সোমবার, ৫ অক্টোবর ২০২৬
২০ আশ্বিন ১৪৩৩

পার্বত্যাঞ্চলের খেলোয়াড় ছাড়া জাতীয় পর্যায়ে দল গঠন অসম্ভব: ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী

ছবি: দৈনিক বাংলা
প্রতিনিধি, রাঙামাটি
প্রকাশিত
প্রতিনিধি, রাঙামাটি
প্রকাশিত : ১৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৩ ২১:২৮

খেলাধুলার ক্ষেত্রে পার্বত্যাঞ্চল তথা রাঙামাটি-খাগড়াছড়ি-বান্দরবানের খেলোয়াড় ছাড়া জাতীয় পর্যায়ে দল গঠন করা একেবারে অসম্ভব বলে মন্তব্য করেছেন যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী জাহিদ হাসান রাসেল।

শুক্রবার সকালে রাঙামাটিতে যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের আয়োজনে ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠী ইনস্টিটিউট মিলনায়তনে নানিয়ারচর, জুরাছড়ি এবং বিলাইছড়ি উপজেলার শেখ রাসেল মিনি স্টেডিয়ামের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।

তিনি আরও বলেন, ‘সরকার প্রথমপর্যায়ে রাঙামাটি সদর, লংগদু এবং কাপ্তাই উপজেলায় শেখ রাসেল মিনি স্টেডিয়াম গড়ে দিয়েছে। বাঘাইছড়ি উপজেলাসহ অন্য উপজেলায়ও শেখ রাসেল মিনি স্টেডিয়াম করে দেয়া হবে।’

ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ঐকান্তিক প্রচেষ্টায় দেশে খেলাধুলার জাগরণ শুরু হয়েছে। পার্বত্যাঞ্চলে খেলাধুলার মান বাড়ছে। সরকারের পক্ষ থেকে খেলোয়াড়দের জীবনমান উন্নয়নে আর্থিক সহায়তা প্রদান করা হচ্ছে। স্কুল, কলেজ এবং বিশ্ববিদ্যালয়ে খেলাধুলার প্রচলন শুরু হয়েছে। জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ১৯৭৫ সালের ৪ আগস্ট ক্রীড়া কল্যাণ ফাউন্ডেশন প্রতিষ্ঠা করেন। বর্তমান সরকার খেলোয়াড়দের বিভিন্ন সহায়তা দিতে ৬৭ কোটি টাকার ফান্ড করেছে, যাতে খেলোয়াড়দের সহায়তা প্রদান করা যায়।’

অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন খাদ্য মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি দীপংকর তালুকদার।

জেলা প্রশাসক মোশারফ হোসেন খানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন রাঙামাটি জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান অংসুই প্রু চৌধুরী ও অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মারুফ আহম্মেদ। অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য দেন শেখ রাসেল মিনি স্টেডিয়ামের প্রকল্প পরিচালক মাহবুব মোর্শেদ খান।


নির্বাচিত

শাহজালাল বিমানবন্দরে অগ্নিনির্বাপণ ও উদ্ধার মহড়া

ছবি: মহড়ায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটনমন্ত্রী এম. রশিদুজ্জামান মিল্লাত।
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে ‘এয়ারপোর্ট ইমারজেন্সি এক্সারসাইজ (ফায়ার)-২০২৬’ অনুষ্ঠিত হয়েছে। সোমবার (৫ অক্টোবর) এ মহড়ায় উড়োজাহাজ দুর্ঘটনার পর অগ্নিনির্বাপণ, যাত্রী উদ্ধার ও নিরাপদে সরিয়ে নেওয়ার কার্যক্রম অনুশীলন করা হয়।

মহড়ায় বিমানবন্দরের ফায়ার ক্রুদের দক্ষতা, অগ্নিনির্বাপণ সরঞ্জামের কার্যকারিতা এবং জরুরি পরিস্থিতিতে বিভিন্ন সংস্থার সমন্বিত ও দ্রুত প্রতিক্রিয়ার সক্ষমতা যাচাই করা হয়।

আন্তর্জাতিক বেসামরিক বিমান চলাচল সংস্থার (আইকাও) নির্দেশনা এবং ন্যাশনাল সিভিল অ্যাভিয়েশন সিকিউরিটি প্রোগরামের ধারা ১৬.২.৫.২ অনুযায়ী নির্ধারিত সময় অন্তর বিমানবন্দরে এ ধরনের পূর্ণাঙ্গ জরুরি মহড়া আয়োজন করা হয়। এর মাধ্যমে জরুরি পরিস্থিতিতে সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোর প্রস্তুতি ও সমন্বিত কার্যক্রমের সক্ষমতা মূল্যায়ন করা হয়।

মহড়ায় বাংলাদেশ বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ (বেবিচক), হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর, বাংলাদেশ বিমানবাহিনী, এপিবিএন, ট্রাফিক উত্তরা বিভাগ, আনসার, ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স, কুর্মিটোলা মাল্টিকেয়ার স্পেশালাইজড হাসপাতাল, মেডিকেল কলেজ ফর উইমেন, জাহানারা ক্লিনিক, বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সসহ সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন সংস্থা অংশ নেয়।

মহড়ার কল্পিত দৃশ্যপটে দেখানো হয়, ব্যাংকক থেকে ঢাকাগামী ৯৮ যাত্রী ও পাঁচ ক্রুবাহী একটি উড়োজাহাজ অবতরণের ঠিক আগে ডান পাশের ইঞ্জিনে আগুন লাগার বিষয়টি এয়ার ট্রাফিক কন্ট্রোলকে (এটিসি) জানায়। এরপর এটিসি জরুরি অবস্থা ঘোষণা করে বিমানবন্দরের নির্বাহী পরিচালক ও সংশ্লিষ্ট জরুরি সেবা সংস্থাগুলোকে অবহিত করে।

জরুরি অবতরণের সময় উড়োজাহাজটি রানওয়ের কেন্দ্রীয় লাইন অনুসরণ করতে ব্যর্থ হয়ে নির্ধারিত অংশ অতিক্রম করে। পরে এটি রানওয়ের বাম দিকে ছিটকে ট্যাক্সিওয়ে সিয়েরা অতিক্রম করে রানওয়ের দক্ষিণ পাশে থেমে যায়। দুর্ঘটনার পর উড়োজাহাজটির নিচের অংশে আগুন ধরে যায় এবং তা দ্রুত পুরো উড়োজাহাজে ছড়িয়ে পড়ে।

এ সময় বিমানবন্দরের ফায়ার সার্ভিস, উদ্ধারকারী দল, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী, চিকিৎসাসেবা প্রদানকারী প্রতিষ্ঠান ও অন্যান্য সংস্থা সমন্বিতভাবে আগুন নিয়ন্ত্রণ, যাত্রী উদ্ধার, প্রাথমিক চিকিৎসা এবং নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়ার কার্যক্রম পরিচালনা করে।

মহড়ায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটনমন্ত্রী এম. রশিদুজ্জামান মিল্লাত। এ সময় ঢাকা-১৮ আসনের সংসদ সদস্য এস এম জাহাঙ্গীর হোসেনও উপস্থিত ছিলেন। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন বেবিচক চেয়ারম্যান এয়ার ভাইস মার্শাল মো. মোস্তফা মাহমুদ সিদ্দিক।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে এম. রশিদুজ্জামান মিল্লাত মহড়া সফলভাবে সম্পন্ন করায় বেবিচক ও অংশগ্রহণকারী সংস্থাগুলোকে ধন্যবাদ জানান। তিনি বলেন, আধুনিক ও নিরাপদ এভিয়েশন হাব প্রতিষ্ঠার অন্যতম ভিত্তি হলো অগ্নিনিরাপত্তা ও জরুরি পরিস্থিতি মোকাবিলার সক্ষমতা।

