সোমবার, ২২ জুলাই ২০২৪

‘শেখ হাসিনার হাতকে শক্তিশালী করতে এক হয়ে কাজ করতে হবে’

প্রতিবেদক, দৈনিক বাংলা
প্রকাশিত
প্রতিবেদক, দৈনিক বাংলা
প্রকাশিত : ২ সেপ্টেম্বর, ২০২৩ ১৬:৫৯

বঙ্গবন্ধু কন্যা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাই ডিজিটাল বাংলাদেশ বিনির্মাণের প্রধান প্রকৌশলী বলে মন্তব্য করেছেন আওয়ামী লীগের বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিষয়ক উপকমিটির বিদ্যুৎখাত সংক্রান্ত কমিটির আহ্বায়ক, বাংলাদেশ ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশন ঢাকা কেন্দ্রের চেয়ারম্যান ও পাওয়ার সেলের মহাপরিচালক ইঞ্জিনিয়ার মোহাম্মদ হোসাইন।

তিনি বলেছেন, ‘আগামী দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে শেখ হাসিনার হাতকে শক্তিশালী করার জন্য সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করতে হবে।’

গত শুক্রবার সকালে চাঁদপুরের শাহরাস্তি উপজেলায় শহীদ হালিম-লিয়াকত স্মৃতি সংসদের আয়োজনে উঘারিয়া ইউ সি উচ্চ বিদ্যালয় মিলনায়তনে শিক্ষার্থীদের বৃত্তি ও সনদ প্রদান অনুষ্ঠানে মোহাম্মদ হোসাইন এ কথা বলেন।

তিনি তার বক্তব্যে সরকারের উন্নয়নচিত্র তুলে ধরেন এসময়।

শহীদ হালিম-লিয়াকত স্মৃতি সংসদ শাহরাস্তি দক্ষিণের পরিচালক মো. নুরে আলম ফরাজির সভাপতিত্বে ও সংস্থার উপ-পরিচালক রাজিব হোসাইনের সঞ্চালনায় বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন শাহরাস্তি উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ও উপজেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান কামরুজ্জামান মিন্টু, ট্রাস্ট ব্যাংকের সিনিয়র ভাইস প্রেসিডেন্ট, নারী শিক্ষানুরাগী ও সমাজসেবক সুরাইয়া তালুকদার, উপজেলা আওয়ামী লীগের সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক জাহাঙ্গীর মোহাম্মদ আদেল, সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক মোস্তফা চৌধুরী।

এছাড়া অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন শাহরাস্তি উপজেলা কৃষক লীগের সভাপতি মকবুল চৌধুরী, বীর মুক্তিযোদ্ধা লুতফর রহমান, বীর মুক্তিযোদ্ধা সেকান্দর আলী পাটোয়ারী, হালিম লিয়াকত, শাহরাস্তি উপজেলা শাখার উপদেষ্টা ইমাম হোসাইন মাহমুদ, মাও. ইব্রাহিম খলিল রিপাত শাহ, মোহাম্মদ আবদুল করিম সেলিম, হাফেজ মাও. খোরশেদ আলম, মিজানুর রহমান, হোসাইন মির, ৫নং ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক রবিউল আলম, ৬ নং ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সভাপতি বিল্লাল হোসেন, ৬নং ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মাহবুব আলম, ইউনিয়ন আওয়ামী লীগ নেতা জাকির হাজারীসহ উপজেলা ও ইউনিয়ন আওয়ামী লীগ ও অঙ্গ সংগঠনের নেতারা।

বিকেল ৪টায় ইঞ্জিনিয়ার মোহাম্মদ হোসাইন তার সার্বিক সহযোগিতায় হাজীগঞ্জ উপজেলার ৯ নং গন্ধব্যপুর উত্তর ইউনিয়নের মালিগাঁও বড় বাড়ির অসহায় গোপাল দেবনাথের পরিবারের জন্য নির্মিত বসতঘর হস্তান্তর করেন। এসময় উপস্থিত ছিলেন তার সহধর্মিণী ও ট্রাস্ট ব্যাংকের সিনিয়র ভাইস প্রেসিডেন্ট সুরাইয়া তালুকদার।

আরও উপস্থিত ছিলেন ৯ নং গন্ধব্যপুর উত্তর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ও ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি কাজী নুরুর রহমান বেলাল, ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি জাহাঙ্গীর আলম, প্যানেল চেয়ারম্যান ও ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক হোসেন চৌধুরী, ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সভাপতি এনায়েত ছয়ানি, মালিগাঁও স্কুল পরিচালনা কমিটির সভাপতি মনির হোসেন, সাবেক সভাপতি কাউচার আহমেদ, বিজ্ঞান সম্পাদক আব্দুর রাজ্জাকসহ ওয়ার্ড আওয়ামী লীগ ও অঙ্গ সংগঠনের নেতারা।

বিষয়:

ঠেকানো যাচ্ছে না রোহিঙ্গা অনুপ্রবেশ

ফাইল ছবি
আপডেটেড ১৬ জুলাই, ২০২৪ ০০:১৪
রহমত উল্লাহ, টেকনাফ (কক্সবাজার)

মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্য থেকে সীমান্ত রক্ষীদের চোখ ফাঁকি দিয়ে প্রতিদিন বাংলাদেশে রোহিঙ্গা অনুপ্রবেশ করছে। রাখাইন এলাকা থেকে বিতাড়িত শতাধিক রোহিঙ্গা পরিবার। দালালদের মতে প্রতিদিন এ সংখ্যা হাজারের ওপরে। সে হিসাবে নতুন করে ৫০ হাজার থেকে এক লাখের বেশি রোহিঙ্গা এরই মধ্যে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর চোখকে ফাঁকি দিয়ে দালালদের সহযোগিতায় গোপনে বাংলাদেশে অনুপ্রবেশ করেছে।

মিয়ানমারে জান্তা বাহিনী ও সশস্ত্র বিদ্রোহী গোষ্ঠীর চলমান সংঘাতে রোহিঙ্গাদের ওপর নির্যাতনের মাত্রা এখনো থামেনি। রোহিঙ্গাদের নির্যাতনের সুযোগকে কাজে লাগিয়ে দুই দেশের দালালচক্র সক্রিয় হয়ে উঠেছে। অভিযোগ উঠেছে ২০-৩০ হাজার টাকা থেকে শুরু করে লাখ টাকা পর্যন্ত হাতিয়ে নিয়ে রোহিঙ্গাদের বাংলাদেশের অরক্ষিত সীমান্ত দিয়ে গোপনে অনুপ্রবেশের ব্যবস্থা করেই যাচ্ছে এসব দালালচক্র।

এদিকে, অনুপ্রবেশের চেষ্টার সময় আটক করে রোহিঙ্গাদের দেশে পাঠানোর প্রক্রিয়াও অব্যাহত রয়েছে। এ পর্যন্ত রোহিঙ্গাদের শতাধিক নৌকাকে আটক করে দেশে ফেরত পাঠানো হয়েছে বলে দাবি করেছেন কোস্টগার্ড ও বর্ডারগার্ড বিজিবি।

সীমান্তে বর্ডারগার্ড বাংলাদেশের (বিজিবি) নজরদারি কম এমন পয়েন্ট দিয়েই রাতের আঁধারে দালালরা রোহিঙ্গাদের এ দেশে আনছেন। বিনিময়ে নিচ্ছেন জনপ্রতি ২০ থেকে ৩০ হাজার টাকা। তাই সীমান্তে বিজিবির কঠোর নজরদারি সত্ত্বেও ঠেকানো যাচ্ছে না নতুন রোহিঙ্গা অনুপ্রবেশ।

