নিয়োগ পরীক্ষায় মোছা. জেসমিন আক্তার নম্বর পেয়েছিলেন ১৯। তার এই নম্বরকে উল্টে ৯১ করে দেয়া হয়। আর তাতেই তিনি নিয়োগ পান খাদ্য পরিদর্শক হিসেবে। বর্তমানে কর্মরত আছেন নীলফামারীর জলঢাকা উপজেলায় খাদ্য পরিদর্শক হিসেবে।
তাজুল ইসলাম নিয়োগ লিখিত পরীক্ষায় ৫৫ নম্বর পেলেও চাকরি দেয়ার জন্য তাকে দেয়া হয় ৮৯। তিনি এখন শরীয়তপুর উপজেলার খাদ্য পরিদর্শক।
পরীক্ষার নম্বর জালিয়াতি করে এরকমভাবে ৪৪ জনকে খাদ্য পরিদর্শক হিসেবে নিয়োগ দেয়া হয়। এর মধ্যে একজন চাকরিতে যোগ দেননি। অন্যরা গত এক দশক ধরে খাদ্য পরিদর্শক হিসেবে চাকরি করে আসছেন দেশের বিভিন্ন জেলা-উপজেলায়।
ওই নিয়োগে জালিয়াতির অভিযোগ ওঠায় দীর্ঘ অনুসন্ধান শেষে ২০১৫ সালে ৫৩ জনের বিরুদ্ধে মামলা করেন দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) উপপরিচালক মো. মনিরুল হক। কয়েক হাত ঘুরে মামলার শেষ তদন্ত করেন আরেক উপপরিচালক আলী আকবর। তার তদন্তে তিনি তিনজনকে অব্যাহতি দিয়ে ৫০ জনের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্রে আসামি করেন।
গতকাল সোমবার আলী আকবর ওই মামলার অভিযোগপত্র আদালতে জমা দেন। দুদক সচিব মাহবুব হোসেন সাংবাদিকদের বলেন, দীর্ঘ তদন্ত শেষে যাদের নাম নিশ্চিতভাবে অপরাধী হিসেবে শনাক্ত হয়েছে, তাদের অভিযোগপত্রে আসামি করা হয়েছে।
দুদক সূত্র জানায়, নিয়োগ পরীক্ষার জন্য গঠিত বাছাই কমিটির কয়েকজন সদস্য ও পরীক্ষা নেয়ার সময় তথ্য প্রযুক্তি সহায়তা দেয়া ডেভেলপমেন্ট প্ল্যানার্স অ্যান্ড কনসালটেন্টসের কর্মকর্তারা সরাসরি নিয়োগ জালিয়াতির সঙ্গে যুক্ত ছিলেন।
চার্জশিটভুক্ত আসামিদের মধ্যে আছেন নিয়োগ কমিটির সভাপতি ও খাদ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (সংগ্রহ) ইলাহী দাদ খান, কমিটির সদস্য ও খাদ্য বিভাগের সাবেক উপসচিব (বর্তমানে বস্ত্র ও পাট মন্ত্রণালয়ের যুগ্ম সচিব) নাসিমা বেগম, খাদ্য অধিদপ্তরের সাবেক উপপরিচালক ইফতেখার আহমেদ, এবং ডেভেলপমেন্ট প্ল্যানার্স অ্যান্ড কনসালটেন্টসের ম্যানেজার মো. আইউব আলী, সাবেক সিস্টেম এনালিস্ট ও টেকনিক্যাল ম্যানেজার আসাদুর রহমান, সাবেক হার্ডওয়ার ইঞ্জিনিয়ার মো. আরিফ হোসেন এবং অ্যাসিস্ট্যান্ট ডাটাবেজ অ্যাডমিন মো. আবুল কাসেম।
এ ছাড়া খাদ্য পরিদর্শক হিসেবে নিয়োগ পাওয়া ৪৩ খাদ্য পরিদর্শক চার্জশিটে আসামি হয়েছেন। এরা হলেন- শরীয়তপুর উপজেলার মুহাম্মদ তাজুল ইসলাম, সিলেটের কোম্পানীগঞ্জ উপজেলার মো. জহিরুল ইসলাম, সিলেট সদরের অপূর্ব কুমার রায়, সাভার উপজেলার আবু জাকির মোহাম্মদ রিজওয়ানুর রহমান, ফরিদপুরের বোয়ালমারী উপজেলার আসমা রহমান, মানিকগঞ্জ হরিরামপুরের আসমা ইসলাম, সিলেটের বিয়ানীবাজারের জাহানারা জলি, শেরপুর নয়াবিল টিপিসির অলিউর রহমান, জামালপুর সদর উপজেলার সানজিদা সুলতানা, কিশোরগঞ্জের কটিয়াদি উপজেলার উম্মে হানী, সিলেট বিশ্বনাথ উপজেলার মোহাম্মদ মোহাইমিনুল ইসলাম ভূঞা, হবিগঞ্জ আজমিরীগঞ্জের প্রতাপ কুমার সরকার, পাবনার চাটমোহরের কোহিনুর আক্তার, সুনামগঞ্জ ধর্মপাশার মির আরিফুর রহমান, নেত্রকোনার কলমাকান্দা উপজেলার মোহাম্মদ আব্দুল ওয়াহাব, ময়মনসিংহ গয়েশপুরের এলএসডির মো. সাজ্জাদ হোসেন খান পাঠান, নেত্রকোনা সদর উপজেলার হিমেল চন্দ্র সরকার, ঢাকা সিএসডির মোহাম্মদ রইছ উদ্দিন, শেরপুর সদর উপজেলার সালমা আক্তার, জামালপুর এলএসডির শামছুন নাহার, টাঙ্গাইল ঘাটাইলের ইয়াসির আরাফাত, টাঙ্গাইল নাগরপুর উপজেলার মো. এদিব মাহমুদ, পটুয়াখালীর গলাচিপা উপজেলার হালিমা আহমেদ, ঝালকাঠি সদর উপজেলার রবীন্দ্রনাথ বিশ্বাস, কুমিল্লার বরুড়া উপজেলার মোহাম্মদ তৈয়ব উল্যাহ খান, নওগাঁর ধামইরহাট উপজেলার শেখ মো. জাকারিয়া হাসান, নওগাঁর বদলগাছীর মোহাম্মদ নুরুজ্জামান, নওগাঁর পোরশা উপজেলার মো. আতিকুর রহমান, বগুড়ার শিবগঞ্জ উপজেলার মোছা. মমতাজ বেগম, জামালগঞ্জ এলএসডির কানিজ শারমিন, পাবনার আটঘরিয়া উপজেলার মো. জুনায়েদ কবীর, মানিকগঞ্জ সিংগাইর উপজেলার সেলিনা আক্তার, সিরাজগঞ্জ কাজীপুর উপজেলার মোহাম্মদ আলী মিঞা, রংপুর মিঠাপুকুরের মোছা. জাকিয়া সুলতানা, কুড়িগ্রাম সদর উপজেলার অনিমেষ কুমার সরকার, নীলফামারীর জলঢাকা উপজেলার মোছা. জেসমিন আক্তার, নীলফামারীর সৈয়দপুর উপজেলার মো. রায়হান কবির, রংপুর পীরগঞ্জ মিঠাপুকুর টিপিসির মো. শরিফুল ইসলাম, সাতক্ষীরা দেবহাটার বিল্লাল হোসেন, বাগেরহাটের মোংলা উপজেলার মো. আবুল হাশেম, পটুয়াখালী কাঁঠালতলি উপজেলার ইসরাত জাহান মনা, বরগুনা সদর উপজেলার আরিফা সুলতানা এবং সুনামগঞ্জ দিরাই উপজেলার খাদ্য পরিদর্শক আশীষ কুমার রায়।
দুদক সূত্র জানায়, খাদ্য অধিদপ্তরের ২০১০ সালের ১৬ সেপ্টেম্বরে ১ হাজার ৫৫২টি শূন্য পদ পূরণের জন্য খাদ্য অধিদপ্তর নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি দেয়। এর পরই খাদ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (প্রশাসন) ইলাহী দাদ খানকে সভাপতি করে পাঁচ সদস্যের নিয়োগ কমিটি গঠন করা হয়।