বিমানবন্দরের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা সরকারের সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার উল্লেখ করে তিনি বলেন, দেশের বিমান খাতের নিরাপত্তা আরও সুসংহত করতে ন্যাশনাল সিভিল অ্যাভিয়েশন সিকিউরিটি কমিটি গঠন করা হয়েছে। আসন্ন আইকাও অডিটকে গুরুত্ব দিয়ে সম্ভাব্য পর্যবেক্ষণের ক্ষেত্রে প্রয়োজনীয় কমপ্লায়েন্স নিশ্চিত করার নির্দেশনাও দেন তিনি।

এ ছাড়া ভিআইপি ও সিআইপিসহ সবার ক্ষেত্রে বিমানবন্দরের নিরাপত্তা প্রটোকল সমানভাবে অনুসরণের ওপর গুরুত্ব দেন মন্ত্রী। বিমানবন্দর এলাকায় অনুমোদনহীন ড্রোন উড্ডয়নকে নিরাপত্তার জন্য ঝুঁকিপূর্ণ উল্লেখ করে তিনি অ্যান্টি-ড্রোন সিস্টেম স্থাপনের উদ্যোগ নেওয়ার কথা জানান। পাশাপাশি নিরাপত্তা সরঞ্জাম ও স্ক্যানারের পর্যাপ্ত মজুত নিশ্চিত করার ওপরও গুরুত্বারোপ করেন।

সংসদ সদস্য এস এম জাহাঙ্গীর হোসেন বলেন, আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের নিরাপত্তা ও জরুরি পরিস্থিতি মোকাবিলার প্রস্তুতি যাচাইয়ে এ ধরনের বাস্তবভিত্তিক মহড়া অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।


নির্বাচিত

ডিএমপির অভিযানে ৪১৪ জন গ্রেপ্তার, মামলা দায়ের ৫৯

ফাইল ছবি
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

রাজধানীতে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের অভিযানে ৪১৪ জন গ্রেপ্তার হয়েছে। একই সময়ে ৫৯টি মামলা দায়ের করা হয়েছে। ডিএমপির এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে সোমবার (৫ অক্টোবর) এ তথ্য জানানো হয়।

এতে বলা হয়, গ্রেপ্তারকৃতদের মধ্যে রমনা বিভাগে ২৮ জন, লালবাগ বিভাগে ৩৫ জন, ওয়ারী বিভাগে ৬৬ জন, মতিঝিল বিভাগে ৫৪ জন, তেজগাঁও বিভাগে ৬১ জন, মিরপুর বিভাগে ৮১ জন, গুলশান বিভাগে ২৫ জন, উত্তরা বিভাগে ৪৮ জন ও গোয়েন্দা বিভাগে ১৬ জন রয়েছে।

অভিযানে ১টি বিদেশি পিস্তল, ১টি ম্যাগাজিন, ৫ রাউন্ড গুলি, ১টি বিদেশি রিভলভার, ৪ রাউন্ড রিভলভারের গুলি, ২১ হাজার ৬৭২ পিস ইয়াবা, ২ কেজি ৭৩৫ গ্রাম গাঁজা, ২০ গ্রাম ৩০ পুরিয়া হেরোইন, ৩২৪টি মোবাইলফোন, ৯টি মোবাইল ট্যাব, ৬টি ট্রাঙ্ক, ৯,৫৭০ টাকা জব্দ করা হয়েছে। এ ছাড়া একজন ভিকটিমকে উদ্ধার করা হয়েছে। রাজধানীর বিভিন্ন থানা এলাকায় অভিযান চালিয়ে মাদকদ্রব্যসহ তাদের গ্রেপ্তার করা হয়।

সোমবার (৫ অক্টোবর) গ্রেপ্তারকৃতদের বিরুদ্ধে পরবর্তী আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।


নির্বাচিত

প্রধানমন্ত্রী দেশের খেটে খাওয়া মানুষের জন্য কাজ করছেন: বস্ত্র প্রতিমন্ত্রী

সোমবার (৫ অক্টোবর) সকালে কিশোরগঞ্জের ভৈরবে আগুনে ক্ষতিগ্রস্ত ১৩টি পরিবারের সঙ্গে আলাপকালে বস্ত্র ও পাট প্রতিমন্ত্রী মো. শরীফুল আলম। ছবি: দৈনিক বাংলা
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রধানমন্ত্রী দেশের খেটে খাওয়া মানুষের জন্য কাজ করছেন বলে জানিয়েছেন বস্ত্র ও পাট প্রতিমন্ত্রী মো. শরীফুল আলম। সোমবার (৫ অক্টোবর) সকালে কিশোরগঞ্জের ভৈরবে আগুনে ক্ষতিগ্রস্ত ১৩টি পরিবারের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এ কথা জানান।

প্রতিমন্ত্রী বলেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান দেশের খেটে খাওয়া মানুষের জন্য কাজ করছেন। তিনি বলেন, গত ২ অক্টোবর চণ্ডিবের গ্রামে বৈদ্যুতিক শর্টসার্কিট থেকে আগুনের ঘটনায় ১৩টি পরিবারের বাড়িঘর ও মালামাল পুড়ে ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। স্থানীয় নেতৃবৃন্দের মাধ্যমে খবর পেয়ে কিছু সহায়তা নিয়ে এসেছি। তবে এ সহায়তায় ক্ষয়ক্ষতি পূরণ সম্ভব নয়। পর্যায়ক্রমে ক্ষতিগ্রস্তদের আরও সহযোগিতা করা হবে।

তিনি আরও বলেন, ক্ষতিগ্রস্তদের অবস্থা সম্পর্কে ত্রাণ মন্ত্রণালয়কে অবহিত করব। ত্রাণ মন্ত্রণালয় অথবা প্রধানমন্ত্রীর ত্রাণ তহবিল থেকে সহায়তার মাধ্যমে তাদের পুনর্বাসনের উদ্যোগ নেওয়া হবে।

ক্ষতিগ্রস্তদের উদ্দেশে মো. শরীফুল আলম বলেন, জাতীয়তাবাদী দল জনগণের দল, এই সরকার জনগণের সরকার। তাই এই দলের প্রতি আস্থা রাখুন।

পরে ক্ষতিগ্রস্ত ১৩টি পরিবারের প্রত্যেককে ৩০ কেজি চাল, নগদ ৩৬ হাজার টাকা, দুই বান টিন এবং ১০ হাজার টাকা মূল্যের খাদ্যসামগ্রী দেওয়া হয়।

এ সময় উপস্থিত ছিলেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও পৌর প্রশাসক কে এম মামুনুর রশীদ, ভৈরব থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মাহবুবুর রহমান, পৌর বিএনপির সভাপতি ও সাবেক মেয়র হাজী শাহিন, সাধারণ সম্পাদক ও সাবেক ভিপি মুজিবুর রহমান, উপজেলা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক সাইফুল হক, মো. নুরুজ্জামান ও ১০ নম্বর ওয়ার্ডের সাবেক কাউন্সিলর মাহিন সিদ্দিকসহ স্থানীয় নেতৃবৃন্দ।

