বঙ্গবন্ধু কন্যা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাই ডিজিটাল বাংলাদেশ বিনির্মাণের প্রধান প্রকৌশলী বলে মন্তব্য করেছেন আওয়ামী লীগের বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিষয়ক উপকমিটির বিদ্যুৎখাত সংক্রান্ত কমিটির আহ্বায়ক, বাংলাদেশ ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশন ঢাকা কেন্দ্রের চেয়ারম্যান ও পাওয়ার সেলের মহাপরিচালক ইঞ্জিনিয়ার মোহাম্মদ হোসাইন।
তিনি বলেছেন, ‘আগামী দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে শেখ হাসিনার হাতকে শক্তিশালী করার জন্য সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করতে হবে।’
গত শুক্রবার সকালে চাঁদপুরের শাহরাস্তি উপজেলায় শহীদ হালিম-লিয়াকত স্মৃতি সংসদের আয়োজনে উঘারিয়া ইউ সি উচ্চ বিদ্যালয় মিলনায়তনে শিক্ষার্থীদের বৃত্তি ও সনদ প্রদান অনুষ্ঠানে মোহাম্মদ হোসাইন এ কথা বলেন।
তিনি তার বক্তব্যে সরকারের উন্নয়নচিত্র তুলে ধরেন এসময়।
শহীদ হালিম-লিয়াকত স্মৃতি সংসদ শাহরাস্তি দক্ষিণের পরিচালক মো. নুরে আলম ফরাজির সভাপতিত্বে ও সংস্থার উপ-পরিচালক রাজিব হোসাইনের সঞ্চালনায় বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন শাহরাস্তি উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ও উপজেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান কামরুজ্জামান মিন্টু, ট্রাস্ট ব্যাংকের সিনিয়র ভাইস প্রেসিডেন্ট, নারী শিক্ষানুরাগী ও সমাজসেবক সুরাইয়া তালুকদার, উপজেলা আওয়ামী লীগের সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক জাহাঙ্গীর মোহাম্মদ আদেল, সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক মোস্তফা চৌধুরী।
এছাড়া অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন শাহরাস্তি উপজেলা কৃষক লীগের সভাপতি মকবুল চৌধুরী, বীর মুক্তিযোদ্ধা লুতফর রহমান, বীর মুক্তিযোদ্ধা সেকান্দর আলী পাটোয়ারী, হালিম লিয়াকত, শাহরাস্তি উপজেলা শাখার উপদেষ্টা ইমাম হোসাইন মাহমুদ, মাও. ইব্রাহিম খলিল রিপাত শাহ, মোহাম্মদ আবদুল করিম সেলিম, হাফেজ মাও. খোরশেদ আলম, মিজানুর রহমান, হোসাইন মির, ৫নং ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক রবিউল আলম, ৬ নং ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সভাপতি বিল্লাল হোসেন, ৬নং ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মাহবুব আলম, ইউনিয়ন আওয়ামী লীগ নেতা জাকির হাজারীসহ উপজেলা ও ইউনিয়ন আওয়ামী লীগ ও অঙ্গ সংগঠনের নেতারা।
বিকেল ৪টায় ইঞ্জিনিয়ার মোহাম্মদ হোসাইন তার সার্বিক সহযোগিতায় হাজীগঞ্জ উপজেলার ৯ নং গন্ধব্যপুর উত্তর ইউনিয়নের মালিগাঁও বড় বাড়ির অসহায় গোপাল দেবনাথের পরিবারের জন্য নির্মিত বসতঘর হস্তান্তর করেন। এসময় উপস্থিত ছিলেন তার সহধর্মিণী ও ট্রাস্ট ব্যাংকের সিনিয়র ভাইস প্রেসিডেন্ট সুরাইয়া তালুকদার।
আরও উপস্থিত ছিলেন ৯ নং গন্ধব্যপুর উত্তর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ও ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি কাজী নুরুর রহমান বেলাল, ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি জাহাঙ্গীর আলম, প্যানেল চেয়ারম্যান ও ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক হোসেন চৌধুরী, ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সভাপতি এনায়েত ছয়ানি, মালিগাঁও স্কুল পরিচালনা কমিটির সভাপতি মনির হোসেন, সাবেক সভাপতি কাউচার আহমেদ, বিজ্ঞান সম্পাদক আব্দুর রাজ্জাকসহ ওয়ার্ড আওয়ামী লীগ ও অঙ্গ সংগঠনের নেতারা।
ময়মনসিংহের ফুলবাড়িয়া উপজেলা পরিষদের সম্প্রসারিত প্রশাসনিক ভবন ও পরিষদ মিলনায়তনের উদ্বোধন করেছেন তথ্য ও সম্প্রচার প্রতিমন্ত্রী ইয়াসের খান চৌধুরী।
রোববার (৫ জুলাই) বিকালে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত হয়ে ৪ তলা বিশিষ্ট নব নির্মিত ভবনের ফলক উন্মোচন করে আনুষ্ঠানিক শুভ উদ্বোধন করে মুনাজাতে অংশ নেন তিনি। পরে প্রতিমন্ত্রী ইয়াসের খান চৌধুরী এমপি উপজেলা পরিষদের সম্প্রসারিত প্রশাসনিক ভবন প্রাঙ্গণে বৃক্ষরোপণ ও মিলনায়তন পরিদর্শন করেন।
এসময় ফুলবাড়িয়া আসনের এমপি অধ্যক্ষ কামরুল হাসান মিলন, বিএনপির স্বনির্ভরবিষয়ক সম্পাদক নিলুফার চৌধুরী মনি এমপি, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক রেজা মো. গোলাম মাসুম প্রধান,উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) শহীদুল ইসলাম সোহাগ, সহকারী কমিশনার (ভূমি) শেখ তাকী তাজওয়ার, ফুলবাড়িয়া থানার ওসি রাশেদুল হাসান, উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক আখতারুল আলম ফারুক, সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক মামুনুর রশীদ মামুন , যুগ্ম আহ্বায়ক অ্যাডভোকেট রেজাউল করিম চৌধুরী, পৌর বিএনপির আহ্বায়ক একেএম শমসের আলীসহ জামায়াত নেতৃবৃন্দরাও উপস্থিত ছিলেন।
প্রতিমন্ত্রীর আগমনকে ঘিরে উপজেলা পরিষদ প্রাঙ্গণে শুভেচ্ছা জানাতে বিএনপি ও অঙ্গ সহযোগী সংগঠনের সরব উপস্থিতি দেখা গেছে। এসময় দলটির নেতাকর্মীরা বিশাল মোটরসাইকেল শোভাযাত্রা ও স্লোগানের মাধ্যমে প্রতিমন্ত্রীকে স্বাগত জানান।
