রাজধানীর যাত্রাবাড়ী থেকে ডাকাতির প্রস্তুতির সময় ছয় ভুয়া ডিবি পুলিশকে গ্রেপ্তার করেছে র্যাব।
গতকাল সোমবার ধলপুর কমিউনিটি সেন্টার এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাদেরকে গ্রেপ্তার করা হয়।
গ্রেপ্তারকৃতরা হলো- সবুজ খাঁন (৪৬), মিন্টু পাটোয়ারী (৪০), রাসেল মোল্লা (৪৫), ইকবাল মিয়া (৩৯), মনিরুল ইসলাম (৪০) ও খোকন মিয়া (৪৫)।
অভিযানে তাদের কাছ থেকে ৩ টি ভুয়া ডিবি পুলিশের জ্যাকেট, ২ টি ওয়াকিটকি সেট, ১ টি হাতকড়া, ১ টি খেলনা পিস্তল, ১টি হ্যান্ড ফ্লাশ লাইট, ১টি পুলিশ মনোগ্রাম সম্বলিত স্টিকার, ৭ টি মোবাইল ফোন ও ১০ হাজার ৯৫০ টাকা জব্দ করা হয়।
আজ মঙ্গলবার দুপুরে রাজধানীর কারওয়ান বাজারে র্যাবের মিডিয়া সেন্টারে এক সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, ডিবি পুলিশ পরিচয়ে ডাকাতি করা এ চক্রের মূলহোতা সবুজ। এই চক্র মূলত ব্যাংক থেকে টাকা উত্তোলনকারী ও টাকা বহনকারী ব্যক্তিদের টার্গেট করত। চক্রের একজন ব্যাংক ও জনবহুল এলাকায় অবস্থান করে টার্গেটকৃত ভিকটিমকে অনুসরন করত। পরে ভিকটিমের বর্ণনা ও অবস্থান সম্পর্কে চক্রের অন্যান্যদের সে জানিয়ে দিত।
র্যাব-১০ এর অধিনায়ক পুলিশের অতিরিক্ত উপ মহাপরিদর্শক (এডি. ডিআইজি) মোহাম্মদ ফরিদ উদ্দিন সংবাদ সম্মেলনে বলেন, ‘গোপন সংবাদে র্যাব জানতে পারে, ভুয়া ডিবি পরিচয় দিয়ে একটি চক্র ডাকাতির উদ্দেশ্যে রাজধানীর ধলপুর এলাকায় অবস্থান করছে। এ তথ্যে গত সোমবার চক্রের মূলহোতা সবুজ সহ ছয়জনকে গ্রেপ্তার করা হয়।’
প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে জানা যায়, গ্রেপ্তারকৃতরা একটি সংঘবদ্ধ ডাকাত চক্রের সদস্য। তারা নিজেদেরকে ডিবি পুলিশের পরিচয় দিয়ে রাজধানীর যাত্রাবাড়ী, গুলিস্থান, মতিঝিল, বায়তুল মোকারমসহ দেশের বিভিন্ন এলাকায় ব্যাংক থেকে টাকা উত্তোলনকারী ব্যক্তি ও বিভিন্ন প্রয়োজনে টাকা নিয়ে চলাচলকারী ব্যক্তিদের টাকা ও অন্যান্য মূল্যবান সম্পদ ডাকাতি করে আসছিল। পূর্ব পরিকল্পনা অনুযায়ী ডিবি পুলিশ সেজে ডাকাতি করতে এসে তারা গ্রেপ্তার হয়।
সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, গ্রেপ্তার রাসেল ব্যাংকে অবস্থান করে টাকা উত্তোলনকারী গ্রাহকের তথ্য মিন্টুকে জানাত। মিন্টু পূর্ব-পরিকল্পনা অনুযায়ী সে ও তার অন্যান্য সহযোগীরা ডিবি পুলিশের জ্যাকেট সদৃশ্য পোষাক পড়া অবস্থায়, হাতে ওয়াকিটকি সেট ও হ্যান্ডকাপ নিয়ে ভাড়া করা মাইক্রোবাস নিয়ে ভিকটিমের সামনে গিয়ে নিজেদের ডিবি পুলিশ পরিচয় দিত। ভিকটিম কিছু বুঝে ওঠার আগেই তাকে মাদক কারবারি বা মামলার আসামীসহ বিভিন্ন অজুহাতে মাইক্রোবাসে উঠিয়ে মারধর করত এবং দ্রুত স্থান ত্যাগ করে চলে যেত। পরবর্তীতে ভিকটিমের কাছে থাকা টাকা, স্বর্ণালংকার ও মোবাইলসহ মূল্যবান জিনিসপত্র নিয়ে ভিকটিমকে সুবিধাজনক স্থানে ফেলে দিয়ে পালিয়ে যেত।
দীর্ঘ ৬০ দিনের বিরতি কাটিয়ে চাঁদপুরের পদ্মা ও মেঘনাসহ দেশের বিভিন্ন মৎস্য অভয়াশ্রমে পুনরায় মৎস্য আহরণ শুরু হয়েছে। জাটকা সংরক্ষণের কঠোর নিষেধাজ্ঞা পেরিয়ে জেলেরা বুকভরা আশা নিয়ে জাল ও নৌকা নিয়ে নদীতে নামলেও শুরুতেই বাধার সম্মুখীন হচ্ছেন বৈরী আবহাওয়ার কারণে। প্রবল বৃষ্টি আর উত্তাল নদীর মাঝে কাঙ্ক্ষিত ইলিশের দেখা না মেলায় জেলেদের মনে হতাশা বিরাজ করছে।
গত ১ মার্চ থেকে শুরু হওয়া দুই মাসের এই নিষেধাজ্ঞা বৃহস্পতিবার মধ্যরাতে আনুষ্ঠানিকভাবে সমাপ্ত হয়। সরকারি এই বিধি-নিষেধের সময়সীমা পার হওয়ার পরপরই নতুন স্বপ্নে বিভোর হয়ে চাঁদপুরের উত্তর প্রান্তের ষাটনল থেকে দক্ষিণের চরভৈরবী পর্যন্ত বিস্তৃত নদীসীমায় নেমে পড়েন কয়েক হাজার মৎস্যজীবী।
তবে শুক্রবার সকাল থেকেই চাঁদপুর অঞ্চলে দুর্যোগপূর্ণ আবহাওয়া বিরাজ করছে। বৃষ্টির তোড়ে নদী উত্তাল থাকলেও জালে ধরা পড়ছে না রূপালি ইলিশ। দীর্ঘ দুই মাস কর্মহীন থাকার পর জেলেরা হাসিমুখে জীবনসংগ্রামে ফিরলেও আশানুরূপ মাছ না পাওয়ায় তাদের কপালে চিন্তার ভাঁজ পড়েছে।
মৎস্য সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, জাটকা রক্ষা কর্মসূচির সুফল হিসেবে মাছ বড় হলেও এখনই নদীতে পর্যাপ্ত ইলিশ পাওয়ার সম্ভাবনা কিছুটা কম। মূলত বর্ষা মৌসুম পুরোপুরি শুরু হলেই নদীতে বড় ইলিশের আনাগোনা বৃদ্ধি পাবে। বর্তমানে ইলিশের আকাল থাকলেও অন্যান্য প্রজাতির কিছু মাছ জেলেদের জালে ধরা পড়ছে। জেলেরা এখন সেই মাহেন্দ্রক্ষণের অপেক্ষায় আছেন যখন নদী শান্ত হবে এবং রূপালি ইলিশে ভরে উঠবে তাদের শূন্য নৌকা।
রাজধানী ঢাকাসহ দেশের ১৭টি অঞ্চলে ঘণ্টায় ৬০ কিলোমিটার বেগে ঝড়ো হাওয়া বয়ে যাওয়ার পূর্বাভাস দিয়েছে আবহাওয়া অধিদপ্তর। একই সঙ্গে এসব এলাকায় বৃষ্টি অথবা বজ্রসহ বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে বলেও জানানো হয়েছে।
