টি ঘর পুড়ে যায়। আগুন লাগার খবর পেয়ে সোহাগও অন্যদের সঙ্গে আগুন নেভানোর কাজে অংশ নেন। একপর্যায়ে একটি ঘর থেকে আসবাবপত্র বের করতে গিয়ে তিনি দগ্ধ হন।’
সোনাইমুড়ী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. কবির হোসেন বলেন, ‘ঢাকায় চিকিৎসাধীন অবস্থায় সোহাগের মৃত্যু হয়েছে বলে তার স্বজনেরা জানিয়েছেন। তারা ময়নাতদন্ত ছাড়াই মরদেহ নিতে আবেদন করেছেন। এ জন্য সোনাইমুড়ী থানা থেকে প্রতিবেদন দেওয়া হয়েছে। অগ্নিকাণ্ডের সময় একটি ঘর থেকে গ্যাস সিলিন্ডার বের করতে গিয়ে তিনি আগুনে দগ্ধ হন।’
বাংলাদেশ সাংবাদিক কল্যাণ ট্রাস্টের উদ্যোগে মাগুরায় আবেদনকারী ১৮ জন সাংবাদিকের মধ্যে ২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রথম কিস্তির আর্থিক সহায়তা ও অনুদানের চেক বিতরণ করা হয়েছে। শনিবার (১০ অক্টোবর) বেলা ১১টায় মাগুরা জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয় এবং জেলা প্রশাসন, মাগুরার আয়োজনে এ চেক বিতরণ অনুষ্ঠান হয়।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে সাংবাদিকদের হাতে চেক তুলে দেন মাগুরার জেলা প্রশাসক ও জেলা ম্যাজিস্ট্রেট মোতাকাব্বীর আহমেদ।
এ সময় আরও উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ সাংবাদিক কল্যাণ ট্রাস্টের উপপরিচালক (প্রশাসন ও অর্থ) এ বি এম রফিকুল ইসলাম, মাগুরার অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) মো. আব্দুল কাদের, জেলা তথ্য অফিসের সহকারী তথ্য অফিসার এস কে ইমাম মেহেদী শাহ আলম, মাগুরা প্রেসক্লাবের সভাপতি অধ্যাপক সাইদুর রহমান, সাধারণ সম্পাদক শফিকুল ইসলাম শফিক এবং বাংলাদেশ সাংবাদিক কল্যাণ ট্রাস্টের অফিস সহকারী কাম কম্পিউটার মুদ্রাক্ষরিক মো. নাজমুল হোসেনসহ সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা।
চেক বিতরণ অনুষ্ঠানে সাংবাদিকদের পেশাগত দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি আর্থিক ও সামাজিক সুরক্ষার গুরুত্ব তুলে ধরা হয়। সাংবাদিকদের কল্যাণে বাংলাদেশ সাংবাদিক কল্যাণ ট্রাস্টের এ ধরনের সহায়তা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করেন।
অনুষ্ঠানে মাগুরা জেলার আবেদনকারী ১৮ জন সাংবাদিকের মধ্যে চেক বিতরণ করা হয় ।
বাগেরহাটের রামপালে বিনামূল্যে ১০০ জন রোগীকে ক্যান্সার চিকিৎসার প্রতিশ্রুতি দিয়ে অঞ্চলটিতে একটি বিশ্বমানের ক্যান্সার হাসপাতাল গড়ে তোলার আগ্রহ প্রকাশ করেছেন পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী শেখ ফরিদুল ইসলাম এমপি।
শনিবার (১০ অক্টোবর) রামপালের ঝনঝনিয়ায় অবস্থিত ‘আমাদের গ্রাম ক্যান্সার কেয়ার অ্যান্ড রিসার্চ সেন্টার’-এর কনফারেন্স রুমে আয়োজিত ক্যান্সার স্ক্রিনিং ও মূল্যায়ন সেবা উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এই প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।