পালিয়ে আসা রোহিঙ্গারা জানান, প্রাণের ভয়ে তারা গ্রাম ছেড়ে আসতে বাধ্য হয়েছেন। ওপারে সংঘর্ষ বেড়ে যাওয়ায় তাদের মতো আরও অনেকে এপারে চলে আসার পথ খুঁজছে। মংডুর নলবাইন্যা ও মেরোংলা এলাকায় তাণ্ডব চালাচ্ছে আরাকান আর্মি ২০০টি ঘরে আগুন দিয়েছে। এ সময় তাদের গুলিতে ২০ জন রোহিঙ্গা গুরুতর আহত হয়েছে। অনেকে মারাও গেছে। প্রাণে বাঁচতে তারা নাফ নদ পেরিয়ে বাংলাদেশে প্রবেশ করেছে। জান্তা বাহিনী আগে এসব এলাকায় তাণ্ডব করেনি। এখন মিয়ানমার সরকারের পাশাপাশি বেশি নির্যাতন করছে আরাকান আর্মি। তাদের দলে যোগ না দিলে হত্যার হুমকি দিচ্ছে রোহিঙ্গাদের। নইলে এলাকা ছেড়ে চলে যেতে বলছে।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে কক্সবাজারের সহকারী পুলিশ সুপার রফিকুল ইসলাম জানান, মিয়ানমারে চলমান যুদ্ধের সুযোগকে ব্যবহার করে সীমান্তের দালালরা অর্থের বিনিময়ে রোহিঙ্গা অনুপ্রবেশ করাচ্ছে। আমরা সেসব দালালদের শনাক্ত করে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিচ্ছি। সবাইকে ঐক্যবদ্ধ হয়ে কাজ করতে হবে যাতে নতুন করে রোহিঙ্গা দেশে অনুপ্রবেশ না করে।

টেকনাফ সীমান্ত দিয়ে অনুপ্রবেশকারী রোহিঙ্গাদের আটকের পর মিয়ানমারে ফেরত পাঠাচ্ছে বিজিবি ও কোস্টগার্ড; কিন্তু ফেরত পাঠানো রোহিঙ্গারা কৌশলে আবারও টেকনাফ সীমান্তে ভিড় করছে নানান কৌশলে। ফের ঢুকে পড়ছে বাংলাদেশে। তারা কিছুতেই ফিরে যেতে চাইছে না মিয়ানমারে। রাতের আঁধারে কারা বাংলাদেশে ঢোকার চেষ্টা করছে তাও বোঝা যাচ্ছে না বাংলাদেশ সীমান্ত রক্ষীবাহিনীর পক্ষ থেকে। তারপরও তারা রোহিঙ্গা প্রবেশ রোধে কঠোর অবস্থানে রয়েছে। সম্প্রতি কত রোহিঙ্গা বাংলাদেশে এসেছে সে-সংক্রান্ত সুনির্দিষ্ট তথ্য কোনো কর্তৃপক্ষ দিতে পারেনি।

মিয়ানমার ও বাংলাদেশ সীমান্তের বিশাল একটি অংশজুড়ে রয়েছে জলপথ। এ জলপথই মূলত অবৈধভাবে রোহিঙ্গাদের প্রবেশের মূল জায়গা। রোহিঙ্গারা এ ক্ষেত্রে নাফ নদী ব্যবহার করছে। তারা দুই পারের দালালদের সহযোগিতায় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর চোখ ফাঁকি দিয়ে খুব সহজেই এ দেশে ঢুকে পড়ছে।

শাহপরী দ্বীপের স্থানীয় কিছু ব্যক্তির সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, স্থানীয় কিছু দালাল প্রতিদিন তাদের নিজস্ব ট্রলারে রোহিঙ্গাদের বিভিন্ন পয়েন্ট দিয়ে অনুপ্রবেশ করাচ্ছে। এ ক্ষেত্রে যাদের ট্রলার নেই তারা ওপার থেকে আসা রোহিঙ্গাদের নিজ দায়িত্বে টাকার বিনিময়ে প্রবেশ করাচ্ছেন।

রোববার রাতে গোপনে বাংলাদেশে অনুপ্রবেশ করেছেন মনির হোসেন ও হোসনে আরা নামের দুই রোহিঙ্গা। তারা জানান, রাখাইন রাজ্যে সুএজাতে তাদের গ্রাম। আরাকান আর্মি ও সরকার বাহিনী বিমান হামলা করে তাদের গ্রাম ধ্বংস করে ফেলছে। তাদের গ্রামের অনেক মানুষ মর্টার শেলের আঘাতে মারা গেছেন। রোহিঙ্গাদের সব গ্রামে আরাকান আর্মি ঢুকেছে। তারা এক মাস আগে গ্রাম খালি করে দিয়েছে। তাদের অনেকেই বাড়ি-ঘর ছেড়ে দিতে রাজি না হওয়ায় তাদের ওপর অনেক নির্যাতন করছে আরকান আর্মি।

অনুপ্রবেশকারী মনির হোসেন জানান, ‘আরকান আর্মি রোহিঙ্গাদের সহযোগিতা করছে বলে ফেসবুকে প্রচার করে যাচ্ছে; কিন্তু তারাই চায় আমরা দেশ ছেড়ে পালিয়ে যাই। তাই তারা বেশি নির্যাতন করছে আমাদের ওপর। তাই প্রাণে বাঁচতে গ্রাম ছেড়ে চলে যাই অন্য জায়গায়। সেখান থেকে হেঁটে হেঁটে চলে আসি। তারপর জোবাইর নামক এক দালালের সঙ্গে যোগাযোগ করে ৫ লাখ মিয়ানমারের টাকা দিয়ে কথাবার্তা ক্লিয়ার করি। আসার জন্য এক দিন অপেক্ষা করি চরে। পরদিন নৌকা করে ঝড়-বৃষ্টির মধ্যে চুরি করে শাহপরীর দ্বীপের ঘোলার পাড়ায় উঠি।

সরেজমিনে গিয়ে জানা গেছে, দালালরা ২০-৩০ হাজার টাকার বিনিময় টেকনাফের অরক্ষিত জায়গা দিয়ে রোহিঙ্গাদের অনুপ্রবেশ করাচ্ছে। এ পর্যন্ত কমপক্ষে ৩৭ জন দালালের নাম পাওয়া গেছে যারা টাকার বিনিময়ে রোহিঙ্গাদের বাংলাদেশে প্রবেশের সুযোগ করে দিচ্ছে। তাদের মধ্যে রয়েছে সাবরাংয়ের মুন্ডার ডেইলের দানু মেম্বার, আব্দুল আমিন, শহিদুল ইসলাম, নবী হোসেন, মনজুর, মৌলভী রফিক, শামসু তেলের দোকানদার, বড়ইতলীর রোবেল, শাহপরীর দ্বীপ জালিয়া পাড়ার শামসুল আলম প্রকাশ শামিম হাসু, শাহপরীর দ্বীপ উত্তরপাড়া মামুন, নাইথ্যংপাড়ার শামসুল আলম, মো. জাকের, কবির আহমদ, জাহাঙ্গীর আলম, মো. ইউনুছ ওরফে আঙ্গুলী, মো. ইউনুছ ওরফে ইনাইয়া, বড়ইতলী গ্রামের আমীর হোসেন, ফরিদ উল্লাহ, সাবরাং মগপাড়ার আবদুল্লাহ, মো. ইসমাইল ওরফে লেজা, রাসেল, মো. ইব্রাহীম, জিনাপাড়ার আরাফাত, শাহপরীর দ্বীপের করিম উল্লাহ, সানা উল্লাহ, শামশুল আলম, নুর মোহাম্মদ, জোবাইর সাইফুল ইসলাম, মো. শফিক, মুহাম্মদ মান্নান, করিম উল্লাহ, নজির আহমেদ, মো. শফিক, মো. ফারুক, মো. জয়নাল, নুর হোসেন ও মো. সাদ্দাম প্রমুখ। পুলিশের মানব পাচার তালিকায়ও এদের নাম রয়েছে। আছে অনেকের নামে মানব পাচার আইনে মামলাও।

এসব দালাল ২১টি পয়েন্ট দিয়ে রোহিঙ্গাদের নিয়ে আসছে। পয়েন্টগুলো হলো- টেকনাফ নাইট্যংপাড়া, জাদিমুড়া, কেরুনতরী, বরইতলী, চৌধুরীপাড়া, তুলাতলী ঘাট, মৌলভীপাড়া, নাজিরপাড়া, সাবরাং মগপাড়া, লেজিরপাড়া, আচার বনিয়া, জিনাপাড়া, মুন্ডার ডেইল, কচুবনিয়া, খুরের মুখ, মহেষখালীয়াপাড়া, বাহারছড়া ঘাট ও শাহপরীর জালিয়াপাড়া, দক্ষিণপাড়া, জালিয়াপাড়া ও গোলারচর। এসব পয়েন্ট একাধিক মানব পাচার মামলার দালালরা নিয়ন্ত্রণ করে থাকে।

