শনিবার, ১৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬
৪ আশ্বিন ১৪৩৩

তারা ‘মুরুব্বি চোর’

বয়স্ক এই চোর চক্রকে আটক করেছে পুলিশ।
বিশেষ প্রতিনিধিবরগুনা প্রতিনিধি
প্রকাশিত
বিশেষ প্রতিনিধিবরগুনা প্রতিনিধি
প্রকাশিত : ৯ অক্টোবর, ২০২২ ১৬:২৭

জব্বার মোল্লাহর বয়স ৬৭ বছর। গ্রামের বাড়ি পটুয়াখালী। যার নেশা শুধু চুরি করা। কিশোর বয়সে এ কাজের হাতেখড়ি তার। সে সময় বাসা-বাড়ির ছাদে শুকাতে দেয়া কাপড় চুরি করতো। পরে ধীরে ধীরে হাত পাকতে থাকে। এরপর পুরোদমে নেমে পড়েন এ কাজে। পেশা হিসেবে চুরিকেই বেছে নেন তিনি।

নিজের সহযোগীদের নিয়ে বিভিন্ন লেবাস ধরে গত ৫০ বছর ধরে রাজধানীর বিভিন্ন বাসা-বাড়িতে চুরি করে আসছেন জব্বার। শুধু তাই নয়, চুরির টাকায় গাজীপুরে গড়েছেন অনেক সম্পদ।

জব্বারের দলের সবাই বয়স্ক। মাথায় টুপি, পরনে থাকতো পাঞ্জাবি। পরিপাটি সাজে বিভিন্ন এলাকায় ঘুরে বেড়াত তারা। যাতে প্রথম দেখায় তাদের কেউ সন্দেহ করতে না পারে। এই সুযোগ কাজে লাগিয়ে বিভিন্ন বাসা বাড়িতে চুরি করতেন তারা।

রাজধানীর খিলক্ষেত এলাকার এক বাসায় চুরির ঘটনার ছায়া তদন্ত করতে গিয়ে জব্বার মোল্লাসহ তার দলের তিন সদস্যকে গ্রেপ্তার করেছে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের গুলশান বিভাগ।

তারা হলেন, আজিমুদ্দিন (৫২), জামাল (৪৪), আবুল (৫০) । তাদের দেয়া তথ্যের ভিত্তিতে চোরাই স্বর্ণালঙ্কার বিক্রিতে সহায়তার অভিযোগে আনোয়ার হোসেন (৪৪) আব্দুল ওহাব (৪৫) নামে দুই স্বর্ণালঙ্কারের দোকান মালিককেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

এ সময় তাদের কাছ থেকে প্রায় নয় ভরি স্বর্ণ ও ৮২ ভরি রূপা, নগদ প্রায় ১৭ লাখ টাকা, দরজা ভাঙার যন্ত্রপাতি এবং মোবাইল ফোন উদ্ধার করা হয়েছে।

আজ রোববার ডিএমপির মিডিয়া সেন্টারে এক সংবাদ সম্মেলনে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের অতিরিক্ত কমিশনার হারুন অর রশিদ জানান, গত ১৭ আগস্ট খিলক্ষেত থানাধীন নিকুঞ্জ-২ এর ১৫ নম্বর রোডে এক চিকিৎসক দম্পতির বাসায় দিনের বেলায় চুরি হয়। চোর চক্রের সদস্যরা তৃতীয় তলার দরজা ভেঙে ঘরের ভেতরে ঢুকে আলমারির ভেঙে ৪২ ভরি স্বর্ণ ও চার হাজার মার্কিন ডলার নিয়ে যায়। থানা পুলিশের পাশাপাশি এই ঘটনার ছায়া তদন্ত শুরু করে গুলশান বিভাগের গোয়েন্দা পুলিশ।

গোয়েন্দা কর্মকর্তারা জানান, তথ্য-প্রযুক্তির সহায়তায় তারা জানতে পারে গত শনিবার পল্লবীর একটি বাসায় চুরি করার পরিকল্পনা করেছে চোর চক্র। এই তথ্যের ভিত্তিতে গোয়েন্দা পুলিশের সদস্যরা ছদ্মবেশে ওই এলাকায় অবস্থান নেয়। দুপুরের দিকে চোর চক্রের সদস্যরা পল্লবীর একটি বাসার তিন তলায় চুরি করতে ওঠার সঙ্গে সঙ্গেই তাদের আটক করা হয়। পরে তাদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে স্বর্ণালঙ্কার বিক্রিতে সহায়তাকারী দুই জুয়েলারি দোকানের মালিককেও গ্রেপ্তার করা হয়।

গোয়েন্দা গুলশান বিভাগের অতিরিক্ত উপ-কমিশনার কামরুজ্জামান সরদার বলেন, ‘এই চোর চক্রের সদস্যরা ঢাকার বাইরে বিভিন্ন এলাকায় থাকে। তারা নির্দিষ্ট দিনে সবাই ঢাকার একটি জায়গায় এসে মিলিত হয়। তারপর কোনো আবাসিক এলাকায় একসঙ্গে হাঁটতে থাকে। হাঁটতে হাঁটতে যে বাড়িতে দারোয়ান নেই বা নিরাপত্তা ঘাটতি আছে, সেটি টার্গেট করে দিনের বেলায় চুরি করতে উঠে যায়। টুপি-পাঞ্জাবি পরিহিত দাড়ি মুখের মুরুব্বিদের দেখে কেউ সন্দেহ করে না। এই সুযোগে তারা বিশেষ কৌশলে ঘরের তালা ভেঙে চুরি করে নিয়ে যায়।’

গোয়েন্দা কর্মকর্তারা বলছেন, মুরুব্বি চোর চক্রের দলনেতা জব্বার মোল্লাহ। তার গ্রামের বাড়ি পটুয়াখালীতে। কিশোর বয়স থেকেই সে ঢাকার কারওয়ানবাজার এলাকায় ভবঘুরে হিসেবে চুরি করা শুরু করে। প্রথম দিকে সে বিভিন্ন বাসা-বাড়ির ছাদে শুকিয়ে দেওয়া কাপড় চুরি করত। ধীরে ধীরে তার সঙ্গী হয় আজিমুদ্দিন, জামাল, আবুলসহ আরও অনেকেই। চুরির টাকায় গাজীপুরে জমি কিনে বাড়ি করেছেন জব্বার। সেই বাড়ি থেকে ভাড়াও পান তিনি। বর্তমানে তার চার স্ত্রী।

গোয়েন্দা পুলিশের একজন কর্মকর্তা জানান, এই চোর চক্রের সদস্যরা প্রায় ৫০ বছর ধরে চুরি করে আসছে। চক্রের সদস্যরা ঢাকার আশেপাশের বিভিন্ন এলাকায় বাস করে। চুরিটাকেই তারা পেশা হিসেবে নিয়েছে। এজন্য প্রায় প্রতিদিনই তারা ঢাকায় এসে মিলিত হয়ে ঘুরতে থাকে। বাসা টার্গেট করে প্রথমে দুই জন ভেতরে ঢুকে। দুই জন বাসার বাইরে থেকে পাহারা দেয়। দরজা ভাঙার পর বাকিরা বাসায় ঢুকে চুরি করে একে একে বের হয়ে যায়। সারা দিন চুরি করে সন্ধ্যায় তারা আবার নিজ নিজ বাসায় ফিরে যায়।

