মঙ্গলবার তিন মাস বয়সী শিশুর চিকিৎসার জন্য চট্টগ্রাম মেডিক্যাল কলেজ (চমেক) হাসপাতালে এসেছিলেন হাটহাজারীর বাসিন্দা মো. রহিম উদ্দিন। তার সঙ্গে থাকা ব্যাগে ছিল সদ্য ব্যাংক থেকে নেওয়া ঋণের এক লাখ ৯০ হাজার টাকা ও স্ত্রী-সন্তানের চিকিৎসাপত্র। হাসপাতালে স্ত্রী-সন্তানকে নিয়ে সিএনজি অটোরিকশা থেকে নামার সময় ভুলে ব্যাগটি গাড়িতেই ফেলে আসেন তিনি। বিষয়টি বুঝতে পারার পর যেন আকাশ ভেঙে পড়ে তার মাথায়। তৎক্ষণাৎ বিষয়টি হাসপাতালের দায়িত্বে থাকা আনসার সদস্যকে জানালে তারা পুলিশ ফাঁড়িতে জানানোর অনুরোধ করেন। তখন চমেক হাসপাতালের পুলিশ ফাঁড়িতে অভিযোগ জানান রহিম।
তার অভিযোগ পেয়ে তৎক্ষণাৎ বিষয়টি তদন্ত করে সত্যতা পায় পুলিশ। চমেক হাসপাতালের সিসিটিভি ফুটেজ পর্যালোচনা করে সিএনজি অটোরিকশাটির নম্বর সংগ্রহ করে তারা। চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশের (সিএমপি) ট্রাফিক বিভাগের সহযোগিতায় অটোরিকশাটি চিহ্নিত করে চালক ও মালিকের তথ্য সংগ্রহ করে পুলিশ। পরে চালকের সঙ্গে যোগাযোগ করে টাকা ও গুরুত্বপূর্ণ নথিসহ ব্যাগটি উদ্ধার করে ভুক্তভোগী রহিমের হাতে তুলে দেয় তারা।
এই বিষয়ে চট্টগ্রাম মেডিক্যাল কলেজ (চমেক) হাসপাতাল পুলিশ ফাঁড়ির দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা নুরুল আলম আশেক বলেন, ‘আমরা অভিযোগ পেয়ে তৎক্ষণাৎ ঘটনার সত্যতা পেয়েছি। এর পরপরই দ্রুত ট্রাফিক বিভাগের মাধ্যমে সিএনজি অটোরিকশাটি চিহ্নিত করি। পরে চালকের সঙ্গে যোগাযোগ করে তার কাছ থেকে ব্যাগটা উদ্ধার করা হয়েছে। শুরুতে চালক অস্বীকার করলেও একটু পর জিজ্ঞাসাবাদে স্বীকার যান তিনি।’
মোবাইল ব্যাংকিং সেবা নগদে সুপারভাইজার হিসেবে কাজ করেন ভুক্তভোগী রহিম উদ্দিন। তিনি জানান, বাচ্চার চিকিৎসা ও কিছু ব্যক্তিগত গুরুত্বপূর্ণ কাজের জন্য কয়েকদিন আগে ঋণটা নিয়েছিলেন পারিবারিকভাবে। মঙ্গলবার বেলা ১১টার দিকে বাচ্চার চিকিৎসার জন্য চমেক হাসপাতালে এসেছিলেন।
এক পাওনাদারকে কিছু টাকা দেওয়ার কথা ছিল, তাই সঙ্গে টাকাগুলো ব্যাগে নিয়েছিলেন। হাসপাতালে প্রবেশের পর ব্যাগ নেই দেখে মাথায় আকাশ ভেঙে পড়ে তার। পরে পুলিশকে জানালে তারা তৎক্ষণাৎ ব্যবস্থা নিয়ে টাকাটা উদ্ধার করে দেয়।
তিনি বলেন, ‘টাকাটা হারানোর পর দুনিয়াদারী অন্ধকার হয়ে আসছিল। পুলিশ দ্রুত টাকাটা উদ্ধার করে দিয়েছে, তাদের কাছে কৃতজ্ঞ আমি। বিশেষ করে উপপরিদর্শক সোহেল সাহেব অনেক কষ্ট করেছেন, ওনাকে অসংখ্য ধন্যবাদ।’
এই ঘটনায় পুলিশের প্রতি তার ধারণাই বদলে গেছে বলে জানান রহিম উদ্দিন।
বগুড়ার নন্দীগ্রাম উপজেলার বিস্তীর্ণ মাঠজুড়ে এখন চোখ ধাঁধানো হলুদের সমারোহ। প্রকৃতি যেনো সেজেছে নতুন সাজে। সকালের নরম রোদ আর শীতল আবহাওয়ার মাঝে সরিষা ফুলের সৌন্দর্য মুগ্ধ করছে পথচারী ও দর্শনার্থীদের। এই অপরূপ সৌন্দর্যের মাঝেই চলছে আরেক ব্যস্ত কর্মযজ্ঞ মধু সংগ্রহ। প্রতি বছরের মতো এবারো সরিষা মৌসুমে নন্দীগ্রামে ছুটে এসেছেন বিভিন্ন জেলার মৌখামারিরা। নন্দীগ্রাম উপজেলার বিভিন্ন মাঠে সরিষা ক্ষেতের পাশের ফাঁকা জমিতে সারি সারি করে সাজানো হয়েছে শত শত মৌবাক্স। দূর থেকেই শোনা যায় মৌমাছির ভু ভু গুঞ্জন। সরিষা ফুলে বসে মৌমাছিরা মধু আহরণ করছে। মুখ ভর্তি মধু নিয়ে মৌমাছি ফিরে আসছে মৌবাক্সে। সেখানে মধু জমা করে আবার ছুটে যাচ্ছে ফুলের মাঝে। এভাবেই দিনভর চলতে থাকে মৌমাছিদের নিরবচ্ছিন্ন মধু সংগ্রহ। মৌমাছি সরিষা ফুলে ফুলে ঘুরে বেড়িয়ে মধু সংগ্রহ করায় সরিষা ফুলের পরাগায়নেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে।
মৌখামারিরা জানান, একটি মৌবাক্সে সাধারণত ৮ থেকে ১০টি মোম দিয়ে তৈরি চাকের ফ্রেম রাখা হয়। মৌবাক্সের ভিতরে রাখা হয় একটি রাণী মৌমাছি। রাণী মৌমাছির উপস্থিতির কারণেই শ্রমিক মৌমাছিরা ওই বাক্সে অবস্থান করে এবং ফুল থেকে মধু সংগ্রহ করে চাকের ভেতরে জমা করে। মৌবাক্সের নিচের দিকে রাখা ছোট ছিদ্র দিয়ে মৌমাছিরা নিয়মিত আসা-যাওয়া করে। একটি মৌবাক্সের চাকে সম্পূর্ণভাবে মধু ভরতে সময় লাগে প্রায় ১০ থেকে ১২দিন। এরপর বিশেষ মেশিনের সাহায্যে চাকের ফ্রেম থেকে মধু সংগ্রহ করা হয়। এই প্রক্রিয়ায় মধুর স্বাভাবিক গুণাগুণ অক্ষুণ্ন থাকে। নড়াইল সদর উপজেলার চিলগাছা রঘুনাথপুর গ্রাম থেকে আসা মৌখামারি চাঁন মিয়া বলেন, আমরা ২৫ ডিসেম্বর নন্দীগ্রাম পৌর এলাকার কুচাইকুড়ি সরিষা ক্ষেতে সরিষা ফুলের মধু সংগ্রহের জন্য এসেছি। এখানকার পরিবেশ ও ফুলের ঘনত্ব মধু সংগ্রহের জন্য খুবই উপযোগী। আশা করছি এবার ভালো পরিমাণ মধু পাবো। তিনি আরো জানান, গত ৭ বছর ধরে মধু সংগ্রহ ও বিক্রয়ের সঙ্গে যুক্ত আছি। বর্তমানে আমার প্রায় ২০০টি মৌবাক্স রয়েছে। ১০ থেকে ১২দিন পরপর মধু সংগ্রহ করা হয়। বাজারে প্রতিমন মধু ১১ থেকে ১২ হাজার টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। নন্দীগ্রাম উপজেলার বিভিন্ন মাঠে এখন সরিষা ফুল থেকে মৌমাছির মাধ্যমে মধু সংগ্রহ করা হচ্ছে।
