রোহিঙ্গাদের ওপর গণহত্যা চালানো সত্ত্বেও যুক্তরাজ্যসহ পশ্চিমা দেশগুলোর মিয়ানমারে বিনিয়োগ অব্যাহত রাখা দুঃখজনক বলে মন্তব্য করেছেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী এ কে আব্দুল মোমেন। সোমবার ব্রিটিশ পররাষ্ট্রমন্ত্রী জেমস ক্লেভারলি সঙ্গে ফোনালাপে একথা বলেন তিনি।
গত মাসে ব্রিটিশ পররাষ্ট্রমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্বগ্রহণের পর বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে এটিই জেমস ক্লেভারলি প্রথম ফোনালাপ।
পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে মোমেন বলেন, বাংলাদেশের ওপর চাপ কমাতে মিয়ানমারে প্রত্যাবাসনসহ কিছু সংখ্যক রোহিঙ্গাকে যুক্তরাজ্যসহ বিভিন্ন দেশকে গ্রহণ করতেও অনুরোধ করেছি।
পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, মিয়ানমার এবং রোহিঙ্গা নিয়ে আমরা যথেষ্ট চিন্তিত। আমি বিট্রিশ পররাষ্ট্রমন্ত্রীকে বলেছি, আপনারা রোহিঙ্গাদের জন্য মানবিক সহায়তা দিচ্ছেন। কিন্তু এখনও একজন রোহিঙ্গাও প্রতাবাসন হয়নি। বিভিন্ন তথ্যমতে জানা যাচ্ছে, গত পাঁচ বছরে আপনারা মিয়ানমারে যথেষ্ট বিনিয়োগ করেছেন। দেশটির কোনো জেনারেলের বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞা দিলেও সেদেশে আপনাদের বিনিয়োগ ১ শ গুণ বেড়েছে। এটি দুঃখজনক। সেখানে গণহত্যা চলছে তারপরেও আপনারা বিনিয়োগ করেই যাচ্ছেন। এটা অগ্রহণযোগ্য।
মোমেন বলেন, তাছাড়া পুরো ইউরোপীয় ইউনিয়ন মিয়ানমারকে এ ধরনের সুবিধা দিয়েই যাচ্ছে। যার ফলে তাদের উপর কোনো চাপ পড়ছে না। এ বিষয়ে আরও সংবেদনশীল এবং সক্রিয় হওয়ার আহবান জানান তিনি।
পরে এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানায়, রোহিঙ্গা ইস্যুতে সব সময় বাংলাদেশের পাশে থাকার জন্য ব্রিটিশ পররাষ্ট্রমন্ত্রীকে ধন্যবাদ জানিয়েছেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. মোমেন। এ সময়, রোহিঙ্গাদের প্রত্যাবাসন সফল করার জন্য যুক্তরাজ্যের পক্ষ থেকে আরও জোরালো এবং কার্যকরী ভূমিকা রাখার জন্য ব্রিটিশ পররাষ্ট্রমন্ত্রীকে অনুরোধ করেন। রোহিঙ্গা ইস্যুতে বিভিন্ন ফোরামে বাংলাদেশের পাশে থাকার দৃঢ় আশ্বাস দেন ব্রিটিশ পররাষ্ট্রমন্ত্রী। এছাড়া জলবায়ু ইস্যুতে বাংলাদেশের ভূমিকার প্রশংসা করেন তিনি।
এই ফোনালাপে বাংলাদেশ-যুক্তরাজ্য দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক উন্নয়নে যুক্তরাজ্যে অবস্থানরত অভিবাসী বাংলাদেশীদের অবদান, দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য, বিনিয়োগ সম্পর্ক, বহুপাক্ষিক বিভিন্ন ক্ষেত্রে সহযোগিতার বিষয়ে দুই দেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রীর মধ্যে আলোচনা হয়। গত বছর বাংলাদেশ ও যুক্তরাজ্যের দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের সুবর্ণজয়ন্তী উদযাপনের বিষয়টি বিশেষভাবে উল্লেখ করেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. মোমেন।
আলাপকালে চলমান সংঘাত এবং এর ফলে সৃষ্ট খাদ্য ও জ্বালানি সংকটের বিষয়টি আলোচনায় স্থান পায়। এ প্রসঙ্গে, পররাষ্ট্রমন্ত্রী মোমেন উল্লেখ করেন যে, সংঘাতের কারণে সাধারণ মানুষ বিশেষ করে উন্নয়নশীল দেশের মানুষ বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী শান্তিপূর্ণ উপায়ে আলোচনার মাধ্যমে সংকট সমাধানে উদ্যোগ গ্রহণের ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
সৌজন্য ফোনালাপের সময় দুই দেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী সার্বিক দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের বিষয়ে সন্তোষ প্রকাশ করেন এবং দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক আরও জোরদার করার বিষয়ে আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
কুষ্টিয়া ও মেহেরপুর জেলার সীমান্তবর্তী এলাকায় পৃথক অভিযান চালিয়ে ভারতীয় মদ ও জিরা উদ্ধার করেছে কুষ্টিয়া ব্যাটালিয়ন (৪৭ বিজিবি)।
বুধবার ও বৃহস্পতিবার (০৭ ও ০৮ জানুয়ারি) পরিচালিত এসব অভিযানে মালিকবিহীন অবস্থায় আনুমানিক ৮৪ হাজার ৫০০ টাকা মূল্যের চোরাচালানী মালামাল জব্দ করা হয়।
বৃহস্পতিবার দুপুরে বিজিবির পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, সকাল ১০টার দিকে জয়পুর বিওপির একটি চৌকস টহল দল কলনিপাড়া মাঠ এলাকায় অভিযান পরিচালনা করে। সীমান্ত পিলার ১৫২/২-এস হতে বাংলাদেশের অভ্যন্তরে পরিচালিত এই অভিযানে ১৩ বোতল ভারতীয় মদ উদ্ধার করা হয়, যার আনুমানিক বাজারমূল্য ১৯ হাজার ৫০০ টাকা।
