শনিবার, ১ আগস্ট ২০২৬
১৭ শ্রাবণ ১৪৩৩

রাতেও ছিল সাজানো সংসার, ভোরে সব শেষ শরীফার

শরীফা বেগমের আহাজারি, ডানে স্বামী সোহেল ও শিশু কন্যা বিবি জান্নাত। ছবি: দৈনিক বাংলা
আপডেটেড
২৭ আগস্ট, ২০২৩ ২০:০০
আরাফাত বিন হাসান, চট্টগ্রাম
প্রকাশিত
আরাফাত বিন হাসান, চট্টগ্রাম
প্রকাশিত : ২৭ আগস্ট, ২০২৩ ১৯:২৪

‘কই গেলারে আঁরে ফেলাই? আল্লাহ, তুমি কী করলা আমারে? আমারে তো শেষ করছে! আমার তো সব শেষ! সব শেষ, শেষ সব আমার!’ পাহাড় ধসে ঘুমন্ত স্বামী ও সাত মাসের কন্যাকে হারিয়ে এভাবেই আহাজারি করছিলেন শরীফা বেগম। একটু পর পর মৃত স্বামীর উদ্দেশ্যে বলছিলেন, ‘কই গেলারে আঁরে ফেলাই? কোথায় রাখি গেলা আমারে?’

রোববার দুপুরে চট্টগ্রাম নগরীর ষোলশহর রেলস্টেশনের পেছনের পাহাড়ে আই ডব্লিউ কলোনিতে গিয়ে দেখা গেল শরীফার এমন আহাজারি। তার আহাজারি ছুঁয়ে যাচ্ছিল আশেপাশে সবাইকেও। কান্নায় ভেঙে পড়েন স্বজনরাও।

শনিবার রাতেও সাজানো-গোছানো সংসার ছিল শরীফার। রাতে খাওয়া দাওয়া সেরে স্বামী ও দুই কন্যাকে নিয়ে ঘুমিয়েছিলেন। রোববার ভোর ৬টার দিকে হঠাৎ নিজেকে আবিষ্কার করেন মাটির নিচে। ঘটনা আঁচ করতে পেরে পাশে থাকা সাত মাসের কন্যা বিবি জান্নাতকে নিরাপদে রাখার চেষ্টা করেন। কিন্তু পারলেন না। প্রতিবেশীরা যতক্ষণে তাদের উদ্ধার করে হাসপাতালে নেন, ততক্ষণে প্রাণ হারায় বিবি জান্নাত। চিরতরে উড়াল দেন স্বামী সোহেলও। শরীফা নিজে ও তার ষষ্ঠ শ্রেণি পড়ুয়া বড় মেয়ে বিবি কুলসুমা আক্তার মিম প্রাণে বেঁচে গেলেও আহত হয়েছেন মাটিচাপায়। শরীফাকে তার সেই ক্ষতের চেয়ে বেশি পোড়াচ্ছে স্বামী-সন্তান হারানোর গভীর ক্ষত।

পাহাড় ধসের শব্দ শুনে শরীফা ও তার স্বজনদের উদ্ধার করেন জা সাজিয়া আক্তার সাজু। দৈনিক বাংলাকে তিনি বলেন, ‘বিকট শব্দ শুনে দৌড়ে উঠে দেখি ওদের ঘরের দরজা বন্ধ। তাদের অনেক ডাকার পরও দেখি দরজা খুলে না। সবাইকে ডেকে তিনজনে ভেঙেছি দরজা, ভেঙে দেখি ওরা সবাই মাটির নিচে।’

‘তিনজনের পা দেখা যাচ্ছিল, ছোটটার (জান্নাত) কিছুই দেখা যায়নি। আমরা টেনে মিমকে বের করছি। সবাইকে ডাকতেছি, কেউ আসেনি।’

সাজিয়ার বিয়ে হয়েছে ১৫ বছর। বিয়ের পর থেকেই তিনি পাহাড়ের পাদদেশে বসবাস করে আসছেন। স্বামী-স্বজনদের রেলওয়েতে কর্মচারী হিসেবে চাকরির সুবাদের আরও আগে থেকেই ওই এলাকায় বসবাস করে আসছেন তার শ্বশুরবাড়ির লোকজন।

ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়েছে শরীফা বেগমের বাড়িটি। ছবি: দৈনিক বাংলা

ধসের ওই স্থানে কয়েকদিন ধরে পাহাড় কেটে দেয়াল তৈরি করছিলেন খালেদ নামের রেলওয়ের এক কর্মচারী। সাজিয়াসহ স্থানীয়দের দাবি, পাহাড় কেটে ওই দেয়াল তৈরির কারণেই মাটি ধসে এই প্রাণহানির ঘটনা ঘটল।

সাজিয়া বলেন, “৮ থেকে ১০ দিন ধরে খালেদ মাটি কেটে দেয়াল তুলতেছিল। গতকালও মাটি কাটছে। আমরা জিজ্ঞেস করছি, ‘কাকা, দেয়াল কেন তোলেন? আমাদের মারার জন্য নাকি?’ সে বলে, ‘তোরা মরবি না, তোদের বাঁচানোর জন্যই দেয়াল তুলে দিচ্ছি।’ অনেকেই তাকে গালি দিছে, তাকে বলছে ভাঙলে তার বিচার হবে। এখন বিচার হয়ে কী হবে?”

তবে পাহাড় ধসের ঘটনার পরপর অভিযুক্ত খালেদ গা ঢাকা দিয়েছেন। এজন্য তার কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি। ওই এলাকায় অবৈধভাবে পাহাড় দখল করে দুটো কলোনি তৈরি করে খালেদ ভাড়া দিয়েছেন বলে জানিয়েছেন স্থানীয়রা।

প্রাণ ঝরল, প্রশাসন নড়ল
রোববার ভোরে পাহাড় ধসে প্রাণহানির পর তোড়জোড় শুরু করেছেন সংশ্লিষ্ট প্রশাসনিক কর্মকর্তারা। পাহাড় ধসে প্রাণহানির খবরে তড়িঘড়ি করে ষোলশহর রেলস্টেশন এলাকায় পাহাড়ে অবৈধভাবে ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় বসবাসকারীদের উচ্ছেদে অভিযান পরিচালনা করে জেলা প্রশাসন। তবে পাহাড় ধসের পর ওই এলাকার ঠিক কী পরিমাণ মানুষকে আশ্রয়কেন্দ্রে নেওয়া হয়েছে সে বিষয়ে কোনো তথ্য দিতে পারেননি জেলা ত্রাণ ও পুনর্বাসন কর্মকর্তা মো. সাইফুল্লাহ মজুমদার।

২৬ পাহাড়ে লক্ষাধিক অবৈধ বসবাসকারী
ষোলশহরে পাহাড় ধসে নিহতের স্বজনরা রেলওয়েতে চাকরির সুবাদে ওই পাহাড়ে বসবাসের কথা বললেও জানা যায়, মূলত পাহাড় দখল করে অবৈধভাবে বসতি গড়েছেন তারা। চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসনের তথ্য অনুযায়ী, তাদের মত বর্তমানে নগরীর ২৬টি পাহাড়ে ছয় হাজার ৫৫৮টি পরিবার অবৈধভাবে বসবাস করছে। যদিও পরিবেশকর্মীদের দাবি, পাহাড়ে বসবাসকারীদের প্রকৃত সংখ্যা তার কয়েকগুণ। জীবনের ঝুঁকি নিয়ে পাহাড়ে বসবাস করছে লক্ষাধিক মানুষ।

পাহাড় বাঁচাতে তিন উদ্যোগ চান পরিবেশকর্মীরা
স্বাধীনতার পর থেকে এখন পর্যন্ত চট্টগ্রাম নগরীর ৬৫ থেকে ৭০ শতাংশ পাহাড় নিশ্চিহ্ন হয়ে গেছে। বর্তমানে যে কয়টা পাহাড় টিকে আছে সেসব রক্ষায় সংশ্লিষ্টদের প্রতি তিনটি উদ্যোগ নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন বাংলাদেশ পরিবেশ ফোরামের সাধারণ সম্পাদক আলিউর রহমান। এই পরিবেশ সংগঠক বলেন, ‘পাহাড় রক্ষায় সংশ্লিষ্টরা তিনটি উদ্যোগ নিতে পারে। প্রথমত পাহাড় খালি না রেখে পরীক্ষা করে সেসব কীভাবে কাজে লাগানো যায় তার উপায় বের করা। দ্বিতীয়ত ব্যাক্তিমালিকাধীন পাহাড়ের বিষয়ে সুনির্দিষ্ট রিপোর্ট দেওয়া যে, তারা এটার বাইরে যেতে পারবে না। তৃতীয়ত একজন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ও পুলিশসহ সংশ্লিষ্ট সব দপ্তরের লোক নিয়ে একটা স্ট্রাইকিং ফোর্স গঠন করা। এই টিমটা সবসময় পাহাড় দেখভাল নিয়ে কাজ করবে।’