এ বিষয়ে উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা গাজীউল হক জানান, যেসব সরিষা ক্ষেতে মৌমাছির মাধ্যমে মধু সংগ্রহ করা হচ্ছে সেসব জমিতে অন্যান্য জমির তুলনায় ১৫ থেকে ২০ শতাংশ বেশি ফলন পাওয়া যাবে। মৌমাছি সরিষা ফুলে ফুলে ঘুরে বেড়িয়ে মধু সংগ্রহের কারণে সরিষা ফুলে পরাগায়নে অত্যন্ত কার্যকর ভূমিকা রাখছে। তিনি আরো বলেন, মৌচাষের কারণে একদিকে যেমন সরিষার উৎপাদন বাড়ছে, অন্যদিকে এলাকাবাসীও অল্প মূল্যে খাঁটি মধু পাচ্ছেন। এতে কৃষক ও মৌখামারিরা লাভবান হচ্ছে।
শিক্ষা উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. সি আর আবরার সোমবার (১৯ জানুয়ারি) চট্টগ্রামে আয়োজিত চট্টগ্রাম ইন্ডিপেন্ডেন্ট বিশ্ববিদ্যালয়ের তৃতীয় সমাবর্তন অনুষ্ঠানে কনভোকেশন চেয়ারের বক্তব্যে শিক্ষার্থীদের প্রকৃত সফলতার স্বরূপ ব্যাখ্যা করে বলেন, "সমাজকে আমরা কী দিচ্ছি, সেটাই হবে জীবনের প্রকৃত সফলতার মাপকাঠি।" শিক্ষার মূল উদ্দেশ্য কেবল সার্টিফিকেট অর্জন নয় বরং নৈতিকতা ও দায়িত্বশীলতা অর্জন উল্লেখ করে তিনি শিক্ষার্থীদের উদ্দেশ্যে বলেন, "ডিগ্রি মানুষকে সুযোগ দেয়, কিন্তু শিক্ষা মানুষকে দায়িত্ববোধ শেখায়।"
সমাবর্তন অনুষ্ঠানে অর্জিত জ্ঞানকে দেশ ও দশের কল্যাণে ব্যবহারের তাগিদ দিয়ে তিনি আরও বলেন, "অর্জন দিয়ে সমাজ ও রাষ্ট্রের জন্য কী করা হচ্ছে, সেটাই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন।" জুলাই গণঅভ্যুত্থানের শহীদদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জ্ঞাপন করে তিনি মন্তব্য করেন, "জুলাই শহীদদের মহান ত্যাগের কারণে জাতি আজ অধিকারবঞ্চিত প্রজা থেকে মর্যাদাসম্পন্ন নাগরিক হিসেবে আত্মপ্রকাশ করতে পেরেছে।"
তরুণ প্রজন্মের প্রতি বিশেষ নির্দেশনা দিয়ে অধ্যাপক আবরার বলেন যে, গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ রক্ষা ও অন্যায়ের বিরুদ্ধে সোচ্চার হওয়াই বর্তমান সমাজের তরুণদের প্রধান দায়িত্ব। সমাবর্তন পাওয়া শিক্ষার্থীদের জীবনের এই নতুন যাত্রাকে স্বাগত জানিয়ে তিনি বলেন, "আজকের দিনটি আপনাদের জীবনের একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক।"
ব্যক্তিগত ও প্রাতিষ্ঠানিক স্বার্থের ঊর্ধ্বে উঠে মানবকল্যাণকে অগ্রাধিকার দেওয়ার পরামর্শ দিয়ে তিনি প্রযুক্তির সঠিক ব্যবহার নিশ্চিত করা এবং বিবেক ও যুক্তি দিয়ে সত্য-মিথ্যা নির্ণয়ের সামর্থ্য অর্জনের ওপর গুরুত্বারোপ করেন। এছাড়া সন্তানদের মানবিক মানুষ হিসেবে গড়ে তোলার পেছনে অভিভাবকদের ত্যাগ এবং শিক্ষকদের নিষ্ঠার প্রতি রাষ্ট্রীয় কৃতজ্ঞতা জানিয়ে তিনি জলবায়ু পরিবর্তনসহ বৈশ্বিক ও জাতীয় চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় তরুণদের সাহসী ভূমিকা পালনের আহ্বান জানান।
আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে ৮ লাখ ৯৭ হাজার ১১৭ জন আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্য মোতায়েনের সিদ্ধান্তের কথা জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অব.) মো. জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী।
সোমবার (১৯ জানুয়ারি) সচিবালয়ে অনুষ্ঠিত আইনশৃঙ্খলা সংক্রান্ত উপদেষ্টা পরিষদ কমিটির ২০তম সভায় সভাপতিত্ব শেষে তিনি জানান, এই বিশাল নিরাপত্তা বাহিনীর মধ্যে সেনাবাহিনীর ১ লাখ, নৌ-বাহিনীর ৫ হাজার, বিমান বাহিনীর ৩ হাজার ৭৩০, পুলিশের ১ লাখ ৪৯ হাজার ৪৪৩, আনসারের ৫ লাখ ৭৬ হাজার ৩১৪, বিজিবির ৩৭ হাজার ৪৫৩, কোস্ট গার্ডের ৩ হাজার ৫৮৫, র্যাবের ৭ হাজার ৭০০ এবং ফায়ার সার্ভিসের ১৩ হাজার ৩৯০ জন সদস্য নির্বাচনী মাঠে সক্রিয় থাকবেন। বর্তমান অন্তর্বর্তীকালীন সরকার একটি অবাধ ও নিরপেক্ষ নির্বাচন অনুষ্ঠানে বদ্ধপরিকর উল্লেখ করে তিনি বলেন, "দেশের সার্বিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি পর্যালোচনা; আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্য মোতায়েন, নির্বাচনী সমন্বয় সেল, নির্বাচনকে সুষ্ঠু, নিরপেক্ষ, শান্তিপূর্ণ, গ্রহণযোগ্য ও উৎসবমুখর করতে গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ, অপারেশন ডেভিল হান্ট ফেইজ-২ এর অগ্রগতি পর্যালোচনা; অবৈধ ও লুট হওয়া অস্ত্র উদ্ধার কার্যক্রম; মাদকবিরোধী অভিযানসহ বিভিন্ন বিষয়ে আলোচনা হয়েছে।