এর আগে, বেলা ১১টায় স্থানীয় সরকার বিভাগের নগর পরিচালন ও উন্নয়ন প্রকল্পের আওতায় চণ্ডিবের জেলেপাড়ার নিম্নআয়ের এলাকার উন্নয়নকাজের উদ্বোধন করেন প্রতিমন্ত্রী মো. শরীফুল আলম।


নির্বাচিত

করিমগঞ্জে বিশ্ব শিক্ষক দিবস উপলক্ষে র‍্যালি ও আলোচনা সভা

করিমগঞ্জে বিশ্ব শিক্ষক দিবস উপলক্ষে র্যালি। ছবি: দৈনিক বাংলা
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
কিশোরগঞ্জ (করিমগঞ্জ-তাড়াইল) প্রতিনিধি

‘শিক্ষকতা একটি মহান পেশা, শিক্ষকই জাতি গঠনের কারিগর’—এই প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে কিশোরগঞ্জের করিমগঞ্জে যথাযোগ্য মর্যাদায় বিশ্ব শিক্ষক দিবস পালিত হয়েছে। দিবসটি উপলক্ষে উপজেলা প্রশাসনের উদ্যোগে বর্ণাঢ্য র‍্যালি ও আলোচনা সভার আয়োজন করা হয়।

সোমবার (৫ অক্টোবর) সকালে উপজেলা পরিষদ চত্বর থেকে একটি র‍্যালি বের হয়। র‍্যালিটি উপজেলার গুরুত্বপূর্ণ সড়ক প্রদক্ষিণ করে পুনরায় উপজেলা পরিষদ প্রাঙ্গণে এসে শেষ হয়। র‍্যালিতে উপজেলার বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষকবৃন্দ অংশগ্রহণ করেন।

পরে উপজেলা পরিষদ মিলনায়তনে বিশ্ব শিক্ষক দিবস উপলক্ষে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। এতে সভাপতিত্ব করেন করিমগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) উম্মে মুসলিমা।

সভাপতির বক্তব্যে ইউএনও উম্মে মুসলিমা বলেন, একটি সুন্দর, সমৃদ্ধ ও মানবিক সমাজ গঠনে শিক্ষকদের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। একজন শিক্ষক শুধু পাঠ্যবইয়ের জ্ঞানই দেন না, বরং শিক্ষার্থীদের নৈতিকতা, মূল্যবোধ, শৃঙ্খলা ও মানবিক গুণাবলি অর্জনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন। তাই শিক্ষকদের সম্মান ও মর্যাদা সমুন্নত রাখার পাশাপাশি শিক্ষার মানোন্নয়নে সবাইকে সম্মিলিতভাবে কাজ করতে হবে।

তিনি আরও বলেন, বর্তমান প্রজন্মকে আধুনিক ও যুগোপযোগী শিক্ষায় শিক্ষিত করে দেশ ও সমাজের কল্যাণে দক্ষ নাগরিক হিসেবে গড়ে তুলতে শিক্ষকদের দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে।

অনুষ্ঠানে উপজেলার বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষকবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন। বিশ্ব শিক্ষক দিবস উপলক্ষে আয়োজিত এ অনুষ্ঠান শিক্ষকদের মধ্যে উৎসাহ-উদ্দীপনা সৃষ্টি করে। এ সময় শিক্ষকরা শিক্ষার মানোন্নয়ন, শিক্ষার্থীদের কল্যাণ এবং একটি সুন্দর ভবিষ্যৎ প্রজন্ম গড়ে তোলার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।


নির্বাচিত

প্রধান ফটকে বন্দর রক্ষা কমিটির অবস্থান কর্মসূচি

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ৫ অক্টোবর, ২০২৬ ১৮:০২
নিজস্ব প্রতিবেদক

নিউমুরিং কনটেইনার টার্মিনাল (এনসিটি) ইজারা চুক্তির প্রক্রিয়া বাতিলের দাবিতে অবস্থান কর্মসূচি পালন করছে বন্দর রক্ষা কমিটি। সোমবার (৫ অক্টোবর) বেলা ১১টার দিকে চট্টগ্রাম বন্দররক্ষা কমিটির অবস্থান কর্মসূচি শুরু হয়।

এ সময় মিছিল নিয়ে বিভিন্ন শ্রমিক সংগঠনের নেতা-কর্মীরা অবস্থান কর্মসূচিতে অংশ নেন। শ্রমিকদের উপস্থিতি বাড়ার পর একপর্যায়ে সড়কে যান চলাচল বন্ধ হয়ে যায়।

অবস্থান কর্মসূচিতে অংশ নেন টিইউসি চট্টগ্রাম জেলা কমিটির সভাপতি তপন দত্ত, বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদল চট্টগ্রাম বিভাগীয় কমিটির সাধারণ সম্পাদক কাজী শেখ নুরুল্লাহ বাহার, টিইউসি চট্টগ্রাম জেলা কমিটির যুগ্ম সম্পাদক ইফতেখার কামাল খান প্রমুখ। বক্তব্য দেন জাতীয়তাবাদী ডক শ্রমিকদলের সাধারণ সম্পাদক তসলিম হোসেন সেলিমসহ শ্রমিকনেতারা।

বক্তারা বলেন, ‘বন্দরের নিজস্ব অর্থায়নে তৈরি এনসিটি সবচেয়ে লাভজনক টার্মিনাল। এটি বিদেশিদের হাতে দেওয়া অযৌক্তিক।

দেশের প্রধান সমুদ্রবন্দরের মূল স্থাপনা যদি বিদেশিদের হাতে চলে যায় শ্রমিকরা বেকার হওয়া ছাড়াও রাষ্ট্রের নিরাপত্তা সংকটের আশঙ্কা রয়েছে। বিদেশি প্রতিষ্ঠানের চেয়ে বেশি হ্যান্ডলিং ও আয় করার সক্ষমতা বন্দরের রয়েছে।


নির্বাচিত

তালায় ভুল অপারেশনে এক সপ্তাহে দুই রোগীর মৃত্যু

# সুষ্ঠু তদন্তের দাবি
ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
ফারুক সাগর, তালা (সাতক্ষীরা)

সাতক্ষীরার তালা সার্জিক্যাল ক্লিনিকে এক সপ্তাহের ব্যবধানে ভুল অপারেশনে দুই রোগীর মৃত্যুর ঘটনায় স্থানীয়দের মধ্যে উদ্বেগ, ক্ষোভ এবং সুষ্ঠু তদন্তের দাবি উঠেছে।
জানা গেছে, প্রথম রোগী সাধন বিশ্বাসের মৃত্যুর পর ভুল রোগ নির্ণয় ও অস্ত্রোপচারের অভিযোগ ওঠে। এর পরপরই স্বাস্থ্য বিভাগ ক্লিনিকটি সাময়িকভাবে বন্ধ করে দেয়।


মৃত দুই রোগীর একজন খুলনার পাইকগাছা উপজেলার মাহামুদকাটি গ্রামের সাধন বিশ্বাস। অন্যজন তালার খানপুর এলাকার জয়া দাশ। দুই পরিবারের অভিযোগ—চিকিৎসা নিতে গিয়ে তাদের স্বজনদের শারীরিক অবস্থার অবনতি ঘটে এবং শেষ পর্যন্ত দুজনেরই মৃত্যু হয়।
স্বজনদের ভাষ্য, পেটে ব্যথা নিয়ে সাধন বিশ্বাস তালা সার্জিক্যাল ক্লিনিকে গেলে পরীক্ষার পর তাকে অ্যাপেন্ডিসাইটিসের রোগী হিসেবে শনাক্ত করা হয়। এরপর ডা. আব্দুর রহমান সজলের মাধ্যমে তার অস্ত্রোপচার করা হয়।