২০১১ সালের ২৩ ডিসেম্বর লিখিত পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়। এরপর মৌখিক পরীক্ষা শেষে ২০১২ সালের ১১ জানুয়ারি উত্তীর্ণদের নাম ঘোষণা করা হয়।
আবাসিক হলের নানা অনিয়ম, অব্যবস্থাপনা, আসন বণ্টনে অস্বচ্ছতাসহ নানা অভিযোগ নিয়ে প্রভোস্টের পদত্যাগের দাবিতে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের (চবি) আলাওল হল সংসদের নেতৃত্বে প্রভোস্টকে নিজ কার্যালয়ে অবরুদ্ধ করে প্রভোস্ট রুমে তালা ঝুলিয়ে দিয়েছেন সাধারণ শিক্ষার্থীরা। মঙ্গলবার দুপুর ১টায় আলাওল হল সংসদ প্রতিনিধিদের নেতৃত্বে সাধারণ শিক্ষার্থীরা হল প্রভোস্টের রুম এবং হল অফিসে তালা ঝুলিয়ে দেয়।
শিক্ষার্থীরা জানায়, হল সংসদের সাথে সমন্বয়হীনতা, হল সংসদের স্বাভাবিক কাজে বিঘ্ন ঘটানো, শিক্ষার্থীদের সাথে দুর্ব্যবহার, উন্নয়নমূলক কাজে দীর্ঘসূত্রতা, দীর্ঘ দিন ধরে হলের সিট বণ্টনে অস্বচ্ছতা, শিক্ষার্থীদের সাংবাদিক পরিচয়ে হুমকি এবং জরুরি সংস্কার কাজ থমকে থাকার প্রতিবাদে শিক্ষার্থীরা এই পদক্ষেপ নেন। হল সংসদের নেতাদের অভিযোগ, একাধিকবার মৌখিক ও লিখিত আবেদন জানানো হলেও হল প্রশাসন সমস্যা সমাধানে কার্যকর পদক্ষেপ নেয়নি।
আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, প্রভোস্টের দায়িত্বে অবহেলা এবং শিক্ষার্থীদের তুচ্ছ-তাচ্ছিল্য করেন, কার্ড জমা নিয়ে রাখে, সব সময় নিজ মনমতো কাজ করে, হল সংসদকেও সমন্বয় করেন তিনি। এ ছাড়া প্রশাসনিক কাজে ঢিলেঢালাভাবের কারণে হলের সার্বিক পরিবেশ বসবাসের অনুপযোগী হয়ে পড়েছে। গতকাল মঙ্গলবার সকালে ক্ষুব্ধ শিক্ষার্থীরা হল কার্যালয়ের সামনে জড়ো হয়ে বিক্ষোভ প্রদর্শন করেন এবং একপর্যায়ে প্রভোস্টকে ভেতরে থাকা অবস্থায় প্রধান ফটকে তালা ঝুলিয়ে দেন।
হল সংসদের সাধারণ সম্পাদক (জিএস) বলেন, ‘আমরা শিক্ষার্থীদের প্রতিনিধি তাদের কল্যাণেই আমাদের কাজ করতে হয়, হল প্রভোস্টের বিরুদ্ধে শিক্ষার্থীদের নানা অভিযোগ রয়েছে এগুলো আপনারাও জানেন, শিক্ষার্থীরা উনার পদত্যাগ চায় তাই আমরা তাদের দাবির পরিপ্রেক্ষিতে আজ (মঙ্গলবার) হল প্রভোস্টের রুমে তালা দিয়েছি।’
রাজনীতি বিজ্ঞানের শিক্ষার্থী শাহিন বলেন, ‘প্রভোস্ট শিক্ষার্থীদের সাথে স্বৈরাচারী আচরণ করে আসছিল, এ জন্য শিক্ষার্থীরা তার বিরুদ্ধে আন্দোলন করতেছে। তার পদত্যাগ চাই আমরা।’
ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে আগুন লাগার ঘটনায় আতঙ্কে হুড়োহুড়ি করে নামার সময় পদদলিত হয়ে মৃত্যুর অভিযোগ করেছেন নিহতদের স্বজনরা। তবে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ ও বিভাগীয় কমিশনারের দাবি, আগুনের ঘটনায় কেউ পদদলিত হয়ে মারা যাননি; দুজনের স্বাভাবিক মৃত্যু হয়েছে।
এ ঘটনায় ফুলবাড়ীয়া উপজেলার পল্লিচিকিৎসক শাহজাহান মোল্লা ও সিএনজিচালক রমজান আলী মারা গেছেন। তাদের পরিবারের দাবি, আগুনের ঘটনায় সৃষ্ট আতঙ্ক ও হুড়োহুড়ির কারণেই তাদের মৃত্যু হয়েছে।
শাহজাহান মোল্লার বাড়ি ফুলবাড়ীয়া উপজেলার রাঙামাটিয়া ইউনিয়নের বিষ্ণুরামপুর গ্রামে। গত সোমবার তার মরদেহ সেখানে নেওয়া হলে কান্নায় ভেঙে পড়েন স্বজনরা। পরিবারের সদস্যরা জানান, আগুন লাগার পর শাহজাহানকে কাঁধে করে সিঁড়ি দিয়ে নামানোর সময় পেছন থেকে ধাক্কা দিলে তারা পড়ে যান। পরে মানুষের চাপের মধ্যে পদদলিত হন শাহজাহান।
শাহজাহানের স্ত্রী হারিছা বেগম বলেন, সন্ধ্যায় আগুন লাগার পর তিনি ও তার বড় বোন জাহানারা কাঁধে করে শাহজাহানকে সিঁড়ি দিয়ে নামাচ্ছিলেন। এ সময় পেছন থেকে ধাক্কা দিলে তারা সিঁড়িতে পড়ে যান। এরপর মানুষ তাদের ওপর দিয়ে চলে যায়। তিনি নিজেও আঘাত পেয়ে অচেতন হয়ে পড়েন। পরে জানতে পারেন, শাহজাহান মারা গেছেন।
হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের বক্তব্যের সমালোচনা করে হারিছা বেগম বলেন, কর্তৃপক্ষ মিথ্যা বলছে। তারা ঘটনাটি দেখেনি, তিনি সেখানে ছিলেন।
অন্যদিকে রমজান আলী বেশ কিছুদিন ধরে বুকে ব্যথা নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি ছিলেন। তার স্ত্রী খাদিজা আক্তার বলেন, আগুন লাগার পর আতঙ্কে রমজান সিঁড়ি দিয়ে নামার চেষ্টা করেন। একপর্যায়ে তিনি নিস্তেজ হয়ে পড়ে যান। কয়েকজন তাকে ওপরে নিয়ে গেলে চিকিৎসকরা পরীক্ষা করে মৃত ঘোষণা করেন।
রমজান আলীর স্ত্রী খাদিজা আক্তার জানিয়েছেন, হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি হয়ে অনেকটা সুস্থ হয়ে উঠে। হাসপাতালে আগুন লাগার খবরে আতঙ্কে সিঁড়ি দিয়ে নামার সময় সিঁড়িতেই আমার বুকে মৃত্যু হয় তার।
খাদিজা আক্তারের দাবি, আগুনের ঘটনা না ঘটলে এবং আতঙ্ক সৃষ্টি না হলে তার স্বামী হয়তো বেঁচে যেতেন। পরিবারের একমাত্র উপার্জনক্ষম ব্যক্তিকে হারিয়ে এখন তারা সর্বস্বান্ত।