বর্তমান অন্তর্বর্তীকালীন সরকার একটি অবাধ, সুষ্ঠু, নিরপেক্ষ, শান্তিপূর্ণ, গ্রহণযোগ্য ও উৎসবমুখর পরিবেশে নির্বাচন অনুষ্ঠানে বদ্ধপরিকর। সেজন্য জাতীয় নির্বাচনে জনআকাঙ্ক্ষা বাস্তবায়নে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের মাধ্যমে সর্বোচ্চ নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ আমাদের কাছে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার। আর এ লক্ষ্যে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সমন্বিতভাবে কাজ করে যাচ্ছে।"
নিরাপত্তা পরিকল্পনার বিস্তারিত তুলে ধরে উপদেষ্টা জানান, বেসামরিক প্রশাসনকে সহায়তা প্রদানের লক্ষ্যে "ইন এইড টু সিভিল পাওয়ার"–এর আওতায় সশস্ত্র বাহিনী মোতায়েন করা হবে এবং ভোটকেন্দ্রভিত্তিক নিরাপত্তার অংশ হিসেবে ৮ থেকে ১৪ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত ৭ দিন আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী সরাসরি দায়িত্ব পালন করবে। এবারের নির্বাচনে প্রযুক্তির ব্যবহারের ওপর বিশেষ গুরুত্বারোপ করে তিনি আরও বলেন, ৪১৮টি ড্রোন এবং ন্যাশনাল টেলিকমিউনিকেশন মনিটরিং সেন্টার কর্তৃক প্রস্তুতকৃত "নির্বাচন সুরক্ষা অ্যাপ-২০২৬" আইনশৃঙ্খলা নিয়ন্ত্রণে ও তাৎক্ষণিক অভিযোগ নিষ্পত্তিতে কার্যকর ভূমিকা রাখবে।
প্রতিটি ভোটকেন্দ্রে সিসিটিভি স্থাপনসহ অধিক গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্রে ২৫ হাজার বডি ওয়ার্ন ক্যামেরা ব্যবহারের প্রস্তুতিও চূড়ান্ত করা হয়েছে বলে তিনি জানান। এছাড়া দুর্গম ও চরাঞ্চলে নির্বাচনী সামগ্রী এবং জনবল পরিবহনে বিমান বাহিনীর হেলিকপ্টার ব্যবহারের পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। নির্বাচনকে বাধাগ্রস্ত করার যেকোনো অপচেষ্টা কঠোরভাবে দমনের হুঁশিয়ারি দিয়ে তিনি বলেন, "এবারের জাতীয় নির্বাচনে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি ঘটানোর বা নির্বাচনকে বাধাগ্রস্ত করার যেকোনো অপতৎপরতা প্রতিরোধে ব্যবস্থা গ্রহণ করতে পারবেন।"
স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা জানান, গত বছরের ১৩ ডিসেম্বর থেকে চালু হওয়া অপারেশন ডেভিল হান্ট ফেইজ-২ অভিযানে ১৭ জানুয়ারি পর্যন্ত ১৯ হাজার ৮৫৪ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তাছাড়া এ অভিযানে ৩৪৬টি আগ্নেয়াস্ত্র, ২১৯১ রাউন্ড গুলি, ৭২২ রাউন্ড কার্তুজ, ৬৯৪টি দেশীয় অস্ত্র, গ্রেনেড, মর্টারের গোলা, গান পাউডার, আতশবাজি, বোমা তৈরির উপকরণ উদ্ধার করা হয়েছে। এ সময় মামলা ও ওয়ারেন্টমূলে ৩৩ হাজার ৫১৩ জনসহ ৫৩ হাজার ৩৬৭ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। ডেভিল হান্ট ফেইজ-২ এর অংশ হিসেবে চেকপোস্ট ও টহলের সংখ্যা বৃদ্ধি করা হয়েছে যাতে সন্ত্রাসী ও দুষ্কৃতকারীরা পার না পেয়ে যায় এবং অবৈধ ও লুট হওয়া অস্ত্র উদ্ধার আরও বৃদ্ধি পায়।
গাজীপুরের কালিয়াকৈরে মাদক ব্যবসায়ীদের হামলায় মাদক নিয়ন্ত্রণ কর্মকর্তারা আহত হওয়ার পর অবশেষে জুয়া ও মাদকের আস্তানা ভাংচুর করে আগুনে পুড়ালেন গ্রামবাসী। বরিবার (১৮ জানুয়ারি) রাতে উপজেলার টান-কালিয়াকৈর এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। এ ঘটনার পর ওই এলাকা থেকে গা ঢাকা দিয়েছেন মাদক ব্যবসায়ীরা। এর প্রভাব উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় পড়বে বলে মনে করছেন ওই গ্রামবাসী। তবে গ্রামবাসীদের দাবি এ বিষয়ে কেন? নিরব পুলিশ।
এলাকাবাসী ও মাদক বিরোধী কমিটি সূত্রে জানা গেছে, কালিয়াকৈর উপজেলার বিভিন্ন এলাকার আনাচে-কানাচে মাদকের ব্যাপক বিস্তার লাভ করেছে। মাদকে আসক্ত হয়ে পড়ছেন শিশু শিক্ষার্থীসহ নানা শ্রেনী ও পেশার বিভিন্ন বয়সের মানুষ। আর মাদকের যোগান পেতে চুরি, ছিনতাইসহ বিভিন্ন অপরাধে জড়িয়ে পড়ছেন মাদক ব্যবসায়ী ও মাদকসেবীরা। সব সময় তাদের ছোবলের আতঙ্কে থাকেন মানুষ।