এদিন পরিষদ প্রাঙ্গণে প্রবেশ নিয়ে বিএনপি এবং জামায়াতের সমর্থকদের মাঝে উত্তেজনা পরিলক্ষিত হলে হট্টগোল সৃষ্টি হয়।
এলজিইডি অফিস সূত্র জানা গেছে, ২০২৪ সালের ২২ জানুয়ারি সম্প্রসারিত প্রশাসনিক ভবন ও হল রুম নির্মাণকাজ শুরু করে এমএসই-এমআরই(জেভি) নামক ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান। ৮ কোটি ৬ লাখ ৮২ হাজার ৮৮৬ টাকা ব্যয়ে ২০২৬ সালের ৩০ এপ্রিল প্রকল্পের নির্মাণকাজ শেষ করা হয়।
নতুন এ অবকাঠামো উপজেলা প্রশাসনের কার্যক্রমকে আরো গতিশীল করার পাশাপাশি জনসেবার মানোন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে সংশ্লিষ্টরা আশাবাদ ব্যক্ত করেন। এ কার্যক্রম কে কেন্দ্র করে নির্বাচন পরবর্তী প্রতিমন্ত্রীর ফুলবাড়িয়ায় এটি প্রথম সফর ছিল।
সামাজিক অবক্ষয়, পারিবারিক সহিংসতা, জমিজমা নিয়ে বিরোধ, দেনা-পাওনার দ্বন্দ্ব, মাদক, নৈতিক মূল্যবোধের অবক্ষয় ও প্রযুক্তির অপব্যবহারের মতো নানা কারনে নওগাঁ জেলায় উদ্বেগজনক হারে বাড়ছে হত্যাকাণ্ড। একের পর এক খুনের ঘটনায় আতঙ্ক বাড়ছে সাধারণ মানুষের মধ্যে। পরিবার হারাচ্ছে তাদের একমাত্র উপার্জনক্ষম সদস্যকে, আর অনেক পরিবার অর্থনৈতিক ও সামাজিকভাবে চরম সংকটে পড়ছে।
সংশ্লিষ্টদের মতে, সমাজের রন্ধ্রে রন্ধ্রে নীরবে ছড়িয়ে পড়ছে সামাজিক অবক্ষয়। ভিনদেশি সংস্কৃতির অন্ধ অনুকরণ, নিজস্ব সংস্কৃতি ও নৈতিক শিক্ষার চর্চার অভাব, পারিবারিক বন্ধনের দুর্বলতা, মাদকের বিস্তার, বেকারত্ব, হতাশা এবং প্রযুক্তির অপব্যবহার তরুণদের অপরাধের দিকে ঠেলে দিচ্ছে।
তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে জুন মাস পর্যন্ত জেলার বিভিন্ন উপজেলা থেকে অন্তত ২৫টি লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ। এসব ঘটনার অধিকাংশই হত্যা, পারিবারিক সহিংসতা কিংবা রহস্যজনক মৃত্যুর সঙ্গে সংশ্লিষ্ট।
গত ২৯ জুন মহাদেবপুর উপজেলার ছোট মহেশপুর গ্রামে বৃষ্টির পানি নিষ্কাশনকে কেন্দ্র করে ভাতিজা চপলের হাতে চাচা আব্দুল জব্বার (৬৫) নিহত হন। ২৮ জুন সদর উপজেলার নামাজগড় গাউসুল আজম কামিল মাদ্রাসার অষ্টম শ্রেণির ছাত্র আব্দুল্লাহ আল নিরবের (১৪) লাশ মাদ্রাসা সংলগ্ন এলাকা থেকে উদ্ধার করা হয়। নিরব পাবনা জেলার আটঘরিয়া উপজেলার চাঁদভা গ্রামের রুবেল হোসেনের ছেলে। ১৭ জুন আত্রাই উপজেলার শাহাগোলা রেললাইনের পাশ থেকে শিক্ষক নেয়ামুল বাশিরের (৫৩) লাশ উদ্ধার করা হয়। ৮ জুন মান্দা উপজেলার হাটোর গ্রামে আম পাড়াকে কেন্দ্র করে মাদক ব্যবসায়ীদের মারধরে তৈয়বুর রহমান মোল্লা (৬৫) মারা যান। ৭ জুন একই উপজেলার ছুটিপুর গ্রামে জমি সংক্রান্ত বিরোধে লাঠির আঘাতে নিহত হন আব্দুল হামিদ (৬৫)। ৩ জুন সাপাহার উপজেলার পুনর্ভবা নদীর বলদিয়াঘাট এলাকা থেকে নিখোঁজের একদিন পর মানসিক ভারসাম্যহীন কিশোর সিফাতের লাশ উদ্ধার করা হয়।
৭ মে নওগাঁ সদর উপজেলার আরজি-নওগাঁ এলাকায় বিয়ের দেড় মাসের মাথায় যৌতুকের দাবিতে গৃহবধূ ফাল্গুনিকে শ্বাসরোধে হত্যার অভিযোগ ওঠে স্বামী মোরশেদের বিরুদ্ধে। ২০ এপ্রিল নিয়ামতপুর উপজেলার বাহাদুরপুর গ্রামে জমি নিয়ে বিরোধের জেরে একই পরিবারের চার সদস্য হাবিবুর রহমান (৩৫), তার স্ত্রী পপি সুলতানা (২৫), ছেলে পারভেজ রহমান (৯) ও মেয়ে সাদিয়া আক্তারকে (৩)গলা কেটে হত্যা করা হয়। ২ এপ্রিল সদর উপজেলার গোয়ালি উত্তরপাড়া (কালুর মোড়) এলাকা থেকে মিনতি (৩০) নামে এক গৃহবধূর ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করা হয়। ১ এপ্রিল পোরশা উপজেলার শীতলি ডাঙ্গাপাড়া গ্রামে স্বামীর মারধরে মরজিনা খাতুন রুপসির (২৬) মৃত্যু হয়।
৩১ মার্চ নওগাঁ শহরের বাইপাস বরুণকান্দি এলাকায় একটি গ্যারেজে রাখা বাস থেকে বাসের হেলপার জাহিদ ইসলাম (২২)-এর লাশ উদ্ধার করা হয়। ২৬ মার্চ পত্নীতলা উপজেলার আত্রাই নদীর কাঞ্চন গ্রাম এলাকা থেকে অঞ্জনা কর্মকার (৪৫) নামে এক নারীর ভাসমান মরদেহ উদ্ধার করা হয়। ৬ মার্চ আত্রাই উপজেলার বলরামচক গ্রামে মাদকাসক্ত জয় সরকার (২৫) স্ত্রী বৃষ্টি রানী (২০) ও আড়াই বছরের কন্যা জিনি সরকারকে হত্যা করে পরে আত্মহত্যা করেন। ৫ মার্চ মান্দা উপজেলার একটি কওমি মাদ্রাসা ও এতিমখানায় চোর সন্দেহে রফিকুল ইসলামকে (৪৫) পিটিয়ে হত্যার অভিযোগ ওঠে।
২৮ ফেব্রুয়ারি পত্নীতলা উপজেলার উজিরপুর চৌধুরীপাড়া এলাকা থেকে প্রতিমা রাণী (২৪)-এর লাশ উদ্ধার করা হয়। ৪ ফেব্রুয়ারি বদলগাছী উপজেলার ভান্ডারপুর বাজারসংলগ্ন একটি ভাড়া বাসা থেকে তুন্নাহার বেগমের (১৯) ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার হয়। ৩ ফেব্রুয়ারি একই উপজেলার বওলাপাড়া গ্রামে পেয়ারা গাছে ঝুলন্ত অবস্থায় নুপুর (২৬) এর মরদেহ পাওয়া যায়।
২৫ জানুয়ারি সদর উপজেলার বিল ভবানীপুর গ্রামে একটি সেপটিক ট্যাংক থেকে মিতু বানু নামে এক তরুণীর লাশ উদ্ধার করা হয়। ১৯ জানুয়ারি রানীনগর উপজেলার হরিপুর গ্রামে আগুনে দগ্ধ অবস্থায় বাসন্তী রানীর (২৫) মরদেহ উদ্ধার হয়। ১৮ জানুয়ারি ধামইরহাট উপজেলার নানাইচ গ্রামে সিরিয়াল কিলার গোলাম মোরশেদের হামলায় গুরুতর আহত কলেজছাত্রী উম্মে হাবিবা চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান।