তবে দালালদের বিষয়ে বিজিবি কোনো মন্তব্য করতে রাজি নয়। অবশ্য সীমান্তে অনুপ্রবেশ ঠেকানার পাশাপাশি যেকোনো পরিস্থিতি মোকাবিলায় বিজিবি সদস্যরা প্রস্তুত রয়েছেন বলে জানিয়েছেন টেকনাফ-২ ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মো. মহিউদ্দিন আহমেদ।

প্রকাশে অনিচ্ছুক বাংলাদেশ কোস্টগার্ডের মিডিয়া কর্মকর্তা। তিনি জানান, ‘সীমান্তে কড়া পাহারা রয়েছে। রোহিঙ্গাদের অনুপ্রবেশ রোধ করা হচ্ছে প্রতিনিয়ত। দালালদের বিষয়ে আমরা খতিয়ে দেখব।

দালালের বিষয়ে টেকনাফ মডেল থানার ওসি তদন্ত আবদুল্লাহ আল মামুন বলেন, ‘সীমান্তে রোহিঙ্গা অনুপ্রবেশের ঘটনা শুনেছি তবে আমাদের নজরে আজও আসে নাই। এর আগেও দালালদের আটক করে মামলা রুজু করে আদালতে পাঠিয়েছি। যদি কোনো দালাল রোহিঙ্গা অনুপ্রবেশের সঙ্গে জড়িত থাকে তাদের চিহ্নিত করে আইনের আওতায় আনা হবে।

বিষয়:

সিলেট সীমান্তে গুলিতে নিহত ২ বাংলাদেশির মরদেহ হস্তান্তর হয়নি

প্রতীকী ছবি
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
সিলেট ব্যুরো

সিলেটের কোম্পানীগঞ্জ সীমান্তে ভারতের খাসিয়া সম্প্রদায়ের গুলিতে নিহত দুই বাংলাদেশি নাগরিকের মরদেহ ২৪ ঘণ্টায়ও হস্তান্তর হয়নি। তাদের মরদেহ দেশে ফিরিয়ে আনতে বিজিবি ও বিএসএফের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের মধ্যে পতাকা বৈঠক চলছে বলে আজ সোমবার বিকালে জানিয়েছেন কোম্পানীগঞ্জ থানার পুলিশ। নিহত দুই যুবক হলেন একই উপজেলার কালীবাড়ি গ্রামের আলী হোসেন (৩০) ও কাওসার আহমদ (৩২)।

আজ সোমবার বিকালে কোম্পানীগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) গোলাম দস্তগীর আহমেদ বলেন, দুই যুবকের লাশ এখনো ভারতে আছে। তাদের লাশ দেশে ফিরিয়ে আনার জন্য বিজিবি ও বিএসএফের সদস্যরা আলোচনা করছেন। দেশে আনার পর পুলিশ পরবর্তী আইনি কার্যক্রমে অংশ নেবে। গত রোববার সন্ধ্যা ৬টার দিকে কোম্পানীগঞ্জের ভারত সীমান্ত পিলার নম্বর-১২৫৩-এর কাছে ‘ভারতীয় খাসিয়াদের’ গুলিতে আলী ও কাওসার নিহত হন।

স্থানীয় সূত্র জানায়, আলী হোসেন, কাওসার আহমদ ও নবী হোসেন সীমান্তের ওপার থেকে পণ্য নিয়ে আসার জন্য রোববার কোনো একসময় অবৈধভাবে ভারতের ভেতর প্রবেশ করেন। বিকাল ৩টায় খবর পাওয়া যায় ভারতীয় খাসিয়াদের গুলিতে আলী ও কাওসার নিহত হয়েছেন। এর কিছুক্ষণ পর গুরুতর আহত হয়ে ফিরে আসেন নবী হেসেন।

উত্তর রনিখাই ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) চেয়ারম্যান মো. ফয়জুর রহমান বলেন, ভারত সীমান্ত এলাকায় গুলিতে নিহত দুই যুবকের লাশ আজ বিকাল পর্যন্ত দেশে ফিরিয়ে আনা হয়নি। সকাল থেকে বিজিবি ও বিএসএফ কর্মকর্তাদের বৈঠক চলছে। অন্যদিকে গুলিতে আরও কয়েকজন আহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে। তবে তাদের অবস্থা গুরুতর নয়।

ইউপির চেয়ারম্যান আরও বলেন, স্থানীয় লোকজনের বাড়ি সীমান্তবর্তী এলাকায় হওয়ায় কাঠ সংগ্রহ করতে প্রায়ই ভারতের ভেতরে যাওয়া-আসা করেন। আলী হোসেন ও কাওসারও সেভাবেই সেখানে গিয়ে থাকতে পারেন।


কুমিল্লায় জোড়া খুনের ঘটনায় ৬ জনের মৃত্যুদণ্ড

ফাইল ছবি
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
কুমিল্লা প্রতিনিধি

কুমিল্লায় জমিসংক্রান্ত বিরোধের জেরে গিয়াস উদ্দিন ও জামাল হোসেনের খুনের ঘটনায় ছয়জনকে মৃত্যুদণ্ড ও সাতজনকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। একই সঙ্গে প্রত্যেক আসামিকে ৫০ হাজার টাকা করেও জরিমানা করেছেন আদালত।

আজ সোমবার দুপুরে কুমিল্লার অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ আদালতের বিচারক মো. জাহাঙ্গীর হোসেন এ রায় দেন।

মৃত্যুদণ্ড পাওয়া আসামিরা হলেন- তোফায়েল আহমেদ তোতা, কামাল হোসেন, মো. মামুন, আলমগীর হোসেন, বাবুল ও হারুনুর রশিদ। যাবজ্জীবন পাওয়া আসামিরা হলেন- হায়দার আলী, আবদুল মান্নান, জামাল হোসেন, আবুল বাশার, জাকির হোসেন, আবদুল কাদের, আবদুল কুদ্দুস।

কুমিল্লা আদালতের সরকারি কৌঁসুলি মো. জহিরুল ইসলাম সেলিম বলেন, ‘২০১৬ সালে ১২ আগস্ট রাতে আসামিরা গিয়াসউদ্দিন ও জামালকে হত্যা করে।

এ ঘটনায় নিহত গিয়াসের ছেলে মেহেদী হাসান ১২ জনের নাম উল্লেখ করে আরও অজ্ঞাত চার থেকে পাঁচ জনের বিরুদ্ধে দক্ষিণ থানায় একটি মামলা করেন। ২০১৭ সালের ২০ আগস্ট তদন্ত কর্মকর্তা ১৫ জনকে অভিযুক্ত করে আদালতে প্রতিবেদন জমা দেন। দীর্ঘ তদন্ত ও বিচারকার্যে আসামিদের জবানবন্দি ও ১৩ জন সাক্ষীর সাক্ষ্য গ্রহণ শেষে আদালত এ রায় দেন।


প্রধানমন্ত্রী যাদের কাছে নিয়েছেন, বেশির ভাগই বেঈমানি করেছে: সুমন

ব্যারিস্টার সৈয়দ সায়েদুল হক সুমন। ফাইল ছবি
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

হবিগঞ্জ-৪ আসনের সংসদ সদস্য ও সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী ব্যারিস্টার সৈয়দ সায়েদুল হক সুমন বলেছেন, প্রধানমন্ত্রী যাদেরকে কাছে নিয়েছেন, মায়া করেছেন; বেশির ভাগই প্রতারণা ও বেঈমানি করেছে। আজ সোমবার আদালত প্রাঙ্গণে সাংবাদিকদের তিনি এ কথা বলেন।

সুমন বলেন, প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ সহকারী থেকে শুরু করে কোন পদে নাই, এরা কিছুদিন ক্ষমতা পেলেই গণভবনে ঢুকে। শেখ হাসিনা একটু আদর করলেই মনে করে তারা ব্ল্যাঙ্ক চেক পেয়ে গেছে। এখন কিছু টাকা কামানো যায় কিনা, সবাই কিন্তু না। এটা কিন্তু নেত্রীকে বেশিদূর আগাতে দেওয়া যায় না।

তিনি আরও বলেন, প্রধানমন্ত্রী বিভিন্ন সময়ে দুর্নীতির বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্সের কথা বলেছেন। তবে কালকে যেভাবে শক্ত করে বলেছেন এটা আমার কাছে বড় পাওয়া। এই যুদ্ধটাই করতে করতে আমি সংসদ সদস্য হয়েছি।