পুলিশ কর্মকর্তা কামরুজ্জামান সরদার জানান, চোর চক্রের সদস্যদের আদালতে সোপর্দ করে দুই দিনের রিমান্ডে নেওয়া হয়েছে। তাদের অন্যান্য সহযোগীদের ধরতে অভিযান চালানো হচ্ছে।

চোরাই স্বর্ণালঙ্কার কিনে নেয় জুয়েলারির মালিকরা

গোয়েন্দা কর্মকর্তারা জানান, চোর চক্রের সদস্যরা চুরি করা স্বর্ণালঙ্কার নির্দিষ্ট একটি বা দুটি জুয়েলারির দোকানে বিক্রি করে। জুয়েলারির মালিকরাও জানে এসব চোরাই স্বর্ণালঙ্কার। কম দামে কিনে বেশি দামে বিক্রির লোভে চুরির স্বর্ণালঙ্কার জেনেও এক শ্রেণির অসাধু জুয়েলারি মালিকরা তা কিনে নিচ্ছে। গ্রেপ্তার হওয়া দুই জুয়েলারি মালিক আনোয়ার ও ওহাব চোরাই স্বর্ণালঙ্কার কেনার কথা স্বীকার করেছেন।

গোয়েন্দা পুলিশের একজন কর্মকর্তা জানান, জুয়েলার্স সমিতির উচিত তাদের সদস্যরা কোথা থেকে, কার কাছ থেকে, কীভাবে স্বর্ণ কিনছে, তা যথাযথ ভাউচারের মাধ্যমে এবং বৈধ উৎস থেকে স্বর্ণ কিনছে কি-না, তা যাচাই করা। অবৈধ উৎস থেকে স্বর্ণের কেনাবেচার কারণে অনেক ক্ষেত্রে চুরি, ডাকাতি, দস্যুতা, অপহরণ, খুনের মতো অপরাধের সংশ্লিষ্টতা থাকে। জুয়েলারি ব্যবসায়ীরা সতর্ক না হলে তাদেরও ধারাবাহিকভাবে চোরাই বা ডাকাতির স্বর্ণ কেনাবেচার কারণে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।


নির্বাচিত

ধোঁয়ার যন্ত্রণায় ৪০ বছরের মিষ্টির কারখানা বন্ধের দাবি

ছবি: দৈনিক বাংলা
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
পটুয়াখালী প্রতিনিধি

পটুয়াখালীর কলাপাড়ায় জগবন্ধু মিষ্টির কারখানার চুলোর ধোঁয়ায় অতিষ্ঠ হয়ে উঠেছেন প্রতিবেশী বল্লভ কর্মকারের পবিরবার। প্রায় ৪০ বছর ধরে এ কারখানাটির আগুনের তাপে এ্যাজমা ও চর্মসহ নানা রোগে ভুগছেন তারা। বিষয়টি ওই কারখানার মালিককে বেশ কয়েকবার অবহিত করলেও তিনি এর প্রতিকার করেননি। বর্তমানে প্রচুর পরিমাণে ধোঁয়ার কারণে ওই বসতঘরে বসবাস করা অসম্ভব হয়ে পড়েছে। এ ঘটনায় প্রতিকার চেয়ে জনপ্রতিনিধি ও প্রশাসনের দ্বারে দ্বারে ঘুরেও সুরাহা পাননি তারা। সর্বশেষ গত ১৭ সেপ্টেম্বর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা বরাবর একটি আবেদন করেছেন অংলকার জুয়েলার্সের মালিক বল্লভ কর্মকারের ছেলে সৌরভ কর্মকার।

বল্লভ কর্মকারের স্ত্রী কাকলী কর্মকার বলেন, পরিবেশ বজায় রাখতে ঘনবসতি এলাকায় কোন কারখানা থাকতে পারেনা। চিংগুড়িয়া আবাসিক এলাকায় তাদের মিস্টি তৈরির কারখানা ছিল। কযেক দিন আগে এক ব্যাক্তি আদালতে মামলা দায়ের করে। আদালতের নির্দেশনায় কারখানাটি বন্ধ করে দেয়। কারখানার মালিককে বলছি উচু পাইপ দিয়ে কালো ধোঁয়া উপরের দিকে দিয়ে দেন যাতে কারখানার ধোঁয়া ঘরে প্রবেশ না করে। তাছাড়া গ্যাসের সিলিন্ডার দিয়ে মিস্টি তৈরি করতে পারে।

কারখানাটিতে বিকাল ৫টা থেকে মিস্টি তৈরি করতে শুরু করে রাত ১টা পর্যন্ত চলে। ধোঁয়ায় ঘরের দেয়াল কালো হয়ে গেছে। জামা কাপর নস্ট হয়ে যায়। পরিধান করার উপায় থাকে না। এছাড়া টিনের চালের সানসেটে পাইপ না দেয়ায় বর্ষাকালে পানি চুইয়ে দেয়ালে পলেস্তারা ক্ষয়ে ক্ষয়ে পড়ছে। এসব বিষয় নিয়ে একাধিকবার ব্যবসায়ী সমিতির সভাপতি নাজমুলের কাছে গিয়েছি তিনিও কোন সমাধান দিতে পারেনি। আমি উপজেলা প্রসাশনের কাছে জোর দাবি করছি। মানবিক দিক বিবেচনা করে মিস্টি তৈরির কারখানার ধোঁয়া থেকে বাচতে কার্যকরি প্রদক্ষেপ গ্রহন করে।

এ বিষয়ে জগবন্ধু মিষ্টান্ন ভাণ্ডারের স্বত্ত্বাধিকারী চঞ্চল সাহা বলেন, তার বিরুদ্ধে আনিত অভিযোগ মিথ্যা ও সামাজিক ভাবে হেয় প্রতিপন্ন করার জন্য ষড়যন্ত্র করছে।

কলাপাড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আরিফুজ্জামান বলেন, মিষ্টির দোকানীকে নোটিশ করে তদন্ত সাপেক্ষে আইনানুযায়ী ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।


নির্বাচিত

দিনাজপুরে দুর্গাপূজার প্রতিমা তৈরিতে ব্যস্ত কারিগর

দিনাজপুরে প্রতিমা কারিগর প্রতিমা তৈরিতে ব্যস্ত সময় পার করছে। ছবি: দৈনিক বাংলা
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
এম আর মিজান, দিনাজপুর

হিন্দু সম্প্রদায়ের সবচেয়ে বড় ধর্মীয় উৎসব শারদীয় দুর্গোৎসব সামনে রেখে সারা বাংলাদেশের মন্দিরগুলোতে প্রতিমা তৈরির কাজে ব্যস্ত সময় পার করছেন কারিগররা। দিনরাত পরিশ্রম করে কারিগররা তাদের নিপুণ হাতের ছোঁয়ায় কাদামাটি, খড়, বাঁশ, সুতলি ও রঙতুলি দিয়ে তৈরি করছেন একেকটি প্রতিমা।

সারা বাংলাদেশে আগামী ১০ অক্টোবর মহালয়ার মধ্যদিয়ে শুরু হচ্ছে শারদীয় দুর্গাপূজা। পূজার সূচি অনুয়ায়ী মহাপঞ্চমী হবে ১৬ অক্টোবর, মহাষষ্ঠী হবে ১৭ অক্টোবর, মহাসপ্তমী হবে ১৮ অক্টোবর, মহাষ্টমী হবে ১৯ অক্টোবর, মহানবমী ও সন্ধিপূজা হবে ১৯ অক্টোবর এবং বিজয়া দশমী হবে ২১ অক্টোবর।