পোরশা উপজেলার নীতপুর গ্রামের দরিদ্র বৃদ্ধ মশিউর রহমান বলেন, একটি ডিম ভাজাকে কেন্দ্র করে জামাই আব্দুল মকিম তার মেয়ে মরজিনা খাতুন রুপসিকে হত্যা করে। ঘটনার পর জামাই কারাগারে রয়েছে। তাদের এক থেকে ১১ বছর বয়সি ছয় সন্তান এখন তার কাছেই রয়েছে। তিনি বলেন, আমরা গরিব মানুষ। এতগুলো নাতি-নাতনিকে নিয়ে মানবেতর জীবন কাটাচ্ছি।
নিহত শিক্ষক নেয়ামুল বাশিরের স্বজনরা জানান, তিনি আত্রাই রেলস্টেশন এলাকা থেকে সিএনজিচালিত অটোরিকশায় নওগাঁ শহরের উদ্দেশে রওনা দিয়েছিলেন। এরপর থেকেই তার মোবাইল ফোন বন্ধ পাওয়া যায়। পরদিন শাহাগোলা রেলস্টেশনের পাশ থেকে তার লাশ উদ্ধার হয়। এ ঘটনায় থানায় অজ্ঞাতনামা আসামিদের বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে। তারা দ্রুত হত্যাকারীদের গ্রেপ্তারের দাবি জানান। একই সঙ্গে পরিবারের একমাত্র উপার্জনক্ষম সদস্যকে হারিয়ে তারা চরম অর্থনৈতিক সংকটে পড়েছেন বলেও জানান।
নওগাঁ জজ আদালতের আইনজীবী মো. মাহ্ফুজুর রহমান বলেন, সামাজিক অবক্ষয় ও নৈতিক শিক্ষার ঘাটতির কারণে খুন ও ধর্ষণের মতো অপরাধ বাড়ছে। ধর্মীয় ও নৈতিক শিক্ষার প্রসার ঘটাতে পারলে এসব অপরাধ অনেকাংশে কমিয়ে আনা সম্ভব। তাই শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে নৈতিক শিক্ষার ওপর আরও গুরুত্ব দেওয়া প্রয়োজন।
নওগাঁর পুলিশ সুপার মোহাম্মদ তারিকুল ইসলাম বলেন, জেলার অধিকাংশ হত্যাকাণ্ড পারিবারিক বিরোধ বা সহিংসতার জেরেই ঘটছে। ভাই ভাইকে, স্বামী স্ত্রীকে হত্যা করছে। এমনকি স্কুলপড়ুয়া শিক্ষার্থীরাও নানা অপরাধে জড়িয়ে পড়ছে। অধিকাংশ ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
কারিগরী দক্ষতা এবং প্রযুক্তিগত শিক্ষার মাধ্যমে যুবসমাজকে কর্মোপযোগী করে গড়ে তোলার লক্ষ্যে বান্দরবান জেলার লামা পৌর শহরের টি.টি এন্ড ডি.সি এলাকায় যাত্রা শুরু করেছে‘ লামা টেকনিক্যাল ইনস্টিটিউট’।
রোববার (৫ জুলাই) বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর আলীকদম সেনাবাহিনীর জোন কমান্ডার লে. কর্নেল মো. আশিকুর রহমান আশিক এ ইনস্টিটিউট’র উদ্ভোধন করেন। এ উপলক্ষ্যে ইনস্টিটিউট মিলনায়তনে উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো. মঈন উদ্দিন’র সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত আলোচনায় ক্যাপ্টেন তাওহীদ, ইনস্টিটিউট পরিচালনা কমিটির সভাপতি এম. রহুল আমিন, জীনামেজু কল্যাণ ট্রাস্ট্রের পরিচালক উ: নন্দমালা মহাথেরো ও পার্বত্য ভিক্ষু পরিষদের লামা উপজেলা শাখার সভাপতি জয় বংশ বিশেষ অতিথি ছিলেন।
উ. নন্দ মালা জীনামেজু কল্যাণ ট্রাস্ট্রের অধীনে পরিচালিত ইনস্টিটিউট’র উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে অন্যদের মধ্যে লামা প্রেসক্লাব’র সাধারণ সম্পাদক মো. কামরুজ্জামান, দাতা সদস্য থোয়াইপ্রু মং মার্মা, সমাজ সেবিকা মায়েছা মার্মা, আলীকদম সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ের সাবেক প্রধান শিক্ষক ইয়াহিয়া আহমেদ, গজালিয়া উচ্চ বিদ্যালয়ের সাবেক প্রধান শিক্ষক বিশ্ব নাথ দে, সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক নুরুল হুদা লাভলু, জীনামেজু অনাথ আশ্রমের জমি দাতা মাহাবুবুর রহমান উপস্থিত ছিলেন।
ইনস্টিটিউটে আগামী ডিসেম্বর মাস থেকে প্রাথমিকভাবে ‘কম্পিউটার ও সেলাই’ কোর্সে চালু হবে বলে জানান পরিচালক এম. রুহুল আমিন। তিনি বলেন, লামা টেকনিক্যাল ইনস্টিটিউটের মাধ্যমে কম্পিউটার ও সেলাই প্রশিক্ষণের সুযোগ সৃষ্টি হওয়ায় এলাকার যুবক যুবতীদের দক্ষতা বৃদ্ধি, কর্মসংস্থান এবং আত্মকর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত উন্মোচিত হবে।
অনুষ্ঠানে জীনামেজু কল্যাণ ট্রাস্টের পরিচালক উ. নন্দমালা মহাথেরো ইনস্টিটিউট’র জন্য একসেট কম্পিউটার ও একটি সেলাই মেশিন প্রদান করেন। পরে ইনস্টিটিউট চত্বরে ফলজ গাছের চারা লাগিয়ে উ. নন্দমালা জীনামেজু কল্যাণ ট্রুাস্ট্রের উদ্যোগে বৃক্ষরোপন কর্মসূচির উদ্বোধন করেন প্রধান অতিথি লে. কর্নেল মো. আশিকুর রহমান আশিক।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানের আলোচনায় প্রধান অতিথি লে. কর্নেল মো. আশিকুর রহমান আশিক বলেন, বর্তমানে সমাজ দেশ জাতি গঠনে কারিগরি শিক্ষার বিকল্প নেই, যে জাতি যত বেশি কারিগরি শিক্ষায় শিক্ষিত সেই জাতী তত বেশি উন্নত। তাই চাকরির পেছনে না ঘুরে কারিগরি শিক্ষা গ্রহণের মাধ্যমে পিছিয়ে পড়া পাহাড়ি ও বাঙালি জনগোষ্ঠীর ছেলে-মেয়েদের শিক্ষার মাধ্যমে দক্ষ মানবসম্পদ হিসেবে গড়ে তুলতে হবে।
মাদক, জুয়া, বাল্যবিবাহ, যৌতুক প্রথা, দাদন ব্যবসা, দুর্নীতি এই ৬টি সামাজিক অপরাধ রোধে আলোকিত লালমনিরহাট এর কার্যক্রমের উদ্বোধন হয়েছে। গত শনিবার (৪ জুলাই) বিকেলে লালমনিরহাট রেলওয়ে এম টি হোসেন ইনস্টিটিউট মাঠে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে এ কার্যক্রমের উদ্বোধন করেন স্থানীয় সরকার পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর এমপি।