‘আমাদের গ্রাম ক্যান্সার কেয়ার অ্যান্ড রিসার্চ সেন্টার’-এর প্রতিষ্ঠাতা পরিচালক ডা. সেলিম রেজার সভাপতিত্বে উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাগেরহাট জেলা পরিষদের প্রশাসক ব্যারিস্টার শেখ মোহাম্মদ জাকির হোসেন, বাগেরহাটের জেলা প্রশাসক গোলাম মোহাম্মদ বাতেন এবং পুলিশ সুপার মো. জামিরুল ইসলাম।
এ ছাড়াও অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন বাগেরহাটের সিভিল সার্জন ডা. আ স মো. মাহবুবুল আলম, বাগেরহাট ২৫০ শয্যা জেলা হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা. অসীম কুমার সমাদ্দার, সমাজসেবা অধিদপ্তরের উপপরিচালক সন্তোষ কুমার নাথ, পরিবেশ অধিদপ্তরের উপপরিচালক মো. আসাদুজ্জামান, রামপাল উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মিজ তামান্না ফেরদৌসী, সহকারী কমিশনার (ভূমি) অভিজিৎ চক্রবর্তী,
রামপাল উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. সুকান্ত কুমার পালসহ প্রমুখ।
অনুষ্ঠানে বক্তারা তৃণমূল পর্যায়ে ক্যান্সার শনাক্তকরণ (স্ক্রিনিং) ও মানসম্মত চিকিৎসাসেবা পৌঁছে দেওয়ার গুরুত্ব তুলে ধরেন এবং রামপালে বিশ্বমানের ক্যান্সার চিকিৎসা সুবিধা কেন্দ্র গড়ে তোলার এই উদ্যোগকে স্বাগত জানান।
কুষ্টিয়ার কুমারখালীর ছেঁউড়িয়ায় বাউল সম্রাট ফকির লালন শাহের আখড়াবাড়ির দানবাক্স খুলে পাওয়া গেছে ৬ লাখ ৪৯ হাজার ৩৪৮ টাকা। শনিবার (১০ অক্টোবর) সকাল সাড়ে ১০টার দিকে মাজারের ভেতরে ও বারান্দায় থাকা দুটি সিন্দুক খুলে গননা শেষে দুপুরে এসব টাকা পাওয়া যায়।
এবার সাধারণ মানুষ ও গণমাধ্যমকর্মীদের উপস্থিতিতে দানবাক্স খোলা ও টাকা গণনার কার্যক্রম পরিচালনা করা হয়েছে। এর আগে স্থানীয় প্রশাসন ও লালন একাডেমি কর্তৃপক্ষের তত্ত্বাবধানে দানবাক্স খোলা হলেও এবার গণমাধ্যমকর্মীদের সামনে পুরো প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা হয়।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, লালন আখড়াবাড়ির দানবাক্স সাধারণত বছরে দুইবার খোলা হয়। প্রথমবার অক্টোবর মাসে এবং দ্বিতীয়বার লালন সাঁইজির তিরোধান দিবসের পর। ভক্তদের দেওয়া মানত ও দানের টাকা গণনা শেষে লালন একাডেমির নির্ধারিত তহবিলে জমা রাখা হয়।
এর আগে গত বছরের অক্টোবরে দানবাক্স খুলে পাওয়া যায় ৪ লাখ ৯২ হাজার ২৬৪ টাকা। পরে লালন স্মরণোৎসবের পর দানবাক্স খুলে পাওয়া যায় ৯ লাখ ২২ হাজার ২৪২ টাকা। সে হিসাবে আগের বছরের অক্টোবরের তুলনায় এবার দানবাক্সে ১ লাখ ৫৭ হাজার ৮৪ টাকা বেশি পাওয়া গেছে। শনিবার (১০ অক্টোবর) দানবাক্স খোলার সময় উপস্থিত ছিলেন অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) ও লালন স্মরণোৎসবের অর্থ উপকমিটির আহ্বায়ক জাকির হোসেন, সহকারী কমিশনার ও এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট মেহেদী হাসান রিফাত, কুমারখালীর সহকারী কমিশনার (ভূমি) নাভিদ সারওয়ারসহ প্রশাসনের বিভিন্ন কর্মকর্তা ও লালন একাডেমির সদস্যরা।