দিনাজপুরের শহরের বিভিন্ন মন্দির ও মণ্ডপ প্রাঙ্গণে নানা আকার দেবী দুর্গার প্রতিমা বানানো হচ্ছে। জেলা পূজা উদযাপন পরিষদের সার্বিক তত্ত্বাবধানে এ বছর জেলার ১৩টি উপজেলার শহর এবং বিভিন্ন ইউনিয়নে এবার ১ হাজার ২৮৬টি পূজামণ্ডপে দুর্গাপূজা অনুষ্ঠিত হবে।

গত বছরের তুলনায় এ বছর ১৬টি মণ্ডপ বেড়েছে। ফলে পূজার আয়োজন ঘিরে দিনাজপুর জেলার বিভিন্ন এলাকায় উৎসাহ-উদ্দীপনাও বেড়েছে। এরই মধ্যে অধিকাংশ মণ্ডপে প্রতিমা তৈরির কাজ শেষ পর্যায়ে চলে এসেছে ডেকোরেশন, আলোকসজ্জা ও মণ্ডপসজ্জার কাজও এগিয়ে চলছে।

দিনাজপুর শহরের বিভিন্ন মন্দির ও প্রতিমা তৈরির কারখানা ঘুরে দেখা গেছে, মন্দিরে কারিগররা ফুটিয়ে তুলছেন দুর্গা, লক্ষ্মী, সরস্বতী, গণেশ-কার্তিক ও অসুরের প্রতিমা। মণ্ডপে মণ্ডপে চলছে মাটি দিয়ে প্রতিমা তৈরির কাজ। ইতোমধ্যেই খড় আর কাদামাটি দিয়ে চলছে প্রতিমার শেষ পর্যায়ে কাজ। রঙ তুলি দিয়ে প্রতিমা সাজানো ছাড়াও প্রতিমা তৈরির পাশাপাশি মণ্ডপের সাজসজ্জায় চলছে বিশেষ প্রস্তুতি।

প্রতিমা শিল্পীরা কল্পনায় দেবীদুর্গার অনিন্দ্যসুন্দর রূপ দিতে সকাল থেকে শুরু করে দিনরাত চলছে তাদের পরিশ্রম।

প্রতিমা কারিগর জানান, একটি পূর্ণাঙ্গ দুর্গাপ্রতিমা তৈরিতে প্রায় দুই মাস বা তারও বেশি সময় প্রয়োজন হয়। মণ্ডপের আকার, প্রতিমার নকশা ও আয়োজকদের চাহিদার ওপর নির্ভর করে সময় কম-বেশি হয়। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে কাজ শেষ করতে এখন তাদের সকাল থেকে গভীর রাত পর্যন্ত কাজ করতে হচ্ছে।

প্রতিমা কারিগর নরেশ পাল বলেন, ‘দুর্গাপূজার প্রতিমা তৈরি আমাদের কাছে শুধু পেশা নয়, এটি শিল্প ও ঐতিহ্যের অংশ। একটি কাঠামোকে ধীরে ধীরে মাটি দিয়ে প্রতিমার রূপ দেওয়া এবং শেষ পর্যন্ত সেটিকে সুন্দর করে তোলা অনেক পরিশ্রমের কাজ। পূজার সময় ঘনিয়ে আসায় এখন দিন-রাত কাজ করতে হচ্ছে। তবে প্রতিমা তৈরির পর মানুষের আনন্দ দেখে আমাদের পরিশ্রম সার্থক মনে হয়।

স্থানীয় বাসিন্দা দীনেশ চন্দ্র রায় বলেন, দুর্গাপূজা শুধু সনাতন ধর্মাবলম্বীদের ধর্মীয় উৎসব নয়, এটি এখন সবার অংশগ্রহণে একটি সার্বজনীন উৎসবে পরিণত হয়েছে। মণ্ডপে মণ্ডপে প্রতিমা তৈরির কাজ দেখে এখন থেকেই উৎসবের আমেজ অনুভূত হচ্ছে।

আরেক স্থানীয় বাসিন্দা সুবীর চন্দ্র রায় বলেন, পূজার দিন যতই ঘনিয়ে আসছে, মানুষের মধ্যে উৎসাহও তত বাড়ছে। প্রতিমা তৈরির কাজ প্রায় শেষ পর্যায়ে। আমরা চাই, উৎসবটি যেন আনন্দঘন পরিবেশে এবং পারস্পরিক সম্প্রীতি বজায় রেখে সম্পন্ন হয়।

জেলা পূজা উদযাপন কমিটির নির্বাহী সদস্য প্রদীপ ঘোষ বলেন, এবার জেলার ১৩টি উপজেলায় ১ হাজার ২৮৬টি মণ্ডপে দুর্গাপূজা অনুষ্ঠিত হবে। বিভিন্ন মণ্ডপে প্রস্তুতি চলছে। মণ্ডপসজ্জা, প্রতিমা তৈরি ও অন্যান্য কাজ নির্ধারিত সময়ের মধ্যে শেষ করার জন্য আয়োজকরা কাজ করছেন। একই সঙ্গে পূজার আয়োজন সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণভাবে সম্পন্ন করতে প্রয়োজনীয় প্রস্তুতিও নেওয়া হচ্ছে। আমরা উৎসবমুখর পরিবেশের মধ্য দিয়ে শারদীয় দুর্গাপূজা উদযাপন করব। প্রতিটি মন্দিরে কমিটির পক্ষ থেকে নিজস্ব স্বেচ্ছাসেবীরা সার্বক্ষণিক নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকবে।

নিরাপত্তা বিষয়ে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আনোয়ার হোসেন বলেন,পূজাকে ঘিরে যাতে কেউ কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা না ঘটাতে পারে সে জন্য প্রশাসনের পক্ষ থেকে সর্বোচ্চ নিরাপত্তার ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে আমরা পূজা উদযাপন কমিটি ও সাংবাদিক সহ সংশ্লিষ্টদের সাথে আইনশৃঙ্খলা বিষয়ে মিটিং করব। দুর্গাপূজার সার্বিক আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় প্রশাসনের পক্ষ থেকে সকল রকম প্রস্তুতি থাকবে।


নির্বাচিত

২০৩০ সালের মধ্যে গ্যাসের ঘাটতি শূন্যে নেমে আসবে: আশা জ্বালানি প্রতিমন্ত্রীর

ছবি: জ্বালানি প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত।
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

দেশের জ্বালানি খাতের ঘাটতি মিটিয়ে ২০৩০ সালের মধ্যে গ্যাসের চাহিদা ও সরবরাহের পার্থক্য শূন্যে নামিয়ে আনার আশা প্রকাশ করেছেন বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত।

শনিবার (১৯ সেপ্টেম্বর) দুপুরে ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর উপজেলার সুহিলপুরে তিতাস গ্যাসক্ষেত্রের ২৮ নম্বর কূপ থেকে বাণিজ্যিকভাবে জাতীয় গ্রিডে গ্যাস সরবরাহ কার্যক্রমের উদ্বোধনকালে তিনি এ আশা প্রকাশ করেন।

নতুন এই কূপ থেকে প্রতিদিন জাতীয় গ্রিডে ১২ দশমিক ৫ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস যুক্ত হবে।

