বুধবার, ৬ মে ২০২৬
২৩ বৈশাখ ১৪৩৩

নগদ কর্মচারীর হারানো দুই লাখ টাকা কয়েক ঘণ্টায় খুঁজে দিল পুলিশ

মো. রহিম উদ্দিনের হাতে টাকা তুলে দেন পুলিশ কর্মকর্তারা। ছবি: দৈনিক বাংলা
আপডেটেড
৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৩ ২২:০৩
প্রতিনিধি, চট্টগ্রাম
প্রকাশিত
প্রতিনিধি, চট্টগ্রাম
প্রকাশিত : ৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৩ ২১:২৫

মঙ্গলবার তিন মাস বয়সী শিশুর চিকিৎসার জন্য চট্টগ্রাম মেডিক্যাল কলেজ (চমেক) হাসপাতালে এসেছিলেন হাটহাজারীর বাসিন্দা মো. রহিম উদ্দিন। তার সঙ্গে থাকা ব্যাগে ছিল সদ্য ব্যাংক থেকে নেওয়া ঋণের এক লাখ ৯০ হাজার টাকা ও স্ত্রী-সন্তানের চিকিৎসাপত্র। হাসপাতালে স্ত্রী-সন্তানকে নিয়ে সিএনজি অটোরিকশা থেকে নামার সময় ভুলে ব্যাগটি গাড়িতেই ফেলে আসেন তিনি। বিষয়টি বুঝতে পারার পর যেন আকাশ ভেঙে পড়ে তার মাথায়। তৎক্ষণাৎ বিষয়টি হাসপাতালের দায়িত্বে থাকা আনসার সদস্যকে জানালে তারা পুলিশ ফাঁড়িতে জানানোর অনুরোধ করেন। তখন চমেক হাসপাতালের পুলিশ ফাঁড়িতে অভিযোগ জানান রহিম।

তার অভিযোগ পেয়ে তৎক্ষণাৎ বিষয়টি তদন্ত করে সত্যতা পায় পুলিশ। চমেক হাসপাতালের সিসিটিভি ফুটেজ পর্যালোচনা করে সিএনজি অটোরিকশাটির নম্বর সংগ্রহ করে তারা। চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশের (সিএমপি) ট্রাফিক বিভাগের সহযোগিতায় অটোরিকশাটি চিহ্নিত করে চালক ও মালিকের তথ্য সংগ্রহ করে পুলিশ। পরে চালকের সঙ্গে যোগাযোগ করে টাকা ও গুরুত্বপূর্ণ নথিসহ ব্যাগটি উদ্ধার করে ভুক্তভোগী রহিমের হাতে তুলে দেয় তারা।

এই বিষয়ে চট্টগ্রাম মেডিক্যাল কলেজ (চমেক) হাসপাতাল পুলিশ ফাঁড়ির দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা নুরুল আলম আশেক বলেন, ‘আমরা অভিযোগ পেয়ে তৎক্ষণাৎ ঘটনার সত্যতা পেয়েছি। এর পরপরই দ্রুত ট্রাফিক বিভাগের মাধ্যমে সিএনজি অটোরিকশাটি চিহ্নিত করি। পরে চালকের সঙ্গে যোগাযোগ করে তার কাছ থেকে ব্যাগটা উদ্ধার করা হয়েছে। শুরুতে চালক অস্বীকার করলেও একটু পর জিজ্ঞাসাবাদে স্বীকার যান তিনি।’

মোবাইল ব্যাংকিং সেবা নগদে সুপারভাইজার হিসেবে কাজ করেন ভুক্তভোগী রহিম উদ্দিন। তিনি জানান, বাচ্চার চিকিৎসা ও কিছু ব্যক্তিগত গুরুত্বপূর্ণ কাজের জন্য কয়েকদিন আগে ঋণটা নিয়েছিলেন পারিবারিকভাবে। মঙ্গলবার বেলা ১১টার দিকে বাচ্চার চিকিৎসার জন্য চমেক হাসপাতালে এসেছিলেন।

এক পাওনাদারকে কিছু টাকা দেওয়ার কথা ছিল, তাই সঙ্গে টাকাগুলো ব্যাগে নিয়েছিলেন। হাসপাতালে প্রবেশের পর ব্যাগ নেই দেখে মাথায় আকাশ ভেঙে পড়ে তার। পরে পুলিশকে জানালে তারা তৎক্ষণাৎ ব্যবস্থা নিয়ে টাকাটা উদ্ধার করে দেয়।

তিনি বলেন, ‘টাকাটা হারানোর পর দুনিয়াদারী অন্ধকার হয়ে আসছিল। পুলিশ দ্রুত টাকাটা উদ্ধার করে দিয়েছে, তাদের কাছে কৃতজ্ঞ আমি। বিশেষ করে উপপরিদর্শক সোহেল সাহেব অনেক কষ্ট করেছেন, ওনাকে অসংখ্য ধন্যবাদ।’

এই ঘটনায় পুলিশের প্রতি তার ধারণাই বদলে গেছে বলে জানান রহিম উদ্দিন।

বিষয়:

কালীগঞ্জে ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযান, অবৈধ মাটি কাটায় জরিমানা ও কারাদণ্ড

আপডেটেড ৬ মে, ২০২৬ ১৩:০৬
কালীগঞ্জ (গাজীপুর) প্রতিনিধি

গাজীপুরের কালীগঞ্জ উপজেলায় ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযানে অবৈধভাবে শীতলক্ষ্যা নদীর সীমায় মাটি কাটার দায়ে একটি প্রতিষ্ঠানকে জরিমানা এবং নেশাগ্রস্ত অবস্থায় জনশৃঙ্খলা বিনষ্টের দায়ে এক ব্যক্তিকে কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।

বুধবার (৬ মে ২০২৬) উপজেলার বরিহাটি, তুমলিয়া, ব্রাহ্মণগাঁও ও বক্তারপুর এলাকায় এ অভিযান পরিচালনা করেন সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট জাকিয়া সরওয়ার লিমা।

অভিযানে শীতলক্ষ্যা নদীর সীমার মধ্যে অনুমতি ছাড়া মাটি কাটার অপরাধে যমুনা স্পেসটেক জয়েন্টভেঞ্চার লিমিটেডের এইচআর অ্যাডমিন মো. সুজাত উদ্দিনকে বালুমহাল ও মাটি ব্যবস্থাপনা আইন, ২০১০ এর ১৫(১) ধারায় ২ লাখ টাকা জরিমানা করা হয়।

অন্যদিকে, ব্রাহ্মণগাঁও এলাকার মো. জহিরুল ইসলাম (৩৬) নেশাগ্রস্ত অবস্থায় জনসাধারণের শান্তি বিনষ্ট করায় মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইন, ২০১৮ এর ৩৬(৫) ধারায় তাকে ১ মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়।

ভ্রাম্যমাণ আদালতের এই অভিযানে মোট দুটি মামলা দায়ের করা হয়। এর মধ্যে একটিতে ২ লাখ টাকা অর্থদণ্ড আদায় করা হয়েছে এবং অপর মামলায় একজনকে কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।

অভিযানে প্রসিকিউটর হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন কালীগঞ্জ থানার এএসআই স্বপন কুমার পাল এবং বেঞ্চ সহকারী হিসেবে ছিলেন মাহবুবুল ইসলাম।

প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, জনস্বার্থে এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে।


চরফ্যাশনে ২ হাজার জেলে পেলেন খাদ্য সহায়তা

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
চরফ্যাশন (ভোলা) প্রতিনিধি

ইলিশের উৎপাদন বৃদ্ধি ও জেলেদের জীবনমান উন্নয়নে সরকারের যুগান্তকারী পদক্ষেপের অংশ হিসেবে ভোলার চরফ্যাশনে নিবন্ধিত জেলেদের মাঝে বিশেষ খাদ্য সহায়তা প্রদান করা হয়েছে। ‘ইলিশ সম্পদ উন্নয়ন ও ব্যবস্থাপনা (২য় সংশোধিত) প্রকল্প’-এর আওতায় বুধবার সকালে চরফ্যাশন উপজেলা পরিষদ চত্বরে এই মানবিক সহায়তার আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করা হয়।

উপজেলা প্রশাসনের আয়োজনে ও মৎস্য বিভাগের সহযোগিতায় উপজেলার মোট ২ হাজার নিবন্ধিত জেলে পরিবারের হাতে এই বিশাল খাদ্য সামগ্রী তুলে দেওয়া হয়। জনপ্রতি প্যাকেজে দেওয়া হয়েছে ১২ কেজি আটা, ৮ কেজি মসুর ডাল, ১৬ কেজি আলু, ১০ লিটার সয়াবিন তেল, ৪ কেজি চিনি এবং ৪ কেজি লবণ। উদ্বোধনী পর্ব শেষে উপজেলা অফিসার্স ক্লাব মিলনায়তনে সুশৃঙ্খলভাবে এই বিতরণ কাজ সম্পন্ন করা হয়।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রুমানা আফরোজের সভাপতিত্বে আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রধান বক্তা হিসেবে উপস্থিত ছিলেন উপজেলা সিনিয়র মৎস্য কর্মকর্তা জয়ন্ত কুমার অপু।