এর আগে, বুধবার (০৭ জানুয়ারি) রাতে একই বিওপির আওতাধীন মহিষকুন্ডি মাঠপাড়া এলাকায় অভিযান চালিয়ে বিজিবি ৩৬ হাজার টাকা মূল্যের ২৪ বোতল ভারতীয় মদ উদ্ধার করে।
এছাড়া, বুধবার দুপুরে মেহেরপুর জেলার গাংনি উপজেলার কাজীপুর বিওপির দায়িত্বপূর্ণ বর্ডার পাড়া মাঠ এলাকায় পৃথক আরেকটি অভিযানে মালিকবিহীন অবস্থায় ২৯ কেজি ভারতীয় জিরা উদ্ধার করা হয়। উদ্ধারকৃত জিরার আনুমানিক বাজারমূল্য ২৯ হাজার টাকা।
বিজ্ঞপ্তিতে আরও জানানো হয়, উদ্ধারকৃত মাদকদ্রব্য ধ্বংসের জন্য ব্যাটালিয়ন স্টোরে জমা রাখা হয়েছে এবং অন্যান্য চোরাচালানী পণ্য কুষ্টিয়া কাস্টমস অফিসে জমা দেওয়ার প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।
কুষ্টিয়া ব্যাটালিয়ন (৪৭ বিজিবি)-এর অধিনায়ক বলেন, সীমান্ত নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এবং মাদক ও চোরাচালান প্রতিরোধে বিজিবি সর্বদা কঠোর অবস্থানে রয়েছে। দেশের অভ্যন্তরে অবৈধ পণ্যের প্রবেশ রোধ ও অপরাধ দমনে ভবিষ্যতেও এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে।
ভোলার বোরহানউদ্দিন থানা পুলিশের মাদক বিরোধী বিশেষ অভিযানে এক ইয়াবা ডিলারকে গ্রেপ্তার করেছে বোরহানউদ্দিন থানা পুলিশ।
বৃহস্পতিবার সকাল ৯ টায় বোরহানউদ্দিন উপজেলার কুঞ্জেরহাট বাজারের বিসমিল্লাহ হোটেলের পিছনের কেবিন থেকে ৯৫০ পিস ইয়াবা সহ তাকে আটক করেন বোরহানউদ্দিন থানার উপ-পরিদর্শক মো: মেহেদী হাসান ও সহকারী উপ-পরিদর্শক আবু সাইদ বাবুলের নেতৃত্বে থানা পুলিশের একটি ছদ্মবেশী টিম।
আটককৃত ইয়াবা ডিলার ওমর আলী (২৭) চরফ্যাশন পৌর শহরের ৩ নম্বর ওয়ার্ডের দক্ষিণ ফ্যাশন এলাকার মৃত মো: শাহজাহান এর পুত্র।
পুলিশ সূত্রে জানা যায়, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে পুলিশের একটি ছদ্মবেশী টিম ইয়াবা ডিলার ওমর কে ধরতে ফাদ পাতে উপজেলার কুঞ্জেরহাট বাজার এলাকায়। এসময় ওমর পুলিশের পাতা ফাদে আটকিয়ে পড়লে স্থানীয়দের সামনে তার দেহ তল্লাশি করে ৯শত ৫০পিস ইয়াবাসহ তাকে আটক করা হয়। ওমরের কাছ থেকে উদ্ধারকৃত ইয়াবার বাজার মূল্য ২ লাখ ৮৫ হাজার টাকা।
বোরহানউদ্দিন থানার অফিসার ইনচার্জ মনিরুজ্জামান দৈনিক বাংলাকে জানান, ভোলা জেলা পুলিশ সুপারের নির্দেশে মাদকবিরোধী অভিযানের অংশ হিসেবে, বোরহানউদ্দিন থানা পুলিশের একটি ছদ্মবেশী টিম মাদক ব্যবসায়ী ওমর আলীকে ফাদ পেতে গ্রেপ্তার করে। এ সময় তার কাছ থেকে ৯শত ৫০ পিস ইয়াবা উদ্ধার করা হয়। তার বিরুদ্ধে মাদক আইনে মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে।
শরীয়তপুরের জাজিরা উপজেলায় গভীর রাতে বোমা তৈরির সময় এক ভয়াবহ বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটেছে। এতে সোহান ব্যাপারী নামে ২০ বছর বয়সী এক যুবক ঘটনাস্থলেই নিহত হয়েছেন এবং আরও অন্তত দুইজন গুরুতর আহত হয়েছেন। বুধবার দিবাগত রাত সাড়ে ৩টার দিকে জাজিরা উপজেলার বিলাসপুর ইউনিয়নে এই বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে। বিস্ফোরণের তীব্রতা এতই বেশি ছিল যে সোহানের মরদেহটি ছিন্নভিন্ন হয়ে যায় এবং পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে কিছুটা দূরে একটি ফসলি জমি থেকে তাঁর মরদেহ উদ্ধার করে। আহতদের অবস্থাও আশঙ্কাজনক হওয়ায় উন্নত চিকিৎসার জন্য তাঁদের দ্রুত ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।
স্থানীয় বাসিন্দাদের সূত্রে জানা গেছে, বিলাসপুর ইউনিয়ন পরিষদের বর্তমান চেয়ারম্যান কুদ্দুস ব্যাপারীর বাড়ির পাশেই তাঁর ভাই নুরুল ইসলাম ব্যাপারীর একটি পরিত্যক্ত ঘর রয়েছে। সেখানেই একদল লোক গোপনে হাতবোমা বা ককটেল তৈরির কাজ করছিল বলে অভিযোগ উঠেছে। কাজ চলার সময় অসাবধানতাবশত একটি বোমার বিস্ফোরণ ঘটলে পুরো ঘরটি লণ্ডভণ্ড হয়ে যায় এবং বিকট শব্দে আশপাশের এলাকা কেঁপে ওঠে। নিহত সোহান ব্যাপারী জাজিরার চেরাগ আলী বেপারিকান্দি এলাকার দেলোয়ার ব্যাপারীর ছেলে। ঘটনার পর পুরো এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্য ও আতঙ্কের সৃষ্টি হয়েছে।