অস্ত্রোপচারের পর সাধনের শারীরিক অবস্থার উন্নতি না হলে দ্বিতীয়বার ক্লিনিকে নেওয়া দ্বিতীয় দফায়ও অস্ত্রোপচার করা হয়। এরপর অবস্থার আরও অবনতি হলে তাকে খুলনায় হাসপাতালে নিলে সেখানেও তৃতীয় দফায় অস্ত্রোপচারের পর চিকিৎসা অবস্থায় ১৮ সেপ্টেম্বর তার মৃত্যু হয়। এ ঘটনায় সাধনের স্বজন ও স্থানীয়রা ক্লিনিকের সামনে বিক্ষোভ করলে পরদিন স্বাস্থ্য বিভাগ ক্লিনিকটি সাময়িকভাবে বন্ধ করে দেয়।


সাধন বিশ্বাসের মৃত্যুর এক সপ্তাহের ব্যবধানে মারা যান জয়া দাশ। তিনি তালার খানপুর এলাকার অজয় সেনের স্ত্রী।
পরিবারের অভিযোগ, জয়া দাশের সিজারিয়ান অস্ত্রোপচারের সময় অ্যানেসথেশিয়া দেওয়ার পর তার শারীরিক অবস্থার অবনতি শুরু হয়। পরে উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে খুলনা ও ঢাকায় নেওয়া হয়। চিকিৎসা অবস্থায় ২৫ সেপ্টেম্বর তার মৃত্যু হয় বলে পরিবারের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে।


স্থানীয় কয়েকজনের দাবি, ডা. আব্দুর রহমান সজলের চিকিৎসা কার্যক্রম নিয়ে এর আগেও নানা অভিযোগ উঠেছে। শিশু রোগীর মৃত্যু এবং রোগীদের সঙ্গে খারাপ আচরণের অভিযোগ রয়েছে।এ বিষয়ে ডা. আব্দুর রহমান সজল বলেন, ‘আমি অপারেশন করি না, দাঁড়িয়ে থাকি। যা করার ক্লিনিক মালিক করে।’


অন্যদিকে সাধন বিশ্বাসের স্বজনদের দাবি, তার প্রথম অস্ত্রোপচার ডা. আব্দুর রহমানই করেছিলেন। এসব ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্ত করে দোষীদের বিরুদ্ধে শাস্তি দেওয়ার দাবি জানিয়েছে সচেতন এলাকাবাসী।


নির্বাচিত

সাত বছরেও শেষ হয়নি চকরিয়া মডেল মসজিদের নির্মাণ কাজ

# অবৈধ বিদ্যুৎ সংযোগে ওয়েল্ডিং ও মিটার জব্দ #ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে মামলা
ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
ইউসুফ বিন হোছাইন, চকরিয়া (কক্সবাজার)

কক্সবাজারের চকরিয়া উপজেলা পরিষদ চত্বরে নির্মাণাধীন মডেল মসজিদের কাজ শুরু হয়েছে প্রায় সাত বছর আগে। ২০১৯ সালের অক্টোবর মাসে জুমার নামাজের পর মসজিদটির নির্মাণকাজের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করা হয়। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে কাজ শেষ হওয়ার কথা থাকলেও দীর্ঘ সাত বছরেও নির্মাণকাজ শেষ করতে পারেনি সংশ্লিষ্ট ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান। এ নিয়ে স্থানীয়দের মধ্যে ক্ষোভ ও হতাশা দেখা দিয়েছে।


গণপূর্ত অধিদপ্তরের বাস্তবায়নে দেশের প্রতিটি উপজেলায় মডেল মসজিদ নির্মাণ প্রকল্প হাতে নেওয়া হয়। প্রকল্পের আওতায় প্রতি উপজেলা মডেল মসজিদের জন্য ১৩ থেকে ১৬ কোটি টাকা পর্যন্ত বরাদ্দ রয়েছে। চকরিয়া মডেল মসজিদটিও আধুনিক সুযোগ-সুবিধাসম্পন্ন তিন তলা ভবন হিসেবে নির্মাণের পরিকল্পনা করা হয়। প্রতিটি ফ্লোরের আয়তন প্রায় ১ হাজার ৬৮০ বর্গমিটার।


নকশা অনুযায়ী ভবনের নিচ তলায় গাড়ি পার্কিং, ইমাম প্রশিক্ষণ কেন্দ্র, অটিজম কর্নার, ইসলামিক বই বিক্রয় কেন্দ্র এবং মৃতদেহ গোসল ও জানাজার ব্যবস্থা থাকার কথা। দ্বিতীয় তলায় পুরুষদের মূল নামাজ কক্ষ, ইসলামিক লাইব্রেরি, প্রাক-প্রাথমিক ও কোরআন শিক্ষার ব্যবস্থা এবং গবেষণা কেন্দ্র রাখার পরিকল্পনা রয়েছে। তৃতীয় তলায় নারীদের জন্য পৃথক নামাজ কক্ষ, দূরপাল্লার হজযাত্রীদের ডিজিটাল নিবন্ধন ও প্রশিক্ষণ কেন্দ্র, কনফারেন্স রুম এবং দেশি-বিদেশি অতিথিদের জন্য বোর্ডিং বা আবাসন সুবিধা রাখার কথা রয়েছে।


স্থানীয়দের অভিযোগ, নির্মাণকাজ শুরুর পর থেকেই বিভিন্ন সময়ে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের কাজের ধীরগতি, গাফিলতি ও অনিয়ম নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। দীর্ঘ সময়েও নির্মাণকাজ শেষ না হওয়ায় প্রকল্পটির বাস্তবায়ন নিয়েও নানা প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।


এরই মধ্যে সম্প্রতি নির্মাণকাজে অবৈধভাবে বিদ্যুৎ সংযোগ নিয়ে ওয়েল্ডিং করার ঘটনা ধরা পড়েছে। গত মঙ্গলবার চকরিয়া বিদ্যুৎ বিতরণ বিভাগের উপসহকারী প্রকৌশলী আরিফুল ইসলামের নেতৃত্বে অভিযান চালিয়ে নির্মাণকাজের জন্য নেওয়া মিটার এবং মেইন লাইন থেকে অবৈধভাবে নেওয়া সংযোগের তার জব্দ করা হয়।


ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের সাইট ম্যানেজার মোহাম্মদ সামি জানান, ঠিকাদারের নির্দেশনা অনুযায়ী দ্রুত নির্মাণকাজ শেষ করার জন্য তিনি ওই সংযোগ নিয়েছিলেন।
প্রতিষ্ঠানটির সাইট ইঞ্জিনিয়ার রাকিব হোসেন বলেন, মিটার সংযুক্ত লাইনে পর্যাপ্ত পাওয়ার না পাওয়ায় মেইন লাইন থেকে সাময়িকভাবে ওই সংযোগ নেওয়া হয়েছিল। এটি তাদের ভুল হয়েছে উল্লেখ করে তিনি প্রতিবেদকের কাছে দুঃখ প্রকাশ করেন।