এসময় অতিথি হিসেবে জেলা মৎস্য কর্মকর্তা মোহাম্মদ ইকবাল হোসেন উপস্থিত ছিলেন।

সভাপতির বক্তব্যে ইউএনও রুমানা আফরোজ বলেন, 'ইলিশ আমাদের জাতীয় সম্পদ। এই সম্পদ রক্ষায় সরকার যখন মাছ ধরায় নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে, তখন যেন আমাদের শ্রমজীবী জেলে ভাইদের কষ্ট না হয়, সেটি নিশ্চিত করতেই এই উদ্যোগ। এই খাদ্য সহায়তা জেলেদের সংকটকালীন সময়ে টিকে থাকতে বড় ভূমিকা রাখবে।'

উপজেলা সিনিয়র মৎস্য কর্মকর্তা জয়ন্ত কুমার অপু জানান, কেবল খাদ্য সহায়তা নয়, জেলেদের বিকল্প কর্মসংস্থান ও ইলিশের অভয়াশ্রম রক্ষায় মৎস্য বিভাগ নিরলস কাজ করে যাচ্ছে। প্রকৃত জেলেরা যেন এই সুবিধার আওতায় আসে, সে বিষয়ে কঠোর তদারকি করা হচ্ছে।

বিপুল পরিমাণ এই খাদ্যসামগ্রী হাতে পেয়ে জেলেরা সন্তোষ প্রকাশ করেছেন। তারা জানান, বর্তমান বাজার দরের ঊর্ধ্বগতির সময়ে এই সহায়তা তাদের পরিবারে বড় স্বস্তি বয়ে এনেছে। এর ফলে ইলিশ রক্ষায় সরকারি আইন মেনে চলতে তারা আরও উৎসাহিত হবেন বলে আশা প্রকাশ করছেন সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।



শরণখোলায় সংখ্যালঘু পরিবারে হামলা, ভাঙচুর-লুটপাট

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
শরণখোলা (বাগেরহাট) প্রতিনিধি

বাগেরহাটের শরণখোলায় সংখ্যালঘু (হিন্দু) একটি পরিবারের ওপর হামলা, বসতঘর ভাঙচুর ও লুটপাটের ঘটনায় থানায় মামলা দায়ের হয়েছে।

মঙ্গলবার (৫ মে) সকালে ভুক্তভোগী রবীন ঢালী ২৬ জনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাত আরও কয়েকজনের বিরুদ্ধে মামলা করেন। এ ঘটনায় দুইজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।

গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন উপজেলার উত্তর রাজাপুর গ্রামের জামাল শিকদারের ছেলে রাজু শিকদার এবং রাজৈর গ্রামের শহিদুল ইসলামের ছেলে নাইম ইসলাম।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, সোমবার (৪ মে) দুপুরে উপজেলার ধানসাগর ইউনিয়নের রতিয়া রাজাপুর গ্রামে এ হামলার ঘটনা ঘটে। জমিজমা সংক্রান্ত বিরোধের জেরে একই এলাকার প্রভাবশালী সোবাহান হাওলাদারের নেতৃত্বে ৫০ থেকে ৬০ জনের একটি দল রবীন ঢালীর বাড়িতে হামলা চালায়।

হামলাকারীরা দা, হাতুড়ি, শাবল ও লাঠিসোটা নিয়ে বসতঘরে ব্যাপক ভাঙচুর চালায়। ঘর ও ঘরের আসবাবপত্র ভেঙে ফেলে। বাধা দিতে গেলে বাড়ির নারী সদস্যদেরও মারধর করা হয় বলে অভিযোগ রয়েছে।

এ ঘটনায় আহতদের উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে।

ভুক্তভোগী রবীন ঢালী বলেন, “আমি বাইরে থাকার সুযোগে পরিকল্পিতভাবে সন্ত্রাসী ভাড়া করে আমার বাড়িতে হামলা চালানো হয়। বসতঘরসহ সব কিছু ধ্বংস করে এখন আমি নিঃস্ব, এই দেশে থাকার মতো অবস্থাও নেই।”

তিনি আরও বলেন, দীর্ঘদিন ধরে জমি নিয়ে বিরোধ চলছিল এবং বিষয়টি আদালতে বিচারাধীন রয়েছে।

ঘটনার পরদিন দুপুরে বাগেরহাটের পুলিশ সুপার হাসান মোহাম্মদ নাছের ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন। তিনি ভুক্তভোগী পরিবারের নিরাপত্তা নিশ্চিত এবং জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দেন।

ভুক্তভোগী পরিবারের স্বজনরা জানান, এ ঘটনায় এলাকায় চরম আতঙ্ক বিরাজ করছে এবং নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন। তারা দ্রুত দোষীদের গ্রেপ্তার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান।

শরণখোলা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. শামিনুল হক জানান, ঘটনার খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে যায়, তবে তার আগেই হামলাকারীরা পালিয়ে যায়। ঘটনাস্থল থেকে দেশীয় অস্ত্র জব্দ করা হয়েছে। তিনি বলেন, “মামলা হয়েছে, দুইজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে এবং বাকি আসামিদের ধরতে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।”


সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে মামলা, প্রেসক্লাব-রিপোর্টার্স ইউনিটির প্রতিবাদ ও ক্ষোভ

আপডেটেড ৬ মে, ২০২৬ ১১:০৮
চরফ্যাশন (ভোলা) প্রতিনিধি

চরফ্যাশনে কর্মরত সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে ডিজিটাল আইনে মামলা দায়েরের ঘটনায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন স্থানীয় সংবাদকর্মীরা। বিএনপির বহিষ্কৃত এক নেতার করা এ মামলাকে ‘উদ্দেশ্যপ্রণোদিত ও হয়রানিমূলক’ উল্লেখ করে তা দ্রুত প্রত্যাহারের দাবি জানানো হয়েছে।

মঙ্গলবার (৫ মে) রাতে চরফ্যাশন প্রেসক্লাব মিলনায়তনে প্রেসক্লাব ও রিপোর্টার্স ইউনিটির যৌথ উদ্যোগে আয়োজিত এক প্রতিবাদ সভায় এই ক্ষোভের বহিঃপ্রকাশ ঘটে। উপজেলার বিভিন্ন গণমাধ্যমে কর্মরত সাংবাদিকরা এতে অংশ নিয়ে সংহতি জানান।

সভায় সাংবাদিকরা অভিযোগ করেন, চরফ্যাশন উপজেলা বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক (বহিষ্কৃত) মোতাহার হোসেন আলমগীর মালতিয়া সাংবাদিকদের পেশাগত মর্যাদা ক্ষুণ্ণের চেষ্টা করছেন। তারা বলেন, ওই নেতা প্রথমে সাংবাদিকদের নিয়ে অবমাননাকর মন্তব্য করেন এবং পরবর্তীতে তার রাজনৈতিক ও সাংগঠনিক কর্মকাণ্ড নিয়ে সংবাদ প্রকাশিত হলে প্রতিহিংসাবশত বরিশাল সাইবার ক্রাইম ট্রাইব্যুনালে মামলাটি দায়ের করেন।

সভায় সাংবাদিক নেতারা বলেন, 'সাংবাদিকদের কণ্ঠরোধ করার জন্য এ ধরনের মামলার আশ্রয় নেওয়া মুক্ত সাংবাদিকতার জন্য চরম হুমকি। ডিজিটাল আইনের অপপ্রয়োগ করে সত্যের পথ রুদ্ধ করার চেষ্টা অতীতেও সফল হয়নি, বর্তমানেও হবে না।' তারা আরও বলেন, বস্তুনিষ্ঠ সাংবাদিকতার পরিবেশ বিঘ্নিত হলে সমাজের স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নষ্ট হবে।

বক্তারা প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন মহলের দৃষ্টি আকর্ষণ করে বলেন, সংবাদপত্রের স্বাধীনতা ও সাংবাদিকদের নিরাপদ কর্মপরিবেশ নিশ্চিত করার দায়িত্ব রাষ্ট্রের। হয়রানিমূলক এই মামলা দ্রুত প্রত্যাহার করা না হলে রাজপথে কঠোর কর্মসূচি পালনের হুঁশিয়ারি দেন তারা।

উল্লেখ্য, গত ২৮ এপ্রিল মামলাটি দায়ের করা হলে আদালত তা রেকর্ডভুক্ত করে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেন। এ ঘটনার পর থেকেই চরফ্যাশনের সাংবাদিক সমাজে অসন্তোষ ও উত্তেজনা বিরাজ করছে।