এ সময় তিনি একথা বলেন,আমরা ১৫-১৬ বছর ধরে গণতন্ত্রের জন্য সংগ্রাম করেছি। ফ্যাসিস্টদের বিরুদ্ধে সংগ্রাম করেছি। লড়াই করেছি। অনেক মামলা-মোকদ্দমা হয়েছে। অনেক প্রাণ গিয়েছে, মাথা নোয়াইনি। মাথা নিচু করিনি। দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার নেতৃত্বে আমাদের নেতা তারেক রহমানের নেতৃত্বে আমরা সেই বিজয় ছিনিয়ে এনেছি।
তিনি আরো বলেন, আজকে আমরা একটা পরিবেশ পেয়েছি যে পরিবেশে আবার নতুন করে বাংলাদেশকে গড়ে তুলবার জন্য একটি অবস্থান সৃষ্টি হয়েছে। আমরা সেই আন্দোলন শুরু করেছি। সমাজ থেকে নানা রকম সামাজিক অপরাধ মাদক, জুয়া, বাল্যবিবাহ, যৌতুক প্রথাসহ বিভিন্ন অসামাজিক কার্যক্রমের বিরুদ্ধে সবাইকে আন্দোলনে নামতে হবে। তাহলেই স্বপ্নের বাংলাদেশ হবে। আমরা জাতি হিসেবে মাথা উঁচু করে দাঁড়াতে পারবো। তিনি আরো বলেন অবিলম্বে তিস্তা মহা পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করা হবে।
আলোকিত লালমনিরহাট আন্দোলনের সভাপতি ও জেলা প্রশাসক মুহ: রাশেদুল হক প্রধানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে মূখ্য আলোচক হিসেবে সূচনা বক্তব্য রাখেন আলোকিত লালমনিরহাটের প্রধান উপদেষ্টা দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণমন্ত্রী আসাদুল হাবিব দুলু এমপি। আরো বক্তব্য রাখেন সমাজ কল্যাণ এবং মহিলা ও শিশুবিষয়ক মন্ত্রী অধ্যাপক ডাক্তার এ জেড এম জাহিদ হোসেন এমপি সহ স্থানীয় নেতৃবৃন্দ। পরে একটি বর্ণাঢ্য রেলি শহর প্রদক্ষিণ করে।
২০২৫-২৬ অর্থবছরে কৃষি প্রণোদনা কর্মসূচির আওতায় খরিপ-২ মৌসুমে রোপা আমন ধানের আবাদ ও উৎপাদন বৃদ্ধির লক্ষ্যে সিরাজগঞ্জের তাড়াশে ক্ষুদ্র ও প্রান্তিক কৃষকদের মাঝে বিনামূল্যে বীজ ও সার বিতরণ করা হয়েছে। একই সাথে শাকসবজির আবাদ ও উৎপাদন বাড়ানোর লক্ষ্যে কৃষকদের মাঝে সবজির বীজ ও সার বিতরণ করা হয়েছে।
রোববার (৫ জুলাই) উপজেলা পরিষদ মিলনায়তনে এই কর্মসূচির শুভ উদ্বোধন করা হয়।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সিরাজগঞ্জ-৩ আসনের মাননীয় জাতীয় সংসদ সদস্য জনাব মো. আয়নুল হক। তিনি কৃষকদের উদ্দেশে বলেন, ‘বর্তমান সরকার কৃষিবান্ধব সরকার। দেশের খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সরকার কৃষকদের বীজ ও সারসহ বিভিন্ন ধরনের প্রণোদনা প্রদান অব্যাহত রেখেছে। এই প্রণোদনা সঠিকভাবে কাজে লাগিয়ে কৃষকদের আরও বেশি ফসল উৎপাদনে মনোযোগী হতে হবে।
তাড়াশ উপজেলা নির্বাহী অফিসার জনাব নুসরাত জাহানের সভাপতিত্বে আয়োজিত এই অনুষ্ঠানে উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা শর্মিষ্ঠা সেন গুপ্তা, তাড়াশ থানার ভারপ্রাপ্ত কম©কর্তা (ওসি) মো. হাবিবুর রহমান, উপজেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি স ম আফসার আলী, সাধারণ সম্পাদক এটি এম আমিনুর রহমান টুটুল, তাড়াশ পৌর বিএনপির সদস্য সচিব মো. আব্দুল বারিক খন্দকার, উপজেলা যুবদলের আহবায়ক এফ এম শাহ্ আলম ফকির, ছাত্রদলের সদস্য সচিব মো. শাহাদাত হোসেন, সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের কর্মকর্তা, জনপ্রতিনিধি এবং উপকারভোগী কৃষকরা উপস্থিত ছিলেন।
সিরাজগঞ্জ-এর আয়োজনে এই কর্মসূচি বাস্তবায়িত হচ্ছে। এই প্রণোদনার ফলে এলাকার ক্ষুদ্র ও প্রান্তিক কৃষকরা লাভবান হবেন এবং রোপা আমন ও শাকসবজি উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে সহায়ক ভূমিকা পালন করবে বলে আশা করছেন সংশ্লিষ্টরা।
সাতক্ষীরা সদর-২ আসনের সংসদ সদস্য মুহাদ্দিস আব্দুল খালেক তার ঐচ্ছিক তহবিল থেকে অসহায় ও দুস্থ মানুষের মাঝে আর্থিক অনুদানের চেক এবং বিভিন্ন মসজিদের সংস্কারের জন্য অনুদানপত্র বিতরণ করেছেন।
রোববার (৫ জুলাই) সাতক্ষীরা সদর উপজেলা পরিষদ মিলনায়তন (ডিজিটাল কর্নার) প্রাঙ্গণে অনুষ্ঠিত অনুষ্ঠানে সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা অর্ণব দত্ত- এর সভাপতিত্বে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে তিনি অনুদানের চেক বিতরণ করেন।
পরে সদর উপজেলার ১০টি মসজিদের সভাপতি ও প্রতিনিধিদের হাতে প্রতিটি মসজিদের সংস্কারের জন্য ৩ লাখ টাকা করে মোট ৩০ লাখ টাকার অনুদানপত্র তুলে দেন।
অনুষ্ঠানে সাতক্ষীরা পৌর জামায়াতের আমির জাহিদুল ইসলাম, সদর উপজেলা জামায়াতের সেক্রেটারি মাওলানা হাবিবুর রহমান, বিএনপি নেতা আব্দুস সামাদসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক, সামাজিক ও ধর্মীয় ব্যক্তিবর্গ উপস্থিত ছিলেন।
অনুদান পেয়ে সদর উপজেলার ঝাউডাঙ্গা এলাকার সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের বাসিন্দা অলকা বলেন, ‘আগে কখনো এ ধরনের সহায়তা পাইনি। অনুদান পেয়ে খুব ভালো লাগছে।’
অনুষ্ঠানে বক্তারা বলেন, অসহায় মানুষের কল্যাণে এবং ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানগুলোর উন্নয়নে এ ধরনের সহায়তা ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে।