প্রধানমন্ত্রীকে পাশে পাওয়ার আশা করে এমপি সুমন বলেন, নেত্রী পাশে থাকলে দুর্নীতির বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স না, টলারেন্স কমালেই হবে। উনি শক্ত হলেই দুর্নীতিবিরোধী পর্যায়ে যেতে বেশিদিন লাগবে না। আমরা যদি ভালো করে কিছু লোককে ধরতে পারি তাহলে বঙ্গবন্ধুর সোনার বাংলার অনেক কাছে চলে যেতাম।


সমুদ্রে গোসলে নেমে পর্যটক নিখোঁজ

প্রতীকী ছবি
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
কক্সবাজার প্রতিনিধি

কক্সবাজারে সাগরে গোসল করতে নেমে মো. রাহাদ (১৮) নামে এক পর্যটক নিখোঁজ হয়েছেন। আজ সোমবার দুপুরে কক্সবাজার সৈকতের সুগন্ধা ও কলাতলী পয়েন্টের মাঝামাঝি ডিভাইন রিসোর্ট সংলগ্ন এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। নিখোঁজ রাহাদ ঢাকার কামরাঙ্গীরচর থানার আলহেরা কমিউনিটি সেন্টার এলাকার আলী আকবরের ছেলে।

ট্যুরিস্ট পুলিশ কক্সবাজার অঞ্চলের পুলিশ সুপার মোহাম্মদ মনজুর মোরশেদ বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

তিনি বলেন, সোমবার সকালে খালা-খালুর পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে রাহাদও কক্সবাজার বেড়াতে আসেন। তারা হোটেলে ওঠার পর সৈকতে ঘুরতে বের হন। সৈকতে ঘুরাঘুরির এক পর্যায়ে খালাতো ভাই-বোনদের সঙ্গে কলাতলী ও সুগন্ধা পয়েন্টের মাঝামাঝি ডিভাইন রিসোর্ট সংলগ্ন এলাকায় সাগরে গোসলে নামে। এতে স্রোতের টানে তারা ভেসে যেতে থাকে।

তিনি আরও বলেন, এসময় সেখানে উপস্থিত লোকজন ৩ জনকে উদ্ধার করতে সক্ষম হলেও রাহাদ তালিয়ে যান। পরে খবর পেয়ে তাৎক্ষণিক লাইফ গার্ড ও বিচ কর্মীরা ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে জেটস্কি নিয়ে উদ্ধারে নামলেও রাহাদের সন্ধান পাওয়া যায়নি। এরপরও সাগরের বিভিন্ন পয়েন্টে তার সন্ধানে উদ্ধার তৎপরতা চালানো হয়।

ট্যুরিস্ট পুলিশের এ কর্মকর্তা আরও জানান, নিখোঁজের সন্ধানে বিচকর্মী ও লাইফ গার্ড কর্মীদের পাশাপাশি ট্যুরিস্ট পুলিশের সদস্যরা সৈকতের বিভিন্ন পয়েন্টে উদ্ধার তৎপরতা চালাচ্ছেন।

বিষয়:

সিরাজগঞ্জে ১১ দিন ধরে পানি বিপৎসীমার ওপরে

৩০ হাজার গবাদিপশু পানিবন্দি
ছবি: দৈনিক বাংলা
আপডেটেড ১৫ জুলাই, ২০২৪ ০০:০৪
গোলাম মোস্তফা রুবেল, সিরাজগঞ্জ

উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢল ও মৌসুমী বায়ুর প্রভাবে সিরাজগঞ্জে যমুনা নদীর পানি ১১ দিন ধরে বিপৎসীমার ওপরেই রয়েছে। গত তিন দিন ধরে পানি ধীরগতিতে কমলেও এখনো বইছে বিপৎসীমার ১৯ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে। অনেক স্থানে বাড়ি-ঘর, রাস্তা-ঘাট, মাঠ ও নিচু এলাকাসহ ফসলি জমি থেকে পানি নামেনি। ফলে বানভাসি মানুষের দুর্ভোগ চরমে।

চলতি বন্যায় মানুষের মতো গবাদিপশুও পানিবন্দি হয়ে পড়েছে। জেলার সদর, কাজীপুর, বেলকুচি, শাহজাদপুর ও চৌহালী উপজেলার প্রায় ৩০ হাজার গবাদিপশু এখন পানিবন্দি। এদের পলিথিন কিংবা কাপড়ের তৈরি ছাউনি তৈরি করে বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধ ও উঁচু স্থানে রাখা হয়েছে। বন্যা দীর্ঘস্থায়ী হওয়ায় খাবারের সংকটসহ নানা দুর্ভোগে রয়েছে বানভাসি মানুষ।

গতকাল রোববার দুপুরে পানি উন্নয়ন বোর্ডের উপ-বিভাগীয় প্রকৌশলী রঞ্জিত কুমার সরকার বলেন, গত ৬ ঘণ্টায় সিরাজগঞ্জ শহর রক্ষা হার্ড পয়েন্টে যমুনা নদীর পানি ১ সেন্টিমিটার কমে বিপৎসীমার ১৯ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। একই সঙ্গে কাজিপুর মেঘাই ঘাট পয়েন্টে ২ সেন্টিমিটার কমে বিপৎসীমার ৮ সেন্টিমিটার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে।

রঞ্জিত কুমার সরকার আরও বলেন, উজানের ঢলে যমুনায় যেভাবে পানি বৃদ্ধি পেয়েছিল। বর্তমানে সেভাবে কমছে না। শুক্রবার থেকে পানি কমতে শুরু করেছে। যমুনাসহ অভ্যন্তরীণ নদ-নদীর পানি কমায় জেলার সার্বিক বন্যা পরিস্থিতির উন্নতি হচ্ছে। এ মুহূর্তে পানি বাড়ার আশঙ্কা নেই।

বন্যাকবলিত মানুষের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, চরাঞ্চলের সব জায়গা এখনো পানির নিচে। বন্যা দীর্ঘস্থায়ী হওয়ায় দুর্ভোগ মারাত্মক পর্যায়ে পৌঁছেছে। বন্যার কারণে তারা ১১ দিন ধরে কর্মহীন। ফলে তিন বেলা ঠিকমতো খাওয়ার উপায় বেশির ভাগ মানুষের নেই। অনেকেই গবাদিপশুর সঙ্গে ছাপড়া তুলে থাকছেন। ফলে ওই সব স্থান নোংরা হয়ে পড়েছে। অনেকের অসুস্থ হওয়ার আশঙ্কাও রয়েছে। সেই সঙ্গে অনেকের হাত-পায়ে পানিবাহিত চর্মরোগ দেখা দিয়েছে। এসব বানভাসির মধ্যে বিশুদ্ধ পানিসহ তীব্র খাদ্য সংকট দেখা দিয়েছে।

সদর উপজেলার কাওয়াকোলা ইউনিয়নের বর্ণি গ্রামের কৃষক হাকিম শেখ বলেন, ‘ঘর-বাড়ি ও রাস্তা-ঘাট পানিতে তলাইয়া গেছে। গরু-বাছুর নিয়া বিপদে পড়েছি। বাড়িতে রান্না করতে পারি না। সব জাগাত পানি। আমাদের থাকার জাগা নাই, গরু-ছাগল রাখব কোনে। ঠিকমতো গরু-ছাগলের খাবারও খাওয়াতে পারছি না। সব মিলে বিপদে রয়েছি।’

একই উপজেলার হাটপাচিল গ্রামের করিমন বেগম বলেন, ‘বন্যার পানিতে বাড়ি ভেঙে গেছে, সন্তানরাও দূরের গ্রামে চলে গেছে। আমরা দুই বুড়ো-বুড়ি যাওয়ার কোনো জায়গা না পেয়ে নদীর পাড়েই ছাউনি বানিয়ে কোনোরকমে বেঁচে আছি। বৃষ্টিতে খুব কষ্ট হয়েছে। তার ওপর ঘরে কোনো খাবার নেই।’