মাদকের বিস্তার কিছুটা নিয়ন্ত্রণ করতে গিয়ে বিভিন্ন সময় হামলা ও মারধরের শিকার হচ্ছেন মাদক নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের লোকজনসহ আইন শৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরাও। শুধু আইন শৃঙ্খলা বাহিনীই নয়, মাদক নিয়ন্ত্রণে উপজেলার টান-কালিয়াকৈর এলাকার মানুষ মাদক বিরোধী কমিটি করেন। তারপরও মাদক ব্যবসায়ী ও মাদক সেবীদের নিয়ন্ত্রণ করা যায়নি। ওই এলাকায় অভিযান চালিয়ে সর্বশেষ গত১২ জানুয়ারী সন্ধ্যার পর উপজেলার টান-কালিয়াকৈর এলাকায় হামলা ও মারধরের শিকার হন গাজীপুর মাদক নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের কর্মকর্তারা।
হামলা চালিয়ে আটক হাবিব নামে এক মাদক ব্যবসায়ীকে ছিনিয়ে নেয় তার সহচররাও। এর পূর্বে মাদকবাহীনীর হামলায় গাজীপুর মাদক নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের পরিদর্শক আনোয়ার হোসেন, এসআই বাকের, এসআই আরিফসহ টিমের সাতজন আহত হন। খবর পেয়ে কালিয়াকৈর থানার পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে আহত অবস্থায় তাদের উদ্ধার করে। এ ঘটনায় ওইদিন রাতেই গাজীপুর মাদক নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের পরিদর্শক আনোয়ার হোসেন বাদী হয়ে কালিয়াকৈর থানায় একটি মামলা দায়ের করেন। এরপর দু'দিন পর মঙ্গলবার রাতে ওই এলাকায় অভিযান চালিয়ে শাহ আলম, তার স্ত্রী শায়লা বেগম ও তাদের সন্তান শাকিলকে গ্রেপ্তার করে থানা পুলিশ।
পরে গ্রেপ্তারকৃতদের জেলহাজতে পাঠিয়েছে পুলিশ। তারপরও যেন অবাধে বিচরণ করছে মাদক ব্যবসায়ী ও সেবীরা। তারা ওই এলাকার ঘাটাখালী নদীর তীরে ঝুপে তাবু টানিয়ে আস্তানা তৈরি করে। দিনে-রাতে সেখানে জুয়া খেলে ও মাদক সেবন করা থেকে শুরু করে কেনা-বেচা হয় মাদক। বিষয়টি টের পেয়ে গত রবিবার রাতে ওই আস্তানা ভাংচুর ও আগুন দিয়ে তাবু, তাসসহ মাদক পুড়িয়ে দেয় গ্রামবাসী। এ ঘটনায় কোনো হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি। কিন্তু এরপর গা ঢাকা দিয়েছেন ওই এলাকার মাদক ব্যবসায়ীরা। এর প্রভাব উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় পড়বে বলে মনে করছেন ওই গ্রামবাসী।
ওই মাদক বিরোধী কমিটির দায়িত্বরত একজন সদস্য ও কালিয়াকৈর পৌর যুবদলের সদস্য মোস্তাফিজুর রহমান শিপলু জানান, কিছুদিন আগে অভিযানের সময় হামলার শিকার হন প্রশাসনের লোকজন। এ বিষয় নিয়ে ওইদিন সাবেক দুই কাউন্সিলর মহসিন উজ্জামান ও মাসুম আলীসহ আমরা এলাকাবাসী বসেছিলাম। পরে সবাই মিলে ওই আস্তানা আগুনে পুড়িয়ে দেওয়া হয়। তবে সবাই এগিয়ে এলে শুধু মাদকের বিরুদ্ধেই নয়, বিভিন্ন অসামাজিক কর্মকান্ড প্রতিহত করা সম্ভব।
এব্যাপারে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা এ এইচ এম ফখরুল হোসাইন জানান, শুনেছি আগুন দিয়ে মাদকের আস্তানা পুড়ানো হয়েছে। খুব দ্রুত ওই এলাকায় অভিযান পরিচালনা করা হবে। এর আগে গত মাসেও মাদকের বিষয়ে তিনটি অভিযান চালানো হয়েছে। সে বিষয়ে নিয়মিত মামলা দায়ের করা হয়েছে। তবে মাদকের বিষয়ে আমাদের অভিযান অব্যাহত থাকবে।
আগামী ৪ ফেব্রুয়ারির মধ্যে ৯ম পে-স্কেলের প্রজ্ঞাপন জারি না হলে কঠোর আন্দোলনে নামার ঘোষণা দিয়েছে এমপিওভুক্ত শিক্ষা জাতীয়করণ প্রত্যাশী জোট।
সোমবার (১৯ জানুয়ারি) জাতীয় প্রেস ক্লাবে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে জোটের প্রধান নেতা অধ্যক্ষ দেলোয়ার হোসেন আজীজি এই আলটিমেটাম দিয়ে জানান, নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে প্রজ্ঞাপন না হলে ৫ ফেব্রুয়ারি দেশব্যাপী মানববন্ধন ও জেলা প্রশাসকদের মাধ্যমে প্রধান উপদেষ্টার কাছে স্মারকলিপি প্রদান করা হবে। দীর্ঘ ১১ বছর ধরে নতুন পে-স্কেল না হওয়ায় প্রজাতন্ত্রের কর্মচারীদের মধ্যে তীব্র অসন্তোষ বিরাজ করছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, "এই অবহেলা ও দীর্ঘসূত্রতায় প্রজাতন্ত্রের কর্মচারীদের ন্যায্য অধিকার ব্যাহত হয়েছে।"
সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে তিনি দাবি করেন, মূল্যস্ফীতির এই বাজারে বর্তমান বেতন দিয়ে টিকে থাকা অসম্ভব হয়ে পড়েছে, অথচ প্রজ্ঞাপন বিলম্বিত করতে নানামুখী চক্রান্ত চলছে। ষড়যন্ত্রের অভিযোগ তুলে তিনি বলেন, "পে-স্কেলের প্রজ্ঞাপন জারির বিরুদ্ধে নানা মহল থেকে ষড়যন্ত্র চলছে। যাদের এ বিষয়ে মত দেওয়ার এখতিয়ার নেই, তারাও অহরহ নেতিবাচক মন্তব্য করে পরিবেশ বিভ্রান্ত করছে।"
অধ্যক্ষ আজীজি আরও বলেন, বেতন কমিশন গঠিত হলেও এর বাস্তবায়ন নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে, যা জনমনে ক্ষোভের সঞ্চার করেছে। বিশেষ করে বাংলাদেশ ব্যাংক গভর্নরের সাম্প্রতিক মন্তব্যের সমালোচনা করে তা প্রত্যাহারের দাবি জানান তিনি। সম্মেলনে জানানো হয়, অর্ধকোটি মানুষের জীবনমান এই বেতন কাঠামোর সঙ্গে জড়িত, তাই বর্তমান সরকারের মেয়াদেই এটি কার্যকর করা জরুরি।