প্রতিবাদ সভায় চরফ্যাশন প্রেসক্লাব ও রিপোর্টার্স ইউনিটির নেতৃবৃন্দসহ স্থানীয় বিভিন্ন সাংবাদিক সংগঠনের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।


মেহেরপুরে বাড়ির সামনে থেকে বোমা সদৃশ বস্তু উদ্ধার

আপডেটেড ৬ মে, ২০২৬ ১০:৫৬
মেহেরপুর প্রতিনিধি

মেহেরপুরের গাংনী উপজেলায় একটি বোমা সদৃশ বস্তু উদ্ধার করেছে পুলিশ।
বুধবার (৬ মে) সকাল ৮টার দিকে উপজেলার সীমান্তবর্তী তেঁতুলবাড়িয়া গ্রামের হাজীপাড়ায় মৃত আনারুল ইসলামের ছেলে সানোয়ার হোসেন পলাশের বাড়ির গেটের সামনে থেকে বস্তুটি উদ্ধার করা হয়।
সানোয়ার হোসেন পলাশের চাচাতো ভাই শামীম হোসেন জানান, সকালে হাঁটতে বের হয়ে বাড়ির মূল ফটকের সামনে কালো টেপে মোড়ানো একটি বস্তু দেখতে পান। পরে বিষয়টি সানোয়ার হোসেন পলাশ ও পুলিশকে জানানো হয়।
সানোয়ার হোসেন পলাশ জানান, বোমা সদৃশ বস্তুটিতে লেখা ছিল হাত দিলেই বাস্ট। তবে কে বা কারা এটি সেখানে রেখে গেছে, তা তিনি জানাতে পারেননি।
গাংনী থানার ওসি (তদন্ত) আল মামুন জানান, খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়েছে। উদ্ধার হওয়া বস্তুটি নিরাপত্তার জন্য পানিভর্তি বালতিতে রাখা হয়েছে। ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের শনাক্তের চেষ্টা চলছে।


অবৈধ মাটি কাটার বিরুদ্ধে ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযানে আড়াই লাখ টাকা জরিমানা

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
কালীগঞ্জ (গাজীপুর) প্রতিনিধি:

গাজীপুরের কালীগঞ্জ উপজেলায় অবৈধভাবে মাটি কাটার দায়ে পৃথক দুইটি অভিযানে ভ্রাম্যমাণ আদালত মোট ২ লাখ ৫০ হাজার টাকা অর্থদণ্ড প্রদান করেছে।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও বিজ্ঞ এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট জনাব এ.টি.এম কামরুল ইসলামের নেতৃত্বে গত ৪ ও ৫ মে এই অভিযান পরিচালিত হয়।

অভিযান সূত্রে জানা যায়, ৪ মে উপজেলার ছাতিয়ানী এলাকায় পরিচালিত অভিযানে বালু মহাল ও মাটি ব্যবস্থাপনা আইন, ২০১০ এর ১৫(১) ধারায় সামশুল হক খন্দকার (৬৫), পিতা- ইউসুফ আলী খন্দকারকে ২ লাখ টাকা জরিমানা করা হয়।

এছাড়া ৫ মে রাথুরা এলাকায় পরিচালিত আরেকটি অভিযানে একই আইনে আরও একজনকে ৫০ হাজার টাকা অর্থদণ্ড প্রদান করা হয়।

উভয় অভিযানে বেঞ্চ সহকারী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন মোঃ আলামিন ভূইয়া।

প্রশাসন সূত্রে জানানো হয়, অবৈধভাবে মাটি কাটা ও পরিবেশ বিনষ্টকারীদের বিরুদ্ধে এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে।


১১ বছরের শিশুধর্ষণ ও অন্তঃসত্ত্বা মামলায় অভিযুক্ত সেই শিক্ষক গ্রেপ্তার

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
অনলাইন ডেস্ক

নেত্রকোণার মদন উপজেলায় শিশু ধর্ষণ ও অন্তঃসত্ত্বা হওয়ার ঘটনায় অভিযুক্ত মাদ্রাসা শিক্ষক আমান উল্লাহ সাগরকে গ্রেপ্তার করেছে র‌্যাব।

বুধবার (৬ মে) ভোর ৪টার দিকে ময়মনসিংহের গৌরীপুর থেকে র‌্যাব-১৪ এর একটি দল তাকে আটক করে।

গ্রেপ্তারের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন মদন থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) তরিকুল ইসলাম।

তিনি গণমাধ্যমকে বলেন, “ভোর সোয়া ৪টার দিকে ময়মনসিংহ জেলার গৌরীপুর উপজেলা থেকে র‌্যাব-১৪ (ময়মনসিংহ) এর একটি দল তাকে গ্রেপ্তার করতে সক্ষম হয়। দুপুরের দিকে র‌্যাবের পক্ষ থেকে আসামিকে আমাদের হাতে হস্তান্তরের কথা রয়েছে। আসামিকে আমাদের হাতে হস্তান্তরের পর যত দ্রুত সম্ভব আমরা তাকে আদালতে প্রেরণ করব।”

তিনি আরও বলেন, “আসামিকে হাতে পাওয়ার পর যদি সময় থাকে, আমরা আজকেই তাকে আদালতে প্রেরণ করব। অন্যথায় আগামীকালকে তাকে আদালতে প্রেরণ করতে হবে।”

সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, আজ দুপুর ১২টায় আলোচিত এই মামলার প্রধান আসামি গ্রেপ্তার সংক্রান্ত বিষয়ে র‌্যাব-১৪ এর অধিনায়ক প্রেস ব্রিফিং করবেন।


বছরের সম্বল পানিতে, জুটবে না খোরাকিও

* ঋতুচক্রের হিসাব ওলটপালট * প্রায় ৭০,০০০ হেক্টর জমির বোরো ধান পানিতে * কোথাও ধান পচে গেছে, কোথাও গজিয়েছে অঙ্কুর * ঋণের বোঝা আরও ভারি
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
দৈনিক বাংলা ডেস্ক

চৈত্রের খরতাপ পেরিয়ে বৈশাখের শুরুতেই এক পশলা বৃষ্টির জন্য হাহাকার থাকে জনজীবনে। মাঠভরা সোনালি ধান ঘরে তোলার স্বপ্নে বিভোর হন কৃষক; কিন্তু প্রকৃতির অকাল খেয়াল ঋতুচক্রের হিসাব এবার সব ওলটপালট করে দিয়েছে। অসময়ের টানা বৃষ্টি আশীর্বাদ নয়, বরং আকাল হয়ে হানা দিয়েছে কৃষকের ঘরে ঘরে। দেশের শস্যভাণ্ডার হিসেবে পরিচিত জেলাগুলোয় কান পাতলে কেবলই কৃষকের হাহাকার শুনতে পাওয়া যায়। দৈনিক বাংলার

প্রতিনিধিরা জানিয়েছেন বিস্তারিত।

তারা বলছেন, ধান ঘরে ওঠার কথা ছিল স্বস্তি হয়ে; কিন্তু বৈরী আবহাওয়ার কারণে সেই স্বস্তিই এখন দুশ্চিন্তা হয়ে দাঁড়িয়েছে। টানা বৃষ্টি আর রোদের অভাবে বস্তাবন্দি ভেজা ধানে জন্ম নিচ্ছে সাদা অঙ্কুর। সোনালি ধান আজ যেন চিন্তার রঙে ঢেকে গেছে; খোলা আকাশের নিচে চলছে কৃষকের ধান বাঁচানোর লড়াই।

কৃষকেরা প্রতিনিধিদের জানিয়েছেন, পানিতে তলিয়ে যাওয়া খেত থেকে যা ধান তোলা গেছে, তা খুবই সামান্য। তোলা ধানের অনেকটাই সময়মতো শুকাতে না পারায় নষ্ট হয়ে গেছে। ধানের দিকে তাকালেই তাদের বুক কষ্টে ভরে ওঠে। যেখানে ৩০০ থেকে ৪০০ মণ ধান পাওয়ার কথা, সেখানে এখন খলায় আছে মাত্র ১০–২০ মণ। অনেকেই ধান দিয়ে শোধ করার শর্তে আগাম ঋণ নিয়ে চাষ করেছিলেন। এখন সেই ঋণের বোঝা আরও ভারি হয়ে উঠেছে। ঋণ শোধ তো দূরের কথা; বছরের খোরাকিও জুটবে না।

এদিকে, সরকারি ও বেসরকারি তথ্য অনুযায়ী, প্রায় ৭০,০০০ হেক্টর জমির বোরো ধান ও ফসল পানির নিচে তলিয়ে গেছে। কোনো কোনো প্রতিবেদনে এই ক্ষতির পরিমাণ ১ লাখ হেক্টর পর্যন্ত হতে পারে বলে উল্লেখ করা হয়েছে।