চট্টগ্রামের বোয়ালখালী উপজেলার পাহাড়ি এলাকার কয়েকটি গ্রামে ধান ও পাকা কাঁঠালের সন্ধানে প্রায় প্রতিরাতেই হানা দিচ্ছে বন্যহাতির পাল। এতে নির্ঘুম রাত কাটছে স্থানীয়দের। হাতির তাণ্ডবে বসতবাড়ির সীমানা প্রাচীর, গাছপালা ও ফসলের ক্ষতি হচ্ছে। স্থায়ী সমাধানে সরকারি উদ্যোগের দাবি জানিয়েছেন এলাকাবাসী।
স্থানীয়রা জানান, গত এক সপ্তাহ ধরে উপজেলার জ্যৈষ্ঠপুরা, ধোরলা ও করলডেঙ্গা গ্রামে প্রায় প্রতি রাতেই লোকালয়ে নেমে আসছে বন্যহাতির পাল। গত শনিবার (৪ জুলাই) রাত ২টার দিকে জ্যৈষ্ঠপুরার ফতেয়ারখীল এলাকায় স্থানীয় সাবেক ইউপি সদস্য মো. জাহাঙ্গীর আলমের বাড়ির সীমানা প্রাচীর ভেঙে ফেলে দুটি হাতি। এ সময় সবজিক্ষেত ও গাছপালাও নষ্ট হয়। এতে প্রায় অর্ধ লাক্ষ টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে বলে দাবি করেন তিনি।
এর আগে গত বৃহস্পতিবার (২ জুলাই) ভোরে একই এলাকার আবু সুফিয়ানের বাড়ির আঙিনায় ঢুকে গাছের পাকা কাঁঠাল খেয়ে যায় বন্যহাতির একটি দল।
শ্রীপুর-খরণদ্বীপ ইউনিয়ন পরিষদের প্যানেল চেয়ারম্যান হাসান চৌধুরী বলেন, প্রতিদিনই হাতির পাল লোকালয়ে নেমে এসে ক্ষয়ক্ষতি করছে। এতে গ্রামবাসীর মধ্যে আতঙ্ক বিরাজ করছে। দ্রুত কার্যকর ব্যবস্থা না নিলে প্রাণহানির ঘটনাও ঘটতে পারে।
তিনি বলেন, বর্ষা মৌসুমে হাতি তাড়ানো কঠিন হয়ে পড়ে। এখন মশাল দেখিয়েও হাতিকে ভয় দেখানো যায় না। ফলে প্রচলিত উপায়ে প্রতিরোধ গড়ে তোলাও সম্ভব হচ্ছে না।
ইলিফ্যান্ট রেসকিউ টিমের সদস্য আবু সুফিয়ান বলেন, পাহাড়ে খাদ্যের সংকট দেখা দেওয়ায় হাতিরা লোকালয়ে চলে আসছে। তারা মূলত গোলায় রাখা ধান ও গাছের পাকা কাঁঠালের সন্ধানে গ্রামে ঢুকছে।
উপজেলা নির্বাহী অফিসার মেহেদী হাসান ফারুক বলেন, হাতির পাল লোকালয়ে আসার খবর পেলে ফায়ার সার্ভিসের টিম পাঠানো হয়। তারা সাইরেন বাজিয়ে হাতির পালকে বনে ফিরে দেওয়া যায় চেষ্টা করে। ইতোমধ্যে যারা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন তাদের ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ নির্ধারণ করে বনবিভাগ থেকে ক্ষতিপূরণ দেওয়া হবে।
প্রতিদিন সকাল হলেই কোমলমতি শিক্ষার্থীদের পদচারণায় মুখর হয়ে ওঠে যশোরের কেশবপুর উপজেলার পাত্রপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়। তবে পাঠ্যবই হাতে শ্রেণিকক্ষে প্রবেশ করলেও তাদের মাথার ওপর ঝুলে থাকে এক অজানা শঙ্কা। কারণ, যে ভবনে তারা পড়াশোনা করছে, সেটি দীর্ঘদিন ধরে জরাজীর্ণ ও ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় রয়েছে। শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, যে কোনো সময় বড় ধরনের দুর্ঘটনা ঘটতে পারে—তবুও বিকল্প ব্যবস্থা না থাকায় সেই ভবনেই প্রতিদিন চলছে পাঠদান।
১৯৯১ সালে প্রতিষ্ঠিত পাত্রপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়টি এলাকার শিশুদের প্রাথমিক শিক্ষার অন্যতম ভরসার কেন্দ্র। বর্তমানে বিদ্যালয়ে ১০৭ জন শিক্ষার্থী এবং ৬ জন শিক্ষক রয়েছেন। কিন্তু শিক্ষার্থীর তুলনায় শ্রেণিকক্ষের সংকট ও ভবনের নাজুক অবস্থা শিক্ষার স্বাভাবিক পরিবেশকে ব্যাহত করছে।
বিদ্যালয় সূত্রে জানা যায়, ১৯৯৯ সালে নির্মিত একাডেমিক ভবনটিই এখন ব্যবহৃত হচ্ছে। প্রায় তিন দশকের ব্যবহারে ভবনের অবকাঠামো দুর্বল হয়ে পড়েছে। ভবনে মোট তিনটি কক্ষ রয়েছে। এর একটি অফিস কক্ষ হিসেবে ব্যবহৃত হয়। মাঝখানের সিঁড়িঘরটিকেও শ্রেণিকক্ষ হিসেবে ব্যবহার করতে হচ্ছে। সরকারি ক্ষুদ্র মেরামত খাতের অর্থ দিয়ে একটি ছোট টিনশেড নির্মাণ করা হলেও সেটি প্রয়োজনের তুলনায় অপ্রতুল এবং স্থায়ী সমাধান নয়।
বিদ্যালয়ে গিয়ে দেখা যায়, সীমিত জায়গায় একাধিক শ্রেণির পাঠদান পরিচালনা করতে গিয়ে শিক্ষকরা হিমশিম খাচ্ছেন। শ্রেণিকক্ষের সংকটের কারণে পাঠদান ব্যাহত হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন অভিভাবকরাও। তাদের ভাষ্য, সন্তানদের বিদ্যালয়ে পাঠানোর সময় প্রতিদিনই দুশ্চিন্তা কাজ করে। বিদ্যালয়ের শিক্ষকরা জানান, বহুদিন ধরেই নতুন ভবনের প্রয়োজনীয়তার কথা সংশ্লিষ্ট দপ্তরকে জানানো হয়েছে। তবে এখনো দৃশ্যমান কোনো উদ্যোগ নেওয়া হয়নি। ফলে ঝুঁকি নিয়েই শিক্ষা কার্যক্রম চালিয়ে যেতে হচ্ছে।
বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. আমির হোসেন বলেন, বর্তমান ভবনটি দীর্ঘদিনের পুরনো এবং বিভিন্ন স্থানে ফাটল ও অবকাঠামোগত দুর্বলতা দেখা দিয়েছে। শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তার বিষয়টি আমাদের কাছে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। সীমিত সুযোগ-সুবিধার মধ্যেও পাঠদান চালিয়ে যাচ্ছি। আমরা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে একাধিকবার নতুন ভবনের আবেদন করেছি। দ্রুত নতুন ভবনের অনুমোদন ও নির্মাণকাজ শুরু হলে শিক্ষার্থীরা নিরাপদ পরিবেশে শিক্ষা গ্রহণ করতে পারবে।
বিদ্যালয়ের পরিচালনা পর্ষদ (এসএমসি) সভাপতি মো. আব্দুর জলিল বলেন, এই বিদ্যালয়টি এলাকার শতাধিক শিক্ষার্থীর শিক্ষার একমাত্র ভরসা। অথচ তারা প্রতিদিন ঝুঁকিপূর্ণ ভবনে ক্লাস করছে, যা অত্যন্ত উদ্বেগজনক। আমরা স্থানীয় জনগণ ও অভিভাবকদের পক্ষ থেকে সরকারের সংশ্লিষ্ট দপ্তরের কাছে জোর দাবি জানাচ্ছি, যেন দ্রুত নতুন ভবনের বরাদ্দ দেওয়া হয়। দুর্ঘটনা ঘটার আগেই কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ করা প্রয়োজন।