প্রতিমন্ত্রী বলেন, বর্তমান সরকার ২০৩০ সালের মধ্যে ১৫০টি কূপ খননের যে পরিকল্পনা নিয়েছে, তার অংশ হিসেবে ইতোমধ্যে ২৯টি কূপ খনন করা হয়েছে।

তিনি আরও বলেন, জ্বালানি সংকটের কারণে আমরা বেশ কিছুদিন ধরে কষ্টের মধ্যে আছি। তবে স্বস্তির খবর নিয়ে এসেছে বাংলাদেশ গ্যাস ফিল্ডস কোম্পানি লিমিটেড (বিজিএফসিএল)। এর মধ্যে তিতাস ২৮ নম্বর কূপ থেকে ১২ দশমিক ৫ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস সরবরাহ কার্যক্রমের উদ্বোধন করা হয়েছে।

এই ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র উদ্যোগ ২০৩০ সাল নাগাদ চাহিদা ও সরবরাহের মধ্যে পার্থক্য দূর করতে সহায়তা করবে। এই কূপের গ্যাস মানুষের মাঝে স্বস্তি আনতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলেও জানান তিনি।

এ সময় অনিন্দ্য ইসলাম অমিত আশা প্রকাশ করেন, গ্যাসের উৎপাদন বৃদ্ধির মাধ্যমে ২০৩০ সালের মধ্যে চাহিদা ও সরবরাহের মধ্যে পার্থক্য শূন্যে নামিয়ে আনা হবে। এতে শিল্প, বিদ্যুৎ ও গৃহস্থালি খাত বর্তমানে যে সংকটে পড়েছে, তার একটি স্থায়ী সমাধান হবে।

এর আগে, গত বছরের ১৫ ডিসেম্বর সদর উপজেলার সুহিলপুর এলাকায় তিতাস ২৮ নম্বর কূপের খননকাজ শুরু হয়ে শেষ হয় গত ২৭ মে। এরপর পরীক্ষামূলকভাবে কূপটি থেকে জাতীয় গ্রিডে গ্যাস সরবরাহ শুরু হয় গত ১৯ জুন। ইতোমধ্যে কূপটি থেকে প্রায় ২০০ কোটি টাকা মূল্যের গ্যাস সরবরাহ করা হয়েছে।

২৮ নম্বর কূপের প্রকল্প পরিচালক জসিম উদ্দিন মুন্না জানান, কূপটির ওয়েলহেড শাট-ইন প্রেসার তিন হাজার ৬০০ পিএসআই এবং ফ্লোয়িং প্রেসার দুই হাজার ১০০ পিএসআই। দীর্ঘসময় কূপটি থেকে গ্যাস উত্তোলন করা যাবে বলে আশা করা যাচ্ছে।

তিনি আরও বলেন, চীনের ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান সিসিডিসির খননকৃত এই কূপের গভীরতা তিন হাজার ৬০১ মিটার। মূসক ও আয়করসহ এতে প্রায় ২০০ কোটি টাকা ব্যয় হয়েছে। এখন প্রতিদিন ১২ দশমিক ৫ মিলিয়ন ঘনফুট হারে গ্যাস উত্তোলন করে তা জাতীয় গ্রিডে সরবরাহ করা হবে।

উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বাণিজ্য মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি ও ব্রাহ্মণবাড়িয়া-৩ আসনের সংসদ সদস্য ইঞ্জিনিয়ার খালেদ হোসেন মাহবুব শ্যামল, বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগের সচিব মো. জিয়াউল হক, বিজিএফসিএলের ব্যবস্থাপনা পরিচালক আব্দুল জলিল প্রামানিক, ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা প্রশাসক মো. আবু সাঈদ, পুলিশ সুপার শাহ মো. আব্দুর রউফ, জেলা পরিষদের প্রশাসক সিরাজুল ইসলাম প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।


নির্বাচিত

কুমিল্লায় কিশোর অপ্রতিমের মরদেহ উদ্ধারের পর এ ঘটনায় আটক ১

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

কুমিল্লার সানন্দা এলাকায় ১৩ বছরের কিশোর অপ্রতিমের মরদেহ উদ্ধারের পর এ ঘটনায় একজনকে আটক করেছে পুলিশ। শনিবার (সেপ্টেম্বর) বিকেল ৩টা ৩০ মিনিটের দিকে তাকে আটক করা হয় বলে জানিয়েছেন, কোটবাড়ী পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ পরিদর্শক মফিজউদ্দিন ভূঁইয়া।

পুলিশ সূত্রে জানা যায়, শুক্রবার (১৮ সেপ্টেম্বর) বিকেলের ওই এলাকার একটি সিসিটিভি ফুটেজে অপ্রতিমের সঙ্গে একজনকে দেখা যায়। এর ভিত্তিতেই তাকে আটক করা হয়েছে।

সোয়া ৩টার দিকে মরদেহটি উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানো হয়েছে বলে জানান তিনি।

শুক্রবার (১৮ সেপ্টেম্বর) বিকেল থেকে নিখোঁজ ছিল কুমিল্লা বর্ডার গার্ড পাবলিক স্কুলের সপ্তম শ্রেণির শিক্ষার্থী ইশিয়াত শাহরিয়ার অপ্রতিম।

শনিবার (১৯ সেপ্টেম্বর) দুপুর ১টার দিকে সানন্দা এলাকায় তার মরদেহ পড়ে থাকতে দেখা যায়।

পরিবারের সদস্যরা জানান, শুক্রবার (১৮ সেপ্টেম্বর) বিকেল ৩টার দিকে বাড়ি থেকে হেঁটে বের হয় অপ্রতিম। এরপর আর বাড়ি ফেরেনি সে। পরিবারের সদস্যরা বিভিন্ন জায়গায় খোঁজ করেও তাকে না পেয়ে তার বাবা কে এম ফিরোজ শাহরিয়ার সদর দক্ষিণ থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেন।

অপ্রতিমের মা কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. নাহিদা বেগম জানান, অপ্রতিমের সঙ্গে একটি আইফোন ছিল। নিখোঁজ হওয়ার পর থেকেই ফোনটি বন্ধ পাওয়া যায়।

তিনি বলেন, অপ্রতিম কোটবাড়ি এলাকা খুব ভালোভাবে চেনে এবং এখানেই বড় হয়েছে। সে একা চলাফেরা করতে পারে। তাই সাধারণভাবে পথ হারিয়ে তার নিখোঁজ হওয়ার কথা নয়।

অপ্রতিমের বাবা ফিরোজ শাহরিয়ার গণমাধ্যমকে বলেন, 'আমার ছেলেকে ফোনের জন্য হত্যা করা হয়েছে।'

কুমিল্লাতে অপ্রতিমের দাফনের পর মামলা করা হবে বলে জানান তিনি।


নির্বাচিত

সেন্টমার্টিনে কোস্ট গার্ডের অভিযান, সার-পেঁয়াজ-রসুনসহ আটক ১০

ছবি: দৈনিক বাংলা
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
টেকনাফ (কক্সবাজার) প্রতিনিধি