চকরিয়া বিদ্যুৎ বিতরণ বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. আসাদুজ্জামান বলেন, মডেল মসজিদ নির্মাণকাজে অবৈধ সংযোগ নিয়ে বিদ্যুৎ ব্যবহার করায় ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের নামে নেওয়া মিটার জব্দ এবং অবৈধ সংযোগের তার কেটে নেওয়া হয়েছে। এ ঘটনায় অবৈধ বিদ্যুৎ সংযোগ আইনে মেসার্স আঁখি এন্টারপ্রাইজ নামক ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে মামলা করা হয়েছে।


তিনি আরও বলেন, জব্দ করা মিটার ও সংযোগ পুনরায় নেওয়ার জন্য ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের পক্ষ থেকে বিভিন্নভাবে তদবির করা হচ্ছে।


স্থানীয় বাসিন্দারা বলছেন, দীর্ঘদিন ধরে নির্মাণকাজ চললেও মডেল মসজিদটি এখনও পূর্ণাঙ্গভাবে চালু না হওয়ায় এর সুফল থেকে তারা বঞ্চিত হচ্ছেন। দ্রুত নির্মাণকাজ শেষ করে মসজিদটি জনসাধারণের জন্য উন্মুক্ত করার পাশাপাশি প্রকল্প বাস্তবায়নে অনিয়ম হয়ে থাকলে তা তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন তারা।


আঁখি এন্টারপ্রাইজের কর্ণধার আজম খাঁনের মুঠোফোনে একাধিকবার চেষ্টা করেও সংযোগ না পাওয়ায় বক্তব্য জানা সম্ভব হয়নি। তবে প্রতিষ্ঠানের ম্যানেজার মোমেন উল্লাহ বলেন, আমরা দ্রুত মিটার পুন সংযোগ নিয়ে মসজিদ নির্মাণ কাজের অবশিষ্ট কাজ চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছি।


চকরিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শাহীন দেলোয়ার বলেন, আমি চকরিয়া উপজেলায় যোগদান করেছি ১০ মাস হয়ে গেছে। এই মসজিদের কাজের অগ্রগতি তেমন চোখে পড়েনি। অবৈধ সংযোগ নিয়ে কাজ অনৈতিক। বিদ্যুৎ বিভাগ তাদের আইনে ব্যবস্থা নেবেন।
গণপূর্ত অধিদপ্তরের কক্সবাজারের নির্বাহী প্রকৌশলী অভিজিৎ চৌধুরী জানান, ২০১৯ সালে কাজ শুরুর কিছুদিন পরে ওই ঠিকাদার কাজ রেখে উধাও হয়ে যায়। পরবর্তীতে ২০২৩ সালের মাঝামাঝি সময়ে পুন টেন্ডারের মাধ্যমে কাজটি পান চট্টগ্রামের সেলিম আজম খাঁন।

কয়েক দফায় সময় বৃদ্ধি করা হলেও কাজ এখনো শেষ করতে পারেনি ঠিকাদার। সর্বশেষ আগামী বছরের মার্চের মধ্যে কাজ শেষ করতে না পারলে কাজ বাতিলসহ জরিমানা আদায়ের ব্যবস্থা নেওয়া হবে। অবৈধ সংযোগ নিয়ে বিদ্যুৎ ব্যবহারের বিষয়টি তিনি অবগত ছিলেন না বলে জানান।


নির্বাচিত

পঞ্চগড়ে ভোরে শীতের আমেজ, দিনে তীব্র গরম

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
 মিজানুর রহমান, পঞ্চগড়

আশ্বিন মাস শুরু হলেও পঞ্চগড়ে কমছে না দিনের গরমের প্রভাব। ভোর ও রাতের দিকে শীতের আমেজ অনুভূত হলেও বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে বাড়ছে তাপমাত্রা ও গরমের অনুভূতি। ফলে একই দিনে সকাল, দুপুর ও রাতের আবহাওয়ায় বেশ পার্থক্য দেখা যাচ্ছে। সাম্প্রতিক সময়ে জেলার তেঁতুলিয়ায় ভোরের দিকে কুয়াশা ও ঠাণ্ডার অনুভূতি দেখা দিয়েছে। বিশেষ করে ভোরে ঘাস ও গাছের পাতায় শিশির জমতে শুরু করেছে।

এতে শীতের আগমনী বার্তা পাওয়া গেলেও দিনের বেলায় প্রচণ্ড রোদ ও গরমে অস্বস্তিতে পড়ছেন সাধারণ মানুষ। আবহাওয়া পূর্বাভাস অনুযায়ী, গতকাল রোববার ছিল ১৯ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দে তেঁতুলিয়ায় দিনের তাপমাত্রা প্রায় সর্বোচ্চ ২৪ ডিগ্রি সেলসিয়াস থেকে ৩৩ ডিগ্রি সেলসিয়াসের অধিক উঠতে পারে। সকাল থেকে সূর্যের তেজ বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে গরমের অনুভূতিও বাড়ছে। এতে বাইরে চলাচলকারী মানুষকে ভোগান্তিতে পড়তে হচ্ছে।

স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, ভোরে বাইরে বের হলে ঠাণ্ডা অনুভূত হয়। তবে সকাল গড়িয়ে দুপুর হলেই পরিস্থিতি পুরোপুরি বদলে যায়। প্রচণ্ড রোদ ও গরমে স্বাভাবিক কাজকর্ম ও চলাফেরায় অস্বস্তি তৈরি হচ্ছে। সন্ধ্যার পর আবার তাপমাত্রা কমতে শুরু করায় ফিরে আসে শীতের অনুভূতি। এদিকে দিন ও রাতের তাপমাত্রার এমন ওঠানামায় শিশু ও বয়স্কদের ঠাণ্ডা-গরমজনিত নানা সমস্যা দেখা দিতে পারে বলে সংশ্লিষ্টরা সতর্ক করেছেন। এ সময় প্রয়োজন ছাড়া ভোর ও রাতে বাইরে না বের হওয়া এবং আবহাওয়ার পরিবর্তনের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে পোশাক ব্যবহারের পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।

স্থানীয়দের প্রত্যাশা, ধীরে ধীরে দিনের তাপমাত্রা কমে উত্তরাঞ্চলে শীতের স্বাভাবিক পরিবেশ ফিরে আসবে। তবে আপাতত পঞ্চগড়ে শরতের কুয়াশা-শিশিরের সঙ্গে দিনের গরমের এমন বৈপরীত্যই অনুভব করছেন জেলার মানুষ।

তেঁতুলিয়া আবহাওয়া অফিসের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা জিতেন্দ্রনাথ রায় জানান, সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ছিল ৩৩ দশমিক ০০ ডিগ্রি সেলসিয়াস এবং সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ২৪ দশমিক ০০ ডিগ্রি সেলসিয়াস, তিনি জানান, দিনে তাপমাত্রা বেশি থাকলেও রাত্রে তাপমাত্রা কমে আসে।

পঞ্চগড় আধুনিক সদর হাসপাতালের সিভিল সার্জন ডা. মো. মিজানুর রহমান জানান, দিনে তাপমাত্রা বেশি ও রাতে তাপমাত্রা কম থাকায় এখন পর্যন্ত কোনো রোগী ভর্তি হয়নি অথবা হচ্ছে না তবে দীর্ঘমেয়াদে এভাবে তাপমাত্রা চলমান থাকলে রোগী বাড়ার সম্ভাবনা রয়েছে।


নির্বাচিত

বাউফলে জমিতে সার দিতে গিয়ে দুই ভাইকে কুপিয়ে জখমের অভিযোগ

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
পটুয়াখালী প্রতিনিধি

পটুয়াখালীর বাউফলে চাষকৃত জমিতে সার দিতে গেলে দুই ভাইকে কুপিয়ে জখম করার অভিযোগ উঠেছে। গতকাল রোববার বেলা ১১টার দিকে উপজেলার কাছিপাড়া ইউনিয়নের ৪ নম্বর ওয়ার্ডের পাকডাল গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।

আহতরা হলেন- সাবু মৃধা (৩০) ও তার ছোট ভাই মুসা মৃধা (২৫)। গুরুতর আহত অবস্থায় তাদের প্রথমে স্থানীয় হাসপাতালে নেওয়া হয়। পরে অবস্থার অবনতি হলে উন্নত চিকিৎসার জন্য বরিশাল শেরই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়।

স্থানীয় সূত্র ও আহতদের পরিবারের দাবি, সাবু ও মুসার বাবা ইব্রাহিম মৃধা প্রায় ১৫ বছর আগে মারা যান। এরপর তাদের চাচা নাসির মৃধা বাড়ি ও জমি দখল করে রেখেছেন। তাদের বাড়িতে থাকতে দেওয়া হয় না এবং সেখানে গেলে মারধর ও হুমকি দেওয়া হয়। এ কারণে তারা দীর্ঘদিন ধরে তাদের নানাবাড়ি পাশের গ্রাম মান্দারবণে বসবাস করছেন।

পরিবারের অভিযোগ, রোববার সকালে নিজেদের চাষকৃত জমিতে সার দিতে গেলে নাসির মৃধা, তার চাচাতো ভাই শহিদুল ও রুহুলসহ কয়েকজন তাদের ওপর হামলা চালান। এ সময় ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে সাবু ও মুসাকে গুরুতর জখম করা হয়।

পরে স্থানীয়রা আহত দুই ভাইকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে যান। তাদের অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় চিকিৎসকরা বরিশাল শেরই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠান। এ ঘটনায় অভিযুক্ত নাসির মৃধা, শহিদুল ও রুহুলের বক্তব্য তাৎক্ষণিকভাবে পাওয়া সম্ভব হয়নি।

এ বিষয়ে বাউফল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সিরাজুল ইসলাম বলেন, ‘আহতরা হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। পরিবারের পক্ষ থেকে অভিযোগ দেওয়া হয়েছে। বিষয়টি তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’


নির্বাচিত

মেয়ের বিরুদ্ধে ৮০ বছরের মায়ের ভরণপোষণ না দেওয়ার অভিযোগ

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
প্রতিবেদক, দৈনিক বাংলা

ময়মনসিংহ নগরের ভাটিকাশর এলাকায় পাঁচতলা বাড়ি নিজের নামে লিখে নেওয়ার পর ৮০ বছর বয়সী মাকে ভরণপোষণ না দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে মেয়ে ফারজানা সুলতানা কাবেরির বিরুদ্ধে। বাড়ির ভাড়া থেকেও তাকে বঞ্চিত করা হচ্ছে বলে অভিযোগ করেছেন বৃদ্ধা মা রহিমা খাতুন।

রোববার (৪ অক্টোবর) দুপুরে ময়মনসিংহ প্রেসক্লাবে সংবাদ সম্মেলন করে এসব অভিযোগ করেন রহিমা খাতুন। তিনি ভাটিকাশর এলাকার বাসিন্দা, অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক ও বিধবা। তার কোনো পুত্রসন্তান নেই। দুই মেয়ের মধ্যে ফারজানা সুলতানা কাবেরি একজন। সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, ফারজানার স্বামী সরকারের একজন অতিরিক্ত সচিব।

লিখিত বক্তব্যে রহিমা খাতুন অভিযোগ করেন, প্রায় ২৫ বছর আগে মেয়ে ফারজানা সুলতানা কাবেরি ও তার স্বামী প্রতারণার মাধ্যমে তার কাছ থেকে পাঁচতলা বাড়িটি নিজেদের নামে লিখে নেন। বাড়িটি লিখে নেওয়ার পর তাদের আচরণেও পরিবর্তন আসে বলে দাবি করেন তিনি।

রহিমা খাতুন বলেন, বর্তমানে তিনি ওই বাড়ির একটি অংশে বসবাস করছেন। বাড়িটির অন্য ফ্ল্যাটগুলো ভাড়া দেওয়া হয়েছে। এসব ফ্ল্যাট থেকে পাওয়া ভাড়ার বেশির ভাগ টাকা তার মেয়ে নিয়ে যান বলেও অভিযোগ করেন তিনি।

বৃদ্ধা এই মা আরও বলেন, বয়সজনিত বিভিন্ন রোগে আক্রান্ত হলেও অর্থের অভাবে নিয়মিত ওষুধ কিনতে পারছেন না। মেয়ের কাছে ভরণপোষণ চাইলে তার সঙ্গে খারাপ আচরণ করা হয়। এমনকি তার পক্ষে কেউ কথা বললেও তাকে নানাভাবে হয়রানি করা হয় বলে অভিযোগ করেন তিনি।

সংবাদ সম্মেলনে রহিমা খাতুন অভিযোগ করেন, মেয়ের স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে বাড়িতে পুলিশ পাঠিয়ে তাকে বিভিন্ন ধরনের হুমকি দেওয়া হয়েছে। ফলে জীবনের শেষ সময়ে এসে তিনি নিরাপত্তাহীনতা ও আর্থিক সংকটের মধ্যে দিন কাটাচ্ছেন বলে জানান।

তিনি প্রতারণার মাধ্যমে তার কাছ থেকে লিখে নেওয়া বাড়ি ফেরত পাওয়ার পাশাপাশি ভরণপোষণ আইনে মেয়ে ও মেয়ের স্বামীর বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান।

তবে মায়ের এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন ফারজানা সুলতানা কাবেরি। মোবাইল ফোনে তিনি বলেন, তার মায়ের অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। তিনি নিয়মিত ঢাকায় বসবাস করেন।

ফারজানা বলেন, বাড়ি ভাড়া বাবদ মাসে প্রায় ৬০ হাজার টাকা পাওয়া যায়। সেখান থেকে প্রতি মাসে ২৭ হাজার টাকা মাকে দেওয়া হয়। বাকি টাকা তারা দুই বোন মিলে নেন।

মায়ের সঙ্গে যোগাযোগ কম হওয়ার বিষয়ে ফারজানা বলেন, তিনি ফোন করলে তার মা ভালোভাবে কথা বলেন না। এ কারণে ইচ্ছা থাকা সত্ত্বেও যোগাযোগ খুব কম হয়। মায়ের স্বজনদের ইন্ধনে তার বিরুদ্ধে এসব অপপ্রচার করা হচ্ছে বলেও দাবি করেন তিনি।

রহিমা খাতুনের অভিযোগ ও ফারজানা সুলতানা কাবেরির বক্তব্যের বিষয়ে কোনো আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে কি না, তা সংবাদ সম্মেলনে বিস্তারিত জানানো হয়নি।


নির্বাচিত

রাত ১০টা পর্যন্ত দোকান খোলা রাখতে চান ব্যবসায়ীরা

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

শারদীয় দুর্গাপূজা সামনে রেখে দেশের সব দোকান, বিপণিবিতান ও শপিংমল রাত ১০টা পর্যন্ত খোলা রাখার দাবি জানিয়েছেন ব্যবসায়ীরা। সোমবার (৫ অক্টোবর) থেকে ২০ অক্টোবর পর্যন্ত দোকানপাট খোলার সময় রাত ৮টার পরিবর্তে রাত ১০টা করার জন্য বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রীর কাছে স্মারকলিপি দিয়েছেন তারা।

