গাইবান্ধা প্রতিনিধি
গাইবান্ধা-৫ (ফুলছড়ি-সাঘাটা) আসনের উপনির্বাচনে এবার নৌকা ও লাঙ্গলের মধ্যে লড়াই হবে বলে মনে করছেন স্থানীয়রা। আগামীকাল অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া এ উপনির্বাচনে প্রার্থী হয়েছেন পাঁচজন। তবে নির্বাচনে বিএনপি অংশ না নেয়ায় মূল লড়াই হবে আওয়ামী লীগ ও জাতীয় পার্টির প্রার্থীর মধ্যে। নির্বাচনকে ঘিরে এখন চলছে শেষ মুহূর্তের প্রচার-প্রচারণা। গণসংযোগে ব্যস্ত সময় পার করছেন প্রার্থীরা। সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত ভোটারদের দ্বারে দ্বারে ঘুরে চরাঞ্চলের উন্নয়নসহ বিভিন্ন প্রতিশ্রুতি দিয়ে বেড়াচ্ছেন তারা।
গত রোববার ফুলছড়ি ও সাঘাটা উপজেলার বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা যায়, নির্বাচনকে কেন্দ্র করে দুই উপজেলার প্রতিটি অলিগলি ও রাস্তাঘাট ছেয়ে গেছে প্রার্থীদের পোস্টারে। চায়ের দোকান থেকে শুরু করে সর্বত্রই নির্বাচনী আমেজ লক্ষ্য করা গেছে। ভোটারদের মন জয় করতে প্রতিদিনই গণসংযোগ ও উঠান বৈঠক করছেন প্রার্থীরা। সেই সঙ্গে মাইকে বিভিন্ন প্রতিশ্রুতি নিয়ে তৈরি গান বাজিয়ে চলছে ভিন্নধর্মী প্রচারণা।
এবারের উপনির্বাচনে আওয়ামী লীগ ও জাতীয় পার্টি ছাড়াও বিকল্পধারার একজন এবং দুজন স্বতন্ত্র প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। তারা হলেন আওয়ামী লীগের মাহমুদ হাসান রিপন (নৌকা), জাতীয় পার্টির (জাপা) এ এইচ এম গোলাম শহীদ রঞ্জু (লাঙ্গল), বিকল্পধারা বাংলাদেশের জাহাঙ্গীর আলম (কুলা), স্বতন্ত্র প্রার্থী নাহিদুজ্জামান নিশাদ (আপেল) ও সৈয়দ মাহবুবুর রহমান (ট্রাক)।
প্রার্থীদের পাশাপাশি আ.লীগ ও জাপা উভয় দলের নেতা-কর্মীরাই এ আসনটি দখলে রাখার আশা করছেন। তবে ভোটাররা জানিয়েছেন, সৎ ও যোগ্য, যিনি এলাকার উন্নয়নে কাজ করবেন, জনগণের পাশে থাকবেন এমন প্রার্থীকে জয়ী করতে চান তারা। এ জন্য নির্বিঘ্নে কেন্দ্রে গিয়ে যাতে ভোট দিতে পারেন, সে ব্যবস্থা করার দাবি জানান তারা।
গাইবান্ধা-৫ আসনটি জাপার দুর্গ হিসেবে পরিচিত। তবে এবার ক্ষমতাসীন আ.লীগ আসনটি ধরে রাখতে মরিয়া। দলটি থেকে এবার মনোনয়ন পেয়েছেন ছাত্রলীগের সাবেক কেন্দ্রীয় সভাপতি মাহমুদ হাসান রিপন। অতীতে অবহেলিত দুই উপজেলার চরাঞ্চলসহ বিভিন্ন উন্নয়নমূলক কর্মকাণ্ড আর মানুষের কল্যাণে পাশে থাকায় জয়ের ব্যাপারে আশাবাদী তিনি। এ নিয়ে মাহমুদ হাসান রিপন বলেন, ‘আমি দীর্ঘদিন ধরে এলাকার মানুষের পাশে থেকেছি। প্রয়াত ডেপুটি স্পিকারের অসমাপ্ত কাজ শেষ করতে জনগণ আমাকে বিপুল ভোটে নির্বাচিত করবেন।’
আর লাঙ্গল প্রতীক নিয়ে নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন সাঘাটা উপজেলা জাপার সভাপতি এ এইচ এম গোলাম শহীদ রঞ্জু। জয়ের ব্যাপারে শতভাগ আশাবাদী তিনি। এ বিষয়ে রঞ্জু বলেন, ‘ইভিএমএ ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে। আমি মনে করি, সুষ্ঠু ভোট হলে (জাপার হয়ে) আমি আসনটি পুনরুদ্ধার করতে পারব।’
এদিকে বড় দুই দলের পাশাপাশি নির্বাচনে জয়ের ব্যাপারে আশা প্রকাশ করেছেন স্বতন্ত্র প্রার্থী নাহিদুজ্জামান নিশাদ। তবে প্রার্থী হওয়ার পর তাকে বিভিন্ন হুমকি-ধমকি দেয়া হচ্ছে। এ ছাড়া সুষ্ঠু ভোট নিয়েও আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন তিনি। নিশাদ বলেন, ‘আমাদের পোস্টার ছেঁড়া হচ্ছে। কর্মীদের হুমকি-ধমকি দেয়া হচ্ছে। অবাধ-সুষ্ঠু নির্বাচন হলে আমি জয়ী হব।’
অন্যদিকে নির্বাচনকে ঘিরে এলাকাবাসীর মধ্যেও বেশ উৎসাহ-উদ্দীপনা দেখা গেছে। এ নিয়ে সাঘাটা উপজেলার যুগিপাড়া গ্রামের ভোটার আব্বাস ব্যাপারী বলেন, ‘ডেপুটি স্পিকার আছিল আমাদের প্রিয় নেতা। সুখে-দুঃখে তাকে কাছে পাইছি। এবার যেই এমপি (সংসদ সদস্য) হোক, তাকেও পাশে চাই।’ একই গ্রামের জসিম আলী বলেন, ‘গতবার তো ভুট দিতে পারি নাই। এবার যেন ভুটটা দিতে পারি।’
ফুলছড়ি উপজেলা সদরের ভোটার রিপন মিয়া বলেন, ‘এ এলাকার সবচেয়ে বড় সমস্যা নদীভাঙন। প্রতিবছর নদীভাঙনে আমরা ভিটেমাটি হারাচ্ছি। যে প্রার্থী আমাদের স্থায়ীভাবে নদীভাঙন থেকে বাঁচাতে পারবেন, আমরা চরবাসী তাকেই ভোট দিমু। এমপি বানামু।’
এবারই প্রথম গাইবান্ধায় ইভিএমে ভোট নেয়া হবে। এ নিয়ে ভোটারদের মাঝে নানা শঙ্কা কাজ করছে। বিশেষ করে চরাঞ্চলের ভোটারদের ইভিএম নিয়ে ভয় বেশি। ভোটদানের পদ্ধতি জানা না থাকায় দুশ্চিন্তায় রয়েছেন তারা। ইভিএম নিয়ে চর কাবিলপুল গ্রামের ভোটার আমিনুল ইসলাম বলেন, ‘আমরা মূর্খ মানুষ। পড়ালেখা জানি না। মেশিনত ভোট দিমু কেবা করে।’
তবে ইভিএমের বিষয়ে মাইকিং, পোস্টার ও লিফলেট বিতরণের মাধ্যমে সাধারণ ভোটারদের সচেতন করাসহ ভোটারদের সশরীরে ইভিএমের মাধ্যমে ভোটদান প্রশিক্ষণ কার্যক্রম চালানোর কথা জানিয়েছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। প্রথমবারের মতো আসনটিতে ইভিএমে সুষ্ঠুভাবে নির্বাচন সম্পন্ন করতে সব ধরনের প্রস্তুতির কথা জানিয়েছে সংস্থাটি। এ ছাড়া ভোটগ্রহণ সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণ পরিবেশে সম্পন্ন করতে ১৫৪টি ভোটকেন্দ্রে সিসি ক্যামেরা স্থাপন করার কথা জানিয়েছেন রিটার্নিং কর্মকর্তা ও রাজশাহী অঞ্চলিক নির্বাচন কর্মকর্তা মো. সাইফুল ইসলাম। তিনি বলেন, ‘শান্তিপূর্ণ ভোটগ্রহণের জন্য সব ধরনের প্রস্তুতি নেয়া হয়েছে। ইভিএমের বিষয়ে নির্বাচনী এলাকায় মাইকিং, পোস্টার, লিফলেট বিতরণসহ এসএমএসের মাধ্যমে ভোটারদের সচেতন করা হচ্ছে। তা ছাড়া ৮ ও ১০ অক্টোবর ভোটারদের সশরীরে ইভিএমের মাধ্যমে ভোট দেয়ার প্রশিক্ষণ কার্যক্রম চালানো হয়েছে।’
জাতীয় সংসদের ডেপুটি স্পিকার অ্যাডভোকেট ফজলে রাব্বী মিয়ার মৃত্যুতে গত ২৪ জুলাই গাইবান্ধা-৫ আসন শূন্য ঘোষণা করা হয়। এরপর এ আসনে ১২ অক্টোবর ভোটগ্রহণের তফসিল ঘোষণা করে ইসি। সাঘাটা ও ফুলছড়ি উপজেলার ১৭টি ইউনিয়নে মোট ৩ লাখ ৩৯ হাজার ৭৪৩ জন ভোটার এবার ভোট দেবেন।