একইসঙ্গে এমপিওভুক্ত শিক্ষা জাতীয়করণের দাবিকে রাজনৈতিক দলগুলোর নির্বাচনী ইশতেহারে অন্তর্ভুক্ত করার আহ্বান জানানো হয়। উক্ত সংবাদ সম্মেলনে জোটের যুগ্ম আহ্বায়ক মো. মতিউর রহমান, মো. নুরুল আমিন হেলালী, মো. মিজানুর রহমান এবং মো. হাবিবুল্লাহ রাজুসহ অন্যান্য শিক্ষক নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।
নির্বাচনী আচরণবিধি লঙ্ঘনের অভিযোগে হবিগঞ্জ-৪ আসনের বাংলাদেশ ইসলামি ফ্রন্টের প্রার্থী ও আলোচিত ইসলামী বক্তা মো. গিয়াস উদ্দিন তাহেরীকে শোকজ করেছে নির্বাচনী অনুসন্ধান ও বিচারিক কমিটি।
জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তা আবু হাসনাত মোহাম্মদ আরেফিন ১৯ জানুয়ারি বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান যে, একই আসনে বিএনপির প্রার্থী সৈয়দ ফয়সলকেও একই অভিযোগে কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়া হয়েছে। নির্বাচনী অনুসন্ধান ও বিচারিক কমিটির চেয়ারম্যান মো. রবিউল হাসান স্বাক্ষরিত ওই নোটিশে উল্লেখ করা হয়েছে, সংসদ নির্বাচনে রাজনৈতিক দল ও প্রার্থীর আচরণ বিধিমালা, ২০২৫ অনুযায়ী ভোটগ্রহণের তিন সপ্তাহ আগে সব ধরনের প্রচারণা নিষিদ্ধ। তবে গিয়াস উদ্দিন তাহেরীর প্রায় ৭ লাখ ৭০ হাজার ফলোয়ার সমৃদ্ধ ‘The Speech’ নামক ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজ থেকে নির্বাচনী প্রচারণামূলক ভিডিও প্রচার করা হয়েছে, যা স্পষ্টত বিধিমালা পরিপন্থী।
এই ঘটনার প্রেক্ষিতে আগামী ২০ জানুয়ারি গিয়াস উদ্দিন তাহেরী ও সৈয়দ ফয়সলকে নিজে অথবা প্রতিনিধির মাধ্যমে উপস্থিত হয়ে লিখিত ব্যাখ্যা প্রদানের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। নির্বাচনী পরিবেশ ও আচরণবিধি বজায় রাখার স্বার্থেই সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ এই কঠোর পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে।
বরিশালের হিজলা উপজেলার মেঘনা নদীর তীরে এক অজ্ঞাত যুবকের গলাকাটা মরদেহ উদ্ধার করেছে হিজলা নৌ পুলিশ। উদ্ধারকৃত যুবকের পরিচয় এখনও শনাক্ত করা সম্ভব হয়নি। পুলিশ এবং সিআইডি তদন্ত শুরু করেছে, হত্যাকাণ্ডের পেছনের রহস্য উদঘাটনের চেষ্টা চলছে।
সোমবার ( ১৯ জানুয়ারী) ভোর রাতে বড় জালিয়া ইউনিয়নের বাহেরচর গ্রামের আজিজ সিকদারের মাছঘাট সংলগ্ন এলাকা থেকে মরদেহটি উদ্ধার করা হয়। হিজলা নৌ-পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ পরিদর্শক গৌতম চন্দ্র মণ্ডল জানিয়েছেন, ভোর রাতে স্থানীয়দের খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে রক্তাক্ত অবস্থায় নৌকায় পড়ে থাকা যুবককে উদ্ধার করে। পরে তাকে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে আনা হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।
পরিদর্শক গৌতম জানান, নিহত যুবকের বয়স ও পরিচয় এখনও নিশ্চিত করা সম্ভব হয়নি। তবে ঘটনাস্থল থেকে একটি জেলে নৌকা জব্দ করা হয়েছে। পুলিশ আশা করছে, দ্রুত তদন্তের মাধ্যমে হত্যাকারীদের চিহ্নিত করা সম্ভব হবে।
প্রতক্ষ্যদর্শী জেলে জালাল রাঢ়ী বলেন, রাত প্রায় ১২টায় মাছ শিকার শেষে নদীর ঘাটে ফিরছিলাম। তখন গলাকাটা অবস্থায় এক যুবক বসে ছিল। রক্ত অঝোরে ঝরছিল। দেখে আমি অচেতন হয়ে পড়ি। এরপর কী হয়েছে, জানি না।
স্থানীয়রা জানিয়েছেন, রাতে ওই এলাকায় একটি স্পিডবোটের শব্দ শোনা গেছে। ধারণা করা হচ্ছে, অন্য কোথাও থেকে যুবককে আনা হয়ে কুপিয়ে হত্যা করা হতে পারে। নিহতের মরদেহ মর্গে প্রেরণ করা হয়েছে এবং আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের প্রস্তুতি চলছে। ঘটনাস্থল ও আশপাশের এলাকার নিরাপত্তা বৃদ্ধির জন্য পুলিশ সতর্ক অবস্থানে রয়েছে।
বরিশালে আশঙ্কাজনক হারে বাড়ছে বিবাহবিচ্ছেদের ঘটনা। গত দুই বছরে নিবন্ধিত বিয়ের তুলনায় তালাকের সংখ্যা চোখে পড়ার মতো বেড়েছে। সংশ্লিষ্ট দপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, নগরীতে প্রতিদিন গড়ে নয়টি করে বিবাহবিচ্ছেদ হচ্ছে। এসব বিচ্ছেদের আবেদনে পুরুষদের তুলনায় নারীরাই এগিয়ে রয়েছেন।
সমাজ বিশ্লেষকরা বলছেন, সংসার জীবনে আস্থা ও সহনশীলতার অভাব, স্বামীর বেকারত্ব, মাদকাসক্তি, অনলাইন জুয়ার প্রতি ঝোঁক এবং পরকীয়ার মতো বিষয়গুলো সংসার ভাঙনের বড় কারণ হয়ে উঠছে। তুচ্ছ বিষয় নিয়েও মনোমালিন্য তৈরি হচ্ছে, যা শেষ পর্যন্ত তালাকের পথে গড়াচ্ছে বহু পরিবার।