শুক্রবার দুপুর ১টা পর্যন্ত দেশের অভ্যন্তরীণ নদীবন্দরগুলোর জন্য দেওয়া এক সতর্কবার্তায় এই তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে। আবহাওয়ার পূর্বাভাস অনুযায়ী— পাবনা, বগুড়া, টাঙ্গাইল, ময়মনসিংহ, ঢাকা, ফরিদপুর, মাদারীপুর, যশোর, কুষ্টিয়া, খুলনা, বরিশাল, পটুয়াখালী, নোয়াখালী, কুমিল্লা, চট্টগ্রাম, কক্সবাজার ও সিলেট অঞ্চলের ওপর দিয়ে পশ্চিম অথবা উত্তর-পশ্চিম দিক থেকে ঘণ্টায় ৪৫ থেকে ৬০ কিলোমিটার বেগে অস্থায়ী দমকা বা ঝড়ো হাওয়া বয়ে যেতে পারে। এই দুর্যোগপূর্ণ আবহাওয়ার সময় বৃষ্টি অথবা বজ্রসহ বৃষ্টি হতে পারে।
উদ্ভূত পরিস্থিতিতে সংশ্লিষ্ট এলাকার নদীবন্দরসমূহকে ১ নম্বর সতর্কসংকেত প্রদর্শনের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। আবহাওয়া অফিসের অপর এক বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে যে, সন্ধ্যা পর্যন্ত দেশের সব বিভাগেই অস্থায়ী দমকা অথবা ঝড়ো হাওয়াসহ বিদ্যুৎ চমকানো এবং বৃষ্টি বা বজ্রবৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। এ সময় ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে মাঝারি ধরনের ভারি থেকে অতি ভারি বর্ষণ হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। আগামী কয়েক দিন দেশের সব বিভাগে ঝড়-বৃষ্টির এই ধারা অব্যাহত থাকতে পারে বলে আবহাওয়ার পূর্বাভাসে উল্লেখ করা হয়েছে।
আগামী এক সপ্তাহের মধ্যে শতভাগ শিশুকে হামে টিকার আওতায় আনা সম্ভব হবে বলে জানিয়েছেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন। তিনি বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে ৬ লাখ জিনএক্সপার্ট কার্টিজ ও ১১ হাজার শিশুর জন্য যক্ষ্মা প্রতিরোধী ওষুধ হস্তান্তর করা হয়েছে। যা যক্ষ্মা নিয়ন্ত্রণে ভূমিকা রাখবে। ভ্যাক্সিন ও সিরিঞ্জের কোনো সংকট নেই, শুক্রবার (১ মে) দেশের সব কেন্দ্রে পৌঁছে যাবে।
বৃহস্পতিবার (৩০ এপ্রিল) সকালে রাজধানীর শ্যামলীতে টিবি হাসপাতালে যুক্তরাষ্ট্র সরকারের পক্ষ থেকে জাতীয় যক্ষ্মা নিয়ন্ত্রণ কর্মসূচির জন্য জিনএক্সপার্ট কার্টিজ ও শিশুদের যক্ষ্মা প্রতিরোধের ওষুধ হস্তান্তর অনুষ্ঠানে এ কথা বলেন তিনি।
স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, গত ছয় বছর হাম প্রতিরোধে শিশুদের কোনো ভ্যাক্সিনেশন হয় নাই। আমরা জরুরিভিত্তিতে তা শুরু করি। ইউনিসেফ, গ্যাভি, ওয়ার্ল্ড ব্যাংক এবং আমেরিকা যৌথভাবে যদি হেল্প না করত, তাহলে দেশের এই মানচিত্র আজকে অন্যরকম হতে পারত। আরও অনেক বেশি ক্ষতি হতো।
তিনি আরও বলেন, আগামী মাসের পাঁচ তারিখে সারাদেশে ভ্যাকসিন দেওয়ার কথা ছিল। আমি সেটা ১৪ দিন এগিয়ে এনেছি। আমরা যখন হামের টিকা হাতে পেয়েছি, নির্ধারিত সময়ের জন্য আর অপেক্ষা করিনি। আমরা ২০ এপ্রিল থেকেই কাজ শুরু করে দিয়েছি।
বর্তমানে টিকাদানের অগ্রগতি সম্পর্কে তিনি বলেন, লক্ষ্যমাত্রার ৬১ শতাংশ আমরা কাভার করে নিয়েছি। আগামী এক সপ্তাহে শতভাগ শিশু হামের টিকার আওতায় চলে আসবে। এরইমধ্যে অনেক জায়গায় শতভাগ হয়ে গেছে। হামের টিকা কার্যক্রম শুরু করা প্রথম ৩০টি উপজেলায় এখন একটাও হামের রোগী নেই।
চলতি বছরের এপ্রিল মাসে ৮৭ জন কন্যা ও ১৩৩ জন নারীসহ মোট ২২০ জন নির্যাতনের শিকার হয়েছেন বলে জানিয়েছে বাংলাদেশ মহিলা পরিষদ। এর মধ্যে ধর্ষণের শিকার হয়েছেন ৩২ জন কন্যা ও ২৬ জন নারীসহ মোট ৫৮ জন। দলবদ্ধ ধর্ষণের শিকার হয়েছেন ৮ জন কন্যাসহ ১৭ জন। আর ধর্ষণের পর হত্যার শিকার হয়েছেন ১ জন কন্যাসহ ৩ জন।
বৃহস্পতিবার (৩০ এপ্রিল) বাংলাদেশ মহিলা পরিষদের কেন্দ্রীয় লিগ্যাল এইড উপপরিষদের এক প্রতিবেদনে এসব তথ্য জানায় সংগঠনটি।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, ১১ জন কন্যাসহ ১২ জন ধর্ষণ-চেষ্টার শিকার হয়েছেন। যৌন সহিংসতার শিকার হয়েছেন ৬ জন কন্যাসহ ১৬ জন। এর মধ্যে ৩ জন কন্যাসহ ৮ জন যৌন নিপীড়নের শিকার হয়েছেন, ১ জন্য কন্যাসহ ৩ জন উত্ত্যক্তকরণের শিকার হয়েছেন এবং সাইবার সহিংসতার শিকার হয়েছেন ২ জন কন্যাসহ ৫ জন।
এ ছাড়া বিভিন্ন কারণে ১৬ জন কন্যা ও ৪১ জন নারীসহ মোট ৫৭ জন হত্যার শিকার হয়েছেন। ৪ জন কন্যা ও ১৫ জন নারীসহ ১৯ জনের রহস্যজনক মৃত্যু হয়েছে। অগ্নিদগ্ধ ঘটনার শিকার হয়েছেন ২ জন। যৌতুকের কারণে নির্যাতনের শিকার হয়েছেন ৪ জন, এর মধ্যে যৌতুকের কারণে হত্যার শিকার হয়েছেন ২ জন।
পারিবারিক সহিংসতায় শারীরিক নির্যাতনের শিকার হয়েছেন ২ জন। ১ জন কন্যাসহ ২ জন গৃহকর্মী নির্যাতন এবং ১ জন কন্যাসহ ২ জন গৃহকর্মী হত্যার ঘটনার শিকার হয়েছেন। ৪ জন কন্যাসহ ১৩ জন আত্মহত্যার শিকার হয়েছেন, এর মধ্যে আত্মহত্যার প্ররোচনার শিকার হয়েছেন ২ জন কন্যা। ৫ জন কন্যাসহ ৬ জন অপহরণের চেষ্টার ঘটনার শিকার হয়েছেন। এ ছাড়া অপহরণের চেষ্টার শিকার হয়েছেন ৩ জন কন্যা। শারীরিক নির্যাতনের শিকার হয়েছেন ১ জন কন্যাসহ ১৪ জন। এ ছাড়া ৭ জন বিভিন্নভাবে নির্যাতনের শিকার হয়েছেন।
