শনিবার, ১ আগস্ট ২০২৬
১৭ শ্রাবণ ১৪৩৩

‘ইসির সভায় ডিসি-এসপিদের হইচই করা ঠিক হয়নি’

নির্বাচন কমিশনার রাশেদা সুলতানা। ছবি: সংগৃহীত
প্রতিবেদক,
প্রকাশিত
প্রতিবেদক,
প্রকাশিত : ১০ অক্টোবর, ২০২২ ২২:২১

নির্বাচন কমিশনের (ইসি) মতবিনিময় সভায় ডিসি-এসপিদের হইচই করা ঠিক হয়নি বলে মন্তব্য করেছেন নির্বাচন কমিশনার রাশেদা সুলতানা। সোমবার নির্বাচন ভবনে নিজ কার্যালয়ে সাংবাদিকদের এ কথা বলেন কমিশনার।

রাশেদা সুলতানা বলেন, ‘ডিসি-এসপিদের হইচই করাটা তাদের ঠিক হয় নাই, এটা সত্য কথা। এ পরিবেশ তৈরি হওয়াটা কোনোভাবেই ঠিক হয় নাই। তাই মনে একটু খারাপ লাগছে। বিব্রত তো বটেই, কারণ ও রকম একটা ঘটনা কে চায়?’

জেলা পরিষদ ও গাইবান্ধা উপনির্বাচনসহ দ্বাদশ জাতীয় নির্বাচনের ভোটের মাঠের পরিস্থিতি জানতে দেশের ৬১ জেলা প্রশাসক (ডিসি) ও পুলিশ সুপারদের (এসপি) সঙ্গে গত শনিবার বৈঠক করে নির্বাচন কমিশন। সেখানে বক্তব্যে বিগত নির্বাচন ও জেলা পরিষদ নির্বাচনে মাঠ প্রশাসনের কর্মকর্তাদের পক্ষপাতমূলক আচরণের বিষয়টি তুলে ধরেন ইসি আনিছুর রহমান। তখনই সভাকক্ষে হইচই সৃষ্টি হয়। ডিসি-এসপিদের আপত্তির মুখে কমিশনার বলেন, ‘আপনারা আমার বক্তব্য শুনতে চান কি না?’ জবাবে মাঠ প্রশাসনের কর্মকর্তারা নেতিবাচক সাড়া দিলে বক্তব্য থামিয়ে কমিশনার ডায়াসে ফিরে যান।

এ বিষয়ে কমিশনার রাশেদা সুলতানা বলেন, ‘ইসি আনিছুরের কথার প্রক্ষেপণটা ওনাদের ভালো লাগে নাই। তবে কথাগুলো সত্য এবং অমূলক নয়। আসলে মাথার মধ্যেই তো আনতে পারি নাই যে ও রকম একটা পরিস্থিতি তৈরি হবে। যেটা গেছে গেছে, ওটা নিয়ে আমরা এত বিচলিত না। বিচলিত হওয়ার কোনো কারণ আছে বলে আমি মনে করি না।’

ডিসি-এসপিদের সঙ্গে নির্বাচন কমিশনের কোনো বিতণ্ডা হয়নি জানিয়ে রাশেদা সুলতানা বলেন, ‘এটা নিয়ে গোটা দেশে মাতামাতি। সবাই এটা নিয়ে সোচ্চার। আমার কাছে মনে হয়েছে, হয়তো কথার প্রক্ষেপণটা ওনাদের ভালো লাগে নাই। যে প্রসঙ্গ নিয়ে হঠাৎ উত্তেজনাকর অবস্থার সৃষ্টি হলো, প্রসঙ্গগুলো খুব যে মিথ্যে তা কিন্তু না। প্রসঙ্গগুলো যে আমাদের সমাজে নাই, তা কিন্তু না। প্রসঙ্গগুলো সত্য। হয়তো বলার ধরণটা ওনারা নিতে পারেন নাই। একটা বিচ্ছিন্ন বিষয় নিয়ে রিঅ্যাক্ট করার মানে এই না যে ওনারা সার্বিক দায়িত্ব থেকে সরে যাবেন। ওনারা বলেছেন, ইসি যেভাবে নির্দেশনা দেবেন, সেভাবে কাজ করবেন। তারা আমাদের সহযোগিতা করবেন না এটা আমি বিশ্বাস করি না।’

জাতীয় পরিচয়পত্র নিবন্ধন অনুবিভাগ নির্বাচন কমিশন থেকে স্বরাষ্ট্র ও সেবা সুরক্ষা বিভাগে চলে যাওয়ার প্রসঙ্গে জানতে চাইলে রাশেদা সুলতানা বলেন, ‘কমিশনের আসলে উদ্যোগ নেয়ার স্কোপ নাই। এই প্রক্রিয়া আমাদের সময়ে শুরু হয় নাই। আমরা এন্ডিং অবস্থায় পাচ্ছি। বিষয়টা পুরোটাই সরকারের পলিসির ব্যাপার। আমি বলব না ভালো হবে বা মন্দ হবে। যাওয়ার বিষয়টা আমাদের সময়ে কিছুই হয় নাই। যা কিছু ঘটার আগেই ঘটে গেছে।’

রংপুর সিটি করপোরেশন নির্বাচন যথাসময়ে হয়ে যাবে বলে জানান এই কমিশনার। তিনি বলেন, ‘যেখানেই নির্বাচনি পরিবেশ বিঘ্নিত হবে, আমরা নির্বাচন বন্ধ করে দেব। এটা পরিষ্কার কথা।’


নির্বাচিত

নির্ধারিত সময়ের মধ্যেই খাল খনন কর্মসূচি শেষ হবে: কৃষিমন্ত্রী

ছবি: দৈনিক বাংলা
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
মাহফুজ নান্টু, কুমিল্লা

কৃষি ও মৎস্য প্রাণিসম্পদমন্ত্রী মোহাম্মদ আমিন উর রশিদ ইয়াছিন বলেছেন, ‘কৃষি মন্ত্রণালয়ের অধীনে বাংলাদেশ কৃষি উন্নয়ন করপোরেশনের (বিএডিসি) চলমান খাল খনন কর্মসূচি আগামী বছর নির্ধারিত সময়ের মধ্যেই সম্পন্ন হবে। এ লক্ষ্যে সংশ্লিষ্ট সব বিভাগকে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে এবং তারা নিজ নিজ দায়িত্ব পালনে কাজ করে যাচ্ছে।’

শনিবার (১ আগস্ট) দুপুরে কুমিল্লা সার্কিট হাউসে কৃষি ও মৎস্য প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের কুমিল্লা অঞ্চলের কর্মকর্তাদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় তিনি এসব কথা বলেন।

মন্ত্রী বলেন, ‘জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে বন্যা ও উপকূলীয় অঞ্চলের কৃষকদের ক্ষয়ক্ষতি কমাতে ১১৮টি নতুন জাতের ধানের বীজ সরবরাহের পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। প্রথম ধাপে ৩০ টন বীজ বিতরণ করা হবে। পাশাপাশি উপকূলীয় অঞ্চলের জন্য লবণাক্ততা সহনশীল নতুন জাতের ধান উদ্ভাবনের কাজও চলমান রয়েছে।’

তিনি আরও বলেন, ‘কৃষি বিজ্ঞানীরা এ বিষয়ে নিরলসভাবে গবেষণা ও উন্নয়ন কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছেন। ভবিষ্যতে আরও সহনশীল ও উচ্চফলনশীল ধানের জাত উদ্ভাবনের কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে।’