কুমারখালীর সহকারী কমিশনার (ভূমি) নাভিদ সারওয়ার বলেন, ‘এখন থেকে গণমাধ্যমকর্মীদের উপস্থিতিতে লালন আখড়াবাড়ির দানবাক্স খোলা হয়েছে। সাধারণত বছরে দুইবার দানবাক্স খোলা হয়। গতবারের তুলনায় এবার বেশি টাকা পাওয়া গেছে। টাকা গণনা শেষে প্রশাসনের পক্ষ থেকে তা বুঝে নেওয়া হয়েছে। রোববার (১১ অক্টোবর) এসব টাকা লালন একাডেমির তহবিলে জমা দেওয়া হবে।’
পূজামণ্ডপগুলোর সার্বিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করা, আইনশৃঙ্খলা বজায় রাখা এবং সামাজিক সম্প্রীতির বন্ধন বজায় রেখে শারদীয় উৎসব উদযাপনের জন্য সংশ্লিষ্ট সকলকে আহ্বান জানিয়েছেন তথ্য ও সম্প্রচার প্রতিমন্ত্রী ইয়াসের খান চৌধুরী, এমপি।
শনিবার (১০ অক্টোবর) ময়মনসিংহের নান্দাইল উপজেলা পরিষদ মিলনায়তনে দুর্গাপূজা সুষ্ঠু ও আনন্দমুখর পরিবেশে উদযাপনের লক্ষ্যে প্রস্তুতিমূলক সভায় এ আহ্বান জানিয়েছেন তথ্য প্রতিমন্ত্রী।
সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তথ্য প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘বাংলাদেশ সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির দেশ। আবহমানকাল ধরে সব ধর্মের মানুষ এখানে নিজ নিজ উৎসব বিপুল উৎসাহ-উদ্দীপনার মধ্য দিয়ে উদযাপন করে আসছে। শারদীয় দুর্গাপূজাও যেন সর্বজনীন ও উৎসবমুখর পরিবেশে পালিত হতে পারে, সে জন্য সরকার সব ধরনের পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে।’
তিনি পূজামণ্ডপগুলোর সার্বিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করা, আইনশৃঙ্খলা বজায় রাখা এবং সামাজিক সম্প্রীতির বন্ধন আরও দৃঢ় করে উৎসব উদযাপনের জন্য সংশ্লিষ্ট সকলকে গুরুত্বপূর্ণ দিকনির্দেশনা প্রদান করেন।
প্রতিমন্ত্রী যেকোনো ধরনের অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে স্থানীয় প্রশাসন, আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ও পূজা উদযাপন পরিষদের নেতাদের সমন্বয়ে সতর্ক থাকার আহ্বান জানান।
উপজেলা প্রশাসনের উদ্যোগে আয়োজিত প্রস্তুতিমূলক সভায় স্থানীয় প্রশাসনের বিভিন্ন কর্মকর্তা, আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর প্রতিনিধি, বিভিন্ন পূজামণ্ডপ পরিচালনা কমিটির নেতা ও স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন।
ঢাকা ক্যান্টনমেন্ট এলাকায় ট্রেনের ধাক্কায় অজ্ঞাতপরিচয় এক যুবকের (২৫) মৃত্যু হয়েছে। শনিবার (১০ অক্টোবর) সকাল সাড়ে ৭টার দিকে এ ঘটনা ঘটে। পরে বিকেল ৫টার দিকে মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে।