বিষয়:

নির্বাচিত

সাত বছর পর চালু হচ্ছে রংপুর শিশু হাসপাতাল

ছবি: দৈনিক বাংলা
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
রংপুর প্রতিনিধি

নির্মাণের সাত বছর পর অবশেষে চালু হচ্ছে রংপুরের ১০০ শয্যাবিশিষ্ট আধুনিক শিশু হাসপাতাল। শনিবার (১ আগস্ট) সকালে হাসপাতালের আউটডোর, ইনডোর ভবন, হাসপাতালের প্রবেশ দ্বার ও অক্সিজেন প্লান্ট পরিদর্শন শেষে এ কথা জানান স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের বাজেট শাখার অতিরিক্ত সচিব আরিফ আহমদ।

আরিফ আহমদ বলেন, ‘আগামী সেপ্টেম্বরের মধ্যে রংপুরসহ সারাদেশে নির্মিত শিশু হাসপাতাল উদ্বোধনের লক্ষ্যে প্রয়োজনীয় যন্ত্রপাতি ও আসবাবপত্র ক্রয়, জনবল নিয়োগের কার্যক্রম প্রায় শেষ পর্যায়ে রয়েছে।’

তিনি বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী অচিরেই রংপুরসহ সারাদেশে নির্মিত শিশু হাসপাতাল উদ্বোধন করবেন। এ লক্ষ্যে যন্ত্রপাতি কেনার জন্য ২০৭ কোটি টাকা বরাদ্দ হয়েছে। সেটির টেন্ডার প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। এ মাসের মধ্যে সকল হাসপাতালে যন্ত্রপাতি চলে আসবে। পদ সৃজনের বিষয়টি অর্থ বিভাগে পাঠানো হয়েছে। এটির কাজও প্রায় শেষ হয়েছে।’

আরিফ আহমদ বলেন, ‘হাসপাতালে আসবাবপত্রের জন্য এরই মধ্যে টেন্ডার হয়েছে। এখন স্যাম্পল যাচাই-বাছাই চলছে। আশা করছি এ মাসের মধ্যে অগ্রগতি দেখতে পারব। প্রধানমন্ত্রী দু’এক মাসের মধ্যে শিশু হাসপাতালের উদ্বোধন করবেন। এর আগেই হাসপাতালের সকল কাজ শেষ হবে। এরপর অতিরিক্ত সচিব আরিফ আহমদ রংপুর মা ও শিশু হাসপাতাল এবং রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল পরিদর্শন করেন।’

এ সময় রংপুর বিভাগীয় স্বাস্থ্য উপপরিচালক ডা. ওয়াজেদ আলী, সিভিল সার্জন শাহীন সুলতানাসহ স্বাস্থ্য বিভাগের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

প্রসঙ্গত সাত বছর আগে রংপুরের সাবেক সদর হাসপাতালের ১ দশমিক ৭৮ একর জমির মধ্যে নির্মাণ করা হয় ১০০ শয্যাবিশিষ্ট আধুনিক শিশু হাসপাতাল। এটি নির্মাণের কার্যাদেশ দেওয়া হয় ২০১৭ সালের ২১ নভেম্বর। ৩১ কোটি ৪৮ লাখ ৯২ হাজার ৮০৯ টাকার সেই কাজটি করেছে ঢাকার ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান মেসার্স মল্লিক এন্টারপ্রাইজ ও মেসার্স অণিক ট্রেডিং করপোরেশন। ভবন নির্মাণের জন্য দুই বছরের সময়সীমা বেঁধে দেওয়া হলেও নির্ধারিত সময়ের আড়াই মাস আগে কাজ শেষ করা হয়। এ নিয়ে গত ১৩ এপ্রিল জনবল সংকট-অর্থ বরাদ্দে আটকা রংপুরের শিশু হাসপাতালের কার্যক্রম শিরোনামে একটি গণমাধ্যমে সংবাদ প্রকাশ হয়।

নবনির্মিত এই হাসপাতাল ভবনটি আনুষ্ঠানিকভাবে জেলা সিভিল সার্জনকে ২০২০ সালের ৮ মার্চ হস্তান্তর করা হয়। কিন্তু ওই বছর করোনা প্রাদুর্ভাব বাড়ায় ভবনটিকে ডেডিকেটেড করোনা হাসপাতাল হিসেবে ব্যবহার করা হয়।

তিনতলা মূল হাসপাতাল ভবনের প্রতি তলার আয়তন ২০ হাজার ৮৮২ দশমিক ৯৭ বর্গফুট। এ ছাড়া নির্মাণ করা হয়েছে চারতলাভিত্তির তিনতলা সুপারিনটেনডেন্ট কোয়ার্টার। সিঁড়ি বাদে প্রতি তলার আয়তন দেড় হাজার বর্গফুট। ছয়তলা ডক্টরস কোয়ার্টারের নিচতলায় গাড়ি পার্কিং, দ্বিতীয় তলা থেকে ডাবল ইউনিট। আছে ছয়তলা বিশিষ্ট স্টাফ অ্যান্ড নার্স কোয়ার্টার। দুইতলা বিশিষ্ট গ্যারেজ কাম ড্রাইভার কোয়ার্টার। নিচে দুটি গাড়ি রাখার ব্যবস্থা রয়েছে সেখানে। বিদ্যুৎ সাবস্টেশন স্থাপনের জন্যও নির্মাণ করা হয়েছে একটি ভবন।

শিশু হাসপাতালের মূল ভবনের প্রথম তলায় ইমার্জেন্সি, আউটডোর, চিকিৎসকদের চেম্বার এবং ল্যাব। দ্বিতীয় তলায় অপারেশন থিয়েটার, ব্রোন ইউনিট এবং তৃতীয় তলায় ওয়ার্ড এবং কেবিন।


নির্বাচিত

কুয়েটে আইডিএম-এ ‘নবীন বরণ ও বিদায় সংবর্ধনা

ছবি: দৈনিক বাংলা
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
খুলনা ব্যুরো

খুলনা প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় (কুয়েট)-এর ইনস্টিটিউট অব ডিজাস্টার ম্যানেজমেন্ট (আইডিএম)-এর উদ্যোগে ‘নবীন বরণ ও বিদায় সংবর্ধনা-২০২৬’ অনুষ্ঠিত হয়েছে।

শনিবার (১ আগস্ট) সকাল ১১টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের সিভিল ইঞ্জিনিয়ারিং ভবনের সেমিনার কক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের মাননীয় ভাইস-চ্যান্সেলর প্রফেসর ড. মুহাম্মদ মাছুদ।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে ভাইস-চ্যান্সেলর প্রফেসর ড. মুহাম্মদ মাছুদ শিক্ষার্থীদের আন্তরিক শুভেচ্ছা জানিয়ে বলেন, “দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা বর্তমান বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জ্ঞানক্ষেত্র। জলবায়ু পরিবর্তন, প্রাকৃতিক দুর্যোগ এবং টেকসই উন্নয়নের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় দক্ষ ও মানবিক পেশাজীবী গড়ে তুলতে এ ধরনের উচ্চশিক্ষা কার্যক্রম গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে। শিক্ষার্থীদের কেবল একাডেমিক উৎকর্ষ অর্জন করলেই হবে না, বরং বাস্তবমুখী জ্ঞান, গবেষণা এবং সমাজের প্রতি দায়িত্ববোধ নিয়ে নিজেদের গড়ে তুলতে হবে।”

অনুষ্ঠানে প্রফেশনাল ডিপ্লোমা ইন ডিজাস্টার ম্যানেজমেন্ট অ্যান্ড স্যানিটেশন এবং মাস্টার্স প্রোগ্রামের জুলাই ২০২৬ সেমিস্টারের নবীন শিক্ষার্থীদের আনুষ্ঠানিকভাবে বরণ করে নেওয়া হয়। একই সঙ্গে প্রফেশনাল ডিপ্লোমা ইন ডিজাস্টার ম্যানেজমেন্ট অ্যান্ড স্যানিটেশন প্রোগ্রামের জানুয়ারি ২০২৬ সেমিস্টারের শিক্ষার্থীদের বিদায় সংবর্ধনা প্রদান করা হয়।

অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন ইনস্টিটিউট অব ডিজাস্টার ম্যানেজমেন্ট (আইডিএম)-এর পরিচালক প্রফেসর ড. মুহাম্মদ শাহজাহান আলী। এ সময় আইডিএম-এর সহযোগী অধ্যাপক ড. আনজুম তাসনুভা, সহকারী অধ্যাপক ড. মো. শফিকুল ইসলাম এবং সহকারী অধ্যাপক ড. মো. জালাল উদ্দীন উপস্থিত ছিলেন। অনুষ্ঠানের সার্বিক সঞ্চালনা ও উপস্থাপনা করেন আইডিএম-এর সহকারী অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ ইসমাইল হোসেন। অনুষ্ঠানে জানুয়ারি ২০২৬ সেমিস্টারের বিদায়ী শিক্ষার্থীদের হাতে সনদপত্র ও সম্মাননা ক্রেস্ট তুলে দেন অতিথিবৃন্দ।

এ সময় বিদায়ী শিক্ষার্থীরা আইডিএম-এ তাদের শিক্ষা ও অভিজ্ঞতার বিভিন্ন স্মৃতিচারণ করেন এবং শিক্ষক-সহপাঠীদের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশের পাশাপাশি নিজেদের অনুভূতি ব্যক্ত করেন। অনুষ্ঠানে আইডিএম-এর শিক্ষক, কর্মকর্তা, নবীন ও বিদায়ী শিক্ষার্থীরা উপস্থিত ছিলেন।


নির্বাচিত

পলাশবাড়ী কলেজে একাডেমিক ভবনের ভিত্তিপ্রস্তর উদ্বোধন

ছবি: দৈনিক বাংলা
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নাসির উদ্দিন শাহ মিলন, নীলফামারী

নীলফামারীর পলাশবাড়ী ডিগ্রি কলেজ চারতলা ভিত বিশিষ্ট একতলা একাডেমিক ভবনের নির্মাণ কাজের ভিত্তি প্রস্তর স্থাপন ও মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। শনিবার (১ আগস্ট) বিকেলে প্রধান অতিথি হিসেবে প্রথমতলা নির্মাণকাজের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেন বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য ও সাবেক সংসদ সদস্য প্রকৌশলী শাহরিন ইসলাম চৌধুরী তুহিন। এক কোটি ২৪ লাখ টাকা ব্যয় এই ভবন নির্মাণ হচ্ছে।

এরপর কলেজ প্রাঙ্গণে মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়। এতে কলেজের গভর্নিং বডির সভাপতি সোহায়েল পারভেজের সভাপতিত্বে ও পলাশবাড়ী ইউনিয়ন বিএনপির সাবেক সভাপতি জগদীশ চন্দ্র রায়ের সঞ্চালনায় বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন অ্যাড. মিজানুর রহমান চৌধুরী শামীম, মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক শিক্ষা রংপুর অঞ্চলের পরিচালক অধ্যাপক মো. গোলাম মাজেদ এবং তুহিনের সহধর্মিণী তামান্না ইয়াসমিন।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে প্রকৌশলী শাহরিন ইসলাম চৌধুরী তুহিন বলেন, ‘শিক্ষার মানোন্নয়ন ও শিক্ষার্থীদের আধুনিক সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিত করতে অবকাঠামোগত উন্নয়ন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। পলাশবাড়ী ডিগ্রি কলেজের এই নতুন ভবন শিক্ষার্থীদের পাঠদানের পরিবেশ আরও উন্নত করবে। ভবিষ্যতেও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের উন্নয়ন ও এলাকার মানুষের কল্যাণে আমরা কাজ করে যেতে চাই।’

এসময় জেলা জজ কোর্টের জিপি আবু মোহাম্মদ সোয়েম, সদর উপজেলা বিএনপির সাবেক সাবেক সাধারণ সম্পাদক কাজী আখতারুজ্জামান জুয়েল, জেলা যুবদলের সাধারণ সম্পাদক শাহাদাৎ হোসেন চৌধুরী, জেলা আইনজীবী ফোরামের সাধারণ সম্পাদক অ্যাড. আসাদুজ্জামান খান রিনো, মহিলা দলের সহ-সভাপতি রাকু ইসলামসহ আরও অনেকে উপস্থিত ছিলেন।


নির্বাচিত

দৈনিক বাংলায় সংবাদ প্রকাশের পর গর্ত মেরামতে সওজের উদ্যোগ

ছবি: দৈনিক বাংলা
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
সোনারগাঁ (নারায়ণগঞ্জ) প্রতিনিধি

দৈনিক বাংলায় সংবাদ প্রকাশের পর অবশেষে টনক নড়ছে সড়ক ও জনপথ বিভাগ (সওজের)। সংবাদ প্রকাশের দিনই সওজ কর্তৃপক্ষের নজরে আসায় নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁয়ে আষাঢ়িয়াচর ২নং সেতুতে বড় গর্তের ও সেতুর সাইডের ওয়াকওয়ের রাস্তা প্রাথমিকভাবে মেরামতের কাজ সংস্কার করেছে। ফলে সড়কে চলাচলরত হাজারো যানবাহন ও এর যাত্রীরা এবং এলাকার জনসাধারণ ঝুঁকি থেকে কিছুটা রক্ষা পেল।

শনিবার (১ আগস্ট) দৈনিক বাংলা পত্রিকার ১১-এর পাতায় ‘ব্যস্ত মহাসড়কের সেতুতে বড় গর্ত, বাড়ছে দুৰ্ঘটনার শঙ্কা’ শিরোনামে একটি সংবাদ প্রকাশ হয়।

সংবাদে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁয়ে আষাঢ়িয়াচর ২নং সেতুর ঢাকামুখী লেনে মাঝখানে বড় গর্ত তৈরি হয়েছে। যেন মরণফাঁদে তৈরি হয়েছে। প্রতিদিন এ সেতুর উপর দিয়ে ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করছে হাজারো যানবাহন। সেতুর ডেক স্ল্যাবের ওই গর্ত দিয়ে নিচের পানি পর্যন্ত দেখা যাচ্ছে। দেশের অন্যতম ব্যস্ত এ মহাসড়কের গুরুত্বপূর্ণ সেতুর এমন অবস্থা যেন দেখার কেউ নেই। দ্রুত স্থায়ী সংস্কার না হলে যেকোনো সময় বড় ধরনের দুর্ঘটনা ঘটতে পারে বলে আশঙ্কা করছে এ সড়কের পথচারী ও স্থানীয়রা।

এদিকে শুধু সেতুর অবস্থা নয়, এ সেতুর দু’পাশে পথচারীদের জন্য নির্মিত ওয়াকওয়ে রাস্তা দীর্ঘদিন ধরে বেহাল দশায় পরিণত হয়। এতে পথচারীদের ঝুঁকি নিয়ে চলতে হয় সেতুর রাস্তা দিয়ে।

উপজেলার পিরোজপুরের রতনপুর গ্রামের এক ব্যবসায়ী বলেন, ‘অসংখ্য ধন্যবাদ সাংবাদিক ভাইদের ও সড়ক ও জনপথ বিভাগ (সওজ) কর্তৃপক্ষকেও। সাংবাদিকদের নিউজ প্রকাশের দিনই কর্তৃপক্ষের টনক নড়ল।’

সড়ক ও জনপথ অধিদপ্তরের (সওজ) নারায়ণগঞ্জ সড়ক বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী আব্দুর রহিম জানান, মহাসড়কের আষাঢ়িয়াচর ২ নম্বর সেতুর গর্তের ও ওয়াকওয়ের রাস্তার প্রাথমিকভাবে কিছুটা মেরামত করা হয়েছে। পরবর্তীতে স্থায়ী সমাধানে বৃষ্টির মৌসুম পার হলে কাজ করা হবে।


নির্বাচিত

রেলপথ ও স্টেশন পরিদর্শনে মন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী

শ্রম ও কর্মসংস্থান এবং প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী। ছবি: দৈনিক বাংলা
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
মৌলভীবাজার প্রতিনিধি