স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, একটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের মতো গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠানে নিরাপদ অবকাঠামোর অভাব অত্যন্ত উদ্বেগজনক। তারা বলছেন, শিক্ষার মান উন্নয়নের পাশাপাশি নিরাপদ শিক্ষা পরিবেশ নিশ্চিত করাও রাষ্ট্রের দায়িত্ব। তাই দ্রুত নতুন ভবন নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া প্রয়োজন।
এ বিষয়ে কেশবপুর উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো. নজরুল ইসলাম বলেন, পাত্রপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ভবনের বিষয়টি আমাদের জানা আছে। বিদ্যালয়ের অবকাঠামোগত অবস্থা পর্যালোচনা করা হয়েছে এবং বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে। নতুন ভবন নির্মাণের জন্য প্রয়োজনীয় প্রস্তাব সংশ্লিষ্ট দপ্তরে পাঠানোর প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে। সরকারি বরাদ্দ পাওয়া সাপেক্ষে নতুন ভবন নির্মাণের ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। ইতোমধ্যে বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষকে শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করে পাঠদান পরিচালনার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
এদিকে বিদ্যালয়ের শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের একটাই দাবি আর কোনো দুর্ঘটনার অপেক্ষা নয়। তারা চান, দ্রুত নতুন ভবনের বরাদ্দ দিয়ে নিরাপদ শিক্ষার পরিবেশ নিশ্চিত করা হোক। তাদের মতে, একটি দুর্ঘটনা ঘটার পর নয়, তার আগেই কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়াই হবে দায়িত্বশীল প্রশাসনের পরিচয়।
শিক্ষাবিদদের মতে, দেশের প্রাথমিক শিক্ষার ভিত্তি মজবুত করতে হলে শুধু পাঠ্যক্রম নয়, নিরাপদ ও মানসম্মত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান নিশ্চিত করাও সমান গুরুত্বপূর্ণ। পাত্রপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের বর্তমান পরিস্থিতি সেই বাস্তবতারই একটি স্পষ্ট উদাহরণ।
গাজীপুরের টঙ্গীর তুরাগ নদে গোসল করতে নেমে সাঁতার কাটতে গিয়ে শামীম (১১) ও আফনান (১৩) নামে দুই কিশোরের মৃত্যু হয়েছে। রোববার (৫ জুলাই) টঙ্গীর মিরাশ পাড়া এলাকায় তুরাগ নদে এই ঘটনা ঘটে।
খবর পেয়ে লাশ উদ্ধার করেছে টঙ্গী ফায়ার সার্ভিসের উদ্ধারকারী দল।
নিহতরা হলেন, টঙ্গীর পূর্ব আরিচপুর বউ বাজার এলাকার আনিসুর রহমানের ছেলে শামীম মিয়া ও একই এলাকার সাইফুল ইসলামের ছেলে আফনান। তারা উভয়ই টঙ্গীর সিরাজ উদ্দিন সরকার বিদ্যানিকেতনের ষষ্ঠ ও সপ্তম শ্রেণির শিক্ষার্থী।
প্রত্যক্ষদর্শীদের বরাত দিয়ে পুলিশ জানায়, বেলা ১১টার দিকে খেলাধুলা করে নদীতে গোসল করতে নামেন তিন বন্ধু শামীম, আফনান ও শীপন। এ সময় সাঁতার কাটতে গিয়ে দুই বন্ধু তলীয়ে গেলে অপর বন্ধু শীপন দ্রুত নদী থেকে উঠে স্থানীয়দের খবর দেয়। পরে স্থানীয়রা ফায়ার সার্ভিসে খবর দিলে ফায়ার সার্ভিসের উদ্ধারকারী দল ঘটনাস্থলে পোঁছে দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে দুই কিশোরের লাশ উদ্ধার করে।
এ বিষয়ে টঙ্গী ফায়ার সার্ভিসের জেষ্ঠ কর্মকর্তা শাহীন আলম বলেন, ‘খবর পেয়ে টঙ্গী ফায়ার সার্ভিসের ডুবুরি দল তুরাগ নদ থেকে দুই কিশোরের লাশ উদ্ধার করেছে।’
এ বিষয়ে টঙ্গী নৌপুলিশ ফাঁড়ির ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা পরিদর্শক মো. ফিরোজ ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, ‘পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।’
ভেপসা গরমের মধ্যে হঠাৎই আকাশের রঙ বদলে যায়, শুরু হয় গুড়ি গুড়ি বৃষ্টি, পাশাপাশি চলছিল আমাদের গল্প আড্ডা। এদিকে থরে থরে সাজানো হয়েছে বাহারি রকমের মৌসুমি ফল। বলছিলাম চবিসাসের গল্পে আড্ডায় সাংবাদিকতা ও ফল উৎসবের কথা।
সংবাদ সংগ্রহের ব্যস্ততা, ক্যামেরার ফ্রেম, নোটবুকের পাতায় ছুটে চলাই একজন ক্যাম্পাস সাংবাদিকের প্রতিদিনের গল্প। কিন্তু সেই ব্যস্ততার মাঝেও যদি কিছু সময় থেমে নিজেদের অভিজ্ঞতা ভাগাভাগি করা যায়, প্রবীণদের কাছ থেকে শেখা যায় আর সঙ্গে থাকে মৌসুমি ফলের মিষ্টি আয়োজন তবে সেটি কেবল একটি অনুষ্ঠান থাকে না, হয়ে ওঠে শিক্ষা ও সম্প্রীতির মিলনমেলা।
এমনই এক ব্যতিক্রমী আয়োজন করে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় সাংবাদিক সমিতি (চবিসাস), ‘গল্পে আড্ডায় সাংবাদিকতা ও ফল উৎসব–২০২৬’। এ আয়োজন ছিল একই সঙ্গে সাংবাদিকতার অভিজ্ঞতা বিনিময়ের আসর এবং সৌহার্দ্যের এক প্রাণবন্ত উৎসব।
প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে মুহূর্তটাকে আরও আকর্ষণীয় করে তুলেছিলেন চবি উপাচার্য অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ আল্-ফোরকান। তিনি ক্যাম্পাস সাংবাদিকদের স্বাধীনতা নিয়ে কথা বলেন, স্বচ্ছতা ও নিরপেক্ষতা বজায় রেখে পেশাগত দায়িত্ব অব্যাহত রাখার আহবান জানান।