ঢাকা রেলওয়ে থানার উপপরিদর্শক (এসআই) মুহাম্মদ আব্দুর রাজ্জাক জানান, শনিবার (১০ অক্টোবর) সকাল সাড়ে ৭টার দিকে ঢাকা ক্যান্টনমেন্টের পূর্ব পাশে রেললাইন ধরে হাঁটার সময় দেওয়ানগঞ্জ কমিউটার ট্রেনের ধাক্কায় ঘটনাস্থলেই মারা যান এক যুবক। খবর পেয়ে আইনি প্রক্রিয়া শেষে মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য ঢাকা মেডিকেলের মর্গে পাঠানো হয়েছে।
এসআই আব্দুর রাজ্জাক আরও জানান, নিহতের পরনে ব্রাউন কালারের টি-শার্ট ও মেশ কালারের প্যান্ট ছিল। তবে তার নাম-পরিচয় জানা যায়নি। পরিচয় শনাক্তে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগের (সিআইডি) ক্রাইম সিনকে খবর দেওয়া হয়েছে।
কুষ্টিয়ার কুমারখালীর ছেঁউড়িয়ায় বাউল সম্রাট ফকির লালন শাহের আখড়াবাড়ির দানবাক্স খুলে পাওয়া গেছে ৬ লাখ ৪৯ হাজার ৩৪৮ টাকা। শনিবার সকাল সাড়ে ১০টার দিকে মাজারের ভেতরে ও বারান্দায় থাকা দুটি সিন্দুক খুলে গননা শেষে দুপুরে এসব টাকা পাওয়া যায়।
এবার সাধারণ মানুষ ও গণমাধ্যমকর্মীদের উপস্থিতিতে দানবাক্স খোলা ও টাকা গণনার কার্যক্রম পরিচালনা করা হয়েছে। এর আগে স্থানীয় প্রশাসন ও লালন একাডেমি কর্তৃপক্ষের তত্ত্বাবধানে দানবাক্স খোলা হলেও এবার গণমাধ্যমকর্মীদের সামনে পুরো প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা হয়।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, লালন আখড়াবাড়ির দানবাক্স সাধারণত বছরে দুইবার খোলা হয়। প্রথমবার অক্টোবর মাসে এবং দ্বিতীয়বার লালন সাঁইজির তিরোধান দিবসের পর। ভক্তদের দেওয়া মানত ও দানের টাকা গণনা শেষে লালন একাডেমির নির্ধারিত তহবিলে জমা রাখা হয়।
এর আগে গত বছরের অক্টোবরে দানবাক্স খুলে পাওয়া যায় ৪ লাখ ৯২ হাজার ২৬৪ টাকা। পরে লালন স্মরণোৎসবের পর দানবাক্স খুলে পাওয়া যায় ৯ লাখ ২২ হাজার ২৪২ টাকা। সে হিসাবে আগের বছরের অক্টোবরের তুলনায় এবার দানবাক্সে ১ লাখ ৫৭ হাজার ৮৪ টাকা বেশি পাওয়া গেছে। গতকাল শনিবার দানবাক্স খোলার সময় উপস্থিত ছিলেন অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) ও লালন স্মরণোৎসবের অর্থ উপকমিটির আহ্বায়ক জাকির হোসেন, সহকারী কমিশনার ও এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট মেহেদী হাসান রিফাত, কুমারখালীর সহকারী কমিশনার (ভূমি) নাভিদ সারওয়ারসহ প্রশাসনের বিভিন্ন কর্মকর্তা ও লালন একাডেমির সদস্যরা।
কুমারখালীর সহকারী কমিশনার (ভূমি) নাভিদ সারওয়ার বলেন, ‘এখন থেকে গণমাধ্যমকর্মীদের উপস্থিতিতে লালন আখড়াবাড়ির দানবাক্স খোলা হয়েছে। সাধারণত বছরে দুইবার দানবাক্স খোলা হয়। গতবারের তুলনায় এবার বেশি টাকা পাওয়া গেছে। টাকা গণনা শেষে প্রশাসনের পক্ষ থেকে তা বুঝে নেওয়া হয়েছে। আজ রোববার এসব টাকা লালন একাডেমির তহবিলে জমা দেওয়া হবে।’