সভায় কুমিল্লার জেলা প্রশাসক রোজি আক্তারসহ কৃষি, মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ বিভাগের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।


নির্বাচিত

বিমানেশ বিশ্বাসের তুলিতে অন্ধকার পেরিয়ে মানবতার আলোর বার্তা

* মতুয়া ধর্মযাত্রার বর্ণিল রূপ ফুটে উঠেছে ৩০ ফুট লম্বা আর ৬ ফুট চওড়ার চিত্রকর্মে
ছবি: দৈনিক বাংলা
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
কার্ত্তিক দাস, নড়াইল

বিশ্বখ্যাত চিত্রশিল্পী এস এম সুলতানের হাতে গড়া ছাত্রশিল্পী বিমানেশ বিশ্বাস। নড়াইল সদর উপজেলার ধোপাখোলা গ্রামে তার বাড়ি। তিন বছর দুই মাস ধরে নিরলস পরিশ্রম করে এক অসাধারণ চিত্রকর্ম একেছেন তিনি। চিত্রটির নাম দিয়েছেন ‘অন্ধকার থেকে আলোকে’। যার দৈর্ঘ্য ৩০ ফুট এবং প্রস্থ ৬ ফুট। এই বিশাল ক্যানভাসজুড়ে এক্রেলিক রঙে আঁকা এই চিত্রকর্মে ফুটে উঠেছে হিন্দুধর্মের মতুয়া সম্প্রদায়ের ত্রাণালীশ্বর ধর্মীয় যাত্রা।

যেখানে ধর্মীয় অনুশাসন, সামাজিক সহাবস্থান, ভক্তির সমাহার, মানবিকতার আলোয় উদ্ভাসিত মানুষের চিত্রিত করা হয়েছে। চিত্রের প্রতিটি অংশে নানা দৃশ্য—কেউ নদীতে স্নান করছে, কেউ পূজা করছে, কেউ কীর্তন করছে, কেউ গান গাইছে—কেউ জয় ঢাক বাজিয়ে এগিয়ে চলেছে। এভাবে এক জীবন্ত ও উৎসবমুখর ধর্মীয় আবহে ভরে উঠেছে গোটা ক্যানভাস।

বিমানেশ বিশ্বাস বলেন, ‘আমার চিত্রকর্মের মূল লক্ষ্য মানবতা, প্রেম, শান্তি, সাম্য, ভ্রাতৃত্ব, শ্রদ্ধা ও স্নেহের মেলবন্ধন। মতুয়া সম্প্রদায়ের ধর্মযাত্রা আসলে মানুষের একতা, সত্য ও মানবিক চেতনার প্রতীক। এই ধর্মযাত্রায় মানুষ পার্থিব বিভেদ ভুলে যায়, সবাই একসূত্রে বাঁধা পড়ে ভক্তি ও ভালোবাসায়।’

তিনি বলেন, ‘আমার এই চিত্রকর্মে মানুষকে দেখাতে চেয়েছি—কীভাবে অন্ধকার থেকে আলোতে আসা যায়। অজ্ঞানতা, কুসংস্কার, ঘৃণা, বিভেদ- এসব অন্ধকার থেকে মুক্তি নিয়ে আসে প্রেম ও মানবতা।’

শিল্পীর এই চিত্রকর্মে বাংলাদেশের নানা প্রান্তের মতুয়া সম্প্রদায়ের ধর্মপ্রাণ মানুষের অংশগ্রহণ দেখা যায়। গাইবান্ধা, রাজবাড়ী, খুলনা, যশোর, নড়াইল, মাগুরা, ঝিনাইদহ, সাতক্ষীরা, বাগেরহাট, চুয়াডাঙ্গা, কুষ্টিয়াসহ বিভিন্ন এলাকার মতুয়া ভক্তদের ধর্মীয় যাত্রার রঙিন চিত্র এখানে একসূত্রে গাঁথা হয়েছে।

চিত্রশিল্পী বিমানেশ বিশ্বাস খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের চারুকলা অনুষদের সাবেক ছাত্র। তিনি ইতোমধ্যে বাংলাদেশসহ দেশের বাইরে ভারত, নেপাল, শ্রীলঙ্কা, যুক্তরাজ্য, চীন প্রভৃতি দেশে তার চিত্র প্রদর্শন করেছেন। তার চিত্রকর্মে বারবার উঠে এসেছে মানবতা, শ্রমজীবী মানুষের জীবনচিত্র, সমাজ ও সংস্কৃতির নানা দিক।

তিনি বলেন, ‘আমি চাই আমার চিত্রকর্ম মানুষের হৃদয়ে আলো ছড়াক। মানুষ ভাবুক, অনুপ্রাণিত হোক। শিল্পের কাজই হলো মানবতার সেবা।’

বিমানেশ বিশ্বাসের এই চিত্রকর্ম বর্তমানে তার নিজস্ব স্টুডিওতে সংরক্ষিত আছে। খুব শিগগিরই এটি ঢাকাসহ বিভিন্ন প্রদর্শনীতে প্রদর্শনের উদ্যোগ নেওয়া হবে।

শিল্পী এস,এম সুলতানের এই শিষ্য নিভৃতে কাজ করা দেশের একজন প্রখ্যাত চিত্রশিল্পী। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের চারুকলা ইনস্টিটিউট থেকে ডিগ্রি নিয়ে খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের চারুকলা ইনস্টিটিউটে অধ্যাপনা। ৩৪ বছর চাকরি করার অবসর জীবন কাটছে। সুলতান, মাইকেল মধুসূদনের আবক্ষ মূর্তি ছাড়াও দেশের অনেক বড় স্থাপনায় তার হাতের কাজ স্থান পেয়েছে। পাওয়া না পাওয়ার অনেক গল্প থাকলেও নিজের সবকিছু দিয়ে শিশুদের নিয়ে শিল্পের সাধ মেটাতে চান। নিজের বিক্রি করা ছবির টাকা দিয়ে বাবার বাড়ির ছাবড়ায় একতলার ছাদ দিয়েছেন। দোতলার একটি দেওয়াল দেওয়া ঘরে ২০১৬ সালে প্রতিষ্ঠা করেন অবৈতনিক চারুকলা প্রতিষ্ঠান ‘শিল্পাঞ্জলী’। এখানে আদিবাসী শিশুরা নিজের মতো করে ছবি আর নকশা আঁকে। দুপুরে খায় আবার বাড়ি চলে যায়। সুবিধা বঞ্চিত এসব শিশুদের নিয়ে ‘শিল্পাঞ্জলিতে’ তৈরি করা হয় ১৬০০ ফুট দীর্ঘ আর ৩ ফুট চওড়া বিশ্বের সবচেয়ে বড় শিশুচিত্র।


নির্বাচিত

মরিচের ভালো দামে কৃষকের মুখে হাসি, ঝালে নাকাল ক্রেতারা

* দুই সপ্তাহে কেজিতে বেড়েছে ২০০ টাকা
ছবি: দৈনিক বাংলা
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
সবুজ হোসেন, নওগাঁ

