বিএনপি নির্বাচন বানচাল করতে যতই পাঁয়াতারা করুক লাভ হবে না বলে মন্তব্য করেছেন আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য ও কৃষিমন্ত্রী ড. মো. আব্দুর রাজ্জাক। তিনি বলেছেন, ‘বিএনপি আবার আন্দোলন, আগুন সন্ত্রাসের পাঁয়তারা করছে। আবার যদি তারা হরতাল দেয়, ট্রাকে আগুন দেয় তাহলে তাদের সময়োচিত শিক্ষা দেয়া হবে। বিএনপি যতই লম্ফঝম্ফ করুক সংবিধানের আলোকেই নির্বাচন হবে।’
শনিবার দুপুরে টাঙ্গাইলের মধুপুর অসহায় পরিবার ও যুব মহিলাদের মাঝে নগদ অর্থ, সেলাই মেশিন ও ঢেউটিন বিতরণ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে মন্ত্রী এসব কথা বলেন।
আব্দুর রাজ্জাক বলেন, ‘গণতন্ত্রের অর্থ এই নয়, যা খুশি তাই করবেন। যা খুশি তাই করতে পারবেন না। মানুষের নিরাপত্তা দিতে হবে। মানুষের ভোট নিয়ে নির্বাচিত হয়েছি, শপথ নিয়েছি সুন্দর ভাবে দেশ চালাবো। যারা আবার হুমকি দিচ্ছে, আগুন সন্ত্রাস করে দেশকে অস্থিতিশীল করবে, মানুষের জীবনের নিরাপত্তা নষ্ট করবে, তাদের সময়োচিত শিক্ষা দেয়া হবে।’
অনুষ্ঠানে মধুপুর উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) শামীমা ইয়াসমীনের সভাপতিত্বে বক্তব্য রাখেন মধুপুর পৌরসভার মেয়র সিদ্দিক হোসেন খান, জেলা আওয়ামী লীগ নেতা ইয়াকুব আলী, ডা. মীর ফরহাদুল আলম খান, ভাইস চেয়ারম্যান শরীফ আহমদ নাসির, যষ্ঠিনা নকরেক, মির্জাবাড়ী ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) চেয়ারম্যান সাইদিকুল ইসলামসহ অন্যরা।
অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন অতিরিক্ত কৃষি অফিসার শাকুরা নাম্মী। পরে কৃষিমন্ত্রী মধুপুর উপজেলার অসহায় পরিবার ও যুব মহিলাদের মাঝ নগদ অর্থ, সেলাই মেশিন ও ঢেউটিন বিতরণ করেন।
সুন্দরবনে অভিযান চালিয়ে ডাকাত দল ছোট সুমন বাহিনীর এক সদস্যকে আটক করেছে বাংলাদেশ কোস্টগার্ড। তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে অস্ত্র ও গোলাবারুদ উদ্ধার করা হয়েছে। আটক আবদুস সামাদ মোল্লার (৩৫) বাড়ি বাগেরহাটের রামপাল উপজেলায়। তিনি ছোট সুমন বাহিনীর সেকেন্ড-ইন-কমান্ড (দ্বিতীয় প্রধান) বলে জানিয়েছেন কোস্টগার্ডের মিডিয়া কর্মকর্তা লেফটেন্যান্ট কমান্ডার সাব্বির আলম।
মঙ্গলবার (২১ এপ্রিল) দুপুরে সাব্বির আলম বলেন, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর নির্দেশনায় সুন্দরবনে সক্রিয় বনদস্যুদের দমনে ‘অপারেশন রিস্টোর পিস ইন সুন্দরবন’ ও ‘অপারেশন ম্যানগ্রোভ শিল্ড’ নামে দুটি বিশেষ অভিযান পরিচালিত হচ্ছে। এরই অংশ হিসেবে ‘অপারেশন ম্যানগ্রোভ শিল্ড’-এর তৃতীয় ধাপে অভিযান চালানো হয়। এ সময় ছোট সুমন বাহিনীর সেকেন্ড-ইন-কমান্ড সামাদ মোল্লাকে আটক করা হয়।
কোস্ট গার্ড সূত্রে জানা যায়, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে সোমবার রাত ১০টার দিকে রামপাল উপজেলার শুকদারা বাজার এলাকায় অভিযান চালিয়ে আবদুস সামাদ মোল্লাকে আটক করা হয়। তিনি দীর্ঘদিন ধরে ছোট সুমন বাহিনীর হয়ে সুন্দরবনে ডাকাতি কার্যক্রমে জড়িত ছিলেন।
পরে আবদুস সালামের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে মঙ্গলবার ভোরে মোংলা থানার সুন্দরবনের নন্দবালা খালসংলগ্ন এলাকায় আরেকটি অভিযান চালানো হয়। সেখান থেকে একটি একনলা বন্দুক, এয়ারগান ও দুটি অবিস্ফোরিত কার্তুজ উদ্ধার করা হয়। আটক ব্যক্তির বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার প্রক্রিয়া চলছে বলে জানিয়েছে কোস্টগার্ড।
কুষ্টিয়া জেলার ভেড়ামারায় সরকারি নিয়ম-নীতির তোয়াক্কা না করে অবৈধভাবে বালু উত্তোলন করা হচ্ছে। ওই বালু রাখা হচ্ছে রাস্তায়। এতে একদিকে যেমন নষ্ট হচ্ছে রাস্তা, অন্যদিকে সাধারণ মানুষের চলাচলের জায়গা সংকুচিত হয়ে চরম ভোগান্তির সৃষ্টি হচ্ছে।
সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, এলাকায় অবৈধভাবে বালু উত্তোলন করে তা জনগুরুত্বপূর্ণ সরকারি রাস্তায় এবং পাশের খালি জায়গায় স্তূপ করে রাখা হয়েছে। বালু ভর্তি ভারী ট্রাক চলাচলের কারণে এলাকার একমাত্র পাকা রাস্তাটি বিভিন্ন জায়গায় দেবে গিয়ে বড় বড় গর্তের সৃষ্টি হয়েছে।
স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, প্রভাবশালী এই চক্রটি ক্ষমতার অপব্যবহার করে দীর্ঘদিন ধরে এই অবৈধ ব্যবসা চালিয়ে যাচ্ছে। সরকারি জায়গা দখল করে বালু রাখায় পথচারীদের চলাচলে বিঘ্ন ঘটছে এবং ধুলোবালিতে পরিবেশ দূষিত হয়ে শ্বাসকষ্টসহ নানা স্বাস্থ্যঝুঁকি বাড়ছে। এলাকাবাসী বাধা দিলে উল্টো হুমকি-ধামকি দেওয়া হচ্ছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একজন ভুক্তভোগী বলেন, "রাস্তাটি আমাদের যাতায়াতের প্রধান পথ। বালু ব্যবসায়ী সিন্ডিকেটের কারণে এখন এই রাস্তা দিয়ে হাঁটাই দায় হয়ে পড়েছে। আমরা প্রশাসনের কাছে এর দ্রুত সমাধান চাই।"
এ বিষয়ে স্থানীয় সচেতন মহল অবিলম্বে প্রশাসনের কঠোর হস্তক্ষেপ দাবি করেছেন। তারা বলছেন, দ্রুত ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করে বালু উত্তোলন বন্ধ এবং সরকারি জায়গা থেকে বালুর স্তূপ অপসারণ না করলে জনদুর্ভোগ আরও বাড়বে।
এ বিষয়ে পানি উন্নয়ন বোর্ডের কুষ্টিয়া জেলার নির্বাহী প্রকৌশলী আমিনুর রহমান বলেন, বিষয় টা আপনাদের মাধ্যমে এবং ভিডিও ফুটেজ দেখে অবগত হয়েছি। তদন্ত সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে।
ভেড়ামারার নির্বাহী প্রকৌশলী মিজানুর রহমান বলেন, এটা কুষ্টিয়া পাউবোর দায়িত্বে। এ বিষয়ে কুষ্টিয়ার কমকর্তারা বলতে পারবেন। এটা আমার কোনো বিষয় নয়।
নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁয়ে এসএসসি পরীক্ষায় কাঁচপুর ওমর আলী উচ্চ বিদ্যালয় কেন্দ্রে পরীক্ষায় ২০২৫ সালের প্রশ্নে ১৭৭ জন শিক্ষার্থী পরীক্ষা দিয়েছে। মঙ্গলবার (২১ এপ্রিল) বাংলা প্রথম পত্র সৃজনশীল পরীক্ষায় এক ঘন্টা ২৫ মিনিট পরীক্ষা দেওয়ার পর বিষয়টি নজরে এসে। ফলে পরীক্ষা কেন্দ্রের মধ্যে হৈ চৈ পড়ে যায়। এতে করে পরীক্ষার্থীদের মধ্যে ফেল করার আতংঙ্ক বেড়ে যায়। অভিভাবকদের মধ্যেও ভয় ও সংশয় তৈরি হয়। শিক্ষার্থী ও অভিভাবকরা কেন্দ্র সচিবের গাফলতিকে দায়ী করেছেন।
এ ঘটনার নজরে আসার পর তড়িঘড়ি করে সোনারগাঁ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কাছে সময় বৃদ্ধির আবেদন করেন কেন্দ্র সচিব মো. আবদুল মতিন সরকার। পরে পরীক্ষার্থী ও অভিভাবকরা পরীক্ষা কেন্দ্রে কেন্দ্র সচিবের পদত্যাগ চেয়ে বিভিন্ন স্লোগানে বিক্ষোভ করেন। এছাড়াও তারা গাফলতিকে দায়ী করেছেন।
এদিকে যথাযথ কর্তৃপক্ষের সঙ্গে কথা বলে উপজেলা প্রশাসন পরে অতিরিক্ত সময় দিয়ে নতুন সিলেবাসে পরীক্ষা নেওয়া হয়।
জানা যায়, এসএসসি পরীক্ষা উপজেলার কাঁচপুর ওমর আলী উচ্চ বিদ্যালয় কেন্দ্রে এ বছর সিনহা উচ্চ বিদ্যালয়, দবরউদ্দিন ভূঁইয়া উচ্চ বিদ্যালয়, মদনপুর রহমানিয়া উচ্চ বিদ্যালয় ও নাসিম মেমোরিয়াল ল্যাবরোটরি স্কুলের ৭৬০ জন শিক্ষার্থী পরীক্ষায় অংশ নেয়। এদের মধ্যে ১৭৭ জন শিক্ষার্থীকে ২০২৫ সালের সিলেবাসের প্রশ্ন সরবরাহ করা হয়। এ প্রশ্নেই শিক্ষার্থীরা এক ঘন্টা ২৫ মিনিট পরীক্ষা দেয়। পরবর্তীতে পুরাতন প্রশ্নে পরীক্ষা দেওয়ার বিষয়টি শিক্ষার্থীদের নজরে আসে। বিষয়টি কেন্দ্র সচিবসহ সংশ্লিষ্টদের অবগত করা হলে তাৎক্ষনিকভাবে ইউএনওকে জানিয়ে সঠিক প্রশ্নে সময় বৃদ্ধি করে পরীক্ষা নেওয়া হয়।
সিনহা উচ্চ বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী সায়মা আক্তার জানায়, বহু নির্বাচনী পরীক্ষা শেষে তারা সৃজনশীল পরীক্ষায় অংশ নেন। তাদেরকে কেন্দ্র দায়িত্বরতরা ২০২৫ সালের সিলেবাসের প্রশ্ন সরবরাহ করেন। পরীক্ষার প্রথম দিন হওয়ার কারনে তাদের বিষয়টি প্রথমে নজরে আসেনি। পরবর্তীতে নজরে এলে শিক্ষার্থীদের মধ্যে ভয় ও আতংঙ্ক বিরাজ করে। কেউ কেউ ফেল করার ভয়ে কান্নায় ভেঙ্গে পড়েন।
মদনপুর রহমানিয়া উচ্চ বিদ্যালয় শিক্ষার্থী আয়মান রহমান জানায়, এমন ভুল হতে থাকলে শিক্ষার্থীদের ভবিষ্যত শংঙ্কায় পড়বে। আগামী দিনে এমন পরিস্থিতি যেন না হয় সেজন্য সংশ্লিষ্ট সকলকে সচেতন হওয়া দরকার।
রাবেয়া বসরি নামের এক অভিভাবক জানান, কেন্দ্র সচিবের দায়িত্বে গাফলতির কারনে তাদের সন্তানদের ভবিষ্যত অন্ধকারের দিকে যাচ্ছিল। এমন দায়িত্বহীন ব্যক্তিকে অব্যাহতি দিয়ে সঠিক দায়িত্ববান শিক্ষককে দায়িত্ব দেওয়ার দাবি জানিয়েছেন।
কাঁচপুর ওমর আলী উচ্চ বিদ্যালয় কেন্দ্রের কেন্দ্র সচিব মো.আবদুল মতিন সরকার জানান, সিলেবাসের সাল দৃষ্টিগোচর না হওয়ার কারনে এমন হয়েছে। তাছাড়া প্রশ্নের অতিরিক্ত আরো দুটি প্রশ্নের প্যাকেট বেশি আসার কারনে বিষয়টি নজরে আসেনি। ফলে এমন পরিস্থিতি হয়েছে। আগামী দিনগুলোতে এ বিষয়টি মাথায় রেখে দায়িত্ব পালন করবেন বলে জানিয়েছেন।
সোনারগাঁ উপজেলা নির্বাহী অফিসার আসিফ আল জিনাত বলেন, পুরাতন সিলেবাসে পরীক্ষার বিষয়টি নজরে আসা মাত্র বোর্ডের কর্মকর্তারদের সঙ্গে কথা বলে অতিরিক্ত সময় দিয়ে নতুন সিলেবাসে পরীক্ষা নেওয়া হয়েছে। আশা করি পরীক্ষার্থীদের মধ্যে তেমন কোন সমস্যা হবে না। শিক্ষার্থীদের এ বিষয়ে আতংঙ্কের কোন কারন নেই।
অবৈধভাবে ভারতে অনুপ্রবেশের অভিযোগে ভারতীয় কারাগারে আটক বাংলাদেশী যবক শিপন হাওলাদার মারা যাওয়ার পর ওই যুবকের মরদেহ শেরপুর সীমান্ত দিয়ে হস্তান্তর করেছে ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী বিএসএফ।
মঙ্গলবার (২১ এপ্রিল) দুপুরে শেরপুরের নালিতাবাড়ী উপজেলার নাকুগাঁও সীমান্ত দিয়ে দুই দেশের সীমান্তরক্ষী বাহিনী ও পুলিশের উপস্থিতিতে ওই মরদেহ হস্তান্তর করা হয়। মৃত ওই যুবক শিপন হাওলাদার (৩৫) দেশের বরগুনা জেলার সদর উপজেলার সবেজ হাওলাদারের ছেলে।
পুলিশ ও বিজিবি জানায়, প্রায় ১৯ মাস আগে শিপন হাওলাদার ময়মনসিংহের হালুয়াঘাট সীমান্ত দিয়ে অবৈধভাবে ভারতে অনুপ্রবেশ করে। পরে ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনীর হাতে আটক হলে তাকে সেখানকার পুলিশে সোপর্দ করা হয়। এরপর ভারতীয় আদালত অবৈধ অনুপ্রবেশের দায়ে তাকে কারাদন্ড দিয়ে তুরা কারাগারে পাঠায়। আগামী ২৮ এপ্রিল তার কারাভোগের মেয়াদ শেষ হওয়ার কথা ছিল। এর আগেই গত বৃহস্পতিবার (১৬ এপ্রিল) শিপন অসুস্থ হয়ে পড়লে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মৃত্যু হয়। দুই দেশের আইনী প্রক্রিয়া শেষে ২১ এপ্রিল মঙ্গলবার দুপুর একটার দিকে শিপনের মরদেহ তার স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা হয়।
মরদেহ হস্তান্তরকালে ভারতীয় বিএসএফ এর পক্ষে ঢালু কোম্পানী কমান্ডার ইন্সপেক্টর কিমা রায়, বাংলাদেশের বিজিবি’র পক্ষে হাতিপাগার সবেদার ফুল মিয়া সরকার, নালিতাবাড়ী থানা পুলিশের ওসি আশরাফুজ্জামানসহ দুই দেশের সীমান্তরক্ষী বাহিনী ও পুলিশের সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।
ঢাকার জাতীয় ক্যানসার গবেষণা ইনস্টিটিউট ও হাসপাতালের উপ-পরিচালক ড. আহমদ হোসেনকে (৫০) কুপিয়ে জখম করার ঘটনায় ৫ জনকে গ্রেপ্তার করেছে র্যাব।
মঙ্গলবার (২১ এপ্রিল) দুপুর পৌনে ১২টায় র্যাব সদর দপ্তরের উপ-পরিচালক (মিডিয়া) মেজর লুৎফর রহমান হাদী এ তথ্য জানান।
তিনি জানান, গতকাল জাতীয় ক্যানসার গবেষণা ইনস্টিটিউট ও হাসপাতালে উপ-পরিচালককে সন্ত্রাসী হামলায় কুপিয়ে জখম করার চাঞ্চল্যকর ঘটনায় ২৪ ঘণ্টার মধ্যে প্রধান অভিযুক্তসহ পাঁচজনকে গ্রেপ্তার করেছে র্যাব।
বনানী থানার পরিদর্শক (তদন্ত) মো. মেহেদী হাসান জানান, আহত উপ-পরিচালককে বেশ কিছুদিন ধরে বিদেশি নম্বর থেকে টেন্ডার দেওয়ার জন্য হুমকি দিয়ে আসছিল একটি চক্র। সোমবার (২০ এপ্রিল) বিকেল সাড়ে ৩টার দিকে অফিস শেষ করে ক্যানসার হাসপাতাল থেকে তার বাসায় ফেরার পথে পুরাতন ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসের পেছনের গলিতে অজ্ঞাত ২-৩ ব্যক্তি তার ডান হাত ও পিঠে ছুরিকাঘাত করে পালিয়ে যায়। পরে তাকে আহত অবস্থায় উদ্ধার করে ক্যান্সার হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। পরে তাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকা মেডিকেলে ভর্তি করা হয়।
কুষ্টিয়া-৩ আসনের সংসদ সদস্য মুফতি আমির হামজার বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করেছেন সিরাজগঞ্জের আদালত। মঙ্গলবার (২১ এপ্রিল) আদালত এই আদেশ প্রদান করেন। জেলা প্রশাসকের (ডিসি) বদলি সংক্রান্ত বিষয়ে বিতর্কিত মন্তব্যের জের ধরে তার বিরুদ্ধে এই আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।
ঘটনার সূত্রপাত হয় গত ২৭ মার্চ। কুষ্টিয়ার হরিপুর জামে মসজিদে জুমার নামাজের খুতবার আগে মুসল্লিদের উদ্দেশে বক্তব্য রাখার সময় এমপি আমির হামজা অভিযোগ করেন, কুষ্টিয়ার বর্তমান জেলা প্রশাসক এখানে বদলি হয়ে আসার জন্য প্রায় ২০ থেকে ৩০ কোটি টাকা ব্যয় করেছেন। তার এই বক্তব্যের ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হলে ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়।
এই মন্তব্যের পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৩ এপ্রিল এমপি আমির হামজাকে একটি লিগ্যাল নোটিশ পাঠানো হয়। সেখানে উল্লেখ করা হয় যে, তার এমন বক্তব্যে সরকারের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ণ হয়েছে এবং জনমনে বিভ্রান্তি তৈরি হয়েছে। নোটিশে তাকে সাত দিনের সময় বেঁধে দিয়ে জানতে চাওয়া হয়েছিল জেলা প্রশাসক ঠিক কোন ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানকে এই টাকা দিয়েছেন, তার নাম প্রকাশ করতে হবে।
নির্ধারিত সময়ের মধ্যে উক্ত অভিযোগের স্বপক্ষে কোনও প্রমাণ বা তথ্য জনসম্মুখে প্রকাশ করতে ব্যর্থ হওয়ায় আদালত আজ তার বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারির আদেশ দেন। আইন সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, প্রশাসনের একজন শীর্ষ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে তথ্যপ্রমাণ ছাড়া এমন মন্তব্য করা আইনত দণ্ডনীয় এবং এটি সরকারি চাকরিজীবীদের মর্যাদাহানি করে।
মামলার আইনজীবী আব্দুল মজিদ জানান, একজন দায়িত্বশীল সংসদ সদস্যের কাছ থেকে এমন অসংলগ্ন বক্তব্য কাম্য নয়। সরকার যখন দুর্নীতিমুক্ত বাংলাদেশ গড়তে কাজ করছে, তখন প্রশাসনের বিরুদ্ধে এমন গুরুতর অভিযোগ তোলার আগে অবশ্যই পর্যাপ্ত তথ্য ও প্রমাণ থাকা প্রয়োজন। প্রমাণ দিতে ব্যর্থ হওয়ায় এবং বিভ্রান্তি ছড়ানোর কারণেই আদালত এই কঠোর পদক্ষেপ নিয়েছেন।
জয়পুরহাটের আক্কেলপুর উপজেলায় একটি অগভীর নলকূপের পাহারাদারকে মারধরের পর হাত-পা ও মুখ বেঁধে রেখে তিনটি ট্রান্সফরমার থেকে তামার তার চুরি করেছে দুর্বৃত্তরা। গত রোববার (১৯ এপ্রিল) গভীর রাতে উপজেলার রুকিন্দীপুর ইউনিয়নের নওদুয়ারী ফসলি মাঠে এ ঘটনা ঘটে। গতকাল সোমবার সকালে গুরুতর আহত অবস্থায় পাহারাদার আবদুর রশিদ মিলনকে (৪০) উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হয়।
এ ঘটনায় সোমবার (২০ এপ্রিল) দুপুরে রুকিন্দীপুর ইউনিয়ন পরিষদের ৬ নম্বর ওয়ার্ডের সদস্য ছাইদুল ইসলাম ওরফে ছানু থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন।
লিখিত অভিযোগ সূত্রে জানা গেছে, ইউপি সদস্য ছাইদুল ইসলামের নওদুয়ারী ফসলি মাঠের আলীগাঁও সেতু নামক স্থানে একটি বৈদ্যুতিক অগভীর নলকূপ স্থাপন করে সেচকাজ চালানো হচ্ছিল। রোববার (১৯ এপ্রিল) রাত আনুমানিক ৩টা থেকে সাড়ে ৩টার মধ্যে ৫-৬ জনের একটি দল নলকূপের ঘরের বেড়া ভেঙে ভেতরে ঢোকে। এরপর পাহারাদার আবদুর রশিদকে বেধড়ক মারধর করে তাঁর হাত-পা ও মুখ বেঁধে ফেলে। পরে বৈদ্যুতিক পোল থেকে তিনটি ট্রান্সফরমার নিচে নামিয়ে ভেতরের তামার তার খুলে নিয়ে যায়। অভিযোগে তিনটি ট্রান্সফরমারের আনুমানিক মূল্য দেড় লাখ টাকা উল্লেখ করা হয়েছে।
সোমবার (২০ এপ্রিল) বিকেলে ঘটনাস্থলে গিয়ে দেখা যায়, বৈদ্যুতিক পোলের নিচে তিনটি ট্রান্সফরমারের খালি বোতল পড়ে আছে। নলকূপের ঘরের ভেতরে বিছানাপত্রে রক্তের দাগ দেখা গেছে।
গুরুতর আহত আব্দুর রশিদ হাসপাতালে সাংবাদিকদের বলেন, তিনি অগভীর নলকূপের ঘরে ঘুমিয়ে ছিলেন। রাত আনুমানিক ৩ থেকে সাড়ে তিনটার দিকে ৫-৬ জন দুর্বৃত্ত ঘরের বেড়া ভেঙে ভেতরে ঢুকে তাকে বেধড়ক মারধরের পর হাত-পা ও মুখ বেঁধে ফেলে। তারা বৈদ্যুতিক পোল থেকে তিনটি ট্রান্সফরমার খুলে নিচে নামিয়ে তামার তার বের করে পালিয়ে যায়।
রুকিন্দীপুর ইউপির সদস্য মো. ছাইদুর ইসলাম বলেন, ‘আমার ছোট ভাই আবদুর রশিদ সারা রাত অগভীর নলকূপ পাহারা শেষে প্রতিদিন ভোরে বাড়িতে ফিরতেন। অনেক বেলা হলেও বাড়ি আসছিল না। তখন অগভীর নলকূপে গিয়ে দেখি পোলের নিচে তিনটি ট্রান্সফরমারের খালি বোতল পড়ে আছে। ঘরের ভেতর আমার ছোট ভাই হাত-পা ও মুখ বাঁধা অবস্থায় পড়ে আছে। তাঁর হাত দিয়ে রক্ত ঝরছিল। দ্রুত তাকে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে আসি। এ ঘটনায় থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দিয়েছি।’
আক্কেলপুর থানার ওসি শাহীর রেজা বলেন, পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়েছিল। এ ঘটনায় তদন্ত সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
আবুল হাশেম (৯০) ও বাচ্চু পাটওয়ারী (৮৫) দুই বন্ধুর সম্পর্ক দীর্ঘদিনের। একসঙ্গে বসে গল্প করতেন, আবার একসঙ্গেই গ্রামে কবর খোঁড়ার কাজ করতেন। গত রোববার (১৯ এপ্রিল) রাতে একসঙ্গে বসে আড্ডা দেন। গতকাল সোমবার মসজিদে ফজরের নামাজও পড়েন একসঙ্গে। সকালে বাচ্চু পাটওয়ারী বার্ধক্যের কারণে তার নিজ বাড়িতে মারা যান। খবর পেয়ে বন্ধুর দাফনের জন্য আবুল হাশেম কবরস্থানে এসে কবর খুঁড়ছিলেন। এ সময় বন্ধুর জন্য খোঁড়া কবরে নিজেই লুটিয়ে পড়ে মারা যান তিনি।
সোমবার (২০ এপ্রিল) সকালে চাঁদপুরের ফরিদগঞ্জ পৌর এলাকার কেরোয়া গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।
আবুল হাশেম ফরিদগঞ্জ পৌর এলাকার ২ নম্বর ওয়ার্ডের দক্ষিণ কেরোয়া ছৈয়াল বাড়ি জামে মসজিদের মুয়াজ্জিন ছিলেন। বাচ্চু পাটওয়ারী আগে কাঠমিস্ত্রির কাজ করতেন। তাঁরা দুজনই কেরোয়া গ্রামের বাসিন্দা।
আবুল হাশেমের ছেলে জহির হোসেন বলেন, আবার বাবা ও প্রতিবেশী চাচা বাচ্চু পাটওয়ারী দুজনই ঘনিষ্ঠ বন্ধু। তারা দুজনই বিনা পারিশ্রমিকে মানুষের কবর খুঁড়ে দিতেন। সকালে পাটওয়ারী চাচা মারা যাওয়ার খবর শুনে বাবা কিছুক্ষণ কান্না করেন। পরে বন্ধুর কবর খুঁড়তে কবরস্থানে যান। কবর খোঁড়ার পর সেখানেই তার মৃত্যু হয়। আমার বাবা ও চাচার জন্য সবার কাছে দোয়া চাই।’
বাচ্চু পাটওয়ারীর ভাতিজা নাজির আহমেদ হুমায়ুন পাটওয়ারী বলেন, ‘আমরা আবুল হাশেম কাকাকে নিয়ে বাচ্চু চাচার কবর খুঁড়ছিলাম। কবর খোঁড়ার শেষ পর্যায়ে হঠাৎ হাশেম কাকা কবরে লুটিয়ে পড়েন। পরে তাড়াহুড়া করে ওপরে উঠিয়ে দেখি তিনি আর নেই।’
সাতক্ষীরার শ্যামনগর উপকূলে সুপেয় পানির দাবিতে ব্যতিক্রমধর্মী ম্যারাথন ‘রান ফর ওয়াটার-২.o’ হয়ে গেল। দেশের বিভিন্ন অঞ্চলের দুই শতাধিক তরুণ-তরুণী ও পরিবেশকর্মী উপকূলের মানুষের পানি সংগ্রহের সংগ্রামকে ফুটিয়ে তুলতে মাটির কলস নিয়ে এই ম্যারাথনে অংশ নেন। সোমবার (২০ এপ্রিল) সকাল সাড়ে ৬টায় উপজেলার মুন্সিগঞ্জ গ্যারেজ বাজার থেকে শুরু হয়ে প্রায় সাড়ে চার কিলোমিটার পথ পাড়ি দিয়ে আবাদচন্ডিপুর গাজী বাড়ি ঈদগাহ মাঠে গিয়ে শেষ হয় এই ম্যারাথন।
সুপেয় পানি নিশ্চিতের দাবিতে স্থানীয় যুব স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন শরুব ইয়ুথ টিম এই ম্যারাথনের আয়োজন করে। কর্মসূচিটি বাস্তবায়নে সহযোগিতা করছে একশনএইড বাংলাদেশ। এছাড়া ৩০টিরও বেশি যুব সংগঠন ও বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা এতে একাত্মতা প্রকাশ করে অংশ নেয়।
ম্যারাথনে প্রথম স্থান অধিকার করেন গাবুরার জি.কে সাব্বির হোসেন, দ্বিতীয় হন বুড়িগোয়ালিনীর সাগর হোসেন এবং তৃতীয় স্থান অধিকার করেন সাতক্ষীরা সদরের ওয়াছিমুল ইসলাম তপু।
ম্যারাথন শেষে আবাদচন্ডিপুর গাজী বাড়ি ঈদগাহ মাঠে এক সংক্ষিপ্ত আলোচনা সভা হয়।
এতে বক্তব্য দেন একশনএইড বাংলাদেশ-এর ডেপুটি ম্যানাজার (ইয়ুথ অ্যান্ড জাস্ট সোসাইটি) মুসতাহিদ জামি, ডেপুটি ম্যানাজার (পার্টনারশিপ এবং প্রোগ্রাম) আরিফ সিদ্দিকী, সিডোর প্রধান নির্বাহী শ্যামল কুমার বিশ্বাস, বারসিকের আঞ্চলিক সমন্বয়কারী মোঃ শাহিন আলম, বাধন সংস্থার প্রতিনিধি শেখ ইমরান ও এসসিএফ এর সহকারী নির্বাহী পরিচালক হাবিবুল্ল্যাহ আল মামুন।
তারা পানি সংকটের দীর্ঘমেয়াদী সমাধানের জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষণ করেন।
বক্তারা বলেন, এই ম্যারাথন শুধু একটি ক্রীড়া প্রতিযোগিতা নয়, বরং এটি উপকূলীয় জনপদের পানির অধিকার ও জলবায়ু ন্যায়বিচারের বিষয়ে সামাজিক সচেতনতা তৈরির এক অনন্য প্রচেষ্টা।
আয়োজকেরা জানান, ক্রমবর্ধমান লবণাক্ততা, ভূগর্ভস্থ পানির স্তর নিচে নেমে যাওয়া এবং ঘূর্ণিঝড়-জলোচ্ছ্বাসের কারণে তীব্র পানিসংকটে ভুগছেন দেশের দক্ষিণ-পশ্চিম অঞ্চলের উপকূলীয় এই জনপদের বাসিন্দারা। তাই এই ম্যারাথন আয়োজনের মধ্য দিয়ে এ বিষয়ে সচেতনতা তৈরি এবং নিরাপদ পানির দাবি তুলে ধরা হয়েছে।
শরুব ইয়ুথ টিমের পরিচালক এস এম জান্নাতুল নাঈম বলেন, এই দৌড়ের মাধ্যমে আমরা স্থানীয়ভাবে যেমন সচেতনতা বাড়াতে চাই, তেমনি জাতীয় পর্যায়েও সুপেয় পানির সংকটের বিষয়টি গুরুত্ব পাবে বলে আশা করছি।
তিনি আরও বলেন, নিরাপদ পানি মানুষের মৌলিক অধিকার হলেও উপকূলীয় অঞ্চলের মানুষ দীর্ঘদিন ধরে এই অধিকার থেকে বঞ্চিত। অনেক নারীকে কয়েক কিলোমিটার পথ পায়ে হেঁটে পানি সংগ্রহ করতে হয়, আবার অনেকেই বাধ্য হয়ে পানি কিনে ব্যবহার করেন। এই বাস্তবতা তুলে ধরতেই আমাদের এই আয়োজন।
বাগেরহাটের শরণখোলা উপজেলার সুন্দরবনসংলগ্ন খুড়িয়াখালী গ্রাম থেকে একটি চিত্রল হরিণ উদ্ধার করে পুনরায় বনে অবমুক্ত করা হয়েছে। গত রোববার (১৯ এপ্রিল) সকালে সুন্দরবন থেকে নদী সাঁতরে হরিণটি গ্রামের জামাল মিরের বাড়িতে ঢুকে পড়ে। খবর পেয়ে বনবিভাগ, ওয়াইল্ড টিম, ভিলেজ টাইগার রেসপন্স টিম (ভিটিআরটি) এবং স্থানীয় গ্রামবাসী যৌথভাবে হরিণটিকে অক্ষত অবস্থায় উদ্ধার করেন।
উদ্ধারকারীদের ধারণা, বাঘের তাড়া খেয়ে কিংবা দলছুট হয়ে হরিণটি লোকালয়ে চলে আসে।
ওয়াইল্ড টিমের শরণখোলা ফিল্ড ফ্যাসিলিটেটর মো. আলম হাওলাদার জানান, ভেজা শরীরে হরিণটি বাড়ির ভেতরে ঢুকে পড়ে। পরে গ্রামবাসীর সহায়তায় সেটিকে উদ্ধার করে বনবিভাগের কাছে হস্তান্তর করা হয়।
পূর্ব সুন্দরবনের শরণখোলা স্টেশন কর্মকর্তা (এসও) মো. খলিলুর রহমান জানান, উদ্ধার হওয়া স্ত্রী হরিণটির ওজন আনুমানিক ২৫ কেজি। সকাল ১০টার দিকে রেঞ্জ অফিসসংলগ্ন বনে হরিণটিকে অবমুক্ত করা হয়।
তিনি আরও বলেন, সুন্দরবনের হরিণ তুলনামূলক ভীতু প্রাণী। অস্বাভাবিক পরিস্থিতিতে তারা আতঙ্কিত হয়ে পড়ে এবং কখনো কখনো মৃত্যুঝুঁকিতেও থাকে। তবে প্রশিক্ষিত সদস্যদের উপস্থিতিতে হরিণটিকে নিরাপদে উদ্ধার ও অবমুক্ত করা সম্ভব হয়েছে।
‘জ্ঞান বিজ্ঞানে করব জয়, সেরা হব বিশ্বময়’- এই প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে মৌলভীবাজারের জুড়ীতে আয়োজিত ৪৭তম জাতীয় বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি সপ্তাহ ও বিজ্ঞান মেলা-২০২৬ নির্ধারিত সময়ের আগেই শেষ করে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। দুই দিনব্যাপী আয়োজনের ঘোষণা থাকলেও কার্যত একদিনেই মেলার কার্যক্রম গুটিয়ে ফেলায় শিক্ষার্থী, শিক্ষক ও স্থানীয় সচেতন মহলের মাঝে তীব্র ক্ষোভ ও প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।
বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের পৃষ্ঠপোষকতা এবং জাতীয় বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি জাদুঘরের তত্ত্বাবধানে জুড়ী উপজেলা প্রশাসন এই মেলার আয়োজন করেছিল। অভিযোগ রয়েছে, প্রচারণার ঘাটতি এবং অব্যবস্থাপনার কারণে জাতীয় পর্যায়ের এই মেলাটির কাঙ্ক্ষিত আমেজ তৈরি হয়নি। উপজেলার বেশিরভাগ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান মেলা সম্পর্কে জানতেই পারেনি, ফলে অংশগ্রহণকারীর সংখ্যা ছিল হতাশাজনক।
মেলায় অংশগ্রহণকারী একাধিক শিক্ষার্থী ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, ‘আমরা অনেক আশা ও শ্রম দিয়ে বিজ্ঞান প্রজেক্ট তৈরি করেছিলাম। কিন্তু মেলা একদিনেই শেষ হয়ে যাওয়ায় আমরা আমাদের উদ্ভাবনগুলো ঠিকমতো উপস্থাপন করার সুযোগই পেলাম না।’
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একজন শিক্ষক বলেন, ‘নির্ধারিত সময়সূচি মেনে মেলা চললে আরও বেশি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও শিক্ষার্থী তাদের উদ্ভাবনী মেধা প্রদর্শনের সুযোগ পেত। এমন আয়োজনে দায়সারা ভাব কাম্য নয়।’
এ বিষয়ে জুড়ী উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা হাওলাদার আজিজুল ইসলাম বলেন, ‘সময় সংকট ও কিছু প্রশাসনিক কারণে মেলার সময়সূচিতে পরিবর্তন আনতে হয়েছে। তবে ভবিষ্যতে বিষয়টি আরও পরিকল্পিতভাবে সম্পন্ন করার চেষ্টা করা হবে।’
অন্যদিকে জুড়ী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মুশফিকীন নুর বলেন, ‘এসএসসি পরীক্ষার প্রস্তুতির বিষয়টি মাথায় রেখে সময়ের সীমাবদ্ধতার কারণে প্রদর্শনী প্রথম দিনেই শেষ করতে হয়েছে। কিছু সীমাবদ্ধতা থাকলেও আমরা শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করার সর্বোচ্চ চেষ্টা করেছি।’
স্থানীয় সচেতন মহল মনে করছে, বিজ্ঞান মেলা শিক্ষার্থীদের সৃজনশীলতা বিকাশ ও বিজ্ঞানমনস্কতা গড়ে তোলার একটি বড় ক্ষেত্র। যথাযথ পরিকল্পনা, কার্যকর প্রচারণা এবং সময় ব্যবস্থাপনার অভাবে এবারের মেলা তার মূল উদ্দেশ্য থেকে বিচ্যুত হয়েছে। ভবিষ্যতে জাতীয় পর্যায়ের এ ধরনের কর্মসূচি আয়োজনে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে আরও দায়িত্বশীল হওয়ার আহ্বান জানান তারা।
পাবনায় বিশেষ অভিযান চালিয়ে একটি অবৈধ অস্ত্র তৈরির কারখানার সন্ধান পেয়েছে জেলা গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)। অভিযানে তিনটি বিদেশি রিভলভার, একটি ওয়ান শুটার গান এবং বিপুল পরিমাণ অস্ত্র তৈরির সরঞ্জামসহ এক জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এ সময় পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে অপর এক সহযোগী পালিয়ে যায়। সোমবার (২০ এপ্রিল) ভোরে পাবনা সদর থানাধীন আরিফপুর হাজিরহাট এলাকায় এ অভিযান চালানো হয়। গ্রেপ্তার ব্যক্তির নাম মো. অলি হোসেন (২৬)। তিনি পাবনা পৌরসভার ০৬ নম্বর ওয়ার্ডের আরিফপুর পূর্বপাড়া এলাকার রব্বেল শেখের ছেলে। পলাতক আসামির নাম মো. শুভ ফকির (২৫)।
পুলিশ জানায়, পাবনা জেলা পুলিশ সুপার আনোয়ার জাহিদের নির্দেশনায় এবং অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম অ্যান্ড অপস) মো. রেজিনুর রহমানের তত্ত্বাবধানে ডিবির একটি চৌকস দল এই অভিযান পরিচালনা করে। ডিবি পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রাশিদুল ইসলামের নেতৃত্বে এসআই বেনু রায় ও এসআই মাহিদুল ইসলামসহ একটি দল ভোর আনুমানিক ৩টা ৩০ মিনিটে হাজিরহাট এলাকার একটি বাড়িতে হানা দেয়।
অভিযানকালে আসামিদের হেফাজত থেকে উদ্ধার করা হয়: বিদেশি রিভলভার: ৩টি .২২ বোরের সচল রিভলভার (ব্যারেলে ‘Made in Pakistan’ খোদাই করা)। ওয়ান শুটার গান: ১টি দেশীয় তৈরি সচল ওয়ান শুটার গান। গুলি: ২ রাউন্ড তাজা গুলি। সরঞ্জামাদি: হাতুড়ি, প্লাস, স্প্রে পেইন্ট, রড কাটারসহ আগ্নেয়াস্ত্র তৈরির বিপুল সরঞ্জাম। মোবাইল: ২ টি স্মার্টফোন।
ডিবির ওসি মো. রাশিদুল ইসলাম জানান, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে ওই বাড়িতে অভিযান চালিয়ে একটি মিনি অস্ত্র কারখানার সন্ধান পাওয়া যায়। সেখান থেকে অলি হোসেনকে হাতেনাতে গ্রেপ্তার করা হলেও শুভ ফকির পালিয়ে যেতে সক্ষম হয়। উদ্ধার আগ্নেয়াস্ত্রগুলোর মধ্যে রিভলভারগুলো বেশ উন্নত মানের।
পুলিশ আরও জানায়, আসামির বিরুদ্ধে মাদক মামলা এবং পলাতক আসামির বিরুদ্ধে চুরির মামলা রয়েছে। এই চক্রটি দীর্ঘদিন ধরে গোপনে অস্ত্র তৈরি ও কেনাবেচার সাথে জড়িত বলে ধারণা করা হচ্ছে। পলাতক আসামিকে গ্রেপ্তারে ডিবির অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
মৌলভীবাজারের কমলগঞ্জ উপজেলার আদমপুর ইউনিয়নের কান্দিগাঁও এলাকায় দাঁড়িয়ে থাকা একটি ব্রিজ— যা হতে পারত উন্নয়ন ও সম্ভাবনার প্রতীক— আজ হয়ে উঠেছে অব্যবস্থাপনা ও পরিকল্পনাহীনতার এক নীরব সাক্ষী। নির্মাণের প্রায় তিন দশক পেরিয়ে গেলেও ব্রিজটি আজও ব্যবহারহীন, কারণ ব্রিজটির সঙ্গে নেই কোনো সংযোগ সড়ক।
প্রায় ২৯ বছর আগে একটি ছোট ছড়ার ওপর নির্মিত এই ব্রিজটি স্থানীয় মানুষের স্বপ্ন জাগিয়েছিল। আশা ছিল, এটি চালু হলে আশপাশের কয়েকটি ইউনিয়নের মানুষের যাতায়াত সহজ হবে, কমবে সময় ও দূরত্ব। কিন্তু বাস্তবতা সেই স্বপ্নকে ধূলিসাৎ করেছে। ব্রিজের দুই পাশে মাটি ভরাট ও সড়ক নির্মাণ না হওয়ায় এটি আজও কার্যত অচল।
সরেজমিনে দেখা যায়, ব্রিজে ওঠতে হলে স্থানীয়দের ভরসা করতে হয় অস্থায়ী ও ঝুঁকিপূর্ণ ব্যবস্থার ওপর— কখনো বাঁশের সাঁকো, কখনো উঁচু কোনো কাঠামো। প্রতিদিন জীবনের ঝুঁকি নিয়ে পারাপার হতে হয় তাদের। ফলে সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন চলাচল হয়ে ওঠেছে দুর্বিষহ।
এই ব্রিজটি ব্যবহারযোগ্য হলে অন্তত চারটি ইউনিয়নের ৮ থেকে ১০টি গ্রামের হাজার হাজার মানুষ সরাসরি উপকৃত হতেন। শিক্ষা, চিকিৎসা ও জরুরি প্রয়োজনে যাতায়াত সহজ হতো। বর্তমানে বাধ্য হয়ে মানুষকে ৩ থেকে ৪ কিলোমিটার ঘুরে বিকল্প পথে যাতায়াত করতে হচ্ছে, যা সময় ও শ্রম দুটোই বাড়িয়ে দিচ্ছে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, সরকারি অর্থ ব্যয়ে নির্মিত এই ব্রিজটি দীর্ঘদিন ধরে অব্যবহৃত পড়ে থাকলেও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কার্যকর কোনো উদ্যোগ চোখে পড়েনি। ফলে এটি এখন উন্নয়নের প্রতীক না হয়ে অপচয়ের এক বাস্তব উদাহরণে পরিণত হয়েছে।
তবে আশার কথা শুনিয়েছেন কমলগঞ্জ উপজেলা প্রকৌশলী মো. সাঈফুল আজম। তিনি জানান, ব্রিজটির বিষয়ে খোঁজ নেওয়া হয়েছে এবং দুপাশে মাটি না থাকায় এটি ব্যবহার অনুপযোগী হয়ে আছে। দ্রুত সময়ের মধ্যে সংযোগ সড়ক নির্মাণসহ প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে বলে তিনি আশ্বাস দিয়েছেন।
এলাকাবাসীর এখন একটাই প্রত্যাশা—দীর্ঘ প্রতীক্ষার অবসান ঘটিয়ে দ্রুত ব্রিজটি চলাচলের উপযোগী করা হোক। না হলে এটি কেবল একটি পরিত্যক্ত স্থাপনা হিসেবেই থেকে যাবে, আর মানুষের ভোগান্তিও চলতেই থাকবে।