তার মা বিবি হওয়া জানিয়েছেন, সোমবার বিকালে সর্বশেষ তার সাথে কথা হয়েছে ছেলের। দোয়া চেয়েছে, চিন্তা করতে না করেছে। সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরবে। সেই ছেলে রাতে লাশ হয়ে বাড়ি ফিরছে।
এদিকে আগুনের ঘটনায় আতঙ্কে হুড়োহুড়ি করে নামতে গিয়ে নিহত ফুলবাড়ীয়ার শাহজাহান ও রমজান আলী এবং তারাকান্দার কুলসুম বেগমের দাফন সম্পন্ন হয়েছে।
হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ ও বিভাগীয় কমিশনারের বক্তব্য অনুযায়ী, আগুনের ঘটনায় কেউ পদদলিত হয়ে মারা যাননি। যে দুজনের মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে, তারা স্বাভাবিকভাবে মারা গেছেন।
এ ঘটনায় হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ পাঁচ সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করেছে। কমিটিকে তিন কার্যদিবসের মধ্যে প্রতিবেদন দিতে বলা হয়েছে। তবে লিফট ব্যবস্থাপনায় অবহেলার অভিযোগ ওঠা গণপূর্ত বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলীসহ দুজনকে তদন্ত কমিটিতে রাখায় কমিটির নিরপেক্ষতা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।
বিষয়টি নিশ্চিত করে হাসপাতালের সহকারী পরিচালক মোহাম্মদ মাইনউদ্দিন খান বলেন, কমিটির প্রধান করা হয়েছে হাসপাতালের মেডিসিন বিভাগের প্রধান অধ্যাপক গোলাম রহমান ভূঁইয়াকে। তিনি নিজেই সদস্য সচিবের দায়িত্ব পালন করবেন। এ ছাড়া গণপূর্ত অধিদপ্তরের দুজন এবং ফায়ার সার্ভিসের একজন প্রতিনিধি আছেন।
ডা. মাইন উদ্দিন খান আরও বলেন, এতে তদন্তে কোনো প্রভাব পড়বে না।
মাইনউদ্দিন খান বলেন, লিফটে আগুন লাগার ক্ষেত্রে কোনো গাফিলতি ছিল কি না, তদন্ত কমিটি তা খতিয়ে দেখবে। ঘটনায় কারও গাফিলতি থাকলে তা চিহ্নিত করা হবে। পাশাপাশি প্রয়োজনীয় সুপারিশ করা হবে। তদন্তে অন্য কোনো বিষয় উঠে এলে সেগুলোও বিবেচনায় নেওয়া হবে।
গণপূর্ত বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী অর্ণব বিশ্বাস বলেন, অতিরিক্ত চাপের কারণে লিফটে দুর্ঘটনা ঘটেছে।
এদিকে আগুনের ঘটনার পর ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পরিস্থিতি ধীরে ধীরে স্বাভাবিক হচ্ছে। আতঙ্কে হাসপাতাল ছেড়ে যাওয়া রোগী ও স্বজনরা সকাল থেকে আবার ওয়ার্ডে ফিরতে শুরু করেছেন। তবে আগুনের ভয়াবহতা দেখা রোগী ও স্বজনদের মধ্যে এখনো আতঙ্ক কাটেনি। হুড়োহুড়িতে পদদলিত হয়ে আহত অনেকেই হাসপাতালে চিকিৎসা নিচ্ছেন। গতকাল মঙ্গলবার দুপুরে হাসপাতাল পরিদর্শন করেন ময়মনসিংহ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান মোতাহার হোসেন তালুকদার। তিনি বলেন, তদন্ত কমিটি আগুনের ঘটনার প্রকৃত কারণ বের করবে।
তবে নাগরিক নেতারা অভিযোগ ওঠা ব্যক্তিদের বাদ দিয়ে নিরপেক্ষ তদন্ত কমিটি গঠনের দাবি জানিয়েছেন।
কিশোরগঞ্জের কুলিয়ারচরে পুলিশের হেফাজত থেকে হাতকড়াসহ কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ নেতা রেনু মিয়াকে ছিনিয়ে নেওয়ার ঘটনায় পুলিশ বাদী হয়ে মামলা করেছে। মামলায় ১৫ জনের নাম উল্লেখ করে অজ্ঞাতনামা আরও ২৫ জনকে আসামি করা হয়েছে। এ ঘটনায় কুলিয়ারচর থানার ওসি কাজী আরিফ উদ্দিনকে ক্লোজড করা হয়েছে।
রেনু মিয়া উপজেলার ছয়সূতি ইউনিয়নের ৯ নম্বর ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সভাপতি এবং মাধবদী এলাকার মৃত ইল্লাল মিয়ার ছেলে। বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনে শিক্ষার্থীদের ওপর হামলার অভিযোগে দায়ের করা একটি মামলায় গত সোমবার দুপুরে নিজ বাড়ি থেকে তাকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ।
পুলিশ জানায়, গ্রেপ্তারের পর রেনু মিয়ার হাতে হাতকড়া পরানো হলে তার পরিবারের সদস্য ও স্থানীয় লোকজন ঘটনাস্থলে জড়ো হন। একপর্যায়ে তারা পুলিশকে ঘেরাও করে ধস্তাধস্তির মাধ্যমে তাকে ছিনিয়ে নেন। এ সময় উপপরিদর্শক (এসআই) শরাফিন মিয়া, কনস্টেবল বাবলু মিয়া ও কনস্টেবল সোহেল রানা আহত হন। পরে তারা কুলিয়ারচর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসা নেন।
ঘটনার পর একাধিক দল নিয়ে অভিযান চালিয়ে গত সোমবার রাত ১০টার দিকে মাধবদী এলাকা থেকেই রেনু মিয়াকে হাতকড়াসহ পুনরায় গ্রেপ্তার করা হয়।এ ঘটনায় পুলিশের কাজে বাধা, হামলা ও গ্রেপ্তারকৃত আসামিকে ছিনিয়ে নেওয়ার অভিযোগে এসআই শরাফিন মিয়া বাদী হয়ে মামলা করেন। রেনু মিয়াকে আটকের পর তার পরিবারের সদস্য ও আত্মীয়স্বজনসহ সাত নারীকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য থানায় নেওয়া হয়। তাদের মধ্যে চারজনকে মামলায় আসামি করে আদালতে পাঠানো হয়েছে। বাকি তিনজনের বিরুদ্ধে ঘটনার সঙ্গে সম্পৃক্ততার প্রমাণ না পাওয়ায় মুচলেকায় ছেড়ে দেওয়া হয়েছে।