মাত্র দুই সপ্তাহের ব্যবধানে নওগাঁর কাঁচা মরিচের বাজারে এসেছে বড় ধরনের অস্থিরতা। একসময় যে মরিচ প্রতি কেজি ৮০ থেকে ৯০ টাকায় বিক্রি হতো, সেটিই এখন পাইকারি বাজারে ২৩০ থেকে ২৫০ টাকা এবং খুচরা বাজারে ২৮০ থেকে ৩০০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। আকস্মিক এই মূল্যবৃদ্ধিতে কৃষকরা যেমন ভালো দাম পেয়ে সন্তুষ্ট, তেমনি নিত্যপ্রয়োজনীয় এ পণ্যের বাড়তি দামে বিপাকে পড়েছেন সাধারণ ভোক্তারা। ব্যবসায়ীরা বলছেন, অতিবৃষ্টিতে উৎপাদন কমে যাওয়ায় বাজারে সরবরাহ হ্রাস পেয়েছে। আর সরবরাহ কমে যাওয়ার প্রভাবই এখন দামে স্পষ্টভাবে প্রতিফলিত হচ্ছে।

নওগাঁ জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের তথ্যমতে, চলতি মৌসুমে জেলায় প্রায় ১ হাজার হেক্টর জমিতে কাঁচা মরিচের আবাদ হয়েছে। জেলার বিভিন্ন এলাকায় দেশি, সাদা ও আকাশী জাতের মরিচের চাষ করা হচ্ছে। তবে চলমান বর্ষা মৌসুমে টানা বৃষ্টির কারণে প্রায় ১০ হেক্টর জমির মরিচক্ষেত ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। বিশেষ করে নিচু জমিতে পানি জমে থাকায় অনেক গাছ নষ্ট হয়ে গেছে। এতে উৎপাদন কমে যাওয়ার পাশাপাশি বাজারে সরবরাহেও ঘাটতি দেখা দিয়েছে।

নওগাঁ সদর উপজেলার কীত্তিপুর সাপ্তাহিক হাট জেলার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ কাঁচা মরিচের বাজার। প্রতি মঙ্গলবার ও শুক্রবার ভোর থেকেই কৃষকরা মাঠ থেকে তোলা টাটকা মরিচ নিয়ে হাটে আসেন। সূর্য ওঠার আগেই জমে ওঠে বেচাকেনা, আর সকাল ৮টার মধ্যেই অধিকাংশ মরিচ বিক্রি শেষ হয়ে যায়। কীত্তিপুর, বর্ষাইল ও বক্তারপুর ইউনিয়নের পাশাপাশি পাশের বদলগাছী উপজেলার বালুভরা ইউনিয়নের শতাধিক কৃষক এই হাটে মরিচ বিক্রি করতে আসেন।

বর্তমানে এই হাটে জাতভেদে প্রতি কেজি মরিচ ২৩০ থেকে ২৫০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। কয়েক সপ্তাহ আগেও একই মরিচের দাম ছিল ৮০ থেকে ৯০ টাকা। পরে ধাপে ধাপে ১৩০ থেকে ১৫০ টাকা এবং বর্তমানে ২০০ টাকার গণ্ডি পেরিয়ে ২৫০ টাকায় পৌঁছেছে। দাম বৃদ্ধির পর প্রতিটি হাটবারে প্রায় ১০ থেকে ১২ লাখ টাকার মরিচের বেচাকেনা হচ্ছে বলে জানিয়েছেন ব্যবসায়ীরা।

জেলার সবচেয়ে বড় পাইকারি কাঁচা মরিচের বাজার মহাদেবপুর উপজেলার মোমিনপুর হাটেও এখন একই চিত্র। এই হাটে বছরে প্রায় ছয় থেকে সাত মাস মরিচের বেচাকেনা চলে। প্রতি মাসে প্রায় তিন কোটি টাকার কাঁচা মরিচ কেনাবেচা হয়। বর্তমানে প্রতিটি হাটবারে প্রায় ২০ থেকে ২২ লাখ টাকার মরিচের লেনদেন হচ্ছে। এখান থেকে নওগাঁ ছাড়াও রাজশাহী, বগুড়া, নাটোর, জয়পুরহাটসহ দেশের বিভিন্ন জেলায় মরিচ সরবরাহ করা হয়। এছাড়া চট্টগ্রামের বাজারেও নিয়মিত এখানকার মরিচ পাঠানো হয়।

পাইকারি ব্যবসায়ী শরিফুল ইসলাম বলেন, চট্টগ্রামে বিশেষ করে সাদা মরিচের ব্যাপক চাহিদা রয়েছে। আমরা তিনজন ব্যবসায়ী মিলে প্রতি সপ্তাহে একটি ট্রাকে প্রায় ২৫ থেকে ২৬ লাখ টাকার মরিচ চট্টগ্রামে পাঠাই। কিন্তু বর্তমানে হাটে সরবরাহ কম থাকায় বেশি দামে মরিচ কিনতে হচ্ছে। ফলে পাইকারি দামও বেড়ে গেছে।

কৃষকদের দাবি, অতিবৃষ্টিই বর্তমান সংকটের প্রধান কারণ। নিচু এলাকার অনেক মরিচক্ষেত কয়েক দিন পানির নিচে থাকায় গাছ নষ্ট হয়েছে। নতুন গাছে ফলনও প্রত্যাশার তুলনায় কম এসেছে। উৎপাদন কমে যাওয়ায় বাজারে মরিচের জোগান কমেছে, আর সেই সুযোগে দামও বেড়েছে।

সদর উপজেলার আতিতা গ্রামের কৃষক আনিছুর রহমান বলেন, এক বিঘা জমিতে মরিচের আবাদ করেছি। নতুন গাছ থেকে দুই সপ্তাহ ধরে অল্প পরিমাণ মরিচ তুলছি। আজ ২২ কেজি মরিচ ২৩০ টাকা কেজি দরে বিক্রি করেছি। সপ্তাহে দুই দিন মরিচ তোলা হচ্ছে। এবার দাম ভালো থাকায় কিছুটা লাভ হচ্ছে। তবে উৎপাদন বাড়লে বাজারে সরবরাহও বাড়বে, তখন দাম কমে আসবে।

ভালো দাম পেলেও কৃষকদের অনেকেই বলছেন, উৎপাদন কমে যাওয়ায় প্রত্যাশিত লাভ হচ্ছে না। অনেক ক্ষেতেই ফলন স্বাভাবিক থাকলে কম দামেও মোট বিক্রি বেশি হতো। ফলে বর্তমান উচ্চমূল্য ক্ষতির পুরোটা পুষিয়ে দিতে পারছে না।

অন্যদিকে বাজারে গিয়ে বিপাকে পড়ছেন সাধারণ ক্রেতারা। সদর উপজেলার উকিলপাড়া মহল্লার বাসিন্দা সারোয়ার হোসেন বলেন, মরিচের দাম শুনেই অবাক হতে হয়। আগে আধা কেজি কিনতাম, এখন ১০০ গ্রাম কিনতে হচ্ছে। শুধু মরিচ নয়, প্রায় সব ধরনের সবজির দামই অনেক বেশি। সংসারের খরচ সামলানো কঠিন হয়ে যাচ্ছে।

জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ পরিচালক মো. মনজুর রহমান বলেন, বর্তমানে বাজারে কাঁচা মরিচের দাম কৃষকদের জন্য ইতিবাচক। তবে অতিবৃষ্টি অব্যাহত থাকলে আরও আবাদ ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। মাঠপর্যায়ে কৃষকদের প্রয়োজনীয় পরামর্শ ও কারিগরি সহায়তা দেওয়া হচ্ছে, যাতে ক্ষতি কমিয়ে আনা যায়।