চোরাচালান রোধে কোস্ট গার্ডের অভিযানে মিয়ানমারে পাচারের উদ্দেশে বহনকৃত বিপুল পরিমাণ ইউরিয়া সার ও নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যসামগ্রীসহ ১০ জন পাচারকারী আটক করা হয়েছে। শনিবার (১৯ সেপ্টেম্বর) দুপুরে কোস্ট গার্ড মিডিয়া কর্মকর্তা লেফটেন্যান্ট কমান্ডার সাব্বির আলম সুজন এ তথ্য জানান।

তিনি বলেন, কক্সবাজারের সেন্টমার্টিন ছেঁড়া দ্বীপসংলগ্ন দক্ষিণ-পূর্ব গভীর সমুদ্র এলাকায় শনিবার (১৯ সেপ্টেম্বর) মধ্যরাত ১টায় কোস্ট গার্ড স্টেশন সেন্টমার্টিন কর্তৃক গোপন সংবাদের ভিত্তিতে চোরাচালানবিরোধী একটি বিশেষ অভিযান পরিচালনা করা হয়।

অভিযান চলাকালীন সন্দেহজনক ১টি বোটকে থামার সংকেত দিলে বোটটি সংকেত অমান্য করে পালানোর চেষ্টা করে। পরবর্তীতে আভিযানিক দল ধাওয়া করে বোটটিকে গভীর সমুদ্র থেকে আটক করতে সক্ষম হয়। ওই বোটে তল্লাশি চালিয়ে প্রায় ১৩ লাখ ৭০ হাজার টাকা মূল্যের ২৪০ বস্তা (১২,০০০ কেজি) ইউরিয়া সার, ১৯০ বস্তা (৩৮০০ কেজি) রসুন ও ৯০ বস্তা (৪৫০০ কেজি) পেঁয়াজসহ বোটটি জব্দ করা হয়।

এ সময় বোটে থাকা ১ জন রোহিঙ্গাসহ মোট ১০ জন পাচারকারীকে আটক করা হয়। জব্দকৃত আলামত এবং আটককৃত ব্যক্তিদের পরবর্তী আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের কার্যক্রম প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। তিনি আরও বলেন, চোরাচালান রোধে কোস্ট গার্ড ভবিষ্যতেও এ ধরনের অভিযান অব্যাহত রাখবে।


নির্বাচিত

বিগত ১৭ বছরে শিক্ষা ব্যবস্থাকে ধ্বংস করে দেওয়া হয়েছে: রিজভী

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
কেরানীগঞ্জ (ঢাকা) প্রতিনিধি

বিগত ১৭ বছর ধরে দেশের সামগ্রিক শিক্ষা কাঠামোকে সুপরিকল্পিতভাবে পঙ্গু ও বিপর্যস্ত করে জাতির মেরুদণ্ডকে দুর্বল করে দেওয়া হয়েছিল বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপি ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব ও প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা অ্যাডভোকেট রুহুল কবির রিজভী। শনিবার দুপুরে কেরানীগঞ্জ মহিলা ডিগ্রি কলেজ প্রাঙ্গণে দক্ষিণ কেরানীগঞ্জ থানা বিএনপির উদ্যোগে আয়োজিত ‘এস.এস.সি কৃতি শিক্ষার্থীদের সংবর্ধনা-২০২৬’ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির ভাষণে তিনি এ মন্তব্য করেন। তিনি বলেন, আধুনিক তথ্যপ্রযুক্তি ও প্রগতির বৈশ্বিক প্রতিযোগিতা থেকে বাংলাদেশকে পিছিয়ে রাখার হীন লক্ষ্যেই এমন ক্ষতিকর ব্যবস্থা তৈরি করা হয়েছিল।

শিক্ষার গুণগত মান প্রসঙ্গে তিনি উল্লেখ করেন, শিক্ষাকে জাতির মেরুদণ্ড বলা হলেও বিগত বছরগুলোতে সেটিকে ভঙ্গুর প্লাস্টিকের মেরুদণ্ডে রূপান্তর করা হয়েছিল। এমন পরিস্থিতি তৈরি হয়েছিল যেখানে যথাযথ পরীক্ষা ছাড়া কিংবা খাতায় শুধু প্রশ্ন লিখে রেখেও ওপর মহলের নির্দেশে শিক্ষার্থীদের পাস করিয়ে দেওয়ার নজির দেখা গেছে। কৃত্রিমভাবে বেশি নম্বর দেওয়া কিংবা নিয়মবহির্ভূতভাবে উত্তীর্ণ করার মাধ্যমে ব্যক্তি বা জাতি কেউই লাভবান হতে পারে না। উচ্চশিক্ষার ভর্তি পরীক্ষায় কাঙ্ক্ষিত ফল না পাওয়া পুরো শিক্ষা ব্যবস্থা নিয়ে অতীতের ছেলেখেলারই পরিণতি। তবে বর্তমান প্রেক্ষাপটে মেধার নিরপেক্ষ মূল্যায়নের মাধ্যমে ফলাফল নির্ধারিত হচ্ছে, যা ভবিষ্যতের জন্য অত্যন্ত ইতিবাচক।

নারী শিক্ষার প্রসারে দলীয় দৃষ্টিভঙ্গি তুলে ধরে দলের ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব বলেন, ‘নারী ক্ষমতায়নের প্রধান শর্ত শিক্ষা। দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া ছাত্রীদের জন্য ইন্টারমিডিয়েট পর্যন্ত অবৈতনিক শিক্ষা চালু করেছিলেন। আর বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান ঘোষণা করেছেন, আগামীতে বিএ এবং অনার্স পর্যন্ত ছাত্রীদের কোনো পড়াশোনার খরচ লাগবে না, সম্পূর্ণ অবৈতনিক করা হবে।’ একই সঙ্গে কৃতি শিক্ষার্থীদের পুরস্কৃত করে উৎসাহিত করার এই আয়োজনকে তিনি একটি ‘দৃষ্টান্তমূলক কাজ’ হিসেবে আখ্যায়িত করেন।

অনুষ্ঠানে সভাপতির বক্তব্যে ঢাকা জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক, দক্ষিণ কেরানীগঞ্জ থানা বিএনপির সভাপতি ও স্থানীয় সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট নিপুন রায় চৌধুরী শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে বলেন, ‘আজকের এই অর্জন তোমাদের জীবন অধ্যায়ের নতুন সূচনা। সততা, দায়িত্বশীলতা ও দেশপ্রেম নিয়ে তোমাদের আগামী দিনের বাংলাদেশের কাণ্ডারী হতে হবে।’ দলমত নির্বিশেষে ঢাকা-৩ আসনের সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে নিরাপদ ও সুন্দর পাঠদানের পরিবেশ গড়ে তোলার প্রত্যয় জানান তিনি।

অনুষ্ঠানে ঢাকা-৩ আসন থেকে এসএসসি পরীক্ষায় জিপিএ-৫ এবং গোল্ডেন জিপিএ-৫ প্রাপ্ত শিক্ষার্থীদের হাতে ক্রেস্ট, সম্মাননা স্মারক ও আর্থিক বৃত্তির অর্থ তুলে দেওয়া হয়। এ সময় শিক্ষক, অভিভাবক, সুশীল সমাজের প্রতিনিধি এবং স্থানীয় বিএনপি ও সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।