কুমিল্লার চৌদ্দগ্রাম উপজেলার সীমান্তবর্তী হিম্মতপুর এলাকায় মাদক ও চোরাচালান বিরোধী বিশেষ অভিযান পরিচালনা করে ১ কোটি ১৪ লক্ষাধিক টাকা মূল্যের বিপুল পরিমাণ ভারতীয় শাড়ি ও থ্রি-পিস জব্দ করেছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)।
বিজিবির কুমিল্লা ব্যাটালিয়ন (১০ বিজিবি)-এর একটি টহলদল গতকাল রাতে দায়িত্বপূর্ণ সীমান্তবর্তী হিম্মতপুর নামক স্থানে মাদক ও চোরাচালান বিরোধী বিশেষ অভিযান পরিচালনা করে মালিকবিহীন অবস্থায় একটি যানবাহনসহ বিপুল পরিমাণ ভারতীয় শাড়ি ও থ্রি-পিস জব্দ করে। জব্দকৃত এসব মালামালের আনুমানিক সিজারমূল্য ১,১৪,৪০,০০০/- (এক কোটি চৌদ্দ লক্ষ চল্লিশ হাজার) টাকা।
জব্দকৃত এসব মালামাল বিধি মোতাবেক কাস্টমস কর্তৃপক্ষের নিকট জমা প্রদান করা হয়েছে।
এ ব্যাপারে কুমিল্লা ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মীর আলী এজাজ জানান, কুমিল্লা ব্যাটালিয়ন দায়িত্বপূর্ণ সীমান্ত এলাকায় চোরাচালান প্রতিরোধ এবং আন্তঃসীমান্ত অপরাধ দমনে নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করে আসছে। চোরাচালান প্রতিরোধে বিজিবির এ ধরনের অভিযান ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে।
ফরিদপুরে নিখোঁজের ৬ দিন পর রেললাইনের পাশে একটি কলাবাগান থেকে আইরিন আক্তার কবিতা নামের সাত বছরের এক শিশু শিক্ষার্থীর মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। বৃহস্পতিবার (৩০ এপ্রিল) সকালে ফরিদপুর সদর উপজেলার গেরদা ইউনিয়নের কাফুরা এলাকার রেললাইনের পাশে একটি কলাবাগান থেকে তার মরদেহটি উদ্ধার করা হয়।
আইরিন আক্তার উপজেলা সদরের গেরদা ইউনিয়নের বুকাইল আশ্রয়ণ প্রকল্পের বাসিন্দা ও রিকশাচালক বাকা মিয়ার মেয়ে। সে বুকাইল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিশু শ্রেণির ছাত্রী ছিল।
পুলিশ ও এলাকাবাসী সূত্রে জানা গেছে, ২৪ এপ্রিল রাত আটটার দিকে আইরিন বাড়ি থেকে বের হওয়ার পর নিখোঁজ ছিল। এরপর তার স্বজনরা বিভিন্নস্থানে খোঁজাখুঁজি করে এবং আইরিনের বাবা বাকা মিয়া কোতোয়ালি থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেন। গতকাল সকালে গেরদা ইউনিয়নের কাফুরা এলাকার রেললাইনের পাশ থেকে দুর্গন্ধ পায় স্থানীয়রা। পরে রেললাইনের পাশে একটি কলাবাগানে শিশুটির মরদেহ দেখতে পেয়ে পুলিশে খবর দেওয়া হয়। পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে মরদেহটি উদ্ধার করে।
শিশুর মরদেহটি উদ্ধারের পর এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে।
কোতোয়ালি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. শহীদুল ইসলাম জানান, খবর পেয়ে শিশুটির মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। শিশুটির মরদেহে পচন ধরেছে। এ বিষয়ে পুলিশ কাজ করছে। এ ঘটনায় ৫ জনকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আটক করা হয়েছে।
কুমিল্লা নগরীর আওয়ার লেডি অব ফাতেমা স্কুলের সামনে এক শিক্ষার্থীর গায়ে হাত দেওয়ার অভিযোগে ইমরান হোসেন রুবেল (২৮) নামের এক বখাটেকে আটক করে পিটুনি দিয়ে পুলিশের হাতে তুলে দিয়েছেন অভিভাবকরা।
বৃহস্পতিবার (৩০ এপ্রিল) দুপুরে স্কুল ছুটির পর এ ঘটনা ঘটে। আটক রুবেল কুমিল্লার চৌদ্দগ্রাম উপজেলার জয়মঙ্গলপুর এলাকার আবদুল হান্নানের ছেলে। তিনি পেশায় ট্রাকের হেলপার।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, স্কুল ছুটির পর শিক্ষার্থীরা বের হওয়ার সময় রুবেল এক ছাত্রীর গায়ে হাত দেয়। এ সময় উপস্থিত অভিভাবকরা তাকে হাতেনাতে আটক করেন। পরে তাকে বৈদ্যুতিক খুঁটির সঙ্গে বেঁধে মারধর করা হয়।
কোতোয়ালি মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) তৌহিদুল আনোয়ার জানান, খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে অভিযুক্তকে থানায় নিয়ে আসে। অভিযোগের বিষয়ে আইনানুগ ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।
দেশের ‘চায়ের রাজধানী’ হিসেবে খ্যাত মৌলভীবাজারের চা-শিল্প এখন চরম সংকটের মুখে। টানা পাঁচ দিন ধরে বিদ্যুৎ বিভ্রাটের কারণে স্থবির হয়ে পড়েছে জেলার চা উৎপাদন ব্যবস্থা। বিশেষ করে সরকারি পাঁচটিসহ বিভিন্ন চা-বাগানের কারখানাগুলোতে উৎপাদন কার্যক্রম পুরোপুরি বন্ধ রয়েছে। কাঁচা চা পাতা পচে নষ্ট হওয়ায় প্রায় দেড় কোটি টাকার আর্থিক ক্ষতির আশঙ্কা করছেন সংশ্লিষ্টরা।
সরেজমিনে দেখা যায়, বিদ্যুৎ না থাকায় কারখানাগুলোর চাকা ঘোরেনি গত পাঁচ দিন ধরে। বাগানগুলোতে বর্তমানে প্রায় আড়াই লাখ কেজি কাঁচা চা পাতা মজুদ রয়েছে, যা থেকে অন্তত ৬০ হাজার কেজি চা উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা ছিল। কিন্তু সময়মতো প্রক্রিয়াজাত করতে না পারায় এই বিপুল পরিমাণ পাতা পচে নষ্ট হতে শুরু করেছে। এতে যেমন চা শিল্প বড় ধরনের আর্থিক ক্ষতির সম্মুখীন হচ্ছে, তেমনি সরকারের রাজস্ব আয়ের ওপরও এর নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে।
ন্যাশনাল টি কোম্পানির মাধবপুর চা বাগানের ব্যবস্থাপক দিপন কুমার সিংহ জানান, বিদ্যুৎ না থাকায় কেবল সরকারি বাগানগুলোই নয়, ব্যক্তিমালিকানাধীন বাগানগুলোর অবস্থাও একই। কারখানার উৎপাদন বন্ধ থাকায় হাজার হাজার চা শ্রমিক কর্মহীন হয়ে পড়েছেন, যা তাদের জীবনযাত্রায় গভীর সংকট তৈরি করেছে।
পাত্রখলা চা বাগানের ব্যবস্থাপক মো. ইউসুফ খাঁন বলেন, ‘এপ্রিলের শুরু থেকেই লোডশেডিং ছিল, তবে ২৬ এপ্রিল থেকে পরিস্থিতি ভয়াবহ আকার ধারণ করেছে। এখন দিনে মাত্র ১-২ ঘণ্টা বিদ্যুৎ পাওয়া যাচ্ছে। পর্যাপ্ত বিদ্যুৎ ও জ্বালানির অভাবে কারখানার চাকা স্থবির হয়ে আছে। আমার বাগানেই প্রায় ১ লাখ ৮ হাজার কেজি কাঁচা চা পাতা মাচায় পড়ে নষ্ট হওয়ার পথে।’
দীর্ঘদিন কাজ বন্ধ থাকায় দুশ্চিন্তায় পড়েছেন চা শ্রমিকরা। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক শ্রমিক জানান, দিনমজুরের ওপর তাদের সংসার চলে। পাঁচ দিন ধরে কাজ না থাকায় ঘরে খাবার জোগানোই এখন কঠিন হয়ে পড়েছে।
এ বিষয়ে কমলগঞ্জ পল্লী বিদ্যুতের মাধবপুর ইউনিটের ইনচার্জ মো. রহমতউল্লা বলেন, ‘সাম্প্রতিক ঘূর্ণিঝড় ও ঝড়ে বিদ্যুৎ লাইনের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। আমরা পরিস্থিতি স্বাভাবিক করতে এবং দ্রুত বিদ্যুৎ সরবরাহ নিশ্চিত করতে সর্বোচ্চ চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি।’
কমলগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. আসাদুজ্জামান জানান, পুরো উপজেলাতেই বিদ্যুৎ সমস্যা দেখা দিয়েছে। ঝড়ে গাছপালা পড়ে বিদ্যুৎ লাইন ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় পরিস্থিতি জটিল হয়েছে। তবে পল্লী বিদ্যুৎ কর্তৃপক্ষ দ্রুত সময়ের মধ্যে বিদ্যুৎ ব্যবস্থা স্বাভাবিক করতে কাজ করছে।
চায়ের রাজধানী মৌলভীবাজারে এই শিল্পকে টিকিয়ে রাখতে এবং শ্রমিকদের দুর্ভোগ কমাতে দ্রুত বিদ্যুৎ সমস্যার স্থায়ী সমাধানের দাবি জানিয়েছেন বাগান মালিক ও সংশ্লিষ্ট অংশীজনরা।
বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের (বাউবি) গাড়ি চালক মোঃ আলী হোসেনের অবসরোত্তর বিদায় সংবর্ধনা বৃহস্পতিবার বিকেলে উপাচার্যের দপ্তরের কনফারেন্স রুমে মর্যাদাপূর্ণ ও আবেগঘন পরিবেশে অনুষ্ঠিত হয়।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ ছিদ্দিকুর রহমান খান। তিনি তাঁর বক্তব্যে বলেন, আগামীকাল মহান মে দিবস—শ্রমজীবী মানুষের অধিকার, মর্যাদা ও অবদানের স্বীকৃতির এক ঐতিহাসিক দিন। এই তাৎপর্যপূর্ণ দিবসের প্রাক্কালে আলী হোসেনের মতো একজন নিবেদিতপ্রাণ কর্মীকে সম্মানজনক বিদায় জানাতে পেরে তিনি গভীর সন্তোষ প্রকাশ করেন।
উপাচার্য আরো বলেন, মোঃ আলী হোসেন ১৯৯৫ সালে যোগদানের পর থেকে দীর্ঘ তিন দশকেরও বেশি সময় নিষ্ঠা, সততা ও দায়িত্ববোধের সঙ্গে বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিবহন শাখায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছেন। তাঁর একাগ্রতা, শৃঙ্খলা ও পেশাগত দক্ষতা সহকর্মীদের কাছে তাঁকে অনুকরণীয় ব্যক্তিত্ব হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করেছে। তিনি উল্লেখ করেন, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয় একটি সম্প্রসারিত পরিবারের মতো, যেখানে পারস্পরিক সহযোগিতা, মানবিকতা ও পেশাগত মূল্যবোধের সমন্বয়ে সবাই কাজ করেন—আলী হোসেনের কর্মজীবন তারই উজ্জ্বল প্রতিফলন"।
তিনি বলেন, "দীর্ঘ কর্মজীবন সফলতার সঙ্গে সম্পন্ন করে সম্মানের সাথে অবসর গ্রহণ নিঃসন্দেহে গৌরবের বিষয়। আলী হোসেনের অবদান বিশ্ববিদ্যালয়ের অগ্রযাত্রার সঙ্গে গভীরভাবে সম্পৃক্ত এবং তাঁর বিদায় কেবল একজন কর্মীর প্রস্থান নয়, বরং একটি স্মরণীয় অধ্যায়ের সমাপ্তি। তবে তাঁর কর্মনিষ্ঠা ও অবদান বিশ্ববিদ্যালয়ের ইতিহাসে দীর্ঘদিন অম্লান হয়ে থাকবে। উপাচার্য আলী হোসেনের পরিবারের সদস্যদের প্রতিও কৃতজ্ঞতা জানিয়ে বলেন, একজন কর্মীর সাফল্যের পেছনে পরিবারের নীরব সমর্থন অপরিহার্য। তিনি মহান আল্লাহ্র নিকট আলী হোসেনের সুস্বাস্থ্য, শান্তিপূর্ণ ও মর্যাদাপূর্ণ অবসর জীবন এবং তাঁর পরিবারের সার্বিক কল্যাণ, সুখ-সমৃদ্ধি ও দীর্ঘায়ু কামনা করেন"।
বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য প্রদান করেন প্রো-উপাচার্য (প্রশাসন) অধ্যাপক সাঈদ ফেরদৌস। তিনি বলেন, আলী হোসেন দীর্ঘ কর্মজীবনে নিষ্ঠা, শৃঙ্খলা ও আন্তরিকতার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করে প্রতিষ্ঠানের আস্থা অর্জন করেছেন। তাঁর অবদানকে সম্মান জানিয়ে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ যে বিদায় সংবর্ধনার আয়োজন করেছে, তা একটি অনুকরণীয় দৃষ্টান্ত। তিনি আশা প্রকাশ করেন, অবসরোত্তর জীবনেও আলী হোসেন সুস্থতা ও প্রশান্তির মধ্য দিয়ে সময় কাটাবেন এবং প্রতিষ্ঠানের কল্যাণে দোয়া করবেন।
সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে বিদায়ী আলী হোসেন স্মৃতিময় কর্মজীবনের নানা অভিজ্ঞতা তুলে ধরতে গিয়ে আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন। তিনি সহকর্মীদের আন্তরিক সহযোগিতা ও ভালোবাসার জন্য কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন এবং নিজের অবশিষ্ট জীবন ও পরিবারের মঙ্গল কামনায় সকলের দোয়া প্রার্থনা করেন।
এছাড়া বিদায়ী অতিথির সুস্বাস্থ্য, দীর্ঘায়ু ও কল্যাণময় জীবন কামনা করে বক্তব্য রাখেন রেজিস্ট্রার (ভারপ্রাপ্ত) টি.এম. আহমেদ হুসেইন, প্রশাসন বিভাগের কাউন্সিল শাখার যুগ্ম-পরিচালক মোহাম্মদ ছালাউদ্দিন ভুঁইয়া, আমন্ত্রিত অতিথি সম্প্রতি অবসরপ্রাপ্ত যুগ্ম-পরিচালক মোঃ মেজবাহ উদ্দিনসহ প্রশাসন বিভাগের অন্যান্য কর্মকর্তা ও গাড়িচালকবৃন্দ।
অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন যানবাহন শাখার যুগ্ম-পরিচালক মোঃ হারুন অর রশিদ।
অনুষ্ঠান শেষে বিদায়ী গাড়ি চালক মোঃ আলী হোসেনকে সম্মাননা স্মারক প্রদান করা হয় এবং তাঁর জীবনের উত্তরোত্তর সুখ-সমৃদ্ধি কামনা করা হয়।
‘প্রতিবন্ধী ব্যক্তিরা সমাজের বোঝা নয়; সঠিক প্রশিক্ষণ ও সুযোগ পেলে তারাও দক্ষ জনশক্তিতে রূপান্তরিত হতে পারে। সরকার তাদের ক্ষমতায়নে নিরলস কাজ করে যাচ্ছে। আমরা চাই সব প্রতিবন্ধী ব্যক্তি নিজের যোগ্যতায় সমাজে মাথা উঁচু করে দাঁড়াক।’
বৃহস্পতিবার (৩০ এপ্রিল) সকালে গাজীপুরের টঙ্গীতে মৈত্রী শিল্প পরিদর্শন এবং ইআরসিপিএইচ-এর উদ্যোগে আয়োজিত কৃত্রিম অঙ্গ, নিয়োগপত্র ও সহায়ক ডিভাইস বিতরণ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের সচিব ড. মোহাম্মদ আবু ইউছুফ এসব কথা বলেন।
সচিব তার বক্তব্যে উল্লেখ করেন যে, আজকের এই নিয়োগপত্র ও উচ্চপ্রযুক্তির কৃত্রিম অঙ্গ প্রদান কেবল একটি আনুষ্ঠানিকতা নয়, বরং এটি প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের আত্মনির্ভরশীল হওয়ার পথে একটি বিশেষ মাইলফলক।
অনুষ্ঠানে ২২জন প্রতিবন্ধী ব্যক্তির হাতে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে চাকরির নিয়োগপত্র তুলে দেওয়া হয়। পরে ১৯ জন উপকারভোগীকে বিনামূল্যে উন্নত প্রযুক্তির কৃত্রিম পা প্রদান করা হয়, ৬ জনকে স্মার্ট হোয়াইট ক্যান (সাদা ছড়ি) এবং ২ জনকে ব্রেইল বই বিতরণ করা হয়।
সমাজসেবা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক (অতিরিক্ত সচিব) শাহ মোহাম্মদ মাহবুবের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন, গাজীপুরের জেলা প্রশাসক মো. নূরুল করিম ভূঁইয়া, মৈত্রী শিল্পের নির্বাহী পরিচালক (উপসচিব) মো. বরকাতুর রহমান এবং ইআরসিপিএইচ-এর উপপরিচালক মো. ফখরুল আলম।
এ ছাড়াও উপস্থিত ছিলেন কৃত্রিম অঙ্গ উৎপাদন কেন্দ্রের সহকারী পরিচালক ও প্রোডাকশন ম্যানেজার (অ.দা.) মোহাম্মদ আব্দুল আলীম, ব্যবস্থাপক মোস্তফা ইখতিয়ার উদ্দিন, সহকারী পরিচালক সেলিনা শারমিন এবং সহকারী ব্যবস্থাপক মোসাম্মৎ রাবেয়া খাতুন।
শেরপুরের ঝিনাইগাতীতে প্রেমঘটিত বিরোধকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এতে অন্তত তিনজন আহত হয়েছেন বলে খবর পাওয়া গেছে। জিজ্ঞাসাবাদের জন্য দু’জনকে আটক করেছে ঝিনাইগাতী থানা পুলিশ।
বুধবার (২৯ এপ্রিল) বিকেলে উপজেলার মডেল পাইলট স্কুল সংলগ্ন এলাকায় এই সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে বলে জানা গেছে।
আহতরা হলেন— মোল্লাপাড়া এলাকার ওয়াসিমের ছেলে রিয়াদ, বাদশা মিয়ার ছেলে বন্ধন এবং বালিয়াচন্ডি এলাকার আব্দুল সবুরের ছেলে ইমরান। স্থানীয়দের সহযোগিতায় আহতদের দ্রুত উদ্ধার করে চিকিৎসার জন্য পাঠানো হয়। তাদের মধ্যে রিয়াদ ও বন্ধনের অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় উন্নত চিকিৎসার জন্য শেরপুর জেলা সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
জানা যায়, প্রেমসংক্রান্ত একটি বিরোধকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের মধ্যে প্রথমে বাগ্বিতণ্ডা শুরু হয়। একপর্যায়ে তা সংঘর্ষে রূপ নেয়। এতে উভয় পক্ষের লোকজন জড়িয়ে পড়লে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে এবং এক পর্যায় রাতুল তার পকেটে থাকা ধারালো অস্ত্র দ্বারা এলোপাথাড়ি আঘাত করলে কয়েকজন আহত হয়।
পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে। এ সময় জিজ্ঞাসাবাদের জন্য বালিয়াচন্ডি এলাকার হিরা মিয়ার ছেলে রাতুলকে ঘটনাস্থল থেকে আটক করে থানায় নিয়ে যাওয়া হয়। পরে প্রাথমিক চিকিৎসা নিতে গেলে হাসপাতাল থেকে আব্দুল সবুরের ছেলে ইমরানকে আটক করে থানায় নিয়ে যায় পুলিশ।