জাজিরা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. সালেহ আহমেদ ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানিয়েছেন যে, পুলিশ খবর পাওয়ার পরপরই দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে এবং নিহত যুবকের মরদেহ উদ্ধার করে। তবে আহত বাকি দুজনের পরিচয় এবং তাঁরা ঠিক কী উদ্দেশ্যে সেখানে বোমা তৈরি করছিলেন সে বিষয়ে বিস্তারিত তদন্ত চলছে। পুলিশ বিস্ফোরণের স্থানটি ঘিরে রেখেছে এবং এই ঘটনার নেপথ্যে অন্য কারো ইন্ধন আছে কি না তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। বর্তমানে বিলাসপুর এলাকার পরিস্থিতি পুলিশের পূর্ণ নিয়ন্ত্রণে রয়েছে এবং নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে।
পেনশন ও বেতন সমতাকরণের নথি ছাড় করতে ১ লাখ ২০ হাজার টাকা ঘুষ নেওয়ার সময় যশোরের জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো. আশরাফুল আলমকে হাতেনাতে আটক করেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। পরে তার বিরুদ্ধে দণ্ডবিধির ১৬১ ধারা এবং দুর্নীতি প্রতিরোধ আইন, ১৯৪৭-এর ৫(২) ধারায় দুদকের সমন্বিত জেলা কার্যালয় যশোরে মামলা করা হয়েছে। সংস্থাটির সহকারী পরিচালক তানজির আহমেদ বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
দুদক সূত্র জানিয়েছে, অভিযোগকারী মো. নূরুন্নবী লিখিতভাবে জানান, আশরাফুল আলম পেনশন ও বেতন সমতাকরণের নথি ছাড় করতে তার কাছে ১ লাখ ২০ হাজার টাকা ঘুষ দাবি করেন। প্রাথমিক তদন্তে অভিযোগের সত্যতা পায় দুদক।
সংস্থাটি বলছে, অভিযোগের বিষয়ে কমিশনের অনুমোদনে একটি ফাঁদ মামলা পরিচালনার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। পরিকল্পনা অনুযায়ী, বুধবার (৭ জানুয়ারি) বেলা দেড়টার দিকে নিরপেক্ষ সাক্ষীদের উপস্থিতিতে ঘুষের জন্য নির্ধারিত ১ লাখ ২০ হাজার টাকা অভিযোগকারীর জিম্মায় দেওয়া হয়।
পরে বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে অভিযোগকারী জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা আশরাফুল আলমের কার্যালয়ে গিয়ে তাকে ঘুষের টাকা দেন। আসামি টাকা নিয়ে নিজের টেবিলের ড্রয়ারে রাখেন।
দুদক জানায়, ফাঁদের পরিকল্পনা অনুসারে ঘটনার খবর পেয়ে তাৎক্ষণিকভাবে দুদকের দল অভিযান পরিচালনা করে। নিরপেক্ষ সাক্ষীদের উপস্থিতিতে ওই টেবিলের ড্রয়ার থেকে ঘুষের ১ লাখ ২০ হাজার টাকা উদ্ধার করা হয়।
দেশের ৩৫ জেলায় নিপাহ ভাইরাসের সংক্রমণ শনাক্ত হয়েছে এবং এর বিস্তার ও সংক্রমণের ধরন উদ্বেগজনক হারে পরিবর্তন হচ্ছে বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছে আইইডিসিআর। সংস্থাটি জানিয়েছে, গত বছর রেকর্ড করা চারটি কেসের সব কটিতেই ১০০ শতাংশ মৃত্যুর পাশাপাশি প্রথমবারের মতো একটি ‘অ-মৌসুমি কেস’ পাওয়া গেছে।
বুধবার (৭ জানুয়ারি) দুপুরে আইইডিসিআরের মিলনায়তনে ‘নিপাহ ভাইরাসের বিস্তার ও ঝুঁকি বিষয়ে মতবিনিময়’ শীর্ষক সভায় উপস্থাপিত প্রবন্ধে সংস্থাটির বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা শারমিন সুলতানা এ তথ্য জানান।
উপস্থাপিত প্রবন্ধে দেখা যায়, ২০২৫ সালে নওগাঁ, ভোলা, রাজবাড়ী ও নীলফামারী— এই চার জেলায় চারজন নিপাহ রোগী শনাক্ত হন এবং প্রত্যেকেই মৃত্যুবরণ করেন। এদের মধ্যে নওগাঁর ৮ বছরের এক শিশুর ঘটনাটি ছিল দেশে প্রথম ‘অ-মৌসুমি নিপাহ কেস’, যা শীতকাল ছাড়াই আগস্ট মাসে শনাক্ত হয়। ওই শিশুর সংক্রমণের উৎস ছিল বাদুড়ের আধা-খাওয়া ফল (কালোজাম, খেজুর, আম) খাওয়া, যা নিপাহ ছড়ানোর একটি নতুন ও এলার্মিং হিসেবে চিহ্নিত হয়েছে।
নিপাহ ভাইরাসের ব্যাপক বিস্তার ঘটছে উল্লেখ করে বলা হয়, দেশের ৬৪ জেলার মধ্যে ৩৫টিতেই নিপাহ ভাইরাসের উপস্থিতি শনাক্ত হয়েছে। ফরিদপুর, রাজবাড়ী, নওগাঁ ও লালমনিরহাটে সংক্রমণ ও মৃত্যুর হার তুলনামূলকভাবে বেশি। গত বছর শনাক্ত ৪ জনের সবাই মারা গেছেন (মৃত্যুর হার ১০০%)। গ্লোবালি নিপাহ ভাইরাসে আক্রান্তদের গড় মৃত্যুহার প্রায় ৭২%।
প্রবন্ধে আরও বলা হয়, ঐতিহাসিকভাবে খেজুরের কাঁচা রসকে প্রধান উৎস মনে করা হলেও ২০২৫ সালে নওগাঁর কেস প্রমাণ করে, বাদুড়ের লালা বা মূত্রে দূষিত যে কোনো আধা-খাওয়া ফল সরাসরি খাওয়ার মাধ্যমেও সংক্রমণ ঘটতে পারে এবং সারা বছরই তা সম্ভব। মানুষ থেকে মানুষে সংক্রমণ ঘটে উল্লেখ করে আরও বলা হয়, প্রায় ২৮% ক্ষেত্রে নিপাহ আক্রান্ত ব্যক্তি থেকে সরাসরি অন্য ব্যক্তিতে সংক্রমণ ছড়ায়, যা স্বাস্থ্যকর্মী ও পরিবারের সদস্যদের জন্য উচ্চ ঝুঁকি তৈরি করে।
সভায় সভাপতিত্ব করেন আইইডিসিআরের পরিচালক অধ্যাপক ডা. তাহমিনা শিরীন। এসময় তিনি বলেন, ‘২০২৫ সালের অ-মৌসুমি কেস এবং নতুন সংক্রমণ পথ আমাদের জন্য একটি বড় ওয়ার্নিং সিগন্যাল। নিপাহ এখন শুধু শীত বা খেজুরের রসের মধ্যে সীমাবদ্ধ নেই। এটা একটি সারা বছরের এবং বহুমুখী সংক্রমণের হুমকিতে পরিণত হচ্ছে।’
