মঙ্গলবার, ২৭ অক্টোবর ২০২৬
১২ কার্তিক ১৪৩৩

পার্বত্যাঞ্চলের খেলোয়াড় ছাড়া জাতীয় পর্যায়ে দল গঠন অসম্ভব: ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী

ছবি: দৈনিক বাংলা
প্রতিনিধি, রাঙামাটি
প্রকাশিত
প্রতিনিধি, রাঙামাটি
প্রকাশিত : ১৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৩ ২১:২৮

খেলাধুলার ক্ষেত্রে পার্বত্যাঞ্চল তথা রাঙামাটি-খাগড়াছড়ি-বান্দরবানের খেলোয়াড় ছাড়া জাতীয় পর্যায়ে দল গঠন করা একেবারে অসম্ভব বলে মন্তব্য করেছেন যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী জাহিদ হাসান রাসেল।

শুক্রবার সকালে রাঙামাটিতে যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের আয়োজনে ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠী ইনস্টিটিউট মিলনায়তনে নানিয়ারচর, জুরাছড়ি এবং বিলাইছড়ি উপজেলার শেখ রাসেল মিনি স্টেডিয়ামের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।

তিনি আরও বলেন, ‘সরকার প্রথমপর্যায়ে রাঙামাটি সদর, লংগদু এবং কাপ্তাই উপজেলায় শেখ রাসেল মিনি স্টেডিয়াম গড়ে দিয়েছে। বাঘাইছড়ি উপজেলাসহ অন্য উপজেলায়ও শেখ রাসেল মিনি স্টেডিয়াম করে দেয়া হবে।’

ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ঐকান্তিক প্রচেষ্টায় দেশে খেলাধুলার জাগরণ শুরু হয়েছে। পার্বত্যাঞ্চলে খেলাধুলার মান বাড়ছে। সরকারের পক্ষ থেকে খেলোয়াড়দের জীবনমান উন্নয়নে আর্থিক সহায়তা প্রদান করা হচ্ছে। স্কুল, কলেজ এবং বিশ্ববিদ্যালয়ে খেলাধুলার প্রচলন শুরু হয়েছে। জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ১৯৭৫ সালের ৪ আগস্ট ক্রীড়া কল্যাণ ফাউন্ডেশন প্রতিষ্ঠা করেন। বর্তমান সরকার খেলোয়াড়দের বিভিন্ন সহায়তা দিতে ৬৭ কোটি টাকার ফান্ড করেছে, যাতে খেলোয়াড়দের সহায়তা প্রদান করা যায়।’

অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন খাদ্য মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি দীপংকর তালুকদার।

জেলা প্রশাসক মোশারফ হোসেন খানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন রাঙামাটি জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান অংসুই প্রু চৌধুরী ও অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মারুফ আহম্মেদ। অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য দেন শেখ রাসেল মিনি স্টেডিয়ামের প্রকল্প পরিচালক মাহবুব মোর্শেদ খান।


নির্বাচিত

২৪ ঘণ্টায় হাম ও হাম উপসর্গে আরও ৭ মৃত্যু, আক্রান্ত ১২৯৫

ফাইল ছবি
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

গত ২৪ ঘণ্টায় সারাদেশে হাম ও হামের উপসর্গ নিয়ে আরও সাতজনের মৃত্যু হয়েছে। সোমবার (২৬ অক্টোবর ) সকাল ৮টা থেকে মঙ্গলবার (২৭ অক্টোবর) সকাল ৮টার মধ্যে এই মৃত্যুর ঘটনা ঘটে। এই সময়ের মধ্যে নিশ্চিত হামে মৃত্যু হয় ১ জনের এবং হামের উপসর্গ নিয়ে মৃত্যু হয় ৬ জনের।

একই সময়ের মধ্যে হাম ও হামের উপসর্গে আক্রান্ত হয়েছে ১ হাজার ২৯৫ জন। মঙ্গলবার (২৭ অক্টোবর) স্বাস্থ্য অধিদফতরের সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এসব তথ্য জানানো হয়েছে।

এতে বলা হয়, গত ১৫ মার্চ থেকে আজকে পর্যন্ত হামের উপসর্গে দেশে ১ হাজার ১৩৫ শিশুর মৃত্যুর হয়েছে। এ সময় হাম শনাক্ত হওয়ার পর মারা গেছে ১০৫ শিশু। এ নিয়ে এখন পর্যন্ত হাম ও হামের উপসর্গে শিশুর মৃত্যু ১ হাজার ২৪০ জনে পৌঁছেছে।

স্বাস্থ্য অধিদফতরের তথ্য অনুযায়ী, গত ২৪ ঘণ্টায় দেশে সন্দেহজনক হাম আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা ১ হাজার ২৩২ জন এবং নিশ্চিত হাম শনাক্ত হয়েছে ৬৩ জনের। মোট ১ হাজার ২৯৫ শিশু হাম ও হামের উপসর্গে আক্রান্ত হয়েছে।

১৫ মার্চ থেকে এই পর্যন্ত মোট সন্দেহজনক হাম রোগী হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে ১ লাখ ৯৯ হাজার ১২৭ জন। এর মধ্যে এখন পর্যন্ত সুস্থ হয়ে ১ লাখ ৯১ হাজার ৯০ জন হাসপাতাল ছেড়েছে।


নির্বাচিত

মুক্তিযোদ্ধার দাফনে বাধার প্রতিবাদে জাবিতে সাঈদীর কুশপুত্তলিকা দাহ

মুক্তিযোদ্ধার দাফনে বাধার প্রতিবাদে জাবিতে বিক্ষোভ ও কুশপুত্তলিকা দাহ
ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
অনলাইন ডেস্ক

পিরোজপুরে বীর মুক্তিযোদ্ধা মানিক পশারীর মরদেহ দাফনে বাধা প্রদান এবং রাষ্ট্রীয় সম্মাননা ব্যাহত করার প্রতিবাদে বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ করেছেন জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের (জাবি) একদল শিক্ষার্থী। সোমবার রাতে বিশ্ববিদ্যালয়ের বটতলা এলাকায় এ কর্মসূচি পালিত হয়। এ সময় ক্ষুব্ধ শিক্ষার্থীরা আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে আমৃত্যু কারাদণ্ডপ্রাপ্ত জামায়াত নেতা দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদীর কুশপুত্তলিকা দাহ করেন।

সমাবেশে অংশ নিয়ে শিক্ষার্থীরা একজন বীর মুক্তিযোদ্ধার শেষকৃত্যে এমন প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টির তীব্র নিন্দা জানান এবং এই অপতৎপরতায় জড়িত ব্যক্তিদের অবিলম্বে শনাক্ত করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির আওতায় আনার দাবি জানান। কর্মসূচির সঞ্চালক ও বাংলা বিভাগের শিক্ষার্থী আবু রায়হান কবির রাসেল বলেন, ‘রাজাকার একটি চেতনা, যারা বাংলাদেশ রাষ্ট্রে ভূখণ্ডগতভাবে পাকিস্তান পন্থা জিইয়ে রাখতে চায়। নির্বাচিত সরকার ক্ষমতায় আসার পরও একজন মুক্তিযোদ্ধাকে লুকিয়ে গার্ড অব অনার দেওয়া হয়েছে। সাজাপ্রাপ্ত যুদ্ধাপরাধী এ টি এম আজহারকে সংসদে বসানো হয়েছে, এর চেয়ে লজ্জাকর কিছু হতে পারে না।’

এর আগে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্রশিবিরের ভূমিকা নিয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে তিনি উল্লেখ করেন, অনির্বাচিত প্রশাসনের সময়ে এমন অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা ঘটেছিল বলে তারা মনে করেছিলেন; কিন্তু নির্বাচিত সরকারের আমলেও মুক্তিযোদ্ধার মর্যাদাহানির ঘটনা মেনে নেওয়া যায় না। ক্ষোভ প্রকাশ করে রাসেল বলেন, ‘কিন্তু পরবর্তী সময়ে মুক্তিযুদ্ধের পক্ষের শক্তি হিসেবে যে নির্বাচিত সরকার এলো তাদের আমলেও একজন বীর মুক্তিযোদ্ধাকে লুকিয়ে গার্ড অব অনার দেওয়া হলো। এটি চরম ঘৃণ্য একটি কাজ। আমি সরকারের এমন আচরণের তীব্র প্রতিবাদ জানাচ্ছি।’