গত তিন দিন ধরে পানি কমতে শুরু করলেও এখনো পানিবন্দি অবস্থায় দিন পার করছে জেলার পাঁচটি উপজেলার প্রায় ১ লাখ মানুষ। সড়কে পানি থাকায় ব্যাহত যোগাযোগ ব্যবস্থা। বন্ধ রয়েছে শতাধিক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের কার্যক্রম। পানির নিচে তলিয়ে রয়েছে প্রায় ১০ হাজার হেক্টর জমির ফসল ও শতাধিক তাঁত কারখানা। ফলে চরম দুর্ভোগে রয়েছেন বন্যাকবলিত এলাকার কৃষক ও শ্রমজীবীরা।

সিরাজগঞ্জ প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ওমর ফারুক বলেন, জেলার পাঁচটি উপজেলায় প্রায় ৩০ হাজার গবাদিপশু পানিবন্দি হয়ে পড়েছে। এর মধ্যে কাজিপুর, সদর ও চৌহালী উপজেলায় বেশি। চরাঞ্চলে নিচু এলাকার ঘাস পানিতে তলিয়ে গেছে। এ জন্য সমস্যা হচ্ছে। তবে যমুনার পানি কমতে থাকায় কিছুটা উন্নতি হচ্ছে। আমরা তালিকা করছি, যাতে প্রান্তিক ও দরিদ্র খামারিরা গবাদিপশুর খাদ্য পায়। গবাদিপশু যেন রোগব্যাধিতে আক্রান্ত না হয়, এ জন্য আমরা পাঁচটি মেডিকেল টিম গঠন করেছি। তারা নিয়মিত বানভাসি কৃষক ও খামারিদের পরামর্শ দিচ্ছেন।

জেলা ত্রাণ ও পুনর্বাসন কর্মকর্তা মো. আক্তারুজ্জামান জানান, জেলার পাঁচটি উপজেলার ৩৪টি ইউনিয়নে ২৩ হাজার ৩০৬টি পরিবারের ১ লাখ ৩ হাজার ৫৯৪ জন মানুষ পানিবন্দি হয়ে পড়েছেন। এসব মানুষের মধ্যে ইতোমধ্যে ১৩৩ টন চাল, ৫ লাখ টাকা ও ৩০০ প্যাকেট শুকনো খাবার বিতরণ করা হয়েছে। এখনো ১ হাজার ১৬৭ টন চাল, ২০ লাখ টাকা ও ৭০০ প্যাকেট শুকনো খাবার মজুত আছে।

তিনি আরও বলেন, চলতি বন্যায় জেলার সদর, শাহজাদপুর ও চৌহালীতে আটজনের মৃত্যু হয়েছে। এর মধ্যে নৌকা ডুবে চারজন ও পানিতে ডুবে চারজন মারা গেছেন।


পেট্রাপোলে সন্ধ্যার পর বাণিজ্য বন্ধ করল ভারত, ক্ষতির মুখে ব্যবসায়ীরা

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১৫ জুলাই, ২০২৪ ০০:০৪
বেনাপোল (যশোর) প্রতিনিধি

বেনাপোল-পেট্রাপোল বন্দরে দুই দেশের সিদ্ধান্ত ছাড়াই সপ্তাহে ৭ দিন ২৪ ঘণ্টার বাণিজ্য কার্যক্রম বন্ধ করল ভারতের পেট্রাপোল বন্দর কর্তৃপক্ষ। এখন সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত মাত্র ১০ ঘণ্টা আমদানি-রপ্তানি কার্যক্রম চলছে। এতে পেট্রাপোল বন্দরে পণ্যজটের কবলে পড়তে যাচ্ছেন আমদানিকারকরা।

গত বৃহস্পতিবার (১১ জুলাই) সন্ধ্যা থেকে এই নিয়ম শুরু করেছে ভারতীয় পেট্রাপোল বন্দর কর্তৃপক্ষ। অথচ এর আগের দিন ও রাত-দিন ২৪ ঘণ্টা আমদানি-রপ্তানি কার্যক্রম স্বাভাবিক নিয়মে চলেছে দুই দেশের বন্দরের মধ্যে।

এ সিদ্ধান্তের কারণ পেট্রাপোল পোর্ট কর্তৃপক্ষের কাছে জানতে চেয়েছে বেনাপোল বন্দর কর্তৃপক্ষ। গতকাল রোববার পর্যন্ত পর্যন্ত কোনো খবর জানায়নি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।

বন্দর সূত্র জানায়, বাণিজ্য ঘাটতি পূরণ ও সম্প্রসারণের লক্ষ্যে ২০১৭ সালের ১ আগস্ট দুই দেশের রাষ্ট্রীয় পর্যায়ের সিদ্ধান্তের ভিত্তিতে বেনাপোল ও পেট্রাপোলের মধ্যে শুরু হয় ২৪ ঘণ্টার বাণিজ্য পরিষেবা। এর আগে সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত বাণিজ্য কার্যক্রম পরিচালিত হতো। ২৪ ঘণ্টা পণ্য পরিবহনের সুযোগে রাত-দিন, এমনকি জরুরি মুহূর্তে শুক্রবারও আমদানি- রপ্তানি ও পণ্য খালাস কার্যক্রম চলত। এতে দৈনিক আমদানির পরিমাণ ৩০০ ট্রাক থেকে বেড়ে ৫০০ ট্রাক পর্যন্ত হয়। বছরে রাজস্ব আয় ৩ হাজার কোটি টাকা থেকে বেড়ে ৬ হাজার কোটি টাকা পর্যন্ত পৌঁছেছে।

ভারতের পেট্রাপোল বন্দর কর্তৃপক্ষ কোনো আলোচনা ছাড়াই হঠাৎ এমন কার্যক্রম পরিচালনা করছে। এতে খাদ্যদ্রব্য জাতীয় পণ্য, শিল্পকলকারখানার কাঁচামালসহ বিভিন্ন জরুরি পণ্যবাহী ট্রাক আটকা পড়ছে দুই পারের বন্দরে।

পণ্যবাহী ট্রাকচালক মিঠু জানান, তিনি রপ্তানি পণ্য নিয়ে গত বৃহস্পতিবার বিকেলে বেনাপোল বন্দরে আসেন। সন্ধ্যার পর ভারতীয় কর্তৃপক্ষ পণ্যবাহী ট্রাকের গেটপাস না দেওয়ায় ভারতের পেট্রাপোল বন্দরে ঢুকতে পারেননি।

কী বলছেন সংশ্লিষ্টরা

বেনাপোল বন্দরের আমদানি-রপ্তানি অ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক জিয়াউর রহমান বলেন, এ নিয়ম চলতে থাকলে পচনশীল খাদ্যদ্রব্য নিয়ে বেশি ক্ষতির মুখে পড়তে হবে। হয়তো এ জাতীয় পণ্য আমদানি অনেকাংশে কমে যাবে। সরকার হারাবে রাজস্ব। বাড়বে বাণিজ্য ঘাটতি।

বেনাপোল বন্দরের আমদানিকারক ইদ্রিস আলী বলেন, চলতি ২০২৪-২৫ অর্থবছরে বেনাপোল বন্দর দিয়ে আমদানি হওয়া পণ্য থেকে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড রাজস্ব আয়ের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছে ৬ হাজার ৭০৫ কোটি টাকা। সপ্তাহে ৭ দিন ২৪ ঘণ্টা পণ্য আমদানি-রপ্তানির সুবিধা উঠে গেলে রাজস্ব আয়ের লক্ষ্যমাত্রা পূরণ হবে না।

বেনাপোল বন্দর পরিচালক রেজাউল করিম বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, ‘পেট্রাপোল বন্দর কর্তৃপক্ষের সঙ্গে এ ব্যাপারে যোগাযোগ করা হলে তারা স্পষ্টভাবে কিছু জানাতে পারেননি। বর্তমানে সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত পণ্য আমদানি-রপ্তানি হচ্ছে। আমরা পুনরায় ২৪ ঘণ্টার বাণিজ্য সেবা বন্ধের কারণ জানতে চেয়ে পেট্রাপোল বন্দর কর্তৃপক্ষের সঙ্গে বসার চেষ্টা করছি। সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের সঙ্গে আলোচনা করে বিস্তারিত জানানো হবে।’


জামালপুরে বন্যার পানিতে গোসলে নেমে চারজনের মৃত্যু

প্রতীকী ছবি
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
জামালপুর প্রতিনিধি

জামালপুরের মেলান্দহ উপজেলার শ্যামপুর ইউনিয়নের দক্ষিণ বালুচর এলাকায় বন্যার পানিতে গোসল করতে নেমে চারজনের মৃত্যু হয়েছে। আজ রোববার বিকেল ৫টায় এ ঘটনা ঘটে। মেলান্দহ থানার ওসি রাজু আহমেদ বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