নিপাহ ভাইরাস জরিপ সমন্বয়কারী ডা. সৈয়দ মঈনুদ্দিন সাত্তার জানান, ঝুঁকিপূর্ণ জেলাগুলোতে নজরদারি জোরদার করা হয়েছে এবং সংশ্লিষ্ট হাসপাতালগুলোকে প্রস্তুত থাকতে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
সভায় আরও জানানো হয়, গত বছর ২০২৪ সালে দেশে নিপাহ ভাইরাসে ৫ জন আক্রান্ত হয়েছিলেন এবং তাদের সবারই মৃত্যু হয়েছিল। ২০২৫ সালের তথ্য এবং নতুন সংক্রমণ পথের আবিষ্কার নিপাহ মোকাবিলায় বাংলাদেশের স্বাস্থ্য ব্যবস্থাকে আরও সতর্ক ও প্রস্তুত থাকার আহ্বান জানাচ্ছে বলে বিশেষজ্ঞরা মত দেন।
কারসাজি করে দাম বেশি নিয়ে এবার কমিশন বৃদ্ধি এবং বিইআরসির দাম ঘোষণা বন্ধসহ ৬ দফা দাবিতে সরকারকে ২৪ ঘণ্টার আল্টিমেটাম দিয়েছে এলপিজি ব্যবসায়ী সমবায় সমিতি। দেশে তরলীকৃত পেট্রোলিয়াম গ্যাসের (এলপিজি) চরম সংকট চলছে বলে দাবি করে ব্যবসায়ীরা ২৪ ঘণ্টার মধ্যে দাবি পূরণ না হলে সারা দেশে অনির্দিষ্টকালের জন্য এলপিজি সরবরাহ ও বিক্রি বন্ধ রাখার হুঁশিয়ারি দিয়েছেন।
বুধবার (৭ জানুয়ারি) জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এলপি গ্যাস ব্যবসায়ী সমবায় সমিতির নেতারা এই আলটিমেটাম দেন।
সংবাদ সম্মেলনে সমিতির সভাপতি সেলিম খান জানান, বর্তমানে দেশে ২৭টি কোম্পানির প্রায় সাড়ে ৫ কোটি এলপিজি সিলিন্ডার বাজারজাত করা হয়েছে। কিন্তু উদ্বেগের বিষয় হলো, এর মধ্যে মাত্র ১ কোটি ২৫ লাখ সিলিন্ডারে গ্যাস রিফিল হচ্ছে। অন্য ৪ কোটি ২৫ লাখ সিলিন্ডারই বর্তমানে খালি পড়ে আছে।
গৃহস্থালি, শিল্প ও বাণিজ্যিক কাজে ব্যবহৃত লিকুইফাইড পেট্রোলিয়াম (এলপি) গ্যাসের চলমান সংকট ও অব্যবস্থাপনা নিরসনের দাবিতে এই কর্মসূচির আয়োজন করা হয়।
মানববন্ধনে এলপি গ্যাস ব্যবসায়ী সমবায় সমিতি লিমিটেডের সভাপতি সেলিম খান বলেন, দেশে বর্তমানে এলপি গ্যাসের চরম সংকট চলছে। এই পরিস্থিতিতে বিইআরসি পরিবেশকদের সঙ্গে কোনো আলোচনা ছাড়াই নতুন মূল্য নির্ধারণ করায় কোম্পানি, পরিবেশক ও ভোক্তারা চরম বিপর্যয়ে পড়েছেন। সংকট নিরসনের পরিবর্তে মূল্য নিয়ে অযথা বিতর্ক তৈরি করা হচ্ছে।
তিনি অভিযোগ করেন, অনভিজ্ঞ ভোক্তা অধিদপ্তরের অভিযানের কারণে বাজারে আতঙ্ক সৃষ্টি হয়েছে, যা সংকটকে আরও তীব্র করছে এবং অনেক ব্যবসায়ীকে ব্যবসা বন্ধে বাধ্য করছে।
সেলিম খান বলেন, বিইআরসি মাসে একবার মূল্য ঘোষণা করলেও কোম্পানিগুলো একাধিকবার মূল্য সমন্বয় করে, যার পুরো দায় পরিবেশকদের বহন করতে হয়। এ সমস্যা সমাধানে স্থায়ী কমিটি গঠন এবং পরিবেশক ও রিটেইলার কমিশন বৃদ্ধির দাবি জানাচ্ছি।
সংগঠনের পক্ষ থেকে জানানো হয়, দেশে বর্তমানে প্রায় ৫ কোটি ৫০ লাখ সিলিন্ডার থাকলেও মাত্র ১ কোটি ২৫ লাখ সিলিন্ডার রিফিল হচ্ছে। চাহিদার তুলনায় ৬০ শতাংশ ঘাটতি থাকায় পরিবেশকদের অতিরিক্ত খরচ বাড়ছে, যার ফলে মূল্যবৃদ্ধি ঘটছে। অনেক কোম্পানি বন্ধ হয়ে যাওয়ায় পরিবেশকরা দেউলিয়া হওয়ার পথে। এ অবস্থায় নিষ্ক্রিয় সিলিন্ডারে ভর্তুকি ও নিরবচ্ছিন্ন গ্যাস সরবরাহ নিশ্চিত করতে সরকারি হস্তক্ষেপ জরুরি বলে মনে করেন ব্যবসায়ীরা।
সমিতির সভাপতি হুঁশিয়ারি দিয়ে আরও বলেন, আগামী ২৪ ঘণ্টার মধ্যে বিইআরসি যদি পরিবেশকদের সমন্বয়ে নতুন মূল্য নির্ধারণ না করে এবং প্রশাসনের হয়রানি ও জরিমানা বন্ধ না হয়, তবে ৮ জানুয়ারি থেকে অনির্দিষ্টকালের জন্য সারাদেশে এলপি গ্যাস সরবরাহ ও বিপণন বন্ধ থাকবে।
নরসিংদীর পলাশে মুদি ব্যবসায়ী মনি চক্রবর্তী (৪২) হত্যার ঘটনায় প্রতিবাদ ও বিচারের দাবিতে মানববন্ধন করেছে জেলা পূজা উদযাপন ফ্রন্ট। বুধবার (৭ জানুয়ারি) সকালে নরসিংদী প্রেসক্লাবের সামনে এই মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়। এতে জেলা পূজা উদযাপন ফ্রন্টের সদস্য, নিহত মনি চক্রবর্তীর স্বজন, এলাকাবাসীসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতারা অংশগ্রহণ করেন। মানববন্ধনে বক্তারা দ্রুত সময়ে মনি চক্রবর্তী হত্যাকারীদের চিহ্নিত করাসহ তাদের বিচারের এবং সকল ব্যবসায়ীসহ সাধারণ মানুষের নিরাপত্তার দাবি জানান। এ ছাড়া দ্রুত সময়ে হত্যাকারীদের গ্রেপ্তার না করলে আরও কঠোর আন্দোলনের হুঁশিয়ারিও দেন বক্তারা।