ব্যবসায়ীদের মালিক সমিতির পক্ষ থেকে দেওয়া স্মারকলিপিতে বলা হয়, ঈদ ও দুর্গাপূজার মতো উৎসবকে কেন্দ্র করে সাধারণত পণ্য কেনাবেচা বেড়ে যায়। কিন্তু বৈশ্বিক অর্থনৈতিক ও জ্বালানি সংকটের কারণে দীর্ঘদিন ধরে দোকানপাটে বেচাকেনা কম। এতে ক্ষুদ্র ও মাঝারি ব্যবসায়ীরা আর্থিকভাবে সংকটের মধ্যে রয়েছেন।

স্মারকলিপিতে বলা হয়, ঈদ ও পূজার সময়ে ব্যবসা কিছুটা বাড়লেও বর্তমানে রাত ৮টার মধ্যে দোকান বন্ধ করতে হওয়ায় ব্যবসায়ীরা কাঙ্ক্ষিত সময় পাচ্ছেন না। তাই দুর্গাপূজা উপলক্ষে ৫ অক্টোবর থেকে ২০ অক্টোবর পর্যন্ত রাত ১০টা পর্যন্ত দোকান, মার্কেট ও বিপণিবিতান খোলা রাখার সুযোগ দেওয়া হলে ব্যবসায়ীরা উপকৃত হবেন।

ব্যবসায়ীরা আরও উল্লেখ করেন, সাম্প্রতিক সময়ে জ্বালানি সংকট ও বিদ্যুতের লোডশেডিং পরিস্থিতির কিছুটা উন্নতি হয়েছে। এ অবস্থায় ক্ষুদ্র ও মাঝারি ব্যবসায়ীদের বর্তমান আর্থিক পরিস্থিতি বিবেচনায় নিয়ে উৎসবের সময় দোকান খোলার সময়সীমা দুই ঘণ্টা বাড়ানোর অনুরোধ জানানো হয়েছে।

এর আগে, গত ১২ আগস্ট সরকার দোকানপাট ও বিপণিবিতান রাত ৮টা পর্যন্ত খোলা রাখার নির্দেশনা জারি করে। ওই নির্দেশনায় বলা হয়, বেলা ১১টা থেকে রাত ৮টা পর্যন্ত দোকান ও বিপণিবিতান খোলা রাখা যাবে।

একই নির্দেশনায় সন্ধ্যা ৭টার মধ্যে সব ধরনের আলোকিত বিলবোর্ড বন্ধ করার কথা বলা হয়। পাশাপাশি বিদ্যুৎ সাশ্রয়ের লক্ষ্যে সব ধরনের আলোকসজ্জা সম্পূর্ণ বন্ধ রাখার নির্দেশনাও দেওয়া হয়েছিল।

ব্যবসায়ীদের দাবি, উৎসবের মৌসুমে কেনাকাটা বাড়ায় দোকান খোলার সময়সীমা সাময়িকভাবে বাড়ানো হলে একদিকে ক্রেতারা অতিরিক্ত সময় কেনাকাটার সুযোগ পাবেন, অন্যদিকে ক্ষুদ্র ও মাঝারি ব্যবসায়ীরাও বাড়তি বেচাকেনার মাধ্যমে আর্থিক ক্ষতি কিছুটা পুষিয়ে নিতে পারবেন।


নির্বাচিত

৪৬ বছরের পুরোনো ভবনে ঝুঁকি নিয়ে পাঠদান করছে ১০২ শিক্ষার্থী

# দেয়ালে ফাটল, ছাদ চুইয়ে পড়ে পানি # প্রশাসনিক চত্বরের কাছে হলেও নজর নেই কর্তৃপক্ষের
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
প্রতিবেদক, দৈনিক বাংলা

সামনে জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তার কার্যালয়, দূরত্ব মাত্র ১৫০ গজ। পেছনে সদর উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তার কার্যালয়, মাত্র ২০ গজ দূরে। কাছেই জেলা প্রশাসকের কার্যালয় ও উপজেলা পরিষদ। অথচ এসব সরকারি কার্যালয়ের মাঝখানেই ৪৬ বছর আগে নির্মিত জরাজীর্ণ ভবনে চলছে জয়পুরহাট নার্সারি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের পাঠদান। দেয়ালে ফাটল, খসে পড়ছে পলেস্তারা, বৃষ্টিতে ছাদ চুইয়ে পানি পড়ে শ্রেণিকক্ষে।

সরেজমিনে দেখা যায়, পাঁচ কক্ষের একতলা ভবনের একটি কক্ষ তালাবদ্ধ। সেখানে পাঠদান হয় না। আরেকটি কক্ষে শিক্ষকদের দাপ্তরিক কাজ চলে। ফলে বাকি তিনটি কক্ষেই বিভিন্ন শ্রেণির পাঠদান চলছে। ভবনের বিভিন্ন অংশের দেয়ালে ফাটল দেখা গেছে। কোথাও কোথাও পলেস্তারা খসে ইট বেরিয়ে এসেছে। শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের জন্য রয়েছে মাত্র একটি ওয়াশরুম।

‎বিদ্যালয় সূত্রে জানা যায়, ১৯৮০ সালে বিদ্যালয়টি প্রতিষ্ঠার সময় ভবনটি নির্মাণ করা হয়। ২০১৩ সালে বিদ্যালয়টি জাতীয়করণ করা হয়। জাতীয়করণের এক যুগ পেরিয়ে গেলেও নতুন ভবন নির্মাণ হয়নি। ৮৩ শতক জায়গার ওপর বিদ্যালয়টিতে বর্তমানে ছয়জন শিক্ষক ও ১০২ জন শিক্ষার্থী রয়েছে। পর্যাপ্ত জায়গা থাকলেও শ্রেণিকক্ষের সংকট কাটেনি। আবার বিদ্যালয়ে আধুনিক স্যানিটেশন সুবিধাও নেই।

‎বিদ্যালয়ের তৃতীয় ও পঞ্চম শ্রেণির শিক্ষার্থীরা বলেন, দেয়ালে ফাটল থাকায় শ্রেণিকক্ষে বসে তাদের ভয় হয়। ভবনের কোনো অংশ ভেঙে পড়তে পারে বলেও আশঙ্কা করে তারা।

‎অভিভাবক শিউলি খাতুন বলেন, ‘দেয়ালে ফাটল ও পলেস্তারা খসে পড়া ভবনে সন্তানকে পাঠিয়ে সব সময় দুশ্চিন্তায় থাকেন। কখন ভবনের কোনো অংশ ভেঙে পড়ে দুর্ঘটনা ঘটে, সেই ভয়ও রয়েছে। জেলা শহরের প্রাণকেন্দ্রে একটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের এমন অবস্থা মেনে নেওয়া কঠিন। দ্রুত নতুন ভবন নির্মাণ করে শিক্ষার্থীদের নিরাপদ পরিবেশে পাঠদানের ব্যবস্থা করা উচিত।’