ময়মনসিংহের ত্রিশাল উপজেলার মোক্ষপুর ইউনিয়নের সাপখালী বাজার থেকে জাকির ফকিরের ঘাট পর্যন্ত সড়ক পাকাকরণ কাজের শুভ উদ্বোধন করা হয়েছে। শনিবার ময়মনসিংহ-৭ (ত্রিশাল) আসনের সংসদ সদস্য ডা. মাহবুবুর রহমান লিটন আনুষ্ঠানিকভাবে এ সড়কের পাকাকরণ কাজের উদ্বোধন করেন। সড়কটি পাকাকরণের উদ্যোগকে স্থানীয় যোগাযোগব্যবস্থার উন্নয়ন এবং গ্রামীণ জনপদের মানুষের দীর্ঘদিনের প্রত্যাশা পূরণের পথে একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে।
সড়ক যোগাযোগ একটি এলাকার অর্থনৈতিক, সামাজিক ও সামগ্রিক উন্নয়নের অন্যতম প্রধান চালিকাশক্তি। বিশেষ করে গ্রামীণ জনপদে মানুষের দৈনন্দিন চলাচল, কৃষিপণ্য পরিবহন, শিক্ষার্থীদের বিদ্যালয়ে যাতায়াত এবং ব্যবসা-বাণিজ্যের প্রসারে উন্নত সড়কব্যবস্থার গুরুত্ব অপরিসীম। সেই বিবেচনায় মোক্ষপুর ইউনিয়নের সাপখালী বাজার থেকে জাকির ফকিরের ঘাট পর্যন্ত সড়ক পাকাকরণ কাজের উদ্বোধন এলাকাবাসীর জন্য আশাব্যঞ্জক উদ্যোগ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
স্থানীয় পর্যায়ে একটি সড়ক পাকা হলে শুধু যাতায়াতের সুবিধাই বাড়ে না, বরং এর সঙ্গে যুক্ত হয় মানুষের জীবনযাত্রার মানোন্নয়ন, পণ্য পরিবহনে গতি এবং স্থানীয় অর্থনীতির বিকাশের সম্ভাবনা। সাপখালী বাজার থেকে জাকির ফকিরের ঘাট পর্যন্ত সড়কটি পাকাকরণ সম্পন্ন হলে এ অঞ্চলের মানুষের চলাচল আরও সহজ হবে বলে আশা করা হচ্ছে। পাশাপাশি সড়কটি ব্যবহার করে বিভিন্ন প্রয়োজনে যাতায়াতকারী সাধারণ মানুষকে আগের তুলনায় স্বাচ্ছন্দ্যে চলাচলের সুযোগ করে দেবে।
কৃষি ও ব্যবসা-বাণিজ্যে ইতিবাচক প্রভাবের প্রত্যাশা:
ত্রিশাল উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নের মতো মোক্ষপুর ইউনিয়নেও গ্রামীণ সড়ক যোগাযোগের উন্নয়ন স্থানীয় মানুষের জীবনযাত্রার সঙ্গে সরাসরি সম্পৃক্ত। কৃষিনির্ভর এলাকার মানুষের জন্য উৎপাদিত ফসল ও অন্যান্য কৃষিপণ্য বাজারে নেওয়ার ক্ষেত্রে ভালো সড়ক অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। সড়কটি পাকা হলে কৃষিপণ্য পরিবহন সহজ হওয়ার পাশাপাশি ব্যবসায়ী ও ক্রেতাদের যাতায়াতেও সুবিধা সৃষ্টি হবে বলে প্রত্যাশা করা হচ্ছে।
এ ছাড়া স্থানীয় বাজারকেন্দ্রিক ব্যবসা-বাণিজ্যের প্রসারেও উন্নত যোগাযোগব্যবস্থা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। পাকা সড়কের মাধ্যমে যানবাহন চলাচল সহজ হলে পণ্য আনা-নেওয়ার সময় ও ভোগান্তি কমার সম্ভাবনা থাকে। ফলে স্থানীয় ব্যবসায়িক কার্যক্রম আরও গতিশীল হওয়ার সুযোগ তৈরি হবে।