নরসিংদী পূজা উদযাপন ফ্রন্টের সভাপতি দীপক কুমার বর্মণ প্রিন্সের সভাপতিত্বে মানববন্ধনে বক্তব্য রাখেন, নরসিংদী পূজা উদযাপন ফ্রন্টের উপদেষ্টা দীপঙ্কর সাহা রানা, যুগ্ম আহ্বায়ক সঞ্জয় ধর, নরসিংদী শহর যুবদলের আহ্বায়ক মাহমুদ হোসেন চৌধুরী সুমন, অ্যাড. তুষার মিত্র, রায়পুরা উপজেলা পূজা উদযাপন ফ্রন্টের আহ্বায়ক মিঠু বর্মণ, সদস্য সচিব সঞ্জয় সাহা, বেলাব উপজেলা পূজা উদযাপন ফ্রন্টের আহ্বায়ক রাখাল চন্দ্র বিশ্বাস, সদস্য সচিব বাবুল বিশ্বাস প্রমুখ। এর আগে গত সোমবার রাতে নিজ ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান থেকে বাড়ি ফেরার পথে নরসিংদীর পলাশ উপজেলার চরসিন্দুর ইউনিয়নের সুলতানপুর গ্রামে নিজ বাড়ির পাশে দুর্বৃত্তের গুলিতে খুন হয় মনি চক্রবর্তী।
পলাশ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শাহেদ আল মামুন বলেন, এ হত্যার ঘটনায় নিহতের বাবা মদন চক্রবর্তী অজ্ঞাত পরিচয়ে আসামিদের নামে হত্যা মামলা দায়ের করেছে। এ ঘটনায় কয়েকজনকে সন্দেহভাজন হিসেবে আটক করা হয়েছে। তদন্তের স্বার্থে তাদের পরিচয় পরে প্রকাশ করা হবে। হত্যাকাণ্ডের রহস্য উদঘাটনে পুলিশ কাজ করছে।
সিরাজগঞ্জ প্রাথমিক দুটি তাঁতি সমিতির মাঝে বিনা শুল্কে রং ও রাসায়নিক কেমিক্যাল বিতরণ করা হয়েছে। বুধবার (৭ জানুয়ারি) সকলে পৌর এলাকার মিরপুরে অবস্থিত বাংলাদেশ তাঁত বোর্ড বেসিক সেন্টারে এ বিতরণ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন- সিরাজগঞ্জ সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. মামুন খাঁন।
বাংলাদেশ তাঁত বোর্ডের আয়োজনে ও ভাঙ্গাবাড়ী ৩নং ইউনিয়ন তাঁত বোর্ডের সভাপতি জাহিদুল ইসলাম বাতেনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে সায়দাবাদ ইউনিয়নে ৩নং ওয়ার্ড ও বেলকুচি উপজেলার ভাঙ্গাবাড়ী ইউনিয়নে ২নং ওয়ার্ডের ১৬০ জন তাঁতিদের মাঝে এ রাসায়নিক কেমিক্যাল বিতরণ করা হয়। এ সময় সায়দাবাদ ইউনিয়নে ৩নং ওয়ার্ডের ১৩২ জনের মাঝে ১০,১৭,৫০০ কেজি ও ভাঙ্গাবাড়ী ইউনিয়নে ২নং ওয়ার্ডের ২৮ জনের তাঁতিদের মাঝে ৩,৮৫,০০০ কেজি রাসায়নিক কেমিক্যাল বিতরণ করা হয়।
বিতরণ অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন, তাঁত সমিতির ট্যাগ অফিসার (অপারেশন) মো. মনজুরুল ইসলাম, ট্যাগ অফিসার (রক্ষণাবেক্ষন) মো. সাইফুল ইসলাম, বাংলাদেশ তাঁত বোর্ডের সহকারী ব্যবস্থাপক রবিউল ইসলাম, সমিতির কর্মকর্তা আরিফ বিল্লাহ আল মামুন প্রমুখ।
এদিকে বিনা শুল্কে তাঁত বোর্ডের রং ও রাসায়নিক কেমিক্যাল পেয়ে উচ্ছ্বসিত তাঁতিরা। তারা বলেন, সরকার তাঁতিদের দিকে এভাবে সু-নজর দিলে সিরাজগঞ্জে তাঁতশিল্প আবার প্রাণ ফিরে আসবে।
দেশজুড়ে জেঁকে বসেছে শীত। উত্তরের হিমেল হাওয়া আর ঘন কুয়াশার চাদরে ঢাকা পড়েছে ভোরের সূর্য। হাড়কাঁপানো এই শীতে স্থবির হয়ে পড়েছে সাধারণ মানুষের স্বাভাবিক জীবনযাপন ব্যবস্থা। বুধবার (৭ জানুয়ারি) দেশের সর্বনিম্ন তাপমাত্রা নওগাঁ ৬.৭ ডিগ্রিতে কেঁপেছে। এ ছাড়া পঞ্চগড়ের তেঁতুলিয়ায় তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে ৭ দশমিক ৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস। উত্তরের হিম বাতাস ও বাতাসে আর্দ্রতার পরিমাণ বেশি থাকায় তীব্র ঠাণ্ডায় বিপর্যস্ত এই জনপদের জনজীবন। লোকজন কাজের জন্য বাইরে বের হতে পারছে না। ফলে তাদের আয় কমেছে। লোকজন খড়কুটো জ্বালিয়ে শীত নিবারণের চেষ্টা করছেন। এ ছাড়া বেড়েছে ঠাণ্ডাজনিত রোগীর সংখ্যাও। প্রতিনিধিদের পাঠানো খবরে বিস্তারিত;
নওগাঁ প্রতিনিধি: উত্তরের জেলা নওগাঁয় জেঁকে বসেছে তীব্র শীত। হিমেল হাওয়া ও ঘন কুয়াশার কারণে জনজীবনে চরম ভোগান্তি নেমে এসেছে। বুধবার (৭ জানুয়ারি) সকাল ৯টায় নওগাঁ জেলায় সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে ৬ দশমিক ৭ ডিগ্রি সেলসিয়াস, যা চলতি মৌসুমে এ জেলার সর্বনিম্ন।
স্থানীয়রা জানান, ভোর থেকেই চারপাশ ঘন কুয়াশায় আচ্ছন্ন হয়ে পড়ে। সঙ্গে উত্তর দিক থেকে বয়ে আসা হিমেল হাওয়ায় শীতের তীব্রতা আরও বেড়েছে। গত ৫ দিন সূর্যের দেখা মিলছে না এ জেলায়। রাত বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে শীতের প্রকোপও বাড়তে থাকে। এতে সবচেয়ে বেশি দুর্ভোগে পড়েছেন ছিন্নমূল মানুষ ও দিনমজুর শ্রেণির মানুষ।
রিকশাচালক সাজ্জাত হোসেন বলেন, ‘গত ৫ দিন সূর্যের দেখা নেই। আজ (বুধবার) শীত আরও বেশি। সকালে রাস্তায় যাত্রীই পাওয়া যাচ্ছে না। কুয়াশার কারণে পাঁচ হাত দূরের কিছুই দেখা যাচ্ছে না।’
সদর উপজেলার চকপ্রসাদ এলাকার বাসিন্দা রফিকুল আলম জানান, ঘন কুয়াশা ও হিমেল হাওয়ায় শীত কয়েকগুণ বেশি অনুভূত হচ্ছে। আজ (বুধবার) সকাল থেকে শীত আরও বেড়েছে। মন না চাইলেও পেটের দায়ে কাজে বের হতে হচ্ছে।’