পটুয়াখালীর মহিপুর থানাধীন ৭নং লতাচাপলি ইউনিয়নের ডঙ্কুপাড়া গ্রামে আপন বোন জান্নাতী সহ চার শিশুকে ধর্ষণ চেষ্টার অভিযোগে হাসান (১৫) নামের এক কিশোর কে গ্রেফতার করেছে মহিপুর থানা পুলিশ।
শনিবার (১৯ সেপ্টেম্বর) লতাচাপলি ইউনিয়ন পরিষদের পাশের গলি থেকে এস আই জাকির হোসেনের নেতৃত্বে অভিযুক্ত কিশোর হাসান কে গ্রেফতার করা হয়েছে।
গত ৯ সেপ্টেম্বর বিকাল ৪. ০০ টার দিকে শিশু ধর্ষণ চেষ্টাকারী অভিযুক্ত হাসান(১৫) পিতাঃ শহিদ হাওলাদার এর নিজ বসত বাড়িতে আপন বোন জান্নাতি(০৮) সহ প্রতিবেশি ও খেলার সাথী লাবনী (০৬),মোসাঃ হামিদা(০৯),মুসফিকা(০৮) কে ধর্ষণ চেষ্টা চালায়।
এ ঘটনার পর পরই স্থানীয় লোকজন হাসানকে শারিরীক আঘাত সহ মাথার আংশিক চুল কেটে দেয়।যা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমেও ছড়িয়ে পড়ে।
পরবর্তীতে ভিকটিম লাবনীর মা মোসাঃ জাকিয়া বেগম বাদী হয়ে গত ১৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬ তারিখে মহিপুর থানায় নারী ও শিশু আইনের ৯(৪)(খ) ধারায় মামলা দায়ের করেন।
মামলার পরবর্তী সময়ে গত ১৬ সেপ্টেম্বর ভিকটিম লাবনী ও হামিদা বিজ্ঞ আদালতে ২২ ধারায় জবানবন্দি প্রদান করেন।
এবিষয়ে মহিপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শামিম হাওলাদার বলেন, অভিযুক্তের বিরুদ্ধে নারী ও শিশু আইনে মামলা হয়েছে এবং এস আই জাকির হোসেনর নেতৃত্বে মহিপুর থানা পুলিশের একটি টীম অভিযুক্ত কিশোর হাসান কে গ্রেফতার করেছে। তার বিরুদ্ধে আইনি ও আদালতে প্ররনের প্রক্রিয়া চলমান।
খুলনা নগরের এক ছাত্রাবাসে ‘ভাত চুরির’ অপবাদ দিয়ে বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের এক ছাত্রকে পিটিয়ে হত্যার অভিযোগ উঠেছে। আজমল নামের এ শিক্ষার্থীকে মারধরের পর ভবনের চারতলা থেকে ফেলে দেওয়া হয়েছে। গুরুতর আহত অবস্থায় তাকে খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়। পুলিশ ঘটনাটি তদন্ত করছে।
নিহত আজমল খুলনার হরিণটানা থানার গল্লামারী এলাকার বাসিন্দা। হাসপাতালের ভর্তি নথিতে তার বাবার নাম কুতব উল্লেখ করা হয়েছে। পুলিশ জানিয়েছে, আজমল নর্দার্ন ইউনিভার্সিটির শিক্ষার্থী ছিলেন।
হাসপাতাল সূত্রে জানা যায়, গত শুক্রবার (১৮ সেপ্টেম্বর) রাত দেড়টার দিকে কয়েকজন যুবক গুরুতর আহত অবস্থায় আজমলকে খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে আসেন। তখন তারা হাসপাতাল কর্তৃপক্ষকে জানান, খুলনা বিশ্ববিদ্যালয় এলাকার একটি ভবনের চারতলা থেকে লাফিয়ে পড়ে তিনি আহত হয়েছেন। হাসপাতালে নেওয়ার ১০ থেকে ১৫ মিনিটের মধ্যে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়।
হাসপাতালের এক ওয়ার্ডবয় জানান, আজমলকে সঙ্গে করে নিয়ে আসা ব্যক্তিরা তখন দাবি করেন, চুরির অভিযোগে তাকে আটক করা হয়েছিল। তাদের ভাষ্য অনুযায়ী, চুরি করতে গিয়ে ধরা পড়ার ভয়ে আজমল ভবনের চারতলা থেকে লাফ দেন। পরে তাকে হাসপাতালে নেওয়া হয়। তার মৃত্যুর খবর জানার পর নিজেদের খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী পরিচয় দেওয়া ওই ব্যক্তিরা দ্রুত হাসপাতাল ছেড়ে চলে যান।
হাসপাতাল সূত্র আরও জানায়, আজমলের শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাতের চিহ্ন ছিল। হাত ও পায়ে দাগের পাশাপাশি মাথার চুল কেটে দেওয়া হয়েছিল। এসব আলামত থেকে তাকে মারধর করা হয়েছিল কিনা, তা নিয়ে সন্দেহ তৈরি হয়েছে। তবে আঘাতগুলো পড়ে যাওয়ার কারণে হয়েছে, নাকি তার আগে নির্যাতনের শিকার হয়েছিলেন, তা এখনো নিশ্চিত নয়।
স্থানীয় বাড়ির মালিক আবু বকর দাবি করেন, ঘটনার সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিরা খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক শিক্ষার্থী। ঘটনার পর তারা সংশ্লিষ্ট কক্ষে তালা দিয়ে পালিয়ে যান। তার দাবি, আজমলকে ছাদে নিয়ে নির্যাতনের পর সেখান থেকে ফেলে দেওয়া হয়েছে। তিনি আরও জানান, আজমল পাশের একটি কক্ষে থাকতেন।
পুলিশ জানিয়েছে, খুলনা বিশ্ববিদ্যালয় এলাকার ওই অংশে বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা বসবাস করেন। প্রাথমিকভাবে আজমলের মৃত্যুর ঘটনায় কয়েকজন শিক্ষার্থী ও স্থানীয় যুবকের সম্পৃক্ততার বিষয়টি খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
আজমুলের বাবা কুতুব উদ্দিন বলেন, আজমুল ২০২৫ সালে ও কোনো বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হতে পারেনি। মাত্র ১০ দিন আগে নর্থ ওয়েস্টার্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হয়ে বাড়ি যায়। শুক্রবার (১৮ সেপ্টেম্বর) দুপুরে বাড়ি থেকে বের হয়ে বিকাল সাড়ে ৫টার দিকে খুলনায় আসে। রাত ৯টার দিকে ফোনে তাদের সঙ্গে আজমুলের শেষ কথা হয়। তখন সে বলেছিল, আমি ভালো আছি। তোমরা আমাকে নিয়ে চিন্তা করো না।
তিনি বলেন, রাত ১২টার পরে আমার ছেলের মোবাইল ফোন দিয়ে অন্য একটি ছেলে ফোন দেয়। বলে, আপনার ছেলে ঝামেলা করেছে। তাকে পেতে হলে দ্রুত এক লাখ টাকা নিয়ে আসেন। টাকা না আনলে আপনার ছেলেকে পাবেন না। তখন আমি বলি, আমরা গরিব মানুষ, এক লাখ টাকা কোথায় পাব? তখন সে বলে, আপনি কী করেন? আমি তাকে বলি, আমি কৃষিকাজ করি। তখন সেই ছেলে আবার বলে, আপনি দ্রুত চলে আসেন। তখন আমি বলি, আমি ট্রেনে দ্রুত আসছি। সে বলে, আপনি ট্রেনে আসবেন, না বাসে আসবেন, না প্লেনে আসবেন, সেটা আপনার ব্যাপার। তারপর সকালে এসে দেখি, আমার ছেলে আর বেঁচে নেই।
কান্না জড়িত কণ্ঠে কুতুব উদ্দিন বলেন, আমি কার কাছে এ বিচার দেব? আমি কারো কাছে বিচার দেব না। আমরা গরিব মানুষ। বাড়ি অনেক দূরে। আল্লাহর কাছে বিচার দিলাম।
হরিণটানা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. ইকবাল হোসেন বলেন, আজমলকে ছাদে নিয়ে মারধরের পর সেখান থেকে পড়ে যাওয়ার ঘটনা ঘটেছে। তবে ঘটনার সঙ্গে কারা জড়িত, তা তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। ময়নাতদন্ত প্রতিবেদনসহ অন্যান্য তথ্য পাওয়ার পর মৃত্যুর প্রকৃত কারণ নিশ্চিত হওয়া যাবে। নিহতের পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে যোগাযোগেরও চেষ্টা চলছে।