সমাবেশে সমাজতান্ত্রিক ছাত্রফ্রন্টের জাবি শাখার সংগঠক সোহাগী সামিয়া অভিযোগ করেন, যুদ্ধাপরাধের মামলায় সাক্ষ্য দেওয়ার কারণেই মানিক পশারীর শেষ বিদায়ে এমন প্রতিহিংসামূলক আচরণ করা হয়েছে। তিনি বলেন, ‘দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদীর বিরুদ্ধে সাক্ষী হওয়ায় একজন বীর মুক্তিযোদ্ধাকে গার্ড অব অনার দিয়ে স্বাভাবিক ও সুষ্ঠুভাবে দাফন করতে দেওয়া হয়নি। কাদের বাধার কারণে এটি হতে পারেনি, তাদের চিহ্নিত করা দরকার। তারা ধর্মকে সব সময় রাজনীতি করার জন্য ব্যবহার করেছে। তার সবচেয়ে বড় প্রমাণ হচ্ছে, তারা ইসলামি নিয়ম অনুযায়ী একজন মুসলিমের দাফন কার্যক্রম পর্যন্ত সম্পন্ন হতে দেয়নি।’

মুক্তিযুদ্ধ এবং জুলাই আন্দোলনের চেতনার গুরুত্ব তুলে ধরে সোহাগী সামিয়া বলেন, ‘যারা ২৪-এর নাম করে ৭১-কে নস্যাৎ করতে চান, তাদের চিনে রাখা দরকার। যারা ৭১-কে ধারণ করতে পারেন না, তারা কোনো দিন ২৪-কেউ ধারণ করতে পারবেন না।’

আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি ও প্রশাসনের ভূমিকার সমালোচনা করে তিনি আরও বলেন, ‘সরকার জনগণের হলে ২৪ ও ৭১-এর চেতনাকে ধারণ করত। একজন বীর মুক্তিযোদ্ধার দাফনে উচ্ছৃঙ্খলভাবে বাধা দেওয়া হলে আইনগতভাবে তা প্রতিহত করত। কিন্তু আইন আজ মব সৃষ্টিকারী ও উগ্রপন্থিদের হাতে বন্দী।’


নির্বাচিত

হামের পর আরও তিন রোগের ঝুঁকিতে দেশ

* টিকাদান কর্মসূচিতে ঘাটতি * পূর্ণাঙ্গ টিকা পেয়েছে ৮২ শতাংশ শিশু * জরুরি পদক্ষেপের তাগিদ বিশেষজ্ঞদের
ছবি: দৈনিক বাংলা
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
দৈনিক বাংলা ডেস্ক

বাংলাদেশে হামের ভয়াবহ প্রাদুর্ভাব দেশের টিকাদান কর্মসূচির দুর্বলতা ও জনবলসংকটকে সামনে এনেছে। দ্রুত এসব ঘাটতি পূরণ করা না হলে হামের পাশাপাশি হুপিং কাশি, ডিপথেরিয়া এবং টিকা থেকে উদ্ভূত পোলিও ভাইরাসের প্রাদুর্ভাবও বড় জনস্বাস্থ্য সংকট তৈরি করতে পারে। দেশি-বিদেশি বিশেষজ্ঞদের একটি স্বাধীন কমিটি এ বিষয়ে সতর্ক করে জরুরি পদক্ষেপ নেওয়ার সুপারিশ করেছে।

বার্তা সংস্থা এএফপির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, অক্টোবরের শুরুতে বাংলাদেশের টিকাদান কর্মসূচি মূল্যায়ন করে কমিটি তাদের প্রতিবেদন সরকারের কাছে জমা দিয়েছে। এতে হামের বর্তমান প্রাদুর্ভাবকে দেশের টিকাদান ব্যবস্থার দুর্বলতা যাচাইয়ের একটি গুরুত্বপূর্ণ পরীক্ষা এবং ভবিষ্যতের জন্য সতর্কসংকেত হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্যানুযায়ী, গত মার্চ থেকে দেশে হামের সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণে কাজ করছে কর্তৃপক্ষ। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এই প্রাদুর্ভাবে ১ হাজার ২০০-এর বেশি শিশুর মৃত্যু হয়েছে এবং আক্রান্ত হয়েছে ২ লাখ ২০ হাজার মানুষ। কয়েক দশকের মধ্যে এটিকে দেশের সবচেয়ে প্রাণঘাতী হাম প্রাদুর্ভাব হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।

বিশেষজ্ঞদের আশঙ্কা, টিকাদান কর্মসূচির ঘাটতি দ্রুত পূরণ করা না হলে অন্যান্য প্রতিরোধযোগ্য সংক্রামক রোগের বিস্তারও বাড়তে পারে। সোমবার (২৬ অক্টোবর) স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় এ বিষয়ে পদক্ষেপ নেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে। মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র জাহিদ রায়হান এএফপিকে জানান, সুপারিশ বাস্তবায়নের প্রাথমিক পদক্ষেপ হিসেবে যত দ্রুত সম্ভব টিকাদানকর্মী নিয়োগ দেওয়া হবে।

টিকাদানে লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে পিছিয়ে: বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডব্লিউএইচও), জাতিসংঘের শিশু তহবিল (ইউনিসেফ), টিকা সহায়তাবিষয়ক জোট গাভি এবং অন্যান্য সহযোগী সংস্থার সমর্থনে চলতি মাসের শুরুতে ৭০ সদস্যের একটি দল বাংলাদেশের টিকাদান কর্মসূচি মূল্যায়ন করে। মূল্যায়নে দেখা যায়, দেশে মাত্র ৮২ শতাংশ শিশু পূর্ণাঙ্গ টিকা পেয়েছে। অথচ জাতীয় লক্ষ্যমাত্রা ৯৫ শতাংশ। অর্থাৎ লক্ষ্যমাত্রার তুলনায় টিকাদানের হার ১৩ শতাংশ পয়েন্ট কম।

এ ছাড়া টিকাদানকর্মীদের প্রায় ৪০ শতাংশ পদ শূন্য রয়েছে। জনবলের এই ঘাটতি নিয়মিত টিকাদান কার্যক্রম পরিচালনা এবং দুর্গম ও পিছিয়ে পড়া জনগোষ্ঠীর শিশুদের টিকার আওতায় আনার ক্ষেত্রে বড় বাধা হয়ে উঠতে পারে।

দীর্ঘদিন ধরে বাংলাদেশের টিকাদান কর্মসূচিকে আন্তর্জাতিকভাবে সফল উদাহরণ হিসেবে বিবেচনা করা হয়েছে। ১৯৭৯ সালে কর্মসূচি শুরুর পর দেশটি পোলিও ও নবজাতকের ধনুষ্টঙ্কার নির্মূল করেছে। পাশাপাশি রুবেলা ও হেপাটাইটিস বি নিয়ন্ত্রণেও উল্লেখযোগ্য সাফল্য অর্জন করেছে।

তবে সাম্প্রতিক বছরগুলোতে টিকাদান কার্যক্রমে ধারাবাহিকতা নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২০২৪ সালে পরিকল্পিত হামবিরোধী টিকাদান কর্মসূচি শেখ হাসিনার ক্ষমতাচ্যুতির ঘটনাকে ঘিরে সৃষ্ট রাজনৈতিক পরিবর্তনের কারণে পিছিয়ে যায়। ২০২৫ সালে ধর্মঘট ও রাজনৈতিক অস্থিতিশীলতার কারণেও আরেকটি কর্মসূচি ব্যাহত হয়।