‎সহকারী শিক্ষক ইশরাত জাহান বলেন, ‘বিদ্যালয়ের পরিবেশ ভালো না থাকায় দিন দিন শিক্ষার্থী কমছে। গ্রামের অনেক বিদ্যালয়ে নতুন ভবন নির্মাণ হলেও জেলা শহরের প্রাণকেন্দ্রে থাকা এই বিদ্যালয়ে নতুন ভবন হচ্ছে না। একটি মাত্র ওয়াশরুম শিক্ষক-শিক্ষার্থী সবাইকে ব্যবহার করতে হওয়ায় ভোগান্তিতে পড়তে হয়। বিদ্যালয়ের সামনে জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিস, পেছনে উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিস এবং কাছেই জেলা প্রশাসকের কার্যালয় থাকার পরও ভবনের এমন অবস্থা কাম্য নয়।’‎

জয়পুরহাট নার্সারি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ‎প্রধান শিক্ষক লাইলা আকতার জাহান বলেন, ‘২০১৮ সালে বিদ্যালয়ে যোগ দেওয়ার সময় থেকেই ভবনটির খারাপ অবস্থা দেখে আসছেন। বিষয়টি সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের জানানো হয়েছে। কিন্তু এখনো নতুন ভবন নির্মাণ হয়নি। ভবনের দুরবস্থার কারণে অনেক অভিভাবক সন্তান ভর্তি করানোর পর অন্য বিদ্যালয়ে নিয়ে যান। বিদ্যালয় চলাকালে ভূমিকম্প হলে দুর্ঘটনা ঘটতে পারে। জীবনের ঝুঁকি নিয়েই বিদ্যালয়ে পাঠদান কার্যক্রম চালানো হচ্ছে।’

‎শিক্ষার্থী কমে যাওয়া প্রসঙ্গে প্রধান শিক্ষক বলেন, ভবনের দুরবস্থার কারণে এ বছর ১৫ থেকে ২০ জন অভিভাবক সন্তানদের ভর্তি করাতে এসে বিদ্যালয়ের পরিবেশ দেখে অন্য বিদ্যালয়ে চলে গেছেন। অনেকে বিদ্যালয়ে ভর্তি থাকা সন্তানদের অন্য বিদ্যালয়ে নিয়ে গেছেন। এ ছাড়া বিদ্যালয় চলাকালে ভূমিকম্প হলে বড় ধরনের দুর্ঘটনা ঘটতে পারে বলেও আশঙ্কা রয়েছে।

প্রাথমিক শিক্ষা উন্নয়ন কর্মসূচির (পিইডিপি-৫) আওতায় বিদ্যালয়টির নতুন ভবন নির্মাণের জন্য সংশ্লিষ্ট দপ্তরে কয়েক মাস আগে প্রস্তাব পাঠানো হয়েছে বলে জানিয়েছেন জয়পুরহাট জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা জেছের আলী ও সদর উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা শামীম ইকবাল।

জয়পুরহাট সদর উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা শামীম ইকবাল বলেন, ‘বিদ্যালয়টির ভবন অনেক পুরোনো এবং দেয়ালে ফাটল ধরেছে। নতুন ভবন নির্মাণের জন্য অনেক আগেই সংশ্লিষ্ট দপ্তরে প্রস্তাব পাঠানো হয়েছে।’

‎জয়পুরহাট জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা জেছের আলী বলেন, ‘জেলার প্রশাসনিক চত্বরে অবস্থিত নার্সারি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ভবনের অবস্থা ভালো নয়। নতুন ভবন নির্মাণের প্রস্তাব পাঠানো হয়েছে।’


নির্বাচিত

বঙ্গোপসাগর থেকে উদ্ধার ৬৩, মানব পাচার মামলায় কারাগারে ১৩

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

বঙ্গোপসাগরে মালয়েশিয়াগামী ট্রলার থেকে উদ্ধার ৬৩ জনকে পাচারের অভিযোগে করা মামলায় ১৩ জনকে কারাগারে পাঠিয়েছেন কক্সবাজারের আদালত।

শনিবার (৩ অক্টোবর) মামলার তদন্ত কর্মকর্তা (আইও) ও টেকনাফ থানার উপপরিদর্শক (এসআই) ইহসানুল হাসান দ্য ডেইলি স্টারকে বলেন, ‘আদালতে হাজির করা হলে তাদের কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন বিচারক।’

গত ৩০ সেপ্টেম্বর সেন্ট মার্টিন লাইটহাউস থেকে প্রায় ৮১ নটিক্যাল মাইল দূরে একটি বিকল কাঠের ট্রলার থেকে ৭৬ জনকে উদ্ধার করে নৌবাহিনী। তাদের মধ্যে পাচারের শিকার ও পাচারকারী চক্রের সন্দেহভাজন সদস্যরা ছিলেন।

উদ্ধার হওয়াদের মধ্যে প্রথমে ১১ জনকে পাচারকারী হিসেবে সন্দেহ করে নৌবাহিনী। পরে তদন্তের ভিত্তিতে পুলিশ ১৩ জনকে গ্রেপ্তার করে। এ ঘটনায় মানব পাচার প্রতিরোধ ও দমন আইন, ২০১২-এর অধীনে ১৪ জনের বিরুদ্ধে মামলা করা হয়।

মামলার নথি অনুযায়ী, উদ্ধার ৬৩ জনের মধ্যে চার নারীসহ ১৪ জন রোহিঙ্গা। বাকিরা বাংলাদেশের নাগরিক। গতকাল শুক্রবার রাতে তাদের সবাইকে পরিবারের জিম্মায় ছেড়ে দেওয়া হয়েছে বলেও জানিয়েছে পুলিশ।

পুলিশ আরও জানায়, সাগরে নেওয়ার আগে ওই ৬৩ জনকে টেকনাফের বাহারছড়ার একটি দুর্গম পাহাড়ি এলাকায় আটকে রাখা হয়েছিল। মালয়েশিয়ায় পাঠানোর প্রতিশ্রুতি দিয়ে পাচারকারীরা প্রত্যেকের কাছ থেকে আড়াই লাখ টাকা করে আদায় করে বলে অভিযোগ রয়েছে।

গত ৩০ সেপ্টেম্বর ওই ৭৬ জনকে নিয়ে ‘আল্লাহর দান’ নামের কাঠের ট্রলারটি বঙ্গোপসাগরে যান্ত্রিক সমস্যায় পড়ে। ইঞ্জিন ও পানিনিষ্কাশন পাম্পে ত্রুটি দেখা দেওয়ায় ট্রলারে পানি ঢুকতে শুরু করে।

এসময় ‘এফভি ক্রিস্টাল-১’ নামের একটি মাছ ধরার ট্রলার তাদের দেখে সাহায্য করতে এগিয়ে যায়। তবে আরোহীদের কয়েকজনের আচরণ সন্দেহজনক মনে হওয়ায় বিষয়টি বাংলাদেশ নৌবাহিনীকে জানায় এফভি ক্রিস্টাল-১ এর কর্মীরা।

খবর পেয়ে ওই এলাকায় টহলরত নৌবাহিনীর জাহাজ ‘বানৌজা খালিদ বিন ওয়ালিদ’ ঘটনাস্থলে পৌঁছায়। নৌবাহিনীর সদস্যরা দ্রুত পানি নিষ্কাশন করে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনেন। ট্রলারে থাকা ৭৬ জনকেই নিরাপদে উদ্ধার করা হয় এবং তাদের প্রাথমিক চিকিৎসা, খাবার ও প্রয়োজনীয় মানবিক সহায়তা দেওয়া হয়।


নির্বাচিত

banner close