ঝিনাইগাতী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আমিরুল ইসলাম দৈনিক বাংলা'কে জানান, ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের বিষয়ে তদন্ত চলছে। পরিস্থিতি বর্তমানে স্বাভাবিক রয়েছে এবং প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া অব্যাহত আছে।
জাটকা সংরক্ষণ ও ইলিশের উৎপাদন বৃদ্ধির লক্ষ্যে চাঁদপুরের পদ্মা-মেঘনা নদীতে জারি করা দুই মাসের সরকারি নিষেধাজ্ঞা আজ বৃহস্পতিবার (৩০ এপ্রিল) মধ্যরাত থেকে শেষ হচ্ছে। গত ১ মার্চ থেকে শুরু হওয়া এই দীর্ঘ বিরতি শেষে রাত ১২টার পর থেকে জেলেরা আবারও তাদের চিরচেনা নদীতে মাছ ধরার অনুমতি পাচ্ছেন। চাঁদপুর জেলার মতলব উত্তর উপজেলার ষাটনল থেকে লক্ষ্মীপুরের চর আলেকজান্ডার পর্যন্ত বিস্তৃত ১০০ কিলোমিটার অভয়াশ্রম এলাকায় এই সময়ে ইলিশসহ সব ধরনের মাছ ধরা সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ ছিল।
নিষেধাজ্ঞার অবসানকে কেন্দ্র করে চাঁদপুরের প্রায় অর্ধলক্ষ জেলের মাঝে নতুন করে কর্মোদ্দীপনা দেখা দিয়েছে। গত দুই মাস কর্মহীন থাকায় অনেক জেলে পরিবার মানবেতর জীবনযাপন করলেও এখন তারা পুরোদমে নদীতে নামার প্রস্তুতি শেষ করেছেন। জেলেরা নদী তীরবর্তী এলাকায় তাদের নৌকা মেরামত এবং জাল বুননের কাজ শেষ করে মধ্যরাতের সংকেতের অপেক্ষায় প্রহর গুনছেন। তাদের আশা, এবারের মৌসুমে জালে প্রচুর পরিমাণে ইলিশ ধরা পড়বে এবং এর মাধ্যমে তারা বিগত মাসগুলোর পুঞ্জীভূত ঋণ পরিশোধ করে ঘুরে দাঁড়াতে পারবেন।
মৎস্য বিভাগ জানিয়েছে, নিষেধাজ্ঞা চলাকালীন নিবন্ধিত জেলেদের খাদ্য সহায়তা দিতে সরকারের পক্ষ থেকে চার ধাপে মোট ৪০ কেজি করে ভিজিএফ চাল প্রদান করা হয়েছে। তবে অভিযান সফল করতে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে বেশ কঠোর অবস্থানে থাকতে হয়েছে। চাঁদপুর জেলা মৎস্য কর্মকর্তার দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, গত ৬০ দিনে নিয়ম ভেঙে মাছ ধরার অপরাধে প্রায় ৬০০ জেলেকে আটক করা হয়েছে এবং তাদের বিরুদ্ধে ২৪০টি নিয়মিত মামলা দায়ের করা হয়েছে। এ ছাড়া নদী থেকে প্রায় ২০ কোটি মিটার অবৈধ কারেন্ট জাল জব্দ করে বিনষ্ট করা হয়েছে।
সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ এবং মৎস্য বিজ্ঞানীরা মনে করছেন, এ বছরের জাটকা রক্ষা কর্মসূচি অত্যন্ত সফলভাবে সম্পন্ন হয়েছে। যদিও অভিযানের মাঝামাঝি সময়ে জ্বালানি তেলের কিছুটা সংকট দেখা দিয়েছিল, তবে দ্রুত পদক্ষেপের ফলে তা নিরসন করা হয়। প্রশাসনের কঠোর নজরদারির কারণে অসাধু জেলেরা দলবদ্ধভাবে নদীতে নামার সুযোগ পায়নি। সঠিক সময়ে এই নিষেধাজ্ঞা কার্যকর হওয়ায় জাটকাগুলো নিরাপদে বড় হওয়ার সুযোগ পেয়েছে এবং ইতোমধ্যে অনেক মাছ সাগর মোহনায় ফিরে গেছে, যা ভবিষ্যতে ইলিশের উৎপাদন বৃদ্ধিতে বড় ভূমিকা রাখবে।
চাঁদপুর নৌ পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, জাটকা রক্ষা কার্যক্রম সফল করতে তারা দিনরাত কাজ করেছে। এখন নিষেধাজ্ঞা উঠে যাওয়ায় জেলেরা স্বচ্ছন্দে মাছ ধরতে পারবেন, তবে অবৈধ কারেন্ট জাল বা নিষিদ্ধ সরঞ্জামের ব্যবহার রোধে নিয়মিত তদারকি অব্যাহত থাকবে। জেলেরা যাতে কোনো ধরনের হয়রানির শিকার না হন, সেদিকেও নজর রাখা হচ্ছে। মূলত জাটকা রক্ষার এই সুফল সাধারণ জেলেদের ঘরে পৌঁছে দিতেই সরকার প্রতি বছর এমন কঠোর কর্মসূচি পালন করে আসছে।
হাওরাঞ্চলের কৃষকদের আগামী তিন মাস সরকারি সহায়তা দেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তিনি বলেছেন, কৃষকদের বিষয়টি উদ্বেগের। তিন দিন আগে আবহাওয়া প্রতিবেদনের ওপর ভিত্তি করে আমি তিনটি জেলার স্থানীয় প্রশাসনকে নির্দেশনা দিয়েছিলাম, আবহাওয়ার পূর্বাভাস অনুযায়ী বৃষ্টি হলে যেন সতর্কতা অবলম্বন করে। বুধবার (২৯ এপ্রিল) জাতীয় সংসদে প্রশ্নোত্তরে এ কথা বলেন প্রধানমন্ত্রী। স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদের সভাপতিত্বে প্রশ্নোত্তর হয়। বেলা ১১টায় স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদের সভাপতিত্বে সংসদ অধিবেশন শুরু হয়। শুরুতে প্রধানমন্ত্রীর প্রশ্নোত্তর পর্বের জন্য ৪০ মিনিট নির্ধারিত ছিল। প্রধানমন্ত্রীর জন্য আটটি প্রশ্ন ছিল। নির্ধারিত সময়ে সংসদদের দুটি প্রশ্ন ও সম্পূরক প্রশ্নের জবাব দেন তিনি।
জরুরি জনগুরুত্বসম্পন্ন বিষয়ে সম্পূরক প্রশ্নে সুনামগঞ্জ-৫ আসনের এমপি কলিম উদ্দিন আহমেদ বলেন, প্রবল বর্ষণে সব হাওর তলিয়ে যাচ্ছে। কৃষকেরা ধান কাটতে মাঠে লড়াই করছেন। বিষয়টিতে প্রধানমন্ত্রীর দৃষ্টি আকর্ষণ করেন তিনি।
এ বিষয়ে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেন, বুধবার (২৯ এপ্রিল) অধিবেশন শুরুর আগে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণমন্ত্রীর সঙ্গে কথা বলে এসেছি। তাকে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দিয়েছি। হাওরাঞ্চলের তিন জেলাসহ ময়মনসিংহের কিছু এলাকা তীব্র বর্ষণে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এই এলাকার যেসব কৃষক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন, তাদের লোকেট করে আগামী তিন মাস সরকারের পক্ষ থেকে সহযোগিতা দেওয়ার চেষ্টা করব।
ঢাকা-৯ আসনের সংসদ সদস্য আবুল কালামের প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ঢাকাকে ক্লিন এবং গ্রিন সিটি রূপে গড়ে তুলতে স্থানীয় সরকার বিভাগের আওতায় ঢাকা উত্তর ও ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের মাধ্যমে পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে। নাগরিক সচেতনতা ও সম্পৃক্ততা বৃদ্ধির লক্ষ্যে সাপ্তাহিক ভিত্তিতে জনসচেতনতামূলক কার্যক্রম গ্রহণের পাশাপাশি বিশেষ পরিচ্ছন্নতা ও মশক নিধন কার্যক্রম জোরদার করা হচ্ছে।
তিনি বলেন, সেকেন্ডারি ট্রান্সফার স্টেশনসমূহ (বর্জ্য ফেলার স্থান) আধুনিকায়নের লক্ষ্যে ল্যান্ডস্কেপিং, সবুজায়ন সচেতনতামূলক গ্রাফিতি কাজ অন্তর্ভুক্ত করে পরিবেশসম্মতভাবে বর্জ্য ব্যবস্থাপনা করা হচ্ছে। ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন কর্তৃক কোরিয়াভিত্তিক বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের বিনিয়োগে মাতুয়াইল ল্যান্ডফিলকে সমন্বিত সার্কুলার ইকোনমি ভিত্তিক বর্জ্য ব্যবস্থাপনা ও জ্বালানি উৎপাদন কেন্দ্রে রূপান্তর করার মাধ্যমে সব বর্জ্যকে জিরো বর্জ্যতে রূপান্তর করার পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছে। আশা করি, এ সকল কার্যক্রম ও সমন্বিত ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে ধীরে ধীরে পরিচ্ছন্ন ও সবুজ ঢাকা শহর গড়ে তোলা সম্ভব হবে।
ঢাকাকে ক্লিন এবং গ্রিন সিটি করতে যেসব উদ্যোগ ও পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে সেগুলো হচ্ছে—ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন এলাকার রোড মিডিয়ান, সড়ক দ্বীপ ও উন্মুক্ত স্থানসমূহ সবুজায়নের লক্ষ্যে বৃক্ষরোপণ কার্যক্রম গ্রহণ করা হয়েছে।
ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের আওতাভুক্ত বিভিন্ন এলাকায় নগর বনায়ন (মিয়াওয়াকি ফরেস্ট) উন্মুক্ত মিডিয়ান জিরো সয়েল অথবা সবুজে আবৃত করা হচ্ছে।
ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের আওতাধীন এলাকায় আগামী পাঁচ বছরে পাঁচ লাখ বৃক্ষরোপণের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। এ ছাড়া মেট্রোরেলের নিচের খালি অংশে (মিরপুর-১২ থেকে মিরপুর ডিওএইচএস পর্যন্ত) এবং এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে (আবদুল্লাহপুর থেকে ফার্মগেট পর্যন্ত) নিচে খালি জায়গায় বৃক্ষরোপণ করা হবে।
প্রধানমন্ত্রী জানান, ঢাকাকে ক্লিন এবং গ্রিন সিটি রূপে গড়ে তোলার লক্ষ্যে পরিবেশ অধিদপ্তর কর্তৃক ঢাকা শহরের পরিবেশ দূষণ নিয়ন্ত্রণে অগ্রাধিকার দেওয়া হয়েছে। এ লক্ষ্যে পরিবেশ অধিদপ্তর যেসব ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে সেগুলো হচ্ছে—
ঢাকার বায়ুদূষণ নিয়ন্ত্রণে পরিবেশ অধিদপ্তর ও ঢাকা পরিবহন সমন্বয় কর্তৃপক্ষ (ডিটিসিএ) সমন্বিতভাবে আধুনিক বাস সার্ভিস ও ২৫০টি ইলেকট্রিক বাস চালুর উদ্যোগ নিচ্ছে।
বিশ্বব্যাংকের সহায়তায় ঢাকার বায়ুদূষণের উল্লেখযোগ্য উৎসসমূহ চিহ্নিত করা হয়েছে। সে অনুযায়ী পরিবেশ অধিদপ্তর ঢাকার বায়ুদূষণ নিয়ন্ত্রণে কাজ করে যাচ্ছে। কালো ধোঁয়া নির্গমনকারী যানবাহন, কনস্ট্রাকশন (নির্মাণ) কার্যক্রম ও নির্মাণসামগ্রী দ্বারা বায়ুদূষণের বিরুদ্ধে নিয়মিত মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করা হচ্ছে।
ঢাকা শহরের বায়ুদূষণ রোধে ঢাকার চারদিকে অবস্থিত অবৈধ দূষণকারী ইটভাটাসমূহ বন্ধে উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে। এ লক্ষ্যে নিয়মিত মোবাইল কোর্ট ও এনফোর্সমেন্ট কার্যক্রম পরিচালনা করা হচ্ছে।
ঢাকা মহানগরীর বায়ুদূষণ হ্রাস করার লক্ষ্যে ঢাকার সাভার উপজেলাকে ডিগ্রেডেড এয়ারশেড ঘোষণা করা হয়েছে এবং ওই এলাকায় ইটভাটার কার্যক্রম পরিচালনা, খোলা জায়গায় বর্জ্য পোড়ানো ইত্যাদি কার্যক্রম নিষিদ্ধ ঘোষণা করা হয়েছে।
ঢাকা ও আশপাশের নদী, খাল ও জলাশয় দূষণরোধে তরল বর্জ্য নির্গমনকারী প্রতিষ্ঠানসমূহে ইটিপি স্থাপন বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। অদ্যাবধি ২৪৮টি প্রতিষ্ঠানে ইটিপি স্থাপন করা হয়েছে এবং প্রতিষ্ঠানসমূহের তরল বর্জ্য পরিশোধনের জন্য স্থাপিত ইটিপির রিয়েল-টাইম পর্যবেক্ষণের জন্য ক্যামেরা স্থাপন চলমান রয়েছে। পরিবেশ অধিদপ্তর কর্তৃক ইতোমধ্যে বুড়িগঙ্গা, শীতলক্ষ্যা, বালু, তুরাগ নদের দূষণের উৎস এবং প্রকৃতি নির্ধারণ করা হয়েছে। একই সঙ্গে ঢাকা মহানগরে প্রবাহিত ১৯টি প্রধান খালের দূষণের উৎস এবং প্রকৃতি নির্ধারণ করা হয়েছে।