আইন পেশায় শুধু অর্থ উপার্জনই শেষ কথা নয়; পেশাগত দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি একজন আইনজীবীকে মানবিক হতে হবে বলে মন্তব্য করেছেন আইনমন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান।
শনিবার (১৯ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যায় রাজধানীর নর্থ সাউথ ইউনিভার্সিটিতে (এনএসইউ) ‘এনএসইউ ল ফেস্ট সিজন-৩’-এর সমাপনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।
আইনমন্ত্রী বলেন, কোনো মানুষ বিপদে পড়ে যখন আইনজীবীর কাছে আসেন, তখন তিনি ওই আইনজীবীর ওপর আস্থা ও বিশ্বাস রাখেন। সেই আস্থার মর্যাদা দেওয়া আইনজীবীর দায়িত্ব। মক্কেলের আর্থিক সামর্থ্য বিবেচনা করে প্রয়োজনে মানবিক দৃষ্টিভঙ্গি নিয়ে অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়াতে হবে।
তিনি বলেন, একজন আইনজীবী একই সঙ্গে মক্কেলের প্রতি দায়বদ্ধ এবং আদালতের একজন কর্মকর্তা। মক্কেলের স্বার্থ রক্ষার পাশাপাশি আদালতকে সঠিক সিদ্ধান্তে পৌঁছাতে সহায়তা করা এবং ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠায় ভূমিকা রাখা আইনজীবীর অন্যতম দায়িত্ব। তাই আদালতের প্রতিও আইনজীবীকে দায়িত্বশীল থাকতে হবে।
আইন পেশায় সফল হতে পড়ালেখা ও কঠোর পরিশ্রমের কোনো বিকল্প নেই উল্লেখ করে মো. আসাদুজ্জামান বলেন, একজন ভালো আইনজীবী হতে হলে সততা, দক্ষতা, পেশাগত দায়িত্ববোধ ও মানবিক মূল্যবোধের সমন্বয়ে নিজেকে গড়ে তুলতে হবে।
তিনি বলেন, আইনজীবীর কাছে আসা প্রতিটি মক্কেলই তার জন্য গুরুত্বপূর্ণ। পেশাগত জীবনে অর্থ উপার্জনের পাশাপাশি মানুষের জন্য কাজ করার সুযোগকেও গুরুত্ব দিতে হবে। একজন আইনজীবীর কাছে মানুষ ন্যায়বিচারের প্রত্যাশা নিয়ে আসেন। সেই প্রত্যাশা পূরণে আইনজীবীদের পেশাগত দক্ষতার পাশাপাশি মানবিক মূল্যবোধও ধারণ করতে হবে।
আইনজীবীদের সমাজের ‘সোশ্যাল ইঞ্জিনিয়ার’ হিসেবে উল্লেখ করে আইনমন্ত্রী বলেন, সমাজের পরিবর্তন ও বিকাশে আইনজীবীদের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে। আইনের শাসন, ন্যায়বিচার ও মানুষের অধিকার প্রতিষ্ঠায় তাদের দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে।
আইনজীবীদের প্রশিক্ষণের গুরুত্ব তুলে ধরে তিনি বলেন, আইন পেশায় প্রবেশের পর যথাযথ প্রশিক্ষণ ও বাস্তবভিত্তিক অভিজ্ঞতার মাধ্যমে নতুন আইনজীবীদের দক্ষ করে গড়ে তুলতে হবে। এ লক্ষ্যে সরকার বিভিন্ন উদ্যোগ গ্রহণ করছে।
তরুণ আইন শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে আইনমন্ত্রী বলেন, ভবিষ্যতে আইনের শাসন, ন্যায়বিচার ও মানুষের অধিকার প্রতিষ্ঠায় তাদের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে হবে। এজন্য শিক্ষাজীবন থেকেই আইন সম্পর্কে গভীর জ্ঞান অর্জনের পাশাপাশি পেশাগত নৈতিকতা ও দায়িত্ববোধ গড়ে তুলতে হবে।
নর্থ সাউথ ইউনিভার্সিটি ল অ্যান্ড মুটিং সোসাইটির আয়োজনে অনুষ্ঠিত ‘এনএসইউ ল ফেস্ট সিজন-৩’-এ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের আইন বিভাগের শিক্ষার্থীরা অংশ নেন। উৎসবে আইনবিষয়ক বিভিন্ন প্রতিযোগিতার আয়োজন করা হয়।
সমাপনী অনুষ্ঠানে নর্থ সাউথ ইউনিভার্সিটির উপাচার্য অধ্যাপক আব্দুল হান্নান চৌধুরীর সভাপতিত্বে বক্তব্য দেন বিশ্ববিদ্যালয়ের ট্রাস্টি বোর্ডের চেয়ারম্যান আজিজ আল কায়সার, বোর্ডের সদস্য এম. এ. কাশেম ও বেনজীর আহমেদ, স্কুল অব হিউম্যানিটিজ অ্যান্ড সোশ্যাল সায়েন্সেসের ডিন অধ্যাপক মো. রিজওয়ানুল ইসলাম এবং আইন বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ইশতিয়াক আহমেদ।
অনুষ্ঠানের শেষ পর্যায়ে ল ফেস্টের বিভিন্ন প্রতিযোগিতায় বিজয়ী শিক্ষার্থীদের মধ্যে পুরস্কার ও সনদ বিতরণ করা হয়। এতে আইন শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণ, পেশাগত দক্ষতা অর্জন এবং ভবিষ্যতে আইন পেশায় নিজেদের প্রস্তুত করার বিষয়ে গুরুত্বারোপ করা হয়।
রাজবাড়ীর গোয়ালন্দ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স পরিদর্শন করেছেন জেলা সিভিল সার্জন ডা. এস এম মাসুদ। শনিবার (১৯ সেপ্টেম্বর) তিনি স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের বিভিন্ন বিভাগ ঘুরে দেখেন। পরিদর্শনকালে সিভিল সার্জন চিকিৎসাসেবার মান ও অবকাঠামোগত বিভিন্ন বিষয় সম্পর্কে খোঁজখবর নেন।
স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের বহির্বিভাগ (আউটডোর), পুরুষ ও মহিলা ওয়ার্ড, রান্নাঘরসহ হাসপাতালের বিভিন্ন স্থান পরিদর্শন করেন। এ সময় তিনি রোগী ও স্বজনদের সঙ্গে কথা বলেন এবং হাসপাতালের সার্বিক পরিবেশ ও চিকিৎসাসেবা সম্পর্কে খোঁজ নেন।
স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের বিভিন্ন সমস্যা সম্পর্কে অবহিত হয়ে তিনি সেগুলো সমাধানে ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সঙ্গে আলোচনা করার কথা জানান।
পরিদর্শন শেষে জেলা সিভিল সার্জন ডা. এস এম মাসুদ বলেন, “গোয়ালন্দ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স আমরা নিয়মিত পরিদর্শন করি। আমার কাছে মনে হয়েছে, গোয়ালন্দের চিকিৎসাসেবা আগের তুলনায় অনেকটাই উন্নত হয়েছে। গত বৃহস্পতিবার ঢাকা থেকে আমাদের অতিরিক্ত সহকারী পরিচালক এসেছিলেন। তিনিও হাসপাতালটি পরিদর্শন করে গেছেন।’
এ সময় উপস্থিত ছিলেন উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. মো. মারুফ হাসান, উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আবাসিক মেডিকেল অফিসার মো. রোমেল হাসানসহ স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের অন্যান্য কর্মকর্তা-কর্মচারীরা।
গোয়ালন্দ উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. মো. মারুফ হাসান সিভিল সার্জনের পরিদর্শনকে স্বাগত জানান। তিনি বলেন, এ ধরনের নিয়মিত ও তদারকি হাসপাতালের চিকিৎসাসেবার মান আরও উন্নত করতে সহায়ক ভূমিকা রাখবে।