ভৈরব সার্কেলের সহকারী পুলিশ সুপার আবু মুসা শেখ বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, ‘মব সৃষ্টি করে আসামি ছিনিয়ে নেওয়ার ঘটনায় মামলা হয়েছে। জড়িতদের গ্রেপ্তারে পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।’ তিনি আরও বলেন, ‘ঘটনার পরপরই প্রশাসনিক কারণে কুলিয়ারচর থানার ওসিকে ক্লোজড করা হয়েছে।’
কুমিল্লার নাঙ্গলকোট ও মনোহরগঞ্জে পৃথক দুটি হত্যাকাণ্ডের রহস্য উদঘাটনের পাশাপাশি ‘সিরিয়াল কিলার’ হিসেবে পরিচিত আব্দুল ওয়াদুদ ওরফে মানিককে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
গ্রেপ্তার মানিকের বয়স ২৫ বছর। তিনি মনোহরগঞ্জ উপজেলার নাথেরপেটুয়া ইউনিয়নের গনিপুর গ্রামের আমিনুল ইসলাম ওরফে দুলালের ছেলে। গতকাল মঙ্গলবার বেলা ১১টায় কুমিল্লা জেলা পুলিশ সুপারের কার্যালয়ের মিলনায়তনে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান অতিরিক্ত পুলিশ সুপার লুৎফুর রহমান।
পুলিশ জানায়, গত ১২ আগস্ট নাঙ্গলকোট থানার আটিয়াবাড়ি এলাকায় একটি অর্ধগলিত মরদেহ উদ্ধার করা হয়। পরে মরদেহের পরিচয় শনাক্ত করে জানা যায়, নিহত ব্যক্তি ১৮ বছর বয়সি মো. মেহেদী। তিনি অটোরিকশাচালক ছিলেন।
এ ঘটনায় নাঙ্গলকোট থানা-পুলিশ ও জেলা গোয়েন্দা শাখা তদন্তে নামে। আধুনিক তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় আব্দুল ওয়াদুদ ওরফে মানিক, শাহেদ, ফাহিম ও সেলিমকে গ্রেপ্তার করা হয়। পুলিশের দাবি, জিজ্ঞাসাবাদে তারা মেহেদীকে হত্যা ও তার অটোরিকশা ছিনতাইয়ের কথা স্বীকার করেন। এ ঘটনায় মানিক আদালতে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন।
এরপর গত ২৪ আগস্ট নাঙ্গলকোটে অটোরিকশাচালক মো. আরমান হোসেন (১৫) নিখোঁজ হন। তার ব্যবহৃত মোবাইল ফোনের সূত্র ধরে তদন্ত শুরু করে পুলিশ। পরে একটি অটোরিকশা কাটা অবস্থায় উদ্ধার করা হয়। এ ঘটনায় মো. জোবায়ের হোসেন সুজন, নূর আলম ও মো. গিয়াস উদ্দিনকে গ্রেপ্তার করা হয়।
পুলিশের দাবি, জিজ্ঞাসাবাদে গ্রেপ্তাররা আরমানকে অপহরণ করে হত্যার তথ্য দেন। পরে মানিককে গ্রেপ্তার করে জিজ্ঞাসাবাদ করা হলে তিনিও আরমানকে হত্যার কথা স্বীকার করেন। তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে মনোহরগঞ্জ উপজেলার বিনয়ঘর এলাকার একটি পুকুর থেকে আরমানের মরদেহ উদ্ধার করা হয়।
পুলিশ জানায়, দুটি হত্যাকাণ্ডের পেছনেই অটোরিকশা ছিনতাই ছিল মূল উদ্দেশ্য। পুলিশ আরও জানায়, ২০২৪ সালের ২ সেপ্টেম্বর অটোরিকশা ছিনতাইয়ের উদ্দেশে শাহজাহান ওরফে সাইমন (১৭) নামে এক কিশোরকে শ্বাসরোধে হত্যা করেন মানিক। ওই হত্যা মামলাটিও বর্তমানে আদালতে বিচারাধীন রয়েছে।
বর্ষা মৌসুমের আগে থেকে অতিবৃষ্টির কারণে খুলনায় ডেঙ্গু ছড়িয়ে পড়ে। প্রতিদিন গড়ে ২০০ রোগী জেলার বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি হচ্ছে। আর সেপ্টেম্বর ও অক্টোবর মাস খুলনায় ডেঙ্গুর জন্য অধিকতর ঝুঁকিপূর্ণ। মহানগরীর ১০টি ওয়ার্ড, রূপসা ও পাইকগাছা উপজেলাকে লাল তালিকাভুক্ত করা হয়েছে।
জনস্বাস্থ্যবিদরা মন্তব্য করেছেন গত আড়াই দশকে বিজ্ঞানসম্মতভাবে মশা নিয়ন্ত্রণ না করায় ডেঙ্গুর প্রকোপ প্রতি বছর বাড়ছে। আক্রান্তদের মধ্যে ৬২ ভাগ পুরুষ এবং ৩৮ ভাগ নারী। মৃত্যুর তালিকায় দেশের মধ্যে খুলনা বিভাগ শীর্ষে রয়েছে।
এদিকে সরকারি হিসাব মতে খুলনায় ডেঙ্গু রোগীর সংখ্যা ১০ হাজারের কাছাকাছি চলে গেছে। তবে প্রকৃতপক্ষে আক্রান্ত ও মৃতের সংখ্যা আরও বেশি। গত ২৪ ঘণ্টায় বিভাগে নতুন করে ২৯০ জন ডেঙ্গু রোগী হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। এর মধ্যে ৩ জনের মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে। এদিকে মশক নিধনে নতুন ক্রয়কৃত ওষুধে ১৫ শতাংশ মশার লার্ভাও না মরায় ওই ওষুধ ফেরত পাঠিয়েছে খুলনা সিটি করপোরেশন। পাশাপাশি নতুন ওষুধ কেনার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
খুলনা বিভাগীয় স্বাস্থ্য পরিচালক ডা. শেখ মো. মোশাররফ হোসেন জানান, গত ২৪ ঘণ্টায় বিভাগে নতুন করে ২৯০ জন ডেঙ্গু রোগী হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন, যার মধ্যে সরকারি হাসপাতালে ২১৭ জন এবং বেসরকারি হাসপাতালে ৭৩ জন চিকিৎসা নিতে ভর্তি হন।
এ ছাড়া গত ২৪ ঘণ্টায় বিভাগে নতুন করে ৩ জনের মৃত্যুর তথ্য পাওয়া গেছে এবং ফলে চলতি বছরে খুলনায় মোট মৃত্যুর সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৩৩ জনে।
তিনি জানান, চলতি বছরের ১ জানুয়ারি থেকে এখন পর্যন্ত খুলনা বিভাগে মোট ডেঙ্গু আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা ৯ হাজার ৩৯৯ জনে দাঁড়িয়েছে। এর মধ্যে সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছেন ৮ হাজার ৮১ জন এবং বর্তমানে বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন ১ হাজার ৬০ জন রোগী। এ ছাড়া উন্নত চিকিৎসার জন্য বিভিন্ন জেলা থেকে মোট ২২৫ জনকে অন্যত্র রেফার্ড করা হয়েছে।