মৌলভীবাজার : রাজনগর উপজেলার কাউয়াদীঘি হাওরপারের অন্তেহরি গ্রামের চিত্র সবচেয়ে বেশি খারাপ। পাকা ধানের খেত পানির নিচে, কেটে আনা ধানও রোদ না থাকায় শুকানো যায়নি। অনেক ধান পচে গেছে, কোথাও আবার অঙ্কুর গজিয়েছে। মঙ্গলবার (৫ মে) বিকেলে অন্তেহরি গ্রামে গিয়ে দেখা যায়, জুমাপুর সড়ক থেকে অন্তেহরি বাজার পর্যন্ত বিভিন্ন স্থানে ধান ও খড় বিছানো। গ্রামে ফাঁকা জায়গা বলতে কিছু নেই—সবখানেই ভেজা ধান ও খড় শুকানো হচ্ছে। কোথাও যন্ত্রে ধান মাড়াই চলছে। হাওরের দিকে নারী–পুরুষ ছড়িয়ে কাজ করছেন। ধান শুকাতে ব্যস্ত সবাই।

একটি খলার পাশে দাঁড়িয়ে সুমি রানি দাস বলছিলেন, খলায় এ সময় চাইরবায় (চারপাশে) ধানর গিলা (স্তূপ) থাকে। এখন ধানই নাই। খলায় এখন ২০-২৫ মণ ধান আছে। এবার ধান অইছিল খেতে। ২০-২২ মণ ধান অইলোনে কিয়ারও (১ কিয়ার=৩০ শতাংশ)। ২২ কিয়ার করছিলাম। যদি দিন দেয়, তাইলে সাত কিয়ার তোলা যাইব। বড় খলা করছিলাম, ৭০ মণ ধান আটে। ৪০০ থাকি সাড়ে ৪০০ মণ ধান পাওয়ার কথা। ১০০ মণ পাইমু কি না সন্দেহ আছে।

স্থানীয় লোকজন জানান, দুশ্চিন্তা শুধু ফলনহানিই নয়, ঋণ শোধ নিয়েও। অনেক কৃষক ৮০০ টাকা মণ দরে ধান দেওয়ার শর্তে আগাম টাকা নিয়েছিলেন। দরিদ্র ও প্রান্তিক কৃষকদের জন্য সুদ বা দাদন ছাড়া ঋণের সুযোগ নেই বললেই চলে। ফলে বাধ্য হয়েই এ ধরনের শর্তে ঋণ নিতে হয়।

অন্তেহরি গ্রামের সুখেন দাস বলেন, যেদিন ধান কাটার পরিকল্পনা করছি, শ্রমিক জোগার করছি। ওইদিনই এক রাইতে ক্ষেতর মধ্যে কোমরসমান পানি। চাইর আনাও ধান কাটা অইছে না। ঋণের জ্বালায় প্রায় জনরই বাড়িঘর ছাড়া লাগব। ১৫ বছরর মাঝে এত ক্ষতি অইছে না।

তিনি বলেন, ভাবছিলাম ২০০ মণ ধান পাইমু। ১০০ মণে ঋণ দিমু। ১০০ মণ থাকব। এখন ধান, খেড় সব গেছে।…এখন গরু বাঁচব, না মানুষ বাঁচব।

কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের মৌলভীবাজারের উপপরিচালক মো. জালাল উদ্দিন গতকাল মঙ্গলবার বলেন, জেলার হাওরাঞ্চলে ৩ হাজার ৬৩৮ হেক্টর জমির ধান সম্পূর্ণ ক্ষতি হয়েছে। কাউয়াদীঘি হাওরে ৪০০ হেক্টরের মতো হতে পারে। হাওরে পানি সামান্য বাড়ছে। এক দফা কৃষকের ক্ষতি হয়ে গেছে।

হবিগঞ্জ: ডুবাইল থাকা ধান তেইক্কা যদি ঘরের খাওনের লাগি কিছু ধান তুলতাম পারি তই খুশি, অখন চেষ্টা করতাছি অন্তত ঘরের খাওনটা যাতে তুলতাম পারি। আঞ্চলিক ভাষায় কথাগুলো বলছিলেন বানিয়াচং উপজেলার সুজাতপুরের সিংগের বিল হাওরের কৃষক রমজান আলী (৫৫)।

রমজান আলীর মতো হবিগঞ্জের হাওরাঞ্চলের হাজারো কৃষকের এখন একটাই চেষ্টা—ডুবে থাকা জমি থেকে অন্তত পরিবারের খাবারের ধানটুকু ঘরে তোলা।

টানা বৃষ্টি, উজান থেকে নেমে আসা ঢল এবং সুরমা-কুশিয়ারা নদীর পানি বৃদ্ধি পেয়ে হবিগঞ্জের বিস্তীর্ণ হাওরাঞ্চল তলিয়ে গেছে। জেলার কৃষি বিভাগের হিসাবে, ছয় উপজেলার প্রায় ৪৫ শতাংশ বোরো জমি পানির নিচে। ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে ১০ থেকে ১২ হাজার হেক্টর জমির ধান। ক্ষতিগ্রস্ত কৃষক প্রায় ২০ হাজার।

গত এক সপ্তাহে ২০০ মিলিমিটারের বেশি বৃষ্টি হয়েছে জেলায়। এর সঙ্গে কিশোরগঞ্জ ও সুনামগঞ্জের হাওরের পানি এসে বানিয়াচং, আজমিরীগঞ্জ, লাখাই, নবীগঞ্জের আংশিক, বাহুবল ও হবিগঞ্জ সদর উপজেলার বিভিন্ন হাওর প্লাবিত করেছে। জেলার বৃহত্তম গুংগিয়াজুরী হাওরও একইভাবে ডুবে আছে।

বানিয়াচং উপজেলার সুজাতপুর ইউনিয়নের সিংগের বিল হাওরে গিয়ে দেখা যায়, চারদিকে শুধু পানি আর পানি। কোথাও ভাসছে ধানের শিষ, কোথাও পুরো খেত ডুবে গিয়ে শুধু শিষের মাথা দেখা যাচ্ছে। পাশের পৈলারকান্দি, মন্দরী ও মক্রমপুর ইউনিয়নের হাওরেও একই চিত্র। হাওরের বুকজুড়ে ছোট ছোট ডিঙিনৌকা। তাতে দাঁড়িয়ে বা বসে কৃষকেরা ধান কাটছেন। কেউ কোমরসমান পানিতে নেমে কাস্তে চালাচ্ছেন। দেখে বোঝার উপায় নেই নিচে ফসলি জমি।

শতমুখা গ্রামের কৃষক শামছু মিয়া (৫০) বলেন, ভাই, এভাবে ধান কাটতে হবে কখনো ভাবিনি। জমি তো চোখেই পড়ে না, আন্দাজে কাটতেছি।

একই এলাকায় নৌকায় বসে ধান কাটছিলেন সাইদুল হক। মাঝেমধ্যে ঢেউয়ে নৌকা দুলে উঠছে, তবু কাজ থামছে না। তিনি বলেন, পানি যদি ৭ দিন থেকে ১০ দিন পরে আসত, তাহলে অন্তত ঘরের খাওয়ার ধানটা কাটা সম্ভব হতো। এখন তো ডুবে থাকা ধান তোলা কঠিন হয়ে গেছে শ্রমিক–সংকটে।

হাওরের অন্য প্রান্তে কয়েকজন মিলে দল বেঁধে ধান কাটছিলেন। একজন কাটছেন, আরেকজন নৌকায় তুলছেন। তাদের চোখেমুখে সময়ের সঙ্গে প্রতিযোগিতা। একজন কৃষক বলেন, ‘ক বছর খাটছি এই জমির জন্য। এখন যদি সব পানিতে ডুবে যায়, তাহলে সংসার চলবো কীভাবে?