নির্বাচিত

নীলফামারীতে আইনজীবীদের সঙ্গে তুহিনের মতবিনিময় সভা

ছবি: দৈনিক বাংলা
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নাসির উদ্দিন শাহ মিলন, নীলফামারী

বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য ও ইঞ্জিনিয়ার এ্যাসোসিয়েশন অফ বাংলাদেশের (অ্যাব) আহ্বায়ক প্রকৌশলী শাহরিন ইসলাম চৌধুরী তুহিনের সঙ্গে নীলফামারীতে জেলা জাতীয়তাবাদী আইনজীবী ফোরামের মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। শনিবার (১ আগস্ট) সকালে নীলফামারী সার্কিট হাউসে এ সভা অনুষ্ঠিত হয়।

সভায় জেলা পরিষদের প্রশাসক অ্যাড. মিজানুর রহমান চৌধুরী শামীম, জেলা বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক সোহায়েল পারভেজ, জেলা জজ কোর্টের জিপি আবু মোহাম্মদ সোয়েম, পিপি অ্যাড. আল মাসুদ চৌধুরী, জেলা আইনজীবী ফোরামের আহ্বায়ক অ্যাড. আসাদুজ্জামান খান রিনো এবং সচিব গোলাম মোস্তফা সজীব বক্তব্য দেন।

এ সময় আইনজীবীরা তাদের বিভিন্ন সমস্যা ও দাবির কথা তুলে ধরেন। পাশাপাশি আইনজীবীদের পেশাগত বিভিন্ন বিষয় নিয়েও আলোচনা করা হয়। প্রধান অতিথির বক্তব্যে প্রকৌশলী শাহরিন ইসলাম চৌধুরী তুহিন বলেন, আইনজীবীরা দেশের বিচারব্যবস্থার গুরুত্বপূর্ণ অংশ। মানুষের ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে তাদের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। আইনজীবীদের পেশাগত সমস্যা ও দাবিগুলো নিয়ে সংশ্লিষ্ট পর্যায়ে কথা বলবেন‌ বলে জানান‌ তিনি। এসময় জেলা জাতীয়তাবাদী আইনজীবী ফোরামের সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।


নির্বাচিত

৬ বছরে সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত ১৩৮৪, আহত ২ হাজার ৪৮৮ জন

ফাইল ছবি
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

রাজধানী ঢাকায় গত ছয় বছরে সড়ক দুর্ঘটনায় ১ হাজার ৩৮৪ জনের মৃত্যু হয়েছে এবং আহত হয়েছেন আরও ২ হাজার ৪৮৮ জন। সম্প্রতি প্রকাশিত রোড সেফটি ফাউন্ডেশনের এক গবেষণামূলক প্রতিবেদনে এই তথ্য জানানো হয়।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০২০ সাল থেকে ২০২৬ সালের জুলাই পর্যন্ত নগরীতে মোট এক হাজার ৮৪৯টি সড়ক দুর্ঘটনা ঘটে, যাতে প্রাণ হারানো ব্যক্তিদের মধ্যে ৫৯২ জনই ছিলেন পথচারী।

শনিবার (১ আগস্ট) প্রকাশিত সংস্থাটির এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, নিহতের তালিকায় নারী ও শিশুর সংখ্যা যথাক্রমে ২১৯ ও ১৩১ জন। দুর্ঘটনার ধরণ পর্যালোচনায় দেখা গেছে, মোটরসাইকেল আরোহী নিহত হয়েছেন ৫৩৬ জন, এবং বাকি ২৫৬ জন বিভিন্ন গণপরিবহন, রিকশা ও সিএনজির চালক ও যাত্রী। সময়ভিত্তিক বিশ্লেষণে দেখা যায়, দুর্ঘটনার জন্য সবচেয়ে ঝুঁকিপূর্ণ সময় রাত ও ভোরের ভাগ। মোট প্রাণহানির মধ্যে ৩৭ দশমিক ৫ শতাংশই ঘটেছে রাতের বেলা। বাইপাস সড়কের অভাব থাকায় রাত ১০টার পর শহরের রাস্তায় ভারী মালবাহী যানবাহনের বেপরোয়া গতিতে চলাচলাই পথচারীদের মৃত্যুর প্রধান কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

ফাউন্ডেশনের পর্যবেক্ষণে বলা হয়, রাজধানীতে ঘটমান দুর্ঘটনার জন্য ট্রাক, কাভার্ডভ্যান ও ময়লাবাহী গাড়িগুলো সবচেয়ে বেশি অর্থাৎ ৩৩ দশমিক ২৫ শতাংশ দায়ী। এর পরেই রয়েছে মোটরসাইকেল ও বাসের অবস্থান। পাশাপাশি দীর্ঘস্থায়ী যানজটের কারণে চালকদের মানসিক অধৈর্য ও অসহিষ্ণুতা তৈরি হওয়া, ফুটপাত দখল, প্রয়োজনের তুলনায় অপ্রতুল সড়ক এবং নিরাপদ ফুটওভার ব্রিজের অভাবকে দুর্ঘটনার মূল কারণ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে।

প্রতিবেদনে যাত্রাবাড়ী, ডেমরা, মোহাম্মদপুর, কুড়িল বিশ্বরোড ও বিমানবন্দর এলাকাকে ঢাকার প্রধান দুর্ঘটনাপ্রবণ বা ‘হটস্পট’ হিসেবে উল্লেখ করা হয়। দুর্ঘটনা হ্রাস ও নগরীর পরিবহন ব্যবস্থা সুশৃঙ্খল করতে কোম্পানিভিত্তিক বাস সার্ভিস চালুর পাশাপাশি বিআরটিএ, সিটি করপোরেশন ও ট্রাফিক পুলিশের সমন্বিত উদ্যোগ গ্রহণের তাগিদ দিয়েছে সংস্থাটি।


নির্বাচিত

আট বিভাগে বজ্রসহ বৃষ্টির পূর্বাভাস

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

সারা দেশের প্রায় সব বিভাগেই অস্থায়ী দমকা হাওয়াসহ হালকা থেকে মাঝারি ধরনের বৃষ্টি অথবা বজ্রসহ বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে বলে জানিয়েছে আবহাওয়া অধিদপ্তর। শনিবার সকাল ৯টা থেকে পরবর্তী ২৪ ঘণ্টার পূর্বাভাসে জানানো হয়েছে যে, দেশের কোথাও কোথাও মাঝারি ধরনের ভারি বৃষ্টিপাতও হতে পারে। তবে এই সময়ে দিন ও রাতের তাপমাত্রায় বড় কোনো পরিবর্তন হওয়ার সম্ভাবনা নেই।

পূর্বাভাস অনুযায়ী, দেশের রংপুর, ময়মনসিংহ ও সিলেট বিভাগের অধিকাংশ জায়গায় বৃষ্টির প্রবণতা বেশি থাকবে। এছাড়া রাজশাহী, ঢাকা, খুলনা, বরিশাল ও চট্টগ্রাম বিভাগের কিছু কিছু এলাকায় বজ্রসহ বৃষ্টি হতে পারে। গত ২৪ ঘণ্টায় দেশের সর্বোচ্চ বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে পর্যটন নগরী কক্সবাজারে, যার পরিমাণ ছিল ৫৯ মিলিমিটার।