সিলেট-জাফলং নতুন রেলসড়ক নির্মাণের প্রাথমিক প্রস্তুতি ও সম্ভাব্যতা যাচাইয়ের অংশ হিসেবে মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গল ও কমলগঞ্জের ভানুগাছ রেলওয়ে স্টেশন এবং সংলগ্ন রেলপথ পরিদর্শন করেছেন শ্রম ও কর্মসংস্থান এবং প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী। শনিবার (১ আগস্ট) সকাল ১১টার দিকে ঢাকা থেকে সিলেটগামী আন্তনগর ‘পারাবত এক্সপ্রেস’ ট্রেনে যাত্রাপথে শ্রীমঙ্গল রেলওয়ে স্টেশনে পৌঁছালে এ পরিদর্শন কর্মসূচি পরিচালিত হয়।
এ সময় মন্ত্রীর সাথে উপস্থিত ছিলেন, রেলপথ মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. ফাহিমুল ইসলাম, শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. আব্দুর রহমান, বাংলাদেশ রেলওয়ে এর মহাপরিচালক মো. আফজাল হোসেন, সহ রেল ও সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের উর্ধ্বতন কর্মকর্তাবৃন্দ।

পরিদর্শনকালে মন্ত্রী শ্রীমঙ্গল রেলওয়ে স্টেশনের সার্বিক অবস্থা ও সেবা কার্যক্রম পর্যবেক্ষণ করেন। পরবর্তীতে সকাল সাড়ে ১১টার দিকে ট্রেনটি কমলগঞ্জের ভানুগাছ রেলওয়ে স্টেশনে বিরতি দিলে মন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী ও সফররত কর্মকর্তারা ট্রেনের দরজায় দাঁড়িয়ে উপস্থিত সাধারণ মানুষের সাথে কথা বলেন। এ সময় যাত্রীরা রেলওয়ের বিভিন্ন অনিয়ম ও সমস্যার কথা তুলে ধরলে মন্ত্রী তা গভীর মনোযোগ দিয়ে শোনেন এবং দ্রুত সমাধানের আশ্বাস দেন। ভানুগাছ স্টেশনে স্থানীয় বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীরা মন্ত্রীকে ফুলেল শুভেচ্ছা জানান।

মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, নির্ধারিত সফরসূচি অনুযায়ী ব্রাহ্মণবাড়িয়া থেকে শুরু করে সিলেট পর্যন্ত রেলপথের সার্বিক অবকাঠামোগত অবস্থা, স্টেশনগুলোর যাত্রীসেবা ও বিদ্যমান নানা সমস্যা সরজমিনে খতিয়ে দেখছেন মন্ত্রী ও উচ্চপদস্থ কর্মকর্তারা। সিলেট-জাফলং রেললাইন বাস্তবায়ন হলে অঞ্চলে পর্যটন শিল্পে নতুন দিগন্ত উন্মোচিত হবে বলে আশা করা হচ্ছে।


নির্বাচিত

কোস্ট গার্ডের অভিযানে ২ ড্রেজার ও বাল্কহেডসহ ৭ বালু উত্তোলনকারী আটক

ছবি: দৈনিক বাংলা
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

বরিশালের কাউনিয়া থানাধীন চরমোনাই নাইন্দার চর সংলগ্ন এলাকায় আজ ০১ আগস্ট ২০২৬ শনিবার মধ্যরাত ১ টায় কোস্ট গার্ড স্টেশন বরিশাল কর্তৃক গোপন সংবাদের ভিত্তিতে একটি বিশেষ অভিযান পরিচালনা করা হয়। অভিযান চলাকালীন উক্ত এলাকায় অবৈধভাবে বালু উত্তোলনকালে ২ টি ড্রেজার ও ২ টি বাল্কহেডসহ ৭ জন বালু উত্তোলনকারীকে আটক করা হয়।

শনিবার ০১ আগস্ট ২০২৬ বিকালে কোস্ট গার্ড মিডিয়া কর্মকর্তা লেফটেন্যান্ট কমান্ডার সাব্বির আলম সুজন এ তথ্য জানান।

পরবর্তীতে, সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট, বরিশাল সদর এর উপস্থিতিতে মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করে ড্রেজার ও বাল্কহেডের মালিক হতে ছয় লক্ষ টাকা জরিমানা আদায় করে তা রাষ্ট্রীয় কোষাগারে জমা দেওয়া হয় এবং বালু উত্তোলনকারীদের মুচলেকা নিয়ে ড্রেজার ও বাল্কহেডসহ ছেড়ে দেওয়া হয়।

তিনি আরও বলেন, বালুখেকোদের হাত থেকে নদী তীরবর্তী জনগণের ফসলি জমি এবং বসত-ভিটে রক্ষায় বাংলাদেশ কোস্ট গার্ড ভবিষ্যতেও এধরনের অভিযান অব্যাহত রাখবে।


নির্বাচিত

প্রকৃতির অপরূপ রূপে মুগ্ধ করছে বাঙ্গরার ডালপা বিল

ছবি: দৈনিক বাংলা
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
তরিকুল ইসলাম তরুন, কুমিল্লা দক্ষিণ

শ্রাবণের থইথই পানিতে ভরা বিল, সাদা-লাল শাপলার সমারোহ, শালুকের সৌন্দর্য আর নৌকাভ্রমণের আনন্দে মুখর হয়ে উঠেছে কুমিল্লার ব্রাহ্মণপাড়া ও মুরাদনগর সীমান্তবর্তী বাঙ্গরার ডালপা বিল। প্রাকৃতিক সৌন্দর্যে ঘেরা এ বিল এখন রূপ নিয়েছে এক অনন্য পর্যটনকেন্দ্রে।

শনিবার (১ আগস্ট) বিকেলে সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, কুমিল্লার বিভিন্ন উপজেলা ছাড়াও ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার কসবা উপজেলা থেকে শত শত দর্শনার্থী পরিবার-পরিজন, বন্ধু-বান্ধব ও শিক্ষার্থীদের নিয়ে বিলের সৌন্দর্য উপভোগ করতে এসেছেন। কেউ নৌকায় ঘুরছেন, কেউ শাপলা-শালুক তুলছেন, আবার কেউ প্রকৃতির অপরূপ দৃশ্য ক্যামেরাবন্দি করতে ব্যস্ত। কলেজ ও স্কুলপড়ুয়া শিক্ষার্থী, তরুণ-তরুণীসহ সব বয়সি মানুষের পদচারণায় মুখর পুরো এলাকা।

ব্রাহ্মণপাড়া উপজেলার মকিমপুর পশ্চিমপাড়া খাল থেকে মুরাদনগরের বাঙ্গরার বিল হয়ে মকিমপুর সংযোগ সড়ক পর্যন্ত বিস্তীর্ণ জলাভূমি এখন নয়নাভিরাম দৃশ্যে ভরপুর। বিলজুড়ে ফুটে থাকা শাপলা-শালুক, পানিতে মাছের আনাগোনা এবং চারপাশের সবুজ প্রকৃতি দর্শনার্থীদের মুগ্ধ করছে।

বাঙ্গরা বাজার থানাধীন রাজা চাপিতলা গ্রামের স্কুলশিক্ষার্থী নাইম, সাইফুল, রাশেদ, আরিফ ও মিনহাজ বলেন, ‘অটোরিকশাযোগে বন্ধুদের নিয়ে ঘুরতে এসেছে।’ পানিতে নেমে শাপলা ও শালুক সংগ্রহ করে উচ্ছ্বাসে মেতে ওঠে তারা। নিজেদের পরিচয় ও কোন শ্রেণিতে পড়ে—এমন প্রশ্নে তারা কিছুটা লজ্জা পায়। তাদের ভেজা কাপড়, খালি গা আর গলায় শাপলার মালা যেন বলে দিচ্ছিল প্রকৃতির সঙ্গে মিশে থাকার নির্মল আনন্দের গল্প।

স্থানীয়দের ভাষ্যমতে, প্রতিদিনই এ বিলে শত শত দর্শনার্থীর সমাগম হচ্ছে। তবে পর্যাপ্ত নিরাপত্তা ব্যবস্থা না থাকায় অনেকেই উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। বিশেষ করে ছুটির দিনে দর্শনার্থীর সংখ্যা বেড়ে যাওয়ায় প্রশাসনিক নজরদারি বাড়ানোর দাবি জানিয়েছেন তারা।