নওগাঁর বদলগাছী কৃষি আবহাওয়া পর্যবেক্ষণাগারের কর্মকর্তা মিজানুর রহমান বলেন, ‘বুধবার (৭ জানুয়ারি) সকাল ৯টায় নওগাঁ জেলায় ৬ দশমিক ৭ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে। আগেরদিন তাপমাত্রা ছিল ৭ দশমিক ৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস। অর্থাৎ ২৪ ঘণ্টার ব্যবধানে তাপমাত্রা আরও কমেছে। উত্তর দিক থেকে হিমেল হাওয়া অব্যাহত থাকলে শীত আরও বাড়তে পারে।
তেঁতুলিয়া (পঞ্চগড়) প্রতিনিধি: পঞ্চগড়ের তেঁতুলিয়ায় প্রচণ্ড, শৈত্যপ্রবাহে জনজীবন বিপর্যস্ত দুর্ভোগে পড়েছে। বুধবার (৭ জানুয়ারি) সকালে তেঁতুলিয়ায় ৭ দশমিক ৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে। গত মঙ্গলবার তাপমাত্রা ছিল ৮ দশমিক ৫ ডিগ্রি । এর আগে তাপমাত্রার কিছুটা পরিবর্তন হলে ১০ থেকে ১৫-তে ওঠানামা করছে।
পঞ্চগড়সহ কয়েকটি জেলার ওপর দিয়ে মৃদু শৈত্যপ্রবাহ বয়ে চলছে। এদিকে সারা দিন ঘন কুয়াশায় দুই দিনে পর সূর্যের দেখা মিলেছে।
এখনো শীতার্ত মানুষের মধ্যে প্রয়োজনীয় শীতবস্ত্র বিতরণ করতে তেমন চোখে পড়েননি। সরকারিভাবে যতটুকু বরাদ্দ পাওয়া গেছে, তা প্রয়োজনের তুলনায় অপ্রতুল। ঠাণ্ডার কারণে সাধারণ মানুষ কাজকর্ম করতে পারছে না। ঘন কুয়াশা ও কনকনে ঠাণ্ডার প্রভাবে বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে উত্তরের জেলা হিমালয়কন্যা পঞ্চগড়ের তেঁতুলিয়ার জনজীবন।
চিকিৎসকদের মতে, শীতজনিত রোগে সবচেয়ে বেশি ভুগছে শিশু ও বয়স্করা। এদিকে ঘন কুয়াশার কারণে দিনের বেলায় মহাসড়কে হেডলাইট জ্বালিয়ে যানবাহন চলাচল করতে দেখা গেছে।
তেঁতুলিয়া আবহাওয়া অফিসের আবহাওয়া ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা জীতেন্দ্রনাথ রায় জানান, বুধবার (৭ জানুয়ারি) সকালে তেঁতুলিয়ায় তাপমাত্রা ৭ দশমিক ৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস রেকর্ড করা হয়েছে। যা গতকালের (মঙ্গলবার) তুলনায় ১ ডিগ্রি কম। এভাবে কমতে থাকলে আগামী কয়েকদিন শীতের প্রকোপ আরও বৃদ্ধি পাবে।
তেঁতুলিয়া উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো. আফরোজ শাহীন খসরু জানান, সরকারিভাবে তেঁতুলিয়া উপজেলার জন্য যতটুকু শীতবস্ত্র বরাদ্দ পাওয়া গেছে, তা প্রয়োজনের তুলনায় খুবই কম। তাই তেঁতুলিয়া সরকারি -বেসরকারী এনজিওসহ বিভিন্ন সংস্থাকে এগিয়ে আসার আহ্বান জানান।
তেঁতুলিয়া হাসপাতালের ভারপ্রাপ্ত আবাসিক মেডিকেল অফিসার ডা. শাকিল রহমান জানান, শিশু ও বয়স্কদের প্রতি বাড়তি যত্ন নেওয়ার পাশাপাশি গরম কাপড় ব্যবহার এবং শীতজনিত কোনো উপসর্গ দেখা দিলে দেরি না করে দ্রুত তেঁতুলিয়া জরুরি বিভাগের চিকিৎসকের
কাছে আসতে বলেন।
পঞ্চগড় জেলা ত্রাণ ও পুনর্বাসন কর্মকর্তা মোহাম্মদ আসিফ আলী বলেন, ‘জেলায় শীতার্ত মানুষের জন্য ২১ হাজার ১৪০ পিস কম্বল বরাদ্দ পাওয়া গেছে, যা ইতোমধ্যে পাঁচটি উপজেলায় বিতরণ করা হয়েছে। এ ছাড়া বাড়তি শীতবস্ত্র চেয়ে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে চিঠি দেওয়া হয়েছে।’
তেঁতুলিয়া উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা মাইদুল ইসলাম জানান, তেঁতুলিয়া উপজেলা ৭টি ইউনিয়ন রয়েছে। সকল ইউপির চেয়ারম্যানের কাছে সরকারিভাবে কম্বল বিতরণ জন্যে প্রেরণ করা হয়েছে। তেঁতুলিয়া গ্রামের ছিন্নমূল অসহায় মানুষ প্রভাবশালী মানুষের নিকট শীতবস্ত্র পাওনার জন্যে ধন্না দিতেছে।
তেঁতুলিয়া সদর ইউনিয়ন পরিষদ ইউপির প্যানেল চেয়ার ম্যান মনছুর আলী জানান, সরকারিভাবে পরিষদে মোট কম্বল পেয়েছি ২২৬টি কিন্তু জনসংখ্যার বিপরিতে খুবই কম।
ফরিদপুর প্রেসক্লাবের নবনির্বাচিত কার্যনির্বাহী কমিটির সাথে মতবিনিময় সভা করেছেন ফরিদপুরের পুলিশ সুপার (এসপি) মো. নজরুল ইসলাম।
বুধবার (৭ জানুয়ারি) বেলা ১১টার দিকে ফরিদপুর পুলিশ সুপারের সম্মেলন কক্ষে আয়োজিত এ মতবিনিময় সভায় নবনির্বাচিত কমিটির সদস্যদের হাতে ফুল দিয়ে শুভেচ্ছা জানানো হয়।
পুলিশ সুপার নজরুল ইসলাম বলেন, ‘জেলার আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নয়ন, সন্ত্রাস ও মাদক দমন এবং আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচন সুন্দর ও সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন করতে গণমাধ্যমের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তিনি এ ক্ষেত্রে ফরিদপুর প্রেসক্লাবের সাংবাদিকদের সর্বাত্মক সহযোগিতা কামনা করেন।’