তিন রোগের সংক্রমণ নিয়ে সতর্কতা: হাম অত্যন্ত সংক্রামক একটি ভাইরাসজনিত রোগ। আক্রান্ত ব্যক্তির কাশি ও হাঁচির মাধ্যমে এটি ছড়ায়। রোগটির নির্দিষ্ট কোনো চিকিৎসা নেই; তবে টিকার মাধ্যমে সংক্রমণ প্রতিরোধ করা সম্ভব। গুরুতর ক্ষেত্রে হাম থেকে নিউমোনিয়া, মস্তিষ্কে প্রদাহসহ বিভিন্ন জটিলতা দেখা দিতে পারে। বিশেষ করে ছোট শিশুদের মধ্যে গুরুতর অসুস্থতার ঝুঁকি বেশি।

অন্যদিকে হুপিং কাশি শিশুদের গুরুতর অসুস্থতা এমনকি মৃত্যুর কারণ হতে পারে। ডিপথেরিয়া শ্বাসপ্রশ্বাসে বাধা সৃষ্টি করার পাশাপাশি হৃদ্যন্ত্র ও স্নায়ুতন্ত্রের ক্ষতি করতে পারে। আর টিকা থেকে উদ্ভূত পোলিও ভাইরাস টিকাদানের আওতার বাইরে থাকা জনগোষ্ঠীতে ছড়িয়ে পড়লে পক্ষাঘাতের ঝুঁকি তৈরি হতে পারে।

এসব রোগের বিস্তার ঠেকাতে নিয়মিত টিকাদান কার্যক্রম সচল রাখা, বাদ পড়া শিশুদের শনাক্ত করা এবং প্রয়োজন অনুযায়ী অতিরিক্ত টিকাদান কর্মসূচি পরিচালনা করা জরুরি। একই সঙ্গে টিকাদানকর্মীদের শূন্যপদ পূরণ, টিকার সরবরাহ নিশ্চিত করা এবং স্থানীয় পর্যায়ে জনসচেতনতা বাড়ানোর ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা।

জরুরি পদক্ষেপের তাগিদ: হামের প্রাদুর্ভাব মোকাবিলায় দেশজুড়ে ব্যাপক টিকাদান কার্যক্রম শুরু করেছে কর্তৃপক্ষ। তবে সংক্রমণ পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ থাকায় শুধু জরুরি কর্মসূচির ওপর নির্ভর না করে নিয়মিত টিকাদানব্যবস্থার দুর্বলতা দূর করার প্রয়োজনীয়তা সামনে এসেছে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, টিকাদানের জাতীয় লক্ষ্যমাত্রা অর্জন, জনবলসংকট নিরসন এবং সময়মতো শিশুদের সব প্রয়োজনীয় টিকা নিশ্চিত করা গেলে হামের পাশাপাশি অন্যান্য প্রতিরোধযোগ্য রোগের ঝুঁকিও কমানো সম্ভব। অন্যথায় দীর্ঘদিনের সাফল্য সত্ত্বেও বাংলাদেশের জনস্বাস্থ্য ব্যবস্থা নতুন করে বড় চ্যালেঞ্জের মুখে পড়তে পারে।

দেশের শিশুদের সুরক্ষা নিশ্চিত করতে তাই টিকাদান কর্মসূচিতে বিনিয়োগ, নিয়মিত নজরদারি এবং স্বাস্থ্যসেবার ধারাবাহিকতা বজায় রাখা এখন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।


নির্বাচিত

কক্সবাজারমুখী রেলপথে বাড়ছে সংযোগ, যুক্ত হলো ১০ উপজেলা

* মহানগর এক্সপ্রেসে পর্যটন নগরীতে যাওয়ার সুযোগ * পর্যটন ও অর্থনীতিতে মিলতে পারে নতুন গতি * রাজধানীকেন্দ্রিক যাত্রার চাপ কমানোর সুযোগ * নিয়মিত সেবা নিশ্চিত করাই বড় চ্যালেঞ্জ
ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

দেশের রেল যোগাযোগব্যবস্থায় নতুন মাত্রা যুক্ত হচ্ছে কক্সবাজারমুখী ট্রেন চলাচলের বিস্তারের মধ্য দিয়ে। ঢাকা-চট্টগ্রাম রুটে চলাচলকারী মহানগর এক্সপ্রেসের যাত্রাপথ কক্সবাজার পর্যন্ত সম্প্রসারণের ফলে নতুন করে ১০টি উপজেলার মানুষ নিজ এলাকার কাছের স্টেশন থেকে পর্যটন নগরীতে যাওয়ার সুযোগ পাচ্ছেন। এতে শুধু যাত্রীদের যাতায়াত সহজ হবে না, বরং দেশের গুরুত্বপূর্ণ পর্যটনকেন্দ্রের সঙ্গে আঞ্চলিক যোগাযোগ, ব্যবসা-বাণিজ্য ও পর্যটন অর্থনীতির সম্পর্কও আরও জোরদার হওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে।

সোমবার (২৬ অক্টোবর) থেকে সম্প্রসারিত রুটে ট্রেন চলাচল শুরুর মাধ্যমে নরসিংদী, কিশোরগঞ্জসংলগ্ন ভৈরব অঞ্চল, ব্রাহ্মণবাড়িয়া, কুমিল্লা ও ফেনীসহ বিভিন্ন এলাকার যাত্রীদের জন্য কক্সবাজার ভ্রমণের নতুন সুযোগ তৈরি হয়েছে। পথে নরসিংদী, ভৈরববাজার, আশুগঞ্জ, ব্রাহ্মণবাড়িয়া, আখাউড়া, কসবা, কুমিল্লা, লাকসাম, নাঙ্গলকোট ও ফেনী স্টেশনে যাত্রাবিরতি দেবে ট্রেনটি। পাশাপাশি ঢাকা বিমানবন্দর ও চট্টগ্রাম স্টেশন থেকেও যাত্রীরা এ সেবা নিতে পারবেন।

এত দিন এসব এলাকার অনেক যাত্রীকে কক্সবাজার যেতে ট্রেন ধরার জন্য ঢাকা কিংবা চট্টগ্রাম পর্যন্ত যেতে হতো। নতুন ব্যবস্থায় নিজ এলাকার কাছের স্টেশন থেকে ট্রেনে উঠে সরাসরি কক্সবাজারে পৌঁছানো সম্ভব হবে। এতে যাত্রাপথের অতিরিক্ত সময়, খরচ ও ভোগান্তি কমানোর সুযোগ তৈরি হয়েছে।

বিশেষ করে পরিবার নিয়ে ভ্রমণকারী, শিক্ষার্থী, চাকরিজীবী এবং ব্যবসায়ীদের জন্য এ রুট সুবিধাজনক হতে পারে। তবে প্রকৃত সুফল নির্ভর করবে সময়সূচি, আসনপ্রাপ্তি, টিকিট ব্যবস্থাপনা এবং ট্রেনের নিয়মিত চলাচল নিশ্চিত করার ওপর।

বাংলাদেশের রেল যোগাযোগ দীর্ঘদিন ধরে প্রধানত রাজধানী ও বড় শহরকেন্দ্রিক যাত্রী চলাচলের গুরুত্বপূর্ণ মাধ্যম হিসেবে কাজ করছে। নতুন এ সম্প্রসারণ সেই নেটওয়ার্ককে পর্যটননির্ভর গন্তব্যের সঙ্গে আরও বিস্তৃতভাবে যুক্ত করছে। একই সঙ্গে মধ্যবর্তী স্টেশনগুলোকে আন্তজেলা ও দূরপাল্লার যাত্রার কার্যকর সংযোগকেন্দ্র হিসেবে ব্যবহারের সুযোগ তৈরি করছে।

কক্সবাজার দেশের অন্যতম প্রধান পর্যটনকেন্দ্র। সমুদ্রসৈকত, হোটেল, রেস্তোরাঁ, পরিবহন ও পর্যটনসংশ্লিষ্ট ব্যবসার সঙ্গে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলের মানুষের অর্থনৈতিক সম্পর্ক রয়েছে। রেলপথে যাতায়াতের সুযোগ বাড়লে পর্যটকের সংখ্যা বৃদ্ধির পাশাপাশি ভ্রমণ ব্যয় পরিকল্পনা করাও সহজ হতে পারে।