নিহতরা হলেন দক্ষিণ বালুচর এলাকার দিশা আক্তার (১৭), সাদিয়া (১০), খাদিজা (১০) ও রোকশানা (২৫)।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, আজ বিকেলে দক্ষিণ বালুচর এলাকার পাশাপাশি বাড়ির তিন শিশু, এক কিশোরী ও এক গৃহবধূ ফসলি জমিতে বন্যার পানিতে গোসল করতে যান। গোসল করার একপর্যায়ে হঠাৎ করেই চারজন পানিতে তলিয়ে যেতে থাকেন। এ সময় দূরে থাকা এক কিশোরী তাদের তলিয়ে যাওয়া দেখে দৌড়ে বাড়িতে এসে ডাক-চিৎকার করে খবর দেন। খবর পেয়ে লোকজন গিয়ে দেখেন মরদেহ পানিতে ভেসে উঠেছে। এ সময় বেঁচে ফেরেন মারিয়া (১২) নামের এক শিশু।

স্থানীয়রা জানান, অল্প পানিতেই সবাই গোসল করতে গিয়েছিল। এই পানিতে ডুবে মারা যাওয়ার ঘটনা একেবারে আশ্চর্যজনক। এর মধ্যে আগামী শুক্রবার দিশার বিয়ে হওয়ার কথা।

স্থানীয় ইউপি সদস্য আজাদ আলী বলেন, ‘দুপুরে এমন খবর পেয়ে দ্রুত ঘটনাস্থলে যাই। এমন ঘটনায় এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে।’


কোটা আন্দোলনের পেছনে রাজনৈতিক গভীর ষড়যন্ত্র রয়েছে

আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য শাজাহান খান। ফাইল ছবি
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য শাজাহান খান বলেছেন, ‘কোটা আন্দোলনকারীরা ভুল পথে আছে, এই আন্দোলনের পেছনে রাজনৈতিক গভীর ষড়যন্ত্র ও চক্রান্ত রয়েছে। কোটা আন্দোলনের ওপর ভর করে অনেকেই বৈতরণি পাড় হতে চেষ্টা করছে।’

মাদারীপুর সদর উপজেলা পরিষদ কমপ্লেক্সে উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান অ্যাডভোকেট ওবায়দুর রহমান কালু খানের বিদায় সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে আজ রোববার বিকেলে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এসব কথা বলেন।

শাজাহান খান বলেন, ‘কুঁজো মানুষ যেমন কোনো কিছুর উপর ভর করে চলতে চায়, তেমনি যারা রাজনীতিতে বুড়ো হয়ে গেছে তারা এই কোটা আন্দোলনের ওপর ভর করে পথ চলতে চায়। এটার কোনো রাজনৈতিক ফল হবে না। ছাত্রদের ভুল বোঝাচ্ছেন তারা। সবাই এই আন্দোলন থেকে বিরত থাকবেন। উচ্চ আদালতের রায়, সরকার মেনে নেবে।’

মাদারীপুর-২ আসনের সংসদ সদস্য আরও বলেন, ‘যারা কোটাবিরোধী আন্দোলন করছেন, তাদের স্মরণ থাকতে হবে, এই কোটা দেওয়া হয়েছে মুক্তিযুদ্ধের চেতনাকে জাগ্রত রাখার জন্য। পৃথিবীর বিভিন্ন দেশ আছে, যেখানে যুদ্ধাপরাধীর সন্তানদের চাকরি হয় না। আমাদের দেশের এই কোটা বাতিলের বিষয়, আইনের মাধ্যমে হবে। উচ্চ আদালতের নির্দেশনা মেনে সরকার কাজ করবে।’

অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন শাজাহান খানের সহধর্মিণী সৈয়দা রোকেয়া বেগম, শাজাহান খানের জামাতা টাঙ্গাইল-২ (গোপালপুর-ভূঞাপুর) আসনের সংসদ সদস্য তানভীর হাসান ছোট মনির, মাদারীপুর সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. আল মামুন, সদর উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি সৈয়দ শাখাওয়াত হোসেন সেলিমসহ অনেকেই।

প্রসঙ্গত, বিদায় সংবর্ধনা অনুষ্ঠান শেষে নবনির্বাচিত সদর উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান আসিবুর রহমান আসিব খান নতুন দায়িত্ব গ্রহণ করেন। ওবায়দুর রহমান কালু খান, শাজাহান খানের ছোটভাই। আর আসিবুর রহমান আসিব খান শাজাহান খানের বড় ছেলে।


গোমাই নদীতে নৌকাডুবে দুই নারীর মৃত্যু

প্রতীকী ছবি
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
সারা বাংলা ডেস্ক

নেত্রকোনার কলমাকান্দায় শ্রাদ্ধ অনুষ্ঠান শেষে বাড়ি ফেরার পথে সুনামগঞ্জের গোমাই নদীতে ইঞ্জিনচালিত নৌকা ডুবে দুই নারীর মৃত্যু হয়েছে। আজ রোববার দুপুর ‍সাড়ে ১২টার দিকে উপজেলার বড়খাপন ইউনিয়নের বরউন্দ ও সুনামগঞ্জের মধ্যনগর এলাকার মধ্যবর্তী স্থানে এই নৌকাডুবির ঘটনা ঘটে।

মৃতরা হলেন, সুনামগঞ্জের মধ্যনগর থানার সুনীল সরকারের স্ত্রী উজ্জ্বলা সরকার (৫৫) ও রানা সরকারের স্ত্রী জলি সরকার (৫০)।

কলমাকান্দা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) লুৎফুল হক ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন।

জানা গেছে, বড়ইউন্দ বাজার থেকে ইঞ্জিনচালিত নৌকা (ছোট ট্রলার) ২০ থেকে ২৫ জনের মতো যাত্রী নিয়ে মধ্যনগরের দিকে রওয়ানা হয়। এ সময় হাওড়ের কিছুদূর পেরিয়ে গোমাই নদীতে গেলেই স্রোতের তোড়ে কাত হয়ে নৌকাটি ডুবে যায়।

স্থানীয়দের সহযোগিতায় ও সাঁতরে অন্যরা পাড়ে উঠলেও দুই নারী উঠতে পারেননি। তাদের কিছুক্ষণ পর উদ্ধার করে কলমাকান্দা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।


পিরোজপুরে মাকে কুপিয়ে হত্যা

ছবি: দৈনিক বাংলা
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
পিরোজপুর প্রতিনিধি

আর্থিক সংকট ও পারিবারিক বিরোধের কারণে পিরোজপুরের নাজিরপুরে মাকে কুপিয়ে হত্যা করেছে ছেলে। গতকাল শুক্রবার পিরোজপুরের নাজিরপুর উপজেলার শ্রীরামকাঠী ইউনিয়েন উত্তর জয়পুর থেকে পুলিশ অভিযুক্ত যতিশ বালাকে গ্রেপ্তার করেছে বলে রাতে সাংবাদিকদের এক প্রেসকনফারেন্সে জানান পিরোজপুরের পুলিশ সুপার মুহাম্মদ শরীফুল ইসলাম।

নিহত জুতিকা বালা (৫০) জেলার নাজিরপুর উপজেলার শ্রীরামকাঠী ইউনিয়নের উত্তর জয়পুর গ্রামের নারায়ন বালার স্ত্রী।

পিরোজপুরের পুলিশ সুপার মুহাম্মদ শরীফুল ইসলাম জানান, বৃহস্পতিবার রাতে নাজিরপুর উপজেলার শ্রীরামকাঠী ইউনিয়েন উত্তর জয়পুর এলাকায় জুতিকা বালা নামের এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার ঘটনা ঘটে। এ ঘটনার পরপরই পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে তদন্ত শুরু করে। পরবর্তীতে বিভিন্ন বিষয়ে তদন্ত করে নিহতের বড় ছেলে যতিশ বালাকে জিজ্ঞাসাবাদ করলে যতিশ পরে পুলিশের কাছে তার মাকে ধারালো দা দিয়ে কুপিয়ে হত্যার কথা স্বীকার করে।