ষাটোর্ধ্ব কৃষক আইযুব আলী বলেন, হাওরের মানুষ পানির সঙ্গে লড়াই করতে জানে; কিন্তু এবার পানি খুব তাড়াতাড়ি আইছে। এই ক্ষতি পুষানো কঠিন।

জেলা কৃষি সম্প্রসারণ বিভাগের অতিরিক্ত উপপরিচালক দিপুল কুমার পাল জানান, চলতি মৌসুমে হবিগঞ্জে ১ লাখ ২৩ হাজার ৬৪৪ হেক্টর জমিতে বোরো আবাদ হয়েছে। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য অংশ হাওরাঞ্চলে। তবে আকস্মিক পানি বৃদ্ধিতে এখনো ১০ থেকে ১২ হাজার হেক্টর জমির ধান ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। তিনি বলেন, ক্ষয়ক্ষতির পূর্ণাঙ্গ হিসাব এখনো চলছে।

শেরপুর: ঝিনাইগাতীতে বোরো ধান কাটার মৌসুম শুরু হয়েছে। এবার ফলন ভালো হলেও ধানের দাম নিয়ে অসন্তোষ কৃষক। এক মণ ধানের দামেও একজন শ্রমিক পাওয়া যাচ্ছে না বলে জানিয়েছেন কৃষকেরা।

কৃষকরা বলছেন, বর্তমানে একজন শ্রমিকের জন্য এক হাজার থেকে ১১০০ টাকা পর্যন্ত দিতে হচ্ছে। অথচ বাজারে এক মণ ধান বিক্রি হচ্ছে মাত্র ৮০০ থেকে ৯০০ টাকায়। কষ্টে ফসল ঘরে তুলতে না তুলতেই কৃষকের মুখ মলিন হয়ে গেছে।

উপজেলার জুলগাঁও গ্রামের কৃষক মো. আসাদুল ইসলাম বলেন, একসঙ্গে মাঠের সবার ধান পেকে গেছে; তার ওপর বৃষ্টি। নিচু জমির ধান পানিতে তলিয়ে যাচ্ছে। শ্রমিকের মজুরি দ্বিগুণ কিন্তু ধানের দাম পড়ে গেছে। এখন ধান ঘরে তুলব কীভাবে, বুঝতে পারছি না।

জানা গেছে, এলাকায় বোরো ধান কাটার মৌসুম শুরু হয়েছে। চারদিকে মাঠভরা পাকা ধান। তবে এই সম্ভাবনার মাঝেই উদ্বেগ বাড়াচ্ছে ঝড়-বৃষ্টি। বিশেষ করে নিম্নাঞ্চলের জমির ধান পানিতে নিমজ্জিত হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। এর মধ্যে অধিকাংশ জমির ধান পেকে যাওয়ায় শ্রমিকের চাহিদা হঠাৎ বেড়ে গেছে। ফলে ধান কাটার শ্রমিকের মজুরি প্রায় দ্বিগুণ হয়েছে।

বালিয়াগাঁও গ্রামের কৃষক সাদ্দাম মণ্ডল বলেন, ধানের দাম কমে যাওয়ায় বড় ধরনের লোকসানের মুখে পড়তে হবে। হালচাষ, সেচ, কীটনাশক সবকিছুর খরচ বেড়েছে। ধার-দেনা, ঋণের টাকা কীভাবে শোধ করব, তা নিয়ে দুশ্চিন্তায় আছি।

ঝিনাইগাতী উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো. ফরহাদ হোসেন বলেন, প্রায় ১৪ হাজার ৬০০ হেক্টর জমিতে উচ্চ ফলনশীল ও দেশীয় জাতের ধান চাষ হয়েছে। ভালো ফলনে কৃষকদের মুখে হাসি ফুটেছে। ধান ৮০ ভাগ পেকে গেলেই কেটে ফেলার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে। শিলা বৃষ্টি ও আগাম পানির কারণে কৃষক ক্ষতির মুখে পড়তে পারেন। এ ছাড়া কৃষকেরা যেন তাদের কষ্টার্জিত ফসলের ন্যায্য মূল্য পান।

কুড়িগ্রাম: টানা ঝড় ও বৃষ্টিতে উত্তরের জেলা কুড়িগ্রামে বোরো ধানের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। ঋণ করে ফলানো পাকা ধান পানিতে তলিয়ে যাওয়ায় চোখের সামনে নষ্ট হয়ে যাচ্ছে কৃষকের শ্রম আর আশা। এতে চরম দুশ্চিন্তা ও অনিশ্চয়তায় পড়েছেন জেলার হাজারো কৃষক।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, জেলার বিভিন্ন উপজেলায় কয়েকদিন ধরে চলা ভারী বৃষ্টিপাত ও দমকা হাওয়ার কারণে অনেক জমির পাকা ধান পানিতে ডুবে গেছে। কোথাও আবার ঝড়ে ধানের শীষ মাটিতে লুটিয়ে পড়েছে। ফলে ফলন মারাত্মকভাবে কমে যাওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।

ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকরা জানান, মৌসুমজুড়ে নানা প্রতিকূলতা পেরিয়ে তারা বোরো ধান আবাদ করেছিলেন। কিন্তু ঠিক ফসল ঘরে তোলার আগ মুহূর্তে এমন দুর্যোগে সবকিছু তছনছ হয়ে গেছে।

কৃষক মমিনুর ইসলাম বলেন, অনেক কষ্ট করে ধান লাগাইছিলাম, কিন্তু বৃষ্টিতে সব নষ্ট হইয়া গেল। এখন কীভাবে সংসার চলবে বুঝতেছি না।

মজিবর রহমান নামে অপর এক কৃষক বলেন, টানা বৃষ্টি আর ঝড়ে আমাদের সব শেষ হয়ে গেল। যে ধান কাটার জন্য প্রস্তুত ছিল, সেগুলো এখন পানির নিচে। অনেক জমির ধান নষ্ট হয়ে গেছে। ঋণ করে চাষ করছিলাম, এখন কীভাবে সেই টাকা পরিশোধ করবো বুঝতে পারছি না। সরকারের কাছে আমরা সাহায্য চাই।

রাজারহাট উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা সাইফুন্নাহার সাথী বলেন, কৃষকদের সহায়তার বিষয়টি গুরুত্ব সহকারে বিবেচনা করা হচ্ছে। তবে দ্রুত পানি নেমে গেলে কিছু জমির ক্ষতি আংশিক পুষিয়ে নেয়া সম্ভব হতে পারে।

সুনামগঞ্জ : দেখার হাওর পাড়ের গোবিন্দপুর গ্রামের দুই সহোদর এমরান মিয়া ও সামরান মিয়া ধারদেনা করে ১৭ বিঘা জমিতে বোরো ধান আবাদ করেছিলেন। প্রায় দেড় লাখ টাকা খরচ হলেও এখনো পুরো ফসল ঘরে তুলতে পারেননি তারা।

তাদের মধ্যে ১০ বিঘার ধান কোনোভাবে কেটে খলায় তুললেও বাকি ৭ বিঘা জমি এখনো পানির নিচে। জমিতে জলাবদ্ধতার কারণে হারভেস্টার নামানো সম্ভব হয়নি, আবার শ্রমিকের সংকটও দেখা দিয়েছে। ফলে দুশ্চিন্তায় দিন কাটছে দুই ভাইয়ের।

এমরান মিয়া বলেন, খরচ তো করলাম অনেক। কিন্তু এখন ধান শুকানোর সুযোগ নেই। বেপারীরা এসে কম দাম বলতেছে, বাধ্য হয়ে বিক্রি করতে হচ্ছে। একই চিত্র জেলার বিভিন্ন হাওর এলাকায়।

লক্ষণশ্রী ইউনিয়নের জানিগাঁও গ্রামের কৃষক জব্বার মিয়া বলেন, সরকার ধান কিনবে ১৪৪০ টাকায়, এই খবরই আমাদের ঠিকমতো জানানো হয়নি। বেপারীরা এসে ৬০০–৭০০ টাকা বললেই বিক্রি করতে হয়।

জলিলপুর গ্রামের কৃষাণী রংমালা বিবি জানান, বৃষ্টির কারণে ধান ভেজা অবস্থায় খলাতেই নষ্ট হচ্ছে। অনেক ধানে অঙ্কুরও গজিয়েছে। বেপারীরা ৭০০ টাকা দাম দিছে, আর অপেক্ষা করার উপায় নাই।

তবে জেলা খাদ্য বিভাগ বলছে, কৃষকদের সচেতন করতে মাইকিংসহ নানা উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

জেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক কর্মকর্তা বি এম মুশফিকুর রহমান জানান, এ বছর জেলায় ২১ হাজার ৩৪৯ মেট্রিক টন ধান সংগ্রহের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে।

জেলা কৃষি বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, জেলায় প্রায় ২০ হাজার ১৬০ হেক্টর জমি প্লাবিত হয়েছে।

নেত্রকোনা: টানা কয়েক দিনের বৃষ্টিতে নেত্রকোনার হাওরাঞ্চলে সৃষ্টি হয়েছে তীব্র জলাবদ্ধতা। চোখের সামনে তলিয়ে যাওয়া স্বপ্ন বাঁচাতে বুকসমান পানিতে নেমে ধান কাটছেন কৃষকেরা। দীর্ঘ এক সপ্তাহ পর গতকাল মঙ্গলবার রোদের দেখা মেলায় হাওরজুড়ে ধান মাড়াইয়ের ব্যস্ততা বাড়লেও কৃষকের মুখে হাসি নেই। একদিকে শ্রমিক সংকট ও উচ্চ মজুরি, অন্যদিকে ধানের পানির দর, সব মিলিয়ে চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন জেলার কয়েক লাখ কৃষক।

জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, ১ লাখ ৮৫ হাজার হেক্টর জমিতে বোরো আবাদ হয়েছে। এর মধ্যে এখন পর্যন্ত ৭১ হাজার ৮০১ হেক্টর জমির ধান কাটা হয়েছে। প্রায় ২৯ হাজার ৩৭১ হেক্টর জমির ধান কাটা হলেও এখনো প্রায় ৩০ শতাংশ ফসল মাঠেই রয়ে গেছে। কেবল অতিবৃষ্টির কারণেই পুরো জেলায় ১৮ হাজার ১৭৫ হেক্টর জমি পানিতে তলিয়ে গেছে, যার মধ্যে হাওরাঞ্চলেই রয়েছে ১১ হাজার ২৩০ হেক্টর।

আটপাড়া উপজেলার তেলিগাতী বাগরা হাওরের কৃষক কামাল মিয়া বলেন, বৃষ্টির কারণে ধান কাটাই যাচ্ছিল না। বুকসমান পানিতে নেমে ধান কাটতে হচ্ছে। শ্রমিকের দৈনিক মজুরি দুই থেকে তিন হাজার টাকা পর্যন্ত ঠেকেছে। এত খরচ দিয়ে ধান কেটে বাজারে নিচ্ছি, কিন্তু দাম পাচ্ছি মাত্র পাঁচ-ছয়শ টাকা।

স্থানীয় কৃষকদের অভিযোগ, ধলিপুরি খালটি বন্ধ থাকায় পানি নিষ্কাশন হচ্ছে না, যা জলাবদ্ধতাকে আরও দীর্ঘস্থায়ী করছে।

জেলা প্রশাসনের (স্থানীয় সরকার) উপপরিচালক মোহাম্মদ আরিফুল ইসলাম সরদার বলেন, তালিকা সঠিকভাবে করার জন্য কৃষি বিভাগকে তাগাদা দেওয়া হয়েছে, যেন প্রকৃত ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের নাম অন্তর্ভুক্ত থাকে। প্রাথমিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকের সংখ্যা প্রায় ৬৯ হাজার হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক কৃষিবিদ মো. আমিনুল ইসলাম জানান, খালিয়াজুরী হাওরেই ৬ হাজার ১৯০ হেক্টর জমি সরাসরি আক্রান্ত হয়েছে। কৃষকদের দাবি অনুযায়ী ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ আরও বেশি হতে পারে।

নওগাঁ : বরই ধান ঘরে তোলার কথা থাকলেও হঠাৎ বৃষ্টির পানিতে তা এখন তলিয়ে গেছে। এতে কয়েকশ কৃষক চরম ক্ষতির মুখে পড়েছেন।

কৃষকরা জানান, প্রতি বিঘা জমিতে ধান চাষ করতে তাদের খরচ হয়েছে প্রায় ৮ থেকে ১০ হাজার টাকা। কিন্তু ফসল ঘরে তোলার আগ মুহূর্তে এমন পরিস্থিতিতে তাদের মাথায় হাত পড়েছে। অনেকেই ঋণ নিয়ে চাষ করেছেন, ফলে ক্ষতির আশঙ্কা আরও বাড়ছে।


স্বাস্থ্যসেবা মানুষের মৌলিক অধিকার: ডা. জুবাইদা রহমান

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

স্বাস্থ্যসেবা কোনো সুবিধা নয়, এটি মানুষের মৌলিক অধিকার বলে মন্তব্য করে ডা. জুবাইদা রহমান বলেছেন, দেশের স্বাস্থ্য খাত দীর্ঘদিন ধরে অবহেলার শিকার। সরকারি হাসপাতালগুলো অতিরিক্ত চাপের মধ্যে রয়েছে এবং অনেক মানুষ মানসম্মত চিকিৎসা থেকে বঞ্চিত। তিনি উল্লেখ করেন, মোট স্বাস্থ্য ব্যয়ের প্রায় ৭২ শতাংশ মানুষকে নিজ পকেট থেকে দিতে হয়। ফলে অসুস্থতা এখনো দারিদ্র্যের অন্যতম প্রধান কারণ।

মঙ্গলবার (৫ মে) রাজধানীর কুর্মিটোলা জেনারেল হাসপাতালে ‘স্বাস্থ্যসেবায় সমতা প্রতিষ্ঠায় ঢাকা-১৭ আসনের নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি বাস্তাবায়ন’ শীর্ষক মতবিনিময় সভায় তিনি এসব কথা বলেছেন।

ঢাকা-১৭ এলাকার মানুষের প্রসঙ্গ টেনে তিনি আরও বলেন, কড়াইল, ভাষানটেক, সাততলার মানুষ এই শহরকে সচল রাখে। পোশাকশিল্প, নির্মাণ সবখানে তাদের শ্রম। অথচ তারাই সবচেয়ে বেশি স্বাস্থ্যসেবা থেকে বঞ্চিত। আমাদের লক্ষ্য এসব এলাকার মানুষ যাতে আর চিকিৎসাসেবা থেকে বঞ্চিত না হন।

তিনি আরও বলেন, নিম্নআয়ের মানুষের বড় একটি অংশ প্রায় ৪২.৬ শতাংশ মানুষ প্রতিদিনের স্বাস্থ্য সমস্যার সমাধান খুঁজতে স্থানীয় ফার্মেসির ওপর নির্ভর করেন, যা ঝুঁকিপূর্ণ। তারা অসুস্থ হওয়ার সুযোগ পায় না কারণ অসুস্থতা মানেই আয় বন্ধ।

ডা. জুবাইদা বলেন, আমাদের এই এলাকাবাসীর মধ্যে কয়েকজন নিবেদিতপ্রাণ স্বেচ্ছাসেবী প্রয়োজন, যারা সবাইকে অবহিত করবেন এই চিকিৎসাসেবা প্রদানকারী প্রতিষ্ঠানের নাম। সেই নাম কুর্মিটোলা জেনারেল হাসপাতাল। আমি আশাবাদী, ঢাকা-১৭ আসনের অন্তর্গত স্বেচ্ছাসেবী ও কুর্মিটোলার সদস্যরা একত্রিত হয়ে বহু প্রাণ বাঁচাতে সক্ষম হবে। এখানকার স্বাস্থ্যসেবা সম্পূর্ণ বিনামূল্যে। কারণ আমরা বিশ্বাস করি, স্বাস্থ্য সেবা কোনো সুবিধা নয়, এটি মানুষের মৌলিক অধিকার।

এর আগে ডা. জুবাইদা রহমান কুর্মিটোলা জেনারেল হাসপাতালের প্যাথলজি প্যাভিলিয়ন, গ্যাস্ট্রোলিভার সেন্টার ও ৫০ শয্যা আইসিইউর উদ্বোধন করেন। উদ্বোধনের পর তিনি আইসিইউতে ভর্তি রোগীদের খোঁজ-খবর নেন এবং চিকিৎসাসেবার মান নিয়ে সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে কথা বলেন।

এ সময় উপস্থিত সরদার সাখাওয়াত হোসেন বকুল বলেন, সরকারের লক্ষ্য সবার জন্য সুস্বাস্থ্য নিশ্চিত করা এবং জনগণের প্রতি দায়বদ্ধতা থেকেই এই উদ্যোগগুলো নেওয়া হচ্ছে।

ডা. জুবাইদা রহমান আশা প্রকাশ করেন, স্বেচ্ছাসেবক ও স্থানীয় জনগণের সমন্বয়ে এই উদ্যোগের মাধ্যমে আরও বেশি মানুষকে চিকিৎসাসেবার আওতায় আনা সম্ভব হবে।


টাঙ্গাইলের ধনবাড়ীতে নির্মিত হচ্ছে টিস্যু কালচার ল্যাব

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
হাবিবুর রহমান, মধুপুর (টাঙ্গাইল)

টাঙ্গাইলের ধনবাড়ী হর্টিকালচার সেন্টারে ১৭ কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত হচ্ছে অত্যাধুনিক টিস্যু কালচার ল্যাব। এ ল্যাবকে ঘিরে দেশের উত্তর-মধ্য অঞ্চলে কৃষিতে দেখা দিয়েছে নতুন সম্ভাবনা। আনারসের নতুন জাত ফিলিফাইনের এমডি-২, জি-নাইন (G-9) কলা এবং সবজিসহ বিভিন্ন ফল ও ফসলের রোগমুক্ত চারা উৎপাদনের মাধ্যমে নতুন এক যুগে প্রবেশ করতে যাচ্ছে এই সেন্টারটি।

উদ্যানতত্ত্ববিদদের মতে, বাংলাদেশের কৃষি এখন আর শুধু সনাতন পদ্ধতিতে আটকে নেই, বরং জীবপ্রযুক্তি ও আধুনিক বিজ্ঞানের এক অভূতপূর্ব অভিযাত্রায় প্রবেশ করেছে। টাঙ্গাইলের ধনবাড়ী হর্টিকালচার সেন্টার ধীরে ধীরে এই কৃষি-বিপ্লবের একটি নতুন প্রতীক হয়ে উঠছে।