এদিকে খুলনা সিটি করপোরেশনে (কেসিসি) মশক নিধনের জন্য আনা ওষুধ পরীক্ষামূলক প্রয়োগে ১৫ শতাংশ মশার লার্ভাও মরেনি। কাজেই সেই ওষুধ ফেরত পাঠানো হয়েছে।
কেসিসি থেকে জানা গেছে, খুলনা মহানগরীতে ডেঙ্গু পরিস্থিতি বিপদজনক পর্যায়ে পৌঁছে যাওয়ায় মশক নিধন কর্মসূচি জোরদার করে কেসিসি। গত ১ সেপ্টেম্বর থেকে মশার লার্ভা নিধনের জন্য নতুন করে ১৫৫ জন শ্রমিক নিয়োগ করা হয়েছে। নগরীর প্রতিটি ওয়ার্ডে ৫ জনকে করে শ্রমিক প্রতিদিন ড্রেন, বদ্ধ জলাশয়সহ প্রয়োজনীয় স্থানে মশার লার্ভা নিধনে কাজ করছে।
এ ছাড়া কেসিসির বর্জ্য ব্যবস্থাপনা বিভাগের শ্রমিকরা ৩১টি ওয়ার্ডে একযোগে ফগার মেশিন দিয়ে উড়ন্ত মশা নিধন এবং ওয়াসার ম্যানহোলে লাইট ডিজেল অয়েল বা কালো তেল ছেটাচ্ছে। প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনা অনুযায়ী প্রতি শনিবার পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন অভিযানের উদ্বোধন করা হয়েছে।
সূত্রটি জানায়, আগামী সপ্তাহে এই কার্যক্রম আরও জোরদারের পরিকল্পনা সাজানো হচ্ছে। এ অবস্থায় মশক নিধনের জন্য তিন হাজার লিটার অ্যাডাল্টি সাইট এবং দুই হাজার লিটার লার্ভি সাইট ওষুধ কেনা হয়।
কেসিসির ওই সূত্রটি আরও জানায়, গত শনিবার কীটতত্ত্ববিদ, সাংবাদিক ও নাগরিক সমাজের প্রতিনিধিদের সামনে মশার ওষুধের মান পরীক্ষা করেন কেসিসি প্রশাসক নজরুল ইসলাম মঞ্জু। ওইদিন একটি পাত্রে মশার লার্ভার ওপর ওষুধ প্রয়োগ করে বদ্ধ ঘরে ৪৮ ঘণ্টা রাখা হয়।
একই সঙ্গে নতুন কেনা ওষুধ পরীক্ষার জন্য দেশের খ্যাতনামা তিনটি পরীক্ষাগারে পাঠানো হয়। গত সোমবার দুপুরে সেই পাত্র পরীক্ষা করে দেখা যায়, ১৫ শতাংশ লার্ভা মারা যায়নি।
ফলে মান যাচাইয়ের প্রাথমিক পরীক্ষায় ফেল করেছে খুলনা সিটি করপোরেশনে (কেসিসি) মশক নিধনের জন্য আনা ওষুধ। পরীক্ষামূলক প্রয়োগে নতুন ওষুধে ১৫ শতাংশ মশার লার্ভাও মরেনি।
ফলে তাৎক্ষণিতভাবে ওই ওষুধ ফেরত পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছেন কেসিসি প্রশাসক নজরুল ইসলাম মঞ্জু। পাশাপাশি কীটতত্ত্ববিদদের সহযোগিতা নিয়ে দ্রুত নতুন ওষুধ কেনার নির্দেশ দিয়েছেন তিনি।
জানতে চাইলে কেসিসি প্রশাসক বলেন, ‘২৪ থেকে ৭২ ঘণ্টার মধ্যে বেশিরভাগ লার্ভা মারা যাওয়ার কথা। কিন্তু ৪৮ ঘণ্টা পর ১৫ শতাংশ লার্ভা মরেনি। ওই ওষুধের চালান ফেরত পাঠানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।’
একই সঙ্গে কীটতত্ত্ববিদদেরও সহযোগিতায় জরুরিভিত্তিতে কীভাবে আরও ভালো ওষুধ কেনা যায় এ জন্য কর্মকর্তাদের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে বলে জানান প্রশাসক মঞ্জু।
সংরক্ষিত মহিলা আসনের সংসদ সদস্য ফরিদা ইয়াসমিনকে নিয়ে কটূক্তির অভিযোগ তুলে কুষ্টিয়া-৩ (সদর) আসনের সংসদ সদস্য মুফতি আমীর হামজার বিরুদ্ধে ঝাড়ু মিছিল করেছেন জাতীয়তাবাদী মহিলা দলের নেতা-কর্মীরা।
মঙ্গলবার (১৫ সেপ্টেম্বর) দুপুর ১টার দিকে কুষ্টিয়া শহরে এ মিছিল অনুষ্ঠিত হয়। মিছিলটি শহরের পাবলিক লাইব্রেরি প্রাঙ্গণ থেকে শুরু হয়ে বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সড়ক প্রদক্ষিণ করে পাঁচ রাস্তার মোড়ের শহীদ চত্বরে গিয়ে শেষ হয়।
মিছিল শেষে সেখানে সংক্ষিপ্ত সমাবেশ করেন মহিলা দলের নেতা-কর্মীরা। সমাবেশে বক্তারা মুফতি আমীর হামজার কথিত বক্তব্যের প্রতিবাদ জানান এবং তার বিরুদ্ধে বিভিন্ন স্লোগান দেন। একই সঙ্গে বিষয়টি নিয়ে রাজনৈতিক ও সাংগঠনিকভাবে প্রতিবাদ অব্যাহত রাখার ঘোষণা দেন তারা।
সমাবেশে মহিলা দলের নেত্রীরা বলেন, একজন নারী সংসদ সদস্যকে নিয়ে কটূক্তি করা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। রাজনৈতিক মতপার্থক্য থাকতে পারে, কিন্তু কোনো নারী জনপ্রতিনিধিকে অসম্মান করে বক্তব্য দেওয়ার অধিকার কারও নেই। তারা এ ধরনের বক্তব্যের তীব্র নিন্দা জানান এবং সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির বিরুদ্ধে যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি করেন।
বক্তারা বলেন, নারীর মর্যাদা ও অধিকার রক্ষায় রাজনৈতিক দলগুলোর পাশাপাশি সমাজের সবাইকে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে। জনপ্রতিনিধিদেরও বক্তব্য দেওয়ার ক্ষেত্রে আরও সতর্ক ও সংযত হওয়া প্রয়োজন। কোনো বক্তব্যে নারী সমাজের মর্যাদা ক্ষুণ্ন হলে তার বিরুদ্ধে প্রতিবাদ অব্যাহত থাকবে।
মিছিল চলাকালে মহিলা দলের নেতা-কর্মীরা বিভিন্ন স্লোগান দেন। হাতে ঝাড়ু নিয়ে তারা শহরের গুরুত্বপূর্ণ সড়ক প্রদক্ষিণ করেন। পরে পাঁচ রাস্তার মোড়ের শহীদ চত্বরে গিয়ে কর্মসূচি শেষ করেন।
ঝাড়ু মিছিলে কুষ্টিয়া শহর মহিলা দলের সভানেত্রী শিল্পীসহ সংগঠনটির বিভিন্ন পর্যায়ের নেতা-কর্মীরা অংশ নেন।
তবে সংসদ সদস্য মুফতি আমীর হামজার কথিত বক্তব্যের বিষয়ে তার বক্তব্য বা ব্যাখ্যা তাৎক্ষণিকভাবে পাওয়া যায়নি।