পুলিশের কাছে অভিযুক্ত যতিশ স্বীকারোক্তিতে বলেন, দীর্ঘদিন যাবত আর্থিক নানা সংকট ও পারিবারিক বিরোধের কারণে তার মায়ের উপরে ক্ষোভ ছিল। তাই পূর্ব পরিকল্পিতভাবে বৃহস্পতিবার রাতে ঘরে থাকা দা দিয়ে তার মাকে কুপিয়ে হত্যা করে যতিশ।

পুলিশ সুপার মুহাম্মদ শরীফুল ইসলাম আরও জানান, এ হত্যা কাণ্ডের ঘটনায় নিহতের স্বামী নারায়ন বালা বাদী হয়ে নাজিরপুর থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেছে।

প্রেসকনফারেন্সে আরো উপস্থিত ছিলেন, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম অ্যান্ড অপস্) মো: মুকিত হাসান খান, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর সার্কেল) মো. রবিউল ইসলাম, নাজিরপুর থানার অফিসার ইনচার্জ মো. শাহ আলম হাওলদারসহ জেলা পুলিশের কর্মকর্তারা।


কক্সবাজারে পাহাড় ধসে শিশুসহ ৪ জনের মৃত্যু

ছবি: দৈনিক বাংলা
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
কক্সবাজার প্রতিনিধি

কক্সবাজারে টানা ভারী বর্ষণের কারণে কক্সবাজার শহর ও আশেপাশের এলাকায় পৃথক পাহাড় ধসে এ যাবত চার জনের মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে।

গতকাল বৃহস্পতিবার ভোরে কক্সবাজার পৌরসভার ৭ নম্বর ওয়ার্ডের সিকদার বাজার ও এবিসি ঘোনা এলাকা এবং কক্সবাজার সদর উপজেলার ঝিলংজা ইউনিয়নের দক্ষিণ মুহুরী পাড়া পাতাবুনিয়া এলাকায় পাহাড় ধসে তিন জনের মৃত্যু হয়। সবশেষ বৃহস্পতিবার রাতে শহরের সৈকত পাড়ায় মাটি চাপা পড়ে একই পরিবারে এক শিশু নিহত এবং তিন জন আহত হয়েছেন।

নিহতরা হল, শহরের এবিসি ঘোনা এলাকার মোহাম্মদ করিমের স্ত্রী জমিলা আক্তার (৩০), সিকদার বাজার এলাকার সাইফুল ইসলামের ছেলে নাজমুল হাসান (৫), সৈকত পাড়ার মো. সেলিমের স্কুল পড়ুয়া মেয়ে মীম (১৩) এবং কক্সবাজার সদর উপজেলার ঝিলংজা ইউনিয়নের দক্ষিণ মুহুরী পাড়া পাতাবুনিয়া এলাকার বজল আহমদের স্ত্রী লায়লা বেগম (৩৫)।

কক্সবাজার সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. রকিবুজ্জামান এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন। ফায়ার সার্ভিসের বরাত দিয়ে তিনি বলেন, বৃহস্পতিবার রাত ৮টার দিকে ভারী বর্ষণের সময় কক্সবাজার শহরের সৈকত পাড়ায় পাহাড় ধসে স্থানীয় বাসিন্দা সেলিমের ঘরের উপর মাটি চাপা পড়ে। খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে স্থানীয়দের সহায়তায় আশেপাশের তিনজনকে আহত অবস্থায় উদ্ধার করে। পরে ঘটনাস্থল থেকে পুরো মাটি সরিয়ে মীম নামের এক শিশুকে মৃত উদ্ধার করে।

এছাড়া কক্সবাজার-টেকনাফ মেরিনড্রাইভ সড়কের হিমছড়ি এলাকায় পাহাড় ধসে সকাল থেকে যান চলাচলে বিঘ্ন ঘটে। কক্সবাজার শহর ও জেলার বিভিন্ন এলাকায় পাহাড় ধস ও ফাটল দেখা দিয়েছে বলে জানা গেছে। জেলা ও উপজেলা প্রশাসন ঝুঁকিপূর্ণ পাহাড় থেকে বসবাসকারী বাসিন্দাদের নিরাপদ স্থানে সরে আসতে প্রচারণা চালাচ্ছে।

কক্সবাজার আবহাওয়া অফিসের সহকারী আবহাওয়াবিদ মো. আবদুল হান্নান বলেন, বুধবার সন্ধ্যা ৬ টা থেকে বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা ৬ টা পর্যন্ত ৩৩৪ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে। এর মধ্যে বৃহস্পতিবার দুপুর ১২টা থেকে সন্ধ্যা ৬ টা পর্যন্ত ১২৮ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত হয়েছে।

এর আগে গত ৩ জুলাই উখিয়ায় রোহিঙ্গা আশ্রয়শিবিরের দুইটি ক্যাম্পে পাহাড় ধসে দুই জনের মৃত্যু হয়েছে। ১৯ জুন উখিয়ার রোহিঙ্গা আশ্রয়শিবির ও আশপাশের কয়েকটি জায়গায় পাহাড় ধসে ৮ জন রোহিঙ্গা ও দুই বাংলাদেশি নিহত হন। এ ঘটনার দু’দিন পর ২১ জুন ভোরে কক্সবাজার শহরের বাদশাঘোনা এলাকায় পাহাড় ধসে ঘুমন্ত স্বামী-স্ত্রী নিহত হন।

বিষয়:

কক্সবাজারে পাহাড়ধসে শিশুসহ ৩ জনের মৃত্যু

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
কক্সবাজার প্রতিনিধি

আষাঢ়ের শেষ সপ্তাহে টানা ভারী বর্ষণে কক্সবাজার শহরে আবারও পাহাড়ধসের ঘটনা ঘটেছে। এতে এক শিশু ও দুই নারীর মৃত্যু হয়েছে। আজ বৃহস্পতিবার ভোরে কক্সবাজার পৌরসভার ৭ নম্বর ওয়ার্ডের সিকদার বাজার ও এবিসি ঘোনা এলাকা এবং কক্সবাজার সদর উপজেলার ঝিলংজা ইউনিয়নের দক্ষিণ মুহুরী পাড়া পাতাবুনিয়া এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।

নিহতরা হলেন শহরের এবিসি ঘোনা এলাকার মোহাম্মদ করিমের স্ত্রী জমিলা আক্তার (৩০), সিকদার বাজার এলাকার সাইফুল ইসলামের ছেলে নাজমুল হাসান (৫) এবং কক্সবাজার সদর উপজেলার ঝিলংজা ইউনিয়নের দক্ষিণ মুহুরী পাড়া পাতাবুনিয়া এলাকার বজল আহমদের স্ত্রী লায়লা বেগম (৩৫)। কক্সবাজার সদর থানার ওসি মো. রকিবুজ্জামান এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

এ নিয়ে গত তিন সপ্তায় কক্সবাজারে পৃথক পাহাড়ধসের ঘটনায় ১৭ জনের মৃত্যু হয়েছে। এর মধ্যে উখিয়ার রোহিঙ্গা আশ্রয়শিবিরে এক দিনে ১০ জনের মৃত্যু হয়।

স্থানীয়দের বরাতে ওসি রকিবুজ্জামান বলেন, বুধবার মধ্যরাত থেকে কক্সবাজার শহরে টানা মাঝারি ও ভারী বর্ষণ অব্যাহত রয়েছে। বৃহস্পতিবার ভোরে সিকদার বাজার এলাকায় বসবাসকারি সাইফুল ইসলামের বাড়ির উপর আকস্মিক পাহাড় ধসে পড়ে। এতে মাটির দেয়াল ভেঙে সাইফুলের ঘুমন্ত শিশু চাপা পড়ে। পরে স্থানীয়রা খবর পেয়ে মাটি সরিয়ে শিশুটিকে উদ্ধার করে কক্সবাজার জেলা সদর হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করে।

এদিকে ভোরে শহরের এবিসি ঘোনা এলাকায় পৃথক পাহাড়ধসের ঘটনায় জমিলা আক্তার নামের এক নারীর মৃত্যু হয়েছে বলে জানান ওসি।

জমিলার পরিবারকে উদ্ধৃত করে রকিবুজ্জামান বলেন, ভোরে জমিলা আক্তার রান্না ঘরের পাশে ঘুমিয়ে ছিলেন। তার স্বামী আরেক কক্ষে ঘুমিয়ে ছিলেন। আকস্মিক পাহাড় ধসে পড়লে জমিলা মাটি চাপা পড়ে। পরে স্থানীয়রা উদ্ধার করে কক্সবাজার জেলা সদর হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্য চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন। নিহতদের লাশ নিজেদের বাড়িতে রয়েছে বলে জানান তিনি।

অন্যদিকে বৃহস্পতিবার বিকাল সাড়ে ৩ টায় কক্সবাজার সদরের ঝিলংজা ইউনিয়নের দক্ষিণ মুহুরী পাড়া পাতাবুনিয়া এলাকায় পৃথক পাহাড় ধসের ঘটনায় লায়লা বেগম নামের এক নারীর মৃত্যু হয়েছে বলে জানান রকিবুজ্জামান।

নিহত লায়লা বেগমের স্বজনদের বরাতে তিনি বলেন, দুপুরে খাবার খাওয়ার সময় লায়লা বেগম ছেলে জোনায়েদকে কোলে নিয়ে পাহাড়ের মাটি ভাঙছে কি না দেখতে বেড়ার ফাঁক দিয়ে উঁকি দিচ্ছিল। এ সময় আকস্মিক পাহাড় ধসে বসতবাড়ির ওপর মাটিচাপা পড়ে। এতে তার স্বামী ও অপর ২ মেয়ে ঘর থেকে বেরিয়ে যেতে পারলেও লায়লা বেগম ও এক শিশুসন্তান মাটির নিচে চাপা পড়ে। পরে খবর পেয়ে স্থানীয়রা শিশুটিকে আহত অবস্থায় উদ্ধার করতে পারলেও তার মা ঘটনাস্থলেই মারা যায়।

এ ছাড়া কক্সবাজার-টেকনাফ মেরিনড্রাইভ সড়কের হিমছড়ি এলাকায় পাহাড়ধসে সকাল থেকে যান চলাচলে বিঘ্ন ঘটেছে। কক্সবাজার শহর ও জেলার বিভিন্ন এলাকায় পাহাড়ধস ও ফাটল দেখা দিয়েছে বলে জানা গেছে। জেলা ও উপজেলা প্রশাসন ঝুঁকিপূর্ণ পাহাড় থেকে বসবাসকারী বাসিন্দাদের নিরাপদ স্থানে সরে আসতে প্রচারণা চালাচ্ছে।

কক্সবাজার আবহাওয়া অফিসের সহকারী আবহাওয়াবিদ মো. আবদুল হান্নান বলেন, বুধবার সন্ধ্যা ৬ টা থেকে বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা ৬ টা পর্যন্ত ৩৩৪ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে। এর মধ্যে আজ বৃহস্পতিবার দুপুর ১২টা থেকে সন্ধ্যা ৬ টা পর্যন্ত ১২৮ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত হয়েছে।

এর আগে গত ৩ জুলাই উখিয়ায় রোহিঙ্গা আশ্রয়শিবিরের দুইটি ক্যাম্পে পাহাড় ধসে দুই জনের মৃত্যু হয়েছে। ১৯ জুন উখিয়ার রোহিঙ্গা আশ্রয়শিবির ও আশপাশের কয়েকটি জায়গায় পাহাড় ধসে ৮ জন রোহিঙ্গা ও দুই বাংলাদেশি নিহত হন। এ ঘটনার দুদিন পর ২১ জুন ভোরে কক্সবাজার শহরের বাদশাঘোনা এলাকায় পাহাড় ধসে ঘুমন্ত স্বামী-স্ত্রী নিহত হন।

শনিবার পর্যন্ত ভারী বৃষ্টি, আরও পাহাড়ধসের সতর্কতা জারি

এদিকে, আবহাওয়ার নিয়মিত বুলেটিনে সক্রিয় মৌসুমী বায়ুর প্রভাবে আগামী শনিবার পর্যন্ত দেশের পাঁচ বিভাগে ভারি বৃষ্টির সতর্কতা জারি করেছে আবহাওয়া অফিস।

আবহাওয়াবিদ আব্দুর রহমান খান এক বার্তায় বলেন, বাংলাদেশের ওপর মৌসুমি বায়ু সক্রিয় থাকায় বৃহস্পতিবার বেলা ১১টা থেকে পরবর্তী ৪৮ ঘণ্টায় রাজশাহী, রংপুর, ময়মনসিংহ, সিলেট ও চট্টগ্রাম বিভাগের কোথাও কোথাও ভারি (৪৪-৮৮ মিলিমিটার/২৪ ঘণ্টা) থেকে অতি ভারি (২৪ ঘণ্টায় ৮৯ মিলিমিটারের বেশি) বৃষ্টি হতে পারে।

ভারী বৃষ্টিতে চট্টগ্রাম ও সিলেট বিভাগের পাহাড়ি এলাকার কোথাও কোথাও ভূমিধস হতে পারে বলে ওই বার্তায় সতর্ক করা হয়েছে।

উত্তরে নদীর পানি বাড়ছে

এদিকে, ভারী বৃষ্টির প্রভাবে দেশের উত্তরাঞ্চলের নদীর পানি বাড়ার আভাস দিয়েছে বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্র। এর ফলে কিছু এলাকায় বন্যা পরিস্থিতির ‘সামান্য অবনতি’ হতে পারে।

বন্যা পূর্বাভাস কেন্দ্রের নিয়মিত বুলেটিনে বলা হয়েছে, বৃহস্পতিবার সকাল ৯টায় দেশের ৯টি নদীর পানি ১৯টি পয়েন্টে বিপৎসীমার ওপর দিয়ে বইছিল।

ওই সময় বন্যা পূর্বাভাস কেন্দ্রের ১১০টি স্টেশনের মধ্যে ৪৭টি পয়েন্টে পানি কমার প্রবণতা দেখা গেলেও ৬১ পয়েন্টে বাড়ছিল আর অপরিবর্তিত ছিল দুই পয়েন্টে।

বুলেটিনে বলা হয়, আগামী ২৪ ঘণ্টায় দেশের উত্তরাঞ্চলের তিস্তা, ধরলা, দুধকুমার ও ঘাঘট নদীর পানি ‘সময় বিশেষে’ বাড়তে পারে।

তাতে ঘাঘট নদীর পানি গাইবান্ধা পয়েন্টে স্বল্পমেয়াদে বিপৎসীমার কাছাকাছি প্রবাহিত হতে পারে এবং ধরলা ও দুধকুমার নদী-সংলগ্ন কুড়িগ্রাম জেলার কিছু নিম্নাঞ্চলে বন্যা পরিস্থিতির সামান্য অবনতি হতে পারে।

এ সময়ে দেশের উত্তরাঞ্চলের মহানন্দা, যমুনাশ্বরী, আপার করতোয়া, আপার আত্রাই, পুর্নভবা, টাঙ্গন এবং ইছামতি- যমুনা নদীর পানি সময় বিশেষে বাড়তে পারে।

এদিকে গঙ্গা নদীর পানিও বাড়ছে, এ পরিস্থিতি আগামী ৭২ ঘণ্টা পর্যন্ত অব্যাহত থাকতে পারে।

ব্রহ্মপুত্রের পানিও বাড়ছে, অন্যদিকে যমুনা নদীর পানি স্থিতিশীল রয়েছে; আগামী ২৪ ঘণ্টায় দুই নদীর পানিই স্থিতিশীল থাকতে পারে বলে আভাস দেওয়া হয়েছে বুলেটিনে।

সেখানে বলা হয়, পদ্মা নদীর পানি এবং দেশের উত্তর-পূর্বাঞ্চলের কুশিয়ারা নদীর পানি স্থিতিশীল আছে; তবে সুরমা নদীর পানি বাড়ছে। আগামী ২৪ ঘণ্টা এ অবস্থা অব্যাহত থাকতে পারে।

পরবর্তী ২৪ ঘণ্টায় কুড়িগ্রাম, জামালপুর, গাইবান্ধা, বগুড়া, টাঙ্গাইল ও সিরাজগঞ্জ জেলার ব্রহ্মপুত্র-যমুনা নদী সংলগ্ন নিম্নাঞ্চলের বন্যা পরিস্থিতি স্থিতিশীল থাকতে পারে।

এ সময় দেশের উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলের আত্রাই নদীর পানি বাঘাবাড়ী পয়েন্টে কমে নদী সংলগ্ন সিরাজগঞ্জ জেলার নিম্নাঞ্চলের বন্যা পরিস্থিতির উন্নতি হতে পারে।


banner close