সড়কপথের যানজট ও দীর্ঘ যাত্রার বিকল্প হিসেবে ট্রেন অনেক যাত্রীর কাছে আকর্ষণীয়। তুলনামূলক সাশ্রয়ী ভাড়ায় নির্দিষ্ট সময়ে গন্তব্যে পৌঁছানোর সুযোগ থাকলে মধ্যবিত্ত পরিবার ও শিক্ষার্থীদের কক্সবাজার ভ্রমণে আগ্রহ বাড়তে পারে। এর ইতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে স্থানীয় হোটেল, রেস্তোরাঁ, ক্ষুদ্র ব্যবসা, পর্যটন পরিবহন এবং অন্যান্য সেবামূলক খাতে।

তবে পর্যটন মৌসুমে যাত্রীদের চাপ সামাল দিতে পর্যাপ্ত আসন, পরিচ্ছন্ন কোচ, নির্ভরযোগ্য সময়সূচি এবং কক্সবাজার স্টেশনের সঙ্গে স্থানীয় পরিবহনের সমন্বয় নিশ্চিত করা প্রয়োজন। শুধু ট্রেন চালু করাই যথেষ্ট নয়; পুরো যাত্রাব্যবস্থাকে যাত্রীবান্ধব করে তুলতে হবে।

বাংলাদেশ রেলওয়ের পূর্বাঞ্চলের চিফ কমার্শিয়াল ম্যানেজারের দপ্তরের তথ্যানুযায়ী, ঢাকা থেকে কক্সবাজারগামী মহানগর এক্সপ্রেসে মোট ৭০৬টি আসন এবং কক্সবাজার থেকে ঢাকাগামী ট্রেনে ৭৩৬টি আসন থাকবে। ট্রেনটিতে শোভন চেয়ার, স্নিগ্ধা, এসি সিট ও এসি বার্থ শ্রেণির ব্যবস্থা রয়েছে।

ঢাকা থেকে কক্সবাজারের দূরত্ব ৫৮৩ কিলোমিটার। এ পথে শোভন চেয়ারের ভাড়া ৬৮৫ টাকা, স্নিগ্ধার ভাড়া ১ হাজার ৩১১ টাকা এবং এসি বার্থের ভাড়া ২ হাজার ৪০৮ টাকা।

অন্যদিকে চট্টগ্রাম থেকে কক্সবাজারের দূরত্ব ২০২ কিলোমিটার। এ পথে শোভন চেয়ারের ভাড়া ২৪০ টাকা, স্নিগ্ধার ভাড়া ৪৫৫ টাকা এবং এসি বার্থের ভাড়া ৮৬৭ টাকা। মধ্যবর্তী স্টেশনগুলোর দূরত্ব অনুযায়ী ভাড়াও কমবে।

নরসিংদী থেকে কক্সবাজার যেতে শোভন চেয়ারের ভাড়া ৬১০ টাকা, ব্রাহ্মণবাড়িয়া থেকে ৫১৫ টাকা, কুমিল্লা থেকে ৪৩৫ টাকা এবং ফেনী থেকে ৩৫৫ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। ফলে যাত্রীরা নিজেদের অবস্থান অনুযায়ী তুলনামূলক কম খরচে ভ্রমণের পরিকল্পনা করতে পারবেন।

তবে সব স্টেশন থেকে সব শ্রেণির আসন পাওয়া যাবে না। কোনো কোনো স্টেশনে এসি বার্থের আসন নেই, আবার কোথাও স্নিগ্ধা ও শোভন চেয়ারের আসনসংখ্যাও সীমিত। তাই যাত্রার আগে সংশ্লিষ্ট স্টেশনের আসন বরাদ্দ ও টিকিটের প্রাপ্যতা যাচাই করা গুরুত্বপূর্ণ।

রেল যোগাযোগের সুফল কেবল যাত্রী পরিবহনের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। উন্নত যোগাযোগব্যবস্থা স্থানীয় বাজার, কর্মসংস্থান, ব্যবসা ও সেবা খাতের বিকাশেও ভূমিকা রাখতে পারে। কক্সবাজারের সঙ্গে মধ্যবর্তী জেলাগুলোর সরাসরি রেলসংযোগ বাড়লে পর্যটনসংশ্লিষ্ট ব্যবসার পাশাপাশি স্থানীয় উদ্যোক্তা ও সেবাদাতাদের জন্যও নতুন সুযোগ তৈরি হতে পারে। তবে এ সম্ভাবনাকে বাস্তবে রূপ দিতে রেলওয়ের পরিকল্পনায় যাত্রী চাহিদাকে গুরুত্ব দিতে হবে। বিশেষ করে ফেনী, কুমিল্লা ও ব্রাহ্মণবাড়িয়ার মতো জনবহুল এলাকার যাত্রীদের চাহিদা বিবেচনায় আসন বরাদ্দ পুনর্মূল্যায়ন করা প্রয়োজন হতে পারে। চাহিদা বাড়লে অতিরিক্ত কোচ সংযোজন কিংবা ভবিষ্যতে আরও ট্রেন চালুর বিষয়টিও বিবেচনায় আসতে পারে।

একই সঙ্গে সময়মতো ট্রেন চলাচল, স্টেশনের নিরাপত্তা, যাত্রীসেবা, অনলাইন টিকিটপ্রাপ্তি এবং যাত্রাপথে পরিচ্ছন্নতা নিশ্চিত করা জরুরি। রেলপথের সুবিধা যেন শুধু বড় শহরের যাত্রীরা নয়, মধ্যবর্তী স্টেশনগুলোর সাধারণ মানুষও সমানভাবে পান, সে বিষয়েও নজর দিতে হবে।

মহানগর এক্সপ্রেসের সম্প্রসারিত রুটে ট্রেনটি সপ্তাহে ছয় দিন চলবে; সাপ্তাহিক বন্ধ রোববার। ঢাকা থেকে রাত সাড়ে ৮টায় এবং কক্সবাজার থেকে সকাল ৯টায় যাত্রা শুরুর সময় নির্ধারণ করা হয়েছে।

নতুন রুট চালুর ফলে কক্সবাজারের সঙ্গে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলের রেলসংযোগ আরও বিস্তৃত হচ্ছে। তবে দীর্ঘমেয়াদে এ উদ্যোগের সাফল্য নির্ভর করবে যাত্রীদের আস্থা অর্জন, আসনসংকট মোকাবিলা, সময়ানুবর্তিতা এবং সেবার মান বজায় রাখার ওপর।

সব মিলিয়ে, মহানগর এক্সপ্রেসের কক্সবাজার পর্যন্ত যাত্রা সম্প্রসারণ বাংলাদেশের রেলযোগাযোগে একটি গুরুত্বপূর্ণ সংযোজন। এর মাধ্যমে নতুন কিছু এলাকার মানুষ সরাসরি পর্যটন নগরীর সঙ্গে যুক্ত হচ্ছেন। যথাযথ পরিকল্পনা, পর্যাপ্ত আসন এবং নির্ভরযোগ্য সেবা নিশ্চিত করা গেলে এ রেলসংযোগ যাতায়াতের সুবিধা বাড়ানোর পাশাপাশি পর্যটন, আঞ্চলিক বাণিজ্য ও স্থানীয় অর্থনীতির বিকাশেও কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে।


নির্বাচিত

কিশোরগঞ্জে পাওনা টাকা চাওয়ায় যুবককে ছুরিকাঘাতে হত্যার অভিযোগ

ছবি: নিহত ইমরান
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
কিশোরগঞ্জ প্রতিনিধি

কিশোরগঞ্জ সদরে পাওনা টাকা চাওয়াকে কেন্দ্র করে ইমরান হাসান (৩৫) নামে এক যুবককে ছুরিকাঘাতে হত্যার অভিযোগ উঠেছে। সোমবার (২৬ অক্টোবর) সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে উপজেলার প্যারাভাঙ্গা এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।