রাষ্ট্রপতি হিসেবে দায়িত্বভার গ্রহণের পর প্রথমবারের মতো দিনব্যাপী সরকারি সফরে মঙ্গলবার পুণ্যভূমি সিলেটে পৌঁছেছেন মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। রাষ্ট্রপ্রধানের এই প্রথম আগমনকে কেন্দ্র করে তাঁকে উষ্ণ অভ্যর্থনা ও রাজসিক সংবর্ধনা জানাতে যাবতীয় প্রস্তুতি সম্পন্ন করেছে স্থানীয় প্রশাসন ও সিলেট মহানগর বিএনপি। বিমানবন্দর থেকে সার্কিট হাউস এবং মাজার প্রাঙ্গণ পর্যন্ত সিলেট নগরীর গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টগুলোতে সুশৃঙ্খলভাবে অবস্থান নিয়ে রাষ্ট্রপতিকে স্বাগত জানানোর প্রস্তুতি সম্পন্ন করা হয়েছে।
সিলেট মহানগর বিএনপির সভাপতি নাসিম হোসাইন ও সাধারণ সম্পাদক ইমদাদ হোসেন চৌধুরীর নির্দেশনায় ওয়ার্ড পর্যায়ের নেতাকর্মীসহ অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের সদস্যরা এই অভ্যর্থনা কার্যক্রমে অংশ নিচ্ছেন। গণমাধ্যম-কে দেওয়া বক্তব্যে নাসিম হোসাইন জানান, সিলেটের সাধারণ জনগণের অংশ হিসেবে চৌকিদেখী পয়েন্ট, আম্বরখানা পয়েন্ট, দরগাহ গেইট, চৌহাট্টা পয়েন্ট, জিন্দাবাজার পয়েন্ট, টিলাগড় পয়েন্ট এবং শাহপরান পয়েন্টে অবস্থান নিয়ে নেতাকর্মীরা রাষ্ট্রপতিকে অভিবাদন জানাচ্ছেন।
রাষ্ট্রপতির কার্যালয়ের নির্ধারিত সফরসূচি অনুসারে, সকাল সোয়া ১১টায় সিলেট ওসমানী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবতরণের পর বেলা ১১টা ৫০ মিনিটে সার্কিট হাউসে পৌঁছালে রাষ্ট্রপতিকে গার্ড অব অনার প্রদান করা হয়। এরপর দুপুর সাড়ে ১২টায় তিনি হযরত শাহজালাল (রহ.)-এর মাজার এবং দুপুর ১টা ২৫ মিনিটে হযরত শাহপরাণ (রহ.)-এর মাজার জিয়ারত সম্পন্ন করবেন। মধ্যাহ্নবিরতির পর বিকেল সাড়ে ৩টায় সিলেট সিটি করপোরেশনের উদ্যোগে নগর ভবনের সম্মুখভাগে আয়োজিত এক নাগরিক সংবর্ধনায় প্রধান অতিথি হিসেবে অংশ নেবেন তিনি। দিনব্যাপী সফরের নানা আনুষ্ঠানিকতা শেষে রাত ৮টায় ওসমানী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে রাষ্ট্রপতির ঢাকার উদ্দেশে রওনা দেওয়ার কথা রয়েছে।
ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে সংঘটিত অগ্নিকাণ্ডের কারণ উদ্ঘাটন এবং সম্ভাব্য গাফিলতি খতিয়ে দেখতে পাঁচ সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করেছে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ। মঙ্গলবার সকালে গঠিত এই কমিটিকে পরবর্তী তিন কার্যদিবসের মধ্যে বিস্তারিত তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের সময়সীমা বেঁধে দেওয়া হয়েছে।
হাসপাতালের সহকারী পরিচালক (প্রশাসন) মোহাম্মদ মাইনউদ্দিন খান নিশ্চিত করেছেন যে, মেডিসিন বিভাগের বিভাগীয় প্রধান অধ্যাপক গোলাম রহমান ভূঁইয়াকে সভাপতি এবং তাঁকে সদস্যসচিব করে এই কমিটি গঠন করা হয়েছে। পাঁচ সদস্যের এই কমিটিতে গণপূর্ত অধিদপ্তরের দুজন প্রকৌশলী এবং ফায়ার সার্ভিসের একজন প্রতিনিধিকে সদস্য হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। তদন্ত কমিটি মূলত আগুনের প্রকৃত উৎস, লিফটের যান্ত্রিক ত্রুটি কিংবা বৈদ্যুতিক শর্টসার্কিটজনিত কারণ অনুসন্ধানের পাশাপাশি দায়িত্বপ্রাপ্তদের কোনো অবহেলা ছিল কি না তা চিহ্নিত করে ভবিষ্যৎ সুরক্ষায় প্রয়োজনীয় সুপারিশ প্রদান করবে।
এদিকে অগ্নিকাণ্ড-পরবর্তী হতাহতের সংখ্যা নিয়ে ময়মনসিংহের বিভাগীয় কমিশনার এস এম হুমায়ুন কবির সরকার বিভ্রান্তি দূর করে জানান, ঘটনাকে কেন্দ্র করে পদদলিত হয়ে ছয়জন নিহতের যে খবর ছড়িয়েছিল তা সঠিক নয়। প্রাথমিক যাচাইয়ে মৃতদের তালিকায় থাকা একজনকে জীবিত পাওয়া গেছে এবং অপর দুজন হাসপাতালে আনার পূর্বেই স্বাভাবিক অসুস্থতাজনিত কারণে মারা গিয়েছিলেন। ফায়ার সার্ভিসের পক্ষ থেকেও পদদলিত হয়ে মৃত্যুর বিষয়টি নাকচ করা হয়েছে। তবে আতঙ্কে হুড়োহুড়ির সময় বেশ কয়েকজন আহত হন, যাঁদের মধ্যে ফুলবাড়িয়ার জাহানারা (৫০) নামের এক নারী বর্তমানে চিকিৎসাধীন। এ ছাড়া ফুলবাড়িয়ার শাহজাহান (৪০) ও তারাকান্দার কুলসুমা (৩৫) নামের দুজনের পরিবার দাবি করেছে যে হুড়োহুড়ির কারণেই তাঁদের মৃত্যু হয়েছে।
উল্লেখ্য, গত সোমবার সন্ধ্যায় হাসপাতালের নতুন ভবনের বহির্বিভাগে আকস্মিক এই অগ্নিকাণ্ডের সূত্রপাত ঘটে এবং নিমিষেই ভবনের বিভিন্ন তলায় বিষাক্ত ধোঁয়া ছড়িয়ে পড়ে চরম আতঙ্ক সৃষ্টি হয়। পরবর্তীতে ফায়ার সার্ভিসের পাঁচটি স্টেশনের ১০টি ইউনিট দ্রুত ঘটনাস্থলে এসে সমন্বিত প্রচেষ্টার মাধ্যমে সন্ধ্যা সাড়ে ৬টার দিকে আগুন সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণে নিয়ে আসে।
কিশোরগঞ্জের কুলিয়ারচরে পুলিশের হাতকড়া পরা অবস্থায় পালিয়ে যাওয়া কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ নেতা মো. রেনু মিয়াকে ৯ ঘণ্টার মধ্যে পুনরায় গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
সোমবার (১৪ সেপ্টেম্বর) রাত ১০টার দিকে উপজেলার ছয়সূতি ইউনিয়নের মাধবদী এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।