তিনি জানান, গোয়ালন্দ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে সম্প্রতি কয়েকটি নতুন সেবা যুক্ত হয়েছে। বর্তমানে হাসপাতালে ২৪ ঘণ্টা ইসিজি সেবা চালু, রয়েছে। পাশাপাশি ডায়াবেটিস পরীক্ষাসহ এক্স-রে ছাড়া অন্যান্য প্রয়োজনীয় প্যাথলজি পরীক্ষা-নিরীক্ষার সুবিধা হাসপাতালেই পাওয়া যাচ্ছে।
হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের প্রত্যাশা, এসব সেবা চালুর ফলে স্থানীয় রোগীদের চিকিৎসা ও পরীক্ষা-নিরীক্ষার জন্য বাইরে যাওয়ার প্রয়োজন কমবে এবং সরকারি স্বাস্থ্যসেবার পরিধি আরও বিস্তৃত হবে।
পরিদর্শনকালে হাসপাতালের চিকিৎসাসেবা, রোগীদের সুযোগ-সুবিধা, পরিচ্ছন্নতা ও অবকাঠামোগত বিভিন্ন বিষয় নিয়ে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের সঙ্গে মতবিনিময় করেন জেলা সিভিল সার্জন।
ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নবীনগর থেকে বাঞ্ছারামপুরের কড়ইকান্দি ফেরিঘাট পর্যন্ত প্রায় ৩৮ কিলোমিটার আঞ্চলিক মহাসড়ক। গুরুত্বপূর্ণ এই সড়কে রয়েছে ১৩৫টি ঝুঁকিপূর্ণ বাঁক। কোথাও সড়ক সরু, কোথাও খানাখন্দ ও ভাঙাচোরা অংশ। অনেক স্থানে দুটি যানবাহন পাশাপাশি চলাচল করাও কঠিন। ফলে প্রতিদিন ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করতে হচ্ছে এ পথে যাতায়াতকারী মানুষ ও যানবাহনকে।
নবীনগর, বাঞ্ছারামপুর, মুরাদনগর ও কসবা উপজেলার মানুষের একটি বড় অংশ এই সড়ক ব্যবহার করে কড়ইকান্দি ফেরিঘাটে পৌঁছান। এরপর মেঘনা নদী ফেরিতে পার হয়ে আড়াইহাজার হয়ে তারা ঢাকা, নারায়ণগঞ্জ ও নরসিংদীর সঙ্গে যোগাযোগ করেন।
স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, সড়কের সংকীর্ণতা, অসংখ্য বাঁক এবং ফেরিঘাটে অপেক্ষা—এই তিন কারণে তাদের যাতায়াতে দীর্ঘদিন ধরে দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে। বিশেষ করে জরুরি প্রয়োজনে ঢাকামুখী যাত্রায় নির্ধারিত সময়ে গন্তব্যে পৌঁছানো অনেক সময় সম্ভব হয় না।
দীর্ঘদিনের এই ভোগান্তি কমাতে ২০২৩ সালের ৪ এপ্রিল জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) সভায় প্রায় ১ হাজার ১৩৫ কোটি টাকা ব্যয়ে সড়ক উন্নয়ন প্রকল্প অনুমোদন দেওয়া হয়। প্রকল্পের আওতায় সড়কটি প্রশস্ত ও টেকসইভাবে পুনর্নির্মাণের পাশাপাশি বিদ্যমান ঝুঁকিপূর্ণ বাঁকগুলো সরলীকরণ করার কথা রয়েছে।
প্রকল্পের কাজ শেষ হলে নতুন অ্যালাইনমেন্ট ও বাঁক সরলীকরণের ফলে বর্তমানে প্রায় ৩৮ কিলোমিটার দীর্ঘ সড়কটি কমে প্রায় সাড়ে ৩২ থেকে ৩৩ কিলোমিটারে নেমে আসবে বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন। এতে একদিকে পথের দূরত্ব কমবে, অন্যদিকে যাতায়াত আরও দ্রুত ও নিরাপদ হবে বলে আশা করা হচ্ছে।
তবে সড়ক উন্নয়নের পাশাপাশি এ অঞ্চলের মানুষের দীর্ঘদিনের আরেকটি দাবি মেঘনা নদীর ওপর কড়ইকান্দি-বিশনন্দী সেতু নির্মাণ। প্রায় ৩ দশমিক ১৩ কিলোমিটার দীর্ঘ প্রস্তাবিত এই সেতু নির্মিত হলে ফেরিনির্ভরতা কমবে এবং ঢাকা ও আশপাশের জেলার সঙ্গে যোগাযোগ আরও সহজ হবে বলে মনে করছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।
ব্রাহ্মণবাড়িয়া সড়ক ও জনপথ বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. ইউনুস আলী বলেন, ‘ভুলতা-বাঞ্ছারামপুর-নবীনগর সড়কের প্রকল্পটি মোট পাঁচটি প্যাকেজে বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। এর মধ্যে চারটি প্যাকেজের কার্যাদেশ দেওয়া হয়েছে। আরেকটি প্যাকেজের কম্পারেটিভ স্টেটমেন্ট (সিএস) প্রস্তুত করে মন্ত্রণালয়ের অনুমোদনের জন্য পাঠানো হয়েছে।’
এদিকে আড়াইহাজার-বিশনন্দী-বাঞ্ছারামপুর-নবীনগর সড়কের দুরবস্থার বিষয়টি জাতীয় সংসদেও তুলে ধরেছেন নবীনগর আসনের সংসদ সদস্য আব্দুল মান্নান।
স্থানীয় বাসিন্দাদের দাবি, শুধু সড়ক নির্মাণ বা সংস্কার নয়, প্রকল্পের কাজ দ্রুত শেষ করা, ভূমি অধিগ্রহণের জটিলতা নিরসন এবং মেঘনা নদীর ওপর প্রস্তাবিত কড়ইকান্দি-বিশনন্দী সেতু নির্মাণের উদ্যোগ—সবকিছুকেই সমান গুরুত্ব দিতে হবে। তাদের মতে, এসব কাজ বাস্তবায়িত হলে নবীনগরসহ আশপাশের কয়েকটি উপজেলার মানুষের দীর্ঘদিনের যোগাযোগ-দুর্ভোগ অনেকটাই কমবে।
৫০০ শয্যার বিপরীতে ভর্তি ৭৯৫ রোগী। চিকিৎসক নেই চক্ষু, অর্থোপেডিক, ফরেনসিক ও রেডিওলজি বিভাগে। ১২টি মর্গ ফ্রিজারের মধ্যে সচল মাত্র একটি, আর ৪০টি এসি কেবিনের অর্ধেকের এসিই নষ্ট। এমন নানা সংকটের মধ্যেই চলছে কিশোরগঞ্জের শহীদ সৈয়দ নজরুল ইসলাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল। শনিবার (১৯ সেপ্টেম্বর) সকালে হাসপাতাল আয়োজিত ‘মিট দ্য প্রেস’ অনুষ্ঠানে এসব তথ্য তুলে ধরেন ভারপ্রাপ্ত পরিচালক ডা. মো. সাইফুল ইসলাম।
হাসপাতাল সূত্র জানায়, শনিবার (১৯ সেপ্টেম্বর) ৫০০ শয্যার বিপরীতে ভর্তি ছিলেন ৭৯৫ জন রোগী। এর মধ্যে মেডিসিনে ২৭৬, শিশু বিভাগে ১৬১, সার্জারিতে ১১০, কার্ডিওলজি ও সিসিইউতে ৬৩, গাইনিতে ৬২, কেবিনে ৫২, অর্থো-সার্জারিতে ৪৯ এবং ইএনটিতে ২২ জন চিকিৎসাধীন ছিলেন।
পরিচালক বলেন, ‘রোগীর চাপ সামলানোর পাশাপাশি জনবল ও যন্ত্রপাতির ঘাটতিও বড় চ্যালেঞ্জ। অনুমোদিত ৭৪৫ পদের বিপরীতে কর্মরত আছেন ৬৩৮ জন। শূন্য রয়েছে ১০৭টি পদ। শূন্যপদ পূরণে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় ও অধিদপ্তরে চিঠি দেওয়া হয়েছে।
ডায়ালাইসিস ইউনিটেও রয়েছে তীব্র সংকট। ছয়টি মেশিন দিয়ে তিন শিফটে সেবা দেওয়া হচ্ছে, অথচ প্রায় ২০০ রোগী অপেক্ষমাণ। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের মতে, কার্যকর সেবা নিশ্চিত করতে অন্তত ২০টি ডায়ালাইসিস মেশিন প্রয়োজন।
মর্গের অবস্থাও নাজুক। ১২টি ফ্রিজারের মধ্যে ১১টি নষ্ট থাকায় অতিরিক্ত মরদেহ সংরক্ষণ করা যায় না। ফলে অনেক ক্ষেত্রে মরদেহ পচে যাওয়ায় ময়নাতদন্তে জটিলতা তৈরি হয় বলে জানায় কর্তৃপক্ষ।
এ ছাড়া ৪০টি এসি কেবিনের ২০টির এসি বিকল। রোগীরা ১ হাজার ১০০ টাকা ভাড়া দিয়েও প্রত্যাশিত সুবিধা পাচ্ছেন না।
হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ আরও জানায়, জানুয়ারি থেকে ১৯ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত ২৮৭ জন ডেঙ্গু রোগী ভর্তি হয়েছেন। এ সময়ে ডেঙ্গুতে কোনো রোগীর মৃত্যু হয়নি। একই সময়ে হামে আক্রান্ত হয়ে ভর্তি হয়েছেন ১ হাজার ৪৩৯ জন, হামেও মৃত্যুর ঘটনা ঘটেনি।
অনুষ্ঠানে হাসপাতালটিকে অটোমেশনের আওতায় আনা, ক্যাথল্যাব, এমআরআইসহ প্রয়োজনীয় চিকিৎসা যন্ত্রপাতি সরবরাহ, জনবল বৃদ্ধি, স্থায়ী পুলিশ ক্যাম্প ও ভবনের ঊর্ধ্বমুখী সম্প্রসারণের দাবি জানানো হয়।
অনুষ্ঠানে শহীদ সৈয়দ নজরুল ইসলাম মেডিকেল কলেজের অধ্যক্ষ ডা. মো. মজিবর রহমান, উপাধ্যক্ষ ডা. মো. একরাম আহসান জুয়েল, কিশোরগঞ্জের সিভিল সার্জন ডা. মোহাম্মদ সাইদুর রহমান, জেলা ড্যাবের সাবেক সভাপতি ডা. মো. আতিকুল সারোয়ার, ড্যাব শহীদ সৈয়দ নজরুল ইসলাম মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতাল শাখার সাংগঠনিক সম্পাদক ডা. মীর নুর উস সাদসহ অন্যরা বক্তব্য দেন। অনুষ্ঠানে কিশোরগঞ্জ সেন্ট্রাল প্রেসক্লাবের সভাপতি আশরাফুল ইসলাম, সাধারণ সম্পাদক মো. আল আমিনসহ প্রায় ৫০ জন সাংবাদিক উপস্থিত ছিলেন।
দেশব্যাপী কর্মসূচির অংশ হিসেবে সাত দফা দাবি বাস্তবায়নের দাবিতে ফরিদপুরে বিক্ষোভ মিছিল, সমাবেশ ও মানববন্ধন করেছে জেলা দলিল লেখক সমিতি। শনিবার (১৯ সেপ্টেম্বর) বেলা ১১টায় জেলার বিভিন্ন উপজেলা থেকে আসা দলিল লেখকদের অংশগ্রহণে বিক্ষোভ মিছিলটি শহরের বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ করে ফরিদপুর প্রেসক্লাবের সামনে গিয়ে শেষ হয়। এখানে মানববন্ধব ও সমাবেশে অনুষ্টিত হয়।
ফরিদপুর জেলা দলিল লেখক সমিতি সভাপতি লায়ন মো. সাইফুল ইসলাম এর সভাপতিত্বে ও সাংগঠনিক সম্পাদক এ.বি.এম মুস্তাফিজুর রহমান ওরফে ভিপি মোস্তফার সঞ্চালনায় মানববন্ধন ও সমাবেশে বক্তব্য দেন দলিল লেখক সমিতি ফরিদপুর জেলা শাখার সাধারণ সম্পাদক শফিকুল ইসলাম, মো. শাহাদাত হোসেন, গোলাম মহিউদ্দিন, ফরিদ হোসেন, আব্দুল কুদ্দুস, মোহাম্মদ জাকির হোসেন, ইলিয়াস খান ও আনিসুর রহমানসহ আরো অনেকে।
এ সময় বক্তারা বলেন, দেশের রাজস্ব আদায়ে দলিল লেখকদের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা থাকলেও তারা নানা সমস্যার মধ্যেও পেশাগত দায়িত্ব নিষ্টার সাথে পালন করে আসছেন । আধুনিকায়নের নামে দলিল লেখকদের পেশাচ্যুত না করে তাদের ন্যায্য দাবি বাস্তবায়নের আহ্বান জানান তারা।
দাবিগুলোর মধ্যে রয়েছে প্রতিটি দলিলের জন্য ন্যূনতম ৫ হাজার টাকা সম্মানী, লাইসেন্সপ্রাপ্ত দলিল লেখক ছাড়া অন্যদের দলিল মুসাবিদা ও রেজিস্ট্রেশনের সুযোগ বন্ধ করে দেয়া, সরকারি খরচে বসার ও নামাজের স্থান নির্মাণ এবং দলিল লেখক কাউন্সিল গঠন করা।
দাবি বাস্তবায়ন না হলে আরও কঠোর কর্মসূচির হুঁশিয়ারি দেন বক্তারা। আগামী ১০ অক্টোবর ফরিদপুরে বিভাগীয় সমাবেশ অনুষ্ঠিত হবে বলেও জানান তারা।
রাজবাড়ীর গোয়ালন্দ উপজেলার দৌলতদিয়া-পাটুরিয়া নৌরুটে নাব্যতা সংকট ক্রমেই তীব্র হচ্ছে। নদীতে প্রয়োজনীয় গভীরতা না থাকায় দৌলতদিয়া প্রান্তে ফেরি চলাচল ব্যাহত হচ্ছে। নাব্যতা সংকটসহ বিভিন্ন কারণে দৌলতদিয়ার ৭টি ফেরিঘাটের মধ্যে পাঁচটিই বর্তমানে বন্ধ রয়েছে। সচল রয়েছে মাত্র ৩ ও ৪ নম্বর ফেরিঘাট।
গুরুত্বপূর্ণ এ নৌরুটে একসঙ্গে একাধিক ফেরিঘাট বন্ধ থাকায় সীমিতসংখ্যক ঘাট দিয়ে যানবাহন পারাপার করতে হচ্ছে। এতে ঘাট এলাকায় বাড়ছে যানবাহনের চাপ। নদী পার হতে আসা যাত্রী ও চালকদেরও পোহাতে হচ্ছে নানা ধরনের দুর্ভোগ।
বিআইডব্লিউটিসি সূত্রে জানা গেছে, কাগজে-কলমে দৌলতদিয়া প্রান্তে ৭টি ফেরিঘাট থাকলেও বাস্তবে সচল ছিল মাত্র ৩টি। সচল ঘাটগুলো হলো ৩, ৪ ও ৭ নম্বর ফেরিঘাট। তবে বৃহস্পতিবার (১৭ সেপ্টেম্বর) রাত থেকে ৭ নম্বর ফেরিঘাটে নাব্য সংকটে ফেরি ভিড়তে না পারায় বন্ধ রয়েছে। তবে দৌলতদিয়া প্রান্তের ৩ ও ৪ নম্বর ফেরিঘাট সচল রয়েছে। দৌলতদিয়া-পাটুরিয়া নৌরুটে বর্তমানে ছোট-বড় মিলে মোট ১০টি ফেরি চলাচল করছে।
নদী পার হতে আসা কয়েকজন চালক জানান, গত কয়েকদিন ধরে দৌলতদিয়া ফেরিঘাট এলাকায় তাদের দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে। নদীতে পানি কমে যাওয়ায় ফেরিগুলো অনেক সময় স্বাভাবিকভাবে ঘাটে ভিড়তে পারছে না। এতে পারাপারে বাড়তি সময় লাগছে। একই সঙ্গে ঘাটের সংখ্যা কমে যাওয়ায় যানবাহনের চাপও বাড়ছে।
চালক ও যাত্রীদের অভিযোগ, দৌলতদিয়া-পাটুরিয়া নৌরুট দিয়ে প্রতিদিন বিপুলসংখ্যক মানুষ ও যানবাহন পারাপার হয়। গুরুত্বপূর্ণ এই নৌরুটে নাব্যতা সংকট দেখা দিলে এর প্রভাব সরাসরি পড়ে সাধারণ যাত্রী, পরিবহন শ্রমিক ও ব্যবসায়ীদের ওপর। তাই দ্রুত নদীর নাব্যতা ফিরিয়ে আনতে কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া প্রয়োজন।
বিআইডব্লিউটিসি দৌলতদিয়া ঘাট শাখার সহকারী মহাব্যবস্থাপক মোহাম্মদ সালাহ উদ্দিন বলেন, বর্তমানে ৩ ও ৪ নম্বর ঘাট সচল রয়েছে। বহরে থাকা ১৮টি ফেরির মধ্যে বর্তমানে ছোট-বড় ১২টি ফেরি চলাচল করছে। তিনি আরও বলেন, তীব্র স্রোতের কারণে গত শনিবার ভোর ৫টা থেকে ৭ নম্বর ফেরিঘাট বন্ধ রয়েছে।
কুষ্টিয়ার কুমারখালী পৌরসভার কুন্ডুপাড়া এলাকায় রাস্তা নির্মাণে নিম্নমানের সামগ্রী ব্যবহারের অভিযোগে তথ্য সংগ্রহ করতে গিয়ে হামলার শিকার হয়েছেন কুমারখালী প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক ও একটি টেলিভিশনের কুমারখালী প্রতিনিধি এম এ উল্লাস। এতে তিনি গুরুতর আহত হয়েছেন। এসময় পুলিশ মারধর ঠেকানোর চেষ্টা করলে হামলাকারীরা সংখ্যায় বেশি থাকায় পুলিশ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে ব্যর্থ হয়।
শনিবার (১৯ সেপ্টেম্বর) দুপুর সাড়ে বারোটার দিকে পৌরসভার কুন্ডুপাড়া এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে কুমারখালী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। সেখানে তিনি চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