জনদুর্ভোগ কমাতে গুরুত্বপূর্ণ উদ্যোগ: গ্রামীণ এলাকার কাঁচা বা অপর্যাপ্তভাবে উন্নত সড়কে বর্ষা মৌসুমে কাদা-পানি জমে থাকা এবং যানবাহন চলাচলে অসুবিধার মতো সমস্যা দেখা দিতে পারে। এসব কারণে সাধারণ মানুষকে প্রায়ই অতিরিক্ত সময় ও শ্রম ব্যয় করতে হয়। বিশেষ করে শিক্ষার্থী, বয়স্ক ব্যক্তি, অসুস্থ রোগী এবং জরুরি প্রয়োজনে যাতায়াতকারী মানুষের জন্য ভালো সড়ক যোগাযোগ অত্যন্ত প্রয়োজনীয়।
সাপখালী বাজার থেকে জাকির ফকিরের ঘাট পর্যন্ত সড়ক পাকাকরণ কাজ বাস্তবায়িত হলে এ অঞ্চলের মানুষের যাতায়াতব্যবস্থায় ইতিবাচক পরিবর্তন আসবে বলে আশা করা হচ্ছে। উন্নত সড়ক যোগাযোগের ফলে জরুরি প্রয়োজনে চলাচল সহজ হওয়ার পাশাপাশি ইউনিয়নের বিভিন্ন এলাকার মানুষের পারস্পরিক যোগাযোগও আরও সুদৃঢ় হবে।
উন্নয়ন কার্যক্রমে বাড়ছে প্রত্যাশা:
মোক্ষপুর ইউনিয়নের গুরুত্বপূর্ণ এ সড়কের পাকাকরণ কাজের উদ্বোধনের মধ্য দিয়ে স্থানীয় অবকাঠামো উন্নয়নে নতুন প্রত্যাশা তৈরি হয়েছে। সংসদ সদস্য ডা. মাহবুবুর রহমান লিটনের মাধ্যমে এ উন্নয়নকাজের উদ্বোধনকে কেন্দ্র করে সড়কটির নির্মাণকাজ যথাযথভাবে সম্পন্ন হওয়ার প্রত্যাশা করছেন সংশ্লিষ্ট এলাকার মানুষ।
তবে শুধু উদ্বোধনের মধ্যেই উন্নয়ন কার্যক্রম সীমাবদ্ধ না রেখে নির্ধারিত মান বজায় রেখে কাজ সম্পন্ন করা এবং সড়কটির স্থায়িত্ব নিশ্চিত করাও গুরুত্বপূর্ণ। নির্মাণকাজে গুণগত মান বজায় থাকলে দীর্ঘদিন ধরে মানুষ এর সুফল ভোগ করতে পারবেন। একই সঙ্গে নিয়মিত রক্ষণাবেক্ষণ নিশ্চিত করা গেলে সড়কটি স্থানীয় যোগাযোগব্যবস্থায় দীর্ঘমেয়াদি ভূমিকা রাখতে সক্ষম হবে।
যোগাযোগব্যবস্থার উন্নয়নে নতুন অধ্যায়:
ত্রিশাল উপজেলার গ্রামীণ অবকাঠামো উন্নয়নের ধারাবাহিকতায় মোক্ষপুর ইউনিয়নের সাপখালী বাজার থেকে জাকির ফকিরের ঘাট পর্যন্ত সড়ক পাকাকরণ কাজের উদ্বোধন একটি গুরুত্বপূর্ণ উদ্যোগ। সড়কটি নির্মাণকাজ সম্পন্ন হলে স্থানীয় বাসিন্দাদের দৈনন্দিন যাতায়াত, কৃষিপণ্য পরিবহন, শিক্ষা কার্যক্রম এবং ব্যবসা-বাণিজ্যে ইতিবাচক প্রভাব পড়বে বলে প্রত্যাশা করা হচ্ছে।
এলাকার মানুষের জীবনযাত্রার মানোন্নয়ন এবং গ্রামীণ অর্থনীতিকে আরও গতিশীল করতে উন্নত সড়ক যোগাযোগের বিকল্প নেই। তাই সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের তদারকিতে কাজটি যথাযথ মানে ও নির্ধারিত সময়ের মধ্যে সম্পন্ন হবে—এমন প্রত্যাশা স্থানীয়দের। সড়কটির উন্নয়ন কার্যক্রম বাস্তবায়িত হলে মোক্ষপুর ইউনিয়নের যোগাযোগব্যবস্থায় নতুন গতি সঞ্চারিত হবে এবং এলাকার সামগ্রিক উন্নয়নের পথ আরও সুগম হবে বলে আশা করা হচ্ছে।
কিশোরগঞ্জের মিঠামইন উপজেলা বিএনপির সভাপতি জাহেদুল আলম জাহাঙ্গীর হত্যা মামলায় উপজেলা ছাত্রদলের বহিষ্কৃত আহ্বায়ক মোকাররম হোসেন খোকা ও তার ভাতিজা মো. রিয়াজকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