তিনি আরও বলেন, ‘ফরিদপুরে পুলিশ প্রশাসন ও গণমাধ্যম একে-অপরের পরিপূরক। তাই জেলার সার্বিক উন্নয়ন ও জননিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সবাইকে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে কাজ করতে হবে।’ সমাজের ইতিবাচক পরিবর্তনে সাংবাদিকদের দায়িত্বশীল ভূমিকা অপরিহার্য বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
মতবিনিময় সভায় ফরিদপুর প্রেসক্লাবের সভাপতি কবিরুল ইসলাম সিদ্দিকী বলেন, ‘অতীতের মতো ভবিষ্যতেও পুলিশের সকল ইতিবাচক ও জনস্বার্থসংশ্লিষ্ট কর্মকাণ্ডে ফরিদপুর প্রেসক্লাব সর্বাত্মক সহযোগিতা অব্যাহত রাখবে।’ তিনি পুলিশ প্রশাসনের সঙ্গে প্রেসক্লাবের সুসম্পর্ক আরও দৃঢ় হবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
এ সময় ফরিদপুর প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক মাহবুব হোসেন পিয়াল, সহসভাপতি শেখ মনির হোসেন, নুরুল ইসলাম আনজু, আশরাফুজ্জামান দুলালসহ নবনির্বাচিত কার্যনির্বাহী কমিটির সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন। এ ছাড় অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (প্রশাসন ও অর্থ) মো. শামছুল আজম, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ডিএসবি) মো. রায়হান গফুর, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর সার্কেল) মো. আজমীর হোসেন, কোতোয়ালি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. শহিদুল ইসলাম, ট্রাফিক পরিদর্শক (টিআই) খোরশেদ আলমসহ পুলিশ প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
কুমিল্লা-৩ (মুরাদনগর) আসনের বিএনপির মনোনীত প্রার্থী, বিএনপির কেন্দ্রীয় কমিটির ভাইস চেয়ারম্যান ও সাবেক পাঁচবারের সংসদ সদস্য কাজী শাহ মোফাজ্জল হোসেন কায়কোবাদকে ঋণখেলাপি এবং তুরস্কের নাগরিক বলা নিয়ে সাবেক উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়ার বিতর্কিত ও আপত্তিকর বক্তব্যের প্রতিবাদে উত্তাল হয়ে উঠেছে মুরাদনগর। বুধবার (৭ জানুয়ারি) বিকেলে উপজেলা সদরে ঝাড়ু হাতে বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ করেছে বিএনপি ও সর্বস্তরের জনরা।
বিকেলে মুরাদনগর উপজেলা বিএনপির কার্যালয় থেকে ‘মুরাদনগরের সর্বস্তরের জনগণ’-এর ব্যানারে ঝাড়ু হাতে একটি মিছিল বের করা হয়। মিছিলটি উপজেলা সদরের প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ করে আল্লাহ চত্বরে গিয়ে এক সংক্ষিপ্ত কিন্তু তাৎপর্যপূর্ণ বিক্ষোভ সমাবেশে রূপ নেয়।
সমাবেশে বক্তারা অভিযোগ করে বলেন, সাবেক উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া নিজের দুর্নীতি ও বিতর্কিত কর্মকাণ্ড আড়াল করতেই জনপ্রিয় ও পরীক্ষিত নেতা কাজী শাহ মোফাজ্জল হোসেন কায়কোবাদের বিরুদ্ধে মিথ্যা, ভিত্তিহীন ও ষড়যন্ত্রমূলক বক্তব্য দিয়েছেন। বক্তারা বলেন, কায়কোবাদ দীর্ঘদিন ধরে মুরাদনগরের মানুষের আস্থার প্রতীক, তাকে রাজনৈতিকভাবে হেয় করতেই পরিকল্পিত অপপ্রচার চালানো হচ্ছে।
মুরাদনগর উপজেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক কামাল উদ্দিন ভূঁইয়া বলেন, ‘কায়কোবাদের বিরুদ্ধে মিথ্যাচার মেনে নেওয়া হবে না। ষড়যন্ত্র অব্যাহত থাকলে আরও কঠোর আন্দোলনের পথে যেতে বাধ্য হব।’
বিএনপি নেতা অ্যাডভোকেট তৌহীদ আহমেদ বলেন, ‘একজন সম্মানিত জাতীয় নেতাকে নিয়ে এমন দায়িত্বজ্ঞানহীন বক্তব্য রাজনৈতিক শিষ্টাচারের পরিপন্থি।’
সমাবেশ থেকে বক্তারা হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, কায়কোবাদের বিরুদ্ধে নতুন করে কোনো অপপ্রচার বা ষড়যন্ত্র চালানো হলে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক অবরোধসহ বৃহত্তর কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে।
এ সময় বক্তারা অভিযোগ করেন, কিছু সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও অনলাইন প্ল্যাটফর্মে উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে কায়কোবাদকে নিয়ে গুজব ছড়ানো হচ্ছে। এসব অপপ্রচারের বিরুদ্ধে প্রশাসনের জরুরি হস্তক্ষেপ ও নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জানানো হয়।
ভোলার লালমোহনে অটোরিকশাচালক আবু বক্কর সিদ্দিক (৫১) হত্যাকাণ্ডের রহস্য উদঘাটন করেছে জেলা পুলিশ। তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় এ ঘটনায় জড়িত মূল আসামিসহ তিনজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে উদ্ধার করা হয়েছে হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত ধারালো অস্ত্র ও একাধিক মোবাইল ফোন। বুধবার (৭ জানুয়ারি) দুপুরে ভোলার পুলিশ সুপার কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত এক প্রেস বিফ্রিংয়ে সাংবাদিকদের এ তথ্য জানান পুলিশ সুপার মো. শহিদুল্লাহ কাওছার।
গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন, মো. ইব্রাহিম (৩৬), রাজা মিয়া (৩২) এবং কাজী তারেক (৩৫)। তারা সকলে শশিভূষণ থানা এলাকার বাসিন্দা এবং আন্তজেলা ডাকাতদলের সক্রিয় সদস্য। তাদের নামে রাজধানী ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন থানায় একাধিক মামলা রয়েছে।
সংবাদ সম্মেলনে পুলিশ সুপার বলেন, ‘ঘটনার পর পুলিশের একটি চৌকস টিম তথ্যপ্রযুক্তি ব্যবহার করে হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে সরাসরি জড়িত মূল আসামি ইব্রাহিমকে আটক করে। পরে তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে আরও দুই আসামিকে গ্রেপ্তার করা হয়। গ্রেপ্তারকৃত আসামিদের কাছ থেকে হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত একটি চাকু এবং ৪টি মোবাইল ফোন উদ্ধার করা হয়।’
তিনি আরও বলেন, ‘অটোরিকশা ছিনতাইয়ের উদ্দেশ্যেই পরিকল্পিতভাবে যাত্রী সেজে আবু বক্কর সিদ্দিককে নির্জন এলাকায় নিয়ে হত্যা করে আসামিরা। হত্যার পর তার অটোরিকশাটি ছিনতাই করে পালিয়ে যায় দুর্বৃত্তরা। এই কাজে তাদের সঙ্গে ৭ জন জড়িত ছিল বলে প্রাথমিক জিজ্ঞেসাবাদে স্বীকার করেছে।
এ ঘটনার সঙ্গে জড়িত অন্যান্য পলাতক আসামিদের গ্রেপ্তার এবং ছিনতাইকৃত অটোরিকশাটি উদ্ধারে পুলিশের অভিযান অব্যাহত আছে বলেও জানান তিনি।
উল্লেখ, গত ৩০ ডিসেম্বর রাতে আবু বক্কর সিদ্দিক নামের এক অটোরিকশাচালককে কুপিয়ে হত্যা করে তার অটোরিকশাটি ছিনিয়ে নিয়ে দুর্বৃত্তরা।
বাংলাদেশের তিনবারের সাবেক সফল প্রধানমন্ত্রী, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয় (বাউবি)-এর প্রতিষ্ঠাতা চ্যান্সেলর ও দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার ইন্তেকালে তার প্রতি সর্বোচ্চ শ্রদ্ধা ও গভীর সম্মান প্রদর্শনের লক্ষ্যে বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের উদ্যোগে এক শোকসভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। বুধবার (৭ জানুয়ারি) বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় সম্মেলন ও প্রশিক্ষণ কেন্দ্রের অডিটোরিয়ামে এই শোকসভা অনুষ্ঠিত হয়। শোকসভায় সভাপতিত্ব করেন বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের মাননীয় উপাচার্য অধ্যাপক ড. এ বি এম ওবায়দুল ইসলাম। সভায় উপাচার্য সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও আপসহীন দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার বর্ণাঢ্য রাজনৈতিক জীবন গভীর শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করেন। তিনি বলেন, ‘গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারে তার দৃঢ় নেতৃত্ব, শিক্ষা ও মানবসম্পদ উন্নয়নে দূরদর্শী ভূমিকা এবং বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠায় তার ঐতিহাসিক অবদান জাতির ইতিহাসে চিরস্মরণীয় হয়ে থাকবে। সভায় প্রধান আলোচক হিসেবে বক্তব্য রাখেন, বাউবির সাবেক প্রো-উপাচার্য অধ্যাপক ড. এম এ বাশার।
বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রো-উপাচার্য (প্রশাসন) অধ্যাপক সাঈদ ফেরদৌস ও ট্রেজারার অধ্যাপক ড. আবুল হাসনাত মোহা. শামীম। অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য রাখেন, ডিনদের মধ্য থেকে সামাজিক বিজ্ঞান, মানবিক ও ভাষা স্কুলের অধ্যাপক তানভীর আহসান, শিক্ষকদের মধ্য থেকে কৃষি ও পল্লী উন্নয়ন স্কুলের অধ্যাপক ড. মো. আবু তালেব, পরিচালকদের মধ্য থেকে মিডিয়া বিভাগের পরিচালক শরীফ মো. শাহাবুদ্দীন, কর্মকর্তাদের মধ্য থেকে প্রশাসন বিভাগের যুগ্ম-পরিচালক মোহাম্মদ ছালাহ্উদ্দিন ভূঁইয়া ও কর্মচারীদের মধ্য থেকে মো. হুমায়ুন কবির বাদশা।
সঞ্চালনা করেন, বাউবির রেজিস্ট্রার (অতিরিক্ত দায়িত্ব) অধ্যাপক আনিছুর রহমান। শোকসভাটি অত্যন্ত আবেগঘন ও প্রাঞ্জল ভাষায় উপস্থাপনা করেন বাউবির রেজিস্ট্রার (অতিরিক্ত দায়িত্ব) অধ্যাপক মো. আনিছুর রহমান।
এ ছাড়া শোকসভার শুরুতে পবিত্র কোরআন থেকে তেলাওয়াত এবং মরহুমা বেগম খালেদা জিয়ার রুহের মাগফিরাত কামনা করে বিশেষ দোয়া মোনাজাত পরিচালনা করেন সামাজিক বিজ্ঞান, মানবিক ও ভাষা স্কুলের ইসলামিক স্টাডিজ বিভাগের অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ছাইদুল হক।