ভুক্তভোগী সাংবাদিকের অভিযোগ, কুন্ডুপাড়ায় একটি সড়ক নির্মাণে নিম্নমানের ইট-বালু ও খোয়া ব্যবহার করা হচ্ছে,এমন অভিযোগের ভিত্তিতে তিনি ঘটনাস্থলে যান। সংবাদ সংগ্রহের একপর্যায়ে কুষ্টিয়া-৪ আসনের জামায়াত সমর্থিত সংসদ সদস্য আফজাল হোসেনের ভাই ও ভাতিজাদের নেতৃত্বে একদল লোক তার ওপর অতর্কিত হামলা চালায়।
এ বিষয়ে অভিযুক্তদের বক্তব্য জানতে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাদের পাওয়া যায়নি।
এ ঘটনায় কুষ্টিয়ার কর্মরত সাংবাদিকদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ বিরাজ করছে। কুষ্টিয়া প্রেসক্লাবের একাধিক সাংবাদিক বলেন, "একজন পেশাদার সাংবাদিকের ওপর এ ধরনের সন্ত্রাসী হামলা স্বাধীন সাংবাদিকতার ওপর আঘাত। শুধু ফেসবুকে নিন্দা নয়, হামলাকারীদের দ্রুত শনাক্ত করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করছি।"
কুমারখালী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জামাল উদ্দিন বলেন, ঘটনাটি শুনেছি। লিখিত অভিযোগ পেলে তদন্ত সাপেক্ষে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক দম্পতির ১৩ বছর বয়সী ছেলে অপ্রতীম হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় একাধিক গুরুত্বপূর্ণ ক্লু পাওয়ার কথা জানিয়েছে পুলিশ। হত্যার রহস্য উদ্ঘাটনে সন্দেহভাজন কয়েকজনকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। তাঁদের মধ্যে তুহিন নামে এক যুবক পুলিশ হেফাজতে রয়েছেন বলে একাধিক সূত্র জানিয়েছে।
কুমিল্লার পুলিশ সুপার মো. আনিসুজ্জামান বলেন, অপ্রতীম হত্যাকাণ্ডে সন্দেহভাজন এক যুবককে আটক করে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। তদন্তে গুরুত্বপূর্ণ কিছু সূত্র মিলেছে। তবে শিশুটিকে শুধু আইফোন ছিনিয়ে নেওয়ার জন্য হত্যা করা হয়েছে, নাকি এর পেছনে অন্য কোনো কারণ রয়েছে, সেটিও খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
তিনি বলেন, হত্যাকাণ্ডের তদন্তে পুলিশের একাধিক দল কাজ করছে। আটক যুবকের সম্পৃক্ততা এখনো নিশ্চিত নয়। তাঁর মোবাইল ফোনের তথ্য এবং ঘটনাস্থল ও আশপাশের সিসিটিভি ফুটেজ প্রযুক্তির সহায়তায় যাচাই করা হচ্ছে। এসব তথ্য বিশ্লেষণের পরই তাঁর ভূমিকা সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়া যাবে। আটক ব্যক্তি নির্দোষও হতে পারেন, আবার ঘটনার সঙ্গে জড়িতও থাকতে পারেন।
পুলিশ সুপার বলেন, তদন্তের স্বার্থে এ মুহূর্তে মূল হত্যাকারীদের পরিচয় প্রকাশ করা হচ্ছে না। নাম প্রকাশ করা হলে তারা আত্মগোপনে চলে যেতে পারেন। তদন্ত শেষ হলে হত্যাকাণ্ডের প্রকৃত কারণ এবং জড়িতদের বিষয়ে বিস্তারিত জানানো হবে।
এদিকে একাধিক সূত্রের দাবি, তুহিন নামে ওই যুবকের হত্যাকাণ্ডে সম্পৃক্ততা থাকতে পারে। শুক্রবার বিকেল থেকে অপ্রতীমের সঙ্গে তাঁকে দেখা গেছে বলে জানা গেছে। বর্তমানে তিনি পুলিশ হেফাজতে রয়েছেন।
এর আগে শুক্রবার (১৮ সেপ্টেম্বর) বিকেল সাড়ে ৩টার দিকে কুমিল্লার কোটবাড়ির বাসা থেকে মায়ের আইফোন নিয়ে বন্ধুদের সঙ্গে ছবি তুলতে বের হয় অপ্রতীম। এরপর সে নিখোঁজ হয়। শনিবার দুপুরে কোটবাড়ি এলাকার দক্ষিণ মোড়ের দক্ষিণ পাশে একটি জঙ্গল থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়। পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, অপ্রতীমের মাথায় গুরুতর আঘাতের চিহ্ন রয়েছে। তবে তার সঙ্গে থাকা মায়ের আইফোনটি এখনো পাওয়া যায়নি।
অপ্রতীম বর্ডারগার্ড পাবলিক স্কুলের সপ্তম শ্রেণির শিক্ষার্থী ছিল। সে কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. নাহিদা বেগম ও কে এম ফিরোজ শাহরিয়ারের একমাত্র সন্তান।
অপ্রতীমের মরদেহ প্রথম দেখতে পান আবদুল কাদের জিলানী। তিনি জানান, বাঁশ কাটতে গিয়ে জঙ্গলের মধ্যে মরদেহটি দেখতে পান তাঁরা। প্রথমে দূর থেকে কাউকে ঘুমিয়ে থাকতে দেখেছিলেন বলে মনে হয়েছিল। পরে কাছে গিয়ে মাথায় জখমের চিহ্ন দেখতে পান। এরপর মামুন নামে একজনকে বিষয়টি জানালে তিনি ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহটি অপ্রতীমের বলে শনাক্ত করেন।
কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক আবদুল হাকিম বলেন, ঘটনার পর পুলিশ, ডিবি ও স্পেশাল রেসপন্স ব্যাটালিয়নসহ আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর বিভিন্ন ইউনিটের সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়। তবে অপ্রতীমকে জীবিত উদ্ধার করা সম্ভব হয়নি। তার সঙ্গে থাকা মায়ের আইফোনও উদ্ধার হয়নি।
হত্যাকাণ্ডের খবর পেয়ে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন স্থানীয় সংসদ সদস্য মনিরুল হক চৌধুরী। তিনি ঘটনায় জড়িতদের দ্রুত শনাক্ত করে ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেন।
এখন পুলিশ মোবাইল ফোনের তথ্য, সিসিটিভি ফুটেজসহ বিভিন্ন আলামত বিশ্লেষণ করছে। এসব তথ্যের ভিত্তিতে অপ্রতীম হত্যার প্রকৃত কারণ এবং কারা এতে জড়িত, তা নিশ্চিত হওয়ার চেষ্টা চলছে।
সুনামগঞ্জে বাংলাদেশ দলিল লেখক সমিতির জেলা শাখার উদ্যোগে জেলা সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়েছে। সমাবেশে নিবন্ধন অধিদপ্তরকে ভূমি মন্ত্রণালয়ের অধীনে ন্যস্ত করার উদ্যোগের প্রতিবাদ জানিয়ে প্রায় দুই লক্ষাধিক দলিল লেখকের পেশাগত অধিকার, কর্মসংস্থান ও জীবিকা সুরক্ষায় সরকারের জরুরি হস্তক্ষেপ দাবি করা হয়েছে।
শনিবার (১৯ সেপ্টেম্বর) বেলা ১১টায় আয়োজিত এ সমাবেশে জেলা ও বিভিন্ন উপজেলা দলিল লেখক সমিতির নেতৃবৃন্দ অংশ নেন। সভাপতিত্ব করেন বাংলাদেশ দলিল লেখক সমিতি সুনামগঞ্জ জেলা শাখার সভাপতি প্রদীপ পাল নিতাই। সঞ্চালনা করেন জেলা শাখার সাধারণ সম্পাদক শাহাজুল ইসলাম।
বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জেলা দলিল লেখক সমিতির সিনিয়র সহসভাপতি বজলুর রশিদ চৌধুরী। এছাড়া সহসভাপতি শেখল ইসলাম ও নেজামুল ইসলাম, সাংগঠনিক সম্পাদক এমদাদুল হুদা, অর্থ সম্পাদক শহীদ সবওয়াত চৌধুরী এবং দপ্তর সম্পাদক আবুল্লা মিয়াসহ জেলা ও উপজেলার সমিতির নেতৃবৃন্দ।
বিভিন্ন উপজেলা থেকে উপস্থিত নেতৃবৃন্দের মধ্যে ছিলেন ছাতক উপজেলা দলিল লেখক সমিতির সভাপতি কাজী আনোয়ার মিঠা, দোয়ারাবাজার উপজেলা সভাপতি আব্দুল হান্নান, জামালগঞ্জ উপজেলা সভাপতি মো. আলমগীর, জগন্নাথপুর উপজেলা সভাপতি বশির আহমদ, দিরাই উপজেলা প্রতিনিধি আবুল মতিন, বিশ্বম্ভরপুর উপজেলা প্রতিনিধি সুরুজামান, সুনামগঞ্জ সদর উপজেলা দলিল লেখক সমিতির সাধারণ সম্পাদক সাত্তারুল ইসলাম শায়েস্তা ও সদস্য সচিব নুরুল ইসলাম।
অনুষ্ঠানের শুরুতে পবিত্র কোরআন তেলাওয়াত করেন জেলা দলিল লেখক সমিতির ধর্মবিষয়ক সম্পাদক নূরুল ঈমান। পরে গীতা পাঠ করেন দীপক কুমার দে।
সমিতির সাধারণ সম্পাদক শাহাজুল ইসলাম বলেন, ২০২৫ সালের ২৪ ডিসেম্বও একটি দৈনিক পত্রিকায় প্রকাশিত প্রতিবেদনের মাধ্যমে নিবন্ধন অধিদপ্তরকে ভূমি মন্ত্রণালয়ের অধীনে নেওয়ার উদ্যোগের বিষয়টি তারা জানতে পারেন। পরবর্তীতে ২০২৬ সালের ১৭ সেপ্টেম্বর ভূমি মন্ত্রণালয়-সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটির প্রথম বৈঠকে আইন মন্ত্রণালয়ের অধীন নিবন্ধন অধিদপ্তরকে ভূমি মন্ত্রণালয়ের অধীনে ন্যস্ত করার লক্ষ্যে প্রয়োজনীয় কার্যক্রম গ্রহণের সিদ্ধান্তের কথা জানতে পেরে দলিল লেখকদের মধ্যে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।
সভাপতির বক্তব্যে প্রদীপ পাল নিতাই বলেন, ২০০৭ সালেও একই ধরনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল। তখন দলিল লেখকরা আন্দোলনে নামেন এবং সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে বৈঠক করেন। প্রায় দুই লক্ষাধিক দলিল লেখকের কর্মসংস্থান হুমকির মুখে পড়ার আশঙ্কায় জনস্বার্থে হাইকোর্ট বিভাগে রিট মামলা করা হয়। তার ভাষ্য অনুযায়ী, রিট মামলাটির নম্বর ২৫১/২০০৮। ২০০৮ সালের ১৩ মার্চ শুনানি শেষে রিট নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত নিবন্ধন অধিদপ্তরকে ভূমি মন্ত্রণালয়ে স্থানান্তরের কার্যক্রম স্থগিত রাখার আদেশ দেওয়া হয়েছিল। দলিল লেখকরা দীর্ঘদিন ধরে জনগণকে নিবন্ধনসংক্রান্ত সেবা দিয়ে আসছেন। জনস্বার্থ ও দলিল লেখকদের কর্মসংস্থানের বিষয়টি বিবেচনা করে এ উদ্যোগ পুনর্বিবেচনার দাবি জানান তিনি।
তিনি আরো বলেন, নিবন্ধন বিভাগকে ভূমি মন্ত্রণালয়ের অধীনে ন্যস্ত না করার দাবিতে গত ১২ আগস্ট নিবন্ধন অধিদপ্তরের মহাপরিদর্শকের (আইজিআর) মাধ্যমে এবং সুনামগঞ্জ জেলা প্রশাসকের মাধ্যমে আইন, বিচার ও সংসদবিষয়ক মন্ত্রীর কাছে স্মারকলিপি দেওয়া হয়েছে।
বান্দরবানের দুর্গম পাহাড়ে প্রযুক্তিনির্ভর সুপেয় পানিতে স্বস্তি ফিরেছে লক্ষাধিক মানুষের। এক কলস সুপেয় পানির জন্য কয়েক কিলো উঁচুনিচু পাহাড়িপথ পাড়ি দিতে হতো। সেখানে জেলা পরিষদ ও জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরের বিভিন্ন প্রযুক্তিনির্ভর সুপেয় পানি সরবরাহ ও স্যানিটেশন প্রকল্পের মাধ্যমে এখন পাহাড়ের চূড়ায় বসবাসরতরা ঘরের কাছেই পাচ্ছেন নিরাপদ পানি।
একসময় পানি সংগ্রহ করা ছিল পাহাড়ের মানুষের জীবনের সবচেয়ে কঠিন সংগ্রামগুলোর একটি। পাহাড়ের চূড়ায় বসবাসকারী এসব পিছিয়ে পড়া জনগোষ্ঠীর হাতের কাছে ছিল না নিরাপদ পানির কোনো উৎস। খাবার পানি, রান্না, গোসল কিংবা গৃহস্থালির নিত্যপ্রয়োজনীয় কাজে ব্যবহারের জন্য প্রতিদিন দুর্গম পাহাড়িপথ বেয়ে এক থেকে তিন কিলোমিটার পর্যন্ত পথ পাড়ি দিতে হতো তাদের। কোথাও কোথাও পানি সংগ্রহের জন্য পাহাড়ি ঢাল বেয়ে নামতে হতো হাজার ফুট নিচে। সেখানে ঝিরি, ঝরনা কিংবা পাহাড়ি ছড়ার অনিরাপদ পানিই ছিল এসব দুর্গম জনপদে বসবাসকারী পাহাড়ি-বাঙালি মানুষের একমাত্র ভরসা। প্রতিদিনের এই পানির সংগ্রাম ছিল তাদের জীবনের এক নির্মম বাস্তবতা। যেখানে এক কলস নিরাপদ পানির জন্যও লড়াই করতে হতো দুর্গম পাহাড়িপথ আর প্রকৃতির প্রতিকূলতার সঙ্গে।
আবার বর্ষাকালে পাহাড়ি ছড়ায় পানি থাকলেও তা থাকত মাটি, কাদা ও ময়লায় ভরা। আর শুষ্ক মৌসুম এলেই পানির সংকট হয়ে উঠত আরও ভয়াবহ। বিশেষ করে নারী ও শিশুদের দিনের বড় একটি অংশ ব্যয় হতো শুধু পানি সংগ্রহে। দুর্গম পাহাড়িপথ বেয়ে ভারী কলসি কাঁধে পানি বহন করতে গিয়ে শারীরিক কষ্টের পাশাপাশি নিতে হতো নানা ঝুঁকিও।
বছরের পর বছর ধরে চলা সেই দুর্ভোগের চিত্র এখন বদলাতে শুরু করেছে বান্দরবানের প্রত্যন্ত পাহাড়ি জনপদে।
জেলা পরিষদ ও জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরের বিভিন্ন প্রযুক্তিনির্ভর সুপেয় পানি সরবরাহ ও স্যানিটেশন প্রকল্পের মাধ্যমে এখন পাহাড়ের চূড়ায় বসবাসরত মানুষও ঘরের কাছেই পাচ্ছেন নিরাপদ পানি। গভীর নলকূপ, গ্র্যাভিটি ফ্লো সিস্টেম (জিএফএস), রিংওয়েল, রেইন ওয়াটার হারভেস্টিংসহ বিভিন্ন প্রযুক্তির সমন্বয়ে দুর্গম এলাকায় গড়ে তোলা হয়েছে টেকসই পানি সরবরাহব্যবস্থা।
ফলে বান্দরবানের অন্তত ৫০টি প্রত্যন্ত পাহাড়ি পাড়ার লক্ষাধিক পিছিয়ে পড়া পাহাড়ি-বাঙালি জনগোষ্ঠীর জীবনে এসেছে স্বস্তি। দীর্ঘদিনের পানির কষ্ট ভুলে এখন তাদের মুখে ফুটেছে স্বস্তির হাসি।
সম্প্রতি সরেজমিনে বান্দরবান সদর উপজেলার কয়েকটি দুর্গম ইউনিয়নের পাহাড়ি এলাকা ঘুরে দেখা যায়, পাহাড়ের চূড়ায় বসবাসরত বিভিন্ন পাড়ার মানুষ এখন বাড়ির পাশেই স্থাপিত পানির কল থেকে সুপেয় পানি সংগ্রহের চিত্র। সেই পানি দিয়ে কেউ রান্নার কাজ সারছেন, কেউ গোসল করছেন, কাপড় ধুচ্ছেন কিংবা গৃহস্থালির অন্যান্য কাজে ব্যবহার করছেন। কোনো কোনো এলাকায় পানির সহজলভ্যতা বাড়ায় কৃষি ও সেচ কাজেও পানি ব্যবহারের সুযোগ তৈরি হয়েছে।
২০২৫-২৬ অর্থবছরের ‘বিভিন্ন প্রযুক্তির মাধ্যমে সুপেয় পানি সরবরাহ ও স্যানিটেশন প্রকল্পের’ আওতায় দুর্গম পাহাড়ি এলাকায় গভীর নলকূপ, জিএফএস, রিংওয়েল ও রেইন ওয়াটার হারভেস্টিংসহ বিভিন্ন পানি সরবরাহব্যবস্থায় পাল্টে দিয়েছে কষ্ট ও সংকটের চিত্র।