বরিশাল মহানগরীর নথুল্লাবাদ এলাকার এক ব্যবসায়ী জানান, দাম্পত্য জীবনে আস্থা হারিয়ে তিনি একসময় আত্মহত্যার চেষ্টা করেছিলেন। পরিবারে কলহ ও অবিশ্বাস তাকে মানসিকভাবে ভেঙে দিয়েছিল। যদিও পরে তিনি বেঁচে ফেরেন, তবে তার অভিজ্ঞতা বর্তমান সামাজিক সংকটেরই প্রতিচ্ছবি। অনেক ক্ষেত্রে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পরিচয় থেকে বিয়ে হলেও তা স্থায়ী হচ্ছে না। যৌতুকের চাপ, শারীরিক নির্যাতন ও পারিবারিক বিরোধে ভেঙে যাচ্ছে সম্পর্ক। এক তরুণী জানান, পরিবারের অমতে প্রেমের বিয়ে করেছিলেন তিনি। শুরুতে সব ঠিক থাকলেও পরে যৌতুকের দাবিতে নির্যাতন শুরু হয়। এক বছরের মধ্যেই বিচ্ছেদের সিদ্ধান্ত নিতে বাধ্য হন তিনি।
নারীদের অভিযোগ, স্বামীর বেকারত্ব, মাদকাসক্তি ও অনলাইন জুয়ার আসক্তির কারণে সংসারে অশান্তি বাড়ছে। অনেকেই নিয়মিত নির্যাতনের শিকার হয়ে শেষ পর্যন্ত বাবার বাড়িতে ফিরে যেতে বাধ্য হচ্ছেন।
বরিশাল জেলা রেজিস্ট্রার কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, গত দুই বছরে বরিশালে মোট ১৮ হাজার ৬৪৪টি বিয়ের বিপরীতে বিচ্ছেদ হয়েছে ৬ হাজার ৩৫২টি। ২০২৩ সালে ৯ হাজার ৬৬৬টি বিয়ের মধ্যে ভেঙেছে ৩ হাজার ৫টি সংসার। ২০২৪ সালে ৮ হাজার ৯৭৮টি বিয়ের মধ্যে বিচ্ছেদ হয়েছে ৩ হাজার ৩৪৭টি।
আইন সংশ্লিষ্টরা বলছেন, আদালতে বিবাহবিচ্ছেদ ও নারী নির্যাতন সংক্রান্ত মামলার সংখ্যা ধারাবাহিকভাবে বাড়ছে। অধিকাংশ অভিযোগের পেছনে রয়েছে বিবাহবহির্ভূত সম্পর্ক, মাদকাসক্তি ও পারিবারিক সহিংসতা।
সামাজিক সংগঠনের প্রতিনিধিরা মনে করেন, ধর্মীয় ও নৈতিক মূল্যবোধ থেকে সরে আসা এবং পারিবারিক বন্ধন দুর্বল হয়ে পড়াই এই সংকটকে তীব্র করছে। তারা বলছেন, পরিবার ও সমাজভিত্তিক সচেতনতা বাড়াতে না পারলে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ রূপ নিতে পারে।
বরিশাল জেলা রেজিস্ট্রার কার্যালয়ের কর্মকর্তারা জানান, তালাকের ক্ষেত্রে নারীদের আবেদন তুলনামূলক বেশি। ২০২৫ সালে এই প্রবণতা আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
নওগাঁর বদলগাছী উপজেলায় সরিষা ক্ষেত থেকে আশরাফুল (৩০) নামে এক যুবকের মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ।
সোমবার (১৯ জানুয়ারি) সকাল সাড়ে ১১টায় উপজেলার জাবারীপুরহাট এলাকা থেকে মরদেহটি উদ্ধার করা হয়।
নিহত ওই যুবক পার্শ্ববর্তী জয়পুরহাট জেলার আক্কেলপুর থানার সরদারপাড়া গ্রামের সেকেন্দার আলীর ছেলে।
থানা-পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, সকালে কয়েকজন কৃষক মাঠে কাজ করতে যাচ্ছিলেন। এসময় তারা সরিষা ক্ষেতে মরদেহ দেখতে পেয়ে পুলিশকে খবর দেয়। পরে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহ উদ্ধার করে।
বদলগাছী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) লুৎফর রহমান বলেন, খবর পেয়ে মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য সদর হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। ঘটনাটি পূর্বপরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড হতে পারে বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে।ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন হাতে পেলে মৃত্যুর সঠিক কারন জানা যাবে।
চাঁদপুরে গণভোটের প্রচার ও ভোটার উদ্বুদ্ধকরণ কর্মসূচি পরিদর্শন শেষে অর্থ এবং বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি উপদেষ্টা ড. সালেহউদ্দিন আহমেদ জানিয়েছেন যে, "দেশের অর্থনৈতিক অবস্থা এতদিন আইসিইউতে ছিল, এখন কেবিনে স্থানান্তর হয়েছে।"
সোমবার (১৯ জানুয়ারি) দুপুরে আয়োজিত এক মতবিনিময় সভায় দেশের বর্তমান পরিস্থিতির উন্নয়ন তুলে ধরে তিনি বলেন, "দেশের অর্থনৈতিক অবস্থা ভঙ্গুর অবস্থায় নেই, ১৮ মিলিয়ন থেকে ৩২ মিলিয়নে উন্নীত করা হয়েছে।" সংস্কার প্রক্রিয়াকে যেকোনো সরকারের অপরিহার্য দায়িত্ব হিসেবে উল্লেখ করে তিনি জানান যে, "এ ধরনের সংস্কার যে কোনো সরকারের দায়িত্ব, তাই গণভোটে সরকার হ্যাঁ ভোটের পক্ষে।" সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বেতন কাঠামো প্রসঙ্গে উপদেষ্টা আশ্বস্ত করে বলেন, "পে-স্কেল সংস্কার প্রয়োজন আছে বলেই সরকার এ বিষয়ে কাজ করছে। যতটুকু সম্ভব বাস্তবায়নে চেষ্টা করবো, প্রচুর অর্থের প্রয়োজন।"