মকিমপুর গুচ্ছগ্রামের কয়েকজন বাসিন্দা অভিযোগ করেন, এলাকায় কিছু অসাধু ব্যক্তির কারণে মাদক সেবন ও জুয়ার মতো অসামাজিক কর্মকাণ্ডের অভিযোগ রয়েছে। তাদের দাবি, সন্ধ্যার পর এসব কর্মকাণ্ড আরও বেড়ে যায়, যা পর্যটকদের নিরাপত্তা ও এলাকার ভাবমূর্তির জন্য হুমকি হয়ে দাঁড়াতে পারে।

ব্রাহ্মণপাড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ভারপ্রাপ্ত) দায়িত্বে থাকা তারেক রহমান বলেন, ‘বিষয়টি আমার জানা ছিল না। অভিযোগের সত্যতা যাচাই করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে পুলিশ মোতায়েন এবং মাদকবিরোধী অভিযান পরিচালনা করা হবে।’


নির্বাচিত

তিস্তা গিলছে ঘরবাড়ি, উদ্ধার বোটের ঠাঁই কাদা মাটিতে

ছবি: দৈনিক বাংলা
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
গঙ্গাচড়া (রংপুর) প্রতিনিধি

তিস্তা নদীর ভাঙনে প্রতিদিনই নতুন করে বসতভিটা ও ফসলি জমি নদীগর্ভে বিলীন হচ্ছে। নদীপাড়ের মানুষ যখন ঘরবাড়ি হারিয়ে নিরাপদ আশ্রয়ের সন্ধানে, তখন দুর্যোগকবলিত মানুষকে উদ্ধারের জন্য বরাদ্দ সরকারি রেসকিউ বোট পড়ে আছে তিস্তার পাড়ের কাদা মাটিতে। ‘তিস্তা-রংপুর-২’ নামের মাল্টিপারপাস রেসকিউ বোটটি উদ্বোধনের দিন চালু করার পর আর পানিতে নামানো হয়নি বলে দাবি স্থানীয়দের। শুধু তাই নয়, বোটটির দায়িত্ব, ব্যবহার ও সংরক্ষণসংক্রান্ত প্রয়োজনীয় তথ্য উপজেলা ও জেলা পর্যায়ের সংশ্লিষ্ট দপ্তরেও নেই বলে জানিয়েছেন কর্মকর্তারা।

সম্প্রতি সরেজমিনে দেখা যায়, রংপুরের গঙ্গাচড়া উপজেলার কোলকোন্দ ইউনিয়ন পরিষদের পাশে তিস্তা নদীর পাড়ে কাদা মাটির ওপর পড়ে রয়েছে ‘তিস্তা-রংপুর-২’ মাল্টিপারপাস রেসকিউ বোটটি। বোটটির গায়ে লেখা রয়েছে—‘বন্যা উপদ্রুত জেলার জন্য মাল্টিপারপাস রেসকিউ বোট’ এবং ‘দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়’। পেছনে নির্মাতা প্রতিষ্ঠানের পরিচিতি হিসেবে রয়েছে ‘DEW NARAYANGANJ’।

স্থানীয়দের অভিযোগ, গঙ্গাচড়ায় বোটটি আনার পর উদ্বোধনের দিনই কেবল এটি চালু করা হয়। এরপর দীর্ঘ সময় পেরিয়ে গেলেও বোটটি আর নদীতে চলতে দেখা যায়নি। বর্তমানে নদীর পাড়ের কাদা মাটিতে পড়ে থাকায় বোটটির কার্যকারিতা, রক্ষণাবেক্ষণ ও দুর্যোগের সময় এর ব্যবহার নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন তারা।

তিস্তাপাড়ের বাসিন্দা মানিক মিয়া বলেন, উদ্বোধনের দিন বোটটি চলতে দেখেছি। এরপর আর চলতে দেখিনি। এখন নদী ভাঙছে, মানুষ ঘরবাড়ি হারাচ্ছে। এমন সময়ে উদ্ধারকারী বোটটি কাজে লাগানো দরকার। মোকলেছুর রহমান নামে আরেক বাসিন্দা বলেন, বন্যা বা নদীভাঙনের সময় মানুষকে দ্রুত উদ্ধার করতে নৌযান দরকার হয়।

গঙ্গাচড়া উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা মাঈদুল ইসলামের বলেন, আমি নতুন এসেছি। জানলাম, এটি ত্রাণ ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা মন্ত্রণালয়ের দেওয়া। তবে প্রকল্পটি বন্ধ হয়ে গেছে। এই নৌযান সম্পর্কে আমাদের কাছে কোনো তথ্য নেই। জেলা অফিস নৌযানটি রিসিভ করেছিল।

রংপুর জেলা ত্রাণ ও পুনর্বাসন কর্মকর্তা গোলাম কিবরিয়ার বলেন, এটি ত্রাণ ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা মন্ত্রণালয়ের দেওয়া বলে জানি। প্রকল্প বন্ধ হয়ে যাওয়ার পর এ নিয়ে আর কোনো কার্যক্রম হয়নি এবং নৌযানটি এভাবেই পড়ে আছে।

বাংলাদেশ নৌবাহিনীর আন্তঃবাহিনী জনসংযোগ পরিদপ্তর (আইএসপিআর)-এর প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা অধিদপ্তরের জন্য নারায়ণগঞ্জের Dockyard & Engineering Works Ltd. (DEW)-এর মাধ্যমে মাল্টিপারপাস অ্যাক্সেসিবল রেসকিউ বোট নির্মাণ করা হয়েছে। এসব বোটের দৈর্ঘ্য ৫৪ ফুট, প্রস্থ ১২ দশমিক ৫০ ফুট, গতি ৭ নট এবং ধারণক্ষমতা ৮০ জন। প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, ২০২০ সালের ২১ জুলাই দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা অধিদপ্তর ও DEW-এর মধ্যে এ ধরনের ৬০টি রেসকিউ বোট নির্মাণ ও সরবরাহের চুক্তি হয়। ২০২১ সালে প্রথম ধাপে আটটি বোট পরে সকল বোট গুলো হস্তান্তর করা হয়।

তিস্তা নদীর ভাঙনপ্রবণ গঙ্গাচড়ায় বর্ষা এলেই নদীর স্রোত ও ভাঙনে নতুন নতুন এলাকা ঝুঁকিতে পড়ে। কোথাও আকস্মিক ভাঙন শুরু হলে পরিবারগুলোকে দ্রুত নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়া জরুরি হয়ে পড়ে। বিশেষ করে চরাঞ্চলে সড়ক যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হলে নৌযানই হয়ে ওঠে মানুষের প্রধান ভরসা।


নির্বাচিত

প্রকৃতি, পর্যটন ও অর্থনীতির উজ্জ্বল ঠিকানা সাতক্ষীরা

ছবি: দৈনিক বাংলা
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
 আবু সাঈদ, সাতক্ষীরা

বাংলাদেশের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের অপরূপ লীলাভূমি সাতক্ষীরা। খুলনা বিভাগের অন্তর্গত এই উপকূলীয় জেলা দেশের অর্থনীতি, পরিবেশ, কৃষি, মৎস্যসম্পদ, পর্যটন ও সীমান্ত বাণিজ্যে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখে চলেছে। বিশ্বের বৃহত্তম ম্যানগ্রোভ বন সুন্দরবনের বিশাল অংশ, বিস্তীর্ণ নদ-নদী, জীববৈচিত্র্যে ভরপুর বনাঞ্চল, দেশের অন্যতম বৃহৎ চিংড়ি উৎপাদন এলাকা এবং সমৃদ্ধ ইতিহাস-ঐতিহ্যের কারণে সাতক্ষীরা আজ দেশ-বিদেশে সুপরিচিত।

জেলার উত্তরে যশোর, পূর্বে খুলনা, দক্ষিণে বঙ্গোপসাগর এবং পশ্চিমে ভারতের পশ্চিমবঙ্গ। দীর্ঘ আন্তর্জাতিক সীমান্ত ও ভোমরা স্থলবন্দরকে ঘিরে ভারত-বাংলাদেশের বাণিজ্যে সাতক্ষীরা একটি গুরুত্বপূর্ণ অবস্থান তৈরি করেছে। একই সঙ্গে উপকূলীয় অবস্থানের কারণে ঘূর্ণিঝড়, জলোচ্ছ্বাস ও লবণাক্ততার মতো প্রাকৃতিক দুর্যোগের মুখোমুখি হলেও এখানকার মানুষ সংগ্রাম করে উন্নয়নের পথে এগিয়ে চলেছেন।