গ্রেপ্তার রেনু মিয়া মাধবদী এলাকার ইল্লাত মিয়ার ছেলে। তিনি ছয়সূতি ইউনিয়নের ৯ নম্বর ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সভাপতি বলে জানা গেছে।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনের সময় শিক্ষার্থীদের ওপর হামলার অভিযোগে কুলিয়ারচর থানায় রেনু মিয়ার বিরুদ্ধে একটি মামলা রয়েছে। মামলার পর থেকেই তিনি পলাতক ছিলেন।
সোমবার দুপুরে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে নিজ বাড়িতে অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। এ সময় খবর পেয়ে বাড়ির আশপাশে স্থানীয় লোকজন জড়ো হন। তবে কোনো ধরনের হট্টগোল হয়নি বলে জানিয়েছে পুলিশ। একপর্যায়ে লোকজনের ভিড়ের সুযোগ নিয়ে হাতকড়া পরা অবস্থায় পুলিশকে ফাঁকি দিয়ে পালিয়ে যান রেনু মিয়া। পরে তাকে ধরতে অভিযান শুরু করে পুলিশ।
কুলিয়ারচর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) কাজী আরিফ উদ্দিন বলেন, “রেনু মিয়াকে পুনরায় গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তার বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।”
সদর উপজেলার বিএম ইউনিয়ন ভূমি অফিসে দীর্ঘদিন ধরে নামজারি ও হোল্ডিংয়ের আবেদন পেন্ডিং থাকায় দুই ভূমি কর্মকর্তাকে কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়া হয়েছে। সোমবার সকাল ৯টার দিকে আকস্মিক পরিদর্শনে গিয়ে এ আবেদন দীর্ঘদিন ধরে নিষ্পত্তি না হওয়ার বিষয়টি দেখতে পান বরিশালের অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) মো. ওবায়দুল্লাহ।
পরিদর্শনকালে অফিসের নথিপত্র ও চলমান কার্যক্রম পর্যালোচনা করে দেখা যায়, ৩১টি নামজারি আবেদন ৩০ দিনের বেশি সময় ধরে পেন্ডিং রয়েছে। একই সঙ্গে ১১টি হোল্ডিং আবেদনেরও নিষ্পত্তি হয়নি। দীর্ঘদিন ধরে এসব আবেদন ঝুলে থাকায় সেবা নিতে আসা সাধারণ মানুষ ভোগান্তিতে পড়ছেন বলে প্রশাসনের পক্ষ থেকে উল্লেখ করা হয়েছে।
এ ঘটনায় বিএম ইউনিয়ন ভূমি অফিসের ইউনিয়ন ভূমি উপসহকারী কর্মকর্তা শিপন ভাবুক এবং ইউনিয়ন ভূমি সহকারী কর্মকর্তা মোহাম্মদ রফিকুল ইসলামকে কারণ দর্শানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
নোটিশে উল্লেখ করা হয়েছে, দীর্ঘ সময় ধরে আবেদন নিষ্পত্তি না করা জনসাধারণের ভোগান্তির কারণ হচ্ছে এবং এতে সরকারের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ণ হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হচ্ছে। সরকারি দায়িত্ব যথাযথভাবে পালন না করার বিষয়টি কেন দায়িত্বে অবহেলা হিসেবে গণ্য করা হবে না—সেই বিষয়ে তাদের কাছে ব্যাখ্যা চাওয়া হয়েছে।
সরকারি কর্মচারী (শৃঙ্খলা ও আপিল) বিধিমালা অনুযায়ী তাদের বিরুদ্ধে কেন বিভাগীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে না, সেই বিষয়ে নোটিশ পাওয়ার পরবর্তী তিন কার্যদিবসের মধ্যে লিখিত জবাব দিতে বলা হয়েছে।
প্রশাসনের এমন আকস্মিক পরিদর্শনের ফলে ভূমি অফিসগুলোতে সেবার মান বাড়বে এবং দীর্ঘদিন ধরে পড়ে থাকা আবেদন দ্রুত নিষ্পত্তির মাধ্যমে সাধারণ মানুষের ভোগান্তি কমবে বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন।
জেলা প্রশাসক মো. মামুন খন্দকার বলেছেন, ‘ভূমি সেবার সঙ্গে সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন প্রয়োজন ও অধিকার জড়িত। কোনো আবেদন অযৌক্তিকভাবে দীর্ঘদিন পেন্ডিং রাখা হবে না। জনগণকে হয়রানি না করে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে নামজারি ও হোল্ডিংসহ সব সেবা নিশ্চিত করতে হবে। দায়িত্বে অবহেলা, কর্মবিমুখতা কিংবা জনভোগান্তি সৃষ্টি হলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে বিধি অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। একই সঙ্গে দ্রুত সেবা প্রদান ও স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে জেলা প্রশাসনের তদারকি কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে।’
জেলার নকলা উপজেলায় গতকাল সোমবার সার ডিলারদের গোডাউন ও সার বিক্রয় কার্যক্রম মনিটরিং করেছেন জেলা প্রশাসক ফরিদা ইয়াসমিন। সোমবার দুপুরে জেলা প্রশাসক নকলা উপজেলার বিভিন্ন সার ডিলারের গোডাউন এবং বিক্রয় কার্যক্রম পরিদর্শন করেন।
মনিটরিংকালে সার ডিলারদের সরকারি নির্দেশনা অনুযায়ী সার সংরক্ষণ ও ন্যায্যমূল্যে কৃষকদের কাছে বিক্রয়ের বিষয়ে গুরুত্বারোপ করা হয়। পাশাপাশি সার সরবরাহ ও বিক্রয় ব্যবস্থাপনায় স্বচ্ছতা বজায় রাখার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়।