নিহত ইমরান হাসান সদর উপজেলার মারিয়া ইউনিয়নের কাতিয়ার এলাকার আব্দুস শহীদের ছেলে। এ ঘটনায় অভিযুক্ত আবুল কালাম (৩০) একই উপজেলার প্যারাভাঙ্গা এলাকার নূর ইসলামের ছেলে।

স্থানীয় বাসিন্দা ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, প্যারাভাঙ্গা এলাকার আবুল কালামের কাছে ইমরানের ২ হাজার ৪০০ টাকা পাওনা ছিল। ওই টাকা আনতে সোমবার সন্ধ্যায় বাড়ি থেকে বের হন ইমরান। পরে আবুল কালামের বাড়িতে গিয়ে পাওনা টাকা চাইলে দুজনের মধ্যে কথা-কাটাকাটি হয়। একপর্যায়ে আবুল কালাম ইমরানকে ছুরিকাঘাত করেন বলে অভিযোগ রয়েছে।

এতে গুরুতর আহত হন ইমরান। পরে স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে কিশোরগঞ্জ ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে যান। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। অতিরিক্ত রক্তক্ষরণে তার মৃত্যু হয়ে থাকতে পারে বলে ধারণা চিকিৎসকের।

কিশোরগঞ্জ সদর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ আবুল কালাম ভূঁইয়া ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরির পর মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য শহীদ সৈয়দ নজরুল ইসলাম মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। এ ঘটনায় পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন।


নির্বাচিত

অষ্টগ্রামে ‘জিয়া প্যাভিলিয়ন’ পুনর্নির্মাণের দাবি

ছবি: দৈনিক বাংলা
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
অষ্টগ্রাম-মিঠামইন (কিশোরগঞ্জ) প্রতিনিধি

কিশোরগঞ্জের হাওর উপজেলা অষ্টগ্রামে জাতীয়তাবাদী আদর্শের স্মারক হিসেবে পরিচিত ‘জিয়া প্যাভিলিয়ন’ পুনর্নির্মাণের জোর দাবি উঠেছে। এ বিষয়ে স্থানীয় জাতীয়তাবাদী আদর্শে বিশ্বাসীদের পক্ষ থেকে স্থানীয় সংসদ সদস্য বীর মুক্তিযোদ্ধা অ্যাডভোকেট ফজলুর রহমানের দৃষ্টি আকর্ষণ করা হয়েছে।

স্থানীয়দের দাবি, ‘জিয়া প্যাভিলিয়ন’ অষ্টগ্রামের ক্রীড়াঙ্গনের পাশাপাশি সামাজিক ও রাজনৈতিক ইতিহাসেরও একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ। বিশেষ করে জাতীয়তাবাদী আদর্শে বিশ্বাসীদের কাছে স্থাপনাটি ছিল আবেগ, অনুভূতি ও রাজনৈতিক চেতনার প্রতীক। অভিযোগ রয়েছে, বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের শাসনামলে অষ্টগ্রামের কিছু ব্যক্তি রাজনৈতিক প্রতিহিংসা ও জাতীয়তাবাদী আদর্শের প্রতীক মুছে ফেলার উদ্দেশ্যে স্থাপনাটি ভেঙে গুঁড়িয়ে দেয় এবং ইট খুলে নিয়ে যায়।

এ বিষয়ে অষ্টগ্রাম উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক জাকির হোসেন মুকুল জানান, বিগত ফ্যাসিবাদের আমলে চরম রাজনৈতিক আক্রোশ ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে শহীদ জিয়ার স্মৃতি মুছে ফেলার জন্য এই প্যাভিলিয়নটি ভেঙে গুড়িয়ে দেওয়া হয়েছিল।

তিনি আরও বলেন, ‘ভাঙচুরের পর থেকে এটি আমাদের জন্য অত্যন্ত বেদনার বিষয় ছিল। বিএনপি ক্ষমতায় এলে এই স্মৃতিচিহ্নটি পুনঃপ্রতিষ্ঠা করা হবে—এটি ছিল আমাদের দীর্ঘদিনের সংকল্প। বর্তমানে সংসদ সদস্য বীর মুক্তিযোদ্ধা অ্যাডভোকেট ফজলুর রহমান সাহেবের সাথে আমাদের কথা হয়েছে। আমরা উনাকে আমাদের এই দীর্ঘদিনের আকাঙ্ক্ষার কথা জানিয়েছি।’ তিনি বলেন, ‘অনতিবিলম্বে জিয়া প্যাভিলিয়নটি পুনর্নির্মাণ করা হোক এবং ঘটনার সাথে জড়িতদের চিহ্নিত করে নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির আওতায় আনা হোক।’

এ বিষয়ে স্থানীয় সংসদ সদস্য বীর মুক্তিযোদ্ধা অ্যাডভোকেট ফজলুর রহমান জানান, জিয়া প্যাভিলিয়ন প্রতিষ্ঠার ব্যাপারে আমি স্থানীয় নেতাদের সাথে বিস্তারিত কথা বলেছি। খুব শিগগিরই এ ব্যাপারে প্রয়োজনীয় ও কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া হবে।

স্থানীয়দের প্রত্যাশা, সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দ্রুত ও কার্যকর পদক্ষেপের মাধ্যমে অষ্টগ্রামের ক্রীড়া, সামাজিক ও রাজনৈতিক ইতিহাসের সাথে সম্পৃক্ত ‘জিয়া প্যাভিলিয়ন’ আবারও তার পূর্বের স্বকীয়তায় ফিরে আসবে।


নির্বাচিত

লালন মাজারের দানবাক্সে মিলল ৮ লাখের বেশি টাকা

ছবি: দৈনিক বাংলা
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
কুষ্টিয়া প্রতিনিধি

মাত্র ১৫ দিনের ব্যবধানে ফের খোলা হলো কুষ্টিয়ার কুমারখালীর ছেঁউরিয়ায় অবস্থিত ফকির লালন সাঁইয়ের বারামখানা খ্যাত আখড়াবাড়ির মাজারের দানবাক্স। সোমবার (২৬ অক্টোবর) সকালে অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক ( রাজস্ব) মো. জাকির হোসেন, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. রাইসুল ইসলাম, উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) নাভিদ সারওয়ার ও সাংবাদিকদের উপস্থিতিতে সিলগালা ভেঙে খোলা হয় মাজারের দুটি দানবাক্স।

এরপর লালন একাডেমি ভবনের চারতলায় প্রায় তিন ঘণ্টাব্যাপী গণনা শেষে পাওয়া গেছে ৮ লাখ ২৭ হাজার ৪৫০ টাকা।

এর আগে, গত ১০ অক্টোবর প্রথমবারের মতো প্রকাশ্যে খোলা ও গণনা করা হয় দানবাক্সের টাকা। সেদিন দান বাক্স থেকে প্রায় ৬ লাখ ৪৯ হাজার ৩৪৮ টাকা পাওয়া গিয়েছিল। যা পরদিন ১১ অক্টোবর লালন একাডেমির ব্যাংক হিসাব নম্বরে জমা করা হয়।

এ তথ্য নিশ্চিত করে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. রাইসুল ইসলাম বলেন, ‘ফকির লালন সাঁইয়ের দুটি উৎসব ঘিরে বছরে চারবার দানবাক্স খোলা হয়ে থাকে। তারই ধারাবাহিকতায় ১৩৬তম তিরোধান দিবসের সাত দিন পর দানবাক্স খুলে ৮ লাখ ২৭ হাজার ৪৫০ টাকা পাওয়া গেছে। যা সোমবার (২৬ অক্টোবর) নির্দিষ্ট ব্যাংক হিসাব নম্বরে জমা দেওয়া হবে।’


নির্বাচিত

কুষ্টিয়ায় জেলার শ্রেষ্ঠ অফিসার ইনচার্জ মো: জামাল উদ্দিন

ছবি: দৈনিক বাংলা
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নাব্বির আল নাফিজ, কুষ্টিয়া

কুষ্টিয়া জেলা পুলিশের মাসিক অপরাধ পর্যালোচনা সভায় জেলার শ্রেষ্ঠ অফিসার ইনচার্জ (ওসি) হিসেবে নির্বাচিত হয়েছেন কুমারখালী থানার ওসি মো: জামাল উদ্দিন। একই সঙ্গে সেপ্টেম্বর ২০২৬ মাসের মূল্যায়নে জেলা পুলিশের সবকটি ইভেন্টে শ্রেষ্ঠত্ব অর্জন করেছে কুমারখালী থানা। এ অর্জনে থানার কর্মকর্তা ও ফোর্সের মধ্যে আনন্দ ও উৎসাহের সৃষ্টি হয়েছে।

সোমবার (২৬ অক্টোবর) সকালে কুষ্টিয়া পুলিশ সুপারের কার্যালয়ের সম্মেলনকক্ষে জেলা পুলিশের মাসিক অপরাধ পর্যালোচনা সভায় সেপ্টেম্বর মাসের কার্যক্রম মূল্যায়নের ভিত্তিতে এ স্বীকৃতি দেওয়া হয়।

শ্রেষ্ঠ ওসি নির্বাচিত হওয়ার প্রতিক্রিয়ায় ওসি জামাল উদ্দিন বলেন, “এ অর্জন আমার একার নয়; এটি কুমারখালী থানায় কর্মরত সব কর্মকর্তা ও ফোর্সের সম্মিলিত পরিশ্রমের ফল। পুলিশ সুপারসহ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সার্বিক দিকনির্দেশনা ও সহযোগিতায় এ সাফল্য অর্জন সম্ভব হয়েছে।” তিনি ভবিষ্যতেও পেশাদারত্ব, নিষ্ঠা ও দায়িত্বশীলতার সঙ্গে জনগণকে পুলিশি সেবা দেওয়ার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।

সোমবার (২৬ অক্টোবর) সকাল ১০টায় কুষ্টিয়া পুলিশ লাইন্সের সম্মেলনকক্ষে জেলা পুলিশের মাসিক কল্যাণ সভা অনুষ্ঠিত হয়। এতে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন পুলিশ সুপার মো. আমিনুল ইসলাম। সভায় পুলিশ সদস্যদের কল্যাণ, বিভিন্ন সমস্যা ও তার সমাধান এবং পুলিশের কর্মপরিকল্পনা নিয়ে আলোচনা হয়। এ সময় সেপ্টেম্বর মাসে প্রশংসনীয় কাজের স্বীকৃতিস্বরূপ বিভিন্ন ক্যাটাগরিতে সাতজন পুলিশ সদস্যকে পুরস্কৃত করা হয়। পাশাপাশি সদ্য অবসরে যাওয়া দুই পুলিশ সদস্যকে সম্মাননা ও শুভেচ্ছা স্মারক দেওয়া হয়।

পরে দুপুর ১২টায় পুলিশ সুপারের কার্যালয়ের সম্মেলনকক্ষে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম অ্যান্ড অপস) ফয়সাল মাহমুদের সঞ্চালনায় মাসিক অপরাধ পর্যালোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। এতে সভাপতিত্ব করেন পুলিশ সুপার মো. আমিনুল ইসলাম। সভায় অতিরিক্ত পুলিশ সুপার, সহকারী পুলিশ সুপার, বিভিন্ন থানার অফিসার ইনচার্জসহ জেলা পুলিশের বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।


নির্বাচিত

গাইবান্ধায় ডোবার পানিতে ডুবে ভাই-বোনের মৃত্যু

প্রতীকী ছবি
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

জেলার গোবিন্দগঞ্জে ডোবার পানিতে ডুবে আব্দুল্যা আল আরাফ ও মিফতাহুল জান্নাত নামে চাচাতো-জ্যাঠাত ভাই বোনের মৃত্যু হয়েছে।

সোমবার (২৬ অক্টোবর) সকালের দিকে উপজেলার তালুককানুপুর ইউনিয়নের চৌধুরীপাড়া গ্রামে এ দুর্ঘটনা ঘটে। মৃত আরাফ ওই গ্রামের আব্দুর রাজ্জাকের ছেলে এবং মিফতাহুল আশরাফুলের মেয়ে। এ দুই শিশু একই দিনে জন্মগ্রহণ করেছিল। আবার একই দিনে মারা যাওয়ায় এলাকায় চাঞ্চল্য এবং শোকের ছায়া নেমে এসেছে।

পুলিশ ও স্থানীয়রা জানান, আজ বেলা ১১টার দিকে পরিবারের অজান্তে খেলতে গিয়ে বাড়ি সংলগ্ন ডোবার পানিতে ডুবে যায়। পরে খোঁজাখোঁজির একপর্যায় ডোবার পানি থেকে তাদের উদ্ধার করে গোবিন্দগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্যকমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাদেরকে মৃত্যু ঘোষণা করেন।

গোবিন্দগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মাহফুজ আলম বিষয়টি নিশ্চিত করে বাসসকে বলেন, পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে আসছে। পরিবারের কোন অভিযোগ না থাকায় মরদেহ দু’টি দাফনের অনুমতি দেওয়া হয়েছে।


নির্বাচিত

মাদারীপুর হাসপাতালে ৯ কোটি টাকার ই-টেন্ডার হ্যাক, ওষুধ সংকটের শঙ্কা

ছবি: দৈনিক বাংলা
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
মো. ফায়েজুল কবীর, মাদারীপুর

মাদারীপুর সদর ২৫০ শয্যা জেলা হাসপাতালে প্রায় ৯ কোটি টাকার চিকিৎসাসামগ্রী কেনার ই-টেন্ডার প্রক্রিয়ায় দুই দফায় হ্যাকিংয়ের অভিযোগ উঠেছে। এতে দরপত্র প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা সম্ভব হয়নি। প্রয়োজনীয় চিকিৎসাসামগ্রী কেনা আটকে যাওয়ায় হাসপাতালে ওষুধের সংকট দেখা দেওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। এতে রোগীদের চিকিৎসাসেবা ব্যাহত হওয়ার উদ্বেগের পাশাপাশি বিপাকে পড়েছে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ। সোমবার (২৬ অক্টোবর) এ ঘটনায় মাদারীপুর সদর থানা ও জেলা গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে তাঁরা এখনো কোনো লিখিত অভিযোগ পাননি। অভিযোগ পেলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, ২০২৬-২৭ অর্থবছরে মাদারীপুর ২৫০ শয্যার জেলা হাসপাতালের চিকিৎসাসামগ্রী কেনার জন্য গত ১৫ সেপ্টেম্বর প্রথম দফায় ই-টেন্ডার আহ্বান করেন জেলা সিভিল সার্জন। কিন্তু দরপত্র আহ্বানের পরপরই ই-টেন্ডারের ওয়েবসাইট হ্যাক হওয়ার অভিযোগ ওঠে। ফলে টেন্ডার প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা সম্ভব হয়নি। পরে বাধ্য হয়ে প্রথম দফার টেন্ডার বাতিল করে গত ১০ অক্টোবর দ্বিতীয় দফায় আবারও ই-টেন্ডার আহ্বান করা হয়। অভিযোগ রয়েছে, দ্বিতীয় দফাতেও একইভাবে অনলাইন দরপত্র প্রক্রিয়া হ্যাক করা হয়।

এ পরিস্থিতিতে সাধারণ ঠিকাদাররা দরপত্রে অংশ নিতে পারছেন না বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন। স্থানীয়দের অভিযোগ, এ ঘটনার পেছনে প্রভাবশালী কোনো মহলের স্বার্থ থাকতে পারে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একটি সূত্রের দাবি, দীর্ঘদিন ধরে কাজটি পাওয়ার চেষ্টা চালিয়ে আসা একটি প্রভাবশালী সিন্ডিকেট এর সঙ্গে জড়িত থাকতে পারে। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে স্বাধীনভাবে নিশ্চিত হওয়া যায়নি।

সিভিল সার্জন কার্যালয় ও হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, ২০২৫-২৬ অর্থবছরের জুন পর্যন্ত টেন্ডার প্রক্রিয়ার মাধ্যমে কেনা চিকিৎসাসামগ্রী দিয়ে হাসপাতালের প্রয়োজন মেটানো হয়েছিল। ওই সময়ের বরাদ্দে কেনা সামগ্রীর সরবরাহ জুনেই শেষ হয়েছে। নতুন অর্থবছরের টেন্ডার প্রক্রিয়া সম্পন্ন না হওয়ায় প্রয়োজনীয় চিকিৎসাসামগ্রী সংগ্রহ নিয়ে অনিশ্চয়তা দেখা দিয়েছে। হাসপাতালে পর্যাপ্ত ওষুধ না থাকায় রোগীদের চিকিৎসাসেবা নিয়েও উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।

হাসপাতালের আবাসিক মেডিকেল অফিসার (আরএমও) ডা. অখিল সরকার বলেন, এ বছরের টেন্ডার প্রক্রিয়া কারিগরি ত্রুটির কারণে সম্পন্ন হয়নি। এ অবস্থায় আগামী দিনে ওষুধের সংকট দেখা দিতে পারে। তাই দ্রুত টেন্ডার প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা জরুরি।

সোমবার (২৬ অক্টোবর) মাদারীপুর সদর থানার ওসি আবুল কালাম আজাদ এবং জেলা গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) ওসি আবু নাঈমের সঙ্গে মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে তাঁরা জানান, এ বিষয়ে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে এখনো কোনো লিখিত অভিযোগ পাওয়া যায়নি। অভিযোগ পেলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

এদিকে, টেন্ডার হ্যাকিংয়ের ঘটনায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) বা অন্য কোনো আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে কি না, তা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। ভারপ্রাপ্ত সিভিল সার্জন ডা. খলিলুজ্জামান জানান, জেলা সিভিল সার্জন ডা. মো. শরীফুল আবেদীন কমল ১৫ দিনের ছুটিতে রয়েছেন। টেন্ডার প্রক্রিয়ার সঙ্গে তিনি যুক্ত ছিলেন। হ্যাকিংয়ের ঘটনা সম্পর্কে তিনি অবগত থাকলেও কারা এর সঙ্গে জড়িত, তা জানেন না। সিভিল সার্জন ছুটি শেষে ফিরলে এ বিষয়ে বিস্তারিত জানা যাবে বলে জানান তিনি।

প্রায় ৯ কোটি টাকার এই ক্রয়প্রক্রিয়া দুই দফায় বাধাগ্রস্ত হওয়ার অভিযোগের পরও এখন পর্যন্ত দায়ীদের শনাক্ত করা যায়নি। দ্রুত টেন্ডার প্রক্রিয়া স্বাভাবিক করা, অভিযোগের নিরপেক্ষ তদন্ত এবং প্রয়োজনীয় চিকিৎসাসামগ্রীর সরবরাহ নিশ্চিত করা জরুরি বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। অন্যথায় হাসপাতালটিতে ওষুধ ও চিকিৎসাসামগ্রীর সংকট আরও প্রকট হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।


নির্বাচিত

রাউজানে ৩২ লাখ টাকার সেতু অকেজো, দুর্ভোগে কয়েক গ্রামের মানুষ

ছবি: দৈনিক বাংলা
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
রাউজান (চট্টগ্রাম) প্রতিনিধি

চট্টগ্রামের রাউজান উপজেলার নোয়াপাড়া ইউনিয়নের ঝিকুটিপাড়া গ্রামে ৩২ লাখ ৫২ হাজার টাকা ব্যয়ে নির্মিত একটি সেতু প্রায় ১০ বছরেও স্থানীয় মানুষের কাজে আসেনি। নির্মাণের পর সংযোগ সড়ক ভেঙে খালে বিলীন হওয়া এবং সেতুর গোড়ার মাটি সরে যাওয়ায় এটি কার্যত অকেজো হয়ে পড়েছে। ফলে দুর্ভোগ পোহাচ্ছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। বিশেষ করে জোয়ার ও বৃষ্টির সময় চলাচল ব্যাহত হওয়ায় ভোগান্তিতে পড়ছেন শিক্ষার্থীরা।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, নোয়াপাড়া ইউনিয়নের ৫ নম্বর ওয়ার্ডের ঝিকুটিপাড়া খালের ওপর দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা অধিদপ্তরের আওতাধীন সেতু নির্মাণ প্রকল্পের মাধ্যমে ২০১৬-১৭ অর্থবছরে ৪০ ফুট দীর্ঘ সেতুটি নির্মাণ করা হয়। এতে ব্যয় হয় ৩২ লাখ ৫২ হাজার ৬৫৩ টাকা। তবে নির্মাণের পর সংযোগ সড়ক ও খালের পাড়ের সুরক্ষায় কার্যকর ব্যবস্থা না থাকায় সেতুটি ব্যবহার অনুপযোগী হয়ে পড়েছে বলে অভিযোগ স্থানীয়দের।

তাঁদের ভাষ্য, জোয়ার-ভাটার পানি ও বৃষ্টির কারণে খালের এক পাশের সংযোগ সড়ক ভেঙে জলাশয়ে বিলীন হয়ে গেছে। অন্য পাশে সেতুর গোড়া থেকে মাটি সরে সড়কটি নিচু হয়ে পড়েছে। ফলে সেতু থাকলেও নির্বিঘ্নে চলাচলের সুযোগ নেই। এ ছাড়া সড়কের বিভিন্ন স্থানে ইট উঠে গিয়ে ছোট-বড় অসংখ্য গর্তের সৃষ্টি হয়েছে। খালের পাড়ে টেকসই বেড়িবাঁধ না থাকায় ভাঙনের ঝুঁকি বাড়ছে। এতে যাতায়াতের পথের পাশাপাশি আশপাশের বসতবাড়িও হুমকির মুখে রয়েছে।

স্থানীয় শিক্ষক মিলন কান্তি দাশ বলেন, দীর্ঘদিন ধরে সড়কটি সংস্কারের অভাবে অবহেলিত অবস্থায় পড়ে আছে। জোয়ার কিংবা বৃষ্টি হলে চলাচল প্রায় বন্ধ হয়ে যায়। সড়কের বেহাল অবস্থার কারণে কোমলমতি শিক্ষার্থীদের লেখাপড়াও ব্যাহত হচ্ছে।

স্থানীয় সপ্তম শ্রেণির শিক্ষার্থী আবদুল্লাহ জানায়, সড়কের খারাপ অবস্থার কারণে তারা নিয়মিত স্কুলে যেতে পারে না। সামান্য বৃষ্টিতেই সড়কটি পানিতে ডুবে যায়।

স্থানীয় বাসিন্দা নির্মল দাশ ও মো. নাছির বলেন, খালের পাড়ে বেড়িবাঁধ না থাকায় প্রতিনিয়ত বসতভিটা ও যাতায়াতের পথ খালের গর্ভে চলে যাচ্ছে। গ্রামীণ যোগাযোগব্যবস্থা সচল রাখা এবং বসতবাড়ি রক্ষায় টেকসই বেড়িবাঁধ নির্মাণের পাশাপাশি সড়কটি দ্রুত সংস্কার করা প্রয়োজন।

জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) চট্টগ্রাম উত্তর জেলা শাখার সাংগঠনিক সম্পাদক মো. জাহেদুল করিম বাব্পী বলেন, তিনি সেতুসহ সড়কটি পরিদর্শন করেছেন। চলাচলের অনুপযোগী সড়কটি সংস্কারের জন্য সরকারের কাছে লিখিতভাবে জানিয়েছেন।

এ বিষয়ে স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের (এলজিইডি) রাউজান উপজেলা প্রকৌশলী মিজানুর রহমান মজুমদার বলেন, সেতুটি দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা অধিদপ্তরের আওতায় নির্মিত হওয়ায় এ বিষয়ে তাঁদের সরাসরি কিছু করার নেই। সড়কটির বর্তমান অবস্থায় সংস্কারকাজ করা সম্ভব নয়। দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা অধিদপ্তর সেতুর সংযোগ সড়ক সংস্কার করলে পরবর্তী সময়ে সড়ক সংস্কারের পরিকল্পনা নেওয়া হবে।