সাতক্ষীরার সবচেয়ে বড় পরিচয় বিশ্ব ঐতিহ্যের অংশ সুন্দরবন। শ্যামনগরের মুন্সীগঞ্জ, বুড়িগোয়ালিনী ও নীলডুমুরসহ বিভিন্ন পর্যটন পয়েন্ট দিয়ে প্রতিবছর হাজার হাজার দেশি-বিদেশি পর্যটক সুন্দরবনের অপরূপ সৌন্দর্য উপভোগ করতে আসেন। রয়েল বেঙ্গল টাইগার, চিত্রা হরিণ, কুমির, শুশুক, বানর এবং শত শত প্রজাতির পাখির নিরাপদ আবাসস্থল এই বন শুধু জীববৈচিত্র্যের ভাণ্ডারই নয়, বরং উপকূলকে ঘূর্ণিঝড় ও জলোচ্ছ্বাসের ক্ষয়ক্ষতি থেকে রক্ষা করার প্রাকৃতিক ঢাল হিসেবেও কাজ করে।

অর্থনীতির অন্যতম প্রধান চালিকাশক্তি চিংড়ি শিল্প। বাগদা ও গলদা চিংড়ি উৎপাদনে দেশের শীর্ষস্থানীয় জেলা হিসেবে সাতক্ষীরা ‘সাদা সোনার জেলা’ নামে পরিচিত। জেলার হাজার হাজার কৃষক, মৎস্যচাষি ও উদ্যোক্তা এই শিল্পের সঙ্গে প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে জড়িত। এখানকার উৎপাদিত চিংড়ি ইউরোপ, আমেরিকা, জাপান, চীনসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশে রপ্তানি হয়ে প্রতিবছর বিপুল পরিমাণ বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। পাশাপাশি কাঁকড়া, বিভিন্ন প্রজাতির মাছ ও জলজ সম্পদের উৎপাদনও জেলার অর্থনীতিকে সমৃদ্ধ করছে।

কৃষিতেও সাতক্ষীরা একটি সম্ভাবনাময় জেলা। এখানকার হিমসাগর, ল্যাংড়া, গোপালভোগ, আম্রপালি ও ফজলি আম দেশজুড়ে ব্যাপক জনপ্রিয়। গ্রীষ্ম মৌসুমে সাতক্ষীরার আম দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে সরবরাহের পাশাপাশি বিদেশেও রপ্তানি হয়। এছাড়া সুন্দরবনের খাঁটি মধু, গোলপাতা, মাছ, কাঁকড়া ও অন্যান্য বনজ সম্পদ স্থানীয় অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখে।

ঐতিহাসিক ও সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যেও সমৃদ্ধ সাতক্ষীরা। জেলার বিভিন্ন স্থানে ছড়িয়ে রয়েছে প্রাচীন মসজিদ, মন্দির, জমিদার বাড়ি, দিঘি ও প্রত্নতাত্ত্বিক নিদর্শন। তালা উপজেলার তেঁতুলিয়া জামে মসজিদ, দেবহাটার ঐতিহাসিক স্থাপনা, শ্যামনগরের যশোরেশ্বরী কালীমন্দির, কলারোয়ার বিভিন্ন ঐতিহ্যবাহী স্থাপনা এবং ভোমরা স্থলবন্দর জেলার ইতিহাস ও ঐতিহ্যের গুরুত্বপূর্ণ অংশ। পাশাপাশি মোজাফফর গার্ডেন, লেকভিউ, নদীবেষ্টিত প্রাকৃতিক পরিবেশ, সূর্যাস্তের মনোমুগ্ধকর দৃশ্য ও গ্রামীণ জীবনযাত্রা পর্যটকদের আকৃষ্ট করে।

শিক্ষা, সাহিত্য, সংস্কৃতি, সাংবাদিকতা, ক্রীড়া ও সামাজিক উন্নয়নেও সাতক্ষীরার মানুষ গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখে চলেছেন। দেশের বিভিন্ন ক্ষেত্রে কর্মরত অসংখ্য কৃতী ব্যক্তি এই জেলার মুখ উজ্জ্বল করেছেন। সামাজিক সম্প্রীতি ও সাংস্কৃতিক চর্চার ক্ষেত্রেও সাতক্ষীরা একটি সমৃদ্ধ জনপদ।

জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব সবচেয়ে বেশি অনুভূত হয় এই জেলায়। ঘূর্ণিঝড়, জলোচ্ছ্বাস, নদীভাঙন ও লবণাক্ততার মতো চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করেও এখানকার মানুষ কৃষি, মৎস্য ও জীবিকার নতুন নতুন পথ খুঁজে নিচ্ছেন। সরকারি ও বেসরকারি উদ্যোগে উপকূলীয় বাঁধ উন্নয়ন, নিরাপদ সুপেয় পানি, ম্যানগ্রোভ সংরক্ষণ, পরিবেশবান্ধব কৃষি এবং দুর্যোগ সহনশীল অবকাঠামো নির্মাণের নানা কার্যক্রম বাস্তবায়িত হচ্ছে।

যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়ন, পর্যটনের সম্প্রসারণ, সীমান্ত বাণিজ্যের প্রসার এবং কৃষি ও মৎস্য খাতে আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহারের মাধ্যমে সাতক্ষীরা প্রতিনিয়ত নতুন সম্ভাবনার দিকে এগিয়ে যাচ্ছে। পরিকল্পিত বিনিয়োগ, প্রাকৃতিক সম্পদের সুরক্ষা এবং টেকসই উন্নয়ন নিশ্চিত করা গেলে ভবিষ্যতে সাতক্ষীরা দেশের অন্যতম সমৃদ্ধ ও আধুনিক জেলায় পরিণত হবে।

প্রকৃতি, সুন্দরবন, চিংড়ি শিল্প, সুস্বাদু আম, খাঁটি মধু, নদ-নদী, উপকূলীয় সৌন্দর্য, সীমান্ত বাণিজ্য এবং সংগ্রামী মানুষের জীবনচিত্র—সবকিছু মিলিয়ে সাতক্ষীরা সত্যিই বাংলাদেশের গর্ব, দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের প্রাণকেন্দ্র এবং অপার সম্ভাবনার এক উজ্জ্বল প্রতীক।


নির্বাচিত

নির্ধারিত সময়ের মধ্যেই খাল খনন কর্মসূচি শেষ হবে: কৃষিমন্ত্রী

ছবি: দৈনিক বাংলা
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
মাহফুজ নান্টু, কুমিল্লা

কৃষি ও মৎস্য প্রাণিসম্পদমন্ত্রী মোহাম্মদ আমিন উর রশিদ ইয়াছিন বলেছেন, ‘কৃষি মন্ত্রণালয়ের অধীনে বাংলাদেশ কৃষি উন্নয়ন করপোরেশনের (বিএডিসি) চলমান খাল খনন কর্মসূচি আগামী বছর নির্ধারিত সময়ের মধ্যেই সম্পন্ন হবে। এ লক্ষ্যে সংশ্লিষ্ট সব বিভাগকে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে এবং তারা নিজ নিজ দায়িত্ব পালনে কাজ করে যাচ্ছে।’

শনিবার (১ আগস্ট) দুপুরে কুমিল্লা সার্কিট হাউসে কৃষি ও মৎস্য প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের কুমিল্লা অঞ্চলের কর্মকর্তাদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় তিনি এসব কথা বলেন।

মন্ত্রী বলেন, ‘জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে বন্যা ও উপকূলীয় অঞ্চলের কৃষকদের ক্ষয়ক্ষতি কমাতে ১১৮টি নতুন জাতের ধানের বীজ সরবরাহের পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। প্রথম ধাপে ৩০ টন বীজ বিতরণ করা হবে। পাশাপাশি উপকূলীয় অঞ্চলের জন্য লবণাক্ততা সহনশীল নতুন জাতের ধান উদ্ভাবনের কাজও চলমান রয়েছে।’

তিনি আরও বলেন, ‘কৃষি বিজ্ঞানীরা এ বিষয়ে নিরলসভাবে গবেষণা ও উন্নয়ন কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছেন। ভবিষ্যতে আরও সহনশীল ও উচ্চফলনশীল ধানের জাত উদ্ভাবনের কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে।’