এ সময় নকলা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. জাহাঙ্গীর আলম, উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) সাদিয়া আফরিন এ্যানি, উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা আব্দুল ওয়াদুদ, নকলা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রিপন চন্দ্র গোপ, জেলা সার ও বীজ মনিটরিং কমিটির সদস্য দেলোয়ার হোসেন সাঈদী, জেলা বিএনপির সাবেক যুগ্ম আহ্বায়ক আবু রায়হান রুপন, নকলা উপজেলা কৃষক দলের আহ্বায়ক রফিকুল ইসলাম, পৌর কৃষক দলের আহ্বায়ক মনিরুল ইসলাম প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।
কৈশোরের দুরন্তপনা ও কৌতূহল থেকে একসঙ্গে ঢাকার উদ্দেশে রওনা দেওয়া পাঁচ শিশুকে রাজবাড়ীর গোয়ালন্দ উপজেলার দৌলতদিয়া বাসস্ট্যান্ড থেকে উদ্ধার করেছে গোয়ালন্দ ঘাট থানার পুলিশ। পরে অভিভাবকদের থানায় ডেকে এনে শিশুদের তাদের পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। গতকাল সোমবার দুপুর ২টার দিকে দৌলতদিয়া বাসস্ট্যান্ড এলাকা থেকে ১০ থেকে ১৩ বছর বয়সি ওই পাঁচ শিশুকে উদ্ধার করা হয়।
উদ্ধার হওয়া শিশুরা হলো—মাগুরা সদর উপজেলার কাদিরাবাদ এলাকার আনোয়ার ও বিউটি দম্পতির ছেলে মো. হিরোন (১১), সাগর বিশ্বাস ও রোজিনা বেগমের ছেলে জিসান (১৩), নাজমুল ও আঙ্গুরার ছেলে আবুজার (১৩), মো. তরিকুল ইসলাম টিয়া ও মোছা. লতিফা বেগমের ছেলে মো. আব্দুল্লাহ (১৩) এবং আলমগীর বিশ্বাস ও নাজমা বেগমের ছেলে খালিদ বিশ্বাস (১০)।
পুলিশ ও শিশুদের পরিবারের সূত্রে জানা যায়, পাঁচ শিশু পরস্পরের বন্ধু। তারা একসঙ্গে খেলাধুলা করত। গতকাল সোমবার সকালে হঠাৎ কৌতূহলবশত কাউকে না জানিয়ে ঢাকার উদ্দেশে বাড়ি থেকে বেরিয়ে পড়ে। পরে একটি ইজিবাইক ভাড়া করে মাগুরা সদর থানা এলাকার কাদিরাবাদ থেকে রওনা দেয় তারা। ইজিবাইকে করে দুপুর ২টার দিকে দৌলতদিয়া বাসস্ট্যান্ডে এসে পৌঁছায়।
এদিকে সন্তানদের বাড়িতে না পেয়ে তাদের অভিভাবকরা বিভিন্ন স্থানে খোঁজাখুঁজি শুরু করেন। দীর্ঘ সময় সন্তানদের সন্ধান না পেয়ে তারা উদ্বিগ্ন ও আতঙ্কিত হয়ে পড়েন।
দৌলতদিয়া বাসস্ট্যান্ডে উদ্দেশ্যহীনভাবে ঘোরাফেরা করতে দেখে গোয়ালন্দ ঘাট থানার টহল পুলিশের সদস্যরা পাঁচ শিশুর সঙ্গে কথা বলেন। একপর্যায়ে পুলিশ তাদের বাড়ি, পরিচয় ও সেখানে আসার কারণ জানতে পারে। শিশুদের কথাবার্তা থেকে বিষয়টি নিশ্চিত হওয়ার পর পুলিশ তাদের অভিভাবকদের সঙ্গে যোগাযোগ করে।
খবর পেয়ে পাঁচ শিশুর বাবা-মা ও অভিভাবকরা গোয়ালন্দ ঘাট থানায় ছুটে আসেন। দীর্ঘ সময় পর সন্তানদের ফিরে পেয়ে সেখানে এক আবেগঘন পরিবেশের সৃষ্টি হয়। পরে প্রয়োজনীয় যাচাই-বাছাই শেষে পুলিশ শিশুদের তাদের বাবা-মায়ের কাছে বুঝিয়ে দেয়।
গোয়ালন্দ ঘাট থানার ওসি সফিকুল ইসলাম বলেন, ‘পাঁচ শিশু একসঙ্গে খেলাধুলা করত। কৌতূহল ও দুরন্তপনার বশে তারা পরিবারের কাউকে না জানিয়ে ঢাকার উদ্দেশে মাগুরা থেকে বেরিয়ে পড়ে। দৌলতদিয়া বাসস্ট্যান্ডে উদ্দেশ্যহীনভাবে ঘোরাফেরা করার সময় টহল পুলিশের সদস্যরা তাদের উদ্ধার করেন। পরে অভিভাবকদের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তারা থানায় এসে শিশুদের নিয়ে যান।’ সন্তানদের বিষয়ে অভিভাবকদের আরও সচেতন থাকার পাশাপাশি শিশুদের একা কোথাও যেতে না দেওয়ার জন্যও পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
মাদারীপুরের শিবচরে বর্তমান সরকারের বিভিন্ন সহায়তা কর্মসূচির অংশ হিসেবে শিবচর উপজেলার বিভিন্ন এলাকার একশ প্রতিবন্ধীর মাঝে ১০০ হুইলচেয়ার এবং ২৭টি অসহায় পরিবারের মধ্যে ২ বান করে ঢেউটিন বিতরণ করা হয়েছে।
সোমবার দুপুরে উপজেলার পদ্মা অডিটোরিয়ামে আয়োজিত অনুষ্ঠানে এসব সহায়তা বিতরণ করা হয়। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) এইচ,এম ইবনে মিজানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে মাদারীপুর জেলা প্রশাসক মিজ্ মর্জিনা আক্তার উপস্থিত থেকে উল্লেখিত প্রতিবন্ধী ও অসহায়দের মাঝে সরকারি উক্ত সহায়তা তুলে দেন।
হুইলচেয়ার হাতে পেয়ে প্রতিবন্ধীদের অনেকেই আবেগাপ্লুত ও খুশিতে আত্মহারা হয়ে পড়েন। দীর্ঘদিন ধরে চলাচলে কষ্ট পাওয়া এসব মানুষেরা হুইলচেয়ার পেয়ে স্বস্তি প্রকাশ করেন। একইভাবে ঘর নির্মাণ ও সংস্কারের জন্য দুই বান করে ঢেউটিন পেয়ে ২৭টি অসহায় পরিবারের সদস্যদের মাঝেও আনন্দ দেখা যায়। তারা বলেন, ‘সরকারের এ ধরনের সহায়তা শুধু প্রয়োজনই মেটায় না বরং তাদের মধ্যে নতুন করে বাঁচার আশাও তৈরি করে। বিশেষ করে চলাচলে অক্ষম ব্যক্তিদের জন্য একটি হুইলচেয়ার তাদের দৈনন্দিন জীবনকে অনেক সহজ করে তুলবে।’
সরকারের এমন মানবিক ও জনকল্যাণমূলক উদ্যোগের প্রশংসা করে উপস্থিত গণ্যমান্য ব্যক্তি, রাজনৈতিক নেতা, সুশীল সমাজের প্রতিনিধি ও স্থানীয়রা বলেন, ‘সমাজের পিছিয়ে পড়া মানুষদের স্বাবলম্বী ও স্বাভাবিক জীবনযাপনে সহায়তা করতে এই ধরনের কার্যক্রম অব্যাহত রাখা প্রয়োজন। অনুষ্ঠানে জেলা ও শিবচর উপজেলার সরকারি কর্মকর্তা, স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, গণমাধ্যমকর্মীসহ সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন।