মুন্সীগঞ্জের গজারিয়ায় এক বালু ব্যবসায়ীর বাড়িতে দুর্ধর্ষ ডাকাতির ঘটনা ঘটেছে। অস্ত্রের মুখে পরিবারের সদস্যদের জিম্মি করে স্বর্ণালঙ্কার, নগদ অর্থসহ কয়েক লাখ টাকার মালামাল লুট করা হয়েছে। এমনকি ওই বালু ব্যবসায়ী ও তার বোনকে কুপিয়ে জখম করেছে ডাকাতরা।
গত মঙ্গলবার দিবাগত রাত ৩টার দিকে উপজেলার বালুয়াকান্দি ইউনিয়নের আব্দুল্লাহপুর গ্রামে এ ডাকাতি হয়।
ডাকাতের হামলায় আহতরা হলেন আব্দুল্লাহপুর গ্রামের শাহাবুদ্দিনের ছেলে বালু ব্যবসায়ী আলমগীর হোসেন (৪৫) ও তার বোন রানু বেগম (৪৮)।
আলমগীর হোসেন দৈনিক বাংলাকে বলেন, ‘আমার একটি বাল্কহেড আছে। আমি বালু বিক্রির ব্যবসার সঙ্গে জড়িত। মঙ্গলবার রাত ৩টার দিকে ট্রলারযোগে ৮/১০ জন ডাকাত দল এসে আমার ঘর ঘিরে ফেলে। তারা সবাই মুখোশ পরিহিত ছিল এবং তাদের হাতে ছিল বিভিন্ন রকমের অস্ত্র। তারা দরজা ভেঙে ঘরে প্রবেশ করে অস্ত্রের মুখে আমাদের সবাইকে জিম্মি করে ফেলে। এসময় তারা নগদ টাকা, স্বর্ণালঙ্কার, মোবাইল ফোন, টিভিসহ ঘরের মূল্যবান জিনিসপত্র লুট করতে থাকে। আমি তাদের বাধা দিলে আমাকে মারধর ও কুপিয়ে জখম করে। আমার বড় বোন রানু বেগম আমাকে বাঁচাতে এগিয়ে এলে তাকেও কুপিয়ে জখম করে তারা। আমার মাথায় অস্ত্রের আঘাত লাগে ও আমার বোনের হাতের রগ কেটে গেছে।’
আহত আলমগীর বলেন, ‘নগদ টাকা, স্বর্ণালঙ্কার, তিনটি মোবাইল ফোন, টিভিসহ কয়েক লাখ টাকার মালামাল লুট করা হয়েছে। ডাকাতি শেষে তারা চলে গেলে স্থানীয়রা আমাদের উদ্ধার করে হাসপাতালে পাঠান।’
বালুয়াকান্দি ইউনিয়ন পরিষদের ৯নং ওয়ার্ডের সদস্য (মেম্বার) হাবিবুর রহমান দৈনিক বাংলাকে বলেন, ‘ঘটনাটি আমার বাড়ির পাশের। ঘটনার পরে আমি তাদের হাসপাতালে নিয়ে গিয়েছি। আহতদের মধ্যে বর্তমানে আলমগীর হোসেন ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। আর রানু বেগমকে ওই হাসপাতাল থেকে ঢাকা পঙ্গু হাসপাতালে পাঠিয়ে দেওয়া হয়েছে।’
গজারিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের জরুরি বিভাগের চিকিৎসক ডা. নাদিয়া আফরোজ বলেন, ‘বুধবার ভোরে আমাদের হাসপাতালে দুইজন রোগী নিয়ে আসা হয়। তাদের মধ্যে আলমগীর হোসেনের মাথায় এবং রানু বেগমের হাতে ধারালো অস্ত্রের আঘাত রয়েছে। অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় আমরা তাদের প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠিয়ে দিয়েছি।’
এ বিষয়ে মুন্সীগঞ্জের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (প্রশাসন ও অর্থ) সুমন দেব বলেন, ‘বিষয়টি সম্পর্কে আমরা অবগত নই। খবর নিয়ে দেখছি।’
জয়পুরহাটে আয় বৃদ্ধিমূলক কর্মসূচির মাধ্যমে প্রান্তিক মানুষের জীবনমান উন্নয়নের লক্ষ্যে কৃষক, প্রতিবন্ধী, সুবিধাবঞ্চিত বিধবা ও স্বামী পরিত্যক্তা নারীদের মাঝে গরু বিতরণ করা হয়েছে।
পাঁচবিবির বটতলী বাজারে বেসরকারি সংস্থা এসডিএসের কার্যালয়ে সমাজসেবা অধিদপ্তর এবং বেসরকারি সংস্থা এসডিএস’ (SDS)-এর যৌথ উদ্যোগে মোট ৬০০ জন উপকারভোগীর মাঝে এসব গরু হস্তান্তর করা হয়।
অনুষ্ঠানে সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মাহমুদুল হাসানের সভাপতিত্বে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন, জেলা পরিষদের প্রশাসক ও জেলা বিএনপি সিনিয়র যুগ্ন আহ্বায়ক মাসুদ রানা প্রধান, বিশেষ অতিথি বক্তব্য রাখেন, জেলা প্রাণিসম্পদ কার্যালয়ের ট্রেনিং অফিসার ডা. এসএম খুরশিদ আলম, জেলা সমাজসেবা কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক, সাহাদাত হোসেন, এসডিএস সংস্থার সভাপতি গুলশান আরা গ্যালিন, জেলা কৃষক দলের সদস্য সচিব মনজুরে মওলা পলাশসহ অন্যান্য নেতারা।
অনুষ্ঠানে আয়োজকরা জানান, গরু পালনের মাধ্যমে উপকারভোগীরা নিজেদের পরিবারের আয় বৃদ্ধি ও আর্থিকভাবে স্বাবলম্বী হওয়ার সুযোগ পাবেন। মূলত কৃষক, প্রতিবন্ধী, সুবিধাবঞ্চিত বিধবা এবং স্বামী পরিত্যক্তা নারীদের আর্থিক সক্ষমতা বাড়িয়ে তাদের জীবনযাত্রার মান উন্নত করাই এই বিশেষ উদ্যোগের মূল উদ্দেশ্য।
সড়ক দুর্ঘটনায় গুরুতর আহত হয়ে ঢাকায় চিকিৎসা অবস্থায় রয়েছেন মোহনা টেলিভিশনের রিপোর্টার এবং দৈনিক বাংলা বরিশাল বিভাগীয় প্রধান তারিকুল ইসলাম তুহিন। দীর্ঘদিন ধরে সাংবাদিকতা পেশায় দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করে আসা এই সংবাদকর্মীর শারীরিক অবস্থার খোঁজখবর নিতে হাসপাতালে ছুটে যান বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য আবু নাসের মুহাম্মদ রহমাতুল্লাহ।
জানা গেছে, গত মাসের ২১ জুলাই রাতে ভাটিখানায় পেশাগত দায়িত্ব পালন করতে যাওয়ার পথে বাইকের সামনে বৃদ্ধ একলোককে বাঁচাতে গিয়ে মোটরসাইকেলে এক মর্মান্তিক সড়ক দুর্ঘটনার শিকার হন তিনি।
পরে গুরুতর আহত তুহিনকে স্থানীয়রা দ্রুত উদ্ধার করে বরিশাল শেরই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করেন। সেখানে প্রাথমিক চিকিৎসা ও নিবিড় পর্যবেক্ষণের পর উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে ঢাকার জাতীয় অর্থোপেডিক হাসপাতাল ও পুনর্বাসন প্রতিষ্ঠান (নিটোর)-এ স্থানান্তর করা হয়। বর্তমানে তিনি সেখানে চিকিৎসকদের নিবিড় তত্ত্বাবধানে চিকিৎসা নিচ্ছেন।
শুক্রবার (১৪ আগস্ট) দুপুরে বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য আবু নাসের মুহাম্মদ রহমাতুল্লাহ আহত সাংবাদিক তুহিনের শারীরিক অবস্থার খোঁজখবর নেন। এ সময় তিনি চিকিৎসকদের সঙ্গে কথা বলে সর্বশেষ চিকিৎসা পরিস্থিতি সম্পর্কে অবগত হন এবং পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে সাক্ষাৎ করে তাদের সান্ত্বনা ও সাহস জোগান। পাশাপাশি চিকিৎসা কার্যক্রমে প্রয়োজনীয় সহযোগিতার আশ্বাস প্রদান করেন।
আবু নাসের মুহাম্মদ রহমাতুল্লাহ বলেন, ‘সাংবাদিক তারিকুল ইসলাম তুহিন একজন মেধাবী, দায়িত্বশীল ও প্রতিশ্রুতিশীল সংবাদকর্মী। পেশাগত দায়িত্ব পালন করতে গিয়েই তিনি দুর্ঘটনার শিকার হয়েছেন। আমরা সবাই তার দ্রুত সুস্থতা কামনা করছি। তার পরিবারের এই কঠিন সময়ে আমরা পাশে আছি এবং প্রয়োজনীয় সহযোগিতা অব্যাহত থাকবে।’
তিনি বলেন, ‘একজন কর্মরত সাংবাদিকের অসুস্থতা শুধু তার পরিবারের নয়, পুরো গণমাধ্যম পরিবারের জন্যই উদ্বেগের বিষয়। তাই মানবিক দায়িত্ববোধ থেকেই তার চিকিৎসা ও সুস্থতার খোঁজখবর নেওয়া হয়েছে।’
পরিবারের সদস্যরাও দেশবাসীর কাছে তার সুস্থতার জন্য দোয়া চেয়েছেন। তারা জানান, চিকিৎসকরা সর্বোচ্চ চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন এবং ইতিবাচক অগ্রগতির আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন। এমন পরিস্থিতিতে সবার দোয়া ও সহযোগিতা তাদের মানসিক শক্তি জোগাচ্ছে।
চুয়াডাঙ্গার জীবননগর উপজেলার মনোহরপুর ইউনিয়নের দক্ষিণপাড়ার তিন রাস্তার মোড়ে গত চার বছর ধরে বিরাজ করছে স্থায়ী জলাবদ্ধতা। বৃষ্টির পানি নিষ্কাশনের কোনো সুব্যবস্থা না থাকায় প্রতিদিন হাঁটু সমান নোংরা পানি মাড়িয়ে যাতায়াত করতে বাধ্য হচ্ছেন অন্তত ১০টি গ্রামের হাজারও মানুষ।
বছরের পর বছর জমে থাকা পচা পানিতে সড়কটি নষ্ট হয়ে এখন প্রায় সম্পূর্ণ চলাচলের অনুপযোগী হয়ে পড়েছে। স্থানীয় বাসিন্দাদের সূত্রে জানা গেছে, দক্ষিণপাড়াসহ পার্শ্ববর্তী এলাকাগুলোর প্রাত্যহিক যোগাযোগের অন্যতম প্রধান মাধ্যম এই সড়কটি। তবে দীর্ঘদিনের এই জলাবদ্ধতা দৈনন্দিন যাতায়াতকে রূপ দিয়েছে চরম দুর্ভোগে। শিক্ষার্থীদের কষ্ট ও স্বাস্থ্যঝুঁকি
জলাবদ্ধতার কারণে সবচেয়ে বেশি বিপাকে পড়েছে স্কুল-কলেজগামী শিক্ষার্থীরা। নোংরা পানি মাড়িয়ে বিদ্যালয়ে যেতে গিয়ে প্রায়শই তাদের জামাকাপড় ও বই-খাতা ভিজে নষ্ট হচ্ছে। মনোহরপুর দক্ষিণপাড়ার বাসিন্দা আব্দুর রশিদ আক্ষেপ প্রকাশ করে বলেন,
দীর্ঘ ৪ বছর ধরে আমরা এক প্রকার পানিবন্দী হয়ে পড়েছি। জলাবদ্ধতার পানি দূষিত হয়ে ছড়িয়ে পড়ছে রোগজীবাণু। এতে শরীরে চুলকানিসহ বিভিন্ন ধরনের চর্মরোগ ও ঘা-পঁচড়ায় আক্রান্ত হচ্ছেন এলাকার মানুষ।
স্থানীয় বাসিন্দা বাবলু বিশ্বাস জানান, শিশুদের নিরাপত্তা ও স্বাস্থ্যঝুঁকি নিয়ে অভিভাবকরা সবসময় শঙ্কিত থাকেন। অনেকেই সন্তানদের একা স্কুলে পাঠাতে ভয় পাচ্ছেন। অন্যদিকে, স্থানীয় ব্যবসায়ী খমেনি বলেন, দীর্ঘদিনের জলাবদ্ধতার কারণে তারা নিজেদের উৎপাদিত কৃষিপণ্য সময়মতো বাজারে নিয়ে যেতে পারছেন না, ফলে চরম অর্থনৈতিক লোকসানের মুখে পড়ছেন।
এলাকাবাসীর অভিযোগ, দীর্ঘ চার বছরের এই স্থায়ী দুর্ভোগ নিরসনে স্থানীয় সংসদ সদস্য, জনপ্রতিনিধি এবং সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন সরকারি দপ্তরে বারবার ধরনা দেওয়া হলেও আজ পর্যন্ত দৃশ্যমান কোনো কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি। দীর্ঘদিন পানি জমে থাকায় গুরুত্বপূর্ণ এ সড়কটি যেমন ধ্বসে পড়ছে, তেমনি যেকোনো সময় বড় ধরনের দুর্ঘটনার আশঙ্কা করছেন পথচারীরা। জরুরি ভিত্তিতে উপযুক্ত ড্রেনেজ ব্যবস্থা নির্মাণ করে এই দীর্ঘ অভিশাপ থেকে মুক্তি পেতে উপজেলা প্রশাসন এবং স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের (এলজিইডি) আশু হস্তক্ষেপ দাবি করেছেন ভুক্তভোগী গ্রামবাসীরা।
সড়কটির করুণ দশা ও জনগণের দুর্ভোগের বিষয়ে দৃষ্টি আকর্ষণ করা হলে জীবননগর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সুমাইয়া সুলতানা এ্যানি জানান, বিষয়টি সম্পর্কে তিনি অবহিত হয়েছেন। দ্রুততম সময়ের মধ্যে এই জলাবদ্ধতা নিরসনে প্রয়োজনীয় ও কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ করবেন বলে আশ্বাস দেন তিনি।
মৌলভীবাজারের পর্যটন নগরী শ্রীমঙ্গলে পরিবেশ সুরক্ষা ও আধুনিক বর্জ্য ব্যবস্থাপনায় নতুন উদ্যোগ গ্রহণ করেছে সরকার। শহরের বাইরে নিরাপদ স্থানে আধুনিক বর্জ্য ব্যবস্থাপনা প্ল্যান্ট স্থাপন করে বর্জ্য থেকে জৈব সার ও নবায়নযোগ্য বিদ্যুৎ উৎপাদন করা হবে। একই সঙ্গে চলতি অর্থবছরের মধ্যেই দেশের পাঁচটি স্তরের স্থানীয় সরকার নির্বাচন সম্পন্ন করার পরিকল্পনার কথা জানিয়েছেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম। গতকাল শুক্রবার সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত শ্রীমঙ্গল পৌরসভার বিভিন্ন উন্নয়নমূলক কার্যক্রম ও এলাকা পরিদর্শনকালে প্রতিমন্ত্রী এসব কথা জানান।
পরিদর্শনকালে তিনি শ্রীমঙ্গল ভিক্টোরিয়া উচ্চবিদ্যালয় মাঠ, পরিচ্ছন্নতাকর্মীদের জন্য নির্মাণাধীন ভবন এবং শহরের তিনটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের সামনে দীর্ঘদিন ধরে থাকা পৌরসভার ময়লার ভাগাড় সরেজমিনে ঘুরে দেখেন।
শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের সামনে থাকা ময়লার ভাগাড় দ্রুত স্থানান্তরের ওপর জোর দিয়ে প্রতিমন্ত্রী বলেন, শ্রীমঙ্গলের ময়লা ফেলার জন্য শহরের বাইরে খাস বা সরকারি জমি খোঁজা হচ্ছে। সেখানে একটি আধুনিক বর্জ্য ব্যবস্থাপনা প্ল্যান্ট স্থাপন করা হবে। আগামী ১৫ দিনের মধ্যে মন্ত্রণালয়ের একজন বর্জ্য ব্যবস্থাপনা বিশেষজ্ঞ শ্রীমঙ্গলে আসবেন। তাঁর প্রতিবেদনের ভিত্তিতে দ্রুত পরবর্তী পদক্ষেপ নেওয়া হবে।
পরিদর্শন শেষে স্থানীয় সরকার নির্বাচন নিয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম বলেন, চলতি অর্থবছরের মধ্যেই সিটি করপোরেশন, জেলা পরিষদ, উপজেলা পরিষদ, পৌরসভা ও ইউনিয়ন পরিষদ এই পাঁচ স্তরের নির্বাচন সম্পন্ন করার লক্ষ্য নিয়ে কাজ চলছে।
তিনি জানান, এসব নির্বাচন আয়োজনে আনুমানিক সাড়ে পাঁচ থেকে ছয় হাজার কোটি টাকার প্রয়োজন হবে এবং এই অর্থ বাজেটে বরাদ্দ রাখা হয়েছে। নির্বাচন কমিশন ইতিমধ্যে প্রাথমিক প্রস্তুতি শুরু করেছে। প্রস্তুতি চূড়ান্ত হলে নির্বাচন কমিশন, স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয় ও অর্থ বিভাগ যৌথ বৈঠকে বসে নির্বাচনের সময়সূচি ও অগ্রাধিকার নির্ধারণ করবে।
পরিদর্শনের সময় উপস্থিত ছিলেন মৌলভীবাজার-৪ আসনের সংসদ সদস্য মুজিবুর রহমান চৌধুরী, মৌলভীবাজার জেলা পরিষদের প্রশাসক মিজানুর রহমান, বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) পরিচালক সরফরাজ আহমেদ সরফু, শ্রীমঙ্গল উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা জিয়াউর রহমান, শ্রীমঙ্গল পৌরসভার নির্বাহী প্রকৌশলী জহিরুল ইসলাম এবং শ্রীমঙ্গল উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক নুরে আলম সিদ্দিকীসহ সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা।
চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডে ফেরদৌস স্টিল শিপ ব্রেকিং ইয়ার্ডে ট্যাংক থেকে বিষাক্ত গ্যাস ছড়িয়ে পড়ার ঘটনায় মৃতের সংখ্যা বেড়ে ৮ জন। এ ঘটনায় অসুস্থ হয়ে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন আরও কয়েকজন। আজ শুক্রবার সকালে উপজেলার ভাটিয়ারী এলাকায় অবস্থিত ‘ফেরদৌস স্টিল শিপ রিসাইক্লিং ইন্ডাস্ট্রিজ’ নামক কারখানায় এই ভয়াবহ দুর্ঘটনাটি ঘটে। এতে বেশ কয়েকজন শ্রমিক গুরুতর আহত হয়েছেন বলেও জানা গেছে।
কারখানার ব্যবস্থাপনা পরিচালক ফেরদৌস ওয়াহিদ ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, কাজ চলাকালীন জাহাজের একটি ট্যাংক থেকে গ্যাস নির্গত হতে দেখে সেফটি টিমের সদস্যরা তা পরীক্ষা করতে যান। এ সময় আকস্মিকভাবে বিষাক্ত গ্যাস ছড়িয়ে পড়লে সেখানে উপস্থিত শ্রমিকরা গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়েন। আহতদের দ্রুত উদ্ধার করে স্থানীয় হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
অন্যদিকে, কারখানা ও প্রতিষ্ঠান পরিদর্শন অধিদপ্তরের (ডিআইএফই) চট্টগ্রামের উপমহাপরিদর্শক মাহবুবুল হাসান প্রাথমিকভাবে একজন শ্রমিকের মৃত্যুর খবর নিশ্চিত করেছেন এবং বাকিদের অবস্থা পর্যবেক্ষণে রেখেছেন। দুর্ঘটনার কারণ এবং ইয়ার্ডে শ্রমিকদের পর্যাপ্ত নিরাপত্তা ব্যবস্থা বজায় ছিল কি না, তা খতিয়ে দেখতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ তদন্ত শুরু করেছে। শিপব্রেকিং ইয়ার্ডে বারবার এমন প্রাণহানির ঘটনায় স্থানীয় শ্রমিকদের মাঝে চরম আতঙ্ক ও শোকের ছায়া নেমে এসেছে।
চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডে একটি জাহাজভাঙা কারখানায় (শিপইয়ার্ড) স্ক্র্যাপ জাহাজ কাটার সময় ভয়াবহ বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটেছে। এতে এখন পর্যন্ত ৩ জন শ্রমিকের মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে এবং অন্তত ১০ জন শ্রমিক গুরুতরভাবে দগ্ধ ও আহত হয়েছেন। আজ শুক্রবার বেলা ১১টার দিকে উপজেলার ভাটিয়ারী স্টেশন রোড সংলগ্ন সাগর উপকূলে অবস্থিত মো. লোকমানের মালিকানাধীন ‘ফেরদৌস স্টিল’ নামক শিপইয়ার্ডে এই দুর্ঘটনাটি ঘটে। কুমিরা ফায়ার সার্ভিস স্টেশনের ইনচার্জ আল মামুন এই মর্মান্তিক ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন।
প্রাথমিক তথ্য অনুযায়ী, স্ক্র্যাপ জাহাজের অভ্যন্তরে তেলের ট্যাংকি পরিষ্কার করার জন্য শ্রমিকরা নিচে নামলে হঠাৎ সেখানে বিস্ফোরণ ঘটে। বিস্ফোরণের তীব্রতা এতই বেশি ছিল যে ঘটনাস্থলেই কয়েকজন হতাহত হন। আহতদের উদ্ধার করে দ্রুত চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে (চমেক) প্রেরণ করা হয়েছে। উদ্ধারকর্মীদের আশঙ্কা, ধ্বংসস্তূপের নিচে আরও শ্রমিক আটকা পড়ে থাকতে পারেন, যার ফলে নিহতের সংখ্যা আরও বৃদ্ধি পাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
সীতাকুণ্ড উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. ফখরুল ইসলাম এই বিস্ফোরণের বিষয়টি নিশ্চিত করে গণমাধ্যমকে জানান যে, খবর পাওয়ার পরপরই সীতাকুণ্ড থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাকে (ওসি) অবহিত করা হয়েছে এবং ঘটনাস্থলে জরুরি ভিত্তিতে পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। দুর্ঘটনার কারণ অনুসন্ধানে এবং উদ্ধার তৎপরতা তদারকি করতে স্থানীয় প্রশাসন কাজ শুরু করেছে। আহত শ্রমিকদের সঠিক নাম-পরিচয় এখনো বিস্তারিত জানা যায়নি। বিস্ফোরণের প্রকৃত কারণ উদ্ঘাটনে ফায়ার সার্ভিস ও পুলিশের বিশেষ দল তদন্ত শুরু করেছে।
দেশের প্রথম পাতাল মেট্রোরেল, বিমানবন্দরের সঙ্গে কমলাপুরকে সংযুক্ত করা এমআরটি লাইন-১ প্রকল্পের ব্যয় ১২৯.৮২ শতাংশ বাড়িয়ে ১ লাখ ২০ হাজার ৭৯৪.১৩ কোটি টাকা করার প্রস্তাব দিয়েছে এর বাস্তবায়নকারী সংস্থা—ঢাকা ম্যাস ট্রানজিট কোম্পানি লিমিটেড (ডিএমটিসিএল)। সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগের মাধ্যমে পরিকল্পনা কমিশনে পাঠানো প্রথম সংশোধিত উন্নয়ন প্রকল্প প্রস্তাবে (আরডিপিপি) এই আবেদন জানানো হয়েছে।
প্রস্তাবটি অনুমোদিত হলে এটি হবে ১ লাখ ৩৮.৬৮৫.৭৬ কোটি টাকার রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র প্রকল্পের পর ব্যয়ের দিক থেকে দেশের দ্বিতীয় বৃহৎ উন্নয়ন প্রকল্প। সংশোধিত এই ব্যয়, উত্তরা থেকে মতিঝিল পর্যন্ত বর্তমানে একমাত্র চালু মেট্রোরেলের মোট ব্যয়ের প্রায় চারগুণ।
২০১৯ সালের ১৫ অক্টোবর একনেক সভায় অনুমোদিত ৩১.২৪ কিলোমিটার দৈর্ঘ্যের এমআরটি লাইন-১ প্রকল্পের প্রাথমিক ব্যয় ধরা হয়েছিল ৫২,৫৬২ কোটি টাকা। তখন বাস্তবায়ন মেয়াদ নির্ধারণ করা হয়েছিল ২০১৯ সালের সেপ্টেম্বর থেকে ২০২৬ সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত। তবে নতুন সংশোধিত প্রস্তাবে বাস্তবায়নের মেয়াদ আরও ৯ বছর বাড়িয়ে ২০৩৫ সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত করার আবেদন জানানো হয়েছে।
সংশোধিত প্রস্তাবে, প্রকল্পের জাপানি ঋণের পরিমাণ ১১৬.৮২ শতাংশ বাড়িয়ে ৩৯,৪৫০.৩২ কোটি টাকা থেকে ৮৫,৫৩৫.৫৬ কোটি টাকা করার কথা বলা হয়েছে। অন্যদিকে, বাংলাদেশ সরকারের নিজস্ব অর্থায়ন ১৬৮.৯২ শতাংশ বাড়িয়ে ১৩,১১১.১১ কোটি টাকা থেকে ৩৫,২৫৮.৫৭ কোটি টাকায় উন্নীত করার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে।
উল্লেখ্য, প্রকল্পের এই নতুন খরচের হার ডিএমটিসিএলের আগের প্রাক্কলনের চেয়েও অনেক বেশি। চলতি বছরের ২৮ জানুয়ারি পরিকল্পনা কমিশনে পাঠানো এক চিঠিতে বাস্তবায়নকারী সংস্থাটি জানিয়েছিল, প্রকল্প ব্যয় ৮৩ শতাংশ বেড়ে প্রায় ৯৬,৫০০ কোটি টাকা হতে পারে। কিন্তু এখন তা আরও বাড়ানো হলো।
ডিএমটিসিএল এবং পরিকল্পনা কমিশন জানিয়েছে, টেন্ডার বা দরপত্র প্রক্রিয়ায় ঠিকাদারদের প্রাক্কলিত খরচের চেয়ে অনেক বেশি দর হাঁকানোই মূল প্রাক্কলন বৃদ্ধির প্রধান কারণ। এ ছাড়া মার্কিন ডলারের বিপরীতে টাকার অবমূল্যায়ন এবং বৈশ্বিক ও দেশীয় বাজারে মূল্যস্ফীতির ফলেও খরচ বেড়েছে।
ডিএমটিসিএল সূত্রে জানা গেছে, বিমানবন্দর থেকে কমলাপুর এবং নতুন বাজার থেকে পূর্বাচল রুটের এই বিশালাকার প্রকল্পটিকে ১২টি পৃথক কন্ট্রাক্ট প্যাকেজে (সিপি-০১ থেকে সিপি-১২) ভাগ করা হয়েছে। এই ১২টি প্যাকেজের মূল প্রাক্কলিত ব্যয় ধরা হয়েছিল ৩৭,৬৫৫.৬৬ কোটি টাকা, যা বর্তমানে সর্বশেষ ঠিকাদারদের দরপ্রস্তাব ও সংশোধিত প্রাক্কলনে দাঁড়িয়েছে ৮০,০৯৯.৭৯ কোটি টাকায়।
যেমন— রামপুরা স্টেশনের উত্তর পাশ থেকে নতুন বাজার স্টেশন পর্যন্ত ভূগর্ভস্থ অংশের কাজের জন্য (প্যাকেজ সিপি-০৪) মূল প্রকল্প প্রস্তাবে ব্যয় ধরা হয়েছিল ৫,৩৩০.২০ কোটি টাকা। পরে জাপানি পরামর্শক প্রতিষ্ঠান এর প্রাক্কলিত ব্যয় নির্ধারণ করে ১৩,২৬৬.৪৪ কোটি টাকা। কিন্তু দরপত্র আহ্বান করা হলে জাপানের টোকিউ-এমআইএল জেভি সর্বনিম্ন দরদাতা হিসেবে ১৪,৯৮৮.০৭ কোটি টাকা দরপ্রস্তাব করে।
একইভাবে নদ্দা স্টেশনের উত্তর থেকে বিমানবন্দর স্টেশন পর্যন্ত পাতাল অংশের (সিপি-০৬) মূল ব্যয় ধরা হয়েছিল ৪,৬০৪.৮০ কোটি টাকা। কিন্তু জাপানের নিশিমাতসু-টোডা জেভি সর্বনিম্ন দরদাতা হিসেবে ১০,৮২১.৯১ কোটি টাকায় দরপ্রস্তাব দেয়।
সংশ্লিষ্ট অংশীজনরা বলছেন, জাপানি অর্থায়নে বাস্তবায়িত প্রকল্পগুলোতে শর্ত থাকে যে পরামর্শক নিয়োগ দিতে হবে জাপান থেকেই। পরবর্তীতে ওই পরামর্শক প্রতিষ্ঠানগুলো এমনভাবে দরপত্রের শর্ত তৈরি করে, যাতে প্রকারান্তরে কেবল জাপানি ঠিকাদাররাই অংশ নিতে পারে।
কাগজে-কলমে দরপত্র উন্মুক্ত বলা হলেও ঘুরেফিরে সেই একই দুই-তিনটি প্রতিষ্ঠানই শীর্ষ দরদাতা হিসেবে উঠে আসে। ফলে প্রক্রিয়াটি কার্যত একটি সীমিত প্রতিযোগিতায় পরিণত হয়, যা নতুন বা বিকল্প কোনো যোগ্য ঠিকাদারদের অংশ নেওয়ার সুযোগ বন্ধ করে দেয়।
এ বিষয়ে পরিকল্পনা কমিশনের এক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা জানান, প্রকল্পটির সম্ভাব্যতা যাচাই পরিচালনা করেছিল জাপান ইন্টারন্যাশনাল কো-অপারেশন एजेंसी (জাইকা)। সেই সমীক্ষার ওপর ভিত্তি করেই মূল ডিপিপিতে ব্যয় প্রস্তাব করা হয়। কিন্তু পরবর্তীতে জাপানি পরামর্শকরা তাদের প্রাক্কলন সংশোধন করে বিভিন্ন অংশের খরচ বাড়িয়ে দেয়, যার ধারাবাহিকতায় জাপানি ঠিকাদাররাও বেশি দর হাঁকাতে শুরু করে। তিনি স্পষ্ট করে বলেন, বিস্তারিত নকশায় প্রকল্পের চাহিদা ও ব্যয় সঠিকভাবে প্রতিফলিত হয়নি; আর এই ত্রুটি ও নকশাগত ঘাটতির কারণেই মূলত প্রকল্পের ব্যয় এতটা বেড়েছে।
ব্যয় বৃদ্ধির এই বিশাল প্রস্তাব ও ঠিকাদারদের চড়া দরপ্রস্তাবের বিষয়ে জানতে প্রকল্পের পরিচালক মো. সারওয়ার উদ্দীনের সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান, ডিএমটিসিএলের ব্যবস্থাপনা পরিচালকের নির্দেশনায় থাকায় এ বিষয়ে তিনি কোনো মন্তব্য করতে পারছেন না। পরবর্তীতে ডিএমটিসিএলের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শাওগাতুল আলমের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলেও তার কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি।
বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) পুরকৌশল বিভাগের অধ্যাপক ড. শামসুল হক বলেন, প্রস্তাবিত এই ব্যাপক ব্যয় বৃদ্ধি নিয়ে জাতীয় সংসদসহ সর্বসাধারণের প্ল্যাটফর্মে খোলামেলা আলোচনা হওয়া উচিত। মেট্রোরেল প্রকল্পগুলোর ব্যয় নির্ধারণ এবং ক্রমাগত বৃদ্ধি নিয়ে এখনই খোলামেলা আলোচনা প্রয়োজন। প্রতিযোগিতাহীনভাবে নির্ধারিত ব্যয় ভবিষ্যতে বড় প্রশ্নের জন্ম দেবে এবং তখন এর যৌক্তিকতা ব্যাখ্যা করা কঠিন হয়ে পড়বে।
তিনি আরও মন্তব্য করেন, বর্তমানে যে ব্যয় নির্ধারণ করা হচ্ছে, তার ভিত্তি কতটা শক্ত এবং তা আদৌ প্রতিযোগিতামূলক দরপত্রের মাধ্যমে এসেছে কি না—এ প্রশ্ন উঠতেই পারে। কারণ এসব ব্যয় মূলত প্রাক্কলনের ওপর নির্ভর করছে, যা পরবর্তীতে আরও বৃদ্ধি পাওয়ার ঝুঁকি রাখে। তাই আন্তর্জাতিক মানদণ্ড বা বেঞ্চমার্কিংয়ের সঙ্গে এই ব্যয়ের সামঞ্জস্য রাখা উচিত।
অধ্যাপক শামসুল হক বলেন, এত বড় অঙ্কের বিনিয়োগের প্রকল্প বাস্তবায়নের আগে আন্তর্জাতিক মানদণ্ডে ব্যয় নির্ধারণ, প্রকল্পের পারফরম্যান্স মূল্যায়ন এবং ভবিষ্যৎ আর্থিক দায়—এসব বিষয় সতর্কভাবে विश्लेषण করা প্রয়োজন। একইসঙ্গে জনগণের অর্থে বাস্তবায়িত এসব প্রকল্পে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করা জরুরি। যেসব পরামর্শক প্রতিষ্ঠান প্রাথমিক সমীক্ষা ও নকশা করেছে, তাদের মাধ্যমেই যদি পরবর্তীতে ব্যয় বাড়ে, তাহলে সেটি গভীরভাবে পর্যালোচনা করা উচিত। অন্যথায় ভবিষ্যতে এ ধরনের বড় সিদ্ধান্তগুলো সরকারসহ সংশ্লিষ্ট সবাইকে কঠিন সমালোচনার মুখে ফেলতে পারে।
বিশ্বের বিভিন্ন দেশে ২০২৪ সালে হওয়া মেট্রোরেলের দরপত্র এবং ২০২৫ সালে অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের তৈরি করা একটি পর্যালোচনা প্রতিবেদন থেকে ব্যয়ের এক অস্বাভাবিক ব্যবধান উঠে এসেছে।
তাতে দেখা যায়, ভারতের পাটনায় প্রতি কিলোমিটার মেট্রোরেল নির্মাণে খরচ হয় প্রায় ৪০.৭৭ মিলিয়ন ডলার, যা সৌদি আরবের রিয়াদে ১৬৬ মিলিয়ন ডলার এবং সংযুক্ত আরব আমিরাতে দুবাইয়ে ১৮৮ মিলিয়ন ডলার। কিন্তু ঢাকার ক্ষেত্রে এই ব্যয় গিয়ে ঠেকেছে প্রতি কিলোমিটারে ২২৬.৭৪ মিলিয়ন থেকে ২৫৩.৬৩ মিলিয়ন ডলারে—যা ভারতের পাটনার চেয়ে প্রায় পাঁচগুণ বেশি এবং রিয়াদ বা দুবাইয়ের চেয়েও অনেক চড়া।
জাপানি অর্থায়নে পরিচালিত এই প্রকল্পের বাজেট বাড়ার প্রস্তাবটি এমন সময়ে এসেছে, যখন এশীয় উন্নয়ন ব্যাংক (এডিবি) ও দক্ষিণ কোরিয়ার অর্থায়নে বাস্তবায়নাধীন অপর একটি মেট্রোরেল প্রকল্পের মূল বাজেট ৫৪,৬১৮.৯৬ কোটি টাকা থেকে কমিয়ে ৪৫,৫০৩.৭৭ কোটি টাকায় নামিয়ে আনা হয়েছে (ব্যয় হ্রাস পেয়েছে ২,২১৭.৬৭ কোটি টাকা)।
বাংলাদেশের প্রথম পাতাল মেট্রোরেল এমআরটি লাইন-১ প্রকল্পের মোট দৈর্ঘ্য ৩১.২৪১ কিলোমিটার এবং এর নির্মাণ কাজ শুরু হয়েছে ২০২৩ সালের ২ ফেব্রুয়ারি। এর মধ্যে বিমানবন্দর রুটটি (১৯.৮৭২ কিমি) সম্পূর্ণ পাতাল এবং এতে ১২টি স্টেশন থাকবে। অন্যদিকে পূর্বাচল রুটটি (১১.৩৬৯ কিমি) আংশিক উড়াল ও আংশিক পাতাল হিসেবে নির্মিত হচ্ছে, যেখানে ৭টি উড়াল ও ২টি পাতাল স্টেশন থাকবে। ১২টি প্যাকেজের মধ্যে ডিপো এলাকার ভূমি উন্নয়ন সংক্রান্ত সিপি-১ প্যাকেজের কাজ ইতোমধ্যে শেষ হয়েছে। বাকি ১১টি প্যাকেজের ক্রয় প্রক্রিয়া বিভিন্ন পর্যায়ে রয়েছে।
জাপানি ঠিকাদারদের চড়া দরপ্রস্তাবের বিষয়ে উদ্বেগ তৈরি হলে বর্তমান সরকারের মেয়াদে বেশ কয়েকটি প্যাকেজের দরপত্র প্রক্রিয়া স্থগিত করা হয়। ব্যয় যৌক্তিক পর্যায়ে টেনে নামাতে অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগ (ইআরডি), ডিএমটিসিএল এবং সড়ক পরিবহন বিভাগ জাইকা ও জাপানের সরকারি সংস্থাগুলোর সঙ্গে একাধিক বৈঠক করেছে। এমনকি বাংলাদেশের একটি উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধি দলও জাপান সফর করে বিষয়টি নিয়ে আলোচনা করেছে।
আগামী ১৫ আগস্ট ঘিরে সারাদেশে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে বিশেষ নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে র্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র্যাব)। এর অংশ হিসেবে নিষিদ্ধ ঘোষিত ও কার্যক্রম নিষিদ্ধ সংগঠনের নেতাকর্মী, সন্দেহভাজন ব্যক্তি এবং উগ্রবাদী গোষ্ঠীর সদস্যদের বিষয়ে তথ্য সংগ্রহের পাশাপাশি গোয়েন্দা নজরদারি জোরদার করা হয়েছে ইতোমধ্যে। বৃহস্পতিবার (১৩ আগস্ট) এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানিয়েছে র্যাব।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, ১৫ আগস্টকে কেন্দ্র করে বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের কর্মসূচি ঘিরে কোনো উগ্রবাদী গোষ্ঠী, নিষিদ্ধ সংগঠন বা রাষ্ট্র ও সরকারবিরোধী কুচক্রী মহল যেন নাশকতা বা অপ্রীতিকর পরিস্থিতি সৃষ্টি করতে না পারে, সেজন্য দেশব্যাপী বিশেষ নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।
র্যাবের বিশেষ নিরাপত্তা ব্যবস্থার অংশ হিসেবে প্রতিটি ব্যাটালিয়ন নিজ নিজ দায়িত্বপূর্ণ এলাকার নিরাপত্তা হুমকি পর্যালোচনা করে নিরাপত্তা পরিকল্পনা প্রণয়ন করেছে। একইসঙ্গে গুরুত্বপূর্ণ ও সংবেদনশীল স্থানগুলো চিহ্নিত করে সেখানে নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে।
র্যাবের পক্ষ থেকে বিজ্ঞপ্তিতে আরও জানানো হয়, নিষিদ্ধ ঘোষিত ও কার্যক্রম নিষিদ্ধ সংগঠনগুলোর অপতৎপরতা ও গতিবিধির ওপর গোয়েন্দা নজরদারি বাড়ানো হয়েছে। পাশাপাশি দায়িত্বপূর্ণ এলাকায় সন্দেহভাজন ও নিষিদ্ধ সংগঠনের ব্যক্তিদের বিষয়ে তথ্য সংগ্রহ করা হচ্ছে।
আগাম তথ্য সংগ্রহ ও গোয়েন্দা কার্যক্রম জোরদার করতে বিভিন্ন এলাকায় কন্টাক্ট বা ইনফর্মার বা সোর্স নিয়োগ করা হয়েছে। অনুষ্ঠানস্থলে যাতায়াতের রুটগুলোতেও সাদা পোশাকে গোয়েন্দা সদস্যদের মোতায়েন করে নজরদারি করা হচ্ছে।
যেকোনো অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা প্রতিরোধে রাজনৈতিক কর্মসূচির অনুষ্ঠানস্থল ও আশপাশের এলাকায় গোয়েন্দা নজরদারি জোরদারসহ র্যাব সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে। ১৫ আগস্ট উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে নিষিদ্ধ ঘোষিত ও কার্যক্রম নিষিদ্ধ সংগঠনের নেতাকর্মী, দুষ্কৃতকারী বা কোনো উগ্রবাদী গোষ্ঠীর অনুপ্রবেশের মাধ্যমে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির সুযোগ যাতে না থাকে, সে বিষয়েও সতর্কতা অবলম্বন করা হয়েছে।
সন্দেহভাজন ব্যক্তি ও নিষিদ্ধ ঘোষিত সংগঠনের মাধ্যমে নাশকতা ও অপতৎপরতা রোধে গোয়েন্দা তৎপরতা বৃদ্ধির পাশাপাশি প্রয়োজনীয় নিরাপত্তা ও প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে।
এছাড়া, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে গুজব ও অপপ্রচার ঠেকাতেও সাইবার পেট্রলিং জোরদার করেছে র্যাব। বিভ্রান্তিমূলক পোস্ট, মন্তব্য বা ছবি আপলোডের মাধ্যমে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির চেষ্টা করা হলে তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানিয়েছে সংস্থাটি।
র্যাব আরও জানিয়েছে, কোথাও বিস্ফোরক বা বিস্ফোরক সদৃশ কোনো বস্তু পাওয়া গেলে দ্রুত ব্যবস্থা নিতে র্যাবের বোম্ব ডিসপোজাল ইউনিট প্রস্তুত রাখা হয়েছে।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, ১৫ আগস্ট উপলক্ষে র্যাব নিজস্ব নেতৃত্বে দায়িত্ব পালন করবে। প্রয়োজন অনুযায়ী স্থানীয় প্রশাসন, অন্যান্য আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও গোয়েন্দা সংস্থার সঙ্গে সমন্বয় করা হয়েছে।
র্যাবের পক্ষ থেকে নাগরিকদের সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়ে বলা হয়েছে, কোনো সন্দেহজনক ব্যক্তি, বস্তু বা কার্যকলাপ চোখে পড়লে দ্রুত নিকটস্থ আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে জানাতে হবে। সব নাগরিকের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা, অপরাধ প্রতিরোধ এবং অপরাধীদের আইনের আওতায় আনতে র্যাব বদ্ধপরিকর।
জন্ম আছে, কিন্তু জন্মসনদ নেই। আর এই একটি কাগজের অভাবই যেন দেশের বস্তি ও পথের শিশুদের জীবনে এক অলক্ষ্য দেয়াল তুলে দিয়েছে—যে দেয়ালের ওপারে একে একে বন্ধ হয়ে যাচ্ছে জীবনের সব কটি চাবি। যে বয়সে ওদের হাতে বই-খাতা থাকার কথা, সেই বয়সে রাষ্ট্রের খাতায় নাম না থাকায় শুরুতেই রুদ্ধ হয়ে যাচ্ছে স্কুলের দরজা। শুধু কি শিক্ষা? ন্যূনতম স্বাস্থ্যসেবা, পুষ্টি, সরকারি সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচির সুবিধা কিংবা ভবিষ্যতে একজন নাগরিক হিসেবে রাষ্ট্রীয় সেবা গ্রহণ—সব ক্ষেত্রেই আজ প্রথম শর্ত এই জন্মনিবন্ধন।
রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন প্রান্তের বস্তি ও ফুটপাতে বেড়ে ওঠা এই বিপুল সংখ্যক শিশু আজ নিজ ভূমিতেই যেন ‘অদৃশ্য’। তাদের অস্তিত্ব আছে, কিন্তু আইনি স্বীকৃতি নেই। আর এই একবিংশ শতাব্দীতে এসেও এই মৌলিক অধিকারের অভাবই তাদের ঠেলে দিচ্ছে এক চিরস্থায়ী অন্ধকার ও অনিশ্চিত ভবিষ্যতের দিকে। দেশের এক বিশাল অংশকে এভাবে পরিচয়ের সংকটে রেখে কতটা টেকসই হবে আমাদের উন্নয়ন, সেই প্রশ্নই এখন সবচেয়ে বড় হয়ে দাঁড়িয়েছে।
২০২৫ সালে বাংলাদেশ নিয়ে বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা কারিতাসের এক জরিপে দেখা গেছে, পথে বেড়ে ওঠা শিশুদের ৫৮ দশমিক ২ শতাংশের জন্মসনদ নেই। একই জরিপে আরও উঠে এসেছে, বস্তি এলাকার ৯১ দশমিক ৭ শতাংশ পরিবার সরকারি সামাজিক সুরক্ষা কর্মসূচির বাইরে রয়েছে। ফলে এসব পরিবারের শিশুরা শিক্ষাসহ সরকারি বিভিন্ন সুযোগ-সুবিধা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে।
ঢাকা, ময়মনসিংহ ও রাজশাহী শহরের ৬৬৭ পথশিশু এবং বস্তি এলাকায় বসবাসরত ১ হাজার ২৪৬টি পরিবারের ওপর জরিপটি পরিচালিত হয়। এতে অংশ নেওয়া পথশিশুদের ৫১ দশমিক ৬ শতাংশ বর্তমানে শিক্ষার বাইরে রয়েছে।
জন্মসনদহীন শৈশব: রাজধানীর মিরপুর মিল্কভিটাগলি, সেকশন-৭, ৬ নম্বর ওয়ার্ডের ঝিলপাড় বস্তিতে বসবাস বিলকিস বানুর। বয়স মাত্র ১৮ বছর। এরই মধ্যে তিন বছরের একটি মেয়েসন্তানের মা সে।
মাত্র ১৫ বছর বয়সে বিয়ে হয়েছিল বিলকিসের। এত অল্প বয়সে বিয়ের কারণ জানতে চাইলে তার মুখে কোনো উত্তর নেই। ফ্যালফ্যাল করে তাকিয়ে থাকে সে। যেন নিজের জীবনের এই কঠিন বাস্তবতার কোনো ব্যাখ্যাই তার জানা নেই।
একই বস্তির ১৬ বছর বয়সি আছিয়াও জানায়, তাদের বাড়ি রংপুরে। সেখানে দরিদ্র পরিবারের মেয়েদের অল্প বয়সেই বিয়ে দেওয়ার প্রবণতা রয়েছে।
‘জন্মসনদ না থাকায় ১৮ বছর বয়স পর্যন্ত অপেক্ষা করা লাগে না’—বলতে গিয়ে আছিয়ার কথায় ফুটে ওঠে জন্মনিবন্ধনের সঙ্গে বাল্যবিবাহের একটি অদৃশ্য যোগসূত্র।
মিপুরের ৬ নম্বর ওয়ার্ড কার্যালয় সূত্রে জানা যায়, এখানে প্রায় ২৫ একর জমির ওপর গড়ে ওঠা চারটি বস্তিতে ৫০ হাজারের বেশি মানুষের বসবাস। এর মধ্যে ৮ থেকে ১০ বছর বয়সী শিশুর সংখ্যা ৮ হাজারেরও বেশি। তাদের বড় একটি অংশের জন্মনিবন্ধন নেই।
জন্মনিবন্ধন করাতে গিয়ে দালালের খপ্পরে পড়ার অভিযোগও রয়েছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, জন্ম নিবন্ধনের জন্য দালালরা তাদের কাছে প্রায় ১ হাজার ৫০০ টাকা দাবি করে। দরিদ্র পরিবারের পক্ষে এই অর্থ জোগাড় করাও কঠিন।
কাগজের জটিলতায় স্কুলের বাইরে: রাজধানীর ঝিলপাড়, চলন্তিকা ও আরামবাগ বস্তি এলাকা ঘুরে দেখা যায়, জন্মনিবন্ধন না থাকা এবং প্রয়োজনীয় কাগজপত্রের জটিলতায় বহু শিশু স্কুলে ভর্তি হতে পারছে না।
স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, দীর্ঘদিন স্কুলের বাইরে থাকা শিশুদের অনেকেই মোবাইল ফোনে আসক্ত হয়ে পড়ছে। কেউ কেউ জড়িয়ে পড়ছে বাল্যবিবাহ, শিশুশ্রমসহ নানা ঝুঁকিপূর্ণ কর্মকাণ্ডে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, জন্ম ও মৃত্যুনিবন্ধন এবং জাতীয় পরিচয়পত্রসংক্রান্ত প্রক্রিয়া সহজ করার পাশাপাশি বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থাগুলোকে কার্যকরভাবে সম্পৃক্ত করা না গেলে প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর বড় একটি অংশ এসব মৌলিক সেবা থেকে বঞ্চিতই থেকে যাবে।
ঢাকা সিটি করপোরেশনের ৬ নম্বর ওয়ার্ড সচিব মো. আব্দুল সামাদ বলেন, যাদের বাবা নেই, মা নেই, পথশিশু, তাদেরও জন্মনিবন্ধন আমরা করছি।
নিবন্ধনে অগ্রগতি, তবুও রয়ে গেছে বড় ঘাটতি: জন্ম ও মৃত্যু নিবন্ধনের রেজিস্ট্রার জেনারেলের কার্যালয় সূত্রে জানা যায়, দেশে প্রতিদিন গড়ে ৪০ থেকে ৫০ হাজার জন্ম নিবন্ধন সম্পন্ন হচ্ছে। পাশাপাশি সংশোধনের আবেদনও নিষ্পত্তি করা হচ্ছে।
তবে ভাসমান ও স্থায়ী ঠিকানাবিহীন পরিবারের শিশুদের জন্মনিবন্ধন এখনো বড় চ্যালেঞ্জ। নিয়ম অনুযায়ী জন্মস্থান বা বর্তমান ঠিকানা থাকলে জন্ম নিবন্ধনের সুযোগ পাওয়ার কথা। কিন্তু বাস্তবে নানা জটিলতার কারণে অনেক শিশু এখনো এই সেবার বাইরে রয়েছে।
দেশে পাঁচ বছরের কম বয়সী ৪১ শতাংশ শিশুর জন্ম নিবন্ধন নেই। এ বয়সি শিশুদের জন্মসনদ রয়েছে ৪৭ শতাংশের। বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরো (বিবিএস) ও ইউনিসেফের যৌথ জরিপের সর্বশেষ তথ্য বিশ্লেষণে দেখা যায়, অনূর্ধ্ব-৫ বছর বয়সি শিশুদের জাতীয়ভাবে জন্ম নিবন্ধনের হার বর্তমানে ৫৯ শতাংশ, যা ২০১৯ সালে ছিল ৫৬ শতাংশ।
অর্থাৎ কয়েক বছরে কিছুটা অগ্রগতি হলেও সর্বজনীন জন্ম নিবন্ধনের লক্ষ্যের তুলনায় এই হার এখনো অনেক কম। টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা (এসডিজি) অর্জনে ২০৩০ সালের মধ্যে শতভাগ জন্ম ও মৃত্যু নিবন্ধন নিশ্চিত করার অঙ্গীকার রয়েছে সরকারের।
ঠিকানা থাকলেই করা যাবে নিবন্ধন: স্থানীয় সরকার বিভাগের জন্ম ও মৃত্যু নিবন্ধনের রেজিস্ট্রার জেনারেল (অতিরিক্ত সচিব) মো. যাহিদ হোসেন বলেন, ঢাকায় স্থায়ী বাসিন্দার তুলনায় অস্থায়ী ও ভাসমান মানুষের সংখ্যা বেশি হওয়ায় এখানে জন্মনিবন্ধনের হার তুলনামূলক কম।
ভাসমান ও প্রান্তিক পরিবারের শিশুদের নিবন্ধন নিয়ে তিনি বলেন, জন্মনিবন্ধনের জন্য বিধিবদ্ধ কিছু নিয়ম রয়েছে এবং সেগুলো অনুসরণ করেই নিবন্ধন করা হচ্ছে। তবে ভাসমান জনগোষ্ঠীর ক্ষেত্রে জন্মস্থান বা বর্তমান ঠিকানা থাকলেই জন্ম নিবন্ধনের সুযোগ রয়েছে।