আবহাওয়ার সার্বিক পরিস্থিতি সম্পর্কে বলা হয়েছে, ভারতের মধ্য প্রদেশ এলাকায় অবস্থানরত নিম্নচাপটি পশ্চিম ও উত্তর-পশ্চিম দিকে অগ্রসর হয়ে রাজস্থান এবং সংলগ্ন এলাকায় একটি সুস্পষ্ট লঘুচাপে পরিণত হয়েছে। এটি পরবর্তীতে মৌসুমি বায়ুর অক্ষের সঙ্গে মিলিত হয়েছে। বর্তমানে এই অক্ষের একটি বড় অংশ ভারতের রাজস্থান, উত্তর প্রদেশ, বিহার, গাঙ্গেয় পশ্চিমবঙ্গ এবং বাংলাদেশের দক্ষিণাঞ্চল হয়ে আসাম পর্যন্ত বিস্তৃত রয়েছে। মৌসুমি বায়ুটি বাংলাদেশের ওপর মোটামুটি সক্রিয় এবং উত্তর বঙ্গোপসাগরে মাঝারি অবস্থায় বিরাজ করছে।

গতকাল দেশের সর্বোচ্চ তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছিল নিকলীতে, যা ছিল ৩৫.৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস। অন্যদিকে সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ছিল কুমারখালীতে ২৩.৯ ডিগ্রি সেলসিয়াস। রাজধানী ঢাকায় বাতাসের গতিবেগ দক্ষিণ ও দক্ষিণ-পূর্ব দিক থেকে ঘণ্টায় ৮ থেকে ১২ কিলোমিটারের মধ্যে রয়েছে এবং সকালে বাতাসের আপেক্ষিক আর্দ্রতা ছিল ৮৭ শতাংশ। আজ ঢাকায় সূর্যাস্ত হবে সন্ধ্যা ৬টা ৪২ মিনিটে এবং আগামীকাল সূর্যোদয় হবে ভোর ৫টা ২৮ মিনিটে।


নির্বাচিত

বগুড়ায় পিকআপ-ট্রাক মুখোমুখি সংঘর্ষে নিহত ৪

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
বগুড়া প্রতিনিধি

বগুড়ার কাহালুতে পিকআপ ও ট্রাকের মধ্যে ভয়াবহ মুখোমুখি সংঘর্ষে চালক ও হেলপারসহ চারজন নিহত হয়েছেন। শনিবার সকালে উপজেলার কাজীপাড়া বউবাজার এলাকায় বগুড়া-নওগাঁ আঞ্চলিক সড়কে এই মর্মান্তিক দুর্ঘটনাটি ঘটে। নিহতদের মধ্যে লুৎফর রহমান নামে একজনের পরিচয় নিশ্চিত হওয়া গেলেও বাকি তিনজনের পরিচয় এখনো পাওয়া যায়নি।

পুলিশ ও প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা গেছে, নওগাঁয় মাছ বিক্রি শেষে একটি পিকআপ বগুড়ার দিকে ফিরছিল। সকাল আনুমানিক ১০টার দিকে পিকআপটি কাহালু উপজেলার কাজীপাড়া এলাকায় পৌঁছালে বিপরীত দিক থেকে আসা একটি ট্রাকের চালক নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে পিকআপটিকে সরাসরি ধাক্কা দেয়। এতে পিকআপটি দুমড়েমুচড়ে যায় এবং ঘটনাস্থলেই পিকআপের চালক, হেলপার ও দুই মাছ ব্যবসায়ীর মৃত্যু হয়। দুর্ঘটনার খবর পেয়ে কাহালু থানা পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে মরদেহগুলো উদ্ধার করেন।

কাহালু থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শফিকুল ইসলাম ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, দুর্ঘটনায় চারজন নিহত হয়েছেন। একজনের পরিচয় পাওয়া গেছে এবং বাকিদের নাম-পরিচয় শনাক্ত করার প্রক্রিয়া চলছে। পুলিশ দুর্ঘটনা কবলিত যান দুটি জব্দ করেছে।


নির্বাচিত

বাংলাদেশে বিভেদ-বিভাজনের কোনো চক্রান্ত বাস্তবায়ন হতে দেওয়া হবে না: তথ্যমন্ত্রী

তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন । ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
বরিশাল ব্যুরো

তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন বলেছেন, পাহাড়ি, সমতল কিংবা ভাষা, বর্ণ, লিঙ্গ ও ধর্মের ভিত্তিতে বাংলাদেশে মানুষের মধ্যে কোনো ধরনের বিভেদ-বিভাজন তৈরি করার প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষ কোনো চক্রান্ত বাস্তবায়ন হতে দেওয়া হবে না। কোনো ধর্মাবলম্বীকে যদি কেউ রাজনৈতিক বা স্বার্থসিদ্ধির উদ্দেশ্যে ব্যবহার করতে চায় কিংবা ধর্মের মাধ্যমে রাষ্ট্রকে গ্রাস করতে চায়, তাহলে বুঝতে হবে সে সৃষ্টিকর্তা, মানবতা এবং ধর্মের মূল মর্মবাণীর বিরোধিতা করছে।

শুক্রবার (৩১ জুলাই) বরিশাল জেলা শিল্পকলা একাডেমি মিলনায়তনে বাংলাদেশ পূজা উদযাপন পরিষদ বরিশাল জেলার দ্বি-বার্ষিক সম্মেলনে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

রাজনীতি ও ধর্মের ভিন্নতা ব্যাখ্যা করে জহির উদ্দিন স্বপন বলেন, ‘রাজনীতিতে দর্শন, চিন্তা ও আদর্শ কোনো ধর্মীয় বিষয় নয়। ধর্মীয় দর্শন আবর্তিত হয় সর্বশক্তিমান সৃষ্টিকর্তাকে ঘিরে, আর রাজনীতির চিন্তাভাবনা আবর্তিত হয় জনগণের কল্যাণ ও সামাজিক স্বার্থকে কেন্দ্র করে। রাজনীতির কোনো প্রতীক বা মার্কা দেবত্ব প্রদত্ত নয়; দল বা নেতা কোনো দেব-দেবী নন। তাদের বক্তব্য ও কর্মসূচি যতক্ষণ জনগণ নিজের কল্যাণ হিসেবে গ্রহণ করবে, ততক্ষণ তা থাকবে। অন্যথায় জনগণ তা বর্জন করবে।’

ধর্মীয় সম্প্রীতি রক্ষা ও সচেতনতার গুরুত্ব তুলে ধরে তিনি বলেন, ‘ধর্ম চর্চাকারীরা যখন ধর্মব্যবসায়ীদের চিনতে পারবেন, তখনই প্রকৃত ধর্মচর্চা সার্থক হবে। যে যার ধর্ম গভীরভাবে বিশ্বাস ও চর্চা করার মাধ্যমেই অন্য ধর্মকে সমানভাবে শ্রদ্ধা করার মানসিকতা তৈরি হয়। যখনই কোনো মহল ধর্মীয় অনুভূতিকে সূক্ষ্মভাবে সাম্প্রদায়িক পকেটে পরিণত করার ষড়যন্ত্র করবে, তখনই ধর্মপ্রাণ মানুষকে সোচ্চার হয়ে সেই ধর্মব্যবসায়ীদের চিহ্নিত করতে হবে।’

দেশের মানুষের সমান অধিকার নিশ্চিতে সরকারের অঙ্গীকার ব্যক্ত করে তথ্যমন্ত্রী বলেন, ‘আমরা যারা রাজনীতিতে সকল মানুষের সমান অধিকার নিয়ে কথা বলি, তাদের সবচেয়ে শক্তিশালী প্রতিনিধি হচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। আমরা ইতিহাসের শিক্ষা ভুলিনি। জনগণের কাছে দেওয়া ওয়াদা পূরণ না করলে ইতিহাস আবার নিজের পুনরাবৃত্তি ঘটাতে পারে। এ কারণেই প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান স্পষ্টভাবে বলেছেন— ধর্ম যার যার, রাষ্ট্র সবার।’

বরিশাল জেলা পূজা উদযাপন পরিষদের সভাপতি মানিক মুখার্জি কুডুর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বরিশাল সিটি করপোরেশনের প্রশাসক বিলকিস আক্তার জাহান শিরিন এবং জেলা পরিষদের প্রশাসক আকন কুদ্দুসুর রহমান। অনুষ্ঠানে প্রধান বক্তা হিসেবে বক্তব্য দেন বাংলাদেশ পূজা উদযাপন পরিষদের কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদক সাংবাদিক সন্তোষ শর্মা।

এর আগে জাতীয় সংগীতের মাধ্যমে জাতীয় পতাকা উত্তোলন করেন প্রধান অতিথি। পরে বেলুন ও শান্তির প্রতীক পায়রা উড়িয়ে দ্বি-বার্ষিক সম্মেলনের উদ্বোধন করা হয়। আলোচনা সভার শুরুতে পাঁচজন বীর মুক্তিযোদ্ধাকে বিশেষ সংবর্ধনা প্রদান করা হয়।


নির্বাচিত

ডিমের হালি ৫০, সবজি ৭০ টাকার ওপরে, কাঁচামরিচ ৪০০

ফাইল ছবি
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

রাজধানীর কাঁচাবাজারে নিত্যপণ্যের দাম আবারও ঊর্ধ্বমুখী। টানা বৃষ্টি ও দেশের কয়েকটি অঞ্চলের বন্যার প্রভাব এখনো কাটেনি কাঁচাবাজারে। সরবরাহ কিছুটা বাড়লেও দামে তার প্রতিফলন নেই। সপ্তাহের ব্যবধানে কাঁচামরিচ ও পেঁয়াজের দাম আরও বেড়েছে। একই সঙ্গে দুই সপ্তাহের বেশি সময় ধরে উচ্চমূল্যে আটকে আছে বেশিরভাগ সবজি।

রাজধানীর বিভিন্ন বাজারে অধিকাংশ সবজিই বিক্রি হচ্ছে ১০০ টাকা বা তার বেশি দরে, আর কাঁচামরিচের কেজি পৌঁছেছে ৪০০ টাকায়। ফলে মাসের শেষ সময়ে নিত্যপণ্যের বাড়তি ব্যয় সামলাতে হিমশিম খাচ্ছেন নিম্ন ও মধ্যবিত্ত পরিবারের ক্রেতারা। শুক্রবার (৩১ জুলাই) রাজধানীর যাত্রাবাড়ী, শান্তিনগর ও সেগুনবাগিচা বাজার ঘুরে এবং বিক্রেতা-ক্রেতাদের সঙ্গে কথা বলে এমন চিত্র দেখা গেছে।

মসলার বাজারে সবচেয়ে বেশি অস্থিরতা

বর্তমানে বাজারে প্রতি কেজি কাঁচামরিচ বিক্রি হচ্ছে ৩৪০ থেকে প্রায় ৪০০ টাকায়। খুচরা বিক্রেতারা প্রতি ১০০ গ্রাম ৪০ টাকা এবং ২৫০ গ্রাম ১০০ টাকা দরে বিক্রি করছেন। তবে আধা কেজি বা এক কেজি কিনলে কেজিপ্রতি ২০ থেকে ৩০ টাকা কম রাখা হচ্ছে। ট্রেডিং করপোরেশন অব বাংলাদেশের (টিসিবি) তথ্যানুযায়ী, গত সপ্তাহেও এর দাম ছিল ১৫০ থেকে ২২০ টাকা। অর্থাৎ মাত্র এক সপ্তাহের ব্যবধানে কাঁচামরিচের দাম প্রায় ১০০ শতাংশ বেড়েছে। অথচ গত বছরের একই সময়ে কাঁচামরিচের সর্বোচ্চ দাম ছিল ১২০ টাকা কেজি।

কাঁচামরিচের পাশাপাশি বেড়েছে দেশি পেঁয়াজের দামও। দেড় থেকে দুই সপ্তাহ আগে মানভেদে ৪০ থেকে ৪৫ টাকায় বিক্রি হওয়া পেঁয়াজ এখন ৫৫ থেকে ৬৫ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। মিরপুর ১১ নম্বর বাজারের মতো কয়েকটি দোকানে বাছাই করা পেঁয়াজের কেজি বিক্রি হয়েছে ৮০ টাকায়। শান্তিনগর বাজারের বিক্রেতা এমদাদুল বলেন, ‘পাইকারি বাজারেই পেঁয়াজের দাম বেড়েছে। ফলে খুচরা বাজারেও বেশি দামে বিক্রি করতে হচ্ছে।’

উচ্চমূল্যের দরবাড়িতে আটকা সবজি

বাজারে অধিকাংশ সবজির দাম আগের সপ্তাহের তুলনায় বেশি। প্রতি কেজি গোল কালো বেগুন বিক্রি হচ্ছে ১৮০ টাকায়, লম্বা বেগুন ১২০ থেকে ১৫০ টাকা এবং সাদা বেগুন ১৪০ টাকা। বরবটি ও করলা বিক্রি হচ্ছে ১১০ থেকে ১৪০ টাকা কেজি দরে। বর্ষা মৌসুমের সবজি কাঁকরোলও বিক্রি হচ্ছে ৮০ টাকা কেজিতে। এ ছাড়া শসার কেজি ১০০ টাকা।

তবে ধুন্দুল ও পটলের দামে কিছুটা স্বস্তি এসেছে—আগে ১০০ টাকার ওপরে থাকলেও এখন বাজারভেদে ৬০ থেকে ৮০ টাকায় নেমেছে। এ ছাড়া ঢ্যাঁড়স, চিচিঙ্গা ও কচুমুখী ৭০ থেকে ১০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। মাঝারি আকারের চালকুমড়া বিক্রি হচ্ছে ৭০ টাকায়। তুলনামূলক কম দামে মিলছে আলু (২৫ টাকা কেজি) ও কাঁচা পেঁপে (৩০ থেকে ৪০ টাকা কেজি)।

শাকের বাজারেও একই চিত্র। লাউশাকের আঁটি ৪০ টাকা, ডাঁটা ও পুঁইশাক ৩০ টাকা, লালশাক ও মুলাশাক ২০ টাকা এবং কলমিশাক বিক্রি হচ্ছে ১০ টাকায়।

ডজন পার হলো ১৪৫ টাকা, সেন্টিমেন্ট ডিম ও মুরগির বাজারেও ডিমের বাজারেও দেখা গেছে ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতা। পাড়া-মহল্লার মুদিদোকানে ফার্মের মুরগির ডিমের হালি বিক্রি হচ্ছে ৫০ টাকায়। একসঙ্গে এক ডজন কিনলে দাম রাখা হচ্ছে ১৪৫ টাকা। তবে পাইকারি ও খুচরা দোকানে হালিপ্রতি দাম ৪৮ টাকা। টিসিবির তথ্যনুযায়ী, এক বছর আগে একই সময়ে ডিমের হালির দাম ছিল ৩৮ থেকে ৪৫ টাকা—অর্থাৎ এক বছরে ডিমের দাম বেড়েছে ১৪ শতাংশের বেশি।

অন্যদিকে সোনালি মুরগি বিক্রি হচ্ছে ৩২০ থেকে ৩২৪ টাকায় এবং ব্রয়লার মুরগি ১৮০ থেকে ১৯০ টাকা কেজি দরে। চালের বাজারেও তেমন স্বস্তি নেই; বিআর-২৮ চাল ৬০ টাকা, মিনিকেট ৭২ টাকা ও নাজিরশাইল ৮৮ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। আর প্যাকেটের আঁটা-ময়দার দাম কেজিতে বেড়েছে পাঁচ টাকা।

ক্রেতা ও বিক্রেতাদের বক্তব্য

বাজার করতে আসা ক্রেতাদের অভিযোগ, সপ্তাহের পর সপ্তাহ দর এমন বাড়তি থাকায় সংসার চালানো দায় হয়ে দাঁড়িয়েছে। বাধ্য হয়ে অনেকেই কেনাকাটার পরিমাণ কমিয়ে সামাল দেওয়ার চেষ্টা করছেন।

সেগুনবাগিচায় বাজার করতে আসা এক ক্রেতা জানান, চাল, ডিম, মরিচ থেকে শুরু করে সব কিছুর দাম একযোগে বাড়ায় মাসের শেষে টানাপোড়েন চরম আকার ধারণ করেছে।

তবে বিক্রেতারা বলছেন ভিন্ন কথা। যাত্রাবাড়ীর আড়তদার আবুল কালাম ও সেগুনবাগিচার বিক্রেতা রাকিব হোসেন জানান, দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে টানা বৃষ্টি ও বন্যার কারণে সরবরাহ কমে যাওয়া এবং পাইকারিতে দর বেশি থাকায় খুচরা বাজারে দাম কমানোর সুযোগ থাকছে না। তবে আবহাওয়া স্বাভাবিক থাকলে আগামী কয়েক সপ্তাহের মধ্যে সরবরাহ বেড়ে বাজার কিছুটা শান্ত হতে পারে বলে আশা করছেন তারা।


নির্বাচিত

কেরানীগঞ্জে মিলল ইয়াবা তৈরির কারখানা, কাঁচামাল-যন্ত্রপাতিসহ গ্রেপ্তার ৪

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

ঢাকার কেরানীগঞ্জে একটি ইয়াবা তৈরির কারখানার সন্ধান পেয়েছে র‍্যাব-১০। পরে ওই কারখানায় অভিযান চালিয়ে ইয়াবা তৈরির কাঁচামাল ও যন্ত্রপাতিসহ চারজনকে গ্রেপ্তার করেছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী এ বাহিনী। গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন মো. আলমগীর ওরফে আন্ডে (৪০), মো. আলী আরমান (৩৬), মো. শাহজাহান (৪০) ও সোনিয়া (৩০)। গত বৃহস্পতিবার (৩০ জুলাই) রাত ১০টা ১০ মিনিটে ঢাকার কেরানীগঞ্জ মডেল থানাধীন মধ্যচর দক্ষিণ বালুচর এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়।

শুক্রবার (৩১ জুলাই) দুপুরে কারওয়ান বাজারে র‍্যাব মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত এক ব্রিফিংয়ে এসব তথ্য জানান র‍্যাব-১০ এর অধিনায়ক অতিরিক্ত ডিআইজি মোহা. আসাদুজ্জামান।

তিনি বলেন, ‘শুক্রবার (৩১ জুলাই) রাতে র‍্যাব-১০ এর আওতাধীন এলাকায় একটি ইয়াবা তৈরির চক্রের সন্ধান পাওয়া গেছে। পরে অভিযান চালিয়ে ১ হাজার ৯৬৮ পিস ইয়াবা, বিভিন্ন ধরনের পাউডার সদৃশ কাঁচামাল, যন্ত্রপাতি, পাঁচটি মোবাইল ফোন এবং একটি ওজন পরিমাপক যন্ত্র জব্দ করা হয়। এ সময় চারজন সক্রিয় মাদক কারবারিকে গ্রেপ্তার করা হয়।’

তিনি জানান, গ্রেপ্তারকৃত কারবারিদের মধ্যে আলমগীরের বিরুদ্ধে ঢাকার রামপুরা, কামরাঙ্গীরচর ও মোহাম্মদপুর থানায় মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে তিনটি মামলা রয়েছে। গ্রেপ্তারকৃতরা সবাই পেশাদার মাদক ব্যবসায়ী।

তিনি আরও জানান, গ্রেপ্তারকৃতরা দুই বছর ধরে এ কাজে যুক্ত বলে জানিয়েছে। এ ছাড়া তাদের জিজ্ঞাসাবাদে আরও কারখানা থাকার ইঙ্গিত পাওয়া গেছে।

র‍্যাবের এ কর্মকর্তা জানান, ইয়াবা তৈরিতে ব্যবহৃত কাঁচামালগুলো বৈধ এবং বিভিন্ন শিল্পে ব্যবহৃত হয়। তবে এ চক্র সেগুলো ব্যবহার করে ইয়াবা উৎপাদনের পদ্ধতি তৈরি করেছে। কাঁচামাল সংগ্রহ ও উৎপাদন প্রক্রিয়ার বিস্তারিত জানতে আসামিদের রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে।

তিনি জানান, চক্রটি কামরাঙ্গীরচর ও পুরান ঢাকাসহ বিভিন্ন এলাকায় তাদের ব্যবসার নেটওয়ার্ক পরিচালনা করত। তাদের বিরুদ্ধে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।


নির্বাচিত

দেশের সুগার মিলগুলোকে লাভজনক করার চিন্তা করছে সরকার: রুহুল কবির রিজভী

বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব ও শিল্প মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা রুহুল কবির রিজভী । ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নাটোর প্রতিনিধি

বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব ও শিল্প মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা রুহুল কবির রিজভী বলেছেন, দেশের সুগার মিলগুলো কয়েক মাস চালু থাকে, বেশির ভাগই বন্ধ থাকে। মিলগুলোকে সারা বছর উৎপাদনশীল করা যায় কি না, সরকার সেই চিন্তা ভাবনা করছে।

এ ছাড়া বাই প্রোডাক্ট তৈরি করে মিলগুলোকে লাভজনক করার পরিকল্পনা করছে সরকার। সে সাথে বিসিক সম্প্রসারণের স্থানীয় সংসদ সদস্যের পরামর্শের পাশাপাশি শিল্প স্থাপনে স্থানীয় উদ্যোক্তাদের গুরুত্ব দেওয়া হবে।

শুক্রবার (৩১ জুলাই) বিকালে নাটোর সুগারমিল পরিদর্শনে গিয়ে এ কথা বলেন তিনি।

এ সময় জাতীয় সংসদের হুইপ ও স্থানীয় সংসদ সদস্য রুহুল কুদ্দুস তালুকদার দুলু, বাংলাদেশ চিনিকল আখ চাষি কল্যাণ ফেডারেশনের সভাপতি মসলেম উদ্দিন, নাটোর সুগার মিলের শ্রমিক কর্মচারী ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক আবু সাইদসহ দলীয় নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।


নির্বাচিত

কুমিল্লা প্রেসক্লাবের নতুন সভাপতি ফারুক, সাধারণ সম্পাদক জিতু

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
তরিকুল ইসলাম তরুন, কুমিল্লা দক্ষিণ