প্রকল্পের নাম: সরকারের ‘টিস্যু কালচার ল্যাবরেটরি কাম হর্টিকালচার সেন্টার স্থাপন ও উন্নয়ন প্রকল্প’।

মেয়াদকাল: ২০২২-২৩ অর্থবছর থেকে শুরু হয়ে ২০২৭-২৮ অর্থবছর পর্যন্ত চলবে।

উৎপাদন শুরু: ২০২৭ সালের জানুয়ারি থেকে ল্যাবটির উৎপাদন কার্যক্রম শুরু হওয়ার প্রত্যাশা রয়েছে।

অন্য কেন্দ্র: দেশব্যাপী বাস্তবায়িত এই প্রকল্পের আওতায় ধনবাড়ী ছাড়াও সাভারের রাজালাখ, বান্দরবানের বালাঘাটা, কুমিল্লা এবং ভোলার চরফ্যাশনেও আধুনিক ল্যাব স্থাপনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

ল্যাবের সম্ভাব্য সুবিধা ও প্রভাব: ধনবাড়ী সেন্টারটি ভৌগোলিক ও কৃষি সম্ভাবনার দিক থেকে বিশেষ কৌশলগত অবস্থানে রয়েছে এবং ইতোমধ্যে দক্ষ টিস্যু কালচারিস্ট নিয়োগ সম্পন্ন হয়েছে।

এমডি-২ আনারসের সম্প্রসারণ: মধুপুরের ঐতিহ্যবাহী আনারসকে আন্তর্জাতিক মানে উন্নয়ন করার জন্য এ ল্যাবে বিশ্বজুড়ে সমাদৃত এমডি-২ জাতের আনারসের চারা উৎপাদন করা হবে। এর মিষ্টতা, আকর্ষণীয় সোনালি রং, দীর্ঘ সংরক্ষণক্ষমতা ও রপ্তানিযোগ্য মানের কারণে মধুপুরের আনারস শক্তিশালী ব্র্যান্ডে পরিণত হতে পারে।

ফ্লোরিকালচার জোন: জারবেড়া ও অর্কিড চাষের মাধ্যমে ‘ফ্লোরিকালচার জোন’ গড়ে ওঠার সম্ভাবনা দেখা দিয়েছে।

রোগমুক্ত চারা ও বহুমুখী কৃষি: উন্নত জাতের পেঁপে, বিভিন্ন সবজি ও বহুমুখী কৃষির সম্প্রসারণ এবং রোগজীবাণুমুক্ত চারা নিশ্চিত করা হবে।

ধনবাড়ী হর্টিকালচার সেন্টারের উদ্যানতত্ত্ববিদ কৃষিবিদ রাসেল পারভেজ তমাল বলেন, কৃষির আধুনিকায়নের এই যুগে রোগমুক্ত উন্নত জাতের চারা সরবরাহই সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ। ধনবাড়ীর টিস্যু কালচার ল্যাব এ অঞ্চলের কৃষকদের জন্য নির্ভরযোগ্য প্রযুক্তিনির্ভর চারা উৎপাদনের কেন্দ্র হিসেবে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। এতে কৃষকের উৎপাদনশীলতা বাড়বে, প্রতারণা কমবে এবং আর্থসামাজিক উন্নয়নে নতুন গতি আসবে।

তিনি আরো বলেন, ল্যাবটির উৎপাদন শুরু হলে দুর্লভ ও দুষ্প্রাপ্য জাতের ফসল উৎপাদন হবে, যার সুফল মাঠপর্যায়ের চাষিরা পাবেন। এতে শুধু কৃষকের উপকারই হবে না, বরং দেশীয় সীমা পেরিয়ে বিদেশে রপ্তানির মাধ্যমে বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনের সুযোগও সৃষ্টি হবে।


ফরিদপুরে সংবাদ সম্মেলন: ন্যায়বিচার চান ইতালিতে নিহতের পরিবার

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
ফরিদপুর প্রতিনিধি

ফরিদপুরে পাঁচ বছর আগে মাসুদ রানা নামে ইতারি প্রবাসীকে কুপিয়ে হত্যার ঘটনায় করা হত্যা মামলা রাজনৈতিক বলে প্রত্যাহারের জন্য স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়সহ বিভিন্ন দপ্তরে সুপারিশ করা হয়েছে। এ ঘটনায় বিস্ময় প্রকাশ করে ন্যায়বিচার চেয়ে সংবাদ সম্মেলন করেছেন নিহতের পরিবার। মঙ্গলবার (৫ মে) দুপুর ১২টায় ফরিদপুর প্রেসক্লাবের সম্মেলন কক্ষে ভুক্তভোগী পরিবারের সদস্যরা সংবাদ সম্মেলন করেন।

লিখিত বক্তব্যে তারা বলেন, ‘হত্যা মামলার প্রধান আসামি ইমদাদুল হক বাচ্চু ১৫ বছর ভাঙ্গা পৌর আওয়ামী লীগের সহসভাপতি। তিনিসহ অন্য আসামিদের রাজনৈতিক হয়রানিমূলক হিসেবে বিবেচিত মামলাটি প্রত্যাহারের জন্য সুপারিশ করা হয়।’

তারা বলেন, ‘মামলাটি প্রমাণিত ও বিচারাধীন থাকা সত্ত্বেও রাজনৈতিক ক্ষমতাশালী লোকের তদবির বাণিজ্যের মাধ্যমে সুপারিশ করা হয়েছে। ভুক্তভোগী পরিবার এটিকে রাজনৈতিক মামলা হিসেবে গণ্য না করে হত্যা মামলা হিসেবে উল্লেখ করার জন্য প্রধানমন্ত্রীর সহযোগিতা চেয়েছেন তারা’

সংবাদ সম্মেলনে নিহতের বৃদ্ধ মা হালিমা বেগমের পক্ষে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন তার ছোট ছেলে আসাদুজ্জামান। নিহতের স্ত্রী শাহীন আফরোজ রোজা ও পাঁচ বছর বয়সি মেয়ে মাসুদা মেহেরুবা ও পরিবারের অন্য সদস্যরা ছিলেন এ সময়।

প্রসঙ্গত, চলতি বছরে রাজনৈতিক মামলা উল্লেখ করে প্রত্যাহারের আবেদন করেন জেলা বিএনপির আহ্বায়ক সৈয়দ মোদারেরস আলী ইছা। এতে তিনি সকল আসামির নাম উল্লেখ করেছেন। পরবর্তীতে গত ৮ এপ্রিল ‘বিভিন্ন সময়ে রাজনৈতিক কারণে দায়ের হয়রানিমূলক মামলাগুলো প্রত্যাহার-সংক্রান্ত যাচাই-বাছাই কমিটির সর্বসম্মতিক্রমে প্রত্যাহারের জন্য সুপারিশ হিসেবে চূড়ান্ত করা হয়।

এ সময় নিহতের ভাই আসাদুজ্জামান অভিযোগ করে বলেন, ‘আমার ভাইকে যারা কুপিয়ে হত্যা করেছে, তারা আওয়ামী লীগের পদধারী নেতা-কর্মী। তারা সাজাপ্রাপ্ত হওয়ার ভয়ে বর্তমানে ভোল্ট পাল্টে ক্ষমতাশালী দলের নেতাদের সাথে মিশে এবং তদবির বাণিজ্যের মাধ্যমে রাজনৈতিক মামলা হিসেবে সুপারিশ করিয়েছে। কিন্তু প্রত্যেক আসামিই আমার ভাই হত্যায় জড়িত রয়েছে।’


এক পায়ে মেঘলার স্বপ্ন ছোঁয়ার অগ্রযাত্রা

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
সিরাজগঞ্জ প্রতিনিধি

এক পায়ে লাফিয়ে লাফিয়েই কলেজে যাওয়ার চেষ্টা—কিন্তু দারিদ্র্য যেন বারবার টেনে ধরছে তার স্বপ্নকে। তবুও থেমে নেই মেঘলা। অদম্য ইচ্ছাশক্তি আর মেধা নিয়েই এগিয়ে যেতে চায় জীবনের কঠিন পথ পেরিয়ে।

সিরাজগঞ্জের উল্লাপাড়ার বাকুয়া গ্রামের বাসিন্দা ১৮ বছর বয়সি মেঘলা শারীরিক প্রতিবন্ধকতাকে জয় করে এগিয়ে চলা এক অনন্য উদাহরণ।

জন্ম থেকেই একটি পা ছোট এবং দুর্বল হওয়ায় স্বাভাবিকভাবে হাঁটাচলা করতে পারেন না। তবুও থেমে থাকেননি তিনি।