দেশের বর্তমান রাজনৈতিক পরিবেশ ও নির্বাচন ব্যবস্থা নিয়ে ড. সালেহউদ্দিন আহমেদ বলেন, "এখন তো আর রাজনৈতিক চাপ নেই, টাকা দিয়ে কোনো বিশেষ দলও আসতে পারবে না এবং পেশিশক্তি দিয়েও নির্বাচন হচ্ছে না।" একটি অবাধ ও স্বচ্ছ নির্বাচনের প্রত্যাশা ব্যক্ত করে তিনি প্রশ্ন করেন, "তাহলে ভোট কেন হবে না। সবার সহযোগিতা থাকলে সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচন হবে। আমরা চাই ভালো লোক আসুক। কথায় নয়, যিনি কাজে প্রমাণ দেবেন।" উক্ত অনুষ্ঠানে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের চেয়ারম্যান মো. আবদুর রহমান খান, জেলা প্রশাসক মো. নাজমুল ইসলাম সরকার এবং পুলিশ সুপার মো. রবিউল হাসানসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
লিমা বিশ্বাস (২০) ও পলি বিশ্বাসের (১৬) জীবনে যেন একের পর এক নেমে এসেছে অন্ধকার। দুই বছর আগে দিনমজুর বাবা পংকজ বিশ্বাসের মৃত্যু হয়েছিল। এবার মর্মান্তিক সড়ক দুর্ঘটনায় প্রাণ হারালেন তাদের একমাত্র ভরসা, দিনমজুর মা কামনা বিশ্বাসকে (৪১)। ছয় বছরের ছোট ভাই এলেক্সকে নিয়ে নাসিং পড়ুয়া লিমা ও দশম শ্রেণির ছাত্রী পলি কীভাবে পাড়ি দেবে জীবনের বাকি পথ—এই প্রশ্নই এখন ভারী করে তুলেছে স্বজনদের হৃদয়।
রবিবার (১৮ জানুয়ারি) সন্ধ্যায় মাদারীপুরে ঘটে যাওয়া ভয়াবহ সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত সাতজনের মধ্যে একজন ছিলেন কামনা বিশ্বাস। তার আয়ে চলতো পুরো সংসার ও সন্তানদের লেখাপড়ার খরচ। মায়ের মৃত্যুতে দুই বোন ও শিশুসন্তানটির আহাজারিতে ভারী হয়ে উঠেছে পুরো পরিবেশ।
মাদারীপুরের এই মর্মান্তিক দুর্ঘটনায় কামনা বিশ্বাসসহ নিহত পাঁচ নারী দিনমজুরের বাড়ি গোপালগঞ্জের কোটালীপাড়া উপজেলার সাদুল্লাপুর ইউনিয়নের পাইকের বাড়ি গ্রামে। তারা সবাই একই বাড়ির বাসিন্দা এবং পরস্পরের আত্মীয়।
মাদারীপুর সদর থানা পুলিশ সূত্রে জানা যায়, রবিবার সন্ধ্যায় সদর উপজেলার ঘটকচর মিলগেট এলাকায় সার্বিক পরিবহনের একটি বাস একটি ইজিবাইককে চাপা দেয়। এতে ঘটনাস্থলেই ইজিবাইকের চালক, ইজিবাইকের পাঁচ যাত্রী এবং বাসের এক হেলপার নিহত হন।
ইজিবাইকে থাকা নিহত পাঁচ যাত্রী হলেন— কোটালীপাড়া উপজেলার পাইকের বাড়ি গ্রামের রনজিত বাড়ৈর স্ত্রী শেফালী বাড়ৈ (৪২), পংকজ বিশ্বাসের স্ত্রী কামনা বিশ্বাস (৪১), পলাশ বাড়ৈর স্ত্রী দুলালী বাড়ৈ (৪৫), প্রকাশ বাড়ৈর স্ত্রী আভা বাড়ৈ (৫০) এবং জয়ন্ত বাড়ৈর স্ত্রী অনিতা বাড়ৈ (৪০)।
সোমবার (১৯ জানুয়ারি) সকালে পাইকের বাড়ি গ্রামের বাড়ৈ বাড়িতে গিয়ে দেখা যায়, সারিবদ্ধভাবে রাখা হয়েছে পাঁচটি মরদেহ। স্বজনদের বিলাপে সেখানে এক হৃদয়বিদারক দৃশ্যের অবতারণা হয়। কান্নায় ভেঙে পড়েন প্রতিবেশীরাও।
নিহত দুলালী বাড়ৈর দেবর বিপুল বাড়ৈ বলেন, “পরিবারের স্বচ্ছলতার জন্য ভোরের আলো ফোটার আগেই তারা জীবিকার তাগিদে পাশের মাদারীপুর জেলায় কাজে যেতেন। সকাল ৬টা থেকে দুপুর ১টা পর্যন্ত কাজ করে বাড়ি ফিরতেন। কিন্তু রবিবার অতিরিক্ত কাজ থাকায় বিকেল ৫টা পর্যন্ত কাজ শেষে সন্ধ্যায় ইজিবাইকে করে ফেরার সময় এই দুর্ঘটনা ঘটে।”
পাইকের বাড়ি গ্রামের ইউপি সদস্য অখিল ওঝা বলেন, “দুর্ঘটনার খবর পেয়ে আমি রাতেই মাদারীপুরে যাই। রাত ২টার দিকে লাশগুলো নিয়ে গ্রামে ফিরি। পুরো এলাকা আজ শোকস্তব্ধ। পরিবারগুলো এমনিতেই দরিদ্র ছিল। এই মর্মান্তিক দুর্ঘটনায় তারা সম্পূর্ণভাবে নিঃস্ব হয়ে গেছে। সরকারের কাছে দাবি জানাই—এই অসহায় পরিবারগুলোর পাশে যেন দাঁড়ানো হয়।”
একটি দুর্ঘটনায় একসঙ্গে একই বাড়ির পাঁচটি পরিবারের পাঁচ নারীর জীবন প্রদীপ নিভে যাওয়ায় পাইকের বাড়ি গ্রামজুড়ে নেমে এসেছে গভীর শোক ও নিস্তব্ধতা।
বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী কুষ্টিয়া-৩ আসনের মনোনীত সংসদ সদস্য প্রার্থী মুফতি আমির হামজার বিরুদ্ধে মানহানির অভিযোগে ফৌজদারি মামলা দায়ের করা হয়েছে।
রোববার (১৮ জানুয়ারি) কুষ্টিয়া আদালতে মামলাটি করেন ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় (ইবি) ছাত্রদলের যুগ্ম আহ্বায়ক সোলায়মান চৌধুরী শিহাব।
মামলার এজাহারে উল্লেখ করা হয়, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া একাধিক ভিডিওতে ওয়াজ মাহফিলে বক্তব্য দেওয়ার সময় মুফতি আমির হামজা সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার কনিষ্ঠ পুত্র মরহুম আরাফাত রহমান কোকোর নাম ব্যঙ্গাত্মকভাবে বিকৃত করে অবমাননাকর শব্দ ব্যবহার করেন। একই সঙ্গে তিনি বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে বেগম খালেদা জিয়ার কারাবাস প্রসঙ্গে বিদ্রূপমূলক ও কুরুচিপূর্ণ মন্তব্য করেন বলে অভিযোগ করা হয়। বাদী জানান, গত ১৬ জানুয়ারি বিকেলে ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের লালন শাহ হল এলাকায় অবস্থানকালে তিনি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এসব ভিডিও দেখতে পান।
এজাহারে আরও বলা হয়, আসামির এসব বক্তব্য মরহুম আরাফাত রহমান কোকো, সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া এবং তাঁদের পরিবারের সম্মান ও মর্যাদাকে ক্ষুণ্ণ করেছে, যা দণ্ডবিধির ৫০০, ৫০১ ও ৫০২ ধারায় শাস্তিযোগ্য অপরাধ। মামলায় আসামির বিরুদ্ধে সমন বা গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারির আবেদন জানানো হয়েছে।
মামলার বাদী সোলায়মান চৌধুরী শিহাব বলেন, এটি কোনো ব্যক্তিগত আক্রোশ বা রাজনৈতিক প্রতিহিংসা থেকে করা মামলা নয়। একজন মরহুম ব্যক্তি ও সাবেক প্রধানমন্ত্রীর বিরুদ্ধে প্রকাশ্যে কুরুচিপূর্ণ বক্তব্য সমাজে গ্রহণযোগ্য হতে পারে না। সামাজিক শালীনতা ও পারস্পরিক সম্মান বজায় রাখার স্বার্থেই তিনি আদালতের শরণাপন্ন হয়েছেন।
বাদীপক্ষের আইনজীবী অ্যাডভোকেট আব্দুল মজিদ জানান, আদালত মামলাটি আমলে নিয়েছেন এবং আগামী ১ ফেব্রুয়ারি আদেশের জন্য দিন ধার্য করেছেন। তারা আইনি প্রক্রিয়ার মাধ্যমে ন্যায়বিচার পাবেন বলে প্রত্যাশা করেন।
এ বিষয়ে মুফতি আমির হামজার সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলে তাঁর ব্যক্তিগত সহকারী আবু বকর জানান, তারা এখনো আদালতের কোনো নোটিশ পাননি। নোটিশ পেলে পরবর্তী আইনি পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে।
উল্লেখ্য, এর আগে মুফতি আমির হামজা তাঁর ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে তাঁকে হত্যার হুমকি দেওয়া হয়েছে বলে দাবি করেন। ওই পোস্টে তিনি নিজের মৃত্যুর জন্য প্রস্তুত থাকার কথা জানিয়ে তাঁর অবর্তমানে তিন কন্যাসন্তানের দেখভালের অনুরোধ জানান এবং কুষ্টিয়ায় ইনসাফ কায়েমের লড়াই চালিয়ে যাওয়ার আহ্বান জানান।
কুষ্টিয়া-৩ (সদর) আসনের জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী আমির হামজার বিরুদ্ধে খুলনার আদালতে একটি মানহানির মামলা দায়ের করা হয়েছে। সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার ছোট ছেলে আরাফাত রহমান কোকোকে নিয়ে কটূক্তি ও কুরুচিপূর্ণ মন্তব্যের অভিযোগে সোমবার (১৯ জানুয়ারি ২০২৬) সকালে খুলনার মুখ্য মহানগর হাকিমের সোনাডাঙ্গা আমলী আদালতে এই মামলাটি করা হয়।
মামলাটি দায়ের করেছেন আরাফাত রহমান কোকো স্মৃতি সংসদের খুলনা মহানগর সভাপতি ও কেন্দ্রীয় যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মো. জহিরুল ইসলাম বাপ্পি। বাদীর আইনজীবী অ্যাডভোকেট মো. বাবুল হাওলাদার জানান, আদালতের বিচারক আসাদুজ্জামান খান মামলাটি আমলে নিয়েছেন এবং সোনাডাঙ্গা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাকে বিষয়টি তদন্ত করে প্রতিবেদন দাখিলের নির্দেশ দিয়েছেন। মামলায় কুষ্টিয়া জেলার পাটিকাবাড়ী ইউনিয়নের ডাবিরা ভিটার বাসিন্দা আমির হামজাকে একমাত্র আসামি করা হয়েছে এবং পাঁচজনকে সাক্ষী হিসেবে রাখা হয়েছে।
মামলার এজাহারে ঘটনার বিবরণে উল্লেখ করা হয়েছে, গত ১৬ জানুয়ারি খুলনা মহানগরের সোনাডাঙ্গা থানাধীন সি অ্যান্ড বি কলোনিতে অবস্থিত আরাফাত রহমান কোকো স্মৃতি সংসদের কার্যালয়ে অবস্থানকালে বাদী সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়া একটি ভিডিও দেখতে পান। ওই ভিডিওতে দেখা যায়, আসামি আমির হামজা জনসম্মুখে প্রয়াত আরাফাত রহমান কোকোর নাম ব্যঙ্গ করে অত্যন্ত অবমাননাকর ও কুরুচিপূর্ণ মন্তব্য করছেন। ভিডিওটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়লে তা বাদীর নজরে আসে এবং তিনি ক্ষুব্ধ হন।
অভিযোগে আরও বলা হয়েছে, আসামির এমন কুরুচিপূর্ণ বক্তব্যের মাধ্যমে মরহুম আরাফাত রহমান কোকো, তার পরিবার এবং বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীদের পাশাপাশি আরাফাত রহমান কোকো স্মৃতি সংসদের নেতাকর্মী ও সমর্থকদের চরমভাবে মানহানি করা হয়েছে। এতে সামাজিকভাবে তাদের অপূরণীয় ক্ষতি হয়েছে। বিষয়টি নিয়ে সাংগঠনিকভাবে আলোচনা ও যাচাই-বাছাই শেষে ন্যায়বিচারের স্বার্থে আদালতের শরণাপন্ন হতে কিছুটা বিলম্ব হয়েছে বলে এজাহারে উল্লেখ করা হয়। বাদীর পক্ষ থেকে দণ্ডবিধির ৫০০ ধারায় মামলাটি আমলে নিয়ে আসামির বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারির আবেদন জানানো হয়েছে।