অনুষ্ঠানের সবচেয়ে আকর্ষণীয় অংশ ছিল ‘গল্পে আড্ডায় সাংবাদিকতা’। সেখানে বক্তা হিসেবে ছিলেন চবিসাসের সাবেক সভাপতি ওমর ফারুক এবং চবিসাসের সাবেক সদস্য ও চবির প্রভাষক মীর হোসেন মজুমদার।
তাদের আলোচনায় উঠে আসে সংবাদ সংগ্রহের অজানা গল্প, মাঠপর্যায়ের বাস্তব অভিজ্ঞতা, সাংবাদিকতার নৈতিকতা, তথ্য যাচাইয়ের গুরুত্ব এবং ডিজিটাল যুগে ক্যাম্পাস সাংবাদিকতার নতুন চ্যালেঞ্জ।
আলোচনায় অংশ নেওয়া তরুণ সাংবাদিকদের মতামত এবং অভিজ্ঞতা ভাগাভাগি পুরো পরিবেশকে আরও প্রাণবন্ত করে তোলে। মনে হচ্ছিল, এটি কোনো আনুষ্ঠানিক সেমিনার নয়; বরং এক প্রজন্ম থেকে আরেক প্রজন্মের হাতে অভিজ্ঞতা তুলে দেওয়ার আন্তরিক আয়োজন।
আলোচনা শেষে অতিথি ও সাংবাদিকদের অংশগ্রহণে অনুষ্ঠিত হয় ফল উৎসব। দেশীয় বাহারি রকমের মৌসুমি ফল ভাগাভাগি করে খাওয়ার মধ্য দিয়ে তৈরি হয় এক উষ্ণ, আন্তরিক, সৌহার্দপূর্ণ পরিবেশ। অনানুষ্ঠানিক আলাপচারিতায় যেন দূরত্বের দেয়াল ভেঙে যায়, গড়ে ওঠে পারস্পরিক সৌহার্দ্যের নতুন সেতুবন্ধন।
চবিসাসের সভাপতি রেফায়েত উল্যাহ রুপক সত্য ও বস্তুনিষ্ঠ সংবাদ পরিবেশনের প্রত্যয় ব্যক্ত করেন। ক্যাম্পাসের প্রতিটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় তুলে ধরার আহ্বান জানান তিনি।
দিনশেষে আয়োজনটি প্রমাণ করেছে, সাংবাদিকতা শুধু সংবাদ সংগ্রহের পেশা নয়; এটি শেখার, ভাবনার, সম্পর্ক গড়ে তোলার এবং সত্যের প্রতি দায়বদ্ধ থাকার এক নিরন্তর যাত্রা। সেই যাত্রার নবীন প্রবীণের মধ্যকার সম্পর্ক যেন গড়ে ওঠে নতুনভাবে, নতুন আঙ্গিকে।
নীলফামারী জেলা পুলিশের উদ্যোগে বর্ণাঢ্য মাস্টার প্যারেড অনুষ্ঠিত হয়েছে। রোববার (৫ জুলাই) সকালে নীলফামারী পুলিশ লাইন্স মাঠে বিভিন্ন পদমর্যাদার কর্মকর্তা ও সদস্যদের অংশগ্রহণে এ প্যারেড অনুষ্ঠিত হয়।
প্যারেড পরিদর্শন ও অভিবাদন গ্রহণ করেন পুলিশ সুপার মো. ফরহাদ হোসেন খাঁন। পরে তিনি কর্মকর্তা ও সদস্যদের উদ্দেশে দিকনির্দেশনামূলক বক্তব্য দেন এবং শৃঙ্খলা, পেশাদারিত্ব ও জনসেবার মানসিকতা নিয়ে দায়িত্ব পালনের আহ্বান জানান।
প্যারেডে কমান্ডারের দায়িত্ব পালন করেন আর.আই. (ভারপ্রাপ্ত) মো. আব্দুল মতিন মোল্লা। এ সময় অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (প্রশাসন ও অর্থ) মোহসিন, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (নীলফামারী সার্কেল) মো. ফারুক আহমেদ, পিপিএম-সেবা, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সৈয়দপুর সার্কেল) এ.কে.এম. ওহিদুন্নবীসহ জেলা পুলিশের বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
প্যারেড শেষে পুলিশ সুপার পুলিশ লাইন্সের মোটরযান শাখা ও অস্ত্রাগার পরিদর্শন করে সংশ্লিষ্টদের প্রয়োজনীয় দিকনির্দেশনা প্রদান করেন।
জেলা পুলিশের মাসিক কল্যাণ সভা : রোববার (৫ জুলাই) নীলফামারী পুলিশ লাইন্সের ড্রিল শেডে জেলা পুলিশের মাসিক কল্যাণ সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।
সভায় সভাপতিত্ব করেন পুলিশ সুপার মো. ফরহাদ হোসেন খাঁন। তিনি পর্যায়ক্রমে বিভিন্ন পদমর্যাদার পুলিশ কর্মকর্তা ও সদস্যদের সুবিধা-অসুবিধার কথা শোনেন এবং সেগুলো দ্রুত সমাধানে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের আশ্বাস দেন।
এ সময় পুলিশ সুপার কর্মকর্তা ও সদস্যদের উদ্দেশে শৃঙ্খলা, পেশাদারিত্ব, দায়িত্বশীলতা এবং জনসেবার মানসিকতা বজায় রেখে দায়িত্ব পালনের বিষয়ে দিকনির্দেশনামূলক বক্তব্য প্রদান করেন। সভায় নীলফামারী জেলা পুলিশের সকল পর্যায়ের কর্মকর্তা ও সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।
উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢল ও টানা বৃষ্টিপাতের কারণে পদ্মা ও যমুনা নদীর পানি বৃদ্ধি পাওয়ায় মানিকগঞ্জের দৌলতপুর উপজেলার বাঘুটিয়া, বাচামারা, জিয়নপুর, চরকাটারী ইউনিয়নের বিভিন্ন এলাকায় ভয়াবহ নদীভাঙন দেখা দিয়েছে। বিশেষ করে দৌলতপুর উপজেলার বাঘুটিয়া চরকালিকাপুর মুকুরিয়া দাখিল মাদ্রাসা চার তলা ভবনটি যে কোন সময় নদী গভে বিলীন হয়ে যেতে পারে।
দৌলতপুর যমুনা নদীর ভাঙনের তীব্রতায় শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, পুরাতন বাজার ও অসংখ্য বসতভিটা হুমকির মুখে পড়েছে। নদীতীরবর্তী জনপদের বাসিন্দাদের মধ্যে চরম আতঙ্ক বিরাজ করছে। নদী ভাঙ্গনে শিকার কয়েক শত পরিবার নৌকা যোগে ঘরবাড়ি, জিনিসপত্র নিয়ে অন্যত্র আশ্রয়ের খোজে ছুটে বেড়াচ্ছে।
সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিতে রয়েছে দৌলতপুর উপজেলার চরপারুরিয়া-কালিয়াপুর এলাকার শুকুরিয়া দাখিল মাদ্রাসা, ওমর আলী উচ্চ বিদ্যালয় এবং বাঘুটিয়া পুরাতন বাজার। স্থানীয়দের আশঙ্কা, দ্রুত কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ না করা হলে এসব গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা ও আশপাশের বসতবাড়ি নদীগর্ভে বিলীন হয়ে যেতে পারে।