সভায় কুমিল্লার জেলা প্রশাসক রোজি আক্তারসহ কৃষি, মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ বিভাগের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।


নির্বাচিত

বিমানেশ বিশ্বাসের তুলিতে অন্ধকার পেরিয়ে মানবতার আলোর বার্তা

* মতুয়া ধর্মযাত্রার বর্ণিল রূপ ফুটে উঠেছে ৩০ ফুট লম্বা আর ৬ ফুট চওড়ার চিত্রকর্মে
ছবি: দৈনিক বাংলা
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
কার্ত্তিক দাস, নড়াইল

বিশ্বখ্যাত চিত্রশিল্পী এস এম সুলতানের হাতে গড়া ছাত্রশিল্পী বিমানেশ বিশ্বাস। নড়াইল সদর উপজেলার ধোপাখোলা গ্রামে তার বাড়ি। তিন বছর দুই মাস ধরে নিরলস পরিশ্রম করে এক অসাধারণ চিত্রকর্ম একেছেন তিনি। চিত্রটির নাম দিয়েছেন ‘অন্ধকার থেকে আলোকে’। যার দৈর্ঘ্য ৩০ ফুট এবং প্রস্থ ৬ ফুট। এই বিশাল ক্যানভাসজুড়ে এক্রেলিক রঙে আঁকা এই চিত্রকর্মে ফুটে উঠেছে হিন্দুধর্মের মতুয়া সম্প্রদায়ের ত্রাণালীশ্বর ধর্মীয় যাত্রা।

যেখানে ধর্মীয় অনুশাসন, সামাজিক সহাবস্থান, ভক্তির সমাহার, মানবিকতার আলোয় উদ্ভাসিত মানুষের চিত্রিত করা হয়েছে। চিত্রের প্রতিটি অংশে নানা দৃশ্য—কেউ নদীতে স্নান করছে, কেউ পূজা করছে, কেউ কীর্তন করছে, কেউ গান গাইছে—কেউ জয় ঢাক বাজিয়ে এগিয়ে চলেছে। এভাবে এক জীবন্ত ও উৎসবমুখর ধর্মীয় আবহে ভরে উঠেছে গোটা ক্যানভাস।

বিমানেশ বিশ্বাস বলেন, ‘আমার চিত্রকর্মের মূল লক্ষ্য মানবতা, প্রেম, শান্তি, সাম্য, ভ্রাতৃত্ব, শ্রদ্ধা ও স্নেহের মেলবন্ধন। মতুয়া সম্প্রদায়ের ধর্মযাত্রা আসলে মানুষের একতা, সত্য ও মানবিক চেতনার প্রতীক। এই ধর্মযাত্রায় মানুষ পার্থিব বিভেদ ভুলে যায়, সবাই একসূত্রে বাঁধা পড়ে ভক্তি ও ভালোবাসায়।’

তিনি বলেন, ‘আমার এই চিত্রকর্মে মানুষকে দেখাতে চেয়েছি—কীভাবে অন্ধকার থেকে আলোতে আসা যায়। অজ্ঞানতা, কুসংস্কার, ঘৃণা, বিভেদ- এসব অন্ধকার থেকে মুক্তি নিয়ে আসে প্রেম ও মানবতা।’

শিল্পীর এই চিত্রকর্মে বাংলাদেশের নানা প্রান্তের মতুয়া সম্প্রদায়ের ধর্মপ্রাণ মানুষের অংশগ্রহণ দেখা যায়। গাইবান্ধা, রাজবাড়ী, খুলনা, যশোর, নড়াইল, মাগুরা, ঝিনাইদহ, সাতক্ষীরা, বাগেরহাট, চুয়াডাঙ্গা, কুষ্টিয়াসহ বিভিন্ন এলাকার মতুয়া ভক্তদের ধর্মীয় যাত্রার রঙিন চিত্র এখানে একসূত্রে গাঁথা হয়েছে।

চিত্রশিল্পী বিমানেশ বিশ্বাস খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের চারুকলা অনুষদের সাবেক ছাত্র। তিনি ইতোমধ্যে বাংলাদেশসহ দেশের বাইরে ভারত, নেপাল, শ্রীলঙ্কা, যুক্তরাজ্য, চীন প্রভৃতি দেশে তার চিত্র প্রদর্শন করেছেন। তার চিত্রকর্মে বারবার উঠে এসেছে মানবতা, শ্রমজীবী মানুষের জীবনচিত্র, সমাজ ও সংস্কৃতির নানা দিক।

তিনি বলেন, ‘আমি চাই আমার চিত্রকর্ম মানুষের হৃদয়ে আলো ছড়াক। মানুষ ভাবুক, অনুপ্রাণিত হোক। শিল্পের কাজই হলো মানবতার সেবা।’

বিমানেশ বিশ্বাসের এই চিত্রকর্ম বর্তমানে তার নিজস্ব স্টুডিওতে সংরক্ষিত আছে। খুব শিগগিরই এটি ঢাকাসহ বিভিন্ন প্রদর্শনীতে প্রদর্শনের উদ্যোগ নেওয়া হবে।

শিল্পী এস,এম সুলতানের এই শিষ্য নিভৃতে কাজ করা দেশের একজন প্রখ্যাত চিত্রশিল্পী। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের চারুকলা ইনস্টিটিউট থেকে ডিগ্রি নিয়ে খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের চারুকলা ইনস্টিটিউটে অধ্যাপনা। ৩৪ বছর চাকরি করার অবসর জীবন কাটছে। সুলতান, মাইকেল মধুসূদনের আবক্ষ মূর্তি ছাড়াও দেশের অনেক বড় স্থাপনায় তার হাতের কাজ স্থান পেয়েছে। পাওয়া না পাওয়ার অনেক গল্প থাকলেও নিজের সবকিছু দিয়ে শিশুদের নিয়ে শিল্পের সাধ মেটাতে চান। নিজের বিক্রি করা ছবির টাকা দিয়ে বাবার বাড়ির ছাবড়ায় একতলার ছাদ দিয়েছেন। দোতলার একটি দেওয়াল দেওয়া ঘরে ২০১৬ সালে প্রতিষ্ঠা করেন অবৈতনিক চারুকলা প্রতিষ্ঠান ‘শিল্পাঞ্জলী’। এখানে আদিবাসী শিশুরা নিজের মতো করে ছবি আর নকশা আঁকে। দুপুরে খায় আবার বাড়ি চলে যায়। সুবিধা বঞ্চিত এসব শিশুদের নিয়ে ‘শিল্পাঞ্জলিতে’ তৈরি করা হয় ১৬০০ ফুট দীর্ঘ আর ৩ ফুট চওড়া বিশ্বের সবচেয়ে বড় শিশুচিত্র।


নির্বাচিত

মরিচের ভালো দামে কৃষকের মুখে হাসি, ঝালে নাকাল ক্রেতারা

* দুই সপ্তাহে কেজিতে বেড়েছে ২০০ টাকা
ছবি: দৈনিক বাংলা
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
সবুজ হোসেন, নওগাঁ

মাত্র দুই সপ্তাহের ব্যবধানে নওগাঁর কাঁচা মরিচের বাজারে এসেছে বড় ধরনের অস্থিরতা। একসময় যে মরিচ প্রতি কেজি ৮০ থেকে ৯০ টাকায় বিক্রি হতো, সেটিই এখন পাইকারি বাজারে ২৩০ থেকে ২৫০ টাকা এবং খুচরা বাজারে ২৮০ থেকে ৩০০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। আকস্মিক এই মূল্যবৃদ্ধিতে কৃষকরা যেমন ভালো দাম পেয়ে সন্তুষ্ট, তেমনি নিত্যপ্রয়োজনীয় এ পণ্যের বাড়তি দামে বিপাকে পড়েছেন সাধারণ ভোক্তারা। ব্যবসায়ীরা বলছেন, অতিবৃষ্টিতে উৎপাদন কমে যাওয়ায় বাজারে সরবরাহ হ্রাস পেয়েছে। আর সরবরাহ কমে যাওয়ার প্রভাবই এখন দামে স্পষ্টভাবে প্রতিফলিত হচ্ছে।