উৎসবমুখর, শান্তিপূর্ণ ও সৌহার্দ্যপূর্ণ পরিবেশে কুমিল্লা প্রেসক্লাব কার্যনির্বাহী পরিষদের ২০২৬–২০২৮ মেয়াদের নির্বাচন গত বৃহস্পতিবার (৩০ জুলাই) দুপুর ২টা থেকে বিকাল ৫টা পর্যন্ত কুমিল্লা প্রেসক্লাব ভবনের দ্বিতীয় তলায় অনুষ্ঠিত হয়েছে।

নির্বাচনে ১৭টি পদের বিপরীতে ৭০ জন ভোটারের মধ্যে ৬৭ জন তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করেন। প্রধান নির্বাচন কমিশনার হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন শাহ মোহাম্মদ আলমগীর খান। নির্বাচন কমিশনার ছিলেন আবুল হাসানাত বাবুল ও বদরুল হুদা জেনু। ভোটগ্রহণ শেষে রাতেই আনুষ্ঠানিকভাবে ফলাফল ঘোষণা করা হয়।

এতে কাজী এনামুল হক ফারুক ২৯ ভোট পেয়ে সভাপতি ও ইমতিয়াজ আহমেদ জিতু ৩৩ ভোট পেয়ে সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হয়েছেন। নির্বাচিত অন্যান্যরা হলেন হুমায়ুন কবীর জীবন সাংগঠনিক সম্পাদক, দেলোয়ার হোসাইন আকাইদ যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক, শাহ আলম শফি অর্থ সম্পাদক, ওমর ফারুকী তাপস দপ্তর সম্পাদক, আসিফ হোসেন মান্না বিজ্ঞান ও তথ্যপ্রযুক্তি সম্পাদক, দিলীপ মজুমদার সাহিত্য-সাংস্কৃতিক ও ক্রীড়া সম্পাদক নির্বাচিত হয়েছেন।

আর নির্বাহী সদস্য পদে নির্বাচিতরা হলেন জাকারিয়া মানিক, রফিকুল ইসলাম খোকন, ইয়াসমিন রীমা, খালেদ সাইফুল্লাহ এবং আনোয়ার হোসেন।

এ ছাড়া সহসভাপতি পদগুলোর ফলাফলে তাওহীদ হোসেন মিঠু ও সাদিক হোসেন মামুন নির্বাচিত হয়েছেন বলে ফলাফলে উল্লেখ করা হয়েছে।

ফলাফল ঘোষণার পর প্রেসক্লাব প্রাঙ্গণে নবনির্বাচিত প্রার্থীদের ফুলেল শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন জানান সহকর্মী সাংবাদিকরা। এ সময় প্রেসক্লাবজুড়ে সৃষ্টি হয় আনন্দঘন ও উৎসবমুখর পরিবেশ।

নবনির্বাচিত নেতারা কুমিল্লা প্রেসক্লাবকে আরও ঐক্যবদ্ধ, গতিশীল, পেশাদার ও সাংবাদিকবান্ধব প্রতিষ্ঠানে পরিণত করার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন। একই সঙ্গে সাংবাদিকদের পেশাগত মর্যাদা ও অধিকার রক্ষা, প্রেসক্লাবের সার্বিক উন্নয়ন এবং সদস্যদের কল্যাণে সম্মিলিতভাবে কাজ করার আশাবাদ ব্যক্ত করেন।


নির্বাচিত

শিক্ষার মানোন্নয়নে অভিভাবক সমাবেশ ও পুরস্কার বিতরণ

ছবি: দৈনিক বাংলা
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
কেশবপুর (যশোর) প্রতিনিধি

শিক্ষার গুণগত মান উন্নয়ন, শিক্ষার্থীদের নিয়মিত পাঠাভ্যাস গড়ে তোলা এবং বিদ্যালয় ও অভিভাবকদের মধ্যে পারস্পরিক যোগাযোগ আরও সুদৃঢ় করার লক্ষ্যে যশোরের কেশবপুর উপজেলার মুক্তিযোদ্ধা কারিগরি মাধ্যমিক বিদ্যালয়, হাসানপুরে অভিভাবক সমাবেশ ও কৃতি শিক্ষার্থীদের পুরস্কার বিতরণ অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়েছে। গত বৃহস্পতিবার (৩০ জুলাই) বিদ্যালয়ের হলরুমে আয়োজিত অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন বিদ্যালয়ের সুপারিন্টেন্ডেন্ট সামছুন নাহার। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিদ্যালয়ের বিদ্যুৎসাহী সদস্য ও কেশবপুর নিউজ ক্লাবের সাধারণ সম্পাদক মো. হারুনার রশীদ বুলবুল।

সভাপতির বক্তব্যে সামছুন নাহার বলেন, ‘শিক্ষার্থীদের সুশিক্ষায় গড়ে তুলতে শিক্ষক ও অভিভাবকদের সম্মিলিত প্রচেষ্টার কোনো বিকল্প নেই। অভিভাবকদের সচেতনতা ও নিয়মিত তদারকি শিক্ষার্থীদের ভালো ফলাফল অর্জনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।’ বিশেষ অতিথির বক্তব্যে মো. হারুনার রশীদ বুলবুল বলেন, ‘বর্তমান প্রতিযোগিতামূলক বিশ্বে টিকে থাকতে হলে শিক্ষার্থীদের শুধু পাঠ্যবইয়ের জ্ঞান অর্জন করলেই হবে না, তাদের নৈতিক শিক্ষা ও প্রযুক্তিগত দক্ষতাও অর্জন করতে হবে।’

অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক মো. আশরাফুজ্জামান, শাহানা পারভীন, শুভাশীষ দত্ত ও গোবিন্দ দাম। এ ছাড়া উপস্থিত ছিলেন হাসানপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক মো. আজিজুর রহমান, বীর মুক্তিযোদ্ধা এস.এম. তহিদুজ্জামান, বিএনপি নেতা আব্দুল বারিক বিশ্বাস, অভিভাবক তরিকুল ইসলাম, সিদ্দিকুর রহমান, ঝর্না দাম, রেশমা খাতুন, ইরা রানী, রত্না খাতুনসহ এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তিরা।

সমাবেশে ষষ্ঠ থেকে দশম শ্রেণি পর্যন্ত প্রথম, দ্বিতীয় ও তৃতীয় স্থান অধিকারী শিক্ষার্থীদের হাতে পুরস্কার তুলে দেওয়া হয়।

ষষ্ঠ শ্রেণিতে প্রথম স্থান অর্জন করে বর্ণ দাম, দ্বিতীয় জিমিয়া খাতুন এবং তৃতীয় তাহসিন জামান সিয়াম। সপ্তম শ্রেণিতে প্রথম মোছা. মুসফিকা, দ্বিতীয় রিয়াদ হাসান এবং তৃতীয় জুয়েল রানা। অষ্টম শ্রেণিতে প্রথম মো. রিফাত হোসেন, দ্বিতীয় বনলতা দাস এবং তৃতীয় মো. ফাইম হোসেন। নবম শ্রেণিতে প্রথম মাহামুদুল হাছান, দ্বিতীয় এসএম তামিম ইসলাম এবং তৃতীয় তানমিন আক্তার মিম। দশম শ্রেণিতে প্রথম মোহনা জামান, দ্বিতীয় অপূর্ব পাল এবং তৃতীয় শাওন রেজা।


নির্বাচিত

banner close