তিনি জানান, শহরের ভাসমান জনগোষ্ঠীর জন্ম নিবন্ধন নিশ্চিত করতে স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠান ও বিভিন্ন স্বেচ্ছাসেবী উন্নয়ন সংস্থাকে সঙ্গে নিয়ে কাজ করা হচ্ছে। এ কাজে সংশ্লিষ্ট কর্মীদের প্রশিক্ষণের ব্যবস্থাও করা হয়েছে।
ঢাকা উত্তর ও ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন এ নিবন্ধনের মূল দায়িত্ব পালন করছে।
তিনি বলেন, আনুষ্ঠানিকভাবে স্কুলে যাওয়া সব শিশুর জন্ম নিবন্ধন রয়েছে। কারণ জন্ম নিবন্ধন ছাড়া তাদের শিক্ষাজীবন শুরু করা সম্ভব নয়।
জন্মসনদ না থাকা শুধু প্রশাসনিক সমস্যা নয়: কারিতাস ডেভেলপমেন্ট ইনস্টিটিউটের পরিচালক থিওফিল নকরেক বলেন, জন্ম সনদবিহীন শিশুদের ৭১ দশমিক ৪ শতাংশ তাদের বাবা-মায়ের জাতীয় পরিচয়পত্র নম্বর জানে না। ফলে বিদ্যমান নিয়ম অনুযায়ী তাদের জন্মনিবন্ধন করানো প্রায় অসম্ভব হয়ে দাঁড়ায়।
তিনি বলেন, ‘জন্মসনদ না থাকা শুধু প্রশাসনিক সমস্যা নয়; এটি একটি মানবাধিকার সংকট।’
জন্মসনদ না থাকলে শিশুরা বিদ্যালয়ে ভর্তি, স্বাস্থ্যসেবা গ্রহণ, সরকারি ভাতা পাওয়া এবং ভবিষ্যতে নাগরিক হিসেবে বিভিন্ন অধিকার ও সেবা পাওয়ার ক্ষেত্রে বাধার মুখে পড়ে।
বাংলাদেশ সরকার দরিদ্র জনগোষ্ঠীর জন্য বিভিন্ন সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচি বাস্তবায়ন করছে। বিশেষ করে ‘ফ্যামিলি কার্ড’ উদ্যোগকে প্রশংসনীয় ও সময়োপযোগী পদক্ষেপ হিসেবে উল্লেখ করে থিওফিল নকরেক বলেন, পরিবারহীন কিংবা পরিবার থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে রেলস্টেশন, লঞ্চঘাট, ফুটপাত, বাজার ও বস্তিতে বেড়ে ওঠা শিশুরা এখনো অনেকাংশে রাষ্ট্রীয় সুরক্ষার বাইরে।
তিনি আরও বলেন, স্বাস্থ্যসেবা ব্যবস্থা ও জন্ম নিবন্ধন দপ্তরের মধ্যে কার্যকর সমন্বয় না থাকায় জন্মের পরপরই শিশুর নিবন্ধন নিশ্চিত করা যাচ্ছে না। বিভিন্ন হাসপাতাল ও স্বাস্থ্যসেবা কেন্দ্রে জন্ম নেওয়া শিশুদেরও খুব কম অংশের জন্ম নিবন্ধন সম্পন্ন হয়।
বর্তমানে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ সরাসরি জন্ম-মৃত্যু নিবন্ধন করতে পারে না। জন্মের পর পরিবারকে আলাদা দপ্তরে গিয়ে নিবন্ধনের প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে হয়।
সংশ্লিষ্টদের মতে, এশিয়া-প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলের অনেক দেশে হাসপাতালে সংঘটিত জন্ম ও মৃত্যুর নিবন্ধনের দায়িত্ব হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের ওপর দেওয়ায় তারা প্রায় শতভাগ নিবন্ধন নিশ্চিত করতে সক্ষম হয়েছে।
বাড়ি বাড়ি ক্যাম্পেইনের সুপারিশ: পরিস্থিতি উত্তরণে কারিতাস বাংলাদেশের পক্ষে সংস্থার পরিচালক (কর্মসূচি) দাউদ জীবন দাশ সরকার ও বেসরকারি সংস্থার প্রতি কয়েকটি সুপারিশ তুলে ধরেছেন।
এর মধ্যে রয়েছে—পিতামাতাহীন শিশুদের জন্মনিবন্ধন প্রক্রিয়া সহজ করা এবং প্রয়োজনে বাড়ি বাড়ি গিয়ে ওয়ার্ডভিত্তিক ক্যাম্পেইনের মাধ্যমে শতভাগ জন্মনিবন্ধন নিশ্চিত করা; শিশুর জন্মের পরপরই হাসপাতাল ও কমিউনিটি ক্লিনিকে জন্মনিবন্ধনের ব্যবস্থা চালু করা; পথশিশুদের রাস্তা থেকে ফিরিয়ে আনতে বিশেষ কর্মসূচি গ্রহণ এবং পরিবারকে শিশুর জীবনমান উন্নয়নে সম্পৃক্ত করতে শর্তযুক্ত ভাতা চালু করা।
এ ছাড়া শিশুশ্রম বন্ধে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া, শিশুশ্রম বা অন্য কোনো কারণে ঝরে পড়া শিশুদের শনাক্ত করে বিদ্যালয়ে ফিরিয়ে আনা এবং পথশিশুদের জন্য শিক্ষাবান্ধব পরিবেশ তৈরি করার সুপারিশ করা হয়েছে।
দারিদ্র্যপীড়িত জনগোষ্ঠীর জীবনমান উন্নয়নে বিদ্যমান সামাজিক নিরাপত্তা ভাতার পরিমাণ বাস্তবসম্মতভাবে বাড়ানো এবং আবেদন প্রক্রিয়া সহজ করারও দাবি জানিয়েছেন তিনি।
দাউদ জীবন দাশ বলেন, সরকারের নিরাপত্তা বেষ্টনীর আওতায় থাকা পিছিয়ে পড়া জনগোষ্ঠীর অনেকে যে ভাতা পাচ্ছেন, তা অত্যন্ত নগণ্য। মাসিক ৫০০ থেকে ৬৫০ টাকা কখনোই বাস্তবসম্মত ও সময়োপযোগী সহায়তা হতে পারে না।
তিনি বলেন, পথ ও সুবিধাবঞ্চিত শিশুদের জন্য সরকারের বিভিন্ন কর্মসূচিও হাতেগোনা। দেশে থাকা পথশিশু ও সুবিধাবঞ্চিত শিশুদের ভালো-মন্দ দেখার দায়িত্ব পরিবার ও রাষ্ট্র উভয়ের।
তিনি বলেন, ‘আমরা যদি এসব শিশুর ভবিষ্যৎ নিশ্চিত করতে ব্যর্থ হই, তাহলে রাষ্ট্র হিসেবে আমরা অনেকাংশেই পিছিয়ে যাব। তাই তাদের নিরাপদ ভবিষ্যৎ নিশ্চিত করতে অবিলম্বে সরকারসহ আমাদের সবার নজর দিতে হবে ।’
ঢাকায় কেন কম জন্ম নিবন্ধন: ঢাকা বিভাগে জন্ম নিবন্ধনের হার সর্বনিম্ন হওয়ার কারণ সম্পর্কে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের অঞ্চল-১০-এর নির্বাহী কর্মকর্তা আক্তার উন্নেছা শিউলী বলেন, ঢাকায় বসবাসকারী অধিকাংশ মানুষই অস্থায়ী এবং ভাড়াটিয়া। তাদের বড় একটি অংশ দেশের বিভিন্ন জেলা থেকে এসে বসবাস করছে।
তিনি বলেন, জন্ম নিবন্ধনের একটি নিয়ম হলো স্থায়ী ঠিকানায় নিবন্ধন করা। গ্রামের বা জেলা-থানা পর্যায়ের মানুষের অধিকাংশই স্থানীয় হওয়ায় সেখানে জন্মনিবন্ধনের হার তুলনামূলক বেশি।
তিনি আরও বলেন, জন্মনিবন্ধনসহ বিভিন্ন সেবা নিতে অফিসে আসা মানুষের মধ্যে নারীদের উপস্থিতি তুলনামূলক কম। তবে নারী-পুরুষ নির্বিশেষে সবাইকে সেবা নিতে অফিসে স্বাগত জানানো হয়।
একটি জন্মসনদ, একটি ভবিষ্যৎ: বস্তির সরু গলি কিংবা ফুটপাতের পাশে বেড়ে ওঠা শিশুটির কাছে জন্মসনদ হয়তো একটি ছোট কাগজের টুকরো। কিন্তু সেই কাগজটিই তার জন্য খুলে দিতে পারে স্কুলের দরজা, স্বাস্থ্য সেবার সুযোগ, সামাজিক নিরাপত্তার অধিকার এবং ভবিষ্যতে একজন পূর্ণাঙ্গ নাগরিক হিসেবে রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতির পথ।
কারিতাসের জরিপের তথ্য বলছে, হাজার হাজার শিশুর হাতে এখনো সেই কাগজ নেই। তাদের অনেকের বাবা-মায়ের জাতীয় পরিচয়পত্র নেই, কারও স্থায়ী ঠিকানা নেই, কারও পরিবারই নেই। কেউ আবার দারিদ্র্য ও কাগজপত্রের জটিলতায় জন্মের পর থেকেই রাষ্ট্রীয় ব্যবস্থার প্রান্তে পড়ে আছে।
জন্ম নিবন্ধনের হার বাড়ানোর অর্থ তাই শুধু একটি পরিসংখ্যান বাড়ানো নয়। এর অর্থ হলো—রাষ্ট্রের হিসাবের খাতায় প্রতিটি শিশুর অস্তিত্ব নিশ্চিত করা, তার অধিকার স্বীকার করা এবং ভবিষ্যতের জন্য তাকে একটি পরিচয় দেওয়া।
দেশে চলমান লোডশেডিং পরিস্থিতিতে আপাতত অপেক্ষা করা ছাড়া উপায় নেই বলে মন্তব্য করেছেন বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজসম্পদ মন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু। বৃহস্পতিবার (১৩ আগস্ট) সিপিডি আয়োজিত ‘বাংলাদেশের জ্বালানি সংকট মোকাবিলা: তাৎক্ষণিক অগ্রাধিকার এবং টেকসই জ্বালানি ভবিষ্যতের পথ’ শীর্ষক আলোচনা সভায় এ কথা বলেন তিনি।
ভাসমান এলএনজি টার্মিনালে আগুন লাগার কারণেই চলমান সংকট শুরু হয়েছে উল্লেখ করে মন্ত্রী বলেন, জ্বালানি ও বিদ্যুৎ সংকট নিরসনে সরকার সর্বাত্মক চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। ভাসমান এলএনজি টার্মিনাল (এফএসআরইউ) মেরামত সম্পন্ন না হওয়া পর্যন্ত আপাতত লোডশেডিং ব্যবস্থাপনা এবং অপেক্ষা করা ছাড়া এখন আর কোনো উপায় নেই।