গতকাল রাতে ঢাকার মিরপুর-১০ নম্বর এলাকা থেকে মোকাররম হোসেন খোকাকে এবং নেত্রকোনা শহরের বাসস্ট্যান্ড এলাকা থেকে তার ভাতিজা মো. রিয়াজকে গ্রেপ্তার করা হয়। এ নিয়ে এ মামলায় মোট ১৫ জনকে গ্রেপ্তারের কথা জানিয়েছে পুলিশ।
মিঠামইন থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মনোয়ার মোহাম্মদ এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
তিনি জানান, গ্রেপ্তারকৃতদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার প্রক্রিয়া চলছে।
এর আগে গত ১৫ জুলাই রাত ৯টার দিকে মিঠামইন বাজার থেকে মোটরসাইকেলে করে বাড়ি ফিরছিলেন জাহেদুল আলম জাহাঙ্গীর। মিঠামইন সদরের বেড়িবাঁধ এলাকায় নিজ বাসভবনের সামনে পৌঁছালে আগে থেকে ওত পেতে থাকা দুর্বৃত্তরা তাকে কুপিয়ে জখম করে। এ সময় তার সঙ্গে থাকা বিএনপি কর্মী হাদিস মিয়াকেও কুপিয়ে আহত করা হয়।
পরে স্বজনেরা তাদের উদ্ধার করে মিঠামইন উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। সেখানে প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে তাদের শহীদ সৈয়দ নজরুল ইসলাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়। রাত ১১টার দিকে হাসপাতালের কর্তব্যরত চিকিৎসক জাহেদুল আলম জাহাঙ্গীরকে মৃত ঘোষণা করেন।
এ ঘটনায় ১৮ জুলাই নিহতের স্ত্রী তাসলিমা আক্তার চৌধুরী বাদী হয়ে মিঠামইন থানায় মামলা করেন। মামলায় তিনজনের নাম উল্লেখ করে অজ্ঞাতনামা ১০ থেকে ১২ জনকে আসামি করা হয়।
হত্যাকাণ্ডের পর থেকেই জড়িতদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারে তদন্ত শুরু করে পুলিশ। মামলার তদন্তে বিভিন্ন তথ্যের ভিত্তিতে সন্দেহভাজনদের শনাক্ত করে অভিযান চালিয়ে এর আগে এ মামলায় ১৩ জনকে গ্রেপ্তারের জানিয়েছিল পুলিশ। সর্বশেষ মোকাররম হোসেন খোকা ও তার ভাতিজা রিয়াদকে গ্রেপ্তারের মধ্য দিয়ে মামলায় গ্রেপ্তারের সংখ্যা ১৫ জনে দাঁড়িয়েছে।
এদিকে, হত্যাকাণ্ডে সম্পৃক্ততার অভিযোগ ওঠার পর মোকাররম হোসেন খোকাকে উপজেলা ছাত্রদলের আহ্বায়কের পদ থেকে বহিষ্কার করা হয়। ঘটনার পর থেকে তিনি পলাতক ছিলেন। তবে গ্রেপ্তারের আগে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া একটি ভিডিওতে হত্যাকাণ্ডে জড়িত থাকার অভিযোগ অস্বীকার করেন মোকাররম হোসেন খোকা। ভিডিওতে তিনি দাবি করেন, একটি চক্র তাকে ফাঁসানোর উদ্দেশ্যে এ হত্যাকাণ্ডে তার নাম জড়িয়েছে।
চাঞ্চল্যকর এ হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ১৫ জনকে গ্রেপ্তার করা হলেও হত্যার নেপথ্যের কারণ এবং ঘটনায় কার কী ভূমিকা ছিল, তা এখনো পুরোপুরি স্পষ্ট হয়নি। গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের জিজ্ঞাসাবাদ ও তদন্তের মাধ্যমে হত্যাকাণ্ডের রহস্য উদ্ঘাটনের চেষ্টা করছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