ঢাকা শহরকে সবুজে আচ্ছাদিত করা, পরিবেশ দূষণ কমানো এবং নগরীর সৌন্দর্য বৃদ্ধির লক্ষ্যে বন অধিদপ্তর কর্তৃক ঢাকা উত্তর অথবা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন, পানি উন্নয়ন বোর্ড এবং বাংলাদেশ সড়ক ও জনপথ বিভাগের সঙ্গে সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরের মাধ্যমে যৌথভাবে রাস্তার মিডিয়ান, ইউলুপ, পন্ডিং এরিয়া এবং খালের পাড়সমূহে বৃক্ষরোপণ এবং জিরো সয়েল কর্মসূচি বাস্তবায়ন করা হয়েছে। এ কর্মসূচির আওতায় বিভিন্ন প্রজাতির ৪১ হাজার ৫৬৫টি ফলদ, বনজ, ঔষধি ও শোভাবর্ধনকারী বৃক্ষের চারা রোপণ করা হয়েছে।
ঢাকা শহরের দূষণ কমানোর জন্য বিভিন্ন প্রজাতির লতা, গুল্ম ও ঘাস দ্বারা মাটি আবৃত করা হয়েছে। আগামী পাঁচ বছরে ২৫ কোটি বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির অংশ হিসেবে ঢাকাকে ক্লিন এবং গ্রিন সিটি রূপে গড়ে তুলতে বনায়নযোগ্য খালি জায়গায় বৃক্ষরোপণের উদ্যোগ গ্রহণ করা হচ্ছে।
চট্টগ্রাম-১০ আসনের সংসদ সদস্য সাঈদ আল নোমান এক পয়েন্ট অব অর্ডারে জলাবদ্ধতার বিষয়টি তুলে ধরেন। তিনি বলেন, চট্টগ্রামের সবচেয়ে বড় সমস্যা জলাবদ্ধতা। এই মুহূর্তে চট্টগ্রামের মানুষ পানিতে ভাসছে। তিনি চট্টগ্রামে জলাবদ্ধতা নিরসনে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান।
জবাবে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেন, একটি বড় জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়েছে। স্বাভাবিকভাবেই এটি নিরসন করতে কিছুটা সময় লাগবে। এই কষ্টের জন্য আমি আমার অবস্থান থেকে চট্টগ্রাম শহরে বসবাসকারী সব নাগরিকের কাছে আন্তরিকভাবে দুঃখ প্রকাশ করছি। আমরা চেষ্টা করছি, যত দ্রুত সম্ভব এই সমস্যা থেকে মানুষকে বের করে নিয়ে আসা যায়।
তিনি বলেন, সংবাদমাধ্যমে দেখেছি, অতিবর্ষণের কারণে বিভিন্নভাবে চট্টগ্রাম শহরের বেশ একটি বড় অংশ তলিয়ে গিয়েছে বা মানুষ কষ্ট পাচ্ছে। এই সমস্যা শুধু চট্টগ্রামে নয়, এই সমস্যা বলা যায় সারাদেশেই ছড়িয়ে আছে। ঢাকায়ও বৃষ্টির সময় অনেক এলাকা প্লাবিত হয়। এটি একটি দীর্ঘস্থায়ী সমস্যা।
সাবেক রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের কথা স্মরণ করে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেন, তিনি সমগ্র বাংলাদেশে খাল খননের মাধ্যমে যেমন পানির রিজার্ভার তৈরি করেছিলেন, একইভাবে বন্যা বা জলাবদ্ধতাও দূর করেছিলেন। আমাদের ঠিক একই কাজে আবার ফিরে যেতে হবে।
তিনি উল্লেখ করেন, বর্তমান সরকার এরইমধ্যে এ ধরনের কর্মসূচি নিয়েছে এবং কাজ শুরু হয়েছে।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, শহরাঞ্চলে অসাবধানতাবশত ফেলা প্লাস্টিক, পলিথিন এবং বোতলের কারণে খাল, ড্রেন ও নর্দমাগুলো বন্ধ হয়ে যাচ্ছে। সরকার ঢাকাসহ বিভিন্ন স্থানে খাল খনন ও ড্রেন পরিষ্কার করছে। কিন্তু ৭-১০ দিনের মধ্যে মানুষ আবার সেগুলোতে ময়লা ফেলে পানি প্রবাহ বন্ধ করে দিচ্ছে।
তিনি জোর দিয়ে বলেন, সরকার উদ্যোগ নিচ্ছে এবং তা অব্যাহত রাখবে, তবে জনসচেতনতা অত্যন্ত জরুরি।
জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) সংসদ সদস্য হাসনাত আবদুল্লাহর এক প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী বলেন, নির্বাচনের আগে আমরা ফ্যামিলি কার্ডের কথা জনগণকে বলেছিলাম, সেই ফ্যামিলি কার্ডটি মানুষ গ্রহণ করেছে এবং আপনি (হাসনাত আবদুল্লাহ) নিজেও সাক্ষী।
পর্যায়ক্রমে চার কোটি পরিবারকে ফ্যামিলি কার্ড দেওয়া হবে জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, পৃথিবীর কোনো সরকারের একবারে এটা করা সম্ভব নয়। সবার তথ্য সংগ্রহ করতে হবে। প্রথম পর্যায়ে ঝুঁকিপূর্ণ পরিবারকে দেওয়া হবে। ধীরে ধীরে বাজেট তৈরি করে কার্ড দেওয়া বাড়ানো হবে। সে কারণে আমাদের হিসাব-নিকাশ অনুযায়ী, বাজেটের ওপর চাপ পড়ার তেমন কারণ নেই।
ফ্যামিলি কার্ডে বিতরণ করা অর্থ অর্থনীতিকে গতিশীল করতে কীভাবে ভূমিকা রাখবে, তা–ও তুলে ধরেন তারেক রহমান। বলেন, ফ্যামিলি কার্ড পাওয়া ব্যক্তিদের কেউ বলছেন জামা-কাপড় কিনবে, কেউ বলছে বাচ্চাদের জন্য বই কিনবে। যে মানুষগুলো পাচ্ছে, তারা ব্র্যান্ডের জিনিস ব্যবহার করে না। তারা প্রয়োজনীয় জিনিস ব্যবহার করে। তাদের ব্যবহার করা জিনিসপত্র দেশীয় কারখানায় তৈরি। ফ্যামিলি কার্ডের টাকা গ্রামীণ অর্থনীতিতে ছড়াবে। এটা স্থানীয় শিল্পায়নে ভূমিকা রাখবে, কর্মসংস্থান বাড়াবে।
তারেক রহমান বলেন, এটা (ফ্যামিলি কার্ড) রাষ্ট্রের একটা বিনিয়োগ, যার মাধ্যমে ধীরে ধীরে স্থানীয় শিল্প গড়ে উঠবে, কর্মসংস্থান গড়ে উঠবে। তাই আমাদের হিসাব হচ্ছে মূল্যস্ফীতি বাড়বে না, বরং কমবে।