নওগাঁ জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের তথ্যমতে, চলতি মৌসুমে জেলায় প্রায় ১ হাজার হেক্টর জমিতে কাঁচা মরিচের আবাদ হয়েছে। জেলার বিভিন্ন এলাকায় দেশি, সাদা ও আকাশী জাতের মরিচের চাষ করা হচ্ছে। তবে চলমান বর্ষা মৌসুমে টানা বৃষ্টির কারণে প্রায় ১০ হেক্টর জমির মরিচক্ষেত ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। বিশেষ করে নিচু জমিতে পানি জমে থাকায় অনেক গাছ নষ্ট হয়ে গেছে। এতে উৎপাদন কমে যাওয়ার পাশাপাশি বাজারে সরবরাহেও ঘাটতি দেখা দিয়েছে।

নওগাঁ সদর উপজেলার কীত্তিপুর সাপ্তাহিক হাট জেলার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ কাঁচা মরিচের বাজার। প্রতি মঙ্গলবার ও শুক্রবার ভোর থেকেই কৃষকরা মাঠ থেকে তোলা টাটকা মরিচ নিয়ে হাটে আসেন। সূর্য ওঠার আগেই জমে ওঠে বেচাকেনা, আর সকাল ৮টার মধ্যেই অধিকাংশ মরিচ বিক্রি শেষ হয়ে যায়। কীত্তিপুর, বর্ষাইল ও বক্তারপুর ইউনিয়নের পাশাপাশি পাশের বদলগাছী উপজেলার বালুভরা ইউনিয়নের শতাধিক কৃষক এই হাটে মরিচ বিক্রি করতে আসেন।

বর্তমানে এই হাটে জাতভেদে প্রতি কেজি মরিচ ২৩০ থেকে ২৫০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। কয়েক সপ্তাহ আগেও একই মরিচের দাম ছিল ৮০ থেকে ৯০ টাকা। পরে ধাপে ধাপে ১৩০ থেকে ১৫০ টাকা এবং বর্তমানে ২০০ টাকার গণ্ডি পেরিয়ে ২৫০ টাকায় পৌঁছেছে। দাম বৃদ্ধির পর প্রতিটি হাটবারে প্রায় ১০ থেকে ১২ লাখ টাকার মরিচের বেচাকেনা হচ্ছে বলে জানিয়েছেন ব্যবসায়ীরা।

জেলার সবচেয়ে বড় পাইকারি কাঁচা মরিচের বাজার মহাদেবপুর উপজেলার মোমিনপুর হাটেও এখন একই চিত্র। এই হাটে বছরে প্রায় ছয় থেকে সাত মাস মরিচের বেচাকেনা চলে। প্রতি মাসে প্রায় তিন কোটি টাকার কাঁচা মরিচ কেনাবেচা হয়। বর্তমানে প্রতিটি হাটবারে প্রায় ২০ থেকে ২২ লাখ টাকার মরিচের লেনদেন হচ্ছে। এখান থেকে নওগাঁ ছাড়াও রাজশাহী, বগুড়া, নাটোর, জয়পুরহাটসহ দেশের বিভিন্ন জেলায় মরিচ সরবরাহ করা হয়। এছাড়া চট্টগ্রামের বাজারেও নিয়মিত এখানকার মরিচ পাঠানো হয়।

পাইকারি ব্যবসায়ী শরিফুল ইসলাম বলেন, চট্টগ্রামে বিশেষ করে সাদা মরিচের ব্যাপক চাহিদা রয়েছে। আমরা তিনজন ব্যবসায়ী মিলে প্রতি সপ্তাহে একটি ট্রাকে প্রায় ২৫ থেকে ২৬ লাখ টাকার মরিচ চট্টগ্রামে পাঠাই। কিন্তু বর্তমানে হাটে সরবরাহ কম থাকায় বেশি দামে মরিচ কিনতে হচ্ছে। ফলে পাইকারি দামও বেড়ে গেছে।

কৃষকদের দাবি, অতিবৃষ্টিই বর্তমান সংকটের প্রধান কারণ। নিচু এলাকার অনেক মরিচক্ষেত কয়েক দিন পানির নিচে থাকায় গাছ নষ্ট হয়েছে। নতুন গাছে ফলনও প্রত্যাশার তুলনায় কম এসেছে। উৎপাদন কমে যাওয়ায় বাজারে মরিচের জোগান কমেছে, আর সেই সুযোগে দামও বেড়েছে।

সদর উপজেলার আতিতা গ্রামের কৃষক আনিছুর রহমান বলেন, এক বিঘা জমিতে মরিচের আবাদ করেছি। নতুন গাছ থেকে দুই সপ্তাহ ধরে অল্প পরিমাণ মরিচ তুলছি। আজ ২২ কেজি মরিচ ২৩০ টাকা কেজি দরে বিক্রি করেছি। সপ্তাহে দুই দিন মরিচ তোলা হচ্ছে। এবার দাম ভালো থাকায় কিছুটা লাভ হচ্ছে। তবে উৎপাদন বাড়লে বাজারে সরবরাহও বাড়বে, তখন দাম কমে আসবে।

ভালো দাম পেলেও কৃষকদের অনেকেই বলছেন, উৎপাদন কমে যাওয়ায় প্রত্যাশিত লাভ হচ্ছে না। অনেক ক্ষেতেই ফলন স্বাভাবিক থাকলে কম দামেও মোট বিক্রি বেশি হতো। ফলে বর্তমান উচ্চমূল্য ক্ষতির পুরোটা পুষিয়ে দিতে পারছে না।

অন্যদিকে বাজারে গিয়ে বিপাকে পড়ছেন সাধারণ ক্রেতারা। সদর উপজেলার উকিলপাড়া মহল্লার বাসিন্দা সারোয়ার হোসেন বলেন, মরিচের দাম শুনেই অবাক হতে হয়। আগে আধা কেজি কিনতাম, এখন ১০০ গ্রাম কিনতে হচ্ছে। শুধু মরিচ নয়, প্রায় সব ধরনের সবজির দামই অনেক বেশি। সংসারের খরচ সামলানো কঠিন হয়ে যাচ্ছে।

জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ পরিচালক মো. মনজুর রহমান বলেন, বর্তমানে বাজারে কাঁচা মরিচের দাম কৃষকদের জন্য ইতিবাচক। তবে অতিবৃষ্টি অব্যাহত থাকলে আরও আবাদ ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। মাঠপর্যায়ে কৃষকদের প্রয়োজনীয় পরামর্শ ও কারিগরি সহায়তা দেওয়া হচ্ছে, যাতে ক্ষতি কমিয়ে আনা যায়।


নির্বাচিত

নীলফামারীতে আইনজীবীদের সঙ্গে তুহিনের মতবিনিময় সভা

ছবি: দৈনিক বাংলা
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নাসির উদ্দিন শাহ মিলন, নীলফামারী

বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য ও ইঞ্জিনিয়ার এ্যাসোসিয়েশন অফ বাংলাদেশের (অ্যাব) আহ্বায়ক প্রকৌশলী শাহরিন ইসলাম চৌধুরী তুহিনের সঙ্গে নীলফামারীতে জেলা জাতীয়তাবাদী আইনজীবী ফোরামের মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। শনিবার (১ আগস্ট) সকালে নীলফামারী সার্কিট হাউসে এ সভা অনুষ্ঠিত হয়।

সভায় জেলা পরিষদের প্রশাসক অ্যাড. মিজানুর রহমান চৌধুরী শামীম, জেলা বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক সোহায়েল পারভেজ, জেলা জজ কোর্টের জিপি আবু মোহাম্মদ সোয়েম, পিপি অ্যাড. আল মাসুদ চৌধুরী, জেলা আইনজীবী ফোরামের আহ্বায়ক অ্যাড. আসাদুজ্জামান খান রিনো এবং সচিব গোলাম মোস্তফা সজীব বক্তব্য দেন।

এ সময় আইনজীবীরা তাদের বিভিন্ন সমস্যা ও দাবির কথা তুলে ধরেন। পাশাপাশি আইনজীবীদের পেশাগত বিভিন্ন বিষয় নিয়েও আলোচনা করা হয়। প্রধান অতিথির বক্তব্যে প্রকৌশলী শাহরিন ইসলাম চৌধুরী তুহিন বলেন, আইনজীবীরা দেশের বিচারব্যবস্থার গুরুত্বপূর্ণ অংশ। মানুষের ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে তাদের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। আইনজীবীদের পেশাগত সমস্যা ও দাবিগুলো নিয়ে সংশ্লিষ্ট পর্যায়ে কথা বলবেন‌ বলে জানান‌ তিনি। এসময় জেলা জাতীয়তাবাদী আইনজীবী ফোরামের সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।


নির্বাচিত

banner close