নির্বাচিত

গজারিয়ায় বাস ও প্রাইভেটকারের সংঘর্ষে চালকসহ নিহত ৪

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
অনলাইন ডেস্ক

ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের মুন্সিগঞ্জের গজারিয়ায় যাত্রীবাহী বাস ও প্রাইভেটকারের মুখোমুখি সংঘর্ষে চালকসহ চারজন নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় গুরুতর আহত অপর এক আরোহীকে সংকটাপন্ন অবস্থায় চিকিৎসার জন্য ঢাকায় পাঠানো হয়েছে। শনিবার (১৯ সেপ্টেম্বর) দুপুরে মহাসড়কের জামালদি বাসস্ট্যান্ড সংলগ্ন এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে।

ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে মুন্সিগঞ্জ ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের উপসহকারী পরিচালক মুহাম্মদ সফিকুল ইসলাম জানান, শনিবার দুপুর ২টা ৩৮ মিনিটের দিকে দুর্ঘটনার খবর পেয়ে গজারিয়া ফায়ার স্টেশনের দুটি দল দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে উদ্ধার অভিযান শুরু করে।

ফায়ার সার্ভিসের ভাষ্য অনুযায়ী, চট্টগ্রামগামী ‘নিউ বলেশ্বর’ পরিবহনের একটি বাসের সঙ্গে ঢাকামুখী একটি প্রাইভেটকারের সংঘর্ষ হলে এ হতাহতের ঘটনা ঘটে। প্রাইভেটকারের আরোহীরা মহাসড়কসংলগ্ন মায়ামি রেস্টুরেন্টে খাওয়া-দাওয়া শেষে ঢাকার উদ্দেশে রওনা হয়েছিলেন। সংঘর্ষের তীব্রতায় প্রাইভেটকারের চালক ঘটনাস্থলেই প্রাণ হারান। পরে উদ্ধারকর্মীরা আহতদের উদ্ধার করে স্থানীয় হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক আরও তিনজনকে মৃত ঘোষণা করেন।

নিহত ব্যক্তিরা হলেন—মজিবুর রহমান (৫৫), মোছা. শামীমা আক্তার (৪৫), সাবিহা চৌধুরী (৪৩) এবং প্রাইভেটকারের চালক সোহেল। চালক সোহেল ঢাকার গেন্ডারিয়া এলাকার বাসিন্দা বলে নিশ্চিত হওয়া গেছে।

মুন্সিগঞ্জ ফায়ার সার্ভিসের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা জানান, প্রাইভেটকারটিতে চালকসহ মোট পাঁচজন আরোহী ছিলেন। দুর্ঘটনার পরপরই উদ্ধার তৎপরতা চালানো হয় এবং মরদেহ হাইওয়ে পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। দুর্ঘটনার সুনির্দিষ্ট কারণ ও পারিপার্শ্বিক পরিস্থিতি পুলিশ খতিয়ে দেখছে।


নির্বাচিত

বিশ্ববিদ্যালয়ের পাশ থেকে কুবি শিক্ষকের নিখোঁজ ছেলের মরদেহ উদ্ধার

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
কুমিল্লা প্রতিনিধি

নিখোঁজ হওয়ার পরদিন কুমিল্লার কোটবাড়ী এলাকা থেকে কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের এক শিক্ষকের সন্তান ইশিয়াত শাহরিয়ার অপ্রতীমের (১৩) মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। শনিবার দুপুর আনুমানিক ১টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়সংলগ্ন ম্যাজিক প্যারাডাইস পার্কের পাশের একটি ঝোপঝাড়পূর্ণ এলাকা থেকে তার নিথর দেহ উদ্ধার করা হয়।

মরদেহ উদ্ধারের সময় সপ্তম শ্রেণিতে পড়ুয়া এই কিশোরের মাথায় গুরুতর জখমের চিহ্ন পাওয়া গেছে। ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের সহকারী প্রক্টর মাহমুদুল হাসান জানান, মরদেহ উদ্ধারের পর তা সদর দক্ষিণ থানা পুলিশের হেফাজতে দেওয়া হবে এবং পুলিশ এ ব্যাপারে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেবে।

এর আগে শুক্রবার বিকেল ৩টার দিকে সদর দক্ষিণ থানার ২৪ নম্বর ওয়ার্ডের কোটবাড়ী এলাকার নিজ বাসা থেকে পায়ে হেঁটে বের হওয়ার পর থেকে অপ্রতীমের আর কোনো সন্ধান মিলছিল না। ছেলেকে খুঁজে না পেয়ে তার বাবা কে এম ফিরোজ শাহরিয়ার সদর দক্ষিণ থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেন।

এদিকে সন্তান নিখোঁজ হওয়ার পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে এক আবেগঘন পোস্টে অপ্রতীমের মা ড. নাহিদা বেগম লিখেছিলেন, ‘আমার ছেলেকে আমি বিকেল ৩টা থেকে খুঁজে পাচ্ছি না। ওর নাম অপ্রতীম। বয়স ১৩, ক্লাস সেভেনে পড়ে। হারানোর সময় পরনের এই পাঞ্জাবিটা (নীল রঙের) ছিল গায়ে। আমার আইফোন নিয়ে বন্ধুদের সঙ্গে ছবি তুলতে গিয়ে আর ফিরে আসেনি। আপনারা যে যেখান থেকে পারেন সহায়তা করেন। আপনাদের কাছে হাত জোড় করছি আমার ছেলেকে বাঁচান। থানায় জানিয়েছি।’

তিনি সেখানে আরও উল্লেখ করেন, ‘নম্বর ট্র্যাক করে পাওয়া যায়নি। সম্ভবত ফোন ওর সঙ্গে নাই। ফেসবুক আইডি যে ফোনে সেটা বাসায় রেখে গেছে।’


নির্বাচিত

সাগরে ঘনীভূত হচ্ছে লঘুচাপ, দেশজুড়ে টানা বজ্রবৃষ্টির পূর্বাভাস

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

উত্তর আন্দামান সাগর ও তৎসংলগ্ন এলাকায় আগামী ১২ ঘণ্টার মধ্যে একটি লঘুচাপ সৃষ্টি হতে পারে, যা পরবর্তী সময়ে আরও ঘনীভূত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। এই আবহাওয়া পরিস্থিতির প্রভাবে আগামী পাঁচ দিন দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে বজ্রসহ বৃষ্টিপাত হতে পারে বলে জানিয়েছে আবহাওয়া অধিদপ্তর।

শনিবার (১৯ সেপ্টেম্বর) সকাল ৯টা থেকে পরবর্তী পাঁচ দিনের (১২০ ঘণ্টা) দেওয়া আবহাওয়ার পূর্বাভাসে এ তথ্য জানানো হয়। প্রথম ২৪ ঘণ্টার পূর্বাভাস অনুযায়ী, ঢাকা, খুলনা, বরিশাল, চট্টগ্রাম ও সিলেট বিভাগের কিছু কিছু অঞ্চলে এবং রংপুর, রাজশাহী ও ময়মনসিংহ বিভাগের দু-এক জায়গায় অস্থায়ী দমকা হাওয়াসহ হালকা থেকে মাঝারি ধরনের বৃষ্টি বা বজ্রবৃষ্টি হতে পারে। সেই সাথে দেশের কোথাও কোথাও মাঝারি ধরনের ভারী বর্ষণের সম্ভাবনা রয়েছে। এ সময় সারা দেশে দিন ও রাতের তাপমাত্রা সামান্য বাড়তে পারে।