তিনি বলেন, এইটুকুই বলতে চাই, আমরা কাজ করছি। এই ক্রাইসিসের সময় আসলে এখন আমার কিছু করার নাই। কারণ, এখন আমি গ্যাসও উত্তোলন করতে পারবো না বা এফএসআরইউ ছাড়া আমার যে গ্যাস আছে, সেটাও নামাতে পারবো না।
বর্তমান ব্যবস্থাপনার কৌশল ব্যাখ্যা করতে গিয়ে ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু বলেন, বর্তমান প্রাতিষ্ঠানিক সংকটে সরাসরি কিছু করার সুযোগ সীমাবদ্ধ। কারণ, নতুন করে হঠাৎ গ্যাস উত্তোলন করা যেমন সম্ভব নয়, তেমনই এফএসআরইউ সচল না হওয়া পর্যন্ত বিদ্যমান গ্যাস খালাস করে জাতীয় গ্রিডে দেওয়াও সম্ভব নয়।
তিনি বলেন, বিদেশি প্রকৌশলীরা যতক্ষণ পর্যন্ত এফএসআরইউ মেরামত শেষ না করছেন, ততক্ষণ অপেক্ষা করা ছাড়া কোনো গতি নেই। এখন শুধু আমাকে দিন গোনা ছাড়া আর ওই যে ইঞ্জিনিয়াররা কাজ করছেন এফএসআরইউতে, এটা করা ছাড়া আমার কিছু করার নাই। আর কিছু ম্যানেজমেন্ট করা, যাতে কম লোডশেডিং হয়। যেন আমি ইন্ডাস্ট্রিকে গ্যাসটা দিতে পারি, এই ম্যানেজমেন্টটা করা। এছাড়া আপনিই বলেন, আমার হাতে আর কী থাকতে পারে।
জ্বালানি মন্ত্রী আরও বলেন, এলএনজি টার্মিনাল মেরামতে যুক্তরাজ্য ও সিঙ্গাপুরের প্রকৌশলীরা কাজ করছেন। তবে, মেরামত শেষে নতুন দুটি বয়লার একসঙ্গে চালু করতে হবে। কারিগরি সমন্বয়ের জন্য তখন পুরো সিস্টেমটি টানা ৭২ ঘণ্টা বা তিন দিন বন্ধ রাখা লাগবে, যার প্রভাবে সাময়িকভাবে দেশে গ্যাসের তীব্র সংকট দেখা দেবে।
তিনি বলেন, এরই মধ্যে একটি নতুন এফএসআরইউ-এর অর্ডার দেওয়া হয়েছে। ২০২৯ সালের মধ্যে পায়রা, মোংলা ও হিরণ পয়েন্টে আরও তিনটি এফএসআরইউ বসানোর পরিকল্পনা রয়েছে। শিল্পে গ্যাস–সংকট কমাতে বিকল্প নানান উপায় খোঁজা হচ্ছে। এর মধ্যে ভোলা থেকে কনটেইনার ট্রাকে করে গ্যাস কারখানায় পৌঁছে দিতে একটি কোম্পানিকে ৩০টি ট্রাক চলাচলের অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি সরাসরি কনটেইনারের মাধ্যমে গ্যাস সরবরাহের সুবিধা তৈরি করতে মালয়েশিয়ার একটি প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে কথা বলছে সরকার। তেল নিয়ে বিভিন্ন সময় গুজব ছড়ানোয় সংকট আরও বাড়ে বলেও মন্তব্য করেন মন্ত্রী।
ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু বলেন, কোনো একটি নির্দিষ্ট সংস্থাকে একচেটিয়া তেলের ব্যবসা দেওয়া হচ্ছে না। বরং নির্দিষ্ট কিছু শর্ত মেনে যেন বেসরকারি প্রতিষ্ঠানগুলোও তেল আমদানি করতে পারে, সে বিষয়ে একটি নতুন নীতিমালা করা হচ্ছে। অন্যদিকে সৌরবিদ্যুৎকে উৎসাহিত করতে সোলার ব্যাটারি ও ইনভার্টারের ওপর আমদানি শুল্ক কমিয়ে মাত্র ৫ শতাংশ করা হয়েছে। এই খাতে পাঁচ বছরের ট্যাক্স হলিডে (করছাড়) সুবিধা দেওয়া হয়েছে।
সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগের (সিপিডি) নির্বাহী পরিচালক ফাহমিদা খাতুনের সভাপতিত্বে আয়োজিত সংলাপে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন সিপিডির সিনিয়র গবেষণা সহযোগী ফখরুদ্দিন আল কবির। আরও বক্তব্য দেন বাংলাদেশ চেম্বার অব ইন্ডাস্ট্রিজের (বিসিআই) সভাপতি আনোয়ার-উল আলম চৌধুরী পারভেজ, অ্যাপেক্স ফুটওয়্যারের ব্যবস্থাপনা পরিচালক সৈয়দ নাসিম মঞ্জুর, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অ্যাকাউন্টিং অ্যান্ড ইনফরমেশন সিস্টেমস বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক মোশাহিদা সুলতানা, নর্থ সাউথ বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি বিভাগের অধ্যাপক সাকিব বিন আমিন প্রমুখ।
পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম জানিয়েছেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের প্রস্তাবিত ভারত ও জাপান সফর এখনো চূড়ান্ত হয়নি। কারণ, এই সফর প্রধানমন্ত্রীর সময়সূচি ও দ্বিপক্ষীয় আলোচনার অগ্রগতির ওপর নির্ভর করবে।
বৃহস্পতিবার (১৩ আগস্ট) পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে সাংবাদিকদের তিনি বলেন, ‘সব দেশে সফরের বিষয়েই সরকার ইতিবাচক। তবে, এটি প্রধানমন্ত্রীর সময়সূচি এবং দুই দেশের মধ্যকার আলোচনা কত দূর এগোয়, তার ওপর নির্ভর করবে।’
প্রধানমন্ত্রী ভারতে অনুষ্ঠিতব্য ব্রিকস সম্মেলনের আউটরিচ সেশনে যোগ দেবেন নাকি দ্বিপক্ষীয় সফরে যাবেন— এমন প্রশ্নের জবাবে শামা ওবায়েদ বলেন, এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়ার জন্য এখনো পর্যাপ্ত সময় আছে। তিনি বলেন, ‘ব্রিকস এখনো অনেক দূরে। এক মাসে অনেক কিছুই হতে পারে।’
পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী জানান, প্রধানমন্ত্রী নতুন সাংবিধানিক কার্যক্রমসহ গুরুত্বপূর্ণ অভ্যন্তরীণ কাজে ব্যস্ত রয়েছেন। বাংলাদেশে সামনে রাষ্ট্রপতি নির্বাচন রয়েছে এবং জাতীয় সংসদের অধিবেশনও বসতে যাচ্ছে।
তিনি বলেন, ‘আমাদের দেশের ভেতরে অনেক কর্মসূচি ও কার্যক্রম চলছে। সামনে বেশ কিছু সাংবিধানিক বিষয়ও রয়েছে। এই দিক থেকে সরকার ব্যস্ত এবং প্রধানমন্ত্রীও ব্যস্ত।’
তবে শামা ওবায়েদ বলেন, প্রধানমন্ত্রীর সফরগুলোর বিষয়ে সরকার ইতিবাচক রয়েছে। সবকিছু ঠিকঠাক থাকলে অবশ্যই ভারত সফর হবে, জাপান সফর হবে এবং অন্যান্য দেশেও সফর হবে।
প্রস্তাবিত জাপান সফরের বিষয়ে সুনির্দিষ্টভাবে জানতে চাইলে তিনি বলেন, এর তারিখ ও সময় এখনো ঠিক হয়নি। দুই দেশের পারস্পরিক সুবিধাজনক সময়ে এটি নির্ধারণ করা হবে।
ভারত সফরের মাধ্যমে বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্কের বিদ্যমান সমস্যাগুলোর সমাধান হতে পারে কি না— এমন প্রশ্নের জবাবে শামা ওবায়েদ বলেন, দুই দেশের শীর্ষ নেতাদের মধ্যে সরাসরি আলোচনা হলে অমীমাংসিত বিষয়গুলো সমাধানের সুযোগ তৈরি হতে পারে।
তিনি বলেন, ‘যখনই দুই দেশের নেতারা কথা বলেন ও দ্বিপক্ষীয় আলোচনা করেন, তখনই অনেক সমস্যা সমাধানের একটি সুযোগ তৈরি হয়। সেই সুযোগ অবশ্যই আছে এবং তা উন্মুক্ত রয়েছে।’
পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী বলেন, ভারতেরও উচিত এই সুযোগের যথাযথ ব্যবহার করা।
ভারতে অবস্থান করে সাজাপ্রাপ্ত ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বক্তব্য দেওয়ার বিষয়ে তিনি বলেন, ঢাকা এ বিষয়ে আগেই অবস্থান পরিষ্কার করেছে।
তিনি বলেন, ‘আমরা আগেই বলেছি, যখন একজন সাজাপ্রাপ্ত ব্যক্তি ভারতের মাটিতে বসে কথা বলেন, তখন বাংলাদেশের মানুষ তা গ্রহণ করে না এবং এটিকে ইতিবাচকভাবে দেখে না।’
শামা ওবায়েদ বলেন, জুলাইয়ের ঘটনা এখনো বাংলাদেশের মানুষের মনে তাজা। তাই জনগণের অনুভূতির প্রতি সংবেদনশীল হওয়া উচিত।
তিনি বলেন, ‘জুলাই এখনো মানুষের মনে জীবন্ত। রক্তের দাগ এখনো শুকায়নি। তাই সেই দিক থেকে আমাদের অবশ্যই সংবেদনশীল হতে হবে।’
তিনি জোর দিয়ে বলেন, শীর্ষ রাজনৈতিক পর্যায়ে সরাসরি আলোচনা দ্বিপক্ষীয় সমস্যা সমাধানে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।
দেশপ্রেমে উজ্জীবিত হয়ে সাহসিকতার সঙ্গে আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় দায়িত্ব পালন করতে হবে বলে জানিয়েছেন পুলিশের মহাপরিদর্শক (আইজিপি) আলী হোসেন ফকির। বৃহস্পতিবার (১৩ আগস্ট) দুপুরে রাজারবাগে বাংলাদেশ পুলিশ অডিটোরিয়ামে আইনশৃঙ্খলা সংক্রান্ত বিশেষ মতবিনিময় সভায় ঊর্ধ্বতন পুলিশ কর্মকর্তাদের উদ্দেশে এ কথা বলেন তিনি।