পরিবার সূত্রে জানা যায়, উপজেলার হামিদা পাইলট বালিকা উচ্চবিদ্যালয় থেকে বিজ্ঞান বিভাগে এসএসসি পরীক্ষায় জিপিএ ৪.৮৩ পেয়ে কৃতিত্বের সঙ্গে উত্তীর্ণ হয়ে বর্তমানে হামিদা পাইলট গার্লস স্কুল অ্যান্ড কলেজে একই বিভাগে পড়াশোনা করছেন। তবে প্রতিভাবান এই শিক্ষার্থীর সামনে বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে দারিদ্র্য। বাবা একজন দিনমজুর। সংসারের খরচ চালাতেই হিমশিম খেতে হয়। ফলে প্রতিদিন কলেজে যাওয়া সম্ভব হয় না মেঘলার। মাসে মাত্র ৩ থেকে ৪ দিন কলেজে যেতে পারেন তিনি। বাকি সময়টা বাড়িতেই পড়াশোনা চালিয়ে যান।

কলেজ পড়ুয়া মেঘলা খাতুন বলেন, ‘আমি পড়াশোনা চালিয়ে যেতে চাই। কিন্তু আমার বাবা বই কিনে দিতে পারে না, প্রতিদিন যাতায়াতের ভাড়াও জোগাতে পারে না। কলেজে ফ্রি পড়ার সুযোগ পেয়েছি, স্যাররাও সাহায্য করেন। যদি একটা তিন চাকার স্কুটি পেতাম, তাহলে নিয়মিত কলেজে যেতে পারতাম।’

মেয়ের কষ্টের কথা বলতে গিয়ে কান্নায় ভেঙে পড়েন মা আরজিনা খাতুন। তিনি বলেন, ‘মেয়ের জন্য কিছু করতে না পারার কষ্টটা খুবই কষ্টদায়ক। সবাই যদি একটু সাহায্য করেন, তাহলে আমার মেয়ে তার স্বপ্ন পূরণ করতে পারবে।’

দিনমজুর বাবা আমির হোসেন বলেন, ‘প্রতিদিন যা আয় করি, তা দিয়ে সংসারই চলে না। মেয়ের লেখাপড়া আর যাতায়াতের খরচ বহন করা আমার পক্ষে সম্ভব না। যদি কেউ একটা স্কুটির ব্যবস্থা করে দিতেন, তাহলে মেয়েটা নিয়মিত কলেজে যেতে পারত।’

স্থানীয় এলাকাবাসীরা জানান, মেঘলা ছোটবেলা থেকেই মেধাবী ও পরিশ্রমী। প্রতিকূলতার মধ্যেও তার পড়াশোনার প্রতি আগ্রহ সত্যিই প্রশংসনীয়।

এলাকাবাসী মনে করেন, একটু সহায়তা পেলে মেঘলা ভবিষ্যতে বড় কিছু করতে পারবে।

সেই সঙ্গে সমাজের বিত্তবান ও সহানুভূতিশীল মানুষ এগিয়ে এলে মেঘলার মতো একজন সংগ্রামী শিক্ষার্থীর জীবন বদলে যেতে পারে বলে সকলের দাবি।

কলেজের শিক্ষক আমিনুল ইসলাম বলেন, ‘মেঘলা অত্যন্ত মেধাবী। আমরা তাকে যতটা সম্ভব সহায়তা করছি। কিন্তু তার নিয়মিত ক্লাসে উপস্থিতি নিশ্চিত করতে হলে একটি চলাচলের ব্যবস্থা জরুরি।’

দ্য বার্ড সেফটি হাউসের চেয়ারম্যান ও পরিবেশকর্মী মামুন বিশ্বাস একমত হয়ে বলেন, ‘এটি শুধু একটি পরিবারের সমস্যা নয়, এটি আমাদের সমাজের দায়। সবাই মিলে পাশে দাঁড়ালে মেঘলার মতো আরও অনেক মেধাবী শিক্ষার্থীর ভবিষ্যৎ রক্ষা পাবে।’

অদম্য ইচ্ছাশক্তি আর সংগ্রামের প্রতীক মেঘলা এখন সমাজের সহানুভূতি আর সহায়তার অপেক্ষায়। একটি তিন চাকার স্কুটি হতে পারে তার শিক্ষাজীবনের টার্নিং পয়েন্ট—যা তাকে প্রতিদিন কলেজে পৌঁছে দেবে, আর এগিয়ে নেবে স্বপ্নের আরও কাছাকাছি বলে মনে করেন তিনি।


নারায়ণগঞ্জে অভিযানের সময় র‍্যাবের ওপর হামলা, আহত ৩

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নারায়ণগঞ্জ প্রতিনিধি

নারায়ণগঞ্জ শহরের মাসদাইর এলাকার একটি মাদক স্পটে অভিযানের আগে তথ্য সংগ্রহ করতে গেলে র‌্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়নের (র‌্যাব) সদস্যদের ওপর হামলা চালিয়েছে মাদক কারবারিরা। এতে বাহিনীর এস আই নজিবুল, কনস্টেবল মাহি ও কন্সটেবল ইব্রাহিম নামে তিন সদস্য আহত হয়েছেন। যার মধ্যে দুইজনের অবস্থা গুরুতর।

মঙ্গলবার দুপুর ২টার দিকে বোয়ালিয়া খাল এলাকায় এ হামলা ঘটে বলে জানিয়েছেন র‌্যাব-১১ এর অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল এইচ এম সাজ্জাদ হোসেন। তিনি বলেন, ‘মঙ্গলবার দুপুরে র‌্যাব-১১ এর গোয়েন্দা দলের চার সদস্য শহরের ফতুল্লা থানার মাসদাইর লিচুবাগ এলাকার একটি মাদক বিক্রির স্পটে সাদা পোশাকে তথ্য সংগ্রহ করতে যায়। র‌্যাবের গোয়েন্দা সদস্যরা স্থানীয় লোকজনের কাছ থেকে তথ্য সংগ্রহ করে স্পটের কিছুটা দূরে একটি জায়গায় বসে বিশ্রাম করছিলেন। এসময় মাদক ব্যবসায়ী ও তাদের সহযোগিরা ধারাল অস্ত্র নিয়ে র‌্যাবের গোয়েন্দা দলের ওপর অতর্কিত হামলা চালিয়ে এলোপাথারি কোপাতে শুরু করে। হামলার কিছুক্ষন পরে মাদক ব্যবসায়ী সন্ত্রাসীরা পালিয়ে যায়। পরে আহত তিন র‌্যাব সদস্যকে স্থানীয়রা উদ্ধার করে নারায়ণগঞ্জ জেনারেল হাসপাতালের জরুরি বিভাগে নিয়ে আসে।’

লেফটেন্যান্ট কর্নেল এইচ এম সাজ্জাদ হোসেন আরো বলেন, ‘আইনশৃংখলা বাহিনীর মাদক বিরোধী অভিযান চলছে। সেই অভিযানের অংশ হিসাবে নারায়ণগঞ্জে মাদক স্পটের সন্ধানে নামে র‌্যাব-১১ এর গোয়েন্দা দল। তারা মাসদাইর লিচুবাগ এলাকার একটি মাদক স্পটের খবর সংগ্রহ করতে গেলে তাদের ওপর এ হামলা চালানো হয়। বর্তমানে ওই স্পটে অভিযান চলছে। বাকি তথ্য পরবর্তীতে জানানো হবে।’

নারায়ণগঞ্জ জেনারেল (ভিক্টোরিয়া) হাসপাতালের আবাসিক মেডিক্যাল অফিসার জহিরুল ইসলাম বলেন, ‘আহতদের মধ্যে র‌্যাব সদস্য এস আই নজিবুলের হাতের রগ ধারালো অস্ত্রের আঘাতে কেটে গেছে। আমরা প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে তাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠিয়েছি। এছাড়া হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে কনস্টেবল ইব্রাহিমকে। আর কনস্টেবল মাহিকে প্রাথমিক চিকিৎসা দেয়া হয়েছে।’

তিনি আরো বলেন, ‘ধারালো অস্ত্রের আঘাতে র‌্যাব সদস্যদের হাতে, পায়ে, মাথাসহ শরীরের বিভিন্ন স্থানে জখম হয়েছে। এস আই নজিবুল ও কনস্টেবল ইব্রাহীমের আঘাত গুরুতর।’

এ বিষয়ে ফতুল্লা মডেল থানার ওসি মোহাম্মদ মাহবুব আলম বলেন, ‘হামলার ঘটনায় তিন জন র‌্যাব সদস্য আহত হয়েছেন। তাদের মধ্যে একজনের অবস্থা গুরুতর। তাকে ঢাকা পাঠানো হয়েছে। বাকি দুজন নারায়ণগঞ্জেই চিকিৎসা নিচ্ছেন। পুলিশ ও র‌্যাব ঘটনাস্থল ও এর আশেপাশের এলাকায় অভিযান চালাচ্ছে।’


banner close