পরদিন রবিবার সকাল ৯টা পর্যন্ত চট্টগ্রাম ও বরিশাল বিভাগের অধিকাংশ জায়গায় এবং রংপুর, রাজশাহী, ময়মনসিংহ, ঢাকা, খুলনা ও সিলেট বিভাগের কিছু এলাকায় অস্থায়ী দমকা হাওয়াসহ হালকা থেকে মাঝারি বৃষ্টি অথবা বজ্রবৃষ্টি হতে পারে। এ দিনও দেশের কোথাও কোথাও মাঝারি ভারী বর্ষণ হতে পারে। এ সময় দিনের তাপমাত্রা সামান্য বাড়লেও রাতের তাপমাত্রা প্রায় অপরিবর্তিত থাকবে।

তৃতীয় দিন অর্থাৎ সোমবার সকাল ৯টা থেকে পরবর্তী ২৪ ঘণ্টায় খুলনা, বরিশাল ও সিলেটের কিছু জায়গায় এবং দেশের বাকি বিভাগগুলোর দু-এক স্থানে বজ্রসহ বৃষ্টি হতে পারে। পাশাপাশি কোথাও কোথাও মাঝারি ধরনের ভারী বর্ষণ এবং দিন ও রাতের তাপমাত্রা সামান্য বৃদ্ধির আভাস রয়েছে।

মঙ্গল ও বুধবারের পূর্বাভাসে বলা হয়েছে, এ দুই দিন খুলনা ও বরিশাল বিভাগের অনেক জায়গায় এবং দেশের অন্যান্য বিভাগের কিছু কিছু স্থানে দমকা হাওয়াসহ বৃষ্টি বা বজ্রবৃষ্টি অব্যাহত থাকতে পারে। এই সময়ে সারা দেশে মাঝারি ধরনের ভারী বর্ষণের সম্ভাবনার পাশাপাশি দিনের তাপমাত্রা সামান্য কমতে পারে, তবে রাতের তাপমাত্রা অপরিবর্তিত থাকার সম্ভাবনা রয়েছে।

পরবর্তী পাঁচ দিনের বর্ধিত আবহাওয়া চিত্রে সারা দেশে বৃষ্টি বা বজ্রসহ বৃষ্টির প্রবণতা আরও বাড়ার ইঙ্গিত দেওয়া হয়েছে। আবহাওয়ার সিনপটিক অবস্থা সম্পর্কে আবহাওয়া অফিস জানিয়েছে, মৌসুমি বায়ুর অক্ষ বর্তমানে রাজস্থান, উত্তর প্রদেশ, বিহার, পশ্চিমবঙ্গ ও বাংলাদেশের মধ্যাঞ্চল হয়ে আসাম পর্যন্ত বিস্তৃত রয়েছে এবং এর একটি অংশ উত্তর বঙ্গোপসাগরে বিরাজমান। তবে মৌসুমি বায়ু বর্তমানে দেশের ওপর কম সক্রিয় এবং উত্তর বঙ্গোপসাগরে দুর্বল অবস্থায় রয়েছে।


নির্বাচিত

৩৪ দিন পর শাহজালাল (রহ.) মাজারে চতুর্থ দফায় দানের অর্থ গণনা শুরু

হযরত শাহজালাল (রহ.) মাজারের দানের টাকা গণনা চলছে। ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
সিলেট প্রতিনিধি

প্রায় ৩৪ দিনের ব্যবধানে সিলেটের হযরত শাহজালাল (রহ.) মাজারের দানবাক্সে জমা হওয়া অর্থ আবারও প্রকাশ্যে গণনার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। শনিবার (১৯ সেপ্টেম্বর) সকাল আনুমানিক ১০টায় মাজারের দানপাত্রগুলো থেকে টাকা বের করে দরগাহ মসজিদ সংলগ্ন বারান্দায় নিয়ে গণনার কার্যক্রম শুরু করা হয়। এ নিয়ে চতুর্থবারের মতো উন্মুক্তভাবে মাজারের দানের অর্থ গণনা করা হচ্ছে।

মাজারের আয়-ব্যয় ব্যবস্থাপনা কমিটির সার্বিক তত্ত্বাবধানে এই কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে। অর্থ গণনায় অংশ নিয়েছেন মাদরাসার শিক্ষার্থী, মাজার কমিটির প্রতিনিধি এবং জেলা প্রশাসনের কর্মচারীরা। কার্যক্রম চলাকালে সিলেটের জেলা প্রশাসক আবদুল্লাহ আল মামুন এবং সিলেট উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (সিউক) চেয়ারম্যান রেজাউল হাসান কয়েস লোদীসহ প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

এর আগে সুদীর্ঘ সাতশত বছরের প্রথা ভেঙে গত ২২ জুন প্রথমবারের মতো প্রকাশ্যে মাজারের চারটি ও জেলা প্রশাসনের চারটিসহ মোট আটটি দানবাক্স খোলা হয়েছিল। সে সময় নগদ ১৭ লাখ ৬৫ হাজার ৫৪৯ টাকা, সাত আনা ওজনের স্বর্ণালঙ্কার ও দুটি সৌদি রিয়াল পাওয়া যায়। এর সঙ্গে জেলা প্রশাসনের তৎকালীন তহবিল থেকে সাবেক জেলা প্রশাসকের দেওয়া আরও ৫ লাখ টাকার চেক অন্তর্ভুক্ত করে সর্বমোট ২২ লাখ ৬৫ হাজার ৫৪৯ টাকা সোনালী ব্যাংক করপোরেট শাখায় মাজারের নিজস্ব হিসাবে জমা দেওয়া হয়।

পরবর্তীতে গত ১১ জুলাই মাত্র ১৮ দিনের ব্যবধানে দ্বিতীয় দফায় দানবাক্স খুলে পাওয়া যায় ৪৭ লাখ ১০ হাজার ১৫৩ টাকা। নগদ টাকার পাশাপাশি সেবার ৯ গ্রাম সোনা, ১০ গ্রাম স্বর্ণসদৃশ ধাতু, ৩৯ দশমিক ৪ গ্রাম রূপা ছাড়াও মার্কিন ডলার, ইউরো, সৌদি রিয়াল, ভারতীয় রুপিসহ বিভিন্ন দেশের বিপুল পরিমাণ বৈদেশিক মুদ্রা পাওয়া গিয়েছিল। এছাড়া সবশেষ গত ১৫ আগস্ট তৃতীয় ধাপে দানবাক্সগুলো থেকে নগদ ৭০ লাখ ৮৮ হাজার ৬৭২ টাকাসহ বিভিন্ন দেশের মুদ্রা ও সোনা-রূপা উদ্ধার করা হয়।


নির্বাচিত

নরসিংদীতে নিজ কন্যাকে ধর্ষণের অভিযোগে বাবা গ্রেফতার

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নরসিংদী প্রতিনিধি

নরসিংদীর শীলমান্দি এলাকায় নিজের কন্যাকে দীর্ঘদিন ধরে ধর্ষণ ও সেই দৃশ্য ভিডিও ধারণ করার অভিযোগে মো. হালিম মিয়া (৩৫) নামের এক ব্যক্তিকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। ন্যক্কারজনক এ ঘটনাটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়। অভিযুক্ত ব্যক্তির দ্রুত গ্রেফতার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিতে নরসিংদী সদরের বিভিন্ন স্থানে স্থানীয় বাসিন্দা এবং সামাজিক ও রাজনৈতিক সংগঠনের ব্যানারে একাধিক বিক্ষোভ ও প্রতিবাদ কর্মসূচি পালিত হয়।