আলী হোসেন ফকির বলেন, রাজধানীতে দেশি-বিদেশি কূটনীতিকসহ সর্বস্তরের মানুষ বসবাস করেন। তাই রাজধানীর আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখা পুরো দেশের স্থিতিশীলতার স্বার্থেই অপরিহার্য। মাঠপর্যায়ের কাজ গতিশীল করতে সিনিয়র অফিসারদের সরাসরি মনিটরিং বাড়ানোর পাশাপাশি সঠিক তদারকি থাকলে নিচের স্তরের পুলিশ সদস্যরা স্বতঃস্ফূর্তভাবে কাজ করতে উৎসাহিত হয়।
তিনি বলেন, আপনারা অন্যায়ের কাছে মাথা নত না করে দেশের স্বার্থে ও জনগণের শান্তি প্রতিষ্ঠায় কাজ করবেন। তবে ইচ্ছাকৃত ভুল বা ব্যক্তিগত স্বার্থ হাসিলের চেষ্টা করলে তার দায় পুলিশ বাহিনী নেবে না। সে ক্ষেত্রে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
রাজনৈতিক নিরপেক্ষতা ও পেশাদারত্বের গুরুত্ব তুলে ধরে আইজিপি বলেন, দল-মত নির্বিশেষে পুলিশের পরিচয় একটাই- আমরা আইন ও জনগণের সেবক। মাদকের বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স নীতি থাকবে। বর্তমানে ঐতিহ্যগত অপরাধের চেয়ে সাইবার ক্রাইম, গুজব এবং সোশ্যাল মিডিয়ায় অপপ্রচার ও ‘মিস ইনফরমেশন’ মোকাবিলা করা পুলিশের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাই পুলিশকে অকার্যকর করার ষড়যন্ত্র ও বিভ্রান্তিকর তথ্যের বিরুদ্ধে সবাইকে সচেতন থাকতে হবে।
আইনশৃঙ্খলা সংক্রান্ত বিশেষ মতবিনিময় সভায় আরও উপস্থিত ছিলেন- ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ কমিশনার মোসলেহ উদ্দিন আহমদ, অতিরিক্তি আইজিপি খন্দকার রফিকুল ইসলামসহ বাংলাদেশ পুলিশের বিভিন্ন স্তরের কর্মকর্তারা।
কিডনি ক্রয়-বিক্রয় চক্রের সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগে জয়পুরহাটের কালাই উপজেলায় আব্দুস সাত্তার (৫৪) নামের এক ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। গত বুধবার (১২ আগস্ট) রাতে বগুড়া সদর উপজেলার পৌরপার্ক এলাকা থেকে প্রযুক্তির সহায়তায় তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। বৃহস্পতিবার (১৩ আগস্ট) দুপুরে তাকে আদালতের মাধ্যমে জেলহাজতে পাঠানো হয়েছে।
গ্রেপ্তার আব্দুস সাত্তার কালাই উপজেলার বহুতি গ্রামের মৃত আব্দুল জব্বার খলিফার ছেলে। পুলিশের দাবি, তিনি দীর্ঘদিন ধরে কিডনি কেনাবেচার সঙ্গে জড়িত একটি চক্রের অন্যতম প্রধান দালাল। পুলিশ জানিয়েছে, তার বিরুদ্ধে কিডনি কেনাবেচাসহ কালাই থানায় পাঁচটি মামলা রয়েছে।
কালাই থানার তদন্ত কর্মকর্তা দীপেন্দ্র নাথ সিংহ এসব তথ্য নিশ্চিত করে তিনি বলেন, ‘কিডনি-সংক্রান্ত প্রতারণার মামলাটি থানায় গ্রহণের পর এজাহারভুক্ত আসামিদের গ্রেপ্তারে অভিযান শুরু করা হয়। প্রযুক্তির সহায়তায় গতকাল রাতে বগুড়া সদরের পৌরপার্ক এলাকায় অভিযান চালিয়ে আব্দুস সাত্তারকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।’
দীপেন্দ্র নাথ সিংহ আরও বলেন, ‘সকালে আব্দুস সাত্তারকে আদালতের মাধ্যমে জেলহাজতে পাঠানো হয়েছে। মামলার অন্য আসামিদের গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।’
পুলিশ ও মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, সবশেষ যে মামলায় আব্দুস সাত্তারকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে, তাতে অভিযোগ করা হয়েছে—আর্থিক সংকটে থাকা গাইবান্ধার গোবিন্দগঞ্জ এলাকার মন্টু মিয়াকে কিডনি বিক্রির জন্য ১০ লাখ টাকা দেওয়ার প্রলোভন দেখানো হয়। পরে তাকে ঢাকায় নিয়ে বিভিন্ন পরীক্ষা-নিরীক্ষা করানো হয় এবং কিডনি প্রতিস্থাপনের জন্য নেপালে নিয়ে যাওয়ার ব্যবস্থা করা হয়।
এজাহারে আরও বলা হয়, চলতি বছরের জানুয়ারির প্রথম সপ্তাহে মন্টু মিয়াকে অগ্রিম ৫০ হাজার টাকা দেওয়া হয়। পরে তাকে নেপালের একটি হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেখানে অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে তার একটি কিডনি অপসারণের কয়েক দিন পর তাকে বাংলাদেশে ফিরিয়ে আনা হয়।
মামলায় অভিযোগ করা হয়েছে, দেশে ফেরার পর চুক্তি অনুযায়ী বাকি ৯ লাখ ৫০ হাজার টাকা দাবি করেন মন্টু মিয়া। তবে আব্দুস সাত্তারসহ অন্য দালালেরা টাকা না দিয়ে বিভিন্নভাবে টালবাহানা করতে থাকেন।
কিডনি বিক্রির টাকা না পেয়ে গত ১৩ জুন জয়পুরহাট আমলি আদালতে মামলা করেন মন্টু মিয়া। মামলায় বগুড়া সদর উপজেলার নিশিন্দারা গ্রামের সাব্বির আহমেদ, শিবগঞ্জ উপজেলার কিচক মল্লিকপাড়া গ্রামের সুমন আলী, কালাই উপজেলার উদয়পুর ইউনিয়নের পাইকপাড়া গ্রামের আব্দুল মান্নান ও সাইদুর রহমান, লওনা গ্রামের আব্দুস সাত্তার এবং নোয়াখালীর বেগমগঞ্জ উপজেলার ছোট হোসেনপুর রাজাগঞ্জ এলাকার তারেক আজম ওরফে বাবলু চৌধুরীকে আসামি করা হয়। আদালতের নির্দেশে ওই দিনই মামলাটি কালাই থানায় রেকর্ড করা হয়।
মামলার এজাহারে তারেক আজম ওরফে বাবলু চৌধুরীকেও কিডনি ক্রয়-বিক্রয় চক্রের সঙ্গে জড়িত বলে উল্লেখ করা হয়েছে। সেখানে অভিযোগ করা হয়, তিনি ঢাকার রায়েরবাগ এলাকায় অবস্থান করে জয়পুরহাটে দালাল নিয়োগের মাধ্যমে দরিদ্র মানুষকে কিডনি বিক্রিতে প্রলুব্ধ করতেন এবং দেশে-বিদেশে কিডনি কেনাবেচা করতেন।
কালাইয়ে দীর্ঘদিন ধরে কিডনি ক্রয়-বিক্রয়কারী একটি দালালচক্র সক্রিয় রয়েছে বলে স্থানীয়দের অভিযোগ। তাঁদের দাবি, দরিদ্র, ঋণগ্রস্ত ও আর্থিকভাবে অসচ্ছল মানুষকে টার্গেট করে বিভিন্ন প্রলোভন দেখিয়ে কিডনি বিক্রিতে রাজি করানো হয়।
স্থানীয়দের ভাষ্য, প্রশাসনের নজরদারি ও আইনগত তৎপরতার কারণে কিছু সময় এ ধরনের কর্মকাণ্ড কম থাকলেও গত এক বছরে আবারও চক্রটি সক্রিয় হয়ে উঠেছে।
স্থানীয়ভাবে আগে থেকেই ‘কিডনির হাট’ হিসেবে আলোচিত এলাকাগুলোর মধ্যে রয়েছে উপজেলার মাত্রাই ইউনিয়নের ভেরেন্ডি, উলিপুর, সাতার, কুসুমসাড়া, অনিহার, ভাউজাপাতার, শিবসমুদ্র, পাইকশ্বর ও ইন্দাহার; উদয়পুর ইউনিয়নের তালোড়া-বাইগুনি, বহুতি, মোহাইল, থল, বাগইল, মাস্তর, জয়পুর বহুতি, নওয়ানা বহুতি, দুর্গাপুর, উত্তর তেলিহার, ভুষা, কাশিপুর, বিনইল ও পূর্ব কৃষ্টপুর; আহম্মেদাবাদ ইউনিয়নের রাঘবপুর, বোড়াই, হারুঞ্জা, নওপাড়া ও বালাইট গ্রামের নাম স্থানীয়দের মুখে শোনা যায়।
এ ছাড়া নতুন করে কালাই পৌরসভার আওড়া, সীতাহার ও দুরুঞ্জ-নয়াপাড়া মহল্লা, জিন্দারপুর ইউনিয়নের এলতা, ইমামপুর, বেগুনগ্রাম, করিমপুর ও হাজিপুর-ঘাটুরিয়া এবং পুনট ইউনিয়নের জালাইগাড়ী, পাঁচগ্রাম, জগডুম্বর ও শান্তিনগর এলাকার নামও স্থানীয়ভাবে আলোচনায় এসেছে।
মানবদেহের অঙ্গপ্রত্যঙ্গ সংযোজন আইন, ১৯৯৯ অনুযায়ী, জরুরি প্রয়োজনে অসুস্থ নিকটাত্মীয়কে অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ ডোনেট করার সুযোগ থাকলেও অঙ্গ-প্রত্যঙ্গের ক্রয়-বিক্রয় নিষিদ্ধ। আইনের ৯ ধারায় অঙ্গপ্রত্যঙ্গের বেচাকেনা নিষিদ্ধ করা হয়েছে। একই আইনের ১০(১) ধারায় অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ ক্রয়-বিক্রয় কিংবা এ কাজে সহায়তার জন্য শাস্তির বিধান রয়েছে।