স্থানীয়দের ভাষায়, এটি শুধু একটি পানি প্রকল্প নয়, এটি পাহাড়ের মানুষের দীর্ঘদিনের জীবনসংগ্রামে একটি বড় পরিবর্তনের সূচনা।
জেলা শহর থেকে প্রায় চার কিলোমিটার দূরে পাহাড়ি গ্রাম টিএনটি মারমাপাড়া। সেখানে গিয়ে দেখা যায়, প্রায় ৬০বছর বয়সি বৃদ্ধা মাচিং মারমা বাড়ির পাশের পানির কল থেকে গোসল ও কাপড় ধোয়া শেষে কলসিতে পানি নিয়ে ঘরে ফিরছেন। এক বছর আগেও এই দৃশ্য ছিল তার কাছে কল্পনার বাইরে।
তিনি বলেন, আগে খাবার পানি, গোসল কিংবা কাপড় ধোয়ার জন্য পাড়া থেকে প্রায় ৮০০ ফুট নিচে পাহাড়ি পথে যেতে হতো।’ এখন বাড়ির পাশেই পানি পাচ্ছেন তিনি।
বান্দরবান জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল বিভাগ জানায়, পার্বত্য চট্টগ্রামবিষয়ক মন্ত্রণালয় বিএডিসি ও ডিপিএইচইর অর্থায়নে-‘স্যানিটেশন ব্যবস্থার উন্নয়ন ও নিরাপদ পানি সরবরাহ প্রকল্পের মাধ্যমে ৪৫ কোটি টাকা ব্যয়ে জেলা পরিষদ ও জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল বিভাগের উদ্যোগে বিভিন্ন প্রযুক্তি মাধ্যমে সুপেয় পানি সরবরাহ ও স্যানিটেশন প্রকল্পে ২০২৪-২৫ ও ২০২৫-২৬ অর্থবছরে বান্দরবানে ১২টি গ্র্যাভিটি ফ্লো সিস্টেম (জিএফএস) মেরামত, নতুন করে আরও ১০টি জিএফএস নির্মাণ, ৫৮৩টি রিংওয়েল নির্মাণ, ১৪০টি রেইন ওয়াটার হারভেস্টিং সিস্টেম স্থাপন, ৫০টি গভীর নলকূপ নির্মাণ, পাড়াভিত্তিক পানি সরবরাহ নিশ্চিত করতে ৫০টি প্রোডাকশন টিউবওয়েল স্থাপন করা হয়েছে। এ ছাড়া স্যানিটেশন সুবিধা সম্প্রসারণে বিভিন্ন এলাকায় স্বাস্থ্যসম্মত ৩০টি টয়লেট নির্মাণ করা হয়েছে।
বান্দরবান জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরের উপসহকারী প্রকৌশলী সাইদুল ইসলাম জানান, স্থানীয় লোকজনের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে জেলার অন্তত ৫০টি পাড়ায় নিরাপদ পানির ব্যবস্থা নিশ্চিত করা হয়েছে।
বান্দরবান জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরের নির্বাহী প্রকৌশলী অনুপম দে বলেন, ‘ভৌগোলিক ও প্রাকৃতিক বৈচিত্র্যের কারণে বান্দরবানের দুর্গম পাহাড়ি এলাকায় সুপেয় পানি সরবরাহে একই ধরনের প্রযুক্তি সব জায়গায় ব্যবহার করা সম্ভব নয়। ভিন্ন ভিন্ন প্রযুক্তির ব্যবহার করতে হয়।’
ফলে সম্প্রতি, ৪৫ কোটি টাকা ব্যয়ে জেলার দুর্গম এলাকায় পুরোনো গ্র্যাভিটি ফ্লো সিস্টেম মেরামতের পাশাপাশি নতুন জিএফএস, রিংওয়েল, রেইন ওয়াটার হারভেস্টিং সিস্টেম, গভীর নলকূপ এবং পাড়াভিত্তিক পানি সরবরাহব্যবস্থা স্থাপন করা হয়েছে।
জনবান্ধব জেলা প্রশাসক ও জেলা ম্যাজিস্ট্রেট ইসরাত জাহান কেয়ার কর্মকাল নরসিংদীতে মাত্র ৫ মাস। এই সময়ে জেলার নান্দনিক ও সৃজনশীল উন্নয়ন কর্মকাণ্ডের জন্য গর্বিত নরসিংদীবাসী। এক কথায় সাহস, সততা এবং কর্মযোগ্যতা দিয়ে নরসিংদীর মানুষের মনের মণিকোঠায় জায়গা করে নিয়েছেন তিনি।
ইসরাত জাহান কেয়া তার স্বীয় কর্মপ্রতিভার বিচক্ষণ দিয়ে স্পর্শ করে চলেছেন প্রতিটি মানুষের মন। ইসরাত জাহান কেয়া মনে করেন, প্রতিটি মানুষ যদি তার স্বীয় কর্মকে সৃষ্টিশীলতা দিয়ে আন্তরিকতার সাথে সর্বোচ্চ নিপুণভাবে সম্পন্ন করেন তবে তা অবশ্যই প্রশংসিত হবে। এক প্রশ্নের উত্তরে ইসরাত জাহান কেয়া বলেন, ‘আমি অ্যাওয়ার্ড বা পুরস্কার প্রাপ্তির প্রত্যাশায় কোনো কাজ করি না। আমি আমার ওপর অর্পিত দায়িত্ব, নীতি এবং আদর্শের মধ্যে থেকে সর্বোচ্চ সৃজনশীলতা ও আন্তরিকতা দিয়ে করার চেষ্টা করি। এতে যদি কোনো প্রাপ্তি এসে যায় নিশ্চয়ই তা আমাকে প্রেরণা জোগায়।’
এ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘বিশ্বখ্যাত অন্ধ লেখিকা হেলেন কেলার আমাদের মতো সুস্থ-স্বাভাবিক মানুষকে উদ্দেশ্য করে বলেছিলেন আমি অন্ধ, তোমরা যারা দেখতে পাও তাদের একটা কথা আমি বলে যেতে চাই, চোখ দুটোকে তোমরা এমনভাবে ব্যবহার করো যেন আগামীকালই তুমি অন্ধ হয়ে যাবে, আর দেখবে না। তোমার অপর সব ইন্দ্রিয়ের বেলায়ও এমন করেই ভাবতে শেখো।
সুরের আওয়াজ, পাখির গান, বাদ্যকারের বাজনা এমনভাবে শুনবে যেন কালই তুমি বধির হয়ে যাবে। প্রতিটি জিনিস এমনভাবে ছুঁয়ে দেখবে যেন সর্বশক্তি অবলুপ্ত হবে আগামীকালই। এভাবে নেবে ফুলের ঘ্রান, আর খাদ্যের স্বাদ, যেন আগামীকাল আর গন্ধ কিংবা স্বাদের অনুভূতি অবশিষ্ট থাকবে না। সব ইন্দ্রিয়ের সর্বোচ্চ ব্যবহার করো, প্রকৃতির সৌন্দর্য পুরোপুরি উপভোগ করো। হেলেন কেলারের এই উক্তিগুলোর মতোই যদি যেকোনো কাজে ইচ্ছে শক্তির সর্বোত্তম ব্যবহার করি, সর্বোচ্চ আন্তরিকতা দিয়ে স্বীয় কর্মকে সম্পন্ন করা যায় নিশ্চয়ই প্রশংসিত হবে।’
ইসরাত জাহান কেয়া ঢাকা জেলার কেরানীগঞ্জ উপজেলার শুভাঢ্যা গ্রামের এক সমভ্রান্ত মুসলিম পরিবারে জন্মগ্রহন করেন। তার পিতার নাম মো. মাহাবুব আলী। পারিবারিক ঐতিহ্যগত কারণেই ইসরাত জাহান কেয়া জাতীয়তাবাদী আদর্শিক চেতনায় বড় হয়েছেন। ফলে তার সকল কাজে জাতীয়তাবাদী আদর্শিক চেতনা লক্ষ্য করা যায়। ছোটবেলা থেকেই তিনি ছিলেন আত্মপ্রত্যয়ই ও স্বপ্নচারী নারী।
তিনি জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ইংরেজি সাহিত্যে অনার্স মাস্টার্স ডিগ্রি লাভ করেন। ইসরাত জাহান কেয়া ২৮তম ব্যাচে বাংলাদেশ সিভিল সাভির্সের প্রসাশন ক্যাডারে যোগদান করেন। জেলা প্রশাসক নরসিংদী হিসেবে পদায়ন হওয়ার আগে তিনি শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের উপসচিব হিসেবে কর্মরত ছিলেন।
তিনি চলতি এ বছরের ৭ এপ্রিল নরসিংদীর ২২তম জেলা প্রশাসক হিসেবে যোগদান করেন। এ জেলায় তিনি দ্বিতীয় নারী জেলা প্রশাসক। ইসরাত জাহান কেয়া নরসিংদীতে যোগদানের পর থেকে যে সমস্ত কাজে নরসিংদী জেলার নান্দনিক সৃজনশীল উন্নয়ন কর্মকাণ্ডের জন্য এখানকার মানুষের মনের মণিকোঠায় স্থান করে নিয়েছেন।
জেলা প্রশাসক ইসরাত জাহান কেয়া মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের নির্দেশনা অনুযায়ী প্রতি বুধবার গণশুনানি করেন।