আজ সরেজমিনে বাঘুটিয়া এলাকার গোলাম আজম বলেন, গত কয়েকদিনে নদীর পানি দ্রুত বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে ভাঙনের তীব্রতাও বেড়েছে। নদীর তীরের বড় বড় অংশ ধসে পড়ছে। চরকালিকাপুর শুকুরিয়া দাখিল মাদ্রাসাটি আজ দিনের মধ্যে চার তলা ভবনটি নদী গভে বিলীন হতে পারে । এছাড়া বাঘুটিয়া ওমর আলী উচ্চ বিদ্যালয়, বাঘুটিয়া পুরাতন বাজারসহ নদীতীরবর্তী বিভিন্ন এলাকায় ভয়াবহ ভাঙন দেখা দিয়েছে। এতে ঘরবাড়ি ও সহায়-সম্পদ রক্ষা নিয়ে স্থানীয়দের মধ্যে চরম উদ্বেগ সৃষ্টি হয়েছে। তীরবর্তী শত শত পরিবার আতঙ্কের মধ্যে দিন কাটাচ্ছে।
নদীভাঙন রোধে ঝুঁকিপূর্ণ এলাকাগুলোতে জরুরি ভিত্তিতে প্রতিরোধমূলক কাজ শুরু করেছে পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো)। শিবালয় ও ঘিওর উপজেলার প্রায় ৭৭০ মিটার এলাকায় জিও ব্যাগ ফেলে ভাঙন প্রতিরোধের কাজ চলছে। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, পরিস্থিতি সার্বক্ষণিক পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে এবং প্রয়োজন অনুযায়ী আরও প্রতিরক্ষামূলক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
মানিকগজ্ঞ-১ আসনের সংসদ সদস্য এস এ জিন্নাহ কবীরের নিদেশে জরুরী ভিত্তিতে পাটুরিয়া ৫ নং ফেরিঘাট এলাকায়, বাঘুটিয়া, বাচামারা, চরকাটারী, ঘিওর কুস্তা,
পানি উন্নয়ন বোর্ড জিও ব্যাগ ফেলে ভাঙ্গন রোধে কাজ করছে । পানি উন্নয়ন বোর্ড নির্বাহী প্রকৌশলী মো. আক্তারুজ্জামান জানান, নদীর পানি বৃদ্ধি অব্যাহত থাকায় ভাঙনের ঝুঁকিও বাড়ছে। ক্ষয়ক্ষতি কমাতে পাটুরিয়া ৫ নম্বর ফেরিঘাট সংলগ্ন বরুরিয়া এলাকায় ৩৫০ মিটার, স্যোশাল প্যান্ড এলাকায় ৩০০ মিটার, দৌলতপুরের বাঘুটিয়া ৩০০ এবং ঘিওর কুস্তা এলাকায় ১২০ মিটার এলাকায় জিও ব্যাগ ফেলা হয়েছে। এছাড়া জেলার অন্যান্য ঝুঁকিপূর্ণ স্থানও চিহ্নিত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
তিনি আরও জানান, নদীভাঙনের স্থায়ী সমাধানে একটি বৃহৎ প্রকল্প বাস্তবায়নের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এর আগে গত ১৭ মে পানি উন্নয়ন বোর্ডের প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন আজাদ পাটুরিয়া ফেরিঘাট এলাকা পরিদর্শনকালে সাংবাদিকদের জানান, নদীভাঙন রোধে প্রায় ১ হাজার ৫০০ কোটি টাকার একটি প্রকল্প হাতে নেওয়া হয়েছে। প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে এ অঞ্চলের নদীভাঙন সমস্যার দীর্ঘমেয়াদি সমাধান হবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।
এ দিকে উপেজলা নিবাহী অফিসার নাহিয়ান নুরেন জানান, সরকারি ভাবে পানি উন্নয়ন বোর্ড জরুরী ভিত্তিতে ভাঙ্গন রোধে দ্রুত ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে। যমুনা নদীর স্রোত এতো বেশি জিও ব্যাগ ফেলে রক্ষা করা কঠিন হয়ে পড়েছে। পানি উন্নয়ন বোর্ড চেস্টা করে যাচ্ছে চরকালিকাপুর শুকুরিয়া দাখিল মাদ্রাসা রক্ষা করার।
রবিবার (৫ জুলাই) পানি উন্নয়ন বোর্ড নির্বাহী প্রকৌশলী মো. আক্তারুজ্জামান, উপেজলা নিবাহী অফিসার নাহিয়ান নুরেন পরিরদশন করেছেন ।
এদিকে স্থানীয়দের দাবি, জিও ব্যাগ ফেলে আপাতত ভাঙন কিছুটা নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব হলেও স্থায়ী নদীশাসন প্রকল্প দ্রুত বাস্তবায়ন না হলে প্রতি বর্ষা মৌসুমেই একই ধরনের দুর্ভোগের শিকার হতে হবে নদীতীরবর্তী হাজারো মানুষকে।
জাতীয় পর্যায়ে ঘোষিত ‘নজরুল বর্ষ ২০২৬–২০২৭’ উদযাপন উপলক্ষে ময়মনসিংহের হালুয়াঘাট উপজেলায় বর্ণাঢ্য আয়োজনে তিন দিনব্যাপী অনুষ্ঠানমালার সমাপ্তি ঘোষণা করা হয়েছে।
গত শনিবার (৪ জুলাই) বিকালে উপজেলা ৫০০ আসন বিশিষ্ট অডিটোরিয়াম কাম মাল্টিপারপাস হলরুমে উপজেলা প্রশাসনের উদ্যোগে এক জমকালো অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে এই উৎসবের সমাপ্তি হয়। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ১৪৬ ময়মনসিংহ-১ আসনের জাতীয় সংসদ সদস্য সালমান ওমর রুবেল।
হালুয়াঘাট উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ফয়সাল আলমের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সহকারী কমিশনার (ভূমি) জাকিয়া সুলতানা রোজী, উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক আসলাম মিয়া বাবুল, ব্যাবসায়ী উন্নয়ন সমিতির সভাপতি নাদিম আহমদ। এছাড়াও স্থানীয় সরকারি কর্মকর্তা, রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ, সাংস্কৃতিক কর্মী, শিক্ষক ও সাংবাদিকরা অনুষ্ঠানে অংশ নেন।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে জাতীয় সংসদ সদস্য সালমান ওমর রুবেল বলেন, জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম শুধু বিদ্রোহের কবি নন, তিনি সাম্য, মানবতা, অসাম্প্রদায়িকতা ও সম্প্রীতির প্রতীক। উনার সাধারণ জীবন যাবন প্রমাণ করে উনি অসাধারণ এর সাধারণ। উনার জীবনী থেকে আমাদের অনেক শিক্ষার আছে। বিদ্রোহী কবি নজরুলকে বিশ্বব্যাপী আরও সুপরিচিত করতে ‘নজরুল বর্ষ’ উদযাপন দারুণ ভূমিকা রাখবে বলেও তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণকারী শিক্ষার্থীদের বই ও গাছ উপহার দেওয়া হয়।