সরকারি চাকরিতে কর্মরত থাকা অবস্থাতেই রাজনৈতিক দলের সাংগঠনিক পদ পাওয়ার অভিযোগ উঠেছে ভোলার চরফ্যাশন উপজেলা প্রাণিসম্পদ দপ্তরের উপসহকারী প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা সফিউল্ল্যাহ জগলুর বিরুদ্ধে। তিনি সদ্য গঠিত জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) চরফ্যাশন উপজেলা আহ্বায়ক কমিটির সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক পদে রয়েছেন।
এ ঘটনায় সরকারি কর্মচারীদের রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডে সম্পৃক্ততার আইনি বিধিনিষেধ ও আচরণবিধি প্রতিপালন নিয়ে স্থানীয় বিভিন্ন মহলে নানা প্রশ্ন ও সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে।
দলীয় সূত্রে জানা গেছে, আগামী ছয় মাসের জন্য জাতীয় নাগরিক পার্টির চরফ্যাশন উপজেলা আহ্বায়ক কমিটির আংশিক অনুমোদন দেওয়া হয়। সাত সদস্যের এই কমিটিতে সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক হিসেবে সফিউল্ল্যাহ জগলুর নাম উল্লেখ রয়েছে। সরকারি চাকরিতে বহাল থেকে রাজনৈতিক দলের এমন গুরুত্বপূর্ণ পদে তার অন্তর্ভুক্তির বিষয়টি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমসহ স্থানীয় সচেতন মহলে আলোচনা-সমালোচনার জন্ম দিয়েছে।
সরকারি কর্মচারী (আচরণ) বিধিমালা, ১৯৭৯-এর ২৫(১) বিধি অনুযায়ী—কোনো সরকারি কর্মচারী কোনো রাজনৈতিক দল বা তার অঙ্গসংগঠনের সদস্য হতে পারবেন না। এমনকি দেশ বা বিদেশে কোনো ধরনের রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডে প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে অংশ নিতে কিংবা সহায়তা করতে পারবেন না।
এ বিষয়ে জাতীয় নাগরিক পার্টির ভোলা জেলা আহ্বায়ক অ্যাডভোকেট মো. জিয়াউর রহমান বলেন, ‘বিষয়টি আমি শুনেছি। আমাদের কাছে আসা তালিকার যাচাই-বাছাইয়ে ভুল ছিল। সরকারি চাকরিজীবীদের রাজনীতিতে যুক্ত হওয়ার কোনো সুযোগ নেই।’
অন্যদিকে এনসিপির চরফ্যাশন উপজেলা কমিটির আহ্বায়ক অহিদ ফয়সাল জানান, তিনি সরকারি চাকরিতে কর্মরত। আমাদের রাজনীতিতে তার মৌন সম্মতি রয়েছে। তবে ভুলবশত তার নাম ও ফোন নম্বর কমিটিতে উঠে এসেছে।
এ বিষয়ে সফিউল্ল্যাহ জগলুর মোবাইল ফোনে একাধিকবার কল করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।
এ বিষয়ে চরফ্যাশন উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. মো. রাজন আলী বলেন, ‘বিষয়টি আমাদের নজরে এসেছে। প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য জেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তাকে বিষয়টি জানানো হয়েছে।’
জেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা মো. রফিকুল ইসলাম বলেন, ‘বিষয়টি খতিয়ে দেখতে সরকারি বিধিমালা দেখা হবে এবং তার অবস্থান যাচাই করা হবে। তদন্তসাপেক্ষে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হবে।’