রাউজান উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা বাবুল কান্তি চাকমা বলেন, সেতুটি প্রায় ১০ বছর আগে নির্মিত হওয়ায় বিষয়টি তাঁর জানা ছিল না। তবে খোঁজ নিয়ে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়ার চেষ্টা করবেন। তাঁদের বর্তমানে মাটি কাটা বা মাটি ভরাটের কোনো প্রকল্প নেই বলেও জানান তিনি।

স্থানীয়দের দাবি, সরকারি অর্থে নির্মিত সেতুটি সচল করতে সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলোর মধ্যে সমন্বয়ের মাধ্যমে দ্রুত সংযোগ সড়ক পুনর্নির্মাণ, খালের পাড়ে টেকসই প্রতিরক্ষা বাঁধ নির্মাণ এবং ক্ষতিগ্রস্ত সড়ক সংস্কারের উদ্যোগ নেওয়া হোক। এতে সেতুটি ব্যবহারের উপযোগী হওয়ার পাশাপাশি এলাকার মানুষের দীর্ঘদিনের দুর্ভোগও কমবে।


নির্বাচিত

ডুমুরিয়ায় ৫০০ টাকার ওলকচুতে কৃষকের আয় ১০ হাজার টাকা

ছবি: দৈনিক বাংলা
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
শেখ মাহতাব হোসেন, ডুমুরিয়া (খুলনা)

খুলনার ডুমুরিয়ায় মাত্র ৫ শতাংশ জমিতে স্থানীয় জাতের ওলকচু চাষ করে ৪০০ কেজি ফলন পেয়েছেন প্রান্তিক কৃষক মৃত্যুঞ্জয় মন্ডল। মাত্র ৫০০ টাকা খরচে উৎপাদিত এসব ওলকচু বিক্রি করে তিনি পেয়েছেন ১০ হাজার টাকা। স্বল্প খরচে ভালো ফলন ও বাজারমূল্য পাওয়ায় খুশি এই কৃষক। তাঁর এ সাফল্য কম জমিতে কন্দজাতীয় ফসল চাষের সম্ভাবনাকে নতুন করে সামনে এনেছে।

উপজেলার ৯ নম্বর সাহস ইউনিয়নের ছোটবন্দ গ্রামের বাসিন্দা মৃত্যুঞ্জয় মন্ডল এবার মাত্র ৫ শতাংশ জমিতে ওলকচুর আবাদ করেন। এতে তিনি স্থানীয় জাতের ৫০টি কচুর চারা রোপণ করেন। যথাযথ পরিচর্যার পর এসব গাছ থেকে প্রায় ৪০০ কেজি ওলকচু উৎপাদন হয়।

কৃষক মৃত্যুঞ্জয় মন্ডল জানান, ওলকচু চাষে তাঁর মোট খরচ হয়েছে মাত্র ৫০০ টাকা। উৎপাদিত কচু প্রতি কেজি ২৫ টাকা দরে বিক্রি করে মোট ১০ হাজার টাকা পেয়েছেন তিনি। অল্প জমিতে সামান্য বিনিয়োগে এমন ফলন পাওয়ায় তিনি সন্তুষ্ট।

তবে বাজারে ওলকচুর দাম আরও কিছুটা বেশি হলে আয় বাড়ত বলে মনে করেন তিনি। তাঁর ভাষ্য, উৎপাদন ভালো হলেও বাজারদর অনুকূলে থাকলে কৃষকের লাভ আরও বাড়ানো সম্ভব।

কৃষি বিভাগের মতে, ডুমুরিয়ার মাটি ও আবহাওয়া কন্দজাতীয় ফসল চাষের জন্য উপযোগী। সঠিক পরিচর্যা, পরিমিত খরচ ও প্রয়োজনীয় কৃষি পরামর্শ কাজে লাগাতে পারলে স্বল্প জমিতেও ভালো ফলন পাওয়ার সুযোগ রয়েছে।

ডুমুরিয়া উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ মো. নাজমুল হুদা বলেন, ডুমুরিয়ার মাটি ও আবহাওয়া কন্দজাতীয় ফসল চাষের জন্য অত্যন্ত উপযোগী। কৃষকদের লাভজনক ও কম খরচে চাষাবাদে উদ্বুদ্ধ করতে কৃষি বিভাগ নিয়মিত কাজ করছে।

তিনি বলেন, মৃত্যুঞ্জয় মন্ডল প্রমাণ করেছেন, সঠিক পরিচর্যা ও পরিমিত খরচে সামান্য জমিতেও ভালো ফলন পাওয়া সম্ভব। এ ধরনের উদ্যোগী কৃষককে আধুনিক প্রযুক্তি ও প্রয়োজনীয় কৃষি পরামর্শ দিয়ে সহযোগিতা করা হচ্ছে।

কৃষক মৃত্যুঞ্জয় মন্ডলের এই সাফল্য স্থানীয় কৃষকদের মধ্যে ওলকচুসহ বিভিন্ন কন্দজাতীয় ফসল চাষে আগ্রহ বাড়াতে পারে বলে আশা করা হচ্ছে। বিশেষ করে যেসব কৃষকের জমি কম এবং চাষাবাদের জন্য পুঁজি সীমিত, তাঁদের জন্য স্বল্প খরচে লাভজনক ফসল নির্বাচন গুরুত্বপূর্ণ।

তবে উৎপাদন বাড়ানোর পাশাপাশি ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত করা, বাজারব্যবস্থা উন্নত করা এবং কৃষকদের নিয়মিত পরামর্শ দেওয়া গেলে এ ধরনের চাষ আরও লাভজনক হয়ে উঠতে পারে। কৃষি বিভাগের সহযোগিতা ও কৃষকদের উদ্যোগ অব্যাহত থাকলে ডুমুরিয়া অঞ্চলে কন্দজাতীয় ফসলের আবাদ সম্প্রসারণের সম্ভাবনা রয়েছে।


নির্বাচিত

মাগুরায় পুকুরের পানিতে পড়ে দুই শিশুর মৃত্যু

ছবি: দৈনিক বাংলা
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
 মাগুরা প্রতিনিধি

মাগুরা সদরের মোল্লাপাড়া এলাকায় পুকুরের পানিতে পড়ে দুই শিশুর করুন মৃত্যু হয়েছে। মৃতরা হলেন, সদরের মোল্লাপাড়া এলাকার ইমন বিশ্বাসের ছেলে হুজাইফা ( ৯), আরেকজন একই এলাকার অন্তর বিশ্বাসের ছেলে ঈসা আলী (১০) । সম্পর্কে তারা দুজন চাচাতো ভাই। সোমবার (২৬ অক্টোবর) দুপুরে সদরের মোল্লাপাড়া বালিয়ার মাঠ এলাকার একটি পুকুরে এ মৃত্যুর ঘটনা ঘটে।

হুজাইফার মা শরিফা বেগম বলেন, দুপুরে দুই ভাই শহরের মোল্লাপাড়া বালিয়ার মাঠ এলাকায় খেলতে যায়। সেখানে পুকুরের পানিতে পড়ে গিয়ে তাদের দুজনের মৃত্যু হয়। পরে স্থানীয়রা তাদের উদ্ধার করে মাগুরা ২৫০ সদর হাসপাতালে নিলে জরুরি বিভাগের ডাক্তার রশিদ বিশ্বাস। তাদেরকে মৃত ঘোষণা করেন।

এই ঘটনা মাগুরা সদর থানার ওসি, ফারুক আহমেদ বলেন, পানিতে পড়ে দুই শিশুর মৃত্যু হয়েছে ঘটনাটি শুনেছি। মরদহ দুটি মাগুরা সদর হাসপাতালে অস্থায়ী মর্গে রাখা হয়েছে। এ ব্যাপারে আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।


নির্বাচিত

banner close