এ ঘটনায় ভুক্তভোগী কিশোরীর মামা মো: সফিকুল ইসলাম বাদী হয়ে নরসিংদী মডেল থানায় একটি মামলা দায়ের করেন। মামলার প্রেক্ষিতে নরসিংদী সদর মডেল থানা ও জেলা গোয়েন্দা পুলিশের একটি যৌথ দল শুক্রবার (১৮ সেপ্টেম্বর ) ভোরে চট্টগ্রামের হাটহাজারী অঞ্চলের একটি মাজার এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেফতার করতে সক্ষম হয়।

পরবর্তীতে শুক্রবার বিকেলে নরসিংদী মডেল থানার সম্মেলন কক্ষে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে নরসিংদীর অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম অ্যান্ড অপস) মো. আশিকুর রহমান লিখিত বক্তব্যের মাধ্যমে এই তথ্য নিশ্চিত করেন। এ সময় অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর সার্কেল) সজীব শাহরীন, নরসিংদী মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা এ আর এম আল মামুন ও গোয়েন্দা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আবুল কায়েস সহ পুলিশের সংশ্লিষ্ট অন্যান্য কর্মকর্তাবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন। গ্রেফতারকৃত আসামিকে বিজ্ঞ আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে।


নির্বাচিত

মায়ের আইফোন নিয়ে ছবি তুলতে বেরিয়ে নিখোঁজ অপ্রতিম

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
মাহফুজ নান্টু, কুমিল্লা প্রতিনিধি

মায়ের আইফোন নিয়ে বন্ধুদের সঙ্গে ছবি তুলতে বের হয়েছিল ১৩ বছরের অপ্রতিম। এরপর আর বাড়ি ফেরেনি সে। গত ১৮ সেপ্টেম্বর বিকেল সাড়ে ৩টার দিকে কুমিল্লার কোটবাড়ি এলাকার বাসা থেকে বের হওয়ার পর নিখোঁজ হয় সপ্তম শ্রেণির এই শিক্ষার্থী। একমাত্র সন্তানকে হারিয়ে উৎকণ্ঠায় দিন কাটছে কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. নাহিদা বেগম ও তার পরিবারের।

অপ্রতিম বর্ডারগার্ড পাবলিক স্কুলের সপ্তম শ্রেণির শিক্ষার্থী। তার বাবা কে এম ফিরোজ শাহরিয়ার এ ঘটনায় কুমিল্লা সদর দক্ষিণ মডেল থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেছেন।

জিডি সূত্রে জানা যায়, ১৮ সেপ্টেম্বর বিকেল সাড়ে ৩টার দিকে সদর দক্ষিণ থানার ২৪ নম্বর ওয়ার্ডের কোটবাড়ি এলাকার বাসা থেকে হেঁটে বের হয় অপ্রতিম। এরপর সম্ভাব্য বিভিন্ন স্থানে খোঁজ করেও তার সন্ধান পায়নি পরিবার। নিখোঁজের পর থেকে তাকে উদ্ধারে স্বজনদের পাশাপাশি পুলিশও তৎপর রয়েছে।

অপ্রতিমের মা ড. নাহিদা বেগম বলেন, ‘আমার ছেলেকে আমি বিকেল ৩টা থেকে খুঁজে পাচ্ছি না। ওর নাম অপ্রতিম। বয়স ১৩, ক্লাস সেভেনে পড়ে। হারানোর সময় পরনে এই পাঞ্জাবিটা ছিল। আমার আইফোন নিয়ে বন্ধুদের সঙ্গে ছবি তুলতে গিয়ে আর ফিরে আসেনি। আপনারা যে যেখান থেকে পারেন, সহায়তা করেন। আপনাদের কাছে হাতজোড় করে অনুরোধ করছি, আমার ছেলেকে বাঁচান। থানায় জানিয়েছি।

সদর দক্ষিণ মডেল থানার ওসি রকিবুল ইসলাম বলেন, ‘অপ্রতিমকে খুঁজতে পুলিশ কাজ করছে। তার সর্বশেষ অবস্থানসহ বিশ্ববিদ্যালয়ের আশপাশের এলাকার সিসিটিভি ফুটেজ নিয়ে কাজ শুরু হয়েছে। আমরা সর্বোচ্চ চেষ্টা করছি।

পরিবারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, কেউ অপ্রতিমের সন্ধান পেলে তার বাবা কে এম ফিরোজ শাহরিয়ার ০১৭১৯-৬২৫৬৯০ অথবা মা ড. নাহিদা বেগমের ০১৯৭৪-৮৮৮৬৬৫ নম্বরে যোগাযোগ করতে অনুরোধ করা হয়েছে।


নির্বাচিত

সুনামগঞ্জে বিষপানে ৩ শিশুর মৃত্যু, বাবার অবস্থা আশঙ্কাজনক

ছবি: দৈনিক বাংলা
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
তাহিরপুর (সুনামগঞ্জ) প্রতিনিধি

সুনামগঞ্জের তাহিরপুরে তিন সন্তানকে নিয়ে বিষাপানের করেছেন এক বাবা। এতে তিন শিশুর মৃত্যু হয়েছে। গুরুতর অসুস্থ অবস্থায় বাবা সরফত আলীকে সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।

শুক্রবার (১৮ সেপ্টেম্বর) দিবাগত রাত আনুমানিক ১টার দিকে উপজেলার উত্তর বড়দল ইউনিয়নের রজনীলাইন গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।

নিহত শিশুরা হলো—রজনীলাইন গ্রামের সরফত আলীর মেয়ে মাওয়া আক্তার (১০) এবং ছেলে শামিম মিয়া (৭) ও তামিম মিয়া (২)। তাদের বাবা সরফত আলী (৩৫) বর্তমানে চিকিৎসাধীন।

স্থানীয় বাসিন্দা ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, সরফত আলীর স্ত্রী ফাতেমা বেগম তিন দিন আগে সৌদি আরবে যান। শুক্রবার রাতে সরফত আলী তিন সন্তানকে নিয়ে ঘরে ঘুমাতে যান। পরে রাত আনুমানিক ১টার দিকে তিনি সন্তানদের নিয়ে কীটনাশক পান করেন বলে জানা গেছে।

বিষপানের পর সরফত আলী ময়মনসিংহে থাকা তার এক ফুফুকে ফোন করে বিষয়টি জানান এবং পরিবারের সদস্যদের কাছে ক্ষমা চান। পরে তার ফুফু বাড়িতে থাকা সরফত আলীর ছোট ভাই রহমত আলীকে বিষয়টি জানান। খবর পেয়ে রহমত আলীসহ পরিবারের লোকজন দ্রুত বাড়িতে গিয়ে ঘরের দরজা ভেঙে চারজনকে উদ্ধার করেন।

পরে তাদের তাহিরপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তিন শিশুকে মৃত ঘোষণা করেন। সরফত আলীর অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় তাকে প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়।

তাহিরপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ফারুক আহমদ বলেন, তিন শিশুর মরদেহ বর্তমানে তাহিরপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে রয়েছে। সুরতহাল প্রতিবেদন শেষে মরদেহগুলো সুনামগঞ্জ সদর হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হবে। এ ঘটনায় আইনগত প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।


নির্বাচিত

banner close